বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নদী, হ্রদ, সাগর, মহাসাগর ইত্যাদি

মোট প্রশ্ন১,১২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নদী, হ্রদ, সাগর, মহাসাগর ইত্যাদি

PrepBank · পাতা / ১২ · ৭০১৮০০ / ১,১২৭

৭০১.
করতোয়া ও আত্রাই কোন নদীর প্রধান উপনদী হিসেবে পরিচিত?
  1. ব্রহ্মপুত্র
  2. মেঘনা
  3. যমুনা
  4. দুধকুমার
ব্যাখ্যা
যমুনা:
- ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে দৌলতদিয়ার কাছে গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মা নাম ধারণ করে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।
- ধলেশ্বরী এর শাখানদী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।
- করতোয়া ও আত্রাই যমুনার প্রধান উপনদী।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭০২.
Which is the deepest point in the Atlantic Ocean?
  1. Sunda Trench
  2. Puerto Rico Trench
  3. Mariana Trench
  4. Calypso Deep
ব্যাখ্যা
আটলান্টিক মহাসাগর:
- পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জুড়ে এটি অবস্থিত।
- আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- এর আয়তন .৮১,৭৬০,০০০ বর্গ কিমি।
- আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম স্থান পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ।
- এর গড় গভীরতা ১১,৯৬২ ফুট এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ২৭,৪৯৩ ফুট।

গভীরতম স্থান:
- প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চ।
- ভূ-মধ্যসাগরের গভীরতম স্থান ক্যালিপসো ডিপ। 
- ভারত মহাসাগরের গভীরতম স্থান সুন্দা ট্রেঞ্চ।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & Worldatlas.com
৭০৩.
বাংলাদেশে সারা বছর নাব্য নদীপথের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৮,০০০ কিমি.
  2. ৫,২০০ কিমি.
  3. ১১,০০০ কিমি.
  4. ৮,৫০০ কিমি.
ব্যাখ্যা
নবম দশম শ্রেণীর ভূগোল বই এবং এসএসসি প্রোগ্রাম, (বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) অনুসারে, 
উপনদী ও শাখানদীসহ বাংলাদেশের নদীগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২২,১৫৫ কিলোমিটার এবং নদীপথের দৈর্ঘ্য ৮,৪০০ কিলোমিটার যা অভ্যন্তরীণ নাব্য জলপথ নামে পরিচিত। অভ্যন্তরীণ নাব্য জলপথের মধ্যে ৫৪০০ কিলোমিটার নদীপথ সারাবছর নৌ চলাচলের জন্য উপযুক্ত। অবশিষ্ট ৩,০০০ কিলোমিটার শুধুমাত্র বর্ষাকালে ব্যবহার করা যায়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এর তথ্যমতে,
বাংলাদেশে প্রায় ২৪,০০০ কিলোমিটার নদী, খাল এবং উপনদী রয়েছে, যা দেশের মোট ভূমির প্রায় ৭% জুড়ে বিস্তৃত। দেশের বেশিরভাগ অংশই একটি জটিল জলপথ নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত, যা বর্ষাকালে এর সর্বাধিক বিস্তার লাভ করে। এই ২৪,০০০ কিলোমিটার নদী, উপনদী এবং খালের মধ্যে শুধুমাত্র প্রায় ৫,৯৬৮ কিলোমিটার বর্ষা মৌসুমে যান্ত্রিক নৌযানের জন্য নাব্য থাকে, যা শুষ্ক মৌসুমে সংকুচিত হয়ে প্রায় ৩,৮৬৫ কিলোমিটারে নেমে আসে। অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন খাত দেশের মোট পণ্য পরিবহনের ৫০% এবং যাত্রী পরিবহনের এক-চতুর্থাংশ পরিচালনা করে।

সুতরাং, অধিক কাছাকাছি উত্তর হিসেবে - ৫,২০০ কিমি. গ্রহণ করা হলো।

উৎস:
নবম দশম শ্রেণীর ভূগোল বই, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ।
৭০৪.
দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা দাবি করে নিচের কোন দেশগুলো?
  1. ফিলিপাইন
  2. ভিয়েতনাম
  3. মালয়েশিয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
- বর্ণিত সবগুলো।

• দক্ষিণ চীন সাগর (South China Sea):

- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র অঞ্চল।
- যা ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত কারণে আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু।​

→ ভূগোল ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
- দক্ষিণ চীন সাগর দক্ষিণে মালাক্কা প্রণালী থেকে শুরু হয়ে উত্তরে চীনের হাইনান দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ,
- যেখানে প্রায় ২১% - বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবহন করা হয়।
- এছাড়া, এই অঞ্চলে প্রচুর মৎস্য সম্পদ ও সম্ভাব্য তেল-গ্যাসের খনি রয়েছে,
- যা দেশগুলোর জন্য অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ​

সীমানা বিতর্ক: 
- চীন "নাইন-ড্যাশ লাইন" নামে একটি মানচিত্র ব্যবহার করে,
- যার মাধ্যমে দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় ৯০% অঞ্চল নিজেদের বলে দাবি করে।
- তবে, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ও তাইওয়ানও এই অঞ্চলের বিভিন্ন অংশের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে।
- ২০১৬ সালে হেগের আন্তর্জাতিক আদালত চীনের এই দাবিকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করে, কিন্তু চীন তা মানেনি।

উৎস: Britannica এবং বিবিসি।
৭০৫.
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ কোথায় অবস্থিত ছিল?
  1. সাতক্ষীরা জেলার সর্ব দক্ষিণে
  2. সাতক্ষীরা জেলার ইছামতি নদীর মোহনায়
  3. সীমান্ত নদী রায়মঙ্গলের মোহনায়
  4. সাতক্ষীরা জেলার হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায়
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ: 

- অবস্থান: সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায়।
- এটি একটি উপকূলবর্তী দ্বীপ।
- হাড়িয়াভাঙ্গা নদী দ্বারা চিহ্নিত সীমান্ত রেখা বরাবর দক্ষিণে হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় অগভীর সমুদ্রে এ ক্ষুদ্র দ্বীপটি অবস্থিত। 
- হাড়িয়াভাঙ্গা মোহনা থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। 
- দ্বীপটির বর্তমান আয়তন প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার। 
 - ১৯৭০ সালের নভেম্বরে দ্বীপটি প্রথম দৃষ্টিগোচর হয়।
- পূর্ব নাম- পূর্বাশা বা নিউমুর।
- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরোধপূর্ণ এই দ্বীপটি বর্তমানে ভারতের মালিকানাধীন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া
৭০৬.
'সলোমান দ্বীপপুঞ্জ' কোন নিচের জলভাগের অন্তর্গত?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. দক্ষিণ মহাসাগর
ব্যাখ্যা

- 'সলোমান দ্বীপপুঞ্জ' প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।

» গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ:


• প্রশান্ত মহাসাগর:
- পাপুয়া নিউ গিনি, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, পালাউ, নাউরু, তাহিতি, ফিজি, সলোমান দ্বীপপুঞ্জ ইত্যাদি।

• আটলান্টিক মহাসাগর:
- যুক্তরাজ্য, বাহামা, বারমুডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জ্যামাইকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, কিউবা ইত্যাদি।

• ভারত মহাসাগর:
- মাদাগাস্কার, সেইসিলিশ, মরিশাস, দিয়াগো গার্সিয়া, মালদ্বীপ, আন্দামান ও নিকোবর, মালাগাছি ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

৭০৭.
ফ্লোরিডা প্রণালীর মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে- 
  1. বঙ্গোপসাগর 
  2. পারস্য উপসাগর 
  3. মেক্সিকো উপসাগর
  4. হাডসন উপসাগর 
ব্যাখ্যা

মেক্সিকো উপসাগর:
- মেক্সিকো উপসাগর হলো উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বিশাল এবং প্রায় আবদ্ধ উপসাগর।
- এটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশ দ্বারা বেষ্টিত।
- এর একদিকে মেক্সিকো, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে টেক্সাস পর্যন্ত উপকূল এবং দক্ষিণ-পূর্বে কিউবা দ্বীপ অবস্থিত।-
- এটি ফ্লোরিডা প্রণালীর মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত।
- এছাড়া, এই উপসাগরটি ইউকাটান প্রণালীর মাধ্যমে ক্যারিবিয়ান সাগরের সঙ্গে যুক্ত।
- মেক্সিকো উপসাগরে প্রচুর পরিমাণে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

অন্যদিকে,
• বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal) হচ্ছে এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় উপসাগর।
- এটি ভারত মহাসাগরের উত্তরের সম্প্রসারিত বাহু।
- বঙ্গোপসাগরের গভীরতম স্থানটি হলো সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড, যা গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত একটি গভীর খাদ।
- এই খাদটি সুন্দরবনের কাছেই অবস্থিত।

• পার্স উপসাগর:
- এটি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত এবং প্রধানত ইরান এবং সৌদি আরব এর তীরবর্তী দেশগুলোর সাথে যুক্ত।
- এছাড়া কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকের সীমান্তেও সংযোগ রয়েছে।

• হাডসন উপসাগর:
- এটি কানাডা-এর উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত একটি বড় উপসাগর।

উৎস:
১. Britannica;
২. বাংলাপিডিয়া।

৭০৮.
দুই কোরিয়াকে পৃথক করেছে-
  1. ১৭ ডিগ্রী উত্তর অক্ষ রেখা 
  2. ২৪ ডিগ্রী উত্তর অক্ষ রেখা
  3. ৩৮ ডিগ্রী উত্তর অক্ষ রেখা
  4. ৪৯ ডিগ্রী উত্তর অক্ষ রেখা
ব্যাখ্যা
৩৮ ডিগ্রী উত্তর অক্ষ রেখা:
- উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়াকে পৃথককারী রেখা।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৪৫ সালে পটস্‌ডাম কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কুশীলবরা এটিকে সামরিক সীমা হিসেবে বেছে নেয়।
- এর এক পাশে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যপাশে সোভিয়েত বাহিনী অবস্থান নেয়।
- পরে ১৯৫০ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে সংঘাতের পর এর অস্ত্র বিরতি অনুযায়ী এটিকে দুই কোরিয়ার সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
- এই লাইনের দুই কিলোমিটার এলাকাকে নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়।
- এটি ২৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ।
এছাড়া,
- ১৭ ডিগ্রী উত্তর অক্ষ রেখা সাবেক উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামকে পৃথককারী রেখা।
- ২৪ ডিগ্রী উত্তর অক্ষ রেখা হলো পাকিস্তানের দাবিকৃত ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত রেখা।
- ৪৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে পৃথক করেছে।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা। 
৭০৯.
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন (JRC) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. মার্চ, ১৯৭২
  2. নভেম্বর, ১৯৭২
  3. জানুয়ারি, ১৯৭৩
  4. মার্চ, ১৯৭৩
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন (JRC):
- ১৯৭২ সালে ঢাকায় বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর শেষে ১৯ মার্চ, ১৯৭২ তারিখে যৌথ ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭২ সালের জুন মাস থেকেই যৌথ নদী কমিশন (জে.আর.সি) তার কার্যক্রম শুরু করলেও এর কার্যবিধি ১৯৭২ সালের ২৪ নভেম্বর ঢাকায় স্বাক্ষরিত হয়। ভারতের নয়াদিল্লীতেও অনুরূপ একটি যৌথ নদী কমিশন রয়েছে।

• বাংলাদেশ হিমালয় থেকে উৎসরিত ৩টি বৃহৎ নদীঃ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার পলল দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে। এটি পৃথিবীর একটি অন্যতম বৃহৎ বদ্বীপ। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রায় ৪০৫টি নদী প্রবাহিত হচ্ছে। এ নদীগুলোর মধ্যে ৫৭টি হচ্ছে আন্তঃসীমান্ত নদী যার মধ্যে ৫৪টি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন এবং ৩টি বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে অভিন্ন।

• ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও প্রজাতন্ত্রী ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রীদ্বয়ের মধ্যে যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে দু’দেশের বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে অভিন্ন নদীর ব্যাপক জরিপ কার্যক্রম পরিচালন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণের বিস্তারিত প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রধান প্রধান নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের উপর সমীক্ষা পরিচালন, উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে এতদাঞ্চলের পানি সম্পদের ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বাংলাদেশের সাথে ভারত সংলগ্ন এলাকায় পাওয়ার গ্রীড সংযোজনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য স্থায়ী ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়।
- উক্ত ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭২ সালের ২৪ নভেম্বর অংশগ্রহণকারী দুদেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে সর্বাধিক যৌথ ফলপ্রসূ প্রচেষ্টার মাধ্যমে অভিন্ন নদীসমূহ থেকে সর্বোচ্চ সুফল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের স্ট্যাটিউট স্বাক্ষরিত হয়।
- ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের বাংলাদেশ পক্ষের কাজ সম্পাদনে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত দপ্তর হিসেবে যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

• রূপকল্প (Vision): টেকসই পানি নিরাপত্তার লক্ষ্যে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন ও যৌথ ব্যবস্থাপনা।
• অভিলক্ষ্য (Mission): আন্তঃসীমান্ত নদী অববাহিকাভূক্ত দেশ এর সাথে পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর এবং পানি সম্পদের যৌথ ব্যবস্থাপনা।

উৎস: i) যৌথ নদী কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৭১০.
আড়িয়াল খাঁ কোন নদীর শাখা নদী?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. যমুনা
  4. শীতলক্ষ্যা
  5. ব্রহ্মপুত্র
ব্যাখ্যা
• আড়িয়াল খাঁ নদী:
- আড়িয়াল খাঁ নদী পদ্মা নদীর পূর্বপ্রান্তের শেষ এবং অন্যতম প্রধান শাখানদী। 
-  গোয়ালন্দঘাট থেকে প্রায় ৫১.৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে পদ্মা থেকে উৎপন্ন হয়ে  ফরিদপুর ও  মাদারীপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে  বরিশাল-এর উত্তর-পূর্ব কোণে  তেঁতুলিয়া চ্যানেলে পতিত হয়েছে।
- মাদারীপুর শহর এ নদীর ডান তীরে অবস্থিত।
- এ নদী সারাবছরই নাব্য থাকে এবং  জোয়ারভাটা দ্বারা প্রভাবিত।
- মাদারীপুর পর্যন্ত স্বাভাবিক জোয়ারভাটার পরিসর ০.৩২ মিটার।
- নদীটির মোট দৈর্ঘ্য ১৬০ কিমি।

