সঠিক উত্তর: ঘ) মনসামঙ্গল।
------------------
মঙ্গলকাব্য সম্পর্কিত আলোচনা:
মঙ্গলকাব্য বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যা মধ্যযুগে (প্রায় ১৩শ থেকে ১৮শ শতাব্দী) রচিত হয়েছিল। এই কাব্যগুলো সাধারণত দেব-দেবীর গুণকীর্তন ও তাঁদের পূজার প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত হলেও এতে সমকালীন সমাজ, সংস্কৃতি, এবং জীবনযাত্রার প্রতিফলন দেখা যায়।
অপশন আলোচনা:
ক) ধর্মমঙ্গল:
ধর্মমঙ্গল কাব্য ধর্মঠাকুর বা ধর্মরাজের পূজা ও তাঁর গুণকীর্তন নিয়ে রচিত। এই কাব্যে মূলত ধর্মঠাকুরের ভক্তি ও আধ্যাত্মিক বিষয়বস্তু প্রাধান্য পায়। এতে চাঁদ সওদাগরের কোনো উল্লেখ নেই।
খ) চণ্ডীমঙ্গল:
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য দেবী চণ্ডীর পূজা ও গুণকীর্তন নিয়ে রচিত। এই কাব্যে কালকেতু ও ফুল্লরার গল্প প্রধান, যেখানে সমাজের সাধারণ মানুষের জীবন ও দেবী চণ্ডীর প্রভাব বর্ণিত হয়। তবে, চাঁদ সওদাগর এই কাব্যের চরিত্র নন।
গ) কালিকামঙ্গল:
কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দর কাহিনি' বলা হয়। দেবী কালির মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে। কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কবি কঙ্ক। এছাড়া সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন কালিকা মঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
ঘ) মনসামঙ্গল:
মনসামঙ্গল কাব্য দেবী মনসার পূজা ও গুণকীর্তন নিয়ে রচিত। এই কাব্যের প্রধান চরিত্র চাঁদ সওদাগর, একজন বণিক, যিনি তাঁর বাণিজ্যিক অভিযানের জন্য বিখ্যাত। মনসামঙ্গল কাব্যে চাঁদ সওদাগরের সমুদ্রযাত্রা, বাণিজ্য, এবং তাঁর সঙ্গে মনসা দেবীর দ্বন্দ্বের বর্ণনা রয়েছে। এই কাব্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা, যেমন বণিক, নৌকার মাঝি, সাধারণ গ্রামবাসী, এবং ধর্মীয় বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন চরিত্রের জীবনযাত্রা ফুটে উঠেছে।
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।
মনসামঙ্গল কাব্যের বিশেষত্ব:
• চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান: মনসামঙ্গল কাব্যে চাঁদ সওদাগর একজন ধনী বণিক হিসেবে সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে বাণিজ্য করেন। তাঁর বাণিজ্যিক অভিযান, সমুদ্রযাত্রার বিপদ, এবং তাঁর সম্পদ ও প্রভাব বর্ণিত হয়েছে, যা মধ্যযুগীয় বাংলার বাণিজ্য ও অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে।
• সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ: এই কাব্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা উঠে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, চাঁদ সওদাগর একজন ধনী বণিক (উচ্চবর্গ), তাঁর স্ত্রী সনকা ও পুত্র লখিন্দর পারিবারিক জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে, এবং মাঝি, কৃষক, ও অন্যান্য চরিত্র সমাজের নিম্নস্তরের জীবনযাত্রা প্রকাশ করে। এছাড়া, মনসা দেবীর পূজার প্রচার ও ধর্মীয় দ্বন্দ্ব সমাজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক তুলে ধরে।
উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
- বাংলাপিডিয়া।
- মনসামঙ্গল কাব্যের বিভিন্ন সংস্করণ (যেমন, বিজয় গুপ্তের ‘পদ্মাপুরাণ’)।