বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ২৩ / ২৮ · ২,২০১২,৩০০ / ২,৭৬৪

২,২০১.
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগকে অন্য কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. রৌদ্র যুগ
  2. তামস যুগ
  3. চৈতন্য যুগ
  4. প্রাকচৈতন্য যুগ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- প্রাকৃতপৈঙ্গল,
- কলিমা জালাল,
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

• হলায়ূধ মিশ্র রচিত পির মহাত্ম্যক-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,২০২.
'তে কাজে নিবেদি বাংলা করিয়া রচন।
 নিজ পরিশ্রম তোষি আমি সর্বজন।' উক্তিটি কোন কবির?
  1. আবদুল কাদির
  2. আবদুল হাকিম
  3. আলাওল
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• কবি আবদুল হাকিমের 'নূরনামা' কাব্যের অন্তর্গত 'বঙ্গবাণী' কবিতার চরণ-
''কিতাব পড়িতে যার নাহিক অভ্যাস।
সে সবে কহিল মোতে মনে হাবিলাষ।।
তে কাজে নিবেদি বাংলা করিয়া রচন।
নিজ পরিশ্রম তোষি আমি সর্বজন।।''

• বঙ্গবাণী:
​• ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি কবি আবদুল হাকিমের নূরনামা কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি সতের শতকে রচিত।
- মধ্যযুগীয় পরিবেশে বঙ্গভাষী এবং বঙ্গভাষার প্রতি এমন বলিষ্ট বাণীবদ্ধ কবিতার নিদর্শন দুর্লভ।

---------------
আব্দুল হাকিম:
- আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি।
- তিনি ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানি-ফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২০৩.
ডাকের বচনে কোনটি প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. ক) জ্যোতিষ শাস্ত্র
  2. খ) বিজ্ঞান শাস্ত্র
  3. গ) চিকিৎসা শাস্ত্র
  4. ঘ) প্রণয়কথন
ব্যাখ্যা
• ডাক ও খনার বচন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- তবে এর লিখিত কোন নিদর্শন নেই। 
- প্রাচীন যুগের সৃষ্টি হলেও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আধুনিক যুগে চলে এসেছে। 
- ডাক ও খনার বচনের মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে। 
- খনার বচনে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য  পেয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২,২০৪.
আলাওলের 'তোহফা' কোন ধরনের রচনা?
  1. আত্মাজীবনী
  2. প্রণয়কাব্য
  3. নীতিকাব্য
  4. জঙ্গনামা
ব্যাখ্যা

 • 'তোহফা' কাব্য:
- 'তোহফা' গ্রন্থটি কবি আলাওলের পঞ্চম রচনা। এই কাব্য বিখ্যাত সুফী সাধক শেখ ইউসুফ গদা দেহলভীর 'তোহফাতুন নেসায়েহ্' নামক ফারসি গ্রন্থের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৬৪ সালে এ কাব্য সমাপ্ত করেন। তখন নিজের অবস্থা সম্পর্কে কবি বলেছেন:মুই আলাওল হীনদৈববশ অনুদিনবিধি বিড়ম্বিল বৃদ্ধকাল।ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধীয় তত্ত্বোপদেশপূর্ণ এ গ্রন্থটি শ্রীমন্ত সোলেমানের নির্দেশে রচিত হয়েছিল।
- তোহফা গ্রন্থটি কাব্যাকারে রচিত হলেও ধর্মীয় নীতিকথাই এতে রূপ লাভ করেছে।
- ধর্মীয় তত্ত্বমূলক ও নৈতিক উপদেশাত্মক কাব্য তোহফা পঁয়তাল্লিশ অধ্যায়ে বিভক্ত এবং এর বিভিন্ন অধ্যায়ে মুসলমানদের ধর্ম আচার-আচরণ কর্তব্য ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
- তৌহিদ, ইমান, এল্ম, শাস্ত্রব্যবস্থা, এবাদত, বিবাহ ইত্যাদি ধর্মীয় সামাজিক ও দৈনন্দিন জীবনের পালনীয় কর্তব্য সম্পর্কে পয়ার ছন্দে রূপ দিয়ে আলাওল মুসলমানদের জন্য অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ হিসেবে এর মর্যাদা দিয়েছেন।

আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা,

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২০৫.
'গোরক্ষ বিজয়' কাব্য কোন ধর্মমতের কাহিনি অবলম্বনে লেখা?
  1. শৈবধর্ম
  2. বৌদ্ধ সহজযান
  3. নাথধর্ম
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• ষোল শতকের কবি শেখ ফয়জুল্লাহ ‘গোরক্ষ-বিজয়’ নামে প্রথম একখানি কাব্য রচনা করেন। এতে নাথগুরুর মাহাত্ম্য ও নাথ ধর্মমতের মহত্ত্ব প্রকাশ বিধৃত হয়েছে।

• ‘গোরক্ষবিজয়’ কাব্যগ্রন্থ:
নাথ সাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়। গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। সংগ্রাহকরা হলেন:
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
- আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
- আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং পঞ্চানন মন্ডল (১টি পুথি)।

• এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত। পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন। নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম মীনচেতন এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে গোরক্ষবিজয় ও গোর্খবিজয়।

• গোরক্ষবিজয় কাব্যের রচনাকাল নিয়ে পণ্ডিত মহলে বিতর্ক আছে। শেখ ফয়জুল্লাহ ছাড়া কবীন্দ্র, ভীমসেন ও শ্যামদাসের নাম ভণিতায় পাওয়া যায়। তবে ভণিতায় নামের সংখ্যাধিক্যের হিসেবে ফয়জুল্লাহকেই গোরক্ষবিজয়ের কবি মনে করা হয়, অন্যরা ছিলেন গায়ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২০৬.
'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবি কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. দ্বিজ বংশীদাস
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. কবি কঙ্ক
ব্যাখ্যা
কবি কঙ্ক:
- 'কালিকামঙ্গল' বা 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবি।
- কিশোরগঞ্জের রাজ্যেশ্বর নদীর তীরবর্তী বিপ্র গ্রামে ব্রাহ্মণ ঘরে তাঁর জন্ম।
- পিতা গুণরাজ, মাতা গুণবতী।
- তিনি কোন সময় বর্তমান ছিলেন, এব্যাপারে নিশ্চিত করে বলা যায় না। গবেষকগণ মনে করেন, তিনি চৈতন্যদেবের সমসামায়িক। সুকুমার সেনের মতে কবি কঙ্ক আরও পরের কবি।
- শৈশবে পিতৃমাতৃহীন নিরাশ্রয় কঙ্ক, মুরারি ও কৌশল্যা নামধেয় এক চণ্ডাল দম্পতির ঘরে পালিত হন। তারাই কঙ্ক নাম রাখেন।

তাছাড়া,
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- 'অন্নদামঙ্গল’ ধারার কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২০৭.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের 'পরমাত্মা' হিসাবে বিবেচিত চরিত্র কোনটি?
  1. ক) রাধা
  2. খ) বড়াই
  3. গ) অর্জুন
  4. ঘ) কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগে  রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
 - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু 
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুূরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি
 - কৃষ্ণ (পরমাত্মা)
- রাধা (জীবাত্মা)  
- বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
২,২০৮.
‘পদ্মাপুরাণ’ নামে অভিহিত মঙ্গলকাব্য-
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গল:
• মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
• ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
• সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’। 
• চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
• দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
 
• এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।
 
• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি ।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস, পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,২০৯.
বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা নয় কোনটি?
  1. অভিসারভর্তৃকা
  2. খণ্ডিতা
  3. প্রোষিতভর্তৃকা
  4. উৎকণ্ঠিতা
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা নয় - অভিসারভর্তৃকা।

• পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:

- যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যা রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা। 
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা :
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২১০.
কোন শাসকদের সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়?
  1. সেন 
  2. গুপ্ত
  3. তুর্কি
  4. পাল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর — খ) তুর্কি।

• তুর্কি শাসকদের সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়। এই সময়ে বাংলা সাহিত্যের তেমন বিকাশ ঘটেনি।

• বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ:
- ১২০৪ সালে তুর্কি বীর ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলাদেশ অধিকার করেন।
- পরবর্তী দেড়শ বছর রাজনৈতিক আলোড়নের জন্য কোন সাহিত্যসৃষ্টি সম্ভব হয়নি বলে অনেকের ধারণা।
- এ সম্যকেই অন্ধকার যুগ বলা হয়।

তাই অনেকে,
১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়টুকুকে যুগসন্ধি বা অন্ধকার যুগ বলে অভিহিত করে থাকেন।
- এ যুগের প্রাপ্ত নিদর্শনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৩শ-১৪শ শতকের রামাই পণ্ডিতের চম্পুকাব্য জাতীয় রচনা - শূন্যপুরাণ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,২১১.
উল্লিখিত কোন রচনাটি পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্গত নয়? 
  1. ময়মনসিংহ গীতিকা
  2. ইউসুফ জুলেখা
  3. পদ্মাবতী
  4. লাইলী মজনু
ব্যাখ্যা
• পুঁথি সাহিত্য:
- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।
- এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুঁথি সাহিত্যের আদি ও সার্থক কবি হলেন ফকির গরীবুল্লাহ

বিষয়বস্তু অনুসারে পুঁথি সাহিত্যকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা যায়- 

১) প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য: 
ইউসুফ জোলেখা, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান, লাইলী মজনু, পদ্মাবতী, গুলে বাকওয়ালী ইত্যাদি। 

২) যুদ্ধ সম্পর্কিত কাব্য: 
জঙ্গনামা, আমীর হামজা, সোনাভান, কারবালার যুদ্ধ ইত্যাদি। 

৩) পীর পাঁচালি।
- গাজী কালু চম্পাবতী, সত্যপীরের পুঁথি। 

৪) ইসলাম ধর্ম, ইতিহাস নবী আউলিয়ার জীবনী ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কাব্য 

অন্যদিকে,
• মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২১২.
'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই'- কে বলেছেন?
  1. বিবেকানন্দ
  2. পরমহংস
  3. বিদ্যাপতি
  4. চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা

• সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলেছেন- 'চণ্ডীদাস'।

• চন্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।'
- 'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।',
- 'সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধূয়া আনবাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া।'

• চন্ডীদাস:
- চন্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়; তাঁরা হলেন: বড়ু চন্ডীদাস, দ্বিজ চন্ডীদাস, দীন চন্ডীদাস ও চন্ডীদাস।
- চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন।
- তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন এবং জাতিতে ছিলেন ব্রাহ্মণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২১৩.
'চন্দ্রাবতী' মনসামঙ্গল কাব্যের কোন কবির কন্যা?
  1. বিপ্রদাস পিপলাই
  2. দ্বিজ বংশীদাস
  3. দ্বিজ ঈশান 
  4. দ্বিজ মাধব 
ব্যাখ্যা

