বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

মোট প্রশ্ন১,৩১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

PrepBank · পাতা ১২ / ১৪ · ১,১০১১,২০০ / ১,৩১৫

১,১০১.
'স্বরাজ পার্টি' কে গঠন করেন?
  1. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
  2. মৌলভী আব্দুল করিম
  3. মওলানা আকরাম খান
  4. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী
ব্যাখ্যা
বেঙ্গল প্যাক্ট:
- অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলন কার্যত ব্যর্থ হলে ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কে মারাত্মক অবনতি ঘটে।
- আন্দোলনে ব্যর্থতার জন্য হিন্দু-মুসলমান নেতৃবৃন্দ পরস্পরকে দোষারোপ করে বক্তৃতা-বিবৃতি প্রদান করেন। 
- এ বিষয়টি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসকে বিচলিত করে তোলে। তিনি বিশ্বাস করতেন, ভারতের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার
জন্য হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
- এ ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তিনি বাংলা প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ অথচ পশ্চাৎপদ বাঙালি মুসলমানদেরকে তাদের যৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা দানের পক্ষপাতী ছিলেন।
- এ বিষয়ে তিনি শের-ই-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে আলোচনা করেন।
- একই সঙ্গে তিনি মৌলভী আব্দুল করিম, মওলানা আকরাম খান, মৌলভী মজিবর রহমান প্রমুখ নেতাদের সঙ্গেও রাজনৈতিক সমস্যা এবং দাবি-দাওয়া নিয়ে
বৈঠক করেন।
- কংগ্রেস থেকে বের হয়ে এসে ১৯২২ সালে তিনি গঠন করেন 'স্বরাজ পার্টি'।
- স্বরাজ দলের সভাপতি হিসেবে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস মুসলমান নেতাদের সঙ্গে ১৯২৩ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
- এ চুক্তির লক্ষ্য ছিলো, বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি জোরদারকরণ।
- ইতিহাসে এই চুক্তিই 'বেঙ্গল প্যাক্ট' নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,১০২.
সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮২৫ সালে
  2. খ) ১৮২৮ সালে
  3. গ) ১৮২৯ সালে
  4. ঘ) ১৮৩৯ সালে
ব্যাখ্যা
- সতীদাহ প্রথা হলো হিন্দু সমাজের একটি প্রথা যেখানে স্বামীর শবের সাথে বিধবা স্ত্রীকেও দাহ করা হতো।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৯ সালে আইনের মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা রহিত করেন।
- তবে এ প্রথা পুরোপুরি বন্ধ হয় উনিশ শতকের শেষ দিকে। রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১,১০৩.
কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করা হয় কত সালে?
  1. ১৭০০ সালে
  2. ১৭০৫ সালে
  3. ১৭১০ সালে
  4. ১৭১৫ সালে
ব্যাখ্যা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় এবং ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে। এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,১০৪.
মাস্টারদা সূর্যসেন কত সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন?
  1. ১৯৩০ সালে
  2. ১৯৩১ সালে
  3. ১৯৩২ সালে
  4. ১৯৩৩ সালে
ব্যাখ্যা
মাস্টারদা সূর্যসেন ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন।

মাস্টারদা সূর্য সেন:
- মাস্টারদা সূর্য সেনের পুরো নাম সূর্যকুমার সেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।
- বিএ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন।
- অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর নামে বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।

⇒ সূর্যসেন যখন নোয়াপাড়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ের ছাত্র তখন বঙ্গভঙ্গকে (১৯০৫) কেন্দ্র করে বাংলায় স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়।
- ক্রমে এই আন্দোলন বিশেষ করে চট্টগ্রাম এলাকায় বিপ্লবী আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯১৬ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে বি.এ. শ্রেণিতে পড়াকালীন শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন সূর্যসেন।
- সূর্যসেন চট্টগ্রামে ফিরে গিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী একটি বিপ্লবী দল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।

⇒ ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১০৫.
কে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন?
  1. লর্ড বেন্টিংক
  2. লর্ড ক্লাইভ
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
লর্ড ডালহৌসি:
-ব্রিটিশ সরকার ভারতে সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য যে-সব নীতি অবলম্বন করে সেগুলির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযােগ্য হল স্বত্ববিলােপ নীতি।, কোনাে ব্রিটিশ আশ্রিত দেশীয় রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে সেই রাজ্যটি সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবে এই নীতি স্বত্ববিলােপ নীতি নামে পরিচিত ।
- স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তক- লর্ড ডালহৌসি।
- ১৮৪৮ খ্রি: স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তন করা হয় ।
- স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ডালহৌসি সর্বপ্রথম সাঁতারা রাজ্য দখল করেন
- স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করেন-মহারানি ভিক্টোরিয়া।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া
১,১০৬.
ইলবার্ট বিল প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. কৃষি সংস্কার
  2. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ
  3. নৃতাত্ত্বিক সমীক্ষা
  4. বিচার বিভাগের বৈষম্য দূরীকরণ
ব্যাখ্যা
- ইলবার্ট বিলের উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার অধিকার দেওয়া ও বিচার বিভাগে বৈষম্য দূর করা।

ইলবার্ট বিল:
- লর্ড রিপন তার শাসনামলে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেন এবং নতুন নতুন সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
- তার শাসনকালীন সময়ের অন্যতম কীর্তি হলো ইলবার্ট বিল নামে একটি আইনের পরিকল্পনা।
- এ বিলের উদ্দেশ্য ছিল বিচার ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ভারতীয় ও ইউরোপীয়দের মধ্যে যে বৈষম্য ছিল তা দূর করা।
- লর্ড রিপন বিচার বিভাগের বৈষম্য দূরীকরণের জন্য সচিব ইলবার্টকে একটি বিল প্রণয়নের দায়িত্ব দেন।
- যার কারণে স্যার ইলবার্ট এর নামানুসারে এ বিলটি ইলবার্ট বিল নামে পরিচিত।
- এ বিলে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা দেয়া হয়।
- এ বিলটি ১৮৮৩ সালে পাস হয়।

সূত্র: Britannica ও  বাংলাপিডিয়া।
১,১০৭.
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯০১ সালে
  2. ১৯০৮ সালে
  3. ১৯১০ সালে
  4. ১৯১৩ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর হলো রাজশাহীতে অবস্থিত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর যা ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।

ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত ঢাকা জাদুঘর তথা জাতীয় জাদুঘর ১৯১৩ সালে স্থাপিত হয়।
বাংলাদেশের একমাত্র নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় জাদুঘর ওয়েবসাইট)
১,১০৮.
শেরে বাংলা লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন কবে?
  1. ক) ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০
  2. খ) ২৩ মার্চ ১৯৪০
  3. গ) ২৩ জুন ১৯৪০
  4. ঘ) ২০ আগস্ট ১৯৪০
ব্যাখ্যা
১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ উত্থাপন করেন।
এ প্রস্তাবে ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১০৯.
মাস্টারদা সূর্যসেনকে বৈপ্লবিক আর্দশে উদ্বুদ্ধ করেন কে?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. সুভাষ চন্দ্র বসু
  3. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
মাস্টারদা সূর্য সেন:
- চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে।
- ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।
- পুরো নাম সূর্যকুমার সেন।
- বিএ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন।
- অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর নামে বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন। 
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১১০.
হিন্দুধর্মের সংস্কারের উদ্দেশ্যে রাজা রামমোহন রায় কোন সমিতি গঠন করেন?
  1. ব্রাহ্মসমাজ 
  2. আর্য সমাজ
  3. প্রার্থনা সমাজ 
  4. আত্মীয় সভা
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃত রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি বেদান্তসূত্র ও বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে আছে তুহফাতুল মুজাহহিদদীন (একেশ্বরবাদ সৌরভ), মনজারাতুল আদিয়ান (বিভিন্ন ধর্মের উপর আলোচনা), ভট্টাচার্যের সহিত বিচার, হিন্দুদিগের পৌত্তলিক ধর্মপ্রণালি ইত্যাদি।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করতে প্রচেষ্টা চালান।
- তাছাড়া তিনি সব কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে আত্মীয় সভা নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- ১৮২৮ সালে ২০শে আগস্ট তিনি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর পরে ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন।
- তাঁর ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা উপমহাদেশের ধর্মীয় ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে। 
- রাজা রামমোহন রায় ১৮২২ সালে কোলকাতায় 'অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন,
- ১৮৩৩ সালে রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর দুই বছর পর ১৮৩৫ সালে তাঁর স্বপ্ন সফল হয়।
- ভারতীয়দের পাশ্চাত্য ভাষা ইংরেজিতে শিক্ষা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা পিডিয়া। 

১,১১১.
'বাঁশের কেল্লা' বিদ্রোহের সাথে সংশ্লিষ্ট -
  1. তিতুমীর
  2. কর্নেল স্টুয়ার্ট
  3. মাসুম খাঁ
  4. উল্লিখিত সবাই
ব্যাখ্যা
• তিতুমীর ও বাঁশের কেল্লা 
- ১৮২৭ সালে তিতুমীর তার গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের সাথে নিয়ে জমিদার এবং ব্রিটিশ নীলকদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৮৩১ সালে বারাসতের নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তারা বাঁশের কেল্লা তৈরি করেন।
- বাঁশ এবং কাদা দিয়ে তারা দ্বি-স্তর বিশিষ্ট এই কেল্লা নির্মাণ করেন।
- তিতুমীর বর্তমান চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং ফরিদপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অধিকার নিয়ে সেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। 
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর কামানের গোলায় তিতুমীরের বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিতুমীর শহিদ হন।
- তার বাহিনীর প্রধান সেনাপতি মাসুম খাঁ বা গোলাম মাসুমকে ফাঁসি দেয়া হয়। বাশেঁর কেল্লা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
- ইতিহাসে এ কেল্লাই নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা নামে বিখ্যাত।

- ১৯৭১ সালে মুহাম্মদ জিন্নাহ কলেজ কে তার নাম অনুসারে সরকারী তিতুমীর কলেজ নামকরণ করা হয়।
- তার নামে বুয়েট এ একটি ছাত্র হলের নামকরণ করা হয় তিতুমীর হল।
- বিবিসির জরিপে তিনি ১১ তম শ্রেষ্ঠ বাঙালি।
- ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তিতুমীরের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুলনা শহরে রূপসা নদীর তীরে 'বানৌজা তিতুমীর' নামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি কমিশন করেন ও ‘নেভাল এনসাইন’ প্রদান করেন।
- এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজের নামকরণ করা হয় বিএনএস তিতুমীর।
- রাজশাহী ও নীলফামারী জেলার চিলাহাটি স্টেশনের মধ্যে 'তিতুমীর এক্সপ্রেস' নামে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১১২.
ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
  1. তিতুমীর
  2. নবাব সলিমুল্লাহ
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা
ফরায়েজী আন্দোলন:
- ফরায়েজী আন্দোলন ছিল উনিশ শতকে বাংলায় সংঘটিত একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ধর্ম সংস্কার, কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- এ আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহ। 
- হাজী শরীয়তউল্লাহ বাংলায় ব্রিটিশ শাসনকে মুসলমানদের আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচনা করতেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি। তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন। জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ফরায়েজী আন্দোলন অসামান্য দ্রুততার সঙ্গে ঢাকা, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ (বর্তমান বরিশাল), ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা (বর্তমান কুমিল্লা), চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলাসমূহে এবং আসাম প্রদেশে বিস্তারলাভ করে। 
-  হিন্দু জমিদার ও ইউরোপীয় নীলকরদের সঙ্গে অবিরাম সংঘর্ষের ফলে আন্দোলনটি ক্রমান্বয়ে আর্থ-সামাজিক রূপ পরিগ্রহ করে। 

⇒ ১৮৪০ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র মুহসীনউদ্দীন ওরফে দুদু মিয়াকে ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা ঘোষণা করা হয়। 
- তিনি ফরায়েজী আন্দোলনকে একটি সুবিন্যস্ত ও শক্তিশালী সাংগঠনিক রূপ দেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনভূক্ত সমগ্র অঞ্চলকে তিনি কয়েকটি সার্কেলে বিভক্ত করেন।
- অত্যাচারী জমিদার নীলকরদের মোকাবেলায় একটি সুশৃংখল লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল।
- জমিদার-নীলকরদের সঙ্গে দুদু মিয়ার বাহিনীর বেশ কয়েকবার সরাসরি সংঘর্ষ বাঁধে। 
- ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের সময় দুদু মিয়াকে বন্দী করা হয়।
- ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুক্তি পান।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজী আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ঊনিশ শতকের শেষ প্রান্তে ফরায়েজী আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৩.
নিচের কোনটি ভারতের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সদ্ভাব সৃষ্টিতে সহায়ক হয়েছিল?
  1. বঙ্গভঙ্গ
  2. মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার
  3. লক্ষ্ণৌ চুক্তি
  4. বঙ্গভঙ্গ রদ
ব্যাখ্যা
লক্ষ্ণৌ চুক্তি:
- ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন ভারতীয়দের আশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়।
- যদিও মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের অধিকার স্বীকৃত হয়েছিল, তবু মুসলিম সম্প্রদায় তাতে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হতে পারেনি।
- ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ এবং বলকান যুদ্ধে তুরস্কের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ অবস্থান মুসলমানদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
- ১৯১৩ সালের কানপুর মসজিদের ঘটনায় পুলিশের গুলিতে মুসলমানদের মৃত্যুতে সরকার বিরোধী মনোভাব তীব্র হয়।
- এই পরিস্থিতিতে পাশ্চাত্য শিক্ষিত মুসলিম লীগের তরুণ সদস্যরা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগে যোগ দেন।
- ১৯১৩ সালের লক্ষ্ণৌ অধিবেশনে মুসলিম লীগের নতুন গঠনতন্ত্র গৃহীত হয়, যা হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ও স্বরাজ অর্জনের উপর জোর দেয়।
- এর ফলে ভারতের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সদ্ভাব সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
- ১৯১৫ সালে বোম্বে শহরে উভয় দলের সম্মেলনে সরকারী নীতির সমালোচনা করা হয় এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের উপর জোর দেওয়া হয়।
- ১৯১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ এদের বার্ষিক সম্মেলন লক্ষ্ণৌ শহরে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়।
- এ সময় উভয় সম্প্রদায় ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের নীতির প্রশ্নে একটা সমঝোতায় আসে।
- এটাই ইতিহাসে লক্ষ্ণৌ চুক্তি নামে পরিচিত।

