বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ধর্মের ইতিহাস ও অন্যান্য

মোট প্রশ্ন১,৩৪৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ধর্মের ইতিহাস ও অন্যান্য

PrepBank · পাতা / ১৪ · ১০১২০০ / ১,৩৪৯

১০১.
ফিদেল কাস্ত্রো কোন দেশের বিপ্লবী নেতা ছিলেন?
  1. মেক্সিকো
  2. কিউবা
  3. ভেনিজুয়েলা
  4. চিলি
ব্যাখ্যা
ফিদেল কাস্ত্রো:

- তিনি ১৩ আগস্ট ১৯২৬ সালে কিউবায় জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি কিউবার রাজনৈতিক নেতা যিনি তার দেশকে প্রথম কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে রূপান্তর করেছিলেন।
- ক্যাস্ট্রো লাতিন আমেরিকায় কমিউনিস্ট বিপ্লবের প্রতীক হয়ে ওঠেন।
- ফিদেল কাস্ত্রো কিউবার দেশের বিপ্লবী নেতা ছিলেন।
- তিনি ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ফেব্রুয়ারি ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করেন।
- তিনি ২৫ নভেম্বর ২০১৬ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১০২.
কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম কে ছিলেন?
  1. ফ্রান্সের সম্রাট
  2. ইংল্যান্ডের সম্রাট
  3. রাশিয়ার সম্রাট
  4. জার্মানির সম্রাট
ব্যাখ্যা
কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম (William II, king of Prussia and the last German emperor):
- প্রুশিয়ার রাজা এবং জার্মানির শেষ সম্রাট ছিলেন। 
- তিনি ৩০ বছর ধরে জার্মান সাম্রাজ্য শাসন করেন, তবে শেষ পর্যন্ত সিংহাসনচ্যুত হন।

বিশ্বযুদ্ধের ভূমিকা:
- ১৯১৪ সালে যুদ্ধের পূর্বাভাস পেয়ে, তিনি রাশিয়ার জার নিকোলাসকে চিঠি লেখেন। 
- ইংল্যান্ডের রাজাকেও শান্তির আহ্বান জানান।
- যখন তার চিঠিগুলো উপেক্ষা করা হয়, তিনি অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যকে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যেতে উত্সাহিত করেন।
- এর ফলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়, যেখানে জার্মানি ফ্রান্স এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- যুদ্ধে জার্মানির ভূমিকা নির্ধারণে তিনি নিজেকে সরিয়ে রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার তার জেনারেলদের হাতে তুলে দেন।

সিংহাসনচ্যুতি:
- ১৯১৮ সালে, জার্মান চ্যান্সেলর ঘোষণা করেন যে সম্রাট এবং তার উত্তরাধিকারীরা সিংহাসন ত্যাগ করেছেন।
- কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন।

মৃত্যু:
- ১৯১৮ সালের শরৎকালে নেদারল্যান্ডসের ডোরনে নির্বাসিত হন। 
- সেখানে নির্বাসিত অবস্থায় ১৯৪১ সালে তার মৃত্যু হয়।

উৎস: উইলিয়াম II-এর জীবন এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস, Britannica.
১০৩.
Wings of Fire কার আত্মজীবনীমূলক বই?
  1. ফিদেল কাস্ত্রো
  2. পারভেজ মোশারফ
  3. নেলসন ম্যান্ডেলা
  4. এ.পি.জে আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
- Wings of Fire : ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবুল কালামের আত্মজীবনীমূলক বই।
অন্যদিকে,
- Long Walk to Freedom : নেলসন ম্যান্ডেলার আত্মজীবনীমূলক বই
- In the Line of Fire: A Memoir : পারভেজ মোশারফের আত্মজীবনীমূলক বই
- My Life: A Spoken : ফিদেল ক্যাস্ট্রোর আত্মজীবনীমূলক বই।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
১০৪.
‘গ্লোবাল ভিলেজ’ ধারণাটি প্রথম উপস্থাপন করেন কে?
  1. আলভিন টফলার
  2. মার্শাল ম্যাকলুহান 
  3. ড্যানিয়েল বেল
  4. স্যামুয়েল হান্টিংটন
ব্যাখ্যা

- 'গ্লোবাল ভিলেজ' ধারাটি প্রথম উপস্থাপন করেন কানাডিয়ান গণযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মার্শাল ম্যাকলুহান।

• গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম: 
- গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষই একটি একক সমাজে বসবাস করে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে একে অপরকে সেবা প্রদান করে থাকে।
- কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিখ্যাত দার্শনিক 'মার্শাল ম্যাকলুহান' সর্বপ্রথম গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- মার্শাল ম্যাকলুহান 'দি মিডিয়াম ইজ দি মেসেজ' (the medium is the message) এবং 'গ্লোবাল ভিলেজ' (Global village) এর প্রবক্তা বা উদ্ভাবক হিসাবে পরিচিতি পেয়েছেন।
- তিনি ১৯৬২ সালে তার প্রকাশিত গ্রন্থ 'The Gutenberg: The Making of Typographic Man' এবং ১৯৬৪ সালে তার প্রকাশিত গ্রন্থ 'Understanding Media' এ গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম এর ধারণা দেন।
- তাঁর সময়ে ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছিল।
- তাঁর মতে, ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তারের ফলে সময় ও দূরত্ব সংকুচিত হয়ে পৃথিবী একটি গ্রামে পরিণত হয়েছে।
- তিনি এ প্রযুক্তির বিস্তৃতিকে 'ইলেকট্রনিক নার্ভাস সিস্টেম' (Electronic Nervous System) নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- পৃথিবী এ সিস্টেমের সাহায্যে সংযুক্ত হয়ে বিশ্বগ্রাম (Global village) এ রূপান্তরিত হয়েছে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান)।

১০৫.
'The Grand Design' বইটির লেখক কে?
  1. জামাল নজরুল ইসলাম
  2. জি. লেমেটার
  3. টমাস মুর
  4. স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
স্টিফেন হকিং:
- যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত পদার্থবিদ ও গণিতজ্ঞ স্টিফেন হকিং।
- তিনি মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থ:
A brief history of time,
The Universe in a Nutshell,
The grand design.

উৎস: Physics today &  Encyclopaedia Britannica.
১০৬.
'Mein Kampf' বইটি কার রচিত?
  1. এডলফ হিটলার
  2. জর্জ ওয়াশিংটন
  3. নেলসন ম্যান্ডেলা
  4. মুসোলিনি
ব্যাখ্যা
Mein Kampf:
- 'মাইন কাম্ফ' (Mein Kampf) বইটি এডলফ হিটলার রচনা করেছেন।
- এই বইটি তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- তাঁর রাজনৈতিক মতামত ও বিশ্ব দৃষ্টিকোণ প্রকাশ করেছেন।
- প্রথম খণ্ডটি ১৯২৫ সালে এবং দ্বিতীয় খণ্ডটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- বইটি লেখার সময় হিটলার জেলে বন্দী ছিলেন।
- এবং তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও ইহুদি বিদ্বেষের ধারণা এই গ্রন্থে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

অপরদিকে,
- A Long Walk to Freedom নেলসন ম্যান্ডেলার আত্মজীবনী।
- এটি  ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইতে মেন্ডেলা তাঁর শৈশব, কৈশোর, শিক্ষা, এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ বিরোধী সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা ও ২৭ বছরের কারাবাসের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।

উৎস: Britannica.
১০৭.
কোন স্থানটি গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত?
  1. কুশিনারা
  2. সারনাথ
  3. লুম্বিনী
  4. বুদ্ধগয়া
ব্যাখ্যা

গৌতম বুদ্ধ:
- গৌতম বুদ্ধের ব্যক্তিগত নাম সিদ্ধার্থ।
- তাঁর জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ-৪র্থ শতাব্দীতে নেপালের কপিলাবস্তুর কাছে লুম্বিনীতে। 
- তিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা।
- বুদ্ধ উপাধিটির অর্থ হল একজন আলোকিত সত্তা, যিনি অজ্ঞতার ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন এবং যন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভ করেন।
- বৌদ্ধধর্মের সব রূপই গৌতম বুদ্ধের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা উদযাপন করে, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর জন্ম, জ্ঞানার্জন এবং নির্বাণে উত্তরণ।
- তাঁর মৃত্যু কুশিনারা, মাল্লা প্রজাতন্ত্র, মগধ রাজ্যে।

উল্লেখ্য,
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় বৌদ্ধধর্মের স্মৃতিবিজড়িত স্থান তক্ষশীলা।
- গৌতম বুদ্ধের দিব্যজ্ঞান লাভের স্থান বুদ্ধগয়া।
- সারনাথ একটি উদ্যান যেখানে গৌতম বুদ্ধ সর্বপ্রথম ধর্ম নিয়ে ভেবেছিলেন। এই স্থানটি ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানাশী শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.

১০৮.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে জাপানে পারমাণবিক বোমা হামলা করা হয়েছিল?
  1. জিমি কার্টার
  2. হ্যারি এস ট্রুম্যান
  3. ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার
  4. রিচার্ড নিক্সন
ব্যাখ্যা
জাপানের পারমাণবিক বোমা হামলা:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় শেষের পথে, তখন আগস্টে জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
- বিশ্বের ইতিহাসে সেটিই ছিল প্রথম যুদ্ধ যেখানে ব্যবহৃত হয়েছিল গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র।
- মারা গিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ।
- জাপানের হিরোশিমা শহরে ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে বোমা বর্ষণ করে।
- নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো লিটলবয়।
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা বর্ষণ করে।
- নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো ফ্যাটম্যান।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

উৎস: History.com.
১০৯.
নক্রুমা কোন দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন?
  1. নাইজেরিয়া
  2. কঙ্গো
  3. আবিসিনিয়া
  4. ঘানা
ব্যাখ্যা
নক্রুমা ঘানার প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

কোয়ামে নক্রুমা:
- আফ্রিকার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন ড. কোয়ামে নক্রুমা।
- তিনি ঘানার স্বাধীনতা আন্দোলনের স্থপতি।
- নক্রুমা ছিলেন ঘানা প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপাতি।
- যিনি একাধারার শিক্ষক, লেখক, দার্শনিক, রাজনীতিবিদ, শাসক ছিলেন।

⇒ ঘানা:
- ঘানা হল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ।
- দেশটি গিনি উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত।
- দেশটি ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।
- রাজধানী: আক্রা।
- মুদ্রা: ঘানাইয়ান সেডি।
- ঘানার প্রথম রাষ্ট্রপতি কোয়ামে নক্রুমা।

উৎস: Britannica.
১১০.
'খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি গাণিতিক হারে হলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক অনুপাতে'-এটি কার উক্তি?
  1. অ্যাডাম স্মিথ
  2. অমর্ত্য সেন 
  3. রেহমান সোবহান
  4. টমাস ম্যালথাস
ব্যাখ্যা

ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব:
- ম্যালথাস (১৭৬৬-১৮৩৪) ছিলেন ইংল্যান্ডের একজন অর্থনীতিবিদ এবং ধর্মযাজক।
- তিনি সর্বপ্রথম জনসংখ্যা সম্পর্কে একটি তত্ত্ব প্রকাশ করেন যেখানে জনসংখ্যা বিষয়ে তাঁর মতবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর তাঁর মতবাদটিতে তিনি মোট ছয়বার পরিবর্তন এনে প্রকাশ করেন। তাঁর তত্ত্বের সর্বশেষ পরিমার্জিত সংস্করণ বের হয় তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৭২ সালে।
- ম্যালথাস তাঁর তত্ত্বের জন্য ধর্মতাত্ত্বিক ও মার্কসবাদীদের দ্বারা ঘৃণিত হন। তবে জনসংখ্যা সম্পর্কে তাঁর মতবাদ অদ্যাবধি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ ম্যালথাস বলেন, খাদ্যের উৎপাদন অপেক্ষা জনসংখ্যা দ্রুততর হারে বৃদ্ধি পায়।
- তার মতে খাদ্য বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে (Arithmetic rate) এবং নিয়ন্ত্রণ করা না হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে (Geometric rate)।

⇒ কোন একটি নির্দিষ্ট সময় মেয়াদে জনসংখ্যা কিভাবে বাড়ে এবং এই বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কিভাবে প্রভাবিত করে তাই ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের মূল বিষয়বস্তু।
- এ তত্ত্বে দেশের খাদ্য যোগানের পরিপ্রেক্ষিতে জনসংখ্যার সমস্যাটি আলোচিত হয়েছে বলে দেশে খাদ্য ঘাটতির পরিস্থিতি হল জনাধিক্যের প্রধান লক্ষণ।
- সর্বোপরি এ তত্ত্বের মধ্য দিয়ে আমরা ম্যালথাসকে একজন হতাশবাদী হিসেবে দেখতে পাই।
- কারণ তাঁর তাছে অধিক জনসংখ্যা মাত্রই মানবজাতির জন্য একদিকে ত্রাস এবং নৈরাশ্য সৃষ্টি করে।
- কিন্তু তারপরও বর্তমানে বিশ্বে দারিদ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা হলেও অনেকেই ম্যালথাসের তত্ত্বটি বিশ্বাস করছেন।

উৎস: অর্থনীতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।

১১১.
কোন সম্রাটের মাধ্যমে বৌদ্ধধর্ম বিশ্বধর্মে পরিণত হয়?
  1. ক) সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. খ) সম্রাট সমুদ্রগুপ্ত
  3. গ) সম্রাট অশোক
  4. ঘ) সম্রাট বিন্দুসার
ব্যাখ্যা
মৌর্য সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক সম্রাট অশোকের হাত ধরে বৌদ্ধধর্ম বিশ্বধর্মে পরিণত হয়। কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতায় ব্যথিত হয়ে সম্রাট অশোক পররাজ্য দখলের নীতি পরিহার করে সৌহার্দ্য ও মৈত্রীর নীতি গ্রহণ করেন এবং একই সময়ে তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। বৌদ্ধধর্মের প্রসারে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১১২.
রুশ বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী দল-
  1. ক) কমিউনিস্ট পার্টি
  2. খ) নাৎসি বাহিনী
  3. গ) মিনশেভিক পার্টি
  4. ঘ) বলশেভিক পার্টি
ব্যাখ্যা
রুশ বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী দল বলশেভিক পার্টি। ১৯১৭ সালে অক্টোবর বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের নেতৃত্বাধীন বলশেভিক পার্টি ও শ্রমিক সোভিয়েতরা পেট্রোগ্রাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করে রাশিয়ান সোভিয়েত ফেডারেশন সোশালিস্ট রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা করেন। ইতিহাসে এটি বলশেভিক বিপ্লব নামেও পরিচিত। সাড়া জাগানো এ বিপ্লবের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১০দিন।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।
১১৩.
'La Gioconda' চিত্রকর্মটি কার?
  1. মাইকেল অ্যাঞ্জেলো
  2. পাবলো পিকাসো
  3. জ্যাকব এপস্টাইল
  4. লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি
ব্যাখ্যা
• বিশ্বখ্যাত 'মোনালিসা' (ইতালীয় নাম: La Gioconda বা ফরাসি নাম: La Joconde) চিত্রটির চিত্রকর লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি।

