বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ২৪ / ২৮ · ২,৩০১২,৪০০ / ২,৭৬৪

২,৩০১.
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আহমদ শরীফ
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩০২.
মহাকবি আলাওল রচিত মৌলিক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রাগতালনামা
  2. খ) তোহফা
  3. গ) সিকান্দরনামা
  4. ঘ) সপ্তপয়কর
ব্যাখ্যা
আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মহাকবি আলাওলের সমসাময়িক আরাকানের রাজা ছিলেন রাজা সুধর্মা।
- আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাত।

সেগুলির মধ্যে আখ্যানকাব্য হচ্ছে
- পদ্মাবতী (মালিক মুহম্মদ জায়সীকৃত হিন্দি পদুমাবত থেকে রচিত),
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী (সাধনকৃত 'মৈনাসত' থেকে),
- সপ্তপয়কর (নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি 'হফত্ পয়কর' থেকে),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (গাওয়াসীকৃত ফারসি সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল থেকে) ও
- সিকান্দরনামা (নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি সিকান্দরনামা অনুসরণে)

নীতিকাব্য
- তোহফা (ইউসুফ গদাকৃত ফারসি তুহুফ-ই-নসাঈহ থেকে)

সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য
- রাগতালনামা (মৌলিক গ্রন্থ)।

এ ছাড়াও বৈষ্ণবপদের অনুরূপ তাঁর কিছু গীতিকবিতা আছে।
- রাগতালনামা ও গীতিকবিতাগুলি তাঁর মৌলিক রচনা, অন্যগুলি অনুবাদমূলক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩০৩.
'সিকান্দরনামা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. দৌলত কাজী
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. আলাওল
  4. আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা
• 'সিকান্দরনামা' গ্রন্থটির রচয়িতা - আলাওল
- এটি ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি নিজামি সমরখন্দের ফারসি কাব্য 'ইস্‌কান্দার নামা'র সরল অনুবাদ।

আলাওল:
- তিনি (আনুমানিক) ১৬০৭ সালে জোবরা গ্রাম, হাটহাজারি, চট্টগ্রাম;  মতান্তরে ফতেহাবাদ পরগনা, ফরিদপুর এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও পণ্ডিত। বাংলা, সংস্কৃত, পারসি ও আরবি ভাষা জানতেন।
- আলাওল মগরাজের সেনাবাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।
- আরাকানে আলাওলকে কাব্য রচনায় উৎসাহিত করেন - কোরেশী মাগন ঠাকুর।

এ পর্যন্ত আলাওলের ৭টি গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া যায়। গ্রন্থগুলো হলো:
• পদ্মাবতী,
• সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল,
• হপ্তপয়কর,
সিকান্দরনামা,
• তোহ্ফা‌ বা তত্ত্বোপদেশ,
• রাগতালনামা,
• দৌলত কাজীর অসমাপ্ত গ্রন্থ 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী'।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা - পদ্মাবতী।
- ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩০৪.
বাংলা সাহিত্যে একটি পঙ্‌ক্তি না লিখলেও কার নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে?
  1. শিব
  2. শ্রীকৃষ্ণ
  3. শ্রীচৈতন্যদেব
  4. শ্রীলোচন
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- বাংলা সাহিত্যে একটি পঙ্‌ক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে
- তাঁর জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ, নবদ্বীপ; মৃত্যু ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ, পুরী।
- শ্রীচৈতন্যদেবের পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র; ডাকনাম নিমাই।
- সামন্তযুগের অনুদার মতাদর্শকে অস্বীকার করেই তিনি প্রচার করলেন জীবে দয়া, ঈশ্বরে ভক্তি এবং সকলের অধিকার। তাঁর কল্যাণেই বাঙালির স্বাজাত্যবোধ ও নিজসংস্কৃতি রক্ষিত হয়। এজন্য তিনি স্মরণীয়।
- বাংলা সাহিত্যে ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
- তাঁর জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।
- বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম - বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- বাংলায় চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থের নাম - লোচন দাসের 'চৈতন্য মঙ্গল'।
- বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী - কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিতামৃত' (১৬১৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩০৫.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা নয় কোনটি?
  1. কালিকামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা নয় - কালিকামঙ্গল। 

• একটি মঙ্গলকাব্যে সাধারণত - ৫ টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড,
- শ্রুতিফল।

• মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩ টি।
যথা:
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

মঙ্গলকাব্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য / উপ্যনাস মঙ্গলকাব্য হচ্ছে দেবদেবীর মাহাত্ন্য নির্ভর কাব্য।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন - মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩০৬.
জয়দেবের রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কোন ধরনের রচনা?
  1. মহাকাব্য
  2. গীতিকাব্য
  3. নাট্যকাব্য
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘গীতগোবিন্দম্’ গীতিকাব্য:
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।
- বর্ণিত বিষয়ের তত্ত্বনির্দেশক বারোটি ভিন্ন ভিন্ন নামে সর্গগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
- কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য।
- রাগমূলক গীতসমূহ এ কাব্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরবর্তীকালের বাংলা পদাবলি সাহিত্যে এর গভীর প্রভাব পড়েছে।
- বৈষ্ণব সম্প্রদায় ও সাহিত্য-রসিকদের নিকট গীতগোবিন্দম্ এক সময় পরম শ্রদ্ধার বিষয় ছিল।
- গীতগোবিন্দম্-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে চরণশেষে অন্তমিল অনুসৃত হয়েছে, যা সংস্কৃত সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রায়শই দুর্লভ।

-------------
• জয়দেব:
- জয়দেব (বার’শ শতক) বাঙালি কবি। তবে তাঁর সাহিত্য ভাষা ছিল সংস্কৃত।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন লক্ষ্মণসেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৩০৭.
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পীরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে’ - উক্তিটি কোন কবির?
  1. ক) জ্ঞানদাস
  2. খ) গোবিন্দদাস
  3. গ) চন্ডীদাস
  4. ঘ) লোচনদাস
ব্যাখ্যা
‘হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পীরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে’ - উক্তিটি মধ্যযুগের কবি জ্ঞানদাসের। 

- বৈষ্ণব কবিতার চার মহাকবি বিদ্যাপতি, চন্ডীদাস, গোবিন্দদাস, জ্ঞানদাস।
- তাঁদের মধ্যে বিদ্যাপতি ও গোবিন্দদাস লিখেছেন ব্রজবুলি ভাষায়, আর চন্ডীদাস ও জ্ঞানদাস লিখেছেন
   খাঁটি বাংলা ভাষায়।
- জ্ঞানদাস একমাত্র কবি যিনি বাংলা ও ব্রজবুলি দুই ভাষা মিলিয়ে পদ রচনা করেছেন।
- জ্ঞানদাসের একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা : 
- রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর
  প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।
  হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে
  পরাণ পীরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে।


উৎস : লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
২,৩০৮.
বাংলা সাহিত্যে কাঁকিল্যা গ্রাম কেন বিখ্যাত?
  1. বড়ু চণ্ডীদাসের জন্মস্থান
  2. শূন্যপুরাণ এর প্রাপ্তিস্থান
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান
  4. চৈতন্যদেবের জন্মস্থান
ব্যাখ্যা

• পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার হওয়ায় বাংলা সাহিত্যে এই গ্রাম উল্লেখযোগ্য।

-----------------
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।

- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনি ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি- কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই।

• মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত। খণ্ডগুলো হলো:
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বূল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড (রাধাবিরহ)।

অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:

ক) বড়ু চণ্ডীদাসের জন্মস্থান: বড়ু চণ্ডীদাসের জন্মস্থান নিয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই, তবে কাঁকিল্যার সঙ্গে তাঁর জন্মস্থানের সংযোগ নেই।
খ) শূন্যপুরাণ এর প্রাপ্তিস্থান: শূন্যপুরাণ রামাই পণ্ডিতের রচনা, এবং এর প্রাপ্তিস্থান কাঁকিল্যা নয়।
ঘ) চৈতন্যদেবের জন্মস্থান: চৈতন্যদেবের জন্মস্থান নবদ্বীপ (নদিয়া), কাঁকিল্যা নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৩০৯.
পুথি সাহিত্যের গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান
  2. কারবালার যুদ্ধ
  3. দেওয়ান মদিনা
  4. সত্যপীরের পুঁথি
ব্যাখ্যা
• পুথি সাহিত্যের গ্রন্থ নয়- দেওয়ান মদিনা।
• 'দেওয়ান মদিনা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা।

------------------
• পুথি সাহিত্য:

- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণির বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।
- এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুঁথি সাহিত্যের আদি ও সার্থক কবি হলেন ফকির গরীবুল্লাহ।

বিষয়বস্তু অনুসারে পুঁথি সাহিত্যকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা যায়-
• প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য:
ইউসুফ জোলেখা, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান, লাইলী মজনু, পদ্মাবতী, গুলে বাকওয়ালী ইত্যাদি।

• যুদ্ধ সম্পর্কিত কাব্য:
- জঙ্গনামা, আমীর হামজা, সোনাভান, কারবালার যুদ্ধ ইত্যাদি।

• পীর পাঁচালি:
- গাজী কালু চম্পাবতী, সত্যপীরের পুঁথি

• ইসলাম ধর্ম, ইতিহাস নবী আউলিয়ার জীবনী ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কাব্য
- কাসাসুল আম্বিয়া, তাজকিরাতুল আউলিয়া, হাজার মসলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩১০.
'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস' কে রচনা করেছেন?
  1. ভবানী দাস
  2. শুকুর মহম্মদ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস' কাব্যের রচয়িতা শুকুর মহম্মদ।

- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- ১৮৭৮ সালে জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন মানিকচন্দ্র রাজার গান নামে এটি প্রথম প্রকাশ করেন।
- পরবর্তিকালে উত্তর ও পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে ময়নামতীর গান, গোপীচন্দ্রের গান, গোপীচাঁদের সন্ন্যাস ইত্যাদি ভিভিন্ন নামৌকই কাহিনি ভিত্তিক পুঁথি আবিষ্কৃত হয়েছে।
- গোপীচন্দ্রের কাহিনী বাংলাদেশে ময়নামতীর গান, গোবিন্দচন্দ্রগীত এবং গোপীচাঁদের সন্ন্যাস এ তিন নামে প্রচলিত।
- এ কাহিনীর তিনজন কবি হলেন দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মহম্মদ।
- শুকুর মহম্মদের কাব্যের নাম 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩১১.
'কালকেতু ও ফুল্লরা' চরিত্র দুটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। এই ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷
- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
কালকেতু,
ফুল্লরা,
ধনপতি,
ভাঁড়ুদত্ত,
মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩১২.
কাকে অভিনব জয়দেব বলা হয়?
  1. চণ্ডীদাস
  2. শ্রীচৈতন্য
  3. বিদ্যাপতি
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি: 
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি বাঙালি না হয়েও অথবা বাংলায় কবিতা রচনা না করেও “বাঙালি বৈষ্ণবের গুরুস্থানীয়, রসিক বাঙালির শ্রদ্ধেয় কবি, বৈষ্ণব সহজিয়া সাধকদের নবরসিকের অন্যতম।'
- ‘মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত এই বিস্ময়কর প্রতিভাশালী কবি একাধারে কবি, শিক্ষক, কাহিনিকার, ঐতিহাসিক, ভূবৃত্তান্ত- লেখক ও স্মার্ট নিবন্ধকার হিসেবে ধর্মকর্মের ব্যবস্থাদাতা ও আইনের প্রামাণ্য গ্রন্থের লেখক ছিলেন।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল: নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
২,৩১৩.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথি আবিষ্কার করা হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি। কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড় চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।

