বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা৪১প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ২৮ / ২৮ · ২,৭০১২,৭৪১ / ২,৭৬৪

২,৭০১.
জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত : 
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. নরহরি চক্রবর্তী
  3. বিপ্রদাস পিপিলাই
  4. বৃন্দাবন দাস
ব্যাখ্যা
• বৃন্দাবন দাস ও জীবনীকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন বৃন্দাবন দাস। 
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'।
- তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল।
- পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়।
- কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭০২.
'সত্য পীরের পাঁচালি' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মানিক দত্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. কানাহরি দত্ত
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- তার রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৭০৩.
‘মনসামঙ্গল’ এর অপর নাম কি?
  1. ক) মনসার পূজা
  2. খ) পদ্মাপুরাণ
  3. গ) কেতকামঙ্গল
  4. ঘ) পদ্মদেবী
ব্যাখ্যা
‘মনসামঙ্গল’ এর অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
মনসামঙ্গলের প্রধান চরিত্রগুলো হলো সাপের দেবী মনসা (অপর না কেতকা ও পদ্মদেবী), চাঁদ, সওদাগর, বেহুলা,লখিন্দর।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
২,৭০৪.
গদ্য-পদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য কোনটি? 
  1. রামায়ণ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. শূন্যপুরাণ
  4. বৈষ্ণব পদাবলি
ব্যাখ্যা
শূন্যপুরাণ: 
- রামাই পণ্ডিত রচিত ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ 'শূন্যপুরাণ'। 
- রামাই পণ্ডিতের কাল তের শতক বলে অনুমিত হয়। 
- 'শূন্যপুরাণ' ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ গদ্য-পদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য। 
- বৌদ্ধধর্মের ধ্বংসোন্মুখ অবস্থায় হিন্দুধর্মের সঙ্গে মিলন সাধনের জন্য রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। 
- এতে বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। 
- শূন্যপুরাণে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 
- এ গ্রন্থের অন্তর্গত 'নিরঞ্জনের রুষ্মা' কবিতাটি থেকে প্রমাণিত হয় যে তা 'মুসলমান তুর্কি কর্তৃক বঙ্গবিজয়ের পরের, অন্তত ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষের দিকের রচনা'। 
- এতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী সদ্ধর্মীদের ওপর বৈদিক ব্রাহ্মণদের অত্যাচার কাহিনি বর্ণনার সঙ্গে মুসলমানদের জাজপুর প্রবেশ এবং ব্রাহ্মণ্য দেবদেবীর রাতারাতি ধর্মান্তর গ্রহণের কাল্পনিক চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৭০৫.
উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. লিপিমালা
  2. তোতা ইতিহাস
  3. কথোপকথন
  4. প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা

• উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ- কথোপকথন, ইতিহাসমালা।
• চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ তোতা ইতিহাস।
• রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ লিপিমালা এবং
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ- বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধচন্দ্রিকা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৭০৬.
'মৈথিল কোকিল’ বলতে কাকে বাঝায়?
  1. ক) চন্ডীদাস
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) দ্বিজবংশী
ব্যাখ্যা
‘মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বােঝায়। কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২,৭০৭.
'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' অনুবাদ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. দোনাগাজী চৌধুরী
  2. সাবিরিদ খান
  3. মুহম্মদ কবীর
  4. নওয়াজিস খান
ব্যাখ্যা
⇒ দোনাগাজী চৌধুরী:
- দোনাগাজী চৌধুরী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি। 
- দোনাগাজীর প্রধান পরিচয় রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের কবি হিসেবে।
- তাঁর রচিত ‘সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল’ দীর্ঘ আখ্যানমূলক প্রেমকাব্য।
- এর মূল উৎস আরবি আলেফ-লায়লা ওয়া লায়লা গ্রন্থ।
- ফারসি ও তুর্কি ভাষায় এ কাহিনি অনুলিখিত হয়েছে।
- ভারতের কবি মহফিল ফারসিতে এবং গাওয়াসি দাকিনি উর্দুতে সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল রচনা করেন।
- দোনাগাজী ফারসির অনুসরণে বাংলা ভাষায় তাঁর কাব্য রচনা করেন বলে ধারণা করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৭০৮.
মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারা নয় -
  1. ক) বাউল পদাবলি
  2. খ) কবিগান
  3. গ) জীবনী সাহিত্য
  4. ঘ) খনার বচন
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারা:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
- বৈষ্ণব পদাবলি
- মঙ্গলকাব্য
- অনুবাদ সাহিত্য (রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান)
- নাথ সাহিত্য
- শাক্ত পদাবলি
- বাউল পদাবলি
- কবিগান
- জীবনী সাহিত্য
- লোকসাহিত্য

