বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৯৬৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ১০ · ১০১২০০ / ৯৬৩

১০১.
বিশ্বব্যাংক চিহ্নিত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. মরুকরণ
  2. ভূমিকম্প
  3. ঝড়
  4. বন্যা
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন -
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- এগুলো হলো- মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
- এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১০২.
কোনটি নদী ভাঙনের মানবসৃষ্ট কারণ?
  1. নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া
  2. বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ
  3. নদীতে চর সৃষ্টি হওয়া
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
নদীভাঙন:
- নদীভাঙন, এক প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- নদীর পানির স্রোতে নদীর পাড় ভাঙার এই অবস্থাকে নদীভাঙন বলে।
- বন্যা নদীভাঙনের অন্যতম কারণ।
- পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে, পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন অব্যাহত আছে। 

- জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে বাংলাদেশের প্রধান নদী ও শাখানদী দ্বারা দেশের প্রায় ১০০টি উপজেলায় কমবেশি নদীভাঙন প্রক্রিয়া চলে।
- বর্ষাকালে নদীখাতে প্রবল বেগে পানিপ্রবাহ, নদী খাতের উভয় পার্শ্বে নরম মাটি ও ফাটলের অবস্থানের কারণে যে ক্ষয় হয়ে থাকে, তাকে নদীভাঙন বলে।
- পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে নদীভাঙনে প্রতি বছর প্রচুর ঘরবাড়ি, নানা ধরনের স্থাপনা ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয় এবং অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটে।
- নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকগণ জমি পুনরূদ্ধার করতে না পারায় ভূমিহীন হয়ে পড়ে। ফলে, তারা শহর ও নগরের ভাসমান মানুষে পরিণত হয়।

নদীভাঙনের কারণসমূহ:

নদীভাঙনের প্রাকৃতিক কারণ সমূহের মধ্যে রয়েছেঃ
- নদীর গতিপথ পরিবর্তন,
- নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া,
- নদীতে চর সৃষ্টি হওয়া,
- অতিবৃষ্টি,
- মার্টির দুর্বল গঠন,
- বন্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নদী ভাঙনের মানবসৃষ্টকারণ সমূহ হলো:
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ,
- নদী শাসন,
- নদীর পাড়ের গাছপালা নিধন,
- নদীতে দ্রুতগতির জলযান চলাচল ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৩.
কত মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে ১৭৮৭ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পাল্টে যায়?
  1. ক) ৭
  2. খ) ৭.৩
  3. গ) ৭.৮
  4. ঘ) ৮.৭
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বতের পাদদেশীয় অঞ্চলে, উত্তরে আসামের খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড় অঞ্চলে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে মূলত বৃহদাকার ফাটল ও দুইটি প্লেটের মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- ১৫৪৮ সাল থেকে বাংলাদেশে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগ্রহ শুরু হয়।
- বাংলাদেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাসমূহ ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূ-কম্পন অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল।
- যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে।
- সেটিই আজকের যমুনা নদী।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০৪.
জাপানি ভাষায় 'সুনামি' শব্দের অর্থ কী?
  1. সমুদ্রের ঢেউ
  2. পোতাশ্রয়ের ঢেউ
  3. ভূমিকম্পের ঢেউ
  4. আগ্নেয়গিরির ঢেউ
ব্যাখ্যা

সুনামি (Tsunami): 
- সুনামি (Tsunami) একটি জাপানি শব্দ।
- জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- সুনামির পানির ঢেউ সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউয়ের মতো নয়।
- এটা সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বিশালাকৃতির।
- অতি দ্রুত ফুঁসে ফুলে ওঠা জোয়ারের মতো, যা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।
- সুনামির পানির ঢেউগুলো একের পর এক উঁচু হয়ে আসতেই থাকে তাই একে ঢেউয়ের রেলগাড়ি বা 'ওয়েভ ট্রেন' বলে।
- সুনামি হলো পানির এক মারাত্মক ঢেউ যা সমুদ্রের মধ্যে বা বিশাল হ্রদে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে।
- পানির নিচে কোনো পারমাণবিক বা অন্য কোনো বিস্ফোরণ, ভূপাত ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সুনামির ক্ষয়ক্ষতি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর আশেপাশে সুনামির ধ্বংসাত্মক লীলা সংঘটিত হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে যে সুনামি সৃষ্টি হয় তা এই মহাসাগরের আশেপাশে ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং মারাত্মক একটি দুর্যোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ,নবম-দশম শ্রেণি।

১০৫.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের অংশ না কোনটি?
  1. ক) পূর্বপ্রস্তুতি
  2. খ) সাড়াদান
  3. গ) উন্নয়ন
  4. ঘ) এখানের সবগুলোই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের অংশ
ব্যাখ্যা
পূর্বপ্রস্তুতি, দুর্যোগ সংগঠন ও এর প্রভাব, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, উন্নয়ন, প্রতিরোধ, প্রশমন এগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের অংশ৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই
১০৬.
ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং কোন অঞ্চলে আঘাত হানে?
  1. ক) বরিশাল
  2. খ) চট্রগ্রাম
  3. গ) খুলনা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ২৪ অক্টোবর ২০২২ ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং বাংলাদেশের উপকূলবর্তী বরিশাল, চট্রগ্রাম ও খুলনা বিভাগে আঘাত হানে। ‘সিত্রাং’ নামকরণ করে থাইল্যান্ড। ভিয়েতনামি ভাষায় যার অর্থ ‘পাতা’।  

তথ্যসূত্র:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার নভেম্বর ২০২২। 
১০৭.
ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূ-পৃষ্ঠের বিন্দুকে বলা কী বলা হয়?
  1. এনডোসেন্টার
  2. পিকপয়েন্ট
  3. এপিসেন্টার
  4. মিডপয়েন্ট
ব্যাখ্যা

• এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র , 
এটি ভূপৃষ্ঠের উপর অবস্থিত একটি বিন্দু যা ভূগর্ভস্থ বিন্দুর ঠিক উপরে অবস্থিত (যাকে বলা হয়(যেখানে ফল্ট ফেটে যায় , সেখানে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয় ।
- ভূমিকম্পের প্রভাব কেন্দ্রস্থলের আশেপাশে সবচেয়ে তীব্র নাও হতে পারে। 
- তিনটি বা ততোধিক ভূকম্পিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রতিটি কেন্দ্রস্থলে ভূকম্পিক তরঙ্গের ভ্রমণের সময়ের সমানুপাতিক চাপ গণনা করে কেন্দ্রস্থলটি সনাক্ত করা যেতে পারে।
 - চাপগুলির ছেদ বিন্দু কেন্দ্রস্থল চিহ্নিত করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১০৮.
কোন সময়ে সংঘটিত বন্যায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল?
  1. ক) ১৯৭০
  2. খ) ১৯৮৮
  3. গ) ১৯৯২
  4. ঘ) ১৯৯৮
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক। বন্যা এলাকা প্লাবিত হয় বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি করে।
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ব-দ্বীপ বাংলাদেশ তথা এ ঢালু সমভূমির দেশে বিভিন্ন শতাব্দীতে বন্যা হয়েছে।
১৯৫৪ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪ সালের বন্যা ছিল ভয়াবহ।
এগুলোর মধ্যে ১৯৯৮ সালে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যাটি সংঘটিত হয় এবং এতে সবচেয়ে বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১০৯.
ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার উঁচু ভূমিকে কী বলা হয় ?
  1. ক) লালমাই পাহাড়
  2. খ) ভাওয়াল গড়
  3. গ) মধুপুর গড়
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা
আজ থেকে প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়। ঐ সময়ে গঠিত ভূমিরূপ প্লাইস্টোসিন কালের ভূমি নামে পরিচিত।
বাংলাদেশে অবস্থিত প্লাইস্টোসিন কালের ভূমিরূপগুলো হলো:
- রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর ও জয়পুরহাট জেলার বরেন্দ্রভূমি
- ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত - মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় অবস্থিত ভাওয়াল গড়।
- কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়।
- দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৮ শতাংশ হলো প্লাইস্টোসিন কালে গঠিত ভূমিরূপ।

- ভাওয়াল ও মধুপুর বনাঞ্চলের আয়তন - ৪,১০৩ বর্গকিঃমিঃ।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। এর মাটির রং - লালচে ও ধূসর।
- প্রধান বৃক্ষ - শাল/গজারি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১১০.
ADB এর গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের কয়টি জেলা খুবই উচ্চ খরার ঝুঁকিতে রয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
খরার ঝুঁকি:
- পৃথিবীর বেশির ভাগ অংশের জলবায়ুর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো খরা। মূলত দীর্ঘ সময় ধরে চলা শুষ্ক আবহাওয়া, অপর্যাপ্ত বৃষ্টি, বৃষ্টিপাতের তুলনায় বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের পরিমাণ বেশি হলে খরার সৃষ্টি হয়।
- এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দেখা দেয় পানির অভাব।
- কুয়া, খাল, বিলের মতো নিত্যব্যবহার্য পানির আধার শুকিয়ে যায়।

⇒ গত কয়েক দশকের মধ্যে বাংলাদেশ ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে সবচেয়ে বড় খরা মোকাবেলা করেছে।
- খরার কারণে সে সময় দেশের প্রায় ৪২ শতাংশ জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- এরপর ১৯৯৭ সালে খরার কারণে কৃষিতে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ক্ষতি মোকাবেলা করতে হয় বাংলাদেশকে।
- এত বছর পর এসেই প্রাকৃতিক এ দুর্যোগের ঝুঁকি এখনো কমেনি।

⇒ দেশের প্রায় ২২টি জেলা খরার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে খুবই উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ৬ জেলা। 
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার রিস্ক অ্যাটলাস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

উৎস: বণিক বার্তা।
১১১.
বাংলাদেশের 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন' কবে প্রণীত হয়?
  1. ২০০৯
  2. ২০০১
  3. ২০১২
  4. ২০১৩
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন:
- বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২ সালে প্রণীত হয়।
- এই আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য ছিল- দুর্যোগ মোকাবেলার কার্যক্রমকে সমন্বিত, লক্ষ্যভিত্তিক এবং কার্যকর করা এবং 
- সকল ধরনের দুর্যোগে সক্ষম একটি ব্যবস্থা তৈরি করা।
- ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই আইন প্রণীত হয়।
- একই বছরে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরও প্রতিষ্ঠা করে, যা আইন পাসের মাধ্যমে     কার্যকর হয়।

উল্লেখ্য,
- দুর্যোগ হলো এমন একটি আকস্মিক এবং গুরুতর ঘটনা, যা প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে ঘটে এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের   ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- দুর্যোগের প্রকারভেদ:
• প্রাকৃতিক দুর্যোগ: যেমন বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, সুনামি ইত্যাদি।
• মানবসৃষ্ট দুর্যোগ: যেমন যুদ্ধ, বনভূমি ধ্বংস, দূষণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।

উৎস:
১. Britannica;
২. ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১২.
ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ কোনটি?
  1. ভূগর্ভস্থ বাষ্প
  2. হিমবাহের প্রভাব
  3. শিলাচ্যুতি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• অপশনে উল্লিখিত সবগুলোই ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

• ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে।
- ভূ-অভ্যন্তরস্থ শিলারাশিতে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক অবমুক্তির কারণে সৃষ্ট এই স্পন্দনের মাত্রা মৃদু কম্পন থেকে প্রচন্ড ঘূর্ণনের মধ্যে হতে পারে।
- তাই ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।

• ভূমিকম্পের প্রধান কারণগুলো হলো:
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত। এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
- আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়।

• ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ:
- শিলাচ্যুতি,
- তাপ বিকিরণ,
- ভূগর্ভস্থ বাষ্প,
- ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস,
- হিমবাহের প্রভাব ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
১১৩.
বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় কোনটি?
  1. ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস
  2. কালবৈশাখী ও টর্নেডো
  3. হিমবাহ ধ্বস
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- হিমবাহ ধ্বস বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। 

বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ: 

