বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ১৫ / ২৮ · ১,৪০১১,৫০০ / ২,৭৬৪

১,৪০১.
'লায়লী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ কোনটি?
  1. ভারত
  2. ইরাক
  3. মিশর
  4. ইরান
ব্যাখ্যা
• ‘লায়লী মজনু' কাব্য:
- ‘লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- ‘লায়লী মজনু’ কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩ সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির ‘লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৪০২.
মৈমনসিংহ গীতিকার দু-একটি পালা প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
  1. সৌরভ
  2. বঙ্গদর্শন
  3. ভারতী
  4. প্রবাসী
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- এর দু-একটি পালা কেদারনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয় 'সৌরভ' পত্রিকায়।
- মূলত গীতিকাগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
যথা :
- মহুয়া
- মলুয়া
- চন্দ্রাবতী
- কমলা
- দেওয়ান ভাবনা
- দস্যু কেনারামের পালা
- রূপবতী
- কঙ্ক ও লীলা
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪০৩.
অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি ?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  3. কঙ্ক ও লীলা
  4. সেক শুভোদয়া
ব্যাখ্যা

• 'কঙ্ক ও লীলা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্গত।

• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সময় বাংলা সাহিত্যের লিখিত কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি। তাই অনেক লেখক এই সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলে থাকেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগে কোন সাহিত্য কর্ম পাওয়া যায় নি এ কথাটি  সত্য নয় ।
- এ সমইয়ের প্রথমেই 'প্রাকৃতপৈঙ্গলের' মত প্রাকৃত ভাষার গীতিকবিতা গ্রন্থ সংকলিত হয়। 

এ সময়ের অন্যান্য সাহিত্য কর্ম:
- রামাই পণ্ডিতের 'শূন্যপুরাণ' এবং 'কলিম জালাল' বা 'নিরঞ্জনের রুষ্মা' 
- ডাক ও খনার বচন
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া ' 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪০৪.
’মৈমনসিংহ গীতিকা’ কোথায় থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বাংলা একডেমি
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত পালা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের ,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪০৫.
‘মহুয়া’ পালায় কোন অঞ্চলের গীতিকার বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে?
  1. বগুড়া
  2. ময়মনসিংহ
  3. জামালপুর
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৪০৬.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের 'জীবাত্মা' হিসাবে বিবেচিত চরিত্র কোনটি?
  1. ক) অর্জুন
  2. খ) কৃষ্ণ
  3. গ) বড়াই
  4. ঘ) রাধা
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগে  রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
 - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি:
- কৃষ্ণ (পরমাত্মা)
- রাধা (জীবাত্মা)
- বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৪০৭.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের শেষ পরিণতি কী? 
  1. রাধাকে পরিত্যাগ করে কৃষ্ণের মধুরায় গমন 
  2. রাধা কৃষ্ণের মিলন 
  3. রাধার আত্মহত্যা 
  4. রাধা কৃষ্ণের একসাথে মধুরায় গমন
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এগ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের  বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
​- এখানে কৃষ্ণের পূর্বরাগ থেকে আরম্ভ করে প্রেমে নিমজ্জিত ও কৃষ্ণকাতর রাধাকে পরিত্যাগ করে কৃষ্ণের মধুরায় গমন পর্যন্ত।  

​শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪০৮.
সংস্কৃত ভাষায় চৈতন্যদেবের জীবনী কাব্য রচনা করেন কে?
  1. বৃন্দাবন দাস
  2. মুরারি গুপ্ত
  3. লোচন দাস
  4. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
ব্যাখ্যা
• চৈতন্যদেবের জীবনী কাব্য:
- চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী। 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।
- এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিলো।

অন্যদিকে, 
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'। তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল। পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়। কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।

- বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ- লোচন দাস রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।

- বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৪০৯.
দীনেশচন্দ্র কত সালে 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা' প্রকাশ করেন?
  1. ১৯২৭ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৮২৬ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৪১০.
আরাকান রাজসভার কবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন-
  1. ক) মাগন ঠাকুর
  2. খ) শেখ মরদন
  3. গ) দৌলত কাজী
  4. ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা

- মধ্যযুগের সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য মুসলমান কবি ছিলেন আলাওল।
- আরাকান রাজসভার তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- কবি আলাওলের সাহিত্যকর্ম গুলো হলোঃ
- পদ্মাবতী,
- সপ্ত পয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৪১১.
চৈতন্য যুগ বাংলা সাহিত্যের কোন সময়কালকে নির্দেশ করে?
  1. ১৩০০-১৫০০
  2. ১৫০০-১৭০০
  3. ১৭০০-১৮০০
  4. ১৪০০-১৬০০
ব্যাখ্যা

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
• প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, মধ্যযুগ:
→ প্রাচীন বা মুসলমানপূর্ব যুগ (৯৫০-১২০০),
→ তুর্কি বিজয়ের যুগ (১২০০-১৩০০),
→ আদি মধ্যযুগ বা প্রাকচৈতন্য যুগ (১৩০০-১৫০০),
→ অন্ত্য মধ্যযুগ (১৫০০-১৮০০), চৈতন্য যুগ বা বৈষ্ণবসাহিত্য যুগ (১৫০০-১৭০০) ও নবাবি আমল (১৭০০-১৮০০),

'চৈতন্য যুগ' সম্পর্কিত বিশেষ তথ্য:
- বাংলা সাহিত্যে (১৫০০ থেকে ১৭০০) পর্যন্ত সময়কে চৈতন্য যুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য সংক্ষেপে ‘চৈতন্য’ নামে পরিচিত।
- শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর জীবিতকালেই ভক্তদের ভগমানের অবতার বলে গৃহীত হয়েছিল।
- চৈতন্যদেব প্রথম জীবনী সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- চৈতন্যের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- প্রবোধানন্দ সরস্বতী ‘শ্রীচৈতন্যচন্দ্রামৃত’ নামক কাব্য রচনা করেছিলেন।
- চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে ‘কচড়া’ নামে অভিহিত করা হয়েছে, যার অর্থ ব্যাপক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪১২.
'চন্দ্রাবতী' কী?
  1. নাটক
  2. কাব্য
  3. পদাবলী
  4. পালাগান
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা করেছিলেন।
- আলাওল, দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার উল্লেখযােগ্য কবি।

-----------------------------------
উল্লেখ্য,
• চন্দ্রাবতী নামে ময়মনসিংহ গীতিকার একজন মহিলা কবি রয়েছেন যিনি প্রথম রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। 

• আরও উল্লেখ্য, চন্দ্রাবতীকে নিয়ে মৈমনসিংহ-গীতিকায় নয়ানচাঁদ ঘোষ নামে একজন কবির পালা রয়েছে। এই পালাটি বিভিন্ন নামে পরিচিত - ‘জয়-চন্দ্রাবতী’, 'চন্দ্রাবতী চরিত', 'চন্দ্রাবতী উপাখ্যান'।

• এছাড়াও, ১৯৩২ সালে দীনেশচন্দ্র সেন চন্দ্রাবতীর রামায়ণ প্রকাশ করেন। পূর্ববঙ্গ-গীতিকার চতুর্থ খণ্ডের ২য় ভাগে এ রামায়ণ স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪১৩.
বিদ্যাপতি কোন ভাষায় রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলি রচনা করেন?
  1. মৈথিলী
  2. ব্রজবুলি
  3. বাংলা
  4. অহমীয়া
ব্যাখ্যা
ব্রজবুলি:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এর উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন।
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলি রচনা করেন।
------------------------------

বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪১৪.
কবিগানের আদিগুরু হিসেবে খ্যাত ছিলেন কে?
  1. ক) কেষ্টা মুচি
  2. খ) গোঁজলা গুঁই
  3. গ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
  4. ঘ) নিধু বাবু
ব্যাখ্যা
গোঁজলা গুঁই কবিওয়ালাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন।
- তিনি কবিগানের আদিগুরু বলে পরিচিত।
- কবি ঈশ্বর গুপ্তের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৭০৪ থেকে ১৭১৪ সালের মধ্যে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর গান থেকেই ঈশ্বর গুপ্ত কবিগানের প্রথম সূচনা ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক
১,৪১৫.
মঙ্গল কাব্যে কোন দুই দেবতার প্রাধান্য বেশি?
  1. শিবায়ন ও ধর্মঠাকুর
  2. মনসা ও শিবমঙ্গল
  3. চন্ডী ও শিবায়ন
  4. মনসা ও চণ্ডী
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই দেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখন্ড এবং শ্রুতিফল।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলাপিডিয়া।
১,৪১৬.
আব্দুল হাকিম রচিত কাব্য কোনটি?
  1. ক) হানিফার-লড়াই
  2. খ) রাগতালনামা
  3. গ) সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল
  4. ঘ) সিকান্দারনামা
ব্যাখ্যা
• আব্দুল হাকিম
- সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি। 
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়। 
কাব্যগুলো হলো: 
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানিফার লড়াই।

