বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ১৯ / ২৮ · ১,৮০১১,৯০০ / ২,৭৬৪

১,৮০১.
'মহুয়া' পালাটি কে রচনা করেন?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. মনসুর বয়াতী
  3. দ্বিজ কানাই
  4. দামোদর দাস
ব্যাখ্যা
• নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
"কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।"

অন্যদিকে, 
- চন্দ্রাবতী রচিত কয়েকটি পালা হচ্ছে - মলুয়া, দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।
- চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র পালার রচয়িতা - নয়ানচাঁদ ঘোষ।

সোর্স: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮০২.
মঙ্গলকাব্যে কতজন কবির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ৪২ জন
  2. ৬৭ জন
  3. ৪৬ জন
  4. ৬২ জন
ব্যাখ্যা
• মঙ্গকাব্য:
মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
•মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি, ঘনরাম চক্রবর্তী।
• মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

• একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখন্ড,
- শ্রুতিফল ।

- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮০৩.
‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম -
  1. চন্দ্রাবতী
  2. খনা রানী
  3. লীলাবতী
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম - লীলাবতী।

খনার বচন:

- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি।
- ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত।
- এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৮০৪.
মঙ্গলযুগের শেষ বড় কবি বলা হয় কাকে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের/মঙ্গলযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য রচনা করেন। ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল 'বিমিশ্র দেবতা' সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮০৫.
চৈতন্যদেবের শ্রেষ্ঠ জীবনীকার কে ছিলেন?
  1. লোচনদাস
  2. বৃন্দাবনদাস
  3. কৃষ্ণদাস
  4. চূড়ামণিদাস
ব্যাখ্যা
চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) জীবন ও লীলাবিষয়ক এ কাব্যধারা মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- চৈতন্যচরিতকাব্য প্রথম রচিত হয় সংস্কৃত ভাষায়

- বাংলা চরিতকাব্যগুলির মধ্যে বৃন্দাবন দাসের 'চৈতন্যভাগবত' (১৫৪৬-১৫৫০) প্রথম রচনা। এটি চৈতন্যমঙ্গল নামেও পরিচিত।
- গোবিন্দদাসের কড়চা এ সময়ের অপর একখানি চৈতন্যচরিত কাব্য।

- এরপর চৈতন্যমঙ্গল নামে চৈতন্যের জীবনীকাব্য রচনা করেন জয়ানন্দ ও লোচনদাস
- লোচনদাসের কাব্যে (১৫৬০-৬৬/৭৫) চৈতন্যের মাতৃমমতামন্ডিত বাল্যলীলা এবং অতিরঞ্জনমুক্ত মানবীয় রূপটি প্রধানভাবে চিত্রিত হয়েছে। এখানেই এর বিশেষত্ব।

- চৈতন্যজীবনীগুলির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্যচরিতামৃত' (১৬১৫)।
- এতে চৈতন্যের শেষজীবনের কথা বর্ণিত হয়েছে। গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের এটি আকর গ্রন্থ।

- চৈতন্যজীবনী অবলম্বনে রচিত আরেকখানি চরিতকাব্য হলো চূড়ামণিদাসের গৌরাঙ্গবিজয়
- গ্রন্থটি তিনখন্ডে সম্পূর্ণ বলে জানা গেলেও কেবল প্রথম খন্ডের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে এবং এটি খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতকে রচিত বলে মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৮০৬.
বিদ্যাপতি কোন ভাষায় পদ রচনা করেন নি?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) মৈথিলি
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) অবহটঠ
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি ছিলেন বৈষ্ণব কবি ও পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। 
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। 
- বিদ্যাপতি মৈথিলী,  অবহট্ঠ ও সংস্কৃত ভাষায় বহু  গ্রন্থ ও পদ রচনা করেন।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।
- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- সুমধুর এই বৈষ্ণব পদাবলির জন্যই তিনি বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮০৭.
কোনটি রামাই পণ্ডিত রচিত গ্রন্থ?
  1. গীতগোবিন্দম্‌
  2. সেক শুভদয়া
  3. শূন্যপুরাণ
  4. প্রাকৃতপৈঙ্গল
ব্যাখ্যা
• শূন্যপুরাণ:
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- 'শূন্যপুরাণ' বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- কারো মতে গ্রন্থটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল- বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, 
• অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হলো সেক শুভোদয়া। এটি সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য। অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
• কবি জয়দেব সংস্কৃত সাহিত্যের একজন মধ্যযুগীয় অন্যতম প্রসিদ্ধ কবি। তিনি গীতগোবিন্দম্‌ কাব্যের রচয়িতা।
• 'প্রাকৃতপৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮০৮.
নিচের কোন কাব্যটি খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. গঙ্গামঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. গৌরীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত করা হয়।
যথা:
১. খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা,
২. বিশুদ্ধ পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা।

• খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা।
ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও ধর্মমঙ্গল। অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে: সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
১,৮০৯.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের ভাষা কত শতাব্দীর?
  1. চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দীর
  2. চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ
  3. চতুর্দশ শতাব্দীর শেষার্ধ
  4. পঞ্চদশ শতাব্দীর
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য:
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রমুখের মতে এই কাব্যের ভাষা চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দীর
- রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, 'এই পুথি ১৩৫৮ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে সম্ভবত চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে লিখিত।'
- গোপাল হালদারের মতে, 'এসব পদ রচিত হয়ে থাকবে খৃঃ ১৪৫০ থেকে খৃঃ ১৫০০-এর মধ্যে।'
- সুকুমার সেনের মতে, 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের লিপিকাল অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধের আগে হইতে পারে না, সম্ভবত ঊনবিংশ শতাব্দীর।' পণ্ডিতগণ এসব অভিমত ব্যক্ত করেন প্রধান পুথির লিপিকে অবলম্বন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮১০.
'গুলে বকাওলী' কাব্যের প্রথম বংলা অনুবাদক কবি কে?
  1. সৈয়দ হামজা
  2. মুহম্মদ মুকিম 
  3. নওয়াজিস খান
  4. সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা

• গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮১১.
মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. আলাওল
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- তিনি ১৭১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার পাণ্ডুয়া গ্রামে জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- মঙ্গলযুগ তথা মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- ১৭৬০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

১,৮১২.
নাথ সাহিত্যের জনক কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. শুকুর মাহমুদ
  3. ফকীর গরীবুল্লাহ
  4. ভবানী দাস
ব্যাখ্যা

• নাথসাহিত্য:
- শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের জনক।
- মুসলমান হয়েও তিনি নাথ সাহিত্য রচনা করেছিলেন।
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- ‘গোরাক্ষ বিজয়’ এর রচয়িতা - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- ‘গোপীচন্দ্রের সন্যাস’ এর রচয়িতা - শুকুর মাহমুদ।
- ‘মীনচেতন’ এর রচয়িতা - শ্যামাদাস সেন।
- ‘ময়নামতির গান’ এর রচয়িতা - ভবানী দাস।
- ‘গোর্খবিজয়’ এর রচয়িতা - ভীমসেন রায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮১৩.
মঙ্গলকাব্যের লেখক ছিলেন না কে?
  1. মানিক দত্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. দ্বিজমাধম
  4. মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য: 
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা।
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চন্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।

• মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধ্যান পাওয়া যায়।
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

তাদের মধ্যে,  
- কানাহরি দত্ত মনসামঙ্গল ধারার কবি ছিলেন।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।

অন্যদিকে,
মঙ্গলকাব্যের কবি নন- 'মালাধর বসু'।
- মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮১৪.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. নাথসাহিত্য
  2. বৈষ্ণবসাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা
নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।

নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

শুকুর মাহমুদ:
শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৮১৫.
মনসামঙ্গল কাব্যগুলোকে অন্য কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) কেতকামঙ্গল
  2. খ) পদ্মাপুরাণ
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) পদ্মাদেবী
ব্যাখ্যা
• ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’

