বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৮৬ / ১৭৪ · ৮,৫০১৮,৬০০ / ১৭,৪৩৭

৮,৫০১.
বাংলাদেশে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) নুরুল মোমেন
  2. খ) আকসার সাইখ
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
- সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি করুণ রসাত্মক।
- এক অপরিসীম যন্ত্রনাদগ্ধ পরিণতির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে রচনাটি।
- ট্র্যাজেডি সদৃশ বেদনা বহতা এই নাটকে বিদ্যমান।
- নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র সিরাজের ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞা একইভাবে ট্র্যাজিডির শিল্পমানকে স্পর্শ করেছে।


সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৯-১৯৭৫):
সাহিত্যিক, সাংবাদিক সিকান্দার আবু জাফর এর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।


তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
উপন্যাস
- পূরবী,
- নতুন সকাল;


ছোটগল্প
- মাটি আর অশ্রু,
- কবিতা প্রসন্ন শহর,
- তিমিরান্তিক,
- বৈরী বৃষ্টিতে,
- বৃশ্চিক-লগ্ন,
- বাংলা ছাড়ো;


নাটক
- সিরাজ-উদ-দৌলা,
- মহাকবি আলাউল।


আবু জাফর অনুবাদক হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস,
- সেন্ট লুইয়ের সেতু,
- রুবাইয়াৎ : ওমর খৈয়াম  ইত্যাদি।


উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৮,৫০২.
‘চাচা কাহিনী’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'চাচা- কাহিনী' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি ছোটগল্প।

• সৈয়দ মুজতবা আলী
- সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল 'দেশে-বিদেশে' ভ্রমণকাহিনী।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫০৩.
নুরুল মোমেন রচিত 'নেমেসিস' কোন জাতীয় রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. কাব্য
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• নুরুল মোমেন রচিত 'নেমেসিস' একটি নাটক। 
------------------------
• 'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে ‘নেমেসিস’ উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী। 
-------------------- 
• নুরুল মোমেন: 
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। 

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৮,৫০৪.
বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম মহাকাব্য কোনটি?
  1. ক) বৃত্রসংহার
  2. খ) অনলপ্রবাহ
  3. গ) রৈবতক
  4. ঘ) মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদকে প্রথম বাঙালি মুসলমান মহাকাব্য রচয়িতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম মহাকাব্য।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৪ সালে।
- এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
- মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খন্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৫০৫.
‘মরমী কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. সুলতানা মিয়াজী
  2. হাছন রাজা
  3. আলাওল
  4. আলাউদ্দিন খাঁ
ব্যাখ্যা
হাছন রাজা:
- ১২৬১ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ (১৮৫৪ সালের ২৪ জানুয়ারি) সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মরমি কবি, সাধক।
- তাঁর প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী।
- তিনি সহজ-সরল সুরে আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় এক হাজার আধ্যাত্মিক গান রচনা করেন। 
- হাসন রাজা ছিলেন একজন ঐশীপ্রেমী এবং সেই প্রেমে মাতোয়ারা হয়েই তিনি গান রচনা করতেন।
- তিনি গানের ভণিতায় নিজেকে ‘পাগলা হাছন রাজা’, ‘উদাসী’, ‘দেওয়ানা’,  ‘বাউলা’ ইত্যাদি বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার ভারতীয় দর্শন কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন, ‘পূর্ববঙ্গের একজন গ্রাম্য কবির গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তিস্বরূপের সহিত সম্বন্ধসূত্রেই বিশ্ব সত্য।’
- তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত গান -
• আঁখি মঞ্জিয়া দেখ রূপ রে,
• আগুন লাগাইয়া দিল কুনে, হাছন রাজার মনে,
• সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইলো,
• নিশা লাগিল রে বাঁকা দুই নয়নে।
- উদাস হাছন (১৯০৭), শৌখিন বাহার, হাছন বাহার ইত্যাদি গ্রন্থে তাঁর গানগুলি সংকলিত হয়েছে।
- ১৯২২ সালের ৭ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'উদাস হাছন' গ্রন্থ।
৮,৫০৬.
'বছির' কোন উপন্যাসের একটি বিখ্যাত চরিত্র? 
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. পদ্মা নদীর মাঝি
  3. বোবাকাহিনী
  4. তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা

- 'বছির' জসীম উদ্দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) উপন্যাসের একটি বিখ্যাত চরিত্র। 

• বোবা কাহিনী:

- জসীম উদ্দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• জসীম উদ্দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

অন্যদিকে,
- 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র - আরেফ আলী।
- 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র - কুবের, কপিলা, মালা ও হোসেন মিয়া।
- 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র - কিশোর, বাসন্তী, অনন্ত ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া। 

৮,৫০৭.
‘পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. কালি ও কলম
  2. ভারতবর্ষ
  3. দেশ
  4. পূর্বাশা 
ব্যাখ্যা

 ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
-  ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।  
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং পদ্মানদীর মাঝি।

৮,৫০৮.
কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের ‘শাহ’ উপাধি থেকে অনুমান করা যায় যে, ......
  1. ক) সুলতানী আমলের কবি
  2. খ) তিনি দরবেশ বংশের জাত
  3. গ) তিনি রাজকর্মচারী ছিলেন
  4. ঘ) তিনি পারস্যের অধিবাসী ছিলেন
ব্যাখ্যা

শাহ মুহম্মদ সগীর (আনু. ১৪শ-১৫শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি। তাঁর রচিত ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্ত্ততি আছে। এ থেকে তাঁর আবির্ভাব কাল চৌদ্দ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগ বলে অনুমান করা হয়। তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।

মধ্যযুগের কাব্যের কবিগণের যে আত্মবিবরণি দেখা যায় তার কাব্যে তা অনুপস্থিত। কবি রাজবন্দনা করলেও কাব্যে তার কোন ব্যক্তিগত পরিচয় পাওয়া যায় নি। 

তার নামের শাহ উপাধি থেকে অনুমান করা যায় যে তিনি কোন দরবেশ বংশে জন্মেছিলেন। তার কাব্যে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক শব্দ দেখে তাকে চট্টগ্রামের অধিবাসী বলে বিবেচনা করেছেন ড. মুহম্মদ এনামুল হক।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম

৮,৫০৯.
তমদ্দুন মজলিশের মুখপাত্র হিসেবে কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো?
  1. মোহাম্মদী
  2. শিখা
  3. সৈনিক
  4. মিল্লাত
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন হলো তমদ্দুন মজলিশ।
- এটি ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেম এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর সাপ্তাহিক ''সৈনিক'' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক মণ্ডলীর প্রথম সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী।
- পরবর্তীতে সভাপতি হন আবদুল গফুর।
- এটি আজিমপুর থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
- শিখা পত্রিকা বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন এবং
- মিল্লাত পত্রিকা বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের উদ্যোগে প্রকাশিত হতো।

সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯
৮,৫১০.
‘আমি কি ডরাই সখি ভিখারী রাঘবে?’- পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
'রাবণ শ্বশুর মম, মেঘনাদ স্বামী,
আমি কি ডরাই, সখি, ভিখারী রাঘবে?’
- পঙ্‌ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত মেঘনাদবধ (১৮৬১) কাব্যের অন্তর্গত।

- বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকাব্য এটি।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত কাব্যের সর্গ সংখ্যা ৯।
- এই মহাকাব্যের কাহিনীর উৎস সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ।
- প্রধান চরিত্র: মেঘনাদ (ইন্দ্রজিৎ), প্রমিলা, রাবণ, বিভীষণ ইত্যাদি।
- অরিন্দম বলতে রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎ কে বোঝায়।
- যুদ্ধের সময় পশ্চিম দুয়ারে রক্ষক হিসেবে ছিলেন দাশরথি।

