বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ১৬ / ২৮ · ১,৫০১১,৬০০ / ২,৭৬৪

১,৫০১.
‘বৈষ্ণব পদাবলি'র রস নয় কোনটি?
  1. দাস্যরস
  2. বাৎসল্য রস
  3. শাখ্যরস
  4. মধুররস
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বৈষ্ণব পদাবলি'র রস নয় - শাখ্যরস।

• বৈষ্ণব পদাবলি ব্রজবুলি ভাষায় রচিত।
- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্য রস ও
৫. 'শৃঙ্গার/মধুররস।
- 'শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।

• এতে ৮ প্রকার অভিসারের কথা বলা হয়েছে। যথা:
- জ্যোৎস্নাভিসার,
- তামসীভিসার,
- বর্ষাভিসার,
- দিবাভিসার,
- কুজ্ঝাটিকাভিসার,
- তীর্থযাত্রাভিসার,
- উন্মত্তাভিসার,
- সঞ্চরাভিসার।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫০২.
বিদ্যাপতি কোন ভাষায় পদ রচনা করেন নি?
  1. ক) মৈথিলী
  2. খ) অবহট্ঠ
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) বাংলা
ব্যাখ্যা
বাংলায় কবিতা রচনা না করেও বিদ্যাপতি ছিলেন - বাংলা ভাষার কবি।
- বিদ্যাপতি ছিলেন বৈষ্ণব কবি ও পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। 
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। 
- বিদ্যাপতি মৈথিলী,  অবহট্ঠ ও সংস্কৃত ভাষায় বহু  গ্রন্থ ও পদ রচনা করেন।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।
- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- সুমধুর এই বৈষ্ণব পদাবলির জন্যই তিনি বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন।

- সংস্কৃত ভাষায় তার রচিত একটি গ্রন্থ হচ্ছে - পুরুষপরীক্ষা।
- বিদ্যাপতির এ-জাতীয় আরো কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে -
কীর্তিলতা, গঙ্গাবাক্যাবলী, বিভাগসার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫০৩.
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।' - উক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) চণ্ডীমঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য।
• এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত কিছু পঙক্তি হলো:
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫০৪.
বিদ্যাপতি মূলত কোন ভাষার কবি ছিলেন?
  1. মারাঠি
  2. হিন্দি
  3. মৈথিলি
  4. গুজরাটি
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্যাপতি' মূলত মৈথিলী ভাষার কবি ছিলেন। 

• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
• কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।

- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৫০৫.
'নদের চাঁদ' কোন পালা'র চরিত্র?
  1. মহুয়া
  2. মলুয়া
  3. দেওয়ানা মদিনা
  4. দস্যু কেনারাম
ব্যাখ্যা

'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। 

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে, 
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:

'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫০৬.
নিচের কোন কবি ‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান’ রচনা করেছেন?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. আলাওল
  3. ভারতচন্দ্র
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্য:
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।

- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, দৌতল কাজী, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫০৭.
কোনটি অনুবাদের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য অনুবাদ সাহিত্যে প্রবেশ করে?
  1. ক) মহাভারত
  2. খ) রামায়ণ
  3. গ) চর্যাপদ
  4. ঘ) ভাটিয়ালী রাগেণ গীয়েত
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম সূত্রপাত করেন কৃত্তিবাস ওঝা।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা ।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় ''রামায়ণ'' অনুবাদ করেন ।

- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি ।
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন চন্দ্রাবতী ।
- 'মহাভারত' এর প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
-  শ্রীকর নন্দী রচিত মহাভারতকে বলা হয় ‘ছুটিখানি মহাভারত’।
- মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫০৮.
আখ্যানমূলক কাব্য 'রসুল বিজয়' রচনা করেন -
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. আলাওল
  3. সাবিরিদ খান
  4. দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা
• সাবিরিদ খান:
- তিনি মধ্যযুগের কবি ছিলেন।
- 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের রচয়িতা সাবিরিদ খান।
- এ কাব্য রচনায় তিনি প্রচলিত কাহিনি অবলম্বন করেছেন।
- বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি কালিকামঙ্গলের অন্তর্গত।

সাবিরিদ খান তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন: 
- বিদ্যাসুন্দর,
- রসুল বিজয়
- হানিফা-কয়রাপরী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫০৯.
পদাবলীর প্রথম কবি কে?
  1. গোবিন্দ দাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. চন্ডিদাস
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা

 বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।

পরবর্তীতে,
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলীর রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।

উল্লেখ্য,
- যদি প্রশ্ন হয় “বৈষ্ণব পদাবলির আদি পদকর্তা/প্রথম পদকর্তা/আদিকবি কে?” এবং অপশনে "জয়দেব" থাকে; তাহলে উত্তর নিঃসন্দেহে - জয়দেব। কেননা তিনি সবচেয়ে প্রাচীন কবি যিনি বৈষ্ণব পদ রচনা করেছেন।

- যদি একই প্রশ্নের অপশনে জয়দেব না থাকে এবং "বিদ্যাপতি" থাকে তাহলে বিদ্যাপতি উত্তর হবে। কেননা, জয়দেবের পর তিনিই বৈষ্ণব পদ রচনা করেন এবং বৈষ্ণব পদের উৎকর্ষ তার মাধ্যমে শুরু হয়। উল্লেখ্য, রেফারেন্স বইগুলােতে দুইজনকেই বৈষ্ণব পদের প্রথম রচয়িতা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

- যদি প্রশ্ন হয় "বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা কে?" তাহলে অপশনে যাই থাকুক না কেন, উত্তর হবে - চন্ডীদাস।

তথ্যসূত্র:- (তথ্যকল্পদ্রুম) , লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ , বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, অধ্যাপক মাহবুবুল আলম , বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫১০.
কোন ধরনের কাব্যকে 'জঙ্গনামা' বলা হয়?
  1. জীবনী সাহিত্য
  2. প্রণয় কাব্য
  3. যুদ্ধ কাব্য
  4. নীতিকাব্য
ব্যাখ্যা
• ‘জঙ্গনামা’:
- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ বা তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। অর্থ্যাৎ ‘জঙ্গনামা’ কাব্যের বিষয় যুদ্ধ-বিগ্রহ।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণির কাব্যের মূল বিষয়। যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।
- তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
- ফারসি কাব্য অবলম্বনে ফকির গরীবুল্লাহ সর্বপ্রথম জঙ্গনামা রচনা করেন। 
----------------

জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো:

— শেখ ফয়জুল্লাহ - জয়নবের চৌতিশা।
— দৌলত উজির বাহরাম খান - জঙ্গনামা।
— মুহম্মদ খান - মকতুল হোসেন। 
— শেরবাজ - কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা। 
— হেয়াত মামুদ - জারি-জঙ্গনামা। 
— ফকির গরিবুল্লাহ - জঙ্গনামা ও সোনাভান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৫১১.
'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  3. দ্বিজ ঈশান
  4. দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা

'মহুয়া' পালা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিস্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উল্লেখ্য,
ভনিতা থেকে আরও কিছু গীত রচয়িতার নাম জানা যায়, যেমন-
- চন্দ্রাবতী- নয়ানচাঁদ ঘোষ,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দস্যু কেনারামের পালা- চন্দ্রাবতী,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫১২.
'বৈষ্ণব সাহিত্য' রচনার প্রথম নিদর্শন কোনটি?
  1. রাধাকৃষ্ণ কাব্য
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. গীতগোবিন্দম্
  4. কৃষ্ণ পদাবলি
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব সাহিত্য সম্পর্কিত তথ্য:

বৈষ্ণব সাহিত্য, যা বৈষ্ণব ধর্ম ও দর্শনকে কেন্দ্র করে রচিত একটি কাব্যধারা, মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সাহিত্যধারার মূল উপজীব্য রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা, বিশেষ করে শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীরাধার প্রেমের কাহিনী।

প্রথম বৈষ্ণব কবি:
• জয়দেব (১২শ শতক): বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম কবি, "গীতগোবিন্দম্" কাব্যটি রচনা করেন। এই কাব্যটি সংস্কৃতে রচিত ছিল এবং বৈষ্ণব সাহিত্যধারার প্রাথমিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।

বৈষ্ণব পদাবলি:
• বৈষ্ণব পদাবলি হলো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
• প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন জয়দেব (সংস্কৃত ভাষায়)।
• পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
• বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

বৈষ্ণব পদাবলির প্রধান নায়িকা:
• কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধা কে নায়িকা বলা হয়।
• পদাবলিতে শ্রীরাধার ৮টি অবস্থা বর্ণিত হয়েছে।

পদাবলির রস:
বৈষ্ণব পদাবলিতে মোট পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা- 
• শান্তরস, 
• দাস্যরস, 
• সখ্যরস, 
• বাৎসল্যরস, 
• মধুররস (শৃঙ্গার রসও বলা হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
১,৫১৩.
রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক কে ছিলেন?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. কমলা দাস
  3. পদ্মাবতী
  4. কুমুদিনী মিত্র
ব্যাখ্যা
• "চন্দ্রাবতী" রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক।

• চন্দ্রাবতী:

- চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের তিনজন উল্লেখযোগ্য মহিলা কবির অন্যতম।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- তাঁদের নিবাস ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাঠবাড়ী বা পাতুয়ারী গ্রামে।
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

• চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মালুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

• রামায়ণ:
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন- কৃত্তিবাস ওঝা।
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য।
- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩. বাংলাপিডিয়া।
১,৫১৪.
কবিওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত নয় কে?
  1. ক) অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি
  2. খ) রাধারমণ গোপ
  3. গ) রাম বসু
  4. ঘ) কেষ্টা মুচী
ব্যাখ্যা
- মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি - রাধারমণ গোপ।

