বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ২১ / ২৮ · ২,০০১২,১০০ / ২,৭৬৪

২,০০১.
''সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে, সকলি গরল ভেল।''- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. জ্ঞানদাস
  3. চণ্ডীদাস
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস:
• জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
• জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন। তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
• তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
• পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে তাঁর কবিতায়-
'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর'

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উক্তি-
''সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে, সকলি গরল ভেল।''

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
২,০০২.
কোনটি গদ্যপদ্যে মিশ্রিত একপ্রকারের চম্পুকাব্য?
  1. গুলে বকাওলী
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. বৈষ্ণব পদাবলি
  4. শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা

'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০০৩.
'সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল' পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. জ্ঞানদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• 'জ্ঞানদাস':
- জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি।
- জ্ঞানদাস বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায়, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় ২শ (মতান্তরে চারশ) পদ লেখেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে জ্ঞানদাসের কবিতায়:
রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।

তাঁর আরো একটি বিখ্যাত পদ:
- সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।
- অমিয়-সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,০০৪.
পৃথিবীতে মোট জাত মহাকাব্য কতটি রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• পাশ্চাত্য মহাকাব্য দু ভাগে বিভক্ত-
যথা:
- জাত মহাকাব্য (Epic of Growth বা Authentic Epic) এবং
- সাহিত্যিক বা অনুকৃত মহাকাব্য (Literary Epic বা Imitative Epic) I

• জাত মহাকাব্য:
- কোন বিশেষ কবির রচনা নয়, তাতে বহু অজানা কবির অসংখ্য রচনা পরবর্তীকালে কেউ একত্রিত করে অখণ্ড কাব্যে রূপ দেন।
- পৃথিবীতে মোট জাত মহাকাব্য ৪টি।
- বাল্মীকির 'রামায়ণ',
- বেদব্যাসের 'মহাভারত',
- গ্রীক কবি হোমারের 'ইলিয়াড' ও 'ওডিসি' এই জাতীয় মহাকাব্য।

• সাহিত্যিক বা অনুকৃত মহাকাব্য:
-  এটি অলঙ্কারশাস্ত্রবিধি সম্মত রচনা।
- একজন বিশেষ কবির প্রতিভায় তা রচিত হয়।
- জাত মহাকাব্য পুরাণ ইতিহাস থেকে কাহিনি নিয়ে রচিত নতুন সৃষ্টির মর্যাদা পায়।
- ভার্জিলের 'ইনিড', মিলটনের 'প্যারাডাইস লস্ট', মধুসূদনের 'মেঘনাদবধ কাব্য' এই শ্রেণির মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২,০০৫.
নিচের কোন কাব্যে 'মনসা দেবী'র কথা উল্লেখ্য রয়েছে?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) পদ্মপুরাণ
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) মনসাবিজয়
ব্যাখ্যা
- মনসামঙ্গল কাব্যে 'মনসা দেবী'র কথা উল্লেখ্য রয়েছে।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম - পদ্মাপুরাণ (পদ্মপুরাণ নয়)।
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি বিজয়গুপ্ত - পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি মনসামঙ্গলকাব্যের যে পুঁথি পাওয়া গেছে, প্রাপ্ত এই পুঁথিভিত্তিক প্রাচীনতম কবি।

এছাড়া
- মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি নারায়ণ দেব
- তাঁর রচিত কাব্যের নামও পদ্মাপুরাণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,০০৬.
বটতলার পুঁথি বলতে কোন এলাকাকে বুঝায়-
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) ফরিদপুর
  3. গ) কোলকাতা
  4. ঘ) শিলিগুড়ি
ব্যাখ্যা
কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামে পরিচিত হয়।গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে ‘মিশ্র ভাষারীতির কাব্য’ বলে অভিহিত করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২,০০৭.
'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।'- বিখ্যাত উক্তিটি মধ্যযুগের কোন কবির রচনা?
  1. বিদ্যাপতি 
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. গোবিন্দদাস
  4. রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।'- বিখ্যাত উক্তিটি মধ্যযুগের কবির রামপ্রসাদ সেনের রচনা। 

• রামপ্রসাদ সেন:

- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত ছিনেন" রামপ্রসাদ সেন"। তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।

- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন। একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদীর পাড়ে রামপ্রসাদের গান শুনে মুগ্ধ হন।

-তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে পরিচিত।


তাঁর বিখ্যাত উক্তি-
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।'

তাঁর রচিত বিখ্যাত গান-
- "মনরে কৃষি কাজ জান না এমন মানবজমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলতো সোনা।"

অন্যদিকে, 
• বিদ্যাপতি বৈষ্ণব পদাবলী রচয়িতা। তিনি পদসঙ্গীত ধারার প্রবর্তক এবং অবাঙালি কবি।
• গোবিন্দদাস ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা। চৈতন্যত্তোরকালে খ্যাতি অর্জনকারী কবিদের একজন। তিনি 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' নামে খ্যাত।
•  বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০০৮.
কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী কাব্যের নাম কী?
  1. ক) শ্রীচৈতন্যভাগবত
  2. খ) শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত
  3. গ) চৈতন্যমঙ্গল
  4. ঘ) গৌরাঙ্গবিজয়
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী কাব্যের নাম - শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত। 

চৈতন্যচরিতকাব্য চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) জীবন ও লীলাবিষয়ক কাব্যধারা।
- এটি মধ্যযুগীয়  বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এর মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যে প্রথম তথ্যানুসৃতি ও ইতিহাস-চেতনার উন্মেষ ঘটে। 

চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী মুরারি গুপ্তের শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃত (১৫৩৬-১৫৪০) কাব্য।
- এটি রচিত হয় সংস্কৃত ভাষায়। 
- বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবত (১৫৪৬-১৫৫০) বাংলায় রচিত পথম চৈতন্যদেবের জীবনী কাব্য।
- লোচনদাস এবং জয়ানন্দ দাস রচিত কাব্যের নাম - চৈতন্যমঙ্গল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০০৯.
এন্টনি ফিরিঙ্গির প্রকৃত নাম কী ছিল?
  1. এডওয়ার্ড অ্যান্টনি
  2. জন অ্যান্টনি​
  3. অ্যান্টনি হেনরি​
  4. এন্টনি হেন্সম্যান
ব্যাখ্যা
এন্টনি ফিরিঙ্গি:
- তিনি ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল।
- তাঁর প্রকৃত নাম এন্টনি হেন্সম্যান। তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিষ্টান।
- তিনি খ্রিষ্টান হলেও বাঙালি কালী সাধক হিন্দুর মত জীবনযাপন করতেন।
- তিনি হিন্দু বিধবাকে বিয়ে করেন এবং কলকাতার বউবাজারে ফিরিঙ্গি কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি চমৎকার বাংলা কবিগান গাইতে ও গান বাঁধতে পারতেন।

তাঁর একটি বিখ্যাত গান:

‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজেত ফিরিঙ্গি
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিব মাতঙ্গী।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০১০.
গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. শ্রীজীব গোস্বামী
  2. বিপ্রদাস পিপিলাই
  3. শ্রীজীব আচার্য
  4. বিদ্যাপতি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ এবং ‘কবিরাজ’ উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০১১.
লোকসাহিত্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কী বলে আখ্যায়িত করেছিলেন?
  1. সাহিত্যের প্রাণস্পন্দন
  2. জনপদের হৃদয়-কলরব
  3. সমাজের প্রতিচ্ছবি
  4. ঐতিহ্যের প্রতিধ্বনি
ব্যাখ্যা

• লোকসাহিত্য:
- লোকের মুখে মুখে প্রচলিত — কাহিনী, গান, ছড়া ইত্যাদি লোকসাহিত্যের ধারা।
- মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে একটি সংহত সমাজমানস থেকে এর উদ্ভব।
- সাধারণত অক্ষরজ্ঞানহীন পল্লিবাসীরা স্মৃতি ও শ্রুতির ওপর নির্ভর করে এর লালন করে।
- মূলে ব্যক্তিবিশেষের রচনা হলেও সমষ্টির চর্চায় তা পুষ্টি ও পরিপক্কতা লাভ করে।
- এজন্য লোকসাহিত্য সমষ্টির ঐতিহ্য, আবেগ, চিন্তা ও মূল্যবোধকে ধারণ করে।
- বিষয়, ভাষা ও রীতির ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারাই এতে অনুসৃত হয়।
- কল্পনাশক্তি, উদ্ভাবন-ক্ষমতা ও পরিশীলিত চিন্তার অভাব থাকলেও লোকসাহিত্যে শিল্পসৌন্দর্য, রস ও আনন্দবোধের অভাব থাকে না।

বিশেষ তথ্য:
• লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
তাই,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে — ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
• লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও  প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।

২,০১২.
লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয় কোনটিকে?
  1. রূপকথা
  2. গীতিকা
  3. গল্প
  4. ছড়া
ব্যাখ্যা
গীতিকা:
- গীতিকা লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
- গীতিকা ছড়ার মত ছোটো নয়, গীতিকা আকারে অনেক বড়।
- এতে বলা হয় নরনারীর জীবন ও হৃদয়ের কথা।
- বাংলা সাহিত্যে গীতিকার রয়েছে বিরাট ভাণ্ডার।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গীতিকা হচ্ছে - মহুয়া, মলুয়া ও দেওয়ান মদীনা, দস্যু কেনারাম ইত্যাদি।

• বাংলাদেশে গীতিকা সাহিত্যে ৩ ধরনের গীতিকা প্রচলিত।
যথা:
১. নাথ গীতিকা,
২. মৈমনসিংহ-গীতিকা ও
৩. পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০১৩.
'চারণকবি' হিসেবে পরিচিত ছিলেন-
  1. মালাধর বসু 
  2. বিদ্যপতি 
  3. মুকুন্দদাস
  4. রামপ্রসাদ সেন 
ব্যাখ্যা

• মুকুন্দদাস 'চারণকবি' হিসেবে পরিচিত।

• মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে মুকুন্দদাসের (১৮৭৮-১৯৩৪) জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু 'চারণকবি' উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০১৪.
বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ কোথা থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথি আবিষ্কার করেন?
  1. শ্রী কৃষ্ণচন্দ্রের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে
  2. বাঁকুড়া জেলার রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে
  3. দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে
  4. নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
• ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
• ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
• কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
• এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০১৫.
'দেওয়ানা ভাবনা' গীতিকার রচয়িতা-
  1. ক) নয়ানচাঁদ ঘোষ
  2. খ) দ্বিজ ঈশান
  3. গ) দামোদর দাস
  4. ঘ) চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা

- ময়মনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
- 'দেওয়ানা ভাবনা' গীতিকার রচয়িতা চন্দ্রাবতী।
- দস্যু কেনারামের পালা ও মলুয়া গীতিকা দুটির রচয়িতাও চন্দ্রাবতী।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।

২,০১৬.
নিচের কোনটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) কৃষ্ণপার দোহা
  3. গ) ডাকার্ণব
  4. ঘ) সেক শুভদয়া
ব্যাখ্যা
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।
• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন- - পাকৃতপৈঙ্গলের (প্রাকৃত ভাষার গীতিকবিতা গ্রন্থ)। রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর 'কলিমা জালাল' বা 'নিরঞ্জনের রুষ্মা' ডাক ও খনার বচন, হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার' অন্তর্গত পীর-মাহাত্ম্যজ্ঞাপক বাংলা 'আর্যা' অথবা 'ভাটিয়ালী রাগেণ গীয়তে'।

অন্যদিকে,
- কৃষ্ণপার দোহা এবং ডাকার্ণব - প্রাচীনযুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- পদ্মাবতী - মধ্যযুগের সাহিত্য নিদর্শন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২,০১৭.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা নন কে?
  1. অকিঞ্চন চক্রবর্তী
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. মুক্তারাম সেন
  4. সহদেব চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা নন - সহদেব চক্রবর্তী
- তিনি ধর্মমঙ্গল ধারার কবি।  

চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী
- অপরাপর মঙ্গলকাব্যে যেখানে একটি কাহিনি বর্তমান, 'চণ্ডীমঙ্গল' এর ব্যতিক্রম, এতে আছে দুটি কাহিনি।
- কাব্যের কাহিনি দুই খণ্ডে বিভক্ত।
- প্রথম-আক্ষেটিক খণ্ড এবং দ্বিতীয়- বণিক খণ্ড।
- প্রথম খণ্ডে আক্ষেটিক বা ব্যাধ কালকেতুর কাহিনি এবং দ্বিতীয় খণ্ডে বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,০১৮.
যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় কাকে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত: 
- উনিশ শতকের প্রথম থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত।
⇒ এই যুগের প্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি যুগসন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্য ও আধুনিক যুগের সন্ধিস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি সব্যসাচীর মত দু হাতে দু দিকের নির্দেশ দিয়েছেন।
- মধ্যযুগের অবসানের পর এবং আধুনিক যুগের যথার্থ সূত্রপাতের পূর্বে কবি ঈশ্বর গুপ্ত কাব্য সাধনায় খ্যাতিলাভ করেন।
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের মৃত্যু ঘটে ১৭৬০ সালে, আবার আধুনিক যুগ স্বকীয় বৈশিষ্ট্য সহকারে প্রকাশ পায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যসৃষ্টির মাধ্যমে মোটামুটি ১৮৬০ সাল থেকে।
- এই দুই যুগের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলা কাব্যের ক্ষেত্রে তেমন কোন উৎকর্ষপূর্ণ সৃষ্টি বা সৃষ্টিসম্ভারের বৈচিত্র্য ও প্রাচুর্য পরিলক্ষিত হয় না।
- তখন বাংলা গদ্যরীতির উদ্ভবের কাল; সাহিত্যের যথার্থ বাহনের উপযোগিতা বাংলা গদ্য তখনও অর্জন করতে পারে নি।
- তাই যুগসন্ধির বৈশিষ্ট্য এই সময়ের সামগ্রিক বাংলা সাহিত্যেই বিরাজমান ছিল।
- এই সময়েই ঈশ্বর গুপ্তের কবিপ্রতিভার বিকাশ ।
---------------------------------
- কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮১২ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৫৯ সালে মৃত্যুমুখে পতিত হন।
- কলকাতায় তাঁর জীবন অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু ইংরেজি শিক্ষাগ্রহণ থেকে তিনি বিরত ছিলেন।
- তাঁর সাহিত্যসাধনার সূত্রপাত হয় ১৮৩১ সাল থেকে 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে।
- তিনি ছিলেন পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রধান লেখক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম। 
২,০১৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন সাহিত্যকে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. বৈষ্ণব সাহিত্য
  2. নাথসাহিত্য
  3. লোকসাহিত্য
  4. মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
• লোকসাহিত্য:
- মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে একটি সংহত সমাজমানস থেকে এর উদ্ভব।
- সাধারণত অক্ষরজ্ঞানহীন পল্লিবাসীরা স্মৃতি ও শ্রুতির ওপর নির্ভর করে এর লালন করে।
- মূলে ব্যক্তিবিশেষের রচনা হলেও সমষ্টির চর্চায় তা পুষ্টি ও পরিপক্কতা লাভ করে।
- এজন্য লোকসাহিত্য সমষ্টির ঐতিহ্য, আবেগ, চিন্তা ও মূল্যবোধকে ধারণ করে।
- বিষয়, ভাষা ও রীতির ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারাই এতে অনুসৃত হয়।
- কল্পনাশক্তি, উদ্ভাবন-ক্ষমতা ও পরিশীলিত চিন্তার অভাব থাকলেও লোকসাহিত্যে শিল্পসৌন্দর্য, রস ও আনন্দবোধের অভাব থাকে না।

লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
তাই,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও  প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,০২০.
‘ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ’ গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরী
  2. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  4. মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা
• ‘Vocabulario em idioma Bengalla e Portuguez’ গ্রন্থ:
ভোকাবুলারিও (Vocabulario)  প্রথম মুদ্রিত বাংলা  ব্যাকরণ। পুরো নাম Vocabulario em idioma Bengalla e Portuguez, সংক্ষেপে Vocabulario। এটি সংকলন করেছিলেন বেশ কয়েকজন পর্তুগিজ ধর্মযাজক এবং সম্পাদনা করেছিলেন Manoel da Assumpcam। ১৭৪৩ সালে লিসবন শহর থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি মূলত এদেশে  খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সুবিধার জন্যই সংকলিত হয়েছিল। পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলায় আসেন এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত তাঁরা এখানে ধর্ম প্রচারের কাজ চালিয়ে যান। এ কাজের জন্য তাঁদের প্রয়োজন ছিল জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন। কিন্তু যেহেতু তারা গ্রামে বাস করত এবং অভিধানটি ধর্মযাজকদের নিজেদের ব্যবহারের জন্যই প্রয়োজনীয় ছিল, সেহেতু মুদ্রিত ৪০ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থটি স্থানীয় ভাষার আদলে রচনা করা হয়। এতে  সংস্কৃত ভাষার কোনো প্রভাব ছিল না। পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর জেলার লোকদের কথোপকথনের ভিত্তিতে ব্যাকরণটি রচিত হয়। এখানেই এর বিশেষত্ব।

-----------------------
• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ ছিলেন একজন পর্তুগিজ।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেনি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

এর মধ্যে ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ গ্রন্থে একটি অধ্যায়ে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন। তাই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০২১.
কালিকামঙ্গল কাব্যে কার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. দেবী সরস্বতী
  2. দেবী লক্ষ্মী
  3. দেবী কালি
  4. দেবী দুর্গা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) দেবী কালি

কালিকামঙ্গল:
- কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দর কাহিনি' বলা হয়।
- দেবী কালির মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে।
- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কবি কঙ্ক।
- এছাড়া সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন কালিকা মঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

২,০২২.
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?" - কার রচনা?
  1. ক) আবদুল হাকিম
  2. খ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) নিধুবাবু
ব্যাখ্যা
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"-  লাইনগুলোর রচয়িতা রামনিধি গুপ্ত বা নিধুবাবু। 
--------------

নিধুবাবু (১৭৪১-১৮৩০):
- তিনি সঙ্গীতশিল্পী ও টপ্পা গানের জনক।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘রামনিধি গুপ্ত’, কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিনি ‘নিধু গুপ্ত’ নামেই পরিচিত।
- কেউ কেউ তাঁকে ‘নিধুবাবু’ বলেও ডাকতেন।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চাপ্তায় মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পিতা হরিনারায়ণ গুপ্ত পেশায় ছিলেন একজন কবিরাজ এবং তিনি কলকাতার কুমারটুলিতে সপরিবারে বাস করতেন।

- নিধু বাবু বাংলা ভাষায় টপ্পাগীতি রচনা ও সুরারোপ করে নিজেই তা গাইতেন। ক্রমে তাঁর গানের সমঝদার জোটে এবং কলকাতার নগরসমাজে তিনি অল্পদিনেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
- বর্ধমানের মহারাজা তেজেশচন্দ্র রায়বাহাদুর তাঁর গানের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।
২,০২৩.
​নাথসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?​
  1. চৈতন্যচরিতামৃত
  2. মাণিকচন্দ্রের গান
  3. গোপীচন্দ্রের গান
  4. ময়নামতীর গান
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনি ভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষবিজয়’।
- রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

অন্যদিকে,
শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী - 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০২৪.
রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম কী ছিলো?
  1. নিরঞ্জনের উষ্মা
  2. শূন্যপুরাণ
  3. সেক শুভোদয়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'শূন্যপুরাণ': 
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। 
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম। 
২,০২৫.
আলাওল রচিত 'তোহফা' কোন ধরনের কাব্য?
  1. আত্মজীবনী
  2. প্রণয়কাব্য
  3. নীতিকাব্য
  4. জঙ্গনামা
ব্যাখ্যা

• 'তোহফা' কাব্য:
- 'তোহফা' গ্রন্থটি কবি আলাওলের পঞ্চম রচনা। এই কাব্য বিখ্যাত সুফী সাধক শেখ ইউসুফ গদা দেহলভীর 'তোহফাতুন নেসায়েহ্' নামক ফারসি গ্রন্থের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৬৪ সালে এ কাব্য সমাপ্ত করেন। তখন নিজের অবস্থা সম্পর্কে কবি বলেছেন:মুই আলাওল হীনদৈববশ অনুদিনবিধি বিড়ম্বিল বৃদ্ধকাল।ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধীয় তত্ত্বোপদেশপূর্ণ এ গ্রন্থটি শ্রীমন্ত সোলেমানের নির্দেশে রচিত হয়েছিল।
- তোহফা গ্রন্থটি কাব্যাকারে রচিত হলেও ধর্মীয় নীতিকথাই এতে রূপ লাভ করেছে।
- ধর্মীয় তত্ত্বমূলক ও নৈতিক উপদেশাত্মক কাব্য তোহফা পঁয়তাল্লিশ অধ্যায়ে বিভক্ত এবং এর বিভিন্ন অধ্যায়ে মুসলমানদের ধর্ম আচার-আচরণ কর্তব্য ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
- তৌহিদ, ইমান, এল্ম, শাস্ত্রব্যবস্থা, এবাদত, বিবাহ ইত্যাদি ধর্মীয় সামাজিক ও দৈনন্দিন জীবনের পালনীয় কর্তব্য সম্পর্কে পয়ার ছন্দে রূপ দিয়ে আলাওল মুসলমানদের জন্য অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ হিসেবে এর মর্যাদা দিয়েছেন।

আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা,

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০২৬.
বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্য দেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-ভাগবত
  2. চৈতন্য-মঙ্গল
  3. চৈতন্য-চরিতামৃত
  4. রামচরিত
ব্যাখ্যা
• শ্রীচৈতন্য দেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ চৈতন্য-ভাগবত

• শ্রীচৈতন্য দেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- ‘মুরারি গুপ্ত কড়চা’ নামে পরিচিত। তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম ‘শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম’।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০২৭.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা নন কে?
  1. কানা হরিদত্ত
  2. বিজয় গুপ্ত
  3. নারায়ণ দেব
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন  'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

'মনসামঙ্গল' কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।
-------------
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো:
- দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০২৮.
মধ্যযুগের কবি শুকুর মাহমুদ কোন জেলার অধিবাসী ছিলেন?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) বগুড়া
ব্যাখ্যা
শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি। তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ। তার রচিত কাব্যের নাম- গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২,০২৯.
বাংলা সাহিত্যে চৈতন্য যুগের সময়সীমা কোনটি?
  1. ১২০১-১৫০০
  2. ১৫০১-১৬০০
  3. ১৬০১-১৮০০ 
  4. ১৮০১-১৯০০
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:

১. আদি যুগ :
প্রাক্-তুর্কি আক্রমণ যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত বিস্তৃতি ছিল। চর্যাপদ ছিল আদি যুগের  একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

২. মধ্যযুগ :  
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার চার শতাব্দী ধরে।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে তিনটি ভাগ যথাক্রমে:
- ১২০১-১৫০০ - প্রাকচৈতন্য যুগ;
- ১৫০১-১৬০০ চৈতন্য যুগ;
- ১৬০১-১৮০০ চৈতন্য পরবর্তী যুগ।

এছাড়া ১২০১-১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।

৩.আধুনিক যুগ:
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ। এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।
- আখ্যনকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র- সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম। 

২,০৩০.
'সনকা' কোন কাব্যধারার চরিত্র?
  1. চণ্ডীমঙ্গলের কাব্য
  2. মনসামঙ্গল কাব্য 
  3. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  4. ধর্মমঙ্গল কাব্য
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

'সনকা'- মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যধারার চরিত্র।

• 'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য। 
কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
- মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- চাঁদ সওদাগর, সনকা, বেহুলা, লখিন্দর।

তাছাড়া,
• চণ্ডীমঙ্গলের কাব্যের চরিত্র- কালকেতু, ফুল্লরা, ভাড়ুদত্ত, মুরারিশীল।
• ধর্মমঙ্গল কাব্যের চরিত্র- কর্পূর সেন, মহামদ পাত্র।
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- ঈশ্বরী পাটনী, হীরা মালিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০৩১.
অন্ধকার যুগের কবি ছিলেন-
  1. হৃদয়রাম
  2. ময়ূর ভট্ট
  3. শ্রীশ্যাম পণ্ডিত
  4. রামাই পণ্ডিত
ব্যাখ্যা

• অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
• 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূণ্যপুরাণ'। এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা এবং 'কলিমা জালাল'। 
• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'।

অন্যদিকে,
• 'ধর্মমঙ্গল' কাব্যের লেখক হলেন- ময়ূর ভট্ট,  শ্রীশ্যাম পণ্ডিত, হৃদয়রাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।

২,০৩২.
শ্রীচৈতন্যদেব কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. হুগলি
  2. নবদ্বীপে
  3. চম্পকপুর
  4. সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামে
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- ১৫৩৩ সালে পুরীতে মারা যান।
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
- প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
২,০৩৩.
পশুপাখিরা যখন চরিত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে অলৌকিক কাহিনি লিখিত হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. উপকথা 
  2. রূপকথা
  3. ঝুলি
  4. গপ্প
ব্যাখ্যা

উপকথা:
পশুপাখিরা যখন চরিত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে অলৌকিক কাহিনি লিখিত হয় তখন তাকে উপকথা বলে।
যেমন: বেঙ্গমা-
বেঙ্গমী, শুক-সারী, টোনা-টুনি কিংবা পক্ষীরাজ ঘোড়ার কাহিনি।

উল্লেখ্য,
• রূপকথা: 
- শিশুতোষ কল্পকাহিনি হলো রূপকথা।
- এগুলোতে রাক্ষস-খোক্ষস, দৈত-দাবন, জিন-পরি, রাজা-রানিদের কাহিনি থাকে।
- ঠাকুরমার ঝুলি ও ঠাকুরদাদার ঝুলি দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২,০৩৪.
'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' সাহিত্য ধারার কবি নন কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. নওয়াজিশ খান
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
⇒ 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারা:
• অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'। 
• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, নওয়াজিশ খান, সৈয়দ সুলতান, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর, মুহম্মদ কবীর প্রমুখ।
• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কারবালা ও ইসলামিক বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মুলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য। মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ।

• মীননাথের প্রতিষ্ঠিত নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনী অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য। নাথ সাহিত্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৩৫.
মঙ্গলকাব্যের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? 
  1. লোকায়াত দেব-দেবীর পূজা প্রচার
  2. দেবতার কাহিনি বর্ণনা
  3. প্রেমকাহিনি বর্ণনা
  4. ধর্মীয় শিক্ষার প্রচার
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্যকে মধ্যযুগের উপন্যাস বলা হয়।
- এটি মূলত কাহিনিকেন্দ্রিক ও আখ্যানপ্রধান সাহিত্য।
- প্রায় পাঁচশো বছর ধরে এই ধারার কাব্য রচিত হয়েছে—বিশেষত পনেরো শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠারো শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত সময়কালজুড়ে।

- মঙ্গলকাব্যের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল লোকায়াত দেব-দেবী, বিশেষ করে দেবীর পূজা প্রচার ও গুণগান করা।
- এই কাব্যের দেব-দেবীরা মূলত অনার্য (অস্ট্রিক) জনগোষ্ঠীর দেবতা, যাদের পূজাপদ্ধতি আর্যদের আগমন সত্ত্বেও লোকসমাজে প্রচলিত ছিল।
- মঙ্গলকাব্যে মোট ৬২ জন কবির নাম পাওয়া যায়। 
- এই কাব্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

- মঙ্গলকাব্যের উদ্ভবের পেছনে ছিল একটি সুস্পষ্ট সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। আর্যদের আগমনের পর আর্য ও অনার্যদের সংস্পর্শ ঘটলেও অনার্যরা নিজেদের লৌকিক দেবতার পূজা চালু রাখে। পরবর্তীতে তুর্কি আক্রমণের ফলে ব্রাহ্মণ্য ধর্ম ও সমাজ সংকটে পড়ে, আর মুসলিম ধর্মের উদারতায় অনেকেই আকৃষ্ট হয়। এই পরিস্থিতিতে হিন্দু সমাজ ও মুসলিম সমাজের সংঘর্ষ ও প্রতিক্রিয়ার ফল হিসেবেই মঙ্গলকাব্যের উদ্ভব ঘটে—লোকদেবতার মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াসে।

- কাব্যরীতির দিক থেকে দেখা যায়, কবিরা সাধারণত স্বপ্নে দেবতার আদেশপ্রাপ্ত হয়ে কাব্য রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। কাহিনির শুরু হয় গণেশ, পিতা-মাতা বা রাজাদের স্তুতি দিয়ে। কাব্যের নায়ক সাধারণত কোনো স্বর্গভ্রষ্ট বা শাপভ্রষ্ট দেবতা, যিনি স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে মর্ত্যে মানুষরূপে জন্মগ্রহণ করেন; তার স্ত্রীও সঙ্গে জন্ম নেন। মর্ত্যে তারা মানুষের মতো জীবনযাপন করেন এবং দেবীর পূজা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করেন। শেষে পূজা প্রতিষ্ঠিত হলে নায়ক-নায়িকা শাপমুক্ত হয়ে পুনরায় স্বর্গে প্রত্যাবর্তন করেন।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

২,০৩৬.
বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. বৃদ্ধাবন দাস 
  2. লোচন দাস
  3. কৃষ্ণদাস 
  4. গোবিন্দদাস 
ব্যাখ্যা

• শ্রীচৈতন্যদেব ও জীবনীসাহিত্য:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০৩৭.
কোন কাব্যে আলাওল ব্যক্তিগত জীবনের কথা লিখেছেন?
  1. পদ্মাবতী
  2. হপ্তপয়কর
  3. সিকান্দরনামা
  4. তোহ্‌ফা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক) পদ্মাবতী।

• আলাওলের 'পদ্মাবতী' কাব্য এবং ব্যক্তিগত জীবনের রূপায়ণ:
আলাওল, মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একজন শ্রেষ্ঠ কবি, তাঁর ‘পদ্মাবতী’ কাব্যে — ব্যক্তিগত জীবনের কিছু উল্লেখ করেছেন। এ কাব্যের প্রথম অংশে, আলাওল তাঁর জীবনের দুঃখ, আরাকানে আগমন, হার্মাদের (পর্তুগিজ জলদস্যুদের) সঙ্গে যুদ্ধ এবং রোসাঙ্গে রাজ-আসোয়ার হিসেবে জীবনযাপনের বিবরণ দিয়েছেন। এই অংশটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও জীবনের ঘটনাপ্রবাহের প্রতিফলন ঘটায়। ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের প্রস্তাবনা ও অন্যান্য অংশে এই ধরনের ব্যক্তিগত উল্লেখ বেশি প্রকাশ পায়, যা তাঁর অন্যান্য কাব্যের তুলনায় স্বতন্ত্র।

• 'পদ্মাবতী' কাব্যে আত্মকথায় কবি লিখেছেন - 

মুলুক ফতেয়াবাদ গৌড়েতে প্রধান।
তথাতে জালালপুর অতি পুণ্য স্থান।
বহু গুণবন্ত বৈসে খলিফা ওলেমা।
কথেক কহিব সেই দেশের মহিমা ।
মজলিস কুতুব তথাত অধিপতি। মুই দীন হীন তান অমাত্য সন্ততি ॥ কার্যহেতু যাইতে পন্থে বিধির ঘটন।
হার্মাদের নৌকা সঙ্গে হৈল দরশন ।
বহু যুদ্ধ আছিল শহীদ হৈল তাত। রণক্ষতে ভোগযোগে আইলু এথাত ।
কহিতে বহুল কথা দুঃখ আপনার।
রোসাঙ্গে আসিয়া হৈলু রাজ-আসোয়ার।
বহু বহু মুসলমান রোসাঙ্গে বৈসন্ত। সদাচারী, কুলীন, পণ্ডিত, গুণবন্ত।
সবে কৃপা করন্ত সম্ভাষি বহুতর। তালিম আলিম বলি করন্ত আদর।