• আমি কি ডরাই সখি ভিখারী রাঘবে? এখানে রাঘব বলতে রামকে বোঝানো হয়েছে।
আলোচিত লাইনগুলো - মেঘনাদের স্ত্রী প্রমীলার উদ্ধৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)
৮,৫১১.
লালসালু কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. ক) আঞ্চলিক
  2. খ) সামাজিক
  3. গ) ঐতিহাসিক
  4. ঘ) আধ্যাত্মিক
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- এর মূলবিষয় হলো ধর্ম নিয়ে ব্যাক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা।
- অর্থাৎ, এটি একটি সামাজিক উপন্যাস।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮,৫১২.
'নিগ্রো সাহিত্য' প্রবন্ধগ্রন্থের লেখক কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. মুনীর চৌধুরী 
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা

• সেলিম আল দীন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ ।
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:

- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন,

- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫১৩.
'ধনপতি' কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. ক) চণ্ডীমঙ্গল
  2. খ) মনসামঙ্গল
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা।
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 

- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও  ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- কালক্রমে শিবঠাকুরও মঙ্গলকাব্যের বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং তৎকেন্দ্রিক কাব্যধারার নাম শিবায়ন বা শিবমঙ্গল।

⇒ চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- চণ্ডী দেবীর কাহিনী এর উপজীব্য। এই চণ্ডীদেবীও মূলত অনার্যসম্ভূতা, পরে বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রের দেবকল্পনার প্রভাবে পর্যায়ক্রমে পৌরাণিক দেবতায় পরিণত হন। 

এই কাব্যের বিষয়বস্তু দুটি সামাজিক কাহিনিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। যথা:
১. প্রথমটি কালকেতু-ফুল্লরার জীবনকথা এবং
২. দ্বিতীয়টি ধনপতি-লহনা-খুল্লনার কাহিনি। 

- চণ্ডীমঙ্গলের আদি কবি মাণিক দত্ত। তিনি মালদহের লোক ছিলেন বলে মনে করা হয় এবং তিনি ছিলেন চৈতন্যপূর্বযুগের কবি।
- তাঁর কাব্যের একটি অনুলিপির কাল ১৭৮৫ খ্রিষ্টাব্দ।
- চণ্ডীমঙ্গলের দুজন শ্রেষ্ঠ কবি হলেন দ্বিজ মাধব ও  মুকুন্দরাম। দুজনই ষোলো শতকের কবি এবং এঁদের হাতেই চণ্ডীমঙ্গল মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- দুজনের কাব্যই বৈষ্ণব ভাবাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত। দ্বিজ মাধবের কাব্যের রচনাকাল ১৫৭৯ খ্রিষ্টাব্দ। এতে চণ্ডীমঙ্গলের কাহিনি সুনির্দিষ্ট রূপ লাভ করেছে এবং বৈষ্ণব পদাবলির অনুসরণে ছোট ছোট গীতিকবিতা সন্নিবিষ্ট হয়েছে।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৫১৪.
'পাঠকের মৃত্যু'-এর রচয়িতা বনফুলের প্রকৃত নাম-
  1. রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
• লেখক হিসেবে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় হাজারেরও বেশি কবিতা, ৫৮৬টি ছোট গল্প, ৬০টি উপন্যাস, ৫টি নাটক, জীবনী ছাড়াও অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার রচনাবলীসমগ্র ২২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে ।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'বনফুল'।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় নাটক রচনাতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রহসন, একাঙ্কিকা, চিত্রনাট্য, নাটিকা ছাড়াও তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনচরিত অবলম্বন করে নাটক রচনা করেন, যাতে পাওয়া যায় তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার অপর একটি ভিন্ন রূপের পরিচয়।

• উনিশ শতকের দুই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নিয়ে লেখা তাঁর নাটক, শ্রীমধুসূদন (১৯৪০) ও বিদ্যাসাগর (১৯৪১)।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এ দুটি নাটকের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে এঁদের ব্যাপকভাবে ও যথার্থরূপে পরিচিত করিয়ে দেন।
• বাংলা সাহিত্যে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়কে বলা যেতে পারে এ ধারার নাটক রচনার পথিকৃৎ।

• ‘পাঠকের মৃত্যু’ বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত গল্প।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প,
- বিন্দুবিসর্গ,
- অদৃশ্যলোকে,
- তন্বী,
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী,
- বহুবর্ণ,
- বনফুলের নতুন গল্প প্রভৃতি।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫১৫.
যুগসন্ধিকালের সময়সীমা ছিল-
  1. ৭০ বছর 
  2. ৮০ বছর 
  3. ১০০ বছর 
  4. ১৫০ বছর 
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধিকাল:
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই ১০০ বছরকে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়। উনিশ শতকের প্রথম থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত।

- মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

- এই যুগের প্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি যুগসন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিত। বাংলা সাহিত্যের মধ্য ও আধুনিক যুগের সন্ধিস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি সব্যসাচীর মত দু হাতে দু দিকের নির্দেশ দিয়েছেন।

- মধ্যযুগের অবসানের পর এবং আধুনিক যুগের যথার্থ সূত্রপাতের পূর্বে কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কাব্য সাধনায় খ্যাতিলাভকরেন।

- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের মৃত্যু ঘটে ১৭৬০ সালে, আবার আধুনিক যুগ স্বকীয় বৈশিষ্ট্য সহকারে প্রকাশ পায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যসৃষ্টির মাধ্যমে মোটামুটি ১৮৬০ সাল থেকে।  এই দুই যুগের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলা কাব্যের ক্ষেত্রে তেমন কোন উৎকর্ষপূর্ণ সৃষ্টি বা সৃষ্টিসম্ভারের বৈচিত্র্য ও প্রাচুর্য পরিলক্ষিত হয় না।

- তখন বাংলা গদ্যরীতির উদ্ভবের কাল; সাহিত্যের যথার্থ বাহনের উপযোগিতা বাংলা গদ্য তখনও অর্জন করতে পারে নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫১৬.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. মেঘমল্লার
  2. পথের পাঁচালী
  3. যাত্রাবদল
  4. আদর্শ হিন্দু হোটেল
ব্যাখ্যা
• "পথের পাঁচালী" উপন্যাস:
- "পথের পাঁচালী" (১৯২৯) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস এবং অনেকের মতে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'বিচিত্রা' পত্রিকায়। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশালয়, কলকাতা থেকে।

- এই কাহিনির পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত, মানুষের জীবন। । এর প্রধান অংশই হলো একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয়। প্রত্যেকটি আপাততুচ্ছ বিষয় ও ঘটনা নিয়ে আসে রহস্য ও সৌন্দর্যের আভাস, সবই মূল্যবান ও আনন্দময়।

- এর তিনটি ভাগ: বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রুর সংবাদ।

- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু। উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড 'অপরাজিত' (১৯৩১)। দ্বিতীয় অংশে অপুর কৈশোর ও যৌবনের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

- 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। পথের পাঁচালী উপন্যাসটি ভারতীয় বিভিন্ন ভাষাসহ ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

'পথের পাঁচালী উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

------------------
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- মেঘমল্লার (১৯৩১),
- অশনি সংকেত,
- যাত্রাবদল (১৯৩৪)
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল (১৯৪০),
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫১৭.
'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থটির রচনাকার কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. সুকুমার সেন
  3. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ড. মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা
• 'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৯৩৬ সালে কলকাতার রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:

- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ,
- পশ্চিমের যাত্রী,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫১৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. জ্ঞানাঙ্কুর
  2. প্রতিবিম্ব
  3. ভারতী
  4. পরিচয়
ব্যাখ্যা
'কবি-কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'কবি-কাহিনী'। এটি একটি কাব্যগ্রন্থ।
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র ১২৮৪ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় এর কবিতাগুলো ছাপা হয়। 
- ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দেই কবিতাগুলো নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। 
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা নলিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫১৯.
'জ্ঞানতাপস' নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন-
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. বদরুদ্দীন ওমর
  3.  মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4.  গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫২০.
কার সম্পাদনায় ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা প্রকাশিত হতো?
  1. আবুল কালাম আজাদ
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
- ‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫২১.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বন্দি শিবির থেকে
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
  4. প্রিয়যোদ্ধা প্রিয়তম
ব্যাখ্যা

• 'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন। সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা "বন্দী শিবির থেকে" কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে 'পূর্বলেখ' শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি,
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'নেকড়ে অরণ্য' হলো শওকত ওসমান রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, যা ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও নারীর ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে।