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেল মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
২,৭০৯.
আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' একটি- 
  1. মৌলিক কাব্য
  2. অনুবাদ কাব্য
  3. উপন্যাস
  4. মহাকাব্য
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

• আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না,
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৭১০.
‘পদ্মাবতী’ কাব্যের লেখক কে?
  1. দৌলত কাজী
  2. মুহম্মদ কবীর
  3. আলাওল
  4. সাবিরিদ খান
ব্যাখ্যা
‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

আলাওল: 

- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ: 
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা, 
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না
- রাগতালনামা ইত্যাদি। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৭১১.
“খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়” গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) লালন শাহ
  2. খ) পাঞ্জু শাহ
  3. গ) সিরাজ শাহ
  4. ঘ) দুদ্দু শাহ
ব্যাখ্যা
এটি বাউল পদাবলীর অন্তর্গত। বাউল সম্রাট লালনের একটি গান। লালনের গান 'লালন গীতি’ বা ‘লালন সংগীত' নামে পরিচিত। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথও লালনের গানে প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং এ গান সংগ্রহ ও প্রকাশ করেন। মূলত রবীন্দ্রনাথের প্রচেষ্টায়ই লালন সংগীত মানুষের কাছে পরিচিতি পায়।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২,৭১২.
ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কোন কাব্যের উৎস আরবি ও ইরানি সাহিত্য নয়?
  1. ইউসুফ জোলেখা
  2. সোনাভান
  3. আমীর হামজা
  4. জঙ্গনামা
ব্যাখ্যা

সোনাভান কাব্যের উৎস ভারতীয় সাহিত্য।

ফকির গরীবুল্লাহ:

- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- গরীবুল্লাহর প্রথম কাব্যখানি শুদ্ধ বাংলা ভাষায় রচিত। 
- তিনি একাধারে সাধক ও কবি ছিলেন।
- ইউসুফ জোলেখা, জঙ্গনামা ও আমীর হামজা কাব্যের উৎস আরবি ও ইরানি সাহিত্য।
- আর সোনাভান ও সত্যপীরের পুঁথি কাব্যের উৎস ভারতীয় সাহিত্য।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: ১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
         ২) বাংলাপিডিয়া।
         ৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৭১৩.
‘খনার বচন’ এর মূল ভাব কি?
  1. শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
  2. সামাজিক মঙ্গলবোধ
  3. রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি
  4. লৌকিক প্রণয় সঙ্গীত
ব্যাখ্যা

 'খনার বচন' এর মূল ভাবগুলো হলো:
☆খনার বচন হলো বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। হিন্দু সমাজের লোকসাহিত্যের একটি শাখা।
☆ এর মূল বিষয় হলো কৃষি ও কৃষি জীবন।
☆ কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু ইত্যাদি নিয়ে উক্তিসমূহ রয়েছে।
☆ এছাড়া জীবনের নীতি ও মূল্যবোধ ফুটে উঠেছে বচনগুলোতে।
☆ অন্যান্য ভাষায় এর প্রভাব পড়েছে কৃষি বিষয়ক বচন হিসেবে।

সংক্ষেপে, খনার বচনে কৃষিজীবন ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৭১৪.
আলাওলের কোন গ্রন্থটি নিজামী গঞ্জভীর ফারসি গ্রন্থ অনুসরণে রচিত?
  1. তোহ্ফা‌
  2. সিকান্দরনামা
  3. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- পদ্মাবতী (মালিক মুহম্মদ জায়সীকৃত হিন্দি পদুমাবত থেকে রচিত),
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী (সাধনকৃত 'মৈনাসত' থেকে),
- হপ্তপয়কর (নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি 'হফত্ পয়কর' থেকে),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (গাওয়াসীকৃত ফারসি সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল থেকে) ও
- সিকান্দরনামা (নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি সিকান্দরনামা অনুসরণে)।

নীতিকাব্য:
- তোহফা (ইউসুফ গদাকৃত ফারসি তুহুফ-ই-নসাঈহ থেকে)

সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য:
- রাগতালনামা (মৌলিক গ্রন্থ)।

