বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৯৬৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ১০ · ৩০১৪০০ / ৯৬৩

৩০১.
পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপ্রবণ স্থান কোনটি?
  1. মৌসিনরাম (ভারত)
  2. লালাখাল (বাংলাদেশ)
  3. তুতেনেন্দো (কলম্বিয়া)
  4. ক্রপ রিভার (নিউজিল্যান্ড)
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপ্রবণ স্থান:
​- পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপ্রবণ স্থান ভারতের মেঘালয়ের মৌসিনরাম।
​- এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মেঘালয় রাজ্যের পূর্ব খাসি পার্বত্য জেলায় অবস্থিত। 
​- মেঘালয় রাজ্যের খাসি পাহাড়ের দক্ষিণ ঢালে এর অবস্থানের কারণে এটি প্রচুর বৃষ্টিপাত গ্রহণ করে। 
​- গড় বৃষ্টিপাত বছরে ১১,৮৭২ মিলিমিটার বা ৪৬৭ ইঞ্চি।

​উল্লেখ্য,
​- কিছুদিন আগেও চেরাপুঞ্জি (যা মাওসিনরামের কাছেই অবস্থিত) কে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিবহুল স্থান হিসেবে ধরা হতো।

​উৎস: i) The Times of India.
​ii) BBC.

৩০২.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ?
  1. টর্নেডো
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. নদীভাঙন
  4. অগ্নিকাণ্ড
ব্যাখ্যা
দুর্যোগের ধারণা:
- কোনো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট অবস্থা যখন অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং এর ফলে শস্য ও সম্পদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন তাকে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
- দুর্যোগ দুই ধরনের। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং তার উপর সাধারণত মানুষের হাত থাকে না।
- মানবসৃষ্ট দুর্যোগ অনেকটা মানুষের কর্মকাণ্ডের ফল এবং মানুষ সচেতন ও সতর্ক থাকলে তা থেকে আত্মরক্ষা করতে পারে।
- মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় এবং যা মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে, পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে এবং সমাজকে অস্থিতিশীল করে তোলে, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
- যেমন: যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনভূমি বিনাশ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, মরুকরণ, অগ্নিকাণ্ড, দূষণ প্রভৃতি।
- প্রাকৃতিক কোনো দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় যখন কোনো জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তোলে তখন তাকে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলি।
- যেমন- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩০৩.
‘IUCN World Heritage Outlook 4’ অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সর্বাধিকভাবে কোনটির ওপর দেখা যাচ্ছে?
  1. আন্তর্জাতিক অভয়ারণ্য
  2. বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
  3. কৃষি নির্ভর গ্রামীণ এলাকা
  4. সংরক্ষিত বনাঞ্চল
ব্যাখ্যা

• IUCN World Heritage Outlook 4:
- বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (IUCN)-এর সাম্প্রতিক ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ আউটলুক ৪’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন বিশ্বের প্রায় অর্ধেক প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান “উচ্চ” বা “অতি উচ্চ” ঝুঁকিতে রয়েছে। 
- প্রতিবেদনে এই অপরিবর্তনীয় প্রতিবেশব্যবস্থাগুলো রক্ষায় বৈশ্বিক জলবায়ু পদক্ষেপ আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

- প্রতিবেদনটি ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত ২৭১টি প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থান মূল্যায়ন করে দেখতে পেয়েছে যে এর মধ্যে ১১৭টি স্থান (প্রায় ৪৩%) বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের “উচ্চ” বা “অতি উচ্চ” ঝুঁকির সম্মুখীন।
- প্রতিবেদন আরও জানায়, যেসব স্থানে জীববৈচিত্র্যের প্রাচুর্য রয়েছে, সেগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
- ২০১৪ সালে এই স্থানগুলোর ৭১% তুলনামূলক ভালো বা নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল, কিন্তু ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫২%, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নিম্ন স্তর।
- সার্বিকভাবে, সংরক্ষণ পরিস্থিতির সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিও ক্রমাগত অবনতি ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: IUCN World Heritage Outlook 4 Report। (Link1) (Link2) 

৩০৪.
বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (DDM) কবে গঠিত হয়?
  1. ১৯৭৩ সাল
  2. ১৯৯২ সাল
  3. ২০১৫ সাল
  4. ২০১২ সাল
ব্যাখ্যা

‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর':
- বাংলাদেশে ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২’ অনুমোদিত হয়।
- এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো:
• দুর্যোগ মোকাবেলার কার্যক্রমকে সমন্বিত,
• কার্যকর এবং শক্তিশালী করা।
- আইনের মাধ্যমে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, প্রস্তুতি, সাড়া প্রদান এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের জন্য একটি কাঠামো গড়ে তোলা হয়।
- এই আইনের ভিত্তিতে দুর্যোগ মোকাবেলা কার্যক্রম সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১২ সালে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম)’ প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ,
- এর পূর্বে ১৯৭৩ সালে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর এবং ১৯৯২ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো (DMB) কার্যকর ছিল, যা এই আইনের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর'- DDM-এ রূপান্তরিত হয়।

উৎস: Laws of Bangladesh ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৩০৫.
আবহাওয়া বিভাগ বিপদের গুরুত্ব অনুযায়ী নদী বন্দরের জন্য কত  ধরনের ঝড় সতর্কীকরণ সংকেত প্রদান করে? 
  1. ১-৬ ধরনের
  2. ১-১০ ধরনের
  3. ১-৭ ধরনের
  4. ১-৪ ধরনের
ব্যাখ্যা

- নদী বন্দরের জন্য ১-৪ ধরনের ঝড় সতর্কীকরণ সংকেত প্রদান করে

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস:

- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরে প্রখর সূর্যতাপে পানি বাষ্পীভূত হয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
- এরূপ একটি নিম্নচাপ বেশ কয়েকদিন ধরে শক্তি সঞ্চয় করে ও গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়।
- গভীর নিম্নচাপটি থেকে যে কোনো সময়ে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- আবহাওয়া বিভাগ সমুদ্র ও নদী বন্দরের জন্য পৃথক সংকেত প্রচার করে।
- বিপদের গুরুত্ব অনুযায়ী সমুদ্র বন্দরের জন্য এক থেকে দশ (১-১০) ধরনের ও নদী বন্দরের জন্য এক থেকে চার (১-৪) ধরনের ঝড় সতর্কীকরণ সংকেত প্রদান করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০৬.
নিচের কোনটি মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ এর উদাহরণ নয়?
  1. জলাবদ্ধতা
  2. রাসায়নিক দূষণ
  3. অগ্নিকান্ড
  4. অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা
বিপর্যয়:
বিপর্যয় বলতে বিপদ বা আপদের সম্ভাবনাকে বুঝায়। অর্থাৎ যে সকল ঘটনা একটি এলাকার জনগণের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, এমনকি একেবারে ধ্বংস করতে পারে, সে সকল ঘটনাকে বিপর্যয় বলে।

দুর্যোগ (Disaster):
একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে

বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ:

পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়। যেমন:
ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
খ) মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।
২. মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৭.
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে নিয়মিত টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়?
  1. ক) আলাস্কা
  2. খ) ক্যানসাস
  3. গ) ক্যালিফোর্নিয়া
  4. ঘ) ফ্লোরিডা
ব্যাখ্যা
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস রাজ্যে নিয়মিত টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৩০৮.
‘সেন্দাই ফ্রেম ওয়ার্ক সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল-
  1. কোরিয়ায়
  2. কাতারে
  3. কানাডায়
  4. জাপানে
ব্যাখ্যা

২০১৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ মার্চ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক : ২০১৫-২০৩০ গৃহিত হয়।
এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়।

(সূত্র: জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কার্যালয়)

৩০৯.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কোনটি?
  1. সমুদ্রের পানি নিচে নেমে যাওয়া
  2. মহাশুন্যে অভিযান
  3. নতুন সড়কপথ সৃষ্টি
  4. জলবায়ু পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব: 
→ জলবায়ু পরিবর্তন।
→ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
→ মেরু অঞ্চলের বরফ গলন।
→ সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন।
→ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
→ রোগব্যাধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়:
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।
এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো:-
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কার্বন উৎপাদনের হারকে কমিয়ে আনা;
২. যানবাহন ও কল-কারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ;
৩. যথাযথ মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার;
৪. বিকল্প জ্বালানি যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, পারমানবিক শক্তি এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব গ্যাস ব্যবহার করা;
৫. প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন;
৬. পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন;
৭. জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১০.
নিম্নের কোন জেলায় আকস্মিক বন্যার প্রকোপ লক্ষ্য করা যায়?
  1. ক) হবিগঞ্জ
  2. খ) জামালপুর
  3. গ) রংপুর
  4. ঘ) চট্রগ্রাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়। এগুলো হলো:
১। বৃষ্টিজনিত বন্যা
২। উপকূলীয় বন্যা
৩। নদীসৃষ্ট বন্যা
৪। আকস্মিক বন্যা।

আকস্মিক বন্যা
• এপ্রিল-মে, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে স্থানীয় পযার্য়ে স্বল্পস্থায়ী ভারি বর্ষণের দরুন পাহাড়ি নদীর পানি উপচে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এলাকায় আকস্মিক ভাবে যে বন্যা দেখা যায় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
• এদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রভৃতি আকস্মিক বন্যাপ্রবণ জেলা।
• আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১১.
কক্সবাজারের জলবায়ুকে কেমন জলবায়ু বলা হয়?
  1. সমভাবাপন্ন
  2. চরমভাবাপন্ন
  3. মৃদুভাবাপন্ন
  4. নিয়তভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু:
- সমুদ্র হতে দূরত্ব জলবায়ুতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে। যেমন- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।
- সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়। এ কারণে সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন ও দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১২.
ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে কম্পনের সৃষ্টি হয় তা কী নামে পরিচিত?
  1. ক) কম্পনবেগ
  2. খ) কম্পকেন্দ্র
  3. গ) কম্পনস্থল
  4. ঘ) ভূকম্পন
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প
• ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
• ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়।
• কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র বলা হয়।
• সাধারণত ভূ-ত্বকের ৩২ কি.মি. এর মধ্যে ভূমিকম্পের উৎস স্থান থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গভীরতা আরও বেশি হতে পারে। • কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে।   
• ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
• ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার। 
• ভূমিকম্পনের রেখা যে কাগজে অংকিত হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ বলে। 

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৩.
নিচের কোনটি উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কমিটি?
  1. UzDMC
  2. NDMC
  3. UDMC
  4. DDMC
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে উপজেলা পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কমিটি হলো UzDMC (Upazila Disaster Management Committee)।
- এর সভাপতি হলেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা।

অন্যদিকে,
- NDMC : National Disaster Management Council
- DDMC : District Disaster Management Committee
- UDMC : Union Disaster Management Committee.