- অনেক গবেষকদের মতে, ১৫০৩ থেকে ১৫০৬ সালের মধ্যে তিনি এ ছবিটি এঁকেছিলেন।
- ১৮২১ সালে নেপোলিয়নের মৃত্যুর পর ছবিটি উপহার দেওয়া হয় ল্যুভর জাদুঘরকে।
- সেই থেকে শিল্পকর্মটি ফ্রান্সের ল্যুভর জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
- ল্যুভর জাদুঘরের তথ্যমতে, প্রায় ৮০% পর্যটক শুধু মোনালিসার চিত্রটি দেখার জন্য আসে।
- ছবিটি আঁকতে তার প্রায় চার বছর সময় লাগে।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং প্রথম আলো পত্রিকা নিউজ।
১১৪.
কলম্বাস সর্বপ্রথম কত সালে আমেরিকা মহাদেশে পৌছান?
  1. ক) ১৪৯০ সালে
  2. খ) ১৪৯২ সালে
  3. গ) ১৪৯৪ সালে
  4. ঘ) ১৪৯৬ সালে
ব্যাখ্যা
- বিখ্যাত ইতালিয়ান নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস স্পেনের রাজা ও রাণীর আর্থিক সহায়তায় ১৪৯২ সালে ভারতের উদ্দেশ্যে আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম উপকূলের দিকে যাত্রা শুরু করেন এবং একই বছরের ১২ অক্টোবর বাহামা দ্বীপে পদার্পণ করেন।
- তার এই পদার্পণের সূত্র ধরেই পরবর্তীতে আমেরিকা মহাদেশ আবিষ্কৃত হয়।
- তবে ইউরোপীয়দের মধ্যে সবার আগে ভাইকিংরা আমেরিকা মহাদেশে পা রাখে।
- আমেরিকার নামকরণ করা হয় আমেরিগো ভেসপুচির নামানুসারে।
(তথ্যসূত্রঃ আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং হিস্টোরি ওয়েবসাইট)
১১৫.
স্নায়ুযুদ্ধ কালীন সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত “Containment Doctrine” - এর প্রবক্তা কে?
  1. ডেভিড আইজেন হাওয়ার
  2. হেনরি কিসিঞ্জার
  3. হেনরি এস. ট্রুম্যান
  4. জর্জ এফ. কেনান
ব্যাখ্যা
George F. Kennan, a career Foreign Service Officer, formulated the policy of “containment,” the basic United States strategy for fighting the cold war (1947–1989) with the Soviet Union.
the policy stated that communism needed to be contained and isolated, or else it would spread to neighboring countries.
Source: History.state.gov
১১৬.
বৌদ্ধধর্মের স্মৃতিবিজড়িত স্থান তক্ষশীলা কোথায় অবস্থিত?
  1. নেপাল
  2. পাকিস্তান
  3. ভুটান
  4. তিব্বত
ব্যাখ্যা
গৌতম বুদ্ধ:
- গৌতম বুদ্ধের ব্যক্তিগত নাম সিদ্ধার্থ।
- তাঁর জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ-৪র্থ শতাব্দীতে নেপালের কপিলাবস্তুর কাছে লুম্বিনীতে।
- তিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা।
- বুদ্ধ উপাধিটির অর্থ হল একজন আলোকিত সত্তা, যিনি অজ্ঞতার ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন এবং যন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভ করেন।
- বৌদ্ধধর্মের সব রূপই গৌতম বুদ্ধের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা উদযাপন করে, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর জন্ম, জ্ঞানার্জন এবং নির্বাণে উত্তরণ।
- তাঁর মৃত্যু কুশিনারা, মাল্লা প্রজাতন্ত্র, মগধ রাজ্যে।

উল্লেখ্য,
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় বৌদ্ধধর্মের স্মৃতিবিজড়িত স্থান তক্ষশীলা।
- গৌতম বুদ্ধের দিব্যজ্ঞান লাভের স্থান বুদ্ধগয়া।
- সারনাথ একটি উদ্যান যেখানে গৌতম বুদ্ধ সর্বপ্রথম ধর্ম নিয়ে ভেবেছিলেন। এই স্থানটি ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানাশী শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
১১৭.
রাশিয়ার প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন-
  1. স্ট্যালিন
  2. লেনিন
  3. গর্ভাচেব
  4. রুশো
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নকারী রাশিয়া।
• ১৯২২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী যোসেফ স্ট্যালিন রাশিয়ার প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
উৎসঃ রাশিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট।

১১৮.
যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেন কে?
  1. জর্জ ওয়াশিংটন
  2. আব্রাহাম লিংকন
  3. রোনাল্ড রিগ্যান
  4. মার্টিন লুথার কিং
ব্যাখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলুপ্ত:
- ১৮৬৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয়।
- আব্রাহাম লিংকন, এই ত্রয়োদশ সংশোধনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করে।

উল্লেখ্য,
- ১৮৬০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসাবে আব্রাহাম লিংকন ইউনাইটেড স্টেটের ১৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৮৬০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই লিংকন দাস প্রথা বিলুপ্তির পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেন।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর লিংকন পেনসালভেনিয়ার গেটিসবার্গের যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে এক হৃদয়স্পর্শী ভাষণে বলেন, ‘গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার, জনগণের জন্য সরকার।’
- তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়।

উৎস: History Channel.

১১৯.
মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এর বিখ্যাত বক্তৃতার নাম কী?
  1. Give Me Liberty
  2. The Audacity of Hope
  3. Yes We Can
  4. I Have a Dream
ব্যাখ্যা
- মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের সবচেয়ে বিখ্যাত বক্তৃতার নাম হলো “I Have a Dream”।
- ১৯৬৩ সালে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত “মার্চ ফর জবস অ্যান্ড ফ্রিডম” নামক বিশাল সমাবেশে তিনি এই ভাষণ দেন। বক্তৃতাটিতে তিনি জাতিগত বৈষম্য ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ সংগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরেন। 

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র: 
- মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ছিলেন একজন আমেরিকান বাপ্তিস্ট ধর্মযাজক, সামাজিক অধিকারকর্মী ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা।  
- তিনি ১৫ জানুয়ারি, ১৯২৯ সালে আটলান্টা, জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬৩ সালে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত “মার্চ ফর জবস অ্যান্ড ফ্রিডম” নামক বিশাল সমাবেশে কিং তাঁর বিখ্যাত “I Have a Dream” ভাষণ দেন।  
- ১৯৬৪ সালে বর্ণবৈষম্য বিলুপ্তিতে অহিংস ভূমিকার জন্য মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।
- মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের মৃত্যু ঘটে ৪ এপ্রিল, ১৯৬৮ সালে মেমফিস, টেনেসি, যুক্তরাষ্ট্রে, যখন তিনি এক বর্ণবাদী আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।
- যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর জানুয়ারির তৃতীয় সোমবার “Martin Luther King Jr. Day” হিসেবে পালিত হয়।

সূত্র: Britannica ও পত্রিকার রিপোর্ট।  
১২০.
কোন সালে হিটলার জার্মান চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন?
  1. ১৯৩৩
  2. ১৯৩৪
  3. ১৯৩১
  4. ১৯৩২
ব্যাখ্যা
এডলফ হিটলার:
- এডলফ হিটলার ছিলেন নাৎসি পার্টির প্রধান নেতা।
- এডলফ হিটলার অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত জার্মান রাজনীতিবিদ।
- তিনি ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
- হিটলার ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- 'অপছন্দের চেয়ে ঘৃণার স্থায়িত্ব বেশি' -উক্তিটি এডলফ হিটলার-এর।
- Hate is more lasting than dislike. — Adolf Hitler।

⇒ নাৎসিবাদ:
- নাৎসিবাদ হচ্ছে হিটলার ও তার দল নাৎসি পার্টি কর্তৃক শাসনব্যবস্থা।
- ১৯৩২ সালে দেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন প্রার্থী হয়ে হিনডেনবার্গের কাছে হিটলার পরাজিত হন।
- ১৯৩৩ সালে হিনডেনবার্গ হিটলারকে তাঁর চ্যান্সেলার নিযুক্ত করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই হিটলার সকল ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে দেশে নাৎসি একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: Britannica.
১২১.
পোপ ফ্রান্সিস মৃত্যুবরণ করেন কবে?
  1. ১৭ এপ্রিল, ২০২৫
  2. ২১ এপ্রিল, ২০২৫
  3. ২৩ এপ্রিল, ২০২৫
  4. ২৫ এপ্রিল, ২০২৫
ব্যাখ্যা
পোপ ফ্রান্সিস:
- পোপ ফ্রান্সিস দক্ষিণ আমেরিকা থেকে নির্বাচিত প্রথম পোপ।
- আসল নাম: জর্জ মারিও বার্গোগলিও (Jorge Mario Bergoglio)।
- জন্ম: ১৭ ডিসেম্বর ১৯৩৬, বুয়েনোস আইরেস, আর্জেন্টিনা।
- পোপ ফ্রান্সিস ২০১৩ সালে পোপ হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ক্যাথলিক গির্জার নেতৃত্ব দেন।
- তিনি গির্জার সংস্কার, দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ রক্ষা, এবং নারী ও যুবকদের ক্ষমতায়নে তাঁর বিশেষ উদ্যোগের জন্য পরিচিত ছিলেন।​
- পোপ ফ্রান্সিস ২১ এপ্রিল, ২০২৫ ভ্যাটিকানে তার বাসভবন কাসা সান্টা মার্টায় ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
- ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ২৬ এপ্রিল ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ‘পোপ’ হলেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু।
- তিনি রোমান ক্যাথলিক গির্জার সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান।
- তাকে খ্রিস্টান ধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- পোপ হিসাবে যিনি নির্বাচিত হন, তিনি ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রপ্রধানও হন।

তথ্যসূত্র- ব্রিটানিকা, পত্রিকা রিপোর্ট।
১২২.
কোন প্রেসিডেন্ট এর শাসনামলে আমেরিকায় দাস প্রথার বিলুপ্তি ঘটে?
  1. এন্ড্রো জনসন
  2. জর্জ ওয়াশিংটন
  3. আব্রাহাম লিংকন
  4. জেমস গারফিল্ড
ব্যাখ্যা
আব্রাহাম লিংকন (১৮০৯ - ১৮৬৫):
- আব্রাহাম লিংকন ছিলেন আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট।
- ১৮৬১ সালের ৪ মার্চ থেকে ১৮৬৫ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- গেটিসবার্গের ভাষণ (Gettysburg Address) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের একটি বিখ্যাত ভাষণ।
- আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় পেনসিলভানিয়ার গেটিসবার্গে এই ভাষণ দেন।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর ভাষণটি দিতে তাঁর লেগেছিল তিন মিনিটেরও কম সময়।
- ১৮৬২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আব্রাহাম লিংকন দাস প্রথা বিলুপ্তির ঘোষণা দেন।
- এ লক্ষে ১ জানুয়ারি ১৮৬৩ তিনি Emancipation Proclamation এ স্বাক্ষর করেন।
- পরবর্তীতে সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী কার্যকরের মাধ্যমে ১৮৬৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর সাংবিধানিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দাস প্রথা নিষিদ্ধ হয়।
- ১৮৬১ সাল থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কনফেডারেট ও ইউনিয়নিস্টদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয় যা মার্কিন গৃহযুদ্ধ নামে পরিচিত। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্রাহাম লিংকন।

উৎস: Britannica & History.com
১২৩.
ফরাসি বিপ্লবের শিশু নামে পরিচিত -
  1. অলিম্প দ্য গুজ
  2. মেরি অ্যান্টোইনেট
  3. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
  4. জোসেফ অ্যাগ্রিকল ভিয়ালা
ব্যাখ্যা
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট:
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ছিলেন একাধারে ফ্রান্সের অবিসংবাদিত সম্রাট ও তুখোড় সেনাপ্রধান।
- তিনি ফরাসি বিপ্লবের ক্রান্তিলগ্নে ফ্রান্সের হাল ধরেছিলেন।
- ফ্রান্সকে ইউরোপের শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত করতে নেপোলিয়ন সক্ষম হয়েছিলেন।
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
- বিখ্যাত 'ওয়াটার লু' যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৮১৫ সালে।
- এই যুদ্ধে পরাজিত হন ফরাসি বীর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
- পরাজয়ের ফলে তাঁকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়।
- যেখানে ১৮২১ সালে আর্সেনিকের বিষক্রিয়ায় নেপোলিয়ন মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১২৪.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর প্রেসিডেন্টের নাম কি?
  1. ক) ডোনাল্ড ট্রাম্প
  2. খ) ডব্লিউ জর্জ বুশ
  3. গ) বারাক ওবামা
  4. ঘ) জন এফ কেনেডি
ব্যাখ্যা
ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি, ২০১৭ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট। রিপাবলিকান পার্টির হয়ে তিনি নির্বাচন করেন এবং রিপাবলিকান পার্টির আরেক নাম GOP বা Grand Old Party
১২৫.
‘পোপ’ পদটি কোন ধর্মের সাথে সম্পর্কিত?
  1. হিন্দু ধর্ম
  2. বৌদ্ধ ধর্ম
  3. খ্রিস্টান ধর্ম
  4. ইসলাম ধর্ম
ব্যাখ্যা
• পোপ:
- ‘পোপ’ হলেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু।

- তিনি রোমান ক্যাথলিক গির্জার সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান।
- তাকে খ্রিস্টান ধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- পোপ হিসাবে যিনি নির্বাচিত হন, তিনি ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রপ্রধানও হন।
- বর্তমান পোপ ফ্রান্সিস ২০১৩ সালে পোপ হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ক্যাথলিক গির্জার নেতৃত্ব দেন।
- পোপ ফ্রান্সিস ছিলেন ৭৪১ সালের পর প্রথম নন-ইউরোপিয়ান পোপ।
- তিনি গির্জার সংস্কার, দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ রক্ষা, এবং নারী ও যুবকদের ক্ষমতায়নে তাঁর বিশেষ উদ্যোগের জন্য পরিচিত ছিলেন।​

উল্লেখ্য,
- পোপ ফ্রান্সিস ২১ এপ্রিল, ২০২৫ ভ্যাটিকানে তার বাসভবন কাসা সান্টা মার্টায় ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি।
১২৬.
মার্কিন কোন প্রেসিডেন্ট কখনো হোয়াইট হাউজে বসবাস করেননি?
  1. আব্রাহাম লিংকন
  2. রিচার্ড নিক্সন
  3. জর্জ ওয়াশিংটন
  4. মার্টিন লুথার কিং
ব্যাখ্যা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট:
- হোয়াইট হাউস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত।
- ১৮০০ সাল থেকে প্রতিটি আমেরিকান রাষ্ট্রপতির আবাসস্থল।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট: জর্জ ওয়াশিংটন।
- জর্জ ওয়াশিংটন কখনো হোয়াইট হাউজে বসবাস করেননি।

অন্যদিকে -
- যুক্তরাষ্ট্রে ক্রীতদাস প্রথা বিলোপকারী প্রেসিডেন্ট: আব্রাহাম লিংকন।
- রিচার্ড নিক্সন ‘ওয়াটার গেট’ কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িত ছিলেন এবং একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি পদত্যাগ করেছিলেন।
- মার্টিন লুথার কিং ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিগ্রোদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনের অহিংসবাদী নেতা।

উৎস: Britannica.
১২৭.
নিম্নের কোন শিল্পী স্পেনে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. মাইকেল অ্যাঞ্জেলো
  2. লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি
  3. পাবলো পিকাসো
  4. পল সেজান
ব্যাখ্যা
পাবলো পিকাসো:
- বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী চিত্রশিল্পীদের একজন পাবলো পিকাসো। 
- তিনি একাধারে ছিলেন দক্ষ ভাস্কর, মৃৎশিল্পী, পোশাক পরিকল্পক ও মঞ্চসজ্জাশিল্পী। 
- পাবলো রুইজ পিকাসোর জন্ম ১৮৮১ সালের ২৫ অক্টোবর দক্ষিণ স্পেনের ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী মালাগা শহরে।
- পিকাসোর আঁকা অসংখ্য বিখ্যাত ছবির একটি হলো ‘গোয়ের্নিকা’। 
- তাঁর আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি হলো ‘দ্য ওল্ড গিটারিস্ট’, ‘গার্ল বিফোর আ মিরর’, ‘দ্য উইপিং ওমেন’, ‘উইমেন অব আলজিয়ার্স’, ‘সেলফ পোর্ট্রেট’, ‘থ্রি মিউজিশিয়ানস’, ‘সিটেড বাথার’ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
মাইকেল এঞ্জেলাে (Michelangelo)