এ ছাড়াও বৈষ্ণবপদের অনুরূপ তাঁর কিছু গীতিকবিতা আছে।
- রাগতালনামা ও গীতিকবিতাগুলি তাঁর মৌলিক রচনা, অন্যগুলি অনুবাদমূলক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৭১৫.
'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. দৌলত কাজী
  2. আলাওল
  3. আব্দুল হাকিম
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- নূরনামা ফারসি নীতিকাব্য নূরনামাহ্ অবলম্বনে রচিত।

• ‘যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। 
সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।’- বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির নূরনামা কাব্য বিশেষভাবে প্রশংসিত। 

• আবদুল হাকিম: 

- আবদুল হাকিম মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- নোয়াখালী জেলার বাবুপুর (মতান্তরে সন্দ্বীপের সুধারাম) ছিল কবির আবাসভূমি।
- আবদুল হাকিম  আরবি,  ফারসি ও  সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- আবদুল হাকিম প্রধানত প্রণয়োপাখ্যানের কবি ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:   
- ইউসুফ-জুলেখা,  
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলক এবং
- হানিফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

২,৭১৬.
'কড়চা' নামে অভিহিত করা হয়েছে কোন গ্রন্থকে?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. চৈতন্যদেবের জীবনী
  4. বৈষ্ণব পদাবলি
ব্যাখ্যা
• কড়চা:
- চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে 'কড়চা' নামে অভিহিত করা হয়েছে। যেমন: মুরারি গুপ্তের কড়চা, স্বরূপ দামোদরের কড়চা, গোবিন্দদাসের কড়চা প্রভৃতি।

- কড়চা কথাটির প্রয়োগ সম্পর্কে ড. সুকুমার সেন লিখেছেন, 'কড়চা শব্দটি আসিয়াছে প্রাকৃত 'কটকচ্চ', সংস্কৃত 'কৃতকৃত্য' হইতে। 'কট' শব্দ প্রাচীন অনুশাসনে 'খসড়া লেখা' (Original draft) অর্থেই পাওয়া গিয়াছে। কড়চার অর্থও এই ব্যুৎপত্তির অনুরূপ-খসড়া রচনা, স্মারক লিপি, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য।' কড়চাকে দিনপঞ্জি বা রোজনামচা হিসেবে বিবেচনা করা চলে।

- এতে লেখক নিজের জীবনের ঘটনা বা তাঁর দেখা বা শোনা ঘটনার বিবরণ প্রতিদিন লিখে রাখতেন। পরবর্তী কালে কোন রচনার উপকরণ হিসেবে তা ব্যবহৃত হত। তবে চৈতন্য জীবনীকে কড়চা নামে অভিহিত করাতে কথাটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
২,৭১৭.
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যটির রচয়িতা -
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. আবদুল হাকিম
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী':
- সতের শতকের কবি দৌলত কাজী 'সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী' কাব্য রচনা করেন।
- রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধর্মার (রাজত্বকাল ১৬২২-৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
- পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭১৮.
‘পদ্মাবতী’ কাব্যের নায়ক ও নায়িকা কে?
  1. অসীম ও পদ্মাবতী
  2. সাধন ও পদ্মাবতী
  3. মরদান ও পদ্মাবতী
  4. রত্নসেন ও পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
'পদ্মাবতী' নাটক:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য। ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দিপদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন। এর রচয়িতা ছিলেন মালিক মোহাম্মদ জায়সী।
- পদ্মাবতী দুটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রাণী পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।
- হিন্দি কাব্যে সুফিবাদের প্রতিফলন আছে, কিন্তু বাংলায় তা লৌকিক প্রেমকাব্যে পরিণত হয়েছে। লোককাহিনী ও ইতিহাসের মিশ্র পটভূমিতে রচিত এ কাব্যে প্রেম, অভিযাত্রা, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও মিলন-বিরহের সমন্বয়ে মধ্যযুগীয় রোম্যান্টিক কাব্যের রসাস্বাদন করা যায়। - এ কাব্যে আলাওলের কবিত্বশক্তির পাশাপাশি ভাষাজ্ঞান ও পান্ডিত্যের পরিচয় পাওয়া যায়। শিল্প ও ভাষার উৎকর্ষের জন্য পদ্মাবতী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য কাব্যের মর্যাদা লাভ করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৭১৯.
শাক্ত পদাবলির প্রধান পদকর্তা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. লালন শাহ
ব্যাখ্যা