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
৩১৪.
ভূমিকম্পের কেন্দ্র সাধারণত ভূ-অভ্যন্তরের কত কিলোমিটারের মধ্যে হয়ে থাকে?
  1. ক) ২০-২৫ কিমি
  2. খ) ১৬-২০ কিমি
  3. গ) ১২-১৬ কিমি
  4. ঘ) ১০-১৫ কিমি
ব্যাখ্যা
• ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের ফলে আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলা হয়।
• ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র বলা হয়। কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে। এই উপকেন্দ্রে ভূমিকম্পের তীব্রতা সর্বাধিক হয়ে থাকে।
• ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের সাধারণত ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে হয়ে থাকে।
• সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয়। তবে ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ণয় করা হয় রিখটার স্কেলের সাহায্যে।

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল।
৩১৫.
বিশ্বব্যাংক ২০০৯ সালে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য কতটি ঝুঁকির দিক চিহ্নিত করে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক চিহ্নিত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান ঝুঁকিসমূহ:
- বিশ্বব্যাংক ২০০৯ সালে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সৃষ্ট পাঁচটি প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে:
১) মরুকরণ
২) বন্যা
৩) ঝড়
৪) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
৫) কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা

• বাংলাদেশের অবস্থান ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকা:
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, উষ্ণায়নের এই পাঁচটি ঝুঁকির মধ্যে তিনটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রয়েছে, যা দেশটিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছে।

বিভিন্ন ঝুঁকিতে থাকা দেশসমূহ:
• বন্যা ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো:
- বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।
• ঝড়ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো:
- ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।
• মরুকরণ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো:
- মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, ইরাক, কেনিয়া, ইরান।
• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো:
- সব নীচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিশর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।
• কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো:
- সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

- এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
৩১৬.
Tsunami শব্দের অর্থ কী?
  1. পােতাশ্রয় ঢেউ
  2. উচ্চ জলোচ্ছ্বাস
  3. নদীর ঢেউ
  4. অগ্নুৎপাত
ব্যাখ্যা
সুনামি (Tsunami):
- সুনামি’ জাপানি শব্দ। বাংলায় এর অর্থ পােতাশ্রয়ের ঢেউ।
- সাগর বা নদী বা অন্য কোন জলক্ষেত্রে ভূমিকম্পের, ভূমিধ্বসের কিংবা আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলােচ্ছ্বাসকেই বলা হয় সুনামি।
- বিভিন্ন কারণে সুনামির সৃষ্টি হতে পারে।
- কারণগুলাের মধ্যে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অন্নুৎপাত, ভূমিধ্বস অন্যতম।
- তন্মধ্যে দুটি কারণ উলেখযােগ্য হলাে সমুদ্রতলের ২০-৩০ কিলােমিটার গভীরে ভূমিকম্প সংঘটন এবং টেকটোনিক প্লেটের আকষ্মিক উত্থান-পতন।
- ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক সুনামি ছিল ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামি । ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা উপকূলে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে ।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি , ব্রিটানিকা এবং বাংলাপিডিয়া। 
৩১৭.
বাংলাদেশের কোন সংস্থার মাধ্যমে ভূ-উপগ্রহের চিত্র ও রাডার চিত্র ব্যবহার করে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়?
  1. সিপিপি
  2. স্পারসো
  3. ডিজাস্টার ফোরাম
  4. বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
ব্যাখ্যা
উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি:
উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এগুলো হলো—
→ আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ:
- সময়মতো আবহাওয়ার তথ্য প্রচার করা।
- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও স্পারসো (SPARSO) স্যাটেলাইট ও রাডারের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস প্রদান করে।
→ বন্যা পূর্বাভাস:
- পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র থেকে বন্যা সংক্রান্ত তথ্য প্রচার করা।
→ সরকারি সংস্থা:
- ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (CPP) সংকেত প্রদান, সতর্কীকরণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজ করে।
- সামরিক বাহিনী জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা, উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণে সহায়তা করে।
→ গণমাধ্যমের ভূমিকা:
- বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (BTV) দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেত প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
→ বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা:
- অক্সফাম, ডিজাস্টার ফোরাম, কেয়ার বাংলাদেশ, কারিতাস, প্রশিকা, সিসিডিবি, বিডিপিসি এবং রেড ক্রিসেন্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কাজ করে।
→ এছাড়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসুত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
৩১৮.
সাইক্লোনের সময় নদীবন্দরের ক্ষেত্রে কয়টি মহাবিপদ সংকেত ব্যবহৃত হয়?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৪টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
সতর্কতা সংকেত:
- ঝড়ের সময় আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সমুদ্রবন্দরের ক্ষেত্রে ১০টি এবং নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ৪টি সংকেত নির্ধারিত আছে। এই সংকেতগুলো সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ভিন্ন বার্তা বহন করে।
• ১ নম্বর নৌ সতর্কতা সংকেত: বন্দর এলাকা ক্ষণস্থায়ী ঝোড়ো আবহাওয়ার কবলে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিবেগের কালবৈশাখীর ক্ষেত্রেও এই সংকেত প্রদর্শিত হয়। এই সংকেত আবহাওয়ার চলতি অবস্থার ওপর সতর্ক নজর রাখারও তাগিদ দেয়।
• ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত: বন্দর এলাকায় নিম্নচাপের সমতুল্য তীব্রতার একটি ঝড়, যার গতিবেগ ঘণ্টায় অনূর্ধ্ব ৬১ কিলোমিটার বা একটি কালবৈশাখী, যার বাতাসের গতিবেগ ৬১ কিলোমিটার বা তদূর্ধ্ব। নৌযান এদের যেকোনোটির কবলে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৬৫ ফুট বা তার কম দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট নৌযানকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।
• ৩ নম্বর নৌ বিপৎসংকেত: বন্দর এলাকা ঝড়ে কবলিত। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ একটানা ৬২-৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগের একটি সামুদ্রিক ঝড় শিগগিরই বন্দর এলাকায় আঘাত হানতে পারে। সব নৌযানকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।
• ৪ নম্বর নৌ মহাবিপদ সংকেত: বন্দর এলাকা একটি প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার সামুদ্রিক ঝড়ে কবলিত এবং শিগগিরই বন্দর এলাকায় আঘাত হানবে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তদূর্ধ্ব। সব ধরনের নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।
- ১ এবং ২ নম্বর সংকেত কালবৈশাখী এবং বর্ষাকালীন ঝড়ো হাওয়ার জন্য প্রযোজ্য। ৩ এবং ৪ নং সংকেত সমুদ্রবন্দরকেন্দ্রিক বড় ঝড় এবং ঘূর্ণিঝড় এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
• তাই নৌ বন্দরের জন্য ৪টি সতর্কতা সংকেত থাকলেও সাইক্লোন জনিত পূর্বাভাসের জন্য প্রযোজ্য সতর্কতা সংকেত ২টি এবং  মহাবিপদ সংকেত ১টি।

সূত্র: খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় এর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত ''ঘূর্ণিঝড় ও আবহাওয়ার নতুন সতর্ক সংকেত এবং গণদুর্যোগ বার্তা''।
৩১৯.
নিচের কোনটি বন্যা নিয়ন্ত্রণের সাধারণ ব্যবস্থার অংশ নয়?
  1. নদী খনন
  2. নদী শাসন
  3. বন্যা পূর্বাভাস উন্নয়ন
  4. নদীর তীরে বনাঞ্চল সৃষ্টি
ব্যাখ্যা

- 'নদী খনন' - বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাধারণ ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত নয়।
- এটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার 'ব্যয়বহুল প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা'র অন্তর্ভুক্ত। 

• বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Flood Control System):
ক. সাধারণ ব্যবস্থাপনা:
১) নদীর দুই তীরে প্রচুর বৃক্ষ রোপন করা।
২) নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
৩) বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
৪) পুকুর, নালা, বিল প্রভৃতি খনন ও পুনঃখনন করে পানি সংরক্ষণ করা।
৫) বন্যা মোকাবেলার জন্য সরকারি ভাবে স্থায়ী ও দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

খ. ব্যয়বহুল প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা:
১) ড্রেজিং-এর মাধ্যমে নদীর পানি পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
২) জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে পানি প্রবাহকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা।
৩) আর্ন্তজাতিক নদীসমূহে পানি প্রবাহকে বাঁধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রন ও নিষ্কাশন করা।
৪) সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
৫) নদী তীরে স্থায়ী ও সুদৃঢ় বাঁধ নির্মাণ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সংরক্ষণ করা।

গ. সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা
১) নদীর দুই তীরে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর পানি উপচে পড়া বন্ধ করা।
২) দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।
৩) রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা।
৪) বন্যা প্রবল অঞ্চলে সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের উপরে 'আশ্রয়কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠা করা।
৫) শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২০.
ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদীর গতিপথ বদলে গিয়ে কোন নদীর সৃষ্টি হয়েছে?
  1. ক) পদ্মা
  2. খ) যমুনা
  3. গ) করতোয়া
  4. ঘ) মেঘনা
ব্যাখ্যা

১৭৮২ থেকে ১৭৮৭ সালের মধ্যে সংঘটিত ভূমিকম্প ও ভয়াবহ বন্যার ফলে ব্রহ্মপুত্রের তৎকালীন গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান কালের যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়।
জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ নামক স্থানে ব্রহ্মপুত্র নদ তার পুরানো গতিপথ পরিবর্তন করে দক্ষিণাভিমুখী যমুনা নদী নামে প্রবাহিত হয়ে আরিচায় গঙ্গা (পদ্মা) নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩২১.
বিপর্যয় বলতে বুঝায়-
  1. ক) আকস্মিক ঘটনা
  2. খ) চরম প্রাকৃতিক ঘটনা
  3. গ) মানব সৃষ্ট ঘটনা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
বিপর্যয় বলতে কোনো এক আকস্মিক ও চরম প্রাকৃতিক বা মানব সৃষ্ট ঘটনাকে বুঝায়। এই ঘটনা জীবন, সম্পদ ইত্যাদির উপর প্রতিকূলভাবে আঘাত করে। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৩২২.
মহীসোপান কত ডিগ্রি কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে?
  1. ক) ১ ডিগ্রি
  2. খ) ৫ ডিগ্রি
  3. গ) ১৫ ডিগ্রি
  4. ঘ) ৪৫ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর মহাদেশসমূহের স্থলভাগের যে অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে তাকে মহীসোপান বলে। মহীসোপান ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।
- মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার।
- ইউরোপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত। উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে দ্বিতীয় বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোসাগরে মহীসোপানের বিস্তৃতি প্রায় ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং প্রথম আলো)
৩২৩.
স্যাফির-সিম্পসন স্কেল মূলত কী পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়?
  1. ভূমিকম্পে নির্গত শক্তি
  2. বাতাসের গতিবেগ
  3. ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা
  4. ভূমিকম্পের মাত্রা
ব্যাখ্যা

স্যাফির-সিম্পসন স্কেল:
- ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বিশেষত হারিকেনের তীব্রতা পরিমাপের স্কেলের নাম স্যাফির-সিম্পসন স্কেল।
- এই স্কেলটি হার্বার্ট স্যাফির এবং রবার্ট সিম্পসন তৈরি করেন। 
- স্যাফির-সিম্পসন হারিকেন উইন্ড স্কেল হারিকেন বা ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা মাপার একটি ১ থেকে ৫-এর স্কেল যা বাতাসের গতিবেগের উপর ভিত্তি করে তৈরি।
- এটি সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নির্দেশ করে।
- ক্যাটাগরি ৩ ও তার উপরের ঝড়কে "বড়" বা "গুরুতর" হারিকেন ধরা হয় যা ব্যাপক ক্ষতি ও প্রাণহানির কারণ হতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- মার্সেলি স্কেল ব্যবহৃত হয় ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপে।
- বিউফোর্ট স্কেল বাতাসের গতিবেগ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
- ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) NATIONAL WEATHER SERVICE ওয়েবসাইট।