• চন্দ্রাবতী:
- মহিলা কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনা করে পুরাতন বাংলা সাহিত্যর ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন।
- মধ্যযুগের তিনজন প্রধান নারী কবির একজন চন্দ্রাবতী। অপর দুইজন চণ্ডীদাস অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা। তাঁদের নিবাস ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহের  কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাঠবাড়ী বা পাতুয়ারী গ্রামে।
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- তিনি পিতার আদেশে 'রামায়ণ' অনুবাদে হাত দেন। কিন্তু তা সমাপ্ত করার পূর্বে মারা যান।
- তাঁর রচনার বৈশিষ্ট্য ষোড়শ শতাব্দীর সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতিফলিত করা।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মালুয়া
- দস্যু কেনারামের পালা
- রামায়ণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২১৪.
শেখ ফয়জুল্লাহর রচিত মর্সিয়া সাহিত্যের নাম কী?
  1. আফৎনামা
  2. মুক্তল হোসেন
  3. ইমামগণের কেচ্ছা
  4. জয়নাবের চৌতিশা
ব্যাখ্যা
মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷ তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২১৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কে ছিলেন?
  1. ক) দৌলত উজির বাহরাম খান
  2. খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. গ) আব্দুল হাকিম
  4. ঘ) সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
শাহ মুহম্মদ সগীরের হাতে রচিত হয় রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য ‘ইউসুফ-জুলেখা’।
এ কারণের শাহ মুহম্মদ সগীরকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে অভিহত করা হয়।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
২,২১৬.
মধ্যযুগের কবি নন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. জয়নন্দী
  3. জ্ঞান দাস
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের কবি:
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মোট চব্বিশ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গানের মাঝে ও শেষে তাঁরা ভণিতা দিয়েছেন।
- তবে কারও কারও গুরুর ভণিতা আছে।
- নামের শেষে গৌরবসূচক ‘পা’ যোগ করা হয়েছে।
- চর্যার চব্বিশ জন পদকর্তা হলেন : লুই, কুক্কুরী, বিরুআ, গুণ্ডরী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, সবর, আজদেব, ঢেণ্ঢণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জয়নন্দী, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী।
- লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায় নি।
- জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা।

​অন্যদিকে,
- বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস ও  সৈয়দ হামজা মধ্যযুগের কবি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২১৭.
অন্নদামঙ্গল কাব্য কত খণ্ডে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি ছিলেন- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা:
• শিবনারায়ণ,
• কালিকামঙ্গল এবং
• মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, মালিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২১৮.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য' কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল?
  1. মেদিনীপুর
  2. বাঁকুড়া জেলা
  3. বর্ধমান জেলা
  4. ফরিদগঞ্জ জেলা
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি। 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো-
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২১৯.
'নবীবংশ' পুস্তকের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. ফকির গরীবুল্লাহ
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ সুলতান (আনু. ১৫৫০-১৬৪৮):
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর নবীবংশ, জ্ঞানপ্রদীপ, জ্ঞানচৌতিশা ও জয়কুম রাজার লড়াই উল্লেখযোগ্য।
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।
- ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে। তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে। বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খন্ড রসুলচরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২২০.
'নদের চাঁদ' কোন পালার চরিত্র?
  1. কঙ্ক ও লীলা
  2. দেওয়ানা মদিনা
  3. মলুয়া
  4. মহুয়া
ব্যাখ্যা
মহুয়া পালা:
- 'মহুয়া' মৈমনসিংহ-গীতিকার অন্তর্গত একটি পালা।
- নমশূদ্রদের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মহুয়া পালা রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- মহুয়ার পালার উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মহুয়া, নদের চাঁদ, হুমরা বেদে, সাধু।
- মহুয়া পালার কয়েকটি পঙ্‌ক্তি -

১. ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।

২. লজ্জা নাই নির্লজ্জ ঠাকুর লজ্জা নাইরে তর।।
গলায় কলসী বাইন্দা জলে ডুব্যা মর।।
কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।

• উল্লেখ্য, 'কঙ্ক ও লীলা', 'দেওয়ানা মদিনা', 'মলুয়া' তিনটি পালাও মৈমনসিংহ-গীতিকার অন্তর্গত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২২১.
“আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে” — এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্য থেকে?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল কাব্য সম্পর্কে বিস্তারিত: ১. রচয়িতা ও সময়কাল:
  • ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ১৭৫২-৫৩ সালে অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেন। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
  • এই কাব্যের দ্বিতীয়াংশ বিদ্যাসুন্দর, যা প্রেম-কাহিনিভিত্তিক।
২. বৈশিষ্ট্য:
  • ছন্দ ও অলঙ্কারের নিপুণ ব্যবহার: ভারতচন্দ্র সংস্কৃত ও চলিত ভাষার মিশ্রণে কাব্যশৈলী তৈরি করেন।
  • ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক সংমিশ্রণ: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, ঈশ্বরী পাটনী প্রভৃতি চরিত্রের মাধ্যমে সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ফুটে উঠেছে।
  • বিখ্যাত পংক্তি:
    • "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে"।
    • "মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন"
    • "হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়" (অতিরঞ্জিত ভাবোক্তি)।
৩. মূল্যায়ন
  • অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি ১৮শ শতকের সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য এবং বাংলা সাহিত্যের মাইলফলক।
  • সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনচিত্র, রসবোধ ও নীতিকথা এতে সুসংহত।
৪. অন্যান্য মঙ্গলকাব্যের সাথে তুলনা:
  • মনসামঙ্গল: আদি কবি কানা হরিদত্ত; পদ্মপুরাণ নামেও পরিচিত।
  • চণ্ডীমঙ্গল: অপর নাম অভয়ামঙ্গল; চণ্ডীদেবীর মাহাত্ম্য কাহিনি।
  • ধর্মমঙ্গল: ধর্মঠাকুরের উপাসনা নিয়ে রচিত।
উৎসসূত্র:
  • লাল নীল দীপাবলি- হুমায়ুন আজাদ;
  • বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
  • বাংলাপিডিয়ার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধ।
২,২২২.
পুঁথি সাহিত্যের ভাষা কিরূপ?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) ফারসি
  3. গ) হিন্দি
  4. ঘ) মিশ্র
ব্যাখ্যা
• পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য।
- আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুথি (বা পুঁথি) শব্দের উৎপত্তি ‘পুস্তিকা’ শব্দ থেকে। এ অর্থে পুথি শব্দদ্বারা যেকোনো গ্রন্থকে বোঝালেও পুথি সাহিত্যের ক্ষেত্রে তা বিশেষ অর্থ বহন করে।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। 
- পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন।
- রেভারেন্ড জেমস  লং এ ভাষাকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা’, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা সাহিত্য’।
- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়।
- গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে ‘মিশ্র ভাষারীতির কাব্য’ বলে অভিহিত করেন।

- ড. আনিসুজ্জামান তাঁর রচিত 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' গ্রন্থে এই শ্রেণির কাব্যের নাম সম্পর্কে বলেছেন - 
"কলকাতার সস্তা ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত হয়ে এইধারার কাব্য দেশময় প্রচারিত হয়েছিল বলে বটতলার পুঁথি নামেও একে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চলেছে।" 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২২৩.
আলাওল রচিত কাব্য নয় কোনটি?
  1. ক) হপ্তপয়কর
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) সিকান্দরনামা
  4. ঘ) পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি আলাওল। এখন পর্যন্ত তার ৭ টি কাব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
এগুলো হচ্ছে - পদ্মাবতী, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, হপ্তপয়কর, সিকান্দরনামা, তোহফা, রাগতালনামা এবং দৌলতকাজির অসমাপ্ত গ্রন্থ সতীময়না-লোর-চন্দ্রাণী।
তিনি পদ্মাবতী রচনা করেন কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য ‘পদুমাবৎ’ অবলম্বনে।
চন্দ্রাবতী কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২,২২৪.
নাথ সাহিত্যের কবি নন কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লা
  2. শ্যামদাস সেন
  3. ভীম সেন
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• নাথ সাহিত্যের কবি নন- রামপ্রসাদ সেন। 

--------------------------
• নাথ সাহিত্যের কবিগণ:

- নাথধর্ম সংক্রান্ত গল্পকাহিনি নিয়ে যেসব সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে তা দীর্ঘদিন পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরালেই ছিল। ১৮৭৮ সালে প্রথমবার স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন রংপুর থেকে সংগৃহীত একটি গীতিকা 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' নাম দিয়ে এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশ করেন। পরবর্তী কালে উত্তর ও পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে 'ময়নামতীর গান', 'গোপীচন্দ্রের গান,' 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' ইত্যাদি বিভিন্ন নামে একই কাহিনিভিত্তিক পুঁথি আবিষ্কৃত হয়েছে।

- আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ শেখ ফয়জুল্লাকৃত 'গোরক্ষবিজয়' কাব্যের পুঁথি আবিষ্কার করে প্রকাশ করেছেন। 'গোর্খবিজয়' নামে অন্য একটি পুঁথি পঞ্চানন মণ্ডল কর্তৃক সম্পাদিত হয়েও প্রকাশিত হয়েছে। এই সব গ্রন্থ থেকে নাথসাহিত্যের পরিচয় লাভ করা যায়।

- গোরক্ষনাথ-মীননাথের কাহিনি অবলম্বনে রচিত যে সব কাব্য সম্পাদিত হয়ে প্রকাশ পেয়েছে সেগুলো হল:
১. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সম্পাদিত কবি শেখ ফয়জুল্লার 'গোরক্ষবিজয়',
২. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত কবি শ্যামদাস সেনের 'মীনচেতন' এবং
৩. ড. পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত কবি ভীম সেনের 'গোর্খবিজয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
২,২২৫.
'গোরক্ষবিজয়' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. লোকসাহিত্য
  2. মর্সিয়া সাহিত্য
  3. নাথসাহিত্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনি ভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। 
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষবিজয়’।
- রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২২৬.
বাংলা সাহিত্যে 'লেটো' কী হিসেবে পরিচিত?
  1. বাউলগান
  2. লোকগান
  3. শাক্ত পদাবলি
  4. ভাটিয়ালী গান 
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে 'লেটো' - এক ধরনের লোকগান হিসেবে পরিচিত।
--------------------
• লেটো গান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য:
লেটো গান - পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে প্রচলিত এক প্রকার লোকসঙ্গীত। এটি যাত্রাগানের প্রকারভেদ। যাত্রাগানের মতোই পালার আকারে রচিত এ গান নৃত্য ও অভিনয়সহ পরিবেশন করা হয়; সঙ্গে থাকে বাদকদল।

- লেটো গান শুরু হয় বন্দনা দিয়ে। সখি, সঙদার, পাঠক বিভিন্ন নামে নট-নটীরা গান ও নাচ পরিবেশন করে। 
- এর বিষয়বস্ত্ত সামাজিক রঙ্গরস ও আটপৌরে গ্রামীণ জীবন; পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়েও পালা রচিত হয়।  
- কাজী নজরুল ইসলাম শৈশবকালে লেটোদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- তাঁর রচিত রাজপুত্রের সঙ, চাষার সঙ, আকবর বাদশা প্রভৃতি লেটো গানের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- লেটো গানে অনেক সময় দুটি দলের মধ্যে প্রতিযোগিতাও হয়; দলের প্রধানকে বলা হয় ‘গোদা কবি’।
-------------------- 
• লোকসঙ্গীত নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 
- 'ভাওয়াইয়া' মূলত রংপুর অঞ্চলের গান। মূলত গরুর গাড়ি চালকদের মুখে এ গান শোনা যায়।
- 'গম্ভীরা' বৃহত্তর রাজশাহী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) অঞ্চলের গান।
- 'জারি গান' মূলত ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চলের গান। এটি মূলত দুই পক্ষের মধ্যে গানের প্রতিযোগিতা।
- 'ভাটিয়ালী' মূলত ময়মনসিংহ অঞ্চলের গান।
- 'চটকা' রংপুর অঞ্চলের গান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট।

২,২২৭.
'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত কোন যুগের সাহিত্য ধারা?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. আধুনিক যুগ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২২৮.
‘মঙ্গলকাব্য’ সমূহের বিষয়বস্তু মূলত-
  1. মধ্যযুগের সমাজব্যবস্থার বর্ণনা
  2. লোকসংগীত
  3. ধর্মবিষয়ক আখ্যান
  4. পীর পাঁচালী
ব্যাখ্যা