- পৃথিবীর প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
- এদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রভৃতি কারণে প্রায় প্রতি বছরই কোনো না কোনো দুর্যোগে আক্রান্ত হয়।
- ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন, ক্ষয়ক্ষতি হয় সম্পদ ও জীবনের।
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, কালবৈশাখী ও টর্নেডো, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, খরা, আর্সেনিক, ভূমিকম্প ও সুনামি অন্যতম।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৪.
রিখটার স্কেল কোন বিষয়ের পরিমাপ করে?
  1. ভূমিকম্পের কেন্দ্র সনাক্ত 
  2. কম্পনজনিত ঘটনা
  3. ভূমিকম্পের তীব্রতা
  4. বিস্ফোরণ 
ব্যাখ্যা

- রিখটার স্কেল হল একটি লগারিদমিক স্কেল যা ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
- এটি ১৯৩৫ সালে ভূকম্পবিদ চার্লস এফ. রিখটার এবং বেনো গুটেনবার্গ দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।
- এটি ভূমিকম্পের আকার নির্ধারণের জন্য সিসমোগ্রাফ দ্বারা ক্যালিব্রেটেড বৃহত্তম ভূকম্পিক তরঙ্গের প্রশস্ততা (উচ্চতা) এর লগারিদম ব্যবহার করে।

- অপরদিকে, 
⇒ সিসমোগ্রাফ হল ভূমিকম্প, বিস্ফোরণ এবং অন্যান্য ভূমি-কম্পনজনিত ঘটনা দ্বারা সৃষ্ট ভূমিকম্প তরঙ্গ সনাক্ত এবং রেকর্ড করার জন্য ব্যবহৃত একটি যন্ত্র। 

- রিকটার স্কেল ও সিসমোগ্রাফ দুটাই ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা

১১৫.
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায় কোন জেলায়?
  1. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  2. চাঁদপুর
  3. কুমিল্লা
  4. গোপালগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে আর্সেনিক:
- বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি ১৯৯৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় শনাক্ত করা হয়।
- জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর সেখানে কয়েকটি নলকূপে পরীক্ষা চালিয়ে এ দূষণ শনাক্ত করে।
- এরপর বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, বিশেষ করে ১৯৯৫ সালে ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারের পর।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই আবিষ্কার বাংলাদেশে আর্সেনিক দূষণ নিয়ে গবেষণা ও সতর্কতার সূচনা করে।
- এরপর সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং এনজিওগুলোর মাধ্যমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও আর্সেনিক দূষণ শনাক্তের কাজ শুরু হয়। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো। 
১১৬.
বাংলাদেশের একমাত্র ভূকম্পন মানমন্দির কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) খুলনা
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া দফতর ১৯৫৪ সালে চট্টগ্রামে একটি ভূকম্পন মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করে। আজও সেটিই দেশের একমাত্র ভূকম্পন মানমন্দির। সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
১১৭.
খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন জেলা -
  1. ক) যশোর
  2. খ) সিলেট
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
• ২০২০ সালে 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) প্রকাশিত রির্পোটে সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা
Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো -
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল।) এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.36
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)। এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.28
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি) এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.2
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি) এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.12

সূত্র:- BNBC প্রকাশিত Seismic Design সমীক্ষার রিপোর্ট।
 
১১৮.
মার্সেলি স্কেল ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) বাতাসের আদ্রতা পরিমাপে
  2. খ) বাতাসের চাপ পরিমাপে
  3. গ) ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপে
  4. ঘ) সাগরের গভীরতা পরিমাপে
ব্যাখ্যা
মার্সেলি স্কেল ব্যবহৃত হয় ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপে। এই স্কেলে ১-১২ পর্যন্ত তীব্রতার ভূকম্পন পরিমাপ করা যায় যেখানে রিখটার স্কেলে ১০ পর্যন্ত পরিমাপ করা যায়।
সূত্রঃ ভোরের কাগজ পত্রিকা
১১৯.
বাংলাদেশের কোন জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়?
  1. ক) কুড়িগ্রাম
  2. খ) রংপুর
  3. গ) সুনামগঞ্জ
  4. ঘ) চট্রগ্রাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।

- বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
১২০.
ভূমিকম্প বিবেচনায় সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল কোনটি?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ঢাকা
  3. খুলনা
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
• ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিবেচনায় সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।

⇒ সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ হলো:
- দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার উত্তরাংশ।

মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হলো:
- চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকা, টাঙ্গাইল ও রংপুর অঞ্চল।

কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা:
- বরিশাল, খুলনা ও ফরিদপুর সহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল  হিসেবে চিহ্নিত।

সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
১২১.
বজ্রপাতের সময় কীভাবে থাকা উচিত?
  1. উঁচু গাছের নিচে
  2. খোলা মাঠে দৌড়াদৌড়িতে
  3. গুহার ভিতর বা মাটিতে শুয়ে
  4. জলাশয়ের পানিতে
ব্যাখ্যা
⇒ বজ্রপাতের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। তবে এ থেকে বাঁচতে কিছু সতর্কতার কথা বলেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। 

১. পাকা বাড়ির নিচে আশ্রয় নিতে হবে। ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই খোলা বা উঁচু জায়গায় না থাকাই ভালো। এ অবস্থায় সবচেয়ে ভালো হয়, যদি কোনো দালানের নিচে আশ্রয় নিতে পারেন।

২. উঁচু গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন থেকে দূরে থাকতে হবে। উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের খুঁটিতে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে। খোলা জায়গায় কোনো গাছ থাকলে তা থেকে অন্তত ৪ মিটার দূরে থাকতে হবে। এ ছাড়া ফাঁকা জায়গায় কোনো যাত্রীছাউনি বা বড় গাছ ইত্যাদিতে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি থাকে।

৩. ঘরে থাকলে বজ্রপাতের সময় জানালা থেকে দূরে থাকতে হবে। জানালা বন্ধ রাখতে হবে।

৪. ধাতব বস্তু এড়িয়ে চলতে হবে। বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করা যাবে না। এমনকি ল্যান্ড লাইন টেলিফোনও স্পর্শ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

৫. বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত সব যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখা ভালো। বজ্রপাতের আভাস পেলে আগেই এগুলোর প্লাগ খুলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করুন। অব্যবহৃত যন্ত্রপাতির প্লাগ আগেই খুলে রাখুন।

৬. বজ্রপাতের সময় রাস্তায় গাড়িতে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার চেষ্টা করতে হবে। প্রচণ্ড বজ্রপাত ও বৃষ্টি হলে গাড়ি কোনো গাড়িবারান্দা বা পাকা ছাউনির নিচে রাখতে হবে। এ সময় গাড়ির কাচে হাত দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

৭. বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। যদি একান্ত বেরোতেই হয় তাহলে পা ঢাকা জুতা পরে বের হতে হবে। রবারের গামবুট এ ক্ষেত্রে সব থেকে ভালো কাজ করবে।

৮. খোলা জায়গায় বা ফসলের মাঠে কাজ করা অবস্থায় আশ্রয়ের জায়গা না থাকলে যতটা সম্ভব নিচু হয়ে গুটিসুটি মেরে বসে পড়তে হবে। কোনো অবস্থাতেই মাটিতে শোয়া যাবে না।
৯. জলাশয় থেকে দূরে থাকতে হবে।
১০. বজ্রপাতের সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হবে।
১১. নৌকায় থাকলে ছইয়ের নিচে থাকতে হবে।

প্রশ্নোল্লিখিত অপশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর অপশন 'গ'।

উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
১২২.
ঘূর্ণিঝড়ের সময় সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির গড় তাপমাত্রা কত থাকে?
  1. ১৯°
  2. ২১°
  3. ২৩°
  4. ২৭°
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড়।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দ্বারা মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চলের নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৫ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- এছাড়াও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। দ্রুত উর্দ্ধগামী বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকলে ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধে প্রবল ঘূর্ণিবায়ু বাইরের থেকে কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। পরে প্রচন্ড শক্তিতে বায়ু আবর্তনের মাধ্যমে উপরের দিকে উঠতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৩.
সুনামির ফলে কোন দুর্যোগটি হতে পারে?
  1. মৃত্তিকা ক্ষয়
  2. ভূমিকম্প
  3. জলোচ্ছ্বাস
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ (Disaster):
- দুর্যোগ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Disaster.
- এটি গ্রিক শব্দ Dis এবং Aster এর সমন্বয়ে গঠিত। Dis অর্থ মন্দ বা খারাপ এবং Aster অর্থ তারা।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদগণ মনে করতেন, আকাশে কোনো তারা খারাপ অবস্থানে থাকলে খারাপ ঘটনা ঘটবে। সুতরাং উৎপত্তিগতভাবে দুর্যোগ বলতে এমন একটি অবস্থা বুঝায় যা মানুষকে মন্দ বা অকল্যাণকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করে।
- দুর্যোগ বলতে এমন একটি বিপর্যয়কে বুঝায় যা কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশিরভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তোলে এবং উক্ত জনগোষ্ঠির তা মোকাবেলা করার ক্ষমতা সাধ্যের বাইরে চলে যায় । এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মানুষকে অনেক মূল্য দিতে হয়।
- দুর্যোগ কখনো হঠাৎ সংঘটিত হয় আবার কখনোবা এক বা একাধিক ঘটনা ধীরে ধীরে দুর্যোগ সৃষ্টি করতে পারে।
- অনেক সময় একটি দুর্যোগ একাধিক দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেমন- ভূমিকম্প থেকে সুনামি হতে পারে। আবার সুনামি থেকে জলোচ্ছ্বাস এবং জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা হতে পারে।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৪.
পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টর্নেডো প্রবণ এলাকা কোনটি?
  1. এশিয়া
  2. আফ্রিকা
  3. ইউরোপ
  4. উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা

টর্নেডো:
- টর্নেডো মূলত অতি দ্রুত আবর্তনশীল ক্ষুদ্র আকারের অথচ প্রলয়ঙ্কারী বজ্রঝড়। 
- এটি চোঙ আকৃতির হয়ে থাকে এবং এই বজ্রঝড়ের মধ্যভাগে বায়ু অতিদ্রুত বেগে উপরে উঠতে থাকে।
- এই চোঙ যদি ভূমি স্পর্শ করে তখন ধ্বংসলীলা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। 
- টর্নেডোর ব্যাস ভূ-পৃষ্ঠের উপরে ১০০ থেকে ৫০০ গজ পর্যন্ত হয়। 

টর্নেডোর বৈশিষ্ট্য:
- পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টর্নেডোপ্রবণ এলাকা উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া।
- টর্নেডোতে প্রথমত আকস্মিকভাবে বায়ু চাপের হ্রাস ঘটে বলেই বড় বড় ইমারতে ফাটল ধরে।
- বায়ুর আবর্তন হয় অত্যন্ত দ্রুতবেগে। ফলে বায়ুপ্রবাহের সম্মুখে প্রতি বর্গফুটে বায়ুচাপের পরিমাণ হয় ১৬০ থেকে ১০০০ পাউন্ড।
- টর্নেডোর গতিপথ অর্ধবৃত্তাকার হতে পারে এবং উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো ডানদিকে আবর্তিত হয়।
- টর্নেডোর গতিবেগ ঘন্টায় ৫ হতে ৬৫ মাইল হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ মাইল হয়।
- সমুদ্রের উপর টর্নেডো সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে, মেক্সিকো উপসাগরে এবং চীন ও জাপানের উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়।

উৎস - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৫.
প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়-
  1. নদীভাঙন
  2. অগ্নিকান্ড
  3. ভূমিকম্প
  4. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক দুর্যোগ: 
প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং সাধারণত এর উপর মানুষের কোন হাত থাকে না।
যেমন - বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
 
প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহকে তিনটি বৃহৎ বিভাগভুক্ত করা যেতে পারে। যেমন- 
- বায়ুমন্ডলীয় প্রক্রিয়াসৃষ্ট climatic বাযুমন্ডলীয় দুর্যোগসমূহ (ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, টর্নেডো, হারিকেন, খরা ইত্যাদি), 
- ভূ-পৃষ্ঠের প্রক্রিয়া সৃষ্ট exogenetic দুর্যোগসমূহ (বন্যা, নদীতীর ভাঙন, উপকূলীয় ভাঙন, ভূমিধ্বস,  মৃত্তিকা ক্ষয় এবং প্রাকৃতিক ভূগর্ভস্থ পানি দূষণ), 
- এবং পৃথিবীপৃষ্ঠের অভ্যন্তরস্থ প্রক্রিয়াসৃষ্ট endogenetic ভূগর্ভস্থ দুর্যোগসমূহ (ভূমিকম্প এবং অগ্ন্যুৎপাত)

