বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৯৬৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ১০ · ২০১৩০০ / ৯৬৩

২০১.
পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বেশি টনের্ডো কোথায় হয়?
  1. দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপ
  2. আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা
  3. উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া
  4. পূর্ব এশিয়া ও আর্কটিক অঞ্চল
ব্যাখ্যা

টর্নেডো:
- টর্নেডো মূলত অতি দ্রুত আবর্তনশীল ক্ষুদ্র আকারের অথচ প্রলয়ঙ্কারী বজ্রঝড়। 
- এটি চোঙ আকৃতির হয়ে থাকে এবং এই বজ্রঝড়ের মধ্যভাগে বায়ু অতিদ্রুত বেগে উপরে উঠতে থাকে।
- এই চোঙ যদি ভূমি স্পর্শ করে তখন ধ্বংসলীলা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। 
- টর্নেডোর ব্যাস ভূ-পৃষ্ঠের উপরে ১০০ থেকে ৫০০ গজ পর্যন্ত হয়। 
- টর্নেডোর ভিতরে ও বাইরের বায়ু চাপের গড় পার্থক্য প্রায় ২ ইঞ্চি।

টর্নেডোর বৈশিষ্ট্য:
- পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টর্নেডোপ্রবণ এলাকা উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া।
- টর্নেডোতে প্রথমত আকস্মিকভাবে বায়ু চাপের হ্রাস ঘটে বলেই বড় বড় ইমারতে ফাটল ধরে।
- বায়ুর আবর্তন হয় অত্যন্ত দ্রুতবেগে। ফলে বায়ুপ্রবাহের সম্মুখে প্রতি বর্গফুটে বায়ুচাপের পরিমাণ হয় ১৬০ থেকে ১০০০ পাউন্ড।
- টর্নেডোর গতিপথ অর্ধবৃত্তাকার হতে পারে এবং উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো ডানদিকে আবর্তিত হয়।
- টর্নেডোর গতিবেগ ঘন্টায় ৫ হতে ৬৫ মাইল হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ মাইল হয়।
- সমুদ্রের উপর টর্নেডো সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে, মেক্সিকো উপসাগরে এবং চীন ও জাপানের উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়।

উৎস - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০২.
নদী প্রবাহের কোন পর্যায়ে ক্ষয়কার্য সাধন অধিক হয়?
  1. ক) নিম্নগতি
  2. খ) উর্ধ্বগতি
  3. গ) মধ্যগতি
  4. ঘ) ধীরগতি
ব্যাখ্যা
পর্বতের উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর প্রবাহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়।
এগুলো হলো:
- উর্ধ্বগতি
- মধ্যগতি এবং
- নিম্নগতি

উর্ধ্বগতি হলো প্রাথমিক অবস্থা যেখানে ক্ষয় সাধন হলো প্রধান কাজ এবং এতে নদীর স্রোতের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকে।

মধ্যগতি শুরু হয় যখন নদী সমভূমি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় সঞ্চয় সাধন প্রধান কাজ। স্রোতের বেগ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে যায়।

সর্বশেষ হলো নিম্নগতি যেখানে স্রোতের বেগ একেবারেই কমে যায়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২০৩.
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (Flood Forecasting & Warning Centre) কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) গাজীপুর
  2. খ) নারায়ণগঞ্জ
  3. গ) চাঁদপুর
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
- ‘বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (Flood Forecasting & Warning Centre)’ হলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন।
- এটি রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের ওয়াপদা ভবনে অবস্থিত যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কাজ হলো বন্যা বিষয়ে আগাম সতর্কতা প্রদান।

উৎস: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ওয়েবসাইট 
২০৪.
কোন দুর্যোগের সঙ্গে সুনামি সংঘটনের সম্পর্ক রয়েছে?
  1. অগ্নিকান্ড
  2. পাহাড় ধ্বস
  3. সাইক্লোন
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
সুনামি (Tsunami):
- ভূমিকম্পের সঙ্গে সুনামি সংঘটনের সম্পর্ক রয়েছে।
- বাংলাদেশে সুনামি সংঘটনের তেমন উল্লেখযোগ্য প্রচলন নেই।
- তবে অতীতে ১৭৬২ সালের ২রা এপ্রিল কক্সবাজার এবং সন্নিহিত অঞ্চলে সুনামির প্রভাব ঘটে।
- মিয়ানমারে আরাকান উপকূলে ৭.৫ রিখটার স্কেল মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটনের ফলে সুনামির আগমন হয়।
- ১৯৪১ সালে আন্দামান সাগরে ভূমিকম্পের ফলে বঙ্গোপসাগরে সুনামি সংঘটন হয়।
- তবে এর ফলে প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয় ভারতের পূর্ব উপকূল। এর পরিণতিতে ৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারায়।
-২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সিনুয়েলুয়ে দ্বীপে সংঘটিত ভূমিকম্পের কারণে যে সুনামির আগমন ঘটে, তার প্রভাব বাংলাদেশে ঘটতে দেখা যায় এবং লোকের মৃত্যু ঘটে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২০৫.
কোনটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়?
  1. বন্যা
  2. খড়া
  3. ভূমিকম্প
  4. শব্দ দূষণ
ব্যাখ্যা
বিপর্যয় বলতে বিপদ বা আপদের সম্ভাবনাকে বুঝায়। অর্থাৎ যে সকল ঘটনা একটি এলাকার জনগণের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, এমনকি একেবারে ধ্বংস করতে পারে, সে সকল ঘটনাকে বিপর্যয় বলে। 

বিপর্যয় দুই ধরনের হতে পারে। যেমন:
১. প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যেমন ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
২. মানব-সৃষ্ট বিপর্যয়, যেম পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, রাসায়নিক বিষক্রিয়া, যুদ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৬.
বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের নাম-
  1. টর্নেডো
  2. সাইক্লোন
  3. টাইফুন
  4. হ্যারিকেন
ব্যাখ্যা

- বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় সাইক্লোন।
- প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় টাইফুন।
- আটলান্টিক মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় হ্যারিকেন।
- সাধারণত স্বল্প সময় নিয়ে স্বল্প এলাকায় টর্নেডো হয়ে থাকে। স্থলভাগে উচ্চচাপ সৃষ্টির কারণে টর্নেডো হয়।

উৎস: মাধ্যমিক ভূগোল বোর্ড বই।

২০৭.
বাংলাদেশে কোন জেলায় আকস্মিক বন্যা (Flash Flood) হয়?
  1. রাজশাহী ও সুনামগঞ্জ
  2. মৌলভীবাজার ও কুষ্টিয়া
  3. সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার
  4. কুষ্টিয়া ও নড়াইল
ব্যাখ্যা

বন্যা:
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- সাধারণত বন্যা চার প্রকারের হয়ে থাকে।
- যথা:
১. মৌসুমী বন্যা,
২. আকস্মিক বন্যা,
৩. উপকূলীয় বন্যা,
৪. নগর বন্যা। 

আকস্মিক বন্যা (Flash Flood):
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে বন্যার সৃষ্টি হয়,
- এটাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।

সূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৮.
বাংলাদেশে আর্সেনিক দূষণ প্রথম কোন জেলায় শনাক্ত হয়?
  1. কুষ্টিয়া
  2. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  3. চাঁদপুর
  4. সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে আর্সেনিক:
- বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি ১৯৯৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় শনাক্ত করা হয়।
- জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর সেখানে কয়েকটি নলকূপে পরীক্ষা চালিয়ে এ দূষণ শনাক্ত করে।
- এরপর বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, বিশেষ করে ১৯৯৫ সালে ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারের পর।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই আবিষ্কার বাংলাদেশে আর্সেনিক দূষণ নিয়ে গবেষণা ও সতর্কতার সূচনা করে।
- এরপর সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং এনজিওগুলোর মাধ্যমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও আর্সেনিক দূষণ শনাক্তের কাজ শুরু হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো। 

২০৯.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সর্বপ্রথম  ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়? 
  1. চাঁপাই নবাবগঞ্জ
  2. ফরিদপুর
  3. বাগেরহাট
  4. সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা

-  চাঁপাই নবাবগঞ্জ সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

আর্সেনিক (Arsenic):

- আর্সেনিক দূষণ একটি Global Problem.
- তাইওয়ানে প্রথম শনাক্তকরণ হয়।
- পৃথিবীর সকল মহাদেশের ৫০ টির মতো দেশে ভূগর্ভস্থ বা ভূউপরিস্থ পানিতে উচ্চমাত্রার আর্সেনিক শনাক্ত করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে চাঁপাই নবাবগঞ্জ উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় কয়েকটি কূপে পরীক্ষা চালিয়ে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করে
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর মতে, পানিতে নির্ধারিত মান অনুযায়ী ০.০১ পিপিএম আর্সেনিকের মাত্রা গ্রহণযোগ্য। 
- তবে যখন কোন এলাকার পানিতে ০.০১ পিপিএম এর চেয়ে বেশি পরিমাণ আর্সেনিক থাকে তখন সেই এলাকার পানিকে আর্সেনিক দূষণযুক্ত বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আর্সেনিক দূষণের মাত্রা বেশি।
- এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে এ দূষণের মাত্রা কম।
- সর্বোচ্চ দূষণযুক্ত জেলাগুলো হচ্ছে চাঁদপুর (৯০%), মুন্সিগঞ্জ (৮৩%), গোপালগঞ্জ (৭৯%), মাদারীপুর (৬৯%), নোয়াখালী (৬৯%), সাতক্ষীরা (৬৭%), কুমিল্লা (৬৫%), ফরিদপুর (৬৫%), শরিয়তপুর (৬৫%), মেহেরপুর (৬০%) ও বাগেরহাট (৬০%)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১০.
খরা প্রবণ অঞ্চল কোনটি ?
  1. সিলেট
  2. রাজশাহী
  3. বরিশাল
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া নওগাঁ, দিনাজপুর অতি খরাপ্রবণ অঞ্চল।

-শুষ্ক মৌসুমে ২০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে বৃষ্টিপাত না হলে তাকে খরা বলে। 

-খরার ফলে ফসলের উৎপাদন ১৫-৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে ।

-বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল খরা প্রবণ অঞ্চল হিসেবে ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২১১.
নিচের কোনটি আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া?
  1. ভূমিকম্প
  2. জলোচ্ছাস
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. বিচূর্ণীভবন
ব্যাখ্যা
• আকষ্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:
→ ভূ-গর্ভস্থ গলিত ম্যাগমাসমূহ ভূ-গর্ভে তাপ ও চাপের তারতম্য এবং অন্যান্য ভূমিরূপ গঠনকারী শক্তির প্রভাবে প্রচন্ড আলোড়িত হয়।
→ এইরূপ আকস্মিক আলোড়নের ফলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূ-কম্পন, ভূ-অভ্যন্তরে সংকোচন ও প্রসারণ ইত্যাদি নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে। ফলে অত্যন্ত আকস্মিকভাবে, স্বল্প সময়ের জন্য, অপেক্ষাকৃত স্বল্প বিস্তৃত স্থান জুড়ে যে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়, তাকে আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া বলা হয়।
 → অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, সুনামি ইত্যাদি আকস্মিক পরিবর্তনকারী প্রক্রিয়া। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১২.
১৯৭০ সালে বাংলাদেশে ৫ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটানো প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের নাম কী ছিল?
  1. ক) ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়
  2. খ) বাকেরগঞ্জ
  3. গ) নিনা
  4. ঘ) ভোলা
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালে সংঘটিত প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ছিল ভোলা। 
- ১৯৭০ সালের ১২ই নভেম্বর প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আঘাতে ভোলা তছনছ হয়ে যায়। একের পর এক লোকালয় মাটির সাথে মিশে যায়।
- ভোলায় আঘাত হানা এই সামুদ্রিক ঝড় 'দ্য গ্রেট ভোলা সাইক্লোন' নামে পরিচিতি পায়। 
- তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণ উপকূল দিয়ে এই সাইক্লোন বয়ে গেলেও সবচেয়ে তীব্র আঘাত হেনেছিল ভোলায়।
- জাতিসংঘের আওতাধীন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ২০১৭ সালের ১৮মে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করে।
- তাতে ভোলায় আঘাত হানা সাইক্লোনটিকেই 'সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন' হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।
- ১৯৭০ সালের ১২ই নভেম্বর সবোর্চ্চ ২২৪ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানা এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের সময় উপকূলীয় এলাকায় ১০-৩৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল।
- এই ঘূর্ণিঝড়ে ৫ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
 
