বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের চরিত্র, উক্তি ও সংলাপ

মোট প্রশ্ন১,৪৯০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের চরিত্র, উক্তি ও সংলাপ

PrepBank · পাতা ১৪ / ১৫ · ১,৩০১১,৪০০ / ১,৪৯০

১,৩০১.
‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’- ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা সম্পর্কে উক্তিটি করেছেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাঙাল হরিনাথ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)।
- গ্রন্থটি ১০টি সর্গে বিভক্ত।
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ গ্রন্থ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
 
এ কাব্যে কবি বলেছেন:
 
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''
 
-----------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী ২৫শে মে, ১৮৩৫ সালে কলকাতার নিমতলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদামঙ্গল। 
 
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩০২.
অন্নদামঙ্গল কাব্যের অন্তর্গত চরিত্র কোনটি?
  1. মানসিংহ
  2. ভবানন্দ
  3. বিদ্যাসুন্দর
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

- এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩০৩.
"নবীন মাধব" কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. নীল-দর্পণ
  4. কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
• নীল-দর্পণ: 
- এটি হল দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন।
- ১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটক প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যকর্ম।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।
-  নাটকের বাস্তবতা এবং চরিত্র গুলোরে স্বাভাবিকতার গুনের জন্য অনেকেই নীল দর্পণকে  Uncle Tom's Cabin -  এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- গোলক বসু, 
- নবীন মাধব,  
- রাইচরণ, 
- তোরাপ,
- সাবিত্রী।

অন্যদিকে,
• 'আলালের ঘরের দুলাল' এর চরিত্র- মোকাজান মিঞা, মতিলাল।
• 'চাঁদের অমাবস্যা' এর চরিত্র- আরেফ আলী, দাদা সাহেব।
• 'কপালকুণ্ডলা' এর চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩০৪.
'সোজন ও দুলি' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) জসীমউদ্দী‌ন
ব্যাখ্যা
কবি জসীম উদদীনের কাহিনীকাব্য- সোজন বাদিয়ার ঘাট। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালে।
এ কাব্যটির প্রধান চরিত্র মুসলমান চাষীর ছেলে সোজন আর হিন্দুর মেয়ে দুলি।
কাব্যটি ইউনেস্কোর উদ্যোগে 'Gypsy Wharf' (১৯৬৯) শিরোনামে অনূদিত হয়। গ্রাম বাংলার অপূর্ব অনবদ্য রূপকল্প এই কাব্য গ্রন্থের প্রধান চরিত্র সোজন ও দুলি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩০৫.
'বিসর্জন' নাটকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন চরিত্রে অভিনয় করেন?
  1. রঘুপতি
  2. গোবিন্দমাণিক্য
  3. গুণবতী
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

'বিসর্জন' নাটক:
- ১৮৯০ সালে বিসর্জন নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম।
- এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন। ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়। 
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র গুলো হলো:
- রঘুপতি,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য,
- অপর্ণা,
- জয়সিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩০৬.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।' এই কালোত্তীর্ণ বাক্য কোন গ্রন্থের?
  1. শ্রীকান্ত
  2. পালামৌ
  3. কাঁদো নদী কাঁদো
  4. যাত্রা
ব্যাখ্যা

 "বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে":
- চমৎকার এ কথাটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন 'পালামৌ' নামের ভ্রমণকাহিনীতে।
এর মূলভাব হলো সৌন্দর্য্য সর্বত্র বিকশিত হয় না । প্রাকৃতিক নিয়মে যার যথা স্থান সেখানেই তার সৌন্দর্য ফুটে উঠে।

- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা। 
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- ''বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'' এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- এই বাক্য সৃষ্টির মাধ্যমে লেখক স্মরনীয় হয়ে থাকবেন।

 সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ডেপুটি কালেক্টরেট যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তিনি 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- তাঁর জনপ্রিয় গ্রন্থ ‘পালামৌ' যা 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথমে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কণ্ঠমালা।
- মাধবীলতা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩০৭.
‘জয়গুন’ চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. আবু ইসহাক
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• ‘জয়গুন’ চরিত্রের স্রষ্টা- আবু ইসহাক।

• সূর্য দীঘল বাড়ী:

- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

------------------------
• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা। জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ এবং ‘শিশু একাডেমী পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩০৮.
‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।’- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুফিয়া কামাল
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'বইপড়া' প্রবন্ধ:
• 'বইপড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
• এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

• এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো-
- ‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।’ 
- ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানে বড় নয়।’
- ‘পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়।’
- ‘যে জাতির জ্ঞানভাণ্ডারে শূন্য সে জাতি ভাঁড়েও ভবানী।

-------------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি  'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩০৯.
'সুরবালা ও কিরণময়ী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গৃহদাহ
  2. দেনা-পাওনা
  3. বড়দিদি
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

• "চরিত্রহীন" উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন। গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

- প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রহে (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

- সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষতক সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলি সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

• 'দেনা পাওনা' উপন্যাসটি রচনা করেছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে। কাহিনির নায়ক, জীবনানন্দ। এই নাটক 'ষোড়শী' নামে নাট্যায়িত হয়।

• 'বড়দিদি' (১৯১৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস।- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, মাধবী,
প্রমীলা। বড়দিদি 'মাধবী'র নাম।

-------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী ইত্যাদি।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩১০.
"ভেড়াকান্ত" চরিত্রে কোন লেখকের নিজের ছায়াপাত ঘটেছে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "ভেড়াকান্ত" চরিত্রে লেখক মীর মশাররফ হোসেনের ছায়াপাত ঘটেছে। 

-----------------------------
'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' আত্মজৈবনিক উপন্যাস:

• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়।

• গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম ‘উদাসীন পথিক’ মুদ্রিত হয়েছে।

সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা। উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন- অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি।

'ভেড়াকান্ত চরিত্রে' লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়।

• এটি সেকালের একটি সামাজিক দর্পণস্বরূপ। মুসলমান জমিদারদের জীবনধারা, সমাজে নারীর স্থান, হিন্দু-মুসলিম পারস্পরিক সম্পর্ক, দেশের শাসনব্যবস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুর্নীতির কথা ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় এতে বর্ণনা করা হয়েছে। উপন্যাসটির চরিত্রের নামকরণে সংস্কৃত রূপকধর্মী নাটক বা প্রহসনের প্রভাব রয়েছে।

অন্যদিকে, 
• 'বিলাসী' ছোটগল্পের ন্যাড়া চরিত্রের শধ্যে শরৎচন্দ্রের নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩১১.
রৈবতক, কুরুক্ষেত্র, প্রভাস কাব্যত্রয়ের নায়ক কে?
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণ
  2. খ) রাম
  3. গ) অর্জুন
  4. ঘ) শিব
ব্যাখ্যা
নবীনচন্দ্র সেন রচিত ত্রয়ী কাব্য-
- রৈবতক (১৮৮৭),
- কুরুক্ষেত্র (১৮৯৩), এবং
- প্রভাস (১৮৯৬)

- এই তিনটি কাব্যের কাহিনি একই সুতোয় বাঁধা। 
- এই তিনটি কাব্যের নায়কই শ্রীকৃষ্ণ।
- রৈবতক- এ কৃষ্ণের আদি
- কুরুক্ষেত্র- এ তাঁর মধ্য
- প্রভাস- কৃষ্ণের অন্তর্লীলা বর্ণিত হয়েছে।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩১২.
'বড়াই' চরিত্রটি পাওয়া যায়-
  1. অন্নদামঙ্গল কাব্যে
  2. সারদামঙ্গল কাব্যে
  3. মনসামঙ্গল কাব্যে
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই।
• রাধা কৃষ্ণের মাঝে সংযোগ সৃষ্টিকারী অনুঘটক চরিত্র বড়াই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৩১৩.
'রাজলক্ষ্মী' - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দেনা পাওনা
  2. শ্রীকান্ত
  3. গৃহদাহ
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ'।
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি, অভয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩১৪.
'সূর্যমুখী' বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. রাজসিংহ
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. চন্দ্রশেখর
ব্যাখ্যা
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় সমস্যার সঙ্গে বিধবা বিবাহ পুরুষের একাধিক বিবাহ তার রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ। লেখকও মনে করেছেন, কুন্দনন্দিনীর কাহিনি পাঠ করার ফলে ঘরে ঘরে অমৃত ফলবে অর্থাৎ এ ধরনের প্রণয়াকাঙ্ক্ষা রহিত হবে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী চেয়েছেন সেটি মুখ্য নয়। 'বিষবৃক্ষে' তিনি সমস্যার যে যথার্থ রূপায়ণ করতে পেরেছেন এটাই আসল। 'বিষবৃক্ষ' আজও শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলোর একটি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- কুন্দনন্দিনী,
- নগেন্দ্রনাথ,
- হীরা,
- সূর্যমুখী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১,৩১৫.
'পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল,
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।' - পঙ্‌ক্তিটির রচিয়তা কে?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার 
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা

পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।
– মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 

• মদনমোহন তর্কালঙ্কার: 
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত। 
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের  অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।

তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ: 
- রসতরঙ্গিণী, 
- বাসবদত্তা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া

১,৩১৬.
'নিতাই' - চরিত্রটির স্রষ্টা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।'

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩১৭.
'ডা. রমেশ চক্রবর্তী' ও 'মায়মুন' আবু ইসহাক রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. মহাপতঙ্গ
  2. পদ্মার পলিদ্বীপ
  3. জাল
  4. সূর্য-দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা
'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত।
- বাংলাদেশের গ্রামজীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশেষত গ্রামীণ মুসলমান জীবনের বিশ্বস্ত এবং আন্তরিক পরিচয় সমকালীন বাংলা সাহিত্যে বিরল।
- প্রকাশের অব্যবহিত পর থেকে বাস্তব চিত্রণ, চরিত্রায়ণের স্বাভাবিকতা ও প্রকাশভঙ্গির ঋজুতার জন্য উপন্যাসটি সমালোচক ও পাঠকসমাজে নন্দিত হয়েছে।
- জয়গুনদের বাড়িটিতে রাতে কথিত ভূতের ঢিল পড়ে, সে বাড়িতে নির্ভয়ে থাকা যায় না। তাই সূর্য-দীঘল বাড়ি অমঙ্গলের প্রতীকে পরিণত হয়।
- উপন্যাসে গ্রামের মানুষের দারিদ্র্য, কুসংস্কার, মোড়ল ও মোল্লাদের দৌরাত্ম্য, হৃদয়হীনা শাশুড়ির বৌয়ের প্রতি অত্যাচার ইত্যাদি এমন বিশ্বস্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যে কারণে এটি হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জীবনের যথার্থ উপস্থাপনা।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: জয়গুন, তার ছেলে হাসু, মেয়ে মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু প্রধান।

আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩১৮.
‘বাঘে ছুঁলে সাত ঘা, আর জমিদার ছুঁলে আঠারো ঘা।’- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• ‘বাঘে ছুঁলে সাত ঘা, আর জমিদার ছুঁলে আঠারো ঘা।’- উক্তিটির মীর মশাররফ হোসেন রচিত ‘জমিদার দর্পণ’ নাটকের অন্তর্ভুক্ত।

• জমিদার দর্পণ:

- ‘জমিদার দর্পণ’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত তিন অঙ্ক বিশিষ্ট একটি নাটক।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নুরুন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি ‘জমিদার দর্পণ’ (১৮৭৩) এর মূল ঘটনা।
- লেখক লিখেছে, নাটকটির কিছুই সাজানো নয়, অবিকল ছবি তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত সমাজের। 
- নামকরণে দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল-দর্পণ' নাটকের প্রভাব যেমন প্রবল, নাটকটির ঘটনা বিন্যাসেও এর ছায়া পড়েছে। 

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নুরুন্নেহার,
- আবু মোল্লা,
- জিতু মোল্লা,
- ফজু।

নাটকের উল্লেখযোগ্য কিছু উক্তি হলো:
- ‘বাঘে ছুঁলে সাত ঘা, আর জমিদার ছুঁলে আঠারো ঘা।’- নাটকে উক্তিটি জিতু মোল্লার।
- ‘আপনি গরীবের বাপ-মা হুজুর।’- নাটকে উক্তিটি আবু মোল্লার।
- ‘তোমাকে আমি জেলের ঘাটি টানিয়ে ছাড়ব।’- নাটকে উক্তিটি ফজুর।

--------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর, মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
 
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।
 
• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু, 
 
• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩১৯.
মধ্যযুগের কবি ভারতচন্দ্রকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. রাজা চন্দ্রগুপ্ত
  2. রাজা রঘুনাথ রায়
  3. রাজা সুধর্মা
  4. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর(১৭১২-১৭৬০):
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পাণ্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩২০.
'মধুসূদন' কোন উপন্যাসের নায়ক চরিত্র?
  1. নৌকাডুবি
  2. যোগাযোগ
  3. মালঞ্চ
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

অন্যদিকে, 
• 'নৌকাডুবি' উপন্যাসের মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।
• মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথের পরকীয়া নির্ভর ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা।
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: অমিত, লাবণ্য, কেতকী রায় এবং শোভনলাল।

---------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুইবোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'যোগাযোগ' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩২১.
'রহমত ও খুকী' — কোন সাহিত্যকর্মের চরিত্র?
  1. পোস্টমাস্টার 
  2. সমাপ্তি
  3. কাবুলিওয়ালা
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা

'কাবুলিওয়ালা' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত সামাজিক ছোটগল্প - কাবুলিওয়ালা।
- এই গল্পের শেষ লাইন - কিন্তু মঙ্গল আলোকে আমার শুভ উৎসব উজ্জ্বল হইয়া উঠিল।
- এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র - রহমত, খুকী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• 'সমাপ্তি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'মৃণ্ময়ী'।
• 'পোস্টমাস্টার' গল্পের প্রধান চরিত্র: রতন।
• ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'।

উৎস: রবীন্দ্রনাথ রচনাবলী।

১,৩২২.
‘ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসে কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

• এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাসসমূহ-
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩২৩.
‘নিতাই’ চরিত্রটির স্রষ্টা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. জহির রায়হান
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।'

-----------------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'কবি' উপন্যাস।
১,৩২৪.
‘বিদেশী ভাষা শিখিব মাতৃভাষায় শিক্ষিত হইবার পর, আগে নয়।’ উদ্ধৃতিটি-
  1. ক) প্রমথ চৌধুরীর
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদের
  4. ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলীর
ব্যাখ্যা

‘বিদেশী ভাষা শিখিব মাতৃভাষায় শিক্ষিত হইবার পর, আগে নয়।’ উদ্ধৃতিটি আবুল মনসুর আহমদের।

তার রচিত উপন্যাসঃ
-সত্যমিথ্যা,
-জীবন ক্ষুধা,
-আবে হায়াত।

গল্পগ্রন্থঃ
-আয়না,
-ফুড কনফারেন্স।

সোর্সঃ পত্রিকা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১,৩২৫.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্রের নাম-
  1. নগেন্দ্রনাথ ও কুন্দনন্দিনী
  2. মধুসূদন ও কুমুদিনী
  3. গোবিন্দলাল ও রোহিনী
  4. সুরেশ ও অচেলা
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।

• উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রোহিনী,
- গোবিন্দলাল,
- ভ্রমর।

-------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩২৬.
’তাহেরের বাপ' ও ‘হাসুনির মা' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. লালসালু
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. কাঁদো নদী কাঁদো
  4. সুরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

- ’তাহেরের বাপ' ও ‘মজিদ' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু' উপন্যাসের চরিত্র। 
--------------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
 - সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত ছোট গল্প:
• নয়নচারা;
• একটি তুলসি গাছের কাহিনী।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
চাঁদের অমাবস্যা;
• কাঁদো নদী কাঁদো;
• লালসালু।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত নাটক:
• বহিপীর;
• তরঙ্গভঙ্গ;
সুরঙ্গ;
• উজানে মৃত্যু।
-----------------------------
লালসালু' উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি  শ্রেষ্ঠ সামাজিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে। 


- উপন্যাসটি সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও অন্ধআচারের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- যেখানে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এই উপন্যাসের মূল ভাবনা হলো - ধর্মীয় ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে কিভাবে ঠকানো হয়;
- এবং সেই সুযোগে কিভাবে ছদ্মধর্ম প্রচারের মাধ্যমে মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত লাভ অর্জন করা যায়।

- 'লালসালু'র উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা

- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদ একজন ছদ্মধর্মপ্রচারক। 
- মজিদ কুসংস্কারকে হাতিয়ার করে নিজের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি কিভাবে গড়ে তোলে তাই এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ধর্মব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

