বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ১৮ / ২৮ · ১,৭০১১,৮০০ / ২,৭৬৪

১,৭০১.
হিন্দু মহাপুরাণ ‘ভাগবত’ কে প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন?
  1. ক) শ্রীকর নন্দী
  2. খ) রামেশ্বর ভট্টাচার্য
  3. গ) ফকির গরীবুল্লাহ
  4. ঘ) মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- চৈতন্যদেবের সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।

অন্যদিকে,
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস।
- শ্রীকর নন্দী রচিত গ্রন্থ 'ছুটিখানী মহাভারত'।
- কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭০২.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কোন কবিকে'স্বভাব কবি' বলা হয়?
  1. কবি দ্বিজ রামদেব
  2. কবি মানিক দত্ত
  3. কবি ভবানীশঙ্কর দাস
  4. কবি দ্বিজ মাধব
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭০৩.
মানুষের প্রণয় ও কামনাকে অধিক মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে, মধ্যযুগের কোন সাহিত্যধারায়?
  1. শাক্তপদ ধারা
  2. নাথ সাহিত্যধারা
  3. লোক সাহিত্যধারা
  4. মঙ্গলকাব্য ধারা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যযুগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭০৪.
'সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।' - এটি কোন কবি বলেছেন?
  1. চণ্ডীদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. গোবিন্দদাস
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি। চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন। চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়; তাঁরা হলেন: বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস ও চণ্ডীদাস।
- তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন এবং জাতিতে ছিলেন ব্রাহ্মণ।
- সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলেছেন - চণ্ডীদাস।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭০৫.
মঙ্গলকাব্যে কয় জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ৬০ জন
  2. ৬২ জন
  3. ৫২ জন
  4. ৫৩ জন
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য। ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।

- মঙ্গলকাব্য কাব্যের প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে এই কাব্যগুলো রচনা করেছেন। এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি। মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।

- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।

- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭০৬.
খনার বচনে বিষয়বস্তু নয় কোনটি?
  1. ক) কৃষি
  2. খ) ঋতু
  3. গ) ধাঁধাঁ
  4. ঘ) জ্যোতিশাস্ত্র
ব্যাখ্যা
খনার বচন: 
খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি। বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
১,৭০৭.
নিচের কোনটি খনার বচন?
  1. ক) জন-জামাই ভাগনা, তিন নয় আপনা ।
  2. খ) অতি চোর পাতি চোর, হতে হতে সিঁদেল চোর ।
  3. গ) সে কহে বিস্তর মিছা যে কহে বিস্তর।
  4. ঘ) আছে গরু, না বয় হাল, তার দুঃখ চিরকাল।
ব্যাখ্যা
• বচন লোকসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় শাখা।
- এর স্বতন্ত্র একটা প্রকৃতি, কাব্যরস ও গীতিধর্মিতা আছে।
- ডাক ও খনার বচনে মাঝে মাঝে ভণিতা আছে, যা লোকসাহিত্যের অন্য শাখায় সচরাচর লক্ষ করা যায় না।
- বচনে প্রাত্যহিক জীবনের মূল্যবান নীতিমালা ও নির্দেশনা পাওয়া যায়।
- খনার বচনের বর্তমান ভাষা তার মূল ভাষা নয়, তবে লীলাবতী আর্যার ভাষা অনেকটা মূল ভাষার কাছাকাছি।
- উড়িয়া ও অসমিয়া ভাষায় রক্ষিত খনার বচনে প্রাচীনত্বের ছাপ রয়েছে, কিন্তু বাংলা ভাষার বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা খনার বচনেও ভাষাগত পরিবর্তন ঘটেছে।

খনার বচনে ব্যবহারিক কথা, আর ডাকের কথায় নীতিকথা বেশি; এ কারণেই হয়তো খনার বচন মানুষ বেশি স্মৃতিবদ্ধ করে রেখেছে।
- উড়িয়া ও বাংলা ভাষায় খনার বচনের একাধিক সংগ্রহ পুস্তিকা আজও পাওয়া যায়।
- কোনো কোনো বাংলা  অভিধান ও পঞ্জিকায় বেশকিছু খনার বচন উদ্ধৃত হয়েছে।
- আলি নওয়াজ সম্পাদিত খনার বচন, কৃষি ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি গ্রন্থে পাঠান্তরসহ ডাকের কথা, হিন্দি পরাশর বচন, মিথিলার ঘাঘ, ঢংক ও রাজস্থানের ভড্ডরীর বচন এবং তেলেগু কৃষিপ্রবচন সমেত সহস্রাধিক খনার বচন স্থান পেয়েছে।
-কিছু কিছু খনার বচন ও তেলেগু প্রবচনের মধ্যে অদ্ভুত মিল রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৭০৮.
‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয় কাকে?
  1. ক) বড়ু চণ্ডীদাস
  2. খ) বিজয় গুপ্ত
  3. গ) কবি কঙ্ক
  4. ঘ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭০৯.
গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. কানা হরিদত্ত
  2. বিজয় গুপ্ত
  3. শ্রীজীব গোস্বামী
  4. বিপ্রদাস পিপিলাই
ব্যাখ্যা

গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের  মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি  বিদ্যাপতি।
-  বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ এবং ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন। 

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭১০.
'কায়েশ' চরিত্রটি কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ইউসুফ-জোলেখা
  2. লায়লী মজনু
  3. চন্দ্রাবতী 
  4. পদ্মাবতী 
ব্যাখ্যা
• 'লায়লী মজনু' কাব্যের প্রধান চরিত্র কায়েশ ও লায়লী।

-------------------------
• 'লায়লী মজনু' কাব্য:

- কবি দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত 'লায়লী-মজনু' কাব্য ফারসি কবি জামীর লায়লী-মজনু নামক কাব্যের ভাবানুবাদ। লায়লী ও মজনুর প্রেমকাহিনি সারা বিশ্ব জুড়ে পরিচিত। এই কাহিনির মূল উৎস আরবি লোকগাঁথা।

- কাহিনিটিকে ঐতিহাসিক দিক থেকে সত্য বিবেচনা করা হয়। ফারসিতে দশ জন কবি এই প্রেমকাহিনি অবলম্বনে কাব্য রচনা করেছিলেন বলে জানা যায়।

- আমির-পুত্র কয়েস বাল্যকালে বণিক-কন্যা লায়লীর প্রেমে পড়ে মজনু বা পাগল নামে খ্যাত হয়। লায়লীও মজনুর প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করে। কিন্তু উভয়ের বিবাহে আসে প্রবল বাধা; ফলে মজনু পাগলরূপে বনেজঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে থাকে। অন্যদিকে লায়লীর অন্যত্র বিয়ে হলেও তার মন থেকে মজনু সরে যায় নি। তাদের দীর্ঘ বিরহজীবনের অবসান ঘটে করুণ মৃত্যুর মাধ্যমে।

- এই মর্মস্পর্শী বেদনাময় কাহিনি অবলম্বনেই লায়লী-মজনু কাব্য রচিত। দৌলত উজির বাহরাম খান ফারসি কাব্যের ভাবানুবাদ অবলম্বন করলেও তাঁর স্বাধীন রচনা এতে স্থান পেয়েছে।

- কাব্যটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ড. মুহম্মদ এনামুল হক মন্তব্য করেছেন, 'নিছক কাব্যরস, লিপিচাতুর্য, ভব্যতা ও শালীনতায় 'লায়লী মজনু'র সমকক্ষ কাব্য খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যে একটিও নাই বলিলে অত্যুক্তি হয় না।' কবি কাব্যের বক্তব্য রূপায়ণে গতানুগতিক ঐতিহ্য অনুসরণ করেছেন বলে ভাবের ক্ষেত্রে কোন নতুনত্বের পরিচয় নেই। কিন্তু কবিত্বশক্তি প্রকাশে কবি যথেষ্ট সার্থকতা লাভ করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৭১১.
কৃত্তিবাসের পদবি কী ছিল?
  1. মহামহোপাধ্যায়
  2. উপপাধ্যায়
  3. মুখোপাধ্যায়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক ও বাংলা রামায়ণের আদি কবি ‘কৃত্তিবাস ওঝা’।
- মৈথিলি ব্রাহ্মণদের অসমিয়া ভাষায় ওঝা বলা হয়। ওঝা শব্দটি এসেছে ‘উপাধ্যায়' থেকে।
- তবে কৃত্তিবাসের আসল পদবি ছিল ‘মুখোপাধ্যায়’।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- 'কৃত্তিবাস কীর্তিবাস কবি, এ বঙ্গের অলঙ্কার'- কৃত্তিবাস সম্পর্কে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এ মন্তব্য করেছিলেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত একটি সনেটে কবিকে 'কীর্তিবাস তুমি' বলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনও করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭১২.
মঙ্গলকাব্যের তুলনামূলকভাবে প্রাচীনতম শাখা কোনটি?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা।
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।