শাক্ত পদাবলি:
- শাক্ত পদাবলি বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যা অষ্টাদশ শতাব্দী ও পরবর্তী সময়ে রচিত।
- এটি শক্তির আরাধ্যা দেবী—দুর্গা বা কালী—কে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।
- বৈষ্ণব পদাবলির মতো এখানে শৃঙ্গার রস নয়; বরং প্রধান রস হলো বৎসল্য এবং প্রতিবৎসল্য।
- শাক্ত দেবীর দশ রূপের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রূপ হলো কালী।
- শাক্ত পদাবলির মোট ১২টি পর্যায় রয়েছে।
- শাক্ত পদাবলি মধ্যযুগের সর্বশেষ সাহিত্য সৃষ্টির নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

- এই ধারার প্রধান পদকর্তা রামপ্রসাদ সেন।
- রামপ্রসাদ সেন  বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক। 
- তিনি ভক্তের আকুতি পর্যায়ে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন এবং তাঁর প্রায় ৩০০টি পদ রয়েছে।
- তাঁর কাব্যপ্রভুত্বে মুগ্ধ হয়ে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘কবিরঞ্জন’ উপাধি প্রদান করেছিলেন।

- শাক্ত পদাবলির দুটি প্রধান রূপ হলো—
• উমা বা পার্বতী বা বিজয়া, যা উমাসংগীত বা আগমনী নামে পরিচিত।
- এবং এর প্রধান রস হলো বৎসল্য। 

• কালী বা শ্যামা, যা মাতৃরূপী শক্তি কালী বা শ্যামাকে কেন্দ্র করে রচিত।
- এবং এর প্রধান রস প্রতিবৎসল্য বা মাতৃভক্তি।
----------------------------
অন্যদিকে,
- বিদ্যাপতি – বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি।
- চণ্ডীদাস – বাংলা পদাবলির জনক এবং চৈতন্য পূর্ববর্তী জনপ্রিয় কবি।
- লালন শাহ – বাউল পদাবলির সর্বাধিক প্রভাবশালী সাধক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

২,৭২০.
'সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই'- চরণটির রচয়িতা-
  1. ক) মুকুন্দ দাস
  2. খ) বৃন্দাবন দাস
  3. গ) চণ্ডীদাস
  4. ঘ) গোবিন্দ দাস
ব্যাখ্যা
চন্ডীদাস (আনু.১৪শ শতক) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি।
- এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়; তাঁরা হলেন: বড়ু চন্ডীদাস, দ্বিজ চন্ডীদাস, দীন চন্ডীদাস ও চন্ডীদাস।
- তবে এঁদের মধ্যে বড়ু চন্ডীদাসকে মোটামুটিভাবে চিহ্নিত করা গেছে।
- তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার নান্নুর গ্রামে (মতান্তরে ছাতনা-বাঁকুড়া)।
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস বাগচী ছিলেন বরেন্দ্র শ্রেণীর ব্রাহ্মণ।

বড়ু চন্ডীদাসের প্রধান পরিচয়  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।
- বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া থেকে এ কাব্যের  পুথি আবিষ্কার করে ১৯১৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- তাতে তিনি চন্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ বলে উল্লেখ করেন।
- এ কাব্যের ভাব ও ভাষা বিচারে চন্ডীদাসকে চৈতন্য-পূর্ববর্তী, সম্ভবত চৌদ্দ শতকের প্রথমার্ধের লোক বলে মনে করা হয়।
- চন্ডীদাসের নামযুক্ত পদসমূহ দীর্ঘকাল বাংলার ঘরে ঘরে গীত হয়েছে।
- তিনিই বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি।
- তাঁর বিখ্যাত উক্তি ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ বাঙালির দর্শনচিন্তা এবং মানবতাবোধের অপূর্ব নিদর্শন।
- চন্ডীদাসের নামাঙ্কিত পদের সংখ্যা ন্যূনাধিক এগারশ।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৭২১.
শূন্যপুরাণের প্রথম পাঁচটি অধ্যায় কী বিষয়ে?
  1. কৃষ্ণলীলা
  2. সৃষ্টিতত্ত্ব
  3. পূজাপদ্ধতি
  4. ইতিহাস
ব্যাখ্যা

• শূন্যপুরাণ:
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- ‘শূন্যপুরাণ’ বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- কারো মতে গ্রন্থটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল- বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