• মনসামঙ্গল
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য।
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালী পালা।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- মঙ্গলকাব্যের প্রাচীন্তম ধারা।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১,৮১৬.
"মাঝি বাইয়া যাও রে
অকুল দরিয়ার মাঝে আমার ভাঙা নাও রে
মাঝি বাইয়া যাও রে ।।" - কী জাতীয় গান?
  1. জারিগান
  2. সারিগান
  3. ঠুমরিগান
  4. ভাটিয়ালি গান
ব্যাখ্যা
"মাঝি বাইয়া যাও রে
অকুল দরিয়ার মাঝে আমার ভাঙা নাও রে
মাঝি বাইয়া যাও রে ।।"
- এটি একটি ভাটিয়ালি গান। 

ভাটিয়ালি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব গান। 
- গানের মূল বিষয় ব্যক্তিপ্রেম ও ঈশ্বরচেতনা। 
- আবহমান বাংলার মাকজি-মাল্লা-জেলেরা নদী -খাল-বিল-হাওরে নৌকা চালানোর সময় একান্তে এই গান গেয়ে  লৌকিক এবং আধ্যাত্মিক জীবনের স্বাদ লাভ করে থাকে।
- এই গানের উল্লেখযোগ্য শিল্পী - আব্বাসউদ্দিন, শচীন্দেব বর্মণ, নির্মলেন্দু চৌধুরী, নীনা হামিদ, অমর পাল প্রমুখ।
- ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বৃহত্তর ঢাকা জেলার নদীর মাঝি মল্লাদের মুখে এ গান শোনা যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮১৭.
"রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসে।
তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।।"- পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. কবি নওয়াজিশ খান
  3. আলাওল
  4. জ্ঞানদাস 
ব্যাখ্যা
• "রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসৈ।
তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।।" - পঙক্তিদ্বয় কবি আলাওলের পদ্মাবতী গ্রন্থের রূপবর্ণনা খণ্ডের অংশ।

পদ্মাবতী:
- পদ্মাবতী কবি আলাওল রচিত ইতিহাসাশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
- কবি আলাওল ‘পদ্মাবতী’ গ্রন্থটি আরাকানরাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ১৬৫১ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেন।
- ‘পদ্মাবতী’ কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য পদুমাবৎ কাহিনি অবলম্বনে রচিত। গ্রন্থতি অনুবাদ হলেও কবি এখানে অনেক মৌলিকতা দেখিয়েছেন।

‘পদ্মাবতী’র রূপবর্ণনা অংশ থেকে কিছু লাইন দেয়া হলো:
সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর।
লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।
মাণিক্য প্রবাল অতি নীরস কর্কশ।
অধরের অমিল স্রবে এই মহারস।।
‘রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসৈ।
তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮১৮.
মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি হলেন -
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) কানাহরি দত্ত
  3. গ) ময়ুরভট্ট
  4. ঘ) মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবির নাম 'কানাহরি দত্ত' ৷
- কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গলে৷
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রাপ্ত প্রাচীনতম পুথি।
- মনসাবিজয় রচনা করেন  'বিপ্রদাস পিপিলাই ' 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
১,৮১৯.
'প্রাকৃতপৈঙ্গল' এর কবি হলেন -
  1. নওয়াজিস খান
  2. রামাই পণ্ডিত
  3. শ্রীহর্ষ
  4. হলায়ুধ মিশ্র
ব্যাখ্যা

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
'প্রাকৃতপৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূণ্যপুরাণ'। এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা এবং 'কলিমা জালাল'। 
• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।

১,৮২০.
'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।
ভবে দেও দুঃখ মা, আর কত চাই।।' - কোন ধরণের সঙ্গীতের উদাহরণ?
  1. কবিগান
  2. পাঁচালি
  3. শ্যামাসঙ্গীত
  4. টপ্পাগান
ব্যাখ্যা
- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন - রামপ্রসাদ সেন।
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গান -
"আমি কি দুঃখেরে ডরাই।
ভবে দেও দুঃখ মা, আর কত চাই।।"

- আরেকটি বিখ্যাত গান:
"মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলতো সোনা।"
-----------------------------
- রামনিধি গুপ্ত ছিলেন - টপ্পা গানের পথিকৃৎ।
- দাশরথি রায় ছিলেন - বাংলার শ্রেষ্ঠ পাঁচালিকার।
- চারণকবি ছিলেন - মুকুন্দ দাশ।

উৎস:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮২১.
আহমদ শরীফের মতে মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে কতজন কবি ছিলেন?




ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো- খ) ৩

ব্যাখ্যা:
আহমদ শরীফের গবেষণা অনুসারে, মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে তিনজন কবি ছিলেন।
যথা:
১। অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস- সর্বপ্রাচীন চণ্ডীদাস,
২। চণ্ডীদাস- চৈতন্য পূর্বকালের বা জ্যেষ্ঠ সমসাময়িক এবং 
৩। দীন চণ্ডীদাস- আঠারো শতকের শেষার্ধ।

এই তিনজনের রচিত পদাবলীতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী এবং বৈষ্ণব ভক্তির প্রতিফলন ঘটেছে। 

• আহমদ শরীফের গবেষণাগ্রন্থ (যেমন: "বাঙালী ও বাংলা সাহিত্য") অনুসারে,


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং আহমদ শরীফের গবেষণাগ্রন্থ (যেমন: "বাঙালী ও বাংলা সাহিত্য")।

১,৮২২.
মধ্যযুগের মহিলা কবি চন্দ্রাবতী নিচের কোনটি রচনা করেন?
  1. মহাভারত
  2. গীতা
  3. রামায়ণ
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রাবতী রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক।

- মহিলা রামায়ণকার বলা হয় চন্দ্রাবতীকে।
- চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের তিনজন মহিলা কবির একজন। অপর দুইজন চণ্ডীদাসের অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের পাতোয়ারি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- লৌকিক, মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদান সংযোগের ফলে তাঁর রচিত রামায়ণ বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিল।
- চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলো হলো মালুয়া, দস্যু কেনারামের পালা, রামায়ণ ইত্যাদি।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮২৩.
'ফুল্লরা এবং ধনপতি" কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮২৪.
প্রথম কে ‘মাণিকচন্দ্র রাজার গান' এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশ করেন?
  1. আবদুল করিম
  2. স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন
  3. ড. পঞ্চানন মণ্ডল
  4. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী 
ব্যাখ্যা

• নাথসাহিত্যের কবিগণ:
নাথধর্ম সংক্রান্ত গল্পকাহিনি নিয়ে যেসব সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে তা দীর্ঘদিন পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরালেই ছিল। ১৮৭৮ সালে প্রথমবার স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন রংপুর থেকে সংগৃহীত একটি গীতিকা ‘মাণিকচন্দ্র রাজার গান' নাম দিয়ে এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশ করেন। পরবর্তী কালে উত্তর ও পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ‘ময়নামতীর গান', ‘গোপীচন্দ্রের গান,' 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' ইত্যাদি বিভিন্ন নামে একই কাহিনিভিত্তিক পুঁথি আবিষ্কৃত হয়েছে। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ শেখ ফয়জুল্লাকৃত 'গোরক্ষবিজয়' কাব্যের পুঁথি আবিষ্কার করে প্রকাশ করেছেন। 'গোর্খবিজয়’ নামে অন্য একটি পুঁথি পঞ্চানন মণ্ডল কর্তৃক সম্পাদিত হয়েও প্রকাশিত হয়েছে। এই সব গ্রন্থ থেকে নাথসাহিত্যের পরিচয় লাভ করা যায়।

গোরক্ষনাথ-মীননাথের কাহিনি অবলম্বনে রচিত যে সব কাব্য সম্পাদিত হয়ে প্রকাশ পেয়েছে সেগুলো হল:
১. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সম্পাদিত কবি শেখ ফয়জুল্লার ‘গোরক্ষবিজয়',
২. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত কবি শ্যামদাস সেনের 'মীনচেতন' এবং
৩. ড. পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত কবি ভীম সেনের 'গোর্খবিজয়'।

এই তিনটি কাব্যের কবিরা স্বতন্ত্র না একই ব্যক্তি এ সম্পর্কে পণ্ডিতগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। বিভিন্ন নামে প্রকাশিত এ সব ভণিতার মধ্যে কোন ঐক্য নেই। কবীন্দ্ৰ, শেখ ফয়জুল্লা, ভীমদাস ও শ্যামদাস সেনের ভণিতা বিক্ষিপ্ত ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। 
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বিভিন্ন মতামত পর্যালোচনা করে লিখেছেন, 'নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হইতেছে যে গোরক্ষবিজয় বা গোর্খবিজয়ের কবি শেখ ফয়জুল্লা ভিন্ন অন্য কেহ হইতে পারেন না।' 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

