বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৯৪ / ১৭৪ · ৯,৩০১৯,৪০০ / ১৭,৪৩৭

৯,৩০১.
কাকে "রূপসী বাংলার কবি" বলা হয়?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩০২.
নিচের কোনটি উপন্যাস? 
  1. কালের কলস
  2. বখতিয়ারের ঘোড়া
  3. ডাহুকী
  4. পানকৌড়ির রক্ত
ব্যাখ্যা

• “ডাহুকী' উপন্যাস:
- আল মাহমুদ রচিত প্রথম উপন্যাস - ডাহুকী।
- নব্বইয়ের দশকের প্রথমার্ধেই ১৯৯২ সালে বের হয় আল মাহমুদ রচিত প্রথম উপন্যাস “'ডাহুকী।
- গড়পড়তা আয়তনের উপন্যাস 'ডাহুকী”র প্রধান চরিত্র আতেকা বানু ৷ তাঁর সঙ্গে তীব্রভাবে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর কিশোরীকালের আবেগ ।

--------------------
• আল মাহমুদ:
- আল মাহমুদ একজন প্রথিতযশা কবি। বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহ তাঁর কবিতার বিশেষ উপাদান।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৯,৩০৩.
‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধটি কোন প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. যুগবাণী
  2. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  3. দুর্দিনের যাত্রী
  4. রুদ্র-মঙ্গল
ব্যাখ্যা
• যুগবাণী: 
- প্রবন্ধের গ্রন্থ ‘যুগবাণী’ ১৯২২ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধের বই।
- প্রকাশের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে।
- ১৯৪৭ সালে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ: নবযুগ, ধর্মঘট, সত্য-শিক্ষা, ভাব ও কাজ, জাতীয় শিক্ষা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জাগরণী ইত্যাদি।
- প্রবন্ধগুলোতে স্বদেশি চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র, কাজী নজরুল ইসলাম।
৯,৩০৪.
'রাখালী' কাব্যগ্রন্থে মোট কতটি কবিতা সংকলিত হয়েছে?
  1. ১৫টি
  2. ১৯টি
  3. ২১টি
  4. ২৫টি
ব্যাখ্যা

‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ:
- কবি জসীমউদ্‌দীন প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- তাঁর বিখ্যাত কবর কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজ জীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৩০৫.
কোনটি সরদার জয়েনউদ্দিন রচিত উপন্যাস?
  1. নয়ান ঢুলি
  2. বেলা ব্যানার্জীর প্রেম
  3. অষ্টপ্রহর
  4. অনেক সূর্যের আশা
ব্যাখ্যা

 • ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস:
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পটভূমিতে সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত একটি উপন্যাস।
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস তাঁকে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- সরদার জয়েনউদ্দীন ১৯১৮ সালে ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) পাবনার সুজানগর উপজেলার কামারহাটিতে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অনেক সূর্যের আশা, 
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ,
- আদিগন্ত।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- নয়ান ঢুলি,
- খরস্রোত, 
- বেলা ব্যানার্জীর প্রেম, 
- অষ্টপ্রহর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৩০৬.
কোনটি গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. কুসুম কানন
  2. রক্তরাগ
  3. অমিয়ধারা
  4. প্রেম-পারিজাত
ব্যাখ্যা

• 'রক্তরাগ' ১৯২৪ সালে প্রকাশিত গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• গোলাম মোস্তফা:

- গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪) কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।

- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন। তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
- গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনি আদম,
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি।

তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে-
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান।

অন্যদিকে, 
• কুসুম কানন, অমিয়ধারা এবং প্রেম-পারিজাত কবি কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৩০৭.
'কৃষাণের গান' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• কৃষাণের গান:
- রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- কবিতাটি নজরুলের বিদ্রোহী সুর ও শোষিত-বঞ্চিত কৃষক সমাজের প্রতি সহানুভূতির প্রকাশ।
- কবিতাটি কৃষকদের দুর্দশা, শোষণ, এবং তাদের প্রতিরোধের আহ্বানকে তুলে ধরে, যা নজরুলের বিপ্লবী ও সমাজচেতনামূলক কাব্যশৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিপ্লবী কবি নজরুলের 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থে কবিতা আছে মোট ১০টি। 
১. সর্বহারা
২. কৃষাণের গান
৩. শ্রমিকের গান
৪. ধীবরদের গান
৫. ছাত্রদলের গান
৬. কাণ্ডারী হুশিয়ার
৭. ফরিয়াদ
৮. আমার কৈফিয়ত
৯. প্রার্থনা
১০. গোকুল নাগ

কৃষাণের গান
কাজী নজরুল ইসলাম

ওঠ রে চাষি জগদ্‌বাসী ধর কষে লাঙল।
আমরা মরতে আছি – ভালো করেই মরব এবার চল॥
  
মোদের উঠান-ভরা শস্য ছিল হাস্য-ভরা দেশ
ওই বৈশ্য দেশের দস্যু এসে লাঞ্ছনার নাই শেষ,
ও ভাই লক্ষ হাতে টানছে তারা লক্ষ্মী মায়ের কেশ,
আজ মা-র কাঁদনে লোনা হল সাত সাগরের জল॥
  
ও ভাই আমরা ছিলাম পরম সুখী, ছিলাম দেশের প্রাণ
তখন গলায় গলায় গান ছিল ভাই, গোলায় গোলায় ধান,
আজ কোথায় বা সে গান গেল ভাই কোথায় সে কৃষাণ?
ও ভাই মোদের রক্ত জল হয়ে আজ ভরতেছে বোতল।
  
আজ চারদিক হতে ধনিক বণিক শোষণকারীর জাত
ও ভাই জোঁকের মতন শুষছে রক্ত, কাড়ছে থালার ভাত,
মোর বুকের কাছে মরছে খোকা, নাইকো আমার হাত।
আর সতী মেয়ের বসন কেড়ে খেলছে খেলা খল॥

উৎস: 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থ।
৯,৩০৮.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ধূমকেতু 
  2. মোসলেম ভারত 
  3. বিজলী
  4. সুচিত্রা 
ব্যাখ্যা

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতাটি ২২ পৌষ, ১৩২৮ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- কবিতার মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), 
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বিদ্রোহী কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৩০৯.
আলোছায়া নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) ইব্রাহিম খাঁ
  3. গ) নুরুল মোমেন
  4. ঘ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
আলোছায়া, রূপান্তর, নেমেসিস, হিংটিং ছট, নয়া খান্দান, যেমন ইচ্ছা তেমন ইত্যাদি নাটকের রচয়িতা নুরুল মোমেন৷ কালসন্ধ্যা, মায়ামালঞ্চ এবং তপস্বী ও তরঙ্গিনী হলো বুদ্ধদেব বসুর রচিত নাটক। আনোয়ার পাশা, কামাল পাশা, কাফেলা নাটক রচনা করেন ইব্রাহিম খাঁ। সুবচন নির্বাসনে, এখন দুঃসময় প্রভৃতি নাটকের রচয়িতা আব্দুল্লাহ আল মামুন। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৯,৩১০.
'বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. ঘ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন' গ্রন্থের রচয়িতা মুহম্মদ আবদুল হাই। এটি তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণগ্রন্থ। ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি রচনার জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৩১১.
'মাধব দত্ত' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. ডাকঘর
  2. তাসের দেশ
  3. রক্তকরবী
  4. বিসর্জন
ব্যাখ্যা
'ডাকঘর' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক।
- এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।
- নাটকের চরিত্র গুলো হলো:
- অমল,
- মাধব দত্ত (অমলের পিতা),
- সুধা (মালির মেয়ে),
- ঠাকুরদাদা,
- দইওয়ালা,
- প্রহরী,
- কবিরাজ,
- রাজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩১২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক কোনটি?
  1. জীবন আমার বােন
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. কী চাহ শঙ্খচিল
  4. হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা
• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের রচয়িতা মমতাজউদ্দীন আহমেদ।  
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত 'কি চাহ শঙ্খচিল’ নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, হারানাের বেদনা মূর্তি নির্মাণ করেছেন।
- আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের (বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ধর্ষিত ও নির্যাতিত নারীদের জন্য একটি খেতাব) নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।
- আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাস্তবে বীরাঙ্গনার অবস্থার নাটকীয় উপস্থাপনা দেখা যায় নাটকটিতে।

