বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ২৭ / ২৮ · ২,৬০১২,৭০০ / ২,৭৬৪

২,৬০১.
‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ কোন কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. চর্যাপদ
  3. শূন্যপুরাণ
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
• ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’:
- নিরঞ্জনের উষ্মা অংশের মূল প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ-হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
- এই অত্যাচারে বিরূপ হয়ে নিরঞ্জন ধর্মঠাকুর ‘যবন’ মুসলমানের রূপ ধারণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ মূলত শূন্যপুরাণ নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ।
- ‘শূন্যপুরাণে’ কমপক্ষে পাঁচজন কবির হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে মনে করা হয়।
- এছাড়া নানা মতান্তরের কারণে ‘নিরঞ্জনের উষ্মার’ রচনাকাল নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬০২.
মঙ্গলকাব্য মূলত কীসের উপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. ঐতিহাসিক ঘটনা
  2. যুদ্ধবিগ্রহ
  3. দেবমাহাত্ম্য ও সমাজচিত্র
  4. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
• মঙ্গলকাব্য  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। 
• দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
• এ কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল প্রকার অকল্যাণ নাশ ও সর্ববিধ মঙ্গল লাভ হয় এরূপ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে মঙ্গলকাব্য।
• মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা,  চন্ডী ও  ধর্মঠাকুর। 
• এঁদের মধ্যে  মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।  
• এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬০৩.
মধ্যযুগের শেষ কবি কে?
  1. আলাওল
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  3. আব্দুল হাকিম
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
২,৬০৪.
Ode কী?
  1. ক) শোককবিতা
  2. খ) পত্রকাব্য
  3. গ) খণ্ড কবিতা
  4. ঘ) কোরাসগান
ব্যাখ্যা
Ode:
- কবিতাবিশেষ (গাথাকবিতা);
- সাধারণত অনিয়মিত ছন্দে রচিত ও মহৎ অনুভূতি প্রকাশক এই কবিতা প্রায়ই কোনো বিশেষ ঘটনা বা বস্তুর মহিমাকীর্তন করে।
- কোরাসগান: সমবেত সংগীত; বৃন্দগীতি, (কবিতার) স্তবক।
উৎস: বাংলা একাডেমী অভিধান।
২,৬০৫.
'চাচা কাহিনী' গল্পগ্রন্থে কাদের জীবনের গল্প ফুটে উঠেছে?
  1. ছোট শিশুদের
  2. ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের
  3. বয়স্ক শিক্ষকদের
  4. প্রবাসী বাঙালি তরুণ ছাত্রদের
ব্যাখ্যা

'চাচা কাহিনী' গল্পগ্রন্থ:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত গল্পগ্রন্থগুলির মধ্যে প্রধানতম। প্রায় প্রতিটি গল্পই বিদেশের পটভূমিকা রচিত।
- বিদেশে বিশেষ করে বার্লিন প্রবাসী বাঙালী তরুণ বয়স্ক ছাত্রদের নিয়েই রচিত। অনেক গল্প স্বয়ং লেখক যৌবনে বার্লিন প্রবাসী ছাত্র ছিলেন। সে সময়কার নানা কাহিনী গল্পাকারে পরিবেশন করেচেন চাচা কাহিনীতে।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর কলমে খাঁটি দেশী যাদু সেরা বিদেশী পলিশে সারাক্ষণ ঝকঝক করছে। চাচা কাহিনীর মতো এমন বিশুদ্ধ উপাদেয় আন্তর্জাতিক রসিকতা বাংলা ভাষায় অন্তত আগে কখনও পড়া যায়নি।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- চাকরিসূত্রে পিতার কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের পর মুজতবা আলী শেষপর্যন্ত শান্তিনিকেতন-এ ভর্তি হন এবং পাঁচ বছর অধ্যয়ন করে ১৯২৬ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬০৬.
বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী রচনা করেন কে?
  1. বৃদ্ধাবন দাস
  2. মুরারি গুপ্ত
  3. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. গোবিন্দ দাস
ব্যাখ্যা
• চৈতন্যদেবের জীবনীকাব্য:
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'।
- তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল।
- পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়।
- কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।

• চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।
- এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিলো।

চৈতন্যদেবের বাংলা জীবনী:
• বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত’।
• বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ- লোচন দাস রচিত ‘চৈতন্য-চরিতামৃত’।
• বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত ‘চৈতন্য-চরিতামৃত’।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬০৭.
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।'- পঙ্‌ক্তি কার রচনা?
  1. আলাওল
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য।এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো-
• 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
• 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
• 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
• 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
• 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬০৮.
'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্যটি কোন ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে?
  1. আরবি
  2. সংস্কৃত
  3. উর্দু
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

ইউসুফ-জোলেখা:
- এটি একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ। ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য  ফারসি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়। 
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,৬০৯.
ফকির গরীবুল্লাহ রচিত মধ্যযুগীয় পীরসাহিত্যের গ্রন্থ কোনটি?
  1. সােনাভান 
  2. আমীর হামজা
  3. সত্যপীরের পুঁথি
  4. জঙ্গনামা
ব্যাখ্যা

সত্যপীরের পাঁচালি/সত্যপীরের পুঁথি মধ্যযুগীয় পীরসাহিত্যের একখানা গ্রন্থ। এতে সত্যপীরের মহিমা কীর্তিত হয়েছে।
- মধ্যযুগে একাধিক কবি বিভিন্ন শিরোনামে এই পাঁচালি কাব্য রচনা করেছেন। যেমন: সত্যপীরের পাঁচালি, সত্যপীরের কথা,  সত্যনারায়ণের পাঁচালি ইত্যাদি।
- কবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:  কবি কংক, শেখ ফয়জুল্লাহ, রামেশ্বর ভট্টাচার্য, রামানন্দ, শাহ্ গরীবুল্লাহ, ভারতচন্দ্র প্রমুখ।

-------------------------
• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ), (আমীর হামজা বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের দোভাষী পুথিসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ।)
- জঙ্গনামা, (এটি মূলত হযরত মুহাম্মদ (স.) এবং কারবালার যুদ্ধের মতো মুসলিম ঐতিহ্যের বীরত্বপূর্ণ কাহিনী অবলম্বনে রচিত কাব্য।)
- সােনাভান ও (সোনাভান মূলত মধ্যযুগীয় বাংলা পুঁথি সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক চরিত্র।)
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬১০.
আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন -
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. শমসের আলী
  3. মরদন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• আরাকান রাজসভার কবিগণ:
- দৌলত কাজী, 
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করিম খন্দকার,
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি- হুমায়ুন আজাদ।
২,৬১১.
নিম্নোক্তদের মধ্যে কে 'মহুয়া' পালার চরিত্র নয়?
  1. কাজলরেখা
  2. সাধু
  3. হুমরা বেদে
  4. নদের চাঁদ
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালার চরিত্র নয়- কাজলরেখা। 
মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকার মধ্যে একটি হচ্ছে - কাজলরেখা।

-----------------
'মহুয়া' পালা:

- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬১২.
ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য লোককথাকে কয় ভাগে ভাগ করেছেন??
  1. ২টি 
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

• লোক কথা বা লোক কাহিনী:
​গদ্যের মাধ্যমে কাহিনী বর্ণনা করা হলে তাকে লোক কথা বা লোক কাহিনী বলা হয়ে থাকে।

​ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য লোককথাকে ৩ ভাগ্যে ভাগ করেছেন।
​১। রূপকথা,
​২) উপকথা,
​৩)ব্রতকথা।

​​উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৬১৩.
‘ইউসুফ-জুলেখা’ কী ধরনের কাব্য?
  1. কাহিনিকাব্য
  2. গীতিকাব্য
  3. পালাকাব্য
  4. সংগীতকাব্য
ব্যাখ্যা

- পনের শতকের উল্লেখযোগ্য কবি শাহ মুহম্মদ সগীর ছিলেন - রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের আদিকবি।
- ইউসুফ-জুলেখা তার রচিত একটি কাহিনি কাব্য
- টি তিনি পারস্যের ফারসি ভাষার কবি জামী রচিত ''ইউসুফ ওয়া জুলায়খা'' থেকে অনুবাদ করেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালে এ গ্রন্থে রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে বিচারে এ কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

২,৬১৪.
চন্দ্রাবতী কে ছিলেন?
  1. প্রথম বাঙালি নারী ঔপন্যাসিক
  2. প্রথম বাঙালি নারী প্রশাসক
  3. বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি নারী কবি
  4. বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী নাট্যকার
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি নারী কবি চন্দ্রাবতী ।
• চন্দ্রাবতী:

- মহিলা কবি চন্দ্রাবতী কিশোরগঞ্জ জেলার অধিবাসী ছিলেন।
- ড. দীনেশচন্দ্র সেনের মতে, তিনি ১৫৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
 - তাঁর পিতা ছিলেন 'মনসামঙ্গল' রচয়িতা কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- কবি চন্দ্রাবতী নিজের জীবনে প্রেমের করুণ পরিণতির জন্য নিজেই লোককাব্যের নায়িকা হিসেবে পরিচিতা।
- চন্দ্রাবতীর বাল্যসখা জয়ানন্দের সঙ্গে প্রণয় সম্পর্কের ফলে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়।
- এমন সময় জয়ানন্দ এক মুসলমান মেয়ের রূপে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ে করে ফেলে।
- কিছুদিন পর অনুতপ্ত হয়ে জয়ানন্দ চন্দ্রাবতীর কাছে ফিরে আসে এবং প্রত্যাখ্যাত হয়ে নদীতে প্রাণ বিসর্জন দেয়।
- জীবনের গভীর বেদনা ভুলে থাকার জন্য তিনি ফুলেশ্বরী নদীর তীরে শিবমন্দিরে উপাসনায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন।
- পিতার আদেশে চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনায় হস্তক্ষেপ করে জীবনের বেদনা ভুলতে চেয়েছিলেন।
- কিন্তু তা সমাপ্ত করার পূর্বেই তাঁর জীবন প্রদীপ নির্বাপিত হয়।
 - তিনি কয়েকটি ক্ষুদ্র গাথাও রচনা করেছিলেন।
- ময়মনসিংহ গীতিকায় সে সব সংগৃহীত হয়েছে।
- চন্দ্রাবতীর রামায়ণের কোন পুঁথি পাওয়া যায় নি।
 - লোককাহিনি সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে কর্তৃক তা মহিলাকণ্ঠ থেকে সংগৃহীত হয়ে পূর্ববঙ্গ গীতিকায় উদ্ধৃত হয়েছে।
- আনুমানিক ষোল শতকের শেষে অথবা সতের শতকের প্রথমে চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনা করেছিলেন।
- তিনি গীতিকার একটা অংশমাত্র রচনা করেন এবং তাও আংশিক ভাবে সংগহীত হয়েছে।
- কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনা ছাড়াও ময়মনসিংহ গীতিকার মলুয়া ও দস্যু কেনারামের পালা গীতিকা দুটি রচনা করেছিলেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৬১৫.
বৈষ্ণব পদাবলীতে কবি পদের শেষে নিজের নামের উল্লেখ করে যে পরিচয় দেন, তাকে কী বলা হয়?
  1. ভাবসম্মিলন
  2. ভণিতা
  3. কড়চা
  4. ধুয়া
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলীতে কবি পদের শেষে নিজের নামের উল্লেখ করে যে পরিচয় দেন, তাকে ভণিতা বলা হয়। 