⇒ মঙ্গলকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত।
- এগুলো খ্রিষ্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য।
- বলা হয়ে থাকে, যে কাব্যে দেবতার আরাধনা, মাহাত্ম্য-কীর্তন করা হয়, যে কাব্য শ্রবণেও মঙ্গল হয় এবং বিপরীতটিতে হয় অমঙ্গল; যে কাব্য মঙ্গলাধার, এমন কি, যে কাব্য যার ঘরে রাখলেও মঙ্গল হয় তাকেই বলা হয় মঙ্গলকাব্য।
- 'মঙ্গল' শব্দটির আভিধানিক অর্থ 'কল্যাণ'। যে কাব্যের কাহিনি শ্রবণ করলে সর্ববিধ অকল্যাণ নাশ হয় এবং পূর্ণাঙ্গ মঙ্গল লাভ ঘটে, তাকেই মঙ্গলকাব্য বলা যায়।
- মঙ্গলকাব্যের 'মঙ্গল' শব্দটির সঙ্গে শুভ ও কল্যাণের অর্থসাদৃশ্য থাকা ছাড়াও এসব কাব্যের অনেকগুলো এক মঙ্গলবারে পাঠ আরম্ভ হয়ে পরের মঙ্গলবারে সমাপ্ত হত। বলে এ নামে অভিহিত হয়েছে।
- মঙ্গলকাব্য প্রধানত কাহিনিকেন্দ্রিক। মূল কাহিনির সঙ্গে দেবলীলা, ধর্মতত্ত্ব ও নানা ধরনের বর্ণনায় এসব কাব্য বিপুলায়তন লাভ করেছে। 
- বিভিন্ন দেবদেবীর গুণগান মঙ্গলকাব্যগুলোর উপজীব্য। তন্মধ্যে স্ত্রীদেবতাদের প্রাধান্যই বেশি এবং মনসা ও চণ্ডীই এদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- লৌকিক দেবদেবীর কাহিনি অবলম্বনে রচিত মঙ্গলকাব্যগুলোকে
ক. বন্দনা,
খ. গ্রন্থ রচনার কারণবর্ণনা,
গ. দেবখণ্ড ও
ঘ. নরখণ্ড বা মূলকাহিনি বর্ণনা।

• মোটামুটি এই চারটি অংশ থাকত।
- 'বারমাসী' ও 'চৌতিশা' জাতীয় কাব্যাংশ মঙ্গলকাব্যে স্থান লাভ করত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,২২৯.
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্যের শেষ খণ্ড কোনটি?
  1. তাম্বুল খণ্ড
  2. ভারখণ্ড
  3. হার খণ্ড
  4. বিরহ খণ্ড
ব্যাখ্যা

• "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভপশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি। কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি। কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।

- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।

২,২৩০.
"নানান দেশের নানান ভাষা।
বিনে স্বদেশীয় ভাষা
পুরে কি আশা।।" পঙক্তিটি কোন জাতীয় সঙ্গীত? 
  1. ক) চারণ সঙ্গীত
  2. খ) টপ্পাগান
  3. গ) শ্যামাসঙ্গীত
  4. ঘ) পাঁচালী গান
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত টপ্পাগান-
"নানান দেশের নানান ভাষা।
বিনে স্বদেশীয় ভাষা
পুরে কি আশা।।" -এর রচয়িতা নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯)

কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ। 
- বাংলা  টপ্পাগানের জনক ছিলেন  নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত ।
- তাঁর টপ্পাগানের সংকলনের নাম গীতরত্ন (১৮৩২)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৩১.
’ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত’ কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৩২.
বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার কয়টি অবস্থার কথা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকার অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি থাকে এবং যার রতির মূলে থাকে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি, যিনি কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে সমর্থা নায়িকা বলা হয়। বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি এরা সকলেই সমর্থা নায়িকা।
- এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা হিসেবে বিবেচিত।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা হিসেবে শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়।

পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা। যথা :
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা এবং
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৩৩.
খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা নয় কোনটি?
  1. কালিকামঙ্গল
  2. গৌরীমঙ্গল
  3. শীতলামঙ্গল
  4. ষষ্ঠীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি। যথা:
• মনসামঙ্গল,
• চণ্ডীমঙ্গল,
• অন্নদামঙ্গল।
- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে। যথা:
• বন্দনা,
• আতত্মপরিচয়,
• দেবখণ্ড,
• মর্ত্যখণ্ড,
• শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।

• বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত যায়।
- একটি খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা, অপরটি পুরাণাশ্রয়ী ধারা।
- চণ্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল মনসামঙ্গল, ও কালিকামঙ্গল প্রথম ধারায় অন্তর্ভুক্ত।
- অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে শীতলামঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, রায়মঙ্গল, বাশুলীমঙ্গল প্রভৃতি।
- দ্বিতীয় ধারাটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক; যেমন-দেবীমাহাত্ম্য, চত্তিকাবিজয়, দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী, গৌরীমঙ্গল ও গঙ্গামঙ্গল প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৩৪.
পশুপাখির কাহিনি অবলম্বনে রচিত লোকসাহিত্যকে বলে-
  1. উপকথা
  2. ব্রতকথা
  3. রূপকথা
  4. গ্রাম্যগীতিকা
ব্যাখ্যা

• উপকথা:
পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনি গড়ে উঠেছে সেগুলোর নাম উপকথা। কৌতুকসৃষ্টি ও নীতিপ্রচারের জন্যই এগুলোর সৃষ্টি। এতে মানবচরিত্রের মতই পশুপাখির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে বক্তব্য পরিবেশিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মতই পশু-পাখিরা কথাবার্তা বলে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেছে। কেবল পশুপক্ষীর চরিত্রই যে উপকথার বিষয়বস্তু তা নয়, মানবচরিত্রও এগুলোতে স্থান পেয়েছে। পশুপক্ষী অনেক ক্ষেত্রে রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। গল্পের বর্ণনায় পুনরাবৃত্তি এসে বর্ণনাকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

যেমন- কাক ও চড়ুই পাখি' গল্পে বলা হয়:
'গেরস্ত ভাই, দাও ত আগুন, গড়ব কাস্তে, কাটব ঘাস, খাবে গাই, দিবে দুধ, খাবে কুকুর, হবে তাজা, মারবে মোষ লব শিং, খুঁড়ব মাটি, গড়ব ঘটি, তুলব জল, ধুব ঠোঁট-তবে খাব চড়ইর বুক।'

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৩৫.
চন্দ্রাবতী কোন শতকের কবি?
  1. পনেরো
  2. ষোলো
  3. সতেরো
  4. আঠারো
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রাবতী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের ষোলো শতকের একজন উল্লেখযোগ্য নারী কবি।

• চন্দ্রাবতী:
- মহিলা কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনা করে পুরাতন বাংলা সাহিত্যর ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন।
- মধ্যযুগের তিনজন প্রধান নারী কবির একজন চন্দ্রাবতী।
- অপর দুইজন চণ্ডীদাস অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- চন্দ্রাবতীর পিতা ছিলেন মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- তিনি পিতার আদেশে 'রামায়ণ' অনুবাদে হাত দেন। কিন্তু তা সমাপ্ত করার পূর্বে মারা যান।
- তাঁর রচনার বৈশিষ্ট্য ষোড়শ শতাব্দীর সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতিফলিত করা।

• চন্দ্রাবতী রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মালুয়া
- দস্যু কেনারামের পালা
- রামায়ণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা: ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৩৬.
‘কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি’ কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল:
- চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য 'চণ্ডীমঙ্গল’।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি ছিলেন চতুর্দশ শতকের কবি।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী।
- এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে। একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ। দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৩৭.
“হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়” উক্তিটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের কোন চরিত্রের বক্তব্য?
  1. লক্ষ্মী
  2. শিব
  3. সীতা
  4. উমা 
ব্যাখ্যা

- “হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়” উক্তিটি মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্য থেকে নেওয়া।
- এটি মূলত একটি প্রবাদ বাক্য,লক্ষ্মী শিবকে উদ্দেশ্য করে এই উক্তি করেছে। 
- এখানে দেবী লক্ষ্মী শিবকে জানান যে তাদের ঘরে কোনো অন্ন নেই এবং তিনি নিজেই ‘লক্ষ্মীছাড়া’ হয়ে গেছেন।
- এই আক্ষেপের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, যার ভাগ্যে অন্ন বা সমৃদ্ধি নেই, সে যেদিকে হাত দেয়, সব কিছুতেই অসফলতা বা ধ্বংস আসে। 
-------------------
অন্নদামঙ্গল:
- অন্নদামঙ্গল মধ্যযুগের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্য, যা আনুমানিক ১৭৫২-৫৩ সালে রচিত হয়।
- এর রচয়িতা হলেন মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- প্রথম মুদ্রণ করা হয় ১৮১৬ সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের মাধ্যমে।
- কাব্যটি মূলত দেবী অন্নদার পূজা, মহিমা এবং আখ্যান প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যটি ছন্দ ও অলঙ্কারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুদক্ষভাবে রচিত।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য এবং সমগ্র বাংলা সাহিত্যের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত:
• প্রথম খণ্ড শিবায়ন অন্নদামঙ্গল,
• দ্বিতীয় খণ্ড বিদ্যাসুন্দর কালিকা মঙ্গল এবং
• তৃতীয় খণ্ড মানসিংহ অন্নদামঙ্গল।

• প্রথম খণ্ডে সীতার দেহত্যাগ, উমারূপে জন্মগ্রহণ, শিবের সঙ্গে বিবাহ, অন্নপূর্ণার মূর্তিধারণ এবং কাশীপ্রতিষ্ঠার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

• দ্বিতীয় খণ্ডে বিদ্যাসুন্দরের প্রেমকাহিনি প্রকাশিত হয়েছে।

• তৃতীয় খণ্ডে মানসিংহের যশোর অভিযান, রাজা প্রতাপাদিত্যের পরাজয় এবং ভবানন্দের দিল্লি যাত্রার বর্ণনা রয়েছে।

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত পঙক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।”
•“মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।”
• “হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।”
• “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”
• “বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।”

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
বাংলাপিডিয়া।

২,২৩৮.
'ছুটিখানী মহাভারত' রচনা করেন কে? 
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. কাশীরাম দাস
  4. কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
ব্যাখ্যা

'ছুটিখানী মহাভারত' রচনা করেন- শ্রীকর নন্দী। 
------------------------
• মহাভারত:
- মহাভারত প্রাচীন ভারতের অন্যতম প্রধান এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সংস্কৃত মহাকাব্য।
- এর রচয়িতা মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস।
- এর মূল কাহিনী হলো কুরু বংশের দুই ভাই পাণ্ডব ও কৌরবদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই এবং কুরুক্ষেত্রের ১৮ দিনের যুদ্ধ।
- মহাকাব্যের মূল উপজীব্য হলো ‘ধর্ম’ বা ন্যায়ের জয় এবং ‘অধর্ম’ বা অন্যায়ের পরাজয়।
- এটি ১ লক্ষেরও বেশি শ্লোকবিশিষ্ট বিশাল কাব্য এবং হিন্দুধর্মের ইতিহাস ও জ্ঞানভাণ্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
- মহাভারত কেবল যুদ্ধকাহিনী নয়, বরং মানব জীবনের কর্তব্য, প্রেম, ঘৃণা, ত্যাগ ও আদর্শের জটিল আখ্যান।

- মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর। 
- তিনি পরাগলী খাঁর উৎসাহে এটি অনুবাদ করেন।
- তিনি অনুবাদকৃত গ্রন্থের নাম দেন বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক হিসেবে পরিচিত কাশীরাম দাস।

ছুটিখানী মহাভারত:
- ছুটিখানী মহাভারত এর রচয়িতা শ্রীকর নন্দী।

- এটি ১৫১৮–১৫২০ খ্রিস্টাব্দে রচিত এবং মূলত সংস্কৃত মহাভারতের অশ্বমেধপর্বকে বিস্তৃত আকারে বাংলা ভাষায় উপস্থাপন করেছে। কবি শ্রীকর নন্দী ছুটিখান কর্তৃক নির্দেশিত রচনার মাধ্যমে অশ্বমেধযজ্ঞের অনুষ্ঠান, অর্জুনের দিগ্বিজয় যাত্রা, বিভিন্ন দেশের রাজাদের সঙ্গে যুদ্ধ এবং যুদ্ধের কলাকৌশলকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। ছুটিখানী মহাভারত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কাব্য, যা পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৩৯.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ মধ্যযুগকে কয় ভাগে ভাগ করেছেন?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ মধ্যযুগকে — ২ ভাগে ভাগে ভাগ করেছেন।
যথা- 
ক) পাঠান আম (১২০১-১৫৭৬) এবং,
খ) মোগল আমল (১৫৭৭-১৮০০)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
২,২৪০.
বৈষ্ণব সাহিত্যে ‘দ্বিতীয় বিদ্যাপতি’ নামে খ্যাত -
  1. চণ্ডীদাস
  2. বলরাম দাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

গোবিন্দদাস:
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন। বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।

গোবিন্দদাসের উপাধি:
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৪১.
গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে কোন কাব্যটি রচিত হয়েছে?
  1. লায়লী-মজনু 
  2. পদ্মাবতী
  3. ইউসুফ-জোলেখা
  4. গুলে বকাওলী
ব্যাখ্যা

• ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা মধ্যযুগের পুঁথি লেখকদের রচিত বাংলা সাহিত্যের একটি প্রণয়-কাব্য। বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তিনি গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে ইউসুফ-জোলেখা কাব্য রচনা করেন। সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।

- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছ থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।

- তৈমুস বাদশার কন্যা জোলেখার আজিজের সঙ্গে বিয়ে হয়। ক্রীতদাস ইউসুফের (নবি) প্রতি প্রেমাসক্ত হয়ে জোলেখা তাকে আকর্ষণ করে। নানা ঘটনায় ইউসুফ মিশরের অধিপতি হয় এবং তার মনেরও পরিবর্তন ঘটে। ধর্মান্তরের মধ্য দিয়ে ইউসুফ-জোলেখার মিলন হয়। সুফিরা ইউসুফকে পরমাত্মা জোলেখাকে জীবাত্মার প্রতীক বিবেচনা করেন। শাহ মুহম্মদ সগীরও তাই করেছেন। তবে বর্ণনায় প্রেমের আবহটি প্রধান হয়েছে।

- সগীর ছাড়া একই কাহিনি নিয়ে আবদুল হাকিম, গরীবুল্লাহ, ফকির মুহম্মদ প্রমুখ কাব্য লিখেছেন। তবে এ কাব্য শাহ মুহম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

অন্যদিকে, 
• বাংলায় 'লায়লী-মজনু' কাব্যটি মধ্যযুগের কবি দৌলত উজির বাহরাম খান আনুমানিক ১৫৬০-১৫৭৫ খ্রিস্টাবাদের মধ্যে রচনা করেন, যা পারস্য কবি জামীর রচনার ভাবানুবাদ এবং এর উৎস আরব্য লোকগাথা।

• বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত 'পদ্মাবতী' কাব্যটি আরাকানের রাজা থদো-মিন্তের রাজত্বকালে (১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে) কবি আলাওল রচনা করেন, যদিও এর মূল হিন্দি কাব্য 'পদুমাবৎ' লিখেছিলেন মালিক মুহম্মদ জায়সী (১৫৪০ খ্রি.)। 

• বাংলা রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের ধারায় 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। গদ্যে ও পদ্যে গুলে বকাওলী প্রেমকাহিনি বাংলায় পরিবেশিত হয়েছে এবং বিশ শতকেও সাহিত্যরূপ লাভ করায় এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা প্রমাণিত। বাংলা ভাষা ছাড়া হিন্দি ফারসি উর্দু ইত্যাদি ভাষায়ও এ কাব্য রচিত হয়েছিল। বাংলায় গুলে বকাওলী কাব্যের রচয়িতা হিসেবে নওয়াজিস খান খ্যাতিমান। কবি কাব্যে যে আত্মপরিচয় দান করেছেন তাতে তাঁর বংশলতিকার পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর এক পূর্বপুরুষ ছিলিম খান গৌড় থেকে চট্টগ্রাম এসে ছিলিমপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কবি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার অন্তর্গত সুখছড়ি গ্রামে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

২,২৪২.
সৈয়দ সুলতানের 'জ্ঞানপ্রদীপ' কোন ধরেনর রচনা?
  1. মর্সিয়া সাহিত্য
  2. সুফিচর্যা জাতীয় গ্রন্থ
  3. অনুবাদ সাহিত্য
  4. লোকসাহিত্য
ব্যাখ্যা

সৈয়দ সুলতান:
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম।
- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

• 'জ্ঞানপ্রদীপ' একটি সুফিতত্ত্ব ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ।
- এর রচয়িতা- 'সৈয়দ সুলতান'।
- এই কাব্য সম্পর্কে ড. মুহম্মদ এনামুল হক মন্তব্য করেছেন- "ইহা একখানি যোগ-কলন্দর শ্রেণির গ্রন্থ। তবে ইহা কবির পরিণত বয়সের রচনা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা,
- শব—ই—মিরাজ,
- ওফাত—উ—রসুল,
- জয়কুম রাজার লড়াই ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৪৩.
‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম -
  1. লীলাবতী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. শ্যামা
  4. রত্নাবতী
ব্যাখ্যা

• ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম - লীলাবতী।

খনার বচন:
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি।
- ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত।
- এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,২৪৪.
'গীতরত্ন' নামে গানের সংকলন করেন কে?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. মানিক দত্ত
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
টপ্পা সঙ্গীত:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ তবে বাংলা টপ্পা সর্বতোভাবে পাঞ্জাবি টপ্পার অনুকরণ নয়।
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত।

রামনিধি গুপ্ত:

- সঙ্গীতশিল্পী ও গানের জনক। তাঁর প্রকৃত নাম ‘রামনিধি গুপ্ত’, কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিনি ‘নিধু গুপ্ত’ নামেই পরিচিত।
- কেউ কেউ তাঁকে ‘নিধুবাবু’ বলেও ডাকতেন। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চাপ্তায় মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।
- ১৮৩২ সালে 'গীতরত্ন' নামে তাঁর গানের একটি সংকলন প্রকাশিত হয়; তাতে ৯৬টি গান স্থান পায়।

তাঁর রচিত টপ্পা সংগীতের বিখ্যাত পঙক্তি,
''নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা, পুরে কি আশা?''

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৪৫.
বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন -
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. বিদ্যাপতি
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. শ্রী চৈতন্য
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি: 
• বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার রাজসভার একজন বিখ্যাত কবি, যিনি চতুর্দশ শতকে তাঁর সৃষ্টিশীলতা দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করেছিলেন। মিথিলার রাজা শিবসিংহ তাঁর রচনায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, বিদ্যাপতিকে ‘কবিকণ্ঠহার’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

• ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে বিদ্যাপতিকে বোঝায়। যেমন কোকিল তার সুমধুর গান দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, তেমনই বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় পদাবলি ও গীতিকবিতা রচনা করে সবার হৃদয় জয় করেন। এই কারণে তাঁকে মৈথিল কোকিল নামে অভিহিত করা হয়।

• বিদ্যাপতি একজন বৈষ্ণব কবি ছিলেন এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনাগুলোর মধ্যে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলিগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৪৬.
বৈষ্ণব পদাবলিতে শ্রীরাধাকে কী বলা হয়?
  1. সখী
  2. কালান্তরিতা
  3. পরিনীতা
  4. নায়িকা
ব্যাখ্যা
• পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যা রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা। 
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়।

পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা :
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
২,২৪৭.
‘গুণরাজ খান’ মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কোন কবির উপাধি?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. মালাধর বসু
  3. দ্বিজ বংশীদাস
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
⇒ মালাধর বসু:
• তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
• পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কুলীনগ্রামে এক কায়স্থ বংশে তাঁর জন্ম।
• তিনি ছিলেন গৌড়েশ্বর হুসেন শাহের মন্ত্রী এবং তাঁরই সহায়তায় রূপ গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী উক্ত রাজসভায় নিয়োগ লাভ করেন।
• মালাধরের একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শতাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
• কবিত্বগুণের সম্মাননাস্বরূপ মালাধর বসু গৌড়েশ্বরের নিকট থেকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেন।
• সুলতান শামসউদ্দীন ইউসুফ শাহ (১৪৭৪-৮০) কবিকে এই উপাধি প্রদানের মাধ্যমে কাব্যরচনায় উৎসাহিত করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৪৮.
'ব্যাধ কালকেতুর কাহিনি' কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে: প্রথম খণ্ডে- ব্যাধ কালকেতুর কাহিনি এবং দ্বিতীয় খণ্ডে বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

১. প্রথম উপাখ্যান: একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।

২. দ্বিতীয় উপাখ্যান: এই উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর এবং তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৪৯.
বাউল মতের উদ্ভব ঘটে কত শতাব্দীতে? 
  1. ষোড়শ শতাব্দী
  2. সপ্তদশ শতাব্দী
  3. ঊনবিংশ শতাব্দী
  4. বিংশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা

বাউল পদাবলি:
- বাউল পদাবলি হলো গান বা পদাবলির মাধ্যমে বাউলদের আধ্যাত্মিকতা, জীবনদর্শন ও সাধনার প্রকাশ।
- বাউল গান বাংলা লোকসাহিত্যের অংশ। 
- বাউল মতের উদ্ভব ঘটে সপ্তদশ শতাব্দীতে।
- এই মত ঊনবিংশ শতাব্দীতে জনপ্রিয় হয়।
- বিশেষ করে লালন শাহ সাধারণ মানুষের কাছে বাউল গান পৌঁছে দেন এবং এটি জনপ্রিয় করেন।
- বাউল গান বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ইউনেস্কো’র ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এ অন্তর্ভুক্ত; ২০০৫ সালে ইউনেস্কো বাউল গানকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে।
- লালন শাহকে বাউল সম্রাট বলা হয়। 
- তাঁর দর্শন ও গানের প্রভাব বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ বহু শিল্পী ও সাধকের ওপর পড়েছে।

• গুরুত্বপূর্ণ বাউল সাধক:
- সিরাজ শাহ, 
- লালন শাহ, 
- পাঞ্জু শাহ, 
- শাহ আব্দুল করীম, 

• লালন ফকিরের উল্লেখযোগ্য কিছু গান:
- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়, আমি অপার হয়ে বসে আছি ও হে দয়াময়, পারে লয়ে যাও আমায়।
- জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা, সত্য কাজে কেউ নয় রাজি, সবি দেখি তা না-না-না।
- সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে, লালন কয় জাতের কী রূপ আমি দেখলাম না দুই নজরে।
- সময় গেলে সাধন হবে না, দিন থাকতে দ্বীনের সাধন কেন জানলে না।
- গুরু গো… ও ও ও বেধ বিধির পথ শাস্ত্র কানা, আর এক কানা মন আমার এসব দেখি কানার হাট বাজার।
- বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে, আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২,২৫০.
'কুলীনকুলসর্বস্ব নাটকের রচয়িতা কে?
  1. দ্বীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
কুলীনকুলসর্বস্ব নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