- মাইকেল এঞ্জেলাে ছিলেন রেনেসাঁস যুগের একজন ইতালিয় ভাস্কর, চিত্রকর, স্থপতি এবং কবি।
- জন্ম ১৪৭৫ সালের ৬ই মার্চ ইতালিতে।
- মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর শ্রেষ্ঠ মূর্তি মা মেরীর কোলে যীশুর মূর্তি।
- মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্যগুলো হলো ম্যাডোনা এন্ড চাইল্ড, নাইট, মোজেস, পিয়েটা, স্লেইভ ইত্যাদি।
- ১৫৬৪ সালের ১৮ ই ফেব্রুয়ারি এই বিশ্ববিখ্যাত মহান শিল্পী পরলােকগমন করেন।

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি:
- লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি একজন ইতালীয় রেনেসাঁ পলিমাথ, চিত্রশিল্পী, ভাস্কর, স্থপতি, সংগীতশিল্পী, বিজ্ঞানী, গণিতবিদ, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক, অ্যান্টোনিস্ট, ভূতত্ত্ববিদ, ম্যাগাজিনর, উদ্ভিদবিদ এবং লেখক।
- লিওনার্দো ইতালির ফ্লোরেন্স-এর কাছাকাছি Tuscany, ছোট শহরে ভ্যানি মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর বিখ্যাত শিল্পকর্ম: The Last Supper, Mona Lisa, The Vitruvian Man, The Portrait of a Lady with an Ermine, The Virgin of the Rocks, The Baptism of Christ, The Adoration of the Magi (1481), The Virgin and Child with St Anne (1510), The Madonna and Child with St. Anne, The Madonna and Child with a Cat, Portrait of Ginevra de' Benci (1474-1476)।

পল সেজান (Paul Cézanne):
- পল সেজান ছিলেন একজন ফরাসি চিত্রশিল্পী।
- তিনি পোস্ট-ইমপ্রেশনিস্ট চিত্রশিল্পী ছিলেন যার কাজ আধুনিক শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
- তিনি  ১৯ জানুয়ারী, ১৮৩৯ ফ্রান্সের আইক্স-এন-প্রোভেন্সে একটি ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেজানের সবচেয়ে বিখ্যাত কাজগুলির মধ্যে "দ্য মাউন্ট সেন্ট ভিক্টোয়ার", "দ্য লার্জ ব্রেথ", "স্টাডি অফ অ্যাপলস" এবং "দ্য বাথার্স" উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: Britannica.
১২৮.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে জয় লাভ করে কে?
  1. ক) সম্রাট বাবর
  2. খ) সম্রাট আকবর
  3. গ) ইব্রাহীম লোদী
  4. ঘ) আহমদ শাহ আবদালী
ব্যাখ্যা
১৭৬১ সালের ১৪ জানুয়ারি মারাঠা বাহিনী এবং আহমদ শাহ আবদালী নেতৃত্বোধীন আফগান যৌথ বাহিনীর মধ্যে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়৷ এতে আমহদ শাহ আবদালীর বাহিনী জয় লাভ করেন। পানিপথ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে অবস্থিত যা দিল্লি থেকে ৬০ মাইল উত্তরে অবস্থিত। (সূত্রঃ হরিয়ানা রাজ্যের সরকারি ওয়েবসাইট)
১২৯.
কার হাতে বাগদাদের পতন হয়?
  1. চেঙ্গিস খান
  2. তৈমুর লং
  3. হালাকু খান
  4. কুবলাই খান
ব্যাখ্যা
বাগদাদের পতন ও হালাকু খান:
– আল্লামা ইবনে আসির (রহ.) মোঙ্গলীয় নেতা হালাকু খানের হাতে বাগদাদের পতনকে ‘ইসলামী সভ্যতার সূর্যাস্ত’ আখ্যা দিয়েছেন।
– হালাকু খান ছিলেন চেঙ্গিস খানের পৌত্র।
– তিনি ছিলেন অর্ধস্বায়ত্তশাসিত মঙ্গোল অঞ্চল ইলখানেতের শাসক।
– ১২৫৬ সালে পারস্যের বিরুদ্ধে অভিযানের মধ্য দিয়ে হালাকু খানের মুসলিমবিরোধী অভিযান শুরু হয় এবং তা শেষ হয় ১২৫৮ সালে বাগদাদ পতনের মধ্য দিয়ে।
– বাগদাদ দখল করার পর আব্বাসীয় খলিফা আল মুস্তাসিম বিল্লাহ ও তাঁর সন্তানদের হত্যা করেন।
– দামেস্কের আইয়ুবি শাসকরাও হালাকু খানের নির্দয় আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন।
– মামলুক সুলতানের হাতে ১২৬০ সালে আইন জালুতের যুদ্ধে হালাকু খান ও তাঁর মিত্ররা (জর্জিয়া ও আর্মেনিয়া) পরাজিত হয়।

উৎস: Britannica.
১৩০.
দাসপ্রথা বিলুপ্তির কারণে মার্কিন কোন প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা হয়?
  1. আব্রাহাম লিংকন
  2. অ্যান্ড্রু জনসন
  3. রিচার্ড নিক্সন
  4. বেঞ্জামিন হ্যারিসন
ব্যাখ্যা
দাসপ্রথা বিলুপ্তির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনকে হত্যা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলুপ্ত:
- ১৮৬৫ সালের ৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয়।
- এই ত্রয়োদশ সংশোধনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করে।
- আব্রাহাম লিংকন-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৮৬০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসাবে আব্রাহাম লিংকন ইউনাইটেড স্টেটের ১৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৮৬০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই লিংকন দাস প্রথা বিলুপ্তির পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেন।
- ১৮৬৩ আনুষ্ঠানিকভাবে দাসপ্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। 
- দক্ষিণ অঞ্চলের ১১টি স্টেট দাসপ্রথার বিলুপ্তি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। 
- ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর লিংকন পেনসালভেনিয়ার গেটিসবার্গের যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে এক হৃদয়স্পর্শী ভাষণে বলেন, ‘গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার, জনগণের জন্য সরকার।’
- ১৮৬৪ সালে আব্রাহাম লিংকন দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৮৬৫ সালের ১৪ এপ্রিল ফোর্ডস অডিটরিয়ামে থিয়েটারের অভিনেতা জন উইলকেস বোথ (কনফেডারেটর এর কট্টর সমর্থক)  লিংকনের মাথায় গুলি চালান। 
- ১৮৬৫ সালের ১৫ এপ্রিল পিটারসন হাউজে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের মৃত্যু হয়।

উৎস: History Channel.
১৩১.
সম্প্রতি জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির কোন পদে নির্বাচিত হয়েছেন?
  1. সিনেটর
  2. মেয়র
  3. কাউন্সিলর
  4. গভর্নর
ব্যাখ্যা

- যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি। 
- তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমোকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন।

উল্লেখ্য,
- জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার তিনবারের নির্বাচিত সদস্য। 
- তাঁর জন্ম উগান্ডায়।
- শিশু মামদানি বড় হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে।
- সাত বছর বয়সে মা–বাবার হাত ধরে তিনি নিউইয়র্কে চলে আসেন।
- নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার সদস্য হওয়ার আগে জোহরান একজন কাউন্সিলর ছিলেন। এ ছাড়া তিনি একজন ‘র‍্যাপার’ও।

উৎস: প্রথম আলো।

১৩২.
রাজনৈতিক দর্শনের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য পলিটিক্স’ কার লেখা?
  1. সক্রেটিস
  2. এরিস্টটল
  3. প্লেটো
  4. মাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা

• এরিস্টটল:
-  তিনি ছিলেন একজন প্রচীন গ্রিক দার্শনিক ।
- এরিস্টটলের মতে আভিজ্ঞতাই জ্ঞানের উৎস।
-অ্যারিস্টটলের জন্ম উত্তর মেসিডোনিয়ার ক্যালসিডিক উপদ্বীপে।
- তাকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
 - এরিস্টটলের শিক্ষক ছিলেন- প্লটো।
- তার বিখ্যাত গ্রন্থ - দ্যা পলিটিক্স।
- লাইসিয়াম তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৩.
দক্ষিণ আমেরিকা থেকে নির্বাচিত প্রথম পোপ কে?
  1. পোপ বেনেডিক্ট XVI
  2. পোপ জন পল II
  3. পোপ ফ্রান্সিস
  4. পোপ লিও XIII
ব্যাখ্যা
পোপ ফ্রান্সিস:
- পোপ ফ্রান্সিসকে বলা হয় ক্যাথলিক চার্চের মহান সংস্কারক।
- তিনি দক্ষিণ আমেরিকা থেকে নির্বাচিত প্রথম পোপ। 
- আসল নাম: জর্জ মারিও বার্গোগলিও (Jorge Mario Bergoglio)।
- জন্ম: ১৭ ডিসেম্বর ১৯৩৬, বুয়েনোস আইরেস, আর্জেন্টিনা।
- ২০১৩ সালে পোপ ফ্রান্সিস পোপ নির্বাচিত হয়েছিলেন।
- তাঁর ধর্মীয় গোষ্ঠী: জেসুইট (Society of Jesus)। 

⇒ তিনি দরিদ্রদের অধিকার, অভিবাসী সমস্যা এবং পরিবেশ রক্ষা-এই তিনটি বিষয়ের উপর তিনি জোর দিয়ে থাকেন।
- তাঁর প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হলো "Laudato Si'" (২০১৫), যা জলবায়ু সংকট মোকাবেলা এবং পরিবেশ রক্ষার ওপর ভিত্তি করে লেখা।

উল্লেখ্য,
- তিনি ২১ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে মারা গিয়েছেন।

উৎস: Britannica.
১৩৪.
নিচের কে জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন?
  1. ক) অধ্যাপিকা সুফিয়া আহমদ
  2. খ) অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
  3. গ) ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী
  4. ঘ) উপরের সকলেই
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন অধ্যাপিকা সুফিয়া আহমদ (প্রথম নারী), অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। সম্প্রতি উনারা সবাই মৃত্যুবরণ করেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
১৩৫.
বাংলাদেশের কোন বিজ্ঞানী 'কলিঙ্গ পুরস্কার' লাভের গৌরব অর্জন করেছেন?
  1. ক) ড. আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দীন
  2. খ) ড. কুদরত-এ-খুদা
  3. গ) ড. জগদীশ চন্দ্র বসু
  4. ঘ) ড. কামাল উদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা

আবদুল্লাহ আল-মুতী দেশের প্রধান প্রধান সব পুরস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও লাভ করেন।
যেমনঃ
- বাংলা একডেমি পুরস্কার (১৯৭৫),
- ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক কলিঙ্গ পুরস্কার (১৯৮৩),
- একুশে পদক (১৯৮৫),
- স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৫)।
তার প্রথম প্রকাশিত বই- এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে (১৯৫৫)।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩৬.
“শক্তি নয়, ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি” –এটি কার অভিমত?
  1. থমাস হবস
  2. ম্যাকিয়াভেলী
  3. জেরেমি বেন্থাম
  4. টি. এইচ. গ্রিন
ব্যাখ্যা
- “শক্তি নয়, ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি” –এটি টি. এইচ. গ্রিনের অভিমত।
(ব্রিটানিকা)
১৩৭.
নোবেল জয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো একজন-
  1. রাজনীতিবিদ 
  2. অর্থনীতিবিদ
  3. মানবাধিকার কর্মী
  4. রসায়নবিদ
ব্যাখ্যা

- ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো।

- ৫৮ বছর বয়সী মাচাদো শুধু একজন রাজনীতিক নন, তিনি একজন শিল্প প্রকৌশলীও।
- মারিয়া কোরিনা মাচাদো ১৯৬৭ সালের ৭ অক্টোবর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর বাবা ছিলেন ভেনেজুয়েলার ইস্পাতশিল্পের একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী।

- মারিয়া কারাকাসের আন্দ্রেস বেলো ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি এবং একই শহরের ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইইএসএ) থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

- ২০১০ সালে বিরোধীদলীয় জোট থেকে তিনি ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ২০১২ সালে ‘ভেন্তে ভেনেজুয়েলা’ নামের রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন মারিয়া।
- ২০১৪ সালে তিনি নিকোলা মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হন।

উৎস: Nobel Prize ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো।

১৩৮.
বার্ট্রান্ড রাসেল কত সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ১৯৫০ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
- তিনি Political Ideals গ্রন্থটি লিখেছেন।
- Political Ideals গ্রন্থে তিনি বলেছেন: রাজনৈতিক আদর্শ ব্যক্তিজীবনের আদর্শের উপর ভিত্তি করে হতে হবে।

বাট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১৩৯.
পারস্যের প্রাচীন ধর্মের নাম কী ছিল?
  1. ক) ইহুদি
  2. খ) মারদুক
  3. গ) জরথুস্ত্র
  4. ঘ) সাসানীয়
ব্যাখ্যা
জরথুস্ত্র ধর্ম:

- পারস্যের প্রাচীন ধর্মের নাম ছিল জরথুস্ত্র।

- জরথুস্ত্রের আবির্ভাব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে
- পারস্যের সাসানীয় রাজবংশের সম্রাট আরদাশিরের সময় জরথুস্ত্র ধর্ম রাজকীয় মর্যাদা লাভ করে।
- জরথুস্ত্রবাদ ছিল একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী।
- বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের উপর জরথুস্ত্র ধর্মের বেপক প্রভাব রয়েছে।
- এদের প্রধান দেবতার নাম আছর মাজদা
- ধর্ম গ্রন্থের নাম জেন্দাবেস্তা

তথ্যসূত্র - উচ্চমাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস,প্রথম পত্র,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪০.
মুহাম্মদ (সা:) এবং তাঁর অনুসারীদের মদিনার যাত্রাকে কী বলা হয়?
  1. ওমরাহ
  2. হিজরত
  3. ত্যাগ
  4. অনুগ্রহ
ব্যাখ্যা

- হিজরাহ (হিজিরা/হিজরা) হলো নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা থেকে ইয়াসরিব (মদিনা) যাওয়ার অভিযান।
- এটি ঘটেছিল ৬২২ খ্রিস্টাব্দে, মুসলমানদের নিপীড়ন থেকে বাঁচার জন্য।
- মদিনায় পৌঁছে মুহাম্মদ (সা.) স্থানীয় গোত্রগুলোর সঙ্গে মদিনার সংবিধান নিয়ে আলোচনা করেন।
- এই সংবিধানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মুসলিম সম্প্রদায়কে সামাজিক ও রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
- হিজরাহ শব্দটি ৬৩০ সালের মক্কা দখলের আগে আবিসিনিয়া (পরবর্তীকালে ইথিওপিয়া) এবং মদিনায় মুহাম্মদের অনুসারীদের  হিজরতের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৪১.
বাংলাদেশের সংবিধানে 'আইনের চোখে সব নাগরিক সমান' উল্লেখ আছে?
  1. ক) ৭ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ২৭ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ২৯ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ১৯ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সংবিধানের,
• অনুচ্ছেদ-২৭ঃ আইনের চোখে সব নাগরিক সমান।
• অনুচ্ছেদ-৭ঃ সংবিধানের প্রাধান্য।
• অনুচ্ছেদ-১৯ঃ সুযোগের সমতা
• অনুচ্ছেদ-২৯ঃ সরকারি নিয়োগ লাভের সুযোগের সমতা।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪২.
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পূর্বে নরেন্দ্র মোদি কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন?
  1. অন্ধ্র প্রদেশ
  2. দিল্লি
  3. গুজরাট
  4. উত্তর প্রদেশ
ব্যাখ্যা
নরেন্দ্র মোদি:
- ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদি।
- তার রাজনৈতিক দলের নাম বিজেপি। 
- তিনি ২০১৪ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন।
- ২০১৯ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসেন।
- ২০২৪ সালে টানা তৃতীয়বার নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য,
- প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পূর্বে নরেন্দ্র মোদি গুজরাট রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
- খুব কম বয়সে তিনি মানুষের সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেন।
- তৃণমূল স্তরের কর্মী হিসাবে, সংগঠক হিসাবে এবং তাঁর নিজের রাজ্য গুজরাটের ১৩ বছর মুখ্যমন্ত্রীত্বের কার্যকালের মেয়াদে প্রশাসক হিসাবে তাঁর দক্ষতা তিনি তুলে ধরেছেন।

