বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ১২ / ২৮ · ১,১০১১,২০০ / ২,৭৬৪

১,১০১.
“না জানি কেমন আছে নিষেধ কারণ।
বুঝিলু তোমার ইচ্ছা আমার মরণ।।”
- পঙক্তিটি কোন কাব্য থেকে সংগৃহীত?
  1. ক) ইউসুফ-জুলেখা
  2. খ) লায়লী মজনু
  3. গ) মধুমালতী
  4. ঘ) গুলে বকাওলী
ব্যাখ্যা

ব্যাধি এ পীড়িত মাের বিকল শরীর।
ঔষধ দর্শনে প্রাণ শান্ত নহে স্থির।।
এহেন নির্জন পুরী বিরল সম্ভোগ।
পরিহরি লজ্জা ভীতি কর উপভােগ।।
না জানি কেমন আছে নিষেধ কারণ।
বুঝিলু তােমার ইচ্ছা আমার মরণ।।

- ইউসুফ জুলেখা, শাহ মুহম্মদ সগীর।
(জোলেখার প্রেম নিবেদন অংশ থেকে)

১,১০২.
কোন রচনাটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের অন্তর্গত?
  1. ক) রসুলনামা
  2. খ) মহাভারত
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) কীচকবধ
ব্যাখ্যা
ইউসুফ জোলেখা শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাব্য যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য। এছাড়াও ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ পদ্মাবতী। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,১০৩.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মানিক দত্ত
  3. ভারতচন্দ্র রায়
  4. কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীমঙ্গল:
- ​'চণ্ডীমঙ্গল' চন্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের লিখিত কাব্য। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
-  চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো :
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১০৪.
কোনটি নাথ সাহিত্য?
  1. দস্যু কেনারামের পালা
  2. গোরক্ষ বিজয়
  3. কঙ্ক ও লীলা
  4. মলুয়া
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনি বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

• নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১০৫.
'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. রফিক আজাদের 
  2. হাসান হাফিজুর রহমানের
  3. হুমায়ুন কবিরের 
  4. হাসান আজিজুল হকের 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র:
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৫ খণ্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়। এটি তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়সীমা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত সারা বিশ্বে যা কিছু ঘটেছে তার তথ্য ও দলিলপত্র সংগ্রহ এবং সেসবের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস রচনা ও মুদ্রণের দায়িত্ব অর্পিত হয় মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্পের ওপর। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৮ সালের জানুয়ারী থেকে (পরিশিষ্ট দ্রষ্টব্য)।

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্প গ্রহণ করে। ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করা ও বিকৃতির আশঙ্কা এড়িয়ে যাবার জন্যই ইতিহাস রচনার পরিবর্তে দলিল ও তথ্য প্রকাশকেই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়েছে। আর সে প্রকল্পের ফসলই "বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র"।

- প্রায় ১৫,০০০ পৃষ্ঠায় ১৫ খণ্ডে এসব দলিলপত্র প্রণয়ন করে ১৯৮২ সালে তা প্রকাশ করা হয়। এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত গবেষক ও সম্পাদকবৃন্দের আক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই দলিলপত্র গ্রন্থমালা।

----------------
• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধগুলো হলো:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু

উৎস: 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' গ্রন্থ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১০৬.
মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল কোনটি?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. বৈষ্ণব পদাবলি
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

• বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।
- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

• পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যা রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা :
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
১,১০৭.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়-
  1. ক) ১৭৯৮ সালে
  2. খ) ১৮০০ সালে
  3. গ) ১৮০১ সালে
  4. ঘ) ১৮৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের মে মাসের ৪ তারিখ।
১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এখানে যোগ দেন বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার অধ্যাপকরূপে।
উইলিয়াম কেরি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পরিচালক ছিলেন।
তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বই ‘কথোপকথন’। এটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ২য় বই।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

১,১০৮.
অন্ধকার যুগে বাংলা ভাষায় সাহিত্যসৃষ্টি হয়নি বলে ধরা হয় কেন?
  1. বিদেশি ভাষা প্রভাবিত হওয়ায়
  2. রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য
  3. লেখক ছিল না
  4. ছাপাখানা ছিল না
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সময়ে বাংলা সাহিত্যের লিখিত কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না।

- ১২০৪ সালে তুর্কি বীর ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলা অধিকার করেন।
- পরবর্তী দেড়শ বছর রাজনৈতিক আলোড়নের জন্য কোন সাহিত্যসৃষ্টি সম্ভব হয়নি বলে অনেকের ধারণা।
- এ সময় রচিত যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া গেছে (যেমন: শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া।
- অবশ্য এগুলোর রচনাকাল নিয়ে মত-পার্থক্য আছে।) সেগুলো মূলত সংস্কৃত।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগ বিভাগ হয়েছে প্রাপ্ত নিদর্শনের ভিত্তিতে।
- চর্যার কবিদের অস্তিত্ব দ্বাদশ শতাব্দীর (১২০০) পূর্ব পর্যন্ত ছিল বলে মনে করা হয়।
- তাই দ্বাদশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত প্রাচীন যুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১০৯.
কোনটি মঙ্গলকাব্য সাহিত্যের অংশ নয়?
  1. ক) সারদামঙ্গল
  2. খ) কালিকামঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত ‘সারদামঙ্গল’ মঙ্গলকাব্য নয়। এটি আধুনিক যুগের কাব্য। এছাড়া চৈতন্য-মঙ্গল ও গোবিন্দমঙ্গল বৈষ্ণব সাহিত্যের অংশ। সূত্রঃ Livemcq লেকচার পিডিএফ।
১,১১০.
কাদের বর্গী নামে ডাকা হতো?
  1. নেপালি সৈন্য
  2. আরাকানী জলদস্যু
  3. মারাঠা
  4. পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ ভারতের মারাঠারা বাংলায় বর্গী নামে পরিচিত ছিলো। মারাঠা সৈন্যবাহিনীর সর্বনিম্ন পদধারী সৈনিকরা বরগি নামে পরিচিত ছিলো। এই বরগি থেকেই বর্গী নামের উদ্ভব।
আঠারো শতকে বাংলায় বর্গীরা ব্যাপক লুটতরাজ চালাতো। আলীবর্দি খান বাংলায় বর্গীদের দমন করেন।

অন্যদিকে,
পর্তুগিজদের ফিরিঙ্গি নামে ডাকা হতো। আরাকানী জলদস্যুদের মগ নামে অবিহিত করা হতো।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১,১১১.
হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. পদ্মাবতী
  3. গুলে বকাওলী
  4. মধুমালতী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।

- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

অন্যদিকে, 
--------------------
• 'চন্দ্রাবতী' কোরেশী মাগন ঠাকুরের অন্যতম একটি কাব্যগ্রন্থ।
• 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি ইজ্জততুললাহ রচিত "তাজুউলমুলক গুল-ই- বকা-গুলি" এর অনুবাদ গ্রন্থ। ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত এই গ্রন্থটির বঙ্গানুবাদ করেন 'কবি নওয়াজিশ খান'।
• হিন্দি কবি মনঝনের 'মধুমালত' বা সাধনের 'মৈনাসত' কাব্যের অনুসরণে মুহম্মদ কবীর বাংলায় রচনা করেন 'মধুমালতী'।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
১,১১২.
কোন কবি প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন?
  1. ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. খ) কবি আলাওল
  3. গ) কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. ঘ) দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
- শাহ মুহম্মদ সগীরই প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন।
- শাহ মুহম্মদ সগীর (আনু. ১৪শ-১৫শ শতক)  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- তাঁর রচিত  ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১,১১৩.
"মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।"— এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা

"অন্নদামঙ্গল" কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
-সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১১৪.
গোপীচন্দ্রের কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় -
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. মহাভারত
  3. জায়সীর পদুমাবতে
  4. কৃষ্ণকুমারীতে
ব্যাখ্যা
গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস:
- এই কাব্যের রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- গোপীচন্দ্রের কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় - জায়সীর পদুমাবতে। এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।

শুকুর মাহমুদ:
- (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,১১৫.
বাংলায় কৃত্তিবাসকে রামায়ণ অনুবাদের অনুরোধ জানান-
  1. নাসিরুদ্দিন শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. আলাউদ্দিন খলজী
  4. শাহ মুহাম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের বাংলা অনুবাদ কাব্য সূচনা ঘটে ।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা ।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় ''রামায়ণ'' অনুবাদ করেন ।

- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি ।
- তিনি তমসা নদীর তীরে বসে রামায়ণ রচনা করেন ।
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন চন্দ্রাবতী ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

১,১১৬.
‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।’- পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. চণ্ডীদাস
  2. বিদ্য্যাপতি
  3. জ্ঞানদাস
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
• 'জ্ঞানদাস': 
- জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি।
- জ্ঞানদাস বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায়, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় ২শ(মতান্তরে চারশ) পদ লেখেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

• বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে জ্ঞানদাসের কবিতায়:
রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।