রামনারায়ণ তর্করত্ন:
- তিনি একজন নাট্যকার।
- ১৮২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার হরিনাভি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচয়িতা হিসেবেই রামনারায়ণের মুখ্য পরিচয়।

রামনারায়ণ তর্করত্ন যেসকল নাটক অনুবাদ করেন:
- অভিজ্ঞান শকুন্তলা,
- রত্নাবলী,
- মালতীমাধব,
- বেণীসংহার।

রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত নাটক:
- রুক্ষ্মিণীহরণ,
- কংসবধ,
- ধর্মবিজয়।

রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত প্রহসন:
- যেমন কর্ম তেমন ফল,
- উভয় সংকট,
- চক্ষুদান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৫১.
কবি দ্বিজ বংশীদাস শাস্ত্রীয় পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি আর কী হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন?
  1. চিত্রশিল্পী
  2. সুকণ্ঠ গায়ক
  3. সমাজ সংস্কারক
  4. চিকিৎসক
ব্যাখ্যা

দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাব্যে ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার দেখে অনেকে মনে করেন, কবি সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।
- দ্বিজ বংশীদাস সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রাদি শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন। সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা। কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৫২.
'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' এর প্রথম সংগ্রাহক কে?
  1. জর্জ গ্রীয়ার্সন
  2. চন্দ্রকুমার দে
  3. দীনেশ্চন্দ্র সেন 
  4. স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 • নাথগীতিকা:
- স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন ১৮৭৮ সালে রংপুর জেলার মুসলমান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' প্রকাশ করলে 'নাথগীতিকা' সুধীসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- এইগুলো এক শ্রেণির ঐতিহাসিক রচনা।
- ইতিহাসের কোন বিস্মৃত যুগে এই গীতিকার নায়ক রাজা গোপীচাঁদ বা গোবিন্দচন্দ্র মায়ের নির্দেশে তরুণ যৌবনে দুই নবপরিণীতা বধূ প্রাসাদে রেখে সন্ন্যাস অবলম্বন করেছিলেন এই কাহিনি কেন্দ্র করেই নাথগীতিকার উদ্ভব।
- নাথসম্প্রদায়ভুক্ত গুরুবাদী যোগিগণ তাঁদের গুরুর অলৌকিক মহিমাকীর্তন প্রসঙ্গে এই গীতিকা দেশবিদেশে প্রচার করেছেন।
- নাথগীতিকার দুটি বিভাগ: প্রথমটি তরুণ রাজপুত্র গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাসের কাহিনি। এ সম্পর্কিত গীতিকা 'গোরক্ষবিজয়', 'মীনচেতন' নামে পরিচিত।
- অপর শ্রেণির গীতিকাগুলো 'মাণিক রাজার গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গীত', 'ময়নামতীর গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গান', 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস', 'গোপীচাঁদের পাঁচালী' ইত্যাদি নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,২৫৩.
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন-
  1. ময়নামতির গান
  2. দোহাকোষ
  3. গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
  4. নিরঞ্জনের রুষ্মা
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন হচ্ছে নিরঞ্জনের রুষ্মা।
- প্রাচীন যুগের সাহিত্য নিদর্শন চর্যাপদ বা দোহাকোষ।
- শুকুর মহম্মদের 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' ও ভবানী দাসের 'ময়নামতির গান' নাথ সাহিত্য তথা মধ্যযুগের সাহিত্য নিদর্শন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,২৫৪.
কোন রচনাটি পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্গত নয়?
  1. ক) মৈয়মনসিংহ গীতিকা
  2. খ) ইউসুফ জুলেখা
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) লাইলী মজনু
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

• পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।
- এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুঁথি সাহিত্যের আদি ও সার্থক কবি হলেন ফকির গরীবুল্লাহ

বিষয়বস্তু অনুসারে পুঁথি সাহিত্যকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা যায়- 
১) প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য: 
ইউসুফ জোলেখা, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান, লাইলী মজনু, পদ্মাবতী, গুলে বাকওয়ালী ইত্যাদি। 

২) যুদ্ধ সম্পর্কিত কাব্য: 
জঙ্গনামা, আমীর হামজা, সোনাভান, কারবালার যুদ্ধ ইত্যাদি। 

৩) পীর পাঁচালি

৪) ইসলাম ধর্ম, ইতিহাস নবী আউলিয়ার জীবনী ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কাব্য 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৫৫.
‘আলাল-দুলালের পালা’ হিসেবে পরিচিত কোন পালা?
  1. মহুয়া
  2. মলুয়া
  3. কঙ্ক ও লীলা
  4. দেওয়ানা মদিনা
ব্যাখ্যা

- ‘দেওয়ানা মদিনা’ হলো মৈমনসিংহ গীতিকার বিখ্যাত পালাগুলোর একটি। এর রচয়িতা মনসুর বয়াতি।
- দেওয়ানা মদিনা পালার প্রধান চরিত্র দুই ভাই আলাল ও দুলাল। তাই এটাকে আলাল-দুলালের পালাও বলা হয়।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীন বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচংয়ের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- আলাল, দুলাল, মদিনা, সোনাফর।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

২,২৫৬.
'মহাভারত' এর মূল রচয়িতা কে?
  1. কাশীরাম দাস
  2. কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  3. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. ভূদেব মখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- মূল রচয়িতা কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব। প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন বিজয়পাণ্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস।
- মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৫৭.
‘দোহা - কোশ’ গ্রন্থটি লিখেছেন কে?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  3. গ) প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. ঘ) রাহুল সাংকৃত্যায়ন
ব্যাখ্যা

রাহুল সাংকৃত্যায়ন নেপাল - তিব্বতে প্রাপ্ত তালপাতার পুথিতে আরো কয়েকজন নতুন কবির চর্যাগীতি পেয়ে 'দোহা - কোশ'(১৯৫৭) গ্রন্থে সংযোজন করেছেন।

১৯০৭ সালে পণ্ডিত মহামহোপাধ্যায় হরপ্রাসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কার করে নিয়ে আসেন কয়েকটি অপরিচিত বই।
বইগুলোর একটি - চর্যাপদ। এর সাথে আরো দুটি বই হচ্ছে - ডাকার্ণব ও দোহাকোষ।
এই তিনটি গ্রন্থকে মিলিয়ে একসাথে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন। এর অন্য নাম - চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চিয় বা চর্য্যাশ্চর্য্যবিনিশ্চয়
বিজয়চন্দ্র ১৯২০ সালে চর্যাপদের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যার তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর।

২,২৫৮.
নারীর নানা আচরণীয় ও অনাচরণীয় বিষয় আলোচিত হয় কোথায়?
  1. ক) ব্রতকথা
  2. খ) প্রবাদ
  3. গ) রূপকথা
  4. ঘ) উপকথা
ব্যাখ্যা
নারীর নানা আচরণীয় ও অনাচরণীয় বিষয় হলো ব্রতকথা মূল উপজীব্য।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
২,২৫৯.
নিচের কোনটি পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ভেলুয়া
  2. কমল সওদাগর
  3. নিজাম ডাকাতের পালা
  4. কমলা
ব্যাখ্যা

• 'কমলা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

​• পূর্ববঙ্গ-গীতিকা: 
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।

​পূর্ববঙ্গ গীতিকার পালা:
​- নিজাম ডাকাতের পালা 
- কাফন চোরা,
- ​ভেলুয়া,
- ​চৌধুরীর লড়াই, 
​- কমল সদাগর, 
​- সুজা তনয়ার বিলাপ, 
​- পরীবানুর হাহলা ইত্যাদি।

​উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,২৬০.
কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে রচিত সাহিত্য ই হলো-
  1. ক) জঙ্গনামা
  2. খ) পুথিসাহিত্য
  3. গ) মর্সিয়া সাহিত্য
  4. ঘ) মৈমনসিংহ-গীতিকা
ব্যাখ্যা
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা (১৫৭০)।
- 'মুক্তল হােসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
২,২৬১.
কার নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় ''রামায়ণ'' অনুবাদ করেন?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. রাজা প্রতাপাদিত্য
  3. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  4. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা
রামায়ণ:
- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি । রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা।
- মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম সূত্রপাত করেন কৃত্তিবাস ওঝা।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় ''রামায়ণ'' অনুবাদ করেন।
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন চন্দ্রাবতী।

কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক।
- তাঁর রচিত রামায়ণের অন্য নাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৬২.
'জঙ্গনামা' কাব্যধারার কবি নন কে?
  1. মুহম্মদ খান
  2. ওয়াহিদ আলী 
  3. নওয়াজিস খান 
  4. ফকির গরিবুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• 'জঙ্গনামা' কাব্যধারার কবি নন- নওয়াজিস খান।  
• নওয়াজিস খান মধ্যযুগীয় রোম্যান্টিক কাব্যধারার কবি। তাঁর রচিত কাব্য 'গুলে বকাওলী'। 

-----------------
• জঙ্গনামা:

জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য। ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। বিশেষত  হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণির কাব্যের মূল বিষয়। যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে। তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।

জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো:  
- শেখ ফয়জুল্লাহ (ষাল’শ শতক, জয়নবের চৌতিশা),  
- দৌলত উজির বাহরাম খান (ষোল’শ শতক, জঙ্গনামা),
- মুহম্মদ খান (সতের’শ শতক, মকতুল হোসেন),
- শেরবাজ (আঠার’শ শতক, কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা),
- হেয়াত মামুদ (আঠার’শ শতক, জারি-জঙ্গনামা),
- জাফর (আঠার’শ শতক, শহীদ-ই-কারবালা ও সখিনার বিলাপ),
- হামিদ (আঠার’শ শতক, সংগ্রাম হুসেন),
- ফকির গরিবুল্লাহ (আঠার’শ শতক, জঙ্গনামা  ও সোনাভান),
- মুহম্মদ হামিদুল্লাহ খান (উনিশ’শ শতকের প্রথমার্ধ, গুলজার-ই-সাহাদৎ),
- ওয়াহিদ আলী (উনিশ’শ শতকের প্রথমার্ধ, বড় জঙ্গনামা),
- জনাব আলী (উনিশ’শ শতক, শহিদ-ই-কারবালা),
- মুহম্মদ মুনসি (উনিশ’শ শতক, শহিদ-ই-কারবালা),
- মুহম্মদ ইসহাকউদ্দীন (বিশ শতকের প্রথমার্ধ,
- দাস্তান শহিদ-ই-কারবালা), কাজী আমীনুল হক (বিশ শতকের প্রথমার্ধ, জঙ্গে কারবালা) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

২,২৬৩.
সৈয়দ আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের মূল উপজীব্য কী?
  1. চিতোররাজ রত্নসেনের সিংহল যাত্রা
  2. রত্নসেন ও সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রেম, বিবাহ ও বিরহ
  3. সুলতান খিলজির ব্যর্থ চিতোর আক্রমণের ঘটনা 
  4. সবকয়টি 
  5. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