আঠারো শতকের শেষ ও উনিশ শতকের শুরুর দিকে বাংলা সাহিত্যে কবিগান রচয়িতাদের আবির্ভাব ঘটে।
কবিওয়ালাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন: 
- গোঁজলা গুই (প্রাচীন কবি), রাম বসু, রাসু-নৃসিংহ, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি, হরু ঠাকুর, কেষ্টা মুচী, ভবানী-বেনে, নিতাই বৈরাগী, ভোলা ময়রা, রামানন্দ নন্দী ইত্যাদি। 
- গোঁজলা গুঁই কবিগানের আদিগুরু বলে পরিচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫১৫.
গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন-
  1. জ্ঞানদাস 
  2. লোচনদাস 
  3. জয়দেব 
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দদাস:
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।

• গোবিন্দদাসের উপাধি:
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

• গোবিন্দদাস রচিত পঙ্‌ক্তিটির কিছু অংশ:
"ঢল ঢল কাঁচা
অঙ্গের লাবণি
অবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ- হিল্লোলে
মদন মুরুছা পায়।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫১৬.
শিবায়ন ধারার প্রথম কবি কে?
  1. বিদ্যাসুন্দর 
  2. দ্বিজ রতিদেব
  3. কবি কঙ্ক
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• শিবায়ন ধারার প্রথম কবি — দ্বিজ রতিদেব।

- কৃষিভিত্তিক সমাজজীবনে বৈদিক দেবতা রুদ্র শিবের রূপ ধারণ করে; শিব বাঙালি হিন্দুর জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই বাঙালির সুখ-দুঃখ ভরা সংসারের কথা স্থান পেয়েছে শিবমঙ্গলে।
- এ ধারার প্রথম কাব্য দ্বিজ রতিদেবের মৃগলুব্ধ (১৬৭৪) পাওয়া গেছে চট্টগ্রামের পটিয়ায়।

অন্যদিকে,
- শিবায়নের শ্রেষ্ঠ কাহিনীর রচয়িতা রামেশ্বর চক্রবর্তী (১৭১০-১১)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫১৭.
কারবালার ঘটনা কেন্দ্র করে রচিত কাব্যকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. মসিহা সাহিত্য  
  2. মুরাসা সাহিত্য 
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. মুর্শিদ সাহিত্য 
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

মর্সিয়া সাহিত্য:
- মর্সিয়া আরবি শব্দ।
- এর অর্থ হলো শক্তি।
- মূলত কারবালা ও ইসলামি বেদনার্ত কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে মুসলমান লেখকরা এই ধরনের সাহিত্য রচনা করেন, যা মর্সিয়া সাহিত্য নামে পরিচিত।
- যেসব সাহিত্য রচনায় শোক বা দুঃখের বিষয় প্রধানতভাবে প্রকাশ পায়, সেগুলোকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়।

- বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তিনি 'জয়নবের চৌতিশা' রচনা করেন।
- এই কাব্যটি ১৫৪৫ খ্রিষ্টাব্দে রচিত হয়েছিল।
- এবং এটিকেই বাংলা সাহিত্যের প্রথম মর্সিয়া কাব্য হিসেবে ধরা হয়। 

- রাধাচরণ গোপ এই সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি যিনি মর্সিয়া সাহিত্য রচনা করেছেন।
- তার রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য কাব্য হলো- ইমামগণের কেচ্ছা এবং আফৎনামা।
- ‘ইমামগণের কেচ্ছা’ এবং ‘আফৎনামা’ বাংলা সাহিত্যের মর্সিয়া ধারার দুই গুরুত্বপূর্ণ শোকাবহ কাব্য।
- এই কাব্যদ্বয়ে কারবালার যুদ্ধ এবং ইমাম হোসেনের শাহাদাতের ঘটনা কেন্দ্রে রয়েছে।
- আরবি ও ফারসি ধারার প্রভাব নিয়ে রচিত এই রচনায় গভীর শোক ও ভক্তি ফুটে উঠেছে। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,৫১৮.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. অমিত্রাক্ষর
  3. পয়ার ও ত্রিপদী
  4. স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: 
- এটি বৈষ্ণব কাব্য।
- রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এক ধরনের গীতি-আলেখ্য। 
- রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- খন্ডগুলি: জন্ম খন্ড, তাম্বূল খন্ড, দান খন্ড, নৌকা খন্ড, ভার খন্ড, ছত্র খন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হার খন্ড, বাণ খন্ড, বংশী খন্ড ও বিরহ খন্ড (রাধাবিরহ)।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি: কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (দূতী)।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতন্ডা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।
- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়।
- কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত।
- এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫১৯.
বাংলাদেশে গীতিকা সাহিত্যে কয় ধরনের গীতিকা প্রচলিত?
ব্যাখ্যা
গীতিকা:
- গীতিকা লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
- গীতিকা ছড়ার মত ছোটো নয়, গীতিকা আকারে অনেক বড়।
- এতে বলা হয় নরনারীর জীবন ও হৃদয়ের কথা।
- বাংলা সাহিত্যে গীতিকার রয়েছে বিরাট ভাণ্ডার।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গীতিকা হচ্ছে - মহুয়া, মলুয়া ও দেওয়ান মদীনা, দস্যু কেনারাম ইত্যাদি। 

• বাংলাদেশে গীতিকা সাহিত্যে ৩ ধরনের গীতিকা প্রচলিত।
যথা: 
১. নাথ গীতিকা,
২. মৈমনসিংহ-গীতিকা ও
৩. পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫২০.
বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক কে? 
  1. মানিক দত্ত
  2. বিজয় গুপ্ত
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. রামপ্রাসাদ সেন
ব্যাখ্যা
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। 
- রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)। 
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। 
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন করেন এবং হিন্দুস্তানে টপ্পার শিক্ষা গ্রহণ করেন। 
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন। 
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)। 

তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: 
"নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা"। 

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১,৫২১.
মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. রামায়ণ
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. বৈষ্ণব পদাবলি
  5. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য। এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: রাধা, কৃষ্ণ এবং বড়ায়ি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫২২.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে 'পরমাত্মা' ধরা হয় কোন চরিত্রকে?
  1. ক) অর্জুন
  2. খ) রাধা
  3. গ) বড়াই
  4. ঘ) কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগে  রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুূরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।

• কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি:
- কৃষ্ণ (পরমাত্মা),
- রাধা (জীবাত্মা),
- বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৫২৩.
‘হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।’ এটি কার রচনা?
  1. বিপ্রদাস পিপিলাই
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. কানাহরি দত্ত
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা

• পঞ্চদশ শতকের শেষভাগের কবি বিজয়গুপ্ত আদিকবি হিসেবে হরিদত্তের কথা উল্লেখ করে বলেছেন-
- হরিদত্তের গীত যত লুপ্ত হৈল কালে।

কানাহরি দত্ত:
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি হচ্ছেন কানাহরি দত্ত।
- কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে। তাতে একটি পঙক্তি আছে; ‘হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।’
- কানাহরি দত্তের রচনা রোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রান্ত প্রাচীনতম পুথি।
- কানাহরি দত্তের সময়কাল : আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৫২৪.
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন-
  1. ক) নাথ সাহিত্য
  2. খ) রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  3. গ) বৈষ্ণব পদাবলি
  4. ঘ) মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলি।
'হুমায়ুন আজাদের ভাষায়,
- রাধা ও কৃষ্ণকে নিয়ে মধ্যযুগে সবচেয়ে সৌরভময় ফুল ফুটেছিলো৷
- সে ফুলের নাম বৈষ্ণব কবিতা।
- বৈষ্ণব কবিতা বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
- একে যদি আলোর সাথে তুলনা করি তাহলে বলবো মধ্যযুগে এমন আলো আর জ্বলে নি।'

[তথ্যকল্পদ্রুম সিরিজের পোস্ট - ০১৭ তে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।]

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১,৫২৫.
'মধুমালতী' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ কবীর
  2. সাবিরিদ খান 
  3. আবদুল হাকিম 
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• 'মধুমালতী' কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।

- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।

- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

• মুহম্মদ কবীর:
- মুহম্মদ কবীর (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।
- মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা। চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর পুথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫২৬.
দৌলত কাজী কোন ধরনের কাব্যধারার প্রবর্তক হিসেবে বিবেচিত?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. মর্সিয়া সাহিত্য
  3. নাথসাহিত্য
  4. রোমান্টিক আখ্যান
ব্যাখ্যা
দৌলত কাজী রোমান্টিক আখ্যান কাব্যধারার প্রবর্তক হিসেবে বিবেচিত।

