বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নদী, হ্রদ, সাগর, মহাসাগর ইত্যাদি

মোট প্রশ্ন১,১২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নদী, হ্রদ, সাগর, মহাসাগর ইত্যাদি

PrepBank · পাতা / ১২ · ৬০১৭০০ / ১,১২৭

৬০১.
কোন নদীকে 'বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ' ঘোষণা করা হয়?
  1. মেঘনা নদী
  2. কর্ণফুলী নদী
  3. পদ্মা নদী
  4. হালদা নদী
ব্যাখ্যা
হালদা নদী:
- ২০২০ সালে হালদার জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশ রক্ষায় খাগড়াছড়ির রামগড়, মানিকছড়ি; চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান উপজেলা ও পাঁচলাইশ থানার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হালদা এবং এর তীরবর্তী ২৩ হাজার ৪২২ একর সীমানা বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ এলাকা ঘোষণা করা হয়।
- বাংলাদেশের সীমানায় উৎপত্তি ও সমাপ্তি হয়েছে হালদা নদী।
- চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- এটি খাগড়াছড়ি (বাদনাতলী) থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে।
- হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
- সম্প্রতি সরকার এই নদীকে 'বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ' ঘোষণা করেছে।

তথ্যসূত্র - মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৬০২.
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড কোন ধরনের ভূমিরূপ?
  1. সমতল সমুদ্রতল
  2. গিরিখাত
  3. প্রবাল প্রাচীর
  4. নদীর মোহনা
ব্যাখ্যা

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত, যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বেঙ্গল ফ্যান ভূমিরূপটি পাওয়া যায় বঙ্গোপসাগরের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডটি বঙ্গোপসাগরের ১৪ কিলোমিটার প্রশস্ত গভীর সমুদ্রের উপত্যকা।
- এই উপত্যকার গভীরতম রেকর্ড করা অঞ্চলটি প্রায় ১৩৫০ মিটার।
- সাবমেরিন উপত্যকাটি বেঙ্গল ফ্যান বা বঙ্গ পাখার অংশ, বিশ্বের বৃহত্তম সাবমেরিন পাখা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৬০৩.
'নিউ ক্যালিডোনিয়া' দ্বীপটি কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. ভারতীয় মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. আর্কটিক মহাসাগর
  4. প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
নিউ ক্যালিডোনিয়া:
- এটি দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- এটি অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৯০০মাইল (১৫০০ কিমি) পূর্বে  অবস্থিত।
- এটি প্রবাল প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত ।
- এটি (৫০কিমি) প্রশস্ত এবং ৩১০ মাইল (৫০০ কিমি) দীর্ঘ। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।
৬০৪.
নিচের কোন দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত?
  1. হাওয়াই দ্বীপ
  2. মাদাগাস্কার দ্বীপ
  3. আন্দামান দ্বীপ
  4. ফিজি দ্বীপ
ব্যাখ্যা
বঙ্গোপসাগর: 
- বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের উত্তর-পূর্বাংশ গঠন করে।
- এটি দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করা হয়েছে।
- এবং এর পূর্বদিকে অবস্থিত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ দ্বারা এটি বর্মা সাগর (আন্দামান সাগর) থেকে পৃথক হয়েছে।
- বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ সীমানা শুরু হয় শ্রীলঙ্কার সাঙ্গামান কান্দা থেকে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা পর্যন্ত।
• বঙ্গোপসাগর ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন এশীয় দেশ- 
- উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিমে ভারত,
- পূর্বে মিয়ানমার,
- উত্তরে বাংলাদেশ,
- দক্ষিণ-পশ্চিমে শ্রীলঙ্কা,
- এবং দক্ষিণ-পূর্বে ইন্দোনেশিয়া।
- ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ বঙ্গোপসাগরের পূর্ব দিকে অবস্থান করে।
- এই উপসাগর ঘিরে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম বনভূমি সুন্দরবন এবং সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত  কক্সবাজার।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৬০৫.
মিয়ানমার থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা কত?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদী:
- আন্তঃসীমান্ত নদী ৫৭টি। 
- ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা নদী ৫৪ টি।
- মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা নদী ৩ টি।
- এগুলো হলো - নাফ, সাঙ্গু, মাতামুহুরী। 
- দুবার ভারতে ও বাংলাদেশে প্রবেশ করে আত্রাই, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন নদী। 
- বাংলাদেশে উৎপত্তি হয়ে ভারতে যাওয়া নদী ১ টি (কুলিখ)।
- বাংলাদেশে উৎপত্তি ও সমাপ্তি হওয়া নদী ১ টি (হালদা)।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও যৌথ নদী কমিশনের ওয়েবসাইট।
৬০৬.
নিচের কোন নদীটি প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র?
  1. নাফ নদী
  2. গৌমতী নদী
  3. তিতাস নদী
  4. হালদা নদী
ব্যাখ্যা

চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
এটি খাগড়াছড়ি থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে। হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
সম্প্রতি সরকার এই নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করেছে।
সূত্রঃ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

৬০৭.
ইজিয়ান সাগর এর সাথে মর্মর সাগর সংযোগকারী প্রণালীর নাম-
  1. বসফরাস
  2. বেরিং
  3. জিব্রাল্টার
  4. দার্দানেলিস
ব্যাখ্যা

দার্দানেলিস প্রণালী ইজিয়ান সাগর মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে এবং আনাতোলিয়া (তুরস্ক) ও ইস্তাম্বুল(তুরস্ক) কে পৃথক করেছে।

উৎসঃ ভূগোল(৯ম-১০ম)

৬০৮.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষিত-
  1. হালদা নদী
  2. ইছামতী
  3. অড়িয়াল খাঁ
  4. সুরমা
ব্যাখ্যা
• হালদা নদী: 
- হালদা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলার একটি নদী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বাটনাতলী পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎসারিত হয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তরপূর্ব কোণ দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে। 
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষিত- হালদা নদী। 
- হালদা নদী হলো দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র।
- প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউসের মতো কার্প জাতীয় মাতৃমাছ প্রচুর পরিমাণ ডিম ছাড়ে।  
- হালদার প্রধান উপনদী ধুরুং খুবই খরস্রোতা।

তথ্যসূত্র: হাটহাজারী উপজেলা।
৬০৯.
আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. কঙ্গো নদী
  2. নাইজার নদী
  3. নীল নদ
  4. জাম্বেসি নদী
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- নীল আফ্রিকা ও বিশ্বের দীর্ঘতম নদী।
- এটি বিশ্বের বিষুবরেখার দক্ষিণ থেকে উৎপন্ন হয়ে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরে মিশেছে।
- মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ৬,৬৫০ কিলোমিটার (৪,১৩২ মাইল)।
- নীল অববাহিকায় অন্তর্ভুক্ত দেশ:তানজানিয়া, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো, কেনিয়া, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, ইথিওপিয়া, সুদান এবং মিশর।
- নীল নদের সর্বাধিক দূরবর্তী উৎস হল কাগেরা নদী, যা বুরুন্ডিতে অবস্থিত।
- নীল নদ আফ্রিকার অর্থনীতি ও কৃষিতে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে, বিশেষত মিশরের সভ্যতার বিকাশে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য,
- কঙ্গো নদী আফ্রিকার ২য় দীর্ঘতম নদী। 

উৎস: Britannica.
৬১০.
Which is the smallest river in Bangladesh?
  1. Gorai River
  2. Louhajang River
  3. Buriganga River
  4. Gangina River
ব্যাখ্যা
দেশের ক্ষুদ্রতম নদী:
- বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের নদ-নদী: সংজ্ঞা ও সংখ্যাবিষয়ক সেমিনার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন দেশের নদ-নদীর সংখ্যা ও তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।
- দেশে বর্তমানে জীবন্ত নদ-নদীর সংখ্যা ১০০৮।
- সব মিলিয়ে দেশে ২২ হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘ নদীপথ রয়েছে।
- দেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
- দেশের তিন বিভাগের ১২টি জেলায় প্রবাহিত নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ কিলোমিটার।
- পদ্মার পর দেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী খুলনা বিভাগের ইছামতী নদী।
- চুয়াডাঙ্গা, যশোর, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৩৪ কিলোমিটার।
- এর পরই রয়েছে বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সাঙ্গু বা শঙ্খ নদী।
- এর দৈর্ঘ্য ২৯৪ কিলোমিটার।
- দেশের ক্ষুদ্রতম নদী বলা হয়েছে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলায় অবস্থিত গাঙ্গিনা নদীকে।
- এর দৈর্ঘ্য ০.০৩২ কিলোমিটার।
- সবচেয়ে বেশি ৩৬টি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদী মেঘনা।
- সবচেয়ে বেশি নদ-নদী রয়েছে ঢাকা বিভাগে, ২২২টি। 
- জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নদী রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়, ৯৭টি।

উৎস: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৬১১.
চাবাহার কোন দেশর সমুদ্রবন্দর?
  1. ক) পাকিস্তান
  2. খ) ইরান
  3. গ) মিশর
  4. ঘ) সিরিয়া
ব্যাখ্যা
- চাবাহার ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর। এটি ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত।
- ভারত সরকার চাবাহার বন্দর দিয়ে মধ্য এশিয়ায় বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বন্দরটিতে বিনিয়োগ করেছে।
- অন্যদিকে, চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোরের প্রেক্ষাপটে চীন সরকারও চাবাহার বন্দরকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করছে।
- সম্প্রতি সুয়েজ খালের বিকল্প রুট হিসেবে ইরান সরকার চাবাহার বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব উত্থাপন করে।
(সূত্র: আল জাজিরা)
৬১২.
পৃথিবীর প্রশস্ততম নদী কোনটি?
  1. নীল নদ
  2. আমাজন নদী 
  3. মিসিসিপি নদী
  4. ইয়াংসি নদী
ব্যাখ্যা

- আমাজন নদী পৃথিবীর অন্যতম প্রশস্ততম নদী।
-  আমাজন নদী বিশাল আমাজন অববাহিকার মধ্য দিয়ে ৪,০০০ মাইলেরও বেশি বিস্তৃত। শুষ্ক মৌসুমে এর গড় প্রস্থ ৪.৫ মাইল, শুধুমাত্র আমাজন নদীই প্রায় ১৮,০০০ বর্গমাইল ভূমি জুড়ে বিস্তৃত,

আমাজন নদী: 
- আমাজন নদী বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৪০০ কিলোমিটার।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম নদী, আয়তন বা প্রবাহের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- আমাজন নদী দক্ষিণ আমেরিকার ছয়টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত: ব্রাজিল, পেরু এবং কলম্বিয়া, বলিভিয়া  , ইকুয়েডর , ভেনেজুয়েলা  ।
- নদীটি আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়।
- নদীর চারপাশের অঞ্চল, আমাজন রেইনফরেস্ট, অত্যন্ত জীববৈচিত্র্যপূর্ণ।
- নদীর তীরবর্তী বনে অনেক প্রজাতি বাস করে।
- নদীর জলাশয়ও প্রাণে সমৃদ্ধ।
- বিশ্বের পরিচিত সমস্ত প্রজাতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমাজন অঞ্চলে বাস করে।
- আমাজন নদীতে হাজার হাজার মাছের প্রজাতি পাওয়া যায়।
- নদীতে বিরল আমাজন নদীর ডলফিন, ওটার, ম্যানাটি এবং অ্যানাকোন্ডা পাওয়া যায়।
- এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি বিশিষ্ট সরীসৃপ প্রজাতি নদীর জলে পাওয়া যায়।

উৎস: i) world population review.
ii) ব্রিটানিকা।

৬১৩.
বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ কোনটি?
  1. বৈকাল হ্রদ
  2. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
  3. কাস্পিয়ান সাগর
  4. সুপিরিয়র হ্রদ
ব্যাখ্যা

কাস্পিয়ান সাগর:
- আজারবাইজান, রাশিয়া, কাজাখস্তান, তুর্কিমেনিস্তান ও ইরান জুড়ে অবস্থিত এই কাস্পিয়ান সাগর।
- কাস্পিয়ান সাগর বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- দৈর্ঘ্য ১১৯৯ কিমি)।
- এটি মূলত ভূ-বেষ্টিত সাগর।

উল্লেখ্য,
- বিশ্বের বৃহত্তম সুপেয় পানির হ্রদ- সুপিরিয়র।
- বিশ্বের গভীরতম হ্রদ - বৈকাল হ্রদ।
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ - পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম হ্রদ।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।

৬১৪.
’হোক্কাইডো’ দ্বীপটি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. চীন
  2. জাপান
  3. ভিয়েতনাম
  4. ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
• জাপান:
- জাপান একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- জাপানের প্রধান চারটি রয়েছে।
- এগুলো হলো:
→ শিকোকু,
→ কিউসু, 
→ হনসু ও
→ হোক্কাইডো।

উৎস: Britannica.
৬১৫.
দৈর্ঘ্যের ক্রমানুসারে কোনটি সঠিক?
  1. নীলনদ - আমাজন - কঙ্গো
  2. নীলনদ - আমাজন - মিসিসিপি
  3. নীলনদ - আমাজন - ইয়াংজি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর দীর্ঘতম ৫টি নদী

- পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী - ‘নীলনদ’।
- বর্তমানে ১০টি দেশ এর আশীর্বাদপুষ্ট। সেগুলো হল- মিসর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, কঙ্গো, তানজানিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া ও উগান্ডা।
- দৈর্ঘ্য - ৬৬৫০ কিলোমিটার।

- দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী - আমাজন।
- দৈর্ঘ্য - ৬৪০০ কিলোমিটার।

- তৃতীয় দীর্ঘতম নদী - ইয়াংজি।
- দৈর্ঘ্য - ৬৪০০ কিলোমিটার।

- চতুর্থ দীর্ঘতম নদী - মিসিসিপি।
- দৈর্ঘ্য - ৫৯৭১ কিলোমিটার।

- পঞ্চম দীর্ঘতম নদী - কঙ্গো।
- দৈর্ঘ্য - ৪৭০০ কিলোমিটার।
- এটি বিশ্বের গভীরতম নদী।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৬১৬.
নদী প্রবাহের কোন পর্যায়ে প্রধানত সঞ্চয়কার্য সাধিত হয়?
  1. নিম্নগতি
  2. সমগতি
  3. উর্ধ্বগতি
  4. মধ্যগতি
ব্যাখ্যা
পর্বতের উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর প্রবাহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়।
এগুলো হলো:
- উর্ধ্বগতি
- মধ্যগতি
- নিম্নগতি।

উর্ধ্বগতি হলো নদী প্রবাহের প্রাথমিক অবস্থা যেখানে ক্ষয় সাধন হলো প্রধান কাজ এবং এতে নদীর স্রোতের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকে।

মধ্যগতি শুরু হয় যখন নদী সমভূমি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় সঞ্চয় সাধন প্রধান কাজ। স্রোতের বেগ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে যায়। এ সময় নদীর দুপাশের নিম্নভূমি পলি দ্বারা ভরাট হয়ে প্লাবন সমভূমি গঠন করে।

নদী প্রবাহের বা জীবনচক্রের সর্বশেষ পর্যায় হলো নিম্নগতি যেখানে স্রোতের বেগ একেবারেই কমে যায়। এ সময় নদীর মোহনায় বালি, কাঁদা প্রভৃতি সঞ্চিত হয়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬১৭.
নদী প্রবাহের কোন পর্যায়ে স্রোতের গতিবেগ সর্বাধিক থাকে?
  1. ক) নিম্নগতি 
  2. খ) উর্ধ্বগতি
  3. গ) মধ্যগতি 
  4. ঘ) ধীরগতি
ব্যাখ্যা
• নদী প্রবাহ:
- পর্বতের উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর প্রবাহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়।
এগুলো হলো:
- উর্ধ্বগতি, মধ্যগতি এবং নিম্নগতি।
- উর্ধ্বগতি হলো প্রাথমিক অবস্থা যেখানে ক্ষয় সাধন হলো প্রধান কাজ এবং এতে নদীর স্রোতের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকে।
- মধ্যগতি শুরু হয় যখন নদী সমভূমি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় সঞ্চয় সাধন প্রধান কাজ। স্রোতের বেগ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে যায়।
- সর্বশেষ হলো নিম্নগতি যেখানে স্রোতের বেগ একেবারেই কমে যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী।
৬১৮.
‘ধরলা ও আত্রাই’ কোন নদীর উপনদী?
  1. মেঘনা
  2. পদ্মা
  3. যমুনা 
  4. কর্ণফুলি 
ব্যাখ্যা

- ‘ধরলা ও আত্রাই’ যমুনা নদীর উপনদী।

যমুনা (ব্রহ্মপুত্র):

- হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের একটি হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- তারপর তিব্বত ও আসামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ রংপুর অঞ্চলের কুড়িগ্রামের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ময়মনসিংহের দেওয়ানগঞ্জের কাছে এটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়।
- একটি যমুনা নামে প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- অপর শাখা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে ময়মনসিংহের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরবের নিকট মেঘনায় পতিত হয়েছে। জানা যায়, দুইশত বৎসর আগে এটিই ব্রহ্মপুত্রের মূল গতিধারা ছিল।

• উপনদী: তিস্তা, ধরলা, করতোয়া, আত্রাই, কালজানি, তোরসা, জলঢাকা, নাগর, দুপচাপিয়া, যমুনেশ্বরী, রায়ঢাক, ধবলা, ঘাঘট, বাঙালি, বড়াল, গঙ্গা, নারদ নদ, ধবল বা দুধকুমার, তুলসী গঙ্গা, শিব বরনাই।

• শাখা নদী: ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা।

উৎস: অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৯.
বাংলাদেশের কোন জেলা সবচেয়ে বেশী নদীবেষ্টিত?
  1. গৌরনদী
  2. পিরোজপুর
  3. বরিশাল
  4. ভোলা
ব্যাখ্যা
- জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন-এর সর্বশেষ রিপোর্ট অনুসারে, বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত হয়েছে। 
- তবে প্রশ্নটি রিয়েল চাকরি পরীক্ষার প্রশ্ন ছিলো তাই প্রচলিত উত্তর হিসেবে ভোলা উত্তর নেওয়া হলো। 

বাংলাদেশের নদ-নদী:

- নদীমাতৃক বাংলাদেশে ছোট বড় মিলিয়ে ১০০৮ টি নদী প্রবাহিত হচ্ছে।
- পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বাংলাদেশের ৩টি প্রধান নদী।
- দেশে নদীপথ রয়েছে: ২২ হাজার কি.মি.।
- নদ আছে ৪টি (ব্রহ্মপুত্র, কপোতাক্ষ, আড়িয়াল খাঁ ও কুমার)।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা (দৈর্ঘ্য - ৩৪১ কিলোমিটার)।
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম নদী গাঙ্গিনা ( দৈর্ঘ্য- .০৩২ কিলোমিটার)।
- সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদী মেঘনা (৩৬টি উপজেলা)।
- সবচেয়ে বেশি নদ-নদী রয়েছে ঢাকা বিভাগে, ২২২টি।
- সবচেয়ে বেশি নদী রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়, ৯৭টি।



উৎস: জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।
৬২০.
'দানিয়ুব নদী' নিম্নের কোন মহাদেশে প্রবাহিত হয়?
  1. আফ্রিকা
  2. ইউরোপ
  3. এশিয়া
  4. দক্ষিন আমেরিকা
ব্যাখ্যা
দানিয়ুব নদী:
- দানিয়ুব নদী (Danube River) ইউরোপ মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী। 
- এটি মোট ২,৮৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- এটি ১০টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- দেশগুলো হলো: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, স্লোভাকিয়া, মলদোভা, ইউক্রেন এবং রোমানিয়া।
- উৎস: দানিয়ুব নদীর উৎস জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বতে।
- দানিয়ুব নদী কৃষ্ণ সাগরে পতিত হয় যা রোমানিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে অবস্থিত।

এছাড়াও,
- ইউরোপ মহাদেশের বৃহত্তম নদী হলো ভলগা নদী। 

উৎস: World Atlas.
৬২১.
‘সেন্ট হেলেনা’ দ্বীপটি কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. উত্তর মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
সেন্ট হেলেনা দ্বীপ:

- সেন্ট হেলেনা দ্বীপ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- এর আয়তন ১২২ বর্গ কিমি।
- সেন্ট হেলেনার সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (দক্ষিণ-পশ্চিম-উত্তরপূর্ব) 10.5 মাইল (17 কিমি) এবং সর্বাধিক প্রস্থ 6.5 মাইল (10 কিমি)। 
- সেন্ট হেলেনা  এর জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ ,
- সেন্ট হেলেনা দ্বীপ রাজধানী ও বন্দর জেমসটাউন।
- এটি সতেরো শতকে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মালিকানাধীন ছিল।
- দ্বীপটির জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ।
- উল্লেখ্য, ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়নকে ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়। তিনি ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে রোগাক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

অপরদিকে, আটলান্টিক মহাসাগরে অন্তর্গত অন্যান্য দ্বীপসমূহ হলো: 
- সেন্ট হেলেনা, যুক্তরাজ্য, বাহামা, বারমুডা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, গ্রিনল্যান্ড, কিউবা ইত্যাদি। 


Image Source: ব্রিটানিকা

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৬২২.
'মিঠামইন হাওর' কোথায় অবস্থিত?
  1. সুনামগঞ্জ
  2. মৌলভীবাজার
  3. পাবনা
  4. কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা

মিঠামইন হাওর:
- মিঠামইন হাওর কিশোরগঞ্জে অবস্থিত হাওর গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হাওর।
- হাওরের উত্তরে ইটনা ও আজমিরিগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে অষ্টগ্রাম উপজেলা, পূর্বে বানিয়াচং ও অষ্টগ্রাম, পশ্চিমে করিমগঞ্জ ও নিকলী উপজেলা অবস্থিত।
- ২০১৯ অর্থবছরে ইটনা-মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।  
- এতে ব্যয় হয় এক হাজার ২৬৮ কোটি টাকা।
- এই সড়ক চালু হওয়ায় বর্তমানে মিঠামইন হাওর খুবই জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।

এছাড়া,
• বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত।
• দ্বিতীয় বৃহত্তম হাওর টাঙ্গুয়ার হাওর ও শনির হাওর সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
• হাইল হাওর মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া।

৬২৩.
শাখালিন দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান কোথায়?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. পারস্য উপসাগর
  4. দক্ষিণ চীন সাগর
ব্যাখ্যা
শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ:

- শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে, রাশিয়ার সাখালিন ওবলাস্ট প্রদেশে অবস্থিত।
- এটি জাপানের উত্তর-পূর্বের হোক্কাইডো দ্বীপের কাছাকাছি এবং রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের পূর্বে অবস্থিত।
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ হচ্ছে এই শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ।
- ১৯০৫ সালের রুশ-জাপান যুদ্ধের পরে দ্বীপটির দক্ষিণাংশ জাপানের নিয়ন্ত্রণে ছিল, কিন্তু ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে পুরো দ্বীপটি রাশিয়ার অধীনে চলে যায়।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
৬২৪.
ট্রাফালগার অন্তরীপ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ইংল্যান্ড
  2. খ) চিলি
  3. গ) ফ্রান্স
  4. ঘ) স্পেন
ব্যাখ্যা
ট্রাফালগার অন্তরীপ : স্পেন
- উত্তমাশা অন্তরীপ : দক্ষিণ আফ্রিকা
- হর্ন অন্তরীপ : চিলি
- মরিস জেসাপ অন্তরীপ : গ্রিনল্যান্ড
- গার্দাফুই অন্তরীপ : সোমালিয়া
- কন্যাকুমারী অন্তরীপ : ভারত।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৬২৫.
নিচের কোন দুটি ব্রহ্মপুত্রের উপনদী?
  1. করতোয়া ও আত্রাই
  2. ধরলা ও তিস্তা
  3. গোমতী ও তিতাস
  4. কাপ্তাই ও হালদা
ব্যাখ্যা

• ব্রহ্মপুত্র এবং যমুনা:
- তিব্বতের মানস সরোবরে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হয়েছে।
- আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় এটি প্রবেশ করেছে।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের উপনদী।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারাটি এক সময়ে ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে উত্তর-পশ্চিমদিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বদিকে আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত হতো।
- কিন্তু ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায় এবং নতুন স্রোতধারার একটি শাখা নদীর সৃষ্টি হয়।
• এই নতুন স্রোত ধারাটি যমুনা নামে পরিচিত হয়।
- এটি দক্ষিণে গোয়ালন্দ পর্যন্ত যমুনা নদী বলে পরিচিত।
- যমুনার শাখা নদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখা নদী-বুড়িগঙ্গা।
 - করতোয়া ও আত্রাই হলো যমুনার উপনদী।

• কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী হলো- কাপ্তাই, হালদা, কাসালায়ং, রাঙখিয়াং,
• যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম। 
• মেঘনার উপনদীসমূহের মধ্যে মনু, বাউলাই, গোমতী, তিতাস, কাসনি অন্যতম।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি ।
৬২৬.
সুরমা ও কুশিয়ারা নদী কোথায় মিলিত হয়?
  1. চাঁদপুর
  2. ভৈরববাজার
  3. চিলমারি
  4. আজরিমিগঞ্জ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রধান নদীর মিলনস্থল: 
- পদ্মা ও যমুনার মিলনস্থল: গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)।
- সুরমা ও কুশিয়ারার মিলনস্থল: আজরিমিগঞ্জ (হবিগঞ্জ)।
- পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থল: চাঁদপুর।
- ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার মিলনস্থল: চিলমারি (কুড়িগ্রাম)।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার মিলনস্থল: ভৈরববাজার (কিশোরগঞ্জ)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন

৬২৭.
ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয়ের কোন শৃঙ্গ থেকে উৎপন্ন হয়েছে?
  1. বরাইল
  2. কৈলাস
  3. কাঞ্চনজঙ্গা
  4. গডউইন অস্টিন
ব্যাখ্যা
• ব্রহ্মপুত্র নদ:
- ব্রহ্মপদ নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এরপর এটি তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এই নদ ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় মিলিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের ভিতরে এ নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৮.
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ (Kyiv) কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) ভলগা (Volga)
  2. খ) দানিয়ুব (Danube)
  3. গ) উড়াল (Ural)
  4. ঘ) নিপার (Dnieper)
ব্যাখ্যা
- কিয়েভ ইউক্রেনের রাজধানী। 
- এটি নিপার (Dnieper) নদীর তীরে অবস্থিত।
- নিপার নদীর উৎপত্তি রাশিয়ার ভলদাই পর্বত থেকে। 
- এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২,২০০ কিলোমিটার। দৈর্ঘ্যে এটি ইউরোপের চতুর্থ দীর্ঘতম নদী। 
- রাশিয়া, বেলারুশ ও ইউক্রেনের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিপার নদী কৃষ্ণসাগরে পতিত হয়েছে।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
৬২৯.
কোন জেলার মধ্য দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে প্রবেশ করে?
  1. লালমনিরহাট
  2. গাইবান্ধা
  3. শেরপুর
  4. কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা

⇒ বিভিন্ন নদীর প্রবেশ পথ:
- পদ্মা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। 
- মেঘনা ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। 
- যমুনা ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের একাট শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে। 
- করতোয়া নদী পঞ্চগড় জেলার ভিটগড়ের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। 
- মহানন্দা নদী পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে।
- কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। 
- সাঙ্গু নদী বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- ফেনী নদী ফেনী জেলার পূর্ব সীমানা দিয়ে প্রবেশ করে সন্দ্বীপ প্রণালির উত্তরে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- নাফ নদী বাংলাদেশের টেকনাফ ও মিয়ানমারের সীমানা নির্দেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩০.
কোন নদীতে বাঁধ দিয়ে পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে?
  1. মেঘনা
  2. কর্ণফুলী
  3. সাঙ্গু
  4. মাতামুহুরি
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী নদী:
- আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- এটি চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির প্রধান নদী। কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী কাসালং, হালদা এবং বোয়ালখালী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তর রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ১৯৬১ সনে কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টি করা হয়।
- কাপ্তাই নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে 'কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র' স্থাপন করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৬৩১.
কৃষ্ণ সাগর তীরবর্তী দেশ নয়- 
  1. রোমানিয়া
  2. জর্জিয়া
  3. বুলগেরিয়া
  4. ইতালি
ব্যাখ্যা

- ইতালি কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত নয়।

• কৃষ্ণ সাগর:

- কৃষ্ণ সাগর পূর্ব ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে অবস্থিত।
• কৃষ্ণ সাগরের তীরে মোট ৬টি দেশ অবস্থিত।
- তুরস্ক, বুলগেরিয়া, জর্জিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন, রাশিয়া।
- ইউরোপ মহাদেশ, আনাতোলিয়া এবং ককেশাস পর্বতমালা দ্বারা আবদ্ধ।
- এবং ভূ-মধ্যসাগর হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে মিলেছে।
- এই সাগর ভূ-মধ্যসাগরের সাথে বসফরাস প্রণালি দ্বারা যুক্ত হয়েছে।
- এই প্রণালিটি সরু যার গড় গভীরতা ৭০০ মিটার এবং সর্বনিম্ন গভীরতা ৪০ মিটার।
- কৃষ্ণ সাগরের আয়তন প্রায় ৪.৩৬ বর্গকিলোমিটারG
- এবং গড় গভীরতা ১,৩১১ মিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৬৩২.
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দ্বীপ কোনটি?
  1. গ্রিনল্যান্ড
  2. নিউ গিনি
  3. ব্রুনেই
  4. আইসল্যান্ড
ব্যাখ্যা
গ্রিনল্যান্ড:
- গ্রিনল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত একটি সুবৃহৎ দ্বীপ।
- গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দ্বীপ।
- এটি ডেনমার্কের একটি স্ব-নিয়ন্ত্রিত অংশ হিসেবে স্বীকৃত।
- দ্বীপটির অধিকাংশই সুমেরীয় বৃত্তের উত্তর অংশে অবস্থিত।

আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean):

- এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- এ মহাসাগর আয়তনে প্রশান্তমহাসাগরের প্রায় অর্ধেক হলেও গুরুত্ব সর্বাধিক।
- কারণ পৃথিবীর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান অংশ এ মহাসাগর দিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
- গড় গভীরতা ৩,৯৩২ মিটার এবং সর্বাধিক গভীরতা ৯,১৮৮ মিটার।
- আটলান্টিক মহাসাগর তুলনামূলকভাবে প্রশান্তমহাসাগরের চেয়ে কম প্রশস্ত এবং উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে ইংরেজি S অক্ষরের মতো বিস্তৃত।
- এ মহাসাগরের পূর্বদিকে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ এবং পশ্চিমে উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ অবস্থিত।
- আর্কটিক সাগরসহ এটি সবচেয়ে লম্বা মহাসাগর যা উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে যুক্ত করেছে।
- স্থলভাগ সংলগ্ন অনেকগুলো অগভীর সাগর যেমন- আর্কটিক, বাল্টিক, ক্যারাবিয়ান, ভূ-মধ্যসাগর এবং মেক্সিকো উপসাগর রয়েছে।
- এ মহাসাগরে পতিত নদীগুলোর মধ্যে আমাজান এবং কঙ্গো অন্যতম।
- আটলান্টিক মহাসাগরে বেশ কিছু দ্বীপ রয়েছে।
- এর মধ্যে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড অন্যতম।
- এছাড়াও রয়েছে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ স্যান্ডউইচ, আইসল্যান্ড, সেন্ট পল বক দ্বীপ প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৩.
ভিয়েনা শহর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) টেমস
  2. খ) দানিয়ুব
  3. গ) রাইন
  4. ঘ) ভলগা
ব্যাখ্যা

টেমস নদীর তীরে অবস্থিত- লন্ডন শহর; রাইন নদীর তীরে অবস্থিত- জার্মানির বন শহর;
ভলগা নদীর তীরে অবস্থিত- মস্কোসহ রাশিয়ার ১১টি শহর;
দানিয়ুব নদীর তীরে অবস্থিত- অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা শহর।

সোর্সঃ ব্রিটানিকা

৬৩৪.
বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন কোনটি?
  1. আমাজন
  2. সুন্দরবন
  3. মিসিসিপি
  4. রেড ডেল্টা বেসিন
ব্যাখ্যা

• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট।
-  এটি বাংলাদেশ ও ভারতজুড়ে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার। 
- যার প্রায় ৬০ ভাগ বাংলাদেশ অংশে পড়েছে। 
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী।
- সুন্দরবন রামসার সাইট এবং ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের একটি।

(সূত্রঃ ইউনেস্কো ওয়েবসাইট ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক)

৬৩৫.
'নদী ভাঙ্গন' সমস্যা বাংলাদেশের কোন নদীতে অধিক পরিমানে পরিলক্ষিত হয়?
  1. ক) সুরমা নদীতে
  2. খ) যমুনা নদীতে
  3. গ) কপোতাক্ষ নদীতে
  4. ঘ) নাফ নদীতে
ব্যাখ্যা
- যমুনা একটি বিনুনি আকৃতির নদী যার তীরের উপাদানসমূহ ভাঙনের পক্ষে খুবই সংবেদনশীল। 
- ব্রহ্মপুত্র নদী মধুপুর গড়ের পশ্চিম দিকে যমুনা নদীর ধারায় এসে পড়ার কারণে নদীটির গড় প্রস্থ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটেছে। 
- ১৯১৪ সালে যমুনা নদীর রেকর্ডকৃত নিম্নতম গড় প্রস্থ ছিল ৫.৬ কিমি। 
- স্থানীয় পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রস্থ ১৫ কিমি ছাড়িয়ে যায় এবং সর্বনিম্ন স্থানীয় প্রস্থ প্রায় ১.১ কিমি সীমিত ছিল। 
- ১৯৭৩-২০০০ সময়কালে নদীটির প্রশস্ত হওয়ার হার বছরে ১২৮ মিটার (বাম তীরে ৬৮ মিটার ও দক্ষিণ তীরে ৬০ মিটার)। 
- ১৯৮৪-৯২ সময়কালে প্রশস্তায়নের বাৎসরিক হার বেড়ে ১৮৪ মিটারে দাঁড়ায় যার মধ্যে বাম তীরে ১০০ মিটার ও দক্ষিণ তীর বরাবর ৮৪ মিটার । এ সময়কালে নদীর গড় প্রস্থ ৯.৭ থেকে ১১.২ কিমি বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
৬৩৬.
ইউফ্রেটিস নদীর অন্য নাম কী?
  1. ক) নীলনদ
  2. খ) দজলা
  3. গ) টাইগ্রিস
  4. ঘ) ফোরাত
ব্যাখ্যা
- ইউফ্রেটিস নদীর অন্য নাম হচ্ছে ফোরাত নদী

• মেসোপটেমীয় সভ্যতা (Mesopotamian Civilization):
- বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা মেসােপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (তৎকালীন দজলা ও ফোরাত) নদীর তীরে।
- টাইগ্রিস নদীর অন্য নাম - দজলা এবং ইউফ্রেটিস নদীর অপর নাম - ফোরাত নদী।

- মেসোপটেমীয় কথাটি দ্বারা বুঝায় দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।
- সুপ্রাচীন মেসোপটেমিয়া বর্তমান সময়ের ইরাক ও সিরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত এবং এই এলাকাকে সভ্যতার আঁতুরঘর হিসেবে ধরা হয়।

- মেসােপটেমীয় সভ্যতার চারটি পর্ব ছিল।
সেগুলাে হলাে -
- সুমেরীয় সভ্যতা,
- ব্যবিলনীয় সভ্যতা,
- অ্যাশিরীয় সভ্যতা ও
- ক্যালডীয় সভ্যতা।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬৩৭.
'ভলগা' নদীর অবস্থান কোন দেশে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. রাশিয়া
  3. ইতালি
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

- ভলগা নদী রাশিয়ায় অবস্থিত।

• ভলগা নদী (Volga River):
- উৎপত্তি: মস্কোর উত্তরে ভ্যালডাই হিলস।
-পতিত হয়েছে:  ক্যাসপিয়ান সাগরে, দক্ষিণে প্রায় ৩,৫৩০ কিমি দূরে।
- নদীর মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ৩,৫৭,০০০ মাইল।
- এটি প্রায় ২০০ উপনদী, ১,৫১,০০০ নদী ও স্থায়ী ও অস্থায়ী নালা সমন্বিত।

- এটি ইউরোপের দীর্ঘতম নদী এবং পশ্চিম রাশিয়ার প্রধান নৌপথ।
- এটি রাশিয়ার ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থল এবং দেশের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল উৎস।
- ভলগা নদীর অববাহিকা ইউরোপীয় রাশিয়ার প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ এলাকায় বিস্তৃত এবং এটি প্রায় রাশিয়ার জনসংখ্যার অর্ধেকের আবাসস্থল।
- অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এটি বিশ্বের প্রধান নদীর মধ্যে গণ্য।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

৬৩৮.
ইংলিশ চ্যানেল কোন দুইটি মহাসাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগর
  2. আটলান্টিক ও প্রসান্ত মহাসাগর
  3. উত্তর সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর
  4. ভূমধ্যসাগর ও লোহিত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

ইংলিশ চ্যানেল:
- আটলান্টিক মহাসাগরের একটি অংশ ইংলিশ চ্যানেল।
- এটি উত্তর ফ্রান্স থেকে গ্রেট ব্রিটেনের দ্বীপকে পৃথক করে।
- উত্তর সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে এই ইংলিশ চ্যানেল।

উল্লেখ্য, 
- এটি প্রায় ৫৬৩ কিমি দীর্ঘ এবং প্রস্থ ২৪০ কিমি ।
- এই চ্যানেলের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ হলো ডোভার প্রণালী।
- পূর্বদিকে এর বিস্তার কমে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার হয়ে যায় এবং সেখানে এটি ডোভার প্রণালীর মাধ্যমে উত্তর সাগরের সাথে সংযুক্ত।
- ইংলিশ চ্যানেলের প্রধান দ্বীপগুলির মধ্যে আছে আইল অভ ওয়াইট এবং চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৬৩৯.
সুমাত্রা দ্বীপ কোন দেশের অংশ?
  1. ক) ভারত
  2. খ) মরিশাস
  3. গ) ইন্দোনেশিয়া
  4. ঘ) মালয়েশিয়া
ব্যাখ্যা
সুমাত্রা ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত একটি দ্বীপ। যার আয়তন ১৮৪,৯৫৪ বর্গ মাইল। এককভাবে ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ হিসেবে সুমাত্রা বৃহত্তম (এ অঞ্চলে নিউগিনি আর বোর্নিও সুমাত্রার চেয়ে বড় হলেও এসব দ্বীপে অন্য দেশের অংশ রয়েছে)।
Source: worldatlas
৬৪০.
হাডসন বে কোন দেশে অবস্থিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র 
  2. কানাডা
  3. দুবাই 
  4. মেক্সিকো 
ব্যাখ্যা
হাডসন বে: 
- উপসাগর বলতে একটি নিম্নচাপযুক্ত, উপকূলীয় জলাশয়কে বোঝায় যা সরাসরি অন্য একটি প্রধান জলাশয়ের সাথে সংযুক্ত থাকে যেমন একটি হ্রদ, মহাসাগর বা বৃহত্তর উপসাগর।
- এগুলি বিভিন্ন উপায়ে গঠিত হতে পারে এবং তাদের গঠনের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে আকারে পরিবর্তিত হতে পারে।
- হাডসন বে উত্তর-পূর্ব কানাডায় অবস্থিত। 
- হাডসন উপসাগর হল লবণাক্ত জলাশয়ের একটি বৃহৎ অংশ এবং বঙ্গোপসাগরের পরে গ্রহের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপসাগর (বে) ।
- ১,২৩০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হাডসন উপসাগর বিশ্বের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ (মহাদেশীয়) সমুদ্র।
- সমুদ্রের নিষ্কাশন এলাকা আরও বড় এবং ৩,৮৬১,৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ।
- হাডসন উপসাগর প্রায় ১,৩৭০ কিমি লম্বা এবং ১,০৫০ কিমি প্রশস্ত এবং তুলনামূলকভাবে অগভীর, যার গড় গভীরতা প্রায় ১০০ মিটার।

উৎস: World Atlas.
৬৪১.
পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর কোনটি?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. উত্তর মহাসাগর
ব্যাখ্যা
• প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean):
- প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও গভীর মহাসাগর।
- এটি পৃথিবীর মোট জলভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ১৬৫,২৫০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৬৩,৮০০,০০০ বর্গমাইল), যা আটলান্টিক মহাসাগরের প্রায় দ্বিগুণ। 
- গড় গভীরতা: প্রায় ৪,২৮০ মিটার (১৪,০৪০ ফুট)
- সর্বাধিক গভীর স্থান: মারিয়ানা খাত, যা পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর স্থান (~১০,৯২৮ মিটার)।

- পূর্বে: উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা। 
- পশ্চিমে: এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া। 
- উত্তরে: আর্কটিক মহাসাগর। 
- দক্ষিণে: অ্যান্টার্কটিকা। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬৪২.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের পাহাড়ি নদী?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. কর্ণফুলী
  4. সাঙ্গু
ব্যাখ্যা
সাঙ্গু নদী (Sangu River):
- সাঙ্গু নদী (Sangu River) বাংলাদেশের দক্ষিণে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত একটি পাহাড়ি নদী
- শঙ্খ নদী নামেও এটি পরিচিত।
- এটি কর্ণফুলীর পর চট্টগ্রাম বিভাগের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী।
- বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে কয়টি নদীর উৎপত্তি তার মধ্যে সাঙ্গু নদী অন্যতম।

⇒ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার মদক এলাকার পাহাড়ে এ নদীর জন্ম।
- বান্দরবান জেলা ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও বাঁশখালীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এটি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে।

উল্লেখ্য
- অপশনের বাকি ৩টি বাংলাদেশের পাহাড়ি নদী নয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৪৩.
তিস্তা বাঁধ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) লালমনিরহাট
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) সিরাজগঞ্জ
  4. ঘ) চুয়াডাঙ্গা
ব্যাখ্যা
তিস্তা বাঁধ লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলাধীন দুয়ানি নামক স্থানে তিস্তা নদীর উপর নির্মিত।
সুত্রঃ বাংলাপিডিয়া
৬৪৪.
আয়তনে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর কোনটি?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. দক্ষিণ মহাসাগর
  3. উত্তর মহাসাগর
  4. ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
মহাসাগর (Ocean):
- উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ জলরাশি বা পানিরাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে।
- পৃথিবীতে মোট পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে।
- যথা:
i) প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean), 
ii) আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean),
ii) ভারত মহাসাগর (Indian Ocean),
iv) উত্তর মহাসাগর (Arctic Ocean),
v) দক্ষিণ মহাসাগর (Southern Ocean)।

প্রশান্ত মহাসাগর:
- মহাসাগরসমূহের মধ্যে আয়তন এবং গভীরতার দিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর সবচেয়ে বড়।
- এর আয়তন ১৬,৮৭,২৩,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- অবস্থান: আমেরিকা ও এশিয়ার মধ্যবর্তী।

আটলান্টিক মহাসাগর:
- আয়তনের দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান দ্বিতীয় এবং গভীরতার দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান তৃতীয়।
- এর আয়তন ৮,৫১,৩৩,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- অবস্থান: আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকা।

ভারত মহাসাগর:
- ভারত মহাসাগরের আয়তন ৭,০৫,৬০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- অবস্থান: আফ্রিকা, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া।

দক্ষিণ মহাসাগর:
- পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে দক্ষিণ মহাসাগর অবস্থিত।
- দক্ষিণ মহাসাগরের আয়তন ২,১৯,৬০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- অবস্থান: এন্টার্কটিকা ও ৬০° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অংশ।

উত্তর মহাসাগর:
- পৃথিবীর উত্তর মেরুর চারদিকে উত্তর মহাসাগর রয়েছে এর আয়তন ১,৫৫,৫৮,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- অবস্থান: পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ।
- এটি আয়তনে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর।

উৎস: Britannica.
৬৪৫.
কিয়েভ শহর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. দানিয়ুব
  2. সীন
  3. রাইন
  4. নিপার
ব্যাখ্যা
কিয়েভ ইউক্রেনের রাজধানী। এটি নিপার (Dnieper) নদীর তীরে অবস্থিত।
নিপার নদীর উৎপত্তি রাশিয়ার ভলদাই পর্বত থেকে। এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২,২০০ কিলোমিটার। দৈর্ঘ্যে এটি ইউরোপের চতুর্থ দীর্ঘতম নদী। রাশিয়া, বেলারুশ ও ইউক্রেনের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিপার নদী কৃষ্ণসাগরে পতিত হয়েছে।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
৬৪৬.
আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাসাগর কোনটি?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. উত্তর মহাসাগর 
  3. দক্ষিণ মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

উত্তর মহাসাগর (Arctic Ocean):
- উত্তর মহাসাগরকে অনেক ক্ষেত্রে আটলান্টিক মহাসাগরের একটি সাগর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- উত্তর মহাসাগর উত্তর মেরুর বেশির ভাগ অংশকে আচ্ছাদিত করে রেখেছে।
- উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়া এ তিনটি মহাদেশের উত্তর দিকে অবস্থিত উত্তর মহাসাগর যা উত্তর মেরু অঞ্চল নামে পরিচিত।
- উত্তর মহাসাগর বা আর্কটিক মহাসাগর প্রায় সারা বছর ধরে বরফ দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মহাসাগর।
- উত্তর মহাসাগরের আয়তন প্রায় ১ কোটি ৪১ লক্ষ বর্গ কি. মি.।
- এবং গড় গভীরতা প্রায় ৯৩০ মিটার।

অন্যদিকে,
- বিশ্বের বৃহত্তম মহাসাগর হলো প্রশান্ত মহাসাগর।
- বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর হলো বঙ্গোপসাগর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৭.
পদ্মা ও মেঘনা নদীর মিলনস্থলের নাম কী?
  1. গোয়ালন্দ
  2. চাঁদপুর
  3. ভোলা
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
পদ্মা নদী:
- দেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ কিলোমিটার।
- নদীটি তিন বিভাগের ১২টি জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- প্রবেশ পথ - শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
- পদ্মা নদী চাঁদপুর জেলায় মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ও চাঁদপুর জেলা ওয়েবসাইট।
৬৪৮.
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নদী কোনটি?
  1. দানিয়ুব 
  2. মারে
  3. ভলগা 
  4. রাইন 
ব্যাখ্যা
মারে নদী: 
- মারে নদী অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নদী এবং মারে-ডার্লিং অববাহিকার মূল প্রবাহ।
- এটি দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া জুড়ে স্নোই পর্বতমালা থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগরে পৌঁছাতে প্রায় ১,৫৭০ মাইল (২,৫৩০ কিমি) পথ অতিক্রম করে।
- উৎপত্তিস্থল: দ্য পাইলট পর্বতের কাছে, মাউন্ট কসিউস্কো, দক্ষিণ-পূর্ব নিউ সাউথ ওয়েলস। 
- নদীর প্রবাহপথ: পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে গ্রেট অস্ট্রেলিয়ান বাইটে পতিত হয়। 
- নদীর নামকরণ: উপনিবেশ সচিব স্যার জর্জ মারে-এর নামে
- মোট অববাহিকা এলাকা: প্রায় ৪,০৯,৮৩৫ বর্গমাইল (১,০৬১,৪৬৯ বর্গ কিমি)
- গড় বার্ষিক জলপ্রবাহ: মাত্র ৩১ ঘনফুট (০.৮৯ ঘনমিটার) প্রতি সেকেন্ড
- মারে নদী কেবল একটি প্রাকৃতিক জলপথ নয়, বরং এটি অস্ট্রেলিয়ার কৃষি, জলব্যবস্থা ও জনবসতির বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: Britannica.
৬৪৯.
Reindeer is a lake located in -
  1. Brazil
  2. Canada
  3. Peru
  4. US
ব্যাখ্যা
রেনডিয়ার হ্রদ:

- রেনডিয়ার হ্রদ উত্তর কানাডায় অবস্থিত।
- হ্রদটি ১,১০৬ ফুট (৩৩৭ মিটার) উচ্চতায় অবস্থিত।
- এর দৈর্ঘ্য ১৫২ মাইল (২৪৫ কিমি) এবং প্রস্থ ৩৫ মাইল (৫৬ কিমি)।
- পশম-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৬৫০.
নদী যখন সমুদ্র বা হ্রদে পতিত হয়, তখন সেই পতিত স্থানকে কী বলে?
  1. দোয়াব
  2. মোহনা
  3. নদীগর্ভ
  4. নদীসংগম
ব্যাখ্যা

নদী সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা:
নদীর উৎস: যেখান থেকে নদীর উৎপত্তি হয়।
মোহনা: নদী যখন সমুদ্র বা হ্রদে পতিত হয়, সেই স্থানকে মোহনা বলে।
খাঁড়ি: নদীর অধিক বিস্তৃত মোহনাকে খাঁড়ি বলে।
দোয়াব: প্রবহমান দুটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে দোয়াব বলে।
নদীসংগম: দুই বা একাধিক নদীর মিলনস্থলকে নদীসংগম বলে।

উল্লেখ্য,
উপনদী: ছোট নদী যা কোনো বড় নদীতে পতিত হয়। যেমন— তিস্তা ও করতোয়া হলো যমুনার উপনদী।
শাখানদী: মূল নদী থেকে বের হওয়া নদী। যেমন— কুমার ও গড়াই হলো পদ্মার শাখানদী।
নদী উপত্যকা: যে খাতের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় তাকে নদী উপত্যকা বলে।
নদীগর্ভ: নদী উপত্যকার তলদেশকে নদীগর্ভ বলে।
নদী অববাহিকা: উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত শাখাপ্রশাখাসহ যে বিস্তীর্ণ অঞ্চল দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র বা হ্রদে পতিত হয়, সেই সমগ্র অঞ্চলকে নদীর অববাহিকা বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫১.
আয়তনে বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ কোনটি?
  1. লেক আসাল
  2. কাস্পিয়ান সাগর
  3. বৈকাল হ্রদ
  4. লেক সুপিরিয়র
ব্যাখ্যা

 কাস্পিয়ান সাগর:
- কাস্পিয়ান সাগর পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদ বা স্থল অভ্যন্তরীণ জলাশয় (inland body of water)।
- এটি পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত হৃদ।
- এটি ককেশাস পর্বতমালার পূর্বে এবং মধ্য এশিয়ার বিশাল তৃণভূমির পশ্চিমে অবস্থিত।
- এর নাম প্রাচীন কাস্পি জনগোষ্ঠীর নাম থেকে এসেছে, যারা একসময় ট্রান্সককেশিয়াতে বাস করত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৭২,০০০ বর্গ কি.মি.। এটি মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত।

এছাড়া,
- সুপিরিয়র বিশ্বের বৃহত্তর স্বাদুপানির হ্রদ যা উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত।
- লেক আসাল পৃথিবীর সবচেয়ে লবণাক্ত হ্রদ যা আফ্রিকার জিবুতিতে অবস্থিত।
- বৈকাল পৃথিবীর গভীরতম ও প্রাচীনতম হ্রদ যা রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত।
- ভিক্টোরিয়া আফ্রিকার বৃহত্তম ও পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম হ্রদ। নীলনদের উৎপত্তি এই হ্রদ থেকে।

উৎস: Britannica.

৬৫২.
'পদ্মা' নদীর পূর্বনাম কী?
  1. জোনাই
  2. লোহিত্য
  3. দোলাই
  4. কীর্তিনাশা
ব্যাখ্যা
পদ্মা: 

- পদ্মার পূর্বনাম কীর্তিনাশা যা বাংলাদেশের প্রধান নদী। 
- এ নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।  
- এ নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী জেলার কুষ্টিয়ার উত্তর পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে। 
- অতঃপর পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিশেছে। 
- বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার।
- পদ্মার শাখানদীগুলোর মধ্যে কুমার, ভৈরব, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি, আড়িয়াল খাঁ উল্লেখযোগ্য।
- যমুনা এর পূর্বনাম জোনাই
- ব্রহ্মপুত্র এর পূর্বনাম লোহিত্য
- বুড়িগঙ্গা এর পূর্বনাম দোলাই

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৩.
এশিয়ার দীর্ঘতম নদীর নাম কী?
  1. অ্যামাজন নদী
  2. হোয়াংহো নদী
  3. ইয়াংসিকিয়াং নদী
  4. দানিয়ুব নদী
ব্যাখ্যা
ইয়াংসিকিয়াং (ইয়াংজি) নদী: 
- ইয়াংসিকিয়াং নদী চীন ও এশিয়ার দীর্ঘতম এবং বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী।

- এর মোট দৈর্ঘ্য ৩,৯১৫ মাইল (৬,৩০০ কিমি)।
- অবস্থান: চীনের মধ্য ও পূর্ব অংশ দিয়ে প্রবাহিত।
- উৎপত্তিস্থল: তিব্বত মালভূমি।
- এটি পূর্ব চীন সাগরে পতিত হয়।
- নদীটি ১০টি প্রদেশ বা অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় বা সীমান্ত গঠন করে।
- নদীর তিন-চতুর্থাংশ অংশ পর্বতশ্রেণীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
- ইয়াংসিকিয়াং নদী চীনের অর্থনীতি, পরিবহন ও কৃষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: Britannica.
৬৫৪.
জিব্রাল্টার কী?
  1. ক) উপসাগর
  2. খ) প্রণালী
  3. গ) হ্রদ
  4. ঘ) শহর
ব্যাখ্যা
জিব্রাল্টার প্রণালী আটলান্টিক এবং ভূমধ্যসাগরকে সংযুক্ত করেছে এবং আফ্রিকা(মরক্কো) ও ইউরোপ(স্পেন) মহাদেশকে পৃথক করেছে। সূত্রঃ ব্রিটানিকা এনসাইক্লোপিডিয়া।
৬৫৫.
পশ্চিমের “এলিস দ্বীপ" নামে পরিচিত কোনটি?
  1.  আলকাট্রাজ
  2.  এঞ্জেল দ্বীপ
  3.  ট্রেজার আইল্যান্ড
  4. মারিন আইল্যান্ড
ব্যাখ্যা

এঞ্জেল দ্বীপ :
- এঞ্জেল দ্বীপ সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক দ্বীপ।
- এটি উপসাগরের বৃহত্তম দ্বীপ হিসেবে পরিচিত।
- এই দ্বীপটি সান ফ্রান্সিসকো ও টিবুরনের মাঝামাঝি অবস্থানে অবস্থিত।
- টিবুরন উপদ্বীপের দক্ষিণ তীর থেকে প্রায় ১.৬ কিমি ও সান ফ্রান্সিসকো থেকে প্রায় ৫ কিমি উত্তরে অবস্থিত এঞ্জেল দ্বীপটি একসময় "পশ্চিমের এলিস দ্বীপ" নামে পরিচিত ছিল;
- কারণ বিংশ শতকের শুরুতে এখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন স্টেশন পরিচালিত হতো।

উল্লেখ্য,
- এটি মূলত মেরিন কাউন্টির টিবুরন শহরের অধীনে হলেও পূর্বাংশ সান ফ্রান্সিসকো শহর ও কাউন্টির আওতায় পড়ে।
- এখন পুরো দ্বীপটাই মূলত একটি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট পার্ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়;
- শুধু বাতিঘর ও মার্কিন কোস্ট গার্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছোট কয়েকটি অংশ এর বাইরে রয়েছে।

উৎস : Britannica.com

৬৫৬.
তেল বাণিজ্যের জন্য পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী-
  1. জিব্রাল্টার
  2. ফরমোজা
  3. হরমুজ
  4. বেরিং
ব্যাখ্যা

হরমুজ প্রণালী একটি সরু জলপথ যা পশ্চিমের পারস্য উপসাগরকে পূর্বে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে এবং আরব উপদ্বীপ থেকে ইরানকে পৃথক করেছে।
৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালীটি পারস্য উপসাগরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ওমান ও ইরানকে সংযুক্ত করেছে।
এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য দুটো লেন রয়েছে এবং প্রতিটি লেন দুই মাইল প্রশস্ত।
হরমুজ প্রণালী সংকীর্ণ হতে পারে। কিন্তু জ্বালানী তেল বহনের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহাজ চলাচল করার জন্য হরমুজ প্রণালী যথেষ্ট গভীর এবং চওড়া।
পৃথিবীতে যে পরিমাণ জ্বালানী তেল রপ্তানি হয়, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়।

উৎসঃ ব্রিটানিকা।

৬৫৭.
'নর্ড স্ট্রিম-২' পাইপলাইন প্রকল্প কোন সাগরের তলদেশে অবস্থিত?
  1. ক) কাস্পিয়ান সাগর
  2. খ) কৃষ্ণ সাগর
  3. গ) ভূমধ্যসাগর
  4. ঘ) বাল্টিক সাগর
ব্যাখ্যা

নর্ড স্ট্রিম ২ হলো বাল্টিক সাগরের মধ্য দিয়ে রাশিয়া থেকে জার্মানি পর্যন্ত 1,234 কিলোমিটার দীর্ঘ (767 মাইল) প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন।
- নর্ড স্ট্রিম ১- এর অনুরূপ রুট অনুসরণ করে 2011 সালে পাইপলাইনের নির্মাণ শুরু হয়েছিল।
- 2015 সালে চালু হওয়া নর্ড স্ট্রিম 2 পাইপলাইনটি বাল্টিক সাগরের মাধ্যমে সরাসরি রাশিয়া এবং জার্মানির সাথে সংযোগ স্থাপন করে।
- দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের বিলম্বের কারণে নির্মাণে বেশ কয়েক বছর লেগেছে।
- নর্ড স্ট্রিম ২- এর অল্প কিছু জ্বালানি প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।
- পাইপলাইনের মালিক গাজপ্রম।
- এটি একটি রাশিয়ান রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি।
- গ্যাস আমদানির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এটি প্রয়োজন।
- জার্মানির জ্বালানি খাত পাইপলাইনটিকে একটি কার্যকর বাণিজ্যিক প্রকল্প হিসেবেও দেখে।

উৎস: The Nord Stream 2 pipeline - European Parliament, europa.eu.

৬৫৮.
মুজিবনগর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) পশুর
  2. খ) ভৈরব
  3. গ) রুপসা
  4. ঘ) কপোতাক্ষ
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকার। এই সরকার ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে। এই সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। 
মুজিবনগর ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত।

ভৈরব নদী
(Bhairab River) যশোর-খুলনা এলাকার দীর্ঘতম নদী। 
মালদহের যেস্থানে শ্রুতকীর্তি গঙ্গায় পড়েছে, তারই অপর পাড়ে ভৈরবের উৎপত্তি। বেশ কিছু পথ অতিক্রম করার পর ভৈরব গঙ্গার অপর এক দক্ষিণগামী শাখানদী জালাঙ্গী নদীর সঙ্গে মিশেছে। 
পরবর্তীতে ভৈরব মেহেরপুরের পশ্চিম পাশ দিয়ে সুবলপুর গ্রামের কাছে মাথাভাংগার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। দর্শনা রেলস্টেশনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ থেকে ভৈরব নদী মাথাভাংগা নদী থেকে বিচ্যুত হয়ে যশোরে প্রবেশ করে কোটচাঁদপুর পর্যন্ত পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে পরে দক্ষিণমুখী হয়েছে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
৬৫৯.
পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. ইয়াংজি
  2. মিসিসিপি
  3. নীল নদ
  4. কঙ্গো
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস ।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত: সাদা নীল এবং নীল নীল।

অন্যান্য দীর্ঘতম নদীসমূহ,
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- ইয়াংজি নদীর দৈর্ঘ্য- ৬৩০০ কি.মি।
- মিসিসিপি নদীর দৈর্ঘ্য- ৫৯৭১ কি.মি।
- কঙ্গো নদীর দৈর্ঘ্য ৪৭০০ কি.মি।

তথ্যসূত্র- Britannica.com & Worldatlas.com
৬৬০.
সুপ্রাচীন ‘ম্যানলি লেক’ কোথায় অবস্থিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. নিউজিল্যান্ড
ব্যাখ্যা

ম্যানলি লেক:
- যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ডেথ ভ্যালি’ উপত্যকায় অবস্থিত লাখো বছর পুরনো ম্যানলি লেক।
- এর ইতিহাস ছড়িয়ে আছে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৮৬ হাজার বছর আগের সময়ে।
- এটি পুরো উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে নিচু ভূখণ্ড- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৮২ ফুট নিচে এর অবস্থান।
- গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, একসময় ম্যানলি লেকের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১৬০ কিলোমিটার।

সম্প্রতি,
- ডেথ ভ্যালি এলাকায় টানা ঝড়বৃষ্টি হওয়ায় হ্রদটি আবার জেগে উঠেছে।

তথ্যসূত্র- প্রথম আলো। [link]

৬৬১.
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কোন নদী অবস্থিত?
  1. ক) গোমতী
  2. খ) তিতাস
  3. গ) যমুনা
  4. ঘ) পদ্মা
ব্যাখ্যা

নদী-মাতৃক বাংলাদেশের মধ্য- পূর্বাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তিতাস-বিধৌত জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত সংলগ্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৮৬০ ইং সালে মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে ত্রিপুরা জেলার অর্ন্তভূক্ত ছিল। ভারত বিভাগের পর কুমিল্লা জেলার একটি মহকুমা হিসেবে থাকে। ১৯৮৪ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
শিল্প-সংস্কৃতি, শিক্ষা-সাহিত্যে দেশের অন্যতম অগ্রণী জনপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ, ব্যারিস্টার এ রসুল, নবাব স্যার সৈয়দ শামসুল হুদা, কথা সাহিত্যিক অদ্বৈত মল্ল বর্মণ, কবি আবদুল কাদির, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তসহ বহু জ্ঞানী গুনীর জন্মধন্য জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় অর্থনীতিতেও ব্যাপক অবদান রাখছে। তিতাস গ্যাস ফিল্ড, সালদা গ্যাস ফিল্ড, মেঘনা গ্যাস ফিল্ড দেশের এক-তৃতীয়াংশ গ্যাস সরবরাহ যোগায়। আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের ২য় বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। আশুগঞ্জ সার কারখানা দেশের ইউরিয়া সারের অন্যতম বৃহত্তম শিল্প কারখানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্প সংস্কৃতির ধারক ও বাহক এবং দলমত নির্বিশেষে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল মিলন মেলা হিসেবে এ দেশের মানচিত্রে বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।
উৎসঃ বাংলাদশ সরকারের ওয়েবসাইট।

৬৬২.
বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর জলরাশিকে কয়টি মহাসাগরে ভাগ করেছেন?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. ছয়টি
  4. সাতটি
ব্যাখ্যা
মহাসাগর (Ocean):
-অতি প্রকাণ্ড ও লবণযুক্ত বিপুল জলরাশি যা পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে, তাকেই মহাসাগর বা মহাসমুদ্র বলে
-মহাসাগর পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৭০.৯% স্থান দখল করে আছে। অর্থাৎ পৃথিবীর একভাগ স্থল ও তিনভাগ জল রয়েছে। এই একভাগ স্থলের মধ্যে ৭টি মহাদেশ রয়েছে। এবং বাকি অংশ জলে পরিপূর্ণ। এই জলের অংশকেই বিভিন্ন মহাসাগরে ভাগ করা হয়েছে এবং আলাদা আলাদা নাম দেওয়া হয়েছে।
-একটি উন্মুক্ত বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তীর্ণ জায়গায় জল জমা হয়ে থাকলেই তা মহাসাগর হয়ে যায়। মহাসাগরের অর্ধেকেরও বেশি জায়গার গড় গভীরতা ৩,০০০ মিটার বা ৯,৮০০ বর্গফুটেরও বেশি।
-বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর জলরাশিকে আলাদা আলাদা পাঁচটি ভাগে ভাগ করেছেন এবং আলাদা আলাদা নাম দিয়েছেন। এটিকেই পাঁচটি মহাসাগর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
-বিশ্বে মোট পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে:
১। প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean)
২। আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean)
৩। ভারত মহাসাগর (Indian Ocean)
৪। উত্তর বা সুমেরু মহাসাগর (Arctic Ocean)
৫। দক্ষিণ বা কুমেরু মহাসাগর (Southern Ocean)

তথ্যসূত্র: Live MCQ ক্লাস লেকচার এবং ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৩.
নিচের কোন দেশটি কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত নয়?
  1. তুরস্ক
  2. বুলগেরিয়া
  3. ইউক্রেন
  4. সার্বিয়া
ব্যাখ্যা

সার্বিয়া একটি স্থলবেষ্টিত দেশ, তাই এটি কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত নয়।
-------------------------------
• কৃষ্ণ সাগর :
- কৃষ্ণ সাগর পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার কোকেশীয় অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত।
- এটি আটলান্টিক মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তীয় সাগর।
- এটি ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থান করে। 
- এর সীমানায় রয়েছে- বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন, রাশিয়া, জর্জিয়া ও তুরস্ক।
- কৃষ্ণ সাগরের দক্ষিণ-মধ্য অংশের সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ২,২১০ মিটার (৭,২৫০ ফুট)।
- কৃষ্ণ সাগরে অবস্থিত প্রধান বন্দরগুলো হল—
- ওডেসা (ইউক্রেন), নভোরোসিস্ক (রাশিয়া), কনস্ট্যান্টা (রোমানিয়া), বার্না (বুলগেরিয়া) এবং সামসুন (তুরস্ক)। 

  উল্লেখ্য,
- কৃষ্ণ সাগর বসফরাস প্রণালীর মাধ্যমে মর্মর সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত।
- কৃষ্ণ সাগরকে দারদানেলিস প্রণালী ভূমধ্যসাগর ও এজিয়ান সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
- এটি পূর্ব ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে।
- এছাড়াও, কৃষ্ণ সাগর ক্রার্চ প্রণালী দ্বারা আজভ সাগরের সঙ্গে যুক্ত। 

উৎস:
Britannica;
কালের কণ্ঠ পত্রিকা। 

৬৬৪.
পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল-প্রাচীর 'গ্রেট বেরিয়ার রীফের' অবস্থান-
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. দক্ষিণ মহাসাগর
ব্যাখ্যা

প্রশান্ত মহাসাগর:
- পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর।
- এর সর্বোচ্চ গভীরতা ১০,৯২৮ মিটার এবং গড় গভীরতা ৪০৭৯ মিটার।
- প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন- ১৬ কোটি ৬০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
- পৃথিবীর গভীরতম স্থান প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেজ ।
- এই স্থানের গভীরতা ১১০৩৩ মিটার বা ৩৬১৯৯ফুট।
- পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল-প্রাচীর 'গ্রেট বেরিয়ার রীফ' (Great Barrier Reef) প্রশান্ত মহাসাগরের অস্ট্রেলিয়ার উত্তরপূর্ব উপকূলে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- আটলান্টিক মহাসাগর ২য় বৃহত্তম মহাসাগর । এর গভীরতম স্থানের নাম ন্যায়ার্স (পোয়ের্তেরিকা)।
- উত্তর বা আর্কটিক মহাসাগর আয়তনে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর ও সর্বাপেক্ষা কম গভীর একটি মহাসাগর।
- ভারত মহাসাগরের গভীরতম স্থানের নাম সুন্দা ট্রেঞ্চ।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।

৬৬৫.
গার্দাফুই অন্তরীপ কোথায় অবস্থিত?
  1. চিলি
  2. ভারত
  3. স্পেন
  4. সোমালিয়া
ব্যাখ্যা

অন্তরীপ:
- ভূপৃষ্ঠের কোন অংশ ক্রমশ সরু হয়ে কোন জল-অংশে প্রবেশ করলে সেই সংকীর্ণ অংশকে অন্তরীপ বলা হয়।
-গার্দাফুই অন্তরীপ সোমালিয়ায় অবস্থিত।

এছাড়াও, 
- ট্রাফালগার অন্তরীপ : স্পেন
- উত্তমাশা অন্তরীপ : দক্ষিণ আফ্রিকা
- হর্ন অন্তরীপ : চিলি
- মরিস জেসাপ অন্তরীপ : গ্রিনল্যান্ড
- কন্যাকুমারী অন্তরীপ : ভারত।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস। 

৬৬৬.
বাংলাদেশের নদীমালাকে কয়টি প্রণালীতে বিভক্ত করা যায়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নদী-প্রণালী:
- বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ।
- দেশে বর্তমানে জীবন্ত নদ-নদীর সংখ্যা ১০০৮টি।
- সব মিলিয়ে দেশে ২২ হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘ নদীপথ রয়েছে।
- বাংলাদেশের নদীমালাকে চারটি নদী প্রণালীতে বিভক্ত করা যায়
- যথা:
১. গঙ্গা নদী প্রণালী
২. ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী প্রণালী
৩. মেঘনা নদী প্রণালী
৪. দক্ষিণ-পূর্বাংশের নদী প্রণালী।

উৎস: i) ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৬৬৭.
মহানন্দা নদী কোন জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে?
  1. বান্দরবান
  2. নেত্রকোনা
  3. যশোর
  4. পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা

মহানন্দা:
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দার্জিলিং জেলার নিকটবর্তী মহালড্রীম পর্বতে।
- জলপাইগুড়ি জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের সর্বত্র উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- এরপর বাংলাবান্ধা থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করেছে।
- অত:পর ভারতের পূর্ণিয়া ও মালদহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাপাইনবাবগঞ্জের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করে গোদাগাড়ির কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে। 
- মহানন্দার উপনদী পুনর্ভবা, নাগর, কুলিক, ট্যাংগন, পাগলা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬৮.
গারো পাহাড়ের দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. নিতাই
  2. গণেশ্বরী
  3. সিমসাং
  4. বাঙালি
ব্যাখ্যা
গারো পাহাড়:
- বাংলাদেশের বৃহত্তম ও সবচেয়ে উঁচু পাহাড় গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণি।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাগুলো এ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
- গারো পাহাড়ের মোট আয়তন প্রায় ৮ হাজার ১৬৭ বর্গকিলোমিটার।
- গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম নকরেক, যা ভারত অংশে অবস্থিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৪ হাজার ৬৫২ ফুট বা এক হাজার ৪০০ মিটার।
- গারো পাহাড়ের দীর্ঘতম নদীটির নাম সিমসাং।
- তবে গারো পাহাড়ের প্রধান শহর তুরা।

⇒ সোমেশ্বরী/সিমসাং নদী:
- ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড়ের বিঞ্চুরীছড়া ও বাঙাছড়া প্রভৃতি ঝর্ণাধারা ও পশ্চিম দিক থেকে রমফা নদীর স্রোতধারা একত্র হয়ে সোমেশ্বরী নদীর সৃষ্টি হয়।
- এক সময় এই নদীটি সিমসাং নামে পরিচিত ছিল।
- নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জ জেলার নদী সুমেশ্বরী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় হতে উৎপন্ন হয়ে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বাউলাই (বালই) নদীতে মিশেছে।

অন্যদিকে,
- নিতাই নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। নদীটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম গারো পাহাড় জেলা এবং দক্ষিণ গারো পাহাড় জেলা এবং বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার একটি নদী।
- গণেশ্বরী নদী নেত্রকোনা জেলার কমলাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নের সাত শহীদের মাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত। নদীটি ভারতের মেঘালায় রাজ্যের পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে বাংলাদেশের নেত্রকোনা হয়ে প্রবেশ করেছে। 
- বাঙালি নদীর উৎপত্তি নীলফামারী জেলার তিস্তা নদী থেকে। নদীটি গাইবান্ধা ও বগুড়া অংশে এসে বাঙালি নাম ধারণ করেছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৬৯.
টিপাইমুখ বাঁধ বাংলাদেশের কোন নদীর উজানে নির্মিত?
  1. পদ্মা
  2. যমুনা
  3. কর্ণফুলী
  4. বরাক
ব্যাখ্যা
টিপাইমুখ বাঁধ: 

- নদীর পানির স্তর উত্তোলন বা নৌচলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নাব্য রক্ষার জন্য অথবা সেচ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য নদীর উপর নির্মিত প্রতিবন্ধককে বাধ বলে। 
- টিপাইমুখ বাধ ভারতের মণিপুর রাজ্যে অবস্থিত। 
- এটি বাংলাদেশের বরাক নদের উজানে নির্মিত।
- টিপাইমুখ নামের গ্রামে বরাক এবং টুইভাই নদীর মিলনস্থল। 
- এ বাধের উচ্চতা ১৬২.৮ মিটার। 
- বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বাধ: 
• তিস্তা বাঁধ লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলাধীন দুয়ানি নামক স্থানে তিস্তা নদীর উপর নির্মিত। 
• বুড়ি তিস্তা বাঁধ  নীলফামারি জেলার ডিমলা এবং জলঢাকা উপজেলায় বুড়ি তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁধ।
• টাঙ্গন বাঁধ  টাঙ্গন নদীর উপর নির্মিত।
• মনু বাঁধ মৌলভীবাজার জেলার মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় নির্মিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬৭০.
আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাসাগর কোনটি?
  1. দক্ষিণ মহাসাগর
  2. উত্তর মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• উত্তর মহাসাগর (Arctic Ocean):
- উত্তর মহাসাগরকে অনেক ক্ষেত্রে আটলান্টিক মহাসাগরের একটি সাগর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- উত্তর মহাসাগর উত্তর মেরুর বেশির ভাগ অংশকে আচ্ছাদিত করে রেখেছে।
- উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়া এ তিনটি মহাদেশের উত্তর দিকে অবস্থিত উত্তর মহাসাগর যা উত্তর মেরু অঞ্চল নামে পরিচিত।
- উত্তর মহাসাগর বা আর্কটিক মহাসাগর প্রায় সারা বছর ধরে বরফ দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মহাসাগর।
- উত্তর মহাসাগরের আয়তন প্রায় ১ কোটি ৪১ লক্ষ বর্গ কি. মি.।
- এবং গড় গভীরতা প্রায় ৯৩০ মিটার।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭১.
'গজলডোবা বাঁধ' কোন নদীর উজানে অবস্থিত?
  1. তিস্তা
  2. সুরমা
  3. মেঘনা
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা
গজলডোবা বাঁধ:
- তিস্তা নদী বাংলাদেশের উত্তরাংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী।
- এই নদী হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে ভারতের সিকিম, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এই নদীর বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের অংশেই ব্যারেজ বা বাঁধ আছে।
- বাংলাদেশ অংশের তিস্তা নদীর বাঁধ রংপুর বিভাগের নীলফামারী জেলায়, নাম তিস্তা ব্যারেজ।
- ভারতে তিস্তা নদীর ওপর একাধিক বাঁধ আছে। তার মাঝে একটি হল জলপাইগুড়ি’র গজলডোবা বাঁধ।
- ভারত তিস্তা নদীর উজানে ১৯৯৮ সালে স্থাপন করে গজলডোবা বাঁধ।

উল্লেখ্য,
- প্রধানত তিস্তার পানি তিস্তা-মহানন্দা খালে পুনার্বাহিত করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই বাঁধ স্থাপন করা হয়। 
- এই বাঁধের মাধ্যমে তিস্তার পানি ভারতের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় বাংলাদেশে তিস্তা সেচ প্রকল্প অচল হয়ে পড়েছে।

তথ্যসূত্র - বিবিসি।
৬৭২.
‘পোর্টোরিকো’ নামটি কোন মহাসাগরের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. উত্তর মহাসাগর
ব্যাখ্যা
গভীর সমুদ্রখাত:
→ গভীর সমুদ্রের সমভূমিতে অর্থাৎ সমুদ্রের তলদেশে মাঝে মাঝে যে সুগভীর খাত থাকে সেগুলোকে গভীর সমুদ্র খাত বলে। এই সমুদ্র খাত অল্প পরিসর জায়গা জুড়ে থাকে।
→ এদের গভীরতা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৫,৪০০ মিটারের অধিক। পাশাপাশি অবস্থিত মহাদেশীয় ও সামুদ্রিক প্লেট সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট হওয়ায় সমুদ্রখাত প্লেট সীমানায় অবস্থিত। অর্থাৎ আগ্নেয়গিরি ও ভ‚মিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে সমুদ্রখাত বেশি দেখতে পাওয়া যায়।
→ মহাসাগরগুলোর মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরে গভীর সমুদ্রখাতের সংখ্যা অধিক। এখানকার খাতগুলোর মধ্যে মারিয়ানা খাত সর্বাপেক্ষা গভীর। এর গভীরতা ১০,৮৬০ মিটার এবং এটি পৃথিবীর গভীরতম খাত।
→ এছাড়া আটলান্টিক মহাসাগরের পোর্টোরিকো খাত (৮,৫৩৮ মিটার)।
→ ভারত মহাসাগরের সুন্ডা খাত (৭,৩০৩ মিটার) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৩.
‘বাংলাদেশ রোড’ কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) ভিয়েতনাম
  2. খ) মরক্কো
  3. গ) মালদ্বীপ
  4. ঘ) দক্ষিণ সুদান
ব্যাখ্যা
সম্প্রতি দক্ষিণ সুদানের একটি সড়কের নাম রাখা হয় ‘বাংলাদেশ রোড’। যেটি নির্মান করে সেখানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীরা।
সূত্র: livemcq সাম্প্রতিক সমাচার-আগষ্ট, ২০২০।
৬৭৪.
মারিয়ানা ট্রেঞ্চে অবস্থিত সর্বাধিক গভীর বিন্দুটির নাম কী?
  1. Challenger Deep
  2. Challenger Abyss
  3. Pacific Deep
  4. Mariana Pit
ব্যাখ্যা

• মারিয়ানা ট্রেঞ্চ (Mariana Trench):
- মারিয়ানা ট্রেঞ্চ বিশ্বের গভীরতম স্থান।
- এর অবস্থান হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ ও ফিলিপাইনের মধ্যবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে।
- এর নামকরণ করা হয় নিকটবর্তী মারিয়ানা দ্বীপ ও অস্ট্রিয়ার তৎকালীন রানী মারিয়ানার নামে।
- মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা মাপার উদ্যোগ নেয়া হয় ১৮৭৫ সালে।
- তৎকালীন ব্রিটিশ জরিপ পরিচালনাকারী জাহাজ HMS Challenger।
- তখন গভীরতা নির্ণয় করা হয় ২৬,৮৫০ ফুট।
- পরবর্তীতে আরো কয়েকদফা মাপার পর ২০১০ সালে এর সর্বোচ্চ গভীরতা মাপা হয় ৩৬,০৭০ ফুট।
- বর্তমানে এই গভীরতাই গ্রহণযোগ্য।
- এর গভীরতম অংশকে চ্যালেঞ্জার ডিপ বা Challenger Deep বলা হয়।

তথ্যসূত্র:  i) World Atlas 
ii) National Geographic Society.

৬৭৫.
'সােয়াচ অব নাে গ্রাউন্ড' কী?
  1. ক) একটি দেশের নাম
  2. খ) ম্যানগ্রোভ বন
  3. গ) একটি দ্বীপ
  4. ঘ) সাবমেরিন ক্যানিয়ন
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground):
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত, যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত। গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো। মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে। বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
- সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ডটি বঙ্গোপসাগরের ১৪ কিলোমিটার প্রশস্ত গভীর সমুদ্রের উপত্যকা। এই উপত্যকার গভীরতম রেকর্ড করা অঞ্চলটি প্রায় ১৩৫০ মি।
- সাবমেরিন উপত্যকাটি বেঙ্গল ফ্যান বা বঙ্গ পাখার অংশ, বিশ্বের বৃহত্তম সাবমেরিন পাখা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৭৬.
তিনদিকে স্থল দ্বারা বেষ্টিত জল রাশিকে বলা হয়-
  1. মহাসাগর
  2. হৃদ
  3. সাগর
  4. উপসাগর
ব্যাখ্যা
উপসাগর:
- উপসাগর হলো সাধারণত তিনদিকে স্থল দ্বারা বেষ্টিত এবং একদিকে সাগর বা মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত লবণাক্ত জলভাগ।
- স্থলভাগের অভ্যন্তরে ব্যাপক অনুপ্রবেশের কারণে উপসাগরের পানি সাধারণত সাগর বা মহাসাগরের তুলনায় শান্ত হয়।
- উপসাগরগুলো অন্য কোন উপসাগরের সঙ্গেও সংযুক্ত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ, জেমস উপসাগর হাডসন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত।
- অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত এবং অধিকতর গভীর উপসাগরগুলোকে ইংরেজিতে গালফ (gulf) বলা হয়।
- যেমন-পারস্য উপসাগর (Persian Gulf)।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের একটি উপসাগর (Bay)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৭.
বাংলাদেশের পদ্মা ও যমুনা নদীর শাখা নদীগুলো কোনগুলো?
  1. গড়াই ও মধুমতী
  2. মহানন্দা ও বংশী
  3. মহানন্দা ও আত্রাই
  4. গড়াই ও ধলেশ্বরী
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের পদ্মা নদীর শাখা - গড়াই।
• বাংলাদেশের যমুনা নদীর শাখা - ধলেশ্বরী।

• পদ্মা:

- উৎপত্তি: হিমালয় পর্বতের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে।
- ভারতের মধ্যে গঙ্গা নামে প্রবাহিত হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ।
- বাংলাদেশের মধ্যে প্রবাহ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ → রাজশাহী → কুষ্টিয়া → রাজবাড়ি (যমুনার সাথে মিলিত) → চাঁদপুর (মেঘনা নদীর সাথে মিলিত)।
- শাখা নদী: মধুমতি, আড়িয়াল খাঁ, ভৈরব, মাথাভাঙ্গা, কুমার, কপোতাক্ষ, শিবসাত, পশুর, বড়াল, গড়াই, ইছামতি, নবগঙ্গা, কালীগঙ্গা, চিত্রা, তেঁতুলিয়া, বিষখালী, কীর্তনখোলা, কাউখালী, আগুনমুকা।

- উপনদী: মহানন্দা, টাঙ্গন, নাগর, পুনর্ভবা, কুলিক।

• যমুনা : 
- ১৭৮৯ সালের ভূমিকম্পে ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের যে শাখাটি বের হয় সেটিই বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী যমুনা। 
- যমুনা দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়। 
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। 
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা। 
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম। 

উৎস:
i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৮.
যমুনা নদীর প্রধান উপনদী কোনটি?
  1. ক) শীতলক্ষ্যা
  2. খ) গোমতি
  3. গ) ধরলা
  4. ঘ) ধলেশ্বরী
ব্যাখ্যা
যমুনা (Jamuna) 
• ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে। এটি গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্বদিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম নদী।
• যমুনার প্রধান উপনদী হলো ধরলা, তিস্তা, করতোয়া ও আত্রাই
• এছাড়া যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা। 

অন্যদিকে, 
• মেঘনা নদীর উপনদীগুলো হলো - শীতলক্ষ্যা, গোমতি, ডাকাতিয়া, ধলেশ্বরী, ব্রহ্মপুত্র।  

তথ্যসূত্র:- ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৯.
’সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড‘ কী? 
  1. পাহাড়ী দ্বীপ
  2. সমুদ্র খাদ
  3. জলপ্রপাত
  4. হাওড়
ব্যাখ্যা

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- এটি একটি সমুদ্র খাদ।

- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground)  খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত,
- যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের আরও কিছু বদ্বীপমুখী খাদ দেখতে পাওয়া যায়,
- যেমন সিন্ধু নদীর মোহনার অদূরে সিন্ধু খাদ, মিসিসিপি বদ্বীপের পশ্চিম পাশে মিসিসিপি খাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৬৮০.
ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত নিম্নের কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ভেনেজুয়েলা
  2. জিম্বাবুয়ে
  3. জাম্বিয়া
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত:
- ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত পৃথিবীর দীর্ঘতম জলপ্রপাত।
- এটি আফ্রিকা মহাদেশের দুটি দেশ জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের সীমানায় অবস্থিত।
- দুই দেশের সীমান্তবর্তী নদী ‘জাম্বেজি’ থেকেই এর উৎপত্তি।

⇒ পানি পড়ার সময় প্রচণ্ড আওয়াজ হয় বলে এর স্থানীয় নাম ‘মোজি-ওয়া-তুনিয়া’।
- উচ্চতা প্রায় ১০৮ মিটার এবং চওড়ায় প্রায় ১,৭০৩ মিটার।
- প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯৩৫ ঘনমিটার পানি নিচে গড়িয়ে পড়ে।

⇒ ১৮৫৫ সালে ব্রিটিশ অভিযাত্রী ডেভিড লিভিংস্টোন জলপ্রপাতটি দেখে এর নামকরণ করেন রাণী ভিক্টোরিয়ার নামে।
- সে সময় থেকেই ভিক্টোরিয়া ফলস নামে পরিচিতি পায়।
- ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ে সরকার পুনরায় এর নামকরণ করে ‘মোজি-ওয়া-তুনিয়া ফলস’।
- জলপ্রপাতের অন্যতম আকর্ষণীয় দৃশ্য এখানকার জলীয়বাষ্পে আলো পড়ে রংধনুর সৃষ্টি হওয়া।
- ১৯৮৯ সালে ইউনেসকো ‘ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত’ এবং ‘মোজি-ওয়া-তুনিয়া জলপ্রপাত’ উভয় নামেই বিশ্ব ঐতিহ্যর অন্তভুক্ত করে।

উৎস: Britannica.
৬৮১.
নিচের কোন সাগরটি আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত রয়েছে?
  1. রস সাগর
  2. স্কটিয়া সাগর
  3. ভূমধ্যসাগর
  4. ডেভিস সাগর
ব্যাখ্যা
→ ভূমধ্যসাগর আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত রয়েছে।
• আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean): 

- আটলান্টিক মহাসাগর উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকাকে ইউরোপ এবং আফ্রিকা মহাদেশ হতে বিচ্ছিন্ন করেছে।
- এটি আফ্রিকা এবং ইউরোপ-এর পশ্চিমে এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব পাশে অবস্থিত।
- বিষুবরেখা এ মহাসাগরকে দুইটি ভাগে ভাগ করেছে;
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর এবং দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর।
- আটলান্টিক মহাসাগরের আয়তন ৭ কোটি ৬৮ লক্ষ বর্গ কি. মি.।
- এবং গড় গভীরতা প্রায় ৩,৯২৬ মিটার।
- এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- আটলান্টিক মহাসাগর-এর নামের প্রথম অংশ গ্রিক পুরাণ অ্যাটলাস বোঝায়।
- এটি পৃথিবীর জলভাগের প্রায় ২৯% এলাকা জুড়ে রয়েছে।
- যা পৃথিবীর মোট জলভাগের প্রায় ছয় ভাগের একভাগ।
- আটলান্টিক মহাসাগর অনেকটা ইংরেজি S এর মত।
- পুয়ের্তোরিকো ট্রেঞ্চ (Puerto Rico Trench) আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম খাত।
- যার গড় গভীরতা প্রায় ৯,২১৯ মিটার।
- এ মহাসাগরের তলদেশের মধ্যভাগে শৈলশিরা (Mid-Atlantic Ridge) রয়েছে।

আটলান্টিক মহাসাগরের সাগর এবং উপসাগরসমূহ:
- ভূমধ্যসাগর, বাল্টিকসাগর, কৃষ্ণ সাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর, উত্তরসাগর,  মেক্সিকো উপসাগর।

অপরদিকে,
- দক্ষিণ মহাসাগরের সাগরসমূহ:
- ডেভিস সাগর  আমুন্ডসেন সাগর, বেলিং হুসেন সাগর, রস সাগর, স্কটিয়া সাগর, Weddell সাগর, কিং হ্যাকোন সাগর, Lazarev সাগর, ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮২.
কোনটি আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলের স্থানীয় বায়ু-
  1. ক) খামসিন
  2. খ) বোরা
  3. গ) মিস্ট্রাল
  4. ঘ) চিনুক
ব্যাখ্যা
স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ। রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরক্কো, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৬৮৩.
নীলনদের অববাহিকা কতটি দেশ জুড়ে বিস্তৃত?
  1. ক) ৭
  2. খ) ১১
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ১৪
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী হলো আফ্রিকার নীলনদ। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৬৫০ কিলোমিটার। এটি ভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে হোয়াইট নীল নামে উৎপত্তি লাভ করেছে এবং ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়েছে। তবে সুদানে ব্লু নীল এবং আতবারা আরও দুটি ধারা এর সাথে যুক্ত হয়েছে। নীলনদের অববাহিকা ১১টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত। মিশরকে নীলনদের দান বলা হয়।
সূত্রঃ এনসাক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৬৮৪.
ঋজুক জলপ্রপাত অবস্থিত-
  1. ক) থানচি
  2. খ) রুমা
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) বড়লেখা
ব্যাখ্যা
ঋজুক জলপ্রপাত অবস্থিত বান্দরবানের রুমায়।
৬৮৫.
‘পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ’ (Puerto Rico Trench) কোথায় অবস্থিত?
  1. আটলান্টিক মহাসাগরে
  2. ভারত মহাসাগরে
  3. ক্যারিবিয়ান সাগরে
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা

পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ হচ্ছে - আটলান্টিক মহাসাগর এবং ক্যারিবিয়ান সাগরের গভীরতম অংশ।

• আটলান্টিক মহাসাগর:
- পৃথিবীর মোট আয়তনের পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে আটলান্টিক মহাসাগর।
- এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- এই মহাসাগরের মোট আয়তন ১০৬.৪৬ মিলিয়ন (১০৬,৪৬০,০০০) বর্গকিলোমিটার।
- এর গড় গভীরতা ১০ হাজার ৯২৫ ফুট।

- এর পশ্চিমে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ এবং পূর্বে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ।
- উত্তর দিকে ‘উত্তর মহাসাগর’ এবং দক্ষিণে ‘দক্ষিণ মহাসাগর’।
- রহস্যঘেরা বারমুডা ট্রায়াঙ্গল (যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি সৈকত, পুয়ের্তো রিকো দ্বীপ ও বারমুডা দ্বীপের মাঝামাঝি অংশ) এই মহাসাগরেই।
- পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ আটলান্টিক মহাসাগর এবং ক্যারিবিয়ান সাগরকে পৃথক করেছে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ পত্রিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

৬৮৬.
মিয়ানমার হতে যে নদীগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তার নাম কী?
  1. ক) পদ্মা, নাফ, মাতামুহুরি
  2. খ) সাঙ্গু, নাফ, মাতামুহুরি
  3. গ) সাঙ্গু, নাফ, যমুনা
  4. ঘ) মেঘনা, নাফ, সুরমা
ব্যাখ্যা
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা নদী তিনটি । নদীগুলো হলো নাফ, মাতামুহুরী ও সাঙ্গু।
Source: jugantor.com
৬৮৭.
পারস্য উপসাগর এর উপকূলবর্তী দেশ নয় কোনটি?
  1. ইরান
  2. সংযুক্ত আরব আমিরাত
  3. জর্ডান
  4. কাতার
ব্যাখ্যা
পারস্য উপসাগর: 
- পারস্য উপসাগর একটি মেডিটেরেনিয়ান সাগর, যা ভারত মহাসাগরের অংশ এবং পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত।
- এটি গালফ অব ওমানের সম্প্রসারণ এবং পূর্বদিকে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত।
- উপকূলীয় দেশসমূহ: ইরান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ইরাক ও কুয়েত। 
- পারস্য উপসাগর তেল ও গ্যাস সম্পদের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ।

ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য: 
- আয়তন: প্রায় ২,৫১,০০০ বর্গকিমি।
- সর্বোচ্চ গভীরতা: ৯০ মিটার।
- গড় গভীরতা: ৫০ মিটার।
- উপকূলরেখার মোট দৈর্ঘ্য: ৫,১১৭ কিমি।
- সর্বাধিক উপকূলরেখা: ইরান (১,৫৩৬ কিমি)।

উৎস: World Atlas
৬৮৮.
ম্যাকমোহন লাইন কোন কোন দেশের সীমানা নির্ধারণ করে?
  1. ভারত ও পাকিস্তান
  2. চীন ও ভারত
  3. চীন ও রাশিয়া
  4. পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
• সীমারেখা:
ভারত - চীন এর মধ্যবর্তী লাইন - ম্যাকমোহন লাইন

অপরদিকে -
- লাইন অব কন্ট্রোল’ - ভারত-পাকিস্তান।
- ডুরান্ড লাইন - পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

উৎস:ব্রিটানিকা
৬৮৯.
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে পৃথককারী রেখা কোনটি?
  1. ডুরান্ড লাইন
  2. র‍্যাডক্লিফ লাইন
  3. ম্যাকমোহন লাইন
  4. লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল
ব্যাখ্যা
ডুরান্ড লাইন:
- আফগানিস্তান ও ব্রিটিশ ভারতের মধ্যকার নির্ধারিত সীমান্ত।
- ১৮৯৩ সালে এটি নির্ধারণ করা হয়। 
- বর্তমানে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
- ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইন কারাকোরাম পর্বত, খাইবার পাস ইত্যাদি স্থান অতিক্রম করেছে।
- এটি আফগানিস্তানের ১২ টি প্রদেশ এবং পাকিস্তানের ৩ টি প্রদেশে বিস্তৃত।
এছাড়া,
- র‍্যাডক্লিফ লাইন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সীমান্তরেখা।
- ম্যাকমোহন লাইন ও লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল ভারত ও চীনের মধ্যকার সীমান্তরেখা।


উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৬৯০.
পানি প্রবাহের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নদী - 
  1. হোয়াংহো নদী
  2. নীল নদ
  3. আমাজন নদী
  4. টাইগ্রীস নদী
ব্যাখ্যা

• আমাজন নদী:
- দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ নদী।
- এবং পৃথিবীর বৃহত্তম জলপ্রবাহ ও অববাহিকার অধিকারী।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পানি প্রবাহিতকারী নদী হিসেবে পরিচিত।
- অবস্থান: দক্ষিণ আমেরিকা, ৯টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- ব্রাজিল, পেরু, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, বোলিভিয়া, গায়ানা, সুরিনাম, ফরাসি গায়ানা।
- উৎস: পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা।
- দৈর্ঘ্য: প্রায় ৭,০৬২ কিলোমিটার (নীল নদীর পর দ্বিতীয় দীর্ঘতম,)
- প্রবাহের গন্তব্য: অটলান্টিক মহাসাগর।
- পানি প্রবাহ: পৃথিবীর মোট নদী প্রবাহের ২০% নিয়ন্ত্রণ।
- চ্যালেঞ্জ: বন উজাড়, পরিবেশ দূষণ।

উৎস: Britannica.

৬৯১.
সকোত্রা দ্বীপ কোথায় অবস্থিত?
  1. লোহিত সাগর
  2. আরব সাগর
  3. ভূমধ্যসাগর
  4. পারস্য উপসাগর
ব্যাখ্যা
- সকোত্রা দ্বীপ আরব সাগরে অবস্থিত। এটিকে ‘ভিনগ্রহের দ্বীপ বা এলিয়েন দ্বীপ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- দ্বীপটি ইয়েমেনের মালিকানাধীন। বিচিত্র ও দুর্লভ জীববৈচিত্র্যের কারণে এটিকে ‘এলিয়েন দ্বীপ’ নামে অভিহিত করা হয়।
- এই দ্বীপে প্রাপ্ত ৯০০ উদ্ভদ প্রজাতির মধ্যে ৩০০টির অধিক পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না।
- ইউনেস্কো ২০০৩ সালে সকোত্রা দ্বীপকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে।
(তথ্যসূত্র: ইউনেস্কো এবং আল জাজিরা)
৬৯২.
আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্বে কোন মহাদেশ অবস্থিত?
  1. এশিয়া
  2. আফ্রিকা
  3. উত্তর আমেরিকা
  4. দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা
আটলান্টিক মহাসাগর:
- আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জুড়ে এটি অবস্থিত।
- আয়তনের দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান দ্বিতীয় এবং গভীরতার দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান তৃতীয়।
- এর আয়তন ৮,৫১,৩৩,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- অবস্থান: আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকা।
- আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম স্থান পোয়ের্তোরিকা ট্রেঞ্চ।
- এর গড় গভীরতা ১১,৯৬২ ফুট এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ২৭,৪৯৩ ফুট।

⇒ আটলান্টিক মহাসাগর তুলনামূলকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের চেয়ে কম প্রশস্ত এবং উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে ইংরেজি S অক্ষরের মতো বিস্তৃত।
- এ মহাসাগরের পূর্বদিকে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ এবং পশ্চিমে উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ অবস্থিত।
- আর্কটিক সাগরসহ এটি সবচেয়ে লম্বা মহাসাগর যা উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে যুক্ত করেছে।
- স্থলভাগ সংলগ্ন অনেকগুলো অগভীর সাগর যেমন- আর্কটিক, বাল্টিক, ক্যারাবিয়ান, ভূ-মধ্যসাগর এবং মেক্সিকো উপসাগর রয়েছে।
- এ মহাসাগরে পতিত নদীগুলোর মধ্যে আমাজান এবং কঙ্গো অন্যতম।
- আটলান্টিক মহাসাগরে বেশ কিছু দ্বীপ রয়েছে। এর মধ্যে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দ্বীপ গ্রীনল্যান্ড অন্যতম।
- এছাড়াও রয়েছে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ স্যান্ডউইচ, আইসল্যান্ড, সেন্ট পল বক দ্বীপ প্রভৃতি।

উৎস: i) Britannica.
ii) ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৩.
পৃথিবীর প্রাচীনতম 'ফিঙ্ক (Finke)' নদী কোন দেশে অবস্থিত?
  1. মিশর
  2. অস্ট্রেলিয়া
  3. জাপান
  4. চীন 
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর প্রাচীনতম 'ফিঙ্ক'(Finke) নদী  অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত।
- ধারণা করা হয়, অস্ট্রেলিয়ার ফিঙ্ক নদী পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন নদী।
- এটির বয়স ৩৫ থেকে ৪০ কোটি বছর।
- অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগণ এই নদীকে 'লারাপিনটা' নামে ডাকে।
- অস্ট্রেলিয়ায় 'অ্যালিস স্প্রিংস ওরোজেনি' গড়ে ওঠার আগে থেকেই ফিঙ্ক নদী প্রবাহিত হচ্ছে বলে ধারণা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- অ্যালিস স্প্রিংস ওরোজেনি হলো একটি ভূতাত্ত্বিক গঠন।
- এ সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মধ্যভাগের পাহাড়ি অঞ্চল গঠিত হয়েছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৬৯৪.
মিসিসিপি নদীর উৎপত্তিস্থল কোথায়?
  1. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
  2. ইটাস্কা হ্রদ
  3. আন্দিজ পর্বতমালা
  4. ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত
ব্যাখ্যা
মিসিসিপি নদী:
- মিসিসিপি নদী হলো উত্তর আমেরিকার দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- মিসিসিপি নদীর দৈর্ঘ্য ৬২৭০ কি.মি.।
- নদীটির উৎস ইটাস্কা হ্রদ, যা আমেরিকার মিনোসোটার রাজ্যে অবস্থিত।
- মিসিসিপি নদীর প্রশস্ত অংশ বেনা।

⇒ বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তিস্থল:
- হোয়াংহো নদী: কুনকুন পর্বত, চিন দেশ।
- দানিয়ুব নদী: ব্ল্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ।
- মারে ডার্লিং নদী: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্ৰেলিয়া।
- তিস্তা নদী: সিকিমের পর্বত অঞ্চল।
- নীলনদ: ভিক্টোরিয়া হ্রদ, আফ্রিকা মহাদেশ।
- আমাজান নদী: আন্দিজ পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) ভূগোল ১ম পত্র ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৫.
’পুনর্ভবা’ কোন নদীর উপনদী?
  1. মেঘনা
  2. মহানন্দা 
  3. সুরমা
  4. কুশিয়ারা
ব্যাখ্যা

পুনর্ভবা, নাগর ও টাঙ্গন মহানন্দার উপনদী।

• মহানন্দা (Mahananda):
- হিমালয়ের পাদদেশে দার্জিলিং এর নিকটবর্তী মহালড্রীম পর্বত হতে মহানন্দা নদী উৎপত্তি হয়েছে।
- ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে। অত:পর ভারতের পূর্ণিয়া ও মালদহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাপাইনবাবগঞ্জের নিকট বাংলাদেশে পুনরায় প্রবেশ করে গোদাগাড়ির কাছে পদ্মার মিলিত হয়েছে।
- পুনর্ভবা, নাগর ও টাঙ্গন এর উপনদী।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৬৯৬.
এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশকে পৃথক করেছ কোন সাগর?
  1. লোহিত সাগর
  2. আরব সাগর
  3. কাস্পিয়ান সাগর
  4. পীত সাগর
ব্যাখ্যা
লোহিত সাগর:
- এশিয়া মহাদেশকে আফ্রিকা মহাদেশ হতে পৃথক করেছে লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খাল।
- লোহিত সাগর সৌদি আরব (এশিয়া) এবং মিশর - (আফ্রিকা) কে পৃথক করেছে।
- ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণে আফ্রিকা মহাদেশ অবস্থিত।
- ইউরোপ মহাদেশকে আফ্রিকা মহাদেশ হতে পৃথক করেছে ভূমধ্যসাগর।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৬৯৭.
বিশ্বের সর্বোচ্চ নৌচলাচলযোগ্য হ্রদ কোনটি?
  1. লেক আসাল
  2. লেক টিটিকাকা
  3. লেক বৈকাল
  4. লেক সুপিরিয়র
ব্যাখ্যা
লেক টিটিকাকা:
- লেক টিটিকাকা দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও বলিভিয়ার সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত। 
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২,৫০৭ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত।
- অবস্থান: আন্দিজ আল্টিপ্লানো অঞ্চলে। 
- দৈর্ঘ্য: ১২০ মাইলের বেশি, প্রস্থ: ৫০ মাইলের বেশি। 
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় হ্রদ (জলরাশি ও আয়তনের দিক থেকে)
- এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ নৌচলাচলযোগ্য হ্রদ। 
- এটি একসময় ইনকা সভ্যতার কেন্দ্র ছিল। 

ওজোস দেল সালাদো: 
- ওজোস দেল সালাদো হল বিশ্বের সর্বোচ্চ সক্রিয় স্ট্র্যাটোভলকানো ।
- এটি চিলি এবং আর্জেন্টিনার সীমান্তে আন্দিজ পর্বতমালায় অবস্থিত।
- নেভাডো ওজোস দেল সালাদো হল চিলির সর্বোচ্চ পর্বত যার উচ্চতা ৬,৮৯৩ মিটার। 
- উল্লেখযোগ্যভাবে, ওজোস দেল সালাদোতে বিশ্বের সর্বোচ্চ হ্রদ রয়েছে, যা ৬,৩৯০ মিটার (প্রায় ২০৯৬৫ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত।

উৎস: World Atlas.
৬৯৮.
কোন সালে ভূমিকম্প ও বন্যার কারণে ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পরিবর্তিত হয়?
  1. ১৭৫৭ সালে
  2. ১৭৮৭ সালে
  3. ১৮৫৭ সালে
  4. ১৮৮৭ সালে
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র নদ:  
- ব্রহ্মপুত্র নদ (Brahmaputra River)  পৃথিবীর দীর্ঘতম নদনদীগুলির একটি।
- এর অববাহিকা অঞ্চল চীন (তিববত), ভারত ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- এর উৎপত্তি শিমায়াঙ-দাঙ হিমবাহ থেকে, স্থানটি পারখা থেকে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটারের মতো দূরে।
- পারখা, মানস সরোবর হ্রদ ও কৈলাস পর্বতের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র।
- দক্ষিণ তিববতের শুষ্ক ও সমতল অঞ্চলের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে নদটি হিমালয়ের ‘নামছা বারওয়া’ চূড়ার সন্নিকটে বাধাপ্রাপ্ত হয়।

উল্লেখ্য, 
- ১৭৮৭ সালে একটি তীব্র ভূমিকম্প ও প্রলয়ংকরী বন্যার কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তিত হয়।
- এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে নদীর তলদেশের ভূ-গাঠনিক পরিবর্তন ঘটে, বিশেষত মধুপুর গড়ের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।
- ফলে নদীটি তার পূর্বতন গতিপথ, যা ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত ছিল, তা পরিবর্তন করে।
- এই ঘটনার পর নদীটি পশ্চিম দিকে সরে যায় এবং বর্তমান যমুনা নদের গতিপথ গ্রহণ করে।
- এই পরিবর্তন নদীর নিম্ন অববাহিকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ঐতিহাসিক মানচিত্রে এই গতিপথের পরিবর্তন স্পষ্টভাবে লক্ষণীয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৬৯৯.
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা আন্তঃসীমান্ত নদী কয়টি?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদী:
- আন্তঃসীমান্ত নদী ৫৭ টি। 
- ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা নদী ৫৪ টি।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তঃসীমান্ত নদী ৩টি, (সাঙ্গু, মাতামুহুরী, নাফ)। 
- আন্তর্জাতিক নদী ১ টি। (পদ্মা)
- বাংলাদেশের প্রায় সব নদীর প্রবাহের দিক উত্তর থেকে দক্ষিণে (সর্পিল গতি)।
- পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত নদী মাতামুহুরী, ডাকাতিয়া, গোমতী।
- দুবার ভারতে ও বাংলাদেশে প্রবেশ করে আত্রাই, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন নদী। 
- সর্বাধিক নাব্য নদী মেঘনা। 
- বাংলাদেশে উৎপত্তি হয়ে ভারতে যাওয়া নদী ১ টি (কুলিখ)।
- বাংলাদেশে উৎপত্তি ও সমাপ্তি হওয়া নদী ১ টি (হালদা)।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও যৌথ নদী কমিশনের ওয়েবসাইট।

৭০০.
তিস্তা নদী কোন জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. ঠাকুরগাঁও
  3. নীলফামারী
  4. লালমনিরহাট
ব্যাখ্যা
তিস্তা নদী (Teesta):
- ভারতের সিকিমের পাবর্ত্য অঞ্চলে তিস্তা নদী উৎপত্তি হয়েছে।
- এরপর অগ্রসর হয়ে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডিমলা দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- তিস্তা নদীর বর্তমান দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭৭ কিলেমিটার এবং চওড়া ৩০০ থেকে ৫৫০ মিটার।
- এ নদীতে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছে। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।