বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ২০ / ২৮ · ১,৯০১২,০০০ / ২,৭৬৪

১,৯০১.
বৈষ্ণব পদাবলীর সঙ্গে কোন ভাষা সম্পর্কিত? 
  1. সন্ধ্যাভাষা
  2. অধিভাষা
  3. ব্রজবুলি
  4. সংস্কৃত ভাষা
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলি।
- এর নায়ক নায়িকা - রাধা ও কৃষ্ণ।
- বৈষ্ণব পদাবলির উল্লেখযোগ্য রচয়িতা - বিদ্যাপতি, চন্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস।

- বৈষ্ণব পদাবলির সাথে সম্পর্কিত ভাষা হচ্ছে - ব্রজবুলি ভাষা।
- ব্রজবুলি মূলত এক ধরনের কৃত্রিম মিশ্র ভাষা।
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা।
- মৈথিলি ও বাংলার মিশ্রিত রূপ হল ব্রজবুলি ভাষা। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে মিথিলার কবি বিদ্যাপতি এর উদ্ভাবন করেন।

অন্যদিকে,
• চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯০২.
কোরেশী মাগন ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. পদ্মবতী
  2. মধুমালতী
  3. চন্দ্রবতী
  4. সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
'চন্দ্রাবতী কাব্য'
- আরাকান রাজসভায় অমাত্য কোরেশী মাগন ঠাকুর রচিত কাব্য 'চন্দ্রাবতী'।
- এর একটি খণ্ডিত পুথি পাওয়া গেছে।
- কব্যের রচনাকাল নিয়ে সংশয় আছে।
- এ কাব্যটি সতের শতকের।
- ভদ্রাবতী নগরের রাজপুত্র বীরভান মন্ত্রীপুত্র সুতের সহায়তায় কীভাবে সরন্দ্বীপ রাজকন্যা অপূর্বসুন্দরী চন্দ্রাবতীকে লাভ করেছিলেন তা - ই এ কাব্যে বর্ণিত হয়েছে। আলাওল মাগন ঠাকুরের উৎসাহে 'সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল' কাব্য রচনা করেন। '
-----------------------------------------------------
কোরেশী মাগন ঠাকুর:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- চন্দ্রাবতী কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর এবং আরাকানের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দিক বংশজাত মাগন ঠাকুর একই ব্যক্তি ছিলেন এরূপ মনে করে তাঁর জীবনকথা আলোচনা করা হয়। 
- বাংলা, ফারসি, বর্মি ও সংস্কৃত ভাষায় মাগন ঠাকুরের অগাধ পান্ডিত্য ছিল।
- তাঁর রচিত চন্দ্রাবতী কাব্যের একটিমাত্র  পুথি পাওয়া গেছে।
- এটি  লোককাহিনী আশ্রিত রোমান্টিক প্রণয়কাব্য।
- বর্ণনাধর্মী এ কাব্যে সাহিত্যিক গুণের অভাব থাকলেও মধ্যযুগের কাব্য হিসেবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। 

অন্যদিকে,
’পদ্মবতী’ কাব্যগ্রন্থের লেখক- কবি আলাওল।
’মধুমালতী’ কাব্যগ্রন্থের লেখক- মুহম্মদ কবীর।
’সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’ কাব্যগ্রন্থের লেখক- কবি দৌলত কাজী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯০৩.
'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য কোন ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়?
  1. ফারসি
  2. সংস্কৃত
  3. আরবি
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা
• 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য  ফারসি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়। 

• ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।

উল্লেখ্য,
• ইউসুফ-জোলেখা, লায়লী-মজনু, হানিফা-কয়রাপরী, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল, জেবলমুলুক-শামারোখ প্রভৃতি কাব্যের কাহিনি ফারসি গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
• গুলে-বকাওলী, লোরচন্দ্রানী, পদ্মাবতী, মধুমালতী, গদামল্লিকা প্রভৃতি কাব্যের কাহিনি হিন্দি-আরবি গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯০৪.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম মুসলিম কবি হিসাবে বিবেচনা করা হয় কাকে?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. সৈয়দ মুর্তজা
  4. শেখ কবির
ব্যাখ্যা
পদাবলি সাহিত্যে মুসলমান কবিগণের বিশিষ্ট অবদান রয়েছে। একদল মুসলিম কবি উৎকৃষ্ট শ্রেণির বৈষ্ণবপদ রচনা করে বিচিত্র কাব্যপ্রতিভার পরিচয় রেখে গেছেন।
- ড. আহমদ শরীফের মতে, 'তাদের কেউ কেউ করেছেন নেশার ঝোঁকে আর কেউ কেউ করেছেন পেশা হিসাবে।'
- মুসলমান পদকর্তার সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব হয় নি। যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য 'বাংলার বৈষ্ণবভাবাপন্ন মুসলমান কবি' গ্রন্থে শতাধিক মুসলমান কবির নামোল্লেখ করেছেন।
- মুসলমান পদকর্তাদের মধ্যে প্রথম কবি হিসাবে 'শেখ কবির'কে বিবেচনা করা হয়।
- অন্যান্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : আফজাল, শেখ ফয়জুল্লাহ্, সৈয়দ আইনুদ্দিন, সৈয়দ মুর্তজা, আলাওল, আলি রজা, কমর আলী, সৈয়দ সুলতান, নওয়াজিস প্রমুখ।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।
১,৯০৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি কে?
  1. আবুল ফজল
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি- শাহ মুহম্মদ সগীর।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তার হাতে রচিত হয় রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য ‘ইউসুফ-জুলেখা’।
- তাঁর রচিত 'ইউসুফ-জুলেখা' কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের স্তুতি আছে।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৯০৬.
সবচেয়ে প্রাচীন মঙ্গলকাব্য ধারা কোনটি?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. শিবমঙ্গল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) মনসামঙ্গল

মনসামঙ্গল:
- বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে মনসামঙ্গল সম্বন্ধেই প্রাচীনতম অস্তিত্বের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়।
- এ কাব্যের কাহিনি বাংলার আদিম লোকসমাজে প্রচলিত সর্পপূজার ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- সাপের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনসা-লৌকিক ভয়ভীতি থেকেই এ দেবীর উদ্ভব।
- এই দেবীর কাহিনি নিয়ে রচিত কাব্য মনসামঙ্গল নামে পরিচিত।
- কোথাও তা পদ্মাপুরাণ নামেও অভিহিত হয়েছে।
- চাঁদ সদাগরের বিদ্রোহ ও বেহুলার সতীত্বকাহিনির জন্য মনসামঙ্গল সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালি পালা।
- এর কবির সংখ্যা যেমন শতাধিক, মুদ্রিত ও অমুদ্রিত পুথির সংখ্যাও বহু।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি। এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
- মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯০৭.
'সই কে শুনাইল শ্যাম নাম'- কার উক্তি?
  1. জ্ঞানদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. শ্রীচৈতন্য
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। তাকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

• চণ্ডীদাস এর বিখ্যাত উক্তি:
- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।'
- 'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।'
- 'সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধূয়া আনবাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

১,৯০৮.
গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. গোবিন্দদাস
  4. লোচন দাস
ব্যাখ্যা
- সাধারণভাবে 'গৌরচন্দ্রিকা' কথাটির অর্থ গৌরাঙ্গদেব বিষয়ক যে কোন আলোচনা।
 - রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পালাগানের ভূমিকা বা মুখবন্ধ রূপে গৌরাঙ্গের জীবনে অনুরূপ ঘটনার অনুবর্তন হয়েছিল।
- তা স্মরণে গৌরাঙ্গ বিষয়ক যে পদ হিসাবে গাওয়া হয়, বৈষ্ণেবেরা তাকেই 'গৌরচন্দ্রিকা' বলেন।

• গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা- গোবিন্দদাস।

-------------------------------------------------
গোবিন্দদাস:
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা।
- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯০৯.
নিচের কোনটি জাত মহাকাব্য?
  1. ক) মহাশ্মশান
  2. খ) মেঘনাদবধ
  3. গ) মহাভারত
  4. ঘ) নক্সীকাঁথার মাঠ
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে মহাভারত একটি জাত মহাকাব্য।

• মহাকাব্য:
- মহাকাব্য’র ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Epic'.
- গ্রিক শব্দ 'Epices' বা 'Epos' থেকে 'Epic' শব্দটি এসেছে। এর অর্থ হচ্ছে দীর্ঘ বীরগাঁথা।
- মহাকাব্যে বীরত্বব্যঞ্জক কাহিনী থাকে, যে ভাষাতেই লেখা হোক, তা বিষয় ও ভাষায় মহত্বের ব্যঞ্জনায় সমৃদ্ধ।
- পৃথিবীতে মোট চারটি জাত মহাকাব্য রয়েছে।

• জাত মহাকাব্য:
- রামায়ণ।
- মহাভারত।
- ইলিয়াড।
- ওডিসি।

- রামায়ণ: মহাকবি বাল্মীকি রচিত প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত ভাষার মহাকাব্য। 
- মহাভারত: মহাকবি বেদব্যাস রচিত প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত ভাষার মহাকাব্য। 
- ইলিয়াড: মহাকবি হোমার রচিত প্রাচীন গ্রিক ভাষার মহাকাব্য। 
- ওডিসি : মহাকবি হোমার রচিত প্রাচীন গ্রিক ভাষার মহাকাব্য।