• 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' উপন্যাসের রচয়িতা শহীদুল জহির। এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। দর্শনের প্রয়োগ এবং কর্মের নতুনত্বের সাথে টানাগদ্যে রচিত ভিন্নমাত্রার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটিকে অনেকে প্রবন্ধ ভেবে ভুল করেন।

• হারুন হাবীব তার 'প্রিয়যোদ্ধা প্রিয়তম' (১৯৮২) উপন্যাসে বাংলাদেশ এবং যুগশ্লাভিয়ার মুক্তি সংগ্রামকে অভিন্ন বোধ-বিশ্বাস ও ভাবনার প্রতীকরূপে উপস্থাপন করেছেন।

-------------
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত। তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৫২২.
'বীরবল' ছদ্মনামটি কার?  
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় 
  3. মধুসূধন মজুমদার
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ছিলেন একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, কবি এবং লেখক।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন জমিদার।
- তাঁর ছদ্মনাম হচ্ছে- বীরবল।
- তিনি নিজেকে “বাংলা সাহিত্যের বীরবল” হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইয়ের মেয়ে ইন্দ্রাদেবীকে বিয়ে করেন।
- তিনি সবুজপত্র পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯১৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- তিনি মাসিক সবুজপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির সূচনা করেন, যা তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ কীর্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা-
• কাব্যগ্রন্থ: সনেট পঞ্চাশৎ।
• গল্পগ্রন্থ: নীললোহিত ও চার ইয়ারি কথা।
• প্রবন্ধগ্রন্থ: তেল নুন লকড়ি ও বীরবলের হালখাতা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৮,৫২৩.
'দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?'- বিখ্যাত উক্তিটি কে করেছেন?
  1. মতিলাল
  2. ঠকচাচা
  3. শোভনলাল
  4. বাবুরামবাবু
ব্যাখ্যা
• আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- তার আগে ১৮৫৪ সাল থেকে ‘মাসিক পত্রিকা’তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- 'দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?' উপন্যাসে উক্তিটি বলেছেন ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫২৪.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. ক) হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. খ) পায়ের আওয়াজ পাওয়ার যায়
  3. গ) আগুনের পরশমণি
  4. ঘ) অনিল বাগচির একদিন
ব্যাখ্যা
• পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য।
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে |
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

অন্যদিকে,
• কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচির একদিন।
• সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস “হাঙর নদী গ্রেনেড”।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫২৫.
বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় কাকে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮,৫২৬.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ কোন বিখ্যাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) কল্লোল
  2. খ) তত্ত্ববোধিনী
  3. গ) সবুজপত্র
  4. ঘ) বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ বিখ্যাত কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম। 
- ১৯৭০ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সভাপতি নির্বাচিত হন।
- প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। 
- তারাশঙ্কর প্রায় দুশ গ্রন্থ রচনা করেন।

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি 
- ধাত্রীদেবতা 
- কালিন্দী 
- গণদেবতা 
- পঞ্চগ্রাম 
- কবি 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা 
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থ:
-  বেদে,  
- পটুয়া,
- মালাকার,
- লাঠিয়াল,
- চৌকিদার,  
- বাগদী,
- বোষ্টম,  
- ডোম ইত্যাদি।
ছোটগল্প:
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৫২৭.
বুদ্ধদেব বসু জন্মগ্রহণ করেন -
  1. ঢাকায়
  2. বরিশালে
  3. কুমিল্লায়
  4. কলকাতায়
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫২৮.
'আনোয়ারা' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. ক) মশাররফ হোসেন
  2. খ) নজিবর রহমান
  3. গ) মোজাম্মেল হক
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন রচিত উপন্যাসঃ
- আনোয়ারা,
- প্রেমের সমাধি,
- গরিবের মেয়ে,
- মেহেরুন্নিসা,
- পরিণাম,
- দুনিয়া আর চাই না,
- চাঁদতারা বা হাসন গঙ্গাবাহমতি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৮,৫২৯.
'কিত্তনখোলা' নাটকটি কার রচনা?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. নুরুল মোমেন
  3. সেলিম আল দীন
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'কিত্তনখোলা' নাটক:
- 'কিত্তনখোলা' নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন।
- জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম তাঁর 'কিত্তনখোলা'। 'কিত্তনখোলা' রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- 'কিত্তনখোলা' হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'কিত্তনখোলা' নাটক।
৮,৫৩০.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ-
  1. সাম্যবাদী
  2. রুদ্র-মঙ্গল
  3. মানুষ
  4. নারী
  5. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
• ‘রুদ্র-মঙ্গল’ - কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

• রুদ্র-মঙ্গল:
- ‘রুদ্র-মঙ্গল’কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
• কাজী নজরুল ইসলামের 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থে মোট আটটি প্রবন্ধ রয়েছে। 
এগুলো হলো:
- রুদ্রমঙ্গল,
- আমার পথ,
- মোহররম,
- বিষবাণী,
- ক্ষুদিরামের মা,
- ধূমকেতুর পথ,
- মন্দির মসজিদ এবং
- হিন্দু-মুসলমান।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ 'সাম্যবাদী'।
- কাজী নজরুল ইসলাম-এর কবিতা - মানুষ; নারী | 
- কাজী নজরুল ইসলামের রচিত উপন্যাস 'কুহেলিকা'।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৩১.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচিয়তা কে ?
  1. ক) নাথিলিয়েন ব্রাশি হ্যালহেড
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ। মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেনি।
১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
গ্রন্থ দুটি হলো :
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ
এর মধ্যে ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ গ্রন্থে একটি অধ্যায়ে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন। তাই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচিয়তা।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

৮,৫৩২.
কাজী ইমদাদুল হক রচিত আঁখিজল কি ধরণের গ্রন্থ?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) শিশুতোষ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
- কাজী ইমদাদুল হক (১৮৮২-১৯২৬): শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক'।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
কাব্য- আঁখিজল (১৯০০), লতিকা।
প্রবন্ধ- প্রবন্ধমালা (১৯১৮)।
শিশুতোষ গ্রন্থ- নবীকাহিনী (১৯১৭)।
উপন্যাস- ‘আবদুল্লাহ' (১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন এবং উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়)।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৩৩.
'এর উপায় কি?' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রহসন
  2. উপন্যাস 
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'এর উপায় কি?' প্রহসন:
- এটি মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল- লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
- এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৩৪.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত ‘বসন্তকুমারী’ নাটকটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৭৩ সালে
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৬৫ সালে
  4. ১৮৭২ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বসন্তকুমারী’ নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
-  ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম ‘বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা’।
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।

=============
• মীর মশাররফ হোসেন:
- তিনি ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। 
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' (১৮৩১) ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ  ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। 
- মীর মশাররফ হোসেন 'আজীজননেহার' (১৮৭৪) ও 'হিতকরী' (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ হোসেন 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- বাংলা সাহিত্যে মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাস 'রত্নবতী' ও নাটক 'বসন্তকুমারী' তাঁর রচনা।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রত্নবতী,
- বিষাদ-সিন্ধু,
- উদাসীন পথিকের মনের কথা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৩৫.
কোনটি মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত উপন্যাস?
  1. ফিরোজা বেগম
  2. আব্দুল্লাহ
  3. জোহরা
  4. গরীবের মেয়ে
ব্যাখ্যা

'গরীবের মেয়ে' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'আনোয়ারা'।

নজিবর রহমান রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস;
- প্রেমের সমাধি
- পরিণাম
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি
- দুনিয়া আর চাই না
- মেহেরউন্নিসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৮,৫৩৬.
'আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে'- চরণটি জাতীয় জীবনের কোন দিকটি তুলে ধরেছে?
  1. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  2. বঙ্গভঙ্গ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতা:
- কবিতাটি শামসুর রাহমান রচিত 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- “ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯” সংগ্রামী চেতনার কবিতা, দেশপ্রেমের কবিতা, গণজাগরণের কবিতা।
- কবিতাটি গদ্যছন্দে ও প্রবহমান ভাষায় রচিত।
- ১৯৬৯-এ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে যে গণআন্দোলনের সূচনা ঘটেছিল, কবিতাটি সেই গণজাগরণের পটভূমিতে রচিত। তবে কবিতাটিতে একুশের রক্তঝরা দিনগুলোতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের সংগ্রামী মানুষের আত্মাহুতির মাহাত্ম্যে কথারও উল্লেখ রয়েছে। 
- 'আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে'- চরণটি আমাদের জাতীয় জীবনের ভাষা আন্দোলনের দিকটি তুলে ধরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতা।
৮,৫৩৭.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. হেনরি ডিরোজিও
  3. জেম্স অগাস্টাস হিকি
  4. উইলিয়াম জোন্স
ব্যাখ্যা