‘পদ্মাবতী’ কাব্য সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য:

• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।

• কাব্যটিতে — দুইটি পর্ব রয়েছে।
এদের মধ্যে- 
প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 
---------------------
• সাহিত্যিক পরিচিতি: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- আধুনিক যুগের লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।
---------------------

অন্যান্য অপশন সম্পর্কিত তথ্য:

(খ) হপ্তপয়কর:
- 'হপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। এটি আলাওল রচিত কাব্য।- আরাকান রাজসভায় আলাওল এই কাব্য রচনা করেন। সম্ভবত ১৬৬৫ এর রচনাকাল।
- প্রসিদ্ধ কবি নিজামির পারসি ভাষায় বর্তমান কাব্য রচনা করেন।
- রাজপুত্র বহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তার সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

(গ) সিকান্দরনামা:
- এটি ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি নিজামির গ্রন্থের সরল অনুবাদ।

(ঘ) তোহফা:
- এটি একটি ধর্মীয় ও নৈতিক কাব্য।
- 'তোহফা' গ্রন্থটি কবি আলাওলের পঞ্চম রচনা। এই কাব্য বিখ্যাত সুফী সাধক শেখ ইউসুফ গদা দেহলভীর 'তোহফাতুন নেসায়েহ্' নামক ফারসি গ্রন্থের অনুবাদ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া

২,০৩৮.
'ফুল্লরা' মধ্যযুগের কোন সাহিত্যধারার চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. কালিকামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'ফুল্লরা' মধ্যযুগের চণ্ডীমঙ্গল ধারার চরিত্র।

চণ্ডীমঙ্গল: 
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।
- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়

অন্যদিকে,
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৩৯.
গড়ন ভাঙিতে সই আছে কত খল।
ভাঙিয়া গড়িতে পারে সে বড় বিরল॥- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি 
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. জ্ঞানদাস 
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে। 

- বাংলা সাহিত্যে একাধিক চণ্ডীদাস নিয়ে জটিল চণ্ডীদাস সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এর যথার্থ সমাধান নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে যত মতানৈক্যই থাকুক না কেন চৈতন্য পূর্ববর্তী পদাবলির চণ্ডীদাসের বিস্ময়কর প্রতিভা সম্পর্কে কোনও মতবিরোধের অবকাশ নেই। চণ্ডীদাসের আবির্ভাবের স্থান ও কাল নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তের এখনও অভাব রয়েছে। সম্ভবত তিনি চৌদ্দ শতকের শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

- চণ্ডীদাসের বিস্ময়কর প্রতিভার পরিচায়ক আশ্চর্য সুন্দর পদগুলোতে অপূর্ব ভাবতন্ময় কৃষ্ণপ্রেম- সাধিকা শ্রীরাধার যে মনোমুগ্ধকর চিত্র রূপায়িত হয়ে উঠেছে তা কয়েক শতাব্দী ধরে বাঙালির রসপিপাসু মনের পরিতৃপ্তি সাধন করে যাচ্ছে। তাঁর পদাবলির 'অনাবৃত প্রাণের নিরাভরণ আনন্দ-বেদনায় মেদুর মুহূর্তগুলো পাঠকের মনে যে প্রশান্তি, স্নিগ্ধতা ও প্রাপ্তির আনন্দঘন উপলব্ধি সৃষ্টি করে' তার মূল্য অপরিসীম।

- শিক্ষিত বাঙালি বৈষ্ণব সাহিত্যের রস ও আনন্দের সংবাদ পেয়েছে চণ্ডীদাসের পদাবলি থেকে। কবি রাধার মনের বিচিত্র অনুভূতিকে আশ্চর্য সুন্দর ভাষায় রূপদান করে বাঙালির চিরদিনের সমাদর লাভের উপযোগী করে গেছেন। তাঁর পদাবলিতে রাধাকৃষ্ণের প্রেমানুভূতির রূপকের মাধ্যমে সে ধর্মীয় চেতনা প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি এর রূপকের বাইরে একটা সর্বজনীন ও সার্বভূমিক আবেদন বিদ্যমান।

- চন্ডীদাসের নামযুক্ত পদসমূহ দীর্ঘকাল বাংলার ঘরে ঘরে গীত হয়েছে। তিনিই বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি। তাঁর বিখ্যাত উক্তি ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ বাঙালির দর্শনচিন্তা এবং মানবতাবোধের অপূর্ব নিদর্শন। চন্ডীদাসের নামাঙ্কিত পদের সংখ্যা ন্যূনাধিক এগারশ।

চণ্ডীদাসের কতগুলো পঙ্‌ক্তি প্রবাদের মতো-
১. কলঙ্কের ডালি মাথায় করিয়া আনল ভেজাই ঘরে। 
২. তোমার লাগিয়া কলঙ্কের হার গলায় পরিতে সুখ। 
৩. চোরের মা যেন পোয়ের লাগিয়া ফুকরি কাঁদিতে নারে।
৪. গড়ন ভাঙিতে সই আছে কত খল। ভাঙিয়া গড়িতে পারে সে বড় বিরল॥ 
৫. বিধিরে কি দিব দোষ করম আপনা। সুজনে করিনু প্রেম হইল কুজনা॥
৬. ঘর হইতে আঙিনা বিদেশ।
৭. পিরীতি আঠা ননদী কাঁটা পড়শী হৈল ফাঁসী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

২,০৪০.
'নব কবিশেখর' মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি?
  1. বিদ্যাপতি
  2. জয়দেব 
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. জ্ঞানদাস 
ব্যাখ্যা

• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি বাঙালি না হয়েও অথবা বাংলায় কবিতা রচনা না করেও 'বাঙালি বৈষ্ণবের গুরুস্থানীয়, রসিক বাঙালির শ্রদ্ধেয় কবি, বৈষ্ণব সহজিয়া সাধকদের নবরসিকের অন্যতম।

- 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত এই বিস্ময়কর প্রতিভাশালী কবি একাধারে কবি, শিক্ষক, কাহিনিকার, ঐতিহাসিক, ভূবৃত্তান্ত-লেখক ও স্মার্ত নিবন্ধকার হিসেবে ধর্মকর্মের ব্যবস্থাদাতা ও আইনের প্রামাণ্য গ্রন্থের লেখক ছিলেন।

- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।

- বিদ্যাপতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তাঁর কবিতায় কিছু বলেন নি। বিভিন্ন গবেষকের তথ্য থেকে জানা যায় বিদ্যাপতি দ্বারভাঙ্গা জেলার অন্তর্গত বিসফী নামক গ্রামে ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। বিদ্যাপতির জীবনকথা মিথিলার রাজবংশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িত ছিল। বিদ্যাপতি ভারতচন্দ্রের মতই নাগরিক জীবনের কবি। বিদ্যাপতির কবিতা রসজ্ঞ রাজন্যবর্গ ও রাজসেবক কর্মচারিগণের রসতৃষ্ণা মিটানোর জন্য রচিত হয়েছিল। অপরদিকে স্মার্ত পণ্ডিত হিসেবে মিথিলার শিথিলীকৃত ব্রাহ্মণ সমাজকে নতুন করে নিয়মপাশে বদ্ধ করার প্রয়োজনে স্মৃতি সংহিতার বিধিনিষেধকে পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছিলেন।

- কবি, রসিক, পণ্ডিত ও ভাষার যাদুকর বিদ্যাপতি সংস্কৃত অবহটঠ ও মৈথিল বুলিতে তাঁর জ্ঞান, চিন্তা, রসবোধ ও কাব্যকুশলতার সার্থক পরিচয় দান করেছেন।

অন্যদিকে, 
- বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনি প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

২,০৪১.
'মানসিংহ এবং ভবানন্দ' চরিত্র দুটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৪২.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের আবিষ্কারক কে?
  1. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. বসন্তরঞ্জন রায়
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য। এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ। 
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য।  মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত। 

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২,০৪৩.
বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ কোন সময়কালকে বলা হয়?
  1. ১৪৫১–১৫০০
  2.  ১৩৫১–১৪৫০
  3. ১২০১–১৩৫০ 
  4.  ১১০১–১২০০
ব্যাখ্যা

• অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বলে অভিহিত করেছেন।

• অন্ধকার যুগের কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া'।

• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,০৪৪.
মঙ্গলকাব্যের কবি নন কে?
  1. বিজয়গুপ্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. কানাহরি দত্ত
  4. দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা
অপশনগুলোর মধ্যে, 
- 'বিজয়গুপ্ত' হলেন মনসামঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি ।
- 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর' - অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা।
- 'কানাহরি দত্ত' হলেন মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি।

অন্যদিকে, 
• পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন: দাশরথি রায়। তিনি মঙ্গলকাব্যের কবি নন।

• দাশরথি রায়:
১৮০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, 
- ১৮৩৬ সালে আখড়া গঠন করে ছড়া ও পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই দাশরথি খ্যাতনামা পাঁচালিকার হিসেবে নবদ্বীপের পণ্ডিতসমাজে উচ্চ প্রশংসিত হন।
- তাঁর গানগুলি রাগসুরে রচিত এবং তাতে টপ্পা অঙ্গের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- পাঁচালিকে বিভিন্ন শ্রেণির শ্রোতাদের উপভোগ্য করে তোলেন, যা ‘দাশুরায়ের পাঁচালি’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৪৫.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে কার জীবনকাহিনি অবলম্বনে জীবনী সাহিত্যের সৃষ্টি হয়েছে?
  1. বিদ্যাপতির
  2. রাধা কৃষ্ণের
  3. চৈতন্যদেবের
  4. বিষ্ণুদেবের
ব্যাখ্যা
• জীবনী সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের গতানুগতিক ধারায় জীবনী সাহিত্য এক বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। শ্রীচৈতন্যদেব ও তাঁর কতিপয় শিষ্যের জীবনকাহিনি অবলম্বনে এই জীবনী সাহিত্যের সৃষ্টি। তবে এর মধ্যে চৈতন্য জীবনীই প্রধান।

- চৈতন্যদেব জীবিতকালেই কারও কারও কাছে অবতাররূপে পূজিত হন। তাঁর শেষজীবন দিব্যোন্মাদ রূপে অতিবাহিত হয়েছে বলে তাঁর পক্ষে ধর্মমত্ব প্রচার করা সম্ভব হয় নি। তাঁর শিষ্যরা এ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ধর্মপ্রচার করতে গিয়ে তাঁরা শ্রীচৈতন্যের জীবনকাহিনি আলোচনা করতেন।