এই কাব্যের প্রধান তিনটি চরিত্র:
- কৃষ্ণ,
- রাধা,
- বড়ায়ি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
২,৩১৪.
'সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।'- বিখ্যাত পদটি কার রচনা?
  1. জ্ঞানদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. গোবিন্দদাস 
ব্যাখ্যা

• জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি।
- জ্ঞানদাস বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায়, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় ২শ (মতান্তরে চারশ) পদ লেখেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে জ্ঞানদাসের কবিতায়:
রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।

তাঁর আরো একটি বিখ্যাত পদ:
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৩১৫.
পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন- 
  1. রামনিধি গুপ্ত 
  2. গোবিন্দদাস 
  3. বিদ্যাপতি
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর।
- বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
- বিদ্যাপতি মৈথিলী, অবহষ্ঠ ও সংস্কৃত ভাষায় বহু গ্রন্থ ও পদ রচনা করেন। শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন। কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি। সুমধুর এই বৈষ্ণব পদাবলির জন্যই তিনি বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।

তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল:
- নব কবিশেখর,
- কবিরঞ্জন,
- কবিকণ্ঠহার,
- পণ্ডিত ঠাকুর,
- সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৩১৬.
“সেক শুভোদয়া” সাহিত্যকর্মটি কোন ভাষায় রচিত?
  1. বাংলা ও ফারসি
  2. ফারসি ও সংস্কৃত
  3. আরবি ও ফারসি
  4. বাংলা ও সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া:
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হল- সেক শুভোদয়া।
- এটি সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ূধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা।
- গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। তাই ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২,৩১৭.
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) চন্দ্রাবতী
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) লাইলি মজনু
  4. ঘ) ইউসুফ জুলেখা
ব্যাখ্যা
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খন্ডে লেখা আছে। 
- পদ্মাবতী - মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যে
- পদ্মাবতী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি  আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দিপদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন।
- এর মূল রচয়িতা ছিলেন মালিক মোহাম্মদ জায়সী।

"সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর।
লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।
মাণিক্য প্রবাল অতি নীরস কর্কশ।
অধরের অমিয় স্রবে এই মহারস।।
রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসে।
তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।।"
(পদ্মাবতীর রুপবর্ণনা অংশ থেকে)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩১৮.
'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. মুহম্মদ আলী
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. শাহ বারিদ খান
  4. নওয়াজিস খান
ব্যাখ্যা

গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৩১৯.
শ্রীচৈতন্যদেবের প্রকৃত নাম কী ছিল?
  1. কৃষ্ণচৈতন্য
  2. গৌরাঙ্গ চন্দ্র
  3. বিশ্বম্ভর মিশ্র
  4. নিমাই পণ্ডিত
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। 
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
১৫৩৩ সালে পুরীতে মারা যান।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩২০.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ড কোনটি?
  1. বংশীখণ্ড
  2. তাম্বুলখণ্ড
  3. জন্মখণ্ড
  4. রাধাবিরহ
ব্যাখ্যা
⇒ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।

• এটি মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
খণ্ডগুলি হলো:
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড (রাধাবিরহ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩২১.
বৈষ্ণব সাহিত্যধারার প্রকরণ নয় কোনটি?
  1. জীবনীকাব্য
  2. বৈষ্ণব শাস্ত্র
  3. বৈষ্ণ নাথ পদাবলী
  4. বৈষ্ণব পদাবলী
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব সাহিত্যের প্রকরণ নয়- বৈষ্ণ নাথ পদাবলী।

উল্লেখ্য,
• নাথ সাহিত্য:
- নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনী অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।
- নাথ সাহিত্যের আদি ও প্রধান কবি শেখ ফয়জুল্লাহ। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ - গোরক্ষ বিজয়।
- নাথ সাহিত্য দুইভাগে বিভক্ত:
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষ নাথের কাহিনি।
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।

- এই দুই কাহিনি অবলম্বনেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

---------------------------
• বৈষ্ণব পদাবলি:

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব, বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ ঘটে।

• মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।
বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩২২.
‘কবীন্দ্র’ মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. গোবিন্দদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর
  4. মালধর বসু
ব্যাখ্যা
⇒ গোবিন্দদাস: 
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।     

গোবিন্দদাস রচিত পদেও অংশ বিশেষ:
ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি,
আবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ-হিলোলে
মদন মুরছা পায়।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩২৩.
মর্সিয়া সাহিত্য রচয়িতাদের মধ্যে হিন্দু কবি ছিলেন -
  1. জয়দেব
  2. রাধারমণ গোপ
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।

- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)। 

- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷
- তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।  

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
২,৩২৪.
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত কয়টি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়?
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:

আদি যুগ:
প্রাক্-তুর্কি আক্রমণ যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত বিস্তৃতি ছিল। চর্যাপদ ছিল আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

মধ্যযুগ :
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার চার শতাব্দী ধরে।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে তিনটি ভাগ যথাক্রমে:
- ১২০১-১৫০০ - প্রাকচৈতন্য যুগ;
- ১৫০১-১৬০০ চৈতন্য যুগ;
- ১৬০১-১৮০০ চৈতন্য পরবর্তী যুগ।

এছাড়া ১২০১-১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।

আধুনিক যুগ:
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ। এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।
- আখ্যনকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র- সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
২,৩২৫.
বৈষ্ণব পদাবলির রস নয় কোনটি?
  1. শান্তরস
  2. সখ্যরস
  3. দাস্যরস
  4. করুণরস
ব্যাখ্যা

• বৈষ্ণব পদাবলির রস নয়- করুণরস। 

--------------------
• বৈষ্ণব পদাবলি:

- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি। আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে ৮ প্রকার অভিসার আছে।

এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।
['শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম। 

২,৩২৬.
"ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি 
অবনী বহিয়া যায়।"- পঙ্‌ক্তি কোন কবির রচনা?
  1. বিদ্যাপতি 
  2. জ্ঞানদাস 
  3. গোবিন্দদাস
  4. লোচনদাস  
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দদাস:
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবিরাজ' উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবীন্দ্র' উপাধিও প্রদান করেন।

গোবিন্দদাস রচিত পঙ্‌ক্তি কিছু অংশ:
"ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি
অবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ- হিল্লোলে
মদন মুরুছা পায়।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৩২৭.
সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের অংশ নয় কোনটি?
  1. শ্রুতিফল
  2. দেবখণ্ড
  3. দান খণ্ড
  4. আত্মপরিচয়
ব্যাখ্যা
- সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের অংশ নয় - দান খণ্ড। 
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের ১৩টি খণ্ডের ১টি খণ্ড - দান খণ্ড।

মঙ্গলকাব্য:

- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
যথা:
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড,
- শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩২৮.
'দেওয়ানা মাদিনা' পালাগানের রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ কানাই
  2. কবি কঙ্ক
  3. চন্দ্রাবতী
  4. মনসুর বয়াতি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- ‘দেওয়ানা মদিনা’ হলো মৈমনসিংহ গীতিকার বিখ্যাত পালাগুলোর একটি।
- এর রচয়িতা মনসুর বয়াতি।
- এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- আলাল, দুলাল, মদিনা, সোনাফর।

•  মৈমনসিংহ গীতিকায় গীতিকা স্থান পেয়েছে এমন কিছু পালা:
- মহুয়া -দ্বিজ কানাই,
- মলুয়া -চন্দ্রাবতী,
- চন্দ্রাবতী- নয়নচাঁদ ঘোষ,
- কমলা -দ্বিজ ঈশান,
- দেওয়ান ভাবনা - অজ্ঞাত,
- দস্যু কেনারামের পালা - চন্দ্রাবতী,
- রূপবতী - অজ্ঞাত,
- কঙ্ক ও লীলা - দমোদর, নয়নচাঁদ ঘোষ ,
- কাজলরেখা - অজ্ঞাত,
- দেওয়ানা মদিনা - মনসুর বয়াতি,
- বিদ্যাসুন্দর - কবি কঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৩২৯.
কাকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. বিদ্যাবতী
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. মাধবী
ব্যাখ্যা
চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী পুরাতন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন।
- মহিলা রামায়ণকার বলা হয় চন্দ্রাবতীকে।
- তিনিই মহিলা কবিদের মধ্যে প্রথম রামায়ণ অনুবাদ করেন।
- চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের তিনজন মহিলা কবির একজন। অপর দুইজন চণ্ডীদাসের অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের পাতোয়ারি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা। - লৌকিক, মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদান সংযোগের ফলে তাঁর রচিত রামায়ণ বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিল।

চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মালুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য:
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী উপন্যাস রচয়িতা বা ঔপন্যাসিক - স্বর্ণকুমারী দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৩০.
মঙ্গলকাব্যের মূল বৈশিষ্ট্য কী?
  1. প্রেম ও বিরহ
  2. পৌরাণিক ও লৌকিক ধর্মমিশ্রণ
  3. দার্শনিক উপস্থাপনা
  4. রাজনীতি ও বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্যের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পৌরাণিক ও লৌকিক ধর্মমিশ্রণ।

• মঙ্গলকাব্য
- মঙ্গলকাব্য মূলত কাহিনিকেন্দ্রিক – অর্থাৎ গল্প বা আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য।
- মূল কাহিনির সঙ্গে দেব-দেবীর লীলা, ধর্মতত্ত্ব, বর্ণনা ইত্যাদি যুক্ত হয়ে কাব্যগুলো বিপুল আয়তনে পরিণত হয়েছে।
- লৌকিক ও পৌরাণিক আদর্শের মিশ্রণ মঙ্গলকাব্যের বড় বৈশিষ্ট্য।
- এই কাব্যে লৌকিক দেবতা, ধর্মবিশ্বাস, ও ব্রাহ্মণ্য ধর্মচিন্তার একধরনের সমন্বয় রয়েছে।
- মঙ্গলকাব্য হলো আখ্যানভিত্তিক ধর্মীয় সাহিত্য, যা বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতি, লোকবিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিফলন ঘটায়।
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৩১.
কে জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার কবি নন?
  1. ফকির গরিবুল্লাহ
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
‘জঙ্গনামা’:
- জঙ্গনামা  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ বা তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। অর্থ্যাৎ ‘জঙ্গনামা’ কাব্যের বিষয় যুদ্ধ-বিগ্রহ।
- বিশেষত  হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়। যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।
- তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।

জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো: 
- শেখ ফয়জুল্লাহ, (জয়নবের চৌতিশা), 
- দৌলত উজির বাহরাম খান (জঙ্গনামা),
- মুহম্মদ খান (মকতুল হোসেন), 
- শেরবাজ (কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা), 
- হেয়াত মামুদ (জারি-জঙ্গনামা),
- জাফর (শহীদ-ই-কারবালা ও সখিনার বিলাপ),
- হামিদ (সংগ্রাম হুসেন), 
- ফকির গরিবুল্লাহ (জঙ্গনামা ও সোনাভান), 
- মুহম্মদ হামিদুল্লাহ খান (গুলজার-ই-সাহাদৎ) এবং
- ওয়াহিদ আলী (বড় জঙ্গনামা)।