সূত্র: ইতিহাস, প্রথম পত্র - এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৪.
সিপাহী বিদ্রোহের সাথে কোন নামটি জড়িত?
  1. মঙ্গল পাণ্ডে
  2. সুভাষচন্দ্র বসু
  3. সূর্যসেন
  4. অরবিন্দ ঘোষ
ব্যাখ্যা
• সিপাহী বিদ্রোহ:
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে 'মঙ্গল পাণ্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত স্থান বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহকালীন গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,১১৫.
কার নেতৃত্বে ফরায়েজী আন্দোলন গড়ে উঠে?
  1. ফকির মজনু শাহ
  2. মীর নিসার আলী
  3. হাজী শরিয়ত উল্লাহ
  4. নওয়াব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার মুসলমানদের মধ্যে এক ধর্মীয় সামাজিক আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- মুসলমান সমাজে নানাবিধ কুসংস্কার ও অনৈসলামিক কার্যকলাপ লক্ষ করে পবিত্র কুরআন ও হাদীসের শিক্ষার আদর্শে স্ব-ধর্মাবলম্বীদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য যে আন্দোলন পরিচালিত হয়, এটি 'ফরায়েজি আন্দোলন' নামে পরিচিত।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়াত উল্লাহ।
- তিনি বাংলা তথা ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন মেনে নিতে পরেননি। শরিয়ত উল্লাহ ইংরেজ রাজত্বকে ঘৃণার চোখে দেখতেন।
- তিনি ভারতবর্ষকে 'দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- ইসলাম অননুমোদিত সব বিশ্বাস, আচার-আচরণ ও অনুষ্ঠান ত্যাগ করে ইসলাম ধর্মে যা অবশ্য করণীয়, অর্থাৎ ফরজ, তা মেনে চলা ও পালন করার জন্য তিনি মুসলমান সমাজকে আহবান করেন। 
- মুসলমানদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনে জমিদাররা বাধা প্রদান করতে থাকে এবং নানা ধরনের কর আরোপ করে।
- তিনি প্রজাদের অবৈধ কর দেয়া থেকে বিরত থাকার উপদেশ দেন এবং জমিদারদের সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুতি নেন। 
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু ঘটে। এরপর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র দুদু মিয়া।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৬.
শরৎচন্দ্র বসু অখণ্ড বাংলাকে কেমন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান?
  1. গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র
  2. সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
  3. সাংবিধানিক রাজতন্ত্র
  4. সামন্ততান্ত্রিক রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

• অখণ্ড বাংলার উদ্যোগ :

- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু–মুসলমান সম্পর্ক চরম পর্যায়ে পৌঁছায় ও দাঙ্গায় রূপ নেয়।
- এ সময় ব্রিটিশ সরকার ক্ষমতা ভারতীয়দের হাতে হস্তান্তরের ঘোষণা দেয়।
- বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি “যুক্ত বাংলার প্রস্তাব” উত্থাপন করেন।
- এ প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন শরৎচন্দ্র বসু।
- এ প্রস্তাবটি ইতিহাসে “বসু–সোহরাওয়ার্দি প্রস্তাব” নামে খ্যাত।
- মুসলিম লীগ নেতা আবুল হাশিম বৃহত্তর বাংলা রাষ্ট্রের একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- শরৎচন্দ্র বসু অখণ্ড বাংলাকে একটি “সোস্যালিস্ট রিপাবলিক/সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র” হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
- অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল— অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলা গঠন।
- প্রথমদিকে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ নেতাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া থাকলেও গান্ধী ও জিন্নাহ প্রস্তাবটিতে মৌন সমর্থন দিয়েছিলেন।
- কংগ্রেস, মুসলিম লীগ ও হিন্দু মহাসভা পরে এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে।
- শুধুমাত্র কমিউনিস্ট পার্টি অখণ্ড বাংলা প্রস্তাবকে সমর্থন দেয়।
- পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ী, পুঁজিপতি ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণি যুক্ত বাংলার বিরোধিতা করে।
- ঢাকার হিন্দু বুদ্ধিজীবীরাও যুক্ত বাংলার বিপক্ষে অবস্থান নেন।
- বিভিন্ন পত্রপত্রিকা যুক্ত বাংলার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়।
- বাংলা কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটি বাংলা ভাগের পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করে।
- ৩ জুন ১৯৪৭ – লর্ড মাউন্টব্যাটন ভারত বিভক্তির ঘোষণা দেন (পাঞ্জাব ও বাংলা ভাগের পরিকল্পনা সহ)।
- ২০ জুন ১৯৪৭ – বাংলা বিধানসভা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বাংলা ভাগের পক্ষে রায় দেয়।
- ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ – পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়; পূর্ব বাংলা পাকিস্তন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১১৭.
লক্ষ্মৌ চুক্তির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে কোন আন্দোলন সংঘটিত হয়? 
  1. নীল বিদ্রোহ ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ 
  2. সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলন
  3. ভারত ছাড়ো আন্দোলন 
  4. খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন 
ব্যাখ্যা

লক্ষ্মৌ চুক্তি: 
- ভারত উপমহাদেশের সাংবিধানিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ১৯১৬ সালের লক্ষ্মৌ চুক্তি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি রচনা করে এ চুক্তি। 

• নিম্নে লক্ষ্মৌ চুক্তির গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
১. লক্ষ্মৌ চুক্তির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে হিন্দু মুসলিম রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি রচিত হয়।
২. এ চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় কংগ্রেসে মুসলমানদের পৃথক নির্বাচনের দাবি মেনে নেয়।
৩. এ চুক্তির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল।
8. এ চুক্তির ফলে ভারতবর্ষে স্বায়ত্তশাসনের দাবি জোরদার হয়ে ওঠে।
৫. এ চুক্তির ফলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ সম্মিলিতভাবে ব্রিটিশ সরকারের কাছে স্বায়ত্বশাসনের দাবি জানায়।
৬. মুসলমানদের স্বার্থ বিরোধী বিল পাশ না হওয়ার সম্ভবনা সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১১৮.
অনুশীলন সমিতি কোন অঞ্চলের সশ্বস্ত্র বিপ্লবী সংগঠন ছিলো?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) কলকাতা
  4. ঘ) আসাম
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতে বাংলায় বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরই অংশ হিসেবে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে অনেকগুলো গোপন বিপ্লবী সশস্ত্র সংগঠন গড়ে উঠে। অনুশীলন সমিতি ছিলো ঢাকায় গড়ে উঠা একটি বিপ্লবী সশ্বস্ত্র সংগঠন। এর প্রধান সংগঠক ছিলেন পুলিন বিহারী দাস। এই সমিতি গুপ্ত হত্যা, সশ্বস্ত্র আক্রমণ প্রভৃতির মাধ্যমে সরকারকে ব্যতিব্যস্ত রাখে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১১৯.
জব চার্নক কত সালে কোলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রামের জমিদারি স্বত্ব লাভ করেন?
  1. ১৬৫০ সালে
  2. ১৬৯০ সালে
  3. ১৭০০ সালে 
  4. ১৭২৫ সালে
ব্যাখ্যা
কোলকাতা নগরী ও ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ: 
- জব চার্নক নামে একজন ইংরেজ ১৬৯০ সালে ১২০০ টাকার বিনিময়ে কোলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রামের জমিদারি স্বত্ব লাভ করেন
- ভাগীরথী নদীর তীরের এই তিনটি গ্রামকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীকালে কোলকাতা নগরীর জন্ম হয়। 
- এখানেই কোম্পানি ১৭০০ সালে ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নাম অনুসারে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করে।
- ধীরে ধীরে এটি ইংরেজদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা এবং রাজনৈতিক স্বার্থ বিস্তারের শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,১২০.
“জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী” উক্তিটি কার?
  1. দুদু মিয়া
  2. হাজী শরীয়ত উল্লাহ
  3. তিতুমীর
  4. সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা

• দুদু মিয়া:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর জেলায় এবং তার নেতৃত্বে এটি শুরু হয়।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর পুত্র দুদু মিয়া।
- তিনি ধর্মীয় সংস্কারমূলক এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেন।
- দুদু মিয়া ঘোষণা করেন, “জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি”।

অপরদিকে,
- হাজী শরীয়তুল্লাহ একটি ইসলামী সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন।
- আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে ফরজ বলা হয়।
- শরীয়তুল্লাহ মুসলমানদের স্থানীয় লোকাচার পালনের বিরোধী ছিলেন।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে।
- অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে কার্যকর করতে হাজী শরিয়তউল্লাহ ফরায়েজি মতাদর্শ প্রতিষ্ঠিত করেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

১,১২১.
ভারতীয় উপমহাদেশের কোন বন্দরে সর্ব প্রথম পর্তুগীজদের আগমন ঘটে?
  1. কোচিন
  2. হুগলি
  3. মাদ্রাজ
  4. কালিকট
ব্যাখ্যা

বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- পর্তুগীজরা প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।
- পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কালিকট বন্দরে প্রথম আসে।
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা।
- এরপর ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগীজরা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- তারা সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত। এতে তাঁরা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হন।
- পর্তুগিজরা আরও নানা প্রকার অপরাধমূলক কাজ করত।
- তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১২২.
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা বাতিল করা হয় কবে?
  1. ১৭৬৫ সালে
  2. ১৭৬৭ সালে
  3. ১৭৭০ সালে
  4. ১৭৭২ সালে
ব্যাখ্যা

দ্বৈত শাসন:
- ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১২৩.
‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ বা ‘মোহামেডান লিটারারী সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ক) হাজী মুহম্মদ মহসীন
  2. খ) নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. গ) সৈয়দ আহমদ খান
  4. ঘ) সৈয়দ আমির আলী
ব্যাখ্যা
বাংলার মুসলমানদের নবজাগরণে নওয়াব আবদুল লতিফের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য সচেষ্ট হন। এ ক্ষেত্রে তাঁর বড় অবদান ছিল ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ বা ‘মোহামেডান লিটারারী সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা। সূত্র- বোর্ড বইঃনবম-দশম শ্রেণি।
১,১২৪.
ওয়ারেন হেস্টিংস কোন আইনের মাধ্যমে গভর্নর-জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন?
  1. রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩
  2. পিট এর ইন্ডিয়া অ্যাক্ট-১৭৮৪
  3. চার্টার এ্যাক্ট- ১৭৮৪
  4. ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৮৫৮
ব্যাখ্যা
ওয়ারেন হেস্টিংস:
- ব্রিটিশ আমলে বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস।
- তাঁর শাসন কালকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথমপর্ব: ১৭৭২-১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর হিসেবে আর দ্বিতীয় পর্ব, ১৭৭৪-১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনারেল হিসেবে। ১৭৭৩ সালে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হলে বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। সেই হিসেবে বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস।
- তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান এবং বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জমিদারদের সাথে 'পাঁচসালা ভূমি বন্দোবস্ত' করেন।
- তবে নানা কারণে এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হলে তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।
- গভর্নর পদে নিযুক্ত হয়ে হেস্টিংস সর্ব প্রথমেই সীমান্ত নীতি বিষয়ে পরিবর্তন সাধন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সূচনা করেন।

⇒ ওয়ারেন হেস্টিংস ইংরেজদের শত্রু মারাঠাদের আশ্রয়ে বাস করার অজুহাতে সম্রাট শাহ আলমকে দেয় বার্ষিক ছাব্বিশ লক্ষ টাকা বন্ধ করে দেন এবং সম্রাটের নিকট হতে 'বারানসীর সন্ধি' দ্বারা এলাহাবাদ ও কারা জেলা দু'টি অযোধ্যার নবাবকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রদান করেন। 
- তিনি বিচার বিভাগকে রাজস্ব বিভাগ হতে পৃথক করে প্রত্যেক জেলায় একটি করে দিওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত স্থাপন করেন। 
-ওয়ারেন হেস্টিংসের আমলে মুসলমানদের উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয় (১৭৮১)। গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল। হেস্টিংস এর পৃষ্ঠপোষকতায় চার্লস উইলকিন্স বাংলায় ছাপাখানা (প্রেস) স্থাপন করে।