১,৮২৫.
চণ্ডীদাস সমস্যার উদ্ভব হয় কত সালে?
  1. ১৮৯৬
  2. ১৯০৭
  3. ১৯০৯
  4. ১৯১৬
ব্যাখ্যা
- চণ্ডীদাসের পদাবলি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত থাকলেও একাধিক চণ্ডীদাস সম্পর্কিত চণ্ডীদাস সমস্যার উদ্ভব হয় ১৯১৬ সালে বসন্তরঞ্জন রায় সম্পাদিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন প্রকাশের পর থেকে। কারণ, এই গ্রন্থের লেখকের নাম বড়ু চণ্ডীদাস।

- মধ্যযুগে বাংলা কাব্যে অন্তত চারজন চণ্ডীদাসের কবিতা পাওয়া যায়।
- তারা হলেন : বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস ও চণ্ডীদাস।
- এই চারটি নামের মধ্যে শেষ তিনটি নাম একজনের নাকি তাঁরা পৃথক কবি তা নিশ্চিত করে আজও বলা যাচ্ছে না। এই সমস্যাকেই চণ্ডীদাস-সমস্যা বলে।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮২৬.
'ছুটি খাঁনী মহাভারত' খ্যাত অনুবাদের লেখক কে?
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. পরাগল খাঁ
  3. দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত:
- চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খান মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ছুটি খাঁ সভাসদ শ্রীকর নন্দীকে মহাভারত অনুবাদের নির্দেশ দেন। ছুটিখানের আদেশে জৈমিনি মহাভারতের ওপর নির্ভর করে কেবল 'অশ্বমেধ পর্বের' অংশ নিয়ে শ্রীকর নন্দী 'ভারত পাঁচালী' রচনা করেন।
- শ্রীকর নন্দী রচিত ভারত পাঁচালী 'ছুটি খাঁনী মহাভারত' নামেও পরিচিত।
- কেউ কেউ বলে পরাগলী মহাভারতের অসম্পূর্ন অংশ সম্পূর্ণ করেছেন শ্রীকর নন্দী।

অন্যদিকে, 
-------------
• 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর। তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি। নবাব হুসেন শাহ্ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন। যুদ্ধপ্রিয় পরাগল খাঁ মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন 'ভারত পাঁচালী'।

• 'মহাভারত' কাব্যের মূল রচয়িতা হচ্ছেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।

• মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকের নাম কাশীরাম দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৮২৭.
রামনিধি গুপ্ত কীসের জন্য বিখ্যাত?
  1. কীর্তন রচনার জন্য
  2. বাংলা নাটকের জনক হিসেবে
  3. বাংলা টপ্পা সংগীতের প্রবর্তক হিসেবে
  4. বাংলা গজল রচনার জন্য
ব্যাখ্যা
রামনিধি গুপ্ত বাংলা টপ্পা সংগীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত।

• রামনিধি গুপ্ত
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের স্থাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টল্লা শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ হলো:
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম হচ্ছে গীতরত্ন (১৮৩২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৮২৮.
নিম্নলিখিত কবিদের মধ্যে ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্যের কবি নন কে?
  1. আদি রূপরাম
  2. মানিকরাম
  3. বিদ্যাপতি
  4. খেলারাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) বিদ্যাপতি
- বৈষ্ণব পদাবলির অবাঙালি কবি হচ্ছে বিদ্যাপতি।
- তিনি মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন ।

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
- ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- রূপরাম, সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য কবি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত:
রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি।
লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।
- ধর্মমঙ্গলের অন্যান্য কবিরা হচ্ছেন- আদি রূপরাম, খেলারাম চক্রবর্তী, মানিকরাম, রূপরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮২৯.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে পুথি সাহিত্য রচনার সূত্রপাত করেন কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. সৈয়দ হামজা
  3. আমীর হামজা
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• পুথি সাহিত্য:
- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়। - বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত।

- হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) 'আমীর হামজা' রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন। আরবদেশের ইতিহাস-পুরাণ মিশ্রিত কাহিনি অবলম্বনে রচিত আমীর হামজা জঙ্গনামা বা যুদ্ধ বিষয়ক কাব্য।

- মধ্যযুগে প্রায় পাঁচশ বছর ধরে বাংলা ভাষার যে ঐতিহ্য তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এ কাব্যের ভাষার মিল নেই। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি, ফারসি প্রভৃতি শব্দের মিশ্রণজাত একটি ভিন্ন ভাষায় কাব্যটি রচিত। 

- গরীবুল্লাহ নিজে এবং তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা এ ভাষায় আরও কয়েকখানি কাব্য রচনা করেন। তাঁদের অনুসরণে পরবর্তীকালে বহু সংখ্যক মুসলমান কবি এ জাতীয় কাব্য রচনা করেন। এগুলির পাঠক ছিল সর্বস্তরের মুসলমান; তবে নিম্নবিত্তের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা ছিল সর্বাধিক।

- পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন। রেভারেন্ড জেমস লং এ ভাষাকে বলেছেন 'মুসলমানী বাংলা', আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন 'মুসলমানী বাংলা সাহিত্য'।

- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি 'বটতলার পুথি' নামেও পরিচিত হয়। গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে 'মিশ্র ভাষারীতির কাব্য' বলে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৮৩০.
নিচের কোনটি চম্পুকাব্য?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. শূণ্যপুরাণ
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• 'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য। গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়। গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৩১.
“আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে” উক্তিটি কোন কাব্যে পাওয়া যায়?
  1. কালিকামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ মধ্যযুগের শেষ এবং শ্রেষ্ঠ মঙ্গলকাব্য।
- এই কাব্যটি মূলত দেবী অন্নপূর্ণার মাহাত্ম্য প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত।
- কাহিনীটি তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:
• প্রথম ভাগে শিব ও পার্বতীর পৌরাণিক কাহিনী এবং অন্নপূর্ণা দেবীর মাধ্যমে ভবানন্দ মজুমদারের গৃহে পূজা গ্রহণ বর্ণিত হয়েছে; 
• দ্বিতীয় ভাগে বর্ধমানের রাজকন্যা বিদ্যা ও সুন্দরের প্রেমলীলা বর্ণিত হয়েছে;
• এবং তৃতীয় ভাগে মানসিংহের মাধ্যমে প্রতাপাদিত্যর পরাজয় এবং ভবানন্দের রাজ্য ও সম্মান অর্জনের ঐতিহাসিক আখ্যান  বর্ণিত হয়েছে।
-------------------------------------
ঈশ্বরী পাটনী:
- “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে” — এই প্রসিদ্ধ পঙক্তি মধ্যযুগের শেষবর্তী বাংলা কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্য থেকে নেওয়া।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি এবং অন্নদামঙ্গল কাব্যর রচয়িতা।
- কাব্যের প্রথম খণ্ড ‘অন্নদা-মাহাত্ম্য’ বা ‘পাটুনী খণ্ড’-এ এই প্রার্থনা প্রকাশ করেছেন ঈশ্বরী পাটনী।
- এতে তিনি দেবী অন্নপূর্ণার কাছে তার সন্তানের জন্য পুষ্টি, সচ্ছল জীবন এবং অভাবমুক্ত জীবন কামনা করেছেন।