• ভণিতা:
- পদ্যের শেষে কবি যখন নিজের নাম বা ছদ্মনাম উল্লেখ করে আত্মপরিচয় দেন বা কোনো বিশেষ বার্তা প্রকাশ করেন, তাকে বলা হয় ভণিতা।
- এটি সাধারণত বৈষ্ণব পদাবলীতে দেখা যায়, যেখানে কবি শেষের অংশে নিজের পরিচয়, নাম, বা কোনো অনুভূতি প্রকাশ করেন।
- ভণিতা কবির পদটির সারমর্ম, উপদেশমূলক বক্তব্য, বা ভক্তি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- ভণিতার সাহায্যে পদাবলির কবিকে চিনে নেওয়া যায় এবং তাঁর বৈশিষ্ট্য অনুভব করা যায়।

অন্যদিকে,
• ভাবসম্মিলন- ভাবলোকের সম্মিলন। 

• 'কড়চা' কথাটির আধুনিক অর্থ দাড়িয়েছে দিনিলিপি বা ডায়েরি। 
- তবে মুরারি গুপ্ত ও স্বরুপ দামোদারের কল্যানে চৈতন্যজীবনি গ্রন্থ কড়চা বলে অভিহিত হয়েছে।

• ধুয়া হলো একটি নির্দিষ্ট স্তরে একটি পদ গান করলে তাকে 'ধুয়া' বলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬১৬.
বৈষ্ণব পদাবলীতে রাধার কয়টি অবস্থার বর্ণনা পাওয়া যায়?
  1. ক) ৮ টি
  2. খ) ১০ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ১২ টি
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলীতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধার আটটি অবস্থার বর্ণনা পাওয়া যায়।
সেগুলো হলো :
- অভিসারিকা
- বাসকসজ্জা
- উৎকণ্ঠিতা
- বিপ্রলব্ধা
- খণ্ডিতা
- কলহান্তরিতা
- প্রোষিতভর্তৃকা ও
- স্বাধীনভর্তৃকা
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬১৭.
মধ্যযুগের কোন লেখক 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' খ্যাত?
  1. গোবিন্দদাস
  2. দৌলত কাজী
  3. জয়দেব
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

গোবিন্দদাস:
- তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকটবর্তী তেলিয়াবুধুরি গ্রামে, অনুমানিক ১৫৩৫ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা।
- রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পালাগানের ভূমিকা রূপে গৌরাঙ্গের জীবনেও অনুরূপ ঘটনার অনুবর্তন হয়েছিল তা স্মরণ করে রচিত গৌরলীলার পদকেই বলে গৌরচন্দ্রিকা।
- গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা গোবিন্দ দাস।
- গোবিন্দদাস 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' খ্যাত। কবি বল্লভদাস অভিধা দিয়েছিলেন গোবিন্দের কবিত্বগুণ, গোবিন্দ দ্বিতীয় বিদ্যাপতি।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'।
- গোবিন্দদাসকে বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য বলা হয়। গোবিন্দদাসকে শ্রীজীব গোস্বামী 'কবিরাজ' ও 'কবিন্দ্র' উপাধি দেন।
- আনুমানিক ১৬১৩ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬১৮.
‘জঙ্গনামা’ কাব্য কোন ধর্মীয় ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. মুসলিম
  2. খ্রিস্টান
  3. বৌদ্ধ
  4. হিন্দু
ব্যাখ্যা
জঙ্গনামা:
- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।

ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬১৯.
গুপ্ত কবি কে?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) বিরারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯) যুগসন্ধিক্ষণের কবি।
ছদ্মনাম : ভ্রমণকারী বন্ধু
উপাধি : যুগসন্ধিক্ষণের কবি, গুপ্ত কবি, সাংবাদিক কবি।
সম্পাদনা : সংবাদ প্রভাকর। এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক। ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে সপ্তাহিক হিসেবে যাত্রা করে এবং ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে দৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। 
ঈশ্বরগুপ্তের সাহিত্যকর্ম : প্রবোধ প্রভাকর (১৮৫৮) এবং  হিত প্রভাকর (১৮৬১), এটি গদ্যে-পদ্যে লেখা গল্প। 
বিখ্যাত কবিতা : স্বদেশ, নীলকর, আনারস, পাঁঠা, তপসে মাছ, কে, বাঙালির মেয়ে। 

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
২,৬২০.
জীবনী সাহিত্যের ধারা গড়ে ওঠে কাকে কেন্দ্র করে?
  1. শ্রীচৈতন্যদেব
  2. কাহ্নপা
  3. বিদ্যাপতি
  4. রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব
ব্যাখ্যা
• শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷

• চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।
- এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিলো।

চৈতন্যদেবের বাংলা জীবনী:
• বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত’।
• বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ- লোচন দাস রচিত ‘চৈতন্য-চরিতামৃত’।
• বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত ‘চৈতন্য-চরিতামৃত’।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬২১.
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রথম বা আদি কবির নাম কী?
  1. ভারতচন্দ্র রায়
  2. দ্বিজমাধব
  3. মানিক দত্ত
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের প্রথম / আদি কবি মানিক দত্ত
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। এবং এই কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
 
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬২২.
মনসামঙ্গল কাব্যে ‘বাইশা’ শব্দটি বলতে কী বোঝায়?
  1. মনসামঙ্গলের বাইশটি গানের সংকলন
  2. মনসামঙ্গলের বাইশটি চরিত্র
  3. মনসামঙ্গলের বাইশজন কবির সংকলন
  4. মনসামঙ্গলের বাইশটি অধ্যায়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাইশা:
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয় - বাইশা।
- ‘বাইশা’ বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গলের জনপ্রিয়তার জন্য বিভিন্ন কবির রচিত কাব্য থেকে বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে যে পদ সংকলন করা হয়েছিল তা ‘বাইশ কবির মনসামঙ্গল’ বলে।
- এই কাব্যে প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- মনসামঙ্গলের এই কাহিনী মূলত নিগৃহীত মানবতার জীবনকথা। মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত, কিন্তু তাঁর গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬২৩.
কে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মুসলমান কবিদের পুঁথি সংগ্রহ করেছেন?
  1. ক) চন্দ্রকুমার দে
  2. খ) আবদুল করিম
  3. গ) দীনেশ্চন্দ্র সেন
  4. ঘ) আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১৮৭১-১৯৫৩) গ্রামে গ্রামে ঘুরে মুসলমান কবিদের পুঁথি সংগ্রহ করেছেন। 
- তিনি চট্টগ্রামের অধিবাসী ছিলেন। 
-  বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯২০-২১ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ তাঁর রচিত বাংলা পুঁথির তালিকা বাঙালা প্রাচীন পুথির বিবরণ শিরোনামে দুখন্ডে প্রকাশ করে।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথির বেশির ভাগ মুসলমান কবিদের লেখা এবং ঐগুলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পান্ডুলিপিগুলির একটি সুবিন্যস্ত তালিকা পুঁথি পরিচিতি শিরোনামে প্রকাশ করেছে।
- হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুঁথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়। 

- নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬২৪.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য -
  1. নূরনামা
  2. লাইলি মজনু
  3. জয়নবের চৌতিশা
  4. ইউসুফ জুলেখা
ব্যাখ্যা
'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। সগীর বাইবেল পড়েননি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

অন্যদিকে,
- আব্দুল হাকিম রচিত কাব্য - নূরনামা।
- ‘লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- পনেরো শতকের কবি শেখ ফয়জুল্লাহর 'জয়নবের চৌতিশা' একটি শোককাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬২৫.
'শূণ্যপুরাণ' কীসের নিদর্শন?
  1. চম্পুকাব্যের
  2. অন্ধকার যুগের
  3. অবক্ষয় যুগের
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• 'শূণ্যপুরাণ': 
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। 
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি এক প্রকারের চম্পুকাব্য। 'শূণ্যপুরাণ' চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গ্রন্থটিতে ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬২৬.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের 'স্বভাব কবি' বলা হয় কোন কবিকে?
  1. মানিক দত্তকে
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে
  3. দ্বিজ রামদেবকে
  4. দ্বিজ মাধবকে
ব্যাখ্যা

• দ্বিজ মাধব: 
- মধ্যযুগের বৈষ্ণব কবি ছিলেন দ্বিজ মাধব।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- তার বিশেষত্ব ভক্তিমূলক ও পদধর্মী কাব্যরচনা।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রথম / আদি কবি মানিক দত্ত।
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবি৷
- এই কাব্যের উপাখ্যান দুটি।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবিরা হলেন:
- দ্বিজ রামদেব,
- মুক্তারাম সেন,
- হরিরাম,
- লালা জয়নারায়ণ সেন,
- ভবানীশঙ্কর দাস,
- অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