মানবসৃষ্ট দুর্যোগ: 
মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় এবং যা মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
যেমন - যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি৷

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই। 
১২৬.
চীন ও জাপান উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নাম কী?
  1. বাগুই
  2. হারিকেন
  3. সাইক্লোন
  4. টাইফুন
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- সকল প্রকার বায়ুমন্ডলীয় গোলযোগের মধ্যে সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী গোলযোগ হলো ঘূর্ণিঝড়।
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে এদের বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।
- এদের নাম ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন (cyclone),
- চীন ও জাপান উপকূলে হলো টাইফুন (Typhoon),
- ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই (Baguio),
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলিছ (willy willies)
- এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হলো হারিকেন (Hurricane)।

উৎস: প্রাকৃতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৭.
বাংলাদেশ সরকারের কোন প্রতিষ্ঠানটি উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে?
  1. ব্র্যাক
  2. সিপিপি
  3. প্রশিকা
  4. রেড ক্রিসেন্ট
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সরকারের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি বা Cyclone Preparedness Programme (সিপিপি) প্রতিষ্ঠানটি উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে। 

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি বা Cyclone Preparedness Programme (সিপিপি): 
- ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় এর পর দীর্ঘ দুই মাসের অধিক সময়কাল উপকূলীয় অঞ্চল পরিদর্শনের পর মিঃ হেগষ্ট্রম ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির’ রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- তদানীন্তন বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা, নোয়াখালী জেলা, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) জেলা ও পটুয়াখালী জেলার মেটি ২৩ টি থানায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হয়।
- ১,৯৭২ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে ২৩ টি থানার ১৮৬ টি ইউনিয়নের আওতাধীন ১,৯২৭ টি ইউনিটের মোট ১৯,২৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন কাজ সম্পন্ন হয়।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: 
- দুর্যোগে সারা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি।
- দুর্যোগে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা।
- সমাজ কল্যাণে ও মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের দক্ষতা, স্পৃহা, অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি ও আত্মত্যাগী মনোভাব সৃষ্টি করা।
- দুর্যোগ প্রস্তুতি কার্যক্রম শক্তিশালী এবং উন্নয়ন করা।
- ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচীর স্বেচ্ছাসেবক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
- দুর্যোগে দ্রুত সারা প্রদানের জন্য বেতার যোগাযোগ শক্তিশালী করা।
- আবহাওয়ার সতর্ক সংকেত বোধগম্য ও প্রতিষ্ঠিত করা এবং ঘূর্ণিঝড় সংকেত এর সহিত সস্পৃক্ত জনসাধারণকে কার্যকরী সাড়া প্রদানে নিশ্চিত করা।

- সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহ যেমন- অক্সফাম, ডিজাস্টার, ফোরাম, কেয়ার বাংলাদেশ, কারিতাস, প্রশিকা, সিসিডিবি, বিডিপিসি (বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি কেন্দ্র) ইত্যাদি সংস্থার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
- এছাড়া রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে রেডক্রিসেন্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৮.
"Sendai Framework 2015-2030"-এ ২০৩০ সালের মধ্যে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য কতটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
- "Sendai Framework 2015-2030"-এ ২০৩০ সালের মধ্যে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য ৭টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 

• সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:

- সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন’ একটি বৈশ্বিক চুক্তি,
- যা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে দুর্যোগ পরিকল্পনা, মোকাবিলা ও পুনর্বাসনে সহায়তার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
- ২০১৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ মার্চ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-২০৩০ গৃহীত হয়।

সূত্র: জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয় ও UNDP ওয়েবসাইট।
১২৯.
বাংলাদেশে বছরের কোন সময়ে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়? 
  1. মার্চ-এপ্রিল
  2. এপ্রিল-মে
  3. মে-জুন
  4. অক্টোবর-নভেম্বর
ব্যাখ্যা
• কালবৈশাখী ঝড়:
- কালবৈশাখী ঝড় বাংলাদেশের অতিপরিচিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিল থেকে মে (বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠ) মাসে কালবৈশাখী ঝড় দেখা দেয়। তবে বৈশাখ মাসেই কালবৈশাখীর প্রকোপ বেশি থাকে।

- এই ঝড়ের গতিবেগ ৫৫ থেকে ৮০ কি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩০.
ভৌগোলিক বৈশিষ্টের ভিত্তিতে নিচের কোন দুর্যোগটি বাংলাদেশে নিয়মিত?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. ভূমিধ্বস
  3. নদীভাঙন
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ: 
• বন্যা,
• খরা,
• ঘূর্ণিঝড়, 
• সুনামি;
• ভূমিধ্বস,
• নদীভাঙন, 
• ভূমিকম্প।  

♣ নদীভাঙন: 

• নদীখাতে পানিপ্রবাহের কারণে পার্শ্ব ক্ষয়কে নদীভাঙন বলে।
• পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে নদীভাঙনে প্রতি বছর প্রচুর ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়।
• অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটে।

♣ নদীভাঙনজনিত ক্ষয়ক্ষতি:  
• বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় নদীভাঙন এ দেশের জন্য নিয়মিত সমস্যা বলা যায়।
• নদীভাঙনের ক্ষতি ব্যাপক আকার ধারণ করে। 
• এ দেশে প্রতি বছর পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, তিস্তাসহ প্রায় ৪১০টি নদী-উপনদীতে বন্যা এবং সন্নিহিত নদীতে ভাঙনের ঘটনা ঘটে।
• এ দেশের মানুষ নদীভাঙন নামক দুর্যোগের সঙ্গে কমবেশি জড়িত।
• এর মধ্যে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন লোক প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
• এদের মধ্যে প্রায় তিন লক্ষ লোক আশ্রয় নেয় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তা এবং বাঁধের উপর।
• অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
• এছাড়া প্রতি বছর প্রায় ৮,৭০০ হেক্টর জমি নদীভাঙনে নিঃশেষ হয়ে যায়৷ 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।   
১৩১.
ক্লাউডবার্স্ট বলতে কী বোঝায়?
  1. অতি অল্প সময়ে অতি অল্প বৃষ্টিপাত
  2. অতি অল্প সময়ে অতি বেশি বৃষ্টিপাত
  3. দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত
  4. দীর্ঘ সময় ধরে অতি বেশি বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

মেঘ বিস্ফোরণ (Cloudburst):
- ক্লাউডবার্স্ট হল অল্প সময়ের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট স্বল্প জায়গায় শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাত সহ অতি বৃষ্টিপাত।

​⇒ এর ফলে আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধ্বস হতে পারে।
- সাধারণত যখন ১০ বর্গকিলোমিটার (৩.৮৬ বর্গ মাইল) অঞ্চলে এক ঘন্টার মধ্যে ১০ সেন্টিমিটার (৩.৯৪ ইঞ্চি) এর বেশি পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তাকে ক্লাউড বিস্ফোরণ বা ক্লাউডবার্স্ট বলে থাকে।
- এটি হিমালয়ান অঞ্চল এবং পার্বত্য এলাকায় বেশি ঘটে থাকে।
- সাধারণত ক্লাউডবার্স্ট বর্ষা ঋতুতে হয়ে থাকে।
- তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এর পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

⇒ মেঘ বিস্ফোরণের বৈশিষ্ট্য:
- মেঘ বিস্ফোরণ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এটি সাধারণত খুব ছোট এলাকা জুড়ে ঘটে।
- মেঘ বিস্ফোরণের পরিধি কয়েক বর্গ কিলোমিটারের বেশি হয় না।
- মেঘ বিস্ফোরণের ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়।
- কখনও কখনও এটি এতটাই প্রবল হয় যে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নদী এবং জলাশয়গুলো পানিতে ভরে যায়, যা বন্যার সৃষ্টি করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) প্রথম আলো।

১৩২.
'সেন্দাই ডিক্লারেশন' ঘোষণা করা হয়েছে কোথায়?
  1. ক) দক্ষিণ কোরিয়ায়
  2. খ) মঙ্গোলিয়ায়
  3. গ) জাপানে
  4. ঘ) ইন্দোনেশিয়ায়
ব্যাখ্যা
• The Sendai Framework for Disaster Risk Reduction (2015 - 30): 
- ১৪ - ১৮ মার্চ ২০১৫ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের 'দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক' আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহীত একটি উদ্যোগ।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য 'সেন্দাই ডিক্লারেশন' ঘোষণা করা হয়েছে।
- পরবর্তী দশ বছরের জন্য এই ঘোষণাপত্র অনুযায়ী জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো তাদের ঝুঁকি নিরসন কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা করবে, এটাই প্রত্যাশা।

সূত্র: UN এর ওয়েবসাইট।
১৩৩.
ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া এটা কত নাম্বার বিপদ সংকেত?
  1. ক) বিপদ সংকেত ৫
  2. খ) বিপদ সংকেত ৭
  3. গ) মহাবিপদ সংকেত ১০
  4. ঘ) মহাবিপদ সংকেত ১১
ব্যাখ্যা

৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের অর্থ হলো— প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বন্দরের আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে। ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দরের উত্তর দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে (মোংলা বন্দরের বেলায় পশ্চিম দিক দিয়ে)।
১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের অর্থ প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বন্দরের আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে এবং ঘূর্ণিঝড়টি বন্দরের খুব কাছ দিয়ে, অথবা ওপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
১১ নম্বর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার সংকেতের অর্থ হচ্ছে— ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তার বিবেচনায় চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Source:banglatribune

১৩৪.
সম্প্রতি তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় সংগঠিত হওয়া ভূমিকম্পের মাত্রা কত ছিল?
  1. ক) ৮.৫
  2. খ) ৭.৫
  3. গ) ৭.৬
  4. ঘ) ৭.৮
ব্যাখ্যা
-  সম্প্রতি তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় সংগঠিত হওয়া ভূমিকম্প আঘাত হানে ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সালে।
- রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮।
- উৎপত্তিস্থলে এর গভিরতা ছিল ১৭.৯ কিলোমিটার।
-  ভূকম্পনপীড়িত তুরস্কের ১০টি অঞ্চলে ৩ মাসের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
- ভূকম্পনপীড়িত এলাকাগুলোয় যথাসময়ে যথেষ্ট ত্রাণ না পৌঁছানোয় খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে।
- সেই সঙ্গে রয়েছে তীব্র শীত।
- ক্ষুধা ও শীতে কষ্ট পাচ্ছে অসংখ্য মানুষ।
- পরিস্থিতি এমন যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, ভূমিকম্পে যারা বেঁচে গেছে, তাদেরও অনেকে মারা যেতে পারে আশ্রয়, খাবার, সুপেয় পানি ও জ্বালানির অভাবে।
- তুরস্কের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি।
- আর সিরিয়ায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক এল-মোস্তাফা বেনলামিল জানিয়েছেন, দেশটিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক কোটির বেশি মানুষ।
- সংস্থাটির আশঙ্কা, তুরস্ক ও সিরিয়ার মৃত মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়াতে পারে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা।
১৩৫.
কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা পরিমাপে Fujita Scale ব্যবহৃত হয়?
  1. সুনামি
  2. ভূমিকম্প
  3. টর্নেডো
  4. দাবানল
ব্যাখ্যা

ফুজিতা স্কেল:
- ফুজিতা স্কেল (Fujita Scale), যা F-স্কেল হিসেবেও পরিচিত, এটি টর্নেডোর তীব্রতা এবং ক্ষতির স্তরের জন্য ব্যবহৃত একটি স্কেল।
- ১৯৭১ সালে জাপানি আবহাওয়াবিদ তাতসুয়া থিওডোর ফুজিতা (Tetsuya Theodore Fujita) এটি তৈরি করেছিল।
- এই স্কেলটি টর্নেডোর শক্তি এবং তার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করে।
- ফুজিটা স্কেল বাতাসের শক্তি এবং ক্ষতির ক্ষয়ক্ষতি স্থাপনের চেষ্টা করে।
- ফুজিটা স্কেলে টর্নেডোগুলিকে F0 থেকে F5 পর্যন্ত শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যেখানে F0 হলো সবচেয়ে দুর্বল এবং F5 হলো সবচেয়ে শক্তিশালী। 


