বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৯১ / ১৭৪ · ৯,০০১৯,১০০ / ১৭,৪৩৭

৯,০০১.
'তিমির হননের কবি' কোন কবির উপাধি?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। 
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি। 
- রূপসী বাংলার কবি বলা জীবননান্দ দাশকে। 

তাঁর উপাধি সমূহ: 
- ধুসরতার কবি, 
- তিমির হননের কবি
- রূপসী বাংলার কবি, 
- নির্জনতার কবি। 

তাঁর রচিত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০০২.
"ভানুমতি-চিত্তবিলাস" - এর রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাচরণ শিকদার
  2. খ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. গ) যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) হরচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• হরচন্দ্র ঘোষ কয়েকটি অনুবাদমূলক নাটক লিখেছিলেন।
যেমন -
• ভানুমতি-চিত্তবিলাস - শেক্সপিয়রের "মার্চেন্ট অফ ভেনিস" অবলম্বনে।
• চারুমুখচিত্তহারা - রোমিও-জুলিয়েট এর গল্প অবলম্বনে।
তার আরো দুটি নাটক - কৌরব বিয়োগ ও রজতগিরিনন্দিনী।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
৯,০০৩.
"আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের পর।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. স্বরবিতান
  2. নিরুদ্দেশ যাত্রা
  3. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  4. প্রভাতসংগীত
ব্যাখ্যা

•'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রভাতসঙ্গীত কাব্যগ্রন্থটি ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
- এতে একুশটি কবিতা আছে।
- এ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কবিতা 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ'।

'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতাটির অংশ বিশেষ:

আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল  গুহার আঁধারে
প্রভাত-পাখির গান।
না জানি কেন রে  এতদিন পরে
জাগিয়া উঠিল প্রাণ।

উৎস: রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,০০৪.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত “Buddhist Mystic Songs” গ্রন্থে, চর্যাপদের কত জন কবির কথা বলা হয়েছে?
  1. ২১
  2. ২৩
  3. ২৪
  4. ২৬
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত - Buddhist Mystic Song গ্রন্থে ২৩ জন কবির কথা বলা হয়েছে।
আবার ড. সুকুমার সেনের ''বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস'' - গ্রন্থে ২৪ জন কবির নাম পাওয়া যায়।
তাই বলা হয় চর্যাপদের কবি সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪ জন।
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৯,০০৫.
'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তাকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- তিনি রবীন্দ্র কাব্য ধারার 'গীতিকবিতা' রচনা করতেন।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'।
- বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' সংকলনটি উৎসর্গ করেন।
- এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মায়া কাজল,
- শান্তি ও প্রার্থনা,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মৃত্তিকার ঘ্রাণ,
- মোর জাদুদের সমাধি পরে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৯,০০৬.
'ন্যাড়া' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন গল্পের চরিত্র?
  1. বিন্দুর ছেলে
  2. মেজদিদি
  3. বিলাসী
  4. মহেশ
ব্যাখ্যা
'বিলাসী' ছোটগল্প:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।
- বিলাসী গল্পের বিখ্যাত উক্তি - “টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়, অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল,
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৯,০০৭.
প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম কী?
  1. হুতোম প্যাঁচা
  2. বনফুল 
  3. টেকচাঁদ ঠাকুর
  4. ভোরের পাখি
ব্যাখ্যা

• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম হলো টেকচাঁদ ঠাকুর।  

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী ও ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
- তিনি বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ হিসেবে খ্যাত।
- সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব হলো 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।
- প্যারীচাঁদের উদ্যোগে অল্পশিক্ষিতা মহিলাদের জন্য বাংলা ভাষায় একটি মাসিক পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়, যার নাম 'মাসিক পত্রিকা' এবং প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল ১৬ আগস্ট ১৮৫৪।
- ১৯৭৭ সালে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

উল্লেখযোগ্য রচিত গ্রন্থসমূহ:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- গীতাঙ্কুর,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- অভেদী। 

অন্যদিকে, 
- হুতোম প্যাঁচা হলো কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম।  
- বনফুল হলো বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম।  
- 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে গীতি কাব্য-ধারার 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,০০৮.
'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।' উক্তিটি কার?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুর পর সিকান্দার আবু জাফরের সমকাল প্রকাশনী কতৃক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধগুলো নিয়ে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'সংস্কৃতি কথা'।
- ত্রিশটি প্রবন্ধ একত্রিত করে 'সংস্কৃতি কথা' শিরোনামে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ বের করে বাংলা একাডেমি ১৯৭০ সালে।

'সংস্কৃতির কথা' প্রবন্ধগ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি:
- 'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।',
- 'ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।'

সংস্কৃতি-কথা' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কিছু উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ হলো-
- মেরুদণ্ড,
- নবযুগ,
- আমাদের দৈন্য,
- মনুষ্যত্ব,
- জীবন ও বৃক্ষ,
- লাইব্রেরী,
- বর্ষাপঞ্জী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা 'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,০০৯.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1.  কবর
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. একুশের গল্প
  4. জীবন থেকে নেওয়া
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন,
- আসাদ,
- রসুল,
- সালমা।

------------------
• 'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

• 'একুশের গল্প' (জহির রায়হান):
- জহির রায়হানের অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম 'একুশের গল্প'। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পটি ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।
- গল্পের প্রধান চরিত্র তপু, রেণু ও রাহাত। এক উদ্দাম, প্রাণবন্ত তরুণ ভাষা শহিদ হয়; কিন্তু পুলিশ তাঁর লাশ গুম করে ফেলে। পরবর্তীতে তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে। এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি (২য় খণ্ড) থেকে নেওয়া হয়েছে।

• জীবন থেকে নেওয়া:
- 'জীবন থেকে নেওয়া' জহির রায়হান পরিচালিত একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র যা ১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল মুক্তি পায়।
- চলচ্চিত্রটি পারিবারিক আবহে নির্মিত হলেও এর অন্তর্নিহিত পটভূমি ছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম।
- ছবিতে প্রতীকী কাহিনীর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,০১০.
Sultana’s Dream গ্রন্থটির অনুবাদক কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) বেগম রোকেয়া
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহীম
ব্যাখ্যা
• Sultana’s Dream গ্রন্থটি বেগম রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 

• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০১১.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল
  2. বঙ্গসুন্দরী
  3. বন্ধু বিয়োগ
  4. স্বপ্নদর্শন
ব্যাখ্যা

সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 'আর্যদর্শন' পত্রিকায়। আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত। ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- কাব্যগ্রন্থটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, "সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।"

অন্যদিকে, 
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সারদামঙ্গল'কাব্য।

৯,০১২.
মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম কোথায়?
  1. কুমিল্লা
  2. নোয়াখালী
  3. চট্টগ্রাম
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ। 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,০১৩.
বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য করে তোলেন কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,০১৪.
একুশের প্রথম সংকলনের সম্পাদক কে?
  1. ক) মাহবুবর রহমান
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) আ ন ম গাজীউল হক
  4. ঘ) আলতাফ মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• একুশের প্রথম সংকলনের নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
- এটি সম্পাদনা করেছেন কবি হাসান হাফিজুর রহমান
- ১৯৫৩ সালে পুঁথিপত্র প্রকাশনী থেকে সংকলনটি প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ সুলতান ।
- এই সংকলনের অসাধারণ স্কেচগুলো করেন মুর্তজা বশীর।
- হাসান হাফিজুর রহমানের অনুরোধে নিজ হাতে উৎসর্গপত্রটি লিখে দেন আনিসুজ্জামান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০১৫.
'সুবচন নির্বাসনে' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. লুৎফর রহমান
  3. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক।

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)। তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০১৬.
'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি কয়টি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে?
  1. দুই 
  2. তিন 
  3. চার 
  4. পাঁচ 
ব্যাখ্যা

• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই। 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
- তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।
- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।