উল্লেখ্য,
- মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কানাহরি দত্ত।
- ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬২৭.
'মানিকচন্দ্র রাজার গান' কে প্রকাশ করেছেন?
  1. দীনেশ্চন্দ্র সেন
  2. জর্জ গ্রীয়ার্সন
  3. চন্দ্রকুমার দে
  4. গোবিন্দ চন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
• নাথগীতিকা:
- স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন ১৮৭৮ সালে রংপুর জেলার মুসলমান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' নামে প্রকাশ করেন।
- এইগুলো এক শ্রেণির ঐতিহাসিক রচনা।
- ইতিহাসের কোন বিস্মৃত যুগে এই গীতিকার নায়ক রাজা গোপীচাঁদ বা গোবিন্দচন্দ্র মায়ের নির্দেশে তরুণ যৌবনে দুই নবপরিণীতা বধূ প্রাসাদে রেখে সন্ন্যাস অবলম্বন করেছিলেন এই কাহিনি কেন্দ্র করেই নাথগীতিকার উদ্ভব।
- নাথসম্প্রদায়ভুক্ত গুরুবাদী যোগিগণ তাঁদের গুরুর অলৌকিক মহিমাকীর্তন প্রসঙ্গে এই গীতিকা দেশবিদেশে প্রচার করেছেন।
- নাথগীতিকার দুটি বিভাগ: প্রথমটি তরুণ রাজপুত্র গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাসের কাহিনি। এ সম্পর্কিত গীতিকা 'গোরক্ষবিজয়', 'মীনচেতন' নামে পরিচিত।
- অপর শ্রেণির গীতিকাগুলো 'মাণিক রাজার গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গীত', 'ময়নামতীর গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গান', 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস', 'গোপীচাঁদের পাঁচালী' ইত্যাদি নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৬২৮.
‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’ গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. ফকির গরীবুল্লাহ্‌
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,৬২৯.
'প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।' - আলোচ্য পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ঈশ্বরী পাটনী
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।

• তাঁর বিখ্যাত উক্তি: 
- প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।' - আলোচ্য পঙক্তি টি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের 'আমার সন্তান' কবিতার অন্তর্গত। 
- এখানে লেখক 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' - কথাটি  ঈশ্বরী পাটনীর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন।

• তাঁর আরো কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন ।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়। যতন নহিলে নাহি মিলয়ে রতন।
-  নীচ যদি উচ্চ ভাষে সুবুদ্ধি উড়ায় হেসে।
- বাপে না জিজ্ঞাসে মায়ে না সম্ভাষে যদি দেখে লক্ষ্মীছাড়া।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- বাঘের বিক্রম সম মাঘের শিশির।
- মাতঙ্গ পড়িলে দরে পতঙ্গ প্রহার করে।
- বাতাসে পাতিয়া ফাঁদ কন্দল ভেজায় ।
- কড়িতে বাঘের দুধ মিলে ।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ
ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণেকে চাঁদ।
- যার কর্ম তারে সাজে অন্য লোকের লাঠি বাজে।
-  ভাবিতে উচিত ছিল প্রতিজ্ঞা যখন।
- মিছা কথা সিচা জল কতক্ষণ রয়।
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৩০.
শ্রীচৈতন্যদেবের প্রকৃত নাম কী?
  1. নিমাই চক্রবর্তী
  2. বিশ্বম্ভর মিশ্র
  3. গৌরাঙ্গ
  4. বিশ্বম্ভর সেন
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
- প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬৩১.
বাংলায় চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনী গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) চৈতন্য-ভাগবত
  2. খ) গৌরচন্দ্রিকা
  3. গ) চৈতন্য-মঙ্গল
  4. ঘ) চৈতন্য-চরিতামৃত
ব্যাখ্যা
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
- তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই 

শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
২,৬৩২.
অন্ধকার যুগের সাহিত্য নয় কোনটি?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  3. শূণ্যপূরাণ
  4. মধুমালতী
ব্যাখ্যা
অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল, 
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
- সেক শুভোদয়া

অন্যদিকে,
- মধ্যযুগের রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্যকর্ম - মধুমালতী

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৩৩.
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য রচনা করেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. ফকির গরিবুল্লাহ
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
- কবি দৌলত কাজী 'সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী' কাব্য রচনা করেন।
- রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধর্মার (রাজত্বকাল ১৬২২-৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
- পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।

দৌলত কাজী:
- তিনি আনুমানিক ১৬০০ থেকে ১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতানপুর গ্রাম, রাউজান, চট্টগ্রাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত মধ্যযুগের বিশিষ্ট কবি ছিলেন। তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি ও ব্রজবুলি ভাষায় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী'। এই গ্রন্থের মূল হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ' নামক কাব্য ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৩৪.
"জ্ঞানপ্রদীপ" গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. জ্ঞানদাস
  2. গুণরাজ খান
  3. মুকুন্দ চক্রবর্তী
  4. সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ সুলতান:
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম।
- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা,
- শব—ই—মিরাজ,
- ওফাত—উ—রসুল,
- জয়কুম রাজার লড়াই ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৩৫.
'নূরনামা' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. গদ্যগ্রন্থ
  2. মর্সিয়া সাহিত্য
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - আবদুল হাকিম।
- নূরনামা ফারসি নীতিকাব্য নূরনামাহ্ অবলম্বনে রচিত।

• ‘যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।’- বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির নূরনামা কাব্য বিশেষভাবে প্রশংসিত।

• আব্দুল হাকিম:

- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- নোয়াখালী জেলার বাবুপুর (মতান্তরে সন্দ্বীপের সুধারাম) ছিল কবির আবাসভূমি।
- তাঁর পিতা শাহ্ রাজ্জাক ছিলেন একজন পন্ডিত ব্যক্তি এবং তাঁর পীর ছিলেন সাহাবুদ্দীন।
- আবদুল হাকিম  আরবি,  ফারসি ও  সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- হাদীস, আল-কুরআন, ফেকাহ প্রভৃতি শাস্ত্র এবং  রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ সম্পর্কেও তাঁর গভীর পান্ডিত্য ছিল।
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো: 
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানিফার লড়াই।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলাপিডিয়া।
২,৬৩৬.
নিচের কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকা নয়?
  1. রূপবতী
  2. কঙ্কাবতী
  3. কমলা
  4. চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
• "কঙ্কাবতী" মৈমনসিংহ গীতিকা নয়।
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত "কঙ্কাবতী" একটি উপন্যাস। 

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গীতিকাগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা ২৩ টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- কেদারনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় প্রকাশিত "সৌরভ" পত্রিকায় এর দুইটি পালা প্রথম প্রকাশিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
২,৬৩৭.
রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক - 
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. কাশীরাম দাস
  3. চন্দ্রাবতী 
  4.  কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা

রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কৃত্তিবাস ওঝা।
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি। 
- কৃত্তিবাসী রামায়ণে রামচন্দ্র আরাধ্য অবতার তুলসীচন্দনে লিপ্ত বিগ্রহ। কৃত্তিবাসের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে গিয়ে ড. দীনেশ সেন মন্তব্য করেছেন, 'গৌড়েশ্বর ধন্য যিনি কবিকে রামায়ণ অনুবাদের ভার দিয়া বঙ্গদেশের শ্রেষ্ঠ হিতসাধন করিয়াছিলেন।' যুগপ্রভাবে সংস্কৃত আদর্শের মহাকাব্যিক শিল্পকলা ক্রমশ শিথিল হয়ে অজস্র কাহিনিতে রূপান্তরিত হয়েছে। 

------------------
• কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

অন্যদিকে, 
- মহাভারত প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন- কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক- কাশীরাম দাস।
- চন্দ্রাবতী রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম  এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৩৮.
'দেওয়ানা মদিনা' পালাটির রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ কানাই
  2. মনসুর বয়াতি
  3. নয়নচাঁদ ঘোষ
  4. চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা

দেওয়ানা মদিনা:
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।

• ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল, 
- মদিনা, 
- সোনার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৩৯.
নিচের কোনটি চন্দ্রাবতীর রচনা?
  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) ভাগবত
  3. গ) মহাভারত
  4. ঘ) মধুমালতী
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগ তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী।
-  চন্দ্রাবতীর পিতার নাম মনসা মঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ বংশীদাস 
- তিনি পিতার আদেশে ‘রামায়ণ' অনুবাদে হাত দেন। কিন্তু তা সমাপ্ত করার পূর্বেই তিনি মারা যান।
- চন্দ্রাবতী রচিত কাব্যগুলোর নাম: 
  - মলুয়া 
  - দস্যু কেনারামের পালা 
  - রামায়ণ

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ডঃ. সৌমিত্র শেখর।]
২,৬৪০.
'হপ্তপয়কর' কাব্যটি কে রচনা করেছেন?
  1. দৌলত কাজী
  2. সৈয়দ আলাওল
  3. শাহ মুহম্মদ সগীর
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

হপ্তপয়কর:
- 'হপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। সম্ভবত ১৬৬৫ এর রচনাকাল।
- আরাকান রাজসভায় সৈয়দ আলাওল এই কাব্য রচনা করেন।
- প্রসিদ্ধ কবি নিজামির পারসি ভাষায় বর্তমান কাব্য রচনা করেন।
- রাজপুত্র বহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তার সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
১।বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৬৪১.
নাথগীতিকা 'মানিকচন্দ্র রাজার গান' কে প্রকাশ করেন?
  1. ক) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
  3. গ) ভবানীদাস
  4. ঘ) স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন
ব্যাখ্যা
মানিক চন্দ্র রাজার গান
- ১৮৭৮ সালে ভাষাবিজ্ঞানী জর্জ গ্রিয়ারসন রংপুরের কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে 'মানিক চন্দ্র রাজার গান' নামে নাথগীতিকাটি প্রকাশ করেন।
- ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির পত্রিকায় প্রকাশিত হয় 
তাঁর উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক লোককথার সংগ্রহ ও রংপুরের আঞ্চলিক ভাষার গতি-প্রকৃতিবিষয়ক আলোচনা।
- ১৮৭৮ সালে উক্ত পত্রিকায়ই 'মানিকচন্দ্রের গান' ইংরেজি অনুবাদসহ দেবনাগরী লিপিতে প্রকাশিত হয়। 

