বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ১৩ / ২৮ · ১,২০১১,৩০০ / ২,৭৬৪

১,২০১.
বিদ্যাপতি কোন রাজ্যের রাজসভার কবি ছিলেন?
  1. রোসাঙ্গ
  2. আরাকান
  3. মিথিলা
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০২.
অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন নয় কোনটি?
  1. শূণ্যপূরাণ
  2. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  3. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  4. ওলে বকাওলী
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
 বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়। 

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন- 
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।

অন্যদিকে,
‘ওলে বকাওলী’ মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যগুলোর মধ্যে একটি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,২০৩.
'মানসিংহ ভবানন্দ উপাখ্যান' এর রচয়িতা -
  1. দ্বিজ চণ্ডীদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. কানাহরি দত্ত
  4. বিজয় গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'মানসিংহ ভবানন্দ উপাখ্যান' এর রচয়িতা - 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর'। 
---------------- 
• অন্নদামঙ্গল কাব্য:

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের ভাগ ৩টি।
যথা -
১. অন্নদামঙ্গল, 
২. বিদ্যাসুন্দর, 
৩. মানসিংহ-ভবানন্দ উপাখ্যান। 
 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো - 
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০৪.
‘মহুয়া’ পালার রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ ঈশান
  2. মনসুর বয়াতি
  3. দ্বিজ কানাই
  4. নয়ানচাঁদ ঘোষ
ব্যাখ্যা
ভনিতা থেকে কিছু গীত রচয়িতার নাম জানা যায়,

যেমন:
- মহুয়া-দ্বিজ কানাই,
- চন্দ্রাবতী- নয়ানচাঁদ ঘোষ,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দস্যু কেনারামের পালা- চন্দ্রাবতী,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

মৈমনসিংহ গীতিকা:

- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২০৫.
'কাশিমের লড়াই' নামক মর্সিয়া কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. মুহম্মদ খান
  3. কবি শেররাজ
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'কাশিমের লড়াই' গ্রন্থটির রচয়িতা - 'কবি শেররাজ'। 

• 'জঙ্গনামা' কাব্য: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। 
- বাংলা সাহিত্যে ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
-------------
জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো:  
শেখ ফয়জুল্লাহ - ষোল শতক।
গ্রন্থের নাম: জয়নবের চৌতিশা।
   
দৌলত উজির বাহরাম খান - ষোল শতক।
গ্রন্থের নাম: জঙ্গনামা।

মুহম্মদ খান - সতের শতক।
গ্রন্থের নাম: মকতুল হোসেন।

শেরবাজ - আঠার শতক। 
গ্রন্থের নাম: কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা।

হেয়াত মামুদ - আঠার শতক।
গ্রন্থের নাম: জারি-জঙ্গনামা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড.মাহবুবুল আলম।
১,২০৬.
মহাভারতের অনুবাদক কবি নন কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. চন্দ্রাবতী
  3.  শ্রীকর নন্দী
  4. দ্বিজ অভিরাম
ব্যাখ্যা

• মহাভারতের অনুবাদক কবি নন- চন্দ্রাবতী। 

• মহাভারত:

মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য ।মূল রচয়িতা– কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।

- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন- কবীন্দ্র পরমেশ্বর। তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত ।
অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন  বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারত পাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস । মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন।
- কবীন্দ্র পরমেশ্বরের পর শ্রীকর নন্দী মহাভারত অনুবাদ করেন যা ছুটিখাঁনী মহাভারত নামেও পরিচিত।

মহাভারতের বাংলা অনুবাদক কবিরা হলেন-  কবীন্দ্র পরমেশ্বর, শ্রীকর নন্দী, সঞ্জয়, রামচন্দ্র খান, দ্বিজ রঘুনাথ, কাশীরাম দাস, দ্বিজ অভিরাম, নিত্যানন্দ ঘোষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-------------------
• চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন। তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
-  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'। চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী' উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য :
- রামায়ণ,
- মলুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১,২০৭.
‘কালকেতু’ কোন্ কাব্যের চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চন্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
কবি কঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত চন্ডীমঙ্গলের ‘কালকেতু ও ফুল্লরা উপাখ্যান’র নায়ক হলো কালকেতু।
সে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে অবতার হিসেবে এসে দেবী চন্ডীর পূজার প্রসার ঘটায়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,২০৮.
"যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।" — পঙ্‌ক্তিটি রচনা করেছেন কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. আব্দুল হাকিম
  3. দৌলত কাজী
  4. আব্দুল করিম
ব্যাখ্যা
• 'যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা আবদুল হাকিম।
- এই উক্তটি তিনি 'নূরনামা' কাব্যের অন্তর্গত 'বঙ্গবানী' কবিতায় লিখেছেন।

আব্দুল হাকিম:
- আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি।
- তিনি ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানি-ফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০৯.
বাংলা ভাষায় গদ্য রীতির সূচনা হয় -
  1. প্রাচীন যুগে
  2. ষোল শতকে
  3. উনিশ শতকের শুরুতে
  4. বিশ শতকের শুরুতে
ব্যাখ্যা
• বংলা গদ্যের সূচনা ও সাহিত্যে এর বিকাশ:
• ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
• ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
• পরবর্তীতে পশ্চাতে খ্রিষ্টান পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

- তবে বাংলা গদ্যের মূল বিকাশ ঘটে উনিশ শতকে।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে "ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ" ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
- উনিশ শতকে বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (১৮০১) প্রকাশিত হয়। মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারসহ ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে তাঁর সহকর্মীরা সংস্কৃত-প্রভাবিত ভাষায় তাঁদের গ্রন্থগুলি রচনা করেছিলেন। এসব গ্রন্থ ছিল ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের ছাত্রদের জন্যে লেখা পাঠ্যপুস্তক।

• ড. সুকুমার সেন বাংলার গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। যথা:
১. সূচনা: ষোল শতক-১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
২. উন্মেষ: ১৮০০-১৮৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
৩. অভ্যুদয়: ১৮৪৭-১৮৬৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
৪. পরিণতি: ১৮৬৫ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

সুতরাং বলা যায় বাংলা গদ্যরীতিতে সাহিত্য রচনার সূচনা হয় উনিশ শতকে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,২১০.
পূর্ববঙ্গ গীতিকা কোন অঞ্চলের পালা?
  1. ক) নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ
  2. খ) কুমিল্লা ও চাঁদপুর
  3. গ) লক্ষ্মীপুর ও ফেনী
  4. ঘ) নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
ড. দীনেশচন্দ্র সেন নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে এগুলো সংগ্রহ করেন। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ নামে তিন খ-ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। 

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
১,২১১.
"মালিনী" কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত চরিত্র?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২১২.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম বাঙালি কবি কে?
  1.  চণ্ডীদাস
  2. জয়দেব
  3. বিদ্যাপতি
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগে বৈষ্ণব ধর্ম, বৈষ্ণবশাস্ত্র এবং রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের আড়ালে জীবাত্মা ও পরমাত্মার মিলনলীলাকে কেন্দ্র করে যে সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে, তাকে বৈষ্ণব সাহিত্য বলা হয়।

- বৈষ্ণব সাহিত্য মূলত তিন প্রকার—
- পদাবলি,
- জীবনীকাব্য,
- এবং বৈষ্ণবশাস্ত্র।

- পদাবলি হলো রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও জীবাত্মা–পরমাত্মার মিলনলীলার আড়ালে রচিত গীতিকাব্য, যা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
- বাঙালি কবি জয়দেব-কে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা আদিকবি বলা হয়।
- তাঁর রচিত গীতগোবিন্দম্ কাব্যে রাধা–কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তির রূপ চিত্রিত হলেও এটি বাংলা নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- তবু এটিকেই আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন ধরা হয়।
- পরবর্তীতে অবাঙালি কবি বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- তাই তাঁকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদিকবি বলা হয়। 
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস—যার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এই ধারার পূর্ণ বিকাশ ঘটে।

- বৈষ্ণব পদাবলিতে মোট পাঁচটি রসের প্রকাশ দেখা যায়—
- শান্তরস,
- দাস্যরস,
- সখ্যরস,
- বাৎসল্যরস,
- ও মধুররস।
- এই রসসমূহের সমন্বয়েই বৈষ্ণব পদাবলি ভক্তি ও প্রেমের এক অনন্য সাহিত্যিক রূপ লাভ করেছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১,২১৩.
‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের কোন কবিকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়?
  1. কঙ্কন ঠাকুর
  2. দ্বিজমাধব
  3. মুকুন্দরাম
  4. বিজয় গুপ্ত
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। এবং প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷
- এই কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
কালকেতু,
ফুল্লরা,
ধনপতি,
ভাঁড়ুদত্ত,
মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২১৪.
'কাশিমের লড়াই' গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. দৌলত উজির বাহরাম খান
  2. শেররাজ
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. হেয়াত মামুদ
ব্যাখ্যা
• 'কাশিমের লড়াই' গ্রন্থটির রচয়িতা - 'শেররাজ'। 

