বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৮৪ / ১৭৪ · ৮,৩০১৮,৪০০ / ১৭,৪৩৭

৮,৩০১.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
এস ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধ- ভবিষ্যতের বাঙালি, প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, আকবরের রাষ্ট্র সাধনা, জীবনের শিল্প ইত্যাদি।  
৮,৩০২.
অমিয় চক্রবর্তীর 'বাংলাদেশ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. এক মুঠো
  2. মাটির দেয়াল
  3. অনিঃশেষ
  4. খসড়া
ব্যাখ্যা

'বাংলাদেশ' কবিতা: 
- এটি ‘অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত। 
- এর রচয়িতা অমিয় চক্রবর্তী।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- এতে উল্লেখ আছে পদ্মা, যমুনা নদী ও প্রকৃতির কথা ।

উল্লেখ্য,
- অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে।
- তিনি জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া, 
- এক মুঠো, 
- মাটির দেয়াল, 
- অভিজ্ঞান বসন্ত, 
- অনিঃশেষ, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৩০৩.
অমিয় চক্রবর্তীকে ‘দেশিকোত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন একজন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন। পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)। এবং রবীন্দ্রনাথে সাথে তিনি বহুদেশ ভ্রমণ করেন।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫। তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই ‘কবিতাবলী’। 
- বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩০৪.
বিদ্রোহের বাণী বহনকারী 'রঞ্জন' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকে?
  1. বিসর্জন
  2. রক্তকরবী
  3. অচলায়তন
  4. প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

• 'রক্তকরবী' নাটক:
- "রক্তকরবী" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি রূপক-সাংকেতিক নাটক, যা প্রথমত 'যক্ষপুরী' নামে লেখা হয়েছিল এবং ১৯২৪ সালে 'প্রবাসীতে' প্রকাশিত হওয়ার পর এর নামকরণ হয় 'রক্তকরবী'।

- নাটকটি একটি স্বৈরাচারী রাজ্যের অধীনে থাকা এক সাহসী নারীর গল্প বলে, যেখানে যক্ষপুরীর অর্থনীতি তার সোনার খনির উপর নির্ভরশীল, এবং কেন্দ্রীয় চরিত্র নন্দিনীর মৃত্যুর মাধ্যমে এর ট্র্যাজিক পরিণতি ঘটে। 

- রক্তকরবীতে 'ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের' জয়গান গাওয়া হয়েছে।

- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- নন্দিনী ও রঞ্জন। নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।  'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে।শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

অন্যদিকে, 
-------------------------------
• 'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম। এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন। ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র গুলো হলো: রঘুপতি, গুণবতী, গোবিন্দমাণিক্য, অপর্ণা, জয়সিংহ।

• 'অচলায়তন’ নাটক: 
- 'অচলায়তন’ নাটকে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক প্রাধান‍্য পেয়েছে, দ্বন্দ্বের মধ‍্য দিয়ে সেই সম্পর্ক স্পষ্টতা লাভ করেছে। মানুষের তৈরি বহুদিনের অর্জিত অন্ধ ও বিকৃত সংস্কার এবং অনুশাসনগুলি সমাজকে কীভাবে নাগপাশের সহস্র বন্ধনে বেঁধে রেখেছে তার স্বরূপ প্রকাশ করে সেখান থেকে মুক্তির কথা বলেছেন ‘অচলায়তন’ নাটকে।
- 'অচলায়তন' নাটকের প্রধান চরিত্রগুলি হলো-  পঞ্চক, গুরু, মহাপঞ্চক, সূতসোম, এবং অন্যান্য অচলায়তনের ছাত্র ও শিক্ষকরা। 

• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'। এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব। নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানবভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।  টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: সুরমা, ধনঞ্জয় বাউল, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৩০৫.
সেক্সপীয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' অবলম্বনে হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটক কোনটি?
  1. অভিজ্ঞান শকুন্তলা
  2. কংসবধ 
  3. বেণীসংহার
  4. ভানুমতী চিত্তবিলাস
ব্যাখ্যা

• অনুবাদ নাটক বাংলা নাটকের বিকাশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। এই ক্ষেত্রে হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটকের কথা উল্লেখযোগ্য।
- তাঁর 'ভানুমতী চিত্তবিলাস' (১৮৫২) যথাক্রমে সেক্সপীয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' এর ভাবানুবাদ এবং 'চারুমুখ চিত্তহারা' (১৮৬৪) যথাক্রমে 'রোমিও জুলিয়েটে'র ভাবানুবাদ।

অন্যদিকে, 
• অভিজ্ঞান শকুন্তলা, বেণীসংহার ও কংসবধ রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত নাটক।   

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৮,৩০৬.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্য কোনটি?
  1. অষ্টপ্রহর
  2. তিন পুরুষ
  3. সন্ধিক্ষণ
  4. সাত নম্বর ওয়ার্ড
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্য - সন্ধিক্ষণ

অন্যদিকে,
• সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত ছোটগল্প - অষ্টপ্রহর।
• সমর সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ - তিন পুরুষ।
• সত্যেন সেন রচিত উপন্যাস - সাত নম্বর ওয়ার্ড।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
 - কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত  ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম  লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৩০৭.
কোনটি রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ফেরারী সূর্য
  2. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. দ্রৌপদী
  4. অদ্ভুত আঁধার এক
ব্যাখ্যা
⇒ 'দ্রৌপদী' উপন্যাস:
• রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'দ্রৌপদী' এপার ওপার দুই বাংলায় বেশ সমাদৃত। 
• ১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। এবং শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাস বিষয়ে রাজিয়া খান বলেন: আমার যেসব শিক্ষক, ছাত্র, বন্ধু হানাদারদের হাতে খুন হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির ভার কিছুটা লাঘব হয়েছে, এ উপন্যাস লিখে। যেসব চক্রান্ত দুই বাংলার মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে খাটো করেছে, তার বিরুদ্ধেও এ এক ধরনের প্রতিবাদ। যদিও রাজনৈতিক প্রচারে উপন্যাসের পরিমণ্ডল দুষ্ট করতে আমি চাই নি।