• দৌলত কাজী:
- দৌলত কাজী মধ্যযুগের একজন কবি। তিনি বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক আখ্যান কাব্যের প্রবর্তক।
- তাঁর প্রধান কাব্য ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’।
- দেবদেবীর গুণকীর্তন বাদ দিয়ে মানব প্রেমকাহিনিকে কেন্দ্র করে কাব্য রচনা করেন।
- ধর্ম-সংস্কারমুক্ত ঐহিক কাব্যের সূচনা মুসলমান কবিদের হাত ধরে হয়।
- আরাকান রাজসভা এই কাব্যধারার একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল।
- দৌলত কাজী লস্কর উজির আশরাফ খান-এর পৃষ্ঠপোষকতায় লেখালেখি করতেন।
- তিনি ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য অসমাপ্ত রেখে মৃত্যুবরণ করেন।
- পরবর্তীতে আলাওল ১৬৫৯ সালে এই কাব্যের শেষাংশ সম্পূর্ণ করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, দৌলত কাজীর জীবনকাল আনুমানিক ১৬০০–১৬৩৮ খ্রি.।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৫২৭.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বাংলা কত বঙ্গাব্দে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৩১১ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২৩ বঙ্গাব্দ
  4. ১৩২৬ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫২৮.
মঙ্গলকাব্যে কয়জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ৬১ জন
  2. ১৩ জন
  3. ২৫ জন
  4. ৬২ জন
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত,মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।
- মঙ্গলকাব্যের দেবীদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫২৯.
নিচের কোনটি মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র নয়?
  1. ক) চাঁদ সদাগর
  2. খ) ফুল্লরা
  3. গ) সনকা
  4. ঘ) লখিন্দর
ব্যাখ্যা
• বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে মনসামঙ্গল সম্বন্ধেই প্রাচীনতম অস্তিত্বের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়।
- এ কাব্যের কাহিনি বাংলার আদিম লোকসমাজে প্রচলিত সর্পপূজার ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- সাপের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনসা লৌকিক ভয়ভীতি থেকেই এ দেবীর উদ্ভব।
- তাঁর অপর নাম কেতকা ও পদ্মাবতী।
- এই দেবীর কাহিনি নিয়ে রচিত কাব্য মনসামঙ্গল নামে পরিচিত।
- কোথাও তা পদ্মাপুরাণ নামেও অভিহিত হয়েছে।
- চাঁদ সদাগরের প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান। 
- মঙ্গলকাব্য ধারায় মনসামঙ্গল বিশিষ্টতা অর্জন করেছে নিয়তির বিরুদ্ধে মানুষের বিদ্রোহের কাহিনির জন্য। 
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালি পালা।
- এর কবির সংখ্যা যেমন শতাধিক, মুদ্রিত ও অমুদ্রিত পুথির সংখ্যাও বহু।
⇒ চাঁদ সদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা মনসামঙ্গল কাব্যের গুরত্বপূর্ণ চরিত্র। 
 - কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

• অন্যদিকে: 
- কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ হলো চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

১,৫৩০.
“পিপীলিকার পাখা উঠে মরিবার তরে
কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।।”- উদ্ধৃতাংশটি কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
“পিপীলিকার পাখা উঠে মরিবার তরে
কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।।” - মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের ‘কালকেতু ও ফুল্লরা উপাখ্যান’ থেকে উদ্ধৃতিটি নেওয়া হয়েছে।

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৩১.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান কোনটি?
  1. লাইলী-মজনু
  2. সতীময়না-লোরচন্দ্রানী
  3. ইউসুফ-জোলেখা
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তকে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৩২.
'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবির নাম কী?
  1. দ্বিজ বংশীদাস
  2. কানাহরি দত্ত 
  3. কবি কঙ্ক
  4. বড়ু চণ্ডীদাস 
ব্যাখ্যা
• কবি কঙ্ক:
- 'কালিকামঙ্গল' বা 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবি।
- কিশোরগঞ্জের রাজ্যেশ্বর নদীর তীরবর্তী বিপ্র গ্রামে ব্রাহ্মণ ঘরে তাঁর জন্ম।
- পিতা গুণরাজ, মাতা গুণবতী।
- তিনি কোন সময় বর্তমান ছিলেন, এব্যাপারে নিশ্চিত করে বলা যায় না। গবেষকগণ মনে করেন, তিনি চৈতন্যদেবের সমসামায়িক। সুকুমার সেনের মতে কবি কঙ্ক আরও পরের কবি।
- শৈশবে পিতৃমাতৃহীন নিরাশ্রয় কঙ্ক, মুরারি ও কৌশল্যা নামধেয় এক চণ্ডাল দম্পতির ঘরে পালিত হন। তারাই কঙ্ক নাম রাখেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৩৩.
'গম্ভীরা' হলো -
  1. বাউল গান
  2. মরমি গান
  3. লোকসঙ্গীত
  4. মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা
গম্ভীরা:
- গম্ভীরা গান এক প্রকার জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত।
- সাধারণত বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে এ গান প্রচলিত।
- ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব।
- ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে।
- শিবের এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান।
- গম্ভীরা গানের উৎপত্তি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় হিন্দুসমাজে।
- পাকিস্তান সৃষ্টির পর মালদহ থেকে গম্ভীরা গান রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে আসে।

এছাড়াও,
⇒ বিভিন্ন অঞ্চলের লোকসঙ্গীত:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত হলো ভাটিয়ালি।
- ভাওয়াইয়া বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসংগীত। রংপুর ও কুচবিহার জেলা এই গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গানের বিখ্যাত শিল্পী হলেন আব্বাসউদ্দীন আহমেদ।
- গম্ভীরা হলো চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত।
- ধামাইল গান প্রধানত সিলেটের হাওরাঞ্চলে প্রচলিত মেয়েদের আচার-কেন্দ্রিক নাচ ও গানের নাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৩৪.
'ইমাম-বিজয়' আখ্যানকাব্যটি কার রচনা?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা

• 'ইমাম-বিজয়' আখ্যানকাব্যের রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।

• দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
- লায়লী-মজনু ও
- ইমাম-বিজয়।
উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৩৫.
'কেরী সাহেবের মুনশি' হিসাবে খ্যাত ছিলেন কে?
  1. ক) কাশীরাম দাস
  2. খ) দ্বিজরাম দেব
  3. গ) রাম রাম বসু
  4. ঘ) মুক্তরাম সেন
ব্যাখ্যা
'কেরী সাহেবের মুনশি' হিসাবে খ্যাত ছিলেন- রাম রাম বসু

রামরাম বসু
- রামরাম বসু- ১৭৫৭ সালে হুগলির চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- ১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কেরীর অধীনে
- বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম সেখানে সহকারী মুন্সি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- 'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু।   
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এই গ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম কোন গ্রন্থ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।  
১,৫৩৬.
"ঢল ঢল কাঁচা
অঙ্গের লাবণি
অবনী বহিয়া যায়।"- পঙ্‌ক্তির রচয়িতা কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায় 
  2. জ্ঞানদাস 
  3. বিদ্যাপতি 
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দদাস:
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন। বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়। মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'।

গোবিন্দদাসের উপাধি:
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবিরাজ' উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবীন্দ্র' উপাধিও প্রদান করেন।

গোবিন্দদাস রচিত বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
"ঢল ঢল কাঁচা
অঙ্গের লাবণি
অবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ- হিল্লোলে
মদন মুরুছা পায়।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৩৭.
'জয়দেব' কোন ভাষার কবি ছিলেন?
  1. বাংলা 
  2. হিন্দি 
  3. ব্রজবুলি 
  4. সংস্কৃত 
ব্যাখ্যা

• জয়দেব:
- কবি জয়দেব সংস্কৃত সাহিত্যের একজন মধ্যযুগীয় অন্যতম প্রসিদ্ধ কবি। তাঁর ভাষা ছিল সংস্কৃত।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম। কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।

- জয়দেব ছিলেন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।

- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির সূচনা জয়দেবের গীতগোবিন্দের পদাবলি থেকেই বলে ধারণা করা হয়। বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে 'গীতগোবিন্দম্' রচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা অ সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৩৮.
বৃন্দাবন দাস রচিত চৈতন্যদেবের জীবনীকাব্য কোনটি?
  1. চৈতন্য-চরিতামৃত
  2. চৈতন্যভাগবত
  3. চৈতন্যমঙ্গল
  4. শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম
ব্যাখ্যা

• চৈতন্যদেবের জীবনী:
- চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী। 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম। এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিলো।

- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'। তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল। পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়। কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।

- বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ- লোচন দাস রচিত 'চৈতন্যমঙ্গল'।
- বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৩৯.
বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার কয়টি অবস্থার কথা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৫টি 
  2. ৬টি 
  3. ৭টি 
  4. ৮টি 
ব্যাখ্যা

• বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকার অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি থাকে এবং যার রতির মূলে থাকে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি, যিনি কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে সমর্থা নায়িকা বলা হয়।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি এরা সকলেই সমর্থা নায়িকা।
- এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা হিসেবে বিবেচিত।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা হিসেবে শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়।

পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা। যথা :
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা এবং
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৪০.
দোভাষী পুঁথি বলতে কি বোঝায়?
  1. দুই ভাষায় রচিত পুঁথি
  2. কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি
  3. তৈরি করা কৃত্রিম ভাষায় রচিত পুঁথি
  4. আঞ্চলিক বাংলায় রচিত পুঁথি
ব্যাখ্যা
• পুথি সাহিত্য:
- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।

- পুথি (বা পুঁথি) শব্দের উৎপত্তি ‘পুস্তিকা’ শব্দ থেকে। এ অর্থে পুথি শব্দদ্বারা যেকোনো গ্রন্থকে বোঝালেও পুথি সাহিত্যের ক্ষেত্রে তা বিশেষ অর্থ বহন করে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত।

- হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন। আরবদেশের ইতিহাস-পুরাণ মিশ্রিত কাহিনি অবলম্বনে রচিত আমীর হামজা জঙ্গনামা বা যুদ্ধ বিষয়ক কাব্য।