মঙ্গলকাব্যের প্রধান ৩টি শাখা।
১.মনসামঙ্গল (তুলনামূলকভাবে প্রাচীনতম),
২. চণ্ডীমঙ্গল,
৩. অন্নদামঙ্গল (তুলনামূলকভাবে আধুনিক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৭১৩.
'ইমামগণের কেচ্ছা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. রাধারমণ গোপ
  4. মুহম্মদ খান
ব্যাখ্যা

রাধারমণ গোপ:
- রাধারমণ গোপ মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি ছিলেন। 

• তাঁর রচিত গ্রন্থের নাম- 
- 'ইমামগণের কেচ্ছা' ও
- 'আফৎনামা'।

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা-কেন্দ্রিক কাব্যের অপর নাম মর্সিয়া সাহিত্য।
- আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক।
- শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়।
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ - মুক্তল হোসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৭১৪.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্যধারার কবি নয় কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. আলাওল
  4. দ্বিজ মাধব
ব্যাখ্যা

• "রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান" সাহিত্যধারার কবি নয় - দ্বিজ মাধব। দ্বিজ মাধব ছিলেন চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন। 

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা।
- মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

১,৭১৫.
কোন কাব্য ফার্সি রচনার অনুবাদ?
  1. রসুল বিজয়
  2. রাগমালা
  3. ইউসুফ-জুলেখা
  4. সাতনামা
ব্যাখ্যা
- ইউসুফ-জুলেখা কাব্য ফার্সি রচনার অনুবাদ। 

ভাষা ও সাহিত্য:

- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ ও উন্নতির জন্য সুলতানি ও মুঘল শাসনকালের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ইলিয়াস শাহি বংশের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ (১৩৯৩-১৪১১ খ্রিষ্টাব্দ) এর শাসনকালেই প্রথম বাঙালি মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর প্রণয়মূলক কাব্য 'ইউসুফ-জুলেখা' রচনা করেন।
- এটি ফার্সি রচনার অনুবাদ।
- সুলতানি যুগে আরও কয়েকজন কবি ফার্সি কাব্যের অনুবাদ করেছেন।
- তাঁদের মধ্যে দৌলত উজির বাহরাম খান ও দোনা গাজীর নাম উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১,৭১৬.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয় কোনটি?
  1. নৌকা খণ্ড
  2. হার খণ্ড
  3. প্রণয় খণ্ড
  4. ভারখণ্ড
ব্যাখ্যা

প্রণয় খণ্ড শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয়। 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:

- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
এগুলো হলো:
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭১৭.
ময়মনসিংহ গীতিকার কোন পালাটি “আলাল-দুলালের” পালা হিসেবে পরিচিত?
  1. ক) মহুয়া
  2. খ) মলুয়া
  3. গ) দেওয়ানা মদিনা
  4. ঘ) কঙ্ক ও লীলা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক মনসুর বয়াতি।
• বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
• বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা
• ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: আলাল, দুলাল, মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭১৮.
'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. আলাওল
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭১৯.
'শূন্যপুরাণ' গ্রন্থটি কয়টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত?
  1. ৪৭টি
  2. ৫০টি
  3. ৫১টি
  4. ৫২টি
ব্যাখ্যা
• শূন্যপুরাণ:
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- ‘শূন্যপুরাণ’ বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- কারো মতে গ্রন্থটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭২০.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয় কোনটি?
  1. যমুনা খণ্ড
  2. হার খণ্ড
  3. প্রণয় খণ্ড
  4. ছত্রখণ্ড
ব্যাখ্যা

• 'প্রণয় খণ্ড' শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয়। 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
এগুলো হলো:
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭২১.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রণয়োপাখ্যান কোনটি?
  1. ইউসুফ-জোলেখা
  2. পদ্মাবতী
  3. চন্দ্রাবতী
  4. লায়লী-মজনু
ব্যাখ্যা
• 'ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।

• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:

- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্য বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জোলেখা।
- এটি একটি রোমান্টিক প্রনয়োপাখ্যান।
- ইউসুফ-জোলেখা কাব্যগ্রন্থের রচনাকাল অনুসারে এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য এবং শাহ মুহম্মদ সগীর এই ধারার প্রথম কবি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৭২২.
'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত ছিলেন মধ্যযুগের কোন কবি?
  1. চণ্ডীদাস
  2. গোবিন্দদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
- তিনি মাতৃভাষা মৈথিলি ছাড়াও সংস্কৃত, অবহঠট ও ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলি রচনা করেন।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ভাষায়ই ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭২৩.
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন"- উক্তি টি কার?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন" উক্তিটি কবি আলাওল 'পদ্মাবতী' কাব্যে করেছেন।
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির পদুমাবত এর কাব্যোনুবাদ।

'পদ্মাবতী' কাব্যে কবি আলাওলের আরও কিছু উক্তি- 
- দিবসের মর্ম কভু না পুছে পেচক। 
- যমে প্রাণ হরি নিতে কিবা নিশি দিশি। 
- ভাগ্য বিপরীত হৈলে খণ্ডে সব সুখ। 
- পড়শী হৈলে শত্রু গৃহে সুখ নাই। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১,৭২৪.
'মানিকরাজার গান' কোন গীতিকার অন্তর্গত?
  1. নাথ গীতিকা
  2. পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
  3. মৈমনসিংহ-গীতিকা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

নাথ গীতিকা :
নাথ অর্থ প্রভু বা পালনকর্তা; কিন্তু নাথ বলতে নাথ ধর্মে বিশ্বাসী সম্প্রদায়কেই বোঝানো হয়।
নাথ সাহিত্যগুলো গীতিকা বা ইধষষধফ জাতীয় রচনা।
বৌদ্ধ ও শৈব ধর্মের মিলনে নাথ ধর্ম সৃষ্টি হয়েছে।

নাথ গীতিকার নাম ও রচয়িতা:

- ময়নামতীর গান বা মানিকরাজার গান - ভবানীদাস
- গোপীচাঁদের সন্ন্যাস - শুকুর মহম্মদ।

মৈমনসিংহ-গীতিকাগুলো হলো:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- দস্যু কেনারাম,
- কমলা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- দেওয়ান মদিনা ও
- ধোপার পাট;

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো গলো:
- ভেলুয়া সুন্দরী,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী,
- আন্ধা বন্ধু,
- বন্ডুলার বারমাসী,
- রতন ঠাকুর,
- পীর বাতাসী,
- জিবালনি,
- সোনারামের জন্ম ও
- ভারাইয়া রাজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭২৫.
'মনসামঙ্গল' কাব্যধারার আদি কবি কে?
  1. মালাধর বসু
  2. কানাহরি দত্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা
কানাহরি দত্ত:
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি হচ্ছেন - কানাহরি দত্ত।
- কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে।
- তাতে একটি পঙক্তি আছে; ‘হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।’
- কানাহরি দত্তের রচনা লোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রান্ত প্রাচীনতম পুথি।
- কানাহরি দত্তের সময়কাল: আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭২৬.
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২২ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২৪ সালে
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭২৭.
বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয় কাকে?
  1. ভারতচন্দ্র রায় 
  2. জয়দেব 
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়; তাঁরা হলেন: বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস ও চণ্ডীদাস। চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন।
- তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন এবং জাতিতে ছিলেন ব্রাহ্মণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৭২৮.
আবদুল হাকিম কোন শতকের কবি?
  1. ক) ষোলো শতক
  2. খ) সতেরো শতক
  3. গ) আঠারো শতক
  4. ঘ) উনিশ শতক
ব্যাখ্যা
আবদুল হাকিম
আবদুল হাকিম চট্টগ্রামের সন্দীপের ভুলুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি সতেরো শতেকের কবি। তিনি ৮ টি গ্রন্থ লিখেছেন। যথা :
- লালমতি সয়ফুল মুলুক
- নূরনামা
- কারবালা
- ইউসুফ জোলেখা
- নসীহৎনামা
- শহরনামা
- শিহাবউদ্দিননামা
- চারি মোকামভেদ। 