• তাঁর আরো একটি বিখ্যাত পদ:
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,১১৭.
'শাক্তপদাবলি' রচয়িতা হিসাবে বিখ্যাত ছিলেন -
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. দাশরথি রায়
  3. কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রজনীকান্ত সেন
ব্যাখ্যা
শাক্তপদাবলি বা শাক্ত গান হলো বাঙ্গালির প্রাণের গান।
- শাক্তগানের বিষয় - শ্যমা, কালী বা উমাকে কেন্দ্র করে রচিত।
- বাংলা শাক্তপদাবলির শ্রেষ্ঠ রচয়িতা - রামপ্রসাদ সেন। তিনি তাঁর নিজস্ব ঢঙে শাক্তপদ গাইতেন। এটি পরে 'রামপ্রসাদী সুর' বলে বাংলায় জনপ্রিয়তা লাভ করে।
- এছাড়া অপর বিখ্যাত শাক্তপদকর্তা ছিলেন - কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
----------
- রামনিধি গুপ্ত ছিলেন - টপ্পা গানের পথিকৃৎ।
- দাশরথি রায় ছিলেন - বাংলার শ্রেষ্ঠ পাঁচালিকার।
- রজনীকান্ত সেন মূলত ভক্তিগীতি ও দেশপ্রেম মূলক গান রচনা করতেন। বঙ্গভঙ্গের সময় তিনি প্রচুর দেশপ্রেমমূলক গান রচনা করেন।
এছাড়া, চারণকবি ছিলেন - মুকুন্দ দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১১৮.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি কত বঙ্গাব্দে সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩০৯ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৬ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বড়ু চণ্ডীদাস আনুমানিক ১৩০৯ খ্রিষ্টাব্দে ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বড়ু চণ্ডীদাসের রাধাকৃষ্ণনের প্রণয় বর্ণনার মাধ্যমে ঈশ্বরতত্ত্ব প্রকাশ করে রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে। এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১১৯.
বিদ্যাপতি কোন শতকের কবি?
  1. ত্রয়োদশ শতক
  2. চতুর্দশ শতক
  3. পঞ্চদশ শতক
  4. ষোড়শ শতক
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি। কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,১২০.
রামপ্রসাদ সেন কোন ধরনের গানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত?
  1. রাজসঙ্গীত
  2. লোকগীতি
  3. শ্যামাসঙ্গীত
  4. ভজনগীতি
ব্যাখ্যা

রামপ্রসাদ সেন:
- রামপ্রসাদ সেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- সংসারের বিভিন্ন দুঃখ-কষ্টকে গৌরব মনে করে মায়ের উদ্দেশে তিনি গান বেঁধেছেন: 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।'
- রামপ্রসাদ প্রচুর গান রচনা করেছিলেন যার বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে।
- কৃষ্ণচন্দ্র তাকে 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে
পরিচিত।
- রামপ্রসাদ নিজে এই সুরে কালী বা শ্যামার উদ্দেশে অনেক সঙ্গীত রচনা করেন, যা শ্যামাসঙ্গীত নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১২১.
'প্রাকৃতপৈঙ্গল' কোন যুগের সাহিত্য?
  1. আধুনিক
  2. অন্ধকার
  3. প্রাচীন
  4. যুগসন্ধিক্ষণ
ব্যাখ্যা
অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল,
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- সেক শুভোদয়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১২২.
মধ্যযুগের কবি কে?
  1. শবরপা
  2. বাহরাম খান
  3. ভানুসিংহ ঠাকুর
  4. ঈশ্বর গুপ্ত
ব্যাখ্যা
⇒ দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন ।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

- দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
• লায়লী-মজনু ও
• ইমাম-বিজয়।
উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য। 

অন্যদিকে,
- শবরপা ছিলেন প্রাচীন যুগের চর্যাপদের একজন কবি।
- উনিশ শতকের প্রথম থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত। এই যুগের প্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বা ঈশ্বর গুপ্ত। তিনি যুগসন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিত।
- ‘ভানুসিংহ ঠাকুর’ আধিুনিক যুগের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,১২৩.
'মৈনাসৎ' ও 'চান্দাইন কাব্য' অনুসরণে রচিত রোমান্টিক আখ্যানমূলক কাব্য কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. মধুমালতী
  3. চন্দ্রাবতী
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
• 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী রোমান্টিক আখ্যানমূলক কাব্য। 
- আরাকানরাজ শ্রীসুধর্মার সমরসচিব আশরফ খানের পৃষ্ঠপোষকতা ও নির্দেশে দৌলত কাজী সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।

- তিনি হিন্দি কবি মিঁয়া সাধনের 'মৈনাসৎ' ও মোল্লা দাউদের 'চান্দাইন কাব্য' অনুসরণ করেন বলে ধারণা করা হয়। কাব্যটির দুই-তৃতীয়াংশ রচনার পর কবির মৃত্যু হলে আলাওল বাকি অংশ সমাপ্ত করেন (১৬৫৯)।

- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে। কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত। হিন্দি মূল কাব্যে রূপকের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১২৪.
বাংলা সাহিত্যের অবক্ষয়যুগের সময় কাল-
  1. ১৭০০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
  2. ১৭৩০ থেকে ১৮০০ খ্রি.
  3. ১৭৬০ থেকে ১৮০০ খ্রি.
  4. ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুতির প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,১২৫.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক -
  1. ক) রামরাম বসু
  2. খ) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  3. গ) চণ্ডীচরণ মুনশি
  4. ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক যারা ছিলেনঃ উইলিয়াম কেরি, রামরাম বসু, গোলকনাথ শর্মা, তারিণীচরণ মিত্র, চণ্ডীচরণ মুনশি, রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়, রামকিশোর তর্কালঙ্কার।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

১,১২৬.
'নবীবংশ' গ্রন্থটি কোন কবির রচনা?
  1. মুহম্মদ খান
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. আবদুল হাকিম 
ব্যাখ্যা

• 'নবীবংশ' গ্রন্থটির রচয়িতা সৈয়দ সুলতান।

• 'নবীবংশ' গ্রন্থ:
- নবীবংশ গ্রন্থটি ১৫৮৪ সালে রচিত হয়। হযরত মুহম্মদ (স) এর জীবনীকাব্য এটি।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খণ্ড রসুল চরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।

----------------
• সৈয়দ সুলতান:
- মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি।
- কাহিনিকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো-
- জ্ঞানচৌতিশা,
- নবীবংশ,
- শব-ই-মেরাজ ও
- জয়কুমার রাজার লড়াই (যুদ্ধবিষয়ক কাহিনীকাব্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১২৭.
'যত যত মহাপণ্ডিত আছ এ সংসারে/আমার কবিত্ব কেহ নিন্দিতে না পারে।'-এটি কার রচনা?
  1. কাশীরাম দাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা
• 'যত যত মহাপণ্ডিত আছ এ সংসারে/আমার কবিত্ব কেহ নিন্দিতে না পারে।'- পঙ্‌ক্তিটি কৃত্তিবাস ওঝা করেছেন।

• কৃত্তিবাস পঞ্চদশ শতকের কবি।
- তাঁর একটি দীর্ঘ আত্মপরিচিতি পাওয়া গেছে।
- এ আত্মপরিচিতিতে তিনি অনেক কথা বলেছেন। 
---------------------- 
• কৃত্তিবাস ওঝা:
- বাল্মীকির রামায়ণের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ অনুবাদক।
- তার এ রামায়ণকে শ্রীরাম পাঁচালিও বলা হয়।
- মৈথিলি ব্রাহ্মণদের অসমিয়া ভাষায় ওঝা বলা হয়।
- ওঝা শব্দটি এসেছে ‘উপাধ্যায়' থেকে।
- কৃত্তিবাসের পদবি ছিল মুখোপাধ্যায়।
-  বাংলা রামায়ণের আদি কবির নাম কৃত্তিবাস ওঝা।
- কবির কাব্যের ‘আত্ম পরিচয়' অংশ থেকে তাঁর বংশ পরিচয় পাওয়া যায়।

- তাঁর রামায়ণ এতোটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, ১৮০২-০৩ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুরের পাদ্রিরা তাদের নব প্রতিষ্ঠিত প্রেসে গ্রন্থটি মুদ্রণ করেন। এ কারণে গোপাল হালদার মন্তব্য করেছেন, 'বাল্মীকি যেমন সংস্কৃতের আদি কবি কৃত্তিবাসও তেমনি বাঙলার আদি কবি।'
- কৃত্তিবাসের রামায়ণে চরিত্রসমূহ বাঙালি ঘরোয়া আমেজে সকলের পরিচিত হয়ে উঠেছে।
- মধুসূদন দত্ত একটি সনেটে কবিকে 'কীর্তিবাস তুমি' বলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন।
- 'কৃত্তিবাস কীর্তিবাস কবি, এ বঙ্গের অলঙ্কার'- কৃত্তিবাস সম্পর্কে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এ মন্তব্য করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।
১,১২৮.
'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ধর্মপূজাপদ্ধতি গ্রন্থ
  2. রাধাকৃষ্ণের প্রেমের কাব্য
  3. চৈতন্যজীবনীমূলক গ্রন্থ
  4. হিন্দু ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
⇒ শূন্যপুরাণ:
- ‘শূন্যপুরাণ’ বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- গ্রন্থটির প্রথম পাঁচটি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয় এটি সকল সৃষ্টিতত্ত্ব বর্ণনায় মহাযান বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব লক্ষকরা যায়। বাকি সব কয়টি অধ্যায়েই বিভিন্ন ও বিচিত্র রকমের ধর্মপূজার পদ্ধতি বিশ্লেষণে পূর্ণ।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১২৯.
মধ্যযুগের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. পদ্মাবতী
  3. গুলে বকাওলী
  4. সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
‘সারদামঙ্গল’ কাব্য:
• ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য বিহারীলাল চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ রচনা।
• এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন।
• রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভোরের পাখি’ বলে।