১,৩২৭.
“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা, তুই কবে আসবি?
কবে ছুটি?” অপেক্ষমাণ মায়ের আকুতিপূর্ণ এই পঙক্তি রচিত হয়েছিল-
  1. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী দ্বারা
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলাউদ্দিন আল আজাদ দ্বারা
  3. একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শামসুর রাহমান দ্বারা
  4. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ দ্বারা
ব্যাখ্যা

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতা, 'মাগো ওরা বলে'।
“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা, তুই কবে আসবি?
কবে ছুটি?”
চিঠিটা তার পকেটে ছিল
ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা।

“মাগো ওরা বলে
সবার কথা কেড়ে নেবে।
তোমার কোলে শুয়ে
গল্প শুনতে দেবে না।
বলো, মা
তাই কি হয়?
তাইতো আমার দেরি হচ্ছে।
তোমার জন্যে
কথার ঝুড়ি নিয়ে
তবেই না বাড়ী ফিরবো।
লক্ষ্মী মা,
রাগ করো না,
মাত্রতো আর কটা দিন।”

কবিতাঃ মাগো ওরা বলে।
কবিঃ আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।

১,৩২৮.
'কবি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি? 
  1. রতন 
  2. নিতাইচরণ
  3. কমল 
  4. ইন্দ্রনাথ 
ব্যাখ্যা

• 'কবি' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- 'কবি' উপন্যাসটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা দ্বাদশ উপন্যাস। এ উপন্যাসটি প্রকৃতপক্ষে তাঁর লেখা একটি পূর্ব-প্রকাশিত ছোটগল্পের বিস্তৃত রূপ।
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এর সম্পাদনায় প্রকাশিত প্রবাসী মাসিকপত্রে গল্পটি ১৯৪১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে "কবি" উপন্যাসটি পাটনা থেকে প্রকাশিত প্রভাতী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ১৯৪২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। কবি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৪৩ সালে।
- এই উপন্যাসে ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র নিতাইচরণ। 
- এই উপন্যাসের 'জীবন এতো ছোট ক্যানে?' সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 

----------------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ। তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসসমুহ: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- পঞ্চগ্রাম,
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কবি' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩২৯.
‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’ - উক্তিটি কার?
  1. ক) শশী
  2. খ) কুসুম
  3. গ) মতি
  4. ঘ) গোপাল
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'পুতুলনাচের ইতিকথা’র শশী ডাক্তার  কুসুমকে এই কথা বলে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- সহরতলী,
- অহিংসা।

উৎস : পুতুল নাচের ইতিকথা - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৩০.
'যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি' - চরণগুলো রচনা করেন কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. বিদ্যাপতি
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

'যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি' - চরণগুলো রচনা করেন - জসীম উদ্‌দীন। চরণগুলো জসীম উদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৩৩১.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার কোন ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. যাযাবর 
  2. প্রিয়দর্শী
  3. দৃষ্টিহীন
  4. হাবু শর্মা
ব্যাখ্যা

• 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

অন্যদিকে,
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।
- সৈয়ত মুজতবা আলী তার বিভিন্ন গ্রন্থে তিনটি ছদ্মনাম ব্যবহার করে, এগুলো হলো: প্রিয়দর্শী, মুসাফির ও সত্যপীর।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'হাবু শর্মা'।

------------------------
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার। ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।

- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৩২.
শরৎচন্দ্র রচিত 'পথের দাবী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. মহিম
  2. সব্যসাচী
  3. রমেশ
  4. নরেন
ব্যাখ্যা
• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ।
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
- গৃহদাহ - মহিম, সুরেশ,  অচলা।
- পল্লীসমাজ - রমা, রমেশ
- দত্তা - নরেন, বিজয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩৩.
''উদয়ের পথে শুনি কার বাণী,
ভয় নাই, ওরে ভয় নাই। 
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই, তার ক্ষয় নাই।'' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
• ''উদয়ের পথে শুনি কার বাণী,
ভয় নাই, ওরে ভয় নাই। 
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই, তার ক্ষয় নাই।'' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
- কবিতাংশটুকু 'সুপ্রভাত' কবিতার অন্তর্গত।

সুপ্রভাত- কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

রুদ্র , তোমার দারুণ দীপ্তি
এসেছে দুয়ার ভেদিয়া ;
বক্ষে বেজেছে বিদ্যুৎবাণ
স্বপ্নের জাল ছেদিয়া ।
-----
উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ,
‘ ভয় নাই , ওরে ভয় নাই —
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই । (সংক্ষেপিত) 

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,'সুপ্রভাত' কবিতা। 
১,৩৩৪.
"আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।"- সংলাপটি কার রচনা?
  1. জহির রায়হান
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
"পথের দাবী" উপন্যাস:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।

• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কারো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

• গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে 'পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

 'আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।'- এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

• 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী' ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৩৫.
“নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,
ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।
নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে;
কহে, যাহা কিছু সুখ সকলই ওপারে"- পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুফিয়া কামাল 
  3. জীবনানন্দ দাশ 
  4. কাজী নজরুল ইসলাম 
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

উদ্ধৃত পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
-----------------------------
মোহ 
  -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 

“নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, 
ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস। 
নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে; কহে, 
যাহা কিছু সুখ সকলই ওপারে।" 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কণিকা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘মোহ’ একটি বিখ্যাত ছোট কবিতা। 
- এই কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানুষের চিরন্তন অতৃপ্তি এবং দূরের জিনিসের প্রতি মোহ বা আকাঙ্ক্ষাকে নদীর দুই তীরের রূপকের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এখানে নদীর এপার এবং ওপার দুই তীরকে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখানো হয়েছে—যেখানে আমরা সবসময় অন্য তীরে থাকা সুখকেই শ্রেষ্ঠ মনে করি। মানুষ নিজের বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্ট হয় না এবং সবসময় যা নেই তা পাওয়ার আশায় দৃষ্টি ঘুরিয়ে অন্যের জীবন বা দূরের অবস্থাকে ভালো মনে করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি পিরালি ব্রাহ্মণ বংশের ছিলেন।
- তিনি আট বছর বয়স থেকে কবিতা রচনা শুরু করেন।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর 'হিন্দুমেলার উপহার' কবিতাটি অমৃতবাজার পত্রিকা-তে প্রকাশিত হয়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কবিতা হলো—
• গীতাঞ্জলি (যার জন্য তিনি ১৯১৩ সালে নোবেল পান),
• সোনার তরী,
• ঐকতান,
• মোহ
• প্রাণ,
• বৃক্ষ,
• আষাঢ়,
• ১৪০০ সাল,
• যেতে নাহি দিব,
• দুই পাখি,
• নিরুদ্দেশ যাত্রা,
• মানষী,
• হঠাৎ দেখা,
• দান,
• দুই বিঘা জমি।
---------------------------
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া; 
'মোহ' কবিতা। 

১,৩৩৬.
"বিপদে মোরে রক্ষা করো
এ নহে মোর প্রার্থনা,
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।" - চরণদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বলাকা
  2. গীতাঞ্জলি
  3. মানসী
  4. সেঁজুতি
ব্যাখ্যা
• বিপদে মোরে রক্ষা করো
এ নহে মোর প্রার্থনা,
বিপদে আমি না যেন করি ভয়। - চরণদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'বিপদে মোরে রক্ষা করো' কবিতার 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩৭.
'দরিয়া-বিবি ও আজহার' শওকত ওসমান রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. দুই সৈনিক
  3. জননী
  4. ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
'জননী' উপন্যাস:
- এটি শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস।
- সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা (গোপনে) যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারে শওকত ওসমানের 'জননী' (১৯৬১) উপন্যাসে সে কথাই ব্যক্ত।
- পটভূমি পশ্চিমবঙ্গের মহেশডাঙ্গা। দরিয়া-বিবি সেই পল্লি-জননী যে সন্তান মোনাদিকে আর্থিক সহায়তা দেবার জন্য ইয়াকুবের শয্যাসঙ্গিনী হয়।
- ইয়াকুবের ঔরষে তার গর্ভে সন্তান এলে ওই গর্ভস্থ সন্তানকেও দরিয়া অসীম মমতায় সকল ভ্রূকুটি সহ্য করে নিরাপদে জন্মদানের মাধ্যমে আদর্শ জননীর দৃষ্টান্ত স্থাপনকরেন।
- এই মূলকাহিনির পাশাপাশি উপন্যাসে এসেছে মুসলিম সমাজের শরিয়তি দ্বন্দ্ব, বিত্তবানের স্বার্থপরতা, গ্রামের দরিদ্র মানুষের পারস্পরিক ঝগড়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শন।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- দরিয়া-বিবি,
- আজহার
,
- মোনাদি, ইয়াকুব,
-সচন্দ্রকোটাল প্রমুখ।

