বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৯৬৩এই পাতা৬১প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ১০ / ১০ · ৯০১৯৬১ / ৯৬৩

৯০১.
কোনটি বন্যার প্রাকৃতিক কারণ?
  1. অপরিকল্পিত নগরায়ন
  2. নদীর গভীরতা কমে যাওয়া
  3. জলাধার ভরাট
  4. বালু ভরাট
ব্যাখ্যা

• বন্যার কারণসমূহ-
• মানব সৃষ্ট কারণ
- অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলাধার ভরাট করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্ন করা।
- অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ।
- গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা ও তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব।
- বালু ভরাট করে নদীসমূহের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দান।

• প্রাকৃতিক কারণ:
- বর্ষাকালে উত্তরাঞ্চলে নদীর উজানে প্রচুর বৃষ্টি।
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব।
- মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া।
- বঙ্গোপসাগরে ভরা জোয়ার।
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ।
- শাখা নদীগুলো পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাওয়া।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০২.
নিচের কোনটি 'মানবসৃষ্ট আপদ'?
  1. নদী ভাঙ্গন
  2. ভবনধ্বস
  3. পারমানবিক দুর্ঘটনা
  4. শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা
ব্যাখ্যা
আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

উল্লেখ্য,
- প্রাকৃতিক আপদ: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি।
- মানবসৃষ্ট আপদ: ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
- কারিগরি আপদ: বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
৯০৩.
জৈবিক দুর্যোগ ঝুঁকির উদারহরণ নিচের কোনটি?
  1. ক) ভবনধ্বস
  2. খ) রাসায়নিক বিস্ফোরণ
  3. গ) নিপাহ ভাইরাস
  4. ঘ) ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট কারণে বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ অবক্ষয়ের দরুন বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগের শিকার হচ্ছে বিশ্ববাসী।বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। দুর্যোগের ধরন ও দুর্যোগ সৃষ্টির কারণের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের দুর্যোগ ও দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা হয়েছে। যথা- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির পরিবেশ, মানব সৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকির পরিবেশ এবং জৈবিক দুর্যোগের ঝুঁকির পরিবেশ।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির পরিবেশ (Natural Disaster Risk Environment): বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, ভূমিধস, ভূমিকম্প ও বজ্রপাত প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। 

• মানব সৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি (Human made Disaster Risk): বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারের কারণে চামড়া শিল্প, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, রাসায়নিক শিল্পে প্রায় দুর্ঘটনা হয়। ২০১৯ সালে ঢাকায় চকবাজার এলাকায় রাসায়নিক বিস্ফোরণে ৭০ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৯ সালে সারাদেশে ভবনধ্বসে ২৬ জন মানুষ মারা যায়।

• জৈবিক দুর্যোগ ঝুঁকি (Biological Disaster): সম্প্রতির কোভিড-১৯ সহ বিগত বছরগুলোতে যেমন ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া, ২০০৭ সালে ব্রার্ড ফ্লু, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্ভূক্ত । এছাড়াও ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্লু নিপাহ, জিকা ভাইরাসের আক্রমণ জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্গত।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৪.
কোন সময়ে আবহাওয়া বিভাগ জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়?
  1. ভূমিকম্পের সময়ে
  2. ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে
  3. ভারী বৃষ্টির সময়ে
  4. বন্যার সময়ে
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরে প্রখর সূর্যতাপে পানি বাষ্পীভূত হয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
- এরূপ একটি নিম্নচাপ বেশ কয়েকদিন ধরে শক্তি সঞ্চয় করে ও গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়।
- গভীর নিম্নচাপটি থেকে যে কোনো সময়ে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- আবহাওয়া বিভাগ সমুদ্র ও নদী বন্দরের জন্য পৃথক সংকেত প্রচার করে।
- বিপদের গুরুত্ব অনুযায়ী সমুদ্র বন্দরের জন্য এক থেকে দশ (১-১০) ধরনের ও নদী বন্দরের জন্য এক থেকে চার (১-৪) ধরনের ঝড় সতর্কীকরণ সংকেত প্রদান করে।
- সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (CPP) এর আঞ্চলিক দপ্তরসমূহ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মোবাইল ও জনসংযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় জনসাধারণকে ঝড়ের পূর্বাভাস দেবার পাশাপাশি তাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরিয়ে নিতে কাজ করে।
- সিপিপি ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থাসমূহ সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকার জনগণকে সর্তক করে।
- ঘূর্ণিঝড়কালিন সময়ে বাতাসের গতিবেগ, জোয়ার-ভাঁটার সময়কাল, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকার প্রাকৃতিক গঠন ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা করে আবহাওয়া বিভাগ জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়।
- স্পারসো ও আবহাওয়া বিভাগ রাডারের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা, গতিবেগ ও গতিপথ সম্পর্কে পূর্বাভাস দেবার পাশাপাশি জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কেও পূর্বাভাস দিয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৫.
ভূমিকম্পের সূচনাবিন্দুকে কী বলা হয়? 
  1. Epicentre 
  2. Focus 
  3. Fracture 
  4. Fault
ব্যাখ্যা

• ভূমিকম্প:
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র (Centre বা Focus) বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলে।

উল্লেখ্য, 
- ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার।
- ভূমিকম্পনের রেখা যে কাগজে অংকিত হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

৯০৬.
কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন- 
  1. বেড়িবাঁধ তৈরি
  2. প্রশিক্ষণ
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. গণসচেতনতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

 দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 

প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।
- কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা-
• বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। 
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
• অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

৯০৭.
সিডর (SIDR) শব্দের অর্থ-
  1. সমুদ্র
  2. চোখ
  3. বন্যা
  4. সূর্য
ব্যাখ্যা
• সিডর (SIDR) :
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম অনুসারে সিডরের নাম ঠিক করে।
- সিডর (SIDR) শব্দের অর্থ চোখ।
- সরকারি তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে ১৯৬০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ৩৫টি বড় ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের হদিস পাওয়া যায়।
- এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক পাঁচটি ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে অন্যতম সিডর।
- এ অঞ্চলে যে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে, তার নাম দেওয়া হয় ২০০৪ সালে।
- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার।
- সিডরকে ১৯৭০ ও ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সবচেয়ে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় বিবেচনা করা হয়।

উৎস: ১৫ নভেম্বর ২০২১, প্রথম আলো।
৯০৮.
ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ কত সালে বাংলাদেশে আঘাত হানে?
  1. ২০২১সালে
  2. ২০২২ সালে
  3. ২০২৩ সালে
  4. ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা

• ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’:
- ২৬ মে, ২০২৪ সালের রাত ৮টার দিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে।
- ঘূর্ণিঝড়টির বিস্তৃতি ছিল প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
- ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এর নামকরণ করেছে ওমান।
- আরবিতে যার অর্থ বালি।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল।

উৎস: The Daily Star বাংলা।

৯০৯.
Cyclone শব্দের উৎপত্তি হয়েছে-
  1. ক) Cyclos
  2. খ) Cyclon
  3. গ) Kylos
  4. ঘ) Kyklos
ব্যাখ্যা
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Cyclone.
- এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে যার অর্থ Coil of Snakes বা সাপের কুণ্ডলী।
- সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় স্যাটেলাইটের ছবিতে সাপের কুণ্ডলীর মতো দেখায়।
- ঘূর্ণিঝড় আমাদের দেশে ‘সাইক্লোন’ নামে পরিচিত হলেও দূরপ্রাচ্যে এটি ‘টাইফুন’ এবং আমেরিকায় ‘হ্যারিকেন’ নামে পরিচিত।

সূত্র:- সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণি।
৯১০.
প্রাকৃতিক দুর্যোগের উদাহরণ কোনটি?
  1. জলাবদ্ধতা
  2. অগ্নিকাণ্ড
  3. ভূমিকম্প
  4. রাসায়নিক দূষণ
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক দুর্যোগঃ
-  প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। 
 যেমন:
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরি, ইত্যাদি।


মানব- সৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন:
- জলাবদ্ধতা, অগ্নিকাণ্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি।


উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১১.
বিশ্বব্যাংক জলবায়ু পরিবর্তনের কয়টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।

• বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে যথা- বন্যা, ঝড়, মরুকরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা। এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি হয়েছে। সেই তালিকায় ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্যকরী অভিযোজন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১২.
অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও শুষ্ক আবহাওয়ার ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ কোনটি?
  1. সাইক্লোন
  2. মৌসুমি বন্যা
  3. খরা
  4. কালবৈশাখী
ব্যাখ্যা
অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘকালীন শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে খরা দেখা দেয়। বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার বৃষ্টিপাত অপেক্ষা অধিক হলে এরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল অধিক খরা প্রবণ।
অন্যদিকে,
- সাইক্লোন সৃষ্টির প্রধান কারণ নিম্নচাপ।
- গ্রীষ্মকালে দেশের উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আগত বায়ুর সংঘর্ষে কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টি হয়।
- মৌসুমি বন্যার জন্যে বৃষ্টিপাত দায়ী।
(তথ্যসূত্রঃ মাধ্যমিক সাধারণ বিজ্ঞান এবং দুর্যোগকোষ)
৯১৩.
নদীতে ভেঙে যাওয়া জমির স্থানে নতুন চর জাগা বা পুনর্গঠনকে কী বলে?
  1. নদী মনস্তি
  2. নদী জিকস্তি
  3. নদী শিকস্তি
  4. নদী পয়স্তি
ব্যাখ্যা
নদী ভাঙ্গনের সাথে জড়িত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
- নদীখাতে পানি প্রবাহের কারণে পার্শ্ব ক্ষয়কে নদী ভাঙ্গন বলে।
- নদী ভাঙ্গনের শিকার হয় পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহ।
- নদীর তরঙ্গাঘাতে তীরের যে জমি নষ্ট হয় তাঁকে নদী শিকস্তি বলে।
- নদীতে ভেঙে যাওয়া জমির স্থানে নতুন চর জাগা বা পুনর্গঠনকে নদী পয়স্তি বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯১৪.
ঘূর্ণিঝড়, 'সিডর' ও 'আইলা' বাংলাদেশে আঘাত হানে _____ এবং _____ সালে। 
  1. ২০০৭, ২০০৮ 
  2. ২০০৮, ২০০৯ 
  3. ২০০৭, ২০০৯
  4. ২০০৭, ২০০৬
ব্যাখ্যা

♣ ঘূর্ণিঝড় 'সিডর' ও 'আইলা' বাংলাদেশে আঘাত হানে ২০০৭ এবং ২০০৯ সালে।

♦ ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড়।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৫ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- দ্রুত উর্দ্ধগামী বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকলে ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।
- বাংলাদেশে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় গুলোর মধ্যে সিডর ও আইলা অন্যতম।

♦ সিডর:
- ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় সিডর।
- এই ঘূর্ণিঝড়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়, ধ্বংস হয় মানুষের ঘরবাড়ি।
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম অনুসারে সিডরের নামটি ঠিক করে।
- সিডর সবদ্যার অর্থ চোখ।
- উপকূলে আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার।
- তবে এ সময় দমকা হাওয়ার বেগ উঠছিল ঘণ্টায় ৩০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।
- সিডরের প্রভাবে উপকূলে ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।
- ঘূর্ণিঝড় এবং তদুপরি জলোচ্ছাসের প্রভাবে প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারায় ।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় ছাড়াও ভারতের চেন্নাই, তামিলনাড়ু এবং আরও কিছু রাজ্য সিডর এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
- তবে বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বাধিক।

♦ আইলা:
- ২০০৯ সালের ২৫শে মে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আইলা ৷
- যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭০-৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
- আইলা উত্তর ভারত মহাসাগরে জন্ম নেওয়া একটি ঘূর্ণিঝড়।
- ২১ মে ভারতের কলকাতা থেকে ৯৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এর উৎপত্তি।
- তবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ এবং ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাংশে আইলা আঘাত হানে ২০০৯ সালের ২৫ মে।
- মালদ্বীপের আবহাওয়াবিদরা এর নামকরণ করেন 'আইলা'।
- ‘আইলা’ শব্দের অর্থ ডলফিন বা শুশুকজাতীয় জলচর প্রাণী।
- নামটি এই ঘূর্ণিঝড়ের জন্য নির্ধারণ করেন জাতিসংঘের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের আবহাওয়াবিদদের সংস্থা ‘ইউএন এস্কেপ'-এর (UN Escape) বিজ্ঞানীরা ।
- বাংলাদেশে আইলা পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীর হাতিয়া, নিঝুম দ্বীপ, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
- আইলার প্রভাবে খুলনা ও সাতক্ষীরায় ৭১১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে।
- এই দুই অঞ্চলে প্রাণ হারিয়েছে মোট ১৯৩ জন।

♦ উল্লেখ্য:
- বাংলাদেশে আঘাত হানা উল্লেখ্যযোগ্য ঘূর্ণিঝড় -
• মহাসেন (২০১৩)।
• কোমেন (২০১৫)।
• রোয়ানু (২০১৬)।
• মোরা (২০১৭)।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৯১৫.
বাংলাদেশে সম্প্রতি কত তারিখে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে?
  1. ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  3. ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  4. ২২ নভেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প:
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র (Centre বা Focus) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলা হয়।

⇒ ২০২০ সালে 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) প্রকাশিত রির্পোটে সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো:
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল)।
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে সম্প্রতি ২১ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী জেলা শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে এবং ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
- বাংলাদেশে ২১ ও ২২ নভেম্বর দুই দিনে চার দফা ভূমিকম্প হয়। এর মধ্যে রিখটার স্কেলে ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এই ভূমিকম্পে ১০ জনের মৃত্যু হয়। 

উৎস: i) ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৯১৬.
পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টনের্ডো কোথায় হয়?
  1. উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায়
  2. ভারত মহাসাগরের নিকট
  3. ইন্দোনেশিয়া ও প্রশান্ত সাগরের নিকটবর্তী এলাকায়
  4. ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কায়
ব্যাখ্যা
• টর্নেডো:
- টর্নেডো মূলত অতি দ্রুত আবর্তনশীল ক্ষুদ্র আকারের অথচ প্রলয়ঙ্কারী বজ্রঝড়।
- এটি চোঙ আকৃতির হয়ে থাকে এবং এই বজ্রঝড়ের মধ্যভাগে বায়ু অতিদ্রুত বেগে উপরে উঠতে থাকে।
- এই চোঙ যদি ভূমি স্পর্শ করে তখন ধ্বংসলীলা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। তবে চোঙ ভূমি স্পর্শ না করলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয় না।
- টর্নেডোর ব্যাস ভূ-পৃষ্ঠের উপরে ১০০ থেকে ৫০০ গজ পর্যন্ত হয়।
- টর্নেডোর ভিতরে ও বাইরের বায়ু চাপের গড় পার্থক্য প্রায় ২ ইঞ্চি। তবে কখনো কখনো তা ৫ ইঞ্চি হয়ে যায়।
- টর্নেডোর চোঙ মাটি স্পর্শ করলে ব্যাপক শব্দে সবকিছু ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং কালো মেঘে ছেঁয়ে যায়।

টর্নেডোর বৈশিষ্ট্য: 
→ ভূমিতে টর্নেডোর রৈখিক গতিবেগ বিভিন্ন টর্নেডোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের হয়। যেমন- উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো দক্ষিণ
পশ্চিম দিক থেকে আসে।
→ টর্নেডোর গতিপথ অর্ধবৃত্তাকার হতে পারে এবং উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো ডানদিকে আবর্তিত হয়।
→ টর্নেডোর গতিবেগ ঘন্টায় ৫ হতে ৬৫ মাইল হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫ থেকে ৪৫
মাইল হয়।
→ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টর্নেডোপ্রবণ এলাকা উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া।
→ সমুদ্রের উপর টর্নেডো সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে, মেক্সিকো উপসাগরে এবং চীন ও জাপানের
উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৭.
উপকূলে সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা কত?
  1. ক) ২৫-৫০ মিটার
  2. খ) ৩০-৪৫মিটার
  3. গ) ৩০-৫০ মিটার
  4. ঘ) ৩৫-৬৫ মিটার
ব্যাখ্যা
সুনামি সৃষ্টির কারণ ও সুনামির গতিবিধি
• সমুদ্রতলে জিও টেকটোনিক প্রক্রিয়ার দরুণ ভূ-আন্দোলনের ফলে যে কম্পন হয় তা প্রধানত দু’ভাবে হয়ে থাকে। যথা : সমান্তরালভাবে ও উলম্বভাবে।
• সুনামির সময় সমুদ্রতলে উলম্ব আলোড়ন হয়। এর ফলে সমুদ্রতলের ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থান বিশাল অঞ্চলজুড়ে বসে যায় বা কোনো স্থান খাড়াভাবে ওপরে উঠে আসে ও সমুদ্রতলে ফাটলের সৃষ্টি করে যার ফলে তলদেশের সমতা নষ্ট হয়।
• দ্রুত সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির সমতা রক্ষার জন্য পানিরাশির প্রচন্ড উলম্বচাপের সৃষ্টি হয়। ফলশ্রম্নতিতে উপরিভাগের পানির সমতা রক্ষার জন্য সুনামি সৃষ্টি হয়। সুনামির সৃষ্টির প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেও সুনামি সৃষ্টি হয়ে থাকে।
• এছাড়া পারমানবিক বিস্ফোরণ, ভূমিধ্বস, উল্কাপিন্ডের পতন ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে। সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে যে ঢেউয়ের সৃষ্টি করে তা প্রবলবেগে উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়।
• সুনামির একেকটি ঢেউ ঘন্টায় ৬৪০-৯৬০ কি.মি বেগে প্রবাহিত হয়। সুনামির ঢেউ উপকূলের দিকে আসতে থাকলে ঢেউয়ের গতির প্রচন্ডতা কমলেও ঢেউয়ের উচ্চতা বেড়ে যায় বহুগুণে।
• গভীর সমুদ্রে সুনামির উৎপত্তিস্থলে সুনামির উচ্চতা মাত্র কয়েক সে.মি. উঁচু কিন্তু উপকূলে সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা ৩০-৫০ মিটার উঁচু আকার ধারণ করে।                          

