বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের চরিত্র, উক্তি ও সংলাপ

মোট প্রশ্ন১,৪৯০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের চরিত্র, উক্তি ও সংলাপ

PrepBank · পাতা ১৩ / ১৫ · ১,২০১১,৩০০ / ১,৪৯০

১,২০১.
'কিন্তু মানুষ্য কখনো পাষাণ হয় না'- উক্তিটি কোন উপন্যাসের? 
  1. রবীন্দ্রনাথের 'চোখের বালি'
  2. শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী'
  3. শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি'
  4. বঙ্কিমচন্দ্রের 'রাজসিংহ'
ব্যাখ্যা
‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
• ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
• বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
• ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।
• 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে      মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।
• উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী। 
• ‘কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না’- এই উপন্যাসের একটি বিখ্যাত উক্তি।

------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।
 
• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘রাজসিংহ’ উপন্যাস।
১,২০২.
“হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়” উক্তিটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের কোন চরিত্রের বক্তব্য?
  1. লক্ষ্মী
  2. শিব
  3. সীতা
  4. উমা 
ব্যাখ্যা

- “হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়” উক্তিটি মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্য থেকে নেওয়া।
- এটি মূলত একটি প্রবাদ বাক্য,লক্ষ্মী শিবকে উদ্দেশ্য করে এই উক্তি করেছে। 
- এখানে দেবী লক্ষ্মী শিবকে জানান যে তাদের ঘরে কোনো অন্ন নেই এবং তিনি নিজেই ‘লক্ষ্মীছাড়া’ হয়ে গেছেন।
- এই আক্ষেপের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, যার ভাগ্যে অন্ন বা সমৃদ্ধি নেই, সে যেদিকে হাত দেয়, সব কিছুতেই অসফলতা বা ধ্বংস আসে। 
-------------------
অন্নদামঙ্গল:
- অন্নদামঙ্গল মধ্যযুগের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্য, যা আনুমানিক ১৭৫২-৫৩ সালে রচিত হয়।
- এর রচয়িতা হলেন মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- প্রথম মুদ্রণ করা হয় ১৮১৬ সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের মাধ্যমে।
- কাব্যটি মূলত দেবী অন্নদার পূজা, মহিমা এবং আখ্যান প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যটি ছন্দ ও অলঙ্কারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুদক্ষভাবে রচিত।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য এবং সমগ্র বাংলা সাহিত্যের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত:
• প্রথম খণ্ড শিবায়ন অন্নদামঙ্গল,
• দ্বিতীয় খণ্ড বিদ্যাসুন্দর কালিকা মঙ্গল এবং
• তৃতীয় খণ্ড মানসিংহ অন্নদামঙ্গল।

• প্রথম খণ্ডে সীতার দেহত্যাগ, উমারূপে জন্মগ্রহণ, শিবের সঙ্গে বিবাহ, অন্নপূর্ণার মূর্তিধারণ এবং কাশীপ্রতিষ্ঠার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

• দ্বিতীয় খণ্ডে বিদ্যাসুন্দরের প্রেমকাহিনি প্রকাশিত হয়েছে।

• তৃতীয় খণ্ডে মানসিংহের যশোর অভিযান, রাজা প্রতাপাদিত্যের পরাজয় এবং ভবানন্দের দিল্লি যাত্রার বর্ণনা রয়েছে।

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত পঙক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।”
•“মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।”
• “হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।”
• “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”
• “বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।”

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
বাংলাপিডিয়া।

১,২০৩.
‘করুণা’ উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. নীরজা
  2. রজনী
  3. শর্মিলা
  4. রাজলক্ষী
ব্যাখ্যা
• ‘করুণা’ উপন্যাস:
• ‘করুণা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয়।
• রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘বৌঠাকুরাণীর হাট’।
• মাসিক ‘ভারতী’ পত্রিকায় এক বছর ধরে (আশ্বিন-ভাদ্র ১২৮৪-৮৫) ‘করণা’ উপন্যাসটি ছাপা হয়।
• তবে ‘করুণা’ উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় নি। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবরণের (১৯৪১) পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ‘রবীন্দ্র রচনাবলি’তে (১৯৬১) ‘করুণা’ প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• সাতাশ পরিচ্ছেদ বিশিষ্ট এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মহেন্দ্র,
- মোহিনী,
- রজনী।

অন্যদিকে,
• 'চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে- বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
• 'দুইবোন' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে- শর্মিলা ও উর্মিলা।
• ‘মালঞ্চ’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,২০৪.
“পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।” একুশের গল্পে কার অশ্রুর কথা বলা হয়েছে?
  1. রেণুর
  2. রাহাতের
  3. তপুর মায়ের
  4. নাজিমের
ব্যাখ্যা
⇒ একুশের গল্প: 
- জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে একুশের গল্প অন্যতম।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু ও রাহাত।
- এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি ২য় খণ্ড থেকে চয়িত হয়েছে।

এই গল্পের মূলকথা হচ্ছে-
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের এক উদ্দাম হৃদয়বান, প্রাণবন্ত তরুণ শহিদ হয়। কিন্তু পুলিশ সেই লাশ গুম করে ফেলে।
- তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে।

গল্পটিতে ব্যবহৃত কিছু সংলাপ হলো:
• 'এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন; অনন্তকাল ধরে এমনি চলতে পারতাম আমরা।'- অংশটি একুশের গল্পের অন্তর্গত।
• ‘ওই যে লোকটা বলছিল সে বার্নাডশ হবে, পরশু রাতে মারা গেছে। - সংলাপটি জহির রায়হান রচিত একুশের গল্প থেকে নেয়া হয়েছে।
• “পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।” - গল্পে রেণু সম্পর্কে উক্তিটি বলা হয়েছে।

• জহির রায়হান রচিত অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- সোনার হরিণ;
- সময়ের প্রয়োজনে;
- একটি জিজ্ঞাসা;
- হারানো বলয়;
- বাঁধ;
- সূর্যগ্রহণ;
- নয়া পত্তন;
- মহামৃত্যু;
- ভাঙাচোরা;
- অপরাধ;
- স্বীকৃতি;
- অতি পরিচিত;
- ইচ্ছা অনিচ্ছা;
- জনন্মান্তর;

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ ও ‘গল্প সমগ্র’ জহির রায়হান।
১,২০৫.
"জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী? পৃথিবীতে কে কাহার।" - উক্তিটি কোন সাহিত্যের?
  1. হৈমন্তী
  2. পোস্টমাস্টার
  3. কাবুলিওয়ালা
  4. নষ্টনীড়
ব্যাখ্যা

• 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্প:
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প 'পোস্টমাস্টার'।
- এই ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র রতন ও পোস্টমাস্টার।
- এই ছোটগল্পের একটি বিখ্যাত উক্তি- 'জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী? পৃথিবীতে কে কাহার।'

---------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পগুলো হলো:
- ভিখারিণী,
- দেনা পাওনা,
- মনিহারা
- পোস্টমাস্টার,
- একরাত্রি,
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নষ্টনীড়,
- কাবুলিওয়ালা,
- হৈমন্তী
- মুসলমানীর গল্প।

উৎস: 'পোস্টমাস্টার' গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২০৬.
'রক্তকরবী' - নাটকে কোন চরিত্রটি 'বিদ্রোহের বাণী' বহন করে এনেছে?
  1. রাজা
  2. রঞ্জন
  3. অধ্যাপক
  4. মোড়ল
ব্যাখ্যা

'রক্তকরবী' নাটক: 
- 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সাংকেতিক নাটক। ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নন্দিনী ও 
- রঞ্জন। 

রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক গুলো:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২০৭.
নিচের কোনটিকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ বলা হয়?
  1. ক) পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?
  2. খ) এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে।
  3. গ) বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না- দূরেও ঠেলিয়া ফেলে।
  4. ঘ) তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?
ব্যাখ্যা
• 'কপালকুণ্ডলা'
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস। 
উপন্যাসের চরিত্র: 
- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি। 

গুরুত্বপূর্ণ উক্তি:
• তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?
• পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ - বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক সংলাপ।

অন্যদিকে,
• "এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে।" - উক্তিটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি' এর অন্তর্গত।
• “বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না- দূরেও ঠেলিয়া ফেলে।” - উক্তিটি শরৎচন্দ্রের “শ্রীকান্ত” উপন্যাসের প্রথম খন্ড থেকে নেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. আশালতা
  2. চারুলতা
  3. বিনোদিনী
  4. হৈমন্তী
ব্যাখ্যা

• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প:
- 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত।
- এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র 'চারুলতা'।

এই গল্পের অন্য দুটি চরিত্র:
- অমল ও
- ভূপতি।

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত "চোখের বালি" উপন্যাসের চরিত্র- আশালতা ও বিনোদিনী।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের একটা বিখ্যাত চরিত্র - 'হৈমন্তী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প।

১,২০৯.
'মৃত্যুঞ্জয়' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. সতী
  2. বিলাসী
  3. মামলার ফল
  4. মেজদিদি
ব্যাখ্যা
• “বিলাসী” গল্প:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “বিলাসী” গল্পটি প্রথমে প্রকাশিত হয় ‘ভারতী' পত্রিকায় ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ) বৈশাখ সংখ্যায়। “ন্যাড়া” নামের এক যুবকের নিজের জবানিতে বিবৃত হয়েছে এ গল্প। এই গল্পের কাহিনিতে শরৎচন্দ্রের প্রথম জীবনের ছায়াপাত ঘটেছে।