উল্লেখ্য, 
⇒ রেগুলেটিং এ্যাক্ট (১৭৭৩ খ্রি:):
- এতদিন উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত। কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে। তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।
- রেগুলেটিং এ্যাক্ট এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। 

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) BBC.
১,১২৫.
ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি কত টাকার বিনিময় বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করেন?
  1. ২৮ লক্ষ
  2. ৫২ লক্ষ
  3. ৩১ লক্ষ
  4. ২৬ লক্ষ
ব্যাখ্যা
• কোম্পানির দেওয়ানি লাভ:
- ১৭৬৫ সালে মীর জাফরের মৃত্যুর পর তার পুত্র নাজিম-উদ-দৌলাকে শর্তসাপেক্ষে বাংলার সিংহাসনে বসানো হয়।
- শর্ত থাকে যে, তিনি তার পিতার মতো ইংরেজদের নিজস্ব পুরাতন দস্তক অনুযায়ী বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্য করতে দেবেন এবং দেশীয় বণিকদের অবাধ বাণিজ্যের সুবিধা বাতিল করবেন।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব বা খাজনা ও কর আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব অর্থাৎ দেওয়ানি লাভ করে।
- ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৭৬৫ সালে ক্লাইভ দ্বিতীয়বার ভারতবর্ষে এসে প্রথমেই পরাজিত অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লির সম্রাটের দিকে নজর দেন।
- তিনিঅযোধ্যার পরাজিত নবাবের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন। বিনিময়ে আদায় করে নেন কারা ও এলাহাবাদ জেলা দুইটি। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ আদায় করেন পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।
- অপরদিকে তিনি দেওয়ানি শর্তসংবলিত দুইটি চুক্তি করেন।
- একটি দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের সঙ্গে।
- এতে কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি দান করা হয়।
- এর বিনিময়ে ছাব্বিশ লক্ষ টাকা নবাব প্রতিবছর সম্রাটকে পাঠাবেন।
- এই টাকা নিয়মিত পাঠানোর জামিনদার হবে কোম্পানি।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,১২৬.
'রাওলাট আইন' পাস হয় কত সালে?
  1. ১৯১৯ সালে
  2. ১৯২১ সালে
  3. ১৯২২ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা
• রাওলাট আইন:
- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বৃটিশ সরকার চরমপন্থী বিপ্লবী আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে নিবর্তনমূলক রাওলাট আইন পাশ করে ।
- এবং বিনা বিচারে শত শত লোককে কারাবন্দী করে।
- উক্ত আইনের বিরুদ্ধে গান্ধীজীর সত্যাগ্রহ ও প্রতিবাদ আন্দোলনের পটভূমিতে সংঘটিত হয় ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১৩ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড।
- বৃটিশ জেনারেল ডায়ার নিরস্ত্র জনতার উপর গুলি চালিয়ে প্রায় ৪০০ লোককে হত্যা করে। এতে ইংরেজ বিরোধী মনোভাব চাঙ্গা হয়ে উঠে।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৭.
রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হয় কার সময়ে?
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড নর্থ
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

রেগুলেটিং এ্যাক্ট:
- উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত।
- কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
 - তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ সালে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।
- রেগুলেটিং এ্যাক্ট এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- গভর্নর জেনারেলকে সাহায্য করার জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি 'কাউন্সিল' গঠিত হয় এবং সবার সমান অধিকার দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।

উল্লেখ্য,
- 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' আইন পাসের সময় বাংলার গভর্নর ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
           ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১২৮.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মহাত্মা গান্ধী ভারতে কোন আন্দোলনের ডাক দেন?
  1. স্বদেশী আন্দোলন
  2. অসহযোগ আন্দোলন
  3. ভারত ছাড় আন্দোলন
  4. আইন অমান্য আন্দোলন
ব্যাখ্যা
ভারত ছাড়’ আন্দোলন
• ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
• মহাত্মা গান্ধী নামে তিনি পরিচিত।
• দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪২ সালে মহাত্মা গান্ধী ভারত ছাড় আন্দোলনের ডাক দেন।
• ক্রিপস মিশনের ব্যর্থতা, সম্ভাব্য জাপানি আক্রমণের আশঙ্কা, ভারতকে ব্রিটিশ ডোমিনিয়নের মর্যাদা প্রদানের দাবী ইত্যাদি ইস্যুতে কংগ্রেস ১৯৪২ সালের আগস্টে ভারত ছাড় আন্দোলনের ডাক দেন। 
• ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক আন্দোলন ভারত ছাড় আন্দোলন।
• মহাত্মা গান্ধী হরিজন পত্রিকায় ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ভারত ছাড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
• গান্ধীর মনোভাব লক্ষ্য করে কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটি ১৯৪২ সালের ১৪ জুলাই গান্ধীর ভারত ছাড়  নীতি অনুমোদন করে।
• কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটি সিদ্ধন্ত গ্রহন করে যে অবিলম্বে ব্রিটিশ সরকারকে ভারত ছাড়তে হবে নতুবা দেশব্যাপী তারা আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করবে।
• ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (বোম্বাইর) অধিবেশনে বিখ্যাত ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় এবং পরপরই যতদূর সম্ভব ব্যাপকভাবে অহিংস পথে গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

- ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রধান তিনটি পর্ব দেখা যায়। প্রথম পর্বে এ আন্দোলন প্রধানত শহর অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। এ পর্বের আন্দোলন ছিল খুবই ব্যাপক এবং সহিংস। কিন্তু দ্রুততার সাথেই এ আন্দোলনকে দমন করা হয়।
- আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় আগস্টের মধ্যভাগ থেকে। এ পর্যায়ে ছাত্ররা বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়ে।
- সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে আন্দোলনের তৃতীয় পর্ব শুরু হয়। এ পর্বের বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষিত যুবক সম্প্রদায় ও কৃষক দলের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা এবং গেরিলা যুদ্ধ।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,১২৯.
সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয় কোথায়?
  1. দিল্লি
  2. কানপুর
  3. ব্যারাকপুর
  4. আগ্রা
ব্যাখ্যা

সিপাহি বিদ্রোহ:
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয় ।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৩০.
ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন কে?
  1. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  2. মওলানা আতাহার আলী
  3. মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ
  4. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিল একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- হাজী শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩১.
When did the Sepoy Mutiny take place?
  1. 1857
  2. 1858
  3. 1757
  4. 1763
  5. None of these
ব্যাখ্যা
• সিপাহি বিদ্রোহ:
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের মার্চে সিপাহী মঙ্গল পান্ডে ব্যারাকপুরের সামরিক গ্যারিসনে ব্রিটিশ অফিসারদের উপর আক্রমণ করেছিলেন ।
-  ব্রিটিশরা তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তারপর মৃত্যুদণ্ড দেয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র।
- বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, - কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয়।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩২.
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের বর্তমান কাঠামোটির উদ্ভব ঘটে কোন আমলে?
  1. পাকিস্তান আমলে
  2. সুলতানি আমলে
  3. মুঘল আমলে
  4. ব্রিটিশ আমলে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
- বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ইতিহাস দেখায় যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের বর্তমান কাঠামোটির উদ্ভব ঘটে।

উল্লেখ্য,
-  ব্রিটিশ শাসনের সময় ১৮৭০ সালে বাংলার গ্রাম চৌকিদারি আইন পাস হয় প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে। তখন আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার সংস্থা প্রতিষ্ঠা শুরু হয়। এই আইনের অধীনে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি ইউনিয়ন এবং চৌকিদারি পঞ্চায়েত (সংগঠন) গঠিত হয়। 
- ১৮৮৫ সালে কর্তৃপক্ষ Bengal Local Self Government Act আইন পাস করেন। এই আইনের অধীনে ইউনিয়ন কমিটি, স্থানীয় সরকার বোর্ড এবং জেলা বোর্ড সেটার ছিল।
- ১৯১৯ সালের The Bengal Village Self- Government Act আইনটি চৌকিদার পঞ্চায়েত ও ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করে এবং তাদের জায়গায় ইউনিয়ন বোর্ড ও জেলা বোর্ড গঠন করে। 
- পাকিস্তান সময়কালে ১৯৫৯  সালের Basic Democracy Order আইনের অধীনে স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলি চারটি টায়ারে স্থাপন করা হয়েছিল। ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পর্যায়ে থানা কাউন্সিল, জেলা পর্যায়ে জেলা পরিষদ এবং বিভাগীয় স্তরে বিভাগীয় কাউন্সিল। 
- ১৯৬১ সালের Muslim Family and Marriage Ordinance আইন অনুসারে ইউনিয়ন কাউন্সিলকে সমঝোতা আদালত প্রতিষ্ঠা করার ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং সদস্যদেরকে বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়।
- থানা পর্যায়ে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৮২ সালে উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮২ সালে চালু হওয়া উপজেলা পদ্ধতি ১৯৯১ সালে বিলুপ্ত হয়।
- বর্তমানে  নির্বাচিত  স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। 

উৎস: স্থানীয় সরকার বিভাগ ওয়েবসাইট।
১,১৩৩.
মীর নিসার আলী ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন -
  1. কালনা
  2. আসানসোলে
  3. নারিকেলবাড়িয়ায়
  4. কাটোয়ায়
ব্যাখ্যা
তিতুমীর:
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন তাহরিক ই মুহম্মদীয়া।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে যখন ওয়াহাবি আন্দোলনের (তাহরিক ই মুহম্মদীয়া) জোয়ার চলছে, তখন পশ্চিম বঙ্গের বারাসাত অঞ্চলে তিতুমীরের নেতৃত্বে এই আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।
- ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তিতুমীর হজ করার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।এই যুদ্ধে তিনি নিহত হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৪.
বঙ্গভঙ্গের ফলে গঠিত নতুন প্রদেশের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ঢাকা
  3. রাজশাহী
  4. আসাম
ব্যাখ্যা

• বঙ্গভঙ্গ :
- বঙ্গভঙ্গ অবিভক্ত বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯০৫ সালের পূর্বে 'বাংলা প্রেসিডেন্সি' ছিল ভারতের সর্ববৃহৎ প্রদেশ।
- ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।
- ঘোষনা করেন বড় লাট লর্ড কার্জন। 
- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ'।
- ঢাকায় এ নতুন প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয়।
- পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ’ প্রদেশ। এর রাজধানী হয় কলিকাতা । 

- বঙ্গভঙ্গের পর নবগঠিত ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের' গভর্নর নিযুক্ত হন এনডু ফ্রেজার।
- নবাব স্যার সলিমুল্লাহ্ বঙ্গভঙ্গের সমর্থনে পূর্ববঙ্গের মুসলমান জনগণকে সংগঠিত করেন। 

- ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রহিত করে।
- রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লী দরবারে এ ঘোষণা দেন।  

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং
           ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৩৫.
স্বত্ববিলোপ নীতি (Doctrine of Lapse) প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড ক্যানিং
  4. লর্ড হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
- গভর্নর-জেনারেল লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি আগ্রাসীভাবে প্রয়োগ করে সাতারা, ঝাঁসি, নাগপুরের মতো অনেক রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন।

• স্বত্ববিলােপ নীতি
ব্রিটিশ সরকার ভারতে সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য যেসব নীতি অবলম্বন করে সেগুলির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযােগ্য হল স্বত্ববিলােপ নীতি। বড়োলাট লর্ড ডালহৌসি ১৮৪৮ খ্রি: স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তন করেন।

• স্বত্ববিলোপ নীতির মূল বক্তব্য: 
- লর্ড ডালহৌসির উল্লেখযােগ্য সাম্রাজ্য বিস্তার নীতি ছিল স্বত্ববিলােপ নীতি।
- তিনি এক ঘােষণায় বলেন যে, কোনাে ব্রিটিশ আশ্রিত দেশীয় রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে সেই রাজ্যটি সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবে ।
- এই নীতি স্বত্ববিলােপ নীতি নামে পরিচিত।

• স্বত্ববিলোপ নীতির প্রয়োগ পদ্ধতি: 
লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়ােগ করার আগে দেশীয় রাজ্যগুলিকে তিনভাগে ভাগ করেন –
(ক) স্বাধীন দেশীয় রাজ্য, 
(খ) কোম্পানির সৃষ্ট রাজ্য, 
(গ) কোম্পানির আশ্রিত বা কোম্পানির অধীনস্থ রাজ্য। 