• অন্যান্য অপশনগুলো:
- মহাশ্মশান- কবি কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য।
- মেঘনাদবধ- মাইকেল মধুসূদন দত্তের মহাকাব্য।
- নক্সীকাঁথার মাঠ- জসীম উদ্‌দীন এর কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯১০.
অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র কোনটি?
  1. ক) কালকেতু
  2. খ) মুরারি শীল
  3. গ) মালিনী
  4. ঘ) চাঁদ সওদাগর
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- 'মালিনী'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এটা অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র-
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

তাছাড়া, 
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

• মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র-
চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, সনকা, লখিন্দর ইত্যাদি।

উৎস:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯১১.
অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  2. কলিমা জালাল
  3. সেক শুভোদয়া
  4. পদ্মপুরাণ
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত সাহিত্যকর্ম নয়- 'পদ্মপুরাণ'। 

- নারায়ণ দেব মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় কবি।
- কবি নারায়ণ দেবের উপাধি ছিল 'সুকবি বল্লভ'।
- তাঁর কাব্যের নাম 'পদ্মপুরাণ'।

----------------------------
• বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ:

- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- প্রাকৃতপৈঙ্গল,
- কলিমা জালাল,
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়া'।

• হলায়ূধ মিশ্র রচিত পির মহাত্ম্যক-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৯১২.
'শূণ্যপুরান' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) গদ্য
  4. ঘ) গানের সংকলন
ব্যাখ্যা
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় কাব্যগ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

তথ্যসূত্র:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯১৩.
প্রাণের বান্ধব রে বুড়ি হইলাম তোর কারণে। ----- গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) শাহ আবদুল করিম
  2. খ) রাধারমন
  3. গ) শেখ ওয়াহিদ
  4. ঘ) কুদ্দুস বয়াতি
ব্যাখ্যা

'বুড়ি হইলাম তর কারণে', 'আমার মাটির গাছে লাউ ধইরাছে'_এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা গীতিকবি মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওয়াহিদুর রহমান।
ওয়াহিদের রচিত গানের সংখ্যা দেড় হাজারের অধিক। তার গানের বিষয়বস্তু, পরমতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, প্রেমতত্ত্ব, গুরুতত্ত্ব, আঞ্চলিক গান, পল্লীগীতি, মুর্শিদি, ভাটিয়ালি, মারফতি, পদাবলি, কীর্তন। আঞ্চলিক গান রচনায় তিনি ছিলেন বিশেষ আগ্রহী। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত তার গানের সংখ্যা শতাধিক। ‘পরাণের বন্ধুরে/ বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ এবং ‘আমার মাটির গাছে লাউ ধরেছে/লাউটা বড় সোহাগী/লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী’ তার এ গান দুটি বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
সুত্রঃ কালের কণ্ঠ এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা

১,৯১৪.
মৈমনসিংহ গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত গীতিকা নয় কোনটি?
  1. দেওয়ান ভাবনা
  2. কাজলরেখা
  3. রূপবতী
  4. আয়না বিবি
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত গীতিকা নয় - আয়না বিবি। এটি পূর্ববঙ্গ-গীতিকা

মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে:
 যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯১৫.
নাথ সাহিত্যধারার 'গোর্খবিজয়' কাব্যটি রচনা করেন কে?
  1. ভবানী দাস
  2. ভীমসেন রায়
  3. সুকুর মুহম্মদ
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
গোরাক্ষ বিজয় - শেখ ফয়জুল্লাহ।
মীনচেতন - শ্যামাদাস সেন।
ময়নামতির গান - ভবানী দাস।
গোর্খবিজয় - ভীমসেন রায়।
গোপীচন্দ্রের সন্যাস - শুকুর মুহম্মদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯১৬.
দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত 'পূর্ব্ববঙ্গ-গীতিকা'র কোন খণ্ড 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' নামে প্রকাশিত?
  1. ক) প্রথম খণ্ড
  2. খ) দ্বিতীয় খণ্ড
  3. গ) তৃতীয় খণ্ড
  4. ঘ) চতুর্থ খণ্ড
ব্যাখ্যা
‘পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকা’র চারটি খণ্ডে মোট ৫৫টি পালা আছে। 

‘পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকা’র প্রথম খণ্ডটি ‘মৈমনসিংহ গীতিকা' নামে ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
এতে ১০টি পালা আছে :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ানা ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা। 

সূত্র: পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকা, (১ম ও ২য় খন্ড এর মুখবন্ধ থেকে নেয়া)
১,৯১৭.
"হাভাতে যদ্যপি যায় সাগর শুকায়ে যায়" উক্তিটি কার?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. শ্রী চৈতন্য
  3. লোচন দাস
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
"হাভাতে যদ্যপি যায় সাগর শুকায়ে যায়" উক্তিটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের।

তার আরো কিছু বিখ্যাত উক্তি,

- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।

- তার বিখ্যাত গ্রন্থ অন্নদামঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১,৯১৮.
বাংলা সাহিত্যের 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  3. ইউসুফ-জোলেখা
  4. মধুমালতী
ব্যাখ্যা

'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য:
- 'ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জোলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম, শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ, গোলাম সফাতউল্লাহ, সাদেক আলী ও ফকির মোহাম্মদ। তাঁদের মধ্যে প্রথম দুজন বাংলা এবং অন্যরা দোভাষী পুথির মিশ্র ভাষা ব্যবহার করেন। তবে এই কাব্য শাহ মুহম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়িা।

১,৯১৯.
নিম্নলিখিত কোনটি লৌকিক ধারার মঙ্গলকাব্য নয়?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. সূর্যমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

লৌকিক ধারার মঙ্গলকাব্য নয়- অন্নদামঙ্গল। 
----------------------------------------------- 
• মঙ্গলকাব্য:
- মধ্যযুগে (খ্রিস্টীয় ১৩শ থেকে ১৮শ শতাব্দী) বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধরণের আখ্যানকাব্য হলো মঙ্গলকাব্য।
- এ ধরনের কাব্য মূলত হিন্দু দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার এবং বিশ্বাস অনুযায়ী শ্রবণকারীর জীবন থেকে অকল্যাণ দূর করে মঙ্গল আনার উদ্দেশ্যে রচিত হতো।

- মঙ্গলকাব্যকে প্রধানত দুটি শ্রেণি বা ধারাতে ভাগ করা হয়:
• লৌকিক ধারা:
- এই ধারা হলো লোকায়ত বা খাঁটি মঙ্গলকাব্য, যা গ্রামীণ সমাজের বিশ্বাস, লোকাচার ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে উদ্ভূত।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাব্যগুলো হলো:
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর),
- সারদামঙ্গল,
- শিবমঙ্গল,
- শীতলামঙ্গল,
- রায়মঙ্গল,
- ষষ্ঠীমঙ্গল,
- সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক ধারা:
- এই ধারা হলো বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক, যেখানে কাহিনী প্রধানত পুরাণকথা ও দেবতার আখ্যানের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাব্যগুলো হলো:
- অন্নদামঙ্গল,
- গৌরীমঙ্গল,
- ভবানীমঙ্গল,
- দুর্গামঙ্গল,
- কমলামঙ্গল,
- গঙ্গামঙ্গল,
- চণ্ডিকামঙ্গল।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯২০.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রাকচৈতন্য যুগের সময়কাল কত?
  1. ১২০১-১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৫০১-১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৬০১-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৮০০-১৯০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
 বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:

১. আদি যুগ :
প্রাক্-তুর্কি আক্রমণ যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত বিস্তৃতি ছিল। চর্যাপদ ছিল আদি যুগের  একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

২. মধ্যযুগ :  
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার চার শতাব্দী ধরে।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে তিনটি ভাগ যথাক্রমে:
- ১২০১-১৫০০ - প্রাকচৈতন্য যুগ;
- ১৫০১-১৬০০ চৈতন্য যুগ;
- ১৬০১-১৮০০ চৈতন্য পরবর্তী যুগ।

এছাড়া ১২০১-১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।

৩.আধুনিক যুগ:
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ। এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।
- আখ্যনকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র- সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম। 
১,৯২১.
‘দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক কে?
  1. ক) মনসুর বয়াতি
  2. খ) শাহ মুহাম্মদ গরীবুল্লাহ
  3. গ) আবদুল হাকিম
  4. ঘ) সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
• ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক মনসুর বয়াতি।
• বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
• ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।
• ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: আলাল, দুলাল, মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯২২.
লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. দৌলত কাজী
  3. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
• লৌকিক কাহিনির প্রথম রচয়িতা - দৌলত কাজী।

• দৌলত কাজী:
- লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা দৌলত কাজী।
- দৌলত কাজী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- তিনি ষোল শতকের অন্যতম কবি।
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।
- এটি তার রচিত শ্রেষ্ঠকাব্যগ্রন্থ যা তিনখণ্ডে রচিত।
- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে।
- এই কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯২৩.
'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' সাহিত্য ধারার কবি নন কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. দৌলত কাজী
  3. আবদুল কাদির
  4. সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
⇒ 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' সাহিত্য ধারার কবি নন আবদুল কাদির। তিনি আধুনিক যুগের সাহিত্যিকদের মধ্যে একজন।

⇒ ‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্যকর্ম ও সাহিত্যক:
• অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'। 
• 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, দৌতল কাজী, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।
• 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯২৪.
'যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।' — এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ইউসুফ জোলেখা
  2. লালমোতি সয়ফুলমুলুক
  3. হানিফার লড়াই
  4. নূরনামা
ব্যাখ্যা

'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আবদুল হাকিম।
- নূরনামা ফারসি নীতিকাব্য নূরনামাহ্ অবলম্বনে রচিত।
- 'যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'- বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির নূরনামা কাব্য বিশেষভাবে প্রশংসিত।

