বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

মোট প্রশ্ন১,৩১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

PrepBank · পাতা / ১৪ · ১০১২০০ / ১,৩১৫

১০১.
বাংলায় ব্রিটিশ-বিরোধী প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন কোনটি ছিল?
  1. ফরায়েজী আন্দোলন
  2. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  3. সিপাহী বিদ্রোহ
  4. নাচোল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে।
- তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে।
- ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
- আর সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
- তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- এই সব অঞ্চলে ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহী ফকির-সন্ন্যাসীদের বহু সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে ।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

অপরদিকে -
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী-পাঠক ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে দুই সহকারীসহ নিহত হন। 
- তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০২.
উপমহাদেশের কোথায় 'ফোর্ট উইলিয়াম' দুর্গ  নির্মিত হয়েছিল?
  1. মুম্বাই
  2. কলকাতা
  3. মাদ্রাজ
  4. বালেশ্বর
ব্যাখ্যা

ইংরেজদের আগমন ও ক্ষমতা বিস্তার:
-পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ বণিকদের বাণিজ্যিক সাফল্য ও এদেশের বিপুল ধন-সম্পদের বর্ণনা ইংরেজ বণিকদের মনে এদেশে বাণিজ্য করার আগ্রহ সৃষ্টি করে।
-১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদী সনদ নিয়ে এদেশে বাণিজ্য করতে আসে।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে তারা ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে মুম্বাইয়ের নিকট সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ রাজদূত স্যার টমাস রো সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে এসে ইংরেজদের বাণিজ্যের জন্য কিছু সুবিধা আদায় করেন।
- পর্তুগিজরা বাংলা থেকে বিতাড়িত হলে ইংরেজগণ বালেশ্বরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং করমণ্ডল উপকূলে কিছু জমি নিয়ে একটি দুর্গ নির্মাণ করে এবং এ দুর্গই পরে মাদ্রাজ শহরে পরিণত হয়।
-১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে জলপথে ইংরেজগণ হুগলিতে আসে এবং বাংলার সুবেদার শাহ সুজার অনুমতি নিয়ে ১৬৫১ খ্রিস্টাব্দে সেখানে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে।
- ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানিকে মুম্বাই ইজারা দেন।
-১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে জব চার্নক ভাগীরথী নদীর তীরে ১২০০ টাকার বিনিময়ে কলকাতা, সূতানটি ও গোবিন্দপুর এ তিনটি গ্রামের জমিদারী স্বত্ব কিনে নেন।
- পরবর্তীকালে উপমহাদেশের ভাগ্য নির্ধারণকারী দুর্গ ফোর্ট উইলিয়াম কলকাতায় নির্মিত হয়। 
-১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট ফররুখশিয়ারের অনুমতি নিয়ে ইংরেজগণ বাংলা, মাদ্রাজ ও মুম্বাইয়ে বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্য করতে থাকে।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১০৩.
কার শাসনামলে উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড লিটন
  4. লর্ড মেয়ো
ব্যাখ্যা
আদমশুমারি:
- এই পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬ টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে আদমশুমারি হয়েছিল।
- সাধারণত প্রতি ১০ বছর পর পর আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।  প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- বাংলাদেশে দ্বিতীয় আদমশুমারি হয় ১৯৮১ সালে।

⇒ ৬ষ্ঠ আদমশুমারি ২০২২ সালের ১৫-২১ জুন জনশুমারি ও গৃহগণনা নামে অনুষ্ঠিত হয়।
- জনশুমারি পরিচালনা করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

উল্লেখ্য,
- ভারত উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ব্রিটিশ আমলে, ১৮৭২ সালে। পরের আদমশুমারি হয় ১৮৮১ সালে।
- এরপর থেকে এই উপমহাদেশে প্রতি ১০ বছর পরপর আদমশুমারি হয়েছে।
- লর্ড মেয়ো ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ চালু করেন এবং তার শাসনামলেই ১৮৭২ সালে উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) BBC.
১০৪.
কোন ব্রিটিশ শাসক সাম্রাজ্যবাদী নীতি প্রণয়ন করেন?
  1. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
  2. লর্ড কার্জন
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
স্বত্ববিলোপ নীতি:
- স্বত্ববিলোপ নীতি ছিল একটি সাম্রাজ্যবাদী নীতি।
- লর্ড ডালহৌসি এই সাম্রাজ্যবাদী নীতিটি প্রণয়ন করেন।

⇒ তাঁর সাম্রাজ্যবাদী নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ব্যাপক বিস্তৃতি সাধন করা।
- স্বত্ববিলোপ নীতির মূলকথা ছিল, ব্রিটিশের শাসনাধীন যেকোনো আশ্রিত রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে এবং তার রাজবংশে কোনো উত্তরাধিকার না থাকলে সেই রাজা সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবেন।
- এই নীতির মাধ্যমে সাঁতারা, নাগপুর, ঝাঁসি ও সম্বলপুর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।

⇒ লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।
- তার শাসনামলেই ( ১৮৫৩ সালে ) উপমহাদেশে রেলের যাত্রা শুরু হয়।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন।
- উপমহাদেশে টেলিগ্রাফ সিস্টেমও তার অবদান।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০৫.
মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়া হয় কেন?
  1. ক) প্রশাসনের অনুরোধে
  2. খ) দাবি মেনে নেয়ায়
  3. গ) জনসমর্থন না থাকায়
  4. ঘ) সশস্ত্র রূপ নেয়ায়
ব্যাখ্যা
- ব্রিটিশ সরকার কুখ্যাত 'রাওলাট আইন' পাশ করলে ভারতীয় জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
- ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল, এ আইনের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগের শান্তিপূর্ণ সভায় ব্রিটিশ সরকার গুলি চালালে অসংখ্য মানুষ হতাহত হয়। প্রতিবাদে কংগ্রেস নেতা মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
- গান্ধীজী হিংসাত্মক পথ বর্জন এবং সত্যাগ্রহ নীতিকে সামনে রেখে অসহযোগ আন্দোলন শুরু কর্মসূচি গ্রহণ করেন‌। ১৯২১ সালে কংগ্রেস 'আইন অমান্য আন্দোলন' শুরু করলো অহিংস আন্দোলন 'সহিংস রূপ' ধারণ করতে থাকে। ফলে ১৯২২ সালে গান্ধীজী এই আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেন।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০৬.
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়?
  1. ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকার শাসন সূচনা হয়
  2. কোম্পানির শাসন জারি থাকে
  3. ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণা
  4. নতুন অস্ত্রের ব্যবহার হয়
ব্যাখ্যা
১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম (সিপাহী বিদ্রোহ):

- ১৮৫৭ সালের মে মাসে ভারতের মেরঠ শহরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে সিপাহীরা বিদ্রোহ শুরু করে।
- এই বিদ্রোহের প্রধান কারণ ছিল রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক নিপীড়ন।
- ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ভারতীয় জনগণ তাদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হারিয়ে ফেলেছিল।
- সিপাহীরা নতুন এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের গুজবে ক্ষুব্ধ হয়।
- হিন্দু ও মুসলমান সিপাহীরা একত্রে বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করে।
- বিদ্রোহের আগুন প্রথমে জ্বলে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পাণ্ডে নামে এক সিপাহি।
- দ্রুত এইবিদ্রোহ মিরাট, কানপুর,পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ,মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা দিল্লি দখল করে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারতবর্ষের বাদশা বলে ঘোষণা করে।
- ব্রিটিশরা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে বিদ্রোহ দমন করে।
- ১৮৫৮ সালের মধ্যে বিদ্রোহ সম্পূর্ণভাবে দমন করা হয়।
- বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও এটি ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
-  এই ঘটনার মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকারের শাসন সূচনা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
১০৭.
"অবিভক্ত স্বাধীন বঙ্গই আমাদের দাবি করা উচিত।" - উক্তিটি কার?
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. গ) এ. কে. ফজলুল হক
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
অবিভক্ত বাংলা

১৯৪৭ সালের ৩ জুন পরিকল্পনায় ব্রিটিশ-ভারতের সর্বশেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতের স্বাধীনতা এবং 'পাকিস্তান' দাবি মেনে নেওয়ার পাশাপাশি 'বাংলা' এবং 'পাঞ্জাব প্রদেশকে বিভক্ত করার প্রস্তাব করেন। মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেসের অনেক নেতা এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। হিন্দু মহাসভার নেতাগণ হর্ষোৎফুল হয়ে বঙ্গ বিভাগকে স্বাগত জানান। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বঙ্গ বিভাগের পরিণামের কথা চিন্তা করে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, 'বঙ্গ বিভাগ করা হলে ভারত এবং পাকিস্তান উভয় দেশেই বাঙালিরা দুর্বল হয়ে পড়বে। যুক্ত বাংলার অবিভাজ্য সত্তাকে দুভাগে ভাগ করার অর্থ উভয় বাংলার শক্তিকে পঙ্গু করার ব্যবস্থা।

দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন যে, “বৃহত্তর বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমানদের এক স্বাধীন সম্মিলিত রাষ্ট্র গঠন করে আমরা বাংলাকে সর্বতোভাবে উন্নত করে তুলতে চাই। বঙ্গভঙ্গের পরিবর্তে হিন্দু-মুসলমানদের 'অবিভক্ত স্বাধীন বঙ্গই' আমাদের দাবি করা উচিত।"

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর 'অবিভক্ত বাংলা রাষ্ট্র' দাবির সমর্থনে বঙ্গীয় মুসলিম লীগ সম্পাদক জনাব আবুল হাশিম, বাংলা কংগ্রেস দলের নেতা শরৎ বসু, কিরণ শংকর রায় প্রমুখ আন্দোলন শুরু করেন।

- শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং মহাত্মা গান্ধীও 'অবিভক্ত বাংলার' জন্য সোহরাওয়ার্দীর প্রচেষ্টাকে সমর্থন প্রদান করেন।
- কিন্তু মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ ও খাজা নাজিমুদ্দিনের সমর্থক মুসলিম লীগ নেতা এবং পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু ও সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের সমর্থক কংগ্রেস নেতাদের অদূরদর্শিতা এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক হিন্দু মহাসভা নেতাদের একগুঁয়েমির জন্য ‘অবিভক্ত বাংলা' গঠনের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০৮.
’স্বত্ববিলোপ নীতি‘ আরোপ করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড ওয়েলেসলি
  4. লর্ড হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

লর্ড ডালহৌসি:
- ব্রিটিশ সরকার ভারতে সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য যে-সব নীতি অবলম্বন করে সেগুলির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হল স্বত্ববিলোপ নীতি।, কোনো ব্রিটিশ আশ্রিত দেশীয় রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে সেই রাজ্যটি সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবে এই নীতি স্বত্ববিলোপ নীতি নামে পরিচিত।
- স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তক- লর্ড ডালহৌসি।
- ১৮৪৮ খ্রি: স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তন করা হয়।
- স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ডালহৌসি সর্বপ্রথম সাঁতারা রাজ্য দখল করেন
- স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করেন-মহারানি ভিক্টোরিয়া।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।

১০৯.
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. ক) খাজা সলিমুল্লাহ
  2. খ) সৈয়দ আহমদ খান
  3. গ) মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. ঘ) আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
• ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
• বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
• নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল মুলক, সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান প্রমুখের উদ্যোগে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
• নওয়াব আব্দুল লতিফ, স্যার সৈয়দ আহমদ খান, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন না।
• মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম ‍লীগে যোগ দেন। তবে ত্রিশের দশকের মাঝামাঝি থেকে জিন্নাহর নেতৃত্বেই ‍মুসলিম লীগ ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১১০.
পঞ্চাশের মন্বন্তর কত খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৭০ সালে
  2. ১৮৫০ সালে
  3. ১৯৪৩ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত। বাংলা ১৩৫০ সালে এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হওয়ায় একে পঞ্চাশের মন্বন্তর বলা হয়।
এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায়।
এই দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১১১.
”আলীনগর সন্ধি”’ স্বাক্ষর করেন কে?
  1. রবার্ট ক্লাইভ
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. জন কার্টিয়ার
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা

আলীনগর চুক্তি ১৭৫৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও রবার্ট ক্লাইভ এর মধ্যে মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
- নওয়াব কলকাতার ইংরেজ বসতি অধিকার করেন (১৮-২০ জুন ১৭৫৬) এবং ইংরেজরা তাঁর প্রকৃত ক্ষতিসমূহের প্রতিবিধান করতে অস্বীকার করলে তিনি তাদের কলকাতা শহর থেকে বিতাড়িত করেন।
- তিনি এ শহরের নতুন নামকরণ করেন আলীনগর।
- এ চুক্তি বেশি দিন স্থায়িত্বলাভ করে নি, এর প্রধান কারণ, ইংরেজরা এর শর্তাবলি মেনে চলে নি। ফলে চুক্তিটি ভেঙ্গে যায় এবং ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়

সূত্র: বাংলাপিডিয়া

১১২.
কে বাংলায় নবাবী শাসনের সূচনা করেন?
  1. আলীবর্দি খান
  2. সরফরাজ খান
  3. মুর্শিদকুলি খান
  4. সিরাজউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
নবাবী শাসনামল (১৭০৭ - ১৭৫৭):

- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদকুলী খান ১৭০৭ সালে নবাবী শাসনের সূচনা করেন।
- ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদৌলার ইংরেজদের হাতে পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় স্বাধীন নবাবী আমল।
- ১৭৬০ - ৬৩ সাল পর্যন্ত মীর কাসিম নবাব ছিলেন।
- ১৭৬৪ সালে তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত নবাব নবাব মীর কাসিম, মোঘল সম্রাট শাহ আলম ও অযোধ্যার নওয়াব সুজাউদ্দৌলা বাহিনীর সাথে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যুদ্ধ হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- উক্ত যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলা সহ অন্যান্য অঞ্চলে নবাবী শাসন বিলুপ্ত হয় এবং ইংরেজ উপনেবেশিক যুগ চূড়ান্তভাবে শুরু হয়।

তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৩.
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৮৭২ সালে
  2. খ) ১৮৯৩ সালে
  3. গ) ১৯০২ সালে
  4. ঘ) ১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ১৮৯৩ সালের ২৩শে জুলাই ‘বেঙ্গল একাডেমী অব লিটারেচার’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৯৪ সালের ২৯ এপ্রিল এটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ নামধারণ করে।

এল লিওটার্ড ও ক্ষেত্রপাল চক্রবর্তীর উদ্যোগে কলকাতার শোভাবাজারের বিনয়কৃষ্ণ দেব এর বাসভবন থেকে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ যাত্রা শুরু করে।

এটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিলো বাংলা সাহিত্যের উন্নতি সাধন। পরিষদের মুখপত্র ‘সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা’ নামে ত্রৈমাসিক পত্রিকা হিসেবে বাংলায় প্রকাশিত হতো।

১৮৯৪ সালে পরিষদের সভাপতি ছিলেন রমেশচন্দ্র দত্ত, সহ-সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নবীনচন্দ্র সেন এবং সম্পাদক ছিলেন এল লিওটার্ড, দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ও রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১১৪.
সিপাহী বিদ্রোহ সমর্থন করায় কোন মুঘল সম্রাট ক্ষমতাচ্যুত হন?
  1. আওরঙ্গজেব
  2. শাহজাহান
  3. আকবর
  4. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ সমর্থন করার কারণে মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ব্রিটিশরা ক্ষমতাচ্যুত করে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠায় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর:
- আওরঙ্গজেবে পর মুঘল সাম্রাজ্য তথা ভারতের শেষ সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর। তিনি দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহর দ্বিতীয় পুত্র।
- ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন।
- বাহাদুর শাহ সিংহাসনে আরোহণের ২০ বছর পর সূত্রপাত হয় ঐতিহাসিক সিপাহি বিদ্রোহের। 
- দেশপ্রেমিক সিপাহিরা মুঘল বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফরকে ভারতবর্ষের স্বাধীন বাদশাহ বলে ঘোষণা দেন।
- ওই মুহুর্ত থেকে বাহাদুর শাহ জাফর হলেন বিদ্রোহের প্রধান পরিচালক ও কেন্দ্রস্বরূপ।
- বাহাদুর শাহ জাফর সিপাহিদের বিপ্লব তথা ভারতবর্ষের প্রথম সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন- এই সংবাদে কানপুর, লক্ষৌ বিহার, ঝাঁশি, বেরিলি থেকে শুরু করে পশ্চিম ও পূর্ব বাংলার সর্বত্র সিপাহিরা গর্জে ওঠেন।
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে ব্রিটিশ শাসকেরা তাঁকে মিয়ানমারে নির্বাসনে পাঠান।
- ১৮৬২ সালের ৭ নভেম্বর সেখানেই তিনি মারা যান।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।


⇒ সিপাহী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।
- ফলাফল: ব্রিটিশরা কঠোর হাতে এই বিদ্রোহ দমন করে। এর ফলে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ব্রিটিশ সরকারের সরাসরি শাসন প্রতিষ্ঠা হয়।
 
উৎস: i) The Business Standard.
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৫.
আন্টাঘর ময়দান নামে পরিচিত কোনটি?
  1. ভিক্টোরিয়া পার্ক
  2. আহসান মঞ্জিল
  3. উত্তরা গণভবন
  4. মুক্তাগাছা জমিদারবাড়ি
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ পার্ক:
- বাহাদুর শাহ পার্ক বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত।
- ১৮৫৮ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে এই স্থানের নামকরণ হয় ‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’।
- পার্কটি আন্টাঘর ময়দান নামে পরিচিত ছিল।
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর এক প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা ফাঁসি দেয় অসংখ্য বিপ্লবী সিপাহিকে।
- তারপর জনগণকে ভয় দেখাতে সিপাহিদের লাশ এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এই ময়দানের বিভিন্ন গাছের ডালে।
- ১৯৫৭ সালে (মতান্তরে ১৯৬১) সিপাহি বিদ্রোহের শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে পার্কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এর শাসন পুনরায় আনার জন্য।
- তাই তাঁর নামানুসারে এর নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’।

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১৬.
বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান কোন অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিল?
  1. ক) কুমিল্লা অঞ্চল
  2. খ) রাজশাহী অঞ্চল
  3. গ) ঢাকা অঞ্চল
  4. ঘ) সিলেট অঞ্চল
ব্যাখ্যা

- প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিল।
- এদের মধ্যে ‘বঙ্গ’ জনপদ ছিলো অন্যতম। বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি নিয়ে ‘বঙ্গ’ জনপদ গঠিত হয়েছিল।
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১১৭.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত সালে উপমহাদেশে প্রথম বাণিজ্যিক কুঠি স্থাপন করেন?
  1. ক) ১৬০০ সালে
  2. খ) ১৬০৮ সালে
  3. গ) ১৬১৫ সালে
  4. ঘ) ১৬১২ সালে
ব্যাখ্যা
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০০ সালে রানি এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি প্রাচ্যে একচেটিয়া বাণিজ্য করার সনদপত্র লাভ করে। এই সনদপত্র নিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধি বাণিজ্যিক সুবিধা লাভের আশায় আকবরের দরবারে হাজির হন।
- ক্যাপ্টেন হাকিন্স ১৬০৮ সালে রাজা প্রথম জেমসের সুপারিশপত্র নিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর  অনুমতি নিয়ে ১৬১২ সালে সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন হয়।
- পরবর্তীকালে ১৬১৫ সালে প্রথম জেমসের দূত হয়ে জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন স্যার টমাস রো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৮.
বাংলায় হিন্দু মুসলিম ঐক্যের প্রচেষ্টা হিসেবে স্বীকৃত ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ কার প্রচেষ্টায় স্বাক্ষরিত হয়েছিলো?
  1. সুভাষচন্দ্র বোস
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা
• বেঙ্গল প্যাক্ট:
- বেঙ্গল প্যাক্ট একটি চুক্তি যা ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক পার্থক্যজনিত সমস্যা সমাধানকল্পে সম্পাদিত হয়েছিল। 
- চুক্তির উদ্যোক্তা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মুসলিমদের সাথে হিন্দুদের রাজনৈতিক অংশীদারত্বের পক্ষপাতী ছিলেন।
- এই চুক্তিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী‌র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- চুক্তিটি বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির ১৯২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তারিখের সভায়ও অনুমোদন লাভ করে।

• চুক্তিটির বিভিন্ন শর্ত ছিল নিম্নরূপ:
- বঙ্গীয়-আইন সভায় প্রতিনিধিত্ব পৃথক নির্বাচক মন্ডলীর মাধ্যমে জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
- স্থানীয় পরিষদসমূহে প্রতিনিধিত্বের অনুপাত হবে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের শতকরা ৬০ ভাগ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শতকরা  ৪০ ভাগ।
- কোন সম্প্রদায়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ৭৫ শতাংশের সম্মতি ব্যতিরেকে এমন কোন আইন বা সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করা যাবে না, যা ঐ সম্প্রদায়ের সঙ্গে স্বার্থের পরিপন্থী।
- মসজিদের সামনে বাদ্য সহকারে শোভাযাত্রা করা যাবে না।
- আইন সভায় খাদ্যের প্রয়োজনে গো-জবাই সংক্রান্ত কোন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে না এবং আইন সভার বাইরে দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সমঝোতা আনার প্রচেষ্টা চালানো অব্যাহত থাকবে। ধর্মীয় প্রয়োজনে গরু জবাইয়ের ব্যাপারে কোন হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১৯.
বঙ্গবঙ্গের ফলে গঠিত নতুন প্রদেশ দুটির নাম কী?
  1. পূর্ব বাংলা ও আসাম, পশ্চিম বাংলা
  2. পূর্ববাংলা, আসাম
  3. বিহার, পশ্চিম বাংলা
  4. বিহার, উড়িষ্যা
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবঙ্গের ফলে গঠিত নতুন প্রদেশ দুটির নাম- পূর্ব বাংলা ও আসাম, পশ্চিম বাংলা।

• বঙ্গভঙ্গ:
- ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
-ভাগ হবার পূর্বে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি।
- বাংলা প্রেসিডেন্সির আয়তন অনেক বড় হওয়ার কারণে ১৮৫৩ থেকে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত এর সীমানা পুনর্বিন্যাসের অনেক প্রস্তাব ব্রিটিশ সরকারি মহলে উপস্থাপন করা হয়।
- প্রকৃতপক্ষে ১৯০৩ সালে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
- ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমোদন করেন।
- এবং ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়।
-  এই পরিকল্পনায় বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এবং ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ যার রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কোলকাতা।
- হিন্দুদের তীব্র আন্দোলনের মুখে, রাজা পঞ্চম জর্জ ১৯১১ সালে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
১২০.
‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ক) বাংলা ১২৫০ বঙ্গাব্দে
  2. খ) বাংলা ১৩৫০ বঙ্গাব্দে
  3. গ) ইংরেজি ১৮৫০ সালে
  4. ঘ) ইংরেজি ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
ইংরেজি ১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত। বাংলা ১৩৫০ বঙ্গাব্দে এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হওয়ায় এটিকে "পঞ্চাশের মন্বন্তর" বলা হয়।
এ দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায়। এ দুর্ভিক্ষের জন্যে কৃত্রিম সংকটকে দায়ী করা হয়। এ দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস – উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়]
১২১.
১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির সময় ব্রিটিশ ভারতের সীমানা নির্ধারণী কমিশনের প্রধান কে ছিলেন?
  1. স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ
  2. ক্লিমেন্ট এটলি
  3. স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস
  4. লর্ড ওয়েভেল
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির সময় ব্রিটিশ ভারতের সীমানা নির্ধারণী কমিশনের প্রধান ছিলেন স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ।
- স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ নেতৃত্বেই ভারত ও পাকিস্তানের বর্তমান সীমানা রেখা (Radcliffe Line) টানা হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
• ১৯৪৭ সালের ৩০ জুন পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের সীমানা নির্ধারণের জন্যে বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন গঠিত হয়। এই কমিশনের সদস্য ছিলো পাঁচজন। এরা হলেন-
- সিরিল রেডক্লিফ (চেয়ারম্যান)
- বিচারপতি বিজন কুমার মুখার্জী
- বিচারপতি সি.সি. বিশ্বাস
- বিচারপতি আবু সালেহ মোহাম্মদ আকরাম
- বিচারপতি এস.এ. রহমান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড।