অন্যদিকে,
আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৩৩২.
"নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?" কোন ধারার সঙ্গীত?
  1. পালাগান
  2. টপ্পা গান
  3. মর্সিয়া সঙ্গীত
  4. বাউল গান
ব্যাখ্যা
• টপ্পা গান:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।

- রামনিধি গুপ্ত ছাপরা জেলায় চাকরি করাকালে একজন মুসলমান ওস্তাদের নিকট সঙ্গীতে তালিম নেওয়ার সময় শোরী মিঞার হিন্দুস্থানি টপ্পার সঙ্গে পরিচিত হন। তিনি চাকরিশেষে কলকাতায় এসে হিন্দুস্থানি টপ্পার আদলে বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তন করেন। তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)।

- এ গানের বৈশিষ্ট্য হলো একেকটি স্বরের ওপর মধ্যলয়ে দোলায়মান কম্পন দ্বারা গানের কথাগুলির গড়িয়ে গড়িয়ে অবরোহণ। নিধুবাবু বাংলা গানের কাব্যিক সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য শোরী মিঞার টপ্পার তানে ক্ষিপ্রতার বদলে কোমল কম্পন ব্যবহার করেন। তবে তিনি হিন্দুস্থানি টপ্পার রাগ ও তালের ব্যবহারে সাধারণত কোনো পরিবর্তন আনেননি।

- প্রেমসঙ্গীত ছাড়াও তিনি টপ্পার ছাঁচে ব্রহ্মসঙ্গীত রচনা করেছেন, যেমন: ‘পরমব্রহ্ম তৎপরাৎপর পরমেশ্বর/ নিরঞ্জন নিরাময় নির্বিশেষে সদাশয়/ আপনা আপনি হেতু বিভু বিশ্বধর।’ (বেহাগ/ আড়া)।

- নিধুবাবুর সমসাময়িককালে এবং কিছুকাল পরে যাঁরা বাংলা টপ্পা রচনায় অবদান রাখেন তাঁদের মধ্যে  কালী মীর্জা ও শ্রীধর কথকের নাম উল্লেখযোগ্য।

• রামনিধি গুপ্ত রচিত বিখ্যাত টপ্পা:
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৩৩.
'নিরঞ্জনের রুষ্মা' কার রচনা?
  1. হলায়ূধ মিশ্র
  2. রামাই পণ্ডিত
  3. শ্রীহর্ষ
  4. মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
• রামাই পণ্ডিত রচিত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূণ্যপুরাণের অন্তর্গত একটি কবিতা।
- 'নিরঞ্জনের উষ্মা' অংশের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়- বর্ণ হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।

------------------
• অন্ধকার যুগ:

বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'। 
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
২,৩৩৪.
‘মনসাবিজয়’ কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. বিজয়গুপ্ত
  2. বিপ্রদাস পিপিলাই
  3. দ্বিজ বংশীদাস
  4. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) বিপ্রদাস পিপিলাই

• মনসাবিজয়:
- মধ্যযুগের 'মনসাবিজয়' কাব্যটি রচনা করেছেন - 'বিপ্রদাস পিপিলাই'।
- বিজয়গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই।
- তিনি বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল (পদ্মপুরাণ) রচনার প্রায় এক বৎসর পরে তাঁর 'মনসাবিজয়' কাব্য রচনা করেন।
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি 'দ্বিজ বংশীদাস'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৩৩৫.
ফারসি ভাষায় 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থ রচনা করেছেন-
  1. মুহাম্মদ মুকীম 
  2. নওয়াজিস খান 
  3. শেখ ইজ্জতুল্লাহ্
  4. আবদুল হাকিম 
ব্যাখ্যা

• গুলে বকাওলী':
- শেখ ইজ্জতুল্লাহ্ নামে জনৈক বাঙালি লেখক ১৭২২ সালে ফারসি ভাষায় 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। এ গ্রন্থটি হিন্দি থেকে ভাষান্তরিত।

- গদ্যে রচিত এ গ্রন্থের কাহিনি নওয়াজিস খান কাব্যে রূপ দিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। ঘটনা রূপায়ণের বৈশিষ্ট্য বিচার করলে নওয়াজিস খানকে মনে হয় ইজ্জতুল্লাহ্‌র অনুসারী। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে কবি নওয়াজিস খান কাব্যটি ফারসি থেকে অনুবাদ করেছিলেন। কাব্যের কাহিনি প্রেমমূলক।

গ্রন্থের কাহিনি সংক্ষেপ-
শর্কিস্তানের রাজপুত্র তাজুলমুলুক পিতার অন্ধত্ব দূর করার জন্য পরীরাজকন্যা বকাওলীর উদ্যানের বকাওলী ফুলের সন্ধানে যায় । বহু দুঃখকষ্ট ও বাধাবিপত্তির শেষে ফুল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। সেখানে রাজকন্যা বকাওলীর নিদ্রিতাবস্থায় তাজুলমুলুক অঙ্গুরীয় বিনিময় করে এবং প্রেমপত্র লিখে রেখে দেশে ফিরে আসে। বকাওলী তাজুলের প্রতি প্রেমাসক্ত হয়ে তার অনুসন্ধানে বহির্গত হয় এবং বহু দুঃখ অতিক্রমের পর তার সঙ্গে মিলনে সক্ষম হয়। এই মূলকাহিনির সঙ্গে আরও উপকাহিনির সংযোজন ঘটেছে। কাহিনিটি অলৌকিকতায় পরিপূর্ণ বলে তাতে রোমান্সের বৈশিষ্ট্য প্রকাশমান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

২,৩৩৬.
টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম -
  1. সংগীতচিন্তা
  2. গীতরত্ন
  3. সঙ্গীতসার
  4. গীতবিতান
ব্যাখ্যা
• টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)।

টপ্পা গান:

- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।

রামনিধি গুপ্ত:
- রামনিধি গুপ্তর ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- তিনি বাংলা টপ্পাগানের প্রবর্তক।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা:

নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৩৭.
বাউল গান কী ধরনের সাহিত্য?
  1. মুখ্য সাহিত্য 
  2. গৌণ সাহিত্য
  3. তত্ত্ব সাহিত্য
  4. বজ্রযান সাহিত্য
ব্যাখ্যা

• বাউল গানকে — তত্ত্ব সাহিত্য বলা হয়।
---------------
বাউল গান ও বাউল সম্প্রদায়:

বাউল গান:
• বাউলদের আধ্যাত্মিক গানকে বাউল গান বা বাউল সংগীত বলা হয়।
• বাউলরা ধর্মীয় তত্ত্ব, দর্শন, জীবনবোধ ও আদর্শ গানেই প্রকাশ করেন।
• মৌখিক ধারার গান হওয়ায় এটি মূলত লোক-সাহিত্য।
• বাউলরা তাঁদের গানকে ধর্মের অঙ্গ বলে মনে করেন।

বাউল সম্প্রদায়:
• বাউল একটি ধর্মীয় লোক-সম্প্রদায়।
• তাঁরা দেহতত্ত্বাশ্রিত ও অধ্যাত্মমুখী লৌকিক ধর্মমত পোষণ করেন।
• এ ধর্মমতকে ‘বাউল ধর্মমত’ বলা হয়।
• এ সম্প্রদায়ের কোনো লিখিত সাহিত্য বা শাস্ত্র নেই।

গান পরিবেশনের উপলক্ষ:
- ধর্মীয় আসর
- ওরস উৎসব
- ভিক্ষোপজীবিকা
- অন্যান্য আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্র।

বাউল সাধনা ও তত্ত্ব:
• তাঁরা ‘দেহতত্ত্ব’-এর সাধনা দ্বারা পরমাত্মার সন্ধান করেন।
• মানুষের দেহেই পরমাত্মার অবস্থান আছে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন।
• মানুষ, মনের মানুষ, অচিন পাখি, মনুরায় প্রভৃতি প্রতীকের মাধ্যমে তাঁরা পরমাত্মাকে বোঝান।
• মানবাত্মা ও পরমাত্মার মিলন সাধনই তাঁদের সাধনার মূল লক্ষ্য।
• এই মিলন অধ্যাত্মপ্রেম ও ভক্তি দ্বারা সম্ভব।

বাউল গানের মূল তত্ত্বসমূহ
• আত্মতত্ত্ব → মনের প্রস্তুতি;
• দেহতত্ত্ব → সাধনার রীতি-পদ্ধতি;
• গুরুতত্ত্ব → গুরুর চরণে শরণ;
• প্রেমতত্ত্ব → ভক্তি ও ভালোবাসা;
• সৃষ্টিতত্ত্ব → জীবসৃষ্টির রহস্য;
• মানুষতত্ত্ব → পরমাত্মার মিলনাকাঙ্ক্ষা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৩৩৮.
নিচের যেটি মধ্যযুগের সাহিত্যধারার অন্তর্ভূক্ত -
  1. ক) পত্রসাহিত্য
  2. খ) প্রহসন
  3. গ) পাঁচালি
  4. ঘ) গীতিকাব্য
ব্যাখ্যা

পাঁচালি মধ্যযুগে প্রচলিত লোকগীতির একটি ধারা। এতে গানের মাধ্যমে কোনো আখ্যান বর্ণিত হয়।

পঞ্চাল বা পঞ্চালিকা শব্দ থেকে পাঁচালি শব্দের উৎপত্তি। আবার এতে গান, বাজনা, ছড়া কাটা, গানের লড়াই ও নাচ এই পঞ্চাঙ্গের সমাবেশে ঘটে বলেও কেউ কেউ একে পাঁচালি বলেন। পূর্বে প্রধানত কাহিনীমূলক গানের সঙ্গে পুতুলনাচ প্রদর্শনের প্রথা প্রচলিত ছিল বলে এই গীতকে পাঁচালি বলা হতো।
পরে (১৮ শতকে ও ১৯ শতকের প্রথমদিকে) পুতুলনাচ হ্রাস পেলে মূল গায়েন নিজে পায়ে নূপুর এবং হাতে চামর ও মন্দিরা নিয়ে নৃত্য পরিবেশন করতেন। কখনও কখনও তিনি বিভিন্ন পাত্রপাত্রীর রূপ ধারণ করে হাস্যরসও পরিবেশন করতেন। এই ক্রমোন্নত অ্যাখায়িকা বা কাহিনীপ্রধান সঙ্গীত ধারাটিও পাঁচালি নামে প্রসিদ্ধ হয়। পাঁচালিতে এক সময় টপ্পাসহ বিভিন্ন গানের অনুপ্রবেশ ঘটে। মধ্যযুগে রামায়ণ, মহাভারত, মঙ্গলকাব্য প্রভৃতি আখ্যানকাব্যও পাঁচালির সুরে গাওয়া হতো। এমনকি অনেক পুথিও পাঁচালির সুরে পাঠ করা হতো।