অন্যদিকে,
- মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বােন'।
- 'নেকড়ে অরণ্য' উপন্যাসের রচয়িতা শওকত ওসমান।
- 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাসের রচয়িতা সেলিনা হোসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩১৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্য - 
  1. তিলোত্তমাসম্ভব
  2. মেঘনাদবধ
  3. ব্রজাঙ্গনা
  4. বীরাঙ্গনা
ব্যাখ্যা

'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য হলো মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্য
- ১৮৬০ সালের এই কাব্যটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল মধূসূদন দত্ত 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত ”তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য”।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯,৩১৪.
প্রথম বাঙ্গালী সাংবাদিক কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. সুকুমার সেন
  3. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• বাঙালীদের প্রচেষ্ঠায় প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা - বাঙ্গাল গেজেট।
- প্রথম বাঙ্গালী সাংবাদিক: গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য। 

• 'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকা: 
- উপমহাদেশে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে দিগ্দর্শন নামে বাংলা ভাষায় প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়।
- এই মাসিক পত্রিকাটি প্রকাশ করে শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন।
- একই বছর মে মাসে শ্রীরামপুরের খ্রিস্টান মিশনারিরা আরেকটি বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করে।
- এটি ছিল জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ।
- ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দেই বাঙালি মালিকানায় প্রথম সংবাদপত্র বাঙ্গাল গেজেটি প্রকাশিত হয়, প্রকাশক ছিলেন গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য্য, কারো কারো মতে গঙ্গাধর ভট্টাচার্য্য।
- মাঝে মধ্যে এতে ইংরেজি ও হিন্দিতে কিছু নিবন্ধ মুদ্রিত হলেও সাধারণভাবে এর ভাষা ছিল বাংলা।
- হরচন্দ্র রায় ছিলেন বাঙ্গাল গেজেটি-র সম্পাদনাকার্যে গঙ্গাকিশোরের অন্যতম সহযোগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩১৫.
বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা' রচনা করেন কে?
  1. দাউদ হায়দার
  2. রফিক আজাদ
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা

রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৩১৬.
’নক্সী কাঁথার মাঠ’ কোন জাতীয় কাব্য?
  1. গীত কাব্য
  2. গাথাঁকাব্য
  3. উপাখ্যান
  4. চম্পুকাব্য
ব্যাখ্যা

 • নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাঁকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৩১৭.
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য কোনটি?
  1. আশাকানন
  2. বৃত্রসংহার
  3. চিত্তবিকাশ
  4. চিন্তাতরঙ্গিণী
ব্যাখ্যা

• 'বৃত্রসংহার' গ্রন্থ:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্যের নাম 'বৃত্রসংহার'।
- এ মহাকব্যের প্রকাশকাল ১৮৭৫-৭৭ খ্রিষ্টাব্দে। দুই খণ্ডে এটি প্রকাশিত হয়।
- পৌরাণিক কাহিনির নতুন ব্যাখ্যা, ঊনবিংশ শতাব্দীর জীবনজিজ্ঞাসা, অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার ইত্যাদির ব্যাপারে তিনি ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাধবধ কাব্যে'র অনুসারী।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই কাব্য ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।

--------------------
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তাঁকে বলা হয় মহাকাব্যের কবি। 'বাংলার মিল্টন' তাঁর উপাধি।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- বীরবাহু,
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ,
- চিন্তাতরঙ্গিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৩১৮.
'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. আব্দুল হাই
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইশাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
- উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমির 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। অবশ্য তখন এর নাম ছিল 'মধুর মাটি'।
- এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
- 'ফজল' এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

• অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- এরফান মাতব্বর,
- আরশেদ মোল্লা,
- জঙ্গুরুল্লা,
- জরিনা,
- রূপজান ইত্যাদি।

• আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালে শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।

• তার অন্যান্য সাহ্যিতকর্ম:
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩১৯.
‘গাহি তাহাদের গান, ধরনীর হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান’। পঙক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কবিতার অংশ?
  1. নারী
  2. জীবন-বন্দনা
  3. সাম্যবাদী
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা
গাহি তাহাদের গান-
ধরণীর হাতে দিলো যারা আনি ফসলের ফরমান।- পংক্তিটি 'কাজী নজরুল ইসলাম' এর 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের 'জীবন-বন্দনা' কবিতার অংশ। 
-  বাংলাদেশের রণসঙ্গীতটিও এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

'জীবন-বন্দনা' কবিতা
কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি তাহাদের গান –
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে
ত্রস্তা ধরণি নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফলে।
বন্য-শ্বাপদ-সংকুল জরা-মৃত্যু-ভীষণা ধরা
যাদের শাসনে হল সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা।
যারা বর্বর হেথা বাঁধে ঘর পরম অকুতোভয়ে
বনের ব্যাঘ্র মরুর সিংহ বিবরের ফণী লয়ে।
এল দুর্জয় গতিবেগ সম যারা যাযাবর-শিশু
তারাই গাহিল নব প্রেমগান ধরণি-মেরির জিশু 
যাহাদের চলা লেগে
উল্কার মতো ঘুরিছে ধরণি শূন্যে অমিত বেগে !

কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নিবীণা,
- মরুভাস্কর,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- দোলনচাঁপা,
- সন্ধ্যা,
- চক্রবাক,
- চন্দ্রবিন্দু,
- ছায়ানট,
- বিষের বাঁশি,
- সর্বহারা,
- পুবের হাওয়া,
- সাম্যবাদী,
- ঝিঙ্গে-ফুল,
- ফনিমনসা,
- প্রলয়-শিখা,
- নতুন চাঁদ (শেষ কাব্য)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩২০.
নিচের কোনটি আবুল কামাল শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা?
  1. ক) দৈনিক নবযুগ
  2. খ) নয়া সড়ক
  3. গ) দৈনিক আজাদ
  4. ঘ) সমকাল
ব্যাখ্যা
'দৈনিক আজাদ' আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা ।
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা সমূহ-
-  ১৯২৩-এ সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দৈনিক মোহাম্মদী পত্রিকায়।
- সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।
- দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- দৈনিক নবযুগ (১৯২০) পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমেদ যুগ্মভাবে পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- ভারত ভাগের পর স্বাধীন পূর্ব বাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্য পত্রিকা ছিল- 'নয়া সড়ক'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩২১.
'পৃথক পালঙ্ক' কাব্যের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল হুসেন
  2. খ) ইব্রাহিম খাঁ
  3. গ) আবুল হাসান
  4. ঘ) আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান বাংলাদেশের একজন আধুনিক কবি। পেশায় তিনি সাংবাদিক ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ- কবিতা- রাজা যায় রাজা আসে, যে তুমি হরণ করো, পৃথক পালঙ্ক। তাঁর রচিত কাব্যনাট্য- ওরা কয়েকজন।
৯,৩২২.
'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও' - পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. শামসুর রাহমান 
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
ব্যাখ্যা

• 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা। 

"শেষের কবিতা" উপন্যাস:

• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া অনুসারে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "শেষের কবিতা" একটি গীতিধর্মী উপন্যাস। তবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

• "শেষের কবিতা" উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমণ্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠস্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে 'শেষের কবিতা' যথেষ্ট উৎকর্ষ লাভ করেছে।

• কোনো পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে। এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ।

• অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে।
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।

উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও-এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৩২৩.
কোন তথ্যটি ভুল?
  1. ক) ভালো মানুষের জগৎ- গল্প
  2. খ) বাবুলের বেড়ে ওঠা- ছোটদের উপন্যাস
  3. গ) অন্বেষা- নাটক
  4. ঘ) অ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব- অনুবাদ
ব্যাখ্যা
‘অন্বেষা’ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা বিষয়ক গ্রন্থ। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৩২৪.
আঠারো বছরের বৈশিষ্ট্য নয়-
  1. ক) ভংকর
  2. খ) ভীরু
  3. গ) নির্ভীর
  4. ঘ) দুর্বার
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি 'ছাড়পত্র' (১৯৪৭) কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- এই কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

