বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৯৬৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ১০ · ৭০১৮০০ / ৯৬৩

৭০১.
জোয়ার অত্যন্ত প্রবাল হয় কখন?
  1. ক) চন্দ্র ও সূর্য একই সরল রেখায় থাকলে
  2. খ) চন্দ্র ও সূর্য কৌণিকভাবে অবস্থান করলে
  3. গ) পৃথিবী ও চন্দ্র একই সরলরেখায় অবস্থান করলে
  4. ঘ) সূর্য ও পৃথিবী এক সমকোণে অবস্থান করলে
ব্যাখ্যা
প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয়৷ এগুলো হলো-
১. চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং ২. পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি৷
সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার তত জোরালো হয় না।
তবে চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় থাকলে উভয়ের আকর্ষণে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয়।
অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা তিথিতে অধিকমাত্রায় জোয়ারের ফলে নৌকা, লঞ্চ ডুবে যায় এবং জানমালের ক্ষতি হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল বোর্ড বই
৭০২.
ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বোঝাতে কোন সংকেত ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ১২ নং
  2. খ) ১১নং
  3. গ) ১০নং
  4. ঘ) ৯নং
ব্যাখ্যা
• সমুদ্রবন্দরের জন্য বিভিন্ন সংকেত:
- ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত: জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে, যেখানে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ৬১ কিলোমিটার, যা সামুদ্রিক ঝড়ে পরিণত হতে পারে।

- ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত: দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ছেড়ে যাওয়া জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।

- ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত: বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হতে পারে।

- ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত: বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। ঘণ্টায় বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটার, তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।

- ৫ নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার ঝঞ্ছাবহুল এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

 - ৬ নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর ঝঞ্ছাবহুল সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

- ৭ নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার ঝঞ্ছাবহুল সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরের ওপর বা নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

- ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার ঊর্ধ্বে হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

- ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার ঊর্ধ্বে হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

- ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার ঊর্ধ্বে হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরের ওপর বা নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে।

- ১১ নম্বর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত: আবহাওয়া বিপদ সংকেত প্রদানকারী কেন্দ্রের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় কর্মকর্তা আবহাওয়াকে অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করছেন।

উৎস: নিউজ বাংলা 24 এবং বাংলা ট্রিবিউন।
৭০৩.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য কতটি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management):
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তিনটি:
(ক) দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা;
(খ) প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ পৌঁছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭০৪.
'প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার' কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. তেলের খনি
  2. গ্যাসের খনি
  3. আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প
  4. প্রবাল প্রাচীর
ব্যাখ্যা

•'প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার' আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পের সাথে সম্পর্কিত।

প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার:

- রিং অব ফায়ার হলো প্রশান্ত মহাসাগরের ধারে ‘ঘোড়ার নালের’ মতো দেখতে একটি টেকটনিক ফাটল রেখা।
- এই রেখায় প্রশান্ত মহাসাগীয়র প্লেটের সঙ্গে ইউরেশীয়, ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান, উত্তর আমেরিকান ও দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটগুলো স্পর্শ করে আছে।
- প্লেটগুলোর যেকোনো একটি নড়ে উঠলেই এই রেখার ভূমিকম্প হতে পারে।
- এছাড়া এই রেখা বরাবর প্রচুর সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে।
 - প্লেটগুলোর নড়াচড়ার ফলে এসব আগ্নোগিরি লাভা উদগীরণ করতে শুরু করে, ফলে ভূমিকমম্পের মাত্রা ও স্থায়ীত্ব ততো বাড়ে।
- জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, নিউজিল্যান্ড, চিলি, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল (ক্যালিফোর্নিয়া) ইত্যাদি এই রেখায় অবস্থিত বলে এখানে ভূমিকম্পের প্রবণতা এত বেশি। 

উৎস: লাইভসায়েন্স ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

৭০৫.
জৈবিক দুর্যোগ ঝুঁকির উদাহারণ কোনটি?
  1. ক) বায়ু দূষণ
  2. খ) রাসায়নিক বিস্ফোরণ
  3. গ) জিকা ভাইরাস
  4. ঘ) ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগের ধরন ও দুর্যোগ সৃষ্টির কারণের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের দুর্যোগ ও দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা হয়েছে। যথা- 

১. প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির পরিবেশ: বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, ভূমিধস, ভূমিকম্প ও বজ্রপাত প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

২. মানব সৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি: বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারের কারণে চামড়া শিল্প, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, রাসায়নিক শিল্পে প্রায় দুর্ঘটনা হয়। ২০১৯ সালে ঢাকায় চকবাজার এলাকায় রাসায়নিক বিস্ফোরণে ৭০ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৯ সালে সারাদেশে ভবনধ্বসে ২৬ জন মানুষ মারা যায়।

৩. জৈবিক দুর্যোগ ঝুঁকি: সম্প্রতির কোভিড-১৯ সহ বিগত বছরগুলোতে যেমন ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া, ২০০৭ সালে ব্রার্ড ফ্লু, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্ভূক্ত। এছাড়াও ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্লু নিপাহ, জিকা ভাইরাসের আক্রমণ জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্গত।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৬.
পানির হ্রাস-বৃদ্ধির গতি দ্রুত কোন ধরনের বন্যার?
  1. ক) মৌসুমি বন্যা
  2. খ) জোয়ার-ভাটাজনিত বন্যা
  3. গ) আকস্মিক বন্যা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পানির হ্রাস-বৃদ্ধির গতি দ্রুত আকস্মিক বন্যার। পার্বত্য এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৭০৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল কোনটি?
  1. ক) অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ
  2. খ) আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি
  3. গ) প্রশিক্ষণ
  4. ঘ) গণসচেতনতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ীত্ব হ্রাস এবং দুর্যোগের পুর্ব প্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা যেমন: বেরিবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষন, পূর্বপ্রস্তুতি প্রদান প্রভৃতি অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ ইত্যাদি অল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি
৭০৮.
বায়ুর গতিবেগ ঘণ্টায় কত কিলোমিটারের অধিক হলে তা ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. ৫৫ কিলোমিটার
  2. ৬৩ কিলোমিটার
  3. ৮৭ কিলোমিটার
  4. ১০০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
- বায়ুর গতিবেগ ৬৩ কিলোমিটারের অধিক হলে তা সাধারণত ঘূর্নিঝড় হিসেবে অভিহিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা। সাধারণত সমুদ্রের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রির অধিক হলে সমুদ্রের বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে গেলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এতে করে পার্শ্ববর্তী উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে ভারীবায়ু দ্রুত বেগে সৃষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে এবং ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করে।
(তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৭০৯.
বন্যা পূর্ব ব্যবস্থাপনা নিচের কোনটি?
  1. বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংরক্ষণ
  2. স্বল্প সময়ে উৎপাদন যোগ্য ফসল চাষ
  3. পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বা ফিটকিরি ব্যবহার করা
  4. বাসযোগ্য বসতবাটি পুনঃনির্মাণ করা
ব্যাখ্যা
⇒ বন্যা পূর্ব ব্যবস্থাপনা (Pre- Flood Management): 
ক. বনায়ন (Forestation): বিশেষ করে বন্যা প্রবণ এলাকায় বাড়ির চারপাশে কড়ই গাছসহ অন্যান্য গাছ লাগানো যেতে পারে।
খ. বসত বাটি (Settlement): বন্যা প্রবণ এলাকায় ঘরের মেঝে উঁচু করা, সম্ভব হলে ইট সিমেন্ট এর পাকা ঘর নির্মাণ করা যেতে পারে। 
গ. বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য (Pure Water and Food): বন্যার পানিতে টিউবওয়েল যাতে না ডুবে এমন স্থানে টিউবওয়েল স্থাপন করা উচিত। বন্যার সময় বাড়িতে মুড়ি, চিড়া, গুড় প্রভৃতি শুকনো খাবার মজুদ রাখতে হবে। নিরাপদ স্থানে ফসলের বীজ সংরক্ষণ করতে হবে।
ঘ. সম্পদ (Property): গবাদি পশু, মূল্যবান সম্পদ বন্যার পূর্বে মূল্যবান স্থানে সরিয়ে রাখতে হবে।
ঙ. আশ্রয়কেন্দ্র (Shelter): বন্যার সময় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে। তবে এই ক্ষেত্রে শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবর্তী মহিলা এবং মেয়েদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

অন্যদিকে,
⇒ বন্যাকালীন ব্যবস্থাপনা (During Flood Management): 
ক. আশ্রয় (Shelter): বন্যার সময় নিকটস্থ উঁচু স্থান, বাঁধে অথবা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে হবে। 
খ. বিশুদ্ধ পানি (Pure Water): পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বা ফিটকিরি বা ফুটিয়ে অথবা টিউবওয়েলের পানি পান করতে হবে।
গ. সুরক্ষা (Safety): কার্বলিক এসিড মিশ্রিত সাবান টুকরা ঘরের চারকোণে রাখলে সাপ ঢুকবে না।
ঘ. ত্রাণ (Relief): সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণসামগ্রী যা পাওয়া যায় তা দিয়ে অভাব মিটাতে হবে এবং ত্রাণ প্রদানকারীদের সহায়তা প্রদান করতে হবে।

⇒ বন্যা পরবর্তী ব্যবস্থাপনা (Post Flood Management): বন্যা পরবর্তী ব্যবস্থাপনাসমূহ নিম্নরূপ:
ক. বন্যার পরপরই পানি বাহিত বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন টাইফয়েড, ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে তাই প্রতিষেধক হিসেবে টিকা দেওয়া যেতে পারে।
খ. বন্যার পানি সরে যাওয়ার সাথে সাথে নিজের বসতবাটিতে ফিরে যেতে হবে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে বাসযোগ্য করতে হবে বা পূনঃনির্মাণ করা যাবে।
গ. স্বল্প সময়ে উৎপাদন যোগ্য ফসল চাষ, বাড়িতে শাক সবজি ফলানো, পুকুর ডোবায় মাছ সংগ্রহ অর্থাৎ জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে।
 
সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১০.
দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায় নয় কোনটি?
  1. ক) সাড়া প্রদান
  2. খ) পুনরুদ্ধার
  3. গ) উন্নয়ন
  4. ঘ) প্রশমন
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র: 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১১.
নদীশাসনের উদাহরণ কোনটি?
  1. কামরাঙ্গীর চর
  2. তিস্তা ব্যারেজ
  3. সেচ প্রকল্প
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নদীশাসন:
- প্রতিবছর নানাবিধ কারণে নদীভাঙ্গন দেখা যায় যা অতি পরিচিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- নদীর এ ভাঙ্গন প্রক্রিয়া প্রতিরোধ ও নদীর পানি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করার জন্য বাঁধ বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাই হলো নদীশাসন। যেমন:- তিস্তা ব্যারেজ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে কমবেশি নদীভাঙ্গন দেখা যায়।
- তবে নদীভাঙ্গনের ফলে সর্বোচ্চ ভূমিক্ষয় ঘটে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায়।
- নদীভাঙ্গনের ফলে নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষের পালিত পশুসম্পদ, ফসলি জমি, জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
- তাই নদীশাসনের জন ইতোমধ্যে সরকার অনেক নদীর তীরে বাঁধ দিয়ে নদীভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করছে।