আবদুল হাকিম:
- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- তিনি ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে সন্দ্বীপের সুধারামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মধ্যযুগে মুসলমানগণ বাংলাকে নিজেদের ভাষা মনে না করে পারসি-আরবি-উর্দুকে আপন ভাষা মনে করতো। এই পরভাষাশ্রীতিকে  আঘাত করার জন্য আবদুল হাকিম 'নূরনামা' কাব্যে তিনি প্রবাদতুল্য পঙ্‌ক্তি দুটো লিখেন।

আবদুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো:
• ইউসুফ জোলেখা,
• নূরনামা,
• দুররে মজলিশ,
• লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
• হানিফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯২৫.
বৈষ্ণব সাহিত্য কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।

- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলস্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।

বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৯২৬.
‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ প্রকাশের কত বছর পূর্ণ হয়েছে?
  1. দ্বিশতবর্ষ
  2. সুবর্ণ জয়ন্তী
  3. শতবর্ষ
  4. সার্ধ শতবর্ষ
ব্যাখ্যা

⇒ পূর্ব বাংলার মানুষের সাহিত্যগাথা মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৩ সালে। এ বছর পূর্ণ হলো সেই মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশের ১০০ বছর বা শতবর্ষ।

⇒ মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ নামে সংকলনটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৯২৭.
আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মানিক দত্ত
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি। মধ্যযুগের 'শেষ বড়' কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'সত্যনারায়ণের পাঁচালী'।

অন্যদিকে, 
• 'মনসামঙ্গল' কাব্যের আদি কবি-কানাহরি দত্ত।
• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯২৮.
মধ্যযুগে রচিত ‘চন্দ্রাবতী’ একটি-
  1. ক) নাটক
  2. খ) পালাগান
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) পদাবলী
ব্যাখ্যা
চন্দ্রাবতীকোরেশী মাগন ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ
- মধ্যযুগে রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের বিকাশে কোরেশী মাগন ঠাকুরের অবদান অবিস্মরণীয়।
- তিনি আলাওলের কাব্যচর্চার পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি নিজেও রচনা করেন অমর কাব্য - চন্দ্রাবতী
- এটি লোককাহিনী আশ্রিত রোমান্টিক প্রণয়কাব্য।

• কোরেশী মাগন ঠাকুর ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি বিখ্যাত রোসাঙ্গ রাজসভার বাঙালি কাবি ছিলেন।

• কবি আলাওল মাগন ঠাকুরের আশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পদ্মাবতী’ (১৬৫২) কাব্য রচনা করেন।
• এছাড়াও আলাওলের সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল (১৬৫৯) কাব্য রচনার পৃষ্ঠপোষকতাও করেন কোরেশী মাগন ঠাকুর।
--------------
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সাথে "চন্দ্রাবতী" নামটি নানাভাবে জড়িয়ে আছে।
উল্লেখ্য,
ময়মনসিংহ গীতিকার একটি পালার নামও "চন্দ্রাবতী"। তবে এটি মূলত গীতিকা হিসাবেই বিবেচিত।
আবার, "চন্দ্রাবতী" নামে মধ্যযুগে ১ জন মহিলা কবি ছিলেন যিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি ও রামায়ণের অনুবাদক হিসাবে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১,৯২৯.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কাব্যটি কোন ধারার সাহিত্য?
  1. মর্সিয়া সাহিত্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. লোকসাহিত্য
ব্যাখ্যা
শুকুর মাহমুদ:
- তিনি মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯৩০.
জ্ঞানদাসের রচিত বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি গ্রন্থ কী কী?
  1. গীতগোবিন্দ ও পদাবলী
  2. মানস ও বিরহ
  3. চৈতন্যভাগবত ও ভক্তি রত্নাকর
  4. মাথুর ও মুরলীশিক্ষা
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

১,৯৩১.
কোন কবি বাঙ্গালি হওয়া সত্ত্বেও বাংলা ভাষার কবি নন?
  1. জ্ঞানদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা

- জয়দেব সংস্কৃত ভাষার বাঙ্গালি কবি।
- তিনি বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি ছিলেন।
- তাঁর লিখিত গীতিকাব্য 'গীতগোবিন্দ'।
- বাকি তিনজনই মধ্যযুগের বাংলা ভাষার কবি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৯৩২.
'গোরাক্ষ বিজয়' কোন সাহিত্য ধারর অন্তর্ভুক্ত?
  1. মৈমনসিংহ গীতিকা
  2. মঙ্গলকাব্য 
  3. নাথসাহিত্য 
  4. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
ব্যাখ্যা

নাথসাহিত্য:
নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনি বা আখ্যায়িকা।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
'গোর্থবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯৩৩.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কে রচনা করেছেন?
  1. শ্যামদাস সেন
  2. শুকুর মাহমুদ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
• নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

• শুকুর মাহমুদ:
• শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯৩৪.
'জঙ্গনামা' কাব্যগুলোতে মূলত ফুটে উঠেছে?
  1. রোমান্স
  2.  ধর্মীয় যুদ্ধ-বিগ্রহ
  3. দৈনন্দিন জীবন যাপন 
  4. ঐতিহাসিক প্রণয়
ব্যাখ্যা

জঙ্গনামা:
- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব মযুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।

ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৩৫.
মঙ্গলকাব্যের ব্যক্তিত্বময়ী নারীচরিত্র—
  1. ক) ফুল্লরা
  2. খ) সনকা
  3. গ) বেহুলা
  4. ঘ) লহনা
ব্যাখ্যা
• বেহুলা
মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রধান চরিত্র, যাঁকে কেন্দ্র করে বাংলার লোকসমাজে প্রচলিত আছে এক জনপ্রিয় কাহিনী।
- পুরাণ কাহিনীতে বেহুলা স্বর্গের অনিরুদ্ধের স্ত্রী ঊষা, আর লোককাহিনী অনুযায়ী তিনি ছিলেন উজানীনগরের সায়বেনের কন্যা এবং চম্পকনগরের চাঁদ সওদাগরের কনিষ্ঠ পুত্র  মনসামঙ্গল কাব্যের নায়ক লখিন্দরের (লক্ষীন্দর/ লক্ষ্মীন্দর) স্ত্রী।
- শবানুগামিনী এই যুবতী পত্নীর প্রবাস-জীবন ছিল পবিত্র।
- সতীত্ব রক্ষায় তিনি অসাধারণ চারিত্রিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।
- সতীত্ববলেই স্বামীর পুনর্জীবন লাভের আশায় বেহুলা অনেক দুর্জনের পাপ-অভিলাষ ব্যর্থ করে নিজের গন্তব্যে পৌঁছতে সমর্থ হন।
- বাল্য-বৈধব্যের প্রতি উদাসীন থেকে পরিস্ফুট যৌবনে মৃত স্বামীর সঙ্গিনী হয়ে সুদূর প্রবাস থেকে স্বামীর পুনর্জীবন নিয়ে ফিরে আসায় বেহুলা চরিত্রটি বিশেষভাবে গৌরবান্বিত।
- বেহুলার দুঃখ-সহনশীলতার চেয়ে তাঁর এই নির্ভীক তেজস্বিতাই সবাইকে মুগ্ধ করে। আত্মশক্তিতে বলীয়ান বেহুলার একাগ্র সাধনার নিকট অত্যাচারী দৈব শক্তিও মাথা নত করেছে, এখানেই বেহুলা চরিত্রের শ্রেষ্ঠত্ব।
- নারীত্বের মহিমায় বেহুলা সীতা-সাবিত্রী-দময়ন্তীর মতোই বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল চরিত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৯৩৬.
ইতিহাসে কোন মঙ্গলকাব্যের সম্বন্ধে প্রাচীনতম অস্তিত্বের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়?
  1. মনসামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল 
  3. চণ্ডীমঙ্গল 
  4. সারদামঙ্গল 
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গল:
- বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে মনসামঙ্গল সম্বন্ধেই প্রাচীনতম অস্তিত্বের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়।

- এ কাব্যের কাহিনি বাংলার আদিম লোকসমাজে প্রচলিত সর্পপূজার ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

-  সাপের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনসা-লৌকিক ভয়ভীতি থেকেই এ দেবীর উদ্ভব। এই দেবীর কাহিনি নিয়ে রচিত কাব্য মনসামঙ্গল নামে পরিচিত।
কোথাও তা পদ্মাপুরাণ নামেও অভিহিত হয়েছে।

- চাঁদ সদাগরের বিদ্রোহ ও বেহুলার সতীত্বকাহিনির জন্য মনসামঙ্গল সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালি পালা। এর কবির সংখ্যা যেমন শতাধিক, মুদ্রিত ও অমুদ্রিত পুথির সংখ্যাও বহু।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি। এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মনসা, চাঁদ
- সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯৩৭.
'লায়লী মজনু' কাব্যটি কোন কবির কাব্যের ভাবানুবাদ?
  1. রুমি
  2. ওমর খৈয়াম
  3. হাফিজ
  4. জামি
ব্যাখ্যা
'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩ সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৯৩৮.
‘ভাগবত’ এর প্রথম বাংলায় অনুবাদ কবি কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. মালাধর বসু
  3. শ্রীকর নন্দী
  4. কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসু:
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- চৈতন্যদেবের সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।