--------------------
শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

শওকত ওসমান রচিত নাটক:
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩৮.
'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি' — উক্তিটি কোন গ্রন্থের?
  1. বনলতা সেন
  2. কবিতার কথা
  3. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা
• 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি' উক্তিটি জীবনানন্দ দাশ করেছেন।

• কবিতার কথা:
- জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধগ্রন্থ ‘কবিতার কথা’।
- গ্রন্থটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি, ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’

• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩৯.
''সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি ------- , আমি দাঁড় টানি ভুলে;
'' - কবিতাংশটুকুর শূন্যস্থানে কী বসবে?
  1. দূরে
  2. মাস্তুলে
  3. কল্পনায়
  4. ওঠনি জেগে
ব্যাখ্যা
সেতারা, হেলার এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি ------- , আমি দাঁড় টানি ভুলে; - কবিতাংশটুকুর শূন্যস্থানে মাস্তুলে বসবে।

• মাস্তুল শব্দের অর্থ- নৌকা, জাহাজের পাল লাগানোর দণ্ড।

পাঞ্জেরি- কবিতা,
– ফররুখ আহমেদ। 
 
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি  মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
 
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
দীঘল রাতের শ্রান্তসফর শেষে
কোন দরিয়ার কালো দিগন্তে আমরা পড়েছি এসে?
এ কী ঘন-সিয়া জিন্দেগানীর বা’ব
তোলে মর্সিয়া ব্যথিত দিলের তুফান-শ্রান্ত খা’ব
অস্ফুট হয়ে ক্রমে ডুবে যায় জীবনের জয়ভেরী।
তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
সম্মুখে শুধু অসীম কুয়াশা হেরি।

-------------------- 
• ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরনের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।
 
কবিতাটি নিম্নরূপ- 
 
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? (সংক্ষিপ্ত)
 
• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪০.
'কেনারাম' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. সধবার একাদশী
  2. নীলদর্পন
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. ডাকঘর
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৪১.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি? 
  1. অনিল বাগচী
  2. জহির 
  3. সুদীপ্ত শাহীন
  4. ওসমান
ব্যাখ্যা

'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
-'চিলেকোঠার সেপাই' বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা। এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান। কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

------------------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
-চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছোটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৪২.
"ব্যাধি এ পীড়িত মোর বিকল শরীর।
ঔষধ দর্শনে প্রাণ শান্ত নহে স্থির।।" পঙ্কতির রচয়িতা-
  1. ভারতচন্দ্র রায়
  2. ফকির গরিবুল্লাহ
  3. দৌলত উজির
  4. শাহ্ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

• শাহ্ মুহম্মদ সগীর রচিত রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য 'ইউসুফ-জুলেখা'।
• এ কারণে তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি বলা হয়।
• এই কাব্যের কিছু পঙক্তি-
''ব্যাধি এ পীড়িত মোর বিকল শরীর।
ঔষধ দর্শনে প্রাণ শান্ত নহে স্থির।।
এহেন নির্জন পুরী বিরল সম্ভোগ।
পরিহরি লজ্জা ভীতি কর উপভোগ।।
না জানি কেমন আছে নিষেধ কারণ।
বুঝিলু তোমার ইচ্ছা আমার মরণ।।''
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৩৪৩.
"এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়"- উক্তটি কার?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শামসুর রাহমান
  3. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা

"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।" কবিতাংশটুকুর রচয়িতা হেলাল হাফিজ

হেলাল হাফিজ:
১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।
'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্ক্তি-
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময় এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।

তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- যে জলে আগুন জ্বলে,
- কবিতা ৭১,
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, যে জলে আগুন জ্বলে- হেলাল হাফিজ।

১,৩৪৪.
'অমিত ও লাবণ্য' চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন সাহিত্যকর্মের অন্তর্গত?
  1. মালঞ্চ
  2. শেষের কবিতা
  3. রাজর্ষি
  4. চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা
'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্‌রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৩৪৫.
'সুরবালা' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ছোটগল্পের?
  1. জীবিত ও মৃত
  2. একরাত্রি
  3. নষ্টনীড়
  4. পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা
• 'একরাত্রি' ছোট গল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ গল্পসমূহের মধ্যে ‘একরাত্রি' বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৯ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায়।
- ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ছোটগল্প' শীর্ষক রবীন্দ্র গল্পগ্রন্থে এটি প্রথম গ্রন্থিত হয়।
- গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'সুরবালা'।

অন্যদিকে,
- 'জীবিত ও মৃত' গল্পটির প্রধান চরিত্র - কাদম্বিনী।
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্পের চরিত্র 'রতন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪৬.
"রোগকে ঘৃণা করা যায়, রোগীকে কেন?" - এই উক্তিটি হুমায়ুন আহমেদের কোন গল্প থেকে নেওয়া?
  1. চোখ
  2. অয়োময়
  3. অপরাহ্ণের গল্প
  4. একটি নীল বোতাম
ব্যাখ্যা
• "রোগকে ঘৃণা করা যায়, রোগীকে কেন?" এই উক্তিটি হুমায়ুন আহমেদের অপরাহ্ণের গল্প থেকে নেওয়া।

• অপরাহ্ণের গল্পের অংশবিশেষ:
পশু-পাখিদের মধ্যে কেউ যদি রোগগ্রস্ত হয় তখন অন্যরা তাদের ত্যাগ করে। রোগীকে মরতে হয় সঙ্গীবিহীন অবস্থায় একা একা। মানুষ তো পশুপাখি না। মানুষ রোগীকে দেখবে পরম আদরে এবং মমতায়। রোগকে ঘৃণা করা যায় রোগীকে কেন?

উৎস: অপরাহ্ণের গল্প - হুমায়ুন আহমেদ।
১,৩৪৭.
'রোহিণী' - কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. রাধারানী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

"কৃষ্ণকান্তের উইল" উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। 
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।
- প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৩৪৮.
‘অতীন ও ইন্দ্রনাথ’ চরিত্রটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মালঞ্চ
  2. ঘরে-বাইরে
  3. চার-অধ্যায়
  4. গোরা
ব্যাখ্যা
• ‘চার অধ্যায়’ উপন্যাস:
- চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব- প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, ‘চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।
- আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত।
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ একদিকে যেমন অতিমানবিক গুণ সম্পন্ন, অন্যদিক সে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- তার নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি।
- সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- চার অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘রবিবার' গল্পের সম্পর্ক আছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ।

অন্যদিকে,
• 'মালঞ্চ' উপন্যাসের চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা প্রমুখ।
• 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র: নিখিলেস ও বিমলা।
• ‘গোরা’ উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোরা, পরেশবাবু, সুচরিতা, ললিতা, বিনয়, বরদাসুন্দরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪৯.
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এর সৃষ্ট বিখ্যাত চরিত্র কোনটি?
  1. ক) প্রফেসর শংকু
  2. খ) ফেলুদা
  3. গ) ঘনাদা
  4. ঘ) টেনিদা
ব্যাখ্যা
'টেনিদা' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অমর সৃষ্টি।
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের গ্রন্থসংখ্যা ৯৪ টি। 
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, (১৯১৮-১৯৭০) একজন প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক।
- প্রকৃত নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, ‘নারায়ণ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যচর্চা শুরু হয় ছাত্রজীবনে কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে।
- কালক্রমে তিনি গল্প,  উপন্যাস, নাটক প্রভৃতি রচনা করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। 

তাঁর রচিত কিশোরগ্রন্থ
- সপ্তকান্ড,
- অন্ধকারের আগন্তুক,
- ছোটদের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫২),
- ছুটির আকাশ,
- খুশির হাওয়া,
- ঝাউ বাংলোর রহস্য,
- পঞ্চাননের হাতি,
- পটলডাঙ্গার টেনিদা,
- গল্প বলি গল্প শোন,
- অব্যর্থ লক্ষ্যভেদ,
- টেনিদার অভিযান (১৯৪১) ইত্যাদি। 

সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট চরিত্র - 'প্রফেসর শংকু’, ‘ফেলুদা'
প্রেমেন্দ্র মিত্র সৃষ্ট চরিত্র - ‘ঘনাদা' 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫০.
"দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর।
ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।" - উক্তটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চতুরঙ্গ
  2. শেষের কবিতা
  3. নৌকাডুবি
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা
"দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর্।
ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।” - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসে, অমিত লাবণ্যকে উক্ত লাইন দুটি শোনায়।

'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, শেষের কবিতা উপন্যাস।
১,৩৫১.
'হে দারিদ্র, তুমি মোরে করেছ মহান' -এ চরণটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর
ব্যাখ্যা

'হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান' লাইনটি কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' কবিতার অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।
- 'দারিদ্র' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সিন্ধু হিন্দোল কাব্য গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯২৭ খৃষ্টাব্দে এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯টি কবিতা নিয়ে এই কাব্যগ্রন্থ।

এই কাব্যের কয়েকটি লাইন-

"হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্। 
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ'ল তরবার!"