⇒ নদীশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:
• উপকূলীয় অঞ্চলে বনায়নের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করে এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদী খনন করে নদীশাসন করা।
• নদীশাসনের জন্য নদীর পাড় থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটা ও পাথর তোলা বন্ধ করে নদীভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব।
• সমভূমি থেকে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি একই পথে নদীতে পতিত হওয়া রোধ করে পরিকল্পিতভাবে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে নদীভাঙ্গন রোধ করে নদীশাসন করা যায়।
• প্রতিবছর নদীর পাড় ও বাঁধ সংস্করণ, নদী খনন, নদীর নাব্যতা ধরে রাখা ইত্যাদির মাধ্যমে নদীভাঙ্গন রোধ করা যায়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১২.
কোন দেশ ঘূর্ণিঝড় 'ফেনজল' এর নামকরণ করেন?
  1. লাওস
  2. ভিয়েতনাম
  3. মিশর
  4. সৌদি আরব
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় 'ফেনজল':
- ঘূর্ণিঝড় ‘ফেনজল’ নামকরণ করেছে 'সৌদি আরব'।
- বর্ষা–পরবর্তী মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে ‘ফেনজল’।
- দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে 'ফেনজল'।
- ৩০ নভেম্বর, ২০২৪ সন্ধ্যার মধ্যে ভারতের তামিলনাড়ুর উপকূলে আছড়ে পড়ছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফেনজল’।
- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত ছিল ঐসময়।
- উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছিল।

উৎস: আনন্দবাজার পত্রিকা, প্রথম আলো।
৭১৩.
'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক' (২০১৫-২০৩০) এর অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের জন্য কতটি বৈশ্বিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. ছয়টি
  4. সাতটি
ব্যাখ্যা

সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ১৪-১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- 'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক' (২০১৫-২০৩০) ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

• সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।

৭১৪.
কালবৈশাখি ঝড় সাধারণত কখন সংঘটিত হয়?
  1. জানুয়ারি-ফ্রেবুয়ারি
  2. এপ্রিল-মে
  3. জুন-জুলাই
  4. সেপ্টেম্বর-অক্টোবর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিল-মে বা বৈশাখ-জ্যেষ্ঠ মাসে গ্রীষ্মঋতুর সময়ে ‘কালবৈশাখী ঝড়’ সংঘটিত হয়।

এই সময়ে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু এবং উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শীতল ও শুষ্ক বায়ুর সংঘর্ষে ‘কালবৈশাখী ঝড়’ সংঘটিত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭১৫.
বাংলাদেশে 'অপারেশন সি-এঞ্জেল-২' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে-
  1. ক) জাপান
  2. খ) যুক্তরাজ্য
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- এই ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম 'অপারেশন সি-এঞ্জেল-২'।
- ২৯ এপ্রিল, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে এবং এসময় বাংলাদেশে মার্কিন টাস্কফোর্স 'অপারেশন সি-এঞ্জেল' ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে।
- 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে বাংলাদেশে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে যুক্তরাজ্য।

৭১৬.
নিচের কোনটি ভূমিকম্পের কারণ নয়?
  1. আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত
  2. হিমাবাহ এর প্রভাব
  3. বৃষ্টিপাত
  4. ভূগর্ভস্থ বাষ্প
ব্যাখ্যা
• ভূমিকম্প:
• ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে।
• ভূ-অভ্যন্তরস্থ শিলারাশিতে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক অবমুক্তির কারণে সৃষ্ট এই স্পন্দনের মাত্রা মৃদু কম্পন থেকে প্রচন্ড ঘূর্ণনের মধ্যে হতে পারে। তাই ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।

• ভূমিকম্পের প্রধান কারণগুলো হলো:
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত। এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
- আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়।

• ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ:
- শিলাচ্যুতি,
- তাপ বিকিরণ,
- ভূগর্ভস্থ বাষ্প,
- ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস,
- হিমবাহের প্রভাব ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৭১৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত করা
  2. ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা
  3. পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা
  4. ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা
ব্যাখ্যা

- ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত করা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য নয়। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management):
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে- যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।
- সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ের কার্যক্রমকে বোঝায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তিনটি:
(ক) দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা;
(খ) প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ পৌঁছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৭১৮.
সাম্প্রতিক সময়ে  বাংলাদেশে কোন দুর্যোগটি ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে?
  1. টর্নেডো
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. জলোচ্ছাস
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ দুই ধরনের।
- যথা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং সাধারণত এর উপর মানুষের কোন হাত থাকে না।
- যেমন - বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় এবং যা মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
- যেমন - যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
- সম্প্রতি বাংলাদেশে ভূমিকম্পের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ২০২০ সালে সিলেট অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় আকারের ভূমিকম্প সংঘটি হয়।
- এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই ও প্রথম আলো রিপোর্ট।
৭১৯.
নিচের কোন দুর্যোগটির সাথে নদী বা সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলের কোন সম্পর্ক নেই?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. ভূমিকম্প
  3. বন্যা
  4. নদীভাঙ্গন
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প একটি ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগ যা মাটির নিচের টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলে ঘটে এবং এর সাথে নদী বা সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

ভূমিকম্প:
- ভূপৃষ্ঠের যে গতিশীল অবস্থায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক ধ্বংস করতে সক্ষম তাকে ভূমিকম্প বলে।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা বা মাত্রা রিখটার স্কেলে পরিমাপ করা হয়।
- এর সর্বোচ্চ মাত্রা ৯।
- তবে ৬/৭ মাত্রার ভূমিকম্পেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সাধিত হয়।
- ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলই এর ঝুঁকিতে আছে।
- অপরিকল্পিত ও ঘনবসতিপূর্ণ নগরী ঢাকাতে একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেই অসংখ্য প্রাণহানির আশংকা রয়েছে।

ভূমিকম্পের প্রধান কারণগুলো হলো:
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত।
- এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
- আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়।

ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ:
- শিলাচ্যুতি,
- তাপ বিকিরণ,
- ভূগর্ভস্থ বাষ্প,
- ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস,
- হিমবাহের প্রভাব ইত্যাদি।
----------------
বন্যা (Flood):
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় গভীর সমুদ্রে। গভীর সমুদ্রে উচ্চ তাপমাত্রার ফলে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়।

নদীভাঙ্গন:
- নদীভাঙ্গনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকা নদীগর্ভে আন বিলীন হয়ে যায়।
- কোনো কারণে নদীর চলমান গতিপথ বাধাগ্রস্থ হলে নদীর পানির প্রবাহ তার গতিপথ পরিবর্তন করে প্রবাহিত হয়।
- এতে স্রোতের তোড়ে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে ভাঙ্গন শুরু হয়। নদী ভাঙ্গনে বহু মানুষ স্থাবর সম্পদ হারিয়ে বাস্তুহারা হয়ে পড়ে।

উৎস:
- ভূগোল ও পরিবেশ- নবম -দশম শ্রেণি,
- ভূগোল ও পরিবেশ, বিএড প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২০.
বাংলাদেশে ভূমিকম্পন প্রবণ অঞ্চলকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ৩ টি
  2. ৪টি
  3. ৫ টি
  4. ২ টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূমিকম্প অঞ্চল:
- বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ এ,
- দেশকে চারটি ভূমিকম্প অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে মাটির গতিবিধি বিভিন্ন স্তরের।
• অঞ্চল ১: Z = ০.১২
• অঞ্চল ২: Z = ০.২
• অঞ্চল ৩: Z = ০.২৮
• অঞ্চল ৪: Z = ০.৩৬
- প্রতিটি অঞ্চলে একটি সিসমিক জোন সহগ (Z) রয়েছে, যা মাটির সর্বোচ্চ বিবেচিত ত্বরণ (PGA) নির্দেশ করে।
- এই ত্বরণ কঠোর মাটি/শিলা (সাইট ক্লাস SA) এর জন্য g (মাধ্যাকর্ষণ ত্বরণ) এর এককে মাপা হয়।

• গুরুত্বপূর্ণ শহরের ভূমিকম্প তথ্য:
- অঞ্চল ৪ (সর্বাধিক ভূমিকম্প প্রবণ): উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট) অন্তর্ভুক্ত। PGA = ০.৩৬৪।
- ঢাকা শহর: মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২)।
- চট্টগ্রাম শহর: উচ্চ ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২৮)।

• ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই এ,
- ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূকম্পনীয় অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-
- অঞ্চল ১: (মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৭); উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
- অঞ্চল ২: (মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৬); মধ্য অঞ্চল
- অঞ্চল ৩: (কম ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৫); দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০।
৭২১.
আকস্মিক বন্যাপ্রবণ জেলা -
  1. ক) রাঙ্গামাটি
  2. খ) হবিগঞ্জ
  3. গ) কিশোরগঞ্জ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়। এগুলো হলো:-
১। বৃষ্টিজনিত বন্যা
২। উপকূলীয় বন্যা
৩। নদীসৃষ্ট বন্যা
৪। আকস্মিক বন্যা।

আকস্মিক বন্যা
• এপ্রিল-মে, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে স্থানীয় পযার্য়ে স্বল্পস্থায়ী ভারি বর্ষণের দরুন পাহাড়ি নদীর পানি উপচে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এলাকায় আকস্মিক ভাবে যে বন্যা দেখা যায় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
• এদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রভৃতি আকস্মিক বন্যাপ্রবণ জেলা।
• আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

তথ্যসূত্র: বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২২.
কত সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. ১৯৭৮ সাল
  2. ১৯৮২ সাল 
  3. ২০০৪ সাল
  4. ১৯৯৮ সাল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বন্যা:
- ভৌগলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশ বন্যা উপদ্রুত এলাকা হিসাবে চিহ্নিত।
- এশিয়ার অন্যতম ২টি বড় নদী বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- এর ফলে প্রায় প্রতি বছর বাংলাদেশ মারাত্মক বন্যায় আক্রান্ত হয়।
- বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি, উজান থেকে আসা বরফগলা ও বৃষ্টির পানি, সেই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টি বহুল অঞ্চল মেঘালয় পাহাড়ের পাহাড়ী ঢল এবং বঙ্গোপসাগরের জোয়ার এই বন্যাকে দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক অবস্থায় নিয়ে যায়।

বন্যার ধরনের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের বন্যাকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়:
১. সাধারণ বন্যা (General Flood):
- সাধারণত বড় নদীগুলো থেকে সৃষ্ট বন্যা।
- বাংলাদেশের উত্তর ও মধ্য ভাগ এই বন্যায় বেশী আক্রান্ত হয়।