⇒ টর্নেডো:
- টর্নেডো এক ধরনের ঝড়, যা বায়ুস্তম্ভের আকারে সৃষ্ট প্রচণ্ড বেগে ঘূর্ণায়মান ঝড় যা মেঘ (সাধারণত কিউমুলোনিম্বাস, ক্ষেত্রবিশেষে কিউমুলাস) এবং পৃথিবীপৃষ্ঠের সাথে সংযুক্ত থাকে।
- টর্নেডোর আকৃতি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি দৃশ্যমান ঘনীভূত ফানেল আকৃতির হয়, যার চিকন অংশটি ভূপৃষ্ঠকে স্পর্শ করে এবং এটি প্রায়শই বর্জ্যের মেঘ দ্বারা ঘিরে থাকে।
- সাধারণত কোন স্থানে নিম্নচাপ বা লঘুচাপ সৃষ্টি হলে ওই স্থানের উষ্ণ বাতাস উপরের দিকে উঠে যায় এবং তখন ওই শূন্য জায়গা পূরণের জন্য চারদিকের শীতল বাতাস দ্রুত বেগে ধাবিত হয়।
- কালবৈশাখীর মতো এভাবেই টর্নেডোর উৎপত্তি হয়। তবে কালবৈশাখীর মতো বজ্রঝড়ের সাথে আবহাওয়ার আরও কিছু উপাদান যোগ হয়ে তৈরি হয় এ টর্নেডো।
- এটি মূলত স্থলভাগে তৈরি হওয়া একটি বায়ুচাপ যা প্রচণ্ড বেগে ঘুরতে থাকে এবং খুব স্বল্প সময়ের জন্য সক্রিয় থাকে।
- টর্নেডোর বায়ুপ্রবাহ হচ্ছে ঘূর্ণন এবং বাতাসের প্রচণ্ড গতিবেগের জন্যই এর ধ্বংসক্ষমতা অনেক বেশি।
- বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টর্নেডো দেখতে সরু ফানেলের মতো হয়, যার চিকন অংশটি ভূমি স্পর্শ করে। যদিও টর্নেডো বিভিন্ন আকার কিংবা আকৃতির হতে পারে।
- শীতের শেষ থেকে বর্ষার শুরু এই সময়টাতেই টর্নেডো হানা দেয় বেশি। কয়েক সেকেন্ড থেকে শুরু করে এক ঘণ্টা পর্যন্ত। তবে অধিকাংশই স্থায়ী হয় মিনিট দশেক।
- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঞ্চলে টর্নেডো বেশি হয়ে থাকে।
- অনেক সময় একটি টর্নেডো থেকে একাধিক টর্নেডো তৈরি হতে পারে যাকে টর্নেডো পরিবার বলা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) Britannica.

১৩৬.
উত্তর ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ চালু হয় কবে থেকে?
  1. ১৯৯৪ সাল
  2. ২০০১ সাল
  3. ২০০৪ সাল
  4. ২০০৯ সাল
ব্যাখ্যা
- উত্তর ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ চালু হয় ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে।
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অধীন The WMO/ESCAP Panel on Tropical Cyclones আবর সাগর ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের নামকরণ করে থাকে।
- এই প্যানেলে বর্তমানে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ রয়েছে। প্রতিটি দেশ প্রদত্ত ১৩টি করে মোট ১৬৯টি নামের তালিকা থেকে দেশ অনুযায়ী ক্রম অনুসারে নামকরণ করা হয়।
(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ওয়েবসাইট)
১৩৭.
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় আইলা কবে সংঘটিত হয়?
  1. ক) ২০০৭
  2. খ) ২০০৯
  3. গ) ২০১০
  4. ঘ) ২০১১
ব্যাখ্যা
১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষের প্রাণহানী হয়েছে। ২০০৭ ও ২০০৯ সালে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং আইলাতে যথাক্রমে ১০ হাজার এবং ৭ হাজার মানুষের প্রাণহানী হয়েছিলো।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১৩৮.
ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত
  2. ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠে ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়
  3. ঘূর্ণিঝড়ের আগে বায়ু শীতল ও আর্দ্র থাকে
  4. ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone।
- এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ।
- বিজ্ঞানী হেনরি পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রথম এ শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব ঘটে আবহাওয়াতে।
- ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার আগে বায়ু শান্ত, উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে।
- ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশ যখন আসে তখন প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও ঘন মেঘসহ মুষলধারে বৃষ্টি হয়।
- আর কেন্দ্রের ভিতরে অবস্থানকারী চোখ শান্ত আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি করে।
- ঘূর্ণিঝড়ের পশ্চাৎভাগে পৌঁছানোর পর আবারও ঘন মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ সময় বায়ু অগ্রবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয়।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্য:
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত।
- এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয়।

উৎস: i) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৯.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চল বেশি খরাপ্রবণ?
  1. উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
  2. উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল
  3. দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল
  4. দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উত্তর - পশ্চিম অঞ্চল জেলাসমূহ খরাপ্রবণ।

খরা:

- সাধারণত খরা বলতে কোনো এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে ভূমিতে পানির অনুপস্থিতিকে বুঝায়।
- অর্থাৎ কোনো এলাকা বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকলে বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- এর ফলে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যায়।
- এরূপ অবস্থাকে খরা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর - পশ্চিম অঞ্চল জেলাসমূহ খরাপ্রবণ।
- বিগত অর্ধ শতকের ১৯৭৩, ১৯৭৫, ১৯৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৯, ১৯৯২, ১৯৯৪, ১৯৯৫ এবং ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক মাত্রায় খরা দেখা দেয়।

⇒ বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- অতি তীব্র: রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ,
- তীব্র: দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর জেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশবিশেষ,
- মাঝারি: রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার অংশবিশেষ,
- সামান্য: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার পললভূমি এলাকা।

খরার কারণ:
১. সময়মতো বৃষ্টিপাতের অভাব;
২. পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা;
৩. অপরিকল্পিতভাবে বনভূমি উজাড়;
৪. নদীর উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ;
৫. এল নিনো ও লা নিনোর প্রভাব প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪০.
বাংলাদেশের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় 'ভোলা সাইক্লোন বা গোর্কি' কত সালে আঘাত হেনেছিল?
  1. ১৯৭০ সালে
  2. ১৯৮৮ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা

ভোলা সাইক্লোন বা গোর্কি:
- বাংলাদেশের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় 'ভোলা সাইক্লোন বা গোর্কি' ১৯৭০ সালে আঘাত হেনেছিল।

⇒ ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে উপকূলে আঘাত হানে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় "ভোলা" সাইক্লোন বা গোর্কি। 
- প্রলয়ংকরী এ ঘূর্ণিঝড়টি মূহুর্তেই ব্যাপক জলোচ্ছ্বাসে ফুলে ফেপে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। পানির প্রবল স্রোত, ঝড়ের হিংস্রতা আর কালো মেঘের পেট থেকে নিক্ষিপ্ত বজ্রপাতে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিলো উপকূলীয় ভোলা ও তৎসংলগ্ন জেলাগুলোর প্রতিটি জনপদ।
- ওই সময়ে পুরো উপকূলজুড়ে ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিলো। এর মধ্যে শুধু ভোলাতেই লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।
- তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে দ্বীপ জনপদ ভোলা এবং পার্শ্ববর্তী জেলা নোয়াখালী উপকূলে। সেইসময় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় নোয়াখালী উপকূলের রামগতি, হাতিয়া, সন্দ্বীপ এবং পটুয়াখালীর জনপদ।
- জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী,"ভোলা সাইক্লোন" পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়ঙ্করতম প্রাণঘাতী একটি ঘূর্ণিঝড়। 
- তথ্য অনুযায়ী, এটি ১৯৭০-এর উত্তর ভারতীয় ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের ৬ষ্ঠ ঘূর্ণিঝড় এবং মৌসুমের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ছিল। এটি সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ছিল। এ ঘূর্ণিঝড়ে ১৫ থেকে ২৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপগুলো প্লাবিত হয়ে ধংসযজ্ঞে পরিণত হয়। 

উল্লেখ্য,
- বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব-দ্বীপ বাংলাদেশ।
- গ্রীষ্মকালে কিউমুলাস মেঘের কারণে বাংলাদেশ ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টিপাত নিয়মিত ঘটনা। তবে এপ্রিল- মে মাসে সমুদ্রে যে লঘুচাপগুলো সৃষ্টি হয়, তার মধ্য দু’একটি মূলত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।
- তবে বছরের শেষভাগের ঘূর্ণিঝড়গুলো অনেক বেশী শক্তিশালী আর বিধ্বংসী হয়ে থাকে।
- ১৯৮৮ সালের নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়ও ছিলো বেশ বিধ্বংসী। এই ঝড় বয়ে যায়, যশোর, কুষ্টিয়া আর ফরিদপুরসহ বাংলাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশকিছু জেলার ওপর দিয়ে। সেসময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার৷ এই ঘূর্ণিঝড়ে মারা যায় প্রায় ছয় হাজার মানুষ।
- ১৫ নভেম্বর ২০০৭। এদিন বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে আঘাত হানে ভয়ানক ঘূর্ণিঝড় সিডর। আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার। তবে এ সময় দমকা হাওয়ার বেগ উঠছিল ঘণ্টায় ৩০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। সিডরের প্রভাবে উপকূলে ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা। 

১৪১.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট আপদ?
  1. বজ্রঝড়
  2. নদী ভাঙ্গন
  3. কালবৈশাখী
  4. অগ্নিকান্ড
ব্যাখ্যা
'আপদ' (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ত্রুটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

• প্রাকৃতিক আপদ:
- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্নেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন, কালবৈশাখী।
ইত্যাদি।

মানবসৃষ্ট আপদ: ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
- কারিগরি আপদ: বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
১৪২.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট বন্যার কারণ?
  1. উজানে প্রচুর বৃষ্টি
  2. নদীর গভীরতা কম
  3. নদী অববাহিকায় ব্যাপক বৃক্ষ কর্তন
  4. হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
বন্যার কারণ (Causes of Flood):
•  মানবসৃষ্ট কারণ
(i) নদী অববাহিকায় ব্যাপক বৃক্ষ কর্তন। 
(ii) গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ। 
(iii) অন্যান্য নদীতে নির্মিত বাঁধের প্রভাব।
(iv) অপরিকল্পিত নগরায়ণ।

অন্যদিকে
• প্রাকৃতিক কারণ
(i) উজানে 
প্রচুর বৃষ্টি।
(ii) ভৌগোলিক অবস্থান।
(iii) মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব।
(iv) নদীর গভীরতা কম।
(v) হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ। 
(vi) বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা।
(vii) ভূমিকম্প।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৩.
সমুদ্রপৃষ্ঠ ৪৫cm বৃদ্ধি পেলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে climate refugee হবে?
  1. ৩ কোটি
  2. ৩.৫ কোটি
  3. ৪ কোটি
  4. ৪.৫ কোটি
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্ঠ ৪৫cm বৃদ্ধি পেলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ৩.৫ কোটি climate refugee হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের কারণে মাত্রাতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস অর্থাৎ কার্বন ডাইঅক্সাইড মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসগুলো নির্গমনের কারণে বিশ্বে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের যে ধারা শুরু হয়েছে তাতে বিশ্বের স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।
- আর এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে।
- অন্যান্য দেশ এ ক্ষতির মুখোমুখি হওয়ার আগেই বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ে গেছে।
- আগামী দিনগুলোতে এর মাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে তাতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে।
- আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
- ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর তথ্য অনুসারে ২০৩০ সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।
- ফলে এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা দেবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
- উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
- যা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে অনুভূত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

উল্লেখ্য,
- ৪৫ সেন্টিমিটার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাংলাদেশের ভূখণ্ডের প্রায় ১০.৯% প্লাবিত করবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের ৩.৫ মিলিয়ন জনসংখ্যাকে বাস্তুচ্যুত করবে।