উৎস: 'দারিদ্র্য' কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৫২.
''অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ'' - কবিতাংশটুকুর কবি কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সিকানদার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• ''অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান
প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ'' - কবিতাংশটুকুর কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- কবিতাংশটুকু কবির 'বৃক্ষবন্দনা'- কবিতার অন্তর্গত।
- 'বৃক্ষবন্দনা'- কবিতাটি 'বনবাণী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- ‘উদ্ভিদের প্রাণ আছে’ জগদীশ চন্দ্র বসুর এই তত্ত্বেরই কাব্যরূপ বলা হয়ে থাকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৃক্ষবন্দনা’ কবিতাটি।
- ১৩৩৩ বঙ্গাব্দে ‘বনবাণী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত এই কবিতাটি লেখা হয়েছিল।

বৃক্ষবন্দনা- কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান
প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ,
ঊর্ধ্বশীর্ষে উচ্চারিলে আলোকের প্রথম বন্দনা
ছন্দোহীন পাষাণের বক্ষ-'পরে; আনিলে বেদনা
নিঃসাড় নিষ্ঠুর মরুস্থলে।
সেদিন অম্বর-মাঝে
শ্যামে নীলে মিশ্রমন্ত্রে স্বর্গলোকে জ্যোতিষ্কসমাজে
মর্তের মাহাত্ম্যগান করিলে ঘোষণা।

উৎস: 'বৃক্ষবন্দনা'- কবিতা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১,৩৫৩.
বিখ্যাত 'জয়গুন' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আল মাহমুদ
  3. আবু ইসহাক
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- হাসু,
- মায়মুন,
- শাফি,
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী,
- মোরল গদু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৫৪.
”ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান, 
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন বলিদান?”- উক্তিটি কোন কবিতার অংশ?   
  1. বিদ্রোহী
  2. সাম্যবাদী
  3. দারিদ্র
  4. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার 
ব্যাখ্যা

”ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গানআসি’ অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন বলিদান?”-
উক্তিটি কাজী নজরুল রচিত 'কাণ্ডারী হুশিয়ার!' কবিতার অংশ।
---------------------------------------------
কাণ্ডারী হুশিয়ার!
– কাজী নজরুল ইসলাম। 

“দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার!”

“ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান,
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান
আজি পরীক্ষা, জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ?
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুশিয়ার!” 
---------------------------------------------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য–সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত।
- এবং আধুনিক বাংলা গানে তিনি ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের অনুকরণমুক্ত স্বতন্ত্র সাহিত্যসাধনায় তাঁর অবদান অনন্য।
- সাহিত্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
- এ কারণে ব্রিটিশ সরকার তাঁর গ্রন্থ নিষিদ্ধ করে ও কারাবন্দি করে।
- কারাগারে তিনি রাজবন্দীর জবানবন্দী রচনা ও দীর্ঘ অনশনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।
----------------------------------------
‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ নিয়ে কিছু তথ্য-
- কাজী নজরুল ইসলামের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ কবিতাটি তাঁর ‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা।
- অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কবিতায় কবি যুবসমাজ ও নেতৃত্বকে সাম্প্রদায়িক বিভেদ ভুলে জাতির হাল ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
- এছাড়া, ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমে দেশমাতৃকার মুক্তির বার্তা ও দিয়েছেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১,৩৫৫.
'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।' কোন উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি?
  1. ঘরে বাইরে
  2. শেষের কবিতা
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা

কপালকুণ্ডলা :
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্সধর্মী উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস ।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য "রোমান্স বলা যায়।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা।
- ‘পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' এ উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ। 
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের একটি নাট্যরূপ দেন (১৮৭৩) এবং দামোদর মুখোপাধ্যায় এই উপন্যাসের একটি উপসংহার উপন্যাস রচনা করেন এবং নামকরণ করেন মৃন্ময়ী (১৮৭৪) ।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

১,৩৫৬.
"বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না" -এই স্মরণীয় পঙ্‌ক্তিটি কোন ভাষাবিদের লেখা?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. মুহাম্মদ এনামুল হক 
ব্যাখ্যা

• “বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না” — এই প্রখ্যাত উক্তিটি বলেছেন বাঙালি রম্যরচয়িতা, ভাষাবিদ ও পণ্ডিত সৈয়দ মুজতবা আলী।
- তাঁর বক্তব্যের মূল ভাব হলো—
- জ্ঞান অর্জন ও বইয়ের প্রতি করা বিনিয়োগ কখনো ব্যর্থ হয় না;
- বরং তা মানুষের জীবনে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে কাজ করে।
-------------------------------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন, যদিও পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ সিকন্দর আলী সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম ছিল ‘সত্যপীর’।
- সৈয়দ মুজতবা আলী প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- যার মধ্যে উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী রয়েছে।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে:
• ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে;
- জলে-ডাঙায়।

 • উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য;
- শবনম।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র;
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর ছোটগল্প সংকলন:
- চাচা-কাহিনী;
- টুনি মেম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১,৩৫৭.
‘বিমলা ও নিখিলেশ’ চরিত্রদ্বয়ের স্রষ্টা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘বিমলা ও নিখিলেশ’ চরিত্রদ্বয়ের স্রষ্টা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• ঘরে-বাইরে উপন্যাস:

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনি সকরুণ, সিরিয়াস।

-------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম ভিখারিণী।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ, 
- ঘরে বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ, 
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫৮.
'মাধব দত্ত' - চরিত্রটির স্রষ্টা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'ডাকঘর' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক।
- এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।

নাটকের চরিত্র গুলো হলো:
- অমল,
- মাধব দত্ত (অমলের পিতা),
- সুধা (মালির মেয়ে),
- ঠাকুরদাদা,
- দইওয়ালা,
- প্রহরী,
- কবিরাজ,
- রাজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৩৫৯.
'পাছে লোকে কিছু বলে'- কবিতা পাঠকের মনে কোন আচরণের উদ্রেক ঘটায়?
  1. ক) পরোপকারিতা
  2. খ) সাহসিকতা
  3. গ) ভয়হীনতা
  4. ঘ) সংকোচ
ব্যাখ্যা
'পাছে লোকে কিছু বলে'- কবিতাটি কামিনী রায় রচিত ‘আলাে ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থ নেওয়া হয়েছে।
- কবিতাটি কোন কাজ করতে গেলে অন্য মানুষের সমালোচনার ভয়ে নিজেকে ঘুটিয়ে রাখে - সেই দিকটায় আলোকপাত করা হয়েছে।
- অর্থাৎ এই কবিতা পাঠে মানুষের মনে অন্যের সমালোচনার কারণে যে "সংকোচ" তাঁর উদ্রেক ঘটে।
- দৃঢ় মনােবল নিয়ে লােকলজ্জা ও সমালােচনাকে উপেক্ষা করে মানুষের কল্যাণে মহৎ কাজ করতে হলে ভয়-ভীতি সংকোচ উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে।

কামিনী রায় রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য (১৮৯১),
- পৌরাণিকী (১৮৯৭),
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য, ১৯০৫),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ, ১৯০৭),
- মাল্য ও নির্মাল্য (১৯১৩),
- অশোকসঙ্গীত (সনেট, ১৯১৪),
- অম্বা (নাটক, ১৯১৫),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ (১৯১৮),
- ঠাকুরমার চিঠি (১৯২৪),
- দীপ ও ধূপ (১৯২৯),
- জীবনপথে (সনেট, ১৯৩০)।

উৎস: সাহিত্য কণিকা, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬০.
'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।' - উক্তিটির রচয়িতা 'মীর মশাররফ হোসেন'। এটি তাঁর 'আমাদের শিক্ষা' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়।
- মীর মশাররফ হোসেন আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬১.
‘সুদীপ্ত শাহীন’ - কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. যাত্রা
  3. রাইফেল রোটি আওরাত
  4. নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা

'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার 'রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দু'রাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

