বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের চরিত্র, উক্তি ও সংলাপ

মোট প্রশ্ন১,৪৯০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের চরিত্র, উক্তি ও সংলাপ

PrepBank · পাতা / ১৫ · ১০১২০০ / ১,৪৯০

১০১.
'বছির' কোন উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. পদ্মা নদীর মাঝি
  3. বোবাকাহিনী
  4. তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা
• বোবা কাহিনী:
- জসীম উদ্দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• জসীম উদ্দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

অন্যদিকে,
- 'চাঁদের অমাবস্যা' - আরেফ আলী।
- 'পদ্মা নদীর মাঝি' - কুবের, কপিলা, মালা ও হোসেন মিয়া।
- 'তিতাস একটি নদীর নাম' - কিশোর, বাসন্তী, অনন্ত ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
১০২.
'রাইচরণ' চরিত্রটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. একরাত্রি
  2. পোস্টমাস্টার
  3. ক্ষুধিত পাষাণ
  4. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
ব্যাখ্যা

• 'রাইচরণ' চরিত্রটি পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পে।

• 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন'।
- 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পটি রবীন্দ্রনাথের 'গল্পগুচ্ছ' গ্রন্থ থেকে সঙ্কলিত হয়েছে। গল্পটি ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সাধু-ভাষায় রচিত এ গল্পে রবীন্দ্র ছোটগল্পের প্রথম পর্বের শিল্পবৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আবেগ এবং গীতিময়তা, প্রকৃতি ও মানুষের বিজড়িত অস্তিত্ব, মানব জীবনের বিশেষ কোন পরিণাম সংগঠনে প্রকৃতির ভূমিকা ইত্যাদি ভাব ও অনুষঙ্গ আলোচ্য গল্পের প্রধান শিল্পলক্ষণ।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
অনুকূলবাবুর শিশুপুত্র খোকাবাবু পদ্মা নদীতে পড়ে চিরতরে হারিয়ে যায়। এ-জন্যে ভৃত্য রাইচরণের মনোবেদনার শেষ নেই। খোকাবাবুর মৃত্যুর কিছুদিন পরেই রাইচরণের স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। রাইচরণের দৃঢ় বিশ্বাস, খোকাবাবুই তার যন্ত্রাকে প্রশমিত করার জন্যে তার ঘরে এসে জন্মলাভ করেছে। তাই সে তার পুত্রকে খোকাবাবু জ্ঞানে ভিন্নভাবে আদর-যত্ন আর হে ভালবাসায় বড় করে তোলে। রাইচরণের খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন বিষয়ক ভাবনাই তার পরিণতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- অনুকূলবাবু,
- রাইচরণ,
- খোকাবাবু।

অন্যদিকে,
• 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
• 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
• 'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প।

১০৩.
"তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রোগ-দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না।" - কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. মহেশ
  2. বিড়াল
  3. সাম্য
  4. বৈকুণ্ঠের উইল
ব্যাখ্যা
• 'বিড়াল' প্রবন্ধের অংশবিশেষ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
“দেখ, যদি অমুক শিরোমণি, কি অমুক ন্যায়ালঙ্কার আসিয়া তোমার দুধটুকু খাইয়া যাইতেন, তবে তুমি কি তাঁহাকে ঠেঙ্গা লইয়া মারিতে আসিতে? বরং যোড়হাত করিয়া বলিতে, আর একটু কি আনিয়া দিব? তবে আমার বেলা লাঠি কেন? তুমি বলিবে, তাঁহারা অতি পণ্ডিত, বড় মান্য লোক। পণ্ডিত বা মান্য বলিয়া কি আমার অপেক্ষা তাঁহাদের ক্ষুধা বেশী? তা ত নয়- তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রোগ-দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না। যে খাইতে বলিলে বিরক্ত হয়, তাহার জন্য ভোজের আয়োজন কর-আর যে ক্ষুধার জ্বালায় বিনা আহ্বানেই তোমার অন্ন খাইয়া ফেলে, চোর বলিয়া তাহার দণ্ড কর-ছি! ছি!

উৎস: 'বিড়াল' প্রবন্ধ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
১০৪.
'আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।' বিখ্যাত উক্তি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঘরে-বাইরে 
  2. পথের দাবী
  3. গোরা 
  4. চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। গ্রন্থাকারে এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।

-'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী' ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়। এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কোনো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক 'সব্যসাচী' এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

- গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে 'পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

-'আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।'- এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে,
------------------
• ঘরে-বাইরে, গোরা ও চার অধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রইত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৫.
'নিমচাঁদ ও সৌদামিনী' চরিত্র দুটি সৃষ্টি করেছেন কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৬.
'আয় চলে আয় রে, ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনে এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।' - পঙ্‌ক্তিগুলো রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
'ধূমকেতু' উপন্যাস:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ - সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ‘ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরােধী রচনা এখানে ছাপা হতাে।
- নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:

'আয় চলে আয় রে, ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনে এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৬।
১০৭.
'অধ্যাপক রায়হান' চরিত্রটি পাওয়া যায় নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. ক) বসত
  2. খ) যাত্রা
  3. গ) ওয়ারিশ
  4. ঘ) দলিল
ব্যাখ্যা
• শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• উপন্যাসটি ১৯৭৬সালে প্রকাশিত হয়।
• ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’। প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
• ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান

-----------------------

শওকত আলী
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ। 
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই। এর পর প্রকাশিত হয়েছে। দুটি ছােটগল্প সংকলন ও একটি উপন্যাস।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন। বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে। 

শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ
- প্রদোষে প্রাকৃতজন
- দক্ষিণায়নের দিন 
- কুলায় কালস্রোত
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
- যেতে চাই
- ওয়ারিশ
- বাসর মধুচন্দ্রিমা
- উওরের খেপ
- বসত
- হিসাবনিকাশ
- দলিল
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: যাত্রা শওকত আলী; কালি ও কলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১০৮.
"দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• "দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" পঙ্‌ক্তিটি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের 'সম্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতার অন্তর্গত।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সদ্ভাবশতক' প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত। 

কবিতাটি নিম্নরূপ-

দুঃখ বিনা সুখ হয় না
কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনোরথ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৯.
‘কল্যাণী’ নিচের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. ক) অপরিচিতা
  2. খ) দেনাপাওনা
  3. গ) সমাপ্তি
  4. ঘ) অতিথি
ব্যাখ্যা
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘অপরিচিতা’ গল্পটি মনস্তাপে ভেঙে পড়া এক ব্যক্তিত্বহীন যুবকের আত্ম-স্বীকারোক্তি গল্প। উক্ত গল্পের প্রধান চরিত্রঃ কল্যাণী ওঅনুপম। রেফারেন্সঃ বাংলা প্রথম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই।
১১০.
'লালসালু' উপন্যাসে কোন চরিত্রটি নারী প্রতিবাদের প্রতীক?
  1. আমেনা 
  2. জমিলা
  3. ফাতেমা 
  4. রহিমা
ব্যাখ্যা

• লালসালু:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস।
- ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনি রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
- উপন্যাসের মূলবিষয় ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা।
- এদেশে মজিদের মতো চরিত্র আজো গ্রামে ও শহরে প্রচুর।
- তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক সে লাঞ্ছিত হয়, মাজারের গায়ে পা লেগে থাকে জমিলার।
- উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
- বহুমাত্রিক ও উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ্য করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে অনূদিত হয়ে খ্যাতি অর্জন করে।
- উপন্যাসটি ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম - ল্য অরবরে সামস মায়েমেঁ (১৯৬১)।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র পত্নী 'অ্যান মেরি' উপন্যাসটির ফরাসি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লালসালু উপন্যাস। 

১১১.
'দেখতে কেমন তুমি? কী রকম পোশাক-আশাক
প'রে করো চলাফেরা? মাথায় আছে কি জটাজাল?' - কবিতাংশুটুকু রচনা করেন কে?
  1. মাহবুবুল আলম চৌধুরী
  2. শামসুর রাহমান
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'দেখতে কেমন তুমি? কী রকম পোশাক-আশাক
প'রে করো চলাফেরা? মাথায় আছে কি জটাজাল?' - কবিতাংশুটুকু শামসুর রাহমানের 'গেরিলা' কবিতার 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 

গেরিলা,
- শামসুর রাহমান

দেখতে কেমন তুমি? কী রকম পোশাক-আশাক
প'রে করো চলাফেরা? মাথায় আছে কি জটাজাল?
পেছনে দেখাতে পারো জ্যোতিশ্চক্র সন্তের মতন?
টুপিতে পালক গুঁজে অথবা জবরজং, ঢোলা
পাজামা কামিজ গায়ে মগডালে এক শিস দাও
পাখির মতোই; কিংবা চা-খানায় বসো ছায়াচ্ছন্ন?

--------------------
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার (বর্তমানে নরসিংদী জেলা) রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১২.
‘কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না’- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• ‘কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না’- উক্তিটির রচয়িতা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। 

• ‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
• ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
• বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
• ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।
• 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।
• উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী। 
• ‘কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না’- এই উপন্যাসের একটি বিখ্যাত উক্তি।
 
------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।
 
• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘রাজসিংহ’ উপন্যাস। 
১১৩.
প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোন যতিচিহ্ন দিয়ে উক্তিকে আবদ্ধ করা হয়?
  1. ক) সেমিকোলন
  2. খ) উদ্ধারচিহ্ন
  3. গ) কোলন
  4. ঘ) ড্যাশ
ব্যাখ্যা
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

• বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
উক্তি দুই প্রকার:
১/ প্রত্যক্ষ উক্তি ও
২/ পরোক্ষ উক্তি।
যেমন –
ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” – এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। – এটি পরোক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১১৪.
'ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত'- এ উদ্ধৃতিটির রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. সুফিয়া কামাল 
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

• "ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত" এ উদ্ধৃতির রচয়িতা সুভাষ মুখোপাধ্যায়। 
--------------------- 
• সুভাষ মুখোপাধ্যায়: 
- ১৯১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সাহিত্য-সংস্কৃতির সাংগঠনিক নেতৃত্বেও তিনি পারদর্শিতার পরিচয় দেন।
- ১৯৫৮ সালে তিনি তাসখন্দে অনুষ্ঠিত আফ্রো-এশীয় লেখক সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন।
- সুভাষ মুখোপাধ্যায় একটি বিখ্যাত কবিতা, 'ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত'।
- তিনি 'সুবচনী' ছদ্মনামে সাহিত্য চর্চা করতেন। 
- ২০০৩ সালের ৮ জুলাই তিনি মারা যান।
-------------------
কবিতাটি নিম্নরূপ-
ফুল ফুটুক না ফুটুক
সুভাষ মুখোপাধ্যায়

ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।
শান-বাঁধানো ফুটপাথে
পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ
কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে
হাসছে।
ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত। (সংক্ষিপ্ত)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তোতা কাহিনী' গল্পে তোতা কীসের প্রতীক?
  1. শিক্ষকের
  2. গণকঠাকুরের
  3. শিশুর
  4. গবেষকের
ব্যাখ্যা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তোতা কাহিনী' গল্পে ‘তোতা’ ‘শিশুর’ প্রতীক। 
- গল্পর মধ্যে শিক্ষার স্বাভাবিক পথকে রুদ্ধ করে বাড়াবাড়ি রকমের আয়োজন ও জবরদস্তিটাই তোতা-কাহিনিতে করুণরূপে ফুটে উঠেছে। এ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'শিশুর’ অপশিক্ষার প্রতিফলকে পাখির মৃত্যুর রূপকে তুলে ধরেছেন।

গল্পের মূলভাব:
- একবার 'মূর্খ' তোতা পাখির শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন রাজা। রাজার ভাগিনাদের ওপর দেওয়া হলো সেই শিক্ষার ভার। ডাকা হলো রাজপণ্ডিতদের। নানা আলোচনা শেষে তারা সিদ্ধান্ত জানালেন, সামান্য খড়কুটো দিয়ে পাখিটি যে-বাসা বাঁধে, সে-বাসা অধিক বিদ্যাধারণের উপযুক্ত নয়। তাই রাজপণ্ডিতদের পরামর্শ অনুযায়ী পাখির জন্য নির্মিত হলো সোনার খাঁচা। অপূর্ব সে খাঁচা দেখার জন্য দেশ-বিদেশের লোক ঝুঁকে পড়ল। এরপর পণ্ডিত মশাই এলেন পাখিকে বিদ্যা শেখাতে। পুথি-লেখকরা পুথির নকল করে করে বিশাল স্তূপ তৈরি করল। বিদ্যাশিক্ষার পাশাপাশি চলল খাঁচাটার মেরামত ও মেরামতের তদারকি। পাখির শিক্ষা-কার্যক্রম স্বচক্ষে দেখতে চাইলেন রাজা। পাত্র-মিত্র-অমাত্য নিয়ে রাজা শিক্ষাশালায় উপস্থিত হলেন। অমনি বেজে উঠল নানা বাদ্যযন্ত্র। রাজার শিক্ষাশালায় আসার মূল উদ্দেশ্যই ঢাকা পড়ে গেল রাজাকে স্বাগত জানাবার এমন হুলুস্থুল আয়োজনে। এদিকে, শিক্ষার চাপে পাখিটি ধীরে ধীরে আধমরা হয়ে এল। একদিন দেখা গেল, সে তার রোগা ঠোঁট দিয়ে খাঁচার শিক কাটবার চেষ্টা করছে। পাখির এ 'বেয়াদবি' দেখে ক্ষিপ্ত কোতোয়াল ডেকে আনল কামারকে। এবার পাখির জন্য তৈরি হলো শিকল, কাটা পড়ল ডানা। পণ্ডিতেরাও এক হাতে কলম, এক হাতে সড়কি নিয়ে শিক্ষা দিতে উদ্যত হলো। অবশেষে পাখিটা মারা গেল। শিক্ষার স্বাভাবিক পথকে রুদ্ধ করে বাড়াবাড়ি রকমের আয়োজন ও জবরদস্তিটাই তোতা-কাহিনিতে করুণরূপে ফুটে উঠেছে। এ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অপশিক্ষার প্রতিফলকে পাখির মৃত্যুর রূপকে তুলে ধরেছেন।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বর যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ, 
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- কঙ্কাল,
- মাল্যদান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'তোতা কাহিনী' গল্প।

১১৬.
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই" - উক্তিটি কে লিখছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কাজী কাদের নেওয়াজ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• "মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই" - পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত  'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থের 'প্রাণ' কবিতার অন্তর্গত।

প্রাণ - কবিতা,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।
এই সূর্য্য করে এই পুষ্পিত কাননে
জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই!"

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ); প্রাণ - কবিতা; বাংলাপিডিয়া।
১১৭.
"নিমচাঁদ, কেনারাম" চরিত্র দুটি সৃষ্টি করেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১৮.
আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. ক) মোহনলাল
  2. খ) মদনলাল
  3. গ) মতিলাল
  4. ঘ) ঠকচাচা
ব্যাখ্যা
'ঠকচাচা' চরিত্রটি প্যারীচাঁদ মিত্রের বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর মজার একটি চরিত্র। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র মতিলাল। উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ
১১৯.
'জয়গুন' কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. সূর্য দীঘল বাড়ী
  2. লালসালু
  3. পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. পদ্মানদীর মাঝি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সূর্য দীঘল বাড়ী:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত 'লালসালু' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
• আবু ইসহাক রচিত 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসের চরিত্র: ফজল, এরফান মাতব্বর, আরশেদ মোল্লা, জরিবা, রূপজান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২০.
নিম্নলিখিত চরিত্রগুলোর মধ্যে কে ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের চরিত্র নন?
  1. বেণী
  2. বিলাস
  3. রমেশ
  4. রমা
ব্যাখ্যা
'পল্লীসমাজ' উপন্যাস:
- রমেশ ও রমা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পল্লীসমাজ উপন্যাসের চরিত্র।
- পল্লীসমাজ (১৯১৬) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
- বাংলার পল্লীসমাজের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় এক আদর্শবাদী যুবক - যুবতীর সম্পর্ক
ও বিশেষ করে তাদের অভিশপ্ত প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- ১৯১৫ সালে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২১.
'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র কোনটি?
  1. কুবের
  2. হোসেন মিয়া
  3. শীতলবাবু
  4. ধনঞ্জয়
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।

- এই উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো-
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
১২২.
"সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।" চরণ দুটির রচিয়তা-
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
•  'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।'- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি মদনমোহন তর্কালঙ্কার রচিত 'আমার পণ' কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি 'চট্টোপাধ্যায়' হলেও প্রাপ্ত উপাধি 'তর্কালঙ্কার' হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় 'সংস্কৃত-যন্ত্র' (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।
- কবি-প্রতিভার জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি 'কাব্যরত্নাকর' এবং পাণ্ডিত্যের জন্য 'তর্কালঙ্কার' উপাধি লাভ করেন।
- ১৮৫৮ সালের ৯ মার্চ কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: আমার পণ- কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৩.
'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' এর উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

- 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত উক্তি:
- ‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'
- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়'।
- "ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে কালি পড়ে।"
- 'বই কিনে কেউ কোনোদিন দেউলিয়া হয় না।'

• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী, গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর ছদ্মনাম বীরবল।
- তিনি সবুজপত্র (১৯১৪) ও বিশ্বভারতী, রূপ ও রীতি এবং অলকা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারি কথা।
- আহুতি।
- নীললোহিত ও
- গল্প সংগ্রহ। 

• তাঁর রচিত প্ৰবন্ধগ্রন্থ:
- তেল- নুন -লাকড়ী।
- বীর বলের হালখাতা (চলিত রীতির প্রথম গদ্য রচনা)। 
- নানাকথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২৪.
“টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়, অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।" - উক্তিটি কোন গল্পের?
  1. মামলার ফল
  2. বিলাসী
  3. সতী
  4. মহেশ
ব্যাখ্যা
বিলাসী:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।
- বিলাসী গল্পের বিখ্যাত উক্তি - “টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়, অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।"

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে।
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২৫.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র-
  1. গণেষ
  2. ভিখু
  3. জয়গুন
  4. জাহানারা
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য দীঘল বাড়ী':
 • 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬)
- জাল (১৯৮৮)
• গল্পগ্রন্থ:
- হারেম (১৯৬২)
- মহাপতঙ্গ (১৯৬৩)


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২৬.
'সুরবালা' কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. গৃহদাহ
  2. চতুরঙ্গ
  3. চরিত্রহীন
  4. দেনা পাওনা
ব্যাখ্যা

• 'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন। গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

- প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রহে (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

- সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষতক সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলি সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো- জ্যাঠামশায়, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস।৷

• 'দেনা পাওনা' উপন্যাসটি রচনা করেছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে। কাহিনির নায়ক, জীবনানন্দ। এই নাটক 'ষোড়শী' নামে নাট্যায়িত হয়।

-------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী ইত্যাদি।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২৭.
"ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়; পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সমর সেন
  2. শামসুর রাহমান
  3. রফিক আজাদ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - সুকান্ত ভট্টাচার্য।
আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

হে মহাজীবন- 
(ছাড়পত্র) - সুকান্ত ভট্টাচার্য।

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হল:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: ছাড়পত্র, সুকান্ত ভট্টাচার্য, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২৮.
'জোহরা' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় কোন কাব্যগ্রন্থে?
  1. ক) রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. খ) কবর
  3. গ) মহাশ্মশান
  4. ঘ) অশ্রুমালা
ব্যাখ্যা
• 'মহাশ্মশান' (১৯০৫) কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এটি একটি মহাকাব্য।
- এটি ধারাবাহিকভাবে 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
- মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খন্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে।
- এর চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা বেগম, হিরণ বালা, আতা খাঁ, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২৯.
“পিপীলিকার পাখা উড়ে মরিবার তরে
কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।।”
উদ্ধৃতিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

একটি অতি প্রচলিত প্রবাদবাক্য “পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে”
মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের ‘কালকেতু ও ফুল্লরা উপাখ্যান’ থেকে উদ্ধৃতিটি নেওয়া হয়েছে।

- মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চন্ডীমঙ্গল কাব্যে প্রবাদটির ব্যবহার আছে।
- চণ্ডীমঙ্গল যখন অপরূপ সুন্দরী নারী মূর্তি ধারণ করে কালকেতুর কুঁড়েঘরটি আলোকিত করে বসে থাকলেন, কালকেতুর স্ত্রী ফুল্লরা এই নারীকে দেখে স্বামীকে সন্দেহ করলো।
- তার সে সন্দেহ দৃঢ়মূল হলো যখন মেয়েটি জানালো বনের মধ্যে তিনি একা একা বিচরণ করছিলেন, ফুল্লরার স্বামী কালকেতুই তাঁকে ধরে নিয়ে এসেছে।
- মেয়েটির কথা শুনে ফুল্লরার পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল। মেয়েটি ফুল্লরার কথায় গৃহত্যাগ করতে রাজি নয়। কালকেতু তাঁকে নিয়ে এসেছে, কাজেই কালকেতুর নির্দেশ ছাড়া তিনি গৃহত্যাগ করবেন না।
- কালকেতু তখন হাটে গেছে মাংস বিক্রি করতে। ফুল্লরার ধারণা, ঘরে তার সতীন এসেছে। রাগে, দুঃখে, ক্ষোভে অভিমানে ফুল্লরা হাটের দিকে যায় স্বামীকে মোকাবিলা করতে।
স্বামীকে পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে উচ্চারণ করে:
“পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে /
কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে?”