'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৫৩৮.
নির্মলেন্দু গুণ রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. চিরকালের বাঁশি
  2. অন্তর্জাল
  3. ইসক্রা
  4. নেই কেন সেই পাখি
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ রচিত ছােটগল্প :
- আপনদলের মানুষ (১৯৭৬),
- অন্তর্জাল (২০০৫)।

• নির্মলেন্দু গুণ:
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী। তাঁর ডাক নাম 'রতন' এবং প্রিয়জনেরা তাকে 'রতু' বলে ডাকেন।
- তাকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই, 
- না প্রেমিক না বিপ্লবী, 
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী, 
- ও বন্ধু আমার, 
- নেই কেন সেই পাখি, 
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র, 
- চাষাভূষার কাব্য, 
- পৃথিবীজোড়া গান,
- চিরকালের বাঁশি, 
- ইসক্রা, 
- দূর হ দুঃশাসন।
- দুঃখ করো না, বাঁচো,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- মুজিব- লেনিন -ইন্দিরা ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- আপনদলের মানুষ,
- অন্তর্জাল।
 
• তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।
 
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৩৯.
‘কোনো খেদ নেই’ রফিক আজাদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. শিশুতোষ গ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• রফিক আজাদের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘কোনো খেদ নেই’।

• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত রচনাসমূহ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৪০.
শামসুর রাহমানের আত্মজীবনীমূলক রচনা কোনটি?
  1. রোদ্র করোটিতে
  2. প্রেমের কবিতা
  3. কালের ধূলোয় লেখা 
  4. প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমানের আত্মজীবনীমূলক রচনা হচ্ছে কালের ধূলোয় লেখা। 

শামসুর রাহমান
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর, পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ছিল ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- তিনি ১৮ আগস্ট ২০০৬ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
- মৃত্যুর পূর্বে তার মোট ৬৫টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (১৯৬০),
- রোদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শোকসভা,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- প্রেমের কবিতা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়, ইত্যাদি। 

উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়। 

আত্মস্মৃতি:
- স্মৃতির শহর,
- কালের ধূলোয় লেখা। 

প্রাপ্ত পুরস্কার:
শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য নিম্নলিখিত সম্মান লাভ করেন:
- আদমজী পুরস্কার (১৯৬৩),
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৯),
- একুশে পদক (১৯৭৭)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫৪১.
মহাকবি কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) মহাশ্মশান
  2. খ) অশ্রুমালা
  3. গ) বিরহ বিলাপ
  4. ঘ) অমিয়ধারা
ব্যাখ্যা

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি - কায়কোবাদ। তার প্রকৃত নাম - কাজেম আল কোরেশী।
তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - 'বিরহ-বিলাপ'
তার অন্যান্য রচনা -
মহাকাব্য - মহাশ্মশান (১৯০৫)
গীতিকাব্য - অশ্রুমালা (১৮৯৫)
এছাড়াও তিনি -
কুসুমকানন, শিবমন্দির, অমিয়ধারা ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৫৪২.
‘কিত্তনখােলা’ নাটকটির বিষয়-
  1. যন্ত্রণাদগ্ধ শহরজীবন
  2. স্নিগ্ধ-শ্যামল প্রকৃতির রূপ
  3. লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
  4. দেশবিভাগজনিত জীবন যন্ত্রণা
ব্যাখ্যা
• ‘কিত্তনখােলা’ নাটক:
- ‘কিত্তনখােলা’ নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন।
- জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম তাঁর ‘কিত্তনখোলা’। ‘কিত্তনখোলা’ রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। - মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- ‘কিত্তনখোলা’ হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

-----------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘কিত্তনখোলা’ নাটক।
৮,৫৪৩.
'পাখির বাসা' গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কায়কোবাদ
  3. বেগম রোকেয়া
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• শিশুতোষ গ্রন্থ 'পাখির বাসা' এর রচয়িতা - ফররুখ আহমদ।
- এটি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।

ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ‘সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪) ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর রচিত কাব্যনাট্য 'নৌফেল ও হাতেম' (১৯৬১)।
- ‘মুহূর্তের কবিতা' (১৯৬৩) তাঁর রচিত একটি সনেট সংকলন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনিকাব্য 'হাতেম তায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,

৮,৫৪৪.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক কোনটি?
  1. (পদ্মাবতী) আলাওল 
  2. (বসন্তকুমারী) মীর মশাররফ হোসেনে
  3. (কিত্তনখোলা) সেলিম আল দীন
  4. (রক্তাক্ত প্রান্তর) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'বসন্তকুমারী নাটক':
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক' (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য। এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।

- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র, পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু-এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী' নাটক রচিত।

- নাটকটির অপর নাম 'বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা'- কাহিনির তাৎপর্য প্রকাশক। মানুষের দেহাশ্রিত কামনাবাসনার যে বিচিত্র অভিব্যক্তি আধুনিক বাংলা সাহিত্যে রূপ পরিগ্রহ করেছে 'বসন্তকুমারী' নাটকে তা প্রকাশের মাধ্যমে মীর মশাররফ হোসেন মুসলমান সাহিত্যিকগণের মধ্যে পথিকৃৎ হয়ে রয়েছেন।

- কাহিনি গ্রন্থনের সুসংবদ্ধতা, সংলাপের বিচিত্র চাতুরী এবং সর্বাঙ্গীন প্রাণবন্ত ভাবপরিমণ্ডল এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যের জন্য নাটকটির স্বাতন্ত্র্য বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৮,৫৪৫.
'সুবচন নির্বাসনে' আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
শপথ, সুবচন নির্বাসনে, এখন দুঃসময়, এবার ধরা দাও, শাহজাদীর কালো নেকাব, চারদিকে যুদ্ধ, কোকিলারা, এখনও ক্রীতদাস, মেরাজ ফকিরের মা - ইত্যাদি নাটকের রচয়িতা আবদুল্লাহ আল মামুন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৪৬.
'আবু শরিয়া' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন কোন লেখক?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম 
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মীর মশাররফ হোসেন 
ব্যাখ্যা

'আবু শরিয়া' (Abu Sharia) ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন বিখ্যাত ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও কূটনীতিবিদ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। তিনি এই ছদ্মনামে ইংরেজিতে কিছু উপন্যাস ও উপন্যাসিকাও লিখেছেন, যেমন—'The Ugly Asian' (কদর্য এশীয়) এবং 'How Does One Cook Beans' (শিম কীভাবে রান্না করতে হয়)। 

---------------------
• ‘শিম কিভাবে রান্না করতে হয়’:

- ‘শিম কিভাবে রান্না করতে হয়’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র ইংরেজী ভাষায় লিখিত স্যাটায়ার ‘How does one cook beans' এর বাংলা অনুবাদ। - রচনাটির একটি subtitle বা উপশিরোনাম আছে, 'এক এশীয়র ফ্রান্স অভিযান'।
- আমাদের এশীয়দের চোখে ইয়োরোপীয়দের অনেক আচরণই অদ্ভুত, বেমানান এমনকি পাগলাটে মনে হয়। যে সুবিশাল ভৌগোলিক দূরত্ব এই দু অঞ্চলের মাঝে হাত পা মেলে শুয়ে আছে, তাতে করে সমাজ সংস্কৃতির এ পার্থ্যকটা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ইয়োরোপীয়দের দৈনন্দিন নানা আচার ব্যবহার এক ফ্রান্স বেড়াতে যাওয়া এশীয় যুবকের চোখে কেমন ঠেকে তা-ই মূলত ‘শিম কিভাবে রান্না করতে হয়’ ব্যঙ্গাত্নক রচনাটির উপজীব্য।
- ওয়ালীউল্লাহ্ এই লেখাটি আবু শরিয়া ছদ্মনামে লেখেন। শিবব্রত বর্মনের অনুবাদে লেখাটি প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো- 
• নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

 • উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা। 
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

অন্যদিকে, 
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রধান ছদ্মনামগুলো হলো ধূমকেতু (তাঁর সম্পাদিত পত্রিকার নাম) এবং তাঁর ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া, এছাড়াও তিনি নুরু, তারাখ্যাপা, খুদে, ওস্তাদ, ব্যাঙাচি ইত্যাদি নামেও পরিচিত ছিলেন, তবে ধূমকেতু ছদ্মনামটি তার সাহিত্যকর্মে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত ছদ্মনামগুলো হলো সত্যপীর, ওমর খৈয়াম, প্রিয়দর্শী, টেকচাঁদ এবং মুসাফির, যা তিনি 'দেশ', 'আনন্দবাজার', 'বসুমতী'সহ বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখির সময় ব্যবহার করতেন।  

• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন- গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়াঁ এবং উদাসীন পথিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘শিম কিভাবে রান্না করতে হয়’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৫৪৭.
অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণকাহিনি নিয়ে রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. দেশে বিদেশে
  2. পশ্চিমের যাত্রী
  3. বন্দর থেকে বন্দরে
  4. পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা
• 'বন্দর থেকে বন্দরে':
- 'বন্দর থেকে বন্দরে' ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা সানাউল হক।
- ভ্রমনকাহিনিটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়ে বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।
- উনিশ শ পঞ্চাশের দশকের প্রথমে সানাউল হক জাহাজে করে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি থেকে লেখা ভ্রমণকাহিনি 'বন্দর থেকে বন্দরে'।

অন্যদিকে, 
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের "পশ্চিমের যাত্রী” নামে ইউরোপ-ভ্রমণের কথা, ১৩৪২ সালের "প্রবাসী” পত্রিকায় ও ১৩৪২-১৩৪৪ সালের "ভারতবর্ষ” পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম-চতুর্থ অধ্যায় পর্যন্ত “প্রবাসী” প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে এই ভ্রমণ-কাহিনি পুনর্মুদ্রিত হয় ১৩৪৫ সালে। 

• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী। ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালে 'বিচিত্রা' পত্রিকায় অন্নদাশঙ্কর রায়ের ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ভ্রমণকাহিনি 'পথে প্রবাসে' প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে লন্ডন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপ ভ্রমণের চমকপ্রদ বর্ণনা রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৪৮.
'আমার দেখা নয়াচীন' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ২০২০ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০১৮ সালে
ব্যাখ্যা
আমার দেখা নয়াচীন:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা তৃতীয় বই আমার দেখা নয়াচীন।
- প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে।
- এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।
- সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।

উৎস: ১৪ আগস্ট ২০২০, প্রথম আলো।
৮,৫৪৯.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত? 
  1. ধর্মীয় কুসংস্কার
  2. রাজনৈতিক আন্দোলন
  3. সামাজিক বৈষম্য
  4. অর্থনৈতিক সংকট
ব্যাখ্যা

• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাসটির।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্‌' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।

•  কাজী ইমদাদুল হক:
- কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল,
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ),
- নবীকাহিনী ( প্রবন্ধমালা),
- কামারের কান্ড,
- আবদুল্লাহ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 

৮,৫৫০.
''যাহা দিলাম তাহা উজাড় করিয়াই দিলাম। এখন ফিরিয়া তাকাইতে গেলে দুঃখ পাইতে হইবে।” উক্তিটি কার রচনা?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ''যাহা দিলাম তাহা উজাড় করিয়াই দিলাম। এখন ফিরিয়া তাকাইতে গেলে দুঃখ পাইতে হইবে।” - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত।
- উক্তিটি গল্পে গৌরীশংকর বনমালীবাবুকে উদ্দেশ্য করে বলেন।

⇒ 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
• ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।  

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূন্য রোদন। 
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। 
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প- 
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ, 
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৫১.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. পথ অন্তহীন
  2. পুরবাসী
  3. সাম্প্রতিক
  4. মাটির দেয়াল
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ - মাটির দেয়াল

অমিয় চক্রবর্তী:

- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৫২.
"মোর যাদুদের সমাধি পরে" স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত কাব্যগ্রন্থটি কার?
  1. শামসুর রাহমান 
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. সুফিয়া কামাল
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

• "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ:
- "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কবি সুফিয়া কামালের সপ্তম কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোর প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশপ্রেমের কবিতা স্থান পেয়েছে।

• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: কেয়ার কাঁটা। 
• দিনলিপি: একাত্তরের ডায়েরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৫৫৩.
নিচের কোনটি কবি জসীমউদ্দীনের নাট্যগ্রন্থ?
  1. ক) ধানক্ষেত
  2. খ) মধুমালা
  3. গ) খসড়া
  4. ঘ) বালুচর
ব্যাখ্যা
কবি জসিমউদ্‌দীনের কাব্যগ্রন্থ - বালুচর, রাখালী, ধানক্ষেত, রূপবতী। নাট্যগ্রন্থ - পদ্মাপাড়, বেদের মেয়ে, মধূমালা, পল্লীবধূ। অমীয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ - এক মুঠো, খসড়া, মাটির দেয়াল, অভিজ্ঞান বসন্ত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৫৫৪.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পালামৌ ভ্রমণকাহিনী কোন দেশ ভ্রমণের প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ক) সিরিয়া
  2. খ) ইতালি
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) তুরস্ক
ব্যাখ্যা
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পালামৌ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভ্রমণ কাহিনী৷ পালামৌ ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি জেলা৷ এই জেলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার পালামৌ গ্রন্থে তুলে ধরেছেন। এটি প্রথমে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। (সূত্রঃ পালামৌ : সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
৮,৫৫৫.
'নবান্ন' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. সরদার জয়েনউদ্দিন
  3. নুরুল মোমেন
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

'নবান্ন' নাটক: 
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য:
-তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।  
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫৫৬.
বাংলা সমবেত কণ্ঠ সংগীতের প্রবর্তক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. নজিবর রহমান
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. মীর মোশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল হুগলি কলেজ থেকে বিএ এবং  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ (১৮৮৪) পাস করেন।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্যপুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- উনিশ শতকের শেষদিকে এবং বিশ শতকের প্রথমদিকে বাংলা গানের আধুনিকীকরণে যে পঞ্চ গীতিকবি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন, দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁদের অন্যতম।
- রবীন্দ্রযুগে বাংলা কাব্যসঙ্গীতে বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ ও  আধুনিক গান রচনায় তিনি ছিলেন একজন সার্থক রূপকার।

 উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
- কাব্য আর্য্যগাথা,
- মন্দ্র,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

প্রহসন: 
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- ত্র্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

ঐতিহাসিক নাটক:
- তারাবাই,
- রানা প্রতাপসিংহ,
- মেবার-পতন,
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কালিদাস
- ভবভূতি প্রভৃতি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৫৭.
জহির রায়হানের প্রকৃত নাম কী?
  1. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর
  2. মোহাম্মদ রাফিকুল
  3. মোহাম্মদ হুমায়ূন
  4. মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
ব্যাখ্যা

জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ। 

জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক।
- প্রকৃত নাম: মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ.