⇒ ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্ম হয়।
- তিনি স্বামী বিবেকানন্দের কাজে বিশেষভাবে প্রভাবিত হন। 

উৎস: Britannica.
১৪৩.
কোন বাংলাদেশি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন?
  1. ক) আনোয়ারুল করিম চৌধুরী
  2. খ) ইসমাত জাহান
  3. গ) হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন। আনোয়ারুল করিম ২০০১ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতিত্ব করেন। ইসমাত জাহান জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রথম নারী স্থায়ী প্রতিনিধি।
(সূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
১৪৪.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) চেম্বারলেন
  2. খ) রুজভেল্ট
  3. গ) চার্চিল
  4. ঘ) স্ট্যালিন
ব্যাখ্যা

- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইনস্টন চার্চিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জোসেফ স্টালিন। 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট, এবং যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে হ্যারি এস ট্রুম্যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

উৎসঃ ব্রিটানিকা

১৪৫.
মার্কিন রাজনীতিবিদ জোহরান মামদানির জন্মস্থান কোথায়?
  1. দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. নাইজেরিয়া
  4. উগান্ডা
ব্যাখ্যা

- ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচিত ১১১তম মেয়র।
- গত ১০০ বছরের মধ্যে নিউ ইয়র্কের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হলেন ৩৪ বছর বয়সী মামদানি।
- নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র তিনি।
- জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার তিনবারের নির্বাচিত সদস্য। 
- তাঁর জন্ম উগান্ডায়।
- শিশু মামদানি বড় হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে।
- সাত বছর বয়সে মা–বাবার হাত ধরে তিনি নিউইয়র্কে চলে আসেন।
- নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার সদস্য হওয়ার আগে জোহরান একজন কাউন্সিলর ছিলেন। এ ছাড়া তিনি একজন ‘র‍্যাপার’ও।

উৎস: প্রথম আলো।

১৪৬.
'ক্লিওপেট্রা' ছবির নাম ভূমিকায় কে অভিনয় করেন?
  1. মেরিলিন মনরো
  2. এলিজাবেথ টেইলর
  3. সোফিয়া লরেন
  4. অড্রে হেপবার্ন
ব্যাখ্যা
ক্লিওপেট্রা:
- ক্লিওপেট্রা ছিলেন ইতিহাসের বিখ্যাত মিশরীয় রানী।
- খ্রিস্টপূর্ব ৬৯ সালে আলেকজান্দ্রিয়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন জুলিয়াস সিজারের প্রেমিকা এবং পরে মার্ক অ্যান্টনির স্ত্রী।
- ৫১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তার পিতা টলেমি XII এর মৃত্যুতে রানী হয়েছিলেন।
- ক্লিওপেট্রা সক্রিয়ভাবে রোমান রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছিলেন।
- অক্টাভিয়ানের রোমান বাহিনী তাদের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করার পর, অ্যান্টনি এবং ক্লিওপেট্রা আত্মহত্যা করেন।

উল্লেখ্য,
⇒ ‘ক্লিওপেট্রা’ সিনেমা ১৯৬৩ সালে মুক্তি পায়।
- এই সিনেমার অভিনেত্রী ছিলেন এলিজাবেথ টেইলর।
- ফিল্মটিতে রিচার্ড বার্টন , রেক্স হ্যারিসন , রডি ম্যাকডোওয়াল এবং মার্টিন ল্যান্ডউ সহ নামী ভূমিকায় এলিজাবেথ টেলর অভিনয় করেছেন।

উৎস: Britannica.
১৪৭.
রাশিয়ান কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. জোসেফ স্টালিন
  2. লিয়ন ত্রটস্কি
  3. নিকোলাই 
  4. ভ্লাদিমির লেনিন
ব্যাখ্যা

ভ্লাদিমির লেলিন
- ভ্লাদিমির লেনিনের প্রকৃত নাম ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ।
- জন্ম: ২২ এপ্রিল ১৮৭০, সিম্বিরস্ক, রাশিয়া।
- মৃত্যু: ২১ জানুয়ারি ১৯২৪, গোর্কি (মস্কোর কাছে)।
- তিনি রাশিয়ান কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের প্রধান নেতা ছিলেন।
- সোভিয়েত রাষ্ট্রের স্থপতি ও নির্মাতা হিসেবে পরিচিত।

- ১৯০৩ সালে লন্ডনে রাশিয়ান সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাটিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভায় বলশেভিক উপদলের নেতা।
- বিপ্লবী সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা: দলকে সর্বহারা শ্রেণীর অগ্রদূত, পেশাদার বিপ্লবীদের কেন্দ্রীভূত সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন।
- তত্ত্ব: পরবর্তীতে লেনিনবাদ নামে পরিচিত, যা কার্ল মার্ক্সের তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ গঠন করে এবং কমিউনিস্ট বিশ্বদৃষ্টিতে রূপান্তরিত হয়।
- তিনি ১৯০৫ সালের রুশ বিপ্লবের সময় রাশিয়ায় ফিরে আসেন।
- ১৯০৭ সালে আবার নির্বাসন শুরু, পরবর্তী ১০ বছর ধরে আন্দোলন চালান।
- ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় ফিরে আসেন এবং বলশেভিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন, যা অস্থায়ী সরকার উৎখাত করে
সোভিয়েত রাষ্ট্রের নেতা হিসেবে জার্মানির সঙ্গে ব্রেস্ট-লিটোভস্ক চুক্তি স্বাক্ষর (১৯১৮) করেন।
- ১৯১৯ সালে কমিন্টার্ন (কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল) প্রতিষ্ঠা করেন।
- অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধের জন্য নতুন অর্থনৈতিক নীতি (NEP) চালু করেন।

ভ্লাদিমির লেনিন রচিত বই:
- State and Revolution.
- Imperialism, the Highest Stage of Capitalism.
- Philosophical Notebooks.
- Materialism and Empirio-criticism.

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৪৮.
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যানকারী একমাত্র ব্যক্তি কে?
  1. লি ডাক থো
  2. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র
  3. স্যার স্যামুয়েলসন
  4. হরগোবিন্দ থোরানা
ব্যাখ্যা
লি ডাক থো:

- তিনি ১৯১১ সালের ১৪ অক্টোবর ভিয়েতনামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ভিয়েতনামের রাজনীতিবিদ।
- ১৯৭৩ সালে তাঁকে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু থো তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
- লি ডাক থো ছিলেন ১৯৩০ সালে ইন্দোচাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি ১৯৯০ সালের ১৩ অক্টোবর ভিয়েতনামে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১৪৯.
টলেমি কী ছিলেন?
  1. চিকিৎসক
  2. দার্শনিক
  3. জ্যোতির্বিদ
  4. সেনাপতি
ব্যাখ্যা
টলেমি:
- ক্লডিয়াস টলেমি ছিলেন গ্রিকো-মিশরীয় জ্যোতির্বিদ ও গাণিতবিদ।
- তিনি রোম-শাসিত মিশরের ইজিপ্টাস নামক প্রদেশের অধিবাসী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- তিনি আলেকজান্দ্রিয়ার নিকট একটি মানমন্দিরে কাজ করতেন।
- তাঁর তৈরি করা মহাবিশ্বের মডেলে ধারাবাহিকভাবে পৃথিবী, চাঁদ, বুধ, শুক্র, সূর্য, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনিকে রাখা হয়েছে।
- এগুলোর কেন্দ্রে পৃথিবীকে দেখানো হয়েছে।
- বৃত্তের ভেতর চতুর্ভুজসম্পর্কিত উপপাদ্যটি টলেমির।
- তিনি ত্রিকোণমিতিক ছক তৈরির কাজে উপপাদ্যটি ব্যবহার করেন।

উৎস: Britannica.
১৫০.
ইহুদিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা কে?
  1. থিওডর হার্জেল
  2. ডেভিড বেনগুরিয়ন
  3. আর্থার বেলফোর
  4. ব্যারন রথচাইল্ড
ব্যাখ্যা
ইসরাইল রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা:
- মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মাঝখানে ছোট্ট একটি দেশ ইসরায়েল।
- ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে ফিলিস্তিন ছেড়ে যায় ব্রিটেন, আর ইহুদিরা ঘোষণা করে নিজস্ব রাষ্ট্র ইসরায়েলের।
- তারাই একমাত্র দেশ যারা শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে সরাসরি নাগরিকত্ব দেয়, সেটা পৃথিবীর যে প্রান্তেরই ইহুদি হোক না কেন।
- ইতিহাসে ইসরায়েল বলে কোনো রাষ্ট্র ছিল না।
- ইসরায়েলের স্বপ্নদ্রষ্টা অস্ট্রিয়ান সাংবাদিক থিওডর হার্জেল।
- ‘জুডেনস্টাট’ বা ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ নামে ১৮৯৬ সালে তিনি যে বই লেখেন, তা হিটলারের ‘মেইন ক্যাম্ফে’র মতোই বিপজ্জনক।
- হার্জেল লেখেন, ‘আমরা সেখানে (ফিলিস্তিনে) এশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপের দুর্গপ্রাচীর বানাব।’

উল্লেখ্য,
- যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়।
- ইসরায়েল রাষ্ট্র যেদিন প্রতিষ্ঠা হয়, ঠিক সেদিনই স্বীকৃতি দিয়েছিল আমেরিকা।


উৎস: i) ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, প্রথম আলো। [link]
         ii) Britannica.
১৫১.
কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নেলসন মেন্ডেলা কত বছর কারাভোগ করেন?
  1. ক) ২৫
  2. খ) ২৬
  3. গ) ২৭
  4. ঘ) ২৮
  5. ঙ) ৩১
ব্যাখ্যা
১৯৬৪ সালের ১১ জুন ম্যান্ডেলার বিরুদ্ধে এএনসি-র সশস্ত্র সংগ্রামে নেতৃত্বদানের অভিযোগ এনে শাস্তি দেওয়া হয়। তারপর থেকে ম্যান্ডেলার কারাবাস শুরু হয় রেবন দ্বীপের কারাগারে। তিনি তাঁর ২৭ বছরের কারাবাসের প্রথম ১৮ বছর কাটিয়েছিলেন এখানেই। তবে জেলে থাকার সময়ে বিশ্বজুড়ে সুনাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে তাঁর। দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃষ্ণাঙ্গ নেতা হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। সশ্রম কারাদন্ডের অংশ হিসেবে রেবন দ্বীপের কারাগারে ম্যান্ডেলা ও তাঁর সহবন্দিরা একটি চুনাপাথরের খনিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হন। দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের এক পর্যায়ে এসে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি এফ ডব্লিউ ডি. ক্লার্ক আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসেরসহ অন্যান্য বর্ণবাদবিরোধী সংগঠনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিলেন। অন্যদিকে তিনি ঘোষণা করেন, ম্যান্ডেলার মুক্তিদানের কথা।
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস ২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
১৫২.
নিম্নোক্ত কোন ব্যক্তি ইতিহাসের বিগ ফোর (Big Four)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জর্জ ক্লেমেনসো
  2. হ্যারি এস ট্রুম্যান
  3. ডেভিড লয়েড জর্জ
  4. উড্রো উইলসন
ব্যাখ্যা
হ্যারি এস ট্রুম্যান ইতিহাসের বিগ ফোর (Big Four)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

বিগ ফোর (Big Four):
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছিল ১৯১৯ সালে।
- প্যারিসে এই বিশ্বযুদ্ধ শান্তি সম্মেলনে বিজয়ী মিত্রশক্তির প্রতিনিধিরা যোগ দিলেও প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা ছিল মোট চারটি দেশের।
- মিত্রপক্ষের তৎকালীন ৪টি দেশের নেতা যারা ইতিহাসে “বিগ ফোর” (Big Four) নামে পরিচিত। তারা হলেন -
• যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট - উড্রো উইলসন,
• যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী - ডেভিড লয়েড জর্জ,
• ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী - জর্জ ক্লেমেনসো ও,
• ইতালির প্রধানমন্ত্রী - ভিটোরিও অরল্যান্ডো।

⇒ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার আগে ইউরোপে দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। 
১. এক পক্ষে ছিল ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন, জাপান ইত্যাদি পোর্তুগাল যা মিত্রশক্তি নামে পরিচিত ছিল।
২. অপরপক্ষে অস্ট্রিয়া, ইতালি, তুরস্ক বুলগেরিয়া যা অক্ষশক্তি নামে পরিচিত।

উৎস: Britannica.
১৫৩.
নিচের কোনটি শিখদের ধর্মগ্রন্থ?
  1. ত্রিপিটক
  2. বেদ
  3. বাইবেল
  4. গ্রন্থ সাহেব
ব্যাখ্যা
শিখ:
- উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ - ১৫ শতকের শেষের দিকে ভারতীয় উপমহাদেশের পাঞ্জাব অঞ্চলে শিখ ধর্ম, ধর্ম এবং দর্শন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর সদস্যরা শিখ নামে পরিচিত।
- প্রবর্তক - গুরু নানক।
- ধর্মগ্রন্থ - গ্রন্থ সাহেব (আদি গ্রন্থ)।
- উপাসনালয় - গুরু দুয়ারা।
- পবিত্র স্থান - শিখদের পবিত্র ধর্মীয় স্থান - পাঞ্জাবের অমৃতসরে অবস্থিত ‘স্বর্ণমন্দির’।

অন্যদিকে,
- ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ - হিব্রু বাইবেল (তাওরাত)।
- হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ - বেদ।
- বৌদ্ধধর্মের ধর্মগ্রন্থ - ত্রিপিটক।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, বিএ, বিএসএস; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫৪.
হোমারের রচিত মহাকাব্যের নাম কী?
  1. গিলগামেশ
  2. ইলিয়াড
  3. প্যারাডাইস লস্ট
  4. শাহনামা 
ব্যাখ্যা

• হোমার:
- হোমার ছিলেন প্রাচীন গ্রীক কবি।
- তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৯ম বা ৮ম শতাব্দীতে আইওনিয়া অঞ্চলে বিকশিত হন।
- তাঁর জীবন সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে খুব কমই জানা যায়।
- ঐতিহ্য অনুসারে, হোমার অন্ধ ছিলেন।
- তিনি “ইলিয়াড” ও “ওডিসি” — এই দুটি মহান মহাকাব্যের রচয়িতা হিসেবে পরিচিত।
- প্রাচীন গ্রীকরা তাঁকে এই দুটি মহাকাব্যের জন্য দায়ী করেছেন।
-  আধুনিক পণ্ডিতরা সাধারণত একমত যে তিনি ইলিয়াড রচনা করেছিলেন (কিন্তু এর মূল স্রষ্টা ছিলেন না)।
- তিনি অন্তত ওডিসি রচনায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