উৎস: বিবিসি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, ভূগোল ও পরিবেশ; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২১৩.
সম্প্রতি (অক্টোবর, ২০২৪) মেঘ বিস্ফোরণের কারণে ভারতের কোন রাজ্যে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়?
  1. মেঘালয়
  2. আসাম
  3. নাগাল্যান্ড
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
মেঘ বিস্ফোরণ (Cloudburst):
- ক্লাউডবার্স্ট হল অল্প সময়ের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট স্বল্প জায়গায় শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাত সহ অতি বৃষ্টিপাত।
- এর ফলে আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধ্বস হতে পারে।
- সাধারণত যখন ১০ বর্গকিলোমিটার (৩.৮৬ বর্গ মাইল) অঞ্চলে এক ঘন্টার মধ্যে ১০ সেন্টিমিটার (৩.৯৪ ইঞ্চি) এর বেশি পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তাকে ক্লাউড বিস্ফোরণ বা ক্লাউডবার্স্ট বলে থাকে।
- এটি হিমালয়ান অঞ্চল এবং পার্বত্য এলাকায় বেশি ঘটে থাকে।
- সাধারণত ক্লাউডবার্স্ট বর্ষা ঋতুতে হয়ে থাকে।
- তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এর পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

⇒ মেঘ বিস্ফোরণের বৈশিষ্ট্য:
- মেঘ বিস্ফোরণ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এটি সাধারণত খুব ছোট এলাকা জুড়ে ঘটে।
- মেঘ বিস্ফোরণের পরিধি কয়েক বর্গ কিলোমিটারের বেশি হয় না।
- মেঘ বিস্ফোরণের ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়।
- কখনও কখনও এটি এতটাই প্রবল হয় যে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নদী এবং জলাশয়গুলো পানিতে ভরে যায়, যা বন্যার সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি আগস্ট, ২০২৪-এ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভয়াবহ মেঘ বিস্ফোরণের জন্য ত্রিপুরা সংলগ্ন বাংলাদেশের কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী সহ ১১টি জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
- উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য মূলত পাহাড়ি অঞ্চল, যেখানে ৩ হাজার ফুট পর্যন্ত উঁচু পাহাড় রয়েছে।
- ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়গুলো থেকে উৎপন্ন হয়ে বেশ কয়েকটি নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদীর মধ্যে ১৫টিই ত্রিপুরা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ১৯ আগস্ট, ২০২৪ থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও সংলগ্ন বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে শুরু হয় মেঘ বিস্ফোরণ। 
- ত্রিপুরা থেকে আসা ঢল বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলকে বন্যায় বিপর্যস্ত করে ফেলে। 
- তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হচ্ছে ভারতের ত্রিপুরায়।

উৎস: i) Britannica.
ii) ২৮ আগস্ট ২০২৪, প্রথম আলো।
২১৪.
সাধারণত কোন অঞ্চলে মেঘ বিস্ফোরণ সবচেয়ে বেশি ঘটে?
  1. সমতল ভূমি
  2. পার্বত্য অঞ্চল
  3. মরুভূমি অঞ্চল
  4. উপকূলীয় অঞ্চল
ব্যাখ্যা

মেঘ বিস্ফোরণ:
- মেঘ বিস্ফোরণের ইংরেজি শব্দ ‘ক্লাউড ব্রাস্ট’। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
​- যখন কোথাও হঠাৎ করে মেঘ জমে যায় এবং এর প্রভাবে খুবই কম সময়ের মধ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয় তখন এটিকে ক্লাউড ব্রাস্ট বলা হয়। 
​- মেঘ বিস্ফোরণ সবচেয়ে বেশি ঘটে পার্বত্য এলাকায়। 
​- কারণ বজ্রঝড়ের উষ্ণ বায়ুপ্রবাহ সাধারণত পাহাড়ি ঢাল বেয়ে উপরে ওঠে।
​- এছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে পানি গিরিখাত ও উপত্যকায় জমা হয়ে আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।

​সম্প্রতি, 
- পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায়, ​ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরে মেঘ বিস্ফোরণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়েছে।
​- যা ভয়াবহ প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে এনেছে।

​​তথ্যসূত্র- ব্রিটানিকা, পত্রিকা প্রতিবেদন।

২১৫.
"টিপাইমুখ বাঁধ" নির্মিত হলে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে কৃষিকাজে ব্যাপক ক্ষতি হবে?
  1. চট্টগ্রাম
  2. সিলেট
  3. রাজশাহী
  4. যশোর
ব্যাখ্যা

টিপাইমুখ বাঁধ:
- নদীর পানির স্তর উত্তোলন বা নৌচলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নাব্য রক্ষার জন্য অথবা সেচ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য নদীর উপর নির্মিত প্রতিবন্ধককে বাধ বলে।
- টিপাইমুখ বাধ ভারতের মণিপুর রাজ্যে অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশের বরাক নদের উজানে নির্মিত।
- যা মূলত সিলেট অঞ্চলের কৃষি ও হাওর ব্যবস্থার প্রধান পানির উৎস।
- বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হবে, ফলে সিলেট অঞ্চলে কৃষিকাজে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
- টিপাইমুখ নামের গ্রামে বরাক এবং টুইভাই নদীর মিলনস্থল।
- এ বাধের উচ্চতা ১৬২.৮ মিটার।
- বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বাধ:
• তিস্তা বাঁধ লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলাধীন দুয়ানি নামক স্থানে তিস্তা নদীর উপর নির্মিত।
• বুড়ি তিস্তা বাঁধ নীলফামারি জেলার ডিমলা এবং জলঢাকা উপজেলায় বুড়ি তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁধ।
• টাঙ্গন বাঁধ টাঙ্গন নদীর উপর নির্মিত।
• মনু বাঁধ মৌলভীবাজার জেলার মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় নির্মিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বিডিনিউজ২৪।

২১৬.
সম্প্রতি, কোথায় ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. চিলির বিওবিও প্রদেশে
  2. রাশিয়ার পূর্ব উপকূলে
  3. যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায়
  4. ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- ৩০ জুলাই, ২০২৫ রাশিয়ার পূর্ব উপকূলে, বিশেষ করে কামচাটকা উপদ্বীপ সংলগ্ন রুশ উপকূলে মেগাথ্রাস্ট ভূমিকম্প আঘাত হানে।
- যার মাত্রা  প্রথমে ৮.০ রিপোর্ট করা হলেও পরবর্তীতে তা ৮.৭ থেকে ৮.৮ এ উন্নীত হয়।
- এটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাশিয়ার পেত্রোপাভলোভস্ক-কামচাতস্কি শহর থেকে ১৩৬ কিলোমিটার পূর্বে, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে।
- এই ভূমিকম্পকে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিংশ শতাব্দীর ষষ্ঠ সর্বোচ্চ শক্তির ভূমিকম্প হিসেবে স্থান দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১৯০০ সাল থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ভূমিকম্পের রেকর্ড রাখা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ব জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
- বিশ্বের ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয়েছিল ১৯৬০ সালে চিলির বিওবিও প্রদেশে।
- ৯ দশমিক ৫ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে নিহত হয়েছিলেন ১ হাজার ৬৫৫ জন মানুষ এবং বাড়িঘর ভাঙার জেরে আশ্রয়হীন হন আরও ২০ লাখ মানুষ।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [Link]
২১৭.
'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক' কোথায় গৃহীত হয়?
  1. দক্ষিণ কোরিয়া
  2. জাপান
  3. ফিলিপাইন
  4. ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।
২১৮.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয় কোনটি?
  1. পূর্বপ্রস্তুতি
  2. সাড়াদান
  3. প্রতিরোধ
  4. প্রশমন
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি। যথা-
১। দুর্যোগ প্রতিরোধ
২। দুর্যোগ প্রশমন
৩। দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:  
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:
- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়।
- এগুলো হলো: পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।
- এই ৩টি কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:-
- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়।
- এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মুকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি

২১৯.
দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস সংক্রান্ত প্রথম বৈশ্বিক কনফারেন্স কোথায় কখন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) জেনেভা, ১৯৭৮ সালে
  2. খ) জাকার্তা, ১৯৮১ সালে
  3. গ) মার্সিলি, ১৯৯১ সালে
  4. ঘ) ইয়োকোহামা, ১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা

- দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস সংক্রান্ত প্রথম বৈশ্বিক কনফারেন্স ১৯৯৪ সালের ২৩ থেকে ২৭ মে জাপানের ইয়োকোহামা শহরে অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে Yokohama Strategy and Plan of Action for a Safer World গৃহিত হয়।
(তথ্যসূত্র: UNDRR ওয়েবসাইট)

২২০.
বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় সাধারণত কোন দিক থেকে প্রবাহিত হয়?
  1. দক্ষিণ-পূর্ব
  2. উত্তর-পশ্চিম
  3. দক্ষিণ-পশ্চিম
  4. উত্তর-পূর্ব
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় সাধারণত উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়।

কালবৈশাখী:
- বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে সংঘটিত ঝড়ের নাম কালবৈশাখী।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় সুপরিচিত।
- কালবৈশাখী ঝড় বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে সংঘটিত হয়।
- কালবৈশাখী ঝড় ভারী বৃষ্টিপাত ও বজ্রসহ ভূ-পৃষ্ঠের উপর আঘাত হানে।
- কালবৈশাখীকে বায়ুপুঞ্জ বজ্রঝড় অথবা পরিচলনগত বজ্রঝড় নামেও আখ্যায়িত করা যায়।
- বাংলাদেশে কালবৈশাখী সৃষ্টির প্রধান কারণ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু যা ঊর্ধ্বে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত আরোহন করে থাকে এবং এ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উত্তর-পশ্চিম এবং পশ্চিম দিক থেকে আসা অপেক্ষাকৃত শীতল ও শুষ্ক বায়ুর সঙ্গে মিলিত বা মুখোমুখি হয়।
- উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ছোটনাগপুর মালভূমিতে সৃষ্টির পর পূর্বদিকে ধাবিত হয়ে বাংলাদেশের সীমায় উপস্থিত হয়। বিপরীতধর্মী ও অসম এ দু বায়ুপ্রবাহের মুখোমুখি হওয়ার ফলে প্রাক-কালবৈশাখীর সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বজ্র-বিদ্যুৎপূর্ণ ঝড় সৃষ্টি হয়।
- এই ঝড় বৈশাখ মাসে কখনও চৈত্র মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক হতে আসে বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বা গ্রীষ্মকালীন উত্তর পশ্চিম ঝড় বা বজ্রবিদ্যুৎপূর্ণ ঝড়বৃষ্টি বলা হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২১.
বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণ নয় কোনটি?
  1. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  2. তেজস্ক্রিয় পদার্থ
  3. দাবানল ও ধূলিঝড়
  4. গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণ
ব্যাখ্যা
• বায়ু দূষণের কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

যথা:
→ প্রাকৃতিক কারণ ও
→ মানব-সৃষ্ট কারণ।

প্রাকৃতিক কারণ (Natural Causes):
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস প্রভৃতি বায়ুর সাথে মিশে বায়ুকে দূষিত করে।

→ জৈব ও অজৈব পদার্থ: বিভিন্ন প্রকার জৈব ও অজৈব পদার্থের স্বাভাবিক পচনের ফলে যে গ্যাস সৃষ্টি হয় তা বায়ুকে দূষিত করে।