পাঁচালিতে পৌরাণিক, লৌকিক বা সমসাময়িক যেকোনো বিষয় উপজীব্য হতে পারত। এতে একজন প্রধান গায়ক নাটকীয় ভঙ্গিতে আবৃত্তি, ছড়া ও গীতদ্বারা মূল কাহিনী বিবৃত করতেন। কালক্রমে পাঁচালির বিবর্তন ও প্রসারের ফলে মূল গায়কের সঙ্গে একাধিক গায়েনের সংযোগ ঘটে। তারা মৃদঙ্গ, ঢোল, কাঁসি প্রভৃতি লোকবাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে পাঁচালি গাইতেন।

আঠারো শতকের শেষদিকে পাঁচালি নতুন রূপ লাভ করে। তখন এতে আখ্যান, কবিগানের ছড়া কাটা, অঙ্গভঙ্গি ও অভিনয়ের সংমিশ্রণ ঘটে। উনিশ শতকে পাঁচালিতে সংযুক্ত হয় সংলাপরীতি, যা মূল গায়েনের দ্বারাই অভিনীত হতো।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
২,৩৩৯.
বৈষ্ণব পদাবলির আদি নিদর্শন 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি কার রচনা?
  1. জয়দেব
  2. বিদ্যাপতি
  3. চণ্ডীদাস
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
'গীতগোবিন্দম্' কাব্য:
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়। ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।

- বর্ণিত বিষয়ের তত্ত্বনির্দেশক বারোটি ভিন্ন ভিন্ন নামে সর্গগুলির নামকরণ করা হয়েছে।কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য।

- রাগমূলক গীতসমূহ এ কাব্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরবর্তীকালের বাংলা পদাবলি সাহিত্যে এর গভীর প্রভাব পড়েছে।

- বৈষ্ণব সম্প্রদায় ও সাহিত্য-রসিকদের নিকট গীতগোবিন্দম্ এক সময় পরম শ্রদ্ধার বিষয় ছিল। গীতগোবিন্দম্-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে চরণশেষে অন্তমিল অনুসৃত হয়েছে, যা সংস্কৃত সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রায়শই দুর্লভ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৩৪০.
কে মনসামঙ্গলের কবি নন?
  1. ক) হরি দত্ত
  2. খ) বিপ্রদাস
  3. গ) মুকুন্দরাম
  4. ঘ) নারায়ণ দেব
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল কাব্য লিখেছেন হরি দত্ত, নারায়ণ দেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস এবং আরো অনেকে।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন মাণিক দত্ত, দ্বিজ মাধব, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ভারতচন্দ্র রায় প্রমুখ।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ
২,৩৪১.
কানা হরিদত্ত কোন মঙ্গল কাব্যের আদি কবি ছিলেন?
  1. ধর্মমঙ্গল 
  2. কালিকামঙ্গল 
  3. চণ্ডীমঙ্গল 
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গল কাব্যের আদিকবি:
মনসামঙ্গল তথা মঙ্গলকাব্যের আদি কবি হলেন কানা হরিদত্ত তাঁর কোনো কাব্যের সন্ধান পাওয়া যায় না। তবে কবি বিজয়গুপ্তের 'পদ্মপুরাণ' কাব্যে কানাহরি দত্তের উল্লেখ আছে সে অনুসারে তাঁকে মঙ্গলকাব্যের আদি কবি আদি বলে বিবেচনা করা হয়। 

বিজয়গুপ্তের পদ:
মূর্খে রচিত গীত না জানে মাহাত্ম্য।
প্রথমে রচিত গীত কানা হরিদত্ত।

উল্লেখ্য, 
• নারায়ণ দেব: মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর কাব্যের নাম 'পদ্মাপুরাণ'।
• বিপ্রদাস পিপিলাই: মনসাবিজয় নামে কাব্য রচনা করেছেন।
• দ্বিজ বংশীদাস: মনসামঙ্গল কাব্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস। তিনি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের জেলায় পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামে গ্রামে ঘুরে মনসার গান গাইতেন। মধ্যযুগের প্রাচীনতম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর পিতা তিনি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,।

২,৩৪২.
'আমার পরিচয়' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) রফিক আজাদ
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
'আমার পরিচয়' কবিতাটির রচয়িতা- 'সৈয়দ শামসুল হক'  

• সৈয়দ শামসুল হক
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
- কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাঁকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

আমার পরিচয়- কবিতা 
- সৈয়দ শামসুল হক

আমি জন্মেছি বাংলায়
আমি বাংলায় কথা বলি।
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।
তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?

আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে।

এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে
এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির বেদি থেকে।
এসেছি বাঙালি বরেন্দ্রভূমে সোনা মসজিদ থেকে
এসেছি বাঙালি আউল-বাউল মাটির দেউল থেকে।(সংকলিত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৪৩.
মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত চন্দ্রাবতী পালা রচনা করেছেন কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. নয়নচাঁদ ঘোষ
  3. জয়ানন্দ 
  4. মনসুর বয়াতি 
ব্যাখ্যা

চন্দ্রাবতী পালা:
- মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত বিখ্যাত ‘চন্দ্রাবতী’ পালা রচনা করেছেন কবি নয়নচাঁদ ঘোষ।

- এই পালায় বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতী এবং তার প্রেমিক জয়ানন্দ-এর করুণ কাহিনী উপস্থাপন করা হয়েছে। কিশোরীবেলায় একসাথে বড় হওয়া চন্দ্রাবতী ও জয়ানন্দের বিয়ের কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে জয়ানন্দ ধর্মান্তরিত হয়ে অন্য নারীকে বিয়ে করেন। বিশ্বাসঘাতকতায় ভেঙে পড়া চন্দ্রাবতী সারাজীবন কুমারী থেকে শিবের পূজা করেন। দীর্ঘ বিরহের পর অনুতপ্ত জয়ানন্দ চন্দ্রাবতীর মন্দিরে ফিরে আসলেও চন্দ্রাবতী দেখা দেননি, এবং শেষপর্যন্ত জয়ানন্দ সেখানেই আত্মবিসর্জন দেন। নয়নচাঁদ ঘোষের এই পালায় প্রেমের প্রতি সততা, মানবিক দুঃখ ও করুণ কাহিনীর চিত্র সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
-----------------------------
উল্লেখ্য,
ময়মনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ গীতিকা হলো পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনের সাধারণ মানুষের প্রেমবিচ্ছেদ, বীরত্ব, দুঃখ ও বেদনা ভিত্তিক ১০টি বিখ্যাত লোকপালা বা লোকগীতির সংকলন।
- এটি ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই গীতিকা সম্পাদনা করেন ড. দীনেশচন্দ্র সেন।
- এবং গীতিকার সংগ্রাহক ছিলেন চন্দ্রকুমার দে।

- ময়মনসিংহ গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত ১০টি গীতিকা হলো:
মহুয়া, 
মলুয়া, 
চন্দ্রাবতী, 
কাজলরেখা, 
দেওয়ানা মদিনা, 
কমলা, 
দেওয়ান ভাবনা, 
দস্যু কেনারামের পালা, 
রূপবতী, 
কঙ্ক ও লীলা। 
---------------------- 
অন্যদিকে, 
- মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত জনপ্রিয় ‘দস্যু কেনারামের পালা’-র রচয়িতা ছিলেন মধ্যযুগের প্রথম বাঙালি নারী কবি চন্দ্রাবতী। 
- মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত 'দেওয়ানা মদিনা'র রচয়িতা- মনসুর বয়াতি। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;  
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 

২,৩৪৪.
মধ্যযুগে একক লেখক রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. মনসামঙ্গল 
  3. বৈষ্ণব পদাবলি
  4. চণ্ডীমঙ্গল 
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত। এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,৩৪৫.
বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকা কে?
  1. বিশাখা
  2. দেবী
  3. কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা রাধা
  4. কৃষ্ণের প্রেমিকারা
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়।
পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।
যথা :
- অভিসারিকা
- বাসকসজ্জা
- উৎকণ্ঠিতা
- বিপ্রলব্ধা
- খণ্ডিতা
- কলহান্তরিকা
- প্রোষিতভর্তৃকা
- স্বাধীনভর্তৃকা

যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যা রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। তাদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২,৩৪৬.
পুঁথি সাহিত্যে প্রাচীনতম লেখক কে?
  1. ভারত চন্দ্র রায় 
  2. কাজী দৌলত 
  3. আবদুল হাকিম 
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম লেখক - ফকির গরীবুল্লাহ।
------------------
• পুঁথি সাহিত্য:
- পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন।
---------------------
- দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
- ফকির গরীবুল্লাহ না থাকলে উত্তর হবে সৈয়দ হামজা।
- মর্সিয়া‌ সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
-------------------
• পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ্‌।
- তিনি ’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

২,৩৪৭.
'জয়নবের চৌতিশা' গ্রন্থটি কোন ধারার সাহিত্য?
  1. বৈষ্ণব পদাবলী
  2. দোভাষী পুঁথি
  3. নাথ সাহিত্য
  4. মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা

'মর্সিয়া' সাহিত্য: 
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার রচিত গ্রন্থের নাম 'জয়নবের চৌতিশা' এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ। 
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৩৪৮.
মর্সিয়া সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. ক) ইউসুফ জোলেখা
  2. খ) মক্তুল হোসেন
  3. গ) গুলে বকাওলী
  4. ঘ) গোরাক্ষবিজয়ের কাহিনি
ব্যাখ্যা
কারবালা-কেন্দ্রিক কাব্যের অপর নাম মর্সিয়া সাহিত্য। 
- আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক।
- শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়। 
- বাংলায় এ কাব্যধারা মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।

- মুহম্মদ খান রচিত 'মক্তুল হোসেন' (হোসেন নিধন) মর্সিয়া সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি ফরাসি 'মক্তুল হোসেন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 
- ইমাম হোসেন নিহত হলে কি অবস্থা হয়েছিল তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন এ কাব্যে।

- গোরাক্ষবিজয়ের কাহিনি - নাথসাহিত্য।
- ইউসুফ জোলেখা এবং গুলে বকাওলী - রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৪৯.
'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের অনুবাদকের নাম কী?
  1. সঞ্চয়
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. শ্রীকর নন্দী
  4. কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা
• 'পরাগলী মহাভারত:
- 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- নবাব হুসেন শাহ্‌ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন।
- যুদ্ধপ্রিয় পরাগল খাঁ মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।
- তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
- কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন ‘ভারত পাঁচালী’।

অন্যদিকে,
• 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত:
- চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খান মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ছুটি খাঁ সভাসদ শ্রীকর নন্দীকে মহাভারত অনুবাদের নির্দেশ দেন।
- ছুটিখানের আদেশে জৈমিনি মহাভারতের ওপর নির্ভর করে কেবল ‘অশ্বমেধ পর্বের’ অংশ নিয়ে শ্রীকর নন্দী 'ভারত পাঁচালী' রচনা করেন।
- শ্রীকর নন্দী রচিত ভারত পাঁচালী 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত নামেও পরিচিত।
- কেউ কেউ বলে পরাগলী মহাভারতের অসম্পূর্ন অংশ সম্পূর্ণ করেছেন শ্রীকর নন্দী।