- “বিলাসী” গল্পে বর্ণিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী দুই মানব-মানবীর চরিত্রের অসাধারণ প্রেমের মহিমা, যা ছাপিয়ে উঠেছে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা। গল্পে সংঘটিত একের পর এক ঘটনা এবং বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে সংঘাতের মাধ্যমেই কাহিনি অগ্রসর হয়। ঘটনার দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মধ্য দিয়ে কাহিনিতে গতি সঞ্চারিত হয়েছে। 

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
গল্পটি বলা হয়েছে 'ন্যাড়া'র জবানবন্দিতে। ন্যাড়ার সাথে পড়ত মৃত্যুঞ্জয়। মৃত্যুঞ্জয়কে আজীবন সবাই থার্ড ক্লাসে পড়তে দেখেছে। তাকে কেউ ফোর্থ ক্লাসে উঠতে দেখে নি। তার আপন বলতে কেউ ছিল না, শুধু এক খুড়ো (জ্যাঠা) ছাড়া। খুড়োর কাজ ছিল ভাইপোর বিরুদ্ধে হরেক রকম দুর্নাম রটানো।

মৃত্যুঞ্জয় নিজে রান্না করে খেত। তার বাড়ি সংলগ্ন আমবাগান থেকে আয়কৃত অর্থে দিন গুজরান হত তার। মৃত্যুঞ্জয় ছিল উদার প্রকৃতির, এতিম, ব্রাহ্মণ,উঁচুজাতের,নির্ভীক,দৃঢ়চেতা,ধৈর্যশীল ও প্রণয়নিষ্ঠ।

গ্রামের ভিতরে মৃত্যুঞ্জয়ের নামে হরেক রকম দুর্নাম শোনা গেলেও, সে ছিল দিলদরিয়া। সে দোকান থেকে এটা ওটা কিনে খাওয়াত সবাইকে। দরিদ্রকে সাহায্য করত সে। কিন্তু, তার থেকে সাহায্য পাবার কথা কেউ স্বীকার করত না, গ্রামের মাঝে মৃত্যুঞ্জয়ের এমন ছিল সুনাম।

একসময় মৃত্যুঞ্জয় রোগে শয্যাশায়ী হয়। সে সময় সাপুড়ে কন্যা বিলাসী তাকে সেবা করে সুস্থ করে থাকে। মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে যমের দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনে সে। একসময় তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়।

এতদিন মৃত্যুঞ্জয়ের সেবায় এগিয়ে না আসলেও কায়স্থ সন্তান মৃত্যুঞ্জয়ের সাথে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীর বিবাহের দরুন সৃষ্টি হওয়া সামাজিক অনাচার-এর বিরুদ্ধে এগিয়ে আসে তার খুড়ো। অন্নপাপী মৃত্যুঞ্জয়ের বাসায় ঢুকে তার স্ত্রী বিলাসীর উপর অকথ্য নির্যাতন চালায় সে ও তার সাঙ্গপাঙ্গ। ন্যাড়া রোগাক্রান্ত দুর্বল মৃত্যুঞ্জয়ের তা প্রতিরোধের কোন ক্ষমতা ছিল না। এরপর তারা ঐ বাড়ি ছেড়ে মালপাড়ায় গিয়ে বসতি স্থাপন করে।

এর বহুদিন পর ন্যাড়ার সাথে দেখা হয় মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর। মৃত্যুঞ্জয়কে দেখে অবাক হয় ন্যাড়া। সাত পুরুষের কায়স্থ যে সাপুড়েতে রূপান্তর হয়ে গিয়েছে! এরপর, বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের সাথে থাকা শুরু করে সে। তাদের সাথে থেকে মন্ত্রসিদ্ধ হয় ন্যাড়া।

একদিন, এক গোয়ালার বাড়িতে এক খরিশ গোখরোর কামড়ে মৃত্যু ঘটে মৃত্যুঞ্জয়ের। তাবিজ-মন্ত্র কোনটাই তার 'মৃত্যুঞ্জয়' নামটির সার্থকতা বজায় রাখতে পারে নি। তার মৃত্যুর পর বিলাসীর বিষ খেয়ে আত্নহত্যা করে। আর ন্যাড়ার সাপুড়ে জীবনের ইতি ঘটে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মৃত্যুঞ্জয়,
- ন্যাড়া,
- বিলাসী,
- খুড়ো। 

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলা সাহিত্যপাঠ এবং “বিলাসী” গল্প।
১,২১০.
'নদী ও নারী' উপন্যাসে লেখক কোন নদী তীরবর্তী মানুষের চিত্র অঙ্কন করেছেন?
  1. ক) করতোয়া
  2. খ) যমুনা
  3. গ) কর্ণফুলী
  4. ঘ) পদ্মা
ব্যাখ্যা
'নদী ও নারী' উপন্যাসে লেখক হুমায়ুন কবির। 
- ১৯৪৫ সালে তাঁর নদী ও নারী উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- একই বছর Men and Rivers নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসে কবির পদ্মানদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।
- একথা অবশ্য স্বীকার্য যে, হুমায়ুন কবিরের প্রধান পরিচিতি একজন প্রবন্ধকার রূপে।
-  তাঁর রচিত গ্রন্থসংখ্যা মোট ৪৫।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২১১.
ভানুমতী ও বনোয়ারী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ইছামতী
  2. দেবযান
  3. অপরাজিত
  4. আরণ্যক
ব্যাখ্যা
‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’।
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২১২.
মনসামঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র নয় কোনটি?
  1. লখিন্দর
  2. বেহুলা
  3. ফুল্লরা
  4. সনকা
ব্যাখ্যা

- মনসামঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র নয় 'ফুল্লরা'। 
- এটি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্যতম চরিত্র। 

• মনসামঙ্গল' কাব্য:

- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২১৩.
বিখ্যাত 'হোসেন মিয়া' চরিত্রটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পদ্মানদীর মাঝি
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. লালসালু
  4. বরফ গলা নদী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- এই উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২১৪.
‘জাহাঙ্গীর’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা
  3. বাঁধন-হারা
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

• এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাসসমূহ-
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২১৫.
'রতন' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. একরাত্রি
  2. পোস্টমাস্টার
  3. যোগাযোগ
  4. সমাপ্তি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ' পোস্টমাস্টার' ছোটগল্পের একটা বিখ্যাত চরিত্র - 'রতন'। 

• 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্প:  
- পোস্টমাস্টার ছোটগল্পটি রবীন্দ্রনাথের প্রথম দিককার ছোটগল্পগুলোর অন্যতম। 
- একটি স্বজনহারা নিঃসহায় গ্রাম্য বালিকার স্নেহালোলুপ হৃদয়ে আসন্ন স্নেহবিচ্যুতির আশঙ্কায় কী সকরুণ ভাবাবেগ উদ্বেলিত হয়েছে তা গল্পের শেষাংশে প্রতিফলিত হয়েছে এবং পাঠকের হৃদয়ে তা অনুরণিত হয়েছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে।
- এই ছোটগল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র রতন। 

--------------------------------------------------
• আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:  
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- তাঁর 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র: কুমুদিনী।

------------------ 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান,  ছোটগল্প,  উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য,  নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল,
- রবিবার,
- শেষকথা,
- পোস্টমাস্টার, 
- ল্যাবরেটরি
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্প ও রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।
১,২১৬.
‘কাহ্নপা’ চরিত্রটি পাওয়া যায় নিচের কোন সাহিত্যকর্মে?
  1. চর্যাপদ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. নীল ময়ূরের যৌবন
  4. কাঁটাতারে প্রজাপতি
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন রচিত 'নীল ময়ূরের যৌবন' একটি জীবনীমূলক উপন্যাস।
- এর প্রকাশকাল - ১৯৮৩ সাল।
- এই উপন্যাসের বৃহৎ ক্যানভাস জুড়ে আছেন প্রাচীন যুগের কবিগণ। এই কবিগণ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম রূপ ব্যবহার করে তাঁদের গীত রচনা করেছেন।
- সেলিনা হোসেন উপন্যাসের বিষয় নির্বাচন করতে গিয়ে এমন মহান কবিদের নির্বাচন করেছেন যাঁদেরকে তিনি উপন্যাসে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র - কাহ্নপা
- কাহ্নপাকে গুরুত্ব দিতে গিয়েই অন্যান্য চরিত্র এসেছে স্বাভাবিকভাবেই। তাঁরাও কবি। তাঁদের দানও অসামান্য।
অন্যান্য চরিত্র: ডোম্বী, দেশাখ, শবরী, ভুসুকু আর কুক্কুরী পা।

সেলিনা হোসেন রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
- জলোচ্ছাস
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
- কালকেতু ও ফুল্লুরা
- যুদ্ধ
- কাঠকয়লার ছবি ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও প্রথম আলো আর্কাইভ।

উল্লেখ্য, কাহ্নপা চর্যাপদের কবি।
১,২১৭.
“আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন”- কোন কবি বলেছেন?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

শ্রমিক সাম্যের মন্ত্রে কিরাতের উঠিয়াছে হাত
হিয়েনসাঙের দেশে শান্তি নামে দেখো প্রিয়তমা,
এশিয়ায় যারা আনে কর্মজীবী সাম্যের দাওয়াত
তাদের পোশাকে এসো এঁটে দিই বীরের তকোমা।
আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন,
পরম স্বস্তির মন্ত্রে গেয়ে ওঠো শ্রেণীর উচ্ছেদ,
এমন প্রেমের বাক্য সাহসিনী করো উচ্চারণ
যেন না ঢুকতে পারে লোকধর্মে আর ভেদাভেদ।