সৈয়দ আলাওল:
- কবি সৈয়দ আলাওল মধ্যযুগের একজন কিংবদন্তি মুসলিম কবি।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা।
- সৈয়দ আলাওল ছিলেন মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মুসলিম কবিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। 
- তাঁর পাণ্ডিত্য ও সাহিত্যকর্ম শতাব্দী ধরে পাঠক ও গবেষককে মুগ্ধ করেছে।
- তিনি বহুভাষাবিদ ও পণ্ডিত ছিলেন।
- যোগশাস্ত্র, আরবি, ফারসি, মৈথিলী, প্রাকৃতপৈঙ্গল, ব্রজবুলি, বাংলা ও সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।
- অনুবাদ ও নীতিকাব্যচর্চায়ও তিনি সিদ্ধহস্ত ছিলেন।

- আলাওল প্রায় ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- জন্মস্থান নিয়ে কিছু মতবিরোধ থাকলেও অধিকাংশ পণ্ডিত ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জামালপুর গ্রাম উল্লেখ করেন।
- আবার কিছু পণ্ডিতের মতে তাঁর জন্মস্থান চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে।
- তিনি আরাকান রাজসভার রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে- 
- ‘পদ্মাবতী’,
- ‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’,
- ‘সপ্তপয়কর’, 
- ‘সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’,
- ‘সিকান্দরনামা’,
- ‘তোহফা’ (নীতিকাব্য),
- ‘রাগতালনামা’ (সঙ্গীতবিষয়ক)।
---------------------------- 
• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য নিয়ে কিছু কথা:
- আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ (১৬৪৮) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি রোমান্টিক প্রণয়কাব্য। 
- এটি হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ কাব্য অবলম্বনে রচিত। 
- আরাকান রাজসভার মাগন ঠাকুরের অনুপ্রেরণায় আলাওল এটি রচনা করেন।

- কাব্যটি চিতোরের রাজা রত্নসেন ও সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রেম, বিবাহ ও বিরহের কাহিনী দ্বারা বর্ণিত।
- পাশাপাশি, দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি পদ্মাবতীকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় চিতোর আক্রমণ করে, যেখানে রত্নসেনের বীরত্ব ফুটে ওঠে।
- কাব্যটির দুইটি প্রধান পর্বে-
- প্রথমে রত্নসেনের সিংহল যাত্রা ও পদ্মাবতীর বিবাহ;
- এবং দ্বিতীয় পর্বে সুলতান খিলজির ব্যর্থ চিতোর আক্রমণের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

- কাব্যটি বাহ্যিকভাবে রোমান্টিক প্রেমের কাহিনী হলেও রূপক অর্থে পদ্মাবতী ‘পরম সত্তা’ বা আত্মা এবং রত্নসেন ‘সাধক’ বা জীবাত্মার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত। ছন্দ ও ভাষার দিক থেকে এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত, ফারসি ও আরবি শব্দের সংমিশ্রণে অনন্য কাব্যিক শৈলী পেয়েছে। আলাওল মূল কাহিনিতে অনেক পরিবর্তন ও সংযোজন ঘটিয়ে বাংলায় এক স্বতন্ত্র এবং শ্রেষ্ঠ কাব্য হিসেবে পদ্মাবতীকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া

২,২৬৪.
মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. শ্রীকর নন্দী
  3. কাশীরাম দাস
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা

• কবীন্দ্র পরমেশ্বর:
- 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর। তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- নবাব হুসেন শাহ্‌ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন।
- যুদ্ধপ্রিয় 'পরাগল খাঁ' মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।
- তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
- কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন ‘ভারত পাঁচালী’।

অন্যদিকে, 
- শ্রীকর নন্দীর মহাভারতকে বলা হয় 'ছুটিখানি মহাভারত'।
- 'মহাভারত' এর শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস। তার কাব্যের নাম 'ভারত পাঁচালী। 
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক ও বাংলা রামায়ণের আদি কবি “কৃত্তিবাস ওঝা"।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,২৬৫.
আমি অপার হয়ে বসে আছি
ও হে দয়াময়, পারে লয়ে যাও আমায়।। - এই গানটির রচয়িতা কে?
  1. কুমারেশ চন্দ্র দে
  2. রজনীকান্ত সেন
  3. লালন শাহ্
  4. শাহ আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
লালন শাহ্:
- তিনি বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা, গায়ক ছিলেন।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- এ তথ্যটি পাওয়া যায় তাঁর মৃত্যুর দুসপ্তাহ পরে হিতকরী (১৮৯০) পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ-নিবন্ধে।

লালন ফকিরের উল্লেখযোগ্য কয়েটি গান:
• খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়।।

আমি অপার হয়ে বসে আছি
ও হে দয়াময়,
পারে লয়ে যাও আমায়।।

• জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা
সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবি দেখি তা না-না-না।।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,২৬৬.
প্রথম বাঙালি নারী কবি কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. কামিনী রায়
  3.  স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা

• মহিলা কবি হিসেবে- 'চন্দ্রাবতী':
- চন্দ্রাবতী রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক।
- মহিলা রামায়ণকার বলা হয় চন্দ্রাবতীকে।

- তিনি মধ্যযুগের প্রথম নারী কবি হিসেবে স্বীকৃত।
- চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের পাতোয়ারি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- লৌকিক, মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদান সংযোগের ফলে তাঁর রচিত রামায়ণ বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিল।
- চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলো হলো মালুয়া, দস্যু কেনারামের পালা, রামায়ণ ইত্যাদি।
------------------ 
• পালাগান হিসেবে- 'চন্দ্রাবতী' :
- চন্দ্রাবতীকে নিয়ে মৈমনসিংহ-গীতিকায় নয়ানচাঁদ ঘোষ নামে একজন কবির পালা রয়েছে।
- এই পালাটি বিভিন্ন নামে পরিচিত - ‘জয়-চন্দ্রাবতী’, 'চন্দ্রাবতী চরিত', 'চন্দ্রাবতী উপাখ্যান'।
- উল্লেখ্য,
চন্দ্রাবতী, মহুয়া, মলুয়া, কমলা, দেওয়ান মদিনা, দেওয়ান ভাবনা, রূপবতী, দস্যু কেনারামের পালা, ভেলুয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য লৌকিক আখ্যানমূলক পালাগান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৬৭.
মধ্যযুগে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মনসাবিজয়
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. চর্যাপদ
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগে বাংলা ভাষায় রচিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম কাব্য লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে রচিত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করেন।
- বাংলা সাহিত্যে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন ঘটনা বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র-বংশজাত দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।

• এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র:
- এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র তিনটি।
- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

উৎস: ১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,২৬৮.
শাহ মুহম্মদ সগীর কোন সুলতানের সভাকবি ছিলেন? 
  1. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ্
  2. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ্
  3. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্
  4. বরবক শাহ্
ব্যাখ্যা

শাহ মুহম্মদ সগীর:
- শাহ মুহম্মদ সগীর মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- আনুমানিক ১৪-এর শেষে থকে ১৫  শতকের মধ্যে তাঁর জন্ম।
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন।
- তাঁর রচিত  ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।
- এ থেকে তাঁর আবির্ভাব কাল চৌদ্দ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগ বলে অনুমান করা হয়। 
- মুহম্মদ সগীরই প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

২,২৬৯.
'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।'- বক্তব্যটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
• চণ্ডীর বহু নামের মধ্যে একটি হলো ‘অন্নদা’। মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ভারতচন্দ্র এ নামেই তাঁর বিখ্যাত কাব্য 'অন্নদামঙ্গল' রচনা করেছেন।

• ভারতচন্দ্র ছিলেন আঠারো শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং তাঁর অন্নদামঙ্গল এ সময়ের শ্রেষ্ঠ কাব্য। কাব্যটি তিন তিনটি স্বতন্ত্র কাহিনিতে পূর্ণতা লাভ করেছে।

• প্রথম খণ্ডে শিবায়ন-অন্নদামঙ্গল, দ্বিতীয় খণ্ডে বিদ্যাসুন্দর-কালিকামঙ্গল এবং তৃতীয় খণ্ডে মানসিংহ-অন্নপূর্ণামঙ্গল কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

• প্রথম উপাখ্যানের মূল ঘটনা পৌরাণিক। এতে সতীর দেহত্যাগ, পার্বতীর বিবাহ, শিবের সংসার ও কাশীতে দেবীর অন্নপূর্ণামূর্তি ধারণের বর্ণনা আছে। সেসঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরিহোড়কে ছেড়ে দেবী কিভাবে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ভবানন্দের পিতৃগৃহে উপস্থিত হন সেই লৌকিক কাহিনি।

• দ্বিতীয়টি বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি। কালিকার কৃপায় কিভাবে সুন্দর বিদ্যার পাণিগ্রহণ করেছিলেন এবং মশান থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন সে কাহিনি বর্ণিত হয়েছে এখানে।

• তৃতীয় অংশটি অনেকটা তিহাসিক। মানসিংহ কর্তৃক প্রতাপাদিত্যকে পরাজিত ও বন্দিকরণ এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নিকট থেকে ভবানন্দের ‘রাজা-ই-ফরমান’ লাভের ঘটনা এখানে বর্ণিত হয়েছে।

• অন্নদামঙ্গল থেকে তৎকালীন বাঙালি সমাজের অনেক তথ্যই পাওয়া যায়। দেবী ও ঈশ্বরী পাটনীর ঘটনা থেকে দেব-মানুষের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানা যায়। ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’ দেবীর নিকট পাটনীর এই বর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুমান করা যায় যে, তখন ন্যূনপক্ষে দুধভাত খাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল বাঙালি জীবন-যাত্রার নিম্নতম মান

কবির বাগ্বিদগ্ধতায় সমৃদ্ধ অনেক বক্তব্য সুপ্রচলিত প্রবচন বা সুভাষিতের মর্যাদা লাভ করেছে। যেমন:
• মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।
• যতন নহিলে নাহি মিলয়ে রতন।
• নীচ যদি উচ্চ ভাষে সুবুদ্ধি উড়ায় হেসে।
• বাপে না জিজ্ঞাসে মায়ে না সন্তাষে যদি দেখে লক্ষ্মীছাড়া।
• হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়
• কড়িতে বাঘের দুধ মিলে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,২৭০.
'অভয়ামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. দ্বিজ রামদেব
  2. দ্বিজ মাধব
  3. দ্বিজ বংশীদাস
  4. দ্বিজ চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
অভয়ামঙ্গল: 
- চট্টগ্রামের কবি দ্বিজ রামদেব চণ্ডী আখ্যায়িকা অবলম্বনে রচনা করেন 'অভয়ামঙ্গল'।
- গ্রন্থটির রচনাকাল ১৬৫৩, মতান্তরে ১৬৫৭-৫৯ সাল।
- অভয়ামঙ্গলে দ্বিজ মাধবের সারদা চরিত্রের প্রভাব পরিলক্ষিত হলেও কাব্যটির স্বাতন্ত্র্য আছে।
- বিশেষ করে কবি বহু কৃষ্ণলীলা  বিষয়ক পদ ও ধুয়া সংযোজন করে কাব্যখানিকে অধিকতর গীতিময় রূপদান করেছেন।

উল্লেখ্য, কবি কঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর 'চণ্ডীমঙ্গলের' অপর নামও অভয়ামঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৭১.
মধ্যুযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. জীবনী সাহিত্য
  2. অনুবাদ সাহিত্য
  3. লোক সাহিত্য
  4. নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ। মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।

- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- 'কানু ছাড়া গীত নাই' উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যুযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৭২.
বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিক্ষণের সময়কাল কোনটি?
  1. ১৭৩০-১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৭৬০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৮৩০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৮৬০-১৯০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