উৎস : কালকেতু ও ফুল্লরা উপাখ্যান এবং ইত্তেফাক আর্কাইভ।

১৩০.
“তোমরা আনিবে ফুল ও ফসল পাখি-ডাকা রাঙা ভোর
জগৎ করিবে মধুময়, প্রাণে প্রাণে বাঁধি প্রীতিডোর।" - কোন কবির শিশু সাহিত্য?
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. সুকুমার রায়
  4. কামিনী রায় 
ব্যাখ্যা

কবিতাংশটুকু কবি সুফিয়া কামালের 'আজিকার শিশু' কবিতার অংশবিশেষ। 
------------------------------------------------
"আজিকার শিশু"
   —সুফিয়া কামাল

"আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা।
তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা।
আমরা যখন আকাশের তলে ওড়ায়েছি শুধু ঘুড়ি
তোমরা এখন কলের জাহাজ চালাও গগন জুড়ি।
উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু সব তোমাদের জানা,
আমরা শুনেছি সেখানে রয়েছে জিন, পরী, দেও, দানা।
পাতালপুরীর অজানা কাহিনী তোমরা শোনাও সবে
মেরুতে মেরুতে জানা পরিচয় কেমন করিয়া হবে।
তোমাদের ঘরে আলোর অভাব কভু নাহি হবে আর
আকাশ-আলোক বাঁধি আনি দূর করিবে অন্ধকার।
শস্য-শ্যামলা এই মাটি মা'র অঙ্গ পুষ্ট করে
আনিবে অটুট স্বাস্থ্য, সবল দেহ-মন ঘরে ঘরে।
তোমাদের গানে, কল-কলতানে উছসি উঠিবে নদী—
সরস করিয়া তৃণ ও তরুরে বহিবে সে নিরবধি।
তোমরা আনিবে ফুল ও ফসল পাখি-ডাকা রাঙা ভোর
জগৎ করিবে মধুময়, প্রাণে প্রাণে বাঁধি প্রীতিডোর।
------------------------------------------------
সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

• তাঁর  উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’। 
• স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে কবির উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

• কবি সুফিয়া কামালের শিশু সাহিত্যেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
- তাঁর ‘ইতল বিতল’ এবং ‘নওল কিশোরের দরবারে’ গ্রন্থ দুটি শিশুদের জন্য রচিত ছড়া ও কবিতার সংকলন।
- গ্রন্থ দুইটি বাংলা শিশু সাহিত্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
- এসব রচনায় শিশুদের কল্পনা, আনন্দ ও মানসিক জগৎ অত্যন্ত সহজ ও প্রাণবন্তভাবে ফুটে উঠেছে।

• এ ছাড়া শিশুদের কেন্দ্র করে লেখা তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘আজিকার শিশু’ শিশু সাহিত্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস:
‘আজিকার শিশু’ কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৩১.
"মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।" - রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ইব্রাহিম কার্দি
  2. নবাব সুজাউদ্দৌলা
  3. জোহরা
  4. হিরণবালা
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর':
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩২.
'সোহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ছোটগল্পের চরিত্র?
  1. রবিবার
  2. দেনাপাওনা
  3. ল্যাবরেটরি
  4. একরাত্রি
ব্যাখ্যা

• 'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে সোহিনী। বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "রবিবার" গল্পটি একটি জটিল মানব সম্পর্কের গল্প, যার কেন্দ্রে রয়েছে অভীককুমার নামে এক তরুণ নাস্তিক এবং বিভা নামে এক ধর্মপ্রাণ তরুণীর মধ্যে গভীর আবেগপ্রবণ সম্পর্ক।

• 'দেনাপাওনা' ছোটগল্প: 'দেনাপাওনা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলিত হয়েছে। এ গল্পে তৎকালীন হিন্দু সমাজে পণপ্রথার কুফল সম্পর্কে জানা যায় এবং পণপ্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াস উপলব্ধি করা যায়। লেখক গল্পটিতে যৌতুক নামক সামাজিক ব্যাধির এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছেন, যা যৌতুক গ্রহণকারীদের প্রতি ঘৃণার জন্ম দেয়। 'দেনাপাওনা' গল্পের নায়িকা- নিরূপমার।

• 'একরাত্রি' ছোটগল্প: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ গল্পসমূহের মধ্যে 'একরাত্রি' বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৯ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায়। ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ছোটগল্প' শীর্ষক রবীন্দ্র গল্পগ্রন্থে এটি প্রথম গ্রন্থিত হয়। গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- 'সুরবালা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

১৩৩.
''এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে'' কবিতায় - ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট ________?
  1. শঙ্খমালা
  2. লক্ষ্মীপেঁচা
  3. শঙ্খচিল
  4. সুদর্শন
ব্যাখ্যা
• 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে কবিতায় ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট হলো - লক্ষ্মীপেঁচা। 
----------------- 
কবিতাংশ:
এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সবচেয়ে সুন্দর করুণ : 
সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;
সেখানে গাছের নামঃ কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল;
সেখানে ভোরের মেঘে নাটার র’ঙের মতো জাগিছে অরুণ;
সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে,—সেখানে বরুণ
কর্ণফুলী ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল;
সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল,

সেইখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট, তরুণ;
সেখানে লেবুর শাখা নূয়ে থাকে অন্ধকারে ঘাসের উপর
সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে;
সেখানে হলুদ শাড়ি লেগে থাকে রূপসীর শরীরের ’পর—
শঙ্খমালা নাম তারঃ এ-বিশাল পৃথিবীর কোনো নদী ঘাসে
তারে আর খুঁজে তুমি পাবে নাকো—বিশালাক্ষী দিয়েছিলো বর
তাই সে জন্মিছে নীল বাংলার ঘাস আর ধানের ভিতর।
--------------------- 
• জীবনানন্দ দাশ: 
- ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, এসএসসি প্রোগ্রাম- বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- কবিতা, জীবনানন্দ দাস।
১৩৪.
"মনে মনে সকলেই যাহা জানে মুখ ফুটিয়া তাহা বলিবার অধিকার তাহার নাই।" - উক্তিটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. ক) হাজার বছর ধরে
  2. খ) পদ্মা নদীর মাঝি
  3. গ) তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ঘ) দুই বোন
ব্যাখ্যা
উক্তিটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের অন্তর্গত। উক্তিটি উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কুবের সম্পর্কে করা হয়েছে।

“গরিবের মধ্যে সে গরিব , ছোটলোকের মধ্যে আরও বেশী ছোটলোক। এমনভাবে তাহাকে বঞ্চিত করিবার অধিকারটা সকলে তাই প্রথার মতো , সামাজিক ও ধর্মসম্পর্কীয় দশটা নিয়মের মতো, অসংকোচে গ্রহণ করিয়াছে। সে প্রতিবাদ করিতেও পারিবে না। মনে মনে সকলেই যাহা জানে মুখ ফুটিয়া তাহা বলিবার অধিকার তাহার নাই।”

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পদ্মা নদীর মাঝি' ১৯৩৪ সাল থেকে ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ হয় ১৯৩৬ সালে।

- কুবের ‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।  
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
 - কপিলা
- মালা,
- হোসেন মিয়া,
- ধনঞ্জয়,
- শীতলবাবু।

উৎস: পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৫.
'নগেন্দ্রনাথ' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চরিত্রহীন
  2. যোগাযোগ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস
- 'বিষবৃক্ষ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এতে বিধবা বিবাহ,পুরুষের একাধিক বিবাহ,নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- বাল্য বিধবা কুন্দনন্দিনী এ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের চরিত্র: আয়েশা, তিলোত্তমা। 
- মৃণালিনী  উপন্যাসের চরিত্র: হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ  উপন্যাসের চরিত্র: কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৬.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. নন্দলাল বসু
ব্যাখ্যা
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনী হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' - এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য। তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা, 
- মাধবীলতা, 
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৭.
'বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।' - এই উদ্ধৃতাংশটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. নবান্ন
  2. খেয়াপার
  3. প্রলয়োল্লাস
  4. খেয়া পারের তরণী
ব্যাখ্যা
• ''বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।'' - এই উদ্ধৃতাংশটি 'খেয়া পারের তরণী' কবিতার অন্তর্গত।

খেয়া পারের তরণী
- কাজী নজরুল ইসলাম

‘শাফায়ত’-পাল-বাঁধা তরণীর মাস্তুল,
‘জান্নাত্’ হতে ফেলে হুরি রাশ্ রাশ্ ফুল।
শিরে নত স্নেহ-আঁখি মঙ্গল দাত্রী,
গাও জোরে সারি-গান ও-পারের যাত্রী।
বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।

উৎস: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
১৩৮.
'সতীশ ও সাবিত্রী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দেনা-পাওনা
  2. গৃহদাহ
  3. চরিত্রহীন
  4. পণ্ডিতমশাই
ব্যাখ্যা
• 'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন। গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

- প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রের চরিত্রহীন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষে সতীশকে বিয়ে করেন। 'চরিত্রহীন' উপন্যাসে মুখ্য চরিত্রের সমন্বয়ক উপেন্দ্র। যদিও এ উপন্যাসে উপেন্দ্রর গুরুত্ব যথেষ্ট। উপন্যাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর বিস্তৃতি লক্ষ করা যায়। সতীশ ও সাবিত্রীর গভীর অনুরাগ জ্ঞাত হয়েও তিনি সমাজব্যবস্থার যাঁতাকল থেকে বেরিয়ে এসে সমাজ- শৃঙ্খলে আবদ্ধ নারীকে মুক্তি দিতে পারেননি। তাই তো উপেন্দ্র সাবিত্রীক নয়, সতীশের হাতে তুলে দিলেন সরোজিনীকে। আবার কিরণময়ী তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হলেও কিরণময়ীর প্রতি তাঁর ছিল নির্মোহ ভালোবাসা। যার ফলে কিরণময়ী শোধ তুলতে কৃত্রিম প্রণয়স্রোতে দিবাকরকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল অনেক দূরে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রত্রয় হলো-
- সতীশ,
- সাবিত্রী ও
- কিরণময়ী।