২. আকস্মিক বন্যা (Flash Flood):
- পাহাড়ী ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা যা অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে।
- সাধারনত বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্ব অঞ্চল বিশেষ করে মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশের এলাকাসমূহ এই বন্যায় আক্রান্ত হয়।

৩. ঘূর্নিঝড়ের ফলে সৃষ্ট বন্যা বা জলোচ্ছ্বাস (Tidal Surge):
- বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকায় বিশেষ করে ঘূর্নিঝড় প্রবন এলাকায় এই বন্যা দেখা দেয়।

বন্যার প্রভাব (Influence of Flood in Bangladesh):
- বাংলাদেশের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক।
- বন্যার পানিতে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি, মানুষসহ অন্যান্য প্রাণির প্রাণহানি, অর্থ-সম্পদ ধ্বংস এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে।
- ১৯৫৪ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ২০০৪ সালের বন্যা ছিল ভয়াবহ।
- এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের ৬১% ও ১৯৯৮ সালে ৬৮% এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। (বিবিসি বাংলা [২৪ আগস্ট, ২০১৭])
- পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যে দেখা যাচ্ছে ২০১৭ সালে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, যেটি সর্বকালের সবচে বেশি।
- ১৯৮৮ সালে পানি ১১২ সেন্টিমিটার ও ১৯৯৮ সালে বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি করেছিল।

উৎস:বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট & ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ সরকারের ক্লাইমেট চেঞ্জ সেল।

৭২৩.
UDMC কোন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের দায়িত্বে নিয়োজিত?
  1. ইউনিয়ন পর্যায়ে
  2. উপজেলা পর্যায়ে
  3. জাতীয় পর্যায়ে
  4. কমিউনিটি পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
- UDMC (Union Disaster Management Committee) হলো ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের দায়িত্বে নিয়োজিত।
- সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কমিটির সভাপতি ও ইউপি সচিব কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন সেক্টরের ব্যক্তিদের নিয়ে UDMC গঠিত হয়।
- এই কমিটি দুর্যোগের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার প্রভৃতি কর্মকাণ্ড করে থাকে।
- স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসের অন্তত একবার UDMC এর সভা অনুষ্ঠিত হয়।
(তথ্যসূত্র: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর)
৭২৪.
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্যে দায়ী-
  1. উচ্চ তাপমাত্রা
  2. সমুদ্রের গভীরতা
  3. নিম্নচাপ
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা।
- উচ্চ তাপমাত্রার (সাধারণত ২৭ ডিগ্রির অধিক) ফলে সমুদ্রের বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে গেলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এতে করে পার্শ্ববর্তী উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে ভারীবায়ু দ্রুত বেগে সৃষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে এবং ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করে।
- বায়ুর গতিবেগ ৬৩ কিলোমিটারের অধিক হলে তা ঘূর্নিঝড় হিসেবে অভিহিত হয়।
(তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৭২৫.
টর্নেডো সৃষ্টির ক্ষেত্রে দায়ী কোনটি?
  1. ক) ভূমিকম্প
  2. খ) স্থলভাগে নিম্নচাপ সৃষ্টি
  3. গ) নিম্ন তাপমাত্রা
  4. ঘ) অধ্যধিক বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
- টর্নেডো সৃষ্টির মুখ্য কারণ হলো স্থলভাগে নিম্নচাপের সৃষ্টি।
- স্থলভাগে নিম্নচাপ সৃষ্টির ফলে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু প্রবল বেগে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়ে টর্নেডোতে রূপ নেয়।
- সাধারণত স্থলভাগে সৃষ্ট ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের অধিক হলে তা টর্নেডো হিসেবে অভিহিত।
- টর্নেডোর স্থায়ীত্ব স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও এর তাণ্ডবের মাত্রা থাকে অত্যধিক।
(তথ্যসূত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৭২৬.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের প্রথম ধাপ কোনটি?
  1. সাড়াদান
  2. পুনরুদ্ধার
  3. প্রতিরোধ
  4. উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের প্রথম ধাপ হল প্রতিরোধ (Prevention)।
- এই ধাপের উদ্দেশ্য হল দুর্যোগের আগমনের পূর্বে তার প্রভাব কমানো এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা।
- যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
• বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত: বন্যা বা সমুদ্রের পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
• আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ: মানুষকে নিরাপদে রাখার জন্য।
• মজবুত ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ: দুর্যোগের সময় কম ক্ষতি সৃষ্টির জন্য ঘরবাড়ি ও স্কুলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
• নদী খনন: বন্যা বা অন্যান্য জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানোর জন্য।

উৎস:  ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৭.
নিচের কোনটি গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলাফল নয়?
  1. ক) লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়া
  2. খ) সমুদ্রস্তরের উচ্চতা হ্রাস পাওয়া
  3. গ) মেরু অঞ্চলে বরফ গলে যাওয়া
  4. ঘ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হওয়া
ব্যাখ্যা
- গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এতে করে মেরু অঞ্চলসহ পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে সঞ্চিত থাকা বরফ গলতে শুরু করবে। যার কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর স্থলভাগের অনেক নিম্নভূমি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাবে।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৭২৮.
কোনটি কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন ব্যবস্থা?
  1. গণসচেতনতা বৃদ্ধি
  2. প্রশিক্ষণ
  3. বেড়িবাঁধ তৈরি 
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 

• প্রতিরোধ (Prevention)
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।
কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
⇒ অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদিকার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

৭২৯.
FCDI প্রকল্প কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. ভূমিকম্প
  3. বন্যা
  4. খরা
ব্যাখ্যা
• FCDI প্রকল্প:
• FCDI: Flood Control, Drainage and Irrigation Projects
• বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প হলো বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প
• উদ্দেশ্য: বন্যাপ্রবণ এলাকার ২০% ভূমিকে রক্ষা করা।
• ১৯৬৪ সালে দেশজুড়ে ৫৮টি বন্যা প্রতিরোধ এবং নিষ্কাশন প্রকল্প সম্বলিত একটি মাস্টার প্ল্যান গৃহীত হয়েছিল।

• FCDI এর প্রধান প্রধান কয়েকটি সেচ প্রকল্প হলো:
- গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট);
- ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্প ;
- কর্ণফুলি বহুমুখী প্রকল্প ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া।
৭৩০.
বিশ্বব্যাংক এর মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দিক -
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- এগুলো হলো: মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক ঝুঁকিতে থাকা পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১২টি করে দেশের তালিকা:
• বন্যা:
- বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।
• ঝড়:
- ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।
• মরুকরণ:
- মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, শাদ, কেনিয়া, ইরান।
• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি:
- সব নিচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিসর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।
• কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা:
- সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩১.
নিচের কোনটি মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ এর উদাহরণ?
  1. ভূমিকম্প
  2. বন্যা
  3. অগ্নিকান্ড
  4. অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা
বিপর্যয়:
বিপর্যয় বলতে বিপদ বা আপদের সম্ভাবনাকে বুঝায়। অর্থাৎ যে সকল ঘটনা একটি এলাকার জনগণের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, এমনকি একেবারে ধ্বংস করতে পারে, সে সকল ঘটনাকে বিপর্যয় বলে।

দুর্যোগ (Disaster):
একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে

বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ:
পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়। যেমন:
ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
খ) মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।
২. মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩২.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলকে ‘খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল’ বলা হয়?
  1. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  3. দক্ষিণাঞ্চল
  4. পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প:
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র (Centre বা Focus) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
- ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।

⇒ ২০২০ সালে 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) প্রকাশিত রির্পোটে সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো:
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল)।
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)।

উৎস: i) ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৭৩৩.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কত সালে 'বজ্রপাতকে' দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে?
  1. ২০১৫
  2. ২০১৬
  3. ২০১৭
  4. ২০১৮
ব্যাখ্যা

বজ্রপাত:
- ১৭ মে, ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
- বজ্রপাত থেকে নিরাপদে থাকতে কতগুলো সতর্কতামূলক বার্তা প্রচার করবে মন্ত্রণালয়।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জাতীয় পরিকল্পনায় এর আগে ১২টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা উল্লেখ ছিল।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের বজ্রপাত হচ্ছে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

৭৩৪.
উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়কে কী বলা হয়?
  1. সাইক্লোন
  2. হ্যারিকেন
  3. টাইফুন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়:
- সাইক্লোন, টাইফুন ও হারিকেন সবগুলোই সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়।
• টাইফুন:
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'।
- চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।
• সাইক্লোন:
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত।
- সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।

• হারিকেন:

- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্য এবং পূর্ব উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর এবং মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে 'হারিকেন' বলা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।

এছাড়াও,
- দক্ষিণ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় সিভিয়ার ট্রপিক্যাল সাইক্লোন।
- আর দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরে একে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড মেটেওরলজিক্যাল অর্গানাইজেনশনের ওয়েবসাইট এবং The Daily Star Bangla.
৭৩৫.
ভূ-অভ্যন্তরের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে কোন ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়?
  1. ক) নদী ভাঙন
  2. খ) ভূমিকম্প
  3. গ) কালবৈশাখি ঝড়
  4. ঘ) বন্যা
ব্যাখ্যা
• ভূ-অভ্যন্তর উত্তপ্ত বলে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের যে তারতম্য হয়, তাতে ভূ-অভ্যন্তরে প্রচন্ড শক্তির সৃষ্টি হয় এবং ভূ-ত্বকের আকস্মিক ও ধীর পরিবর্তন হয়।
• ভূ-অভ্যন্তরের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি হয়ে থাকে।
• এসব দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়ায় দূষণের উদ্ভব হতে পারে। যেমন- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে গ্রাম, শহর ও জনপদ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পম্পেই নগর লাভার নিচে চাপা পড়ে। এছাড়া ছাই, ভস্ম ইত্যাদি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে বাতাস দূষিত করে তোলে।
• আবার ভূমিকম্পের ফলে বহু মানুষ, জীবজন্তু মারা যায় এবং ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়। মৃতদেহসমূহ দ্রুত সরাতে না পারলে তা পচে দুর্গন্ধ এবং রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বায়ু, পানি এবং মৃত্তিকা দূষণ
দেখা দেয়। সুতরাং বলা যায় যে, ভূ-অভ্যন্তরস্থ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট দুর্যোগসমূহ দূষণের কারণ হিসেবে কাজ করে।   

তথ্যসূত্র:- ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৬.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল মাস কোনটি?
  1. ক) জুন
  2. খ) জুলাই
  3. গ) আগস্ট
  4. ঘ) মে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মাসিক স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত:
- জানুয়ারি : ৯.০ মি.মি.
- ফেব্রুয়ারি : ২৫.৫ মি. মি.
- মার্চ : ৫২.৪ মি.মি.
- এপ্রিল : ১৩০.২ মি.মি.
- মে : ২৭৭.৩ মি.মি.
- জুন : ৪৫৯.৪ মি.মি.
- জুলাই : ৫২৩.০ মি.মি.
- আগস্ট : ৪২০.৪ মি.মি.
- সেপ্টেম্বর : ৩১৮.২ মি.মি.
- অক্টোবর : ১৬০.৩ মি.মি.
- নভেম্বর : ১৪২.৪ মি.মি.
- ডিসেম্বর : ৯.৬ মি.মি।

বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত হলো ২০৩ সেন্টিমিটার।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর)
৭৩৭.
ভূতাত্ত্বিক গঠনগত কারণে বাংলাদেশ বিশেষভাবে কোন অঞ্চলে ভূমিকম্পপ্রবণ?
  1. উপকূলীয় অঞ্চল
  2. উত্তর ও পূর্বাঞ্চল
  3. পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চল
  4. দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম
ব্যাখ্যা

• ভূতাত্ত্বিক গঠন অনুযায়ী উত্তর ও পূর্বাঞ্চল বেশি ভূমিকম্পপ্রবণ।

• বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি:

- বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে রয়েছে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়।
- উত্তর–দক্ষিণে বিস্তৃত এই স্বল্প ভাঁজবিশিষ্ট ভঙ্গিল প্রকৃতির পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই পাহাড় এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমভূমীয় অংশ হিসেবে ধরা হয়।

- এই পাহাড়গুলো প্রধানত—

- বেলে পাথর,
- শেল পাথর এবং
- কর্দম দ্বারা গঠিত।

- গঠনগত কারণে এসব পাহাড় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

 
• প্লাইস্টোসিনকালের গঠন:

- বাংলাদেশে আরও রয়েছে প্রাচীন পলল দ্বারা গঠিত প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

- বরেন্দ্রভূমি,
- মধুপুর গড়,
- ভাওয়ালের গড় এবং
- লালমাই পাহাড়।
 
• সমতল ভূমি ও ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য:

- বাংলাদেশের বৃহৎ অংশই নবগঠিত পলল সমভূমি দ্বারা আচ্ছাদিত।

- তাই ভূতাত্ত্বিক গঠনগত দিক থেকে বাংলাদেশ বিশেষভাবে— উত্তরাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলে অধিক ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: ভূগোল, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৭৩৮.
'নদী সিকস্তি' কারা?
  1. নদী ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত জনগণ
  2. নদীর চর জাগলে যারা দখল করতে চায়
  3. নদীতে যারা সারা বছর মাছ ধরে
  4. নদীর পাড়ে যারা বসবাস করে
ব্যাখ্যা

নদীভাঙন:
- বর্ষাকালে নদীখাতে প্রবল বেগে পানিপ্রবাহ, নদী খাতের উভয় পার্শ্বে নরম মাটি ও ফাটলের অবস্থানের কারণে যে ক্ষয় হয়ে থাকে, তাকে নদীভাঙন বলে।
- নদী ভাঙ্গনের শিকার হয় পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহ।
- নদী ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত জনগণকে নদী সিকস্তি বলে।

উল্লেখ্য:
- নদীতে ভেঙে যাওয়া জমির স্থানে নতুন চর জাগা বা পুনর্গঠনকে নদী পয়স্তি বলে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩৯.
রাসায়নিক দূষণ কোন প্রকারের দুর্যোগ?
  1. ভূ-অভ্যন্তরস্থ প্রতিক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ
  2. মহাকাশীয় দুর্যোগ
  3. মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ
  4. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ:
- পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়। যেমন:
ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
খ) মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

⇒ প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
• যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।

⇒ মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
• যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪০.
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে কী বলে?
  1. ঘূর্ণিবলয়
  2. বৃত্ত
  3. চোখ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়:
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে সাধারণত ২৭° সেলসিয়াস বা এর বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়।
- এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠে উৎপত্তি লাভ করে মহাদেশীয় মূলভাগের দিকে অগ্রসর হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে।
- এটি দেখতে অনেকটা মানুষের চোখের মতো।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪১.
গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্র-বিদ্যুৎসহ যে ক্ষণস্থায়ী বৃষ্টিপাত হয় তা কোন জাতীয় বৃষ্টি?
  1. ক) সংঘর্ষ বৃষ্টি
  2. খ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  3. গ) ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি
  4. ঘ) পরিচলন বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্র-বিদ্যুৎসহ যে ক্ষণস্থায়ী বৃষ্টিপাত হয় তা সংঘর্ষ বৃষ্টি। কারণ, দেশের উত্তর-পশ্চিমে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সাথে শুষ্ক ও শীতল বায়ুর সংঘর্ষে এ ঝড়ের উৎপত্তি হয়। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৭৪২.
রিখটার স্কেলে কত মাত্রার ভূমিকম্প ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথের পরিবর্তন ঘটায়?
  1. ক) ৮.৭
  2. খ) ৬.৫
  3. গ) ৭.৩
  4. ঘ) ৭.৮
ব্যাখ্যা
১৮৯৭ সালের ১২ই জুন ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্প ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথের পরিবর্তন ঘটায়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই
৭৪৩.
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে কী বলে?
  1. চোখ
  2. মূল কেন্দ্র
  3. ঘূর্ণিবলয়
  4. বৃত্ত
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড়।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দ্বারা মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চলের নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৫ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- এছাড়াও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। দ্রুত উর্দ্ধগামী বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকলে ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধে প্রবল ঘূর্ণিবায়ু বাইরের থেকে কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। পরে প্রচন্ড শক্তিতে বায়ু আবর্তনের মাধ্যমে উপরের দিকে উঠতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৪.
নিচের কোনটি "Biological Disaster" এর উদাহরণ?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. রাসায়নিক বিস্ফোরণ
  3. চিকুনগুনিয়া
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ: 
- প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট কারণে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ।
- দুর্যোগের ধরন ও দুর্যোগ সৃষ্টির কারণের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে দুর্যোগঝুঁকির পরিবেশকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ, মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ এবং জৈবিক দুর্যোগ ঝুঁকির (Biological Disaster) পরিবেশ।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিসমূহ হলো- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধ্বস, ভূমিকম্প এবং বজ্রপাত ।
- এছাড়াও বাংলাদেশে মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশের মধ্যে বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারের কারণে প্রায় চামড়া শিল্প, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, রাসায়নিক শিল্পের দুঘর্টনা উল্লেখযোগ্য।
- মহামারি কোভিড-১৯ সহ বিগত বছরগুলোতে যেমন ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া, ২০০৭ সালে ব্রার্ড ফ্লু, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ জৈবিক হ্যাজার্ডের (Biological Disaster) অন্তর্ভূক্ত।
- এছাড়াও ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্লু, নিপাহ ভাইরাস, জিকা ভাইরাস প্রভৃতিও জৈবিক হ্যাজার্ড এর অন্তর্ভুক্ত।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৫.
ভূমিকম্পের উৎস স্থলকে কী বলা হয়?
  1. ক) উপকেন্দ্র
  2. খ) কম্পকেন্দ্র
  3. গ) ফাঁটল
  4. ঘ) ভূকম্পন তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প
• ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
• ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়।
• কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র বলা হয়।
• সাধারণত ভূ-ত্বকের ৩২ কি.মি. এর মধ্যে ভূমিকম্পের উৎস স্থান থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গভীরতা আরও বেশি হতে পারে। • কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে।  
• ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
• ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার।
• ভূমিকম্পনের রেখা যে কাগজে অংকিত হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ বলে। 

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৬.
ঘূর্ণিঝড়ের আগে বায়ু কেমন থাকে?
  1. শীতল
  2. শুষ্ক ও ঝড়ো
  3. উষ্ণ ও আর্দ্র
  4. শীতল ও আর্দ্র
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়ের গঠন:
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে হলে কিছু বৈশিষ্ট্য বা উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এগুলো হলো-

ক) সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
খ) মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
গ) উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে শুধু পর্যবেক্ষণ করা
  2. ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মাঝে ত্রাণ পৌছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা
  3. জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা
  4. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা
ব্যাখ্যা
- 'দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে শুধু পর্যবেক্ষণ করা' দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য নয়।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান।
- পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি হচ্ছে  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম।
সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ের কার্যক্রমকে বোঝায়।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তিনটি :
১। দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা;
২। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ পৌছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
৩। দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪৮.
বাংলাদেশের উপকূলের দৈর্ঘ্য-
  1. ক) ৭৭১ কিলোমিটার
  2. খ) ৭১১ কিলোমিটার
  3. গ) ৭২৬ কিলোমিটার
  4. ঘ) ২৮০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে।
- বাংলাদেশের সর্বমোট ৫১৩৮ কিলোমিটার সীমারেখা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সর্বমোট স্থলসীমা ৪৪২৭ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সীমানা ২৭১ কিলোমিটার (২৮০ কিলোমিটার মাধ্যমিক ভূগোল)।
- বাংলাদেশের উপকূলের দৈর্ঘ্য ৭১১ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশ ও ভারতের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৪১৫৬ কিলোমিটার।

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।

৭৪৯.
নিচের কোনটি অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমনের অংশ?
  1. বেড়িবাঁধ তৈরি
  2. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  3. গণসচেতনতা বৃদ্ধি
  4. নদী খনন
ব্যাখ্যা

- অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন গণসচেতনতা বৃদ্ধি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:

- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 

প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।

• কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা-
• বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। 
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

• অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৫০.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় সারা বছরই বিকেল বা সন্ধ্যায় কোন বৃষ্টি হয়ে থাকে?
  1. বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
  2. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
  3. পরিচলন বৃষ্টি
  4. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain):
- পরিচলন বৃষ্টি সাধারণত নিরক্ষীয় অঞ্চলে (Equatorial region) বেশি দেখা যায়।
- কারণ, এই অঞ্চলে সূর্যের কিরণ সারাবছর সরাসরি পড়ে এবং জলাভূমির বিস্তৃতি বেশি হওয়ায় বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণও বেশি থাকে।
- দিনের বেলায় সূর্যের তাপে পানি দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয়ে উপরে উঠে এবং উপরিভাগে থাকা শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে মেঘ তৈরি করে বৃষ্টিতে পরিণত হয়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় সারা বছরই বিকেল বা সন্ধ্যায় এই বৃষ্টি হয়ে থাকে।
- এছাড়া, নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলেও গ্রীষ্মের শুরুতে এ ধরনের বৃষ্টি হতে দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫১.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের অন্যতম প্রধান কারণ-
  1. ভূমির গঠন
  2. জলবায়ু
  3. ভৌগোলিক অবস্থান
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ:

- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিয়ে থাকে।
• বাংলাদেশে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- ভৌগোলিক অবস্থান;
- জলবায়ু;
- ভূমির গঠন;
- নদী-নালার আধিক্য ইত্যাদি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ: 
প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং সাধারণত এর উপর মানুষের কোন হাত থাকে না।
যেমন - বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
 