এই কবিতার দুটি লাইন-
''এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়
পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে,''

তাই বলা যায় আঠারো বছরের বৈশিষ্ট্য নয় 'ভীরু'
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য - যৌবনের উদ্দীপনা, সাহসিকতা, দুর্বার গতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৩২৫.
'সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়' -এর রচিত গ্রন্থ নিচের কোনটি?
  1. ক) পূর্ব-পশ্চিম
  2. খ) পদ্মা নদীর মাঝি
  3. গ) পথের পাঁচালী
  4. ঘ) অপরাজিত
ব্যাখ্যা
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক উপন্যাস:
- পূর্ব-পশ্চিম
- সেই সময়
- প্রথম আলো
- একা এবং কয়েকজন

উৎস: প্রথম আলো, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
৯,৩২৬.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ পর্বে রচিত গ্রন্থগুলোতে কোন সাহিত্যের প্রভাব রয়েছে?
  1. ফারসি সাহিত্যের 
  2. ইংরেজি সাহিত্যের
  3. হিন্দি সাহিত্যের
  4.  সংস্কৃত সাহিত্যের 
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ পর্বে রচিত গ্রন্থগুলো মূলত বাংলা গদ্যের প্রাথমিক বিকাশে সহায়ক ছিল। এ সময়ের লেখকরা অনুবাদ ও মৌল রচনায় ব্যাপকভাবে সংস্কৃত সাহিত্যকে অনুসরণ করেছেন। ফলে ভাষা, শব্দচয়ন ও ভাবগঠনে সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ (১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত) পর্বে (বিশেষত ১৮০১-১৮১৫) বাংলা গদ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে, কিন্তু এই সময়ে রচিত বাংলা গ্রন্থগুলোর অধিকাংশই সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ বা সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাবে রচিত হয়েছে। উইলিয়াম কেরির নেতৃত্বে দেশীয় পণ্ডিতরা (যেমন, রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, গোলকনাথ শর্মা) এই কাজ করেন। এই গ্রন্থগুলো কলেজের ইংরেজ কর্মচারীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক হিসেবে রচিত হয়েছে, যাতে সংস্কৃতের কৃত্রিম গাম্ভীর্য এবং সাধু ভাষার প্রাধান্য লক্ষণীয়।

উদাহরণস্বরূপ:
• হিতোপদেশ (গোলকনাথ শর্মা, ১৮০২; মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০৮): সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ।
• বত্রিশ সিংহাসন (মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০২): সংস্কৃত কথাসাহিত্যের অনুবাদ।
• রাজাবলি (মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০৮): সংস্কৃত ইতিহাসের অনুবাদ।
• রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (রামরাম বসু, ১৮০১): এটি বাংলা গদ্যের প্রথম মুদ্রিত জীবনচরিত্র, কিন্তু সংস্কৃত শৈলীতে রচিত এবং ঐতিহাসিক উৎসের ভিত্তিতে (মৌলিক বলে বিবেচিত হলেও, সংস্কৃত প্রভাব প্রধান)।

যদিও কিছু গ্রন্থে পণ্ডিতদের নিজস্ব শৈলী প্রকাশ পেয়েছে (যেমন, কথোপকথন বা লিপিমালা), তবুও অধিকাংশই অনুবাদভিত্তিক। এই পর্ব বাংলা গদ্যকে সংস্কৃতীকরণ করেছে, যা পরবর্তীকালে চলিত ভাষার প্রসারে সাহায্য করেছে।

------------------------
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
বাংলাদেশে কর্মরত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের জন্য তৎকালীন ইংরেজশাসিত ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ৪ঠা মে কলেজের প্রতিষ্ঠা-দিবস হলেও ২৪শে নভেম্বর থেকে কলেজের কাজ শুরু হয়েছিল। ওয়েলেসলি অনুভব করেছিলেন যে কোম্পানির দায়িত্বপূর্ণ কাজের ভার নিয়ে বিলাত থেকে যারা আসে, তারা অধিকাংশ চৌদ্দ থেকে আঠার বৎসরের নাবালক, স্বদেশে তাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় নি, এ দেশেও তার কোন ব্যবস্থা ছিল না। দেশীয় ভাষা শিক্ষা দিয়ে এই সিবিলিয়ানদের উপযুক্ত করে তোলার জন্যই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা। এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁর অধীনস্ত দু জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁদের প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন:
• কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১), লিপিমালা (১৮০২)।
গোলোকনাথ শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), হিতোপদেশ (১৮০৮), রাজাবলি (১৮০৮), প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
• চণ্ডীচরণ মুর্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৩২৭.
সাত সাগরের মাঝি ফররুখ আহমেদ রচিত- 
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা

 সাত সাগরের মাঝি:
- ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট উনিশটি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলি ১৯৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।

• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা,
- হরেফের ছড়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৩২৮.
রামরাম বসু রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বেদান্তসার
  2. খ) বেদান্তগ্রন্থ
  3. গ) ইতিহাসমালা
  4. ঘ) লিপিমালা
ব্যাখ্যা
কেরী সাহেবের মুন্শি‌ হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- তিনি ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক। 
- তাঁর রচিত প্রথম গ্রন্থ - রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত।
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- রামরাম বসুর আরো একটি গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা (১৮০২)।

- উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ- কথোপকথন ও ইতিহাসমালা।
- রাজা রামমোহন রায় রচিত গ্রন্থ- বেদান্তসার, বেদান্তগ্রন্থ। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩২৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'তাসের দেশ' নৃত্যনাট্যটি কাকে উৎসর্গ করেছিলেন? 
  1. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
  2. মহাত্মা গান্ধী
  3. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তাসের দেশ' নৃত্যনাট্যটি নেতাজিকে উৎসর্গ করা হয়েছিল।
-------------------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক তথা দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হচ্ছেন ভারতবর্ষের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র । 
- তিনি একাধারে একজন সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, গায়ক, অভিনেতা, শিক্ষাবীদ, চিত্রশিল্পী। 
- কবির পরিবার ছিল- পিরালি ব্রাহ্মণ বংশের। 
- মাত্র আট বছর বয়স থেকেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশ্বকবি উপাধিতে অবিহিত করা হয়। 

- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
• ‘বিসর্জন’- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যনাটক, যেখানে ধর্মীয় কুসংস্কার ও মানবতার সংঘাত ফুটে উঠেছে।
• ডাকঘর - মানবজীবনের মুক্তির প্রতীকী নাটক।
• রক্তকরবী - প্রতীকী কাব্যনাটক।
• চিত্রাঙ্গদা - এটি রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য।

• তাঁর অন্যান্য নৃত্যনাট্যগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘চণ্ডালিকা’, ‘শ্যামা’ ও ‘বসন্তগীতি’।
-------------------------------
•‘তাসের দেশ:
- ‘তাসের দেশ’’ একটি রূপকধর্মী ও ব্যঙ্গাত্মক নাটক, যা ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতের পরাধীন অবস্থা, মানুষের যান্ত্রিক জীবনযাপন এবং অন্ধ নিয়মকানুনের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে।
- নাটকে তাস খেলা জীবনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে মানুষ নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকে।
- কৌতুক ও ব্যঙ্গের আড়ালে এই নাটক মুক্তি, স্বাধীনতা এবং মানবিক জাগরণের বার্তা পৌঁছে দেয়।
---------------------------------------------
তাসের দেশ ও নেতাজি:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর এই নৃত্যনাট্যটি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেছিলেন। 
- উৎসর্গপত্রে তিনি সুভাষচন্দ্রকে ‘কল্যাণীয়’ সম্বোধনে স্মরণ করে জানান, স্বদেশের চিত্তে নতুন প্রাণ সঞ্চারের যে মহান ব্রত তিনি গ্রহণ করেছেন, তারই প্রতি সম্মান জানিয়ে এই রচনাটি উৎসর্গ করা হলো।
- তিনি সুভাষচন্দ্রকে “দেশনায়ক” আখ্যা দিয়ে বলেন, একজন বাঙালি কবি হিসেবে তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাঁকে জাতির নেতার আসনে গ্রহণ করছেন।
- নাটকের ভাব ও ভাষায় যেন নেতাজির আফগানিস্তান হয়ে রাশিয়ার পথে যাত্রার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
----------------------------------
উল্লেখ্য, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'বসন্ত' গীতিনাট্যটি- কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছিলেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৩০.
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- সাতনরী হার, কখনো রং কখনো সুর, কমলের চোখ, বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা, নির্বাচিত কবিতা, আমার সকল কথা, মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৩৩১.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক- 
  1. বিষাদ-সিন্ধু
  2. নীলদর্পণ
  3. বসন্তকুমারী
  4. জমীদার দর্পণ
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• 'বসন্তকুমারী' নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক অন্যতম।
- এ্টি মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র' পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের - মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী নাটক রচিত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু, 