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৮.
বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচারের ব্যবস্থা করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. পানি উন্নয়ন বোর্ড
  2. গ্রামীন উন্নয়ন বোর্ড
  3. বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড
  4. রেড ক্রস
ব্যাখ্যা
- নিম্নে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার কতিপয় পন্থা সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-
১. আবহাওয়ার তথ্যভিত্তিক পূর্বাভাস ও সতীকরণ যথা সময়ে প্রচার করা।
২. বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসো এর মাধ্যমে ভূ-উপগ্রহের চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণের ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।
৩. পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হতে বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।
৪. ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তি সংকেত দান, সতর্কীকরণ,উদ্ধার ও পূণর্বাসন ইত্যাদি কাজে সরকারি সংস্থা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি)-এর কার্যক্রমের আওতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
৫. জরুরি পরিস্থিতিতে আর্তদের চিকিৎসা, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পূণর্বাসন কাজে সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ কর্তৃক বেসামরিক প্রশাসনকে সব রকম সাহায্য ও সহযোগিতা দান করা।
৬. বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন সংস্থা কর্তৃক দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেতসমূহ প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।
৭. সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহ যেমন- অক্সফাম, ডিজাস্টার, ফোরাম, কেয়ার বাংলাদেশ, কারিতাস, প্রশিকা, সিসিডিবি, বিডিপিসি (বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি কেন্দ্র) ইত্যাদি সংস্থার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা।
- এছাড়া রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৯.
ঘূর্ণিঝড় মিধিলি'র নামকরণ করে-
  1. ওমান
  2. মালদ্বীপ
  3. মালয়েশিয়া
  4. থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় 'মিধিলি':
- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'মিধিলি' ১৭ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে।
- এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার।
- ‘মিধিলি’ নামটি দিয়েছে মালদ্বীপ।
- ‘মিধিলি’ অর্থ ‘ফলপ্রসু বিষয়’। 
- আবার কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিধিলি নামের অর্থ হল বিশাল গাছ, অর্থাৎ মহীরুহ।

উল্লেখ্য,
- বিশ্ব আবহওয়া সংস্থার অধিভুক্ত প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত নামগুলো পরপর প্রয়োগ করা হয়।
- মিধিলির পরের নামটি মায়ানমারের ‘মিগজাউম’।
- ২০২০ সালে মোট ১৩টি দেশ ১৩টি করে মোট ১৬৯টি নাম দেয়।
- ১৩টি দেশ হলো: বাংলাদেশ, ভারত, মলদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ইরান, কাতার, সৌদি আরব, আরব-আমিরাত এবং ইয়েমেন।
- ডব্লিওএমও'র ভারতীয় উপমহাদেশের এই সদস্য দেশগুলোই নাম দেয়।

উৎস: ১৭ নভেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৯২০.
নদী ভাঙনের প্রধান কারণ কোনটি? 
  1. নদীর গতিপথ পরিবর্তন
  2. উজানে প্রচুর বৃষ্টি
  3. মূল নদীর গভীরতা কমা
  4. হিমালয়ের বরফগলা পানির প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• নদীভাঙন: 
- নদীভাঙন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে নদীর তীব্র স্রোত, বন্যা বা অতিরিক্ত জলপ্রবাহের কারণে নদীর পাড় ও পাশের জমি ক্ষয় হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
- নদীভাঙনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো নদীর গতিপথ পরিবর্তন।
- নদী যখন স্বাভাবিক প্রবাহ ছেড়ে ডান বা বাম দিকে সরে যায়, তখন স্রোতের চাপ নদীতীরের ওপর বেড়ে যায়।
- এর ফলে তীরের মাটি ধীরে ধীরে কেটে যেতে থাকে এবং ক্ষয় বৃদ্ধি পায়।
- এই ধারাবাহিক ক্ষয়ের ফলেই নদীভাঙন ঘটে।

উল্লেখ্য,
- নদী ভাঙন মূলত প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট—এই দুই ধরনের কারণে ঘটে।
• প্রাকৃতিকভাবে:
- নদীর বাঁক ও মোহনায় স্রোত বেশি থাকায় ভাঙন তীব্র হয়। 
- নদী যখন এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়, তখন বাইরের পাড়ে ভাঙন ধরে এবং ভেতরের দিকে পলি জমে।
- এছাড়া নদীর নাব্যতা কমে গেলে পানির চাপ বেড়ে গিয়ে ভাঙন আরও বাড়ে।

• মানবসৃষ্ট কারণের মধ্যে রয়েছে:
- নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা, যা নদীতীরকে দুর্বল করে তোলে।
- অপরিকল্পিত বাঁধ ও স্থাপনা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ায়।
- নদী অববাহিকায় বন উজাড় হলে মাটির বাঁধন কমে যায় এবং ক্ষয়প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
- তাছাড়া নদীতীরের মাটি যদি বেলে বা পলিযুক্ত নরম হয়, তবে স্রোতের চাপে তা সহজেই ভেঙে পড়ে।

উৎস: 
১. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর;
২. বাংলাপিডিয়া;
৩. প্রথম আলো পত্রিকা। 

৯২১.
ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে কী বলে?
  1. বিন্দু
  2. অনুকেন্দ্র
  3. সমকেন্দ্র
  4. উপকেন্দ্র
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিূকম্প বলে।
- একটি শান্ত পুকুরে টিল ছুড়লে যেভাবে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে তরঙ্গ শক্তি উৎপত্তি হয় সেখানে থেকে মুক্ত শক্তি টেউয়ের মত শিলায় তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২২.
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ অনুসারে, মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল নিচের কোনটি?
  1. চট্টগ্রাম শহর
  2. সিলেট শহর
  3. ঢাকা শহর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূমিকম্প অঞ্চল:
- বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ এ, দেশকে চারটি ভূমিকম্প অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে মাটির গতিবিধি বিভিন্ন স্তরের।
অঞ্চল ১: Z = ০.১২
অঞ্চল ২: Z = ০.২
অঞ্চল ৩: Z = ০.২৮
অঞ্চল ৪: Z = ০.৩৬

- প্রতিটি অঞ্চলে একটি সিসমিক জোন সহগ (Z) রয়েছে, যা মাটির সর্বোচ্চ বিবেচিত ত্বরণ (PGA) নির্দেশ করে।
- এই ত্বরণ কঠোর মাটি/শিলা (সাইট ক্লাস SA) এর জন্য g (মাধ্যাকর্ষণ ত্বরণ) এর এককে মাপা হয়।

• গুরুত্বপূর্ণ শহরের ভূমিকম্প তথ্য:
- অঞ্চল ৪ (সর্বাধিক ভূমিকম্প প্রবণ): উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট) অন্তর্ভুক্ত। PGA = ০.৩৬g।
- ঢাকা শহর: মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২)।
- চট্টগ্রাম শহর: উচ্চ ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২৮)।

অন্যদিকে,
• ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই এ, 
- ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূকম্পনীয় অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-
অঞ্চল ১: (মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৭); উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
অঞ্চল ২: (মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৬); মধ্য অঞ্চল
অঞ্চল ৩: (কম ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৫); দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০।

৯২৩.
Headley Center for Climate Prediction and Research (HCCPR)-এর হিসাব অনুযায়ী ২০৮০ সালে বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পরিমাণ কত হবে? 
  1. ২৫ সেন্টিমিটার
  2. ৩০ সেন্টিমিটার
  3. ৪০ সেন্টিমিটার
  4. ৬০ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ঝুঁকি: 
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রতিকূল প্রভাবগুলোর কারণে ও সমুদ্র উপকূলীয় দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী একটি বড় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা নাজুক হয়ে ওঠেছে।
- এখানকার ৬০ শতাংশ ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে মাত্র ৫ মিটার উপরে।
- 'Headley Center for Climate Prediction and Research (HCCPR)' এর প্রাক্কলন অনুযায়ী বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২০৮০ সালে ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাবে।
- ফলশ্রুতিতে, অবকাঠামো, বাসস্থান, কৃষি এবং জীবিকার ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হবে। সমুদ্র উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল ঝড় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতেও থাকবে।
- 'Inter-governmental Panel on Climate Change (IPCC)' এর প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০৫০ সালে বাংলাদেশের ভূমির ১৭ শতাংশ এবং খাদ্য উৎপাদনের ৩০ শতাংশ হারিয়ে যাবে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী। 