এছাড়াও,
- কুমার, মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি পদ্মা নদীর প্রধান শাখা নদী।
- ব্রহ্মপুত্র নদীর শাখা নদী হলো শীতলক্ষ্যা।
- মেঘনা নদীর শাখা নদী হল মনু ,তিতাস, গোমতী, বাউলাই।


সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
৭১১.
'কার্জন লাইন' কোন দুটি দেশের মধ্যকার সীমারেখা?
  1. ক) জার্মানি ও পোল্যান্ড
  2. খ) ভারত ও চীন
  3. গ) পোল্যান্ড ও রাশিয়া
  4. ঘ) ফিনল্যান্ড ও রাশিয়া
ব্যাখ্যা
• সীমারেখা:
- ‘আলপাইন লাইন'- ইতালি - ফ্রান্স।
- ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ - ভারত-পাকিস্তান।
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল - ভারত ও চীন।
- ভারত- চীন এর মধ্যবর্তী লাইন - ম্যাকমোহন লাইন।
- কার্জন লাইন - পোল্যান্ড-রাশিয়া।
- ওডারনিস লাইন - জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- 'ম্যাজিনো লাইন' - জার্মানি ও ফ্রান্স।

উৎস: ব্রিটানিকা
৭১২.
পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. নীল নদ
  2. আমাজন নদী
  3. ইয়াংজি নদী
  4. মিসিসিপি নদী
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস ।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত: সাদা নীল এবং নীল নীল।

অন্যান্য দীর্ঘতম নদীসমূহ,
- আমাজন নদীর দৈর্ঘ্য ৬৪০০ কি.মি।
- ইয়াংজি নদীর দৈর্ঘ্য- ৬৩০০ কি.মি।
- মিসিসিপি নদীর দৈর্ঘ্য- ৫৯৭১ কি.মি।
- কঙ্গো নদীর দৈর্ঘ্য ৪৭০০ কি.মি।

তথ্যসূত্র- Britannica.com & Worldatlas.com
৭১৩.
ভারতের কোন রাজ্যে কর্ণফুলী নদী উৎপত্তি লাভ করেছে?
  1. মিজোরাম
  2. ত্রিপুরা
  3. মেঘালয়
  4. আসাম
ব্যাখ্যা

কর্ণফুলী নদী ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুসাই পাহাড়ের মমিত জেলার শৈতা গ্রাম থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে এবং মিজোরাম থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। 

কর্ণফুলী নদী:

- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি নদী।
- এটি ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে ।
- এই নদীর মোহনাতে বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম বন্দর অবস্থিত।
- এই নদীর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার।
- এটি চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির প্রধান নদী।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী।
- উপ- নদী (Tributary): ইছামতি, হালদা, তুইলিয়ান পুই অথবা সাজাল লুই, থেগা অথবা কাওপুই, শুভলং-মরম ছড়া, ভান্দরজুরি খাল, শাইলক খাল, হীরার ছড়া।
- শাখা-নদী (Distributary): নাই।

⇒ ১৯৬৪ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় কাপ্তাই বাঁধ তৈরি করা হয়।
- এই বাঁধে সঞ্চিত পানি ব্যবহার করে কাপ্তাই জলবিদ্যুেকন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭১৪.
নাফ নদী কোন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত নির্দেশ করে?
  1. ভারত
  2. মিয়ানমার
  3. ভুটান
  4. থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা

নাফ নদী:
- নাফ নদীর উৎপত্তিস্থল: মিয়ানমার।
- উৎস অঞ্চল: আরাকান ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী পাহাড়সমূহ।
- পতনস্থল: বঙ্গোপসাগর। 
- নাফ নদী বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্ত নির্দেশ করে।
- বাংলাদেশ অংশে নদীটি টেকনাফ সীমান্ত গঠন করেছে।
- নাফ নদীর মোহনা অত্যন্ত প্রশস্ত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণতম উপজেলা টেকনাফ, যা নাফ নদীর ডান তীরে অবস্থিত।
- মিয়ানমারের আকিয়াব (সিত্তে) বন্দর নাফ নদীর বাম তীরে অবস্থিত।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৭১৫.
মুহুরীর চর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নোয়াখালী 
  2. রাজশাহী
  3. ফেনী
  4. লক্ষ্মীপুর
ব্যাখ্যা

মুহুরীর চর: 
- নদীর মধ্যভাগে বা মোহনায় পলি সঞ্চয়ের ফলে যে নতুন ভূখণ্ড জেগে ওঠে, তাকে চর বলা হয়।
- বাংলাদেশে নদীভাঙন ও পলি জমার কারণে নিয়মিত নতুন নতুন চরের সৃষ্টি হয়।
- এর মধ্যে মুহুরীর চর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই চর ফেনী জেলার বিলোনিয়া সংলগ্ন মুহুরী নদীতে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে গড়ে উঠেছে।
- এই চরের মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ বিদ্যমান।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু চর রয়েছে—
• ভোলা জেলায় রয়েছে-  চরফ্যাশন, চর মানিক ও চর কুকড়ি মুকড়ি।
• নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত চর হচ্ছে- ভাসান চর ও সুবর্ণ চর।
- ফেনী জেলায় গড়ে উঠেছে মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলায় আছে- নির্মল চর।
- সুন্দরবন এলাকায় রয়েছে- দুবলার চর, পাখির চর, পাটনি চর ও কটকা চর

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৭১৬.
'ডোরাহ্‌ পাস (Dorah Pass)' কোন দুটি দেশকে সংযুক্ত করেছে?
  1. ক) আফগানিস্তান ও পাকিস্তান
  2. খ) আফগানিস্তান ও তাজিকিস্তান
  3. গ) আফগানিস্তান ও ইরান
  4. ঘ) আফগানিস্তান ও চীন
ব্যাখ্যা
ডোরাহ পাস (Dorah Pass):
- ডোরাহ পাস (Dorah Pass) ডুরাল্ড লাইনে অবস্থিত একটি উপত্যকা।
- ডোরাহ পাস (Dorah Pass) আফগানিস্তানের বাদকসানকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুয়ানের চিত্রাল জেলাকে সংযুক্ত করেছে।
- এটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৪৫৫৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।

উৎস: ব্রিটানিকা ও পাকিস্তানি ওয়েবসাইট।
৭১৭.
নদীবিহীন দেশ কোনটি?
  1. সিরিয়া
  2. সৌদি আরব
  3. উজবেকিস্তান
  4. থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা

• নদীবিহীন দেশ:

- পৃথিবীতে এমন কিছু দেশ আছে যেগুলোর কোনো নদী নেই। অবশ্যই এগুলি বেশিরভাগই মরুভূমির দেশ, যেখানে বৃষ্টিপাত এবং জলের উৎস খুব কম, এবং কোনও বাস্তব নদী বা নদীর তল তৈরি করার জন্য পর্যাপ্ত জলপ্রবাহ নেই।

- স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই এমন দেশগুলি হলো:
- কমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি, কিরিবাতি, নাউরু, টোঙ্গা ও টুভালু।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৭১৮.
কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডের মাঝে কোন উপসাগর অবস্থিত?
  1. আলাস্কা উপসাগর
  2. হাডসন উপসাগর
  3. ল্যাব্রাডর উপসাগর
  4. ব্যাফিন উপসাগর
ব্যাখ্যা

ব্যাফিন উপসাগর
- ব্যাফিন উপসাগর উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি প্রান্তিক সাগর।

- এই উপসাগরটি  বেফিন দ্বীপ ও গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ–পশ্চিম উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি ডেভিস প্রণালী ও ল্যাব্রাডর সাগর হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে যুক্ত এবং 
- ন্যারেস প্রণালীর মাধ্যমে উত্তর মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত।
- বছরের অধিকাংশ সময় উপসাগরটি বরফে আচ্ছাদিত থাকে এবং
- ভাসমান বরফ ও হিমশৈলের কারণে এখানে নৌ চলাচল অত্যন্ত সীমিত। 

উৎস : ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ব্রিটানিকা।

৭১৯.
নীল নদ কোন সাগরে পতিত হয়েছে?
  1. লোহিত সাগর
  2. কৃষ্ণ সাগর
  3. ভূমধ্যসাগর
  4. আরব সাগর
ব্যাখ্যা

নীল নদ:
পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নীল নদ।
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- নীল নামটি গ্রীক নিলোস থেকে এসেছে, যার অর্থ একটি উপত্যকা বা নদী উপত্যকা।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস।
- নীল নদ ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৮০০ কি.মি (৪,১৩৫ মাইল)।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
এর সবচেয়ে দূরবর্তী উৎস বুরুন্ডির কাগেরা নদী।
- নীল নদ তিনটি প্রধান স্রোত দ্বারা গঠিত।
- নীল নীল এবং আতবারা যা ইথিওপিয়ার উচ্চভূমি থেকে প্রবাহিত হয় এবং সাদা নীল যার প্রধান স্রোত ভিক্টোরিয়া এবং আলবার্ট হ্রদে প্রবাহিত হয়।

উৎস: World atlas.

৭২০.
পৃথিবীর সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ কোনটি? 
  1. সুপিরিয়র হ্রদ
  2. কাস্পিয়ান সাগর
  3. গ্রেট লেকস
  4. আসাল হ্রদ
ব্যাখ্যা
আসাল হ্রদ:

• আসাল হ্রদের অবস্থান: জিবুতি। 
• বিশেষ বৈশিষ্ট্য: এটি পৃথিবীর সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ।
• এটি সমুদ্র সমতলের ১৫৭ মিটার (৫১৫ ফুট) নীচে অবস্থিত যা আফ্রিকার নিম্নতম বিন্দু।  
• জিবুতির রাজধানী থেকে ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে আফ্রিকার সবচেয়ে শুষ্ক ও উষ্ণ অঞ্চলে 'আসাল হ্রদ অবস্থিত। 

অপরদিকে,
• সুপিরিয়র হ্রদ: 
- অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্র - কানাডা; 
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম সুপেয় পানির হ্রদ।

• গ্রেট লেকস: 
- অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্র - কানাডা।
- যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবাস্থত ৫টি লেককে একত্রে গ্রেট লেকস বলে, এগুলো হলো - সুপিরিয়র, হিউরন, মিসিগান, ইরি ও অন্টারিও। 

• কাস্পিয়ান সাগর: 
- অবস্থান: আজারবাইজান, রাশিয়া, কাজাখস্তান, তুর্কিমেনিস্তান, ইরান। 
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ।
- এটি লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- দৈর্ঘ্য: ১১৯৯ কিলোমিটার।
- এটি মূলত ভূ-বেষ্টিত সাগর।

তথ্যসূত্র: ব্রিটিনিকা।
৭২১.
টাইটানিক জাহাজ কোন মহাসাগরে নিমজ্জিত হয়?
  1. ক) আটলান্টিক মহাসাগর
  2. খ) প্রশান্ত মহাসাগর
  3. গ) ভারত মহাসাগর
  4. ঘ) লোহিত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
টাইটানিক জাহাজ’ নিমজ্জিত হয়েছিল আটলঅন্টিক মহাসাগরে (১৫ এপ্রিল ১৯১২ সালে)।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
৭২২.
বিশ্বের গভীরতম স্থান কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. আটলান্টিক মহাসাগরে  
  2. প্রশান্ত মহাসাগরে
  3. উত্তর মহাসাগরে
  4. ভারত মহাসাগরে
ব্যাখ্যা

মারিয়ানা ট্রেঞ্জ (Mariana Trench):
- মারিয়ানা ট্রেঞ্জ হচ্ছে বিশ্বের গভীরতম স্থান।
- এর অবস্থান হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ ও ফিলিপাইনের মধ্যবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে।
- এর নামকরণ করা হয় নিকটবর্তী মারিয়ানা দ্বীপ ও অস্ট্রিয়ার তৎকালীন রানী মারিয়ানার নামে।
- মারিয়ানা ট্রেঞ্জের গভীরতা মাপার উদ্যোগ নেয়া হয় ১৮৭৫ সালে।
- তৎকালীন ব্রিটিশ জরিপ পরিচালনাকারী জাহাজ - HMS Challenger।
- তখন গভীরতা নির্ণয় করা হয় ২৬,৮৫০ ফুট।
-পরবর্তীতে আরো কয়েকদফা মাপার পর ২০১০ সালে এর সর্বোচ্চ গভীরতা -মাপা হয় - ৩৬,০৭০ ফুট। বর্তমানে এই গভীরতাই গ্রহণযোগ্য।
- এর গভীরতম অংশকে Challenger Deep বলা হয়।
- মারিয়ানা বাদে আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সমুদ্রখাদ:

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস, ব্রিটানিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফি ওয়েবসাইট।

৭২৩.
 নিম্নের কোনটি সমুদ্রস্রোতের কারণ?
  1. বাষ্পীভবনের তারতম্য
  2. লবণাক্ততার তারতম্য
  3. পৃথিবীর আবর্তন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সমুদ্রস্রোত:
- শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়।
- যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বেড়ে যায়।
- অর্থাৎ সমুদ্রস্রোত বায়ুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায় উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলকে শীতল রাখে শীতল ল্যাব্রাডার স্রোত, এ কারণে শীতল ইউরোপীয় স্রোত ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম ইউরোপীয় উপকূলের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

⇒ সমুদ্রস্রোতের কারণ:
- বায়ুপ্রবাহ,
- পৃথিবীর আবর্তন,
- উষ্ণতার তারতম্য,
- লবণাক্ততার তারতম্য,
- স্থলভাগের অবস্থান,
- শৈলশিরার অবস্থান,
- বাষ্পীভবনের তারতম্য,
- সমুদ্রের গভীরতা।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৪.
নদী উৎপত্তি লাভ করে সাগর বা হ্রদের সাথে যে স্থানে মিলিত হয়, সেই মিলিত স্থানকে নদীর ______ বলে।
  1. উৎস
  2. মোহনা
  3. দোয়াব
  4. অববাহিকা
ব্যাখ্যা

নদী সম্পর্কিত বিভিন্ন পারিভাষিক শব্দ:

​নদীর উৎস (Source): 
​নদীর উৎপত্তিস্থলকে নদীর উৎস বলে।

​নদীর মোহনা (Mouth): 
​নদী উৎপত্তি লাভ করে সাগর বা হ্রদের সাথে যে স্থানে মিলিত হয় সেই মিলিত স্থানকে নদীর মোহনা বলে।

​দোয়াব অঞ্চল: 
​দুটি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে দোয়াব অঞ্চল বলে।

​উপনদী (Tributary): 
​বিভিন্ন উৎস হতে যখন ছোট ছোট নদী উৎপত্তি লাভ করে কোনো বড় নদীতে মিলিত হয় তখন এ ছোট নদীগুলোকে সে বড় নদীর উপনদী বলে। যেমন- যমুনার উপনদী করতোয়া, তিস্তা এবং মেঘনার উপনদী সুরমা ও কুশিয়ারা।

​শাখানদী (Distributary): 
​কখনো কখনো বড় কোনো নদী হতে স্রোতধারা বের হয়ে অন্য কোনো নদী, সাগর, হ্রদ বা পুনরায় মূল নদীর সাথে মিলিত হয়। এরূপ মূল নদী হতে যে সকল নদী বের হয় তাকে শাখানদী বলে। যেমন- ইছামতি, গড়াই, আড়িয়াল খাঁ প্রভৃতি পদ্মার শাখানদী।

​নদীসঙ্গম (Confluence): 
​পার্বত্য অঞ্চলে প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদীগুলো নিজ নিজ পথে প্রবাহিত হয়। এক সময় ঐ নদীগুলো একটি অপরটির সাথে মিলিত হয়। ফলে মিলিত স্রোতধারা ক্রমশ অধিকতর বড় হয়। এভাবে দুই বা ততোধিক নদীর মিলন স্থলকে নদীসঙ্গম বলে।

নদী অববাহিকা (River Basin): 
​মূল নদী, বিভিন্ন শাখানদী ও উপনদী প্রভৃতির মধ্য দিয়ে যে সকল স্থানের বা অঞ্চলের পানিরাশি প্রবাহিত হয় তখন এ অঞ্চলকে ঐ নদীর অববাহিকা বলে। যেমন- পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সিন্ধু নদের অববাহিকা।

​তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৫.
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. চাঁদপুর
  3. বরিশাল
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট:
- গঙ্গা-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং মেঘনা নদীর পলিতে গঠিত বাংলাদেশ।
- ১৯৪৮ সালে ঢাকার গ্রীণ রোডে “হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরি” প্রতিষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীনতার পরে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকার “নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট” প্রতিষ্ঠা করে।
- ১৯৮৯ সালে ফরিদপুরে ৮৬ একর জমিতে এই প্রতিষ্ঠানটি নির্মিত হয়।
- অর্থাৎ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ফরিদপুর জেলায় অবস্থিত।

- ১৯৯০ সালের ৫৩ নং আইনের মাধ্যমে এটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এটি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে আলাদা হয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ফরিদপুর জেলা ওয়েবসাইট।
৭২৬.
বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ কোনটি?
  1. ক) কাওয়াখালি চ্যানেল
  2. খ) জালালাবাদ চ্যানেল
  3. গ) গাবখান চ্যানেল
  4. ঘ) রাবনাবাদ চ্যানেল
ব্যাখ্যা
• গাবখান চ্যানেলটি বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ যা বাংলার সুয়েজখাল নামে পরিচিত।
• গাবখান চ্যানেল বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলায় অবস্থিত ।
• ঝালকাঠির সুগন্ধা-বিষখালী নদীর সাথে পিরােজপুরের সন্ধ্যা নদীর সংযােগ ঘটিয়েছে ১৬ কিমি দীর্ঘ এ গাবখান চ্যানেল।
• বাংলাদেশের ৩য় সমুদ্র বন্দর ‘পায়রা বন্দর’ পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া, বালিয়াতলী, ধূলাসার, ধানখালী ও টিয়াখালী ইউনিয়নের অন্তর্গত রাবনাবাদ চ্যানেলের পশ্চিম তীরে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: ঝালকাঠি জেলা ওয়েবসাইট।
৭২৭.
The waterfall 'Victoria' is on the river _________.
  1. ক) Amazon
  2. খ) Missouri
  3. গ) St Lawrence
  4. ঘ) Zambezi
ব্যাখ্যা
- ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত আফ্রিকা মহাদেশের দুটি দেশ জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের সীমানায় অবস্থিত পৃথিবীর দীর্ঘতম জলপ্রপাত।
- দুই দেশের সীমান্তবর্তী নদী ‘জাম্বেজি’ থেকেই এর উৎপত্তি। 
- পানি পড়ার সময় প্রচণ্ড আওয়াজ হয় বলে এর স্থানীয় নাম ‘মোজি-ওয়া-তুনিয়া’। 
- উচ্চতা প্রায় ১০৮ মিটার এবং চওড়ায় প্রায় ১,৭০৩ মিটার। 
- প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯৩৫ ঘনমিটার পানি নিচে গড়িয়ে পড়ে। 
- ১৮৫৫ সালে ব্রিটিশ অভিযাত্রী ডেভিড লিভিংস্টোন জলপ্রপাতটি দেখে এর নামকরণ করেন রাণী ভিক্টোরিয়ার নামে। 
- সে সময় থেকেই ভিক্টোরিয়া ফলস নামে পরিচিতি পায়। 
- ২০১৩  সালে জিম্বাবুয়ে সরকার পুনরায় এর নামকরণ করে ‘মোজি-ওয়া-তুনিয়া ফলস’। 
- জলপ্রপাতের অন্যতম আকর্ষণীয় দৃশ্য এখানকার জলীয়বাষ্পে আলো পড়ে রংধনুর সৃষ্টি হওয়া। 
- ১৯৮৯ সালে ইউনেসকো ‘ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত’ এবং ‘মোজি-ওয়া-তুনিয়া জলপ্রপাত’ উভয় নামেই বিশ্ব ঐতিহ্যর অন্তভুক্ত করে।
 
উৎস: Britannica.
৭২৮.
বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মহাসাগর কোনটি?
  1. উত্তর মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. দক্ষিণ মহাসাগর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• উত্তর মহাসাগর (Arctic Ocean):
- উত্তর মহাসাগরকে অনেক ক্ষেত্রে আটলান্টিক মহাসাগরের একটি সাগর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- উত্তর মহাসাগর উত্তর মেবুর বেশির ভাগ অংশকে আচ্ছাদিত করে রেখেছে।
- উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়া এ তিনটি মহাদেশের উত্তর দিকে অবস্থিত উত্তর মহাসাগর যা উত্তর মেরু অঞ্চল নামে পরিচিত।
- উত্তর মহাসাগর বা আর্কটিক মহাসাগর প্রায় সারা বছর ধরে বরফ দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মহাসাগর।
- উত্তর মহাসাগরের আয়তন প্রায় ১ কোটি ৪১ লক্ষ বর্গ কি. মি.।
- এবং গড় গভীরতা প্রায় ৯৩০ মিটার।


উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৯.
এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত কোন মহাসাগর?
  1. ক) আটলান্টিক মহাসাগর
  2. খ) উত্তর মহাসাগর
  3. গ) ভারত মহাসাগর
  4. ঘ) প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ দ্বারা ভারত মহাসাগর পরিবেষ্টিত। (রেফারেন্সঃ ওয়ার্ল্ড ম্যাপ)
৭৩০.
বাংলাদেশের কোন নদীতে সবচেয়ে বেশি ভাঙন ঘটে?
  1. ক) যমুনা
  2. খ) ব্রহ্মপুত্র
  3. গ) মেঘনা
  4. ঘ) পদ্মা
ব্যাখ্যা
নাসার সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশের পদ্মা নদী বাংলাদেশ ও বিশ্বের সবচেয়ে ভাঙনপ্রবণ নদী। নাসার তথ্য মতে ১৯৬৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গত ৫০ বছরে পদ্মায় ৬৬০ বর্গকিমি এলাকা ভাঙনের শিকার হয়েছে।
অন্যদিকে বিজ্ঞান সাময়িকী স্প্রিংগার নেচার এর মতে বিগত ১০৫ বছরে পদ্মা নদী দ্বারা ভাঙনের পরিমাণ ১৭৪৯ বর্গকিমি। মাদারীপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও ফরিদপুরে সবচেয়ে বেশি ভাঙন হয়।
(সূত্র: প্রথম আলো, ১৬ আগস্ট ২০২০)
৭৩১.
পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর কোনটি?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. এন্টার্কটিকা মহাসাগর
ব্যাখ্যা
আটলান্টিক মহাসাগর:
- পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জুড়ে এটি অবস্থিত।
- আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- এর আয়তন ৮১,৭৬০,০০০ বর্গ কিমি।
- আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম স্থান পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ।
- এর গড় গভীরতা ১১,৯৬২ ফুট এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ২৭,৪৯৩ ফুট।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৭৩২.
পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা থেকে কোন নদীর উৎপত্তি হয়েছে?
  1. ইগুয়াসু নদী
  2. আমাজন নদী
  3. প্যারাগুয়ে
  4. রিও নেগ্রো
ব্যাখ্যা

আমাজন নদী:
- আমাজন নদী হলো দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।
- আমাজন নদী দৈর্ঘ্য অনুযায়ী বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী (নীল নদীর পর)।
- এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০০০ মাইল (৬,৪০০ কিমি)।
- এই নদীটি ব্রাজিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উত্তর-পূর্ব উপকূলে আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম নদী ব্যবস্থা হিসেবেও পরিচিত।
- এই নদীর উৎপত্তি ঘটে পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা থেকে।
- এর প্রবাহ দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক দেশ অতিক্রম করে- যার মধ্যে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং বিশেষভাবে ব্রাজিল অন্তর্ভুক্ত।

উল্লেখ্য,
- আয়তন ও জলপ্রবাহের দিক থেকে এটি বিশ্বের বৃহত্তম নদী।
- মহাকাশ থেকেও এর বাদামী জলের ধারা দেখা যায়, যা আটলান্টিকের নীল জলের সঙ্গে মিশে যায়।
- এর অববাহিকা (watershed) পৃথিবীর সবচেয়ে বড়।
- এছাড়া এর প্রবাহের আয়তন এবং অববাহিকার ক্ষেত্রফলের দিক থেকে এটি বিশ্বের বৃহত্তম নিষ্কাশন ব্যবস্থা।
-------------------------------
অন্যদিকে, 
• ব্রাজিলে নদ-নদীর সংখ্যা অনেক এবং এগুলো দেশের ভূপ্রকৃতি ও জলব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• ইগুয়াসু নদী- বিশ্ববিখ্যাত ইগুয়াসু জলপ্রপাতের জন্য পরিচিত।

• প্যারাগুয়ে নদী- প্যারাগুয়ে–পারানা–প্লাটা নদী ব্যবস্থার একটি অংশ।
- এটি দক্ষিণ ব্রাজিলের বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশনে সহায়তা করে এবং নৌপরিবহনে ভূমিকা রাখে।

• রিও নেগ্রো- আমাজন নদীর বৃহত্তম বাম উপনদী।
- এটি বিপুল পরিমাণ পানি আমাজন নদীতে সরবরাহ করে এবং আমাজন অববাহিকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

উৎস: Britannica.

৭৩৩.
সিলেটের ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট কোন নদীর উৎসের কাছে অবস্থিত?
  1. কুশিয়ারা
  2. ধলাই
  3. মেঘনা
  4. সুরমা
ব্যাখ্যা

• ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট:
- সিলেট নগরী থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে সীমান্তবর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জ।
- ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ি ঝর্ণাগুলো থেকে যে নদীর উৎপত্তি হয়ে ভোলাগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে সেই নদীর নাম ধলাই নদ।
- পাহাড় থেকে ঝর্ণার পানির স্রোতে এই নদী বেয়েই সাদা পাথর নেমে আসে।
- ধলাই নদের উৎসমুখের এই জায়গার নাম ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট।
- পরিবেশবিদ ও স্থপতি ইকবাল হাবিবের মতে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এই স্থানের গুরুত্ব অপরিসীম।
- কেননা স্বচ্ছ পানির এ আধার এই এলাকার বেশ কিছু স্থানের খাবার পানির চাহিদা মেটায়।
- পানির মধ্যে অক্সিজেন সংশ্লেষ করাও এর কাজ যাকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় ‘সোলার অ্যাকুয়াটিক ন্যাচারাল প্রসেস অব ট্রিটমেন্ট’ বলা হয় বলে জানান হাবিব।

তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর। (লিংক)

৭৩৪.
সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত জেলার নাম- 
  1. চাঁদপুর
  2. সিলেট
  3. সুনামগঞ্জ
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

• সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত জেলার নাম - সুনামগঞ্জ।
- নদীর সংখ্যা - ৯৭টি।

• সবচেয়ে বেশি জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম - পদ্মা।
- জেলার সংখ্যা - ১২টি।

• সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম - মেঘনা।
- উপজেলার সংখ্যা - ৩৬টি।

• সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত বিভাগের নাম - ঢাকা।
- নদীর সংখ্যা - ২২২টি।

উৎস:  বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।

৭৩৫.
প্রশান্ত মহাসাগরের আকৃতি কোনটির সঙ্গে তুলনীয়? 
  1. বর্গাকার
  2. ত্রিভুজাকার
  3. গোলাকার
  4. আয়তাকার 
ব্যাখ্যা

প্রশান্ত মহাসাগর:
- প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর বৃহত্তম, গভীরতম ও প্রশস্ততম মহাসাগর, যার আয়তন প্রায় ৬৩ মিলিয়ন বর্গমাইল এবং
- আকৃতিতে এটি বৃহদাকার ত্রিভুজ এর মতো দেখতে।
- এ মহাসাগরটি এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত।
- প্রশান্ত মহাসাগরের গড় গভীরতা ( সংলগ্ন সমুদ্র ব্যতীত) ১৪,০৪০ ফুট (৪,২৮০ মিটার)।
- উত্তর গোলার্ধে প্রশান্ত মহাসাগর বেরিং সাগরের মাধ্যমে আর্কটিক মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়।
- অপরদিকে, দক্ষিণ গোলার্ধে প্রশান্ত মহাসাগর আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে একটি তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ অঞ্চলে মিলিত হয়।

- প্রশান্ত মহাসাগরের তথা পৃথিবীর গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চ, যার গভীরতা প্রায় ১১,০৩৪ মিটার।
- মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতম বিন্দু হচ্ছে Challenger Deep.
- পাশাপাশি এই মহাসাগরেই অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ।
- এটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূল জুড়ে অবস্থিত।  

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৭৩৬.
কোন আন্তর্জাতিক নদী থেকে বাংলাদেশ প্রতি সেকেন্ডে ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলন করবে?
  1. ক) সুরমা
  2. খ) তিস্তা
  3. গ) ফেনী
  4. ঘ) কুশিয়ারা
ব্যাখ্যা
- গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সাতটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। 
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। 
- যে সাতটি সমঝোতা চুক্তি মঙ্গলবার সই হয়েছে তার মধ্যে প্রথমটিই ছিল কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন সম্পর্কিত।
- এর আওতায় বাংলাদেশ সিলেটে কুশিয়ারা নদীর রহিমপুর খাল পয়েন্টে প্রতি সেকেন্ডে ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলন করবে।
 
উৎস: বিবিসি  
৭৩৭.
সিকিমের পাবর্ত্য অঞ্চল থেকে কোন নদীর উৎপত্তি হয়েছে?
  1. যমুনা নদী
  2. তিস্তা নদী
  3. কর্ণফুলী নদী
  4. মহানন্দা নদী
ব্যাখ্যা
তিস্তা (Teesta):
- ভারতের সিকিমের পাবর্ত্য অঞ্চলে তিস্তা নদী উৎপত্তি হয়েছে।
- এরপর অগ্রসর হয়ে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডিমলা দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- তিস্তা নদীর বর্তমান দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭৭ কিলেমিটার এবং চওড়া ৩০০ থেকে ৫৫০ মিটার।
- এ নদীতে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছে।
- যা এ অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

⇒ বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:
- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল: গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদীর উৎপত্তিস্থল: আসামের লুসাই পাহাড়।
- যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল: ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল: মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- করতোয়া নদীর উৎপত্তিস্থল: সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল: মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল: খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল: মহালড্রীম, দার্জিলিং।

উৎস: i) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৮.
বাদনাতলী পর্বত শৃঙ্গে উৎপন্ন হয়েছে কোন নদী?
  1. কর্ণফুলী
  2. মাতামুহুরী
  3. সাংগু
  4. হালদা
ব্যাখ্যা
পাহাড়ি নদী ব্যবস্থা:
 হালদা:
- হালদা নদী পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার বাদনা তলী পর্বতশৃঙ্গে উৎপন্ন হয়েছে এবং ফকিটছড়ি থানার উত্তর পূর্ব কোন দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে।
 - এ নদী চট্টগ্রামের কালুর ঘাটের কাছে কর্ণফুলী নদীতে পড়েছে।

মাতামুহুরী:
- পার্বত্য বান্দরবন জেলার মইনভার পর্বতে এই নদীর উৎপত্তি।
- উৎপত্তি স্থল থেকে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিম দিকে এসে মহেশখালী ঘাটের সাথে মিশেছে।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কিমি।

কর্ণফুলী:
- পাহাড়ি নদী হিসেবে কর্ণফুলী নদী বিখ্যাত।
- লুসাই পাহাড়ের লংলেহ নামক স্থানে এ নদীর উৎপত্তি।এ নদী খুবই খরস্রোতা। 
- নদীর গতিবেগ উপত্যকার ঢালের সমানুপাতিক।
- এই নদী ভারত বাংলাদেশের প্রায় ৫ কিমি সীমা নির্দেশ করে।
- এ নদী সীমান্ত থেকে প্রবেশ করে রাঙামাটির সমভূমিতে প্রবাহিত হয় এবং পরে কাপ্তাই হ্রদে মিশে।
- কাপ্তাই হ্রদের দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে বেরিয়ে পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।

 সাংগু:
- বান্দরবানের দক্ষিণে মউডাক পর্বতমালায় এ নদীর উৎপত্তি এ নদী এঁকেবেঁকে উত্তর পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪৪ কিমি। কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে কয়েক কিমি দক্ষিণে সাংগু নদী বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- এ নদীর উঁচু পাহাড়ি অংশে ছোট ছোট জলপ্রপাত ও নদীপ্রপাত দেখা যায়।


উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৯.
সিকিমের পর্বত থেকে বাংলাদেশের কোন নদীর উৎপত্তি হয়েছে?
  1. ক) মনু
  2. খ) ব্রহ্মপুত্র
  3. গ) করতোয়া
  4. ঘ) সুরমা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থলঃ
পদ্মাঃ গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
মেঘনাঃ আসামের লুসাই পাহাড়।
যমুনাঃ ব্রহ্মপুত্র নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
কর্ণফুলীঃ মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
করতোয়াঃ সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
সাঙ্গুঃ মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
হালদাঃ খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
মহানন্দাঃ মহালড্রীম, দার্জিলিং।
বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থলঃ
হোয়াংহোঃ কুনকুন পর্বত, চিন দেশ।
মিসিসিপিঃ মিনোসোটার হ্রদ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
দানিয়ুবঃ ব্ল্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ।
মারে ডার্লিংঃ কোমিয়াস্কে, অষ্ট্রেলিয়া।
তিস্তাঃ সিকিমের পর্বত অঞ্চল।
নীলনদঃ ভিক্টোরিয়া হ্রদ, আফ্রিকা মহাদেশ।
আমাজানঃ আন্দিজ পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা।
উৎসঃ এইসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪০.
ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী কোনটি?
  1. ধরলা
  2. বংশী
  3. সালদা
  4. গোমতী
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র:
- ব্রহ্মপদ নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরপূর্ব দিক এবং আসামের (ভারত) ভবানীপুরের পূর্ব দিক দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এই নদ ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় মিলিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের ভিতরে এ নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার।

⇒ ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী:
• ধরলা
• তিস্তা।

⇒ প্রধান শাখা নদী:
• বংশী ও
• শীতলক্ষ্যা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৭৪১.
যমুনার উপনদী কোনটি?
  1. ধরলা
  2. তিস্তা
  3. করতোয়া
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

যমুনা: 
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা দেওয়ানগঞ্জের কাছে এসে ওই শীর্ণকায় খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- সেটিই আজকের যমুনা নদী। 
- এটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়। 
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। 
- যমুনার প্রধান শাখানদী: ধলেশ্বরী। 
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭৪২.
বিশ্বের গভীরতম সামুদ্রিক খাদ মারিয়ানা ট্রেঞ্চ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. উত্তর মহাসাগর
  2. দক্ষিণ মহাসাগর
  3. প্রশান্ত মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

• মারিয়ানা ট্রেঞ্চ (Mariana Trench):
- মারিয়ানা ট্রেঞ্চ বিশ্বের গভীরতম স্থান।
- এর অবস্থান হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ ও ফিলিপাইনের মধ্যবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে
- এর নামকরণ করা হয় নিকটবর্তী মারিয়ানা দ্বীপ ও অস্ট্রিয়ার তৎকালীন রানী মারিয়ানার নামে।
- মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা মাপার উদ্যোগ নেয়া হয় ১৮৭৫ সালে।
- তৎকালীন ব্রিটিশ জরিপ পরিচালনাকারী জাহাজ HMS Challenger।
- তখন গভীরতা নির্ণয় করা হয় ২৬,৮৫০ ফুট।
- পরবর্তীতে আরো কয়েকদফা মাপার পর ২০১০ সালে এর সর্বোচ্চ গভীরতা মাপা হয় ৩৬,০৭০ ফুট।
- বর্তমানে এই গভীরতাই গ্রহণযোগ্য।
- এর গভীরতম অংশকে চ্যালেঞ্জার ডিপ বা Challenger Deep বলা হয়। 

তথ্যসূত্র:  i) World Atlas 
ii) National Geographic Society.

৭৪৩.
খুলনা শহর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. মহানন্দা
  2. কপোতাক্ষ
  3. রূপসা
  4. পশুর
ব্যাখ্যা

খুলনা: 
- খুলনা বিভাগ বাংলাদেশের আটটি বিভাগের মধ্যে একটি এবং এটি দেশের দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অবস্থিত। 
- খুলনা বিভাগের সদর দপ্তর খুলনা শহর।
- ঢাকা এবং চট্টগ্রামের পরে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর।
- খুলনা বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে রূপসা নদী এবং ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের প্রাচীনতম নদী বন্দরগুলোর মধ্যে খুলনা অন্যতম।
- খুলনা বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় খুলনা শহরকে শিল্প নগরী হিসেবে ডাকা হয়।
- খুলনা শহর থেকে ৪৮ কি.মি. দূরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলা সমুদ্র বন্দর অবস্থিত।
- পৃথিবী বিখ্যাত উপকূলীয় বন সুন্দরবন খুলনা বিভাগের দক্ষিণাংশে অবস্থিত।
- খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় সুন্দরবনের বিস্তৃতি ঘটেছে।
- খুলনাকে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার বলা হয়।
- রাজধানী ঢাকা থেকে খুলনা শহরের দূরত্ব সড়কপথে ৩৩৩কি.মি.।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৭৪৪.
‘দেখার হাওর’ বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. সুনামগঞ্জ
  2. নেত্রকোনা
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. পাবনা
ব্যাখ্যা

দেখার হাওর:
- 'দেখার হাওর' বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- জেলার চারটি উপজেলায় হাওটির অবস্থান। 
- সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক চার উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জের অন্যতম বৃহত্তম হাওর ‘দেখার হাওর’।
- এতে রয়েছে ১২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি। 
- দেখার হাওরকে বলা হয় বোরো ভান্ডার।
- ভরা বর্ষায় হাওরের সৌন্দর্য মানুষের নজর কাড়ে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা বোরো রোপণ করেন।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
ii) প্রথম আলো।

৭৪৫.
পৃথিবীর গভীরতম স্থান কোন মহাসাগরে?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. উত্তর মহাসাগর
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর গভীরতম স্থান প্রশান্ত মহাসাগরে।

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ (Mariana Trench):

- পৃথিবীর গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চ।
- এর অবস্থান হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ ও ফিলিপাইনের মধ্যবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে।
- এর নামকরণ করা হয় নিকটবর্তী মারিয়ানা দ্বীপ ও অস্ট্রিয়ার তৎকালীন রানী মারিয়ানার নামে।
- মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা মাপার উদ্যোগ নেয়া হয় ১৮৭৫ সালে।
- তৎকালীন ব্রিটিশ জরিপ পরিচালনাকারী জাহাজ HMS Challenger।
- তখন গভীরতা নির্ণয় করা হয় ২৬,৮৫০ ফুট।
- পরবর্তীতে আরো কয়েকদফা মাপার পর ২০১০ সালে এর সর্বোচ্চ গভীরতা মাপা হয় ৩৬,০৭০ ফুট।
- বর্তমানে এই গভীরতাই গ্রহণযোগ্য।
- এর গভীরতম অংশকে চ্যালেঞ্জার ডিপ বা Challenger Deep বলা হয়।

উৎস: i) World Atlas.
ii) National Geographic Society.
৭৪৬.
সিন্ধু নদের পতন স্থান -
  1. পূর্ব চীন সাগরে
  2. জাপান সাগরে
  3. আরব সাগরে
  4. দক্ষিণ চীন সাগরে
ব্যাখ্যা
সিন্ধু নদ: 

• উৎপত্তি: তিব্বতের মালভূমি। 
• পতন স্থান: আরব সাগরে। 
• পাকিস্তানের করাচি সিন্ধু নদীর তীরে।

অপরদিকে- 
• আমুদরিয়া নদী পামীর মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়েছে। 
• হোয়াংহো নদীর অন্য নাম: পীত নদী / হলুদ নদী/The Yellow River/চীনের দুঃখ ।
- এটি কুনলুন পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে পতিত হয়েছে ।
• ইয়াংসিকিয়াং এশিয়ার দীর্ঘতম নদী।
- এর দৈর্ঘ্য ৬৩৮০ কি.মি.। 
- এটি তিব্বতের মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে পূর্ব চীন সাগরে পতিত হয়েছে ।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও  Live Mcq লেকচার।
৭৪৭.
আমাজান নদীর উৎপত্তিস্থল কোথায়?
  1. আন্দিজ পর্বতমালা
  2. ব্ল্যাক ফরেস্ট
  3. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
  4. মিনোসোটা হ্রদ
ব্যাখ্যা
→ আমাজন নদী পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়।

আমাজন নদী:
- পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী আমাজন নদী।
- আমাজন নদীর দৈর্ঘ্য ৬৪০০ কি.মি। 
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় নদী।
- আমাজন নদী ৯টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নদীটি দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর অংশে অবস্থিত, পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- এই নদীটি - পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় উৎপন্ন হয় এবং আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্ত হয়েছে।
- আমাজনের মূল স্রোতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্রাজিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নীল নদ।

বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থল-
→ মারে ডার্লিং নদী: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্ৰেলিয়া।
→ তিস্তা নদী: সিকিমের পর্বত অঞ্চল।
→ হোয়াংহো নদী: কুনকুন পর্বত, চিন দেশ।
→ মিসিসিপি নদী: মিনোসোটার হ্রদ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
→ দানিয়ুব নদী: ব্ল্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ।
→ নীলনদ: ভিক্টোরিয়া হ্রদ, আফ্রিকা মহাদেশ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.com & Worldatlas.com
৭৪৮.
বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ২৮০ কিলোমিটার
  2. ৭২৪ কিলোমিটার
  3. ৭১১ কিলোমিটার
  4. ৮৬৫ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল:

- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। 
- বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ অনুসারে, 
• বাংলাদেশের সর্বমোট ৫১৩৮ কিলোমিটার সীমারেখা রয়েছে। 
• বাংলাদেশের সর্বমোট স্থলসীমা ৪৪২৭ কিলোমিটার।
• বাংলাদেশের উপকূলের দৈর্ঘ্য ৭১১ কিলোমিটার। 
• বাংলাদেশ ও ভারতের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৪১৫৬ কিলোমিটার এবং
• বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ২৭১ কিলোমিটার। 
- জাতীয় তথ্য বাতায়ন অনুসারে, বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় সীমার দৈর্ঘ্য- ৭১১ কি.মি.।
- মাধ্যমিক ভূগোল বইয়ের তথ্যানুসারে, 
• বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৪,৭১১ কিলোমিটার।
•  ভারতের সাথে ৩,৭১৫ কিলোমিটার এবং 
•  মিয়ানমারের সাথে ২৮০ কিলোমিটার। 

তথ্যসূত্র: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট, মাধ্যমিক ভূগোল, এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭৪৯.
সুরমা ও কুশিয়ারা- এই দুই নদীর মিলিত স্রোতের নাম কী?
  1. কুশিয়ারা
  2. নবগঙ্গা
  3. বরাক
  4. কালনী
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী:
- মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী।
- ভারতের নাগা-মনিপুর ইলবিভাঙ্গিকার দক্ষিণ ঢালে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুই শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- উত্তরের শাখা সুরমা পশ্চিম দিকে ছাতক, সিলেট ও সুনামগঞ্জের উপর দিয়ে ধীর ও সর্পিল গতিতে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে অগ্রসর হয়েছে।
- দক্ষিণের থানা মনু মুখের কাছে দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে।
- সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত প্রবাহ কালনী নামে দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে।
- মেঘনা ভৈরব বাজারে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম হয়ে চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- উপনদী: ব্রহ্মপুত্র, গোমতী, শীতলক্ষা, ধলেশ্বরী, ডাকাতিয়া।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭৫০.
'আড়িয়াল খাঁ' কোন নদীর শাখা নদী?
  1. পদ্মা নদী
  2. কর্ণফুলী নদী
  3. মেঘনা নদী
  4. যমুনা নদী
ব্যাখ্যা
পদ্মা নদী:
- কুমার, মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি পদ্মা নদীর প্রধান শাখা নদী। 
- পুনর্ভবা, নাগর, পাগলা, কুলিক মহানন্দার উপনদী।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা। গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম ও পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট সমভূমিতে পড়েছে।
- এরপর ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান নামক স্থানে ভাগীরথী (হুগলি নদী) নামে এর একটি শাখা বের হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- গঙ্গা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর দৌলতদিয়ার নিকট যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- গঙ্গার মূল ধারা হওয়াতে দৌলতদিয়া পর্যন্ত এই নদীটি গঙ্গা নদী নামেই পরিচিত।
- তবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর থেকেই স্থানীয়ভাবে অনেকে একে পদ্মা নামে চেনে।
- গঙ্গা ও যমুনার মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এই তিন নদীর মিলিত প্রবাহ মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন হচ্ছে ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৭৫১.
পদ্মা নদী কোথায় যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে?
  1. চাঁদপুর
  2. রাজবাড়ি
  3. মাদারীপুর
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

পদ্মা:
- বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান নদী পদ্মা।
- এই নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এরপর প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট সমভূমিতে প্রবেশ করেছে।
- এরপর উত্তর প্রদেশ এবং বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান নামক স্থানে ভাগিরথী (বা হুগলি নদী) নামে এর একটি শাখা বের হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- অন্যদিকে, মূল গঙ্গা নদীটি রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর আরো অগ্রসর হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- এই দুই নদীর মিলিত স্রােত পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- এ মিলিত স্রোত মেঘনা নামে বরিশাল ও নোয়াখালী জেলা হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের পরিমাণ প্রায় ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ২৩.১৭%।
- কুমার, ভৈরব, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, মধুমতি, আড়িয়াল খাঁ, ইছামতি, কপোতাক্ষ, চিত্রা পদ্মার উল্লেখযোগ্য শাখানদী। 
- উত্তর দিক থেকে আগত নদীসমূহের মধ্যে মহানন্দা এর প্রধান উপনদী।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫২.
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হলো-
  1. ক) হালদা নদী
  2. খ) তিস্তা নদী
  3. গ) মেঘনা নদী
  4. ঘ) হাকালুকি হাওড়
ব্যাখ্যা
চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
এটি খাগড়াছড়ি থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে।
হালদা নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম। সম্প্রতি সরকার এই নদীকে ''বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ'' ঘোষণা করেছে।
উৎসঃ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট
৭৫৩.
সমুদ্রস্রোত প্রধানত কত প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৫ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ২ প্রকার
ব্যাখ্যা
• সমুদ্রস্রোত:
- একস্থান থেকে অন্যস্থানে মহাসাগর ও সাগরের পানির নির্দিষ্ট ও নিয়মিত প্রবাহকে মহাসাগরীয় স্রোত বা সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) বলে।
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে।
-  ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন তৈরি করে এবং সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।
- উষ্ণতার তারতম্য অনুযায়ী সমুদ্রস্রোতকে প্রধান দুইভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: উষ্ণ স্রোত ও শীতল স্রোত।

→ সমুদ্র স্রোতের কারণ:
- নিম্নলিখিত কারণে সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি হয়। যথা:
১. বায়ুপ্রবাহ (Wind Movement);
২. পৃথিবীর আবর্তন (Rotation of Earth);
৩. তাপমাত্রার তারতম্য (Variation in Temparature);
৪. লবণাক্ততার তারতম্য (Variation in Salinity);
৫. স্থলভাগের অবস্থান (Presence of Landmasses);
৬. অসম বাষ্পীভবন (Unequal Evaporation);
৭. সমুদ্রের গভীরতা (Depth of the Ocean);

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৪.
'কিলিমানজারো' কোন ধরনের পর্বত?
  1. ল্যাকোলিথ
  2. আগ্নেয়
  3. ভঙ্গিল
  4. চ্যুতি-স্তূপ
ব্যাখ্যা
পর্বত (Mountains):
- সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটার-এর অধিক উঁচু, সুবিস্তৃত, খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
- অপর দিকে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ থেকে ১,০০০ মিটার উঁচু, স্বল্প বিস্তৃত শিলাস্তূপকে পাহাড় বলে।
- পর্বতের ভূ-প্রকৃতি বন্ধুর, ঢাল খুব খাড়া এবং সাধারণত চূড়া বিশিষ্ট হয়।
- কোনো কোনো পর্বত বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে, যেমন- পূর্ব আফ্রিকার কিলিমানজারো।
- আবার কিছু পর্বত অনেকগুলো পৃথক শৃঙ্গসহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে অবস্থান করে, যেমন- হিমালয় পর্বতমালা।

• পর্বতের প্রকারভেদ:
- উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত চার প্রকার। যথা:
(ক) ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountains),
(খ) আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountains),
( গ) চ্যুতি-স্তূপ পর্বত (Fault-block Mountains) এবং
(ঘ) ল্যাকোলিথ পর্বত (Dome/Laccolith Mountains)।

⇒ আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain):
- ভূ-অভ্যন্তরস্থ ক্রিয়াকলাপের জন্য ম্যাগমা লাভা হিসাবে উদগিরিত হয়ে চারদিকে সঞ্চিত হয়।
- পরবর্তীতে জমে ঠান্ডা হয়ে যে শিলাস্তূপের সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে।
- লাভার প্রকৃতির ওপর আগ্নেয় পর্বতের বিস্তৃতি ও আকৃতি নির্ভর করে।
- আগ্নেয় পর্বতের উৎপত্তি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভূ-আলোড়নের জন্য ভূ-ত্বকের দুর্বল অংশের ফাটলের মধ্য দিয়ে ভূ-গর্ভস্থ উত্তপ্ত লাভা, নানা প্রকার গ্যাস ও বাষ্প, ছাই, ধাতু ইত্যাদি প্রবল বেগে বেরিয়ে আসে।
- এই উত্তপ্ত লাভা ফাটলের চতুর্দিকে সঞ্চিত হতে হতে উঁচু পর্বতের সৃষ্টি করে।
- যেমন- জাপানের ফুজিয়ামা, হাওয়াই দ্বীপের মওনালোয়া, ইতালির ভিসুভিয়াস, আফ্রিকার কিলিমানজারো ইত্যাদি।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৫.
কোন নদীটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে?
  1. পদ্মা 
  2. মেঘনা 
  3. যমুনা 
  4. ইছামতী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের নদ-নদী:
- নদীমাতৃক বাংলাদেশে ছোট বড় মিলিয়ে ১০০৮ টি নদী প্রবাহিত হচ্ছে।
- পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বাংলাদেশের ৩টি প্রধান নদী।
- দেশে নদীপথ রয়েছে: ২২ হাজার কি.মি.।
- নদ আছে ৪টি। এগুলো হলো ব্রহ্মপুত্র, কপোতাক্ষ, আড়িয়াল খাঁ ও কুমার।

উল্লেখ্য,
- পদ্মা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী (দৈর্ঘ্য - ৩৪১ কিলোমিটার)।
- সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদী মেঘনা (৩৬টি উপজেলা)।
- সবচেয়ে বেশি নদ-নদী রয়েছে ঢাকা বিভাগে, ২২২টি।
- সবচেয়ে বেশি নদী রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়, ৯৭টি।

উৎস: জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

৭৫৬.
বাংলাদেশের কয়টি নদ আছে?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের নদ-নদী
- নদীমাতৃক বাংলাদেশে ছোট বড় মিলিয়ে ১০০৮ টি নদী প্রবাহিত হচ্ছে।
- পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বাংলাদেশের ৩টি প্রধান নদী।
- দেশে নদীপথ রয়েছে: ২২ হাজার কি.মি.।
- নদ আছে ৪টি।
- এগুলো হলো ব্রহ্মপুত্র, কপোতাক্ষ, আড়িয়াল খাঁ ও কুমার।

উল্লেখ্য,
- পদ্মা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী (দৈর্ঘ্য - ৩৪১ কিলোমিটার)।
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম নদী গাঙ্গিনা ( দৈর্ঘ্য- .০৩২ কিলোমিটার)।
- সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদী মেঘনা (৩৬টি উপজেলা)।
- সবচেয়ে বেশি নদ-নদী রয়েছে ঢাকা বিভাগে, ২২২টি।
- সবচেয়ে বেশি নদী রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়, ৯৭টি।

উৎস: জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

৭৫৭.
কোনটি পদ্মা নদীর শাখানদী নয়?
  1. গড়াই
  2. কুমার
  3. মহানন্দা
  4. মাথাভাঙ্গা
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে 'মহানন্দা' পদ্মা নদীর শাখানদী নয়।
- 'মহানন্দা' পদ্মা নদীর প্রধান উপনদী।

পদ্মা (Padma):

- পদ্মা বাংলাদেশের প্রধান নদী।
- এ নদী ভারতের মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে গঙ্গা নামে উৎপন্ন হয়েছে।
- গঙ্গা নদী রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- কুষ্টিয়ার কাছে এসে এটি পদ্মা নামে পরিচিত হয়।
- রাজবাড়ির গোয়ালন্দে যমুনার সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিশে যায়।
- এরপর তিনটি নদীর মিলিত ধারা মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।
- গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার।
- পদ্মার শাখানদীগুলোর মধ্যে কুমার, ভৈরব, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি, আড়িয়াল খাঁ উল্লেখযোগ্য।
- পদ্মার উপনদীগুলোর মধ্যে মহানন্দা প্রধান। 
- মহানন্দার উপনদীগুলোর মধ্যে রয়েছে পুনর্ভবা, নাগর, কুলিক, ট্যাংগন, পাগলা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৮.
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য-
  1. ক) দু'দেশের নদীগুলোর নাব্যতা বৃদ্ধি
  2. খ) দু'দেশের নদীগুলোর পলিমাটি অপসারণ
  3. গ) বন্যা নিয়ন্ত্রণে দু'দেশের মধ্যে সহযোগিতা
  4. ঘ) দু'দেশের নৌ-পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
১৯৭২ সালের মার্চ মাসে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও প্রজাতন্ত্রী ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রীদ্বয়ের মধ্যে যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে দু’দেশের বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে অভিন্ন নদীর ব্যাপক জরিপ কার্যক্রম পরিচালন এবং নাব্যতা ঠিক রেখে বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণের বিস্তারিত প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রধান প্রধান নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের উপর সমীক্ষা পরিচালন, উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে এতদাঞ্চলের পানি সম্পদের ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বাংলাদেশের সাথে ভারত সংলগ্ন এলাকায় পাওয়ার গ্রীড সংযোজনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য স্থায়ী ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়।

উৎস: যৌথ নদী কমিশন ওয়েবসাইট।
৭৫৯.
দক্ষিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় নদী কোনটি?
  1. পিলকোমায়ো
  2. আমাজন
  3. টোক্যান্টিনস
  4. পারানা
ব্যাখ্যা
আমাজন নদী:
- পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী আমাজন নদী।
- আমাজন নদীর দৈর্ঘ্য ৬৪০০ কি.মি।
- এটি দক্ষিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় নদী।
- আমাজন নদী ৯টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নদীটি দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর তাংশে অবস্থিত, পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে। 
- এই নদীটি - পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় আমাজন নদীপন্ন হয় এবং আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্ত হয়েছে।
- আমাজনের মূল স্রোতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্রাজিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৭৬০.
নিচের কোনটি যমুনা নদীর উপনদী?
  1. তিস্তা
  2. ধলেশ্বরী
  3. বুড়িগঙ্গা
  4. শীতলক্ষ্যা
ব্যাখ্যা
• যমুনা (Jamuna):
- প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদের নিম্ন প্রবাহ যমুনা নামে অভিহিত।
- ১৭৮২ থেকে ১৭৮৭ সালের মধ্যে সংঘটিত ভূমিকম্প ও ভয়াবহ বন্যার ফলে ব্রহ্মপুত্রের তৎকালীন গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান কালের যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়।
- যমুনা দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়।
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে।
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।

•যমুনার উপনদীগুলো হলো:
- ধরলা,
- তিস্তা,
- করতোয়া,
- আত্রাই।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়- নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
৭৬১.
'পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ' কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. আর্কটিক মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
আটলান্টিক মহাসাগর:
- পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জুড়ে এটি অবস্থিত।
- আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- এর আয়তন ৮১,৭৬০,০০০ বর্গ কিমি।
- আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম স্থান পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ।
- এর গড় গভীরতা ১১,৯৬২ ফুট এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ২৭,৪৯৩ ফুট।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৭৬২.
পদ্মা নদী কোথায় থেকে উৎপত্তি লাভ করে?
  1. হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গ
  2. নাগা-মণিপুর অঞ্চল থেকে উৎপন্ন
  3. লুসাই পাহাড়
  4. হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ
ব্যাখ্যা
• পদ্মা:
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা।
- ভারতে এই নদীর নাম গঙ্গা।
- গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভকরেছে।
- এরপর প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম ও পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট সমভূমিতে পড়েছে।
- এরপর ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান নামক স্থানে ভাগীরথী (হুগলি নদী) নামে এর একটি শাখা বের হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- গঙ্গা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর দৌলতদিয়ার নিকট যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- গঙ্গার মূল ধারা হওয়াতে দৌলতদিয়া পর্যন্ত এই নদীটি গঙ্গা।
- কুমার, মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি পদ্মা নদীর প্রধান শাখানদী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭৬৩.
সুন্দরবনকে UNESCO World Heritage Site এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কবে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা

সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন।
- সাতক্ষীরা, খুলনা এবং বাগেরহাট জেলার অংশবিশেষ জুড়ে বাংলাদেশের সুন্দরবন বিস্তৃত।
- পরস্পর সংযুক্ত প্রায় ৪০০ নদী-নালা, খালসহ প্রায় ২০০টি ছোট বড় দ্বীপ ছড়িয়ে আছে সুন্দরবনে।
- সুন্দরবনের দুই-তৃতীয়াংশ পড়েছে বাংলাদেশে, বাকিটা ভারতে।
- ১৮৭৫ সালে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এ বনভূমির প্রায় ৩২,৪০০ হেক্টর এলাকাকে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 
- সুন্দরবনকে ১৯৯৯ সাল থেকে UNESCO World Heritage Site-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- সুন্দরবনের গাছপালার অধিকাংশই ম্যানগ্রোভ ধরনের।
- এখানে রয়েছে বৃক্ষ, লতাগুল্ম, ঘাস, পরগাছা এবং আরোহী উদ্ভিদসহ নানা ধরনের উদ্ভিজ্জ।
- রয়েল বেঙ্গল টাইগারের (Panthera tigris) সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আবাস এখানেই।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৬৪.
What body of water surrounds Alcatraz Island?
  1. Florida Bay
  2. San Francisco Bay
  3. Gulf of Mexico
  4. Bristol Bay
ব্যাখ্যা
আলকাট্রাজ কারাগার:
- আলকাট্রাজ কারাগার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরে অবস্থিত।

⇒ এই কারাগারটি আলকাট্রাজ দ্বীপে নির্মিত, যা সান ফ্রান্সিসকো শহর থেকে প্রায় ১.৫ মাইল (২.৪ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত।
- আলকাট্রাজ কারাগার ১৯৩৪ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এটি মূলত সবচেয়ে বিপজ্জনক ও পালানোর প্রবণতা সম্পন্ন বন্দিদের জন্য নির্ধারিত ছিল।
- কারাগারটি ১৯৬৩ সালে উচ্চ রক্ষণাবেক্ষণ খরচের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

⇒ আলকাট্রাজ প্রথমে একটি নৌ প্রতিরক্ষা দুর্গ ছিল, যা ২০ শতকের শুরুতে সামরিক কারাগারে রূপান্তরিত হয়।
- ১৯৩০-এর দশকে বিচার বিভাগ এটি দখল করে ফেডারেল বন্দীদের গ্রহণ শুরু করে।
- কুখ্যাত গ্যাংস্টার আল কাপোন, মিকি কোহেন এবং জর্জ ‘মেশিন গান’ কেলির মতো বিখ্যাত কয়েদিদের সেখানে রাখা হয়েছিল।
- কারাগারটি ১৯৬৩ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমানে এটি একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি (মে, ২০২৫) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইন, শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের কাছে অবস্থিত কুখ্যাত আলকাট্রাজ কারাগার পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণের জন্য তার প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

উৎস: i) Federal Bureau of Investigation (.gov).
ii) BBC.
৭৬৫.
‘গ্রিনল্যান্ড’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ইউরোপে
  2. খ) আফ্রিকায়
  3. গ) উত্তর আমেরিকায়
  4. ঘ) দক্ষিণ আমেরিকায়
ব্যাখ্যা

ডেনমার্কের মালিকানাধীন পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ হচ্ছে গ্রীনল্যান্ড। যা উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত একটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ। এর রাজধানীর নাম নুক।
দেশটির শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা, আর্থিক নীতিমালা, এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ‘ডেনিশ র‌য়্যাল গভর্মেন্ট’ কর্তৃক নির্ধারিত হয়।
সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিন্ডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রীনল্যান্ড ক্রয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।
সূত্র: Worldatlas

৭৬৬.
'মহাস্থানগড়' কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) কপোতাক্ষ
  2. খ) যমুনা
  3. গ) পদ্মা
  4. ঘ) করতোয়া
ব্যাখ্যা
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে মহাস্থানগড় সুমহান ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে। 
- ১৮৭৯ সালে প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ আলেকজান্ডার কানিংহ্যাম।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের রাজধানী মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রনগর।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গেছে। 

- ২০১৫ সাল থেকে সার্ক কালচারাল সেন্টার সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কোনো একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলকে সার্কের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করে আসছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর ইংরেজি নামের আদ্যক্ষরের ভিত্তিতে দেশগুলোর স্থান বেছে নেওয়া হচ্ছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদ বগুড়ার মহাস্থানগড় সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী- ২০১৭ হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেল। 

সূত্র:  বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো
৭৬৭.
পূর্বাশা কোন দ্বীপের অপর নাম?
  1. ক) দক্ষিণ তালপট্টি
  2. খ) মনপুরা
  3. গ) নিঝুমদ্বীপ
  4. ঘ) হাড়িয়াভাঙ্গা
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ, পূর্বাশা বা নিউ মুর আইল্যান্ড বঙ্গোপসাগরের অবস্থিত ভারতের ছোটো জনবসতিহীন সাগরমুখী দ্বীপ।
এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ অঞ্চলের উপকূলে অবস্থিত এবং১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনার অদূরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ জেগে ওঠে। নদীর মোহনা থেকে দুই কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৭৬৮.
'স্টবাক' জলপ্রপাতটি  যে দেশে অবস্থিত - 
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. সুইজারল্যান্ড
  3. ভেনিজুয়েলা
  4. নরওয়ে
ব্যাখ্যা

• স্টবাক জলপ্রপাত:
- স্টবাক জলপ্রপাত সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত।
- ইউরোপীয় মহাদেশে অবস্থিত এই জলপ্রপাতের উচ্চতা প্রায় ৩০০ ফুট।
- এটি সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ জলপ্রপাত।
- গ্রীষ্মে উষ্ণ বাতাস চারদিকে জল ঘোরা করে, যাতে জলপ্রপাতগুলি সমস্ত দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে,
- ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত জাম্বিয়া/জিম্বাবুয়ে অবস্থিত।
- এঞ্জেল জলপ্রপাত ভেনিজুয়েলায় অবস্থিত।
- নায়াগ্রা জলপ্রপাত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থিত।
- ইগুয়াজু জলপ্রপাত ব্রাজিল/আর্জেন্টিনা অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

৭৬৯.
শিকস্তি-পয়স্তি কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) নদী তীরবর্তী ভূমির ভাঙা ও গড়া
  2. খ) নদীতে চর জাগা
  3. গ) চর প্রশাসনের আইন
  4. ঘ) ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত
ব্যাখ্যা
- নদীখাতে পানি প্রবাহের কারণে পার্শ্ব ক্ষয়কে নদী ভাঙ্গন বলে।
- নদী ভাঙ্গনের শিকার হয় পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহ।
- নদীর তরঙ্গাঘাতে তীরের যে জমি নষ্ট হয় তাঁকে নদী শিকস্তি বলে।
- নদীতে ভেঙে যাওয়া জমির স্থানে নতুন চর জাগা বা পুনর্গঠনকে নদী পয়স্তি বলে।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭০.
সমুদ্রের যে অংশের মধ্যে জোয়ার-ভাঁটার সময় পানি উঠানামা করে তাকে বলা হয় -
  1. তটদেশীয় অঞ্চল
  2. ঝিনুক অঞ্চল
  3. মহীঢাল
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মহীসোপান (Continental Shelf):
- পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিয়দংশ ক্রমশ সমুদ্রের পানির মধ্যে বিস্তৃত থাকে।
- এরূপ ক্রমনিম্ন স্বল্প গভীর নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে।

⇒ মহীসোপান অংশের পানির গভীরতা সাধারণত ২০০ মিটার পর্যন্তহয়ে থাকে।
- এটি এক ডিগ্রি কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।
- মহীসোপান অঞ্চলটি সমুদ্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।
- মহাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল নিমজ্জিত হওয়ার ফলে অথবা সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতার তারতম্য হওয়ার কারণে মহীসোপানের সৃষ্টি হয়।
- আবার অনেক সময় সমুদ্র তরঙ্গ ও ক্ষয়ক্রিয়া মহীসোপান গঠনে সহায়তা করে।
- মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা প্রায় ৭০ কিলোমিটার।
- এ অংশের বিস্তৃতি সর্বত্র সমান নয়।
- উপকূলভাগের বন্ধুরতার উপর এর বিস্তৃতি নির্ভর করে।
- মহীসোপানের সবচেয়ে উপরের অংশকে উপকূলীয় ঢাল বলে।

⇒ উপকূলীয় ঢালকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
ক. তটদেশীয় অঞ্চল এবং
খ. ঝিনুক অঞ্চল।

ক. তটদেশীয় অঞ্চল (Litoral Zone):
- মহীসোপানের যে অংশের মধ্যে জোয়ার-ভাঁটার সময় পানি উঠানামা করে তাকে তটদেশীয় অঞ্চল বলে।
- স্থল হতে সমুদ্র পর্যন্ত এ অঞ্চল প্রায় ৩.২ কিলোমিটার প্রশস্ত।
- পৃথিবীর তটদেশীয় অঞ্চলের আয়তন ১ লক্ষ ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটার।

খ. ঝিনুক অঞ্চল (Neritic Zone):
- তটদেশীয় অঞ্চলের পর হতে মহীসোপানের শেষ সীমা পর্যন্তঅংশকে ঝিনুক অঞ্চল বলে।
- এ অঞ্চলে সমুদ্র তরঙ্গ সবচেয়ে বেশি ক্রিয়াশীল।
- সমুদ্র তরঙ্গের ক্ষয় ও গঠন প্রক্রিয়া এখানে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায়।
- পৃথিবীতে ঝিনুক অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭১.
আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. নীলনদ
  2. মিসিসিপি
  3. আমাজান
  4. কঙ্গো
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- পৃথিবীর ও আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী নীল নদ।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস।

উল্লেখ্য,
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৮০০ কি.মি (৪,১৩৫ মাইল)।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এর সবচেয়ে দূরবর্তী উৎস বুরুন্ডির কাগেরা নদী।
- নীল নদ তিনটি প্রধান স্রোত দ্বারা গঠিত।
- নীল নীল এবং আতবারা যা ইথিওপিয়ার উচ্চভূমি থেকে প্রবাহিত হয় এবং সাদা নীল যার প্রধান স্রোত ভিক্টোরিয়া এবং আলবার্ট হ্রদে প্রবাহিত হয়।

অন্যদিকে।
- বিশ্বের ২য় বৃহত্তম নদী আমাজন নদী।
- বিশ্বের ৪র্থ বৃহত্তম নদী মিসিসিপি নদী।
- আফ্রিকার ২য় বৃহত্তম নদী কঙ্গো নদী।

উৎস: Worldatlas.
৭৭২.
কর্ণফুলী নদীতে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেলের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) ৩.৪ কিমি
  2. খ) ৩.৫ কিমি
  3. গ) ৩.৬ কিমি
  4. ঘ) ৩.৮ কিমি
ব্যাখ্যা

- চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে দেশের প্রথম সুরঙ্গপথ বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মিত হচ্ছে।
- এর দৈর্ঘ্য ৩.৪ কিলোমিটার।
- চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গা ও আনোয়ারা উপজেলাকে সংযুক্ত করে এটি নির্মিত হচ্ছে।
- দীর্ঘ টানেলটি নির্মাণে মোট ব্যয় প্রায় দশ হাজার চারশ কোটি টাকা।
- এটি নির্মাণে চীনা সরকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা করছে। চায়না কমিউনিকেন্স কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এটি নির্মাণ করছে।
- ২০২২ সালে ডিসেম্বরে এটি যান চলাচলের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র- সেতু কর্তৃপক্ষ ও প্রথম আলো।

৭৭৩.
লন্ডন শহর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. টেমস নদী
  2. রাইন নদী
  3. দানিয়ুব নদী
  4. মারে ডার্লিং নদী
ব্যাখ্যা
→ লন্ডন শহর টেমস নদীর তীরে অবস্থিত।

• টেমস নদী:

- টেমস নদী, ইংল্যান্ডের দক্ষিণ অংশের প্রধান নদী।
- এটি কটসওয়াল্ড পাহাড় থেকে উৎপত্তি লাভ করে।
- এবং এর অববাহিকা প্রায় ৫,৫০০ বর্গমাইল।
- টেমস নদীর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২০৫ মাইল।
- নদীর সর্বশেষ প্রধান উপনদী মেডওয়ে নদী।

অপরদিকে, 
• রাইন নদী: 
- রাইন নদী ইউরোপের অন্যতম প্রধান ও ঐতিহাসিক নদী।
- এটি মূলত পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত।
- এবং একাধিক দেশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উত্তরে উত্তর সাগরে পতিত হয়।

• মারে ডালিং নদী:
- মারে-ডার্লিং নদী অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘতম নদী ব্যবস্থার অংশ।

• দানিয়ুব নদী:
- দানিয়ুব নদী ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট (Schwarzwald) অঞ্চলে ব্রিগ ও ব্রেগ নামক দুটি ছোট নদীর মিলনে।

উৎস:  Britannica.
৭৭৪.
নিচের কোন দেশটির কোন সমুদ্রবন্দর নেই?
  1. ক) ডেনমার্ক
  2. খ) ইরাক
  3. গ) প্যারাগুয়ে
  4. ঘ) সেনেগাল
ব্যাখ্যা
- উল্লিখিত দেশসমূহের মধ্যে প্যারাগুয়ের কোন সমুদ্রবন্দর নেই। দেশটি একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র।
অন্যদিকে,
- কোপেনহেগেন : ডেনমার্কের সমুদ্রবন্দর
- উম কাসর : ইরাকের প্রধান সমুদ্রন্দর
- ডাকার : সেনেগালের সমুদ্রবন্দর।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৭৭৫.
মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতম বিন্দু কোনটি?
  1. Horizon Deep
  2. Tonga Deep
  3. Challenger Deep
  4. Mariana Deep
ব্যাখ্যা

প্রশান্ত মহাসাগর:
- প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর বৃহত্তম, গভীরতম ও প্রশস্ততম মহাসাগর, যার আয়তন প্রায় ৬৩ মিলিয়ন বর্গমাইল এবং
- আকৃতিতে এটি বৃহদাকার ত্রিভুজ এর মতো দেখতে।
- এ মহাসাগরটি এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত।
- প্রশান্ত মহাসাগরের গড় গভীরতা ( সংলগ্ন সমুদ্র ব্যতীত) ১৪,০৪০ ফুট (৪,২৮০ মিটার)।
- উত্তর গোলার্ধে প্রশান্ত মহাসাগর বেরিং সাগরের মাধ্যমে আর্কটিক মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়।
- অপরদিকে, দক্ষিণ গোলার্ধে প্রশান্ত মহাসাগর আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে একটি তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ অঞ্চলে মিলিত হয়।

- প্রশান্ত মহাসাগরের তথা পৃথিবীর গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চ, যার গভীরতা প্রায় ১১,০৩৪ মিটার।
- মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতম বিন্দু হচ্ছে Challenger Deep.
- পাশাপাশি এই মহাসাগরেই অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ।
- এটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূল জুড়ে অবস্থিত।  

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৭৭৬.
বঙ্গোপসাগরে ইলিশের নতুন প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কত বর্গ কিমি এলাকা?
  1. ক) ৭,০০০ বর্গ কিমি
  2. খ) ১০,০৬০ বর্গ কিমি
  3. গ) ৯,০০০ বর্গ কিমি
  4. ঘ) ৮,৯০০ বর্গ কিমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ইলিশ সমাদৃত। পৃথিবীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের অধিক ইলিশ উৎপাদনকারী বাংলাদেশ ইলিশের দেশ হিসেবে পরিচিত। 
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকার নিম্নবর্ণিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে:
- Hilsha Fisheries Management Action Plan প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন
- বঙ্গোপসাগরের ৭,০০০ বর্গ কিমি ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকা চিহ্নিতকরণ
- পদ্মা, মেঘনার ঊর্ধ্বাঞ্চল ও নিম্ন অববাহিকায়, কালাবদর, আন্ধারমানিক ও তেঁতুলিয়াসহ অন্যান্য উপকূলীয় নদীতে মোট ৬টি ইলিশ অভয়াশ্রম স্থাপন ও অংশীদারিত্বমূলক ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ 
- নিঝুম দ্বীপ সংলগ্ন ৩,১৮৮ বর্গ কিমি এলাকা মেরিন রিজার্ভ ঘোষণা
- ইলিশের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণের ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ
- জাটকা সংরক্ষনের নিমিত্ত জাটকা আহরণের ওপর ৮ মাস (নভেম্বর-জুন) নিষেধাজ্ঞা আরোপ
- বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ আহরণের ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ ভিজিএফ (Vulnerable Group Feeding) এবং
- বিকল্প কর্মসংস্থানের (Alternative Income Generation) মাধ্যমে ইলিশ জেলেদের জীবিকায়নের ব্যবস্থা করা।
 
উৎস: অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২
৭৭৭.
নিচের কোন দেশটি পারস্য উপসাগর তীরবর্তী নয়?
  1. সিরিয়া
  2. ইরান
  3. বাহরাইন
  4. ইরাক
ব্যাখ্যা
পারস্য উপসাগর: 
- পারস্য উপসাগর তীরবর্তী দেশ নয় সিরিয়া। 

- পারস্য উপসাগরের আটটি উপকূলীয় দেশ হলো:
- বাহরাইন, ইরান, ইরাক, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

উল্লেখ্য,
- পারস্য উপসাগরকে কখনও কখনও আরব উপসাগর বা ইরান উপসাগর নামেও ডাকা হয়।
- এটি আনুমানিক ২,৫১০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- এবং এর সর্বোচ্চ গভীরতা ৯০ মিটার, আর গড় গভীরতা ৫০ মিটার।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৭৭৮.
কোন সাগরের তীরে ওডেসা বন্দর অবস্থিত?
  1. ক) মর্মর সাগর
  2. খ) কৃষ্ণ সাগর
  3. গ) এজিয়ান সাগর
  4. ঘ) লোহিত সাগর
ব্যাখ্যা
- ওডেসা হলো ইউক্রেনের একটি বন্দরনগরী, যা রাজধানী কিয়েভ থেকে প্রায় ৪৪৩ কিমি দক্ষিণে কৃষ্ণ সাগরের তীরে অবস্থিত।।
- মারিওপোল ইউক্রেনের আরেকটি বন্দর নগরী যা আজভ সাগরের তীরে অবস্থিত।
- রাশিয়া ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান কে কেন্দ্র করে ইউক্রেনে আক্রমণ করে। 

সূত্র: worldatlas.com & history.com
৭৭৯.
দুই বা ততোধিক নদীর মিলনস্থলকে কী বলে?
  1. দোয়াব
  2. নদীসংগম
  3. মোহনা
  4. নদী উপত্যকা
ব্যাখ্যা
নদীর উৎস: যেখান থেকে নদীর উৎপত্তি হয় তাকে নদীর উৎস বলে।
মোহনা: নদী যখন কোনো হ্রদ বা সাগরে এসে পতিত হয়, তখন সেই পতিত স্থানকে মোহনা বলে।
খাঁড়ি: নদীর অধিক বিস্তৃত মোহনাকে খাঁড়ি বলে।
দোয়াব: প্রবহমান দুটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে দোয়াব বলে।
নদীসংগম: দুই বা ততোধিক নদীর মিলনস্থলকে নদীসংগম বলে।
নদী উপত্যকা: যে খাতের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় সে খাতকে উক্ত নদীর উপত্যকা বলে।
নদীগর্ভ: নদী উপত্যকার তলদেশকে নদীগর্ভ বলে।
নদী অববাহিকা: উৎপত্তি স্থান থেকে শাখাপ্রশাখার মাধ্যমে যে বিস্তীর্ণ অঞ্চল দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র বা হ্রদে পতিত হয় সেই সমগ্র অঞ্চলই নদীর অববাহিকা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭৮০.
'গুয়ারিয়া জলপ্রপাত' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ভেনুজুয়েলা
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) নিউজিল্যান্ড
  4. ঘ) ব্রাজিল
ব্যাখ্যা
গুয়ারিয়া জলপ্রপাত ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ে সীমান্তে অবস্থিত। পানি পতনের দিক থেকে এটি বিশ্বের বৃহত্তম জলপ্রপাত। অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত অবস্থিত ভেনেজুয়েলায়। এর উচ্চতা ১০০০ মিটার। এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ জলপ্রপাত। মিডল ক্যাসকেড জলপ্রপাত অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে। মুদারল্যান্ড জলপ্রপাত নিউজিল্যান্ডে অবস্থিত। উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটিনিকা।
৭৮১.
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা কোন দ্বীপে অবস্থিত?
  1. সুমাত্রা দ্বীপ
  2. বালি দ্বীপ
  3. বোর্নিও দ্বীপ
  4. জাভা দ্বীপ
ব্যাখ্যা

জাভা দ্বীপ:
- জাভা হলো ইন্দোনেশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ।
- এটি সুমাত্রার দক্ষিণ-পূর্বে, বালির পশ্চিমে এবং বোর্নিও (কালিমন্তান) দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত।
- দ্বীপটির উত্তরে জাভা সাগর এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর অবস্থিত।
- জাভা ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
- দেশটির প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এই দ্বীপে বসবাস করে।
- ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দ্বীপ।
- ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা (পূর্বনাম বাতাভিয়া) এই দ্বীপেই অবস্থিত।

- প্রশাসনিকভাবে জাভা দ্বীপটি পশ্চিম জাভা, মধ্য জাভা ও পূর্ব জাভা—এই তিনটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত।
- এর সঙ্গে বিশেষ রাজধানী জেলা জাকার্তা এবং যোগাকার্তা বিশেষ অঞ্চল যুক্ত।
- নিকটবর্তী দ্বীপসহ জাভার মোট আয়তন প্রায় ১,২৯,৪৩৮ বর্গকিলোমিটার।
- আগ্নেয়গিরি দ্বারা গঠিত এই দ্বীপে বহু ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন রয়েছে।
- এই নিদর্শনসমূহ জাভাকে ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

উৎস: Britannica. 

৭৮২.
কুয়েত কোন সাগরের উপকূলে অবস্থিত?
  1. বঙ্গোপসাগর
  2. পারস্য উপসাগর
  3. আরব সাগর
  4. ভূমধ্যসাগর
ব্যাখ্যা

• কুয়েত:
 - কুয়েত একটি নগর রাষ্ট্র।
- এটি পারস্য সাগরের তীরে অবস্থিত।
- কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটি।
- পারস্য উপসাগর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত।
- এর আয়তন ২৫১০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এই সাগরে অবস্থিত।
- এর তীরে অবস্থিত দেশসমূহ হলো ইরান, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান।

তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৭৮৩.
কোনটি আফ্রিকা মহাদেশের বৃহত্তম হ্রদ?
  1. ক) আসাল
  2. খ) ভিক্টোরিয়া
  3. গ) নিয়াসা
  4. ঘ) বৈকাল
ব্যাখ্যা
• ভিক্টোরিয়া হ্রদ:
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ আফ্রিকা মহাদেশের বৃহত্তম হ্রদ এবং এটি বিশ্বের বৃহত্তম গ্রীষ্মমন্ডলীয় হ্রদ।
 - এটি আফ্রিকান গ্রেট লেকগুলির মধ্যে একটি এবং উত্তর আমেরিকার লেক সুপিরিয়রের পরে, এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির হ্রদ।
- এই হ্রদের প্রায় ৪৯% তানজানিয়ার অধীনে, তারপরে ৪৫% উগান্ডায় এবং প্রায় ৬% কেনিয়াতে পড়ে।
- এটি নীল নদের প্রধান জলাধার।
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ তার প্রায় ৮০% জল সরাসরি বৃষ্টিপাত থেকে এবং প্রায় ২০% জল হ্রদে প্রবাহিত অসংখ্য নদী এবং ছোট স্রোত থেকে গ্রহণ করে।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৭৮৪.
বঙ্গোপসাগরের উত্তরে নিচের কোনটি অবস্থিত?
  1. বাংলাদেশ
  2. ভারত
  3. মিয়ানমার
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা
• বঙ্গোপসাগর:
- বঙ্গোপসাগরের উত্তরে বাংলাদেশ, ভারত, দক্ষিণ মহাসাগর।
- পূর্বে মিয়ানমার, মালয় উপদ্বীপ।
- পশ্চিমে শ্রীলংকা ও ভারত রয়েছে।
- এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর।
- এর আয়তন প্রায় ২২ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
- গড় গভীরতা ২,৫৮৬ মিটার।
- এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ৫,২৫৮ মিটার।

উল্লেখ্য,
-  বঙ্গোপসাগরের ইংরেজি প্রতিশব্দ Bay of Bengal.
- প্রাচীন মোঘল সাম্রাজ্য 'বঙ্গদেশ' থেকে বঙ্গোপসাগর শব্দটি এসেছে।
- এর তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত।
- শুধু দক্ষিণ দিকে উন্মুক্ত ভারত মহাসাগর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৫.
Rooppur nuclear power plant is located on the bank of which river?
  1. Bhairab
  2. Padma
  3. Rupsha
  4. Mathabahanga
ব্যাখ্যা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- বাংলাদেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এটি পাবনা জেলায় অবস্থিত। 
- এটি পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত।
- দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯৬১ সালে।
- পাবনা জেলার রূপপুরে প্রকল্প এলাকার জন্য প্রায় ২৬০ একর জমি এবং বৈদ্যুতিক সাব-ষ্টেশন নির্মাণসহ ৭২টি আবাসিক ইউনিটের নির্মাণ কাজও আংশিকভাবে সম্পন্ন করা হয়। 
- বাংলাদেশ সরকার ও রাশিয়ান ফেডারেশনের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
- ৩০ নভেম্বর ২০১৭ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নং ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই মাননীয় প্রধান মন্ত্রী উদ্বোধন করেন।
- এর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াট।
 
উল্লেখ্য,
- ৫ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান হস্তান্তর করা হয়।
- এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে যুক্ত হলো বাংলাদেশ।
 
উৎস: i) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
         ii) ৫ অক্টোবর, ২০২৩, প্রথম আলো।
৭৮৬.
আরব উপদ্বীপ এবং আফ্রিকান মহাদেশের মাঝখানে অবস্থিত কোন উপসাগর?
  1. এডেন উপসাগর
  2. ব্যাফিন উপসাগর
  3. পানামা উপসাগর
  4. ওমান উপসাগর
ব্যাখ্যা
এডেন উপসাগর: 
- এডেন উপসাগর ভারত মহাসাগরের একটি সম্প্রসারণ,
- যা আরব উপদ্বীপ এবং আফ্রিকান মহাদেশের মাঝখানে অবস্থিত।
- এই উপসাগরটি বাব এল মান্দেব প্রণালীর মাধ্যমে লোহিত সাগরকে আরব সাগরের সাথে সংযুক্ত করে।
- এটি ঐতিহাসিকভাবে এরিত্রীয় সাগরের অংশ হিসেবে পরিচিত।
-  দূরপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- আডেন উপসাগর সুয়েজ খাল-ভিত্তিক নৌপথেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা লোহিত সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস: 
৭৮৭.
পারস্য উপসাগরের অবস্থান কোথায়?
  1. পশ্চিম এশিয়া
  2. দক্ষিণ এশিয়া
  3. উত্তর এশিয়া
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া
ব্যাখ্যা
পারস্য উপসাগর: 
- ভূমধ্যসাগরীয় সমুদ্র পারস্য উপসাগর ভারত মহাসাগরের অংশ ।
- এটি পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত।
- এটি ওমান উপসাগরের একটি সম্প্রসারিত অংশ এবং পূর্বে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত ।
- পারস্য উপসাগরকে আরব উপসাগর বা ইরান উপসাগরও বলা হয়।
- এটির আয়তন প্রায় ২,৫১,০০০ বর্গ কিলোমিটার ।
-  যার সর্বোচ্চ গভীরতা ৯০ মিটার 
- গড় গভীরতা ৫০ মিটার।
- পারস্য উপসাগর কয়েকটি দেশ দ্বারা বেষ্টিত, যার মধ্যে উত্তরে ইরান, এবং উত্তর-পশ্চিমে বাহরাইন , ইরাক এবং কুয়েত রয়েছে। দক্ষিণে, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত , বাহরাইন, অবস্থিত।

উৎস: WorldAtlas.
৭৮৮.
বাংলাদেশে কোন কোন নদী ঘিরে 'ডিএনডি প্রকল্প' বিস্তৃত?
  1. ক) তিস্তা ও কপোতাক্ষ
  2. খ) বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা
  3. গ) ফেনী ও মাতা মুহুরী
  4. ঘ) সুরমা ও কুশিয়ারা
ব্যাখ্যা
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্প
ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ শহরের মধ্যে অবস্থিত এবং বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী দ্বারা প্রকল্পটির বিস্তৃতি সীমা নির্ধারিত।
২২.৯ মিলিয়ন টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ১৯৬৪ সালে এবং কাজ সমাপ্ত হয় ১৯৬৮ সালে। 
দ্বৈত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকারী পানি উত্তোলন কেন্দ্রটি শিমরাইলে অবস্থিত, যার সর্বমোট উত্তোলন ক্ষমতা ৪.২ কিউমেক। 
ডিএনডি প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ৪.৮৬০ হেক্টর জমিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। 
সেচ সুবিধা পৌঁছে দেয়া গেছে ৬.০৭০ হেক্টর জমিতে, ৪.৮৬০ হেক্টর জমি থেকে পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন এবং ২.৪৭০ হেক্টর জমি থেকে পানির নিম্নগামী প্রবণতা কাজে লাগিয়ে নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু যেহেতু প্রকল্পটি ঢাকা শহরের সন্নিকটে অবস্থিত সেহেতু শহরায়ন ঘটেছে খুবই দ্রুত। স্বভাবতই প্রকল্পের প্রাথমিক উদ্দেশ্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির কাজটির সাফল্য সন্তোষজনক নয়।
 
উৎস: বাংলা পিডিয়া। 
৭৮৯.
সুয়েজ খাল কোথায় অবস্থিত?
  1. মিশর
  2. ইরাক
  3. আলজেরিয়া
  4. ব্রাজিল
ব্যাখ্যা
সুয়েজ খাল:
- সুয়েজ খাল মিশরের সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- এটি একটি কৃত্তিম সামুদ্রিক খাল।
- এটি ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
- দশ বছর ধরে খননের পর পথটি ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়।
- নির্মাণ শুরু হয়েছে: ২৫ এপ্রিল, ১৮৫৯।
- নির্মাণ শেষ হয়: ১৭ নভেম্বর, ১৮৬৯।
- খালটি মিশরের সুয়েজ ক্যানেল অথোরিটির মালিকানাধীন।

উৎস: Britannica.
৭৯০.
নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. চাঁদপুর
  3. ফরিদপুর
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট: 
- নদী মাতৃক বাংলাদেশ একটি অতি জটিল ব-দ্বীপ।
- তৎকালীন সরকার ১৯৪৮ সালে ঢাকার গ্রীণরোডে প্রায় ১২ একর জমির উপর ‘‘হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী’’ নামে একটি গবেষণাগার স্থাপন করে।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৮ সালে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে এবং ‘‘হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী’’ প্রতিষ্ঠানটি ইহার সহিত একীভূত করে।
- পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সনের ৫৩নং আইন বলে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কে একটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্ব-শাসিত সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন হতে আলাদা করে সরাসরি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে।
- ১৯৮৯ সালে ফরিদপুর শহরের উপকন্ঠে ৮৬ একর জমির উপর এক মনোরম পরিবেশে নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৭৯১.
কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী কোনটি?
  1. নাফ নদী
  2. হাড়িবাঙ্গা নদী
  3. কাপ্তাই নদী
  4. ফেনী নদী
ব্যাখ্যা

কর্ণফুলী নদী:  
- বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চালের প্রধান নদী ।
- উৎপত্তিস্থল- লুসাই পাহাড়।
- দৈর্ঘ্য- ৩২০ কি.মি.।
- নদীটি চট্টগ্রামের মধ্যদিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী হলো- কাপ্তাই, হালদা, কাসালায়ং, রাঙখিয়াং,
- চট্টগ্রাম বন্দর কর্ণফুলি নদীর তীরে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৯২.
নিম্নের কোনটি ইউরোপ মহাদেশের দীর্ঘতম নদী হিসেবে বিবেচিত?
  1. ভলগা
  2. ওলগা
  3. মারে 
  4. দানিয়ুব
ব্যাখ্যা

ইউরোপ মহাদেশ:
- ইউরোপ মহাদেশ আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম মহাদেশ।
- এর আয়তন ৯৯ লক্ষ ২৮ হাজার ৫৯৯ বর্গকিলোমিটার।
- ইউরোপ মহাদেশের উত্তরে উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণে ভুমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগর, পূর্বে কাস্পিয়ান সাগর, ইউরাল নদী ও ইউরাল পর্বত এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত।
- আয়তনে বৃহৎ রাশিয়া (১,৭০,৭৫,৪০০ বর্গকিলোমিটার) এবং ক্ষুদ্রতম ভ্যাটিকান (০.৪৪ বর্গকিলোমিটার)।
- এশিয়া এবং ইউরোপ উভয় মহাদেশে রাশিয়ার অবস্থান হলেও এটি ইউরোপ মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত।
- এ মহাদেশের দীর্ঘতম নদী ভলগা (৩,৫৩০ কিলোমিটার)।
- ইউরোপের শ্রেষ্ঠ শিল্প প্রধান দেশ যুক্তরাজ্য।
- এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশকে একত্রে ইউরেশিয়া বলা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৭৯৩.
এশিয়ার দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. সিন্ধু
  2. ইয়াংসিকিয়াং
  3. গঙ্গা
  4. হোয়াংহো
ব্যাখ্যা

• ইয়াংজি/ ইয়াংসিকিয়াং নদী (Yangtze River):
- চীন এবং এশিয়ার দীর্ঘতম নদী এবং বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী।
- দৈর্ঘ্য: ৩,৯১৫ মাইল (৬,৩০০ কিমি)।
- নদীর বেসিন প্রায় ২,০০০ মাইল (৩,২০০ কিমি) পশ্চিম থেকে পূর্ব এবং ৬০০ মাইল (১,০০০ কিমি) উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- নদীটি তিব্বতের প্লেটোর উৎস থেকে বের হয়ে পূর্ব চীনা সাগরে পতিত হয়।
- নদী ১০টি চীনা প্রদেশ বা অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বা তাদের সীমান্ত হিসাবে কাজ করে।
- নদীর প্রায় ৭৫% পথ পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।

• প্রধান উপনদীসমূহ:
- বাম তীরে: ইয়ালুং, মিন, জিয়ালিং, হান নদী।
- ডান তীরে: উ, ইউয়ান, শিয়াং, গ্যান নদী।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৭৯৪.
‘টিটিকাকা হ্রদ‘ কোথায় অবস্থিত?
  1. কলম্বিয়া
  2. চিলি
  3. বলিভিয়া
  4. ভেনিজুয়েলা
ব্যাখ্যা
• টিটিকাকা হ্রদ:
- টিটিকাকা হ্রদ পেরু এবং বলিভিয়ার মধ্যে অবস্থিত।
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম মিঠা পানির হ্রদ।
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৮১০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।
- এটিকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ বড় হ্রদগুলির মধ্যে একটি।

- ঐতিহাসিক এবং ভূতাত্ত্বিকরা বিশ্বাস করেন যে এটি প্রায় তিন মিলিয়ন বছরের পুরানো।
- হ্রদটির পরিমাপ ৮,৩০০ বর্গ কিলোমিটার বা ৩,২০০ বর্গ মাইল এবং এর প্রস্থ বিন্দুতে ৮০ কিলোমিটার বা ৫০ মাইল।
- হ্রদ সিস্টেমটি আসলে তার সরু প্রণালী দ্বারা দুটি ভাগে বিভক্ত যা টিকুইনা নামে পরিচিত।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৭৯৫.
কান্তজীর মন্দির কোন নদীর পাড়ে অবস্থিত?
  1. ক) যমুনা
  2. খ) ঢেপা
  3. গ) নাখা
  4. ঘ) ইছামতী
ব্যাখ্যা
কান্তজীর মন্দির ইটের তৈরী অষ্টাদশ শতাব্দীর মন্দির। দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ১২ মাইল উত্তরে এবং দিনাজপুর-তেতঁলিয়া সড়কের প্রায় এক মাইল পশ্চিমে ঢেপা নদীর পারে এক শান্ত নিভৃতগ্রাম কান্তনগরে এ মন্দিরটি স্থাপিত। Source: dinajpur.gov.bd
৭৯৬.
ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি কোথায় অবস্থিত?
  1. মেক্সিকো
  2. জাপান
  3. ইতালি
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা
- ভিসুভিয়াস পর্বত (ইতালীয়: Monte Vesuvio, লাতিন ভাষায়: Mons Vesuvius) ইতালির নেপলস উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি আগ্নেয়গিরি
- নেপলস থেকে ৯ কিলোমিটার পূর্বে সমুদ্রউপকূলের খুব কাছে এর অবস্থান।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৭৯৭.
নিচের কোনটি আটলান্টিক মহাসাগরের উপসাগর? 
  1. মেক্সিকো উপসাগর
  2. ওমান উপসাগর
  3. এডেন উপসাগর
  4. পারস্য উপসাগর 
ব্যাখ্যা

• আটলান্টিক মহাসাগরের সাগর এবং উপসাগরসমূহ: 
- বাল্টিকসাগর, কৃষ্ণ সাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর, ভূমধ্যসাগর, উত্তরসাগর, লাব্রাডর সাগর, মেক্সিকো উপসাগর।

• ভারত মহাসাগরের সাগর এবং উপসাগরসমূহ:
- আরবসাগর, লোহিতসাগর, আন্দামানসাগর, জাভাসাগর, টাইমুরসাগর, বঙ্গোপসাগর, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর, এডেন উপসাগর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৭৯৮.
ইয়াংসিকিয়াং এর উৎপত্তিস্থল -
  1. তিব্বতের মালভূমি
  2. আল্পস পর্বতমালা
  3. আলাস্কা পর্বত
  4. পামির মালভূমি
ব্যাখ্যা
ইয়াংসিকিয়াং:

- এশিয়া ও চীনের দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং।
- এটি পৃথিবীর ৩য় দীর্ঘতম নদী।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ৩,৯১৫ মাইল (৬,৩০০ কিমি)।
- এর অববাহিকা, পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ মাইল (৩,২০০ কিমি) এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬০০ মাইল (১,০০০ কিমি) এরও বেশি সময় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- তিব্বতের মালভূমি এর উৎপত্তিস্থল এবং পতিত হয়েছে পূর্ব চীন সাগরে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৭৯৯.
বিশ্বের বৃহত্তম উপদ্বীপ কোনটি?
  1. আলাস্কা উপদ্বীপ
  2. ইন্দোচীন
  3. আফ্রিকার হর্ন
  4. আরব উপদ্বীপ
ব্যাখ্যা

আরব উপদ্বীপ:
- আরব উপদ্বীপ হলো বিশ্বের বৃহত্তম উপদ্বীপ।
- এর আয়তন ১,২৫০,০০৬ বর্গ মাইল।
- এটি এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থিত।
- এবং আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত একটি বিস্তীর্ণ আরব অঞ্চল।
- আরব উপদ্বীদের উত্তর অংশটি খ্রিস্টপূর্ব ৫২৫-৪০০ পর্যন্ত পারস্য সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।
- দক্ষিণ অংশটি প্রাচীন ইয়েমেন, সাবা ও শিমার রাজত্বের অধীন ছিল।
- এর পূর্বদিকে আরব উপসাগর,
- পশ্চিমে লোহিত সাগর,
- উত্তর-পশ্চিমে এডেন উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং
- দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভারত মহাসাগর অবস্থিত।

• বিশ্বের বৃহত্তম উপদ্বীপ:
1. আরব উপদ্বীপ,
2. ডেকান (ভারতীয়) উপদ্বীপ,
3. ইন্দোচীন,
4. আফ্রিকার হর্ন,
5. আলাস্কা উপদ্বীপ।

উৎস: World Atlas.

৮০০.
‘বাঙালি’ নামের নদীটি বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) বগুড়া
  2. খ) ফরিদপুর
  3. গ) গোপালগঞ্জ
  4. ঘ) কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
‘বাঙালি’ নদী:
- বাঙালি নদী বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গাইবান্ধা, বগুড়া এবং সিরাজগঞ্জ জেলার একটি নদী।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ১৮৩ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১৪৩ মিটার।
- নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। 
- হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত বাঙালি জাতির নামে বাংলাদেশের একমাত্র নদী এটি।
- বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা 'পাউবো' কর্তৃক পাথরাজ নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৭৯।
- ২০০৭ সালে নদীটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে যমুনা নদীর সঙ্গে নদীটির মিশে যাবার আশঙ্কায়।
- এর ফলে এলাকার ব্যাপক ভৌগোলিক পরিবর্তন হতে পারে।
- বাঙালি নদীর উৎপত্তি নীলফামারী জেলার তিস্তা নদী থেকে।
- উৎস থেকে নদীটি ঘাঘট নামে গাইবান্ধায় প্রবাহিত হয়।
- গাইবান্ধায় এসে এটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে যায়।
- একটি শাখা পশ্চিমে ঘাঘট নামে প্রবাহিত হয়ে শেরপুরে করতোয়া নদীতে গিয়ে পড়ে; অপর শাখা বাঙালি নামে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে গিয়ে বগুড়ায় আবারো দুটি শাখায় বিভক্ত হয়।
- এই শাখা দুটি যথাক্রমে যমুনা ও করতোয়ায় গিয়ে পড়ে।
- বাঙালি নদীর অনেক শাখা নদী আছে যথা: বেলাল, মানস, মধুখালি, ইছামতি, ভলকা এবং অন্যান্য।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।