বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ১৪ / ২৮ · ১,৩০১১,৪০০ / ২,৭৬৪

১,৩০১.
নিচের কে লৌকিক দার্শনিক হিসাবে খ্যাত?
  1. সরদার ফজলুল করিম
  2. আরজ আলী মাতুব্বর
  3. লালন শাহ
  4. শাহ আবদুল করিম
ব্যাখ্যা

লৌকিক দার্শনিক হিসাবে খ্যাত -আরজ আলী মাতুব্বরের রচনার ভাববস্তু ছিলো - জনজীবনের চিন্তা চেতনা।
তার রচিত কয়েকটি গ্রন্থ -
- সত্যের সন্ধান,
- সৃষ্টি রহস্য,
- স্মরণিকা,
- অনুমান
- শয়তানের জবানবন্দি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৩০২.
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন-
  1. নওয়াজিশ খান
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. আলাওল
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
• ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
• সতের শতকের কবি দৌলত কাজী ‘সতীময়ান ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য রচনা করেন।
• রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধার্মার প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
• পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।

• কাব্যের কাহিনি সংক্ষেপ:
রাজা লোর আর রূপসী রানি ময়নাবতীর সুখের সংসার। বনবিহারে গিয়ে লোর এক যোগীর কাছে অপরূপা চন্দ্রানীর সংবাদ পায়। চন্দ্রানীর সাথে লোরের সাক্ষাত হয়। এবং চন্দ্রানীর স্বমীর সাথে লোরের যুদ্ধে হলে, যুদ্ধে চন্দ্রানীর স্বামী মারা যায়। পরবর্তীতে গোহারী রাজ্যের রাজা চন্দ্রানীর পিতা লোরকে গ্রহণ করে এবং পৌত্রলাভের আশায় তাদের বিয়ে দেন। লোর ময়নার কথা ভুলে চন্দ্রানীকে নিয়ে সংসার করে। লোর-চন্দ্রানীর এক পুত্র হয় এভাবে দিন যায়। ময়নাবতী স্বামীর বিরহেও সতীত্ব অক্ষুণ্ন রাখে এবং ১৪ বছর পর এক সুখপাখি ময়নাবতীর কথা লোরকে বর্ণনা করলে পুত্রের হাতে রাজত্ব দিয়ে লোর-চন্দ্রানীকে নিয়ে ময়নাবতীর কাছে যায় এবং লোর তাঁর দুই স্ত্রী নিয়ে জীবনযাপন করে বৃদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩০৩.
বাংলা সাহিত্যে কখন থেকে অনুবাদ কাব্যের সূচনা হয়?
  1. আধুনিক যুগে
  2. মধ্যযুগে
  3. প্রাচীন যুগে
  4. উত্তর-আধুনিক যুগে
ব্যাখ্যা

• বাংলা অনুবাদ কাব্যের সূচনা হয়— মধ্যযুগে।
-----------------------
• এক্ষেত্রে প্রধানত অনুবাদ হয়েছে:
ক) সংস্কৃত থেকে,
খ) হিন্দি সাহিত্য থেকে,
গ) আরবি-ফারসি সাহিত্য থেকে।
----------------
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অনুবাদ সাহিত্য:
- লায়লী মজনু পারসি কবি জামির লায়লী মজনু থেকে অনুবাদ করেছেন দৌলত উজির বাহরাম খান।
- মধুমালতী হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালতী কাব্য থেকে বাংলা অনুবাদ করেন মুহম্মদ কবীর।
- পদ্মাবতী হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সরি পদুমাবৎ কাব্য থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন আলাওল।
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- মহাভারত প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- মুহম্মদ কবির হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা ।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,৩০৪.
ফকির গরীবুল্লাহ্‌ পুঁথি সাহিত্যের কাব্যধারার সূত্রপাত করেন কোন গ্রন্থ রচনার মধ্যদিয়ে? 
  1. ইউসুফ-জুলেখা 
  2. আমীর হামজা
  3. মধুমালতী
  4. জৈগুনের পুথি
ব্যাখ্যা

• পুঁথি সাহিত্য:
- পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণির বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।

- এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত।

- হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ্‌ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) 'আমীর হামজা' রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন। গরীবুল্লাহর প্রথম কাব্য  ইউসুফ-জুলেখা সাধু বাংলায় রচিত। তিনি মিশ্র ভাষারীতিতে রচনা করেন সোনাভান, সত্যপীরের পুথি, জঙ্গনামা ও আমীর হামজা। 

- সপ্তদশ শতাব্দীর কবি সৈয়দ হামজা পুথি সাহিত্যের অন্যতম কবি। সৈয়দ হামজার প্রথম কাব্য মধুমালতী সাধু বাংলায় রচিত। এরপর তিনি মিশ্র ভাষায় রচনা করেন জৈগুনের পুথি (১৭৯৮) ও হাতেম তাই (১৮০৪) কাব্যদুটি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩০৫.
'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।' উক্তিটি মধ্যযুগের কোন কবির রচনা?
  1. বিদ্যাপতি 
  2. ভারতচন্দ্র রায় 
  3. জ্ঞানদাস 
  4. চণ্ডিদাস 
ব্যাখ্যা

• 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।' উক্তিটির রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।

• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।'
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।'
-' নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।'
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

১,৩০৬.
কার পৃষ্ঠপোষকতায় আলাওল 'পদ্মাবতী' রচনা করেন?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র রায়
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
পদ্মাবতী:
- এটি হচ্ছে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কোরেশী মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় আলাওল 'পদ্মাবতী' রচনা করেন।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দি পদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' এর কাব্যোনুবাদ। পদ্মাবতী দুটি পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান।
- দ্বিতীয় পর্বে রাণী পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৩০৭.
বৈষ্ণব পদাবলীর অবাঙ্গালী কবি কে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) জ্ঞানদাস
  3. গ) চণ্ডীদাস
  4. ঘ) গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলীর অবাঙ্গালী কবি হলেন বিদ্যাপতি।
বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহের সভাকবি।
বিদ্যাপতিকে ‘মিথিলার কবি’ বা ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
তাঁকে ‘কবি কণ্ঠহার’ উপাধি দেন রাজা শিবসিংহ।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১,৩০৮.
রাধার স্বামীর নাম কী?
  1. ক) কৃষ্ণ
  2. খ) নিমাই
  3. গ) অভিমন্যু
  4. ঘ) নন্দ গোপ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
- রাধার স্বামী ছিল নপুংশক (সম্পর্কে কৃষ্ণের মামা)।
- অভিমুন্যু ছাড়াও তাকে আইহন বা আয়ান ঘোষ বা আয়ান গোপ নামেও ডাকা হয়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩০৯.
বৈষ্ণব সাহিত্যের প্রকারভেদ নয় কোনটি?
  1. ক) পদাবলি
  2. খ) জীবনীকাব্য
  3. গ) চৈতন্যকাব্য
  4. ঘ) বৈষ্ণবশাস্ত্র
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথাঃ জীবনীকাব্য, বৈষ্ণবশাস্ত্র ও পদাবলি।

শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনী সাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়। বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত’।

সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৩১০.
মহাকাব্য “শাহনামা”র রচয়িতা-
  1. ক) ওমর খৈয়াম
  2. খ) ফেরদৌসী
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) শেখ সাদী
ব্যাখ্যা
‘শাহনামা’ মহাকাব্যের রচয়িতা পার্সিয়ান কবি ফেরদৌসী। অর্থাৎ এই মহাকাব্যটি পারস্যে রচিত একটি সাহিত্য।
উৎসঃ ব্রিটানিকা
১,৩১১.
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কোন মঙ্গলকাব্য ধারার প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী: 
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা।
- চণ্ডীমঙ্গলের প্রধান কবি হলেন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। তিনি ষোল শতকের কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য লেখেন।
- গণজীবনের করুণ চিত্র তাঁর কাব্যে তুলে ধরেন।
- কবির প্রতিভার স্বকৃতিস্বরূপ রাজা রঘুনাথ তাকে কবিকঙ্কন উপাধি প্রদান করেন। তাঁকে দুঃখ বর্ণনার কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

১,৩১২.
আরাকান রাজসভার কবি নন কে?
  1. আলাওল
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. দৌলত কাজী
  4. মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা
• আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য:
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা দান করেছিলেন।
- আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি — দৌলত কাজী।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করীম খোন্দকার, 
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তার প্রকৃত নাম - মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩১৩.
চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা কোনটি?
  1. মলুয়া
  2. কমলা
  3. বিদ্যাসুন্দর
  4. মহুয়া
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মলুয়া’ পালা:
- মলুয়া পালাটির রচয়িতা কে তা সঠিকভাবে জানা যায় না।
- তবে এর সূচনাতে মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর একটি বন্দনা আছে। তাতে অনেকে মনে করেন যে, পালাটির রচয়িতা চন্দ্রাবতী।
 
⇒ চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন। 

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য: 
- রামায়ণ
- মলুয়া
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
• ‘কমলা’ পালার রচয়িতা দ্বিজ ঈশান।
• 'মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।
• ‘বিদ্যাসুন্দর’ কবি কঙ্ক প্রণীত পালা।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩১৪.
পৌরাণিক ধারার মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. সারদামঙ্গল
  4. শিবমঙ্গল
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত করা হয়।
যথা:
১. খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা,
২. বিশুদ্ধ পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা।

• খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও ধর্মমঙ্গল। অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে: সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৩১৫.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ-আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি কাকে বলা হয়?
  1. ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরকেকে
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তীকে
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে
  4. মধূসূদন দত্তকে
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
- সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি সমাজের অবিচার, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার ও অন্যায়কর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। 
- ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যেসব পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন—
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ন। 
-------------------------------- 
• মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বিশেষভাবে পরিচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁকে ‘খাঁটি বাঙালি কবি’ বলে অভিহিত করেছেন।
- ১৮০১–১৮৬১- এই মধ্যবর্তী প্রায় ষাট বছর ছিল রূপান্তরের কাল। 
- এই সময় আধুনিকতার দিকে কেবল অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চলেছে।
- এই সময়েই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সাহিত্যিক আবির্ভাব ঘটে। 

- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র রায় এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন দত্ত—এই দুই যুগান্তকারী ব্যক্তিত্বের মধ্যবর্তী সময়ে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অবস্থান।
- তাঁর কাব্যে মধ্যযুগের বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনালক্ষণ একসঙ্গে বিদ্যমান থাকায় তাঁকে যথার্থভাবেই যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।
- তাঁর রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১,৩১৬.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কয়টি গীতিকা স্থান পেয়েছে
  1. ১০টি 
  2. ১১টি 
  3. ১২টি 
  4. ২৩টি 
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন। গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়। মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।

যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩১৭.
কোনটি 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্য?
  1. ইউসুফ-জোলেখা
  2. গুলে বকাওলী
  3. মধুমালতী
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্য:
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, দৌতল কাজী, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩১৮.
‘বিচিত্র নাগে করে দেবী গরায় সুতলি।
শ্বেত নাগে করে দেবী বুকের কাঁচলী।।
অনন্ত নারায়ণে পদ্মার মাথার মণি
বেত নাগে করে দেবী কাকালি কাছুনি।।- কোন কবির রচনা?
  1. ক) বিজয় গুপ্ত
  2. খ) কানা হরি দত্ত
  3. গ) বিপ্রদাস পিপিলাই
  4. ঘ) দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা

কবিতাটি মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরি দত্তের রচনা।
কানা হরি দত্ত পূর্ববঙ্গের অধিবাসী ছিলেন। চৌদ্দ শতকের প্রথম দিকে তাঁর আবির্ভাব ঘটেছিল বলে অনুমান করা হয়। কবি হরি দত্ত রচিত দেবীর সর্পসজ্জার বর্ণনায় প্রকৃত কবিত্ব ও পাণ্ডিত্যের পরিচয় মেলে।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

১,৩১৯.
'পদ্মাবতী' কোন গ্রন্থ অবলম্বনে রচিত?
  1. পদুমাবৎ
  2. সিকান্দারনামা
  3. তোহফা
  4. রাগতালনামা
ব্যাখ্যা
আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- কাব্যিক আবেগের সঙ্গে বৌদ্ধিক চেতনার মিশ্রণ থাকায় আলাওলকে ‘পন্ডিতকবি’ বলা হয়।
- এখন পর্যন্ত আলাওলের ৭ টি কাব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' গ্রন্থটি অনুবাদ করেন।

পদ্মাবতী:
- এটি একটি ইতিহাসমিশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
- পদ্মাবতী আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- নাগরিক শিক্ষা, বৈদগ্ধ্য রূপ ও অভিপ্রায় তাঁর এ কাব্যের ভাব-ভাষা-রুচিতে প্রভাব বিস্তার করেছে।
- ‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খন্ডে লেখা আছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩২০.
'হপ্তপয়কর' - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ্‌
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা

'হপ্তপয়কর' গ্রন্থ:
- গ্রন্থটির রচয়িতা আলাওল।
- হপ্তপয়কর গ্রন্থটি সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোন এক সময়ে রচিত।
- আরাকান রাজসভায় সৈয়দ আলাওল কাব্যটি রচনা করেন।
- রাজপুত্র বাহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তাঁর সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- তাঁর আনুমানিক জন্ম ১৬০৭ সালে।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

১,৩২১.
'মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলত সোনা।' — কোন কবির রচনা?
  1. বিদ্যাপতি
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. লালন শাহ 
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর — গ) রামপ্রসাদ সেন।
-------------------
• রামপ্রসাদ সেন:

- তিনি ছিলেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- তিনি আনুমানিক ১৭২০ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- রামপ্রসাদের গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।

- রামপ্রসাদের গান শুনে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা  অভিভূত হয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের উপাধি ছিল 'কবিরঞ্জন'। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই উপাধি দিয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।' - রামপ্রসাদ সেনের উক্তি।

• রামপ্রসাদের আর একটি বিখ্যাত গান:
'মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলত সোনা।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩২২.
নিচের কোন জন বৈষ্ণব কবিতার কবি নন?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) গোবিন্দচন্দ্র
  4. ঘ) জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
- বৈষক কবিতা বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
- চতুর্দশ শতকের শেষ দিক থেকে বৈষ্ণব কবিতা রচিত হতে থাকে। এর প্রধান পাত্র-পাত্রী রাধা ও কৃষ্ণ।

- বৈষ্ণবপদাবলির আদি পদকর্তা হলেন - বাঙ্গালি কবি জয়দেব।
- বৈষ্ণব কবিতার চার মহাকবি হলেন: বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, গোবিন্দদাস ও জ্ঞানদাস।

গোবিন্দচন্দ্র - নামে বৈষ্ণব পদাবলীর কোনো কবি ছিলেন না।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১,৩২৩.
বাংলা সাহিত্যের কোন সময়কালকে 'অন্ধকার যুগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়?
  1. ৬৫০ – ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১২০১ – ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৩৫১ – ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১২০১ – ১৪৫০ খ্রিস্টাব্দ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সময় বাংলা সাহিত্যের লিখিত কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি। তাই অনেক লেখক এই সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলে থাকেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগে কোন সাহিত্য কর্ম পাওয়া যায় নি এ কথাটি সত্য নয়।
- এ সমইয়ের প্রথমেই 'প্রাকৃতপৈঙ্গলের' মত প্রাকৃত ভাষার গীতিকবিতা গ্রন্থ সংকলিত হয়।

এ সময়ের অন্যান্য সাহিত্যকর্ম:
- রামাই পণ্ডিতের 'শূন্যপুরাণ' এবং 'কলিম জালাল' বা 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'
- ডাক ও খনার বচন
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া'

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩২৪.
'গোপীচন্দ্রের গান' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. ক) মঙ্গলকাব্য
  2. খ) অনুবাদ সাহিত্য
  3. গ) নাথসাহিত্য
  4. ঘ) মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য  নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। 
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনী হলো শেখ ফয়জুল্লাহর গোরক্ষবিজয়।
- রাজা মানিকচন্দ্রের গীত, ময়নামতীর গান বা  গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনী।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।
- এতে ধর্মীয় মতবাদ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার চেয়ে কাব্যগুণ প্রাধান্য লাভ করেছে। 
- গোরক্ষবিজয়ের চেয়ে ময়নামতীর গান বা  গোপীচন্দ্রের গানে মানবিক আবেদন অপেক্ষাকৃত বেশি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩২৫.
'মুক্তল হোসেন' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. লোকসাহিত্য
  2. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  3. মর্সিয়া
  4. নাথসাহিত্য
ব্যাখ্যা
•'মুক্তল হোসেন' কাব্য:
- 'মুক্তল হোসেন' মুহম্মদ খান রচিত ফারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।
- মুহম্মদ খান 'মক্তুল হোসেন' কাব্য রচনা করে যথেষ্ট খ্যাতি লাভ করেছিলেন।
- ১৬৪৫ সালে 'মক্তুল হোসেন' কাব্য রচিত হয়। এই কাব্যটি ফারসি 'মক্তুল হোসেন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- কবির বৃদ্ধ অবস্থায় এটি রচিত। কাব্যটিতে কবি প্রতিভার উৎকর্ষের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে।

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৩২৬.
প্রথম বাঙালি কবি বিবেচনা করা হয় কাকে?
  1. ক) মীননাথ
  2. খ) ভুসুকুপা
  3. গ) শবরপা
  4. ঘ) লুইপা
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটিতে ''চর্যাপদের প্রথম বাঙালি কবি'' কে সেটা জানতে চাওয়া হয়নি। বরং ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রথম বাঙালি কবি কে সেটা জানতে চাওয়া হয়েছে।
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন,
১) শবর পা চর্যাপদের আদি কবি।
২) মৎস্যেন্দ্রনাথ তথা মীননাথ প্রথম বাঙালি কবি। মীননাথের চর্যাপদে কোন পদ নেই। ২১ নং চর্যার টীকাতে কেবল ৪টি পঙক্তির উল্লেখ রয়েছে।

এটা নিয়ে অবশ্য বিভেদ আছে। যেমনভাবে - বিভেদ আছে প্রাচীন ও মধ্য যুগের আরও অনেক তথ্য নিয়ে। তবে, প্রশ্নে স্পেসিফিক তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
তাই, উত্তর পুরোপুরি ঠিক আছে।