আবদুল হাকিমের ‘নূরনামা’ কাব্যের বিখ্যাত উক্তি: 
যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় না জানি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
১,৭২৯.
নিচের কোনটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক আবিষ্কৃত পুঁথি-
  1. ক) সরহপাদের দোহা
  2. খ) ডাকার্ণব
  3. গ) কাহ্নপাদের দোহা
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় প্রধান ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে (৩য় বার) নেপালে গিয়ে রাজদরবারের 'নেপাল রয়্যাল লাইব্রেরি' থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
• এ সময় তিনি চর্যাপদের সাথে 'সরহপাদের দোহা', 'কাহ্নপাদের দোহা' ও ‘ডাকার্ণব' নামে আরাে তিনটি পুঁথি আবিষ্কার করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৭৩০.
কোনটি প্রাচীন যুগের সাহিত্যকর্ম নয়? 
  1. শ্রীকৃষ্ণবিজয়
  2. ডাকার্ণব
  3. কৃষ্ণপাদের দোহা
  4. সহরপাদের দোহা
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। 
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁরই সম্পাদনায় পুঁথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক চারটি পুঁথি একত্রে প্রকাশিত হয়। 
যেমন- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, সহরপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব। 
- এইগুলোর মধ্যে একমাত্র 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'ই প্রাচীন বাংলায় লেখা আর অন্য তিনটি বাংলায় নয়, অপভ্রংশ ভাষায় রচিত। 
- তিনি পুঁথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয়। 
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে। 

অন্যদিকে, 
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক এবং তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৩১.
'মিছা মণি মুক্তা হেম, স্বদেশের প্রিয় প্রেম, তার চেয়ে রত্ন নাই আর।' - এই কবিতাংশের ভাব নিচের কোন কবিতায় প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে।
  1. ক) জীবণ-সঙ্গীত
  2. খ) আমার পরিচয়
  3. গ) তাহারেই পড়ে মনে
  4. ঘ) কপোতাক্ষ নদ
ব্যাখ্যা
'মিছা মণি মুক্তা হেম, স্বদেশের প্রিয় প্রেম, তার চেয়ে রত্ন নাই আর।' যুগসন্ধিক্ষণের কবি ঈশ্বরযন্দ্র গুপ্ত রচিত কবিতা। এই কবিতায় দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে।
প্রশ্নোল্লিখিত কবিতার মধ্যে মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কপোতাক্ষ নদ কবিতায় দেশপ্রেমের প্রকাশ তীব্রভাবে হয়েছে।
শামসুর রহমান রচিত আমার পরিচয় কবিতায়ও দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে দেশের গৌরবান্বিত ইতিহাসকে উপজীব্য করে। তবে প্রশ্নের কবিতার ভাবের সাথে কপোতাক্ষ নদ কবিতার ভাব প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে।
১,৭৩২.
চর্যাপদের কবি নন-
  1. লাড়ীডোম্বীপা
  2. ভুসুকুপা
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা ও লাড়ীডোম্বীপা চর্যাপদের কবি। কিন্তু হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের কবি নন তিনি চর্যাপদ সম্পাদনা করেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

১,৭৩৩.
'দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) গোবিন্দদাস
  3. গ) জয়দেব
  4. ঘ) চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি 'দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী' গ্রন্থটি রচনা করেন।
 
• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- পুরুষপরীক্ষা।
- লিখনাবলী (অলঙ্কার শাস্ত্রবিষয়ক গ্রন্থ)।
- কীর্তিলতা।
- ভূ-পরিক্রমা।
- দানবাক্যাবলী (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী
- শৈবসর্বস্বসার।
- বিভাগসার (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- গঙ্গাবাক্যাবলী।
- কীর্তিপতাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭৩৪.
নাথসাহিত্য 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুকুর মামুদ
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. শ্যামদাস সেন
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• সুকুর মামুদ রচিত নাথসাহিত্য গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।

শুকুর মাহমুদ:

- তিনি মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭৩৫.
মঙ্গলকাব্যের প্রথম অংশের নাম কী ?
  1. শ্রুতিফল
  2. বন্দনা
  3. মর্ত্যখন্ড
  4. দেবখণ্ড
ব্যাখ্যা
• মঙ্গকাব্য:
মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
পনেরো থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
•মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি, ঘনরাম চক্রবর্তী।
• মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

• একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখন্ড,
- শ্রুতিফল ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৭৩৬.
কার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে।

অন্যদিকে,
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যু (১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় যুগসন্ধিক্ষণ।
- যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে।
• অন্নদামঙ্গল কাব্য প্রথম মুদ্রিত করেন - গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
• শাক্তপদাবলির আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি - রামপ্রসাদ সেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৩৭.
নিচের কোনটি ‘পদ্মাবতী’ সম্পর্কিত?
  1. ক) প্রণয়কাব্য
  2. খ) মৌলিক গ্রন্থ
  3. গ) ভ্রমণকাহিনী
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পদ্মাবতী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
- অযোধ্যার কবি জায়সী ১৫৪০ সালে ‘পদুমাবত’ কাব্য রচনা করেছিলেন।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ উমাদার আমলে মাগন ঠাকুর পদ্মাবতী কাব্য রচনা করেন।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দিপদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন। এর রচয়িতা ছিলেন মালিক মোহাম্মদ জায়সী। 

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৩৮.
মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি ছিলেন-
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. মালাধর বসু
  3. রাধারমণ গোপ
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমাদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ‘মর্সিয়া-সাহিত্যে'র আদিকবি। তাঁর গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হচ্ছেন রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিতগ্রন্থ:
- ইমামগণের কেচ্ছা,
- আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৩৯.
মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা নয় কোনটি?
  1. বৈষ্ণব সাহিত্য
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. নাথ সাহিত্য
  4. পুথি সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা নয়: পুথি সাহিত্য।
- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য।
- আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।

----------------------------
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।

• মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা:
বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।

- মধ্যযুগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৪০.
‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি কোন যুগে সত্য ছিল?
  1. প্রাচীনযুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. অবক্ষয় যুগ
  4. যুগসন্ধিকালে
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যুযুগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৪১.
মহাভারতের অনুবাদক নন কে?
  1. ক) শ্রীকর নন্দী
  2. খ) সঞ্জয়
  3. গ) বিজয় পণ্ডিত
  4. ঘ) বিপ্রদাস পিপিলাই
  5. ঙ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত ভাষায় কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব রচিত মহাভারত পৃথিবীর অন্যতম একটি জাত মহাকাব্য। বাংলা ভাষায় মহাভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ অনুবাদক হল কাশীরাম দাস। এছাড়াও কবীন্দ্র পরমেশ্বর, শ্রীকরনন্দী, বিজয় পন্ডিত, সঞ্জয় সহ আরো অনেকে মহাভারত অনুবাদ করেন। বিপ্রদাস পিপিলাই মহাভারতের অনুবাদক নন। তিনি ১৪৯৫ সালে মনসাবিজয় রচনা করেন। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
১,৭৪২.
বৈষ্ণব পদাবলির সবচেয়ে জনপ্রিয় কে?
  1. ক) জয়দেব
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) চন্ডীদাস
  4. ঘ) দীন চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা
- বৈষ্ণব পদাবলির জনক বিদ্যাপতি।
- বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বিদ্যাপতি।
- বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম বাঙালি কবি চ-ীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলি সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি চ-ীদাস।

