• ধর্মমঙ্গল কাব্য রাঢ় বাংলার সমাজ, রাজনীতি ও লোকধর্মকে কেন্দ্র করে রচিত। এতে লৌকিক দেবতা ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য, বীর লাউসেনের কাহিনী এবং সাধারণ মানুষের জীবন, বিশ্বাস ও বীরত্ব ফুটে ওঠে। এটি মূলত লোকায়ত সংস্কৃতি ও সামাজিক বীরত্বের মহাকাব্য।
------------------------------
• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গল কাব্য হলো এমন একটি কাব্যধারা যা মূলত ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য বা গুণগান প্রদর্শনের জন্য রচিত।
- এখানে ধর্মঠাকুরকে অনার্য দেবতা হিসেবে দেখানো হয়, অর্থাৎ সে শহরের ব্রাহ্মণ বা আর্য ধর্মের চেয়ে ভিন্ন, গ্রামীণ বা লোকমুখী দেবতা।
- একই সঙ্গে তাকে কখনও কখনও সূর্য বা বুদ্ধের প্রতীক হিসেবে কল্পনা করা হয়, যা তার অতিপ্রাকৃতিক শক্তি, জ্ঞান ও প্রভাবকে তুলে ধরে।
- ধর্মমঙ্গল কাব্যের মূল আখ্যান প্রধানত দুটি কাহিনীকে কেন্দ্র করে গঠিত।
- প্রথমটি হলো রাজা হরিশ্চন্দ্রের পৌরাণিক কাহিনী
- এবং দ্বিতীয়টি হলো লাউসেনের লৌকিক বীরগাঁথা।
- ধর্মমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রসমূহের মধ্যে আছেন-
- লাউসেন, ধর্মঠাকুর, কালু ডোম, কানড়া, ইছাই ঘোষ, ময়নামতী, রাজা হরিশ্চন্দ্র এবং মদনা ও লুইচন্দ্র।
- ধর্মমঙ্গল কাব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল- রাঢ় বাংলার লৌকিক দেবতা ধর্মঠাকুরের মহিমা প্রচার করা।
- কাব্যটির আখ্যান হরিশ্চন্দ্রের কাহিনীর মাধ্যমে শুরু হয়ে, লাউসেনের বীরত্ব ও ধর্মঠাকুরের কৃপায় তার বিজয় প্রদর্শনের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে।
- এছাড়া কাব্যটি রাঢ় অঞ্চলের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পৌরাণিক প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।
- এতে ধর্মঠাকুরের অলৌকিক কর্মকাণ্ড, লাউসেনের বীরত্ব, ধর্মঠাকুরের কৃপায় তার বিজয় এবং প্রাচীন রাঢ়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি বা প্রথম কবি ছিলেন ময়ূরভট্ট।
- তিনি ‘হাকন্দপুরাণ’ রচনা করেছেন।
- তবে মধ্যযুগে এই ধারায় রূপরাম চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তীকে প্রধান ও জনপ্রিয় কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ধর্মমঙ্গলের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি অষ্টাদশ শতাব্দীর ঘনরাম চক্রবর্তী।
- অন্যান্য কবির মধ্যে আছেন- মানিকরাম গাঙ্গুলি, রামদাস আদক, এবং সীতারাম দাস।
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।