নাথসাহিত্য:
নাথসাহিত্য  নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য। 
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। 
- নাথসাহিত্যের অন্তর্ভূক্ত 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস' কাব্যের রচয়িতা শুকুর মহম্মদ। 

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- গোরক্ষ বিজয় --- শেখ ফয়জুল্লাহ
- গোপীচন্দ্রের সন্যাস --- শুকুর মাহমুদ
- ময়নামতির গান --- ভবানী দাস


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৪২.
মহাভারত এর রচয়িতা কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. শ্রীকর নন্দী
  3. কাশীরাম দাস
  4. কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন
ব্যাখ্যা
মহাভারত  কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব রচিত সংস্কৃত মহাকাব্য।
- চন্দ্রবংশীয় কুরু-পান্ডবদের ভ্রাতৃবিদ্বেষ ও যুদ্ধ এর মূল উপজীব্য।

- মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক = কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- ছুটি খানের পৃষ্ঠপোষকতায় মহাভারতের অনুবাদ করেন = শ্রীকর নন্দী ।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক = কাশীরাম দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৪৩.
কোন গ্রন্থখানি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান?
  1. ক) রামচরিত
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) কীচকবধ
  4. ঘ) ভাগবত
ব্যাখ্যা
অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'। কবি আলাওলের অনুবাদ কাব্য 'পদ্মাবতী'। 'রামচরিত' সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত সংস্কৃত ভাষার একটি কাব্যগ্রন্থ। 'কীচক বধ' মহাভারতের একটি কাহিনী। আর 'ভাগবত' একটি হিন্দু মহাপুরাণ‌। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২,৬৪৪.
'মলুয়া' কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. নাথ গীতিকা
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. মধ্যযুগের গীতিকবিতা
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা   করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ- গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়। 

- গীতিকা গুলো হলোঃ
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা
- বিদ্যাসুন্দর
- রামায়ণ  উল্লেখযোগ্য।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
২,৬৪৫.
মধ্যযুগের কোন কবির মৃত্যুর পর থেকে বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিক্ষন শুরু হয়?
  1. ক) ঘনরাম চক্রবর্তী
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়গুনাকর
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুনাকরের মৃত্যু (১৭৬০ খ্রি.) থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় যুগসন্ধিক্ষণ
মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে।
ঘনরাম ও মুকুন্দরাম হল মধ্যযুগের কবি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৬৪৬.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য আবিষ্কৃত হয়-
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯০৯ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১৩ সালে
ব্যাখ্যা

•'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন':
• বাংলা ভাষার মধ্যযুগের প্রাচীনতম নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং পুঁথিশালার অধ্যক্ষ বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রামের এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘরের টিনের চালার নিচ থেকে পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
• ১৯১৬ সালে তাঁরই সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নামে প্রকাশিত হয়।
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য মোট ১৩টি খণ্ড ও ৪১৮টি পদে বিন্যস্ত।
• খণ্ডগুলো হলো:
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুলখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবনখণ্ড,
- কালিয়দমনখণ্ড,
- যমুনাখণ্ড,
- হারখণ্ড,
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড ও
- বিরহখণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৪৭.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মত অনুসারে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার মধ্যযুগের ব্যাপ্তি ছিল-
  1. ১৫০ বছর
  2. ১৭০ বছর
  3. ২৫০ বছর
  4. ৩৫০ বছর
ব্যাখ্যা
বাংলার শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে,
বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে। যথা -
১. প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।

অর্থাৎ, বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যাপ্তি ছিল - ৬০০ বছর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৪৮.
‘শূন্যপুরাণ’ কোন ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ?
  1. খ্রিস্টধর্ম
  2. শৈবধর্ম
  3. বৌদ্ধধর্ম
  4. বৈষ্ণবধর্ম
ব্যাখ্যা
• শূন্যপুরাণ:
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- 'শূন্যপুরাণ' বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৪৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. নাথ সাহিত্য
  4. বৈষ্ণব পদাবলি
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। 
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- এ কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল প্রকার অকল্যাণ নাশ ও সর্ববিধ মঙ্গল লাভ হয় এরূপ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে মঙ্গলকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা,  চণ্ডী ও  ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে  মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।  
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬৫০.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে।'—এই মনােবাঞ্ছাটি কার?
  1. ভবানন্দের
  2. ভাঁড়ুদত্তের
  3. ঈশ্বরী পাটনীর
  4. ফুল্লরার
ব্যাখ্যা
“আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে”- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের অমর এই উক্তি তথা প্রার্থনাটি করেছে ঈশ্বরী পাটনী।
- যখন দেবী অন্নদা তার খেয়া নৌকায় নদী পার হয়ে বর চাইতে বলে ঈশ্বরী পাটনীকে, তখন ঈশ্বরী পাটনী এই প্রার্থনাটি করে।

---------------------
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- যতন নহিলে নাহি মিলয়ে রতন।
- কড়িতে বাঘের দুধ মিলে।
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৫১.
বাংলা ভাষায় প্রথম একক গ্রন্থ কোন লেখকের?
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. শ্রী চৈতন্যদেব
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৫২.
মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা কে? 
  1. চণ্ডীদাস
  2. দীন চণ্ডীদাস
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. দ্বীজ চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য: 
- মধ্যযুগের বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। 
- মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। 
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান। 
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম থেকে এই পুথি আবিষ্কার করেন। 
- বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে চণ্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৫৩.
রামপ্রাসাদের গান শুনে কে অভিভূত হয়েছিলেন?
  1. ক) নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ
  2. খ) নবাব সিরাজউদৌলা
  3. গ) নবাব আলিবর্দি খাঁ
  4. ঘ) নবাব মীর কাশিম
ব্যাখ্যা
রামপ্রসাদ সেন:
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তাঁর রচিত শ্যামা সঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিন'শ।
- শাক্ত সঙ্গীত/শ্যামা সঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন- রামপ্রসাদ সেন।
- বিখ্যাত গান "মনরে কৃষি কাজ জান না এমন মানবজমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলতো সোনা"। 
- তার গান শুনে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদৌলা অভিভূত হয়েছিলেন। 
- রামপ্রসাদ সেনকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র 'কবিরঞ্জন' উপাধি দিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
২,৬৫৪.
'উনো বর্ষা, দুনো শীত। রসাতলে হলো নীত।।' - কোন প্রকৃতির সাহিত্যের অংশ?
  1. ক) ডাকের বচন
  2. খ) খনার বচন
  3. গ) পুঁথি সাহিত্য
  4. ঘ) কবিগান
ব্যাখ্যা
'উনো বর্ষা, দুনো শীত।
রসাতলে হলো নীত।।' - কৃষি, ঋতু, আবহাওয়া ভিত্তিক খনার বচনের উদাহরণ।

- খনার বচন  বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি।
- এক চরণের খনার বচন পাওয়া যায়, যা প্রবাদরূপে প্রচলিত; তবে দুই থেকে চার চরণের বচনের সংখ্যাই অধিক।
- খনার অনুসারী জ্যোতিষীদের মধ্যে প্রজাপতি দাস প্রণীত পঞ্চস্বরা বা গ্রন্থসংগ্রহ (আনু. ১৪শ শতক) গ্রন্থে প্রচুর খনার বচন, বিশেষত হোরাশাস্ত্রীয় বচন উদ্ধৃত হয়েছে।
- ইংরেজ আমলে  কলকাতা থেকে গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়। একই সময়ের ষষ্ঠীদাসের জ্যোতিষগ্রন্থেও বহু খনার বচন উদ্ধৃত হয়েছে।
- উনিশ শতকের শেষদিক থেকে বিশ শতকের তৃতীয় দশক পর্যন্ত আলোচনাসহ খনার বচনের বারোটিরও বেশি সংকলন প্রকাশিত হয়েছে।
- কৃষি, কৃষিতত্ত্ব, কৃষক ইত্যাদি নামে প্রকাশিত অন্তত দশটি উৎকৃষ্ট সাময়িকপত্রের প্রতি সংখ্যায় অজস্র বচন উদ্ধৃত হয়েছে।
- অসমিয়া সাহিত্যের চাণেকী গ্রন্থে ডাক-ভণিতায় প্রায় এক হাজার ডাকের কথা সংকলিত হয়েছে।
- খনার বচনে ব্যবহারিক কথা, আর ডাকের কথায় নীতিকথা বেশি; এ কারণেই হয়তো খনার বচন মানুষ বেশি স্মৃতিবদ্ধ করে রেখেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৫৫.
মধ্যযুগের ব্যতিক্রমী সাহিত্যধারা- 
  1. জীবনী সাহিত্য
  2. বৈষ্ণব সাহিত্য
  3. লোক সাহিত্য
  4. মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা

• মধ্যযুগের ব্যতিক্রমী সাহিত্যধারা - লোকসাহিত্য ধারা


• মধ্যযুগের সাহিত্যধারা:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য - ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।

- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা:
- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।

- মধ্যযুগের — লোকসাহিত্য ধারা ব্যতিক্রম।
কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
২,৬৫৬.
‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’ গ্রন্থটি কোন লিপিতে মুদ্রিত?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. রোমান
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ: 
- এটি মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক রচনা করেন।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়।
- গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য।

----------------------
• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ জাতিতে একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবংচ বাংলাপিডিয়া।
২,৬৫৭.
'রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' মধ্যযুগের কোন সাহিত্য ধারার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) মর্সিয়া সাহিত্য
  2. খ) জঙ্গনামা
  3. গ) নাথ সাহিত্য
  4. ঘ) বৈষ্ণব পদাবলি
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
নাথ সাহিত্য দুইভাগে বিভক্ত।
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষ নাথের কাহিনী,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
-  এই দুই কাহিনী অবলম্বনেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে। 
- রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস কাহিনী প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর পাদুমাবতে। 

• সুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম- গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৫৮.
মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্য রচনায় কোন মুসলিম শাসকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে?
  1. ক) মুর্শিদ কুলি খাঁ
  2. খ) নৃপতি নেজাম শাহ্ সুর
  3. গ) নাসিরুদ্দীন শাহ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা

- আলাউদ্দিন হােসেন শাহের পৃষ্ঠপােষকতায় বরিশালের কবি বিজয়গুপ্ত 'পদ্মপুরাণ' রচনা করেন।
- তাঁর সেনাপতি পরাগল খানের পষ্ঠপােষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর বাংলায় সর্বপ্রথম 'মহাভারত' অনুবাদ করেন।
- পরাগল খানের পুত্র ছুটি খানের উৎসাহে শ্রীকর নন্দী মহাভারতের ‘অশ্বমেধ পর্ব' বাংলায় অনুবাদ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৬৫৯.
মধ্যযুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য নয় -
  1. ক) ধর্মই মুখ্য
  2. খ) অলৌকিকতা
  3. গ) দেব-দেবী
  4. ঘ) মানবিকতা
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য : 
ধর্মই মুখ্য, অলৌকিতা, দেব-দেবী, নবি-রাসুল, সেখানে মানবিতা গৌণ। 

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেল মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
২,৬৬০.
কোনটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্য?
  1. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  2. সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী
  3. সেক শুভোদয়া
  4. শূণ্যপূরাণ
ব্যাখ্যা

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল, 
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
- সেক শুভোদয়া।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩। বাংলাপিডিয়া।

২,৬৬১.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১৭ সালে 
  2. ১৯১৬ সালে 
  3. ১৯১৯ সালে 
  4. ১৯০৯ সালে 
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
 ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাশ।
- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৬৬২.
বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে নিচের কোন গ্রন্থে?
  1. গীতগোবিন্দম্
  2. শূন্যপুরাণ
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. ভাগবত 
ব্যাখ্যা

• 'শূন্যপুরাণ':
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ'- 'শূন্যপুরাণ'।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। তে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
-গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন। 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূন্যপুরাণের  অন্তর্গত একটি কবিতা।

অন্যদিকে, 
• গীতগোবিন্দম্: জয়দেবের বিখ্যাত রচনা 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য: মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
• 'ভাগবত' পুরাণ বিষ্ণুভক্তি বা বৈষ্ণবধর্মকেন্দ্রিক। বিশেষত ভগবান কৃষ্ণের লীলা, গোপীগণ ও ভক্তির মাহাত্ম্য এখানে বিশদভাবে বর্ণিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৬৩.
কবি বিজয় গুপ্ত রচিত মনসামঙ্গল কাব্যের নাম কী?
  1. ক) মনসামঙ্গল কাব্য
  2. খ) মনসা বিজয়
  3. গ) অভয়া মঙ্গল
  4. ঘ) পদ্মাপুরাণ
ব্যাখ্যা

বিজয় গুপ্ত রচিত মনসা মঙ্গলকাব্যের নাম পদ্মাপুরাণ।
 দেবীর মাহাত্ম্য ও পূজা প্রচার এ কাব্যের প্রধান উপজীব্য। কবির ভাষায় এ কাব্য পাঠ করলে দরিদ্রের ধনলাভ ও সন্তানহীনের সন্তানলাভ হয় এবং রোগীর রোগমুক্তি ও বন্দির বন্ধনমুক্তি ঘটে।
মনসা ও চাঁদ সদাগর কাব্যের দুই প্রধান চরিত্র। মনসা অত্যাচারী সামন্তদের প্রতিনিধি, আর চাঁদ সওদাগর প্রতিবাদী বিদ্রোহী চরিত্র। মনসা নানা কৌশল অবলম্বন ও ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করে শিবভক্ত চাঁদ সওদাগরের পূজা আদায় করেন। ‘কাজির সহিত যুদ্ধ’ পালায় কাজির দুই পুত্র হাসান ও হোসেন রাখাল বালকদের পূজার মনসাঘট ও বেদী ধ্বংস করলে দেবী ক্ষুব্ধ হয়ে কাজির নগর আক্রমণ ও নগরবাসীকে পর্যুদস্ত করেন। কাজি মনসাকে পূজা দিয়ে কুলে-ধনে-জনে রক্ষা পান। এ কাহিনীর দ্বারা কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তখন মুসলিম সমাজেও মনসাদেবীর প্রভাব ছিল।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

২,৬৬৪.
শাহ মুহম্মদ সগীর কোন শতকের কবি?
  1. চৌদ্দ শতকের
  2. পনের শতকের
  3. ষোল শতকের
  4. সতেরো শতকের
ব্যাখ্যা
• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্য বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্ মুহম্মদ সগীর।

শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জোলেখা। এটি একটি রোমান্টিক প্রনয়োপাখ্যান। ইউসুফ-জোলেখা কাব্যগ্রন্থের রচনাকাল অনুসারে এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য এবং শাহ মুহম্মদ সগীর এই ধারার প্রথম কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়িা।
২,৬৬৫.
মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদের নাম কী ছিলো?
  1. ভারতনাট্যম
  2. ছুটিখানী মহাভারত
  3. বিজয়পান্ডবকথা
  4. শ্রীরামপাঁচালী
ব্যাখ্যা

মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন - বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।

উল্লেখ্য,
- কবীন্দ্র পরমেশ্বরের পর শ্রীকর নন্দী মহাভারত অনুবাদ করেন (ছুটি খানী মহাভারত)
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৬৬৬.
মঙ্গলকাব্যের 'দেবী-বিরোধী' চরিত্র কোনটি?
  1. ক) খুল্লনা
  2. খ) বেহুলা
  3. গ) কালকেতু
  4. ঘ) চাঁদ সদাগর
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চন্ডী ও ধর্মঠাকুর। এদের মধ্যে মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি। এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলোঃ
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

• মনসামঙ্গলের প্রচলিত কাহিনীটি হচ্ছে বণিক চন্দ্রধর বা চাঁদ সওদাগরের সঙ্গে মনসার দ্বন্দ্ব এবং শেষপর্যন্ত চন্দ্রধর কর্তৃক মনসার পূজা প্রদানের মধ্য দিয়ে তার সমাপ্তি। চন্দ্রধর ছিলেন শিবভক্ত। 
- দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬৬৭.
'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি কে?
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. হলায়ুধ মিশ্র
  3. শ্রীহর্ষ
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা
• 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন- শ্রীহর্ষ।

• অন্ধকার যুগ:

বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- প্রাকৃতপৈঙ্গল,
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা
২,৬৬৮.
মালিক মুহম্মদ জায়সীর হিন্দি কাব্যের বঙ্গানুবান কাব্য কোনটি?
  1. চন্দ্রাবতী 
  2. পদ্মাবতী
  3. মধুমালতি
  4. মৃগাবতী 
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

- অযোধ্যার কবি জায়সী ১৫৪০ সালে 'পদুমাবত' কাব্য রচনা করেছিলেন। আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকানরাজ সাদ উমাদার বা থদোমিন্তারের আমলে (১৬৪৫-৫২) মাগন ঠাকুরের আদেশে পদ্মাবতী কাব্য রচনা করেন। পদ্মাবতী হিন্দি পদুমাবতের স্বাধীন অনুবাদ।

- কাহিনি রূপায়ণ, চরিত্রচিত্রণ, প্রকাশভঙ্গি প্রয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে মধ্যযুগের প্রতিভাশালী কবিগণ যে কৃতিত্ব দেখিয়ে মৌলিকতার মত মর্যাদা লাভ করেছেন সেদিক থেকে আলাওলের স্থান সর্বোচ্চে। এ প্রসঙ্গে কবি বলেছেন, 'স্থানে স্থানে প্রকাশিলঁ নিজ মন উক্তি।' একটি অধ্যাত্মরসের কাব্যকে মানবরসের কাব্যে রূপান্তরিত করতে গিয়ে কবি আলাওল আনন্দ ও সৌন্দর্য উপভোগের দিকে বেশি দৃষ্টি দিয়েছিলেন।

- পদ্মাবতী প্রেমমূলক ঐতিহাসিক কাব্য। তবে প্রেমের স্বরূপই এখানে বেশি, ইতিহাস এখানে গৌণ।

কাহিনি সংক্ষেপ- 
পদ্মাবতী চিতোরের রানী পদ্মিনীর কাহিনি নিয়ে রচিত। পদ্মাবতীর স্বামীর নাম রত্নসেন। পদ্মাবতী অপূর্ব সুন্দরী। চিতোরের রাজসভায় রাঘবচেতন নামে এক ব্রাহ্মণ পণ্ডিত লাঞ্ছনার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য দিল্লির সম্রাট আলাউদ্দীনের নিকট পদ্মাবতীর অনুপম রূপের প্রশংসা করে তাঁকে হরণ করতে প্ররোচিত করেন। আলাউদ্দীন রত্নসেনের নিকট পদ্মাবতী সম্বন্ধে অনুরূপ প্রস্তাব করে প্রত্যাখ্যাত হন এবং প্রতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্যে চিতোর আক্রমণ করেন। যুদ্ধে রত্নসেন বন্দী হলেও বিশ্বস্ত অনুচরদের সহায়তায় মুক্তি পেতে সক্ষম হন। পরে রাজা দেওপালের সঙ্গে রত্নসেনের যুদ্ধ বাঁধে। সে যুদ্ধে দেওপাল নিহত এবং রত্নসেন আহত হন। এ সুযোগে আলাউদ্দীন পুনরায় চিতোর আক্রমণ করেন। ইতোমধ্যে রত্নসেনের মৃত্যু ঘটলে পদ্মাবতী সহমৃতা হন। আলাউদ্দীন বিজয়ীবেশে চিতোর পৌঁছে তাঁদের জ্বলন্ত চিতা দেখতে পেলেন । তখন চিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুলতান দিল্লি ফিরে এলেন।

অন্যদিকে, 
-------------------
• 'চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কেরেশী মাগন ঠাকুর ৷ এর একটি খণ্ডিত পুথি পাওয়া গেছে।
- কাব্যের রচনাকাল নিয়ে সংশয় আছে। তবে মাগন আরাকান রাজ্যের মন্ত্রী ও আলাওলের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন৷ তাই কাব্যটি সতের শতকের
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের প্রাচীন উৎস জানা যায় না। মনে হয় এটা কবির স্বাধীন কল্পনা।