---------------------------
মীর মশাররফ হোসেন রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,০১৭.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক 'যে অরণ্যে আলো নেই' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) মামুনুর রশিদ
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহীম
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) বদরুদ্দীন ওমর
ব্যাখ্যা
'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত নাটক। 

তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক
- দুইয়ে দুইয়ে চা
- যে অরণ্যে আলো নেই (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)
- রোদজ্বলা বিকেল 
- সূর্যাস্তের পর

তাঁর রচিত উপন্যাস
- বিশ শতকের মেয়ে 
- এক পথ দুই বাক
- কেয়াবন সঞ্চারিনী 
- বহ্নিবলয়

গল্প: 
- রমনা পার্কে

প্রবন্ধ
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি
- শরৎ প্রতিভা
- বাংলার কবি মধুসূদন (১৯৬১)
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছদিত কন্যা আমি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,০১৮.
কত খ্রিস্টাব্দে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'জগত্তারিণী' পদক লাভ করেন? 
  1. ১৯১৬
  2. ১৯২৩
  3. ১৯৩৩
  4. ১৯০৩
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বাংলা কথা-সাহিত্যে দুর্লভ জনপ্রিয়তার অধিকারী।
- ১৯০৩ সালে ভাগ্যের সন্ধানে তিনি বার্মা যান এবং রেঙ্গুনে অ্যাকাউন্ট্যাট অফিসে কেরানি পদে চাকরি করেন ।
- প্রবাস জীবনেই তার সাহিত্য সাধনা শুরু হয় এবং তিনি খ্যাতি লাভ করেন।
- ১৯১৬ সালে তিনি কলকাতা ফিরে আসেন এবং নিয়মিতভাবে সাহিত্য সাধনা শুরু করেন।
- তিনি ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জগত্তারিণী পদক’ এবং ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. লিট উপাধি লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র ১৬ই জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ:
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- গৃহদাহ,
- পল্লিসমাজ,
- চরিত্রহীন,
- পথের দাবী,
- দেনা পাওনা।

উল্লেখ্য,
• বাংলাপিডিয়া অনুসারে, জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩ সালে) লাভ করেন।
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে, জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩ সালে) লাভ করেন।
• উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা বই অনুসারে,জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩ সালে) লাভ করেন।
• বাংলা একাডেমি চরিতাবিধান অনুসারে, জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩ সালে) লাভ করেন।
• তবে,
বাংলা সাহিত্য ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর বইয়ে ১৯২০ সাল দেওয়া আছে। যদিও তথ্যটি ভুল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা একাডেমি চরিতাবিধান, বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,০১৯.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মরু-ভাস্কর' কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. ছোটগল্প
  4. ভ্রমণকাহিনি
ব্যাখ্যা
'মরু-ভাস্কর' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'মরু-ভাস্কর'।
- এটি হযরত মোহাম্মদ (স.) এর জীবনীকাব্য। ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ থেকে কাব্যটি রচিত হয়।
- ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে(১৯৫০) গ্রন্থাকারে ছাপা হয়। এ কাব্যের চারটি সর্গ। মোহাম্মদ (স.) জন্ম, শৈশব, কৈশোর, বিয়ে ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
কাজী নজরুল ইসলামের অন্য একটি জীবনীকাব্য- চিত্তনামা।

কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা, 
- সাম্যবাদী, 
- ঝিঙে ফুল, 
- ভাঙার গান, 
- দোলনচাঁপা, 
- সিন্ধু হিন্দোল, 
- চক্রবাক, 
- জিঞ্জিরা, 
- নতুন চাঁদ, 
- প্রলয় শিখা, 
- মরু-ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,০২০.
'অজ্ঞাতবাস' কার রচিত উপন্যাস?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

অন্নদাশঙ্কর রায়: একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক ও বিশিষ্ট ছড়াকার৷ তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।

তার রচিত কবিতাগ্রন্থ:
- রাখী (১৯৩২),
- কালের শাসন (১৯৩৩),
- কামনা পঞ্চবিংশতি (১৯৩৪),
- নূতন রাধা (১৯৪৩) প্রভৃতি।

উপন্যাস:
- যার যেথা দেশ (১৯৩২);
- অজ্ঞাতবাস (১৯৩৩),
- কঙ্কাবতী (১৯৩৪),
- দুঃখমােচন (১৯৩৬),
- মর্তের স্বর্গ (১৯৪০),
- অপসরণ (১৯৪২)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

 
৯,০২১.
'হায় চিল' কবিতার কবি কে?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,০২২.
"কালের ধুলোয় লেখা" — আত্মস্মৃতিটি কে লিখেছেন?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. শওকত আলী 
ব্যাখ্যা

• 'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
- 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি — আত্মস্মৃতি।
- 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
- এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
- বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৯,০২৩.
'আগুন পাখি' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'আগুন পাখি' উপন্যাস:
- 'আগুন পাখি' হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।
- 'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী
- জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
- মেঝ বউ চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

হাসান আজিজুল হক রচিত রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নামহীন গোত্রহীন,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন,
- রোদে যাবো,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,০২৪.
'ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প' কার রচনা?
  1. মাহমুদুল হক
  2. শহীদ কাদরী
  3. ফজলে লোহানী
  4. শহীদুল জহির
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অকলা প্রয়াত লেখক, বাংলা সাহিত্যে ম্যাজিক রিয়েলিজমের সার্থক প্রয়োগদাতা শহীদুল জহিরের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ ‘ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্যা গল্প’।
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ হলো :
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা,
- সে রাতে পূণিমা ছিল,
- মুখের দিকে দেখি,
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯,০২৫.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত "দি পীস" পত্রিকাটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯২০
  2. খ) ১৯২১
  3. গ) ১৯২৪
  4. ঘ) ১৯২৩
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯):
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্র বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
- আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫)
- বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১) হিসেবে
- তাঁর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।
তাঁর অন্যান্য সম্পাদিত পত্রিকা -
- ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩)
- বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং
- পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,০২৬.
'হিস্ট্রি অব বেঙ্গলি লিটেরেচার' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
দীনেশচন্দ্র সেন
- দীনেশচন্দ্র সেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। 
- ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলায় তাঁর জন্ম।

- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসনির্ভর গ্রন্থ ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ রচনা করেন।
- তার সুবিখ্যাত গ্রন্থ “হিস্ট্রি অব বেঙ্গলি লিটেরেচার” ১৯১১ সালে প্রকাশিত হলে তা সর্বমহলের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে।
- দীনেশচন্দ্র সেন গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে প্রাচীন বাংলার পুঁথি সংগ্রহ করেন এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনা করেন।
- লেখনীর মাধ্যমে তিনি গ্রামবাংলার লোকসাহিত্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন।
- তিনি মৈমনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকা সম্পাদনা করেন।
- এই গ্রন্থগুলোর পালাগান, গীতিকা বা কাব্যগুলো সংগ্রহ করে দেন চন্দ্রকুমার দে। 
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর কলকাতার বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৯,০২৭.
'সারাদুপুর' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শঙ্খ ঘোষ
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত এবং একান্নবর্তী  পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গ্রন্থের রচিয়তা হাসান আজিজুল হক।
এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে।
এই গ্রন্থে মোট আটটি গল্প রয়েছে।
যথা -
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পরবাসী,
- সারাদুপুর,
- অন্তর্গত নিষাদ,
- মারী,
- উটপাখি,
- সুখের সন্ধানে,
- আমৃত্যু আজীবন

তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- নামহীন গোত্রহীন
- পাতালে হাসপাতালে
- সমুদ্রের স্বপ্ন
- শীতের অরণ্য
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- বৃত্তায়ন 
- শিউলি 
- আগুনপাখি 
- সাবিত্রী উপাখ্যান 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- কথাসাহিত্যের কথকতা 
- অপ্রকাশের ভার 
- কথা লেখা কথা 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক: একাত্তর-করতলে ছিন্নমাথা 
সম্পাদনা: অসীমন্তিক 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৯,০২৮.
'তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. খ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) মুহাম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন আজাদের ভাষাবিজ্ঞানবিষয়ক দুটি গ্রন্থ,
- তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান (১৯৮৮),
- অর্থবিজ্ঞান (১৯৯৯)।

সাহিত্যস্রষ্টা হিসেবে তাঁর প্রতিভা ও মননের এক অসাধারণ দিক উন্মোচিত হয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা কিছু গ্রন্থে, যেখানে তাঁর ব্যঞ্জনাধর্মী ভাষা সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।
যেমন-
- লাল নীল দীপাবলি (১৯৭৬),
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না (১৯৮৫),
- কতো নদী সরোবর (১৯৮৭),
- আববুকে মনে পড়ে (১৯৮৯),
- বুকপকেটে জোনাকিপোকা (১৯৯৩),
- আমাদের শহরে একদল দেবদূত (১৯৯৬),
- অন্ধকারে গন্ধরাজ (২০০৩)
প্রভৃতি বইয়ে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। 
সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৮৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,০২৯.
মুসলমান নারী জাগরণের কবি-
  1. ফজিলাতুন্নেছা
  2. ফয়জুন্নেছা
  3. বেগম রোকেয়া
  4. শামসুন্নাহার
ব্যাখ্যা
• বিতর্কিত প্রশ্ন।
- বেগম রোকেয়াকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়৷
- আর নারী জাগরণের কবি শামসুন্নাহার মাহমুদ।
[কেননা, বেগম রোকেয়ার কোনো কবিতার বই নেই; তাই তাকে ঠিক কবি বলা যাচ্ছে না।]

------------------------
• শামসুন্নাহার মাহমুদ:
• শামসুন্নাহার মাহমুদ ছিলেন একজন (১৯০৮-১৯৬৪) শিক্ষাবিদ ও লেখক।
• তিনি ডায়েসিমন কলেজ থেকে আই এ (১৯২৮), প্রাইভেটে ডিস্টিংকশনসহ বিএ (১৯৩২) এবং এম এ (১৯৪২) পাস করেন। বি এ পাস করার পর বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাইস্কুল থেকে তাঁকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। পরে তিনি বেগম রোকেয়ার নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তি আন্দোলনের অংশীদার হন।

• শামসুন্নাহারের প্রথম লেখা কবিতা প্রকাশিত হয় কিশোরদের ‘আঙ্গুর’ নামক মাসিক পত্রিকায়।
• আই.এ পড়ার সময় তিনি নওরোজ ও আত্মশক্তি পত্রিকার মহিলা বিভাগ সম্পাদনা করতেন। কলকাতা থেকে প্রকাশিত বুলবুল (১৯৩৩) পত্রিকা হবীবুল্লাহ্ বাহার ও শামসুন্নাহার যুগ্মভাবে সম্পাদনা করেন। তাঁর লেখায় সমাজ ও সংস্কৃতি-প্রীতির প্রকাশ ঘটেছে।
• কাজী নজরুল তাঁর সিন্ধু-হিন্দোল (১৯২৭) কাব্যখানি ‘বাহার-নাহার’কে উৎসর্গ করেন।
• নারী শিক্ষা ও নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ শামসুন্নাহার মাহমুদকে ১৯৮১ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সমাজসেবার জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার প্রদান করেন।
• ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার বেগম শামসুন নাহার মাহমুদকে মরণোত্তর, ‘বেগম রোকেয়া পদক’ প্রদান করা হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
- পুণ্যময়ী,
- ফুলবাগিচা,
- বেগম মহল,
- রোকেয়া জীবনী,
- শিশুর শিক্ষা,
- আমার দেখা তুরষ্ক,
- নজরুলকে যেমন দেখেছি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,০৩০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে। এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে। আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।
৯,০৩১.
"আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কার?
  1. মালা
  2. কপিলা
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. কুপি
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
-কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক ও দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস কপালকুণ্ডলা।
- উপন্যাসের চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক।

--------------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৩২.
সাপ্তাহিক 'সুধাকর'-এর প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন? 
  1. শেখ আব্দুর রহিম
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী 
  3. শেখ আলিমুল্লাহ
  4. মো: ইয়াকুব আলী চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• ‘সুধাকর’ পত্রিকা:
- সুধাকর কলকাতা থেকে ১৮৮৯ সালের ৮ নভেম্বর (১২৯৬ বঙ্গাব্দের ২৩ কার্তিক) প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- রেয়াজুদ্দীন আহমদ, মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদ ও শেখ আবদুর রহিমের প্রচেষ্টায় এটি প্রকাশিত হয় এবং এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন শেখ আবদুর রহিম (মতান্তরে মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদ)।

- পত্রিকা প্রকাশের লক্ষ ও উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের অতীত গৌরব ও ইসলামের মাহাত্ম্য প্রচার করা। এক পর্যায়ে এটি মিহির ও সুধাকর নামে প্রকাশিত হয়।
- খ্রিস্টান মিশনারিদের পরিচালিত খ্রিস্টীয় বান্ধব পত্রিকার সঙ্গে সুধাকরের ধর্মবিষয়ে বহু বিতর্ক হয়; এমনকি গো-হত্যার ব্যাপারে টাঙ্গাইলের মৌলবি নইমুদ্দীনের পক্ষে এবং মীর মশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে এটি প্রচারাভিযান চালায়। ধর্ম, সমাজ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ইত্যাদি ছাড়াও সাহিত্যবিষয়ক মৌলিক রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।
- ১৯১০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯,০৩৩.
বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেমপ্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,০৩৪.
তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে।- উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মৃণালিনী
  2. বিষবৃক্ষ
  3. চন্দ্রশেখর
  4. আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাস:
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ।
• প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
• এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে ‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
• উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
• ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে ।

বঙ্কিমচন্দ্রের কয়েকটি উপন্যাসের পটভূমি:
⇒ মৃণালিনী: ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ - এর পটভূমি।
⇒ বিষবৃক্ষ: সামাজিক উপন্যাস; সমাজের নানা সমস্যা যেমন - বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিক দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ইত্যাদি এই উপন্যাসের উপজীব্য।
⇒ আনন্দমঠ: ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিতে সন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৩৫.
কোন গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের উপন্যাস রচনা প্রথম প্রয়াস?
  1. কলিকাতা কমলালয়
  2. নববাবু বিলাস
  3. নববিবি বিলাস
  4. ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
ব্যাখ্যা

উনিশ শতকের প্রথম দিকে বাংলা সাহিত্যে উপন্যাসের উদ্ভব ঘটে ।
- এর মূলে রয়েছে পাশ্চাত্য সাহিত্যের প্রভাব ।

- ফুলমণি ও করুণার বিবরণ ( ১৮৫২) উপন্যাস তৈরির একটি প্রচেষ্টা ।
- কাল গত দিক দিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাসের প্রয়াস হেনা ক্যাথারিন ম্যালেন্স রচিত ফুলমণি ও করুণার বিবরণ ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)

৯,০৩৬.
'সূচয়িনী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. জীবনানন্দ দাশ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'সূচয়িনী' জসীম উদ্‌দীন রচিত কবিতার সংকলন।

• জসীম উদ্‌দীন:

- পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন (১৯০৩-১৯৭৬) একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
 - তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়িনী,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
-ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৯,০৩৭.
জীবনানন্দ দাশের উপাধি নয় কোনটি?
  1. রূপসী বাংলার কবি
  2. নির্জনতার কবি
  3. পল্লিকবি
  4. তিমির হননের কবি
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