সুত্র: [বাংলা সাহিত্যের কথা - ১ম খন্ড ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, বাংলা সাহত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল হক]
১,৩২৭.
‘কালকেতু’ কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩২৮.
কোন রাজার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগের সূচনা হয়?
  1. গোপাল
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. সম্রাট আকবর
  4. সিরাজউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ রচিত হয়েছিলো ৯৫০ - ১২০০  অব্দের মধ্যে। 
- এর পরপরই বাংলা সাহিত্যে নেমে এসেছিলো করুণ অন্ধকার, সে আঁধার প্রায় দেড়শো বছর টিকেছিলো। 
- ১২০০-১৩৫০ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে লেখা কোন সাহিত্য আমাদের নেই। 
- এই জন্য বাংলা সাহিত্যে এই সময়টাকে বলা হয় অন্ধকার যুগ।
- ১২০০ থেকে ১২০৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে বাঙলায় আসে মুসলমানেরা।
- অনেকে মনে করেন মুসলমানেরা এত অত্যাচার উৎপীড়ন চালিয়েছিলো যে কারো মনে সাহিত্যের কথা জাগে নি। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১,৩২৯.
‘গুণরাজ খাঁ’ উপাধি কোন কাব্যের জন্য দেওয়া হয়?
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন 
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণবিজয়
  3. গ) শূন্যপুরাণ
  4. ঘ) রামায়ণ
ব্যাখ্যা
‘গুণরাজ খাঁ’ উপাধি শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্যের জন্য দেওয়া হয়।
- মালাধর বসু সংস্কৃত শ্রীমদ্ভাগবত অবলম্বনে পয়ার ছন্দে কৃষ্ণলীলা বিষয়ক উপাখ্যান  শ্রীকৃষ্ণবিজয় রচনা করেন ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। এই কাব্যের জন্য গৌড়েশ্বর তাঁকে ‘গুণরাজ খাঁ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- এটি ‘মঙ্গল’ বা ‘বিজয়’ জাতীয় পাঁচালি বা আখ্যানকাব্য হিসেবে পরিচিত তাই এর অন্য নাম গোবিন্দমঙ্গল বা গোবিন্দবিজয়।
- এই পাঁচালিকাব্য বাংলার অনুবাদ শাখার ও একটি প্রাচীনতম নিদর্শন বলে অনেকে মনে করেন।
- শ্রীকৃষ্ণবিজয় মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) রচিত একটি আখ্যানকাব্য। এটি সংস্কৃত ভাগবতের দশম
ও একাদশ অধ্যায় অনুসরণে রচিত।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩০.
'কাশিমের লড়াই' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) হায়াত মাহমুদ
  2. খ) আলাওল
  3. গ) বাহারাম খান
  4. ঘ) শেরবাজ
ব্যাখ্যা
কবি শেরবাজ চৌধুরীর আদি নিবাস ত্রিপুরা জেলায়। তিনি সতের শতকের শেষার্ধের কবি বলে অনুমান করা হয়। তাঁর রচিত কাব্য কাশিমের লড়াই। মহররমের একটি ক্ষুদ্র বিবরণী এ কাব্যে স্থান পেয়েছে। তাঁর অন্যান্য কাব্য- ফক্করনামা বা মল্লিকার হাজার সওয়াল, ফাতেমার সুরতনামা। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,৩৩১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম জীবনীগ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-মঙ্গল
  2. চৈতন্য-পাদবলি
  3. চৈতন্য-ভাগবত
  4. চৈতন্য-চরিতমৃত
ব্যাখ্যা

পরীক্ষা চলাকালীন অপশনে 'চৈতন্য-ভাগবত' এর পরিবর্তে 'চৈতন্য-ভাগতব' ছিল। 
বিষয়টি নজরে আসায় সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। 
-------------- 

চৈতন্য-ভাগবত:
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- নিত্যনন্দ প্রভুর উৎসাহে চৈতন্যদেবের মৃত্যুর পনের বছরের মধ্যেই গ্রন্থটি রচিত বলে পণ্ডিতগণ মনে করেন।
- চৈতন্যদেবের জীবতে অনুচরদের মুখ থেকে তথ্য বৃত্তান্ত সংগ্রহ করে এই জীবনী রচিত হয়েছিলো।

অন্যদিকে,
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৩৩২.
'মধুমালতী' কাব্যের কাহিনী কোন অঞ্চলের?
  1. পারস্য
  2. গ্রিক
  3. ভারতীয়
  4. আরবীয়
ব্যাখ্যা

'মধুমালতী' কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৩৩.
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল-
  1. ক) বৈষ্ণব পদাবলি
  2. খ) মঙ্গলকাব্য
  3. গ) রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. ঘ) নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলি।
'হুমায়ুন আজাদের ভাষায় - রাধা ও কৃষ্ণকে নিয়ে মধ্যযুগে সবচেয়ে সৌরভময় ফুল ফুটেছিলো৷ সে ফুলের নাম বৈষ্ণব কবিতা। বৈষ্ণব কবিতা বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। একে যদি আলোর সাথে তুলনা করি তাহলে বলবো মধ্যযুগে এমন আলো আর জ্বলে নি।'
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ
১,৩৩৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে অধ্যাপনা করেন কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুন্শী‌
  2. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. জোশুয়া মার্শম্যান
  4. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
চণ্ডীচরণ মুন্শী‌:
- চণ্ডীচরণ মুন্শী‌ অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালী লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১,৩৩৫.
'চাঁদ সওদাগর' বাংলা কোন কাব্যধারার চরিত্র?
  1. ক) চণ্ডীমঙ্গল
  2. খ) মনসামঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'চাঁদ সওদাগর'- মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যধারার চরিত্র।

মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল  মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
- মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- চাঁদ সওদাগর, সনকা, বেহুলা, লখিন্দর। 

তাছাড়া, 
চন্ডীমঙ্গলের কাব্যের চরিত্র - কালকেতু, ফুল্লরা, ভাড়ুদত্ত, মুরারিশীল।
ধর্মমঙ্গল কাব্যের চরিত্র -কর্পূর সেন, মহামদ পাত্র।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র - ঈশ্বরী পাটনী, হীরা মালিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৩৬.
'কাফনচোরা' পালাটি কোন লোকসাহিত্যের অন্তর্গত?
  1. পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
  2. ময়মনসিংহ
  3. নাথ গীতিকা
  4. রূপকথা
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- প্রধান সংগ্রাহক হলেন - চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন,  আশুতোষ চৌধুরী,  জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন। 

পূর্ববঙ্গ-গীতিকার উল্লেখযোগ্য পালা:
- ধোপার পাট,
- মইষাল বন্ধু,
- কাঞ্চন মালা,
- কমলা রানীর গান,
- মদনকুমার ও মধুমালা,
- নেজাম ডাকাতের পালা,
- দেওয়ান ঈশা খাঁ,
- কাফনচোরা,
- ভেলুয়া,
- হাতিখেদা,
- আয়নাবিবি,
- কমল সদাগর, 
- গোপিনী-কীর্তন,
- সুজা-তনয়ার বিলাপ,
- নূরুন্নেছা ও কবরের কথা,
- পরীবানুর হাঁইলা ইত্যাদি।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
১,৩৩৭.
'তরজা' কী?
  1. পাঁচালীর বিবর্তিত রূপ
  2. কবিগান জাতীয় লোকসংগীত
  3. প্রার্থনা সংগীত বিশেষ
  4. এক প্রকার সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• 'তরজা': 
- তরজা প্রচলিত পল্লিসঙ্গীত। এটি প্রশ্নোত্তরমূলক একপ্রকার লোকগীতি/লোকসংগীত।
- পরিবেশনার পদ্ধতি কবিগানের অনুরূপ। তবে এর বিষয় ও ব্যাপ্তি কবিগানের চেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত।

- বাংলায় তরজা গানের প্রচলন ছিল প্রাচীনকাল থেকেই, তবে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে মধু ঠাকুর ও তারক পাল নামে দুই কবিয়াল এ গানকে জনপ্রিয় করে তোলেন।
- আরবি ‘তরজিবন্দ’ (অর্থ কবিতার চরণ যা কবিতায় ঘুরে ঘুরে আসে) শব্দ থেকে তরজা শব্দের উৎপত্তি বলে মনে করা হয়; কেউ কেউ অবশ্য একে তর্জের দেশিয় রূপ বলে মনে করেন।
- এ গানে দুটি দল থাকে এবং দুটি দলে থাকে দুজন কবিয়াল ও তাদের সহকারিবৃন্দ।
- গানের প্রথমে থাকে দেবস্ত্ততি, তারপর সরস্বতী বন্দনা এবং শেষে আসর বা সভা বন্দনা। চাপান ও উতোর নামে এ গানের দুটি অংশ।
- সভা বন্দনার পর কবিয়ালদ্বয় গানের মাধ্যমে প্রশ্নোত্তর আকারে পরস্পরের সঙ্গে তর্ক করে।
- চাপান অংশে একজন প্রশ্ন করে এবং উতোর অংশে অন্যজন তার উত্তর দেয়। তরজা গানের সঙ্গে অনুষঙ্গ বাদ্যযন্ত্র হিসেবে ঢোল ও কাঁসর বাজানো হয়। 