অন্যদিকে,
- কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস।
- শ্রীকর নন্দী রচিত গ্রন্থ 'ছুটিখানী মহাভারত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৩৯.
আখ্যানমূলক কাব্য 'রসুল বিজয়' রচনা করেন কে?
  1. দৌলত উজির বাহরাম খান
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. আলাওল
  4. সাবিরিদ খান
ব্যাখ্যা
সাবিরিদ খান:
- তিনি মধ্যযুগের কবি ছিলেন।
- 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের রচয়িতা সাবিরিদ খান।
- এ কাব্য রচনায় তিনি প্রচলিত কাহিনি অবলম্বন করেছেন।
- বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি কালিকামঙ্গলের অন্তর্গত।

সাবিরিদ খান তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন: 
- বিদ্যাসুন্দর,
- রসুল বিজয় ও
- হানিফা-কয়রাপরী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪০.
'মধুমালতী' কাব্য রচনা করেন কে?
  1. দ্বিজমাধব
  2. মুহম্মদ কবির
  3. রজনীকান্ত সেন
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
মধুমালতী কাব্য:
- মুহম্মদ কবির হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

মুহম্মদ কবির:
- মুহম্মদ কবির (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।
- মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা। চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর পুথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪১.
কোনটি বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা নয়?
  1. প্রোষিতভর্তৃকা
  2. কলহান্তরিতা
  3. উৎকণ্ঠিতা
  4. প্রকৃতজ্ঞা
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা নয় "প্রকৃতজ্ঞা"।

• বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকার অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি থাকে এবং যার রতির মূলে থাকে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি, যিনি কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে সমর্থা নায়িকা বলা হয়।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি এরা সকলেই সমর্থা নায়িকা।
- এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা হিসেবে বিবেচিত।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা হিসেবে শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়।

• পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা। যথা :
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা এবং
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৪২.
কোনটি শোককাব্য?
  1. হপ্তপয়কর
  2. গুলে বকাওলী
  3. জয়নবের চৌতিশা
  4. সিকান্দারনামা
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া কাব্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'মর্সিয়া সাহিত্য' নামে এক ধরনের শোককাব্য বিস্তৃত অঙ্গন জুড়ে ছড়িয়ে আছে।

- 'মর্সিয়া' কথাটি আরবি এর অর্থ শোক প্রকাশ করা। আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত হয়।

- আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়া কাব্য ফারসি সাহিত্যে স্থান পায়। ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে ফারসি ভাষায় মর্সিয়া প্রচলিত হয় এবং পরে উর্দু ভাষাতেও তার প্রসার ঘটে।

- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, 'যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।

- শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। তাঁর রচিত কাব্য 'জয়নবের চৌতিশা'। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত।
- মর্সিয়া সাহিত্যের প্রধান কবি - ফকির গরীবুল্লাহ্।

অন্যদিকে, 
• গুলে বকাওলী মধ্যযুগের রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের একটি ধারা।
• সৈয়দ আলাওল রচিত 'হপ্তপয়কর' কাব্যটি পারস্য কবি নিজামী গঞ্জভীর কাব্যের ভাবানুবাদ।
• সিকান্দারনামা হলো মধ্যযুগের বাঙালি কবি আলাওলের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। এটি মূলত শাহ্‌ সুজা কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে রচিত হয়। এই গ্রন্থে সিকান্দার (আলেকজান্ডার) এর জীবন ও কার্যাবলী বর্ণিত হয়েছে।  
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৯৪৩.
বৈষ্ণব পদাবলির "পূর্বরাগ" এর শ্রেষ্ঠ পদকর্তা বলা হয় কাকে?
  1. গোবিন্দ দাস
  2. রাধারমন গোপ
  3. চণ্ডীদাস
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলিতে "পূর্বরাগ" এর শ্রেষ্ঠ পদকর্তা হলেন "চণ্ডীদাস"।

• পূর্বরাগ:
- রূপ গোস্বামী ''উজ্জ্বলনীলমণি'' গ্রন্থে পূর্বরাগের সংজ্ঞার্থে বলেছেন -
- মিলনের পূর্বে দর্শন, নাম শ্রবণ প্রভৃতি দ্বারা নায়ক নায়িকার মনে পরস্পরের প্রতি যে অনুরাগ জন্মে, তাকে বলে পূর্বরাগ।
- পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে পূর্বরাগ জনপ্রিয় কাব্যরূপ।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে পূর্বরাগ জনপ্রিয় পর্যায়/ভাগ।

• চণ্ডীদাস:
চণ্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন। চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।

অন্যদিকে,
জয়দেব ছিলেন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।
• গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা গোবিন্দ দাস।
• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩. বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৪.
কোন রাজার রাজসভায় ‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থের গল্পটি প্রথম পরিবেশন করা হয়?
  1. বখতিয়ার খিলজি
  2. বিজয় সেন
  3. ইলিয়াস শাহ্
  4. লক্ষ্মণ সেন
ব্যাখ্যা
• সেক শুভোদয়া: 
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। 
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৯৪৫.
সুস্পষ্ট সন তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্য প্রথম রচনা করেন কে?
  1. ক) কানা হরিদত্ত
  2. খ) বিজয় গুপ্ত
  3. গ) ক্ষেমানন্দ
  4. ঘ) নারায়ন দেব
ব্যাখ্যা
 - বিজয় গুপ্ত (১৫ শতক)  মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
সুস্পষ্ট সন তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা বিজয় গুপ্ত।
- তাঁর কাব্যের ভণিতা থেকে কাব্য রচনার কাল পাওয়া যায় ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দ।

- মনসামঙ্গলের  আদি কবি  কানা হরিদত্ত, কিন্তু তাঁর গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি নারায়ন দেব।
- নারায়ন দেবের কাব্যের নাম পদ্মাপুরাণ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৬.
অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি কে?
  1. লালা জয়নারায়ণ সেন
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুক্তারাম সেন
  4. ঘনরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য মোট তিন খণ্ডে বিভক্ত।
যেমন:
- শিবনারায়ণ।
- কালিকামঙ্গল।
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৭.
জ্ঞানদাস কার শিষ্য ছিলেন?
  1. জাহ্নবী দেবী
  2. বিদ্যাপতি
  3. গোবিন্দদাস
  4. কবি কঙ্ক
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।
-----------------
উল্লেখ্য,
বাংলাপিডিয়া অনুসারে,
জ্ঞানদাস নিত্যানন্দের ভাবশিষ্য এবং তাঁর পত্নী বৈষ্ণব সমাজের নেত্রীস্থানীয় জাহ্নবীদেবীর মন্ত্রশিষ্য ছিলেন।বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম অনুসারে,
তিনি চণ্ডীদাসের কাব্যাদর্শ অনুসরণ করেন বলে- চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য।
তিনি বিদ্যাপতির আলঙ্কারিক রীতি পরিত্যাগ করে চণ্ডীদাস ও নরহরি সরকারের সহজ, সরল ও মরমী রীতিতে পদ রচনা করেছেন।
------------------
জ্ঞানদাস আধ্যাত্মিকভাবে নিত্যানন্দ ও জাহ্নবীদেবীর শিষ্য হলেও কাব্যরচনায় তিনি চণ্ডীদাসের ভাবধারা অনুসরণ করেন। তাঁর কবিতায় বিদ্যাপতির জটিল অলঙ্কারের পরিবর্তে চণ্ডীদাস ও নরহরি সরকারের মতো সহজ, মার্জিত ও মরমীয় ভাষা দেখা যায়। তাই ধর্মীয় দীক্ষায় তিনি নিত্যানন্দের শিষ্য হলেও সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণে তিনি চণ্ডীদাসের ‘ভাবশিষ্য’।পরীক্ষায় অপশন বিবেচনায় উত্তর করতে হবে।

অর্থ্যাৎ,
ধর্মীয় দীক্ষা পেয়েছেন নিত্যানন্দ–জাহ্নবীর কাছ থেকে — (আধ্যাত্মিক/বৈষ্ণবধর্মীয় গুরু)
কাব্যিক অনুপ্রেরণা নিয়েছেন চণ্ডীদাসের কাছ থেকে — (সাহিত্যিক গুরু/ভাবশিষ্যতা)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

১,৯৪৮.
দ্বিজ বংশীদাস কোন কাব্যের অন্যতম কবি?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অভয়ামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাব্যে ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার দেখে অনেকে মনে করেন, কবি সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।
- দ্বিজ বংশীদাস সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রাদি শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন।
- সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা।
- কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৪৯.
'ধ্রুপদ' বলতে বাংলা সাহিত্যে কী বোঝায়?
  1. ক) বাক্যের পদ
  2. খ) চর্যাপদ
  3. গ) বচন
  4. ঘ) শাস্ত্রীয়সঙ্গীত
ব্যাখ্যা
ধ্রুপদ রাগসঙ্গীত বা শাস্ত্রীয়সঙ্গীতের এক প্রধান শৈলী। ‘ধ্রুপদ’ শব্দ ‘ধ্রুবপদ’ শব্দের  অপভ্রংশ। ‘ধ্রুব’ অর্থ স্থির, নির্দিষ্ট ও সত্য  এবং ‘পদ’ অর্থ কথাযুক্ত গীত। তাই ‘ধ্রুবপদ’ বা ‘ধ্রুপদ’ বলতে এক প্রকার ধীর, স্থির, গম্ভীর ও বীরত্বব্যঞ্জক সঙ্গীতকে বোঝায়।