৯২৪.
২০১১ সালে জাপানে সংঘটিত সুনামির সৃষ্টি হয় কত মাত্রার ভূমিকম্পের কারণে?
  1. ক) ৭.৭
  2. খ) ৮
  3. গ) ৮.৭
  4. ঘ) ৮.৯
ব্যাখ্যা
২০১১ সালে জাপানের উত্তর-পূর্ব এলাকায় ভয়াবহ সুনামি সংঘটিত হয়। ৮.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে এই সুনামি সৃষ্টি হয়। জাপানের রাজধানী টোকিও শহরের প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এই সুনামি আঘাত হেনেছিলো। এর ফলে জাপানের পাঁচটি পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই।
৯২৫.
সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহকে যোগকারী রেখাকে বলা হয়- 
  1. আইসোথার্ম
  2. আইসোবার
  3. আইসোহাইট
  4. আইসোহেলাইন
ব্যাখ্যা
সমরেখ পদ্ধতি:
- পরিমাণগত বা ঘনত্ব জ্ঞাপক একই মান বিশিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে মানচিত্রের উপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় সেই রেখাকে সমমান রেখা বা Isopleth line বলে।
- এ রেখা সমমান বিশিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা হয়।
- প্রকৃতিক বিষয় আবহাওয়া, জলবায়ু ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের উপাত্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- সমতাপ বা সমোষ্ণরেখা, সমচাপ রেখা, সমবর্ষণ রেখা এবং সমোষ্ণ রেখা।

উল্লেখ্য,
⇒ সমোষ্ণ রেখা (Isotherm line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় সে রেখাকে সমোষ্ণ রেখা বলে।

⇒ সমচাপ রেখা (Isobar line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমচাপ রেখা (Isobar line) বলে।

⇒ সমবর্ষণ রেখা (Isohyet line):
- সম বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
- সমান উচ্চতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় তাকে সমোচ্চ রেখা বলে।
- এ সমস্ত রেখা কাল্পনিক।

উৎস: ব্যবহারিক ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৬.
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করার প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. পূর্ব প্রস্তুতি
  2. প্রশমন
  3. পুনরুদ্ধার
  4. সাড়াদান
ব্যাখ্যা

• পূর্ব প্রস্তুতি:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি বলে।

• প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করাকে প্রশমন বলে।
- দুর্যোগ প্রশমন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মজবুত ও পাঁকা ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর, বনায়ন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রভৃতি।

• পুনরুদ্ধার:
- দুর্যোগের ফলে সম্পদ, অবকাঠামো, পরিবেশ ইত্যাদির যে ক্ষতি হয় তা পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পুনরুদ্ধার বলে। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়। যেমন- ঘরবাড়ি নির্মাণ, রাস্তাঘাট মেরামত ইত্যাদিতে অর্থ ও প্রযুক্তি যোগান।

তথ্যসূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২৭.
বন্যা প্রতিরোধে কী রকম বাঁধ শহরে দেখা যায়?
  1. ক) বেড়ি বাঁধ
  2. খ) কংক্রিট বাঁধ
  3. গ) প্রকৌশলগত বাঁধ
  4. ঘ) বেষ্টনীমূলক বাঁধ
ব্যাখ্যা
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অন্তর্গত সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার একটি অংশ হচ্ছে শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেয়া। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৯২৮.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) সিলেট
  3. গ) মৌলভীবাজার
  4. ঘ) রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৬.০১° সেলসিয়াস এবং গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।
বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৯২৯.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের পরিবেশ বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচের (FCDI) কারণে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
  1. বরেন্দ্র অঞ্চল
  2. মধুপুর গড় অঞ্চল
  3. উপকূলীয় অঞ্চল
  4. চলন বিল অঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশ বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচের (FCDI) কারণে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (Flood Control, Drainage and Irrigation Projects):
- অনুচ্চ ভূ-সংস্থানের কারণে একটি স্বাভাবিক বৎসরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকার কমপক্ষে ২০% এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে থাকে।
- ১৯৯৮ সালের মতো মারাত্মক পর্যায়ে গেলে বন্যা কবলিত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৭০% এ গিয়ে পৌঁছতে পারে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পসমূহ বন্যার তীব্রতা হ্রাসকরণে অথবা বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশনের উপায় হিসেবে ব্যবহূত হয়, যেগুলো শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি করে।

⇒ ১৯৬৪ সালে দেশজুড়ে ৫৮টি বন্যা প্রতিরোধ এবং নিষ্কাশন প্রকল্প সম্বলিত একটি মাস্টার প্ল্যান গৃহীত হয়েছিল যার আওতাভুক্ত এলাকা ছিল ৫.৮ মিলিয়ন হেক্টর।
- তিন ধরনের পোল্ডার বা উদ্ধারকৃত নিম্নভূমি এই বন্যা প্রতিরোধ ও নিষ্কাশন কর্মকান্ডের পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত ছিল: পোল্ডারসহ মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পানি নিষ্কাশন; টাইডাল স্লুইস গেটের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নিষ্কাশন; এবং পাম্পের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশন।
- ১৯৯৩ সালে সর্বমোট আর্দ্রভূমির পরিমাণ ছিল ৩.১৪ মিলিয়ন হেক্টর যার মধ্যে ১.৫৫ মিলিয়ন হেক্টরে চাষাবাদ হয়েছিল এবং ১.৩৮ মিলিয়ন হেক্টর ভূমি থেকে পানি নিষ্কাশিত হয়েছিল ভূ-পৃষ্ঠের উপরের নালীসমূহের মাধ্যমে।
- অধিকন্তু নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্বলিত সেচের আওতাধীন এলাকার পরিমাণ ১.১৭ মিলিয়ন হেক্টরে এসে দাঁড়ায়।
- ১৯৯৯ সালে বন্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে এমন এলাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪.৬২ মিলিয়ন হেক্টরে।
- বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ও নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করণ এবং উদ্বৃত্ত পানি সেচকার্যে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বহু সংখ্যক ভেড়িবাঁধ, বাঁধ এবং খাল নির্মাণ ও খনন করেছে। 

তিস্তা বাঁধ প্রকল্প:
- (পর্ব ১) রংপুর, লালমনিরহাট এবং নীলফামারী জেলায় অবস্থিত।
- প্রকল্পটির আওতাভুক্ত সর্বমোট এলাকার পরিমাণ ১,৩২,০০০ হেক্টর, এর মধ্যে সেচযোগ্য এলাকার পরিমাণ ১,১১,৪০৬ হেক্টর।
- তিস্তা নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করে প্রবাহের দিক পরিবর্তন করে নদীর পানিকে সেচ কার্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- খাল খনন করে শস্য ক্ষেত্র পর্যন্ত সেচের পানি নিয়ে যাওয়া হয়।
- প্রধানত বর্ষা মৌসুমে সম্পূরক সেচ হিসেবে এই প্রকল্পের আওতায় সেচকার্য পরিচালিত হয়।
- প্রকল্পটি সম্পাদিত হয় ১৯৯৩ সালে।

উত্তরাঞ্চলে নলকূপ প্রকল্প:
- দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলায় এই প্রকল্পের অবস্থান।
- প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্পের আওতাভুক্ত এলাকায় ২৫৪ মিমি ব্যাসের এবং ৯১.৪ মিটারের উপরে গড় গভীরতায় ৩৮০টি নলকূপ বসানো হয়।
- পিছনের বৎসরগুলিতে আরও অধিক সংখ্যক নলকূপ বসানো হয়েছে যার সর্বমোট সংখ্যা ১,২১৯ এ পৌঁছেছে।
- এসকল নলকূপের মাধ্যমে ৫৬,০৫২ হেক্টর জমি সেচের আওতায় এসেছে।