'জঙ্গনামা' কাব্য: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। 
- বাংলা সাহিত্যে ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
-------------
জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো:  
শেখ ফয়জুল্লাহ - ষোল শতক।
গ্রন্থের নাম: জয়নবের চৌতিশা।
   
দৌলত উজির বাহরাম খান - ষোল শতক।
গ্রন্থের নাম: জঙ্গনামা।

মুহম্মদ খান - সতের শতক।
গ্রন্থের নাম: মকতুল হোসেন।

শেরবাজ - আঠার শতক। 
গ্রন্থের নাম: কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা।

হেয়াত মামুদ - আঠার শতক।
গ্রন্থের নাম: জারি-জঙ্গনামা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২১৫.
দোনাগাজী চৌধুরী রচিত 'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' কাব্যের মূল কাহিনী কোন ভাষায় রচিত?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. হিন্দী
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' এর রচয়িতা - দোনাগাজী চৌধুরী।

 দোনাগাজী চৌধুরী (১৬শ শতক):
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি। 
- দোনাগাজীর প্রধান পরিচয় রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের কবি হিসেবে।

- তাঁর রচিত - সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল দীর্ঘ আখ্যানমূলক প্রেমকাব্য।
- এর মূল উৎস আরবি আলেফ-লায়লা ওয়া লায়লা গ্রন্থ।
- ফারসি ও তুর্কি ভাষায় এ কাহিনী অনুলিখিত হয়েছে।

- ভারতের কবি মহফিল ফারসিতে এবং গাওয়াসি দাকিনি উর্দুতে সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল  রচনা করেন।
- দোনাগাজী ফারসির অনুসরণে বাংলা ভাষায় তাঁর কাব্য রচনা করেন বলে ধারণা করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২১৬.
মহাকবি আলাওল রচিত সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. সিকান্দারনামা
  2. সপ্তপয়কর
  3. পদ্মাবতী
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
 
আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- সপ্তপয়কর,
সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২১৭.
বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি কে?
  1. জয়দেব 
  2. বিদ্যাপতি 
  3. চণ্ডীদাস
  4. জ্ঞানদাস 
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস।
- তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।
- চণ্ডীদাস রাধাকে কৃষ্ণপ্রেমে আত্মহারারূপে চিত্রিত করেছেন।
- দেহগত কামনা- বাসনা রাধাচরিত্রে প্রাধান্য পায় নি। কবি তাকে মর্ত্যলোক থেকে বহু দূরদুর্গম অধ্যাত্মতীর্থে স্থান দিয়েছেন।
- চণ্ডীদাস রাধার কামগন্ধহীন প্রেম অত্যন্ত সহজ সরল কথায় ছন্দে ও অলঙ্কার প্রয়োগে প্রস্ফুটিত করেছেন।
- কবি রাধার চরিত্রে মিলনের আনন্দের চেয়ে বিচ্ছেদের বেদনা তীব্রতর করে রূপ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, 
• বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।

• পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,২১৮.
'বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে, দেখা না হইত পরাণ গেলে।' - কে বলেছেন?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. চণ্ডীদাস
  3. রামকৃষ্ণ পরমহংস
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
চণ্ডীদাস: 
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। 
- চণ্ডীদাসকে বাংলার ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়। 
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই’ বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তি জীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন। 
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন। 

চণ্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
- ‘বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে, দেখা না হইত পরাণ গেলে।
- ‘শোন হে মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’
- ‘সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমারি বধূয়া আনবাড়ী যায় আমারি আঙিনা দিয়া।’

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 
১,২১৯.
'সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল' - কার রচনা?
  1. ক) লোচনদাস
  2. খ) বিদ্য্যাপতি
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) চণ্ডিদাস
ব্যাখ্যা
'সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল' রচয়িতা - জ্ঞানদাস।

• জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি।
- জ্ঞানদাস বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায়, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় ২শ(মতান্তরে চারশ) পদ লেখেন।
- বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে জ্ঞানদাসের কবিতায়:

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।

তাঁর আরো একটি বিখ্যাত পদ:
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২০.
চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. রোজনামচা
  2. উপাখ্যান
  3. জীবনীসার
  4. কড়চা
ব্যাখ্যা
কড়চা:
- চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে 'কড়চা' নামে অভিহিত করা হয়েছে।
- যেমন: মুরারি গুপ্তের কড়চা, স্বরূপ দামোদরের কড়চা, গোবিন্দদাসের কড়চা প্রভৃতি। কড়চা কথাটির প্রয়োগ সম্পর্কে ড. সুকুমার সেন লিখেছেন, 'কড়চা শব্দটি আসিয়াছে প্রাকৃত 'কটকচ্চ', সংস্কৃত 'কৃতকৃত্য' হইতে। 'কট' শব্দ প্রাচীন অনুশাসনে 'খসড়া লেখা' (Original draft) অর্থেই পাওয়া গিয়াছে।

শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২২১.
নিচের কোনটি মধ্যযুগের সাহিত্যধারার অন্তর্ভুক্ত-
  1. প্রহসন
  2. পত্রসাহিত্য
  3. সুফী সাহিত্য
  4. ভ্রমণসাহিত্য
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের সাহিত্যের খসড়া চিত্র:
মধাযুগের বাংলা সাহিত্যের পরিধি যেমন বিস্তৃত, তেমনি ভার বিষয়বস্তুও বৈচিত্র্যপূর্ণ। ড. আহমদ শরীফ মধ্যযুগের সাহিত্যের একটা খসড়াচিত্র তৈরি করে বিভিন্ন কবির যে উল্লেখ করেছেন তা থেকে মধ্যযুগের বৈচিত্র্যপূর্ণ সাহিত্য সম্পর্কে নিম্নরূপ ধারণা করা যায়:

• বৌদ্ধ সাহিত্য নাথ ও সহজিয়া সাহিত্য। 
• ধর্মমঙ্গল। 
• প্রণয়োপাখ্যান। 
• রামায়ণ। 
• মহাভারত ও ভাগবত বা বা কৃষ্ণমঙ্গল। 
• মুসলিম ধর্মসাহিত্য। 
• বৈষ্ণব পদাবলি ও শাক্ত পদাবলি। 
• জীবনী সাহিত্যলৌকিক দেবতা ও পাঁচালী। 
• সুফী সাহিত্য। 
• লোকসাহিত্য। 
• জঙ্গনামা বা যুদ্ধকাব্য। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১,২২২.
মধ্যযুগের নিদর্শন ‘সেক শুভোদয়া’ কার সৃষ্টিকর্ম? 
  1. সুকুমার সেনে
  2. হলায়ূধ মিশ্র
  3. রামনিধি গুপ্ত 
  4. রামাই পণ্ডিত
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের নিদর্শন ‘সেক শুভোদয়া’ হলায়ূধ মিশ্র-এর রচনা।
----------------------
• সেক শুভোদয়া:
- সেখশুভোদয়া বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার মিশ্রণে রচিত একটি চম্পুকাব্য (গদ্য-পদ্য মিশ্র সাহিত্য)।
- গ্রন্থটি সংস্কৃত গদ্য ও পদ্যে লেখা হলেও ভাষা সম্পূর্ণ শুদ্ধ নয়;
- এতে অশুদ্ধ সংস্কৃত, বাংলা ছড়া, বচন ও বাগধারার ব্যবহার দেখা যায়।
- এই কারণেই ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে ‘Dog Sanskrit’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

- অনেকে মনে করেন, এটি গৌড়ের রাজা লক্ষ্মণ সেন-এর সভাকবি হলায়ূধ মিশ্র-এর রচনা।
- গবেষক মুহম্মদ এনামুল হক গ্রন্থটির রচনাকাল খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথম দিক বলে মত দেন।
- যদিও অন্যদের মতে এটি ষোড়শ শতকের আগে রচিত নয়।

- গ্রন্থটিতে মোট ২৫টি অধ্যায় রয়েছে এবং প্রতিটি অধ্যায়ে এক বা একাধিক কাহিনি সংযোজিত। 
- কাহিনিগুলোর কেন্দ্রীয় চরিত্র জালালুদ্দিন তাব্রিজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান (সেক)।
- তিনি রাজা লক্ষ্মণ সেনের দরবারে চমৎকার ও চিত্তাকর্ষক গল্প পরিবেশনের মাধ্যমে সবার মনে বিস্ময় সৃষ্টি করলে রাজা তাকে পুরস্কৃত করেন। 

- ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ‘কায়স্থ' পত্রিকায় গ্রন্থটির ১৩টি পরিচ্ছদ অনুবাদ সহ প্রকাশ করেন।
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়।
-------------------
অন্যদিকে,
- রামাই পণ্ডিত- শুন্যপুরাণ গ্রন্থের রচয়িতা।
- রামনিধি গুপ্ত টপ্পাগানের জনক। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।

১,২২৩.
'ইউসুফ জোলেখা' কি জাতীয় রচনা?
  1. নাটক
  2. রোমান্টিক প্রণয়কাব্য
  3. উপন্যাস
  4. রম্যরচনা
ব্যাখ্যা

ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ।এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
-বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১,২২৪.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র কয়টি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র ৩ টি
- কৃষ্ণ
- রাধা
- বড়ায়ি