অন্যদিকে, 
আলাওল রচিত গ্রন্থ:
- সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল,
- সিকান্দারনামা,
- রাগতালনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪১৭.
নিচের কোন সাহিত্যধারা শ্রী চৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে?
  1. প্রণয়কাব্য
  2. প্রাকৃত গীতিকাব্য
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. বৈষ্ণব সাহিত্য
ব্যাখ্যা
শ্রী চৈতন্যদেব:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য শ্রী চৈতন্যদেব ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম।
- শ্রীচৈতন্যর পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র, ডাক নাম নিমাই।
- তিনি বাংলা সাহিত্য একটি পঙক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে যার নাম শ্রী চৈতন্যদেব।
- তাঁকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে মধ্যযুগের ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’।
- ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’ তিন প্রকার যথা: জীবনীকাব্য, বৈষ্ণব শাস্ত্র ও পদাবলী
- বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত।
- বাংলা সাহিত্য ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
- চৈতন্যদেব জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ এবং মৃত্য ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪১৮.
"গাজীবিজয়" - কাব্যটি কোন মধ্যযুগের কবি রচনা করেন?
  1. সৈয়দ হামজা 
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. সৈয়দ সুলতান 
ব্যাখ্যা

শেখ ফয়জুল্লাহ:
- শেখ ফয়জুল্লাহ (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।
- তিনি জয়নবের চৌতিশা, সুলতান জমজমা, রাগমালা ও পদাবলী কাব্য রচনা করেন।

শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত কাব্য:
- সত্যপীরবিজয়,
- গোরক্ষবিজয়ও
- গাজীবিজয়

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪১৯.
এন্টনি ফিরিঙ্গি কিসের জন্য বিখ্যাত ছিলেন?
  1. কবিগান
  2. পালাগান
  3. বটতলার পুথি
  4. পুথি সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• 'এন্টনি ফিরিঙ্গি 'কবিগান' এর জন্য বিখ্যাত ছিলেন।

এন্টনি ফিরিঙ্গি:
- তিনি ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল।
- তাঁর প্রকৃত নাম এন্টনি হেন্সম্যান।
- তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিষ্টান।
- তিনি খ্রিষ্টান হলেও বাঙালি কালী সাধক হিন্দুর মত জীবনযাপন করতেন।
- তিনি হিন্দু বিধবাকে বিয়ে করেন এবং কলকাতার বউবাজারে ফিরিঙ্গি কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি চমৎকার বাংলা কবিগান গাইতে ও গান বাঁধতে পারতেন।

• তাঁর একটি বিখ্যাত গান -

‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজেত ফিরিঙ্গি
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিব মাতঙ্গী।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪২০.
রামাই পণ্ডিত রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. গুলে বকাওলী
  2. সেক শুভদয়ার
  3. মুক্তল হোসেন
  4. কলিমা জালাল
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।
 
অন্যদিকে,
• ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।
• 'গুলে বকাওলী' রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য। সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্য রচনা করেন। এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
১,৪২১.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের প্রথম খণ্ডের নাম কী?
  1. জন্মখন্ড
  2. তাম্বুলখণ্ড
  3. দানখণ্ড
  4. রাধাবিরহ
ব্যাখ্যা

 • ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’:
- ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং চর্যাপদের পর আবিষ্কৃত দ্বিতীয় প্রাচীনতম বাংলা সাহিত্যকর্ম।
- এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস, যিনি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কবি হিসেবে স্বীকৃত।
-এই কাব্য ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় কর্তৃক আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
-কাব্যের মূল উপজীব্য রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী :
-যেখানে কৃষ্ণের জন্ম, বড়াইয়ের সহযোগিতায় রাধার সঙ্গে তাঁর প্রণয়, এবং অবশেষে মথুরায় গমন—এই তিনটি পর্যায়ে কাহিনী বিন্যস্ত।
-‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি — রাধা, কৃষ্ণ, ও বড়াই (যিনি রাধার সহচরী ও প্রণয়-দূতিকা হিসেবে উপস্থিত)।
- এটি ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ’ নামেও পরিচিত।
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের প্রথম খণ্ড - জন্ম খণ্ড।
 - এই কাব্যটি মোট ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত:
♦ জন্ম খণ্ড,
♦  তাম্বুল খণ্ড,
♦ দান খণ্ড,
♦ নৌকা খণ্ড,
♦ ভার খণ্ড,
♦  ছত্র খণ্ড,
♦ বৃন্দাবন খণ্ড,
♦  কালিয়দমন খণ্ড,
♦ যমুনা খণ্ড,
♦  হার খণ্ড,
♦ বাণ খণ্ড,
♦ বংশী খণ্ড ও
♦ বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১,৪২২.
"আমার সন্তান" কবিতাটি মধ্যযুগের কোন কবির রচনা?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. বিদ্যাপতি
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা
• "আমার সন্তান" কবিতাটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

'আমার সন্তান' কবিতাটি আব্দুল হাই ও আনোয়ার পাশা সম্পাদিত 'মানসিংহ-ভবানন্দ' উপাখ্যানে'র 'অন্নদার ভবানন্দ ভবনে যাত্রা' কবিতার সম্পাদিত অংশ 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের অংশবিশেষ। বাঙালি মায়ের নিজ স্বার্থ উপেক্ষা করে সন্তানের কল্যাণ কামনার চিরন্তন মানসিকতার বিষয়টি মুখ্য হয়ে এ কবিতায় ফুটে উঠেছে। কবিতাটিতে মধ্যযুগের শেষ পর্বের ভাষা-বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। মধ্যযুগের সামাজিক প্রথা, সংস্কার, পৌরাণিক চরিত্র ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যাবে এই কবিতার মাধ্যমে। দেবীকর্তৃক ভক্তকুলের মনোবাঞ্ছনা পূরণের ধরন এবং রূপকের মাধ্যমে সমস্ত বাঙালি সন্তানের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের আশীর্বাদের বিষয়টি নিপুণভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এই কবিতায়।

কবিতার কিছু অংশ:
প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে।
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে ॥

তথাস্তু বলিয়া দেবী দিলা বরদান।
দুধে ভাতে থাকিবেক তোমার সন্তান॥

----------------------
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
অষ্টাদশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও মঙ্গলকাব্যের সর্বশেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ১৭১২ সালে হুগলি জেলার ভুরশুট পরগনার পেঁড়ো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা নরেন্দ্রনারায়ণ রায় ভুরশুট পরগনার জমিদার ছিলেন, কিন্তু বর্ধমানের রাজার সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় বাস্তুচ্যুত হয়ে সপরিবারে ভারতচন্দ্রের মামাবাড়িতে চলে আসেন। সেখানে থেকেই ভারতচন্দ্র মাত্র কুড়ি বছর বয়সের মধ্যে সংস্কৃত ব্যাকরণ, অভিধান ও ফারসি ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করেন।

জীবনের বহু উত্থান-পতনের পর ভারতচন্দ্র নদীয়ার কৃষ্ণনগর রাজপরিবারে আশ্রয় গ্রহণ করেন ও সভাকবি হন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য 'অন্নদামঙ্গল' রচনা করেন এবং রায়গুণাকর খেতাব পান।

সংস্কৃত, আরবি, ফারসি ও হিন্দুস্তানি ভাষার মিশ্রণে নতুন এক বাগভঙ্গি এবং তাতে শব্দ, ছন্দ ও অলঙ্কার প্রয়োগ ছিল তাঁর কাব্যের বৈশিষ্ট্য। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাব্যকে তুলনা করেছেন 'রাজকণ্ঠের মণিমালা'র সঙ্গে। তিনি ১৭৬০ সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের পরিসমাপ্তি ঘটে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- সত্যপীরের পাঁচালী,
- রসমঞ্জরী,
- অন্নদামঙ্গল,
- নাগাষ্টক,
- গঙ্গাষ্টক,
- চণ্ডীনাটক।

উৎস: মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪২৩.
মধ্যযুগের কোন কবির সাহিত্য রচনার ভাষা ছিল সংস্কৃত?
  1. গোবিন্দদাস 
  2. চণ্ডীদাস 
  3. জ্ঞানদাস 
  4. জয়দেব 
ব্যাখ্যা

• জয়দেব:
- কবি জয়দেব জাতিতে বাঙ্গালি হলেও, তিনি সংস্কৃত সাহিত্যের একজন মধ্যযুগীয় প্রসিদ্ধ কবি। তাঁর সাহিত্যের ভাষা ছিল সংস্কৃত।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম। কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির সূচনা জয়দেবের গীতগোবিন্দের পদাবলি থেকেই বলে ধারণা করা হয়। বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে 'গীতগোবিন্দম্' রচিত।

অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
---------------------
• চণ্ডীদাস:
বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।

• গোবিন্দদাস:

সম্ভবত ষোল শতকের তৃতীয় দশকে গোবিন্দদাসের জন্ম এবং সতের শতকের দ্বিতীয় দশকে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি প্রায় সাত শ পদ রচনা করেছিলেন বলে অনুমান করা হয়ে থাকে। তার মধ্যে কিছু বাংলা পদ থাকলেও অধিকাংশ পদ ব্রজবুলিতে রচিত। বিদ্যাপতির ভাবাদর্শে তিনি বিশেষ প্রভাবিত হয়েছিলেন, বিদ্যাপতির অলঙ্কার ও চিত্রকল্প তাঁকে বিমুগ্ধ করেছিল।

• জ্ঞানদাস:
সম্ভবত ষোল শতকে বর্ধমান জেলায় কবি জ্ঞানদাসের জন্য। তিনি চণ্ডীদাসের কাব্যাদর্শ অনুসরণ করে এবং তার সঙ্গে নিজের মৌলিক প্রতিভার সমন্বয়ে রাধাকৃষ্ণের লীলাবর্ণনার মাধ্যমে মানবমানবীর শাশ্বত প্রেম বেদনার কথা ব্যক্ত করেছেন।  ছিলেন চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য। তিনি ব্রজবুলি ও বাংলায় পদ রচনা করেছিলেন, তবে বাংলা পদেই তাঁর কৃতিত্ব বেশি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া। 