২,৭২২.
'গীতগোবিন্দ' কাব্যের রচয়িতা জয়দেব কার সভাকবি ছিলেন?
  1. শশাঙ্কদেবের 
  2. লক্ষ্মণ সেনের 
  3. যশোবর্মনের 
  4. হর্ষবর্ধনের
ব্যাখ্যা
জয়দেব:
- জয়দেব (বার’শ শতক) সংস্কৃত ভাষার কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম। কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।
- বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে - বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। 
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে 'গীতগোবিন্দম্‌' রচিত। 

- পঞ্চরত্নের অপর চারজন কবি হলেন:
১. গোবর্ধন আচার্য,
২. শরণ,
৩. নধোয়ী ও
৪. উমাপতিধর।
- কারও কারও মতে তিনি কিছুকাল উৎকলরাজেরও সভাপণ্ডিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলাপিডিয়া।
২,৭২৩.
'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের কবি নন কে?
  1. দ্বিজ রামদেব
  2. মুক্তারাম সেন
  3. দাশরথি রায়
  4. ভবানীশঙ্কর দাস
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের কবি নন- দাশরথি রায়।
- তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন। 

----------------------------
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:

- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৭২৪.
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. মধুমালতী
  2. লায়লী মজনু
  3. ইউসুফ-জোলেখা
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য:
- 'ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ-জোলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

অন্যদিকে, 
• 'লায়লী মজনু' দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত। 
• 'মধু মালতী' মুহম্মদ কবির অনুবাদ গ্রন্থ। 
• 'পদ্মাবতী' আলাওল রচিত অনুবাদ কাব্য।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়িা।
২,৭২৫.
'পদ্মাপুরাণ' কাব্যের রচয়িতা-
  1. সহদেব চক্রবর্তী
  2. নারায়ণ দেব
  3. নিত্যানন্দ চক্রবর্তী
  4. নরসিংহ বসু
ব্যাখ্যা
• নারায়ণ দেব:
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠকবি নারায়ণ দেব কিশোরগঞ্জ জেলার বোরগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ড. আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে, নারায়ণ দেব পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
- কবি নারায়ণ দেবের উপাধি ছিল 'সুকবি বল্লভ'।
- তাঁর কাব্যের নাম 'পদ্মাপুরাণ'।

- কাব্যটি তিন খণ্ডে বিভক্ত।
- প্রথম খণ্ড কবির আত্মপরিচয় ও দেববন্দনা, দ্বিতীয় খণ্ডে পৌরাণিক কাহিনি এবং তৃতীয় খণ্ডে চাঁদ সদাগরের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ধর্মমঙ্গল কাব্য রচনা করেন - নরসিংহ বসু।
- শীতলামঙ্গল কাব্যের আদি কবি - নিত্যানন্দ চক্রবর্তী।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য রচনা করেন - সহদেব চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৭২৬.
'আমীর হামজা' কাব্য রচনা করেন কে?
  1. রেজাউদৌলা
  2. মো: দানেশ
  3. ফকির গরীবুল্লাহ
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'আমীর হামজা':
- আমীর হামজা মধ্যযুগের দোভাষী পুথিসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাব্য।
- এতে বীর যোদ্ধা আমীর হামজার যুদ্ধজয়ের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- মোট ৭০টি পর্বে এ বিশাল কাব্য সমাপ্ত হয়।
- এর প্রথম অংশ গরিবুল্লাহ রচনা করেন আঠারো শতকের মধ্যভাগে, বাকি অংশ তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা ১৭৯৪ সালে সমাপ্ত করেন।
- কাব্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র আমীর হামজা হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর পিতৃব্য ছিলেন।
- তাঁর সঙ্গে ইরানের অধিপতি নওশেরোয়ানের বিরোধ ও যুদ্ধ কাব্যের প্রধান বিষয়বস্তু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭২৭.
নাথসাহিত্যের আদিনাথ কে?
  1. গোরক্ষনাথ
  2. মীননাথ
  3. শিব
  4. হাড়িপা
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্যের আদিনাথ - শিব

নাথসাহিত্য:
- অ-বিদ্যা বা অ-জ্ঞান মানুষের তত্ত্বজ্ঞানের বাধা বলে অবিদ্যা দূর করে মহাজ্ঞান লাভের মাধ্যমে বাসনাক্ষয় নাথগণের লক্ষ্য ছিল।
- এই মহাজ্ঞান তাঁদের অজর অমর করে।
- সাধনার সাহায্যে দেহ পরিশুদ্ধ করে মহাজ্ঞান লাভের যোগ্য করলে তাকে বলে পক্কদেহ।
- এই দেহেই ঘটে শিবশক্তির মিলন।