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী, 
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' মীর মশাররফ হোসেন রচিত উপন্যাস।
- 'কবর'- মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৩২.
‘ঠকচাচা’ চরিত্রটির স্রষ্টা কে
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা উপন্যাস রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে যে কথ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিত।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।
- 'ঠকচাচা' চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি, ও প্রাণময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- উপন্যাসটি ‘The Spoiled Child’ নামে ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে।

প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- কৃষিপাঠ,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত এবং
- বামাতোষিণী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৩৩৩.
বাংলাভাষায় প্রথম আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বিষয়ে নাটক লেখেন-
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) মীর মোশাররফ হোসেন
  3. গ) দীনবন্ধু মিত্র
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৬০ সালে রচনা করেন নীল দর্পণ নাটক। এটি বাংলা ভাষার অন্যতম প্রাথমিক আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক নাটক।
- মীর মশাররফ হোসেন ১৮৭২-৭৩ সালে রচনা করেন জমিদার দর্পণ নাটক, এই নাটক রচনায় দীন বন্ধু মিত্রের নীল দর্পণ নাটকের প্রভাব রয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মুনির চৌধুরী উক্ত দুজনের আরো পরে নাটক রচনা করেন।

তাই উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় দীন বন্ধু মিত্রই প্রথম বাংলা ভাষায় আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বিষয়ে নাটক লেখেন।

৯,৩৩৪.
"তোমার লেখায় রস আছে, স্বকীয়তা আছে , এবং তাকিয়ে দেখার আনন্দ আছে" জীবনানন্দ দাশের প্রতি এই মন্তব্য করেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশে কবিতা পড়ে চিঠিতে লিখেছিলেন, "তোমার কবিতাগুলি পড়ে খুশি হয়েছি। তোমার লেখায় রস আছে, স্বকীয়তা আছে , এবং তাকিয়ে দেখার আনন্দ আছে।" 

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বাংলা রবীন্দ্রবলয় ছিন্নকারী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- জীবনানন্দ দাশকে বলা হয় 
- ধূসরতার কবি;  
- তিমির হননের কবি;  
- নির্জনতার কবি; 
- রূপসী বাংলার কবি;  
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক।
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৩৫.
'সবুজ মাঠ পেরিয়ে' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শেখ রেহেনা
  2. খ) শেখ কামাল
  3. গ) সিমির হোসেন রিমি
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি গ্রন্থের রচয়িতা।
- তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:-
১। ‘‘শেখ মুজিব আমার পিতা’’,
২। ওরা টোকাই কেন?,
৩। বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’’,
৪। দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’’,
৫। ‘‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’’,
৬। আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’’,
৭। ‘‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’’,
৮। ‘‘সাদা কালো’’,
৯। ‘‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’’,
১০।মুজিব বাংলার, বাংলা মুজিবের,
১১। Miles to Go, The Quest for Vision-2021 (two volumes) ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
৯,৩৩৬.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসে কোন সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ধীবর
  2. কাহার
  3. ডোম
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসে 'ডোম' সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

• 'কবি' উপন্যাস:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে ।
- এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের  ''জীবন এতো ছোট ক্যানে? '' - সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 
======================
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম। 
- ১৯৭০ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সভাপতি নির্বাচিত হন।
- প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। 
- তারাশঙ্কর প্রায় দুশ গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি 
- ধাত্রীদেবতা 
- কালিন্দী
- গণদেবতা 
- পঞ্চগ্রাম 
- কবি 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা 
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি।
• গল্পগ্রন্থ:
-  বেদে
- পটুয়া
- মালাকার
- লাঠিয়াল
- চৌকিদার
- বাগদী
- বোষ্টম
- ডোম ইত্যাদি।
• ছোটগল্প:
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা। 

- উল্লেখ্য, 'কবি' নামে হুমায়ুন আহমেদের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস রয়েছে।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৩৭.
গীতিকবিতা রচনার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগুরু বলা হয় কাকে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. গোবিন্দদাস কবিরাজ
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদামঙ্গল। 
---------------------
• 'ভোরের পাখি' বলার কারণ:
- বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করেন।
- এক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম।
- তাই তাকে 'ভোরের পাখি' বলা হয়েছে।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৩৮.
‘এ আমার ছোট ছেলে, যে নেই এখন,
পাথরের টুকরোর মতন
ডুবে গেছে আমাদের গ্রামের পুকুরে
বছর - তিনেক আগে কাক - ডাকা গ্রীষ্মের দুপুরে’। ___ পঙ্ক্তিগুলো কোন কবির রচনা?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. শামসুর রাহমান
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
‘এ আমার ছোট ছেলে, যে নেই এখন,
পাথরের টুকরোর মতন
ডুবে গেছে আমাদের গ্রামের পুকুরে
বছর - তিনেক আগে কাক - ডাকা গ্রীষ্মের দুপুরে’। ___ পঙ্ক্তিগুলো শামসুর রাহমানের 'একটি ফটোগ্রাফ' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে

শামসুর রাহমান: 

- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৩৯.
‘সারা দুপুর’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. আল মাহমুদ
  3. আবুল হোসেন
  4. ইমদাদুল হক মিলন 
ব্যাখ্যা

‘সারা দুপুর’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- আহসান হাবীব। 
-------------------------------- 
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব (১৯১৭–১৯৮৫) ছিলেন আধুনিক বাংলা কাব্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক।
- ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় আসেন এবং আজাদ, মোহাম্মদী, কৃষক ও ইত্তেহাদসহ নানা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ফ্রাঙ্কলিন পাবলিকেশনসে প্রডাকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন।
- পরে দৈনিক পাকিস্তানে যোগ দেন এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি অরণ্য নীলিমা  ও রাণীখালের সাঁকো নামে দুটি উপন্যাস রচনা করেছেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশ); 
- ছায়াহরিণ;
- সারা দুপুর;
- আশায় বসতি;
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো;
- দুহাতে দু আদিম পাথর;
- প্রেমের কবিতা; ও
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

• শিশুদের জন্য তাঁর জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে আছে:
- ছোটোদের পাকিস্তান; 
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর ও
- ছুটির দিন দুপুরে।
---------------------------- 
• 'সারা দুপুর' কাব্য নিয়ে কিছু তথ্য:
- 'সারা দুপুর' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে গণ্য হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে ছাব্বিশটি কবিতা রয়েছে।  
- কবিতাগুলোতে নগর জীবনের ক্লান্তি, মধ্যবিত্ত জীবনের চাপ ও মানুষের গভীর অনুভূতি সুচারুভাবে ফুটে উঠেছে।
- এই কাব্যগ্রন্থের জন্য আহসান হাবীবকে আদমজী সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৪০.
'কাব্য জগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।'- উক্তিটি কার?
  1. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োেগ ঘটান।
- বাংলা কাব্যের সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