​অন্যদিকে,
- '​যাত্রা' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান।
​- 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - বদিউল আলম।
​- 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্র হল বিলকিস এবং প্রদীপ

আনোয়ার পাশা:
- তিনি ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডবকাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সমালোচক ছিলেন।
- তিনি ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৩৬২.
‘বছির, আজহার ও রহিমুদ্দিন’ কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. পদ্মানদীর মাঝি
  2. বোবা কাহিনী
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
• ‘বোবা কাহিনী’ উপন্যাস:
- ‘বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) জসীমউদ্‌দীন প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই । নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র :
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

-----------------
• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬৩.
'কি যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে' - উক্তিটি কে করছেন ?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর বিখ্যাত উক্তি -
"চিরসুখীজন ভ্রমে কি কখন
ব্যথিতবেদন বুঝিতে পারে।
কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে
কভূ আশীবিষে দংশেনি যারে ”
১,৩৬৪.
'আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।'- উক্তিটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলেছেন? 
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. ১৯৪৭ এর দেশ ভাগ 
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ 
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।

• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।

• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৬৫.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. তপু
  2. অপু
  3. মুনিম
  4. ওসমান
ব্যাখ্যা
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।

- প্রধান চরিত্র -মুনিম। 
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।

• জহির রায়হান:

- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।
- তাঁর 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬৬.
রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত-
  1. ক) ঘরে-বাইরে
  2. খ) নুরুলদীনের সারা জীবন
  3. গ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ঘ) আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
'নুরুলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু ছিলো রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ। 

'নুরুলদীনের সারা জীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।  
- নুরুলউদ্দীন ছিলেন রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের একজন বিদ্রোহী নেতা। 
- তিনি কৃষকদের সংঘবদ্ধ করেছিলেন এবং তাদের নিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহে ঝামিয়ে পড়েছিলেন। 
- ইতিহাসের প্রায় বিস্মৃত এই কৃষকনেতাকে বইয়ের পাতা থেকে কল্পনা মিশিয়ে তুলে ধরা হয় এই নাটকে। 
- তিনি নুরুলউদ্দীন কে আখ্যায়িত করেন নুরুলদীন নামে।

তার অন্যান্য কাব্যনাট্য -
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- এখানে এখন।

অন্যদিকে, 
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি রচিত হয়।
- স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস 'ঘরে-বাইরে'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৬৭.
’মুনিম, আসাদ’ চরিত্রদ্বয় কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. শেষ বিকেলের মেয়ে
  2. হাজার বছর ধরে
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. আর কত দিন
ব্যাখ্যা

• আরেক ফাল্গুন :
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫৫ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' (১৯৬৮) উপন্যাস রচনা করেন।
- উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: নায়ক মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা।
- ১৯৫৫ সালে বর্তমান শহিদ মিনারের স্থায়ী ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম-প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূলবিষয়।
- তাদের বিশ্বাস, জনতার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আগামী ফাল্গুনে আরও প্রবল হবে। তাই তাদের উচ্চারণ: আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সিনেমা:
- সোনার কাজল।
- কাঁচের দেয়াল।
- বেহুলা।
- জীবন থেকে নেয়া।
- আনোয়ারা।
- সঙ্গম।
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৬৮.
'আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে/ আসে নাই কেহ অবনী পরে/ সকলের তরে সকলে আমরা/ প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।'- পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে/ আসে নাই কেহ অবনী পরে/ সকলের তরে সকলে আমরা/ প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।'- পঙ্‌ক্তিগুলো কামিনী রায়ের 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত। 

- কামিনী রায়ের “সুখ” কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “আলো ও ছায়া” (১৮৮৯) থেকে সংকলিত। এই কবিতায় কবি মানুষের জীবনে সুখের প্রকৃত স্বরূপ ও তার অর্জনের পথ নিয়ে গভীর দার্শনিক ভাবনা প্রকাশ করেছেন।

• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৬৯.
'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা।'- বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. দাউদ হায়দার
  2. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. জোশুয়া মার্শম্যান
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- তরুণ হেনরী লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ১৯২৬ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে কলকাতা হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ১৮২৮ সালে 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন' নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

- 'ইয়ংবেঙ্গল' ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী। ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও। এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। তাঁর উপদেশ ছিল- 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'।

- ইউরেশীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণ সাধনের কাজেও ডিরোজিও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং 'দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' নামে একটি ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র সম্পাদনা করতে শুরু করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৭০.
"হায়! জীবন এতো ছোট কেনে?" বিখ্যাত উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• "কবি" উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি' (১৯৪৪)।
- এই উপন্যাসটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের একটি ক্ল্যাসিক সংলাপ - "এই খেদ আমার মনে, ভালোবেসে মিটল না আশ-কুলাল না এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট কেনে? এ ভুবনে।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৭১.
'পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়।'- উক্তিটি কার রচনা?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. এস ওয়াজেদ আলী
  3. সুফিয়া কামাল 
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'বইপড়া' প্রবন্ধ:
• 'বইপড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
• এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

• এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো-
- 'যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।'
- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানে বড় নয়।'
- 'পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়।'
- 'যে জাতির জ্ঞানভাণ্ডারে শূন্য সে জাতি ভাঁড়েও ভবানী।

------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৭২.
'কুহেলিকা' উপন্যাসের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. তাহমিনা
  2. ফিরদৌস বেগম
  3. নুরু
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

"কুহেলিকা" উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।

• এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম

অন্যদিকে, 
• 'নুরু' বাঁধনহারা উপন্যাসের চরিত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৭৩.
"মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার-চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ, তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান," -এর রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জসীম উদ্দীন
ব্যাখ্যা
• "মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার-চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ, তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান," -এর রচয়িতা: 'জীবনানন্দ দাশ'।
------------
• 'অবসরের গান' কবিতা:
- কবিতাটির রচয়িতা: 'জীবনানন্দ দাশ'।  
- কবিতাটি কবির 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত।
--------------------- 
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
 
• জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা। 
 
অবসরের গান- কবিতা,
-----------------জীবনানন্দ দাশ।
 
শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে
অলস গেঁয়োর মতো এইখানে কার্তিকের ক্ষেতে
মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার — চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,
তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান,
দেহের স্বাদের কথা কয় —
বিকালের আলো এসে (হয়তো বা) নষ্ট করে দেবে তার সাধের সময়!
চারি দিকে এখন সকাল —
রোদের নরম রঙ শিশুর গালের মতো লাল!
মাঠের ঘাসের পরে শৈশবের ঘ্রাণ —
পাড়াগাঁর পথে ক্ষান্ত উৎসবের পড়েছে আহ্বান!
 
উৎস: অবসরের গান- কবিতা, জীবনানন্দ দাশ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৭৪.
‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।’ উক্তিটির রচিয়তা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
⇒ 'বইপড়া' প্রবন্ধ:
• 'বইপড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
• এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

• এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো-
- ‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।’ 
- ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।’
- ‘যে জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী।’

⇒ প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৭৫.
''আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।'' - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ''আমার পথ" প্রবন্ধ থেকে নেয়া।
 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
 
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।
-----------
'আমার পথ' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।
 
‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।
১,৩৭৬.
প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের কোন গ্রন্থে মুসলমান দরবেশদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতার বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. ক) চর্যাপদ
  2. খ) শূন্যপুরান
  3. গ) সেক শুভোদয়া
  4. ঘ) গোরক্ষ বিজয়
  5. ঙ) নিরঞ্জনের উষ্মা
ব্যাখ্যা
সেক শুভোদয়া হলো রাজা লক্ষণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্র রচিত সংস্কৃত গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্যের কয়েকটি বাংলা গান ও আর্যা। আর্যা সমূহে শেখের শুভোদয় বা মুসলমান দরবেশদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতার বর্ণনা করা হয়েছে। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম পীর মাহাত্ব্য মূলক রচনা। একইভাবে এর প্রেম সংগীতটি হলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের একমাত্র প্রেম সংগীত। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
১,৩৭৭.
'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. পদ্মা নদীর মাঝি 
  2. দুর্গেশনন্দিনী 
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. লালসালু 
ব্যাখ্যা

• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।
- ”পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।” - কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের এই সংলাপ, বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।
- তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য বাক্য।
- গরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের নাট্যরূপ দেন।