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেল মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
১,২২৫.
কবি আলাওলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. তোহফা
  2. পদ্মাবতী
  3. সিকান্দরনামা
  4. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
ব্যাখ্যা

• আলাওলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ: 'পদ্মাবতী'। 
- ১৬৪৮ সালে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
-----------------
• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর  ,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা।

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২২৬.
মধ্যুযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে কোনটি ভিন্ন?
  1. জীবনী সাহিত্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. লোক সাহিত্য
  4. বৈষ্ণব সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে ‘লোক সাহিত্যধারা’ ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২৭.
বাংলা ভাষায় রচিত শ্রেষ্ঠ চৈতন্য জীবনীগ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-চরিতামৃত
  2. চৈতন্য-ভাগবত
  3. শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম
  4. চৈতন্য-মঙ্গল
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় রচিত শ্রেষ্ঠ চৈতন্য জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্য-চরিতামৃত'। গ্রন্থটি রচনা করেন কৃষ্ণদাস কবিরাজ।

অন্যদিকে,
• চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী। 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।
• বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
• 'চৈতন্য-মঙ্গল' বাংলায় ভাষায় লোচন দাস রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,২২৮.
বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী 'জাহ্নবী দেবীর' শিষ্য ছিলেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. গোবিন্দদাস
  3. আলাওল
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী 'জাহ্নবী দেবীর' শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

১,২২৯.
‘গীতগোবিন্দম্‌' বৈষ্ণব পদাবলির আদি নিদর্শন হিসেবে পরিচিত গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. জয়দেব
  4. গোবিন্দ দাস
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে জয়দেব রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

• বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।
- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

• পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যা রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা :
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১,২৩০.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন শতকের কবি?
  1. আঠারো
  2. সপ্তদশ
  3. ষোড়শ
  4. ত্রয়োদশ
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১,২৩১.
নিচের কোনটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র নয়?
  1. ক) ঈশ্বরী পাটনী
  2. খ) কানা হরিদত্ত
  3. গ) ভবানন্দ
  4. ঘ) মানসিংহ
ব্যাখ্যা
- 'কানা হরিদত্ত' অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র নয়।
- মনসা মঙ্গলকাব্যের আদিকবি হিসেবে মনে করা হয় কানা হরিদত্তকে।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র- মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এটা অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,২৩২.
কোন মঙ্গলকাব্যে চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনধারা বর্ণিত হয়েছে?

  1. ধর্মমঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) মনসামঙ্গল।

------------------
মঙ্গলকাব্য সম্পর্কিত আলোচনা:

মঙ্গলকাব্য বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যা মধ্যযুগে (প্রায় ১৩শ থেকে ১৮শ শতাব্দী) রচিত হয়েছিল। এই কাব্যগুলো সাধারণত দেব-দেবীর গুণকীর্তন ও তাঁদের পূজার প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত হলেও এতে সমকালীন সমাজ, সংস্কৃতি, এবং জীবনযাত্রার প্রতিফলন দেখা যায়। 

অপশন আলোচনা:
ক) ধর্মমঙ্গল:
ধর্মমঙ্গল কাব্য ধর্মঠাকুর বা ধর্মরাজের পূজা ও তাঁর গুণকীর্তন নিয়ে রচিত। এই কাব্যে মূলত ধর্মঠাকুরের ভক্তি ও আধ্যাত্মিক বিষয়বস্তু প্রাধান্য পায়। এতে চাঁদ সওদাগরের কোনো উল্লেখ নেই।

খ) চণ্ডীমঙ্গল:
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য দেবী চণ্ডীর পূজা ও গুণকীর্তন নিয়ে রচিত। এই কাব্যে কালকেতু ও ফুল্লরার গল্প প্রধান, যেখানে সমাজের সাধারণ মানুষের জীবন ও দেবী চণ্ডীর প্রভাব বর্ণিত হয়। তবে, চাঁদ সওদাগর এই কাব্যের চরিত্র নন।

গ) কালিকামঙ্গল:
কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দর কাহিনি' বলা হয়। দেবী কালির মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে। কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কবি কঙ্ক। এছাড়া সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন কালিকা মঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

ঘ) মনসামঙ্গল:
মনসামঙ্গল কাব্য দেবী মনসার পূজা ও গুণকীর্তন নিয়ে রচিত। এই কাব্যের প্রধান চরিত্র চাঁদ সওদাগর, একজন বণিক, যিনি তাঁর বাণিজ্যিক অভিযানের জন্য বিখ্যাত। মনসামঙ্গল কাব্যে চাঁদ সওদাগরের সমুদ্রযাত্রা, বাণিজ্য, এবং তাঁর সঙ্গে মনসা দেবীর দ্বন্দ্বের বর্ণনা রয়েছে। এই কাব্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা, যেমন বণিক, নৌকার মাঝি, সাধারণ গ্রামবাসী, এবং ধর্মীয় বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন চরিত্রের জীবনযাত্রা ফুটে উঠেছে।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

মনসামঙ্গল কাব্যের বিশেষত্ব:

চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান: মনসামঙ্গল কাব্যে চাঁদ সওদাগর একজন ধনী বণিক হিসেবে সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে বাণিজ্য করেন। তাঁর বাণিজ্যিক অভিযান, সমুদ্রযাত্রার বিপদ, এবং তাঁর সম্পদ ও প্রভাব বর্ণিত হয়েছে, যা মধ্যযুগীয় বাংলার বাণিজ্য ও অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে।

• সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ: এই কাব্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা উঠে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, চাঁদ সওদাগর একজন ধনী বণিক (উচ্চবর্গ), তাঁর স্ত্রী সনকা ও পুত্র লখিন্দর পারিবারিক জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে, এবং মাঝি, কৃষক, ও অন্যান্য চরিত্র সমাজের নিম্নস্তরের জীবনযাত্রা প্রকাশ করে। এছাড়া, মনসা দেবীর পূজার প্রচার ও ধর্মীয় দ্বন্দ্ব সমাজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক তুলে ধরে।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
- বাংলাপিডিয়া।
- মনসামঙ্গল কাব্যের বিভিন্ন সংস্করণ (যেমন, বিজয় গুপ্তের ‘পদ্মাপুরাণ’)।

১,২৩৩.
বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশই কোন ভাষায় রচিত হয়েছে?
  1. মৈথিলি
  2. ব্রজবুলি
  3. বাংলা 
  4. অপভ্রংশ 
ব্যাখ্যা

• 'ব্রজবুলি' ভাষা:
বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশই রচিত হয়েছে 'ব্রজবুলি' নামে এক কৃত্রিম মিশ্র ভাষায়। মূলত মৈথিলি ও বাংলা মিশ্রিত এই মধুর সাহিত্যিক ভাষায় রচিত পদাবলি থেকে জনসাধারণ ধারণা করেছে যে, বৃন্দাবনের রাধাকৃষ্ণ সম্ভবত এ ভাষাতেই কথা বলত। তাই ব্রজের বুলি অর্থে ব্রজবুলি এই কাল্পনিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

 বিদ্যাপতি মৈথিল অপভ্রংশ মিশ্রিত একটি কৃত্রিম সুললিত ভাষায় রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ রচনা করেন। প্রকৃতপক্ষে মৈথিল কবি বিদ্যাপতির পদের ভাব ও ভাষার অনুসরণে বাংলা উড়িষ্যা ও আসামে পনের শতকের শেষ ভাগে ব্রজবুলি ভাষার সৃষ্টি হয়।

মৈথিলি ভাষার ক্রমরূপান্তর হিসেবে এ ভাষার বিকাশ। ব্রজলীলা সম্পর্কিত পদের ভাষা অর্থে এই ভাষা ব্রজবুলি নামে পরিচিত। ব্রজবুলি কখনও মুখের ভাষা ছিল না; সাহিত্যকর্ম ব্যতীত অন্যত্র এর ব্যবহারও নেই। এই কবিভাষা পদাবলিতে ব্যবহৃত হয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। মৈথিলি ও বাংলার সংমিশ্রণে এতে ধ্বনিঝঙ্কারের সৃষ্টি হয়েছে।

সুকুমার সেনের মতে, 'অবহট্‌ঠ' থেকেই ব্রজবুলির উৎপত্তি হয়েছে। বাংলা মৈথিলি হিন্দি, রাজস্থানি গুজরাটি প্রভৃতি ভাষাগুলি অল্পবিস্তর পূর্ণ পরিণত রূপ ধরবার পরেও অবহট্‌ঠের আদর কমেনি দরবারি সাহিত্যে, বিশেষ করে রাধাকৃষ্ণ পদাবলিতে। এই পরবর্তী অবহট্‌ঠ যার ওপর মৈথিলি প্রভৃতি স্থানীয় ভাষার প্রভাব অবশ্যই পড়েছিল, পঞ্চদশ-ষোড়শ শতাব্দীতে ব্রজবুলি রূপ নিয়েছিল। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম। 

১,২৩৪.
কোন কাব্যে 'শূন্যময় দেবতা' ধর্মঠাকুরের পূজা পদ্ধতির বর্ণনা আছে?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. শূন্যপুরাণ
  3. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'শূন্যপুরাণ'- কাব্যে 'শূন্যময় দেবতা' ধর্মঠাকুরের পূজা পদ্ধতির বর্ণনা আছে।

