বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৯৬ / ১৭৪ · ৯,৫০১৯,৬০০ / ১৭,৪৩৭

৯,৫০১.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'- উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• কুহেলিকা:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত।
- কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।
- তাহমিনা (ভূণী), চম্পা, ফিরদৌস বেগম প্রমুখ উল্লেখযোগ্য নারী চরিত্র।
- নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে: 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৯,৫০২.
আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি ছিলেন- মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী (কায়কোবা)। 

-----------------
• কায়কোবাদ:

- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।

- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- কবির মৃত্যুর বহুদিন পরে- প্রেমের ফুল; প্রেমের বাণী; প্রেম-পারিজাত; মন্দাকিনী-ধারা; ও গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি বাংলা একাডেমি কায়কোবাদ রচনাবলী (৪ খণ্ড, ১৯৯৪-৯৭) প্রকাশ করেছে।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫০৩.
'আয় চলে আয়রে ধূমকেতু/আধাঁরে বাধ অগ্নিসেতু'' পক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) আবুল হোসেন
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ধূমকেতু পত্রিকা'র প্রথম পাতার শীর্ষ ভাগে 'আয় চলে আয়রে ধূমকেতু/ আধাঁরে বাধ অগ্নিসেতু/ দুর্দিনের এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন। ' লাইনগুলো লেখা থাকতো। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধূমকেতু পত্রিকাকে আশীর্বাদ করে চরণগুলো রচনা করেন। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৯,৫০৪.
বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ রচিত প্রথম উপন্যাস--
  1. ক) শঙ্খনীল কারাগার
  2. খ) নন্দিত নরকে
  3. গ) এই সব দিনরাত্রি
  4. ঘ) জোছনা ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২):
কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।

- হুমায়ুন আহমেদের প্রথম রচিত উপন্যাস - শঙ্খনীল কারাগার।
- তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - নন্দিত নরকে (১৯৭২)।
- শঙ্খনীল কারাগার প্রকাশিত হয় - ১৯৭৩ সালে।

উৎস: ‘বলবয়েন্ট’ - হুমায়ুন আহমেদের আত্মজীবনী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯,৫০৫.
কোনটি জহির রায়হান রচিত উপন্যাস?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. তৃষ্ণা
  3. কয়েকটি মৃত্যু
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তিনি ১৯৩৫ সালে তৎকালীন নোয়াখালী জেলায় (বর্তমান ফেনি) জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি তাঁর বড় ভাই বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সারকে ঢাকার মিরপুরে খুঁজতে গিয়ে তিনি আর কখনোই ফিরে আসেননি।

♦♦ সাহিত্যে অবদান
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ ‘সূর্যগ্রহণ’ প্রকাশিত হয়।
- তার রচিত প্রথম উপন্যাস শেষ বিকেলের মেয়ে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৬৪ সালে ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

♦ উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: ১. সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি),
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
৩. বাংলাপিডিয়া।
৯,৫০৬.
“কাব্যের মুক্তি” - প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. ড. আহমদ শরীফ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

বাংলা কবিতার পঞ্চপান্ডবের অন্যতম কবি - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রবন্ধ - কাব্যের মুক্তি
- প্রবন্ধটি কবির - স্বগত প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্গত।
- স্বগত প্রবন্ধগ্রন্থে মোট ১৬টি প্রবন্ধ রয়েছে।
- প্রবন্ধটিকে আধুনিক বাংলা কবিতার ইশতেহার হিসাবে গণ্য করা হয়।
-------------------------
সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী
- অর্কেস্ট্রা
- ক্রন্দসী
- উত্তরফাল্গুনী
- সংবর্ত
- প্রতিদিন
- দশমী

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত
- কুলায় ও কালপুরুষ

অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা কবিতা।

৯,৫০৭.
কোনটি সঠিক?
  1. পুতুল নাচের ইতিকথা (উপন্যাস)
  2. ওঙ্কার (ছোটগল্প)
  3. যে অরণ্যে আলো নেই (প্রবন্ধ)
  4. মেঘনাদবধ (নাটক)
ব্যাখ্যা
• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'।
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন- "সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।"
- এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।
- ‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’ উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র
- শশী,
- কুসুম,
- গোপাল,
- সেনদিদি,
- যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘ওঙ্কার’ উপন্যাস:
- ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

------------------
• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নাটক:
- 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------
• 'মেঘনাদবধ' কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন এবং ১৮৬১ সালেই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

• কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র হলো:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৫০৮.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. জীবনীসাহিত্য
  2. রাজনৈতিক কবিতা
  3. কারা- সাহিত্য
  4. প্রহসন
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কে কারা- সাহিত্য বলা হয়। 

• কারা- সাহিত্য:
- কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় রচিত সাহিত্য 'কারা- সাহিত্য' হিসেবে স্বীকৃত।
- তবে কারাগার থেকে বাইরে গিয়েও এ ধরনের লেখা হতে পারে।
- রচয়িতার জেলে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- কারাগারের সংকীর্ণ জীবনের বাইরে কল্পনার বিস্তার ঘটাবেন সত্য কিন্তু কারাজীবনের অভিজ্ঞতার ছাপ থাকবে তার রচনায়।
- অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেমন কারাসাহিত্য লিখেছেন তেমনি অনেক শিল্পী ও সাহিত্যিক কারা সাহিত্য রচনা করেছেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম জেলে বসে লেখেন 'রাজবন্দীর জবানবন্দী, সত্যেন সেন লেখেন 'অভিশপ্ত নগরী' ও পাপের সন্তান'। 
- মুনীর চৌধুরীর 'কবর' কারা সাহিত্য হিসেবে গণ্য।
- শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বা 'কারাগারের রোজনামচা', মতিয়া চৌধুরীর 'দেয়াল দিয়ে ঘেরা' ইত্যাদিও এ ধারার গ্রন্থ।
-----------------------------
-----------------------------
আরো কিছু বিশেষ তথ্য:

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া
 
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ, 
- আমি সৈনিক।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৫০৯.
'রতন' কোন ছোটগল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. ক্ষুধিত পাষাণ
  2. ডাকঘর
  3. পোস্টমাস্টার
  4. সমাপ্তি
ব্যাখ্যা
'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্প:  
- পোস্টমাস্টার ছোটগল্পটি রবীন্দ্রনাথের প্রথম দিককার ছোটগল্পগুলোর অন্যতম। 
- একটি স্বজনহারা নিঃসহায় গ্রাম্য বালিকার স্নেহালোলুপ হৃদয়ে আসন্ন স্নেহবিচ্যুতির আশঙ্কায় কী সকরুণ ভাবাবেগ উদ্বেলিত হয়েছে তা গল্পের শেষাংশে প্রতিফলিত হয়েছে এবং পাঠকের হৃদয়ে তা অনুরণিত হয়েছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে।
- এই ছোটগল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'রতন'

অন্যদিকে,
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
 
৯,৫১০.
বঙ্গদূত কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল? 
  1. নীলমণি হালদার
  2. অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

- 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন- নীলমণি হালদার।

​'বঙ্গদূত':
- নীলমনি হালদার সম্পাদিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা 'বঙ্গদূত'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮২৯ সালের ১০ই মে।
- পত্রিকাটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৫১১.
'মানবজীবন, মহৎজীবন, উন্নতজীবন' প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  3. এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'মানবজীবন' গ্রন্থটির রচয়িতা- মোহাম্মদ লুৎফর রহমান। 

মোহাম্মদ লুৎফর রহমান:
- ১৮৮৯ সালে মাগুরা জেলার অন্তর্গত পারনান্দুয়ালি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘ডাক্তার মোহাম্মদ লুৎফর রহমান’ হিসেবে পরিচিত।
- কলকাতায় মোহাম্মদ লুৎফর রহমান পতিতা নারীদের সামাজিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘নারীতীর্থ’ (১৯২২) নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন।
- এ সংগঠনের কার্যনির্বাহক কমিটির সভাপতি ছিলেন বেগম রোকেয়া (১৮৮০-১৯৩৬)। লুৎফর রহমান ছিলেন এর সম্পাদক।
- ‘নারীতীর্থ’-এর মুখপত্র নারীশক্তি তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩২৯ সনে। এ মাসিক পত্রিকাটির মোট ছয়টি সংখ্যা বেরিয়েছিল।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- মহৎ জীবন, 
- মানবজীবন,
- সত্য জীবন, 
- উচ্চ জীবন, 
- ধর্ম জীবন, 
- মহাজীবন, 
- যুবকজীবন, 
- সরলা, 
- পথহারা, 
- রায়হান, 
- প্রীতি-উপহার, 
- বাসর-উপহার ।

শিশুকিশোর গ্রন্থ:
- ছেলেদের মহত্ত্বকথা, 
- ছেলেদের কারবালা, 
- রানী হেলেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৫১২.
‘বাংলা সাহিত্যের ইতিকথা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. গোপাল হায়দার
  2. সুকুমার
  3. ভূদেব চৌধুরী
  4. দীনেশ চন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