----------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী ইত্যাদি।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৯.
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন" উক্তিটি কোন কাব্যের অংশ?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) তোহফা
  3. গ) হপ্তপয়কর
  4. ঘ) পদাবলী
ব্যাখ্যা
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন" উক্তিটি কবি আলাওল 'পদ্মাবতী' কাব্যে করেছেন।
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির পদুমাবত এর কাব্যোনুবাদ।

'পদ্মাবতী' কাব্যে কবি আলাওলের আরও কিছু উক্তি- 
- দিবসের মর্ম কভু না পুছে পেচক। 
- যমে প্রাণ হরি নিতে কিবা নিশি দিশি। 
- ভাগ্য বিপরীত হৈলে খণ্ডে সব সুখ। 
- পড়শী হৈলে শত্রু গৃহে সুখ নাই। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১৪০.
‘অন্নদা দিদি’ কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. বড়দিদি
  2. শ্রীকান্ত
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. বিরাজ বৌ
ব্যাখ্যা
• ‘অন্নদা দিদি’- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র। 

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস: 
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র- 'ইন্দ্রনাথ'। 
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।

• উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- কমললতা প্রমুখ।

------------------------- 
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪১.
'হাসু' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. সূর্য দীঘল বাড়ি
  2. লালসালু
  3. পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. হাজার বছর ধরে
ব্যাখ্যা

'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

আবু ইসহাক:
- তাঁর জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন সূর্য দীঘল বাড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪২.
ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. বহিপীর
  2. লালসালু
  3. তরঙ্গভঙ্গ
  4. উজান মৃত্যু
ব্যাখ্যা
⇒ ‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। 
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।
 
================
⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৩.
'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. উদয়াদিত্য
  2. অমল
  3. সুরমা
  4. ধনঞ্জয়
ব্যাখ্যা
'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ধনঞ্জয় বৈরাগী,
- সুরমা,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'ডাকঘর' নাটকের চরিত্র - অমল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৪৪.
‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাস:
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ।
• প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
• এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে ‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
• উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
• ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

--------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধসমূহ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৫.
'নন্দিনী ও রঞ্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. বিসর্জন
  2. রক্তকরবী
  3. ডাকঘর
  4. বৈকুণ্ঠের খাতা
ব্যাখ্যা
• 'রক্তকরবী' নাটক: 
- 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নন্দিনী ও 
- রঞ্জন। 

অন্যদিকে,
• 'বিসর্জন' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অপর্ণা।
• 'ডাকঘর' নাটকের উল্ল্যেখযোগ্য চরিত্র: অমল, ঠাকুর্দা, সুধা, দৈওয়ালা ইত্যাদি।

• 'বৈকুণ্ঠের খাতা' (১৮৮৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় কৌতুক নাটক। এক আত্মভােলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনির কেন্দ্র। তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা। সংলাপের দ্যুতি এবং আচরণের নাটকীয়তা নাটকটির জনপ্রিয়তার মূলে। নাটকটির কোনাে কোনাে চরিত্রে লেখকের আত্মীয়বন্ধুর চরিত্রের ছায়াপাত ঘটেছে।

-----------------
রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক গুলো:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৬.
'অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন’ - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. যাত্রা
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রােটি আওরাত' উপন্যাস:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩) আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে - ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪৭.
ঠকচাচা ও মতিলাল চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের?
  1. ক) কপালকুন্ডলা
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) আলালের ঘরের দুলাল
  4. ঘ) যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
- ঠকচাচা ও মতিলাল চরিত্র দুটি 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

• আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৮.
‘আরেফ আলী’ চরিত্র টি কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) কাঁদো নদী কাঁদো
  2. খ) চাঁদের আমাবস্যা
  3. গ) নয়নচারা
  4. ঘ) বহিপীর
ব্যাখ্যা
‘আরেফ আলী’ চরিত্র টি ‘চাঁদের আমাবস্যা’ উপন্যাসের।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি 'ভরের আলো' নামের হাটে লেখা পত্রিকা সম্পাদন করেন।

তাঁর রচনা সমূহ:
• উপন্যাস:
- লালসালু
- চাঁদের আমাবস্যা
- কাঁদো নদী কাঁদো
- দি আগলি এশিয়ান

• গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

• নাটক:
- বহিপীর
- তরঙ্গভঙ্গ
- সুড়ঙ্গ
- উজানে মৃত্যু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৪৯.
"জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই?"- বিখ্যাত সংলাপটি কার রচিত নাটকে উধৃত হয়েছে?
  1. মমতাজউদদীন আহমদ
  2. নুরুল মোমেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• "জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই?"- বিখ্যাত সংলাপটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'নুরুলদীনের সারাজীবন' নাটকে উধৃত হয়েছে। 

• 'নুরুলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য:

- "নুরুলদীনের সারাজীবন” (১৯৮২) ১৪টি দৃশ্যে সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য। ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ তাঁর মঞ্চসফল অপর একটি নাটক।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে নাটকটি রচিত।
- এই নাটকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- 'জাগো বাহে, কোন্‌ঠে সবাই'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫০.
"আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি"- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন ঐতিহাসিক ঘটনার পেক্ষাপটে উক্তিটি করেন?
  1. মুক্তিযুদ্ধ 
  2. ভাষা আন্দোলন 
  3. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. দেশভাগ
ব্যাখ্যা

• ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিম। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন কারন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযুক্ত হন।

- ভাষা, সাহিতা ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ড প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিডিয় পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আন এমলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫) ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিতা পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২৯) হিসেবে তিনি যোগাতার পরিচয় দেন।

- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা নি লীম (১৯৯০), বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন।

- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিতা,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিক-ওয়ায় ও জওয়াব-ই-শিকওয়ায়,
- রুবাইয়াত-ই-উমর অয়্যাম,
- Essays on Islam,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিতোর কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আমর কী তারিখ,
- বাংলা সাহিতোর কথা,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকারা,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিতা জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫১.
"সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি"- উক্তিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কবি কাহিনী
  2. শেষের কবিতা
  3. কবিতার কথা
  4. কবি
ব্যাখ্যা
• 'কবিতার কথা' প্রবন্ধ:
- "কবিতার কথা" কবি জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রবন্ধ যা তাঁর মৃত্যুর পর প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে তিনি কবিতা ও কবি-সত্তা নিয়ে নিজস্ব ভাবনা প্রকাশ করেছেন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে।
- এই প্রবন্ধে তিনি "সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি" এই বিখ্যাত উক্তিটি করেন, যা বাংলা সাহিত্য জগতে একটি উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে আছে।  
- "কবিতার কথা" প্রবন্ধে জীবনানন্দ দাশ কবিতার সংজ্ঞা, কবিতার উপাদান, কবির মানসিকতা এবং কবিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন। 

---------------
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'কবি' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। 
• 'কবি কাহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
• 'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫২.
নিচের কোন চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথের 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের?
  1. বিহারী-বিনোদিনী
  2. নিখিলেস-বিমলা
  3. মধুসূদন-কুমুদিনী
  4. অমিত-লাবণ্য
ব্যাখ্যা
• 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে (১৯১৬) চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসটি ১৯১৫ সালে ‘সবুজপত্রে’ প্রকাশিত হয়।
- ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উপন্যাসটি রচিত।
- এই উপন্যাসের সঙ্গে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অট' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।

• এর উল্লেখযােগ্য চরিত্র-
- নিখিলেশ,
- বিমলা
- সন্দীপ।

-------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনি, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এই পরিবারের পূর্বপুরুষ পূর্ববঙ্গ থেকে ব্যবসায়ের সূত্রে কলকাতায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন।
- উনিশ শতকের বাঙালির নবজাগরণ এবং ধর্ম ও সমাজ-সংস্কার আন্দোলনে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য।
- এ যুগের অন্যতম সমাজ-সংস্কারক এবং একেশ্বরবাদের প্রবক্তা রামমোহন রায় ছিলেন দ্বারকানাথের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
- রামমোহন রায়ের আদর্শ দ্বারকানাথ, তাঁর পুত্র দেবেন্দ্রনাথ এবং দৌহিত্র রবীন্দ্রনাথের ওপর এক অভাবনীয় প্রভাব বিস্তার করে।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর, পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাসঃ
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫৩.
‘স্বাধীনতা - হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে‘ চরণটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতা - হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে' - চরণটির রচয়িতা হচ্ছে রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। 

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের জন্ম  পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়া গ্রামে। 
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়। 
- তিনি নিজে  কলকাতা থেকে মাসিক রস সাগর (১৮৫২) (পরিবর্তিত নাম সংবাদ সাগর) ও সাপ্তাহিক বার্তাবহ (১৮৫৬) সম্পাদনা করেন। 
- এডুকেশন গেজেট পত্রিকা (১৮৫৫) প্রকাশিত হলে তিনি তার সহসম্পাদক নিযুক্ত হন। 
⇒ রঙ্গলালের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি পদ্মিনী উপাখ্যান ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের Annals and Antiquities of Rajasthan -এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য। 
- ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়
দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়’ - পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য হচ্ছে: 
- কর্মদেবী, 
- শূরসুন্দরী ও 
- কাঞ্চী কাবেরী। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫৪.
'জমিদার দর্পণ' নাটকের অত্যাচারী জমিদার চরিত্রের নাম কী?
  1. আবু মোল্লা
  2. হায়ওয়ান আলী
  3. সমাদ্বার সাহেব
  4. রাইচরণ
ব্যাখ্যা

'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- 'জমিদার দর্পণ' মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।
-নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি 'জমিদার দর্পণ' (১৮৭৩) এর মূল ঘটনা।
- লেখক লিখেছে, নাটকটির কিছুই সাজানো নয়, অবিকল ছবি তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত সমাজের।
- নামকরণে দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল-দর্পণ' নাটকের প্রভাব যেমন প্রবল, নাটকটির ঘটনা বিন্যাসেও এর ছায়া পড়েছে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার  হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৫৫.
"কালো আর ধলো বাহিরে কেবল,
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. কামিনী রায় 
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার 
ব্যাখ্যা

• "কালো আর ধলো বাহিরে কেবল,
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা- 'সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত'। 

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

মানুষ জাতি- কবিতা,
-------------- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে
সে জাতির নাম মানুষ জাতি;
এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত
একই রবি শশী মোদের সাথী।
শীতাতপ ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা
সবাই আমরা সমান বুঝি,
কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি
বাঁচিবার তরে সমান যুঝি।
দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো,
জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা,
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া, মানুষ জাতি- কবিতা।