৩২৪.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য কতটি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management)
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে- যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ,দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তিনটি:
(ক) দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের যেক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বাক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা;
(খ) প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ পৌঁছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা। সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ের কার্যক্রমকে বোঝায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩২৫.
'IMDMCC' এর পূর্ণরূপ কি?
  1. In-Ministerial Disaster Management Co-ordination Council
  2. In-Ministerial Disaster Management Co-ordination Committee
  3. In-Ministerial Disaster Management Co-ordination Centre
  4. In-Ministerial Disaster Management Co-operation Centre
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের গৃহীত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামােসমূহ নিম্নরূপ :
- Ministry of Disaster Management and Relief (MDMR)
- National Disaster Management Council (NDMC)
- In-Ministerial Disaster Management Co-ordination Committee (IMDMCC)
- Emergency Operation Centre (EOC)
- Disaster Management Bureau (DMB)

উৎস: ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৬.
নিচের কোন জ্বালানিটি ব্যবহার করে বায়ুদূষণ কমানো যায়?
  1. সিএনজি
  2. কয়লা
  3. কেরোসিন
  4. পেট্রোল
ব্যাখ্যা
বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ:
বায়ু যেমন দূষিত হয় ঠিক তেমনি দূষণও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
- বায়ু দূষণ প্রতিরোধের প্রথম উপায় হলো - বায়ুমন্ডলে দূষিত বায়ু মিশ্রিত হওয়ার পূর্বেই তা নিয়ন্ত্রণ করা।
- এছাড়া যানবাহন ও কল-কারখানার ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ, সিএনজি ব্যবহার, কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অঞ্চলভিত্তিক ভূমি ব্যবহার, বৃক্ষরোপন প্রভৃতির মাধ্যমে বায়ু দূষণ প্রতিরোধ করা যায়।
- আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই বায়ু দূষণ প্রতিরোধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং আইন মেনে চলতে হবে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৭.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোন প্রকার বৃষ্টিপাত হয়?
  1. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  2. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি
  3. পরিচলন বৃষ্টি
  4. সংঘর্ষ বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের দেশসমূহ সারা বছর সূর্যের তাপ পায় বলে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সেই সাথে উর্বর মৃত্তিকা এবং জলবায়ুর প্রভাবে চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
- এখানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

⇒ নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
- দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।
- এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয়।
- অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৮.
নিচের কোনটি উঁচু আকাশের মেঘ?
  1. নিম্বো স্ট্রাটাস
  2. কিউমুলাস
  3. সিরোস্ট্রাটাস
  4. অল্টোকিউমুলাস
ব্যাখ্যা
মেঘ:
- মেঘকে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা, আকৃতি, রঙ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের উপর অনেকভাবেই ভাগ করা হয়।
- উচ্চতা অনুসারে মেঘ হলো:

উঁচু আকাশের মেঘ:
- যারা সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ৬০০০ মিটারের উপরে থাকে।
- যেমন: সিরাস (Cirrus), সিরোকিউমুলাস (Cirro-Cumulus), সিরোস্ট্রাটাস (Cirro-Stratus).

মাঝারি আকাশের মেঘ:
- ২০০০ মিটার থেকে ৬০০০ মিটারের মধ্যে থাকে।
- অল্টোকিউমুলাস (Altocumulus), অল্টো স্ট্রাটাস (Altostratus), এই মাঝারি আকাশের মেঘ।

নীচু আকাশে মেঘ:
- যারা ২০০০ মিটারের নিচে অবস্থান করে।
- যেমন: স্ট্রাটাস (Stratus), নিম্বো স্ট্রাটাস (Nimbo- status), কিউমুলো-নিম্বাস (Cumulonimbus, কিউমুলাস (Cumulus) এবং স্ট্রাটো-কিউমুলাস (Strato- cumulus).

উৎস: National Weather Service (.gov)[লিঙ্ক]
৩২৯.
বন্যাকালীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিচের কোনটি?
  1. ক) গাছ লাগানো
  2. খ) টিউবওয়েল স্থাপন করা
  3. গ) আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া
  4. ঘ) আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা
ব্যাখ্যা
বন্যা পূর্ব ব্যবস্থাপনা (Pre- Flood Management): 
ক. বনায়ন (Forestation): বিশেষ করে বন্যা প্রবণ এলাকায় বাড়ির চারপাশে কড়ই গাছসহ অন্যান্য গাছ লাগানো যেতে পারে।
খ. বসত বাটি (Settlement): বন্যা প্রবণ এলাকায় ঘরের মেঝে উঁচু করা, সম্ভব হলে ইট সিমেন্ট এর পাকা ঘর নির্মাণ করা যেতে পারে। 
গ. বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য (Pure Water and Food): বন্যার পানিতে টিউবওয়েল যাতে না ডুবে এমন স্থানে টিউবওয়েল স্থাপন করা উচিত। বন্যার সময় বাড়িতে মুড়ি, চিড়া, গুড় প্রভৃতি শুকনো খাবার মজুদ রাখতে হবে। নিরাপদ স্থানে ফসলের বীজ সংরক্ষণ করতে হবে।
ঘ. সম্পদ (Property): গবাদি পশু, মূল্যবান সম্পদ বন্যার পূর্বে মূল্যবান স্থানে সরিয়ে রাখতে হবে।
ঙ. আশ্রয়কেন্দ্র (Shelter): বন্যার সময় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে। তবে এই ক্ষেত্রে শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবর্তী মহিলা এবং মেয়েদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

বন্যাকালীন ব্যবস্থাপনা (During Flood Management): 
ক. আশ্রয় (Shelter): বন্যার সময় নিকটস্থ উঁচু স্থান, বাঁধে অথবা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে হবে। 
খ. বিশুদ্ধ পানি (Pure Water): পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বা ফিটকিরি বা ফুটিয়ে অথবা টিউবওয়েলের পানি পান করতে হবে।
গ. সুরক্ষা (Safety): কার্বলিক এসিড মিশ্রিত সাবান টুকরা ঘরের চারকোণে রাখলে সাপ ঢুকবে না।
ঘ. ত্রাণ (Relief): সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণসামগ্রী যা পাওয়া যায় তা দিয়ে অভাব মিটাতে হবে এবং ত্রাণ প্রদানকারীদের সহায়তা প্রদান করতে হবে।

বন্যা পরবর্তী ব্যবস্থাপনা (Post Flood Management): বন্যা পরবর্তী ব্যবস্থাপনাসমূহ নিম্নরূপ:
ক. বন্যার পরপরই পানি বাহিত বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন টাইফয়েড, ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে তাই প্রতিষেধক হিসেবে টিকা দেওয়া যেতে পারে।
খ. বন্যার পানি সরে যাওয়ার সাথে সাথে নিজের বসতবাটিতে ফিরে যেতে হবে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে বাসযোগ্য করতে হবে বা পূনঃনির্মাণ করা যাবে।
গ. স্বল্প সময়ে উৎপাদন যোগ্য ফসল চাষ, বাড়িতে শাক সবজি ফলানো, পুকুর ডোবায় মাছ সংগ্রহ অর্থাৎ জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে।
 
সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩০.
কোন স্তরে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি সৃষ্টি হয়?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. স্ট্রাটোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা
• ট্রপোমন্ডল (Troposphere):
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন হওয়ায় এ স্তর জীবজগতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
- এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে। ফলে আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় এবং এই স্তরেই আবহাওয়া ও জলবায়ুর সব রকমের বৈচিত্র্য দেখা যায়।

- এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে।
- এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫০ সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩১.
ঘূর্ণিঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ কত হতে হয়?
  1. ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার
  2. ঘণ্টায় ৬৪ কিলোমিটার বা তার বেশি
  3. ঘণ্টায় কমপক্ষে ৭০ কিলোমিটার
  4. ঘণ্টায় কমপক্ষে ৯০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড়।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দ্বারা মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চলের নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৪ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- এছাড়াও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। দ্রুত উর্দ্ধগামী বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকলে ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধে প্রবল ঘূর্ণিবায়ু বাইরের থেকে কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। পরে প্রচন্ড শক্তিতে বায়ু আবর্তনের মাধ্যমে উপরের দিকে উঠতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩২.
মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়?
  1. ক) শৈলোৎক্ষেপ
  2. খ) পরিচলন
  3. গ) সংঘর্ষ
  4. ঘ) ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• বর্ষাকালে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে ফেরেলের সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু হিসেবে প্রবাহিত হয়।
• সমুদ্র থেকে আগত হওয়ায় এই বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকে। ফলে এই মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
• এই প্রক্রিয়ায় বর্ষাকালে দেশের সারা বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ বৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩৩৩.
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে কোন ধরনের বন্যা সৃষ্টি হয়?
  1. মৌসুমী বন্যা
  2. আকস্মিক বন্যা
  3. উপকূলীয় বন্যা
  4. নগর বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বাভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাতের ফলে বা পাহাড়ি ঢলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা হতে দেখা যায়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩৪.
বাংলাদেশের দেওয়া নামে প্রথম ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ হয়েছিল-
  1. ক) অনিল
  2. খ) বিজলি
  3. গ) রেশমী
  4. ঘ) আইলা
ব্যাখ্যা
২০০৪ সালে বাংলাদেশের দেওয়া ‘অনিল’ নামে প্রথম ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ হয়েছিল। এই ঘূর্ণিঝড় ভারতে আঘাত করেছিল। বাংলাদেশে আঘাত হানা নামকরণ হওয়া প্রথম ঘূর্ণিঝড়টি ছিল ‘সিডর’। এটি ছিল ওমানের দেওয়া নাম। সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা।
৩৩৫.
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় ’আইলা’ কত সালে আঘাত হানে?
  1. ২৯শে নভেম্বর, ১৯৮৮
  2. ২৯শে এপ্রিল, ১৯৯১
  3. ১৫ নভেম্বর, ২০০৭
  4. ২৫শে মে, ২০০৯
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘটিত উল্লেখযোগ্য ঘূর্ণিঝড়সমূহ:
→ ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম - ভোলা (১২ নভেম্বর, ১৯৭০ সালে সংঘটিত হয়)।
→ ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম - ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় (২৯শে নভেম্বর, ১৯৮৮)।
→ ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম - ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় (২৯শে এপ্রিল, ১৯৯১)।
→ ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম -  সিডর (১৫ নভেম্বর, ২০০৭)।
→ ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম - আইলা (২৫শে মে, ২০০৯)।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৬.
বাংলাদেশে 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে-
  1. ক) জাপান
  2. খ) যুক্তরাজ্য
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

- ২৯ এপ্রিল, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে এবং এসময় বাংলাদেশে মার্কিন টাস্কফোর্স 'অপারেশন সি-এঞ্জেল' ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে।
- 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে বাংলাদেশে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে যুক্তরাজ্য।
- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- এই ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম 'অপারেশন সি-এঞ্জেল-২'।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট।

৩৩৭.
বাংলাদেশে বছরের কোন সময়ে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়?
  1. বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ
  2. আষাঢ়- শ্রাবণ
  3. কার্তিক-অগ্রহায়ণ
  4. ভাদ্র-আশ্বিন
ব্যাখ্যা
• কালবৈশাখী ঝড়:
- কালবৈশাখী ঝড় বাংলাদেশের অতি পরিচিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিল থেকে মে (বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠ) মাসে কালবৈশাখী ঝড় দেখা দেয়। বে বৈশাখ মাসেই কালবৈশাখীর প্রকোপ বেশি থাকে।
- এই ঝড়ের গতিবেগ ৫৫ থেকে ৮০ কি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩৮.
দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. পূর্ব প্রস্তুতি
  2. প্রশমন
  3. পুনরুদ্ধার
  4. সাড়াদান
ব্যাখ্যা