অন্যদিকে,
- শাহনাম মহাকাব্যটির লেখক ছিলেন- ফেরদৌসী।
- প্যারাডাইস লস্ট মহাকাব্যটির লেখক ছিলেন- জন মিল্টন
- গিলগামেশের মহাকাব্য একটি মেসোপটেমীয় মহাকাব্য। 

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৫৫.
বঙ্গবন্ধুর 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' মারাঠি ভাষায় অনুবাদ করেন কে?
  1. প্রফেসর ফ্রান্স ভট্টাচার্য
  2. অপর্ণা ভেলনকার
  3. ড. সৌমেন ভারতীয়া
  4. ড. জুরি শর্মা
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু অসমাপ্ত আত্মজীবনী সর্বশেষ অনূদিত ভাষা হলো মারাঠি ভাষা (অপূর্ণ আত্মকথা)।
- এর অনুবাদক অপর্ণা ভেলনকার।
উৎস: দৈনিক পত্রিকা।
১৫৬.
শার্লে দ্য গল কে ছিলেন?
  1. ফ্রান্সের ত্রাণকর্তা
  2. জার্মানির ত্রাণকর্তা
  3. ইংল্যান্ডের ত্রাণকর্তা
  4. আমেরিকার ত্রাণকর্তা
ব্যাখ্যা
ফ্রান্সের ত্রাণকর্তা শার্লে দ্য গল (Charles de Gaulle): 
- ম্যাজিনো লাইন অতিক্রম করে জার্মান পাঞ্জার ডিভিশনের অবিশ্বাস্য সফলতা দুর্ভাগ্যের দিন ডেকে আনে ফরাসিদের।
- এ সময় ফ্রান্সের ত্রাণকর্তার ভূমিকায় আবির্ভূত হন শার্লে দ্য গল।
- তিনি ১৯৪১ সালের দিকে সুয়েজ খাল অঞ্চলে প্রথম জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করেছিলেন।
- এরপর যখন যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তখন পুরো জাতির হাল ধরেন তিনিই। 
- তার নেতৃত্ব ফ্রান্সকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং পরবর্তী সংকটকালীন সময়ে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
- পূর্ণ নাম: শার্লে আন্দ্রে জোসেফ মেরি দ্য গল (Charles André Joseph Marie de Gaulle)
- জন্ম: ২২ নভেম্বর, ১৮৯০, ফ্রান্সের লিল শহরে।
- মৃত্যু: ৯ নভেম্বর, ১৯৭০, কোলোম্বে-লে-দো-জিগলিস, ফ্রান্স।

কার্যকাল ও অবদান:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফরাসি সেনাবাহিনীতে কাজ করেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিরুদ্ধে প্রতিরোধে নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৪০ সালে জার্মানির আক্রমণে ফ্রান্স দখল হওয়ার পর ব্রিটেনে পালিয়ে যান।
- লন্ডন থেকে "ফ্রি ফ্রান্স" আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
- তার বিখ্যাত বাণী: "ফ্রান্স হারেনি।"

রাজনৈতিক জীবন:
- ১৯৫৮ সালে আলজেরিয়া সংকটের সময় তিনি ফ্রান্সের পঞ্চম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
- ফ্রান্সের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলেন।
- ন্যাটো থেকে ফ্রান্সকে আংশিকভাবে প্রত্যাহার করেন।
- আধুনিক ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠাতা
- তার নেতৃত্বে ফ্রান্সের অর্থনীতি ও জাতীয় গৌরব পুনরুদ্ধার হয়।

উল্লেখযোগ্য কর্ম:
বই: "The Call to Honor" তার লেখা বিখ্যাত স্মৃতিকথা।

উৎস:
ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
Encyclopaedia Britannica
BBC History
France Diplomacy Archive
১৫৭.
Blood and Iron Policy-এর প্রবক্তা কে?
  1. দ্বিতীয় নিকোলাস
  2. এডলফ হিটলার
  3. অটো ভন বিসমার্ক
  4. কিম জং উন
ব্যাখ্যা
অটো ভন বিসমার্ক:
- অটোভন বিসমার্ক আধুনিক জার্মানির জনক।
- জার্মানিতে ১৮৭১ সালে ক্ষমতায় বসেন অটোভন বিসমার্ক।
- তিনি জার্মান সাম্রাজ্যের প্রথম চ্যান্সেলর।
- তাঁর হাত ধরে জার্মান রাজ্যগুলো একক রাষ্ট্রের পতাকাতলে জড়ো হয়।
- ইউরোপে অন্যতম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জার্মানি।
- Blood and Iron Policy-এর প্রবক্তা অটো ভন বিসমার্ক।

উৎস: Britannica ও History Flame.
১৫৮.
‘দ্য ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশন’ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. নাসিম নিকোলাস তেলেব
  2. মার্ক সিনগার
  3. ক্লাউস শোয়েব
  4. জেরেমি রিফকিন
ব্যাখ্যা
দ্য ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন: 
- বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের চেয়ারম্যান ক্লাউস শোয়েব তার ‘দ্য ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন’ বইতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
- ওয়ালি-উল-মারূফ মতিন কর্তৃক বাংলাভাষায় একমাত্র অনুমোদিত অনুবাদ গ্রন্থ।
- ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশনে মূল নিয়ামকরূপে কাজ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দক্ষতা, সর্বেোপরি ডিজিটাল, ফিজিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল সিস্টেমের এক অপূর্ব সমন্বয়।
- পূর্বের শিল্প বিপ্লবগুলো ছিল বেশিরভাগ ফিজিক্যাল সিস্টেমনির্ভর, অথচ ইতিহাসে এই প্রথম মানসিক দক্ষতা ও ডিজিটাল সিস্টেমকে প্রাধান্য দিয়ে একটি শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়েছে।

সূত্র: বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের ওয়েবসাইট।
১৫৯.
Strategic Defense Initiative (SDI) এর প্রবক্তা কে?
  1. ক) বিল ক্লিনটন
  2. খ) রিচার্ড নিক্সন
  3. গ) রোনাল্ড রিগান
  4. ঘ) বারাক ওবামা
ব্যাখ্যা
During the 1980s, President Ronald Reagan initiated the Strategic Defense Initiative (SDI), an anti-ballistic missile program that was designed to shoot down nuclear missiles in space. Otherwise known as “Star Wars,” SDI sought to create a space-based shield that would render nuclear missiles obsolete.

Source: www.atomicheritage.org/
১৬০.
আরব বসন্তে প্রথম কোন শাসকের পতন ঘটে?
  1. ক) হোসনি মোবারক
  2. খ) আলী আব্দুল্লাহ সালেহ
  3. গ) মুয়াম্মার গাদ্দাফি
  4. ঘ) জাইন আল আবেদিন
ব্যাখ্যা
আরব বসন্ত হলো আরব মুসলিম দেশগুলোতে সংঘটিত হওয়া সিরিজ বা ধারাবাহিক গণঅভ্যুত্থান। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে বোয়াজিজি নামে এক ফলবিক্রেতা কর্তৃক নিজ শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তিউনেশিয়ায় গণবিক্ষোভ বা আরব বসন্তের সূত্রপাত ঘটে।
এর ফলে ১৪ মার্চ ২০১১ তিউনেশিয়ার স্বৈরশাসক জাইন আল আবেদীন বেন আলী এর পতন ঘটে।
পরবর্তীতে এই গণবিক্ষোভ মিসর, ইয়েমেন, লিবিয়া, সিরিয়া, বাহরাইন ও মরক্কোতে ছড়িয়ে পড়ে। লিবিয়া ও সিরিয়ায় গণআন্দোলন গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।
(সূত্রঃ হিস্টোরি ডটকম এবং দ্য গার্ডিয়ান)
১৬১.
নেলসন ম্যান্ডেলা কত বছর কারাগারে ছিলেন?
  1. ১০ বছর
  2. ১৮ বছর
  3. ২৭ বছর
  4. ৩২ বছর
ব্যাখ্যা

নেলসন মেন্ডেলা:
- নেলসন ম্যান্ডেলা ১৮ জুলাই ১৯১৮ সালে পূর্ব কেপের এমভেজো গ্রামে মাদিবা বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট।
- দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা।
- ১৯৪২ সালে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন।।
- ১৯৪২ সাল থেকে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিকভাবে জড়িত থাকাকালীন, ১৯৪৪ সালে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগদান করেন।
- তখন তিনি ANC যুব লীগ (ANCYL) গঠনে সহায়তা করেন।

⇒ তিনি ২৭ বছর কারাবাসে কাটান।
- কারাগারে থাকার সময় তার কয়েদী নম্বর ছিলো ৪৬৬।
- কারাদন্ডের সাল মিলিয়ে ‘৪৬৬৬৪’ গঠন করা হয় যা মেন্ডেলার এইডস বিরোধী প্রচারণার নাম।
- কারা মুক্তির পর ম্যান্ডেলা আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

⇒ এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্ক দেশের বর্ণবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে সাহায্য করেছিলেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ শাসনে শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছিলেন। 
- ম্যান্ডেলা এবং ডি ক্লার্ক যৌথভাবে তাদের প্রচেষ্টার জন্য ১৯৯৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তার মৃত্যু ৫ ডিসেম্বর ২০১৩, জোহানেসবার্গ- এ।

উৎস: Britannica.

১৬২.
হয়রত মুহাম্মদ (স.) কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) ৫২৫ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ৫৬০ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ২০ এপ্রিল ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখে মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মক্কার হেরা গুহায় গভীর ধ্যানমগ্ন থাকাবস্থায় ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত প্রাপ্ত হন।
৬২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি মক্কার কুরাইশদের সাথে বিখ্যাত হুদাইবিয়ার সন্ধি করেন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে (১২ই রবিউল আউয়াল) তিনি ইন্তেকাল করেন।
(সূত্র: ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা : ষষ্ঠ শ্রেণী)
১৬৩.
মানুষ প্রথম চাঁদে পা রাখে কবে?
  1. ক) ১২ এপ্রিল ১৯৬১
  2. খ) ২৪ জানুয়ারি ১৯৬৩
  3. গ) ২০ জুলাই ১৯৬৯
  4. ঘ) ২৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
নাসা প্রেরিত অ্যাপোলো-১১ মহাকাশযানে চরে ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই মানুষ প্রথম চাঁদে পা রাখে।
এদিন মার্কিন নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং প্রথম মানব হিসেবে চাঁদে পা রাখেন। তার কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে বাজ অলড্রিন চাঁদের বুকে পা রাখেন।
তাদের অপর সঙ্গী মাইকেল কলিন্স চাঁদের কক্ষপথে কমান্ড মডিউলে অবস্থান করেন।
(সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট)
১৬৪.
মুসলমানরা স্পেনকে কী নামে অভিহিত করত?
  1. আইবেরীয় উপদ্বীপ
  2. গ্যালিসিয়া
  3. আন্দালুসিয়া
  4. মুরসিয়া
ব্যাখ্যা
স্পেনে মুসলিম শাসন: 
- মধ্যযুগে স্পেনে আরব সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- ৭১১ সালে এ অঞ্চলটি মুসলিম শাসনাধীনে আসে।
- মুসলিমরা তৎকালীন স্পেনকে আল-আন্দালুস বা আন্দালুসিয়া নামে অভিহিত করত।
- এর রাজধানী ছিল কর্ডোভা।
- শুরুতে স্পেন উমাইয়া খিলাফতের অধীনে ছিল।
- ৭৫৬ সালে এখানে স্বাধীন উমাইয়া আমীরাত প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- রোমান শাসনামলে স্পেনকে বলা হত আইবেরীয় উপদ্বীপ।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৫.
ইসরাইল রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা কে?
  1. থিওডর হার্জেল
  2. ব্যারন এডমন্ড বথচাইল্ড
  3. ভেভিড বেনগুরিয়ন
  4. আর্থার বেলফার
ব্যাখ্যা
ইসরায়েলের স্বপ্নদ্রষ্টা অস্ট্রিয়ান সাংবাদিক থিওডর হার্জেল।

ইসরাইল:
- মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মাঝখানে ছোট্ট একটি দেশ ইসরাইল।
- রাজধানী: জেরুজালেম।
- মুদ্রা: শেকেল।
- ইসরাইলের ভাষা হিব্রু।
- ফিলিস্তিন অংশের ভূমি দখল করে রাষ্ট্র গঠন করে ইসরাইল।
- মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিস্টান এই তিন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্রভূমি ফিলিস্তিনের জেরুজালেম।
- বেলফোর ঘোষণা ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত।
- ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে ব্রিটিশ ও মার্কিনদের সহায়তায় ইহুদিরা আরব ভূমিতে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।
- তারাই একমাত্র দেশ যারা শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে সরাসরি নাগরিকত্ব দেয়।
- গোয়েন্দা সংস্থা: মোসাদ, আমান।
- ইসরাইলের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন ডেভিড বেন গুরিয়েন।

উল্লেখ্য,
- ইসরায়েলের স্বপ্নদ্রষ্টা অস্ট্রিয়ান সাংবাদিক থিওডর হার্জেল।
- ইহুদিবাদ অন্দোলনের প্রবক্তা থিওডোর হার্জল।
- যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়।
- ইসরাইলকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম আরব দেশ মিসর।
- ইসরাইলকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ তুরস্ক।

উৎস: i) Britannica.
         ii) ১৪ নভেম্বর, ২০২৩, Al Jazeera.
১৬৬.
কোন কবিকে ‘ ব্লাইন্ড বার্ড ’ বলা হয়?
  1. ক) হোমার
  2. খ) গুয়েভারা
  3. গ) হেরোডোটাস 
  4. ঘ) প্রিন্স বিসমার্ক
ব্যাখ্যা
গ্রিক জাতীয় কবি হোমার কে ব্লাইন্ড বার্ড বলা হয়। তার বিখ্যাত দুটি মহাকব্য - ইলিয়াড, ওডিসি।

গুয়েভারার উপাধি - চে।

হেরোডোটাস - ইতিহাসের জনক।

প্রিন্স বিসমার্ক - আধুনিক জার্মানের জনক।

তথ্যসূত্র: www.britannica.com
১৬৭.
দ্বন্দ্বাত্মক বস্তুবাদ’ তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. ফিদেল কাস্ত্রাে
  2. কার্ল মার্কস
  3. জ্যাক রুশো
  4. মাও সেতুং
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্বাত্মক বস্তুবাদ’ তত্ত্বের প্রবক্তা কার্ল মার্কস।

কার্ল মার্কস
:
- কার্ল মার্কস ছিলেন একজন বিপ্লবী, সমাজবিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ এবং অর্থনীতিবিদ।
- তিনি ১৮১৮ সালের ৫ মে জার্মানির রাইন প্রদেশের ট্রায়ারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সমাজতন্ত্র ও আধুনিক কমিউনিজমের জনক।
- তিনি লন্ডনে ১৮৮৩ সালের ১৪ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য বই -
- The Communist Manifesto যা ১৮৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই Das Kapital-এর লেখকও ছিলেন।
- মার্কস ও এঙ্গেলস-এর লেখাগুলো মার্কসবাদ নামে পরিচিত।
- কার্ল মার্ক্স এবং ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস-এর বিখ্যাত একটি বই 'The German Ideology'।
- তিনি ‘দ্বন্দ্বাত্মক বস্তুবাদ’ তত্ত্বের প্রবক্তা।

উৎস: Britannica.
১৬৮.
নেলসন ম্যান্ডেলা কোন আন্দোলনে নেতৃত্ব দানের জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন?
  1. অর্থনৈতিক সংস্কার আন্দোলন
  2. ভোটাধিকার আন্দোলন
  3. বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলন
  4. স্বাধীনতা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

নেলসন ম্যান্ডেলা বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দানের জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন।