⇒ 'বাংলা সাহিত্যের ইতিকথা' ভূদেব চৌধুরী:
• 'বাংলা সাহিত্যের ইতিকথা' হলো বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে ভূদেব চৌধুরী রচিত একটি গ্রন্থ।
• এটি প্রথম প্রকাশ হয়েছিল অনেক আগে, এরপর বিভিন্ন সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।
• লেখকের চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা সংস্করণ থেকে সংস্করণে ক্রমশ পরিণত হয়েছে। একই পরিকল্পনার ক্রমিক বিন্যাস ক্রমশ পরিণতি পেতে চেয়েছে, ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিকথা'র দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ পর্যায় রচনা ও প্রকাশের মাধ্যমে।
• বইটি বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য রক্ষা ও প্রাচীন আধুনিক সাহিত্যের তুলনা নিয়ে আলোচনা করে।

উৎস: 'বাংলা সাহিত্যের ইতিকথা' ভূদেব চৌধুরী।

৯,৫১৩.
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. জলাংগী
ব্যাখ্যা
• "ক্রীতদাসের হাসি" উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালোত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি। এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।

- বাগদাদের বাদশা হারুনর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে। তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

শওকত অসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৫১৪.
উইলিয়াম কেরি রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি? 
  1. বত্রিশ সিংহাসন
  2. হিতোপদেশ
  3. লিপিমালা
  4. ইতিহাসমালা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) ইতিহাসমালা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদরি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁর অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের লেখক ও কাব্যগ্রন্থ:
- কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)।
- রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১); লিপিমালা (১৮০২)।
- গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২); হিতোপদেশ (১৮০৮); রাজাবলি (১৮০৮); প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
- তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
- রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
- চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
- হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯,৫১৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অধিকাংশ প্রবন্ধ -
  1. তন্ময় প্রবন্ধ
  2. অভিসন্দর্ভ
  3. মন্ময় প্রবন্ধ
  4. রম্য প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• প্রবন্ধ:
প্রবন্ধের দুটি মুখ্য শ্রেণিবিভাগ আছে তন্ময় (objective) প্রবন্ধ ও মন্ময় (subjective) প্রবন্ধ।

তন্ময় (Objective) প্রবন্ধ:
বিষয়বস্তুর প্রাধান্য স্বীকার করে যে-সকল বস্তুনিষ্ঠ প্রবন্ধ লিখিত হয় সেগুলোকে তন্ময় বা বস্তুনিষ্ঠ প্রবন্ধ বলে।
এখানে, 
- বস্তুনিষ্ঠ, বিষয়বস্তুর প্রাধান্য রয়েছে।
- সুনির্দিষ্ট চৌহদ্দি বা সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ।
- আদি, মধ্য ও অন্ত-সমন্বিত চিন্তাপ্রধান রচনা।
- লেখকের পাণ্ডিত্য, বুদ্ধি ও জ্ঞানের পরিচয় মুখ্য হয়ে ওঠে।

মন্ময় (Subjective) প্রবন্ধ:
যেখানে লেখকের মেধাশক্তি অপেক্ষা ব্যক্তিহৃদয়ই প্রধান হয়ে ওঠে। এদেরকে মন্ময় প্রবন্ধ বলে।
- রবীন্দ্রনাথের অধিকাংশ প্রবন্ধ এই পর্যায়ভুক্ত।
- ফরাসি ভাষায় "বেল্ লেথ্" (belle lettre) নামে পরিচিত।
- "চারুকথন" হিসেবে বাংলায় অভিহিত করা যেতে পারে
- অনেকে এগুলোকে "ব্যক্তিগত প্রবন্ধ"ও বলেন

রবীন্দ্রনাথের "বিচিত্র প্রবন্ধ" গ্রন্থের সমস্ত রচনাই উৎকৃষ্ট মন্ময় প্রবন্ধের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
 
উল্লেখ্য,
'রম্য রচনা' নামে একটা কথা অনেক দিন যাবত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ বোঝাতে 'রম্য রচনা' ব্যবহার করা ঠিক নয়। কারণ 'রম্য রচনা' শব্দদ্বয়ের 'রম্য' শব্দের ভিতরে এমন ইঙ্গিত রয়ে যায় যে, লেখাটি সিরিয়াস বা গুরুগম্ভীর বিষয় নিয়ে নয়, অথচ রম্যরচনার বিষয় খুবই গুরুগম্ভীর হতে পারে, কিন্তু প্রকাশভঙ্গি ও ভাষা গুরুগম্ভীর হলে চলবে না।

উৎস: সাহিত্যের রূপ ও রীতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৫১৬.
'দৃষ্টিহীন' কার ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. রাজশেখর বসু
  3. মধুসূদন মজুমদার
  4. বিমল ঘোষ
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার কয়েকজন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম:
- 'দৃষ্টিহীন' হলো মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম।
- বাংলা সাহিত্যে 'কালকূট' নামে পরিচিত সমরেশ বসু।
- 'পরশুরাম' রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যাযয়ের ছদ্মনাম ‘বনফুল'।
- সোমেন চন্দ এর ছদ্মনাম 'ইন্দ্রকুমার সোম'।
- 'মৌমাছি' হলো বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৫১৭.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘টুনি মেম’ একটি-
  1. ক) ছোটগল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) ভ্রমণকাহিনী
  4. ঘ) কাব্য
ব্যাখ্যা
•  সৈয়দ মুজতবা আলী, (১৯০৪-১৯৭৪)  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
• গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি  উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায় ;

উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম ,
- শহ্র-ইয়ার;

রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী এবং

ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৫১৮.
ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত 'কবর' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. জহির রায়হান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'কবর' নাটক:
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্র মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত হয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়। বলে - 'এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না'। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে - 'আমরা কবরে যাবো না'। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।
- 'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।

------------------ 
• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তিনি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৫১৯.
নিচের কোনটি ইব্রাহীম খাঁ রচিত গ্রন্থ?
  1. ইউরোপের চিঠি
  2. ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র
  3. পথে প্রবাসে
  4. ইউরোপ প্রবাসীর পত্র
ব্যাখ্যা
• ইব্রাহীম খাঁ:
- ইব্রাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। 
- একজন কৃতবিদ্য লেখক হিসেবেও ইব্রাহীম খাঁর খ্যাতি ছিল।
-তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
-তিনি ব্রিটিশ আমলে 'খান সাহেব' ও 'খান বাহাদুর' এবং পাকিস্তান আমলে 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমন কাহিনী - ’ইউরোপ প্রবাসীর পত্র’।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনী:
- ইউরোপের চিঠি,
- পথে প্রবাসে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৫২০.
'আকাল' কাব্যগ্রন্থটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কলকাতায় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কবিতার বৈপ্লবিক ভাবধারাটি যাঁদের সৃষ্টিশীল রচনায় সমৃদ্ধ হয়েছে, সুকান্ত তাঁদের অন্যতম।
- তাঁর কাব্যে বিশ্বের মানুষ এবং শোষিত মানুষের জীবনযাত্রা, যন্ত্রণা, বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহের অনুভূতি ফুটে উঠেছে।
- সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন।
- তিনি মাত্র ২০ বছর ৯ মাস বয়সে, ১৩ মে ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- ঘুম নেই,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৫২১.
'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্পের চরিত্র কোনটি?
  1. রাইচরণ
  2. অমল
  3. রতন
  4. অভীক
ব্যাখ্যা

• 'রাইচরণ' চরিত্রটি পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পে।

• 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন'।
- 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পটি রবীন্দ্রনাথের 'গল্পগুচ্ছ' গ্রন্থ থেকে সঙ্কলিত হয়েছে। গল্পটি ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সাধু-ভাষায় রচিত এ গল্পে রবীন্দ্র ছোটগল্পের প্রথম পর্বের শিল্পবৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আবেগ এবং গীতিময়তা, প্রকৃতি ও মানুষের বিজড়িত অস্তিত্ব, মানব জীবনের বিশেষ কোন পরিণাম সংগঠনে প্রকৃতির ভূমিকা ইত্যাদি ভাব ও অনুষঙ্গ আলোচ্য গল্পের প্রধান শিল্পলক্ষণ।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
অনুকূলবাবুর শিশুপুত্র খোকাবাবু পদ্মা নদীতে পড়ে চিরতরে হারিয়ে যায়। এ-জন্যে ভৃত্য রাইচরণের মনোবেদনার শেষ নেই। খোকাবাবুর মৃত্যুর কিছুদিন পরেই রাইচরণের স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। রাইচরণের দৃঢ় বিশ্বাস, খোকাবাবুই তার যন্ত্রাকে প্রশমিত করার জন্যে তার ঘরে এসে জন্মলাভ করেছে। তাই সে তার পুত্রকে খোকাবাবু জ্ঞানে ভিন্নভাবে আদর-যত্ন আর হে ভালবাসায় বড় করে তোলে। রাইচরণের খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন বিষয়ক ভাবনাই তার পরিণতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- অনুকূলবাবু,
- রাইচরণ,
- খোকাবাবু।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'। এর অন্য দুটি চরিত্র অমল, ভূপতি।
• 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
• 'অভীক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'রবিবার' গল্পের প্রধান চরিত্র।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প।