⇒ রাজিয়া খান:
• রাজিয়া খান ১৯৩৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
• রাজিয়া খান এম.এ. পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর কর্মজীবনের শুরু করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে। 
• পরবর্তীতে ইংল্যান্ড থেকে ফিরে তিনি অবজারভার পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীতে যোগ দেন এবং নিয়মিত ভাবে ব্যঙ্গ কলাম- 'কালচার কেটল' লেখা শুরু করেন। 
• পঞ্চাশ দশকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুরাগী ও প্রগতিবাদী লেখিকা হিসেবে লেখালেখি করেছেন রাজিয়া খান। বাংলাদেশের উপন্যাসে নারীভাবমূর্তি সৃষ্টিতে নারী লেখকদের মধ্যে তাই আকিমুন রহমান তাকে প্রথম দিককার একজন মনে করেন।
• আর ১৫ বছর বয়সেই পুরোদস্তুর উপন্যাস লিখতে শুরু করেন তিনি, আর ১৮ বছর বয়সেই লেখা হয়ে যায় ‘বট তলার উপন্যাস’। ১৮ বছর বয়সে তাঁর লেখা 'বটতলার উপন্যাস' জনপ্রিয়তা পায়।
•  তিনি খুব বেশি লিখে গিয়েছেন তেমন নয়, কিন্তু যা লিখে গেছেন তাতে জটিলায়তন নগরজীবন-অন্তর্গত ব্যক্তিমানুষের নৈঃসঙ্গ, বিচ্ছিন্নতা ও আত্মরক্তক্ষরণের শিল্পরূপায়ন করেছেন।

অন্যদিকে,
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ।
- ‘ফেরারী সূর্য’ রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রহমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: 'দ্রৌপদী' উপন্যাস রাজিয়া খান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩০৮.
মীর মশাররফ হােসেন সাহিত্য রচনা করেছেন কোন ছদ্মনামে ?
  1. ক) কমলাকান্ত
  2. খ) উদাসীন পথিক
  3. গ) পরশুরাম
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন- 
- গৌড়তটবাসী মশা 
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

• 'উদাসীন পথিক' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর ব্যক্তিজীবনের পটভূমিতে রচনা করেছেন 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' (১৮৯০)। 
- গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবন নির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনা মিশেল উপন্যাসসূলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা। 

• 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনী মূলক রচনা 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'।
- এতে লেখক নিজেকে ভেড়াকান্ত নামে উল্লেখ করেন। 
- এতে বঙ্কিমের 'কমলাকান্তের দপ্তর' -এর প্রভাব পাওয়া যায়। 

অন্যদিকে, 
কমলাকান্ত - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
পরশুরাম - রাজশেখর বসু এর ছদ্মনাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩০৯.
’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন কে?
  1. ক) আলাওল
  2. খ) ফকির গরীবুল্লাহ
  3. গ) সৈয়দ হামজা
  4. ঘ) রেজাউদৌলা
ব্যাখ্যা
• পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ্‌।
- তিনি ’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৮,৩১০.
'বেঙ্গল গেজেট' - কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা

'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৩১১.
’পথের পাঁচালী’ উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
  1. বঙ্গদর্শন 
  2. দিকদর্শন 
  3. বিচিত্রা
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
• পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩১২.
মীর মোশাররফ হোসেন রচিত ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস -
  1. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  2. জমীদার দর্পণ
  3. বসন্তকুমারী
  4. বিষাদ সিন্ধু
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩১৩.
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ছায়া হরিণ
  2. সারা দুপুর
  3. রাত্রিশেষে
  4. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
ব্যাখ্যা
'রাত্রিশেষে' কাব্যগ্রন্থ:
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে'।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।  
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি। 

আহসান হাবীব:

- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।   

আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত), 
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, 
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর, 
- ছায়া হরিণ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩১৪.
নিচের কোনটি নবীনচন্দ্র সেনের আত্মজীবনী?
  1. ক) আমার জীবন
  2. খ) প্রভাস
  3. গ) রৈবতক
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• 'আমার জীবন' নবীনচন্দ্র সেনের আত্মজীবনী। 

• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি।
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

• রৈবতক (১৮৮৭), কুরুক্ষেত্র (১৮৯৩) ও প্রভাস (১৮৯৬) কাব্যত্রয়ী নবীনচন্দ্রের কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনীর বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

- তিনি ভগবদ্গীতা ও চন্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।
- তাঁর আত্মজীবনী আমার জীবন  গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,৩১৫.
'বনের পরে বন চলেছে বনের নাহি শেষ,
ফুলের ফলের সুবাস ভরা এ কোন পরির দেশ?' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• বনের পরে বন চলেছে বনের নাহি শেষ,
ফুলের ফলের সুবাস ভরা এ কোন্ পরীর দেশ? - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা জসীম উদ্‌দীন। 
----------------------
দেশ - কবিতা, ---'মাটির কান্না'কাব্যগ্রন্থ।
- জসীম উদ্‌দীন। 

খেতের পরে খেত চলেছে, খেতের নাহি শেষ
সবুজ হাওয়ায় দুলছে ও কার এলো মাথার কেশ।
সেই কেশেতে গয়না ও পরায় প্রজাপতির ঝাঁক,
চঞ্চুতে জল ছিটায় সেথা কালো কালো কাক।
সাদা সাদা বক-কনেরা রচে সেথায় মালা,
শরৎকালের শিশির সেথা জ্বালায মানিক আলা।
তারি মায়ায় থোকা থোকা দোলে ধানের ছড়া,
মার আঁচলের পরশ যেন সকল অভাব-হরা।
সেই ফসলে আসমানীদের নেইকো অধিকার,
জীর্ণ পাঁজর বুকের হাড়ে জ্বলছে হাহাকার।

বনের পরে বন চলেছে বনের নাহি শেষ,
ফুলের ফলের সুবাস ভরা এ কোন্ পরীর দেশ? (সংক্ষেপিত)।
--------------- 
জসীমউদদীন: 

- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) দেশ - কবিতা, জসীমউদ্‌দীন। 
৮,৩১৬.
'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. কায়কোবাদ
  4. বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা

• “চাষার দুক্ষু” বেগম রোকেয়া রচিত - প্রবন্ধ।

• 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ: 

- 'চাষার দুক্ষু' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত প্রবন্ধ।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় 'চাষার দারিদ্র্য'।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে 'ধান ভানতে শিবের গীত' বাগ্‌ধারার উল্লেখ আছে।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত বাংলা একাডেমি প্রকাশিত 'রোকেয়া রচনাবলী' থেকে চয়ন করা হয়েছে।
- এ প্রবন্ধে লেখক তৎকালীন সভ্যতার নামে এক শ্রেণির মানুষের বিলাসিতা ও অন্যদিকে দারিদ্র্যপীড়িত কৃষকদের বঞ্চনার কথা ব্যক্ত করেছেন।
- কৃষকদের এই মুমূর্ষু অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য তিনি শিক্ষা বিস্তারে পাঠশালা প্রতিষ্ঠার উপর এবং গ্রামীণ কুটির শিল্পের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ থেকে,
- আমাদের বঙ্গভূমি সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা,-তবু চাষার উদরে অন্ন নাই কেন? ইহার উত্তর শ্রদ্ধাস্পদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিয়াছেন, “ধান্য তার বসুন্ধরা যার”। তাইতো অভাগা চাষা কে? সে কেবল “ক্ষেতে ক্ষেতে পুইড়া মরিবে”, হাল বহন করিবে, আর পাট উৎপাদন করিবে। 

