বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নদী, হ্রদ, সাগর, মহাসাগর ইত্যাদি

মোট প্রশ্ন১,১২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নদী, হ্রদ, সাগর, মহাসাগর ইত্যাদি

PrepBank · পাতা / ১২ · ৮০১৯০০ / ১,১২৭

৮০১.
ইরাকের প্রাচীন নগরী 'ব্যাবিলন' কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) নীলনদ
  2. খ) ইউফ্রেটিস
  3. গ) টাইগ্রিস
  4. ঘ) শাত-ইল-আরব
ব্যাখ্যা
তৃতীয় সহস্রাব্দের শেষের দিকে মেসোপটেমিয়ার ইউফ্রেটিস নদীর তীরে অবস্থিত, ইরাকের প্রাচীন নগরী ব্যাবিলনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।
- যা ইরাকের বাগদাদ থেকে প্রায় ৫৫ মাইল কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত 
- এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে চিহ্নিত। 

খ্রিস্টপূর্ব ৫,০০০ অব্দে মিশরে যখন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, সেই সময় আরাে কিছু নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এই নগর সভ্যতাগুলাের আলাদা আলাদা নাম থাকলেও, একই ভূখণ্ডে গড়ে ওঠার কারণে এদেরকে একত্রে মেসােপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসােপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত। 
- মেসােপটেমীয়ার অন্তর্ভুক্ত সভ্যতাসমূহ প্রাচীন মেসােপটেমীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
যেমন: সুমেরীয়, ব্যবিলনীয়, এ্যাসিরীয়, ক্যালডীয় ও আক্কাদীয় সভ্যতা।


উৎস: Britannica এবং মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০২.
এশিয়ার দীর্ঘতম নদী কোনটি? 
  1. অ্যামাজন
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. ইয়াংসিকিয়াং
  4. হোয়াংহো
ব্যাখ্যা
ইয়াংসিকিয়াং নদী:
- ইয়াংসিকিয়াং নদী 3,915 মাইল (6,300 কিমি) দীর্ঘ।
- এটি চীন এবং এশিয়া উভয়েরই দীর্ঘতম নদী।
- বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী।

অন্যান্য অপশন:
অ্যামাজন:
- অ্যামাজন বিশ্বের বৃহত্তম ও দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।

ব্রহ্মপুত্র:
- ব্রহ্মপুত্রের উৎপত্তি হিমালয় পর্বতমালার কৈলাস শৃঙ্গের নিকট।
- উৎপত্তিস্থল থেকে এর দৈর্ঘ্য ২৯০০ কিলোমিটার।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখা হচ্ছে যমুনা।

হোয়াংহো:
- হোয়াংহো চীনের দ্বিতীয় এবং বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম নদী।
- এর অপর নাম পীত নদী।
- এর সর্বমোট দৈর্ঘ্য ৫৪৬৪ কিলোমিটার।

উৎস: i) Britannica.
ii) ময়মনসিংহ বিভাগ ওয়েবসাইট, জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮০৩.
বিশ্বের উচ্চতম জলপ্রপাত কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ব্রাজিল
  2. আর্জেন্টিনা
  3. গুয়াতেমালা
  4. ভেনেজুয়েলা
ব্যাখ্যা
অ্যাঞ্জেলস জলপ্রপাত:
- বিশ্বের উচ্চতম জলপ্রপাত হলো অ্যাঞ্জেলস জলপ্রপাত।
- এটি ভেনেজুয়েলায় অবস্থিত।
- এটির উচ্চতা ৯৭৯ মিটার।
- এটি পানি পতনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম জলপ্রপাত।

উৎস: Britannica.
৮০৪.
Malacca Strait কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) আফ্রিকা মহাদেশে
  2. খ) দক্ষিণ এশিয়াতে
  3. গ) প্রশান্ত মহাসাগরে
  4. ঘ) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে
ব্যাখ্যা
Malacca Strait
- মালাক্কা প্রণালী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে মালয় উপদ্বীপ এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত একটি সমুদ্রপ্রণালী।
- মালাক্কা প্রণালীর উত্তরে ভারত মহাসাগরের আন্দামান সাগরকে দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ চীন সাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
- প্রণালীটি উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বে ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এর বিস্তার ৬০ কিলোমিটার থেকে ৪৮০ কিলোমিটার।
- প্রণালীটির দক্ষিণ প্রান্তে অনেকগুলি দ্বীপ আছে।
- ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার মধ্যকার সমুদ্র বাণিজ্য এর মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়।
- মালাক্কা প্রণালীর উপকূলে অবস্থিত প্রধান বন্দরগুলির মধ্যে আছে মালয় উপদ্বীপের পেনাং, পোর্ট সোয়েটেনহাম ও মালাক্কা, এবং সুমাত্রা দ্বীপের বেলাওয়ান বন্দর।
- সিঙ্গাপুর এই প্রণালীর দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
৮০৫.
পানামা খাল কোন দুটি মহাসাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর এবং আরব সাগর 
  2. ভারত মহাসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগর 
  3. আটলান্টিক মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর এবং ভূমধ্যসাগর
ব্যাখ্যা

পানামা খাল:
- এটি বিশ্বের দুটি সবচেয়ে কৌশলগত কৃত্রিম জলপথের মধ্যে একটি, যা পানামা প্রজাতন্ত্রের মালিকানাধীন ও পরিচালিত।
- এটি একটি লক-টাইপ খাল, যা আটলান্টিক মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর সংযুক্ত করে।
- উপকূল থেকে উপকূল পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য: প্রায় ৪০ মাইল (৬৫ কিমি)।
- উদ্বোধন: আগস্ট, ১৯১৪।
• নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসন:
- ১৯১৪-১৯৭৯: খালটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃত্বে পরিচালিত।
- ১৯৭৯: পানামা খাল কমিশন নামে মার্কিন ও পানামার যৌথ সংস্থা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ।
- ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯: খালের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পানামা সরকারের কাছে হস্তান্তরিত।
- বর্তমান প্রশাসন: পানামা খাল কর্তৃপক্ষ, যা কেবল পানামা সরকারের কাছে জবাবদিহি করে।

উৎস: Britannica.

৮০৬.
ফারাক্কা বাঁধ চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা
- ফারাক্কা বাঁধ চালু হয় ১৯৭৫ সালে। 

ফারাক্কা বাঁধ:
- ফারাক্কা বাঁধ গঙ্গা নদীর উপর অবস্থিত একটি বাঁধ।
- ভারতের হুগলী নদীতে পানি সরবরাহ এবং কলকাতা বন্দরটি সচল করার জন্য ১৯৭৪ সালে এই ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
- এর অবস্থান বাংলাদেশ থেকে ১৬.৫ কিলোমিটার উজানে ভারতের ভূখণ্ডে গঙ্গা নদীর ওপরে।
- ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রথম পরিকল্পনা করে ১৯৫১ সালে।
- ১৯৬১ সালে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
- প্রাথমিকভাবে নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৭০ সালে।
- ২১ এপ্রিল, ১৯৭৫ থেকে এই বাঁধ চালু হয়।

ফারাক্কা পানি চুক্তি:
- ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশে পানির প্রবাহ কমতে থাকার প্রেক্ষাপটে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তি হয়।
- চুক্তিতে বলা হয়েছে, নদীতে ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম পানি থাকলে দুই দেশ সমান সমান পানি ভাগ করে নেবে।
- পানির পরিমাণ ৭০ হাজার কিউসেক থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক হলে ৪০ হাজার কিউসেক পাবে বাংলাদেশ, অবশিষ্ট প্রবাহিত হবে ভারতে।
- আবার নদীর পানির প্রবাহ যদি ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি হয় তাহলে ৪০ হাজার কিউসেক পানি পাবে ভারত, অবশিষ্ট পানি প্রবাহিত হবে বাংলাদেশে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও BBC বাংলা।
৮০৭.
In which sea can you find the Galapagos Islands, known for their unique wildlife and Charles Darwins research?
  1. Pacific Ocean
  2. Caribbean Sea
  3. Mediterranean Sea
  4. Arabian Sea
ব্যাখ্যা
গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ:
- পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ বিশ্বের অন্যতম সুন্দর দ্বীপ এবং পর্যটন কেন্দ্র।
- গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জটি দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর উপকূল থেকে প্রায় ১০০০ কিলোমিটার পশ্চিমে নিরক্ষরেখায় অবস্থিত, রাজনৈতিকভাবে এটি ইকুয়েডরের অন্তর্ভুক্ত।
- ভূকম্পন এবং অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট গ্যালাপাগোস প্রায় ১২০টি দ্বীপপুঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত।
- এই দ্বীপপুঞ্জে বৈচিত্র্যময় প্রজাতির বিভিন্ন প্রাণী রয়েছে, যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না।
- বিরল প্রজাতির গুইসাপ ইগুয়ানার দুটি শ্রেণি বসবাস করে এখানে।
- গ্যালাপাগোস কচ্ছপ এই দ্বীপগুলোর অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাণবৈচিত্র্য।

উল্লেখ্য,
- চার্লস ডারউইন তাঁর বিখ্যাত বিবর্তনবাদের তত্ত্ব তৈরিতে এখানকার প্রাণীদের নির্বাচন ও পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
- তিনি লক্ষ করেছিলেন, এখানকার কচ্ছপ এবং মকিংবার্ডগুলো একেক দ্বীপে একেক রকম।
- দ্বীপগুলোর বৈচিত্র্যময় বিরল প্রজাতিগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই ডারউইন বিবর্তনের পক্ষে প্রমাণ পেতে শুরু করেন, যা তাঁর প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
- গ্যালাপাগোস দ্বীপের অভিজ্ঞতা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাপক গবেষণা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চার্লস ডারউইন ১৮৫৯ সালে প্রকাশ করেন তাঁর বিবর্তনবাদ বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থ ‘অন দি অরিজিন অব স্পিসিস’।

উৎস: ৩ ডিসেম্বর ২০২০, দৈনিক ইত্তেফাক। 
৮০৮.
বাংলাদেশের নদীর সংখ্যা কত?
  1. ক) ৭০০
  2. খ) ৭১৩
  3. গ) ৪০০
  4. ঘ) ৬০০
ব্যাখ্যা
৯ম-১০ম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই অনুসারে উপনদী, শাখানদী সহ বাংলাদেশের নদীর সংখ্যা ৭০০ টি যার সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ২২,১৫৫ কিলোমিটার।
৮০৯.
'কাস্পিয়ান সাগর' নিম্নের কোন দেশে অবস্থিত?
  1. রাশিয়া
  2. তুর্কমেনিস্তান
  3. ইরান
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

কাস্পিয়ান সাগর:
- কাস্পিয়ান সাগর (Caspian Sea) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্তঃমহাদেশীয় হ্রদ।
- এটি সাগরের মতো দেখতে হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে একটি হ্রদ।
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগরের আয়তন ৩,৮৬,৪০০ বর্গ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
- কাস্পিয়ান সাগর পাঁচটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত: রাশিয়া, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, ইরান এবং তুর্কমেনিস্তান।
- এটি এশিয়া-ইউরোপের মাঝে, ককেসাস পর্বতমালার পূর্বে এবং স্তেপ ও মধ্য এশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত।
- এর উত্তরে কাজাখস্তান, পশ্চিমে আজারবাইজান, দক্ষিণে ইরান এবং দক্ষিণ-পূর্বে তুর্কমেনিস্তান ঘিরে আছে।

উৎস: Britannica.

৮১০.
পৃথিবীর প্রশস্ততম নদী কোনটি?
  1. নীলনদ
  2. আমাজন
  3. ইয়াংসিকিয়াং
  4. ভলগা
ব্যাখ্যা

আমাজন:
- পৃথিবীর বৃহত্তম এবং প্রশস্ততম নদী আমাজন।
- পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- নদীটি ৯টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- এ নদীর অববাহিকায় রয়েছে সেলভা বনভূমি।
- এই নদীর ২০টি উপনদী আছে।
- এই নদী দিয়ে সবচেয়ে বেশি পানি প্রবাহিত হয় (৪.২ মিলিয়ন ঘনফুট/সেকেন্ড)।
- এই নদীর উৎপত্তি গায়ানা মালভূমি এবং পতনস্থল আটলান্টিক মহাসাগর।

অন্যদিকে,
- নীলনদ আফ্রিকা তথা বিশ্বের দীর্ঘতম নদী।
- ইয়াংসিকিয়াং নদ এশিয়া এবং চীনের দীর্ঘতম নদ।
- ভলগা ইউরোপের দীর্ঘতম নদী

উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।

৮১১.
প্রবাহমান দুটো নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে কী বলে?
  1. উপত্যকা
  2. দোয়াব
  3. বদ্বীপ
  4. অববাহিকা
ব্যাখ্যা
- প্রবাহমান দুটো নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে ‘দোয়াব’ বলা হয়।
অন্যদিকে,
- যে খাতের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় তাকে নদীর ‘উপত্যকা’ বলা হয়।
- নদীর উপত্যকার তলদেশকে ‘নদীগর্ভ’ বলে।
- উৎপত্তি স্থান থেকে শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে যে বিস্তৃর্ণ অঞ্চল দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র বা হ্রদে পতিত হয় সেই সমগ্র অঞ্চলকে নদী ‘অববাহিকা’ বলে।
- নদী মোহনায় বালি, কাঁদা প্রভৃতি তলানিরূপে সঞ্চিত হয়ে যে ভূমিরূপ গড়ে তোলে তা ‘বদ্বীপ’ নামে পরিচিত।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৮১২.
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ কোন নদীর উপর নির্মিত হয়েছে?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. নবগঙ্গা
  4. দোনাই
ব্যাখ্যা
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ:
- হার্ডিঞ্জ ব্রিজ বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রেলসেতু।
- ২৪ হাজার ৪০০ শ্রমিক-কর্মচারীর পাঁচ বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই ব্রিজ।
- পাবনা জেলার পাকশী রেলস্টেশনের দক্ষিণে পদ্মা নদীর ওপর এই সেতু অবস্থিত।
- তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের নাম অনুসারে এই সেতুর নামকরণ করা হয়।
- হার্ডিঞ্জ ব্রিজের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার।
- ব্রিজের ওপর দুটি ব্রডগেজ রেললাইন রয়েছে। 
- এই ব্রিজে রয়েছে ১৫টি মূল স্প্যান।
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে মিত্রবাহিনী বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করলে ব্রিজের ১২ নম্বর স্প্যানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- স্বাধীনতার পর ব্রিজটিকে মেরামত করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮১৩.
বাংলাদেশের মিঠা পানির মাছের প্রধান উৎস-
  1. ক) হাকালুকি বিল
  2. খ) তামাবিল
  3. গ) বিল ডাকাতিয়া
  4. ঘ) চলনবিল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল- চলনবিল। চলন বিল বিস্তৃত পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী ও নাটোর জেলায়। এটি বাংলাদেশের মিঠা পানির মাছের প্রধান উৎস।
৮১৪.
মহীসোপান কত ডিগ্রি কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে?
  1. ৮°
  2. ৫°
  3. ৩°
  4. ১°
ব্যাখ্যা
মহীসোপান:
- পৃথিবীর মহাদেশসমূহের স্থলভাগের যে অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে তাকে মহীসোপান বলে।
- মহীসোপান ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।
- মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার।
- ইউরোপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত। উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে দ্বিতীয় বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মহীসোপানের বিস্তৃতি প্রায় ৩৫০ নটিক্যাল মাইল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং   ভূগোল ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৫.
সাগরকন্যা কোন এলাকার ভৌগোলিক নাম?
  1. ক) টেকনাফ
  2. খ) কক্সবাজার
  3. গ) পটুয়াখালী
  4. ঘ) খুলনা
ব্যাখ্যা
পটুয়াখালী জেলাকে বলা হয় সাগরকন্যা।
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এ জেলারই ঐতিহ্য বহনকারী বেলাভূমি।
অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকটা।
একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট।

Source: patuakhali.gov.bd
৮১৬.
"সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড" কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পূর্বে
  2. খ) সিন্ধু নদীর মোহনার উত্তরে
  3. গ) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে
  4. ঘ) মিসিসিপি বদ্বীপের পশ্চিমে
ব্যাখ্যা
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground)  খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত, যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে। 
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত। গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত। 
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের আরও কিছু বদ্বীপমুখী খাদ দেখতে পাওয়া যায়, যেমন সিন্ধু নদীর মোহনার অদূরে সিন্ধু খাদ, মিসিসিপি বদ্বীপের পশ্চিম পাশে মিসিসিপি খাদ। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
৮১৭.
নিচের কোনটি নদ?
  1. ভৈরব
  2. আড়িয়াল খাঁ
  3. সিন্ধু
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
‘নদ’ আর ‘নদী’ 
- ‘নদ’ আর ‘নদী’ পার্থক্য শুধুমাত্র ব্যাকরণগত।
- যে সকল নদীর নাম পুরুষবাচক তারা নদ।
- যেমন - ব্রহ্মপুত্র, কপোতাক্ষ, কুমার, দুধকুমার, ভৈরব, আড়িয়াল খাঁ, সিন্ধু, নীল, আমাজন প্রভৃতি। 

- আর যে সকল নদীর নাম নারীবাচক তারা নদী।
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমা, গঙ্গা, বুড়িগঙ্গা এইসব নদী।

উল্লেখ্য, 
- শাখানদী থাকা না থাকার উপর ভিত্তি করে নদ ও নদীর পার্থক্য করা হয় না। 
- নদ বা নদী; যাই হোক না কেন,  এইসব জলাধারই নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রানস্বরুপ। তাই এদেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যহত রাখতে নদ-নদী সহ সকল জলাশয়ের পরিবেশ সংরক্ষণে সকলের দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা আবশ্যক।

তথ্য - ১.নদী ও নারী, হুমায়ূন কবির।
২. বাংলাদেশের নদ এবং নদী, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। লিংক
৮১৮.
পশুর নদীর তীরে কোন বন্দর অবস্থিত?
  1. পায়রা বন্দর
  2. মোংলা বন্দর
  3. মাতারবাড়ি বন্দর
  4. চট্টগ্রাম বন্দর
ব্যাখ্যা
• পশুর নদী:
- পসুর নদী (Pasur River)  সুন্দরবনের এক অতি বৃহৎ নদী, প্রকৃতপক্ষে রূপসা নদীরই বর্ধিত রূপ।
- পশুর নদীর তীরে মোংলা বন্দর অবস্থিত।
- এটি আরও দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে ত্রিকোনা ও দুবলা দ্বীপদ্বয়ের ডানদিক দিয়ে মংলা বন্দরের দক্ষিণে সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- প্রায় ১৪২ কি. মি. দীর্ঘ ও ৪৬০ মিটার থেকে ২.৫ কি. মি প্রশ্ন এই নদীর গভীরতা এত বেশি যে, সারা বছর সমুদ্রগামী জাহাজ এর মোহনা দিয়ে অনায়াসে মংলা সমুদ্রবন্দরে প্রবেশ করতে পারে।
- খুলনা-বরিশাল নৌপথ হিসেবে পশুর নদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮১৯.
মেক্সিকো উপসাগরের পরিবর্তিত নতুন নাম কী?
  1. গালফ অব ইউএস
  2. গালফ অব আমেরিকা
  3. গালফ অব ইউরোপ
  4. গালফ অব মেক্সিকো
ব্যাখ্যা
মেক্সিকো উপসাগর:
- মেক্সিকো উপসাগর অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের একটি প্রান্তিক সাগর।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কিউবাকে পৃথক করা এই উপসাগরের প্রায় পুরোটাই পড়েছে উত্তর আমেরিকা মহাদেশে।
- এ উপসাগরটি মেক্সিকো উপসাগর নামেই পরিচিত ছিল।
- সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে সম্প্রতি ‘গালফ অব মেক্সিকো’র নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করেছেন।
- একই সাথে ৯ ফেব্রুয়ারি তারিখকে 'গাল্ফ অফ আমেরিকা ডে' হিসাবে চিহ্নিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [Link]
৮২০.
'নাগার্নো কারাবাখ' কোন দুটি দেশের করিডোর?
  1. ক) আজারবাইজান-আর্মেনিয়া
  2. খ) আর্মেনিয়া- লাটভিয়া
  3. গ) কাজখস্তান-আজারবাইজান
  4. ঘ) রাশিয়া-আর্মেনিয়া
ব্যাখ্যা
নাগার্নো কারাবাখ হলো আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। এটি দক্ষিণ ককেশাসে আজারবাইজানের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি ছিটমহল/করিডোর। এর আয়তন প্রায় ১৭০০ বর্গমাইল।
- আর্মেনীয় খ্রিস্টান অধ্যুষিত এ অঞ্চলটি সোভিয়েত আমলে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ছিলো। ১৯৮৮ সালে আজারবাইজান এটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিলে আর্মেনীয় খ্রিস্টান মিলিশিয়াদের সাথে রক্তাক্ত লড়াই শুরু হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হয় এবং তখন এটির নিয়ন্ত্রণ আর্মেনিয়ার হাতে চলে যায়। একই সময়ে আজারবাইজানের আরও ৭টি জেলাও আর্মেনিয়া দখল করে নেয়।
- বিরোধপূর্ণ নাগার্নো কারাবাখ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ছয় সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ৯ নভেম্বর ২০২০ রাশিয়ার মধ্যস্থতায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তির ফলে আজারবাইজান নাগার্নো কারাবাখের সাতটি অঞ্চলের পাঁচটির উপর তার নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে।

সূত্রঃ সাম্প্রতিক সমাচার, আনাদুলো এজেন্সি ও আল-জাজিরা রিপোর্ট, এনসাক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এবং বিবিসি ওয়ার্ল্ড
৮২১.
গভীর সমুদ্রের সমভূমির গড় গভীরতা -
  1. ১,০০০-২,০০০ মিটার
  2. ২,০০০-৩,০০০ মিটার
  3. ৩,০০০-৪,০০০ মিটার
  4. ৪,০০০-৬,০০০ মিটার
ব্যাখ্যা
• গভীর সমুদ্রে সমভূমি:
- মহাসাগরের তলদেশে মহীসোপান, মহীঢালের পরবর্তী বিস্তীর্ণ প্রায় সমতল অংশকে গভীর সমুদ্রের সমভূমি বলে।
- গভীর সমুদ্রের সমভূমির গড় গভীরতা  ৪,০০০-৬,০০০ মিটার।
- এই সমভূমির মাঝে মাঝে বহু জলমগ্ন মালভূমি, অনুন্নত পর্বত শ্রেণি রয়েছে, যেমন আটলান্টিকের মধ্যস্থান দিয়ে বিস্তৃত সুদীর্ঘ মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা।
- আবার কোথাও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়গিরি। আগ্নেয়গিরিগুলি হতে উৎক্ষিপ্ত নানা প্রকার পদার্থ ও সূক্ষ্ম ভস্ম গভীর সমুদ্রের সমভূমিতে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২২.
ইউক্রেন কোন সাগরের তীরে অবস্থিত?
  1. ভূমধ্যসাগর
  2. লোহিত সাগর
  3. কৃষ্ণসাগর
  4. ঈজিয়ান সাগর
ব্যাখ্যা
ইউক্রেন কৃষ্ণসাগরের উত্তর উপকূলে অবস্থিত।
আয়তনে ইউক্রেন ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র। এটির আয়তন ৬০৫,৬২৮ বর্গ কিলোমিটার।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ নিপার নদীর তীরে অবস্থিত।
ওডেসা ও মারিয়াপোল কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত ইউক্রেনের দুটো বিখ্যাত সমুদ্রবন্দর।
ডনবাস ও লুহানস্ক ইউক্রেনের দুটো রুশভাষী সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল।

(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৮২৩.
ভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে কোন নদীর উৎপত্তি হয়েছে?
  1. নীল
  2. আমাজন
  3. দানিয়ুব
  4. কঙ্গো
ব্যাখ্যা
ভিক্টোরিয়া হ্রদ (Lake Victoria):
- আফ্রিকা মহাদেশের বৃহত্তম হ্রদ ভিক্টোরিয়া হ্রদ।
- এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বাদু পানির হ্রদ।
- এটি তানজানিয়া, উগান্ডা এবং কেনিয়ার সীমান্তে অবস্থিত।
- এর আয়তন ২৬,৮২৮ বর্গমাইল (৬৯,৪৮৪ বর্গকিলোমিটার)।
- এটি নীল নদের একটি বড় উৎস।

⇒ বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তিস্থল:
- হোয়াংহো নদী: কুনকুন পর্বত, চিন দেশ।
- দানিয়ুব নদী: ব্ল্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ।
- মারে ডার্লিং নদী: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্ৰেলিয়া।
- তিস্তা নদী: সিকিমের পর্বত অঞ্চল।
- আমাজন নদী: আন্দিজ পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা।

উৎস: Britannica.
৮২৪.
সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর মিলিত স্রোতের নাম কী?
  1. ক) বোরাক
  2. খ) যমুনা
  3. গ) বুড়িগঙ্গা
  4. ঘ) মেঘনা
ব্যাখ্যা
• নদী:
- হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার মারকুলী নামক স্থানে কুশিয়ারা পুনরায় সুরমার সঙ্গে মিলিত হয়ে কালনী নাম ধারণ করে দক্ষিণ দিকে ভৈরব উপজেলার ভৈরববাজার পর্যন্ত প্রবাহিত হওয়ার পর সুরমার অপর শাখা ধনুর সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে প্রবাহিত হয়েছে। মারকুলীর উজানে কুশিয়ারা কিছুটা জায়গা জুড়ে বিবিয়ানা নদী নামেও পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮২৫.
প্রাকৃতিক জিন ব্যাংক সমৃদ্ধ 'মৎসখনি' হিসাবে পরিচিত কোন নদী?
  1. পদ্মা নদী
  2. হালদা নদী
  3. কর্ণফুলী নদী
  4. মেঘনা নদী
ব্যাখ্যা

• হালদা নদী:
- হালদা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি নদী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বদনাতলী পাহাড় হতে উৎপন্ন হয়ে এটি ফটিকছড়ির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে।
- এটি কালুরঘাটের নিকটে কর্ণফুলী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- এর মোট দৈর্ঘ্য ৮১ কিলোমিটার।
- এটি দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- হালদা বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যেখান থেকে রুইজাতীয় মাছের (রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ) নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়।
- হালদা নদীর প্রজনন সময় হচ্ছে এপ্রিল, মে, জুন এই তিন মাস।
- অমাবস্যা, পূর্ণিমা তিথিতে এখানে রুইজাতীয় মাছ নিষিক্ত ডিম ছাড়ে।
- হালদা হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক জিন ব্যাংক।

উল্লেখ্য,
- হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
- এতে হালদা নদী জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ঐতিহ্যগত স্থান হিসেবে বিশ্বে পরিচিত হবে।
- হালদায় মাছের অভয়াশ্রমের পাশাপাশি প্রকৃতিতে আসবে নতুন প্রাণ।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সমকাল পত্রিকার নিউজ।