ধ্রুপদ গানের রচনায় কবিত্বের প্রকাশ থাকে। ভাবের মাধুর্য, ভাষার শুদ্ধতা, গীতরীতির গাম্ভীর্য, ছন্দোবৈচিত্র্য প্রভৃতি এ গানের বৈশিষ্ট্য। মোগল সম্রাট  আকবর ধ্রুপদ গানের বিশেষ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁর দরবারের সব সঙ্গীতগুণীই ছিলেন ধ্রুপদী। মিঞা তানসেন ছিলেন সম্রাট আকবরের নবরত্ন সভার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধ্রুপদশিল্পী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১,৯৫০.
কবিওয়ালা ও শায়েরের উদ্ভব ঘটে কখন?
  1. আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
  2. ষোড়শ শতকের শেষার্ধে ও সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধে
  3. সপ্তদশ শতকের শেষার্ধে ও সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধে
  4. উনিশ শতকের শেষার্ধে ও বিংশ শতকের প্রথমার্ধে
ব্যাখ্যা
• কবিওয়ালা ও শায়ের:
- আঠার শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের মুখে কলকাতার হিন্দু সমাজে কবিওয়ালা ও মুসলিম সমাজে শায়েরের উদ্ভব ঘটে।

কবিওয়ালাদের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাম হলো:
- গোঁজলা গুই,
- হুরু ঠাকুর,
- এন্টনি ফিরিঙ্গি৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৫১.
“গুলে বকাওলী’' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সাবিরিদ খান
  2. মুহাম্মদ মুকিম
  3. আব্দুল হাকিম
  4. দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা

''গুলে বকাওলী'' গ্রন্থের রচয়িতা মুহাম্মদ মুকিম ও নওয়াজিস খান ।
গুলে বকাওলী গ্রন্থটি ইজ্জততুললাহ রচিত ''তাজূউলমুলক গুল-ই- বকা-গুলি'' এর অনুবাদ গ্রন্থ ।

-লাইলি-মজনু দৌলত উজির বাহরাম খান এর অনুবাদ গ্রন্থ।
এটি একটি ফারসি প্রেমাখ্যান ।

-নূরনামা, কারবালা ও শহরনামা আব্দুল হাকিমের রচনা ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

১,৯৫২.
দ্বিজ কানাই রচিত পালা কোনটি?
  1. কমলা
  2. মলুয়া
  3. বিদ্যাসুন্দর
  4. মহুয়া
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তিজীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

অন্যদিকে, 
• 'কমলা' দ্বিজ ঈশান রচিত পালা। 
• 'বিদ্যাসুন্দর' কবিকঙ্ক প্রণীত পালা। 
• 'মলুয়া' অজ্ঞাত তবে অনুমান করা হয় চন্দ্রাবতীর লেখা। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৫৩.
কাকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা বলা হয়?
  1. ক) দ্বিজ বংশীদাস
  2. খ) বড়ু চণ্ডীদাস
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা।
- চণ্ডীমঙ্গলের প্রধান কবি হলেন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। তিনি ষোল শতকের কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য লেখেন।
- গণজীবনের করুণ চিত্র তাঁর কাব্যে তুলে ধরেন।
- কবির প্রতিভার স্বকৃতিস্বরূপ রাজা রঘুনাথ তাকে কবিকঙ্কন উপাধি প্রদান করেন।
- তাঁকে দুঃখ বর্ণনার কবি বলা হয়।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৫৪.
শাহ মুহম্মদ সগীর কত শতকের কবি ছিলেন 
  1. ১৮ শতকের
  2. ১৭ শতকের
  3. ১৬ শতকের
  4. ১৫ শতকের
ব্যাখ্যা

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- শাহ মুহম্মদ সগীর মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- আনুমানিক ১৪-এর শেষে থকে ১৫ শতকের মধ্যে তাঁর জন্ম।
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন।
- তাঁর রচিত  ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।
- এ থেকে তাঁর আবির্ভাব কাল চৌদ্দ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগ বলে অনুমান করা হয়। 
- মুহম্মদ সগীরই প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯৫৫.
‘ভেলুয়া’ কোন সংকলন গ্রন্থের অংশ?
  1. মৈমনসিংহ গীতিকা
  2. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  3. ঠাকুরমার ঝুলি
  4. ফোকলোর সংগ্রহমালা
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা':
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। পূর্ববাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালাগুলো সংগ্রহ করা হয়। এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্‌দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো হলো:
- ভেলুয়া,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯৫৬.
“ব্রজবুলি” একটি-
  1. ক) কাব্য
  2. খ) নাটক
  3. গ) গীতিকা
  4. ঘ) ভাষা
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি কে মিথিলার কবি বলা হয়। ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা। ব্রজবুলি মূলত এক ধরনের কৃত্রিম মিশ্র ভাষা। মৈথিলি ও বাংলার মিশ্রিত রূপ হল ব্রজবুলি ভাষা। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে মিথিলার কবি বিদ্যাপতি এর উদ্ভাবন করেন।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

১,৯৫৭.
বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি জয়দেব সম্পর্কে কোনটি সঠিক নয়?
  1. জয়দেব বাংলা ভাষার কবি।
  2. রাজা সেনের সভা কবি ছিলেন।
  3. জয়দেবের বিখ্যাত রচনা গীতগোবিন্দম।
  4. লক্ষ্মণসেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম ছিলেন।
ব্যাখ্যা
• জয়দেব:
- জয়দেব বাংলা ভাষার কবি নন। তিনি সংস্কৃত ভাষার বাঙ্গালি কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- তিনি বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভা কবি ছিলেন।
- জয়দেব ছিলেন লক্ষ্মণসেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম;
- অপর চারজন হলেন গোবর্ধন আচার্য, শরণ, ধোয়ী ও উমাপতিধর।
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা গীতগোবিন্দম্।
- এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯৫৮.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মত অনুসারে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যাপ্তি ছিল-
  1. ৩৫০ বছর
  2. ৪৫০ বছর
  3. ৫০০ বছর
  4. ৬০০ বছর
ব্যাখ্যা
• বাংলার শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে,
বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে। যথা -
১. প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যপ্তি ছিল (১২০১-১৮০০) সুতরাং ৫৯৯ বা ৬০০ বছর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৫৯.
রোসাঙ্গ রাজসভার বিখ্যাত কবি ছিলেন-
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা
• রোসাঙ্গ রাজসভার বিখ্যাত কবি ছিলেন - কোরেশী মাগন ঠাকুর।

• আরাকান বা রোসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য:
- আরাকানকে বাংলা সাহিত্যে রোসাঙ্গ নামে অভিহিত করা হয়।
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা দান করেছিলেন।
- আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি — দৌলত কাজী।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করীম খোন্দকার, 
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৬০.
আবুল ফজলের “রেখাচিত্র” কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) আত্মজীবননী
  2. খ) ভ্রমন কাহিনী
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কাব্য
ব্যাখ্যা
রেখাচিত্র, লেখকের রোজনামচা, দুর্দিনের দিনলিপি আবুল ফজলের আত্মজীবনী। তাঁর রচিত উপন্যাস- চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ, রাঙ্গা প্রভাত ইত্যাদি। মাটির পৃথিবী ও মৃতের আত্মহত্যা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,৯৬১.
‘সনকা ও বেহুলা’ কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল:
• মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
• ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
• সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’। 
• চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
• দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।

• এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।

• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি ।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস, পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯৬২.
'লায়লী মজনু' কোন কবির কাব্যের ভাবানুবাদ?
  1. ফেরদৌসি
  2. মালিক মোহাম্মদ জায়সী
  3. কবি রুমি
  4. কবি জামি
ব্যাখ্যা

'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান। 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ
শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩ সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 'লাইলী-মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

দৌলত উজির বাহরাম খান:

- দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত 'লাইলী-মজনু' কাব্যটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান কাব্যধারায় একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসাবে স্থান পেয়েছে।
- তিনি সাহিত্যসৃষ্টি করার ক্ষেত্রে 'জমিদার নিজাম শাহ' এর পৃষ্ঠপােষকতা লাভ করেন।
- কবি তার কাব্যে যে আত্মপরিচয় লিখে গেছেন, তা থেকে তেমন বিস্তারিত তথ্য অবগত হওয়া যায় না। কবির ব্যক্তিজীবনের পরিচয় থেকে জানা যায়, তিনি চট্টগ্রামের ফতেহবাদ বা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- কবির পিতা মোবারক খান চট্টগ্রামের অধিপতির কাছ থেকে ‘দৌলত উজির’ উপাধি পেয়েছিলেন। কবির পূর্বপুরুষ হামিদ খান গৌড়ের সুলতান হুসেন শাহের প্রধান আমত্য।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।
- নিজাম শাহ গৌড়ের নৃপতি থাকাকালিন বাহরাম খান তাঁর ‘লাইলী-মজনু’ কাব্যটি রচনা করেন।

দৌলত উজির বাহরাম খানের দুটি আখ্যানকাব্য হলো:
• লায়লী-মজনু ও
• ইমাম-বিজয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

১,৯৬৩.
লাউসেন ও হরিশ্চন্দ্র কোন মঙ্গল কাব্য ধারার চরিত্র?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত।
- প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এঁর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল। 

ধর্মমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনি- 
- রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি 
- লাউসেনের কাহিনি 

- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৬৪.
'লহনা' কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) শিবমঙ্গল
ব্যাখ্যা
চন্ডীমঙ্গল মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- চন্ডীদেবীর কাহিনী এর উপজীব্য।
- এই চন্ডীদেবীও মূলত অনার্যসম্ভূতা, পরে বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রের দেবকল্পনার প্রভাবে পর্যায়ক্রমে পৌরাণিক দেবতায় পরিণত হন।
- এর বিষয়বস্ত্ত দুটি সামাজিক কাহিনীকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে।
- প্রথমটি কালকেতুর কাহিনি, এতে রয়েছে কালকেতু-ফুল্লরার জীবনকথা এবং
- দ্বিতীয়টি বণিক ধনপতির কাহিনি, এতে রয়েছে ধনপতি-লহনা-খুল্লনার কাহিনী। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৬৫.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।' - উক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সারদামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।'