→ দাবানল ও ধূলিঝড়: বিস্তৃত বনাঞ্চলে দাবানল হলে তা ব্যাপক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বায়ুকে দূষিত করে। এছাড়া মরু এলাকায় ধূলিঝড়ও বায়ু দূষণ ঘটায়

→ গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণ: গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে যে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে তা বায়ুকে দূষিত করে।

মানব-সৃষ্ট কারণ (Man-Made Causes):
তেজস্ক্রিয় পদার্থ: যুদ্ধক্ষেত্র অথবা পারমানবিক চুল্লিতে দুর্ঘটনার ফলে তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিকিরণ হলে বায়ু দূষিত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমানবিক বোমার বিস্ফোরণ।

→ এছাড়াও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, শিল্প-কারখানার নির্গত ধোঁইয়া, পরিত্যক্ত বর্জ্য পদার্থের দহন, বন উজার, ইটভাটা, কীটনাশক ইত্যাদি মানব-সৃষ্ট কারণসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২২.
কোন ঝড়কে ইংরেজিতে নরওয়েস্টার বলা হয়?
  1. সাইক্লোন
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. কালবৈশাখী
  4. টর্নেডো
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী: 
- কালবৈশাখী ঝড় সাধারণত মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে ঘটে। 
- মে মাসে সবচেয়ে বেশি কালবৈশাখী ঝড় হয়।
- এ ঝড়কে ইংরেজিতে নরওয়েস্টার বলা হয়।
- ১৯৮১-২০২৩ সাল পর্যন্ত মে মাসে গড়ে ১৩টি ঝড় হয়েছে।
- সর্বোচ্চ ১৮টি ঝড় হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।
- কালবৈশাখী ঝড়ের মূল কারণ হলো ঠাণ্ডা ও উষ্ণ বাতাসের সংঘর্ষ এবং নিম্নচাপের সৃষ্টি।
- এ ঝড় প্রাকৃতিকভাবে মৌসুমি বৈশিষ্ট্যের অংশ, যা বাংলাদেশের জলবায়ুর অনন্য দিক।

কালবৈশাখী ঝড়ের কারণ:
- বায়ুর সংঘর্ষ:উত্তরে হিমালয় থেকে ঠাণ্ডা বাতাস এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা উষ্ণ বাতাসের মিলনস্থলে বজ্রসহ ঘন কালো মেঘের সৃষ্টি হয়।
- চৈত্র ও বৈশাখে সূর্যের তাপে বাতাস হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়, যার ফলে বিকালে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।
- হিমালয়ের উচ্চ চাপের বাতাস নিম্নচাপের দিকে ধাবিত হয়ে প্রবল ঝড় সৃষ্টি করে।

উৎস: বিবিসি বাংলা [৫ মে ২০২৪]
২২৩.
সমুদ্র স্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ কী?
  1. ক) পৃথিবীর আহ্নিক গতি
  2. খ) সমুদ্রজলের তাপমাত্রার পার্থক্য
  3. গ) সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পার্থক্য
  4. ঘ) নিয়ত বায়ু প্রবাহ
ব্যাখ্যা
নিয়ত বায়ু প্রবাহই সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ। এসব বায়ু প্রবাহ সমুদ্রস্রোতের দিক ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে।
সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির আরো কিছু কারণের মধ্যে - পৃথিবীর আহ্নিক গতি, সমুদ্রজলের তাপমাত্রার পার্থক্য, সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পার্থক্য উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি
২২৪.
ঘূর্ণিঝড়ের আগে বায়ু কেমন থাকে?
  1. উষ্ণ ও আর্দ্র
  2. শীতল ও আর্দ্র
  3. শুষ্ক ও ঝড়ো
  4. শীতল ও ঝড়ো
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone। এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে, যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ।
- বিজ্ঞানী হেনরি পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রথম এ শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব ঘটে আবহাওয়াতে।
- ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার আগে বায়ু শান্ত, উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে।
- ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশ যখন আসে তখন প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও ঘন মেঘসহ মুষলধারে বৃষ্টি হয়।
- আর কেন্দ্রের ভিতরে অবস্থানকারী চোখ শান্ত আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি করে।
- ঘূর্ণিঝড়ের পশ্চাৎভাগে পৌঁছানোর পর আবারও ঘন মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ সময় বায়ু অগ্রবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয়।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্য:
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত।
- এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয়।

উৎস: i) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৫.
বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে কোন ধরনের বন্যার প্রকোপ বেশি?
  1. ক) আকস্মিক বন্যা
  2. খ) নদীসৃষ্ট বন্যা
  3. গ) উপকূলীয় বন্যা
  4. ঘ) বৃষ্টিজনিত বন্যা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।

- বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

অন্যদিকে,
- বৃহত্তর খুলনা ও যশোর অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত বন্যা দেখা যায়।
- উপকূলীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যা দেখা দেয়।
- নদী সংলগ্ন জেলাসমূহে নদীসৃষ্ট বন্যা দেখা যায়।

উৎস: বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
২২৬.
Sendai Framework for Disaster Risk Reduction-এর সময়কাল কোনটি?
  1. ২০১৫-২০৩০ 
  2. ২০১৮-২০৩০ 
  3. ২০২১-২০৩০
  4. ২০২১-২০২৬
ব্যাখ্যা

Sendai Framework for Disaster Risk Reduction:
- সেন্দাই কর্মকাঠামো হল একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অন্যান্য বিপর্যয়ের ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য একটি সমন্বিত পদ্ধতি নির্ধারণ করে।
- Sendai Framework for Disaster Risk Reduction-এর সময়কাল হলো ২০১৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
- ২০১৫ সালের ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ জাপানের সেন্দাইতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলনে গৃহীত হয়েছিল।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

⇒ সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট। 

২২৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন উপাদানটি খুবই ব্যয়বহুল?
  1. ক) সাড়াদান
  2. খ) দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি
  3. গ) কাঠামোগত প্রতিরোধ
  4. ঘ) অকাঠামোগত প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
কাঠামোগত প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যেমন- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকে বুঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুবই ব্যয়বহুল যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
২২৮.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা
  2. ত্রাণ কার্যক্রম বিলম্বিত করা
  3. পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা
  4. ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
- ত্রাণ কার্যক্রম বিলম্বিত করা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য নয়। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management): 

- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে- যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।
- সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ের কার্যক্রমকে বোঝায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তিনটি:
(ক) দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা;
(খ) প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ পৌঁছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২২৯.
'ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে'- ঘূর্ণিঝড়ের সময় কত নং বিপদ সংকেতের ক্ষেত্রে লাইনটি প্রযোজ্য নয়?
  1. ৭ নং
  2. ৮ নং
  3. ৯ নং
  4. ১০ নং
ব্যাখ্যা
• সতর্কতা ও বিপদ সংকেত:
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় সতর্কতা ও বিপদ বুঝানোর জন্য ১১টি সংকেত রয়েছে।
- তার মধ্যে প্রথম চারটি সতর্কতা ও স্থানীয় সংকেত। বাকিগুলো বিপদ সংকেত।

• ৭ নং বিপদ সংকেত:
- বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে।
- ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.।
- ঝড়টি বন্দরের উপর বা এর নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

• ৮ নং মহাবিপদ সংকেত:
- বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে।
- ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে।
- প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

• ৯ নং মহাবিপদ সংকেত:
- বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে।
- ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে।
- প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

• ১০ নং মহাবিপদ সংকেত:
- বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে।
- ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি.বা তার বেশি হতে পারে।

উৎস: ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) ওয়েবসাইট ও বিবিসি বাংলা।
২৩০.
বিশ্বব্যাংক এর মতে, বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণায়ণের কোন ঝুঁকিতে রয়েছে?
  1. ঝড়
  2. বন্যা
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  4. উল্লিখিত সবগুলোতে
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে। 
- এগুলো হলো: মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের। 
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক ঝুঁকিতে থাকা পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১২টি করে দেশের তালিকা:
⇒ বন্যা: - বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।
⇒ ঝড়:- ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।
⇒ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি:- সব নিচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিসর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।
⇒ মরুকরণ:- মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, শাদ, কেনিয়া, ইরান।
⇒ কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা:- সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩১.
CDMP প্রধানত কোন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. জলাভূমি সংরক্ষণ
  2. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
  3. করোনা মহামারি
  4. দুর্নীতি প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
CDMP (Comprehensive Disaster Management Programme) বা সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি হলো বাংলাদেশ সরকার গৃহীত একটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মডেল।
এটি ২০০৪ সালে গৃহীত হয়।

(তথ্যসূত্র: দুর্যোগকোষ : ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়)
২৩২.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের প্রথম ধাপ কোনটি?
  1. সাড়াদান
  2. পুনরুদ্ধার
  3. প্রতিরোধ
  4. উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের প্রথম ধাপ হল প্রতিরোধ (Prevention)।
- এই ধাপের উদ্দেশ্য হল দুর্যোগের আগমনের পূর্বে তার প্রভাব কমানো এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা।
- যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত: বন্যা বা সমুদ্রের পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ: মানুষকে নিরাপদে রাখার জন্য।
মজবুত ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ: দুর্যোগের সময় কম ক্ষতি সৃষ্টির জন্য ঘরবাড়ি ও স্কুলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নদী খনন: বন্যা বা অন্যান্য জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানোর জন্য।



তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৩.
ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ কোন কোন প্লেটের সীমানার কাছে অবস্থিত?
  1. ইন্ডিয়ান ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেট
  2. অস্ট্রেলিয়ান ও ইউরোপিয়ান প্লেট
  3. ইন্ডিয়ান ও ইউরোপিয়ান প্লেট
  4. বার্মিজ ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ভূমিকম্পের কারণ: 
- ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান ও ইউরোপিয়ান প্লেটের সীমানার কাছে অবস্থিত।
- এ কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল।
- ভূমিরূণ ও ভূঅভ্যন্তরীণ কাঠামোগত কারণে বাংলাদেশে ভূআলোড়নজনিত শক্তি কার্যকর এবং এর ফলে এখানে ভূমিকম্প হয়।
- মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক কারণে দেশের কিছু অংশ দেবে যাচ্ছে আবার কিছু অংশ কেঁপে উঠে যাচ্ছে।
- এভাবে ভূস্ফীতির ফলে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়ছে। পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিকম্পের কারণে ফাটলের সৃষ্টি হয়।
- ভূমিরূপজনিত কারণেও ভূমিকম্পের সম্ভাবনা দেখা দেয়।
- পাহাড়কাটাসহ মানবসৃষ্ট কারণে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৩৪.
বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল কোনটি?
  1. খুলনা অঞ্চল
  2. বরিশাল অঞ্চল
  3. চট্টগ্রাম অঞ্চল
  4. সিলেট অঞ্চল
ব্যাখ্যা
- ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিবেচনায় সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।
- এর মধ্যে সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হলো দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট অঞ্চল ও ময়মনসিংহের উত্তরাংশ।
এই অঞ্চলের জেলাসমূহ হলো:
- সিলেট
- সুনামগঞ্জ
- মৌলভীবাজার
- হবিগঞ্জ এবং
- ‍বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার উত্তরাংশ।
মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহ:
- চট্টগ্রাম
- কুমিল্লা
- ঢাকা
- টাঙ্গাইল ও
- রংপুর অঞ্চল।
কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহ:
- বরিশাল
- খুলনা ও
- ফরিদপুর সহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২৩৫.
কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. ভূমিকম্প
  2. খরা
  3. অগ্ন্যূৎপাত
  4. টর্নেডো
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ।
বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ হলো:
- বন্যা
- ঘূর্ণিঝড়
- টর্নেডো
- জলোচ্ছ্বাস
- নদীভাঙন
- খরা
- বজ্রপাত
- শৈত্য প্রবাহ
- ভূমিধ্বস প্রভতি।
- কোন আগ্নেয়গিরি না থাকায় এখানে অগ্ন্যূৎপাত কিংবা দাবানল সংঘটিত হয় না।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
২৩৬.
কালবৈশাখী ঝড় সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. ক) কালবৈশাখী ঝড় বৈশাখ মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক হতে আসে
  2. খ) কালবৈশাখী ঝড়কে গ্রীষ্মকালীন উত্তর-পশ্চিম ঝড় বলা হয়
  3. গ) কালবৈশাখী ঝড়কে উত্তর-পশ্চিম বজ্র-বিদ্যুৎপূর্ণ ঝড়বৃষ্টি বলা হয়
  4. ঘ) এপ্রিল থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়
ব্যাখ্যা
মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়। জুন মাসে মৌসুমী বায়ুর আগমনের সাথে সাথে কালবৈশাখী ঝড় অন্তর্হিত হয়। এজন্য একে মৌসুমী বায়ুর অগ্রদূত বলা হয়ে থাকে। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
২৩৭.
আর্সেনিক দূরীকরণ সনোফিল্টারের উদ্ভাবক হলেন-
  1. ক) অধ্যাপক আব্দুস সালাম
  2. খ) অধ্যাপক আব্দুল গনি
  3. গ) অধ্যাপক আবুল হুসসাম
  4. ঘ) ডক্টর মোহাম্মদ জব্বার
ব্যাখ্যা
পানি থেকে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক দূর করার কাজে সোনো আর্সেনিক ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। ২০০৬ সালে বাংলাদেশী বিজ্ঞানী অধ্যাপক আবুল হুসসাম দেশজ উপাদান ব্যবহার করে সোনো ফিল্টার আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কারের জন্য তিনি 'আউটস্ট্যান্ডিং আমেরিকান বাই চয়েস' পুরস্কার লাভ করেন।
২৩৮.
দেশের কোন অঞ্চল আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকা?
  1. ক) বৃহত্তর যশোর অঞ্চল
  2. খ) নদী তীরবর্তী অঞ্চল
  3. গ) বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল
  4. ঘ) উপকূলীয় অঞ্চল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।
বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।
অন্যদিকে,
- বৃহত্তর খুলনা ও যশোর অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত বন্যা দেখা যায়।
- উপকূলীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যা দেখা দেয়।
- নদী সংলগ্ন জেলাসমূহে নদীসৃষ্ট বন্যা দেখা যায়।
(তথ্যসূত্র: বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর)
২৩৯.
SAARC Meteorological Research Centre বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে-
  1. ক) ঢাকা থেকে
  2. খ) কাঠমান্ডু থেকে
  3. গ) থিম্পু থেকে
  4. ঘ) নয়া দিল্লী থেকে
ব্যাখ্যা
ঢাকায় অবস্থিত সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ রয়েছে। এটি এখন নয়া দিল্লীতে অবস্থিত সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। সার্ক সচিবালয়ের উদ্যোগে ১৯৯৫ সালের ২ জানুয়ারি সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র (এসএমআরসি) প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালে ভারতের নয়া দিল্লীতে অবস্থিত সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের (এসডিএমসি) অন্তর্ভুক্ত হয়। উৎসঃ প্রথম আলো
২৪০.
‘টাইফুন’ মূলত কোন অঞ্চলে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বোঝায়?
  1. আটলান্টিক মহাসাগরে
  2. উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে
  3. ভারত মহাসাগরে
  4. আর্কটিক মহাসাগরে
ব্যাখ্যা

টাইফুন:
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'।
- চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

⇒ ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone।
- এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ।
- বিজ্ঞানী হেনরি পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রথম এ শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য,
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- যেমন- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন, ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন, ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই, অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলি, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: i) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট।
         ii) ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪১.
নিচের কোন উক্তিটি সত্য নয়?
  1. আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা।
  2. আপদ এক ধরণের দুর্যোগ।
  3. ঘূর্ণিঝড় হলো একটি আপদ।
  4. আপদ জীবিকার ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করে।
ব্যাখ্যা
আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা,যা প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে হতে পারে।
এর ফলে মানুষের জীবন ও জীবিকার মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
আপদ কোনো দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের সম্ভাব্য কারণ।
যেমন: বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভমিকম্প, নদী ভাঙ্গন, সুনামি ইত্যাদি হলো আপদ।
কিন্তু এই আপদগুলো যখন প্রাণহানি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস করে জীবন
ও জীবিকার অপূরণীয় ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করে তখনই তা দুর্যোগে পরিণত হয়। 

উৎস: ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪২.
বন্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার অর্ন্তভুক্ত কোনটি?
  1. নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা
  2. দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা
  3. নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা
  4. বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন
ব্যাখ্যা
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার অর্ন্তভুক্ত - দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।

• বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Flood Control Measures)

• সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা (Easy engineering management):
-  নদীর দু'তীরে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর পানি উপচে পড়া বন্ধ করা।
-  দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।
- রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা।
- বন্যা প্রবল অঞ্চলে সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের উপরে 'আশ্রয়কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠা করা।
- শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া।

• সাধারণ ব্যবস্থাপনা (General management):
- সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা।
-  নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা।
-  নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
-  বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
- পুকুর, নালা, বিল প্রভৃতি খনন করা এবং সেচের পানি সংরক্ষণ করা।
-  প্রতি বছর বন্যা মোকাবেলার জন্য সরকারিভাবে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

• শ্রমসাধ্য ও ব্যয়বহুল প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা (Labour intensive and expensive engineering management):
-  ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ খনন করে পানির পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
-  সন্নিহিত স্থানে জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে পানিপ্রবাহকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা।
- ভারত থেকে আসা পানিকে বাঁধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন করা।
-  সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
- নদী তীরকে স্থায়ী সুদৃঢ় কাঠামোর সাহায্যে সংরক্ষণ করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
২৪৩.
বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনটি?
  1. পানি উন্নয়ন বোর্ড
  2. ওয়াসা
  3. নদী গবেষণা কেন্দ্র
  4. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে
ব্যাখ্যা
FCDI প্রকল্প:
- FCDI: Flood Control, Drainage and Irrigation Projects 
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প হলো বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প। 
- উদ্দেশ্য: বন্যাপ্রবণ এলাকার ২০% ভূমিকে রক্ষা করা। 
- ১৯৬৪ সালে দেশজুড়ে ৫৮টি বন্যা প্রতিরোধ এবং নিষ্কাশন প্রকল্প সম্বলিত একটি মাস্টার প্ল্যান গৃহীত হয়েছিল।  
- FCDI এর প্রধান প্রধান কয়েকটি সেচ প্রকল্প হলো:
* গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট);
* ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্প ;
* কর্ণফুলি বহুমুখী প্রকল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর।
২৪৪.
নিচের কোন বিষয়টি প্লেট টেকটোনিক তত্ত্বের সাথে জড়িত?
  1. খরা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. নদী ভাঙন
  4. আগ্নেয়গিরির উদগীরণ
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত।
- এগুলোকে প্লেট বলা হয়।

⇒ এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে।
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়।
- প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়। আবার কখনও কখনও একে অন্যের দিকে আসে।
- কখনও কখনও প্লেটগুলো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে।

⇒ একটি প্লেটের সাথে আরেকটি প্লেট যেখানে মেশে সেখানেই বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে।
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে।
- ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়।
- তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়।
- এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে।
- একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত।
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে।
- একেই ভূমিকম্প বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২৪৫.
ITCZ-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Internal-tropical Convergence Zone
  2. Inter-tropical Convergence Zone
  3. Internal-tropical Convergencee Zone
  4. International-tropical Convergence Zone
ব্যাখ্যা
ITCZ:
- ITCZ-এর পূর্ণরূপ: Inter-tropical Convergence Zone.
- এটি হলো পৃথিবীর বিষুব রেখার কাছাকাছি একটি বিশেষ জলবায়ু অঞ্চলের নাম।
- এই অঞ্চলে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাতাস একে অপরের দিকে আসতে থাকে এবং এখানে সাধারণত শক্তিশালী বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাত হয়।

⇒ এর প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- বাতাসের সংঘর্ষ: উত্তর গোলার্ধের ট্রপিক্যাল বাতাস এবং দক্ষিণ গোলার্ধের ট্রপিক্যাল বাতাস এখানে একে অপরকে ঠেকিয়ে আসে। এই সংঘর্ষের ফলে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস উপরে উঠে যায় এবং এটি মেঘ সৃষ্টি করে, যা বৃষ্টি নিয়ে আসে।
- বৃষ্টিপাত: ITCZ এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, বিশেষত গ্রীষ্মকালীন সময়ে।
- ঋতুবর্তী পরিবর্তন: ITCZ-এর অবস্থান বছরের বিভিন্ন সময়ে বদলায়। গ্রীষ্মকালে এটি উত্তর দিকে চলে যায় এবং শীতকালে দক্ষিণ দিকে চলে আসে।
- এই অঞ্চলটি পৃথিবীর বেশ কিছু ট্রপিক্যাল এলাকায়, যেমন আফ্রিকা, এশিয়া, ও লাতিন আমেরিকাতে, বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে এবং এটি গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

উৎস: National Oceanic and Atmospheric Administration (.gov).
২৪৬.
মানবসৃষ্ট আপদের উদাহরণ কোনটি?
  1. বজ্রঝড়
  2. নদী ভাঙ্গন
  3. টর্নেডো
  4. অগ্নিকান্ড 
ব্যাখ্যা

⇒ ‘আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

উল্লেখ্য,
- প্রাকৃতিক আপদ: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি।
- মানবসৃষ্ট আপদ: ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
- কারিগরি আপদ: বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: i) ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।

২৪৭.
কোথায় ভূমিকম্পের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়?
  1. ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  2. খ) উপকেন্দ্রে
  3. গ) মেরু অঞ্চলে
  4. ঘ) ভূ-পৃষ্ঠে
ব্যাখ্যা
• ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের ফলে আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলা হয়।
• ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র বলা হয়। কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে। এই উপকেন্দ্রে ভূমিকম্পের তীব্রতা সর্বাধিক হয়ে থাকে।
• ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের সাধারণত ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে হয়ে থাকে।
• সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয়। তবে ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ণয় করা হয় রিখটার স্কেলের সাহায্যে।

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল।
২৪৮.
ঘূর্ণিঝড় হারিকেন পরিমাপের স্কেলের নাম কী?
  1. রিখটার স্কেল
  2. বিউফোর্ট স্কেল
  3. স্যাফির-সিম্পসন স্কেল
  4. মোহস স্কেল
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড় হারিকেন:
- সাধারণত আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলোকে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।
- এটি প্রতি ঘন্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল প্রতি ঘন্টা) বেগে প্রবাহিত হয়।
- একটি হ্যারিকেন থেকে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যা হতে পারে।

​⇒ ঘূর্ণিঝড় হারিকেন পরিমাপের স্কেলের নাম স্যাফির-সিম্পসন স্কেল।
- সাফির -সিম্পসন হারিকেন উইন্ড স্কেল হল ১ থেকে ৫ রেটিং বা বিভাগ, হারিকেনের সর্বাধিক স্থায়ী বাতাসের উপর ভিত্তি করে।
- ক্যাটাগরি যত বেশি, হারিকেনের সম্পত্তির ক্ষতির সম্ভাবনা তত বেশি।

​অন্যদিকে,
​- রিখটার স্কেল ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
​- বিউফোর্ট স্কেল বাতাসের গতিবেগ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
​- মোহস স্কেল খনিজ পদার্থের কঠোরতা পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) NOAA ওয়েবসাইট।

২৪৯.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের বৈশিষ্ট্য?
  1. মানুষের উপর নিয়ন্ত্রন থাকে
  2. আকস্মিকভাবে ঘটে
  3. শুধুমাত্র শহরে ঘটে
  4. মানুষের কল্পনায় সৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ:
- যে অবস্থা অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, পরিবেশের ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে তাই দুর্যোগ।
- এর ফলে বাহ্যিকভাবে ক্ষতিসাধন, জীবনহানি কিংবা পরিবেশগতভাবে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়। 
 