- শিবকে তাঁরা আদিগুরু বলে বিবেচনা করেন।
- তাই শিব হলেন আদিনাথ
- তাঁর শিষ্য মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ।
- এই মীননাথই নাথধর্মের প্রতিষ্ঠাতা।
- মীননাথের শিষ্য গোরক্ষনাথ।
- শিবের অপর শিষ্য হাড়িপা বা জালন্ধরিপা এবং হাড়িপার শিষ্য হলেন কানুপা বা কাহ্নপাদ।
- এই চারজন সিদ্ধাচার্যের মাহাত্ম্যসূচক অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনেই নাথসাহিত্যের বিকাশ ঘটেছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক
২,৭২৮.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কত শতকের কবি?
  1. সতেরো
  2. পনেরো
  3. আঠারো
  4. ষোলো
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৭২৯.
বাংলা ভাষায় রচিত কোনো কবির প্রথম একক গ্রন্থ কোনটি?
  1. চর্যাপদ
  2. কৃত্তিবাসী রামায়ণ
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন 
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্যিক নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।
- এটি বাংলা ভাষায় রচিত কোনো কবির প্রথম একক গ্রন্থ।
- এই কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস, যিনি মধ্যযুগের আদি কবি হিসেবে পরিচিত।
- কাব্যটির রচনার অবলম্বন হলো লোকসমাজে প্রচলিত রাধা–কৃষ্ণের প্রেমকাহিনিভিত্তিক গ্রাম্য গল্প।

- কাব্যটি ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে আবিষ্কৃত হয়।
- এবং ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ এটি আবিষ্কার ও সম্পাদনা করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
- পুঁথিটি আবিষ্কৃত হয় পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে।

- আবিষ্কারের সময় পুঁথিটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত খণ্ডিত—প্রথম দুটি পাতা ও শেষের একটি পাতা অনুপস্থিত ছিল, মাঝের আরও কিছু পাতা বিলুপ্ত ছিল। এটি কবির স্বহস্তলিখিত নয়; বরং পরবর্তী এক বা একাধিক লিপিকরের লেখা। মোট ৩ জন লিপিকরের হাতের লেখা এতে শনাক্ত করা হয়েছে।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৭৩০.
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ - পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. ইউসুফ জুলেখা
  3. পদ্মাবতী
  4. লাইলি মজনু
ব্যাখ্যা
পদ্মাবতী:
- এটি একটি ইতিহাসমিশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
- পদ্মাবতী আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- নাগরিক শিক্ষা, বৈদগ্ধ্য রূপ ও অভিপ্রায় তাঁর এ কাব্যের ভাব-ভাষা-রুচিতে প্রভাব বিস্তার করেছে।
- ‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খন্ডে লেখা আছে। 

আলাওল:

- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- কাব্যিক আবেগের সঙ্গে বৌদ্ধিক চেতনার মিশ্রণ থাকায় আলাওলকে ‘পন্ডিতকবি’ বলা হয়।
- এখন পর্যন্ত আলাওলের ৭ টি কাব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' গ্রন্থটি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৩১.
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কোন রসপ্রধান কাব্য?
  1. করুণ রস 
  2. শান্ত রস
  3. বীর রস
  4. শৃঙ্গার রস
ব্যাখ্যা

• "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভপশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি। কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি। কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।

- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।

২,৭৩২.
জয়দেব রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি কোন ভাষায় রচিত?
  1. বাংলা
  2. প্রাকৃত
  3. ব্রজবুলি
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।

এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।
['শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২,৭৩৩.
দৌলত উজির বাহরাম খাঁ রচিত প্রথম কাব্যের নাম কী?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) বিষাদ-সিন্ধু
  3. গ) জঙ্গনামা
  4. ঘ) হানিফার লড়াই
ব্যাখ্যা

দৌলত উজির বাহরাম খাঁ এর প্রকৃত নাম ‘আসাউদ্দীন’।
তার রচিত প্রথম কাব্যের নাম ‘জঙ্গনামা’।
তার ২য় কাব্য ‘লায়লী মজনু’। এটি তিনি পারসি কবি আব্দুর রহমান জামির ‘লায়লী মজনু’ অবলম্বনে রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২,৭৩৪.
'তোমার লাগিয়া কলঙ্কের হার গলায় পরিতে সুখ।' পঙ্‌ক্তিটি মধ্যযুগের কোন কবির রচনা?
  1. বিদ্যাপতি 
  2. চণ্ডীদাস
  3. ভারতচন্দ্র রায়
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে। 