১২২.
সর্বপ্রথম ভারতীয়দের জন্য প্রশাসনিক কার্যে নিয়োগের উদ্দেশ্যে সিভিল সার্ভিস নামক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা চালু করেন কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
প্রশাসনিক সংস্কার:
- লর্ড বেন্টিঙ্ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি প্রশাসন ও বিচার বিভাগের আমূল পরিবর্তন আনেন।
- তিনি বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ১০টি বিভাগে বিভক্ত করে প্রতিটি বিভাগে একজন কমিশনার নিযুক্ত করেন।
- পরবর্তিকালে লর্ড ডালহৌসি ব্রিটিশ শাসনকে সুদৃঢ় করার জন্য বাংলায় একজন ছোট লাট নিয়োগের ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- কেন্দ্রীয় শাসন পরিষদ স্থাপন, শাসন ব্যবস্থার সুবিন্যাসের জন্য জেলার সৃষ্টি এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন।
- তাছাড়া সে সময়ে বেসরকারি কর্মচারীদের জন্য বিভাগীয় পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- লর্ড ডালহৌসি সময়ই সর্বপ্রথম ভারতীয়দের জন্য প্রশাসনিক কার্যে নিয়োগের উদ্দেশ্যে সিভিল সার্ভিস নামক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা চালু করা হয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৩.
কোন চুক্তি বলে ইংরেজরা বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল?
  1. নদীয়া চুক্তি
  2. এলাহাবাদ চুক্তি
  3. দিল্লি চুক্তি
  4. বর্ধমান চুক্তি
ব্যাখ্যা
এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলার ক্ষমতা দখল:
- ১৭৬৫ সালে ইংরেজ কোম্পানির বাংলার দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল তাকে ঐতিহাসিকেরা দ্বৈত শাসনব্যবস্থা (Dual system of administration) বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- ১৭৬৫ সালে এলাহাবাদ চুক্তি বলে বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল ইংরেজরা
- দিউয়ানি এবং নিয়ামত-এই দুটি শাসন কাজের ভাগাভাগিকে এক অর্থে দ্বৈত শাসন বলা যায়।
- রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর।
- অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।
- কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
⇒ বক্সার যুদ্ধের পর কোম্পানির কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা চরমে উঠলে এবং বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ খারাপ হলে, ইংরেজ সরকার ভীত হয়ে পড়লেন।
- ফলে ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ কোম্পানির দুর্নীতি দমন ও স্বার্থ বৃদ্ধির জন্য পুনরায় ক্লাইভকে লর্ড উপাধি দান করে বাংলায় দ্বিতীয়বার প্রেরণ করেন (১৭৬৫-১৭৬৭ খ্রি.)।
- এদেশে এসেই তিনি মীর কাশিমের মিত্রশক্তি অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের প্রতি নজর দেন।
- বক্সার যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা এবং কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি পেয়ে অযোধ্যার নবাবের সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন।
- তারপর তিনি দিল্লির দুর্বল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে সন্ধি স্থাপন করেন।
- ক্লাইভ কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি ও বাৎসরিক ২৬ লক্ষ টাকা কর প্রদানের বিনিময়ে সম্রাটের নিকট হতে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করলেন (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ১২ আগস্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিউয়ানি সনদ লাভ করে)।
- এর ফলে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইংরেজ উপনিবেশের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৪.
কত খ্রিস্টাব্দে মীর কাশিম বাংলার সিংহাসনে বসেন?
  1. ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৬২ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
মীর কাশিম:
- পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজদের সাহায্য করার পুরস্কার স্বরূপ বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর বাংলার মসনদ লাভ করেন।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজরা মীর জাফরের জামাতা মীর কাশিমকে বাংলার মসনদে অধিষ্ঠিত করেন।
- অবশ্য তিনিও কোম্পানিকে অনেক সুবিধাদানের শর্ত সাপেক্ষে ক্ষমতা লাভ করেন। 
- স্বাধীনচেতা মীর কাশিম ইংরেজদের বাংলার স্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে ইংরেজরা তাঁকে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করে এবং ভেতরে ভেতরে নিজেরাও প্রস্তুত হতে থাকে।
- এ সময় গভর্নর এলিস হঠাৎ করে পাটনা দখল করলে মীর কাশিম তা পুনরুদ্ধার করেন। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৫.
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কোন আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. তেভাগা আন্দোলনে
  2. ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে
  3. ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে
  4. সত্যাগ্রহ আন্দোলনে
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন:
- বাংলায় সশস্ত্র আন্দোলনের সময়কাল: ১৯১১-১৯৩০ সাল।
- এই আন্দোলনের চট্রগ্রামের নেতা ছিলেন- মাস্টারদা সুর্য সেন।
- মাস্টারদা সুর্য সেন ১৯৩০ সালে চট্রগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন ।
- ইংরেজ মেজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে বোমা মেরে হত্যা করে ক্ষুদিরাম।
- কিংসফোর্ডকে বোমা মেরে হত্যার অভিযোগে ফাঁসি দেয়া হয় ক্ষুদিরামকে।
- প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছিলেন মাস্টারদা সূর্যসেন শিষ্য এবং নারী বিপ্লবী।
- বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সাথে জড়িত ছিলেন।
- তিনি পাহাড়তলী রেলওয়ে ক্লাব আক্রমণ করেন- ১৯৩২সালে।
- প্রীতিলতা আত্মহত্যা করেন - পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে।
- অস্ত্র লুণ্ঠন অভিযোগে মাস্টারদা সূর্যসেনকে  ফাঁসি দেওয়া হয় - জানুয়ারি, ১৯৩৪ সালে।

⇒ এছাড়াও,
- সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল - ঢাকার অনুশীলন সমিতির।
- সশস্ত্র বিপ্লবী সংগঠক সাধনা প্রতিষ্ঠিত হয় - ময়মনসিংহে।
- ঢাকার অনুশীলন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক - পুলিন বিহারী দাস।
- কয়েকজন বিপ্লবী নেতা ছিলেন- বিনয়বসু, দীনেশগুপ্ত ও সূর্যসেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২৬.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কত খ্রিষ্টাব্দে উঠিয়ে দেয়া হয়?
  1. ক) ১৯৪৭ সালে
  2. খ) ১৯৫০ সালে
  3. গ) ১৯৫২ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে বাংলার মুসলমানগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল।
- উইলিয়াম হান্টারের মতে, “গত পঁচাত্তর বছরের মধ্যে বাংলার মুসলমান পরিবারগুলোর অস্তিত্ব হয় পৃথিবীর বুক থেকে মুছে গেছে, না হয় ইংরেজদের সৃষ্ট নতুন ধনী সমাজের নীচে এ সময় ঢাকা পড়েছে।”
- এ সময় নায়েব গোমস্তাদের অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে যায়।
- ফলে লর্ড ক্যানিং ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে রাজস্ব আইন দ্বারা খাজনা বৃদ্ধি বন্ধ করেন এবং ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে প্রজাস্বত্ব আইন দ্বারা জমি থেকে উচ্ছেদ নিষিদ্ধ করে দেন।
- পাকিস্তান অর্জনের পর ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত উঠিয়ে দিয়ে প্রজাদের সঙ্গে সরাসরি জমির বন্দোবস্ত দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়
- জমিদার পুত্র লর্ড কর্ণওয়ালিস যে আশায় এ প্রথা চালু করেছিলেন তাঁর সে আশা সম্পূর্ণ বিফল হয়েছিল।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৭.
১৯৪৭ সালের ৩ জুন পরিকল্পনা পেশ করেন কে?
  1. ক) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. খ) এ কে ফজলুল হক
  3. গ) বলদেব সিং
  4. ঘ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালের ৩ জুন পরিকল্পনা বা মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা
• মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার পর ভারতে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা নিয়ে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে চরম অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
• মুসলিম লীগ ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস এবং ২ সেপ্টেম্বর ‘কালাে দিবস' ঘােষণা করলে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। ফলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এটলি ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘােষণা প্রদান করেন।
• ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ঘােষণাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য লর্ড ওয়াভেলের স্থলে লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে ভারতের নতুন ভাইসরয় নিয়ােগ করেন।
• লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ২২ মার্চ দিল্লিতে আগমন করেন এবং ২৪ মার্চ শপথ গ্রহণ করেন।
• কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ নেতাদের সাথে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সৃষ্টির জন্য তিনি নিরলস প্রচেষ্টা চালান।
• ১৯৪৭ সালের ২ জুন নেহেরু, জিন্নাহ ও শিখ নেতা বলদেব সিং-এর সাথে ঘরােয়া বৈঠকে মিলিত হয়ে মাউন্টব্যাটেন যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তা তিনি ১৯৪৭ সালের ৩ জুন জনগণের সামনে তুলে ধরেন।
• এটিই ৩ জুন পরিকল্পনা বা মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৮.
ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ’ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ কবে দেখা দেয়?
  1. ১২৭৬ বঙ্গাব্দ
  2. ১১৭৬ বঙ্গাব্দ
  3. ১১৭০ বঙ্গাব্দ
  4. ১১৫০ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
• ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- দিউয়ানী ও দ্বৈত শাসনের পরিণাম ছিল বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ধ্বংসলীলা।
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দ (১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- কোম্পানির মুর্শিদাবাদের প্রতিনিধি রিচার্ড বেচারের ভাষায় 'দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতিসত্য।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মৃত্যু বরণ করে।
- ইংরেজ সরকার বাংলার জনগণকে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
- বরং ১৭৬৫-৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাৎসরিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল, দুর্ভিক্ষের বছরও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় তার কাছাকাছি ছিল।
- ফলে চরম শোষণ নির্যাতনে বাংলার মানুষ হত দরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য,
- দুর্ভিক্ষের কারণে জনগণকে খাজনার দায় থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।
- তদুপরি পরের বছর শতকরা ১০ টাকা খাজনা বৃদ্ধি করা হয়। ফলে

উৎস: - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৯.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কোন গভর্নর জেনারেল অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সর্বাধিক প্রয়োগ করেন?
  1. ক) লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. খ) লর্ড ওয়েলেসলি
  3. গ) লর্ড ডালহৌসি
  4. ঘ) ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির অনুযায়ী ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে ও নিরাপত্তায় থেকে রাজ্য শাসনে অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সর্বাধিক প্রয়োগ করেন। এই নীতির মাধ্যমে হায়দ্রাবাদ ও মারাঠারাজ্য কোম্পানির অধীনে আসে।
টিপু সুলতান এই নীতিগ্রহণে অস্বীকার করলে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের নিকট পরাজিত ও নিহত হন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১৩০.
ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় কখন?
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন
  2. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে
  3. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন
  4. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর
ব্যাখ্যা
ভারত ছাড় আন্দোলন, ১৯৪২: 
- ভারত ছাড় আন্দোলন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক আন্দোলন (Quit India Movement, 1942)।
- ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রধান তিনটি পর্ব দেখা যায়।
- তিনটি পর্বের আন্দোলনকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে দমন করা হয়।
- আন্দোলন দমন করতে সরকার আকাশ থেকে মেশিনগানও ব্যবহার করেছিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (বোম্বাইর) অধিবেশনে বিখ্যাত ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় এবং পরপরই যতদূর সম্ভব ব্যাপকভাবে অহিংস পথে গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।
- ভারত ছাড় আন্দোলন চলাকালীন এবং পরে ব্রিটিশরা টোটেনহ্যামের প্রতিবেদনের মতো দলিল পত্রে সমগ্র বিস্ফোরণকে অক্ষ শক্তিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ‘পঞ্চম বাহিনী’র সুচিন্তিত ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করে। 
- গুরুত্ব ও বিস্তৃতির দিক থেকে ভারত ছাড় আন্দোলনকে লর্ড লিনলিথগোর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ১৮৫৭ সালের ভারতীয় মহাবিদ্রোহের সাথে তুলনা করা যায়।
- এ আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, কারণ নিরস্ত্র ও নেতৃত্ববিহীন জনগণ শক্তিশালী সাম্রাজ্যবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে না।
- এ মহান আন্দোলনের গুরুত্ব এখানে যে, এটা জাতীয় আন্দোলনে স্বাধীনতার দাবিকে মৌলিক দাবিতে পরিণত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩১.
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কখন বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে?
  1. ১৬৯০ সালে
  2. ১৭৬৫ সালে
  3. ১৭৯৩ সালে
  4. ১৮২৯ সালে
ব্যাখ্যা
• ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি — ১৭৬৫ সালে — বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে
-------------------- 
• কোম্পানির দেওয়ানি লাভ: 
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভের পর প্রকৃতপক্ষে ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব লাভে সক্ষম হয়।
- বক্সারের যুদ্ধে বাংলার নবাব, অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লীর সম্রাটের পরাজয় ইংরেজ শক্তিকে এই ক্ষমতা লাভের সুযোগ করে দেয়।
- বক্সারের যুদ্ধের পর — ক্লাইভ দ্বিতীয়বার (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ) ভারতবর্ষে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
- ক্লাইভ দেশ থেকে ফিরে অযোধ্যার পরাজিত নবাবের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন। 
- তার বিনিময়ে আদায় করে নেন — কারা ও এলাহাবাদ জেলা দুটি।
- যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ আদায় করেন পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।

- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে — কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি দান করা হয়।
- মোগল সম্রাট — দ্বিতীয় শাহ্ আলম একটি ফরমানের মাধ্যমে — বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি ইংরেজ কোম্পানির হাতে তুলে দেন।
- ইংরেজরা এর বিনিময়ে শাহ্ আলমকে বছরে ২৬ লক্ষ টাকা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।
- এই টাকা নিয়মিত পাঠাবার জামিনদার হবে কোম্পানি।
- ইতিহাসে এটি — এলাহাবাদ চুক্তি নামে পরিচিত। 
- ১৭৬৫ সালের ১২ই অগাস্ট এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে জয়ী হয়ে 'ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি' বাংলা তথা ভারতবর্ষে তাদের কর্তৃত্বের ভিত্তি রচনা করেন।
- ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে বাংলা, বিহার, অযোধ্যা ও দিল্লির সম্রাটের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করলে, ইংরেজদের সেই ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১৩২.
বাংলায় ইংরেজরা সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে কত সালে?
  1. ১৭৫২ 
  2. ১৭৬৩ 
  3. ১৭৫৫ 
  4. ১৭৬৫ 
ব্যাখ্যা

কোম্পানির দেওয়ানি লাভ:
- ১৭৬৫ সালে মীর জাফরের মৃত্যুর পর তার পুত্র নাজিম-উদ-দৌলাকে শর্তসাপেক্ষে বাংলার সিংহাসনে বসানো হয়।
- শর্ত থাকে যে, তিনি তার পিতার মতো ইংরেজদের নিজস্ব পুরাতন দস্তক অনুযায়ী বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্য করতে দেবেন এবং দেশীয় বণিকদের অবাধ বাণিজ্যের সুবিধা বাতিল করবেন।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব বা খাজনা ও কর আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব অর্থাৎ দেওয়ানি লাভ করে।
- ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৩৩.
বক্সারের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ১৭৫৪ সালে
  2. ১৭৫৬ সালে
  3. ১৭৬৪ সালে
  4. ১৭৬৬ সালে
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ নবাব মীর কাসিম ও তাঁর মিত্রশক্তির সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ। 
- পলাশীর যুদ্ধের পর ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।
 
⇒ ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- এই যুদ্ধের ফলে বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়।
- মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৪.
ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৬১০ সালে
  2. খ) ১৮৬৪ সালে
  3. গ) ১৯৬০ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৩ সালে
ব্যাখ্যা
১৮৬৪ সালে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি গঠিত হয়। 
- ১৯৬০ সালে এটিকে টাউন কমিটিতে রূপান্তর করা হয়।
- ১৯৭২ সালে টাউন কমিটি বিলুপ্ত করে পৌরসভায় রূপান্তর করা হয়। 
- ১৯৮৩ সালে একে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়।
- ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হয় 

• ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে ঢাকার নাম করেন জাহাঙ্গীরনগর।

সূত্র: ঢাকা জেলার ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
১৩৫.
উপমহাদেশে সর্ব প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন কে?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড মেয়ো
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং। 

• লর্ড ক্যানিং:

- প্রথম ভাইসরয় লর্ড জন ক্যানিং ১৮৬১ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।
- এর আগে মুদ্রা হিসেবে স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা ব্যবহৃত হতো।
- উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন- লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।
- ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- লর্ড রিপনকে ভারতীয় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের জনক বলা হয়।
- বঙ্গবঙ্গ (১৯০৫) কার্যকর হয় লর্ড কার্জনের সময়ে।
- লর্ড মেয়োর শাসনামলেই ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি চালু হয় ১৮৭২ সালে।
 
সূত্র- ইতিহাস ১ম পত্র এইচ এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩৬.
বাংলা প্রদেশকে দ্বিখন্ডিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন -
  1. লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. পঞ্চম জর্জ
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়।
-  পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা।
- এই সিদ্ধান্তের ফলে  ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু – মুসলমানদের সম্প্রতি নষ্ট হয়। সাম্প্রদায়িকতা ও স্বাতন্ত্র্যবোধ প্রসার লাভ করে এবং ধর্মকেন্দ্রিক জাতীয়তার বীজ অঙ্কুরিত হয়।

- ১৯১১ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- প্রচণ্ড গণআন্দোলনের ফলশ্রুতিতে  ১৯১২ সালের ১ এপ্রিল পুনরায় দুই বাংলা একত্রিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৭.
বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা বিলুপ্ত করেন কে?
  1. লর্ড কর্ণওয়ালিশ
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. লর্ড কার্জন 
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

দ্বৈত শাসন:
- রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করেন।
- রবার্ট ক্লাইভ দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে।
- দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবিত ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
- অর্থাৎ যাতে করে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে।

উল্লেখ্য, 
- এই ব্যবস্থা অত্যন্ত ক্ষতিকর ছিল (দুর্নীতি, শোষণ, ১৭৭০-এর মন্বন্তর ইত্যাদি)।
- তাই ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস (Warren Hastings) এই দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চিরতরে বিলুপ্ত করেন।
- কোম্পানি সরাসরি বাংলার প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করে, নবাবকে কেবল একজন ভাতাভোগীতে পরিণত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৮.
ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় -
  1. ক) ১৯৪১
  2. খ) ১৯৪২ 
  3. গ) ১৯৩৯
  4. ঘ) ১৯৪৪
ব্যাখ্যা
ভারত ছাড় আন্দোলন, ১৯৪২ 
• ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক আন্দোলন ভারত ছাড় আন্দোলন।
• গান্ধী হরিজন পত্রিকায় ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ভারত ছাড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
• গান্ধীর মনোভাব লক্ষ্য করে কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটি ১৯৪২ সালের ১৪ জুলাই গান্ধীর ভারত ছাড়  নীতি অনুমোদন করে। • কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটি সিদ্ধন্ত গ্রহন করে যে অবিলম্বে ব্রিটিশ সরকারকে ভারত ছাড়তে হবে নতুবা দেশব্যাপী তারা আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করবে।
• ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (বোম্বাইর) অধিবেশনে বিখ্যাত ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় এবং পরপরই যতদূর সম্ভব ব্যাপকভাবে অহিংস পথে গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৩৯.
তেভাগা আন্দোলন কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. দিনাজপুর
  2. চট্টগ্রাম
  3. নাটোর
  4. নওগাঁ
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন।
- তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন। 
- মূলত তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার প্রাদেশিক কৃষকসভার কম্যুনিস্ট কর্মীরা।
- ১৯৪৬-৪৭ সালে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা, জলপাইগুড়ি, খুলনা, ময়মনসিংহ প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪০.
বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড কার্টিয়ার
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড মেয়ো
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের ভাইসরয় ছিলেন লর্ড কার্জন। ১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন।

• বঙ্গভঙ্গ:

- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সমপ্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদে হিন্দু সম্প্রদায় খুশি হয়, অপর দিকে মুসলমান সম্প্রদায় মর্মাহত এবং হতাশ হয়।
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪১.
দ্বিজাতি তত্ত্ব নামক রাজনৈতিক মতবাদের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. আবুল কাশেম ফজলুল হক
  4. স্যার সৈয়দ আহম্মদ
ব্যাখ্যা

দ্বিজাতি তত্ত্ব: 
- দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- তিনি ১৯৪০ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের মূল ভিত্তি হিসেবে এই তত্ত্বটি প্রস্তাব করেন।
- দ্বিজাতি তত্ত্ব অনুযায়ী, ভারতীয হিন্দু এবং মুসলিম সমাজ দুটি আলাদা জাতি, যার সাংস্কৃতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, এবং ঐতিহাসিক পার্থক্য রয়েছে।
- তিনি মনে করতেন যে, হিন্দু ও মুসলিমরা একত্রে একটি সাধারণ রাষ্ট্রের অধীনে বাস করতে সক্ষম নয়, কারণ তাদের মধ্যে মৌলিকভাবে ভিন্ন জাতিগত পরিচয় রয়েছে।
- জিন্নাহর মতে, মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের প্রয়োজন ছিল, যেখানে তারা নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারবে। তার এই চিন্তা ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যেখানে পাকিস্তান গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১৪২.
ইলা মিত্র কোনটিতে অংশগ্রহণ করেন?
  1. সিপাহী বিদ্রোহে
  2. তেভাগা আন্দোলনে
  3. নীল বিদ্রোহে
  4. ওয়াহাবী আন্দোলনে
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন।
- ১৯৪৬-৪৭ সালে এ আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
- মূলত তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার প্রাদেশিক কৃষকসভার কম্যুনিস্ট কর্মীরা।
- তাদের নেতৃত্বে বর্গাচাষিরা ভূমিমালিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়। খুব দ্রুত নিচের স্তরে এর নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।
- এ তেভাগা আন্দোলন বাংলার ১৯টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।
- আন্দোলনটি তীব্র আকার ধারণ করে দিনাজপুর, রংপুর, জলপাইগুড়ি, খুলনা, ময়মনসিংহ, যশোর এবং চবিবশ পরগনা জেলায়। 
- এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বর্গাচাষিদের অধিকার আদায়।

⇒ তেভাগা আন্দোলনের মূল কারণ ছিল:
- জমির মালিক ও বর্গাচাষীদের মধ্যে ফসলের ভাগ নিয়ে অসন্তোষ।
- বর্গাচাষীদের উপর জমিদার ও জোতদারদের শোষণ।
- ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ এবং এর পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট।
- ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশ যা উৎপাদিত ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ চাষীদের দেয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। 

⇒ তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র। তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন নড়াইলের অমল সেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।
১৪৩.
ইংরেজ সেনাপতি ওয়াটসন ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার মধ্যকার সম্পাদিত সন্ধি কী নামে পরিচিত?
  1. আলীনগরের সন্ধি
  2. মুর্শিদাবাদ সন্ধি
  3. দিল্লি সন্ধি
  4. ভাগীরথী সন্ধি
ব্যাখ্যা
- ইংরেজ সেনাপতি ওয়াটসন ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার মধ্যকার সম্পাদিত সন্ধি আলীনগরের সন্ধি নামে পরিচিত।

আলীনগরের সন্ধি :
- কলকাতা অধিকার করার পর নবাব সিরাজউদ্দৌলা সেনাপতি মানিক চাঁদকে কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে রেখে রাজধানী মুর্শিদাবাদ ফিরে যান।
-  অন্ধকূপ-হত্যা কাহিনী এবং নবাব কর্তৃক কলকাতা দখলের সংবাদ মাদ্রাজে পৌঁছলে ইংরেজ সেনাপতি ওয়াটসন ও রবার্ট ক্লাইভ কলকাতা দখলের জন্যে অভিযান শুরু করে।
- মানিক চাঁদের নামমাত্র প্রতিরোধ ভেঙ্গে কলকাতা পুনরায় দখল করে নেন।
- নবাব চারদিকে ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল লক্ষ করে ইংরেজদের সাথে এক অপমানজনক সন্ধি করতে বাধ্য হন।
- এ সন্ধিই বিখ্যাত 'আলী নগরের সন্ধি' নামে খ্যাত।
- এ সন্ধির শর্তানুসারে নবাব দিল্লির সম্রাট কর্তৃক ইংরেজদের প্রদত্ত সকল বাণিজ্যিক সুযোগ সুবিধা, যুদ্ধের ক্ষয়-ক্ষতি প্রদান, টাকশাল নির্মাণ এবং দুর্গ সংস্কার করার অনুমতি প্রদান করেন।

উৎস:ইতিহাস ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৪.
চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক কে ছিলেন?
  1. তিতুমীর
  2. ইলা মিত্র
  3. মাস্টারদা সূর্য সেন
  4. বটুকেশ্বর দত্ত
ব্যাখ্যা
মাস্টারদা সূর্য সেন:
- চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে।
- ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।
- পুরো নাম সূর্যকুমার সেন।
- বিএ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন।
- অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর নামে বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন। 
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪৫.
'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' ইংরেজী কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১১৭০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১১৭৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- কোম্পানির মুর্শিদাবাদের প্রতিনিধি রিচার্ড বেচারের ভাষায় ‘দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতিসত্য।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মৃত্যু বরণ করে।
- ইংরেজ সরকার বাংলার জনগণকে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
- বরং ১৭৬৫-৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাৎসরিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল, দুর্ভিক্ষের বছরও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় তার কাছাকাছি ছিল। ফলে চরম শোষণ নির্যাতনে বাংলার মানুষ হত দরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৬.
বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন কে?
  1. লর্ড বেন্টিংক
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
সামাজিক সংস্কার:

- সংস্কারপন্থী বাঙালি নেতা ও শিক্ষিত শ্রেণির উদারবাদীদের সহযোগিতায় ইংরেজ শাসকরা সামাজিক ধর্মীয় অনেক অমানবিক প্রথা কুসংস্কার দূর করতে সক্ষম হন।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক, রাজা রামমোহন রায়, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো উদারপন্থী হিন্দু নেতৃবর্গ এবং সদর নিজামত আদালতের জজদের অকুণ্ঠ সমর্থনে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে সতীদাহ প্রথা রহিত করতে সক্ষম হন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর কোনো বিধবাকে স্বামীর সঙ্গে মরতে বাধ্য করলে তা আইনত দণ্ডনীয় বলে আইন জারি করা হয়।
- লর্ড এলেনবরা-এর সময়ে ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে দাস প্রথা উচ্ছেদ করা হয়।
- লর্ড ডালহৌসি পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস করে বিধবা বিবাহের প্রচলন করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৭.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. লর্ড কার্জন
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ১৭৯৩ সালের ২২মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৮.
কার সময়ে ভারতে প্রথম রেলব্যবস্থা চালু হয়?
  1. ক) লর্ড বেন্টিংক
  2. খ) লর্ড ওয়েলেসলি
  3. গ) লর্ড ডালহৌসি
  4. ঘ) লর্ড রিডিং
ব্যাখ্যা
ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল লর্ড ডালহৌসির সময়ে মুম্বাইয়ে প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত বাংলায় প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়। বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রথম ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা থেকে জগতী পর্যন্ত ৫৩ কি.মি. রেললাইন উদ্বোধন করা হয়।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১৪৯.
কার উদ্যোগে বেঙ্গল প্যাক্ট সম্পাদিত হয়?
  1. ক) শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী
  2. খ) দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
  3. গ) জওহরলাল নেহরু
  4. ঘ) সুভাষচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯২৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলার হিন্দু ও মুসলিম নেতাদের মধ্যে বেঙ্গল প্যাক্ট নামে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তি সম্পাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস।
মুসলমানদের পক্ষে আব্দুল করিম, মুজিবুর রহমান, আকরম খাঁ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯২৫ সালে চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যু হলে বেঙ্গল প্যাক্ট তার গুরুত্ব হারায়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১৫০.
Which of the following historical place contains the tomb of 'Pari Bibi'?
  1. Star Mosque
  2. Sixty Dome Mosque
  3. Lalbagh Fort
  4. Ahsan Manzil
ব্যাখ্যা
লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- নবাব শায়েস্তা খান লালবাগ দুর্গ নির্মাণ করেন।
- তিনি ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
- এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।
- এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন।