• 'মধুমালতী' কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান রচিয়তা। ১৫৮৮ সালে 'মধুমালতী' নামে রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য রচনা করেন।
-  হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্‌ বা সাধনের কাব্যের অনুসরণে তাঁর 'মধুমালতী' কাব্য রচনা করেন। রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলুভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
-  মধুমালতী কাব্যের কাহিনি উৎস 'ভারতীয় উপাখ্যান।

• 'মৃগাবতী' কাব্য:
মধ্যযুগের অন্যান্য অনেক কাব্যের মত 'মৃগাবতী' অন্য ভাষা থেকে অনুবাদ বা রূপান্তর। হিন্দীতে কুতবন ‘মৃগাবতী' করেছিলেন। ১৪৯৪ খ্রীষ্টাব্দে হোসেন শাহ শৰ্কী জৌনপুর থেকে পালিয়ে গৌড়ে আশ্রয় নেন। তখন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ গৌড়েশ্বর, কুতবন হোসেন শাহ শর্কীর সভাকবি ছিলেন। তিনিও হোসেন শাহ শকীর সঙ্গে পালিয়ে আসেন। হোসেন শাহ শৰ্কীকে ভাগলপুরের কাছে 'কোলভ' এ থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
সম্ভবতঃ এখানে বসেই কুতবন হিন্দীতে 'মৃগাবতী' কাব্যখানি রচনা করেন। ধারণা করা হয় কুতবনের হিন্দি ‘মৃগাবতী'র বঙ্গানুবান করেন মুহম্মদ মুকীম।  

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং 'মৃগাবতী' কাব্য। 

২,৬৬৯.
'হপ্তপয়কর' কাব্যটি রচনা করেন কে?
  1. কবি কঙ্ক
  2. আবদুল হাকিম
  3. আলাওল
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
'হপ্তপয়কর' কাব্য:
- 'হপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। এটি আলাওল রচিত কাব্য।
- আরাকান রাজসভায় আলাওল এই কাব্য রচনা করেন। সম্ভবত ১৬৬৫ এর রচনাকাল।
- প্রসিদ্ধ কবি নিজামির পারসি ভাষায় বর্তমান কাব্য রচনা করেন।
- রাজপুত্র বহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তার সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- তাঁর আনুমানিক জন্ম ১৬০৭ সালে।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৭০.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের কবি নন কে?
  1. মাণিক দত্ত
  2. বিপ্রদাস পিপিলাই
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
ব্যাখ্যা
'মনসামঙ্গল' কাব্যের কবি নন- মাণিক দত্ত। 
• 'মাণিক দত্ত' চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের ষোল শতকের কবি। 

--------------------
• 'মনসামঙ্গল' কাব্য:

- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত। এছাড়ায়ও বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,৬৭১.
'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবি কে?
  1. কবি কঙ্ক
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. ঘনরাম চক্রবর্তী
  4. কবিকঙ্কণ
ব্যাখ্যা
কবি কঙ্ক:
- 'কালিকামঙ্গল' বা 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবি।
- কিশোরগঞ্জের রাজ্যেশ্বর নদীর তীরবর্তী বিপ্র গ্রামে ব্রাহ্মণ ঘরে তাঁর জন্ম। পিতা গুণরাজ, মাতা গুণবতী।
- তিনি কোন সময় বর্তমান ছিলেন, এব্যাপারে নিশ্চিত করে বলা যায় না। গবেষকগণ মনে করেন, তিনি চৈতন্যদেবের সমসামায়িক। সুকুমার সেনের মতে কবি কঙ্ক আরও পরের কবি।
- শৈশবে পিতৃমাতৃহীন নিরাশ্রয় কঙ্ক, মুরারি ও কৌশল্যা নামধেয় এক চণ্ডাল দম্পতির ঘরে পালিত হন। তারাই কঙ্ক নাম রাখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৭২.
বাংলা সাহিত্যের কোন দুই কবির মধ্যবর্তী সময়কে যুগসন্ধি বলা হয়?
  1. মধুসূদন দত্ত - রবীন্দ্রনাথ
  2. কায়কোবাদ - ঈশ্বরচন্দ্র
  3. ভারতচন্দ্র - মধুসূদন দত্ত
  4. মধুসূদন - কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর (মৃত্যু: ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ) এবং মাইকেল মধুসূদন দত্তের (জন্ম: ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দ) মধ্যবর্তী সময়কে যুগসন্ধি বলা হয়। এই সময়টি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে "অবক্ষয় যুগ" বা "যুগ সন্ধিক্ষণ" নামে পরিচিত। 

• যুগসন্ধিক্ষণের কবি:
- ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ সূচিত হলেও বাংলা কাব্যসাহিত্যে ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে আধুনিকতা আরম্ভ হয় নি।
- এই ষাট বছর (১৮০১-১৮৬১) কাব্যে আধুনিকতায় পৌছার চেষ্টা চলেছে মাত্র।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের জীবৎকাল ১৮১২ থেকে ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি বড় হয়েছেন কলকাতার নাগরিক পরিবেশে।
- সাংবাদিকতার পাশাপাশি কবিতাচর্চায় তিনি এ সময় মধ্যযুগের দেবদেবীর কথা বা কাহিনি নির্ভর কাব্যরচনা বর্জন করে ব্যক্তি অভিজ্ঞতায় ছোট ছোট কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তপ্সে মাছের মতো সামান্য প্রাণীও তাঁর কাব্যের বিষয়বস্তু হয়।
- তাঁর কবিতায় সমাজসচেতনতা বিশেষ করে মাতৃভূমির প্রতি দরদ অর্থাৎ দেশাত্মবোধ স্পষ্ট দেখা যায়।
- আবার কবিওয়ালাদের কাব্য ঢঙ, পয়ার ও ত্রিপদীর ব্যবহারও তাঁর কবিতায় ব্যাপকভাবে লক্ষযোগ্য।

- আসলে মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন- এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব।
- তাঁর মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য- বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা-বৈশিষ্ট্য দেখে তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৭৩.
হলায়ুধ মিশ্র রচিত পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য-
  1. নিরঞ্জনের উষ্মা
  2. শূন্যপূরাণ
  3. সেক শুভোদয়া
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
• সেক শুভোদয়া: 
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। 
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৬৭৪.
নিচের কোনটি মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র নয়?
  1. ক) সায়বেন
  2. খ) চাঁদ সদাগর
  3. গ) সনকা
  4. ঘ) মুরারি শীল
ব্যাখ্যা
• মুরারি শীল চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র।
- কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ হলো চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো।

• মনসামঙ্গল কাব্য:
- বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে মনসামঙ্গল সম্বন্ধেই প্রাচীনতম অস্তিত্বের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়।
- এ কাব্যের কাহিনি বাংলার আদিম লোকসমাজে প্রচলিত সর্পপূজার ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- সাপের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনসা লৌকিক ভয়ভীতি থেকেই এ দেবীর উদ্ভব।
- তাঁর অপর নাম কেতকা ও পদ্মাবতী।
- এই দেবীর কাহিনি নিয়ে রচিত কাব্য মনসামঙ্গল নামে পরিচিত।
- কোথাও তা পদ্মাপুরাণ নামেও অভিহিত হয়েছে।
- চাঁদ সদাগরের প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান। 
- মঙ্গলকাব্য ধারায় মনসামঙ্গল বিশিষ্টতা অর্জন করেছে নিয়তির বিরুদ্ধে মানুষের বিদ্রোহের কাহিনির জন্য। 
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালি পালা।
- এর কবির সংখ্যা যেমন শতাধিক, মুদ্রিত ও অমুদ্রিত পুথির সংখ্যাও বহু।
চাঁদ সদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা, সায়বেন (বেহুলার পিতা) মনসামঙ্গল কাব্যের গুরত্বপূর্ণ চরিত্র। 
 - কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
২,৬৭৫.
বাংলা ভাষায় মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি ছিলেন -
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. কাশীরাম দাস
  3. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. কালিদাস
ব্যাখ্যা
• কবীন্দ্র পরমেশ্বর ও পরাগলী মহাভারত:
- বাংলা ভাষায় মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি ছিলেন ‘পরাগলী মহাভারতের' লেখক — কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- গৌড়েশ্বর সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের (১৪৯৩-১৫১৮) সেনাপতি লস্কর পরাগল খানের উৎসাহে কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন বলে কাব্যটি পরাগলী মহাভারত নামে খ্যাত।
- বাংলা ভাষা সাহিত্যের পুনরভ্যূদয়ের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হুসেন শাহ চট্টগ্রাম জয় করে সেখানে পরাগল খাঁকে শাসনকর্তা নিয়োগ করেন।
- পরাগল খাঁ মহাভারতের কৌতূহলোদ্দীপক যুদ্ধকাহিনি শুনে মুগ্ধ হন এবং তা সংক্ষিপ্ত আকারে একদিনে শোনার উপযোগী করে রচনা করার জন্য সভাকবি কবীন্দ্র পরমেশ্বরকে নির্দেশ দেন।
- মূল মহাভারত কাব্যের সাহিত্য-রস আস্বাদনের আগ্রহের চেয়ে যুদ্ধকাহিনির উত্তেজক উপাদান প্রেরণা দান করেছিল বলে ধারণা করা হয়।
- মহাভারত মুখ্যত রাজবংশের ইতিহাস বলে শাসকদের কাছে তা উপভোগ্য হওয়ার অধিকারী ছিল।
- পরাগল খাঁর এই নির্দেশে কবি খুব সংক্ষেপে মহাভারত অনুবাদ করেন।

• অন্যদিকে:
- শ্রীকর নন্দীর মহাভারতকে বলা হয় ‘ছুটিখানি মহাভারত’।
- 'মহাভারত' এর শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস। তার কাব্যের নাম 'ভারত পাঁচালী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
২,৬৭৬.
'বিদ্যাসুন্দর কাহিনি' কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩ খণ্ডে বিভক্ত।
যথা :
- শিবনারায়ণ,
- কালিকামঙ্গল,
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• কালিকামঙ্গল:
কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দর কাহিনি' বলা হয়। দেবী কালীর মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে।
কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কবি কঙ্ক। এছাড়া, সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন- কালিকামঙ্গল রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৭৭.
বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম কী?
  1. চৈতন্য মঙ্গল
  2. চৈতন্য-ভাগবত
  3. চৈতন্য-চরিতামৃত
  4. চৈতন্যজীবনী
ব্যাখ্যা