যুগসন্ধিক্ষণ:
- ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত যুগসন্ধিকাল।
- এটিকে অবক্ষয়ের যুগও বলা হয়।
- দ্বিতীয় অন্ধকার যুগ (১৭৬০ থেকে ১৮৩০ খ্রি.) ও বলা হয়।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
- কারণ, ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মারা যাওয়ার পরে বাংলা সাহিত্যের কবিওয়ালা ও শায়েরদের আগমন ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।

২,২৭৩.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের একমাত্র পশ্চিমবঙ্গীয় কবি -
  1. কানা হরিদত্ত
  2. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
  3. নারায়ণ দেব
  4. বিপ্রদাস পিপিলাই
ব্যাখ্যা
কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ:
- পশ্চিমবঙ্গের কবি কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ সতের শতকের মধ্যভাগে জীবিত ছিলেন বলে অনুমিত হয়।
- কবির নাম ক্ষেমানন্দ, কেতকাদাস তাঁর উপাধি।
- তিনি 'মনসামঙ্গল' কাব্যের একমাত্র পশ্চিমবঙ্গীয় কবি। 
- তাঁর মতে 'কিআ পাতে জন্ম হৈল কেতকা সুন্দরী।'
- তাই মনসার অপর নাম কেতকা।
- মনসামঙ্গলের অন্যান্য কবির মতে পদ্মপাতায় জন্ম বলে মনসার অপর নাম পদ্মা; কিন্তু ক্ষেমানন্দের মতে কেয়াপাতায় মনসার জন্মের যে বৃত্তান্ত তা অন্যত্র নেই।
- কবি কেতকা বা মনসার দাস হিসেবে নিজেকে মনে করে কেতকাদাস ভণিতা ব্যবহার করেছেন।
- তার কাব্যের নাম কেতকাপুরাণ। 
- ক্ষেমানন্দের মনসামঙ্গল সর্বপ্রথম মুদ্রণ সৌভাগ্য লাভ করে ১৮৪৪ সালে। 
- এজন্য উনিশ শতকের বাঙালি শিক্ষিত সমাজে কবি সবচয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,২৭৪.
কবি আলাওলের সর্বাধিক পরিচিত কাব্য কোনটি?
  1. সিকান্দরনামা
  2. পদ্মাবতী
  3. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  4. রাগতালনামা
ব্যাখ্যা
‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

• আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

• তার রচিত কাব্য:
- পদ্মাবতী ,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী ,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল ও
- সিকান্দরনামা।

নীতিকাব্য:
- তোহফা, 

সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য: 
- রাগতালনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,২৭৫.
'আপন ঘরে বোঝাই সোনা, পরে করে লেনা দেনা।' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) করিম শাহ
  2. খ) আব্দুল হাকিম
  3. গ) লালন শাহ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন খাঁ
ব্যাখ্যা
বাউল গান লোকগীতির একটি বিশেষ অংশ। বাউল গান মূলত বাউল সম্প্রদায়ের গান। শ্রেষ্ঠ বাউল গান রচয়িতা লালন শাহ। তাকে বাউল সম্রাট বলা হয়। তার রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গান- 'কেউ মালায় কেউ তসবি গলায়, তাইতে যে জাত ভিন্ন বলায়।', 'জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা', 'আপন ঘরে বোঝাই সোনা, পরে করে লেনা দেনা।', 'খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।', 'আমি অপার হয়ে বসে আছি।', 'তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে।', 'এসব দেখি কানার হাট বাজার।', 'মিলন হবে কত দিনে.....।' উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,২৭৬.
কোনটি বাউল গানের বৈশিষ্ট্য?
  1. বীরত্বগাথা ও ভক্তিমূলক
  2. মানবিক আবেগ ও দৈনন্দিন জীবন
  3. আধ্যাত্মিক প্রেম ও অন্তর্গত অনুসন্ধান
  4. পল্লী জীবনের সুখ দুঃখ
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর- আধ্যাত্মিক প্রেম ও অন্তর্গত অনুসন্ধান। 

------------------
বাউল গান: সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ-

বাউল গান হলো বাউল সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক লোকসংগীত। বাউলরা একটি লৌকিক ধর্মীয় সম্প্রদায়, যারা দেহতত্ত্ব ও আত্মসাধনাভিত্তিক এক বিশেষ ধর্মমত পালন করেন। এই ধর্মের কোনো লিখিত শাস্ত্র বা গ্রন্থ নেই; সবকিছু মৌখিক ধারায় গানের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। বাউলরা ধর্মীয় তত্ত্ব ও দর্শন, জীবনবোধ ও আদর্শের কথা গানের ভাষায় প্রকাশ করে সাহিত্যে। 

বাউল গানের মূল ভাবধারা:
• দেহকে মন্দির মনে করে দেহসাধনার মাধ্যমে মানবাত্মা ও পরমাত্মার মিলন সাধন করা।
• পরমাত্মাকে বিভিন্ন প্রতীকী ভাষায় অভিহিত করা হয় — যেমন: মানুষ, মনের মানুষ, অচিন পাখি, মনুরায় ইত্যাদি।
• সাধনা গুরু-নির্ভর; গুরুর দীক্ষা নিয়ে যোগসাধনা, আচার-অনুষ্ঠান ও প্রেম-ভক্তির মাধ্যমে এই মিলন সম্ভব।
• বাউল গানে প্রধানত স্থান পায়: আত্মতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, গুরুতত্ত্ব, প্রেমতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব, মানুষতত্ত্ব।

বাউল গানের প্রধান স্রষ্টা: লালন শাহ (১৭৭৪–১৮৯০)- 
• জন্ম: কুষ্টিয়ার ভাড়রা গ্রাম (মতান্তরে যশোরের হরিশপুর)
• সাধনাস্থল: কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া (এখানেই তাঁর আস্তানা ও সমাধি)
• অবদান: আনুমানিক ২০০০–২৫০০টি বাউল গান রচনা করেন।
• নিজে গাইতেন এবং শিষ্যদের মাধ্যমে ধারাটি ছড়িয়ে দেন।
----------------------

প্রশ্নে প্রদত্ত অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ক) বীরত্বগাথা ও ভক্তিমূলক:
[বাউল গানে বীরত্বগাথা (যুদ্ধ-বীরত্বের কাহিনী) নেই। ভক্তিমূলক উপাদান আছে, কিন্তু এটি প্রধান বৈশিষ্ট্য নয়। বাউল গান মূলত দেহতত্ত্ব, আত্মানুসন্ধান ও অধ্যাত্মিক প্রেম-কেন্দ্রিক।]

খ) মানবিক আবেগ ও দৈনন্দিন জীবন:
[মানবিক আবেগ (প্রেম, বিরহ, মানবতা) আছে, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ বর্ণনা বাউল গানের মূল লক্ষ্য নয়। এগুলো প্রতীকী ভাষায় (যেমন অচিন পাখি, মনের মানুষ) আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের জন্য ব্যবহৃত হয়।]

গ) আধ্যাত্মিক প্রেম ও অন্তর্গত অনুসন্ধান:
[এটিই সবচেয়ে সঠিক ও প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাউল গান দেহ-কেন্দ্রিক আধ্যাত্মিক সাধনা, পরমাত্মার সাথে মানবাত্মার মিলন, আধ্যাত্মিক প্রেম (ভক্তি-রাগ), গুরুতত্ত্ব, প্রেমতত্ত্ব, আত্মতত্ত্ব ইত্যাদি নিয়ে গড়ে ওঠে। লালন শাহের গানে এই অন্তর্গত অনুসন্ধান (অন্তর্মুখী খোঁজ, মনের মানুষের সন্ধান) স্পষ্ট। UNESCO-ও Baul songs-কে spiritual liberation ও God-এর সাথে সম্পর্কের অনুসন্ধান হিসেবে বর্ণনা করে।

ঘ) পল্লী জীবনের সুখ দুঃখ:
[পল্লী/গ্রামীণ জীভনের সুখ-দুঃখ অনেক লোকগানে (যেমন ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া) থাকে, কিন্তু বাউল গানের মূল বিষয় নয়। বাউলরা যাযাবর, দেহ-আত্মা-পরমাত্মার রহস্য নিয়ে গান করে, দৈনন্দিন দুঃখ-সুখের বর্ণনা গৌণ।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,২৭৭.
বাংলা সাহিত্যের অবক্ষয় যুগের ব্যপ্তি ছিল কত বছর?
  1. শত বছর
  2. দেড়শত বছর
  3. দুইশত বছর
  4. তিনশত বছর
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুতির প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৭৮.
‘চৈতন্য-ভাগবত' জীবনীগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বৃন্দাবন দাস
  2. গোবিন্দদাস
  3. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. বৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা
শ্রী চৈতন্যদেব:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য শ্রী চৈতন্যদেব ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম।
- তিনি বাংলা সাহিত্য একটি পঙক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে যার নাম শ্রী চৈতন্যদেব।
- তাঁকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে মধ্যযুগের ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’।
- ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’ তিন প্রকার যথা: জীবনীকাব্য, বৈষ্ণব শাস্ত্র ও পদাবলী
- বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত'।
- বাংলা সাহিত্য ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যর পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র, ডাক নাম নিমাই।
- চৈতন্যদেব জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ এবং মৃত্য ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৭৯.
মধ্যযুগে বাংলা কাব্যে কতজন চণ্ডীদাসের কবিতা পাওয়া যায়?
  1. ক) ২ জন
  2. খ) ৩ জন
  3. গ) ৪ জন
  4. ঘ) ৫ জন
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগে বাংলা কাব্যে অন্তত চারজন চণ্ডীদাসের কবিতা পাওয়া যায়।
এরা হলেন : বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস ও চণ্ডীদাস।
এই চারটি নামের মধ্যে শেষ তিনটি নাম একজনের নাকি তাঁরা পৃথক কবি তা নিশ্চিত করে আজও বলা যাচ্ছে না। এই সমস্যাকেই চণ্ডীদাস-সমস্যা বলে।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,২৮০.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটির প্রথম খণ্ড কোনটি?
  1. সূচনা খণ্ড
  2. জন্ম খণ্ড
  3. পরিচয় খণ্ড
  4. বাণ খণ্ড
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- প্রথম খণ্ড হচ্ছে - জন্ম খণ্ড।
- শেষ খণ্ড হচ্ছে - বিরহ খণ্ড।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুূরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৮১.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি নন কে?
  1. ক) আমির হামজা
  2. খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. গ) দৌলত উজির বাহিরাম খান
  4. ঘ) আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি - শাহ মুহাম্মদ সগীর, দৌলত উজির বাহরাম খান, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর, আব্দুল হাকিম। আমির হামজা ফকির গরীবুল্লাহ রচিত জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৮২.
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য ধারার কবি নন কে?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. দৌলত কাজী
  3. আবদুল হাকিম
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

• রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য ধারার কবি নন - রামপ্রসাদ সেন।
• তিনি শক্ত পদাবলীরএকজন বিখ্যাত কবি।
 
'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান':
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর, দৌলত কাজী প্রমুখ।

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

২,২৮৩.
কোনটি বৈষ্ণব সাহিত্যের প্রকারভেদ নয়?
  1. গৌরচন্দ্রিকা
  2. জীবনীকাব্য
  3. বৈষ্ণবশাস্ত্র
  4. পদাবলি
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত নয় গৌরচন্দ্রিকা।

⇒ বৈষ্ণব পদাবলি:

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।

⇒ মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ। 
বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