প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহকে তিনটি বৃহৎ বিভাগভুক্ত করা যেতে পারে। যেমন- 
- বায়ুমন্ডলীয় প্রক্রিয়াসৃষ্ট climatic বাযুমন্ডলীয় দুর্যোগসমূহ (ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, টর্নেডো, হারিকেন, খরা ইত্যাদি), 
- ভূ-পৃষ্ঠের প্রক্রিয়া সৃষ্ট exogenetic দুর্যোগসমূহ (বন্যা, নদীতীর ভাঙন, উপকূলীয় ভাঙন, ভূমিধ্বস,  মৃত্তিকা ক্ষয় এবং প্রাকৃতিক ভূগর্ভস্থ পানি দূষণ), 
- এবং পৃথিবীপৃষ্ঠের অভ্যন্তরস্থ প্রক্রিয়াসৃষ্ট endogenetic ভূগর্ভস্থ দুর্যোগসমূহ (ভূমিকম্প এবং অগ্ন্যুৎপাত)

মানবসৃষ্ট দুর্যোগ: 
মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় এবং যা মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
যেমন - যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি৷

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই। 
৭৫২.
ভূ-ত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে কত ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়?
  1. ক) ২০° সেলসিয়াস
  2. খ) ২৫° সেলসিয়াস
  3. গ) ৩০° সেলসিয়াস
  4. ঘ) ৩৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে অভ্যন্তরে প্রায় ১০০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত প্রথম স্তরকে অশ্মমন্ডল বলে। অশ্মমন্ডলের উপরের অংশ ভূত্বক নামে পরিচিত। এর পুরুত্ব সবচেয়ে কম, গড়ে ২০ কিলোমিটার। ভূ-কম্পন তরঙ্গ থেকে জানা যায় যে, এ স্তরটি মূলত সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম উপাদান দিয়ে গঠিত যা সিয়াল নামে পরিচিত। ভূ-ত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। অশ্বমন্ডলের নিচে গুরুমন্ডল ও কেন্দ্রমন্ডল নামে আরো দুটি প্রধান স্তর রয়েছে। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৭৫৩.
Headley Center for Climate Prediction and Research (HCCPR)-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৮০ সালে বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় কত সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাবে?
  1. ১৫ সেন্টিমিটার 
  2. ২৫ সেন্টিমিটার
  3. ৪০ সেন্টিমিটার
  4. ৫০ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ঝুঁকি: 
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রতিকূল প্রভাবগুলোর কারণে ও সমুদ্র উপকূলীয় দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী একটি বড় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা নাজুক হয়ে ওঠেছে। 
- এটি দুই কোটি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে। 
-  International Centre for Climate Change and Development, 2020 অনুযায়ী, ১৯৭৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশে গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে
- এখানকার ৬০ শতাংশ ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে মাত্র ৫ মিটার উপরে। 
- 'Headley Center for Climate Prediction and Research (HCCPR)' এর প্রাক্কলন অনুযায়ী বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২০৮০ সালে ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাবে।  
- ফলশ্রুতিতে, অবকাঠামো, বাসস্থান, কৃষি এবং জীবিকার ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হবে। সমুদ্র উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল ঝড় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতেও থাকবে।
- 'Inter-governmental Panel on Climate Change (IPCC)' এর প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০৫০ সালে বাংলাদেশের ভূমির ১৭ শতাংশ এবং খাদ্য উৎপাদনের ৩০ শতাংশ হারিয়ে যাবে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ও বাংলা ট্রিবিউন। 

৭৫৪.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের উদাহরণ?
  1. অগ্ন্যুৎপাত
  2. ভূমিকম্প
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ:
- পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়।

 প্রাকৃতিক দুর্যোগ: 
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
- অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।

• মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।
- মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
- জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি, প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৫.
আইএফআরসি এর বৈশ্বিক দুর্যোগ রিপোর্ট ২০১৮ অনুযায়ী বিশ্বের দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
  1. ক) দ্বিতীয়
  2. খ) তৃতীয়
  3. গ) অষ্টম
  4. ঘ) পঞ্চম
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক নিয়মে প্রতিনিয়ত আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের পরিবর্তন হয়। কিন্তু যখন আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের স্থায়ী পরিবর্তন হয়, তখন তাকে জলবায়ু পরিবর্তন বলে।
• বিশ্বের সামগ্রিক পরিবেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
• আইএফআরসি এর বৈশ্বিক দুর্যোগ রিপোর্ট, ২০১৮ অনুযায়ী বিশ্বের ১৭৩টি দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে অষ্টম
• জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। যেমন- 
১। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের হার ও মাত্রা বৃদ্ধি পাছে।
২। আকস্মিক বন্যা ও ভারি বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে।
৩। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে খরা দেখা যাচ্ছে।
৪। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।  

তথ্যসূত্র:- পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৬.
২০০৪ সালের ভয়ংকর সুনামি ঢেউয়ের গতি ছিল ঘণ্টায় -
  1. ১০০-২০০ কি.মি
  2. ৩০০-৪০০ কি.মি
  3. ৭০০-৮০০ কি.মি
  4. ৯০০-১০০০ কি.মি
ব্যাখ্যা
২০০৪ সালের ভয়ংকর সুনামি ঢেউয়ের গতি ছিল ঘণ্টায় ৭০০-৮০০ কি.মি।

সুনামি:
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী ১৪টি দেশে হানা দিয়েছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী সুনামি।
- ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুমাত্রা থেকে ১০০ মাইল পশ্চিমে সমুদ্রগর্ভের প্রায় ১৯ মাইল নিচে উৎপন্ন হয় ৯ দশমিক ৩ মাত্রার ভূকম্পন। 
- ভূকম্পনটি ৮ থেকে ১০ মিনিট স্থায়ী হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমায় ফেলা পারমাণবিক বোমার চেয়ে ২৩ হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী ছিল ভূকম্পনটি।
- দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে সুদূর আফ্রিকা পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের উপকূলে আঘাত করে এই ভয়াবহ সুনামি।
- কোথাও কোথাও প্রায় ১০০ ফুট উঁচু ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ে।

⇒ সম্প্রতি
ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’:
- ২৬ মে, ২০২৪ সালের রাত ৮টার দিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে।
- ঘূর্ণিঝড়টির বিস্তৃতি ছিল প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
- ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এর নামকরণ করেছে ওমান।
- আরবিতে যার অর্থ বালি।

উৎস: i) মে ২৬, ২০২৪, The Daily Star বাংলা।
         ii) Britannica.
৭৫৭.
UDMC এর সভাপতি কে?
  1. জেলা প্রশাসক
  2. উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান
  3. ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
  4. উপজেলা নির্বাহী অফিসার
ব্যাখ্যা
UDMC:
- UDMC এর পূর্ণ রূপ হলো Union Disaster Management Committee.
- ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে এবং
- বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় Union Disaster Management Committee.



সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭৫৮.
পানিতে সহনীয় মাত্রায় আর্সেনিকের পরিমান -
  1. ক) ০.০১ মিগ্রা/লি
  2. খ) ০.০০১ মিগ্রা/লি
  3. গ) ০.০০৫ মিগ্রা/লি
  4. ঘ) ০.০০২ মিগ্রা/লি
ব্যাখ্যা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হলো ০.০১ মিলিগ্রাম। তবে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে। বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম। চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা।
(সূত্রঃ দুর্যোগকোষ)
৭৫৯.
ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বিদ্যমান-
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) সিলিকন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) আয়রন
ব্যাখ্যা

- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম।
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।
- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ- ৪২.৭%,
- সিলিকনের পরিমাণ- ২৭.৭%,
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ- ৮.১%,
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ- ৫.১%,
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ- ৩.৭%
- সোডিয়ামের পরিমাণ- ২.৮%,
- পটাসিয়ামের পরিমাণ- ২.৬% এবং
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৬০.
বাংলাদেশে কত সালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে?
  1. ক) ১৯৭৪
  2. খ) ১৯৮৮
  3. গ) ১৯৮৭
  4. ঘ) ১৯৯৮
ব্যাখ্যা
 
উৎস: modmr.portal.gov.bd/
৭৬১.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের কোন স্তরটি বেশি ব্যয়বহুল?
  1. প্রশমন 
  2. পূর্বপ্রস্তুতি
  3. সাড়াদান
  4. পুনরূদ্ধার
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management)
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে- যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ,দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।

• প্রশমন (Mitigation)
⇒ দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ীহ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।

⇒ মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর; প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।

⇒  দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৬২.
কোনটি মেঘ বিস্ফোরণের বৈশিষ্ট্য?
  1. গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও বজ্রপাত
  2. অল্প বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো বায়ুপ্রবাহ
  3. বজ্রপাত ও অতি বৃষ্টিপাত
  4. সমুদ্র উপকূলে ঝড়ের আঘাত
ব্যাখ্যা
মেঘ বিস্ফোরণ (Cloudburst):
- ক্লাউডবার্স্ট হল অল্প সময়ের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট স্বল্প জায়গায় শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাত সহ অতি বৃষ্টিপাত।
- এর ফলে আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধ্বস হতে পারে।
- সাধারণত যখন ১০ বর্গকিলোমিটার (৩.৮৬ বর্গ মাইল) অঞ্চলে এক ঘন্টার মধ্যে ১০ সেন্টিমিটার (৩.৯৪ ইঞ্চি) এর বেশি পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তাকে ক্লাউড বিস্ফোরণ বা ক্লাউডবার্স্ট বলে থাকে।
- এটি হিমালয়ান অঞ্চল এবং পার্বত্য এলাকায় বেশি ঘটে থাকে।
- সাধারণত ক্লাউডবার্স্ট বর্ষা ঋতুতে হয়ে থাকে।
- তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এর পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

⇒ মেঘ বিস্ফোরণের বৈশিষ্ট্য:
- মেঘ বিস্ফোরণ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এটি সাধারণত খুব ছোট এলাকা জুড়ে ঘটে।
- মেঘ বিস্ফোরণের পরিধি কয়েক বর্গ কিলোমিটারের বেশি হয় না।
- মেঘ বিস্ফোরণের ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়।
- কখনও কখনও এটি এতটাই প্রবল হয় যে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নদী এবং জলাশয়গুলো পানিতে ভরে যায়, যা বন্যার সৃষ্টি করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) প্রথম আলো।
৭৬৩.
পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এলাকায় বাসকারী জনগোষ্ঠী যে ধরণের বন্যা কবলিত হয় তার নাম -
  1. ক) উপকূলীয় বন্যা
  2. খ) বৃষ্টিজনিত বন্যা
  3. গ) নদীসৃষ্ট বন্যা
  4. ঘ) আকস্মিক বন্যা
ব্যাখ্যা
আকস্মিক বন্যা (Flash Flood): এপ্রিল-মে, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্পস্থায়ী ভারি বর্ষণের দরুন পাহাড়ি নদীর পানি উপচে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এলাকায় আকস্মিক ভাবে যে বন্যা দেখা যায় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- এদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রভৃতি আকস্মিক বন্যাপ্রবণ জেলা।
- ২০০২, ২০০৪, ২০০৭, ২০০৯, এবং ২০১০ সালে আকস্মিক বন্যা উত্তর পূর্ব হাওড় অঞ্চলের শীতকালীন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।