উৎস : চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
১,৭৪৩.
কোনটি মর্সিয়া সাহিত্যের গ্রন্থ?
  1. কলিমা জালাল
  2. গুলে বকাওলী
  3. ইমামগণের কেচ্ছা
  4. সিকান্দারনামা
ব্যাখ্যা

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা-কেন্দ্রিক কাব্যের অপর নাম মর্সিয়া সাহিত্য। আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক। শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়। 
আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত হয়। জঙ্গনামা ও মর্সিয়া সাহিত্য প্রথমত আরবে, পরে পারস্যে বিকাশ লাভ করে এবং মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে এ সাহিত্যধারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলায় এ কাব্যধারা মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।

- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, 'যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।

- শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। তাঁর রচিত কাব্য 'জয়নবের চৌতিশা'। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত। এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

-  মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ। রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

অন্যদিকে,
'গুলে বকাওলী' মধ্যযুগের রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের একটি ধারা। সতেরো শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথম 'গুলে বকাওলী' কাব্য রচনা করেন।

• অন্ধকার যুগে রামাই পণ্ডিত রচিত গ্রন্থ ‘কলিমা জালাল’। 

'সিকান্দারনামা' হলো মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি আলাওল-এর লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ, যা তিনি পারস্যের কবি নিজামি-এর 'সিকান্দারনামা' অবলম্বনে বাংলায় অনুবাদ করেন। এই কাব্যটি মূলত আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট বা সিকান্দার-এর জীবন ও কর্ম, বিশেষ করে তাঁর চীন ও ভারত বিজয় অভিযান নিয়ে রচিত

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৪৪.
বাংলা সাহিত্যে কোন সময়কালকে 'অন্ধকার যুগ' বলে?
  1. ৯৫০-১২০০ সাল
  2. ১২০১-১৮০০ সাল
  3. ১২০০-১৩৫০ সাল
  4. ১৩৫০-১৫০০ সাল
ব্যাখ্যা

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
• 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূণ্যপুরাণ' এবং এর 'কলিমা জালাল' বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা',
• হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'। 'সেক শুভোদয়া' পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক একটি কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৭৪৫.
মধ্যযুগীয় কবি আলাওল রচিত কাব্য নয় কোনটি?
  1. তোহ্‌ফা
  2. সিকান্দারনামা
  3. সয়ফুলুলুক বদিউজ্জামাল
  4. গুলে বকাওলী
ব্যাখ্যা

• কবি আলাওল রচিত কাব্য নয়- গুলে বকাওলী। 

• গুলে বকাওলী:

- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

---------------
• আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
-'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
পদ্মাবতী,
তোহ্‌ফা,
সপ্তপয়কার,
সিকান্দারনামা,
সয়ফুলুলুক বদিউজ্জামাল, 
সতীময়না,
রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৪৬.
বাংলা ও মৈথিলী ভাষার সমন্বয়ে যে কৃত্রিম কবিভাষা সৃষ্টি হয়েছে তার নাম কী?
  1. ক) অসামিয়া
  2. খ) ব্রজবুলি
  3. গ) সন্ধ্যাভাষা
  4. ঘ) মিশ্রভাষা
ব্যাখ্যা
• ব্রজবুলি:
- বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশই রচিত হয়েছে 'ব্রজবুলি' নামে এক কৃত্রিম মিশ্র ভাষায়।
- মূলত মৈথিলি ও বাংলা মিশ্রিত এই মধুর সাহিত্যিক ভাষায় রচিত পদাবলি থেকে জনসাধারণ ধারণা করেছে যে, বৃন্দাবনের রাধাকৃষ্ণ সম্ভবত এ ভাষাতেই কথা বলত।
- তাই ব্রজের বুলি অর্থে ব্রজবুলি এই কাল্পনিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
- বিদ্যাপতি মৈথিল অপভ্রংশ মিশ্রিত একটি কৃত্রিম সুললিত ভাষায় রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ রচনা করেন।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
১,৭৪৭.
রাজা শিবসিংহ রায় বিদ্যাপতিকে কী উপাধি দিয়েছিলেন?
  1. ক) কবিকঙ্কন
  2. খ) মহাকবি
  3. গ) কবিকন্ঠ হার
  4. ঘ) ব্যাসদেব
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলা রাজসভার মহাকবি। ব্রজবুলি ভাষায় রচিত বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম পদকর্তা বিদ্যাপতি।
রাজা শিবসিংহ রায় তাঁর কাব্য প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে, 'কবিকন্ঠ হার' উপাধি দেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৭৪৮.
রামনিধি গুপ্তের টপ্পা সংগীত সংকলনের নাম কী?
  1. শ্যামা সংগীত
  2. গীতরত্ন
  3. টপ্পা পুথি
  4. মীনচেতন
ব্যাখ্যা

টপ্পা সঙ্গীত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা- 
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা।

১,৭৪৯.
লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন- 
  1. ছড়া
  2. ধাঁধা
  3. পালা
  4. প্রবাদ
ব্যাখ্যা

• লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি "ছড়া"।

• লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- লােকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

১,৭৫০.
নিচের কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত নয়?  
  1. ভেলুয়া
  2. মহুয়া
  3. চন্দ্রাবতী
  4. মলুয়া
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

অন্যদিকে,
পূর্ববঙ্গ গীতিকার পালা:
- মাইষাল বন্ধু,
- ভেলুয়া
- কমলারাণী
- দেওয়ান ঈসাখাঁ
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান
- আয়না বিবি
- শিলা দেবী
- পীর বাতাসী ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
১,৭৫১.
নাথ সাহিত্য প্রধানত কয় ভাগে বিভক্ত হয়েছে?
  1. ক) দুই ভাগে
  2. খ) তিন ভাগে
  3. গ) চার ভাগে
  4. ঘ) পাঁচ ভাগে
ব্যাখ্যা
⇒ নাথ সাহিত্য:
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
নাথ সাহিত্য দুইভাগে বিভক্ত
যথা:
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষ নাথের কাহিনী,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।

-  এই দুই কাহিনী অবলম্বনেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে। 
- রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস কাহিনী প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর পাদুমাবতে। এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক ‘গোপীচন্দ্র নাটক’।

⇒ সুকুর মাহমুদ:
- সুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম- গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৫২.
'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।' - মধ্যযুগের কোন লেখক এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছেন?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস 
  3. জ্ঞানদাস
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

• 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।' — এই বিখ্যাত উক্তিটির রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ।

-------------------
• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। 
যথা:
শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।'
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।'
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।'
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৫৩.
বিদ্যাসুন্দর কাহিনি নামে অভিহিত মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• কালিকামঙ্গল কাব্য:
- কলিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে
'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি' বলে।

- কালিকামঙ্গল নামে পরিচিত কাব্যধারা মঙ্গলকাব্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যথার্থ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কালিকামঙ্গলের নামে এ কাব্যে বিদ্যাসুন্দরের প্রেমকাহিনি পরিবেশিত হয়েছে। এটা বিদ্যাসুন্দর কাহিনি নামে পরিচিত।

- তন্ত্রশাস্ত্রে কালী শক্তিদেবতা চণ্ডীরই রূপভেদ মাত্র। কিন্তু পরবর্তী কালে নিম্নস্তরের অনার্য সমাজ থেকে কালিকাদেবীর আবির্ভাব ঘটেছে। চণ্ডীর সঙ্গে কালিকার মিল থাকলেও কাব্যরচনায় কোন সামঞ্জস্য নেই। কালিকামঙ্গলের কালিকার মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা করা মুখ্য উদ্দেশ্য নয়, বরং বিদ্যা ও সুন্দরের গোপন প্রণয়কাহিনি এ কাব্যের প্রধান উপজীব্য।