১,৪২৪.
মধ্যযুগের কোন সাহিত্যধারাটি ধর্ম বা দেব-দেবীর পরিবর্তে মানুষের প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করেছে?
  1. বৈষ্ণব সাহিত্য
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. লোক সাহিত্যধারা
  4. শাক্তপদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যুযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৪২৫.
'শিবনারায়ণ' কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩ খণ্ডে বিভক্ত।
যথা :
- শিবনারায়ণ,
- কালিকামঙ্গল,
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

- কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরকাহিনি' বলা হয়।
- দেবী কালীর মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে।
- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি - কবি কঙ্ক। এছাড়া, সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন - কালিকা মঙ্গল রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪২৬.
কৃত্তিবাস রামায়ণের অন্য নাম কী?
  1. রামাভিষেক
  2. শ্রীরাম পাঁচালি
  3. রামবিলাস
  4. রামচরিতমানস
ব্যাখ্যা
কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪২৭.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্য কোনটি?
  1. মধুমালতী
  2. দেওয়ানা মদিনা
  3. কলিমা জালাল
  4. মদনকুমার ও মধুমালা
ব্যাখ্যা

• মুহম্মদ কবীর মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান রচিয়তা। ১৫৮৮ সালে 'মধুমালতী' নামে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনা করেন।

• 'মধুমালতী' কাব্য:

- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা 'মধুমালতী' কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

অন্যদিকে, 
• রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এর অংশবিশেষ 'কলিমা জালাল'। এটি রোমান্টিক প্রণয়কাব্য ধারার গ্রন্থ নয়।
• 'দেওয়ানা মদিনা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা। 
• 'মদনকুমার ও মধুমালা' পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা।

--------------------------
• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪২৮.
পদ বা পদাবলী বলতে কি বুঝায়?
  1. লাচাড়ী ছন্দে রচিত পদ্য বা কবিতাবলী
  2. পদ্যাকারে রচিত দেবস্তুতিমূলক রচনা
  3. বাউল বা মরমী গীতি
  4. বৌদ্ধ বা বৈষ্ণবীয় ধর্মের গূঢ় বিষয়ের বিশেষ সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• পদাবলী (বিশেষ্য পদ), 
অর্থ: বৈষ্ণব ও শাক্ত গীতিকবিতা।

• পদাবলী:
পদাবলী একটি সামগ্রিক গীতি শাখা যা লোকসাহিত্য, ধর্মীয় কাব্য এবং মানবিক অনুভূতিকে সমন্বিত করে।
গীতোপযোগী ও ভণিতাযুক্ত ছন্দোবদ্ধ রচনা ‘পদ’ নামে অভিহিত। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এবং চৈতন্যদেবের প্রেমসাধনাকে অবলম্বন করেই বিস্তার লাভ করে মধ্যযুগের পদাবলী বা গীতিকাব্যের ধারা।

• বৈষ্ণব পদাবলী:
বৈষ্ণব পদাবলী পুরোপুরি বৈষ্ণব ধর্ম এবং কৃষ্ণভক্তির উপর ভিত্তি করে লেখা হয়। এতে শ্রীকৃষ্, গোপী প্রেম, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহিমা ও ভক্তির প্রেম প্রতিফলিত হয়।

উল্লেখ্য,
পদাবলী একটি বৃহত্তর শব্দ, যা বিভিন্ন ধরনের গান বা গীতিকাব্যকে নির্দেশ করে, সেখানে বৈষ্ণব পদাবলী বিশেষভাবে বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাবিত গীতির জন্য ব্যবহৃত হয়। সুতরাং,পদ বা পদাবলী পদ্যাকারে রচিত দেবস্তুতিমূলক রচনা। 

-------------------
প্রাসঙ্গিক আলোচনা:
চৈতন্যপূর্বযুগের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যধারা হচ্ছে পদাবলি। এর শুরু চৈতন্যপূর্বযুগেই। রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক এ সাহিত্য ভাব, ভাষা ও ছন্দে অতুলনীয়। এতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আত্মার আত্মীয়রূপে কল্পিত; তাঁর ও ভক্তের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই।

পরে রাধাকৃ ষ্ণের প্রণয়লীলা এবং চৈতন্যদেবের প্রেমসাধনাকে অবলম্বন করেই বিস্তার লাভ করে মধ্যযুগের পদাবলি বা গীতিকাব্যের ধারা। চৈতন্যদেবের পরবর্তী বৈষ্ণব কবিদের দ্বারা পদাবলি সাহিত্য বিশেষভাবে পরিপুষ্ট হয়। অনেকের মতে বাংলা সাহিত্যের প্রকৃত জাগরণ ঘটে এই পদাবলি রচনার মধ্য দিয়েই।

কতিপয় মুসলমানসহ অগণিত কবি রাধাকৃষ্ণলীলার পদ রচনা করে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন, যেমন: চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস, লোচনদাস, গোবিন্দদাস, কবিবল্লভ রায়শেখর, বলরাম দাস, নরোত্তম দাস, নরহরি দাস, রাধামোহন ঠাকুর প্রমুখ। মিথিলার বিদ্যাপতি ছিলেন চৈতন্যপূর্ব কবি। মৈথিল ভাষায় রচিত তাঁর পদগুলি পদাবলি সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ। চণ্ডীদাস ও বিদ্যাপতি পদাবলি সাহিত্যের দুই সেরা কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪২৯.
ইউসুফ জোলেখা প্রণয়-কাব্যটি অনুবাদ করেছেন?
  1. দৌলত কাজী
  2. মাগন ঠাকুর
  3. আজম শাহ
  4. শাহ মুহাম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- 'ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য। তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।

- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।

- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জোলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১,৪৩০.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের দ্বিতীয় উপাখ্যান কোনটি?
  1. হরিশ্চন্দ্রের গল্প
  2. কালকেতু ফুল্লরা উপখ্যান
  3. লাউ সেনের গল্প
  4. ধনপতি সওদাগরের কাহিনি
ব্যাখ্যা

⇒ চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। 

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. প্রথম খণ্ড একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যান ধনপতি সওদাগরের কাহিনি। কাহিনির চরিত্র- নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪৩১.
'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।' - এটি কার উক্তি?
  1. জ্ঞানদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন।
- তাকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

• চণ্ডীদাস এর বিখ্যাত উক্তি:
- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।'
- 'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।'
- 'সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধূয়া আনবাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১,৪৩২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
- ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরকে মধ্যযুগের/বাংলা সাহিত্যের প্রথম ‘নাগরিক কবি’ বিশেষণে অভিহিত করা হয়।
- উল্লেখ্য, আধুনিক যুগের নাগরিক কবি হলেন শামসুর রাহমান। 

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন। 
-  ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে  মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৩৩.
কোন কবি রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন?
  1. মালাধর বসু
  2. আলাওল
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৩৪.
"সেক শুভোদয়া" গ্রন্থটি কার কাহিনি অবলম্বনে রচিত?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. শেখ জালালুদ্দীন
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. রাজা শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
সেক শুভোদয়া:
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মণ সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজীর অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- 'শেখের শুভোদয়' অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য।
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৩৫.
লোকসাহিত্যকে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য হলো মূলত মৌখিক ধারায় বিকশিত এক ধরনের সাহিত্য।
- এই সাহিত্য অতীতের ঐতিহ্য ও বর্তমান জীবনের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে।
- এটি লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত শাখা, যার ভেতর দিয়ে একটি জাতির সামষ্টিক অনুভূতি, বিশ্বাস ও আত্মার স্পন্দন প্রকাশ পায়। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লোকসাহিত্যকে “জনপদের হৃদয়-কলরব” বলে অভিহিত করেছেন।
- বিষয়বস্তুর দিক থেকে লোকসাহিত্যকে সাধারণত আটটি শাখায় ভাগ করা হয়—
- ছড়া,
- লোকসঙ্গীত,
- গীতিকা,
- লোককাহিনী,
- লোকনাট্য,
- মন্ত্র,
- ধাঁধা,
- ও প্রবাদ।


- লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি:

- লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি হিসেবে ছড়ার কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ছড়া কোনো একক ব্যক্তির রচনা নয়; বরং এটি সমাজের সমষ্টিগত চিন্তা ও অভিজ্ঞতার ফল।
- ছড়ার ছন্দই বাংলা কবিতার সবচেয়ে প্রাচীন ছন্দ, যা লৌকিক ছন্দ নামেও পরিচিত।
- সহজ ও সরল ভাষা, জোরালো ছন্দ, অন্ত্যমিল এবং সংক্ষিপ্ত কাঠামো ছড়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- মুখে মুখে প্রচলিত হওয়ায় ছড়া দীর্ঘকাল ধরে টিকে আছে।
- ছড়া প্রধানত শিশুদের আনন্দ, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;  
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১,৪৩৬.
রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন - 
  1. চন্দ্রাবতী
  2. কাশীরাম দাস
  3. কৃত্তিবাস ওঝা
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা

- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কৃত্তিবাস ওঝা।
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি। 
- কৃত্তিবাসী রামায়ণে রামচন্দ্র আরাধ্য অবতার তুলসীচন্দনে লিপ্ত বিগ্রহ। কৃত্তিবাসের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে গিয়ে ড. দীনেশ সেন মন্তব্য করেছেন, 'গৌড়েশ্বর ধন্য যিনি কবিকে রামায়ণ অনুবাদের ভার দিয়া বঙ্গদেশের শ্রেষ্ঠ হিতসাধন করিয়াছিলেন।' যুগপ্রভাবে সংস্কৃত আদর্শের মহাকাব্যিক শিল্পকলা ক্রমশ শিথিল হয়ে অজস্র কাহিনিতে রূপান্তরিত হয়েছে। 

কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম  এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৩৭.
বাংলা সাহিত্যে 'অন্ধকার যুগ' কোন যুগের মধ্যে বিদ্যমান?
  1. আধুনিক যুগ
  2. প্রাচীন যুগ
  3. মধ্যযুগ
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা -
- প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০),
- মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
- আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

• মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৩৮.
রামায়ণ রচনায় কৃত্তিবাসকে উৎসাহ ও প্রেরণা দিয়েছিলেন-
  1. ক) সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম
  2. খ) রুকনুদ্দীন বারবক শাহ
  3. গ) ইসলাম খান
  4. ঘ) পরাগলী খা
ব্যাখ্যা
রামায়ণের প্রথম অনুবাদকই এর শ্রেষ্ঠ অনুবাদক; তার নাম কৃত্তিবাস। কৃত্তিবাস কখন জন্মগ্রহণ করেছিলেন, কোন রাজার আশীর্বাদ লাভ করেছিলেন, এ নিয়ে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বেশ বড় এক বিতর্ক রয়েছে। কারণ তার দীর্ঘ এক আত্মপরিচিতিতে রাজার সবকিছু বর্ণনা করলেও তিনি রাজার নামটি উল্লেখ করতে ভুলে গেছিলেন৷ আজ মনে করা হয় কবি কৃত্তিবাস তাঁর আত্মপরিচিতিতে যে-রাজার ইঙ্গিত করেছেন, তাঁর নাম রুকনুদ্দিন বারবক শাহ।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ূন আজাদ
১,৪৩৯.
'শূন্যপুরাণ' রচনা করেছেন -
  1. বিজয়গুপ্ত
  2. রামাই পণ্ডিত
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. হলায়ুধ মিশ্র
ব্যাখ্যা

• অন্ধকার যুগের সাহিত্য 'শূন্যপুরাণ' এর রচয়িতা রামাই পণ্ডিত।

• শূন্যপুরাণ: 
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- শূন্যপুরাণ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ- গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য। 
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ নামে শূন্যপুরাণের একটি অংশ আছে। 
- বৌদ্ধধর্মের ধ্বংসন্মুখ অবস্থায় হিন্দু ধর্মের সঙ্গে মিলন সাধনের জন্য রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  
- এতে বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
-বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শূন্যপুরাণ শিল্পকর্ম হিসেবে নয়, ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই ঐতিহাসিক গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুঁথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৪৪০.
নিচের কোনটি নাট্যগুণসম্পন্ন আখ্যান কাব্য?
  1. ক) প্রাকৃত পৈঙ্গল
  2. খ) মনসামঙ্গল
  3. গ) সেকশুভোদয়া
  4. ঘ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
- গঠনগত বা আঙ্গিকগতভাবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একটি নাট্যগীতি বা বর্ণনাত্মক নাটকও বলা যায়।
- এখানে গীত বা গানের আকারে গাওয়া হত, আবার নাটকীয়তাও আছে। তাই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে নাট্যগীতি বলা যায়।
- উল্লেখ্য, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা সাহিত্যের প্রথম একক গ্রন্থ। এর রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস।

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
১,৪৪১.
মিলনের পূর্বে দর্শন, নাম শ্রবণ প্রভৃতি দ্বারা নায়ক নায়িকার মনে পরস্পরের প্রতি যে অনুরাগ জন্মে, তাকে বলে -
  1. অভিসার
  2. পূর্বরাগ
  3. ভণিতা
  4. অনুরাগ
ব্যাখ্যা

পূর্বরাগ:
রূপ গোস্বামী ''উজ্জ্বলনীলমণি'' গ্রন্থে পূর্বরাগের সংজ্ঞার্থে বলেছেন -
- মিলনের পূর্বে দর্শন, নাম শ্রবণ প্রভৃতি দ্বারা নায়ক নায়িকার মনে পরস্পরের প্রতি যে অনুরাগ জন্মে, তাকে বলে পূর্বরাগ।
- পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - চন্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে পূর্বরাগ জনপ্রিয় কাব্যরূপ।

আবার,
- প্রেমিক বা প্রেমিকা যখন গোপনে কোনো একটা নির্দিষ্ট স্থানে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হবার জন্য যাত্রা করে তাকে অভিসার বলে।
- প্রাচীন কাব্যে কবিতার শেষে কবিরা নিজেদের নাম - পরিচয় দিতেন যাকে ভণিতা বলা হয়।
- প্রেমাবিষ্ট হৃদয়ের একটি বিশিষ্ট ভাবকে প্রেমবৈচিত্ত্য বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৪৪২.
'কবিকন্ঠহার' মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি
  1. গোবিন্দদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।

- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

অন্যদিকে,
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ ও ‘কবীন্দ্র’ উপাধি দেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৪৪৩.
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’—এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. পদ্মাবতী
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা

পদ্মাবতী:
- এটি একটি ইতিহাসমিশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
- পদ্মাবতী আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- নাগরিক শিক্ষা, বৈদগ্ধ্য রূপ ও অভিপ্রায় তাঁর এ কাব্যের ভাব-ভাষা-রুচিতে প্রভাব বিস্তার করেছে।
- ‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খন্ডে লেখা আছে

আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- কাব্যিক আবেগের সঙ্গে বৌদ্ধিক চেতনার মিশ্রণ থাকায় আলাওলকে ‘পন্ডিতকবি’ বলা হয়।
- এখন পর্যন্ত আলাওলের ৭ টি কাব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' গ্রন্থটি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৪৪.
'ছুটি খাঁনী' মহাভারত খ্যাত গ্রন্থের লেখক কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. শ্রীকর নন্দী
  3. কৃত্তিবাস ওঝা
  4. দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
ব্যাখ্যা
• 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত:
- চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খান মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ছুটি খাঁ সভাসদ শ্রীকর নন্দীকে মহাভারত অনুবাদের নির্দেশ দেন।
- ছুটিখানের আদেশে জৈমিনি মহাভারতের ওপর নির্ভর করে কেবল ‘অশ্বমেধ পর্বের’ অংশ নিয়ে শ্রীকর নন্দী 'ভারত পাঁচালী' রচনা করেন।
- শ্রীকর নন্দী রচিত ভারত পাঁচালী 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত নামেও পরিচিত।
- কেউ কেউ বলে পরাগলী মহাভারতের অসম্পূর্ন অংশ সম্পূর্ণ করেছেন শ্রীকর নন্দী।

অন্যদিকে,
-----------------
• 'পরাগলী মহাভারত:
- 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- নবাব হুসেন শাহ্‌ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন।
- যুদ্ধপ্রিয় পরাগল খাঁ মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।
- তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
- কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন ‘ভারত পাঁচালী’।

• দ্বৈপায়ন ব্যাসদেবের ‘মহাভারত’:
- ‘মহাভারত' কাব্যের মূল রচয়িতা হচ্ছেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকের নাম কাশীরাম দাস। ‘মহাভারত' কাব্যগ্রন্থ টি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।


• কৃত্তিবাস ওঝা সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৪৪৫.
বাংলায় টপ্পার প্রচলন হয় কত শতকে?
  1. ক) সপ্তদশ শতকে
  2. খ) ঊবিংশ শতকে
  3. গ) অষ্টাদশ শতকে
  4. ঘ) বিংশ শতকে
ব্যাখ্যা
- বাংলায় অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগ থেকে টপ্পার প্রচলন।
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে বহু সংগীতজ্ঞ সুললিত, অপূর্ব টপ্পা রচনা করে গেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন রাধামোহন সেন, কালিকা মির্জা, শ্রীধর কথক, দাশরথী রায় বিশেষভাবে  উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৪৬.
শ্রীরামপুর মিশন কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৮০০
  2. খ) ১৮০২
  3. গ) ১৮১২
  4. ঘ) ১৮১৩
ব্যাখ্যা

১৮০০ সালের ১০ জানুয়ারি উইলিয়াম কেরি শ্রীরামপুর মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
ভারতীয়দের খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে শ্রীরামপুর মিশন প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
১৮১৮ সালে দেশীয়দের ধর্মশিক্ষা দেওয়ার উদ্দ্যেশে শ্রীরামপুর কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
১৮৪৫ সালে শ্রীরামপুর মিশন বন্ধ হয়ে যায়।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

১,৪৪৭.
'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থে বাংলার কোন শাসকের সময়কালের বর্ণনা পাওয়া যায়?
  1. শশাঙ্ক
  2. লক্ষণ সেন
  3. বখতিয়ার খলজী
  4. আলাউদ্দীন খলজী
ব্যাখ্যা
• সেক শুভোদয়া:
- সেক শুভোদয়া বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের এবং মিশ্র অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় রচিত একটি গ্রন্থ।
- অনেক গবেষকের মতে, গ্রন্থটির রচনাকাল ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে।
- গদ্য-পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে। এরপর পুথি খণ্ডিত।
- জাললুদ্দিন তাব্রিজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান (সেক) রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় চমৎকার ও চিত্তাকর্ষক গল্প পরিবেশনের মাধ্যমে সবার মনে বিস্ময় সৃষ্টি করে। রাজা লক্ষ্মণ সেন সেককে পুরস্কৃত ও সংবর্ধিত করেন। গ্রন্থটিতে উক্ত সেক সম্পর্কে বর্ণনা পাওয়া যায়।

- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskrit' বলেছেন।
- ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু 'কায়স্থ' পত্রিকায় গ্রন্থটির ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন।
- পরে ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৪৮.
'নিরঞ্জনের উষ্মা' কবিতাটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. গীতগোবিন্দম্
  3. শূণ্যপুরাণ
  4. মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
'শূণ্যপুরাণ':
- 'অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ। গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপুজাপদ্ধতি। এতে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪
বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।
- 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূণ্যপুরাণ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা। নিরঞ্জনের উম্মা অংশের মূল প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ-হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন। এই অত্যাচারে বিরূপ হয়ে দেব নিরঞ্জন ধর্মঠাকুর 'যবন' মুসলমানের রূপ ধারণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- কবিতাটি থেকে প্রমাণিত হয় যে তা 'মুসলমান তুর্কি কর্তৃক বঙ্গবিজয়ের পরের, অন্তত এয়োদশ শতাব্দীর শেষের দিকের রচনা।

অন্যদিকে,
- "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন” একটি নাট্যধর্মী কাহিনি কাব্য।

- বৈষ্ণব কবি জয়দেবের রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে 'গীতগোবিন্দম্' রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৪৪৯.
বাংলা সাহিত্যের কোন যুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল?
  1. যুগসন্ধিক্ষণের যুগে
  2. প্রাচীন যুগে
  3. মধ্যযুগে
  4. বর্তমান যুগে
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
•  বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্য হয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৫০.
'কবি' উপন্যাসে নিতাইচরণ কোন সম্প্রদায়ের লোক?
  1. বণিক
  2. ব্রাহ্মণ
  3. ডোম
  4. কায়স্থ
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসে 'ডোম' সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে। এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের  ''জীবন এতো ছোট ক্যানে? '' - সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৪৫১.
আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি ছিলেন-
  1. ক) মাগন ঠাকুর
  2. খ) দৌলত কাজী
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) দৌলত উজির
ব্যাখ্যা
• আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করিম খন্দকার,
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১,৪৫২.
'শূন্যপুরাণ' কোন যুগের সাহিত্য নিদর্শন?
  1. আধুনিক যুগ
  2. প্রাচীন যুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. বৈষ্ণব যুগ
ব্যাখ্যা
• 'শূন্যপুরাণ'- অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।

• 'শূন্যপুরাণ':
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। এতে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ'- 'শূন্যপুরাণ'।
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূন্যপুরাণ অন্তর্গত একটি কবিতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৫৩.
কোন খণ্ডটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) বৃন্দাবন
  2. খ) কালিয়দমন
  3. গ) জন্ম
  4. ঘ) সুখ
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে 'সুখ' শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের কোনো খণ্ড নয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস। এটি ১৩ খন্ডের কাব্য।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) শ্রী বসন্তরঞ্জন রায় পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাছে কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে এই পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষায় কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ এখানে রাধা কৃষ্ণ কাব্যের আড়ালে ঈশ্বরের প্রতি জীবকুলের আকুলতা প্রকাশিত।
- কাব্যেগ্রন্থটির প্রধান চরিত্র রাধা, কৃষ্ণ এবং বড়ায়ি।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের ১৩টি খন্ড হচ্ছে -
- জন্ম খন্ড, তাম্বুল খন্ড, দান খন্ড, নৌকা খন্ড, ভার খন্ড, ছত্র খন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হার খন্ড, বাণ খন্ড, বংশী খন্ড ও বিরহ খন্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৫৪.
অন্ধকার যুগের স্থায়িত্ব কাল কত বছর?
  1. ক) ১০০ বছর
  2. খ) ১৫০ বছর
  3. গ) ২০০ বছর
  4. ঘ) ২৫০ বছর
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ রচিত হয়েছিলো ৯৫০-১২০০ অব্দের মধ্যে। 
কিন্তু এর পরেই বাঙলা সাহিত্যের পৃথিবীতে নেমে আসে এক করুণ অন্ধকার, আর সে অন্ধকার প্রায় দেড়শো বছর টিকেছিলো।
- ১২০০ অব্দ থেকে ১৩৫০ অব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে লেখা কোন সাহিত্য নেই। 
- এ সময়ের মধ্যে কোনো সাহিত্যকর্ম পাওয়া যায়নি বলে এ সময়কে বলা হয় অন্ধকার যুগ। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১,৪৫৫.
মণীন্দ্রমোহন বসু 'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশ করেন?
  1. ব্রাহ্মণ
  2. ভারতী
  3. নারায়ণ
  4. কায়স্থ
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া: 
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। 
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগ্‌ধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৪৫৬.
'ভাঁড়ুদত্ত' কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. মনসাবিজয়
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৫৭.
সাতজন পরির থেকে শোনা সাতটি গল্পের সংকলিত গ্রন্থ-
  1. ক) নূরনামা
  2. খ) তোহফা
  3. গ) সপ্তপয়কর
  4. ঘ) সিকান্দারনামা
ব্যাখ্যা
⇒ 'সপ্ত পয়কর' কাব্য:
- সপ্তপয়কর নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি ‘হফত্ পয়কর’ কাব্যের বাংলা অনুবাদ।
- 'সপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। 
- আরাকান রাজসভায় সৈয়দ আলাওল কাব্যটি রচনা করেন।
- রাজপুত্র বাহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তাঁর সংকলন হচ্ছে 'সপ্তপয়কর' কাব্যটি। 
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 

• সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম: 
- পদ্মাবতী,
- সপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর বইতে সপ্তপয়কর বইটি ‘হপ্তপয়কর’ নামে বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৫৮.
'খাচার ভিতর অচিন পাখি' - গানটির রচয়িতা কে?
  1. হাছন রাজা
  2. দ্বিজ কানাই
  3. পাগলা কানাই
  4. লালন শাহ্
ব্যাখ্যা

"খাচার ভিতর অচিন পাখি"- গানটির রচয়িতা লালন শাহ্‌।

• লালন শাহ্:
- তিনি বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- তাঁর জন্ম ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে।
- লালনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না, কিন্তু নিজ সাধনাবলে তিনি হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের শাস্ত্র সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করেন।
- তাঁর রচিত গানে সেই জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।
- কুষ্টিয়ার  কাঙাল হরিনাথ এবং মীর মশাররফ হোসেন লালন শাহ ও তাঁর গানের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন।
- হরিনাথ তাঁর অতি প্রিয় শিষ্য ছিলেন। 
-  রবীন্দ্রনাথ লালন শাহর ২৯৮টি গান সংগ্রহ করেন এবং সেগুলি থেকে ২০টি গান তিনি  প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

• লালন শাহ্ রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান:
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- বাড়ির কাছে আরশিনগর।
- সব লােকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৪৫৯.
"কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি কালিনী নইকুলে।
কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি এ গোঠ গোকুলে।।
আকুল শরীর মোর বেআকুল মন।
বাঁশীর শবদেঁ মো আউলাইলোঁ রান্ধন॥" - পঙক্তিটির রচয়িতা কে রচয়িতা-
  1. ক) ভারতচন্দ্র
  2. খ) গোবিন্দদাস
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
- বড়ু চণ্ডীদাস আমাদের প্রথম মহাকবি।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।

- তাঁর কবিতা থেকে কিছু অংশ হলো:
কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি কালিনী নইকুলে।
কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি এ গোঠ গোকুলে।।
আকুল শরীর মোর বেআকুল মন।
বাঁশীর শবদেঁ মো আউলাইলোঁ রান্ধন॥
কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি সে না কোন জনা।
দাসী হআঁ তার পাত্র নিশিবোঁ আপনা ॥...
অঝর ঝরএ মোর নয়নের পাণী।
বাঁশীর শবদেঁ বড়ায়ি হারায়িলোঁ পরাণী ॥

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১,৪৬০.
মৈমনসিংহ গীতিকায় মোট কতটি গীতিকা ও রূপকথা অন্তর্ভুক্ত আছে?
  1. ৮টি
  2. ১০টি
  3. ১২টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১,৪৬১.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট পদ সংখ্যা কয়টি?
  1. ৪১০ টি
  2. ৪১৭ টি
  3. ৪১৮ টি
  4. ৪৫০ টি
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য।
- এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
-  রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ। 
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য। 
- মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া 
২)বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৬২.
'দৌলত কাজী' রচিত কাব্য কোনটি ?
  1. ক) লাইলী-মজনু
  2. খ) সতীময়না-লোরচন্দ্রানী
  3. গ) সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল
  4. ঘ) গুলে বকাওলী
ব্যাখ্যা
• দৌলত কাজী (আনু. ১৬০০-১৬৩৮):
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কাজীবংশে তাঁর জন্ম বলে অনুমান করা হয়।
- তিনি বাল্যকালেই নানা শাস্ত্রে শিক্ষা লাভ করেন; কিন্তু স্বদেশে স্বীকৃতি না পেয়ে আরাকানে চলে যান এবং আরাকানরাজের সভাকবির মর্যাদা পান।
- আরাকানরাজ শ্রীসুধর্মার (থিরি-থু-ধম্ম, ১৬২২-১৬৩৮) সমরসচিব আশরফ খানের পৃষ্ঠপোষকতা ও নির্দেশে দৌলত কাজী সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।
- তিনি হিন্দি কবি মিঁয়া সাধনের মৈনাসৎ ও মোল্লা দাউদের চান্দাইন কাব্য অনুসরণ করেন বলে ধারণা করা হয়।
- কাব্যটির দুই-তৃতীয়াংশ রচনার পর কবির মৃত্যু হলে আলাওল বাকি অংশ সমাপ্ত করেন (১৬৫৯)।
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী রোমা্যন্টিক আখ্যানমূলক কাব্য।
- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে। কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত।
- হিন্দি মূল কাব্যে রূপকের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা বর্ণনা করা হয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৬৩.
কোনটি জাত মহাকাব্য নয়?
  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) মহাভারত
  3. গ) ইলিয়াত
  4. ঘ) ওডিসি
ব্যাখ্যা
• জাত মহাকাব্যের একটি হচ্ছে ইলিয়াড। ইলিয়াত নামে কোনো জাত মহাকাব্য নেই।