------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসসমূহ:
- দুর্গেশনন্দিনী
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৭৮.
জন্মিলে তুমি মোহাম্মদের আগে, হে পুরুষ বর!
কোরানে ঘোষিত তোমার মহিমা, হতে পয়গাম্বর! - কাজী নজরুল ইসলাম রচিত এই চরণদুটি কাকে স্মরণ করে লিখেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. চিত্তরঞ্জন দাস
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির অভির আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়। এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- দেশ বন্ধুর মৃতু্যর পরে কবি নজরুল শোকগাথামূলক যে চিত্তনামা কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন সেটিও উৎসর্গ করেছিলেন বাসন্তী দেবীর নামে 'ইন্দ্র পতন' কবিতায় নজরুল চিত্তরঞ্জন দাসের মৃতু্যকে স্মরণ করে লিখেলেন-

জন্মিলে তুমি মোহাম্মদের আগে, হে পুরুষ বর!
কোরানে ঘোষিত তোমার মহিমা, হতে পয়গাম্বর!
যে জ্যোতি পারেনি সহিতে স্বয়ং মুসা ও কোহ-ই তুরে,
সেই জ্যোতিঃ তুমি রেখেছিলে তব নয়ন মণিতে পুরে

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৭৯.
'সুভাষিণী' রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. সুভা
  3. বিলাসী
  4. ভিখারিনী
ব্যাখ্যা
• ‘সুভা’ ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোটগল্প 'সুভা'।
- ‘সুভা’ গল্পটিতে একটি বোবা মেয়ের করুণ কাহিনির ছবি অঙ্কিত হয়েছে।
- গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম 'সুভা'। সুভার বাবা তাঁর বড়ো দুই বোনের নামের সাথে মিল রেখে ছোট বোনের নাম রেখেছিলেন 'সুভাষিণী'।
- তাঁর বড় দুই বোনের নাম- 'সুকেশিনী' ও 'সুহাসিনী'।

--------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• উপন্যাস:
- বউ ঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- ঘরে বাইরে,
- যোগাযোগ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- ভিখারিনী,
- ছুটি,
- কাবুলিওয়ালা,
- পোস্টমাস্টার,
- সুভা,
- সমাপ্তি,
- অপরিচিতা,
- হৈমন্তী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৩৮০.
'সুধা' চরিত্রটি নিচের কোন নাটকের সঙ্গে যুক্ত?
  1. রক্তকরবী
  2. চিত্রাঙ্গদা
  3. বিসর্জন
  4. ডাকঘর
ব্যাখ্যা

'ডাকঘর' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক।
- এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।

নাটকের চরিত্র গুলো হলো:
- অমল,
- মাধব দত্ত (অমলের পিতা),
- সুধা (মালির মেয়ে),
- ঠাকুরদাদা,
- দইওয়ালা,
- প্রহরী,
- কবিরাজ,
- রাজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৩৮১.
'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- উক্তিটি অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. তিতাস একটি নদীর নাম
  2. নয়া বসত
  3. দু রঙা প্রজাপতি
  4. শাদা হাওয়া
ব্যাখ্যা

"তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাস:
- 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- ৪ খণ্ডে বিন্যাস্ত এই উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন।

উপন্যাসটির কিছু উক্তি:
'মনের মত মানুস পাইলাম না।' উক্তিটি জনৈক মালো যুবক।
'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- করমালীর উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৮২.
'কিরণময়ী' শরৎচন্দ্র রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পথের দাবি
  2. চরিত্রহীন
  3. গৃহদাহ
  4. দত্তা 
ব্যাখ্যা

- 'কিরণময়ী' শরৎচন্দ্র রচিত চরিত্রহীন উপন্যাসের চরিত্র।
------------------------- 
 'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রহীন (১৯১৭) উপন্যাসটি মূলত বিশ শতকের শুরুর বাঙালি সমাজের নিয়মকানুন, প্রেম ও নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে লেখা। উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র হলো- সাবিত্রী ও কিরণময়ী। সাবিত্রী একজন বিধবা, যিনি মনিব সতীশের প্রেমে পড়ে, সমাজ তাকে ‘চরিত্রহীন’ মনে করলেও তার মধ্যে ভালোবাসা ও সততা রয়েছে। কিরণময়ী একজন জটিল নারী চরিত্র, যিনি পঙ্গু স্বামীসহ জীবনের নানা কষ্টে পড়েছেন। উপন্যাসে দেখা যায় সমাজ যাকে ‘চরিত্রহীন’ মনে করে, তার আসল মানষিকতা অনেক ভিন্ন। প্রেম, সম্পর্ক ও নর-নারীর মানবিক আকাঙ্ক্ষার বাস্তব চিত্র উপন্যাসে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। উপন্যাসের নাম ‘চরিত্রহীন’ রাখা হয়েছে সমাজের প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গি ও মানুষের প্রকৃত চরিত্রের মধ্যে পার্থক্য দেখানোর জন্য।
----------------------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী।
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর শিক্ষাজীবন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
- কর্মজীবনে বিভিন্ন চাকরি, সন্ন্যাসজীবন ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সাহিত্যই ছিল তাঁর প্রধান পরিচয়।

- ‘বড়দিদি’ উপন্যাসের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যজীবনের সূচনা হয়।
- তাঁর লেখায় গ্রামীণ সমাজ, সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার এবং বিশেষভাবে নারীর প্রতি অবহেলা ও যন্ত্রণার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- সহজ ভাষা ও শক্তিশালী কাহিনির জন্য তাঁর সাহিত্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। 

- শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প ‘মন্দির’—এর জন্য তিনি কুন্তলিন পুরস্কার লাভ করেন।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প—
- মহেশ,
- অভাগীর স্বর্গ,
- বিলাসী। 

- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘বড়দিদি’।
- অন্যান্য প্রসিদ্ধ উপন্যাস—
- শ্রীকান্ত,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন, 
- দত্তা, 
- পথের দাবী,
- দেনা-পাওনা,
- শেষের পরিচয়। 

- তাঁর বহু উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় শুধু সাহিত্যেই নয়, চিত্রকলাতেও পারদর্শী ছিলেন।
- বার্মায় অবস্থানকালে তাঁর আঁকা ‘মহাশ্বেতা’ নামের অয়েল পেইন্টিংটি একটি উল্লেখযোগ্য ও বিখ্যাত শিল্পকর্ম হিসেবে পরিচিত।

- সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হলেও বাংলা সাহিত্যে তাঁর প্রভাব ও মর্যাদা আজও অম্লান।
--------------------------
অন্যদিকে,
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসের মূল চরিত্র হলো- বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস 'গৃহদাহ'র কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছে- অচলা, মহিম ও সুরেশ।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দত্তা' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- বিজয়া, নরেন্দ্রনাথ, বিলাসবিহারী, রাসবিহারী।  

উৎস:
'চরিত্রহীন' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,৩৮৩.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. রমেশ
  2. পুতুল
  3. মালা
  4. রহমান মিঞা
ব্যাখ্যা
• ‘মালা’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত একটি চরিত্র।

----------------------
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

⇒ এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

-----------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৮৪.
‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' - উক্তিটি কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কবর
  2. মুখরা রমণী বশীকরণ
  3. জমিদার দর্পণ
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৮৫.
'ভানুমতী এবং বনোয়ারী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  2. আরণ্যক
  3. অপরাজিত
  4. অশনি সংকেত
ব্যাখ্যা
‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’।
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৮৬.
'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. অতীন
  2. অমিত
  3. বিমলা
  4. শচীশ
ব্যাখ্যা

• 'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র- শচীশ, দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
- উপন্যাসটিতে চারটি অধ্যায় রয়েছে, প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রদের নামে।

অন্যদিকে,
• 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র- নিখিলেস, বিমলা।  
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল।
• 'চার অধ্যায়' উপন্যাসের চরিত্র- অতীন, এলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৮৭.
"রাবেয়া খাতুন এবং জাহেদ" শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কৃষ্ণচূড়া মেঘ
  2. সারেং বৌ
  3. সংশপ্তক
  4. দিগন্তে ফুলের আগুন
ব্যাখ্যা
'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস- সংশপ্তক।
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে। একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।

শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ - তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ।
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - রাজবন্দীর রোজনমাচা।

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দির রোজনামচা যা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৮৮.
'হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে, সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে।'- কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) ঝরা পালক
  2. খ) রূপসী বাংলা
  3. গ) বনলতা সেন
  4. ঘ) ধূসর পান্ডুলিপি
ব্যাখ্যা
- 'হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে।'- এটি জীবনানন্দ দাশ রচিত 'বনলতা সেন' কবিতার অংশ।