পূর্ব প্রস্তুতি:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি বলে।

প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করাকে প্রশমন বলে।
- দুর্যোগ প্রশমন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মজবুত ও পাঁকা ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর, বনায়ন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রভৃতি।

পুনরুদ্ধার:
- দুর্যোগের ফলে সম্পদ, অবকাঠামো, পরিবেশ ইত্যাদির যে ক্ষতি হয় তা পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পুনরুদ্ধার বলে। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়। যেমন- ঘরবাড়ি নির্মাণ, রাস্তাঘাট মেরামত ইত্যাদিতে অর্থ ও প্রযুক্তি যোগান।

তথ্যসূত্র - ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৯.
বিশ্বব্যাংকের মতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ কোনটি?
  1. ভারত
  2. চীন
  3. বাংলাদেশ
  4. ভিয়েতনাম 
ব্যাখ্যা

জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ দেশ:
- ‘দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি, আর এর মধ্যেই সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।’— বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
- প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে পড়বে এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ গুরুতর বন্যার ঝুঁকিতে থাকবে। উপকূলে পানি ও মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
- ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আদার সাউথ এশিয়ান কান্ট্রিজ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স উইল বি প্রাইভেট সেক্টর লেড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মূল চাপ এখন পরিবারের ওপর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর গিয়ে পড়েছে। জরিপে দেখা গেছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে কোনো না কোনো ধরনের আবহাওজনিত ধাক্কার আশঙ্কা করছে দক্ষিণ এশিয়ার তিন-চতুর্থাংশ পরিবার ও প্রতিষ্ঠান।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- এগুলো হলো: মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।

উল্লেখ্য,
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

⇒ বৈশ্বিক ঝুঁকিতে থাকা পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১২টি করে দেশের তালিকা:
• বন্যা: বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।
• ঝড়: ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।
• মরুকরণ: মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, শাদ, কেনিয়া, ইরান।
• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: সব নিচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিসর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।
• কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা: সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক। [link]

৩৪০.
বাংলাদেশের কোন জেলায় আকস্মিক বন্যা সবচেয়ে বেশি ঘটে?
  1. মৌলভীবাজার
  2. কুমিল্লায়
  3. ফেনী
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা

বন্যা (Flood):
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে। - প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- সাধারণত বন্যা চার প্রকারের হয়ে থাকে।
- যথা:
১. মৌসুমী বন্যা,
২. আকস্মিক বন্যা,
৩. উপকূলীয় বন্যা,
৪. নগর বন্যা.

আকস্মিক বন্যা (Flash Flood):
- এপ্রিল-মে, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্পস্থায়ী ভারি বর্ষণের দরুন পাহাড়ি নদীর পানি উপচে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এলাকায় আকস্মিক ভাবে যে বন্যা দেখা যায় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- এদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রভৃতি আকস্মিক বন্যাপ্রবণ জেলা।
- ২০০২, ২০০৪, ২০০৭, ২০০৯, এবং ২০১০ সালে আকস্মিক বন্যা উত্তর পূর্ব হাওড় অঞ্চলের শীতকালীন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪১.
আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের সময় ভূমিকম্প হওয়ার কারণ কোনটি?
  1. তাপ সংকোচন
  2. বহির্মুখী বাষ্পরাশির চাপ
  3. পাহাড় ধসের কারনে
  4. ভূমিধস
ব্যাখ্যা

- আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের সময় বহির্মুখী বাষ্পরাশির চাপে ভূমিকম্প হয়।

ভূমিকম্পের কারণ:

- সাধারণত: প্রাকৃতিক ভূমিকম্প আভ্যন্তরীন ও কৃত্রিম ভূমিকম্প বাহ্যিক কারণে হয়।
- ভূমিকম্পের নিম্নলিখিত কারণসমূহ নির্ণয় করেছেন-
১. কোন কারণে ভূ-অভ্যন্তরে বড় রকমের শিলাচ্যুতি ঘটলে ভূমিকম্প হয়। চ্যুতির ফলে কোন অংশ নীচে ধ্বসে যায় বা
উপরে উঠে আসে। নীচের অংশ যতই তলদেশে যায় ততই তাপে গলে শক্তি বের হয়ে ফাটল সৃষ্টি করে বলে উপরের অংশে কম্পণ হয়।
২. ভূ-আলোড়নের ফলে ভূ-অভ্যন্তরে প্রবল ফ্রিকশান (friction) হয়ে কতক অংশ ধসে পড়ে (land slip), ফলে ভূ-ত্বক কেঁপে ওঠে এবং ভূমিকম্প হয়।
৩. ভ-অভ্যন্তর উত্তপ্ত। তাই তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হচ্ছে। ফলে শিলাস্তর ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য স্থান পরিবর্তন করলে ভূ-ত্বক কম্পিত হয়।
৪.ভূ-গর্ভে সঞ্চিত বাষ্প-চাপ বেশী হলে নিম্নভাগে প্রবলভাবে ধাক্কা দেয়, এতে ভূমিকম্প হয়।
৫. ভূ-গর্ভে চাপ হ্রাস পেলে এর অভ্যন্তরস্থ উত্তপ্ত কঠিন পদার্থ গলে নিচের দিকে অপসারিত ও আলোড়িত হতে থাকে, এতে ভূ-ত্বক কেঁপে ওঠে।
৬. Elastic Rebound এর কারণে শিলাস্তর নিচের দিকে পতিত হলেও ধাক্কা খেয়ে পূর্বের স্থানে ফিরে ভূত্বক-এ ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে।
৭. আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের সময় বহির্মুখী বাষ্পরাশির চাপে ভূমিকম্প হয়।
৮. পাহাড় পর্বত থেকে বড় রকম শিলাচ্যুতি হলে ভূমিকম্প হয়।

উৎস: প্রাকৃতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪২.
কোন পর্যায়ে দূর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি  মূল্যায়ন করা হয়?
  1. উদ্ধার পর্যায়ে
  2. প্রভাব প্রর্যায়ে
  3. পুর্নবাসন পর্যায়ে
  4. প্রতিরোধ পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
- পুনর্বাসন পর্যায়ে দুর্যোগের ক্ষতি মূল্যায়ন করা হয়।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- সাধারণভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলতে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করার জন্য দুর্যোগ পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে যে কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় সেগুলোর সমন্বিতরূপকে বুঝায়।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না বলে ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের জন্য বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
- নতুবা দুর্যোগে সবকিছু হারিয়ে মানবজীবন হয়ে উঠে দুর্বিষহ।
- দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত আলোচিত বিষয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য:
১. দুর্যোগকালীন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা;
২. দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ জনগণের জন্য স্বল্প সময়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণ, চিকিৎসাসামগ্রী ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
৩. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা।

•'পুনর্বাসন” অর্থ-
- দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পূর্বাবস্থায় বা অধিকতর ভাল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
- ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মানসিক, অর্থনৈতিক ও ভৌত কল্যাণ সাধনসহ তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকায় স্বাভাবিক জীবন, জীবিকা ও কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনা;
- ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, প্রয়োজনে, অন্যত্র স্থানান্তর করা;
- ক্ষতিগ্রস্ত গবাদি পশু, মৎস্য, ইত্যাদির সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট খামার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা;
- পুকুর, নদী-নালা, খাল, বিল, জলাধারে মৃত মানুষ, গবাদি পশু, মৎস্য, ইত্যাদি অপসারণের ত্বড়িৎ ব্যবস্থা করা এবং এদের বিষাক্ত পানি শোধনের ব্যবস্থা করাসহ মানুষ ও জীব-জন্তুর জন্য বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা;
- ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিষাক্ততা অপসারণের লক্ষ্যে বিষাক্ত জীবাণু ও ময়লা-আবর্জনা পরিস্কারের ব্যবস্থাসহ এটি হতে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
৩৪৩.
বাংলাদেশে সাধারণত কয় ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়ে থাকে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
এগুলো হলো:
১। বৃষ্টিজনিত বন্যা
২। উপকূলীয় বন্যা
৩। নদীসৃষ্ট বন্যা
৪। আকস্মিক বন্যা।

বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
৩৪৪.
আপদ (Hazard) এর প্রত্যক্ষ প্রভাব কোনটি?
  1. ক) অর্থনৈতিক
  2. খ) পরিবেশগত
  3. গ) অবকাঠামোগত
  4. ঘ) সামাজিক
ব্যাখ্যা
‘‘আপদ (Hazard) ’’ অর্থ এমন কোন অস্বাভাবিক ঘটনা যাহা প্রাকৃতিক নিয়মে, কারিগরি ত্রুটির কারণে অথবা মানুষের দ্বারা সৃষ্ট হইয়া থাকে এবং ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে এবং জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহের ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষতিসহ দুঃখ দুর্দশার সৃষ্টি করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প,বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।

আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা - যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।
• প্রাকৃতিক আপদ হল- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি
• মানবসৃষ্ট আপদ হল- ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি
• কারিগরি আপদ হল- বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি

 
উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
৩৪৫.
বাংলাদেশের কোথায় 'আকস্মিক বন্যা' হতে দেখা যায়?
  1. মৌলভীবাজার
  2. কিশোরগঞ্জ
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাতের ফলে বা পাহাড়ি ঢলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা হতে দেখা যায়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪৬.
দুর্যোগ প্রশমন বলতে কী বুঝানো হয়?
  1. দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা
  2. দুর্যোগ পরবর্তী সহায়তা
  3. দুর্যোগকালীন ত্রাণ সহায়তা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।
প্রশমন (Mitigation)
• দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে।
• মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।
• দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৭.
দেশের কোন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় সবচেয়ে বেশি আঘাত হানে?
  1. ক) পূর্বাঞ্চলে
  2. খ) দক্ষিণাঞ্চলে
  3. গ) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
  4. ঘ) উত্তরাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় এবং টর্নেডো অন্যতম। কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
• সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যাওয়ায় একে কালবৈশাখী ঝড় বলে।
• মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়। এ ঝড়ই কালবৈশাখী ঝড় নামে পরিচিত।
• এ সময় বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়। অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে। দেশের পূর্বাঞ্চলে এ ঝড় অধিক হয়ে থাকে। 

তথ্যসূত্র:- ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৮.
বাংলাদেশে সাধারণত কোন কোন মাসে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে?
  1. জানুয়ারী ও মার্চ
  2. মার্চ ও নভেম্বর
  3. এপ্রিল ও মে
  4. মে ও জুন
ব্যাখ্যা
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড় (Anti-cyclone)।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- আমাদের দেশে প্রায় প্রতি বছর সাধারণত মার্চ ও নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৯.
সাধারণত কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগটি বাংলাদেশ হয়না?
  1. ভূমিকম্প
  2. টর্নেডো
  3. খরা
  4. দাবানল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ।
- তবে বাংলাদেশে কোন আগ্নেয়গিরি না থাকায় এখানে অগ্ন্যূৎপাত কিংবা দাবানল সংঘটিত হয় না।