পৃথিবীতে জাত মহাকাব্য ৪টি।
১. রামায়ণ,
২. মহাভারত,
৩. ইলিয়াড,
৪. ওডিসি।

• রামায়ণ:
- প্রাচীন ভারতীয় সূর্যবংশীয় রাজাদের কাহিনী অবলম্বনে মহর্ষি বাল্মীকি রচিত সংস্কৃত মহাকাব্য।
- কাব্যটি সপ্তখণ্ড সাত খণ্ডে বিভক্ত। চতুর্দশ শতকে  কৃত্তিবাস ওঝা প্রথম সংস্কৃত রামায়ণের বাংলা অনুবাদ করেন, যা কৃত্তিবাসী রামায়ণ নামে পরিচিত। মধুসুদন দত্ত রামায়ণের অংশ-বিশেষ অবলম্বনে তাঁর বিখ্যাত মেঘনাদবধ কাব্য রচনা করেন। সংস্কৃত রামায়ণকে পৃথিবীর আদি মহাকাব্য বলা হয়।

• মহাভারত: 
- কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস রচিত সংস্কৃত মহাকাব্য। প্রথম দিকে মহাভারত ‘জয়’ নামে পরিচিত ছিল। কবীন্দ্র পরমেশ্বর রচিত কবীন্দ্র মহাভারত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মহাভারত। এজন্য এর আরেক নাম হয় পরাগলী মহাভারত।

• ইলিয়াড এবং ওডিসি:
 প্রাচীন গ্রিক মহাকবি হোমার। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ থেকে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি সময়ে এশিয়া মাইনর উপকূলের কোনো এক জায়গায় তাঁর জন্ম হয়। কেউ কেউ তাঁকে ট্রয় যুদ্ধ (খ্রিস্টপূর্ব ১২০০) সময়ের মানুষ বলেও মনে করেন। তাঁর লেখা মহাকাব্য ইলিয়াড এবং ওডিসির জন্য তিনি বিখ্যাত। ইলিয়াড রচিত হয়েছে ট্রয় যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। ওডিসিয়াসের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে রচিত ওডিসি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং কালের কণ্ঠ।
১,৪৬৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কে?
  1. আলাওল 
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান 
  4. সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
শাহ্ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- 'ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য। তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ। 
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৪৬৫.
কোন কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত। এবং এই কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো: সাপের দেবী মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৬৬.
'যুগসন্ধিক্ষণের কবি' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. চণ্ডীদাস
  4. আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'যুগসন্ধিক্ষণের কবি' বলা হয়।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলার কারণ:
- ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ সূচিত হলেও বাংলা কাব্যসাহিত্যে ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে আধুনিকতা আরম্ভ হয় নি।
- এই ষাট বছর (১৮০১-১৮৬১) কাব্যে আধুনিকতায় পৌঁছার চেষ্টা চলেছে মাত্র।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের জীবনকাল ১৮১২ থেকে ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি বড় হয়েছেন কলকাতার নাগরিক পরিবেশে।
- সাংবাদিকতার পাশাপাশি কবিতাচর্চায় তিনি এ সময় মধ্যযুগের দেবদেবীর কথা বা কাহিনি নির্ভর কাব্যরচনা বর্জন করে ব্যক্তি অভিজ্ঞতায় ছোট ছোট কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর কবিতায় সমাজসচেতনতা বিশেষ করে মাতৃভূমির প্রতি দরদ অর্থাৎ দেশাত্মবোধ স্পষ্ট দেখা যায়।
- আবার কবিওয়ালাদের কাব্য ঢং, পয়ার ও ত্রিপদীর ব্যবহারও তাঁর কবিতায় ব্যাপকভাবে লক্ষযোগ্য।
- আসলে মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন- এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব।
- তাঁর মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য-বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা-বৈশিষ্ট্য দেখে তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৬৭.
বাংলা সাহিত্যে মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কাব্য- 
  1. গোরক্ষবিজয়
  2. গাজীবিজয়
  3. জয়নবের চৌতিশা
  4. লায়লী মজনু
ব্যাখ্যা

'জয়নবের চৌতিশা':
• শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়।
- তাঁর রচিত কাব্য 'জয়নবের চৌতিশা'।
- এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ।
- এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত।

শেখ ফয়জুল্লাহ:
- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

ফয়জুল্লাহর প্রধান তিনটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- সত্যপীরবিজয়,
- গোরক্ষবিজয় ও
- গাজীবিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১,৪৬৮.
'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা'র পালাসমূহের সংগ্রাহক ছিলেন-
  1. আশুতোষ চৌধুরী
  2. দীনেশচন্দ্র সে
  3. চন্দ্রকুমার দে
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৬৯.
'বাল্মীকি যেমন সংস্কৃতের আদি কবি কৃত্তিবাসও তেমনি বাঙলার আদি কবি।' - মন্তব্যটি করেছেন কে?
  1. গোপাল হালদার
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
কৃত্তিবাস ওঝা:
 - গঙ্গার তীরে নদীয়া জেলার ফুলিয়া গ্রামে মুখুটি বংশে ১৩৯৮, মতান্তরে ১৪০৩ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জন্ম।
- কৃত্তিবাস ওঝা চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি, 'শ্রীরাম পাঁচালি' তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা।
- কৃত্তিবাসের কৃতিত্ব হলো, তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম রামায়ণ  রচনা করেন।
- বাল্মীকির রামায়ণকে সামনে রাখলেও তিনি মহাকাব্যটি অনুবাদ করে মূলত পুনঃরচনাই করেন।
- তাঁর রামায়ণ এতোটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, ১৮০২-০৩ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুরের পাদ্রিরা তাদের নব প্রতিষ্ঠিত প্রেসে গ্রন্থটি মুদ্রণ করেন। এ কারণে গোপাল হালদার মন্তব্য করেছেন, 'বাল্মীকি যেমন সংস্কৃতের আদি কবি কৃত্তিবাসও তেমনি বাঙলার আদি কবি।'
- কৃত্তিবাসের রামায়ণে চরিত্রসমূহ বাঙালি ঘরোয়া আমেজে সকলের পরিচিত হয়ে উঠেছে।
- মধুসূদন দত্ত একটি সনেটে কবিকে 'কীর্তিবাস তুমি' বলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৭০.
'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্যের লেখক কে?
  1. গোবিন্দদাস
  2. মালাধর বসু 
  3. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. বৃন্দাবন দাস
ব্যাখ্যা

• মালাধর বসু: 
- মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।
- তিনি ১৫ শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে বর্ধমান জেলার কুলিন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর কবিত্ব শক্তির জন্য শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম  'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'।
- তাঁর একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শকাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
- এই কাব্যে ভগবত অনুসরণে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও তাঁর লীলা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৭১.
লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কোনটি?
  1. ছড়া
  2. ধাঁধা
  3. পালা
  4. প্রবাদ
ব্যাখ্যা
• লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি "ছড়া"।

• লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- লােকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৪৭২.
বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-চরিতামৃত
  2. শ্রীচৈতন্য-বন্দনা
  3. চৈতন্য-ভাগবত
  4. চৈতন্য-মঙ্গল
ব্যাখ্যা
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়। 
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'। 
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷ 
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১,৪৭৩.
’শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম খণ্ডের নাম কী?
  1. নৌকাখণ্ড
  2. বৃন্দাবন খণ্ড
  3. জন্মখণ্ড
  4. বংশী খণ্ড
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাশ।
- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৭৪.
বাংলা সাহিত্যে 'অবক্ষয় যুগ' বলে কাকে?
  1. প্রাচীনযুগকে
  2. প্রাচীনযুগের শেষ ও মধ্যযুগের শুরুর সময়কে
  3. মধ্যযুগকে
  4. মধ্যুযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের শুরুর সময়কে
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর থেকে আধুনিকতার যথার্থ বিকাশকাল পর্যন্ত  অর্থাৎ ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টির স্বল্পতা, রচনার পরিবেশ-পরিস্থিতি ও বৈশিষ্ট বিবেচনা করে এই পর্যায়কে একটা স্বতন্ত্র যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- কারও মতে এই যুগের পরিধি ১৭৬০ থেকে ১৮৩০ সাল অর্থাৎ ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব-পূর্বকাল পর্যন্ত। 
- মধ্যুযুগের শেষ ও  আধুনিকযুগের শুরুর এই সময়কে 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১,৪৭৫.
কোন কবি গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন?
  1. দৌলত উজির বাহরাম খান
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. আলাওল
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
শাহ মুহম্মদ সগীর:
- শাহ মুহম্মদ সগীর মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- আনুমানিক ১৪-এর শেষে থকে ১৫ শতকের মধ্যে তাঁর জন্ম।
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন।
- তাঁর রচিত ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।
- এ থেকে তাঁর আবির্ভাব কাল চৌদ্দ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগ বলে অনুমান করা হয়।
- মুহম্মদ সগীরই প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৭৬.
'রসিক নায়ক/ গুণীজন তোষক/ শ্রীযুক্ত আগুন/ দাতা' এই কবিতার চরণ কার রচনা?
  1. ক) ফকির লালন
  2. খ) পবন দাস বাউল
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা
কবি আলাওলের 'পদ্মাবতী' কাব্যের 'জীবন-তত্ত্ব' অংশের শেষ চরণে এই পংক্তিটি পাওয়া যায়:

"রসিক নায়ক, গুণীজন তোষক, শ্রীযুক্ত মাগন দাতা।"

এই চরণে কবি মানবজীবনের বিভিন্ন গুণাবলির প্রশংসা করেছেন। 

'পদ্মাবতী' কাব্যটি আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন।

উৎস: 'পদ্মাবতী' কাব্য।
১,৪৭৭.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কে আবিষ্কার করেন?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. বসন্তকুমার রায়
  3. দেবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৭৮.
'বন থেকে বেরুল টিয়ে সোনার টোপর মাথায় দিয়ে।' এটি কিসের উদাহরণ?
  1. ক) প্রবাদের
  2. খ) ছড়ার
  3. গ) উপমার
  4. ঘ) ধাঁধার
ব্যাখ্যা
'বন থেকে বেরুল টিয়ে সোনার টোপর মাথায় দিয়ে।' এটি ধাঁধার উদাহরণ যার উত্তর হচ্ছে আনারস। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,৪৭৯.
কোরেশী মাগন ঠাকুর রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  2. চন্দ্রাবতী
  3. পদ্মাবতী
  4. সংগীতমাধব
ব্যাখ্যা
• "চন্দ্রাবতী" কাব্য:
চন্দ্রাবতী কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর। তাঁর রচিত 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের একটিমাত্র পুথি পাওয়া গেছে। এটি লোককাহিনী আশ্রিত রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য। বর্ণনাধর্মী এ কাব্যে সাহিত্যিক গুণের অভাব থাকলেও মধ্যযুগের কাব্য হিসেবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। 

--------------------
• কোরেশী মাগন ঠাকুর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর (১৭শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি। চন্দ্রাবতী কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর এবং আরাকানের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দিক বংশজাত মাগন ঠাকুর একই ব্যক্তি ছিলেন এরূপ মনে করে তাঁর জীবনকথা আলোচনা করা হয়।

মাগন ঠাকুরের পিতা বড়াই ঠাকুর (শ্রীবড় ঠাকুর) ছিলেন আরাকানের একজন মন্ত্রী। রোসাঙ্গের অধিপতি নরপতিগি (১৬৩৮-৪৫) বৃদ্ধ বয়সে তাঁর একমাত্র কন্যার অভিভাবকত্বেরভার মাগন ঠাকুরের ওপর ন্যস্ত করেন। তাঁর মৃত্যুর পর রাজকন্যা মুখ্য পাটেশ্বরী হলে মাগন ঠাকুর মুখ্যপাত্রের (মুখ্যমন্ত্রীর) পদমর্যাদা লাভ করেন।

মাগন ঠাকুর গুণীর সমাদর করতেন এবং তিনি নিজেও ছিলেন নানা গুণের অধিকারী। বাংলা, ফারসি, বর্মি ও সংস্কৃত ভাষায় মাগন ঠাকুরের অগাধ পান্ডিত্য ছিল। সঙ্গীত ও অলঙ্কারশাস্ত্রেও তাঁর দখল ছিল। রোসাঙ্গের কবি আলাওল তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন এবং তাঁরই নির্দেশে 'পদ্মাবতী' (১৬৫২) ও 'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' (১৬৫৯) কাব্য রচনা করেন। 

অন্যদিকে, 
• 'সংগীতমাধব' সংস্কৃত নাটকের রচয়িতা গোবিন্দদাস। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৪৮০.
'লোকসাহিত্য' সংগ্রহে অবদান রেখেছেন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন:
দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির ইতিহাস প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি রচনা করেন কবিতা, উপন্যাস ও গল্প। সব মিলে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৬০।

- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৮১.
কার সম্পাদনায় ‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. সুকুমার সেন
  3. ড. মুহাম্মদ এনামুল হক
  4. মণীন্দ্রমোহন বসু
ব্যাখ্যা
• সেক শুভোদয়া:
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন।
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৪৮২.
'অবক্ষয় যুগ' বলা হয় কোন সময়কাল কে?
  1. ১৬৭০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত 
  2. ১৭০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত 
  3. ১৭৩০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত 
  4. ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত 
ব্যাখ্যা

কালবিচারে বাংলা সাহিত্যকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায। যথা:
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০০-১৮০০) ও
৩. আধুনিক যুগ (১৮০০- বর্তমান)।

মধ্যযুগ আবার তিনভাগে বিভক্ত। যথা:
১. আদি-মধ্যযুগ (১২০০-১৩৫০),
২. মধ্য-মধ্যযুগ (১৩৫০-১৭০০) ও
৩. অন্ত্য-মধ্যযুগ (১৭০০-১৮০০)।

- চর্যাপদের পরে প্রবাদ, বচন, ছড়া, ডাক ও খনার বচন ইত্যাদি কিছু কিছু কাব্যনিদর্শন থাকলেও চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো রচনা পাওয়া যায় না। তাই এ সময়টাকে (১২০১ ১৩৫০) কেউ কেউ 'অন্ধকার যুগ' বলে অভিহিত করেন। প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল পরিবর্তনের যুগ; ইসলাম ও ইসলামি সংস্কৃতির সংস্পর্শে এবং মুসলিম শাসকদের ভিন্নতর রাষ্ট্রীয় ও সমাজব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বঙ্গ জনপদে (বাংলাদেশে) তখন এক নতুন পরিবেশ ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটছিল। সে সময় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ছিল সৃজ্যমান অবস্থায় এবং চর্যার বঙ্গীয়-বৈশিষ্ট্যময় অপভ্রংশ ভাষা আরও বেশি মাত্রায় বাংলা হয়ে ওঠে।

- বাংলা সাহিত্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়কালকে যুগসন্ধিক্ষণ বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়, যা মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনস্থল।
যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪৮৩.
মঙ্গলকাব্যের কবি নন কে? 
  1. বলরাম দাস
  2. ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. বিপ্রদাস পিপিলাই
  4. নারায়ণ দেব
ব্যাখ্যা

• মঙ্গলকাব্যের কবি নন- বলরাম দাস। 

• 'বলরাম দাস' বৈষ্ণব সাহিত্য-রচয়িতা। বলরাম দাস ব্রজবুলি ও বাংলা উভয় ভাষাতে পদ রচনা করলেও তার বাংলা পদগুলিই সর্বোৎকৃষ্ট। 

• বৈষ্ণব পদাবলির উল্যেখযোগ্য কবি হলেন- বিদ্যাপতি, চণ্ডিদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস, বলরাম দাস। পদাবলি সাহিত্যের বিস্তৃত অঙ্গনে পরবর্তী কালে দীর্ঘদিন ধরে অগণিত পদকর্তা কবিতা রচনা করে গেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- বাসুঘোষ, জগদানন্দ, শশিশেখর, রায় শেখর, রায় বসন্ত, কবিরঞ্জন বা ছোট বিদ্যাপতি প্রমুখ।

---------------------
• মঙ্গলকাব্য:

- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত। এগুলো খ্রিস্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তিকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য।

- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল/অন্নদামঙ্গল। মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।

- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নারায়ণ দেব, বিজয় গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

- মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪৮৪.
চণ্ডীদাস কোন দেবীর ভক্ত ছিলেন?
  1. দুর্গা
  2. বাশুলীদেবী
  3. লক্ষ্মী
  4. সরস্বতী
ব্যাখ্যা

চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস চতুদর্শ শতকের শেষভাগে বীরভূমের নান্নুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা পদাবলির জনক। 
- তিনি চৈতন্য পূর্ববর্তী সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি ছিলেন।
- চণ্ডীদাস বাশুলীদেবীর ভক্ত ছিলেন।
- তিনি পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ কবি ও দুঃখের কবি হিসেবে পরিচিত।
- চণ্ডীদাসের পদাবলিতে প্রেম, বিচ্ছেদ, বেদনা ও যন্ত্রণার সুন্দর প্রকাশ থাকায় বাংলা সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে “দুঃখের কবি” আখ্যা দিয়েছেন।
- বাংলা পদাবলির যে সকল পদ বাঙালির হৃদয় স্পর্শ করেছে, তার অধিকাংশই চণ্ডীদাসের লেখা।
- তাঁর রচনাগুলোর মধ্যে রাধা–কৃষ্ণের প্রেম ও আধ্যাত্মিক অনুভূতিকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 
- চণ্ডীদাসের রচনা বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয়।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু উক্তি হলো:
• “সই, মেন ধরিব হিয়া আমার বঁধুয়া আন বাড়ি যায় আমার আঙিনা দিয়া,”
• “বহুদিন পরে বধূয়া এলে। দেখা না হইতে পরান গেলে,”
• “বধূ কী আর বলিব আমি মরণে জীবনে জনমে জনমে প্রাণনাথ হৈও তুমি,”
• “আমার পরান যেমতি করিছে তেমতি হউক সে,”
• “সই কে বা শুনাইলো শ্যাম নাম,”
• “শ্যামের পিরিতি চন্দনের রীতি ঘষিতে সৌরভময়।”

