বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

মোট প্রশ্ন১,৩১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

PrepBank · পাতা ১১ / ১৪ · ১,০০১১,১০০ / ১,৩১৫

১,০০১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জন্ম গ্রহণ করেন কোথায়?
  1. ক) হুগলী
  2. খ) মেদেনীপুর
  3. গ) মুর্শিদাবাদ
  4. ঘ) ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পাণ্ডিত্য, শিক্ষা বিস্তার, সমাজ সংস্কার, দয়া ও তেজস্বিতায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন উনিশ শতকের বাংলায় একক ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর প্রজ্ঞা ছিল অসাধারণ আর হৃদয় ছিল বাংলার কোমলমতি মায়েদের মতো।
- এই অসাধারণ যুগ প্রবর্তকের জন্ম হয়েছিল ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে মেদেনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে।
- ফলে শিশু ঈশ্বরচন্দ্র সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তার গ্যাস বাতির নিচে বসে পড়াশোনা করতেন।
- তিনি ইংরেজি সংখ্যা গণনা শিখেছিলেন তাঁর বাবার সঙ্গে গ্রামের বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে কলকাতায় আসার সময়, রাস্তার পাশের মাইল ফলকে লেখা সংখ্যার হিসেব গুণতে গুণতে।
- অসাধারণ মেধা আর অধ্যাবসায়ের গুণে তিনি মাত্র একুশ বছর বয়েসে সংস্কৃত সাহিত্য, ব্যাকরণ, বেদান্ত, স্মৃতি, অলঙ্কার শাস্ত্র ইত্যাদি বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জ করেছিলেন।
- তিনি বাংলা গদ্যসাহিত্যকে নবজীবন দান করেন।
- এ জন্য তাঁকে বাংলা গদ্যসাহিত্যের জনক বলা হয়। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর শিশুদের লেখাপড়া সহজ করার জন্য তিনি রচনা করেন বর্ণ পরিচয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ।
- সংস্কৃত ভাষা শিক্ষাকে সহজ করার জন্য তিনি ব্যাকরণের উপক্রমণিকা রচনা করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০২.
কোন সুবাদারের আমলকে বাংলায় মুঘলদের ‘স্বর্ণযুগ’ বলে অভিহিত করা হয়-
  1. ক) মীর জুমলা
  2. খ) শায়েস্তা খান
  3. গ) শাহ সুজা
  4. ঘ) ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
১৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে মীরজুমলার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বাংলার সুবাহদার নিযুক্ত হন। তিনি চট্টগ্রাম জয় করে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ। ঢাকায় অনেক ইমারত নির্মাণ করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য এ যুগকে বাংলায় মুঘলদের ‘স্বর্ণযুগ’ বলে অভিহিত করা হয়। তন্মধ্যে ছোট কাটরা, হোসেনী দালান, চকবাজার মসজিদ, লালবাগ দুর্গের পরী বিবির মাজার, রায়ের বাজারের সন্নিকটে সাত গম্বুজ মসজিদ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)।
১,০০৩.
কি কারণে বাংলাদেশ থেকে নীলচাষ বিলুপ্ত হয়?
  1. নীলচাষ নিষিদ্ধ করার ফলে
  2. নীলকরদের অত্যাচারের ফলে
  3. নীলচাষীদের বিদ্রোহের ফলে
  4. কৃত্রিম নীল আবিষ্কারের ফলে
ব্যাখ্যা
নীল বিদ্রোহ: 
- ১৭৭০ থেকে ১৭৮০ সালের মধ্যে ইংরেজ আমলে বাংলাদেশে নীল চাষ শুরু হয় কারণ এ সময় নীল ব্যবসা ছিল খুবই লাভজনক।
- নীল চাষের জন্য কৃষকদের অগ্রিম অর্থ গ্রহণে ( দাদন ) বাধ্য করা হতো এবং পরে নীল চাষে রাজি না হলে কৃষকের উপরে চরম অত্যাচার চালানো হতো।
- ফরিদপুর, যশোর, ঢাকা, পাবনা, রাজশাহী, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ব্যাপক নীল চাষ হতো। 

- জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নীল চাষের খরচও বৃদ্ধি পায় ফলে চাষীরা নীল চাষের প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের ওপরে নির্যাতন চালানো হতো।
- নীল চাষীরা ১৮৫৯ সালে নীল চাষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ গড়ে তোলেন। 
- এ নীল বিদ্রোহের অত্যাচারের কথা দীনবন্ধু মিত্রের লেখা ‘নীলদর্পণ’ নাটকের কাহিনীর মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 

- যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামে দুই ভাই।
- হুগলিতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার।
- নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই। 

- চাষীদের এ বিদ্রোহের কারণে ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ‘ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন’ গঠন করে নীল চাষকে কৃষকদের ‘ইচ্ছাধীন’ বলে ঘোষণা দেয় যার পরিপ্রেক্ষিতে নীল বিদ্রোহের অবসান হয়।
- পরবর্তীতে কৃত্রিম নীল আবিষ্কৃত হওয়ায় ১৮৯২ সালে এদেশে নীল চাষ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০০৪.
পলাশীর যুদ্ধে কোন ফরাসি সেনাপতি সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করেন?
  1. দুপ্লেই
  2. কাউন্ট ল্যালি
  3. সিন ফ্রে
  4. মার্কুইস বুসি
ব্যাখ্যা

⇒ পলাশীর যুদ্ধে ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করেন।

পলাশীর যুদ্ধ:

- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আমবাগানের যুদ্ধে স্বাধীন বাংলার নবাব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হয়।
- ফলে প্রায় ২০০ বছরের জন্য বাংলা স্বাধীনতা হারায়।
- প্রতি বছর সে জন্য ২৩ জুন পলাশী দিবস হিসাবে পালিত হয়।
- বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্ধ সংঘটতি হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরচিতি।
- ক্লাইভ ১৭৫৭ সালে সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত করেন এবং কলকাতা দখল করেন।
- এই যুদ্ধে সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজতি হন এবং ভারতবর্ষে ইংরজে শাসন প্রতষ্ঠিার পথ সূচিত হয়।
- নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে জগৎশেঠ, মীরজাফর, রায়দুর্লভ ও উমিচাদ।
- নবাবের পক্ষে যুদ্ধ করেন মীরমদন, মোহন লাল ও ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১,০০৫.
নিচের কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) এ কে ফজলুল হক
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) ফজলুর রহমান খান
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪- ১৮৩৩ খ্রি.)
- বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রামমোহন রায় উনিশ শতকের একজন ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
- রামমোহন রায় সংবাদ কৌমুদী নামে একটি বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করেন- ১৮২১ সালে
- পরের বছর ফারসি ভাষায় আরেকটি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন- এর নাম ছিল মিরাত উল আখবার।
- তিনি ১৮২৮ সালে ‘ব্রাহ্মসমাজ’  প্রতিষ্ঠা করেন।‘
 - তিনি বিধবা ব কোম্পানির শাসকদের 
- তিনি সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করার জন্য কোম্পানির শাসকদের প্রাভাবিত করতে থাকেন।
- তার প্রচেষ্টায়  ১৮২৯ সালে গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করে আইন পাশ করে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ( উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,০০৬.
১৯২০ সালে কে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন?
  1. মাওলানা শওকত আলী
  2. জহরলাল নেহেরু
  3. বিপিনচন্দ্র পাল
  4. মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন:

- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘঠিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৭.
The rule of India was entrusted to the Queen of England in-
  1. 1857
  2. 1860
  3. 1859
  4. 1858
  5. None of the above
ব্যাখ্যা
কোম্পানি শাসনের অবসান:
- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের সিপাহী বিপ্লব হয়।
- নানাবিধ কারণে সে গণবিপ্লব ব্যর্থ হলেও এর ফলে ভারতবর্ষে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে।
- কোম্পানি থেকে বৃটিশ রাজের হাতে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ইংরেজদের ভারত শাসন নীতি ও শাসন ব্যবস্থায় বেশকিছু পরিবর্তন সূচিত হয়।
- সে কারণে ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ২ আগস্ট বৃটিশ পার্লামেন্ট এক আইন পাশ করে ভারতের শাসনভার ইংল্যান্ডের রাণী ভিক্টোরিয়ার হাতে অর্পণ করে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৮.
লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে কার সমাধি অবস্থিত?
  1. ক) শায়েস্তা খান
  2. খ) পরীবিবি
  3. গ) মীর মুরাদ
  4. ঘ) শাহ সুজা
ব্যাখ্যা

- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খানের কন্যা ইরান দুখত রহমত বানু বা পরীবিবির সমাধি অবস্থিত।
- পরীবিবি মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র মুহাম্মদ আযমের স্ত্রী।
- সতের শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে সুবাদার মুহাম্মদ আযম লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- পরবর্তীতে শায়েস্তা খান এটির কাজ এগিয়ে নিলেও দুর্গটি পুরোপুরি নির্মাণ করা হয়নি।
- ১৬৮৪ সালে পরীবিরি মৃত্যু হলে এটিকে অপয়া হিসেবে বিবেচনা করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
- এটি আওরঙ্গাবাদ দুর্গ নামেও পরিচিত।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।

১,০০৯.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস 
  4. লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা

লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।
-
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হচ্ছে- প্রশাসন দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও বাংলার সব জমিদারের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্থায়ী চুক্তি।
- এ চুক্তির মাধ্যমে জমিদাররা জমির মালিকানা লাভ করলেও প্রশাসনিক ক্ষমতা হারায়।
- এবং সরকারের দায়িত্ব হয়ে যায় শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা।
- এই চুক্তিতে খাজনা বাকি থাকলে জমিদারদের জমি বিক্রি করে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা ছিল।
- এই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থায় জমিদারদের চিরস্থায়ী স্বত্ব থাকলেও প্রজাদের ওপর রাজস্ব দাবি বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা ছিল না।
- জমি বিক্রি, বন্ধক বা দানের অধিকার জমিদারদের ছিল।
- তবে প্রজাদের এই অধিকার দেওয়া হয়নি।
- প্রজারা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে জমি নিলামে বিক্রি হতো। 
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলার আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
- কর্নওয়ালিস উপমহাদেশে ইংরেজি জমিদার শ্রেণি গড়তে চাইলেও ইউরোপীয় কাঠামোর মতো কার্যকর হয়নি।

উল্লেখ্য, 
• ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব ও বিচার ব্যবস্থায় নতুনত্ব আনতে ভারতে জেলা প্রশাসন প্রবর্তন করেন।
• লর্ড ওয়েলেসলি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
• লর্ড ডালহৌসি ডকট্রিন অফ ল্যাপ্স ও রেলপথ চালু করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০১০.
পাকিস্তান কত তারিখে স্বাধীনতা লাভ করে?
  1. ক) ১৬ আগস্ট
  2. খ) ১৪ আগস্ট
  3. গ) ১৫ আগস্ট
  4. ঘ) ১৮ আগস্ট
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসিত ভারত ভেঙে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- ১৪ আগস্ট পাকিস্তান স্বাধীন হয়।
- ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০১১.
ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ কে?
  1. ক) মহাত্মা গান্ধী
  2. খ) হাজী শরীয়ত উল্লাহ
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যা সাগর
ব্যাখ্যা
-  রাজা রামমোহন রায় বাংলার নবজাগরণের স্রষ্ট্রা, ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি সুফি মতবাদে বিশেষভাবে প্রভাবিত ছেলেন।
-  তিনি বেদান্তসূত্র বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন। 
- আধুনিক ভারতের রূপকার রাজা রামমোহন তৎকালীন সমাজের সামাজিক ও রাজনৈতিক গতিধারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। 
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপূজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে ‘আত্মীয় সভা’ নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- খ্রিস্টাব্দে ২০ আগস্ট তিনি ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন।
- তার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা উপমহাদেশের ধর্মীয় ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে।
- রাজা রামমোহন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন।
-  তাছাড়া ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য ইংরেজ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ১ লক্ষ টাকা তিনি সংস্কৃত ও মাদরাসা শিক্ষায় ব্যয় না করে আধুনিক শিক্ষায় ব্যয় করার জন্য আবেদন করেন।
১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে এই মহাপুরুষ, ভারতীয় নবজাগরণের স্রষ্ট্রা, রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১২.
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ গঠিত হয়েছিল-
  1. ক) কোম্পানির মালামাল চুরি প্রতিরোধের জন্য
  2. খ) টাকশালে নিজস্ব টাকা তৈরীর জন্য
  3. গ) ইংরেজদের নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত করার জন্য
  4. ঘ) বিনাশুল্কে বাণিজ্য করার জন্য
ব্যাখ্যা