- ঈশ্বরী পাটনী ছিলেন সাধারণ পারঘাটার মাঝি।
- তিনি গঙ্গা নদী পারাপারে মানুষের সহায়তা করতেন।
- ঈশ্বরী পাটনীকে নিয়ে ভারতচন্দ্র অন্নদামঙ্গল কাব্যে একটি উপাখ্যান লিখেছেন।
- কাব্য অনুসারে, দেবী অন্নপূর্ণা ছদ্মবেশে নদী পার হতে চাইলে, তিনি প্রথমে দেবীর পরিচয় জানতেন না এবং পার করাতে দ্বিধা বোধ করেন।
- পরে তিনি ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে দেবীকে পারাপার করান।
- তাঁর অকৃত্রিম ভক্তি দেখে দেবী অন্নপূর্ণা ঈশ্বরীকে আশীর্বাদ দেন, যাতে তার সন্তান “দুধে-ভাতে” থাকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৮৩২.
'মৈমনসিংহ গীতিকা' গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় —
  1. ১৯৪৩ সালে
  2. ১৯৩৩ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯১৩ সালে
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করেে এটি বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
- মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮৩৩.
পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন কে?
  1. জয়দেব 
  2. গোবিন্দদাস 
  3. বিদ্যাপতি
  4. চণ্ডীদাস 
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
- তিনি মাতৃভাষা মৈথিলি ছাড়াও সংস্কৃত, অবহঠট ও ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলি রচনা করেন।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত। তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল-নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।
- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি। বিদ্যাপতি সহস্রাধিক পদাবলি রচনা করেছিলেন। রাধাকৃষ্ণের উল্লেখ আছে এমন পদের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। অন্যগুলোতে রাধাকৃষ্ণের উল্লেখ না থাকলেও তাদের প্রেমলীলা বিষয়ক পদ হিসেবে গ্রহণ করতে বাধা নেই।
- মিথিলার ঐশ্বর্যপূর্ণ রাজসভায় বিদ্যাপতি অসাধারণ পাণ্ডিত্যের সঙ্গে সংস্কৃত ও প্রাকৃতের ভাষা ভাব শব্দ ছন্দ ও অলঙ্কারের খনি থেকে রত্নরাজি আহরণ করে রাধার প্রেম বর্ণনা করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, 'বিদ্যাপতির কবিতা স্বর্ণহার, বিদ্যাপতির গান মুরজবীণাসঙ্গিনী স্ত্রীকণ্ঠগীতি।' আর রবীন্দ্রনাথ বিদ্যাপতির কাব্যকে 'রাজকণ্ঠের মণিমালা' বলে অভিহিত করেছেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮৩৪.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে প্রাচীনযুগের সমকাল কোনটি?
  1. ৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৬৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৯৫০ - ১২৫০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৭৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা -
১. প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল (৯৫০ - ১২০০) সুতরাং ২৫০ বছর।
এবং বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যপ্তি ছিল (১২০১-১৮০০) সুতরাং ৫৯৯ বা ৬০০ বছর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৩৫.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কত শতকের কবি?
  1. আঠারো
  2. ষোলো
  3. সতেরো
  4. পনেরো
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'সত্যনারায়ণের পাঁচালী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮৩৬.
জ্ঞানদাস রচিত বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ -
  1. প্রেমসাগর ও গোপাললীলা
  2. মাথুর ও মুরলীশিক্ষা
  3. বৃন্দাবনলীলা ও রাধামাধব
  4. পদাবলী ও গীতগোবিন্দ
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

১,৮৩৭.
কোন খণ্ডটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) ছারখন্ড
  2. খ) বাণখন্ড
  3. গ) দানখন্ড
  4. ঘ) হারখন্ড
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বৈষ্ণব কাব্য।
- রচয়িতা  বড়ু চন্ডীদাস।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন। 
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্ত্ত।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি  বিন্যস্ত।

• খন্ডগুলি: জন্মখন্ড, তাম্বূল খন্ড, দানখন্ড, নৌকাখন্ড, ভারখন্ড, ছত্রখন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হারখন্ড, বাণখন্ড, বংশীখন্ড ও বিরহখন্ড (রাধাবিরহ)। 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৮৩৮.
"কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা।
পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলা।।"
- কার রচনা?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. চন্ডীদাস
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন মধ্যযুগের শেষ বড় কবি। তার কাব্য প্রতিভা ছিল অসাধারণ।
চমৎকার কথা বলায়, ছন্দের আন্দোলন সৃষ্টিতে মধ্যযুগে তার জুড়ি নেই। কথা বলেন তিনি বিস্ময়কর চাতুর্যের সঙ্গে।

যেমন - মধ্যযুগের সকল কবিই বলেছেন, তার নায়িকা দেখতে অত্যন্ত সুন্দরী, দেখতে একেবারে চাঁদের মতন। এই নিয়ে তামাশা করেছেন ভারতচন্দ্র।
তিনি তার নায়িকার রূপ বর্ণনা করেছেন এভাবে -
''কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা।
পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলা।।''

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

১,৮৩৯.
মঙ্গলকাব্যের শাখা কোনটি?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা

- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।

মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
১. মনসামঙ্গল,
২. চণ্ডীমঙ্গল,
৩. অন্নদামঙ্গল।

- এছাড়াও কালিকামঙ্গল, ধর্মমঙ্গল ইত্যাদি কিছু অপ্রধান মঙ্গলকাব্য রয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৮৪০.
'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. আলাওল
  2. বিদ্যাপতি
  3. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা

'চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা — কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা করেছিলেন।
- আলাওল, দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার উল্লেখযােগ্য কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলার পুরনারী - দীনেশচন্দ্র সেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮৪১.
'শূন্যপুরাণ' গ্রন্থটি মোট কয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত?
  1. ৫০ টি
  2. ২৩ টি
  3. ৫১ টি
  4. ১২ টি
ব্যাখ্যা
'শূন্যপুরাণ' গ্রন্থটি - মোট ৫১টি কয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত।

• শূন্যপুরাণ:
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। 
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপুজাপদ্ধতি। এতে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূন্যপুরাণ অন্তর্গত একটি কবিতা। কোনটিই বাংলা ভাষায় রচিত নয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৮৪২.
'ভাড়ুদত্ত' কোন মঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'ভাঁড়ুদত্ত' 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের বিখ্যাত চরিত্র।

• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
-এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
• ধর্মমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: হরিশ্চন্দ্র ও লাউসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৮৪৩.
“কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা / পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলা”- আলোচ্য অংশের রচয়িতা কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. চন্ডীদাস
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়৷
- চমৎকার কথা বলায়, ছন্দের আন্দোলন সৃষ্টিতে মধ্যযুগে তার জুড়ি নেই। কথা বলেন তিনি বিস্ময়কর চাতুর্যের সঙ্গে।

যেমন - মধ্যযুগের সকল কবিই বলেছেন, তার নায়িকা দেখতে অত্যন্ত সুন্দরী, দেখতে একেবারে চাঁদের মতন। এই নিয়ে তামাশা করেছেন ভারতচন্দ্র।
তিনি তার নায়িকার রূপ বর্ণনা করেছেন এভাবে -
''কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা।
পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলা।।''

উৎস:- লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
১,৮৪৪.
'ইউসুফ জোলেখা' কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) রোমান্টিক প্রণয় কাব্য
  4. ঘ) রম্যরচনা
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তাঁর রচিত একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান 'ইউসুফ জুলেখা'।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্য রচনা করেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৪৫.
কবি যশোরাজ খান বৈষ্ণবপদ রচনা করেন কোন ভাষায়?
  1. ব্রজবুলি
  2. বাংলা
  3. সংস্কৃত
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
• ব্রজবুলি ভাষা:
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা। 
- মিথিলার কবি  বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এই কৃত্রিম ভাষার উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন। 
- এ ভাষায় তিনি রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক বহু পদ রচনা করেন। পদগুলিতে রাধাকৃষ্ণের ব্রজলীলা বর্ণিত হওয়ায় এর নাম হয়েছে ব্রজবুলি।

- বিদ্যাপতির পদগুলি বাংলায় খুব জনপ্রিয় হয়েছিল; বিশেষত চৈতন্যদেব এই পদ আস্বাদন করায় এর ভাষার প্রতি বাংলার কবিগণ আকৃষ্ট হন।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন।
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল বৈষ্ণব কবি এ ভাষায় বহু পদ রচনা করেন। এই ধারা উনিশ শতক পর্যন্ত চলেছিল।
- আধুনিক কবিদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।

- বাংলাদেশে প্রথম ব্রজবুলি পদ রচনা করেন যশোরাজ খান, আসামে শংকরদেব এবং উড়িষ্যায় রামানন্দ রায়।
- তারা তিনজনই ছিলেন ষোল শতকের কবি। ব্রজবুলির শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ছিলেন - গোবিন্দদাস কবিরাজ (১৬শ-১৭শ শতক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৮৪৬.
হিন্দি কবি মনঝনের কাব্যের অনুসরণে রচিত বাংলা অনুবাদ কাব্য কোনটি?
  1. গুলে বকাওলী
  2. মধুমালতী
  3. চন্দ্রাবতী
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী 
ব্যাখ্যা