কালিকামঙ্গলের কবিগণ:
বিদ্যাসুন্দরের এই প্রেমকাহিনি অবলম্বনেই কালিকামঙ্গল কাব্য রচিত হয়েছে। মূল কাহিনি কাশ্মিরের বিখ্যাত কবি বিলহন কর্তৃক তাঁর 'চৌরপঞ্চাশিকা' কাব্যে বার শতকে সংস্কৃতে বিধৃত হয়েছিল। ক্রমে চৌরপঞ্চাশিকার কাহিনি বাংলায় এসে প্রণয়কাহিনিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে কালিকামঙ্গলে স্থান পেয়েছে।
কালিকামঙ্গল বা বিদ্যাসুন্দর কাব্যের আদি কবি হিসেবে কবি কঙ্ককে মনে করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলার রাজ্যেশ্বরী নদীর তীরে বিপ্রগ্রামে কবির জন্ম। তাঁর জীবনের করুণ ও বিচিত্র কাহিনি অবলম্বনে রচিত লোকগাঁথা 'কঙ্ক ও লীলা' নামে ময়মনসিংহ গীতিকায় স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৭৫৪.
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার ছিলো -
  1. পাঁচ শতাব্দী ধরে
  2. ছয় শতাব্দী ধরে
  3. তিন শতাব্দী ধরে
  4. চার শতাব্দী ধরে
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার ছয় শতাব্দী (১২০১ - ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) ধরে।
- শ্রীচৈতন্যদেবকে (জন্ম: ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ) মাঝখানে রেখে এই যুগকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয় -
১. প্রাক্-চৈতন্য যুগ (১২০৩ - ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ) এবং
২. উত্তর-চৈতন্য যুগ (১৫০০ - ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ)।
- প্রাক্-চৈতন্য যুগে রচিত হয়েছে কৃত্তিবাসি 'রামায়ণ', বড়ুচণ্ডীদাসের 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন', মালাধর বসুর 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়', বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাসের বৈষ্ণব পদাবলি এবং তিনটি আদি 'মনসামঙ্গলকাব্য'।
- উত্তর-চৈতন্যযুগের বিচিত্র ও প্রচুর সাহিত্যসম্ভারের মধ্যে বৃন্দাবনদাস, লোচনদাস, জয়ানন্দ এবং কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্য-জীবন-কাব্য; জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাসের বৈষ্ণব পদাবলি; কাশীরাম দাসের 'মহাভারত'; বহুসংখ্যক মনসা, চণ্ডী, ধর্ম ও অন্নদামঙ্গল কাব্য (কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ঘনরাম চক্রবর্তী, ভারতচন্দ্র ইত্যাদি); মুসলমান কবি দৌলত কাজী ও আলাওলের কাব্যসম্ভার এবং শাক্তপদাবলি উল্লেখযোগ্য।
- ভারতচন্দ্রের মৃত্যু (১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে যুগসন্ধিক্ষণ বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৫৫.
শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্য -
  1. ক) অনুবাদ সাহিত্য
  2. খ) জীবনী সাহিত্য
  3. গ) নাথ সাহিত্য
  4. ঘ) লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• নাথ সাহিত্য:
- শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য নামে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্য দুইভাগে বিভক্ত:
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষ নাথের কাহিনি।
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বনেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
• গোরক্ষ বিজয় - শেখ ফয়জুল্লাহ।
• গোপীচন্দ্রের সন্যাস - শুকুর মুহম্মদ।
• মীনচেতন - শ্যামাদাস সেন।
• ময়নামতির গান - ভবানী দাস।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলাপিডিয়া।
১,৭৫৬.
'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?' বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা

• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৭৫৭.
সেক শুভোদয়া গ্রন্থ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন-
  1. ড. মুহাম্মদ এনামুল হক
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. মণীন্দ্রমোহন বসু
  4. ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
♦ সেক শুভোদয়া: 
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। 
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৭৫৮.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত শ্রেষ্টসৃষ্টি কোনটি?
  1. রসমঞ্জরী
  2. বিদ্যাসুন্দর
  3. অন্নদামঙ্গল​
  4. সত্যপীরের পাঁচালি
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- তার রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১,৭৫৯.
মধ্যযুগের সাহিত্যের কোন ধারাটি ধর্ম বা দেব-দেবীর চেয়ে মানুষের প্রণয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়?
  1. বৈষ্ণব সাহিত্য
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. নাথ সাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যুযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭৬০.
'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়' বিখ্যাত এই ভাবদ্যোতক প্রবচন এর কবি কে?
  1. বিজয় গুপ্ত
  2. ভারত চন্দ্র
  3. বিপ্রদাস পিপিলাই
  4. দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
• 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?' বিখ্যাত এই ভাবদ্যোতক প্রবচন এর কবি - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর

অন্নদামঙ্গল:
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- তাঁকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, হীরা মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি: 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের) কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি, যা সুপ্রচলিত প্রবচন বা সুভাষিতের মর্যাদা লাভ করেছে।
যেমন -
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৭৬১.
'মুক্তল হোসেন' কাব্যটি কোন ভাষা থেকে অনূদিত?
  1. আরবি
  2. সংস্কৃত
  3. ফারসি
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা

'মুক্তল হোসেন' কাব্য:
- 'মুক্তল হোসেন' মুহম্মদ খান রচিত ফারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।
- মুহম্মদ খান 'মতুল হোসেন' কাব্য রচনা করে যথেষ্ট খ্যাতি লাভ করেছিলেন।
- ১৬৪৫ সালে 'মঞ্জুল হোসেন' কাব্য রচিত হয়। এই কাব্যটি ফারসি 'মঞ্জুল হোসেন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- কবির বৃদ্ধ অবস্থায় এটি রচিত। কাব্যটিতে কবি প্রতিভার উৎকর্ষের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে।

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম 'জয়নাবের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ।তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৬২.
'কবিকণ্ঠহার' কার উপাধি?
  1. গোবিন্দদাস 
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. জ্ঞানদাস 
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন চতুর্দশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

- 'মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়। কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়।

- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭৬৩.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে কোন লোকসঙ্গীতের লক্ষণ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়?
  1. ভাটিয়ালি
  2. ভাওয়াইয়া
  3. ঝুমুর গান
  4. বাউল গান
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ঝুমুর গান।

উল্লেখ্য,
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে রাধা-কৃষ্ণের প্রণয়লীলা ও বিরহ-মিলনের বর্ণনা ঝুমুর গানের ছন্দ, ভাষা, লয় ও লোকজীবনের সরলতার সঙ্গে অত্যন্ত মিলে যায়।
- ঝুমুর হলো বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর, মানভূম অঞ্চলের প্রধান লোকসঙ্গীত।
- এই গানের বৈশিষ্ট্য: সরল ভাষা, দ্রুত লয়, প্রেম-বিরহের আবেগ, রাধা-কৃষ্ণের লীলা-কেন্দ্রিক বিষয়, পয়ার-ত্রিপদীর সঙ্গে মিল।

------------------------
• "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্য:
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি। কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।
- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে খণ্ডিতপদসহ মোট পদের সংখ্যা ৪১৮টি। পুঁথিতে সংস্কৃত শ্লোক আছে ১৬১টি।
- পুঁথির পাতার সংখ্যা ২২৬, অতএব পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৫২; এর মধ্যে মাঝের মোট ৪৫ পৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি। ৪৫ পৃষ্ঠা বাদ গেলে পুঁথির প্রাপ্ত পৃষ্ঠার সংখ্যা ৪০৭।
- পুঁথির লিপি তিন হাতের লেখা। ৪১৮টি পদের মধ্যে কবির ভণিতা আছে ৪০৯টি।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মোট তের খণ্ডে বিভক্ত।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেের খণ্ডগুলো হলো-
- জন্মখণ্ড, 
- তাম্বুলখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড, 
- ভারখণ্ড, 
- ছত্রখণ্ড, 
- বৃন্দাবনখণ্ড,
- কালিয়দমনখণ্ড, 
- যমুনাখণ্ড, 
- হারখণ্ড, 
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড ও 
- রাধাবিরহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১,৭৬৪.
'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা' - কোন সাহিত্যের সংকলন?
  1. রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  2. লোকসাহিত্য
  3. বৈষ্ণব পদাবলি
  4. নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা' পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন। দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