•  ‘মহাভারত' কাব্যের মূল রচয়িতা হচ্ছেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
•  মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকের নাম কাশীরাম দাস। ‘মহাভারত' কাব্যগ্রন্থটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৩৫০.
কে প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’ এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন?
  1. ক) জ্ঞানদাস
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) কবি কঙ্ক
  4. ঘ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
 জ্ঞানদাস:
• জ্ঞানদাস  চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
•  জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন। তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
• তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ। 
• পদরচনায় তিনি  বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন। 

- বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে তাঁর কবিতায়-
'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর' 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩৫১.
লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি কোনটি?
  1. ধাঁধা
  2. ছড়া
  3. কাব্য
  4. গান
ব্যাখ্যা
• লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি - ছড়া।

• লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- লোকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে 'জনপদের হৃদয়-কলরব' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ছড়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩৫২.
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্যে মোট কতটি সংস্কৃত শ্লোক আছে?
  1. ১৬১টি
  2. ১৬৭টি
  3. ১৬৬টি
  4. ১৬৯টি
ব্যাখ্যা

"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্য:
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি। কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।
- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে খণ্ডিতপদসহ মোট পদের সংখ্যা ৪১৮টি। পুঁথিতে সংস্কৃত শ্লোক আছে ১৬১টি।
- পুঁথির পাতার সংখ্যা ২২৬, অতএব পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৫২; এর মধ্যে মাঝের মোট ৪৫ পৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি। ৪৫ পৃষ্ঠা বাদ গেলে পুঁথির প্রাপ্ত পৃষ্ঠার সংখ্যা ৪০৭।
- পুঁথির লিপি তিন হাতের লেখা। ৪১৮টি পদের মধ্যে কবির ভণিতা আছে ৪০৯টি।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মোট তের খণ্ডে বিভক্ত। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেের খণ্ডগুলো হলো-
- জন্মখণ্ড, 
- তাম্বুলখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড, 
- ভারখণ্ড, 
- ছত্রখণ্ড, 
- বৃন্দাবনখণ্ড,
- কালিয়দমনখণ্ড, 
- যমুনাখণ্ড, 
- হারখণ্ড, 
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড ও 
- রাধাবিরহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

২,৩৫৩.
বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কে?
  1. জ্ঞানদাস 
  2. চণ্ডীদাস
  3. গোবিন্দদাস 
  4. বলরামদাস
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।

- চণ্ডীদাসের বিস্ময়কর প্রতিভার পরিচায়ক আশ্চর্য সুন্দর পদগুলোতে অপূর্ব ভাবতন্ময় কৃষ্ণপ্রেম- সাধিকা শ্রীরাধার যে মনোমুগ্ধকর চিত্র রূপায়িত হয়ে উঠেছে তা কয়েক শতাব্দী ধরে বাঙালির রসপিপাসু মনের পরিতৃপ্তি সাধন করে যাচ্ছে। তাঁর পদাবলির 'অনাবৃত প্রাণের নিরাভরণ আনন্দ-বেদনায় মেদুর মুহূর্তগুলো পাঠকের মনে যে প্রশান্তি, স্নিগ্ধতা ও প্রাপ্তির আনন্দঘন উপলব্ধি সৃষ্টি করে' তার মূল্য অপরিসীম।

- শিক্ষিত বাঙালি বৈষ্ণব সাহিত্যের রস ও আনন্দের সংবাদ পেয়েছে চণ্ডীদাসের পদাবলি থেকে। কবি রাধার মনের বিচিত্র অনুভূতিকে আশ্চর্য সুন্দর ভাষায় রূপদান করে বাঙালির চিরদিনের সমাদর লাভের উপযোগী করে গেছেন। তাঁর পদাবলিতে রাধাকৃষ্ণের প্রেমানুভূতির রূপকের মাধ্যমে সে ধর্মীয় চেতনা প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি এর রূপকের বাইরে একটা সর্বজনীন ও সার্বভূমিক আবেদন বিদ্যমান। বেদনা আর ব্যাকুলতা এসব পদের মূল সুর বলে নিখিল মানবের হৃদয় এতে খুব সহজেই সাড়া দেয়। সচেতন শিল্পসৃষ্টির প্রয়াস না দেখিয়ে নিরাভরণ বৈরাগ্যের মধ্যেও যে কাব্যগুণ চমৎকার প্রতিফলিত হতে পারে তা চণ্ডীদাসের পদে সহজেই লক্ষ করা যায়।

- চণ্ডীদাস রাধাকে কৃষ্ণপ্রেমে আত্মহারা চিত্রিত করেছেন। দেহগত কামনা-বাসনা রাধাচরিত্রে প্রাধান্য পায় নি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

২,৩৫৪.
কোনটি চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্য?
  1. মহুয়া
  2. দস্যু কেনারামের পালা
  3. কমলা
  4. দেওয়ানা মদিনা
ব্যাখ্যা
চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের ষোলো শতকের একজন উল্লেখযোগ্য নারী কবি।
- মহিলা কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনা করে পুরাতন বাংলা সাহিত্যর ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন।
- মধ্যযুগের তিনজন প্রধান নারী কবির একজন চন্দ্রাবতী।
- অপর দুইজন চণ্ডীদাস অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- চন্দ্রাবতীর পিতা ছিলেন মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- তিনি পিতার আদেশে 'রামায়ণ' অনুবাদে হাত দেন। কিন্তু তা সমাপ্ত করার পূর্বে মারা যান।
- তাঁর রচনার বৈশিষ্ট্য ষোড়শ শতাব্দীর সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতিফলিত করা।

• চন্দ্রাবতী রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মলুয়া
- দস্যু কেনারামের পালা
- রামায়ণ।

অন্যদিকে,
- মহুয়া-দ্বিজ কানাই,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা: ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৫৫.
আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যগ্রন্থের মূল রচয়িতা কে?
  1. ক) কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  2. খ) রত্নাকর
  3. গ) মালিক মুহম্মদ জায়সির
  4. ঘ) চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
- পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আলাওল।
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।

- তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ সমুহ -
- সিকান্দার নামা
- তোহফা
- সপ্ত পয়কর
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

প্রশ্নে উল্লেখিত অন্য অপশন গুলোর মধ্যে -
রত্নাকর - হচ্ছে বাল্মীকির ছন্দনাম, তিনি রামায়ণ এর মূল রচয়িতা। 
কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব - মহাভারত এর মূল রচয়িতা।
চন্দ্রাবতী - রামায়নের প্রথম মহিলা অনুবাদক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৫৬.
বাংলা টপ্পাগান প্রবর্তন করেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. ভক্তপ্রসাদ সেন
  4. দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা
• বাংলা টপ্পাগানের প্রবর্তক রামনিধি গুপ্ত।

• টপ্পা গান:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।

• রামনিধি গুপ্ত:

- রামনিধি গুপ্তর ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- তিনি বাংলা টপ্পাগানের প্রবর্তক।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা:

নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?

- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৫৭.
বাংলার ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয় কাকে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. চণ্ডীদাস
  3. আলাওল
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলার ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

অন্যদিকে,
• মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
• আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
• চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২,৩৫৮.
ভয় কি মরণে থাকিতে সন্তানে
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে।' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) চন্ডীদাস
  2. খ) মুকুন্দদাস
  3. গ) ব্রজেন দাস
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
চারণকবি মুকুন্দদাস (১৮৭৮ - ১৯৩৪):
- জন্ম গ্রহণ করেন অধুনা বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের বানারি গ্রামে।
- ১৯০২ - ১৯০৩ মধ্যে তাঁর রচিত শতাধিক গান “সাধন সংগীত” নামে প্রকাশিত হয়। সেই কাব্যগ্রন্থের গানে তিনি “মুকুন্দ” ভণিতা দিয়েছিলেন।
-  ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বাংলাকে ভাগ করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়কালে মুকুন্দদাস স্বদেশী যাত্রার মাধ্যমে ব্রিটিশ বিরোধী ভাবনাকে প্রচার করেন এবং চারণকবি মুকুন্দাস নামে খ্যাত হন। সেই  কারণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের চক্ষ্মুশূল হয়ে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে কারাবরণ করেন।
- তার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে - গান গেয়েই তিনি ব্রিটিশ সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।

মুকুন্দদাসের কয়েকটি বিখ্যাত গানঃ
- ‘হাসি হাসি পরব ফাঁসি/দেখবে জগৎ বাসী/একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।’ (বিপ্লবী ক্ষুদিরামের ফাঁসির পর রচিত)
- 'ছেড়ে দেও কাঁচের চুড়ি বঙ্গনারী' (স্বদেশী আন্দোলন বিশেষ করে বিদেশী পন্য বর্জনের সময়)
- ‘ভয় কি মরণে থাকিতে সন্তানে
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে।'

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা-কবিতা ব্লগ।
২,৩৫৯.
'যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।' - কবিতাংশটি
কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. নূরনামা
  2. নসিহতনামা
  3. মধুমালতী
  4. ইউসুফ-জুলেখা
ব্যাখ্যা
• যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'
- কবিতাংশটির আবদুল হাকিম রচিত 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'বঙ্গবানী' কবিতার অংশ বিশেষ।

-------------------
• আব্দুল হাকিম:
- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- নোয়াখালী জেলার বাবুপুর (মতান্তরে সন্দ্বীপের সুধারাম) ছিল কবির আবাসভূমি।
- তাঁর পিতা শাহ্ রাজ্জাক ছিলেন একজন পন্ডিত ব্যক্তি এবং তাঁর পীর ছিলেন সাহাবুদ্দীন।
- আবদুল হাকিম আরবি, ফারসি ও সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- হাদীস, আল-কুরআন, ফেকাহ প্রভৃতি শাস্ত্র এবং রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ সম্পর্কেও তাঁর গভীর পান্ডিত্য ছিল।
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানি-ফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৬০.
মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
  1. ধর্মকেন্দ্রিকতা
  2. দেশপ্রেম
  3. বিজ্ঞানচেতনা
  4. আধুনিকতা
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যুযুগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৩৬১.
ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভোদয়া’ কোন শতাব্দীর রচনা?
  1. একাদশ শতাব্দী
  2. দ্বাদশ শতাব্দী
  3. ত্রয়োদশ শতাব্দী
  4. চতুর্দশ শতাব্দী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' এর রচয়িতা হলেন হলায়ূধ মিশ্র।
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হল- সেক শুভোদয়া।
- এটি সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ূধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা।
- গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। তাই ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
২,৩৬২.
নিচের কোনটি বৈষ্ণব সাহিত্যের প্রকার নয়?
  1. ক) জীবনীকাব্য
  2. খ) বৈষ্ণবশাস্ত্র
  3. গ) প্রণয়োপাখ্যান
  4. ঘ) পদাবলি
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
- জীবনীকাব্য,
- বৈষ্ণবশাস্ত্র,
- পদাবলি।
অন্যদিকে প্রণয়োপাখ্যান হলো মুসলিম সাহিত্যিকদের দ্বারা অনূদিত রোমান্টিক কাব্য।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২,৩৬৩.
'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা' লোকসাহিত্য সংকলনের অন্তর্ভুক্ত পালা কোনটি?
  1. দেওয়ান ভাবনা
  2. কমলারাণী
  3. রূপবতী
  4. কঙ্ক ও লীলা
ব্যাখ্যা