• দুর্যোগ বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। প্রধানত দুর্যোগ দুই ধরনের-
১/ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
২/ মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।
 
•প্রাকৃতিক দুর্যোগ
- প্রাকৃতিক কারণে যে সকল দুর্যোগ সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং সাধারণত এর উপর মানুষের কোন নিয়ন্ত্রন থাকে না।
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ।
 
মানবসৃষ্ট দুর্যোগ
- মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
- মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
- যেমন- যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
 
উৎস- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই।
২৫০.
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় আইলা কখন সংঘটিত হয়?
  1. ২০০৭ সালে
  2. ২০০৪ সালে
  3. ২০০৯ সালে
  4. ২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা

• ঘূর্ণিঝড় আইলা:
- ২০০৯ সালের ২৫শে মে পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানা প্রবল ঘূর্ণিঝড় আইলা।
- যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭০-৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
- আইলা হলো ২০০৯ সালে উত্তর ভারত মহাসাগরে জন্ম নেওয়া একটি ঘূর্ণিঝড়।
- ২১ মে ভারতের কলকাতা থেকে ৯৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এর উৎপত্তি।
- তবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ এবং ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাংশে আইলা আঘাত হানে ২৫ মে।
- মালদ্বীপের আবহাওয়াবিদরা এর নাম আইলা দেন।
- ‘আইলা’ শব্দের অর্থ ডলফিন বা শুশুকজাতীয় জলচর প্রাণী।
- নামটি এই ঘূর্ণিঝড়ের জন্য নির্ধারণ করেন জাতিসংঘের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের আবহাওয়াবিদদের সংস্থা ‘ইউএন এস্কেপ’-এর (UN Escape) বিজ্ঞানীরা। 
- ঘূর্ণিঝড় আইলার ব্যাস ছিল প্রায় ৩০০ কিলোমিটার, যা ঘূর্ণিঝড় সিডর থেকে ৫০ কিলোমিটার বেশি।
- এটি ১০ ঘণ্টা সময় নিয়ে উপকূল অতিক্রম করে।
-  বাংলাদেশে আইলা পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীর হাতিয়া, নিঝুম দ্বীপ, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
- আইলার প্রভাবে খুলনা ও সাতক্ষীরায় ৭১১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দুই অঞ্চলে প্রাণ হারিয়েছে মোট ১৯৩ জন।

উৎস:  বাংলাপিডিয়া।

২৫১.
দুর্যোগের আগাম বার্তা মোবাইলে আইভিআর (Interactive Voice Response) পদ্ধতিতে জানতে কোন কোড ডায়েল করতে হয়?
  1. ১০৯০
  2. ১০৯৮
  3. ১৬৪৩০
  4. ৯৯৯
ব্যাখ্যা
দুর্যোগের আগাম বার্তা এবং ইন্টারেকটিভ ভয়েস রেসপন্স (IVR):

- দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মোবাইর ফোনের মাধ্যমে দুর্যোগের আগাম বার্তা চাহিদা মোতাবেক অবহিতকরেণর জন্য টোল ফ্রি Interactive Voice Response (IVR) পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
- যে কোন মোবাইল ফোন হতে ১০৯০ টোল ফ্রি নম্বরে ডায়াল করে, 
১ ডায়াল করলে সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য আবহাওয়া বার্তা;
২ ডায়াল করলে নদী বন্দরসমূহের জন্য সতর্ক সংকেত;
৩ ডায়াল করলে দৈনন্দিন আবহাওয়া বার্তা;
৪ ডায়াল করলে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত;
৫ ডায়াল করলে দেশের বন্যা তথা বিভিন্ন নদ/নদীর পানি হ্রাসবৃদ্ধি অবস্থা সম্পর্কিত তথ্য অবহিত হওয়া যাবে।

এছাড়াও কিছু জরুরি সেবা নম্বর- 
জরুরি সেবা - ৯৯৯
শিশু সহায়তা- ১০৯৮
নারী ও শিশু নির্যাতন- ১০৯
জাতীয় পরিচয়পত্র-১০৫
সরকারি আইন সেবা-১৬৪৩০
দুদক হটলাইন- ১০৬

তথ্যসূত্র: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। লিঙ্ক 
২৫২.
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল -
  1. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  3. দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল
  4. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু অংশ খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরার কারণসমূহ:
- স্বল্প বৃষ্টিপাত: বার্ষিক বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে মাটি আর্দ্রতা হারায় এবং কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- তীব্র গ্রীষ্মকাল: উচ্চ তাপমাত্রা মাটির আর্দ্রতা দ্রুত হ্রাস করে, খরার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে খরার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- নদীপ্রবাহের হ্রাস: নদীপ্রবাহ কমে যাওয়ায় পানির স্তর নেমে যায় এবং পানি সংকট দেখা দেয়।
- আবহাওয়ার চক্র: মাটির আর্দ্রতা কম থাকায় রবি ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।

তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী ও ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৩.
এশিয়ার প্রলয়ঙ্করী সুনামীর উৎস কোথায় ছিল?
  1. ভারতের অস্ত্র উপকূলে
  2. থাইল্যান্ডের ফুকেটে
  3. ইন্দোনেশিয়ার বালিতে
  4. ইন্দোনেশিয়ার আচেহতে
ব্যাখ্যা
সুনামি:

- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর এশিয়ার প্রলয়ঙ্করী সুনামী ঘটে।
- উৎপত্তি স্থল ছিল ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে।
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি আচেহ প্রদেশে ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে  সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। 
- এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট।
২৫৪.
নিচের কোনটি আকস্মিক বন্যাপ্রবণ জেলা?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) নোয়াখালী
  3. গ) বরগুনা
  4. ঘ) রংপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়। এগুলো হলো:-
১। বৃষ্টিজনিত বন্যা
২। উপকূলীয় বন্যা
৩। নদীসৃষ্ট বন্যা
৪। আকস্মিক বন্যা।

আকস্মিক বন্যা
• এপ্রিল-মে, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে স্থানীয় পযার্য়ে স্বল্পস্থায়ী ভারি বর্ষণের দরুন পাহাড়ি নদীর পানি উপচে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এলাকায় আকস্মিক ভাবে যে বন্যা দেখা যায় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
• এদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রভৃতি আকস্মিক বন্যাপ্রবণ জেলা।
• আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৫.
SPARRSO কী?
  1. মহকাশ গবেষণা সংস্থা
  2. বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র
  3. ভূমিকম্প পূর্বাভাস কেন্দ্র
  4. জনসংখ্যা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা
ব্যাখ্যা
SPARRSO (Space Research and Remote Sensing Organisations) হলো বাংলাদে সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র।
এটি বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র। SPARRSO ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

(তথ্যসূত্র: SPARSO ওয়েবসাইট)
২৫৬.
কত সালে 'বজ্রপাতকে' দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়?
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৪ সালে
  3. ২০১৬ সালে
  4. ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা

বজ্রপাত:
- ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
- বজ্রপাত থেকে নিরাপদে থাকতে কতগুলো সতর্কতামূলক বার্তা প্রচার করবে মন্ত্রণালয়।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জাতীয় পরিকল্পনায় এর আগে ১২টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা উল্লেখ ছিল।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের বজ্রপাত হচ্ছে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

২৫৭.
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের (NDMC) সভাপতি কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্পিকার
  4. ত্রাণ মন্ত্রী
ব্যাখ্যা

NDMC: 
​- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল (NDMC) বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি, 
​- এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রধানমন্ত্রী। 
​- এই কাউন্সিল দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিক্রিয়া, পুনর্বাসন এবং অভিযোজন কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
​- NDMC-এর অধীনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কাঠামো গঠিত হয়েছে।
​- প্রধানমন্ত্রী সভাপতি হিসেবে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুমোদন, বাজেট বরাদ্দ, এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় নিশ্চিত করেন।  

​বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের কমিটি: 
- NDMC = National Disaster Management Council.
- NDMAC = National Disaster Management Advisory Committee
- DDMC = District Disaster Management Committee
- UZDMC = Upazila Disaster Management Committee.
- UDMC = Union Disaster Management Committee

সূত্র: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও পত্রিকা রিপোর্ট। 

২৫৮.
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৮৯ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫: 
​- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন - ১৯৯৫ সালে প্রণয়ন করা হয়।
- পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের মাধ্যমে - পরিবেশ অধিদপ্তর তৈরি হয়।
- পরিবেশ অধিদপ্তর প্রধান হবে- একজন মহাপরিচালক। 
- এ আইনের মাধ্যমে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী উৎপাদন, বিক্রয় ইত্যাদির উপর বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
- ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য উৎপাদন, আমদানি, মওজুদকরণ, বোঝাইকরণ, পরিবহণ, ইত্যাদি সংক্রান্ত বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
- জাহাজ কাটা বা ভাঙার কারণে সৃষ্ট দূষণ সংক্রান্ত বাধা-নিষেধ নিষেধ আরোপ করা হয়।

সূত্র: Laws of Bangladesh

২৫৯.
বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র (SPARRSO) সালে প্রতিষ্ঠিত হয়? 
  1. ১৯৭৮ সালে 
  2. ১৯৭৯ সালে 
  3. ১৯৮০ সালে 
  4. ১৯৮৫ সালে 
ব্যাখ্যা

• SPARRSO:
- SPARRSO এর পূর্ণরূপ: Space Research and Remote Sensing Organization.
- স্পারসো হলো একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা যা জ্যোতির্বিদ্যা গবেষণা এবং বাংলাদেশে মহাকাশ প্রযুক্তির প্রয়োগের সাথে জড়িত।
- এটি পরিবেশগত এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত গবেষণায় JAXA, NASA এবং ESA-এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সংস্থা।
- অবস্থান: আগারগাঁও, ঢাকা। 
- এটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দিতে কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- কোম্পানিটি ল্যান্ডস্যাট এবং এনওএ নামক কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহার করে ভূমি জরিপ চালায়।
- বাংলাদেশের স্যটেলাইট চিত্র গুলো স্পারসোর তত্ত্বাবধানে থাকে। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।  

২৬০.
সার্কে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কয়টি আঞ্চলিক সংস্থার সমন্বয়ে পুণঃপ্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
২০১৬ সালে সার্কের বর্তমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (SAARC Disaster Management Centre (SDMC) ৪টি আঞ্চলিক সংস্থার সমন্বয়ে পুণঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
এর বর্তমান সদরদপ্তর - গুজরাট, ভারত।

৪টি আঞ্চলিক সংস্থা হচ্ছে -
১) সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (নয়া দিল্লী),
২) সার্ক আবহাওয়া কেন্দ্র (ঢাকা),
৩) সার্ক বন কেন্দ্র (থিম্পু) ও
৪) সার্ক উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (মালে)।
উল্লেখ্য, বর্তমানে উপরের ৪টি সংস্থাই বিলুপ্ত (২০১৬ সাল থেকে)।
 