৮২৬.
নিচের কোনটি উপসাগর নয়?
  1. পারস্য সাগর
  2. বঙ্গোপসাগর
  3. মেক্সিকো সাগর
  4. ভূমধ্যসাগর
ব্যাখ্যা
উপসাগর:
তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে জল তাকে উপসাগর (Bay) বলে।
- যথা- বঙ্গোপসাগর, পারস্য উপসাগরমেক্সিকো উপসাগর ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
⇒ মহাসাগর অপেক্ষা স্বল্প আয়তনবিশিষ্ট জলরাশিকে সাগর (Sea) বলে।
- যথা- ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর, জাপান সাগর ইত্যাদি।
⇒ চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে হ্রদ (Lake) বলে।
- যথা- রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত সুপিরিয়র হ্রদ ও আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৮২৭.
চলন বিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে কোন নদী?
  1. ক) আত্রাই
  2. খ) মহানন্দা
  3. গ) বাঙ্গালি
  4. ঘ) করতোয়া
ব্যাখ্যা
• চলন বিল:
- চলনবিলের মধ্য দিয়ে আত্রাই নদী প্রবাহিত হয়েছে।
- চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আত্রাই নদী হুরাসাগর নদীর সাথে মিলিত হয়ে বাঘাবাড়ির নিকট যমুনা নদীতে পতিত হয়েছে।
- চলন বিল (Chalan Beel) বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল এবং সমৃদ্ধতম জলাভূমিগুলির একটি।
- বিলটি সংলগ্ন তিনটি জেলা রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ-এর অংশবিশেষ জুড়ে অবস্থান করছে।
- এটি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ ও পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা দুটির অধিকাংশ স্থান জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা ও গুমনী নদীর উত্তর পাড়ের মধ্যে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮২৮.
গারো পাহাড়ের দীর্ঘতম নদীর নাম কি?
  1. মেঘনা
  2. সিমসাং
  3. বরাক
  4. ফাইপি
ব্যাখ্যা
গারো পাহাড়:
- বাংলাদেশের বৃহত্তম ও সবচেয়ে উঁচু পাহাড় গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণি।
- মূলত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো-খাসিয়া পর্বতশ্রেণির একটি অংশকে গারো পাহাড় বলে।
- এর কিছু অংশ রয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যে ও বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাগুলো এ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
- গারো পাহাড়ের মোট আয়তন প্রায় আট হাজার ১৬৭ বর্গকিলোমিটার।
- গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম নকরেক, যা ভারত অংশে অবস্থিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৪ হাজার ৬৫২ ফুট বা এক হাজার ৪০০ মিটার।
- গারো পাহাড়ের দীর্ঘতম নদীটির নাম সিমসাং।
- মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং এ পাহাড়েই অবস্থিত।
- তবে গারো পাহাড়ের প্রধান শহর তুরা।
- গারো পাহাড় বিশ্বের অন্যতম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি।

অন্যদিকে -
- তাজিংডং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।

উৎস: i) ৫ অক্টোবর, ২০২২, কালের কন্ঠ।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮২৯.
১৭৮৭ সালের পূর্বে যমুনা 'ব্রহ্মপুত্র' নামে কোন দিক দিয়ে প্রবাহিত হত?
  1. ক) দক্ষিণ
  2. খ) পূর্ব
  3. গ) উত্তর
  4. ঘ) পশ্চিম
ব্যাখ্যা
গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা সমভূমি:
- গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র মেঘনা নদী বিধৌত প্লাবন সমভূমি বর্ষায় প্রায় পানিতে প্লাবিত হয়।
- তিস্তা পলল পাখা থেকে শুরু করে পদ্মা নদীর উত্তর তীর এবং মেঘনা নদীর পশ্চিম তীর পর্যন্ত এ সমভূমি বিস্তৃত ।
- প্লাষ্টোসিন ১মিটার যুগের সোপান ব্যতীত পুরা অঞ্চল নদী বিধৌত সমভূমি। 
- এর উত্তর-পূর্বাংশে সিলেটের হাওড় অঞ্চল অবস্থিত। উত্তর প্রান্ত ঘেষে শিলং মালভূমির পাদদেশের টিলাসমূহ এবং এদের মধ্যদিয়ে অসংখ্য স্বল্প বিস্তার সমৃদ্ধ পলল পাখা রয়েছে।
- ১৭৮৭ সালের পূর্বে যমুনা ব্রহ্মপুত্র নামে পূর্ব দিক দিয়ে প্রবাহিত হত।
- ফলে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর সমভূমি দেশের উত্তর মধ্য অঞ্চলে সুবিস্তৃত। 
 
উৎস: এইচ এসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
 
৮৩০.
কিউবা কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. উত্তর মহাসাগর
  4. দক্ষিণ মহাসাগর
ব্যাখ্যা

কিউবা:
- সরকারি নাম: কিউবান রেপাবলিক।
- রাজধানী: হাভানা (Havana)।
- অবস্থান: ক্যারিবিয়ান সাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ রাষ্ট্র।
- আয়তন: প্রায় ১০৬,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- ভাষা: স্প্যানিশ (সরকারি ভাষা)।
- মুদ্রা: কিউবান পেসো।
- ধর্ম: প্রধানত ক্যাথলিক এবং অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায়।
- শাসন ব্যবস্থা: একদলীয় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

• ভৌগোলিক অবস্থান:
- আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- দক্ষিণে মেক্সিকো, উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা প্রদেশের নিকটে।
- পূর্বে হাইতি, পুয়ের্তো রিকো সহ অন্যান্য ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের পাশে্

উল্লেখ্য
- স্পেনের উপনিবেশ ছিল ১৫০০ থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত।
- ১৯০২ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ।
- ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রো নেতৃত্বে বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: Britannica, World Atlas. 

৮৩১.
নিচের কোনটি মেঘনা নদীর উপনদী?
  1. ধরলা
  2. ডাকাতিয়া
  3. মহানন্দা
  4. তিস্তা
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী: 
- মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী।
- মেঘনার উৎপত্তি: আসামের লুসাই পাহাড় হতে বরাক নদী নামে।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেট জেলা দিয়ে।
- সুরমা ও কুশিয়ারা মিলিত হয়েছে আজমিরীগঞ্জে এবং নামধারণ করেছে কালনী।
- কালনী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের মিলিত স্রোতের নাম: মেঘনা (ভৈরববাজার)।
- উপনদী: ব্রহ্মপুত্র, গোমতী, শীতলক্ষা, ধলেশ্বরী, ডাকাতিয়া, বাউলাই।

অপরদিকে,
- ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra) নদের প্রধান উপনদী: ধরলা ও তিস্তা।
- পদ্মা নদীর উপনদী: মহানন্দা, ট্যাঙ্গন, পুনর্ভবা, নগর, কুলিক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৩২.
উপসাগর হলো সাধারণত- 
  1. তিনদিকে স্থল দ্বারা বেষ্টিত
  2. একদিকে সাগর বা মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত 
  3. উপসাগরের পানি সাগর বা মহাসাগরে তুলনায় শান্ত হয়
  4. বর্ণিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

উপসাগর (Bay/Gulf):
- উপসাগর হলো সাধারণত তিনদিকে স্থল দ্বারা বেষ্টিত এবং একদিকে সাগর বা মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত লবণাক্ত জলভাগ।
- স্থলভাগের অভ্যন্তরে ব্যাপক অনুপ্রবেশের কারণে উপসাগরের পানি সাধারণত সাগর বা মহাসাগরের তুলনায় শান্ত হয়।
- আবার উপসাগরগুলো অন্য কোন উপসাগরের সঙ্গেও সংযুক্ত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ জেমস উপসাগর হাডসন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত।
- অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত এবং অধিকতর গভীর উপসাগরগুলোকে ইংরেজিতে গালফ (gulf) বলা হয়।
- যেমন-পারস্য উপসাগর (Persian Gulf)।
- আবার অপেক্ষাকৃত ছোটো আকারের খাড়া পাড় বিশিষ্ট উপসাগরগুলো ইংরেজিতে জর্ড নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের একটি উপসাগর (Bay)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। ব্রিটানিকা।

৮৩৩.
নিঝুমদ্বীপ কোন নদীর মোহনায় অবস্থিত?
  1. মেঘনা
  2. কর্ণফুলী
  3. হাড়িয়াভাঙ্গা
  4. রায়মঙ্গল
ব্যাখ্যা
নিঝুম দ্বীপ:
- নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত।
- এর আয়তন ৯১ বর্গ কিলোমিটার।
- এটি বঙ্গোপসাগরের বুকে মেঘনা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা এই চর হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে দুই কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
- দ্বীপের তিন দিকে সাগর অন্যদিকে মেঘনার মোহনা।
-  ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল দ্বীপটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।

উল্লেখ্য,
- প্রায় ১৪ হাজার ৫০ একরের দ্বীপটি ১৯৪০ সালের দিকে জেগে ওঠে।
- ওসমান নামের একজন বাথানিয়া তাঁর মহিষের বাথান নিয়ে প্রথম নিঝুম দ্বীপে বসত গড়েন। তখন তাঁর নামেই এই চরের নাম হয় ওসমান চর।
- এই দ্বীপে প্রচুর বালুর ঢিবি বা টিলা ছিল বলে স্থানীয় লোকজন এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বা বাউল্লার চরও বলে ডাকত।
- আবার এ চরে প্রচুর ইচা মাছ (চিংড়ির স্থানীয় নাম) পাওয়া যেত বলে একে ইছামতীর চরও বলা হতো।
- নিঝুম দ্বীপ এখন হরিণের অভয়ারণ্য।
- দ্বীপের বিশেষ আকর্ষণ উভচর প্রজাতির মাছ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৩৪.
'আড়িয়াল বিল' কোথায় অবস্থিত?
  1. মানিকগঞ্জে
  2. মুন্সীগঞ্জে
  3. রুপগঞ্জে
  4. হবিগঞ্জে
ব্যাখ্যা
আড়িয়াল বিল:

- আড়িয়াল বিল পদ্মা নদী ও ধলেশ্বরী নদীর মাঝখানে অবস্থিত ও মুন্সীগঞ্জ জেলার অন্তর্গত একটি অবভূমি।
- এটি দেশের মধ্যাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন বিল।
- আড়িয়াল বিলের বেশিরভাগ এলাকাই শুষ্ক ঋতুতে আর্দ্র থাকে এবং বিলে যথেষ্ট পরিমাণ পানি সঞ্চিত থাকে।
- বর্ষায় পানিতে টইটুম্বুর থাকলেও শীতকালে এটি বিস্তীর্ণ শস্য ক্ষেতে পরিণত হয়।

তথসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৩৫.
বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী রাষ্ট্র কয়টি?
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী রাষ্ট্র ৫টি। দেশগুলো হলো:
- বাংলাদেশ, 
- ভারত, 
- মিয়ানমার,
- শ্রীলঙ্কা, 
- ইন্দোনেশিয়া

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৮৩৬.
পানামা খাল কোন দুটি জলরাশিকে সংযুক্ত করে?
  1. আর্কটিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

পানামা খাল:
- এটি বিশ্বের দুটি সবচেয়ে কৌশলগত কৃত্রিম জলপথের মধ্যে একটি, যা পানামা প্রজাতন্ত্রের মালিকানাধীন ও পরিচালিত।
- এটি একটি লক-টাইপ খাল, যা আটলান্টিক মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর সংযুক্ত করে।
- উপকূল থেকে উপকূল পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য: প্রায় ৪০ মাইল (৬৫ কিমি)।
- উদ্বোধন: আগস্ট, ১৯১৪।

নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসন:
১৯১৪–১৯৭৯: খালটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃত্বে পরিচালিত।
১৯৭৯: পানামা খাল কমিশন নামে মার্কিন ও পানামার যৌথ সংস্থা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ।
৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯: খালের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পানামা সরকারের কাছে হস্তান্তরিত।
বর্তমান প্রশাসন: পানামা খাল কর্তৃপক্ষ, যা কেবল পানামা সরকারের কাছে জবাবদিহি করে।

উৎস:  Britannica.