• স্বত্ববিলোপ নীতির প্রয়োগ:  
- স্বত্ববিলোপ নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করে ডালহৌসী প্রথমেই ব্রিটিশ প্রভাবাধীন সাতারা রাজ্যটি দখল করেন ১৮৪৮ খ্রিঃ,
- এরপর ১৮৫৩ সালে নাগপুরের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তাঁর রাজ্যটি গ্রাস করা হয়, এক্ষেত্রে ডালহৌসীর যুক্তি ছিল যে, নাগপুর রাজ্যটি নাকি ইংরেজরাই সৃষ্টি করেছিল।
- ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাও-এর প্রয়াণ হলে ডালহৌসী তাঁর দত্তক পুত্রকে মেনে নিতে রাজি হলেন না এবং ঝাঁসির রানির মতামতকে উপেক্ষা করেই ঝাঁসি রাজ্যটি দখল করা হল।
- এছাড়া ভগৎপুর, করৌলী, সম্বলপুর, উদয়পুর, বাগৎ প্রভৃতি রাজ্যগুলি একই কারণে গ্রাস করা হয়, যদিও উদয়পুর কোম্পানির সৃষ্ট দেশীয় রাজ্য ছিল না।

সূত্র: দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস ১ম পত্র বই, বাংলাপিডিয়া।
১,১৩৬.
'জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী'-এটি কার ঘোষণা? 
  1. তিতুমীর
  2. ফকির মজনু শাহ
  3. দুদু মিয়া
  4. হাজী শরীয়তউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• দুদু মিয়া:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর জেলায় এবং তার নেতৃত্বে এটি শুরু হয়।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর পুত্র দুদু মিয়া।
- তিনি ধর্মীয় সংস্কারমূলক এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেন।
- দুদু মিয়া ঘোষণা করেন, “জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি”।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র,মো. মোজাম্মেল হক।
১,১৩৭.
‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি রবীন্দ্রনাথ কখন রচনা করেন?
  1. ক) সিপাহী বিদ্রোহের সময়
  2. খ) স্বদেশী আন্দোলনের সময়
  3. গ) তেভাগা আন্দোলনের সময়
  4. ঘ) সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সময়
ব্যাখ্যা
স্বদেশী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধকারী শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক গানগুলো রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, মুকুন্দ দাস এবং রজণীকান্ত সেন প্রমুখ। আমাদের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন। সূত্র- বোর্ড বইঃনবম-দশম শ্রেণি।
১,১৩৮.
কার সময়ে বঙ্গভঙ্গ হয়?
  1. লর্ড মিন্টো
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ:
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সমপ্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদে হিন্দু সম্প্রদায় খুশি হয়, অপর দিকে মুসলমান সম্প্রদায় মর্মাহত এবং হতাশ হয়।
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৯.
পাকিস্তানের ইতিহাসের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. খাজা নাজিমুদ্দিন
  2. নূরুল আমিন
  3. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. লিয়াকত আলী খান
ব্যাখ্যা
• পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্ভব

- লিয়াকত আলী খান পাকিস্তানের ইতিহাসের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
- ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- লিয়াকত আলী খান ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানের সংবিধানের রূপরেখা প্রণয়ন করেছিলেন। 
- ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডির কোম্পানিবাগে এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় আততায়ীর গুলিতে তিনি নিহত হন।

উল্লেখ্য, 
- পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- পূর্ববাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন খাজা নাজিমুদ্দিন।
- পূর্ববাংলার প্রথম গভর্নর নিযুক্ত হন স্যার ফ্রেডারিক বোর্ণ।
- ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মৃত্যুবরণ করলে পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। 
- তখন নূরুল আমিনকে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪০.
কোন ইংরেজ গভর্নর পাঁচসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন?
  1. লর্ড মিন্টো
  2. লর্ড হেস্টিংস
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা

পাঁচসালা বন্দোবস্ত:
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- পাঁচসালা বন্দোবস্তের মূল লক্ষ্য ছিল রাজস্ব আদায় করা।
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।
- অথচ কৃষকের বা জমির উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনো লক্ষ ছিল না।
- এ অবস্থায় হেস্টিংস জমিদারদের সঙ্গে এক সালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। 

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৪১.
নিচের কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিলো?
  1. ক) ভারত ছাড় আন্দোলন
  2. খ) আইন অমান্য আন্দোলন
  3. গ) ৩রা জুন পরিকল্পনা
  4. ঘ) ক্রিপস মিশন
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত ঘটনাসমূহের মধ্যে সবার আগে সংঘটিত হয় আইন অমান্য আন্দোলন।
মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯৩০ সালে ভারতবর্ষ জুড়ে আইন অমান্য আন্দোলন সংঘটিত হয় যা ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত সক্রিয় ছিলো।
অন্যদিকে,
ক্রিপস মিশন ভারতে আসে ১৯৪২ সালের মার্চে।
ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হলে ১৯৪২ সালে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারত ছাড় আন্দোলন সংঘটিত হয়।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের জুন মাসে ‘৩রা জুন পরিকল্পনা’ পেশ করেন যা ‘ভারত ভাগ পরিকল্পনা’ নামেও পরিচিত।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১,১৪২.
নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল না-
  1. মীর জাফর
  2. মোহন লাল
  3. উমিচাঁদ
  4. রায়দুর্লভ
ব্যাখ্যা
নবাব সিরাজউদ্দৌলা: 
- আলিবর্দি খান অপুত্রক ছিলেন।
- তাই তাঁর কনিষ্ঠ কন্যা আমেনা বেগমের পুত্র সিরাজউদ্দৌলাকে তাঁর উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।
- আলিবর্দির প্রথম কন্যা ঘষেটি বেগম।
- ঘষেটি বেগম সিরাজউদ্দৌলার নবাব হওয়া মেনে নিতে পারেনি।
- ফলে তিনি সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন।
- কয়েকজন অভিজাতের সমর্থন লাভ করেন ঘষেটি বেগম।
- তাদের মধ্যে রায়দুর্লভ, জগৎশেঠ, মীর জাফর, উমিচাঁদ, রাজবল্লভ প্রমুখের নাম উল্লেখ করা যায়।
- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির যুদ্ধে নবাবের সেনাপতি মীর জাফর বিশ্বাসঘাতকতা করে যুদ্ধে অংশগ্রহণে বিরত থাকেন।
- নবাবের দেশপ্রেমিক সৈন্যছিল  ছিল মীরমদন ও মোহন লাল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৪৩.
কাদেরকে 'বর্গী' নামে অভিহিত করা হতো?
  1. ক) মারাঠা সৈন্য
  2. খ) পর্তুগিজ জলদস্যু
  3. গ) আরাকানি জলদস্যু
  4. ঘ) ডেনিশ অধিবাসীদের
ব্যাখ্যা
- দক্ষিণ ভারতের মারাঠারা বাংলায় ‘বর্গী’ নামে পরিচিত ছিলো।
- মারাঠা সৈন্যবাহিনীর সর্বনিম্ন পদধারী সৈনিকরা ‘বরগি’ নামে পরিচিত ছিলো। এই বরগি থেকেই বর্গী নামের উদ্ভব।
- আঠারো শতকে বাংলায় বর্গীরা ব্যাপক লুটতরাজ চালায়।
অন্যদিকে,
- পর্তুগিজ জলদস্যু : ফিরিঙ্গি
- আরাকানের জলদস্যু : মগ
- ডেনমার্কের অধিবাসীরা : দিনেমার।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১,১৪৪.
The last country to perform business in the Indian sub-continent -
  1. Portugal
  2. Germany
  3. Denmark
  4. France
ব্যাখ্যা
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উপমহাদেশে আগত সর্বশেষ ইউরোপীয় বণিক কোম্পানি।
- ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক কোম্পানিটি সর্বপ্রথম সুরাটে ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে এবং পরের বছর মুসলিপট্টমে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া ১৬৭৩ খ্রিস্টাব্দে পন্ডিচেরীতে গড়ে তোলে ফরাসি উপনিবেশ।
- ১৬৭৪ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে ফরাসিরা তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাংলায় সম্প্রসারিত করে।
- কয়েক বছরের মধ্যে চন্দননগর একটি শক্তিশালী সুরক্ষিত ফরাসি বাণিজ্য কুঠিতে পরিণত হয়।
- ১৬৯৬ খ্রিস্টাব্দে এই অঞ্চলে একটি শক্তিশালী দুর্গ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তিকালে তারা কাশিমবাজার ও বালাসোরে কুঠি স্থাপন করতে সক্ষম হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৫.
In which year was the tragic famine 'Chiyatturer Monontor' occured?
  1. 1770
  2. 1772
  3. 1774
  4. 1776
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- কোম্পানির মুর্শিদাবাদের প্রতিনিধি রিচার্ড বেচারের ভাষায় ‘দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতিসত্য।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মৃত্যু বরণ করে।
- ইংরেজ সরকার বাংলার জনগণকে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
- বরং ১৭৬৫-৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাৎসরিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল, দুর্ভিক্ষের বছরও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় তার কাছাকাছি ছিল। ফলে চরম শোষণ নির্যাতনে বাংলার মানুষ হত দরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৬.
সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. দাদাভাই নওরোজী
ব্যাখ্যা
সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন রাজা রামমোহন রায়।

সতীদাহ প্রথা
:
- বহুকাল আগে থেকেই হিন্দু সমাজে অনেক কুপ্রথা প্রচলিত হয়েছিল।
- এর অন্যতম হচ্ছে সতী।
- সতীদাহ প্রথা অনুসারে স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে স্বামীর চিতায় জীবন্ত পোড়ানো হতো।
- ১৭৯৯ সালে উইলিয়াম কেরি এই প্রথা বন্ধের প্রয়াস নেন।
- গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলির কাছে তিনি সতীদাহ বন্ধের আবেদন জানান।
- এরপর রাজা রামমোহন রায় ১৮১২ সালে সতীদাহবিরোধী সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন।
- লর্ড বেন্টিঙ্কের কাছে রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য আবেদন করেন।
- এই সূত্রে ১৮২৯ সালে গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের অনুমোদনে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করে আইন পাশ হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৭.
হলওয়েল বর্ণিত অন্ধকূপ হত্যা'র সাথে নিম্নের কে জড়িত?
  1. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  2. নবাব আলীবর্দী খান 
  3. শের শাহ 
  4. ইসলাম খান চিশতী 
ব্যাখ্যা
অন্ধকূপ হত্যা:
- অন্ধকূপ হত্যা'র সাথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা জড়িত।


⇒ ১৭৫৬ সালের ২০ জুন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা হলো অন্ধকূপ হত্যা।
- এ কাহিনী মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- নবাব কর্তৃক ১৭৫৬ সালে জুন মাসে কলকাতার ইংরেজ দুর্গ দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্র একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে হত্যা করা হয় বলে এই উপাখ্যানে দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ নবাব কলকাতা আক্রমণ করলে (১৬-২০ জুন, ১৭৫৬) ফোর্ট উইলিয়ামের ইংরেজরা পলায়ন করতে বাধ্য হয়।
- জন জেফেনিয়াহ হলওয়েলসহ ১৭০ জন ইংরেজ পলায়নের জন্য সময়মতো জাহাজে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং পরিণামে তারা নবাবের সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়।
- ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে দুর্গের ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ একটি বন্দিশালায় গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে রাত্রিযাপনে বাধ্য করা হয়।
- ১২৩ জন ইংরেজ এই বন্দিশালায় মারা যায়।
- জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন হলওয়েল।
- তিনি এই শোকাবহ ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা দেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য নবাবকে দায়ী করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৮.
'তেভাগা আন্দোলন' মূলত কাদের আন্দোলন?
  1. ক) শ্রমিক
  2. খ) বর্গাচাষি
  3. গ) জেলে
  4. ঘ) বাস্তুহারা
ব্যাখ্যা
- তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন। 
- তেভাগা শব্দের আভিধানিক অর্থ ফসলের তিন অংশ। প্রচলিত অর্থে ভাগচাষি তাদের ভাগচাষের অধিকারস্বরূপ উৎপাদনের সমান অংশ বা দুই ভাগের এক ভাগ পাওয়ার অধিকারী।
-  ভূমি নিয়ন্ত্রণের শর্তাদি অনুযায়ী শস্য ভাগাভাগির বিভিন্ন পদ্ধতি বর্গা, আধি, ভাগি ইত্যাদি নামে পরিচিত। 
- ১৯৪৬-৪৭ সালে ভূমিমালিক এবং ভাগচাষিদের মধ্যে উৎপাদিত শস্য সমান দুই ভাগ করার পদ্ধতির বিরুদ্ধে বর্গাদাররা প্রবল এই আন্দোলন গড়ে তোলে।
-  এ তেভাগা আন্দোলন বাংলার ১৯টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। 
-  আন্দোলনটি তীব্র আকার ধারণ করে দিনাজপুর, রংপুর, জলপাইগুড়ি, খুলনা, ময়মনসিংহ, যশোর এবং চবিবশ পরগনা জেলায়। 
- আন্দোলনটি নিশ্চিতভাবেই পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ প্রণয়নে প্রভাব বিস্তার করেছিল। 
- মূলত তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার প্রাদেশিক কৃষকসভার কম্যুনিস্ট কর্মীরা। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
১,১৪৯.
বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নায়ক কে ছিলেন?
  1. হাজী শরীয়ত উল্লাহ
  2. মজনু শাহ
  3. তিতুমীর
  4. চেরাগ আলি
ব্যাখ্যা
ফকির মজনু শাহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ঐতিহাসিক ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নায়ক মজনু শাহ।
- তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মাদারিয়া তরিকার সুফি সাধক। 
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- মজনু শাহ মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫০.
১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী, বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল কে নিযুক্ত হন?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড ওয়েলেসলি
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

রেগুলেটিং অ্যাক্ট (১৭৭৩):
- উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত।
- কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
- তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ সালে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।

⇒ রেগুলেটিং এ্যাক্ট-এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- গভর্নর জেনারেলকে সাহায্য করার জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি 'কাউন্সিল' গঠিত হয় এবং সবার সমান অধিকার দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৫১.
বক্সারের যুদ্ধে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনীর নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. মেজর হেক্টর মুনরো
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ নবাব মীর কাসিম ও তাঁর মিত্রশক্তির সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ।
- পলাশীর যুদ্ধের পর ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- এই যুদ্ধের ফলে বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়।
- মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) Britannica.