অন্যদিকে,
'চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় রচিত হয়।

'পদ্মাবতী' কাব্য:
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।

• গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৩০.
'নদের চাঁদ', 'হুমরা বেদে' চরিত্র দুটি কোন পালায় পাওয়া যায়?
  1. মহুয়া
  2. মলুয়া
  3. ভেলুয়া
  4. কমলা
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া' পালা:
-  ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
- এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৩১.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাত।' - কোন কবির সাহিত্যে এ প্রার্থনাটি ধ্বনিত হয়েছে?
  1. ঈশ্বরী পাটনী
  2. আলাওল
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র- মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি। 
-----------------
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।
------------------- 
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো: 
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৩২.
'শূন্যপুরাণ' কত বঙ্গাব্দে প্রকাশ করা হয়?
  1. ১৩১৫ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩২৫ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩১৭ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
শূন্যপুরাণ:
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- শূন্যপুরাণ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ- গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ নামে শূন্যপুরাণের একটি অংশ আছে।
- বৌদ্ধধর্মের ধ্বংসন্মুখ অবস্থায় হিন্দু ধর্মের সঙ্গে মিলন সাধনের জন্য রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- এতে বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
-বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শূন্যপুরাণ শিল্পকর্ম হিসেবে নয়, ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই ঐতিহাসিক গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুঁথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,১৩৩.
কোরেশী মাগন ঠাকুর কোন কাব্য রচনার জন্য পৃষ্ঠপোষকতা করেন?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. ইউসুফ জুলেখা 
  3. পদ্মাবতী
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা

• কোরেশী মাগন ঠাকুর:
- কোরেশী মাগন ঠাকুর (১৭শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি। তিনি চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- বাংলা, ফারসি, বর্মি ও সংস্কৃত ভাষায় মাগন ঠাকুরের অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। সঙ্গীত ও অলঙ্কারশাস্ত্রেও তাঁর দখল ছিল।

- রোসাঙ্গের কবি আলাওল তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন এবং তাঁরই নির্দেশে পদ্মাবতী (১৬৫২) ও সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৫৯) কাব্য রচনা করেন। আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা করেছিলেন। মাগন ঠাকুর গুণীর সমাদর করতেন এবং তিনি নিজেও ছিলেন নানা গুণের অধিকারী।
- তাঁর রচিত চন্দ্রাবতী কাব্যের একটিমাত্র পুথি পাওয়া গেছে। এটি লোককাহিনী আশ্রিত রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য। বর্ণনাধর্মী এ কাব্যে সাহিত্যিক গুণের অভাব থাকলেও মধ্যযুগের কাব্য হিসেবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।

অন্যদিকে,
• 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
• 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যটির রচয়িতা- 'দৌলত কাজী'।
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তাঁর রচিত একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান 'ইউসুফ জুলেখা'। গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্য রচনা করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৩৪.
'কেতকাপুরাণ' মঙ্গল কাব্য ধারার সাহিত্য?
  1. ক) ধর্মমঙ্গল
  2. খ) চণ্ডীমঙ্গল
  3. গ) শিবমঙ্গল
  4. ঘ) মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'কেতকাপুরাণ' মনসামঙ্গল কাব্য ধারার সাহিত্য। 

- 'মনসামঙ্গলের' একমাত্র পশ্চিম বঙ্গীয় কবির নাম কেতকা দাস ক্ষেমানন্দ। 
- তার কাব্যের নাম 'কেতকাপুরাণ'। 
- ক্ষেমানন্দের মনসামঙ্গল সর্বপ্রথম মুদ্রণ সৌভাগ্য লাভ করে ১৮৪৪ সালে। 
- এজন্য উনিশ শতকের বাঙালি শিক্ষিত সমাজে কবি সবচয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৩৫.
"এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর। 
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
শূন্য মন্দির মোর।" - পদটি কার রচনা?
  1. জ্ঞানদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. চণ্ডীদাস
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
• বিদ্যাপতি বিভিন্ন শাস্ত্রজ্ঞ ছিলেন, তবে সংস্কৃত কাব্য ও অলংকার শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অসাধারণ। 
• তিনি ব্রজবুলি ভাষায় রাধা-কৃষ্ণের পাঁচশ’র বেশি পদ রচনা করেছেন।
• বাংলা ভাষায় একটি পঙ্‌ক্তি না লিখেও তিনি বাঙালিদের কাছে নমস্য।
• তাঁর পদাবলি তত্ত্ব দ্বারা আক্রান্ত নয়। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখেছেন।
•  তাঁর অসখ্য পদের মধ্যে রাধার বয়ঃসন্ধি, রাধার অভিসার, প্রেম বৈচিত্ত্য, বিরহ ও ভাবসম্মিলনের পদগুলো দৃষ্টি কেড়ে নেয়।
 
তাঁর রচিত রাধার বর্ষাবিরহ পদ-

এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর। 
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
শূন্য মন্দির মোর।
 
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৩৬.
মধ্যযুগের 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের উপাস্য ‘চণ্ডী' কার স্ত্রী?
  1. বিষ্ণু
  2. ব্রহ্মা
  3. শিব
  4. ইন্দ্র
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনী অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী। তিনি ষোল শতকের কবি।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনী রয়েছে।
যথা -
- কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনী
- ধনপতি - লহনা - খুলনার কাহিনী।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।
-------------------
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের 'চণ্ডী' দেবতা শিবের স্ত্রী ছিলেন।
- কাব্যে চণ্ডীর ইচ্ছে হয়েছিলো পৃথিবীতে তাঁর পুজো প্রচারের। সেজন্য তাঁর স্বামী শিবকে সে অনুরোধ করে শিবের একনিষ্ট উপাসক "নীলাম্বর"কে পৃথিবীতে পাঠাতে। কিন্তু বিনা অপরাধে তাকে পাঠাতে শিব রাজি হয় নি।
- ষড়যন্ত্র করে 'চণ্ডী' নীলাম্বরকে পৃথিবীতে পাঠায় এবং পরবর্তীতে সে কালকেতু নামে 'ধর্মকেতু' নামর এক ব্যাধের ঘরে জন্ম নেয়। স্বর্গে তাঁর স্ত্রী 'ছায়া' পৃথিবীতে জন্ম নেয় 'ফুল্লুরা' নামে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৩৭.
'কড়চা' কী?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) জয়নুল আবেদীন-এর শিল্পকর্ম
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়-এর জীবনীগ্রন্থ
  4. ঘ) শ্রীচৈতন্য দেব-এর জীবনীগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) জীবন ও লীলাবিষয়ক এ কাব্যধারা মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- চৈতন্যচরিতকাব্য প্রথম রচিত হয় সংস্কৃত ভাষায়

- বাংলা চরিতকাব্যগুলির মধ্যে বৃন্দাবন দাসের 'চৈতন্যভাগবত' (১৫৪৬-১৫৫০) প্রথম রচনা। এটি চৈতন্যমঙ্গল নামেও পরিচিত।
- গোবিন্দদাসের কড়চা এ সময়ের অপর একখানি চৈতন্যচরিত জীবনী কাব্য।

- এরপর চৈতন্যমঙ্গল নামে চৈতন্যের জীবনীকাব্য রচনা করেন জয়ানন্দ ও লোচনদাস।
- লোচনদাসের কাব্যে (১৫৬০-৬৬/৭৫) চৈতন্যের মাতৃমমতামন্ডিত বাল্যলীলা এবং অতিরঞ্জনমুক্ত মানবীয় রূপটি প্রধানভাবে চিত্রিত হয়েছে। এখানেই এর বিশেষত্ব।

- চৈতন্যজীবনীগুলির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্যচরিতামৃত' (১৬১৫)।
- এতে চৈতন্যের শেষজীবনের কথা বর্ণিত হয়েছে। গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের এটি আকর গ্রন্থ।

- চৈতন্যজীবনী অবলম্বনে রচিত আরেকখানি চরিতকাব্য হলো চূড়ামণিদাসের গৌরাঙ্গবিজয়
- গ্রন্থটি তিনখন্ডে সম্পূর্ণ বলে জানা গেলেও কেবল প্রথম খন্ডের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে এবং এটি খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতকে রচিত বলে মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৩৮.
'মহুয়া' একটি-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. পালা
  3. উপন্যাস
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' কাব্যগ্রন্থ:
- 'মহুয়া' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- সবকটি কবিতাই প্রেমবিষয়ক।
- মহুয়ার কবিতাগুলিকে বলা যায় রবীন্দ্রনাথের নারীবন্দনা। নারীর মাধুর্য ও লাবণ্য এই কাব্যগ্রন্থে বহুভাবে বর্ণিত হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের প্রেমের কবিতার মধ্যে একদিকে যেমন তরু অন্যদিকে তেমনি সংরাগ প্রকাশিত।
 
- 'মহুয়া' নামের কবিতায় সেই সংরাগের পরিচয় আছে এভাবে:
'তরল যৌবনচিহ্ন মজ্জায় রাখিয়াছিলি ভরে।
কানে কানে কহি তোরে।
বধূরে যেদিন পাবো ডাকিব মহুয়া নাম ধরে।' 
 