উল্লেখ্য,
- পরী বিবির আসল নাম ইরান দুখত রেহমত বানু।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ৯ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো।
১৫১.
১৮৫৭ সালের 'সিপাহি বিপ্লব' চলাকালে ভারতের ভাইসরয় ছিলেন-
  1. লর্ড বেন্টিংক
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড ক্যানিং
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
লর্ড ক্যানিং:
- লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল।
- তিনি ভারতের প্রথম ভাইসরয়।
- তাঁর প্রশাসনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব-এর শুরু।
- লর্ড ক্যানিং বিদ্রোহটি দমন করেন এবং ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।
- ১৮৬০ সালের আগস্ট মাসে লর্ড ক্যানিং একটি পূর্ণাঙ্গ ও মিতব্যয়ী পুলিশবাহিনী গঠনের নিমিত্তে সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য এইচ.এম কোর্টকে চেয়ারম্যান করে একটি পুলিশ কমিশন গঠন করেন।
- ১৮৬১ সালে ভারতীয় কাউন্সিল আইন পাস যার দ্বারা বেসরকারি ভারতীয় সদস্যগণ ভাইসরয়ের আইনসভায় মনোনীত হতে পারতেন।
- ১৮৬১ সালে লর্ড ক্যানিং উপমহাদেশে পুলিশ সার্ভিস ও ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস চালু করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫২.
ভারতের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের উদ্যোগে কোথায় গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়?
  1. কলকাতা
  2. সিমলা
  3. লন্ডন
  4. ম্যানচেস্টার
ব্যাখ্যা
ভারতের চলমান সংকট নিরসন এবং শাসনতন্ত্র প্রণয়ন ইস্যুতে আলোচনার জন্যে বৃটিশ সরকারের পক্ষ থেকে ১৯৩০-১৯৩২ সময়ে লন্ডনে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
এই বৈঠকে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মোট তিনটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
মুসলিম লীগ ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা গোলটেবিল বৈঠকে অংমগ্রহণ করলেও কংগ্রেস কেবল দ্বিতীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করে। তবে গোলটেবিল বৈঠক তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১৫৩.
কার্পাস বিদ্রোহ অন্য কী নামে পরিচিত?
  1. ক) সাঁওতাল বিদ্রোহ
  2. খ) চাকমা বিদ্রোহ
  3. গ) মুন্ডা বিদ্রোহ
  4. ঘ) নীল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

- ১৭৭৬ সাল থেকে ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত চাকমাদের বিদ্রোহ ‘কার্পাস বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে তুলার চাষ হতো এবং কর হিসেবে চাকমারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে তুলা প্রদান করতে হতো।
- মোট চারবার চাকমা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এসব বিদ্রোহে চাকমা রাজা সের দৌলত এবং তার সেনাপতি রুনু খান নেতৃত্ব দেন।
- ১৭৮৭ সালে চাকমা রাজা ও ইংরেজদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ফলে কার্পাস বিদ্রোহের অবসান হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস : সিরাজুল ইসলাম এবং দৈনিক প্রথম আলো)

১৫৪.
ঈশ্বরচন্দ্র কত সালে, কোন প্রতিষ্ঠান থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেন?
  1. ১৮৩৫, হিন্দু কলেজ
  2. ১৮৩৯, সংস্কৃত কলেজ
  3. ১৮৪৫, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ১৮৫০, প্রেসিডেন্সি কলেজ
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- জন্ম: ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০, বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ।
- মৃত্যু: ২৯ জুলাই ১৮৯১, কলকাতা।
- পিতার নাম: ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, মাতার নাম: ভগবতী দেবী।
- উপাধি: “বিদ্যাসাগর”, ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ থেকে প্রাপ্ত।
- পেশা: শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক।

• সমাজ সংস্কার কার্যক্রম:
- বিধবা বিবাহ আইন (১৮৫৬) প্রবর্তনের অন্যতম উদ্যোক্তা।
- বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
- নারী শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন: নদিয়া, হুগলি, বর্ধমান, মেদিনীপুরে স্কুল স্থাপন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫৫.
পর্তুগীজদের মধ্যে কে প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের কালিকট বন্দরে এসেছিলেন?
  1. বার্থলমিউ দিয়াজ
  2. রাজা দ্বিতীয় জন
  3. ভাস্কো-দ্য-গামা
  4. আলবুকার্ক
ব্যাখ্যা
বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন: 
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম বাংলায় আগমন করে।
- পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-দ্য-গামা।
- ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ মে তার এ উপমহাদেশে আগমন ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।

⇒ পর্তুগিজরা ব্যবসায়-বাণিজ্যকে মূলধন করে এদেশে এলেও ক্রমে ক্রমে তারা সাম্রাজ্য বিস্তারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল হলেও তাদের অপকর্ম ও দস্যুতার কারণে বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান পর্তুগিজদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপের ঘাঁটি দখল করে, তাদের বাংলা থেকে বিতাড়িত করেন।
- তাছাড়া পর্তুগিজরা এদেশে আগত ইউরোপীয় অন্যন্য শক্তির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হয়ে এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।

উল্লেখ্য,
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন।

এছাড়াও,
- ১৪৭৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ নামে এক পর্তুগিজ নাবিক আফ্রিকার সর্ব দক্ষিণের বিন্দুতে পৌঁছাতে পেরেছিলেন।
- তিনি যখন ওখানে পৌঁছেন তখন প্রচন্ড ঝড়ের কবলে পড়েন, তাই ঐ স্থানের নাম দিয়েছিলেন "ঝড়ের অন্তরীপ"।
- পর্তুগালের রাজা দ্বিতীয় জন এর মধ্যে আশার আলো দেখতে পান এবং এর নাম রাখেন "উত্তমাশা অন্তরীপ"।

উৎস: i) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৬.
কত সালে স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে জোরদার করার জন্য লক্ষ্ণৌ চুক্তি সম্পাদন করা হয়?
  1. ১৯০৬ সালে
  2. ১৯১৪ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১৯ সালে
ব্যাখ্যা
লক্ষ্ণৌ চুক্তি: 
- ১৯০৬ সালে মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- ১৯১৪ সালে প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের সঙ্গে পরামর্শ না করেই ভারতকে যুদ্ধে সম্পৃক্ত করে।
- এর প্রতিবাদে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ নেতারা একাত্মতা বোধ করেন এবং ১৯১৬ সালে স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে জোরদার করার জন্য লক্ষ্ণৌ চুক্তি সম্পাদন করেন।
- অ্যানি বেসান্ত এবং বি. জি তিলক পরিচালিত হোম রুল লীগের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং লক্ষ্ণৌ চুক্তির ফলে ব্রিটিশ সরকার ১৯১৭ সালে ভারতে ক্রমান্বয়ে স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তনের অঙ্গীকার করে।
- কিন্তু ১৯১৯ সালে অমৃতসর শহরের জালিয়ানওয়ালা বাগে শত শত লোককে গুলি করে হত্যার ফলে হঠাৎ করেই রাজনীতি কঠিন সংকটের দিকে মোড় নেয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫৭.
পাকিস্তানের দাবীতে মুসলিম লীগ ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ পালন করে কত তারিখে?
  1. ক) ১০ জুলাই
  2. খ) ১২ আগস্ট
  3. গ) ১৬ আগস্ট
  4. ঘ) ১৫ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট মুসলিম লীগ পাকিস্তানের দাবীতে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস পালন করে।
এদিন সারা ভারতবর্ষে বিশেষত বাংলায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় বহু লোক প্রাণ হারায়। এ ঘটনায় ব্রিটিশ সরকার বিচলিত হয়ে ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে তৎপর হয়ে উঠে এবং এতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবী আরও জোড়ালো হয়।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস – উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১৫৮.
ভাস্কো-ডা-গামা কত সালে ভারতের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন?
  1. ১৪৫৩ সালে 
  2. ১৪৯৮ সালে 
  3. ১৫৩৮ সালে 
  4. ১৫৭৯ সালে 
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজদের উপমহাদেশে আগমন: 
- পর্তুগিজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন, তাঁর নাম ভাস্কো-ডা-গামা।
- ভাস্কো-ডা-গামা ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- পর্তুগিজরা ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এদেশে আসে কিন্তু ক্রমে তারা সাম্রাজ্য বিস্তারের দিকে মনোনিবেশ করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা উপমহাদেশের পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে কুঠি স্থাপন করতে সক্ষম হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৫৯.
সম্রাট শাহ আলম কোন চুক্তি অনুসারে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দীউয়ানি প্রদান করেন?
  1. কারা চুক্তি
  2. এলাহাবাদ চুক্তি
  3. পাটনা চুক্তি
  4. দিল্লী চুক্তি
ব্যাখ্যা
এলাহাবাদ চুক্তি: 
- দ্বিতীয় শাহ আলম (১৭৬১-১৮০৫) দিল্লির মুঘল সম্রাট আজিজুদ্দীন দ্বিতীয় আলমগীরের পুত্র।
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম মীর কাসিমকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সুবাহদার হিসেবে অভিষিক্ত করেন এবং বিনিময়ে নওয়াব কর্তৃক বার্ষিক ২৪ লক্ষ টাকা কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি আদায় করেন।
- ১৭৫১ সাল থেকে ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধ পর্যন্ত বাদশাহ শাহ আলম অযোদ্ধার নওয়াব  সুজাউদ্দৌলার আশ্রয়ে ছিলেন।
- বক্সারের যুদ্ধের পর সম্রাট শাহ আলম এলাহাবাদ চুক্তি অনুসারে (১৭৬৫) বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বা দীউয়ানি প্রদান করেন।
- কোম্পানি কারা ও এলাহাবাদকে বাদশাহর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্মত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৬০.
Who was the Last Viceroy of British India?
  1. Lord Lytton
  2. Lord Canning
  3. Lord Curzon
  4. Lord Mountbatten
  5. Lord Hardinge II
ব্যাখ্যা
লর্ড মাউন্টব্যাটেন:
- তিনি ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় ছিলেন।
- ভাইসরয় হিসেবে তাঁর কার্যকাল সংক্ষিপ্ত হলেও এই সময়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উপমহাদেশের বিভক্তি এবং ভারত ও পাকিস্তানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।

উল্লেখ্য,
- তিনি গভর্নর জেনারেল হিসেবে ১৯৪৭ সালের আগস্ট থেকে ১৯৪৮ সালের জুন পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- মাউন্টব্যাটেন কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পরও ভারত বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন।
- মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালে ‘আর্ল’ উপাধি প্রাপ্ত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬১.
Who was the first Governor General of India?
  1. Warren Hastings
  2. William Bentick
  3. Lord Delhousie
  4. Lord Canning
ব্যাখ্যা
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৮ -৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- বেন্টিংক মাদ্রাজের গভর্নর হিসেবে ১৮০৩ সালে প্রথম ভারতে আসেন।
- ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা পরে তাঁর পদবিকে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে পুনরাখ্যায়িত করা হয়।
⇒ ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেলে উন্নীত করা হয়।
- ফলে বাংলার তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।
উল্লেখ্য,
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক সাধারণত হস্তক্ষেপ না করা এবং অনাক্রমণের নীতি অনুসরণ করেছিলেন।
- ১৮৩১ সালে মহিশূরে অনেকদিন যাবৎ চলতে থাকা কুশাসন ঐ রাজ্যটিকে ব্রিটিশ প্রশাসনে আনতে তাঁকে বাধ্য করে।
- বেন্টিঙ্ক উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন এবং সেখানে রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।
- সতীদাহ নিবারণ ও ঠগী দমন হলো বেন্টিঙ্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
- তিনি সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করেন।

রেগুলেটিং এ্যাক্ট (১৭৭৩ খ্রি:):
- উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত।
- কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
- তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।
- রেগুিলেটিং এ্যাক্ট এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- গভর্নর জেনারেলকে সাহায্য করার জন্য ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি 'কাউন্সিল' গঠিত হয় এবং সবার সমান অধিকার দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- এ রেগুলেটিং এ্যাক্ট এর দোষ-ত্রুটি থাকলেও তা উপমহাদেশের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। 

অন্যদিকে,
- স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৮ -৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
- লর্ড ডালহৌসি ১৮৪৮-১৮৫৬ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬২.
কখন ব্রিটিশ মন্ত্রী মিশন ভারতে আসে?
  1. ১৯৪৬ সালে
  2. ১৯৪৫ সালে
  3. ১৯৪৩ সালে
  4. ১৯৪২ সালে
ব্যাখ্যা
মন্ত্রী মিশন: 
- ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৪৬ সালের মার্চ মাসে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি মিশন এ দেশে প্রেরণ করা হয়, যা মন্ত্রী মিশন নামে পরিচিত।
- ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার তিনজন প্রভাবশালী মন্ত্রি যথা, ভারত সচিব লর্ড লরেন্স, বাণিজ্য বোর্ডের সভাপতি স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রীপস এবং নৌ-বিভাগের প্রথম লর্ড এ.ভি. আলেকজান্ডারকে নিয়ে গঠিত একটি মিশন ভারতে প্রেরণ করা হয়।
- অনেক আলাপ-আলোচনা শেষে ১৯৪৬ সালের ১৬ মে মিশন একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে।
- এটি 'মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা' নামে অভিহিত।
- এর প্রস্তাবগুলো দু'ভাগে বিভক্ত ছিল যথা, স্বল্প মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী।
- প্রথমটির অংশ হিসেবে কংগ্রেস, মুসলিম লীগ ও অন্যদের নিয়ে কেন্দ্রে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কথা বলা হয়।
- দ্বিতীয় ভাগে ভারত বিভক্তির পরিবর্তে খুবই শিথিল একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ঐক্যবদ্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়।
- সে মতে পরিকল্পনাটি অনেক ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব অর্পণ করে ভারতের প্রদেশগুলোকে "A", "B" I "C" এই তিনটি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়।
- মুসলিম লীগ ও এর নেতা জিন্নাহ মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করেন।
- কিন্তু কংগ্রেস ও এর সভাপতি পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু এটি পুরোপুরি গ্রহণে অসম্মতি জানান।
- ফলে মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৩.
'বঙ্গবঙ্গ' কি ধরণের সংস্কার ছিল?
  1. ক) প্রশাসনিক সংস্কার
  2. খ) সামাজিক সংস্কার
  3. গ) অর্থনৈতিক সংস্কার
  4. ঘ) কাঠামোগত সংস্কার
ব্যাখ্যা