- সোনালী কাবিন
- আল মাহমুদ 

১,২১৮.
'আচ্ছা সমুদ্র কত বড়-পদ্মার চেয়ে বড় বুঝি?'- উক্তিটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দিবারাত্রির কাব্য
  2. সমুদ্রের স্বাদ
  3. পুতুলনাচের ইতিকথা
  4. পদ্মানদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- এই উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।
- 'আচ্ছা সমুদ্র কত বড়-পদ্মার চেয়ে বড় বুঝি?' উপন্যাসে উক্তিটি যুগীর। 

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

-------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• উপন্যাস:
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
- চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া, 
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প, 
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২১৯.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. মুরাদ
  2. রঞ্জু
  3. খোকা
  4. ইয়াসিন
ব্যাখ্যা
• জীবন আমার বোন:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। এটি লেখকের তৃতীয় উপন্যাস।
- ‘জীবন আমার বোন’ দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে মানবজাতির স্বাধীনতা ও জীবনদর্শনের এক গভীর আলেখ্য। এটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হলেও, এর দার্শনিক গভীরতা এটিকে একটি সর্বজনীন সাহিত্যকর্মে রূপান্তরিত করে।
- জাহেদুল কবির খোকা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। 

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো-
- রঞ্জু,
- মুরাদ,
- ইয়াসিন,
- রহমান,
- লুলু চৌধুরী। 

--------------
মাহমুদুল হকের রচিত উপন্যাস:
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- জীবন আমার বোন,
- কালো বরফ,
- খেলাঘর
- চিক্কোর কাবুক,
- মাঠির জাহাজ,
- অশরীরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২০.
'সাবিত্রী ও কিরণময়ী' শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শেষের পরিচয়
  2. চরিত্রহীন
  3. পণ্ডিতমশাই
  4. বড়দিদি
ব্যাখ্যা
'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে।
- প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত।
- উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।
- গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।
- তার মধ্যে দুটি প্রধান চরিত্র: সাবিত্রী ও কিরণময়ী।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) শরৎ রচনাবলী।
১,২২১.
'জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূন্য রোদন।' উক্তিটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সমাপ্তি
  2. হৈমন্তী
  3. দেনাপাওনা
  4. অপরিচিতা
ব্যাখ্যা
'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূন্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
- আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২২.
"সুরজিত নন্দী" - কোন সাহিত্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. নেমেসিস
  3. কুহেলিকা
  4. পুতুল নাচের ইতিকথা
ব্যাখ্যা

• 'নেমেসিস' নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯ - ৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী। 

অন্যদিকে,
• আবু ইসহাক রচিত 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসের চরিত্র: ফজল, এরফান মাতব্বর, আরশেদ মোল্লা, জরিবা, রূপজান ইত্যাদি।
• কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ‘কুহেলিকা’ (প্রকাশকাল: ১৯৩১ খ্রি.)-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো — জাহাঙ্গীর।
• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস: শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২২৩.
'নিমচাঁদ এবং কেনারাম' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. সধবার একাদশী
  3. নীলদর্পন
  4. নুরুলদীনের সারাজীবন
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২২৪.
গোঁজলা গুঁই ছিলেন -
  1. ক) কবিগানের আদিকবি
  2. খ) মধ্যযুগের শেষ কবি
  3. গ) মঙ্গল কাব্যের আদি কবি
  4. ঘ) টপ্পা গানের রচয়িতা
ব্যাখ্যা
গোঁজলা গুঁই কবিওয়ালাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন।
- তিনি কবিগানের আদিগুরু বলে পরিচিত।
- কবি ঈশ্বর গুপ্তের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৭০৪ থেকে ১৭১৪ সালের মধ্যে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর গান থেকেই ঈশ্বর গুপ্ত কবিগানের প্রথম সূচনা ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক
১,২২৫.
 'রাজলক্ষ্মী' কোন উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. চরিত্রহীন 
  2. দেনাপাওনা 
  3. শ্রীকান্ত 
  4. চোখের বালি 
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ

অন্যদিকে,
- চরিত্রহীন -- সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর, কিরণময়ী।
- পল্লীসমাজ -- রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।
- চোখের বালি - মহেন্দ্র, আশালতা, বিনোদিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
 
১,২২৬.
"বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না দূরেও ঠেলিয়া দেয়" উক্তিটি কোন বিখ্যাত উপন্যাসে উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. ক) দেবদাস
  2. খ) চরিত্রহীন
  3. গ) শ্রীকান্ত
  4. ঘ) বড়দিদি
ব্যাখ্যা
আলোচ্য উক্তিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসে উদ্ধৃত হয়েছে।  
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২৭.
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।' - উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ - সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ‘ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরােধী রচনা এখানে ছাপা হতাে।
- নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে।
- এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:

'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৬।
১,২২৮.
'আমি কোনো অভ্যাগত নই
খোদার কসম আমি ভিনদেশী পথিক নই
আমি কোনো আগন্তুক নই' কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. ক) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  2. খ) আমি কোন আগন্তুক নই
  3. গ) বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  4. ঘ) মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
ব্যাখ্যা
"আমি কোনো অভ্যাগত নই
খোদার কসম আমি ভিনদেশী পথিক নই
আমি কোনো আগন্তুক নই" কবি আহসান হাবীবের 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার অন্তর্গত। 

আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫) রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ - 
- রাত্রিশেষ (১৯৪৭)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬)
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর (১৯৮০)
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫)
- সারা দুপুর (১৯৬৪)
- ছায়া হরিণ (১৯৬২) ইত্যাদি। 

তাঁর উপন্যাস -
- অরণ্যে নীলিমা (১৯৬২)
- রানী খালের সাঁকো (১৯৬৫)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'কাবুলিওয়ালা' ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. মেহের আলি
  2. রহমত শেখ
  3. হবির খাঁ
  4. ইশা খাঁ
ব্যাখ্যা

• 'কাবুলিওয়ালা' ছোটগল্প: 
- কাবুলিওয়ালা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- গল্পটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গল্পের প্রধান চরিত্র- রহমত শেখ। 

কাবুলিওয়ালা গল্পের সংক্ষিপ্ত সারাংশ:
রহমত শেখ একজন আফগানের কাবুল থেকে বাংলায় আগত ফল বিক্রেতা। ফল বিক্রি করতে সে কলকাতায় আসে। লেখকের পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়ে মিনির সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। মিনির সঙ্গে কথা বলতে বলতে রহমতের মনে পড়ে তার কাবুলে থাকা নিজের ছোট মেয়ের কথা। মিনিকে সে নিজের মেয়ের মতোই স্নেহ করে, ফল-বাদাম দেয়, আর দুজনের মধ্যে মধুর সম্পর্ক তৈরি হয়।

কিন্তু একদিন ঝগড়ার জেরে রহমত একজনকে ছুরি মেরে ফেলে। আদালতে সে অপরাধ স্বীকার করে, ফলে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়।কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর রহমত মিনির বাড়িতে যায়। ততদিনে মিনি বড় হয়ে গেছে- চৌদ্দ বছরের যুবতী, তার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। মিনি তাকে আর চিনতে পারে না। রহমত বুঝতে পারে, তার নিজের মেয়েও নিশ্চয়ই তাকে ভুলে গেছে। শেষে মিনির বাবা (লেখক) রহমতকে তার দেশে ফেরার টাকা দেন এবং তার মেয়ের জন্য একটা উপহার (মিনির হাতের ছাপসহ) পাঠান।

অন্যদিকে, 
• 'মেহের আলি' হচ্ছে 'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র। 
• 'মুসলমানীর গল্প'র প্রধান চরিত্র হলো হবির খাঁ, যিনি একজন উদার, ধর্মপ্রাণ ও শ্রদ্ধেয় মুসলমান, যিনি জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে বিপন্ন হিন্দু কন্যা কমলা-কে রক্ষা করেন, যা তৎকালীন ধর্মীয় সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের একটি শক্তিশালী বার্তা ছিল।
• ইশা খাঁ 'মুকুট' ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত একটি চরিত্র। 

উৎস: 'কাবুলিওয়ালা' ছোটগল্প; বাংলাপিডিয়া এবং 'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্প। 

১,২৩০.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে।'- উক্তিটি কোন রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. বাঁধন হারা
  3. কুহেলিকা
  4. অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৩১.
'বাক্কা মিয়া' চরিত্রটি আবদুল্লাহ আল মামুন এর রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) শপথ
  2. খ) এখনো ক্রীতদাস
  3. গ) কোকিলারা
  4. ঘ) চারদিকে যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• এখনো ক্রীতদাস:
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এই নাটকে ঢাকা শহরে ‘গলাচিপা' বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবনযাপনের ইতিবৃত্ত।
- পুরুষতান্ত্রিক, পুঁজিতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তুলে ধরা হয়েছে।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৩২.
”বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।“ -পংক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা

পংক্তিদ্বয়ের রচয়িতা- কাজী নজরুল ইসলাম। 
-----------------------------------
নারী
    —কাজী নজরুল ইসলাম

"সাম্যের গান গাই -
আমার চক্ষে পুরুষ-রমনী কোনো ভেদাভেদ নাই।
বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা' করে নারী হেয়-জ্ঞান?
তারে বল, আদি-পাপ নারী নহে, সে যে নর-শয়তান।
অথবা পাপ যে - শয়তান যে নর নহে নারী নহে,
ক্লীব সে, তাই সে নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে।
এ-বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল,
নারী দিল তাহে রূপ-রস-মধু-গন্ধ সুনির্মল।
তাজমহলের পাথর দেখেছে, দেখিয়াছ তার প্রাণ?
অন্তরে তার মোমতাজ নারী, বাহিরেতে শা-জাহান।
---------------------------------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন।
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
--------------------------------------------- 
'নারী' কবিতা নিয়ে কিছু কথা: 

”বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। 
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি 
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।“ 