অপরদিকে,
⇒ গৌরচন্দ্রিকা:
রাধাকৃষ্ণ বিষয়কে পালাগানের ভূমিকা রূপে গৌরাঙ্গের জীবনেও অনুরূপ ঘটনার অনুবর্তন হয়েছিল তা স্মরণ করে রচিত গৌরলীলার পদকেই বলে গৌরচন্দ্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,২৮৪.
বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের জন্ম খণ্ড-এর প্রধান আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. রাধা–কৃষ্ণের বিরহ ও মান-অভিমান
  2. বড়াইর মাধ্যমে কৃষ্ণের প্রেম নিবেদন 
  3. কৃষ্ণের রাধার সঙ্গে প্রেমের আদিপর্ব
  4. রাসলীলা ও গোপীবিলাস
  5. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’:
- ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং চর্যাপদের পর আবিষ্কৃত দ্বিতীয় প্রাচীনতম বাংলা সাহিত্যকর্ম।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হলো বড়ু চণ্ডীদাস রচিত একটি মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্য।

- ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ অবিভক্ত বাংলার বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে এই কাব্যের একমাত্র খণ্ডিত পুথিটি আবিষ্কার করেন।
- পরে ১৯১৬ সালে তাঁরই সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে পুথিটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের মূল উপজীব্য রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী। 
- এখানে কৃষ্ণের জন্ম, বড়াইয়ের সহযোগিতায় রাধার সঙ্গে তাঁর প্রণয়, এবং অবশেষে মথুরায় গমন—এই তিনটি পর্যায়ে কাহিনী বিন্যস্ত।
-‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি — রাধা, কৃষ্ণ, ও বড়াই (যিনি রাধার সহচরী ও প্রণয়-দূতিকা হিসেবে উপস্থিত)।
- এটি ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ’ নামেও পরিচিত।

 - এই কাব্যটি মোট ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত:
• জন্ম খণ্ড,
• তাম্বুল খণ্ড,
• দান খণ্ড,
• নৌকা খণ্ড,
• ভার খণ্ড,
• ছত্র খণ্ড,
• বৃন্দাবন খণ্ড,
• কালিয়দমন খণ্ড,
• যমুনা খণ্ড,
• হার খণ্ড,
• বাণ খণ্ড,
• বংশী খণ্ড ও
• বিরহ খণ্ড।
------------------------------- 
• 'জন্মখণ্ড':
- বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রথম খণ্ড হলো জন্মখণ্ড।
- এই খণ্ডে মূলত ভৌম বা মর্ত্যলোকে শ্রীকৃষ্ণের অবতাররূপে জন্মের কাহিনি এবং রাধার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সূচনার ভিত্তি উপস্থাপিত হয়েছে। কংসের ভয়ে দেবকীর সন্তান হত্যার পটভূমিতে কৃষ্ণের জন্মের পৌরাণিক উপাখ্যান এখানে বর্ণিত হয়। পাশাপাশি রাধা–কৃষ্ণের পূর্বজন্মের সম্পর্কের আভাস দেওয়া হয়েছে এবং সখীদের মাধ্যমে রাধার সঙ্গে কৃষ্ণের মিলনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, জন্মখণ্ডে কৃষ্ণের আবির্ভাব, রাধার পূর্বকথা ও তাঁদের প্রেমলীলা শুরুর আদিপর্ব একত্রে রূপায়িত হয়েছে।
--------------------------- 
অন্যদিকে,
• বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের তাম্বুলখণ্ড-এ বড়াইর (দূতী) মাধ্যমে কৃষ্ণ রাধার কাছে তাম্বুল পাঠিয়ে প্রেম নিবেদন করেন। রাধা তা প্রত্যাখ্যান করলেও এই খণ্ডে কৃষ্ণের রাধার প্রতি গভীর মুগ্ধতা ও প্রণয়াকাঙ্ক্ষাই মূল আলোচ্য বিষয়।

• বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন-এর দান খণ্ড-এ যমুনাপথে কৃষ্ণ দই-দুধ বিক্রিতে রাধাকে বাধা দিয়ে ‘দান’ দাবি করে প্রণয় নিবেদন করেন। রাধার তীব্র প্রতিবাদ ও রসাত্মক সংলাপের মধ্য দিয়ে এখানে তাঁদের প্রেমলীলা প্রাণবন্তভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

• বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন-এর নৌকাখণ্ড-এ কৃষ্ণ যমুনার মাঝি সেজে রাধা ও বড়াইকে পার করাতে ছলনা করে প্রেম নিবেদন করেন। শেষে রাধার সঙ্গে প্রণয়লীলা সম্পন্ন হয়। 

• বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন-এর বৃন্দাবনখণ্ড বা বংশীখণ্ডে রাধা–কৃষ্ণের প্রেমের মিলনাত্মক পর্যায় ফুটে ওঠে। এখানে রাধা ও গোপীদের সঙ্গে কৃষ্ণের নিবিড় ভক্তিপ্রেম ও ঐশ্বরিক নৃত্যের চিত্র রয়েছে।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

২,২৮৫.
'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯১৬ সালে
  2. খ) ১৩২২ বঙ্গাব্দে
  3. গ) ১৯০৭ সালে
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের পাশাপাশি মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ গ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কার করেন আরও তিনটি পুঁথি। ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) তিনি চারটি পুঁথিকে একত্র করে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশ করেন 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' শিরোনামে। উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,২৮৬.
‘ভেলুয়া’ কোন সংকলন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মৈমনসিংহ গীতিকা
  2. ঠাকুরমার ঝুলি
  3. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা':
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। পূর্ববাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালাগুলো সংগ্রহ করা হয়। এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্‌দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো হলো:
- ভেলুয়া,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৮৭.
‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম -
  1. খনা রানী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. লীলাবতী
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম - লীলাবতী।

খনার বচন:
- খনার বচন  বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি।
- ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- বাংলায়  ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- খনার বচনের বর্তমান ভাষা তার মূল ভাষা নয়, তবে লীলাবতী আর্যার ভাষা অনেকটা মূল ভাষার কাছাকাছি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৮৮.
মণীন্দ্রমোহন বসু বঙ্গানুবাদসহ ‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থের কয়টি পরিচ্ছেদ ‘কায়স্থ’ পত্রিকায় প্রকাশ করেন?
  1. ১০টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা
• সেক শুভোদয়া:
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন।
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,২৮৯.
'বড়ায়ি' বিখ্যাত চরিত্রটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য। এই কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৯০.
ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভোদয়া’ কোন শতাব্দীর রচনা?
  1. একাদশ শতাব্দী
  2. দ্বাদশ শতাব্দী
  3. ত্রয়োদশ শতাব্দী
  4. চতুর্দশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা

সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' এর রচয়িতা হলেন হলায়ূধ মিশ্র।
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হল- সেক শুভোদয়া।
- এটি সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ূধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা।
- গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। তাই ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২,২৯১.
'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?' এই উক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
•'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?' বিখ্যাত উক্তিটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।'
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৯২.
'আলাওল' কোন যুগের কবি?
  1. ক) প্রাচীন যুগ
  2. খ) মধ্যযুগ
  3. গ) আধুনিক যুগ
  4. ঘ) স্বর্ণযুগ
ব্যাখ্যা
• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমুহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্ফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান,
- রাগতালনামা,
- সতীময়ান-লোর-চন্দ্রাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৯৩.
মৈমনসিংহ গীতিকা নয় নিচের কোনটি?
  1. কাজলরেখা
  2. রূপবতী
  3. কমলা
  4. সোনাভান
ব্যাখ্যা

'সোনাভান' ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য।

মৈমনসিংহ গীতিকা:

- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
যথা:
১. মহুয়া,
২. মলুয়া,
৩. চন্দ্রাবতী,
৪. কমলা,
৫. দেওয়ান ভাবনা,
৬. দস্যু কেনারামের পালা,
৭. রূপবতী,
৮. কঙ্ক ও লীলা,
৯. কাজলরেখা
১০. দেওয়ানা মদিনা।

• ভনিতা থেকে কিছু গীত রচয়িতার নাম জানা যায়, যেমন
- মহুয়া- দ্বিজ কানাই, 
- চন্দ্রাবতী- নয়ানচাঁদ ঘোষ,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দস্যু কেনারামের পালা- চন্দ্রাবতী,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,২৯৪.
'সিকান্দারনামা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আব্দুল হাকিম
  2. দৌলত কাজী
  3. আলাওল
  4. শুকুর মহাম্মদ
ব্যাখ্যা
• আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- 'পদ্মাবতী' তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

• তাঁর বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- হপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৯৫.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কতটি গীতিকা স্থান পেয়েছে?
  1. ১০ টি
  2. ১৪ টি
  3. ১৮ টি
  4. ২৩ টি
ব্যাখ্যা
 মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে -  মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
 যথা:
- মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,২৯৬.
বাংলা সাহিত্যে গৌরচন্দ্রিকা বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) গৌরাঙ্গের সম্পূর্ণ জীবনী
  2. খ) গৌরলীলার পদ
  3. গ) রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পালাগান
  4. ঘ) কৃষ্ণের জীবনী
ব্যাখ্যা
 'গৌরচন্দ্রিকা' বাগধারাটির অর্থ ভূমিকা, সূচনা, অনুবন্ধ, প্রবর্তনা, প্রারম্ভ।
বাংলা সাহিত্যে-
রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পালাগানের ভূমিকা রূপে গৌরাঙ্গের জীবনেও অনুরূপ ঘটনার অনুবর্তন হয়েছিল তা স্মরণ করে রচিত গৌরলীলার পদকেই বলে গৌরচন্দ্রিকা। 
গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা গোবিন্দ দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৯৭.
'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- 
  1. তুরস্ক
  2. ইরান 
  3. ভারত 
  4. আরব
ব্যাখ্যা

'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে (১৫৪৩-১৫৫৩) সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে
১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ-ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৯৮.
'পাণিনি' ছিলেন
  1. ক) নাট্যকার
  2. খ) ব্যাকরণবিদ
  3. গ) রাজা
  4. ঘ) কবি
ব্যাখ্যা
- বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনি ছিলেন উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ। তিনি অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থের জন্য বিখ্যাত ।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগে বঙ্গদেশে প্রধানত সংস্কৃত ব্যাকরণেরই চর্চা হয়েছে; খুব সামান্য হয়েছে প্রাকৃত ব্যাকরণের চর্চা। এখানে পাণিনির (আনু. খ্রি.পূ পঞ্চম শতক) অষ্টাধ্যায়ীর সূত্রের সংক্ষিপ্ত রূপান্তরই বেশি জনপ্রিয় ছিল। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৯৯.
কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকায় স্থান পেয়েছে?
  1. ভেলুয়া
  2. দস্যু কেনারামের পালা
  3. রতন ঠাকুর
  4. আয়না বিবি
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকায় গীতিকায় স্থান পেয়েছে - দস্যু কেনারামের পালা

অন্যদিকে,
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা - আয়না বিবি, রতন ঠাকুর, ভেলুয়া।

মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে:
 যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৩০০.
'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' নামে খ্যাত ছিলেন কে?
  1. গোবিন্দদাস
  2. দৌলত কাজী
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস: 
- গোবিন্দদাস ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা। 
- তিনি ছিলেন চৈতন্যত্তোরকালে খ্যাতি অর্জনকারী কবিদের একজন। 
- গোবিন্দদাস 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' নামে খ্যাত একজন কবি। 
- তার কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ৷ 
- তার রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'। 
- তিনি পূর্বরাগ, অভিসার, মান, কলহস্তরিতা, বাসকসজ্জা, মাথুর প্রভৃতি পর্যায়ের পদকর্তা। 
- অভিসার পদ পর্যায়ে গােবিন্দদাস শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। 
- সমালােচকের মতে অভিসার পর্যায়ে তিনি রাজাধিরাজ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।