১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।
ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ।
এ প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়।
পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ।
এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা।
সুতরাং, 'বঙ্গবঙ্গ' প্রশাসনিক সংস্কার সংস্কার ছিল।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৬৪.
দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. জওহরলাল নেহরু
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব: 
- জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
- তবে মুসলিম লীগ সভাপতি এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এটিই মূলত জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ বা 'Two Nations Theory' র মূলকথা।
- জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ ছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব বা পাকিস্তান প্রস্তাবের মূলভিত্তি। যদিও লাহোর প্রস্তাবে ‘পাকিস্তান’ কিংবা ‘দ্বিজাতি তত্ত্বের’ কথা উল্লেখ ছিল না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৫.
ভারতের স্বাধীনতা লাভের প্রশ্নে সশ্বস্ত্র সংগ্রামের পক্ষপাতি ছিলেন-
  1. ক) জওহরলাল নেহরু
  2. খ) সুভাষচন্দ্র বসু
  3. গ) আবুল কালাম আজাদ
  4. ঘ) মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা
ভারতের স্বাধীনতা লাভের প্রশ্নে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু সশ্বস্ত্র সংগ্রামের পক্ষপাতি ছিলেন। এরূপ মনোভাবের জন্যে তিনি কংগ্রেসের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ফরোয়ার্ড ব্লক প্রতিষ্ঠা করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি গোপনে জার্মানি ও জাপান যান এবং সেখানে আজাদ হিন্দ ফোর্স বা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি প্রতিষ্ঠা করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানি বাহিনীর সাথে এই বাহিনী ভারতের পূর্বাঞ্চলে লড়াই করে। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধে জাপানের ব্যর্থতার পর সুভাষ বসু অন্তর্ধান হয়ে যান। তার শেষ পরিণতি সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং আমি সুভাষ বলছি : প্রথম খণ্ড)
১৬৬.
'ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট'-এর প্রবক্তা -
  1. প্যারিচাঁদ মিত্র
  2. হেনরি লুইস ডিরোজিও
  3. ক্ষুদিরাম বসু
  4. উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা। দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে । যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৭.
ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ভাইসরয় ছিলেন কে?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় / গভর্নর:
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম গভর্নর: লর্ড ক্লাইভ।
- শেষ গভর্নর: লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
- প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিল- লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
- শেষ গভর্নর জেনারেল: লর্ড ক্যানিং।
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ভাইসরয়: লর্ড ক্যানিং।
- শেষ ভাইসরয়: লর্ড মাউন্টব্যাটেন। 

এছাড়াও,
- পূর্ব বাংলার ও আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট জেনারেল - স্যার জেনারেল ব্যামফিল্ড ফুলার।
- পূর্ব বাংলার ও আসামের শেষ লেফটেন্যান্ট জেনারেল- স্যার চার্লস স্টুয়ার্ট বেইলি।

উৎস: ¡) ইতিহাস, (প্রথম পত্র) একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
১৬৮.
‘মঙ্গল পাণ্ডে' নিচের কোন বিদ্রোহের সাথে জড়িত?
  1. সাঁওতাল বিদ্রোহ
  2. কৃষক বিদ্রোহ
  3. নাচোল বিদ্রোহ
  4. সিপাহি বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
মঙ্গল পাণ্ডে:
- মঙ্গল পাণ্ডে ছিলেন একজন সিপাহি, যার নেতৃত্বে সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সিপাহিদের একটি অংশ বিদ্রোহ করে।
- মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার ব্যারাকপুরে এই বিদ্রোহ শুরু হয়।
- ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ নামে খ্যাত এই বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজ শাসনকে হটিয়ে দিয়ে পুরো ভারতকে দখলদার মুক্ত করা।

সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৯.
কত সালে বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৫৭ সালে
  2. ১৭৬৪ সালে
  3. ১৭৭২ সালে
  4. ১৮৫৭ সালে
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ নবাব মীর কাসিম ও তাঁর মিত্রশক্তির সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ।
- পলাশীর যুদ্ধের পর ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- এই যুদ্ধের ফলে বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়।
- মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
          ii) Britannica.

১৭০.
নীল কমিশন গঠন করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮৫৯ সালে
  2. খ) ১৮৫৭ সালে
  3. গ) ১৮৬৩ সালে
  4. ঘ) ১৮৬১ সালে
ব্যাখ্যা
নীল বিদ্রোহ
- ইংরেজরা এই উপমহাদেশে এসেছিল ব্যবসায়-বাণিজ্য করতে।
- ১৭৭০ থেকে ১৭৮০ সালের মধ্যে ইংরেজ আমলে বাংলাদেশে নীল চাষ শুরু হয় কারণ এ সময় নীল ব্যবসা ছিল খুবই লাভজনক।
- নীল চাষের জন্য কৃষকদের অগ্রিম অর্থ গ্রহণে ( দাদন ) বাধ্য করা হতো এবং পরে নীল চাষে রাজি না হলে কৃষকের উপরে চরম অত্যাচার চালানো হতো।
- ফরিদপুর, যশোর, ঢাকা, পাবনা, রাজশাহী, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ব্যাপক নীল চাষ হতো। 
- জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নীল চাষের খরচও বৃদ্ধি পায় ফলে চাষীরা নীল চাষের প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের ওপরে নির্যাতন চালানো হতো।
- নীল চাষীরা ১৮৫৯ সালে নীল চাষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ গড়ে তোলেন। 
- এ নীল বিদ্রোহের অত্যাচারের কথা দীনবন্ধু মিত্রের লেখা ‘নীলদর্পণ’ নাটকের কাহিনীর মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 

- যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামে দুই ভাই।
- হুগলিতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার।
- নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই। 
- চাষীদের এ বিদ্রোহের কারণে ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ‘ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন’ গঠন করে নীল চাষকে কৃষকদের ‘ইচ্ছাধীন’ বলে ঘোষণা দেয় যার পরিপ্রেক্ষিতে নীল বিদ্রোহের অবসান হয়।
- পরবর্তীতে কৃত্রিম নীল আবিষ্কৃত হওয়ায় ১৮৯২ সালে এদেশে নীল চাষ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭১.
সর্বপ্রথম কোন আইনে বাংলায় নতুন আইন সভার বিধান রাখা হয়?
  1. ক) রেগুলেটিং অ্যাক্ট
  2. খ) ভারতীয় কাউন্সিল আইন
  3. গ) ভারত শাসন আইন
  4. ঘ) পিটের ইন্ডিয়া অ্যাক্ট
ব্যাখ্যা
- ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের মাধ্যমে একশ বছরের অবসান ঘটে কোম্পানি শাসনের এবং ব্রিটিশ রাজ এ অঞ্চলের শাসনভার স্বহস্তে তুলে নেয়। 
- এ সময় ভারতবর্ষে ব্রিটেনের অনুকরণে আইন সভার উদ্ভব হয় ধাপে ধাপে।
-  বস্তুত ১৮৫৮ সালের পরবর্তী বিভিন্ন ভারত শাসন আইনের মধ্যেমেই এ দেশে শাসনতান্ত্রিক বিকাশ ঘটে। 
- এ ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের শাসনকার্যের সাথে সংশ্লিষ্ট করা। 
- ১৮৬১ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইন ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। 
 
================
 
এ আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হল :
১. গভর্ণর জেনারেলের নির্বাহী পরিষদ ৫ জন সাধারণ সদস্য নিয়ে গঠিত হয়।
২. আইন সভা গভর্ণর জেনারেলের নির্বাহী পরিষদের ৫ জন সাধারণ সদস্য ছাড়াও ন্যূনতম আরো ৬ জন এবং অনধিক ১২ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। অতিরিক্ত সদস্যগণ গভর্ণর জেনারেল কর্তৃক দুই বছরের জন্য মনোনীত হন এবং এই সদস্যদের অর্ধেক বেসরকারি সদস্য।
৩. গভর্ণর জেনারেল নির্বাহী ও আইন উভয় পরিষদের সভাপতি।
৪. আইনসভা কর্তৃক পাসকৃত যে কোন বিলে সম্মতি প্রদান, ভেটো প্রদান বা ব্রিটিশ রাণীর জন্য সংরক্ষিত রাখার অধিকার গভর্ণর জেনারেলকে প্রদান করা হয়।
৫. গভর্ণর জেনারেলের পূর্বানুমতি ছাড়া সরকারি ঋণ, সেনাবাহিনী, বৈদেশিক সম্পর্ক ইত্যাদি বিষযে কোন বিল আইন সভায় উত্থাপন করা যেত না।
৬. আইন সভার সদস্যগণ আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক উত্থাপিত কোন বিষযে অংশগ্রহণ ও পরামর্শ দান করতে পারত। তবে কোনরূপ প্রশ্ন করার অধিকার ছিল না।
৭. এ আইন দ্বারা বোম্বে ও মাদ্রাজের প্রাদেশিক আইন সভা পুনর্গঠনও সম্প্রসারণ করা হয়।
৮. এ আইন দ্বারা বাংলা, পাঞ্জাব ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের জন্য নতুন আইন সভার বিধান করা হয় ।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৭২.
কত সালে সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হয়?
  1. ১৭৭১ সালে
  2. ১৭৭৩ সালে
  3. ১৮৬১ সালে
  4. ১৮৬৩ সালে
ব্যাখ্যা
রেগুলেটিং এ্যাক্ট (১৭৭৩ খ্রি:):
- ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হওয়ার পর ১৭৭৩ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থের সরকার সর্বপ্রথম বাংলা তথা ভারত শাসন বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস করে।
- ১৭৭৩ সালে প্রণীত রেগুলেটিং অ্যাক্ট ভারতীয় উপমহাদেশের সাংবিধানিক বিকাশের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ১৭৭৩ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৭৩ সালে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হলে বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। 

উৎস: i) ইতিহাস, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৩.
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কোন স্থান আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?
  1. পাহাড়তলী সানশাইন একাডেমি
  2. পাহাড়তলী খ্রিস্টান ক্লাব
  3. পাহাড়তলী মহামুনি বৌদ্ধ বিহার
  4. পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব
ব্যাখ্যা
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার:
- ভারতের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রথম শহীদ বিপ্লবী নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।
- ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের বর্তমান পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ইডেন কলেজে ছাত্রী থাকাকালে প্রীতিলতা লীলা নাগের নেতৃত্বাধীন দীপালি সংঘের অন্তর্ভুক্ত শ্রীসংঘের সদস্য ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে সমগ্র বাংলা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী হয়ে ওঠে।
- প্রথম মহিলা সদস্য হিসেবে প্রীতিলতা যোগ দেন সূর্যসেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের সঙ্গে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৩২ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে প্রীতিলতার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
- প্রীতিলতার নেতৃত্বে বিপ্লবীরা ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করে।
- ওই সময়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হলে তাত্ক্ষণিকভাবে পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন।
- তাঁর আত্মদান বিপ্লবীদের সশস্ত্র সংগ্রামে আরো উজ্জীবিত করে তোলে।
- পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাবটি এখন ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা জাদুঘর’ নামে পরিচিত।

উৎস: ৩ নভেম্বর, ২০২১, কালের কন্ঠ।
১৭৪.
’ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের’- এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি
  2. মহাত্মা গান্ধী
  3. সুরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম
ব্যাখ্যা
• ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস:
- সর্বভারতীয় প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন হলো ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস।
- ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।
- কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইংরেজ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম।
- ব্রিটিশ সরকারের নিকট শান্তিপূর্ণ উপায়ে ভারতীয়দের দাবী-দাওয়া পেশের মাধ্যম হিসেবে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- ১৮৮৫ সালের ডিসেম্বরে কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন বসে মুম্বাইয়ে।
- এতে সভাপতিত্ব করেন বাঙালি ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৭৫.
বঙ্গভঙ্গের ফলে কোন আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে?
  1. স্বদেশী আন্দোলন
  2. ভারত ছাড় আন্দোলন
  3. খিলাফত আন্দোলন
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
স্বদেশী আন্দোলন:

- স্বদেশী আন্দোলন ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন।
- এটি গান্ধী পুর্ব আন্দোলনসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সফল আন্দোলন বিবেচনা করা হয়।
- ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করে যা 'বঙ্গভঙ্গ' নামে পরিচিত। কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে।
- বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার অংশ হিসেবে ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন। পরে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এই আন্দোলনের মূল বিষয় ছিলো ইংরেজদের সবকিছু বয়কট ও স্বদেশী পণ্যের ব্যবহার।
- বাংলার সর্বত্র স্বদেশী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। তবে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি। যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৬.
ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন?
  1. ক) রবার্ট ক্লাইভ
  2. খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. গ) লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. ঘ) লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
১৬০০ সালে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়। ১৭৫৭ সালে পলাশি যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়। রবার্ট ক্লাইভ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম গভর্নর নিযুক্ত হন। ১৭৭৪ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। লর্ড ক্যানিং সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় (১৮৫৮)। মাউন্টব্যাটেন ভারতের শেষ ভাইসরয়।(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১৭৭.
ফরায়েজী আন্দোলন ছিলো একটি-
  1. ক) কৃষক আন্দোলন
  2. খ) নীলকর বিরোধী আন্দোলন
  3. গ) ব্রিটিশ বিরোধী সশ্বস্ত্র আন্দোলন
  4. ঘ) ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন ছিলো একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন। উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তউল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। এই আন্দোলনের কেন্দ্র ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল।