চলচ্চিত্র কীর্তি:
- প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র: ‘সঙ্গম’।
- পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র: ‘কখনো আসে নি’।
- প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি: ‘বাহানা’।
- চলচ্চিত্র ‘কাঁচের দেয়াল’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।
- ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫৫৮.
'এক মন এক প্রাণ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) রাবেয়া খাতুন
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা রচিত উপন্যাস সমূহ- রূপের নেশা, ভাঙাবুক ও এক মন এক প্রাণ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৫৫৯.
নিচের কোনটি আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ?
  1. ক) পথে প্রবাসে
  2. খ) বিনুর বই
  3. গ) প্রত্যয়
  4. ঘ) আমরা
ব্যাখ্যা

অন্নদাশঙ্কর রায়ের (১৯০৫ - ২০০২) আত্মজীবন তথা আত্মশিল্পমূলক রচনা বিনুর বই
এটি একটি প্রবন্ধ ধরনের গ্রন্থ।
এছাড়াও তার আরো কয়েকটি প্রবন্ধ গ্রন্থ হচ্ছে -
আধুনিকতা, তারুণ্য, জীবনশিল্পী, ইশারা, জীয়ন কাটি, প্রত্যয় ইত্যাদি।
‘পথে প্রবাসে’ – তার বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৫৬০.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘পিণ্ডির প্রলাপ’ কথিকার রচয়িতা ছিলেন কে?
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. তোয়াব খান
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
- স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘পিণ্ডির প্রলাপ’ কথিকার রচয়িতা ছিলেন তোয়াব খান।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অন্যান্য কথিকাসমূহ:
- চরমপত্র (এম আর আখতার মুকুল)
- জনতার সংগ্রাম (রণেশ দাশগুপ্ত, বিপ্রদাস বড়ুয়া প্রমুখ)
- পুতুল নাচের খেল (আবদুল গাফফার চৌধুরী)
- কাঠগড়ার আসামি (মুস্তাফিজুর রহমান)
- রক্তের অক্ষরে লিখি (মোহাম্মদ আবু জাফর)
- সাময়িকী (আবুল কাশেম সন্দ্বীপ)।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : পঞ্চম খণ্ড)
৮,৫৬১.
শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. এলো সে অবেলায়
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. নিয়ত মন্তাজ
  4. অক্টোপাস
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ - বিধ্বস্ত নীলিমা

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৬২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ’দেনাপাওনা' ছোটগল্পের চরিত্র কোনটি?
  1. চারুলতা
  2. সুরবালা
  3. নিরূপমা
  4. মৃন্ময়ী
ব্যাখ্যা
• 'দেনাপাওনা' ছোটগল্প:
- 'দেনাপাওনা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলিত হয়েছে।
- এ গল্পে তৎকালীন হিন্দু সমাজে পণপ্রথার কুফল সম্পর্কে জানা যায় এবং পণপ্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াস উপলব্ধি করা যায়।
- লেখক গল্পটিতে যৌতুক নামক সামাজিক ব্যাধির এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছেন, যা যৌতুক গ্রহণকারীদের প্রতি ঘৃণার জন্ম দেয়।
- 'দেনাপাওনা' গল্পের নায়িকা- নিরূপমার।
-----------------------------------------
অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্য ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮,৫৬৩.
সৈয়দ মুজতবা আলী কত সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন?
  1. ১৯২৪
  2. ১৯২৫
  3. ১৯২৬
  4. ১৯২৭
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৬৪.
'পৃথক পালঙ্ক' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আব্দুল কাদির
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) আবুল হাসান
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
আবুল হোসেন মিয়ার সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান। তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাজা যায় রাজা আসে, যে তুমি হরণ করো, পৃথক পালঙ্ক। তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য- ওরা কয়েকজন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৬৫.
'মৌরীফুল' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ- মেঘমল্লার, মৌরিফুল, যাত্রাবদল, মুখোশ ও মুখশ্রী, কিন্নরদল, বেণীগির ফুলবাড়ি, পুইমাচা ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৫৬৬.
'ফেরিওয়ালা' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, এর জন্ম ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।  

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫),
- প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭), সরীসৃপ (১৯৩৯),
- সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩), হলুদ পোড়া (১৯৪৫),
- আজ কাল পরশুর গল্প (১৯৪৬),
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫০),
- ফেরিওয়ালা (১৯৫৩) ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৬৭.
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সভ্যতা
  2. খ) সংস্কৃতি কথা
  3. গ) নানাচর্চা 
  4. ঘ) পদচারণ
ব্যাখ্যা
‘পদচারণ’ প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় এটি প্রমথ চৌধুরী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
অন্যদিকে’ সংস্কৃতি কথা ও সভ্যতা মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ।

প্রমথ চৌধুরী :
- তিনি সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ : 
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- নানাকথা,
- নানাচর্চা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৬৮.
'প্রগতি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অজিতকুমার দত্ত
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
'প্রগতি' পত্রিকা:
- প্রগতি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
- সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ। কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম।
- বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৬৯.
জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়?
  1. বনলতা সেন
  2. ঝরা পালক
  3. রূপসী বাংলা
  4. মহা পৃথিবী
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ
- বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৫ সালে কলকাতায় এক ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হন, পরে ২২ অক্টোবর মারা যান।

- তিনি ‘ব্রহ্মবাদী’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম কাব্য-সংকলন ঝরা পালক।

কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরা পালক ,
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহা পৃথিবী,
- বেলা অবেলা কালবেলা,
- রূপসী বাংলা (এটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়)।

তথ্যসূত্র - ১. প্রথম আলো,
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
৩. বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৭০.
‘আমি কি ডরাই সখি ভিখারী রাঘবে?’- পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. বিদ্যাপতি
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. চণ্ডীদাস
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

 'রাবণ শ্বশুর মম, মেঘনাদ স্বামী,
আমি কি ডরাই, সখি, ভিখারী রাঘবে?’
- পঙ্‌ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত মেঘনাদবধ (১৮৬১) কাব্যের অন্তর্গত।

মেঘনাদবধ:
- বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকাব্য এটি।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত কাব্যের সর্গ সংখ্যা ৯।
- এই মহাকাব্যের কাহিনীর উৎস সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ।
- প্রধান চরিত্র: মেঘনাদ (ইন্দ্রজিৎ), প্রমিলা, রাবণ, বিভীষণ ইত্যাদি।
- অরিন্দম বলতে রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎ কে বোঝায়।
- যুদ্ধের সময় পশ্চিম দুয়ারে রক্ষক হিসেবে ছিলেন দাশরথি।

• আমি কি ডরাই সখি ভিখারী রাঘবে? এখানে রাঘব বলতে রামকে বোঝানো হয়েছে।
আলোচিত লাইনগুলো - মেঘনাদের স্ত্রী প্রমীলার উদ্ধৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫৭১.
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বিশ শতকের মেয়ে
  2. খ) বাঙালি মুসলমানের মন
  3. গ) বিশ শতকের বাঙালি
  4. ঘ) বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
ব্যাখ্যা

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।
• বাঙালি মুসলমানের মন ও বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস আহমদ ছফা রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৫৭২.
"যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।" - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী, গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর ছদ্মনাম বীরবল।
- তিনি সবুজপত্র (১৯১৪) ও বিশ্বভারতী, রূপ ও রীতি এবং অলকা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল- নুন -লাকড়ী।
- বীরবলের হালখাতা (চলিত রীতির প্রথম গদ্য রচনা)।
- নানাকথা।
- আমাদের শিক্ষা।
- রায়তের কথা।
- নানাচর্চা।

• তাঁর বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- ‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'।
- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়'।
- 'বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে'।
- 'কাব্য জগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা'।
- 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৭৩.
হুমায়ূন আহমেদের কোন গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নয়?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. জোছনা ও জননীর গল্প
  3. নীল অপরাজিতা
  4. শ্যামল ছায়া
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদের কোন গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নয় - নীল অপরাজিতা

হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' (১৯৭২)।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

তাঁর রচিত প্রধান গ্রন্থ:
- নীল অপরাজিতা,
- প্রিয়তমেষু,
- জয়জয়ন্তী,
- দূরে কোথাও,
- এই সব দিনরাত্রি,
- মহাপুরুষ,
- নিশিকাব্য,
- সম্রাট,
- দুই দুয়ারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৭৪.
নিচের কোন গ্রন্থটি নাটক?
  1. রাজর্ষি
  2. রক্তকরবী
  3. নৌকাডুবি
  4. যোগাযোগ
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 
 
• তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস: 
- বউ ঠাকুরাণীর হাট, 
- রাজর্ষি
- চোখের বালি, 
- নৌকাডুবি
- ঘরে-বাইরে, 
- যোগাযোগ ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত।
- তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী।
- ১৩৩০ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী।
- মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের
প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো;
- নন্দিনী,
- রঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫৭৫.
নিচের কোন ছদ্মনামটি মোহিতলাল মজুমদার ব্যবহার করেন?
  1. ক) কৃত্তিবাস ওঝা
  2. খ) সব্যসাচী
  3. গ) শ্রী সত্যসুন্দর দাস
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- মোহিতলাল মজুমদার তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’  ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন

মোহিতলাল মজুমদার:
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- ১৯২৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন এবং ১৯৪৪ সালে অবসরে যান।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- স্বপন পসারী 
- স্মরগরল 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য 
- বাংলা কবিতার ছন্দ 
- কবি শ্রীমধুসূদন 
- সাহিত্য বিচার 
- বাংলা ও বাঙালী 
- কবি রবীন্দ্র ও রবীন্দ্রকাব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৮,৫৭৬.
কোনটি হযরত মুহম্মদ (স) -এর জীবনী গ্রন্থ?
  1. ক) মরুমায়া
  2. খ) মরু ভাস্কর
  3. গ) মরুতীর্থ
  4. ঘ) মরু কুসুম
ব্যাখ্যা
- মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনী নিয়ে মরুভাস্কর রচনা করেন।
- এর প্রকাশকাল ১৯৪১ সাল। 
- মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী একজন মুসলিম স্বাতন্ত্রবাদী লেখক।

উল্লেখ্য,
- মহানবী স. এর জীবনীকাব্য 'মরু-ভাস্কর'এর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৫৭৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি-
  1. নুরুন্নেসা খাতুন
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. রহিমুন্নেসা
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• কবি রহিমুন্নেসা:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি রহিমুন্নেসা।
- কবি রহিমুন্নেসা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একমাত্র মুসলিম মহিলা কবি। ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক এই মহিলা কবির (আবির্ভাবকাল) ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ নির্ধারণ করেন। 
- তিনি (১৮শ শতক) বা অন্ত্যমধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর রচিত  লায়লী-মজনু কাব্যে সে সময়কার বাংলা ভাষার বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়।

অন্যদিকে, 
• নুরুন্নেসা খাতুন (১৮৯৪-১৯৭৫) - প্রথম মুসলিম মহিলা ঔপন্যাসিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৭৮.
’রাখালী’ কাব্যগ্রন্থটি কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৪
  2. ১৯২৯
  3. ১৯২৭
  4. ১৯২৬
ব্যাখ্যা

রাখালী:
- জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- রাখালী।
- এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ গুলো হচ্ছে:
- নক্সীকাঁথার মাঠ, 
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫৭৯.
‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'বঙ্গদর্শন' প্রকাশিত হয়। 
- এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভুত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তোলেন। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ 'বঙ্গদর্শন' সম্পাদনা করেন।
---------------------
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও  দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই  সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৮০.
'ইব্রাহিম কার্দি' বিখ্যাত চরিত্রটি কোন গ্রন্থে পাওয়া যায়? 
  1. বিষাদ সিন্ধু 
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর 
  3. নীল দর্পণ 
  4. জমিদার দর্পণ
ব্যাখ্যা
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৮১.
ফররুখ আহমদের "নৌফেল ও হাতেম" - কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাহিনিকাব্য
  2. গীতিককাব্য
  3. কাব্যনাট্য
  4. মহাকাব্য
ব্যাখ্যা

• ‘নৌফেল ও হাতেম’ কাব্যনাট্য:
- আরব্য উপন্যাসের বিখ্যাত কাহিনি থেকে কবি ফররুখ আহমদ ‘নৌফেল ও হাতেম’ নামে একটি — কাব্যনাট্য রচনা করেছেন। ১৯৬১ সালে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটে ঢাকা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীবৃন্দ ‘নৌফেল ও হাতেম’ নাটকটি মঞ্চস্থ করেন এবং নাট্যমোদীদের দ্বারা তা উচ্চ প্রশংসিত হয়।

- ইতিপূর্বে ‘মাহে নও’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সালের জুন মাসে পাকিস্তান লেখক সংঘের পক্ষে ড. কাজী মোতাহার হোসেন তা প্রকাশ করেন।

- ইসলামি রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ ‘নৌফেল ও হাতেম’ নাটকটিতে ইয়েমেনের শাহজাদা হাতেমকে মানবতাবাদী চরিত্র ও প্রতীকরূপে গ্রহণ করেছেন। হাতেমকে আদর্শবাদী ‘ন্যায়পরায়ণ’, পরোপকারী, সেবাব্রতী, অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী ও মহৎ মানবতাবাদীরূপে চিত্রিত করেছেন। অন্যদিকে নৌফেল ঈর্ষাপরায়ণ, অত্যাচারী, অহংকারী বাদশাহর প্রতীকে চিত্রিত করেছেন। বিজয় দেখিয়েছেন মানবতার। মুক্তি দেখিয়েছেন ইনসাফের।

-----------------
ফররুখ আহমদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
-নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: ‘নৌফেল ও হাতেম’ কাব্যনাট্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫৮২.
কাজী নজরুল ইসলাম কোন কবিতা রচনার জন্য কারাভোগ করেন?
  1. বিদ্রোহী
  2. খেয়া পারের তরণী
  3. ধূমকেতু
  4. আনন্দময়ীর আগমনে
ব্যাখ্যা
• 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা রচনার জন্য কাজী নজরুল ইসলাম ১ বছর কারাভোগ করেন।

• 'আনন্দময়ীর আগমনে:
- ধূমকেতু পত্রিকার ১৯২২ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয় ‘আনন্দময়ীর আগমনে'।
- "আনন্দময়ীর আগমনে" কবিতাটি কবির " দোলনচাঁপা" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’, ত্যাড়া ক্ষ্যাপা, নজর আলি, নুরু, ব্যাঙাচি।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- বাংলা সাহিত্যে মুক্তক ছন্দের প্রবর্তক।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলামের মোট কাব্যগ্রন্থ ২২টি।
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মণসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয়শিখা,
- সিন্দু-হিন্দোল ইত্যাদি।
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 

অন্যদিকে,
- বিদ্রোহী, খেয়া পারের তরণী, ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৮৩.
"এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি" এর রচয়িতা-
  1. জহির রায়হান
  2. গাফ্ফার চৌধুরী
  3. শামসুর রাহমান
  4. মাহবুব আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ - এই কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট 'ভাষা আন্দোলন'।
------------------ 
• কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা:   
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী গুলি চালিয়ে হত্যা করে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে মিছিলরত তরুণদের। সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
মাহবুব উল আলম চৌধুরী তখন অসুস্থ; তাঁর শরীরে জলবসন্তের চিহ্ন। রাত জেগে তিনি লিখলেন আগুনঝরা কবিতা: ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।
--------------- 
মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী:
- মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী কবি, সাংবাদিক, লেখক, ভাষা সৈনিক এবং ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার রচয়িতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে (২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২) আন্দোলনকারী ভাষা সৈনিকদের ওপর পুলিশের গুলি এবং ছাত্র নিহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ স্বরূপ কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী  ’একুশে’ শিরোনামে রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ’কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ যা ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।
- মাহবুব উল আলম চৌধুরীর জন্ম ৭ নভেম্বর ১৯২৭, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের আসাদ চৌধুরীর বাড়িতে। 

---------------
কবিতার কিছু অংশ:

এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে
রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়
যেখানে আগুনের ফুলকির মতো
এখানে-ওখানে জ্বলছে অসংখ্য রক্তের ছাপ
সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি।
আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।
যে শিশু আর কোনোদিন তার
পিতার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার
সুযোগ পাবে না
----------------  
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৮৪.
'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি'- বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. সুকুমার রায় 
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ফররুখ আহমদ 
ব্যাখ্যা