উল্লেখ্য, 
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
তরজা, তর্জা (বিশেষ্য): 
অর্থ: লোকসঙ্গীতবিশেষ যাতে দুই দলের মধ্যে সদ্য-সদ্য গান রচনা করে উত্তর-প্রতু্যত্তর চলে, কবির লড়াই বা কবিগানজাতীয় সঙ্গীত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৩৮.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে স্বীকৃত-
  1. রামায়ণ
  2. মহাভারত
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।

- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড় চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড় চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়। কবি বাশুলি ভক্ত ছিলেন।

- আবিষ্কর্তা ও সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় প্রাচীন বৈষ্ণব লেখকদের ইঙ্গিত অনুসরণ করে গ্রন্থের নামকরণ করেন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। অবশ্য পুথিতে প্রাপ্ত একটি চিরকুটে 'শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ'লেখা থাকায় অনেকে গ্রন্থটিকে 'শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ' নামকরণের পক্ষপাতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৩৯.
কোনো সাহিত্য রচনা না করেও কার নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে?
  1. রামায়ণ
  2. রামাই পণ্ডিত
  3. কালিকামঙ্গল
  4. শ্রীচৈতন্য
ব্যাখ্যা

• শ্রীচৈতন্যেদেব ও বাংলা সাহিত্য:
- শ্রীচৈতন্যেদেব বাংলা সাহিত্যে একটি পঙ্‌ক্তি না লিখেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে।  

- শ্রীচৈতন্যের প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। 
- শ্রীচৈতন্যের ডাকনাম নিমাই।  
- শ্রীচৈতন্যেদেবের  জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলা জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।  
- শ্রীচৈতন্যেদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৪০.
'কবিকণ্ঠহার, নব কবিশেখর' উপাধিতে ভূষিত করা হয় মধ্যযুগের কোন কবি কে?
  1. জয়দেব
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. বিদ্যাপতি
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি বাঙালি না হয়েও অথবা বাংলায় কবিতা রচনা না করেও 'বাঙালি বৈষ্ণবের গুরুস্থানীয়, রসিক বাঙালির শ্রদ্ধেয় কবি, বৈষ্ণব সহজিয়া সাধকদের নবরসিকের অন্যতম।'
- 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত এই বিস্ময়কর প্রতিভাশালী কবি একাধারে কবি, শিক্ষক, কাহিনিকার, ঐতিহাসিক, ভূবৃত্তান্ত-লেখক ও স্মার্ত নিবন্ধকার হিসেবে ধর্মকর্মের ব্যবস্থাদাতা ও আইনের প্রামাণ্য গ্রন্থের লেখক ছিলেন। তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল-নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।

- বিদ্যাপতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তাঁর কবিতায় কিছু বলেন নি। বিভিন্ন গবেষকের তথ্য থেকে জানা যায় বিদ্যাপতি দ্বারভাঙ্গা জেলার অন্তর্গত বিসফী নামক গ্রামে ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। বিদ্যাপতির জীবনকথা মিথিলার রাজবংশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িত ছিল।

- বিদ্যাপতি ভারতচন্দ্রের মতই নাগরিক জীবনের কবি। বিদ্যাপতির কবিতা রসজ্ঞ রাজন্যবর্গ ও রাজসেবক কর্মচারিগণের রসতৃষ্ণা মিটানোর জন্য রচিত হয়েছিল। কবি, রসিক, পণ্ডিত ও ভাষার যাদুকর বিদ্যাপতি সংস্কৃত অবহটঠ ও মৈথিল বুলিতে তাঁর জ্ঞান, চিন্তা, রসবোধ ও কাব্যকুশলতার সার্থক পরিচয় দান করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৩৪১.
'ধনপতি সদাগর' কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১.  ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা

• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:

- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রথম/ আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়দত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৪২.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. ইউসুফ-জোলেখা
  2. গুলে বকাওলী
  3. মধুমালতী
  4. লায়লী মজনু
ব্যাখ্যা
শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমাণ্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম  ইউসুফ-জোলেখা।

ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়িা।
১,৩৪৩.
মধ্যযুগের সাহিত্যের কোন ধারাটি অধিক সমৃদ্ধ?
  1. বৈষ্ণব সাহিত্যধারা
  2. জীবনী সাহিত্যধারা
  3. নাথ সাহিত্যধারা
  4. অনুবাদ সাহিত্যধারা
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের সাহিত্যধারা:
- বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের ব্যাপ্তিকাল ছিল ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যছিল ধর্মকেন্দ্রিকতা।যেখানে ধর্মটাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই ছিল গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ। 'কানু ছাড়া গীত নাই' উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে লোক সাহিত্যধারা ছিল ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৪৪.
কবি আলাওল তাঁর 'পদ্মাবতী' কাব্য কার নির্দেশে রচনা করেন?
  1. কেরোশী মাগন ঠাকুর
  2. গিয়াস উদ্দীন আজম শাহ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী কেরোশী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

উল্লেখ্য,
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পদ্মাবতী একটি নাটক।

অন্যদিকে,
• 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
• মুহম্মদ কবীর মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান রচিয়তা। ১৫৮৮ সালে 'মধুমালতী' নামে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনা করেন।
• লাইলী-মজনু কাব্যের রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খাঁ।

• আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

• আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না,
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৩৪৫.
'মালিনী' কোন মঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।'
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।'
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।'
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪৬.
কাকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা বলা হয়?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. কবি কঙ্ক
  4. দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
⇒ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা।
- চণ্ডীমঙ্গলের প্রধান কবি হলেন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। তিনি ষোল শতকের কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য লেখেন।
- গণজীবনের করুণ চিত্র তাঁর কাব্যে তুলে ধরেন।
- কবির প্রতিভার স্বকৃতিস্বরূপ রাজা রঘুনাথ তাকে ‘কবিকঙ্কন’ উপাধি প্রদান করেন।
- তাঁকে দুঃখ বর্ণনার কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৪৭.
মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয় কাকে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. দৌলত কাজী
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া কাব্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'মর্সিয়া সাহিত্য' নামে এক ধরনের শোককাব্য বিস্তৃত অঙ্গন জুড়ে ছড়িয়ে আছে। 'মর্সিয়া' কথাটি আরবি এর অর্থ শোক প্রকাশ করা।
- আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত হয়।
- আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়া কাব্য ফারসি সাহিত্যে স্থান পায়।
- ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে ফারসি ভাষায় মর্সিয়া প্রচলিত হয় এবং পরে উর্দু ভাষাতেও তার প্রসার ঘটে।
- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, 'যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।
- শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। তার রচিত কাব্য জয়নবের চৌতিশা। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত।
- মর্সিয়া সাহিত্যের প্রধান কবি- ফকির গরীবুল্লাহ্।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৩৪৮.
’শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের অংশ নয় কোনটি? 
  1. নৌকা খণ্ড
  2. হার খণ্ড
  3. রাধা বিরহ
  4. প্রণয় খণ্ড
ব্যাখ্যা

• ’শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের অংশ নয় - ঘ) প্রণয় খণ্ড। 

• "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্য:
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি। কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।
- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে খণ্ডিতপদসহ মোট পদের সংখ্যা ৪১৮টি। পুঁথিতে সংস্কৃত শ্লোক আছে ১৬১টি।
- পুঁথির পাতার সংখ্যা ২২৬, অতএব পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৫২; এর মধ্যে মাঝের মোট ৪৫ পৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি। ৪৫ পৃষ্ঠা বাদ গেলে পুঁথির প্রাপ্ত পৃষ্ঠার সংখ্যা ৪০৭।
- পুঁথির লিপি তিন হাতের লেখা। ৪১৮টি পদের মধ্যে কবির ভণিতা আছে ৪০৯টি।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মোট তের খণ্ডে বিভক্ত। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেের খণ্ডগুলো হলো-
- জন্মখণ্ড, 
- তাম্বুলখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড, 
- ভারখণ্ড, 
- ছত্রখণ্ড, 
- বৃন্দাবনখণ্ড,
- কালিয়দমনখণ্ড, 
- যমুনাখণ্ড, 
- হারখণ্ড, 
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড ও 
- রাধাবিরহ।

অর্থাৎ, প্রণয় খণ্ড - নামে কোন খণ্ড শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে নেই। সুতরাং, সঠিক উত্তর - প্রণয় খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১,৩৪৯.
পুঁথি সাহিত্যের ভাষা কিরূপ?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) ফারসি
  3. গ) হিন্দি
  4. ঘ) মিশ্র
ব্যাখ্যা
পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য।
- আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুথি (বা পুঁথি) শব্দের উৎপত্তি ‘পুস্তিকা’ শব্দ থেকে। এ অর্থে পুথি শব্দদ্বারা যেকোনো গ্রন্থকে বোঝালেও পুথি সাহিত্যের ক্ষেত্রে তা বিশেষ অর্থ বহন করে।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। 
- পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন।
- রেভারেন্ড জেমস  লং এ ভাষাকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা’, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা সাহিত্য’।
- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়।
- গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে ‘মিশ্র ভাষারীতির কাব্য’ বলে অভিহিত করেন।