 - তাঁর জাত-পাতমুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বানী-
"সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই" 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,৪৮৫.
'ধনপতি' চরিত্রটি পাওয়া যায় কোন গ্রন্থে?
  1. ক) অন্নদামঙ্গল
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
- 'ধনপতি' চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। 

- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

অন্যদিকে,
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৮৬.
কবীন্দ্র পরমেশ্বর রচিত মহাভারত গ্রন্থটির নাম কী?
  1. বিজয়পাণ্ডবকথা
  2. ছুটি খানী মহাভারত
  3. ভারতমাতা
  4. শ্রীরামপাঁচালী
ব্যাখ্যা
মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন - বিজয়পাণ্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।

উল্লেখ্য,
- কবীন্দ্র পরমেশ্বরের পর শ্রীকর নন্দী মহাভারত অনুবাদ করেন (ছুটি খানী মহাভারত)
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৮৭.
একটি মঙ্গল কাব্যে সাধারণত কতটি অংশ থাকে?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৯টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের বিশ্বাসমতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে। 
- মঙ্গল কাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।  
-  মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পয়া যায়। 

• একটি সম্পূৰ্ণ মঙ্গলকাব্যের সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।  
- বন্দনা, 
- আত্মপরিচয়, 
- দেবখন্ড,  
- মর্ত্যখন্ড,  
- শ্রুতিফল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৮৮.
শেখ ফয়জুল্লাহ কত শতকের কবি?
  1. পনের শতক
  2. ষোলো শতক
  3. সতের শতক
  4. আঠার শতক
ব্যাখ্যা

শেখ ফয়জুল্লাহ:
- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্ম:
- গোরক্ষবিজয়,
- গাজীবিজয়,
- সত্যপীর,
- জয়নবের চৌতিশা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪৮৯.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলমান সাহিত্যিকদের উল্লেখযোগ্য রচনা কোনটি?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. জীবনী সাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৯০.
'মৈমনসিংহ গীতিকা'য় মোট কয়টি গীতিকা বা পালা স্থান পেয়েছে?
  1. ১২টি
  2. ১০টি
  3. ১৫টি
  4. ২২টি
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে, যথা:
- মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৪৯১.
শুকুর মাহমুদ রচিত কাব্যের নাম কী?
  1. ময়নামতির গান
  2. গোপীচন্দ্রের সন্যাস
  3. মীনচেতন
  4. গোরাক্ষ বিজয়
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনি বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

• নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৯২.
নিচের কোনটি জীবনী সাহিত্য?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. জঙ্গনামা
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. চৈতন্যমঙ্গল
ব্যাখ্যা
বাঙালীর জীবনে যেমন, বাঙলা সাহিত্যও তেমনই চৈতন্যদেবের প্রভাব অপরিসীম।
- তার জীবনী নিয়েই প্রথম বাংলা সাহিত্যে জীবনী সাহিত্য রচিত হয়।
- চেতন্যদেবের মৃত্যুর পর তার দুটি জীবনীগ্রন্থ লেখা হয় সংস্কৃত ভাষায়।

• বাংলা ভাষায় প্রথম চৈতন্যদেবের যে জীবনী-লেখা হয়, তার নাম চৈতন্যভাগবত।
- লেখক ছিলেন - বৃন্দাবন দাস।

• চৈতন্য দেবকে নিয়ে পরে যে গ্রন্থটি রচিত হয় সেটির নাম - চৈতন্যমঙ্গল।
- লেখক ছিলেন - লোচনদাস।

• চৈতন্যদেবের জীবনী হিসেবে সবচেয়ে বিখ্যাত যে গ্রন্থটি, তার নাম - চৈতন্যচরিতামৃত।
- লেখক ছিলেন - কৃষ্ণদাস কবিরাজ।

অন্যদিকে,
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
- গঠনগত বা আঙ্গিকগতভাবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একটি নাট্যগীতি বা বর্ণনাত্মক নাটকও বলা যায়।
- এখানে গীত বা গানের আকারে গাওয়া হত, আবার নাটকীয়তাও আছে। তাই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে নাট্যগীতি বলা যায়।
- উল্লেখ্য, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা সাহিত্যের প্রথম একক গ্রন্থ। এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গল মঙ্গলকাব্যে ধারার ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্য।
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট।

• 'জঙ্গনামা':
'জঙ্গনামা' মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধ বিষয়ক কাব্য। জঙ্গনামা বলতে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলী সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
- ফারসি কাব্য অবলম্বনে ফকির গরীবুল্লাহ সর্বপ্রথম জঙ্গনামা রচনা করেন। 
- জঙ্গনামার জনক ফকির গরীবুল্লাহ। 


উৎস; লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৪৯৩.
'নিরঞ্জনের রুষ্মা' কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) শূন্যপুরাণ
  2. খ) সেক শুভোদয়া
  3. গ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. ঘ) চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এক প্রকার চম্পুকাব্য।
- 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূণ্যপুরাণের অন্তর্গত একটি কবিতা।
- 'নিরঞ্জনের উষ্মা' অংশের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়- বর্ণ হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৯৪.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' - পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. গ) দ্বিজ কানাই
  4. ঘ) বড়ু চণ্ডিদাস
ব্যাখ্যা
'প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে  জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।' - আলোচ্য পঙক্তি টি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত 'আমার সন্তান' কবিতার অন্তর্গত। 

- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১,৪৯৫.
মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদিকবি কবি কে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. মানিক দত্ত
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গলের আদি কবি- কানা হরিদত্ত।

• কানাহরি দত্ত:

- কানাহরি দত্ত মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি ।
- কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে।
- তাতে একটি পঙক্তি আছে: 'হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।' কানাহরি দত্তের রচনা রোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রান্ত প্রাচীনতম পুথি।
- কানাহরি দত্তের সময়কাল: আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৯৬.
বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকাল কোন সময়কে ধরা হয়?
  1. ১৬১০-১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৭০০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৭৬০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৭৬০-১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

• যুগসন্ধিকাল ও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- আধুনিক যুগের প্রথম ভাগের কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত।
- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন, এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের আবির্ভাব।
- তাঁর মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা বৈশিষ্ট্য সমানভাবে লক্ষ্য করা যায় বলে তাঁকে যুগসন্ধির কবি বলা হয়।
- আবার, ভারতচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর থেকে আধুনিকতার যথার্থ বিকাশকাল পর্যন্ত অর্থাৎ ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টির স্বল্পতা, রচনার পরিবেশ-পরিস্থিতি ও বৈশিষ্ট বিবেচনা করে এই পর্যায়কে একটা স্বতন্ত্র যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- কারও মতে এই যুগের পরিধি ১৭৬০ থেকে ১৮৩০ সাল অর্থাৎ ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব-পূর্বকাল পর্যন্ত।
- মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের শুরুর এই সময়কে 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়েছে।
- তাই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধি এবং অবক্ষয় উভয় যুগের কবি বলা হয়।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৯৭.
অধিকাংশ বৈষ্ণব পদাবলী কোন ভাষায় রচিত হয়েছে?
  1. বাংলা
  2. ব্রজবুলি
  3. মৈথিলি
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

• বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশ পদ রচিত হয়েছে — বাংলা ও মৈথিলি ভাষার সংমিশ্রণে সৃষ্ট — এক প্রকার কৃত্রিম ভাষায়, যা — ব্রজবুলি ভাষা নামে পরিচিত।

• বৈষ্ণব পদাবলি সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস। সুতরাং বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা চণ্ডীদাস।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৯৮.
'মর্সিয়া' শব্দের অর্থ কী?
  1. শোক বা আহাজারি
  2. বেদনা মিশ্রিত কাব্য
  3. শোক কাব্য
  4. দুঃখ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• মর্সিয়া (বিশেষ্য পদ), 
- শব্দটি ফারসি থেকে আগত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- মৃত্যু উপলক্ষ্যে রচিত শোকগাথা। 
- কারবালার যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত শোকগাথা,
- মহরমে গীত শোকগাথা/ শোক কাব্য।

ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
কুলফি, কুস্তি, কোফতা, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
অভিগম্য অভিধান অনুসারে মর্সিয়া আরবি ভাষার শব্দ।

[অপশনে আরবি ও ফারসি উভয়টি থাকলে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানকে প্রাধান্য দিয়ে সঠিক উত্তর ফারসি গ্রহণ করতে হবে।]

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৪৯৯.
কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব 'কাহিনীকাব্য'?
  1. বৈষ্ণব পদাবলি
  2. খনার বচন
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। 
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- এ কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল প্রকার অকল্যাণ নাশ ও সর্ববিধ মঙ্গল লাভ হয় এরূপ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে মঙ্গলকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা,  চণ্ডী ও  ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে  মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।  
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫০০.
মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য-
  1. ক) ধর্মকেন্দ্রিকতা
  2. খ) মানবতা
  3. গ) দেশপ্রেম
  4. ঘ) লৌকিকতা
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মকেন্দ্রিকতা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়। যথা :
১. প্রাচীন যুগ
২. মধ্যযুগ
৩. আধুনিক যুগ

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্যহয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।