১৮৪০ সালে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ মুহসিন উদ্দিন ওরফে দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন।
১৮৬২ সালে দুদু মিয়ার মৃত্যুর পর সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া)
১৭৮.
লক্ষ্ণৌ চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯১৫ সাল
  2. ১৯১৬ সাল
  3. ১৯১৩ সাল
  4. ১৯১৮ সাল
ব্যাখ্যা

• লক্ষ্ণৌ চুক্তি (১৯১৬ খ্রি.):

- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইন বা মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন ভারতবাসীর সব দাবি-দাওয়া পূরণে যথেষ্ট সহায়ক হয় নি। এ আইনে যদিও প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি স্বীকার করে নেয়া হয় এবং মুসলমানদের স্বতন্ত্র নির্বাচনের অধিকার প্রদান করা হয় তথাপি এতে মুসলিম সম্প্রদায় পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্ট হতে পারে নি।

-  ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা তাদেরকে বৃটিশ সরকারের প্রতি সন্দিহান করে তোলে। 

- তাছাড়া ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে কানপুর মসজিদের ঘটনায় পুলিশের গুলিতে কয়েকজন মুসলমান নিহত হলে মুসলমানদের মধ্যে সরকার বিরোধী মনোভাব তীব হয়ে উঠে।

- ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও অসন্তোষ ভারতের মুসলমানদের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। অভিজাত, রক্ষণশীল ও বৃটিশ অনুগত নেতাদের বদলে ১৯১২ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত মুসলিম লীগের তরুন সদস্যগণ দলের মধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠে। 

- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের মার্চে মুসলিম লীগের লক্ষ্ণৌ অধিবেশনে দলের নতুন গঠনতন্ত্র প্রণীত হয়। এতে বলা হয় যে, জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্বরাজ অর্জনই হচ্ছে লীগের অন্যতম উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। এর ফলে ভারতের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সদ্ভাব সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

- অতঃপর লীগ ও কংগ্রেস প্রায় একই সময়ে ও স্থানে এদের বার্ষিক অধিবেশন আহবান করে। 

- ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ এদের বার্ষিক সম্মেলন লক্ষ্ণৌ শহরে অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ সময়ে উভয় সম্প্রদায় ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের নীতির প্রশ্নে একটা সমঝোতায় আসে।

- এটাই ইতিহাসে লক্ষ্ণৌ চুক্তি নামে পরিচিত। 

উৎস:  বাংলাপিডিয়া এবং ইতিহাস প্রথম পত্র, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৯.
কোন সম্রাটের অনুমতিতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?
  1. আকবর
  2. জাহাঙ্গীর
  3. শাহজাহান
  4. আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয়।
- ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে।
- এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

১৮০.
পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্ব ছিলেন কে?
  1. লর্ড কার্নওয়ালিস
  2. মীর জাফর
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
পলাশীর যুদ্ধ: 
- সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে আরোহণ করার পর থেকে তাঁকে লড়াই করতে হয়েছে নানা কারণে মনঃক্ষুন্ন ঘরের শত্রু শওকত জং,
- ঘষেটি বেগম দরবারের শত্রু আমাত্য ও বেনিয়া সম্প্রদায় এবং বহিঃশত্রু ইংরেজদের সঙ্গে।
- নবাবের অভ্যন্তরীণ শত্রুদের কাজে লাগিয়ে ইংরেজরা নবাবকে উৎখাতের এক নীল নকশা তৈরি করে।
- পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর  নেতৃত্ব দেন- রবার্ট ক্লাইভ।
- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে নবাবের বাহিনীর এক যুদ্ধ সংঘঠিত হয়।
- কারণ যুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের নেতৃত্বাধীন অধিকাংশ সৈন্য নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে,
- যার ফলে নবাবের পরাজয় ঘটে।
- বন্দী অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮১.
'ইন্ডিগো কমিশন' গঠন করা হয় কত সালে?
  1. ১৮৬২ সালে
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা
 নীল বিদ্রোহ:
- ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ নীলকরদের সীমাহীন অত্যাচার শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে নীল চাষিরা যে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাই ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ নামে খ্যাত।
- এর নেতৃত্ব দিয়েছিল স্থানীয় পর্যায়ের সাধারণ কৃষকরা।
- বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নেতা স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ সংগ্রাম পরিচালিত করে। এ আন্দোলনে যশোর অঞ্চলের কৃষকদের নেতৃত্ব দেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামে দুই ভাই। হুগলিতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার এবং নদীয়ায় মেঘনা সর্দার।
- এই নেতৃত্ব এতটাই শক্তিশালী এবং সুসংহত ছিল যে শেষ পর্যন্ত ইংরেজরা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে সরকার 'ইন্ডিগো কমিশন' বা 'নীল কমিশন' গঠন করে।
- এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নীলচাষ করা, না করা কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয় এবং ‘ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট' বাতিল করা হয়।
- নীল চাষীদের উপর অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে রচিত গ্রন্থের নাম নীলদর্পণ (রচয়িতা: দীনবন্ধু মিত্র)।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮২.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড ওয়েসলি
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড ক্যানিং
  4. লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ১৭৯৩ সালের ২২মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৩.
উপমহাদেশে প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম কখন সংঘটিত হয়?
  1. ১৮৫৭ সালে
  2. ১৭৫৭ সালে
  3. ১৯৮৭ সালে
  4. ১৮৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
উপমহাদেশে প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম:

- ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের স্বাধীনতা সংগ্রাম এক যুগান্তকারী ঘটনা।
- ভারতের রাজনৈতিক, আর্থ- সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক ক্ষেত্রে কোম্পানি সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা, অনুসৃত নীতি বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আর ক্ষোভের সৃষ্টি করে, তারই বহিঃপ্রকাশ এই সংগ্রাম।
- নানা কারণে এ সংগ্রাম ব্যর্থ হয়। তবে এর ফলে ভারতে একশ বছরের কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে।
- উপমহাদেশের শাসনভার ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টের হাতে অর্পিত হয়।
- এটি ভারতের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৪.
ইলবার্ট বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী, কোন পরিবর্তনটি ঘটানো হয়েছিল?
  1. ভারতীয়দের অস্ত্র বহনের অধিকার প্রদান
  2. ভারতীয়দের জন্য পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রবর্তন
  3. ভারতীয়দের জন্য উচ্চশিক্ষা বাধ্যতামূলক করা
  4. ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয়দের বিচার করার অধিকার প্রদান
ব্যাখ্যা
ইলবার্ট বিল:
- লর্ড রিপন তার শাসনামলে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেন এবং নতুন নতুন সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
- তার শাসনকালীন সময়ের অন্যতম কীর্তি হলো ইলবার্ট বিল নামে একটি আইনের পরিকল্পনা।
- এ বিলের উদ্দেশ্য ছিল বিচার ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ভারতীয় ও ইউরোপীয়দের মধ্যে যে বৈষম্য ছিল তা দূর করা।
- লর্ড রিপন বিচার বিভাগের বৈষম্য দূরীকরণের জন্য সচিব ইলবার্টকে একটি বিল প্রণয়নের দায়িত্ব দেন।
- যার কারণে স্যার ইলবার্ট এর নামানুসারে এ বিলটি ইলবার্ট বিল নামে পরিচিত।
- এ বিলে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা দেয়া হয়।
- এ বিলটি ১৮৮৩ সালে পাস হয়।

⇒ লর্ড রিপন ভারতে আসার আগে কোন ভারতীয় বিচারকরা কোন অভিযুক্ত ইংরেজের বিচার করতে পারত না।
- এই বৈষম্য দূর করতে লর্ড রিপনের পরামর্শে তার আইন সচিব ইলবাট একটি বিলের খসড়া রচনা করেন।
- এই খসড়া বিলে ভারতীয় বিচারকদের ইংরেজ অভিযুক্তের বিচার করার অধিকার দেওয়া হয়।
- এই খসড়া বিলই ইলবার্ট বিল (১৮৮৩) নামে পরিচিত।

⇒ ইলবার্ট বিল বিতর্ক ভারতের বিশেষত বাংলার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
- তারা প্রথমবারের মতো নিজেদের অধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তিশালী ও সার্বজনীন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।
- ইলবার্ট বল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রথমে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৮৩) এবং পরে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (১৮৮৫) প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাপিডিয়া।
১৮৫.
অসহযোগ আন্দোলনের প্রধান নেতৃত্ব দানকারী কংগ্রেস নেতার নাম কী?
  1. জহরলাল নেহেরু
  2. আবুল কালাম আযাদ
  3. মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী
  4. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

অসহযোগ আন্দোলন: 
- প্রাদেশিক স্বায়ত্বশাসন প্রদানের আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে ভারতীয়রা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারকে সাহায্য প্রদান করেন।
- কিন্তু ১৯১৯ সালে প্রণীত মন্টেগু-চেমসফোর্ড আইন ভারতের স্বায়ত্তশাসনকে প্রত্যাখান করে।
- ফলে এ আইন ভারতবাসীকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বরং এই বছরই ব্রিটিশ সরকার কুখ্যাত 'রাউলাট অ্যাক্ট' পাস করে।
- ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল এই আইনের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত পাঞ্জাবের জালিওয়ানওয়ালা বাগের শান্তিপূর্ণ সভায় ব্রিটিশ সরকার গুলি চালায়।
- এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ অসহযোগ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
- কংগ্রেস নেতা মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী (মহাত্মা গান্ধী) এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।

উৎস: পৌরনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৬.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে বাংলায় কত লোক মারা যায়?
  1. এক চতুর্থাংশ
  2. এক তৃতীয়াংশ
  3. এক পঞ্চমাংশ
  4. দুই তৃতীয়াংশ
ব্যাখ্যা
- এক-তৃতীয়াংশ লোক মারা  যায়।

• 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- দিউয়ানি ও দ্বৈত শাসনের চূড়ান্ত পরিণাম ছিল বাংলায় 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের' ধ্বংসলীলা।
- একদিকে দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অন্যদিকে অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়।
- পরপর দু'বছর অনাবৃষ্টি ও খরার ফলে ১১৭৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় এক প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দেয়।
- টাকায় একমণ হতে চাউলের মূল্য বাড়তে বাড়তে টাকায় তিন সেরে এসে দাঁড়ালো।
- খোলাবাজারের খাদ্যশস্য বেশি লাভের আশায় কোম্পানির কর্মচারীরা মজুদ করা শুরু করে।
- খাদ্যের অভাবে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল।
- এই সময়েও খাজনা মওকুফ করা হয় নি।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৭.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সর্বপ্রথম কোথায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন?
  1. আগ্রা
  2. সুরাট
  3. আহমেদাবাদ
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা
- ইংল্যান্ডের একদল বণিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামে একটি বণিক সংঘ গড়ে তোলে।
- ১৬০০ সালে রানি এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি প্রাচ্যে একচেটিয়া বাণিজ্য করার সনদপত্র লাভ করে।
- এই সনদপত্র নিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধি বাণিজ্যিক সুবিধা লাভের আশায় আকবরের দরবারে হাজির হন।
- ক্যাপ্টেন হকিন্স ১৬০৮ সালে রাজা প্রথম জেমসের সুপারিশপত্র নিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। 
-তাঁর অনুমতি নিয়ে সর্বপ্রথম ১৬১২ সালে সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন।
- পরবর্তীকালে ১৬১৫ সালে প্রথম জেমসের দূত হয়ে জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন স্যার টমাস রো। সম্রাটের কাছ থেকে তিনি ইংরেজদের জন্য বাণিজ্যিক সুবিধা আদায় করে নেন।
- কোম্পানি সুরাট, আগ্রা, আহমেদাবাদ প্রভৃতি স্থানে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে তাদের ভিত্তি মজবুত করে।

উৎস : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১৮৮.
ভারতীয়দের মধ্যে প্রথম কে লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হন?
  1. ক) মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. খ) সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি
  3. গ) সৈয়দ আমির আলি
  4. ঘ) বাবা আম্বেদকার
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ আমির আলি প্রথম ভারতীয় হিসেবে ১৯০৯ সালে লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।
- তিনি ১৮৭৭ সালে কলকাতায় সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। সৈয়দ আমির আলি ১৯১২ সালে মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- 'The Spirit of Islam' এবং 'A History of Saracens' তার রচিত দুটো বিখ্যাত বই।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৮৯.
বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ:
- বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন — লর্ড কার্জন।
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সমপ্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদে হিন্দু সম্প্রদায় খুশি হয়, অপর দিকে মুসলমান সম্প্রদায় মর্মাহত এবং হতাশ হয়।
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।

অন্যদিকে,
• লর্ড ওয়েলেসলি ১৭৯৮ থেকে ১৮০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
• ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বশেষ ভাইসরয় বা রাজপ্রতিনিধি ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। তাঁর সময় ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছিল।
• লর্ড ডালহৌসি ১৮৪৮ সালে স্বত্ব বিলোপ নীতির (ডকট্রিন অব ল্যাপ্স) প্রবর্তন করেন। তবে ডালহৌসির পূর্বেও ব্রিটিশ ভারতে এই নীতির প্রয়োগ ছিলো। ডালহৌসি এই নীতির সর্বাধিক প্রয়োগ করেন।
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় ১৮৫৬ সালে লর্ড ডালহৌসি বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯০.
স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ায় পূর্বে ঢাকা বাংলার রাজধানী ছিল-
  1. ক) তিনবার
  2. খ) চারবার
  3. গ) দুইবার
  4. ঘ) একবার
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ায় পূর্বে ঢাকা বাংলার রাজধানী ছিল মোট চারবার- ১৬১০ সাল, ১৬৬০ সাল, ১৯০৫ সাল এবং ১৯৪৭ সাল।