পূর্ববঙ্গ গীতিকার উপাখ্যানগুলো হলো:
- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- চৌধুরীর লড়াই,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৭৬৫.
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ বংশীদাস
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. জয়দেব
  4. কানাহরি দত্ত 
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা- বড়ু চণ্ডীদাস।

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
 - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর  পুঁথি আবিষ্কার করেন।  
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।  
- বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয়  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে। 
- বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে চণ্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৬৬.
বাংলা সাহিত্যে অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন কে?
  1. ক) কানা হরিদত্ত
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা
অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে সুপরিচিত 'ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর'।
-  তিনি ১৭১২ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৭৬০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
-  নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।  
- ভারতচন্দ্র নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- ভারতচন্দ্রকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।
 
অন্যদিকে, 
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চন্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৬৭.
বৈষ্ণব পদাবলিতে কাকে 'সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা' হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. ললিতা
  2. বিশাখা
  3. চন্দ্রাবলি
  4. শ্রীরাধা
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকার অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি থাকে এবং যার রতির মূলে থাকে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি, যিনি কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে সমর্থা নায়িকা বলা হয়।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি এরা সকলেই সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে 'শ্রীরাধা' সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা হিসেবে বিবেচিত।

পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা:
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা এবং
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭৬৮.
মধ্যযুগের কোন কবিকে ‘দ্বিতীয় বিদ্যাপতি’ বলা হয়?
  1. চণ্ডীদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. গোবিন্দদাস
  4. বৃন্দাবন দাস 
ব্যাখ্যা

• মধ্যযুগের কবি 'গোবিন্দদাস':
গোবিন্দদাস ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা। চৈতন্যত্তোরকালে খ্যাতি অর্জনকারী কবিদের একজন।

- তিনি 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' নামে খ্যাত।
- তার কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি।
- তার রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'।

- তিনি পূর্বরাগ, অভিসার, মান, কলহস্তরিতা, বাকসজ্জা, মাথুর প্রভৃতি পর্যায়ের পদকর্তা।
- অভিসার পদ পর্যায়ে গোবিন্দদাস শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। সমালোচকের মতে অভিসার পর্যায়ে তিনি রাজাধিরাজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১,৭৬৯.
‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ কোন বৃহত্তর গ্রন্থের অংশবিশেষ?
  1. কলিমা জালাল
  2. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  3. শূণ্যপুরাণ
  4. সেক শুভোদয়া
ব্যাখ্যা
• 'শূণ্যপুরাণ': 
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। 
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপুজাপদ্ধতি। এতে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। 
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূণ্যপুরাণের অন্তর্গত একটি কবিতা। কোনটিই বাংলা ভাষায় রচিত নয়।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১,৭৭০.
কবি আলাওলের জন্মস্থান কোথায়? 
  1. চট্টগ্রাম 
  2. কক্সবাজার 
  3. বরিশাল 
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

• আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আলাওলের জন্ম আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে (জোবরা গ্রাম, হাটহাজারি, চট্টগ্রাম) মতান্বরে (ফতেহাবাদ পরগনা, ফরিদপুর)।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

​সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- হপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৭১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য কোনটি?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. বৈষ্ণব পদাবলি
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। 
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য
- এ কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল প্রকার অকল্যাণ নাশ ও সর্ববিধ মঙ্গল লাভ হয় এরূপ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে মঙ্গলকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও  ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে  মনসা ও চণ্ডীএই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।  
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৭২.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতার মধ্যে কাদের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি?
  1. ধর্মঠাকুর ও শিব
  2. সূর্য ও গণেশ
  3. লক্ষ্মী ও সরস্বতী
  4. মনসা ও চণ্ডী
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। 
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- এ কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল প্রকার অকল্যাণ নাশ ও সর্ববিধ মঙ্গল লাভ হয় এরূপ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে মঙ্গলকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা,  চণ্ডী ও  ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে  মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।  
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৭৩.
নিচের কোনটি শোকগীতি বা বিলাপ সংগীত?
  1. ক) সারিগান
  2. খ) মর্সিয়া
  3. গ) ভাটিয়ালী
  4. ঘ) হামদ
ব্যাখ্যা
শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়।
- ‘মর্সিয়া’ কথাটি আরবি এর অর্থ শোক প্রকাশ করা।
- আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত। 
- আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়া কাব্য ফারসি সাহিত্য স্থান পায়।
- ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে ফারসি ভাষায় মর্সিয়া প্রচলিত হয় এবং পরে উর্দু ভাষাতেও তার প্রসার ঘটে।
- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, ‘যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম।
১,৭৭৪.
'নিজাম ডাকাতের পালা' ও 'ভেলুয়া' পাওয়া যায় নিম্নের কোনটিতে-
  1. ক) ময়মনসিংহ গীতিকা
  2. খ) নাথগীতিকা
  3. গ) পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  4. ঘ) রূপকথা
ব্যাখ্যা
• পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন  চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন,  আশুতোষ চৌধুরী,  জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- সেগুলির মধ্যে ধোপার পাট, মইষাল বন্ধু, কাঞ্চন মালা, কমলা রানীর গান, মদনকুমার ও মধুমালা, নেজাম ডাকাতের পালা, দেওয়ান ঈশা খাঁ, মাঞ্জুর মা, কাফেনচোরা, ভেলুয়া, হাতিখেদা, আয়নাবিবি, কমল সদাগর, চৌধুরীর লড়াই, গোপিনী-কীর্তন, সুজা-তনয়ার বিলাপ, বারতীর্থের গান, নূরুন্নেছা ও কবরের কথা, পরীবানুর হাঁইলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- পালাগুলির অধিকাংশই চোদ্দ শতকে রচিত। তবে কিছু কিছু পালা ষোল ও সতের শতকেও রচিত হয়েছে।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরণের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।
১,৭৭৫.
বাংলা বর্ণমালা তৈরীতে অগ্রদূত কারা?
  1. ক) উইলকিন্স ও হ্যালহেড
  2. খ) পঞ্চানন ও হ্যালহেড
  3. গ) উইলকিন্স ও পঞ্চানন
  4. ঘ) হ্যালহেড ও ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি 
ব্যাখ্যা
উইলকিন্স ও পঞ্চানন বাংলা বর্ণমালা তৈরীতে অগ্রদূত।
- ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে চার্লস উইলকিন্স ও পঞ্চানন কর্মকার তৎকালে প্রচলিত প্রাচীন পুঁথির বাংলা অক্ষরের আদলে বাংলা বর্ণমালা তৈরি করে হুগলীতে প্রথম বাংলা মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
- একই বছর ই মুদ্রণযন্ত্র থেকে হ্যালহেডের (A Grammar of the Bengali Language) শীর্ষক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এ গ্রন্থে বাংলা অংশের মুদ্রণে হাতে খোদিত বাংলা টাইপ প্রথম ব্যবহৃত হয়।
- নির্মিত বাংলা বর্ণমালা মুদ্রিত হয়।
- উনিশ শতকে প্রায় সর্বত্রই বাংলা মুদ্রণ পদ্ধতি প্রচলিত হয়।
- ফলে হস্তলিখিত পুঁথির ব্যবহার হ্রাস পায়।
- ইতোপূর্বে যুগে যুগে ব্যক্তিভেদে হস্তাক্ষরের পরিবর্তন ঘটলে ও মুদ্রণযন্ত্রে বাংলা গ্রন্থ মুদ্রিত হওয়ায় পর থেকে বাংলা বর্ণ সার্বজনিক নির্দিষ্ট আদল লাভ করে।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।
১,৭৭৬.
চাঁদ সওদাগর বাংলা কোন কাব্যধারার প্রতিবাদী চরিত্র?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