চৈতন্যের জীবদ্দশায়ই সংস্কৃত শ্লোকে, কাব্যে ও নাটকে এবং বাংলা গানে ও কাব্যে তাঁর চরিতকথা স্থান পেয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর জীবনী সাহিত্য সৃষ্টিতে প্রাচুর্য এসে বাংলা সাহিত্যে স্বাতন্ত্রী এনেছে। বৈষ্ণব জীবনী সাহিত্যেই রক্ত-মাংসের মানুষ সর্বপ্রথম বাংলা সাহিত্যে একক প্রসঙ্গ হয়ে আত্মপ্রকাশ করল।

• চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী মুরারি গুপ্তের শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃত (১৫৩৬-১৫৪০) কাব্য। এটি রচিত হয় সংস্কৃত ভাষায়।
• বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবত (১৫৪৬-১৫৫০) বাংলায় রচিত পথম চৈতন্যদেবের জীবনী কাব্য।
• লোচনদাস এবং জয়ানন্দ দাস রচিত কাব্যের নাম - চৈতন্যমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,০৪৬.
রোসাঙ্গ-রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত হয়েছে—
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) কাজল রেখা
  4. ঘ) কঙ্ক ও লীলা
ব্যাখ্যা
কোরেশী মাগন ঠাকুর
মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- চন্দ্রাবতী কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর এবং আরাকানের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দিক বংশজাত মাগন ঠাকুর একই ব্যক্তি ছিলেন এরূপ মনে করে তাঁর জীবনকথা আলোচনা করা হয়।
- বাংলা, ফারসি, বর্মি ও সংস্কৃত ভাষায় মাগন ঠাকুরের অগাধ পান্ডিত্য ছিল। সঙ্গীত ও অলঙ্কারশাস্ত্রেও তাঁর দখল ছিল।
- রোসাঙ্গের কবি  আলাওল তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন এবং তাঁরই নির্দেশে  পদ্মাবতী (১৬৫২) রচনা করেন।

পদ্মাবতী
মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি  আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দিপদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন।
- এর রচয়িতা ছিলেন মালিক মোহাম্মদ জায়সী। পদ্মাবতী দুটি পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান।
- দ্বিতীয় পর্বে রাণী পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।
- হিন্দি কাব্যে সুফিবাদের প্রতিফলন আছে, কিন্তু বাংলায় তা লৌকিক প্রেমকাব্যে পরিণত হয়েছে।
- লোককাহিনী ও ইতিহাসের মিশ্র পটভূমিতে রচিত এ কাব্যে প্রেম, অভিযাত্রা, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও মিলন-বিরহের সমন্বয়ে মধ্যযুগীয় রোম্যান্টিক কাব্যের রসাস্বাদন করা যায়।
- এ কাব্যে আলাওলের কবিত্বশক্তির পাশাপাশি ভাষাজ্ঞান ও পান্ডিত্যের পরিচয় পাওয়া যায়।
- শিল্প ও ভাষার উৎকর্ষের জন্য পদ্মাবতী  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য কাব্যের মর্যাদা লাভ করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,০৪৭.
আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি কে ছিলেন?
  1. আলাওল
  2. আবদুল করিম খন্দকার
  3. দৌলত কাজী
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি - দৌলত কাজী।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করিম খন্দকার,
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

২,০৪৮.
'টপ্পা' কী?
  1. এক ধরনের গান
  2. বাদ্যযন্ত্র
  3. নাচের মুদ্রা
  4. বিশেষ ধরনের খেলা
ব্যাখ্যা
কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ। 
- বাংলা  টপ্পাগানের জনক ছিলেন  নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত ।
- তাঁর টপ্পাগানের সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)। 

বিখ্যাত টপ্পাগান-
"নানান দেশের নানান ভাষা।
বিনে স্বদেশীয় ভাষা
পুরে কি আশা।।" -এর রচয়িতা নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৪৯.
কোনটি অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  3. সেক শুভোদয়া
  4. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নয় - সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল।
- 'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' মধ্যযুগের রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্যকর্ম।

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
- সেক শুভোদয়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৫০.
লৌকিক ছন্দ কাকে বলে?
  1. ক) গদ্য ছন্দকে
  2. খ) স্বরবৃত্তকে
  3. গ) মাত্রাবৃত্তকে
  4. ঘ) অক্ষরবৃত্তকে
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকার ছন্দঃ
১. স্বরবৃত্ত ছন্দকে লৌকিক ছন্দ বলে। রবীন্দ্রনাথ এটিকে 'ছড়ার ছন্দ' বলেছেন।
২. মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান ছন্দ বলে।
৩. অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান বলে।
৪. পয়ার ছন্দে অন্তমিল থাকে।
৫. অমিত্রাক্ষর ছন্দে অন্তমিল থাকে না।
২,০৫১.
‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’ গ্রন্থটির প্রধান রচয়িতা কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মনসুর বয়াতি
  3. কোরেশী মাগন ঠাকুর 
  4. দৌলত কাজী
  5. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’ গ্রন্থটির প্রধান রচয়িতা- দৌলত কাজী। 
--------------------
• দৌলত কাজী:
- দৌলত কাজী (আনুমানিক ১৬০০-১৬৩৮) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন প্রখ্যাত কবি।
- তিনি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছোটবেলায়ই বিভিন্ন শাস্ত্রে দক্ষতা অর্জন করেন।
- তবে স্বদেশে পর্যাপ্ত স্বীকৃতি না পাওয়ায় আরাকান রাজ্যে চলে যান।
- সেখানে তিনি রাজদেবহর অশ্বারোহী এবং সভাকবির মর্যাদা লাভ করেন।
- আরাকানরাজ শ্রীসুধর্মার পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সমরসচিব আশরফ খানের নির্দেশনায় দৌলত কাজী সাহিত্যকর্মে নিয়োজিত ছিলেন।
--------------------- 
‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’:
- দৌলত কাজী রচিত ‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’ (১৬২২-১৬৩৮) একটি মধ্যযুগীয় রোমান্টিক আখ্যানকাব্য।

- কাব্যটির মূল উপজীব্য হলো সামন্তপতি লোর, চন্দ্রানী এবং ময়নার প্রেম, লোরের পরকীয়া প্রেম এবং শেষ পর্যন্ত ময়নাবতীর সঙ্গে পুনর্মিলন। এটি হিন্দি কবি মিয়া সাধনের ‘মৈনাসৎ’ কাব্য অবলম্বনে লেখা হয়েছে। দৌলত কাজী কাব্যের দুই-তৃতীয়াংশ রচনা করার পর মৃত্যু হলে, কবি আলাওল ১৬৫৯ সালে বাকি অংশ সম্পূর্ণ করেন। কাব্যটি মানবিক জীবনরস, সংযমী বর্ণনা এবং শিল্পসৌন্দর্য দ্বারা সমৃদ্ধ, যেখানে গ্রামীণ সমাজ, প্রেম ও সতীত্বের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এটি চট্টগ্রাম ও আরাকান অঞ্চলের বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
-------------------------- 
অন্যদিকে, 
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা। 
- মনসুর বয়াতি- দেওয়ানা মদিনা পালার রচয়িতা।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর- পদ্মাবতী গ্রন্থের রচয়িতা। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,০৫২.
বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. জয়দেব
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।

এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।
['শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২,০৫৩.
মৈমনসিংহ গীতিকায় ‘চন্দ্রাবতী’ কার প্রণীত? 
  1. দ্বিজ কানাই
  2. দ্বিজ ঈশান
  3. চন্দ্রাবতী 
  4. নয়ানচাঁদ ঘোষ
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:  
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন। 
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে 'মৈমনসিংহ গীতিকা' ১৯২৩ সালে নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।  
- সংগ্রাহক: চন্দ্রকুমার দে। 
- ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত। 

♣ মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে, যথা-
• মহুয়া: দ্বিজ কানাই প্রণীত; 
• মলুয়া: অজ্ঞাত;
• চন্দ্রাবতী: নয়ানচাঁদ ঘোষ প্রণীত;
• কমলা: দ্বিজ ঈশান প্রণীত;
• দেওয়ানা মদিনা: মনসুর বয়াতি প্রণীত;
• দস্যু কেনারামের পালা: চন্দ্রাবতী প্রণীত;
• কঙ্ক ও লীলা: দামোদর দাস, রঘুসুত, শ্রীনাথ বিনোদ ও নয়ানচাঁদ ঘোষ (রচয়িতা ৪ জন); 
• রূপবতী: কবির নাম অজ্ঞাত;
• কাজলরেখা: কবির নাম অজ্ঞাত ও 
• দেওয়ান ভাবনা: কবির নাম অজ্ঞাত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৫৪.
বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক কে?
  1. ক) বিজয়গুপ্ত
  2. খ) নিধুবাবু
  3. গ) বিপ্রদাস পিপলাই
  4. ঘ) মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৫৫.
মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি কে?
  1. মালাধর বসু
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা
‘মর্সিয়া’ সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমাদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ‘মর্সিয়া-সাহিত্যে'র আদিকবি। তাঁর গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

- মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হচ্ছেন রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিতগ্রন্থ:
• ইমামগণের কেচ্ছা,
• আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৫৬.
‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’ - উক্তিটি কার?
  1. মালিনী
  2. ভবানন্দ
  3. ঈশ্বরী পাটনী
  4. বিদ্যাসুন্দর
ব্যাখ্যা
• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী।
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।
- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এটা অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র-
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,০৫৭.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ চণ্ডীদাস
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. দীন চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
-শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।

- এটি মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
খন্ডগুলি হলো:
- জন্মখন্ড,
- তাম্বূল খন্ড,
- দানখন্ড,
- নৌকাখন্ড,
- ভারখন্ড,
- ছত্রখন্ড,
- বৃন্দাবন খন্ড,
- কালীয়দমন খন্ড,
- যমুনা খন্ড,
- হারখন্ড,
- বাণখন্ড,
- বংশীখন্ড ও
- বিরহখন্ড (রাধাবিরহ)।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (দূতী)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
২,০৫৮.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কতটি গীতিকা স্থান পেয়েছে?
  1. ৮টি
  2. ১০টি 
  3. ১১টি 
  4. ১৩টি 
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। 
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- দীনেশচন্দ্র সেন পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় দীনেশচন্দ্র সেন পালাগানগুলো সংগ্রহ করেন।