১৬১০ সালের ১৬ জুলাই সুবাদার ইসলাম খান চিশতী সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন এবং নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। এই নাম সম্রাট জীবিত থাকা পর্যন্ত বহাল ছিল।
এরপর ১৬৫০ সালে সুবাদার শাহ সুজা পুনরায় বাংলার রাজধানী বিহারের রাজমহলে নিয়ে যান। কিন্তু ১৬৬০ সালে মীর জুমলা পুনরায় ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করেন যা ১৭১৭ সাল পর্যন্ত বজায় ছিল।
১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
পরবর্তীতে ১৯০৫ থেকে ১৯১১ এবং ১৯৪৭ সাল থেকে ঢাকা পূর্ব বাংলার (১৯৫৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান নামকরণ করা হয়) রাজধানী হিসেবে ছিলো।
১৯৭১ সাল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
সূত্রঃ ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।

১৯১.
তিতুমীর কত সালে তার ঐতিহাসিক বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন?
  1. ১৮২৭ সালের
  2. ১৮২৯ সালের
  3. ১৮৩১ সালের
  4. ১৮৩৩ সালের
ব্যাখ্যা
তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা:
- ১৮৩১ সালের ২৩ অক্টোবর ভারতের কলকাতার বারাসাতের কাছে নারিকেলবাড়িয়া নামক গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করা হয়।
- ইতিহাসে এটিই ‘বাঁশের কেল্লা’ বা ‘নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা’ নামে চিহ্নিত হয়ে আছে।
- ব্রিটিশ শক্তিকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে একটি বিপ্লবী কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য বাংলার সন্তান মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর ও তাঁর অনুসারীরা এই কেল্লা নির্মাণ করেন।
- বাঁশের কেল্লায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিরাট বাহিনী ছিল স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও সংগ্রামী চেতনায় উদ্দীপ্ত।
- তারা তিতুমীরের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা স্থাপন করে।
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ১০০ অশ্বারোহী, ৩০০ স্থানীয় পদাতিক, দুটি কামানসহ গোলন্দাজ সৈন্যের এক নিয়মিত বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর ইংরেজ বাহিনী মুজাহিদদের উপর আক্রমণ চালায়।
- তাঁদের সাধারণ তলোয়ার ও হালকা অস্ত্র নিয়ে তিতুমীর ও তাঁর সেনারা ব্রিটিশ সেনাদের আধুনিক অস্ত্রের সামনে দাঁড়াতে পারেননি।
- সেই যুদ্ধে তিতুমীর শহীদ হন।
- পাশাপাশি ১৮৩১ সালের ১৭ নভেম্বর বাঁশের কেল্লাটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৯২.
ফরায়েজী আন্দোলন কোন শতকে গড়ে ওঠা একটি সংস্কার আন্দোলন?
  1. ক) আঠারো শতকে
  2. খ) ঊনিশ শতকে
  3. গ) সতেরো শতকে
  4. ঘ) বিংশ শতকে
ব্যাখ্যা
- ফরায়েজী আন্দোলন  ঊনিশ শতকে বাংলায় গড়ে ওঠা একটি সংস্কার আন্দোলন।
- প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ধর্ম সংস্কার। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- ফরায়েজী শব্দটি ‘ফরজ’ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। কাজেই ফরায়েজী বলতে তাদেরকেই বোঝায় যাদের লক্ষ্য হচ্ছে অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহ কার্যকর করা।
- এ আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহ।
- তিনি অবশ্য শব্দটিকে ব্যাপক অর্থে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, অবশ্য পালনীয়ই হোক বা ঐচ্ছিকই হোক, কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত সকল ধর্মীয় কর্তব্যই এর অন্তর্ভুক্ত।
- শরীয়তউল্লাহ হজ্ব পালনের জন্য মক্কায় যান এবং সেখানে বিশ বছর অবস্থান করে হানাফি শাস্ত্রজ্ঞ শেখ তাহির সোম্বলের নিকট ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান যে, বাংলার মুসলমানদের একটি অংশ বহুবিধ স্থানীয় লোকাচার ও পর্ব-উৎসব পালনে উৎসাহী হয়ে ইসলামের মৌলিক শিক্ষার প্রতি চরম উদাসীন হয়ে উঠেছেন।
- সে কারণেই তিনি ফরায়েজী আন্দোলন শুরু করেন এবং কালক্রমে এ আন্দোলন সমগ্র পূর্ববঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১৯৩.
কত সালে ওলন্দাজ বণিকরা ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে?
  1. ১৬০২ সালে
  2. ১৬০৫ সালে
  3. ১৬২২ সালে
  4. ১৬৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

ওলন্দাজ বা ডাচ:
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- প্রাচ্য বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক 'ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- তারা কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া বালেশ্বর, কাশিমবাজার এবং বরানগরেও তাদের কুঠি ছিল।
- প্রথমে ওলন্দাজগণ ইংরেজদের সাথে রেশমী সূতা, সুতি কাপড় চাল, ডাল সোরা ও তামাক এদেশ থেকে রপ্তানি করত এবং অন্যদেশ থেকে এদেশে মসলা আমদানি করত।
- ইংরেজদের সাথে তাদের যে বাণিজ্য চুক্তি হয় তা দু'বছরের মধ্যে ভেঙ্গে গিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
- অন্যদিকে বাংলার শাসনকর্তাদের সাথেও তাদের প্রবল বিরোধ দেখা দেয়।
- এ বিরোধ বেশি বেড়ে গেলে ইংরেজগণ ওলন্দাজ কুঠিগুলো দখল করে ফেলে।
- আর এভাবে ওলন্দাজদের বাণিজ্যিক সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁরা উপমহাদেশ ছেড়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় চলে যায়।
- সেখানে তাঁরা উপনিবেশ স্থাপন করে।
- ফলে এদেশে ইংরেজদের শক্তি বেড়ে যায়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৪.
পূর্ববঙ্গ জমিদারি দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন কবে প্রণীত হয়?
  1. ১৯৫৯ সালে
  2. ১৯৬০ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫৪ সালে
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০: 
- এই আইনের আওতায় সরকার দেশের একমাত্র জমিদারে পরিণত হয় এবং সরকার পর্যায়ক্রমে জমিতে সকল খাজনা-আদায়ি স্বার্থ অধিগ্রহণ করে।
- ১৯৫১ ইং সনের ১৬ মে, এই আইন পাস এর মাধ্যমে এদেশ থেকে জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটে।
- এই আইনে ১৫২টি ধারা রয়েছে।
- এগুলি পাঁচটি অংশ ও উনিশটি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গ জমিদারি বিলোপ ও প্রজাস্বত্ব আইনের মাধ্যমে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা উচ্ছেদ হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯৫.
বঙ্গভঙ্গের সময় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশের রাজধানী ছিলো কোনটি?
  1. ঢাকা
  2. কলকাতা
  3. আসাম
  4. উড়িষ্যা
ব্যাখ্যা
 • বঙ্গভঙ্গ
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বঙ্গভঙ্গ অবিভক্ত বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।
- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়।
- পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৯৬.
কার নেতৃত্বে মন্ত্রী মিশন ভারতে এসেছিলো?
  1. সিরিল র‌্যাডক্লিফ
  2. স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস
  3. পেথিক লরেন্স
  4. এ. ভি. আলক্সান্ডার
ব্যাখ্যা
- ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনার জন্যে ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার তৎকালীন ভারত সচিব পেথিক লরেন্স কে প্রধান করে তিন সদস্যের ক্যাবিনেট বা মন্ত্রী মিশন ভারতে পাঠায়।
- এর অপর দুই সদস্য হলেন স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস এবং এ. ভি. আলেকজান্ডার।
- এই মিশন ভারতকে তিনটি ভাগে ভাগ করে এবং তিন স্তর বিশিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা করে।
- মুসলিম লীগ শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা মেনে নিলেও কংগ্রেসের অসহযোগিতায় মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা সফল হয়নি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৯৭.
ভারতের প্রথম রেলপথ ব্যবস্থা কার আমলে স্থাপিত হয়েছিল?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  3. লর্ড মিন্টো
  4. লর্ড ডাফরিন
ব্যাখ্যা

লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ডালহৌসী কঠোরতার সাথে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রসারের পথ আরও প্রশস্ত করে তোলেন।
- তিনি গভর্নর জেনারেলের কাজের চাপ কমানোর লক্ষ্যে বাংলার জন্য একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর (ছোট লাট) নিযুক্ত করেন।
 
• তিনি বিধবা বিবাহ আইন পাস করে হিন্দু বিধবা বিয়েকে আইনসঙ্গত করেন। এ বিষয়ে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ডালহৌসীকে সাহায্য করেন। ডালহৌসী এমন একটি আইন পাস করান যাতে এদেশীয়গণ ধর্মান্তরিত হলেও তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ করতে পারে।
- তিনি পূর্তবিভাগের প্রতিষ্ঠিত গঙ্গা খাল খনন ও জল সেচ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেন।
- তিনি রাজপথ ও সড়কগুলোর উন্নয়ন করেন। তাঁরই সময়ে কলকাতা হতে পেশোয়ার পর্যন্ত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড পুনরায় চালু হয়।
- এদেশীয় রেলপথ ব্যবস্থার জনক ছিলেন ডালহৌসী। তাঁর সময়ে বোম্বাই হতে টানা পর্যন্ত রেললাইন চালু হয় (১৮৫৩ খ্রি:)।
- ডালহৌসি ডাক বিভাগের সংস্কার, কলকাতা হতে আগ্রা পর্যন্ত প্রথম টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা ও পেনী পোস্টকার্ড ব্যবস্থা চালু করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১৯৮.
জালিওয়ানয়ালাবাগ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) হরিয়ানায়
  2. খ) লুধিয়ানায়
  3. গ) অমৃতসরে
  4. ঘ) জম্বুতে
ব্যাখ্যা
- ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের অমৃতসরে রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক সভায় ইংরেজ বাহিনীর গুলিবর্ষণে বহু নিরীহ লোক মারা যায়।
- এই হত্যাকাণ্ড 'জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড' নামে পরিচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত নাইট উপাধি (১৯১৫ সালে প্রদত্ত) ত্যাগ করেন। 
- ব্রিটিশ একজন সেনা কর্মকর্তা পাঞ্জাবের অমৃতসরের বিক্ষোভরত নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল সেদিন।
- জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড বলে পরিচিত ঐ ঘটনার সূচনা অমৃতসরের একটি সমাবেশ থেকে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা, বাংলাপিডিয়া। 
১৯৯.
উপমহাদেশে পুলিশ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন কে? 
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  3. লর্ড মিন্টো
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
• লর্ড ক্যানিং:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন।
-  ১৮৬১ সালে উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা চালু করেন।
- ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- চার্লস উড শিক্ষা বিষয়ে ১৮৫৪ সালে যে সুপরিশমালা পেশ করেন তা কার্যকর করা হয় তার সময়ে।
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।
- ভারতে তাঁর কর্তব্যপালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৫৯ সালে তাঁকে 'আর্ল' (Earl) মর্যাদায় উন্নীত করা হয়।
- ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২০০.
‘৩ জুন পরিকল্পনা’ কী সংক্রান্ত?
  1. ক) বাংলা প্রদেশ বিভক্ত করার পরিকল্পনা
  2. খ) বাংলাদেশ স্বাধীন করার পরিকল্পনা
  3. গ) ভারত বিভক্ত করার পরিকল্পনা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
৩ জুন পরিকল্পনা

- স্বাধীন সার্বভৌম 'বাংলা রাষ্ট্র' গঠনের প্রস্তাব এবং এর ভবিষ্যৎ সংবিধানের রূপরেখা প্রকাশিত হলে 'হিন্দু মহাসভা’, কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়াশীল ও ধর্মান্ধ অবাঙালি নেতাগণ এর বিরোধিতা শুরু করেন।
- এসব সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ নেতাগণ ভারত বিভক্তির সাথে সাথে বাংলা এবং পাঞ্জাবের বিভক্তিরও দাবি জানান।
- ১৯৪৭ সালের জুন মাসে মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে মি. জিন্নাহর প্ররোচনায় অবাঙালি মুসলিম লীগ নেতাদের সমর্থনে ভারত বিভক্তি সংক্রান্ত মাউন্টব্যাটেনের '৩ জুন পরিকল্পনা' গৃহীত হয়।

- বাংলা প্রদেশের অধিবাসী হয়েও খাজা নাজিমুদ্দিন এবং মওলানা আকরাম খান সেদিন জিন্নাহকেই সমর্থন করেছিলেন, অখণ্ড বাংলাকে নয়।
- তবে আবুল হাশিমসহ ৭ জন প্রতিনিধি এ সিদ্ধান্তের জোরালো প্রতিবাদ করেছিলেন।
- এর ফলে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারত বিভক্ত হয় এবং এর পাশাপাশি বাংলা বিভক্ত হয়ে পূর্ব অংশ 'পাকিস্তানের' সাথে এবং পশ্চিম অংশ ভারতের সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।