বরেন্দ্র অঞ্চল:
- দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্রভূমি এবং মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় অঞ্চল প্লাইস্টোসিন যুগের সোপান সমূহের অন্তর্গত।
- বরেন্দ্র অঞ্চল সোপান সমূহের গড় উচ্চতা ১৯ থেকে মিটারের মধ্যে অসংখ্য নদীনালা দ্বারা এ সোপান ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত।
- বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানি দ্বারা বছরব্যাপি সেচ সবিধা চালু হওয়ায় এলাকার এক ফসলি জমি তিন ফসলি জমিতে রুপান্তরিত হয়েছে।
- বর্তমানে বিএমডিএ কর্তৃক পরিচালিত ১৫৭৯০ টি সেচযন্ত্র হতে সেচের মাধ্যমে প্র্রায় ৪৫ লক্ষ মে.টন খাদ্য শস্য উৎপাদিত হচ্ছে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচের ফলে বরেন্দ্র অঞ্চল খুব বেশি পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
- বরেন্দ্র অঞ্চল রাজশাহী বিভাগের প্রায় ৯,৩২০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- এ অঞ্চলে গভীর নলকূপের মাধ্যমে অধিক পরিমাণ পানি উত্তোলনের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসমূহে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি ও অন্যদেশের ভূমিকম্পের প্রভাব প্রভৃতির দ্বারা মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯৩০.
নিম্নের কোনটি ভূ-অভ্যন্তরস্থ দুর্যোগ?
  1. খরা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. বন্যা
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
ভূ-অভ্যন্তরস্থ দুর্যোগ:
- ভূ-অভ্যন্তর উত্তপ্ত বলে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের যে তারতম্য হয়, তাতে ভূ-অভ্যন্তরে প্রচন্ড শক্তির সৃষ্টি হয় এবং ভূ-ত্বকের আকস্মিক ও ধীর পরিবর্তন হয়।
- ভূ-অভ্যন্তরের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি হয়ে থাকে।
- এসব দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়ায় দূষণের উদ্ভব হতে পারে।
- যেমন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে গ্রাম, শহর ও জনপদ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য,
⇒ ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পম্পেই নগর লাভার নিচে চাপা পড়ে।
- এছাড়া ছাই, ভস্ম ইত্যাদি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে বাতাস দূষিত করে তোলে।

⇒ ভূমিকম্পের ফলে বহু মানুষ, জীবজন্তু মারা যায় এবং ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়।
- মৃতদেহসমূহ দ্রুত সরাতে না পারলে তা পচে দুর্গন্ধ এবং রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।
- ফলে বায়ু, পানি এবং মৃত্তিকা দূষণ দেখা দেয়।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩১.
'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-৩০' হচ্ছে একটি-
  1. জাপানের উন্নয়ন কৌশল
  2. সুনামি দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
  3. দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
  4. ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।
৯৩২.
সাধারণত কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগটি বাংলাদেশ হয়না?
  1. ভূমিকম্প
  2. খরা
  3. শৈত্য প্রবাহ
  4. অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ।
- তবে বাংলাদেশে কোন আগ্নেয়গিরি না থাকায় এখানে অগ্ন্যুৎপাত কিংবা দাবানল সংঘটিত হয় না।

অন্যদিকে,
বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ হলো:
- বন্যা
- ঘূর্ণিঝড়
- ভূমিকম্প
- টর্নেডো
- জলোচ্ছ্বাস
- নদীভাঙন
- খরা
- বজ্রপাত
- শৈত্য প্রবাহ
- ভূমিধ্বস প্রভতি।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া
৯৩৩.
ভূমিকম্পের ফলে বাংলাদেশে কোন নদীর গতিপথ বদলে গিয়েছিল?
  1. যমুনা
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. মেঘনা
  4. কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প (Earthquake):

- ভূ-গাঠনিক দিক থেকে বাংলাদেশ ক্রমশ ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
- বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বতের পাদদেশীয় অঞ্চলে, পূর্বে ইন্দো-বার্মা সীমান্তে আরাকান-ইয়োমা পার্বত্য অঞ্চলে, উত্তরে আসামের খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড় অঞ্চলে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে মূলত বৃহদাকার ফাটল ও দুইটি প্লেটের মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- বাংলাদেশে ১৮৯৭ সালে ভুমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়।
- ১৫৪৮ সাল থেকে বাংলাদেশে এবং তৎসংলগ্ন এলাকাতে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগ্রহ শুরু হয়।
- ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূ-কম্পন অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- যথা- 
১) মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল (রিখটার স্কেল মাত্রা: ৭)। 
২) মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল (রিখটার স্কেল মাত্রা: ৬)।
৩) কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল (রিখটার স্কেল মাত্রা: ৫)। 
উল্লেখ্য, গবেষণা অনুসারে, আড়াই হাজার বছর আগে ভূমিকম্পের কারণে গঙ্গার পথ হঠাৎ স্থানান্তরিত হয়ে যায়। 

ছবির উৎস: দৈনিক গোপালগঞ্জ নিউজ পত্রিকা 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৪.
বিপদের গুরুত্ব অনুযায়ী নদী বন্দরের জন্য কয় ধরনের ঝড় সতর্কীকরণ সংকেত প্রদান করা হয়?
ব্যাখ্যা
- আবহাওয়া বিভাগ সমুদ্র ও নদী বন্দরের জন্য পৃথক সংকেত প্রচার করে।
- বিপদের গুরুত্ব অনুযায়ী সমুদ্র বন্দরের জন্য এক থেকে দশ (১-১০) ধরনের ও নদী বন্দরের জন্য এক থেকে চার (১-৪) ধরনের ঝড় সতর্কীকরণ সংকেত প্রদান করে।
- অধুনা আবহাওয়া বিভাগের প্রচারিত সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী বা সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (CPP) এর আঞ্চলিক দপ্তরসমূহ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মোবাইল ও জনসংযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় জনসাধারণকে ঝড়ের পূর্বাভাস দেবার পাশাপাশি তাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরিয়ে নিতে কাজ করছে।
- এর পাশাপাশি ১টি থেকে ৩টি পতাকা উত্তোলন ও মাইক, মেগাফোন ইত্যাদির সাহায্যে সিপিপি ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থাসমূহ সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকার জনগণকে সতর্ক করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৩৫.
'ত্রাণ ও পুনর্বাসন' দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন কার্যক্রমের অংশ?
  1. পূর্বপ্রস্তুতি
  2. প্রশমন
  3. সাড়াদান
  4. পরিকল্পনা
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।

⇒ পূর্বপ্রস্তুতি:
পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে দুর্যোগের পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

⇒ প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।

⇒ সাড়াদান:
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

⇒ পুনরুদ্ধার:
- দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুন:নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়।

⇒ উন্নয়ন:
- দুর্যোগে বিপর্যস্ত এলাকাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত পর উক্ত এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহন করা আবশ্যক।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৬.
সুনামির ফলে উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কী সংঘটিত হয়? 
  1. ভূমিকম্প
  2. জলোচ্ছ্বাস
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

সুনামি (Tsunami): 
- সুনামি একটি জাপানি শব্দ।
- জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- সুনামির পানির ঢেউ সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউয়ের মতো নয়।
- এটা সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বিশালাকৃতির।
- অতি দ্রুত ফুঁসে ফুলে ওঠা জোয়ারের মতো, যা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।
- সুনামির পানির ঢেউগুলো একের পর এক উঁচু হয়ে আসতেই থাকে তাই একে ঢেউয়ের রেলগাড়ি বা 'ওয়েভ ট্রেন' বলে।
- সুনামি হলো পানির এক মারাত্মক ঢেউ যা সমুদ্রের মধ্যে বা বিশাল হ্রদে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে।
- পানির নিচে কোনো পারমাণবিক বা অন্য কোনো বিস্ফোরণ, ভূপাত ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সুনামির ক্ষয়ক্ষতি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর আশেপাশে সুনামির ধ্বংসাত্মক লীলা সংঘটিত হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে যে সুনামি সৃষ্টি হয় তা এই মহাসাগরের আশেপাশে ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং মারাত্মক একটি দুর্যোগ সৃষ্টি করে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৩৭.
বাংলাদেশের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের কত অংশ বৃষ্টিপাত গ্রীষ্মকালে হয়ে থাকে?
  1. ক) এক-তৃতীয়াংশ
  2. খ) এক-চতুর্থাংশ
  3. গ) এক-পঞ্চমাংশ
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের এক-পঞ্চমাংশ বৃষ্টিপাত গ্রীষ্মকালে হয়ে থাকে। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৯৩৮.
নদীভাঙনের কারণ কোনটি?
  1. নদীগর্ভে ফাটলের উপস্থিতি
  2. অত্যধিক বৃষ্টিপাত
  3. নদীর গতিপথ পরিবর্তন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

নদীভাঙন:
- জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে বাংলাদেশের প্রধান নদী ও শাখানদী দ্বারা দেশের প্রায় ১০০টি উপজেলায় কমবেশি নদীভাঙন প্রক্রিয়া চলে।
- বর্ষাকালে নদীখাতে প্রবল বেগে পানিপ্রবাহ, নদী খাতের উভয় পার্শ্বে নরম মাটি ও ফাটলের অবস্থানের কারণে যে ক্ষয় হয়ে থাকে, তাকে নদীভাঙন বলে।
- পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে নদীভাঙনে প্রতি বছর প্রচুর ঘরবাড়ি, নানা ধরনের স্থাপনা ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয় এবং অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটে। - নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকগণ জমি পুনরূদ্ধার করতে না পারায় ভূমিহীন হয়ে পড়ে। ফলে, তারা শহর ও নগরের ভাসমান মানুষে পরিণত হয়।

নদীভাঙনের কারণসমূহ:
- নদীর গতিপথ পরিবর্তন।
- নদী গর্ভে নরম, ক্ষয়িষ্ণু শিলার উপস্থিতি।
- বাহিত শিলার কাঠিন্যতা।
- নদীগর্ভে ফাটলের উপস্থিতি।
- বন্যার সময়ে প্রবল পানির আঘাত।
- অত্যধিক বৃষ্টিপাত।
- নদী তীর থেকে অত্যধিক পরিমাণে বৃক্ষ নিধন।
- নদী তীর ও তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন।
- নদী তীর দখলের মাধ্যমে নদীর গতিপথে বাধা দেয়া ও গতিপথ পরিবর্তন করা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৩৯.
মানব-সৃষ্ট বিপর্যয়ের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. বন্যা
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. ভূমিকম্প
  4. রাসায়নিক বিষক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বিপর্যয়:
- বিপর্যয় বলতে বিপদ বা আপদের সম্ভাবনাকে বুঝায়।
- অর্থাৎ যে সকল ঘটনা একটি এলাকার জনগণের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, এমনকি একেবারে ধ্বংস করতে পারে, সে সকল ঘটনাকেবিপর্যয় বলে।
- বিপর্যয় দুই ধরনের হতে পারে। যেমন:
১. প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যেমন-ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
২. মানব-সৃষ্ট বিপর্যয়, যেমন-পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, রাসায়নিক বিষক্রিয়া, যুদ্ধ ইত্যাদি।

- বিপর্যয় মানেই দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের আশংকা বা সম্ভাবনা মাত্র।
- একটি এলাকায় সংঘটিত যে কোনো বিপর্যয় বা আপদ যখন উক্ত এলাকার অধিবাসীগণ তাদের নিজস্ব চেষ্টা ও সম্পদের সাহায্যে মোকাবিলা করতে সক্ষম না হয়, কেবল তখনই সেই আপদটি দুর্যোগে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪০.
মানবসৃষ্ট দুর্যোগের একটি উদাহরণ হলো -
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. মরুকরণ
  3. সুনামি
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ:
- যে অবস্থা অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, পরিবেশের ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে তাই দুর্যোগ।
- এর ফলে বাহ্যিকভাবে ক্ষতিসাধন, জীবনহানি কিংবা পরিবেশগতভাবে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়। 
 
দুর্যোগ বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। প্রধানত দুর্যোগ দুই ধরনের-
১/ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
২/ মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।
 
প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- প্রাকৃতিক কারণে যে সকল দুর্যোগ সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং সাধারণত এর উপর মানুষের কোন নিয়ন্ত্রন থাকে না।
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ।
 
মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
- মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
- যেমন- যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৯৪১.
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় কী হিসেবে পরিচিত?
  1. সাইক্লোন
  2. হারিকেন
  3. টাইফুন
  4. আসনা
ব্যাখ্যা
সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়:
• সাইক্লোন, টাইফুন ও হারিকেন সবগুলোই সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়। 

• হারিকেন:
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্য এবং পূর্ব উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর এবং মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে 'হারিকেন' বলা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।

• টাইফুন: 
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'।
- চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

• সাইক্লোন: 
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত।
- সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।

• এ ছাড়াও, দক্ষিণ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় সিভিয়ার ট্রপিক্যাল সাইক্লোন।
• আর দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরে একে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়।

• যেসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড় হয় না: 
- পৃথিবীর বিষুব রেখা বরাবর সাগরে সাধারণত কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।
- বিষুব রেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়।
- অন্যদিকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরেও কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।

উল্লেখ্য, কোনো টাইফুন তার এলাকা থেকে সরে গিয়ে হারিকেন প্রবণ অঞ্চলে প্রবেশ করলে একে তখন একে হারিকেন হিসেবেই ডাকা হয়। একইভাবে কোনো হারিকেন দিক পরিবর্তন করে টাইফুনের এলাকায় চলে এলেও একে তখন টাইফুন বলা হয়।

ঘূর্ণিঝড় 'আসনা': 
- সম্প্রতি আরব সাগরের উত্তরাংশে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।
- এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আসনা’।
- এর অর্থ সর্বোচ্চ, উজ্জ্বলতম এবং প্রশংসনীয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘আসনা’ দিয়েছে পাকিস্তান।
- উত্তর-পূর্ব আরব সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে অগ্রসরের সঙ্গে ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘আসনা’য় পরিণত হয়েছে। 

উৎস: Tropical Cyclone Naming/World Meteorological Organization. 
৯৪২.
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার কোন অভীষ্টতে 'জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কার্যক্রম' সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে?
  1. ৩ নং অভীষ্ট
  2. ৮ নং অভীষ্ট
  3. ১১ নং অভীষ্ট
  4. ১৩ নং অভীষ্ট
ব্যাখ্যা
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা:   
- টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, যা গ্লোবাল গোল নামেও পরিচিত। 
- দারিদ্র্যের অবসান ও পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য  জাতিসংঘ কর্তৃক  2015 সালে এবং 2030 সালের মধ্যে সকল মানুষ শান্তি ও সমৃদ্ধি উপভোগ করার জন্য একটি সর্বজনীন আহ্বান হিসাবে গৃহীত হয়েছিল।  

♣ ১৭টি স্বতন্ত্র অভীষ্ট:  
• লক্ষ্য ১: দারিদ্র্য বিলোপ;
• লক্ষ্য ২: ক্ষুধা মুক্তি;
• লক্ষ্য ৩: সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ;
• লক্ষ্য ৪: গুনগত শিক্ষা;
• লক্ষ্য ৫: লিঙ্গ/জেন্ডার সমতা;
• লক্ষ্য ৬: নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন;
• লক্ষ্য ৭: সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি;
• লক্ষ্য ৮: শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি;
• লক্ষ্য ৯: শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো;
• লক্ষ্য ১০: অসমতার হ্রাস;
• লক্ষ্য ১১: টেকসই নগর ও জনপদ;
• লক্ষ্য ১২: পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদন;
• লক্ষ্য ১৩: জলবায়ু পরিবর্তন কার্যক্রম; 
• লক্ষ্য ১৪: জলজ জীবন; 
• লক্ষ্য ১৫: স্থলজ জীবন;
• লক্ষ্য ১৬: শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান;
• লক্ষ্য ১৭: অভীষ্ট অর্জনে অংশীদারিত্ব।    

উৎস:
ইউএনডিপি ওয়েবসাইট এবং জাতিসংঘ বাংলাদেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।  
৯৪৩.
বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়। এটিকে বলা হয় -
  1. সাইক্লোন
  2. হ্যারিকেন
  3. টাইফুন
  4. কালবৈশাখী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়। এটিকে বলা হয় কালবৈশাখী ঝড়।

কালবৈশাখী ঝড়:

- বাংলাদেশের কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বলে।
- সাধারণ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের প্রবল গরমের সময় কালবৈশাখী ঝড় হয় বাংলাদেশে।
- কাল শব্দের অর্থ ধ্বংস এবং বৈশাখ মাসে উৎপত্তি হয় বলে একে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয়।
- কালবৈশাখী ঝড়ের অপর নাম নরওয়েস্টার।
- কালবৈশাখী ঝড় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে ইংরেজিতে নরওয়েস্টার বলা হয়।
- এই ঝড়ের গতিবেগ ৫৫ থেকে ৮০ কি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য,
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ ঝড়ে বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়।
- অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
- সাধারণত আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলোকে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত। সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'। চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বিবিসি বাংলা।
৯৪৪.
বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় বেশি দেখা যায় কখন?
  1. বৈশাখ ও জৈষ্ঠ
  2. আষাঢ় ও শ্রাবণ
  3. কার্তিক ও অগ্রাহায়ণ
  4. পৌষ ও মাঘ
ব্যাখ্যা
হেমন্তকাল : কার্তিক ও অগ্রাহায়ণ দুই মাস হেমন্তকাল হিসেবে বিবেচিত।
এ সময়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য হলাে তাপমাত্রার সমান অবস্থা এবং শীতের আগমন বার্তা।
এক সময় হেমন্ত এতদাঞ্চলে নবান্নের মাস হিসেবে পরিচিত ছিল। অর্থাৎ নতুন ধান উত্তোলন এবং তজ্জনিত উৎসব।
তবে বর্তমানে সারাবছর ধান উৎপাদন হওয়াতে ঐ বিষয়টি আর দেখা যায় না।
হেমন্তকালে একটি অন্যতম জলবায়ুগত প্রপঞ্চ হলাে উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড়।
মৌসুমী বায়ুগতি বদলানাের সময় নিরক্ষীয় বলয়ে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়ে বঙ্গোপসাগরের উপর কেন্দ্রীভূত হয় এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপকূলে প্রচণ্ড বেগে আঘাত হানে।

উৎস: ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৫.
বাংলাদেশকে কয়টি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে?
  1. চারটি
  2. তিনটি
  3. দুইটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের ভূ-কম্পন অঞ্চল:
- ২০১৬ সালে প্রকাশিত 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) রিপোর্ট অনুযায়ী, সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে।

•  অঞ্চলগুলো হলো:
১) খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল:
- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.36

২) গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল:
- উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.28

৩) মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল:
- নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.2

৪) কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল:
- দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)।
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.12

উল্লেখ্য,
BANGLADESH NATIONAL BUILDING CODE (BNBC) সর্বপ্রথম ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রিপোর্টে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্প সংঘটন অঞ্চলে (Seismic Zone) বিভক্ত করে।

• অঞ্চলগুলো হলো:
১. মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ: উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা -৭),
২. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ: মধ্যাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৬),
৩. কম ঝুঁকিপূর্ণ: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা-৫)।
পরে, ২০০৬ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও তিনটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও,
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বইয়ের সর্বশেষ সংস্করণে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রির্পোর্ট অনুসারে, ভূমিকম্পের প্রবণতার ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে ৩টি অঞ্চলে ভাগ করে দেখানো হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ-জাতীয়-বিল্ডিং-কোড-(BNBC Seismic Design সমীক্ষার রিপোর্ট) ওয়েবসাইট।
৯৪৬.
নিচের কোনটি বায়ুমণ্ডলীয় সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ?  
  1. ভূমিকম্প
  2. আগ্নেয়গিরি উদগীরণ
  3. বজ্রপাত 
  4. সুনামি
ব্যাখ্যা

∗ দুর্যোগের শ্রেণিবিভাগ :
- UNITR (United Nations Institute for Training and Research) দুর্যোগকে মোট ৪ ভাগে ভাগ করেছে—
• প্রাকৃতিক দুর্যোগ,
• মানুষসৃষ্ট দুর্যোগ,
• দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ,
• দুর্ঘটনাজাতীয় দুর্যোগ।
--------------------------------------
◊ প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপবিভাগ- বায়ুমণ্ডলীয় সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, আর্দ্রতা, ঘনীভবন ও বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের ফলে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে বায়ুমণ্ডলীয় সৃষ্ট   প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হয়।
- বায়ুমণ্ডলীয় সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের উদাহরণ:
• বজ্রপাত: বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের ঘনীভবন ও বৈদ্যুতিক চার্জের পার্থক্য থেকে ঘটে
• ঘূর্ণিঝড়/টাইফুন/হারিকেন: নিম্নচাপ, উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠ ও বায়ুপ্রবাহের অস্থিরতার ফলে সৃষ্টি হয়।
• বন্যা: অতিবৃষ্টি, মেঘ ফাটল বা নদীর অতিপ্রবাহের কারণে বন্যা হয়।
• কালবৈশাখী: বসন্তে বায়ুচাপের হঠাৎ পরিবর্তনে গঠিত তীব্র স্থানীয় ঝড়।
• তাপপ্রবাহ: এলাকায় দীর্ঘ সময় অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা বজায় থাকলে তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। 
• শিলাবৃষ্টি: মেঘে তৈরি বরফকণা প্রবল উর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহে বড় হয়ে নিচে পড়লে শিলাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়।

উৎস : ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪৭.
অস্ট্রেলিয়ায় ঘূর্ণিঝড়কে স্থানীয়ভাবে কী বলা হয়? 
  1. হারিকেন
  2. টাইফুন
  3. উইলি-উইলি
  4. সাইক্লোন
ব্যাখ্যা

• অস্ট্রেলিয়ায় ঘূর্ণিঝড়:
- অস্ট্রেলিয়ায় ঘূর্ণিঝড়কে স্থানীয়ভাবে “উইলি-উইলি” বলা হয়। 
- এটি মূলত ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের একটি স্থানীয় নাম।
- উইলি-উইলি সাধারণত নিম্নচাপ, তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত দ্বারা চিহ্নিত হয়।

উল্লেখ্য, 
- ঘূর্ণিঝড় হলো নিম্নচাপের কারণে সৃষ্ট একটি প্রবল ঘূর্ণায়মান সামুদ্রিক ঝড়, যেখানে তীব্রবেগে বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত ঘুরতে থাকে।
- সমুদ্রের কোনো স্থানে বাতাসের চাপ কমে গেলে সেখানে নিম্নচাপ তৈরি হয় এবং চাপের পার্থক্যের কারণে বাতাস প্রবলভাবে ঘূর্ণায়মান হয়, যা ঘূর্ণিঝড় হিসেবে পরিচিত।
- উত্তর গোলার্ধে এটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরে।

- বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে একই ধরনের ঝড়কে বিভিন্ন নামে ডাকা হয় যেমন:
• আমেরিকায় হারিকেন;
• জাপানে টাইফুন;
• কেরিবিয়ান অঞ্চলে জোয়ান;
•  ফিলিপাইনে বাগুইড;
• ভারতে সাইক্লোন। 

উৎস:
১. Britannica;
২. বাংলাপিডিয়া।

৯৪৮.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) সাড়াদান
  2. খ) প্রতিরোধ
  3. গ) প্রশমন
  4. ঘ) পূর্বপ্রস্তুতি
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ,
- দুর্যোগ প্রশমন এবং
- দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি ।
সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মোকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।

• দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে:
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার ও
- উন্নয়ন।

• অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
৯৪৯.
বাংলাদেশের এফ. সি. ডি. আই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কী?
  1. বন্যা নিয়ন্ত্রণ
  2. নিষ্কাশন
  3. সেচ প্রকল্প
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (Flood Control, Drainage and Irrigation Projects):
-  অনুচ্চ ভূ-সংস্থানের কারণে একটি স্বাভাবিক বৎসরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকার কমপক্ষে ২০% এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে থাকে।
- ১৯৯৮ সালের মতো মারাত্মক পর্যায়ে গেলে বন্যা কবলিত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৭০% এ গিয়ে পৌঁছতে পারে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পসমূহ বন্যার তীব্রতা হ্রাসকরণে অথবা বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশনের উপায় হিসেবে ব্যবহূত হয়, যেগুলো শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি করে।

উৎস: বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর।

৯৫০.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন স্তরটি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়?
  1. প্রশমন
  2. পুনরুদ্ধার
  3. প্রতিরোধ
  4. সাড়াদান
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।

⇒ সাড়াদান:
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন। সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়

⇒ পূর্বপ্রস্তুতি:
- পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে দুর্যোগের পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা পথ নাটক অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র, টর্চ-ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

⇒ প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহন, যেমন- বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত স্কুল ও ঘরবাড়ি নির্মাণ, নদী খনন ইত্যাদি বুঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যথেষ্ট ব্যয়বহুল, যা বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে বৈদেশিক সাহায্য ব্যতীত তৈরি করা কষ্টসাধ্য। অপরদিকে, অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- দুর্যোগ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম অপেক্ষাকৃত স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

⇒ প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে। মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

⇒ পুনরুদ্ধার:
- :দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুন:নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়।

⇒ উন্নয়ন:
- দুর্যোগে বিপর্যস্ত এলাকাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত পর উক্ত এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহন করা আবশ্যক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫১.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়?
  1. চাঁদপুর
  2. চাঁপাই নবাবগঞ্জ  
  3. রাজশাহী
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

-  চাঁপাই নবাবগঞ্জ সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

আর্সেনিক (Arsenic):
- আর্সেনিক দূষণ একটি Global Problem.
- তাইওয়ানে প্রথম শনাক্তকরণ হয়।
- পৃথিবীর সকল মহাদেশের ৫০ টির মতো দেশে ভূগর্ভস্থ বা ভূউপরিস্থ পানিতে উচ্চমাত্রার আর্সেনিক শনাক্ত করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে চাঁপাই নবাবগঞ্জ উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় কয়েকটি কূপে পরীক্ষা চালিয়ে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করে।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর মতে, পানিতে নির্ধারিত মান অনুযায়ী ০.০১ পিপিএম আর্সেনিকের মাত্রা গ্রহণযোগ্য। 
- তবে যখন কোন এলাকার পানিতে ০.০১ পিপিএম এর চেয়ে বেশি পরিমাণ আর্সেনিক থাকে তখন সেই এলাকার পানিকে আর্সেনিক দূষণযুক্ত বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আর্সেনিক দূষণের মাত্রা বেশি।
- এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে এ দূষণের মাত্রা কম।
- সর্বোচ্চ দূষণযুক্ত জেলাগুলো হচ্ছে চাঁদপুর (৯০%), মুন্সিগঞ্জ (৮৩%), গোপালগঞ্জ (৭৯%), মাদারীপুর (৬৯%), নোয়াখালী (৬৯%), সাতক্ষীরা (৬৭%), কুমিল্লা (৬৫%), ফরিদপুর (৬৫%), শরিয়তপুর (৬৫%), মেহেরপুর (৬০%) ও বাগেরহাট (৬০%)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫২.
প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণগুলোকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৫ ভাগে
  4. ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