- ইংরেজদের নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত করার জন্য ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ গঠন করেছিল।
- ১৬৯৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলিকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চিকিৎসক সার্জেন্ট উয়িলিয়াম হ্যামিল্টন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত দিল্লির সম্রাট ফররুক শিয়রকে সুস্থ করে তুললে ১৭১৭ সালে সম্রাট এক ফরমান জারি করে সমগ্র ভারতবর্ষে বিনাশুল্কে বাণিজ্য করাসহ সুযোগসুবিধা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে প্রদান করে।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,০১৩.
কার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ফরায়েজী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে?
  1. ক) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. খ) গোলাম রসুল
  3. গ) দুদু মিয়া
  4. ঘ) তিতুমীর
ব্যাখ্যা
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তউল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- প্রথমদিকে ফরায়েজী আন্দোলন ছিলো একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন এবং ক্রমে আর্থ-সামাজিক সংস্কারে রূপ নেয়।
- ১৮৪০ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহর মৃত্যু হলে তার পুত্র মুহসীনউদ্দিন ওরফে দুদু মিয়া ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। দুদু মিয়া ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন।
- তবে ১৮৬২ সালে দুদু মিয়ার মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজী আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া)
১,০১৪.
বাংলায় সর্বপ্রথম জুড়ি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড বেটিঙ্ক
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
বিচার ব্যবস্থা:

- কর্নওয়ালিসের সময় বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করা হয়, একে ফৌজদারি ও দেওয়ানি এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের ফলে সদর নিজামত আদালত মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। বাংলা বিহার এ উড়িষ্যাকে মোট ১২টি বিভাগে বিভক্ত করে প্রতিটি বিভাগে একটি ভ্রাম্যমান কোর্ট স্থাপন করা হয়।
- এই আদালতের প্রত্যেকটিতে দুজন ইংরেজ বিচারক এবং আইন ব্যাখ্যার জন্য কাযি ও মুফতি নিযুক্ত করা হয়।
- লর্ড বেটিঙ্ক সর্ব প্রথম বিচার কার্য ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেশীয়দের ওপর ন্যস্ত করেন।
- লর্ড বেটিঙ্ক ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সর্বপ্রথম জুড়ি ব্যবস্থার প্রবর্তণ করেন এবং ভারতীয়দের জুরির সদস্য নিযুক্ত করা হয়।
- একই সঙ্গে আঞ্চলিক ভাষায় বিচারকার্য সমাধার নির্দেশ দেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৫.
ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন হয় -
  1. ক) ১৮৮২ সালে
  2. খ) ১৮৭২ সালে
  3. গ) ১৮৬১ সালে
  4. ঘ) ১৮৬২ সালে
ব্যাখ্যা
• ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় লর্ড জন ক্যানিং ১৮৬১ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।
• এর আগে মুদ্রা হিসেবে স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা ব্যবহৃত হতো।
• উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।
• ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।

অন্যদিকে, 
• লর্ড রিপনকে ভারতীয় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের জনক বলা হয়।
• লর্ড মেয়োর শাসনামলেই ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি চালু হয় ১৮৭২ সালে ।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র এইচ এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০১৬.
১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের সম্মেলনে দ্বিজাতিতত্ত্বের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন কে? 
  1. আল্লামা ইকবাল
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. স্যার সৈয়দ আহমদ
  4. হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা

- ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের সম্মেলনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁর দ্বিজাতিতত্ত্বের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

দ্বিজাতিতত্ত্ব: 

- দ্বিজাতিতত্ত্ব  ভারত ও পাকিস্তান নামে দু’টি স্বাধীন জাতি ও রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে ভারতকে রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত করার নির্ণায়ক ও আদর্শাশ্রয়ী একটি রাজনৈতিক মতবাদ।
- মুসলমানদের একটি জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়ের সন্ধানে উদ্বুদ্ধ করতে স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রথম এ ধারণার উন্মেষ ঘটান।
- ১৯৩০ সালের ডিসেম্বর মাসে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে কবি ও দার্শনিক স্যার মুহাম্মদ ইকবাল দ্বিজাতিতত্ত্বের তাত্ত্বিক কাঠামো উপস্থাপন করেন। 
- ভারত থেকে ব্রিটিশ শাসন অবসানের প্রাক্কালে বিশ শতকের চল্লিশের দশকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্বের এ ধারণার উন্মেষ ঘটান।
- ১৯৪০ সালের ২২-২৩ মার্চ তারিখে লাহোরে বাংলাসহ ভারতের একাধিক প্রদেশে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের সম্মেলনের সভাপতির ভাষণে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁর দ্বিজাতিতত্ত্বের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,০১৭.
হুগলিতে ইংরেজদের প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতি দেন কে?
  1. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. সুবেদার শাহ সুজা
  3. রাজা দ্বিতীয় চার্লস
  4. সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা

ইংরেজদের আগমন ও ক্ষমতা বিস্তার
- পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ বণিকদের সাফল্য ও ভারতের ধন-সম্পদ ইংরেজদের আগ্রহ বাড়ায়।
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রানী এলিজাবেথের ১৫ বছরের সনদ পেয়ে ভারত এসে বাণিজ্য শুরু করে।
- ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে মুম্বাই নিকট সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন।
- সার টমাস রো জাহাঙ্গীরের দরবারে এসে বাণিজ্যের সুবিধা আদায় করে ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে।
- ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে জলপথে হুগলিতে আগমন, ১৬৫১ সালে সুবেদার শাহ সুজার অনুমতি নিয়ে কুঠি নির্মাণ।
- রাজা দ্বিতীয় চার্লস কোম্পানিকে মুম্বাই ইজারা দেন ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে।
- ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা, সূতানটি ও গোবিন্দপুরের জমিদারী স্বত্ব (১২০০ টাকা) ক্রয়।
- ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট ফররুখশিয়ার অনুমতি দেন- বাংলা, মাদ্রাজ ও মুম্বাইয়ে বিনা শুল্কে বাণিজ্য।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) ইতিহাস ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০১৮.
তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন কে?
  1. সুমিত্রা দেবী
  2. তারামন বিবি
  3. ইলা মিত্র
  4. লীলা নাগ
ব্যাখ্যা

তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন।
- ১৯৪৬-৪৭ সালে এ আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
- মূলত তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার প্রাদেশিক কৃষকসভার কম্যুনিস্ট কর্মীরা।
- তাদের নেতৃত্বে বর্গাচাষিরা ভূমিমালিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়। খুব দ্রুত নিচের স্তরে এর নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।
- এ তেভাগা আন্দোলন বাংলার ১৯টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।
- আন্দোলনটি তীব্র আকার ধারণ করে দিনাজপুর, রংপুর, জলপাইগুড়ি, খুলনা, ময়মনসিংহ, যশোর এবং চবিবশ পরগনা জেলায়। 
- এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বর্গাচাষিদের অধিকার আদায়।

• তেভাগা আন্দোলনের মূল কারণ:
- জমির মালিক ও বর্গাচাষীদের মধ্যে ফসলের ভাগ নিয়ে অসন্তোষ।
- বর্গাচাষীদের উপর জমিদার ও জোতদারদের শোষণ।
- ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ এবং এর পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট।
- ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশ যা উৎপাদিত ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ চাষীদের দেয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। 

উল্লেখ্য,
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন নড়াইলের অমল সেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) প্রথম আলো।

১,০১৯.
মোগল শাসনতান্ত্রিক প্রথা ভঙ্গ করে কে প্রথম দিউয়ানির পদটিও নিজে দখল করেন?
  1. ক) আলীবর্দ্দী খাঁ
  2. খ) সিরাজউদ্দৌলা
  3. গ) মীর জাফর
  4. ঘ) মুর্শিদকুলী খাঁন
ব্যাখ্যা
• মুর্শিদকুলী খাঁন:
- মুর্শিদকুলী খানের (১৭১৭ খ্রি.) সুবাদারী লাভ পর্যন্ত সুবাদারী ও দিউয়ানের পদ পৃথক পৃথক ব্যক্তির উপর ন্যস্ত ছিল। 
- মুর্শিদকুলী খানই প্রথম যিনি মুগল শাসনতান্ত্রিক প্রথা ভঙ্গ করে দিউয়ানের পদটিও নিজে দখল করে নেন
- কিন্তু পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রের দুর্বলতার সুযোগে মুর্শিদকুলি খানের পরবর্তী সব সুবাদারগণই সুবাদারী ও দিউয়ানীর পদ একত্রীভ‚ত রাখেন।
- মুগল শাসনতন্ত্রে প্রদেশ শাসনের জন্য দু’টি সমপর্যায়ের পদের বিধান ছিল। একটি সুবাদারী, আরেকটি দিউয়ানি।
- সুবাদার ও দিউয়ান উভয় ব্যক্তিই সরাসরি দিল্লির সম্রাটের নিকট ব্যক্তিগতভাবে জবাবদিহি করতে বাধ্য ছিলেন।
- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর সুবে বাংলা প্রায় স্বাধীনভাবে শাসিত হতে থাকে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২০.
পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্ব ছিলেন কে?
  1. লর্ড রিপন
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. লর্ড কার্নওয়ালিস
  4. লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা

পলাশীর যুদ্ধ: 
- সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে আরোহণ করার পর থেকে তাঁকে লড়াই করতে হয়েছে নানা কারণে মনঃক্ষুন্ন ঘরের শত্রু শওকত জং,
- ঘষেটি বেগম দরবারের শত্রু আমাত্য ও বেনিয়া সম্প্রদায় এবং বহিঃশত্রু ইংরেজদের সঙ্গে।
- নবাবের অভ্যন্তরীণ শত্রুদের কাজে লাগিয়ে ইংরেজরা নবাবকে উৎখাতের এক নীল নকশা তৈরি করে।
- পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর  নেতৃত্ব দেন- রবার্ট ক্লাইভ।
- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে নবাবের বাহিনীর এক যুদ্ধ সংঘঠিত হয়।
- কারণ যুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের নেতৃত্বাধীন অধিকাংশ সৈন্য নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে,
- যার ফলে নবাবের পরাজয় ঘটে।
- বন্দী অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০২১.
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়—
  1. ১৯০৫ সালের ২০ ডিসেম্বর 
  2. ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর 
  3. ১৯০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর
  4. ১৯১২ সালের ২৫ ডিসেম্বর 
ব্যাখ্যা

 মুসলিম লীগ:
- নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ছিল ব্রিটিশ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল।
- এই দল পরবর্তীকালে ভারত উপমহাদেশে মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পেছনে প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে।
- এই দলটি ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ঢাকার তৎকালীন নবাব নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের প্রস্তাব দেন।
- তাঁর এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগের জন্ম হয়।
- মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন নবাব ভিকার-উল-মুলক এবং সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান।
- মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগে যোগ দেন অনেক পরে, ১৯১৩ সালে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১,০২২.
কত সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু হয়?
  1. ক) ১৭৬৫ সালে
  2. খ) ১৭৭২ সালে
  3. গ) ১৭৯৩ সালে
  4. ঘ) ১৭৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
এ ব্যবস্থায় ১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ তারিখে নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর স্থায়ী মালিকানা প্রদান করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০২৩.
হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. মুসা শাহ
  2. মুহম্মদ জহির উদ্দীন
  3. মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন
  4. কুতুব উদ্দীন
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন:

- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
-  শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। 
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৪.
ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম কোনটি?
  1. সিপাহী বিদ্রোহ
  2. ফকির সন্ন্যাসী আন্দোলন
  3. স্বদেশী আন্দোলন
  4. অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম- দশম শ্রেণী।  
১,০২৫.
উপমহাদেশে ওয়ারেন হেস্টিংস এর অবদান কোনটি?
  1. প্রচলিত জমিদার পদ্ধতির পরিবর্তে ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত’ প্রবর্তন
  2. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন
  3. 'একসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
ওয়ারেন হেস্টিংস
- বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস। 
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেলও ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস। 
- তাঁর শাসন কালকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথমপর্ব: ১৭৭২-১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর হিসেবে আর দ্বিতীয় পর্ব, ১৭৭৪-১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনালের হিসেবে।
- ওয়ারেন হেস্টিংস সর্ব প্রথমেই সীমান্ত নীতি বিষয়ে পরিবর্তন সাধন করেন।

- ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালের ১৩ আগস্ট বাংলায় প্রথম রাজস্ব বোর্ড গঠন করেন।
- তিনি প্রচলিত জমিদার পদ্ধতির পরিবর্তে ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত’ (১৭৭২-১৭৭৭) প্রবর্তন করেন।
- এর উদ্দেশ্য ছিলো খাজনা আদায় বৃদ্ধি এবং যথাসময়ে রাজস্ব সংগ্রহ। 
- তবে নানা কারণে এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হলে তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন। 

- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে  সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৬.
মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি গড়ে তুলেন -
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. সৈয়দ আহামদ খান
  3. নওয়াব আবদুল লতিফ
  4. আবুল কালাম আজাদ
ব্যাখ্যা
• নওয়াব আবদুল লতিফ: 
- নওয়াব আবদুল লতিফের জন্ম ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলায়।
- কলকাতা মাদ্রাসায় তিনি ইংরেজী শিক্ষা গ্রহণ করেন। 
- কর্মজীবনে আবদুল লতিফ প্রথমে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে এবং কলকাতা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।
- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন এবং ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতার প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত হন।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের কাউন্সিল আইন অনুযায়ী বাংলায় ব্যবস্থাপক পরিষদ গঠিত হলে তিনি এর সদস্য মনোনীত হন।

- আব্দুল লতিফের উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব হচ্ছে ১৮৬৩ সালে কলকাতার মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠা।
- নওয়াব আবদুল লতিফ বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার বিস্তারের গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় কলকাতা মাদ্রাসায় অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়। সেখানে উর্দু এবং বাংলা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৭.
বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয় কাকে?
  1. ক) মাইকেল মধুসুদন দত্ত
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। তিনি হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করতে প্রচেষ্টা চালান। তাছাড়া তিনি সব কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হন্দিুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- ১৮২৮ সালে ২০শে আগস্ট তিনি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। রাজা রামমোহন ১৮২২ সালে কোলকাতায় ‘অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ইংলিশ, দর্শন, আধুনিক বিজ্ঞান পড়ানোর ব্যবস্থা ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০২৮.
ইউরোপীয়দের ভারত আগমনের উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. ধর্মীয়
  2. রাজনৈতিক
  3. বাণিজ্যিক
  4. সাংস্কৃতিক
ব্যাখ্যা
• বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- সাত শতক থেকে এ অঞ্চলের সঙ্গে আরব বণিকদের ব্যবসায়-বাণিজ্য ছিল এক চেটিয়া। তারা বাণিজ্য করতো মূলত সমুদ্রপথে।
১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে কনস্টান্টিনপোল অটোমান তুর্কিরা দখল করে নেয়। ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গে জলপথে ব্যবসায়-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।
- প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ভিন্ন জলপথ আবিষ্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
- মূলত ব্যবসা-বাণিজ্যের একারণেই ইউরোপীয় শক্তিগুলো সমুদ্র পথে উপমহাদেশে আসার অভিযান শুরু করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৯.
‘রেনেসাঁস’ যুগে বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ইয়াং বেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন-
  1. ক) রামতনু লাহিড়ী
  2. খ) প্যারিচাঁদ মিত্র
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) হেনরী লুই ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে। ‘রেনেসাঁস’ যুগে বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ইয়াং বেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও। সূত্র- বোর্ড বইঃনবম-দশম শ্রেণি।
১,০৩০.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর সংঘটিত হয় -
  1. ১৭৭০ সালে
  2. ১৭৭৬ সালে
  3. ১৮৭০ সালে
  4. ১৮৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- কোম্পানির মুর্শিদাবাদের প্রতিনিধি রিচার্ড বেচারের ভাষায় ‘দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতিসত্য।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মৃত্যু বরণ করে।
- ইংরেজ সরকার বাংলার জনগণকে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
- বরং ১৭৬৫-৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাৎসরিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল, দুর্ভিক্ষের বছরও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় তার কাছাকাছি ছিল। ফলে চরম শোষণ নির্যাতনে বাংলার মানুষ হত দরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩১.
রেগুলেটিং অ্যাক্ট কত সালে পাস হয়?
  1. ১৭৭০ সালে
  2. ১৭৬৫ সালে
  3. ১৭৫৬ সালে
  4. ১৭৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
রেগুলেটিং এ্যাক্ট:
- উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত।
- কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
- তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ সালে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।

⇒ রেগুলেটিং এ্যাক্ট এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- গভর্নর জেনারেলকে সাহায্য করার জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি 'কাউন্সিল' গঠিত হয় এবং সবার সমান অধিকার দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩২.
ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল কোনটি?
  1. পর্তুগীজ
  2. ফরাসি
  3. ড্যানিশ
  4. ডাচ
ব্যাখ্যা

বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- পর্তুগীজরা প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।
- পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কালিকট বন্দরে প্রথম আসে।
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা।
- এরপর ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগীজরা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- তারা সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত। এতে তাঁরা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হন।
- পর্তুগিজরা আরও নানা প্রকার অপরাধমূলক কাজ করত।
- তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৩৩.
বাংলাদেশের সর্বপ্রথম জাদুঘর কোনটি?
  1. ঢাকা জাদুঘর
  2. মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর
  3. বরেন্দ্র জাদুঘর
  4. জাতীয় জাদুঘর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর হলো রাজশাহীতে অবস্থিত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর যা ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।
ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত ঢাকা জাদুঘর তথা জাতীয় জাদুঘর ১৯১৩ সালে স্থাপিত হয়।
বাংলাদেশের একমাত্র নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় জাদুঘর ওয়েবসাইট
১,০৩৪.
কে সূর্যাস্ত আইন প্রবর্তন করেন?
  1. হেস্টিংক
  2. কর্নওয়ালিস
  3. ওয়েলেসলি
  4. ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
- কর্নওয়ালিস সূর্যাস্ত আইন প্রবর্তন করেন।

ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা:

- লর্ড কর্নওয়ালিসের শাসনামলের ভূমি রাজস্ব সংস্কার একটি গুরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- ওয়ারেন হেস্টিংসের প্রবর্তিত জমির পাঁচসালা ও একসালা বন্দোবস্তের ভুলত্রুটি নিরসনের জন্য লর্ড কর্ণওয়ালিস জমির দশসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- এই সংস্কার ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত হয়।
- এ ব্যবস্থার ফলে জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিক হন এবং তাঁদের দেয় করের পরিমাণ নির্দিষ্ট হয়ে যায়।
- তাঁরা নিয়মিত কর প্রদান সাপেক্ষে স্থায়ীভাবে জমির মালিক হয়ে যান।
- তবে এ ব্যবস্থার ফলে কৃষকদের দুর্দশা বেড়ে যায় ও জমির উন্নয়ন ব্যাহত হয়।
- কর্নওয়ালিস সূর্যাস্ত আইন প্রবর্তন করেন।
- এ ব্যবস্থায় সূর্যাস্ত আইনের বলে বহু জমিদারী নিলামে উঠে এবং বহু নতুন জমিদার শ্রেণির সৃষ্টি হয় যা এদেশে বিদেশি শাসকদের হাতকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১,০৩৫.
পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু হয় কত সালে?
  1. ১৭৬৫ সালে
  2. ১৭৭২ সালে
  3. ১৭৮৯ সালে
  4. ১৭৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

পাঁচসালা বন্দোবস্ত:
- প্রবর্তন: ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দ।
- প্রবর্তক: গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস।
- উদ্দেশ্য: রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা সংস্কার।
- মেয়াদ: ৫ বছর।
- জমি ইজারা দেওয়া হতো সর্বোচ্চ দরদাতাকে।
- জমিদাররা কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত খাজনা আরোপ করত।
- কৃষি ও জমির উন্নয়নে কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
- ব্যর্থতার ফলে একসালা বন্দোবস্ত চালু হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৮৯ সালে কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- পরবর্তীতে ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৩৬.
কত সালে ঐতিহাসিক লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১৯ সালে
ব্যাখ্যা

লক্ষ্মৌ চুক্তি: 
- ভারত উপমহাদেশের সাংবিধানিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ১৯১৬ সালের লক্ষ্মৌ চুক্তি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি রচনা করে এ চুক্তি। 

• নিম্নে লক্ষ্মৌ চুক্তির গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
১. লক্ষ্মৌ চুক্তির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে হিন্দু মুসলিম রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি রচিত হয়।
২. এ চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় কংগ্রেসে মুসলমানদের পৃথক নির্বাচনের দাবি মেনে নেয়।
৩. এ চুক্তির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল।
8. এ চুক্তির ফলে ভারতবর্ষে স্বায়ত্তশাসনের দাবি জোরদার হয়ে ওঠে।
৫. এ চুক্তির ফলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ সম্মিলিতভাবে ব্রিটিশ সরকারের কাছে স্বায়ত্বশাসনের দাবি জানায়।
৬. মুসলমানদের স্বার্থ বিরোধী বিল পাশ না হওয়ার সম্ভবনা সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৩৭.
স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু
  2. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  3. ব্যামফিল্ড ফুলার
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

লর্ড মাউন্টব্যাটেন:
- ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন।
- ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্বকাল: মার্চ ১৯৪৭ - আগস্ট ১৯৪৭।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- গভর্নর জেনারেল হিসেবে কার্যকাল: আগস্ট ১৯৪৭ - জুন ১৯৪৮।
- ১৯২১ সালে প্রিন্স অব ওয়েলস্-এর সহকারী (aide-de-camp) নিযুক্ত হওয়ার আগে তিনি নৌবাহিনীর বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
- দায়িত্বকালকালে ভারতীয় রাজন্যবর্গকে ভারতীয় ইউনিয়ন অথবা পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
- ভাইসরয় হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত: উপমহাদেশের বিভাজন এবং ক্ষমতা হস্তান্তর।
- ২৭ আগস্ট, ১৯৭৯, আয়ারল্যান্ডের ডোনেগাল বে-তে নৌযান বিস্ফোরণে নিহত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,০৩৮.
কোন প্রেক্ষাপটে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়?
  1. খিলাফত আন্দোলন
  2. বঙ্গভঙ্গ
  3. বেঙ্গল প্যাক্ট
  4. রাওলাট আইন
ব্যাখ্যা
স্বদেশী আন্দোলন:
- স্বদেশী আন্দোলন ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন।
- ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করে যা ‘বঙ্গভঙ্গ’ নামে পরিচিত।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে।
- বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার অংশ হিসেবে ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- তাছাড়া এ আন্দোলন শুরুতে তরুণদের দেশপ্রেম, ঔপনিবেশিক শক্তিবিরোধী শাড়িপূর্ণ নিষ্ঠা ও আদর্শ নিয়ে শুরু হলেও ক্রমে তা থেকে চরম ও সশস্ত্র ধারার ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের জন্ম নেয়।
- ফলে ব্রিটিশ শক্তি শেষ পর্যন্ত বঙ্গভঙ্গ বাতিল করতে বাধ্য হয়।