• শ্রী চৈতন্যদেব:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য শ্রী চৈতন্যদেব ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম।
- তিনি বাংলা সাহিত্য একটি পঙক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে যার নাম শ্রী চৈতন্যদেব।
- তাঁকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল 'বৈষ্ণব সাহিত্য'। তার কল্যাণেই বাঙালির স্বজাত্যবোধ ও নিজসংস্কৃতি রক্ষিত হয়৷
- বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত।
- বাংলায় চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থের নাম - লোচন দাসের 'চৈতন্য মঙ্গল'।
- বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী - কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিতামৃত' 
- বাংলা সাহিত্য ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যর পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র, ডাক নাম নিমাই।
- চৈতন্যদেব জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ এবং মৃত্য ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ।

- ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’ তিন প্রকার যথা:
- জীবনীকাব্য,
- বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
- পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৭৮.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কত শতকের কবি?
  1. সতের শতক
  2. পনের শতক
  3. আঠার শতক
  4. ষোলো শতক
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
২,৬৭৯.
‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) টোডরমল
  2. খ) বীরবল
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) তানসেন
ব্যাখ্যা
'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন - আবুল ফজল৷

আইন-ই-আকবরী মুগল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।

- সুষ্ঠু প্রশাসন প্রবর্তন ও কার্যকর করার জন্য সম্রাট আকবর যে আইন ও নীতি প্রবর্তন করেন তা আইন-ই- আকবরীতে উল্লিখিত হয়েছে।

- এটি একটি প্রবিধানপূর্ণ প্রশাসনিক সারগ্রন্থ এবং একটি

• আধুনিক গেজেটিয়ার এর সমতুল্য। আকবরনামার অংশবিশেষ হলেও আইন-ই-আকবরী এককভাবেই এক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ।

- আইন-ই-আকবরীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সম্রাট আকবরের সরকার ব্যবস্থা, এর বহুবিধ প্রশাসনিক বিভাগ, বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ প্রভৃতি।

 - আইন-ই-আকবরীর আরেকটি তাৎপর্যতম অধ্যায় হল মুগল সাম্রাজ্যের ভৌগোলিক সমীক্ষা এবং বাংলাসহ প্রতিটি প্রদেশের পরিসংখ্যানগত বিবরণ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস এবং বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৮০.
নিচের কে 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা -
  1. ক) দ্বিজ চণ্ডীদাস
  2. খ) বিজয়গুপ্ত
  3. গ) ভারতচন্দ্র
  4. ঘ) মানিকদত্ত
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র হলো - মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, মালিনী।
তার অন্নদামঙ্গলের ভাগ তিনটি৷
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে রায়গুণাকর উপাধি দেন।


উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
২,৬৮১.
মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন -
  1. শুকুর মাহমুদ
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. আমির হামজা
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ। তাঁর রচিত গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ।
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৮২.
"শূন্যপুরাণ" গ্রন্থে কোন দুটি ধর্মীয় তত্ত্বের মিশ্রণ ঘটেছে?
  1. বৈদিক ব্রাহ্মণ্যবাদ ও জৈনদের লৌকিক ধর্ম
  2. জৈনধর্ম ও বজ্রযান
  3. ইসলাম ও সুফিবাদের লৌকিক কাহিনি
  4. বৌদ্ধদের শূন্যবাদ ও হিন্দুদের লৌকিক ধর্ম
ব্যাখ্যা

শূন্যপুরাণ:
- রামাই পণ্ডিত রচিত ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ 'শূন্যপুরাণ'। রামাই পণ্ডিতের কাল তের শতক বলে অনুমিত হয়। শূন্যপুরাণ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য।
- বৌদ্ধধর্মের ধ্বংসোন্মুখ অবস্থায় হিন্দুধর্মের সঙ্গে মিলন সাধনের জন্য রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এতে বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
- শূন্যপুরাণে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ গ্রন্থের অন্তর্গত 'নিরঞ্জনের রুষ্মা' কবিতাটি থেকে প্রমাণিত হয় যে তা 'মুসলমান তুর্কি কর্তৃক বঙ্গবিজয়ের পরের, অন্তত ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষের দিকের রচনা।' এতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী সদ্ধর্মীদের ওপর বৈদিক ব্রাহ্মণদের অত্যাচার কাহিনি বর্ণনার সঙ্গে মুসলমানদের জাজপুর প্রবেশ এবং ব্রাহ্মণ্য দেবদেবীর রাতারাতি ধর্মান্তর গ্রহণের কাল্পনিক চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। - ইসলাম সম্পর্কে অপরিণত ধারণা থেকে মনে হয় যে এ দেশে ইসলাম সম্প্রসারণের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি রচিত। ব্রাহ্মণ্য শাসনের অবসান এবং মুসলিম শাসন প্রচলনের পক্ষে মত প্রকাশিত হওয়াতে এতে তৎকালীন সামাজিক অবস্থার পরিচয় মিলে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৬৮৩.
“আমারি বধূয়া আন বাড়ি যায়
আমারি আঙিনা দিয়া”
-কোন কবির রচনা?
  1. ক) বড়ু চণ্ডীদাস
  2. খ) জ্ঞানদাস
  3. গ) দ্বিজ বংশীদাস
  4. ঘ) চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা চণ্ডীদাস।
চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন। তার জন্ম কোন সময় তা সুনিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে তিনি বাশুলি দেবীর ভক্ত ছিলেন এবং বড়ু চণ্ডীদাস থেকে পৃথক ছিলেন একথা নিশ্চিত।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৮৪.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে ষড়যন্ত্রকারী চরিত্র কোনটি?
  1. মুরারী শীল
  2. ভাড়ুদত্ত
  3. ফুল্লরা
  4. কালকেতু
  5. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে ষড়যন্ত্রকারী চরিত্র- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের ভাড়ুদত্ত। 
--------------------
ভাড়ুদত্ত:
- ভাড়ুদত্ত হলো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের সবচেয়ে খল চরিত্র এবং প্রধান ষড়যন্ত্রকারী। 
- সে কালকেতুর রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নানা অঘটন ঘটাতো। 
- এবং ফুল্লরা-কালকেতুর কাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছিল।
- ভাড়ুদত্ত এমন একজন চরিত্র, যে নিজের স্বার্থে যে কোনো ধরনের হীন ষড়যন্ত্র করতে দ্বিধা করতো না। 
- তার ধূর্ততা ও কুমন্ত্রণার কারণে তাকে চণ্ডীমঙ্গলের সবচেয়ে কুখ্যাত খলচরিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। 
--------------------------- 
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান শাখা।
- এখানে লৌকিক দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য এবং পৃথিবীতে তাঁর পূজা প্রতিষ্ঠার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- এই ধারার আদি কবি হিসেবে খ্যাত- মানিক দত্ত। 
- এই ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বিশেষভাবে খ্যাত।
- তাঁর রচনায় চণ্ডীমঙ্গল সর্বাধিক সাহিত্যিক উৎকর্ষ লাভ করে।
- মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলে দেবীমাহাত্ম্যের পাশাপাশি সমসাময়িক বাঙালি সমাজের বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিগণ হলেন -
- মানিকদত্ত, দ্বিজ মাধব, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজরাম দেব, মুক্তরাম সেন।

- এ কাব্যের প্রধান চরিত্র হলো -
- খুল্লনা, ফুল্লরা, কালকেতু, ধনপতি, ভাড়ুদত্ত, মুরারী শীল৷ 

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য মূলত দুটি প্রধান কাহিনির সমন্বয়ে গঠিত—
• ব্যাধ কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, যা ‘আখেটিক খণ্ড’ নামে পরিচিত,
• এবং বণিক ধনপতি সদাগর ও খুল্লনার কাহিনি, যা ‘বণিক খণ্ড’ নামে অভিহিত।
-------------------- 
অন্যদিকে,
• মুরারী শীল ধূর্ত বা ঠগ চরিত্র।
• ফুল্লরা মধ্যযুগের সবচেয়ে প্রতিবাদী নারী।
• কালকেতু চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের নায়ক চরিত্র।
• ধনপতি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,৬৮৫.
দৌলত উজির বাহরাম খাঁ রচিত কাব্য কোনটি?
  1. সতীময়না ও লোর চন্দ্রানী
  2. পদ্মাবতী
  3. জঙ্গনামা
  4. ইউসুফ-জোলেখা
ব্যাখ্যা

- দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ জঙ্গনামা।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন চট্টগ্রামে।
- তার রচিত দ্বিতীয় রচিত কাব্যগ্রন্থ লায়লী মজনু।
- তিনি এটি রচনা করেছেন, ফারসি কবি আবদুর রাহমান জামির লায়লী মজনু অবলম্বনে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৬৮৬.
চৈতন্যদেবের সর্বাপেক্ষা তথ্যসমৃদ্ধ জীবনীগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) চৈতন্য-চরিতামৃত
  2. খ) চৈতন্য মঙ্গল
  3. গ) চৈতন্য ভাগবত
  4. ঘ) কোনোটিই না
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্য-চরিতামৃত চৈতন্যদেবের সর্বাপেক্ষা তথ্যসমৃদ্ধ জীবনীগ্রন্থ। চৈতন্যভাগবত হলো প্রথম জীবনীগ্রন্থ যা রচনা করেন বৃন্দাবন দাস৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২,৬৮৭.
'ধর্মকেন্দ্রিকতা' কোন যুগের সাহিত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিলো?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. অন্ধকার যুগ
  3. মধ্যযুগ
  4. আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা

• 'ধর্মকেন্দ্রিকতা' মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

--------------------
• বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়। যথা:
- প্রাচীন যুগ,
- মধ্যযুগ,
- আধুনিক যুগ।