উৎস: i) World Bank ওয়েবসাইট। 
          ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৪.
ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে কী বলা হয়?
  1. ফোকাস
  2. ফ্রাকচার
  3. ফল্ট
  4. এপিসেন্টার
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিূকম্প বলে।
- একটি শান্ত পুকুরে টিল ছুড়লে যেভাবে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে তরঙ্গ শক্তি উৎপত্তি হয় সেখানে থেকে মুক্ত শক্তি টেউয়ের মত শিলায় তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র (Centre বা Focus) বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৫.
ঝড়ের গতিবেগ ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি হলে একে কী বলা হয়?
  1. ক) হারিকেন
  2. খ) টর্নেডো
  3. গ) সাইক্লোন
  4. ঘ) টাইফুন
ব্যাখ্যা
টর্নেডো শব্দটি এসেছে স্প্যানিশ শব্দ 'Tornada' থেকে, যার অর্থ হলো Thunder storm বা বজ্রঝড়।
ঝড়ের বেগ ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি হলে এটাকে টর্নেডো বলা হয়।
টর্নেডোর সবচেয়ে ক্ষতিকারক দিক হলো এটি হঠাৎ করে অল্প সময়ের মধ্যে প্রচন্ড ধ্বংসযজ্ঞ করে ফেলতে পারে৷
স্মরণকালের ভয়াবহ টর্নেডোর মধ্যে একটি হলো ১৯৬৯ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা জেলার ডেমরা থানায়। ঐ টর্নেডোতে বাতাসের গতিবেগ ছিলো ঘন্টায় ৬৪৪ কিলোমিটার।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম অধ্যায়।
১৪৬.
কোনটি জলজ আবহাওয়াজনিত ( hydro-meteorological) দুর্যোগ নয়?
  1. ভূমিকম্প
  2. ভূমিধস
  3. নদীভাঙ্গন
  4. ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প 'hydro-meteorological' দুর্যোগ নয়।
- ভূমিধস, নদীভাঙ্গন ও ঘূর্ণিঝড় জলজ আবহাওয়াজনিত (Hydro-meteorological) দুর্যোগ।

ভূমিকম্প:
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র বলা হয়।
- সাধারণত ভূ-ত্বকের ৩২ কি.মি. এর মধ্যে ভূমিকম্পের উৎস স্থান থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গভীরতা আরও বেশি হতে পারে।
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
- ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার।
- ভূমিকম্পনের রেখা যে কাগজে অংকিত হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ বলে।

⇒ ভূমিকম্পের প্রধান কারণগুলো হলো:
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত।
- এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
- আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়।

⇒ ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ:
- শিলাচ্যুতি,
- তাপ বিকিরণ,
- ভূগর্ভস্থ বাষ্প,
- ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস,
- হিমবাহের প্রভাব ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি। 
১৪৭.
খরার ফলে নিচের কোনটি ঘটে?
  1. বন্যা দেখা দেয়
  2. খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পায়
  3. ভূমিধ্বস ঘটে
  4. বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয়
ব্যাখ্যা
খরা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন আবহাওয়ার ফলে দেখা দেয়।
খরার ফলে মাটিতে পানির পরিমাণ কমতে থাকে। এতে করে মাটিতে গাছপালা বা শস্য জন্মাতে পারে না। ফলে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পায়।

খরার ফলে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুরও খাদ্য সংকট দেখা দেয়। খরা দুর্ভিক্ষের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।

(তথ্যসূত্র: বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
১৪৮.
অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব কোনটি?
  1. উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়
  2. অগ্নিকান্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়
  3. পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে
  4. উপরোক্ত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

খরা:
- দীর্ঘ সময় ধরে চলা শুষ্ক আবহাওয়া, অপর্যাপ্ত বৃষ্টি, বৃষ্টিপাতের তুলনায় বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের পরিমাণ বেশি হলে খরার সৃষ্টি হয়।
- এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দেখা দেয় পানির অভাব।
- কুয়া, খাল, বিলের মতো নিত্যব্যবহার্য পানির আধার শুকিয়ে যায়।
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার রিস্ক অ্যাটলাস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে দেশের প্রায় ২২টি জেলা খরার ঝুঁকিতে রয়েছে।
- এর মধ্যে খুবই উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ছয় জেলা।
- খরাপ্রবণ এসব এলাকা মূলত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।

অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব: 
- বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে,
- পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে,
- অগ্নিকান্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়,
- উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়,
- খাদ্যের অভাবে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় ইত্যাদি।

উৎস:  ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি বাংলা। 

১৪৯.
CDMP এর পূর্ণরূপ কি?
  1. ক) Comprehensive Disaster Management Programme
  2. খ) Communicative Disaster Management Programme
  3. গ) Comprehensive Disaster Management Policy
  4. ঘ) Communicative Disaster Management Policy
ব্যাখ্যা
CDMP এর পূর্ণরূপ হলো Comprehensive Disaster Management Programme বা সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি। এটি ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার গৃহিত একটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মডেল।
(সূত্রঃ দুর্যোগকোষ : ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়)
১৫০.
সক্রিয় আগ্নেয়গিরির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ইরানের কোহিসুলতান
  2. খ) হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া
  3. গ) জাপানের ফুজিয়ামা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

আগ্নেয়গিরির প্রকারভেদ:
১। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি - যেসব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এখনও বন্ধ হয়নি, তাদেরকে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন - হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া
২। সুপ্ত আগ্নেয়গিরি : যেসব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত অনেককাল আগে বন্ধ হয়ে গেছে; কিন্তু যে কোনাে সময় আবার অগ্ন্যুৎপাত শুরু হতে পারে তাকে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন - জাপানের ফুজিয়ামা।
৩। মৃত আগ্নেয়গিরি : যেসব আগ্নেয়গিরি দীর্ঘকাল ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা নেই, সেগুলােকে মৃত আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন- ইরানের কোহিসুলতান।
(রেফারেন্স- ভূগােল ও পরিবেশ-৯ম-১০ম শ্রেণি)

১৫১.
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র কোন সংস্থার অধীন?
  1. আবহাওয়া অধিদপ্তর
  2. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর
  3. পানি উন্নয়ন বোর্ড
  4. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন।
- এটি রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কাজ হলো বন্যা বিষয়ে আগাম সতর্কতা প্রদান।
(তথ্যসূত্রঃ বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ওয়েবসাইট)
১৫২.
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী টর্নেডো কোন জেলায় সংঘটিত হয়?
  1. মানিকগঞ্জ
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. নাটোর
  4. পাবনা
ব্যাখ্যা
মানিকগঞ্জ টর্নেডো:
- মানিকগঞ্জ জেলায় ২৬ এপ্রিল, ১৯৮৯ সালে আঘাত হানে। আনুমানিক ১,৩০০ জন প্রাণহানি ঘটায়, এটি রেকর্ড করা ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে মারাত্মক টর্নেডো ছিল।
- স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টর্নেডো আঘাত হানে এবং দৌলতপুর এলাকা থেকে পূর্ব দিকে সাটুরিয়া ও মানিকগঞ্জ সদরের এলাকায় চলে আসে - একটি অঞ্চল যেটি প্রচণ্ড খরায় ভুগছিল ।
- এটি প্রায় ২.৫ বর্গ মাইল (৬ বর্গ কিমি) এলাকার মধ্যে সমস্ত বিল্ডিংকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়।
- ১৯৭৩ সালের ১৭ এপ্রিল মানিকগঞ্জ অঞ্চলে আরেকটি টর্নেডো কমপক্ষে ৬৮১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

এছাড়া,
- টর্নেডো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা স্থলভাগে সৃষ্টি হয়। স্থলভাগে নিম্নচাপ সৃষ্টির ফলে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু প্রবল বেগে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়ে টর্নেডোতে রূপ নেয়।
- সাধারণত ঝড়ের গতিবেগ ১০০ কিলোমিটারের অধিক হলে তা টর্নেডো হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- টর্নেডোর স্থায়ীত্ব স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও এর তাণ্ডবের মাত্রা থাকে অত্যধিক।
- স্পেনীয় এবং লাতিন ভাষার সমন্বয়ে Tornado শব্দের উৎপত্তি।
- টর্নেডো শব্দের অর্থ বজ্রঝড়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী, Britannica.
১৫৩.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য:
→ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য তিনটি।
এগুলো হলো:
→ দুর্যোগকালিন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা;
→ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে দ্রæত প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো ও পূণর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
→ দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করা। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৪.
ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একমাত্র পূর্বাভাস কেন্দ্র কোনটি?
  1. ক) স্পারসাে
  2. খ) নাসা
  3. গ) হু
  4. ঘ) আই.ইউ.সি.এন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো স্পারসো (SPARRSO)
- SPARRSO এর পূর্ণরূপ Space Research and Remote Sensing Organisation)।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁও-য়ে অবস্থিত।

(তথ্যসূত্রঃ SPARSO ওয়েবসাইট)।
১৫৫.
কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সুনামির সৃষ্টির সাথে সম্পর্কিত?
  1. সমুদ্রের উপকূলে জোয়ার
  2. সমুদ্রে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত
  3. সমুদ্রে প্রবল ঘূর্ণিঝড়
  4. সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
সুনামি:
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো "হারবার ওয়েভ" বা পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিরূপের আকস্মিক পরিবর্তনকারী শক্তি আগ্নেয়গিরি এবং ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠে বিশাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এরূপ বিশাল ঢেউকে সুনামি বলে।
- সুনামি সৃষ্টির কারণ ও সুনামির গতিবিধি সমুদ্রতলে জিও টেকটোনিক (Geo-techtonic) প্রক্রিয়ার দরুণ ভূ-আন্দোলনের ফলে যে কম্পন হয় তা প্রধানত দু'ভাবে হয়ে থাকে।
- যথা সমান্তরালভাবে ও উলম্বভাবে।
- সুনামির সময় সমুদ্রতলে উলম্ব আলোড়ন হয়।
- এর ফলে সমুদ্রতলের ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থান বিশাল অঞ্চলজুড়ে বসে যায় বা কোনো স্থান খাড়াভাবে ওপরে উঠে আসে ও সমুদ্রতলে ফাটলের সৃষ্টি করে যার ফলে তলদেশের সমতা নষ্ট হয়।
- দ্রুত সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির সমতা রক্ষার জন্য পানিরাশির প্রচন্ড উলম্বচাপের সৃষ্টি হয়।
- ফলশ্রুতিতে উপরিভাগের পানির সমতা রক্ষার জন্য সুনামি সৃষ্টি হয়।
- সুনামির সৃষ্টির প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প।
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেও সুনামি সৃষ্টি হয়ে থাকে।
- সুনামির ফলে প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৬.
কতটি পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে বিভক্ত করা যায়?
  1. পাঁচটি
  2. চারটি
  3. তিনটি
  4. দুইটি
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি। যথা-
১। দুর্যোগ প্রতিরোধ
২। দুর্যোগ প্রশমন
৩। দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:  
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:
- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়।
- এগুলো হলো: পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।
- এই ৩টি কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ।

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:-
- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়।
- এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মুকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি

১৫৭.
আকস্মিক বন্যায় কোন অঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়?
  1. ক) বরেন্দ্র অঞ্চল
  2. খ) হাওরাঞ্চল
  3. গ) সুন্দরবন
  4. ঘ) উপকূল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।

- বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

অন্যদিকে,
- বৃহত্তর খুলনা ও যশোর অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত বন্যা দেখা যায়।
- উপকূলীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যা দেখা দেয়।
- নদী সংলগ্ন জেলাসমূহে নদীসৃষ্ট বন্যা দেখা যায়।

(তথ্যসূত্র: বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর)
১৫৮.
আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা কত মিলিগ্রাম?
  1. ক) ০.০১ মিলিগ্রাম
  2. খ) ০.০৫ মিলিগ্রাম
  3. গ) ০.১০ মিলিগ্রাম
  4. ঘ) ০.৫০ মিলিগ্রাম
ব্যাখ্যা
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হলো ০.০১ মিলিগ্রাম।
- তবে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে। বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম।
- চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা।
- ১৯৯৩ সালে চাপাইনবাবগঞ্জে দেশে প্রথম নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি চিহ্নিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর)
১৫৯.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে দেশের কোন জেলা জলমগ্ন হবে?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) বগুড়া
  4. ঘ) সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা
• গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্নভূমি তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে।
• এক্ষেত্রে সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালী জেলা নিম্নাংশসহ উপকূলবর্তী নিম্নভূমি প্লাবিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬০.
সুনামি সংঘটিত হওয়ার অন্যতম কারণ-
  1. সমুদ্রতলীয় ভূকম্প হওয়া 
  2. বন্যা বা নদীর পানি বৃদ্ধি হওয়া 
  3. ঘূর্ণিঝড় বা হারিকেন হওয়া 
  4. চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ হওয়া 
ব্যাখ্যা