১,১৫২.
নিম্নের কোন ব্যক্তি বিপ্লবী নন?
  1. প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার
  2. আশালতা সেন
  3. লীলা নাগ
  4. সাহেরা খাতুন
ব্যাখ্যা
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার:
- ভারতের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রথম শহীদ বিপ্লবী নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।

লীলা নাগ:
- লীলা নাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী।
- তিনি একজন সক্রিয় বিপ্লবী ও আন্দোলনকারী।
- তিনি শিক্ষা-সংক্রান্ত সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সহকারী ছিলেন।

আশালতা সেন:
- আশালতা সেন ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব, সক্রিয় কর্মী, কবি ও সমাজসেবক এবং অগ্নিযুগের নারী বিপ্লবী।

উল্লেখ্য,
- উপরের উল্লেখিত সাহেরা খাতুন নামে কোন বিপ্লবী ব্যক্তি নেই।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১৫৩.
রাজশাহীর সর্বপ্রাচীন ইমারত 'বড়কুঠি' কাদের র্কীতি?
  1. ফরাসী বণিক 
  2. ইংরেজ বণিক 
  3. পর্তুগীজ বণিক 
  4. ওলন্দাজ বণিক 
ব্যাখ্যা

বড়কুঠি:
- রাজশাহী অঞ্চলের সর্বপ্রাচীন ইমারত বড়কুঠি।
- এটি রাজশাহী মহানগরীর পদ্মপাড়ে অবস্থিত’।
- সুনির্দিষ্টভাবে এই ইমারতের নির্মাণকাল নির্ধারণ করা না গেলেও বিভিন্ন সূত্রের বিচারে এর নির্মাণকাল অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বলে ধারণা করা হয়।
- এটি এটি ওলন্দাজরা নির্মাণ করেছিল।
- ইট নির্মিত ও সমতল ছাদবিশিষ্ট এ ইমারতটি আঠারো শতকের প্রথমার্ধে (১৭২৫ সালের আগে) ওলন্দাজ রেশম ব্যবসায়ীদের নির্মিত এক উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
- পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বড়কুঠি ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।
- এরপর থেকে এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ছিল। 

উল্লেখ্য,
- এটি প্রথমে ওলন্দাজ বা ডাচদের বাবসা কেন্দ্র ছিল।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ডাচরা ভারতে তাদের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
- ১৮১৪ সালে ইংরেজদের সাথে একটি চুক্তি করে বড়কুঠিসহ ভারতের সব ব্যবসা কেন্দ্র ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে হস্তান্তর করে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) প্রথম আলো।

১,১৫৪.
হলওয়েল বর্ণিত 'অন্ধকূপ হত্যা'র সাথে কার নাম জড়িত?
  1. বাহাদুর শাহ
  2. সুজাউদ্দৌলা
  3. সিরাজদৌল্লা
  4. মীরজাফর
ব্যাখ্যা
অন্ধকূপ হত্যা:
- ১৭৫৬ সালের ২০ জুন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা অন্ধকূপ হত্যা নামে পরিচিত।
- এ কাহিনী মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- নবাব সিরাজদৌল্লা কর্তৃক ১৭৫৬ সালে জুন মাসে কলকাতার ইংরেজ দুর্গ দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্র একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে হত্যা করা হয় বলে এই উপাখ্যানে দাবি করা হয়।

⇒ নবাব সিরাজদৌল্লা কলকাতা আক্রমণ করলে (১৬-২০ জুন, ১৭৫৬) ফোর্ট উইলিয়ামের ইংরেজরা পলায়ন করতে বাধ্য হয়।
- জন জেফেনিয়াহ হলওয়েলসহ ১৭০ জন ইংরেজ পলায়নের জন্য সময়মতো জাহাজে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং পরিণামে তারা নবাবের সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়।
- ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে দুর্গের ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ একটি বন্দিশালায় গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে রাত্রিযাপনে বাধ্য করা হয়।
- ১২৩ জন ইংরেজ এই বন্দিশালায় মারা যায়।
- জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন হলওয়েল।
- তিনি এই শোকাবহ ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা দেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য নবাবকে দায়ী করেন।

উল্লেখ্য,
- উনিশ শতকের প্রথম দিকের অধিকাংশ ইংরেজ ইতিহাসবিদ এ কাহিনী বিশ্বাস করেন এবং অন্ধকূপ হত্যার ঘটনাকে প্রাচ্যদেশীয় শাসকদের বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতার জঘন্য নিদর্শনরূপে গণ্য করেন।
- কিন্তু পরবর্তীকালের ইতিহাসবিদগণ হলওয়েলের কাহিনীর সত্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ার মতো প্রমাণ আবিষ্কার করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৫.
নিম্নের কোন আন্দোলন সবার শেষে সংগঠিত হয়েছিল?
  1. ক) আইন অমান্য আন্দোলন
  2. খ) ভারত ছাড় আন্দোলন
  3. গ) তেভাগা আন্দোলন
  4. ঘ) স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন। ১৯৪৬-৪৭ এবং ১৯৪৮-৫০ দুই দফায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলনে দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- এই আন্দোলন কৃষকসভার কমিউনিস্টদের মাধ্যমে রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় সংঘটিত হয়।
- নাচোলের রানী ইলা মিত্র তেভাগা আন্দোলনের একজন নেত্রী।

- স্বদেশী আন্দোলন : ১৯০৫ সালে
- আইন অমান্য আন্দোলন : ১৯৩০ সালে
- ভারত ছাড় আন্দোলন : ১৯৪২ সালে।

(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১৫৬.
কোন দেশের অধিবাসীরা উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য ‘দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে?
  1. নেদারল্যান্ডস
  2. নিউজিল্যান্ড
  3. ডেনমার্ক
  4. আয়ারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
দিনেমার:
- ডেনমার্কের অধিবাসীদের দিনেমার বলা হয়।
- ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে দিনেমারগণ উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য ‘দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- দক্ষিণ ভারতের ত্রিবাঙ্কুরে ও কলকাতার শ্রীরামপুরে তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।

অন্যদিকে,
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক ‘ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৭.
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন পাস করে —
  1. ক) ভারতের গভর্নর জেনারেল
  2. খ) ব্রিটিশ পার্লামেন্ট
  3. গ) কলকাতা কাউন্সিল
  4. ঘ) ভারত সচিবের কাউন্সিল
ব্যাখ্যা
- ১৯৩০ সালে ভারতে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হয়। এ সময় সাইমন কমিশন রিপোর্ট প্রকাশিত হলে ভারতীয় রাজনৈতিক দলসমূহ তা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে ভারতে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়। বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংকট নিরসন ও ভারতের ভবিষ্যৎ সংবিধানের রূপরেখা প্রণয়নের জন্য ব্রিটিশ সরকার গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। 
 
লন্ডনে গোলটেবিল বৈঠকের তিনটি অধিবেশন হয়। তবে এতে শাসনতান্ত্রিক সমস্যার কোন সমাধান হয়নি। বরং ইতোমধ্যে ঘোষিত সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করে।
 এমতাবস্থায় ১৯৩৩ সালে ব্রিটিশ সরকার তিনটি গোলটেবিল বৈঠকের আলোচনার আলোকে একটি শ্বেতপত্র প্রাকাশ করে। সাইমন কমিশন রিপোর্ট ও এ শ্বেতপত্রের আলোকে ১৯৩৪ সালে একটি পার্লামেন্টারী যুক্ত বাছাই কমিটি ভারতের জন্য একটি নতুন সংবিধানের খসড়া প্রস্তুত করে । 
 
এ খসড়ার ভিত্তিতেই ১৯৩৫ সালের ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উভয় হাউসে (লর্ডস সভা ও কমন্স সভা) ভারতের জন্য একটি নতুন শাসনতন্ত্র গৃহীত হয়। 
১৯৩৫ সালের ২ আগস্ট ব্রিটিশ রাজা আইনটিতে স্বাক্ষর দান করেন। ব্রিটিশ ভারতের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে এ আইনটিই বিখ্যাত ‘ভারত শাসন আইন' নামে পরিচিত।
 
উৎস : ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১৫৮.
বেঙ্গল প্যাক্ট (১৯২৩) কোন উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয়েছিল?
  1. ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটানোর জন্য
  2. বাংলায় হিন্দু-মুসলিম ঐক্য স্থাপনের জন্য 
  3. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন লাভের জন্য
  4. ভারতের বিভাজন রোধের জন্য
ব্যাখ্যা

• বেঙ্গল প্যাক্ট, ১৯২৩: 

- বেঙ্গল প্যাক্ট (১৯২৩) বাংলার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক বিভেদের সমাধানের লক্ষ্যে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি। 

- চিত্তরঞ্জন দাশ প্রদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার অংশীদারিত্বের নীতিতে আন্তরিকভাবে বিশ্বাস ছিলেন।  তিনি তাঁর ফরোয়ার্ড পত্রিকার সম্পাদকীয়তে লেখেন যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে বাংলার মুসলমানদেরকে তাদের নায্য হিস্যা দিতে হবে। তারা সুযোগ্য হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুক- এ দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এ যুক্তি দিয়েই বিদেশি শক্তি হিন্দু-মুসলমান উভয়কেই শাসন ক্ষমতা থেকে দূরে রেখেছে।

- চিত্তরঞ্জন দাস বাংলার মুসলমানদের নেতা ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে বাংলার রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন এবং হিন্দু-মুসলমানদের দাবি দাওয়ার ব্যাপারে একটি চুক্তি সম্পন্ন করেন। এ চুক্তি 'বেঙ্গল প্যাক্ট' বা 'বাংলা চুক্তি' নামে পরিচিত।

-  ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেসের গয়া অধিবেশনে তাঁর দেয়া উক্ত প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি মতিলাল নেহেরু ও হাকিম আজমল খানকে নিয়ে ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর 'স্বরাজ্য পার্টি' নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। অল্প সময়ের মধ্যে স্বরাজ্য পার্টির সমর্থকগণ বাংলা প্রাদেশিক কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সি.আর. দাস ও সুভাষ বসু যথাক্রমে এর সভাপতি ও সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৫৯.
স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে ঘটেছিল?
  1. গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলন
  2. সিপাহী বিদ্রোহ
  3. ভারত বিভক্তি
  4. বঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা
স্বদেশী আন্দোলন:
- স্বদেশী আন্দোলন ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন।
- স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত হয় মূলত বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে।
- বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার অংশ হিসেবে ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
 
⇒ বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যর্থ হলে কংগ্রেসের উগ্রপন্থী অংশের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে উঠে, তাকেই স্বদেশী আন্দোলন বলা হয়। এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন। পরে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- স্বদেশী আন্দোলন ক্রমশ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলে। একই সঙ্গে দেশী পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করে। ফলে বিলেতি পণ্যের চাহিদা কমে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠে বাংলার নিজস্ব তাঁতবস্ত্র, সাবান, লবণ, চিনি ও চামড়ার দ্রব্য তৈরির কারখানা। অপর দিকে বিলেতি শিক্ষা বর্জন এবং আন্দোলনের সাথে যুক্তদের বিভিন্ন সরকারি স্কুল-কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার ফলে প্রয়োজনে গড়ে উঠে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধকারী শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক গানগুলো রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং রজণীকান্ত সেন প্রমুখ। আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন।

⇒ মুসলমান সমাজ স্বদেশী আন্দোলন থেকে দূরে থাকার কারণে আন্দোলন জাতীয় রূপলাভে ব্যর্থ হয়। তাছাড়া সাধারণ মানুষ, এমনকি হিন্দু সম্প্রদায়ের নিম্নবর্ণের লোকজন, দারিদ্র সমাজ এই আন্দোলনের মর্ম বুঝতে ব্যর্থ হয়।
- এ আন্দোলনের মাধ্যমে বিলেতি দ্রব্য বর্জন সফল হয়নি। কারণ কোলকাতার অবাঙালি মাড়ওয়ারি ব্যবসায়ী এবং বাংলার গ্রাম গঞ্জের ব্যবসায়ীরা এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়নি।
- সর্বোপরি এই আন্দোলন গোপন সশস্ত্র সংগ্রামের পথে অগ্রসর হলে জনগণ আন্দোলন থেকে দূরে সরে যায়।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যকার সম্পর্কের তিক্ততা আরো বৃদ্ধি পায়, যার পরিণতি হচ্ছে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে সম্প্রদায় ভিত্তিতে ভারত বিভক্তি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬০.
আলীনগর চুক্তিতে ইংরেজদের পক্ষে কে স্বাক্ষর করেন?
  1. হ্যারি ভেরেলেস্ট
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. জন কার্টিয়ার
  4. রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা

- আলীনগর চুক্তি ১৭৫৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও রবার্ট ক্লাইভ এর মধ্যে মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
- নওয়াব কলকাতার ইংরেজ বসতি অধিকার করেন (১৮-২০ জুন ১৭৫৬) এবং ইংরেজরা তাঁর প্রকৃত ক্ষতিসমূহের প্রতিবিধান করতে অস্বীকার করলে তিনি তাদের কলকাতা শহর থেকে বিতাড়িত করেন।
- তিনি এ শহরের নতুন নামকরণ করেন আলীনগর।
- এ চুক্তি বেশি দিন স্থায়িত্বলাভ করে নি, এর প্রধান কারণ, ইংরেজরা এর শর্তাবলি মেনে চলে নি।
- ফলে চুক্তিটি ভেঙ্গে যায় এবং ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়

উৎস: বাংলাপিডিয়া

১,১৬১.
হান্টার কমিশন নিম্নের কোন শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেছিলো?
  1. মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা
  2. ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থা
  3. প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
হান্টার কমিশন:
- ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না।
- তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।

⇒ হান্টার কমিশন গঠন:
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৬২.
১৯৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লব এর সঙ্গে সম্পৃক্ত পার্ক কোনটি?
  1. ক) রমনা পার্ক
  2. খ) বাহাদুরশাহ পার্ক
  3. গ) গুলশান পার্ক
  4. ঘ) ন্যাশনাল পার্ক
ব্যাখ্যা
- 'বাহাদুর শাহ পার্ক' এর পূর্বনাম ভিক্টোরিয়া পার্ক। 
- ইহা সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থান। 
- পুরানো ঢাকা এলাকার সদরঘাটের সন্নিকটে লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত। 
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর এক প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা ফাঁসি দেয় অসংখ্য বিপ্লবী সিপাহিকে। 
- তারপর জনগণকে ভয় দেখাতে সিপাহিদের লাশ এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এই ময়দানের বিভিন্ন গাছের ডালে। 
- ১৯৫৭ সালে (মতান্তরে ১৯৬১) সিপাহি বিদ্রোহের শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে ভিক্টোরিয়া পার্কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক। 
- সিপাহী বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এর শাসন পুনরায় আনার জন্য। তাই তাঁর নামানুসারে এর নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’।
 
উৎস : ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট
১,১৬৩.
কার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের পাশাপাশি কৃষক শ্রেণির মুক্তির সশস্ত্র সংগ্রামে পরিণত হয়?
  1. হাজী শরিয়ত উল্লাহ 
  2. ফকির মজনু শাহ
  3. মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
•মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া:
- দুদু মিয়ার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন একাধারে একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের পাশাপাশি কৃষক শ্রেণির মুক্তির সশস্ত্র সংগ্রামে পরিণত হয়। 
- দুদুমিয়া ছিলেন ফরায়েজিদের গুরু বা ওস্তাদ।
- পিতার আমলের লাঠিয়াল জালালউদ্দিন মোল্লাকে সেনাপতি নিয়োগ করে এক সুদক্ষ লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলেন।
- ফরিদপুর, পাবনা, রাজশাহী, যশোর, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া প্রবৃতি অঞ্চলগুলো নীল চাষের জন্য ছিল উৎকৃষ্ট।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে  দুঃসাহসী বিপ্লবীর মৃত্যু ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৪.
পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশের  রাজধানী-
  1. কলকাতা
  2. মালদহ
  3. ঢাকা
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
• বঙ্গভঙ্গ:
- ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
-ভাগ হবার পূর্বে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি।
- বাংলা প্রেসিডেন্সির আয়তন অনেক বড় হওয়ার কারণে ১৮৫৩ থেকে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত এর সীমানা পুনর্বিন্যাসের অনেক প্রস্তাব ব্রিটিশ সরকারি মহলে উপস্থাপন করা হয়।
- প্রকৃতপক্ষে ১৯০৩ সালে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
- ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমোদন করেন।
- এবং ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়।
-  এই পরিকল্পনায় বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এবং ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ যার রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কোলকাতা।
- হিন্দুদের তীব্র আন্দোলনের মুখে, রাজা পঞ্চম জর্জ ১৯১১ সালে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
১,১৬৫.
নিচের কোনটি কৃষক আন্দোলন?
  1. ক) আলীগড় আন্দোলন
  2. খ) বয়কট আন্দোলন
  3. গ) টঙ্ক আন্দোলন
  4. ঘ) অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
টঙ্ক প্রথা হলো টাকার পরিবর্তে ধানের মাধ্যমে খাজনা আদায়৷ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে এই প্রথা প্রচলিত ছিলো। ধানের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধে কৃষকদেরকে কয়েকগুণ বেশি খাজনা প্রদান করতে হতো। তাই কৃষকরা এই প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে।

কমরেড মনি সিংহ টঙ্ক আন্দোলনে কৃষকদের নেতৃত্ব দেন। ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাজং সম্প্রদায় টংক আন্দোলন সংঘটিত করে।

১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ হলে টঙ্ক প্রথা উচ্ছেদ হয় এবং টঙ্ক আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
১,১৬৬.
'অসহযোগ আন্দোলন' সংগঠিত হওয়ার কারণ কোনটি?
  1. ক) ভারত শাসন আইন
  2. খ) রাউলাট আইন
  3. গ) জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বজুড়ে যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয় তার সূত্র ধরে ভারতীয়রা ইংরেজদের কাছ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন এ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়। 
- অপরদিকে এ সময় ব্রিটিশ সরকার ‘রাউলাট আইন' পাশ করে। এ আইনে শান্তি-শৃংখলা বিরোধী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে কাউকে বিনা বিচারে দীর্ঘ সময়ের জন্য আটক করে রাখার বিধান করা হয়। এ আইনের ব্যাপারে জনমনে যখন অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছিল তখন আরেকটি ঘটনা ঘটে। 
- ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ নামক স্থানে চতুর্দিকে প্রাচীর ঘেরা একটি মাঠে কয়েক হাজার মানুষ প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়। ব্রিটিশ সরকার এই নিরস্ত্র জনতার উপর গুলি চালায় এবং এতে প্রায় চারশ মানুষ নিহত এবং অনেকে আহত হয়। 
 
- এমতাবস্থায়, ১৯১৯ সালে ব্রিটিশদের দমন ও পীড়নমূলক কার্যকলাপের প্রতিবাদে মহাত্মাগান্ধীর আহবানে সমগ্র ভারতব্যাপী যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তা অসহযোগ আন্দোলন নামে পরিচিত। এ আন্দোলনের প্রকৃতি ছিল অহিংস। একই সময়, ভারতের মুসলমান সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে খিলাফত আন্দোলন গড়ে ওঠে।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১৬৭.
স্যার সৈয়দ আহমদ খান ‘নাইট’ উপাধি লাভ করেন কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ক) ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আহমদ খান:
- ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে সৈয়দ আহমদ খানের জন্ম হয়।
- কোম্পানির অধীনে ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি সেরেস্তাদারের চাকুরী গ্রহণ করেন এবং পরে সাব জজ পদে উন্নীত হন। 
-  তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বৃটিশ সরকার ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন। 
-  সৈয়দ আহমদ খান ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে আলীগড়ে ‘মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। দু’বছর পরে এটি কলেজে উন্নীত হয়। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৮.
আসাম ও পূর্ববঙ্গ প্রদেশ গঠনকালে ব্রিটিশ ভারতের গর্ভনর জেনারেল ও ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড ওরেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
- প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা, দুর্ভিক্ষ, প্রতিরক্ষা সমস্যাবলি ব্রিটিশ সরকারকে বাংলার প্রশাসনিক সীমানা নতুন করে নির্ধারণের ব্যাপারে বিবেচনা করে দেখতে প্রণোদিত করে। বাংলার প্রশাসনিক এককসমূহকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয় এবং ১৯০৫ সালে ভারতের তৎকালীন বড় লাট লর্ড জর্জ নাথিয়াল কার্জন বাংলা ভাগ করে দুটি প্রদেশে গঠন করেন। ইতিহাসে তা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।

এছাড়াও, 
 -  বঙ্গভঙ্গের মূল পরিকল্পনাকারী- অ্যান্ড্র ফ্রেজার।
 -  বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববঙ্গ ও আসাম , পশ্চিম বাংলা প্রদেশ নামে নতুন দুই প্রদেশ গঠিত হয়।
 -  পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
 -  বঙ্গভঙ্গের পক্ষে -মুসলিম এবং বিপক্ষে ছিল-হিন্দুরা
 -  হিন্দুদের তীব্র আন্দোলনের মুখে, রাজা পঞ্চম জর্জ ১৯১১ সালে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ করেন।
 -  বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে , নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ১৯০৬ প্রতিষ্ঠা হয়

উৎস: বাংলাপিডিয়া, এইচএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,১৬৯.
লাহোর প্রস্তাব কখন গৃহীত হয়?
  1. ক) ১৯৩৭ সালের ২৩ মার্চ
  2. খ) ১৯৪৬ সালের ২৯ মার্চ
  3. গ) ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট
  4. ঘ) ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ
ব্যাখ্যা
লাহোর প্রস্তাব
• ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন। জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত। 
• লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
• এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটি ছিল না। তথাপি এ প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
• এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
• কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। 
• এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১৭০.
ভারতীয় মুসলমানদের খিলাফত আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্রধান কারণ কি ছিল?
  1. অর্থনৈতিক শোষণ
  2. তুরস্কের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন
  3. খলিফার প্রতি ধর্মীয় আনুগত্য
  4. ব্রিটিশ শাসনের অবসান
ব্যাখ্যা

খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন।
- কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৭১.
ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড কর্ণওয়ালিস
  4. লর্ড বেন্টিংক
ব্যাখ্যা
লর্ড মাউন্টব্যাটেন:
- তিনি ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় ছিলেন।
- ভাইসরয় হিসেবে তাঁর কার্যকাল সংক্ষিপ্ত হলেও এই সময়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উপমহাদেশের বিভক্তি এবং ভারত ও পাকিস্তানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।

⇒ তিনি গভর্নর জেনারেল হিসেবে ১৯৪৭ সালের আগস্ট থেকে ১৯৪৮ সালের জুন পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- মাউন্টব্যাটেন কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পরও ভারত বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন।
- মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালে ‘আর্ল’ উপাধি প্রাপ্ত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৭২.
স্বদেশি আন্দোলনের সময় কোন ধরনের পণ্য বর্জন করা হয়েছিল?
  1. খাদি কাপড়
  2. মসলিন কাপড়
  3. বিদেশি পণ্য
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
স্বদেশী আন্দোলন:
- স্বদেশী আন্দোলন ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন।
- ১৯০৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে স্বদেশী ভাবধারা, বিদেশী পণ্য বর্জন, 'বয়কট' ইত্যাদি পন্থায় বঙ্গভঙ্গ বিরোধী যে আন্দোলন বাংলায় গড়ে উঠেছিল তাকেই স্বদেশী আন্দোলন বলা হয়।
- এটি বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে বাংলায় গড়ে উঠলেও অচিরেই ছড়িয়ে পড়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একটি ধারা হিসেবে সমগ্র ভারতে।
- তাছাড়া এ আন্দোলন শুরুতে তরুণদের দেশপ্রেম, ঔপনিবেশিক শক্তিবিরোধী শাড়িপূর্ণ নিষ্ঠা ও আদর্শ নিয়ে শুরু হলেও ক্রমে তা থেকে চরম ও সশস্ত্র ধারার ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের জন্ম নেয়।
- ফলে ব্রিটিশ শক্তি শেষ পর্যন্ত বঙ্গভঙ্গ বাতিল করতে বাধ্য হয়।

⇒ এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন।
- পরে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলে।
- সঙ্গে সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠে বাংলার নিজস্ব তাঁতবস্ত্র, সাবান, লবণ, চিনি ও চামড়ার দ্রব্য তৈরির কারখানা।
- অপর দিকে বিলেতি শিক্ষা বর্জন এবং আন্দোলনের সাথে যুক্তদের বিভিন্ন সরকারি স্কুল-কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার ফলে প্রয়োজনে গড়ে উঠে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধকারী শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক গানগুলো রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং রজণীকান্ত সেন প্রমুখ।
- আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন। 
- তবে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি।
- যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৩.
কার নেতৃত্বে ইংরেজ সৈন্য নারিকেলবাড়িয়ায় অবস্থিত বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করেন?
  1. ক) লেফটেন্যান্ট ব্রেনান
  2. খ) ক্যাপ্টেন হকিন্স
  3. গ) মেজর স্কট
  4. ঘ) স্যার টমাস রো
ব্যাখ্যা
• ইংরেজ, জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গোড়ে তোলার লক্ষে ১৮৩১ সালে তিতুমির নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন শক্তিশালী এক বাঁশের কেল্লা। গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে গড়ে তোলেন সুদক্ষ শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী।

• বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে তিতুমির শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকলে শাসক-শোষক জমিদারশ্রেণি শঙ্কিত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনাবাহিনী প্রেরণ করে।
মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমিরের নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৪.
ইংরেজ অধিকৃত স্থানে জমি জরিপ করার জন্য ড. ফ্রান্সিস বুকাননকে নিযুক্ত করেন কে?
  1. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা
⇒ ইংরেজ অধিকৃত স্থানে জমি জরিপ করার জন্য ড. ফ্রান্সিস বুকাননকে নিযুক্ত করেন লর্ড ওয়েলেসলি।

লর্ড ওয়েলেসলির সময়ে শাসন ব্যবস্থা:

- ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি কোম্পানির গভর্নর হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন।
- তিনি রাজ্য শাসনের পরিবর্তে রাজ্য বিস্তারের দিকেই বেশি আগ্রহী ছিলেন।
- রাজ্যের শাসন ব্যবস্থায় তাঁর অবদান নিতান্তই সামান্য। সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি বেশকিছু সংস্কার করে গেছেন।
- তিনি এদেশের কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
- ওয়েলেসলি বিচার ব্যবস্থার বেশকিছু সংস্কার করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলি ভারতবর্ষে নবাগত ইংরেজ কর্মচারিদের শিক্ষার জন্য কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে একটি কলেজ স্থাপন করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৫.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা লাভের পর সর্বপ্রথম কোন বিদ্রোহ সংঘটিত হয়?
  1. নীল বিদ্রোহ
  2. সিপাহী বিদ্রোহ
  3. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. সাঁওতাল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা লাভের পর সর্বপ্রথম সংঘটিত বিদ্রোহ ছিল ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ।
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সময়কাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০–১৮০০ খ্রিস্টাব্দ)।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
- বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা প্রথম ইংরেজবিরোধী বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে ফকির মজনু শাহ উত্তর বাংলায় ইংরেজবিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭–১৮০০ খ্রিস্টাব্দে রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের তীব্রতা ছিল উত্তর বাংলায়।
- বিদ্রোহীরা বহু ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুট করে।
- ফকির মজনু শাহ গেরিলা যুদ্ধকৌশল অনুসরণ করতেন।
- ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর মুসা শাহ, সোবান শাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে ফকির–সন্ন্যাসী বিদ্রোহ চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,১৭৬.
নিচের কোনটি কৃষক আন্দোলন?
  1. ক) আলীগড় আন্দোলন
  2. খ) বয়কট আন্দোলন
  3. গ) তেভাগা আন্দোলন
  4. ঘ) অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা

- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন। ১৯৪৬-৪৭ এবং ১৯৪৮-৫০ দুই দফায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলনে দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- এই আন্দোলন কৃষকসভার কমিউনিস্টদের মাধ্যমে রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় সংঘটিত হয়।
- নাচোলের রানী ইলা মিত্র তেভাগা আন্দোলনের একজন নেত্রী।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)

১,১৭৭.
উপমহাদেশে পর্তুগিজ শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ভাস্কো-দা-গামা
  2. আলবুকার্ক
  3. ম্যাজিলানও
  4. বার্থলমিউ দিয়াজ
ব্যাখ্যা

পর্তুগিজ
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
- ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ, আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ও ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন। 
- পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে, সিংহলের নানাস্থানে এবং বাংলার হুগলী বন্দরে তাঁদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন।
- তাঁদের নৌ ও সেনাবাহিনী খুব শক্তিশালী ছিল।
- পর্তুগিজরা বাংলাদেশের চট্টগ্রামেও বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং কুঠিগুলোকে দুর্গে পরিণত করে।
- পর্তুগিজরাই প্রথম ইউরোপীয় যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য কাজে এদেশে সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে।
- সুস্বাদু ফল আনারস, পেপে, পেয়ারা, জলপাই, কামরাঙ্গা প্রভৃতি তাঁরাই এদেশে প্রচলন করে।
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী
করত।
- আবার সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত।
- অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৭৮.
‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন -
  1. ক) নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. খ) রাজা রামমোহন রায় 
  3. গ) সৈয়দ আমির আলি
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
নওয়াব আবদুল লতিফ
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কলকাতা মাদ্রাসা থেকে ইংরেজি শিক্ষা লাভ করে প্রথমে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল এবং পরে কোলকাতা মাদ্রাসায় অধ্যাপনা শুরু করেন। 
- ১৮৪৯ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগদান করেন এবং ১৮৭৭ সালে তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত করা হয়। 
- তিনি কর্মজীবনে সরকার কর্তৃক প্রথমে খান বাহাদুর ও পরে নওয়াব উপাধি লাভ করেন এবং ১৮৮৪ সালে তিনি কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৮৬৩ সালে কোলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। 

- তাঁর সারাজীবনের কর্মের মূল উদ্দেশ্য ছিল তিনটি। 
যথা- 
১। মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতি ইংরেজ সরকারের বিদ্বেষ ভাব দূর করা, 
২। মুসলমান সমাজের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং 
৩। হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে মৈত্রী প্রতিষ্ঠা করা। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৯.
বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিম কার নিকট পরাজিত হন?
  1. ক) রবার্ট ক্লাইভ
  2. খ) কর্নেল স্টুয়ার্ট
  3. গ) আর্থার ওয়েলেসলি
  4. ঘ) মেজন মনরো
ব্যাখ্যা
- ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে বাংলার নবাব মীর কাশিম, মুঘল সম্রাট শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সম্মিলিত বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ সংঘটিত হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- বক্সারের যুদ্ধে ঈংরেজদের নেতৃত্ব দেন মেজর মনরো।
- এই যুদ্ধে ইংরেজদের নিকট মীর কাশিমের সম্মিলিত বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
- বক্সারের যুদ্ধকে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের নিকট হারানো বাংলার স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধারের শেষ প্রচেষ্টা বিবেচনা করা হয়।
- এই যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলার নামমাত্র টিকে থাকা স্বাধীনতা পুরোপুরি বিনষ্ট হয়। অন্যদিকে, ভারতে ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ আরও সুগম হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১৮০.
ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম কোনটি?
  1. স্বদেশী আন্দোলন
  2. সিপাহী বিদ্রোহ
  3. ফরায়েজি আন্দোলন
  4. নীল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

⇒ এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
• পরোক্ষ কারণ: 
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।

• প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়। এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো। গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে। এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে। 

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৮১.
সন্ন্যাসী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. ক) নবীন মাধব
  2. খ) মেঘলা সর্দার
  3. গ) মজনু শাহ
  4. ঘ) ভবানী পাঠক
ব্যাখ্যা
বাংলায় ব্রিটিশবিরোধী প্রথম আন্দোলন হলো ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন। আঠারো শতকের ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
এই আন্দোলনে সন্ন্যাসীদের নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক। অন্যদিকে ফকিরদের নেতৃত্ব দেন মজনু শাহ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১৮২.
কার উদ্যোগে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি সম্পাদিত হয়?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. চিত্তরঞ্জন দাস
  3. এ.কে.ফজলুল হক
  4. জওহরলাল নেহেরু
ব্যাখ্যা

বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি (১৯২৩ সাল):
- বেঙ্গল প্যাক্ট চুক্তিটি চিত্তরঞ্জন দাসের উদ্যোগে সম্পাদিত হয়েছিল।
- উপমহাদেশের রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলমান সমস্যা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন স্বরাজ দলের নেতা চিত্তরঞ্জন দাস।
- ফলে বাংলায় হিন্দু-মুসলমান সমস্যা দূর করার জন্য তিনি যে চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন, ইতিহাসে তা বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি নামে খ্যাত। 
- ১৯২৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- তাঁর এই প্রচেষ্টা হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের পথ প্রশস্ত করেছিল। 
- সি.আর. দাস ফর্মুলা নামে খ্যাত বাংলা চুক্তি সম্পাদনা করতে যেসব মুসলমান নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন আব্দুল করিম, আকরম খাঁ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী। 
- এ ছাড়া, স্যার আব্দুর রহিম, এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সমঝোতা চুক্তি সম্পাদনে সহযোগিতা ও এতে স্বাক্ষর প্রদান করেন। 
- অপরদিকে বাংলার কংগ্রেস নেতা সুভাষচন্দ্র বসু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। 
- তাঁদের সম্মিলিত উদ্যোগে বেঙ্গল প্যাক্ট আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৮৩.
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন-
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড বেন্টিক
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
• ওয়ারেন হেস্টিংস:
- বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস।
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেলও ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস।
- তাঁর শাসন কালকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথমপর্ব: ১৭৭২-১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর হিসেবে আর দ্বিতীয় পর্ব, ১৭৭৪-১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনালের হিসেবে।
- ওয়ারেন হেস্টিংস সর্ব প্রথমেই সীমান্ত নীতি বিষয়ে পরিবর্তন সাধন করেন।
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।
- ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালের ১৩ আগস্ট বাংলায় প্রথম রাজস্ব বোর্ড গঠন করেন।
- তিনি প্রচলিত জমিদার পদ্ধতির পরিবর্তে ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত’ (১৭৭২-১৭৭৭) প্রবর্তন করেন।
- এর উদ্দেশ্য ছিলো খাজনা আদায় বৃদ্ধি এবং যথাসময়ে রাজস্ব সংগ্রহ।
- তবে নানা কারণে এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হলে তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৮৪.
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববঙ্গ ও আসামের গভর্নর নিযুক্ত হন কে?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. ফ্রেডরিক বারোজ
  3. ব্যামফিল্ড ফুলার
  4. সাইরিল র‍্যাডক্লিফ
ব্যাখ্যা
ব্যামফিল্ড ফুলার:
- স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার ছিলেন ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ এবং আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর।
- তিনি ১৮৮৫ সালে মধ্য প্রদেশের ভূমি জরিপ ও কর নির্ধারণ এবং কৃষিবিষয়ক কমিশনার হিসেবে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস-এ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালে ভাইসরয়ের পরিষদের অতিরিক্ত সদস্য এবং ১৯০১-০২ সাল পর্যন্ত ভারত সরকারের সচিব ছিলেন।
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ ও আসামের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদে নিয়োগ লাভের পূর্বে ফুলার আসামের প্রধান কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ভারতে ব্রিটিশ প্রশাসনে সেবা প্রদানের জন্য নাইট উপাধি লাভ করেন।

উল্লেখ্য,
• ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত
• ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়।
• পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা।
• 'পশ্চিমবঙ্গ' প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন এনড্রু ফ্রেজার।
• কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
• লর্ড হার্ডিঞ্জের সময়কালীন ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,১৮৫.
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সর্বপ্রথম সুরাট বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে কখন?
  1. ১৬৬৭ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৬৭০ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• ফরাসি:
- ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উপমহাদেশে আগত সর্বশেষ ইউরোপীয় বণিক কোম্পানি।
- ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক কোম্পানিটি সর্বপ্রথম সুরাটে ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে এবং পরের বছর মুসলিপট্টমে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া ১৬৭৩ খ্রিস্টাব্দে পন্ডিচেরীতে গড়ে তোলে ফরাসি উপনিবেশ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৬.
বাংলাদেশের ইতিহাসে যে ঘটনাটি আগে ঘটেছিল -
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
  3. গ) আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) যুক্তফ্রন্ট গঠন
ব্যাখ্যা
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলির কে এম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে।
এছাড়া, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয় ১৯৬৮ সালে, যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর এবং ভাষা আন্দোলন হয় ১৯৫২ সালে।
১,১৮৭.
জমিদারি প্রথা রদে প্রধান ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. একে ফজলুল হক
  2. মাওলানা আব্দুর রশিদ
  3. শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. খাজা নাজিমুদ্দিন
ব্যাখ্যা
• জমিদারি প্রথা (১৯৫০) রদে প্রধান ভূমিকা পালন করেন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক।
- শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালে বরিশাল জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কলকাতার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-৪৩) ছিলেন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সপ্তম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৮৮.
উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড কার্জন
  4. রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
রবার্ট ক্লাইভ:
- উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট ক্লাইভ।
- উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে রবার্ট ক্লাইভের স্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরী গ্রহণ করে স্বীয় কর্ম প্রচেষ্টার দ্বারা উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করে।
- রবার্ট ক্লাইভের চারিত্রিক দোষ থাকা সত্বেও উপমহাদেশে ইংরেজ শক্তির গোড়াপত্তনে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না।
- উপমহাদেশের ইতিহাসে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে লর্ড ক্লাইভের নাম অবিস্মরণীয়।
- কেননা প্রথম পর্যায়ে তিনি দাক্ষিণাত্যে কোম্পানিকে রক্ষা করেন।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বাংলা জয় করেন। তৃতীয় পর্যায়ে তিনি নবাব ও সম্রাটকে নিয়ন্ত্রণ করে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন এবং ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৯.
ভারতীয় উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসনের অবসান হয়-
  1. ক) ১৮৫৭ সালে
  2. খ) ১৮৫৮ সালে
  3. গ) ১৮৫৯ সালে
  4. ঘ) ১৮৬০ সালে
ব্যাখ্যা
- ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম খ্যাত সিপাহি বিদ্রোহের ফলশ্রুতিতে ১৮৫৮ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটেছিলো।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে সিপাহি বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিংকে ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ভাইসরয় নিয়োগ দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি। 
১,১৯০.
In which year the Lahore resolution was adopted by the Muslim League and where?
  1. 1930, Allahabad
  2. 1929, Lahore
  3. 1929, Delhi
  4. 1940, Dhaka
  5. 1940, Lahore
ব্যাখ্যা
লাহোর প্রস্তাব:
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তানে লাহোরে মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত।