উৎসঃ  সার্ক ওয়েবসাইট।
২৬১.
বাংলাদেশের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও বার্ষিক তাপমাত্রার ভিত্তিতে কয়টি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও বার্ষিক তাপমাত্রার ভিত্তিতে তিনটি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল ও শীতকাল।
বাংলাদেশে মার্চ-মে (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল।
জুন-অক্টোবর (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল
এবং নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক-ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কালকে শীতকাল বলা হয়।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
২৬২.
মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উত্তর ভারত মহাসাগরের উত্তর উপকূল বরাবর যে স্রোত প্রবাহিত হয় তার নাম -
  1. মোজাম্বিক স্রোত
  2. মৌসুমী স্রোত
  3. মাদাগাস্কার স্রোত
  4. আগুলহাস স্রোত
ব্যাখ্যা
• মৌসুমী স্রোত (Monsoon Current):
- উত্তর ভারত মহাসাগরের উত্তর উপকূল বরাবর যে স্রোত মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রবাহিত হয় তাকে মৌসুমী স্রোত বলে।
- গ্রীষ্মকালে এটি পশ্চিম হতে পূর্বদিকে এবং শীতকালে একই পথে বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়।
- তাই মৌসুমী স্রোত দু’প্রকার, যেমন- গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন মৌসুমী স্রোত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৩.
নিম্নোক্ত কোনটিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে? 
  1. খরা
  2. বন্যা
  3. সুনামি
  4. ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। 
- যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। 
- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা ইত্যাদি সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৪.
ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি? 
  1. ভূমিধস
  2. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. ভূগর্ভস্থ চাপ
  4. টেকটোনিক প্লেটের সরণ
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ:
- ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণের অন্তর্ভুক্ত নয়- টেকটোনিক প্লেটের সরণ।
- পৃথিবীর ভূত্বক বিভিন্ন প্লেট বা ফলকে গঠিত।
- এই প্লেটের সঞ্চালন ভূমিকম্পের প্রধান কারণ। 
- টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ, বিচ্যুতি বা ঘর্ষণের ফলে জমে থাকা শক্তি হঠাৎ মুক্ত হয়ে বড় আকারের ভূমিকম্প সৃষ্টি করে।

• অপ্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- শিলাচ্যুতি বা শিলায় ভাঁজ পড়া,
- ভূগর্ভস্থ বাষ্পের চাপ,
- ভূত্বকের তাপ বিকিরণ,
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত,
- পাহাড়ি শিলাখণ্ডের ধস;
- এবং মানুষের কার্যকলাপ (যেমন খনন বা বড় বাঁধ নির্মাণ)।
- এগুলো মূলত টেকটোনিক প্লেটের সরণের কারণে সৃষ্ট বড় ভূমিকম্পের সঙ্গে ছোটখাটো কম্পন বা মানুষের সৃষ্টি কম্পন ঘটাতে পারে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬৫.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের উদাহরণ?
  1. জলাবদ্ধতা
  2. অগ্ন্যুৎপাত 
  3. রাসায়নিক দূষণ
  4. যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ (Disaster):
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ: পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়।
 যেমন:
ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
খ) মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।

• মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬৬.
সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'মোন্থা' এর অর্থ কী?
  1. তীব্র বাতাস
  2. কালো মেঘ
  3. সুগন্ধি ফুল
  4. উত্তাল ঢেউ
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- সম্প্রতি (অক্টোবর, ২০২৫)-এ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ যা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।
- প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘মোন্থা’।
- ঘূর্ণিঝড় 'মোন্থা'র নাম প্রদান করেছে থাইল্যান্ড।
- থাইল্যান্ডের দেওয়া এই নামের অর্থ ‘সুগন্ধি ফুল’।
- ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ স্থানীয় সময় রাতে ঝড়টি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অতিক্রম করেছে।

উল্লেখ্য,
- বছরের বিভিন্ন সময়ে বিশ্বজুড়ে যে ঝড়, ঘূর্ণিঝড় ঘনীভূত হওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে থাকে আবহাওয়া দপ্তর, পালা করে বিভিন্ন দেশ তার নামকরণ করে।
- আর এটি করে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও)।
- ডব্লিউএমও সে জন্য পাঁচটি বিশেষ আঞ্চলিক আবহাওয়া সংস্থার (আরএসএমসি) সঙ্গে সমন্বয় করে ২০০৪ সাল থেকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু করেছে।

উৎস: প্রথম আলো।

২৬৭.
ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ নিচের কোনটি?
  1. ভূমিকম্প
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. সুনামি
  4. খরা
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ:
- উৎপত্তিগতভাবে দুর্যোগ বলতে এমন একটি অবস্থা বুঝায় যা মানুষকে মন্দ বা অকল্যাণকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করে।
- এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মানুষকে অনেক মূল্য দিতে হয়।
- দুর্যোগ কখনো হঠাৎ সংঘটিত হয় আবার কখনো বা এক বা একাধিক ঘটনা ধীরে ধীরে দুর্যোগ সৃষ্টি করতে পারে।
- আবার অনেক সময় একটি দুর্যোগ একাধিক দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেমন- ভূমিকম্প থেকে সুনামি হতে পারে।

• দুর্যোগের ধরণ:
দুর্যোগ দুই ধরনের হতে পারে।
যথা- ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ এবং দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগ।

১. ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ:
- ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ হলো এমন একটি অবস্থা, যা মানুষের খাদ্য ও জীবিকানির্বাহের পণ্যসামগ্রী সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত হয়।
- যেমন- খরা, শস্যহানি, কৃষিক্ষেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ ইত্যাদি।
- এ ধরনের দুর্যোগ সহজেই চিহ্নিত করা যায় বলে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা যায়।

২. দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগ:
- এ ধরনের দুর্যোগ আকস্মিক ঘটে থাকে বলে তা সহজে প্রতিরোধ করা যায় না।
- দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগের ফলে মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং জীবন ও সম্পদহানি ঘটে। যেমন- ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, সুনামি ইত্যাদি।

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬৮.
বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক পরিবেশ সম্পর্কিত 'জাতীয় পরিবেশ নীতি' সর্বপ্রথম প্রণয়ন হয় কত সালে?
  1. ১৯৯২ সালে 
  2. ১৯৯৫ সালে 
  3. ১৯৯৬ সালে 
  4. ১৯৯৯ সালে 
ব্যাখ্যা

‘জাতীয় পরিবেশ নীতি’ :
বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা থেকে ১৯৯২ সালে ‘জাতীয় পরিবেশ নীতি’ প্রথম প্রণীত হয়।
এই নীতির মাধ্যমে বন, জলসম্পদ, ভূমি, বায়ু, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে এই নীতির ভিত্তিতেই পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ প্রণীত হয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হয়।

উল্লেখ্য,
পরিবেশ বিপর্যয়, নানাবিধ দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতার নিরিখে ঈপ্সিত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে এবং সংবিধানের মূলনীতি হিসাবে গৃহীত পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের বিষয়টি জাতীয় নীতিসমূহে প্রতিফলন করিবার মাধ্যমে পরিবেশকে উন্নয়নের মূলধারায় আনয়নের লক্ষ্যে পরিবেশ নীতি ১৯৯২ সংশোধন ও পরিমার্জন করিয়া জাতীয় পরিবেশ নীতি ২০১৮ গ্রহণ করা হয়।

উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২৬৯.
বাংলাদেশে বজ্রপাতকে কত সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ২০১৬ সালে
  2. ২০১৭ সালে
  3. ২০১৮ সালে
  4. ২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা

বজ্রপাত:
- ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বজ্রপাতকে ১৩তম প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে।

⇒ আবহাওয়াবিদদের মতে, বাংলাদেশে বজ্রপাতের মূল কারণ দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান।
- বাংলাদেশে উত্তরাঞ্চল এবং উত্তর পশ্চিমাঞ্চল বজ্রপাত-প্রবণ এলাকাগুলোর অন্যতম।
- গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি থাকায় এ পরিস্থিতির তৈরি হয়।

উল্লেখ্য, 
- প্রতিবছর কম বেশী প্রায় ৩০০ হতে ৪০০ জন মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারায়। অন্যান্য দুর্যোগের তুলনায় বর্তমানে বজ্রপাতে প্রাণহানি বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই প্রাণহানি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। 
- বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসাবে ঘোষণার পর ২০১৭ সালে বজ্রপাতে প্রাণহানি হ্রাসে সরকার দেশব্যাপী ৬০ লাখ তালগাছ লাগানো হয়। 
- এ ছাড়া বজ্রপাত চিহ্নিতকরণ যন্ত্র লাইটেনিং ডিটেক্টর এবং লাইটেনিং অ্যারেস্টার সেন্সর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

উৎস: i) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো। 

২৭০.
ঘূর্ণিঝড় ’মোন্থা'র নামকরণ করে কোন দেশ?
  1. ভিয়েতনাম
  2. থাইল্যান্ড
  3. ইন্দোনেশিয়া 
  4. মালদ্বীপ
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- সম্প্রতি (অক্টোবর, ২০২৫)-এ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ যা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।
- প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের নাম 'মোন্থা'।
- ঘূর্ণিঝড় 'মোন্থা'র নাম প্রদান করেছে থাইল্যান্ড।
- থাইল্যান্ডের দেওয়া এই নামের অর্থ 'সুগন্ধি ফুল'।
- ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ স্থানীয় সময় রাতে ঝড়টি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অতিক্রম করে।

উল্লেখ্য
- ডব্লিউএমও পাঁচটি বিশেষ আঞ্চলিক আবহাওয়া সংস্থার (আরএসএমসি) সঙ্গে সমন্বয় করে ২০০৪ সাল থেকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু করেছে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকার নিউজ।

২৭১.
বাংলাদেশে কখন সবচেয়ে বেশি নদীভাঙন সংঘটিত হয়ে থাকে?
  1. জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে
  2. মার্চ থেকে মে মাসে
  3. জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে
  4. অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে
ব্যাখ্যা
• নদীভাঙন:
- জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে বাংলাদেশের প্রধান নদী ও শাখানদী দ্বারা দেশের প্রায় ১০০টি উপজেলায় কমবেশি নদীভাঙন প্রক্রিয়া চলে।
- বর্ষাকালে নদীখাতে প্রবল বেগে পানিপ্রবাহ, নদী খাতের উভয় পার্শ্বে নরম মাটি ও ফাটলের অবস্থানের কারণে যে ক্ষয় হয়ে থাকে, তাকে নদীভাঙন বলে।
- পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে নদীভাঙনে প্রতি বছর প্রচুর ঘরবাড়ি, নানা ধরনের স্থাপনা ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয় এবং অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটে।
- নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকগণ জমি পুনরূদ্ধার করতে না পারায় ভূমিহীন হয়ে পড়ে।
- ফলে, তারা শহর ও নগরের ভাসমান মানুষে পরিণত হয়।

• নদীভাঙনের কারণসমূহ:
- নদীর গতিপথ পরিবর্তন,
- নদী গর্ভে নরম,
- ক্ষয়িষ্ণু শিলার উপস্থিতি,
- বাহিত শিলার কাঠিন্যতা,
- নদীগর্ভে ফাটলের উপস্থিতি,
- বন্যার সময়ে প্রবল পানির আঘাত,
- অত্যধিক বৃষ্টিপাত,
- নদী তীর থেকে অত্যধিক পরিমাণে বৃক্ষ নিধন,
- নদী তীর ও তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন
- নদী তীর দখলের মাধ্যমে নদীর গতিপথে বাধা দেয়া ও গতিপথ পরিবর্তন করা ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭২.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অন্তর্ভূক্ত?
  1. ক) যুদ্ধ
  2. খ) পানি দূষণ
  3. গ) ভূমিকম্প
  4. ঘ) রাসায়নিক বিষক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• বিপর্যয় বলতে বিপদ বা আপদের সম্ভাবনাকে বুঝায়। অর্থাৎ যে সকল ঘটনা একটি এলাকার জনগণের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, এমনকি একেবারে ধ্বংস করতে পারে, সে সকল ঘটনাকে বিপর্যয় বলে। 

 • বিপর্যয় দুই ধরনের হতে পারে। যেমন:
১. প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যেমন-ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
২. মানব-সৃষ্ট বিপর্যয়, যেমন-পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, রাসায়নিক বিষক্রিয়া, যুদ্ধ ইত্যাদি।