১৫৬.
‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজে ত ফিরিঙ্গি।
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিবে মাতঙ্গী।’ - এই বিখ্যাত গানের রচয়িতা কে?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. লালন ফকির
  4. এন্টনি ফিরিঙ্গি
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
এন্টনি ফিরিঙ্গি:
- তিনি ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল।
- তাঁর প্রকৃত নাম হেনসম্যান এন্টনি (Hensman Anthony)। তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিস্টান।
- পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরের ফরাসডাঙায় তিনি বসবাস করতেন।
- তিনি খ্রিস্টান হলেও বাঙালি কালি সাধক হিন্দুর মত জীবনযাপন করতেন। তিনি হিন্দু বিধবা কে বিয়ে করেন এবং কলকাতার বউবাজারে ফিরিঙ্গি কাকীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

তাঁর একটি বিখ্যাত গান-
‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজে ত ফিরিঙ্গি।
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিবে মাতঙ্গী।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৭.
দ্বিজ কানাই রচিত ‘মহুয়া’ পালায় বেদে সম্প্রদায়ের সর্দারের নাম কী ছিল?
  1. কুব্বাত আলী
  2. রতন সর্দার
  3. হুমরা 
  4. সমিরন
ব্যাখ্যা

দ্বিজ কানাই রচিত ‘মহুয়া’ পালায় বেদে সম্প্রদায়ের সর্দারের নাম ছিল- হুমরা বাইদ্যা। 
-------------------------
'মহুয়া পালা':
- ‘মহুয়া পালা’, দ্বিজ কানাই (১৬৫০) রচিত, মৈমনসিংহ গীতিকার অন্যতম জনপ্রিয় ও করুণ প্রেমকাহিনী। কাহিনীর কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো বেদে সম্প্রদায়ের কন্যা মহুয়া এবং জমিদার নদের চাঁদ। মহুয়া শৈশবে হুমরা বাইদ্যা নামে এক বেদে সর্দারের কাছে চলে যায় এবং বেদে সম্প্রদায়ের মধ্যেই বড় হয়। বড় হয়ে মহুয়া সাপের খেলা দেখাতে শিখে। একদিন হুমরা বেদের দল বাউলের গ্রামে আসে, সেখানেই মহুয়া ও নদের চাঁদের মধ্যে গভীর প্রেম গড়ে ওঠে। তাদের প্রেম জনসমাজের নজরে আসলে সামাজিক বাধার সৃষ্টি হয়। নদের চাঁদের আত্মীয় ও সমাজের চাপের কারণে হুমরা বাইদ্যা মহুয়াকে অন্যত্র নিয়ে যায়। নদের চাঁদ মহুয়াকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও, শেষপর্যন্ত হুমরা বাইদ্যা মহুয়াকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে। মহুয়া প্রেমের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে আত্মবলিদান দেয়, নিজের বুকে ছুরি বসিয়ে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনার পর নদের চাঁদও মহুয়ার বিরহে সংসার ত্যাগ করেন।

- মহুয়া পালার গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি:
• ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী রাত্রি।। 
নিশাকালে হুমরা তার করল চুরি।। 

• লজ্জা নাই নিলজ্জ ঠাকুর লজ্জা নাইরে তর।। 
গলায় কলসী বাইন্দা জলে ডুব্যা মর।। 

• কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ি।। 
তুমি হও গহিন গাঙ আমি ডুব্যা মরি।। 
------------
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা হলো বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল (বর্তমান কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা) থেকে সংগৃহীত প্রাচীন লোকগাথা ও পালাগানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত গল্প ও গানসমূহকে একত্রিত করেছে, যা গ্রামীণ সংস্কৃতির অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় এই গীতিকাগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মূল সংগ্রাহক ছিলেন চন্দ্রকুমার দে।
- মৈমনসিংহ গীতিকার কাহিনিগুলো সাধারণ মানুষের জীবন, নারীর প্রেম, সংগ্রাম ও ট্রাজিক পরিণতি নিয়ে রচিত।
- ভাষা সহজ, সরল ও গ্রামীণ ছন্দময়। 
- এই সংকলন বিশ্বসাহিত্যে স্বীকৃত এবং ২৩টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- সৌরভ পত্রিকায় কেদারনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এর দুটি পালা প্রথম প্রকাশিত হয়। 

• সংকলনে ১০টি গীতিকা ও রূপকথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- যেমন:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা),
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৫৮.
’এমন যদি হত ইচ্ছে হলেই আমি হতাম প্রজাপতির মত।’- পঙক্তিটির লেখক কে? 
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকুমার বড়ুয়া
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা

- ’এমন যদি হত ইচ্ছে হলেই আমি হতাম প্রজাপতির মত।’- পঙক্তিটির লেখক- সুকুমার বড়ুয়া।
- পঙক্তিটি সুকুমার বড়ুয়ার রচিত ’এমন যদি হতো’ কবিতার অংশ।

এমন যদি হতো — সুকুমার বড়ুয়া

------------------------------
এমন যদি হতো
ইচ্ছে হলে আমি হতাম
প্রজাপতির মতো
নানান রঙের ফুলের পরে
বসে যেতাম চুপটি করে
খেয়াল মতো নানান ফুলের
সুবাস নিতাম কতো ।(সংক্ষিপ্ত)।

• সুকুমার বড়ুয়া:
- সুকুমার বড়ুয়া বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ছড়াকার।
- ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে সুকুমারের জন্ম হয়।
- ১৯৬২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি শুরু করেন।
- ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোরকিপার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- ছড়ারাজ, 
- ছড়াশিল্পী,  
- ছড়াসম্রাট;
- পাগলা ঘোড়া, 
- ভিজে বেড়াল, 
- চিচিংফাঁক, 
- লেজ আবিষ্কার;

উৎস: যুগান্তর পত্রিকা, এবং প্রথম আলো।

১৫৯.
'কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।'- অংশটুকু কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. স্বাধীনতা তুমি
  2. শহীদ স্মরণে
  3. একুশে ফেব্রুয়ারি
  4. মানচিত্র
ব্যাখ্যা
• 'মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল<br />অনলজ্বালা, দু&rsquo;চোখে তার<br />শত্রু হননের আহবান।'- উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। 
- লাইনটি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর 'শহীদ স্মরণে' কবিতা থেকে সংকলিত। 

• মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান: 
- ১৯৩৬ সালের ১৫ আগস্ট যশোর শহরের খড়কী পাড়ায়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা কালে তিনি বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- তিনি ছিলেন পঞ্চাশের দশকের কাব্যসাহিত্যের একজন অন্যতম প্রধান কবি।

শহীদ স্মরণে- কবিতার অংশবিশেষ,   

কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।
গানে আর ভিন্ন কি সুরের ব্যঞ্জনা?
যখন হানাদারবধ সংগীতে
ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত
স্বদেশের তরুণ হাতে
নিত্য বেজেছে অবিরাম
মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।
--------------
-------------- 
মা তো কাঁদে না;
মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল
অনলজ্বালা, দু চোখে তাঁর
শত্রুহননের আহ্বান।

উৎস: 'শহীদ স্মরণে' কবিতা- মোহম্মদ মনিরুজ্জামান।
১৬০.
‘ষোল নয়, আমার মাতৃভাষার ষোলশত রূপ’ কে বলেছেন?
  1. আহমদ শরীফ
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
‘ষোল নয়, আমার মাতৃভাষার ষোলশত রূপ’ উক্তিটির রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
১৬১.
"মতিলাল" চরিত্রটি কোন উপন্যাসের?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. চোখের বালি
  3. বউ ঠাকুরানীর হাট
  4. আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসে ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬২.
'ওসমান' চরিত্রটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. খোয়াবনামা
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. দোজখের ওম
  4. খোয়ারি
ব্যাখ্যা

• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
-'চিলেকোঠার সেপাই' বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা। এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

------------------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
-চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছোটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬৩.
'সব্যসাচী' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বড়দিদি
  2. পথের দাবী
  3. চরিত্রহীন
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

'পথের দাবী' উপন্যাস:
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) শরৎ রচনাবলী।

১৬৪.
''আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়'' - পঙ্‌ক্তিটি রচনা করেন কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• ''আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়'' - পঙ্‌ক্তিটি কবি জসীম উদ্‌দীনের "কবর" কবিতা থেকে নেওয়া।

"কবর" কবিতার কিছু অংশ:

আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝ্ঝুম নিরালায়।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ্ দাদু, ‘আয় খোদা, দয়াময়,
আমার দাদীর তরেতে যেন গো ভেস্ত নাজেল হয়।

'কবর' কবিতা:
- জসীম উদ্দীনের রাখালী কাব্যগ্রন্থ থেকে 'কবর' কবিতাটি সংকলিত হয়েছে।
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।
-কাহিনিধর্মী এই কবিতাটিতে সহজ সরল ভাষায় এক গ্রামীণ বৃদ্ধের জীবনের প্রিয়জন হারানোর বেদনার স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে।

জসীম উদ্দীনের প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- সূচয়নী,
- নিমন্ত্রণ,
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬৫.
'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।'- পঙক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. জীবনানন্দদাশ
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• 'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা 'বন্দে আলী মিয়া'। 
- পঙক্তিদ্বয় বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘আমাদের গ্রাম’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

- কবিতার কিছু অংশ-বিশেষ:

আমাদের গ্রাম
- বন্দে আলী মিয়া

আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর,
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই,
এক সাথে খেলি আর পাঠশালে যাই।
আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।

• বন্দে আলী মিয়া: 

- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
কাব্য
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী;

উপন্যাস: 
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট।

নাটক: 
- মসনদ।

শিশুসাহিত্য: 
- চোর জামাই, 
- মেঘকুমারী, 
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, 
- সোনার হরিণ, 
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা, 
- কুঁচবরণ কন্যা, 
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: আমাদের গ্রাম কবিতা- বন্দে আলী মিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬৬.
কোনটি 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. ইন্দ্রনাথ
  2. অন্নদিদি
  3. রাজলক্ষ্মী
  4. রমেশ
ব্যাখ্যা

'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- শ্রীকান্ত,
- ইন্দ্রনাথ,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদিদি

অন্যদিকে, 
• 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা বাংলাপিডিয়া।

১৬৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' গল্পের একটি বিখ্যাত চরিত্র-
  1. বিনোদিনী
  2. হৈমন্তী
  3. আশালতা
  4. চারুলতা
ব্যাখ্যা
• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প:
- 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত।
- এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের প্রধান চরিত্র 'চারুলতা'।