⇒ স্বদেশী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন।
- পরে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলে।
- সঙ্গে সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠে বাংলার নিজস্ব তাঁতবস্ত্র, সাবান, লবণ, চিনি ও চামড়ার দ্রব্য তৈরির কারখানা।
- অপর দিকে বিলেতি শিক্ষা বর্জন এবং আন্দোলনের সাথে যুক্তদের বিভিন্ন সরকারি স্কুল-কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার ফলে প্রয়োজনে গড়ে উঠে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধকারী শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক গানগুলো রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং রজণীকান্ত সেন প্রমুখ।
- আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন।
- তবে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি।
- যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩৯.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সিভিল সার্ভেন্টদের বলা হতো-
  1. কোম্পানি সার্ভিস টু পাবলিক
  2. কভেন্যান্টেড সিভিল সার্ভেন্ট
  3. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সার্ভিস
  4. রয়েল ইস্ট ইন্ডিয়া সার্ভিস
ব্যাখ্যা
১৭৮৬ সালের পূর্ব পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভূখন্ডগত মালিকানা প্রধানত ‘সুপারভাইজার’ নামে অভিহিত কোম্পানির স্থানীয় বাণিজ্যিক অফিসারদের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশীয় সংস্থাগুলোর দ্বারা পরিচালিত হতো।
কোম্পানির সিভিল সার্ভেন্টদের বলা হতো কভেন্যান্টেড সিভিল সার্ভেন্ট। কোম্পানির শাসনের অবসান পর্যন্ত এবং তারপরও দীর্ঘদিন এ পদবিটি চালু ছিল।
এ সার্ভিসের সদস্যরা ভারতে চাকরির জন্য ভারত সচিবের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হতেন বিধায় এ চাকরির নাম হয়েছিল কভেন্যান্টেড সিভিল সার্ভিস (সিসিএস)৷
উৎসঃ Live MCQ স্পেশাল PDF (সিভিল সার্ভিস এবং মুজিব বর্ষ)
১,০৪০.
’এলাহাবাদ চুক্তি’ চুক্তি স্বাক্ষর করে কে?
  1. কর্নওয়ালিস
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. কার্টিয়ার
  4. ওয়াটসন
ব্যাখ্যা
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ ও সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

• রবার্ট ক্লাইভ:
- উপমহাদেশের ইতিহাসে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে লর্ড ক্লাইভের নাম অবিস্মরণীয়।
-১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভের কূটনীতির জন্যই পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজ পতাকা উত্তোলন সম্ভব হয়েছিল।
- এ বিজয় ইংরেজ শাসনের ভিত্তিকে সুনিশ্চিতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ ও সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করে।
-  লর্ড ক্লাইভ উপমহাদেশে ইংরেজ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতার মর্যাদা পেলেও বাংলায় জালিয়াতি এবং উৎকোচ গ্রহণের অপরাধে স্বদেশবাসী তাঁর বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে বহু অভিযোগ উত্থাপন করেন।
- অবশেষে পার্লামেন্টে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও ইংল্যান্ডবাসীর ধিক্কারে অতিষ্ঠ হয়ে ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে স্বগৃহে ক্লাইভ আত্মহত্যা করেন।

উৎস:ইতিহাস ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪১.
স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা কত সালে প্রবর্তন হয়?
  1. ১৭৯১সালে
  2. ১৭৯৩ সালে
  3. ১৮৯৩ সালে
  4. ১৭৮৩ সালে
ব্যাখ্যা
- লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। 

• চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির ওপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে বন্দোবস্ত চালু করা হয়, তাকেই 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' বলা হয়।
- লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। 

• চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বৈশিষ্ট্য :
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিকে পরিণত করে এবং জমিদাররা জমির মালিকানা স্বত্ব লাভ করে।
- রাজস্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়ার ফলে নিয়মিত রাজস্ব প্রদানের বিনিময়ে জমিদার জমিদারি ভোগের চিরস্থায়ী অধিকার লাভ করে।
- এ প্রথা চালু হওয়ার ফলে জমিদারদের প্রশাসনিক ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়। সরকার স্বয়ং শাস্তি রক্ষা ও
- নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- খাজনা বাকি পড়লে জমিদারদের ভূমির কিছু অংশ বিক্রি করে রাজস্ব আদায় করার ব্যবস্থা ছিল।
- নতুন এক জমিদার শ্রেণী গড়ে ওঠে। যাদের সাথে প্রজাদের প্রায় সম্পর্ক ছিল না।
- এই জমিদার শ্রেণির অধিকাংশই ছিল উঠতি পুঁজিপতি। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
১,০৪২.
নাথান কমিশনের সদস্য ছিলো কতজন?
  1. ক) ১৫ জন
  2. খ) ১৪ জন
  3. গ) ১২ জন
  4. ঘ) ১৩ জন
ব্যাখ্যা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ১৯১২ সালের ২৭ মে তৎকালীন বঙ্গীয় সরকার ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নাথান কমিশন গঠন করে।
নাথান কমিশনের সদস্যরা হলেন:
- আর. নাথানিয়েল (প্রধান)
- ডব্লিউ কুচলু
- অ্যাডভোকেট রাসবিহারী ঘোষ
- নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী
- নওয়াব সিরাজুল ইসলাম
- উকিল আনন্দচন্দ্র রায়
- মুহম্মদ আলী
- এইচ.আর জেমস
- ডব্লিউ.এ.টি আর্চবোল্ড
- সতীশচন্দ্র আচার্য
- ললিত মোহন চ্যাটার্জী
- সি.ডব্লিউ পীক ও
- শামসুল উলামা আবু নসর মুহম্মদ ওহীদ।
- কমিশনের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন ডি.এস ফ্রেজার।
- এই কমিশন একই বছরের হেমন্তে তার রিপোর্ট সরকারের নিকট পেশ করে। কমিশন ঢাকায় একটি সরকার নিয়ন্ত্রিত আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করে।
- ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১,০৪৩.
বক্সারের যুদ্ধে কে পরাজিত হয়?
  1. ক) মীর নিসার আলী
  2. খ) মীর কাসিম
  3. গ) দুদু মিয়া
  4. ঘ) মজনু শাহ
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধ:

- বক্সারের যুদ্ধে মীর কাসিম পরাজিত হয়।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে। 
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন। সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়।মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,০৪৪.
পাকিস্তান সৃষ্টির সময় পূর্ব বাংলায় প্রধানত কতটি রাজনৈতিক দল ছিল?
  1. ক) চারটি
  2. খ) দুইটি
  3. গ) তিনটি
  4. ঘ) পাঁচটি 
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির সময় পূর্ব বাংলায় প্রধানত তিনটি রাজনৈতিক দল বা ধারা বিদ্যমান ছিল। যথা- 
১। ধর্মীয় আদর্শ ভিত্তিক রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্বকারী মুসলিম লীগ
২। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও গণতান্ত্রিক ধারার দল জাতীয় কংগ্রেস এবং 
৩। বিপ্লবী সাম্যবাদী ধারার কমিউনিস্ট পার্টি। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৪৫.
কোন সীমানা কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে ভারত বিভাগ হয়?
  1. ক) স্যাডলার কমিশন
  2. খ) সাইমন কমিশন
  3. গ) র‌্যাডক্লিফ কমিশন
  4. ঘ) হান্টার কমিশন
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালের ৩রা জুন মাউন্টব্যাটেন তার ভারত বিভাগ পরিকল্পনা প্রকাশের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা চিহ্নিতকরণের জন্যে ব্রিটিশ সরকার স্যার সিরিল জন র‌্যাডক্লিফকে চেয়ারম্যান করে র‌্যাডক্লিফ কমিশন গঠন করে। এই কমিশনের অধীন বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন ও পাঞ্জাব বাউন্ডারি কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে র‌্যাডক্লিফ রোয়েদাদ প্রকাশ করা হয় যার ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১,০৪৬.
মুসলিম লীগ কোথায় প্রতিষ্ঠা লাভ করে?
  1. ঢাকায়
  2. করাচিতে
  3. লাহোরে
  4. কলকাতায়
ব্যাখ্যা
মুসলিম লীগ: 
- মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল।
- শুরুতে আগা খান এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক পরিচালিত এ দলটি মুসলিম জাতীয়তাবাদের পক্ষে জনসমর্থন তৈরিতে অবদান রাখে। 
- অবশেষে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে।
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। 
- বঙ্গভঙ্গের গোঁড়াসমর্থক ঢাকার নওয়াব  খাজা সলিমুল্লাহ কংগ্রেস সমর্থকদের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী বিক্ষোভ মোকাবিলা করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তিনি এ সভায় একটি রাজনৈতিক মঞ্চ গঠনের প্রস্তাব করেন।
- সভার সভাপতি নওয়াব ভিকার-উল-মুলক প্রস্তাবটি সমর্থন করেন এবং এভাবে সর্ব ভারতীয় মুসলিম লীগ সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১,০৪৭.
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন জারি করা হয়-
  1. ১৯৫০ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০:
- 'রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ (১৯৫১ সনের ২৮নং আইন' যা ১৯৫০ সালে প্রণয়ন করা হয়।

⇒ এই আইনে পূর্ববাংলায় জমিতে খাজনা সংগ্রাহক ও অন্যান্য স্বার্থধারীদের তালুক অধিগ্রহণের বিধান, তালুকে প্রজাদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত আরও অন্যান্য বিষয়ের আইনগত সম্পর্ক সংজ্ঞায়িত করার বিধান রয়েছে।
- আইনটি পাশের আগে এদেশের কৃষিসংক্রান্ত আইন বলতে প্রধানত ছিল ১৭৯৩ সালের বঙ্গীয় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবিধান ও বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, ১৮৮৫।
- দেশ বিভাগের পর পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব বিল প্রণয়ন করে ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চ তা প্রকাশ করা হয়।
- তারপর এই বিলটিকে আইন পরিষদের বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়।
- এই পরিপ্রেক্ষিতে বিলটি পাস হওয়ার পর ১৬ মে ১৯৫১ সালে বিলে প্রয়োজনীয় অনুমোদনমূলক সম্মতি পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য,
- এই আইনের আওতায় সরকার দেশের একমাত্র জমিদারে পরিণত হয় এবং সরকার পর্যায়ক্রমে জমিতে সকল খাজনা-আদায়ি স্বার্থ অধিগ্রহণ করে।
- এই আইনের ৩ নং ধারা বলবৎ হওয়ায় জমির সকল মালিক সরকারের প্রত্যক্ষ প্রজায় পরিণত হয়।
- এই আইনবলে সরকার হাটবাজার, ফেরি ও মাছ উৎপাদনমূলক জলভাগের মালিক ও ব্যবস্থাপক হয়।
- এই আইনে ১৫২টি ধারা রয়েছে।
- এগুলি পাঁচটি অংশ ও উনিশটি অধ্যায়ে বিভক্ত।

উৎস: ভূমি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১,০৪৮.
বাংলাদেশের ইতিহাসে যে ঘটনাটি আগে ঘটেছিল -
  1. ক) যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
  2. খ) আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
- ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে বাংলা ভাষার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিভাগের অধ্যক্ষ আবুল কাসেমের নেতৃত্বে প্রথম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২৩ জুন, ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় ১৯৫২ সাল।
- যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর এবং নির্বাচন হয় ৮-১২ মার্চ, ১৯৫৪ সালে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১,০৪৯.
কোন সালের দুর্ভিক্ষ কে 'পঞ্চাশের মন্বন্তর' বলা হয়?
  1. ক) ১৯৩৯ সাল
  2. খ) ১৯৪৩ সাল
  3. গ) ১৯৩৭ সাল
  4. ঘ) ১৯৪১ সাল
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান প্রতিবেশী দেশ মায়ানমার (তৎকালীন বার্মা) দখল করে নেওয়ার পর বার্মা থেকে চাল আমদানির বন্ধ হয়ে যায় এবং ভারতবর্ষের তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসক যুদ্ধে নিয়োজিত কর্মীদের জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্য মজুদ করে রাখে। এছাড়া অনাবৃষ্টির ফলে বাংলায় এই দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
১৩৫০ বঙ্গাব্দে ( ১৯৪৩খ্রি. ) এই দুর্ভিক্ষ হয়েছিল বলে একে 'পঞ্চাশের মন্বন্তর' বলা হয়। এই মন্বন্তরে বাংলাজুড়ে প্রায় ৩০ লক্ষ লোক না খেয়ে মারা যান।
সূত্র: বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫০.
তেভাগা আন্দোলন তীব্র ছিল কোন কোন জেলায়?
  1. টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ
  2. সিলেট ও চট্টগ্রাম
  3. রংপুর ও দিনাজপুর
  4. চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র।
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন।
- ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ সালে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন নড়াইলের অমল সেন।
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ১৮ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো।
১,০৫১.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কত সালে প্রবর্তিত হয়?
  1. ১৭২৯ সালে
  2. ১৭৩৯ সালে
  3. ১৭৪৯ সালে
  4. ১৭৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
• চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
- ১৭৯৩ সালের ২২মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়। বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৫২.
ভারতে সর্বপ্রথম কার সময় রেলপথ ও টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপিত হয়?
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড মিন্টো
  4. লর্ড ডালহৌসী 
ব্যাখ্যা

লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ডালহৌসী কঠোরতার সাথে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রসারের পথ আরও প্রশস্ত করে তোলেন।
- তিনি গভর্নর জেনারেলের কাজের চাপ কমানোর লক্ষ্যে বাংলার জন্য একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর (ছোট লাট) নিযুক্ত করেন।
- সমগ্র ব্রিটিশ ভারতকে বিভিন্ন জেলায় ভাগ করা হয়।
- তিনি বার্ষিক সংবাদ সংগ্রহের ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং বে-সামরিক কর্মচারীদের বিভাগীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। 
- তিনি বিধবা বিবাহ আইন পাস করে হিন্দু বিধবা বিয়েকে আইনসঙ্গত করেন। এ বিষয়ে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ডালহৌসীকে সাহায্য করেন। ডালহৌসী এমন একটি আইন পাস করান যাতে এদেশীয়গণ ধর্মান্তরিত হলেও তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ করতে পারে।
- তিনি পূর্তবিভাগের প্রতিষ্ঠিত গঙ্গা খাল খনন ও জল সেচ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেন।
- তিনি রাজপথ ও সড়কগুলোর উন্নয়ন করেন। তাঁরই সময়ে কলকাতা হতে পেশোয়ার পর্যন্ত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড পুনরায় চালু হয়।
- এদেশীয় রেলপথ ব্যবস্থার জনক ছিলেন ডালহৌসী। তাঁর সময়ে বোম্বাই হতে টানা পর্যন্ত রেললাইন চালু হয় (১৮৫৩ খ্রি:)।
- ডালহৌসি ডাক বিভাগের সংস্কার, কলকাতা হতে আগ্রা পর্যন্ত প্রথম টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা ও পেনী পোস্টকার্ড ব্যবস্থা চালু করেন।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন এবং চা ও কফি বাগানের প্রসার সাধন করেন।
- তিনি রুরকির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজও স্থাপন করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১,০৫৩.
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়?
  1. ক) ১৮৮৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৮৮৫ সালের ২০ ডিসেম্বর
  3. গ) ১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১৮৮৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- ইউরোপীয়ানদের বিক্ষোভ ভারতীয়দের মর্যাদা ও জাতীয় চেতনায় আঘাত করে।
- শিক্ষিত হিন্দুরা সুরেন্দ্রনাথ ও আনন্দ মোহন বসুর নেতৃত্বে ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতায় এলবার্ট হলে এক সম্মেলনে মিলিত হয়।
- ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত প্রতিনিধিরা একটি সর্বভারতীয় সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন।
- এ দিকে ভারতীয়দের মধ্যে বিক্ষোভ এবং অধিকার আদায়ের জন্য সচেতন শিক্ষিত মধ্যবিত্তের আন্দোলনের চাপে বৃটিশ সরকার কিছুটা ভীত হয়।
- ভারতীয়দের দাবি ও আন্দোলনকে নিয়মতান্ত্রিক পথে পরিচালিত করার এবং তাদের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমিত করার জন্য সরকার মনোযোগী হয়।
- এ অবস্থার প্রেক্ষিতে ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের জনৈক অবসরপ্রাপ্ত অফিসার এলান অক্টেভিয়ান হিউম ভারতের ভাইসরয় লর্ড ডাফরিনের সহযোগিতায় ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দের ২৮ ডিসেম্বর বোম্বে শহরে ‘ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস' (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস) প্রতিষ্ঠা করেন।
- দুজন মুসলমানসহ সত্তর জন প্রতিনিধি কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে যোগ দেয় এবং এর সভাপতি নির্বাচিত হন বাঙালি ব্যারিস্টার উমেশ চন্দ্র ব্যানার্জী।
- বক্তৃতায় তিনি কংগ্রেসের চারটি উদ্দেশ্যের কথা ব্যক্ত করেন:
১. ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যাঁরা দেশ সেবায় ব্রতী হয়েছেন তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও বন্ধুত্ব স্থাপন করা;
২. জাতি ধর্ম আঞ্চলিকতার সংকীর্ণতা দূর করে জাতীয় ঐক্যের পথ সুগম করা;
৩. শিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে আলাপ আলোচনার মাধ্যেমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পথে বের করা এবং
৪. রাজনৈতিক অগ্রগতির জন্য পরবর্তী বছরের কর্মসূচী নির্ধারণ করা। 

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৪.
'ইন্ডিগো কমিশন' কত সালে গঠন করা হয়?
  1. ১৮৫৯ সালে
  2. ১৮৬২ সালে
  3. ১৮৬৩ সালে
  4. ১৮৬০ সালে
ব্যাখ্যা
নীল বিদ্রোহ:
- ১৮৫৯ সালে ইংরেজ নীলকরদের সীমাহীন অত্যাচার শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে নীল চাষিরা যে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাই ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ নামে খ্যাত।
- এর নেতৃত্ব দিয়েছিল স্থানীয় পর্যায়ের সাধারণ কৃষকরা।
- বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নেতা স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ সংগ্রাম পরিচালিত করে।
- এই নেতৃত্ব এতটাই শক্তিশালী এবং সুসংহত ছিল যে শেষ পর্যন্ত ইংরেজরা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
- ১৮৬০ সালে সরকার 'ইন্ডিগো কমিশন' বা 'নীল কমিশন' গঠন করে।
- এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নীলচাষ করা, না করা কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয় এবং ‘ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট' বাতিল করা হয়।
- ফলে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে।
- দীনবন্ধু মিত্রের লেখা 'নীলদর্পণ' নাটকের কাহিনী চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে, নীল বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে নীল কমিশন (Indigo Commission) গঠিত হয় ৩১ মার্চ, ১৮৬০ সালে এবং কমিশন রিপোর্ট প্রকাশ করে ১৪ আগস্ট, ১৮৬০ সালে।
- ভারতের ন্যাশনাল আর্কাইভ প্রকাশিত রিপোর্টের তথ্য অনুসারে, নীল কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশকাল ১৮৬০ দেওয়া রয়েছে।
- ব্রিটানিকার তথ্য অনুসারে, মার্চ ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলায় নীল বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে "নীল আইন (Indigo Act)" প্রণয়ন করে এবং একটি কমিশন গঠন করে।
- কমিশন আগস্ট, ১৮৬০ সালে রিপোর্ট প্রদান করে এবং নীল চাষের প্রক্রিয়া পরিবর্তিত হয়। বাংলায় তখন নীল চাষের বিলুপ্তি ঘটলেও বিহারে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত নীল চাষ অব্যাহত ছিলো।
- প্রশ্নের অপশনে ১৮৬০ থাকলে সেটি অধিক যুক্তিযুক্ত উত্তর হবে। যদি না থাকে, তবে বোর্ড বই অনুসারে উত্তর ১৮৬১ সাল হবে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) Britannica
১,০৫৫.
ঢাকার শেষ নবাব ছিলেন কে?
  1. খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
  2. খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর
  3. খাজা নাজিমুদ্দিন বাহাদুর
  4. খাজা আতিকুল্লাহ বাহাদুর
ব্যাখ্যা

নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর:
- তিনি ২৬এপ্রিল, ১৮৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ঢাকার পঞ্চম এবং শেষ নবাব।
- তাঁর পিতা ছিলেন নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর।
- নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুরের শাসনামলেই ঢাকার নবাবপরিবারের সম্পদ ও জৌলুশ কমতে থাকে।
- ১৯৫২ সালে ইস্ট পাকিস্তান এস্টেটঅ্যাকিউজিশন অ্যাক্ট দ্বারা যা চূড়ান্তভাবে বর্জন করতে হয়।
- ২১শে নভেম্বর ১৯৫৮ তারিখে নবাব হাবিবুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিভাগ ওয়েবসাইট।

১,০৫৬.
বাংলার 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' কত খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল?
  1. ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর হলো ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা ১১৭৬ বঙ্গাব্দ) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায় সংগঠিত ইতিহাসের ভয়াবহতম দুর্ভিক্ষ।
- ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীন বাংলায় দেখা দেয় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। তীব্র খরা ও বন্যার কারণে ধানসহ অন্যান্য ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কোম্পানির কর আদায় বন্ধ হয়নি, চাষিদের কাছ থেকে জোর করে খাজনা আদায় করা চলতেই থাকে। ফলস্বরূপ, খাদ্যের অভাব মারাত্মক রূপ নেয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহারে, রোগে, ও ক্লান্তিতে মারা যায়। 
- এই দুর্ভিক্ষে প্রায় এক কোটি মানুষ খাবারের অভাবে মারা যায়, যা সমগ্র বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় এবং খাদ্যশস্যের বাজারে বেশি মুনাফা অর্জন এই দুর্ভিক্ষের একটি বড় কারণ হলেও ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি এটিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে আখ্যায়িত করে।

উল্লেখ্য,
- ১৭৬৫ সালে ইংরেজরা দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা-বিহার-ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করে। ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে। দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- দুর্ভিক্ষের এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৫৭.
স্বত্ববিলোপ নীতি প্রথম কোন রাজ্যে প্রয়োগ করা হয়?
  1. নাগপুর
  2. ঝাঁসি
  3. সাঁতারা
  4. সম্বলপুর
ব্যাখ্যা

স্বত্ববিলোপ নীতি:
- স্বত্ববিলোপ নীতি ছিল একটি সাম্রাজ্যবাদী নীতি।
- স্বত্ববিলোপ নীতির মূলকথা ছিল, ব্রিটিশের শাসনাধীন যেকোনো আশ্রিত রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে এবং তার রাজবংশে কোনো উত্তরাধিকার না থাকলে সেই রাজা সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবেন। এই নীতির মাধ্যমে সাঁতারা, নাগপুর, ঝাঁসি ও সম্বলপুর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।
- লর্ড ডালহৌসি প্রবর্তিত ‘স্বত্ববিলোপ নীতি’র অধীনে ১৮৪৮ সালে প্রথম সাতারা রাজ্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

• মনেপ্রাণে সাম্রাজ্যবাদী ডালহৌসী সর্বপ্রথম সাঁতারা রাজ্যের উপর তার স্বত্ববিলোপ নীতির প্রয়োগ করেন। সাঁতারার রাজা ইংরেজের বিনা অনুমতিতে দত্তক পুত্র গ্রহণ করেছিলেন। ফলে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে রাজা মারা গেলে ডালহৌসী দত্তক পুত্রের দাবি অগ্রাহ্য করে সাঁতারা রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। এরপর সম্বলপুর রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে ডালহৌসী সম্বলপুর রাজ্যটিও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১,০৫৮.
‘কার্পাস বিদ্রোহ’ কোথায় সংগঠিত হয়?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) সিলেট
  3. গ) পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. ঘ) বৃহত্তর ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
- ১৭৭৬ সাল থেকে ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত চাকমাদের বিদ্রোহ ‘কার্পাস বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে তুলার চাষ হতো এবং কর হিসেবে চাকমারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে তুলা প্রদান করতে হতো।
- মোট চারবার চাকমা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। 
- ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যভাগে চাকমারা প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
-  এই বিদ্রোহের নায়ক ছিলেন চাকমা দলপতি রাজা সের দৌলত ও তার সেনাপতি রামু খাঁ। 
- ১৭৮৭ সালে চাকমা রাজা ও ইংরেজদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ফলে কার্পাস বিদ্রোহের অবসান হয়।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস : সিরাজুল ইসলাম এবং দৈনিক প্রথম আলো, ntvbd.com)
১,০৫৯.
ফরায়েজি আন্দোলনের সূত্রপাত করেন কে? 
  1. দুদু মিয়া 
  2. তিতুমীর 
  3. সৈয়দ আহমদ বেরলভী
  4. হাজী শরীয়তুল্লাহ
ব্যাখ্যা