• 'মধুমালতী' কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা 'মধুমালতী' কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'গুলে বকাওলী' কাব্য:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

• 'চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কেরেশী মাগন ঠাকুর।
- এর একটি খণ্ডিত পুথি পাওয়া গেছে।
- কাব্যের রচনাকাল নিয়ে সংশয় আছে। তবে মাগন আরাকান রাজ্যের মন্ত্রী ও আলাওলের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাই কাব্যটি সতের শতকের।
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের প্রাচীন উৎস জানা যায় না। মনে হয় এটা কবির স্বাধীন কল্পনা।

• 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
- 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যটির রচয়িতা- 'দৌলত কাজী'। এটি সাধনের 'মৈনাসত' কাব্য থেকে অনুদিত।
-  এই কাব্যগ্রন্থটির তৃতীয় খণ্ড আলাওলের রচনা। তিনি আরাকান রাজসভার আদি কবি এবং প্রথম বাঙালি কবি।
- লোরচন্দ্রানী কাব্যটি পয়ার ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

-------------------
'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮৪৭.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র কোনটি? 
  1. চাঁদ সওদাগর
  2. ভবানন্দ
  3. মালিনী
  4. কালকেতু
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র হচ্ছে কালকেতু। 

চণ্ডীমঙ্গল:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পুজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়দত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

১,৮৪৮.
'ইউসুফ-জোলেখা'র কাহিনি অবলম্বনে প্রথম প্রণয়োপাখ্যান ধারার কাব্য রচনা করেন কে? 
  1. আব্দুল হাকিম
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
  4. দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা

• 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য সম্পর্কিত আলোচনা:
- 'ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।

- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জোলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম, শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ, গোলাম সফাতউল্লাহ, সাদেক আলী ও ফকির মোহাম্মদ। তাঁদের মধ্যে প্রথম দুজন বাংলা এবং অন্যরা দোভাষী পুথির মিশ্র ভাষা ব্যবহার করেন। তবে এই কাব্য শাহ মুহম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়িা।

১,৮৪৯.
বাংলা টপ্পাগানের জনক কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. রমাপ্রসাদ সেন
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

‘রামনিধি গুপ্ত’:
- তিনি একজন সঙ্গীতশিল্পী ও বাংলা টপ্পাগানের জনক। 
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘রামনিধি গুপ্ত’, কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিনি ‘নিধু গুপ্ত’ নামেই পরিচিত।
- কেউ কেউ তাঁকে ‘নিধুবাবু’ বলেও ডাকতেন।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চাপ্তায় মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- নিধু গুপ্ত বাংলা ভাষায় টপ্পাগীতি রচনা ও সুরারোপ করে নিজেই তা গাইতেন।
- ক্রমে তাঁর গানের সমঝদার জোটে এবং কলকাতার নগরসমাজে তিনি অল্পদিনেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
- বর্ধমানের মহারাজা তেজেশচন্দ্র রায়বাহাদুর তাঁর গানের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন।
- ১৮৩২ সালে গীতরত্ন নামে তাঁর গানের একটি সংকলন প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা সঙ্গীত:
- "নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,৮৫০.
বিদ্যাপতি কোন ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন?
  1. সংস্কৃত
  2. বাংলা
  3. ব্রজবুলি
  4. অবহট্‌ঠ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি ও কবিগণ:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।

• মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।
বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

• বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয় তবে তাঁর রচিত পদের ভাষা ছিল সংস্কৃত। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।

• পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
• বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
১,৮৫১.
ভারতচন্দ্র রায় কে ‘গুণাকর’ উপাধি দেন কে?
  1. ক) মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  2. খ) কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. গ) রাজা চন্দ্রগুপ্ত
  4. ঘ) রাজা রঘুনাথ রায়
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর(১৭১২-১৭৬০):
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন। 

'প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে  জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।' - আলোচ্য পঙক্তি টি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত 'আমার সন্তান' কবিতার অন্তর্গত। 
- এখানে লেখক 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' - কথাটি  ঈশ্বরী পাটনীর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮৫২.
বিদ্যাপতি কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
  1. গৌড় রাজসভা
  2. কৃষ্ণনগর রাজসভা
  3. মিথিলার রাজসভা
  4. আরাকান রাজসভা
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮৫৩.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি নন কে?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. নওয়াজিস খান
  3. সৈয়দ সুলতান 
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি নন- শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- কারবালা ও ইসলামিক বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মুলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য। মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ।

--------------------------
• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা।
- মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- নওয়াজিস খান
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮৫৪.
বাংলায় মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. কাশীরাম দাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
বাংলায় মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক হচ্ছে কাশীরাম দাস।

• মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- এই কাব্যের মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- এই গ্রন্থ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস।
- তিনি পরাগলী খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন-বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৮৫৫.
নিচের কোনটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড?
  1. প্রেম খণ্ড 
  2. মিলন খণ্ড 
  3. হার খণ্ড
  4. জয় খণ্ড 
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস। এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮৫৬.
দৌলত উজির বাহরাম খান কোন  শতকের কবি ছিলেন?
  1. ২০শ শতক
  2. ১৪শ শতক
  3. ১২শ শতক
  4. ১৬শ শতক
ব্যাখ্যা

দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
- লায়লী-মজনু ও
- ইমাম-বিজয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮৫৭.
কোনটি গোবিন্দদাসের উপাধি?
  1. কবিরাজ
  2. কবিকঙ্কণ
  3. কবীন্দ্র
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ এবং ‘কবিরাজ’ উপাধিও প্রদান করেন।

অন্যদিকে,
- রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৫৮.
বাংলা ভাষার বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা কে? 
  1. আলাওল
  2. জ্ঞানদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস।
- তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।
- চণ্ডীদাস রাধাকে কৃষ্ণপ্রেমে আত্মহারারূপে চিত্রিত করেছেন।
- দেহগত কামনা- বাসনা রাধাচরিত্রে প্রাধান্য পায় নি। কবি তাকে মর্ত্যলোক থেকে বহু দূরদুর্গম অধ্যাত্মতীর্থে স্থান দিয়েছেন।
- চণ্ডীদাস রাধার কামগন্ধহীন প্রেম অত্যন্ত সহজ সরল কথায় ছন্দে ও অলঙ্কার প্রয়োগে প্রস্ফুটিত করেছেন।
- কবি রাধার চরিত্রে মিলনের আনন্দের চেয়ে বিচ্ছেদের বেদনা তীব্রতর করে রূপ দিয়েছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৮৫৯.
'লায়লী মজনু' কাব্যের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. কায়েশ
  2. হামজা
  3. জামী
  4. আমির
ব্যাখ্যা
• 'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান। 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩ সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 'লাইলী-মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৮৬০.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের সংস্কৃত শ্লোক সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ৪০৭টি
  2. খ) ১৬১টি
  3. গ) ৪৫২টি
  4. ঘ) ২২৬টি
ব্যাখ্যা
⇒ মঙ্গলকাব্যের পদসংখ্যা:
- খণ্ডিত পদসহ মোট পদে সংখ্যা: ৪১৮টি। 
- সংস্কৃত শ্লোক : ১৬১টি।
- পুঁথির পাতার সংখ্যা : ২২৬টি।
- পুঁথির পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪৫২টি।
- বিলুপ্ত পৃষ্ঠা সখ্যা : মাঝের ৪৫টি।
- প্রাপ্ত পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪০৭টি। 
- লিপিকরের সংখ্যা : ৩ জন বা তিন হাতের লেখা।
- কবির ভণিতা সংখ্যা : ৪০৯টি। 

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেল মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
১,৮৬১.
মানবতার কবি বলা হয় কাকে?
  1. জ্ঞানদাস 
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. গোবিন্দদাস 
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে। বাংলা সাহিত্যে একাধিক চণ্ডীদাস নিয়ে জটিল চণ্ডীদাস সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