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
• বাংলায় নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তার স্বামীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্য চর্চা শুরু করেন।
- তিনি সমাজের প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখনি ধারণ করেন ।
- নারীর অধিকার আদায়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম মহিলা সমিতি |

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ)
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৩১৭.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক -
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. লালসালু
  3. তরঙ্গভঙ্গ
  4. প্রসন্ন পাষাণ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক - তরঙ্গভঙ্গ।

‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটক (১৯৬৬):
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক ‘তরঙ্গভঙ্গ’।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
-  এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে - বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।
- মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে  সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।
- এ নাটকের একটি সংলাপ ‘ভেবেছিলেন জজ  সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।’

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উল্লেখ্য,
প্রসন্ন পাষাণ - রশীদ করীম রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩১৮.
চলিত রীতি প্রতিষ্ঠায় কোন পত্রিকার নাম স্মরণীয়?
  1. সবুজপত্র
  2. শিখা
  3. দিগদর্শন
  4. সমকাল
ব্যাখ্যা
'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা। 
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮,৩১৯.
বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপান্ডবের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন-
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপান্ডব বলে পরিচিত কবিরা রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় রবীন্দ্র বলয়ের বাইরে গিয়ে কবিতা রচনা করেছিলেন।
এই পাঁচজন কবি হচ্ছেন -
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- জীবনানন্দ দাস,
- বিষ্ণু দে এবং
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

তারা সবাই কল্লোল পত্রিকায় লিখতেন। এই পঞ্চপান্ডবেরাই আধুনিক বাংলা কবিতার সূচনা করেছিলেন। শুধু রবীন্দ্রবলয়ের কথা বললে তাদেরকে খাটো করে দেখা হবে, মৌলিকত্ব এবং মানে তাদের রচনা সত্যিই অসাধারণ ছিলো।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৩২০.
"আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের পর।" - পঙ্‌ক্তিদ্বয় বিখ্যাত কবিতার অন্তর্গত?
  1. প্রভাত
  2. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  3. মরণ
  4. কড়ি কোমল
ব্যাখ্যা

'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রভাতসঙ্গীত কাব্যগ্রন্থটি ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
- এতে একুশটি কবিতা আছে।
- এ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কবিতা 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ'।

'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতাটির অংশ বিশেষ:

আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল  গুহার আঁধারে
প্রভাত-পাখির গান।
না জানি কেন রে  এতদিন পরে
জাগিয়া উঠিল প্রাণ।

উৎস: রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৩২১.
"গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা" - প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?
  1. সুফী মোতাহার হোসেন
  2. মুহাম্মদ এনামুল হক
  3. সেলিনা হোসেন 
  4. মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা' গ্রন্থটির রচয়িতা- মুহাম্মদ এনামুল হক। 
------------------------- 
• মুহম্মদ এনামুল হক: 
- ১৯০২ সালে বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি।  
- মুহম্মদ এনামুল হক মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাস এবং বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ বিষয়ে দুরূহ গবেষণা কর্মে বিশেষ অবদান রেখেছেন। 
- ১৯২৯ হতে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেয়ে এনামুল হক অধ্যাপক  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অধীনে গবেষণা করেন।
- তাঁর গবেষণার বিষয়বস্ত্ত ছিল ‘History of Sufism in Bengal’। 
- বাংলা একাডেমী তাঁর নামে ‘মুহম্মদ এনামুল হক সাহিত্য পদক’ প্রচলন করে।
- ১৯৮২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

• মুহম্মদ এনামুল হক রচিত গ্রন্থ:
- আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য
- 'মনীষা মঞ্জুষা',
- ঝর্ণাধারা (১৯২৮, কবিতা সংকলন),
- বঙ্গে সূফী প্রভাব (১৯৩৫),
- ব্যাকরণ মঞ্জুরি (১৯৫২)।
-----------
'গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা':
- তার বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি- বুলগেরিয়া ভ্রমণ।
- 'গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা' ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ এনামুল হক। 
- মুহম্মদ এনামুল হকের 'গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা' একটি বিখ্যাত বাংলা প্রবন্ধ যা বুলগেরিয়ার গ্যাব্রোভো শহরের মানুষের কৃপণতা ও তাদের নিয়ে প্রচলিত মজার মজার কৌতুক এবং জীবনযাত্রার বর্ণনা দেয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৩২২.
'গাছপাথর' ছদ্মনামে লিখতেন-
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. গ) সরদার জয়েনউদ্দিন
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী একজন বাংলাদেশি লেখক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক। বাকস্বাধীনতা, মানবিক অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক আন্দোলনের পুরোধা। দীর্ঘকাল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্য যাদের নিরলস অবদানে সমৃদ্ধ, তিনি তাঁদের মাঝে অন্যতম। তিনি মার্কসবাদী চিন্তা-চেতনায় উদ্বুদ্ধ, প্রগতিশীল ও মুক্তমনা। তিনি নতুন দিগন্ত পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। ১৯৮০-এর দশকে 'গাছপাথর' ছদ্মনামে তিনি দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন লিখে খ্যাতি অর্জন করেন।‌ শিক্ষায় অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন।
৮,৩২৩.
'রঘুপতি ও গুণবতী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত কোন নাটকের চরিত্র?
  1. রক্তকবরী
  2. বিসর্জন
  3. ডাকঘর
  4. প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা
'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম।
- এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন।
- ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়। এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র গুলো হলো:
- রঘুপতি,
- গুণবতী
,
- গোবিন্দমাণিক্য,
- অপর্ণা,
- জয়সিংহ।