•'শূন্যপুরাণ':
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। এতে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ'- 'শূন্যপুরাণ'।
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূন্যপুরাণ অন্তর্গত একটি কবিতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৩৫.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয় কাকে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  3. চণ্ডীদাস
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- বৈষ্ণব পদাবলী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।

অন্যদিকে,
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলীর রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- কৃষ্ণদাস কবিরাজ এর 'চৈতন্য-চরিতামৃত' বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্য জীবনী।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
১,২৩৬.
বৈষ্ণব পদাবলি-এর আদি কবি বলা হয় কাকে? 
  1. বিদ্যাপতি
  2. গোবিন্দ দাস
  3. চণ্ডীদাস
  4. জয়দেব 
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সমৃদ্ধ ও শ্রেষ্ঠ সাহিত্যধারা।
- এই ধারার মূল ভিত্তি হলো রাধা–কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তিভাবনা।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে মোট পাঁচটি রসের প্রকাশ লক্ষ্য করা যায় — 
- শান্তরস, 
- দাস্যরস, 
- সখ্যরস, 
- বাৎসল্যরস,
- মধুররস। 
- এই রসসমূহের সমন্বয়ে বৈষ্ণব পদাবলি ভক্তি ও প্রেমের এক অনন্য সাহিত্যিক রূপ লাভ করেছে।

- বাঙালি কবি জয়দেব-কে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা আদিকবি বলা হয়।
- তাঁর রচিত গীতগোবিন্দম্-এ রাধা–কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তির রূপচিত্র তুলে ধরলেও এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- যদিও এটি বাংলা নয়, তবুও আদি বৈষ্ণব পদাবলির পদকর্তা হিসেবে জয়দেবকে গণ্য করা হয়।

- পরবর্তীতে অবাঙালি কবি বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- তাঁকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদিকবি বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস, যার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এই ধারার পূর্ণ বিকাশ ঘটে।
-----------------------
উল্লেখ্য,
- পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকা হলো যে নারী অন্তরে স্বতঃসিদ্ধভাবে কৃষ্ণরতি ও কৃষ্ণপ্রেমে মগ্ন।
- অর্থাৎ, তার প্রেমের মূল কেন্দ্র কেবল কৃষ্ণ, এবং সে সম্পূর্ণভাবে কৃষ্ণের প্রেমে বশীভূত।
- এই ধরনের নায়িকাকে সমর্থা নায়িকা বলা হয়।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি এই সমর্থা নায়িকাদের মধ্যে পড়েন, যেখানে শ্রীরাধা সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা।

- বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা চিত্রিত হয়েছে:
- অভিসারিকা – প্রেমিককে খুঁজতে বের হওয়া।
- বাসকসজ্জা – সুন্দর সাজগোজ করা।
- উৎকণ্ঠিতা – অপেক্ষায় আগ্রহী বা উত্তেজিত থাকা।
- বিপ্রলব্ধা – প্রেমিকের অবহেলা বা অনুপস্থিতিতে দুঃখিত হওয়া।
- খণ্ডিতা – প্রেমিকের প্রতি ক্ষোভ বা বিরক্তি প্রকাশ।
- কলহান্তরিতা – প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার পর মন খারাপ থাকা।
- প্রোষিতভর্তৃকা – প্রেমিকের আগমনে আনন্দিত ও রোমাঞ্চিত হওয়া।
- স্বাধীনভর্তৃকা – প্রেমিকের উপস্থিতিতে স্বতঃস্ফূর্ত ও আনন্দিত থাকা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — ড. মাহবুবুল আলম। 

১,২৩৭.
'ভাঁড়ুদত্ত' কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. ক) চন্ডীমঙ্গল কাব্য
  2. খ) ধর্মমঙ্গল কাব্য
  3. গ) অন্নদামঙ্গল কাব্য
  4. ঘ) মনসামঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল' চন্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের লিখিত কাব্য। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 

• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো :
- কালকেতু,  
- ফুল্লরা, 
- ধনপতি, 
- ভাঁড়ুদত্ত, 
- মুরারি শীল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১,২৩৮.
রূপরাম চক্রবর্তী কোন কাব্যের প্রধান কবি?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'ধর্মমঙ্গল' কাব্য:
- ধর্ম ঠাকুরের নামে এই মঙ্গলকাব্য সৃষ্ট হয়েছে।
- কাব্যটি দুটি পালায় বিভক্ত - রাজা হরিশ্চন্দ্রের গল্প এবং লাউসেনের গল্প।
- এই ধারার প্রথম কবি - ময়ূরভট্ট। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'হাকন্দপুরাণ'।
- ধর্মমঙ্গলের দুজন প্রধান কবি রূপরাম চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তী। আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'শ্রীধর্মমঙ্গল'।
- ধর্মমঙ্গল ধারার অন্যান্য কবি: রূপরাম চক্রবর্তী, খেলারাম চক্রবর্তী, মানিক রাম, শ্যাম পণ্ডিত, নরসিংহ বসু প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৩৯.
খনার বচন মূলত-
  1. ক) জ্যোতিষভিত্তিক
  2. খ) কৃষিতত্ত্বভিত্তিক
  3. গ) ক্ষেত্রতত্ত্বভিত্তিক
  4. ঘ) আবহাওয়া ভত্তিক
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচন মধ্যযুগের একটি সাহিত্যধারা। বুদ্ধ সমাজের ডাকের বচন এবং হিন্দু সমাজে খনার বচনের উৎপত্তি হয়েছিল। ডাকের বচনে জ্যোতিষ, ক্ষেত্রতত্ত্ব ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে। খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,২৪০.
'শূন্যপুরাণ' কী ধরনের রচনা?
  1. রাধাকৃষ্ণের প্রেমের কাব্য
  2. ধর্মপূজাপদ্ধতি
  3. চৈতন্যজীবনীমূলক
  4. রোমান্টিক প্রাণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• 'শূন্যপুরাণ' হলো- 'ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ'।

• 'শূন্যপুরাণ': 
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। 
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম। 
১,২৪১.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন?
  1. পূর্বাশা
  2. সংবাদ প্রভাকর
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. সম্বাদ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
• সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- এটি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশের তারিখ ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি, শুক্রবার (১৬ মাঘ, ১২৩৭ বঙ্গাব্দ)।
- ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন সংবাদ প্রভাকর বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।
- ১৮৫৩ সাল থেকে পত্রিকাটির মাসিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- ১৮৪০ ও ১৮৫০-এর দশকে পত্রিকাটি নারীশিক্ষা ও বিধবা-বিবাহের প্রতি সমর্থন প্রদান করা ছাড়াও কৌলীন্য প্রথার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

• এছাড়াও তিনি আরও কিছু পত্রিকা সম্পাদনা করেন-
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাযুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায়।
- 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন 'সঞ্জয় ভট্টাচার্য'।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,২৪২.
দ্বিজ বংশীদাস কোন কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল 
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• 'দ্বিজ বংশীদাস' - মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।

দ্বিজ বংশীদাস:
মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি — দ্বিজ বংশীদাস বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিশেষ খ্যাত। তিনি মূলত — মনসামঙ্গল কাব্যের কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচনায় সমকালীন সমাজজীবনের প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। কাব্যে ব্যবহৃত ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ ইত্যাদি শব্দ প্রমাণ করে যে তিনি সম্ভবত সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।

 জীবনীসংক্রান্ত তথ্য:
• জন্মস্থান: কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রাম।
• কাব্যের পরিচয়: পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি।
• পাণ্ডিত্য: সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য।
• বিশেষত্ব: সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন।
• পারিবারিক পরিচয়: তিনি কবি চন্দ্রাবতীর পিতা।

• মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৪৩.
'পদসমুদ্র' কিসের সংকলন?
  1. মঙ্গলকাব্যের
  2. কবি গানের
  3. বৈষ্ণব পদাবলির
  4. ঠুমরী গানের
ব্যাখ্যা
- বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলক – বাবা আউল মনোহর দাস।
- বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলনের নাম 'পদসমুদ্র'।
- বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলন 'পদসমুদ্র'-এ ১৫ হাজার পদ ছিল।

উৎস: 'পদসমুদ্র' সংকলন; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৪.
বাংলা ভাষায় রচিত চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) চৈতন্য-ভাগবত
  2. খ) চৈতন্য-মঙ্গল
  3. গ) চৈতন্য-চরিতামৃত
  4. ঘ) চৈতন্য-কড়চা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত
• বাংলায় ভাষায় লোচন দাস রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্য-মঙ্গল'  ।
• বাংলা ভাষায় রচিত শ্রেষ্ঠ চৈতন্য জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্য-চরিতামৃত'। গ্রন্থটি রচনা করেন কৃষ্ণদাস কবিরাজ।
• চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী। 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,২৪৫.
'দুররে মজলিশ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আফজাল আলী
  2. দৌলত কাজী
  3. নওয়াজিশ খান
  4. আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা

• আব্দুল হাকিম মধ্যযুগের প্রণয়োপাখ্যান ধারার বিখ্যাত কবি‌।
• তাঁর আটটি কাব্যগ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলো হলোঃ
- ইউসুফ-জোলেখা,
- নূরনামা,
- লালমতি,
- সয়ফুলমূলক,
- শিহাবুদ্দীন নামা,
- নসিহৎনামা,
- দুররে মজলিশ,
- কারবালা ও শহরনামা,
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১,২৪৬.
কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করেন -
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
-  ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৭.
কবিগানের আদিগুরু কে?
  1. ক) ফকির গরিবুল্লাহ
  2. খ) গোঁজলা গুই
  3. গ) হরু ঠাকুর
  4. ঘ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
ব্যাখ্যা
গোঁজলা গুঁই কবিওয়ালাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন।
- তিনি কবিগানের আদিগুরু বলে পরিচিত।
- কবি ঈশ্বর গুপ্তের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৭০৪ থেকে ১৭১৪ সালের মধ্যে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর গান থেকেই ঈশ্বর গুপ্ত কবিগানের প্রথম সূচনা ধরেছেন।
কবিওয়ালাদের মধ্যে আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাম: ভবানী বেনে, রাসু নৃসিংহ, হুরু ঠাকুর, ভোলা ময়রা, কেষ্টা মুচি, নিতাই বৈরাগী, এন্টনি ফিরিঙ্গি প্রমুখ৷
ফকির গরিবুল্লাহ - পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১,২৪৮.
কবীন্দ্র পরমেশ্বর কার উৎসাহে মহাভারতের অনুবাদ করেছিলেন?
  1. নবাব হুসেন শাহ
  2. লক্ষণসেন
  3. পরাগল খাঁ
  4. গোবিন্দসেন
ব্যাখ্যা
মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- এর মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন - বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস।
- মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন।
- কবীন্দ্র পরমেশ্বরের পর শ্রীকর নন্দী মহাভারত অনুবাদ করেন যা ছুটিখাঁনী মহাভারত নামেও পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪৯.
পদসঙ্গীত ধারার রূপকার বলা হয় কাকে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. জয়দেব
  3. বিদ্যাপতি
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

অন্যদিকে, 
• বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
• বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে - বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
• শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।
১,২৫০.
বৈষ্ণব ধর্ম এবং কৃষ্ণভক্তির উপর ভিত্তি করে লেখা গ্রন্থ-
  1. অনদামঙ্গল
  2. বৈষ্ণব পদাবলী
  3. মহাভারত
  4. নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• পদাবলী:
পদাবলী একটি সামগ্রিক গীতি শাখা যা লোকসাহিত্য, ধর্মীয় কাব্য এবং মানবিক অনুভূতিকে সমন্বিত করে। গীতোপযোগী ও ভণিতাযুক্ত ছন্দোবদ্ধ রচনা 'পদ' নামে অভিহিত। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এবং চৈতন্যদেবের প্রেমসাধনাকে অবলম্বন করেই বিস্তার লাভ করে মধ্যযুগের পদাবলী বা গীতিকাব্যের ধারা।

বৈষ্ণব পদাবলী:
বৈষ্ণব পদাবলী পুরোপুরি বৈষ্ণব ধর্ম এবং কৃষ্ণভক্তির উপর ভিত্তি করে লেখা হয়। এতে শ্রীকৃষ্ণ, গোপী প্রেম, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহিমা ও ভক্তির প্রেম প্রতিফলিত হয়।

উল্লেখ্য,
পদাবলী একটি বৃহত্তর শব্দ, যা বিভিন্ন ধরনের গান বা গীতিকাব্যকে নির্দেশ করে, সেখানে বৈষ্ণব পদাবলী বিশেষভাবে বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাবিত গীতির জন্য ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, পদ বা পদাবলী পদ্যাকারে রচিত দেবস্তুতিমূলক রচনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৫১.
"কাজলরেখা" কোন সংকলনের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চট্টগ্রামের গীতিকা
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. রাঢ়বঙ্গের গাথা
  4. পূর্ববঙ্গের পালা
ব্যাখ্যা
• কাজলরেখা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা ও রূপকথা মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনে সংকলিত হয়।
- "কাজলরেখা" মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- এদের মধ্যে কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা।
- এর রচয়িতা কে তা জানা যায় নি।

উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র:
- ধনেশ্বর,
- কাজলরেখা,
- রত্নেশ্বর,
- শুকপাখি।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩. বাংলাপিডিয়া।
১,২৫২.
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন নয় কোনটি?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. কলিমা জালাল
  3. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  4. জঙ্গনামা
ব্যাখ্যা

• 'জঙ্গনামা' মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
----------------- 
• বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়। 

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূন্যপুরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'। 
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম। 

১,২৫৩.
মুকুন্দদাসকে চারণকবির মর্যাদা দেন-
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দদাস:
- মুকুন্দদাস ছিলেন চারণকবি। ১৮৭৮সালে ঢাকার বিক্রমপুরে মুকুন্দদাসের জন্ম।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর। রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- বরিশালের কংগ্রেসনেতা অশ্বিনীকুমার দত্তের নিকট স্বদেশী মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে মুকুন্দদাস দেশাত্মবোধক গান ও যাত্রা রচনা করে মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। বরিশাল হিতৈষী পত্রিকায় তাঁর গান প্রকাশিত হয়; মাতৃপূজা (১৯০৮) নামে গানের একটি সংকলনও প্রকাশিত হয়।

- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু 'চারণকবি' উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৪.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চন্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখন্ড এবং শ্রুতিফল।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৫.
বৈষ্ণব পদাবলিতে "শৃঙ্গার রসকে" কী বলা হয়?
  1. প্রেম-রস
  2. আনন্দ রস
  3. মধুর রস
  4. প্রীতি রস
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলিতে  "শৃঙ্গার রস" কে মধুররস বলে।

• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়।
- পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

• এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫৬.
'লায়লী মজনু' - মধ্যযুগের কোন ধারার সাহিত্য?
  1. বৈষ্ণব সাহিত্য
  2. লোক সাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে (১৫৪৩-১৫৫৩) সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে
১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ-ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৫৭.
বৈষ্ণব পদাবলির অভিসার নয় কোনটি?
  1. জ্যোৎস্নাভিসার
  2. বর্ষাভিসার
  3. দিবাভিসার
  4. রাত্রিভিসার
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলি:
⇒ বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
⇒ বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
⇒ রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
⇒ পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
⇒ বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।
• বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।
- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

• বৈষ্ণব পদাবলী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
• এতে ৮ প্রকার অভিসারের কথা বলা হয়েছে। যথা:
- জ্যোৎস্নাভিসার,
- তামসীভিসার,
- বর্ষাভিসার,
- দিবাভিসার,
- কুজ্ঝাটিকাভিসার,
- তীর্থযাত্রাভিসার,
- উন্মত্তাভিসার,
- সঞ্চরাভিসার।

অতএব, বৈষ্ণব পদাবলির অভিসার নয় রাত্রিভিসার।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
১,২৫৮.
লাউসেনের কাহিনি অবলম্বনে ‘শ্রীধর্মমঙ্গল’ কোন কবির রচনা?
  1. হৃদয়রাম সাউ
  2. ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. রূপরাম চক্রবর্তী
  4. ময়ূরভট্ট
ব্যাখ্যা
• ধর্মমঙ্গল কাব্য:
• ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
• ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত।
• প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।

• ধর্মমঙ্গল ধারার আদি কবি ময়ূরভট্ট। তাঁর কাল খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতক বা এর কাছাকাছি অনুমান করা হয়, কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
• ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৭১১ খ্রিষ্টাব্দ বা আঠারো শতক । তাঁর রচিত গ্রন্থ লাউসেনের কাহিনি অবলম্বনে ‘শ্রীধর্মমঙ্গল’।
• এরপর আর যাঁরা ধর্মমঙ্গল রচনা করেছেন তাঁরা হলেন সহদেব, নরসিংহ বসু, হৃদয়রাম সাউ, রূপরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৯.
বাংলা সাহিত্যে অনুবাদ কাব্যের সূচনা হয় কোন যুগে?
  1. প্রাচীন যুগে
  2. মধ্যযুগে
  3. আধুনিক যুগে
  4. অন্ধকার যুগে
ব্যাখ্যা
• বাংলা অনুবাদ কাব্যের সূচনা হয়: মধ্যযুগে।
-----------------------
• এক্ষেত্রে প্রধানত অনুবাদ হয়েছে:
ক) সংস্কৃত থেকে,
খ) হিন্দি সাহিত্য থেকে,
গ) আরবি-ফারসি সাহিত্য থেকে।
----------------
কয়েকটি অনুবাদ সাহিত্য:
- লায়লী মজনু পারসি কবি জামির লায়লী মজনু থেকে অনুবাদ করেছেন দৌলত উজির বাহরাম খান।
- মধুমালতী হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালতী কাব্য থেকে বাংলা অনুবাদ করেন মুহম্মদ কবীর।
- পদ্মাবতী হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সরি পদুমাবৎ কাব্য থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন আলাওল।
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- মহাভারত প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- মুহম্মদ কবির হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা ।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,২৬০.
'রসুল বিজয়' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল হামিদ
  2. খ) শেখ চাঁদ
  3. গ) মীর মুহম্মদ শফী
  4. ঘ) মুহম্মদ আকিল
ব্যাখ্যা
'রসুল বিজয়' কাব্যের রচয়িতা শেখ চাঁদ। এটি ইসলামি সুফি সাহিত্যধারার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
১,২৬১.
রামপ্রাসাদের গান শুনে কে অভিভূত হয়েছিলেন? 
  1. নবাব মীরকাশিম
  2. নবাব আলিবর্দি খাঁ
  3. নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ
  4. নবাব সিরাজউদৌলা
ব্যাখ্যা
রামপ্রসাদ সেন: 
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। 
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত। 
- তাঁর রচিত শ্যামা সঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিন'শ। 
- শাক্ত সঙ্গীত/শ্যামা সঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন- রামপ্রসাদ সেন। 
- বিখ্যাত গান "মনরে কৃষি কাজ জান না এমন মানবজমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলতো সোনা"। 
- রামপ্রসাদ সেনের গান শুনে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদৌলা অভিভূত হয়েছিলেন। 
- রামপ্রসাদ সেনকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র 'কবিরঞ্জন' উপাধি দিয়েছিলেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১,২৬২.
বাংলা সাহিত্যের কোন যুগকে তামস যুগ বলে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. অবক্ষয় যুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. যুগ সন্ধিক্ষণ
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
 বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়। 