সুনামি:
- সুনামি (Tsunami)  ‘সুনামি’  জাপানি শব্দ।
- বাংলায় এর অর্থ ‘পোতাশ্রয় ঢেউ’।
- সাগর বা নদী বা অন্য কোন জলক্ষেত্রে ভূমিকম্পের, ভূমিধ্বসের কিংবা আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসকেই বলা হয় সুনামি।

• বিভিন্ন কারণে সুনামির সৃষ্টি হতে পারে: 
- কারণগুলোর মধ্যে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্নূৎপাত, ভূমিধ্বস অন্যতম।
- তারমধ্য দুটি কারণ উলে­খযোগ্য হলো সমুদ্রতলের ২০-৩০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্প সংঘটনএবং টেকটোনিক পে­টের আকষ্মিক উত্থান-পতন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৬১.
ভূমিকম্পের প্রবণতার ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) ৪ ভাগে
  2. খ) ৫ ভাগে
  3. গ) ২ ভাগে
  4. ঘ) ৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
⇨ ২০১৬ সালে প্রকাশিত 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) রিপোর্টে প্রথম সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
⇨ সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন  অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো -
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল।)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.36
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.28
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.2
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.12

উল্লেখ্য, 
⇨ BANGLADESH NATIONAL BUILDING CODE (BNBC) সর্বপ্রথম ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রিপোর্টে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্প সংঘটন অঞ্চলে (Seismic Zone) বিভক্ত করে।
অঞ্চলগুলো হলো -
১. মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ - উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা -৭)
২. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ - মধ্যাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৬)
৩. কম ঝুঁকিপূর্ণ - দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা-৫)।
পরে, ২০০৬ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও তিনটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বইয়ের সর্বশেষ সংস্করণে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রির্পোর্ট অনুসারে, ভূমিকম্পের প্রবণতার ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে ৩টি অঞ্চলে ভাগ করে দেখানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র:-  BNBC প্রকাশিত Seismic Design সমীক্ষার রিপোর্ট।
১৬২.
নিম্নের কোনটি UDMC-এর কাজ? 
  1. দুর্যোগের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ
  2. দুর্যোগের জন্য পূর্বপ্রস্তুতি
  3. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার
  4. বর্ণিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

UDMC:
- UDMC-এর পূর্ণরূপ: Union Disaster Management Committee.
- ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় UDMC।
- এই কমিটি দুর্যোগের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার প্রভৃতি কর্মকাণ্ড করে থাকে।
- স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসের অন্তত একবার UDMC এর সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- DMC গঠিত হয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার এনজিও কর্মকর্তা দুর্যোগের বিপর্যস্ত গ্রুপের প্রতিনিধি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সমন্বয়ে।
- স্বাভাবিক সময়ে এ কমিটি একটি করে মিটিং করে এবং দুর্যোগ কালীন সময়ে একাধিক মিটিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের পূর্ণরূপ:
- NDMC: National Disaster Management Council.
- NDMAC: National Disaster Management Advisory Committee.
- DDMC: District Disaster Management Committee.
- UZDMC: Upazila Disaster Management Committee.

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১৬৩.
নিচের কোন ব্যবস্থা বন্যা নিয়ন্ত্রণের সাধারণ ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত নয়?
  1. নদী শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা
  2. নদীর দুই তীরে বনাঞ্চল সৃষ্টি করা
  3. বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা
  4. নদী খননের মাধ্যমে পানি পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা

⇒ বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Flood Control System):
ক) সাধারণ ব্যবস্থাপনা:
• নদীর দুই তীরে প্রচুর বৃক্ষ রোপন করা।
• নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
• বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
• পুকুর, নালা, বিল প্রভৃতি খনন ও পুনঃখনন করে পানি সংরক্ষণ করা।
• বন্যা মোকাবেলার জন্য সরকারি ভাবে স্থায়ী ও দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

খ) ব্যয়বহুল প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা:
• ড্রেজিং-এর মাধ্যমে নদীর পানি পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
• জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে পানি প্রবাহকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা।
• আর্ন্তজাতিক নদীসমূহে পানি প্রবাহকে বাঁধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রন ও নিষ্কাশন করা।
• সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
• নদী তীরে স্থায়ী ও সুদৃঢ় বাঁধ নির্মাণ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সংরক্ষণ করা।

গ) সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা:
• নদীর দুই তীরে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর পানি উপচে পড়া বন্ধ করা।
• দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।
• রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা।
• বন্যা প্রবল অঞ্চলে সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের উপরে 'আশ্রয়কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠা করা।
• শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া।

তথ্যসূত্র - ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৪.
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (২০২১-২৫)-এর মূল লক্ষ্য কয়টি পর্যায়ে উন্নতি বিধানের উপর কেন্দ্রীভূত?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (২০২১-২৫):
- 'জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (এনপিডিএম) ২০২১-২০২৫° হচ্ছে ২০১৬-২০২০ এর ধারাবাহিক ও পরিমার্জিত সংস্করণ যেটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বাস্তবায়ন করেছে।
- সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, এনজিও, দাতাসংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত/সেক্টর ও উন্নয়ন সহযাগীদের সাথে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে এনপিডিএম ২০২১-২০২৫ প্রস্তুত করা হয়েছে।

⇒ এনপিডিএম ২০২১-২০২৫ দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক সেন্দাই কর্মকাঠামো (এসএফডিআরআর) ও বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি (এসওডি)-এর মৌলিক নীতিমালার আলোকে দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পরস্পরযুক্ত নিম্নলিখিত পাঁচটি পর্যায়ে উন্নতি বিধানের লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।
১) দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রম, অর্থাৎ, পদ্ধতিগত উপায়ে দুর্যোগঝুঁকি নিরূপণ, বিশ্লেষণ এবং পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজের সামগ্রিক বিপদাপন্নতা ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস নিশ্চিত করা;
২) দুর্যোগ প্রস্তুতি অর্থাৎ, যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী পর্যায়ে প্রয়োজনীয় বা যথাযথ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা:
৩) আগাম সতর্কতা ও হুঁশিয়ারি অর্থাৎ, কোন আসন্ন আপদ থেকে জীবন, সম্পদ ও মূল্যবান দ্রব্যাদি রক্ষার জন্য কার্যকর সতর্কীকরণ নিশ্চিত করা:
৪) জরুরি সাড়াদান অর্থাৎ, প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট আপদে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি মানবিক সেবা সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ নিশ্চিত করা;
৫) পুনর্বাসন, পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার অর্থাৎ, দুর্যোগ পরবর্তী প্রতিকুল পরিস্থিতিতে আগের চেয়ে ভালো অবস্থায় প্রত্যাবর্তনের কার্যকর কৌশল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
১৬৫.
SPARSO এর পূর্ণ রূপ কোনটি?
  1. Space Program and Research Scientific Organization
  2. Strategic Program for Aerospace Research and Space Operation
  3. Space Research and Regulatory Sensing Organisation
  4. Space Research and Remote Sensing Organisation
ব্যাখ্যা

• SPARRSO:
- বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো SPARRSO (Space Research and Remote Sensing Organisations)।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

উৎস: SPARSO ওয়েবসাইট।

১৬৬.
বর্তমানে দেশের মোট আয়তনের মোট কত শতাংশ এলাকা বৃক্ষাচ্ছাদিত?
  1. ক) ১০.৭%
  2. খ) ১৩.২৮%
  3. গ) ১৪%
  4. ঘ) ১৭%
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আয়তনের ১৭% এলাকা জুড়ে বনভূমি অবস্থিত।
বন বিভাগ নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ ৭৬ হাজার হেক্টর যা দেশের আয়তনের প্রায় ১০.৭%।
বর্তমানে দেশের মোট আয়তনের মোট ১৩.২৮% এলাকা বৃক্ষাচ্ছাদিত।
উৎসঃ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়
১৬৭.
ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগের নরম আবরণকে কী বলে?
  1. ক) পানি
  2. খ) জৈব পদার্থ
  3. গ) মৃত্তিকা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মৃত্তিকা:
- রোদ, বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ, পানি স্রোত, হিমবাহ, অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে শিলারাশি চূর্ন-বিচূর্ণ হয়ে পৃথিবী পৃষ্ঠের উপরিভাগে যে নরম আবরণ সৃষ্টি হয়েছে তাকে মৃত্তিকা বলে
মৃত্তিকার উপরই আমরা বসবাস করি এবং গাছপালাসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদন করে জীবনধারণ করি।

• মৃত্তিকা দূষণ:
- শিল্প বর্জ্য, কৃষি বর্জ্য, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য, জমাকৃত আবর্জনা এবং বিভিন্ন জৈব উপাদান মৃত্তিকার যে ক্ষতিসাধন করে তাই হলো মৃত্তিকা দূষণ। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৮.
দুর্যোগ ‘পূর্ব প্রস্তুতি’ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত-
  1. ক) নদী খনন
  2. খ) আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  3. গ) ঝুঁকিপুর্ণ অঞ্চল চিহ্নিতকরণ
  4. ঘ) পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি
ব্যাখ্যা
পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে দুর্যোগের পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা পথ নাটক অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র,টর্চ-ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত। কাঠামোগত প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যেমন- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকে বুঝায়। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১৬৯.
অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল-২ পরিচালিত হয় কবে?
  1. ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে
  2. ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে
  3. ১৯৯৮ সালের বন্যায়
  4. ২০০৭ সালের সিডরে
ব্যাখ্যা
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার অংশ হিসেবে মার্কিন মেরিন কর্পস অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল-২ পরিচালনা করে।
এতে মার্কিন রণতরী ইউএসএস তারাওয়া ও ইউএসএস কারসার্জ অংশ নেয়। এই অপারেশনে ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়।
এর আগে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় মার্কিন মেরিন কর্পস অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল-১ পরিচালনা করে।
(সূত্র: গ্লোবাল সিকিউরিটি সংস্থা ওয়েবসাইট)
১৭০.
টর্নেডো কী কারণে সৃষ্টি হয়?
  1. ভূমিকম্প
  2. অত্যধিক বৃষ্টিপাত
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. বায়ুর নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা
টর্নেডো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা স্থলভাগে সৃষ্টি হয়।
- স্থলভাগে নিম্নচাপ সৃষ্টির ফলে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু প্রবল বেগে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়ে টর্নেডোতে রূপ নেয়।

- সাধারণত ঝড়ের গতিবেগ ১০০ কিলোমিটারের অধিক হলে তা টর্নেডো হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- টর্নেডোর স্থায়ীত্ব স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও এর তাণ্ডবের মাত্রা থাকে অত্যধিক।

(তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
১৭১.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫ কবে জারি হয়েছে?
  1. ১ জানুয়ারি
  2. ১১ জানুয়ারি
  3. ১৯ জানুয়ারি
  4. ২১ মার্চ
ব্যাখ্যা
'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫' ১৯ জানুয়ারি জারি হয়েছে।

বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন:
- দুর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ক কার্যক্রমকে সমন্বিত, লক্ষ্যভিত্তিক ও শক্তিশালী করা এবং সকল ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাঠামো গড়িয়া তুলিবার নিমিত্ত বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।
- ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই আইন প্রণীত হয়।
- ২০১২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে।
- বাংলাদেশের সংসদে 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২' পাসের মাধ্যমে এই অধিদপ্তর গঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- দুর্যোগ মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্তুতিসহ জনগণের সার্বিক দুর্যোগ লাঘব করা, দুর্দশাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরী মানবিক সহায়তা, পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন কর্মসূচি অধিকতর দক্ষতার সাথে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২ প্রণীত হয়েছে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২ এর ১৯ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।
- ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৭২.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চল অধিক খরা প্রবণ?
  1. উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
  2. উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল
  3. দক্ষিন-পূর্ব অঞ্চল
  4. দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চল
ব্যাখ্যা