- বাংলা সাহিত্যে একাধিক চণ্ডীদাস নিয়ে জটিল চণ্ডীদাস সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এর যথার্থ সমাধান নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে যত মতানৈক্যই থাকুক না কেন চৈতন্য পূর্ববর্তী পদাবলির চণ্ডীদাসের বিস্ময়কর প্রতিভা সম্পর্কে কোনও মতবিরোধের অবকাশ নেই। চণ্ডীদাসের আবির্ভাবের স্থান ও কাল নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তের এখনও অভাব রয়েছে। সম্ভবত তিনি চৌদ্দ শতকের শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

- চণ্ডীদাসের বিস্ময়কর প্রতিভার পরিচায়ক আশ্চর্য সুন্দর পদগুলোতে অপূর্ব ভাবতন্ময় কৃষ্ণপ্রেম- সাধিকা শ্রীরাধার যে মনোমুগ্ধকর চিত্র রূপায়িত হয়ে উঠেছে তা কয়েক শতাব্দী ধরে বাঙালির রসপিপাসু মনের পরিতৃপ্তি সাধন করে যাচ্ছে। তাঁর পদাবলির 'অনাবৃত প্রাণের নিরাভরণ আনন্দ-বেদনায় মেদুর মুহূর্তগুলো পাঠকের মনে যে প্রশান্তি, স্নিগ্ধতা ও প্রাপ্তির আনন্দঘন উপলব্ধি সৃষ্টি করে' তার মূল্য অপরিসীম।

- শিক্ষিত বাঙালি বৈষ্ণব সাহিত্যের রস ও আনন্দের সংবাদ পেয়েছে চণ্ডীদাসের পদাবলি থেকে। কবি রাধার মনের বিচিত্র অনুভূতিকে আশ্চর্য সুন্দর ভাষায় রূপদান করে বাঙালির চিরদিনের সমাদর লাভের উপযোগী করে গেছেন। তাঁর পদাবলিতে রাধাকৃষ্ণের প্রেমানুভূতির রূপকের মাধ্যমে সে ধর্মীয় চেতনা প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি এর রূপকের বাইরে একটা সর্বজনীন ও সার্বভূমিক আবেদন বিদ্যমান।

- চন্ডীদাসের নামযুক্ত পদসমূহ দীর্ঘকাল বাংলার ঘরে ঘরে গীত হয়েছে। তিনিই বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি। তাঁর বিখ্যাত উক্তি ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ বাঙালির দর্শনচিন্তা এবং মানবতাবোধের অপূর্ব নিদর্শন। চন্ডীদাসের নামাঙ্কিত পদের সংখ্যা ন্যূনাধিক এগারশ।

চণ্ডীদাসের কতগুলো পঙ্‌ক্তি প্রবাদের মতো-
১. কলঙ্কের ডালি মাথায় করিয়া আনল ভেজাই ঘরে। 
২. তোমার লাগিয়া কলঙ্কের হার গলায় পরিতে সুখ। 
৩. চোরের মা যেন পোয়ের লাগিয়া ফুকরি কাঁদিতে নারে।
৪. গড়ন ভাঙিতে সই আছে কত খল। ভাঙিয়া গড়িতে পারে সে বড় বিরল॥ 
৫. বিধিরে কি দিব দোষ করম আপনা। সুজনে করিনু প্রেম হইল কুজনা॥
৬. ঘর হইতে আঙিনা বিদেশ।
৭. পিরীতি আঠা ননদী কাঁটা পড়শী হৈল ফাঁসী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

২,৭৩৫.
“লায়লী ওয়া মজনুন” কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. খ) আলাওল
  3. গ) কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. ঘ) কবি জামি
ব্যাখ্যা
• দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত ‘লায়লী মজনু' কাব্য।  ‘লায়লী মজনু’র রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে।
- আহমদ শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩;
- শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারসি তথা ইরানি কবি জামির ‘লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৩৬.
'পরাগলী মহাভারত’ খ্যাত গ্রন্থের অনুবাদক কবি কে?
  1. কাশীরাম দাস
  2. দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  3. শ্রীকর নন্দী
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• 'পরাগলী মহাভারত’:
- 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- নবাব হুসেন শাহ্‌ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন।
- যুদ্ধপ্রিয় পরাগল খাঁ মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।
- তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
- কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন ‘ভারত পাঁচালী’।

