ব্যাখ্যা
- অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলন কার্যত ব্যর্থ হলে ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কে মারাত্মক অবনতি ঘটে।
- আন্দোলনে ব্যর্থতার জন্য হিন্দু-মুসলমান নেতৃবৃন্দ পরস্পরকে দোষারোপ করে বক্তৃতা-বিবৃতি প্রদান করেন।
- এ বিষয়টি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসকে বিচলিত করে তোলে। তিনি বিশ্বাস করতেন, ভারতের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার
জন্য হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
- এ ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তিনি বাংলা প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ অথচ পশ্চাৎপদ বাঙালি মুসলমানদেরকে তাদের যৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা দানের পক্ষপাতী ছিলেন।
- এ বিষয়ে তিনি শের-ই-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে আলোচনা করেন।
- একই সঙ্গে তিনি মৌলভী আব্দুল করিম, মওলানা আকরাম খান, মৌলভী মজিবর রহমান প্রমুখ নেতাদের সঙ্গেও রাজনৈতিক সমস্যা এবং দাবি-দাওয়া নিয়ে
বৈঠক করেন।
- কংগ্রেস থেকে বের হয়ে এসে ১৯২২ সালে তিনি গঠন করেন 'স্বরাজ পার্টি'।
- স্বরাজ দলের সভাপতি হিসেবে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস মুসলমান নেতাদের সঙ্গে ১৯২৩ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
- এ চুক্তির লক্ষ্য ছিলো, বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি জোরদারকরণ।
- ইতিহাসে এই চুক্তিই 'বেঙ্গল প্যাক্ট' নামে পরিচিত।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।