৯,৫২২.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. পার্বতী
  2. অচলা
  3. কিরণময়ী
  4. বিজয়া
ব্যাখ্যা
'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।

- গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে। প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রহে (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যে চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

উপন্যাসের চরিত্রগুলোর বর্ণনা:
সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষতক সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলি সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়।

অন্যদিকে,
• 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্র- অচলা, মহিম, সুরেশ।
• 'দত্তা' উপন্যাসের চরিত্র- বিজয়া, নরেন, রাসবিহারী, বনমালী।
• 'দেবদাস' উপন্যাসের চরিত্র- দেবদাস, পার্বতী, চন্দ্রমূখী, চুনিলাল, ধর্মদাস।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯,৫২৩.
রোহিণী- বিনোদিনী-কিরণময়ী কোন গ্রন্থগুচ্ছের চরিত্র?
  1. ক) বিষবৃক্ষ-চতুরঙ্গ-চরিত্রহীন
  2. খ) কৃষ্ণকান্তের উইল-যোগাযোগ-পথের দাবি
  3. গ) দুর্গেশনন্দিনী-চোখের বালি-গৃহদাহ
  4. ঘ) কৃষ্ণকান্তের উইল-চোখের বালি-চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
- রোহিণী চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায় রচিত ''কৃষ্ণকান্তের উইল'' উপন্যাসের চরিত্র।
- রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্নিত হয়েছে কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসে।

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস- চোখের বালি।
- চোখের বালি উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - মহেন্দ্র, আশা, বিহারী, বিনোদিনী।

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি  প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে রচিত।
- 'চরিত্রহীন' উপন্যাসের দুটি প্রধান  চরিত্রঃ সাবিত্রী ও কিরণময়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯,৫২৪.
'সন্দেশ' - পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. সুকুমার রায়
  4. শেখ আবদুর রহিম
ব্যাখ্যা

• 'সন্দেশ' পত্রিকা:
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও  কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।

- দেশবিদেশের গল্প, হাস্যকৌতুক, জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা ইত্যাদি লেখার পাশাপাশি নিজের আঁকা নানা বুদ্ধিদীপ্ত ছবি সংযোজনের মাধ্যমে সন্দেশকে তিনি তরুণ হূদয়ের যোগ্য একটি পত্রিকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

- তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র সুকুমার রায় 'সন্দেশ' পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯,৫২৫.
T.S. Eliot এর 'The journey of the Magi' কবিতার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকৃত অনূদিত রূপ হলোঃ
  1. পুনশ্চ
  2. তীর্থযাত্রী
  3. বাঁশী
  4. জীবনদেবতা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টি. এস. এলিয়ট' এর 'The Journey of the Magi' নামক কবিতার অনুবাদ করেছিলেন 'তীর্থযাত্রী' নামে।
- তিনি 'তীর্থযাত্রী' কবিতাটি 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থে সংকলন করেছিলেন।
- 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।

• ‘তীর্থযাত্রী’ কবিতার কয়েকটি পঙ্‌ক্তি-
কন্‌কনে ঠাণ্ডায় আমাদের যাত্রা--
ভ্রমণটা বিষম দীর্ঘ, সময়টা সব চেয়ে খারাপ,
রাস্তা ঘোরালো, ধারালো বাতাসের চোট,
একেবারে দুর্জয় শীত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘তীর্থযাত্রী’ কবিতা।
৯,৫২৬.
'ব্রাহ্মণসেবধি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  3. শেখ আলীমুল্লাহ
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

- ব্রাহ্মণ সেবধি ও সম্বাদ কৌমুদী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- সমাচার সভারাজেন্দ্র পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আলীমুল্লাহ।
- বাঙ্গাল গেজেট পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
- পূর্ণিমা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন বিহারীলাল চক্রবর্তী।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৯,৫২৭.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসের রচয়িতা - শামসুদ্দীন আবুল কালাম। 

• কথাসাহিত্যিক শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘আবুল কালাম শামসুদ্দীন’
- শামসুদ্দীনের মুখ্য পরিচয় একজন কথাশিল্পী হিসেবে।
- তিনি অনেক গল্প ও  উপন্যাস রচনা করেছেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
- কাশবনের কন্যা
- আলমনগরের উপকথা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্রবাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম ও
- কাঞ্চনমালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫২৮.
বাংলা ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'পরিচয়' এর সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) রণেশ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য। 
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে। 
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫২৯.
মালঞ্চ কি?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাসের সংখ্যা - ১২টি।
উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস হচ্ছে -
- চোখের বালি (১৯০৩)
- গোরা (১৯১০)
- যোগাযোগ (১৯২৬)
- চতুরঙ্গ (১৯১৬)
- ঘরে-বাইরে (১৯১৬)
- চার অধ্যায় (১৯৩৪)
- মালঞ্চ (১৯৩৪)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৫৩০.
'গভর্নমেন্ট গেজেট' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
• 'গভর্নমেন্ট গেজেট' পত্রিকা সম্পাদনা করেন - জন ক্লার্ক মার্শম্যান।

জন ক্লার্ক মার্শম্যান:

- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৩১.
‘সত্যসুন্দর দাস’ কার ছদ্মনাম?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় 
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• মোহিতলাল মজুমদার এর ছদ্মনাম - সত্যসুন্দর দাস।
- তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’ ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

মোহিতলাল মজুমদার:
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা তৃতীয় পর্যায়ে মোহিতলালের সম্পাদনায়ই প্রকাশিত হয়।
- মোহিতলাল মজুমদারের সাহিত্যচর্চার শুরু মানসী পত্রিকার মাধ্যমে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
- স্বপন পসারী,
- স্মরগরল,
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- বাংলা কবিতার ছন্দ,
- কবি শ্রীমধুসূদন,
- সাহিত্য বিচার,
- বাংলা ও বাঙালী,
- কবি রবীন্দ্র ও রবীন্দ্রকাব্য (২ খন্ড ১৯৫২, ১৯৫৩) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৯,৫৩২.
টডের 'Annals of Rajasthan' থেকে কাহিনীর অংশ নিয়ে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) পদ্মিনী উপাখ্যান
  3. গ) নীতিকুসুমাঞ্জলি
  4. ঘ) কনকাঞ্জলি
ব্যাখ্যা
রঙ্গলালের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি পদ্মিনী উপাখ্যান ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের Annals of Rajasthan-এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য।
- পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর বিখ্যাত উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

সেটি হচ্ছে - 
স্বাধীনতাহীনতায়     কে বাঁচিতে চায় হে,
             কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল       কে পরিবে পায় হে,
           কে পরিবে পায়?

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, (১৮২৭-১৮৮৭):
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়ায়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য হচ্ছে:
- কর্মদেবী (১৮৬২),
- শূরসুন্দরী (১৮৬৮) ও
- কাঞ্চী কাবেরী (১৮৭৯)।
- তিনি কালিদাসের ঋতুসংহার ও কুমারসম্ভব-এর পদ্যানুবাদ (১৮৭২) করেন।
- তাঁর নীতিকুসুমাঞ্জলি (১৮৭২) সংস্কৃত নীতি ও তত্ত্বমূলক কবিতার অপর পদ্যানুবাদ। তিনি ভেক-মুষিকের যুদ্ধ নামে হোমারের কাব্যেরও অনুবাদ করেন।
- তাঁর কলিকাতা কল্পলতা  গ্রন্থকে কলকাতা সম্পর্কে প্রথম ইতিহাসমূলক রচনা বলে মনে করা হয়। এতে কলকাতার ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে।
- তিনি মুকুন্দরামের কবিকঙ্কণ চন্ডী সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন (১৮৮২)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৩৩.
মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে 'কবিকঙ্কণ' উপাধি দিয়েছে -
  1. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  2. রাজা রঘুনাথ রায়
  3. জমিদার কৃষ্ণকান্ত
  4. রাজা শিবসিংহ
ব্যাখ্যা
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কবি।
- রাজা রঘুনাথ রায় তাঁকে গুরুরূপে গ্রহণ করেন এবং তাঁর অনুরোধে বিখ্যাত পাঁচালি চন্ডীমঙ্গল রচনা করেন।
- যুবরাজের পৃষ্ঠপোষকতা ও আনুকূল্যে জনৈক প্রসাদ দেব এ কাব্য সঙ্গীতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।
- তিনি কবি এবং সঙ্গীতশিল্পী উভয়কেই প্রচুর অলংকার সামগ্রী, বিলাসবহুল পোষাক-পরিচ্ছদ এবং ভ্রমণের জন্য ঘোড়া দিয়ে পুরস্কৃত করেন।
- রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- সুকুমার সেন মুকুন্দরামের পাঁচালিকে একটি দুর্লভ শ্রেষ্ঠ পাঁচালি হিসেবে বর্ণনা করেন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৩৪.
রোহিনী কোন উপন্যাসের নায়িকা?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. চোখের বালি
  3. গৃহদাহ
  4. পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
• 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস:
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।

• উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রোহিনী,
- গোবিন্দলাল,
- ভ্রমর।