অন্যদিকে,
• 'মহুয়া’ পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
 
- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।
 
মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
"কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।"
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৩৯.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচিত বই -
  1. ক) হিতোপদেশ
  2. খ) বেদান্তসার
  3. গ) প্রবোধচন্দ্রিকা
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বই লিখেছিলেন মৃত্যঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
তার বইগুলো হচ্ছে হিতোপদেশ, বত্রিশ সিংহাসন, রাজাবলি, প্রবোধচন্দ্রিকা, বেদান্তচন্দ্রিকা। বাংলা গদ্যকে সামনের দিকে অনেকখানি এগিয়ে নিয়ে গেছিলেন বিদ্যালঙ্কার।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

১,১৪০.
লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা কে? 
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা

• লৌকিক কাহিনির প্রথম রচয়িতা - দৌলত কাজী।

• দৌলত কাজী:
- লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা দৌলত কাজী।
- দৌলত কাজী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- তিনি ষোল শতকের অন্যতম কবি।
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।
- এটি তার রচিত শ্রেষ্ঠকাব্যগ্রন্থ যা তিনখণ্ডে রচিত।
- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে।
- এই কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৪১.
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কত বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩০৯ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৬ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বড়ু চণ্ডীদাস আনুমানিক ১৩০৯ খ্রিষ্টাব্দে ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বড়ু চণ্ডীদাসের রাধাকৃষ্ণনের প্রণয় বর্ণনার মাধ্যমে ঈশ্বরতত্ত্ব প্রকাশ করে রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে। এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।
- কাব্যটি মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে বিন্যস্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।

১,১৪২.
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগে বাংলা শাসনভার ছিল কাদের উপর?
  1. মুঘল
  2. সেন
  3. পাল
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা

• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সময়ে তুর্কিরা বাংলা শাসন করত।
- এই সময়ে বাংলা সাহিত্যের লিখিত কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না।
- তুর্কি আক্রমণে বঙ্গীয় সমাজ ও জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে মানুষ সাহিত্য রচনায় আত্মনিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়।
- এ সময় রচিত যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া গেছে (যেমন: শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া। অবশ্য এগুলোর রচনাকাল নিয়ে মত-পার্থক্য আছে।) সেগুলো মূলত সংস্কৃত।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগ বিভাগ হয়েছে প্রাপ্ত নিদর্শনের ভিত্তিতে।
- চর্যার কবিদের অস্তিত্ব দ্বাদশ শতাব্দীর (১২০০) পূর্ব পর্যন্ত ছিল বলে মনে করা হয়।
- তাই দ্বাদশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত প্রাচীন যুগ।
- অন্যদিকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য' বা ‘ইউসুফ জোলেখা'র ভাষা বৈশিষ্ট্যের বিচারেই সেগুলো ১৩৫০ সালের পরের রচনা বলে প্রমাণিত। এগুলো মধ্যযুগের নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৪৩.
'লায়লী-মজনু' কার কাব্য অবলম্বনে রচিত হয়েছে?
  1. মীর্জা গোলাম
  2. হেলাল হাফিজ
  3. আবদুর রহমান জামি
  4. মালিক মুহাম্মদ জয়সীর
ব্যাখ্যা
'লায়লী-মজনু' কাব্য:
- দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত ‘লায়লী মজনু’কাব্য।
- ‘লায়লী মজনু’র রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে।
- আহমদ শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩। শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- 'লায়লী মজনু' পারসি কবি আবদুর রহমান জামির কাব্য অবলম্বনে রচিত।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৪৪.
কোনটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য?
  1. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
  2. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  3. গুলে বকাওলী
  4. মধুমালতী
ব্যাখ্যা
অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
- সেক শুভোদয়া।

অন্যদিকে,
- মধ্যযুগের রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্যকর্ম - সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী, গুলে বকাওলী, মধুমালতী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৪৫.
নাথধর্মমতের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য কোনটি?
  1. গোরক্ষবিজয়
  2. মনসাবিজয়
  3. স্পেনবিজয় কাব্য
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নাথধর্মমতের কাহিনি অবলম্বনে লেখা কাব্য - গোরক্ষবিজয়

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।

গোরক্ষবিজয়:
- নাথসাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়।
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। সংগ্রাহকরা হলেন:
→ নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
→ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
→ আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং
→ পঞ্চানন মণ্ডল (১টি পুথি)।

• এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত।
- পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম 'মীনচেতন' এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে 'গোরক্ষবিজয়' ও 'গোর্খবিজয়'।

• গোরক্ষবিজয় কাব্যের রচনাকাল নিয়ে পণ্ডিত মহলে বিতর্ক আছে।  
- শেখ ফয়জুল্লাহ ছাড়া কবীন্দ্র, ভীমসেন ও শ্যামদাসের নাম ভণিতায় পাওয়া যায়।
- তবে ভণিতায় নামের সংখ্যাধিক্যের হিসেবে ফয়জুল্লাহকেই গোরক্ষবিজয়ের কবি মনে করা হয়, অন্যরা ছিলেন গায়ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৪৬.
চন্দ্রাবতীর রচনায় কোন সময়ের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতিফলিত?
  1. চতুর্দশ শতাব্দীর
  2. পঞ্চদশ শতাব্দীর
  3. ষোড়শ শতাব্দীর
  4. সপ্তদশ শতাব্দীর
ব্যাখ্যা
চন্দ্রাবতী:
- ষোড়শ শতাব্দীর নারীকবি।
- তিনি ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের পাতোয়ারি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- চন্দ্রাবতীর পিতা মনসামঙ্গলের কবি 'দ্বিজ বংশীদাস'।
- চন্দ্রাবতী রচিত কাব্যগুলো:
• মলুয়া,
• দস্যু কেনারামের পালা,
• রামায়ণ ইত্যাদি।
- লৌকিক, মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদান সংযোগের ফলে তাঁর রচিত 'রামায়ণ' বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
- ষোড়শ শতাব্দীর সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা তাঁর রচনায় প্রতিফলিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৪৭.
নিচের কে কবিওয়ালা?
  1. ক) হরিস ঠাকুর
  2. খ) সুকুর মামুদ
  3. গ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
  4. ঘ) রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা

রাধারমণ গোপ মর্সিয়া সাহিত্য ও সুকুর মামুদ নাথ সাহিত্যের কবি।
আর এন্টনি ফিরিঙ্গি কবি গানের কবি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১,১৪৮.
অন্ধকার যুগে রচিত সাহিত্যের নিদর্শন নয় কোনটি?
  1. কলিমা জলাল
  2. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  3. শূন্যপুরাণ
  4. হপ্তপয়কর
ব্যাখ্যা
হপ্তপয়কর অন্ধকার যুগে রচিত সাহিত্যের নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত নয়।

- অন্ধকার যুগে প্রথমেই 'প্রাকৃতপৈঙ্গলের' মত প্রাকৃত ভাষার গীতিকবিতা গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূন্যপুরাণ' এবং এর 'কলিমা জলাল' বা 'নিরঞ্জনের রুম্মা',  হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়ার' অন্তর্গত।
- পীর-মাহাত্ম্যজ্ঞাপক বাংলা 'আর্যা' অথবা 'ভাটিয়ালী রাগেণ গীয়তে' নির্দেশক বাংলা গান প্রভৃতি এ সময়ের বাংলা সাহিত্যসৃষ্টির নমুনা হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
- রাহুল সংকৃত্যায়ন এই সময়ে রচিত কিছু চর্যাপদ সংগ্রহ করে প্রকাশ করেছেন।

• হপ্তপয়কর
- 'হপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। সম্ভবত ১৬৬৫ এর রচনাকাল।
- আরাকান রাজসভায় সৈয়দ আলাওল এই কাব্য রচনা করেন।
- প্রসিদ্ধ কবি নিজামির পারসি ভাষায় বর্তমান কাব্য রচনা করেন।
- রাজপুত্র বহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তার সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
১।বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,১৪৯.
আলাওল কার আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্যটি রচনা করেন?
  1. দৌলত কাজীর আদেশে
  2. দৌলত উজির বাহরাম খানের আদেশে 
  3. কানাহরি দত্তের আদেশে
  4. মাগন ঠাকুরের আদেশে
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।

- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

--------------------
 আলাওল:
-  আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাতটি।

সেগুলির মধ্যে আখ্যানকাব্য হচ্ছে- 
- পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী (১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩)। 

• নীতিকাব্য
- তোহ্‌ফা (১৬৬৪)। 

• সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য
- রাগতালনামা।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
১,১৫০.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি বাঁকুড়া জেলার কোন গ্রাম থেকে আবিষ্কৃত হয়?
  1. নানুর
  2. কাঁকিল্যা
  3. চণ্ডীপুর
  4. বীরসিংহ
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি। ভাগবত প্রভৃতি পুরাণের কৃষ্ণলীলা-সম্পর্কিত কাহিনি অনুসরণে, জয়দেবের গীতগোবিন্দ কাব্যের প্রভাব স্বীকার করে, লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে কবি বড়ু চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য রচনা করেন।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন ঘটান। বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র-বংশজাত দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মোট তের খণ্ডে বিভক্ত। খণ্ডগুলো হল: জন্মখণ্ড, তাম্বুলখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, ভারখণ্ড, ছত্রখণ্ড, বৃন্দাবনখণ্ড, কালিয়দমনখণ্ড, যমুনাখণ্ড, হারখণ্ড, বাণখণ্ড, বংশীখণ্ড ও রাধাবিরহখণ্ড।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,১৫১.
আলাওলের 'পদ্মাবতী' কাব্যে কয়টি পর্ব রয়েছে?
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
ব্যাখ্যা
‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।