ফরায়েজি আন্দোলন:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি 'ফরজ' (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে।
- যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- হাজী শরীয়তউল্লাহ 
- হাজী শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে 'দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা , নবম দশম শ্রেণি।

১,০৬০.
অন্ধকূপ হত্যা কাহিনী কার তৈরি?
  1. কর্ণওয়ালিস
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. মীর জাফর
  4. জে.জেড হলওয়েল
ব্যাখ্যা
→ অন্ধকূপ হত্যা কাহিনী  তৈরি জে.জেড হলওয়েল।

• অন্ধকূপ হত্যা:
- অন্ধকূপ হত্যা ১৭৫৬ সালের ২০ জুন কথিত ঘটনা।
- তখন বাংলার নওয়াব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখল করে।
- মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েল।
- তার কথিত বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয় এটি।
- তখন প্রায় পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় নি।
- হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া গ্রন্থে- ১৮৫৮ সালে জেমস মিলের  আলোকপাত করেন।
- এর থেকে এটি ব্যাপকহারে আলোচিত হয়।
- বর্তমানে অন্ধকূপ হত্যা কাহিনীর বেশির ভাগই অসত্য এবং অতিরঞ্জিত বলে মনে করা হয়।
- এই অন্ধকূপ হত্যা কাহিনী  তৈরি জে.জেড হলওয়েল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৬১.
লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল-
  1. ক) দ্বিজাতি তত্ত্ব
  2. খ) পাকিস্তান জাতীয়তাবাদ
  3. গ) বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ
  4. ঘ) সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি
ব্যাখ্যা
⇨ লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব
⇨ এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটি ছিল না। তথাপি এ প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
⇨ এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
⇨ কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। 

উল্লেখ,
⇨ ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন। জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬২.
উপমহাদেশে বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন -
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  3. লর্ড কার্জন
  4. লর্ড বেন্টিক
ব্যাখ্যা
লর্ড ডালহৌসি
- সাম্রাজ্যবাদী লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।
- তার শাসনামলেই (১৮৫৩ সালে) উপমহাদেশে রেলের যাত্রা শুরু হয়।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন।
- উপমহাদেশে টেলিগ্রাফ সিস্টেমও তার অবদান।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৩.
কোনটির ফলে ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে?
  1. ক) সিপাহী বিদ্রোহ
  2. খ) আলীগড় আন্দোলন
  3. গ) নীল বিদ্রোহ
  4. ঘ) স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
সিপাহি বিদ্রোহ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম। ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়। এর ফলে সর্বশেষ গর্ভনর জেনারেল লর্ড ক্যানিং প্রথম ভাইসরয় হিসেবে নিযুক্ত হন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০৬৪.
আইন অমান্য আন্দোলনের পটভূমি কোনটি?
  1. ক) ক্রিপস কমিশন
  2. খ) সাইমন কমিশন
  3. গ) নাথান কমিশন
  4. ঘ) ফ্লাউড কমিশন
ব্যাখ্যা
- আইন অমান্য আন্দোলন  ১৯৩০ সালে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর নেতৃত্বে শুরু হয়।
- এ আন্দোলনের পটভূমি হলো সাইমন কমিশন।
- ভারতের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন এবং তা চূড়ান্তকরণের জন্য ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক সাইমন কমিশন গঠিত হয়।
- কেবল ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের নিয়ে এ কমিশন গঠিত হওয়ার কারণে ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের সব ধরনের নেতা ও কর্মীরা এটিকে পুরোপুরি একটি শ্বেতাঙ্গ কমিশন বলে বর্জন করে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৫.
উপমহাদেশে প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কে?
  1. মজনু শাহ
  2. ভবানী পাঠক
  3. উভয়েই
  4. কেউই নন
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০)

• বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ চলে।
• আন্দোলনকারী ফকির-সন্ন্যাসীগণ ছিলেন মাদারিয়া সুফি তরিকার অনুসারী।
• নবাব মীর কাশিম ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসীদের সাহায্য চান।
• বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
• সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
• তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
• ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। -১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
• তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে ফকির।
• মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
• মজনু শাহর মত্যুর পর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ।ণ
• ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চুড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৬.
আধুনিক ভারতের ইতিহাসে প্রথম শিক্ষা কমিশন কোনটি?
  1. রিপন কমিশন
  2. নাথান কমিশন
  3. হান্টার কমিশন
  4. উড কমিশন
ব্যাখ্যা
• হান্টার কমিশন: 
- হান্টার কমিশন সরকারিভাবে ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন (১৮৮২) নামে পরিচিত।
- এটি ছিল আধুনিক ভারতের ইতিহাসে প্রথম শিক্ষা কমিশন।
- এটি ১৮৮২ সালে স্যার উইলিয়াম হান্টার কে প্রধান করে গঠিত হয়।
- কমিশনটি ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড রিপনের আমলে গঠিত হয়েছিলো।
- ভারত সরকার কর্তৃক গঠিত এ কমিশনের কাজ ছিল ১৮৫৪ সালের  উড-এর শিক্ষা প্রস্তাবের সময় থেকে ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার পর্যালোচনা এবং পরবর্তী অগ্রগতি সাধনের জন্য করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করা।
- সরকার আরেকটি উদ্দেশ্যে এ তদন্ত শুরু করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল এবং
- তা ছিল ১৮৫৪ সালের ডেসপ্যাচের সুপারিশমালা বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগে ইংল্যান্ডে মিশনারিদের বিক্ষোভ পর্যালোচনা করা।
- সরকার কর্তৃক প্রাথমিক শিক্ষার উপর অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করার কারণে কমিশনের মূল অংশ থেকে উচ্চ শিক্ষাকে বাদ দেওয়া হয় এবং তার পরিবর্তে প্রাথমিক শিক্ষার উপরই প্রধানত দৃষ্টি নিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৭.
দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন কে?
  1. কর্নওয়ালিস
  2. কার্জন
  3. হেস্টিংস
  4. কার্টিয়ার
ব্যাখ্যা
পাঁচসালা বন্দোবস্ত:
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- পাঁচসালা বন্দোবস্তের মূল লক্ষ্য ছিল রাজস্ব আদায় করা।
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।
- অথচ কৃষকের বা জমির উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনো লক্ষ ছিল না।
- এ অবস্থায় হেস্টিংস জমিদারদের সঙ্গে এক সালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৮.
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে কোথায় নির্বাসনে দেওয়া হয়?
  1. কোলকাতায়
  2. রেঙ্গুন
  3. উত্তমাশা অন্তরীপ
  4. দিল্লীত
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ:
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন সর্বশেষ মুঘল সম্রাট।
- ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়। 
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৯.
বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংঘটিত প্রথম আন্দোলন কোনটি?
  1. ক) বারাসাত বিদ্রোহ
  2. খ) ফরায়েজী আন্দোলন
  3. গ) ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন
  4. ঘ) তেভাগা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
বাংলায় ব্রিটিশবিরোধী প্রথম সংঘটিত আন্দোলন হলো ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন।
এই আন্দোলনের ব্যাপ্তি ছিলো আঠারো শতকের ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত। এই আন্দোলনে ফকিরদের নেতৃত্ব দেন মজনু শাহ। অন্যদিকে সন্ন্যাসীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০৭০.
বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোন যুদ্ধে পরাজিত হন?
  1. পলাশী যুদ্ধে
  2. কর্ণাটকের যুদ্ধে
  3. বক্সারের যুদ্ধে
  4. কলিঙ্গ যুদ্ধে
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ:
- বাংলার শেষ নবাব নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এ যুদ্ধ আট ঘণ্টার মতো স্থায়ী ছিল।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক।
- এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সব ধরণের সুযোগ সুবিধার পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,০৭১.
কত খ্রিস্টাব্দে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চালু হয়?
  1. ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈত শাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।

- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে। অবাধ লুন্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়। নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন। সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৭২.
১৯২০ সালের খিলাফত আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন -
  1. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  2. মাওলানা মোহাম্মদ আলী
  3. মাওলানা শওকত আলী
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন। কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- কিন্তু এই যুদ্ধে জার্মানি হেরে গেলে জার্মানির পক্ষে যোগদানের কারণে শাস্তি স্বরূপ তুরস্ককে খণ্ড-বিখণ্ডিত করার পরিকল্পনা করা হয়।
- এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৭৩.
চাকমা সম্প্রদায়ের কোন জুমিয়া নেতা ব্রিটিশ বণিকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করেছিলেন?
  1. রাজা ত্রিদিব রায়
  2. রাজা ত্রিভুবন চাকমা
  3. উলাপ্রো চাকমা
  4. জোয়ান বখশ খাঁ
ব্যাখ্যা

• ব্রিটিশ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে চাকমাদের স্বাধীনতা রক্ষার এই প্রতিরোধ সংগ্রাম সংঘটিত হয়েছিল ১৭৭২ থেকে।

⇒ ১৭৭২-১৭৭৩ সালে ইংরেজরা চাকমাদের কে মুদ্রার মাধ্যমে রাজস্ব প্রদান করতে বাধ্য করে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মুদ্রা ভিত্তিক অর্থনীতি প্রচলনের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর ফলে চাকমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনে নানারকম সমস্যা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

• ক্রমে ইংরেজ শাসনের প্রতি চাকমারা বীতশুদ্ধ হয়ে ওঠে এবং তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।  ১৭৮২ খ্রিষ্টাব্দে জান বক্স খা ব্রিটিশের দাবী অগ্রাহ্য করার জন্যে মহাপ্রুমে একটা শক্তিশালী দুর্গ বানায়।

⇒ ফলে কোম্পানির সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সূত্রপাত হয়, যা ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত চলেছিল। - চাকমা রাজের পক্ষে রাজা জান বখশ খান, শের দৌলত খানের পুত্র অংশ নেন। কোম্পানী চাকমা রাজের বিরুদ্ধে চারটি যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল। সেগুলো হল - ১৭৭০, ১৭৮০, ১৭৮২ এবং ১৭৮৫ সালের যুদ্ধ।
- যুদ্ধে কোম্পানী বিশেষ সুবিধে করতে না পারায় এবং চাকমা রাজ্যে বাণিজ্য অবরোধের ফলে সৃষ্ট সমস্যায় - দুই পক্ষই ১৭৮৫ সালে একটি শান্তি আলোচনা চালায়।

⇒ চুক্তি অনুযায়ী চাকমা রাজা কোম্পানীর আধিপত্য মেনে নেওয়ার পাশাপাশি বছরে ৫০০ মণ তুলা দেওয়ার প্রতিশ্রতি দেন, বিনিময়ে কোম্পানী চাকমা রাজার আঞ্চলিক আধিপত্য মেনে নিয়ে বাণিজ্য অবরোধ তুলে নেয়।

সুতরাং, তখন চাকমাদের নেতা ছিলেন জান বকস খাঁর বা জুয়ান বক্স খাঁ বা জোয়ান বখশ খাঁ।

উৎস: চাকমা - বাংলাপিডিয়া, কালের কন্ঠ কলাম, জুমজার্নাল Government of Bangladesh - District Gazetteer of Chittagong Hill Tracts, James Minahan এর Encyclopedia of the Stateless Nations: Ethnic and National Groups Around the World ইত্যাদি।

১,০৭৪.
সিপাহী বিদ্রোহ প্রথম ঘোষণা করেন কে?
  1. জোয়ান বকশ খান
  2. বাহাদুর শাহ জাফর
  3. মঙ্গল পাণ্ডে
  4. নানা সাহেব
ব্যাখ্যা
সিপাহী বিদ্রোহ:
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চের বিকেল, ব্রিটিশ ভারতের দেশীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ চলছিল ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে।
- প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছিল 'বিতর্কিত' এনফিল্ড রাইফেল।
একজন সিপাহি প্রশিক্ষণের সময় চর্বিযুক্ত কার্তুজ ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানান।
- তাকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ হয়ে ইংরেজ অফিসারকেই গুলি করে বসেন।
- সেই সিপাহির নাম মঙ্গল পাণ্ডে।
- লেফটেন্যান্ট বফকে গুলি করার সময় সৈনিকদের কেউ কেউ তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও বাকিরা মঙ্গল পাণ্ডের পক্ষ নেন।
- ২৯ মার্চ, ১৮৫৭ খ্রি. ব্যারাকপুরে মঙ্গল পান্ডে নামক জনৈক সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গীদের প্রাণদন্ডে দন্ডিত করে বিদ্রোহ দমন করতে চেষ্টা করা হয়।