অন্যদিকে,
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,০৩৮.
কোনটি আনোয়ার পাশা রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. ক) নীড় সন্ধানী
  2. খ) নিশুতি রাতের গাথা
  3. গ) নিরুপায় হরিণী
  4. ঘ) নদী নিঃশেষিত হলে
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা।
- আনোয়ার পাশাকে ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রদান করে।

• আনোয়ার পাশা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত।

• গল্পগ্রন্থ:
- নিরুপায় হরিণী।
৯,০৩৯.
'মুহাজিরিন হত্যার জন্য দায়ী কে?' প্রবন্ধের রচয়িতা কে? 
  1. আল মাহমুদ 
  2. হেলাল হাফিজ 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. বুদ্ধদেব বসু 
ব্যাখ্যা

'মুহাজিরিন হত্যার জন্য দায়ী কে?' প্রবন্ধটি  কাজী নজরুল ইসলাম রচিত যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থের একটি প্রবন্ধ।
​​
​• 'যুগবাণী' :

​- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই।
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়।
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

- এ গ্রন্থে প্রবন্ধের সংখ্যা ২১ টি। 
​- ​নবযুগ, 
​​- গেছে দেশ দুঃখ নাই আবার তোরা মানুষ হ, 
​​- ডায়ারের স্মৃতিস্তম্ভ, 
​- ​ধর্মঘট, 
​​- লোকমান্য তিলকের মৃত্যুতে বেদনাতুর কলিকাতার দৃশ্য, 
​​- মুহাজিরিন হত্যার জন্য দায়ী কে?, 
​- ​ছুঁৎমার্গ,
​​-  উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন, 
​​- মুখবন্ধ, 
​​- রোজ-কেয়ামত বা প্রলয়-দিন, 
​- ​বাঙালির ব্যবসাদারী, 
​- ​আমাদের শক্তি স্থায়ী হয় না কেন, 
​- ​কালা আদমীকে গুলি মারা, 
​- ​শ্যাম রাখি না কুল রাখি, 
​- ​লাট-প্রেমিক আলী ইমাম, 
​- ​ভাব ও কাজ, 
​- ​জাতীয় শিক্ষা, 
​​- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, 
​- জাগরণী।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও যুগবাণী প্রবন্ধ।

৯,০৪০.
'প্রেমাংশুর রক্ত চাই' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মহাদেব সাহা
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) বিনয় মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কবিদের কবি নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরীর জম্ম ১৯৪৫ সালের ২১ জুন।
- নির্মলেন্দু গুণের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে

তাঁর রচিত আরো কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো-
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,০৪১.
‘বাঁধন-হারা' পত্রোপন্যাসে মোট কয়টি পত্র রয়েছে?
  1. এগারোটি
  2. আঠারোটি
  3. পনেরোটি
  4. সতেরোটি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা;
- মৃত্যুক্ষুধা;
- কুহেলিকা। 

• ‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস: 
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৪২.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. প্যারিচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা  ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৪৩.
আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস কোনটি?
  1. ব্যোমকেশ
  2. ফেলুদা
  3. কাকাবাবু
  4. জাল
ব্যাখ্যা

• 'জাল' উপন্যাস:
​- 'জাল' বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবু ইসহাকের একটি গোয়েন্দা উপন্যাস। 
- ​এই উপন্যাসটি ১৯৫০ সালে জাল নোটের কয়েকটি মামলার তদন্তের অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত। 
- ​'জাল' একটি ভিন্ন স্বাদের উপন্যাস, গতানুগতিক ডিটেকটিভ উপন্যাস নয় । তা'ছাড়া এর ভেতর আছে অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে আবু ইসহাকের উদ্ভাবিত কিছু মৌলিক পদ্ধতি।
- উপন্যাসটি ১৯৮৮ সালে 'আনন্দপত্র' ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয় । কিছু পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনার পর এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় নসাস থেকে।

​অন্যদিকে, 
• 'শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত- ব্যোমকেশ। 
• সত্যজিৎ রায় রচিত- ফেলুদা। 
 • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত- কাকাবাবু। 
​​
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,০৪৪.
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. বীরবলের হালখাতা
  2. চার-ইয়ারি কথা
  3. আহুতি
  4. নীললোহিত
ব্যাখ্যা

• বীরবলের হালখাতা প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

• প্রমথ চৌধুরী:

- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক। 
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট,তের্জারিমা ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন।
- সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে  বীরবল’ ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ ( ১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,০৪৫.
'অশনি সংকেত' উপন্যাসের উপজীব্য কী?
  1. কলিঙ্গ যুদ্ধ
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. তেভাগা আন্দোলনের
  4. ১ম বিশ্বযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'অশনি সংকেত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৯,০৪৬.
'কালো হাওয়া’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৪৭.
‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ কাব্যটি কার লেখা?
  1. শামসুর রহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. আবুল ফজল
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা রয়েছে।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা হচ্ছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কবিতা।  

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা, 
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি', 
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,০৪৮.
‘কী চাহ শঙ্খচিল’ নাটকটি রচনা করেন-
  1. মামুনুর রশীদ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. শামসুর রাহমান
  4. মমতাজউদদীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির রচয়িতা-  মমতাজউদদীন আহমদ।

• মমতাজউদদীন আহমদ:  
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক: 
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৪৯.
নিচের কোনটি বিষ্ণু দের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) সাত ভাই চম্পা
  2. খ) চিত্ররূপমত্ত পৃথিবী
  3. গ) সন্দ্বীপের চর
  4. ঘ) নিসর্গ সন্দর্শন
ব্যাখ্যা
সন্দ্বীপের চর, উর্বশী ও আর্টেমিস, চোরাবালি, সাত ভাই চম্পা, নাম রেখেছি কোমল গান্ধার, তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ, দিবানিশি চিত্ররূপমত্ত পৃথিবী, উত্তরে থাকে মৌন, আমার হৃদয়ের বাঁচো ইত্যাদি বিষ্ণু দের কাব্যগ্রন্থ।
নিসর্গ সন্দর্শন কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বিহারীলাল চক্রবর্তী।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৯,০৫০.
"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি" -গানের রচয়িতা কে?
  1. আবুল মনসুর আহমেদ
  2. আবুল ফজল
  3. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী। 

আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

 তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৫১.
ফররুখ আহমেদ রচিত ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯৪৪ সালে
  2. খ) ১৯৬৬ সালে
  3. গ) ১৯৫২ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমেদ রচিত ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়
এই বইয়ের ১৯টি কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- পাঞ্জেরী,
- সিন্দবাদ,
- আকাশ-নাবিক,
- ডাহুক,
- এই সব রাত্রি
- লাশ
- আউলাদ
- দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও সাত সাগরের মাঝি]

৯,০৫২.
'মণি মঞ্জুষা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) রাজা রামমোহন রায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) মুহম্মদ এনামুল হক
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
'মণি মঞ্জুষা' সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি অনুবাদ কাব্য। 
- প্রকাশিত হয় ১৯১১৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- লেখকের অপর একটি অনুবাদ কাব্য তীর্থরেণু।

অন্যদিকে, মুহম্মদ এনামুল হক রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ 'মনীষা মঞ্জুষা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৫৩.
গদ্যরীতিতে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. শেষলেখা
  2. পুনশ্চ
  3. শ্যামলী
  4. মানসী
ব্যাখ্যা
• পুনশ্চ: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গদ্যছন্দে রচিত প্রথম সার্থক কাব্যগ্রন্থ ’পুনশ্চ’।
- রবীন্দ্রনাথের কাব্যের ইতিহাসে তথা আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে এই কাব্যের ভূমিকা বৈপ্লবিক।
- এ কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ছেলেটা;
- শেষ চিঠি;
- ক্যামেলিয়া;
- সাধারণ মেয়ে;
- বাশিঁ;
- খ্যাতি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। ১৮৭৬ সালে পনের বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বনফুল'। অতঃপর কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণসাহিত্য, রম্যরচনা, সংগীত ইত্যাদি শাখায় রবীন্দ্রনাথ রেখে গেছেন তাঁর অসামান্য শিল্প-প্রতিভার স্বাক্ষর।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।' এ বিদ্যালয়ই পরবর্তীকালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ রূপলাভ করে।
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা কবিতাকে তিনিই প্রথম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রসারিত করেন। বাংলা ছোটগল্পকে তিনিই বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত করেন। গীতিকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও রবীন্দ্রনাথের অবদান অনন্যসাধারণ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:   
-  মানসী,
- সোনারতরী, চিত্রা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- শেষলেখা;
- প্রভাহসঙ্গীত;
- সেঁজুতি;