• কাব্যটিতে — দুইটি পর্ব রয়েছে।
প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

• আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- আধুনিক যুগের লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া
১,১৫২.
"পূর্ববঙ্গ-গীতিকা" কোন ধারার সাহিত্য?
  1. বৈষ্ণব সাহিত্য
  2. মর্সিয়া
  3. লোক সাহিত্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা: 
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।  
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১,১৫৩.
'জয়নবের চৌতিশা' - গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. মর্সিয়া সাহিত্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. লোকসাহিত্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

মর্সিয়া সাহিত্য:
- পারস্যের কবিদের দ্বারা মর্সিয়া সাহিত্যের প্রসার ঘটে।
- বাংলা সাহিত্যের মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- বাংলা সাহিত্যে মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কাব্য জয়নবের চৌতিশা এটি ১৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
-  রাধারমণ গোপ মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা ও অফৎনামা'।
- দৌলত উজির বাহরাম খাঁ কারবালার করুণ কাহিনি নিয়ে 'জঙ্গনামা' নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাব্য লেখেন। এটি ১৭২৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৫৪.
সংস্কৃত নাটক ‘সংগীতমাধব’ রচনা করেন কে?
  1. গোবিন্দদাস
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. দ্বিজমাধব
  4. বিপ্রদাস পিপলাই
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- গোবিন্দদাস কবিরাজ (আনু. ১৫৩৫-১৬১৩) বৈষ্ণব পদকর্তা।
- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর আসল পদবি সেন এবং তাঁর ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- তাঁর নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ এবং ‘কবীন্দ্র’ উপাধি প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৫৫.
কোন যুগকে 'তামস যুগ' বলে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. আধুনিক যুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. মধ্য যুগ
ব্যাখ্যা

• অন্ধকার যুগ:
 বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়। 

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,১৫৬.
‘ঈশ্বরী পাটনী’ কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

-----------------
অন্যদিকে,
• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

• কালিকামঙ্গল কাব্যের দুটি চরিত্র- বিদ্যা ও সুন্দর।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৫৭.
‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী’ কাব্যটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. দোলন ত্রিপদী
  3. পয়ার ত্রিপদী
  4. মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী' কাব্য:
- এটি দৌলত কাজী রচিত কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী'।
- এই গ্রন্থের মূল হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ' নামক কাব্য। তাঁর এ কাব্য বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষার মিশ্রণে রচিত।
- 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী' কাব্যটি 'পয়ার ত্রিপদী' ছন্দে রচিত। কাব্য রচনার শেষ পর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হলে আলাওল (১৬৫৯) তা সম্পূর্ণ করেন।

দৌলত কাজী:
- তিনি মূলত মধ্যযুগের বিশিষ্ট কবি ছিলেন।
- তিনি আনুমানিক ১৬০০ থেকে ১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতানপুর গ্রাম, রাউজান, চট্টগ্রাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি ও ব্রজবুলি ভাষায় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- দৌলত কাজী আরাকানের রাজা সুধর্মের সমর সচিব আশারাফ খানের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় হিন্দি কাব্য অবলম্বনে কাব্য রচনায় উৎসাহী হন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৫৮.
‘আমীর হামজা' কাব্যের প্রথম খণ্ডের রচয়িতা কে?
  1. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  2. সৈয়দ হামজা
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ‘আমীর হামজা' কাব্যের প্রথম খণ্ডের রচয়িতা 'শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ'।

• 'আমীর হামজা':

- আমীর হামজা মধ্যযুগের দোভাষী পুথিসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাব্য।
- এতে বীর যোদ্ধা আমীর হামজার যুদ্ধজয়ের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- মোট ৭০টি পর্বে এ বিশাল কাব্য সমাপ্ত হয়।
- এর প্রথম অংশ গরিবুল্লাহ রচনা করেন আঠারো শতকের মধ্যভাগে, বাকি অংশ তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা ১৭৯৪ সালে সমাপ্ত করেন।
- কাব্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র আমীর হামজা হযরত মুহাম্মদ (স.) -এর পিতৃব্য ছিলেন।
- তাঁর সঙ্গে ইরানের অধিপতি নওশেরোয়ানের বিরোধ ও যুদ্ধ কাব্যের প্রধান বিষয়বস্তু।

• শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ:
- শাহ গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৭০-১৭৭০) দোভাষী পুথি রচয়িতা।
- পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার হাফেজপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর নামে প্রচলিত এ যাবৎ পাঁচখানি কাব্যের সন্ধান পাওয়া যায়।
- সেগুলি হলো: ইউসুফ জোলায়খা, জঙ্গনামা, সোনাভান, সত্যপীরের কথা এবং আমীর হামজা (১ম খণ্ড)।
- কিন্তু এ কাব্যগুলি বটতলার পুথি প্রকাশকদের দ্বারা নানা ব্যক্তির নামে প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,১৫৯.
মধ্যযুগের সাহিত্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শাখা কোনটি?
  1. ক) বৈষ্ণব পদাবলী
  2. খ) মঙ্গলকাব্য
  3. গ) নাথ সাহিত্য
  4. ঘ) মর্সীয়া
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের সাহিত্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শাখা মঙ্গলকাব্য। এ সময়ে পাওয়া যায় - মনসামঙ্গল কাব্য, চণ্ডীমঙ্গলকাব্য, ধর্মমঙ্গল কাব্য, কালিকামঙ্গল কাব্য, অন্নদামঙ্গল কাব্য, শীতলামঙ্গল কাব্য। এ সময়ের প্রধান কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
একাডেমিকদের মধ্যে এটা নিয়ে বিভেদ আছে। মূল পরীক্ষায় নিজ বিবেচনা থেকে উত্তর করবেন।
১,১৬০.
‘গম্ভীরা’ বাংলাদেশের কোন্ অঞ্চলের লোকসংগীত?
  1. ক) চট্রগ্রাম
  2. খ) রাঙ্গামাটি
  3. গ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. ঘ) জামালপুর
ব্যাখ্যা
গম্ভীরা গান এক প্রকার জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত।
- গম্ভীরা চাপাইননবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চল, ভাণ্ডারী চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং ভাওয়াইয়া রংপুর অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত।
- ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব।
- ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে।
- শিবের এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১,১৬১.

'সুখের লাগিয়া এঘর বাঁধিনু
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল'
—পদটি কে রচনা করেছেন?

  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. বিদ্যাপতি
  3. জ্ঞানদাস
  4. চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি৷
জ্ঞানদাসের পদরচনার মূল বিষয় প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা।
প্রণয়ের পূর্বরাগ তার রচনায় চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
জ্ঞানদাসের একটি বিখ্যাত পদের কিছু
অংশ:
'সুখের লাগিয়া এঘর বাঁধিনু
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল'।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১,১৬২.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ধর্মকেন্দ্রিকতা
  2. বিজ্ঞানমনস্কতা
  3. ব্যক্তিস্বাধীনতা
  4. মানবতাবাদ
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য মূলত ধর্মপ্রচার ও ধর্মীয় ভাবধারার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। 
-------------------------------------------------
• মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য:
- বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তৃতিকাল- ১২০১ খ্রি. – ১৮০০ খ্রি.।  
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মূল ভিত্তি ছিল ধর্ম।
- এই সময় সাহিত্য লেখা হতো মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস জাগ্রত করা এবং ধর্মীয় আদর্শ প্রচারের জন্য।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য মূলত দেব-দেবী, ভক্তি ও ধর্মীয় কাহিনিকে কেন্দ্র করে রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যে লৌকিক দেব-দেবীর মাহাত্ম্য, বৈষ্ণব পদাবলীতে রাধা–কৃষ্ণের ভক্তিপূর্ণ প্রেম, আর অনুবাদ সাহিত্যে রামায়ণ–মহাভারতের ধর্মীয় ভাব প্রকাশ পেয়েছে।
- মুসলিম কবিদের রচিত প্রণয়োপাখ্যানে কিছুটা মানবীয় প্রেমের প্রকাশ দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে সাহিত্যে আধ্যাত্মিকতা ও অলৌকিকতার প্রাধান্য ছিল।
- এ যুগে গদ্যের প্রচলন না থাকায় সাহিত্য ছিল মূলত কাব্যনির্ভর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,১৬৩.
‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই'- কে বলেছেন?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) রামকৃষ্ণ পরমহংস
  4. ঘ) বিবেকানন্দ
ব্যাখ্যা
• চন্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।'
- 'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।',
- 'সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধূয়া আনবাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১,১৬৪.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য কয় খণ্ডে রচিত?
  1. ১১
  2. ১৩
  3. ১৫
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এগ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৬৫.
আবদুল হাকিম কোন শতকের কবি?
  1. ষোলো শতক
  2. সতেরো শতক
  3. আঠারো শতক
  4. পনেরো শতক
ব্যাখ্যা
আবদুল হাকিম:
- আবদুল হাকিম চট্টগ্রামের সন্দীপের ভুলুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তিনি সতেরো শতকের কবি।
- তিনি ৮ টি গ্রন্থ লিখেছেন।