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্যহয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৮৮.
দৌলত কাজীর অসমাপ্ত গ্রন্থ 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী' সমাপ্ত করেন -
  1. আলাওল
  2. আবদুল হাকিম
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
আলাওল:
- তিনি (আনুমানিক) ১৬০৭ সালে জোবরা গ্রাম, হাটহাজারি, চট্টগ্রাম;  মতান্তরে ফতেহাবাদ পরগনা, ফরিদপুর এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও পণ্ডিত। বাংলা, সংস্কৃত, পারসি ও আরবি ভাষা জানতেন।
- আলাওল মগরাজের সেনাবাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।
- আরাকানে আলাওলকে কাব্য রচনায় উৎসাহিত করেন - কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- এ পর্যন্ত আলাওলের ৭টি গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া যায়। গ্রন্থগুলো হলো:
→ পদ্মাবতী,
→ সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল,
→ হপ্তপয়কর,
→ সিকান্দরনামা,
→ তোহ্ফা‌ বা তত্ত্বোপদেশ,
→ রাগতালনামা,
দৌলত কাজীর অসমাপ্ত গ্রন্থ 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী'
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা - পদ্মাবতী।
- ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৮৯.
‘সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমারি বধূয়া আনবাড়ী যায় আমারি আঙিনা দিয়া।’ - উক্তিটি কার?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকার
  4. ঘ) মুকুন্দ দাস
ব্যাখ্যা
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন।
- তিনি ছিলেন সহজিয়াপন্থী কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে সহজ ভাষার সহজ ভাবের কবি বলে এবং এই গুণে তাকে বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি বলে অভিহিত করেছেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবিও বলেছিলেন।

তাঁর বিখ্যাত উক্তি-
- ‘বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে। দেখা না হইত পরাণ গেলে।’
- ‘সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমারি বধূয়া আনবাড়ী যায় আমারি আঙিনা দিয়া।’
- শোন হে মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বৈষব কীর্তন।
২,৬৯০.
‘সকাল শোয় সকাল উঠে তার কড়ি না বৈদ্য লুটে’ - এটি কিসের উদাহরণ?
  1. ক) ডাকের বচন
  2. খ) খনার বচন
  3. গ) উক্তি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

খনার বচন মূলত - কৃষিভিত্তিক ছড়া।
বৌদ্ধ সমাজে যেমন ডাকের বচনের উৎপত্তি হয়েছিলো, তেমনি হিন্দু সমাজে প্রবর্তিত হয়েছিলো - খনার বচন।
অনেকের মতে, খনা নামের এক জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী এক বিদুষী বাঙালি নারীর রচিত ছড়া এগুলি।

২,৬৯১.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের কবি ছিলেন-
  1. বসন্তরঞ্জন রায়
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. কানাহরি দত্ত 
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।

এ কাব্যের প্রধান তিনটি চরিত্র:
- কৃষ্ণ,
- রাধা,
- বড়ায়ি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২,৬৯২.
'কবিরঞ্জন' মধ্য যুগের কোন কবির উপাধি?
  1. চণ্ডীদাস 
  2. গোবিন্দ দাস 
  3. বিদ্যাপতি
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

 • বিদ্যাপতি:
-  বিদ্যাপতি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- রামপ্রসাদের উপাধি ছিল 'কবিরঞ্জন'। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই উপাধি দিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৬৯৩.
কোনটি অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. শূণ্যপূরাণ
  3. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
- সেক শুভোদয়া

তাছাড়া,
- 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্য - সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৯৪.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কতটি গীতিকা স্থান পেয়েছে?
  1. ২৩টি
  2. ২২টি
  3. ১০টি
  4. ১৯টি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। 
যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২,৬৯৫.
রামনিধি গুপ্ত কোন টপ্পার অনুকরণে বাংলা টপ্পা রচনা করেন?
  1. আরবি টপ্পার
  2. হিন্দি টপ্পার
  3. ফারসি টপ্পার
  4. সংস্কৃত টপ্পার
ব্যাখ্যা
• রামনিধি গুপ্ত:
• নিধুগুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯) সঙ্গীতশিল্পী ও গানের জনক। তাঁর প্রকৃত নাম ‘রামনিধি গুপ্ত’, কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিনি ‘নিধু গুপ্ত’ নামেই পরিচিত। কেউ কেউ তাঁকে ‘নিধুবাবু’ বলেও ডাকতেন। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চাপ্তায় মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

• নিধু গুপ্ত বাংলা ভাষায় টপ্পাগীতি রচনা ও সুরারোপ করে নিজেই তা গাইতেন। ক্রমে তাঁর গানের সমঝদার জোটে এবং কলকাতার নগরসমাজে তিনি অল্পদিনেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

• নিধু গুপ্ত হিন্দি টপ্পার অনুকরণে বাংলা টপ্পা রচনা করেন, তবে তাতে তাঁর স্বকীয়তা ফুটে উঠেছে। তিনি বিভিন্ন রাগের মিশ্রণ ঘটিয়ে সুরের মধ্যে বৈচিত্র্য এনেছেন। 

• ১৮৩২ সালে 'গীতরত্ন' নামে তাঁর গানের একটি সংকলন প্রকাশিত হয়; তাতে ৯৬টি গান স্থান পায়। তাঁর পুত্র জয়গোপাল গুপ্ত ১৮৫৬ সালে এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেন; তাতে আরও সাতটি গান সংযুক্ত হয়। গীতরত্নের গানগুলির মধ্যে চারটি ভক্তিভাব ও একটি স্বদেশচেতনার গান ছাড়া বাকি ৯৮টি প্রেমবিষয়ক গান।

• দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বাঙ্গালীর গানে (১৯০৫) নিধু গুপ্তের ৪৫০টি এবং সঙ্গীতরাগকল্পদ্রুম নামক সংকলনে ১৫০টি গান মুদ্রিত হয়েছে।

তাঁর কয়েকটি জনপ্রিয় টপ্পা গান হলো:
• ‘নানান দেশের নানান ভাষা / বিনে স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা।'

• ‘মনোপুর হোতে আমার হারায়েছে মন’, ‘কত ভালবাসি তারে সই, কেমনে বুঝাব’, কেমনে রহিব ঘরে মন মানে না’, ‘এমন সুখের নিশি কেন পোহাইল’ ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৬৯৬.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই -
  1. অনুবাদ সাহিত্য
  2. নাথসাহিত্য
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথসাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
১) মীননাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৯৭.
বাংলা সাহিত্যের কোন নিদর্শনটি গোয়াল ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়?
  1. চর্যাপদ
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. রামায়ণ
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুঁথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।

- আবিষ্কর্তা ও সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় প্রাচীন বৈষ্ণব লেখকদের ইঙ্গিত অনুসরণ করে গ্রন্থের নামকরণ করেন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা, বড়াই।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,৬৯৮.
ইউসুফ-জোলেখা কাব্যটি কার রাজত্বকালে রচিত?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহের 
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের
  3. শাহ সুজা খানের 
  4. জালালউদ্দিন মুহম্মদ শাহের 
ব্যাখ্যা
• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- 'ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য। তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ। 

- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।

- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।

- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জোলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,৬৯৯.
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ - কাব্যের খণ্ডগুলোর মধ্যে শেষ খণ্ডটির নাম কী?
  1. জন্মখণ্ড
  2. বংশীখণ্ড
  3. রাধাবিরহখণ্ড
  4. কালিয়দমনখণ্ড
ব্যাখ্যা

• ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের খণ্ডগুলোর মধ্যে শেষ খণ্ডটির নাম - রাধাবিরহখণ্ড। 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:

- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি। ভাগবত প্রভৃতি পুরাণের কৃষ্ণলীলা-সম্পর্কিত কাহিনি অনুসরণে, জয়দেবের গীতগোবিন্দ কাব্যের প্রভাব স্বীকার করে, লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে কবি বড়ু চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য রচনা করেন।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে
পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন ঘটান। বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের
দৌহিত্র-বংশজাত দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
- পুঁথিটির প্রথম দিকের দুটি পাতা এবং শেষের পাতাটি ছিল না। এ ছাড়া পুঁথির মধ্যেও কিছু পাতা নেই। রীতি অনুযায়ী পুঁথির প্রথম দিকে দেবতার প্রশংসা, কবির পরিচয় ও গ্রন্থনাম উল্লেখিত হয় এবং শেষ দিকের পাতায় পুঁথির রচনাকাল ও লিপিকাল লিখিত থাকে। প্রথম ও শেষ অংশ খণ্ডিত থাকায় কবির আত্মপরিচয় ও রচনাকালের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লোকচক্ষুর আড়ালেই কর আড়ালেই রয়ে গেছে।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মোট তের খণ্ডে বিভক্ত। খণ্ডগুলো হল: জন্মখণ্ড, তাম্বুলখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, ভারখণ্ড, ছত্রখণ্ড, বৃন্দাবনখণ্ড, কালিয়দমনখণ্ড, যমুনাখণ্ড, হারখণ্ড, বাণখণ্ড, বংশীখণ্ড ও রাধাবিরহখণ্ড

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৭০০.
আরাকান রাজসভার কবিগণ কোন ধারার বাংলা কাব্য রচনা করেছিলেন?
  1. চর্যাপদ
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. বৈষ্ণব পদাবলি
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা
আরাকান রাজসভার কবিগণ রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার বাংলা কাব্য রচনা করেছিলেন।

- বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানগুলোর একটা অংশ আরাকান রাজসভার কবিগণের দ্বারা সৃষ্টি হয়েছিল।
- কবি দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর ও আলাওলের মত প্রতিভাশালী কবি আরাকান রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতায় রোমান্টিক কাব্য রচনা করেছিলেন।
- দৌলত কাজীর সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী, কোরেশী মাগন ঠাকুরের চন্দ্রাবতী এবং আলাওলের পদ্মাবতী ও সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য কাব্য।
- আরাকান রাজসভার কবিগণের বিস্ময়কর প্রতিভা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গতানুগতিকতা অতিক্রম করে মানবীয় ভাবধারায় সমৃদ্ধ করেছে।

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩। বাংলাপিডিয়া।