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- ঘরে বাইরে,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা।

• প্রবন্ধ:
- আধুনিক সাহিত্য,
- মানুষের ধর্ম, কালান্তর,
- সাহিত্যের স্বরূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৫৪.
কাজী মোতাহার হোসেন 'শিখা' পত্রিকার কত তম সংখ্যার সম্পাদনা করেন?
  1. ক) প্রথম সংখ্যা
  2. খ) দ্বিতীয় সংখ্যা
  3. গ) চতুর্থ সংখ্যা
  4. ঘ) পঞ্চম সংখ্যা
ব্যাখ্যা
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ  ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। 
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র শিখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে।
- শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন,
- দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন,
- চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং
- পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন।

- শিখার প্রতিটি সংখ্যায় মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সাময়িক অধিবেশন ও বার্ষিক সম্মেলনের বিবরণ এবং সাহিত্য-সভায় পঠিত রচনা প্রকাশিত হত।
- শিখার মুখবাণী ছিল -‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,০৫৫.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. ফররুখ আহমদ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

অন্যদিকে,
• ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
• মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
• 'পল্লীকবি' উপাধিতে ভূষিত, জসীম উদ্‌দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি। জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,০৫৬.
"কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো।" উক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো" উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "যোগাযোগ" উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।

• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- যোগাযোগ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসে অর্থনৈতিক শ্রেণিদ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপট ফুটে উঠেছে।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে বাইরে, 
- মালঞ্চ, 
- চতুরঙ্গ, 
- চার অধ্যায়
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- গোরা,
- রাজর্ষি, 
- শেষের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,০৫৭.
বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৪৮ সালে
  2. ১৮৩৮ সালে
  3. ১৮২৮ সালে
  4. ১৮১৮ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান। এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,০৫৮.
'শর্মিষ্ঠা' নাটকের অন্তর্গত চরিত্র কোনটি?
  1. মাধব্য
  2. ধনদাস
  3. জগৎসিংহ
  4. মদনিকা
ব্যাখ্যা
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের অন্তর্গত চরিত্র 'মাধব্য'।
- মদনিকা, জগৎসিংহ এবং ধনদাস ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটকের অন্তর্গত চরিত্র।

• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:

- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম:
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৯,০৫৯.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. সভ্যতার সংকট
  2. সংস্কৃতির সংকট
  3. সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
  4. সংস্কৃতি রূপান্তর
ব্যাখ্যা
 • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু'।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

অন্যদিকে,
• সভ্যতার সংকট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
• সংস্কৃতির সংকট বদরুদ্দিন উমর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।
• সংস্কৃতির রূপান্তর গোপাল হালদার রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,০৬০.
'আমায় ভাসাইলি রে আমায় ডুবাইলি রে
অকুল দরিয়ার বুঝি কূল নাইরে' গানটির রচয়িতা-
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) জসীমউদদীন
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) আপেল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
- পল্লীকবি জসীম উদদীন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী অনেক গান রচনা করেছেন।
- বাংলার বিখ্যাত লোক সংগীতের গায়ক আব্বাস উদ্দিনের সহযোগিতায় কিছু অবিস্মরণীয় লোকগীতি নির্মাণ করেছেন।

• এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- আমায় ভাসাইলি রে আমায় ডুবাইলি রে
অকুল দরিয়ার বুঝি কূল নাইরে

- নিশিতে যাইও ফুলবনে, ও ভোমরা
- আমার সোনার ময়না পাখি
- আমার হার কালা করলাম রে
- আমায় এতো রাতে
- নদীর কূল নাই কিনার নাই
- প্রাণ সখিরে, ঐ শোন কদম্ব তলে বংশী বাজায় কে
- রঙিলা নায়ের মাঝি ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও প্রথম আলো পত্রিকা আর্কাইভ।
৯,০৬১.
কোন সাহিত্যিকের রচিত উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় - রচিত উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 

• পথের পাঁচালী:

- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো- 
- অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, সর্বজয়া।
------------------------- 
• 'অপরাজিত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
- ‘অপরাজিত’ (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘প্রবাসী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে উপন্যাসটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোক সারথী'। 
--------------------- 
 বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,০৬২.
'ঠাকুরমার ঝুলি' এর সম্পাদক কে?
  1. ক) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  2. খ) দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
ব্যাখ্যা
'ঠাকুরমার ঝুলি' এর সম্পাদক দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। 
- প্রকাশিত হয় ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে।
- বইগুলো বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন। 
- রূপকথার সঙ্গে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট আছে।
- কারন এখানে পশুপাখির মুখদিয়েও কাহিনী বর্ণিত আছে।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার সম্পাদিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কয়েটি গ্রন্থ:
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- ঠানদিদির থলে,
- দাদামশায়ের থলে,
- খোকা বাবুর খেলা, 
- আমাল বই, 
- কিশোরদের মন, 
- বাংলার সোনার ছেলে, 
- পৃথিবীর রূপকথা ও 
- সবুজ লেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,০৬৩.
“নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে”- গানের রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• “নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে” জসীম উদ্‌দীন রচিত ‘রঙিলা নায়ের মাঝি’ গানের সংকলনের অন্তর্ভুক্ত একটি গান।
- গানের সংকলনটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• গানটি সংক্ষেপে দেয়া হলো-
-------------------
নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে
- জসীম উদ্‌দীন
নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে;
আমি কোন কূল হইতে কোন কূলে যাব
কাহারে শুধাইরে?
ওপারে মেঘের ঘটা, কনক বিজলী ছটা,
মাঝে নদী বহে সাঁই সাঁইরে;
আমি এই দেখিলাম সোনার ছবি
আবার দেখি নাইরে;
আমি দেখিতে দেখিতে সে রূপ
আবার দেখি নাইরে।

---------------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউ দ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত গানের সংকলন:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,

• তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে’ গান এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,০৬৪.
নিচের পত্রিকাগুলো মধ্যে যেটি ব্যতিক্রমধর্মী -
  1. ক) প্রগতি
  2. খ) কালিকলম
  3. গ) সীমান্ত
  4. ঘ) পূর্বাশা
ব্যাখ্যা

প্রগতি, কালিকলম, পূর্বাশা - এই পত্রিকাগুলো বাংলা সাহিত্যের বিকাশে অবদান রেখেছিলো। 

সীমান্ত পত্রিকাটি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের সমর্থক পত্রিকা ছিলো। 
 - ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির সন্ধ্যায় সীমান্ত পত্রিকার অন্যতম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ কবিতা লেখেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং দৈনিক প্রথম আলো

৯,০৬৫.
বুদ্ধদেব বসু কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বিক্রমপুর
  2. কুমিল্লা
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. মুন্সিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশ দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগ্ননাথ হলের ছাত্র অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকা প্রকাশের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের গান,
- একদিন চিরদিন,
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৯,০৬৬.
৭ই মার্চের পটভূমিতে রচিত কবিতা-
  1. ক) ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ - নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) ‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’ - শামসুর রাহমান
  4. ঘ) ‘আমার পরিচয়’ - সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ - কবিতাটি লিখেছেন নির্মলেন্দু গুণ।
- এটি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে নিয়ে লেখা কবিতা।
- কবি এই ভাষণকে কবিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
------------------------
কবিতাটি শেষ হয়েছে এভাবে- 

"শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন৷
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হদৃয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা৷ কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷’

সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের৷"।
 --------------------------- 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, ‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ - কবিতা। 
৯,০৬৭.
"আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা ‘পরে,
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।" - কবিতাংশটুকু রচনা করেন কে?
  1. শেখ ফজলল করিম
  2. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  3. রজনীকান্ত সেন
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
"আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা ‘পরে,
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।" - কবিতাংশটুকু রচনা করেন - রজনীকান্ত সেন। কবিতাংশটুকু 'স্বাধীনতার সুখ' কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

স্বাধীনতার সুখ
  রজনীকান্ত সেন

বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই-
“কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই;
আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা ‘পরে,
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।”

রজনীকান্ত সেন: 
- রজনীকান্ত সেন (১৮৬৫-১৯১০) কবি, গীতিকার, সঙ্গীতশিল্পী।
- তিনি কবিতাও রচনা করতেন এবং ‘কান্তকবি’ নামে খ্যাত ছিলেন।

উৎস: স্বাধীনতার সুখ, রজনীকান্ত সেন এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,০৬৮.
‘কিঞ্চিৎ জলযোগ’ বিখ্যাত প্রহসনটি কোন নাট্যকার কর্তৃক রচিত?
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• ‘কিঞ্চিৎ জলযোগ’ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত প্রহসন। 
- প্রহসনটি ১৮৭২ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

----------------------
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর:
• জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪৯-১৯২৫) ছিলেন নাট্যকার, গীতিকার, সংগীতজ্ঞ, অনুবাদক, চিত্রশিল্পী ও সংগঠক। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে ১৮৪৯ সালের ৪ মে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পঞ্চমপুত্র এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অগ্রজ। 

• তিনি স্বদেশপ্রেমে ও জাতীয়তা চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একে একে ‘ব্রাহ্মধর্মবোধিনী সভা’ (১৮৭২), ‘সারস্বত সমাজ’ (ওই), ‘আদি ব্রাহ্মণসমাজ সঙ্গীত বিদ্যালয়’ (১৮৭৫), ‘সঞ্জীবনী সভা’ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করেন।

• জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যিক জীবনের সূচনা হয় নাটক-প্রহসন রচনার মাধ্যমে। তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রহসনগুলো হলো-

- কিঞ্চিৎ জলযোগ (প্রহসন, ১৮৭২),
- হঠাৎ নবাব (প্রহসন, ১৮৮৪),
- এমন কর্ম আর করব না ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য রচনা।

• বিখ্যাত নাটকগুলো হলো:
- পুরুবিক্রম,
- অশ্রুমতি,
- স্বপ্নময়ী। 
তাঁর অধিকাংশ নাটক জোড়াসাঁকো ও কলকাতার নাট্যশালায় একাধিকবার অভিনীত হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৯,০৬৯.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী?
  1. স্মৃতিপট
  2. বাল্যস্মৃতি
  3. জীবনস্মৃতি
  4. আত্মকথা
ব্যাখ্যা

• 'জীবনস্মৃতি':
- 'জীবনস্মৃতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে।
- এখানে রবীন্দ্রনাথের বাল্যকাল থেকে পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত কালের কাহিনি ও ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।
- আত্মজীবনী রচনার প্রচলিত নিয়ম ভেঙ্গে রবীন্দ্রনাথ এ গ্রন্থে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন।

উল্লেখ্য,
• 'স্মৃতিপট' জসীম উদ্‌দীন রচিত আত্মজীবনী।
• 'বাল্যস্মৃতি' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত আত্মজীবনী।
• 'আত্মকথা' প্রমথ চৌধুরী রচিত আত্মজীবনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,০৭০.
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. মধুমতীর চর
  2. পদ্মানদীর চর
  3. ময়নামতির চর
  4. চরের জীবন
ব্যাখ্যা
• চরের জীবন - সিজাজুল হক ভুঞা রচিত একটি কবিতা। 

• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালে পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন। 
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম: কিশোর পরাগ, শিশুবার্ষিকী, জ্ঞানের আলো। 
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর,  
- অনুরাগ, 
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর, 
- ধরিত্রী। 
 
তাঁর রচিত শিশুতােষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী, 
- ডাইনী বউ, 
- রূপকথা, 
- কুঁচবরণ কন্যা।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,  
- শেষ লগ্ন, 
- অরণ্য গোধূলি, 
- নীড়ভ্রষ্ট। 
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- মসনদ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৯,০৭১.
‘কালো হাওয়া’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) জীবনানন্দ দাস
  3. গ) বিষ্ণু দে
  4. ঘ) সুধেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেবের উপন্যাস - তিথিডাের, সাড়া, সানন্দা, লালমেঘ, পরিক্রমা, কালাে হাওয়া, নির্জন স্বাক্ষর, নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।
বুদ্ধদেব বসুর গল্পঃ ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’, রেখাচিত্র, হাওয়া বদল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ।

৯,০৭২.
শামসুর রহমানকে কোন উপাধিতে অভিহিত করা হয়?
  1. তিমির হননের কবি 
  2. প্রকৃতির কবি
  3. ধূসরতার কবি 
  4. নাগরিক কবি
ব্যাখ্যা

শামসুর রহমানকে নাগরিক কবি উপাধিতে অভিহিত করা হয়।

• শামসুর রাহমান:

- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমানের জন্ম তার নানাবাড়িতে।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তার পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা বেগম।
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।
- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়।
- কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
-  তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।
- এই অনন্য কবি-কীর্তি ও সত্যনিষ্ঠ কাব্যচর্চার জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
- তিনি ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে, 
- জীবনানন্দ দাশকে বলা হয়- তিমির হননের কবি, প্রকৃতির কবি ও ধূসরতার কবি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৯,০৭৩.
‘ইঁদুর’ - ছোটগল্পটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) সানাউল হক
ব্যাখ্যা
ঢাকার ‘প্রগতি লেখক সংঘ’ -এর প্রতিষ্ঠাতা সোমেন চন্দ। তার লেখা অসাধারণ ছোটগল্প - ইঁদুর। হুমায়ুন আহমেদ জানিয়েছিলেন - এই ছোট গল্পটি পড়েই তার কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরনা পেয়েছিলেন। ফ্যাসিবাদী সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন। তার গল্পের গ্রন্থঃ সংকেত ও অন্যান্য গল্প, বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৭৪.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৩ খণ্ডে রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- অপরাজিত,
- দৃষ্টিপ্রদীপ,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- বিপিনের সংসার,
- দেবযান,
- ইছামতি,
- অশনি সংকেত ইত্যাদি
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৯,০৭৫.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'আগুনের পরশমণি' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. রোমাঞ্চকর উপন্যাস
  2. সামাজিক উপন্যাস
  3. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস
  4. ঐতিহাসিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,০৭৬.
'মদনিকা' ও 'ভীম-সিংহ' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. পদ্মাবতী
  4. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থথেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো: কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম-সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

• 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' - মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,০৭৭.
'দেশ' পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ ও সম্পাদিত পত্রিকাসমুহ: 
- জীবিকার সন্ধানে অদ্বৈত মল্লবর্মণ ১৯৩৪ সালে কুমিল্লার বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবী নরেন্দ্র দত্তের সঙ্গে কলকাতা যান। সেখানে মাসিক পত্রিকা ত্রিপুরা সম্পাদনার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।

- পরে তিনি প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত নবশক্তি পত্রিকায় যোগ দেন। তিনি মোহাম্মদী, আজাদ, নবযুগ, কৃষক, যুগান্তর প্রভৃতি পত্রিকায়ও সাংবাদিকতা করেন।