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) 'কিশোর সভা' বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি'- সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৫৮৫.
কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন - 
  1. ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৯
  2. ২০ মার্চ, ১৮৮৯
  3. ২৪ মে, ১৮৯৯
  4. ১৫ ডিসেম্বর, ১৮৯৯
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮,৫৮৬.
'বছির এবং আজহার' চরিত্র জসীম উদ্‌দীনের কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. বেদের মেয়ে
  2. বোবা কাহিনী
  3. পল্লীবধূ
  4. পদ্মাপাড়
ব্যাখ্যা
'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- এটি পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম এবং একমাত্র উপন্যাস।
- ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবন ভিত্তিক।
- এই উপন্যাসের বিষবস্তু হচ্ছে, মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়, 
- বেদের মেয়ে, 
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা, 
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৮৭.
‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কোন ধরণের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. কবিতা
  3. উপন্যাস
  4. পত্রিকা
ব্যাখ্যা
• ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতা: 
- প্রখ্যাত কবি হেলাল হাফিজ তাঁর অনন্য সৃষ্টি ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতা মাধ্যমে যুগান্তকারী ভাবনা ও প্রতিবাদী চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
- হেলাল হাফিজের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'যে জলে আগুন জ্বলে' প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে।
- তারো ১৭ বছর আগে তার কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে।

নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়- কবিতা,
- হেলাল হাফিজ (যে জলে আগুন জ্বলে)

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
মিছিলের সব হাত
কন্ঠ
পা এক নয়।

সেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,
কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার।

----------------------- 
• হেলাল হাফিজ:
- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ-
- যে জলে আগুন জ্বলে (১৯৮৬)।
- কবিতা ৭১ (বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায়, একুশে বইমেলা ২০১২)।
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা (২০১৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৮৮.
বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসে 'নবকুমার' চরিত্রটি রয়েছে?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. মৃণালিনী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
• কপালকুণ্ডলা বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।

• এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়। কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।

• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা।
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার।
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ।
- কৃষ্ণকান্তের উইল'- রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলাল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৮৯.
রত্নসেন ও নাগমতী কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. মধুমালতী
  2. পদ্মাবতী
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. লায়লী-মজনু
ব্যাখ্যা

হিন্দি কবি মালিক জায়সীর রচিত পদুমাবৎ কাব্যের অনুবাদরূপে বাঙালি কবি আলাওল রচিত পদ্মাবতী। এর চরিত্র - রত্নসেন, গন্ধর্ব সেন, চম্পাবতী, নাগমতী, হিরামন পাখি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৮,৫৯০.
’কড়ি ও কোমল’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• কড়ি ও কোমল:
- 'কড়ি ও কোমল' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত -কাব্যগ্রন্থ।

- কড়ি ও কোমল ১৮৮৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তারুণ্যের উচ্ছলতা, নারী দেহের প্রতি আকর্ষণ ও মৃত্যুর রহস্যময়তার প্রতি আকর্ষণ এই তিনটি লক্ষণে কাব্যাটি বিশিষ্ট।
- রবীন্দ্রনাথের বৌদি কাদম্বরীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু রবীন্দ্রমনে যে বিরাগ সৃষ্টি করেছিল তার প্রভাব এই কাব্যগ্রন্থে লক্ষ্য করা যায়।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: চুম্বন, বাহু, চরণ, কেন, মোহ।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- জন্মদিনে,
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫৯১.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ক) লাঙল
  2. খ) স্বদেশ
  3. গ) পূর্বাশা
  4. ঘ) সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ।
- তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ এর সম্পাদক।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- বাংলা সাহিত্যে যুগ সন্ধিকাল ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৯২.
নিচের কোনটি মহাকাব্য?
  1. ক) চিত্তবিকাশ
  2. খ) বৃত্রসংহার
  3. গ) আশাকানন
  4. ঘ) দশমহাবিদ্যা
ব্যাখ্যা
- 'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য।
-  মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এতে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্যের প্রথম খণ্ড ১৮৭৫ ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
-  হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়)।
- আশাকানন।
- ছায়াময়ী।
- দশমহাবিদ্যা।
- চিত্তবিকাশ।
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৯৩.
পদ্মা মেঘনা যমুনা’ - উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাসঃ ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০)-- তিনটি ত্রয়ী উপন্যাস।
এছাড়াও তিনি - দেয়াল, পরিত্যাক্ত স্বামী ইত্যাদি উপন্যাস রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৫৯৪.
'বিষাদ সিন্ধু' কত পর্বে লেখা উপন্যাস?
  1. ২ পর্ব
  2. ৩ পর্ব
  3. ৫ পর্ব
  4. ৯ পর্ব
ব্যাখ্যা

• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
- তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।
- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।


• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৫৯৫.
"মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়।" - কে লিখেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা
• "মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
 - এটি একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত এর অংশবিশেষ। এই কালজয়ী গানটির রচয়িতা হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

সঙ্কোচের বিহ্বলতা- এর অংশবিশেষ, 

সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান।
সঙ্কটের কল্পনাতে হোয়ো না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত করো ভয়, আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়।
দুর্বলেরে রক্ষা করো, দুর্জনেরে হানো,
নিজেরে দীন নিঃসহায় যেন কভু না জানো।
মুক্ত করো ভয়, নিজের 'পরে করিতে ভর না রেখো সংশয়।
ধর্ম যবে শঙ্খরবে করিবে আহ্বান
নীরব হয়ে নম্র হয়ে পণ করিয়ো প্রাণ।
মুক্ত করো ভয়, দুরূহ কাজে নিজেরি দিয়ো কঠিন পরিচয়॥

উৎস: রবীন্দ্রসঙ্গীত সংকলন।
৮,৫৯৬.
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. তিথিডোর
  2. পরিক্রমা
  3. কঙ্কাবতী
  4. সানন্দা
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কঙ্কাবতী’ কবিতাগ্রন্থ:
- ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ/কবিতাগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম।
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। 

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- অভিনয়,
- অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৯৭.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত 'হিতকারী' পত্রিকাটি কোথায় থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. রংপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. বরিশাল
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
• "হিতকারী" পত্রিকা:
- 'হিতকারী' পত্রিকাটি ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। পরে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দিন খান।

- পত্রিকার প্রথম বর্ষে 'হিতকরী' একটি পাক্ষিক পত্রিকা হিসেবে কুমারখালীর মথুরানাথ যন্ত্রলায়ে মুদ্রিত হয়ে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে প্রকাশিত হতো। তখন পত্রিকার প্রকাশক ও মুদ্রাকার ছিলেন যথাক্রমে দেবনাথ বিশ্বাস ও রজনীকান্ত ঘোষ। তখন প্রতি সংখ্যার মূল্য ছিল দুই পাই।

- হিতকরী পাক্ষিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে কিন্তু পাঠকদের চাহিদার কারণে দ্বিতীয় বর্ষে দাশাহিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় বর্ষে পত্রিকার শুধু এই রদবদল হয়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৯৮.
'বিশ্বভারতী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ক) ভানুসিংহ
  2. খ) টেকচাঁদ ঠাকুর
  3. গ) যাযাবর
  4. ঘ) বীরবল
ব্যাখ্যা
বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)'র ছদ্মনাম বীরবল। 
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
- স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।
- তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা হলো
- বিশ্বভারতী (১৩৪৯-৫০),
- রূপ ও রীতি (১৩৪৭-৪৯) এবং
- অলকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৯৯.
'সোনালী কাবিন' এর রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

--------------------
• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৬০০.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. বাঁধন-হারা
  2. কুহেলিকা 
  3. মৃত্যু-ক্ষুধা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কুহেলিকা :
- কুহেলিকা উপন্যাসটি একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক নওরোজ পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাসের প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

'বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস 'বাঁধন-হারা'।
- 'বাঁধন-হারা' বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের চরিত্রের মধ্যে রয়েছে- নুরু, রবিউল, রাবেয়া, সোফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

'মৃত্যু-ক্ষুধা'উপন্যাস:
- 'মৃত্যুক্ষুধা' কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী উপন্যাস। ১৯২৭-১৯৩০ এসময়ের মধ্যে উপন্যাসটি রচিত এবং সওগাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মুদ্রিত হয় ।
- 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাসটি একটি সামাজিক উপন্যাস, যা প্রধানত দারিদ্র্য, ক্ষুধা, ধর্মান্তরণ, সাম্যবাদী চেতনা এবং নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।