তাঁর বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- 'ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।'
- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।'
- 'বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে।'
- 'কাব্য জগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।'
- 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৪১.
'নলিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের নায়িকা?
  1. কবি কাহিনী
  2. কড়ি কোমল
  3. আকাশ প্রদীপ
  4. কথা কাহিনী
ব্যাখ্যা
কবি কাহিনী:
- 'কবি কাহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র, ১২৮৪ বঙ্গাব্দ (১৮৭৮ খ্রি.) সংখ্যায় এর কবিতাগুলি ছাপা হয়।
- ১৮৭৮ সালেই কবিতাগুলি নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হলে গ্রন্থকার হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচয় আরম্ভ হয়।
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা 'নলিনী'।
- নলিনীর মৃত্যুর পর নায়ক কবির বিশ্বপ্রেমের উপলব্ধিতে কাব্যের পরিসমাপ্তি।
- মনে করা হয়, এ কাব্যের নায়ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।
- কবিতার কাহিনিতে নাটকীয়তা নেই। অমিত্রাক্ষর ছন্দের রচনা। তবে বিন্যাস পয়ার ও ত্রিপদী উভয় ধরনের।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৪২.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রধান চরিত্রের নাম কী?
  1. সোজন
  2. মোহন
  3. রূপাই
  4. সাজন
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নক্সী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford.  
- ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী।
------------------ 
জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালে ১ লা জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- তাঁর ছাত্রাবস্থায় 'কবর' কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।
- ‘কবর’ কবিতাটি ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- তাঁর বিখ্যাত গাথা কাব্যগুলো হলো: নক্সীকাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।
- 'সুচয়িনী' জসীমউদ্‌দীনের নির্বাচিত কবিতার সংকলন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 
- জসীমউদ্দীন 'জারীগান' ও 'মুর্শীদি গান' নামক গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন।
- তিনি ১৯৭৬ সালে ঢাকায় মারা যান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী:
- চলে মুসাফির।
- হলদে পরীর দেশ।
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৪৩.
'ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকুমার রায়
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন-  নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৪৪.
'অনল-প্রবাহ' রচনা করেন-
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. মোজাম্মেল হক
  3. এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী
ব্যাখ্যা
'অনল প্রবাহ' কাব্য:
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
• 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।

• 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
• ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়। প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
• প্রথম সংস্করণে কবিতাগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ-ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।

• বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
• সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনী:
- তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৪৫.
'নীল অপরাজিতা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• ‘নীল অপরাজিতা' হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস।
- এই কাহিনীর সঙ্গে বাস্তব জীবনের কোন মিল নেই।
- নীল অপরাজিতার মূল চরিত্রে আছেন-একজন ঔপন্যাসিক।
---------------------- 
• হুমায়ূন আহমেদ: 
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। 
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান। 
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন। 
- 'নন্দিত নরকে' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- আশির দশকে বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটক ও ধারাবাহিক নাটকের ইতিহাসে হুমায়ূন আহমেদ আলোড়ন সৃষ্টি করেন।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ, 
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৪৬.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রায়নন্দিনী
  2. উদ্বোধ
  3. উচ্ছ্বাস
  4. অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পেশায় ছিলেন একজন ভেষজ চিকিৎসক।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস:
- তারা-বাঈ,
- রায়নন্দিনী,
- ফিরোজা বেগম ইত্যাদি।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধ,
- স্পেনবিজয় কাব্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৪৭.
পল্লীকবি জসিমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বেদের মেয়ে
  2. খ) পল্লীবধু
  3. গ) মাটির কান্না
  4. ঘ) মধূমালা
ব্যাখ্যা
কবি জসিমউদ্‌দীনের কাব্যগ্রন্থ - বালুচর, রাখালী, ধানক্ষেত, রূপবতী, মাটির কান্না, সুচয়নী।
নাট্যগ্রন্থ - পদ্মাপাড়, বেদের মেয়ে, মধূমালা, পল্লীবধূ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৩৪৮.
'হৃৎকলমের টানে' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'হৃৎকলমের টানে' প্রবন্ধ গ্রন্থের রচয়িতা- সৈয়দ শামসুল হক

• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৪৯.
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুতে কোনটি রচনা করেন?
  1. ক) জঙ্গম
  2. খ) তন্বী 
  3. গ) সে ও আমি
  4. ঘ) লী
ব্যাখ্যা
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুতে শোকোচ্ছ্বাসমূলক উপন্যাস লী রচনা করেন। 


বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে।
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন।
- সম্পাদনা করেন বিকাশ (১৯১৫) নামে হাতে-লেখা একটি সাহিত্যপত্রিকা।
- তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় নিসর্গ চেতনা, প্রেম ও আত্ম-উপলব্ধি।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কাব্য:
- বনফুলের কবিতা 
- অঙ্গারপর্ণী 
- চতুর্দশী 
- আহবনীয় 
- করকমলেষু 
- বনফুলের ব্যঙ্গ কবিতা 
- নতুন বাঁকে ইত্যাদি।
উপন্যাস:
- তৃণখন্ড
- জঙ্গম (তিন খন্ড)
- অগ্নি 
- ডানা (তিনখন্ড)
- স্থাবর 
- অগ্নীশ্বর 
- হাটেবাজারে 
- ত্রিবর্ণ 
- ভুবনসোম 
- প্রচ্ছন্ন মহিমা 
- উদয় অস্ত ইত্যাদি। 
গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প 
- বিন্দুবিসর্গ 
- অদৃশ্যলোকে
- তন্বী  
- অনুগামিনী
- দূরবীণ 
- মণিহারী 
- বহুবর্ণ 
- বনফুলের নতুন গল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৫০.
সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. সত্যপীর
  2. কলমগীর
  3. কবিরত্ন
  4. নবকুমার
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।

- সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম- প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

অন্যদিকে, 
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন। যেমন- নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৫১.
'গীতাঞ্জলি’ কতটি গানের সংকলন?
  1. ১৫৭
  2. ১২০ 
  3. ১০০
  4. ১১৩
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ‘গীতাঞ্জলি’ ১৫৭ টি গানের সংকলন। 

 গীতাঞ্জলি:
- গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭ টি গানের সংকলন।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings প্রকাশিত হয়।
- Song Offerings - গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন আইরিশ কবি ও নাট্যকার ইয়েটস্‌।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- ইংরেজি অনুবাদ পরবর্তীতে সম্পাদনা করেন- ডব্লিউ বি. ইয়েটস্‌।
- ১৯১৩ সালে Song Offerings গ্রন্থের জন্য তিনি প্রথম এশীয় হিসাবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৫২.
'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প কোনটি?
  1. ঘুমের ঘোরে
  2. সাঁজের তারা
  3. রাক্ষুসী
  4. জিনের বাদশা
ব্যাখ্যা
শিউলিমালা:
- 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ।
- পদ্ম-গোখরো, জিনের বাদশা, অগ্নি-গিরি, শিউলিমালা গল্পের সমন্বয়ে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৫৩.
বাংলা ভাষায় প্রথম উপন্যাস রচনা করেন কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. রামরাম বসু
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস। এবং এটি প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।
- উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৫৪.
'মানবতন্ত্র' আবুল ফজল এর রচিত একটি-
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
- 'মানবতন্ত্র' আবুল ফজল এর রচিত একটি- প্রবন্ধগ্রন্থ।

• আবুল ফজল:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক।,
- আবুল ফজল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।
- দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিচিত্র কথা;
- সাহিত্য সংস্কৃতি সাধনা;
- সাহিত্য সংস্কৃতি জীবন;
- সমকালীন চিন্তা;
- মানবতন্ত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৫৫.
'হিতপ্রভাকর' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) অন্নদাশংকর রায়
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- ছোটবেলা থেকেই মুখে মুখে কবিতা রচনা করতেন এবং কবিয়ালদের গান বেঁধে দিতেন।
- সমসাময়িক ঘটনাকে ব্যঙ্গ করে তিনি অসংখ্য খন্ডকবিতা সংবাদ প্রভাকরে প্রকাশ করেন।
- উনিশ শতকের প্রথম ভাগের এ কবি স্বদেশমূলক যেসব কবিতা রচনা করেছেন তার জন্যও তিনি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি রামপ্রসাদ সেন রচিত কালীকীর্তন (১৮৩৩) ও প্রবোধ প্রভাকর (১৮৫৮) সম্পাদনা করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রচিত হিতপ্রভাকর (১৮৬১) ও বোধেন্দুবিকাশ (১৮৬৩) প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৫৬.
‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. ফজল শাহাবুদ্দীন
  2. শঙ্কর
  3. আনিস চৌধুরী
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'হাজার বছর ধরে':
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য। 
- টুনি' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসে।
- উপন্যাসের নায়িকা টুনি একমাত্র জীবন্ত চরিত্র।
- আর সবাই যেন মৃত ও বিবর্ণ। 