----------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম- 'ললিতা তথা মানস'।
- তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- উপন্যাসের প্লট,চরিত্রের গঠন ,বিবর্তন, পরিবর্তন ও পরিব্যাপ্তিতে অনুসরণ করতেন তিনি।

• তাঁর রচিত গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুন্ডলা,
- বিষবৃক্ষ,
- মৃণালিণী,
- রজনী,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী,
- সীতারাম,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

• তাঁর রচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৩৫.
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ধ্বনিবিজ্ঞানের কথা
  2. খ) সাহিত্য ও ধ্বনিবিজ্ঞান
  3. গ) আধুনিক বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
  4. ঘ) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব।

• ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব:
- বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত 
- তাঁর ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে  আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
- ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন। 
- ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে  দেয়।

মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

 • মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৩৬.
'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?   
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- অমিয় চক্রবর্তী। 
-------------------------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১০ এপ্রিল, ১৯০১ – ১২ জুন, ১৯৮৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পঞ্চপান্ডবদের মধ্যের একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. (১৯২১) পাস করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগ দেন।
- পরে ১৯২৬–১৯৩৩ সাল পর্যন্ত তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সচিব হিসেবে কাজ করেন।  
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো কবিতাবলী।
- তিনি মোট ১৫টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন।
- অমিয় চক্রবর্তীর ইংরেজি ভাষায় ৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
-  বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- খসড়া,
- অনিঃশেষ, 
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি। 
------------------------ 
উল্লেখ্য, 
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কবিতা রচনা করেন। 
- এই কবিতাটি তাঁর অনিঃশেষ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত আছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৯,৫৩৭.
'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' কে সম্পাদনা করেন?
  1. মুহাম্মদ এনামুল হক
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. সুনীতি কুমার চট্রোপাধ্যায়
  4. রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান':
- ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনা কর্ম হলো:
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত।

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৩৮.
ইংরেজি ভাষায় জীবনানন্দ দাশের ওপর গ্রন্থ লিখেছেন কে?
  1. ক) ডব্লিউ বি ইয়েটস
  2. খ) ক্লিনটন বি সিলি
  3. গ) অরুন্ধতী রায়
  4. ঘ) অমিতাভ ঘোষ
ব্যাখ্যা

ক্লিনটন বুথ সিলি যুক্তরাষ্ট্রের একজন স্বনামধন্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাহিত্যের অধ্যাপক, বাংলা ভাষা ও ও সাহিত্যের অনুবাদক।
- তার জন্ম ১৯৪১ সালের ২১ জুন। বর্তমানে তিনি শিকাগো ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক।
- তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে গবেষণা করেছেন।
- জীবনানন্দ দাশের সাহিত্যিক জীবনী গ্রন্থ রচনা করেছেন ক্লিনটন বি সিলি।
- গ্রন্থটির নাম - A Poet Apart যা ১৯৯০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বইটি বাংলায় অনুবাদ করেন - ফারুক মঈনউদ্দীন এবং এটি ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়। বাংলা অনুবাদের নাম - 'অনন্য জীবনানন্দ'

উৎসঃ প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট ও সাহিত্য সাময়িকী।

৯,৫৩৯.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. বছির
  2. তপু
  3. ওসমান 
  4. রায়হান
ব্যাখ্যা

'চিলেকোঠার সেপাই':
- 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- কোনো বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে একজন সাধারণ মানুষের মিলতে সক্ষম হওয়ার গল্প এটি।
- একটি বিশেষ সময়ে জনজীবনের সমগ্রতাকে, বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের প্রতিটি কোণের মানুষকে লেখক এ উপন্যাসে অত্যন্ত সুচারুভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।
- 'চিলেকোঠার সেপাই' ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে 'রোববার' নামের সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৮৬/৮৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসমান গণি ওরফে রঞ্জু দেশবিভাগের কারণে উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় আসে।
- ওসমানের বাবা থেকে যান ভারতে, বাবা বেঁচে আছে কি না তা-ও জানে না সে। সবকিছু থেকে সে এতটাই বিচ্ছিন্ন আর ছিন্নমূল যে ঢাকার ঘিঞ্জি গলির মধ্যে এক বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করাই তার জন্য যথাযথ হয়।
অন্যান্য চরিত্র:
- আনোয়ার
- আলাউদ্দিন
- আলতাফ
- হাড্ডি খিজির
- রানু প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৫৪০.
’প্রভাবতী সম্ভাষণ ’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) শিক্ষামূলক গ্রন্থ
  2. খ) অনুবাদ গ্রন্থ
  3. গ) মৌলিক গ্রন্থ
  4. ঘ) সম্পাদিত গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• ১৮২০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর (১২২৭ বঙ্গাব্দের ১২ আশ্বিন, মঙ্গলবার) ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রেসিডেন্সির বীরসিংহ গ্রামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় শর্মা নামেও স্বাক্ষর করতেন।
• সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন। 
• ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই, বাংলা ১২৯৮ সনের ১৩ শ্রাবণ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• শিক্ষামূলক গ্রন্থ
- বর্ণপরিচয় (১ম ও ২য় ভাগ ; ১৮৫৫)
- ঋজুপাঠ
- ব্যাকরণ কৌমুদী (১৮৫৩)

• অনুবাদ গ্রন্থ
- বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭ )
-  শকুন্তলা 
- সীতার বনবাস (১৮৬০)
- বোধোদয় (১৮৫১)
- কথামালা (১৮৫৬)
- ভ্রান্তিবিলাস 
• মৌলিক গ্রন্থ
- বিধবা বিবাহ চলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৫)
- বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক বিচার (প্রথম খন্ড ১৮৭১, ২য় খন্ড ১৮৭৩)
- অতি অল্প হইল এবং ”আবার অতি অল্প হইল
- ব্রজবিলাস - "কবি কুল তিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য" ছদ্মনামে রচিত। 
- রত্নপরীক্ষা 
- প্রভাবতী সম্ভাষণ (সম্ভবত ১৮৬৩)
- জীবন-চরিত 
- শব্দমঞ্জরী 

• সম্পাদিত গ্রন্থ
- অন্নদামঙ্গল 
- সর্বদর্শনসংগ্রহ
- বাল্মীকি রামায়ণ 
- রঘুবংশম্ 
- মেঘদূতম্ 
- অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ 


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৫৪১.
'বালক অপু' কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র? 
  1. পথের দাবী 
  2. বড়দিদি
  3. পথের পাঁচালী
  4. পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা

• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো: 
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

অন্যদিকে, 
------------------
• 'পথের দাবী' উপন্যাসের রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Sarat Chandra Chattopadhyay)। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত এই বিখ্যাত বাংলা উপন্যাসটি ভারতের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবীদের সংগ্রাম নিয়ে রচিত। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র সব্যসাচী। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বড়দিদি' (১৯১৩) উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো আত্মত্যাগী ও সংযত বিধবা মাধবী (বড়দিদি) এবং অন্যমনস্ক যুবক সুরেন্দ্রনাথ। জমিদার বাড়ির প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে মাধবীর পিতা ব্রজরাজ, ছোট বোন উমা এবং সুরেনের বিমাতা। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ছোটগল্প 'পোস্টমাস্টার'-এর প্রধান চরিত্র কলকাতার এক যুবক পোস্টমাস্টার এবং বারো-তেরো বছরের অনাথ গ্রাম্য বালিকা রতন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস। 

৯,৫৪২.
'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
একক সন্ধ্যায় বসন্ত, অনেক আকাশ, সহসা সচকিত, আমার প্রতিদিনের শব্দ, সমুদ্রেই যাব, রজনীগন্ধা, চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা ইত্যাদি সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৫৪৩.
সৈয়দ ওয়লীউল্লাহর লেখা নাটক কোনটি?
  1. কবর
  2. বহিপীর
  3. ওরা কদম আলী 
  4. লাল সালু
ব্যাখ্যা

• "বহিপীর" - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচিত একটি নাটক।

অন্য অপশনগুলো:
ক) কবর = মুনীর চৌধুরীর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক বিখ্যাত নাটক।
গ) ওরা কদম আলী = মামুনুর রশীদের নাটক।
ঘ) লাল সালু = সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস (নাটক নয়)।
------------------
• 'বহিপীর' নাটক সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত সামাজিক নাটক।
- ১৯৫৫ সালে 'বহিপীর' রচিত এবং নাটকটি ১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর। এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বহিপীর,
- তাহেরা,
- হাতেম,
- আমেনা,
- হাশেম।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯,৫৪৪.
"গোলাপের কাঁটা" কবিতার রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. অসীম সাহা
  3. শক্তি চট্টোপাধ্যায়
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
অসীম সাহা:
- একজন বাংলাদেশী কবি ও ঔপন্যাসিক।
- বাংলা সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য তিনি ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- গোলাপের কাঁটা
- তোমার মুখের মতো চাঁদ
- দুঃখ আছে কতো রকম
- ফ্লাড
- শহরে, এই বৃষ্টিতে
- নিসর্গের খুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা কবিতা ব্লগ ও পত্রিকা রিপোর্ট।