৮৩৭.
তিস্তা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে কোন নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. ব্রহ্মপুত্র
  4. সুরমা
ব্যাখ্যা
তিস্তা নদী:
- তিস্তা নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী।
- এটি ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত একটি নদী।
- তিস্তা সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি বিভাগের প্রধান নদী।
- একে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের জীবনরেখাও বলা হয়।
- সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর বাংলাদেশে প্রবেশ করে তিস্তা ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

⇒ হিন্দু পুরাণ অনুসারে এটি দেবী পার্বতীর স্তন থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে নদীটির বাংলা নাম তিস্তা এসেছে ‘ত্রি-সে্রাতা’ বা ‘তিন প্রবাহ’ থেকে।
- সিকিম হিমালয়ের ৭,২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত চিতামু হ্রদ থেকে এই নদীটি সৃষ্টি হয়েছে।
- এটি দার্জিলিং -এ অবস্থিত শিভক গোলা নামে পরিচিত একটি গিরিসঙ্কটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নদীটি নীলফামারী জেলার কালীগঞ্জ সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

⇒ অষ্টাদশ শতকের প্রায় শেষ পর্যন্ত এই ধারাটি বিভিন্ন নদীপ্রবাহের মাধ্যমে গঙ্গা নদীতে প্রবাহিত হতো।
- ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দের অতিবৃষ্টি একটি ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি করেছিল এবং সেই সময় নদীটি গতিপথ পরিবর্তন করে লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম এবং গাইবান্ধা জেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে চিলমারী নদীবন্দরের দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদে পতিত হয়।
- তিস্তা একসময় করতোয়া নদীর মাধ্যমে গঙ্গার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল এবং এর অংশবিশেষ এখনও বুড়ি তিস্তা নামে পরিচিত।

⇒ তিস্তার মাসিক গড় পানি অপসারণের পরিমাণ ২,৪৩০ কিউসেক।
- ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে তিস্তার ভারতীয় অংশে গজলডোবায় স্থাপিত বাঁধের সবগুলি গেটবন্ধ বন্ধ করে দেয়া হলে তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশে পানিপ্রবাহ শূন্যে নেমে আসে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৩৮.
নিচের কোনটি পদ্মা নদীর উপনদী?
  1. কুমার
  2. পাগলা
  3. গড়াই
  4. ভৈরব
ব্যাখ্যা
পদ্মা নদী:
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা। গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- কুমার, মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি পদ্মা নদীর প্রধান শাখানদী।
- পুনর্ভবা, নাগর, পাগলা, কুলিক ও ট্যাংগন মহানন্দার পদ্মা নদীর উপনদী।

উল্লেখ্য,
- মহানন্দার উপনদীগুলোর মধ্যে রয়েছে পুনর্ভবা, নাগর, কুলিক, ট্যাংগন, পাগলা প্রভৃতি।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী ধরলা ও তিস্তা। আর প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
- মেঘনার উল্লেখযোগ্য উপনদী হলো মনু, বাউলাই, তিতাস, গোমতী এবং শাখানদী জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া।
- যমুনার প্রধান উপনদী হলো করতোয়া ও আত্রাই। এছাড়া যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরবিশে এসএসসি পোগ্রাম (উন্মুক্ত)।
৮৩৯.
Europe and Africa is separated by-
  1. Strait of Gibraltar
  2. Strait of Bosforus
  3. Bering strait
  4. Dardanelles
ব্যাখ্যা
জিব্রাল্টার প্রণালী:
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্য সাগরকে যুক্ত করেছে।
- এটি আফ্রিকা ও ইউরোপকে পৃথক করেছে।
- এর ইউরোপিয়ান প্রান্তে স্পেন এবং আফ্রিকান প্রান্তে মরক্কো অবস্থিত।
- এটির পশ্চিম প্রান্ত ২৭ মাইল এবং পুর্ব প্রান্ত ১৪ মাইল চওড়া।
- এটি গড়ে ১২০০ ফুট গভীর।
এছাড়া,
- বসফরাস প্রণালি এশিয়া ও ইউরোপকে পৃথক করেছে এবং কৃষ্ণসাগর ও মর্মর সাগরকে যুক্ত করেছে।
- বেরিং প্রণালী এশিয়া থেকে উত্তর আমেরিকাকে পৃথক করেছে এবং বেরিং সাগর ও উত্তর সাগরকে যুক্ত করেছে।
- দার্দানেলিস হলো তুর্কিয়ের উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত একটি সরু প্রণালি যা এশিয়া ও ইউরোপকে পৃথক করেছে এবং এজিয়ান সাগর ও মর্মর সাগরকে যুক্ত করেছে।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা। [লিঙ্ক]
৮৪০.
পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. নীল নদ
  2. আমাজন
  3. মিসিসিপি
  4. কঙ্গো
ব্যাখ্যা
আমাজন নদী:
- পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী আমাজন নদী।
- আমাজন নদীর দৈর্ঘ্য ৬৪০০ কি.মি। -
- এটি দক্ষিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় নদী।
- আমাজন নদী ৯টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নদীটি দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর তাংশে অবস্থিত, পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে। - এই নদীটি - পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় উৎপন্ন হয় এবং আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্ত হয়েছে।
- আমাজনের মূল স্রোতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্রাজিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নীল নদ।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & Worldatlas.com
৮৪১.
কালনী ও ব্রহ্মপুত্রের মিলিত প্রবাহ কী নামে পরিচিত?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. যমুনা
  4. কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী: 
- আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপত্তি।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম বরাক।
- সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেট জেলার আমলশীদ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- সুরমা ও কুশিয়ারা পুনরায় মিলিত হয়েছে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে।
- সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত স্রোতের নাম কালনী।
- ভৈবরবাজারে কালনী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র মিলিত হয়ে মেঘনা নাম ধারন করে।
- মেঘনার উপনদী: মনু, বাউলাই, তিতাস, গোমতী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৪২.
নিচের কোন নদী বাংলাদেশে উৎপত্তি হয়ে বাংলাদেশে পতিত হয়েছে?
  1. কর্ণফুলী
  2. মাতামুহুরী
  3. তিস্তা
  4. হালদা নদী
ব্যাখ্যা

হালদা নদী: 
- হালদা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের ছোট্ট একটি নদী। 
- হালদা নদীর উৎপত্তি, বিস্তার এবং সমাপ্তি সবই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে।

⇒ উল্লেখ্য:
- হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম। 
- হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র। 
- হালদা বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যেখান থেকে রুইজাতীয় মাছের (রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ) নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। - হালদা নদী বাংলাদেশে কার্পজাতীয় মাছের রেণুর প্রধান উৎস।
- হালদা নদীর প্রজনন সময় হচ্ছে এপ্রিল, মে, জুন এই তিন মাস। 
- অমাবস্যা, পূর্ণিমা তিথিতে এখানে রুইজাতীয় মাছ নিষিক্ত ডিম ছাড়ে। 
হালদা হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক জিন ব্যাংক। 

তথ্যসূত্র - মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

৮৪৩.
উচ্চতার দিক থেকে পৃথিবীর ২য় পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
  1. কাঞ্চনজঙ্ঘা
  2. লোৎসে
  3. কে টু
  4. এভারেস্ট
ব্যাখ্যা
উচ্চতার দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ পর্বতশৃঙ্গ:
• শীর্ষ পর্বতশৃঙ্গ: মাউন্ট এভারেস্ট
- বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট নেপাল এবং তিব্বতের সীমান্তে হিমালয়ে অবস্থিত।
- এটির উচ্চতা ৮৮৪৮.৮৬ মিটার।

• ২য় শীর্ষ পর্বতশৃঙ্গ: কে টু (K2)
- পাকিস্তান ও চীনের সীমান্তে অবস্থিত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ K2।
- এর আরেক নাম Godwin-Austen।
- এটির উচ্চতা ৮৬১১ মিটার।

• ৩য় শীর্ষ পর্বতশৃঙ্গ: কাঞ্চনজঙ্ঘা
- নেপাল ও ভারতের সীমান্তে অবস্থিত কংচেনজঙ্ঘা।
- এটির উচ্চতা ৮৫৮৬ মিটার।

• ৪র্থ শীর্ষ পর্বতশৃঙ্গ: লোৎসে
- নেপাল এবং তিব্বতের সীমান্তে অবস্থিত লোটসে।
- এটির উচ্চতা ৮৫১৬ মিটার।

• ৫ম শীর্ষ পর্বতশৃঙ্গ: মাকালু পর্বত
- নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তে অবস্থিত মাকালু।
- এটির উচ্চতা ৮৪৮৫ মিটার।

উৎস: Worldatlas.
৮৪৪.
মেঘনা নদী ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়েছে-
  1. ভৈরব বাজারে
  2. গোয়ালন্দে
  3. চাঁদপুরের কাছে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
মেঘনা:
- আসামের বরাক নদী নাগা-মণিপুর অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলায় প্রবেশ করেছে।
- উত্তরের শাখা সুরমা পশ্চিম দিকে সিলেট, ছাতক, সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- আজমিরীগঞ্জের কাছে উত্তর সিলেটের সুরমা, দক্ষিণ সিলেটের কুশিয়ারা নদী এবং হবিগঞ্জের কালনী নদী একসঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- পরে কালনী, সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত প্রবাহ কালনী নামে দক্ষিণে কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে।
- মেঘনা ভৈরববাজারের দক্ষিণে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে।
- চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- মনু, বাউলাই, তিতাস, গােমতী হচ্ছে মেঘনার উপনদী।

গুরত্বপূর্ণ নদীসমূহের মিলিত স্থান:
→ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা: ভৈরব বাজার।
→ হালদা ও কর্ণফুলী: কালুরঘাট, চট্টগ্রাম।
→ তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র: চিলমারি, কুড়িগ্রাম।
→ পদ্মা ও যমুনা: গোয়ালন্দ, রাজবাড়ি।
→ পদ্মা ও মেঘনা: চাঁদপুর।
→ কুশিয়ারা ও সুরমা: আজমিরীগঞ্জ, হবিগঞ্জ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪৫.
'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' বলতে বুঝানো হয় -
  1. নদীর মোহনা
  2. একটি প্লাবন ভূমি
  3. একটু ফুটবল প্লে গ্রাউন্ড
  4. বঙ্গোপসাগরের একটি গিরিখাত
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- বঙ্গোপসাগরের একটি গিরিখাত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড।
- এটি ১৪ কিলোমিটার ব্যাপী বঙ্গোপসাগরের গভীর খাদ। 
- এটি সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। 
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- এই এলাকাটি বিভিন্ন প্রজাতির ডলফিন এবং তিমির মতো বিপন্ন প্রাণীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড ‘গঙ্গাখাদ’ নামেও পরিচিত। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৪৬.
বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা কত?
  1. ৫০টি
  2. ৫৫টি
  3. ৫৭টি
  4. ৫৯টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদী:
- বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী (Trans-boundary Rivers) রয়েছে।
- বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত নদী ৫৪টি।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তঃসীমান্ত নদী ৩টি (সাঙ্গু, মাতামুহুরী, নাফ)।
- আন্তঃসীমান্ত নদী বলতে সাধারণত সেসমস্ত নদীকে বুঝায় যেগুলি অন্তত এক বা একাধিক দেশের রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করে।
- এই সীমা একটি দেশের অভ্যন্তরস্থ বা আন্তর্জাতিক হতে পারে।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৪৭.
'Line of Actual Control' যে দু'টি দেশের সীমান্তে অবস্থিত-
  1. ক) পাকিস্তান - আফগানিস্তান
  2. খ) চীন - ভারত
  3. গ) ভারত - পাকিস্তান
  4. ঘ) নেপাল - ভারত
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন দেশের মধ্যকার সীমারেখা:
- LAC (Line of Actual Control) : চীন ও ভারত
- লাইন অব কন্ট্রোল : পাকিস্তান ও ভারত
- গ্রিন লাইন : ইসরাইল ও জর্ডান/ফিলিস্তিন
- ব্লু লাইন : ইসরাইল ও লেবানন।

(সূত্র: ব্রিটানিকা)
৮৪৮.
ধরলা ও তিস্তা কোন নদীর উপনদী?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. কর্ণফুলী
  4. ব্রহ্মপুত্র
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র নদ: 
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। 
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। 
- এরপর ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। 
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত। 
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে। 
- প্রধান শাখানদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা। 
- প্রধান উপনদী: ধরলা ও তিস্তা। 
- এখানে উল্লেখ্য যে, ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা যমুনা নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৯.
নীলনদ পৃথিবীর কয়টি দেশে প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ১২টি
  2. ১১টি
  3. ১০টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- অবস্থান: পূর্ব ও উত্তর আফ্রিকা।
- দৈর্ঘ্য: আনুমানিক ৬,৬৫০ কিলোমিটার।
- প্রবাহিত: ১১টি দেশ।
- তানজানিয়া, উগান্ডা, রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, কঙ্গো (DRC), দক্ষিণ সুদান, সুদান, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, ইরিত্রিয়া ও মিশর।

উল্লেখ্য,
- এটি বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী হিসেবে পরিচিত (আমাজন নদীর পরেই)।
- এটি ভূমধ্যসাগরে গিয়ে পতিত হয়েছে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। 
৮৫০.
মংলা বন্দর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) পশুর
  2. খ) ভৈরব
  3. গ) পায়রা
  4. ঘ) পদ্মা
ব্যাখ্যা
মংলা বন্দর বাংলাদেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাাতিক সমুদ্র বন্দর।
১৯৫০ সালে ১১ ডিসেম্বর বৃটিশ বাণিজ্যিক জাহাজ ''The City of Lyons'' সুন্দরবনের মধ্যে পশুর নদীর জয়মনিগোল নামক স্থানে নোঙ্গর করে ।
এটাই ছিল মংলা বন্দর প্রতিষ্ঠার শুভ সুচনা।

উৎস: মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
৮৫১.
এশিয়ার দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. ইয়াংসিকিয়াং
  2. গঙ্গা
  3. সিন্ধু
  4. হোয়াংহো নদী
ব্যাখ্যা
ইয়াংসিকিয়াং:

- এশিয়া ও চীনের দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং।
- এটি পৃথিবীর ৩য় দীর্ঘতম নদী।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ৩,৯১৫ মাইল (৬,৩০০ কিমি)।
- এর অববাহিকা, পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ মাইল (৩,২০০ কিমি) এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬০০ মাইল (১,০০০ কিমি) এরও বেশি সময় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- তিব্বতের মালভূমি এর উৎপত্তিস্থল এবং পতিত হয়েছে পূর্ব চীন সাগরে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৮৫২.
গঙ্গা নদীর উৎপত্তি ভারতের কোন রাজ্যে?
  1. হিমাচল
  2. উত্তরপ্রদেশ
  3. সিকিম
  4. উত্তরাখণ্ড
ব্যাখ্যা
- ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেবপ্রয়োগ নামক স্থানে ভাগীরথী ও অলকানন্দা নদী মিলিত হয়ে গঙ্গা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।
- হিন্দু ধর্মমতে ভাগীরথী নদীকে গঙ্গার মূলধারা বিবেচনা করা হয়। ভাগীরথী নদী ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি হয়েছে। অলকানদীর উৎপত্তিও উত্তরাখণ্ড রাজ্যে।
- গঙ্গা নদী উত্তরাখণ্ড রাজ্য থেকে উৎপত্তি হয়ে ভারতের উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- পরবর্তীতে গোয়ালন্দের নিকট যমুনা এবং চাঁদপুরের নিকট মেঘনার সাথে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- গোয়ালন্দ থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত প্রবাহ পদ্মা নামে অভিহিত।
- গঙ্গা নদীর মোট দৈর্ঘ্য ২,৬০০ কিলোমিটার।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮৫৩.
কোন উপসাগর 'চোল হ্রদ' নামে পরিচিত ছিল?
  1. মেক্সিকো উপসাগর
  2. বঙ্গোপসাগর
  3. পারস্য উপসাগর
  4. গিনি উপসাগর
ব্যাখ্যা
বঙ্গোপসাগরের নাম চোল সাম্রাজ্যের সময় চোল হ্রদ নামে পরিচিত ছিলো।

বঙ্গোপসাগর:
- বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের অংশ।
- পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এ উপসাগরটি পশ্চিমে ভারত ও শ্রীলংকার পূর্ব উপকূল, উত্তরে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীপ্রণালী সৃষ্ট বদ্বীপ এবং পূর্বে মায়ানমার উপদ্বীপ থেকে আন্দামান-নিকোবর শৈলশিরা পর্যন্ত বিস্তৃত ভূভাগ দ্বারা বঙ্গোপসাগর তিনদিকে আবদ্ধ।
- বঙ্গোপসাগরের সর্বউত্তর প্রান্তে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগরের একটি গিরিখাত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড।

চোল রাজবংশ: 
- চোলরা ছিল দক্ষিণ ভারতের এক অতি প্রাচীন জাতি।
- মহাভারত, অশোকের শিলালিপি, গ্রিক ঐতিহাসিকদের বিবরণে চোলদের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- আনুমানিক দ্বিতীয় শতকে চোল রাজা কারিকল বর্তমান কালের পেনার ও ভেলার নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে (তাঞ্জোর, ত্রিচিনোপল্লী, পদুকোটাই প্রভৃতি অঞ্চলে) চোল শাসন শুরু করেন।
- কিন্তু চের, পল্লব, পাণ্ড্যদের ক্রমাগত আক্রমণের জন্য এক শতকের মধ্যেই চোল রাজ্যের পতন ঘটে।
- খ্রীষ্টীয় নবম শতক থেকে চোল শক্তির পুনরুত্থান ঘটে। প্রায় তিনশো বছর ধরে চোলরা দক্ষিণ ভারতে আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
- চোল রাজা রাজেন্দ্র চোলের জলপথের আধিপত্যের কারনে বঙ্গোপসাগর চোল হ্রদে পরিনত হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা, বাংলাপিডিয়া।
৮৫৪.
প্রশান্ত মহাসাগরের আকৃতি কি রূপ?
  1. পরাবৃত্তের মতো
  2. আয়তক্ষেত্রের মতো
  3. রম্বসের মতো
  4. ত্রিভুজের মতো
ব্যাখ্যা
• প্রশান্ত মহাসাগর:
- পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর।
- প্রশান্ত মহাসাগরের আকৃতি - ত্রিভুজের মতো।
- প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন - ১৬ কোটি ৮৭ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
- গড় গভীরতা - গড় - ৪,১৮৮ মি.; সর্বোচ্চ গভীরতা - ১০,৯২০ মি.
- এই মহাসাগরে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রবাল প্রাচীর গ্রেট বেরিয়ার রিফ অবস্থিত।
- ২৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রবাল প্রাচীর অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত‌।
- আর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগরের নাম আটলান্টিক মহাসাগর। 

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৮৫৫.
পুবর্ভবা নিম্নের কোন নদীর উপনদী?
  1. মাতামুহুরী
  2. যমুনা
  3. তিস্তা
  4. মহানন্দা
ব্যাখ্যা
মহানন্দা (Mahananda):
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দার্জিলিং জেলার নিকটবর্তী মহালড্রীম পর্বতে।
- এরপর জলপাইগুড়ি জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের সর্বত্র উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- এরপর বাংলাবান্ধা থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করেছে।
- অত:পর ভারতের পূর্ণিয়া ও মালদহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাপাইনবাবগঞ্জের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করে গোদাগাড়ির কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে।
- মহানন্দার উপনদী পুবর্ভবা, নাগর, কুলিক, ট্যাংগন, পাগলা প্রভৃতি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, পঞ্চম শ্রেণি।
৮৫৬.
সুরমা ও কুশিয়ারা নদী মেঘনা নাম ধারণ করার পূর্বে কোন জেলায় পরষ্পরের সাথে মিলিত হয়েছে?
  1. ক) কিশোরগঞ্জ
  2. খ) সিলেট
  3. গ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. ঘ) সুনামগঞ্জ
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার মারকুলী নামক স্থানে কুশিয়ারা পুনরায় সুরমার সঙ্গে মিলিত হয়ে কালনী নাম ধারণ করে দক্ষিণ দিকে ভৈরব(কিশোরগঞ্জ) উপজেলার ভৈরববাজার পর্যন্ত প্রবাহিত হওয়ার পর সুরমার অপর শাখা ধনুর সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে প্রবাহিত হয়েছে। মারকুলীর উজানে কুশিয়ারা কিছুটা জায়গা জুড়ে বিবিয়ানা নদী নামেও পরিচিত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৮৫৭.
করতোয়া নদী কোন জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে?
  1. দিনাজপুর
  2. পঞ্চগড়
  3. ঠাকুরগাঁও 
  4. নীলফামারী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রধান নদীর প্রবেশ পথ:
- পদ্মা নদী- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও রাজশাহী–চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- ব্রহ্মপুত্র নদী- তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- মেঘনা নদী - ভারতের বরাক নদী সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং পরে মেঘনা নামে পরিচিত হয়।
- যমুনা নদী- বাংলাদেশে প্রবেশের পর ব্রহ্মপুত্র নদী যমুনা নামে পরিচিত হয় এবং কুড়িগ্রাম–লালমনিরহাট অঞ্চল দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়।
- করতোয়া নদী- পঞ্চগড় জেলার ভিটগড়ের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- মহানন্দা নদী- ভারতের মালদহ জেলা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে।
- কর্ণফুলী নদী- রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- সাঙ্গু নদী- বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- নাফ নদী- বাংলাদেশের টেকনাফ ও মিয়ানমারের সীমানা নির্দেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫৮.
নীলনদ কতটি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা

- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

নীল নদ:

পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নীল নদ।
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- নীল নামটি গ্রীক নিলোস থেকে এসেছে, যার অর্থ একটি উপত্যকা বা নদী উপত্যকা।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস।
- নীল নদ ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৮০০ কি.মি (৪,১৩৫ মাইল)।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
এর সবচেয়ে দূরবর্তী উৎস বুরুন্ডির কাগেরা নদী।
- নীল নদ তিনটি প্রধান স্রোত দ্বারা গঠিত।
- নীল নীল এবং আতবারা যা ইথিওপিয়ার উচ্চভূমি থেকে প্রবাহিত হয় এবং সাদা নীল যার প্রধান স্রোত ভিক্টোরিয়া এবং আলবার্ট হ্রদে প্রবাহিত হয়।

উৎস: World atlas.

৮৫৯.
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য -
  1. ২১ কিলোমিটার
  2. ২০ কিলোমিটার
  3. ১৯ কিলোমিটার
  4. ১৮ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত:
• অবস্থান: কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নে অবস্থিত।
• কুয়াকাটা "সাগর কন্যা" হিসেবে পরিচিত, এই সমুদ্র সৈকতটি পর্যটকদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
এটি ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সৈকত যা বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক সমুদ্র সৈকতের হিসেবে পরিচিত।

•বাংলাদেশের একমাত্র সৈকত হিসেবে এটি অনুভব করতে দেয় যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উভয়ই অবস্থান দেখা যায়।
• সৈকতের গঙ্গামতির বাঁক থেকে সূর্যোদয় এবং পশ্চিম সৈকত থেকে সূর্যাস্ত দেখা যায় একবিশেষ ভাবে।
• কুয়াকাটা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের নিকট একটি তীর্থ স্থান।
• তারা রাস পূর্ণিমা ও মাঘী পূর্ণিমাতে কুয়াকাটার পবিত্র সৈকতে স্নানসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করে।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৬০.
কাস্পিয়ান হলো একটি -
  1. সাগর
  2. মহাসাগর
  3. হ্রদ
  4. নদী
ব্যাখ্যা

কাস্পিয়ান সাগর:
- কাস্পিয়ান সাগর (Caspian Sea) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্তঃমহাদেশীয় হ্রদ।
- এটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সীমানা হিসেবে কাজ করছে। 
- এটি সাগরের মতো দেখতে হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে একটি হ্রদ।
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগরের আয়তন ৩,৮৬,৪০০ বর্গ কিলোমিটার।

⇒ এটি পাঁচটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত: রাশিয়া, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, ইরান এবং তুর্কমেনিস্তান।
- এটি এশিয়া-ইউরোপের মাঝে, ককেসাস পর্বতমালার পূর্বে এবং স্তেপ ও মধ্য এশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত।
- এর উত্তরে কাজাখস্তান, পশ্চিমে আজারবাইজান, দক্ষিণে ইরান এবং দক্ষিণ-পূর্বে তুর্কমেনিস্তান ঘিরে আছে।

উৎস: Britannica.

৮৬১.
পদ্মা নদীর শাখা নদী কোনটি?
  1. করতোয়া 
  2. তিস্তা 
  3. ধরলা 
  4. মধুমতী
ব্যাখ্যা

পদ্মা:
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা।
- ভারতে এই নদীর নাম গঙ্গা।
- গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর প্রথমে দক্ষিণপশ্চিম ও পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট সমভূমিতে পড়েছে।
- এরপর ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান নামক স্থানে ভাগীরথী
(হুগলি নদী) নামে এর একটি শাখা বের হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। 

 - কুমার, মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি পদ্মা নদীর প্রধান শাখানদী। 

অন্যদিকে,
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী ।
- করতোয়া ও আত্রাই যমুনার প্রধান উপনদী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৮৬২.
ভৈরব কোন নদীর শাখা নদী?
  1. পদ্মা নদী
  2. কর্ণফুলী নদী
  3. মেঘনা নদী
  4. যমুনা নদী
ব্যাখ্যা
পদ্মা নদী:
- কুমার, মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি পদ্মা নদীর প্রধান শাখা নদী। 
- পুনর্ভবা, নাগর, পাগলা, কুলিক ও ট্যাংগন মহানন্দার উপনদী।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা। গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম ও পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট সমভূমিতে পড়েছে।
- এরপর ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান নামক স্থানে ভাগীরথী (হুগলি নদী) নামে এর একটি শাখা বের হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- গঙ্গা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর দৌলতদিয়ার নিকট যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- গঙ্গার মূল ধারা হওয়াতে দৌলতদিয়া পর্যন্ত এই নদীটি গঙ্গা নদী নামেই পরিচিত।
- তবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর থেকেই স্থানীয়ভাবে অনেকে একে পদ্মা নামে চেনে।
- গঙ্গা ও যমুনার মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এই তিন নদীর মিলিত প্রবাহ মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন হচ্ছে ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি
৮৬৩.
কত সালে যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়?
  1. ১৭৬২ সালে
  2. ১৭৬৭ সালে
  3. ১৭৮২ সালে
  4. ১৭৮৭ সালে
ব্যাখ্যা
যমুনা-ব্রহ্মপুত্র ধারা 
- ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বাংলাদেশের তথা বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ জলধারা।
- ব্রহ্মপুত্র নদের নিম্নধারা যমুনা নামে পরিচিত।
- ১৭৬২ সালের ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্র থেকে একটি শীর্ণকায় শাখা প্রবাহ সৃষ্টি হয়।
- ব্রহ্মপুত্র নদের এই শাখাই ১২ জুন, ১৭৮৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও বন্যার ফলে স্ফীত হয়ে আজকের যমুনা নদীতে পরিণত হয়েছিল।
- ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদ এর তলদেশ‌ উত্থিত হ‌ওয়ার কারণে ময়মনসিংহের দেওয়ানগঞ্জের কাছে এই নদের প্রধান প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়ে যমুনার দিকে সরে যায়। 
- যমুনা নদী রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দের কাছে পদ্মায় মিশেছে।
- ধলেশ্বরী যমুনার শাখানদী, আর ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।
- আত্রাই, করতোয়া, তিস্তা, ধরলা ইত্যাদি যমুনার উপনদী।

অপরদিকে,
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ধারা ক্ষীণ হয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবের নিকট মেঘনায় পতিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - তথ্যসূত্র – ভূগোল ও পরিবেশ (বাউবি ) , বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ( নবম দশম শ্রেণি)।
৮৬৪.
কোনটি পদ্মার উপনদী?
  1. করতোয়া
  2. মহানন্দা
  3. আত্রাই
  4. ধরলা
ব্যাখ্যা
♦পদ্মা নদী:
- পদ্মা বাংলাদেশের একটি প্রধান ও বৃহত্তম নদী। ভারতে এই নদী গঙ্গা নামে পরিচিত, যার উৎপত্তি হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে।
- গঙ্গা দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য অতিক্রম করে পশ্চিমবঙ্গের ধুলিয়ান এলাকায় ভাগীরথী (হুগলি) নামে একটি শাখা নদী তৈরি করে।
- মূল গঙ্গা নদী কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং দৌলতদিয়ার কাছে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়।