উৎস: ইতিহাস এসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৫.
ব্রিটিশবিরোধী তিতুমীর কোথায় বাঁশেরকেল্লা গড়ে তোলেন?
  1. নারিকেলবাড়িয়া
  2. হুগলি
  3. ব্যারাকপুর
  4. মুর্শিদাবাদ
ব্যাখ্যা

• তিতুমীর:
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন তাহরিক ই মুহম্মদীয়া।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে যখন ওয়াহাবি আন্দোলনের (তাহরিক ই মুহম্মদীয়া) জোয়ার চলছে, তখন পশ্চিম বঙ্গের বারাসাত অঞ্চলে তিতুমীরের নেতৃত্বে এই আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।
- ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তিতুমীর হজ করার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন।
- নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।এই যুদ্ধে তিনি নিহত হন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৭৬.
ভারতবর্ষকে 'বিধর্মীর রাজ্য' বলে ঘোষণা করেছেন কে?
  1. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. মীর নিসার আলী
  3. হাজী শরীয়ত উল্লাহ
  4. মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন
ব্যাখ্যা
•ফরায়েজি মতবাদ:
- হাজী শরিয়ত উল্লাহ ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব’ অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি। 
- শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয়(ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি বিধর্মী বিজাতীয় শাসিত দেশে জুমা এবং দুই ঈদের নামাজ বর্জনের জন্য মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।নুন-ভাতের দাবিও উত্থাপন করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
-  ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এছাড়াও,
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
-  দুদু মিয়া ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৭.
হাজী মুহম্মদ মহসীন কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) নদীয়া
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) হুগলি
  4. ঘ) পাটনা
ব্যাখ্যা
দানবীর হাজী মুহম্মদ মহসীন ১৭৩২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮০৩ সালে তার বোনের মৃত্যুর পর বোনের বিশাল সম্পত্তির মালিক হন তিনি। এই অর্থ তিনি বাংলায় শিক্ষা বিস্তার, চিকিৎসা ও দরিদ্রদের সহায়তা করার জন্যে দান করে যান। তার অর্থে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয় ও দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপিত হয়। ১৮১২ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি হুগলিতে মারা যান।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০৭৮.
'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বাংলা কোন সনে সংঘটিত হয়?
  1. ১২৭৬ সনে
  2. ১৩৭৬ সনে
  3. ১১৭৬ সনে
  4. ১১৭০ সনে
ব্যাখ্যা

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- কোম্পানির মুর্শিদাবাদের প্রতিনিধি রিচার্ড বেচারের ভাষায় ‘দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতিসত্য।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মৃত্যু বরণ করে।
- ইংরেজ সরকার বাংলার জনগণকে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
- বরং ১৭৬৫-৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাৎসরিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল, দুর্ভিক্ষের বছরও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় তার কাছাকাছি ছিল। ফলে চরম শোষণ নির্যাতনে বাংলার মানুষ হত দরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৭৯.
বাংলায় সংঘটিত ব্রিটিশবিরোধী প্রথম আন্দোলন কোনটি?
  1. নীল বিদ্রোহ
  2. ফরায়েজী আন্দোলন
  3. ফকির ও সন্ন্যাসী আন্দোলন
  4. স্বদেশী আন্দোলন
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ফকির ও সন্ন্যাসী আন্দোলন:
- বাংলায় সংঘটিত ব্রিটিশবিরোধী প্রথম আন্দোলন হলো ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম সংগ্রাম শুরু করে।
- বিদ্রোহী ফকিরদের নেতা ছিলেন মজনু শাহ।
- সন্ন্যাসীদের নেতা ছিলেন ভবানী পাঠক। 

এছাড়া,
- ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- ১৮৫৯ - ৬২ খ্রি. পর্যন্ত নীল বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
- ১৮১৮ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহ বাংলায় ফরায়েজী আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে ওয়াহাবি আন্দোলন শুরু এবং শেষ হয় ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে।

উৎস: ইতিহাস, (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮০.
'অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক' দলের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. জওহরলাল নেহেরু
  2. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
  3. ইয়ার মোহাম্মদ খান
  4. মহাত্না গান্ধী
ব্যাখ্যা
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু:
- ১৮৯৭ সনের ২৩ জানুয়ারি  নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু উড়িষ্যায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান লাভ করার পরও দেশসেবার ও স্বদেশের মুক্তির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সরকারি চাকুরি গ্রহণ করেননি।
- ১৯৩৮ সালে মহাত্না গান্ধীর বিরোধীতার মধ্যেই সুভাষ বসু কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন, গান্ধীর সাথে মতদ্বৈততার কারণে কংগ্রেস ত্যাগ করে অল ইন্ডিয়া ফরয়ার্ড ব্লক নামে দল গঠন করেন।
- ১৯৪৩ সালে তিনি 'আজাদ হিন্দ' ফৌজের দায়িত্ব নেন এবং আজাদ হিন্দ সরকার গঠন করেন।
- সুভাষ বসুর লক্ষ্য ছিল সামারিক অভিযানের মাধ্যমে ভারত থেকে ব্রিটিশদের বিতাড়িত করা।
- সুভাষ চন্দ্র বসু ১৯৪৫ সনের ১৮ আগস্ট রহস্যজনক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮১.
ইংরেজদের সুরাটে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণের অনুমতি দেন-
  1. সিরাজউদ্দৌলা
  2. সম্রাট শাহজাহান
  3. নবাব আলীবর্দী খান
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
• বাংলায় ইংরেজ শাসন:
- ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করা হয় ১৬০০ সালে।
- কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইংরেজদের আগমন  ঘটে বাংলায়।
- ইংরেজদের সুরাটে বাণিজ্যকুঠি নির্মাণের অনুমতি দেন সম্রাট জাহাঙ্গির।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্যের জন্য বাংলায় আসেন ১৬০৮ সালে।
- ইংরেজরা কলকাতায় আশেপাশে ৪৮টি গ্রাম ক্রয়ের অনুমতি পায় সম্রাট ফররুখশিয়ার কাছ থেকে।
- কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করে ১৭০০ সালে।
- বাংলায় কুঠি স্থাপন করে সুরাটে।
- ১৭৬৫ সালে এলাহাবাদ চুক্তির মাধ্যমে বাংলা, বিহার ও  উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে।
- দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তক লর্ড ক্লাইভ।
- তাদের অবসান ঘটে ১৮৫৮ সালে।
- দীর্ঘ ১৯০ বছর তারা শাসন করে।

⇒ এছাড়াও,
- ইউরোপীয়দের মধ্যে প্রথম বাণিজ্য আসে পর্তুগিজরা ।
- ভারতে আসর জল পথ আবিষ্কারক তারা।
- পর্তুগিজরা ভারত বর্ষে ব্যবসা করার অনুমতি পায় সম্রাট আকবরের আমলে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম- দশম শ্রেণি।
১,০৮২.
খিলাফত আন্দোলন এর নেতা কে ছিলেন?
  1. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  2. মাওলানা শওকত আলী
  3. মাওলানা মোহাম্মদ আলী
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন। কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- কিন্তু এই যুদ্ধে জার্মানি হেরে গেলে জার্মানির পক্ষে যোগদানের কারণে শাস্তি স্বরূপ তুরস্ককে খণ্ড-বিখণ্ডিত করার পরিকল্পনা করা হয়।
- এই আন্দোলনে নেতৃত্বদেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৮৩.
'চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি' গঠন করেন কে?
  1. বাঘা যতীন
  2. মাস্টারদা সূর্য সেন
  3. প্রফুল্ল চাকী
  4. ক্ষুদিরাম বসু
ব্যাখ্যা
চট্টগ্রাম বিপ্লবী বাহিনী বা চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি: 
- চট্টগ্রামের মাস্টারদা (আসল নাম সূর্য সেন) কলেজজীবনে বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন।
- স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তিনি উমাতারা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
- এর মধ্যেই তিনি মাস্টারদা নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন এবং এ সময় তিনি অম্বিকা চক্রবর্তী, অনুরূপ সেন, নগেন সেনের সহায়তায় একটি বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলেন।
- তাঁর সংগঠন এবং তিনি নিজে একের পর এক বিপ্লবী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বারবার গ্রেফতার হলেও প্রমাণের অভাবে মুক্তি পেয়ে যান।
- চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করার জন্য মাস্টারদা সূর্য সেন গঠন করেন চট্টগ্রাম বিপ্লবী বাহিনী।
- পরে এই আত্মঘাতী বাহিনীর নাম হয় 'চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি'।
- এই বাহিনী একের পর এক সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করতে থাকে।
- শেষ পর্যন্ত সরকারি অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করে।
- 'স্বাধীন চিটাগাং সরকার'-এর ঘোষণা দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,০৮৪.
বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করেন কে? 
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড কর্ণওয়ালিশ
  3. সম্রাট পঞ্চম জর্জ
  4. লর্ড ডালহৌসী
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ রদ:
- বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা ১৯১০ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জ ভারতের নতুন ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তিনি বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অসন্তোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা লক্ষ্য করে বঙ্গভঙ্গ রদের বিষয়ে গোপন তৎপরতা শুরু করেন।
- ব্রিটেনের সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদের পক্ষে মত দেন।
- ১৯১১ সালে সম্রাট পঞ্চম জর্জ ও রাণি মেরী ভারত সফরে আসেন।
- ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর সম্রাট পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত অভিষেক অনুষ্ঠানে বঙ্গভঙ্গ রদের কথা ঘোষণা করেন।
- এবং পূর্ববঙ্গকে পশ্চিমবঙ্গের সাথে পুনরায় এক করেন।
- এই সফরে সম্রাট পঞ্চম জর্জ আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ফলে কার্জনের বাংলা বিভক্তির ব্যবস্থা বাতিল হয়।
- ঢাকা চট্টগ্রাম, রাজশাহী, প্রেসিডেন্সি ও বর্ধমানের পাঁচটি বাংলা ভাষাভাষী বিভাগ নিয়ে বাংলা প্রদেশ পুনর্গঠন করা হয়।
- ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা হতে দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৮৫.
কোন গভর্নর জেনারেল স্বত্ব বিলোপ নীতি প্রয়োগ করেন?
  1. উইলিয়াম বেন্টিংক
  2. ওয়ারেন হেন্টিংস
  3. লর্ড ফিনিস
  4. লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
সিপাহি বিদ্রোহের রাজনৈতিক কারণ:
- লর্ড ডালহৌসির সাম্রাজ্য বিস্তার নীতি দেশীয় রাজন্যবর্গের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে।
- স্বত্ববিলোপ নীতির প্রয়োগ দ্বারা তিনি সাঁতারা, ঝাঁসি, সম্বলপুর ও নাগপুর রাজ্য দখল করেন।
- তাঞ্জোর ও কর্নাটকের নবাবের বৃত্তি এবং পেশোয়া দ্বিতীয় বাজীয়াও-এর দত্তক পুত্র নানা সাহেবের ভাতা বন্ধ করে দেন।
- অযোধ্যা রাজ্যটি কুশাসনের অভিযোগে গ্রাস করা হয় এবং অমানুষিক অত্যাচার ও বর্বরতার সাথে দখলকৃত অযোধ্যা ও নাগপুরের রাজপ্রাসাদ লুণ্ঠন করা হয়।
- এর ফলে নানা সাহেব ও ঝাঁসির রাণি বিদ্রোহে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেন এবং সাঁতারা ও নাগপুরের রাজপরিবারগুলো বিদ্রোহী ভাবাপন্ন হয়ে উঠে।
- ডালহৌসি মোগল সম্রাটের উপাধি পর্যন্ত কেড়ে নেবার চেষ্টা করেছিলেন।
- তাঁর এই প্রচেষ্টা মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করে। তা ছাড়া ইংরেজ কর্মচারীদের অত্যাচার ও কুশাসনের কারণে ভারতীয়দের মধ্যে বিদ্বেষ ও বিতৃষ্ণা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮৬.
ভাস্কো ডা গামা কালিকট বন্দরে এসেছিলেন -
  1. ১৪৯৬ সালে
  2. ১৪৯৭ সালে
  3. ১৪৯৮ সালে
  4. ১৪৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:

- পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কালিকট বন্দরে প্রথম আসে।
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা।
- তার এ উপমহাদেশে আগমন ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগীজরা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগীজরা প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- তারা ‘ডাচ ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে বাণিজ্যের উদ্দেশে ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে আসে।
- ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা বিদরার যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। ফলে ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে শেষ পর্যন্ত সকল বাণিজ্যকেন্দ্র গুটিয়ে তারা এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।
- ওলন্দাজদের মতোই দিনেমার বা ডেনমার্কের অধিবাসী একদল বণিক বাণিজ্য করার জন্য ‘ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে।
- এদেশে লাভজনক ব্যবসা করতে ব্যর্থ হয়ে ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে বাণিজ্যিক সফলতা ছাড়াই দিনেমাররা এদেশ ত্যাগ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮৭.
'আন্টাঘর ময়দান' নিম্নের কোন ঘটনার স্মৃতি বহন করে?
  1. ভারত ছাড় আন্দোলন
  2. জালিওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড
  3. আলীগড় আন্দোলন
  4. সিপাহি বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ পার্ক:
- বাহাদুর শাহ পার্ক বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত।
- ১৮৫৮ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে এই স্থানের নামকরণ হয় ‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’।
- পার্কটি আন্টাঘর ময়দান নামে পরিচিত ছিল।
- এটি সিপাহি বিদ্রোহের স্মৃতি বহন করে।

⇒ ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর এক প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা ফাঁসি দেয় অসংখ্য বিপ্লবী সিপাহিকে।
- তারপর জনগণকে ভয় দেখাতে সিপাহিদের লাশ এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এই ময়দানের বিভিন্ন গাছের ডালে।
- ১৯৫৭ সালে (মতান্তরে ১৯৬১) সিপাহি বিদ্রোহের শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে পার্কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এর শাসন পুনরায় আনার জন্য।
- তাই তাঁর নামানুসারে এর নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০৮৮.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর-এর ফলে বাংলার কত জনসংখ্যা মৃত্যুমুখে পতিত হয়?
  1. প্রায় এক-তৃতীয়াংশ
  2. প্রায় অর্ধেক
  3. প্রায় এক-চতুর্থাংশ
  4. প্রায় এক-পঞ্চমাংশ
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রণয়ন করলে দেওয়ানি চলে যায় কোম্পানির হাতে।
- প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকে নবাবের হাতে।
- যার ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয় ।
- এর ফল হিসেবে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয় ৷

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৮৯.
কোন মুঘল সম্রাটের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?
  1. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট হুমায়ুন
  4. সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় এবং ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে। এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,০৯০.
কোন বড়লাটের সময়ে 'বঙ্গভঙ্গ' হয়?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড ক্লাইভ
  3. লর্ড কার্জন
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
• বঙ্গভঙ্গ:
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সমপ্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদে হিন্দু সম্প্রদায় খুশি হয়, অপর দিকে মুসলমান সম্প্রদায় মর্মাহত এবং হতাশ হয়।
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯১.
পূর্ববাংলা আইন পরিষদের সভা কোথায় অনুষ্ঠিত হতো?
  1. ক) ঢাকা মেডিকেলের হোস্টেলে
  2. খ) জগন্নাথ হলের অডিটরিয়ামে
  3. গ) সংসদ ভবনে
  4. ঘ) কার্জন হলে
ব্যাখ্যা
মেডিকেল হোস্টেলের নিকটেই ছিল জগন্নাথ হলের অডিটোরিয়াম যেখানে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সভা বসত। [সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা]
১,০৯২.
১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের অপর নাম কী?
  1. মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
  2. মন্টেগু- চেমসফোর্ড সংস্কার আইন
  3. ভারত স্বাধীনতা আইন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন:
- ভারত সচিব পদে মন্টেগু ১৯১৭ সালের ১২ জুলাই অভিষিক্ত হন।
- তিনি ভারতীয়দের দাবি দাওয়া ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি বেশ সহানুভূতিশীল ছিলেন।
- ভারতের তদানীন্তন গভর্নর জেনারেল লর্ড চেমস্কর্ড প্রথম দিকে মন্টেণ্ডর ভূমিকার প্রতি উদাসীনতা দেখালেও পরবর্তী পর্যায়ে তার মত পাল্টান।
- ১৯১৮ সালের ২১ এপ্রিলে মন্টেগু এবং চেমসফর্ড এক যৌথ প্রতিবেদনে স্বাক্ষর দান করেন যার ভিত্তিতে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন রচিত হয়।
- মন্টেগু ও চেমসফোর্ডের নামানুসারে এ আইনের নামকরণ করা হয় 'মন্টেগু চেমসফোর্ড সংস্কার আইন।'
- ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আইনসভাকে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা করা হয়।
- পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা ছিল ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের দ্বারা ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশগুলোতে এক কক্ষ বিশিষ্টি আইন সভার ব্যবস্থা করা হয়।
- ভারতবর্ষের প্রদেশগুলোতে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
- এ আইনের মাধ্যমে ভারত সচিবের ক্ষমতা হ্রাস করা হয়।
- ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম ভারতে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯৩.
উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন কে?
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড মিন্টো
  3. লর্ড ক্যানিং
  4. লর্ড হার্ডিঞ্জ 
ব্যাখ্যা

লর্ড ক্যানিং:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন।
- ১৮৬১ সালে উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা চালু করেন।
- ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- চার্লস উড শিক্ষা বিষয়ে ১৮৫৪ সালে যে সুপরিশমালা পেশ করেন তা কার্যকর করা হয় তার সময়ে।
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।
- ভারতে তাঁর কর্তব্যপালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৫৯ সালে তাঁকে 'আর্ল' (Earl) মর্যাদায় উন্নীত করা হয়।
- ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে,
-  লর্ড মিন্টো ১৮০৭ থেকে ১৮১৩ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল।
- পুরো নাম গিলবার্ট ইলিয়ট, প্রথম আর্ল অব মিন্টো। 
- তিনি ভারতের রেল ব্যবস্থা প্রবর্তন ও গঙ্গা খাল খননের জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা পিডিয়া। 

১,০৯৪.
‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. বাংলা ১২৫০ বঙ্গাব্দে
  2. বাংলা ১৩৫০ বঙ্গাব্দে
  3. ইংরেজি ১৮৫০ সালে
  4. ইংরেজি ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা

ইংরেজি ১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত। বাংলা ১৩৫০ বঙ্গাব্দে এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হওয়ায় এটিকে ''পঞ্চাশের মন্বন্তর'' বলা হয়।
এ দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায়। এ দুর্ভিক্ষের জন্যে কৃত্রিম সংকটকে দায়ী করা হয়। এ দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস – উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়]

১,০৯৫.
ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন? 
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড রিপন 
  3. লর্ড মাউন্টব্যাটেন 
  4. লর্ড বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা

ব্রিটিশ শাসন: 
- ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগ এবং ভারত ভেঙে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন করে।
- রাষ্ট্রের জন্মের মতো ইতিহাসের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে ব্রিটিশ সরকার ভারতের গভর্নর জেনারেল করে পাঠায়। 
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন তিনি ভারতের শেষ ভাইসরয়।
• ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় / গভর্নর:
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম গভর্নর: লর্ড ক্লাইভ।
-শেষ গভর্নর: লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
- প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিল- লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
-শেষ গভর্নর জেনারেল: লর্ড ক্যানিং।
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ভাইসরয়: লর্ড ক্যানিং।
- শেষ ভাইসরয়: লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

এছাড়াও,
- পূর্ব বাংলার ও আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্যার জেনারেল ব্যামফিল্ড ফুলার।
- পূর্ব বাংলার ও আসামের শেষ লেফটেন্যান্ট জেনারেল- স্যার চার্লস স্টুয়ার্ট বেইলি।

উৎস: ইতিহাস, (প্রথম পত্র) একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৯৬.
Which Mughal emperor is laid in rest in Yangoon?
  1. Bahadur Shah
  2. Sher Shah
  3. Jafar Shah
  4. Elias Shah
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ:
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন সর্বশেষ মুঘল সম্রাট।
- ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯৭.
নিচের কোনটি 'যুক্ত বাংলার প্রস্তাব' নামে পরিচিত?
  1. বসু-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব
  2. কাশিম- হক প্রস্তাব
  3. মুজিব-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব 
  4. কাশিম-বসু প্রস্তাব
ব্যাখ্যা
• অখন্ড বাংলার উদ্যোগ:
- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক চরম পর্যায়ে চলে গেলে তা এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় রূপ নেয়।
- এই রকম পরিস্থিতিতে বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্ত বাংলার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন শরৎচন্দ্র বসু। প্রস্তাবটি উপমহাদেশের ইতিহাসে বসু-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব নামে পরিচিত।
- শরৎচন্দ্র বসু এক প্রস্তাবে অখন্ড বাংলাকে একটি ‘সোস্যালিস্ট রিপাবলিক’ হিসেবে গড়ে তোলার আহবান  জানান।
-  অখন্ড বাংলা রাষ্ট্রের প্রবক্তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বৃহত্তর বাংলাকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনি, ২০২৩ সংস্করণ।
১,০৯৮.
বাংলার 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর'-এর সময় কাল:
  1. ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• বাংলার 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর'-এর সময় কাল: ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ। 
-------------------------- 
• ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ইংরেজ গভর্নর ছিলেন কার্টিয়ার।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত।
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৭৭০ সাল) এই দুর্ভিক্ষ হয় বলে একে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বলা হয়।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়।
- এই দুর্ভিক্ষে তৎকালীন বাংলার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ছিলেন জন কার্টিয়ার।
- দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা এবং পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টিজনিত খরার কারণে ফসল উৎপাদন কম হওয়ায় এই দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৯৯.
ওয়ারেন হেস্টিংস কোনটি প্রবর্তন করেন?
  1. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
  2. নীল আইন
  3. পাঁচসালা বন্দোবস্ত
  4. ভারত শাসন আইন
ব্যাখ্যা
পাঁচসালা বন্দোবস্ত:
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।
- অথচ কৃষকের বা জমির উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনো লক্ষ ছিল না।
- এ অবস্থায় হেস্টিংস জমিদারদের সঙ্গে এক সালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।

উল্লেখ্য,
⇒ ওয়ারেন হেস্টিংস:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস।
- তাঁর শাসন কালকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথমপর্ব: ১৭৭২-১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর হিসেবে আর দ্বিতীয় পর্ব, ১৭৭৪-১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনালের হিসেবে।
- তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান এবং বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জমিদারদের সাথে 'পাঁচসালা ভূমি বন্দোবস্ত' করেন।
- তবে নানা কারণে এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হলে তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।
- গভর্নর পদে নিযুক্ত হয়ে হেস্টিংস সর্ব প্রথমেই সীমান্ত নীতি বিষয়ে পরিবর্তন সাধন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সূচনা করেন।

অন্যদিকে,
- গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথার প্রবর্তন করেন।

উৎস: i)  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০০.
খিলাফত আন্দোলন এর নেতা ছিলেন -
  1. মাওলানা মোহাম্মদ আলী
  2. মাওলানা শওকত আলী
  3. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা

খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন। কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- কিন্তু এই যুদ্ধে জার্মানি হেরে গেলে জার্মানির পক্ষে যোগদানের কারণে শাস্তি স্বরূপ তুরস্ককে খণ্ড-বিখণ্ডিত করার পরিকল্পনা করা হয়।
- এই আন্দোলনে নেতৃত্বদেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।