- কাজী নজরুল ইসলামের নারী কবিতা সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের অংশ।
- কবিতাটিতে মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে নারী ও পুরুষের সমান অবদানকে তুলে ধরা হয়েছে।
- কবি সমতার বাণী প্রচার করেছেন, দেখিয়েছেন যে মহান সৃষ্টি, কল্যাণ ও অগ্রগতির জন্য নারী-পুরুষ দু’পক্ষেরই সমঅংশী অবদান রয়েছে।
- একইভাবে, পৃথিবীর পাপ, বেদনা ও দুর্দশার দায়ভারও সমানভাবে তাদের ওপর বর্তায়।
- নজরুল নারীদের অবহেলা না করে তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
- সমগ্র কবিতাটি নারী-পুরুষ সমমর্যাদা এবং নারীর স্বাধীনতার শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

উৎস:
'নারী' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১,২৩৩.
"প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।" - উক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. মনসামঙ্গল কাব্য
  2. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  3. চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য
ব্যাখ্যা
প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।। - উক্তিটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের 'আমার সন্তান' কবিতার অন্তর্গত।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১,২৩৪.
'অতি বড় বৃদ্ধ পতি সিদ্ধিতে নিপুণ, কোন গুণ নাহি তার কপালে আগুন।' উক্তিটি কার?
  1. মুকুন্দরাম
  2. জ্ঞানদাস
  3. গোবিন্দদাস
  4. ভারতচন্দ্র
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের বিখ্যাত কয়েকটি উক্তিঃ
- অতি বড় বৃদ্ধ পতি সিদ্ধিতে নিপুণ, কোন গুণ নাই তার কপালে আগুন।
- না রবে প্রসাদগুণ না হবে রসাল। অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পতন।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,২৩৫.
'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'- উক্তিটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. হৈমন্তী 
  2. পোস্টমাস্টার 
  3. দেনাপাওনা
  4. সমাপ্তি
ব্যাখ্যা

• 'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'-উক্তিটি সমাপ্তি গল্পে 'মৃন্ময়ী' চরিত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে।

• 'সমাপ্তি' ছোটগল্প:
'সমাপ্তি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি ছোটগল্প।
তাঁর সৃষ্ট 'মৃন্ময়ী' এই ছোটগল্পের চরিত্র।
এই ছোটগল্পের বিখ্যাত উক্তি- 'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'

------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো:
- গল্পগুচ্ছ,
- লিপিকা,
- সে,
- তিন সঙ্গী,
- গল্পসল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং সমাপ্তি ছোটগল্প।

১,২৩৬.
’রূপ-নারানের কূলে জেগে উঠিলাম; জানিলাম এজগৎ স্বপ্ন নয়।’ চরণদ্বয়ের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মাইকেল মধূসুদন দত্ত
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

⇒ ’রূপ-নারানের কূলে জেগে উঠিলাম; জানিলাম এজগৎ স্বপ্ন নয়।’ চরণদ্বয়ের লেখক -  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- চরণদ্বয় ’শেষলেখা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
 শেষলেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৪১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- এটির নামকরণ রবীন্দ্রনাথ নিজে করে যেতে পারেন নি।
- অধিকাংশ রচনা তাঁর জীবনের শেষ কয়েকদিনে রচনা।
- কয়েকটি কবিতা মুখে মুখে রচিত। 

 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থে তিনি লিখেছেন-
"রূপ-নারানের কূলে,
জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ :
- মানসী
- সোনার তরী
- চিত্রা
- চৈতালী
- কল্পনা
- গীতাঞ্জলি
- বলাকা 
- শেখলেখা
- সেঁজুতি
- পত্রপুট
- ক্ষণিকা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৩৭.
রবীন্দ্রনাথ সৃষ্ট কোন চরিত্রটি বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে?
  1. রতন
  2. অমল
  3. সব্যসাচী
  4. রঞ্জন
ব্যাখ্যা
• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- প্রধান চরিত্র: নন্দিনী ও রঞ্জন।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। এবং ‘রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক গুলো:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- বৈকুণ্ঠের খাতা,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

অন্যদিকে,
• পোস্টমাস্টার:
- 'পোস্টমাস্টার' 'হিতবাদী' পত্রিকায় ১২৯৮ বঙ্গাব্দে প্রকাশ পায়।
- গল্পে চরিত্র তিনটি- পোস্টমাস্টার, রতন ও প্রকৃতি।
- গল্পটিতে প্রকৃতি কেবল স্থানিক ও ভৌগোলিক পরিচয় বহন করে নি, গল্পের প্রধান দুটি চরিত্রের আবেগকে নিয়ন্ত্রিত করেছে এবং গল্পের অগ্রগতি ও পরিণতিতে অমোঘ প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
- পোস্টমাস্টার আর রতন- এ দুটি চরিত্রের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার বিরাট ফারাক।
- আবার বয়সেও পোস্টমাস্টার ছিল পূর্ণ যুবক আর রতন নিতান্তই বালিকা। তবে, গল্পের মধ্যেই রতনের মনোগত পরিবর্তনটি হয় এবং সে বালিকার কোঠা অতিক্রম করে।
- নারীর ভালোবাসার যে ধীরে ধীরে অগ্নিশলাকার মতো প্রজ্বলিত হয়0

----------------------
• 'ডাকঘর' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- একটি শিশুকে কেন্দ্র করে এমন গীতময় নাটক রচনা সাহিত্যে বিরল।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এ গদ্য লিরিক।"
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অমল, সুধা, ঠাকুর্দা প্রমুখ।

--------------------------
• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- ‘পথের দাবী’ (১৯২৬) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।কাহিনির পটভূমি ব্রহ্মদেশ।
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে।
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৩৮.
"দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাত্র। যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায় ॥
 পিঁপিড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত। কোল দিআ বুক দিআ জগতে বিদিত।"- পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা? 
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. আলাওল 
  3. জ্ঞানদাস 
  4. বিদ্যাপতি 
ব্যাখ্যা
• "দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাত্র। যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায় ॥
 পিঁপিড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত। কোল দিআ বুক দিআ জগতে বিদিত।"- পঙ্‌ক্তিটি -শাহ মুহম্মদ সগীরের ইউসুফ জোলেখা কাব্যের 'বন্দনা' পর্ব থেকে গৃহীত।

• শাহ মুহম্মদ সগীরের ইউসুফ জোলেখা কাব্যের 'বন্দনা' পর্ব থেকে গৃহীত এই কবিতাংশ 'বন্দনা' নামে সংকলিত হয়েছে।

- 'বন্দনা' পর্ব যথেষ্ট বড়, এখানে শুধু গুরুজনদের প্রতি বন্দনার অংশটুকু স্থান পেয়েছে।
- কবি তাঁর মূল কাব্যের প্রারম্ভে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রশংসা করেছেন। সংকলিত এই কবিতাংশে জন্মদাতা পিতামাতার ও জ্ঞানদাতা শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
- পিতামাতা অশেষ দুঃখকষ্ট স্বীকার করে পরম যত্নে সন্তানকে বড় করে তোলেন।
- শিক্ষক জ্ঞানদান করে তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। তাই তাঁদের প্রতি অফুরন্ত শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। 
- কবি তাঁর কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। 
- শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা মনুষ্যত্বের প্রধান ধর্ম।
- কবিতাংশে তা-ই প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংকলন)।
১,২৩৯.
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) চন্দ্রাবতী
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) লাইলি মজনু
  4. ঘ) ইউসুফ জুলেখা
ব্যাখ্যা
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খন্ডে লেখা আছে। 
- পদ্মাবতী - মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যে
- পদ্মাবতী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি  আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দিপদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন।
- এর মূল রচয়িতা ছিলেন মালিক মোহাম্মদ জায়সী।

"সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর।
লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।
মাণিক্য প্রবাল অতি নীরস কর্কশ।
অধরের অমিয় স্রবে এই মহারস।।
রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসে।
তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।।"
(পদ্মাবতীর রুপবর্ণনা অংশ থেকে)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪০.
‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. কাপালিক
  2. নবকুমার
  3. কুমুদিনী
  4. কুপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের চরিত্র নয় 'কুমুদিনী'। 'কুমুদিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র।

‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪১.
“মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।” - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. আহমদ ছফা
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪২.
'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ'- উক্তিটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্গত?
  1. কালান্তর 
  2. সভ্যতার সংকট
  3. মানুষের ধর্ম
  4. পঞ্চভূত
ব্যাখ্যা

• 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ উক্তিটি 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে বলেছেন।

• 'সভ্যতার' সংকট:
- সভ্যতার সংকট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ রচনা।
- এই প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত হয়েছে।
- 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।
- 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ'।

উল্লেখ্য,
• 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধ গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কালান্তর' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৪৩.
'ভিখু ও পাঁচী' চরিত্র দুটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. সরীসৃপ
  2. সমুদ্রের স্বাদ
  3. প্রাগৈতিহাসিক
  4. অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প
ব্যাখ্যা
• প্রাগৈতিহাসিক:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থের নাম 'প্রাগৈতিহাসিক'।
- গল্পগ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- ভিখু ও পাঁচী এই গল্পের চরিত্র।
---------------------------------

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
-  ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- মিহি ও মোটা কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৪.
'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥'- পঙ্‌ক্তিদ্বয় সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. হরতাল
  2. ঘুম নেই
  3. পূর্বাভাস
  4. ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা

'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়: 
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥'- পঙ্‌ক্তিদ্বয় সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন'কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

----------------------
• 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ:

- 'ছাড়পত্র' সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত বাংলা কাব্যগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের কবিতাগুলো রচিত হয় ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে। মাত্র একুশ বছর বয়সে সুকান্ত মারা যাবার কিছুদিন পূর্বে এই কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