• মনে রাখতে হবে যে, বিপর্যয় মানেই দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের আশংকা বা সম্ভাবনা মাত্র। একটি এলাকায় সংঘটিত যে কোনো বিপর্যয় বা আপদ যখন উক্ত এলাকার অধিবাসীগণ তাদের নিজস্ব চেষ্টা ও সম্পদের সাহায্যে মোকাবিলা করতে সক্ষম না হয় কেবল তখনই সেই আপদটি দুর্যোগে পরিণত হয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৩.
কক্সবাজার সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে গৃহহীন মানুষের জন্য আশ্রয়ণ (প্রকল্প) গড়ে তােলা হয় কত সালে?
  1. ১৯৯৬
  2. ১৯৯৮
  3. ১৯৯৭
  4. ২০১০
ব্যাখ্যা
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘূর্ণিদুর্গত মানুষের জন্য নােয়াখালীতে (বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলার অংশ) ‘গুচ্ছগ্রাম' গড়েছিলেন।
- একই দৃষ্টান্ত সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭-এর কক্সবাজার সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে গৃহহীন মানুষের জন্য আশ্রয়ণ (প্রকল্প) গড়ে তােলেন।।
- স্থানীয় প্রশাসন এবং সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ সহায়তায় গড়ে উঠেছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামাে।
- দরিদ্র জনগােষ্ঠীকে ঋণ ও প্রশিক্ষণদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তােলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
উৎস : https://pmo.gov.bd/
২৭৪.
BCCTF এর পূর্ণরূপ -
  1. ক) Bangladesh Climatology Change Trust Fund
  2. খ) Bangladesh Climatology Change Trust Foundation
  3. গ) Bangladesh Climate Change Trust Fund
  4. ঘ) Bangladesh Climate Change Trust Foundation
ব্যাখ্যা
• BCCTF এর পূর্ণরূপ Bangladesh Climate Change Trust Fund
• বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (BCCTF): সরকার ২০১০ সালে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড আইন কার্যকর করে এবং এর আগে ২০০৯ সালে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড নীতিমালা তৈরি করে। এই ট্রাস্টের আওতায় অন্যতম বিবেচ্য বিষয় হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমন এবং স্থানচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৭৫.
১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে কতটি ভূকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে ৩টি ভূকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। যেমনঃ অঞ্চল ১ (মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ), অঞ্চল ২ (মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ) এবং অঞ্চল ৩ (কম ঝুঁকিপূর্ণ)। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
২৭৬.
ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট বড় বড় ঢেউসমূহ কী নামে পরিচিত?
  1. বন্যা
  2. জোয়ার
  3. সুনামি
  4. জলোচ্ছাস
ব্যাখ্যা
• সুনামি:
- সুনামি এটি জাপানী শব্দ, যার আক্ষরিক অর্থ ‘পোতাশ্রয়ের ঢেউ’।
- সমুদ্র বা বৃহদাকার হ্রদের তলদেশে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি প্রাকৃতিক কারণ ও পারমানবিক বা অন্য কোনো কারণে বিস্ফোরণের ফলে উঁচু ও বিশালাকার ঢেউ উপকূলে আঘাত হানে। এই ঢেউগুলো সুনামি নামে পরিচিত।
ক্রমাগত একের পর এক ঢেউ আসতে থাকায় সুনামি-কে ওয়েভ ট্রেন বা ঢেউ-এর রেলগাড়ি নামেও অভিহিত করা হয়। ’

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৭.
হারিকেন 'ক্যাটরিনা' কোথায় আঘাত হেনেছিল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ফিলিপাইন
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. তাইওয়ান
ব্যাখ্যা
হারিকেন:
- সাধারণত আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলোকে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।
- এটি প্রতি ঘন্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল প্রতি ঘন্টা) বেগে প্রবাহিত হয়।
- একটি হ্যারিকেন থেকে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যা হতে পারে।
- সাফির -সিম্পসন হারিকেন উইন্ড স্কেল হল ১ থেকে ৫ রেটিং বা বিভাগ, হারিকেনের সর্বাধিক স্থায়ী বাতাসের উপর ভিত্তি করে।
- ক্যাটাগরি যত বেশি, হারিকেনের সম্পত্তির ক্ষতির সম্ভাবনা তত বেশি।

অন্যদিকে -
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত। সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'। চীন, তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের ঘূর্ণিঝড়কে উইলি উইলি বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- হারিকেন ক্যাটরিনা ছিল একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় যা ২০০৫ সালের আগস্টের শেষের দিকে দক্ষিণ-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানে।
- হারিকেন এবং এর পরবর্তী সময়ে ১৮০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়।
- এটি মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসাবে স্থান পায়।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) NOAA ওয়েবসাইট।
২৭৮.
কোন সংস্থা ভূ-উপগ্রহ চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ করে?
  1. স্পারসো
  2. প্রশিকা
  3. রেড ক্রিসেন্ট
  4. সিপিপি
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার কতিপয় পন্থা:
- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসো-এর মাধ্যমে ভূ-উপগ্রহের চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণের ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। 
 
- পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হতে বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।
- ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তি সংকেত দান, সতর্কীকরণ,উদ্ধার ও পূণর্বাসন ইত্যাদি কাজে সরকারি সংস্থা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি)-এর কার্যক্রমের আওতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
 
- জরুরি পরিস্থিতিতে আর্তদের চিকিৎসা, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পূণর্বাসন কাজে সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ কর্তৃক বেসামরিক প্রশাসনকে সব রকম সাহায্য ও সহযোগিতা দান করা।
- বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন সংস্থা কর্তৃক দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেতসমূহ প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।
 
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৯.
বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় নিম্নের কোন লক্ষ্যটি নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. নদী ভাঙন
  2. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
  3. বন্য নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান:
- ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা দেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যান ১০০ বছরের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
- এই পরিকল্পনা প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডস সরকার বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।
- ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে এই পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- ডেল্টা প্ল্যানে ছয়টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে: বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পনি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্য নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন।
- ২০২০ সালের ১ জুলাই ১২ সদস্যের এই কাউন্সিল গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রীকে ডেল্টা কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
- ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য এই মহাপরিকল্পনার প্রথম ধাপে অর্থাৎ ২০৩০ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে ৮০টি প্রকল্প।

⇒ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ তে দেশের আটটি হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির মাত্রার উপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।
- একই ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির সম্মুখীন জেলাসমূহকে একেকটি গ্রুপের আওতায় আনা হয়েছে যাকে "হটস্পট" (পানি ও জলবায়ু উদ্ভূত প্রায় অভিন্ন সমস্যাবহুল অঞ্চল) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

উৎস: পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট।
২৮০.
বাংলাদেশের 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন' কবে প্রণীত হয়?
  1. ২০০৮
  2. ২০০৯
  3. ২০১২
  4. ২০১৫
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন' ২০১২ সালে  প্রণীত হয়।

• বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন:
- দুর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ক কার্যক্রমকে সমন্বিত, লক্ষ্যভিত্তিক ও শক্তিশালী করা এবং সকল ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাঠামো গড়িয়া তুলিবার নিমিত্ত বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।
- ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই আইন প্রণীত হয়।
- ২০১২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে।
- বাংলাদেশের সংসদে 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২' পাসের মাধ্যমে এই অধিদপ্তর গঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৮১.
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রধান শক্তি যোগায় কোনটি?
  1. সমুদ্রের গভীরতা
  2. উচ্চ বায়ুচাপ
  3. উষ্ণ জলরাশি ও আর্দ্র বায়ু
  4. কোরিওলিস বল
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রধান শক্তি যোগায় বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ জলরাশি ও আর্দ্র বায়ু, যা ঘূর্ণিঝড়কে শক্তি জোগায়।
- জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হওয়ার সময় যে সুপ্ত তাপ নির্গত হয়, তা ঘূর্ণিঝড়কে শক্তিশালী করে তোলে।
- এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর শেলফ (wide shelf) এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করে তোলে, ফলে শক্তিশালী জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়।
- এই উষ্ণ জল এবং নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট বায়ুপ্রবাহ ঘূর্ণিঝড়কে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে চালিত করে ও শক্তি বৃদ্ধি করে উপকূলের দিকে ধেয়ে আনে, যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হয়। 

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস :
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেযোগ্য।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ের 'চোখ'-এ নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে ।
- ফলে বাহিরের অংশ হতে উচ্চচাপ যুক্ত বায়ু প্রবল বেগে ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তন করতে করতে ঝড়ের কেন্দ্রভাগে নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলের দিকে ধাবিত হয়।
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূলভাগ ফানেল আকৃতির হওয়ার কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। - গত তিন দশকে বাংলাদেশের উপকূলে, বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৮২.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতায় পড়ে না কোনটি?
  1. দুর্যোগ প্রতিরোধ
  2. দুর্যোগ প্রস্তুতি
  3. দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার
  4. দুর্যোগ সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management): 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তিনটি:
(ক) দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা;
(খ) প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ পৌঁছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৮৩.
ঘূর্ণিঝড়ের আগে বায়ু কেমন থাকে?
  1. উষ্ণ
  2. আর্দ্র
  3. শীতল
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone।
- এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ।
- বিজ্ঞানী হেনরি পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রথম এ শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- যেমন চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন, ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন, ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই, অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলিছ, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

⇒ উৎপত্তি:
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড় (Anti-cyclone)।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- আমাদের দেশে প্রায় প্রতি বছর সাধারণত মার্চ ও নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

⇒- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব ঘটে আবহাওয়াতে।
- ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার আগে বায়ু শান্ত, উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে।
- ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশ যখন আসে তখন প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও ঘন মেঘসহ মুষলধারে বৃষ্টি হয়।
- আর কেন্দ্রের ভিতরে অবস্থানকারী চোখ শান্ত আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি করে।
- ঘূর্ণিঝড়ের পশ্চাৎভাগে পৌঁছানোর পর আবারও ঘন মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ সময় বায়ু অগ্রবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয়।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্য:
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৪.
'বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি এন্ড একশান প্ল্যান' কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ক) ২০১২
  2. খ) ২০১৫
  3. গ) ২০০৯
  4. ঘ) ২০১৬
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি এন্ড একশান প্ল্যান (BCCSAP) ২০০৯ সালে প্রণীত হয়। 
বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি এন্ড একশান প্ল্যান (BCCSAP) জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি জাতীয় দলিল যেটিতে অভিযোজন এবং সংকট নিরসন উভয়টিরই বর্ণনা রয়েছে। 
স্বল্প, মধ্যম এবং দীর্ঘ মেয়াদে ছয়টি কৌশলগত ক্ষেত্র বর্ণনা করা হয়েছে:
- খাদ্য নিরাপত্তা,
- সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য; 
- বিশদ পরিসরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্থাপনা; 
- গবেষণা এবং জ্ঞান ব্যবস্থাপনা; 
- সংকট নিরসন ও স্বল্পমাত্রায় কার্বন নিঃসরণ এবং 
- সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গৃহীত ৪৪টি কর্মসূচীর ঘোষণা রয়েছে।
 
বাংলাদেশ সরকার ন্যাশনাল এডাপটেশন প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন ২০০৫, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান ২০০৯, এর ধারাবাহিকতায় নিজস্ব তহবিলে ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে। 
 
 
উৎস: nda.erd.gov.bd/, www.ais.gov.bd/
২৮৫.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা যায়?
  1. উপকূলীয় অঞ্চলে
  2. সিলেট অঞ্চলে
  3. যমুনা অববাহিকায়
  4. ঢাকা শহর অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বাভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাতের ফলে বা পাহাড়ি ঢলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা হতে দেখা যায়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮৬.
আকস্মিক বন্যা বাংলাদেশের কোথায় দেখা যায়?
  1. রংপুর
  2. কুড়িগ্রাম
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

⇒ আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
২৮৭.
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল কবে বাংলাদেশে আঘাত হানে?
  1. ক) ৯জুলাই
  2. খ) ৯অক্টোবর
  3. গ) ৮জুন
  4. ঘ) ৯ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
ঘূ্ণঝিড় বুলবুল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমা লে ৯ নভেম্বর ২০১৯ আঘাত হানে। এটির নামকরণ করে পাকিস্তান। এ ঘূর্ণিঝড়ের সময় মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
২৮৮.
গ্রীষ্মের শেষে উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় যে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় -
  1. হারিকেন
  2. উইলি উইলি
  3. টাইফুন
  4. বাগুই
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মের শেষে উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় যে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় উইলি উইলি।