অন্যদিকে,
বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ হলো:
- বন্যা
- ঘূর্ণিঝড়
- টর্নেডো
- জলোচ্ছ্বাস
- নদীভাঙন
- খরা
- বজ্রপাত
- শৈত্য প্রবাহ
- ভূমিধ্বস প্রভতি।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া
৩৫০.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন পর্যায়ে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়? 
  1. ক) পুনরুদ্ধার 
  2. খ) সাড়াদান
  3. গ) প্রশমন 
  4. ঘ) প্রতিরোধ 
ব্যাখ্যা
- দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে উদ্ধার ও তল্লাশি, নিরাপদ স্থানে অপসারণ, ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা প্রভৃতি সাড়াদানের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অন্যদিকে,
- দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হলো পুনরুদ্ধার।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৫১.
NPDRR এর পূর্ণরূপ -
  1. ক) National Planning for Disaster Risk Resilience
  2. খ) National Platform for Disaster Risk Reduction
  3. গ) National Plan for Disaster Risk and Resilience
  4. ঘ) National Platform for Disaster Risk Recovery
ব্যাখ্যা
MoDMR এর পূর্ণরূপ  - Ministry of Disaster Management and Relief
NDMAC  এর পূর্ণরূপ -  National Disaster Management Advisory Committee
NDMC  এর পূর্ণরূপ - National Disaster Management Council
NOC  এর পূর্ণরূপ - No Objection Certificates
NPDM  এর পূর্ণরূপ - National Plan for Disaster Management
NPDRR  এর পূর্ণরূপ - National Platform for Disaster Risk Reduction
NRP  এর পূর্ণরূপ - National Resilience Programme
 
উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট
৩৫২.
বাংলাদেশে মোট কতটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা রয়েছে?
  1. ১১টি
  2. ১৩টি
  3. ১৫টি
  4. ১৭টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

- এলাকাগুলো হলো: 

১) সুন্দরবন
২) কক্সবাজার–টেকনাফ সমুদ্র সৈকত
৩) সেন্টমার্টিন দ্বীপ
৪) সোনাদিয়া দ্বীপ
৫) হাকালুকি হাওর
৬) টাঙ্গুয়ার হাওর
৭) মারজাত বাওড়
৮) গুলশান–বারিধারা লেক
৯) বুড়িগঙ্গা নদী
১০) তুরাগ নদী
১১) বালু নদী
১২) শীতলক্ষ্যা নদী
১৩) জাফলং–ডাউকি নদী


তথ্যসূত্র: i) পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৩৫৩.
কোনটি সবচেয়ে কঠিন খনিজ?
  1. রূপা
  2. হীরা
  3. সোনা
  4. তামা
ব্যাখ্যা
সবচেয়ে কঠিন খনিজ - হীরা।

• খনিজ:
- ভূ-পৃষ্ঠ নানা প্রকার রাসায়নিক মৌলিক উপাদান একত্রে মিলিত হয়ে যে যৌগিক পদার্থের সৃষ্টি করে, তাকে খনিজ বলে।
- তবে কিছু কিছু খনিজ একটি মাত্র মৌল দ্বারাও গঠিত হতে পারে। যেমন- হীরা, সোনা, তামা, রূপা, পারদ ও গন্ধক ।

- এর মধ্যে হীরার কাঠিন্য সবচেয়ে বেশি এবং টেলক এর কাঠিন্য সর্বনিম্ন।
- খনিজ তরল, কঠিন ও বায়বীয় এই তিন ধরনের হয়।
- শিলা ও খনিজের মূল পার্থক্য হচ্ছে খনিজ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানে গঠিত আর বিভিন্ন খনিজের সমন্বয়ে শিলা গঠিত।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৪.
'তল্লাশি ও উদ্ধার' কোনটির আওতাভুক্ত?
  1. সাড়াদান
  2. উন্নয়ন
  3. প্রতিরোধ
  4. পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

• সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম -১০ম শ্রেনি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৫.
দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে যে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয় -
  1. ক) পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন
  2. খ) সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং প্রশমন
  3. গ) পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং পুনরুদ্ধার
  4. ঘ) সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় এবং
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়।

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় : দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।   
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায় : দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।   

তথ্যসূত্র:- ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৬.
ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র নামকরণ করেছে কোন দেশ?
  1. কাতার
  2. ওমান
  3. সৌদি আরব
  4. বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র নামকরণ: 
- ২০২৪ সালের অক্টোবরে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হয়েছে ‘দানা’।
- এ নামকরণ করেছে কাতার।
- এটি আরবি শব্দ। অর্থ, বড় মুক্তার দানা।
- বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়গুলির নামকরণ করে একটি প্যানেল।
- এ অঞ্চলে যে ঘূর্ণিঝড়গুলো হয়, ২০০২ সাল থেকে এ প্যানেলের সদস্য দেশগুলো সেগুলোর নামকরণ করে থাকে।
- প্রতি চার বছর পর পর সদস্য দেশগুলো বৈঠক করে আগে থেকেই পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে থাকে।
- ইকোনোমিক এন্ড স্যোশাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্যা প্যাসিফিক প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত সদস্য দেশগুলো এই অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের আগাম নামকরণ করে থাকে।
- এই নামকরণই দেশের নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী যেখানে ঘূর্ণিঝড় হয় সেখানে সে নামেই এটি পরিচিত হয়।
- এই তালিকায় রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ইরান, কাতার, ইয়েমেন, ওমান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় প্রবণতা: 
- বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় প্রবণতার দুটি মৌসুম রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদরা।
- এ মৌসুম দুটির একটি ‘প্রি মুনসুন’ এর আওতায় মার্চ, এপ্রিল, মে এই তিন মাস অন্তর্ভুক্ত।
- আরেকটি ‘পোস্ট মুনসুন’ অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর এ তিন মাস এই মৌসুমের অন্তর্ভুক্ত।
- অক্টোবর মাস ঘূর্ণিঝড় প্রবণ মাস।
- ১৮৯১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অক্টোবরে শুধু ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে ৫১টি।
- অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে ৪৩টি”
- মোট ৯৪টি ঘূর্ণিঝড় এ সময়ে তৈরি হয়েছে।
- এর মধ্যে ১৯টি বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে বলে জানান মি. মল্লিক।
- গতবছর ২১ থেকে ২৫শে অক্টোবরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ হয়েছে।
- এটা চট্টগ্রামে উপকূলের দক্ষিণ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- এর আগের বছর চিত্রা ঘূর্ণিঝড় এ মাসেই তৈরি হয়েছিল।
- এই ঘূর্ণিঝড় দানাও সেই প্রবণতারই অংশ। 

উৎস: বিবিসি বাংলা [২৪ অক্টোবর ২০২৪]
৩৫৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল?
  1. ক) বেরিবাঁধ নির্মাণ
  2. খ) অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা
  3. গ) কাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা
  4. ঘ) আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত উভয় প্রকার প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

- কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা যেমন: বেরিবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি খুবই ব্যয়বহুল। যার কারণে এসব ব্যবস্থা অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যে উপযোগী নয়।

অন্যদিকে,
- গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ প্রদান প্রভৃতি অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল হওয়ায এসব ব্যবস্থা দরিদ্রদেশগুলোর জন্যে উপযোগী।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৫৮.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়-
  1. ক) গ্রীষ্মকালে
  2. খ) শরৎকালে
  3. গ) শীতকালে
  4. ঘ) সারা বছর
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে সূর্যকিরণ সারা বছর লম্বভাবে পড়ে। এ দুটি কারণে এখানকার বায়ুমণ্ডলে সারা বছর জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে। জলীয়বাষ্প হাল্কা বলে সহজেই তা উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে ঝরে পড়ে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর প্রতিদিনই বিকেল অথবা সন্ধ্যার সময় এরূপ বৃষ্টিপাত হয়। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৩৫৯.
শ্রমসাধ্য এবং ব্যয়বহুল বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কোনটি?
  1. ক) নদীর তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি
  2. খ) নদী শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা
  3. গ) সরকারিভাবে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা
  4. ঘ) ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর পানি পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
৩৬০.
উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে যে ধরণের বন্যা?
  1. ক) বৃষ্টি জনিত বন্যা
  2. খ) আকস্মিক বন্যা
  3. গ) জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
  4. ঘ) নদীজ বন্যা
ব্যাখ্যা
জলোচ্ছ্বাস:
- সমুদ্রে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে অর্থাৎ চোখ বরাবর নিম্নচাপ থাকে। ফলে, উক্ত স্থানের সমুদ্রের পানি ফুলে উঠে এবং ১৫-৪০ ফুট উঁচু হয়ে ঝড়ের সাথে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসতে থাকে।
- এই উঁচু জলরাশি স্থলভাগে আঘাত হানলে তাকে জলোচ্ছ্বাস বলে।
- ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবার সময়ে যদি পূর্ণিমা বা অমাবস্যা থাকে, তাহলে সমুদ্রের পানি আরও ফুলে উঠে এবং প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয়।
- ১৯৭০ সালে ভোলায় ৪০ ফুট এবং ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম উপকূলে ১৫-২০ ফুট জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল।

- জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে।
- তবে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে অনেক কার্যকরী পদক্ষেপ নেবার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক হ্রাস পেয়েছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৩৬১.
কোন তিন ধরনের কার্যক্রম দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে চালানো হয়?
  1. ক) সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন
  2. খ) সাড়া প্রদান, প্রতিরোধ এবং প্রশমন
  3. গ) পূর্ব প্রস্তুতি, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন
  4. ঘ) পুনরুদ্ধার, প্রতিরোধ এবং প্রশমন
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র 
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় এবং
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়।

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়: দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।   

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়: দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬২.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের -
  1. নদ-নদীর পানি কমে যাবে
  2. বৃষ্টিপাত কমে যাবে
  3. উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে
  4. উত্তাপ কমে যাবে
ব্যাখ্যা
• সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন:
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিশর, ভিয়েতনাম, ফিজি, কিরিবাতি, টুভ্যালু প্রভৃতি দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
- এছাড়া কৃষি জমি লবণাক্ত হয়ে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাবে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৩.
সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. নয়াদিল্লি
  2. গুজরাট
  3. কাঠমান্ডু
  4. থিম্পু
ব্যাখ্যা
- সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ভারতের গুজরাটের গান্ধীনগরে অবস্থিত।

• সার্ক:
- গঠিত হয়: ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ সালে।
- সচিবালয়: কাঠমান্ডু, নেপাল।
- সার্কভুক্ত দেশের সংখ্যা: ৮ টি।
- ২০০৬ সালের অক্টোবরে ভারতের নয়াদিল্লিতে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- ২০১৬ সালে সার্ক আবহাওয়া কেন্দ্র, সার্ক বন কেন্দ্র এবং সার্ক উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রকে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের সাথে একীভূত করা হয়।
- তখন এটির কার্যালয় নয়াদিল্লি থেকে গুজরাটের গান্ধীনগরে স্থানান্তর করা হয়।
- বর্তমানে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ভারতের গুজরাটের গান্ধীনগরে অবস্থিত।

সার্কের কিছু আঞ্চলিক কেন্দ্র সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশে অবস্থিত। যথা:
- সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র: গুজরাট, গান্ধীনগর ভারত,
- সার্ক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র: কলম্বো, শ্রীলংকা,
- সার্ক কৃষিবিষয়ক কেন্দ্র ও আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র: ঢাকা, বাংলাদেশ,
- সার্ক যক্ষ্মা ও এইচআইভি/এইডস কেন্দ্র: কাঠমান্ডু, নেপাল,
- সার্ক শক্তি কেন্দ্র: পাকিস্তান,
- সার্ক বন গবেষণা কেন্দ্র: থিম্পু, ভুটান,
- সার্ক মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র: ইসলামাবাদ, পাকিস্তান,
- সার্ক উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র: মালদ্বীপ।