"ছাড়পত্র" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- ছাড়পত্র,
- আগামী, 
- চারাগাছ, 
- খবর, 
- আঠারাে বছর বয়স, 
- হে মহাজীবন, 
- দেশলাই কাঠি, 
- কৃষকের গান, 
- মধ্যবিত্ত। 

-----------------------
হে মহাজীবন

ছাড়পত্র (সুকান্ত ভট্টাচার্য)

হে-মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥

--------------------

• কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

• 'হরতাল' কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি গদ্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ।

১,২৪৫.
"যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
"যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।


'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত-'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা। 

• 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্য:
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম  কবিতায় আছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কবিতা।  

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা,
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।
আমি উচ্চারিত সত্যের মতো
স্বপ্নের কথা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৬.
''আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।'' - কে বলেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ''আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।'' - উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ''আমার পথ" প্রবন্ধ থেকে নেয়া।
 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
 
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।
-----------
'আমার পথ' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।
 
‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।
১,২৪৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. ক) নরেন
  2. খ) সতীশ
  3. গ) সুরেশ
  4. ঘ) রমেশ
ব্যাখ্যা
• পল্লীসমাজ (১৯১৬)
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
- বাঙলার পল্লীসমাজের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় এক আদর্শবাদী যুবক - যুবতীর সম্পর্ক ও বিশেষ করে তাদের অভিশপ্ত প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

• শরৎচন্দ্রের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস ও তার চরিত্র:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চরিত্রহীন উপন্যাসের চরিত্র - সতীশ ও কিরণময়ী। 
-  চট্টোপাধ্যায় রচিত গৃহদাহ উপন্যাসের চরিত্র অচলা, সুরেশ ও মহিম শরৎচন্দ্র।
- নরেন ও রমা - দত্তা উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪৮.
'আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।' - কবিতাংশের কবি কে?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. হরিশচন্দ্র মিত্র
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

'আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।' - কবিতাংশ হরিশচন্দ্র মিত্র রচিত ‘বড় কে’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
 
হরিশচন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো: 
- হাস্যরসতরঙ্গিণী,
- বিধবা বঙ্গললনা,
- বীর বাক্যাবলী,
- কীচকবধ কাব্য,
- বঙ্গবালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া; ‘বড় কে’ কবিতা।

১,২৪৯.
'শেষের কবিতা' উপন্যাসের নায়কের নাম কী?
  1. নবকুমার
  2. অমিত
  3. অপু
  4. গোবিন্দলাল
ব্যাখ্যা
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক- মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- অমিত রায় 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের নায়ক। 

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে: 
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল। 

অন্যদিকে,
• বঙ্কিমচন্দ্রের 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসের নায়ক - নবকুমার।
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক - অপু।
• ''কৃষ্ণকান্তের উইল'' উপন্যাসের চরিত্র - গোবিন্দলাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও শেষের কবিতা।
১,২৫০.
'মধুসূদন' ও 'কুমোদিনী' কোন উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. যোগাযোগ
  2. ঘরে বাইরে
  3. বিষবৃক্ষ
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা
• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে 'তিন পুরুষ' নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় 'যোগাযোগ'।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

অন্যদিকে,
- ঘরে বাইরে - নিখিলেশ, বিমলা।
- বিষবৃক্ষ: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী।
- কৃষ্ণকান্তের উইল: রোহিনী, গোবিন্দলাল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৫১.
'পারু ও চন্দ্রমুখী' চরিত্রদ্বয় কার সৃষ্টি?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'দেবদাস' উপন্যাস:
- 'দেবদাস' (১৯১৭) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।

- সামাজিক প্রতিবন্ধকতায় দেবদাস তার বাল্যপ্রণয়ী পার্বতীকে বিয়ে করতে ব্যর্থ হয়। সেই ব্যর্থতায় নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় করার বেদনাময় কাহিনি।

- এই উপন্যাস সমস্ত ভারতবর্ষে জনপ্রিয় হয়। দেবদাস ও পার্বতী আধুনিক ভারতীয় জীবনে ব্যর্থ প্রেমিক-প্রেমিকার রূপকে পরিণত করেছে।

- বাংলায় বহুবার এর চলচ্চিত্রায়ন হয়েছে। ২০০৪ সালে হিন্দি ভাষায় চলচ্চিত্রায়িত হয়ে বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগায়। এর পরিচালক ছিলেন সঞ্জয় লীলা বংশালী। চলচ্চিত্রে পার্বতী চরিত্রে ঐশ্বর্য রাই, চন্দ্রমুখী চরিত্রে মাধুরী দীক্ষিত, দেবদাস চরিত্রে শারুখ খান অভিনয় করেন।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- দেবদাস,
- পার্বতী (পারু),
- চন্দ্রমুখী,
- চুনিলাল,
- ধর্মদাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫২.
'কপিলা' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. লালসালু
  2. তিতাস একটি নদীর নাম
  3. পুতুল নাচের ইতিকথা
  4. পদ্মা নদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসের চরিত্র - কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী
- লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র : মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
- পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাসের চরিত্র - শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫৩.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. জমিলা
  2. জয়গুন
  3. আমেনা
  4. রহিমা
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
'লালসালু' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: 
মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৫৪.
'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব' - উক্তিটি কোন পত্রিকার সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) শিখা
  2. খ) সওগাত
  3. গ) পূর্বাশা
  4. ঘ) ক্রান্তি
ব্যাখ্যা
শিখা পত্রিকাটি ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত। 
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত। শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের। তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা। 
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৫.
"মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে আমার এই দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধুলা খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি।"-কোন কবিতার অংশ?
  1. ফুলের ফসল
  2. আমার দেশ
  3. খাঁটি সোনা
  4. কোন দেশে
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

"মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে আমার এই দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধুলা খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি।"- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের 'খাঁটি সোনা' কবিতার অংশ।

উল্লেখ্য,
• জোটে যদি মোটে একটি পয়সা, খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি' দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী। (ফুলের ফসল)
• জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে, সে জাতির নাম মানুষ জাতি
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল ভিতরে সবারই সমান রাঙা। (মানুষ জাতি)।
• কোন দেশেতে তরুলতা সকল দেশের চাইতে শ্যামল? (কোন দেশে)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৫৬.
‘স্বদেশে পূজ্যতে রাজা বিদ্বান সর্বত্র পূজ্যতে' এ শ্লোকের রচয়িতা কে?
  1. ক) ভতৃহরি
  2. খ) স্বামী সদানন্দ
  3. গ) চাণক্য
  4. ঘ) স্বামী দয়ানন্দ
ব্যাখ্যা
‘স্বদেশে পূজ্যতে রাজা বিদ্বান সর্বত্র পূজ্যতে' এ শ্লোকের রচয়িতা হলেন - চাণক্য

 স্বদেশে পূজ্যতে রাজা বিদ্বান সর্বত্র পূজ্যতে।
---বিদ্বান এবং রাজা কখনােই সমান নয়, কারণ রাজা শুধুমাত্র তার দেশেই পূজ্য কিন্তু বিদ্বান সর্বত্র পূজ্য।বিদ্বানের সহিত রাজার কখনাে তুলনা চলে না।বিদ্বান শ্রেয় এবং শ্রেষ্ঠ।

উৎস: বৈদিক সনাতন হিন্দুত্ববাদ
১,২৫৭.
'জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী?'- বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্প:
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প 'পোস্টমাস্টার'।
- এই ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র রতন ও পোস্টমাস্টার।
- এই ছোটগল্পের একটি বিখ্যাত উক্তি- 'জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী? পৃথিবীতে কে কাহার।'

---------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পগুলো হলো:
- ভিখারিণী,
- দেনা পাওনা,
- মনিহারা
- পোস্টমাস্টার,
- এক রাত্রি,
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নষ্টনীড়,
- কাবুলিওয়ালা,
- হৈমন্তী
- মুসলমানীর গল্প।

উৎস: 'পোস্টমাস্টার' গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫৮.
তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। - এই পঙ্‌ক্তি গুলো কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মানসী
  2. চিত্রা
  3. গীতাঞ্জলি
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। - এই পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'। পঙ্‌ক্তিগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের 'অনন্ত প্রেম' কবিতার অন্তর্গত।

অনন্ত প্রেম
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার,
কত রূপ ধরে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।

উৎস: 'অনন্ত প্রেম' কবিতা।

১,২৫৯.
'গৃহদাহ' উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্রের নাম কী?
  1. সুরেশ ও মহিম
  2. মধুসূদন ও কুমুদিনী
  3. মহেন্দ্র, বিনোদিনী
  4. গােবিন্দলাল, রােহিনী
ব্যাখ্যা
• 'সুরেশ, মহিম, অচলা' - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্র। 
 