---------------------
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩২৪.
'ছায়াময়ী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'ছায়াময়ী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- ১৮৫৯ সালে  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে তিনি বিএ পাস করেন।
- ১৮৬১ সালে তিনি এলএল এবং ১৮৬৬ সালে বিএল ডিগ্রি লাভ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ চিন্তাতরঙ্গিণী ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে বৃত্রসংহার (২ খন্ড, ১৮৭৫-৭) মহাকাব্য।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী
- বীরবাহু 
- আশাকানন 
- ছায়াময়ী 
- দশমহাবিদ্যা 
- নলিনী বসন্ত
- রোমিও-জুলিয়েট
- চিত্তবিকাশ ইত্যাদি।
খণ্ডকবিতা:
- জীবনসঙ্গীত
- গঙ্গার উৎপত্তি
- পদ্মের মৃণাল
- ভারতকাহিনী
- অশোকতরু প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৩২৫.
সংশপ্তক উপন্যাসটির কে রচনা করেছেন?
  1. আল মাহমুদ
  2. শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. মাহমুদুল হক
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ বাজি রেখে যুদ্ধে লড়াই করে।
- জাহেদ আমাদের সেই সংশপ্তক যে মৃত্যুর আগেও লড়াই চালিয়ে যাবে।
- সংশপ্তক' উপন্যাস বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বাস্তবতার এক প্রামাণ্য দলিল।
- হিন্দু-মুসলিমের সহঅবস্থানে অসাম্প্রদায়িক জীবনবােধ উপন্যাসের অন্যতম অসাধারণ বিষয়।
- এই উপন্যাস দেশ, জাতি, মানুষ বাঁচানোর সংগ্রাম শুধু নয়, মানবিক চেতনাবোধ, আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজে গঠনের আবেদন ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে জানান দিয়েছেন লেখক ।
- সংশপ্তক কোনো উপন্যাস নয়, সংশপ্তক লেখকের রেখে যাওয়া বাঙালির ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য চিঠি। 
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জাহেদ, হুরমতি, লেকু, রমজান, রাবেয়া খাতুন (রাবু), সেকেন্দার, মালু, রামদয়াল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'সংশপ্তক' উপন্যাস।
৮,৩২৬.
নিচের কোনটি ভ্রমণ কাহিনী?
  1. ক) প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  2. খ) পশ্চিম ভারত
  3. গ) আকবরের রাষ্ট্র সাধনা
  4. ঘ) মাশুকের দরবার
ব্যাখ্যা
শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
তিনি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত (১৯৪৮),
- মোটর যোগে রাঁচী সফর (১৯৪৯) প্রভৃতি।
গল্প-
- গুলদাস্তা (১৯২৭),
- মাশুকের দরবার (১৯৩০),
- বাদশাহী গল্প (১৯৪৪),
- গল্পের মজলিশ (১৯৪৪);

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৮,৩২৭.
জীবনানন্দ দাশ রচিত ''মৃত্যুর আগে'' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) বনলতা সেন
  2. খ) ধূসর পান্ডুলিপি
  3. গ) রূপসী বাংলা
  4. ঘ) বেলা অবেলা কালবেলা
  5. ঙ) সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা
কবি জীবনান্দ দাশ রচিত ''মৃত্যুর আগে কবিতাটি'' ধূসর পান্ডুলিপি কাব্যের অন্তর্গত। এটির সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস রচিত কবিতাটির The falling of the Leaves মিল রয়েছে। তার বিখ্যাত বনলতা সেন ও আবার আসিব ফিরে কবিতা দুটি যথাক্রমে বনলতা সেন ও রূপসী বাংলা কাব্যের অন্তর্গত।(সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
৮,৩২৮.
বাঙালির জাতীয় ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা কোনটি?
  1. ক) শিক্ষা আন্দোলন
  2. খ) ছয়দফা আন্দোলন
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধ
  4. ঘ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সময়ে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৩২৯.
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রের নাম কী?
  1. ক) ওরা এগারো জন
  2. খ) বসুন্ধরা
  3. গ) একাত্তরের যীশু
  4. ঘ) আবার তোরা মানুষ হ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র'।
- 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র 'বসুন্ধরা' 
- ১৯৭৭ সালে এটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কায় পায়। 

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন
- কর্ণফুলী
- ক্ষুধা ও আশা
- খসড়া কাগজ
- স্বপ্নশিলা
- বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৩০.
'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮,৩৩১.
'শনিবারের চিঠি' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন-
  1. সুবিমল রায়
  2. যোগানন্দ দাস
  3. অশোক চট্টপাধ্যায়
  4. সজনীকান্ত দাস
ব্যাখ্যা

• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।

- প্রথম প্রকাশ ১০ শ্রাবণ ১৩৩১ সন। আকার ডবল ক্রাউন, চবিবশ পৃষ্ঠা এবং অনুরূপ আকারের খামে মোড়া। খামে চাবুক প্রহাররত এক বীর পুরুষের মূর্তি, সবুজ কালিতে ছাপা।

- যোগানন্দ দাস ছিলেন একাধারে উক্ত পত্রিকার প্রথম সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর। মূল্য প্রতি সংখ্যা এক আনা, বার্ষিক ডাকমাশুলসহ তিন টাকা।

- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে। লেখকদের মধ্যে উলে­খযোগ্য ছিলেন,  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়,  সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়,  মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

- সাপ্তাহিক শানিবারের চিঠির ২৭তম সংখ্যা ১৩৩১ সনের ৯ ফাল্গুনে বের হওয়ার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৩৩৩ সনে পত্রিকার তিনটি বিশেষ সংখ্যা বের হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসে ‘জুবিলী সংখ্যা’, আষাঢ় মাসে ‘বিরহ সংখ্যা’ ও কার্তিক মাসে ‘ভোট সংখ্যা’ প্রকাশিত হয়। পরে পত্রিকাটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।

- দশ মাস পর ১৩৩৪ সনের ভাদ্র মাসে পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। কিছুদিন পর পত্রিকাটির সম্পাদক হন নীরদচন্দ্র চৌধুরী। কিন্তু নতুন প্রকাশক সজনীকান্তর সঙ্গে নীরদচন্দ্র চৌধুরির মতানৈক্য হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করলে সজনীকান্ত নিজেই সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহন করেন। ১৩৩৬ সনের কার্তিক মাসে পত্রিকাটি তৃতীয়বারের মতো বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৩৩৮ সনের আশ্বিন থেকে শুরু করে সজনীকান্তর মৃত্যু অবধি এটি প্রকাশিত হয়েছে।