উৎস: সার্ক ওয়েবসাইট।
৩৬৪.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে ‘নদী খনন কার্যক্রম’ কোন স্তরে অন্তর্ভুক্ত? 
  1. প্রতিরোধ 
  2. পুনরুদ্ধার  
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. সাড়াদান
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:  
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন। 
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো। 

• প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে। 
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে। 
- কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। 
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। 
- অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ, যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।   

• দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি:
দুর্যোগের প্রাক্কালে সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জনগণকে সচেতন করা, দুর্যোগের সময় দ্রুত সাহায্য পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি তৈরি করা এবং উপকরণ সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়গুলির অন্তর্ভুক্ত।

• পুনরুদ্ধার (Recovery): 
- দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়।
- এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়।

• সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৩৬৫.
SPARRSO কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৮১
  2. ১৯৮০ 
  3. ১৯৮৪
  4. ১৯৮৮
ব্যাখ্যা

• SPARRSO:
- বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (SPARRSO) প্রযুক্তি ভিত্তিক বহুমাত্রিক গবেষণা ও প্রয়োগ বিষয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
- SPARRSO পূর্ণরূপ: Bangladesh Space Research and Remote Sensing Organization (SPARRSO)
- ১৯৮০ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধীন স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানান্তর করা হয়।
- ১৯৯৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য স্পারসোকে “ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট” নির্ধারণ করা হয়।
- এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও এ অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: SPARRSO এর ওয়েবসাইট।

৩৬৬.
দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে 'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক'-এর কয়টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
-  ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।
৩৬৭.
ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় কী নামে পরিচিত?
  1. টাইফুন
  2. সাইক্লোন
  3. বাগিও
  4. হ্যারিকেন
ব্যাখ্যা

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন-
- ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে 'সাইক্লোন'
- জাপানের উপকূলে 'টাইফুন'
- ফিলিপাইনে 'বাগিও'
- মেক্সিকো উপকূলে 'হ্যারিকেন'
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে 'সাইক্লোন' ইত্যাদি।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩৬৮.
ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বেতারতরঙ্গ কোন স্তরে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে?
  1. ক) স্ট্রাটোমন্ডল
  2. খ) আয়নমন্ডল
  3. গ) মেসোমন্ডল
  4. ঘ) এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের উপরের দিকে ৮০ কি.মি. থেকে ৫০০ কি.মি. পর্যন্ত স্তর হলো তাপমন্ডল। তাপমন্ডলের নিচের অংশকে বলা হয় আয়নমন্ডল।
- ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বিভিন্ন বেতারতরঙ্গ আয়নমন্ডলের বিভিন্ন আয়নে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৬৯.
কোনটি দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ের অংশ?
  1. পূর্ব প্রস্তুতি
  2. প্রশমন
  3. সাড়াদান
  4. প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
 দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
 দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় এবং
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়।

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়: দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।   

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়: দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।



উৎস: একাদশ শ্রেনীর ভূগোল বোর্ড বই, ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭০.
নিম্নের কোন অঞ্চলে টাইফুন হয়?
  1. কিউবা
  2. মিয়ানমার
  3. তাইওয়ান
  4. মেক্সিকো
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone।
- এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ।
- বিজ্ঞানী হেনরি পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রথম এ শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।

⇒ টাইফুন:
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'।
- চীন, তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

⇒ হারিকেন:
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্য এবং পূর্ব উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর এবং মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে 'হারিকেন' বলা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।

⇒ সাইক্লোন:
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত।
- সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।

উল্লেখ্য,
যেসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড় হয় না:
- পৃথিবীর বিষুব রেখা বরাবর সাগরে সাধারণত কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।
- বিষুব রেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়।
- অন্যদিকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরেও কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।

উৎস: i) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৩৭১.
নিচের কোনটি ভূমিকম্পের প্রভাবে পরিবর্তন হয় না?
  1. নদীর গতিপথ পরিবর্তন
  2. সমুদ্রতলের পরিবর্তন
  3. তাপমাত্রা পরিবর্তন
  4. ভূমির উত্থান ও অবনমন
ব্যাখ্যা
⇒ তাপমাত্রার পরিবর্তন ভূমিকম্পের প্রভাবের  সাথে সম্পর্কিত নয়।

ভূমিকম্পের ফলাফল ও প্রভাব (Results and Effects of Earthquake):

ফাটল ও চ্যুতির সৃষ্টি:
- ভূমিকম্পের দরুন ভূ-ত্বকে অসংখ্য ফাটল ও চ্যুতির সৃষ্টি হয়। ভূ-ত্বকে চ্যুতি সৃষ্টির ফলে চ্যুতির মধ্যবর্তী ভূ-ভাগ নিচের দিকে নেমে যায়, যাকে Rift Valley বলে এবং যখন উপরের দিকে ওঠে যায় তখন তাকে হর্স্ট (Horst) বা স্তূপ পর্বত বলে।
সমুদ্রতলের পরিবর্তন:
- ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রতলের অনেক স্থান ওপরে উত্থিত হয় এবং স্থলভাগের অনেক স্থান সমুদ্রতলে ডুবে যায়।
নদীর গতিপথ পরিবর্তন:
- ভূমিকম্পের ফলে নদীর গতি পরিবর্তিত হয়, নদী শুঁকিয়ে যায় কখনও জলাভূমির সৃষ্টি হয়। 
ভূমির উত্থান ও অবনমন:
- ভূমিকম্পের ফলে উচ্চভূমি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হয় অথবা সমভূমি অঞ্চল অবনমিত হয় এবং পানি জমে হ্রদের সৃষ্টি করে। সমুদ্রের তলদেশের কোনো স্থান উঁচু হয়ে সমুদ্রের মধ্যে দ্বীপের সৃষ্টি করে।
ভাঁজের সৃষ্টি:
- ভূমিকম্পের ফলে ভূ-পৃষ্ঠে ভাঁজের সৃষ্টি হয়।
হিমানী সম্প্রপাত:
- ভূ-কম্পনের ফলে পর্বতগাত্র থেকে বৃহৎ বরফ খন্ডগুলো নিচে পতিত হয়।
ভূ-পাত:
- ভূমিকম্পের ফলে পার্বত্য অঞ্চলের বিশাল শিলাখন্ড নিচে পতিত হয় এবং পর্বতের পাদদেশে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বন্যার সৃষ্টি:
- ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যায় অথবা সাথে সাথেই পানির উচ্চতা বেড়ে ১৫-২০ মিটার উঁচু হয়ে ঢেউয়ের আকারে সমুদ্র উপকূলে বন্যার সৃষ্টি করে।
মানবীয় ক্ষয়ক্ষতি:
- সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস ও সুনামির জন্য প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধ্বসের দরুণ পাহাড়ের পাদদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং অনেক সময় ভূমিতে ফাটল সৃষ্টি হলে রাস্তাঘাট অকেজো হয়ে পড়ে। নগর এবং গ্রামীন জনপদে বহু ঘরবাড়ি ধবংস হয়ে যায়। ধ্বংসস্তুপের তলায় চাপা পড়ে মারা যায় গৃহপালিত পশু ও মানুষ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭২.
বাংলাদেশকে কতটি ভূমিকম্প অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূমিকম্প অঞ্চল:
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ এ, 
দেশকে চারটি ভূমিকম্প অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে মাটির গতিবিধি বিভিন্ন স্তরের।
অঞ্চল ১: Z = ০.১২
অঞ্চল ২: Z = ০.২
অঞ্চল ৩: Z = ০.২৮
অঞ্চল ৪: Z = ০.৩৬

- প্রতিটি অঞ্চলে একটি সিসমিক জোন সহগ (Z) রয়েছে, যা মাটির সর্বোচ্চ বিবেচিত ত্বরণ (PGA) নির্দেশ করে।
- এই ত্বরণ কঠোর মাটি/শিলা (সাইট ক্লাস SA) এর জন্য g (মাধ্যাকর্ষণ ত্বরণ) এর এককে মাপা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ শহরের ভূমিকম্প তথ্য:
অঞ্চল ৪ (সর্বাধিক ভূমিকম্প প্রবণ): উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট) অন্তর্ভুক্ত। PGA = ০.৩৬g।
ঢাকা শহর: মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২)।
চট্টগ্রাম শহর: উচ্চ ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২৮)।

ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই এ, 
১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূকম্পনীয় অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
যথা-
অঞ্চল ১: (মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৭); উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
অঞ্চল ২: (মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৬); মধ্য অঞ্চল
অঞ্চল ৩: (কম ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৫); দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০
৩৭৩.
সমুদ্র বন্দরের জন্য সতর্ক সংকেত কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা

• সতর্ক সংকেত:
- ঝড়ের সময় আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সমুদ্রবন্দরের ক্ষেত্রে ১১টি এবং নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ৪টি সংকেত নির্ধারিত আছে।
এই সংকেতগুলো সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ভিন্ন বার্তা বহন করে।
- সমুদ্রবন্দর সমূহের জন্যে সংকেত ১১টি।
এগুলো হলো:
• ১-নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেত,
• ২-নং দূরবর্তী হুশিয়ারি সংকেত,
• ৩-নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত,
• ৪-নং স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত,
• ৫-নং বিপদ সংকেত,
• ৬-নং বিপদ সংকেত,
• ৭-নং বিপদ সংকেত,
• ৮-নং মহাবিপদ সংকেত,
• ৯-নং মহাবিপদ সংকেত,
• ১০-নং মহাবিপদ সংকেত,
• ১১-নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত।

উল্লেখ্য:
- বাংলাদেশে নদীবন্দর সমূহের জন্যে দুর্যোগের সংকেত চারটি।
এগুলো হলো:
• ১-নং নৌ সতর্ক সংকেত,
• ২-নং নৌ হুশিয়ারি সংকেত,
• ৩-নং নৌ বিপদ সংকেত,
• ৪-নং নৌ মহাবিপদ।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৩৭৪.
BCCSAP-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Bangladesh Climate Change System and Action Plan
  2. Bangladesh Climate Control Strategy and Action Plan
  3. Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan
  4. Bangladesh Coastal Climate Strategy and Action Plan
ব্যাখ্যা

BCCSAP: 
​- BCCSAP-এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan.
​- এটি বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০০৯ সালে প্রণীত একটি নীতিগত দলিল, এর উদ্দেশ্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি সুসংগঠিত কৌশল নির্ধারণ করা। 
​- এই কর্মপরিকল্পনা ছয়টি মূল ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে গঠিত: খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা ও জ্ঞান ব্যবস্থাপনা, কম-কার্বন উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতা বৃদ্ধি।
​- BCCSAP-এর আওতায় ৪৪টি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, এগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। 
​- এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।  

​সূত্র: International Climate Finance Cell ওয়েবসাইট।  

৩৭৫.
সাইক্লোনে বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় কত থাকে?
  1. ক) ৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি
  2. খ) ৫৩ কিলোমিটার বা তার বেশি
  3. গ) ৬০ কিলোমিটার বা তার বেশি
  4. ঘ) ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি
ব্যাখ্যা
সাইক্লোন সৃষ্টির পেছনে ‍গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা।
- সাধারণভাবে সাগরের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তা সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে উপযোগী হয়।
- বঙ্গোসাগরে প্রায় সারাবছর এই পরিমাণ তাপমাত্রা থাকার কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে একে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৬.
ভূমিকম্পের কেন্দ্র উপকেন্দ্রের সঙ্গে কয় ধরনের পরিমাপ সম্পর্কযুক্ত?
  1. ক) ৩ ধরনের
  2. খ) ৪ ধরনের
  3. গ) ৫ ধরনের
  4. ঘ) ৬ ধরনের
ব্যাখ্যা
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র উপকেন্দ্রের সঙ্গে তিন ধরনের পরিমাপ সম্পর্কযুক্ত।