- ড. আনিসুজ্জামান তাঁর রচিত 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' গ্রন্থে এই শ্রেণির কাব্যের নাম সম্পর্কে বলেছেন - 
"কলকাতার সস্তা ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত হয়ে এইধারার কাব্য দেশময় প্রচারিত হয়েছিল বলে বটতলার পুঁথি নামেও একে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চলেছে।" 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫০.
নিম্নলিখিত রসগুলোর মধ্যে কোনটি বৈষ্ণব পদাবলির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. শান্তরস
  2. করুণরস
  3. দাস্যরস
  4. বাৎসল্যরস
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল। বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস
৫. মধুররস।

এখানে,
করুণরস - নামে কোন রস নেই।

• মধুর রস’কে শৃঙ্গার রসও বলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি হুমায়ুন আজাদ।
১,৩৫১.
পূর্ববঙ্গ গীতিকার সংগ্রাহক কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. সুকুমার সেন
  3. চন্দ্রকুমার দে
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা: 
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।  
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৩৫২.
দোভাষী পুঁথি সাহিত্যের প্রথম ও সার্থক কবি কে?
  1. ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. খ) রাধারমণ গোঁফ
  3. গ) ফকির গরীবুল্লাহ
  4. ঘ) রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা

- দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
- ফকির গরীবুল্লাহ না থাকলে উত্তর হবে সৈয়দ হামজা।
- মর্সিয়া‌ সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৩৫৩.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রের সংগৃহীত রূপকথার সংকলন নয় কোনটি?
  1. দাদা মশায়ের থলে
  2. ঠাকুরমার ঝুলি
  3. ঠানদিদির ঝুলি
  4. ঠাকুরদাদার ঝুলি
ব্যাখ্যা
- "ঠানদিদির ঝুলি" দক্ষিণারঞ্জন মিত্রের সংগৃহীত রূপকথার সংকলন নয়। 

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র রচিত রূপকথার গ্রন্থ হচ্ছে- ঠানদিদির থলে।

------------------------
• ঠাকুরমার ঝুলি:
- 'ঠাকুরমার ঝুলি' বাংলাদেশের প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন।
- রূপকথার সাথে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্যও আছে।
- কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনী বর্ণিত হয়েছে এই গ্রন্থে।
- এ গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- গ্রন্থটি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- তিনি ঢাকা জেলার উলাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিশু সাহিত্যিক ও লোক সংগ্রাহক হিসেবে খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
- তিনি 'সুধা' নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত সংগৃহিত কাহিনি গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি
- ঠাকুরদাদার ঝুলি
- দাদা মশায়ের থলে
- ঠানদিদির থলে।
- খোকা বাবুর খেলা।
- আমাল বই।
- কিশোরদের মন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫৪.
জ্ঞানদাসকে আর কী নামে ডাকা হতো? 
  1. গোবিন্দ দাস
  2. শ্রীমঙ্গল
  3. মদনমোহন
  4. শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা

• জ্ঞানদাস:
জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাঁদড়া গ্রামে এক মঙ্গল-ব্রাহ্মণ বংশে তাঁর জন্ম।
এজন্য তিনি — মঙ্গল ঠাকুর, শ্রীমঙ্গল, মদন-মঙ্গল প্রভৃতি নামেও পরিচিত ছিলেন।

- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

উল্লেখ্য,
পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

১,৩৫৫.
'কৃষ্ণ গুণার্ণব' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
দ্বিজ বংশীদাস:
- তিনি ষোড়শ শতাব্দীর কবি।
- তিনি পাতোয়ারি গ্রাম, কিশোরগঞ্জ এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সংস্কৃত, পুরাণ, আগম, তন্ত্রাদি শাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন। তিনি 'পদ্মাপুরাণ' বা 'মনসামঙ্গল' কাব্যের অন্যতম প্রধান কবি।
- তিনি তাঁর কাব্যে বেহুলার দুঃখের চিত্র ও চাঁদ সওদাগরের চরিত্রের দৃঢ়তা, দৃঢ়তার সঙ্গে অঙ্কন করেন।
- দ্বিজ বংশীদাস রচিত অন্য কাব্যগুলো: কৃষ্ণ গুণার্ণব, রামসীতা ও চণ্ডী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৫৬.
‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থটি কোন ভাষার মিশ্রণে রচিত?
  1. সংস্কৃত ও ফারসি
  2. বাংলা ও সংস্কৃত
  3. বাংলা ও পালি
  4. বাংলা ও ফারসি
ব্যাখ্যা
সেক শুভোদয়া:
- হলায়ুধ মিশ্র ছিলেন রাজা লক্ষ্মণ সেন এর সভাকবি।
- 'সেক শুভোদয়া' হলো বাংলা এবং সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি চম্পুকাব্য।
- এর রচনাকাল ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে। গদ্য-পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মন সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজীর অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- 'শেখের শুভোদয়' অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৫৭.
বাংলা লোক সাহিত্যে নিচের কোনটি 'কর্মসঙ্গীত' নামে পরিচিত?
  1. সারি গান
  2. গম্ভীরা
  3. লেটো গান
  4. আলকাপ গান
ব্যাখ্যা
- সারি গান  এক প্রকার  লোকসঙ্গীত, যা শ্রমসঙ্গীত বা কর্মসঙ্গীত নামেও পরিচিত।
- নৌকার মাঝি-মাল্লাদের গান হিসেবেই এর প্রধান পরিচয়।
- মাঝিরা সারিবদ্ধভাবে বসে বৈঠা টানার তালে তালে এ গান গায় বলেই এর নাম হয়েছে সারি গান।
- দলবদ্ধভাবে গানের তালে তালে কাজ করলে শ্রম লাঘব হয়, কাজে উদ্দীপনা বাড়ে এবং কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়।
- এ কারণে শ্রমিকদের মধ্যে সারি গানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
- সারি গানের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় মধ্যযুগের কবি বিজয়গুপ্তের পদ্মাপুরাণে।
- সেখানে  সঙ্গীত অর্থেই ‘সারি’ শব্দের প্রয়োগ হয়েছে।
- পরবর্তীকালে মোগল নৌ-সেনাদের নৌকাবাইচের অনুকরণে গ্রামবাংলায়  নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার প্রচলন হলে তাতে এ গানের প্রসার ঘটে। 
উৎস : বাংলা পিডিয়া।
১,৩৫৮.
‘গোর্খবিজয়’ নাথ সাহিত্যের রচয়িতা কে?
  1. ভবানী দাস
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. শ্যামাদাস সেন
  4. ভীমসেন রায়
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- ‘গোরাক্ষ বিজয়’ এর রচয়িতা - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- ‘গোপীচন্দ্রের সন্যাস’ এর রচয়িতা - শুকুর মাহমুদ।
- ‘মীনচেতন’ এর রচয়িতা - শ্যামাদাস সেন।
- ‘ময়নামতির গান’ এর রচয়িতা - ভবানী দাস।
- ‘গোর্খবিজয়’ এর রচয়িতা - ভীমসেন রায়।

• নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫৯.
সৈয়দ সুলতান রচিত 'নবীবংশ' গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড কোনটি? 
  1. রসুল চরিত
  2. জ্ঞানপ্রদীপ
  3. সত্যপীরের পুথি
  4. জ্ঞানচৌতিশা
ব্যাখ্যা
- 'নবীবংশে'র দ্বিতীয় খণ্ডের নাম- রসুল চরিত। 

সৈয়দ সুলতান: 
- সৈয়দ সুলতান ১৫৫০ সালে চট্টগ্রামের পটিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি। 
- তিনি পীর সৈয়দ হাসানের ভক্ত ছিলেন। 
- 'নবীবংশ' গ্রন্থটি রচনার জন্য বিখ্যাত হয়েছেন। 
- 'নবীবংশ' কাব্যটি পারসি কাব্য কাসাসুল আম্বিয়া কাব্যের অনুসরণে রচিত হয়। 
- এটি ১৫৮৪ সালে রচনা করেন যা হযরত মুহম্মদের জীবনীকাব্য নিয়ে রচিত। 
- মধ্যযুগে রচিত হযরত মুহম্মদের পূর্ণাঙ্গ জীবনী হিসেবে 'রসুল চরিত'ই শ্রেষ্ঠ কাব্য। 
- জ্ঞানপ্রদীপ ও জ্ঞানচৌতিশা তার রচিত গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১,৩৬০.
বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন কোনটি?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. গীতগোবিন্দম্
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
• আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন হচ্ছে - "গীতগোবিন্দম্"।

• গীতগোবিন্দম্:
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।
- বর্ণিত বিষয়ের তত্ত্বনির্দেশক বারোটি ভিন্ন ভিন্ন নামে সর্গগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
- কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য।
- রাগমূলক গীতসমূহ এ কাব্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরবর্তীকালের বাংলা পদাবলি সাহিত্যে এর গভীর প্রভাব পড়েছে।
- বৈষ্ণব সম্প্রদায় ও সাহিত্য-রসিকদের নিকট গীতগোবিন্দম্ এক সময় পরম শ্রদ্ধার বিষয় ছিল।
- গীতগোবিন্দম্-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে চরণশেষে অন্তমিল অনুসৃত হয়েছে, যা সংস্কৃত সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রায়শই দুর্লভ।