ঘূর্ণিঝড়:

- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone। এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে, যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ।
- বিজ্ঞানী হেনরি পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রথম এ শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- যেমন- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন, ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন, ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই, অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলি, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার আগে বায়ু শান্ত, উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে।
- ঘূর্ণিঝড়ের পশ্চাৎভাগে পৌঁছানোর পর আবারও ঘন মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ সময় বায়ু অগ্রবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয়।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্য:
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয়।

উৎস: i) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৯.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চল বেশী খরা প্রবণ?
  1. ক) উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
  2. খ) দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল
  3. গ) উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল
  4. ঘ) দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল
ব্যাখ্যা
বোর্ড বইয়ের ম্যাপ এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল বেশি খরাপ্রবণ।
২৯০.
বাংলাদেশের কোন নদীর নদী-বিধৌত অঞ্চলের আয়তন সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) ব্রহ্মপুত্র
  2. খ) পদ্মা
  3. গ) যমুনা
  4. ঘ) সুরমা
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র নদী তিব্বতের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন। তিব্বতে এর নাম সংপো এবং ডিহং নামে এটা আসামের উত্তর-পূর্ব কোণ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে।
অতঃপর ব্রহ্মপুত্র নামে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের মাজহিয়ালীতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
পরবর্তীতে ব্রহ্মপুত্র দক্ষিণ-পূর্বে বেঁকে ভৈরব বাজারের কাছে মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে। এ স্থানের নাম পুরাতন ব্রহ্মপুত্র।

- ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশের ৫০,৫০৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বিধৌত করেছে।
১৭৮৭ সালে তিস্তায় প্রবল বন্যার ফলে গতিপথ পরিবর্তন করে ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে দিয়ে জোই নামে একটি ক্ষুদ্র শাখা নদীর উপর গিয়ে পড়ে।
অন্যদিকে,
- পদ্মা-বিধৌত অঞ্চল - ৩৪,১৮৮ বর্গকিঃমিঃ ও
- মেঘনা বিধৌত অঞ্চলের পরিমাণ - ২৯,৭৮৫ বর্গকিঃমিঃ।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ভূগোল (অর্থনৈতিক ভূগোল) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

২৯১.
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস পাবার জন্য টোল ফ্রি নম্বর কোনটি?
  1. ৯৯৯
  2. ৩৩৩
  3. ১০৬
  4. ১০৯০
ব্যাখ্যা
- দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুর্যোগের আগাম বার্তা জানার টোল ফ্রি নম্বর হচ্ছে ১০৯০। 

এছাড়াও, 
- মানবাধিকার কল সেন্টার টোল ফ্রি নম্বর - ১৬১০৮।
- ন্যাশনাল ইর্মাজেন্সি সার্ভিস ৯৯৯। 
- সরকারি তথ্য ও সেবা টোল ফ্রি নম্বর - ৩৩৩।
- দুর্নীতি দমন কমিশন টোল ফ্রি নম্বর - ১০৬।
- নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ টোল ফ্রি নম্বর - ১০৯।

সূত্র - দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
২৯২.
বন্যা সংঘটিত হওয়ার প্রাকৃতিক কারণ কোনটি?
  1. ক) ভৌগোলিক অবস্থান
  2. খ) হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ
  3. গ) ভূমিকম্প
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
বন্যা সংঘটিত হওয়ার প্রাকৃতিক কারণগুলো হলো ভৌগোলিক অবস্থান, হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ, ভূমিকম্প , উজানে প্রচুর বৃষ্টি, মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব ইত্যাদি। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
২৯৩.
মহাদেশীয় এবং মহাসাগরীয় প্লেটসমূহের সঞ্চালনের কারণে নিচের কোনটি ঘটে?
  1. টর্নেডো
  2. প্রবল বৃষ্টি
  3. তুষারপাত
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা

• পাত সঞ্চালন:
- সঞ্চালনশীল মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় পাতসমূহের গতিশীলতার সময় যখন পরস্পরের সাথে সংঘর্ষ হয় তখন ভূমিকম্প হয়। তাই পৃথিবীর ভমিূকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলো পাতসীমা বরাবর অবস্থিত।
- এছাড়া সঞ্চালনশীল পাত দুটি পরস্পর থেকে দূরে সরে যায় বা সামনে-পিছনে গতিশীল হয় তখন ভূ-গর্ভে চাপের তারতম্য ঘটে এবং ভমিূকম্প হয়।

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৪.
কোনটিকে পাহাড়িয়া বৃষ্টি বলা হয়?
  1. ক) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  2. খ) ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি
  3. গ) সংঘর্ষ বৃষ্টি
  4. ঘ) পরিচলন বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
পাহাড়ে বাধা পেয়ে এ জাতীয় বৃষ্টিপাত হয় বলে একে পাহাড়িয়া বৃষ্টিও বলা হয়। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
২৯৫.
খরার সময় কোন ধরনের দুর্যোগের উপদ্রব বেড়ে যায়?
  1. ভূমিকম্প
  2. অগ্নিকাণ্ড 
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. বন্যা
ব্যাখ্যা

• খরা (Drought):
⇒ দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে। অনেকদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়। সেই সঙ্গে মাটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা কোমলতা হারিয়ে রুক্ষরূপ গ্রহণ করে খরায় পরিণত হয়।

• অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব (Rainless or Impact of Drought):
-  দেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরার প্রভাবে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়
- খাদ্যদ্রব্যের অভাব হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়
- উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়
- প্রবল উত্তাপে বিভিন্ন ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে
- পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে
- অগ্নিকান্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়
- বৃষ্টিহীন ও খরাযুক্ত পরিবেশ মানুষ ও জীবজগতের স্বাভাবিক কাজকর্মের বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
- বনজ সম্পদ বৃদ্ধি তথা অধিক বৃক্ষরোপণ করে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৯৬.
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (BCCTF) গঠন করা হয় কত সালে?
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১৯ সালে
  4. ২০২০ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট:
- বর্তমানে বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে পৃথিবীর অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ।
- জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় গ্রহণের পর সরকার কর্তৃক ২০০৯ সালে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্ম পরিকল্পনা ২০০৯ (বিসিসিএসএপি, ২০০৯) চুড়ান্ত করা হয়।
- উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম এই ধরণের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করে।
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা ও অভিযোজন কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan (BCCSAP), 2009' বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
- এই কর্মপরিকল্পনায় ৬টি থিমেটিক এরিয়ায় ৪৪টি কার্যক্রম চিহ্নিত করা হয়েছে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার জন্য এবং BCCSAP, ২০০৯ এ উল্লিখিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (BCCTF) গঠন করা হয়েছিল ২০১০ সালে।
- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বলবৎ করা হয় জলবায়ু ট্রাস্ট আইন-২০১০।

সূত্র: বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা - ২০২৪।
২৯৭.
বাংলাদেশের কোন সংস্থা ভূ-উপগ্রহ চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ করে?
  1. প্রশিকা
  2. সিপিপি
  3. রেড ক্রিসেন্ট
  4. স্পারসো
ব্যাখ্যা
উপকূলীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- বাংলাদেশের উপকূল (৭১৬ কি.মি.) অঞ্চল সমুদ্র সমতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা অনবরত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত অসংখ্য নিম্নআয়ের মানুষ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের দুর্যোগ দ্বারা বিপদাপন্ন অবস্থায় পতিত হচ্ছে। অতএব সুষ্ঠু দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উপকূলীয় জনগণের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা (দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষমতা) বৃদ্ধি ও পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

⇒ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার কতিপয় পন্থা সম্পর্কে বর্ণনা করা হল:
• আবহাওয়ার তথ্যভিত্তিক পূর্বাভাস ও সর্তীকরণ যথা সময়ে প্রচার করা। 
• বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসো-এর মাধ্যমে ভূ-উপগ্রহের চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণের ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।
• পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হতে বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।
• ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তি সংকেত দান, সতর্কীকরণ, উদ্ধার ও পূর্ণর্বাসন ইত্যাদি কাজে সরকারি সংস্থা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি)-এর কার্যক্রমের আওতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
• বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন সংস্থা কর্তৃক দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেতসমূহ প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৮.
বন্যা নিয়ন্ত্রণে সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার উদাহরণ কোনটি?
  1. সুনিশ্চিত নদী-শাসন ব্যবস্থা তৈরি করা
  2. বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
  3. দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।
  4. নদী তীরকে স্থায়ী সুদৃঢ় কাঠামোর সাহায্যে সংরক্ষণ করা।
ব্যাখ্যা

• বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Flood Control Measures):

⇒ সাধারণ ব্যবস্থাপনা (General management):
(১) সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা।
(২) নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা।
(৩) নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
(৪) বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
(৫) পুকুর, নালা, বিল প্রভৃতি খনন করা এবং সেচের পানি সংরক্ষণ করা।
(৬) প্রতি বছর বন্যা মোকাবেলার জন্য সরকারিভাবে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

⇒ শ্রমসাধ্য ও ব্যয়বহুল প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা (Laboure intensive and expensive engineering management):
(১) ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ খনন করে পানির পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
(২) সন্নিহিত স্থানে জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে পানিপ্রবাহকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা।
(৩) ভারত থেকে আসা পানিকে বাঁধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন করা।
(৪) সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
(৫) নদী তীরকে স্থায়ী সুদৃঢ় কাঠামোর সাহায্যে সংরক্ষণ করা।

⇒ সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা (Easy engineering management):
(১) নদীর দু'তীরে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর পানি উপচে পড়া বন্ধ করা।
(২) দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।
(৩) রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা।
(৪) বন্যা প্রবল অঞ্চলে সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের উপরে 'আশ্রয়কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠা করা।
(৫) শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৯৯.
ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী?
  1. সেলসিয়াস স্কেল
  2. রিখটার স্কেল
  3. ক্রমিক স্কেল
  4. অনুপাত স্কেল
ব্যাখ্যা
• ভূমিকম্প (Earthquake) :
- বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগের নাম ভূমিকম্প। ভূমিকম্প হলো খুবই অল্প সময়ের জন্য মাটির কম্পন বা ঝাঁকুনি। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভূগর্ভ।

• ভূমিকম্পের কারণঃ
- টেকটনিক প্লেটের স্থানান্তর,
- অগ্ন্যুৎপাত
-  ভূগর্ভস্থ বাষ্প,
- ভূগর্ভস্থ চাপ বৃদ্ধি বা হ্রাস,
- তাপ বিকিরণ

• ভূমিকম্পের কেন্দ্রঃ
- ভূঅভ্যন্তরে যে স্থানে প্রথম কম্পন হয় (অগভীর কেন্দ্র ০-৭০কি.মি,
- মধ্যপর্যায়ের কেন্দ্র ৭০-৩০০কি.মি, গভীর কেন্দ্র ১৩০০কি.মি)

• উপকেন্দ্রঃ
ভূমিকম্পের কেন্দ্রের ঠিক সোজা উপরে ভূপৃষ্ঠের স্থান ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রঃ রিখটার স্কেল (মাত্রা ০-১০)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম ও দশম শ্রেণি।
৩০০.
ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে কী বলা হয়?
  1. ডানা 
  2. চোখ
  3. মোখা 
  4. মূলবিন্দু
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দ্বারা মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চলের নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৫ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- এছাড়াও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সমূহের ব্যাস ২০০-৭০০ কি.মি হয় এবং গভীরতা হয় ১২-১৬ কি.মি পর্যন্ত।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় কেন্দ্রের ভিতরের দিকে বায়ুচাপ দ্রুত কমতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগ বয়ে আনে।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।