- ১৯৪৫ সালে বিখ্যাত 'দেশ' পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করে তিনি আমৃত্যু এ দায়িত্ব পালন করেন। মাঝে কিছুদিন উপার্জন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি বিশ্বভারতীর প্রকাশনা শাখায় খন্ডকালীন চাকরি করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,০৭৮.
আল মাহমুদ রচিত 'কালের কলস' কোন ধরনের রচনা?
  1. কথাসাহিত্য
  2. নৃত্যনাট্য
  3. কাব্য
  4. উপন্যাস
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'কালের কলস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা: 'আল মাহমুদ'। 
- গ্রন্থটি ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ৮২ বছর বয়সে ঢাকার ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,০৭৯.
'মহাপুরুষ চরিত' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
ভাই গিরিশচন্দ্র সেন ব্রাহ্ম ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
তিনি বর্তমান নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে এক বিখ্যাত দেওয়ান বৈদ্য বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর প্রধান পরিচয় তিনি পবিত্র কোরআন শরীফ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন।
তাঁর রচিত বিখ্যাত মৌলিক গ্রন্থ- মহাপুরুষ চরিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,০৮০.
বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠ উপন্যাসের পটভূমিকায় রয়েছে -
  1. দেশভাগ
  2. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
  3. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  4. হিন্দু সমাজের ধর্মীয় সংস্কার
ব্যাখ্যা
• 'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত 'আনন্দমঠ' উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো - ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্নাসী বিদ্রোহের ভূমিকা।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- তাঁর রচিত আরোও কিছু বিখ্যাত উপন্যাস হলো - দুর্গেশনন্দিনী, কপালকুণ্ডলা, মৃণালিনী, রজনী, রাজসিংহ, আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী, সীতারাম ইত্যাদি।

উৎস: 'আনন্দমঠ' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৮১.
রবীন্দ্র সাহিত্যের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. আনন্দময়ী
  2. কিরণময়ী
  3. কুমুদিনী
  4. বিনোদিনী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্র সাহিত্যের চরিত্র নয় - কিরণময়ী
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' (১৯১৭) উপন্যাসের চরিত্র।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গোরা' উপন্যাসের চরিত্র - আনন্দময়ী।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র - কুমুদিনী।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র - বিনোদিনী।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,০৮২.
'মানব মুকুট' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  2. এস ওয়াজেদ আলী
  3. মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. গোলাম মোস্তফা 
ব্যাখ্যা

• মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী: 
- শক্তিশালী প্রবন্ধলেখক হিসেবে এয়াকুব আলী চৌধুরী খ্যাতিলাভ করেছিলেন।
- মানব মুকুট তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে তিনি এখানে মানবজাতির সেবক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখিয়েছেন।
- এয়াকুব আলীর রচনার মূল উপজীব্য ইসলামি দর্শন ও সংস্কৃতি।
- গাম্ভীর্যপূর্ণভাব, মাধুর্যপূর্ণ ভাষা ও বলিষ্ঠ বক্তব্যের সমন্বয়ে তাঁর রচনাশৈলী অনন্য।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা বাংলা না  উর্দু হবে এ বিতর্কে তিনি বাংলা ভাষাকেই সমর্থন করেন।

• তাঁর প্রধান রচনা হলো:
- ‘মানব মুকুট’,
- ‘নূরনবী’,
- ‘শান্তিধারা’,
- ‘ধর্মের কাহিনি’।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৯,০৮৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি কে?
  1. সারদা দেবী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রাবতী:
- মধ্যযুগ তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী।
- চন্দ্রাবতী পুরাতন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন।
- মহিলা রামায়ণকার বলা হয় চন্দ্রাবতীকে। তিনিই মহিলা কবিদের মধ্যে প্রথম রামায়ণ অনুবাদ করেন।
- চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের তিনজন মহিলা কবির একজন। অপর দুইজন চণ্ডীদাসের অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের পাতোয়ারি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- লৌকিক, মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদান সংযোগের ফলে তাঁর রচিত রামায়ণ বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিল।
 
চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মালুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।
 
উল্লেখ্য:
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী উপন্যাস রচয়িতা বা ঔপন্যাসিক - স্বর্ণকুমারী দেবী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৮৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. পূরবী
  3. শেষ লেখা
  4. শেষ প্রশ্ন
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরিচিত:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- শেষ প্রশ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,০৮৫.
'আলোক বিজ্ঞান' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. জাফর ইকবাল
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• 'আলোক বিজ্ঞান' গ্রন্থটির রচয়িতা - কাজী মোতাহার হোসেন
- এটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

কাজী মোতাহার হোসেন: 
- তিনি ৩০শে জুলাই, ১৮৯৭ সালে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রাম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৭৫ সালে। 
- বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য কাজী মোতাহার হোসেন ১৯৬৬ সালে ‘বাংলা একাডেমি পুরষ্কার’ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে ‘স্বাধীনতা পুরষ্কার’ লাভ করেন।
- তিনি ১৯৮১ সালের ৯ই অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিতি, 
- সে পথ লক্ষ্য করে, 
- সিম্পোজিয়াম, 
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস, 
- আলোক বিজ্ঞান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,০৮৬.
‘নামহীন গোত্রহীন’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. শওকত ওসমান
  3. রশীদ হায়দার
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থ:
- হাসান আজিজুল হক রচিত ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থটির প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৯৭৫ সালে।
- সাতটি গল্পে সমন্বিত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত গ্রন্থটির গল্পগুলিতে মানুষের বিপর্যয়ের চরম দুর্দশার চিত্রটি অঙ্কন করা হয়েছে, দেখানো হয়েছে পশ্চিম পাকিস্থানী সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত আচরণকে।

---------------------------
• হাসান আজিজুল হক:
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ হলো:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থ।
৯,০৮৭.
“জীবন থেকে নেয়া” চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. জহির রায়হান
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. আমজাদ হোসেন
ব্যাখ্যা
জীবন থেকে নেয়া: পারিবারিক গল্পের আড়ালে বলা এক রাষ্ট্রের গল্প:
- ১৯৭০ সালে নির্মিত জহির রায়হান পরিচালিত ‘জীবন থেকে নেয়া’।
- সিনেমাটিতে মূলত সাধারণ এক পারিবারিক গল্পের আড়ালে এক রাষ্ট্রের গল্পই বলা হয়েছে। বলা হয় পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার এবং সংগ্রামের কথা।
- তাই এ সিমেটিকে সবাই আমাদের মুক্তির আন্দোলনেরই একটা বড় অংশ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।
- এটিই ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও একুশ নিয়ে নির্মাণ হওয়া প্রথম সিনেমা।
- ছবির একটি অনবদ্য দৃশ্য হলো একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরীতে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার দৃশ্য। বাস্তব সেই দৃশ্য ১৯৭০ সালের ২১ ফেব্র‚য়ারি থেকে নেওয়া।
- এ সিনেমাতেই অমর একুশের ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি যেমন ছিল, ঠিক তেমনি নজরুলের কারার এ লৌহ কপাট গানটিও ব্যবহৃত হয়েছিল।
- ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান সরকার হাস্যকরভাবে রেডিও টিভিতে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার নিষিদ্ধ করে দেয়।
- এর মাত্র কয়েক বছর পরই জহির রায়হান তার সিনেমাটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটিকে প্রথমবারের মতো কোনো সিনেমায় ব্যবহার করেন।
- ১৯৫২ থেকে ১৯৭০ এ সময়ের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। একগুঁয়ে স্বৈরচারি শাসকের অত্যাচারের প্রতিবাদে সকলকে এক হবার আহবানে জাতীয়তাবাদ ও দেশাত্মবোধকে একই সাথে তুলে ধরেছেন। 

অপশনে সঠিক উত্তর দুইবার থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক। [লিঙ্ক]
৯,০৮৮.
"শুকিয়ে মরলেও কেউ শুধোয় না এসে। ঝ্যাঁটা মার নিজের জাতের মুখে"- উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সর্বহারা 
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. বাঁধন-হারা
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

