বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৯৮ / ১৭৪ · ৯,৭০১৯,৮০০ / ১৭,৪৩৭

৯,৭০১.
সমাজে প্রচলিত যৌতুক প্রথার মর্মান্তিক রূপ উপস্থাপন করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথের কোন গ্রন্থে?
  1. ক) যোগাযোগ
  2. খ) দেনাপাওনা
  3. গ) অপরিচিতা
  4. ঘ) ঐকাতান
ব্যাখ্যা
⇒ দেনাপাওনা:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ থেকে ‘দেনাপাওনা’ গল্পটি সংকলিত হয়েছে।
‘দেনাপাওনা’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অত্যন্ত সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাজের প্রচলিত যৌতুক প্রথার মর্মান্তিক রূপ উপস্থাপন করেছেন। যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভিন্ন মত গড়ে তুলতে গল্পটি সহায়ক।

• নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের রামসুন্দর পাঁচ পুত্র ও এক কন্যার জনক। আদরের কন্যার প্রতাপশালী রায়বাহাদুরের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় পাত্রের পিতা দশ হাজার নগদ টাকাসহ অন্যান্য সামগ্রী যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। কন্যার বাপ রাজি হন এবং বিয়ের সময় নগদ অর্থ বাকি পড়ে। শুরু হয় পিতা কন্যার ওপর মানসিক নির্যাতন। গল্পের নায়কা নিরূপমার আত্ম বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আমাদের সমাজের এই ভয়াবহ ব্যাধির কাহিনি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ
- নিশীতে
- মণিহার
- কঙ্কাল

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার
- শেষকথা
- ল্যাবরেটরি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
- অনধিকার প্রবেশ।

অন্যদিকে,
‘যোগাযোগ’ রবীন্দ্রনাথ রচিত উপন্যাস।
‘অপরিচিতা’ রবীন্দ্রনাথ রচিত ছোটগল্প।
‘ঐকাতান’ রবীন্দ্রনাথ রচিত কবিতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্য নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭০২.
বারমাস্যা কাকে বলে?
  1. ক) নায়িকার বারমাসের সুখ- দুঃখের বর্ণনা
  2. খ) বারমাসের চাষাবাষের বিবরণ
  3. গ) নায়ক- নায়িকার প্রেমের ধারাবাহিকক বিন্যাস
  4. ঘ) দেবদেবীর পূজা প্রচারের কাহিনী
ব্যাখ্যা
‘বারােমাসী বা বারমাস্যা’ শব্দের অর্থ বারো মাস অর্থাৎ পুরো এক বছরের বিবরণ। প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের লৌকিক কাহিনি বর্ণনায় নায়ক-নায়িকার বারাে মাসের সুখ-দুঃখের বিবরণ প্রদানের রীতি দেখা যায়। একেই বারােমাসী বা বারমাস্যা বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৭০৩.
কোনটি আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ নয়?
  1. জীবনে সমাজে সাহিত্যে
  2. বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব
  3. বিচিত চিন্তা
  4. সাহিত্য ও সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ নয় - সাহিত্য ও সংস্কৃতি
- এটি মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ।

আহমদ শরীফ: 
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- গবেষণা, প্রবন্ধ ও চিন্তামূলক রচনার জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, দাউদ সাহিত্য পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় একুশে পদক এবং কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি লাভ করেন।
-  ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জীবনাবসান ঘটে, কিন্তু তার আগেই তিনি তাঁর মরদেহ উৎসর্গ করে গিয়েছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালী,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা, 
- স্বদেশ চিন্তা,
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে,
- যুগ যন্ত্রণা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, 
- বাঙালীর চিন্তা-চেতনার বিবর্তন ধারা,
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা,
- বিশ্বাসবাদ বিজ্ঞানবাদ যুক্তিবাদ মৌলবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৭০৪.
'জীবন আমার বোন' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ইমদাদুল হক মিলন
  2. মাহমুদুল হক
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।

অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- মুরাদ,
- রহমান,
- ইয়াসিন,
- রঞ্জু প্রমুখ।

উল্লেখ্য, 
•  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হয়েছে আল মাহমুদ উপন্যাস 'কাবিলের বোন'।
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত প্রথম উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা'। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।
৯,৭০৫.
কোন উপন্যাসে পঞ্চাশ এর মন্বন্তর, দেশবিভাগ প্রভৃতি চিত্র ফুটে উঠেছে?
  1. লালসালু
  2. সংশপ্তক
  3. দিবারাত্রির কাব্য
  4. সূর্যদীঘল বাড়ি
ব্যাখ্যা

 সূর্য দীঘল বাড়ী: বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে আবু ইসহাক রচনা করেন সূর্য দীঘল বাড়ী (১৯৫৫)। উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে। স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্ত্ত। দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি।

- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬), এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল।
- আবু ইসহাকের উপন্যাসেরই মূল উপজীব্য অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম। 

তাঁর রচিত গল্প
- হারেম (১৯৬২)
- মহাপতঙ্গ (১৯৬৩)
- জোঁক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৯,৭০৬.
নিচের কোনটি উপন্যাস ?
  1. ক) আমার বিশ্বাস
  2. খ) স্মৃতির নোটবুক
  3. গ) পোড়ামাটির কাজ
  4. ঘ) ভেসেছিলাম ভাঙ্গা ভেলায়
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ এর রচিত স্মৃতিকথা হলোঃ আমার বিশ্বাস (১৯৮৮), স্মৃতির নোটবুক (২০০১), ভেসেছিলাম ভাঙ্গা ভেলায় (২০০৯), মিটিলনা সাধ ভালবাসিয়া তোমায়(২০১২)। উপন্যাসঃ কলকাতা, পোড়ামাটির কাজ, ক্ষুদা প্রেম আগুন, গভীর গভীরতর অসুখ। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৯,৭০৭.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. 'খোঁয়ারি'
  2. 'দুধভাতে উৎপাত'
  3. 'খোয়াবনামা'
  4. 'দোজখের ওম'
ব্যাখ্যা
'খোয়াবনামা':
- ’খোয়াবনামা’ কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ উপন্যাস।
- গ্রাম বাংলার নিন্মবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ বিষয়ক বিভিন্ন শ্রুতি বা লোককথা, জোতদারি সমাজব্যবস্থা, তেভাগা আন্দোলন, দেশভাগ ও মুসলিম লীগের রাজনীতি, হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক ও সংকট প্রবৃত্তি এই উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- খোঁয়ারি, 'দুধে ভাতে উৎপাত, 'দোজখের ওম'': আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া শহরের নিকটবর্তী চেলোপাড়ায়।
- তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- বিশেষত, তাঁর রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে যে স্বকীয় বর্ণনারীতি ও সংলাপে কথ্যভাষার ব্যবহার লক্ষণীয় তা সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে অনন্যসাধারণ।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,৭০৮.
"আমি শুনে হাসি আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে-" পঙক্তিটিতে কার ঘটের কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
  2. খ) ভূস্বামী বাবুর
  3. গ) উপেনের
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলামের
ব্যাখ্যা
"আমি শুনে হাসি আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে-" পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' কবিতার অংশ। 
ভূস্বামী বাবু বাবু যখন উপেনকে সাধু বেশে চোর বলে অভিহিত করেতখন সত্যের অপলাপ শুনে উপেনের হাসি আসে আর চোখ ভরে জল আসে। 
উপেন ভাবে- এই চোর ডাক তাকে শুনতে হবে, এই ভাগ্য তাঁর ছিল? 
তাই পঙক্তিটিতে উপেনের ঘটের (ভাগ্যের) কথা বলা হয়েছে। 

'দুই বিঘা জমি' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয় । 
- পরবর্তীতে 'কথা' কাব্যগ্রন্থের সহযোগে 'কথা ও কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭০৯.
কত সালে 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা

'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা 'বীরবলী' ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম 'বীরবল' থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৭১০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ভারতী
  2. বঙ্গদর্শন
  3. সমাচার সভারাজেন্দ্র
  4. সাধনা
ব্যাখ্যা
• 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা নয়। 

• সমাচার সভারাজেন্দ্র পত্রিকা: 
- মুসলমান সম্পাদিত প্রথম সংবাদপত্র ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র'।
- এটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল।
- ১২৩৭ বঙ্গাব্দের ২৫শে ফাল্গুন অর্থাৎ ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই মার্চ পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ হলেও খুব অল্প দিন পরেই তা বন্ধ হয়ে যায়।
- এটি পুরোপুরি বাংলা ভাষার পত্রিকা ছিল না।
- ছিল বাংলা-পারসি দ্বিভাষিক পত্রিকা।
- এর সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ, প্রকাশিত হতো কলকাতার কলিঙ্গা নামক স্থান থেকে।
------------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনা করেছেন-
- সাধনা (১৮৯৪),
- ভারতী (১৮৯৮),
- বঙ্গদর্শন (১৯০১),
- তত্ত্ববােধিনী (১৯১১)। 
----------- 
’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।
-------------
• ‘ভারতী' পত্রিকা : 
- ‘ভারতী' একটি মাসিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ (১২৮৪ বঙ্গাব্দ) সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বর্ণকুমারী দেবী ১২৯১-১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ঠাকুর বাড়ির অনেকেই সম্পাদনা করেন।
--------------- 
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'বঙ্গদর্শন' প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভুত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তোলেন। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ 'বঙ্গদর্শন' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৭১১.
শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে -
  1. এলো সে অবেলায়
  2. উদ্ভট উঠের পিঠে চলেছে স্বদেশ
  3. অদ্ভুত আঁধার এক
  4. অক্টোপাস
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে - 'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ'।

• 'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ' কাব্যগ্রন্থ:
- ২৩টি কবিতার সমাহারে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।
- কবিতাগুলোতে আছে স্বদেশ চেতনার পরিচয়, দুঃসময়ে দীর্ণ হৃদয়ের হাহাকার ও অস্থিরতা।
- গ্রন্থটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ও সামরিক শাসনের প্রতিফলন রয়েছে।

এই কাব্যগ্রন্থের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- চাঁদ সদাগর,
- উদ্ভট উঠের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- খাঁচা,
- একদা তোমাকে আমি,
- তুমি কি আসবে ফের।
-------------
• শামসুর রাহমান:
- তিনি মূলত আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে' ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম গ্রন্থেই তিনি তাঁর কবিপ্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ :
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭১২.
কোনটি জহির রায়হানের রচনা?
  1. ক) বরফ গলা নদী
  2. খ) সারেং বৌ
  3. গ) খোয়াব নামা
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
জহির রায়হানের 'বরফ গলা নদী' একটি উপন্যাস। 

জহির রায়হান 
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
• জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে। 

জহির রায়হানের উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭১৩.
রবীন্দ্রনাথের গদ্যকবিতা রচনার সূচনা হয় কোন গ্রন্থ দিয়ে?
  1. ক্ষণিকা
  2. পুনশ্চ
  3. আরোগ্য
  4. খেয়া
ব্যাখ্যা
• 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থ:
- 'পুনশ্চ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্যছন্দে রচিত প্রথম ও সার্থক কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।
- রবীন্দ্রনাথের কাব্যের ইতিহাসে তথা আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে এই কাব্যের ভূমিকা বৈপ্লবিক।
- গদ্য কবিতার অসংকোচ প্রতিষ্ঠা হলো এই কাব্যে।

• এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ছেলেটা,
- শেষ চিঠি,
- ক্যামেলিয়া,
- সাধারণ মেয়ে,
- বাঁশি,
- খ্যাতি ইত্যাদি।

---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত।
- ১৮৭৬ সালে পনের বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ বনফুল।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৭১৪.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগকে অপাঠ্য বলেছেন কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
• ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম। 
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
• ১৯৪৫-৪৯ সময়কালে তিনি স্টেটসম্যান পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। 
• সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 
• বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

⇒ মধ্যযুগে মঙ্গলকাব্যের বার বার পুনঃরচনা দেখে মধ্যযুগের উপর ভীষণ বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন আধুনিককালের কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
⇒ তিনি বলেছিলেন 'বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ অপাঠ্য'।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি: কাব্যগ্রন্থ-
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৭১৫.
'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র নয়-
  1. ক) ঋতু
  2. খ) লাবণ্য
  3. গ) কেতকী রায়
  4. ঘ) শোভনলাল
ব্যাখ্যা

‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। এ উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো- অমিত, লাবণ্য, কেতকী রায় এবং শোভনলাল ইত্যাদি।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৭১৬.
“বর্ষা” প্রবন্ধটির রচয়িতা হলেন-
  1. মীর মোশাররফ হোসেন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম। পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন জমিদার।
১৯৪১ সালে তিনি  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক জগত্তারিণী স্বর্ণপদকে ভূষিত হন।
১৯৪৬ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 
 
প্রমথ চৌধুরীর “বর্ষা” প্রবন্ধটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' (১৯৫২) থেকে সংকলিত এবং ঈষৎ সংক্ষেপিত।
নদীমাতৃক এই দেশে বর্ষা ঋতু অত্যন্ত পরিচিত। অবিরাম বৃষ্টিতে বৃক্ষরাজির অবস্থা, মানব মনের আনন্দ-বিষাদ মাখানাে। 
অনুভূতি, বর্ষার গান ও কবিতা, বিশেষত রবীন্দ্রনাথের বর্ষার চিত্র প্রাবন্ধিকের মন জুড়ে বয়ে চলেছে।

প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ: 
তেল নুন লকড়ি ,
বীরবলের হাল খাতা 
- নানাকথা 
- আমাদের শিক্ষা 
- রায়তের কথা 
- নানাচর্চা 
- প্রবন্ধ সংগ্রহ 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা 
- আহুতি 
- নীললোহিত ও গল্পসংগ্রহ 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, সাহিত্য পাঠ -একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি]
৯,৭১৭.
নিচের কোন গ্রন্থটি অন্যদের থেকে আলাদা?
  1. ক) সোনার তরী
  2. খ) দোলনচাঁপা
  3. গ) মানসী
  4. ঘ) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে। 
এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে-
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী
- সোনার তরী
- চিত্রা
- চৈতালী
- কল্পনা
- ক্ষণিকা
- গীতাঞ্জলি
- বলাকা
- পূরবী
- পুনশ্চ
- পত্রপুট
- সেঁজুতি
- শেষলেখা

উল্লেখযোগ্য উপন্যাস
- চোখের বালি
- গোরা
- যোগাযোগ
- চতুরঙ্গ
- ঘরে-বাইরে
- চার-অধ্যায়
- মালঞ্চ

অন্যদিকে,
- দোলনচাঁপা  কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ। তাই এটি অপশনের অন্যান্যগুলো থেকে ভিন্ন।
- দোলনচাঁপা কাব্য গ্রন্থটি ২১টি কবিতার সংকলন।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।]
৯,৭১৮.
"বাঙালির ছেলে আমি, অন্ন নাহি পাই,
তবু রাগে সর্বাঙ্গ জ্বলিয়া যায়;”- উক্তিটি কার রচিত?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

"বাঙালির ছেলে আমি, অন্ন নাহি পাই, 
তবু রাগে সর্বাঙ্গ জ্বলিয়া যায়;”- উক্তিটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত।  
------------------------
বাঙালির গান
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 

"বাঙ্গালির ছেলে আমি, অন্ন নাহি পাই,
তবু রাগে সর্বাঙ্গ জ্বলিয়া যায়;
আমি যে মোচা, কেলাকা ফুল বলিতে শিখিয়াছি,
তাই আজ ঈশ্বর গুপ্তের কবিতা সংগ্রহ করিতে বসিয়াছি।
আর যেই কেলা কা ফুল বলুক, ঈশ্বর গুপ্ত মোচা বলেন।"
--------------------------------
‘বাঙালির গান’ কবিতার মূলভাব:
"বাঙালির ছেলে আমি, অন্ন নাহি পাই, 
তবু রাগে সর্বাঙ্গ জ্বলিয়া যায়;”- এই পঙ্‌ক্তি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘বাঙালির গান’ কবিতা থেকে নেওয়া। 

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘বাঙালির গান’ কবিতায় তিনি পরাধীন বাংলার সাধারণ মানুষের ক্ষুধা, অভাব এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা ও রাগকে ফুটিয়ে তুলেছেন। কবি নিজেকে “বাঙালির ছেলে” হিসেবে উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন, খাবার না থাকলেও দেশের জন্য অসন্তোষ ও আবেগ তার শরীরে প্রবাহিত হয়। তিনি মোচা, কেলাকা ফুল, খোল-বিচিলির মতো সাধারণ জিনিসের মাধ্যমে বাঙালির দৈনন্দিন জীবন, ক্ষুদ্র সুখ-দুঃখ এবং টিকে থাকার লড়াই দেখিয়েছেন। সহজ কথায়, কবিতায় দেশের প্রতি ভালোবাসা, দারিদ্র্য ও ক্ষুধার মধ্যে থাকা মানুষের ক্ষোভ এবং পরাধীনতার অবস্থা সুন্দরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
--------------
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- তাকে যুগসন্ধিক্ষণের  কবি বলা হয়।
- তাঁর রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই এটি বন্ধ হলেও ১৮৩৬ সালে পুনরায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৩৯ সালে ‘সংবাদ প্রভাকর’ বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি সমাজের অবিচার, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার ও অন্যায়কর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। -
- ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যেসব পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন—
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ন, 
- সংবাদ সাধুরঞ্জন প্রভৃতি।  

- তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- প্রবোধ প্রভাকর,
- হিত প্রভাকর (গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত গল্প আকারে রচিত)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; 
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

৯,৭১৯.
‘প্রকৃতির কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. বিষ্ণু দে
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশকে ‘প্রকৃতির কবি’ উপাধি দিয়েছিলেন - বুদ্ধদেব বসু।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি। 
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য রচিত হয়েছে নজরুল, সত্যেন্দ্রনাথ ও মোহিতলালের কাব্যধারার অনুসরণে।   
- কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় কাব্য তিনি নিজস্ব মৌলিক ধারায় রচনা করেছেন। 
- রবীন্দ্রনাথের নিবিড় প্রকৃতিচেতনা তাঁর কবিতায় গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- এছাড়াও তাঁকে বলা হয়:
• ‘ধূসরতার কবি’,
• ‘নিঃসঙ্গতার কবি’,
• ‘তিমির-হননের কবি’,
• পরাবাস্তবতার কবি,
• বিপন্ন মানবতার নীলকন্ঠ কবি,
• শুদ্ধতম কবি, 
এবং বুদ্ধদেব বসু তাঁকে উপাধি দিয়েছিলেন ‘প্রকৃতির কবি’।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৯,৭২০.
‘আগুনের মেয়ে’ – উপন্যাসের রচয়িতা কে ?
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে উঠে, সোনালী কাবিন, বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, দোয়েল ও দয়িতা ইত্যাদি। উপন্যাসঃ ডাহুকী, কবি ও কোলাহল, উপমহাদেশ, আগুনের মেয়ে, কাবিলের বোন, চেহারায় চতুরঙ্গ। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৯,৭২১.
হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. আগুনপাখি
  2. শিউলি
  3. বৃত্তায়ন
  4. নামহীন গোত্রহীন
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ:
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি একটি করবী গাছ,
- নামহীন গোত্রহীন,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে।
আগুনপাখি, সাবিত্রী উপাখ্যান, বৃত্তায়ন, শিউলি তার রচিত উপন্যাস৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭২২.
'যৈবতী কন্যার মন' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'যৈবতী কন্যার মন' সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক, মোনতাসির ফ্যান্টাসী, শকুন্তলা, বাসন, কীর্তনখোলা, চাকা, হরগজ, হাতহদাই, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৭২৩.
"গৌরীশংকর" রবীন্দ্রনাথের কোন ছোটগল্পের চরিত্র?
  1. পোস্টমাস্টার
  2. শাস্তি
  3. হৈমন্তী
  4. সমাপ্তি
ব্যাখ্যা
'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্প টি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭২৪.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ কোন ধরনের রচনা? 
  1. ছোটগল্প
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• পুতুলনাচের ইতিকথা:
​- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন: 'সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।' 'পুতুলনাচের ইতিকথা'য় সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে বাঙালি শিক্ষিত মধ্যবিত্তের অন্তর্গত টানাপোড়েন ও অস্তিত্ব সংকট শশী চরিত্রের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত।
- 'পুতুলনাচের ইতিকথা'য় পুতুল বলতে এই মানুষগুলোকেই বোঝানো হয়েছে, যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: হারু ঘোষ, শশী, কুসুম ইত্যাদি।
---------------------------- 
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- পিতা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের গ্রাজুয়েট।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প 'অতসী মামী' (১৯২৮) প্রকাশিত হলে পাঠক মহলে আলোড়নের সৃষ্টি হয়।
- সাহিত্যের মাধ্যমে মার্ক্সের শ্রেণিসংগ্রামতত্ত্বের বিশ্লেষণ এবং মানুষের মনোরহস্যের জটিলতা উন্মোচনে তিনি ছিলেন একজন দক্ষশিল্পী।
- 'পদ্মানদীর মাঝি' ও 'পুতুলনাচের ইতিকথা' উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পদ্মানদীর মাঝি চলচ্চিত্রায়ণ হয়েছে।
- তিনি ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় মারা যান।
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো: 
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য, 
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
- চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য প্রভৃতি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৭২৫.
‘সই, কেমনে ধরিব হিয়া? আমার বঁধূয়া আন বাড়ি যায় আমার আঙিনা দিয়া।’ উক্তিটি কার?
  1. ক) ভারতচন্দ্র
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) মুকন্দরাম
  4. ঘ) জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
‘সই, কেমনে ধরিব হিয়া?
আমার বঁধূয়া আন বাড়ি যায়
আমার আঙিনা দিয়া।’
উক্তিটি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি চণ্ডীদাসের।

- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন।
- তিনি ছিলেন সহজিয়াপন্থী কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে সহজ ভাষার সহজ ভাবের কবি বলে এবং এই গুণে তাকে বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি বলে অভিহিত করেছেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবিও বলেছিলেন।

তাঁর বিখ্যাত উক্তি-
- ‘বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে। দেখা না হইত পরাণ গেলে।’
- ‘শোন হে মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’
- ‘সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমারি বধূয়া আনবাড়ী যায় আমারি আঙিনা দিয়া।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭২৬.
’বাংলাদেশ’ কবিতার লেখক কে?
  1. শামসুর রহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. আহসান হাবীব
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• ’বাংলাদেশ’ কবিতার লেখক- অমিয় চক্রবর্তী।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে এ কবিতা রচিত হয়।

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ। ।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া, 
- এক মুঠো, 
- মাটির দেয়াল, 
- অভিজ্ঞান বসন্ত, 
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- দময়ন্তী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৭২৭.
'চিত্রগুপ্ত' কার ছদ্মনাম?
  1. মণীশ ঘটক
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বিমল মিত্র
  4. সতীনাথ ভাদুড়ী
ব্যাখ্যা
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।

অন্যদিকে,
• 'দৃষ্টিহীন' - দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম।
• 'যুবনাশ্ব'  - মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম ।
• 'জাবালি' - বিমল মিত্র এর ছদ্মনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭২৮.
'কাজলা দিদি' কবিতাটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) রজনীকান্ত সেন
  2. খ) জসীমউদ্‌দীন
  3. গ) যতীন্দ্র মোহন বাগচী
  4. ঘ) মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
'কাজলা দিদি' কবিতাটি রচনা করেছেন- 'যতীন্দ্র মোহন বাগচী'। 

'কাজলা দিদি' কবিতা
- যতীন্দ্র মোহন বাগচী

বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
মাগো আমার শোলক্-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে লেবুর তলে,
থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই,
মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?

সেদিন হতে কেন মা আর দিদিরে না ডাকো;
দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো?
খাবার খেতে আসি যখন
দিদি বলে ডাকি তখন,
ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো?
আমি ডাকি, তুমি কেন চুপটি করে থাকো?

উৎস: 'কাজলা দিদি' কবিতা- যতীন্দ্র মোহন বাগচী। 
৯,৭২৯.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ উপস্থাপিত হয়েছে?
  1. বাঁধন-হারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. কুহেলিকা
  4. ঝিলিমিলি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা।
- মৃত্যুক্ষুধা ।
- কুহেলিকা। 

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস: 
- ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে(১৯৩১)।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, ''ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।''

• 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাস: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- নারী জীবনের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা এবং সমাজের বাস্তবচিত্র এই উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে।
- দারিদ্য, ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে সপরিবারে মেজ-বৌয়ের মুসলিম থেকে খ্রিষ্ট ধর্মান্তর গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে ওঠে গল্পে। অন্যদিকে গল্পের নায়কা রুবি আনসারকে ভালোবাসালেও রুবির পিতা তাকে বিয়ে দেয় আইসিএস পরীক্ষার্থী মোয়াজ্জেমের সঙ্গে। মোয়াজ্জেমের মৃত্যুর পর বিধবা রুবির জীবনে নেমে আসে সমাজের বিধিনিষেধ।

• ‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস: 
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটকের সংকলন 'ঝিলিমিলি'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;  মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৩০.
বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. বোধোদয়
  2. আখ্যান মঞ্জুরী
  3. ব্যাকরণ কৌমুদী
  4. কথামালা
ব্যাখ্যা
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী':
- 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ। তিনি মোট চারটি খণ্ডে গ্রন্থটি রচনা করেন।
- প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৩ সালে, তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ সালে।
- 'ব্যাকরণ কৌমুদী' গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে অনুবাদ করেন।

-------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি 'বন্দ্যোপাধ্যায়'। তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রকৃত নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৩১.
'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. জহির রায়হান
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
• ‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে।
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
-মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা, রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

-----------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৩২.
হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
  2. কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  3. সব কিছু ভেঙে পড়ে
  4. পাক সার জমিন সাদ বাদ
ব্যাখ্যা

• 'কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু' কাব্যগ্রন্থ:
- 'কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু' হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 

- হুমায়ুন আজাদ প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে এমন একগুচ্ছ কবিতা, যা সাম্প্রতিক কবিতার দূষণমুক্ত- নিবিড়, অন্তরঙ্গ, অমল এই কবিতারাশি, এবং এর ভাষা ভিন্ন, গভীর অনুভূতির ছোঁয়ায় যা পংক্তিতে পংক্তিতে আলোড়িত।

- হুমায়ুন আজাদের এই কবিতারাশিতে যা বড়ো হয়ে ধরা পড়েছে, তা হচ্ছে প্রাজ্ঞতা, যার বড়ো অভাব আমাদের কবিতায়। আমাদের কবিদের বয়স বাড়ে না, তারা প্রাজ্ঞ হন না, থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন উত্তেজিত যৌবনে; কিন্তু হুমায়ুন আজাদ এগিয়েছেন সামনের দিকে।

---------------------
হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস:
- আব্বুকে মনে পড়ে,
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- রাজনীতিবিদগণ,
- কবি অথবা দণ্ডিত পুরুষ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ।

উৎস: 'কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু' কাব্যগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৩৩.
ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে গান রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন-
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. হাসান হাফিজুর রাহমান
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর অমর-কর্ম ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে রচিত গান:
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি। 

• সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে গানটি রচনা করেন। এই গানের কথায় ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি ২১ তারিখে সংঘটিত বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ফুটে উঠেছে।

• গানটি প্রথম প্রকাশিত হয় হাসান হাফিজুর রাহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারী' (১৯৫৩) সংকলন গ্রন্থে। 

• গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। আলতাফ মাহমুদের করা সুরটিই অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে। আলতাফ মাহমুদের সুরে ১৯৫৪ সালের প্রভাত ফেরীতে প্রথম গাওয়া হয় 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি। সুরটি এখনো বলবৎ আছে। 

• ১৯৬৯ সালে জহির রায়হান তার ‘জীবন থেকে নেওয়া’ চলচ্চিত্রেও গানটি ব্যবহার করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী জীবনী।
৯,৭৩৪.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান জন্মগ্রহণ করেন-
  1. ক) পর্তুগালে
  2. খ) ভারতে
  3. গ) ইংল্যান্ডে
  4. ঘ) ইতালিতে
ব্যাখ্যা
জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারী ইতিহাসবিদ এবং সাংবাদিক। তিনি ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীরামপুর ত্রয়ী অন্যতম জোশুয়া মার্শম্যান তাঁর বাবা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৭৩৫.
'রূপালি স্নান' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. শামসুর রাহমান
  3. সুফিয়া কামাল
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'রূপালি স্নান' কবিতা:
- রচয়িতা: শামসুর রাহমান।
- কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত 'কবিতা' পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।
- সংকলিত হয় প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে কাব্যগ্রন্থে।

রূপালি স্নান- কবিতা, 
- শামসুর রাহমান

শুধু দু’টুকরো শুকনো রুটির নিরিবিলি ভোজ
অথবা প্রখর ধু-ধু পিপাসার আঁজলা ভরানো পানীয়ের খোঁজ
শান্ত সোনালি আল্পনাময় অপরাহ্নের কাছে এসে রোজ
চাইনি তো আমি। দৈনন্দিন পৃথিবীর পথে চাইনি শুধুই
শুকনো রুটির টক স্বাদ আর তৃষ্ণার জল। এখনো যে শুই
ভীরু-খরগোশ-ব্যবহৃত ঘাসে, বিকেলবেলার কাঠবিড়ালিকে
দেখি ছায়া নিয়ে শরীরে ছড়ায়,- সন্ধ্যা নদীর আঁকাবাঁকা জলে (সংক্ষেপিত)।
----------------------- 
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়, 
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া, পত্রিকা রিপোর্ট।
৯,৭৩৬.
নিচের কোনটি জসীমউদ্দীন রচিত নাটক নয়?
  1. ক) বেদের মেয়ে
  2. খ) পদ্মাপাড়
  3. গ) মধুমালা
  4. ঘ) জামাই বারিক
ব্যাখ্যা

- জসীমউদ্দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম গ্রহণ করেন। 
- জসীমউদ্দীন বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- জসীমউদ্দীন রচিত নাটকগুলো হলো:
- পদ্মাপাড় 
- বেদের মেয়ে 
- মধুমালা 
- পল্লীবধূ 
- গ্রামের মায়া 
 উল্লেখ্য 
- জামাই বারিক নাটকটি রচনা করেন দীনবন্ধু মিত্র 

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

৯,৭৩৭.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. সধবার একাদশী
  3. মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়?
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো,
- জামাই বারিক।

দীনবন্ধু মিত্র:

- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।

উল্লেখ্য,
- 'মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়?' প্রহসনের রচয়িতা - প্যারীচাঁদ মিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৩৮.
কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার ও প্রকাশ কার শ্রেষ্ঠ কীর্তি?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।

'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম। তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাযুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।

তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

-তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন,
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ,
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ,
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৯,৭৩৯.
রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের আচারসর্বস্ব ও নীতিভ্রষ্ট সমাজপতিদের গোপন লাম্পট্য তুলে ধরা হয়েছে কোন রচনায়?
  1. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. জামাই বারিক
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৯ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত দুটি প্রহসন রচনা করেন: একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• 'একেই কি বলে সভ্যতা'তে তিনি ইংরেজি শিক্ষিত ইয়ং বেঙ্গলদের মাদকাসক্তি, উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারকে কটাক্ষ করেন। 
'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসনে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের আচারসর্বস্ব ও নীতিভ্রষ্ট সমাজপতিদের গোপন লাম্পট্য তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রেও মধুসূদন পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন। তাঁর প্রহসন দুটি কাহিনি, সংলাপ ও চরিত্রসৃষ্টির দিক থেকে আজও অতুলনীয়।

অন্যদিকে, 
-------------------
• দীনবন্ধু মিত্রের 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) রাজপুত উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত একটি বিয়োগান্তক নাটক। 

• দীনবন্ধু মিত্রের 'জামাই বারিক' প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত। ১৮৭২ সালে প্রহসনটি প্রকাশিত হয়। জামাতা পোষণ পদ্ধতি ব্যঙ্গ করে লিখিত এই নাটকে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব প্রকাশ করেছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৪০.
ড. আনিসুজ্জামানের রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. স্বরূপের সন্ধানে
  2. আঠারো শতকের বাংলা চিঠি
  3. বাঙালী মুসলমানের মন
  4. বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে
ব্যাখ্যা
- 'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেন আহমদ ছফা। 

• আনিসুজ্জামান:

- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন।
- এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
-স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৪১.
আবদুল কাদির কোন পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন?
  1. ক) প্রগতি
  2. খ) ক্রান্তি
  3. গ) শিখা
  4. ঘ) পরিচয়
ব্যাখ্যা

আবদুল কাদির: কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক ও সম্পাদক।
- ১৯২৬ সালে 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর নেতৃত্বে ঢাকার বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের তিনি প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত ‘শিখা' পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক (১৯২৭) ছিলেন।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
কবিতা :
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)।
প্রবন্ধ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস : মুসলিম সাধনার ধারা (১৯৪৪),
- কবি নজরুল (১৯৭০),
- কাজী আবদুল ওদুদ (১৯৭৬),
- লোকায়ত সাহিত্য (১৮৮৫)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

৯,৭৪২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘সৌরভ’ কার লেখা?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. রশীদ করীম
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. আমজাদ হোসেন
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৪৩.
বাংলা সাহিত্যের নাগরিক কবি কে?
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) হুমায়ুন আহমেদ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। আধুনিক যুগের নাগরিক কবি শামসুর রাহমান। কাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় কবি, বিদ্রোহী কবি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৪৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' নামে আখ্যায়িত করেছেন কোন কাব্যগ্রন্থ পাঠ করে?
  1. ক) ঝরা পালক
  2. খ) ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. গ) রূপসী বাংলা
  4. ঘ) মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের 'ধূসর পান্ডুলিপি' পড়ে তার কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। 

'ধূসর পান্ডুলিপি' কাব্যগ্রন্থ
- এটি জীবনানন্দ দাশের দ্বিতীয় কবিতা।
- এই কবিতাগুলির মধ্যে জীবনানন্দীয় কাব্যের নিজস্ব বিষয়, ছন্দভঙ্গি, ভাষা, প্রতিমা সমস্ত বিষয় প্রকাশিত।
- এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমেই আধুনিক বাংলা কাব্যাঙ্গনে জীবনানন্দের প্রতিষ্ঠা নিষচিত হতে থাকে। 

• জীবনানন্দ দাশ
- ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় “রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা” নামক কাব্য।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ: 
* ঝরা পালক।
* ধূসর পাণ্ডুলিপি।
* বনলতা সেন।
* মহাপৃথিবী।
* সাতটি তারার তিমির।
* বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৯,৭৪৫.
কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস নয়?
  1. পরিণীতা
  2. পল্লী সমাজ
  3. বিপ্রদাস
  4. পরিচয় 
ব্যাখ্যা

পরিচয় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস নয়।
- 'পরিচয়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত একটি কবিতা। 

-----------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- জন্ম: ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, হুগলি জেলার দেবানন্দপুর।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- উপন্যাসের মূল বিষয়: পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তি মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র তাঁর রচনায় ফুটে উঠেছে।
- তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তির ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় তাঁকে রক্ষণশীল বলা হয়।
- বার্মায় বসবাসকালে অঙ্কিত 'মহাশ্বেতা' অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য প্রাপ্ত সম্মাননা: কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যপদ (১৯৩৪), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট. উপাধি (১৯৩৬)।
- মৃত্যু: ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি, কলকাতা।

রচিত উপন্যাসসমূহ:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পল্লী সমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- বিপ্রদাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৪৬.
'কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. মোজাম্মেল হক
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'কবিতা' পত্রিকা:
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে - কবিতা।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। 
- আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লিখেন নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৭৪৭.
শরৎচন্দ্রের রাজনৈতিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) গৃহদাহ
  2. খ) দত্তা
  3. গ) পথের দাবী
  4. ঘ) দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্রের রাজনৈতিক উপন্যাস - পথের দাবী (১৯২৬)। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র - এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী। কারো কারো মতে, সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী - রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। গ্রন্থটি প্রকাশের সাথে সাথে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ করে। উপন্যাসটি বাংলা ১৩২৯ সালের ফাল্গুন সংখ্যা থেকে “বঙ্গবাণী” পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৪৮.
কোনটি সৈয়দ মুজতবা আলীর ছোটগল্প?
  1. টুনি মেম
  2. পঞ্চতন্ত্র
  3. দেশে-বিদেশে
  4. ময়ূরকণ্ঠী
ব্যাখ্যা

টুনি মেম হচ্ছে সৈয়দ মুজতবা আলীর একটি ছোটগল্প। 

সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪–১৯৭৪)
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- জন্ম: ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪, পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে।
- পৈতৃক নিবাস: হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রাম।
- গ্রন্থসংখ্যা: প্রায় ৩০টি রচনা (উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনি)।

উল্লেখযোগ্য রচনা:
- উপন্যাস: অবিশ্বাস্য, শবনম। 
- ভ্রমণকাহিনি: দেশে-বিদেশে। 
- রম্যরচনা: পঞ্চতন্ত্র, ময়ূরকণ্ঠী। 
- ছোটগল্প: চাচা-কাহিনী, টুনি মেম। 

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া। 

৯,৭৪৯.
ভারতের স্বাধিকার আন্দোলনের পটভূমিতে কাজী নজরুল ইসলাম কোন কাব্য রচনা করেন?
  1. ক) অগ্নি-বীণা
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) ভাঙার গান
  4. ঘ) চিত্তনামা
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে "কাব্যগ্রন্থ" উল্লেখ করা উচিৎ ছিল।
কিন্তু এখানে অপশন অনুসারে সঠিক উত্তর অগ্নি-বীণা রাখা হয়েছে।

- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলাম এর একটি কাব্যগ্রন্থ।
-  প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর অবক্ষয় এবং ভারতের স্বাধিকার আন্দোলনের পটভূমিতে এটি রচিত।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- নজরুল ২৪শে মে ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে তাকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে।
- ২৯শে আগস্ট ১৯৭৬ ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
- তাঁর সর্বস্বপণ ছিল দেশপ্রেম ও শোষণবিরোধিতা।

• অগ্নিবীণা:
- এই কাব্যের প্রথম কবিতার নাম 'প্রলয়োল্লাস'।
-  এছাড়াও এই কাব্যের অন্যতম ও জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- কাব্যগ্রন্থে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।
- কলকাতার আর্য পাবলিশিং হাউজ থেকে এটি ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর অবক্ষয় এবং ভারতের স্বাধিকার আন্দোলনের পটভূমিতে এটি রচিত।
- কাব্যটিতে কবি ভারতীয় পুরাণ এবং পশ্চিম এশীয় ঐতিহ্য ব্যবহার করেছেন দক্ষতার সাথে।
- এটির প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ পরিকল্পনায় ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- কাব্যটি উৎসর্গ করা হয় ব্রিটিশ বিরোধী বাঙালি বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- বিষের বাঁশি।
- দোলনচাঁপা।
- ভাঙার গান।
- সাম্যবাদী।
- সর্বহারা।
- ফণি-মনসা।
- জিঞ্জির।
- সন্ধ্যা।
- প্রলয় শিখা।
- মরু ভাস্কর।
- নতুন চাঁদ।
- চক্রবাক।
- সিন্ধু হিন্দোল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গানের বই:
- বুলবুল, চোখের চাতক, চন্দ্রবিন্দু, সুরসাকী, জুলফিকার, বনগীতি, গুলবাগিচা, গানের মালা ও গীতি শতদল ইত্যাদি। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৫০.
‘মায়া মালঞ্চ’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. নুরুল মোমেন
  4. আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
• ‘মায়া-মালঞ্চ’ বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক।
- এটি লেখকের 'কালো হাওয়া' উপন্যাস অবলম্বনে তিন অঙ্কে সমাপ্ত নাটক।

------------------------
• বুদ্ধদেব বসু:

- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘মায়া-মালঞ্চ’ নাটক ।
৯,৭৫১.
'একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা' উপন্যাস:
- হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা।
- কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক তাঁর দেখা একাত্তরের ভাষ্য শুরু করেছেন নিস্পৃহ নিরাবেগ ভঙ্গিতে।

বইয়ের সূচনাবাক্যে তিনি লিখেছেন:
'আমার জানা ছিল না যে পানিতে ভাসিয়ে দিলে পুরুষের লাশ চিৎ হয়ে ভাসে আর নারীর লাশ ভাসে উপুড় হয়ে। এই জ্ঞান আমি পাই '৭১ সালের মার্চ মাসের একেবারে শেষে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৫২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক কে? 
  1. বেগম রোকেয়া 
  2. সুফিয়া কামাল 
  3. চন্দ্রাবতী 
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী 
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক-  স্বর্ণকুমারী দেবী। 
-------------------------------------
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও তিনি কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। 
- তার বিখ্যাত উপন্যাস হচ্ছে- হুগলীর ইমামবাড়ি।
- এই উপন্যাসটি হাজী মুহাম্মাদ মহসিনকে নিয়ে লিখা। 

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
------------------------------------ 
অন্যদিকে,
- মধ্যযুগের প্রথম মহিলা কবি হচ্ছে- চন্দ্রাবতী।
- বেগম রোকেয়াকে বলা হয়- নারী জাগরণের অগ্রদুত।
- সুফিয়া কামালকে বলা হয়- জননী সাহসিকা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৫৩.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম কোন উপন্যাস প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যজগতে খ্যাতি অর্জন করেন?
  1. বড়দিদি
  2. পরিণীতা
  3. পণ্ডিত মশাই
  4. দত্তা
ব্যাখ্যা
♦ বড়দিদি:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। 
- একজন মানুষের শুধুমাত্র এই বড়দিদি নামটির ওপর কী ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে পারে তা খুব স্পষ্টভাবেই অনুভব করতে পারা যায় এই উপন্যাসের দ্বারা।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাধবী, সুরেন্দ্রনাথ।

♦ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনাপাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৫৪.
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত নয় কোনটি?
  1. 'আরেক ফাল্গুন'
  2. 'কবর’
  3. 'আর্তনাদ'
  4. 'চিলেকোঠার সেপাই'
ব্যাখ্যা
• ‘চিলেকোঠার সেপাই’ উপন্যাস - ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত নয়।

• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

অন্যদিকে,

আরেক ফাল্গুন:
- আরেক ফাল্গুন জহির রায়হানের লেখা ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা একটি উপন্যাস।
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক রচিত সাহিত্যকর্ম গুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা সাহিত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই বইটিকে।
- সিপাহী বিদ্রোহের নির্মম স্মৃতি বিজরিত ভিক্টোরিয়া পার্কের বর্ননা দিয়ে ঔপন্যাসিক উপন্যাসের সূচনা করেন।
- এই উপন্যাসের কাহিনীর স্থিতিকাল মাত্র তিনদিন দুই রাত। 
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৮ সালে।

'কবর' নাটক
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

‘আর্তনাদ’ উপন্যাস:
• দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম- আর্তনাদ।
• ‘আর্তনাদ’ শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৫৫.
'আত্মকথা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমেদ
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
আত্মকথা আবুল মনসুর আহমেদ রচিত স্মৃতিকথা বা আত্মজীবনী। এছাড়াও তাঁর রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর ও শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু। তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গালিভারের সফরনামা ও ছোটদের কাসাসুল আম্বিয়া। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৯,৭৫৬.
'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ' শামসুজ্জামান খান রচিত-
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) স্মৃতিকথা
  3. গ) রম্যরচনা
  4. ঘ) শিশু সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন শামসুজ্জামান খান।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ-
- ফোকলোরচর্চা,
- নানা প্রসঙ্গ,
- গণসঙ্গতি,
- মাটি থেকে মহীরুহ,
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা।

তাঁর রচিত শিশু সাহিত্য-
- দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ।

তাঁর রম্যরচনা-
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৫৭.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. সোমেন চন্দ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• বেণের মেয়ে:
- বেণের মেয়ে (১৯১৯) উপন্যাসের চরিত্রগুলি প্রায় সবই কাল্পনিক কিন্তু এর পরিবেশ ঐতিহাসিক।
- দশম-একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, বৌদ্ধধর্মের অবসান ও হিন্দুধর্মের পুনরুত্থানের কালে সপ্তগ্রামের এক বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনিটি রচিত হয়েছে।
- লেখক নিপুণভাবে অতীতযুগকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন।

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৫৮.
কোনটি আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা?
  1. দৈনিক নবযুগ
  2. নয়া সড়ক
  3. দৈনিক আজাদ
  4. সমকাল
ব্যাখ্যা

আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন।
- ১৯২৩ সালে দৈনিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।
- তিনি 'দৈনিক আজাদ' পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৯৭৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

​অন্যদিকে,
​- দৈনিক নবযুগ পত্রিকার প্রথম প্রকাশনার সময় এর সম্পাদক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফফর আহমদ।
​- নয়া সড়ক ছিল একটি বাংলা বার্ষিক সাহিত্যপত্র। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
​- 'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সিকান্দার আবু জাফর।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৭৫৯.
‘মতিলাল’ নিচের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  2. আধ্যাত্মিকা
  3. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  4. আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
 আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়,
- আধ্যাত্মিকা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৬০.
'একালের পান্তাবুড়ি' - সেলিনা হোসেন এর কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) গল্প
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কবিতা
ব্যাখ্যা
'একালের পান্তাবুড়ি' - সেলিনা হোসেন এর - গল্পগ্রন্থ

• কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সয়ামাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
প্রবন্ধ: 
- স্বদেশে পরবাসী
- একাত্তরের ঢাকা
- নির্ভয় করো হে
- মুক্তো করো ভয়
- ঘর গেরস্থির রাজনীতি

গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তরত
- পরজন্ম 
- মানুষটি 
- মতিজানের মেয়েরা
- অনূঢ়া
- পূর্ণিমা
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা। 

উপন্যাস : 
- জলোচ্ছ্বাস
- হাঙর নদী গ্রেনেড
-মগ্ন চৈতন্যে শিস
- যাপিত জীবন
- নীল ময়ূরের যৌবন
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি 
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
- কালকেতু ও ফুল্লরা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৬১.
রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন-
  1. আহমদ ছফা
  2.  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।

- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান-ই-খাওয়াতীন-ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

- 'Sultana's Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে। এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচুর (প্রবন্ধ),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
• আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক। আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।

• আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৬২.
ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বাংলা সাহিত্যের কথা
  2. খ) বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য
  3. গ) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
  4. ঘ) বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ হলো বাংলা সাহিত্যের কথা।

বাংলা ভাষার ইতিহাস বিষয়ক তার গ্রন্থ বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত। অন্যদিকে, বাঙালি ও বাঙলা এবং বাঙলা সাহিত্য, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থসমূহের রচয়িতা যথাক্রমে আহমদ শরীফ, মাহবুবুল আলম এবং মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান।

(সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৯,৭৬৩.
"পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন;
মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।" - কবিতাংশের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• "পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন;
মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।" কবিতাংশের রচয়িতা - জীবনানন্দ দাশ। কবিতাংশটি 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের 'সুচেতনা' কবিতা অংশবিশেষ।

সুচেতনা
কবি- জীবনানন্দ দাশ

সুচেতনা, তুমি এক দূরতর দ্বীপ
বিকেলের নক্ষত্রের কাছে;
সেইখানে দারুচিনি-বনানীর ফাঁকে
নির্জনতা আছে।
এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা
সত্য; তবু শেষ সত্য নয়।
কলকাতা একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে;
তবুও তোমার কাছে আমার হৃদয়।

আজকে অনেক রূঢ় রৌদ্রে ঘুরে প্রাণ
পৃথিবীর মানুষকে মানুষের মতো
ভালোবাসা দিতে গিয়ে তবু
দেখেছি আমারি হাতে হয়তো নিহত
ভাই বোন বন্ধু পরিজন প’ড়ে আছে;
পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন;
মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫), বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার  প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক,
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৬৪.
মুনীর চৌধুরী রচিত ’কবর’ নাটকের প্রেক্ষাপট কী?
  1. গণঅভ্যুত্থান 
  2. স্বাধীনতা যুদ্ধ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. কৃষক আন্দোলন
ব্যাখ্যা

‘কবর’ নাটকের পটভূমি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন উপর ভিত্তি করে রচিত। 

'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়। নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৬৫.
কবি আল মাহমুদ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন? 
  1. পিরোজপুর জেলায় 
  2. ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলায় 
  3. ঢাকা জেলায় 
  4. নেত্রকোনা জেলায় 
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ:
- আল মাহমুদ একজন প্রথিতযশা কবি। বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহ তাঁর কবিতার বিশেষ উপাদান।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৯,৭৬৬.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কে?
  1. ক) শাহ মুহাম্মদ সগীর
  2. খ) আবদুল হাকিম
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)। 
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।

কায়কোবাদের খণ্ড কবিতাগ্রন্থ 'অশ্রুমালা'। 
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম। 
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৬৭.
যুগসন্ধিক্ষণ বলা হয় কোন সময় কে?
  1. ১৬৭০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ 
  2. ১৭৬০-১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দ 
  3. ১৬৬০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ 
  4. ১৭৬০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ 
ব্যাখ্যা

কালবিচারে বাংলা সাহিত্যকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায। যথা:
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০০-১৮০০) ও
৩. আধুনিক যুগ (১৮০০- বর্তমান)।

মধ্যযুগ আবার তিনভাগে বিভক্ত। যথা:
১. আদি-মধ্যযুগ (১২০০-১৩৫০),
২. মধ্য-মধ্যযুগ (১৩৫০-১৭০০) ও
৩. অন্ত্য-মধ্যযুগ (১৭০০-১৮০০)।

- চর্যাপদের পরে প্রবাদ, বচন, ছড়া, ডাক ও খনার বচন ইত্যাদি কিছু কিছু কাব্যনিদর্শন থাকলেও চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো রচনা পাওয়া যায় না। তাই এ সময়টাকে (১২০১ ১৩৫০) কেউ কেউ 'অন্ধকার যুগ' বলে অভিহিত করেন। প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল পরিবর্তনের যুগ; ইসলাম ও ইসলামি সংস্কৃতির সংস্পর্শে এবং মুসলিম শাসকদের ভিন্নতর রাষ্ট্রীয় ও সমাজব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বঙ্গ জনপদে (বাংলাদেশে) তখন এক নতুন পরিবেশ ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটছিল। সে সময় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ছিল সৃজ্যমান অবস্থায় এবং চর্যার বঙ্গীয়-বৈশিষ্ট্যময় অপভ্রংশ ভাষা আরও বেশি মাত্রায় বাংলা হয়ে ওঠে।

- মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যু (১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় যুগসন্ধিক্ষণ।
যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৬৮.
প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. আধ্যাত্মিকা
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. মদ খাওয়া বড় দায়
  4. জাত থাকার কি উপায়?
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়?,
- আধ্যাত্মিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৬৯.
কোনটি নির্মেলেন্দু গুণ রচিত নয়?
  1. ক) না প্রেমিক না বিপ্লবী
  2. খ) নিশিকাব্য
  3. গ) ভলগার তীরে
  4. ঘ) ত্রিবেণী
ব্যাখ্যা

'না প্রেমিক না বিপ্লবী' নির্মেলেন্দু গুণ রচিত ১৯৭২ সালে প্রকাশিত কবিতা। 
'নিশিকাব্য', নির্মেলেন্দু গুণ রচিত ২০০৬ সালে প্রকাশিত কবিতা।
'ভলগার তীরে' ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত নির্মেলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণকাহিনী।
'ত্রিবেণী' ১৯১২ সালে প্রকাশিত দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত গ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৭৭০.
‘কালিন্দী’ উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১): কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
তাঁর রচিত উপন্যাস - চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩২), ধাত্রীদেবতা (১৯৩৯), কালিন্দী (১৯৪০), গণদেবতা (১৯৪৩), পঞ্চগ্রাম (১৯৪৪), কবি (১৯৪৪), হাঁসুলি বাঁকের উপকথা (১৯৪৭), আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৯,৭৭১.
'কাশবনের কন্যা’ উপন্যাসের পটভূমি কোন অঞ্চলের জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে?
  1. ফরিদপুর অঞ্চলের জেলে সমাজ
  2. খুলনা অঞ্চলের মৎস্য ব্যবসায়ী
  3. বরিশাল অঞ্চলের জেলে সম্প্রদায়
  4. নোয়াখালী অঞ্চলের কৃষক সমাজ
ব্যাখ্যা

শামসুদ্দিন আবুল কালামের কাশবনের কন্যা’ উপন্যাসটি- বরিশাল অঞ্চলের জেলে সম্প্রদায়ের গ্রামীণ জীবন ও তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে রচিত।
-------------------------------------
কাশবনের কন্যা’:
- কাশবনের কন্যা’ উপন্যাসে বরিশাল এলাকার জেলে মানুষের সাধারণ গ্রামীণ জীবন তুলে ধরা হয়েছে।
- এখানে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম, সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, ঝগড়া এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্ক দেখা যায়।
- কাশবন, নদী-নালা ও গ্রামের পরিবেশ গল্পকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।
- উপন্যাসে শামসুদ্দীন আবুল কালাম সহজ ভাষা ও বরিশালের মুখের ভাষা ব্যবহার করে গ্রামীণ জীবন ও মানুষের অনুভূতিকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র জোবেদা একজন সাহসী ও প্রথাবিরোধী নারী, যিনি সমাজের পুরনো নিয়ম মানতে চান না। 
- বন্ধ্যাত্বের কারণে সমাজ তাকে অবহেলা করলেও তিনি হাল না ছেড়ে নিজের জীবন নতুনভাবে গড়তে চান।
- শিকদারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ মানুষের আবেগ, অভিমান ও ভালোবাসার সূক্ষ্ম প্রকাশ ঘটেছে।
---------------------------- 
শামসুদ্দিন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দিন আবুল কালাম ১৯২৬ সালে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
- ১৯৯৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

- শামসুদ্দীন আবুল কালামের  রচনাসমূহ হলো:

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
- পুঁই ডালিমের কাব্য, 
- কাশবনের কন্যা,
- ভাওয়াল গড়ের উপকথা,
- আলমনগরের উপকথা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৭২.
'আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।' বিখ্যাত গানটি কার রচনা?
  1. প্রতুল মুখোপাধ্যায়
  2. লালন শাহ্
  3. হাছন রাজা
  4. গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা

• লালন শাহ্:
- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না। তাই তিনি গেয়েছে 'সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।'
- "বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে"- লালন শাহ্ রচিত বিখ্যাত একটি গান।

তাঁর রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান হচ্ছে:
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৭৩.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বড়াই কী ধরনের চরিত্র?
  1. ক) জনৈক গোপবালা
  2. খ) শ্রী রাধার ননদিনী
  3. গ) রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী
  4. ঘ) জনৈক গোপবালা
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বৈষ্ণব কাব্য।
- এটি বড়ুচণ্ডীদাস রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রণয়কথা বিষয়ক একটি আখ্যানকাব্য। এটি বাংলা ভাষায় রচিত কোন লেখকের প্রথম একক গ্রন্থ।
- রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতি)।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৩২৩ বঙ্গাব্দে (১৯১৬) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নামে বসন্তরঞ্জনের সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে পুথিটি মুদ্রিত হয়।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৯,৭৭৪.
বন্দে আলী মিয়ার 'তাসের ঘর' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) গল্প
  2. খ) কাব্য
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
- বন্দে আলী মিয়ার 'তাসের ঘর' একটি গল্পগ্রন্থ। 

বন্দে আলী মিয়া:
-১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি পাবনার মজুমদার একাডেমী থেকে এন্ট্রান্স (১৯২৩) পাস করে কলকাতার ইন্ডিয়ান আর্ট একাডেমীতে চিত্রবিদ্যায় (১৯২৭) শিক্ষালাভ করেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।
- ১৯৭৯ সালের ১৭ জুন রাজশাহীতে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কাব্য
- ময়নামতীর চর 
- অনুরাগ 
- পদ্মানদীর চর 
- মধুমতীর চর 
- ধরিত্রী। 
উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে 
- শেষ লগ্ন 
- অরণ্য গোধূলি 
- নীড়ভ্রষ্ট। 
শিশুতোষগ্রন্থ:
- চোর জামাই 
- মেঘকুমারী 
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা 
- সোনার হরিণ 
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা 
- কুঁচবরণ কন্যা 
- সাত রাজ্যের গল্প
- জীবনী কামাল আতাতুর্ক ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থ:
- তাসের ঘর। 
নাটক:
- মসনদ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  
৯,৭৭৫.
’বাংলার স্কট’ বলা হয় কাকে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসসমূহ:
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:

- কমলাকান্ত,
- লোকরহস্য,
- কৃষ্ণ চরিত্র,
- বিজ্ঞানরহস্য,
- বিবিধ সমালোচনা,
- প্রবন্ধ-পুস্তক,
- সাম্য,
- কৃষ্ণ চরিত্র,
- বিবিধ প্রবন্ধ,
- মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত (ব্যাঙ্গ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৭৬.
'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের গল্পকার কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ 
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী 
ব্যাখ্যা
• 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্প:
- তৈলচিত্রের ভূত মানিক বেন্দ্যাপাধ্যায় রচিত একটি গল্প।
- গল্পটি মাসিক 'মৌচাক' পত্রিকায় ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়।
- ডক্তার পরাশর ও নগেন এই গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র।

-------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৭৭.
কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. আরণ্যক
  2. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  3. অশনি সংকেত
  4. মেঘমল্লার
ব্যাখ্যা
- মেঘমল্লার হলো বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প। 
- অপশনের বাকীগুলো তাঁর উপন্যাস। 

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:

- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ তাঁর রচিত গ্রন্থ: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী, 
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত
- আরণ্যক
- আদর্শ হিন্দু হোটেল
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,  
- মৌরীফুল,  
- যাত্রাবদল,  
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৭৮.
সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) চাঁদের অমাবস্যা
  2. খ) বহিপীর
  3. গ) লালসালু
  4. ঘ) কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা
• নাট্যকার, ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'বহিপীর' বহিপীর নাটক ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- পিতার বদলির চাকরি সূত্রে ওয়ালীউল্লাহ সারা বাংলাদেশে ঘুরে বেড়ানাের সুযােগ পান।

- তিনি বাঙালি মুসলমান সমাজে তখন জেঁকে বসা পীর প্রথা কাছে থেকে দেখার সুযােগ পান।
- ফলে তিনি লালসালু উপন্যাসে যেমন, তেমনি এই নাটকে সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর। 
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে। 
চরিত্র: বহিপীর, তাহেরা, হাতেম, আমেনা, হাশেম। 

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য নাটক -
- উজানে মৃত্যু
- সুড়ঙ্গ 
- তরঙ্গভঙ্গ

বিখ্যাত উপন্যাস সমূহ -
- লালসালু (ধর্ম ব্যাবসা কে কেন্দ্র করে রচিত) 
- চাঁদের অমাবস্যা
- কাঁদো নদী কাঁদো 
- দি আগলি এশিয়ান

গল্পগ্রন্থ -
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সহপাঠ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৭৯.
'Intervention' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. উগ্রস্বাদেশিকতা
  2. হস্তক্ষেপ
  3. অচলাবস্থা
  4. আভিজাত্য
ব্যাখ্যা

• 'Intervention' এর বাংলা পরিভাষা - হস্তক্ষেপ

অন্যদিকে,
Chauvinism - উগ্রস্বাদেশিকতা।
Deadlock - অচলাবস্থা।
Aristocracy - অভিজাততন্ত্র / আভিজাত্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

৯,৭৮০.
'গোস্বামীর সহিত বিচার' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) শ্রীকর নন্দী
ব্যাখ্যা
⇒ রাজা রামমোহন রায়:
• রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
• সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।
• রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’। 
• রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। বই টি প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ সালে।
• তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে),
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৮১.
"ফুটপাতে ওরা সব এলিয়ে পড়ে রয়েছে। ছাড়ানো খড় যেন।" সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-র 'নয়নতারা' গল্প থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশটি __ এর দৃষ্টান্ত ।
  1. ক) উৎপ্রেক্ষ চিত্রকল্প
  2. খ) উপমাসঞ্জাত রূপক
  3. গ) প্রতীকায়িত বাজভৃতি
  4. ঘ) অন্যাসক্ত রূপকাতাস
ব্যাখ্যা
বাংলা একডেমি অভিধান অনুসারে, 
উৎপ্রেক্ষা অর্থঃ (আলঙ্কারিক) উপমান ও উপমেয়ের অভেদ কল্পনা।

সংজ্ঞাঃ
প্রবল সাদৃশ্যহেতু উপমেয়কে যদি উপমান বলে ভুল বা সংশয় হয়  তবে তাকে ‘উৎপ্রেক্ষা’ বলে।
- এ অলঙ্কারে যেন, বুঝি, মনে হয়, প্রায়, ইত্যাদি সম্ভাবনা বাচক শব্দের উল্লেখ থাকে। 

উৎপ্রেক্ষার প্রাণবস্তু হল সংশয়,এবং এই সংশয়ে উপমানপক্ষই প্রবলতা লাভ করে। উৎপ্রেক্ষা শব্দের অর্থ হল বিতর্ক বা সংশয়। যেমন,
মুখ যেন চাঁদ'—এই বাক্যে ‘মুখ উপমেয়, ‘চাদ’ উপমান-এখানে অতিরিক্ত সাদৃশ্যবশত মুখকে চাদ বলে সংশয় জন্মাচ্ছে। এই সংশয় মুখ এবং চাদের অভেদ-সম্পর্ক-বিষয়ে। সুতরাং উৎপ্রেক্ষায় সংশয়ের অর্থ হল অভেদ সংশয়।

মনে রাখতে হবে, সংশয় যদি একপক্ষে না হয়ে উভয় পক্ষে হয়তাহলে সেই অলংকার ‘উৎপ্রেক্ষা' না হয়ে সন্দেহ হবে। যেমন, কী আশ্চর্যসুন্দর তার মুখটি—এ কি মুখ? না চাঁদ। এখানে উপমেয় [ মুখ ] এবং উপমান [চাঁদ] উভয়পক্ষে সংশয় রয়েছে বলে অলংকারটি ‘উৎপ্রেক্ষা’ নয়,সন্দেহ'। উৎপ্রেক্ষাবাচক শব্দ হল ‘যেন’, ‘বুঝি’, ‘মনে হয়’ ইত্যাদি এবংএই শব্দগুলির দ্বারাই সংশয় প্রকাশ পায় ।
ফুটপাতে ওরা সব এলিয়ে পড়ে রয়েছে। ছড়ানো খড় যেন।' এখানে লেখক মৃতদেহ কে আলংকরিক রূপ দিয়েছেন এবং সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, "খড় যেন"। 

সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ বাংলাদেশের প্রথম বাংলাদেশি চেতনা প্রবাহরীতির উপন্যাস রচয়িতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৮২.
"তিতাস একটি নদীর নাম" - উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৬৬ সালে
  3. ১৯১৮ সালে
  4. ১৯৪৮ সালে
ব্যাখ্যা

তিতাস একটি নদীর নাম:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে।
- উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদী তীরের ধীবর (জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম-সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্র: কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী প্রমুখ।
- এই উপন্যাস নিয়ে ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
 
অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- তিনি ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৬ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; তিতাস একটি নদীর নাম, অদ্বৈত মল্লবর্মণ।

৯,৭৮৩.
সেলিম আল দীন জন্মগ্রহণ করেন-
  1. কুমিল্লায়
  2. ফেনীতে
  3. চট্টগ্রামে
  4. সাভারে
ব্যাখ্যা

• সেলিম আল দীন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার ও গবেষক।
• তিনি ফেনীর সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন‌।
• তিনি 'ঢাকা থিয়েটার' এবং 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' প্রতিষ্ঠা করেন।
• তাঁর রচিত নাটক হলোঃ
- শকুন্তলা,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- কেরামতমঙ্গল,
- সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক,
- মোনতাসির ফ্যান্টাসী,
- বাসন,
- যৈবতী কন্যার মন,
- কীর্তনখোলা,
- চাকা,
- হরগজ,
- হাতহদাই,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- স্বর্ণবোয়াল,
- পুত্র,
- বনপাংশুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৯,৭৮৪.
নিচের কোনটি দীনবন্ধু মিত্রের রচনা?
  1. সধবার একাদশী
  2. রত্নাবতী
  3. পদ্মাবতী 
  4. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র:
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

• দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

• দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

• নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

অন্যদিকে,
- রত্নাবতী(গদ্যগ্রন্থ)- মীর মশাররফ হোসেন।
- পদ্মাবতী (নাটক) -মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 
- বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ (প্রহসন) -মাইকেল মধুসূদন দত্ত।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৮৫.
‘সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন’ - পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. রানার
  2. সোনার তরী
  3. দুই বিঘা জমি
  4. আঠারো বছর বয়স
ব্যাখ্যা

সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন--
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন! - পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া। কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের 'কবি কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- কবির শেষ বয়সের প্রায় সব নাটকই শান্তিনিকেতনে রচিত।
- বলাকা কাব্যের জীবনতত্ত্বকেই কবি রূপ দিয়েছেন ফাল্গুনী নাটকে।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) 'দুই বিঘা জমি' কবিতা।

৯,৭৮৬.
"কী করি আজ ভেবে না পাই,
পথ হারিয়ে কোন্‌ বনে যাই,
কোন্‌ মাঠে যে ছুটে বেড়াই,
সকল ছেলে জুটি।।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুফিয়া কামাল 
  4. শামসুর রাহমান 
ব্যাখ্যা

"কী করি আজ ভেবে না পাই,
পথ হারিয়ে কোন্‌ বনে যাই,
কোন্‌ মাঠে যে ছুটে বেড়াই,
সকল ছেলে জুটি।।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

ছুটি- কবিতা,
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

মেঘের কোলে রোদ হেসেছে,
বাদল গেছে টুটি,
আজ আমাদের ছুটি, ও ভাই,
আজ আমাদের ছুটি।।
কী করি আজ ভেবে না পাই,
পথ হারিয়ে কোন্‌ বনে যাই,
কোন্‌ মাঠে যে ছুটে বেড়াই,
সকল ছেলে জুটি।।
কেয়াপাতায় নৌকো গড়ে’
সাজিয়ে দেব ফুলে,
তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেবো,
চলবে দুলে দুলে।
রাখাল ছেলের সঙ্গে ধেনু
চরাব আজ বাজিয়ে বেণু,
মাখব গায়ে ফুলের রেণু
চাঁপার বনে লুটি।
আজ আমাদের ছুটি, ও ভাই,
আজ আমাদের ছুটি।।

উৎস: ছুটি- কবিতা– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৯,৭৮৭.
'The Abbey of Bliss' নামে 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ কে করেন?
  1. শ্রী অরবিন্দ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি। এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমিকে, আর ধর্ম বলতে হিন্দু ধর্মকে বুঝিয়েছেন।
- উল্লেখ্য যে এটি কোন ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এর ঘটনা কল্পিত কিন্তু অবিশ্বাস্য নয়। চরিত্রগুলি আদর্শায়িত। মন্বন্তরের বর্ণনা নিখুঁত, সাধারণ গ্রামীণ জীবনের আখ্যান বাস্তব। সর্বোপরি প্রেম এবং আদর্শের দ্বন্দ্ব এই উপন্যাসের কাহিনিকে নিবিড়তা দিয়েছে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গ্রন্থের 'বন্দে মাতরম্' গানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ঐতিহাসিক এই উপন্যাসের প্রভাব।
'বন্দে মাতরম্' গান দ্বারা বুঝিয়েছেন ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের দীক্ষা। এই গ্রন্থে রচিত গানের 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।
- নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস।
- এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৮৮.
'কালের যাত্রা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি -
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. ছোটগল্প
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'কালের যাত্রা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি - 'নাটক'। 
-------------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রুদ্র চন্দ্র,
- বাল্মীকি প্রতিভা ,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ,
- ডাকঘর,
- মালিনী ইত্যাদি।
----------------
• 'কালের যাত্রা' নাটক: 
- নাটকটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘কালের যাত্রা’ নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন। 
- রথযাত্রা, রথের রশি, কবির দীক্ষা নামে কয়েকটি দৃশ্যে নাটকটি রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৮৯.
'আমআঁটির ভেঁপু' পর্বটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. অপরাজিত
  2. আরণ্যক
  3. পথের পাঁচালী
  4. অশনি সংকেত
ব্যাখ্যা
• ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস:
'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূ ষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় বিচিত্রা পত্রিকায়। গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশনালয়, কলকাতা থেকে।উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

উপন্যাসের তিনটি ভাগ:
- বল্লালী বালাই,
- আমআঁটির ভেঁপু,
- অক্রূর সংবাদ।

• উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

উল্লেখ্য,
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৯০.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ-
  1. মাধবীলতা
  2. রামেশ্বরের অদৃষ্ট
  3. কণ্ঠমালা
  4. জলপ্রতাপ চাঁদ
ব্যাখ্যা
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দুটি গল্পগ্রন্থের নাম 'রামেশ্বরের অদৃষ্ট' ও 'দামিনী'।

----------------------
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৯১.
একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক-
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য
  4. কবর
ব্যাখ্যা
• ’কবর’
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw এর Bury the Dead  নাটকের অনুসারে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে কবর নাটক লেখা হয়।
- ’কবর’ একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।
- বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- কবর নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে।
-------------------------------------------------
মুনীর চৌধুরি:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৯২.
'হৈমন্তী' গল্পে 'শিশির' কার ডাকনাম?
  1. হৈমন্তীর
  2. গৌরীশংকর
  3. অপু
  4. বনমালী
ব্যাখ্যা
'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজ সমস্যামূলক ছোট গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম।
এই গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো: হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

এই গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৯৩.
'সূর্যদীঘল বাড়ি' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫০
  2. ১৯৫২
  3. ১৯৫৫
  4. ১৯৫৭
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে।
- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্ত্ত।
- দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে।

- উপন্যাসের চরিত্র: জয়গুণ, হাস্য, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।
- সূর্য দীঘল বাড়ীর চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

আবু ইসহাকের অন্যান্য রচনা- 
- পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬)
- জাল  (১৯৮৮)
- হারেম (১৯৬২) ও
- মহাপাত্র (১৯৬৩)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৯৪.
"এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান" – পংক্তিটির রচয়িতা-
  1. চিত্তরঞ্জন দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জীবনানন্দ দাশ 
ব্যাখ্যা

• দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যু ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রদ্ধা: 
- কবি, সাংবাদিক ও রাজনীতিক দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ১৯২৫ সালের ১৬ জুনে মাত্র পঞ্চান্ন বছর বয়সে মারা যান।
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যুর পর কবিগুরু — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।'
- যা আর্ট কাগজে ছাপা প্রয়াত চিত্তরঞ্জন দাসের ছবির নিচে রবীন্দ্র-হস্তাক্ষর লিখিত কবিতা হিসেবে স্থান পায়।

- এ পংক্তিটির মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে দেশবন্ধু তাঁর জীবদ্দশায় কর্ম, জীবন ও আদর্শের মাধ্যমে এক "মৃত্যুহীন প্রাণ" সৃষ্টি করেছিলেন, এবং  তিনি তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমেও সেই অমর কর্মকে দেশবাসীর জন্য দান করে গিয়েছিলেন, যা মূলত তাঁর জীবনের বিশালতাকে তুলে ধরে।

-----------------------

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের জীবনপরিচয়:
- ১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি সি.আর দাশ নামে সমধিক পরিচিত এবং সাধারণ্যে — দেশবন্ধু বলে আখ্যায়িত।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯২৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলার হিন্দু ও মুসলিম নেতাদের মধ্যে — ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এ চুক্তি সম্পাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস।
- ১৯২৩ সালে তিনি স্বরাজ্য দলের মুখপত্র হিসেবে সাপ্তাহিকী দ্য ফরওয়ার্ড প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯২৪ সালে তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের মুখপত্র মিউনিসিপ্যাল গেজেটও প্রতিষ্ঠা করেন। 
- মাত্র পঞ্চান্ন বছর বয়সে ১৯২৫ সালের জুন মাসে দেশবন্ধুর  মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য,
রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-জীবনানন্দ – এই তিন কবির কলমেই উঠে এসেছিল চিত্তরঞ্জনের প্রয়াণ।

কাজী নজরুল ইসলামের শ্রদ্ধাঞ্জলি:
• দেশবন্ধুর মৃত্যুর খবর পেয়ে কাজী নজরুল ইসলাম লিখলেন ‘অর্ঘ্য’ নামক একটি গান— 
“হায় চিরভোলা! হিমালয় হতে
অমৃত আনিতে গিয়া
ফিরিয়া এলে যে নীলকণ্ঠের
মৃত্যু গরল পিয়া!”।

জীবনানন্দ দাশের শ্রদ্ধাঞ্জলি:
• জীবনানন্দদাশ চিত্তরঞ্জনের প্রয়াণ উপলক্ষ্যে লিখেছিলেন—
“বাংলার অঙ্গনেতে বাজায়েছ নটেশের রঙ্গমল্লী গাঁথা
অশান্ত সন্তান ওগো, বিপ্লবিনী পদ্মা ছিল তব নদীমাতা।
কাল বৈশাখীর দোলা অনিবার দুলাইতে রক্তপুঞ্জ তব
উত্তাল ঊর্মির তালে-বক্ষে তবু লক্ষ কোটি পন্নগ-উৎসব
উদ্যত ফণার নৃত্যে আষ্ফালিত ধূর্জটির কন্ঠ-নাগ জিনি,
ত্র্যম্বক-পিনাকে তব শঙ্কাকুল ছিল সদা শত্রু অক্ষৌহিণী।”

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৯,৭৯৫.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক -
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রামরাম বসু
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. জেমস অগাস্টাস হিকি
ব্যাখ্যা
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেমস অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৯৬.
'মেঘনাদ বধ' কাব্য কোন ছন্দে রচিত?
  1. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
  2. পয়ার ছন্দে
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে
  4. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
ব্যাখ্যা

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।
- মেঘনাদবধ কাব্য অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৯৭.
‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ নীলিমা ইব্রাহিম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. আত্মজীবনী
  2. উপন্যাস
  3. ডায়েরি রচনা
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ।
• গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্য কাহিনি নির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। 
• যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা। 
• তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
• বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।
 
-----------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।
 
• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা: 
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।
 
• তাঁর নাটক: 
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৯৮.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) ধান শালিকের দেশ
  2. খ) উত্তরাধিকার
  3. গ) সাহিত্য পত্রিকা
  4. ঘ) মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা
'সাহিত্য পত্রিকা' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত পত্রিকা। অপরদিকে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলো হলো- বাংলা একাডেমী পত্রিকা, উত্তরাধিকার, ধানশালিকের দেশ ,বাংলা একাডেমী বিজ্ঞান পত্রিকা, বাংলা একাডেমি জার্নাল ও বাংলা একাডেমি বার্তা। মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদার।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৯৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক "আয়নায় বন্ধুর মুখ" রচনা করেন কে?
  1. আবুল হোসেন
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা

"আয়নায় বন্ধুর মুখ" নাটক:
- "আয়নায় বন্ধুর মুখ" আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- এটি ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পথ হারানো তারুণ্য, ঘরের বাইরে বাঙালি মেয়েদের সীমাবদ্ধতা- এসবই ছিল আয়নায় বন্ধুর মুখ-এর উপজীব্য।

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৯,৮০০.
বিশ শতকে প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. তত্ত্ববোধিনী
  2. বঙ্গদর্শন
  3. সমকাল
  4. সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা

 • 'সমকাল' পত্রিকাটি বিশ শতকে প্রকাশিত হয়।

• 'সমকাল' পত্রিকা:

- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে 'সমকালে'র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযোগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতো বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে 'সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।

---------------------
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:

- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।