• 'কমলারাণীর পালা' পূর্ববঙ্গের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় লোককাহিনী ভিত্তিক নাট্যমূলক পালা বা পালা গান। এটি মূলত জমিদার জানকীনাথ মল্লিকের স্ত্রী কমলা রানীর বাস্তব কাহিনি অবলম্বনে রচিত একটি করুণ আখ্যান, যেখানে একটি দীঘি খননের কাহিনি ফুটে উঠেছে। কুদ্দুস বয়াতি ও অন্যান্য শিল্পীদের কণ্ঠে এই কাহিনীটি পালা গান হিসেবে প্রচলিত। 

• 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা':

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। পূর্ববাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালাগুলো সংগ্রহ করা হয়। এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্‌দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো হলো:
- ভেলুয়া,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী ইত্যাদি।

-------------------------
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

২,৩৬৪.
কোন রচনাটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের অন্তর্গত?
  1. ক) রাধাকৃষ্ণ লীলা
  2. খ) রামায়ণ
  3. গ) মহাভারত
  4. ঘ) পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
- মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ। এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার অন্তর্ভক্ত একটি কাব্য।
- তাঁর কাব্য প্রতিভার জন্য তিনি আরাকান অমাত্য সভায়(মন্ত্রিসভা) স্থান পান।
- প্রধান অমাত্য(প্রধানমন্ত্রী)  কোরেশী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে তিনি ১৬৪৮ সালে , হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পদুমাবত অবলম্বনে পদ্মাবতী কাব্যটি রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রাণী পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৩৬৫.
কোন গ্রন্থটি নাথসাহিত্যের অন্তর্ভূক্ত নয়?
  1. ময়নামতির গান
  2. বিদ্যাসুন্দর
  3. গোরাক্ষবিজয়
  4. মীনচেতন
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য  নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। 
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনী হলো শেখ ফয়জুল্লাহর গোরক্ষবিজয়।
- রাজা মানিকচন্দ্রের গীত, ময়নামতীর গান বা  গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার ত্রিমুখী কাহিনী।
- গোরাক্ষনাথ-মীননাথের কাহিনী অবলম্বনে রচিত যেসব কাব্য সম্পাদিত হয় তাঁর মধ্যে নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত শ্যামদাস সেনের 'মীনচেতন' অন্যতম। 

- বিদ্যাসুন্দরের প্রেমকাহিনি অবলম্বনে কালিকামঙ্গল কাব্য রচিত। 
- সাবিরিদ খানের বিদ্যাসুন্দর কাব্যের উৎস সংস্কৃত চৌরপঞ্চাশিকা বা বিদ্যাসুন্দরম্ কাব্য; উপরন্তু তাঁর কাব্যের নানা স্থানে সংস্কৃত ভাষায় রচিত পাত্রপাত্রী-স্থান-কাল সূচক নির্দেশনা আছে।
- কাব্যের রচনা-জ্ঞাপক কোনো পদবন্ধ পাওয়া যায়নি; কাব্যের ভাষাভঙ্গি ও শব্দরূপ লক্ষ করে পন্ডিতগণ কবির আবির্ভাবকাল ষোল শতক বলে নির্ধারণ করেছেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৬৬.
‘বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে,দেখা না হইত পরাণ গেলে।’- উক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 
  2. বিদ্যাপতি
  3. চণ্ডীদাস
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস: 
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। 
- চণ্ডীদাসকে বাংলার ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়। 
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই’ বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তি জীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন। 
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন। 

চণ্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
- ‘বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে,দেখা না হইত পরাণ গেলে।’
- ‘শোন হে মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’
- ‘সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমারি বধূয়া আনবাড়ী যায় আমারি আঙিনা দিয়া।’

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৩৬৭.
লোকসাহিত্য কাকে বলে?
  1. গ্রামীণ নরনারীর প্রণয় সংবলিত উপাখ্যানকে
  2. লোক সাধারণের কল্যাণে দেবতার স্তুতিমূলক রচনাকে
  3. লোকের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনী, গান, ছড়া ইত্যাদিকে
  4. গ্রামীণ অশিক্ষিত ও অখ্যাত লোকের সৃষ্ট রচনাকে
ব্যাখ্যা
• লোকের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনী, গান, ছড়া ইত্যাদি লোকসাহিত্যের ধারা।

---------------------
• লোকসাহিত্য:

- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়। একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে একটি সংহত সমাজমানস থেকে এর উদ্ভব।
- সাধারণত অক্ষরজ্ঞানহীন পল্লিবাসীরা স্মৃতি ও শ্রুতির ওপর নির্ভর করে এর লালন করে। মূলে ব্যক্তিবিশেষের রচনা হলেও সমষ্টির চর্চায় তা পুষ্টি ও পরিপক্কতা লাভ করে। এজন্য লোকসাহিত্য সমষ্টির ঐতিহ্য, আবেগ, চিন্তা ও মূল্যবোধকে ধারণ করে।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, কথা, ধাঁধাঁ, ছড়া ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৩৬৮.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মধ্যযুগের কোন গ্রন্থকে ‘dog sanskrit’ বলে অভিহিত করেছেন?
  1. রামায়ণ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. সেক শুভোদয়া
  4. নিরঞ্জনের উষ্মা
ব্যাখ্যা
⇒ সেক শুভোদয়া: 
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। 
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৩৬৯.
বাংলার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা হলেন-
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মনােএল দা আসসুম্পসাঁউ
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) নাথিলিয়েন ব্রাশি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ। মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর পূর্বে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেনি।
১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
গ্রন্থ দুটি হলো :
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ
এর মধ্যে ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ গ্রন্থে একটি অধ্যায়ে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন। তাই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচিয়তা।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
২,৩৭০.
দ্বিজ কানাই রচিত পালা কোনটি?
  1. মহুয়া পালা
  2. মলুয়া পালা
  3. দস্যু কেনারাম পালা
  4. কমলা পালা
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে -  মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে  গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে, যথা: মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা। 
 
• 'মহুয়া' পালা:
- 'মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।
- মধ্যযুগের কবি দ্বিজ কানাই পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চলের অধিবাসী। 
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তিজীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়। 
 
মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

অন্যদিকে,
- ‘মলুয়া’ ও ‘দস্যু কেনারাম’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।
- ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৭১.
বৈষ্ণব সাহিত্য কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
 যথা: ১. জীবনীকাব্য, ২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও ৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

• বৈষ্ণব পদাবলি:

- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলস্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।
- ড. দীনেশ চন্দ্র সেন তার বঙ্গভাষা ও সাহিত্য গ্রন্থে ১৬৪ জন বৈষ্ণব পদকর্তার নাম ঊল্লেখ করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৭২.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কয়টি গীতিকা স্থান পেয়েছে?
  1. ১১টি
  2. ১০টি
  3. ১৩টি
  4. ১৯টি
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে। মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে:
যথা: মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩৭৩.
'মৈমনসিংহ গীতিকা' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২২ সালে
  3. ১৯২৩ সালে 
  4. ১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
 যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২,৩৭৪.
'মৈয়মনসিংহ গীতিকা' সংগ্রহ করেন -
  1. দ্বিজ কানাই
  2. চন্দ্রকুমার দে
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. চন্দ্রকুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'মৈয়মনসিংহ গীতিকা' সংগ্রহ করেন - 'চন্দ্রকুমার দে'। 

মৈমনসিংহ গীতিকা: 

- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
 এগুলো হলো: 
১. মহুয়া,
২. মলুয়া,
৩. চন্দ্রাবতী,
৪. কমলা,
৫. দেওয়ান ভাবনা,
৬. দস্যু কেনারামের পালা,
৭. রূপবতী,
৮. কঙ্ক ও লীলা,
৯ কাজলরেখা ও
১০. দেওয়ানা মদিনা। 

চন্দ্রকুমার দে: 
- তিনি লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লেখক।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার রাঘবপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- চন্দ্রকুমার আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায়  মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও  পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
২,৩৭৫.
Ballad কি?
  1. ক) লোকগীতি
  2. খ) লোকগাথা
  3. গ) গীতিকা
  4. ঘ) গাথা
ব্যাখ্যা
• ‘Ballad’ শব্দের অর্থ - গাথা।

অন্যদিকে,
• ‘Folksong’ শব্দের অর্থ - লোকগীতি।

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ হলো:
• ‘Elegy’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - শোককবিতা।
• ‘Satire’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - ব্যঙ্গরচনা।
• ‘Frace’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - প্রহসন।
• ‘Belle Letter' শব্দের পারিভাষিক শব্দ - রম্যরচনা।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি এবং অভিগম্য অভিধান।
২,৩৭৬.
কালিকামঙ্গল ধারার আদি কবি কে? 
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. কৃষ্ণরাম দাস
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. কবি কঙ্ক
ব্যাখ্যা

কালিকামঙ্গল:
- কালিকামঙ্গল বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ আখ্যানকাব্য।
- এটি প্রধানত দেবী কালীর মাহাত্ম্য এবং বিদ্যাসুন্দর কাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত।
- এ ধারাকে বিদ্যাসুন্দর বলা হয়।

- এই ধারার আদি কবি হিসেবে পরিচিত কবি কঙ্ক (জন্ম কিশোরগঞ্জ)। 
- এই ধারার শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- সপ্তদশ শতাব্দীতে কৃষ্ণরাম দাস প্রথম বাংলা ভাষায় কালিকামঙ্গল রচনা করেন।
- এই কাব্য ধারার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবি ছিলেন- রামপ্রসাদ সেন, গোবিন্দ দাস এবং সাবিরিদ খান।

- এই কাব্যের মূল বিষয়বস্তু দুই ভাগে বিভক্ত: 
- প্রথমে দেবী কালীর পূজা ও অলৌকিক ক্ষমতার মহিমা প্রচার এবং দ্বিতীয়ত বর্ধমানের রাজকন্যা বিদ্যা ও সুন্দরের প্রেম, গুপ্ত মিলন, সুন্দরের মৃত্যুদণ্ড এবং পরবর্তীতে দেবীর কৃপায় তাদের মিলন।
- কালিকামঙ্গল কাব্যটি লৌকিক ঐতিহ্য ও রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের সংমিশ্রণ, যা মধ্যযুগীয় বাংলায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৩৭৭.
বিপ্রদাস পিপিলাই কোন মঙ্গলকাব্যের রচয়িতা?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চণ্ডীমঙ্গল
  3. গ) কালিকামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত মঙ্গলকাব্যের নাম 'মনসা বিজয়'।
- বিজয় গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই। 
- তিনি বিজয় গুপ্তের মনসামঙ্গল রচনার এক বছর পর তাঁর মনসাবিজয় কাব্য রচনা করেন।