• খরা প্রবণ অঞ্চল:
- খরা দীর্ঘকালীন শুষ্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে খরা অবস্থার সৃষ্টি হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- এ অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ গরমের সময় রাজশাহী এবং বিশেষ করে নাটোর জেলার লালপুরে তাপমাত্রা ৪৫° সেন্টিগ্রেড বা তারও বেশি হয়। 
- আর শীতকালে দিনাজপুর ও রংপুরের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা এমনকি ৫° সেন্টিগ্রেডেরও নিচে নেমে যায়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

১৭৩.
পাহাড়ি ঢলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় -
  1. মৌসুমী বন্যা
  2. নগর বন্যা
  3. উপকূলীয় বন্যা
  4. আকস্মিক বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

⇒ মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

⇒ আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাতের ফলে বা পাহাড়ি ঢলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা হতে দেখা যায়।

⇒ উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

⇒ নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) মে ১, ২০২৪, The Daily Star বাংলা।
১৭৪.
When did 'Sidr' hit Bangladesh?
  1. 15 Nov. 2007
  2. 16 Nov. 2007
  3. 17 Nov. 2007
  4. 18 Nov. 2007
ব্যাখ্যা
সিডর:
- সরকারি তথ্য অনুসারে ১৯৬০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ৩৫টি বড় ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের হদিস পাওয়া যায়।
- এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক পাঁচটি ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে অন্যতম সিডর।
- এ অঞ্চলে যে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে, তার নাম দেওয়া হয় ২০০৪ সালে।
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম অনুসারে সিডরের নামটি ঠিক করে, যার অর্থ চোখ।
- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার। 
- সিডরকে ১৯৭০ ও ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সবচেয়ে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় বিবেচনা করা হয়।

উৎস: ১৫ নভেম্বর ২০২১, প্রথম আলো।
১৭৫.
'Bangladesh Climate and Disaster Risk Atlas' প্রকাশিত দেশে বন্যা প্রবণ জেলা কতটি?
  1. ৭টি
  2. ৯টি
  3. ১১টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) কর্তৃক প্রকাশিত Bangladesh Climate and Disaster Risk Atlas অনুসারে -
দেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রবণ জেলা - ৩টি।
কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী।
বন্যা প্রবণ জেলা - ১১টি।
টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও চাঁদপুর।
আকস্মিক বন্যা ও ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রবণ জেলা - ৬টি।
সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ।
দেশে খরাপ্রবণ জেলা - ১৩টি।
পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও গাজীপুর। 
খরার সঙ্গে বন্যা প্রবণ জেলা - ৬টি।
রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও কুষ্টিয়া।
বন্যা ও ভূমিকম্প প্রবণ জেলা - ৬টি।
 লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও জামালপুর।
লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড় প্রবণ জেলা - ১৬টি।
যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।

Source: পত্রিকা রিপোর্ট।
১৭৬.
নিচের কোনটি মানব-সৃষ্ট দুর্যোগের উদাহরণ?
  1. অগ্ন্যুৎপাত
  2. ভূমিকম্প
  3. যুদ্ধ
  4. ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ:
- পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়।
যেমন:
ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
খ) মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।

২. মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ ইত্যাদি। 

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৭.
কালবৈশাখী ঝড় কোথায় আঘাত হানে?
  1. নদীতে
  2. ফসলি জমিতে
  3. সমুদ্রে
  4. ভূমিতে
ব্যাখ্যা

কালবৈশাখী ঝড়:
- বাংলাদেশে বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বলে।
- কালবৈশাখী ঝড় বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে সংঘটিত হয়।
- কালবৈশাখী ঝড় ভারী বৃষ্টিপাত ও বজ্রসহ ভূ-পৃষ্ঠের উপর আঘাত হানে।
- সাধারণ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের প্রবল গরমের সময় কালবৈশাখী ঝড় হয় বাংলাদেশে।
- কাল শব্দের অর্থ ধ্বংস এবং বৈশাখ মাসে উৎপত্তি হয় বলে একে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয়।
- কালবৈশাখী ঝড় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে ইংরেজিতে নরওয়েস্টার বলা হয়।
- এই ঝড়ের গতিবেগ ৫৫ থেকে ৮০ কি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়। 
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ১ম ও ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৮.
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়-
  1. ক) ১৯৯১ সালে
  2. খ) ১৯৯৩ সালে
  3. গ) ১৯৯৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা

- পানীয় জলের জন্য বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ নির্ভর করে অগভীর নলকূপের পানির উপর।
- বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ১৯৯৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি আবিষ্কৃত হয়।
- পানি থেকে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক দূর করার কাজে সোনো আর্সেনিক ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। ২০০৬ সালে বাংলাদেশী বিজ্ঞানী অধ্যাপক আবুল হুসসাম দেশজ উপাদান ব্যবহার করে সোনো ফিল্টার আবিষ্কার করেন।
- এই আবিষ্কারের জন্য তিনি 'আউটস্ট্যান্ডিং আমেরিকান বাই চয়েস' পুরস্কার লাভ করেন।

১৭৯.
টর্নেডোর বৈশিষ্ট্য -
  1. টর্নেডোর চোঙ মাটি স্পর্শ করলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়
  2. পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টর্নেডো প্রবণ এলাকা উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া
  3. টর্নেডো গমনপথ অর্ধবৃত্তাকার
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• টর্নেডো:
→ টর্নেডো মূলত অতি দ্রুত আবর্তনশীল ক্ষুদ্র আকারের অথচ প্রলয়ঙ্কারী বজ্রঝড়।
→ এটি চোঙ আকৃতির হয়ে থাকে এবং এই বজ্রঝড়ের মধ্যভাগে বায়ু অতিদ্রুত বেগে উপরে উঠতে থাকে। এই চোঙ যদি ভূমি স্পর্শ করে তখন ধ্বংসলীলা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। তবে চোঙ ভূমি স্পর্শ না করলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয় না।
→ টর্নেডোর ব্যাস ভূ-পৃষ্ঠের উপরে ১০০ থেকে ৫০০ গজ পর্যন্ত হয়।
→  টর্নেডোর ভিতরে ও বাইরের বায়ুচাপের গড় পার্থক্য প্রায় ২ ইঞ্চি। তবে কখনো কখনো তা ৫ ইঞ্চি হয়ে যায়।
→ টর্নেডোর চোঙ মাটি স্পর্শ করলে ব্যাপক শব্দে সবকিছু ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং কালো মেঘে ছেঁয়ে যায়।
→ টর্নেডোর গতিপথ অর্ধবৃত্তাকার হতে পারে এবং উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো ডানদিকে আবর্তিত হয়।
→ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টর্নেডো প্রবণ এলাকা উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়।
১৮০.
দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত 'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক' কবে গৃহীত হয়?
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ২০১৮ সালে
  4. ২০২০ সালে
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।
১৮১.
ভূ-অভ্যন্তরে যেখানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়, সেই স্থানটিকে কী বলে?
  1. বিন্দুস্থল
  2. কেন্দ্রস্থল
  3. উপকেন্দ্রস্থল
  4. সমকেন্দ্রস্থল
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- একটি শান্ত পুকুরে টিল ছুড়লে যেভাবে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে তরঙ্গ শক্তি উৎপত্তি হয় সেখানে থেকে মুক্ত শক্তি টেউয়ের মত শিলায় তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিূকম্প বলে।
- ভূ-অভ্যন্তরে যেখানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়, সেই স্থানটিকে "কেন্দ্রস্থল" (Focus) বলা হয়।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।

তথ্যসূত্র: - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮২.
সর্বশেষ BNBC প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল কোনটি?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ২০১৬ সালে প্রকাশিত Bangladesh National Building Code (BNBC) রিপোর্টে প্রথম সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন  অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে।
অঞ্চলগুলো হলো -
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল।)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.36
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.28
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.2
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.1
---------
এর আগে,
BANGLADESH NATIONAL BUILDING CODE (BNBC) সর্বপ্রথম ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রিপোর্টে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্প সংঘটন অঞ্চলে (Seismic Zone) বিভক্ত করে।
অঞ্চলগুলো হলো -
১. মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ - উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা -৭)
২. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ - মধ্যাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৬)
৩. কম ঝুঁকিপূর্ণ - দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা-৫)।
পরে, ২০০৬ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও তিনটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
----------------
উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বইয়ের সর্বশেষ সংস্করণে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রির্পোর্ট অনুসারে, ভূমিকম্পের প্রবণতার ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে ৩টি অঞ্চলে ভাগ করে দেখানো হয়েছে।

উৎস: BNBC প্রকাশিত Seismic Design সমীক্ষার রিপোর্ট।
১৮৩.
নিচের কোনটি বৈশ্বিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষার সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) রামসার কনভেনশন
  2. খ) গ্রিনপিস
  3. গ) GCF
  4. ঘ) মন্ট্রিল প্রটোকল
ব্যাখ্যা

গ্রিনপিস (Greenpeace) নেদারল্যান্ডস্‌ এর আমস্টারডাম ভিত্তিক একটি বৈশ্বিক পরিবেশবাদী সংগঠন।
১৯৭১ সালে আলাস্কার আমচিটকা (Amchitka) দ্বীপে আমেরিকার ভূগর্ভস্থ পারমানবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের বিরুদ্ধে প্রচারণা ও লং-মার্চ পরিচালনার মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু।
বর্তমানে এটি বৈশ্বিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য প্রচারনা সহ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রচারনা ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ কর যাচ্ছে।
এক নজরে গ্রিনপিস (Greenpeace):
প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৫, সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ সাল।
প্রতিষ্ঠার স্থানঃ ভ্যাঙ্কুভার, ব্রিটিশ কলম্বিয়া, কানাডা।
সদরদপ্তরঃ আমস্টারডাম, নেদারল্যান্ড।

উৎসঃ Live MCQ content (upcoming)
১৮৪.
'তল্লাশি ও উদ্ধার' দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের কোনটির আওতাভুক্ত?
  1. প্রতিরোধ
  2. পুনরুদ্ধার
  3. উন্নয়ন
  4. সাড়া দান
ব্যাখ্যা
⇒ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

⇒ সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।



তথ্যসূত্র:  ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম -১০ম শ্রেনি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৫.
ঘূর্ণিঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় কমপক্ষে কত হয়ে থাকে?
  1. ৬৪ কি.মি.
  2. ৮৫ কি.মি.
  3. ৯৩ কি.মি.
  4. ১১৯ কি.মি.
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। 
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড়।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দ্বারা মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চলের নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৪ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- এছাড়াও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। দ্রুত উর্দ্ধগামী বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকলে ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধে প্রবল ঘূর্ণিবায়ু বাইরের থেকে কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। পরে প্রচন্ড শক্তিতে বায়ু আবর্তনের মাধ্যমে উপরের দিকে উঠতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৬.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ এর অধীনে কোন নীতিমালা তৈরি হয়?
  1. দুর্যোগ মোকাবেলা নীতিমালা ২০১৫
  2. জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫
  3. দুর্যোগ পরিকল্পনা নীতিমালা ২০১৪
  4. জাতীয় দুর্যোগ পরিকল্পনা নীতিমালা ২০১৫
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ (৩৪ নং আইন)
- আইন প্রণীত হয়: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২।
- এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত হয়: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
- এর অধীনে তৈরি হয়: জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫।

গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও পরিকল্পনা:
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০১০
- দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি-২০১৯
- পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩
- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০)

উল্লেখ্য যে,
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ প্রণীত হওয়ার পর, এর আওতায় দুর্যোগ মোকাবেলায় একটি কার্যকর কাঠামো এবং সুসংগঠিত পদ্ধতি গড়ে তোলার জন্য জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫ তৈরি করা হয়।
- এই নীতিমালার মাধ্যমে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং দুর্যোগকালীন সময়ে জনগণের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- এটি দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে সুসংগঠিত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে সহায়ক।