- মধ্যযুগে প্রায় পাঁচশ বছর ধরে বাংলা ভাষার যে ঐতিহ্য তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এ কাব্যের ভাষার মিল নেই। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি, ফারসি প্রভৃতি শব্দের মিশ্রণজাত একটি ভিন্ন ভাষায় কাব্যটি রচিত। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এ কাব্যে ৩২% বিদেশি শব্দের পরিসংখ্যান দিয়েছেন। হুগলি, হাওড়া, কলকাতা, ২৪ পরগনা প্রভৃতি অঞ্চলের মুসলমানদের কথ্যভাষা এর উৎস ছিল বলে মনে করা হয়।

- গরীবুল্লাহ নিজে এবং তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা এ ভাষায় আরও কয়েকখানি কাব্য রচনা করেন। তাঁদের অনুসরণে পরবর্তীকালে বহু সংখ্যক মুসলমান কবি এ জাতীয় কাব্য রচনা করেন।
- এগুলির পাঠক ছিল সর্বস্তরের মুসলমান; তবে নিম্নবিত্তের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা ছিল সর্বাধিক।

- পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন। রেভারেন্ড জেমস লং এ ভাষাকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা’, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা সাহিত্য’।

- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়।
- গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে ‘মিশ্র ভাষারীতির কাব্য’ বলে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৪১.
‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের আদিকবি ছিলেন-
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) মুক্তারাম সেন
  3. গ) মানিক দত্ত
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র
ব্যাখ্যা
‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের আদিকবি বলা হয় মানিক দত্ত কে।

মানিক দত্ত ছিলেন  চৈতন্যপূর্বযুগের কবি এবং মালদহের লোক ছিলেন বলে মনে করা হয় ।

- চন্ডীমঙ্গলের দুজন শ্রেষ্ঠ কবি হলেন দ্বিজ মাধব ও  মুকুন্দরাম।
- দুজনের কাব্যই বৈষ্ণব ভাবাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত।

এছাড়া,
- মুকুন্দরাম সমগ্র মঙ্গলকাব্যধারার শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে বিবেচিত।
- মুক্তারাম সেন চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার কবি ছিলেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৪২.
দোভাষী পুঁথি বলতে কী বোঝায়?
  1. দুই ভাষায় রচিত পুঁথি
  2. কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি
  3. তৈরি করা কৃত্রিম ভাষায় রচিত পুঁথি
  4. আঞ্চলিক বাংলায় রচিত পুঁথি
ব্যাখ্যা
• পুথি সাহিত্য:
- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।

- পুথি (বা পুঁথি) শব্দের উৎপত্তি ‘পুস্তিকা’ শব্দ থেকে। এ অর্থে পুথি শব্দদ্বারা যেকোনো গ্রন্থকে বোঝালেও পুথি সাহিত্যের ক্ষেত্রে তা বিশেষ অর্থ বহন করে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৪৩.
কোন চরিত্রটি 'কাজলরেখা' পালার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সাধু
  2. শুকপাখি
  3. রত্নেশ্বর
  4. ধনেশ্বর
ব্যাখ্যা

• 'কাজলরেখা' পালার অন্তর্ভুক্ত চরিত্র নয় - সাধু
- 'সাধু' মহুয়া পালার অন্তর্ভুক্ত চরিত্র।

কাজলরেখা:

- ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা ও রূপকথা মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনে সংকলিত হয়।
- "কাজলরেখা" মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- এদের মধ্যে কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা। এর রচয়িতা কে তা জানা যায়নি।

উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র:
- ধনেশ্বর,
- কাজলরেখা,
- রত্নেশ্বর,
- শুকপাখি

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,৫৪৪.
'শূন্যপুরাণ' কাব্যটি রচনা করেছেন-
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. গোবিন্দদাস
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগের সাহিত্য 'শূন্যপুরাণ' এর রচয়িতা রামাই পণ্ডিত।

• শূন্যপুরাণ: 
- শূন্যপুরাণ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ- গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য। 
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ নামে শূন্যপুরাণের একটি অংশ আছে। 
- বৌদ্ধধর্মের ধ্বংসন্মুখ অবস্থায় হিন্দু ধর্মের সঙ্গে মিলন সাধনের জন্য রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  
- এতে বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শূন্যপুরাণ শিল্পকর্ম হিসেবে নয়, ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই ঐতিহাসিক গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুঁথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
- বড়ু চণ্ডীদাস 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য রচনা করেছেন।
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষার স্রষ্টা।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৫৪৫.
ব্রাহ্মী লিপি থেকে কয়টি শাখা সৃষ্টি হয়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
ব্রাহ্মী লিপি থেকে তিনটি শাখা সৃষ্টি হয়। যথা- সারদা, নাগর ও কুটিল। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
১,৫৪৬.
'মৈমনসিংহ গীতিকা' কতটি ভাষায় অনুদিত?
  1. ২০টি 
  2. ২২টি
  3. ৩২টি
  4. ২৩টি 
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৪৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য কোনটি?
  1. রামায়ণ
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. চর্যাপদ
  4. প্রাকৃত পৈঙ্গল
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৪৮.
‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ কাব্যে কোন দেবতার কথা উল্লেখ রয়েছে?
  1. শিব
  2. চণ্ডী
  3. ইষ্টদেব
  4. ধর্মঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ কাব্য:
- নিরঞ্জনের উষ্মা অংশের মূল প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ-হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
- এই অত্যাচারে বিরূপ হয়ে দেব নিরঞ্জন ধর্মঠাকুর ‘যবন’ মুসলমানের রূপ ধারণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ মূলত শূন্যপুরাণ নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ।
- ‘শূন্যপুরাণে’ কমপক্ষে পাঁচজন কবির হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে মনে করা হয়।
- এছাড়া নানা মতান্তরের কারণে ‘নিরঞ্জনের উষ্মার’ রচনাকাল নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৪৯.
'মৈমনসিংহ গীতিকা'র "দেওয়ানা মদিনা" পালা কার তৈরি?
  1. মনসুর বয়াতি
  2. দ্বিজ কানাই
  3. নয়ান চাঁদ
  4. চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
• ‘দেওয়ানা মদিনা’ পালার লেখক : 'মনসুর বয়াতি'। 
--------------- 
• দেওয়ানা মদিনা': 
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি। 
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।

• ‘দেওয়ানা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল, 
- দুলাল, 
- মদিনা, 
-সোনাফর।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
এর মধ্যে, 
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।
----------------------------- 
• মৈমনসিংহ গীতিকা:  
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় উল্লেখযোগ্য গীতিকা: 
- মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৫৫০.
বাংলা ভাষায় প্রথম মুসলিম কবি কে?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. শেখ চাঁদ
  3. সৈয়দ হামজা
  4. সৈয়দ সুলতান
  5. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি "শাহ মুহম্মদ সগীর"। 

• শাহ্ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোম্যাণ্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

অন্য অপশনগুলো:
খ) শেখ চাঁদ – মধ্যযুগের একজন মুসলিম কবি, তবে প্রথম নন।
গ) সৈয়দ হামজা – ধর্মীয় প্রভাবসম্পন্ন সাহিত্য রচনায় যুক্ত ছিলেন, কিন্তু প্রথম কবি নন।
ঘ) সৈয়দ সুলতান – "নবী বংশ" এবং "রসুল বিজয়" কাব্যের জন্য বিখ্যাত; ষোড়শ শতকের কবি।
ঙ) দৌলত কাজী – আরাকান রাজসভায় বাংলা কাব্য রচনা করেন, আলাওলের পূর্বসূরি, কিন্তু শাহ মুহম্মদ সগীরের পরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৫১.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) রামমোহন রায়
  2. খ) উইলিয়াম কেরি
  3. গ) মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. ঘ) নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহ্যাড।
- তার রচিত গ্রন্থটির নাম 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' (১৭৭৮)। গ্রন্থটি মূলত ইংরেজী ভাষায় রচিত।
- তবে দৃষ্টান্ত দেবার সময় এর কিছু অংশ বাংলা লিপিতে মুদ্রিত হয়।

• রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- রামমোহন রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' (১৮৩৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৫২.
ধনপতি ও মুরারি শীল - এ চরিত্র দুটি কোথায় পাওয়া যায়?
  1. ক) অন্নদামঙ্গল
  2. খ) চণ্ডীমঙ্গল
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ তিনি ষোল শতকের কবি।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১,৫৫৩.
বৈষ্ণব পদাবলির 'আদিকবি' কাকে বলা হয়?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. জয়দেব
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।

এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।
['শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১,৫৫৪.
বৈষ্ণব পদাবলীর অধিকাংশ পদ রচিত হয়েছে কোন ভাষায়?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. ব্রজবুলি
  4. মৈথিলি
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশ পদ রচিত হয়েছে বাংলা ও মৈথিলি ভাষার সংমিশ্রণে সৃষ্ট এক প্রকার কৃত্রিম ভাষায়, যা ব্রুজবুলি ভাষা নামে পরিচিত।

• বৈষ্ণব পদাবলি:

- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস। সুতরাং বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা চণ্ডীদাস।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৫৫.
দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত 'লায়লী মজনু' কাব্যটি ইরানি কোন কবির কাব্যের ভাবানুবাদ?
  1. নিজামী
  2. ওমর খৈয়াম
  3. জামির
  4. ফেরদৌসি
ব্যাখ্যা

• 'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে (১৫৪৩-১৫৫৩) সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ-ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে। এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