বিপ্রদাস পিপিলাই (১৫শ শতক)  
- তিনি মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি। ১৪১৭ শতাব্দে (১৪৯৫ খ্রি) তিনি মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
- এ কাব্যের প্রাপ্ত পুথিগুলির মধ্যে দুটি এশিয়াটিক সোসাইটি (কলকাতা), একটি বর্ধমান সাহিত্যসভা এবং আরেকটি বিশ্বভারতীর পুথিশালায় সংরক্ষিত আছে।
- কাব্যমধ্যে কবি যে আত্মপরিচয় দিয়েছেন তা থেকে জানা যায় যে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বাদুড়্যা-বটগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত  ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম মুকুন্দ পন্ডিত।
- বিপ্রদাসের কাব্যে মনসা দেবীর চরিত্র অপেক্ষাকৃত নমনীয় এবং স্নেহমমতা ও করুণায় সমধিক আর্দ্র।
- তাঁর কাব্যের আখ্যানধারা বেশ সরল ও কাব্যভাষা সাবলীল; চরিত্রচিত্রণেও তিনি সংযম ও পরিচ্ছন্ন রুচির পরিচয় দিয়েছেন।
- এ কাব্যে চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যযাত্রার বর্ণনা প্রসঙ্গে সপ্তগ্রামের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।

 উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৭৮.
‘বিদ্যাসুন্দর’ গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন-
  1. ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. খ) সাবিরিদ খান
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
•রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের কবি সাবিরিদ খান এর বিখ্যাত রচনা ‘বিদ্যাসুন্দর’।

- তিনি ‘বিদ্যাসুন্দর’, ‘রসুল বিজয়’ ও ‘হানিফা-কয়রাপরী’ নামে তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন। 
- কবি চট্টগ্রামের নানুপুরের অধিবাসী ছিলেন।
- বিদ্যাসুন্দর ও হানিফা-কয়রাপরী রোমান্সসূলভ প্রণয়কাব্য, রসুল বিজয় ইসলামের গৌরব-গাথা।
- তিনি আরব-ইরানের কাহিনী আমদানি করে ওই যুগে বাংলাদেশে মুসলিম সংস্কৃতির ভিত্তি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩৭৯.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড সংখ্যা?
  1. ১১
  2. ১৩
  3. ১৪
  4. ১৫
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য:
- এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- এর রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ। 
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ১৩ খণ্ডের কাব্য। 
- মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত। 

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র-
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৩৮০.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা সাহিত্যের আদি মধ্যযুগ বা প্রাকচৈতন্য যুগের রচনাকাল কোনটি?
  1. ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৩০০ থেকে ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৩০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
• প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, মধ্যযুগ:
→ প্রাচীন বা মুসলমানপূর্ব যুগ (৯৫০-১২০০),
→ তুর্কি বিজয়ের যুগ (১২০০-১৩০০),
→ আদি মধ্যযুগ বা প্রাকচৈতন্য যুগ (১৩০০-১৫০০),
→ অন্ত্য মধ্যযুগ (১৫০০-১৮০০), চৈতন্য যুগ বা বৈষ্ণবসাহিত্য যুগ (১৫০০-১৭০০) ও নবাবি আমল (১৭০০-১৮০০),

'চৈতন্য যুগ' সম্পর্কিত বিশেষ তথ্য:
- বাংলা সাহিত্যে (১৫০০ থেকে ১৭০০) পর্যন্ত সময়কে চৈতন্য যুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য সংক্ষেপে ‘চৈতন্য’ নামে পরিচিত।
- শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর জীবিতকালেই ভক্তদের ভগমানের অবতার বলে গৃহীত হয়েছিল।
- চৈতন্যদেব প্রথম জীবনী সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- চৈতন্যের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- প্রবোধানন্দ সরস্বতী ‘শ্রীচৈতন্যচন্দ্রামৃত’ নামক কাব্য রচনা করেছিলেন।
- চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে ‘কচড়া’ নামে অভিহিত করা হয়েছে, যার অর্থ ব্যাপক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৮১.
বাংলা লোকসাহিত্য সংশ্লিষ্ট 'আলকাপ' হলো এক প্রকার-
  1. সারিগান
  2. কর্মসংগীত
  3. পালাগান
  4. বিবেকের গান
ব্যাখ্যা
• আলকাপ গান পালাগানের একটি শাখা।

• আলকাপ গান: 
- সাধারণত পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও মালদহ এবং বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে এ গানের প্রচলন বেশি।
- আলকাপ একটি দলীয় ও মিশ্র প্রকৃতির সঙ্গীত প্রদর্শন। এতে নাচ, গান, কথা, ছড়া, অভিনয় ইত্যাদির মিশ্রণ আছে। 
 - আলকাপ গানের প্রধান দুটি অংশ- গান গাওয়া ও বোল বা ছড়া কাটা।
- গানের বিষয়বস্ত্ত সাধারণত রাধাকৃষ্ণলীলা ও অন্যান্য পৌরাণিক কথা, আর ছড়ার বিষয়বস্ত্ত সমকালের সামাজিক ঘটনা। 
- সারি গান  এক প্রকার  লোকসঙ্গীত, যা শ্রমসঙ্গীত বা কর্মসঙ্গীত নামেও পরিচিত।
- নৌকার মাঝি-মাল্লাদের গান হিসেবেই এর প্রধান পরিচয়।
- মাঝিরা সারিবদ্ধভাবে বসে বৈঠা টানার তালে তালে এ গান গায় বলেই এর নাম হয়েছে সারি গান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
২,৩৮২.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের প্রথম খণ্ডে কীসের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে?
  1. রাধার নৌকাডোবার কাহিনি
  2. সূর্যতাপ থেকে রক্ষা করার কাহিনি
  3. রাধাকৃষ্ণের জন্ম কাহিনি
  4. রাধাকৃষ্ণের মিলনের কাহিনি
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের কাহিনি:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মোট তের খণ্ডে বিভক্ত। খণ্ডগুলো হল: জন্মখণ্ড, তাম্বুলখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, ভারখণ্ড, ছত্রখণ্ড, বৃন্দাবনখণ্ড, কালিয়দমনখণ্ড, যমুনাখণ্ড, হারখণ্ড, বাণখণ্ড, বংশীখণ্ড ও রাধাবিরহ।
- প্রথম সর্গ জন্মখণ্ডে দেবগণের প্রার্থনায় ভূভার হরণের জন্য রাধাকৃষ্ণের জন্মকাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- বিষ্ণু কৃষ্ণরূপে বসুদেবের পুত্র হিসেবে জন্মগ্রহণ করে এবং বৃন্দাবনে নন্দের গৃহে স্থানান্তরিত হয়।
- কৃষ্ণের সম্ভোগের জন্য লক্ষ্মীদেবী সাগর গোয়ালার ঘরে পদুমার গর্ভে রাধারূপে জন্ম নেয়।

উল্লেখ্য,
- নৌকাখণ্ডে কৃষ্ণ যমুনায় কাণ্ডারী সেজে গোপীগণকে পার করে নৌকা ডুবিয়ে রাধার সঙ্গে জলবিহারে মগ্ন হয়। এখান থেকেই রাধার মনের প্রতিকূলতা দূর হতে থাকে।
- 'ভারখণ্ডে' কৃষ্ণ ভারবাহীরূপে রাধার পসরা বহন করে। ছত্রখণ্ডে রাধাকে সূর্যতাপ থেকে রক্ষা করার জন্য কৃষ্ণের ছত্রধারণ এবং রাধাকর্তৃক রতিদানের আশ্বাস প্রদান করা হয়।
- বৃন্দাবনখণ্ডে গোপীদের সঙ্গে কৃষ্ণের বনবিহার এবং রাধাকৃষ্ণের মিলন

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৩৮৩.
'দেওয়ান ভাবনা' কোন সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. নাথ গীতিকা 
  3. মর্সিয়া সাহিত্য 
  4. মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা

• 'দেওয়ান ভাবনা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

--------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

গীতিকা গুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- দেওয়ান ভাবনা,
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা, 
- বিদ্যাসুন্দর উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

২,৩৮৪.
মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র কোনটি?
  1. বীণা দাশ
  2. রাধা
  3. মালিনী
  4. বেহুলা
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগের সংগ্রামী, ব্যক্তিত্ববান চরিত্র চাঁদ সওদাগর।
- মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র - বেহুলা।

মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
-‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’। 
- চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
- দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।

এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো:
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৩৮৫.
চাঁদ সওদাগর বাংলা কোন কাব্যধারার চরিত্র? 
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদা মঙ্গল
  3. চন্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা

• 'চাঁদ সওদাগর'- মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যধারার চরিত্র।

• 'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- মনসামঙ্গল  মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
- মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- চাঁদ সওদাগর, সনকা, বেহুলা, লখিন্দর। 

তাছাড়া, 
• চণ্ডীমঙ্গলের কাব্যের চরিত্র- কালকেতু, ফুল্লরা, ভাড়ুদত্ত, মুরারিশীল।
• ধর্মমঙ্গল কাব্যের চরিত্র- কর্পূর সেন, মহামদ পাত্র।
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- ঈশ্বরী পাটনী, হীরা মালিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৩৮৬.
‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে প্রথম পদ রচনা করেন-
  1. জ্ঞানদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি 
  4. কানাহরি দত্ত 
ব্যাখ্যা
• জ্ঞানদাস:
- সম্ভবত ষোল শতকে বর্ধমান জেলায় কবি জ্ঞানদাসের জন্ম।

- তিনি চণ্ডীদাসের কাব্যাদর্শ অনুসরণ করে এবং তার সঙ্গে নিজের মৌলিক প্রতিভার সমন্বয়ে রাধাকৃষ্ণের লীলাবর্ণনার মাধ্যমে মানবমানবীর শাশ্বত প্রেমবেদনার কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি ছিলেন চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য।

- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন। তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ। তিনি একজন সঙ্গীতজ্ঞও ছিলেন এবং কীর্তনের নতুন পদ্ধতির স্রষ্টা হিসেবে তাঁর বিশেষ খ্যাতি ছিল।

- তিনি ব্রজবুলি ও বাংলায় পদ রচনা করেছিলেন, তবে বাংলা পদেই তাঁর কৃতিত্ব বেশি।
- জ্ঞানদাস পদাবলিতে সৌন্দর্যের ব্যঞ্জনা দিয়েছেন, আবেগের সূক্ষ্ম কারুকর্ম ফুটিয়ে তুলেছেন।
- তিনি মানবজীবনের বাতায়নে বসে ভাব বৃন্দাবনের কিশোর কিশোরীর লীলা প্রত্যক্ষ করে শিল্পী হয়ে উঠেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৮৭.
নাথসাহিত্য কোন যুগের বাংলা সাহিত্যের ধারা?
  1. উত্তরাধুনিক যুগ
  2. আধুনিক যুগ
  3. প্রাচীন যুগ
  4. মধ্যযুগ
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য: 
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা। 

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য: 
» গোরাক্ষ বিজয় --- শেখ ফয়জুল্লাহ। 
» গোপীচন্দ্রের সন্যাস --- শুকুর মুহম্মদ। 
» মীনচেতন --- শ্যামাদাস সেন। 
» ময়নামতির গান --- ভবানী দাস। 
» গোর্খবিজয় --- ভীমসেন রায়। 

নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও সুকুর মহম্মদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল। 
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং
সুকুর মহম্মদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া। 
২,৩৮৮.
নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন- 
  1. চণ্ডীদাস 
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাক
  3. মালাধর বসু 
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ও প্রথম নাগরিক কবিও বলা হয়।
- তিনি হাওড়া জেলার পেন্ড্রো গ্রামে বাস করতেন। তাঁর পিতা নরেন্দ্রনারায়ণ রায় (মুখার্জি) জমিদার ছিলেন। 
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি।
- তিনি রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেন। অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- এছাড়াও তাঁর আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম- সত্যপীরের পাঁচালি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসার।