- বাংলাদেশে এই গঙ্গা নদী পদ্মা নামে পরিচিত।
- পদ্মা এরপর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়।
- তিনটি নদীর সম্মিলিত ধারা মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।
- পদ্মা নদীর প্রধান শাখা নদীগুলো হচ্ছে কুমার, গড়াই, মধুমতী, ভৈরব ইত্যাদি এবং উপনদীগুলোর মধ্যে পুনর্ভবা, মহানন্দা, নাগর, কুলিক প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

♦ অন্যদিকে,
- ’করতোয়া’ ও ’আত্রাই’ যমুনার প্রধান উপনদী। 
- ’ধরলা’ ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৮৬৫.
কোন মহাসাগরে গভীর সমুদ্র খাতের সংখ্যা সর্বাধিক?
  1. ক) প্রশান্ত মহাসাগর
  2. খ) আটলান্টিক মহাসাগর
  3. গ) বঙ্গোপসাগর
  4. ঘ) ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

- প্রশান্ত মহাসাগরে গভীর সমুদ্র খাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- সর্বাপেক্ষা গভীরতম সমুদ্র খাত মারিয়ানা খাত। এটি গুয়াম দ্বীপের ৩২২ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
- ভারত মহাসাগরের গভীরতম খাত 'সুন্দা খাত'।
- আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম খাত পোর্টেরিকো খাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৬৬.
বাংলাদেশের নবীনতম নদী কোনটি?
  1. পদ্মা
  2. যমুনা
  3. জিঞ্জিরাম
  4. মেঘনা
ব্যাখ্যা
নবীনতম নদী:
- নিকতম অতীতে বাংলাদেশে নতুন নদী তৈরি হওয়ার ইতিহাস নেই, বরং ভরাট হয়; সংস্কারের অভাবে নদী মরে যায়।
- এখানে নবীনতম নদী বলতে সর্বশেষ যে নদীর ধারা সৃষ্টি হয়েছে সেটাই বুঝানো হয়েছে।
- বাংলাদেশে নতুন নদী তৈরি হওয়ার ঘটনাটি বেশ পুরনো।
- প্রায় ২৪০ বছর পূর্বে ১৭৮৭ সালে এই ভূখণ্ডে তীব্র ভূমিকম্প ও বন্যার ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়েছিলো।
- এই ঘটনার পর বাংলাদেশ ভূখণ্ডে আর নতুন নদী তৈরি হওয়ার ইতিহাস নেই।
- তাই যমুনা নদীকেই বাংলাদেশের নবীনতম নদী বলা যায়।

⇒ যমুনা নদী:
- ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বাংলাদেশের দ্বিতীয় এবং বিশ্বের দীর্ঘতম নদীসমূহের মধ্যে অন্যতম।
- প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদের নিম্ন প্রবাহ যমুনা নামে অভিহিত।
- ১৭৮৭ সালে সংঘটিত প্রচণ্ড ভূমিকম্প ও ভয়াবহ বন্যার ফলে ব্রহ্মপুত্রের তৎকালীন গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান কালের যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়।
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের একটি হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- তারপর তিব্বত ও আসামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ কুড়িগ্রাম জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ ময়মনসিংহের দেওয়ানগঞ্জের কাছে এটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়।
- একটি শাখা যমুনা নামে প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- অপর শাখা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে ময়মনসিংহের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরবের নিকট মেঘনায় পতিত হয়েছে।
- যমুনার প্রধান শাখানদী: ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা।

অন্যদিকে,
• পদ্মা নদী:
- পদ্মা নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- পদ্মা নদী রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে। এই মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিশেছে। অতঃপর তিন নদীর মিলিত স্রোত মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- পদ্মার শাখা নদীগুলো হলো ⎯ মধুমতি, আড়িয়াল খাঁ, ভৈরব, মাথাভাঙ্গা, কুমার, কপোতাক্ষ, শিবসাত, পশুর, বড়াল, গড়াই, ইছামতি ইত্যাদি এবং উপনদী ⎯ মহানন্দা, টাঙ্গন, নাগর, পুনর্ভবা, কুলিক।

• জিঞ্জিরাম নদী:
- জিঞ্জিরাম নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী।
- নদীটি বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও জামালপুর জেলায় প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৫ কিলোমিটার।

• মেঘনা নদী:
- মেঘনা নদী বাংলাদেশের প্রশস্ত ও গভীরতম নদী।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম ছিল বরাক নদী। ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- এর মধ্যে একটি সুরমা নামে এবং অন্যটি কুশিয়ারা নামে প্রবাহিত হয়ে হবিগঞ্জের কালনী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এরপর মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরববাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- অত:পর চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে আরো দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- মেঘনার উপনদীসমূহের মধ্যে ⎯ মনু, বাউলাই, গোমতী, তিতাস, কাসনি অন্যতম এবং জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া মেঘনার শাখানদী।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৬৭.
নিচের কোনটি যমুনা নদীর উপনদী? 
  1. তিস্তা
  2. ধলেশ্বরী
  3. বুড়িগঙ্গা
  4. শীতলক্ষ্যা
ব্যাখ্যা

• যমুনা :
- প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদের নিম্ন প্রবাহ যমুনা নামে অভিহিত।
- ১৭৮২ থেকে ১৭৮৭ সালের মধ্যে সংঘটিত ভূমিকম্প ও ভয়াবহ বন্যার ফলে ব্রহ্মপুত্রের তৎকালীন গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান কালের যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়।
- জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ নামক স্থানে ব্রহ্মপুত্র নদ তার পুরানো গতিপথ পরিবর্তন করে দক্ষিণাভিমুখী যমুনা নদী নামে প্রবাহিত হয়ে আরিচায় গঙ্গা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। 
- তিববতের মানস সরোবর এবং কৈলাস পর্বতের মধ্যবর্তী পার্খা নামক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র থেকে ১৪৫ কিমি অদূরে অবস্থিত চেমায়ুং-দুং নামক হিমবাহ (৩১°৩০´ উত্তর এবং ৮০°২০´ পূ) থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি।
- যমুনা দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়।
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে।
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।

•যমুনার উপনদীগুলো হলো:
- ধরলা,
- তিস্তা,
- করতোয়া,
- আত্রাই।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়- নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।

৮৬৮.
গ্রেট বেরিয়ার রীফ কোথায় অবস্থিত?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ভূমধ্যসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

গ্রেট বেরিয়ার রিফ:
- গ্রেট বেরিয়ার রিফ হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ও দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর।
- রিফটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের উপকূল ঘেঁষা প্রশান্ত মহাসাগরের কোরাল সাগরে অবস্থিত।
- এটি ২৯০০ এর বেশি একক রিফের সমন্বয়ে গঠিত।
- UNESCO এটিকে ১৯৮১ সালে বিশ্ব হেরিটেজ সাইটেও অন্তর্ভুক্ত করে।

⇒ প্রশান্ত মহাসাগর:
- মহাসাগরসমূহের মধ্যে আয়তন এবং গভীরতার দিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর সবচেয়ে বড়।
- এর আয়তন ১৬,৮৭,২৩,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- অবস্থান: আমেরিকা ও এশিয়ার মধ্যবর্তী।
- প্রশান্ত মহাসাগর দক্ষিণে অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল থেকে উত্তরে আর্কটিক বৃত্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
- পশ্চিমে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ এবং পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে অবস্থিত।
- প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে।

উৎস: World Atlas.

৮৬৯.
আয়তনের দিক দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগরের নাম কী?
  1. হাডসন উপসাগর
  2. বঙ্গোপসাগর
  3. মেক্সিকো উপসাগর
  4. পারস্য উপসাগর
ব্যাখ্যা

• বঙ্গোপসাগর:
- বঙ্গোপসাগর হলো বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর।
- বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের অংশ।
- পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এ উপসাগরটি পশ্চিমে ভারত ও শ্রীলংকার পূর্ব উপকূল, উত্তরে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীপ্রণালী সৃষ্ট বদ্বীপ এবং পূর্বে মায়ানমার উপদ্বীপ থেকে আন্দামান-নিকোবর শৈলশিরা পর্যন্ত বিস্তৃত ভূভাগ দ্বারা বঙ্গোপসাগর তিনদিকে আবদ্ধ।
- বঙ্গোপসাগরের আয়তন ২৬,০০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- এর গড় গভীরতা প্রায় ২,৬০০ মিটার এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ৫,২৫৮ মিটার।
- বঙ্গোপসাগরের সবচেয়ে উত্তর প্রান্তে বাংলাদেশ অবস্থিত। বঙ্গোপসাগরের একটি গিরিখাত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড।

অন্যদিকে -
- মেক্সিকো উপসাগরের আয়তন ১৫,৪২,৯৮৫ বর্গ কিমি.।
- পারস্য উপসাগরের আয়তন ২,৩৭,৭৬০ বর্গ কিমি.।
- হাডসন উপসাগরের আয়তন ১২,৩০,০০০ বর্গ কিমি.।

তথ্যসূত্র: Britannica.

৮৭০.
'গড়াই নদী' কোন নদীর প্রধান শাখানদী?
  1. যমুনা নদী
  2. মেঘনা নদী
  3. পদ্মা নদী 
  4. তিস্তা নদী
ব্যাখ্যা

• গড়াই নদী: 
- এটি গঙ্গা তথা পদ্মার একটি প্রধান শাখানদী ।  
- কুষ্টিয়ার তালবাড়িয়া নাম স্থানে এর উৎপত্তি।
- গড়াই নদীটি কুষ্টিয়া জেলার হতাশহরিপুর ইউনিয়নে প্রবহমান পদ্মা নদী হতে উৎপত্তি লাভ করে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে মধুমতি নদীতে পতিত হয়েছে। 
- কুষ্টিয়া জেলার উত্তরে হার্ডিঞ্জ সেতুর ১৯ কিলোমিটার ভাটিতে তালবাড়িয়া নামক স্থানে গড়াই নদী পদ্মা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। 
- এই নদীটি কুষ্টিয়া জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গণেশপুর নামক স্থানে ঝিনাইদহ জেলায় প্রবেশ করেছে।
- গড়াই নদী ভাঙন প্রবণ। এর প্রবল ভাঙনের ফলে কুষ্টিয়ার বিখ্যাত রেন-উইক কারখানা,  গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প অফিস এবং কুষ্টিয়া শহরের বাণিজ্যিক এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ।

৮৭১.
নিম্নের কোন জলপ্রপাতের সৌন্দর্য দুটি দেশ থেকে অবলোকন করা যায়?
  1. ক) নায়াগ্রা
  2. খ) ভিক্টোরিয়া
  3. গ) এঞ্জেলস
  4. ঘ) মাধবকুন্ড
ব্যাখ্যা
যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার সীমান্তে অবস্থিত বলে দুটি দেশ থেকেই এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়৷
Source: worldatlas
৮৭২.
সুন্দা ট্রেঞ্চ বা জাভা ট্রেঞ্চ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ চীন সাগর
  2. বঙ্গোপসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

সুন্দা ট্রেঞ্চ :
- সুন্দা ট্রেঞ্চ (Sunda Trench), যা জাভা ট্রেঞ্চ নামেও পরিচিত, এটি ভারত মহাসাগরের গভীরতম অংশ। 
- অবস্থান: এটি ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপের উপকূলের সমান্তরালে উত্তর-পূর্ব ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।
- ভৌগোলিক গঠন: ইউরেশীয় প্লেট এবং ইন্দো-অস্ট্রেলীয় প্লেটের সংযোগস্থলে সাবডাকশনের ফলে এই বিশাল ফাটলটি তৈরি হয়েছে।
- গভীরতা: এর সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ৭,৪৫০ মিটার (২৪,৪৪০ ফুট)।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৮৭৩.
নীল নদের পানি নিয়ে দ্বন্দ্ব কোন দুই দেশের?
  1. মিশর ও ইথিওপিয়া
  2. সোমালিয়া ও মিশর
  3. কেনিয়া ও তানজানিয়া 
  4. লিবিয়া ও উগান্ডা
ব্যাখ্যা

⇒ নীল নদের পানি নিয়ে মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে।
- মিশরের পানি সরবরাহের প্রধান উৎস। কিন্তু ইথিওপিয়া নদের উত্স অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণ করছে, যা মিশরের পানি প্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণে উভয় দেশের মধ্যে একটি রাজনৈতিক সংঘাত এবং আলোচনা চলছে।

নীল নদ:

- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস ।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত: সাদা নীল এবং নীল নীল।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & Worldatlas.com

৮৭৪.
বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমে কোন দেশ অবস্থিত?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. শ্রীলঙ্কা
  3.  ভারত 
  4. বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
• বঙ্গোপসাগর:
- বঙ্গোপসাগর হল বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর ।
- বঙ্গোপসাগর বেশ কয়েকটি এশীয় দেশ দ্বারা বেষ্টিত, যার মধ্যে রয়েছে উত্তর-পশ্চিম এবং পশ্চিমে ভারত , পূর্বে  মায়ানমার , উত্তরে  বাংলাদেশ , দক্ষিণ-পশ্চিমে  শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ-পূর্বে  ইন্দোনেশিয়া। 
- এর ভূপৃষ্ঠের আয়তন ২,৬০০,০০০ বর্গকিলোমিটার ।
- দৈর্ঘ্য ২,০৯০ বর্গকিলোমিটার ।
- প্রস্থ ১,৬১০ বর্গকিলোমিটার।
- এই উপসাগরের গড় গভীরতা ২,৬০০ বর্গকিলোমিটার ।
- সর্বোচ্চ গভীরতা ৪,৬৯৪ বর্গকিলোমিটার। 