• গীতিকাগুলো হলো- 
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

• ভনিতা থেকে কিছু গীত রচয়িতার নাম জানা যায়, যেমন-
- মহুয়া- দ্বিজ কানাই,
- চন্দ্রাবতী- নয়ানচাঁদ ঘোষ,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দস্যু কেনারামের পালা- চন্দ্রাবতী,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

• কঙ্ক ও লীলার রচয়িতা হিসেবে ৪ জনের নাম পাওয়া যায়-
- দামোদর দাস,
- রঘুসুত,
- শ্রীনাথ বিনোদ ও
- নয়ানচাঁদ ঘোষ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া [লিঙ্ক]।

২,০৫৯.
মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কে? 
  1. কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব 
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. কাশীরাম দাস
  4. মালাধর বসু
ব্যাখ্যা

• ​মহাভারত:
​- মহাভারত রচিত হয় সংস্কৃত ভাষায়। মূল রচয়িতা কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- মহাভারত প্রথম বাংলায় রচনা করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তার রচিত মহাভারতের নাম 'বিজয়পান্ডবকথা' অথবা 'ভারত পাঁচালী'।
- কাব্যটি ষোড়শ শতাব্দীতে রচিত ৷
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকের নাম কাশীরাম দাস।
- শ্রীকর নন্দী অনুদিত মহাভারত 'ছুটিখানী' মহাভারত নামেও পরিচিত।
- মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০৬০.
মনসামঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয় কাকে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. দ্বিজ মাধব
  3. মাণিক দত্ত
  4. দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
• দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য পারিপার্শ্বিক ঘটনা বিবেচনা করে দ্বিজ বংশীদাস সতের শতকের মধ্যভাগে আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে মনে করেছেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতানুসারে বংশীদাসের পদ্মাপুরাণের রচনাকালজ্ঞাপক শ্লোক থেকে ১৫৭৫ সাল পাওয়া যায়।

বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা। কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসের পরিচয় দিয়েছেন এভাবে:

বসতি যাদবানন্দ করেন তথায় ।
ভট্টাচার্য বংশে জন্ম অঞ্জনা ঘরণী।
বাঁশের পালার ঘর ছনের ছাউনী।
ধারা স্রোতে ফুলেশ্বরী নদী বহে যায়।
ঘট বসাইয়া সদা পূজে মনসায়।
কোপ করি সেই হেতু লক্ষ্মী ছাড়ি যায়।
দ্বিজ বংশী পুত্র হৈলা মনসার বরে।
ভাসান গাহিয়া যিনি বিখ্যাত সংসারে।

অন্যদিকে, 
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজ মাধব ও মাণিক দত্ত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
২,০৬১.
'জৈগুনের পুঁথি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কৃষ্ণরাম দাস
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. সৈয়দ হামজা
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ হামজা পুঁথি সাহিত্য ধারার অন্যতম কবি।
• তাঁর গ্রন্থসমূহ হলোঃ
- জৈগুনের পুঁথি,
- হাতেম তাই ও
- আমির হামজা (দ্বিতীয় অংশ)।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।

২,০৬২.
মধ্যযুগের বিখ্যাত 'পদ্মাবতী' কাব্যটি কে রচনা করেছেন?
  1. আলাওল
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. দৌলত কাজী
  4. শাহ মুহাম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- অনুবাদ হলেও কবি এখানে অনেক মৌলিকতা দেখিয়েছেন।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ খদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং
- দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

আলাওল রচিত অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থ:
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না, 
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৬৩.
বৈষ্ণব পদাবলীর কবি নন কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. গোবিন্দদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. নারায়ণদেব
ব্যাখ্যা

• বৈষ্ণব পদাবলীর ৪ মহাকবি ছিলেন।
• এঁরা হলেনঃ
- বিদ্যাপতি,
- চণ্ডীদাস
- জ্ঞানদাস ও
- গোবিন্দদাস।
• নারায়ণ দেব হলেন মনসামঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,০৬৪.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি -
  1. আলাওল
  2. মুহম্মদ কবীর
  3. শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
শাহ মুহম্মদ সগীর:
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম — ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৬৫.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ক) সনকা
  2. খ) বেহুলা
  3. গ) চাঁদ সওদাগর
  4. ঘ) ধনপতি
ব্যাখ্যা
'বনিক ধনপতি' চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। 

সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- তিনি ১৩শ শতকে জীবিত ছিলেন বলে অনুমান করা হয়।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
 
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

- আরও যাঁরা মনসামঙ্গল রচনা করেন তাঁরা হলেন পুরুষোত্তম, নারায়ণদেব (আনু. ১৫শ শতক), বিজয়গুপ্ত এবং বিপ্রদাস পিপিলাই বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গলই (১৪৯৪) সর্বাপেক্ষা পরিচিত এবং সাহিত্যিক গুণসম্পন্ন।
- বিপ্রদাসের গ্রন্থ মনসাবিজয় পঞ্চদশ শতকের শেষভাগে রচিত বলে গবেষকদের অনুমান। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৬৬.
নিম্নোক্ত কোন সময়টি 'চৈতন্য যুগ' হিসেবে পরিচিত?
  1. ক) ১২০০-১৩০০
  2. খ) ১২০১-১৩৫০
  3. গ) ১৫০০-১৭০০
  4. ঘ) ১৮০১ - বর্তমান
ব্যাখ্যা
- ১৫০০- ১৭০০ খ্রিস্টাব্দ সময়কে বাংলা সাহিত্যের চৈতন্য যুগ বলা হয়।
- ১২০১-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়। 
- ১৮০১ - বর্তমান আধুনিক যুগ বলা হয়। 

- ৬৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ সময়কে প্রাচীন যুগ বলা হয়।

উৎস:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৬৭.
ধনপতি সওদাগর কোন নগরের অধিবাসী ছিলেন?
  1. বিজয়নগর
  2. সিংহল
  3. আরাকান
  4. উজানী নগর
ব্যাখ্যা

চন্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রধান চরিত্র - ধনপতি সওদাগর।
- ধনপতি সওদাগর উজানী নগরের অধিবাসী ছিলেন |
- ভাড়ুদত্ত, ফুল্লরা, ধনপতি সওদাগর প্রভৃতি চন্ডীমঙ্গলের প্রধান চরিত্র |
- চন্ডী দেবীর কাহিনী অবলম্বনে রচিত চন্ডীমঙ্গল কাব্য দেশে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল |
- মানিক দত্ত চন্ডীমঙ্গলের আদি কবি |

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)

২,০৬৮.
আব্দুল হাকিমের 'বঙ্গবাণী' কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. লালমোতি সয়ফুলমুলুক
  2. নূরনামা
  3. দুররে মজলিশ
  4. হানিফার লড়াই
ব্যাখ্যা
• আব্দুল হাকিম:
- কবি আবদুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- তিনি  ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

- নোয়াখালী জেলার বাবুপুর (মতান্তরে সন্দ্বীপের সুধারাম) ছিল কবির আবাসভূমি।
- তাঁর পিতা শাহ্ রাজ্জাক ছিলেন একজন পন্ডিত ব্যক্তি এবং তাঁর পীর ছিলেন সাহাবুদ্দীন।
- আবদুল হাকিম  আরবি,  ফারসি ও  সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- হাদীস, আল-কুরআন, ফেকাহ প্রভৃতি শাস্ত্র এবং  রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ সম্পর্কেও তাঁর গভীর পান্ডিত্য ছিল।
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়।

''যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্নয় ন জানি।"
- এই উক্তটি তিনি 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'বঙ্গবাণী' কবিতায় লিখেছেন।   

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো: 
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানিফার লড়াই।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলাপিডিয়া।
২,০৬৯.
মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের ধারা ছিল না কোনটি?
  1. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  2. গদ্য
  3. অনুবাদ সাহিত্য
  4. জীবনী সাহিত্য
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগ:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় বিভক্ত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য দিয়ে মধ্যযুগের শুরু।
- পরবর্তী পর্যায়ে মঙ্গলকাব্য, অনুবাদ সাহিত্য, বৈষ্ণব পদাবলি, জীবনী সাহিত্য, নাথসাহিত্য, রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, লোকসাহিত্য ইত্যাদি সাহিত্যসৃষ্টি এই যুগকে পরিসরে ও বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করেছে।
- এ যুগের সমগ্র পরিসর জুড়েই কাব্যের একচ্ছত্র আধিপত্য লক্ষণীয়।
- তখন পর্যন্ত বাংলা গদ্যের বিকাশ হয়নি।
- তাই বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগ পর্যন্ত গদ্যের কোন স্থান নেই। বাঙালি চিরদিন গদ্যে কথাবার্তা বললেও সাহিত্যের মাধ্যম হিসেবে আধুনিক-পূর্ব যুগ পর্যন্ত কাব্যই সর্বত্র মর্যাদা পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,০৭০.
নাথ সাহিত্য ধারার কাব্য কোনটি?
  1. কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান
  2. লাউসের কাহিনি 
  3. গোরক্ষবিজয়
  4. ধনপতি উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

• 'গোরক্ষবিজয়' কাব্যগ্রন্থ:
- নাথ সাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়।
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে।

সংগ্রাহকরা হলেন-
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
- আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
- আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং পঞ্চানন মন্ডল (১টি পুথি)। এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত।

- এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত। পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম 'মীনচেতন' এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে গোরক্ষবিজয় ও গোর্খবিজয়।

অন্যদিকে,
• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের দুইটি উপাখ্যান রয়েছে- ১. দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি ২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর। 
• ধর্মমঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত লাউসের কাহিনি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০৭১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর কত শতকের?
  1. ক) পঞ্চদশ শতাব্দীর
  2. খ) ষোড়শ শতাব্দীর
  3. গ) সপ্তদশ শতাব্দীর 
  4. ঘ) অষ্টাদশ শতাব্দীর
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর কবি। 
শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম  ইউসুফ-জুলেখা। এটি ফারসি কবি জামীর ‘ ইউসুফ ওয়া জুলায়খা’ কাব্যের অনুবাদ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
২,০৭২.
কৃত্তিবাস ওঝা কোন ছন্দে রামায়ণের বঙ্গানুবাদ করেন?
  1. ধ্রুপদী ছন্দে
  2. লৌকিক ছন্দে
  3. পয়ার ছন্দে
  4. ছড়ার ছন্দে
ব্যাখ্যা
• রামায়ণ:
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য।সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'।