• এই গল্পের অন্য দুটি চরিত্র:
- অমল ও
- ভূপতি।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' উপন্যাসের চরিত্র-  আশালতা ও বিনোদিনী।
• 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের একটা বিখ্যাত চরিত্র - 'হৈমন্তী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প।
১৬৮.
'চাঁদের আমাবস্যা' - উপন্যাসে স্কুল মাস্টার কে?
  1. ক) খতিব মিয়া
  2. খ) আরেফ আলী
  3. গ) আক্কাস আলী
  4. ঘ) আবদুল কাদের
ব্যাখ্যা
• চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচনা করেন |
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা |

- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন। - একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।

তার লিখিত অন্যান্য উপন্যাস:
- লালসালু (১৯৪৮)
- কাঁদো নদী কাঁদো
- The Ugly Asian

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের 'হৈমন্তী' এর স্বামীর নাম কী ছিলো?
  1. গৌরীশংকর
  2. অপু
  3. তপু
  4. বনমালী
ব্যাখ্যা
'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' এর স্বামীর নাম ছিলো — অপু। 

- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজ সমস্যামূলক ছোট গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
• হৈমন্তী (শিশির),
• গৌরীশংকর,
• অপু,
• বনমালী প্রমুখ।

এই গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি -
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ ইত্যাদি।
-------------------- 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭০.
"কল্যাণীর ধারাবাহী যে_মাধুরী বাংলা ভাষায়
গড়েছে আত্মীয় পল্লী,যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে
রুপোলি জলের ধারে"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• "কল্যাণীর ধারাবাহী যে_মাধুরী বাংলা ভাষায়
গড়েছে আত্মীয় পল্লী,যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে
রুপোলি জলের ধারে"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা 'অমিয় চক্রবর্তী'। 

• 'বাংলাদেশ' কবিতা:
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘বাংলাদেশ’ অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- কবিতাটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
------------- 
• অমিয় চক্রবর্তী:
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
• খসড়া,
• এক মুঠো,
• মাটির দেয়াল,
• অভিজ্ঞান বসন্ত,
• অনিঃশেষ ইত্যাদি।
----------------
কবিতাংশ:
কল্যাণীর ধারাবাহী যে_মাধুরী বাংলা ভাষায়
গড়েছে আত্মীয় পল্লী,যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে
রুপোলি জলের ধারে,আম-জাম-নারকেল ঘেরা
আমন ধানের খেতে শ্রুতিময় তারি অন্তর্লীন
বাণী শোনো প্রাত্যহিক-বহু মিশ্র প্রাণের সংসারে
সেই বাংলাদেশে ছিল সহস্রের একটি কাহিনী
কোরানে পুরাণে শিল্পে,পালা-পার্বণের ঢাকে ঢোলে
আউল বাউল নাচে;পুন্যাহের সানাই রজ্ঞিত
রোদ্দুরে আকাশতলে দেখ কারা হাটে যায়,মাঝি
পাল তোলে,তাঁতি বোনে,খড়ে-ছাওয়া ঘরের আঙনে
মাঠে ঘাটে-শ্রমসঙ্গী নানাজাতি ধর্মের বসতি
চিরদিন বাংলাদেশ (সংক্ষেপিত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'বাংলাদেশ' কবিতা।
১৭১.
'মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্যে সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন।' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরীর কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষত (বইপড়া)।
- ভাষা মানুষের মুখ হতে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে (ভাষার কথা)।
- জীবনে জ্যাঠামি, সাহিত্যে ন্যাকামি সহ্য করতে পারতেন না-প্রমথ চৌধুরী (সাহিত্যে খেলা)।
- মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্যে সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন। 
- জ্ঞানের প্রদীপ যেখানেই জ্বালো না কেন, তাহার আলোক চারদিক ছড়াইয়া পড়িবে।
- সাহিত্যের উদ্দেশ্যে সকলকে আনন্দ দান করা কারো মনোরঞ্জনের বিষয় নহে (সাহিত্যে খেলা)।
- ব্যাধিই সংক্রামক স্বাস্থ্য নয়।

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭২.
'সাঁঝের মায়া' কাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) জীবনানন্দ দাস
  4. ঘ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
'সাঁঝের মায়া' কাব্যটির রচয়িতা- 'সুফিয়া কামাল'।

সুফিয়া কামাল 
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। 
- কবি সুফিয়া কামালের বিখ্যাত কবিতা ‘তাহারেই পড়ে মনে’ প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়। এটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়্‌
- মায়া কাজল, 
- মন ও জীবন,  
- উদাত্ত পৃথিবী, 
- অভিযাত্রিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭৩.
'জাগাে মানুষের সুপ্ত শক্তি হাটে মাঠে ঘাটে বাঁকে'— কোথা থেকে নেয়া?
  1. ক) একুশে ফেব্রুয়ারী
  2. খ) বাংলাদেশ
  3. গ) একুশের গান
  4. ঘ) স্বাধীনতা তুমি
ব্যাখ্যা

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত 'একুশের গান' প্রথম ছাপা হয় হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলনে। এটি ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রকাশিত প্রথম সংকলন। প্রকাশ পায় ১৯৫৩ সালে৷
এই গানের একটি লাইন-  
'জাগাে মানুষের সুপ্ত শক্তি হাটে মাঠে ঘাটে বাঁকে'- বলতে কবি বাঙালির মধ্যে প্রতিরােধ স্পৃহা আছে। এই প্রতিরােধ স্পৃহাকে তিনি জাগ্রত করতে বলেছেন এবং পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বলেছেন ঐক্যবদ্ধ হতে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

১৭৪.
'বঙ্গ আমার জননী আমার' বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গানটির রচয়িতা-
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
'বঙ্গ আমার জননী আমার'- বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গানটির রচয়িতা: 'দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'। 
- পরাধীন ভারতে বাঙালিদের মধ্যেই যেমন প্রথম বিপ্লবীর জন্ম হয়েছিল, তেমনি বাঙালির কণ্ঠেই প্রথম জলদমন্দ্র ধ্বনিত হয়েছিল দ্বিজেন্দ্রলালের ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’ গানের মধ্য দিয়ে।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।

দ্বিজেন্দ্রলালের উলে­খযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

• নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- ত্র্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

• পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

"বঙ্গ আমার জননী আমার"- কবিতা,
------------- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 

বঙ্গ আমার জননী আমার
ধাত্রী আমার, আমার দেশ
কেন গো মা তোর শুস্ক নয়ন?
কেন গো মা তোর রুক্ষ কেশ?
কেন গো মা তোর ধুলায় আসন?
কেন গো মা তোর মলিন বেশ?
.
শত কোটি সন্তান যার
ডাকে উপচে আমার দেশ।
কিসের দুঃখ, কিসের দৈন্য,
কিসের লজ্জা, কিসের ক্লেশ?
শত কোটি মিলিত কণ্ঠে
ডাকে যখন আমার দেশ।।
.
উদিল যেখানে বৌদ্ধ আত্মা
মুক্ত করিতে মোক্ষ দ্বার,
আজিও জুড়িয়া অর্ধ জগৎ
ভক্তি প্রণতঃ চরণে যার।
অশোক যাহার কীর্তি ছায়িল
গান্ধার হতে জলধি শেষ
তুই কিনা মা গো তাদের জননী?
তুই কিনা মা গো তাদের দেশ।।

একদা যাহার বিজয় সেনানী
হেলায় লঙ্কা করিল জয়
একদা যাহার অর্ণবপোত
ভ্রমিল ভারত সাগরময়।
সন্তান যার তিব্বততীর
জাপানে গঠিল উপনীদেশ
তার কি না ধুলায় আসন,
তার কি না এই চ্ছিন বেশ?

উদিল যেখানে মোরজ মন্ত্রে
নিমাই কণ্ঠে মধুর ও তান
ন্যায়ের বিধান দিল রঘুমনি,
চন্ডীদাসও গাইল গান
যুদ্ধ করিল প্রতাপাদিত্য
তুই কিনা সেই ধন্য দেশ,
ধন্য আমরা যদি এ শিরায়
রহে যদি তাদের রক্ত লেশ।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭৫.
'কুমুদিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) যোগাযোগ
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) নৌকাডুবি
  4. ঘ) ঘরে বাইরে
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'যোগাযোগ' (১৯২৯) উপন্যাসের চরিত্র- মধুসূদন ও কুমুদিনী। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৭৬.
‘নলিনী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের নায়িকা?
  1. ক) বনফুল
  2. খ) কবি-কাহিনী
  3. গ) মানসী
  4. ঘ) সোনার তরী
ব্যাখ্যা
• ‘নলিনী’  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ  ‘কবি-কাহিনী’ এর নায়িকা।
– চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক কবি এবং নায়িকা নলিনী।
– ‘ভারতী’ পত্রিকায় ১২৮৪ বঙ্গাব্দ (১৮৭৮) এ প্রকাশিত হয়।

– ‘বনফুল’ কাব্য (১৮৮০)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
– ‘মানসী’ (১৮৯০)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ ।
– ‘শেষলেখা’ (১৯৪১)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭৭.
অতীন ও এলা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গোরা
  2. চার-অধ্যায়
  3. চতুরঙ্গ
  4. যোগাযোগ
ব্যাখ্যা

• 'চার-অধ্যায়' উপন্যাস:
- ‘চার-অধ্যায়’ (১৯৩৪) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, ‘চার-অধ্যায়’ উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে। আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত।
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি। সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- চার-অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রবিবার’ গল্পের সম্পর্ক আছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা,
- চতুরঙ্গ,
- চার-অধ্যায়,
- ঘরে-বাইরে।

অন্যদিকে, 
• 'গোরা' উপন্যাসের চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
• 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র: শচীশ ,দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
• নায়িকা কুমু্দনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ 'যোগাযোগ' উপন্যাসের কেন্দ্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭৮.
বিখ্যাত 'তিলোত্তমা' চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. বিষবৃক্ষ 
  3. চন্দ্রশেখর 
  4. আনন্দমঠ 
ব্যাখ্যা

• 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।

- ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে উড়িষ্যার অধিকারকে কেন্দ্র করে মোঘল ও পাঠানের সংঘর্ষের পটভূমিতে এই উপন্যাস রচিত হয়। তবে এটিকে সম্পূর্ণরূপে ঐতিহাসিক উপন্যাস মনে করা হয় না।

- কোনো কোনো সমালোচক এই উপন্যাসে ওয়াল্টার স্কটের আইভানহো উপন্যাসের ছায়া লক্ষ্য করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের জীবদ্দশায় এই উপন্যাসের তেরোটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসেরকেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।

উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- বীরেন্দ্র সিংহ,
- ওসমান,
- জগৎসিংহ,
- তিলোত্তমা,
- আয়েশা,
- বিমলা প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
- 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
- 'চন্দ্রশেখর' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:  চন্দ্রশেখর, প্রতাপ, শৈবলিনীর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭৯.
"আমাদের পৃথিবী আমরা আমাদের মনের মতো করিয়া গড়িয়া লইব। ইহাই হউক তরুণের সাধনা।'' - পঙ্‌ক্তিগুলো কাজী নজরুল ইসলামের কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  2. সাম্যবাদী
  3. দুরন্ত পথিক
  4. যৌবনের গান
ব্যাখ্যা
• 'যৌবনের গান':
- ''যৌবনের গান'' ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে মুসলিম যুব সমাজের অভিনন্দনের উত্তরে তাদের উদ্দেশ্যে কাজী নজরুল ইসলাম যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তারই পরিমার্জিত লিখিত রূপ।
- ভাষণের এ ধরনের লিখিত রূপকে/ এ ধরনের রচনাকে বলা হয় অভিভাষণ।
- এটি ''দুর্দিনের যাত্রী'' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

এ রচনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উক্তি:
- "আমাদের পৃথিবী আমরা আমাদের মনের মতো করিয়া গড়িয়া লইব। ইহাই হউক তরুণের সাধনা।''
- ইহাই যৌবন, এই ধর্ম যাহাদের তাহারাই তরুণ।
- 'বার্ধক্য তাহাই—যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে আঁকড়িয়া পড়িয়া থাকে।
- বার্ধককে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। বহু যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি। আবার বহু বৃদ্ধকে দেখিয়াছি যাঁহাদের বার্ধক্যের জীর্ণাবরণের তলে মেঘলুপ্ত সূর্যের মতো প্রদীপ্ত যৌবন।

উৎস: 'যৌবনের গান' - কাজী নজরুল ইসলাম।
১৮০.
"আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।" - কবিতাংশটুকু কে রচনা করেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• "আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।" - কবিতাংশটুকু 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' রচনা করেন। কবিতাটি 'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
 
১৪০০ সাল
  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
 
আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।
আজি নববসন্তের প্রভাতের আনন্দের
লেশমাত্র ভাগ--
আজিকার কোনো ফুল, বিহঙ্গের কোনো গান,
আজিকার কোনো রক্তরাগ
অনুরাগে সিক্ত করি পারিব না পাঠাইতে
তোমাদের করে
আজি হতে শতবর্ষ পরে
 
তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৮১.
‘মজিদ’ চরিত্রটি কার সৃষ্টি?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) হুমায়ুন আহমেদ
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'লালসালু' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - মজিদ।
• 'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
- নোয়াখালী অঞ্চল থেকে মজিদ নামের এক কূটচরিত্র গারোপাহারি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কিভাবে শোষণ করে। সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮২.
"ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত" এ বিখ্যাত উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সমরেশ বসু
  2. খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• "ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত" এ উদ্ধৃতির রচয়িতা সুভাষ মুখোপাধ্যায়। 

কবিতাটি নিম্নরূপ-

ফুল ফুটুক না ফুটুক
সুভাষ মুখোপাধ্যায়

ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।

শান-বাঁধানো ফুটপাথে
পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ
কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে
হাসছে।

ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত। (সংক্ষিপ্ত)

• সুভাষ মুখোপাধ্যায় একজন কবি, রাজনীতিবিদ।
- সাহিত্য-সংস্কৃতির সাংগঠনিক নেতৃত্বেও তিনি পারদর্শিতার পরিচয় দেন।
- ১৯৫৮ সালে তিনি তাসখন্দে অনুষ্ঠিত আফ্রো-এশীয় লেখক সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন।
- সুভাষ মুখোপাধ্যায় একটি বিখ্যাত কবিতা, 'ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত'।
- তিনি 'সুবচনী' ছদ্মনামে সাহিত্য চর্চা করতেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮৩.
’আয়েশা, তিলোত্তমা’ চরিত্রদ্বয় কোন উপন্যাসের?
  1. সংশপ্তক
  2. নিষিদ্ধ লোবান
  3. পঞ্চগ্রাম
  4. দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা

• দুর্গেশনন্দিনী:
-দূর্গেশনন্দিনী অর্থ দুর্গ প্রধানের কন্যা।
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস দূর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) ও কপালকুন্ডলা (১৮৬৬) রচনা করেন।
- উপন্যাস দুটি দ্রুত প্রচার লাভ করে।
- দূর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- আয়েশা,
- তিলোত্তমা, প্রভৃতি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৮৪.
”আদিত্য, সরলা” চরিত্রদ্বয় কোন উপন্যাসের?
  1. নৌকাডুবি
  2. চোখের বালি
  3. মালঞ্চ
  4. রাজর্ষি
ব্যাখ্যা

"মালঞ্চ" উপন্যাস:
- 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথের পরকীয়া নির্ভর ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা
- চরিত্রগুলোর মাঝে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বই এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- শেষের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৮৫.
'রামগরুড়ের ছানা, হাসতে তাদের মানা,
হাসির কথা শুনলে বলে,
হাসব না-না না-না।'- উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকুমার রায়
  3. আহসান হাবীব
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• উদ্ধৃতাংশটি সুকুমার রায়ের ' রামগরুড়ের ছানা' নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

• সুকুমার রায়:
- সুকুমার রায় একজন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন।
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 
- 'রামগরুড়ের ছানা'- কবিতাটি তাঁর 'আবোল-তাবোল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- আবোল-তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাইখাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি। 
এছাড়া বাংলা ও ইংরেজিতে রচিত তাঁর কিছু গুরুগম্ভীর প্রবন্ধও রয়েছে।

 'রামগরুড়ের ছানা'- কবিতা,
----------------------সুকুমার রায়।

রামগরুড়ের ছানা হাসতে তাদের মানা,
হাসির কথা শুনলে বলে,
‘‘হাস্‌ব না-না না-না’’।

সদাই মরে ত্রাসে- ঐ বুঝি কেউ হাসে!
এক চোখে তাই মিট্‌মিটিয়ে
তাকায় আশে পাশে।
ঘুম নাহি তার চোখে আপনি ব’কে ব’কে
আপনারে কয়, ‘‘হাসিস্‌ যদি
 মারব কিন্তু তোকে!’’
যায় না বনের কাছে, কিম্বা গাছে গাছে,
হাসিয়ে ফেলে পাছে!
সোয়াস্তি নেই মনে- মেঘের কোণে কোণে
হাসির বাষ্প উঠছে ফেঁপে
কান পেতে তাই শোনে।
ঝোপের ধারে ধারে রাতের অন্ধকারে
জোনাক্‌ জ্বলে আলোর তালে
হাসির ঠারে ঠারে।
হাসতে হাসতে যারা হচ্ছে কেবল সারা
রামগরুড়ের লাগছে ব্যথা
বুঝছে না কি তারা?
রামগরুড়ের বাসা ধমক দিয়ে ঠাসা,
হাসির হাওয়া বন্ধ সেথায়
নিষেধ সেথায় হাসা।

উৎস: 'রামগরুড়ের ছানা'- কবিতা, সুকুমার রায়, বাংলাপিডিয়া।  
১৮৬.
'অধ্যাপক রায়হান' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. যাত্রা
  3. দুই সৈনিক
  4. নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

অন্যদিকে, 
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-  
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যাত্রা' উপন্যাস।
১৮৭.
'ঘনাদা' - চরিত্রটির সৃষ্টি করেছেন কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
  4. সুকুমার রায় 
ব্যাখ্যা

• ‘মশা’ গল্প ও ‘ঘনাদা’ চরিত্র:
- বাংলা শিশুসাহিত্যে প্রেমেন্দ্র মিত্রের অতুলনীয় সৃষ্টি — ‘ঘনাদা’ চরিত্রটি।
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের এ ঘনাদা চরিত্রে সৃষ্টি হয় তাঁর রচিত — ‘মশা’ (১৯৩৭) গল্পের মাধ্যমে।
- শিশুর মনোরাজ্যের রোমাঞ্চকর অনুভূতিগুলি তিনি ঘনাদা চরিত্রের মাধ্যমে অভিব্যক্ত করেন।
- ঘনাদা পড়ে প্রতিটি শিশু-কিশোর ঘনাদার ভিতর দিয়ে নিজেদের দেখতে উন্মুখ হয়ে ওঠে।
- কিশোর মনোরাজ্য অধিকারের জন্য ডিটেকটিভ ও রোমাঞ্চকর কাহিনি সৃজনে তিনি অসাধারণ শক্তির পরিচয় দেন।
- অপরদিকে তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক কিশোর উপন্যাস কুহকের দেশে লিখে বাংলা ভাষায় এ ধারার সার্থকতা প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- অফুরন্ত,
- ধূলিধূসর,
- জলপায়রা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘মশা’ গল্প।

১৮৮.
"এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।" - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সুফিয়া কামাল
  3. জহির রায়হান
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• "এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।" - বিখ্যাত সংলাপটি জহির রায়হান রচিত 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত।

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

উপন্যাসের অংশবিশেষ:
নাম ডাকতে ডাকতে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন ডেপুটি জেলার সাহেব। এক সময়ে বিরক্তির সাথে বললেন, উহ্‌ এত ছেলেকে জায়গা দেবো কোথায়। জেলখানাতে এমনিতে ভর্তি হয়ে আছে।
ওর কথা শুনে কবি রসুল চিৎকার করে উঠলো, জেলখানা আরো বাড়ান সাহেব। এত ছোট জেলখানায় হবে না।
আর একজন বললো, এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।
-------------------
• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সিনেমা:
- সোনার কাজল।
- কাঁচের দেয়াল।
- বেহুলা।
- জীবন থেকে নেয়া।
- আনোয়ারা।
- সঙ্গম।
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮৯.
‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' - বিখ্যাত উক্তিটি মুনীর চৌধুরী রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চিঠি
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. কবর
ব্যাখ্যা

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।


• মুনীর চৌধুরী:

- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯০.
“নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষাপুরে কি আশা”—এই বিখ্যাত টপ্পাটি রচনা করেছেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. শোরী মিঞা
  3. কালী মীর্জা
  4. শ্রীধর কথক
ব্যাখ্যা

নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষাপুরে কি আশা”—এই বিখ্যাত টপ্পাটি রচনা করেছেন- রামনিধি গুপ্ত।
---------------------------------
• টপ্পা:
- টপ্পা হলো ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের চারটি প্রধান ধারার একটি।
- অপর তিনটি হলো ধ্রুপদ, খেয়াল এবং ঠুম্রি।
- টপ্পা দুই প্রকারে বিভক্ত: হিন্দুস্থানি ও বাংলা।
- হিন্দুস্থানি টপ্পাকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল অযোধ্যার নবাব-দরবারের সঙ্গীতজ্ঞ গোলাম নবী বা শোরী মিঞার দ্বারা। 
- আর বাংলা টপ্পার সূচনাকারী হচ্ছে- রামনিধি গুপ্ত। 