- হাস্য-কৌতুক ও তীর্যক মন্তব্যের মাধ্যমে শনিবারের চিঠি ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। এরূপ মন্তব্য থেকে  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,  কাজী নজরুল ইসলাম,  প্রমথ চৌধুরী, কল্লোল গোষ্ঠীর কবিরা কেউই রেহাই পাননি। সমকালীন পত্র-পত্রিকায় এসব লেখকদের যে লেখাই প্রকাশ পেত, শনিবারের চিঠি গোষ্ঠীর মনোপুত না হলে প্যারোডি ও কার্টুনের মাধ্যমে তাদের লেখা নিয়ে রসিকতা করা হতো। এ রসিকতার সবচেয়ে বেশি শিকার হন কাজী নজরুল ইসলাম। এ পত্রিকার প্রথম সংখ্যাতেই ‘বিদ্রাহী’ কবিতার প্যারোডি প্রকাশিত হয় এবং প্রায় প্রতিটি সংখ্যাতেই তাঁর কোনো-না-কোনো কবিতা নিয়ে ব্যঙ্গ করা হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৩২.
'চাঁদ সওদাগর' বাংলা কোন কাব্যধারার চরিত্র?
  1. ক) চণ্ডীমঙ্গল
  2. খ) মনসামঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'চাঁদ সওদাগর'- মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যধারার চরিত্র।

মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল  মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
- মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- চাঁদ সওদাগর, সনকা, বেহুলা, লখিন্দর। 

তাছাড়া, 
চন্ডীমঙ্গলের কাব্যের চরিত্র - কালকেতু, ফুল্লরা, ভাড়ুদত্ত, মুরারিশীল।
ধর্মমঙ্গল কাব্যের চরিত্র -কর্পূর সেন, মহামদ পাত্র।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র - ঈশ্বরী পাটনী, হীরা মালিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৩৩.
কোন সাহিত্যিক 'মৈনাক' ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন?
  1. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সুকুমার রায়
  3. সমরেশ বসু
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'মৈনাক' হচ্ছে কবি শামসুর রাহমানের ছদ্মনাম।

- এছাড়াও তিনি 'নেপথ্যে', 'জনান্তিকে' প্রভৃতি ছদ্মনামে কবিতা লিখেছেন। 
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি মজলুম আদিব ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন। 
- তার ডাক নাম ছিল বাচ্চু।
------------------------------- 
• শামসুর রাহমান:
- মূলত আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম গ্রন্থেই তিনি তাঁর কবিপ্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৩৪.
অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন ও আওয়ামী লীগ নেতা জামাল সাহেব কোন উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. ক) রাইফেল রোটি আওরাত
  2. খ) নদী নিঃশেষিত হলে
  3. গ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ঘ) জাহান্নম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা
• রাইফেল রােটি আওরাত:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আনােয়ার পাশা যুদ্ধকালে যুদ্ধের ভয়াবহতা এই উপন্যাসে লিখেছেন, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা দেখতে পারেননি। ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্থানিরা। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকায় তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে।
- রাইফেল রোটি আওরাত’ নামটিতেই উর্দুর গন্ধ। যদিও শব্দগুলো বাংলা ভাষায় পরিচিত তবুও লেখক এই তিনটি শব্দে বুঝিয়েছেন পাকিস্থানিদের হীন মানসিকতাকে।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন, আওয়ামী লীগ নেতা জামাল সাহেব, কমিউনিস্টকর্মী বুলা এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে: ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত প্রমুখ।


• আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা কবি, কথাসাহিত্যিক, সমালোচক ও শিক্ষাবিদ।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একজন সিনিয়র লেকচারার ছিলেন।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৩৫.
'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে
  2. দেশ ভাগের পটভূমিতে
  3. মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে
  4. বঙ্গভঙ্গের পটভূমিতে
ব্যাখ্যা
• 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' (১৯৯৪)।
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাশেদকে উপন্যাসটি উৎসর্গ করা হয়।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ- 
বসন্তের এক নিষ্ঠুর ভোরে মুখ ভেঙে রাশেদ দেখতে পায় ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল জুড়ে নেমে এসেছে অন্ধকার-ঘোষিত হয়েছে সামরিক শাসন; তার পাঁচ বছরের মেয়ে মৃদু ইস্কুলে গিয়েছিল, কিন্তু তাকে যেতে দেয়া হয়নি, মিলিটারিরা রাইফেল উঁচিয়ে তাকে বাধা দেয়, সে এই অদ্ভুত মানুষদের দেখে রাস্তা থেকে চোখ আর বুক ভ’রে দুঃস্বপ্ন নিয়ে ঘরে ফিরে আসে। রাশেদের হৃদয়ের মতো ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল আর মৃদুর কাজলাদিদি লুপ্ত হয়ে যায় কর্কশ অশ্লীল সামরিক অন্ধকারে। তবে এই প্রথম সামরিক গ্রাসে পড়েনি তার নষ্টভ্রষ্ট দেশটি, রাশেদের বাল্যকাল আর যৌবন নষ্ট হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানি সামরিক গ্রাসে, এখন তার উত্তরাধিকারীর জীবনও পড়ে সামরিক গ্রাসে। 

---------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না,
- বুকপকেটে জোনাকি পোকা,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৩৬.
কোন কবিতাটি মার্কিন কবি 'Henry wadsworth Longfellow' এর 'A psalm of life' এর ভাবানুবাদ?
  1. ক) জীবন সঙ্গীত
  2. খ) হায় চিল
  3. গ) ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. ঘ) আমি কোন আগন্তুক নই
ব্যাখ্যা
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কবিতা 'জীবন সঙ্গীত' মার্কিন কবি 'Henry wadsworth Longfellow' এর 'A psalm of life' এর ভাবানুবাদ ।  

'জীবন সঙ্গীত'
--------------- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

 বলো না কাতর স্বরে, বৃথা জন্ম এ সংসারে
এ জীবন নিশার স্বপন,
দারা পুত্র পরিবার, তুমি কার কে তোমার
বলে জীব করো না ক্রন্দন;
মানব-জনম সার, এমন পাবে না আর
বাহ্যদৃশ্যে ভুলো না রে মন;
কর যত্ন হবে জয়, জীবাত্মা অনিত্য নয়
ওহে জীব কর আকিঞ্চন।
করো না সুখের আশ, পরো না দুখের ফাঁস,
জীবনের উদ্দেশ্য তা নয়,
সংসারে সংসারী সাজ, করো নিত্য নিজ কাজ,
ভবের উন্নতি যাতে হয় ।

তাছাড়া, 
• হায় চিল 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে। 
• জীবনানন্দ দাশের 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কবিতাটির সাথে W. B. Yeats এর 'The falling of the leaves's' কবিতার মিল রয়েছে। 
• আহসান হাবীবের একটি বিখ্যাত কবিতা 'আমি কোন আগন্তুক নই'।  

উৎস: 'জীবন সঙ্গীত' কবিতা- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়; মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২২ সংস্করণ)। 
৮,৩৩৭.
’১৯৭১’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. জীবনান্দ দাশ
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
’১৯৭১’ হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
-------------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ :
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলায়।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' (১৯৭২)।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

• হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত চলচ্চিত্র:
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র শ্যামল ছায়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি অবলম্বনে নির্মিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৩৮.
পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন -
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. শাহ মুহাম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
• পুঁথি সাহিত্যর প্রথম, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি- ফকির গরীবুল্লাহ।
------------------
• পুঁথি সাহিত্য:
- পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।

• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৩৯.
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম - ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব।

• ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব:
- বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত।
- তাঁর ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
- ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন।
- ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়।
--------------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।
----------------------

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আরো কিছু গ্রন্থ:
• বাংলা সাহিত্যের কথা - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
• বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা (২ খণ্ড) - গোপাল হালদার।
• শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• ধ্বনিবিজ্ঞান ও ভাষাতত্ত্ব- মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
• বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য - আহমদ শরীফ।
• বঙ্গভাষা ও সাহিত্য - ড. দীনেশচন্দ্র সেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৪০.
‘চাচা কাহিনী’ এর লেখক কে?
  1. দিলারা হাশেম
  2. আবু জাফর শামসুদ্দিন
  3. সরদার জয়েন উদ্দিন
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'চাচা- কাহিনী' গ্রন্থটির লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৪১.
'চাকা' গ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. সেলিম আল দীন 
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ 
  3. সৈয়দ শামসুল হক 
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন 
ব্যাখ্যা
 • সেলিম আল দীন: 
- সেলিম আল দীন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
- তাঁর রচিত হরগজ নাটকটি সুইডিশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এ নাটকটি ভারতের রঙ্গকর্মী নাট্যদল কর্তৃক হিন্দি ভাষায় মঞ্চস্থ হয়েছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক ও নাট্যগ্রন্থ-
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, 
- বাসন, 
- কেরামতমঙ্গল, 
- প্রাচ্য, 
- কিত্তনখোলা, 
- হাতহদাই, 
- যৈবতী কন্যার মন, 
- চাকা, 
- হরগজ, 
- একটি মারমা রূপকথা, 
- বনপাংশুল, 
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৮,৩৪২.
'কাবিলের বোন' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. মাহমুদুল হক
  3. শওকত ওসমান
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।
- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব- মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া- পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

----------------------
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘কাবিলের বোন' উপন্যাস।
৮,৩৪৩.
‘ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।’- সংলাপটি কার রচনা?
  1. জহির রায়হান
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. হুমায়ুন আহমেদ
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
• ‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক ‘তরঙ্গভঙ্গ’।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
-  এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে - বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার ও সাক্ষী মতলুব আলী।
- এ নাটকের একটি সংলাপ ‘ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।’

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আনে। আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে, সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
 • গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা, 
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৪৪.
'শর্মিষ্ঠা' নাটকটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৫২ সালে
  2. ১৮৫৯ সালে
  3. ১৮৬২ সালে
  4. ১৮৬০ সালে
ব্যাখ্যা

'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম বাংলা গ্রন্থ শর্মিষ্ঠা। 
- এর প্রকাশকাল ১৮৫৯।  
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রকাশিত প্রথম বাংলা নাটক।
- নাটকটি পুরাণের কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

 মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

 উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৪৫.
'বরফগলা নদী' উপন্যাসটির উপজীব্য বিষয় কী?
  1. নারী নির্যাতন
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. নদী পাড়ের মানুষের জীবনযাপন
  4. একটি নিম্নবিত্ত অসচ্ছল পরিবারের জীবন-যাত্রার গল্প
ব্যাখ্যা
• বরফগলা নদী:
- ক্ষয়িঞ্চু নিম্ন-মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের ঘাত-প্রতিঘাত, আনন্দ, বেদনা, পাওয়া-না পাওয়াগুলোকে উপজীব্য করে রচিত হয়েছে ‘বরফ গলা নদী’।
- ১৯৬৯ সালের একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রা কেমন ছিল সেই ব্যাপারে সম্যক ধারণা পাওয়া যাবে উপন্যাসটি থেকে।

• জহির রায়হান রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- হাজার বছর ধরে, 
- বরফ গলা নদী, 
- আর কতদিন, 
- তৃষ্ণা, 
- শেষ বিকেলের মেয়ে, 
- একুশে ফেব্রুয়ারি,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর, বরফগলা নদী উপন্যাস।
৮,৩৪৬.
‘হাসু’ শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. জসীমউদ্‌দীন
  4. কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘হাসু’ পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒জসীমউদ্‌দীন:

- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। তবে অনেকে মনে করেন, তিনি ‘আধুনিক কবি’।
- ছাত্র জীবনেই তাঁর কবি প্রতিভার প্রকাশ ঘটে।
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৪৭.
'সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল' এই বৈষ্ণবপদের রচয়িতা কে?
  1. ক) জ্ঞানদাস
  2. খ) চন্ডীদাস
  3. গ) গোবিন্দ দাস
  4. ঘ) দ্বিজ চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা
"সুখের লাগিয়া     এ ঘর বাঁধিনু,
         অনলে পুড়িয়া গেল
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে 
         সকলি গরল ভেল।।"      এই বিখ্যাত বৈষ্ণবপদের রচয়িতা জ্ঞানদাস।

জ্ঞানদাস (ষোল’শ শতক)  চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাঁদড়া গ্রামে এক মঙ্গল-ব্রাহ্মণ বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণব গীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ। তিনি একজন সঙ্গীতজ্ঞও ছিলেন এবং কীর্তনের নতুন পদ্ধতির স্রষ্টা হিসেবে তাঁর বিশেষ খ্যাতি ছিল।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৪৮.
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক কে?
  1. শামসুজ্জামান খান
  2. আহমদ শরীফ
  3. জামিল চৌধুরী
  4. নরেন বিশ্বাস
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক হলেন আহমদ শরীফ।

• অভিধান ও শব্দকোষ মিলে ২০০৯ সাল নাগাদ বাংলা একাডেমি প্রায় সত্তরটি অভিধান প্রকাশ করে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রাকৃতি পরিভাষাকোষ যেমন রয়েছে, তেমনি বহুখণ্ডে প্রকাশিত অভিধানও রয়েছে।