------------------------
• দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
- লায়লী মজনু ও
- ইমাম বিজয়।
[উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৫৬.
‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য কয়টি খণ্ডে বিভক্ত?
  1. দুই খণ্ডে
  2. তিন খণ্ডে
  3. চার খণ্ডে
  4. ছয় খণ্ডে
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি ছিলেন- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৫৫৭.
ধর্মমঙ্গলের দুজন প্রধান কবি কে?
  1. ঘনরাম চক্রবর্তী
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. রূপরাম চক্রবর্তী
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গল কাব্য:
- ধর্ম ঠাকুরের নামে এই মঙ্গলকাব্য সৃষ্ট হয়েছে।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত - রাজা হরিশ্চন্দ্রের গল্প এবং লাউসেনের গল্প।
- ধর্মমঙ্গল ধারার প্রথম কবি - ময়ূরভট্ট। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'হাকন্দপুরাণ'।
- ধর্মমঙ্গলের দুজন প্রধান কবি রূপরাম চক্রবর্তীঘনরাম চক্রবর্তী
- ধর্মমঙ্গল ধারার আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'শ্রীধর্মমঙ্গল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৫৮.
’নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?’ কোন কাব্যের পঙ্‌ক্তি?
  1. পদ্মাবতী কাব্যের
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের
  3. চর্যাপদের
  4. মঙ্গল কাব্যের
ব্যাখ্যা
• ’নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?’ মঙ্গলকাব্যের পঙ্‌ক্তি।
- এটি মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের পঙ্‌ক্তি।

অন্নদামঙ্গল:
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- তাঁকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, হীরা মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি: 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের) কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি, যা সুপ্রচলিত প্রবচন বা সুভাষিতের মর্যাদা লাভ করেছে। যেমন -
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৫৫৯.
মধ্যযুগের সাহিত্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শাখা কোনটি?
  1. ক) অনুবাদ সাহিত্য
  2. খ) মঙ্গলকাব্য
  3. গ) রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. ঘ) জীবনী সাহিত্য
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের সাহিত্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শাখা মঙ্গলকাব্য। এ সময়ে পাওয়া যায় - মনসামঙ্গল কাব্য, চণ্ডীমঙ্গলকাব্য, ধর্মমঙ্গল কাব্য, কালিকামঙ্গল কাব্য, অন্নদামঙ্গল কাব্য, শীতলামঙ্গল কাব্য। এ সময়ের প্রধান কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,৫৬০.
'ভাঁড়ুদত্ত' - এটি কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ এবং এই কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৬১.
বৈষ্ণব পদাবলীতে, কবি পদের শেষে নিজের নাম উল্লেখ করে যে পরিচয় দেন, তাকে কী বলে?
  1. কড়চা
  2. বাইশা
  3. ভণিতা
  4. ধুয়া
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলীতে কবি পদের শেষে নিজের নামের উল্লেখ করে যে পরিচয় দেন, তাকে ভণিতা বলা হয়। 

• ভণিতা:
- পদ্যের শেষে কবি যখন নিজের নাম বা ছদ্মনাম উল্লেখ করে আত্মপরিচয় দেন বা কোনো বিশেষ বার্তা প্রকাশ করেন, তাকে বলা হয় ভণিতা।
- এটি সাধারণত বৈষ্ণব পদাবলীতে দেখা যায়, যেখানে কবি শেষের অংশে নিজের পরিচয়, নাম, বা কোনো অনুভূতি প্রকাশ করেন।
- ভণিতা কবির পদটির সারমর্ম, উপদেশমূলক বক্তব্য, বা ভক্তি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- ভণিতার সাহায্যে পদাবলির কবিকে চিনে নেওয়া যায় এবং তাঁর বৈশিষ্ট্য অনুভব করা যায়।

অন্যদিকে,
• বাইশা - - মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয় - বাইশা।

• 'কড়চা' কথাটির আধুনিক অর্থ দাড়িয়েছে দিনিলিপি বা ডায়েরি। 
- তবে মুরারি গুপ্ত ও স্বরুপ দামোদারের কল্যানে চৈতন্যজীবনি গ্রন্থ কড়চা বলে অভিহিত হয়েছে।

• ধুয়া হলো একটি নির্দিষ্ট স্তরে একটি পদ গান করলে তাকে 'ধুয়া' বলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৬২.
রামনিধি গুপ্ত রচিত টপ্পা সঙ্গীত সংকলন কোনটি?
  1. হারামনি
  2. গীতরত্ন
  3. সংগীতমাধব
  4. রত্নগীত
ব্যাখ্যা
⇒ টপ্পা সঙ্গীত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা- 
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

অন্যদিকে,
গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'৷
মুহম্মদ মনসুর উদ্দীনের বাংলা সংকলন 'হারামনি'।

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৬৩.
"ইউসুফ-জুলেখা" কাব্য রচনা করেননি কে?
  1. আবদুল হাকীম
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. শাহ গরীবুল্লাহ
  4. মুহম্মদ কবীর
ব্যাখ্যা

ইউসুফ-জোলেখা কাব্য সম্পর্কিত আলোচনা: 
• ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
• গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
• বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
• ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
• পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন।
- যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন। 

• বিশেষ তথ্য: 
- শাহ মুহম্মদ সগীর ছাড়াও মধ্যযুগে  আবদুল হাকিম,  শাহ্ গরীবউল্লাহ, গোলাম সফাতউল্লাহ, সাদেক আলী ও ফকির মোহাম্মদ ইউসুফ-জুলেখা কাব্য রচনা করেন। - তাঁদের মধ্যে প্রথম দুজন বাংলা এবং অন্যরা দোভাষী পুথির মিশ্র ভাষা ব্যবহার করেন।  
- ফারসি ভাষায় ফেরদৌসী (১১শ শতক) ও জামী (১৫শ শতক) ইউসুফ-জুলেখার প্রেমকথা অবলম্বনে সুফি অধ্যাত্মতত্ত্বের কাব্য রচনা করেন। 
- দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত অনুবাদ কাব্য ‘লায়লী মজনু’।

অন্যদিকে,
 মুহম্মদ কবির:
• মুহম্মদ কবির (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি। 
• প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত। 
• মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা। 
• চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর পুঁথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১,৫৬৪.
মর্সিয়া সাহিত্যের উপজীব্য কী?
  1. হিন্দু দেব-দেবীর কাহিনি
  2. আরব্য উপন্যাসের কাহিনি
  3. কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি
  4. গৌতম বুদ্ধের জীবনী কাহিনি
ব্যাখ্যা

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ। তার রচিত গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ। 
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

শেখ ফয়জুল্লাহ:
- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

যে পাঁচটি গ্রন্থের জন্য তিনি খ্যাতিমান সেগুলি:
- গোরক্ষবিজয়, গাজীবিজয়, সত্যপীর (১৫৭৫), জয়নবের চৌতিশা এবং রাগনামা।
- রাগনামাকে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য মনে করা হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৫৬৫.
নিচের কোনটি রামাই পন্ডিত রচিত অন্ধকার যুগের কাব্য?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  3. সেক শুভোদয়া
  4. ডাকার্ণব
ব্যাখ্যা
• শূন্যপুরাণ:
- শূন্যপুরাণ  ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ, রচয়িতা রামাই পন্ডিত।
- রামাই পন্ডিতের কাল মুসলিম বিজয়োত্তর তেরো শতক বলে অনুমান করা হয়।
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ নামে শূন্যপুরাণের একটি অংশ আছে।
- তাতে মুসলিম পীর-গাজী কর্তৃক ব্রাহ্মণদের অত্যাচার থেকে সদ্ধর্মী তথা বৌদ্ধদের রক্ষা করার বিবরণ আছে।
- ভাষাগত বৈশিষ্ট্য থেকে কোনো কোনো পন্ডিত এই অংশকে শূন্যপুরাণের পরবর্তীকালের রচনা বলে মনে করেন।
- তাঁদের মতে ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ অংশটি হিন্দু-মুসলমানের ধর্মসমন্বয়ের চেতনা থেকে পরে প্রক্ষিপ্ত হয়েছে।
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৬৬.
‘পদ্মাবতী’ কাব্যটি কোন কাব্যের অনুবাদ?
  1. তগোবিন্দম্
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ইউসুফ-জোলেখা
  4. পদুমাবৎ
ব্যাখ্যা

‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং 
- দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৬৭.
'হৃদিবৃন্দাবনে বাস, যদি কর কমলাপতি।
ওহে ভক্তপ্রিয়! আমার ভক্তি হবে রাধাসতী।।' - উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. দাশরথি রায়
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. মুকুন্দদাস
  4. রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'হৃদিবৃন্দাবনে বাস, যদি কর কমলাপতি।
ওহে ভক্তপ্রিয়! আমার ভক্তি হবে রাধাসতী।।' - উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা - দাশরথি রায়

দাশরথি রায়:
- কবিগানের যুগে পাঁচালী গান নামে এক ধরনের গান প্রচলিত ছিল। 
- পাঁচালী গানের রচয়িতাদের মধ্যে শক্তিশালী ও বিখ্যাত কবি ছিলেন দাশরথি রায়।
- তিনি খ্যাত ছিলেন দাশুরায় নামে।
- তিনি নিজেই পাঁচালীর দল বেঁধে গান গাইতেন।
- তার একটি বিখ্যাত রচনা -

হৃদিবৃন্দাবনে বাস, যদি কর কমলাপতি।
ওহে ভক্তপ্রিয়! আমার ভক্তি হবে রাধাসতী।।
মুক্তি-কামনা আমারি, হবে, বৃন্দে গোপনারী,
দেহ হবে নন্দের পুরী, স্নেহ হবে মা যশোমতী।।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৫৬৮.
কবি দ্বিজ কানাইয়ের ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনা ও বেদনার সাদৃশ্য কোন পালায় ফুটে উঠেছে?
  1. মলুয়া
  2. কমলা
  3. দস্যু কেনারাম
  4. মহুয়া
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

• মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তিদ্বয়:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে,
• ‘মলুয়া’ ও ‘দস্যু কেনারাম’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৬৯.
“টপ্পা” কী?
  1. ক) বিশেষ ধরনের নৃত্য
  2. খ) বিশেষ ধরনের গান
  3. গ) বিশেষ ধরনের বাদ্যাযন্ত্র
  4. ঘ) বিশেষ ধরনের পোশাক
ব্যাখ্যা
বাংলা টপ্পা সংগীতের প্রবর্তক রামনিধি গুপ্ত। তার ডাকনাম নিধুবাবু। রামনিধি গুপ্ত টপ্পা সংগীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন'।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার
১,৫৭০.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' -এর রচয়িতা কে?
  1. জ্ঞানদাস
  2. দীন চণ্ডীদাস
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. দীনহীন চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৭১.
লৌকিক শ্রেণির মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. কমলামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ভবানীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের নানা শ্রেণির কাব্যে মঙ্গল কথাটির প্রয়োগ থাকলেও কেবল বাংলা লৌকিক দেবতাদের নিয়ে রচিত কাব্যই 'মঙ্গলকাব্য' নামে অভিহিত হয়। বৈষ্ণব সাহিত্যের চৈতন্যমঙ্গল, গোবিন্দমঙ্গল প্রভৃতি মঙ্গল নামধেয় কাব্যের সঙ্গে মঙ্গলকাব্যের কোন যোগসূত্র নেই।
প্রকৃতপক্ষে মঙ্গলকাব্যগুলোকে শ্রেণিগত দিক থেকে পৌরাণিক ও লৌকিক এই দু ভাগে ভাগ করা যায়।

• পৌরাণিক শ্রেণির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, অন্নদামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।
লৌকিক শ্রেণি হলো: শিবায়ন বা শিবমঙ্গল, মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বা বিদ্যাসুন্দর), শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সারদামঙ্গল, সূর্যমঙ্গল প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাদেশের ইতিহাস ২য় খণ্ড (মধ্যযুগ) রমেশচন্দ্র মজুমদার।

১,৫৭২.
'আলাল’ - কোন পালার চরিত্র?
  1. মহুয়া
  2. মলুয়া
  3. দেওয়ানা মদিনা
  4. দেওয়ানা ভাবনা 
ব্যাখ্যা

দেওয়ানা মদিনা:
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।

‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা, 
- সোনার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৭৩.
'আমি কি দুঃখেরে ডরাই'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রামপ্রসাদ সেন
  2. খ) রামনিধি গুপ্ত
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন - রামপ্রসাদ সেন।
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।

• 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই’- তার উক্তি।

- তাঁর বিখ্যাত গান:
"মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলতো সোনা।"

- তার গান শুনে বাংলার শেষ নবাব সিরাজঊদৌলা অভিভূত হয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদ সেনকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র 'কবিরঞ্জন' উপাধি দিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৭৪.
'নসীরনামা' কাব্য কার রচনা?
  1. ক) দৌলত কাজী
  2. খ) কবি মরদন
  3. গ) কোরেশী
  4. ঘ) মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা
আরাকান রাজসভার উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় যাঁরা কাব্যচর্চা করেন তাঁদের মধ্যে  দৌলত কাজী (আনু. ১৬০০-১৬৩৮) প্রাচীনতম। তাঁর সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী প্রথম মানবীয় প্রণয়কাব্য। 

আরাকানের কবি হচ্ছেন মরদন (আনু. ১৬০০-১৬৪৫), মাগন ঠাকুর প্রমুখ।
কবি মরদনের কাব্যের নাম 'নসীরনামা'। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১,৫৭৫.
'মদিনা' কোন পালার অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. আলাল-দুলালের পালা
  2. দেওয়ান ভাবনা পালা
  3. দস্যু কেনারামের পালা
  4. কাজল রেখা
ব্যাখ্যা

• 'দেওয়ানা মদিনা' পালা:
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি। বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি 'দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম 'আলাল-দুলালের' পালা।

'দেওয়ানা মদিনা'র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা,
- সোনাফর।

--------------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন। গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। যথা:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৭৬.
বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্যের নাম কী?
  1. মুরারি গুপ্তের কড়চা
  2. চৈতন্য-চরিতামৃত
  3. সংগীতমাধব
  4. চৈতন্যভাগবত
ব্যাখ্যা

চৈতন্যদেবের জীবনী:
- চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী। 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম। এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিলো।
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'। তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল। পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়। কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।
- বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ- লোচন দাস রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।
- বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত 'চৈতন্যমঙ্গল'।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৭৭.
চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম -
  1. মানিক দত্ত
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. কানা হরিদত্ত
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। তিনি ষোল শতকের কবি। কাব্যের দুটি কাহিনি রয়েছে।

কাহিনি সংক্ষেপ:
- কাব্যে চণ্ডীর ইচ্ছে হয়েছিলো পৃথিবীতে তাঁর পুজো প্রচারের। সেজন্য তাঁর স্বামী শিবকে সে অনুরোধ করে শিবের একনিষ্ট উপাসক "নীলাম্বর"কে পৃথিবীতে পাঠাতে। কিন্তু বিনা অপরাধে তাকে পাঠাতে শিব রাজি হয় নি।
- ষড়যন্ত্র করে 'চণ্ডী' নীলাম্বরকে পৃথিবীতে পাঠায় এবং পরবর্তীতে সে কালকেতু নামে 'ধর্মকেতু' নামর এক ব্যাধের ঘরে জন্ম নেয়। স্বর্গে তাঁর স্ত্রী 'ছায়া' পৃথিবীতে জন্ম নেয় 'ফুল্লুরা' নামে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৫৭৮.
'ইমাম-বিজয়' আখ্যানকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. দৌলত কাজী
  4. শেখ চাঁদ
ব্যাখ্যা
• 'ইমাম-বিজয়' আখ্যানকাব্যের রচয়িতা - দৌলত উজির বাহরাম খান

দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

• দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
- লায়লী-মজনু ও
- ইমাম-বিজয়
উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৭৯.
পুঁথি সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য রচনা- 
  1. ইউসুফ-জুলেখা
  2. সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান
  3. লাইলি-মজনু
  4. উপরের সবগুলো 
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

পুঁথি সাহিত্য: 
- পুঁথি সাহিত্য মূলত আঠারো ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে মুসলিম সমাজে প্রচলিত এক বিশেষ ধরণের কাব্য বা আখ্যান।
- এটি বাংলা, আরবি, ফারসি ও হিন্দি শব্দের মিশ্রণে রচিত হয়।
- এটি মূলত ছাপাখানা আবিষ্কারের আগে হাতে লেখা ধর্মীয়, ঐতিহাসিক বা রোমান্টিক কাহিনীর জন্য ব্যবহৃত হত।
- এবং কখনও কখনও ‘দোভাষী-পুঁথি’ নামে পরিচিত।
- পুঁথি সাহিত্যের ভাষা মিশ্র, এবং এর বিষয়বস্তু ইসলামী চেতনা, প্রেমকাহিনী (যেমন লাইলি-মজনু, ইউসুফ-জুলেখা), যুদ্ধবিগ্রহ (জঙ্গনামা) ও অলৌকিক কাহিনী নিয়ে গঠিত।
- রচয়িতা ও পাঠক ছিলেন সাধারণ মুসলিম সমাজ এবং শায়ের বা কবি।
- হাতে লেখা হওয়ায় এবং কলকাতার বটতলার ছাপাখানায় প্রচুর মুদ্রিত হওয়ায় একে ‘বটতলার পুঁথি’ বা ‘দোভাষী-পুঁথি’ বলা হয়।
- পুঁথি সাহিত্য রচয়িতাদের বলা হয় শায়ের কবি।

- এই সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো—
- ইউসুফ-জুলেখা, সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান, লাইলি-মজনু ইত্যাদি।
- সৈয়দ হামজার 'মধুমালতী' পুঁথি সাহিত্যের ধারায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। 

- পুঁথি সাহিত্য রচয়িতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন ফকির গরীবুল্লাহ, সৈয়দ হামজা প্রমুখ।
- পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও সমৃদ্ধ পুঁথিকার হিসেবে পরিচিত ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি ইউসুফ জুলেখা,জঙ্গনামা, আমীর হামজা, সোনাবান ও সত্যপীরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুঁথি রচনা করেছেন।
----------------------------------
উৎস: 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — মাহবুবুল আলম;
বাংলাপিডিয়া।

১,৫৮০.
কোন জেলা থেকে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি উদ্ধার করা হয়?
  1. হুগলী
  2. বীরভূম
  3. বর্ধমান
  4. বাঁকুড়া
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলায় রচিত মধ্যযুগের প্রথম কাব্য।
- কাব্যের রচয়িতা - বড়ু চণ্ডীদাস। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম একক গ্রন্থও।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘরের মাচা থেকে উদ্ধার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ১৩ টি খন্ডে বিভক্ত। খন্ডগুলি হলো: জন্মখন্ড, তাম্বূল খন্ড, দানখন্ড, নৌকাখন্ড, ভারখন্ড, ছত্রখন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হারখন্ড, বাণখন্ড, বংশীখন্ড ও বিরহখন্ড (রাধাবিরহ)।
- এতে রাধা, কৃষ্ণ ও বড়ায়ি নামে তিনটি চরিত্র রয়েছে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৮১.
নিম্নের কোনটি মহাকবি আলাওল রচিত নয়?
  1. ক) তোহফা
  2. খ) সিকান্দারনামা
  3. গ) লালমোতি সয়ফুলমুলুক
  4. ঘ) রাগতালনামা
ব্যাখ্যা

 মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ।
-  আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রধান অমাত্য কোরেশী মাগন ঠাকুরের (১৬৪৫-৫৮) আনুকূল্যে তিনি আরাকানের অমাত্যসভায় স্থান পান।
- আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাত।

সেগুলো হচ্ছে
- পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী (১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩);
- নীতিকাব্য - তোহফা (১৬৬৪) এবং
- সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য - রাগতালনামা।

- এ ছাড়াও বৈষ্ণবপদের অনুরূপ তাঁর কিছু গীতিকবিতা আছে। রাগতালনামা ও গীতিকবিতাগুলি তাঁর মৌলিক রচনা, অন্যগুলি অনুবাদমূলক।
- পদ্মাবতী মালিক মুহম্মদ জায়সীকৃত হিন্দি পদুমাবত, সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী সাধনকৃত মৈনাসত, সপ্তপয়কর নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি হফত্ পয়কর, তোহফা ইউসুফ গদাকৃত ফারসি তুহুফ-ই-নসাঈহ, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল গাওয়াসীকৃত ফারসি সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল এবং সিকান্দরনামা নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি সিকান্দরনামা অনুসরণে রচিত।

উল্লেখ্য, লালমোতি সয়ফুলমুলুক আবদুল হাকিম রচিত কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১,৫৮২.
বটতলার পুঁথি বলতে বুঝায়-
  1. মধ্যযুগীয় কাব্যের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি
  2. বটতলা নামক স্থানে রচিত কাব্য
  3. দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্য
  4. অবিমিশ্র দেশজ বাংলায় রচিত লোকসাহিত্য
ব্যাখ্যা
• বটতলার পুঁথি বলতে বুঝায়- দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে ‘মিশ্র ভাষারীতির কাব্য।

------------------------------
• পুথি সাহিত্য:

- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।

- পুথি (বা পুঁথি) শব্দের উৎপত্তি ‘পুস্তিকা’ শব্দ থেকে। এ অর্থে পুথি শব্দদ্বারা যেকোনো গ্রন্থকে বোঝালেও পুথি সাহিত্যের ক্ষেত্রে তা বিশেষ অর্থ বহন করে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত।

- হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন। আরবদেশের ইতিহাস-পুরাণ মিশ্রিত কাহিনি অবলম্বনে রচিত আমীর হামজা জঙ্গনামা বা যুদ্ধ বিষয়ক কাব্য।

- মধ্যযুগে প্রায় পাঁচশ বছর ধরে বাংলা ভাষার যে ঐতিহ্য তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এ কাব্যের ভাষার মিল নেই। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি, ফারসি প্রভৃতি শব্দের মিশ্রণজাত একটি ভিন্ন ভাষায় কাব্যটি রচিত। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এ কাব্যে ৩২% বিদেশি শব্দের পরিসংখ্যান দিয়েছেন। হুগলি, হাওড়া, কলকাতা, ২৪ পরগনা প্রভৃতি অঞ্চলের মুসলমানদের কথ্যভাষা এর উৎস ছিল বলে মনে করা হয়।

- গরীবুল্লাহ নিজে এবং তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা এ ভাষায় আরও কয়েকখানি কাব্য রচনা করেন। তাঁদের অনুসরণে পরবর্তীকালে বহু সংখ্যক মুসলমান কবি এ জাতীয় কাব্য রচনা করেন।
- এগুলির পাঠক ছিল সর্বস্তরের মুসলমান; তবে নিম্নবিত্তের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা ছিল সর্বাধিক।

- পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন। রেভারেন্ড জেমস লং এ ভাষাকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা’, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা সাহিত্য’।

- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়।
- গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে ‘মিশ্র ভাষারীতির কাব্য’ বলে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৮৩.
'সৈয়দ সুলতান' — কোন সাহিত্য ধারার কবি হিসেবে প্রসিদ্ধ?
  1. জীবনী সাহিত্য
  2. লোক সাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৮৪.
বড়ু চন্ডীদাস কোন শতকের কবি ছিলেন?
  1. ত্রয়োদশ শতক
  2. দ্বাদশ শতক
  3. পঞ্চদশ শতক
  4. চতুর্দশ শতক
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন ও সর্বজনস্বীকৃত বাংলাভাষায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন/শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ।
এর রচয়িতা - বড়ু চন্ডীদাস। তিনি আনুমানিক চতুর্দশ শতকের কবি।

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য 
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
 - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
-  মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের
কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন। 
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস । 
- বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয়  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।
- বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে বড়ু চণ্ডীদাসের জন্মকাল ১৪০৩-১৪১৭ অথবা ১৩৮৬-১৪০০ সালের কোন এক সময়ে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৮৫.
লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কোনটি?
  1. লোকনাট্য
  2. প্রবাদ
  3. ধাঁধা
  4. ছড়া
ব্যাখ্যা
লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- লােকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন - 'ছড়া'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৫৮৬.
মঙ্গলকাব্যের ছন্দের ধরন কোনটি?
  1. ত্রিপদী
  2. ছন্দপয়ার 
  3. মাত্রাবৃত্ত 
  4. ক+খ 
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি আখ্যানধর্মী কাব্য। 
- এই কাব্যের মূল সাধারণত দেব-দেবী ও তাদের আখ্যানভাগ।
- এই যুগের কবিরা স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে কাব্য রচনা শুরু করতেন এবং প্রায়শই সর্বসিদ্ধিদাতা গণেশ, পিতা-মাতা বা রাজাদের স্তুতি দিয়ে কাহিনি শুরু হত।
- মঙ্গলকাব্যের কাহিনিতে নায়করা সাধারণত স্বর্গভ্রষ্ট বা শাপভ্রষ্ট দেবতা, যারা স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে মর্ত্যে মানুষ রূপে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাদের স্ত্রীও একইভাবে জন্ম নেন।
- মর্ত্যে তারা মানুষের মতো আচরণ করেন এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে দেবীর পূজা প্রচারের পরে শাপমুক্ত হয়ে আবার স্বর্গে ফিরে যান।

- মঙ্গলকাব্য সমাজ ও ধর্মের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে।
- এতে দেখা যায় দুঃখের কাহিনি, বারমাসী গান, চৌতিশা, নারীর পতি নিন্দা, রন্ধনশিল্প ইত্যাদির বর্ণনা।
- কাব্যটি ছন্দপয়ার ও ত্রিপদী আকারের হয়, যা মূলত পাঁচালি ধরনের এবং মঞ্চে উপস্থাপন করা হত।

- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা তিনটি:
- মনসামঙ্গল – তুলনামূলকভাবে প্রাচীনতম।
- চণ্ডীমঙ্গল। 
- অন্নদামঙ্গল – তুলনামূলকভাবে আধুনিক।

- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের পাঁচটি অংশ থাকে:
- বন্দনা – দেবতাদের বন্দনা ও প্রার্থনা।
- আত্মপরিচয় – নায়কের পরিচয়।
- দেবখণ্ড – দেবতার কাহিনি ও মহিমা।
- মর্ত্যখণ্ড – নায়ক-নায়িকার মর্ত্যজীবন।
- শ্রুতিফল – নৈতিক শিক্ষা ও কাহিনীর ফলাফল।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৮৭.
'মহাভারত' এর শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কে?
  1. কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  2. কাশীরাম দাস
  3. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. শ্রীকর নন্দী
ব্যাখ্যা
মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব। প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর। মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস
- তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন - বিজয়পাণ্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৮৮.
"শূন্যপুরাণ" গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. হলায়ুধ মিশ্র
  3. রামাই পণ্ডিত
  4. কৃত্তিবাস ওঝাঁ
ব্যাখ্যা

শূন্যপুরাণ:
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি। কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন। গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।

১,৫৮৯.
'সত্যপীরের পুঁথি' কে লিখেছেন?
  1. আব্দুল হাকিম
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. ভোলা ময়রা
ব্যাখ্যা

• 'সত্যপীরের পুঁথি' কাব্যের রচয়িতা - ফকির গরীবুল্লাহ।

------------------
• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
সত্যপীরের পাঁচালি  মধ্যযুগীয় পীরসাহিত্যের একখানা গ্রন্থ। এতে সত্যপীরের মহিমা কীর্তিত হয়েছে। মধ্যযুগে একাধিক কবি বিভিন্ন শিরোনামে এই পাঁচালি কাব্য রচনা করেছেন, যেমন: সত্যপীরের পাঁচালি, সত্যপীরের কথা,  সত্যনারায়ণের পাঁচালি  ইত্যাদি। কবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:  কবি কংক, শেখ ফয়জুল্লাহ, রামেশ্বর ভট্টাচার্য, রামানন্দ, শাহ্ গরীবুল্লাহ,  ভারতচন্দ্র প্রমুখ।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উল্লেখ্য,
• 'সত্যপীরের পাঁচালি' এর লেখক — ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৯০.
'পদ্মাবতী' কোন কাব্য অবলম্বনে রচিত?
  1. রিহলা
  2. পদুমাবৎ
  3. সুর ​​সাগর
  4. বাদশাহনামা
ব্যাখ্যা
হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' কাব্য অবলম্বনে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।

মধ্যযুগের সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য মুসলমান কবি ছিলেন আলাওল।
আরাকান রাজসভার তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।