চাঁদ সওদাগর বাংলা মনসামঙ্গল কাব্যধারার চরিত্র।

• মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল বাংলা মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যধারার সবচেয়ে প্রাচীন ও জনপ্রিয় ধারা।
- ‘মনসামঙ্গল কাব্য’-এর আদি কবি কানহরিদত্ত হলেও শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে স্বীকৃত বিজয়গুপ্ত।
- তিনি ‘পদ্মপুরাণ’ নামে এই কাব্য রচনা করেন, যেখানে দেবী মনসার জন্ম ও চাঁদ সওদাগরের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- এছাড়া এটি সর্পদেবী মনসার পূজা প্রতিষ্ঠা, তাঁর মাহাত্ম্য, শক্তি ও মানবজীবনে তাঁর প্রভাবকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।
- কাহিনীর মূল চরিত্র চাঁদ সওদাগর।
- তিনি প্রথমে মনসাকে তুচ্ছ করলেও পরে দেবীর অলৌকিক শক্তি স্বীকার করে নেন।
- এই বিরোধ, সংকট ও গ্রহণের মধ্য দিয়েই কাব্যের গল্প এগোতে থাকে।
- মনসামঙ্গলে কেবল পৌরাণিক আখ্যানই নয়, সমাজবাস্তবতার দিকও প্রকাশ পেয়েছে।
- চাঁদ ও মনসার দ্বন্দ্বে আর্য–অনার্য সংঘাত, দেব–মানব বিরোধ, এবং সমাজের শ্রেণী-বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছিল।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র :
• দেবী মনসা,
• চাঁদ সওদাগর,
• বেহুলা,
• লক্ষিন্দর,
• সনকা ও
• নেতাইধোপানি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যে চাঁদ সওদাগর সর্বাধিক প্রতিবাদী পুরুষ চরিত্র হিসেবে বিবেচিত;
- আর বেহুলা সেই যুগের সর্বাধিক প্রতিপ্রাণা নারী চরিত্র— যিনি স্বামীর প্রাণ রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত ছিলেন

উৎস: 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম।
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

১,৭৭৭.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য ধারার কোন কাব্যে 'রাজা হরিশচন্দ্রের কাহিনী' আছে?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) ধর্মমঙ্গল

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
- ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- রূপরাম, সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য কবি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত:
রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি।
লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৭৮.
মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন কে?
  1. গোবিন্দদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. ভারতচন্দ্র
ব্যাখ্যা

• বিদ্যাপতি:
- 'বিদ্যাপতি' - বৈষ্ণবপদাবলি ধারার কবি।  
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।

- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭৭৯.
‘পদ্মাবতী’ আলাওলের অনুবাদ কাব্যটি কয়টি পর্বে রচিত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
 ⇒ ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

⇒ আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ: 
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- আধুনিক যুগের লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া
১,৭৮০.
বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ কত বঙ্গাব্দে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথি আবিষ্কার করেন?
  1. ১৩০৯ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৬ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

এগুলো হলো-
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১,৭৮১.
'খুল্লনা' কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চণ্ডীমঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
চন্ডীমঙ্গল  মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- চন্ডীদেবীর কাহিনী এর উপজীব্য।
- এই চন্ডীদেবীও মূলত অনার্যসম্ভূতা, পরে বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রের দেবকল্পনার প্রভাবে পর্যায়ক্রমে পৌরাণিক দেবতায় পরিণত হন।
- এর বিষয়বস্ত্ত দুটি সামাজিক কাহিনীকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে।
- প্রথমটি কালকেতু-ফুল্লরার জীবনকথা এবং
- দ্বিতীয়টি ধনপতি-লহনা-খুল্লনার কাহিনী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৮২.
আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য কোনটি?
  1. সপ্তপয়কর
  2. সিকান্দারনামা
  3. পদ্মাবতী
  4. তোহফা
ব্যাখ্যা

‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।

• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

• আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

• আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ: 
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা, 
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না
- রাগতালনামা ইত্যাদি। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৮৩.
'চণ্ডীমঙ্গল’ ধারার প্রথম কবি কে?
  1. মানিক দত্ত
  2. কানাহরি দত্ত
  3. ঘনরাম চক্রবর্তী
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রথম / আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• মনসামঙ্গলকাব্যের আদি কবি কানাহরি দত্ত।
• ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৮৪.
'মলুয়া' পালা কে রচনা করেছেন?
  1. দ্বিজ ঈশান
  2. মনসুর বয়াতি
  3. দ্বিজ কানাই
  4. চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
• 'মলুয়া' পালা রচনা করেছেন চন্দ্রাবতী।

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• গীতিকা গুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা
- বিদ্যাসুন্দর
- রামায়ণ উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া
১,৭৮৫.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কাব্যের রচয়িতা কে? 
  1. রামনিধি গুপ্ত 
  2. শুকুর মাহমুদ 
  3. ভীমসেন রায়
  4. শ্যামাদাস সেন
ব্যাখ্যা

• নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে ।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ। 
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

---------------------------
• শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৮৬.
ফকির গরীবুল্লাহ রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. জঙ্গনামা
  3. পদ্মাবতী
  4. সতীময়না
ব্যাখ্যা
• 'জঙ্গনামা' কাব্যের রচয়িতা ফকির গরীবুল্লাহ।

• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

• মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'পদ্মাবতী' মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত কাজী।
- ‘চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।

উৎস:

১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৭৮৭.
'পদ্মাবতী' কাব্যটি কার আদেশ বা অনুরোধে লেখা হয়েছিল?
  1. রতনসেন
  2. সম্রাট আকবর
  3. আলাউদ্দিন খিলজি
  4. মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- অনুবাদ হলেও কবি এখানে অনেক মৌলিকতা দেখিয়েছেন।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ খদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন। কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং
- দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

আলাওল রচিত অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থ:
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না, 
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭৮৮.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রকৃত নাম কী?
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ব্ব
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণসন্দম
  3. গ) শ্রীকৃষ্ণসন্দন
  4. ঘ) শ্রীকৃষ্ণসন্দক
ব্যাখ্যা
পুঁথিতে প্রাপ্ত একটি চিরকুট অনুসারে এই কাব্যের প্রকৃত নাম ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ব্ব’ (শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ)। ‘সন্দর্ভ’ শব্দের অর্থ রচনার সংকলন বা গবেষণাপত্র। তাই এটির আভিধানিক অর্থ ‘শ্রীকৃষ্ণ সংকলন’ বা শ্রীকৃষ্ণ গবেষণা।

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেল মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
১,৭৮৯.
কবি রামপ্রসাদ কে 'কবিরঞ্জন' উপাধি দেন কে?
  1. রাজা রঘুনাথ রায়
  2. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ 
  3. রাজা শিবসিংহ
  4. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা

• রামপ্রসাদ সেন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- তিনি আনুমানিক ১৭২০ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি, পারসি ভাষা জানতেন।
- রামপ্রসাদের গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- রামপ্রসাদের গান শুনে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা  অভিভূত হয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের উপাধি ছিল 'কবিরঞ্জন'। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই উপাধি দিয়েছিলেন।

- রামপ্রসাদের শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই' - রামপ্রসাদ সেনের উক্তি।
- রামপ্রসাদের আর একটি বিখ্যাত গান:

'মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলত সোনা।'

- তিনি ১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,৭৯০.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. গোবিন্দদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।

এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।
['শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।]

এতে ৮ প্রকার অভিসারের কথা বলা হয়েছে। যথা:
- জ্যোৎস্নাভিসার,
- তামসীভিসার,
- বর্ষাভিসার,
- দিবাভিসার,
- কুঞ্ঝাটিকাভিসার,
- তীর্থযাত্রাভিসার,
- উন্মত্তাভিসার,
- সঞ্চরাভিসার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১,৭৯১.
বাংলা এবং মৈথিলী ভাষার সমন্বয়ে যে ভাষার সৃষ্টি হয়েছে তার নাম কি?
  1. ক) মাগধী
  2. খ) অসমিয়া
  3. গ) মরমিয়া
  4. ঘ) ব্রজবুলি
ব্যাখ্যা

- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা।
- ব্রজবুলি মূলত এক ধরনের কৃত্রিম মিশ্রভাষা।
- মৈথিলি ও বাংলার মিশ্রিত রূপ হলো ব্রজবুলি ভাষা।
- পনেরো শতকে মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক অনেক পদ রচনা করেন।
- পদগুলি বাঙালিদের নিকট এতই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, সেগুলির কারণে ব্রজবুলি ভাষাটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীকালে অনেক বাঙালি কবি এ ভাষায় বৈষ্ণবপদ রচনা করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১,৭৯২.
‘চৈতন্য - চরিতামৃত’ এর রচয়িতা কে?
  1. ক) জয়ানন্দ
  2. খ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  3. গ) বৃন্দাবনদাস
  4. ঘ) লোচনদাস
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় রচিত শ্রেষ্ঠ চৈতন্য জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।
- গ্রন্থটি রচনা করেন কৃষ্ণদাস কবিরাজ
- কৃষ্ণদাস কবিরাজের কাব্যটি নানা দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার।
- কবি ১৬১৫ খ্রিষ্টাব্দে এটি রচনা করেন।
- বৈষ্ণব সমাজে এ কাব্যটি উপনিষদের মর্যাদা পেয়েছে।
- এ গ্রন্থে মনন, দর্শন, তত্ত্বজ্ঞান ও রসবোধের অপূর্ব সমন্বয় লক্ষ করা যায়। 

- চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, 'শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।'
- মুরারি গুপ্ত সিলেটের অধিবাসী ছিলেন পরে নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্যের সহাধ্যায়ী ছিলেন। 
- মুরারি গুপ্তের গৃহে চৈতন্যের প্রথম ভাবাবেশ ঘটেছিলো বলে জনশ্রুতি বিদ্যমান। 

- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- বাংলায় ভাষায় লোচন দাস রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্য-মঙ্গল' ।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৭৯৩.
'মুক্তল হোসেন' কী ধরনের রচনা?
  1. মর্সিয়া সাহিত্য
  2. মহাকাব্য
  3. গীতিকাব্য
  4. নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
- 'মুক্তল হোসেন' হলো 'মুহম্মদ খান' রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।  

⇒ মর্সিয়া সাহিত্য:
• কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের  চৌতিশা (১৫৭০)। 
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷ তার গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৯৪.
"নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা।" - এটা কোন ধরনের পল্লীসাহিত্য?
  1. প্রবাদবাক্য
  2. ছড়ার গান
  3. খনার বচন
  4. ডাকের কথা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) প্রবাদবাক্য।

ব্যাখ্যা:
“নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা” একটি প্রবাদবাক্য (প্রবাদ)।

এটি গ্রামীণ/পল্লী জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত একটি লোকোক্তি যা লোকমুখে প্রচলিত।
অর্থ: কোনো কাজে দক্ষতা না থাকলে দোষটা কাজের বা পরিবেশের ওপর চাপানো হয় (যেমন: নাচতে না পারলে দোষ উঠানের বাঁকা হওয়ার)।
এ ধরনের বাক্য সংক্ষিপ্ত, ব্যঙ্গাত্মক এবং জীবনের সত্যকে ধরিয়ে দেয় — যা প্রবাদের মূল বৈশিষ্ট্য।

অন্য অপশন বিশ্লেষণ:
খ) ছড়ার গান → এগুলো শিশুতোষ, ছন্দোবদ্ধ, গানের মতো করে গাওয়া হয় (যেমন: আকাশে চাঁদ উঠেছে রে...)। এটা গান নয়।

গ) খনার বচন → খনা নামে পরিচিত একজন নারীর নামে প্রচলিত কৃষি-সম্পর্কিত উপদেশমূলক বচন (যেমন: 'কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত')

ঘ) ডাকের কথা → ডাক (লোককবি ডাক) নামে পরিচিত একজনের নামে প্রচলিত কৃষি-আবহাওয়া-সম্পর্কিত লোককথা/উক্তি।

সুতরাং এটি পল্লীসাহিত্যের প্রবাদবাক্য। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

১,৭৯৫.
দেশী ভাষে কহ তাকে পাঞ্চালীর ছন্দে। সকলে শুনিয়া যেন বুঝয় সানন্দে। এই কাব্যাংশের কবি কে?
  1. দৌলত কাজী
  2. সৈয়দ আব্দুল হাকিম
  3. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. আবদুল করীম
ব্যাখ্যা
• 'দেশী ভাষে কহ তাকে পাঞ্চালীর ছন্দে। সকলে শুনিয়া যেন বুঝয় সানন্দে।' এই কাব্যাংশের কবি - দৌলত কাজী

সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী:
- 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যের কাহিনি খুবই প্রাচীন কাল থেকে লোকগাথা হিসেবে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রচলিত ছিল।
- এই লোকগাথা অবলম্বন করে হিন্দি কবি সাধন 'মৈনাসত' নামে একটি কাব্য লিখেন।
- দৌলত কাজী তা অবলম্বন করে 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য রচনা করেন।
- ভিন্ন ভাষা থেকে এ কাব্যের কাহিনি বাংলায় রূপান্তরিত করার জন্য আশরফ খান নির্দেশ দিয়েছিলেন:

ঠেটা চৌপাইয়া দোহা কহিলা সাধনে।
না বুঝে গোহারী ভাষা কোন কোন জনে।
দেশী ভাষে কহ তাকে পাঞ্চালীর ছন্দে
সকলে শুনিয়া যেন বুঝয় সানন্দে।।

- এতে মনে হয় হিন্দি ঠেট ও গোহারী (গাঁওয়ারী) ভাষায় অর্থাৎ প্রাচীন হিন্দি ভাষায় রচিত কোন কাব্যকাহিনি অবলম্বনে দৌলত কাজী তাঁর কাব্যের পরিকল্পনা করেছিলেন।
- 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যের কথাবস্তুতে হিন্দি প্রণয়কথা থাকলেও রূপে ও ভাবে তা বিদগ্ধ ও বিশুদ্ধ বাংলা কবিতা।
- কাব্যের প্রথমে আল্লাহ্-রসুলের বন্দনা করেছেন।
- বন্দনার উদার ও সার্বভৌম ভাবটি ধর্মসম্প্রদায়-নির্বিশেষে সর্বজনগ্রাহ্য।
- তারপর রাজা শ্রীসুধর্মা ও সমরসচিব আশরফ খানের প্রশংসা, রাজার বিহার ও আশরফ খানের দ্বারা কাব্য রচনার নির্দেশের কথা বলে কবি কাব্যের কাহিনি আরম্ভ করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১,৭৯৬.
মালাধর বসু প্রথম কোন গ্রন্থের বাংলা অনুবাদক ছিলেন?
  1. মহাভারত
  2. ভগবত
  3. রামায়ণ
  4. গীতা
ব্যাখ্যা

মালাধর বসু:
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে জন্মগ্রহণ করেন।
- মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- মালাধরের একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শকাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
- চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।

অন্যদিকে,
- মহাভারতের প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন- কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৯৭.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র নয় কোনটি?
  1. কৃষ্ণ
  2. রাধা
  3. ফুল্লরা
  4. বড়ায়ি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ফুল্লরা
ফুল্লরা চরিত্রটি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এর চরিত্র নয়।
 
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস।
- বড়ু চন্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।

• এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র:
- এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র তিনটি।
- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৯৮.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন কাব্য রচনা করে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি লাভ করেন?
  1. সত্য পীরের পাঁচালি
  2. বিদ্যাসুন্দর
  3. অভয়ামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর: 
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৯৯.
গোঁজলা গুই ছিলেন–
  1. নাথ সাহিত্যিক
  2. মর্সিয়া সাহিত্যিক
  3. কবিওয়ালা
  4. বৈষ্ণব পদকর্তা
ব্যাখ্যা

গোঁজলা গুঁই কবিওয়ালাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন।
- তিনি কবিগানের আদিগুরু বলে পরিচিত।
- কবি ঈশ্বর গুপ্তের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৭০৪ থেকে ১৭১৪ সালের মধ্যে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর গান থেকেই ঈশ্বর গুপ্ত কবিগানের প্রথম সূচনা ধরেছেন।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

১,৮০০.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম কী?
  1. পদ্মপুরাণ
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. পদ্মাবতী
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- 'মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম 'পদ্মপুরাণ'।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
- চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই
- মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
- দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।

এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।
- মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র হলো বেহুলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।