উৎস: WorldAtlas.
৮৭৫.
নিচের কোন শহরটি দুটি মহাদেশে পড়েছে?
  1. ক) দোনেৎস্ক
  2. খ) দনবাস
  3. গ) ওরেনবার্গ
  4. ঘ) লুহান্সক
ব্যাখ্যা

- রাশিয়া ও তুরস্ক দেশ দুটি এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশে পড়েছে।
- রাশিয়ার ওরেনবার্গ নগরটি উভয় মহাদেশে পড়েছে।
- তুরস্কের ইস্তাম্বুল ও কানাককালে নগর দুটিও উভয় মহাদেশে পড়েছে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৮৭৬.
ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর তীরে কোন সভ্যতা গড়ে উঠে?
  1. ক) মিশরীয়
  2. খ) মেসােপটেমীয়
  3. গ) সিন্ধু
  4. ঘ) গ্রীক
ব্যাখ্যা
• বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা মেসােপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠে ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস (তৎকালীন দজলা ও ফোরাত) নদীর তীরে।
• মেসোপটেমীয় কথাটি দ্বারা বুঝায় দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।
• সুপ্রাচীন মেসোপটেমিয়া বর্তমান সময়ের যে অঞ্চলে ইরাক ও সিরিয়া আছে এই অঞ্চলে অবস্থিত এবং এই এলাকাকে সভ্যতার আঁতুরঘর হিসেবে ধরা হয়।
• মেসােপটেমীয় সভ্যতারই চারটি পর্ব ছিল।
• সেগুলাে হলাে সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাশিরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা।
• মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠে নীল নদের তীরে।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
৮৭৭.
নিচের কোন দেশটিতে স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই?
  1. মাল্টা
  2. মালদ্বীপ
  3. কুয়েত
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• নদী বিহীন দেশ:
- কিছু দেশ এত ছোট যে সেখানে নদী থাকার জায়গাই নেই।
- অনেক ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র, শহর-রাষ্ট্র, অথবা যে-সব দেশে শুধুমাত্র মৌসুমি পানি প্রবাহ ঘটে।
- যা প্রকৃতপক্ষে স্থায়ী নদী হিসেবে বিবেচিত হয় না।
- এই মানদণ্ড অনুযায়ী, বিশ্বে মোট ১৯টি দেশ রয়েছে যেগুলোর মধ্যে কোনো স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই।

→ দেশগুলো হলো যথা:
- কোমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত,ইয়েমেন,মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি,  কিরিবাটি, নাউরু,  টোঙ্গা, টুভ্যুলু।

উৎস: World Atlas. [Link]
৮৭৮.
আরব সাগরের তীরবর্তী দেশ নয় কোনটি?
  1. ক) পাকিস্তান
  2. খ) ভারত
  3. গ) ইরান
  4. ঘ) কিরগিজস্তান
ব্যাখ্যা
আরব সাগর: 
- ভারত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম অংশ প্রায় 1,491,000 বর্গ মাইল (3,862,000 বর্গ কিমি) এলাকা জুড়ে অবস্থিত।
- তীরবর্তী দেশসমূহ: ভারত, পাকিস্তান, ইরান, ওমান, ইয়েমেন ও সোমালিয়া।
- উত্তরে ওমান উপসাগর হরমুজ প্রণালী হয়ে আরব সাগরকে পারস্য উপসাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে।
- পশ্চিমে এডেন উপসাগর এটিকে বাব এল-মান্দেব প্রণালীর মাধ্যমে লোহিত সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে।
- গড় গভীরতা প্রায় 8,970 ফুট (2,734 মিটার)।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮৭৯.
সুন্দা ট্রেঞ্চ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. প্রশান্ত মহাসাগর
  4. ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

• সুন্দা ট্রেঞ্চ (Sunda Trench): 
- সুন্দা ট্রেঞ্চ, যা জাভা ট্রেঞ্চনামেও পরিচিত। 
- এটি পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র খাত।
- এটি ভারত মহাসাগরের গভীরতম স্থান। 
- দৈর্ঘ্য: প্রায় ৩,২০০ কিলোমিটার (২,০০০ মাইল) লম্বা।
- এটি সুমাত্রা দ্বীপের পশ্চিম থেকে জাভা দ্বীপের দক্ষিণ দিয়ে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি পর্যন্ত বিস্তৃত।
- সর্বোচ্চ গভীরতা: ৭,৪৫০ মিটার (২৪,৪৪০ ফুট)
- গভীরতম পয়েন্ট: Sunda Deep বা Java Deep।

• গভীর তম স্থান: 
- প্রশান্ত মহাসাগর গভীরতম স্থান: মারিয়ানা ট্রেঞ্চ।
- আটলান্টিক মহাসাগর গভীরতম স্থান: পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ।
- ভারত মহাসাগর গভীরতম স্থান: সুন্দা ট্রেঞ্চ।
- দক্ষিণ মহাসাগর গভীরতম স্থান: দক্ষিণ স্যান্ডউইচ ট্রেঞ্চ।
- ভূমধ্যসাগর গভীরতম স্থান: অফ কেপ ম্যাটাপান।
- ক্যারিবিয়ান সাগর গভীরতম স্থান: অফ কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা ও USGS। 

৮৮০.
এশিয়া ও ইউরোপকে বিভক্তকারী পর্বতমালা -
  1. ক) অ্যাটলাস
  2. খ) কারাকোরাম
  3. গ) পিরিনিজ
  4. ঘ) ইউরাল
ব্যাখ্যা
পর্বতমালা:
• এশিয়া ও ইউরোপের মাঝে ইউরাল পর্বত অবস্থিত।
- রাশিয়ায় অবস্থিত ইউরাল পর্বত এশিয়া ও ইউরোপকে পৃথক করেছে।
- ইউরাল পর্বত দ্বারা রাশিয়া ইউরোপীয় ও এশীয় অংশে বিভক্ত।
- ইউরাল পর্বতের দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াইহাজার কিলোমিটার

• অন্যদিকে,
- কারাকোরাম পর্বত অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ায়।
- পিরেনিজ পর্বত অবস্থিত স্পেন-ফ্রান্স সীমান্তে. 
- এটলাস পর্বতমালা মরক্কো ,আলজেরিয়া , এবংতিউনিসিয়ায় অবস্থিত। 

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
৮৮১.
গজলডোবা বাঁধ বাংলাদেশের কোন নদীর উজানে অবস্থিত?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. তিস্তা
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা

গজলডোবা বাঁধ:
- তিস্তা নদী বাংলাদেশের উত্তরাংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী।
- এই নদী হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে ভারতের সিকিম, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এই নদীর বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের অংশেই ব্যারেজ বা বাঁধ আছে।
- বাংলাদেশ অংশের তিস্তা নদীর বাঁধ রংপুর বিভাগের নীলফামারী জেলায়, নাম তিস্তা ব্যারেজ।
- ভারতে তিস্তা নদীর ওপর একাধিক বাঁধ আছে। তার মাঝে একটি হল জলপাইগুড়ি'র গজলডোবা বাঁধ।
- ভারত তিস্তা নদীর উজানে ১৯৯৮ সালে স্থাপন করে গজলডোবা বাঁধ।

অন্যদিকে,
-
ফারাক্কা ব্যারাজ এটি পদ্মা নদীর উজানে ভারতের গঙ্গায় নির্মিত একটি বড় বাঁধ।
- টিপাইমুখ বাঁধ ভারতের মণিপুরে বরাক নদীর উপর নির্মিত বাঁধ।

উৎস: পত্রিকার রিপোর্টস।[লিঙ্ক]

৮৮২.
প্রশান্ত মহাসাগরের সর্বাপেক্ষা গভীর খাতের নাম কী? 
  1. সুন্ডা খাত
  2. পোর্টোরিকো খাত
  3. মারিয়ানা খাত
  4. টাস্কারোরা
ব্যাখ্যা
গভীর সমুদ্রখাত (Deep Oceanic Trench): 

• সমুদ্রের তলদেশে মাঝে মাঝে যে সুগভীর খাত থাকে সেগুলোকে গভীর সমুদ্র খাত বলে। 
• এদের গভীরতা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৫,৪০০ মিটারের অধিক।
• আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে সমুদ্রখাত বেশি দেখতে পাওয়া যায়।
• মহাসাগরগুলোর মধ্যে প্রশান্তমহাসাগরে গভীর সমুদ্রখাতের সংখ্যা অধিক। 
• প্রশান্ত মহাসাগরের 'মারিয়ানা খাত (Mariana Trench)' পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা গভীর খাত।  
• এর গভীরতা ১০,৮৬০ মিটার  বা ১০.৮৬ কিলোমিটার বা ৫৯৪০ ফ্যাদম। (১ ফ্যাদম = প্রায় ৬ ফুট)।

- অপরদিকে,
• আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম খাতের মধ্যে অন্যতম হলো- পোর্টোরিকো খাত (৮,৫৩৮ মিটার)।
• ভারত মহাসাগরের সুন্ডা খাত (৭,৩০৩ মিটার) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৩.
Irrawaddy কোন দেশের নদী?
  1. মিয়ানমার
  2. শ্রীলঙ্কা
  3. নেপাল
  4. বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা

- Irrawaddy River ইরাবদী নদী মিয়ানমারের (বার্মা) প্রধান নদী এবং দেশের দীর্ঘতম নদী।
- ইরাবতী নদীটি নমাই এবং মালি নদীর সঙ্গমস্থল দ্বারা গঠিত, যা উত্তর মায়ানমারের উঁচু এবং প্রত্যন্ত পাহাড়ের হিমবাহে উৎপন্ন হয়। 
- এ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায়  ১,৩৫০ মাইল (২,১৭০ কিমি)।
- নদীটি সম্পূর্ণরূপে মায়ানমারের মধ্যে প্রবাহিত হয়।
- এটি উত্তর মিয়ানমারের কাচিন রাজ্যে হিমালয়ের কাছে মালি ও ন’মাই নদীর সঙ্গম থেকে উৎপন্ন হয়।
- এই নদী মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় অংশ দিয়ে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে অ্যান্ডামান সাগরে মিলিত হয়, যেখানে এটি একটি বিস্তৃত ডেল্টা গঠন করে।
- এটি মায়ানমারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৮৮৪.
দেশের দীর্ঘতম নদী -
  1. মেঘনা
  2. কুশিয়ারা
  3. সুরমা
  4. ইছামতি
ব্যাখ্যা
ইছামতী নদী:
- জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের দীর্ঘতম নদী হচ্ছে ইছামতি।
- এর দৈর্ঘ্য ৩৩৪ কিলোমিটার।
- চুয়াডাঙ্গা, যশোর, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরা এই চারটি জেলার ১০টি উপজেলার ওপর দিয়ে নদীটি বয়ে গেছে।
- এটা একটি সীমান্তবর্তী নদী।
- এর উৎস ভারতে।
- নদীটি মিশেছে সাতক্ষীরার আরেক নদী রায়মঙ্গলে।
- এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হওয়ার কারণে নদীটি এত দীর্ঘ হয়েছে। 
- চুয়াডাঙ্গা, যশোর, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতি নদীর পাশাপাশি একই নামে আরও ৯টি নদী দেশের বিভিন্ন জেলায় রয়েছে। 

উল্লেখ্য,
- দেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদ ধনু। নদী রক্ষা কমিশন বলছে, এই নদের দৈর্ঘ্য ৩০৩ কিলোমিটার।
- পদ্মা নদীর উৎস ভারতে এবং নদীটি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জে গিয়ে মেঘনায় মিশেছে। নদীটি ১২টি জেলার মধ্য দিয়ে গেছে। পদ্মার দৈর্ঘ্য ৩০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি হবে।
- ৫২টি নদীর নাম বলা হয়েছে, যেগুলোর দৈর্ঘ্য ১০০ কিলোমিটারের বেশি।
- অন্যদিকে দেশে ১৫টি নদী আছে যাদের দৈর্ঘ্য ২০০ কিলোমিটারের বেশি।

উৎস: ২৬ আগস্ট ২০২৩, প্রথম আলো।
৮৮৫.
সমুদ্রের অগভীর অঞ্চল থেকে সমুদ্রের তলদেশে ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে কী বলে?
  1. দ্বীপ
  2. মহাসাগরীয় খাত
  3. মহীঢাল
  4. মহীসোপান
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের অগভীর অঞ্চল থেকে সমুদ্রের তলদেশে ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে - মহীসোপান বলে।