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।

অন্যদিকে,
• মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায় আর আধুনিক যুগের প্রথম কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। এই দুইজনের মাঝের (১৭৬০-১৮৬০) সময়কে বলা হয় অবক্ষয় যুগ বা যুগসন্ধিক্ষণ। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এ সময়ের কবি বলে তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,২৬৩.
মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন-
  1. তুর্কি শাসকবর্গ
  2. সংস্কৃত পণ্ডিতগণ
  3. পাঠান সুলতানগণ
  4. মুঘল সম্রাটগণ
ব্যাখ্যা

• মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন- পাঠান সুলতানগণ।

• পাঠান সুলতানগণের বাংলা সাহিত্যে অবদান:
• স্বাধীন সুলতানগণের শাসনের দীর্ঘ সময়ে অনেকেই বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা দান করেছিলেন।
- প্রথমে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের কথা উল্লেখযোগ্য।
- তিনি 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- শাহ মুহম্মদ সগীরই প্রথম কবি যিনি গৌড়েশ্বরের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে কাব্য রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যের জন্য গৌড় দরবারে স্বীকৃতি অর্জনের কৃতিত্ব রামায়ণের অনুবাদক কবি কৃত্তিবাসের।
- গৌড়েশ্বর তাঁকে পুষ্পমাল্য দাকে সম্মানিত করেন।
- 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্যের রচয়িতা কবি মালাধর বসু সুলতান রুকনউদ্দিন বারবক শাহের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।
- তাছাড়া সুলতান ইউসুফ শাহের কাছ থেকে পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে কবি জৈনুদ্দিন 'রসুলবিজয়' কাব্য রচনা করেন।
- গৌড়ের সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতার আনুকূল্যে বাংলা সাহিত্যের অগ্রগতির প্রমাণ মিলবে তখনকার কবিদের রচিত বিভিন্ন রাজপ্রশস্তিতে।
- ড. ওয়াকিল আহমদ তাঁর 'বাংলা সাহিত্যের পুরাবৃত্ত' গ্রন্থে এর একটি তালিকা দিয়েছেন:



উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,২৬৪.
একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে কয়টি অংশ থাকে?
  1. ২টি
  2. ৫টি
  3. ৩টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখন্ড এবং শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৬৫.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য কোন ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম?
  1. গৌরচন্দ্রিকা
  2. মনোহর দাস
  3. শ্রীকৃষ্ণ
  4. শ্রী চৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা
শ্রী চৈতন্যদেব:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য শ্রী চৈতন্যদেব ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম।
- তিনি বাংলা সাহিত্য একটি পঙক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে যার নাম শ্রী চৈতন্যদেব।
- তাঁকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে মধ্যযুগের ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’।
- ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’ তিন প্রকার যথা : 
- জীবনীকাব্য,
- বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
- পদাবলী
- বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত।
- বাংলা সাহিত্য ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যর পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র, ডাক নাম নিমাই।
- চৈতন্যদেব জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ এবং মৃত্য ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬৬.
‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. বৈদিক ধর্মের মাহাত্ম্য
  2. শেখের গৌরব ব্যাখ্যা
  3. ব্রাহ্মণ্য ধর্ম প্রচার
  4. ধর্মীয় জ্ঞান প্রসার
ব্যাখ্যা
‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শেখের গৌরব ব্যাখ্যা করা।

• সেক শুভোদয়া:
- রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া' সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, 'সেক শুভোদয়া খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারেই গোড়ার দিককার রচনা।'
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মণ সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজির অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- শেখের শুভোদয় অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য।
- এতে নানা ঘটনার মাধ্যমে মুসলমান দরবেশের চরিত্র ও অধ্যাত্মশক্তির পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
- এ গ্রন্থে প্রাচীন বাংলার যে সব নিদর্শন আছে তা হল পীর-মাহাত্ম্যজ্ঞাপক বাংলা ছড়া বা আর্যা, খনার বচন ও ভাটিয়ালি রাগের একটি প্রেমসঙ্গীত।
- আর্যার সংখ্যা তিনটি এবং এগুলো বাংলা ভাষায় প্রাপ্ত পীর মাহাত্ম্য-জ্ঞাপক কাব্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
- হিন্দু কবির দৃষ্টিতে পীরদরবেশগণের ওপর জাগ্রত দেবমাহাত্ম্য আরোপিত হয়েছে।
- সেক শুভোদয়া' গ্রন্থের প্রেমসঙ্গীতটিকে প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের একমাত্র নিদর্শন হিসেবে মনে করা হয়।
- প্রাচীন যুগে ব্যক্তিমানসের যে প্রতিফলন এতে ঘটেছে তা অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- সেক শুভোদয়া গ্রন্থে প্রাচীন আমলের সমাজচিত্রেরও পরিচয় মিলে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
১,২৬৭.
'শূণ্যপুরাণ' কী ধরনের রচনা?
  1. গীতিকাব্য
  2. চম্পুকাব্য
  3. ছড়ার সংকলন
  4. মহাকাব্য
ব্যাখ্যা
• 'শূণ্যপুরাণ':
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ। এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য। গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬৮.
নাথ-যোগীরা কার উপাসক ছিলেন?
  1. ক) মনসা
  2. খ) কৃষ্ণ
  3. গ) অন্নদা
  4. ঘ) শিব
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
নাথ সাহিত্য দুইভাগে বিভক্ত।
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষ নাথের কাহিনী
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১,২৬৯.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের আদি মধ্যযুগ বা প্রাকচৈতন্য যুগের রচনাকাল কোনটি?
  1. ৯৫০ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৩০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
• প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),

মধ্যযুগ:
→ প্রাচীন বা মুসলমানপূর্ব যুগ (৯৫০-১২০০),
→ তুর্কি বিজয়ের যুগ (১২০০-১৩০০),
→ আদি মধ্যযুগ বা প্রাকচৈতন্য যুগ (১৩০০-১৫০০),
→ অন্ত্য মধ্যযুগ (১৫০০-১৮০০), চৈতন্য যুগ বা বৈষ্ণবসাহিত্য যুগ (১৫০০-১৭০০) ও নবাবি আমল (১৭০০-১৮০০),

'চৈতন্য যুগ' সম্পর্কিত বিশেষ তথ্য:
- বাংলা সাহিত্যে (১৫০০ থেকে ১৭০০) পর্যন্ত সময়কে চৈতন্য যুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য সংক্ষেপে ‘চৈতন্য’ নামে পরিচিত।
- শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর জীবিতকালেই ভক্তদের ভগমানের অবতার বলে গৃহীত হয়েছিল।
- চৈতন্যদেব প্রথম জীবনী সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- চৈতন্যের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- প্রবোধানন্দ সরস্বতী ‘শ্রীচৈতন্যচন্দ্রামৃত’ নামক কাব্য রচনা করেছিলেন।
- চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে ‘কচড়া’ নামে অভিহিত করা হয়েছে, যার অর্থ ব্যাপক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৭০.
মঙ্গলকাব্যে ‘চৌতিশা’ বলতে বোঝায়-
  1. চৌত্রিশজন কবি রচিত রচনা
  2. চৌত্রিশ অক্ষরে রচিত রচনা
  3. চৈত্র মাসে রচিত রচনা
  4. বাংলা চৌত্রিশ সনে রচিত রচনা
ব্যাখ্যা
• 'চৌতিশা': 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশিষ্ট কাব্যধারা।
- মঙ্গলকাব্যে বিপন্ন নায়ক-নায়িকা চৌত্রিশ অক্ষরে ইষ্টদেবতার যে স্তব রচনা করে তাকে চৌতিশা বলে।
- ব্যঞ্জণবর্ণের ক থেকে হ পর্যন্ত বর্ণ পদের আদিতে প্রয়োগ করে এই চৌতিশা রচিত হত।
- চৌত্রিশটি বর্ণকে আশ্রয় করে এরূপ কবিতা রচিত হয় বলে একে বলা হয় চৌতিশা।
 