অন্যদিকে,
• কাশীরাম দাসের ‘মহাভারত’:
- সতের শতকের কবিসমাজে সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় নাম কাশীরাম দাস।
- তিনি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাসের সংস্কৃত মহাভারতের অনুসরণে ‘মহাভারত’ রচনা করেন। কাশীরাম দাস মহাভারতের সমগ্র রচনা করে যেতে পারেন নি। এর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
- কাশীরাম দাশ মহাভারতের চার পর্ব- আদি, সভা, বন ও বিরাট পর্বের কিছু অংশ মাত্র রচনা করেছিলেন। কাব্যের অবশিষ্ট অংশ তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র নন্দরাম এবং অপর কয়েকজন কবি সমাপ্ত করেছেন।

• 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত:
- চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খান মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ছুটি খাঁ সভাসদ শ্রীকর নন্দীকে মহাভারত অনুবাদের নির্দেশ দেন।
- ছুটিখানের আদেশে জৈমিনি মহাভারতের ওপর নির্ভর করে কেবল ‘অশ্বমেধ পর্বের’ অংশ নিয়ে শ্রীকর নন্দী 'ভারত পাঁচালী' রচনা করেন।
- শ্রীকর নন্দী রচিত ভারত পাঁচালী 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত নামেও পরিচিত।
- কেউ কেউ বলে পরাগলী মহাভারতের অসম্পূর্ন অংশ সম্পূর্ণ করেছেন শ্রীকর নন্দী।

• দ্বৈপায়ন ব্যাসদেবের ‘মহাভারত’:
- ‘মহাভারত' কাব্যের মূল রচয়িতা হচ্ছেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকের নাম কাশীরাম দাস। ‘মহাভারত' কাব্যগ্রন্থটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৭৩৭.
'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?' - পঙক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
⇒ অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ- ভবানন্দ খণ্ড। 
 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৩৮.
'কালকেতু' কোন মঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রথম/ আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৩৯.
জ্ঞানদাস কার শিষ্য ছিলেন?
  1. অদ্বৈত আচার্য
  2. নিত্যানন্দ প্রভু
  3. জাহ্নবী দেবী
  4. শ্রীচৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

২,৭৪০.
মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা নয় কোনটি?
  1. দেওয়ান ভাবনা
  2. ভেলুয়া সুন্দরী
  3. কমলা
  4. কঙ্ক ও লীলা
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা নয়- ভেলুয়া সুন্দরী। 
- 'ভেলুয়া সুন্দরী' পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত। 

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো গলো:
- ভেলুয়া সুন্দরী,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী ইত্যাদি। 

------------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা:

- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

গীতিকাগুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজলরেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া
২,৭৪১.
নিচের কোনটি নাথ সাহিত্যের দৃষ্টান্ত?
  1. গোপীচন্দ্রের সন্যাস
  2. গোরক্ষবিজয়
  3. ময়নামতির গান
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

নাথ সাহিত্য:
- নাথ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যধারা।
- এটি নাথ ধর্মের আধ্যাত্মিকতা ও দেহের ওপর আত্মার জয়ের বিষয়কে তুলে ধরে।
- নাথ ধর্ম কৌদ্ধ ও শৈব ধর্মের মিশ্রণে সৃষ্টি হয় এবং এর আদি নাথ হলো শিব।
- দশম–একাদশ শতকে নাথ আচার্যদের আবির্ভাবের সঙ্গে নাথ সাহিত্যের বিকাশ ঘটে। 

- নাথ সাহিত্য প্রথম রংপুরে আবিষ্কার হয়।
- ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে জর্জ গ্রিয়ারসন স্থানীয় গায়কের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন।
- এবং পরবর্তীতে এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে ‘মানিকরাজার গান’ নামে প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৭–১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে নীলফামারীর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বেশ্বর ভট্টাচার্য তিনজন যোগীর কাছ থেকে সম্পূর্ণ গান ও কাহিনি সংগ্রহ করেন।
- ১৯২২–১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রাথমিক খণ্ডগুলো প্রকাশিত হয়।

- নাথ সাহিত্যের প্রধান রচয়িতা ছিলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- এছাড়াও গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস রচনাও নাথ সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

- নাথ সাহিত্য দুই প্রকারে বিভক্ত—
- মীননাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি;
- এবং রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস। 

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।