- আলোচ্য পঙক্তি টি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের 'আমার সন্তান' কবিতার অন্তর্গত।
- এখানে লেখক 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' - কথাটি ঈশ্বরী পাটনীর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পাণ্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৬৬.
রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য ‘চন্দ্রাবতী'র রচয়িতা কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- ‘চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- এর একটি খণ্ডিত পুথি পাওয়া গেছে। এটি লোককাহিনি আশ্রিত রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য।
- কাব্যের রচনাকাল নিয়ে সংশয় আছে। তবে মাগন আরাকান রাজ্যের মন্ত্রী ও আলাওলের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাই কাব্যটি সতের শতকের।
- ‘চন্দ্রাবতী' কাব্যের প্রাচীন উৎস জানা যায় না।মনে হয় এটা কবির স্বাধীন কল্পনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৬৭.
‘রায়গুণাকর’ উপাধিতে ভূষিত করাহয় কোন কবি কে?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায়
  2. খ) রামনিধি গুপ্ত
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায় : 
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খন্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- উনবিংশ শতাব্দীর কলকাতায় ভারতচন্দ্র অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৬৮.
সেক শুভোদয়া গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ব্রাহ্মণসেবধি
  2. আর্য্যদর্শন
  3. কায়স্থ
  4. অমৃতবাজার
ব্যাখ্যা
• সেক শুভোদয়া:
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন।
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৬৯.
'শূন্যপুরাণ' সম্পর্কে কোন বিবৃতিটি সঠিক নয়?
  1. 'শূন্যপুরাণ' বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
  2. গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
  3. শূন্যপুরাণ গ্রন্থটির ৫১টি অধ্যায়ই সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
  4. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে 'শূন্যপুরাণ' প্রকাশিত হয়।
ব্যাখ্যা
- 'শূন্যপুরাণ' সম্পর্কে সঠিক নয় - শূন্যপুরাণ গ্রন্থটির ৫১টি অধ্যায়ই সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়। 
- শূন্যপুরাণ গ্রন্থটির প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়। 

• শূন্যপুরাণ: 
- 'শূন্যপুরাণ' বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- গ্রন্থটির লেখক কে তার সুনির্দিষ্ট হদিস পাওয়া যায় নি। তবে যতটুকু ভণিতা পাওয়া যায়, তাতে মনে হয় গ্রন্থটি রামাই পণ্ডিতের।
- গ্রন্থটির প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- এই সকল সৃষ্টিতত্ত্ব বর্ণনায় মহাযান বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব লক্ষ করা যায়।
- বাকি সব কয়টি অধ্যায়ই বিভিন্ন ও বিচিত্র রকমের ধর্মপূজার পদ্ধতি বিশ্লেষণে পূর্ণ।
- গ্রন্থটি নামবিহীন অবস্থায় পাওয়া যায়।
- ‘বিশ্বকোষ' প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে 'শূন্যপুরাণ' নামকরণ করে প্রকাশ করেন।
- এই কাব্যে 'শূন্যময় দেবতা' ধর্মঠাকুরের পূজা পদ্ধতির বর্ণনা আছে।
- গ্রন্থটির রচনাকাল সম্পর্কে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ লক্ষ করা যায়।
- পণ্ডিত যোগেনচন্দ্র রায় বিদ্যানিধির মতে, 'শূন্যপুরাণ' এর রচনাকাল ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময় গ্রন্থটি রচিত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৭০.
বাংলা টপ্পা গান কোন টপ্পা শৈলীর অনুকরণে প্রবর্তিত হয়েছে?
  1. ফারসি টপ্পার
  2. আরবি টপ্পার
  3. ফরাসি টপ্পার 
  4. হিন্দুস্থানি টপ্পার
ব্যাখ্যা
• টপ্পা গান:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।

- রামনিধি গুপ্ত ছাপরা জেলায় চাকরি করাকালে একজন মুসলমান ওস্তাদের নিকট সঙ্গীতে তালিম নেওয়ার সময় শোরী মিঞার হিন্দুস্থানি টপ্পার সঙ্গে পরিচিত হন। তিনি চাকরিশেষে কলকাতায় এসে হিন্দুস্থানি টপ্পার আদলে বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তন করেন। তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)।

- এ গানের বৈশিষ্ট্য হলো একেকটি স্বরের ওপর মধ্যলয়ে দোলায়মান কম্পন দ্বারা গানের কথাগুলির গড়িয়ে গড়িয়ে অবরোহণ। নিধুবাবু বাংলা গানের কাব্যিক সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য শোরী মিঞার টপ্পার তানে ক্ষিপ্রতার বদলে কোমল কম্পন ব্যবহার করেন। তবে তিনি হিন্দুস্থানি টপ্পার রাগ ও তালের ব্যবহারে সাধারণত কোনো পরিবর্তন আনেননি।

- প্রেমসঙ্গীত ছাড়াও তিনি টপ্পার ছাঁচে ব্রহ্মসঙ্গীত রচনা করেছেন, যেমন: ‘পরমব্রহ্ম তৎপরাৎপর পরমেশ্বর/ নিরঞ্জন নিরাময় নির্বিশেষে সদাশয়/ আপনা আপনি হেতু বিভু বিশ্বধর।’ (বেহাগ/ আড়া)।

- নিধুবাবুর সমসাময়িককালে এবং কিছুকাল পরে যাঁরা বাংলা টপ্পা রচনায় অবদান রাখেন তাঁদের মধ্যে কালী মীর্জা ও শ্রীধর কথকের নাম উল্লেখযোগ্য।

• রামনিধি গুপ্ত রচিত বিখ্যাত টপ্পা:
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৭১.
মৈমনসিংহ-গীতিকা বিশ্বের কয়টি ভাষায় মুদ্রিত হয়?
  1. ১৫ টি
  2. ১৩টি
  3. ২৩টি
  4. ২৭টি
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে -  মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে, যথা:
- মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৯৭২.
আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার উৎস কী?
  1. ক) জারিগান
  2. খ) গজল
  3. গ) গম্ভীরা গান
  4. ঘ) টপ্পা গান
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের গীতিকবিতা ধারার প্রথম প্রকাশ ঘটে মধ্যযুগের বৈষ্ণবকবিতায়। পরবর্তীকালে এর নবরূপ প্রকাশ পায় প্রধানত কবিগান ও যাত্রার মাধ্য দিয়ে। কবিগান, যাত্রা, লোকগাথা, পাঁচালি, আখড়াই, টপ্পা প্রভৃতি ছিল মধ্যযুগ ও উনিশ শতকের সন্ধিক্ষণের বাংলা কাব্যের অমূল্য সম্পদ। উল্লেখ্য যে আধুনিক গীতিকবিতা ধারার জনক বিহারীলাল চক্রবর্তী (১৮৩৫-১৮৯৪) সারদামঙ্গল (১৮৭৯) কাব্যের জন্য বিখ্যাত। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১,৯৭৩.
মঙ্গলকাব্যে কতজন কবির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ৫০ জন
  2. ৪৫ জন
  3. ৬২ জন
  4. ৬৫ জন
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা।
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধ্যান পাওয়া যায়।
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত,মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, দ্বিজমাধম,ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৭৪.
নিম্নোক্ত কোন সাহিত্যকর্ম অন্ধকার যুগে রচিত হয়?
  1. চর্যাপদ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. মণিপুরী কীর্তন
  4. শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
• ঘ) শূন্যপুরাণ অন্ধকার যুগে রচিত সাহিত্যকর্ম।
- রামাই পণ্ডিত রচিত এই গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম। এটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আখ্যানকাব্য।

অন্ধকার যুগ (১২০০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ):
এই সময়কালে বাংলা সাহিত্যে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম পাওয়া যায় না বলে একে 'অন্ধকার যুগ' বলা হয়।

• 'শূন্যপুরাণ': 
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। 
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

অন্যান্য অপশনগুলোর সময়কাল:
ক) চর্যাপদ - চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। প্রাচীন যুগ (৬৫০/৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ) এর সাহিত্যকর্ম।
খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বড়ু চণ্ডীদাস রচিত একটি মধ্যযুগীয় কাব্য, যা ১৪শ শতকের মধ্যে রচিত বলে মনে করা হয়।
গ) মণিপুরী কীর্তন - মণিপুরী কীর্তন বাংলা সাহিত্যের কোনো সুনির্দিষ্ট সাহিত্যকর্ম নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম। 
১,৯৭৫.
মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. রাজা নরোত্তম রায়
  2. রাজা রঘুনাথ রায়
  3. রাজা প্রতাপাদিত্য
  4. শ্রীজীব গোস্বামী
ব্যাখ্যা
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
- যুবরাজের পৃষ্ঠপোষকতা ও আনুকূল্যে জনৈক প্রসাদ দেব এ কাব্য সঙ্গীতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।
- তিনি কবি এবং সঙ্গীতশিল্পী উভয়কেই প্রচুর অলংকার সামগ্রী, বিলাসবহুল পোষাক-পরিচ্ছদ এবং ভ্রমণের জন্য ঘোড়া দিয়ে পুরস্কৃত করেন।
- রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- সুকুমার সেন মুকুন্দরামের পাঁচালিকে একটি দুর্লভ শ্রেষ্ঠ পাঁচালি হিসেবে বর্ণনা করেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৭৬.
নিচের কোনটি জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. পদুমাবৎ
  2. চন্দ্রাবতী
  3. মনসামঙ্গল কাব্য
  4. লাইলি মজনু
ব্যাখ্যা
• হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন:
- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।

কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Essays on Kashmiri Grammar.
- A Manual of the Kashmiri Language.
- A Dictionary of the Kashmiri Language.