• মহীসোপান (Continental Shelf):
- মহাদেশসমূহের চতুর্দিকের স্থলভাগের কিছু অংশ ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে।
- এরূপ সমুদ্রের উপকূল রেখা থেকে সমুদ্রের তলদেশে ক্রমনি নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বা Continental Shelf বলে।
- এই অঞ্চলটি সমুদ্রের অগভীর অঞ্চল হিসাবেও পরিচিত।
- মহীসোপানের গড় সর্বোচ্চ গভীরতা ২০০ মিটার এবং মহীসোপান ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।
- মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার।
- মহাদেশের উপকূল যদি বিস্তৃত সমভূমি হয়, তবে মহীসোপান অধিক প্রশস্ত হয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৬.
প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা কোন দুটি দেশের সীমানা নির্দেশ করে?
  1. ইসরাইল-লেবানন
  2. ভারত ও চীন
  3. পাকিস্তান ও ভারত
  4. আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান
ব্যাখ্যা
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল বা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা হলো ভারত ও চীনের মধ্যে বিরাজমান সীমান্তরেখা।
- ভারতের অরুণাচল, সিকিম, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড প্রদেশ এবং লাদাখ সীমান্ত জুড়ে বিস্তৃত এই সীমারেখার দৈর্ঘ্য নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ভারতের মতে এর দৈর্ঘ্য ৩,৪৮৮ কিমি এবং চীনের মতে ২০০০ কিমি।
- ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধে উভয় দেশ এই সীমারেখায় যুদ্ধবিরতি করে এবং সেই থেকে এই রেখা ভারত ও চীনের মধ্যে ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ রেখা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- সাম্প্রতিক সময়ে লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অন্যদিকে,
- নিয়ন্ত্রণ রেখা বা লাইন অব কন্ট্রোল : পাকিস্তান ও ভারতের সীমান্তরেখা
- ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যকার সীমান্তরেখা হলো ব্লু লাইন।
(তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং ব্রিটানিকা)
৮৮৭.
ফরমোজার বর্তমান নাম কী?
  1. ভূটান
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. থাইল্যান্ড
  4. তাইওয়ান
ব্যাখ্যা
তাইওয়ান:
- ফরমোজার বর্তমান নাম তাইওয়ান।
- তাইওয়ান সরকারীভাবে চীন প্রজাতন্ত্র ফিনিন।
- এটি পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ, যা তাইওয়ান প্রণালীর পূর্বে চীনা মূল ভূখন্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত।
- আয়তন: ১৩,৯৭৬ বর্গ মাইল (৩৬,১৯৭ বর্গ কিমি)।
- ভাষা: ম্যান্ডারিন চাইনিজ (অফিসিয়াল), তাইওয়ানিজ, ফুকিয়েন এবং হাক্কা উপভাষায়ও কথা বলা হয়।
- ধর্ম: বৌদ্ধ ধর্ম, দাওবাদ, কনফুসিয়ানিজম, খ্রিস্টধর্ম।
- মুদ্রা: নতুন তাইওয়ান ডলার।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৮৮৮.
সেন্ট লরেন্স নদী কোন মহাদেশে অবস্থিত?
  1. উত্তর আমেরিকা
  2. দক্ষিণ আমেরিকা
  3. এশিয়া
  4. আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

সেন্ট লরেন্স নদী:
​- সেন্ট লরেন্স নদী উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।

​⇒ এটি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়েছে।
​- এর উৎপত্তির স্থল অন্টারিও হ্রদ।
​- কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কানাডার কুইবেক প্রদেশ অতিক্রম করে।
​- এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট লরেন্স উপসাগরে পতিত হয়।

​উৎস: Britannica.

৮৮৯.
বাংলাদেশের বৃহত্তম নদীবন্দর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নদীবন্দর 
- বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৮টি নদীবন্দর রয়েছে।
- সর্বশেষ দুটি নদী বন্দর ২৮ এপ্রিল, ২০২৪ সালে একই দিনে পৃথক পৃথক গেজেট আকারে প্রকাশ পায়। এগুলো হলো- 
১. রাজশাহী নদীবন্দর (৪৮ তম), এবং
২.ঘাষিয়াখালী নদীবন্দর (৪৭ তম)। 

- বাংলাদেশের বৃহত্তম নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জ জেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- শীতলক্ষ্যা নদী উৎপন্ন হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে এবং নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়ার কাছে ধলেশ্বরী নদীতে মিলিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের এককালীন বিখ্যাত মসলিন শিল্প শীতলক্ষ্যা নদীর উভয় তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- বর্তমানে নদীর উভয় তীরে প্রচুর পরিমাণে ভারি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে।
- ১১০ কিমি দৈর্ঘ্যের এই শীতলক্ষ্যা তার পানির স্বচ্ছতা এবং শীতলতার জন্য একদা বিখ্যাত ছিল।

তথ্যসূত্র – বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বাংলাপিডিয়া
৮৯০.
কলোরাডো নদীর উৎপত্তিস্থল কোথায়?
  1. ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত
  2. ইটাস্কা হ্রদ
  3. অ্যাপেলেশিয়ান পর্বত
  4. রকি পর্বত
ব্যাখ্যা
কলোরাডো নদী (Colorado River):
- কলোরাডো নদী উত্তর আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী।
- এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রবাহিত হয়ে মেক্সিকোতে ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরে গিয়ে পতিত হয়েছে।
- কলোরাডো নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৩৩০ কিলোমিটার।
- কলোরাডো নদীর উৎপত্তিস্থল কলোরাডো রাজ্যের রকি পর্বতমালা।
- এই নদী যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি রাজ্য (কলোরাডো, আরিজোনা, নিউ মেক্সিকো, ইউটা, নেভাদা, ক্যালিফোর্নিয়া, এবং হোয়াই) এবং মেক্সিকোতে প্রবাহিত হয়।

উল্লেখ্য,
- কলোরাডো নদীর স্রোত এবং ভূমিক্ষয়ের কারণে বর্তমান রূপ নিয়েছে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।
- যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যের উত্তর দিকে অবস্থিত গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। 
- গিরিখাতের মাঝে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা কলোরাডো নদী গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন সৃষ্টির প্রধান উৎস। 

উৎস: Britannica.
৮৯১.
একটি কোণ তার সম্পূরক কোণের দুই তৃতীয়াংশ হলে কোণটি কত?
  1. ক) 60°
  2. খ) 72°
  3. গ) 108°
  4. ঘ) 120°
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন- একটি কোণ তার সম্পূরক কোণের দুই তৃতীয়াংশ হলে কোণটি কত?

সমাধান-
মনে করি,
কোণটি = x
∴ কোণটির সম্পূরক কোণ = 180 - x

প্রশ্নমতে,
x = (2/3) × (180 - x) 
⇒ 3x = 360 - 2x
⇒ 5x = 360
⇒ x = 72
৮৯২.
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী গবেষণা কমিশন (JRC) গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৩ সালে
  3. গ) ১৯৭৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৭২ সালের মার্চ মাসে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও প্রজাতন্ত্রী ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রীদ্বয়ের মধ্যে যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে দু’দেশের বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে অভিন্ন নদীর ব্যাপক জরিপ কার্যক্রম পরিচালন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণের বিস্তারিত প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রধান প্রধান নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের উপর সমীক্ষা পরিচালন, উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে এতদাঞ্চলের পানি সম্পদের ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বাংলাদেশের সাথে ভারত সংলগ্ন এলাকায় পাওয়ার গ্রীড সংযোজনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য স্থায়ী ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়।
উৎসঃ যৌথ নদী কমিশন ওয়েবসাইট।

৮৯৩.
পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বত শ্রেণি কোনটি?
  1. রকি
  2. আন্দিজ
  3. আল্পস
  4. হিমালয়
ব্যাখ্যা

• আন্দিজ পর্বত:
- পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বত শ্রেণি আন্দিজ পর্বত। এটি দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত।
- পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত শ্রেণি হিমালয় পর্বত। এটি এশিয়ার চীন, নেপাল, ভারত, ভুটান, পাকিস্তানে অবস্থিত।
- রকি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
- আল্পস ইউরোপের অস্ট্রিয়া, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৮৯৪.
উত্তমাশা অন্তরীপ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
উত্তমাশা অন্তরীপ:
- উত্তমাশা অন্তরীপ বা Cape of Good Hope।
- এটি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত। 
- এটি দক্ষিণ আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত কেপ পেনিনসুয়ালার একটি অন্তরীপ।
- অর্থাৎ উত্তমাশা অন্তরীপ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- ভূপৃষ্ঠের কোন অংশ ক্রমশ সরু হয়ে সাগরে প্রবেশ করলে সেই সংকীর্ণ অংশকে অন্তরীপ বলা হয়।
- উত্তমাশা অন্তরীপ নামকরণ করেন পর্তুগিজ অভিযাত্রী বার্থোলোমিউ ডিয়াজ।
- তিনি ১৪৮৮ সালে প্রথম কেপ এলাকায় পৌঁছেন এবং অন্তরীপটির নাম দেন 'কেপ অব স্টর্মস'। 
- পরবর্তী সময় পর্তুগালের দ্বিতীয় জন নামটি পরিবর্তন করে কেপ অব গুড হোপ বা উত্তমাশা অন্তরীপ নামকরণ করেন।
৮৯৫.
কয়টি দেশের সাথে রাশিয়ার সীমান্ত রয়েছে?
  1. ১৬টি
  2. ১৫টি
  3. ১৪টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা

- আয়তনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়া।
- জনসংখ্যায় বিশ্বে প্রথম দেশ চীন।
- রাশিয়া এবং চীন উভয় দেশের সাথে বিশ্বের ১৪টি করে দেশের সীমান্ত রয়েছে।
- যে দেশগুলির সাথে রাশিয়া তার স্থল সীমানা ভাগ করে তাদের মধ্যে রয়েছে: উত্তর কোরিয়া, চীন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, ইউক্রেন, কাজাখস্তান, পোল্যান্ড, জর্জিয়া, মঙ্গোলিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ এবং লিথুয়ানিয়া।
- আবখাজিয়া এবং দক্ষিণ ওসেটিয়া এই দুটি দেশের সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়, তারাও রাশিয়ার সাথে একটি স্থল সীমানা ভাগ করেছে।

উৎস: World Atlas।

৮৯৬.
পদ্মা নদী কোথায় মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে?
  1. হুগলীতে
  2. গোয়ালন্দে
  3. দুর্লভপুরে
  4. চাঁদপুরে
ব্যাখ্যা
পদ্মা নদী: 
- পদ্মা বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী।
- এটি হিমালয়ে উৎপন্ন গঙ্গানদীর প্রধান শাখা।
- বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজশাহী এই পদ্মার উত্তর তীরে অবস্থিত। 
- হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে থেকে উৎপন্ন গঙ্গা নদীর প্রধান শাখা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় (মানাকোসা ও দুর্লভপুর ইউনিয়ন) বাংলাদেশে প্রবেশ করে,এখান থেকে নদীটি পদ্মা নাম ধারণ করেছে।
- গঙ্গার অন্য শাখাটি ভাগীরথী নামে ভারতে হুগলীর দিকে প্রবাহিত হয়।
- উৎপত্তিস্থল হতে ২২০০ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়ে মিলিত প্রবাহ পদ্মা নামে আরো পূর্ব দিকে চাঁদপুর জেলায় মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- সবশেষে পদ্মা-মেঘনার মিলিত প্রবাহ মেঘনা নাম ধারণ করে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৮৯৭.
প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয়-
  1. ক) সাইক্লোন
  2. খ) টাইফুন
  3. গ) হ্যারিকেন
  4. ঘ) টর্নেডো
ব্যাখ্যা
- প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় টাইফুন।
- আটলান্টিক মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় হ্যারিকেন।
- বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় সাইক্লোন।
- সাধারণত স্বল্প সময় নিয়ে স্বল্প এলাকায় টর্নেডো হয়ে থাকে। স্থলভাগে উচ্চচাপ সৃষ্টির কারণে টর্নেডো হয়।
৮৯৮.
আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী কোনটি?
  1. ক) উবাঙ্গি
  2. খ) ভোল্টা
  3. গ) নাইজার
  4. ঘ) Congo River
ব্যাখ্যা
At 2,920 miles in length, the Congo River is Africa's second longest river, after the Nile.
Source: worldatlas.com
৮৯৯.
টাঙ্গুয়ার হাওরকে রামসার সাইট ঘোষণা করা হয় কবে?
  1. ক) ১৯৮৫ সালে
  2. খ) ১৯৯২ সালে
  3. গ) ১৯৯৮ সালে
  4. ঘ) ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে রামসার সাইটের সংখ্যা দুটি। এগুলো হলো:
- টাঙ্গুয়ার হাওর (১০৩১তম) ও
- সুন্দরবন (৫৬০তম)।
- টাঙ্গুয়ার হাওরের ৯,৫০০ হেক্টর এলাকাকে ২০০০ সালের ১০ জুলাই রামসার সাইট ঘোষণা করা হয়।
- সুন্দরবনের ৬০১,৭০০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৯২ সালের ২১ মে রামসার সাইট ঘোষণা করা হয়।
- জলভূমি ও তার সম্পদের সংরক্ষণ বিষয়ক রামসার কনভেনশন ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে গৃহিত হয়।
- এই কনভেনশন অনুসারে পৃথিবীর বিভিন্ন সংকটাপন্ন ও তাৎপর্যপূর্ণ জলাভূমিসমূহকে রামসার সাইট ঘোষণা করা হয়।
(সূত্র: রামসার সাইট ওয়েবসাইট)
৯০০.
এশিয়া ও ইউরােপকে নিচের কোন প্রণালি পৃথক করেছে?
  1. ক) পক
  2. খ) জিব্রাল্টার
  3. গ) বেরিং
  4. ঘ) দার্দানেলিস
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

দার্দানেলিস প্রণালী এশিয়া ও ইউরােপকে পৃথক করেছে (separates Asian Turkey from European Turkey) এবং ইজিয়ান সাগরের সাথে মারমারা উপসাগরের সাথে যুক্ত করেছে (connects the Aegean Sea to the Sea of Marmara)। সূত্রঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস।
এছাড়াও,
বসফরাস প্রণালী এশিয়া ও ইউরােপকে পৃথক করেছে (separating parts of Asian Turkey (Anatolia) from European Turkey) এবং কৃষ্ণ সাগরকে মারমারা উপসাগরের সাথে যুক্ত করেছে (uniting the Black Sea and the Sea of Marmara)। সূত্রঃ ব্রিটানিকা