২,৩৮৯.
নিচের কোনটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খন্ড নয়?
  1. ক) মিলন
  2. খ) বিরহ
  3. গ) যমুনা
  4. ঘ) হার
ব্যাখ্যা
• শ্রী বসন্তরঞ্জন রায় ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ যেখানে রাধা কৃষ্ণ কাব্যের আড়ালে ঈশ্বরের প্রতি জীবকুলের আকুলতা প্রকাশিত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র রাধা, কৃষ্ণ এবং বড়ায়ি।
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।

খন্ডগুলি হচ্ছে -
- জন্মখন্ড, তাম্বূল খন্ড, দানখন্ড, নৌকাখন্ড, ভারখন্ড, ছত্রখন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হারখন্ড, বাণখন্ড, বংশীখন্ড ও বিরহখন্ড

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৯০.
বিদ্যাপতি কোন শতকের কবি ছিলেন?
  1. সপ্তদশ শতক
  2. ষোড়শ শতক
  3. পঞ্চদশ শতক
  4. চতুর্দশ শতক
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,৩৯১.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে?
  1. ক) মানিক দত্ত
  2. খ) মুক্তারাম সেন
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল' চন্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের লিখিত কাব্য। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। 
⇒ চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 

• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো :
- কালকেতু,  
- ফুল্লরা, 
- ধনপতি, 
- ভাঁড়ুদত্ত, 
- মুরারি শীল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২,৩৯২.
"মধুমালতী" কাব্যের লেখক কে?
  1. সৈয়দ সুলতান 
  2. কবি নওয়াজিশ খান
  3. মুহম্মদ কবীর
  4. দোনা গাজী 
ব্যাখ্যা
• মধুমালতী কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন।
- এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।
-------------------
• মুহম্মদ কবীর:
- মুহম্মদ কবীর (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।
- মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা। চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর পুথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৯৩.
বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী কোনটি?
  1. চৈতন্য-চরিতামৃত
  2. চৈতন্যজীবনী
  3. চৈতন্য-ভাগবত
  4. চৈতন্য মঙ্গল
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- বাংলা সাহিত্যে একটি পক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে।
- তাঁর জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ, নবদ্বীপ; মৃত্যু ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ, পুরী।
- শ্রীচৈতন্যদেবের পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র; ডাকনাম নিমাই।
- সামন্তযুগের অনুদার মতাদর্শকে অস্বীকার করেই তিনি প্রচার করলেন জীবে দয়া, ঈশ্বরে ভক্তি এবং সকলের অধিকার। তাঁর কল্যাণেই বাঙালির স্বাজাত্যবোধ ও নিজসংস্কৃতি রক্ষিত হয়। এজন্য তিনি স্মরণীয়।
- বাংলা সাহিত্যে ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
- তাঁর জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।
- বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম - বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- বাংলায় চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থের নাম - লোচন দাসের 'চৈতন্য মঙ্গল'।
- বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী - কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিতামৃত' (১৬১৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৯৪.
বাংলা সাহিত্যে 'রোমান্টিক আখ্যান কাব্য'-এর প্রবর্তক কে?
  1. সৈয়দ আলাওল
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. আব্দুল হাকিম
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- মুসলমান কবিরা পনের-ষোল শতকে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে প্রত্যক্ষ অবদান সৃষ্টিতে সক্ষম হন। 
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মুসলমান কবিগণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান এই রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান বা প্রণয়কাহিনি।
- ফারসি বা হিন্দি সাহিত্যের উৎস থেকে উপকরণ নিয়ে রচিত অনুবাদমূলক প্রণয় কাব্যগুলোতে প্রথমবারের মত মানবীয় বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে। - - মধ্যযুগের কাব্যের ইতিহাসে ধর্মীয় বিষয়বস্তুর আধিপত্য ছিল, কোথাও কোথাও লৌকিক ও সামাজিক জীবনের ছায়াপাত ঘটলেও দেবদেবীর কাহিনির প্রাধান্যে তাতে মানবীয় অনুভূতির প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে নি। এই শ্রেণির কাব্যে মানব-মানবীর প্রেমকাহিনি রূপায়িত হয়ে গতানুগতিক সাহিত্যের ধারায় ব্যতিক্রমের সৃষ্টি করেছে।
- রোমান্টিক কবিরা তাঁদের কাব্যে ঐশ্বর্যবান, প্রেমশীল, সৌন্দর্যপূজারী, জীবনপিপাসু মানুষের ছবি এঁকেছেন। 
- বাংলার মুসলমান কবিগণের মধ্যে প্রাচীনতম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর চৌদ্দ শতকের শেষে বা পনের শতকের প্রথমে 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্য রচনা করার মাধ্যমে এই ধারার প্রবর্তন করেন।
- তারপর অসংখ্য কবির হাতে এই কাব্যের বিকাশ ঘটে এবং আঠার শতক পর্যন্ত তা সম্প্রসারিত হয়।

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্য বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জোলেখা। এটি একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
- ইউসুফ-জোলেখা কাব্যগ্রন্থের রচনাকাল অনুসারে এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য এবং শাহ মুহম্মদ সগীর এই ধারার প্রথম কবি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৩৯৫.
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন কোনটি?
  1. জঙ্গনামা
  2. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  3. চন্ডীমঙ্গল
  4. লোর চন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের সাহিত্যি নিদর্শন - নিরঞ্জনের রুষ্মা। 
- চন্ডীমঙ্গল, লোর চন্দ্রানী, জঙ্গনামা- বাংলা সাহিত্যের মধ্যুযুগের সাহিত্যি নিদর্শন। 

• বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়। 

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন- 
- প্রাকৃতপৈঙ্গল
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৩৯৬.
চৈতন্যদেবের প্রথম  জীবনী লেখক কে-
  1. ক) মুরারি গুপ্ত
  2. খ) বৃন্দাবন দাস
  3. গ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ 
  4. ঘ) লোচন দাস
ব্যাখ্যা
চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- ‘মুরারি গুপ্ত কড়চা’ নামে পরিচিত। তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম ‘শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম’।
- মুরারি গুপ্ত সিলেটের অধিবাসী ছিলেন পরে নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্যের সহাধ্যায়ী ছিলেন।
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যেদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত। 
- কৃষ্ণদাস কবিরাজ তাঁর ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ কাব্য লিখেছেন, মুরারি গুপ্ত কেবল প্রথম চৈতন্য-জীবনী লেখক নন, তিনি চৈতন্য-জীবনী রচনার অবিতর্কিত আদর্শের প্রবর্তনকারী।
কৃষ্ণদাস কবিরাজ 
- ষোল শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বৃন্দাবন বাসী এক বৈষ্ণব ভক্ত এবং কৃষ্ণ চৈতন্যের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত গ্রন্থ চৈতন্য চরিতামৃত এর রচয়িতা হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। 
- চৈতন্য চরিতামৃত বাংলা ও সংস্কৃতের মিশ্রণে রচিত প্রায় ২৪,০০০ (চবিবশ হাজার) চরণ বিশিষ্ট একটি জীবনী গ্রন্থ ও ধর্মতাত্ত্বিক পুথি।
লোচনদাস
- লোচনদাসের কাব্যে চৈতন্যের মাতৃমমতামন্ডিত বাল্যলীলা এবং অতিরঞ্জনমুক্ত মানবীয় রূপটি প্রধানভাবে ফুটে উঠেছে। এখানেই এর বিশেষত্ব, কাব্যটিতে মুরারি গুপ্ত এবং বৃন্দাবন দাসের প্রভাব আছে। 

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৯৭.
“মঙ্গলকাব্য” কোন যুগের বাংলা সাহিত্যের নির্দশন?
  1. উত্তর-আধুনিক
  2. আধুনিক
  3. মধ্যযুগ
  4. প্রাচীনযুগ
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত।
- এগুলো খ্রিষ্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য।
- বলা হয়ে থাকে, যে কাব্যে দেবতার আরাধনা, মাহাত্ম্য-কীর্তন করা হয়, যে কাব্য শ্রবণেও মঙ্গল হয় এবং বিপরীতটিতে হয় অমঙ্গল; যে কাব্য মঙ্গলাধার, এমন কি, যে কাব্য যার ঘরে রাখলেও মঙ্গল হয় তাকেই বলা হয় মঙ্গলকাব্য।
- 'মঙ্গল' শব্দটির আভিধানিক অর্থ 'কল্যাণ'। যে কাব্যের কাহিনি শ্রবণ করলে সর্ববিধ অকল্যাণ নাশ হয় এবং পূর্ণাঙ্গ মঙ্গল লাভ ঘটে, তাকেই মঙ্গলকাব্য বলা যায়।
- মঙ্গলকাব্যের 'মঙ্গল' শব্দটির সঙ্গে শুভ ও কল্যাণের অর্থসাদৃশ্য থাকা ছাড়াও এসব কাব্যের অনেকগুলো এক মঙ্গলবারে পাঠ আরম্ভ হয়ে পরের মঙ্গলবারে সমাপ্ত হত। বলে এ নামে অভিহিত হয়েছে।
- মঙ্গলকাব্য প্রধানত কাহিনিকেন্দ্রিক। মূল কাহিনির সঙ্গে দেবলীলা, ধর্মতত্ত্ব ও নানা ধরনের বর্ণনায় এসব কাব্য বিপুলায়তন লাভ করেছে।
- বিভিন্ন দেবদেবীর গুণগান মঙ্গলকাব্যগুলোর উপজীব্য। তন্মধ্যে স্ত্রীদেবতাদের প্রাধান্যই বেশি এবং মনসা ও চণ্ডীই এদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- লৌকিক দেবদেবীর কাহিনি অবলম্বনে রচিত মঙ্গলকাব্যগুলোকে
ক. বন্দনা,
খ. গ্রন্থ রচনার কারণবর্ণনা,
গ. দেবখণ্ড ও
ঘ. নরখণ্ড বা মূলকাহিনি বর্ণনা।

• মোটামুটি এই চারটি অংশ থাকত।
- 'বারমাসী' ও 'চৌতিশা' জাতীয় কাব্যাংশ মঙ্গলকাব্যে স্থান লাভ করত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৩৯৮.
আবদুল হাকিম রচিত 'বঙ্গবানী' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. দুররে মজলিশ
  2. নূরনামা
  3. ইউসুফ জোলেখা
  4. হানি-ফার লড়াই
ব্যাখ্যা
• যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'
- কবিতাংশটির আবদুল হাকিম রচিত 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'বঙ্গবানী' কবিতার অংশ বিশেষ।

আব্দুল হাকিম:
- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- নোয়াখালী জেলার বাবুপুর (মতান্তরে সন্দ্বীপের সুধারাম) ছিল কবির আবাসভূমি।
- তাঁর পিতা শাহ্ রাজ্জাক ছিলেন একজন পন্ডিত ব্যক্তি এবং তাঁর পীর ছিলেন সাহাবুদ্দীন।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানি-ফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৯৯.
কত সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১৭ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯১৯ সালে
  4. ১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
- দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়। এটি ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪০০.
'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন' উক্তিটি কার রচনা?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মহাকবি আলাওল
  3. ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য। এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।