• কৃত্তিবাস ওঝা:
- কৃত্তিবাস ওঝা সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণটি রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৭৩.
ধর্মমঙ্গল কাব্য কয়টি পালায় বিভক্ত?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা
ধর্ম ঠাকুরের নামে এই মঙ্গলকাব্য সৃষ্ট হয়েছে বলে এর নাম ধর্মমঙ্গল। ধর্মমঙ্গল কাব্যের পালা ২ টি।
১. রাজা হরিশচন্দ্রের গল্প
২. লাউসেনের গল্প
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
২,০৭৪.
পৌরাণিক শ্রেণির মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. অন্নদামঙ্গল 
  2. শীতলামঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য।
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।
- মঙ্গলকাব্যের দেবীদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।

প্রকৃতপক্ষে মঙ্গলকাব্যগুলোকে শ্রেণিগত দিক থেকে পৌরাণিক ও লৌকিক এই দু ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- পৌরাণিক শ্রেণির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, অন্নদামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।
- লৌকিক শ্রেণির মধ্যে হলো: শিবায়ন বা শিবমঙ্গল, মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বা বিদ্যাসুন্দর), শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সারদামঙ্গল, সূর্যমঙ্গল প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৭৫.
“মাতঙ্গ পড়িলে দরে পতঙ্গ প্রহার করে।” - কার রচনা?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. গ) খনার বচন
  4. ঘ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
এটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত - অন্নদামঙ্গল কাব্যে ব্যবহৃত একটি প্রবচন।

এই কাব্যের আরো কয়েকটি প্রবচন হল -
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।
- মাতঙ্গ পড়িলে দরে পতঙ্গ প্রহার করে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন। 
- কড়িতে বাঘের দুধ মিলে।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ, ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণেকে চাঁদ।
- যার কর্ম তারে সাজে অন্য লোকের লাঠি বাজে।
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী। ইত্যাদি।

এসব গভীরতম ভাবদ্যোতক প্রবচনের মত পদে ভাষার উপর কবির যে অধিকার তা তুলনারহিত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,০৭৬.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'- বিখ্যাত উক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল 
  3. চণ্ডীমঙ্গল 
  4. ধর্মমঙ্গল 
ব্যাখ্যা

'প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।'

- আলোচ্য পঙক্তিটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের 'আমার সন্তান' কবিতার অন্তর্গত।
- এখানে লেখক 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- কথাটি ঈশ্বরী পাটনীর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন।

-----------------------
"অন্নদামঙ্গল" কাব্য:

- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
-সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০৭৭.
মধ্যযুগের সাহিত্যধারা কেমন ছিল?
  1. ধর্মনির্ভর
  2. গদ্যনির্ভর
  3. রূপকথানির্ভর
  4. কল্পনানির্ভর
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য - ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা - বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- মধ্যুযগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৭৮.
দৌলত কাজী 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যটি অসমাপ্ত রেখে মারা গেলে কে এটি শেষ করেন?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. আলাওল
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা

'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
• সতের শতকের কবি দৌলত কাজী ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য রচনা করেন।
• রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধার্মার প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
• পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।

• 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যের কাহিনি সংক্ষেপ:
রাজা লোর আর রূপসী রানি ময়নাবতীর সুখের সংসার। বনবিহারে গিয়ে লোর এক যোগীর কাছে অপরূপা চন্দ্রানীর সংবাদ পায়। চন্দ্রানীর সাথে লোরের সাক্ষাত হয়। এবং চন্দ্রানীর স্বমীর সাথে লোরের যুদ্ধে হলে, যুদ্ধে চন্দ্রানীর স্বামী মারা যায়। পরবর্তীতে গোহারী রাজ্যের রাজা চন্দ্রানীর পিতা লোরকে গ্রহণ করে এবং পৌত্রলাভের আশায় তাদের বিয়ে দেন। লোর ময়নার কথা ভুলে চন্দ্রানীকে নিয়ে সংসার করে। লোর-চন্দ্রানীর এক পুত্র হয় এভাবে দিন যায়। ময়নাবতী স্বামীর বিরহেও সতীত্ব অক্ষুণ্ন রাখে এবং ১৪ বছর পর এক সুখপাখি ময়নাবতীর কথা লোরকে বর্ণনা করলে পুত্রের হাতে রাজত্ব দিয়ে লোর-চন্দ্রানীকে নিয়ে ময়নাবতীর কাছে যায় এবং লোর তাঁর দুই স্ত্রী নিয়ে জীবনযাপন করে বৃদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

২,০৭৯.
পদাবলির কোন কবি রাধা কৃষ্ণের প্রেমকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখেছেন?
  1. কবিমানস
  2. গোবিন্দদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
⇒ বিদ্যাপতি:
• বিদ্যাপতি বিভিন্ন শাস্ত্রজ্ঞ ছিলেন, তবে সংস্কৃত কাব্য ও অলংকার শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অসাধারণ। 
• তিনি ব্রজবুলি ভাষায় রাধা-কৃষ্ণের পাঁচশ’র বেশি পদ রচনা করেছেন।
• তাঁর পদাবলি তত্ত্ব দ্বারা আক্রান্ত নয়। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখেছেন।
•  তাঁর অসখ্য পদের মধ্যে রাধার বয়ঃসন্ধি, রাধার অভিসার, প্রেম বৈচিত্ত্য, বিরহ ও ভাবসম্মিলনের পদগুলো দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

তাঁর রচিত রাধার বর্ষাবিরহ পদ-
এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর। 
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
শূন্য মন্দির মোর।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্র জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৮০.
বৈষ্ণব কবিতার সংকলনগুলোর মধ্যে নিচের কোনটি বৈষ্ণব দাস কর্তৃক সংকলিত?
  1. পদকল্পতরু
  2. পদচিন্তামণিমালা
  3. পদকল্পলতিকা
  4. গীতিচিন্তামণি
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব কবিতার সংকলনগুলোর মধ্যে পদকল্পতরু বৈষ্ণব দাস কর্তৃক সংকলিত।

• বৈষ্ণব সাহিত্য:
- বৈষ্ণব কবিতা যিনি সবার আগে সংকলন করেন, তাঁর নাম বাবা আউল মনােহর দাস।
- হুগলি জেলার বদনগঞ্জে তাঁর সমাধি রয়েছে। তিনি সম্ভবত ষােড়শ শতাব্দীর শেষপ্রান্তে বৈষ্ণব কবিতা সংকলন করেন।
- তাঁর এ-সংকলনগ্রন্থটি আকারেও বিশাল, এর নাম পদসমুদ্র।
- আসলেই এটি এক মহাসাগর, কবিতার মহাসমুদ্র। তিনি এ-গ্রন্থে সংগ্রহ করেন পনেরো হাজার বৈষ্ণব কবিতা।
- তার পরে যিনি বৈষ্ণব কবিতা সংকলন করেন, তিনি রাধামােহন ঠাকুর। তাঁর বইয়ের নাম পদামৃতসমুদ্র।

আঠারোশতকের প্রথম দিকে আরাে একটি বৈষ্ণব কবিতাসংকলন প্রকাশ করেন বৈষ্ণব দাস। তাঁর বইয়ের নাম 'পদকল্পতরু'।
- পদকল্পতরুতে প্রায় দেড়শত কবির তিন হাজার বৈষ্ণব পদ সংকলিত হয়েছে।
- এতে পদগুলি বৈষ্ণব রসতত্ত্বের নিয়মানুযায়ী বয়ঃসন্ধি, পূর্বরাগ, দৌত্য, অভিসার, সম্ভোগ, মান, বিরহ, প্রেমবৈচিত্ত, ভাবসম্মেলন ইত্যাদি ক্রমে বিন্যস্ত।

• এরপরে আরাে অনেক সংকলন হয়েছিলাে,
যেমন,
- গৌরীমােহন দাস কবিতা সংকলন করেছিলেন পদকল্পলতিকা নামে,
- হরিবল্লভের সংকলনের নাম গীতিচিন্তামণি,
- প্রসাদ দাসের সংকলনের নাম পদচিন্তামণিমালা।
এ-সব সংকলনে তিরিশ হাজারেরও অধিক কবিতা সংকলিত হয়েছিলাে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি- ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলাপিডিয়া।
২,০৮১.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ড কোনটি?
  1. জন্মখণ্ড
  2. তাম্বুলখণ্ড
  3. রাধাবিরহ
  4. বংশীখণ্ড
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ড - 'তাম্বুল খণ্ড'।
----------------------- 
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:

- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।

• এটি মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে বিন্যস্ত।

খণ্ডগুলি হলো:
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড (রাধাবিরহ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৮২.
মহাকবি আলাওল কোন শতকের কবি?
  1. পঞ্চদশ
  2. সপ্তদশ
  3. ষোড়শ
  4. অষ্টাদশ
ব্যাখ্যা
• আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

• সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- হপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৮৩.
মঙ্গলকাব্যের কবি নন কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. মানিক দত্ত
  4. কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
• বড়ু চণ্ডীদাস মঙ্গলকাব্যের কবি নন।
- বড়ু চণ্ডীদাসের বিখ্যাত সৃষ্টি, মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ  'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।

অন্যদিকে,
- বিজয়গুপ্ত হলেন মনসামঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি ।
- মানিক দত্ত হলেন চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি।
- কানাহরি দত্ত হলেন মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২,০৮৪.
'সেক শুভোদয়া' কোন ধরনের কাব্য?
  1. জীবনীকাব্য 
  2. চম্পুকাব্য
  3. পদাবলি
  4. মহাকাব্য
ব্যাখ্যা

সেক শুভোদয়া:
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’। ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন।
- 'সেক শুভোদয়া' হলো বাংলা এবং সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি চম্পুকাব্য।

- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,০৮৫.
কোন গ্রন্থটি আলাওল কর্তৃক রচিত নয়?
  1. ক) ইউসুফ জোলেখা
  2. খ) তোহ্ফা
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) হপ্তপয়কর
ব্যাখ্যা

আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাত। সেগুলির মধ্যে -
- আখ্যানকাব্য হচ্ছে পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী (১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩);
- নীতিকাব্য - তোহফা (১৬৬৪) এবং
- সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য - রাগতালনামা।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

২,০৮৬.
কোন লেখকের পূর্বে আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন নি?
  1. ক) দোম এন্তোনিও
  2. খ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. গ) মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  4. ঘ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন নি। ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহরে রোমান লিপিতে মনোএল দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
গ্রন্থ দুটি হলো- কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ এবং ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ বা বাঙলা-পর্তুগীজ অভিধান
তবুও তিনি এই অভিধান গ্রন্থেই অতি সংক্ষেপে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ এর একটি অধ্যায় সংযুক্ত করেন। এ কারণেই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২,০৮৭.
'কালিকামঙ্গল' কাব্যটি কোন মঙ্গল কাব্যের অন্তর্গত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩ খণ্ডে বিভক্ত।
যথা :
- শিবনারায়ণ,
- কালিকামঙ্গল,
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

- কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরকাহিনি' বলা হয়।
- দেবী কালীর মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে।
- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি - কবি কঙ্ক। এছাড়া, সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন - কালিকা মঙ্গল রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৮৮.
মধ্যযুগের নারী কবি চন্দ্রাবতী কোন কবির সন্তান ছিলেন?
  1. ক) দ্বিজবংশী
  2. খ) বিজয়গুপ্ত
  3. গ) মালাধর বসু
  4. ঘ) বিশ্বম্ভর মিশ্র
ব্যাখ্যা

চন্দ্রাবতী ছিলেন সপ্তদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের রচয়িতা দ্বিজবংশী বা বংশদাস এর কন্যা।
চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনা করে পুরাতন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য - মলুয়া, দস্যু কেনারামের পালা, রামায়ণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

২,০৮৯.
'আলাল’ - কোন পালার চরিত্র?
  1. মহুয়া
  2. দেওয়ানা মদিনা
  3. মলুয়া
  4. দেওয়ান ভাবনা
ব্যাখ্যা

দেওয়ানা মদিনা:
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।

‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা, 
- সোনার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০৯০.
বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ কোনটি?
  1. চর্যাপদ
  2. নূরনামা
  3. রসুল বিজয়
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এগ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৯১.
বৈষ্ণব সাহিত্য কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলস্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।

→ বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার। 
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৯২.
মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র কোনটি?
  1. ক) কালকেতু
  2. খ) ফুল্লরা
  3. গ) ধনপতি
  4. ঘ) লখিন্দর
ব্যাখ্যা
দেবী মনসার পূজা, তুষ্টি ও গুণকীর্তনের জন্য মনসামঙ্গল কাব্য লিখিত।  
- মনসামঙ্গল কাব্য মঙ্গলকাব্যের প্রাচীনতম ধারা।
- একে 'পদ্মপুরান' বলেও অভিহিত করা হয়।  
- মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্রগুলো হলো:
  চাঁদ সওদাগর 
  বেহুলাস
   লখিন্দর 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
২,০৯৩.
নিচের কোনটি রামায়ণ সপ্তকাণ্ডের অন্তর্গত নয়?
  1. যুদ্ধকাণ্ড
  2. সুন্দরকাণ্ড
  3. অযোধ্যাকাণ্ড
  4. আরণ্যকাণ্ড
ব্যাখ্যা

• রামায়ণ সপ্তকাণ্ডের অন্তর্গত নয় - যুদ্ধকাণ্ড।

রামায়ণ:

- রামায়ণ আদি মহাকাব্য।
- শিল্পসম্মত ও আলঙ্কারিক কাব্যকৃতি রূপে রামায়ণই প্রথম কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি।
- রামায়ণ মহাকাব্যে আর্য-সভ্যতা ও সংস্কৃতির সর্বাত্মক বিকাশের রূপ ফুটে উঠেছে।
- রামায়ণ সপ্তকাণ্ডে বিভক্ত। কাণ্ডগুলো হল বাল, অযোধ্যা, আরণ্য, কিষ্কিন্ধ্যা, সুন্দর, লঙ্কা ও উত্তর কাণ্ড।
- চব্বিশ হাজার অনুষ্টুপ শ্লোকে এটি রচিত। দুই কাণ্ডে রামকে বিষ্ণুর অবতার বলে নির্দেশ করে ভক্তি দেখানো হয়েছে।
- কিন্তু বাকি পাঁচটি কাণ্ড সংহত ও মহাকাব্যের রীতি অনুসারে রচিত এবং এগুলোতে রাম বীর ও আদর্শ চরিত্র রূপে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,০৯৪.
দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা মতে, 'মহুয়া' পালা কে রচনা করেন?
  1. নয়নচাঁদ ঘোষ
  2. দ্বিজ কানাই
  3. চন্দ্রবতী
  4. দ্বিজ ঈশান
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

• মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তিদ্বয়:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে,
• ‘চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র’ নয়ানচাঁদ ঘোষ প্রণীত পালা। 
• ‘মলুয়া’ ও ‘দস্যু কেনারাম’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৯৫.
মিথিলার রাজা বিদ্যাপতিকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. কবিকুলগুরু
  2. বৈষ্ণবাচার্য
  3. কবিকণ্ঠহার
  4. বৈষ্ণব সাধক
ব্যাখ্যা
মিথিলার রাজা বিদ্যাপতিকে কবিকণ্ঠহার উপাধিতে ভূষিত করেন।

• বিদ্যাপতি:
- বৈষ্ণব পদাবলির অবাঙালি কবি- বিদ্যাপতি।
- তিনি  মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন ।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি। কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- 'মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়। কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস:
১।বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩। বাংলাপিডিয়া।
২,০৯৬.
কৃত্তিবাস ওঝা কোন ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন?
  1. গায়ত্রী ছন্দে
  2. পয়ার ছন্দে
  3. প্রাকৃত ছন্দে
  4. ধামালি ছন্দে
ব্যাখ্যা
• রামায়ণ:
- রামচন্দ্রে কাহিনি এক হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল বলে মনে করা হয়। এ কাহিনি অবলম্বনে মহর্ষি বাল্মীকি অনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে সংস্কৃত ভাষায় ‘রামায়ণ’ মহাকাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটি সপ্তখণ্ড সাত খণ্ডে বিভক্ত।
- কৃত্তিবাস ওঝা প্রথম সংস্কৃত রামায়ণের বাংলা অনুবাদ করেন, যা কৃত্তিবাসী রামায়ণ নামে পরিচিত। মধুসুদন দত্ত রামায়ণের অংশ-বিশেষ অবলম্বনে তাঁর বিখ্যাত মেঘনাদবধ কাব্য রচনা করেন। সংস্কৃত রামায়ণকে পৃথিবীর আদি মহাকাব্য বলা হয়।

• কৃত্তিবাস ওঝা’র ‘রামায়ণ’:
- কৃত্তিবাস ওঝা সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাস ওঝার অনুবাদকৃত রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৯৭.
'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা কে?
  1. ভীমসেন রায়
  2. শ্যামাদাস সেন
  3. ভবানী দাস
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনি বা আখ্যায়িকা।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৯৮.
নিম্নের কোনটি পূর্ববঙ্গ গীতিকার পালার অন্তর্ভুক্ত? 
  1. কাফেন চোরা
  2. কমল সওদাগর
  3. নেজাম ডাকাইতের পালা
  4. সবকয়টি 
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা: 
- পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।

• সম্পাদনা ও প্রকাশ: 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় পূর্ববঙ্গ-গীতিকা প্রকাশিত হয়।
- এর প্রকাশে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন তৎকালীন উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত এবং চন্দ্রকুমার দে কর্তৃক সংগ্রহীত “পূর্ববঙ্গ-গীতিকা” গ্রন্থটি প্রথমবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এর সংকলন ও প্রকাশ প্রক্রিয়া ১৯২৩ থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পন্ন হয়।

• পূর্ববঙ্গ-গীতিকা তিন খন্ডে বিভক্ত।
- প্রথম খণ্ড: মৈমনসিংহ গীতিকা।

• সংগ্রাহক:
- প্রধান সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে।
- এছাড়া জসীমউদ্দীন, আশুতোষ চৌধুরী, নগেন্দ্রচন্দ্র দে প্রমুখের ভূমিকাও রয়েছে।

• বিষয়বস্তু:
- ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, ত্রিপুরা অঞ্চলের লোকগাঁথা ও পালা;
- সাধারণ মানুষের প্রেম, বেদনা, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও ট্র্যাজেডির চিত্র।

• রচয়িতা: পল্লীর অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত সাধারণ মানুষ; মুখে মুখে রচিত ও গায়েনদের মাধ্যমে পরিবেশিত।
• গুরুত্ব: দীনেশচন্দ্র সেনের ইংরেজি অনুবাদ Eastern Bengal Ballads গ্রন্থের মাধ্যমে বিশ্বপরিসরে পরিচিতি লাভ করে।
• সংখ্যা: পূর্ববঙ্গ-গীতিকায় সংগৃহীত পালার সংখ্যা পঞ্চাশেরও বেশি।

• পালা:
- পূর্ববঙ্গ-গীতিকার পালার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
- ধোপার পাট, মইষাল বন্ধু, কাঞ্চন মালা, কমলা রানীর গান, মদনকুমার ও মধুমালা, নেজাম ডাকাইতের পালা, দেওয়ান ঈশা খাঁ, মাঞ্জুর মা, কাফেনচোরা, ভেলুয়া, হাতিখেদা, আয়নাবিবি, কমল সদাগর, চৌধুরীর লড়াই, গোপিনী-কীর্তন, সুজা-তনয়ার বিলাপ, বারতীর্থের গান, নূরুন্নেছা ও কবরের কথা, পরীবানুর হাঁইলা প্রভৃতি।
- অধিকাংশ পালা চতুর্দশ শতকে রচিত হলেও কিছু পালার সৃষ্টি ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,০৯৯.
"সময় গেলে সাধন হবে না"- গানটির রচয়িতা কে?
  1. লালন শাহ্‌
  2. হাসন রাজা
  3. সিরাজ সাঁই
  4. মজনু ফকির
ব্যাখ্যা

• "সময় গেলে সাধন হবে না"- গানটির রচয়িতা লালন শাহ্‌।

• লালন শাহ্:
- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছে - ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’

• তাঁর রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান:
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- বাড়ির কাছে আরশিনগর।
- সব লােকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

২,১০০.
বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত কাব্যের নাম -
  1. কালিকামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. মনসাবিজয়
ব্যাখ্যা
• বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত কাব্যের নাম - মনসাবিজয়

বিপ্রদাস পিপিলাই:  
- তিনি মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- বিজয় গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই। 
- তিনি বিজয় গুপ্তের মনসামঙ্গল রচনার এক বছর পর তাঁর 'মনসাবিজয়' কাব্য রচনা করেন। 
- কাব্যমধ্যে কবি যে আত্মপরিচয় দিয়েছেন তা থেকে জানা যায় যে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বাদুড়্যা-বটগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- বিপ্রদাস পিপিলাই এর কাব্যে মনসা দেবীর চরিত্র অপেক্ষাকৃত নমনীয় এবং স্নেহমমতা ও করুণায় সমধিক আর্দ্র।
- এ কাব্যে চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যযাত্রার বর্ণনা প্রসঙ্গে সপ্তগ্রামের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।
- তাঁর কাব্যের আখ্যানধারা বেশ সরল ও কাব্যভাষা সাবলীল; চরিত্রচিত্রণেও তিনি সংযম ও পরিচ্ছন্ন রুচির পরিচয় দিয়েছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল হক ও বাংলাপিডিয়া।