• নদীসৃষ্ট বন্যা (Reverine Flood):
- বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও পানি প্রবাহের সম্মিলিত প্রভাবে বন্যা হয়।
- জুন ও জুলাই মাসে অর্থাৎ বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ব্রহ্মপুত্র নদীখাতে সর্বোচ্চ প্রবাহ সৃষ্টি হয়।
- অপর দিকে আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে গঙ্গার পানির সর্বোচ্চ প্রবাহ সৃষ্টি হয়।
- বাংলাদেশের প্রধান নদী দুটির পানির প্রবাহ যখন সর্বোচ্চ তখন একই সময়ে ভয়াবহ বন্যার রূপ নেয় ।

• বৃষ্টিজনিত বন্যা (Rainfall Flood):
- বৃষ্টিজনিত বন্যা দেশের দক্ষিণ, পশ্চিম অঞ্চলে অধিক দেখা যায়। ভারি বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে শহর অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত বন্যা অধিক হয়।
- ২০১৪ সালের জুন মাসে ভারি বর্ষণের ফলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা হয়।

• উপকূলীয় বন্যা (Coastal Flood ):
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূল রেখা (প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সংলগ্ন এলাকাতে উপকূলীয় বন্যা দেখা যায়।
- বঙ্গোপসাগরের অগভীর মহাসোপান, বঙ্গোপসাগরে পূর্ব অংশের ফানেল ও মোচাকৃতির উপকূল রেখার কারণে ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছাসের উচ্চতা (সর্বোচ্চ ১০-১৫ মিটার) অধিক হওয়ার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা হয়।
- ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায ভয়াবহ বন্যা হয়।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৪.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজকে পর্যায়ক্রম অনুযায়ী সাজাতে হলে কোন কাজটি সর্বপ্রথমে করতে হবে?
  1. ক) পুনর্বাসন
  2. খ) দুর্যোগ প্রস্তুতি
  3. গ) ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ
  4. ঘ) দুর্যোগ প্রশমন কর্মকাণ্ড
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
- ঝুঁকি অর্থ আপদ, বিপদাপন্নতার উপাদান এবং পরিবেশের আন্তঃক্রিয়া বা সম্মিলন ও সক্ষমতার ফলে উদ্ভূত সম্ভাব্য ক্ষতিকর অবস্থা। 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ কাজটি সর্বপ্রথমে করতে হবে। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হলো
• দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করা, 
• সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা, 
• প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং 
• দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালভাবে সম্পন্ন করা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬৫.
ভূমিকম্পের প্রধান কারণ কোনটি?
  1. টেকটোনিক প্লেটসমূহের সঞ্চালন
  2. শিলাচ্যুতি বা শিলাতে ভাঁজের সৃষ্টি
  3. ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প (Earthquake): 
- পৃথিবীর কঠিন ভূত্বকের কোনো কোনো অংশ প্রাকৃতিক কোনো কারণে কখনো কখনো অল্প সময়ের জন্য হঠাৎ কেঁপে ওঠে। ভূত্বকের এরূপ আকস্মিক কম্পনকে ভূমিকম্প বলে।
- ভূকম্পন সাধারণত কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয় আবার কখনো কিছু সময় পর পর অনুভূত হয়।
- এ কম্পন কখনো অত্যন্ত মৃদু আবার কখনো অত্যন্ত প্রচণ্ড হয়।

ভূমিকম্পের প্রধান কারণ (Main causes of earthquake): 
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতকগুলো টেকটোনিক প্লেট দ্বারা গঠিত। এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
- অগ্ন্যুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকম্পন সৃষ্টি হয়।

অপ্রধান কারণ: 
১। শিলাচ্যুতি বা শিলাতে ভাঁজের সৃষ্টি: কোনো কারণে ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে বড় ধরনের শিলাচ্যুতি ঘটলে বা শিলাতে ভাঁজের সৃষ্টি হলে ভূমিকম্প হয়। ১৯৩৫ সালে বিহারে এবং ১৯৫০ সালে আসামে এ কারণেই ভূমিকম্প হয়।
২। তাপ বিকিরণ: ভূত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে ফাটল ও ভাঁজের সৃষ্টি হয়ে ভূমিকম্প হয়।
৩। ভূগর্ভস্থ বাষ্প: পৃথিবীর অভ্যন্তরে অত্যধিক তাপের কারণে বাষ্পের সৃষ্টি হয়। এই বাষ্প ভূত্বকের নিম্নভাগে ধাক্কা দেওয়ার ফলে প্রচন্ড ভূকম্পন অনুভূত হয়।
৪। ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস: অনেক সময় ভূগর্ভে হঠাৎ চাপের হ্রাস বা বৃদ্ধি হলে তার প্রভাবে ভূমিকম্প হয়।
৫। হিমবাহের প্রভাব: হঠাৎ করে হিমবাহ পর্বতগাত্র থেকে নিচে পতিত হলে ভূপৃষ্ঠ কেঁপে ওঠে এবং ভূমিকম্প
হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭৬৬.
ভূমিকম্প মোকাবেলায় কোন পরামর্শটি ঠিক নয়?
  1. ক) ঘরে হেলমেট থাকলে তা মাথায় পরা
  2. খ) খোলা জায়গায় আশ্রয় নেয়া যাবে না
  3. গ) এ সময় লিফট ব্যবহার করবেন না
  4. ঘ) গ্যাসের সুইচ বন্ধ করে দেয়া
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্পে করণীয় কিছু সতর্কতামুলক টিপস

ভূমিকম্পের প্রথম ঝাঁকুনির সঙ্গে সঙ্গে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন।

ঘরে হেলমেট থাকলে মাথায় পরে নিন, অন্যদেরও পরতে বলুন।

ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সম্ভব হলে আশপাশের সবাইকে বের হয়ে যেতে বলুন।

দ্রুত বৈদ্যুতিক ও গ্যাসের সুইচ বন্ধ করে দিন।

কোনো কিছু সঙ্গে নেওয়ার জন্য অযথা সময় নষ্ট করবেন না।

যদি ঘর থেকে বের হওয়া না যায়, সে ক্ষেত্রে ইটের গাঁথুনি দেওয়া পাকা ঘর হলে ঘরের কোণে এবং কলাম ও বিমের তৈরি ভবন হলে কলামের গোড়ায় আশ্রয় নিন।

আধাপাকা বা টিন দিয়ে তৈরি ঘর থেকে বের হতে না পারলে শক্ত খাট বা চৌকির নিচে আশ্রয় নিন।

ভূমিকম্প রাতে হলে কিংবা দ্রুত বের হতে না পারলে সজাগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয় নিন ঘরের কোণে, কলামের গোড়ায় অথবা শক্ত খাট বা টেবিলের নিচে।

গাড়িতে থাকলে যথাসম্ভব নিরাপদ স্থানে থাকুন। কখনো সেতুর ওপর গাড়ি থামাবেন না।

এ সময় লিফট ব্যবহার করবেন না।

উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৭৬৭.
প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. জলাবদ্ধতা
  2. খরা
  3. রাসায়নিক দূষণ
  4. মরুকরণ
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক দুর্যোগঃ
-  প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। 
 যেমন:
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়,
- জলোচ্ছাস,
- টর্নেডো,
- ভূমিকম্প,
- খরা,
- নদীভাঙন,
- সুনামি,
- আগ্নেয়গিরির,  ইত্যাদি।

• মানব- সৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন:
- জলাবদ্ধতা,
- অগ্নিকাণ্ড, 
- রাসায়নিক দূষণ,
- যুদ্ধ-বিগ্রহ,
- সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা,
- বনাঞ্চল ধ্বংস,
- পরিবেশ দূষণ,
- মরুকরণ,
- অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৮.
সিডর কবে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে? 
  1. ১২ নভেম্বর, ২০০৬
  2. ২৫ নভেম্বর, ২০০৯
  3. ১৫ নভেম্বর, ২০০৭
  4. ২০ অক্টোবর, ২০০৮
ব্যাখ্যা

সিডর:
- সিডর (SIDR) শব্দের অর্থ চোখ।
- সিডরকে ১৯৭০ ও ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সবচেয়ে প্রলয়ংকারী  ঘূর্ণিঝড় বিবেচনা করা হয়।
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম অনুসারে সিডরের নাম ঠিক করে।
- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৬৯.
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় সিডর কত সালে আঘাত হানে?
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৭ সালে
  3. ২০০৯ সালে
  4. ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

• সিডর :
- সিডর (Sidr) এ যাবৎকালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী।
- ২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ডভাবে আঘাত করে।
- বঙ্গোপসাগরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে উৎপত্তি লাভের পরই ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে।
- এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় প্রায় ২৬০ কিমি সাফাইর-সিম্পসন (Saffire-Simpson scale) অনুযায়ী ৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য। 
- ঘূর্ণিঝড় এবং তদুপরি জলোচ্ছাসের প্রভাবে প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারায়।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় ছাড়াও ভারতের চেন্নাই, তামিলনাড়ু এবং আরও কিছু রাজ্য সিডর এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৭০.
ঘূর্ণিঝড়ের আগে বায়ু কেমন থাকে?
  1. জলীয় বাষ্পহীন
  2. শুষ্ক ও ঝড়ো
  3. উষ্ণ ও আর্দ্র
  4. শীতল ও আর্দ্র
ব্যাখ্যা
⇒ ঘূর্ণিঝড়ের আগে বায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে।

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড়।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দ্বারা মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চলের নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৫ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- এছাড়াও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। দ্রুত উর্দ্ধগামী বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকলে ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধে প্রবল ঘূর্ণিবায়ু বাইরের থেকে কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। পরে প্রচন্ড শক্তিতে বায়ু আবর্তনের মাধ্যমে উপরের দিকে উঠতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭১.
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI)–এর কোন মানকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়?
  1. ১০১-২০০
  2. ২০১-২৫০
  3. ২৫১-৩০০
  4. ৩০১-৪০০
ব্যাখ্যা

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI):
- এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) হলো একটি পরিমাপ পদ্ধতি যা বাতাসের গুণমানকে সহজে বোঝার জন্য একটি সূচক ব্যবহার করে।
- এটি বিভিন্ন বায়ু দূষণকারীর ঘনত্বকে একটি সংখ্যা, রঙ এবং নামকরণে রূপান্তর করে, যা জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বুঝতে সাহায্য করে।

⇒ AQI ইনডেক্সে ‘ভালো’ মানের বায়ুর ক্ষেত্রে স্কোর ০-৫০।
- স্কোর ৫১-১০০ হলে তাকে ‘মাঝারি’ বা ‘গ্রহণযোগ্য’ মানের বায়ু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ১০১-১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়।
- স্কোর ১৫১-২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
- স্কোর ২০১-৩০০ হলে তাকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু ধরা হয়।
- ৩০১ থেকে তার ওপরের স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়।