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে। 
 
তাঁর উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস:
১) সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৫৭.
শওকত আলীর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-
  1. ক) দলিল
  2. খ) যেতে চাই
  3. গ) যাত্রা
  4. ঘ) ওয়ারিশ
ব্যাখ্যা

- শওকত আলী ১৯৩৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'যাত্রা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- উত্তরের খেপ
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৩৫৮.
কোনটি কবি ভারতচন্দ্রের উপাধি?
  1. ক) রায় গুণাকর
  2. খ) কবিকন্ঠহার
  3. গ) কবিকঙ্কন
  4. ঘ) কবিররঞ্জন
ব্যাখ্যা

বাংলা মঙ্গলকাব্য ধারার ও সর্বোপরি মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি ভারতচন্দ্র রায় (১৭১২-১৭৬০)।
তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য রচনা (১৭৫২) করেন।
এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাকে 'গুণাকর' (সকল গুনের আধার) উপাধি দেন।‌
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৩৫৯.
'ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই, ছোট সে তরী/ আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।' এটি কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরঃ সোনার তরী
  2. খ) কবি জসীমদ্দীনঃ কবর
  3. গ) কবি নজরুল ইসলামঃ সর্বহারা
  4. ঘ) কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরঃ হিং টিং ছট
  5. ঙ) কবি নজরুল ইসলামঃ বিদ্রোহী
ব্যাখ্যা

“ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই-- ছোটো সে তরী
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।'' - এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতার লাইন।
- 'সোনার তরী'(১৮৯৪) রবীন্দ্রনাথের রচিত কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- এই কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- এই কবিতাটিতে কবির জীবনদর্শন অপূর্ব মহিমায় প্রকাশিত হয়েছে।

সোর্সঃ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৩৬০.
কবি নজরুলের 'দারিদ্র্য' কবিতাটি কোন ছন্দে লেখা?
  1. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দে
  3. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  4. ছড়ার ছন্দে
ব্যাখ্যা
'দারিদ্র্য' কবিতা: 
- 'দারিদ্র্য' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সিন্ধু হিন্দোল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।

• এই কবিতার কয়েকটি লাইন: 
"হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার!"

------------------
• 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থ:

- সিন্ধু হিন্দোল কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটি “বাহার ও নাহার”-কে (হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী ও শামসুন নাহার) উৎসর্গ করেন।
- 'দারিদ্র্য' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের সিন্ধু হিন্দোল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
গোপন প্রিয়া; অনামিকা; বিদায়-স্মরণে; পথের স্মৃতি; উন্মনা; দারিদ্র্য; বাসন্তী; ফাল্গুনী; বধূ-বরণ; রাখী-বন্ধন; চাঁদনী রাতে; মাধবী-প্রলাপ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৬১.
উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত করা হয় কোন লেখক কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. ইব্রাহীম খাঁ
  4. এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।

--------------------
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৬২.
”ময়নামতির চর” কাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. ক) যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  2. খ) হুমায়ূন কবীর
  3. গ) রওশন ইজদানী
  4. ঘ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
- ”ময়নামতির চর” কাব্যটি রচনা করেন বন্দে আলি মিয়া
• বন্দে আলী মিয়া:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- বন্দে আলী মিয়া শিক্ষকতা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি পত্রপত্রিকায় চিত্রকর ও ব্লক কোম্পানির ডিজাইনার হিসেবেও কাজ করেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট পুরস্কার এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক লাভ করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্য:
- ময়নামতির চর,
- অনুরাগ ইত্যাদি।
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৬৩.
আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি ছিলেন-
  1. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা 'বঙ্গসুন্দরী'।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৬৪.
কোনটি ব্যাতিক্রম?
  1. ক) অলৌকিক ইস্টিমার
  2. খ) সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
  3. গ) আততায়ীদের সঙ্গে কথোপকথন
  4. ঘ) কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
ব্যাখ্যা
আততায়ীদের সঙ্গে কথোপকথন ছাড়া বাকিগুলো হুমায়ূন আজাদের কবিতা।
৯,৩৬৫.
‘মধুমালা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত - 
  1. কাব্যনাট্য
  2. গীতিনাট্য
  3. নাটিকা
  4. নৃত্যনাট্য
ব্যাখ্যা

 • ‘মধুমালা’ গীতিনাট্য:
- মধুমালা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য।
- রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে রচিত নাটকটি ১৯৬০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- মধুমালা,
- মদনকুমার,
- কাঞ্চনমালা,

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৩৬৬.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস কোনটি? 
  1. ভাঙার গান
  2. সর্বহারা
  3. কুহেলিকা
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস- কুহেলিকা। 

কাজী নজরুল ইসলাম: 
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। 
- নজরুল যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্য তাঁকে উৎসর্গ করেন (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)। এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নি-বীণা, 
- বিষের বাঁশি, 
- ভাঙার গান, 
- সাম্যবাদী, 
- সর্বহারা, 
- ফণি-মনসা, 
-জিঞ্জির, 
- সন্ধ্যা, 
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি। 

উপন্যাস: 
- বাঁধন-হারা, 
- মৃত্যু-ক্ষুধা, 
- কুহেলিকা। 

গল্পগ্রন্থ: 
- ব্যথার দান, 
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা। 

সঙ্গীত বিষয়ক গ্রন্থ: 
- চোখের চাতক, 
- নজরুল গীতিকা, 
- সুর সাকী, 
- বনগীতি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৯,৩৬৭.
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
⇒ 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি: 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

===========
⇒ সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৬৮.
'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসটি রচনা করেন -
  1. ক) রশীদ করিম
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) সানাউল হক
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
- 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসটি রচনা করেন - রশীদ করিম

• 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাস:
- রশীদ করিম উপন্যাসটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটি আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য কিছু চরিত্র :শাকের, সেলিনা, অণিমা, শেখর।

• রশীদ করীম রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- আমার যত গ্লানি,
- প্রসন্ন পাষাণ,
- মায়ের কাছে যাচ্ছি,
- লান্সবক্স,
- সোনার পাথর বাটি ইত্যাদি।

• রশীদ করীম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ:
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহনে তোমার মুর্তিখানি।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৬৯.
উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোকের স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদপান ও পতিতাবৃত্তিকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে-
  1. জমীদার দর্পণ
  2. বসন্তকুমারী
  3. এর উপায় কি
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা

• 'এর উপায় কি' প্রহসন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
- এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।

নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৭০.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম- এর বিদ্রোহীমূলক কাব্য?
  1. ক) দোলনচাঁপা
  2. খ) ছায়ানট
  3. গ) চক্রবাক
  4. ঘ) অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা
• 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
 
অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ।
৯,৩৭১.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত নাটক কোনটি?
  1. শকুন্ত উপাখ্যান
  2. প্রসন্ন শহর
  3. নবী কাহিনী
  4. মাটি আর অশ্রু
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর:
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর;
- তিমিরান্তিক;
- বৈরী বৃষ্টিতে;
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা;
- মহাকবি আলাউল।
- শকুন্ত উপাখ্যান;

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু;
- জয়ের পথে;
- নবী কাহিনী;
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস;
- সেন্ট লুইয়ের সেতু ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৭২.
কোনটি গোলাম মোস্তফা রচিত গদ্যগ্রন্থ?
  1. রক্তরাগ
  2. বুলবুলিস্তান
  3. ইসলাম ও কমিউনিজম
  4. বনি আদম
ব্যাখ্যা

গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

গোলাম মোস্তফা রচিত রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৩৭৩.
'রক্তকরবী' নাটকটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কোন পত্রিকায়?
  1. সাপ্তাহিক বাণী
  2. বঙ্গদর্শন
  3. প্রবাসী
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা
'রক্তকরবী' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক। এটি বাংলা ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিন সংখ্যা 'প্রবাসী'তে প্রকাশিত হয়।
- এর বিষয়বস্তু হচ্ছে যন্ত্রের সঙ্গে কৃষির সংঘাত, পুঁজিবাদী ধনতান্ত্রিক সভ্যতার সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের সংঘাতে ঘোষিত হয়েছে প্রেম ও প্রাণের জয়। আকর্ষণজীবী ও কর্ষণজীবীর মধ্যে দ্বন্দ্ব ।
- রবীন্দ্রনাথ ভূমিকায় লিখেছেন, 'যক্ষপুরের পুরুষের প্রবল শক্তি মাটির তলা থেকে সোনার সম্পদ ছিন্ন করে আনছে।

এই নাটকের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- নন্দিনী, রাজা, বিসু, সর্দার, অধ্যাপক, ফাগুলাল, চন্দ্রা, গোসাঁই ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৭৪.
'ইভা ও তপু' জহির রায়হানের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. আর কতদিন
  2. তৃষ্ণা
  3. বরফ গলা নদী
  4. শেষ বিকেলের মেয়ে
ব্যাখ্যা
• 'ইভা ও তপু' জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসের চরিত্র।

আর কতদিন:
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে বুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলনমুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখকের হৃদয়ে উদয় হয়েছিল। 
- শান্তি ও ভালোবাসার জন্য মানুষের চিরন্তন অন্বেষা উপন্যাসটির মূল উপজীব্য।
- আর উপন্যাসটির চরিত্র ইভা ও তপু শাশ্বত শান্তি ও ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তাঁর সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে 'নিগার পুরস্কার' লাভ করে।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি 'আদমজি সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- আরেক ফাল্গুন,
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৭৫.
‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. কুপালকুণ্ডলা
  2. কুমুদিনী
  3. নবকুমার
  4. কাপালিক
ব্যাখ্যা
• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের চরিত্র নয় 'কুমুদিনী'।
• 'কুমুদিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র।


♦ ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:

- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

-----------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৭৬.
'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি-
  1. অভিব্যক্তিবাদী নাটক 
  2. অ্যাবসার্ড নাটক 
  3. সমস্যামূলক নাটক
  4. সাংকেতিক নাটক
ব্যাখ্যা

সাংকেতিক নাটক:
সাংকেতিক নাটক হলো এমন এক ধরনের নাটক যেখানে বাস্তবতার আড়ালে গভীর দার্শনিক, সামাজিক বা মানবিক বিষয়কে প্রতীকী উপাদানের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়, যা দর্শকদের সরাসরি না বলে ইঙ্গিত বা সংকেতের মাধ্যমে অনুভব করতে বাধ্য করে।  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রাজা', 'ডাকঘর', 'রক্তকরবী' এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। 

---------------------
• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত। তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী। ১৩৩০ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী।
- মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নন্দিনী,
- রঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯,৩৭৭.
বাংলা গদ্য লেখার প্রচলন হয় কাদের হাতে ধরে?
  1. ক) বাঙালিদের
  2. খ) পুর্তগিজদের
  3. গ) ইংরেজদের
  4. ঘ) পুরোহিতদের
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
১৫৫৫ সালে কোচবিহারের রাজা কর্তৃক আসামের রাজাকে লেখা পত্রকে বাংলা গদ্যের আদি নিদর্শন হয়।
- পরবর্তীতে সতের শতকে দোম আন্তোনিও নামক একজন বাঙালি পাদ্রি ‘রোমান ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থে বাংলা গদ্যের নিদর্শন পাওয়া যায়।
- কিন্তু ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার পরে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ খোলা হয় এবং উইলিয়াম কেরির (ইংরেজ) নেতৃত্বে বাংলা গদ্যের প্রচলন হয়।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম
৯,৩৭৮.
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. আত্মকথা
  2. আমাদের শিক্ষা
  3. সনেট পঞ্চাশৎ
  4. নানাচর্চা
ব্যাখ্যা
• 'সনেট পঞ্চাশৎ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

⇒ প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৭৯.
মহাকবি কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নাটক অবলম্বনে 'শকুন্তলা' রচনা করেন -
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• প্রাচীন সংস্কৃত মহাকবি কালিদাস রচিত অভিজ্ঞান শকুন্তলা নাটক অবলম্বনে ১৮৫৪ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একটি আখ্যান কাহিনী লিখেন - তার নাম দেন শকুন্তলা।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৯,৩৮০.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. পঞ্চতন্ত্র 
  2. চাচা-কাহিনী
  3. ময়ূরকণ্ঠী 
  4. শবনম
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস: শবনম।
-----------------------------------------------
• শবনম:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর শবনম একটি প্রেমের উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি আফগানিস্তানে কর্মরত এক বাঙালি যুবক মজনুন ও আফগান রাজ পরিবারের মেয়ে শবনমের নিষিদ্ধ ও বেদনাদায়ক প্রেমকাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত।
- রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে তাঁদের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথে চলে যায়।
- উপন্যাসে আফগানিস্তানের তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাংস্কৃতিক চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এবং এতে ফার্সি ও উর্দু কবিতার প্রাচুর্য লক্ষ্য করা যায়।
-------------------------------------------
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন, যদিও পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ সিকন্দর আলী সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- যার মধ্যে উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী রয়েছে।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে:
• ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে;
- জলে-ডাঙায়।

 • উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য;
- শবনম।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র;
- ময়ূরকণ্ঠী।

• ছোটগল্প সংকলন:
- চাচা-কাহিনী;
- টুনি মেম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৮১.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বাংলা একাডেমি
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরন ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন।
- মোজাম্মেল হক 'লহরী' , 'মোসলেম ভারত' ও 'শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা'র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৮২.
'কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে। কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।'- পঙক্তিতে 'খুন' শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) লাশ
  2. খ) রক্ত
  3. গ) জীবন
  4. ঘ) ত্যাগ
ব্যাখ্যা
- 'কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে।
কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।' পঙক্তিটি নজরুলের 'নারী' কবিতা থেকে নেওয়া।
- পঙক্তিটিতে 'খুন' দ্বারা রক্ত বুঝানো হয়েছে।


• খুন (বিশেষণ):
- এটি একটি ফারসি/পারসি শব্দ।
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে খুন্‌।
- এর অর্থ হচ্ছে রক্ত, নিহত, মৃতপ্রায়, হত্যা, বধ, শোণিত।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯,৩৮৩.
ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৭৯৩ সালে 
  2. ১৮০০ সালে 
  3. ১৮০১ সালে
  4. ১৯০০ সালে 
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

​উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯,৩৮৪.
ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবিরূপে প্রতিষ্ঠার কাহিনি উল্লেখ রয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. নিকেতন
  2. আরোগ্য
  3. কালিন্দী
  4. কবি
ব্যাখ্যা

• 'কবি' উপন্যাস:
- 'কবি' একটি বহুল আলোচিত বাংলা উপন্যাস। এটির রচয়িতা বাংলাভাষার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- কাহিনির বিবেচনায় এটি একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবক কবিরূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরোগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৮৫.
কোনটি ঠিক?
  1. গোরা (নাট্যগ্রন্থ)
  2. বিদ্রোহী (কাব্যগ্রন্থ)
  3. পথের দাবী (উপন্যাস)
  4. কাত্তরের দিনগুলি (উপন্যাস)
ব্যাখ্যা
"পথের দাবী" উপন্যাস:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।

• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কারো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

• গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে 'পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

• আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।'- এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