• কবি আলাওলের সাহিত্যকর্ম গুলো হলোঃ
- পদ্মাবতী,
- সপ্ত পয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
১,৫৯১.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য আবিষ্কার করেন কে?
  1. বসন্তরঞ্জন সাহা
  2. দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়
  3. আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
  4. বসন্তরঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে। বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে চণ্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৯২.
রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধর্মার প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী কোন কাব্যটি রচনা করেছিলেন?
  1. লাইলী-মজনু
  2. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
  3. সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল
  4. মধুমালতী
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর — খ) সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী।
--------------

'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
• সতের শতকের কবি দৌলত কাজী ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য রচনা করেন।
• রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধর্মার প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
• পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।

• 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যের কাহিনি সংক্ষেপ:
রাজা লোর আর রূপসী রানি ময়নাবতীর সুখের সংসার। বনবিহারে গিয়ে লোর এক যোগীর কাছে অপরূপা চন্দ্রানীর সংবাদ পায়। চন্দ্রানীর সাথে লোরের সাক্ষাত হয়। এবং চন্দ্রানীর স্বমীর সাথে লোরের যুদ্ধে হলে, যুদ্ধে চন্দ্রানীর স্বামী মারা যায়। পরবর্তীতে গোহারী রাজ্যের রাজা চন্দ্রানীর পিতা লোরকে গ্রহণ করে এবং পৌত্রলাভের আশায় তাদের বিয়ে দেন। লোর ময়নার কথা ভুলে চন্দ্রানীকে নিয়ে সংসার করে। লোর-চন্দ্রানীর এক পুত্র হয় এভাবে দিন যায়। ময়নাবতী স্বামীর বিরহেও সতীত্ব অক্ষুণ্ন রাখে এবং ১৪ বছর পর এক সুখপাখি ময়নাবতীর কথা লোরকে বর্ণনা করলে পুত্রের হাতে রাজত্ব দিয়ে লোর-চন্দ্রানীকে নিয়ে ময়নাবতীর কাছে যায় এবং লোর তাঁর দুই স্ত্রী নিয়ে জীবনযাপন করে বৃদ্ধ হয়।

দৌলত কাজী:
- তিনি আনুমানিক ১৬০০ থেকে ১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতানপুর গ্রাম, রাউজান, চট্টগ্রাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত মধ্যযুগের বিশিষ্ট কবি ছিলেন। তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি ও ব্রজবুলি ভাষায় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী'। এই গ্রন্থের মূল হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ' নামক কাব্য ।
---------------

অন্যান্য অপশন':
ক) লাইলী-মজনু কাব্যের রচয়িতা - দৌলত উজির বাহরাম খাঁ।
গ) সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল: আলাওল রচিত কাব্য।
ঘ) মধুমালতী: মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৯৩.
কবি ভারতচন্দ্রের উপাধি ছিল -
  1. কবিকঙ্কন
  2. কবিকণ্ঠহার
  3. রায়গুণাকর
  4. কবিরঞ্জন
ব্যাখ্যা
• কবি ভারতচন্দ্রের উপাধি ছিল - রায়গুণাকর। 

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর: 
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৯৪.
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ - পঙ্‌ক্তিটি রচয়িতা কে?
  1. আলাওল
  2. চন্দ্রাবতী
  3. বিদ্যাপতি
  4. বিজয় গুপ্ত
ব্যাখ্যা
পদ্মাবতী:
- এটি একটি ইতিহাসমিশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
- পদ্মাবতী আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- নাগরিক শিক্ষা, বৈদগ্ধ্য রূপ ও অভিপ্রায় তাঁর এ কাব্যের ভাব-ভাষা-রুচিতে প্রভাব বিস্তার করেছে।
- ‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙ্‌ক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খণ্ডে লেখা আছে।

আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- কাব্যিক আবেগের সঙ্গে বৌদ্ধিক চেতনার মিশ্রণ থাকায় আলাওলকে ‘পন্ডিতকবি’ বলা হয়।
- এখন পর্যন্ত আলাওলের ৭ টি কাব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' গ্রন্থটি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৯৫.
''মন্দকৃতি ভিক্ষাবৃত্তি জীবন কর্কশ''- উক্তিটি করেছেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. আলাওল
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'মন্দকৃতি ভিক্ষাবৃত্তি জীবন কর্কশ।' - উক্তিটি করছেন 'আলাওল'। 
-----------------------
আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি (অনেকের মতেই, মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি) আলাওল।
তার শ্রেষ্ঠ রচনা - "পদ্মাবতী" কাব্য।
কবি তাঁর জীবনের দুঃসময়ের বেদনার কথা বিভিন্ন কাব্যে উল্লেখ করেছেন।
তেমনি কয়েকটি উক্তি- 
- 'আয়ুবশ আমারে রাখিল বিধাতায়। সবে ভিক্ষা প্রাণ রক্ষা ক্লেশে দিন যায়।'
- 'মন্দকৃতি ভিক্ষাবৃত্তি জীবন কর্কশ।' 
------------------- 
• আলাওল: 
- আরাকান (রোসাঙ্গ) রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।
 
• তাঁর রচিত গ্রন্থসমুহ:
- সিকান্দার নামা। 
- তোহ্ফা।
- সপ্তপয়কর।
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান।
- রাগতালনামা।
- সতীময়ান ও লোরচন্দ্রাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৯৬.
নিচের কোনটি আধুনিক যুগের সৃষ্টি নয়?
  1. সাময়িকপত্র
  2. নাট্যসাহিত্য
  3. কাব্যসাহিত্য
  4. প্রবন্ধসাহিত্য
ব্যাখ্যা
- ১৮০১ থেকে আধুনিক যুগের সূচনা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা, বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক চিন্তার কারণে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক ধারা তরান্বিত হয়। 
- কাব্য, ছড়া, পালা প্রাচীন ও মধ্যযুগের সৃষ্টি।
- কিন্তু নাটক, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, সাময়িকপত্র আধুনিক যুগের সৃষ্টি।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৯৭.
রামনিধি গুপ্তের টপ্পা গানের সংকলনের নাম কী?
  1. ক) শ্যামা সংগীত
  2. খ) গীতরত্ন
  3. গ) জ্ঞানপ্রদীপ
  4. ঘ) সংগীতমাধব
ব্যাখ্যা

বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তক রামনিধি গুপ্ত।
১৭৯৪ তিনি বাংলা টপ্পা গান রচনা ও পরিবেশন করেন।
তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ হলো-
'নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?
রামনিধি গুপ্তের টপ্পা গানের সংকলনের নাম- গীতরত্ন(১৮৩২)।
শ্যমা সংগীত- রামপ্রসাদ সেনের গান।
গীতরত্ন- টপ্পা গানের সংকলন।
জ্ঞানপ্রদীপ- সৈয়দ সুলতান রচিত গ্রন্থ।
সংগীতমাধব- গোবিন্দ দাস রচিত নাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৫৯৮.
মঙ্গলকাব্যের লেখক নন কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. বিজয় গুপ্ত
  3. মানিক দত্ত
  4. কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা
• কাশীরাম দাস মঙ্গলকাব্যের লেখক নন।

• কাশীরাম দাস:
- কাশীরাম দাস মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি।
- তিনি মহাভারত এর বাংলা অনুবাদক হিসেবে সুপরিচিত। তিনি সংস্কৃত ‘মহাভারত’-এর শ্রেষ্ঠ বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর রচিত বাংলা ‘মহাভারত’ বাংলা সাহিত্যে একটি মাইলফলক।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ- 
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা। তাঁর ‘চণ্ডীমঙ্গল’ বাংলা সাহিত্যে একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্য, যা চণ্ডী দেবীর মাহাত্ম্য ও সমাজের চিত্র তুলে ধরে।

• বিজয় গুপ্ত মনসামঙ্গল কাব্যের একজন উল্লেখযোগ্য কবি। তাঁর রচিত ‘মনসামঙ্গল’ মনসা দেবীর পূজা ও মাহাত্ম্য প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এটি মঙ্গলকাব্যের অন্যতম ধারা।

• মানিক দত্ত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি। তিনি চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রাথমিক রচয়িতাদের একজন। 

---------------
মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধ্যান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৯৯.
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল
অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।।' - কোন কবির রচনা?
  1. দ্বিজ বংশীদাস
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ। 
- পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার পাণ্ডুয়া গ্রামে জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- মাতা ভবানী দেবী, পিতা নরেন্দ্রনারায়ণ। তাঁদের পদবি মুখোপাধ্যায়।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি, পারসি ও আরবি ভাষা জানতেন।
- মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের শ্রেষ্ঠসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম - সত্য পীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের রচনা -

'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল
অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।।'

- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের রচনা। তিনি ঈশ্বরী পাটনী চরিত্রের মুখ দিয়ে একথা বলিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬০০.
বাংলা কবিগান রচয়িতা এন্টনি ফিরঙ্গি জাতিতে কী ছিলেন?
  1. ব্রিটিশ
  2. পর্তুগিজ
  3. স্প্যানিশ
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা
এন্টনি ফিরিঙ্গি: 
- তিনি ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল।
- তাঁর  প্রকৃত নাম হেনসম্যান এন্টনি (Hensman Anthony)।
- তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিস্টান।
- পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরের ফরাসডাঙায় তিনি বসবাস করতেন।
- তিনি খ্রিস্টান হলেও বাঙালি কালি সাধক হিন্দুর মত জীবনযাপন করতেন। 
- তিনি হিন্দু বিধবা কে বিয়ে করেন এবং কলকাতার বউবাজারে ফিরিঙ্গি কাকীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

তাঁর একটি বিখ্যাত গান-
‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজে ত ফিরিঙ্গি।
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিবে মাতঙ্গী।’ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।