⇒ লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
- এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটি ছিল না।
- তথাপি এ প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
- এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯১.
'তাহরিক ই মুহম্মদীয়া' আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. হাজী শরিয়ত উল্লাহ
  2. দুদু মিয়া
  3. টিপু সুলতান
  4. তিতুমীর
ব্যাখ্যা

তিতুমীর:
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন তাহরিক ই মুহম্মদীয়া।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে যখন ওয়াহাবি আন্দোলনের (তাহরিক ই মুহম্মদীয়া) জোয়ার চলছে, তখন পশ্চিম বঙ্গের বারাসাত অঞ্চলে তিতুমীরের নেতৃত্বে এই আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।
- ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তিতুমীর হজ করার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।এই যুদ্ধে তিনি নিহত হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৯২.
'ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট'-এর প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. ক্ষুদিরাম বসু
  3. হেনরি লুইস ডিরোজিও
  4. প্যারিচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা। দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে । যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৯৩.
মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইনের উল্লেখযোগ্য বিষয় কোনটি?
  1. ক) ফেডারেশন পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন
  2. খ) ভারতকে ডোমিনিয়নের মর্যাদা প্রদান
  3. গ) মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা রাখা
  4. ঘ) প্রত্যক্ষ নির্বাচন প্রবর্তন
ব্যাখ্যা
- ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রবর্তনের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৯ সালে ‘ইন্ডিয়া অ্যাক্ট’ পাস করে যা ‘মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন’ নামেই অধিক পরিচিত। 
- এই আইনে প্রথম মুসলমানদের জন্যে পৃথক নির্বাচনের বিধান রাখা হয়।
- সাম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্বের দাবি স্বীকার করে এ আইনে মুসলিম সম্প্রদায়কে পৃথকভাবে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের (পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা) অধিকার দেয়া হয়। 
- এর মাধ্যমে আইন সভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলেও প্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল না। 
- তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করায় স্বভাবতই তারা খুশী হয়, যদিও কংগ্রেস এতে ক্ষুব্ধ ছিল
কংগ্রেসের নরমপন্থীরাও সন্তুষ্ট ছিল না ।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের সংস্কার আইন ভারতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়।
- আইন সভার নির্বাচিত সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতেন না। তাছাড়া তাদেরকে কোন ক্ষমতাও দেয়া হয়নি। 
- কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন সভাগুলোতে তারা সব সময়ই সংখ্যালঘু ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে এ সংস্কার আইনের মাধ্যমে ভারতে প্রতিনিধিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের কোন ইচ্ছাই ইংরেজদের ছিল না।
 
উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,১৯৪.
সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে -
  1. পাঞ্জাবে
  2. উড়িষ্যায়
  3. বিহারে
  4. বর্ধমানে
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ব্যাপ্তিকাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দে)।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
- বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
- ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯৫.
পর্তুগিজ নাবিক 'ভাস্কো দা গামা' কোন সালে ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন?
  1. ১৪৮৭ সালে
  2. ১৪৮৯ সালে
  3. ১৪৯৭ সালে
  4. ১৪৯৮ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম বাংলায় আগমন করে।
- পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-দ্য-গামা।
- ভাস্কো দা গামা ১৪৯৮ সালের মে মাসে ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৪৭৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ নামে এক পর্তুগিজ নাবিক আফ্রিকার সর্ব দক্ষিণের বিন্দুতে পৌঁছাতে পেরেছিলেন।
- তিনি যখন ওখানে পৌঁছেন তখন প্রচন্ড ঝড়ের কবলে পড়েন।
- তাই ঐ স্থানের নাম দিয়েছিলেন "ঝড়ের অন্তরীপ"।
- পর্তুগালের রাজা দ্বিতীয় জন এর মধ্যে আশার আলো দেখতে পান এবং এর নাম রাখেন "উত্তমাশা অন্তরীপ"।
- রাজা জন আরো কিছু পরিকল্পনা করেন যেন উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে পর্তুগিজরা ভারতের দিকে রাস্তা খুঁজে পায়।
- রাজা জনের উত্তরাধিকারী রাজা প্রথম ম্যানুয়েলের আনুকূল্যে ভাস্কো-ডা-গামা ১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দে এক অভিযানে বের হন।
- দিয়াজের পথ ধরে তিনি উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রম করেন, তারপর তিনি আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়ায় পৌঁছেন।
- ১৪৯৮ সালের মে মাসে ভাস্কো-ডা-গামা ভারতের কালিকটে পদার্পণ করেন।

উৎস: i) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯৬.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করা হয় কত সালে?
  1.  ১৭৫৭ সালে 
  2. ১৭৭০ সালে 
  3. ১৮৭৭ সালে 
  4. ১৭৯৩ সালে 
ব্যাখ্যা

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা:
- লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হচ্ছে- প্রশাসন দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও বাংলার সব জমিদারের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্থায়ী চুক্তি।
- এ চুক্তির মাধ্যমে জমিদাররা জমির মালিকানা লাভ করলেও প্রশাসনিক ক্ষমতা হারায়।
- এবং সরকারের দায়িত্ব হয়ে যায় শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা।
- এই চুক্তিতে খাজনা বাকি থাকলে জমিদারদের জমি বিক্রি করে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা ছিল।
- এই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থায় জমিদারদের চিরস্থায়ী স্বত্ব থাকলেও প্রজাদের ওপর রাজস্ব দাবি বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা ছিল না।
- জমি বিক্রি, বন্ধক বা দানের অধিকার জমিদারদের ছিল।
- তবে প্রজাদের এই অধিকার দেওয়া হয়নি।
- প্রজারা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে জমি নিলামে বিক্রি হতো।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলার আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
- কর্নওয়ালিস উপমহাদেশে ইংরেজি জমিদার শ্রেণি গড়তে চাইলেও ইউরোপীয় কাঠামোর মতো কার্যকর হয়নি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৯৭.
লর্ড ক্যানিং ভারত উপমহাদেশে প্রথম কোন ব্যবস্থা চালু করেন?
  1. রেল ব্যবস্থা চালু
  2. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা
  3. পুলিশ ব্যবস্থা
  4. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
লর্ড ক্যানিং
- লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল।
- তিনি ভারতের প্রথম ভাইসরয় ।
- লর্ড ক্যানিং বিদ্রোহটি দমন করেন এবং ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।
- ১৮৬০ সালের আগস্ট মাসে লর্ড ক্যানিং একটি পূর্ণাঙ্গ ও মিতব্যয়ী পুলিশবাহিনী গঠনের নিমিত্তে সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য এইচ.এম কোর্টকে চেয়ারম্যান করে একটি পুলিশ কমিশন গঠন করেন।
- ১৮৬১ সালে লর্ড ক্যানিং উপমহাদেশে পুলিশ সার্ভিস চালু করেন।

অন্যদিকে -
- ১৭৯৩ শোলে 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' ব্যবস্থার প্রবর্তক হলেন লর্ড কর্নওয়ালিস।
- ভারতে রেল ব্যবস্থা চালু করেন লর্ড ডালহৌসি।
- রবার্ট ক্লাইভ ভারতে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র এইচ এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় & বাংলাপিডিয়া।
১,১৯৮.
ক্ষুদিরাম বসু কাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন?
  1. কিংসফোর্ড
  2. ব্যামফিল্ড ফুলার
  3. রেডক্লিফ
  4. রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
ক্ষুদিরাম বসু:
- তিনি ১৮৮৯ সালে মেদিনীপুর জেলার হাবিবপুর গ্রামে ক্ষুদিরামের জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯০৬ সালের মার্চে মেদিনীপুরের এক কৃষি ও শিল্পমেলায় রাজদ্রোহমূলক ইস্তেহার বণ্টনকালে ক্ষুদিরাম প্রথম পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলনের কর্মীদের প্রয়োজনভিত্তিক কঠোর সাজা ও দমননীতির কারণে কলকাতার প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড বাঙালিদের অত্যন্ত ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।

- ১৯০৮ সালে ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্দেশ্যে ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী বোমা হামলা করেন।
- ভুলবশত অন্য গাড়িতে বোমা পড়ায় এক ইংরেজ মহিলা ও তার মেয়ে মারা যান।
- এ ঘটনার পর ক্ষুদিরাম ওয়ানি রেলস্টেশনে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।
- তিনি বোমা নিক্ষেপের সমস্ত দায়িত্ব নিজের উপর নিয়ে নেন।
- ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট মুজফ্ফরপুর জেলে তার ফাঁসি কার্যকর হয়।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,১৯৯.
'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তিতে মুসলমানদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন -
  1. আকরম খাঁ
  2. এ.কে ফজলুল হক
  3. আব্দুল করিম
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বেঙ্গল প্যাক্ট:
- বেঙ্গল প্যাক্ট একটি চুক্তি যা ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক পার্থক্যজনিত সমস্যা সমাধানকল্পে সম্পাদিত হয়েছিল।
-  চুক্তি সম্পাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস।
- মুসলমানদের পক্ষে আব্দুল করিম, মুজিবুর রহমান, আকরম খাঁ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, ড. এ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ প্রতিনিধিত্ব করেন।
- ১৯২৫ সালে চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যু হলে বেঙ্গল প্যাক্ট তার গুরুত্ব হারায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস : অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২০০.
ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন গঠিত হয় -
  1. ১৮৬০ সালে
  2. ১৮৬৩ সালে
  3. ১৮৬৭ সালে
  4. ১৮৬৯ সালে
ব্যাখ্যা

নীল বিদ্রোহ:
- ইংরেজরা এদেশে এসেছিল ব্যবসায়-বাণিজ্য করতে।
- উপমহাদেশের শাসকদের দুর্বলতার সুযোগে তারা এদেশের শাসক হয়ে উঠে।
- তারা এই উপমহাদেশের উর্বর জমিতে খাদ্য ফসলের পরিবর্তে বাণিজ্য ফসল উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠে। নীল ছিল তাদের সেই বাণিজ্য ফসল।
- ১৭৭০ থেকে ১৭৮০ সালের মধ্যে বাংলায় ইংরেজ আমলে নীল চাষ শুরু হয়।
- নীল চাষে কৃষকরা রাজি না হলে তাদের উপর চরম অত্যাচার চালানো হতো।
- বাংলাদেশে নীলের ব্যবসা ছিল একচেটিয়া ইংরেজ বণিকদের। ফরিদপুর, ঢাকা, পাবনা, যশোর, রাজশাহী, নদিয়া, মুর্শিদাবাদে ব্যাপক নীল চাষ হতো।
- ১৮৫৯ সালে ইংরেজ নীলকরদের সীমাহীন অত্যাচার শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে নীল চাষিরা যে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে তা-ই ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ নামে খ্যাত।
- এই নেতৃত্ব এতটাই শক্তিশালী এবং সুসংহত ছিল যে শেষ পর্যন্ত ইংরেজরা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
- ১৮৬০ সালে সরকার ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন গঠন করে।
- এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নীলচাষ করা, না করা কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয় এবং 'ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট' বাতিল করা হয়।
- ফলে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

বি.দ্র:
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে,
- নীল বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে নীল কমিশন (Indigo Commission) গঠিত হয় ৩১ মার্চ, ১৮৬০ সালে এবং কমিশন রিপোর্ট প্রকাশ করে ১৪ আগস্ট, ১৮৬০ সালে।
ভারতের ন্যাশনাল আর্কাইভ প্রকাশিত রিপোর্টের তথ্য অনুসারে,
- নীল কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশকাল ১৮৬০ দেওয়া রয়েছে।
ব্রিটানিকার তথ্য অনুসারে,
- মার্চ ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলায় নীল বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে "নীল আইন (Indigo Act)" প্রণয়ন করে এবং একটি কমিশন গঠন করে।
- কমিশন আগস্ট, ১৮৬০ সালে রিপোর্ট প্রদান করে এবং নীল চাষের প্রক্রিয়া পরিবর্তিত হয়।
- বাংলায় তখন নীল চাষের বিলুপ্তি ঘটলেও বিহারে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত নীল চাষ অব্যাহত ছিলো।

⇒ প্রশ্নের অপশনে ১৮৬০ থাকলে সেটি অধিক যুক্তিযুক্ত উত্তর হবে। যদি না থাকে, তবে বোর্ড বই অনুসারে উত্তর ১৮৬১ সাল হবে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।