• জয়দেব:
- জয়দেব (বার’শ শতক) বাঙালি কবি। তবে তাঁর সাহিত্য ভাষা ছিল সংস্কৃত।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন লক্ষ্মণসেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬১.
ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. রূপরাম চক্রবর্তী
  2. ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. কানাহরি দত্ত
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট।
- ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- রূপরাম, সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য কবি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত:
- রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনী।
- লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৬২.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাঁকিল্যা গ্রাম কেন উল্লেখযোগ্য?
  1. শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মস্থান
  2. বড়ু চণ্ডীদাসের জন্মস্থান
  3. চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান
ব্যাখ্যা
• পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার হওয়ায় বাংলা সাহিত্যে এই গ্রাম উল্লেখযোগ্য।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:

- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।

- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনি ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি ⎯ কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই।

• মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত। খণ্ডগুলো হলো:
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বূল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড (রাধাবিরহ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৩৬৩.
'হানিফা কয়রাপরী' রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের পর্যায়ভুক্ত কাব্যটি কার রচনা?
  1. আলাওল
  2. সাবিরিদ খান
  3. নওয়াজিস খান
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ 
ব্যাখ্যা

• 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্য:
- 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্যের রচয়িতা সাবিরিদ খান/শাহ বারিদ খান।
- 'হানিফা কয়রাপরী' জঙ্গনামাজাতীয় যুদ্ধকাব্য হলেও প্রেমকাহিনির জন্য তা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের পর্যায়ভুক্ত।
- কবির কাব্যটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে কাব্যের নাম নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

----------------
• সাবিরিদ খান:
- সাবিরিদ খান মধ্যযুগের আখ্যানকবি।
- সাবিরিদ খান 'বিদ্যাসুন্দর', 'রসুল বিজয়' ও 'হানিফা-কয়রাপরী' নামে তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যের প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলি খণ্ডিত হওয়ায় কবির ব্যক্তিগত পরিচয় জানা যায় না।
- ভনিতার সামান্য তথ্য থেকে বলা যায়, কবি চট্টগ্রামের নানুপুরের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ভারতীয় উৎস থেকে বিদ্যাসুন্দর এবং আরব-ইরান উৎস থেকে রসুল বিজয় ও হানিফা-কয়রাপরী কাব্য রচনা করেন।
- বিদ্যাসুন্দর ও হানিফা-কয়রাপরী রোমান্সসূলভ প্রণয়কাব্য, রসুল বিজয় ইসলামের গৌরব-গাথা।
- হানিফা-কয়রাপরী ও রসুল বিজয় কাব্যে যুদ্ধ-বিগ্রহের প্রাধান্য থাকায় উভয় কাব্যকে জঙ্গনামা নামেও চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৬৪.
'গুণরাজ খান' কোন সাহিত্যিকের উপাধি? 
  1. বিদ্যাপতি
  2. মালাধর বসু
  3. ভারতচন্দ্র
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন। 
- মালাধর বসু গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেছিলেন
- মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক। 
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ। 
- মালাধর বসুর একমাত্র কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'য়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ বঙ্গাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (মাহবুবুল হক) এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬৫.
'গোরাক্ষ বিজয়' কে রচনা করেছেন?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. শ্যামাদাস সেন
  3. শুকুর মুহাম্মদ
  4. ভীমসেন রায়
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- ‘গোরাক্ষ বিজয়’ এর রচয়িতা - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- ‘গোপীচন্দ্রের সন্যাস’ এর রচয়িতা - শুকুর মাহমুদ।
- ‘মীনচেতন’ এর রচয়িতা - শ্যামাদাস সেন।
- ‘ময়নামতির গান’ এর রচয়িতা - ভবানী দাস।
- ‘গোর্খবিজয়’ এর রচয়িতা - ভীমসেন রায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া
১,৩৬৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে ভনিতা কয়টি?
  1. ক) ৪০৩ টি
  2. খ) ৪১৮ টি
  3. গ) ৩০৪ টি
  4. ঘ) ৩১৮ টি
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। ১৯০৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শ্রী বসন্তরঞ্জন রায় কর্তৃক আবিষ্কৃত হয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য। ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস। এতে ১৩টি খন্ড রয়েছে। রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই প্রধান তিনটি চরিত্র। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে ৪০৩ টি ভনিতা রয়েছে। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
১,৩৬৭.
ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক কবি-
  1. মালাধর বসু
  2. কাশীরাম দাস
  3. শ্রীকর নন্দী
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসু:
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- চৈতন্যদেবের সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।
- গৌড়েশ্বর রাজকর্মচারী মালাধর বসুর কর্মদক্ষতা, বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবুদ্ধি প্রভৃতি গুণে প্রীত হয়ে এই উপাধি দান করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬৮.
'জয়নাবের চৌতিশা' - গ্রন্থটি কোন ধারার সাহিত্য?
  1. মর্সিয়া সাহিত্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়উপাখ্যান
  4. লোকসাহিত্য 
ব্যাখ্যা

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম 'জয়নাবের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷
- তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৩৬৯.
ধর্মমঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি কে? 
  1. রুপরাম চক্রবর্তী 
  2. ময়ূরভট্ট
  3. মানিকরাম গাঙ্গুলি
  4. ঘনরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• ধর্মমঙ্গল কাব্য:
- ধর্মমঙ্গল কাব্য হলো এমন একটি কাব্যধারা যা মূলত ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য বা গুণগান প্রদর্শনের জন্য রচিত।
- এখানে ধর্মঠাকুরকে অনার্য দেবতা হিসেবে দেখানো হয়, অর্থাৎ সে শহরের ব্রাহ্মণ বা আর্য ধর্মের চেয়ে ভিন্ন, গ্রামীণ বা লোকমুখী দেবতা।
- একই সঙ্গে তাকে কখনও কখনও সূর্য বা বুদ্ধের প্রতীক হিসেবে কল্পনা করা হয়, যা তার অতিপ্রাকৃতিক শক্তি, জ্ঞান ও প্রভাবকে তুলে ধরে।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের মূল আখ্যান প্রধানত দুটি কাহিনীকে কেন্দ্র করে গঠিত।
- প্রথমটি হলো রাজা হরিশ্চন্দ্রের পৌরাণিক কাহিনী
- এবং দ্বিতীয়টি হলো লাউসেনের লৌকিক বীরগাঁথা।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রসমূহের মধ্যে আছেন-
- লাউসেন, ধর্মঠাকুর, কালু ডোম, কানড়া, ইছাই ঘোষ, ময়নামতী, রাজা হরিশ্চন্দ্র এবং মদনা ও লুইচন্দ্র। 

-  ধর্মমঙ্গল কাব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল- রাঢ় বাংলার লৌকিক দেবতা ধর্মঠাকুরের মহিমা প্রচার করা।
- কাব্যটির আখ্যান হরিশ্চন্দ্রের কাহিনীর মাধ্যমে শুরু হয়ে, লাউসেনের বীরত্ব ও ধর্মঠাকুরের কৃপায় তার বিজয় প্রদর্শনের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে।
- এছাড়া কাব্যটি রাঢ় অঞ্চলের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পৌরাণিক প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।
- এতে ধর্মঠাকুরের অলৌকিক কর্মকাণ্ড, লাউসেনের বীরত্ব, ধর্মঠাকুরের কৃপায় তার বিজয় এবং প্রাচীন রাঢ়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি বা প্রথম কবি ছিলেন ময়ূরভট্ট। 
- তিনি ‘হাকন্দপুরাণ’ রচনা করেছেন।

- তবে মধ্যযুগে এই ধারায় রূপরাম চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তীকে প্রধান ও জনপ্রিয় কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ধর্মমঙ্গলের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি অষ্টাদশ শতাব্দীর ঘনরাম চক্রবর্তী।
- অন্যান্য কবির মধ্যে আছেন- মানিকরাম গাঙ্গুলি, রামদাস আদক, এবং সীতারাম দাস। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১,৩৭০.
বাংলা সাহিত্যে কখন গদ্যের সূচনা হয়?
  1. নবম শতকে
  2. ত্রয়োদশ শতকে
  3. ষোড়শ শতকে
  4. উনিশ শতকে
ব্যাখ্যা
• বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটে নি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৩৭১.
মুসলমান রচিত প্রাচীনতম বাংলা কাব্য কোনটি?
  1. লায়লী-মজনু
  2. নূরনামা
  3. ইউসুফ জুলেখা
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• মুসলমান কবি রচিত প্রাচীনতম বাংলা কাব্য- ইউসুফ জুলেখা।

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তাঁর রচিত একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান 'ইউসুফ জুলেখা'।

• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:

- ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি।
- তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জোলেখা নিয়ে কাব্য
- রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তকে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৭২.
কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের ‘শাহ’ উপাধি থেকে অনুমান করা যায় যে, ......
  1. ক) সুলতানী আমলের কবি
  2. খ) তিনি দরবেশ বংশের জাত
  3. গ) তিনি রাজকর্মচারী ছিলেন
  4. ঘ) তিনি পারস্যের অধিবাসী ছিলেন
ব্যাখ্যা

শাহ মুহম্মদ সগীর (আনু. ১৪শ-১৫শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি। তাঁর রচিত ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্ত্ততি আছে। এ থেকে তাঁর আবির্ভাব কাল চৌদ্দ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগ বলে অনুমান করা হয়। তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।