উল্লেখ্য,
- কেয়ার কাঁটা নামে সুফিয়া কামালের একটি কাব্য রয়েছে।
৯,৫৪৫.
'তিতাস একটি নদীর নাম' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. আত্মজৈবনিক উপন্যাস
  2. রূপক উপন্যাস
  3. আঞ্চলিক উপন্যাস
  4. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• "তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাস:
- 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- এটি প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

- ৪ খণ্ডে বিন্যাস্ত এই উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন। 

উপন্যাসটির কিছু উক্তি:
• 'মনের মত মানুস পাইলাম না।' উক্তিটি জনৈক মালো যুবক। 
• 'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- করমালীর উক্তি। 

------------------
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ ছিলেন সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক। তিনি ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণ। 

৯,৫৪৬.
বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সাত ভাই চম্পা
  2. নাম রেখেছি কোমল গান্ধার
  3. রুচি ও প্রগতি
  4. তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘রুচি ও প্রগতি’ বিষ্ণু দে রচিত প্রবন্ধ।
- এটি আর্ট, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রবন্ধ।

⇒ বিষ্ণু দে:

- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৪৭.
‘ময়ূরকণ্ঠী’ এর রচয়িতা -
  1. ক) মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) অন্নদাশংকর রায়
ব্যাখ্যা
‘ময়ূরকণ্ঠী’ হলো সৈয়দ মুজতবা আলী এর একটি রম্যরচনা। তার রচিত আরেকটি উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা ‘পঞ্চতন্ত্র’। [সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৯,৫৪৮.
আবুল ফজল রচিত 'রেখাচিত্র' গ্রন্থটি কোন জাতীয় রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. ভ্রমণকাহিনী
  3. দিনিলিপি
  4. রম্যরচনা
ব্যাখ্যা
• ‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজল রচিত একটি  - দিনলিপি। 

আবুল ফজল:

- তিনি ১লা জুলাই, ১৯০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এ আন্দোলনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন।
- তিনি মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী নামে আখ্যায়িত হন।
- তিনি 'রেখাচিত্র' গ্রন্থের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৮৩ সালের ৪ঠা মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

• তাঁর রচিত আত্মকাহিনি ও দিনলিপি:
- রেখাচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৪৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগ ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য
  2. ক্বচিৎ প্রৌঢ়
  3. কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য
  4. কস্যচিৎ তত্ত্বণ্বেষিণ
ব্যাখ্যা
'কস্যচিৎ’ ছদ্মনাম ব্যবহারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।
• অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল, ব্রজবিলাস, বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা, রত্ন পরীক্ষা। এই পাঁচটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেনামি রচনা।

• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' নামে প্রথম রচনা 'অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)।
• উক্ত বেনামিতে দ্বিতীয় রচনা 'আবার অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)। এই বই দুটি বহুবিবাহ বিষয়ে তারানাথ তর্কবাচস্পতির লিখিত বক্তব্যের প্রতিবাদে লেখা, বিতর্কমূলক উত্তর-প্রত্যুত্তর।

• তৃতীয় রচনা ‘ব্রজবিলাস’ (নভেম্বর, ১৮৮৪) - ''কবিকুলতিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য'' ছদ্মনামে রচিত। বিধবাবিবাহের বিরুদ্ধে ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের রচনার প্রত্যুত্তরে লিখেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
 
• চতুর্থ রচনা ‘কস্যচিৎ তত্ত্বণ্বেষিণ ছদ্মনামে রচিত ‘বিধবা বিবাহ ও যশোহর হিন্দুধর্ম রক্ষণী সভা’।

• পঞ্চম রচনা ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য’ ছদ্মনামে রচিত- রত্নপরীক্ষা।


অন্যদিকে,
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল- ক্বচিৎ প্রৌঢ়।  

-------------------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতালপঞ্চবিংশতি'।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৫০.
বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ কোনটি?
  1. ইতিহাসমালা
  2. কথোপকথন
  3. প্রবোধচন্দ্রিকা
  4. লিপিমালা
ব্যাখ্যা
'ইতিহাসমালা':
- 'ইতিহাসমালা' (১৮১২) উইলিয়াম কেরি সঙ্কলিত বিভিন্ন বিষয়ের ১৫০টি গল্পের সংগ্রহ।
- বাংলা ভাষায় এবং আধুনিক ভারতীয় সাহিত্যের এটি প্রথম গল্পসংগ্রহ। গল্পগুলি বাংলাদেশের নানা অঞ্চলে প্রচলিত ছিল।

উইলিয়াম কেরী:

- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর অবদান সর্বাধিক।
- তিনি 'ইতিহাসমালা' ও 'কথোপকথন' নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

তাছাড়া,
- ‘লিপিমালা’ রামরাম বসু রচিত গদ্যগ্রন্থ।
- ‘প্রবোধচন্দ্রিকা’ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৯,৫৫১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশ্বকবি উপাধি কে প্রদান করেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. চি-সি-লিজন
  3. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
  4. ক্ষিতিমোহন সেন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়।
-----------------

‘বিশ্বকবি’ উপাধি:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকবি’ উপাধি প্রদান করেন ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়। ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথের কবিতার সর্বজনীনতা ও বিশ্বজনীন আবেদনের জন্য তাঁকে ‘বিশ্বকবি’ বলে অভিহিত করেন। এই উপাধি পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়।
-----------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।

- বাংলাদেশের শাহজাদপুর, পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপাধিসমূহ:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 'বিশ্বকবি' সম্মানে ভূষিত করেন- ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়।
• 'গুরুদেব' সম্মানে ভূষিত করেন- মহাত্মা গান্ধী।
• কবিগুরু উপাধিতে ভূষিত করেন- ক্ষিতিমোহন সেন।
• ভারতের মহাকবি উপাধিতে ভূষিত করেন চীনা কবি চি-সি-লিজন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৫৫২.
কবি আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. ক) ওরা কয়েকজন
  2. খ) রাজা যায় রাজা আসে
  3. গ) পৃথক পালঙ্ক
  4. ঘ) যে তুমি হরণ করো
ব্যাখ্যা
• আবুল হাসান:
-  আবুল হাসান(১৯৪৭-১৯৭৫)  কবি, সাংবাদিক। ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট  গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। 
- তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান। 
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণীতে ভর্তি হন, কিন্তু পরীক্ষা শেষ না করেই ১৯৬৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তাবিভাগে যোগদান করেন।
- তিনি গণবাংলা (১৯৭২-৭৩) এবং দৈনিক জনপদ-এ (১৯৭৩-৭৪) সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য ওরা কয়েকজন
- তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন: 'আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৫৩.
সুকুমার রায় রচিত কবিতার বই কোনটি?
  1. চলচ্চিত্তচঞ্চরী
  2. পাগলা দাশু
  3. হযবরল
  4. আবোল তাবোল
ব্যাখ্যা
• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

এছাড়া তার অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
- অবাক জলপান,
- লক্ষণের শক্তিশেল',
- হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরী,
- ঝালাপালা ও অন্যান্য নাটক এবং
- বহুরূপী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'হ-য-ব-র-ল' গ্রন্থের ভূমিকা এবং 'পাগলা দাশু' গল্পগ্রন্থের ভূমিকা।
৯,৫৫৪.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. খ) হুমায়ুন আহমেদ
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসের রচয়িতা শামসুদ্দীন আবুল কালাম। এই উপন্যাসের দুই চরিত্র- হোসেন ও সিকদার। আলমনগরের উপকথা, জীবন কাব্য, কাঞ্চনমালা, কাঞ্চনগ্রাম, নবান্ন, যার সাথে যার, জায়জঙ্গল, সমুদ্রবাসর, মনের মতো ঠাঁই, দুই মহল ইত্যাদি তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৯,৫৫৫.
“একদিন শ্রাবণের শেষাশেষি নিরাক পড়েছে।” — সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত ‘লালসালু’ উপন্যাসে ‘নিরাক-পড়া’ দ্বারা কী নির্দেশ করা হয়েছে?
  1. ডাকাতের অতর্কিত আক্রমণ
  2. দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি
  3. ঝড় আসার পূর্বাভাস
  4. বাতাসশূন্য স্তব্ধ পরিবেশ
ব্যাখ্যা

 "লালসালু" উপন্যাস:
• 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন। সাধারণ মানুষের সরলতাকে কিভাবে ধর্ম ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহার করা হয় তা লালসালু উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়। 

• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে। ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।
--------------------
উপন্যাসের কিছু অংশবিশেষ:
একদিন শ্রাবণের শেষাশেষি - নিরাক পড়েছে। হাওয়াশূন্য স্তব্ধতায় মাঠপ্ৰান্তর আর বিস্তৃত ধান ক্ষেত নিথর, কোথাও একটু কম্পন নেই। আকাশে মেঘ নেই। তামাটে নীলাভ রঙ দিগন্ত পর্যন্ত স্থির হয়ে আছে।