• পরিবেশ দূষণ (Environment Pollution):
- পরিবেশে জীবের স্বাভাবিক অবস্থা বা জীবনযাত্রায় বিঘ্ন সৃষ্টিতে সক্ষম ক্ষতিকর অবস্থার নাম দূষণ।
- অন্যদিকে পানি, বাতাস, মৃত্তিকা বা পরিবেশের কোনো উপাদানের ভৌত, রাসায়নিক বা জৈবিক যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিবর্তনই প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণ।
- মানুষের বহুমুখী কর্মকান্ডই পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে বড় কারণ।

• প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের কারণ:
- প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা: ক. প্রাকৃতিক কারণ এবং খ. মানবসৃষ্ট কারণ।

প্রাকৃতিক কারণ: বন্যা ও খরা, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।

মানবসৃষ্ট কারণ: গাছপালা নিধন, পাহাড় কর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, কীটনাশক ব্যবহার, ভূ-গর্ভস্থ পানি আহরণ, শিল্প র্বজ্য, জ্বালানি দহনের নির্গত ধোঁয়া।

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫৩.
বাংলাদেশের কোন জেলায় খরা বেশি হয়?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) দিনাজপুর
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে দীর্ঘকাল ধরে শুষ্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং অল্পসংখ্যক নদী থাকার কারণে খরার প্রবণতা বেশি। যেমন দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ইত্যাদি।  

তথ্যসূত্র:- সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫৪.
সাধারণত কোন ধরনের এলাকায় ক্লাউডবার্স্ট (Cloudburst) বা মেঘ বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বেশি থাকে?
  1. পাহাড়ি এলাকায়
  2. উপকূলীয় এলাকায়
  3. শহুরে এলাকায়
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মেঘ বিস্ফোরণ (Cloudburst):

- ক্লাউডবার্স্ট হল অল্প সময়ের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট স্বল্প জায়গায় শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাত সহ অতি বৃষ্টিপাত।
- এর ফলে আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধ্বস হতে পারে।  
- সাধারণত যখন ১০ বর্গকিলোমিটার (৩.৮৬ বর্গ মাইল) অঞ্চলে এক ঘন্টার মধ্যে ১০ সেন্টিমিটার (৩.৯৪ ইঞ্চি) এর বেশি পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তাকে ক্লাউড বিস্ফোরণ বা ক্লাউডবার্স্ট বলে থাকে।
- এটি হিমালয়ান অঞ্চল এবংপার্বত্য এলাকায় বেশি ঘটে থাকে।  
- সাধারণত ক্লাউডবার্স্ট বর্ষা ঋতুতে হয়ে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এর পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মেঘ বিস্ফোরণের বৈশিষ্ট্য:
- হঠাৎ ঘটে: মেঘ বিস্ফোরণ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- সংকীর্ণ এলাকা: এটি সাধারণত খুব ছোট এলাকা জুড়ে ঘটে। মেঘ বিস্ফোরণের পরিধি কয়েক বর্গ কিলোমিটারের বেশি হয় না।
- ভারী বৃষ্টিপাত: মেঘ বিস্ফোরণের ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়। কখনও কখনও এটি এতটাই প্রবল হয় যে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নদী এবং জলাশয়গুলো পানিতে ভরে যায়, যা বন্যার সৃষ্টি করে।
- সম্প্রতি আগস্ট, ২০২৪-এ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভয়াবহ মেঘ বিস্ফোরণের জন্য ত্রিপুরা সংলগ্ন বাংলাদেশের কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী সহ ১১ টি জেলাইয় ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

Image Source: Shankar IAS Academy
উৎস: ব্রিটানিকা এবং Times of India এবং প্রথম আলো। 
৯৫৫.
ডাউকি চ্যুতি নিম্নের কোন ধরনের দুর্যোগ ঝুঁকির সাথে সম্পৃক্ত?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. বন্যা
  3. ভূমিকম্প
  4. বজ্রপাত
ব্যাখ্যা
ডাউকি চ্যুতি ভূমিকম্পের সাথে সম্পৃক্ত।

• ডাউকি চ্যুতি:
- বাংলাদেশের সিলেট ও ভারতের আসাম মিলিয়ে ডাউকি চ্যুতি পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় তিন শ কিলোমিটার বিস্তৃত।
- ১৮৯৭ সালে ‘ডাউকি ফল্টে’ ৮ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল।
- ডাউকি চ্যুতি ছাড়াও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকার ভূগর্ভে থাকা একটি চ্যুতিও সক্রিয়।
- বাংলাদেশের মার্টির নিচে চ্যুতি আছে মোট ১৩টি।
- ডাউকি চ্যুতি ছাড়াও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকার ভূগর্ভে থাকা একটি চ্যুতিও সক্রিয়। বাংলাদেশের মার্টির নিচে চ্যুতি আছে মোট ১৩টি।
- সাধারণত ভূগর্ভের ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটার গভীরে কোনো ভূমিকম্প হলে তাতে কম্পন বেশি অনুভূত হয়।
- এ ধরনের কম্পনে কংক্রিটের অবকাঠামোর ক্ষতি বেশি হয়। তবে বাংলাদেশের সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার ভূমি মূলত নরম মাটির। ফলে সেখানে কম্পন বেশি হলেও তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতি কম হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯৫৬.
জাপানিজ শব্দ 'সুনামি' এর অর্থ কী?
  1. বিশালাকৃতির ঢেউ
  2. সামুদ্রিক ঢেউ
  3. জলোচ্ছ্বাস
  4. পোতাশ্রয়ের ঢেউ
ব্যাখ্যা
◉ জাপানিজ শব্দ 'সুনামি' এর অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।

• সুনামি:

- সুনামির (Tsunami) কারন হলো সমুদ্রতলের ভূমিকম্প।
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। 
- এর শাব্দিক অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- এখানে 'tsu' অর্থ বন্দর বা harbour এবং 'nami' অর্থ সামুদ্রিক ঢেউ।
- সুনামির উৎপত্তি সমুদ্রতলে।
- সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদরপৃষ্ঠে বিশাল যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকে সুনামি বলে।
- সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৭.
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে কত সালে?
  1. ক) ২০১২ সালে
  2. খ) ২০১৩ সালে
  3. গ) ২০১৪ সালে
  4. ঘ) ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা
ইটভাটার দূষণ নিয়ন্ত্রণ: ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এসব ইটভাটা যাতে পরিবেশ দূষণ ঘটাতে না পারে সেজন্য সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। কেননা ইটভাটায় সৃষ্ট ধোঁয়া বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ। সনাতন পদ্ধতিতে ইটভাটার পরিবর্তে জ্বালানি সাশ্রয়ী, বায়ুদূষণ রোধে কার্যকরি ও আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপন নিশ্চিত করার জন্য ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে।

সূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৯৫৮.
দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা কোন বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অন্তর্গত?
  1. ক) সাধারণ ব্যবস্থাপনা
  2. খ) সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা
  3. গ) শ্রমসাধ্য ও ব্যয়বহুল প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা, শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া, বন্যা প্রবণ অঞ্চলের সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের উপরে আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার অন্তর্গত। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৯৫৯.
নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন কোনটির আওতাভুক্ত?
  1. পুনরুদ্ধার
  2. প্রতিরোধ
  3. উন্নয়ন
  4. সাড়া দান
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

• সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম -১০ম শ্রেনি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬০.
বাংলাদেশে সৃষ্ট বন্যার মানবসৃষ্ট কারণ কোনটি?
  1. মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব
  2. বঙ্গোপসাগরে ভরা জোয়ার
  3. নদীগুলো পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাওয়া
  4. নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে বন্যার মানবসৃষ্ট কারণ- নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব।

• বন্যার কারণসমূহ-
⇒ মানব সৃষ্ট কারণ:
- অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলাধার ভরাট করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্ন করা।
- অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ।
- গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা ও তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব।
- বালু ভরাট করে নদীসমূহের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দান।

⇒ প্রাকৃতিক কারণ:
- বর্ষাকালে উত্তরাঞ্চলে নদীর উজানে প্রচুর বৃষ্টি।
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব।
- মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া।
- বঙ্গোপসাগরে ভরা জোয়ার।
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ।
- শাখা নদীগুলো পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাওয়া।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬১.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কোনটি?
  1. মেরু অঞ্চলের বরফ গলন
  2. সমুদ্রের পানি নিচে নেমে যাওয়া
  3. মহাশুন্যে অভিযান
  4. নতুন সড়কপথ সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব: 
→ জলবায়ু পরিবর্তন।
→ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
মেরু অঞ্চলের বরফ গলন
→ সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন।
→ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
→ রোগব্যাধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়:
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো:-
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কার্বন উৎপাদনের হারকে কমিয়ে আনা;
২. যানবাহন ও কল-কারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ;
৩. যথাযথ মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার;
৪. বিকল্প জ্বালানি যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, পারমানবিক শক্তি এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব গ্যাস ব্যবহার করা;
৫. প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন;
৬. পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন;
৭. জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।