বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

মোট প্রশ্ন১,৩১৫এই পাতা১০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

PrepBank · পাতা ১৪ / ১৪ · ১,৩০১১,৩১০ / ১,৩১৫

১,৩০১.
নিচের কোনটির মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতে মুসলমানদের মধ্যে পৃথক রাজনীতির উদ্ভব ঘটে?
  1. ইলবার্ট আইন
  2. মর্লি ও মিন্টোর সংস্কার
  3. রাওলাট আইন
  4. চেমসফোর্ড -মন্টেগু সংস্কার
ব্যাখ্যা
- মর্লি ও মিন্টোর সংস্কার চিন্তাগুলো ১৯০৯ সালের ইন্ডিয়া অ্যাক্টে বাস্তবায়িত হয়েছিল।
- জন মর্লি ও লর্ড মিন্টোর নামানুসারেই এই সংস্কারের নামকরণ হয় মর্লি-মিন্টো সংস্কার।
- ইন্ডিয়া অ্যাক্টের প্রধান দিকগুলোর মধ্যে ছিল মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ এবং
- সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ইন্ডিয়ার পরিষদে একজন করে ভারতীয়ের অন্তর্ভুক্তি।
- এই সংস্কারের আদৌ কোনও প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের উদ্দেশ্য ছিল না।
- প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের লক্ষ্যে যাত্রা শুরুই ছিল এর উদ্দেশ্য।
- এ সংস্কারের সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য ছিল মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক নির্বাচকমন্ডলী গঠন।
- সংস্কারের এ ব্যবস্থা থেকেই মুসলমানদের মধ্যে পৃথক রাজনীতির উদ্ভব ঘটে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,৩০২.
“ইন্ডিয়া এ্যাক্ট” আইন পাস করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. লর্ড নর্থ
  4. উইলিয়াম পিট
ব্যাখ্যা
• ইন্ডিয়া এ্যাক্ট (১৭৮৪ খ্রি:):
 - রেগুলেটিং এ্যাক্ট-এর ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট একটি আইন পাস করেন যা ইতিহাসে ‘পিট এর ইন্ডিয়া এ্যাক্ট’ নামে পরিচিত।
- এ আইন দ্বারা পার্লামেন্ট উপমহাদেশ শাসনের সকল ক্ষমতা গ্রহণ করে।

- এ আইনের বলে ব্রিটিশ সরকারের নিযুক্ত ৬ জন এবং ইংল্যান্ডের মন্ত্রী সভার ১ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত ‘বোর্ড অফ কন্ট্রোল’ এর উপর উপমহাদেশ শাসন ও পর্যবেক্ষণের ভার অর্পিত হয়। গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা বাড়ানো হয়। সুপ্রীম কোর্টের ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়।
- এছাড়া, কোম্পানির তিনজন ডাইরেক্টর নিয়ে একটি ‘সিক্রেট কমিটি’ও গঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০৩.
বক্সারের যুদ্ধ কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. ঝাড়খন্ড
  2. বিহার
  3. লখনৌ
  4. উড়িষ্যা
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় বিহারে।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন। সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়। মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১,৩০৪.
লর্ড ক্যানিং চালু করেন-
  1. ডাকটিকেট
  2. ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা
  3. পাঁচশালা বন্দোবস্ত
  4. কাগজী মুদ্র
ব্যাখ্যা
লর্ড ক্যানিং:
-ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
- তিনি কম্পানির কাছ থেকে শাসনবার ইংল্যান্ডের রানির নিকট হস্তান্তর করেন।
- তিনি ইন্ডিগো কমিশন গঠন করেন ১৮৬০ সালে।
- পুলিশ প্রশাসন চালু করেন ১৮৬১ সালে।
- কাগজী মুদ্রা চালু করেন ১৮৬১ সালে।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
- ফৌজধারি কার্য-বিধি প্রকাশ করেন।

লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রি: স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তন করা হয় ।
- স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ডালহৌসি সর্বপ্রথম সাঁতারা রাজ্য দখল করেন
- স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করেন-মহারানি ভিক্টোরিয়া।
- ডাকটিকেট প্রচলন করেন।
- প্রথম টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপন করেন।

উৎস:
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া
১,৩০৫.
উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন কে?
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড হার্ডিঞ্জ
ব্যাখ্যা