• ভূমিকম্প:

- ১৫৪৮ সাল থেকে বাংলাদেশে এবং তৎসংলগ্ন এলাকাতে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগ্রহ শুরু হয়।                 
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র উপকেন্দ্রের সঙ্গে তিন ধরনের পরিমাপ সম্পর্কযুক্ত।
- অগভীর কেন্দ্র (০-৭০ কিলােমিটার), মধ্য পর্যায়ের কেন্দ্র (৭০- ৩০০ কিলােমিটার) এবং গভীর কেন্দ্র (১,৩০০ কিলােমিটার)।
- বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উপকেন্দ্র না থাকলেও সংলগ্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব হিসেবে বাংলাদেশেও ভূকম্পন অনুভূত হয়।

এছাড়াও,
- সমগ্র বাংলাদেশকে ৪টি ভূ-কম্পন অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- ২০২০ সালের 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) রিপোর্টে ৪টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।
- অঞ্চলগুলো হলো -
১) খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল।)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.36
২) গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.28
৩) মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.2
৪) কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৭৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কর্মরত বেসরকারি সংস্থা-
  1. ক) অরবিস
  2. খ) রোটারী
  3. গ) ডিজাস্টার ফোরাম
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহ যেমনঃ অক্সফাম, ডিজাস্টার ফোরাম, প্রশিকা, সিসিডিবি, বিডিপিসি, কারিতাস, কেয়ার বাংলাদেশ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৩৭৮.
ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এর নামকরণ করেছে কোন দেশ?
  1. ওমান
  2. মালদ্বীপ
  3. মিয়ানমার
  4. ইরান
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’:
- ২৬ মে, ২০২৪ সালের রাত ৮টার দিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে।
- ঘূর্ণিঝড়টির বিস্তৃতি ছিল প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
- ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এর নামকরণ করেছে ওমান।
- আরবিতে যার অর্থ বালি।

উৎস: ইত্তেফাক, ২৫ মে ২০২৪ ও বণিক বার্তা, ২৭ মে ২০২৪।
৩৭৯.
পৃথিবীর গভীরতম স্থান কোনটি?
  1. ক) কেম্যান ট্রেঞ্চ
  2. খ) চ্যালেঞ্জার ডিপ
  3. গ) টোঙ্গা ট্রেঞ্চ
  4. ঘ) পুয়ের্টোরিকো ট্রেঞ্চ
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর গভীরতম স্থান হলো চ্যালেঞ্জার ডিপ। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা সমুদ্রখাতের মধ্যে অবস্থিত।
- চ্যালেঞ্জার ডিপের গভীরতা প্রায় ৩৬,১৯৭ ফুট।
- টোঙ্গা ট্রেঞ্চ পৃথিবীর দ্বিতীয় গভীরতম স্থান।

(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৩৮০.
আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলোকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. টর্নেডো
  2. টাইফুন
  3. সাইক্লোন
  4. হারিকেন
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড় হারিকেন:
- সাধারণত আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলোকে হারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।
- এটি প্রতি ঘন্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল প্রতি ঘন্টা) বেগে প্রবাহিত হয়।
- একটি হ্যারিকেন থেকে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যা হতে পারে।

উৎস:NASA ওয়েবসাইটে এবং NOAA ওয়েবসাইট।

৩৮১.
কত সালে "জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন" তৈরি করা হয়?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০১০:
- বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালে 'জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০১০' তৈরি করেন।
- ১৩ অক্টোবর ২০১০ সালে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০১০ এর বিল পাশের মাধ্যমে 'বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট' প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই ট্রাস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং দুর্যোগ প্রশমন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
- ট্রাস্টের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমন এবং স্থানচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে রয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল এর সার্বিক পরিচালনার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০ এর ধারা ৯ অনুযায়ী একটি ট্রাস্টি বোর্ড রয়েছে।
- ট্রাস্ট ফান্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহনেরে ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ বোর্ড।
- ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী।
- প্রাপ্ত প্রকল্পসমূহের যাচাই-বাছাই করার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০ এর ধারা ১২ অনুযায়ী একটি কারিগরি কমিটি রয়েছে।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এর কার্যাবলি:
- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের সার্বিক ব্যবস্থাপনা;
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ট্রাস্টি বোর্ড এবং কারিগরি কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান;
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ হতে প্রাপ্ত প্রকল্পসমুহ কারিগরি কমিটিতে উপস্থাপন এবং কারিগরি কমিটি কর্তৃক  সুপারিশকৃত প্রকল্প প্রস্তাবসমুহ ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় উপস্থাপন;
- ট্রাস্টি বোর্ড এর সিদ্ধান্তসমুহ বাস্তবায়ন করা;
- ভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফোকাল পয়েন্টদের সাথে সমন্বয় সাধন;
- জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত সুবিধাভোগী, সিভিল সোসাইটি সাথে, এনজিও, প্রাইভেট সেক্টর এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ স্থাপন;
- বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ণ কার্যক্রম গ্রহণ করা।

তথ্যসূত্র: জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০ ও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
৩৮২.
কোনটি "Biological Disaster" এর উদাহরণ?
  1. বন্যা
  2. সোয়াইন ফ্লু
  3. খরা
  4. ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
- "Biological Disaster" এর উদাহরণ হলো সোয়াইন ফ্লু।
- এই ধরনের দুর্যোগে সাধারণত জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের মাধ্যমে পরিবেশে ব্যাপক ক্ষতি হয়, যা মানুষের স্বাস্থ্যকে সরাসরি প্রভাবিত করে।

দুর্যোগ: 

- প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট কারণে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ।
- দুর্যোগের ধরন ও দুর্যোগ সৃষ্টির কারণের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে দুর্যোগঝুঁকির পরিবেশকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

যথা-
→ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ,
→ মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ এবং
→ জৈবিক দুর্যোগ ঝুঁকির (Biological Disaster) পরিবেশ।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিসমূহ হলো- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধ্বস, ভূমিকম্প এবং বজ্রপাত ।
- এছাড়াও বাংলাদেশে মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশের মধ্যে বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারের কারণে প্রায় চামড়া শিল্প, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, রাসায়নিক শিল্পের দুঘর্টনা উল্লেখযোগ্য।
- এর মধ্যে অন্যান্য উদাহরণ হিসেবে ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাস, ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্লু, জিকা ভাইরাস প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত।
 
সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৩.
'বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট' প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. ২০০৭ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ২০১০ সালে
  4. ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০১০:
- বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালে 'জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০১০' তৈরি করেন।
- ১৩ অক্টোবর ২০১০ সালে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০১০ এর বিল পাশের মাধ্যমে 'বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট' প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই ট্রাস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং দুর্যোগ প্রশমন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
- ট্রাস্টের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমন এবং স্থানচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে রয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল এর সার্বিক পরিচালনার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০ এর ধারা ৯ অনুযায়ী একটি ট্রাস্টি বোর্ড রয়েছে।
- ট্রাস্ট ফান্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহনেরে ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ বোর্ড।
- ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী।
- প্রাপ্ত প্রকল্পসমূহের যাচাই-বাছাই করার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০ এর ধারা ১২ অনুযায়ী একটি কারিগরি কমিটি রয়েছে।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এর কার্যাবলি:
- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের সার্বিক ব্যবস্থাপনা;
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ট্রাস্টি বোর্ড এবং কারিগরি কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান;
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ হতে প্রাপ্ত প্রকল্পসমুহ কারিগরি কমিটিতে উপস্থাপন এবং কারিগরি কমিটি কর্তৃক  সুপারিশকৃত প্রকল্প প্রস্তাবসমুহ ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় উপস্থাপন;
- ট্রাস্টি বোর্ড এর সিদ্ধান্তসমুহ বাস্তবায়ন করা;
- ভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফোকাল পয়েন্টদের সাথে সমন্বয় সাধন;
- জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত সুবিধাভোগী, সিভিল সোসাইটি সাথে, এনজিও, প্রাইভেট সেক্টর এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ স্থাপন;
- বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ণ কার্যক্রম গ্রহণ করা।

তথ্যসূত্র: জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০ ও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
৩৮৪.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন পর্যায়ে প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট আপদে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি মানবিক সেবা সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ নিশ্চিত করা হয়?
  1. দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রম
  2. জরুরি সাড়াদান
  3. পুনর্বাসন, পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার
  4. দুর্যোগ প্রস্তুতি
ব্যাখ্যা
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (এনপিডিএম):
- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (এনপিডিএম) হলো বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ বিষয়ক ভিশন, মিশন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদ্ধতির দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা এবং কর্মসূচির আলোকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের জন্য পরিচালিত কৌশলগত পরিকল্পনা।
- এই পরিকল্পনায় ঝুঁকি অবহিতিমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের অংশগ্রহণে এর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

⇒ এনপিডিএম ২০২১-২০২৫ দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক সেন্দাই কর্মকাঠামো (এসএফডিআরআর) ও বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি (এসওডি)-এর মৌলিক নীতিমালার আলোকে দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পরষ্পরযুক্ত নিম্নলিখিত পাঁচটি পর্যায়ে উন্নতি বিধানের লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।
১) দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রম:
- পদ্ধতিগত উপায়ে দুর্যোগঝুঁকি নিরূপণ, বিশ্লেষণ এবং পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজের সামগ্রিক বিপদাপন্নতা ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস নিশ্চিত করা;
২) দুর্যোগ প্রস্তুতি:
- যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী পর্যায়ে প্রয়োজনীয় বা যথাযথ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা;
৩) আগাম সতর্কতা ও হুঁশিয়ারি:
- কোন আসন্ন আপদ থেকে জীবন, সম্পদ ও মূল্যবান দ্রব্যাদি রক্ষার জন্য কার্যকর সতর্কীকরণ নিশ্চিত করা;
৪) জরুরি সাড়াদান:
- প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট আপদে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি মানবিক সেবা সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ নিশ্চিত করা;
৫) পুনর্বাসন, পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার:
- দুর্যোগ পরবর্তী প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আগের চেয়ে ভালো অবস্থায় প্রত্যাবর্তনের কার্যকর কৌশল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

উৎস: জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা।
৩৮৫.
বাংলাদেশে বন্যার প্রাকৃতিক কারণ কোনটি?
  1. উজানে প্রচুর বৃষ্টি
  2. মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব
  3. ভৌগোলিক অবস্থান
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood): 
- বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বন্যা অন্যতম।
- এ দেশের মানুষের কাছে বন্যা যেমন ভয়াবহ তেমনি অর্থনৈতিক অবস্থার উপর অপরিসীম প্রভাব ফেলে।
- প্রকৃতপক্ষে এ দেশের প্রেক্ষিতে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়ে যদি মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতিসাধন হয় তাহলেই বন্যা হয়েছে বলে ধরা হয়।