• শেখ ফয়জুল্লাহ্ জয়নবের চৌতিশা,  বাহরাম খান লায়লীর চৌতিশা,  সৈয়দ সুলতান জ্ঞানচৌতিশা উক্ত আঙ্গিকে রচনা করেছেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,২৭১.
'গুলে বকাওলী' কাব্যটি প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. নওয়াজিস খান
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. আমির হামজা
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা

গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

নওয়াজিস খান:
- কবি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার অন্তর্গত সুখছড়ি গ্রামে বসবাস করতেন বলে জানা যায়।
- বাংলায় গুলে বকাওলী কাব্যের রচয়িতা হিসেবে নওয়াজিস খান খ্যাতিমান।
- কবি কাব্যে যে আত্মপরিচয় দান করেছেন তাতে তাঁর বংশলতিকার পরিচয় পাওয়া যায়।
- তাঁর এক পূর্বপুরুষ ছিলিম খান গৌড় থেকে চট্টগ্রাম এসে ছিলিমপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৭২.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, মধ্যযুগ শুরু হয় কত সাল থেকে?
  1. ১১০০
  2. ৯৫০
  3. ১৩৫০
  4. ১২০১
ব্যাখ্যা

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
- প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
- মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০); অর্থ্যাৎ, ১২০১ সাল থেকে মধ্যযুগ শুরু হয়। এবং
- আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

- মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।
দীনেশ্চন্দ্র সেন, সুকুমার সেন, গোপাল হালদার, মুহাম্মদ এনামুল হক প্রমুখের যুগ-সম্পর্কিত অভিমত উল্লেখিত যুগ বিভাগকে সমর্থন করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

১,২৭৩.
'বিচিত্র চিন্তা' কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) ছোটগল্প
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি । 
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,২৭৪.
''থাল ঝনঝন থাল ঝনঝন থাল নিল চোরে।
বৃন্দাবনে আগুন লাগল কে নিবাইতে পারে।'' - কিসের উদাহরণ?
  1. খনার বচন
  2. ছড়া
  3. ধাঁধাঁ
  4. প্রবাদ
ব্যাখ্যা
• থাল ঝনঝন থাল ঝনঝন থাল নিল চোরে।
বৃন্দাবনে আগুন লাগল কে নিবাইতে পারে। - ধাঁধাঁর উদাহরণ।

ধাঁধাঁ:
- লোকসাহিত্যে 'ধাঁধা' অন্যতম প্রাচীন শাখা হিসেবে বিবেচিত।
- রূপকের সাহায্যে এবং জিজ্ঞাসার আকারে কোন একটি ভাব সূক্ষ্ম বুদ্ধি ও চিন্তার অনুশীলনের মাধ্যমে ধাঁধাঁয় রূপায়িত হয়ে ওঠে।
- এতে বুদ্ধিবৃত্তি বিকাশের যে নিদর্শন পাওয়া যায় তাতে তাকে আদিম জাতির সৃষ্টি মনে না করে বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন মানবমনের সৃষ্টি বলে অনুমিত হয়।
- মানুষ সুপ্রাচীন কাল থেকে ধাঁধাঁর ব্যবহার করে আসছে।
- প্রত্যেক দেশের প্রাচীন সাহিত্যেই ধাঁধাঁর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে ধাঁধাঁ বা হেঁয়ালী ব্যবহারের প্রাচুর্য ছিল।

- ধাঁধাঁর উত্তর জনশ্রুতিমূলক হয়ে থাকে।
- সাধারণত উত্তর জানা না থাকলে প্রশ্নকর্তার সম্মুখে বিব্রত হতে হয়।
- তবে ধাঁধাঁর মীমাংসা জনশ্রুতিমূলক বলেই তার জবাবদান সম্ভবপর।
- আগে থেকে জানা না থাকলে লোকসাহিত্যের ধাঁধাঁর উত্তর বের করা কঠিন। কারণ ধাঁধাঁর মধ্যে বক্তব্য সাধারণত সঙ্গতিপূর্ণ থাকে না। যেমন:

একটুখানি পুতুনি কইয়ে ভুর ভুর করে
রাজা আইলে প্রজা আইলে তুইল্যা সেলাম করে।

- এর উত্তর যে 'হুঁকা'-তা আগে থেকে জানা না থাকলে ধাঁধাঁর বক্তব্য থেকে তা উদ্ধার করা চলে না।

- অনেক সময় ধাঁধাঁর উত্তরের সঙ্গে বক্তব্যের অর্থসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া যায় না।
- ধাঁধাঁর মধ্যে অর্থহীন পদও ছন্দের ঝংকার তোলে। যেমন: 

থাল ঝনঝন থাল ঝনঝন থাল নিল চোরে।
বৃন্দাবনে আগুন লাগল কে নিবাইতে পারে। (-রোদ)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,২৭৫.
বাংলাদেশে প্রথম ব্রজবুলি পদ রচনা করেন-
  1. গোবিন্দদাস
  2. যশোরাজ খান
  3. শংকরদেব
  4. রামানন্দ রায়
ব্যাখ্যা
• ব্রজবুলি ভাষা:
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা। 
- মিথিলার কবি  বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এই কৃত্রিম ভাষার উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন। 
- এ ভাষায় তিনি রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক বহু পদ রচনা করেন। পদগুলিতে রাধাকৃষ্ণের ব্রজলীলা বর্ণিত হওয়ায় এর নাম হয়েছে ব্রজবুলি।

- বিদ্যাপতির পদগুলি বাংলায় খুব জনপ্রিয় হয়েছিল; বিশেষত চৈতন্যদেব এই পদ আস্বাদন করায় এর ভাষার প্রতি বাংলার কবিগণ আকৃষ্ট হন।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন।
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল বৈষ্ণব কবি এ ভাষায় বহু পদ রচনা করেন। এই ধারা উনিশ শতক পর্যন্ত চলেছিল।
- আধুনিক কবিদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।

- বাংলাদেশে প্রথম ব্রজবুলি পদ রচনা করেন যশোরাজ খান, আসামে ‘শংকরদেব’ এবং উড়িষ্যায় ‘রামানন্দ রায়’। তারা তিনজনই ছিলেন ষোল শতকের কবি।
-  ব্রজবুলির শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ছিলেন - গোবিন্দদাস কবিরাজ (১৬শ-১৭শ শতক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৬.
মুহম্মদ কবীর রচিত ‘মধুমালতী’ কাব্যে কাহিনির উৎস-
  1. ক) মৈমনসিংহ গীতিকা
  2. খ) পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  3. গ) আরবি প্রণয়োখ্যান
  4. ঘ) ভারতীয় উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

মুহম্মদ কবীর মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান রচিয়তা।
১৫৮৮ সালে 'মধুমালতী' নামে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনা করেন।
হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্‌ বা সাধনের কাব্যের অনুসরণে তাঁর মধুমালতী রচনা করেন।
রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলুভ রোমান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
মধুমালতী কাব্যের কাহিনি উৎস 'ভারতীয় উপাখ্যান।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১,২৭৭.
'নিরঞ্জনের উষ্মা' - কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  2. শূন্যপুরাণ
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. রামায়ণ
ব্যাখ্যা

• 'নিরঞ্জনের উষ্মা’:
- নিরঞ্জনের উষ্মা অংশের মূল প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ-হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
- এই অত্যাচারে বিরূপ হয়ে নিরঞ্জন ধর্মঠাকুর ‘যবন’ মুসলমানের রূপ ধারণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ মূলত 'শূন্যপুরাণ' নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ।
- ‘শূন্যপুরাণে’ কমপক্ষে পাঁচজন কবির হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে মনে করা হয়। এছাড়া নানা মতান্তরের কারণে ‘নিরঞ্জনের উষ্মার’ রচনাকাল নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৭৮.
বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা কয়টি?
  1. ৫টি 
  2. ৬টি 
  3. ৭টি 
  4. ৮টি 
ব্যাখ্যা

• বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকার অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি থাকে এবং যার রতির মূলে থাকে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি, যিনি কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে সমর্থা নায়িকা বলা হয়।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি এরা সকলেই সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা হিসেবে বিবেচিত।

পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা। যথা:
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা এবং
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৭৯.
কোনটি ঐতিহাসিক উপন্যাস?
  1. ক) রাজসিংহ
  2. খ) মৃত্যু-ক্ষুধা
  3. গ) ঘরে বাইরে
  4. ঘ) গোরা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাজসিংহ’ ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
এখানে রাজপুত রাজা রাজসিংহের সঙ্গে মোঘল বাদশা আওরঙ্গজেবের যুদ্ধ দেখানো হয়।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম
১,২৮০.
বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনার সূচনা হয় কার জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. শ্রীচৈতন্যদেব
  3. বৃন্দাবন দাস
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৮১.
"ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি, আবনী বহিয়া যায়।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. মুকুন্দদাস
  3. কানাহরি দত্ত
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
"ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি,
আবনী বহিয়া যায়।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা গোবিন্দদাস।

• গোবিন্দদাস:

- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।

• গোবিন্দদাসের উপাধি:
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

• গোবিন্দদাস রচিত পঙ্‌ক্তিটির কিছু অংশ :
"ঢল ঢল কাঁচা
অঙ্গের লাবণি
অবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ- হিল্লোলে
মদন মুরুছা পায়।।"

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,২৮২.
‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের দ্বিতীয় অংশের নাম কী?
  1. ভবানন্দচরিত
  2. শিবনারায়ণ
  3. বিদ্যাসুন্দর
  4. রূপসুন্দর
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য মোট তিন খণ্ডে বিভক্ত।
যেমন:
- শিবনারায়ণ।
- কালিকামঙ্গল।
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৮৩.
দ্বিজ বংশীদাস কোন কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল 
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• 'দ্বিজ বংশীদাস' — মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।

-------------------
দ্বিজ বংশীদাস:
মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি — দ্বিজ বংশীদাস বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিশেষ খ্যাত। তিনি মূলত — মনসামঙ্গল কাব্যের কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচনায় সমকালীন সমাজজীবনের প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। কাব্যে ব্যবহৃত ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ ইত্যাদি শব্দ প্রমাণ করে যে তিনি সম্ভবত সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।

 জীবনীসংক্রান্ত তথ্য:
• জন্মস্থান: কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রাম।
• কাব্যের পরিচয়: পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি।
• পাণ্ডিত্য: সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য।
• বিশেষত্ব: সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন।
• পারিবারিক পরিচয়: তিনি কবি চন্দ্রাবতীর পিতা।
-------------
'মনসামঙ্গল' কাব্য:
মনসামঙ্গল কাব্য  — দেবী মনসার পূজা ও গুণকীর্তন নিয়ে রচিত। এই কাব্যের প্রধান চরিত্র  — চাঁদ সওদাগর, একজন বণিক, যিনি তাঁর বাণিজ্যিক অভিযানের জন্য বিখ্যাত। মনসামঙ্গল কাব্যে  — চাঁদ সওদাগরের সমুদ্রযাত্রা, বাণিজ্য, এবং তাঁর সঙ্গে মনসা দেবীর দ্বন্দ্বের বর্ণনা রয়েছে। এই কাব্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা, যেমন বণিক, নৌকার মাঝি, সাধারণ গ্রামবাসী, এবং ধর্মীয় বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন চরিত্রের জীবনযাত্রা ফুটে উঠেছে।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান কবিগণ:
• কানাহরি দত্ত — আদি কবি;
• বিজয়গুপ্ত;
• দ্বিজ বংশীদাস;
• নারায়ণদেব;
• কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৮৪.
"কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ" গ্রন্থটির মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. বাংলা ব্যাকরণ প্রণয়ন
  2. সুফিবাদের প্রচার
  3. খ্রিষ্টধর্মের মহিমা বর্ণনা
  4. বাংলা উপমহাদেশের ইতিহাস
ব্যাখ্যা

• কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ:
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ হলো মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দ্বারা রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এটি ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়। এই গ্রন্থের মূল লক্ষ্য হলো - গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন করা।

• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ: 
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ খ্রিস্টান ধর্মযাজক। তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচনার আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি। ১৭৪৩ সালে, তিনি দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
এগুলো হলো - 
- কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ,
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,
- বাংলাপিডিয়া।

১,২৮৫.
বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা কয়টি?
  1. পাঁচটি
  2. সাতটি
  3. আটটি
  4. নয়টি
ব্যাখ্যা
• পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যা রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা। 
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা :
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮৬.
মৈয়মনসিংহ গীতিকার কোন পালার সাথে কবি দ্বিজ কানাই এর ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে?
  1. মহুয়া পালা
  2. কমলা পালা 
  3. মলুয়া পালা 
  4. দস্যু কেনারামের পালা 
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া পালা':
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
"কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।"

অন্যদিকে, 
--------------------
• চন্দ্রাবতী রচিত কয়েকটি পালা হচ্ছে - মলুয়া, দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৮৭.
‘কাসাসুল আম্বিয়া’ অনুসরণ করে সৈয়দ সুলতান রচনা করেন-
  1. ইউসুফ-জোলেখা
  2. নূরনামা
  3. নবীবংশ
  4. জ্ঞানচৌতিশা
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ সুলতান:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম। চট্টগ্রামের লস্করপুর তথা পরাগলপুরে কবি সাময়িকভাবে বসবাস করেন।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

- তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর নবীবংশ, জ্ঞানপ্রদীপ, জ্ঞানচৌতিশা ও জয়কুম রাজার লড়াই উল্লেখযোগ্য।

- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য। ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
- বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খন্ড রসুলচরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।

অন্যদিকে,
- 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আবদুল হাকিম।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৮৮.
কোনটি মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র নয়?
  1. বেহুলা
  2. লখিন্দর
  3. মুরারি শীল
  4. সনকা
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র - মুরারি শীল। 

মনসামঙ্গল:

- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
-‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’।
- চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
- দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
- এই কাব্যের চরিত্রগুলো: বেহুলা, লখিন্দর, সনকা, সাপের দেবী মনসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,২৮৯.
'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়' উক্তিটি কোন কাব্য গ্রন্থের?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) কালিকামঙ্গল
  4. ঘ) সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য। এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,২৯০.
''মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।''- উক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়াংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- তাঁর রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।

তার কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- ''আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।''
- ''মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।''
- “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”

উৎস: বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৯১.
'সপ্তপয়কর' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. আলাওল
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা
আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন। আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- সপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯২.
কোনটি পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত?
  1. কমলা
  2. মলুয়া
  3. দেওয়ানা ভাবনা
  4. কাঞ্চনমালা
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন  চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক। ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরণের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।  
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

পূর্ববঙ্গ গীতিকাগুলো হলো:
- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- কমল সওদাগর,
- চৌধুরীর লড়াই,
- কাঞ্চনমালা,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া,
- কমলা রানির গান।

অন্যদিকে,
- মলুয়া, দেওয়ানা ভাবনা ও কমলা মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,২৯৩.
'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা' সংকলনের প্রধান সংগ্রাহক কে ছিলেন?​
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর​
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্‌দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন। দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৪.
‘শূন্যপুরাণ’ প্রকাশ করেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. নাগেন্দ্রনাথ বসু
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
ব্যাখ্যা
'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৯৫.
'পদাবলি'র প্রথম কবি কে?
  1. ক) শ্রীচৈতন্য
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) চণ্ডীদাস
  4. ঘ) জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলী।
- পদাবলীর আদিকবি বাঙালী কবি - জয়দেব, তিনি পদাবলী রচনা করেছেন সংস্কৃত ভাষায়।
- অবাঙালী কবি বিদ্যাপতিকে বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি বলা হয়। বিদ্যাপতি পদাবলী রচনা করেছেন ব্রজবুলি ভাষায়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় রচিত বৈষ্ণব পদাবলীর আদিকবি চণ্ডীদাস।

যেহেতু এই প্রশ্নে কোন ভাষার সেটা উল্লেখ করা নেই এবং 'জয়দেব' অপশনে নেই; তাই সঠিক উত্তর হিসাবে 'বিদ্যাপতি'কে নেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,২৯৬.
'মর্সিয়া সাহিত্য' মূলত কোন ধরনের কাহিনি অবলম্বনে রচিত? 
  1. পৌরাণিক কাহিনি
  2. লোককথা
  3. ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি
  4. সুফি সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।

- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)। 

- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷
- তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।  

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৭.
মধ্যযুগের সাহিত্য 'জ্ঞানপ্রদীপ' রচনা করেন কে?
  1. ফকির গরিবুল্লাহ
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা
সৈয়দ সুলতান:
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম।
- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা,
- শব—ই—মিরাজ,
- ওফাত—উ—রসুল,
- জয়কুম রাজার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৮.
শাহ্ মুহম্মদ সগীর কোন শতকের কবি ছিলেন?
  1. চোদ্দ শতকের
  2. পনের শতকের
  3. ষোল শতকের
  4. সতের শতকের
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
শাহ্ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা।
-তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৯৯.
“জল ভর সুন্দরী কইন্যা, জলে দিছ ঢেউ/হাসি মুখে কওনা কথা, সঙ্গে নাই মোর কেউ”- পঙ্‌ক্তি দুইটি কোন পালার অন্তর্গত?
  1. মলুয়া
  2. কাজলরেখা
  3. মহুয়া
  4. চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
• “জল ভর সুন্দরী কইন্যা, জলে দিছ ঢেউ/হাসি মুখে কওনা কথা, সঙ্গে নাই মোর কেউ”- পঙ্‌ক্তি দুইটি ‘মহুয়া’ পালার অন্তর্গত।

• 'মহুয়া' পালা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
• এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
•'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
• নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
• এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং মৈমনসিংহ গীতিকা।
১,৩০০.
“সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই” - উক্তিটি কার?
  1. ক) বিবেকানন্দ
  2. খ) চন্ডীদাস
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয় চণ্ডীদাসকে।
তিনি 'শুনহ মানুষ ভাই / সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেন।
ব্যাক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের উর্ধ্বে ছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চন্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছেন৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর