বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৯৭ / ১৭৪ · ৯,৬০১৯,৭০০ / ১৭,৪৩৭

৯,৬০১.
রফিক আজাদের ডাক নাম কী ছিল?
  1. রতন 
  2. জীবন 
  3. মিলু 
  4. সজীব 
ব্যাখ্যা

• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৬০২.
'পলাশী থেকে পাকিস্তান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
কচিপাতা, ত্রিস্রোতা, দৃষ্টিকোণ, ইলিয়ড, পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস), অতীত দিনের স্মৃতি (আত্মজীবনী ও স্মৃতিচারণ) ইত্যাদি গ্রন্থাবলীর রচয়িতা আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬০৩.
শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস 'বড়দিদি' কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. বিচিত্রা
  3. বঙ্গদর্শন
  4. সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা

• 'বড়দিদি' উপন্যাস: 
• 'বড়দিদি' (১৯১৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস।
• এই উপন্যাসটি সরলা দেবী সম্পাদিত ‘ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশকালে বাংলা সাহিত্যে আলোড়নের সৃষ্টি করে। প্রথমে এর নাম ছিল ‘শিশু’।
• শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের প্রধান আকর্ষণ, নারীচরিত্রের সংযম ও মাধুর্য, শাস্ত্রশাসিত জীবন ও স্বাভাবিক প্রবৃত্তির মধ্যে টানাপোড়েন এবং সহজ সাবলীল ভাষা-সবই এখানে পূর্ণমাত্রায় প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র : সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, মাধবী, প্রমীলা। বড়দিদি ‘মাধবী'র নাম।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৬০৪.
কত বছর বয়সে মাইকেল মধুসূদন দত্ত খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন?
  1. ক) ১৭
  2. খ) ১৯
  3. গ) ২১
  4. ঘ) ২৫
ব্যাখ্যা
১৮৪৩ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৯ বছর বয়সে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। 
- তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।

মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে।
- তাঁর ছদ্মনাম টিমোথি পেনপোয়েম
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক ‘শর্মিষ্ঠা' তিনি রচনা করেন ।
- তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্য' নামক মহাকাব্য।

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০)
- মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (১৮৬১)
- বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২)
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৫)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬০৫.
মাকর্সবাদী কবি ছিলেন কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তিনি ছিলেন কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু। তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে। নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৬০৬.
ভাষা আন্দোলনের পেক্ষাপটে রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. যাপিত জীবন
  2. উৎস থেকে নিরন্তর
  3. কাঁটাতারে প্রজাপতি
  4. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
ব্যাখ্যা

• ‘উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থ:  
- 'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেনের প্রথম গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি বিষয়বস্তুর পেক্ষাপটে গল্পগুলো রচিত। 
- গৈরিক বাসনা, বৈশাখী গান, রতি বিলাস, মাস্টার, কান্নার তৃতীয় দিন, গোলাপ ফোঁটা সকাল -ইত্যাদি গল্প সংকলিত হয়েছে এই গল্পগ্রন্থে।

----------------------
সেলিনা হোসেন রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা। 

তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:
• ‘জলোচ্ছ্বাস' (১৯৭২): দক্ষিণ বাংলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আগুনমুখা, কাজল নদীর কূলে প্রতিকূল প্রকৃতি ও সামাজিক অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামশীল মানুষের জীবনধারা এ উপন্যাসের আলেখ্য।

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' (১৯৭৬): এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭২ সালে এ ঘটনা নিয়ে তিনি গল্প লেখেন। পরবর্তীতে এটি উপন্যাসে রূপান্তরিত করেন ।

• ‘যাপিত জীবন' (১৯৮১): এ উপন্যাসে ১৯৪৭-৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের যাবতীয় ঘটনা কেন্দ্রীয় চরিত্র জাফর এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬): উপন্যাস বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নাফ নদীর তীরবর্তী শাহপরী দ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের ধীবর শ্রেণির মানুষের জীবন সংগ্রাম এর বাস্তব রূপায়ণ । চরিত্র: মালেক, সাফিয়া।

‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ (১৯৮৭): চল্লিশের দশকের পটভূমিতে রচিত।

• ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি' (১৯৮৯): নাচোলের তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত।

• ‘কাকতাড়ুয়া’ (১৯৯৬): এটি শিশুতোষ উপন্যাস। এটি বুধা নামে এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনি ।

• 'যুদ্ধ' (১৯৯৮): ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। এ উপন্যাসে ১১ নম্বর সেক্টরের নারী মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবির প্রসঙ্গ এসেছে।

• ‘কাঠকয়লার ছবি' (২০০১): এটি চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা নিয়ে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং ‘উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থ।

৯,৬০৭.
কবি ও উপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোন ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন?
  1. ক) নীল লোহিত
  2. খ) সনাতন পাঠক
  3. গ) নীল উপাধ্যায়
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
কবি ও উপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় 'নীললোহিত', 'সনাতন পাঠক', 'নীল উপাধ্যায়' ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পূর্ব-পশ্চিম
- আত্মপ্রকাশ
- সেই সময়
- প্রথম আলো
- অরণ্যের দিনরাত্রি 
- একা এবং কয়েকজন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক
৯,৬০৮.
'কুঁচবরণ কন্যা' - গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. সুকুমার সেন
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'কুঁচবরণ কন্যা' এর রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া

বন্দে আলী মিয়া:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর অন্যান্য শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬০৯.
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস -
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. শ্যামল ছায়া
  3. যাপিত জীবন
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
• "দুই সৈনিক" উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' প্রকাশ হয় ১৯৭৩ সালে।
- ১৯৭১-এর ২৫শে মার্চ-পরবর্তী কোনো দিনের অনূর্ধ্ব পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সংঘটিত একটি ঘটনার বাণীরূপ। 

• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো-
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'শ্যামল ছায়া'।
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'নিষিদ্ধ লোবান'।
• 'যাপিত জীবন' সেলিনা হোসেনের দেশবিভাগ ও ভাষা আন্দোলন নিয়ে রচিত উপন্যাস।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬১০.
নিচের কোনটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. সবিতা
  2. সন্ধিক্ষণ
  3. দেয়াল
  4.  বেণু ও বীণা
ব্যাখ্যা

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যগ্রন্থ নয়- দেয়াল।
বাংলাদেশের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক হুমায়ুন আহমেদের শেষ উপন্যাস হচ্ছে দেয়াল।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একজন কবি ও ছন্দবিদ ছিলেন।
- জন্ম: ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে।
- পিতা: রজনীনাথ দত্ত (বিশিষ্ট ব্যবসায়ী), পিতামহ: অক্ষয়কুমার দত্ত (তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক)।
- তিনি ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান কবি ছিলেন।
- বাংলা ভাষার স্বতন্ত্র ছন্দ ও ধ্বনির মাধ্যমে নতুন ছন্দ সৃষ্টি করাই ছিল তার মূল কীর্তি, যার জন্য তিনি “ছন্দের জাদুকর” এবং “ছন্দোরাজ” নামে পরিচিত।
- তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ ও কলমগীর।
- মৃত্যু: ১৯২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি।

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন। 

অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাও বাংলাপিডিয়া।

৯,৬১১.
‘জয়গুন ও শফি’ আবু ইসহাক রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. জাল
  3. জয়ধ্বনি
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে।
- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
- ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে।

 উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- জয়গুন,
- হাস্য,
- মায়মুন,
- শফি,
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী,
- মোড়ল গদু।

---------------------------
• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস ‘জাল’। এটি তাঁর রচিত গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

• তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

• তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬১২.
“কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?” এই পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. কামিনী রায়
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

"কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?" পঙ্‌ক্তি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ-

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন ?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনােরথ ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?


• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- ১৮৩৪ সালের ১০ জুন  খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক  বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তাঁর পক্ষে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
- মূলত কীর্তিপাশার জমিদারের অর্থানুকূল্যে তিনি জীবনযাপন করেন।
- কৃষ্ণচন্দ্র ১৮৫৪ সালে বরিশালের কীর্তিপাশা বাংলা বিদ্যালয়ের প্রধান পন্ডিতপদে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। 
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে। 
-  তিনি রামের ইতিবৃত্ত (১৮৬৮) নামে একটি আত্মচরিত রচনা করেন। 
- মহাভারতের ‘বাসব-নহুষ-সংবাদ’ অবলম্বনে রচিত তাঁর অপর গ্রন্থ হলো মোহভোগ (১৮৭১)। কৈবল্যতত্ত্ব (১৮৮৩) তাঁর একটি দর্শনবিষয়ক গ্রন্থ।
- মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয় তাঁর নাটক রাবণবধ।
- তাঁর কবিতার অনেক পঙ্‌ক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।
যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৬১৩.
'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- 'সুধীন্দ্রনাথ দত্ত'। 

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ১৯০১ সালে কলকাতার জন্মগ্রহন করেন।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন একাধারে ১২ বছর। 
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন।

• সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা, 
- ক্রন্দসী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- দশমী। 

তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে- স্বগত, কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬১৪.
'নূরলদীনের সারাজীবন' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. রম্যরচনা
  2. মহাকাব্য
  3. কাব্যনাট্য
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'নূরলদীনের সারাজীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য। 
-------------- 
• 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য: 

- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬১৫.
‘কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই।’-এ বাক্যটি যে গল্পে রয়েছে তার নাম-
  1. পোস্টমাস্টার
  2. মেঘ ও রৌদ্র
  3. জীবিত ও মৃত
  4. মধ্যবৃর্তিনী
ব্যাখ্যা

'জীবিত ও মৃত' ছোটগল্প:
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি ছোটগল্প।
- গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা । তবে এটি কোনো নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী। কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে।সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই' - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বর যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ,
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- কঙ্কাল,
- নিশীথে ও
- মণিহারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৯,৬১৬.
"অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" বিখ্যাত পঙক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) নারী
  2. খ) মানুষ
  3. গ) বিদ্রোহী
  4. ঘ) সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
"অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" পঙক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের 'নারী' কবিতার অন্তর্গত।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

নারী
কাজী নজরুল ইসলাম

" সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বে যা-কিছু মহান্‌ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।"

‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে।
গ্রন্থটিতে মোট কবিতা রয়েছে ১১টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬১৭.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. খোয়াবনামা
  2. খোয়ারি
  3. দুধভাতে উৎপাত
  4. অন্য ঘরে অন্য স্বর
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর মহাকাব্যোচিত উপন্যাস 'খোয়াবনামা'।

• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:

- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- এই উপাদানসমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানবজীবনের সংগ্রাম ও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয়।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- তিনি বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ (১৯৮২), 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) ও কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

•তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৯,৬১৮.
নিচের কোনটি 'দুই বোন' উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) লাবণ্য
  2. খ) শর্মিলা
  3. গ) বিনোদিনী
  4. ঘ) কুমুদিনী
ব্যাখ্যা
'দুই বোন' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- শর্মিলা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র অমিত ও লাবণ্য।
'ঘরে-বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র নিখিলেস ও বিমলা।
'চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র বিহারী ও বিনোদিনী।
'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র মধুসূদন ও কুমুদিনী।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৬১৯.
সানাউল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. নানাকথা
  2. কয়েকটি কবিতা
  3. নদী ও মানুষের কবিতা
  4. খোলাচিঠি
ব্যাখ্যা
সানাউল হক:
- তিনি ছিলেন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক ।
- তাঁর কবিতায় প্রেমানুভূতি ও মানবতাবোধ ধ্বণিত হয়েছে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য সানাউল হক বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, লেখক সঙ্ঘ পুরস্কার, একুশে পদক, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্যা,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশে।

অন্যদিকে,
সমর সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬২০.
'সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন'—এই কথাটি কে বলেছেন?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সুকুমার রায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়' রচিত উপন্যাস- 'পুতুলনাচের ইতিকথা'।
---------------------------
• 'পুতুলনাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- উপন্যাসটি ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন: 'সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।' 'পুতুলনাচের ইতিকথা'য় সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে বাঙালি শিক্ষিত মধ্যবিত্তের অন্তর্গত টানাপোড়েন ও অস্তিত্ব সংকট শশী চরিত্রের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত।
- 'পুতুলনাচের ইতিকথা'য় পুতুল বলতে এই মানুষগুলোকেই বোঝানো হয়েছে, যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: হারু ঘোষ, শশী, কুসুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬২১.
'ডাকঘর' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
'ডাকঘর' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক। এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।

নাটকের চরিত্র গুলো হলো: অমল, মাধব দত্ত (অমলের পিতা), সুধা (মালির মেয়ে), ঠাকুরদাদা, দইওয়ালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬২২.
"বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, 
তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।" - কবিতাংশটুকু কে লিখেছেন?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি,
তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর।' - কবিতাংশটুকু জীবনানন্দ দাশের 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের 'বাংলার মুখ' কবিতার অন্তর্গত।

বাংলার মুখ
 জীবনানন্দ দাশ।

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতো ব্ড় পাতাটির নিচে বসে আছে
ভোরের দয়েলপাখি – চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশথের করে আছে চুপ

'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ।
৯,৬২৩.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের মৃত্যুর পর প্রকাশিত গদ্যরীতির গ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রবোধচন্দ্রিকা
  2. পঞ্চতন্ত্র
  3. রাজাবলি
  4. বত্রিশ সিংহাসন
ব্যাখ্যা

'প্রবোধচন্দ্রিকা':
- 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর ১৮৩৩ সালে। 
- গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত। 
- এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে।

----------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (১৭৬২-১৮১৯) বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), রাজাবলি (১৮০৮), হিতোপদেশ (১৮০৮), বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭) ও প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)-এই পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

- সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ। 

- কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

- 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৬২৪.
'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির রচয়িতা - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া শহরের নিকটবর্তী চেলোপাড়ায়।
• তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- বিশেষত, তাঁর রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে যে স্বকীয় বর্ণনারীতি ও সংলাপে কথ্যভাষার ব্যবহার লক্ষণীয় তা সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে অনন্যসাধারণ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- অন্যঘরে অন্যস্বর,
- দোজখের ওম,
- খোয়াবনামা,
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬২৫.
‘সারেং বৌ’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. শহীদুল্লাহ কায়সার 
ব্যাখ্যা

‘সারেং বৌ’ উপন্যাসটির রচয়িতা হচ্ছে শহীদুল্লাহ কায়সার। 

সারেং বৌ:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘সারেং বৌ’ (১৯৬২)।
- উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এই উপন্যাসে সব সংস্কার তুচ্ছ করে মানুষকে জয়ী দেখানো হয়েছে। 

শহীদুল্লাহ কায়সার:
- জন্ম: ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, ফেনি।
- পুরো নাম: আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি জহির রায়হানের সহোদর।
- ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ: ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’।
- স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ: ‘রাজবন্দীর রোজনমাচা’।

উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৬২৬.
'মোটর যোগে রাঁচী সফর' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা-
  1. এস ওয়াজেদ আলি
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. কাজী আবদুল ওদুদ
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

• 'মোটর যোগে রাঁচী সফর' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা- 'এস ওয়াজেদ আলি'।

এস ওয়াজেদ আলি:
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:

প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প, 
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, 
- ভবিষ্যতের বাঙালী
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা 
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর

ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত, 
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৬২৭.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সাধের আসন
  3. বন্ধু বিয়োগ
  4. সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল' ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত।
- এটি পাঁচ সর্গে ত্রিপদী দীর্ঘ স্তবকময় লালিত্যপূর্ণ ভাষায় রচিত।
- কাব্যের প্রথম সর্গে কবির মনোজগতে এক কাব্যলক্ষ্মীর আবির্ভাব, দ্বিতীয় সর্গে হারানো আনন্দ লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে কবির মানসভ্রমণ, তৃতীয় সর্গে কবিচিত্তের দ্বন্দ্ব, চতুর্থ সর্গে হিমালয়ের উদার প্রশান্তির মধ্যে কবিচিত্তের আশ্বাস লাভ, পঞ্চম সর্গে হিমালয়ের পুণ্যভূমিতে কবির আনন্দ উপলব্ধির চিত্র পাওয়া যায়।
- ‘সারদামঙ্গল' কাব্য সম্পূর্ণরূপে জীবনরহিত, বিশেষ সৌন্দর্যধ্যান।
- শেলির মতো বিহারীলাল তাঁর প্রিয়তমার মধ্যে সারদাকে অন্বেষণ করেছেন এবং দীর্ঘ বিরহের পর হিমাদ্রিশিখরে ভাব-সম্মিলনের চিত্র অংকন করে কবি কাব্যের পরিসমাপ্তি টেনেছেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৯,৬২৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বর্ষাযাপন' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) সোনার তরী
  2. খ) কড়ি ও কোমল
  3. গ) শেষ লেখা
  4. ঘ) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনারতরী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'বর্ষাযাপন' কবিতাটি।
• ছোটগল্পের প্রকৃতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) তাঁর ‘বর্ষাযাপন’ কবিতায় বলেছেন:

ছোটো প্রাণ, ছোটো ব্যথা ছোটো ছোটো দুঃখকথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতিরাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা,
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সোনার তরী কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

• এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো :
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

উৎস: সোনার তরী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৯,৬২৯.
‘বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়’ - কোন গ্রন্থে আছে?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. চোখের বালি
  3. পুতুল নাচের ইতিকথা
  4. শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শ্রীকান্ত' তাঁর আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস।
- এতে তিনি শ্রীকান্ত শর্মা ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- এ উপন্যাসের বিখ্যাত কিছু উক্তি-
- 'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।',
- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না- ইহা দূরেও ঠেলিয়া দেয়।', (শ্রীকান্ত ও বাইজি রাজলক্ষ্মীর বিচ্ছেদের প্রসঙ্গে এই কথাটি বলা হয়েছে।)
- 'মড়ার আবার জাত কি?'

উৎসঃ শরৎ রচনাবলী।

৯,৬৩০.
কোনটি ইমদাদুল হক মিলন রচিত মক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. অন্ধ কথামালা
  2. কালোঘোড়া
  3. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  4. অলাতচক্র
ব্যাখ্যা
• 'কালোঘোড়া' উপন্যাস:
- পশ্চিম জার্মানীর এক ছোট্ট শহর সিনডেল ফিঙগেনে বসে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের এক নিবিড় গ্রাম নিয়ে উপন্যাস লিখেছিলেন ইমদাদুল হক মিলন। সেই উপন্যাসের নাম 'কালোঘোড়া'।
- 'কালোঘোড়া' মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস।

- ১৯৭১ এর সেই জেগে ওঠার দিনে বাংলাদেশের একটি গ্রামে কেমন চেহারা নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ, কেমন করে মুক্তিযুদ্ধ প্রভাবিত করেছিল গ্রামের প্রতিটি মানুষকে, কেমন করে মুক্তিযোদ্ধারা এসে আশ্রয় পায় এক বালকের কাছে, কেমন করে প্রাণ হারায় এক বোবা যুবতী, স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের হোতা কেমন করে নিহত হয় মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আর কেমন করেই বা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা সেই বালক নিজের অজান্তে হয়ে ওঠে এক মহান মুক্তিযোদ্ধা, প্রাণের বিনিময়ে যে রক্ষা করতে চায় সহযোদ্ধাদেরকে, একরম অনেকগুলো বিষয়কে 'কালোঘোড়া' উপন্যাসে উপজীব্য করেছেন ইমদাদুল হক মিলন।


অন্যদিকে,
- ‘অন্ধ কথামালা’ রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- লেখক সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' (১৯৮৪)।

------------------
• ইমদাদুল হক মিলন:
- ১৯৫৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের জন্ম।
- লেখনীশক্তির পাশাপাশি তার রয়েছে নাট্যরচনায় পারদর্শিতা।
- বর্তমানে বাংলাদেশের মূলধারার সংবাদপত্র 'কালের কন্ঠ-এর সম্পাদক পদেও নিয়োজিত রয়েছেন তিনি।
- শিশুতোষ গল্প দিয়ে সাহিত্য অঙ্গনে এ গুণী লেখকের প্রবেশ, যা প্রকাশিত হয়েছিলো কিশোর বাংলা' নামক এক পত্রিকায়।
- তবে পাঠকের নজরে পড়েছিলেন 'সজনী' নামের ছোট গল্প লিখে।
- খুব অল্প বয়সে তিনি লেখালেখিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
 - দুই বাংলায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী তার বহুল পঠিত উপন্যাস হলো 'নূরজাহান'।
- এছাড়াও ইমদাদুল হক মিলন এর উপন্যাস সমগ্র বিভিন্ন পাঠকপ্রিয় উপন্যাসে ঠাসা।

তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো:
- জিন্দাবাহার,
- নিঝুম নিশিরাতে,
- যাবজ্জীবন,
- কালাকাল,
- কালো ঘোড়া,
- ভূমিপুত্র,
- পরাধীনতা,
- কে,
- তাহারা,
- ভূতের নাম রমাকান্ত কামার ইত্যাদি।

• দেশি- বিদেশি নানা সম্মানজনক পুরস্কারের পাশাপাশি ২০১৯ সালে তিনি একুশে পদক পান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া;  'কালোঘোড়া' উপন্যাস।
৯,৬৩১.
প্রথম শহিদ দিবসের প্রথম প্রচাতফেরীতে কার লেখা গাওয়া গান হয়েছিলো?
  1. ক) আ. ন. ম. গাজীউল হক
  2. খ) মোশারেফ উদ্দিন আহমেদ
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
১৯৫৩ সালের প্রথম শহিদ দিবসের প্রথম প্রচাতফেরীতে গাওয়া গান হলো- 
"মৃত্যুকে যারা তুচ্ছ করিল
ভাষা বাচাবার তরে
আজিকে স্মরিও তারে"
- গানটির রচয়িতা প্রকৌশলী মোশারেফ উদ্দিন আহমেদ। 

- একুশের প্রথম গানের রচনা করেন আ. ন. ম. গাজীউল হক।
- গানটির প্রথম চরন- 'ভুলবো না ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না'।

- “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি।” - এই গানটি রচনা করেছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- এটি প্রথমে সুর করেন - আবদুল লতিফ এবং বর্তমানে যে সুরে গাওয়া হয়, তা করেছেন - আলতাফ মাহমুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৩২.
'পুতুলনাচের ইতিকথা' কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'পুতুলনাচের ইতিকথা' (১৯৩৬) উপন্যাসের রচয়িতা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৩৩.
'চাঁদের পাহাড়' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা

- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'চাঁদের পাহাড়'।
- এই উপন্যাসে আফ্রিকা মহাদেশের কাহিনী বর্ণিত আছে।
- এটি বাংলা রোমাঞ্চকর একটি ৎউপন্যাস।
- 'শঙ্কর' নামক ভারতবর্ষের সাধারণ এক তরুণের আফ্রিকা মহাদেশ জয় করার কাহিনী এতে বর্ণিত আছে।
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- দৃষ্টিপ্রদীপ,
- আরণ্যক,
- বিপিনের সংসার,
- অশনিসংকেত,
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনীঃ
- অভিযাত্রিক,
- বনে পাহাড়ে,
- হে অরণ্য কথা কও ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পঃ
- মেঘমল্লার,
- মৌরিফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল,
- পুঁইমাচা ইত্যাদি

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৯,৬৩৪.
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত নাটক?
  1. গিনিপিগ
  2. মেবার পতন
  3. কিত্তনখােলা
  4. নবীন তপস্বিনী
ব্যাখ্যা
• ‘কিত্তনখােলা’ নাটক:
- ‘কিত্তনখােলা’ নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন।
- জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম তাঁর ‘কিত্তনখোলা’। ‘কিত্তনখোলা’ রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। - মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- ‘কিত্তনখোলা’ হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

অন্যদিকে,
• ‘মেবার পতন’ দ্বিজেন্দ্রলালা রায় রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
• ‘নবীন তপস্বিনী’ দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক।
• 'গিনিপিগ' নাটকের রচয়িতা হলেন মামুনুর রশীদ।

-----------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘কিত্তনখোলা’ নাটক।
৯,৬৩৫.
বাংলা গদ্যে প্রাঞ্জল ভাষারীতি প্রথম প্রয়োগ ঘটান-
  1. হরপ্রসাদ রায়
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
⇒ রাজা রামমোহন রায়:
• যে যুগে বাংলা গদ্যে প্রাঞ্জলতা ছিল একান্ত দুর্লভ, তখন রাজা রামমোহন রায় গদ্যে প্রাঞ্জল ভাষারীতি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
• বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪-১৮৩৩)।
• তাঁর বলিষ্ঠ হাতে বাংলা গদ্য বিচার-বিশ্লেষণে উচ্চতর চিন্তাধারার প্রকাশের বাহন হিসেবে অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।
• রাজা রামমোহন রায় বাংলা রচনায় যে গদ্যরীতি ব্যবহার করেছেন তাতে বিশেষ কোন প্রকার রীতির প্রতি তিনি দৃষ্টিপাত করেন নি। তাই বলা যায়, তাঁর গদ্যরীতি সাহিত্যরসমণ্ডিত না হলেও তাতে উপযোগিতা থাকায় অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।

• কবি ঈশ্বর গুপ্ত তাঁর ভাষারীতির সমালোচনা করতে গিয়ে মন্তব্য করেছেন-

‘দেওয়ানজি জলের ন্যায় সহজ ভাষা লিখিতেন, তাহাতে কোন বিচার ও বিবাদঘটিত বিষয় লেখায় মনের অভিপ্রায় ও ভাব সকল অতি সহজে স্পষ্টরূপে প্রকাশ পাইত, এ জন্যে পাঠকেরা অনায়াসেই হৃদয়ঙ্গম করিতেন, কিন্তু সে লেখায় শব্দের বিশেষ পারিপাট্য ও তাদৃশ মিষ্টতা ছিল না’।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৬৩৬.
'দুঃসময়ের মুখোমুখি’ কার লেখা?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) আহসান হাবিব
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

- শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম প্রকাশিত),
- বন্দী শিবির থেকে (স্বাধীনতা তুমি, তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা কবিতা দুটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত)
- রৌদ্র করোটিতে,
- আমি অনাহারী,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- এক ধরনের অহংকার,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়

 

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯,৬৩৭.
'বিশ শতকের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বিশ শতকের মেয়ে' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়। 

------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:

- নীলিমা ইব্রাহিম (১৯২১-২০০২) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী। ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- কর্মজীবনের শুরুতে নীলিমা ইব্রাহিম কলকাতার লরেটো হাউজে লেকচারার (১৯৪৩-৪৪) হিসেবে চাকরি করেন। নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তাঁর গ্রন্থবদ্ধ রচনাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

• গবেষণা:
- শরৎ-প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক। 

• উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

• আত্মজীবনী:
- বিন্দু-বিসর্গ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৩৮.
'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. সবুজপত্র
  2. কল্লোল
  3. শিখা
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা

'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৬৩৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে কোন উপাধিতে ভূষিত করেছেন?
  1. ব্যাকরণচার্য
  2. ভাষাচার্য
  3. ধ্বনিচার্য
  4. জ্ঞানচার্য
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী। ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম।
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৪০.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসের অর্ন্তভুক্ত নয়? 
  1. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা
  4. সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা

রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসের অর্ন্তভুক্ত নয়। 
- এটি একটি গল্পগ্রন্থ। 

আবু জাফর শামসুদ্দীন
- তিনি একজন সাংবাদিক এবং সাহিত্যিক।
- জন্ম: ১৯১১ সালের ১২ মার্চ, ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখতেন।
- প্রথম উপন্যাস: পরিত্যক্ত স্বামী (১৯৪৭)। 

ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন। 

উল্লেখযোগ্য রচনা:
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী। 

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৪১.
মুসলমান সাহিত্যিক রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস কোনটি?
  1. বিষাদ-সিন্ধু
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. রত্নবতী
  4. বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা
'রত্নবতী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ 'রত্নবতী'। এটি মুসলমান সাহিত্যিক রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস
- লেখকের নাম পৃষ্ঠায় 'কৌতুকাবহ উপন্যাস' বলে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প।
- রাজকুমার সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা বড়'- এ বিতর্ক এবং বিতর্কের সমাধানই 'রন্তবতী' এর মূল বিষয়।

উল্লেখ্য,
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল।
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক - বসন্তকুমারী।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত অন্য একটি উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৪২.
“আঠারো বছর বয়স” কবিতায় আঠারো শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে কতবার? (এমন দুই একটা প্রশ্ন থাকতেই পারে)
  1. ক) আঠারো
  2. খ) তেরো
  3. গ) আট
  4. ঘ) নয়
ব্যাখ্যা
“আঠারো বছর বয়স” কবিতায় “আঠারো” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে নয়বার এবং “আঠারো বছর” ব্যবহৃত হয়েছে সাতবার।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৬৪৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিপ্রাকৃত গল্প কোনটি?
  1. দেনাপাওনা
  2. ক্ষুধিত পাষাণ
  3. রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা
  4. যজ্ঞেশ্বর যজ্ঞ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বর যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিপ্রাকৃত গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- কঙ্কাল,
- নিশীথে ও
- মণিহারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৪৪.
কৃত্তিবাস ওঝার অনূদিত রামায়ণের নাম কী?
  1. রামলীলা
  2. রামচরিত মানস
  3. শ্রীরাম পাঁচালি
  4. রামায়ণ মহাকাব্য
ব্যাখ্যা
কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক ও বাংলা রামায়ণের আদি কবি ‘কৃত্তিবাস ওঝা’। কৃত্তিবাসের আসল পদবি ছিল ‘মুখোপাধ্যায়’। কবির কাব্যের ‘আত্ম পরিচয়' অংশ থেকে তাঁর বংশ পরিচয় পাওয়া যায়।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন। তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৪৫.
পঞ্চপাণ্ডব কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• পঞ্চপাণ্ডব কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন- প্রমথ চৌধুরী। 

---------------
• পঞ্চপাণ্ডব:

- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন, তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হতো।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভূক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন:
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৪৬.
'চিত্রগুপ্ত' কার ছদ্মনাম? 
  1. বিমল মিত্র
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. সতীনাথ ভাদুড়ী
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

• চিত্রগুপ্ত ছদ্মনামে লিখতেন সতীনাথ ভাদুড়ী।

অন্যদিকে: 
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম যাযাবর। 
- বিমল মিত্র জাবালি ছদ্মনামে লিখতেন।
-‘মুসাফির’ ছদ্মনামে সৈয়দ মুজতবা আলী লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৬৪৭.
'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের মোট দৃশ্যসংখ্যা-
  1. ৭টি
  2. ৯টি
  3. ১২টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা
• 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
-'জাগো বাহে কোষ্ঠে সবাই' বলে অবিস্মরণীয় আহ্বানটি দিয়েছিলো : নূরলদীন।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যে এই উক্তিটি রয়েছে।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- 'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত কাব্যনাট্য।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা।
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৪৮.
কোন নাট্যকারের হাতে বাংলা মৌলিক নাটকের যাত্রা শুরু হয়?
  1. ক) রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. খ) যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) তারাচরণ শিকদার
ব্যাখ্যা
- ১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
- নাটকটির রচয়িতা ছিলেন তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক। সুতরাং, তার হাত ধরেই বাংলা মৌলিক নাটকের যাত্রা শুরু হয়।

- 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটকের রচয়িতা রামনারায়ণ তর্করত্ন।

- ১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম কীর্তিবিলাস। এই নাটকের রচয়িতা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি। যার নাম কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
৯,৬৪৯.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন -
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. জেমস অগাস্টাস হিকি
ব্যাখ্যা
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৫০.
'ইব্রাহিম কার্দি' - চরিত্রটি কোন নাটকের? 
  1. কবর
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর 
  3. রক্তকরবী
  4. নীলদর্পণ 
ব্যাখ্যা
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’: 
- এটি মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি: ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।'
- এই নাটকের চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:

- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক ছিলেন।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দন্ডকারণ্য।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা ও
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৫১.
‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্ঘ্য।
ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।’ - উক্তিটি কার?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত ‘তন্বী’ কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৯৩০ সালে।
⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।

• উৎসর্গপত্রে লিখেছিলেন-
“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।”

⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
• ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম। 
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
• ১৯৪৫-৪৯ সময়কালে তিনি স্টেটসম্যান পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। 
• সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 
• বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি: কাব্যগ্রন্থ-
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

• গদ্যগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৫২.
ইউসুফ-জুলেখা কে লিখেছেন?
  1. বাহরাম খান
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. সাবিরিদ খান
  4. আহমদ শাহ
ব্যাখ্যা
মুসলমান কবিরা বিভিন্ন বিদেশী কাহিনীর অনুবাদ করেছেন কাহিনী কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে৷
ইউসুফ-জুলেখার কাহিনী লিখেছেন শাহ মুহম্মদ সগীর।
হানিফা ও কয়রা পরীর গল্প লিখেছেন সাবিরিদ খান৷
লাইলি-মজনুর প্রণয়ের কথা বলেছেন বাহরাম খান।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ
৯,৬৫৩.
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. শামসুর রাহমান 
  3. শওকত ওসমান
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা

'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালোত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।

- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।

- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়। এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৬৫৪.
’নীল লোহিত’ কোন লেখকের সাহিত্যিক ছদ্মনাম?
  1. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  2.  জসীম উদ্‌দীন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
ব্যাখ্যা

 ‘নীল লোহিত’ হলো 'সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়' এর ছদ্মনাম।

এছাড়াও তিনি পরিচিত ছিলেন-

- নীল উপাধ্যায়
- সনাতন পাঠক

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পূর্ব-পশ্চিম
- আত্মপ্রকাশ
- সেই সময়
- প্রথম আলো
- অরণ্যের দিনরাত্রি  
- একা এবং কয়েকজন ।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম- সত্য পীর।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম- দৃষ্টিহীন।
-  জসীম উদ্‌দীন এর ছদ্মনাম- 'পল্লীকবি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৬৫৫.
'মায়া মালঞ্চ' - নাটকটি কার রচনা?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
তপস্বী ও তরঙ্গিনী, মায়া মালঞ্চ বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক ৷ Source: LiveMCQ Lecture
৯,৬৫৬.
‘জরাসন্ধ’ ছদ্মনামটি কোন সাহিত্যিকের?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
চারুচন্দ্র চক্রবর্তী'র ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।

অন্যদিকে,
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুনন্দ।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম - লীলাময় রায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৫৭.
বাংলা গদ্যে রচিত প্রথম আত্মজীবনী কোনটি?
  1. ক) আত্মচরিতঃ
  2. খ) জীবন কথা
  3. গ) আমার কণ্ঠস্বর
  4. ঘ) তৃণাঙ্কুর
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিতঃ। বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির প্রবর্তকও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। জীবন কথা, আমার কণ্ঠস্বর ও তৃণাঙ্কুর যথাক্রমে কবি জসীম উদদীন, কবি নির্মলেন্দু গুণ এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আত্মজীবনী। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৯,৬৫৮.
'হাসন রাজা" ছদ্মনামে লিখতেন -
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) এম. ওবায়দুল্লা
  3. গ) অহিদুর রেজা
  4. ঘ) কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা
'হাসন রাজা" ছদ্মনামে লিখতেন - অহিদুর রেজা। 

অন্যদিকে: 
- "শমসের উল আজাদ" ছদ্মনামে লিখতেন -আবুল ফজল।  
- "আসকার ইবনে শাইখ" ছদ্মনামে লিখতেন -এম. ওবায়দুল্লা। 
-  "কায়কোবাদ" ছদ্মনামে লিখতেন -কাজেম আল কোরেশী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৫৯.
'একাত্তরের ডায়েরী' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সেলিনা হোসেন
  3. সুফিয়া কামাল
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

• 'একাত্তরের ডায়েরী' সুফিয়া কামাল রচিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথামূলক রচনা।

সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়। 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা,  
- একাত্তরের ডায়েরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৬৬০.
'ছন্দ সমীক্ষণ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  2. খ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) আব্দুল কাদির
  4. ঘ) আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ
ব্যাখ্যা
বাংলা ছন্দ বিষয়ক গ্রন্থ- 'ছন্দ সমীক্ষণ' এর রচয়িতা আব্দুল কাদির। দিলরুবা ও উত্তর বসন্ত কাব্যের রচয়িতাও তিনি। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৯,৬৬১.
কাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডি. লিট 'উপাধি' বা সম্মাননা প্রদান করেন কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে 
  2. ১৯৭৪ সালে 
  3. ১৯৭৬ সালে 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• কবি কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম মোট ১৩ বার ঢাকায় আসেন।
- প্রথমবার আসেন ১৯২৬ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন মোট ৫ বার।
- দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়।
- ১৯৭৪ সালের ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে 'ডি. লিট' উপাধি বা সম্মাননা প্রদান করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৬২.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম কী?
  1. শ্রীমতী রাধামণি দেবী
  2. নীললোহিত
  3. হাবু শর্মা
  4. ভ্রমর
ব্যাখ্যা

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - নীললোহিত

অন্যদিকে, 
- প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - শ্রীমতী রাধামণি দেবী।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'হাবু শর্মা'। 
- 'ভ্রমর' সমরেশ বসুর ছদ্মনাম। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৬৬৩.
রবীন্দ্রনাথের নিচের রচনাগুলোর মধ্যে কোনটি কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) শেষ লেখা
  2. খ) শেষ সপ্তক
  3. গ) শ্যামলী
  4. ঘ) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ- শ্যামলী, শেষ সপ্তক, শেষলেখা। 'শেষের কবিতা' তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৯,৬৬৪.
সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. খোয়াবনামা
  3. কাশবনের কন্যা
  4. জননী
ব্যাখ্যা
• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস: 
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'চাঁদের অমাবস্যা'। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে । 
- উপন্যাসে আরেফ আলী নামের এক স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর্জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত সমাজ প্রাভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
 
------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
 
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।
 
• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

অন্যদিকে,
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬)।
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত সবচেয়ে বিখ্যাত ও মিথিক্যাল উপন্যাস 'কাশবনের কন্যা'। 
- জননী (১৯৩৫) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত নারীর জননী-জীবনের নানা স্তর এবং সন্তানের সঙ্গে জননীর সম্পর্কে সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ মূলক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৬৫.
ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থের নাম কী?
  1. একুশের গল্প
  2. আর্তনাদ
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. একুশে ফেব্রুয়ারী
ব্যাখ্যা
• একুশে ফেব্রুয়ারী:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন।
- ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’।
- এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।
- সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নক্শা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি।
- প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

অন্যদিকে,
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হানের ভাষা আন্দোলন বিষয়ক গল্প।
- 'আরেক ফাল্গুন' জহির রায়হানের রচিত একটি উপন্যাস।
- ‘আর্তনাদ’ শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস।

---------------------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- তিনি ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারী'।
- 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- তাড় প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিমুখ প্রান্তর'।
- তিনি ১৯৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ:
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৬৬.
কোনটি ঠিক?
  1. শেষের পরিচয় (কাব্যগ্রন্থ)
  2. রাজবন্দীর রোজনামচা (নাটক)
  3. বিসর্জন (উপন্যাস)
  4. সে (গল্পগ্রন্থ)
ব্যাখ্যা
• 'সে' গল্পগ্রন্থ: 
- 'সে' হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্পগ্রন্থ।
- এটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- উদ্ভট ও অদ্ভুত, সম্ভব ও অসম্ভবের মিলনে গল্পগুলি গঠিত।
- রবীন্দ্রনাথের লেখা 'খাপছাড়া' ও 'ছড়ার ছবি'র কবিতার সঙ্গে এ গল্পগুলির যোগ সহজে লক্ষণীয়।

অন্যদিকে,
• ‘শেষ প্রশ্ন’ (১৯৩১) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
• ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 
• 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৬৭.
'ওসমান' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত কোন গ্রন্থের প্রধান চরিত্র?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. খোয়াবনামা
  3. দোজখের ওম
  4. খোয়ারি
ব্যাখ্যা
• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- 'চিলেকোঠার সেপাই' বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান। এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি অঙ্কিত হয়েছে।

--------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৬৮.
কোন কবিকে কিশোরকবি বলা হয়?
  1. সত্যেন সেন
  2. সমর সেন
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্যকে কিশোরকবি বলা হয়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁকে কিশোরকবি বলা হয়।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৬৯.
'বড়দিদি' উপন্যাসে বড়দিদির নাম কী ছিলো?
  1. ক) পার্বতী
  2. খ) মাধবী
  3. গ) ষোড়শী
  4. ঘ) রাজলক্ষ্মী
ব্যাখ্যা
অপরাজেয় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'বড়দিদি'
- সরলা দেবী সম্পাদিত 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- প্রথমে এর নাম ছিল 'শিশু'। 
- চরিত্র: সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, মাধবী, প্রমীলা। 
- বড়দিদি মাধবী'র নাম। 

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৭০.
’চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’ উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. আবদুল কাদির
  2. আনোয়ার পাশা
  3. আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
’চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’ উপন্যাসটি রচনা করেন-আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

• আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী: 
- একজন সুপরিচিত বাংলাদেশি গ্রন্থকার, কলাম লেখক।
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর; বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো" এর রচয়িতা। 

• তাঁর গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি (১৯৫৯),
- সুন্দর হে সুন্দর (১৯৬০),

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (১৯৬০),
- নাম না জানা ভোর (১৯৬২),
- নীল যমুনা (১৯৬৪),
- শেষ রজনীর চাঁদ (১৯৬৭),
- কৃষ্ণপক্ষ (১৯৫৯),  

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত (১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৭১.
'অলাতচক্র' কী?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) গল্প
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'অলাতচক্র'৷
এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনকারী দেশসমূহের স্বার্থের দিকটি দেখতে চেয়েছেন৷
এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র : তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৬৭২.
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কবিতা কোনটি?
  1.  ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা
  2. প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
  3. আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
  4. বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
ব্যাখ্যা

• 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর একটি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে। বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা হচ্ছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি'।


আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি।
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি-
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিলো
তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিলো।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।

অন্যদিকে,
• ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা; প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ও বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা শামসুর রাহমান রচিত কবিতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস; 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৭৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নৌকাডুবি' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. আত্মজৈবনিক
  2. সামাজিক
  3. ঐতিহাসিক
  4. মনস্তাত্ত্বিক
ব্যাখ্যা

• 'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' একটি সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- উপন্যাসটির মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।

-----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর]] এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।

তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস:
- বউ ঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- ঘরে-বাইরে,
- যোগাযোগ ইত্যাদি।

উৎস: 'নৌকাডুবি' উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৬৭৪.
‘ধন ধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’ সংগীতটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রজনীকান্ত
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• "ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা"- গানটির রচয়িতা 'দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'
- তাঁর রচিত ঐতিহাসিক 'সাজাহান' নাটকে এই গানটি পাওয়া যায়।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- বাংলা সাহিত্যে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার ও গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।  
- তিনি কিশোর কাল থেকে কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৯০৫ সালে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অসামান্য অবদান ছিল। 

• দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান:
- ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’।
- ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি।

 • তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে।
- বঙ্গনারী।

নকশা-প্রহসন:
- একঘরে।
- পুনর্জন্ম।
- ত্র্যহস্পর্শ।
- প্রায়শ্চিত্ত।
- আনন্দ বিদায়।

• তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ:
- আর্য্যগাথা।
- মন্দ্র।
- আলেখ্য।
- ত্রিবেণী ইত্যাদি। 

• ঐতিহাসিক নাটক:
- রানা প্রতাপসিংহ।
- মেবার-পতন।
- নূরজাহান।
- সাজাহান।
- চন্দ্রগুপ্ত।
- সিংহল বিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া। 
৯,৬৭৫.
'মজিদ, জমিলা' চরিত্রগুলো সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কোন উপন্যাসে রয়েছে?
  1. ক) দি আগলি এশিয়ান
  2. খ) কাঁদো নদী কাঁদো
  3. গ) চাঁদের অমাবস্যা
  4. ঘ) লালসালু
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন  কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে  জন্মগ্রহণ করেন। 
বাংলা একাডেমি পুরস্কার(১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন। 

ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের পেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৭৬.
'নারীর মূল্য' প্রবন্ধের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) কাজী মোতাহের হোসেন
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'অনীলা দেবী' ছদ্মনামে ১৯২৩ সালে 'নারীর মূল্য' নামক নিবন্ধ গ্রন্থটি যমুনা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। 
- এটি নারীর সামাজিক অধিকার এবং সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান নিবন্ধ গ্রন্থ। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন -
১) অনীলা দেবী (লেখকের বড় দিদির নাম)
২) শ্রীকান্ত শর্মা
৩) অনুরূপা দেবী
৪) অপরাজিতা দেবী
৫) শ্রী চট্টোপাধ্যায়
৬) পশুরাম (রাজবসু শেখর ও পশুরাম ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন, সাহিত্য সমাজে তিনিই পশুরাম নামে অধিক পরিচিত।)
৭) সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, নারীর মূল্য- নিবন্ধ গ্রন্থ।
৯,৬৭৭.
'রায়গুণাকর' উপাধি লাভ করেন কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. মুকুন্দরাম
  3. ভারতচন্দ্র 
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

• তাঁর রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ উক্তি হল:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে- উক্তিটি তিনি ঈশ্বরী পাটনী’র( কাব্যের চরিত্র) মুখ দিয়ে একথা বলিয়েছেন। 
- এখানে হিন্দি শব্দ পাটনী এর অর্থ হচ্ছে খেয়ামাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৭৮.
“আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট”- বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সত্যেন সেন
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. সমর সেন
ব্যাখ্যা
• সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’- এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৭৯.
‘অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
- ‘অনিঃশেষ’ অমিয় চক্রবর্তী রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৩৪৫ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- চলন্ত,
- কালান্তর,
- কালো জলে,
- পুষ্পদৃষ্টি,
- যৌগিক,
- পরিধি,
- নাগরদোলা,
- মর্মান্তিক,
- কুয়ো-তলা,
- বহুকালের ঘড়ি ইত্যাদি।

--------------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সাথে বহুদেশ ভ্রমণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৮০.
"হায়ওয়ান আলী" - কোন গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. নীলদর্পণ
  2. জমিদার দর্পণ
  3. সারেং বৌ
  4. সূর্য-দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- জন্ম ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯)
- তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে।

• 'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- 'জমিদার দর্পণ' মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা।
- 'জমিদার দর্পণ' উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো-
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- জমিদার দর্পণ,
- টালা অভিনয়।
--------------------
'নীলদর্পণ' (১৮৬০) নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
নাটকটিতে তিনি বাংলার কৃষকদের উপর ব্রিটিশ নীলকরদের নিষ্ঠুর অত্যাচারের স্বরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।
উল্লেখযোগ্য চরিত্র- গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরণ, তোরপ, সাবিত্রী, সরলতা, ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।

• 'সারেং বৌ’ সম্পর্কিত তথ্য:
- 'সারেং বৌ’ শহীদুল্লা কায়সারের একটি বিখ্যাত উপন্যাস
- এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন তুলে ধরে।
- গল্পের মূল চরিত্র- সারেং কদম এবং তার স্ত্রী নবিতুন।
- উপন্যাসে তাদের প্রেম, বিচ্ছেদ, দুঃখ-কষ্ট এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলার গল্প বলা হয়েছে।

• সূর্য-দীঘল বাড়ী: 
- 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি উপন্যাস। 
- ১৯৫৫ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থটি।  

- উপন্যাসের চরিত্র:
→ জয়গুন,
→ হাসু, 
→ মায়মুন,
→ শাফি,
→ ডা. রামেশ,
→ মোড়ল গদু প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৮১.
বাংলা গদ্যে প্রাঞ্জল ভাষারীতি কে ব্যবহার করেন?
  1. ক) হরপ্রসাদ রায়
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• যে যুগে বাংলা গদ্যে প্রাঞ্জলতা ছিল একান্ত দুর্লভ, তখন রাজা রামমোহন রায় গদ্যে প্রাঞ্জল ভাষারীতি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
• বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪-১৮৩৩)
• তাঁর বলিষ্ঠ হাতে বাংলা গদ্য বিচার-বিশ্লেষণে উচ্চতর চিন্তাধারার প্রকাশের বাহন হিসেবে অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।
• রাজা রামমোহন রায় বাংলা রচনায় যে গদ্যরীতি ব্যবহার করেছেন তাতে বিশেষ কোন প্রকার রীতির প্রতি তিনি দৃষ্টিপাত করেন নি। তািই বলা যায়, তাঁর গদ্যরীতি সাহিত্যরসমণ্ডিত না হলেও তাতে উপযোগিতা থাকায় অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।
• কবি ঈশ্বর গুপ্ত তাঁর ভাষারীতির সমালোচনা করতে গিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘দেওয়ানজি জলের ন্যায় সহজ ভাষা লিখিতেন, তাহাতে কোন বিচার ও বিবাদঘটিত বিষয় লেখায় মনের অভিপ্রায় ও ভাব সকল অতি সহজে স্পষ্টরূপে প্রকাশ পাইত, এ জন্যে পাঠকেরা অনায়াসেই হৃদয়ঙ্গম করিতেন, কিন্তু সে লেখায় শব্দের বিশেষ পারিপাট্য ও তাদৃশ মিষ্টতা ছিল না’।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৬৮২.
‘ছন্দ সমীক্ষণ’ কার  উল্লেখযোগ্য লেখনি ? 
  1. ক) আনিসুজ্জামান
  2. খ) আব্দুল কাদির
  3. গ) আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  4. ঘ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• আবদুল কাদির এর উল্লেখযোগ্য কবিতা ও প্রবন্ধগ্রন্থ: দিলরুবা (১৯৩৩), উত্তর বসন্ত (১৯৬৭), কবি নজরুল (১৯৭০), ছন্দসমীক্ষণ (১৯৭৯), বাংলা ছন্দের ইতিবৃত্ত (১৯৮৫), যুগকবি নজরুল (১৯৮৬) ইত্যাদি।

• আনিসুজ্জামান এর  গবেষণা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য:কাল নিরবধি ( আত্মজীবনী,২০০৩), আমার একাত্তর (১৯৯৭),মুক্তিযুদ্ধ এবং তারপর (১৯৯৮),আমার চোখে (১৯৯৯),বিপুলা পৃথিবী ।


• উপন্যাস:
পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,অ-তে অজগর (১৯৮২),কলকাতা (১৯৮০),ক্ষুধা প্রেম আগুন'(১৯৯৪)
• ছোটগল্প:
সত্যের মতো বদমাশ, চলো যাই পরোক্ষে (১৯৭৩),মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা, নেকড়ে হায়েনা, তিন পরী
• প্রবন্ধ:
বিবেচনা-পুনর্বিবেচনা,দশ দিগণ্তের দ্রষ্টা,নির্বাচিত প্রবন্ধ,করতলে মহাদেশ,আমার বিশ্বাস।


উৎসঃ  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর)।
৯,৬৮৩.
‘নারীশক্তি’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) ডা. লুৎফর রহমান
  4. ঘ) সেলিনা পারভীন
ব্যাখ্যা
• নারী সমাজের উন্নতির জন্য 'নারীশক্তি' নামে পত্রিকাটির প্রকাশক ও সম্পাদক - ডা. লুৎফুর রহমান।

'নারীশক্তি' পত্রিকা
কলকাতায় মোহাম্মদ লুৎফর রহমান পতিতা নারীদের সামাজিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘নারীতীর্থ’ (১৯২২) নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন।
- এ সংগঠনের কার্যনির্বাহক কমিটির সভাপতি ছিলেন  বেগম রোকেয়া (১৮৮০-১৯৩৬)।
-  লুৎফর রহমান ছিলেন এর সম্পাদক।
- ‘নারীতীর্থ’- সংগঠনের মুখপত্র 'নারীশক্তি' পত্রিকাটি মোহাম্মদ লুৎফর রহমান -এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো বাংলা ১৩২৯ সনে।
- এ মাসিক পত্রিকাটির মোট ছয়টি সংখ্যা প্রকাশ হয়েছিলো।

অন্যদিকে,
- বেগম রোকেয়া সম্পাদিত পত্রিকা ‘বেগম’।
- ‘শিলালিপি সেলিনা’ পারভীন সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৮৪.
‘প্রাচ্য ও প্রতীচ্য’ -প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) আবুল মনসুর
  3. গ) এস. ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
এস. ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধ হলোঃ জীবনের শিল্প, প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, ভবিষ্যতের বাঙালী, আকবরের রাষ্ট্রসাধনা, মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ, ইকবালের পয়গাম। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৯,৬৮৫.
'আশালতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. মালঞ্চ
  2. শেষের কবিতা
  3. চোখের বালি
  4. দুইবোন
ব্যাখ্যা
• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত "চোখের বালি" বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- বিনোদিনী,
- মহেন্দ্র,
- আশালতা,
- বিহারী,
- রাজলক্ষী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। এটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু হচ্ছে 'কোন পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দু জনকে অবিরোধে ভালবাসা সম্ভব না এবং সে ভালবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী বা স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে'।
- উপন্যাসের চরিত্র: অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ।

• 'মালঞ্চ' উপন্যাস:
- 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- নর-নারীর জটিল সম্পর্ক নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি সংক্ষিপ্ত উপন্যাস। ১৯৭৯ সালে পরিচালক পূর্ণেন্দু পত্রী 'মালঞ্চ' চলচ্চিত্রায়িত করেন।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা।

• 'দুইবোন' উপন্যাস:
- 'দুইবোন' (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোট উপন্যাস। ১৯৩২-১৯৩৩ সালে 'বিচিত্রা' পত্রিকায় বের হয়।
- শর্মিলার স্বামী শশাঙ্কের সঙ্গে ঊর্মিলার ঘনিষ্ঠতা তাদের সকলের জীবনে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তারই নাটকীয়তাময় রূপায়ণ এই উপন্যাসে।
- উপন্যাসটিতে পুরুষের পক্ষে দুই নারীকে দুইভাবে ভালোবাসার ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয় আর নারীর পক্ষে সেই জটিলতার সমাধান দেখানো হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৮৬.
দেশভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কালো বরফ
  2. জীবন আমার বোন
  3. কাবিলের বোন
  4. তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা
• 'কালো বরফ' উপন্যাস:
- ১৯৭৭ সালের ২১-৩০ আগস্ট মাহমুদুল হক রচনা করেন ‘কালো বরফ’ উপন্যাসটি।
- এটি ১৯৯২ সালে  প্রকাশিত হয়।
- এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসটিতে হিন্দু- মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আব্দুল খালেক।

অন্যদিকে,
- জীবন আমার বোন মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- কাবিলের বোন আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- তিতাস একটি নদীর নাম অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত নদীকেন্দ্রিক উপন্যাস।

• মাহমুদুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জীবন আমার বোন (মুক্তিযুদ্ধকে উপন্যাস),
- খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: 'কালো বরফ' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৮৭.
'বোবা কাহিনী’ কোন জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. প্রহসন
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• বোবা কাহিনী:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত ‘বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্র্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৬৮৮.
'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র -
  1. রমেশ, হেমনলিনী
  2. আদিত্য, সরলা
  3. কুমুদিনী, মধুসূদন
  4. অমিত, লাবণ্য
ব্যাখ্যা

'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

অন্যদিকে, 
• 'নৌকাডুবি' উপন্যাসের মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।
• মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথের পরকীয়া নির্ভর ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: অমিত, লাবণ্য, কেতকী রায় এবং শোভনলাল।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুইবোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'যোগাযোগ' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৮৯.
"'বাবু' ও 'গর্দ্দভ'"- প্রবন্ধ দুটি বঙ্কিমচন্দ্রের কোন গ্রন্থভুক্ত?
  1. লোকরহস্য
  2. কমলাকান্তের দপ্তর
  3. মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত
  4. বিবিধ সমালোচনা
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: খ) লোকরহস্য।

------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধসমূহ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

• ‘লোকরহস্য' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- এই গ্রন্থে বঙ্কিমচন্দ্র সমকালীন সমাজ, শিক্ষাদীক্ষা ও চারিত্র্যনীতির অসঙ্গতি কৌতুকরসের মধ্য দিয়ে চমৎকারভাবে ফুটিয়েছেন।
- এতে গুরুতর তত্ত্বকথাও সরল ও হৃদয়গ্রাহী হয়ে পড়েছে।
- 'ব্যাঘ্রাচার্য্য বৃহল্লাঙ্গুল', 'ইংরাজস্তোত্র', 'বাবু', 'গর্দ্দভ', ‘দাম্পত্য দণ্ডবিধির আইন' ইত্যাদি কতকগুলো ব্যঙ্গরচনা এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'লোকরহস্য-প্রবন্ধগ্রন্থ।

৯,৬৯০.
‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’- উক্তিটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) শহরতলী
  2. খ) সোনার চেয়ে দামী
  3. গ) পুতুল নাচের ইতিকথা
  4. ঘ) দিবারাত্রির কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'। 
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন - " সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।" 
- এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে। 
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়। 
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি। 
- ‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’ উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- বন্ধুদের সঙে বাজি ধরে তিনি রচনা করেন 'অতসীমামী' এবং পরবর্তীতে তা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন।
- তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন।
- পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা  উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো -
- জননী (প্রথম প্রকাশিত),
- চিহ্ন,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা, 
- আরোগ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস।
৯,৬৯১.
‘ইয়ং বেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. জোশুয়া মার্শম্যান
  2. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- ডিরোজিওর পূর্ণ নাম- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৯২.
'বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত' কার রচনা?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী
  3. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’।
- গ্রন্থটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয়।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস রচনাসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহু জটিল সমস্যার সমাধান করেন।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- দীওয়ানে হাফিজ,
- রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম,
- নবী করিম মুহাম্মাদ,
- ইসলাম প্রসঙ্গ,
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,
- ব্যাকরণ পরিচয়,
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান,
- মহররম শরীফ,
- টেইল ফ্রম দি কুরআন,
- Buddhist Mystic Songs (১৯৬০),
- Hundred Sayings of the Holy Prophet.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৯৩.
কোনটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. যুগলাঙ্গুরীয়
  3. বিষবৃক্ষ
  4. রাজসিংহ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
• ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
• বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
• ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।
• 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।
• উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী। 

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৯,৬৯৪.
'সমাচার দর্পণ' পত্রিকার জবাব স্বরূপ প্রকাশিত হয়-
  1. ক) সম্বাদ কৌমুদী
  2. খ) সমাচার চন্দ্রিকা
  3. গ) ব্রাহ্মণ সেবধি
  4. ঘ) সম্বাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা

- 'সম্বাদ কৌমুদী' রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা।
- এটি ১৮২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- 'সম্বাদ কৌমুদী' সাময়িক পত্রিকাটি 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকার জবাব স্বরূপ প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৯,৬৯৫.
প্লেটোর ‘সিম্পোজিয়াম’ এর অনুবাদ করেন-
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক।
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১): তিনি একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
তাঁর উলে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
সঞ্চয়ন (প্রবন্ধ সংকলন, ১৯৩৭),
নজরুল কাব্য পরিচিতি (১৯৫৫),
সে পথ লক্ষ্য করে (১৯৫৮),
সিম্পোজিয়াম (অনুবাদ, ১৯৬৫),
গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস (১৯৭০) এবং
আলোক বিজ্ঞান (১৯৭৪)।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]
৯,৬৯৬.
'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' নামক চলচ্চিত্রটির কাহিনি রচয়িতা-
  1. ক) শামসুর রহমান
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' নামক চলচ্চিত্রটির কাহিনি রচয়িতা- 'আবদুল গাফফার চৌধুরী'
- - বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। 
- এটি ২০০৭ সালে মুক্তি পায়।

তবে, 'পলাশী থেকে পাকিস্তান' নামক ইতিহাস ভিত্তিক গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন 

• আবদুল গাফফার চৌধুরী
- একজন সুপরিচিত বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' এর রচয়িতা।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন।
- বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর জন্ম ১২ ডিসেম্বর, ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'ডানপিটা শওকত'।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'কৃষ্ণপক্ষ'। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস গ্রন্থের নাম 'চন্ত্রদ্বীপের উপাখ্যান।'  

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ: 
- পলাশী থেকে ধানমণ্ডি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ভিত্তিক একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী)।
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান,
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা,
- শেষ রজনীর চাঁদ,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর,
- ডানপিটে শওকত,
- বাংলাদেশ কথা কয়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৯,৬৯৭.
'সর্বদাই হু হু করে মন বিশ্ব যেন মরুর মতন" পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যের অর্ন্তভুক্ত?
  1. সারদামঙ্গল
  2. বঙ্গসুন্দরী
  3. নিসর্গসঙ্গীত
  4. সঙ্গীতশতক
ব্যাখ্যা

• ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- গ্রন্থটির রচনাকাল- ১৮৭০।
- গ্রন্থটি ১০টি সর্গে বিভক্ত।
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ গ্রন্থ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’

- এ কাব্যে কবি বলেছেন: ‘সর্বদাই হুহু করে মন / বিশ্ব যেন মরুর মতন / চারিদিকে ঝালাপালা / উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা / অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।’

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ তাকে এ উপাধি দিয়েছেন। 
- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে।
- তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য।
- বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ সারদামঙ্গল।

• বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন,
- ধূমকেতু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৯৮.
'মেহের-নেগার' গল্পটি কার রচনা?
  1. আবু ইসহাক
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'মেহের-নেগার':
- 'মেহের-নেগার' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।
- গল্পটি তাঁর 'রিক্তের বেদন' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ-
গায়ক হওয়ার বাসনায় ওয়াজিরিস্তানের বিখ্যাত ওস্তাদের কাছে তালিম নিতে আসা এক তরুণের সাথে দেখা হয় প্রসিদ্ধ বাঈজি খুরশীদ জানের কন্যা গুলশানের, ভিন্ন গোত্রের হৃদয় দুটির পবিত্র ভালোবাসায় জন্ম হয় অমর এক প্রেমগাথার।

উৎস: 'মেহের-নেগার' গল্প এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৯৯.
'ঢাকাই রঙ্গরসিকতা' শামসুজ্জামান খান রচিত একটি-
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) রম্য-রচনা
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'ঢাকাই রঙ্গরসিকতা' শামসুজ্জামান খান রচিত একটি রম্য-রচনা

- শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ সালের ২৯ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- নানা প্রসঙ্গ
- গণসঙ্গতি
- মাটি থেকে মাহীরুহ
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা
- ফোকলোরচর্চা

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা

তাঁর রচিত শিশু-সাহিত্য:
- দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৭০০.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) ব্যাথার দান
  2. খ) রিক্তের বেদন
  3. গ) শিউলিমালা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প - বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী। ১৯১৯ সালের মে মাসে সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় নজরুলের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘রিক্তের বেদন’। এই গ্রন্থে নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চিত্রায়ন করা হয়েছে।
এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলোঃ রিক্তের বেদন, বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী, মেহের নেগার, সাঁঝের তারা, রাক্ষুসী, সালেক, স্বামীহারা, দুরন্ত পথিক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।