- চণ্ডীদাসের আবির্ভাবের স্থান ও কাল নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তের এখনও অভাব রয়েছে। সম্ভবত তিনি চৌদ্দ শতকের শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। চণ্ডীদাসের বিস্ময়কর প্রতিভার পরিচায়ক আশ্চর্য সুন্দর পদগুলোতে অপূর্ব ভাবতায় কৃষ্ণপ্রেম-সাধিকা শ্রীরাধার যে মনোমুগ্ধকর চিত্র রূপায়িত হয়ে উঠেছে তা কয়েক শতাব্দী ধরে বাঙালির রসপিপাসু মনের পরিতৃপ্তি সাধন করে যাচ্ছে।

- তাঁর পদাবলির 'অনাবৃত প্রাণের নিরাভরণ আনন্দ-বেদনায় মেদুর মুহূর্তগুলো পাঠকের মনে যে প্রশান্তি, স্নিগ্ধতা ও প্রাপ্তির আনন্দঘন উপলব্ধি সৃষ্টি করে' তার মূল্য অপরিসীম।

- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।

- তিনি 'শুনহ মানুষ ভাই/সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাঁকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।

-চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন "চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি"। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮৬২.
জ্ঞানদাসের রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম কী?​
  1. প্রেমসাগর ও ভক্তিবিনোদ
  2. মাথুর ও কৃষ্ণলীলা
  3. গীতগোবিন্দ ও প্রেমভক্তি
  4. মাথুর ও মুরলীশিক্ষা
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন। জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত 'মাথুর ও মুরলীশিক্ষা' বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১,৮৬৩.
'পদ্মাবতী' আলাওল রচিত-
  1. মৌলিক নাটক
  2. অনুবাদ নাটক
  3. মৌলিক কাব্য
  4. অনুবাদ কাব্য
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্ফা,
- সপ্তপয়কর  ,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা,
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮৬৪.
মহাভারতের মূল রচিয়তা কে?
  1. ক) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. খ) কাশীরাম দাস
  3. গ) কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  4. ঘ) কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা
- ‘মহাভারত’ পৃথিবীর চারটি জাত মহাকাব্যের একটি। 
- ‘মহাভারত’এর মূল রচয়িতা এর রচয়িতা কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব। এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- বাংলা ভাষায় মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক হলেন 'কাশীরাম দাস'। বাংলা ভাষায় মহাভারত প্রথম অনুবাদ করেন 'কবীন্দ্র পরমেশ্বর'।
- 'কৃত্তিবাস ওঝা' রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১,৮৬৫.
মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা নয় কোনটি?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. শাক্তপদ
  3. চরিত সাহিত্য
  4. পক্ষীর গান
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা নয়: পক্ষীর গান।
- ‘পক্ষীর গান’ বাংলায় ঊনবিংশ শতকের মধ্যভাগে খ্যাতি অর্জন করে।

• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:

- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।

• মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা:
বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।

- মধ্যুযুগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৬৬.
হারামনি কি?
  1. ক) প্রাচীন সাহিত্য
  2. খ) পুঁথি সাহিত্য
  3. গ) প্রাচীন লোকগীতি
  4. ঘ) উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন বাংলা লোকসাহিত্যের অন্যতম প্রধান সংগ্রাহক। তিনি লোকসাহিত্যের সংকলন 'হারামনি' (দশ খন্ড) সম্পাদনা করেন। এর প্রথম সংগ্রহ ছিল নিজ গ্রামের প্রেমদাস বৈরাগীর কাছ থেকে লালনের একটি গান। যা প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,৮৬৭.
‘শকুন্তলা’ গ্রন্থ সংস্কৃত থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরী
  2. খ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
  3. গ) উইলিয়াম জোনস
  4. ঘ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম জোনস ১৭৪৬ সালে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত বহু ভাষাবিদ এবং এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি ১৭৭০ সালে পারসি ভাষায় নাদির শাহের জীবনী অনুবাদ করেন।
- ১৭৮৪ সালে তিনি কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন।

• তিনি কিছু গ্রন্থ সংস্কৃত থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন-
- শকুন্তলা, 
- হিতোপদেশ, 
- জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৬৮.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রথম খণ্ড কোনটি?
  1. হরিশ্চন্দ্রের গল্প
  2. ধনপতি সওদাগরের কাহিনি
  3. লাউ সেনের গল্প
  4. কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। 

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. প্রথম খণ্ড একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যান ধনপতি সওদাগরের কাহিনি। কাহিনির চরিত্র- নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮৬৯.
‘দেওয়ানা মদিনা’ পালার লেখক কে?
  1. মনসুর বয়াতি
  2. চন্দ্রাবতী
  3. দ্বিজ ঈশান
  4. দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানা মদিনা':
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।
‘দেওয়ানা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা,
-সোনাফর।

​​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮৭০.
'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার প্রথম কবির নাম কী?
  1. দৌলত কাজী
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ্‌
  3. আব্দুল কাদির
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি- শাহ মুহম্মদ সগীর।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তার হাতে রচিত হয় রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য ‘ইউসুফ-জুলেখা’।
- তাঁর রচিত 'ইউসুফ-জুলেখা' কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের স্তুতি আছে।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৮৭১.
জ্ঞানদাস কোন কোন ভাষায় রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ রচনা করেছেন?
  1. বাংলা ও সংস্কৃত
  2. বাংলা ও ব্রজবুলি
  3. মৈথিলী ও ব্রজবুলি
  4. হিন্দি ও ফারসি
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম 'ষোড়শ-গোপাল'-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

১,৮৭২.
শ্রীচৈতন্যদেবের প্রকৃত নাম কী ছিল?
  1. নিমাই
  2. কৃষ্ণদাস
  3. জগন্নাথ মিশ্র
  4. বিশ্বম্ভর মিশ্র
ব্যাখ্যা

শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৮৭৩.
"পরিহর বিনা কড়িতে হাট পরিহর বিনা লড়িতে বাট" - কিসের নিদর্শন?
  1. ক) সরোজবজ্রের দোহাকোষ
  2. খ) কৃষ্ণচার্য পাদের দোহাকোষ
  3. গ) ডাকের বচন
  4. ঘ) খনার বচন
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- তবে এর লিখিত কোন নিদর্শন নেই। 
- প্রাচীন যুগের সৃষ্টি হলেও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আধুনিক যুগে চলে এসেছে। 
- ডাক ও খনার বচনের মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে। 
- ডাকের বচনের নমুনা - 
"পরিহর বিনা কড়িতে হাট
পরিহর বিনা লড়িতে বাট 
পরিহর নদীর তীরেতে গাছা 
পরিহর মায়ের বিহনে বাছা" 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১,৮৭৪.
বৈষ্ণব পদাবলির বাঙালি আদি কবি কে?
  1. গোবিন্দদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. জয়দেব
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
⇒ বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
⇒ বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
⇒ পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
⇒ বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৭৫.
'মানসিংহ ভবানন্দ উপাখ্যান' কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের ভাগ ৩টি।
যথা -
১. অন্নদামঙ্গল, 
২. বিদ্যাসুন্দর, 
৩. মানসিংহ-ভবানন্দ উপাখ্যান। 
 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো - 
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮৭৬.
নিচের কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকা ?
  1. ক) নদের চাঁদ
  2. খ) আলাদ
  3. গ) মদিনা
  4. ঘ) মলুয়া
ব্যাখ্যা
⇒ মৈমনসিংহ গীতিকা
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- দীনেশচন্দ্র সেন ইংরেজি ballad-এর বাংলা পরিভাষা হিসেবে ‘গীতিকা’ শব্দটি গ্রহণ করেন। 

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে যথা :
- মহুয়া
- মলুয়া
- চন্দ্রাবতী
- কমলা
- দেওয়ান ভাবনা
- দস্যু কেনারামের পালা
- রূপবতী
- কঙ্ক ও লীলা
- কাজলরেখা ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৮৭৭.
চণ্ডীমঙ্গলের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. ক) ফুল্লরা
  2. খ) কালকেতু
  3. গ) লহনা
  4. ঘ) ধনপতি
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গলের প্রধান চরিত্র হলো কালকেতু
এছাড়া অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো ফুল্লরা, ভাড়ুদত্ত, ধনপতি, লহনা, মুরারি শীল প্রমুখ।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]