আবদুল হাকিম রচিত গ্রন্থ:
- লালমতি সয়ফুল মুলুক
- নূরনামা
- কারবালা
- ইউসুফ জোলেখা
- নসীহৎনামা
- শহরনামা
- শিহাবউদ্দিননামা
- চারি মোকামভেদ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,১৬৬.
'লাউসেন, হরিশ্চন্দ্র' কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- কালক্রমে শিবঠাকুরও মঙ্গলকাব্যের বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং তৎকেন্দ্রিক কাব্যধারার নাম শিবায়ন বা শিবমঙ্গল।
- ধর্মমঙ্গল  ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা। ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত। প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এঁর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল। 
-  ধর্মমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনি -
১. রাজা হরিশ্চন্দতের কাহিনি
২. লাউসেনের কাহিনি 
- এর মধ্যে লাউসেনের কাহিনিই কাব্যে অধিকতর প্রাধান্য পেয়েছে। 

- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। তাঁর কাল খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতক বা এর কাছাকাছি অনুমান করা হয়, কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
- তাঁর পরের কবি রূপরামের কাল ষোলো শতক এবং মাণিকরাম গাঙ্গুলির কাল সতেরো শতকের মধ্যভাগ ধরা হয়।
- ধর্মমঙ্গলের অপর একজন কবি সীতারাম দাসের কাব্য রচনার কাল ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দ মনে করা হয়। ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।তাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৭১১ খ্রিস্টাব্দ। কাব্যটি বীররসপ্রধান।
- এরপর আর যাঁরা ধর্মমঙ্গল রচনা করেছেন তাঁরা হলেন সহদেব (১৭৩৫), নরসিংহ (১৭৩৭), হূদয়রাম (১৭৪৯), গোবিন্দরাম (১৭৬৬) প্রমুখ।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৬৭.
‘লায়লী মজনু’ কাব্যের প্রেক্ষাপট বা উপাখ্যানটি কোন দেশের?
  1. সৌদি আরব
  2. ইরাক
  3. তুরস্ক
  4. ইরান
ব্যাখ্যা

'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে (১৫৪৩-১৫৫৩) সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ-ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৬৮.
পাণিনি কে ছিলেন?
  1. ক) ভাষাবিদ
  2. খ) ঋগ্বেদবিদ
  3. গ) বৈয়াকরণিক
  4. ঘ) আখ্যানবিদ
ব্যাখ্যা

- বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনি ছিলেন উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ। তিনি অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থের জন্য বিখ্যাত ।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগে বঙ্গদেশে প্রধানত সংস্কৃত ব্যাকরণেরই চর্চা হয়েছে; খুব সামান্য হয়েছে প্রাকৃত ব্যাকরণের চর্চা। এখানে পাণিনির (আনু. খ্রি.পূ পঞ্চম শতক) অষ্টাধ্যায়ীর সূত্রের সংক্ষিপ্ত রূপান্তরই বেশি জনপ্রিয় ছিল। 
Source: বাংলাপিডিয়া।

১,১৬৯.
দ্বিজ বংশীদাস কোন কাব্যের অন্যতম কবি?
  1. অভয়ামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাব্যে ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার দেখে অনেকে মনে করেন, কবি সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।
- দ্বিজ বংশীদাস সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রাদি শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন।
- সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা।
- কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৭০.
আলাওল রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি ?
  1. সপ্তপয়কর
  2. সিকান্দারনামা
  3. সত্যপীরবিজয়
  4. তোহফা
ব্যাখ্যা

• আলাওল রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় ‘সত্যপীরবিজয়’। এটি শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ।

⇒ আলাওল: 

- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

• সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম: 
- পদ্মাবতী,
- সপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর বইতে সপ্তপয়কর বইটি ‘হপ্তপয়কর’ নামে বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৭১.
লায়লী মজনু কাব্যের রচয়িতা-
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. দৌলত কাজী
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. সাবিরিদ খান
ব্যাখ্যা

• ‘লায়লী মজনু' কাব্য:
- ‘লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- ‘লায়লী মজনু’ কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে (১৫৪৩-১৫৫৩) সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির ‘লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ-ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।


• দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

- দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
• লায়লী মজনু ও
• ইমাম বিজয়।
উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৭২.
'রাগতালনামা' কবি আলাওল রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. নীতিকাব্য
  2. সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য
  3. আখ্যানকাব্য
  4. নাট্যকাব্য
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের কবি আলাওল:
- আলাওল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর কবিপ্রতিভার স্ফুরণ ঘটলে প্রধান অমাত্য কোরেশী মাগন ঠাকুরের (১৬৪৫-৫৮) আনুকূল্যে তিনি আরাকানের অমাত্যসভায় স্থান পান। 
 - আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাতটি।

সেগুলির মধ্যে আখ্যানকাব্য হচ্ছে- 
• 'পদ্মাবতী' মালিক মুহম্মদ জায়সীকৃত হিন্দি পদুমাবত অবলম্বনে রচিত। 
• 'সতীময়না ও লোর-চন্দ্রানী' সাধনকৃত মৈনাসত অনুসরণে রচিত। 
• 'সপ্তপয়কর' নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি হফত্ পয়কর অনুসরণে রচিত। 
• 'তোহফা' ইউসুফ গদাকৃত ফারসি তুহুফ-ই-নসাঈহ অনুসরণে রচিত। 
• 'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' গাওয়াসীকৃত ফারসি সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল সয়ফুলমুলুক এবং
• 'সিকান্দরনামা' নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি সিকান্দরনামা অনুসরণে রচিত।

• নীতিকাব্য: তোহফা (১৬৬৪) এবং
• সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য: রাগতালনামা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৭৩.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. সিলেট 
  2. চট্টগ্রাম
  3. মুর্শিদাবাদ 
  4. নদীয়া 
ব্যাখ্যা

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম মুসলিম কবি এবং ইউসুফ-জোলেখা কাব্যের রচয়িতা। তিনি গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০ খ্রিস্টাব্দ) রাজত্বকালে এই কাব্য রচনা করেন।
- তাঁর জন্মস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁর কাব্যে উল্লেখ নেই, তবে পণ্ডিতদের গবেষণার ভিত্তিতে তাঁর জন্মস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

তাঁর জন্মস্থান সম্পর্কিত তথ্য:
- ড. মুহম্মদ এনামুল হক তাঁর গবেষণায় শাহ মুহম্মদ সগীরের কাব্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কতিপয় শব্দের ব্যবহার লক্ষ করেছেন, যেমন স্থানীয় ভাষার প্রভাব ও শব্দচয়ন।এই ভিত্তিতে তিনি অনুমান করেছেন যে শাহ মুহম্মদ সগীর চট্টগ্রামের অধিবাসী ছিলেন। এছাড়া, চট্টগ্রাম তৎকালীন সময়ে আরাকানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, যা তাঁর কাব্যচর্চার পটভূমির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

- তাঁর কাব্যে বাংলার স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রূপ ফুটে উঠেছে, যা চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পটভূমির সঙ্গে মিলে যায়।

শাহ মুহম্মদ সগীর সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম [প্রাচীনতম] মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁর নির্দেশে ইউসুফ-জোলেখা কাব্য রচনা করেন।।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি শাহ্ মুহম্মদ সগীর।

-------------------
• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
এই কাব্যে রাজবন্দনায় তিনি নিজেকে সুলতান গিয়াসউদ্দিনের আজ্ঞার অধীন বলে উল্লেখ করেছেন, যা তাঁর সভাকবি হিসেবে পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
- কবি 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্যের রাজবন্দনা অংশে লিখেছেন- "মনুষ্যের মৈদ্ধে জেহ্ন ধর্ম অবতার। মহা নরপতি গোজন পিরথিম্বীর সার।।"
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা। তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। সগীর বাইবেল পড়েন নি; তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তকে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মুহম্মদ এনামুল হক; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৭৪.
'দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক কে?
  1. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  2. চন্দ্রাবতী
  3. দ্বিজ কানাই
  4. মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা

 দেওয়ানা মদিনা': 
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি। 
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।

• ‘দেওয়ানা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল, 
- দুলাল, 
- মদিনা, 
-সোনাফর।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
এর মধ্যে, 
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৭৫.
কার সম্পাদনায় 'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়?
  1. মণীন্দ্রমোহন বসু
  2. সুকুমার সেন
  3. নাগেন্দ্রনাথ বসু
  4. মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা

সেক শুভোদয়া: 
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। 
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,১৭৬.
'শূন্যপুরাণ' কোন ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ?
  1. হিন্দু ধর্মীয়
  2. খ্রিষ্ট ধর্মীয়
  3. বৌদ্ধ ধর্মীয়
  4. জৈন ধর্মীয়
ব্যাখ্যা

• 'শূন্যপুরাণ':
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- 'শূন্যপুরাণ' বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়। কারো মতে গ্রন্থটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৭৭.
'সত্য পীরের পাঁচালি' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. আলাওল
  3. সৈয়দ হামজা
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম - সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।

উল্লেখ্য,
- 'সত্যপীরের পুঁথি' কাব্যের রচয়িতা - ফকির গরীবুল্লাহ।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:

- ভারতচন্দ্রের আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১,১৭৮.
‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য কয়টি খণ্ডে বিভক্ত?
  1. তিন খণ্ডে
  2. চার খণ্ডে
  3. পাঁচ খণ্ডে
  4. ছয় খণ্ডে
ব্যাখ্যা
• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি ছিলেন- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। 

যথা: 
→ শিবনারায়ণ, 
→ কালিকামঙ্গল এবং 
→ মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 

- কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দর কাহিনি' বলা হয়।
- দেবী কালির মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে। 
- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কবি কঙ্ক।
- এছাড়া সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন কালিকা মঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন। 
=================== 
• ভারতচন্দ্র রায়: 
- ভারতচন্দ্র রায় মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত।
- তাঁর পিতা নরেন্দ্রনারায়ণ রায় (মুখার্জি) জমিদার ছিলেন।
- তিনি হাওড়া জেলার পেন্ড্রো গ্রামে বাস করতেন। 
- ধর্মমঙ্গলের রচয়িতা রামদাস তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে প্রতাপনারায়ণের কথা উল্লেখ করেন।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- উনবিংশ শতাব্দীর কলকাতায় ভারতচন্দ্র অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
১,১৭৯.
দৌলত কাজী বাংলা সাহিত্যে কোন ধারার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. বৈষ্ণব পদাবলি
  3. রোমান্টিক আখ্যান কাব্য
  4. নীতিকাব্য
ব্যাখ্যা

দৌলত কাজী বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক আখ্যান কাব্য ধারার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত। 

• দৌলত কাজী:
- দৌলত কাজী মধ্যযুগের একজন কবি। তিনি বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক আখ্যান কাব্যের প্রবর্তক।
- তাঁর প্রধান কাব্য ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’।
- দেবদেবীর গুণকীর্তন বাদ দিয়ে মানব প্রেমকাহিনিকে কেন্দ্র করে কাব্য রচনা করেন।
- ধর্ম-সংস্কারমুক্ত ঐহিক কাব্যের সূচনা মুসলমান কবিদের হাত ধরে হয়।
- আরাকান রাজসভা এই কাব্যধারার একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল।
- দৌলত কাজী লস্কর উজির আশরাফ খান-এর পৃষ্ঠপোষকতায় লেখালেখি করতেন।
- তিনি ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য অসমাপ্ত রেখে মৃত্যুবরণ করেন।
- পরবর্তীতে আলাওল ১৬৫৯ সালে এই কাব্যের শেষাংশ সম্পূর্ণ করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, দৌলত কাজীর জীবনকাল আনুমানিক ১৬০০–১৬৩৮ খ্রি.।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,১৮০.
আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের মূল কাহিনি কোন দেশের রাজকন্যাকে কেন্দ্র করে রচিত?
  1. সেশেলসের রাজকন্যা 
  2. আফগানিস্তানের রাজকন্যা
  3. সিংহলের রাজকন্যা
  4. চিতোরের রাজকন্যা
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের আদিপর্বের শ্রেষ্ঠ রচনা ‘পদ্মাবতী’।
- কাব্যটি সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রেম ও কাহিনী ঘিরে আবর্তিত।
-------------------------------
সৈয়দ আলাওল:
- সৈয়দ আলাওল ছিলেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান কবি।
- আলাওল ছিলেন বহুভাষাবিদ; তিনি আরবি, ফারসি, সংস্কৃত, বাংলা এবং ব্রজবুলিতে পারদর্শী ছিলেন।
- তিনি আরাকানের দরবারে অমাত্য ও কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তাঁকে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের 'বার্ড' বলা হয়।
- তিনি রোমান্টিক ধারার বাংলা সাহিত্যের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত;
- কারণ ধর্মীয় কাহিনীর বাইরে গিয়ে তিনি ফারসি ও হিন্দি সাহিত্য থেকে প্রাপ্ত কাহিনী নিয়ে প্রেমময় উপাখ্যান রচনা করেছেন।

- প্রধান কাব্য ‘পদ্মাবতী’-র পাশাপাশি তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
• তোহফা, 
• সপ্তপয়কর,
• সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল,
• সিকান্দারনামা,
• ‘সাপচন্দ’,
• ‘সতীময়না ও
• লোরচন্দ্রানী’ প্রভৃতি। 
----------------------------
• 'পদ্মাবতী' নিয়ে কিছু কথা:
- পদ্মাবতী সৈয়দ আলাওল রচিত একটি অনন্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, যা রচিত হয় আনুমানিক ১৬৪৮–১৬৫২ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- আলাওল তাঁর পদ্মাবতী কাব্যের মূল কাহিনি গ্রহণ করেন মুহম্মদ জায়সী-এর রচিত হিন্দি “পদুমাবৎ” মহাকাব্য থেকে।

- কাব্যে প্রেম, যুদ্ধ, সম্মান, আধ্যাত্মিকতা ও রূপকবর্ণনার সংমিশ্রণ রয়েছে।
- রূপক ও প্রতীকী বর্ণনার মাধ্যমে পদ্মাবতীর সৌন্দর্য, রত্নসেনের বীরত্ব এবং সুফি দর্শন ফুটে উঠেছে।
- ইতিহাস ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকে মিলিয়ে আলাওল ফারসি কাহিনীটি বাংলায় রূপান্তর করেছেন।
- কাব্যটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে চিতোর রাজা রত্নসেন ও সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রেমঘটনা ঘিরে।
- চিতোরের রাজা রত্নসেনের সঙ্গে পদ্মাবতীর প্রেমের কথা জানতে পেরে দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি পদ্মাবতীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে চিতোর আক্রমণ করেন - এটাই কাব্যের মূল সংঘাত।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

১,১৮১.
বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগের অবস্থান ছিল কত শতকে?
  1. ক) একাদশ শতকে
  2. খ) দ্বাদশ শতকে
  3. গ) ত্রয়োদশ শতকে
  4. ঘ) চতুর্দশ শতকে
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগের অবস্থান ছিল ত্রয়োদশ শতকের সম্পূর্ণ এবং চতুর্দশ শতকের প্রথমাংশে।
প্রশ্নের অপশন অনুসারে ত্রয়োদশ শতক অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর বলে বিবেচিত হবে।

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
• প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
• মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
• আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।
মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।

দীনেশ্চন্দ্র সেন, সুকুমার সেন, গোপাল হালদার, মুহম্মদ এনামুল হক প্রমুখ উল্লেখিত যুগ-বিভাগ সমর্থন করেন।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের উল্লেখিত যুগ-বিভাগের মধ্যে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সময়সীমা মেনে নিলেও তাঁর মতে প্রাচীনযুগের যুগের সময়সীমা- ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,১৮২.
'আমীর হামজা' কোন শ্রেণির কাব্য ?
  1. ক) রোমান্টিক প্রনয়োপাখ্যান
  2. খ) জীবনী সাহিত্য
  3. গ) মর্সিয়া সাহিত্য
  4. ঘ) জঙ্গনামা
ব্যাখ্যা
'আমীর হামজা' ফকীর গরীবুল্লাহ রচিত জঙ্গনামাশ্রেণির কাব্য।

⇒ জঙ্গনামা  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত  হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।
- তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৮৩.
'ঈশ্বরী পাটনী' কোন মঙ্গলকাব্যর অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।'
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।'
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।'
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৮৪.
মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কী?
  1. মনসামঙ্গল
  2. মনসাবিজয়
  3. পদ্মপুরাণ
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম: 'পদ্মপুরাণ'।

• পদ্মপুরাণ: 
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি বিজয়গুপ্ত।
- পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি মনসামঙ্গলকাব্যের যে পুঁথি পাওয়া গেছে, প্রাপ্ত এই পুঁথিভিত্তিক প্রাচীনতম কবি।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম - পদ্মাপুরাণ।

এছাড়া, মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি নারায়ণ দেব। তাঁর রচিত কাব্যের নামও পদ্মাপুরাণ।
কবি  বিপ্রদাস পিপিলাই রচনা করেছেন- মনসাবিজয়। 

-----------------
মনসামঙ্গল:
• মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
• ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
• সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’। 
• চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
• দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি ।

• এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।
- মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র হলো বেহুলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,১৮৫.
মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে ছিল? 
  1. কানাহরি দত্ত
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. মানিক দত্ত
  4. মালাধর বসু
ব্যাখ্যা

মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কানাহরি দত্ত।
------------------------ 
• মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল বাংলা মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যধারার সবচেয়ে প্রাচীন ও জনপ্রিয় ধারা।
- ‘মনসামঙ্গল কাব্য’-এর আদি কবি কানহরিদত্ত হলেও শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে স্বীকৃত বিজয়গুপ্ত।
- তিনি ‘পদ্মপুরাণ’ নামে এই কাব্য রচনা করেন, যেখানে দেবী মনসার জন্ম ও চাঁদ সওদাগরের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- এছাড়া এটি সর্পদেবী মনসার পূজা প্রতিষ্ঠা, তাঁর মাহাত্ম্য, শক্তি ও মানবজীবনে তাঁর প্রভাবকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।
- কাহিনীর মূল চরিত্র চাঁদ সওদাগর।
- তিনি প্রথমে মনসাকে তুচ্ছ করলেও পরে দেবীর অলৌকিক শক্তি স্বীকার করে নেন।
- এই বিরোধ, সংকট ও গ্রহণের মধ্য দিয়েই কাব্যের গল্প এগোতে থাকে।
- মনসামঙ্গলে কেবল পৌরাণিক আখ্যানই নয়, সমাজবাস্তবতার দিকও প্রকাশ পেয়েছে।
- চাঁদ ও মনসার দ্বন্দ্বে আর্য–অনার্য সংঘাত, দেব–মানব বিরোধ, এবং সমাজের শ্রেণী-বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছিল।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র :
• দেবী মনসা,
• চাঁদ সওদাগর,
• বেহুলা,
• লক্ষিন্দর,
• সনকা ও
• নেতাইধোপানি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যে চাঁদ সওদাগর সর্বাধিক প্রতিবাদী পুরুষ চরিত্র হিসেবে বিবেচিত;
- আর বেহুলা সেই যুগের সর্বাধিক প্রতিপ্রাণা নারী চরিত্র— যিনি স্বামীর প্রাণ রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত ছিলেন। 
--------------------- 
অন্যদিকে, 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিকদত্ত।
- মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের কবি মালাধর বসু শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্যের রচয়িতা।

উৎস: 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম।
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

১,১৮৬.
কে বাংলা ভাষার কবি নন? 
  1. জ্ঞানদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা
- জয়দেব সংস্কৃত ভাষার বাঙ্গালি কবি। 
- তিনি বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভা কবি ছিলেন। 
- তাঁর লিখিত গীতিকাব্য 'গীতগোবিন্দ'। 

অন্যদিকে, 
- চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস ও মুকুন্দরাম তিনজনই মধ্যযুগের বাংলা ভাষার কবি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৮৭.
কোন প্রতিষ্ঠান থেকে 'শূন্যপুরাণ' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বাংলা একাডেমি
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  4. এশিয়াটিক সোসাইটি
ব্যাখ্যা

'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। 
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৮৮.
বাংলা কত সনে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে 'শূণ্যপুরাণ' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩০৭ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১০ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  4. ১৯০৭ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৮৯.
ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ করেন কে?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ 
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. নাওয়াজিশ খান
ব্যাখ্যা

• 'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান। 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন- আহমদ শরীফের মতে ৫৪৩-১৫৫৩ সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহ্‌র মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- 'লাইলী-মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে। এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৯০.
বৃন্দাবন দাস রচিত চৈতন্যদেবের জীবনীকাব্য কোনটি?
  1. চৈতন্য-চরিতামৃত
  2. চৈতন্যভাগবত
  3. চৈতন্যমঙ্গল
  4. চৈতন্যগাথ 
ব্যাখ্যা

• চৈতন্যদেবের জীবনী:
- চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী। 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম। এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিলো।

- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'। তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল। পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়। কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।

• সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।
• বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
• শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'।
• মুরারিগুপ্ত রচিত চৈতন্যজীবনী শ্রী শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্যচরিতামৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৯১.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের রচনার বিশেষত্ব ছিল-
  1. গ্রামীণ জীবন চিত্র
  2. রোম্যান্টিকতা
  3. বিদ্রোহ
  4. ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই শত বছরের সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়।
- ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ এবং দেশ ও সমাজভাবনাই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৯২.
'পূর্বরাগ' এর শ্রেষ্ঠ পদকর্তা বলা হয় কাকে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা
• পূর্বরাগ:
- রূপ গোস্বামী ''উজ্জ্বলনীলমণি'' গ্রন্থে পূর্বরাগের সংজ্ঞার্থে বলেছেন -
- মিলনের পূর্বে দর্শন, নাম শ্রবণ প্রভৃতি দ্বারা নায়ক নায়িকার মনে পরস্পরের প্রতি যে অনুরাগ জন্মে, তাকে বলে পূর্বরাগ।
- পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে পূর্বরাগ জনপ্রিয় কাব্যরূপ।

এছাড়াও, 
- প্রেমিক বা প্রেমিকা যখন গোপনে কোনো একটা নির্দিষ্ট স্থানে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হবার জন্য যাত্রা করে তাকে অভিসার বলে।
- প্রেমাবিষ্ট হৃদয়ের একটি বিশিষ্ট ভাবকে প্রেমবৈচিত্ত্য বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১,১৯৩.
'বেহুলা' বাংলা সাহিত্যের কোন কাব্যধারার চরিত্র? 
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
- 'বেহুলা' বাংলা সাহিত্যের 'মনসামঙ্গল' কাব্যধারার চরিত্র। 

মনসামঙ্গল: 

- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম। 
- এই মনসামঙ্গল কাব্যটি সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত। 
- মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কানা হরিদত্ত। 
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন। 
- মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান প্রধান চরিত্রগুলো হলো- 
• চাঁদ সওদাগর, 
• সনকা, 
বেহুলা
• লখিন্দর প্রমুখ। 

উল্লেখ্য, 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র - কালকেতু, ফুল্লরা, ভাড়ুদত্ত, মুরারিশীল। 
- ধর্মমঙ্গল কাব্যের চরিত্র -কর্পূর সেন, মহামদ পাত্র। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র - ঈশ্বরী পাটনী, হীরা মালিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৯৪.
কোন শাসকদের সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়?
  1. মৌর্য
  2. পাল
  3. তুর্কি
  4. গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ:
- ১২০৪ সালে তুর্কি বীর ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলাদেশ অধিকার করেন।
- পরবর্তী দেড়শ বছর রাজনৈতিক আলোড়নের জন্য কোন সাহিত্যসৃষ্টি সম্ভব হয়নি বলে অনেকের ধারণা।

তাই অনেকে,
১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়টুকুকে যুগসন্ধি বা অন্ধকার যুগ বলে অভিহিত করে থাকেন।
- এ যুগের প্রাপ্ত নিদর্শনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৩শ-১৪শ শতকের রামাই পণ্ডিতের গাথাজাতীয় রচনা শূন্যপুরাণ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,১৯৫.
মধ্যযুগের কবি দ্বিজ বংশীদাস কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বরিশাল
  2. কিশোরগঞ্জ
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. মুন্সিগঞ্জ
ব্যাখ্যা

দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাব্যে ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার দেখে অনেকে মনে করেন, কবি সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।
- দ্বিজ বংশীদাস সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রাদি শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন।
- সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা।
- কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৯৬.
দৌলত কাজী কোন অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন?
  1. পটিয়া, চট্টগ্রাম
  2. ফতেহাবাদ, চট্টগ্রাম
  3. রাউজান, চট্টগ্রাম
  4. সুধারাম, সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা
দৌলত কাজী:
- তিনি আনুমানিক ১৬০০ থেকে ১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতানপুর গ্রাম, রাউজান, চট্টগ্রাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত মধ্যযুগের বিশিষ্ট কবি ছিলেন।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি ও ব্রজবুলি ভাষায় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- দৌলত কাজী আরাকানের রাজা সুধর্মের সমর সচিব আশারাফ খানের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় হিন্দি কাব্য অবলম্বনে কাব্য রচনায় উৎসাহী হন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী'।
- এই গ্রন্থের মূল হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ' নামক কাব্য ।
- তাঁর এ কাব্য বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষার মিশ্রণে রচিত।
- 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী' কাব্যটি পয়ার ত্রিপদী ছন্দে রচিত।
- কাব্য রচনার শেষ পর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হলে আলাওল (১৬৫৯) তা সম্পূর্ণ করেন।
- তিনি তাঁর রচনায় রামায়ণ, মহাভারত ও বৈষ্ণব পদাবলি থেকে অনুষঙ্গ ব্যবহারে কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ সুলতান পটিয়া, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।
- দৌলত উজির বাহরাম খান ফতেহাবাদ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।
- আবদুল হাকিম সুধারাম, সন্দ্বীপ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৯৭.
বিদ্যাপতি কোন ধারার কবি ছিলেন?
  1. শাক্ত
  2. বৈষ্ণব
  3. বাউল
  4. সুফি
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি বৈষ্ণব ধারার কবি ছিলেন । 

• বিদ্যাপতি:
- বৈষ্ণব পদাবলির অবাঙালি কবি বিদ্যাপতি।
- তিনি মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন ।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি। কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- 'মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়। কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস:
১।বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩। বাংলাপিডিয়া।

১,১৯৮.
'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।''- উক্তিটির স্রষ্টা-
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2.  চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

 • ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়াংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- তাঁর রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।

তার কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- ''আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।''
- ''মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।''
- “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৯৯.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কত বঙ্গাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩২১ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩২২ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৪ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন। 
- অযত্নে অবহেলায় থাকায় শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের সম্মুখ ও শেষ ভাগ খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা মনে করা হয় বড়ু চন্ডীদাসকে। 
- বড়ু চন্ডীদাসের প্রধান পরিচয়  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০০.
ব্রজবুলি ভাষার প্রবর্তন করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিদ্যাপতি
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
• ব্রজবুলি:
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা ।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এর উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন।
- বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশই রচিত হয়েছে 'ব্রজবুলি' নামে এক কৃত্রিম মিশ্র ভাষায়।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন।
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল বৈষ্ণব কবি এ ভাষায় বহু পদ রচনা করেন। এই ধারা উনিশ শতক পর্যন্ত চলেছিল।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।

• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন চতুর্দশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।