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৭৭.
বিদ্যাপতি কোন ধারার কবি?
  1. ক) বৈষ্ণবপদাবলি
  2. খ) রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  3. গ) চরিত সাহিত্য
  4. ঘ) মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলি। এর নায়ক নায়িকা - রাধা ও কৃষ্ণ।
উল্লেখযোগ্য বৈষ্ণব পদাবলি রচয়িতা - বিদ্যাপতি, চন্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

১,৯৭৮.
'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' – এই দুটি কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' – এই দুটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী।
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।
- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এটা অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র-
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৭৯.
নিচের কোনটি আলাওল রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) তত্ত্বোপদেশ
  3. গ) লালমোতি সয়ফুলমূলক
  4. ঘ) হপ্ত পয়কর
ব্যাখ্যা

লালমোতি সয়ফুলমূলক- আবদুল হাকিম রচিত কাব্য আর বাকি সবগুলো আলাওলের রচনা।
উল্লেখ্য, তত্ত্বোপদেশ গ্রন্থের অন্য নাম- তোহফা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৯৮০.
'রুপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর' কার রচনা?
  1. চণ্ডিদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. লোচনদাস
ব্যাখ্যা
'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- জ্ঞানদাস।

-----------------------
• 'জ্ঞানদাস':
- জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি।
- জ্ঞানদাস বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায়, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় ২শ(মতান্তরে চারশ) পদ লেখেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

• বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে জ্ঞানদাসের কবিতায়:
রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।

• তাঁর আরো একটি বিখ্যাত পদ:
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৯৮১.
জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা
সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবি দেখি তা না-না-না।।
- এই গানটির রচয়িতা কে?
  1. আব্দুল হাকিম
  2. লালন শাহ
  3. হাসন রাজা
  4. শাহ আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
লালন শাহ:
- তিনি বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা, গায়ক ছিলেন।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- এ তথ্যটি পাওয়া যায় তাঁর মৃত্যুর দুসপ্তাহ পরে হিতকরী (১৮৯০) পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ-নিবন্ধে।

লালন ফকিরের উল্লেখযোগ্য কয়েটি গান:
• খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়।।

• আমি অপার হয়ে বসে আছি
ও হে দয়াময়,
পারে লয়ে যাও আমায়।।

• জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা
সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবি দেখি তা না-না-না।।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৯৮২.
মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি-
  1. বিজয় গুপ্ত
  2. রাধারমণ গোপ
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. আনন্দ চন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা
• "রাধারমণ গোপ" মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি।

• মর্সিয়া সাহিত্য:

- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷
- তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৯৮৩.
কোন কবি কে ‘নাগরিক কবি’ বিশেষণে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) মনিক দত্ত
  2. খ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরকে মধ্যযুগের/বাংলা সাহিত্যের প্রথম ‘নাগরিক কবি’ বিশেষণে অভিহিত করা হয়।
- উল্লেখ্য, আধুনিক যুগের নাগরিক কবি হলেন শামসুর রাহমান। 

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
-  ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে  মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৮৪.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ সম্পর্কিত 'বাঙ্গালা ভাষা ও বাঙ্গালা সাহিত্যবিষয়ক প্রস্তাব' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. রামগতি ন্যায়রত্ন
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
যুগবিভাগ সম্পর্কে বিভিন্ন মত:
- বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ সম্পর্কে পণ্ডিতেরা ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের শাসক ও ধর্মমতের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে কেউ কেউ যুগবিভাগ করেছেন বলে এই মতানৈক্য প্রত্যক্ষ করা যায়।
- প্রাচীন ও আধুনিক কালের বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস রচনার গৌরব পণ্ডিত রামগতি ন্যায়রত্নের প্রাপ্য
- ১৮৭৩ সালে তিনি 'বাঙ্গালা ভাষা ও বাঙ্গালা সাহিত্যবিষয়ক প্রস্তাব' গ্রন্থে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ ও উনিশ শতকের সাহিত্য সম্বন্ধে ধারাবাহিক আলোচনা করেন। তাঁর

ইতিহাস তিনটি অংশে বিভক্ত হয়েছিল:
১. আদ্যকাল অর্থাৎ প্রাক-চৈতন্য পর্ব। এই অংশে বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস ও কৃত্তিবাসের আলোচনা আছে।
২. মধ্যকাল অর্থাৎ চৈতন্যযুগ থেকে ভারতচন্দ্রের পূর্ব পর্যন্ত।
৩. ইদানীন্তন কাল-ভারতচন্দ্র থেকে রামগতি ন্যায়রত্নের সমকালীন কবি সাহিত্যিকদের বিবরণ রয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৯৮৫.
হিন্দি এবং ফারসি কাব্য থেকে কোন কাব্য ধারার প্রচলন হয়েছে?
  1. নাথসাহিত্য
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. পদাবলি
  4. প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• হিন্দি ও ফারসি কাব্য থেকে 'প্রণয়োপাখ্যান" কাব্য ধারার প্রচলন হয়েছে।

• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- মধ্যযুগ ১২০০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত সম্প্রসারিত।
- অনেকে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়টুকুকে যুগসন্ধি বা অন্ধকার যুগ বলে অভিহিত করে থাকেন।
- মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন বড়ু চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য।
- মধ্যযুগের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর পঞ্চদশ শতকে প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য 'ইউসুফ-জোলেখা' রচনা করেন।
- মধ্যযুগের অন্যতম বিশিষ্ট নিদর্শন অনুবাদ সাহিত্য।
মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন,
- ইউসুফ-জোলেখা,
- রামায়ণ,
- মঙ্গলকাব্য,
- ডাক ও খনার বচন,
- নূরনামা ইত্যাদি।
- বাংলা অনুবাদ কাব্যের সূচনা হয়: মধ্যযুগে।
• এক্ষেত্রে প্রধানত অনুবাদ হয়েছে:
১. সংস্কৃত থেকে,
২. হিন্দি সাহিত্য থেকে,
৩. আরবি-ফারসি সাহিত্য থেকে।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সমগ্র সৃষ্টিকে অনুবাদ ও মৌলিক এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা চলে।
- অনুবাদ শাখা মধ্যযুগের ব্যাপক পরিসর জুড়ে আছে।
- পনের শতক থেকে অনুবাদের ধারাটির সূত্রপাত লক্ষ করা যায়।
- অনুবাদ শাখার মধ্যে এক শ্রেণির সাহিত্য সংস্কৃত থেকে অনূদিত যেমন রামায়ণ, মহাভারত, ভাগবত ইত্যাদি।
- অনুবাদজাতীয় সাহিত্যসৃষ্টি হিসেবে মুসলমান কবিগণের প্রণয়োপাখ্যান কাব্যের কথাও এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য।
- পনের শতকের কবি শাহ মুহম্মদ সগীর এ ধারার সূত্রপাত করেন।
- মুসলমান কবি রচিত প্রণয়োপাখ্যান কাব্যগুলো ফারসি হিন্দি প্রভৃতি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে।

• পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

• নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।

• মঙ্গলকাব্য:
- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি। যথা:
• মনসামঙ্গল,
• চণ্ডীমঙ্গল,
• অন্নদামঙ্গল।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৯৮৬.
পারস্যের কবি জামী রচিত কাব্যের বাংলা অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. পদ্মাবতী 
  2. ইউসুফ-জোলেখা
  3. গুলে বকাওলী 
  4. মধুমালতী 
ব্যাখ্যা
• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- 'ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য। তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ। 
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জোলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৯৮৭.
'দেওয়ানা মদিনা' পালাটির লেখক- 
  1. চন্দ্রাবতী 
  2. দ্বিজ কানাই
  3. মনসুর বয়াতি
  4. দ্বিজ ঈশান
ব্যাখ্যা

• 'দেওয়ানা মদিনা' পালা:
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি 'দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম 'আলাল-দুলালের' পালা।

'দেওয়ানা মদিনা'র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা,
- সোনাফর।

---------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে। মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।

এগুলো হলো- 
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯৮৮.
ব্রজবুলি কী?
  1. ব্রজ সম্প্রদায়ের কথা
  2. ব্রজ ধর্ম
  3. এক রকম কৃত্রিম কবিভাষা
  4. মৈথিলী ভাষার একটি উপভাষা
ব্যাখ্যা
• ব্রজবুলি হলো একটি কৃত্রিম কবিভাষা, যা বাংলা, মৈথিলী ও সংস্কৃত ভাষার সংমিশ্রণে সৃষ্টি হয়েছিল মূলত ভক্তিমূলক কবিতা রচনার জন্য।

• ব্রজবুলি:

- বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশই রচিত হয়েছে 'ব্রজবুলি' নামে এক কৃত্রিম মিশ্র ভাষায়।
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি এর উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়। 

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৮৯.
বৈষ্ণব পদাবলির মূল উপজীব্য কী?
  1. রাম সীতার প্রণয়লীলা
  2. জীবনীকাব্য বর্ণনা
  3. রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা
  4. শিব ধর্মের প্রচার
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব সাহিত্য  বৈষ্ণব ধর্ম ও দর্শনকে কেন্দ্র করে মধ্যযুগে রচিত একটি কাব্যধারা। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর মূল উপজীব্য। বারো শতকে সংস্কৃতে রচিত জয়দেবের  গীতগোবিন্দম্ এ ধারার প্রথম  কাব্য। 
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।

বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯০.
লোক সাহিত্যধারা সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. ধর্ম ও মানবিকতা আছে
  2. ধর্ম আছে, মানবিকতা নেই
  3. ধর্ম নেই, মানবিকতা আছে
  4. ধর্ম নেই, মানবিকতা নেই
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য - ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা - বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- মধ্যুযগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৯১.
নিচের কোনটি মহাকবি আলাওলের গ্রন্থ নয়?
  1. পদ্মাবতী
  2. সেকান্দার নামা
  3. নূরনামা
  4. হপ্ত পয়কর
ব্যাখ্যা

- আলাওলের গ্রন্থ নয় 'নূরনামা'।
- নূরনামা’ আবদুল হাকিমের একটি কাব্যগ্রন্থ।
- মহাকবি আলাওলের কাব্যগ্রন্থগুলাে হলাে: • পদ্মাবতী (১৬৪৮), • হস্ত পয়কর (১৬৬৫), • সেকান্দার নামা (১৬৭৩) ইত্যাদি।
- এরা দুজনই মধ্যযুগের কবি ছিলেন।
উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ূন আজাদ।

১,৯৯২.
'মহাভারত' মূল কাব্যের রচয়িতা ছিলেন-
  1. কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. কাশীরাম দাস
  4. রাধারমণ দত্ত
ব্যাখ্যা
মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য। মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।

- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন- কবীন্দ্র পরমেশ্বর। তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম -পরাগলী মহাভারত। অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
 
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ বাংলা অনুবাদক কবি ছিলেন কাশীরাম দাস। কাশীরাম দাসের অনুবাদকৃত মহাভারতের নাম 'ভারত পাঁচালী'। এটির রচনাকাল সম্বন্ধে যোগেশচন্দ্র বিদ্যানিধি মনে করেন ১৬০২-০৪ খ্রিষ্টাব্দের। তিনি গ্রন্থ রচনা শেষ করে যেতে পারেন নি। মহাভারতের আদি, সভা, বন ও বিরাট পর্ব রচনার পর তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। কথিত আছে কবির অসমাপ্ত কাব্য সমাপ্ত করেন কবির পুত্র, ভ্রাতুষ্পুত্র ও শিষ্য স্থানীয় অনেকে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৯৯৩.
“যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।” - পঙ্‌ক্তি দুটিতে কি প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ক) মাতৃ ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা
  2. খ) মাতৃ ভাষার জয়গান
  3. গ) মাতৃ ভাষা বিদ্বেষীদের প্রতি ঘৃণা
  4. ঘ) মাতৃ ভাষার প্রতি আবেগের বহিঃপ্রকাশ
ব্যাখ্যা
“যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।” - এই পঙ্‌ক্তি দুটিতে প্রকাশ পেয়েছে:

গ) মাতৃ ভাষা বিদ্বেষীদের প্রতি ঘৃণা

এখানে কবি বা লেখক তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছেন যারা বাংলায় জন্ম নিয়েও বাংলা ভাষার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বঙ্গবাণী – আবদুল হাকিম। 
১,৯৯৪.
'আমারি বধূয়া আন বাড়ি যায়, আমারি আঙিনা দিয়া।'- কোন কবির রচনা?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
'আমারি বধূয়া আন বাড়ি যায়, আমারি আঙিনা দিয়া।'- লাইনটির রচয়িতা 'দ্বিজ চণ্ডীদাস'
- চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন। 

 চন্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি: 
- 'সই, কেমনে ধরিব হিয়া?
আমার বঁধূয়া আন বাড়ি যায়
আমার আঙিনা দিয়া।'

মধ্যযুগে বাংলা কাব্যে অন্তত চারজন চন্ডীদাসের কবিতা পাওয়া যায়।
তারা হলেন: 
- বড়ু চন্ডীদাস
- দ্বিজ চন্ডীদাস
- দীন চন্ডীদাস
- চন্ডীদাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৯৫.
রামায়ণ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. শ্রীকর নন্দী
  3. কাশীরাম দাস
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• রামায়ণ অনুবাদ:
- কবি বাল্মীকি রচিত রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। বাল্মীকি আগে রত্নাকার নামে দস্যুবৃত্তি করতেন।
- বল্মীকির 'রামায়ণ' প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি কৃত্তিবাস ওঝা।
- কৃত্তিদাস ওঝা রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম-পাঁচালি'।
- তাঁর বাংলায় অনুবাদ কৃত রামায়ণ টি এতোটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, ১৮০২-০৩ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুরের পাদ্রিরা তাদের নব প্রতিষ্ঠিত প্রেসে গ্রন্থটি মুদ্রণ করেন।

অন্যদিকে,
- কাশীরাম দাস মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক।
- শ্রীকর নন্দী মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদিত মহাভারতের নাম 'বিজয়পাণ্ডবকথা' বা 'ভারত পাঁচালী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৯৬.
জয়দেব কোন ভাষার কবি ছিলেন?
  1. বাংলা
  2. পালি
  3. সংস্কৃত
  4. মৈথিলি
ব্যাখ্যা
• জয়দেব:
- জয়দেব বাংলা ভাষার কবি নন। তিনি সংস্কৃত ভাষার বাঙ্গালি কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- তিনি বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভা কবি ছিলেন।
- জয়দেব ছিলেন লক্ষ্মণসেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম;
- অপর চারজন হলেন গোবর্ধন আচার্য, শরণ, ধোয়ী ও উমাপতিধর।
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা গীতগোবিন্দম্।
- এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
১,৯৯৭.
"রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান" সাহিত্য ধারার কবি নন কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. কানাহরি দত্ত
  3. শাহ মুহম্মদ সগীর
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান" সাহিত্য ধারার কবি নন  "কানাহরি দত্ত"।
- 'মনসামঙ্গল' কাব্যের আদি কবি-কানাহরি দত্ত।

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা।
- মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯৮.
নিচের কে মধ্যযুগের কবি নন?
  1. আর্যদেব
  2. জয়দেব
  3. বিদ্যাপতি
  4. চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা
জয়দেব, বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাস -- মধ্যযুগের কবি।
- উল্লেখ্য, তিনজনই বৈষ্ণব পদাবলির কবি।
অন্যদিকে,
- আর্যদেব প্রাচীনযুগের কবি।
- আর্যদেবপা - চর্যাপদের ৩১নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৯৯.
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের শুরুর সময়কে কী বলে?
  1. ক) অন্ধকার যুগ
  2. খ) অন্তঃমধ্য যুগ
  3. গ) অবক্ষয় যুগ
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর থেকে আধুনিকতার যথার্থ বিকাশকাল পর্যন্ত  অর্থাৎ ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টির স্বল্পতা, রচনার পরিবেশ-পরিস্থিতি ও বৈশিষ্ট বিবেচনা করে এই পর্যায়কে একটা স্বতন্ত্র যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- কারও মতে এই যুগের পরিধি ১৭৬০ থেকে ১৮৩০ সাল অর্থাৎ ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব-পূর্বকাল পর্যন্ত। 
- মধ্যুযুগের শেষ ও  আধুনিকযুগের শুরুর এই সময়কে 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২,০০০.
আলাওল রচিত ‘তোহফা’ — কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?”
  1. আত্মচরিত
  2. মর্সিয়া সাহিত্য
  3. প্রণয়কাব্য
  4. নীতিকাব্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর — ঘ) নীতিকাব্য।
- 'তোহফা' কাব্যটি মূলত পাঠকদের নৈতিক চেতনা বৃদ্ধি ও সৎ পথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যে রচিত।
--------------------
• 'তোহফা' কাব্য:
'তোহফা' গ্রন্থটি কবি আলাওলের পঞ্চম রচনা। এই কাব্য বিখ্যাত সুফী সাধক শেখ ইউসুফ গদা দেহলভীর 'তোহফাতুন নেসায়েহ্' নামক ফারসি গ্রন্থের অনুবাদ।

- আলাওল ১৬৬৪ সালে এ কাব্য সমাপ্ত করেন। তখন নিজের অবস্থা সম্পর্কে কবি বলেছেন: মুই আলাওল হীনদৈববশ অনুদিনবিধি বিড়ম্বিল বৃদ্ধকাল।ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধীয় তত্ত্বোপদেশপূর্ণ এ গ্রন্থটি শ্রীমন্ত সোলেমানের নির্দেশে রচিত হয়েছিল।
- তোহফা গ্রন্থটি কাব্যাকারে রচিত হলেও ধর্মীয় নীতিকথাই এতে রূপ লাভ করেছে।
- ধর্মীয় তত্ত্বমূলক ও নৈতিক উপদেশাত্মক কাব্য তোহফা পঁয়তাল্লিশ অধ্যায়ে বিভক্ত এবং এর বিভিন্ন অধ্যায়ে মুসলমানদের ধর্ম আচার-আচরণ কর্তব্য ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
- তৌহিদ, ইমান, এল্ম, শাস্ত্রব্যবস্থা, এবাদত, বিবাহ ইত্যাদি ধর্মীয় সামাজিক ও দৈনন্দিন জীবনের পালনীয় কর্তব্য সম্পর্কে পয়ার ছন্দে রূপ দিয়ে আলাওল মুসলমানদের জন্য অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ হিসেবে এর মর্যাদা দিয়েছেন।

----------------
আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।