১,৮৭৮.
দ্বিজ বংশীদাস কোন কাব্যের অন্যতম কবি?
  1. অভয়ামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাব্যে ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার দেখে অনেকে মনে করেন, কবি সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।
- দ্বিজ বংশীদাস সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রাদি শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন।
- সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা।
- কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৮৭৯.
মৈয়মনসিংহ গীতিকা কতটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে?
  1. ২৩টি
  2. ২০টি
  3. ২২টি
  4. ২৫টি
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের — ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
-----------------------
• বাংলা সাহিত্যে তিন ধরনের গীতিকা রয়েছে।
যথা :
১. নাথ গীতিকা,
২. মৈমনসিংহ-গীতিকা এবং
৩. পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

"মৈমনসিংহ গীতিকা" সম্পর্কিত গুরুতপূর্ণ তথ্য:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকা ইংরেজী ভাষায় অনূদীত হয়ে প্রকাশের পর বিদেশের সুধীবৃন্দকে প্রবল ভাবে আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে মনীষী রোমা রোলাঁ, ড. সিলভা লেভি, স্যার জর্জ গ্রীয়ারসন, উইলিয়াম রদেনস্টাইন, ফ্রান্সিস. এইচ. স্ক্রাইন, ই.এফ. ওটেন গীতিকা সম্পর্কে উচ্চসিত প্রশংসা করেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তার ‘বাংলা সাহিত্যের কথা’ গ্রন্থে বলেন-‘গীতিকা গুলোর সাহিত্যিক মূল্য বিদেশী সাহিত্য রসিকেরা কি দিয়াছেন, তাহা জানিলে বোধ হয় আমরা আমাদের ঘরের জিনিসকে একটু বেশি আদর করিব।’

ইংরাজি ও বাংলায় প্রকাশিত মৈমনসিংহ গীতিকায় দীর্ঘ ভূমিকা লিখেছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙালি দীনেশচন্দ্র সেন। দশটি পালাগান নিয়ে মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালের মার্চে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (university of Calcutta) বই হয়ে ‘Eastern Bengal Ballads- mymensing (vol-1, part-1)’ নামে প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদনায়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া; দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা।

১,৮৮০.
ইউনেস্কো মৌখিক ও দৃশ্যমান ঐহিত্যের মধ্যে বাউল গানকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ক) ২০০১
  2. খ) ২০০৩
  3. গ) ২০০৪
  4. ঘ) ২০০৫
ব্যাখ্যা
২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে ইউনেস্কো মৌখিক ও দৃশ্যমান ঐহিত্যের মধ্যে বাউল গানকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
১,৮৮১.
আরাকান রাজসভায় কোন শতকে বাংলা সাহিত্যের প্রসার ঘটে?
  1. ক) পঞ্চদশ 
  2. খ) ষোড়শ
  3. গ) সপ্তদশ
  4. ঘ) অষ্টাদশ
ব্যাখ্যা
আরাকান রাজসভা বা রোসাঙ্গ সভায় সতেরো শতকে বাংলা সাহিত্যের প্রসার ঘটে। 
আরকান রাজসভার আদি কবি ও প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী।
আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল। 
আরাকান রাজসভার অমাত্য বা মন্ত্রী ছিলেন কোরেশী মাগন ঠাকুর। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা - ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
১,৮৮২.
'গোরক্ষবিজয়' গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. ভবানী দাস
  2. পঞ্চানন মন্ডল
  3. আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ
  4. নলিনীকান্ত ভট্টশালী
ব্যাখ্যা
• 'গোরক্ষবিজয়' কাব্যগ্রন্থ:
- নাথ সাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়।
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে।
- সংগ্রাহকরা হলেন:
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
- আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
- আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং পঞ্চানন মন্ডল (১টি পুথি)।
- এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত।

• পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম মীনচেতন।
- আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ সম্পাদিত গ্রন্থের নাম- গোরক্ষবিজয়।
- পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নামগোর্খবিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৮৮৩.
বৈষ্ণব পদাবলির রস নয় কোনটি?
  1. শান্তরস
  2. মুথুরারস
  3. দাস্যরস
  4. বাৎসল্যরস
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলির রস নয় -  মুথুরারস।

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস
৫. মধুররস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৮৪.
অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নিচের কোনটি? 
  1. গুলে বকাওলী
  2. কলিমা জালাল
  3. বিদ্যাসুন্দর
  4. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ: 
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়। 

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন- 
- প্রাকৃতপৈঙ্গল, 
- কলিমা জালাল
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা', 
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'। 

• হলায়ূধ মিশ্র রচিত পির মহাত্ম্যক-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’। 
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’। 

অন্যদিকে, 
• বিদ্যাসুন্দর মধ্যযুগের (‘মঙ্গলকাব্য’ ধারার) সাহিত্যকর্ম। 
• সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল ও গুলে বকাওলী মধ্যযুগের রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্যকর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৮৮৫.
‘হারামণি’ লোকগীতি সংকলন করেন-
  1. মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
  2. শুকুর মাহমুদ
  3. মনসুর বয়াতি
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
⇒ মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন:
- ১৯০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর থানার মুরারিপুর গ্রামে জন্ম। 
- পাবনা  এডওয়ার্ড কলেজ ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘বেদুইন মুসলমান’।
- মনসুরউদ্দীন মনেপ্রাণে ছিলেন  বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি, বিশেষত লোকসংস্কৃতির একজন একনিষ্ঠ অনুরাগী।
- তিনি পদ্মার চরাঞ্চল এবং পাবনা-ফরিদপুর-কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে গান, ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, গল্প ইত্যাদি লোকসাহিত্যের অনেক উপাদান সংগ্রহ করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফোকলোর চর্চা দেশের সুধীমহলের স্বীকৃতি লাভ করে।
- ১৯৮৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

⇒ লোকগীতি সংকলন ‘হারামণি’: 
- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন এর অক্ষয় কীর্তি হলো 'হারামণি'। 
- এর মোট ১৩ খণ্ডে লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করে তিনি প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেন।
- প্রতিটি খণ্ডের সম্পাদনায় তিনি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- শিরনী,
- ধানের মঞ্জরী,
- আগরবাতী,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা (৩ খণ্ড: ১৯৬০-৬৬) ও
- ইরানের কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৮৮৬.
জ্ঞানদাস কোন যুগের কবি ছিলেন?
  1. উত্তর আধুনিক যুগ
  2. চৈতন্যোত্তর যুগ
  3. আধুনিক যুগ
  4. প্রাক-চৈতন্য যুগ
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১,৮৮৭.
জৈগুনের পুঁথি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. সৈয়দ হামজা
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. আমীর হামজা
ব্যাখ্যা

সৈয়দ হামজা :
- সৈয়দ হামজা পুঁথি সাহিত্য ধারার অন্যতম কবি।

​তাঁর গ্রন্থসমূহ হলো:
- জৈগুনের পুঁথি,
- হাতেম তাই ও
- আমির হামজা (দ্বিতীয় অংশ)।

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮৮৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি কে?
  1. দৌলত উজির বাহরাম খান
  2. শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
  3. ফকির গরীবুল্লাহ
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জোলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৮৯.
কবিগান রচয়িতা এবং গায়ক হিসেবে এরা উভয়েই পরিচিত -
  1. ক) রাম বসু এবং ভোলা ময়রা
  2. খ) এন্টনি ফিরিঙ্গি এবং রামপ্রসাদ রায়
  3. গ) সাবিরিদ খান এবং দাশরথী রায়
  4. ঘ) আলাওল এবং ভারতচন্দ্র
ব্যাখ্যা
আঠারো শতকের শেষ ও উনিশ শতকের শুরুর দিকে বাংলা সাহিত্যে কবিগান রচয়িতাদের আবির্ভাব ঘটে।
- উল্লেখযোগ্য কবিগানের ধরন - তর্জা, পাঁচালি, খেউড়, আখড়াই, দাঁড়া কবিগান, বসা কবিগান, ঢপ, টপ্পা, কীর্তন ইত্যাদি।
- কবিগান  এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক গান। দুটি দলে এ প্রতিযোগিতা হয়। দলের দলপতিকে বলে কবিয়াল বা সরকার।
- কবিয়ালের সঙ্গীদের নাম দোহার। যন্ত্রসঙ্গীতকারীদের মধ্যে ঢুলি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। দল দুটি পর্যায়ক্রমে আসরে এসে গান পরিবেশন করে।