• বনলতা সেন:
- 'বনলতা সেন' আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনাম গ্রন্থগুলির অন্যতম।
- এ কাব্যগ্রন্থের 'বনলতা সেন' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা।
- জীবনানন্দ দাশ তাঁর অশ্রুতপূর্ব উপমা প্রয়োগে এই কবিতাটি রচনা করেন।

 ______________________________________
               বনলতা সেন
                   (জীবনানন্দ দাশ)

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে-নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।
                                                                             (সংক্ষেপিত)

• জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
- তাঁর রচিত ‘বনলতা সেন’ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা গ্রন্থগুলির অন্যতম।
- এ কাব্যের ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা।

 • তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ধূসর পান্ডুলিপি
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৮৯.
'জাহেদ এবং হুরমতি' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দিগন্তে ফুলের আগুন
  2. সংশপ্তক
  3. সারেং বৌ
  4. কৃষ্ণচূড়া মেঘ
ব্যাখ্যা
'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- সংশপ্তক' উপন্যাস বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বাস্তবতার এক প্রামাণ্য দলিল।
- হিন্দু-মুসলিমের সহঅবস্থানে অসাম্প্রদায়িক জীবনবােধ উপন্যাসের অন্যতম অসাধারণ বিষয়।
- এই উপন্যাস দেশ, জাতি, মানুষ বাঁচানোর সংগ্রাম শুধু নয়, মানবিক চেতনাবোধ, আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজে গঠনের আবেদন ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে জানান দিয়েছেন লেখক ।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জাহেদ, হুরমতি, লেকু, রমজান, রাবেয়া খাতুন (রাবু), সেকেন্দার, মালু, রামদয়াল ইত্যাদি।

শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯০.
‘নদের চাঁদ’ কোন পালার চরিত্র?
  1. মহুয়া
  2. চন্দ্রাবতী
  3. মলুয়া
  4. কমলা
ব্যাখ্যা
• ‘নদের চাঁদ’ - 'মহুয়া' পালার চরিত্র। 

⇒ মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে- মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। যথা: মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা, দেওয়ান ভাবনা ও দেওয়ানা মদিনা। 

⇒ 'মহুয়া' পালা:
• 'মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।
- মধ্যযুগের কবি দ্বিজ কানাই পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চলের অধিবাসী। 
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তিজীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়। 

মহুয়া পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

অন্যদিকে,
- ‘মলুয়া’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।
- ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।
- ‘চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র’ নয়নচাঁদ ঘোষ প্রণীত পালা।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯১.
‘শিশির’ ও ‘অপু’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন গল্পের চরিত্র?
  1. একরাত্রি
  2. সমাপ্তি
  3. হৈমন্তী
  4. সুভা
ব্যাখ্যা
• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্প টি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।

• এই গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- হৈমন্তী (শিশির),
- গৌরীশংকর,
- অপু,
- বনমালী প্রমুখ।

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
- ‘মানুষ পণ করে পণ ভাঙিয়া ফেলিয়া হাঁফ ছাড়িবার জন্য। অতএব কথা না-দেওয়াই সব চেয়ে নিরাপদ’ ইত্যাদি।

--------------------------
রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প-
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৯২.
'হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে, কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঠাঁল-ছায়ায়' চরণটির রচয়িতা-
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. সুফিয়া কামাল
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশের 'রূপসী বাংলা' কাব্যের 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার চরণঃ

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে—এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়—হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল-ছায়ায়;
হয়তো বা হাঁস হ’ব—কিশোরীর—ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারা দিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধ ভরা জলে ভেসে ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়;

হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;
হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেঁচা ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;
হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;
রূপ্‌সার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক শাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙা বায়;—রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিবে ধবল বক: আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে।

১,৩৯৩.
'কিতাব পড়িতে যার নাহিক অভ্যাস। সে সবে কহিল মোতে মনে হাবিশাষ।' উক্তিটি কার?
  1. মুকন্দরাম চক্রবর্তী
  2. আবদুল হাকিম
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা

• কবি আবদুল হাকিম রচিত 'নূরনামা' কাব্যের অন্তর্গত 'বঙ্গবাণী' কবিতার চরণ-
'কিতাব পড়িতে যার নাহিক অভ্যাস। সে সবে কহিল মোতে মনে হাবিশাষ। তে কাজে নিবেদি বাংলা করিয়া রচন। নিজ পরিশ্রম তোষি আমি সর্বজন।'
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

১,৩৯৪.
আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়। - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. হরিশচন্দ্র মিত্র
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়। - পঙ্‌ক্তিগুলো হরিশচন্দ্র মিত্র রচিত ‘বড় কে’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

হরিশচন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; ‘বড় কে’ কবিতা।
১,৩৯৫.
'তোরাপ' চরিত্রটি নিম্নের কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কমলে কামিনী
  2. সধবার একাদশী
  3. নীলদর্পণ
  4. জমিদার দর্পণ
ব্যাখ্যা
'নীলদর্পণ' নাটক:
- 'নীলদর্পণ' দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- নীলদর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। মধুসূদন দত্ত A Native ছদ্মনামে 'Nil Durpan, or The Indigo Planting Mirror' নামে অনুবাদ করেছিলেন।প্রকাশ করেছিলেন রেভারেন্ড জেমস লং। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গোলক বসু,
- নবীন মাধব,
- রাইচরণ,
- তোরাপ,
- সাবিত্রী,
- সরলতা,
- ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৬.
'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র-
  1. রোহিনী, গোবিন্দলাল
  2. মনোরমা, হেমচন্দ্র
  3. আয়েশা, তিলোত্তমা
  4. কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর।

অন্যদিকে,
- মনোরমা, হেমচন্দ্র মৃণালিনী উপন্যাসের চরিত্র।
- আয়েশা, তিলোত্তমা দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের চরিত্র।
- কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ  বিষবৃক্ষ উপন্যাসের চরিত্র।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:

- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৯৭.
'শিবু ও শম্ভু' কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. ছবি
  2. বিলাসী
  3. মামলার ফল
  4. মহেশ
ব্যাখ্যা
• 'মামলার ফল' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'মামলার ফল' গল্পে দুই ভাই শিবু ও শম্ভুর মধ্যে সম্পত্তির ভাগাভাগির মামলা এবং নিঃসন্তান সঙ্গামণির অপত্য স্নেহ শিশু গয়ারামকে কেন্দ্র করে কাহিনি বিকশিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• 'ছবি' গল্পের ঘটনাস্থল ব্রহ্মদেশ। চিত্রকর বা-থিন এবং ধনীকন্যা মাশায়ের গভীর প্রেম এই গল্পের বিষয়বন্তু।
• ‘বিলাসী’ গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচরণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে। গল্পের ন্যাড়া চরিত্র আসলে লেখক নিজেই।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্থক ছােটগল্প ‘মহেশ'।গল্পের চরিত্রগুলো- গফুর, আমেনা, মহেশ, তর্করত্ন, জমিদার শিববাবু প্রমুখ। 

------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত ছোটগল্পগুলো হলো:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি ছোটগল্প।

- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি তারঁ সুখপাঠ্য বড়গল্প।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- অরক্ষণীয়া,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- নিষ্কৃতি,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৮.
'জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই?' এই অবিস্মরণীয় আহ্বানটি কে করেছেন?
  1. তোরাব
  2. কুবের
  3. নূরলদীন
  4. কদম সারেং
ব্যাখ্যা
• 'জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই' বলে অবিস্মরণীয় আহ্বানটি দিয়েছিলো : নূরলদীন।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যে এই উক্তিটি রয়েছে।

• 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৯৯.
‘রমা’ চরিত্রটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. ক) পল্লী সমাজ
  2. খ) শ্রীকান্ত
  3. গ) পরিণীতা
  4. ঘ) গৃহদাহ
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পল্লী সমাজ উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম ইত্যাদি।
উপন্যাসটি রমা নামে নাট্যায়িত হয়।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১,৪০০.
'পথের দাবী' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. কিরণময়ী
  2. সব্যসাচী
  3. অচলা
  4. বিজয়া
ব্যাখ্যা

'পথের দাবী' উপন্যাস:
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক 'সব্যসাচী' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবানী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- চরিত্রহীন -- সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর, কিরণময়ী
- গৃহদাহ -- অচলা, মহিম, সুরেশ।
- দত্তা -- বিজয়া, নরেন, রাসবিহারী, বনমালী।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।