• নেলসন ম্যান্ডেলা:
- নেলসন ম্যান্ডেলা ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী অবিসংবাদিত নেতা এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি (১৯৯৪-৯৯)।
- তিনি ১৯৪৪ সালে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে (এএনসি) যোগদান করেন।
- ১৯৯৪ সালের ২৭ এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনে এএনসি দুর্দান্তভাবে বিজয়ী হয়।
- ১৯৯৪ সালের ১০ মে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ম্যান্ডেলা।

উল্লেখ্য,
- ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের কুনু গ্রামে নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম।
- দেশবাসী তাঁকে ভালোবেসে ‘মাদিবা’ নামে ডাকে। এর অর্থ ‘জাতির জনক’।
- দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন লড়াই ও সংগ্রাম করেছেন তিনি।
- নাশকতার অভিযোগে মামলায় ১৯৬৪ সালের ১ জুন ম্যান্ডেলাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
- নিপীড়িত মানুষের পক্ষ নেওয়ায় রোবেন দ্বীপে কারাগারে থেকেছেন টানা ২৭ বছর।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্ক দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বর্ণবাদী শাসন অবসানের কথা ঘোষণা করেন।
- এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয় ম্যান্ডেলাকে।
- ১৯৯৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান এবং ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয় ম্যান্ডেলার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা, পত্রিকা রিপোর্ট।

১৬৯.
ইতিহাসে ‘ডেজার্ট ফক্স’ নামে খ্যাত কে ছিলেন?
  1. আনোয়ার সাদাত
  2. ফিল্ড মার্শাল রোমেল
  3. বার্নার্ড মন্টগোমারি
  4. মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক
ব্যাখ্যা
ফিল্ড মার্শাল রোমেল:
- ফিল্ড মার্শাল এরউইন রোমেল (Erwin Rommel) ছিলেন নাজি জার্মানির একজন বিখ্যাত সেনা কমান্ডার।
- তিনি ইতিহাসে ‘ডেজার্ট ফক্স’ বা ‘মরুভূমির শিয়াল’ নামে খ্যাত।

উল্লেখ্য,
- তার বিশেষ খ্যাতি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আফ্রিকায়, বিশেষত উত্তর আফ্রিকায়, জার্মান আফ্রিকা কর্পসের (German Afrika Korps) নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য।
- রোমেল ১৯১০ সালে জার্মানির সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং দ্রুতই তার কৌশলগত দক্ষতা এবং নেতৃত্বের জন্য পরিচিতি লাভ করেন।
- এই কারণেই তিনি 'ডেজার্ট ফক্স' নামে পরিচিত হয়ে উঠেন।

এছাড়াও,
- রোমেল যুদ্ধের শেষের দিকে হিটলারের নীতির বিরোধিতা করতে শুরু করেন এবং ১৯৪৪ সালে তাকে সামরিক ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে আত্মহত্যার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
- তার মৃত্যু আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যদিও এটি এক ধরনের চাপ বা ষড়যন্ত্র ছিল।
- ১৪ অক্টোবর, ১৯৪৪-এ বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
- রোমেলকে তার দক্ষতা, সাহসিকতা এবং কৌশলগত চিন্তাভাবনার জন্য স্মরণ করা হয়।

উৎস: Britannica.
১৭০.
পদার্থ বিজ্ঞানে ২০২২ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন কে?
  1. ক) জন এফ ক্লজার
  2. খ) অ্যান্টন জেলিঙ্গার
  3. গ) অ্যালাইন অ্যাসপেক্ট
  4. ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
বেল ইনেকুয়ালিটির পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ ও কোয়ান্টাম এন্টেঙ্গেলমেন্ট গবেষণায় অবদানের জন্য ২০২২ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে মোট তিনজনকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

এরা হলেন:
- জন এফ ক্লজার (যুক্তরাষ্ট্র)
- অ্যান্টন জেলিঙ্গার (অস্ট্রিয়া)
- অ্যালাইন অ্যাসপেক্ট (ফ্রান্স)।

নোবেল পুরস্কার-২০২২:

শান্তিতে:

- অ্যালেস বিয়ালিয়াৎস্কি (বেলারুশ)
- মেমোরিয়াল (রাশিয়ার মানবাধিকার সংগঠন)
- সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিস (ইউক্রেন)।
অবদান:
- বেলারুশ, রাশিয়া ও ইউক্রেনে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা।

সাহিত্যে:

- অ্যানি এরনো (ফ্রান্স)
অবদান:
- আপসহীন লেখনীর মাধ্যমে জেন্ডার, ভাষা ও শ্রেণিগত কারণে বিপুল বৈষম্যের শিকার হওয়া জীবনকে তুলে ধরা এবং ব্যক্তিগত স্মৃতির শিকড়, বিচ্ছিন্নতা ও সম্মিলিত অবদমন উন্মোচন।

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শরীরতত্ত্বে:

- সোয়ান্তে প্যাবো (সুইডেন)
অবদান:
- বিলুপ্ত হোমিনদের জিনোম এবং মানবজাতির বিবর্তন বিষয়ে গবেষণার জন্যে।

রসায়নে নোবেল:

- ক্যারোলিন আর বার্তোজ্জি (যুক্তরাষ্ট্র)
- মর্টেন মেলডাল (ডেনমার্ক)
- কে ব্যারি শার্পলেস (যুক্তরাষ্ট্র)।
অবদান:
- ক্লিক রসায়ন ও বায়োঅর্থোগোনাল রসায়নে অবদান রাখায় যা ওষুধ শিল্পকে আগামী দিনে নতুনমাত্রা দিতে পারে।

অর্থনীতিতে নোবেল:

- বেন এস বার্নানকে (যুক্তরাষ্ট্র)
- ডগলাস ডব্লিউ ডায়মন্ড (যুক্তরাষ্ট্র)ও
- ফিলিপ এইচ ডিবভিগ (যুক্তরাষ্ট্র)।
অবদান:
- ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সংকট নিয়ে গবেষণা।

(তথ্যসূত্র: নোবেল প্রাইজ ওয়েবসাইট)
১৭১.
‘পরিপূর্ণ জীবন বিকাশই হল শিক্ষা।’ - কার উক্তি?
  1. রুশো
  2. ভলতেয়ার
  3. স্পেন্সার
  4. ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা

হার্বার্ট স্পেন্সার এর মতে,'পরিপূর্ণ জীবন বিকাশই শিক্ষা'।
 - সক্রেটিস এর মতে, শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ ।
- সু অভ্যাস গঠনের নামে শিক্ষা- রুশো।- মহাত্মা গান্ধী বলেছেন, শিক্ষা হচ্ছে দেহ, মন ও আত্মার পরিপূর্ণ ও সুষম বিকাশ।
- শিশুর প্রথম শিক্ষালয় হলো পরিবার।

সূত্র: Britannica.com

১৭২.
'India Wins Freedom' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ড. জাকির হোসেন
  2. খ) ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ
  3. গ) মাওলানা আবুল কালাম আাজাদ
  4. ঘ) এপিজে আবদুল কালাম
ব্যাখ্যা
'India Wins Freedom' গ্রন্থের রচয়িতা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের বিখ্যাত নেতা মাওলানা আবুল কালাম আাজাদ
তাঁর প্রকৃত নাম -  Abul Kalam Ghulam Muhiyuddin. 

"His autobiography, India Wins Freedom, was published posthumously in 1959. In 1992, decades after his death, Azad was awarded the Bharat Ratna, India’s highest civilian award."
 
অন্যদিকে,
- ভারতের প্রথম মুসলিম ও তৃতীয় রাষ্ট্রপতি হলেন ড. জাকির হোসেন। তিনি ১৩ মে ১৯৬৭ থেকে ০৩ মে ১৯৬৯ সময়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
- ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ ভারতের পঞ্চম রাষ্ট্রপতি।
- এপিজে আবদুল কালাম ভারতের ১১-তম রাষ্ট্রপতি।

সুত্রঃ ব্রিটানিকা, ভারতের সরকারি ওয়েবসাইট

১৭৩.
২০০৪ সালে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন কোন দেশের নাগরিক?
  1. ব্রাজিল
  2. ইরান
  3. সুইডেন
  4. কেনিয়া
ব্যাখ্যা
ওয়াঙ্গিরি মাথাই
- ২০০৪ সালে কেনিয়ার Wangari Maathai টেকসই উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং শান্তিতে অবদান রাখার জন্য তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- তিনি ১ এপ্রিল ১৯৪০ জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ মারা যান।
- ওয়াঙ্গেরি মাথাই Greenbelt Movement এর প্রতিষ্ঠাতা।
- পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ন অবদানের জন্যে ২০০৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে কেনিয়ায় গ্রিনবেল্ট ‍মুভমেন্ট সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন এবং আফ্রিকার নারীদের এতে সম্পৃক্ত করে এর বিস্তৃতি ঘটান।
- তিনি প্রথম আফ্রিকান নারী হিসেবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

⇒ ২০২৩ সালের নোবেল বিজয়ী:
- সাহিত্য: জন ফসে।
- শান্তি: নার্গিস মোহাম্মদী।
- চিকিৎসাবিজ্ঞান: ক্যাটালিন কারিকো এবং ড্রু উইসম্যান।
- পদার্থবিজ্ঞান: পিয়েরে অ্যাগোস্টনি, ফিরেন্স ক্রাসজ এবং অ্যান লরিয়েল।
- রসায়ন: মুঙ্গি জি বাউইন্ডি, লুইস ই ব্রাস এবং আলেক্সি ই.ইকিমভ।
- অর্থনীতি: ক্লদিয়া গোল্ডিন।

উৎস: Nobel Prize ওয়েবসাইট।
১৭৪.
“নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত” - উক্তিটি কার?  
  1. লর্ড মরলি
  2. লর্ড ম্যাকলে
  3. লর্ড অ্যাক্টন
  4. লর্ড কার্জন 
ব্যাখ্যা

• লর্ড অ্যাক্টন:
- “নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত করে” উক্তিটি ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ লর্ড অ্যাক্টনের বিখ্যাত মন্তব্যের বাংলা রূপ।
- মূল ইংরেজি উক্তিটি হলো: “Power tends to corrupt, and absolute power corrupts absolutely.”
- এই বক্তব্যে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে ক্ষমতা মানুষকে স্বভাবতই দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেয়;
- আর যখন ক্ষমতা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে, তখন তা ব্যক্তিকে সর্বস্তরে দুর্নীতিগ্রস্ত করে তোলে।

উৎস: Britannica.

১৭৫.
নিম্নের কোন ব্যক্তি রাজনীতিবিদ হয়েও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  2. আনোয়ার সাদাত
  3. উইনস্টন চার্চিল
  4. নেলসন মেন্ডেলা
ব্যাখ্যা
উইনস্টন চার্চিল:
- উইনস্টন চার্চিল একজন রাজনীতিবিদ ও লেখক।
- উইনস্টন চার্চিল ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
- ১৯৫৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁর অবদানের জন্য চিরকাল স্মরণীয়।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাংকলিন ডি রুজভেল্ট ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল আটলান্টিক সনদে স্বাক্ষর করেন।
- উইনস্টন চার্চিল উগান্ডার সৌন্দর্য, প্রচুর বন্যপ্রাণী এবং বৈচিত্র্যের জন্য উগান্ডাকে 'আফ্রিকার মুক্তা' বলে অভিহিত করেছেন।

উৎস: Britannica.
১৭৬.
নেলসন ম্যান্ডেলা কত সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯৩ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
নেলসন ম্যান্ডেলা:
- তিনি ছিলেন একজন কালো জাতীয়তাবাদী নেতা।
- দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি নেলসন ম্যান্ডেলা।
- জন্মস্থান: দক্ষিণ আফ্রিকার এমভেজোতে।
- জন্মগ্রহণ করেন: ১৮ জুলাই, ১৯১৮ সালে।
- ১৯৪৪ সালে তিনি আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে (ANC) যোগদান করেন।
- এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্ক দেশের বর্ণবাদী বিচ্ছিন্নতার বর্ণবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে সাহায্য করেছিলেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ শাসনে শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছিলেন।
- ম্যান্ডেলা এবং ডি ক্লার্ক যৌথভাবে তাদের প্রচেষ্টার জন্য ১৯৯৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- 'লং ওয়াক টু ফ্রিডম' যা তার প্রথম জীবন এবং কারাগারে থাকা বছরগুলির বিবরণ দেয়, ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- নেলসন ম্যান্ডেলা ৫ ডিসেম্বর ২০১৩ সালে মারা যান।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১৭৭.
চে গুয়েভার কোথায় নিহত হন?
  1. ক) কিউবা
  2. খ) ভিয়েতনাম
  3. গ) পেরু
  4. ঘ) বলিভিয়া
ব্যাখ্যা
এর্নেস্তো চে গেভারা (১৪ জুন, ১৯২৮ – ৯ অক্টোবর, ১৯৬৭) ছিলেন একজন আর্জেন্টিনীয় মার্কসবাদী, বিপ্লবী, চিকিৎসক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ, সামরিক তত্ত্ববিদ এবং কিউবার বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব। 
- তাঁর জন্ম আর্জেন্টিনায়। 
- তিনি ছিলেন ছিলেন কিউবার বিপ্লবের একজন বিশিষ্ট কমিউনিস্ট ব্যক্তিত্ব এবং দক্ষিণ আমেরিকার একজন গেরিলা নেতা যিনি বিপ্লবী কর্মের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
- ১৯৬৭ সালে বলিভীয়ান সেনাবাহিনী কর্তৃক সেখানেই বন্দী ও নিহত হন। 

উৎস: Britannica.
১৭৮.
নেলসন ম্যান্ডেলার রাজনৈতিক দলের নাম কী?
  1. ইউনাইটেড আফ্রিকান পার্টি
  2. আফ্রিকান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন
  3. প্যান আফ্রিকান কংগ্রেস
  4. আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (ANC)
ব্যাখ্যা

নেলসন ম্যান্ডেলা (Nelson Mandela):
- তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রনায়ক, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মানবাধিকারকর্মী।
- জন্ম: ১৮ জুলাই, ১৯১৮।
- জন্মস্থান: মভোঝি (Mvezo), ইউহান্দু অঞ্চল, দক্ষিণ আফ্রিকা।
- তার রাজনৈতিক দলের নাম: আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (ANC)।
- ১৯৪৪ সালে তিনি এ দলে যোগ দেন।
- আন্দোলন: বর্ণবাদ (Apartheid) বিরোধী আন্দোলন।
- ১৯৬২ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ২৭ বছর কারাবন্দি রাখা হয়।
- ১৯৯০ সালে তিনি মুক্তি পান এবং পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট (১৯৯৪–১৯৯৯) নির্বাচিত হন।
- তার নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ (Apartheid) প্রথার অবসান ঘটে।
- তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার ১৯৯৩ সালে পান।
- নেলসন ম্যান্ডেলা ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৭৯.
' শাহনামা' কাব্যগ্রন্থটি কার রচিত?
  1. মহাকবি ফেরদৌসী
  2. কাজী দৌলত উজির বাহরাম খাঁ
  3. সৈয়দ হামজা
  4. মহাপন্ডিত আল বিরুনী
ব্যাখ্যা
মহাকবি ফেরদৌসী:
- সুলতান মাহমুদের সভাকবি ছিলেন মহাকবি ফেরদৌসী।
- ফেরদৌসীকে বলা হয় প্রাচ্যের হোমার।
- ফেরদৌসীর রচিত অমর কাব্যগ্রন্থের নাম শাহনামা।
- এটি একই সাথে ইরানের ও সারা বিশ্বের ফার্সি ভাষাভাষী লোকদের জন্য জাতীয় মহাকাব্য।
- ফেরদৌসী ৯৭৭ থেকে ১০১০ সালের মধ্যে ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে এই মহাকাব্য রচনা করেন।