উল্লেখযোগ্য কবিগান রচয়িতা:
- গোঁজলা গুই (প্রাচীনতম কবি)
- রাম বসু,
- রাসু,
- নৃসিংহ
- অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি
- হরু ঠাকুর
- রামনিধি গুপ্ত
- কেষ্টা মুচী
- ভবানী
- রামানন্দ নন্দী
- ভোলা ময়রা (ভোলানাথ মোদক), 
- নিতাই বৈরাগী

- বিশ শতকের শুরুতে কলকাতায় কবিগানের গুরুত্ব হারাতে থাকলেও বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।
- বিশ শতকে সর্বাধিক জনপ্রিয় কয়েকজন কবিয়াল হরিচরণ আচার্য (১৮৬১-১৯৪১),  রমেশ শীল (১৮৭৭-১৯৬৭), রাজেন্দ্রনাথ সরকার (১৮৯২-১৯৭৪), মানিকগঞ্জের রাধাবল্লভ সরকার, উপেন্দ্র সরকার, ভাসান সরকার, কুমুদ সরকার, অভয়চরণ সরকার, বিজয়কৃষ্ণ অধিকারী (১৯০৩-১৯৮৫), গুমানী দেওয়ান প্রমুখ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় -
- অপশন - ক) তে প্রদত্ত দুজনই রাম বসু এবং ভোলা ময়রা - কবিগান রচয়িতা ও গায়ক ছিলেন।
- অপশন - খ) তে প্রদত্ত 'এন্টনি ফিরিঙ্গি' কবিওয়ালা হলেও 'রামপ্রসাদ রায়' নামে কোনো কবিওয়ালার সন্ধান পাওয়া যায় নি।
- অপশন গ) তে প্রদত্ত 'সাবিরিদ খান' মধ্যযুগের আখ্যানকবি ও 'দাশরথি রায়' (১৮০৬-১৮৫৭)  স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন। 
- অপশন ঘ) তে প্রদত্ত 'আলাওল' (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর' (১৭১২-১৭৬০)  মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত।
১,৮৯০.
‘মানসিংহ’ কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  2. মনসামঙ্গল কাব্য
  3. রামায়ণ
  4. চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের শেষ কবি, ভারতচন্দ্র কতৃক রচিত মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম কাব্য অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র মানসিংহ।
এই কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো,
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যা,
- সুন্দর,
- মালিনী ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৮৯১.
'ইমামগণের কেচ্ছা ও আফৎনামা' গ্রন্থের কে লিখেছেন?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা

• 'ইমামগণের কেচ্ছা' গ্রন্থটির লেখক - রাধারমণ গোপ।

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ - মুক্তল হোসেন।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ। 
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা', 'আফৎনামা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮৯২.
কোনটি 'মহুয়া' পালা'র চরিত্র?
  1. হুমরা বেদে
  2. নদের চাঁদ
  3. সাধু
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তিজীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
- এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮৯৩.
কবি আলাওলের জন্মস্থান কোনটি?
  1. ফরিদপুরের সুরেশ্বর
  2. চট্টগ্রামের জোব্‌রা
  3. বার্মার আরাকান
  4. চট্টগ্রামের পটিয়া
ব্যাখ্যা
• আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আলাওলের জন্ম আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে (জোবরা গ্রাম, হাটহাজারি, চট্টগ্রাম) মতান্বরে (ফতেহাবাদ পরগনা, ফরিদপুর)।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

• সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- হপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮৯৪.
'কঙ্ক ও লীলা' নিচের কোন লোকসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. নাথ গীতিকা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'কঙ্ক ও লীলা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• গীতিকা গুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ), দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা
- বিদ্যাসুন্দর
- রামায়ণ উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৯৫.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. শ্রীচৈতন্যদেব
  3. জয়দেব
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
১,৮৯৬.
খনার বচনে কিসের প্রাধান্য পায়?
  1. ক) কৃষি
  2. খ) আবহাওয়ার
  3. গ) উভয়
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- তবে এর লিখিত কোন নিদর্শন নেই। 
- প্রাচীন যুগের সৃষ্টি হলেও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আধুনিক যুগে চলে এসেছে। 
- ডাক ও খনার বচনের মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে। 
- খনার বচনে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য  পেয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১,৮৯৭.
"দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে ন জুয়ায়।
নিজ দেশ তেয়াগী কেন বিদেশ ন যায়॥" – কবিতাংশটি কোন কবির রচনা?
  1. আবদুল হাকিম
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
• লাইনগুলো আবদুল হাকিম রচিত 'নুরনামা' কাব্যের অন্তর্গত।

এই কবিতার আরো বিখ্যাত অংশ হলো -
"যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী,
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।"
--------------------- 
• আব্দুল হাকিম:
- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- নোয়াখালী জেলার বাবুপুর (মতান্তরে সন্দ্বীপের সুধারাম) ছিল কবির আবাসভূমি।
- তাঁর পিতা শাহ্ রাজ্জাক ছিলেন একজন পন্ডিত ব্যক্তি এবং তাঁর পীর ছিলেন সাহাবুদ্দীন।
- আবদুল হাকিম  আরবি,  ফারসি ও  সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- হাদীস, আল-কুরআন, ফেকাহ প্রভৃতি শাস্ত্র এবং  রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ সম্পর্কেও তাঁর গভীর পান্ডিত্য ছিল।
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো: 
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানিফার লড়াই।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৯৮.
'গুলে বকাওলী' গ্রন্থের প্রথম রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ আলী
  2. নওয়াজিস খান
  3. সাবিরিদ খান
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
⇒ 'গুলে বকাওলী' রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
⇒ সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্য রচনা করেন।
⇒ এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৯৯.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মোট কয়টি খণ্ডে বিভক্ত?
  1. এগারো
  2. বারো
  3. তের
  4. চৌদ্দ
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন':
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি। ভাগবত প্রভৃতি পুরাণের কৃষ্ণলীলা-সম্পর্কিত কাহিনি অনুসরণে, জয়দেবের গীতগোবিন্দ কাব্যের প্রভাব স্বীকার করে, লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে কবি বড়ু চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য রচনা করেন।

- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন ঘটান। বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র-বংশজাত দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল।

- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।

- পুঁথিটির প্রথম দিকের দুটি পাতা এবং শেষের পাতাটি ছিল না। এ ছাড়া পুঁথির মধ্যেও কিছু পাতা নেই। রীতি অনুযায়ী পুঁথির প্রথম দিকে দেবতার প্রশংসা, কবির পরিচয় ও গ্রন্থনাম উল্লেখিত হয় এবং শেষ দিকের পাতায় পুঁথির রচনাকাল ও লিপিকাল লিখিত থাকে। প্রথম ও শেষ অংশ খণ্ডিত থাকায় কবির আত্মপরিচয় ও রচনাকালের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লোকচক্ষুর আড়ালেই কর আড়ালেই রয়ে গেছে।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মোট তের খণ্ডে বিভক্ত। খণ্ডগুলো হল: জন্মখণ্ড, তাম্বুলখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, ভারখণ্ড, ছত্রখণ্ড, বৃন্দাবনখণ্ড, কালিয়দমনখণ্ড, যমুনাখণ্ড, হারখণ্ড, বাণখণ্ড, বংশীখণ্ড ও রাধাবিরহ।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে খণ্ডিতপদসহ মোট পদের সংখ্যা ৪১৮টি। পুঁথিতে সংস্কৃত শ্লোক আছে ১৬১টি। পুঁথির পাতার সংখ্যা ২২৬, অতএব পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৫২; এর মধ্যে মাঝের মোট ৪৫ পৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি। ৪৫ পৃষ্ঠা বাদ গেলে পুঁথির প্রাপ্ত পৃষ্ঠার সংখ্যা ৪০৭। পুঁথির লিপি তিন হাতের লেখা। ৪১৮টি পদের মধ্যে কবির ভণিতা আছে ৪০৯টি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৯০০.
’ভাড়ুদত্ত, কালকেতু’ চরিত্রদ্বয় কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য
  2. চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
  3. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  4. মনসামঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা

• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।