তথ্যসূত্র: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন- ২০১২, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০১৫ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১৮৭.
বর্তমান বিশ্বে কোন দেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ বজ্রপাতে মারা যায়?
  1. নরওয়েতে
  2. বাংলাদেশে
  3. ভারতে
  4. চীনে
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাংলাদেশ 
- বাংলাদেশে বর্তমানে সরকার ঘোষিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ আছে ১৩ টি।
- ১৭ মে, ২০১৬ সালে দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় বজ্রপাতকে ১৩তম প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে।  
- বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ বজ্রপাতে মারা যায় বাংলাদেশে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা।
- বাংলাদেশে মধ্য জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে বন্যা দেখা যায়।

অন্যদিকে,
- দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘটিত সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য দুর্যোগ হলো ঘূর্ণিঝড়।

তথ্যসূত্র – বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট , দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় ওয়েবসাইট।
১৮৮.
বাংলাদেশে কত সালে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড়ে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ হতাহত হয়?
  1. ক) ১৯৭০ সালে
  2. খ) ১৯৯১ সালে
  3. গ) ২০০৭ সালে
  4. ঘ) ২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৬০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫০টির অধিক সাইক্লোন আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ছিলো ১৯৭০ সালে আঘাত হানা সাইক্লোন। এতে প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ মারা যায়।
এছাড়াও ১৯৬১, ১৯৬৩, ১৯৬৫, ১৯৮৫, ১৯৯১, ২০০৭ ও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ও ব্যাপক মাত্রার ছিলো। ১৯৯১ সালে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ২২৫ কিমি।
(সূত্রঃ মাধ্যমিক সাধারণ বিজ্ঞান)
১৮৯.
আকস্মিক বন্যা (Flash Flood) দেখা দেয় -
  1. ক) ভারী বর্ষণ এবং জলাবদ্ধতার কারণে
  2. খ) জলোচ্ছ্বাসের কারণে
  3. গ) পাহাড়ীয়া ঢলে
  4. ঘ) কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে চার ধরনের বন্যা দেখা যায়:
- উত্তর এবং পূর্বাংশের পাহাড়ীয়া ঢলে এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর আকস্মিক বন্যা (Flash Flood) দেখা দেয়;
- ভারী বর্ষণ এবং জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষাকালীন বন্যা (Rain Flood) দেখা দেয়;
- জুন-সেপ্টেম্বর মাসে প্রধান নদীগুলোর পলল সমভুমিতে মৌসুমী বন্যা (MonsoonFlood) দেখা দেয়;
- জলোচ্ছ্বাসের সময় উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়। 

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, বিএড প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯০.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন স্তর সবচেয়ে ব্যয়বহুল? 
  1. পুনরুদ্ধার
  2. প্রশমন
  3. পূর্ব প্রস্তুতি
  4. সাড়াদান
ব্যাখ্যা
প্রশমন:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের প্রশমন স্তরটি বেশি ব্যয়বহুল।
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন,
- অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।
- দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদানসমূহ:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ,
- দুর্যোগ প্রশমন এবং
- দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।
• দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে:
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার ও
- উন্নয়ন।

উল্লেখ্য,
- পুনরুদ্ধার, সাড়াদান, পূর্বপ্রস্তুতি প্রভৃতি অল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯১.
জাপানিজ শব্দ 'সুনামি' এর অর্থ কী?
  1. বিশালাকৃতির ঢেউ
  2. সামুদ্রিক ঢেউ
  3. পোতাশ্রয়ের ঢেউ
  4. জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
সুনামি (Tsunami):
- সুনামি (Tsunami) একটি জাপানি শব্দ।
- জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- সুনামির পানির ঢেউ সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউয়ের মতো নয়।
- এটা সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বিশালাকৃতির।
- অতি দ্রুত ফুঁসে ফুলে ওঠা জোয়ারের মতো, যা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।
- সুনামির পানির ঢেউগুলো একের পর এক উঁচু হয়ে আসতেই থাকে তাই একে ঢেউয়ের রেলগাড়ি বা 'ওয়েভ ট্রেন' বলে। -
- সুনামি হলো পানির এক মারাত্মক ঢেউ যা সমুদ্রের মধ্যে বা বিশাল হ্রদে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে।
- পানির নিচে কোনো পারমাণবিক বা অন্য কোনো বিস্ফোরণ, ভূপাত ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সুনামির ক্ষয়ক্ষতি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর আশেপাশে সুনামির ধ্বংসাত্মক লীলা সংঘটিত হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে যে সুনামি সৃষ্টি হয় তা এই মহাসাগরের আশেপাশে ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং মারাত্মক একটি দুর্যোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৯২.
সাধারণত সমুদ্রের তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াসের অধিক হলে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়?
  1. ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  3. ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  4. ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone। এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার আগে বায়ু শান্ত, উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে।
- ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশ যখন আসে তখন প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও ঘন মেঘসহ মুষলধারে বৃষ্টি হয়।
- আর কেন্দ্রের ভিতরে অবস্থানকারী চোখ শান্ত আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি করে।
- ঘূর্ণিঝড়ের পশ্চাৎভাগে পৌঁছানোর পর আবারও ঘন মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ সময় বায়ু অগ্রবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয়।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্য:
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত।এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৩.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান- 
  1. দুর্যোগ প্রতিরোধ
  2. দুর্যোগ প্রশমন 
  3. দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি
  4.  বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ের কার্যক্রমকে বোঝায়।
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- দুর্যোগকে কার্যত মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৪.
ঘুর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে কোন উক্তিটি সত্য নয়?
  1. পৃথিবীতে তাপের ভারসাম্য রক্ষা করে।
  2. অধিকাংশ ঘুর্ণিঝড় সমুদ্রে মিলিয়ে যায়।
  3. ঘুর্ণিঝড়ের ঘুর্ণন দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে।
  4. ঘুর্ণিঝড় আবহাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
ব্যাখ্যা
ঘুর্ণিঝড়ের ঘুর্ণন উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরুতে থাকে।
ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলে যদিও দুর্যোগের সৃষ্টি হয়, কিন্তু এটি আবহাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা পৃথিবীতে তাপের ভারসাম্য রক্ষা করে।
গড়ে পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৮০ টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। এর অধিকাংশই সমুদ্রে মিলিয়ে যায়, কিন্তু যে অল্প সংখ্যক উপকূলে আঘাত হানে তা অনেক সময়
ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করে। 

উৎস: এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১৯৫.
কত সালের সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল?
  1. ১৭৮৩ সাল
  2. ১৭৮৭ সাল
  3. ১৮৮৩ সাল
  4. ১৮৮৭ সাল
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বতের পাদদেশীয় অঞ্চলে, উত্তরে আসামের খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড় অঞ্চলে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে মূলত বৃহদাকার ফাটল ও দুইটি প্লেটের মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- ১৫৪৮ সাল থেকে বাংলাদেশে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগ্রহ শুরু হয়।
- বাংলাদেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাসমূহ ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূ-কম্পন অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- আজকের চঞ্চলা যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।

১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
- সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা বর্তমানে যমুনা নামে পরিচিত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৯৬.
মহীভাবক আলোড়নের ফলে কী সৃষ্টি হয়?
  1. মালভূমি
  2. পর্বত
  3. সমুদ্র
  4. মরুভূমি
ব্যাখ্যা
• মহীভাবক আন্দোলন (Epeirogenic Movement):
- মহীভাবক আন্দোলন মহাদেশসমূহের ভূ-পৃষ্ঠে লম্বভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করে মালভূমি, চ্যুতি, চ্যুতি ভৃগু তট, স্রস্ত উপত্যকা, স্তূপ পর্বত প্রভৃতি ভূমিরূপ তৈরি করে।
যেমন-
→ পূর্ব আফ্রিকা ও জর্ডানের স্রস্ত উপত্যকাসমূহ,
→ রাইন নদীর স্রস্ত উপত্যকা।
→ এছাড়াও উত্তর আমেরিকার হাডসন উপসাগরের দ্বীপসমূহ মহীভাবক আন্দোলনের ফলে ভূ-ভাগ নিমজ্জিত হয়ে গঠিত হয়েছে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৭.
কোনটি জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে?
  1. মশা নিধন
  2. মাছ চাষ
  3. বন উজাড়
  4. নগরায়ন
ব্যাখ্যা
• বন উজাড়:
- জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে - বন উজাড়।
- বর্তমানে মানবসৃষ্ট কর্মকান্ডের নেতিবাচক প্রভাবে জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্রের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
- বন্যপ্রাণি নিধন, গাছ কাটা, জমি ভরাট, জলাশয় নষ্ট করা, জীববৈচিত্র্যে হুমকি তৈরি করা, পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি এদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আর সে কারণে জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্রের রাসায়নিক ও প্রকৃতিগত পরিবর্তন হচ্ছে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৮.
ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে সংকেত প্রচারে আবহাওয়া বিভাগের সাথে কোন প্রতিষ্ঠানটি সহায়তা করে?
  1. ক) ওয়াসা
  2. খ) নৌ-মন্ত্রনালয়
  3. গ) এশিয়াটিক সোসাইটি
  4. ঘ) স্পারসো
ব্যাখ্যা
⇨ ঘূর্ণিঝড়কালিন সময়ে বাতাসের গতিবেগ, জোয়ার-ভাঁটার সময়কাল, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকার প্রাকৃতিক গঠন ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা করে আবহাওয়া বিভাগ জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়।
স্পারসো ও আবহাওয়া বিভাগ রাডারের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা, গতিবেগ ও গতিপথ সম্পর্কে পূর্বাভাস দেবার পাশাপাশি জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কেও পূবার্ভাস দিয়ে থাকে। 

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৯.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়?
  1. মধ্যাঞ্চল
  2. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল
  3. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  4. উপকূলীয় অঞ্চল
ব্যাখ্যা

খরা:
- সাধারণত খরা বলতে কোনো এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে ভূমিতে পানির অনুপস্থিতিকে বুঝায়।
- অর্থাৎ কোনো এলাকা বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকলে বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- এর ফলে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যায়।
- এরূপ অবস্থাকে খরা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
- বিগত অর্ধ শতকের ১৯৭৩, ১৯৭৫, ১৯৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৯, ১৯৯২, ১৯৯৪, ১৯৯৫ এবং ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক মাত্রায় খরা দেখা দেয়।

বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- অতি তীব্র: রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ,
- তীব্র: দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর জেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশবিশেষ,
- মাঝারি: রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার অংশবিশেষ,
- সামান্য: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার পললভূমি এলাকা।

খরার কারণ:
১. সময়মতো বৃষ্টিপাতের অভাব;
২. পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা;
৩. অপরিকল্পিতভাবে বনভূমি উজাড়;
৪. নদীর উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ;
৫. এল নিনো ও লা নিনোর প্রভাব প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০০.
কোন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে হারকিউলেনিয়াম ও পম্পেই নামের দু'টি নগর উত্তপ্ত লাভা ও ভস্মরাশির মধ্যে ডুবে গিয়েছিল?
  1. ইতালির ভিসুভিয়াস
  2. জাপানের ফুজিয়ামা
  3. হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া
  4. ইরানের কোহিসুলতান
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি: 
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লাভা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম, নগর ও কৃষিক্ষেত্র সব ধ্বংস করে।
- ১৮৭১ সালে ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে হারকিউলেনিয়াম ও পম্পেই নামের দু'টি নগর উত্তপ্ত লাভা ও ভস্মরাশির মধ্যে ডুবে গিয়েছিল।
- আগ্নেয়গিরির কারণে কেবল মানুষের অপকার নয় উপকারও হয়ে থাকে।
- এতে ভূমির উর্বরতাও বৃদ্ধি পায়। যেমন- দাক্ষিণাত্যের লাভা গঠিত কৃষ্ণমৃত্তিকা কার্পাস চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।
- অনেক সময় লাভার সঙ্গে অনেক খনিজ পদার্থ নির্গত হয়।
- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাংশে অগ্ন্যুৎপাতের জন্য অধিক পরিমাণে খনিজ দ্রব্য পাওয়া যায়।
- অগভীর সমুদ্রে বা হ্রদে লাভা ও ভস্ম সঞ্চিত হয়ে এরূপ ভূভাগ সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।