ব্যাখ্যা:
উপন্যাসের অংশবিশেষে বলা হয়েছে—

“হাওয়াশূন্য স্তব্ধতায় মাঠপ্রান্তর আর বিস্তৃত ধানক্ষেত নিথর, কোথাও একটু কম্পন নেই।”
এখানে—
- বাতাস নেই;
- প্রকৃতি সম্পূর্ণ স্থির;
-  নড়াচড়া নেই।

অতএব ‘নিরাক-পড়া’ বলতে নিস্তব্ধ, বাতাসশূন্য পরিবেশকেই বোঝানো হয়েছে।

সঠিক উত্তর - ঘ) বাতাসশূন্য স্তব্ধ পরিবেশ।
-----------------
• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৫৫৬.
'কাজেম আল কোরেশী' কোন কবির প্রকৃত নাম?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কায়কোবাদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- গোলাম মোস্তফাকে সাহিত্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৫৭.
"ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও নায়িকার স্বামীনিষ্ঠা" তুলে ধরা হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. তুর্কি নারী জীবন 
  2. আনোয়ারা
  3. সুলতানার স্বপ্ন 
  4. জীবনের শিল্প 
ব্যাখ্যা

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- তাঁর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান এর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা।
- উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটিতে মধ্যবিত্ত বিকাশের চিত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লা, গোলাপ জান ইত্যাদি।

• নজিবর রহমান রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৯,৫৫৮.
’সাহিত্য সম্রাট’ বলা হয় কাকে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক বলা হয়। 
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৫৯.
নিচের কোনটি বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. ময়নামতীর চর
  2. পদ্মানদীর চর
  3. মধুমতীর চর
  4. সন্দ্বীপের চর
ব্যাখ্যা

•  'সন্দ্বীপের চর' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা -  বিষ্ণু দে।

অন্যদিকে,
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্য:
- ময়নামতীর চর,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,

• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৫৬০.
‘ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস - ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৬১.
বাংলা-গদ্যের আদি নিদর্শন কোনটি?
  1. ক) চর্যাপদ
  2. খ) কোচবিহার র লেখা চিঠি
  3. গ) শেখ শুভোদয়া
  4. ঘ) নরোত্তম দাসের দেহকাড়চা
ব্যাখ্যা
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয় ।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
- ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিস্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয় ।

ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন।

সে স্তরগুলোর পরিধি:
প্রথম স্তর: সূচনা—ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।

দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ—১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন ) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।

তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয়—১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্রের) পূর্ব পর্যন্ত ।

চতুর্থ স্তর: পরিণতি—১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৯,৫৬২.
‘দেবী চৌধুরানী’ উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মোশাররফ হোসেন
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
 • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরানী।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৬৩.
"আসমানী" কবিতা কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. রাখালী
  2. বালুচর
  3. এক পয়সার বাঁশি
  4.  মা যে জননী কান্দে
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের অমর সৃষ্টি 'আসমানী' কবিতা।
- পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের এই ‘আসমানী’ কবিতাটি ১৯৪৬ সালে রসুলপুরে বসেই রচনা করেন।
- পরবর্তীতে ১৯৪৯ সাল তাঁর ‘এক পয়সার বাঁশি’ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়।

জসীম উদ্‌দীন: 
- কবি জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও এক পয়সার বাঁশি কাব্যগ্রন্থ।

৯,৫৬৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বাংলার মাটি, বাংলার জল' সনেটটি রচনা করেন কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে?
  1. স্বদেশি আন্দোলন
  2. বঙ্গভঙ্গ
  3. সিপাহী বিদ্রোহ
  4. অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• 'বাংলার মাটি, বাংলার জল' সনেটটি রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে এটি রচনা করেন।
- ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে যেদিন রাখি বন্ধন উৎসব করেছিলেন হিন্দু-মুসলমানের হাতে রাখি পড়িয়ে দিয়ে, সেই উপলক্ষ্যেই তিনি লিখেছিলেন 'বাংলার মাটি বাংলার জল বাংলার বায়ু, বাংলার ফল – পুণ্য হউক, পুণ্য হউক

উল্লেখ্য,
নির্মলেন্দু গুণের একটি কাব্য 'বাংলার মাটি বাংলার জল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট।
৯,৫৬৫.
জসীমউদ্‌দীন রচিত 'জীবন কথা' কি ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) নাটক
  3. গ) আত্মকথা
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন রচিত 'জীবন কথা' একটি আত্মকথা।

• 'পল্লীকবি' উপাধিতে ভূষিত, জসীম উদ্‌দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মোহাম্মাদ জসীম উদ্‌দীন মোল্লা তার পূর্ণ নাম হলেও তিনি জসীম উদ্‌দীন নামেই পরিচিত।
- জসীম উদ্দীন একদম অল্প বয়স থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। কলেজে অধ্যয়নরত থাকা অবস্থায়, পরিবার এবং বিয়োগান্ত দৃশ্যে, একদম সাবলীল ভাষায় তিনি বিশেষ আলোচিত কবিতা কবর লিখেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাবস্থায় এই কবিতাটি প্রবেশিকার বাংলা পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- রাখালী (১৯২৭)
- নকশী কাঁথার মাঠ (১৯২৯)
- বালুচর (১৯৩০)
- ধানখেত (১৯৩৩)
- সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৪)
- হাসু (১৯৩৮)
- রুপবতি (১৯৪৬)
- মাটির কান্না (১৯৫১)
- এক পয়সার বাঁশী (১৯৫৬)
- সখিনা (১৯৫৯)
- সুচয়নী (১৯৬১)
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে (১৯৬২)
- মা যে জননী কান্দে (১৯৬৩)
- হলুদ বরণী (১৯৬৬)
- জলে লেখন (১৯৬৯)
- পদ্মা নদীর দেশে (১৯৬৯)
- কাফনের মিছিল (১৯৭৮)
- মহরম
- দুমুখো চাঁদ পাহাড়ি (১৯৮৭)

নাটক
- পদ্মাপার (১৯৫০)
- বেদের মেয়ে (১৯৫১)
- মধুমালা (১৯৫১)
- পল্লীবধূ (১৯৫৬)
- গ্রামের মেয়ে (১৯৫৯)

আত্মকথা
- যাদের দেখেছি (১৯৫১)
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায় (১৯৬১)
- জীবন কথা ( ১৯৬৪)
- স্মৃতিপট (১৯৬৪)
- স্মরণের সরণী বাহি (১৯৭৮)

উপন্যাস
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৬৬.
‘নজু মিয়া ও আসগর মিয়া’ চরিত্রটি কোন উপন্যাসের?
  1. ক) পদ্মানদীর মাঝি
  2. খ) পদ্মার পলিদ্বীপ
  3. গ) নদী ও নারী
  4. ঘ) ছায়াহরিণ
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন কবির রচিত উপন্যাস- 'নদী ও নারী (১৯৪৫)। এ উপন্যাসের পটভূমিতে রয়েছে চরের মানুষের জীবনালেখ্য। নজু মিয়া আর আসগর মিয়া দুই বন্ধু। তাদের জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে 'নদী ও নারী উপন্যাসের কাহিনি।
- হুমায়ুন কবির বিখ্যাত হয়ে আছেন “চতুরঙ্গ” পত্রিকা সম্পাদনা করে।
তার কয়েকটি কাব্য -
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী,
- অষ্টাদশী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৬৭.
হাসান হাফিজুর রহমান কতসালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) ১৯৩০
  2. খ) ১৯৩২
  3. গ) ১৯৩৩
  4. ঘ) ১৯৩৫
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমান:
- তিনি ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে।
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।
- পরবর্তীতে সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান  (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন।
- ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং এ বছরই তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘অমর একুশে’ রচিত হয়।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ একুশে ফেব্রুয়ারী।
- হাসান হাফিজুর রহমান ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন একজন কমিউনিস্ট। বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি তাঁর আজীবন অনুরাগ ছিল।
- ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ডাকসুর মাসিক ম্যাগাজিন Spectra সম্পাদনা করেন।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।
- ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল মস্কো সেন্ট্রাল ক্লিনিক্যাল হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা, 
- মূল্যবোধের জন্য, 
- সাহিত্য প্রসঙ্গ, 
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৬৮.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'চিত্তনামা' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) জীবনীকাব্য
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'চিত্তনামা' হচ্ছে - জীবনীকাব্য

- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ রা আষাঢ় চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুবরণ করলে ,তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নজরুল অর্ঘ্য, অকাল - সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, ইন্দ্রপ্তন, রাজভিখারি নামে কয়েকটি কবিতা সমকালীন পত্রিকায় লিখেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির অভির আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়।
- এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।

-  কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্য আরেকটি জীবনীকাব্য হচ্ছে - মরু- ভাস্কর।
- এই কাব্যটি হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ এর জীবনীকাব্য।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৬৯.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সারদা মঙ্গল
  2. বঙ্গসুন্দরী
  3. প্রেম প্রবাহিণী
  4. কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• কালিকামঙ্গল বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়।

- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কবি কঙ্ক।
- এছাড়া সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন কালিকা মঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৭০.
শরৎচন্দ্রের ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের প্রথম খণ্ডটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ভারতবর্ষ
  2. খ) ধূমকেতু
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) সওগাত
ব্যাখ্যা
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৭১.
'বিশ শতকের বাঙালি' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আহমদ শরীফ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. সুকুমার সেন
  4. গোপাল হালদার
ব্যাখ্যা
•'বিশ শতকের বাঙালি' প্রবন্ধটির রচয়িতা: 'আহমদ শরীফ।

• আহমদ শরীফ:
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দুখন্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৭২.
'রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সত্যেন সেন
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ' উপন্যাসটি সত্যেন সেন রচিত। প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।

সত্যেন সেন রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ভোরের বিহঙ্গী, ‌
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৭৩.
'ঋণ শোধের জন্য নয়, ঋণ স্বীকারের জন্য।'- উক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) কাজী নজরুল
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
'তন্বী' সুধীন্দ্রনাথ দত্তের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যটি তিনি রবীন্দ্রনাথের শ্রীচরণে উৎসর্গ করেন। সেখানে তিনি বলেন- ঋণ শোধের জন্য নয়, ঋণ স্বীকারের জন্য।' অর্কেস্ট্রা, ক্রন্দসী, উত্তর ফাল্গুনী, প্রতিদিন, দশমী, প্রতিধ্বনি ইত্যাদি তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৯,৫৭৪.
'বাংলার লোকসাহিত্য' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. আশুতোষ ভট্টাচার্য
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. আশরাফ সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা
• আশুতোষ ভট্টাচার্য: 
- ১৯০৯ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার ঝালুয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লোকসংস্কৃতিবিদ হিসেবেই আশুতোষের প্রধান পরিচয়।
- তিনি মধ্যযুগের বাংলা মঙ্গলকাব্য এবং আধুনিক যুগের বাংলা নাটকের ইতিহাস রচনা করেও খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৮৪ সালের ১৯ মার্চ কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর তিনটি মৌলিক গ্রন্থ:
- বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাস,
- বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাস (১ম ও ২য় খণ্ড: ১৯৫৫ ও ১৯৬১)
- এবং বাংলা সামাজিক নাটকের বিবর্তন (১৯৬৪)। 

বাংলা লোকসাহিত্য সম্পর্কেও তাঁর একাধিক গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে,
যথা:
বাংলার লোকসাহিত্য (৬ খণ্ড, ১৯৫৪-১৯৭২),
বাংলার লোকশ্রুতি (১৯৬০),
বঙ্গীয় লোকসঙ্গীত রত্নাকর (৪ খণ্ড ১৯৬৬-৬৭),
বাংলার লোকনৃত্য (২ খণ্ড ১৯৭৬, ১৯৮২),
বাংলার লোকসংস্কৃতি (১৯৭৯),
Chhau Dance of Purulia (১৯৭২),
The Sun and the Serpentlore of Bengal (১৯৭৭),
Folklore of Bengal (১৯৭৮) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৭৫.
মহাকবি কায়কোবাদ এর মহাকাব্য 'মহাশ্মশান' এর মূল উপজীব্য:
  1. মোগল সাম্রাজের ইতিহাস
  2. বাংলা অঞ্চলের প্রাচীন ঘটনাসমূহ
  3. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. একটিও নয়
ব্যাখ্যা

'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
• কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
• কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
• প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

---------------------
কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৯,৫৭৬.
নজরুলের কোন গ্রন্থটি প্রথমবার সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হয়েছিল?
  1. চন্দ্রবিন্দু
  2. বিষের বাঁশি
  3. যুগবাণী
  4. ভাঙার গান
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের 'যুগবাণী' গ্রন্থটি প্রথমবার সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হয়েছিল। 
-----------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন।
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

• নজরুলের প্রথম প্রবন্ধ ছিল- যুগবাণী। 
• এবং প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ- তুর্কমহিলার ঘোমটা খলা।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো —
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- চক্রবাক,
- প্রলয় শিখা,
- দোলনচাঁপা,
- ও ভাঙার গান।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৯,৫৭৭.
'আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।' – এই উক্তিটি কার?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।

• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে — ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি — ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৭৮.
আবু ইসহাক সৃষ্ট ‘জয়গুণ’ চরিত্রটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. লালসালু
  2. পদ্মার পলিদ্বীপ
  3. সারেং বৌ
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- এটি আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- 'জয়গুন' এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

আবু ইসহাক: 
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা। জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। 
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়। 
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৭৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগ্রন্থের সংখ্যা কয়টি?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর ছোটগল্পসমূহ:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো:
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৮০.
কাজী নজরুল ইসলামের 'বিষের বাঁশি' কবিতাগ্রন্থ কবে নিষিদ্ধ হয়?
  1. ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০
  2. ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫
  3. ২২ অক্টোবর, ১৯২৪
  4. ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১
ব্যাখ্যা
বিষের বাঁশি:
- অগ্নি- বীণা (১৯২২) কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ড হিসেবে বিষের বাঁশি লিখিত ও সর্বজন বিদিত।
- অগ্নি-বীণা কাব্যে তিনি যে সংকেত সূত্র কিংবা তত্ত্ব দিয়েছেন বিষের বাঁশীতে আছে তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ কিংবা পরিণতি।
- গ্রন্থে মোট ২৭টি কবিতা আছে।

কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি: 
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশি: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১৪।
৯,৫৮১.
'নেকড়ে অরণ্য' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. দেশভাগ
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'নেকড়ে অরণ্য' এর লেখক - শওকত ওসমান। উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।

শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো:
নেকড়ে অরণ্য,
দুই সৈনিক,
জাহান্নম হইতে বিদায় এবং
জলাঙ্গী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৯,৫৮২.
‘সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চন্দ্রবিন্দু
  2. চক্রবাক
  3. ছায়ানট
  4. প্রলয়শিখা
ব্যাখ্যা
• ‘সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'চন্দ্রবিন্দু' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা। 


সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন
– কাজী নজরুল ইসলাম

সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন।
হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন।
এ প্রাণ প্রভাতি-তারার প্রায়
ফুটুক উদয়-গগন-গায়,
দুঃখ-নিশায় আনো পূর্ণ চাঁদের স্বপন॥

------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

• কাজী নজরুল ইসলাম এর উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা,

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন’ কবিতা।
৯,৫৮৩.
‘সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।’ উক্তিটি কোন ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সুভা
  2. দেনাপাওনা
  3. অপরিচিতা
  4. হৈমন্তী
ব্যাখ্যা
⇒ 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।  

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। 
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প- 
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ, 
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৮৪.
কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গানে সংকলন কোনটি?
  1. ভাঙার গান
  2. চোখের চাতক
  3. চন্দ্রবিন্দু
  4. সুর সাকী
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি। এগুলো হলো-
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৮৫.
সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কোন কবি?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেটের প্রবর্তক। তিনি বাংলায় মিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে, 
• জীবনানন্দ দাশ: তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।

• তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৫৮৬.
জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. এর উপায় কি?
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. উদাসীন পথিকের মনের কথা
ব্যাখ্যা

• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসন:
- এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নসিরাম,
- রতা,
- রাজীব,
- রাজমণি,
- কেশব,
- বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
---------------------
• 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসন:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন। এটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ, গদাগর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী প্রমুখ।

• 'এর উপায় কি' প্রহসন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্ৰহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র। এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

• উদাসীন পথিকের মনের কথা:
- ‘উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- “উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৫৮৭.
'ইন্দিরা' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'ইন্দিরা' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - ইন্দিরা।
- ইন্দিরা ছোট উপন্যাস, অনেকে বলেন বড়ো গল্প। ১৮৭২ সালে 'বঙ্গদর্শনে' প্রথম প্রকাশিত এবং 'উপকথা' (১৮৭৭) গ্রন্থে সংকলিত।
- ১৮৯৩ সালে পুনর্লিখিত এবং পরিবর্ধিত হয়। এই কাহিনিটি উত্তমপুরুষের বয়ানে রচিত। কৌতুক-পরিহাসপূর্ণ উপভোগ্য কাহিনি 'ইন্দিরা'। - অনেকের মতে, বঙ্কিমচন্দ্রের কালে শিল্পমাধ্যম হিসেবে ছোটগল্পের অস্তিত্ব ছিলো না বলে তিনি একটি গল্পের বিষয়কে উপন্যাসে রূপ দিতে গিয়েছেন। তাঁদের মতে, 'ইন্দিরা' বাংলা ছোটগল্পের ইঙ্গিত, সূচনার বার্তাবহ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৮৮.
নিচের কোনটি ভ্রমণকাহিনী?
  1. ঘরে ফেরার দিন
  2. পথে প্রবাসে
  3. ডানপিঠে শওকত
  4. যাদের দেখেছি
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভ্রমণকাহিনীঃ
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।
• 'ঘরে ফেরার দিন' অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ।
• ডানপিঠে শওকত আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর শিশুতোষ গ্রন্থ।
• যাদের দেখেছি পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের আত্মকথা।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৫৮৯.
'স্টপ জেনোসাইড' প্রামাণ্যচিত্রের মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ৬৯ এর গনভ্যুত্থান
  4. ঘ) দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
'স্টপ জেনোসাইড' প্রামাণ্যচিত্রের মূল বিষয়বস্তু- 'মুক্তিযুদ্ধ'  
- জহির রায়হান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার যে প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছিলেন তার নাম 'স্টপ জেনোসাইড'।