উল্লেখ্য,
- সুলতান উপাধিধারী প্রথম শাসক গজনভির মাহমুদ বা সুলতান মাহমুদ।
- সামরিক মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে তিনি ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন এবং প্রতিবারই বিজয়ী হন।
- সাহিত্য, কবিতা, শিল্পের প্রতি তার অনুরাগ ছিলো ইতিহাসখ্যাত।
- মহাকবি ফেরদৌসি এবং মহাপন্ডিত আল বিরুনীর মতো বিদগ্ধ ব্যক্তিরা তার নৈকট্য ও সহযোগিতা লাভ করেন।
- মহাকবি ফেরদৌসি তার জগদ্বিখ্যাত মহাকাব্য 'শাহনামা' সুলতান মাহমুদকে উৎসর্গ করেন।
 
উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) World History Encyclopedia.
১৮০.
পিএলও চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাত তিউনিসিয়ায় নির্বাসিত জীবন ছেড়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে কবে গাজা ভূখন্ডে আসেন?
  1. ১১ জুলাই, ১৯৯৪
  2. ১২ জুলাই, ১৯৯৪
  3. ১৩ জুলাই, ১৯৯৪
  4. ১ জুলাই, ১৯৯৪
ব্যাখ্যা
এটি তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন যার বর্তমান গ্রহণযোগ্যতা নেই। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।

ইয়াসির আরাফাত:
- মুসলিম বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা ও ফিলিস্তিনি মুক্তিসংগ্রামের মহান নেতা ইয়াসির আরাফাত।
- ইয়াসির আরাফাত একজন ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতা ছিলেন।
- ইয়াসির আরাফাতের জন্ম ১৯২৯ সালে মিসরের কায়রোতে।
- তিনি ১৯৬৯-২০০৪ সাল পর্যন্ত প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (PLO)-এর চেয়ারম্যান এবং ১৯৯৬-২০০৪ সাল পর্যন্ত প্যালেস্টাইন অথরিটির (PA) সভাপতি ছিলেন।
- ১৯৯৩ সালে তিনি ইসরায়েলি সরকারের সাথে শান্তি চুক্তিতে পিএলওকে নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৯৪ সালে আরাফাত এবং ইজহাক রাবিন এবং ইসরায়েলের শিমন পেরেস যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।
- পিএলও চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাত তিউনিসিয়ায় নির্বাসিত জীবন ছেড়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে ১ জুলাই, ১৯৯৪ তারিখে গাজা ভূখন্ডে আসেন।

⇒ ১৯৫০ সালে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যোগ দেন রাজনীতিতে।
- ১৯৫৯ সালে কুয়েতে নির্বাসিতকালে ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মুক্তির সংগঠন ‘ফাতাহ’ গঠন করেন।
- পরবর্তী সময়ে এই সংগঠনের নাম হয় প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)।
- ১৯৬৭-৬৮ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে সম্মুখসারিতে থেকে যুদ্ধ করেন ইয়াসির আরাফাত।
- ১৯৬৯ সালে তিনি নির্বাচিত হন পিএলওর চেয়ারম্যান হিসেবে।
- ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ইয়াসির আরাফাত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন।
- ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৯৯১ সালে মাদ্রিদ সম্মেলন, ১৯৯৩ সালে অসলো চুক্তি এবং ২০০০ সালে ক্যাম্পডেভিড সম্মেলনের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেন তিনি।
- এই সময় হামাস ও অন্যান্য সংগঠনের উত্থান ঘটে, যারা ইয়াসির আরাফাতের ভিত্তি দুর্বল করে দিয়ে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে নেয়।
- ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ২০০২ সাল থেকে ইয়াসির আরাফাতকে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় তাঁর সদর দপ্তরে অবরুদ্ধ করে রাখে।

উল্লেখ্য,
- জীবনের শেষ দিনগুলোতে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখে।
- গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: Britannica.
১৮১.
'লৌহ মানবী' নামে পরিচিত কে?
  1. মাদার তেরেসা
  2. ইন্দিরা গান্ধী
  3. মার্গারেট থ্যাচার
  4. গোল্ডামায়ার
ব্যাখ্যা

মার্গারেট থ্যাচার:
- তিনি ১৩ অক্টোবর ১৯২৫ সালে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি ডিগ্রী অর্জন করেন।
- তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি কনজারভেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্টদের একজন ছিলেন।
- ১৯৭৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন — তিনি ব্রিটেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
- মার্গারেট থ্যাচার 'লৌহ মানবী' নামে পরিচিত।
- তিনি ৮ এপ্রিল ২০১৩ সালে লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।  

১৮২.
বৌদ্ধধর্মের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ‘তক্ষশীলা’ কোথায় অবস্থিত?
  1. শ্রীলঙ্কা
  2. ভারত
  3. নেপাল
  4. পাকিস্তান 
ব্যাখ্যা

বৌদ্ধধর্মের স্মৃতিবিজড়িত স্থান 'তক্ষশীলা' পাকিস্তানে অবস্থিত।

গৌতম বুদ্ধ:
- গৌতম বুদ্ধের ব্যক্তিগত নাম সিদ্ধার্থ।
- তাঁর জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ-৪র্থ শতাব্দীতে নেপালের কপিলাবস্তুর কাছে লুম্বিনীতে।
- তিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা।
- বুদ্ধ উপাধিটির অর্থ হল একজন আলোকিত সত্তা, যিনি অজ্ঞতার ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন এবং যন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভ করেন।
- বৌদ্ধধর্মের সব রূপই গৌতম বুদ্ধের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা উদযাপন করে, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর জন্ম, জ্ঞানার্জন এবং নির্বাণে উত্তরণ।
- তাঁর মৃত্যু কুশিনারা, মাল্লা প্রজাতন্ত্র, মগধ রাজ্যে।

অন্যদিকে -
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় বৌদ্ধধর্মের স্মৃতিবিজড়িত স্থান তক্ষশীলা।
- গৌতম বুদ্ধের দিব্যজ্ঞান লাভের স্থান বুদ্ধগয়া।
- সারনাথ একটি উদ্যান যেখানে গৌতম বুদ্ধ সর্বপ্রথম ধর্ম নিয়ে ভেবেছিলেন। এই স্থানটি ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানাশী শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.

১৮৩.
ভারতের কোন প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ভাষণ দেন?
  1. ক) পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু
  2. খ) ভিভি গিরি
  3. গ) লালবাহাদুর শাস্ত্রী
  4. ঘ) মনমোহন সিং
ব্যাখ্যা

- ৩১ জানুয়ারি ১৯৭৪ সালে যুগোস্লাভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্শাল জোসেফ টিটো জাতীয় সংসদে কোন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রথম ভাষণ দেন।
- ১৮ জুন ১৯৭৪ সালে ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিভি গিরি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ভাষণ দেন।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এ পর্যন্ত এই দুজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বক্তৃতা করেন।
উৎসঃ জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট

১৮৪.
কোন দার্শনিক হেমলক নামীয় বিষপানে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ক) সক্রেটিস
  2. খ) এরিস্টটল
  3. গ) প্লেটো
  4. ঘ) জেনোফেনস
ব্যাখ্যা
দার্শনিক সক্রেটিস গ্রীস দেশের এথেন্স নগরীতে খ্রিস্টপূর্ব ৪৭০ অব্দে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
তাঁর পিতা সফনিস্কাস (Sophroniscus) একজন ভাস্কর এবং মাতা ফিনারিট (Phaenarite) একজন ধাত্রী ছিলেন। 
সক্রেটিসের শিক্ষাজীবন সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। 
অনেকের ধারণা, তিনি কোন শিক্ষকের কাছে লেখাপড়া করেননি।
তিনি শৈশবে পিতার পেশা অবলম্বন করেন। তবে জগৎ ও জীবন সম্পর্কে বিভিন্ন মৌলিক প্রশ্ন তাঁকে খুবই বিচলিত করে। তাই বাধ্য হয়ে ভাস্কর্য ছেড়ে দর্শনচিন্তায় আত্মনিয়োগ করেন। অবশ্য ভাস্করের পেশা থেকে তিনি জীবন সম্পর্কে অনেক অভিজ্ঞতা লাভ করেন। তিনি কিছুদিন সামরিক বাহিনীতে সৈনিক হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং যুদ্ধে বিশেষ সাহসিকতা ও কর্তব্যপরায়ণতার স্বাক্ষর রাখেন। জানার অদম্য আগ্রহ তাঁকে সরা জীবন জ্ঞান অর্জনে ব্যাপৃত রাখে। নিরলস চেষ্টার ফলে তিনি জীবন ও দর্শন সম্পর্কে প্রভূত পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
দর্শন প্রচারের জন্য সক্রেটিসের কোন নির্দিষ্ট স্কুল বা একাডেমি ছিলনা। তিনি সমবেত জনতার সাথে দর্শন আলোচনায় ব্যাপৃত হতেন। কঠোর সাধনার বলেই তিনি দার্শনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। পূর্ববর্তী দার্শনিকদের মতো তিনি দর্শন শিক্ষাদানের বিনিময়ে কোন অর্থ গ্রহণ করতেন না। শিষ্যদের আনুকূল্যে তাঁর সংসার চলত।
তাঁর মৃত্যু ছিল করুণ অথচ স্বতন্ত্র মহিমায় ভাস্বর। জাতীয় দেবদেবীকে অস্বীকার করে তিনি তাঁর নিজস্ব মতামত প্রচার করেন। 
এথেন্সের যুবকদের পথভ্রষ্ট করার কল্পিত অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে তৎকালীন পাদ্রী সম্প্রদায় অভিযোগ আনয়ন করে। প্রচলিত ধর্মমত মেনে নেওয়ার শর্তে তাঁকে ক্ষমা প্রদর্শনের আশ্বাস দেওয়া হয়। তিনি তাতে রাজী হননি এবং বিষপানে মৃত্যু দণ্ডাদেশ মেনে নেন।
খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে প্রায় ৭০ বৎসর বয়সে হেমলক নামীয় বিষপানে তাঁর মৃত্যু হয়।
 
উৎস: স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, শিক্ষা দার্শনিক ১; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৫.
খ্রিস্টানদের উপাসনালয়ের নাম -
  1. ক) মঠ
  2. খ) গির্জা
  3. গ) মন্দির
  4. ঘ) সিনাগগ
ব্যাখ্যা

খ্রিস্টানদের উপাসনালয়ের নাম - গির্জা।

• খ্রিস্টধর্ম: 
- এটি যীশু খ্রিস্টের জীবন ও শিক্ষার উপর ভিত্তি করে একটি বিশ্বাস।
যীশুর জীবন ও শিক্ষাকে কেন্দ্র করে এই ধর্ম বিকশিত হয়েছে।
- প্রচারক- যিশু খ্রিস্ট।
- জেরুজালেমের বেথেলহামে যীশু জন্মগ্রহণ করেন।
- খ্রিস্টধর্মের অনুসারীদের ধর্মগ্রন্থ - বাইবেল। এটি দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত: ওল্ড টেস্টামেন্ট ও নিউ টেস্টামেন্ট ।

- খ্রিস্টানরা একেশ্বরবাদী। এই ঐশ্বরিক ঈশ্বরত্ব তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত: পিতা (স্বয়ং ঈশ্বর), পুত্র (যীশু খ্রীষ্ট) এবং পবিত্র আত্মা।
- খ্রিস্টানরা দাবি করে যে যীশু আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন যা দ্বিতীয় আগমন নামে পরিচিত।
- উপাসনালয়- গির্জা।
- পবিত্র স্থান - জেরুজালেম।

তথ্যসূত্র: Britannica & History.com

১৮৬.
'মন্টেস্কু' কোন দেশি দার্শনিক ছিলেন?
  1. জার্মানি
  2. ফরাসি
  3. যুক্তরাজ্য
  4. ইতালি
ব্যাখ্যা

- মন্টেস্কু ফরাসি দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি The Spirit of Laws গ্রন্থের রচয়িতা রচয়িতা।
- তিনি এই গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- তাঁর মতে, কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে একচেটিয়া সরকারি ক্ষমতা প্রদান করা ঠিক নয়।

১৮৭.
তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব কে দেন?
  1. মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক
  2. সুলতান মাহমুদ
  3. এনভার পাশা
  4. হাফিজ আল আসাদ
ব্যাখ্যা
মোস্তফা কামাল পাশা:
- আধুনিক তুরস্কের জনক খ্যাত মোস্তফা কামাল পাশা বা কামাল আতাতুর্ক।
- ১৯২৩ সালে তুরস্কের ওসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করে তুরস্ককে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেন।
- একই সময়ে তিনি তুরস্ককে একটি আধুনিক মনস্ক রাষ্ট্রে পরিণত করতে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
- এর অংশ হিসেবে ধর্ম পালনের উপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন- মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৮৮.
লায়ন্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা-
  1. ফ্রেডরিক প্যাসে
  2. মেলভিন জোন্স
  3. ফ্রেডরিখ এঞ্জেলস
  4. পল পি হ্যারিস
ব্যাখ্যা

- লায়ন্স ক্লাব হলো বিশ্বের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ৭ জুন, ১৯১৭ সালে।
- এর সদরদপ্তর অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রে।
- লায়ন্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা মেলভিন জোন্স নামে শিকাগোর এক ব্যবসায়ী।

উৎস: লায়ন্স ক্লাব ওয়েবসাইট।

১৮৯.
'Little Red Book' বইটির রচয়িতা কে?
  1. ফিদেল কাস্ত্রো
  2. চে গুয়েভারা
  3. মার্টিন লুথার কিং
  4. এডলফ হিটলার
  5. মাও সেতুং
ব্যাখ্যা

মাও সেতুং:
- চীনা কমিউনিষ্ট আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাও সেতুং ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রধান স্থপতি।
- ১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর, এক বিপ্লবের মাধ্যমে কমিউনিস্ট বিপ্লবী মাও-সেতুং এর নেতৃত্বে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন গণচীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মাও-সেতুং কে গণচীনের জনক বলা হয়।
- চীন বর্তমানে পৃথিবীর দ্বিতীয় প্রধান অর্থনীতির দেশ।

⇒ Little Red Book:
- লিটল রেড বুক (Little Red Book) বইটির রচয়িতা মাও সেতুং।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে।
- মাও সেতুং-এর নির্বাচিত উক্তি ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে প্রকাশিত এই বইটি। 
- লিটল রেড বুকের ভেতর, মোটা লাল হরফে লেখা  জুড়ে দেওয়া হয়, কমিউনিষ্ট ম্যানিফেষ্টো-এর সেই বিখ্যাত সেই স্লোগান  "দুনিয়ার মজদুর, এক হও" (Workers of the world, unite)"। 

উৎস: Britannica.
ii) The Guardian.