মধ্যযুগের কাব্যের কবিগণের যে আত্মবিবরণি দেখা যায় তার কাব্যে তা অনুপস্থিত। কবি রাজবন্দনা করলেও কাব্যে তার কোন ব্যক্তিগত পরিচয় পাওয়া যায় নি। 

তার নামের শাহ উপাধি থেকে অনুমান করা যায় যে তিনি কোন দরবেশ বংশে জন্মেছিলেন। তার কাব্যে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক শব্দ দেখে তাকে চট্টগ্রামের অধিবাসী বলে বিবেচনা করেছেন ড. মুহম্মদ এনামুল হক।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম

১,৩৭৩.
'ধনপতি' কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. ক) চণ্ডীমঙ্গল
  2. খ) মনসামঙ্গল
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা।
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 

- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও  ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- কালক্রমে শিবঠাকুরও মঙ্গলকাব্যের বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং তৎকেন্দ্রিক কাব্যধারার নাম শিবায়ন বা শিবমঙ্গল।

⇒ চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- চণ্ডী দেবীর কাহিনী এর উপজীব্য। এই চণ্ডীদেবীও মূলত অনার্যসম্ভূতা, পরে বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রের দেবকল্পনার প্রভাবে পর্যায়ক্রমে পৌরাণিক দেবতায় পরিণত হন। 

এই কাব্যের বিষয়বস্তু দুটি সামাজিক কাহিনিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। যথা:
১. প্রথমটি কালকেতু-ফুল্লরার জীবনকথা এবং
২. দ্বিতীয়টি ধনপতি-লহনা-খুল্লনার কাহিনি। 

- চণ্ডীমঙ্গলের আদি কবি মাণিক দত্ত। তিনি মালদহের লোক ছিলেন বলে মনে করা হয় এবং তিনি ছিলেন চৈতন্যপূর্বযুগের কবি।
- তাঁর কাব্যের একটি অনুলিপির কাল ১৭৮৫ খ্রিষ্টাব্দ।
- চণ্ডীমঙ্গলের দুজন শ্রেষ্ঠ কবি হলেন দ্বিজ মাধব ও  মুকুন্দরাম। দুজনই ষোলো শতকের কবি এবং এঁদের হাতেই চণ্ডীমঙ্গল মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- দুজনের কাব্যই বৈষ্ণব ভাবাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত। দ্বিজ মাধবের কাব্যের রচনাকাল ১৫৭৯ খ্রিষ্টাব্দ। এতে চণ্ডীমঙ্গলের কাহিনি সুনির্দিষ্ট রূপ লাভ করেছে এবং বৈষ্ণব পদাবলির অনুসরণে ছোট ছোট গীতিকবিতা সন্নিবিষ্ট হয়েছে।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৩৭৪.
নিচের কোনটি অনুবাদ কাব্য নয়?
  1. পদ্মাবতী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. লায়লী মজনু
  4. মধুমালতী
ব্যাখ্যা
- চন্দ্রাবতী কাব্যটির একমাত্র রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- এই কাব্যের একটি খন্ডিত পুঁথি পাওয়া গেছে। এটি সতের শতকে রচিত বলে ধারণা করা হয়।
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের প্রাচীন উৎস জানা যায় না; মনে করা হয় এটা কবির স্বাধীন কল্পনা

পক্ষান্তরে
- লায়লী মজনু পারসি কবি জামির লায়লী মজনু থেকে অনুবাদ করেছেন দৌলত উজির বাহরাম খান।
- মধুমালতী হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালতী কাব্য থেকে বাংলা অনুবাদ করেন মুহম্মদ কবীর।
- পদ্মাবতী হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সরি পদুমাবৎ কাব্য থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন আলাওল।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৭৫.
সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য ভারত সরকার দীনেশ্চন্দ্র সেনকে কি উপাধিতে ভূষিত করে?
  1. ক) রায়গুণাকর
  2. খ) রায়বাহাদুর
  3. গ) ভাষাবিজ্ঞানী
  4. ঘ) চারণ কবি
ব্যাখ্যা
সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশ্চন্দ্র সেনকে ভারত সরকার ১৯২১ সালে রায়বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করে।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১,৩৭৬.
হিন্দি ভাষায় রচিত ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. আবদুর রহমান জামি
  2. মুহম্মদ কবীর
  3. কবি আলাওল
  4. মালিক মুহম্মদ জায়সি
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি আলাওল, যাঁর একাধিক গ্রন্থ বিশেষ মূল্যবান।
- তিনি সতের শতকের কবি।
- 'পদ্মাবতী' তাঁর অমর কীর্তি।
- আরাকানের বৌদ্ধ রাজারা ও তাদের অমাত্যরা আলাওলের উপর খুশি ছিলেন তাদের আগ্রহে আলাওল অনেকগুলি গ্রন্থ রচনা করেন।
- ‘পদ্মাবতী' হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
- অনুবাদ হলেও কবি এখানে অনেক মৌলিকতা দেখিয়েছেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৭৭.
'ধনপতি' চরিত্রটি পাওয়া যায় কোন গ্রন্থে?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল:
- চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য 'চণ্ডীমঙ্গল’।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি ছিলেন চতুর্দশ শতকের কবি।
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী।
- এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে। একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ। দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৭৮.
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি কে?
  1. ক) আবদুল হাকিম
  2. খ) আলাওল
  3. গ) দৌলত কাজী
  4. ঘ) সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
আলাওল
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ সমুহ:
- সিকান্দার নামা
- তোহ্ফা
- সপ্তপয়কর
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান
- রাগতালনামা
- সতীময়ান-লোর-চন্দ্রাণী
[উল্লেখ্য, মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পদ্মাবতী একটি নাটক।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৭৯.
রাখালদাস বন্দোপাধ্যায় এর মতে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন রচনার সময়কাল -
  1. ক) ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে
  2. খ) ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষার্ধে
  3. গ) চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে
  4. ঘ) চতুর্দশ শতাব্দীর শেষার্ধে
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতপার্থক্য বিস্তর।
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখের মতে এই কাব্যের ভাষা চতুর্দশ - পঞ্চদশ শতাব্দীর।
রাখালদাস বন্দোপাধ্যায় এর মতে, এই পুথি ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে সম্ভবত চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে লিখিত।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ডঃ. সৌমিত্র শেখর।

১,৩৮০.
'শ্রীচৈতন্যভাগবত' কোন কবির রচনা?
  1. গোবিন্দদাস
  2. লোচনদাস 
  3. বৃন্দাবনদাস
  4. কৃষ্ণদাস কবিরাজ 
ব্যাখ্যা

• বৃন্দাবনদাসের 'শ্রীচৈতন্যভাগবত':
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবনদাসের ‘শ্রীচৈতন্যভাগবত'। কবি সম্ভবত ১৫১৮ সালের কাছাকাছি সময়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যমঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল, পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা-পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়।

- কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল। এ কাব্য রচনায় কবি বৃন্দাবনদাস তাঁর গুরু নিত্যানন্দের কাছ থেকে অধিকাংশ উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন। কবির আমলে জীবিত এমন অনুচরদের কাছ থেকেও তিনি তথ্যাদি পেয়েছিলেন । তাছাড়া তিনি ভাগবত থেকেও উপকরণ নিয়েছিলেন।

- বৃন্দাবনদাস চৈতন্য ও নিত্যানন্দকে কৃষ্ণ ও বলরামের অবতার বলে বিবেচনা করতেন। এই বৈশিষ্ট্য কাব্যে প্রতিফলিত হয়েছে। কবি চৈতন্যদেবের বাল্য ও কৈশোরলীলা খুব বাস্তবতা ও সরলতা সহকারে বর্ণনা করেছেন। চৈতন্যদেবের চরিত্রে কবি করুণ কোমলতার সঙ্গে সুকঠোর চরিত্র ও পৌরুষের পরিচয় দিয়েছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১,৩৮১.
মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে কোনটি পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ?
  1. লোক সাহিত্য
  2. বৈষ্ণব সাহিত্য
  3. জীবনী সাহিত্য
  4. নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে ‘লোক সাহিত্যধারা’ ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৮২.
পুঁথি সাহিত্যের উদ্ভব -
  1. ক) ষোড়শ শতাব্দীতে
  2. খ) সপ্তদশ শতাব্দীতে
  3. গ) অষ্টাদশ শতাব্দীতে
  4. ঘ) উনবিংশ শতাব্দীতে
ব্যাখ্যা
পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।
এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া
১,৩৮৩.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি নয় - 
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. গোবিন্দদাস
  4. আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি নয় - গোবিন্দদাস। তিনি বৈষ্ণব পদাবলির কবি।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৮৪.
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা

‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের রচয়িতা হচ্ছে বড়ু চণ্ডীদাস। 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:

- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম কাব্য লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে রচিত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করেন।
- বাংলা সাহিত্যে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন ঘটনা বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র-বংশজাত দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।

এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র:
- এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র তিনটি।
- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

উৎস: ১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৩৮৫.
'সত্যপীরের পুঁথি' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. আবদুল হাকিম
  3. আলাওল
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'সত্যপীরের পুঁথি' কাব্যের রচয়িতা - ফকির গরীবুল্লাহ।

• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৮৬.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যগ্রন্থে জীবাত্মা বা প্রাণিকূলের প্রতীক কে?
  1. ক) কৃষ্ণ
  2. খ) বড়ায়ি
  3. গ) রাধা
  4. ঘ) যশোদা
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
এই গ্রন্থে প্রধান চরিত্র আছে তিনটি। যথা: কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
চরিত্রগুলোর প্রতীক:
- কৃষ্ণ > পরমাত্মা বা ঈশ্বর;
- রাধা > জীবাত্মা বা প্রাণিকূল;
- বড়ায়ি > এ দুয়ের সংযােগ সৃষ্টিকারী অনুঘটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৩৮৭.
রত্নসেন ও নাগমতী কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. মধুমালতী
  2. পদ্মাবতী
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. লায়লী-মজনু
ব্যাখ্যা

হিন্দি কবি মালিক জায়সীর রচিত পদুমাবৎ কাব্যের অনুবাদরূপে বাঙালি কবি আলাওল রচিত পদ্মাবতী। এর চরিত্র - রত্নসেন, গন্ধর্ব সেন, চম্পাবতী, নাগমতী, হিরামন পাখি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

১,৩৮৮.
কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকা?
  1. রূপবতী
  2. মদিনা
  3. কঙ্কবতী
  4. দেওয়ান
ব্যাখ্যা
• ‘রূপবতী’ মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত একটি পালা।
- পালাটির কবির নাম অজ্ঞত।

অন্যদিকে,
• মদিনা, কঙ্কবতী ও দেওয়ান ময়মনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা নয়।

উল্লেখ্য,
• ‘দেওয়ান মদিনা নামে মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত একটি পালা রয়েছে।

---------------------------
মৈমনসিংহ গীতিকা:

• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া
১,৩৮৯.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' রচনা করেন কে?
  1. সহদেব চক্রবর্তী
  2. সুকুর মামুদ
  3. রামাই পণ্ডিত
  4. জায়সী
ব্যাখ্যা

• নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত।
যথা:

 ১. মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২. রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।
- গোরক্ষবিজয়ের পুথি অষ্টাদশ শতকে, বাংলায় সহদেব চক্রবর্তী ও রামাই পণ্ডিতের  'ধর্ম পুরাণে' বা 'অনিল পুরাণে' পাওয়া যায়।
- গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর  'পদুমাবৎ' এ।
- এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।

- 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' রচনা করেন - সুকুর মামুদ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাপিডিয়ায় 'শুকুর মাহমুদ' দেওয়া আছে। মূলত তারা একই ব্যক্তি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,।

১,৩৯০.
রামপ্রসাদ সেনকে 'কবিরঞ্জন' উপাধি দিয়েছিলেন কে?
  1. জমিদার কৃষ্ণকান্ত
  2. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  3. রাজা রঘুনাথ রায়
  4. রাজা শিবসিংহ
ব্যাখ্যা
রামপ্রসাদ সেন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- তিনি আনুমানিক ১৭২০ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি, পারসি ভাষা জানতেন।
- রামপ্রসাদের গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- রামপ্রসাদের গান শুনে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা  অভিভূত হয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের উপাধি ছিল 'কবিরঞ্জন'রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই উপাধি দিয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই' - রামপ্রসাদ সেনের উক্তি।
- রামপ্রসাদের আর একটি বিখ্যাত গান:

'মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলত সোনা।'

- তিনি ১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৯১.
‘কবিরাজ’ মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি ছিল?
  1. গোবিন্দদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. মালধর বসু
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দদাস: 
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।     

গোবিন্দদাস রচিত পদের অংশ বিশেষ:
ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি,
আবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ-হিলোলে
মদন মুরছা পায়।।

অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল ‘কবিকঙ্কন’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯২.
'কবিকণ্ঠহার' উপাধিটি কার?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারতচন্দ্র
  3. বিদ্যাপতি
  4. রূপরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• ‘কবিকন্ঠহার’ উপাধি ছিলো মধ্যযুগের কবি বিদ্যাপতির ।

অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল 'কবিকঙ্কন' ।
- ভারতচন্দ্রের উপাধি ছিল ‘রায়গুণাকর’।
----------------
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন  পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তাকে 'অভিনব জয়দেব' নামেও ডকা হয়।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে একটি পঙক্তি না লিখেও স্মরণীয় হয়ে আছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৩৯৩.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয় কোনটি? 
  1. তাম্বুল খণ্ড
  2. মৃত্যু খণ্ড
  3. বৃন্দাবন খণ্ড
  4. যমুনা খণ্ড
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয়-  মৃত্যু খণ্ড। 

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:

- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস। এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনি ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি- ১. কৃষ্ণ (পরমাত্মা), ২. রাধা (জীবাত্মা), ৩. বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো-
১. জন্ম খণ্ড,
২. তাম্বুল খণ্ড,
৩. দান খণ্ড,
৪. নৌকা খণ্ড,
৫. ভার খণ্ড,
৬. ছত্র খণ্ড,
৭. বৃন্দাবন খণ্ড,
৮. কালিয়দমন খণ্ড,
৯. যমুনা খণ্ড,
১০. হার খণ্ড,
১১. বাণ খণ্ড,
১২. বংশী খণ্ড ও
১৩. বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৩৯৪.
মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কে?
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. কৃত্তিবাস ওঝা
  3. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা

মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- এই কাব্যের মূল রচয়িতা- কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- এই গ্রন্থ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন- কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি পরাগলী খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম- পরাগলী মহাভারত।
- কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন-বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক- কাশীরাম দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৯৫.
কোন কবির মৃত্যুর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের অবসান ঘটে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারত চন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মানিক দত্ত
  4. আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যুর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে।
- ভারতচন্দ্র রায়গুনাকরের মৃত্যু (১৭৬০ খ্রি.) থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় যুগসন্ধিক্ষণ।
- মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে।
- ঘনরাম ও মুকুন্দরাম হল মধ্যযুগের কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৯৬.
"রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মনভোর,
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।"- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. চণ্ডীদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
ব্যাখ্যা
• জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাঁদড়া গ্রামে এক মঙ্গল-ব্রাহ্মণ বংশে আনুমানিক ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জন্ম।
- জ্ঞানদাস পদ রচনার ক্ষেত্রে মধ্যযুগের গতানুগতিক ধারা পরিহার করে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক অর্থাৎ রাধাকৃষ্ণের রূপাশ্রয়ে ভক্ত-ভগবানের আধ্যাত্মিক লীলা বর্ণনা করেন।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়।

জ্ঞানদাস রচিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু উক্তি:
- সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
অনলে পুড়িয়ে গেল।

- রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মনভোর,
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।

 - রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল,
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৩৯৭.
বৈষ্ণবগীতিকাব্যের গ্রন্থ 'মাথুর ও মুরলীশিক্ষা' রচনা করেন কে?
  1. জ্ঞানদাস
  2. লোচনদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত "মাথুর" এবং "মুরলীশিক্ষা" বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি অমূল্য গ্রন্থ, যা বাংলা সাহিত্যে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৮.
ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. ঘনরাম চক্রবর্তী
  2. ময়ূরভট্ট
  3. হৃদয়রাম
  4. গোবিন্দরাম
ব্যাখ্যা
⇒ ধর্মমঙ্গল কাব্য:
• ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত।
- প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।

• ধর্মমঙ্গল ধারার আদি কবি ময়ূরভট্ট। তাঁর কাল খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতক বা এর কাছাকাছি অনুমান করা হয়, কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
• ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৭১১ খ্রিষ্টাব্দ বা আঠারো শতক । তাঁর রচিত গ্রন্থ লাউসের কাহিনি অবলম্বনে ‘শ্রীধর্মমঙ্গল’।
• এরপর আর যাঁরা ধর্মমঙ্গল রচনা করেছেন তাঁরা হলেন সহদেব, নরসিংহ, হৃদয়রাম, গোবিন্দরাম প্রমুখ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৯.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. শুকুর মাহমুদ
  2. বিদ্যাপতি
  3. শেখ ফয়েজুল্লাহ
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে ।

শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪০০.
সুফিচর্যা জাতীয় গ্রন্থ 'জ্ঞানপ্রদীপ' এর রচয়িতা-
  1. ক) শেখ চান্দ
  2. খ) কাজী শেখ মনসুর
  3. গ) সৈয়দ সুলতান
  4. ঘ) মীর মুহম্মদ শফী
ব্যাখ্যা
• সুফিচর্যা জাতীয় গ্রন্থ 'জ্ঞানপ্রদীপ' এর রচয়িতা- 'সৈয়দ সুলতান'। 

• সৈয়দ সুলতান (আনু. ১৫৫০-১৬৪৮):
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম। চট্টগ্রামের লস্করপুর তথা পরাগলপুরে কবি সাময়িকভাবে বসবাস করেন। 
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।
- তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর  নবীবংশ, জ্ঞানপ্রদীপ, জ্ঞানচৌতিশা ও জয়কুম রাজার লড়াই  উল্লেখযোগ্য। 
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।
- ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে  হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে। বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খন্ড রসুলচরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।