জহির রায়হান 
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
- তাঁর প্রথম পরিচালিত ছবি- 'কখনো আসে নি' 

তাঁর রচিত উপন্যাস হচ্ছে 
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী এবং
- আর কত দিন।

তাঁর নির্মিত বিভিন্ন চলচ্চিত্র হলো:
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- জীবন থেকে নেয়া,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম এবং
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৯০.
'রহমত' ও 'খুকী' চরিত্র দুটি পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের-
  1. সমাপ্তি ছোটগল্পে
  2. দেনাপাওনা ছোটগল্পে
  3. একরাত্রি ছোটগল্পে
  4. কাবুলিওয়ালা ছোটগল্পে
ব্যাখ্যা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে মুসলমান চরিত্র রয়েছে। এ ছোটগল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- রহমত ও খুকী।
- 'সমাপ্তি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'মৃণ্ময়ী'।
- 'একরাত্রি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'সুরবালা'।
উৎসঃ রবীন্দ্রনাথ রচনাবলী।

৯,৫৯১.
“দেখ উন্মাদ তোর জীবনে শেলীর মত, কীট্সের মত খুব বড় একটা ট্র্যাজেডি আছে-তুই প্রস্তুত হ”। কে কাকে এই কথাটি বলেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ - নজরুলকে
  2. বিদ্যাসাগর - মাইকেল মধুসূদন দত্তকে
  3. বুদ্ধদেব বসু - মুনির চৌধুরীকে
  4. আহসান হাবীন - ফররুখ আহমদকে
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর দেয়া একটি ভাষণে উল্লেখ করেছিলেন -

রবীন্দ্রনাথ আমায় প্রায়ই বলতেন, “দেখ উন্মাদ তোর জীবনে শেলীর মত, কীট্সের মত খুব বড় একটা ট্র্যাজেডি আছে-তুই প্রস্তুত হ” জীবনের সেই ট্র্যাজেডি দেখবার জন্য আমি কতদিন অকারণে অন্যের জীবনকে অশ্রুর পরশায় আচ্ছন্ন করে দিয়েছি। কিন্তু আমারই জীবন রয়ে গেল বিশুষ্ক মরুভূমির মত তপ্ত মেঘের উর্দ্ধে শুন্যের মতো কেবল হাসি কেবল গান কেবল বিদ্রোহ।

সূত্রঃ যদি আর বাঁশি না বাজে, কাজী নজরুল ইসলাম।
৯,৫৯২.
'কবর' নাটকটি প্রথম মঞ্চস্থ হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৫২
  2. খ) ১৯৫৩
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫৫
ব্যাখ্যা
'কবর' (১৯৫৩) মুনীর চৌধুরী রচিত একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক। 
- বাংলা ভাষা আন্দোলনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে মুনীর চৌধুরীকে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সরকার আটক ও জেলে প্রেরণ করে। 
- জেলে থাকা অবস্থায় তিনি লেখেন এই নাটক ও ১৯৫৩ সালে কারান্তরালে রাজবন্দিরা তাতে অভিনয় করেন ।
- এ নাটকে মুনীর চৌধুরী কোন নারী চরিত্র রাখেন নি। 
-------------

মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১)
- মুনীর চৌধুরী সমকালীন জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গেও নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সম্পৃক্ত করেছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মার্চে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি পাকিস্তান সরকারের দেওয়া সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৬) খেতাব বর্জন করেন।
- মুনীর চৌধুরী মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র মাধ্যমে নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।
- তাঁর একটি বিশেষ কীর্তি বাংলা টাইপ রাইটারের কি-বোর্ড (১৯৬৫) উদ্ভাবন, যা ‘মুনীর অপটিমা’ নামে পরিচিত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক-
- কবর (১৯৬৬),
- চিঠি (১৯৬৬), 
- দন্ডকারণ্য (১৯৬৬)
- পলাশী ব্যারাক  ও অন্যান্য  (১৯৬৯)
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৭),
- রূপার কৌটা (১৯৬৯),
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০) ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৯৩.
আবুল হোসেন রচিত স্মৃতিকথা কোনটি?
  1. ক) রেখাচিত্র
  2. খ) লেখকের রোজনামচা
  3. গ) আত্মকথা
  4. ঘ) আমর এই ছোট ভুবন
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ রচিত আত্মজীবনী – ‘আত্মকথা’ (১৯৭৮)। ‘রেখাচিত্র’ ও ‘লেখকের রোজনামচা’ রচয়িতা হলেন আবুল ফজল। ‘আমার এই ছোট ভুবন’ হলো আবুল হোসেনের স্মৃতিকথা। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৯,৫৯৪.
‘শেষের কবিতা’ একটি-
  1. প্রবন্ধ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস। 

• শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক- মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে: 
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও শেষের কবিতা।

৯,৫৯৫.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কোন উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ' পুরস্কার লাভ করেন?
  1. চিলেকোঠার সেপাই,
  2. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  3. দোজখের ওম
  4. খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা
'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন , ১৯৪৩ সালের- এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন , সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ' পুরস্কার’ ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৯৬.
কোন কাব্যের জন্য বিহারীলাল চক্রবর্তী 'ভোরের পাখি' উপাধিতে ভূষিত হন?
  1. নিসর্গ সন্দর্শন
  2. বাউল বিংশতি
  3. সারদামঙ্গল
  4. দেবরাণী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত 'সারদামঙ্গল' কাব্য পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে ভূষিত করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৯,৫৯৭.
কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পরিচয়
  2. পুর্বমেঘ
  3. পূর্বাশা
  4. শিখা
ব্যাখ্যা
• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

অন্যদিকে, 
• 'পূর্বমেঘ' পত্রিকা প্রফেসর জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী এবং প্রফেসর মুস্তফা নূরউল ইসলামের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে বের হতো।

• কলকাতা থেকে ‘পরিচয়’ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসে (১৯৩১, জুলাই)। পত্রিকাটি ত্রৈমাসিক। সম্পাদক ছিলেন আধুনিক কালের প্রখ্যাত কবি ও প্রাবন্ধিক সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

• 'শিখা' ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য সমাজ কর্তৃক প্রকাশিত পত্রিকা। এটি বিংশ শতকের বিশের দশকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫৯৮.
কোন যুগে বাংলা গদ্যসাহিত্যের উদ্ভব ঘটে?
  1. প্রাচীনযুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. আধুনিক যুগ
  4. অন্ধকারযুগ
ব্যাখ্যা

- আধুনিক যুগে বাংলা সাহিত্যের গদ্যসাহিত্যের উদ্ভব ঘটে।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের আগে যে সাহিত্য রচিত হয়েছে তা ছিল মূলত কবিতা বা পদ্য নির্ভর। 
- উনবিংশ শতাব্দী থেকে বাংলা সাহিত্যে মূলগত যে বৈশিষ্ট্য পরিদৃষ্ট হয় তা সূত্রাকারে লিপিবদ্ধ করা হলো:
১. গদ্যসাহিত্যের উদ্ভব
২. সাময়িকপত্রের আবির্ভাব
৩. নাট্যসাহিত্যের জন্ম
৪. প্রবন্ধ (চিন্তামূলক) সাহিত্যের সৃষ্টি ইত্যাদি। 
- এ সময় প্রথাগত কবিতার বদলে কাব্যক্ষেত্রে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পাশ্চাত্য প্রভাব অঙ্গীভূত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুল আলম।

৯,৫৯৯.
ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. খেলাঘর
  2. কালো বরফ
  3. কালো ঘোড়া
  4. জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা

• 'কালো বরফ' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের 'কালো বরফ' ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত। উপন্যাসটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- প্রধান চরিত্র: আব্দুল খালেক।

অন্যদিকে, 
• 'খেলাঘর' (১৯৮৮): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস। চরিত্র: রেহানা, মুকল ও ইয়াকুব। ২০০৬ সালে উপন্যাসটির চলচ্চিত্রায়ন করা হয়।
• 'কালো ঘোড়া' ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি উপন্যাস।
• 'জীবন আমার বোন' (১৯৭২): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর ঠিক আগের অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৭ মার্চের ঢাকা শহরের সমাজ ও রাজনীতির উত্তেজনা জায়গা করে নিয়েছে কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল কবির খোকার বয়ানের মাধ্যমে।

উৎস: 'কালো বরফ' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৯,৬০০.
'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটির প্রণেতা-
  1. ক) উইলিয়াম কেরী
  2. খ) গোলকনাথ শর্মা
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটির প্রণেতা- 'রামরাম বসু'

রামরাম বসু
- রামরাম বসু রচিত প্রথম গ্রন্থ - রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত।
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কেরী সাহেবের মুন্শি‌ হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- তিনি ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক। 
- রামরাম বসুর আরো একটি গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা (১৮০২)।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।