• 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী' ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
- জাহানারা ইমাম রচিত 'একাত্তরের দিনগুলি' শীর্ষক দিনপঞ্জির আকারে রচিত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' একটি কবিতা। কবিতাটি ২২শে পৌষ ১৩২৮ (৬ জানুয়ারি, ১৯২২) 'সাপ্তাহিক বিজলী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- রবীনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস 'গোরা' (১৯১০)। উপন্যাসের নায়ক গোরা সিপাহী বিদ্রোহের সময় নিহত এক আইরিশ দম্পতির সন্তান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৮৬.
কোন লেখকের ছদ্মনাম "ত্রিবিক্রম বর্মণ"?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

অন্যদিকে,
• প্রেমেন্দ্র মিত্র সাহিত্য-সাধনার প্রথম পর্বে তিনি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৯,৩৮৭.
'অশনি সংকেত' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
'অশনি সংকেত' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি। এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৮৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক-
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৮৯.
শামসুর রাহমান রচিত কোন কবিতাটি মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর?
  1. ক) টানাপোড়েন
  2. খ) স্বাধীনতা তুমি
  3. গ) ভালোবাসা তুমি
  4. ঘ) আসাদের শার্ট
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধের কবিতার মধ্যে বহুল প্রচারিত দুটো কবিতা হচ্ছে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ এবং ‘স্বাধীনতা তুমি’। এছাড়াও কবির মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক আরেকটি বিখ্যাত কবিতা হচ্ছে ‘তুমি বলেছিলে’
‘তুমি বলেছিলে’ কবিতায় বর্বর হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে নিঃসংকোচে। নয়াবাজার, ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ, মন্দির, মানচিত্র, পুরনো দলিল ইত্যাদি ঘাতকের হাত থেকে রেহাই পায়নি। একে-একে তারা সব ধ্বংস করেছে। ঘাতকদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সবাই দিকবিদিক। বনপোড়া হরিণী যেমন বন থেকে পালায়, তেমনি নবজাতককে বুকে নিয়ে উদ্ভ্রান্ত জননী শহর ছেড়ে পালাচ্ছে।
উৎসঃ কালি ও কলম (মাসিক পত্রিকা)।
৯,৩৯০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস -
  1. এই সব দিনরাত্রি
  2. শ্যামল ছায়া
  3. নক্ষত্রের রাত
  4. ফেরা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা হুমায়ুন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস — 'শ্যামল ছায়া'।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে রচিত উপন্যাসটি ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তিতে এই উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

⇒ হুমায়ূন আহমেদ:
- জন্ম: ১৯৪৮ সালে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলায়। 
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে।'
- তাঁর উল্লেখযোগ্য ছায়াছবি: 'আগুনের পরশমণি','শ্রাবণ মেঘের দিন', 'দুই দুয়ারী'।
- লজিক ও এন্টি লজিক নিয়ে কাজ করা তাঁর দুটি চরিত্র: মিসির আলী ও হিমু। 
- তাঁর অন্যতম সায়েন্স ফিকশন 'তোমাদের জন্য ভালোবাসা'।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: মধ্যাহ্ন এবং বাদশাহ নামদার।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
• শ্যামল ছায়া,
• আগুনের পরশমণি,
• অনিল বাগচীর একদিন,
• জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এই সব দিনরাত্রি,
- আমার আছে জল,
- নক্ষত্রের রাত,
- ফেরা,
- বহুব্রীহি,
- গৌরীপুর জংশন,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- দুই দুয়ারী,
- কোথাও কেউ নেই,
- বৃষ্টি বিলাস,
- বাদশাহ নামদার,
- মেঘের ওপর বাড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৯১.
ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা 'বেদান্তগ্রন্থ' রচনা করেন কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. রামমোহন রায়
  3. রামরাম বসু
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
বেদান্তগ্রন্থ:
- 'বেদান্তগ্রন্থ' (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা।
- বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৯২.
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. ওঙ্কার
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা

»  রাইফেল রােটি আওরাত:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩) আনােয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম  উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে: ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়েই রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার। 
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়ার যায়।
-  সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে তিনি বাংলা একাডেমি ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল বদরদের একটি দল তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায় এবং মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাছে হত্যা করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়। 

» তার রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

 » গল্পগ্রন্থ: নিরুপায় হরিণী।

» তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৯৩.
“Uncle Tom's Cabin”-এর সাথে তুলনা করা হয় কোন নাটককে?
  1. ক) জমিদার দর্পণ
  2. খ) নীল দর্পণ
  3. গ) মানচিত্র
  4. ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র ১৮৬০ সালে ‘নীল দর্পণ’ নাটক রচনা করেন।
নাটকের বাস্তবতা, চরিত্রগুলোর স্বাভাবিকতা গুণের জন্য অনেকেই একে Uncle Tom’s Cabin এর সাথে তুলনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৩৯৪.
জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২৭ সালে
  3. ১৯২৯ সালে
  4. ১৯২৫ সালে
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজ জীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

• ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কিত আলোচনা:

- কবি জসীম উদ্‌দীন প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- তাঁর বিখ্যাত কবর কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৯৫.
'কবিকুল তিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রত্নপরীক্ষা
  2. খ) শকুন্তলা
  3. গ) ব্রজবিলাস
  4. ঘ) বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা
ব্যাখ্যা
'ব্রজবিলাস' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত মৌলিক গ্রন্থ।
- 'ব্রজবিলাস' (১৮৮৫) 'কবিকুল তিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে রচিত।
- নবদ্বীপের ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের বিধবাবিবাহ বিরোধী সংস্কৃত বক্তৃতাবলির উত্তর।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থসমূহ - 
- অতি অল্প হইল 
- আবার অতি অল্প হইল 
- ব্রজবিলাস 
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা 
- রত্নপরীক্ষা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৯৬.
‘প্রাণের বান্ধবরে বুড়ি হইলাম তাের কারণে’-গানটির গীতকার কে?
  1. ক) শাহ আবদুল করিম
  2. খ) গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার
  3. গ) কুদ্দুস বয়াতি
  4. ঘ) শেখ ওয়াহিদ
ব্যাখ্যা
'বুড়ি হইলাম তর কারণে', 'আমার মাটির গাছে লাউ ধইরাছে'_এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা গীতিকবি মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওয়াহিদুর রহমান।

ওয়াহিদের রচিত গানের সংখ্যা দেড় হাজারের অধিক।
তার গানের বিষয়বস্তু, পরমতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, প্রেমতত্ত্ব, গুরুতত্ত্ব, আঞ্চলিক গান, পল্লীগীতি, মুর্শিদি, ভাটিয়ালি, মারফতি, পদাবলি, কীর্তন। আঞ্চলিক গান রচনায় তিনি ছিলেন বিশেষ আগ্রহী। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত তার গানের সংখ্যা শতাধিক। ‘পরাণের বন্ধুরে/ বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ এবং ‘আমার মাটির গাছে লাউ ধরেছে/লাউটা বড় সোহাগী/লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী’ তার এ গান দুটি বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।


সুত্রঃ কালের কণ্ঠ এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা
৯,৩৯৭.
'সোহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. অতিথি
  2. ল্যাবরেটরি
  3. রবিবার
  4. শেষকথা
ব্যাখ্যা
'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে সোহিনী। বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৯৮.
'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. ফররুখ আহমদ
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
- এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৯৯.
মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা কোনটি?
  1. আঙুর
  2. স্বাক্ষর
  3. কবিতা
  4. স্বদেশ
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।

- ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযুক্ত হন।

- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।

- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা 'আঙুর' আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।

- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪০০.
'বহুভাষাবিদ পণ্ডিত' বলতে কার নাম প্রথমে মনে আসে?
  1. শেক্সপিয়র
  2. আলবার্টো মোরাভিয়া
  3. চেখভ
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

অন্যদিকে,
• উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ছিলেন একজন ইংরেজ নাট্যকার, কবি এবং অভিনেতা।
• আলবার্টো মোরাভিয়া ছিলেন একজন ইতালীয় সাংবাদিক, ছোট গল্প লেখক এবং ঔপন্যাসিক।
• আন্তন পাভলোভিচ চেখভ ছিলেন একজন রুশ চিকিৎসক, নাট্যকার ও ছোটগল্পকার। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।