 


উৎস: i) Britannica.
ii) AirNow (.gov). [link]

৭৭২.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়?
  1. ক) উপকূলীয় ভাঙ্গন
  2. খ) ভূমিধ্বস
  3. গ) মরুকরণ
  4. ঘ) মৃত্তিকাক্ষয়
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক দুর্যোগঃ
প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং সাধারণত এর উপর মানুষের কোন হাত থাকে না।
যেমন - বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
 
প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহকে তিনটি বৃহৎ বিভাগভুক্ত করা যেতে পারে যেমন
- বায়ুমন্ডলীয় প্রক্রিয়াসৃষ্ট climatic বাযুমন্ডলীয় দুর্যোগসমূহ (ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, টর্নেডো, হারিকেন, খরা ইত্যাদি), 
- ভূ-পৃষ্ঠের প্রক্রিয়া সৃষ্ট exogenetic দুর্যোগসমূহ (বন্যা, নদীতীর ভাঙন, উপকূলীয় ভাঙন, ভূমিধ্বস,  মৃত্তিকা ক্ষয় এবং প্রাকৃতিক ভূগর্ভস্থ পানি দূষণ), 
- এবং পৃথিবীপৃষ্ঠের অভ্যন্তরস্থ প্রক্রিয়াসৃষ্ট endogenetic ভূগর্ভস্থ দুর্যোগসমূহ (ভূমিকম্প এবং অগ্ন্যুৎপাত)

মানবসৃষ্ট দুর্যোগঃ
মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় এবং যা মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
যেমন - যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি৷

উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া।
৭৭৩.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদান নয় কোনটি?
  1. পূর্বপ্রস্তুতি
  2. প্রতিরক্ষা
  3. প্রশমন
  4. প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয় প্রতিরক্ষা।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি।
যথা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ,
- দুর্যোগ প্রশমন এবং
- দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।

- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মুকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেঈ সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৭৪.
‘Sendai Framework for Disaster Risk Reduction’ কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৩ সালে
  3. ২০১৫ সালে
  4. ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা

Sendai Framework for Disaster Risk Reduction:
- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।

৭৭৫.
পৃথিবীর ভূত্বকীয় প্রধান টেকটোনিক প্লেট কয়টি? 
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

টেকটোনিক প্লেট:
- পৃথিবীর ভূত্বক কোনো স্থির বা শক্ত একক স্তর নয়; বরং এটি বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত, যেগুলোকে বলা হয় টেকটনিক প্লেট।
- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ।
- পৃথিবীর ভূত্বক প্রধানত ৭টি প্রধান টেকটোনিক প্লেট দ্বারা গঠিত। 
- এগুলো পৃথিবীর পৃষ্ঠের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে। এছাড়াও অনেকগুলো ছোট প্লেট রয়েছে। এই প্লেটগুলোর ধীর গতির কারণে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির মতো ভূতাত্ত্বিক ঘটনা ঘটে। 

⇒ পৃথিবীর ভূত্বক ৭টি প্রধান টেকটোনিক প্লেট দ্বারা গঠিত। প্লেটগুলো হলো:
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate),
- উত্তর আমেরিকান প্লেট (North American Plate),
- ইউরেশিয়ান প্লেট (Eurasian Plate),
- আফ্রিকান প্লেট (African Plate),
- অ্যান্টার্কটিক প্লেট (Antarctic Plate),
- ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট (Indo-Australian Plate) ও
- দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate)।

উল্লেখ্য,
- সর্বপ্রথম ১৯১২ সালে জার্মান আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগনার ‘কন্টিনেন্টাল ড্রিফট’ নামে একটি তত্ত্ব প্রদান করেন। তাঁর এই তত্ত্বে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে ‘বহুকাল আগে সবগুলো মহাদেশ পরস্পর সংযুক্ত ছিল। একত্রে এদের প্যানজিয়া বা সুপারকন্টিনেন্ট বলা হতো।
- পরে কালের আবর্তে ভূত্বকীয় পাতের নড়াচড়ায় আলাদা আলাদা মহাদেশে বিভক্ত হয়ে যায়।
- পরবর্তী বিজ্ঞানীরা তাঁর এই তত্ত্বটির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন গবেষণা ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আধুনিকতম তত্ত্ব বের করেন, যা সবার কাছে প্লেট টেকটোনিক হিসেবে পরিচিত।
- এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূপৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত। এগুলোকে প্লেট বলে।
- এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের ওপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। এই প্লেটগুলো প্রতিবছর কয়েক সেন্টিমিটার কোনো এক দিকে সরে যায়। বিজ্ঞানীরা এ তত্ত্ব ব্যবহার করে পর্বত সৃষ্টি এবং মহাসাগর ও মহাদেশ সৃষ্টির ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন।

উৎস: Worldatlas.

৭৭৬.
সিডর (SIDR) শব্দের অর্থ কি?
  1. Cyclone
  2. Eye
  3. Ear
  4. Wind
ব্যাখ্যা
সিডর:
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম অনুসারে সিডরের নাম ঠিক করে। 
- সিডর (SIDR) শব্দের অর্থ চোখ।

উল্লেখ্য,
- সরকারি তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে ১৯৬০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ৩৫টি বড় ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের হদিস পাওয়া যায়।
- এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক পাঁচটি ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে অন্যতম সিডর।
- এ অঞ্চলে যে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে, তার নাম দেওয়া হয় ২০০৪ সালে।
- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার। 
- সিডরকে ১৯৭০ ও ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সবচেয়ে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় বিবেচনা করা হয় ।

উৎস: ১৫ নভেম্বর ২০২১, প্রথম আলো।
৭৭৭.
বাংলাদেশে সাধারণত কখন বন্যা হয়ে থাকে?
  1. বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠ
  2. পৌষ থেকে ফাল্গুন
  3. আষাঢ় থেকে ভাদ্র
  4. আশ্বিন থেকে মাঘ
ব্যাখ্যা
- বন্যা বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রতি বছর দেশের কোন না কোন স্থানে বন্যা হয়েই থাকে।
- বাংলাদেশে সাধারণত আষাঢ় থেকে ভাদ্র/আশ্বিন মাস বা মধ্য জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে বন্যা দেখায় দেয়।
- গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকা দেশের সবচেয়ে বন্যাপ্রবণ এলাকা। এসব এলাকায় মৌসুমী বন্যা হয়ে থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ দুর্যোগকোষ : ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়)
৭৭৮.
নিচের কোনটি অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধের উদাহরণ?
  1. বেড়িবাঁধ নির্মাণ
  2. নদী খনন
  3. মজবুত ঘরবাড়ি নির্মাণ
  4. গণসচেতনতা বৃদ্ধি 
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 

• প্রতিরোধ (Prevention):
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।

⇒ কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ। যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদিকার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৭৯.
চীন ও জাপানের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় কী নামে পরিচিত? 
  1. সাইক্লোন
  2. টাইফুন
  3. বাগুই
  4. হারিকেন
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- যেমন- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন,
- ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন,
- ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই,
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলিছ,
- ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮০.
অনুন্নত দেশসমূহের জন্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন কৌশলটি উপযোগী নয়?
  1. অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন
  2. প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা
  3. প্রচারণা ও সচেতনতা সৃষ্টি
  4. কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে এর ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মধ্যে রয়েছে:
- বেরিবাঁধ নির্মাণ
- আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি
- নদী খনন ইত্যাদি।
এগুলো তুলনামূলক ব্যয়বহুল হওয়ায় অনুন্নত দেশসমূহের জন্যে উপযোগী নয়।

অন্যদিকে
প্রচারণা ও গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ প্রদান প্রভৃতি অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল হওয়ায় তা দরিদ্রদেশগুলোর জন্যে উপযোগী।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৮১.
সুনামির (Tsunami) কারণ হলো-
  1. জোয়ার ভাটা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্পন
  4. চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
ব্যাখ্যা
সুনামি (Tsunami):
- সুনামির (Tsunami) কারন হলো সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প।
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ।
- এর শাব্দিক অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- এখানে 'tsu' অর্থ বন্দর বা harbour এবং 'nami' অর্থ সামুদ্রিক ঢেউ।
- সুনামির উৎপত্তি সমুদ্রতলে।
- সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদ্রপৃষ্ঠে বিশাল যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকে সুনামি বলে।
- সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮২.
নিম্নের কোনটি দুর্যোগ প্রশমনের একটি কার্যক্রম?
  1. শস্য বহুমুখীকরণ
  2. মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ
  3. ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

প্রশমন (Mitigation)
- দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ,
- শস্য বহুমুখীকরণ,
- ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ,
- অর্থনৈতিক উন্নয়ন,
- শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ,
- কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর,
- প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৮৩.
আটলান্টিক মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয়-
  1. সাইক্লোন
  2. টাইফুন
  3. হ্যারিকেন
  4. টর্নেডো
ব্যাখ্যা

- আটলান্টিক মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় হ্যারিকেন।
- প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় টাইফুন।
- বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় সাইক্লোন।
- সাধারণত স্বল্প সময় নিয়ে স্বল্প এলাকায় টর্নেডো হয়ে থাকে। স্থলভাগে উচ্চচাপ সৃষ্টির কারণে টর্নেডো হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৭৮৪.
দুর্যোগ প্রশমন বলে-
  1. ক) দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাসকে
  2. খ) দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকে
  3. গ) পুনরুদ্ধারকে
  4. ঘ) ক ও খ উভয়কেই
ব্যাখ্যা
দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে। বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন, নদী খনন, শস্য বহুমুখীকরণ, মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ ইত্যাদি দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৭৮৫.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন পর্যায়ে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি পুননির্মাণের মাধ্যমে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়?
  1. পুনরুদ্ধার
  2. প্রশমন
  3. সাড়াদান
  4. প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনাই হলো পুনরুদ্ধার।

অন্যদিকে,
দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম, নিরাপদ স্থানে অপসারণ, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাড়াদান পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাঠামোগত ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণই হলো প্রতিরোধ।
দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস ও দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিই হলো প্রশমন।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৮৬.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কোনটি?
  1. জলবায়ু পরিবর্তন
  2. প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি
  3. মেরু অঞ্চলের বরফ গলন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব: 
জলবায়ু পরিবর্তন।
→ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
→ মেরু অঞ্চলের বরফ গলন।
→ সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন।
→ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
→ রোগব্যাধি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ’সাড়াদান’ ধাপের কাজ কী?
  1. প্রশমন
  2. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  3. ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম
  4. দুর্যোগ প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
সাড়াদান (Response):
- সাড়াদান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি অংশ মাত্র।
- দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়াদানের প্রয়োজন হয়।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

পূর্বপ্রস্তুতি (Preparedness):
- দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগপূর্ব সময়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থাসমূহকে বোঝায়।
- আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা ভূমিকা অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ প্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