• 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- নারী জীবনের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা এবং সমাজের বাস্তবচিত্র এই উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে।

- দারিদ্য, ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে সপরিবারে মেজ-বৌয়ের মুসলিম থেকে খ্রিষ্ট ধর্মান্তর গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে ওঠে গল্পে। অন্যদিকে গল্পের নায়কা রুবি আনসারকে ভালোবাসালেও রুবির পিতা তাকে বিয়ে দেয় আইসিএস পরীক্ষার্থী মোয়াজ্জেমের সঙ্গে। মোয়াজ্জেমের মৃত্যুর পর বিধবা রুবির জীবনে নেমে আসে সমাজের বিধিনিষেধ।
- 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটির বিখ্যাত উক্তি- "শুকিয়ে মরলেও কেউ শুধোয় না এসে। ঝ্যাঁটা মার নিজের জাতের মুখে, গেঁয়াতকুটুমের মুখে। সাধে সব খেরেস্তান হয়ে যায়।"

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

অন্যদিকে:
• 'সর্বহারা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাস।

৯,০৮৯.
‘বসন্তকুমারী’ নাটকের অপর নাম কী?
  1. রাজদর্পণ
  2. প্রেমগাঁথা
  3. বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা
  4. সুলতানা রাজার কাহিনি
ব্যাখ্যা
‘বসন্তকুমারী’ নাটক:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার- মীর মশাররফ হোসেন। বাংলা সাহিত্যের মুসলিম নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক 'বসন্তকুমারী'।
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম ‘বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা’। ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।

মীর মশাররফ হোসেন:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' (১৮৩১) ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,০৯০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. বনফুল
  2. অনুপমা দেবী
  3. লীলাময় রায়
  4. দিকশূন্য ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম - দিকশূন্য ভট্টাচার্য।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
- 'বনফুল' ছদ্মনামে লিখতেন 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।
- অনুরূপা দেবীর ছদ্মনাম - অনুপমা দেবী। 
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম 'লীলাময় রায়'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,০৯১.
নীলদর্পন নাটকের ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশের জন্য আদালত যে টাকা জরিমানা করেন, তা কে পরিশোধ করে দেন?
  1. ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. খ) রাধানাথ শিকদার
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) ক্লিন্টন বি. সিলি
ব্যাখ্যা

দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পন নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে ছাপার জন্য প্রকাশক রেভারেন্ড লঙ নামক এক পাদ্রিকে আদালতে ১০০০ টাকা জরিমানা করা হয়; কারণ অনুবাদে অনুবাদকের নাম উল্লেখ ছিলোনা। পরে সেই জরিমানা কালিপ্রসন্ন সিংহ আদালতে নিজে হাজির হয়ে পরিশোধ করে দেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯,০৯২.
‘অনল প্রবাহ’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. সোমেন চন্দ
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

‘অনল প্রবাহ’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। 

অনল প্রবাহ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য।
- ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে মোট নয়টি কবিতা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী একজন লেখক, বাগ্মী ও কৃষক নেতা।
- জন্ম: ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই, সিরাজগঞ্জ জেলা।
- তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত।

রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- অনল প্রবাহ,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী,
- প্রেমাঞ্জলি। 

প্রবন্ধসমূহ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা। 

ভ্রমণ কাহিনী:
- তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,০৯৩.
‘কালিকলম’ পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. মুরলীধর বসু
  2. শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম। যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,০৯৪.
'দুর্মর' সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতা?
  1. ঘুম নেই
  2. হরতাল
  3. ছাড়পত্র
  4. পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা

• 'দুর্মর' সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'পূর্বাভাস' কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা। 'পূর্বাভাস' কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা 'দুর্মর' তেভাগা আন্দোলনের পটভূমিকায় লেখা।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁকে কিশোরকবি বলা হয়।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- অভিযান,
- মিঠেকড়া,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৯,০৯৫.
'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের মূল বিষয় কী?
  1. শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা
  2. ঐতিহাসিক যুদ্ধের কাহিনি
  3. বাংলার শহরজীবনের সমস্যা
  4. যুবক-যুবতীর অভিশপ্ত প্রেমকাহিনি
ব্যাখ্যা

'পল্লীসমাজ' উপন্যাস:
- রমেশ ও রমা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পল্লীসমাজ উপন্যাসের চরিত্র।
- পল্লীসমাজ (১৯১৬) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
- বাংলার পল্লীসমাজের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় এক আদর্শবাদী যুবক-যুবতীর সম্পর্ক ও বিশেষ করে তাদের অভিশপ্ত প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- ১৯১৫ সালে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,০৯৬.
'মুহূর্তের কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমেদ। তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি।
মুহূর্তের কবিতা তাঁর সনেট সংকলন, নৌফেল ও হাতেম তাঁর রচিত কাব্যনাট্য এবং হাতেম তায়ী কাহিনীকাব্য। নতুন লেখা, সিন্দাবাদ, হাবেদা মরুর কাহিনী, সিরাজাম মুনীরা তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৯,০৯৭.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  2. যে অরণ্যে আলো নেই
  3. দুয়ে দুয়ে চার
  4. সূর্যাস্তের পর
ব্যাখ্যা

নীলিমা ইব্রাহিম:
- ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- ২০০২ সালের ১৮ জুন মৃত্যু বরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর

তাঁর আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,০৯৮.
'নিষেধের বিড়ম্বনা' প্রবন্ধের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল হুসেন
  2. খ) কামিনী রায়
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
বাঙলার নদীর সমস্যা, শতকরা পঁয়তাল্লিশের জের, নিষেধের বিড়ম্বনা, বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি প্রবন্ধের রচয়িতা আবুল হুসেন। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৯,০৯৯.
প্রেমেন্দ্র মিত্রের কাব্য কোনটি?
  1. প্রথমা
  2. সম্রাট
  3. ফেরারী ফৌজ
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
• প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- প্রথমা,
- সম্রাট,
- ফেরারী ফৌজ,
- সাগর থেকে ফেরা,
- হরিণ চিতা চিল,
- কখনো মেঘ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা, 
- মিছিল, 
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি। 
 
উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,১০০.
'ফেলুদা' কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আবু ইসহাক 
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র 'ফেলুদা' এর স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়।

• ফেলুদা সিরিজ:
- ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসের সন্দেশ পত্রিকায় ফেলুদা সিরিজের প্রথম গল্প ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির প্রথমভাগ প্রকাশিত হয় যা পরের আরো দুইটি সংখ্যার মাধ্যমে শেষ হয়। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত এই সিরিজের মোট ৩৫টি সম্পূর্ণ ও চারটি অসম্পূর্ণ গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।

- ফেলুদার প্রধান সহকারী তার খুড়তুতো ভাই তপেশরঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে ও লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি (ছদ্মনাম জটায়ু)।
- ফেলুদার চরিত্র নির্মাণে সত্যজিৎ রায় তার ছোটবেলায় পড়া শার্লক হোমস এর গোয়েন্দা গল্পের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।

- তাই ফেলুদার চরিত্রের সাথে অনেক জায়গায় আমরা হোমসের আর ফেলুদার ভাই ও সহকারী তোপসের সাথে হোমসের সহকারী ওয়াটসনের মিল পাওয়া যায়। নিজের লেখা অধিকাংশ গল্পের বইয়ের মতই ফেলুদার বইতেও সত্যজিৎ রায় নিজেই প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করতেন।

অন্যদিকে,
- শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসিদ্ধতম সৃষ্টি হলো গোয়েন্দা চরিত্র সত্যান্বেষী- ব্যোমকেশ বক্সী।
- 'টেনিদা' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অমর সৃষ্টি।

উৎস: 'ফেলুদা সিরিজ' এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।