বন্যার প্রাকৃতিক কারণ: 
- উজানে প্রচুর বৃষ্টি
- ভৌগোলিক অবস্থান
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব
- নদীর গভীরতা কম
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ
- বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা
- ভূমিকম্প

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৮৬.
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কে কত সালের মধ্যে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত লক্ষ্য স্থির করা হয়?
  1. ২০২৬ সাল
  2. ২০৩০ সাল
  3. ২০৩৫ সাল
  4. ২০৪০ সাল
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

⇒ সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।
৩৮৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করা
  2. দ্রুত প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো ও পূণর্বাসন নিশ্চিত করা
  3. পুনরুদ্ধার ব্যতীত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা
  4. দুর্যোগকালীন সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য: 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য তিনটি হলো-
(ক) দুর্যোগকালীন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা;
(খ) দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো ও পূণর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৮.
উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত সমুদ্র অঞ্চলঘেঁষা এশিয়ায়(দূরপ্রাচ্যে) সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোকে বলা হয়-
  1. ক) টাইফুন
  2. খ) সাইক্লোন
  3. গ) হ্যারিকেন
  4. ঘ) জোয়ান
ব্যাখ্যা
উত্তর আটলান্টিক, উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত, ক্যারিবিয়ান সমুদ্র ও মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে উৎপন্ন গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়কে (আমেরিকা মহাদেশে) ‘হ্যারিকেন’, উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত সমুদ্র অঞ্চলঘেঁষা এশিয়ায় সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোকে(দূরপ্রাচ্যে) ‘টাইফুন’, দক্ষিণ এশীয় উপমহাদেশে বলা হয় সাইক্লোন এবং বাংলায় ঘূর্ণিঝড়। পাশ্চাত্যে হারিকেনকে মানুষের নামেও চিহ্নিত করা হয়, যেমন: মিচেল, এনড্রু, ক্যারল, ডরোথি এবং ইভ। সূত্র- বাংলাপিডিয়া ও বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম।
৩৮৯.
বাংলাদেশ সরকারের কোন প্রতিষ্ঠানটি উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে?
  1. সিপিপি
  2. সিসিডিবি
  3. প্রশিকা
  4. বিডিপিসি
ব্যাখ্যা
• উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি:
 উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার কতিপয় পন্থা সম্পর্কে বর্ণনা করা
হলো:
১. আবহাওয়ার তথ্যভিত্তিক পূর্বাভাস ও সর্তীকরণ যথা সময়ে প্রচার করা।
২. বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসো-এর মাধ্যমে ভূ-উপগ্রহের চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণের ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।

৩. পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হতে বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।
৪. ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তি সংকেত দান, সতর্কীকরণ, উদ্ধার ও পূণর্বাসন ইত্যাদি কাজে সরকারি সংস্থা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) এর কার্যক্রমের আওতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
৫. জরুরি পরিস্থিতিতে আর্তদের চিকিৎসা, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পূণর্বাসন কাজে সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ কর্তৃক বেসামরিক প্রশাসনকে সব রকম সাহায্য ও সহযোগিতা দান করা।

৬. বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন সংস্থা কর্তৃক দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেতসমূহ প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।
৭. সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহ যেমন- অক্সফাম, ডিজাস্টার, ফোরাম, কেয়ার বাংলাদেশ, কারিতাস, প্রশিকা, সিসিডিবি, বিডিপিসি (বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি কেন্দ্র) ইত্যাদি সংস্থার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা।
এছাড়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯০.
‘সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-৩০’ হচ্ছে একটি -
  1. সুনামি দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
  2. জাপানের উন্নয়ন কৌশল
  3. দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
  4. ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
ব্যাখ্যা
• সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ২০১৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ মার্চ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক : ২০১৫-২০৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয়।
৩৯১.
আবহাওয়া অধিদপ্তরকে মেঘচিত্র সর্বরাহ করে পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণে সহায়তা করে কোন সংস্থাটি?
  1. ক) বিডিপিসি
  2. খ) অক্সফাম
  3. গ) স্পারসো
  4. ঘ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
মহাকাশ গবেষণার সরকারি প্রতিষ্ঠান স্পারসো ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে আবহাওয়া অধিদপ্তরকে নিয়মিতভাবে মেঘচিত্র সর্বরাহ করে পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণে সহায়তা করে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই
৩৯২.
১৯৪১ সালে কোন সাগরে ভূমিকম্পের ফলে বঙ্গোপসাগরে সুনামি সংগঠন হয়?
  1. ক) আরব সাগর
  2. খ) আন্দামান সাগর
  3. গ) আটলান্টিক মহাসাগর
  4. ঘ) বঙ্গোপসাগরে কখনো ভূমিকম্প হয় নি
ব্যাখ্যা
১৯৪১ সালে আন্দামান সাগরে ভূমিকম্পের ফলে বঙ্গোপসাগরে সুনামি সংগঠন হয় যার ফলে প্রচন্ডভাবে ভারতের পূর্ব উপকূল প্রচন্ডভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই
৩৯৩.
ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত কোন তথ্যটি ভুল?
  1. ক) ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত
  2. খ) ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে
  3. গ) বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয়
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয়। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৩৯৪.
বাংলাদেশের কোন সংস্থা ভূ-উপগ্রহ চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ করে?
  1. সিপিপি
  2. রেড ক্রিসেন্ট
  3. স্পারসো
  4. প্রশিকা 
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার কতিপয় পন্থা:
- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসো-এর মাধ্যমে ভূ-উপগ্রহের চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণের ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। 

- পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হতে বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।
- ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তি সংকেত দান, সতর্কীকরণ,উদ্ধার ও পূণর্বাসন ইত্যাদি কাজে সরকারি সংস্থা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি)-এর কার্যক্রমের আওতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

- জরুরি পরিস্থিতিতে আর্তদের চিকিৎসা, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পূণর্বাসন কাজে সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ কর্তৃক বেসামরিক প্রশাসনকে সব রকম সাহায্য ও সহযোগিতা দান করা।
- বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন সংস্থা কর্তৃক দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেতসমূহ প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৫.
কোনটি জলজ আবহাওয়া জনিত দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত?
  1. তুষারপাত
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. বন্যা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
Hydro-meteorological দুর্যোগ:
- Hydro-meteorological শব্দটি দুটি অংশ থেকে গঠিত: Hydro এর অর্থ পানি সংশ্লিষ্ট এবং Meteorological অর্থ আবহাওয়া বা জলবায়ু সংক্রান্ত ঘটনা।
- Hydro-meteorological দুর্যোগ বলতে মূলত জলবায়ু ও আবহাওয়াজনিত কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলিকে বোঝায়।
- বন্যা, ভূমিধস উভয় hydro-meteorological দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত।
- এই দুর্যোগগুলো সরাসরি জলবায়ু (Climate) এবং আবহাওয়ার (Weather) পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- প্রধানত বৃষ্টিপাত, বায়ুর গতি, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন এই দুর্যোগগুলির কারণ।
- এই দুর্যোগগুলি মানুষ এবং পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
- জলজ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের কিছু উদাহরণ হলো: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, ভারি বৃষ্টি, খরা, তুষারপাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯৬.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো, যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগ সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য ৩টি। উদ্দেশ্যগুলো হলো-
(ক) দুর্যোগকালিন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা।
(খ) দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো ও পূণর্বাসন নিশ্চিত করা।
(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৭.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চল কম ভূমিকম্প প্রবণ?
  1. উত্তর - পশ্চিম
  2. উত্তর - পূর্ব
  3. দক্ষিণ - পশ্চিম
  4. দক্ষিণ - পূর্ব
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূ-কম্পন অঞ্চল:
- ২০১৬ সালে প্রকাশিত 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) রিপোর্ট অনুযায়ী, সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে।

অঞ্চলগুলো হলো:
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল:
উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল)।
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.36
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল:
উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.28
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল:
নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.2
৪. কম ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল:
দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)।
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.12

উল্লেখ্য,
BANGLADESH NATIONAL BUILDING CODE (BNBC) সর্বপ্রথম ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রিপোর্টে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্প সংঘটন অঞ্চলে (Seismic Zone) বিভক্ত করে।
অঞ্চলগুলো হলো:
১.মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ: উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা -৭),
২.মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ: মধ্যাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৬),
৩. কম ঝুঁকিপূর্ণ: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা-৫)।
পরে, ২০০৬ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও তিনটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও,
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বইয়ের সর্বশেষ সংস্করণে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রির্পোর্ট অনুসারে, ভূমিকম্পের প্রবণতার ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে ৩টি অঞ্চলে ভাগ করে দেখানো হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ-জাতীয়-বিল্ডিং-কোড-(BNBC Seismic Design সমীক্ষার রিপোর্ট) ওয়েবসাইট।
৩৯৮.
নিচের কোন দুর্যোগের কার্যকর পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়?
  1. বন্যা
  2. ভূমিকম্প
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. খরা
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র (Centre বা Focus) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
- ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য,
- কোন ধরনের আগাম সতর্ক সংকেত ব্যতীত অর্থাৎ কার্যকর পূর্বাভাস ছাড়া সংঘটিত দুর্যোগ হলো ভূমিকম্প।

⇒ ভূমিকম্প নির্ণয় যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার।
- ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে।
- এই রিখটার স্কেলে এক মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানে তার শক্তি ৩১গুন বেড়ে যাওয়া।
- রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আমরা অনুভব করতে পারি।

⇒ ভূমিকম্পের প্রধান কারণ:
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত।
- এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
- আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়।

উৎস: i) ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৩৯৯.
সম্প্রতি (সেপ্টেম্বর ২০২৩) ঘূর্ণিঝড় ‘ড্যানিয়েল’ কোন দেশে আঘাত হানে?
  1. মরক্কো
  2. লিবিয়া
  3. কানাডা
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ‘ড্যানিয়েল’:
- স্মরণকালের শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ড্যানিয়েলের’ তাণ্ডবে সুনামির মতো লিবিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের বহু মানুষ সাগরে ভেসে যায়।
- দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েল।
- এর তাণ্ডবে ভেসে যায় ঘর-বাড়ি, যানবাহনসহ বহু গবাদি পশু।

উল্লেখ্য,
- লিবিয়ায় উদ্ধারকাজ বিঘ্ন হওয়ার একটি কারণ অবশ্য রাজনৈতিক।
- লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দুটি সরকার রয়েছে দেশটিতে।
- একটিকে সমর্থন করে পশ্চিমারা।
- আরেকটি হলো লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সরকার।
- এই রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে উদ্ধারকাজে গতি আসছে না।

উৎস: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো।
৪০০.
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কোন দুর্যোগটির ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে?
  1. ভূমিকম্প
  2. ভূমিধস
  3. টর্নেডাে
  4. খরা
ব্যাখ্যা
এটি তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন যা পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।

ভূমিকম্প:
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র (Centre বা Focus) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
- ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ ২০২০ সালে 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) প্রকাশিত রির্পোটে সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে।
- অঞ্চলগুলো হলো:
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল)।
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)।

এছাড়াও,
- সম্প্রতি বাংলাদেশে ভূমিকম্পের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ২০২০ সালে সিলেট অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় আকারের ভূমিকম্প সংঘটি হয়।
- এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ-জাতীয়-বিল্ডিং-কোড-(BNBC Seismic Design সমীক্ষার রিপোর্ট) ওয়েবসাইট।
ii) পত্রিকা রিপোর্ট।