পুনরুদ্ধার (Recovery):
- দুর্যোগে সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা পুননির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বোঝায়।
- এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তার প্রয়োজন হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, অষ্টম শ্রেণি।
৭৮৮.
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কোন দুর্যোগটির ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে?
  1. ক) ভূমিধস
  2. খ) বজ্রপাত
  3. গ) খরা
  4. ঘ) টর্নেডাে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যু৷
-  এছাড়া ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছে বাংলাদেশ৷ বাংলাদেশে বছরে এখন প্রায় তিনশ মানুষ বজ্রপাতে মারা যান৷ 
- এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে ৷
 
উৎস: ডয়েচে ভেলে।
৭৮৯.
দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে কত ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে ৩ ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো:-
১। পূর্ব প্রস্তুতি,
২। প্রতিরোধ এবং
৩। প্রশমন। 

• দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো:-
১। সাড়া প্রদান,
২। পুনরুদ্ধার এবং
৩।উন্নয়ন।  

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ২ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯০.
কোনটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদান কোনটি?
  1. পূর্বপ্রস্তুতি
  2. প্রশমন
  3. প্রতিরোধ
  4. উপরেরর সবকটি
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি।
যথা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ,
- দুর্যোগ প্রশমন এবং
- দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।

- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মুকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেঈ সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯১.
স্থলভাগে নিম্নচাপের ফলে কোন দুর্যোগের সৃষ্টি হয়?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. টর্নেডো
  3. ভূমিকম্প
  4. বজ্রপাত
ব্যাখ্যা
- স্থলভাগে সৃষ্ট ঝড়ের গতিবেগ ১০০ কিলোমিটারের অধিক হলে সাধারণত তাকে টর্নেডো বলা হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের ন্যায় টর্নেডো সৃষ্টিরও মুখ্য কারণ নিম্নচাপ। স্থলভাগে নিম্নচাপ সৃষ্টির ফলে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু প্রবল বেগে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়ে টর্নেডোতে রূপ নেয়।
- টর্নেডোর স্থায়ীত্ব স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও এর তাণ্ডবের মাত্রা থাকে অত্যধিক।
(তথ্যসূত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৯২.
বায়ুমানের স্কোর কত পার হলে সেটাকে দুর্যোগপূর্ণ ধরা হয়?
  1. ১৫০
  2. ২০০
  3. ২৫০
  4. ৩০০
ব্যাখ্যা
বায়ুদূষণের ভয়াবহতা:
- বায়ুমানের স্কোর ৩০০ পার হলে সেটাকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ ধরা হয়। 

উল্লেখ্য,
⇒ বিভিন্ন মানের জন্য বায়ু মানের শ্রেণীবিভাগ:
- ভালো: ০-৫০।
- মাঝারি বা সহনীয়: ৫১-১০০।
- সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর: ১০১-১৫০।
- অস্বাস্থ্যকর: ১৫১-২০০।
- খুবই অস্বাস্থ্যকর: ২০১-৩০০। 
- দুর্যোগপূর্ণ: ৩০০ এর উপরে।

উৎস: প্রথম আলো।
৭৯৩.
'Bangladesh Climate and Disaster Risk Atlas' প্রতিবেদন অনুসারে, দেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি-প্রবণ জেলা কোনটি?
  1. নরসিংদী
  2. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  3. কুমিল্লা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) কর্তৃক প্রকাশিত Bangladesh Climate and Disaster Risk Atlas অনুসারে -
দেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রবণ জেলা - ৩টি।
কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী।
বন্যা প্রবণ জেলা - ১১টি।
টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও চাঁদপুর।
আকস্মিক বন্যা ও ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রবণ জেলা - ৬টি।
সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ।
দেশে খরাপ্রবণ জেলা - ১৩টি।
পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও গাজীপুর। 
খরার সঙ্গে বন্যা প্রবণ জেলা - ৬টি।
রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও কুষ্টিয়া।
বন্যা ও ভূমিকম্প প্রবণ জেলা - ৬টি।
 লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও জামালপুর।
লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড় প্রবণ জেলা - ১৬টি।
যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।

Source: পত্রিকা রিপোর্ট।
৭৯৪.
নিচের কোনটি মানব-সৃষ্ট দুর্যোগের উদাহরণ?
  1. অগ্ন্যুৎপাত
  2. অগ্নিকান্ড
  3. বন্যা
  4. ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ:
- পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়।
যেমন:
ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
খ) মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।

২. মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ ইত্যাদি। 

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৯৫.
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ কিছুটা উঁচু হয়ে তার গতিপথ পাল্টে বর্তমান যমুনা নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে কোন দুর্যোগের প্রভাবে?
  1. হিমবাহ ক্ষয়
  2. প্রচুর বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল
  3. ভূমিকম্প
  4. পাহাড় ধ্বস
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের ফলাফল (Effects of earthquakes):
- ভূমিকম্পের ফলে ভূপৃষ্ঠের অনেক ধরনের পরিবর্তন ঘটে এবং বহু ধ্বংসলীলা সাধিত হয়।
- ঘরবাড়ি, ধনসম্পদ ও যাতায়াত ব্যবস্থা বিনষ্ট হয়।
- এতে জীবনেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। 
- ভূমিকম্পের ফলে ভূত্বকের মধ্যে অসংখ্য ভাঁজ, ফাটল বা ধসের সৃষ্টি হয়।
- নদীর গতিপথ পাল্টে যায়।
- উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৭৮৭ সালে আসামে যে ব্যাপক ভূমিকম্প হয় তাতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ কিছুটা উঁচু হয়ে যায়। ফলে নদটি তার গতিপথ পাল্টে বর্তমানে যমুনা নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭৯৬.
অতীতে দুর্যোগে _____ কেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।
  1. ক) পুনরুদ্ধার
  2. খ) সাড়াদান
  3. গ) দুর্যোগ প্রশমন
  4. ঘ) দুর্যোগ প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি - দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মোকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।

দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৯৭.
ভূমিকম্পের তরঙ্গের উৎপত্তি যে স্থান থেকে হয়, তাকে কী বলে?
  1. কেন্দ্র
  2. অগ্রকেন্দ্র
  3. উপকেন্দ্র
  4. ভূকেন্দ্র
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিূকম্প বলে।
- একটি শান্ত পুকুরে টিল ছুড়লে যেভাবে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে তরঙ্গ শক্তি উৎপত্তি হয় সেখানে থেকে মুক্ত শক্তি টেউয়ের মত শিলায় তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯৮.
বাংলাদেশে কোন ধরণের বন্যা ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে?
  1. ক) উপকূলীয় বন্যা
  2. খ) মৌসুমী বন্যা
  3. গ) নগর বন্যা
  4. ঘ) আকস্মিক বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যার প্রকারভেদ : সাধারণত বন্যা চার প্রকারের হয়ে থাকে। যথা-মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং
নগর বন্যা।
১. মৌসুমী বন্যা (Seasonal Flood) : বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে মৌসুমী বন্যা বলে। কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না বরং ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তবে মাঝে মাঝে বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে ।
২. আকস্মিক বন্যা (Flash Flood) : বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে। বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায়
আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়। বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
৩. উপকূলীয় বন্যা (Coastal Flood) : উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয়, তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে ।
৪. নগর বন্যা (Urban Flood) : নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা দেখা দেয়। এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি বড় শহরে এ ধরনের বন্যা
দেখা দেয় ।
 
উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৯৯.
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা নয় কোনটি?
  1. দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।
  2. বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
  3. শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেয়া।
  4. নদীর দু'তীরে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর পানি উপচে পড়া বন্ধ করা।
ব্যাখ্যা
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Flood Control Measures):

⇒ সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা (Easy engineering management)
(১) নদীর দু'তীরে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর পানি উপচেপড়া বন্ধ করা।
(২) দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।
(৩) রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা।
(৪) বন্যা প্রবল অঞ্চলে সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের উপরে 'আশ্রয়কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠা করা।
(৫) শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া।

অন্যদিকে 
⇒ সাধারণ ব্যবস্থাপনা (General management)
(১) সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা।
(২) নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা।
(৩) নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
(৪) বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
(৫) পুকুর, নালা, বিল প্রভৃতি খনন করা এবং সেচের পানি সংরক্ষণ করা।
(৬) প্রতি বছর বন্যা মোকাবেলার জন্য সরকারিভাবে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

এছাড়াও
⇒ শ্রমসাধ্য ও ব্যয়বহুল প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা (Labour intensive and expensive engineering management)
(১) ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ খনন করে পানির পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
(২) সন্নিহিত স্থানে জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে পানিপ্রবাহকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা।
(৩) ভারত থেকে আসা পানিকে বাঁধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন করা।
(৪) সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা
(৫) নদী তীরকে স্থায়ী সুদৃঢ় কাঠামোর সাহায্যে সংরক্ষণ করা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০০.
ফুজিয়ামা কী?
  1. শহর
  2. চিত্রকর্ম
  3. আগ্নেয়গিরি
  4. হ্রদ
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয়গিরি (Volcano):
- কোনো কোনো সময় ভূগর্ভের চাপ প্রবল হলে শিলাস্তরের কোনো দুর্বল অংশ ফেটে যায় বা সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়।
- ভূপৃষ্ঠের দুর্বল অংশের ফাটল বা সুড়ঙ্গ দিয়ে ভূগর্ভের উষ্ণ বায়ু, গলিত শিলা, ধাতু, ভস্ম, জলীয়বাষ্প, উত্তপ্ত পাথরখণ্ড, কাদা, ছাই প্রভৃতি প্রবলবেগে ঊর্ধ্বে উৎক্ষিপ্ত হয়।
- ভূপৃষ্ঠে ঐ ছিদ্রপথ বা ফাটলের চারপাশে ক্রমশ জমাট বেঁধে যে উঁচু মোচাকৃতি পর্বত সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয়গিরি বলে।
- আগ্নেয়গিরির মুখকে জ্বালামুখ এবং জ্বালামুখ দিয়ে নির্গত গলিত পদার্থকে লাভা বলে।

আগ্নেয়গিরির প্রকারভেদ (Types of Volcanoes):
অগ্ন্যুৎপাতের ভিত্তিতে আগ্নেয়গিরিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

১। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (Active Volcano):
যেসব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এখনও বন্ধ হয়নি, তাকে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি বলে।
যেমন-
হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া।

২। সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (Dormant Volcano):
যেসব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত অনেককাল আগে বন্ধ হয়ে গেছে; তাদেরকে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলে।
যেমন-
জাপানের ফুজিয়ামা।

৩। মৃত আগ্নেয়গিরি (Extinct Volcano):
যেসব আগ্নেয়গিরি দীর্ঘকাল ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা নেই, সেগুলোকেইমৃত আগ্নেয়গিরি বলে।
যেমন-
ইরানের কোহিসুলতান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।