- কলকাতা ও তার শহরতলীতে সমসাময়িক কালে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গান প্রচলিত ছিল।
- এই গান মূলত হিন্দি টপ্পার আদর্শ অনুসরণ করত।
- বাংলা টপ্পাগানের প্রবর্তক নিধুবাবু চাকরির সময় একজন মুসলমান ওস্তাদের কাছে সঙ্গীত শিক্ষা নেন।
- এবং শোরী মিঞার হিন্দুস্থানি টপ্পার সঙ্গে পরিচিত হয়ে কলকাতায় এসে বাংলা টপ্পা গানের সৃষ্টিশীল রূপ দেন।
- নিধুবাবুর টপ্পা সংকলনের নাম ছিল ‘গীতরত্ন'।

- বাংলা টপ্পার বৈশিষ্ট্য হলো—
- একেক স্বরের ওপর মধ্যলয়ে দোলায়মান কোমল কম্পন;
- যা গানের কথাগুলিকে স্বাভাবিকভাবে আবৃত্তি করে।
- তবে নিধুবাবু হিন্দুস্থানি টপ্পার রাগ ও তাল প্রায় অপরিবর্তিত রেখেছিলেন।
- নিধুবাবুর সমসাময়িক এবং পরবর্তী সময়ে বাংলা টপ্পা রচনায় কালী মীর্জা ও শ্রীধর কথক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।

- নিধুবাবু রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
- “নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষাপুরে কি আশা” 

- নিধুবাবু শুধু প্রেমসঙ্গীতই নয়, ব্রহ্মসঙ্গীতও টপ্পার ছাঁচে রচনা করেছিলেন।
- যেমন:
- ‘পরমব্রহ্ম তৎপরাৎপর পরমেশ্বর/ নিরঞ্জন নিরাময় নির্বিশেষে সদাশয়/ আপনা আপনি হেতু বিভু বিশ্বধর।’

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১৯১.
‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?' - বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. আল মাহমুদ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
'উটপাখী' কবিতা:
- 'উটপাখী' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'উটপাখী' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৯২.
'অনিলা' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কঙ্কাল
  2. পয়লা নম্বর
  3. মণিহার
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
• 'অনিলা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পয়লা নম্বর’ গল্পের অন্তর্ভুক্ত একটি চরিত্র।
- গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ভিখারিনী।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ, 
- নিশীতে, 
- মণিহার, 
- কঙ্কাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘পয়লা নম্বর’ গল্প- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৯৩.
"রক্তকরবী" নাটকের প্রধান পুরুষ চরিত্র কে?
  1. রঞ্জন
  2. অমল
  3. অভিজিৎ
  4. জয়সিংহ
ব্যাখ্যা

• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
• প্রধান পুরুষ চরিত্র: রঞ্জন।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে।

অন্যদিকে,
'বিসর্জন 'নাটকের চরিত্র অপর্ণা, জয়সিংহ, রঘুপতি, গুণবতী,  গোবিন্দমাণিক্য।
'মুক্তধারা' নাটকের উল্লেখযোগ্য  চরিত্র 'অভিজিৎ'।
'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র' অমল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৯৪.
"বন্ধুর বাড়ি আমার বাড়ি মধ্যে ক্ষীর নদী,
উইড়া যাওয়ার সাধ ছিল, পাঙ্খা দেয় নাই বিধি।"  চরণ দুটি যে বিখ্যাত রচনার অন্তর্গত- 
  1. দেওয়ানা মদিনা
  2. চক্রবাক
  3. রাখালী
  4. নকশী কাঁথার মাঠ
ব্যাখ্যা

"বন্ধুর বাড়ি আমার বাড়ি মধ্যে ক্ষীর নদী,
উইড়া যাওয়ার সাধ ছিল, পাঙ্খা দেয় নাই বিধি।"  চরণ দুটি যে বিখ্যাত রচনার অন্তর্গত-  নকশী কাঁথার মাঠ।

• নকশী কাঁথার মাঠ:
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নকশী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford.  
- ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী।

• জসীমউদ্দীন: 
- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-

- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯৫.
”কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী”- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া
  3. নীলিমা ইব্রাহীম
  4. বেগম মাহবুবা
ব্যাখ্যা

•  ”কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী”- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা বেগম সুফিয়া কামাল।
 - পঙ্‌ক্তিটির ”তাহারেই পড়ে মনে” কাবিতা অন্তর্গত ।
- সাঝোঁর মায়া কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত বেগম সুফিয়া কামাল রচিত কবিতা ”তাহারেই পড়ে মনে”  ।
- কতিাটি প্রকাশিত হয়- ১৯৩৫ সালে।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

• বেগম সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। 
- তিনি নিজ চেষ্টায় হয়ে ওঠেন স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত।
- বাড়িতে উর্দুভাষার চল থাকলেও নিজ উদ্যেগেই তিনি বাংলা ভাষা শিখে নেন।
- ১৯২৩ সালে তিনি রচনা করেন তাঁর প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’, যা বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- মায়া কাজল ,
- মন ও জীবন ,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৯৬.
“পিপিড়ার পাখা ওঠে মরিবার তরে কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।” উক্তিটি মঙ্গলকাব্যের কোন শাখা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা

“পিপিড়ার পাখা ওঠে মরিবার তরে কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।” - উক্তিটি মঙ্গলকাব্যের চণ্ডীমঙ্গল শাখার কালকেতু-ফুল্লরা উপাখ্যান থেকে নেওয়া।
- উক্তিটি ফুল্লরা বলেছে তার স্বামী কালকেতুকে
--------------------------------
• চণ্ডীমঙ্গলের প্রথম খণ্ড: কালকেতু-ফুল্লরা উপাখ্যান:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য মূলত দুটি প্রধান কাহিনির সমন্বয়ে গঠিত—
• ব্যাধ কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, যা ‘আখেটিক খণ্ড’ নামে পরিচিত,
• এবং বণিক ধনপতি সদাগর ও খুল্লনার কাহিনি, যা ‘বণিক খণ্ড’ নামে অভিহিত।

- চণ্ডীমঙ্গলের প্রথম খণ্ডে দেবী চণ্ডীকে কেন্দ্র করে কাহিনি রচিত।
- নায়ক কালকেতু এবং নায়িকা ফুল্লরা।
- খল চরিত্র হিসেবে রয়েছে ভাঁড়ু-দত্ত ও মুরারী শীল।

- কাহিনী:
- কাহিনির সূচনা হয় শিবভক্ত নীলাম্বর শাপগ্রস্ত হয়ে মর্ত্যে আগমনের মাধ্যমে। নীলাম্বর কলিঙ্গ জনপদে কালকেতু নামে জন্মায় এবং তাঁর স্ত্রী ছায়া ফুল্লরা নামে জন্মগ্রহণ করে। মর্ত্যে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। কালকেতু বনের পশু শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে, কিন্তু তার অত্যাচারে পশুরা দেবী চণ্ডীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। চণ্ডী গুইসাপরূপে কালকেতুর সামনে উপস্থিত হয়ে শিকার প্রতিরোধ করে। কালকেতু শিকার না পেয়ে গুইসাপরূপী চণ্ডীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে হাটে চলে যায়। 
ফুল্লরা বাসায় ফিরে দেখে চণ্ডী সুন্দরী নারীমূর্তি ধারণ করে বসে আছে। এটি দেখে ফুল্লরা রেগে যায় এবং চোখ লাল হয়ে প্রতিবাদ করে বলে: “পিপিড়ার পাখা ওঠে মরিবার তরে কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।”
পরে দেবী স্বরূপে ফিরে এসে ফুল্লরাকে পূজা প্রচারের প্রলোভন দেখান এবং কালকেতুকে দুটি উপহার দেন—মানিক অঙ্গুরীয় ও সাত ঘড়া সোনার মহর, যা বিক্রি করে গুজরাট বন কেটে নগর গঠন করতে নির্দেশ দেয়া হয়। কালকেতু নগর তৈরি করেন, কিন্তু লোক না থাকায় দেবী বন্যা প্রেরণ করে যাতে লোক আসে এবং বিনিময়ে চণ্ডীর পূজা করা হয়। কিছু মুসলমানও আসে, তবে তাদের পূজা বাধ্যতামূলক নয়। এরপর ভাড়-দত্ত নামে প্রতারক লোক আসে, যার কারণে কলিঙ্গ রাজা কালকেতুকে পরাজিত করে। দেবীর স্বপ্নাদেশে কালকেতু পুনরায় বাড়ি পৌঁছায় এবং অবশেষে সকলেই চণ্ডীর ক্ষমতা বুঝে তার পূজা প্রচার করতে থাকে।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯৭.
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন! - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জ্ঞানদাস
  3. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন--
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন! - পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও 'দুই বিঘা জমি' কবিতা।
১৯৮.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকে জোহরা বেগমের স্বামীর নাম কী?
  1. দনুবাবু
  2. ইব্রাহিম কার্দি
  3. নজিবউদ্দৌলা
  4. কার ফরমার
ব্যাখ্যা
রক্তাক্ত প্রান্তর:
- এটি মুনীর চৌধুরী রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- ইতিহাস থেকে তিনি কাহিনি গ্রহণ করেননি, গ্রহণ করেছেন কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থ থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- এর চরিত্রগুলোর মধ্যে বিখ্যাত চরিত্র গুলো হচ্ছে ইব্রাহীম কার্দি, জোহরা, সুজাউদ্দৌলা, নজীবউদ্দৌলা, আবদালি প্রমুখ।
- নাটকে ইব্রাহীম কার্দির স্ত্রী জোহরা বেগম। 
- নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।’।  

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১৯৯.
"যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের-মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা।" পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে? 
  1. জীবনানন্দ দাশ 
  2. আল মাহমুদ 
  3. ফররুখ আহমেদ 
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
ব্যাখ্যা
• "যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের-মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা।" পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।

• এটি তার 'মহাপৃথিবী' কাব্যগ্রন্থের "আট বছর আগে একদিন" কবিতার একটি পঙ্‌ক্তি।

: • জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'মহাপৃথিবী' কাব্যগ্রন্থ। 
২০০.
'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. মৃণালিনী
  2. কপিলা 
  3. তিলোত্তমা
  4. বিমলা 
ব্যাখ্যা

• 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।