লর্ড ক্যানিং:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন।
- ১৮৬১ সালে উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা চালু করেন।
- ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- চার্লস উড শিক্ষা বিষয়ে ১৮৫৪ সালে যে সুপরিশমালা পেশ করেন তা কার্যকর করা হয় তার সময়ে।
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।
- ভারতে তাঁর কর্তব্যপালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৫৯ সালে তাঁকে 'আর্ল' (Earl) মর্যাদায় উন্নীত করা হয়।
- ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে,
-  লর্ড মিন্টো ১৮০৭ থেকে ১৮১৩ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল।
- পুরো নাম গিলবার্ট ইলিয়ট, প্রথম আর্ল অব মিন্টো। 
- তিনি ভারতের রেল ব্যবস্থা প্রবর্তন ও গঙ্গা খাল খননের জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৩০৬.
'জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৯১৯ সাল
  2. ১৯১৪ সাল
  3. ১৯১৬ সাল
  4. ১৯১৭ সাল
ব্যাখ্যা
'জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ১৯১৯ সালে সংঘটিত হয়।

• জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড:
- রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের অমৃতসরে আয়োজিত এক সভায় জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে ইংরেজ বাহিনীর গুলিবর্ষণে বহু নিরস্ত্র লোক মারা যায়।
- এই হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে 'জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড' নামে পরিচিত। 
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত নাইট উপাধি  ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩০৭.
স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে লর্ড ডালহৌসী নিম্নের কোন দেশীয় রাজ্যটি সর্বপ্রথম অধিকার করে নিয়েছিলেন?
  1. উদয়পুর
  2. ভগতপুর
  3. সাতারা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
স্বত্ববিলোপ নীতি:
- স্বত্ববিলোপ নীতি ছিল একটি সাম্রাজ্যবাদী নীতি।
- লর্ড ডালহৌসি এই সাম্রাজ্যবাদী নীতিটি প্রণয়ন করেন।

⇒ তাঁর সাম্রাজ্যবাদী নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ব্যাপক বিস্তৃতি সাধন করা।
- স্বত্ববিলোপ নীতির মূলকথা ছিল, ব্রিটিশের শাসনাধীন যেকোনো আশ্রিত রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে এবং তার রাজবংশে কোনো উত্তরাধিকার না থাকলে সেই রাজা সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবেন।
- এই নীতির মাধ্যমে সাঁতারা, নাগপুর, ঝাঁসি ও সম্বলপুর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।

⇒ লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।
- তার শাসনামলেই (১৮৫৩ সালে) উপমহাদেশে রেলের যাত্রা শুরু হয়।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন।
- উপমহাদেশে টেলিগ্রাফ সিস্টেমও তার অবদান।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৩০৮.
Which Governor General of British India abolished the practice of 'Sati Pratha'?
  1. William Bayley
  2. Lord William Bentinck
  3. Warren Hastings
  4. Lord Amherst
  5. Lord Dalhousie
ব্যাখ্যা
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৮ -৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- বেন্টিংক মাদ্রাজের গভর্নর হিসেবে ১৮০৩ সালে প্রথম ভারতে আসেন।
- ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা পরে তাঁর পদবিকে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে পুনরাখ্যায়িত করা হয়।

⇒ ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেলে উন্নীত করা হয়।
- ফলে বাংলার তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।

উল্লেখ্য,
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সাধারণত হস্তক্ষেপ না করা এবং অনাক্রমণের নীতি অনুসরণ করেছিলেন।
- ১৮৩১ সালে মহিশূরে অনেকদিন যাবৎ চলতে থাকা কুশাসন ঐ রাজ্যটিকে ব্রিটিশ প্রশাসনে আনতে তাঁকে বাধ্য করে।
- বেন্টিঙ্ক উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন এবং সেখানে রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।
- সতীদাহ নিবারণ ও ঠগী দমন হলো বেন্টিঙ্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
- তিনি সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০৯.
ব্রিটিশ ভারতে কোন ভাষার পরিবর্তে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ইংরেজি ভাষা চালু হয়?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) উর্দু
ব্যাখ্যা
মুঘল আমলে ভারতের দাপ্তরিক বা সরকারি ভাষা ছিলো ফারসি। ব্রিটিশরা ক্ষমতা দখল করার পর ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষার পরিবর্তে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ইংরেজি ভাষা চালু করে। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,৩১০.
বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিশ
  2. সুজাউদ্দৌলা
  3. মেজর হেক্টর মুনরো
  4. মীর কাসিম
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ নবাব মীর কাসিম ও তাঁর মিত্রশক্তির সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ।
- পলাশীর যুদ্ধের পর ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- এই যুদ্ধের ফলে বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়।
- মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং Britannica.