• 'গৃহদাহ' উপন্যাস:
- 'মহিম ও সুরেশ' শরৎচন্দ্রের গৃহদাহ উপন্যাসের দুইটি প্রধান চরিত্র।
- ১৯২০ সালে রচিত এই উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এটি মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।
- বিবাহ - বহির্ভূত কথিত অসামাজিক প্রেমের কাহিনিটি নিপুণ ঘটনা সংস্থানে ও বর্ণনার মনস্তাত্ত্বিক সুক্ষ্মতার দ্বারা সমস্যায়িত হয়ে উঠেছে। 
- এই উপন্যাসে শরৎচন্দ্র হিন্দু বিধবা মৃণালকে আদর্শ হিসেবে রূপায়িত করেছেন।
------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি উপন্যাসের চরিত্র: 
গৃহদাহ উপন্যাসের চরিত্র - সুরেশ, মহিম, অচলা।
বিষবৃক্ষ উপন্যাসের চরিত্র - নগেন্দ্রনাথ ও কুন্দনন্দিনী।
কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র - গােবিন্দলাল, রােহিনী, ভ্রমর।
চরিত্রহীন উপন্যাসের চরিত্র - সতীশ ও কিরণময়ী। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু উপন্যাসের চরিত্র: 
- 'শেষের কবিতা' উপন্যাসটির অন্যতম প্রধান চরিত্র - অমিত ও লাবণ্য।
- ‘চোখের বালি’ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র - মহেন্দ্র, বিনোদিনী।
- ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র - নিখিলেস ও বিমলা।
- 'দুই বোন' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - শর্মিলা ও ঊর্মিমালা। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য সাহিত্য ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬০.
প্রেমেন্দ্র মিত্রের "ঘনাদা" চরিত্রটি সৃষ্টি হয় প্রথম কোন গল্পের মাধ্যমে?
  1. পাঁক
  2. মশা
  3. প্রতিশোধ
  4. মৃত্তিকা
ব্যাখ্যা
‘ঘনাদা’ চরিত্র:
- বাংলা শিশুসাহিত্যে প্রেমেন্দ্র মিত্রের অতুলনীয় সৃষ্টি ‘ঘনাদা’।
- শিশুর মনোরাজ্যের রোমাঞ্চকর অনুভূতিগুলি তিনি ঘনাদা চরিত্রের মাধ্যমে অভিব্যক্ত করেন।
- ঘনাদা পড়ে প্রতিটি শিশু-কিশোর ঘনাদার ভিতর দিয়ে নিজেদের দেখতে উন্মুখ হয়ে ওঠে।
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের এ ঘনাদা সৃষ্টি হয় প্রথম ‘মশা’ (১৯৩৭) গল্পের মাধ্যমে।
- কিশোর মনোরাজ্য অধিকারের জন্য ডিটেকটিভ ও রোমাঞ্চকর কাহিনি সৃজনে তিনি অসাধারণ শক্তির পরিচয় দেন।
- অপরদিকে তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক কিশোর উপন্যাস কুহকের দেশে লিখে বাংলা ভাষায় এ ধারার সার্থকতা প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পাঁক,
- কুয়াশা,
- মিছিল,
- উপনয়ন,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬১.
''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।'' - উক্তিটি কার?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৬২.
'এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।' - এই উক্তিটি কার?
  1. রঙ্গলাল বন্দোপ্যাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি:

- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"।
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬৩.
'তাহমিনা' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. কুহেলিকা
  3. বাঁধন-হারা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,২৬৪.
"জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে, মরি যেন ______।"
  1. এই মাটিতে
  2. এই দেশে
  3. তোমার পাশে
  4. এই বাতাসে
ব্যাখ্যা
• "জন্মেছি এই দেশে"- কবিতার রচয়িতা- সুফিয়া কামাল।
--------------------------
জন্মেছি এই দেশে- কবিতা, 
- সুফিয়া কামাল---সংকলিত (সুফিয়া কামাল)

অনেক কথার গুঞ্জন শুনি
অনেক গানের সুর
সবচেয়ে ভাল লাগে যে আমার
‘মাগো’ ডাক সুমধুর।
আমার দেশের মাঠের মাটিতে
কৃষাণ দুপুরবেলা
ক্লান্তি নাশিতে কন্ঠে যে তার
সুর লয়ে করে খেলা।

মুক্ত আকাশে মুক্ত মনের
সেই গান চলে ভেসে
জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে
মরি যেন এই দেশে।
----------------------
• সুফিয়া কামাল: 
- জননী সাহসিকা হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, জন্মেছি এই দেশে- কবিতা।
১,২৬৫.
‘ইব্রাহিম কার্দি’ মুনীর চৌধুরী রচিত কোন নাটকের চরিত্র?
  1. ক) কবর
  2. খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. গ) চিঠি
  4. ঘ) দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা
- মুনীর চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক।
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর— নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬৬.
‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র নয় কোনটি?
  1. শীতলবাবু
  2. ধনঞ্জয়
  3. মোকাজান মিঞা
  4. কুবের
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র নয়- মোকাজান মিঞা।
- ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।

-------------------------
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

-----------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬৭.
'হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?' - পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. মানুষ
  2. দারিদ্র্য
  3. জীবন-বন্দনা
  4. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
ব্যাখ্যা
• 'হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?' - পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!' কবিতার অংশবিশেষ।
- কবিতাটি তাঁর রচিত 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
--- কাজী নজরুল ইসলাম

দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার 
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার! 

দুলিতেছে তরি, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ, 
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ? 
কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ। 
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার। 

তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান! 
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান। 
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান, 
ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার। 

অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরন 
কাণ্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন। 
হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন? 
কাণ্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার। 

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; সর্বহারা, কাজী নজরুল ইসলাম।
১,২৬৮.
"জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই?" অবিস্মরণীয় আহবানটি কোন লেখকের রচনা?
  1. হুমায়ূন আহমেদ 
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শওকত ওসমান 
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• "জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই?"- বিখ্যাত সংলাপটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'নুরুলদীনের সারাজীবন' নাটকে উধৃত হয়েছে।

• 'নুরুলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য:
- "নুরুলদীনের সারাজীবন" (১৯৮২) ১৪টি দৃশ্যে সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য। 'নূরলদীনের সারাজীবন' তাঁর মঞ্চসফল অপর একটি নাটক।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে নাটকটি রচিত।
- এই নাটকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- 'জাগো বাহে, কোন্‌ঠে সবাই'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৬৯.
"অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?" পঙক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 

  1. ক) নৌফেল ও হাতেম
  2. খ) সিরাজাম মুনীরা
  3. গ) মুহূর্তের কবিতা
  4. ঘ) সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি ফররুখ আহমদ রচিত ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের 'পাঞ্জেরি' কবিতার অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরনের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? (সংক্ষিপ্ত)

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৭০.
‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।’ — বিখ্যাত উক্তিটি ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকের কোন চরিত্রের?
  1. জোহরা
  2. হিরণবালা
  3. ইব্রাহিম কার্দি
  4. নবাব সুজাউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা

‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৭১.
‘ঘনাদা’ চরিত্রটি কার সৃষ্টি?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. চন্দ্রকুমার দে
  3. কাঙাল হরিনাথ
  4. গোবিন্দ চন্দ্র
ব্যাখ্যা
‘মশা’ গল্প ও ‘ঘনাদা’ চরিত্র:
- বাংলা শিশুসাহিত্যে প্রেমেন্দ্র মিত্রের অতুলনীয় সৃষ্টি ‘ঘনাদা’ চরিত্রটি।
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের এ ঘনাদা চরিত্রে সৃষ্টি হয় তাঁর রচিত ‘মশা’ (১৯৩৭) গল্পের মাধ্যমে।
- শিশুর মনোরাজ্যের রোমাঞ্চকর অনুভূতিগুলি তিনি ঘনাদা চরিত্রের মাধ্যমে অভিব্যক্ত করেন।
- ঘনাদা পড়ে প্রতিটি শিশু-কিশোর ঘনাদার ভিতর দিয়ে নিজেদের দেখতে উন্মুখ হয়ে ওঠে।
- কিশোর মনোরাজ্য অধিকারের জন্য ডিটেকটিভ ও রোমাঞ্চকর কাহিনি সৃজনে তিনি অসাধারণ শক্তির পরিচয় দেন।
- অপরদিকে তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক কিশোর উপন্যাস কুহকের দেশে লিখে বাংলা ভাষায় এ ধারার সার্থকতা প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- অফুরন্ত,
- ধূলিধূসর,
- জলপায়রা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর; ‘মশা’ গল্প।
১,২৭২.
'দেনাপাওনা' গল্পের নায়িকা কে?
  1. সুরবালা
  2. চন্দরা
  3. নিরূপমা
  4. মৃন্ময়ী
ব্যাখ্যা
•''দেনাপাওনা' ছোটগল্প:
- ''দেনাপাওনা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি ছোটগল্প।
- 'নিরূপমা' এই ছোটগল্পের চরিত্র।
-----------------------------------------
অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- সমাপ্তি ছোটগল্পের চরিত্র- 'মৃন্ময়ী'।
- 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,২৭৩.
"আমার দেশের পথের ধূলা,
খাটি সোনার চাইতে খাঁটি।" - কবিতাংশটুকু রচনা করেন কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. কামিনী রায়
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা

আমার দেশের পথের ধূলা,
খাটি সোনার চাইতে খাঁটি। - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা রচয়িতা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের 'খাঁটি সোনা কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া ও 'খাঁটি সোনা কবিতা।

১,২৭৪.
'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটি এর কোন নাটকে পাওয়া যায়?
  1. ক) সাজাহান
  2. খ) প্রতাপসিংহ
  3. গ) দেবী চৌধুরানী
  4. ঘ) চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 
- গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল। 
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটির ১৯০৯ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম প্রথম নাটক রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৭৫.
‘‘মহাজ্ঞানী মহাজন,
যে পথে করে গমন হয়েছেন
প্রাতঃস্মরনীয়।” - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রজনীকান্ত সেন
ব্যাখ্যা
‘‘মহাজ্ঞানী মহাজন,
যে পথে ক’রে গমন হয়েছেন
প্রাতঃস্মরনীয়।” - পঙক্তিটি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'জীবন সঙ্গীত' কবিতার অংশ।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তাঁকে বলা হয় মহাকাব্যের কবি। 'বাংলার মিল্টন' তাঁর উপাধি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বীরবাহু, 
- আশাকানন, 
- ছায়াময়ী, 
- দশমহাবিদ্যা, 
- চিত্তবিকাশ, 
- চিন্তাতরঙ্গিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৭৬.
'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।' - উক্তিটির কোন লেখকের উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. আবু ইসহাক
  3. আনিসুজ্জামান
  4. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা

"তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাস:
- 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- ৪ খণ্ডে বিন্যাস্ত এই উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন। 

উপন্যাসটির কিছু উক্তি:
'মনের মত মানুস পাইলাম না।' উক্তিটি জনৈক মালো যুবক।
'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- করমালীর উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৭৭.
'প্রদীপ নিবিয়া গেল।'- উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. গোরা
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল 
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. চোখের বালি 
ব্যাখ্যা

• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের বাংলায় দ্বিতীয় উপন্যাস। এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।

- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।

- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তিগুলো হলো:
- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে বলে।
- 'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?'
- 'প্রদীপ নিবিয়া গেল।'

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। 
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস।

১,২৭৮.
‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি’ — উক্তিটি কোথা থেকে নেওয়া?
  1. কবিতার ভাবনা
  2. বনলতা সেন
  3. রূপসী বাংলা
  4. কবিতার কথা
ব্যাখ্যা
• কবি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘কবিতার কথা’। এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি হলো, ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫), বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৯.
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন''
- কোন কবি রচিত কবিতার অংশ?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বাংলা কাব্যের 'ভোরের পাখি' বিহারীলাল চক্রবর্তী। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে গীতিকবিতা রচনা শিখিয়েছিলেন।
তার রচিত কিছু বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ -
- প্রেম বাহিনী
- সঙ্গীত শতক
- বঙ্গসুন্দরী
- নিসর্গ সন্দর্শন
- সারদামঙ্গল (শ্রেষ্ঠ কাব্য)

বিহারীলালের কবিতার কয়েকটি চরণ -
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
১,২৮০.
'শর্মিলা ও শশাঙ্ক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দুইবোন
  2. চার অধ্যায়
  3. রাজর্ষি
  4. ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা
'দুইবোন' উপন্যাস:
- ‘দুইবোন’ (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোট উপন্যাস।
- ১৯৩২-১৯৩৩ সালে ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় বের হয়।
- শর্মিলার স্বামী শশাঙ্কের সঙ্গে ঊর্মিলার ঘনিষ্ঠতা তাদের সকলের জীবনে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তারই নাটকীয়তাময় রূপায়ণ এই উপন্যাসে।
- উপন্যাসটিতে পুরুষের পক্ষে দুই নারীকে দুইভাবে ভালোবাসার ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয় আর নারীর পক্ষে সেই জটিলতার সমাধান দেখানো হয়েছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- শর্মিলা,
- ঊর্মিলা,
- শশাঙ্ক

----------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৮১.
"নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?" - চরণটির রচয়িতা কে?
  1. জ্ঞানদাস 
  2. চণ্ডীদাস
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. খনা
ব্যাখ্যা

• "নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?" পঙ্‌ক্তিটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের অন্তর্গত।

• ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর:
- অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে সুপরিচিত ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি। তিনি এই কাব্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর অপর গ্রন্থ ‘সত্যপীরের পাঁচালী’।
- ভারতচন্দ্র সভাকবি ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
- তাকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।
- “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?” - লাইনটির রচয়িতা তিনি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।'
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৮২.
‘লালসালু’ উপন্যাসে অশীতিপর বৃদ্ধ কে?
  1. আক্কাসের বাপ
  2. সলেমনের বাপ
  3. তাহের-কাদেরের বাপ
  4. পির সাহেব 
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: সলেমনের বাপ।

• 'লালসালু' উপন্যাসের অংশবিশেষ:

শীর্ণ লোকটি চীৎকার করে গালাগাল করে লোকদের। খালেক ব্যাপারী ও মাতব্বর রেহান আলী ছিল। জোয়ান মদ্দ কালু মতি, তারাও ছিল। কিন্তু লজ্জায় তাদের মাথা হেঁট। নবাগত লোকটির কোটরাগত চোখে আগুন। 
–আপনারা জাহেল, বেএলেম, আনপাড়হ। মোদচ্ছের পীরের মাজারকে আপনারা এমন করি ফেলি রাখছেন?

গ্ৰাম থেকে একটু বাইরে একটা বৃহৎ বাঁশঝাড়। মোটাসোটা হলদে তার গুঁড়ি। সেই বাঁশঝাড়ের ক-গজ ওধারে একটা পরিত্যক্ত পুকুরের পাশে ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে আছে গাছপালা। যেন একদিন কার বাগান ছিল সেখানে। তারই একাধারে টালখাওয়া ভাঙা এক প্ৰাচীন কবর। ছোট ছোট ইটগুলো বিবৰ্ণ শ্যাওলায় সবুজ, যুগযুগের হাওয়ায় কালচে। ভেতরে সুড়ঙ্গের মতো। শেয়ালের বাসা হয়তো। ওরা কী করে জানবে যে, ওটা মোদাচ্ছের পীরের মাজার?

সভায় অশীতিপর বৃদ্ধ — সলেমনের বাপও ছিল। হাঁপানির রোগী। সে দম খিঁচে লজ্জায় নত করে রাখে চোখ।
----------------

 "লালসালু" উপন্যাস:
• 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন। সাধারণ মানুষের সরলতাকে কিভাবে ধর্ম ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহার করা হয় তা লালসালু উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়। 

• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে। ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  "লালসালু" উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৮৩.
'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন' উক্তিটি কার রচনা?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মহাকবি আলাওল
  3. ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য। এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'সিন্ধুতরঙ্গ' কবিতা কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চিত্রা
  2. মানসী
  3. গীতাঞ্জলি
  4. সোনার তরী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'সিন্ধুতরঙ্গ' কবিতাটি 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। পুরীতীর্থযাত্রী তরণীর নিমজ্জন উপলক্ষ্যে লিখেছেন 'সিন্ধুতরঙ্গ' কবিতা।

কবিতাংশ,

দোলে রে প্রলয় দোলে অকূল সমুদ্র-কোলে,
উৎসব ভীষণ।
শত পক্ষ ঝাপটিয়া বেড়াইছে
দাপটিয়া
দুর্দম পবন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮৫.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি? 
  1. রূপাই 
  2. রতন 
  3. নিতাই
  4. অমল 
ব্যাখ্যা

• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।'

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসসূমুহ হলো:
- আরোগ্য নিকেতন,
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৮৬.
'সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আহসান হাবীব
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• 'সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- জীবনানন্দ দাশ।
- পঙ্‌ক্তিটির 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
===========
• জীবনানন্দ দাশ: 
- ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”। 
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”। 
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
---------------
এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- কবিতা,
এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সবচেয়ে সুন্দর করুণ :
সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;
সেখানে গাছের নামঃ কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল;
-----------
--------------
সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে;
সেখানে হলুদ শাড়ি লেগে থাকে রূপসীর শরীরের ’পর—
শঙ্খমালা নাম তারঃ এ-বিশাল পৃথিবীর কোনো নদী ঘাসে
তারে আর খুঁজে তুমি পাবে নাকো—বিশালাক্ষী দিয়েছিলো বর
তাই সে জন্মিছে নীল বাংলার ঘাস আর ধানের ভিতর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- কবিতা।
১,২৮৭.
''তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?''— উক্তিটি কোন উপন্যাস থেকে নেয়া?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. যোগাযোগ
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. পালামৌ
ব্যাখ্যা

• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তিগুলো হলো:
- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ’ কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে বলে।
- 'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?'
- 'প্রদীপ নিবিয়া গেল।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস।

১,২৮৮.
'কোথায় এমন হরিৎক্ষেত্র আকাশতলে মেশে'। কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এই উক্তিটির মাধ্যমে কী বুঝিয়েছেন?
  1. বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
  2. বাংলার সামাজিক জীবন
  3. বাংলার সবুজ মাঠ
  4. বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
• "এত স্নিগ্ধ নদী কাহার, কোথায় এমন ধুম্র পাহাড়
কোথায় এমন হরিৎ ক্ষেত্র আকাশ তলে মেশে
এমন ধানের উপর ঢেউ খেলে যায় বাতাস কাহার দেশে।" - কবিতাংশটুকু কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ধন ধান্য পুষ্প ভরা কবিতার অংশবিশেষ। 

• কবিতাংশটুকুর অর্থ : 
- ‘হরিৎ’ অর্থ সবুজ বর্ণ।
- ‘ক্ষেত্র’ অর্থ চাষের জমি, খেত। 
- কবি এখানে হরিৎ ক্ষেত্র বলতে সবুজ মাঠকে বুঝিয়েছেন।
---------------------------- 
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্যপুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ-সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৮৯.
"এই খেদ আমার মনে-
ভালোবেসে মিটল না এ সাধ, কুলাল না এ জীবনে!
হায়- জীবন এত ছোট কেনে?
এ ভুবনে।"
কোন উপন্যাস থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে?
  1. শ্রীকান্ত
  2. পুতুল নাচের ইতিকথা
  3. অপরাজিত
  4. কবি
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ - 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট কেন? এই ভুবনে। '

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- চৈতালী ঘূর্ণি
- ধাত্রীদেবতা
- কালিন্দী
- গণদেবতা
- পঞ্চগ্রাম
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা

উৎস : বাংলাপিডিয়া ও কবি উপন্যাস।

১,২৯০.
'বিজয়া ও নরেন' চরিত্র দুটি শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. ক) দত্তা
  2. খ) বড়দিদি
  3. গ) গৃহদাহ
  4. ঘ) চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকা’য় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• ‘দত্তা’ উপন্যাস:
- ‘দত্তা’(১৯১৮) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সুখপাঠ্য প্রেমের উপন্যাস।
- ১৩২৪-২৫ বঙ্গাব্দে ‘ভারতবর্ষে’ প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসটি ‘বিজয়া’ (১৯৪৩) নামে নাট্যায়িত হয়। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: বিজয়া, নরেন, রাসবিহারী, বনমালী।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৯১.
‘হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে?’ উক্তিটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কালিন্দী
  2. আরোগ্য নিকেতন
  3. কবি
  4. গনদেবতা
ব্যাখ্যা
• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
-  উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে। '

------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'কবি' উপন্যাস।
১,২৯২.
‘রূপাই’ কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  2. নক্সী কাঁথার মাঠ
  3. রাখালী
  4. ধানক্ষেত
ব্যাখ্যা

• ‘রূপাই’ চরিত্রের স্রষ্টা জসীমউদ্‌দীন। ‘রূপাই’ জসীমউদ্‌দীন রচিত 'নক্সীকাঁথার মাঠ' কাহিনি কাব্যের অন্তর্ভুক্ত একটি চরিত্র।

----------------------
• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' (১৯২৯) জসীমউদ্‌দীন রচিত কাহিনি কাব্য বা গাথা কাব্য।
- এই গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।

-----------------
• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানক্ষেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,২৯৩.
‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. নগেন্দ্রনাথ
  2. বিমলা
  3. প্রফুল্ল
  4. জেবউন্নিসা
ব্যাখ্যা
• ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাস:
- ‘দেবী চৌধুরাণী’ হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস।
- এটি ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সুবোধ চন্দ্র মিত্র এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ‘প্রফুল্ল’ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ভিতর থেকে শক্তির সাথে লড়াই করে। এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র এক নারীকে নেতৃত্ব দিয়ে সংগ্রাম করার কাহিনি উপস্থাপন করেছেন।
- এটি বাংলা ও ভারতীয় সাহিত্যের ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। যেহেতু এটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ভারতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামকে উস্কে দিয়েছিল তাই উপন্যাসটি ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল।
- স্বাধীনতার পর ভারত সরকার পরবর্তীতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। 

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- প্রফুল্ল, 
- জমিদার হরবল্লভ রায়,
- ব্রজেসর,
- সাগর,
- নয়ন
- ডাকাত সর্দার ভবানি পাঠক প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

-------------------
• ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনির সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ।
- লেখকও মনে করেছেন, কুন্দনন্দিনীর কাহিনি পাঠ করার ফলে ঘরে ঘরে অমৃত ফলবে অর্থাৎ এ ধরনের প্রণয়াকাঙ্ক্ষা রহিত হবে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী চেয়েছেন সেটি মুখ্য নয়। 'বিষবৃক্ষে' তিনি সমস্যার যে যথার্থ রূপায়ণ করতে পেরেছেন এটাই আসল।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

--------------------
‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
• ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
• বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
• ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।
• 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।
• উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী।

উৎস: ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৯৪.
'জাহেদুল করিম' চরিত্রটি মাহমুদুল হকের কোন উপন্যাসে রয়েছে?
  1. নিরাপদ তন্দ্রা
  2. জীবন আমার বোন
  3. মাটির জাহাজ
  4. অনুর পাঠশালা
ব্যাখ্যা
'জীবন আমার বোন' পত্রিকা:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- বরাবরই মধ্যবিত্তের জীবনসংগ্রাম, তাদের দ্বিধাগ্রস্ততা, অপূর্ণতা আর সুবিধাবাদী চরিত্র অসাধারণভাবে এঁকেছেন এই শিল্পী তাঁর প্রতিটি উপন্যাসে।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল করিমের মধ্যবিত্তীয় সুবিধাবাদী মানসিকতার পাশাপাশি যুদ্ধের নানা বাস্তবতায় নিজের বোঝাপড়াও লেখক তুলে ধরেন পাঠকের সামনে।
- লেখকের অসামান্য উপস্থাপনা, ভাষার কাব্যিক ব্যঞ্জনায় ছোট্ট, হৃদয়গ্রাহী উপন্যাসটি যতই পড়া যায় ততই বিষমবেদনায় ভারাক্রান্ত করে।

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কালো বরফ,
- জীবন আমার বোন,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- চিক্কোর কাবুল,
- খেলাঘর,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৭।
১,২৯৫.
'হাভাতে যদ্যপি যায় সাগর শুকায়ে যায়' - সুপ্রচলিত প্রবচনটি কোন কবির?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. খ) আবদুল হাকিম
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
এটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত - অন্নদামঙ্গল কাব্যে ব্যবহৃত একটি প্রবচন।

এই কাব্যের আরো কয়েকটি প্রবচন হল -
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়
- মাতঙ্গ পড়িলে দরে পতঙ্গ প্রহার করে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন
- কড়িতে বাঘের দুধ মিলে
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ, ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণেকে চাঁদ
- যার কর্ম তারে সাজে অন্য লোকের লাঠি বাজে
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী। ইত্যাদি 

এসব গভীরতম ভাবদ্যোতক প্রবচনের মত পদে ভাষার উপর কবির যে অধিকার তা তুলনারহিত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১,২৯৬.
যতদিন ভবে, না হবে না হবে,
তোমার অবস্থা আমার সম।
ঈষৎ হাসিবে, শুনে না শুনিবে
বুঝে না বুঝিবে, যাতনা মম।
- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. অক্ষয়কুমার বড়াল
  2. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. শেখ ফজলল করিম
ব্যাখ্যা
• যতদিন ভবে, না হবে না হবে,
তোমার অবস্থা আমার সম।
ঈষৎ হাসিবে, শুনে না শুনিবে
বুঝে না বুঝিবে, যাতনা মম। - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা - কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
- এটি তাঁর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'সুখী দুঃখীর দুঃখ বুঝে না' কবিতার অংশবিশেষ।

সুখী দুঃখীর দুঃখ বুঝে না,
--- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

চির সুখী জন ভ্রমে কি কখন
ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে?
কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে
কভূ আশীবিষে দংশেনি যারে?
যতদিন ভবে, না হবে না হবে,
তোমার অবস্থা আমার সম।
ঈষৎ হাসিবে, শুনে না শুনিবে
বুঝে না বুঝিবে, যাতনা মম।

কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- ১৮৩৪ সালের ১০ জুন বৃহত্তর খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক। 
- ১৮৬১ সালে 'ঢাকা প্রকাশ' প্রকাশিত হলে তিনি তার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম 'সদ্ভাবশতক'।
- ১৯০৭ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- রামের ইতিবৃত্ত,
- কৈবল্যতত্ত্ব,
- মোহভোগ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থ, কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
১,২৯৭.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে 'হেমচন্দ্র, মনোরমা' চরিত্র দুটি পাওয়া যায়?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. মৃণালিনী
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. রাজসিংহ
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'মৃণালিনী' উপন্যাসের চরিত্র- 'হেমচন্দ্র, মনোরমা'। 

• 'মৃণালিনী' উপন্যাস:
- বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিম চন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস হচ্ছে - মৃণালীনি।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণের ঐতিহাসিক পটভূমি এ উপন্যাসের উপজীব্য বিষয়।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়। ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ এবং তুর্কি আক্রমণের পটভূমিতে উপন্যাসটি রচিত।
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় ও দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনী এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র - মৃণালিনী এবং পশুপতি - মনোরমার প্রেমকাহিনী এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।

• এ উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র গুলো হচ্ছে: 
- হেমচন্দ্র,
- মৃণালিনী,
- পশুপতি, 
- মনোরমা।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর।
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা। 
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক।
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ।

---------------- 
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'মৃণালিনী' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৮.
''চন্ডীমঙ্গল'' কাব্যের চরিত্র-
  1. ক) সনকা
  2. খ) মুরারি শীল
  3. গ) লখিন্দর
  4. ঘ) মনসা
ব্যাখ্যা

-সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
-মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
-মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
-মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলোঃ
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

চন্ডীমঙ্গলও মধ্যযুগের মঙ্গল কাব্যের সাহিত্য ধারা।
চন্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রসমূহঃ
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ভাড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,২৯৯.
“বাঙালিরা জেগে উঠেছে, তারাও আপন ভাষায় লিখে বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে তুলবে।”- উক্তিটি কার রচনা?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরীর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধ:
- ‘লাইব্রেরি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ। এটি তাঁর বিচিত্র প্রবন্ধ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ লাইব্রেরির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি লাইব্রেরিকে মহাসমুদ্রের কল্লোলধ্বনির সাথে তুলনা করেছেন।
- লাইব্রেরির মহত্ত্বের কথা বর্ণনা করে লেখক বলেছেন- জগতের উদ্দেশ্যে কি আমাদেরও কিছু বলার নেই? আমরা কি কেবল তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কলহ করে বেড়াবো।
- লেখক শেষে আশা ব্যক্ত করে বলেছেন- ‘বাঙালিরা জেগে উঠেছে। তারাও আপন ভাষায় লিখে বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে তুলবে।’

---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবিপ্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনেরো বছর বয়সে তাঁর বনফুল কাব্য প্রকাশিত হয়। এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- সভ্যতার সংকট,
- মানুষের ধর্ম।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক সমূহ:
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা, 
- রক্তকরবী, 
- তাসের দেশ, 
- চণ্ডালিকা। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ, 
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ, 
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধ।
১,৩০০.
মুনীর চৌধুরী'র পৈতৃক নিবাস কোন জেলায়?
  1. মানিকগঞ্জ
  2. নোয়াখালী
  3. কুমিল্লা
  4. লক্ষীপুর
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় কবর নাটকটি রচনা করেন।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম মুনীর অপ্‌টিমা।

তাঁর রচিত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।