১৯০.
প্রোটেস্টানিজম কোন ধর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. ক) ইহুদি
  2. খ) খ্রিস্টান
  3. গ) জৈন
  4. ঘ) বৌদ্ধ
ব্যাখ্যা
প্রোটেস্টানিজম হলো ষোড়শ শতকে সংঘটিত খ্রিস্টান ধর্মের একটি সংস্কার আন্দোলন।
ষোড়শ শতকের শুরুর দিকে জার্মান ধর্মযাজক ‘মার্টিন লুথার’ প্রচলিত পোপ নিয়ন্ত্রিত চার্চতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেন। তার এই প্রতিবাদের মাধ্যমে ‘প্রতিবাদী খ্রিস্টধর্ম’ বা ‘প্রোটেস্টানিজমের’ সূচনা ঘটে।
এর অংশ হিসেবে ১৫৪৩-১৫৫৫ সময়ে জার্মানিতে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্টান্টদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
পরবর্তীতে ‘অগসবার্গের সন্ধির’ মাধ্যমে এই সংঘাতের অবসান হয় এবং খ্রিস্টান প্রোটেস্টান্ট সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে।
(সূত্রঃ ব্রিটানিকা)
১৯১.
পবিত্র ’আল-আকসা’ মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
  1. রামাল্লা
  2. তেল আবিব
  3. জেরুজালেম
  4. বাগদাদ
ব্যাখ্যা
• আল-আকসা মসজিদ:
- আল-আকসা মসজিদ জেরুজালেমে অবস্থিত।
- এটি মুসলমানদের পবিত্র ইসলামিক উপাসনালয়।
- সূরা আল-ইসরা (১৭:১)  বর্ণিত যে, এক রাতে আল্লাহ মহানবীকে মক্কার পবিত্র মসজিদ (আল-মসজিদ আল-হারাম) থেকে জেরুজালেমের  এই দূরবর্তী মসজিদে (আল-মসজিদ আল-আকসা) নিয়ে যান।
- এই পবিত্র স্থানে পৌঁছে, মহানবী (সা.) ইব্রাহিম (আ.), মূসা (আ.), ঈসা (আ.) সহ আল্লাহর অন্যান্য রাসূলদের (রুসুল) নিয়ে নামাজ আদায় করেন।
- ঐ রাতেই তিনি এই স্থান থেকে আসমানে আরোহণ করেছিলেন।
-  আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করেন, যাকে ইসলামে মিরাজ বলা হয়।
- ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী,  মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ঐতিহাসিক ইসরা (রাত্রিকালীন সফর) যাত্রার শেষ গন্তব্য হয়েছিল।
- আল-আকসা মসজিদ শব্দটি অনেক সময় শুধু মূল মসজিদ নয়।
- বরং সমগ্র চত্বর- যেখানে ডোম অব দ্য রকসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে- সেটিকেও বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- এই সমগ্র এলাকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত আল-হারাম আল-শরীফ (অর্থাৎ "মহান পবিত্র স্থান”) নামে।

উৎস: Britannica.
১৯২.
হিউয়েন সাং কোন শতকের তীর্থযাত্রী?
  1. ক) অষ্টম শতকের
  2. খ) দশম শতকের
  3. গ) সপ্তম শতকের
  4. ঘ) নবম শতকের
ব্যাখ্যা
হিউয়েন সাং:

- হিউয়েন সাং সপ্তম শতকের চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।

- ৬০৩ খ্রিস্টাব্দে হেনান প্রদেশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- লুওইয়াং নগরে অবস্থানকালে হিউয়েন-সাং মাত্র তেরো বছর বয়সে বৌদ্ধ ভিক্ষু সম্প্রদায়ে প্রবেশ করেন।
- তিনি বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের সন্ধানে সমগ্র চীন ভ্রমণ করেন। 
- ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন-সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য-এশিয়ার কুচ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান।
- কনৌজ নগরে পৌঁছে তিনি মহান ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন।
- হিউয়েন-সাং ৬৫৭টি সংস্কৃত বৌদ্ধ গ্রন্থ সংগ্রহ ও অনুবাদ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৯৩.
বিশ্বখ্যাত 'The Last Supper' চিত্রটির চিত্রকর কে?
  1. মাইকেল অ্যাঞ্জেলো
  2. লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি
  3. ভ্যানগগ
  4. পাবলো পিকাসো
ব্যাখ্যা
লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি:
- লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি একজন ইতালীয় রেনেসাঁ পলিমাথ, চিত্রশিল্পী, ভাস্কর, স্থপতি, সংগীতশিল্পী, বিজ্ঞানী, গণিতবিদ, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক, অ্যান্টোনিস্ট, ভূতত্ত্ববিদ, ম্যাগাজিনর, উদ্ভিদবিদ এবং লেখক।

- তাঁর বিখ্যাত শিল্পকর্ম:

- The Last Supper, Mona Lisa, The Vitruvian Man, The Portrait of a Lady with an Ermine, The Virgin of the Rocks, The Baptism of Christ, The Adoration of the Magi (1481), The Virgin and Child with St Anne (1510), The Madonna and Child with St. Anne, The Madonna and Child with a Cat, Portrait of Ginevra de' Benci (1474-1476)।

• The Last Supper:
- "The Last Supper" (ইতালীয় ভাষায় Il Cenacolo বা L'Ultima Cena) লিওনার্দো দা ভিঞ্চির একটি বিখ্যাত প্রাচীন রেনেসাঁ যুগের দেয়ালচিত্র।
- এটি ১৪৯৫ থেকে ১৪৯৮ সালের মধ্যে মিলানের সান্তা মারিয়া দেলে গ্রাজিয়ের কনভেন্টের রেফেক্টরিতে আঁকা হয়েছিল।
- চিত্রকর্মটি খ্রিস্টীয় ধর্মগ্রন্থের ইউহান ১৩:২১–২৯-এর ঘটনাকে চিত্রিত করে।
- যেখানে যিশু তাঁর শিষ্যদের জানান যে একজন তাঁকে বিশ্বাসঘাতকতা করবে।
- শিষ্যদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া এবং আবেগের সূক্ষ্ম চিত্রায়ণ লিওনার্দোর দক্ষতার পরিচয় দেয়।

উৎস: Britannica.
১৯৪.
পাবলো পিকাসো কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ইতালি
  2. স্পেন
  3. পর্তুগাল
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

• পাবলো পিকাসো
- বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী চিত্রশিল্পীদের একজন পাবলো পিকাসো।
- কেবল রং-তুলিই তাঁর শিল্পকলা প্রকাশের মাধ্যম ছিল না, তিনি একাধারে ছিলেন দক্ষ ভাস্কর, মৃৎশিল্পী, পোশাক পরিকল্পক ও মঞ্চসজ্জাশিল্পী। কবিতা ও নাটকও লিখেছেন।
- পাবলো রুইজ পিকাসোর জন্ম ১৮৮১ সালের ২৫ অক্টোবর দক্ষিণ স্পেনের ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী মালাগা শহরে। 
- পিকাসোর জীবনে ১৯০৭ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত সময়টা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- কারণ, এ সময়ে তিনি শিল্পী জর্জেস ব্রাকের সঙ্গে কাজ করে শিল্পে ‘কিউবিস্ট’ আন্দোলনের সূচনা করেন।
- জটিল জ্যামিতিক পদ্ধতিতে আঁকা ছবিতে বাস্তবতা উপস্থাপনের এক নতুন কৌশল ছিল এটি।
- একটানা ১৯১৯ সাল পর্যন্ত এই কিউবিজমের চর্চা চালিয়ে গেছেন। কোলাজশিল্পটির উদ্ভাবনেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
- পিকাসোর আঁকা অসংখ্য বিখ্যাত ছবির একটি হলো ‘গোয়ের্নিকা’।
- ১৯৩৭ সালে স্পেনের স্বৈরশাসক ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর অনুরোধে জার্মানি ও ইতালি যৌথভাবে আক্রমণ চালায় স্পেনের প্রত্যন্ত গোয়ের্নিকা গ্রামে।
- এ ঘটনায় মর্মাহত পাবলো পিকাসো এঁকেছিলেন তাঁর জগদ্বিখ্যাত ছবি ‘গোয়ের্নিকা’।
- গোয়ের্নিকাকে বলা হয় পৃথিবীর সর্বকালের সেরা যুদ্ধবিরোধী চিত্রকর্ম।
- তাঁর আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি হলো ‘দ্য ওল্ড গিটারিস্ট’, ‘গার্ল বিফোর আ মিরর’, ‘দ্য উইপিং ওমেন’, ‘উইমেন অব আলজিয়ার্স’, ‘সেলফ পোর্ট্রেট’, ‘থ্রি মিউজিশিয়ানস’, ‘সিটেড বাথার’ প্রভৃতি।
- ১৯৪৪ সাল থেকে ভাস্কর্যের দিকে মনোনিবেশ করেন পিকাসো। তাঁর একটি বিখ্যাত ভাস্কর্যের নাম ‘শিকাগো পিকাসো’।
- এ ছাড়া মৃৎশিল্পের কাজ, পোশাক পরিকল্পনা ও মঞ্চসজ্জার কাজও করেছেন তিনি।
- মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন সাহিত্য রচনায়। কাব্যচর্চা চালিয়ে গেছেন ১৯৩৯ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত।
- এ সময় লিখেছেন ৩০০টির বেশি কবিতা। এ ছাড়া দুটি নাটকও লিখেছেন।
- পিকাসো মারা গেছেন ১৯৭৩ সালের ৮ এপ্রিল, ফ্রান্সের মুজাই শহরে।

উৎস: ব্রিটানিকা।  

১৯৫.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোটবেলার ডাকনাম কি?
  1. বাবু
  2. রব
  3. দুখু
  4. খোকা
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:

- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোটবেলার ডাকনাম খোকা।
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও তথ্য বাতায়ন।
১৯৬.
সভ্যতায় রোমানদের শ্রেষ্ঠতম অবদান হলো-
  1. ক) রোমান আইন
  2. খ) বর্ণমালা উদ্ভাবন
  3. গ) স্থাপত্য নির্মাণ
  4. ঘ) ধর্ম সংস্কার
ব্যাখ্যা
বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে রোমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান হলো আইন প্রণয়ন।
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে সম্রাট জাস্টিনিয়ান প্রথম সমস্ত রোমান আইনসমূহ সংগ্রহ ও সংকলিত করেন।
পরবর্তীতে আইনসমমূহ ১২টি তামার পাতে খোদাই করে জনগণকে দেখানোর জন্যে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
রোমান আইনসমূহ বেসামরিক আইন, জনগণের আইন ও প্রাকৃতিক আইন নামে তিনভাগে বিভক্ত। আধুনিক বিশ্ব সম্পূর্নভাবে রোমান আইনের উপর নির্ভরশীল।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১৯৭.
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখান করেছেন-
  1. পার্ল এস বাক
  2. জ্য পল সার্ত্রে
  3. সল বেলো
  4. কাহলিল জিবরান
ব্যাখ্যা

- সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার স্বেচ্ছায় প্রত্যাখ্যান করেছেন ফরাসি দার্শনিক, লেখক ও নাট্যকার জাঁ-পল সার্ত্র (Jean-Paul Sartre)।

• জাঁ-পল সার্ত্র (Jean-Paul Sartre): 
-
জন্ম: ২১ জুন ১৯০৫, প্যারিস, ফ্রান্স।
- জাঁ-পল সার্ত্র ছিলেন ২০শ শতাব্দীর ফরাসি দর্শন, সাহিত্য ও রাজনীতির একটি অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।
- তিনি অস্তিত্ববাদ (Existentialism) দর্শনের প্রধান প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত, যা মানুষের স্বাধীনতা, দায়িত্ব এবং জীবনের অর্থ সৃষ্টির উপর জোর দেয়।

- ১৯৬৪ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
- তিনি ১৯৬৪ সালের নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও ঐ পুরস্কার গ্রহণ করেননি। 
- সার্ত্রে বলেছিলেন যে তিনি সবধরণের সরকারি বা আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রত্যাখ্যান করেন। 
- তিনি মনে করতেন যে, কোনো লেখককে যদি প্রতিষ্ঠানের অংশ বানিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তার স্বাধীনতা ও লেখার প্রভাব কমে যায়।
- সার্ত্র আরও বলেছিলেন যে, এই পুরস্কার গ্রহণ করলে তার লেখা পড়ার সময় পাঠকদের উপর একটা অবাঞ্ছিত চাপ তৈরি হবে।
- তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক গ্রন্থ: Being and Nothingness.

উল্লেখ্য, 
- বরিস পাস্তেরনাক (Boris Pasternak) ১৯৫৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
- প্রথমে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করতে রাজি হয়েছিলেন।
- কিন্তু সোভিয়েত সরকারের চরম চাপ ও হুমকির কারণে তাকে বাধ্য হয়ে প্রত্যাখ্যান করতে হয়।


তথ্যসূত্র: 
i) Nobel Prize Website. (Link)
ii) Britannica.
iii) The Guardian. 

১৯৮.
'Free and Open Indo-Pacific' (FOIP) কৌশলটির উদ্ভাবক কে?
  1. বারাক ওবামা 
  2. শিনজো অ্যাবে
  3. শি জিনপিং
  4. বরিস জনসন
ব্যাখ্যা

'Free and Open Indo-Pacific' (FOIP):
- 'Free and Open Indo-Pacific' (FOIP) বা মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলটির উদ্ভাবক হলেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে।
- তিনি ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত Sixth Tokyo International Conference on African Development (TICAD VI)-এর একটি ভাষণে এই ধারণাটি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন। 
- তাঁর এই ধারণাটি এশিয়া ও আফ্রিকা এবং প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে সংযোগ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে তৈরি। 
- পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ অন্যান্য দেশ এই ধারণা গ্রহণ করে নিজস্ব ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

উৎস: Ministry of Foreign Affairs of Japan ওয়েবসাইট।

১৯৯.
বুদ্ধগয়া কোন ধর্মের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত?
  1. জৈনধর্ম
  2. শিখধর্ম
  3. বৌদ্ধধর্ম
  4. ইহুদি ধর্ম
ব্যাখ্যা
বুদ্ধগয়া বৌদ্ধ ধর্মের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত।

গৌতম বুদ্ধ:

- গৌতম বুদ্ধের ব্যক্তিগত নাম সিদ্ধার্থ।
- তাঁর জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ-৪র্থ শতাব্দীতে নেপালের কপিলাবস্তুর কাছে লুম্বিনীতে। 
- তিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা।

⇒ বুদ্ধ উপাধিটির অর্থ হল একজন আলোকিত সত্তা, যিনি অজ্ঞতার ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন এবং যন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভ করেন।
- বৌদ্ধধর্মের সব রূপই গৌতম বুদ্ধের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা উদযাপন করে, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর জন্ম, জ্ঞানার্জন এবং নির্বাণে উত্তরণ।
- তাঁর মৃত্যু কুশিনারা, মাল্লা প্রজাতন্ত্র, মগধ রাজ্যে।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় বৌদ্ধধর্মের স্মৃতিবিজড়িত স্থান তক্ষশীলা।
- গৌতম বুদ্ধের দিব্যজ্ঞান লাভের স্থান বুদ্ধগয়া।
- সারনাথ একটি উদ্যান যেখানে গৌতম বুদ্ধ সর্বপ্রথম ধর্ম নিয়ে ভেবেছিলেন। এই স্থানটি ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানাশী শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
২০০.
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কত সালে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
  1. ১৯৭৯ সালে
  2. ১৯৮১ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি:
- ইরানের সর্বোচ্চ নেতা  আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
- সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ। দেশের সব বড় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার সম্মতি দরকার হয়। এমনকি ইরান পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী হবে কিনা অথবা জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থাকে সহযোগিতা করবে কিনা, এসবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি দেন।
- আলি খামেনেয়ী রুহুল্লাহ খোমেনীর উত্তরসূরি হিসেবে খোমেনীর মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য,
- বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় ইরানের শাসন পদ্ধতি বেশ আলাদা।
- সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও দেশের মূল ক্ষমতা রয়েছে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে।

⇒ ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসনের এই ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা।
- ১৯৬২ সালে আলী খামেনি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধাচরণকারী আয়াতুল্লাহ খোমেনির ধর্মীয় আন্দোলনে যোগ দেন।
- ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর আলী খামেনি বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরকে সংগঠিত করতে সহায়তাও করেন। এই বিপ্লবী গার্ড ইরানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
- ১৯৮১ সালে দেশটির বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ইরানের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ-আলী রাজাইকে হত্যা করে।
- রাজাইয়ের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে আলী খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আট বছর ধরে আনুষ্ঠানিক এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি।
- ১৯৮৯ সালের জুনে খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ (ধর্মীয় আলেমদের একটি পরিষদ) আলী খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে।

উৎস: i) BBC.
ii) Middle East Eye.