এসব অভিধানের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অভিধানের নাম:
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান — মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, 
- চরিতাভিধান — শামসুজ্জামান খান প্রমুখ,
- উচ্চারণ অভিধান — নরেন বিশ্বাস,
- সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান — আহমদ শরীফ,
- সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান, দু-খণ্ড — আবু ইসহাক, ১৯৯৩ ও ১৯৯৮),
- বানান অভিধান — জামিল চৌধুরী,
- লেখক অভিধান — আশফাক-উল-আলম প্রমুখ,
- মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অভিধান — মোহাম্মদ আবদুল কাইউম প্রভৃতি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৮,৩৪৯.
"সতত হে নদ তুমি পড় মোর মনে!" পঙক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) কপোতাক্ষ নদ
  2. খ) চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  3. গ) মেঘনাদবধ কাব্য
  4. ঘ) বঙ্গবাণী
ব্যাখ্যা
"সতত হে নদ তুমি পড় মোর মনে!
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে;"
- পঙক্তিদ্বয় মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কাব্যগ্রন্থের 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার অন্তর্গত। 

- এ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। 
- 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটি রচনাকালে তিনি ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন।

উৎস:  মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৫০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. সোনার তরী
  2. হিন্দুমেলার উপহার
  3. খেয়া
  4. পরিচয়
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।'
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা- হিন্দুমেলার উপহার।

​• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- ঘরে বাইরে,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা।

​• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রভাতসঙ্গীত্
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- গীতাঞ্জলি;
- বলাকা;
- পুনশ্চ;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৫১.
কায়কোবাদ রচিত 'মহাশ্মশান' কাব্যগ্রন্থের খণ্ড-
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
• তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
• তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
• 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।
• এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৪ সালে।
• এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
• মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খণ্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- কুসুমকানন,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- বিরহ বিলাপ,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ,
- প্রেম পারিজাত,
- মন্দাকিনী ধারা ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৮,৩৫২.
'সরল বাঙ্গালা সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা

• 'সরল বাঙ্গালা সাহিত্য' গ্রন্থ:
- দীনেশচন্দ্র সেন 'সরল বাঙ্গালা সাহিত্য' রচনা করেছেন অল্পবয়স্ক ও সাধারণ পাঠকের কথা ভেবে। গল্পের ছলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস শেখানোই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
- এই রচনা তথ্য ভারাক্রান্ত নয়। অনবদ্য সরল ভঙ্গিতে রচিত এই প্রাঞ্জল সাহিত্য-ইতিহাস এক অর্থে বঙ্গদেশের সামাজিক ইতিহাসও।

------------------
• দীনেশচন্দ্র সেন:

- দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খন্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৫৩.
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত নাটক?
  1. ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. খ) জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  3. গ) কবর
  4. ঘ) আমলার মামলা
ব্যাখ্যা
- 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' হচ্ছে সেলিম আল দীন রচিত নাটক।

• সেলিম আল দীন:
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার হলেন সেলিম আল দীন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন-
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়ার যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য।
- 'কবর' জসীমউদ্দীন রচিত কবিতা ও মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।
- 'আমলার মামলা' শওকত ওসমান রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৫৪.
‘গো জীবন’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. প্রহসন
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘গো জীবন’ প্রবন্ধ:
- ‘গো জীবন’ (১৮৮৯) মীর মশাররফ হোসেনের একটি প্রবন্ধ পুস্তিকা।
- প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে যে কোন কারণেই হোক গো হত্যা অনুচিত।
- হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্মালম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসেই মীর মশাররফ হোসেন এ প্রবন্ধ রচনা করেন।
- এ গ্রন্থের জন্য লেখককে মামলাতে জড়িয়ে পরতে হয়।
- অবশেষে মৌলবাদীদের প্রবল চাপের মুখে তিনি প্রবন্ধটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৫৫.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো' কোন গ্রন্থের বিখ্যাত সংলাপ?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. কবর
  3. স্মৃতির মিনার
  4. আর্তনাদ
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন।
ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা  দ্বিগুণ হবো' - এই উপন্যাসের সংলাপ।

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন,
 -আসাদ,
- রসুল,

• জহির রায়হান: 
- তিনি ১৯শে আগস্ট ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান কলকাতায় মিত্র ইনিস্টিউটে এবং পরে আলীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।
- জহির রায়হান ১৯৬১ সালে প্রথম ছবি হিসেবে ‘কখনো আসে নি’ পরিচালনা করেন।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। 
- তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ করেন।
- জহির রায়হানের উর্দু ছবি সঙ্গম ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন ছবি।
- তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো:
- তৃষ্ণা, 
- শেষ বিকেলের মেয়ে, 
- হাজার বছর ধরে, 
- আরেক ফাল্গুন, 
- বরফ গলা নদী, 
- আর কতদিন, 
- কয়েকটি মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৩৫৬.
দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কে?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৩৫৭.
বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ কী জাতীয় গ্রন্থ?
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ঘ) শিশুতোষ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম :
- চোর জামাই
- মৃগপরী
- ডাইনী বউ
- রুপকথা
- কুঁচবরণ কন্যা।

- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।
- ১৯৭৯ সালের ১৭ জুন রাজশাহীতে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৫৮.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে?
  1. আরণ্যক
  2. চাঁদের পাহাড়
  3. ইছামতী
  4. পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
⇒ পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় বিচিত্রা পত্রিকায়।  গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশনালয়, কলকাতা থেকে।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ: বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো- 
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

===============
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৫৯.
কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) ডাহুকী
  2. খ) সৌরভের কাছে পরাজিত
  3. গ) উপমহাদেশ
  4. ঘ) আগুনের মেয়ে
ব্যাখ্যা
কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস নয়- 'সৌরভের কাছে পরাজিত' 
- এটি আল মাহমুদের একটি গল্পগ্রন্থ। 

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:  
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।


• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত, 
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৬০.
‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আল মাহমুদ
  3. সুফিয়া কামাল
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• 'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে।  এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।
-------------------------- 
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস, 
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো ,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না,
- দিনযাপন,
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন,
- একটি পাখি লেজ ঝোলা,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৬১.
‘আরো দুটি মৃত্যু’ হাসান হাফিজুর রহমানের কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক 
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. উপন্যাস 
  4. গল্প 
ব্যাখ্যা

‘আরো দুটি মৃত্যু’ গল্প:
‘আরো দুটি মৃত্যু’ হাসান হাফিজুর রহমানের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবিরোধী একটি গল্প। গল্পটির প্রাসঙ্গিকতা এখনো সমানভাবে বিদ্যমান। এখনো সমাজ-রাষ্ট্র থেকে এই সংকট মুছে যায়নি। গল্পটি লেখা হয় ১৯৭০ সালে

• হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা নিয়ে এই গল্প বলা যেতে পারে। যেখানে গল্পের শুরুটা হয়েছে এভাবে- "নারায়ণগঞ্জ থেকে বাহাদুরাবাদগামী রাত্রির ট্রেনের যাত্রা দিয়ে।

• নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে একলোক ট্রেনে উঠে, তার চোখে মুখে আতংক। হিন্দু বলেই তার ভয় যেন বেশি। তার সাথে একজন গর্ভবতী স্ত্রীলোক যাত্রীও ছিল। লেখক রাতের ট্রেনের চমৎকার বিবরন দিয়েছেন। গল্পের শেষের দিকে দেখা গেলো, গর্ভবতী মহিলাটি নেই। তাকে বাথরুমে খুজেও পাওয়া গেলো না। হঠাৎ চারিদিকে চিৎকার। গর্ভবতী মহিলাটি ট্রেন থেকে পড়ে যায়। এবং মারা যায়। ট্রেনে কাটাপরা মহিলাটির পেটে বাচ্চা ছিলো। অর্থাৎ দুজন মারা যায়। এজন্যই লেখক হয়তো গল্পের নাম দিয়েছেন, 'আরো দুটি মৃত্যু'। মহিলাটি কি পা পিছলে পড়ে যায়, না আত্মহত্যা করে সে বিষয়টা লেখক পরিস্কার করেননি।

--------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ "একুশে ফেব্রুয়ারী"। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের 'স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র' এর সম্পাদকও তিনি।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘আরো দুটি মৃত্যু’ গল্প এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৬২.
‘এইবার সত্যিকার পড়া পড়ো, একেবারে ঘাড়মোড় ভাঙ্গিয়া।’ - এ উক্তিটি কোন গল্প থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. বিলাসী
  2. বই পড়া
  3. হৈমন্তী
  4. ছুটি
ব্যাখ্যা
• ‘এইবার সত্যিকার পড়া পড়ো, একেবারে ঘাড়মোড় ভাঙ্গিয়া।’ - এ উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'হৈমন্তী' গল্প থেকে নেয়া হয়েছে। 
------------------ 
• 'হৈমন্তী' গল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোট গল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্প টি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন। - আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ। ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক জীবন সম্পর্কিত গল্প:
- ব্যবধান,
- মেঘ ও রৌদ্র,
- পণরক্ষা,
- দিদি,
- কর্মফল,
- দান প্রতিদান,
- হৈমন্তী,
- ছুটি,
- পুত্রযজ্ঞ,
- পোস্ট মাস্টার,
- কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৩৬৩.
'ঘরে ফেরার দিন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী, একজন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।
- অমিয় চক্রবর্তীর  প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী'।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার (১৯২৭),
- খসড়া (১৯৩৮),
- এক মুঠো (১৯৩৯),
- মাটির দেয়াল (১৯৪২),
- অভিজ্ঞান বসন্ত (১৯৪৩),
- পারাপার (১৯৫৩),
- পালাবদল (১৯৫৫),
- ঘরে ফেরার দিন (১৯৬১),
- হারানো অর্কিড (১৯৬৬),
- পুষ্পিত ইমেজ (১৯৬৭),
- অমরাবতী (১৯৭২),
- অনিঃশেষ (১৯৭৬),
- নতুন কবিতা (১৯৮০),
- চলো যাই (১৯৬২),
- সাম্প্রতিক (১৯৬৩)।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৮,৩৬৪.
নিচের কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভ্রমণকাহিনী?
  1. কালের শাসন
  2. দেশে বিদেশে
  3. জার্নাল ক্রীডো
  4. পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা
পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনী।
দেশে বিদেশে সৈয়দ মুজতবা আলী রচনা ভ্রমণকাহিনী।
জার্নাল ক্রীডো ও কালের শাসন অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৬৫.
'আরোগ্য' কাব্যগ্রন্থটির লেখক কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. জসীম উদ্‌দীন 
ব্যাখ্যা

'আরোগ্য' কাব্যগ্রন্থ:
- 'আরোগ্য' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- রবীন্দ্রনাথের এই কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৩৪৭ বঙ্গাব্দে (১৯৪১)।
- এই কাব্যে কোনো কবিতার নাম নেই, সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে কবি এই কবিতাগুলো মুখে মুখে রচনা করেছেন এবং তা কোনো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি।
- এটি তেত্রিশটি কবিতার সংকলন। কবিতাগুলি ১৯৪০-এর ডিসেম্বর থেকে ১৯৪১-এর ফেব্রুয়ারির মধ্যে রচিত।
- কবিতার ভাষা অলঙ্কারহীন, ছন্দ ধীরগতি এবং চিত্রগুলি পরিচিত জীবনের।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৬৬.
"ঐ ক্ষেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে"- কে এই দামাল ছেলে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কামাল পাশা
  3. চিত্তরঞ্জন দাস
  4. সুভাষ বসু
ব্যাখ্যা
• "কামাল পাশা" কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থটি সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সালে প্রকাশিত। আলোচ্য চরণে দামাল ছেলে বলতে কামাল পাশাকে বোঝানো হয়েছে।

কামাল পাশা
কাজী নজরুল ইসলাম
"ঐ খেপেছে পাগ্নি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোর্সে সামাল সামাল তাই।
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!"

-------------------
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থে মোট বারোটি কবিতা আছে। যথা -
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম.

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ।
৮,৩৬৭.
“ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা” রাধা সম্পর্কে উক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
⇒ 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যে:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'। 'রাধা' সম্পর্কে মধুসূ্ধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা )।

⇒ মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ, 
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৬৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প 'হৈমন্তী' কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. সবুজপত্র
  3. কল্লোল
  4. পরিচয়
ব্যাখ্যা
'হৈমন্তী' গল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোট গল্প।
- এই গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ। ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৩৬৯.
“মাগো, ওরা বলে,
সবার কথা কেড়ে নেবে,
তোমার কোলে শুয়ে
গল্প শুনতে দেবে না
বলো, মা
তাই কি হয়?”
- কোন কবিতার অংশ?
  1. একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. শহীদ স্মরণে
  3. কুমড়ো ফুলে ফুলে
  4. কোন এক মা-কে
ব্যাখ্যা

'কোন এক মা-কে' কবিতা ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর একটি বিখ্যাত কবিতা। 
- বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের পঞ্চাশের দশকের একজন মৌলিক কবি। তার পুরো নাম আবু জাফর মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ খান

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো
- সাত নরীর হার (১৯৫৫),
- কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০),
- কমলের চোখ (১৯৭৪),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি (১৯৮১),
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২),
- প্রেমের কবিতা (১৯৮২),
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩),
- আমার সময় (১৯৮৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১),
- আমার সকল কথা (১৯৯৩),
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)

৮,৩৭০.
‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত‘ গ্রন্থের রচিয়তা কে?
  1. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. মাহবুবুল আলম
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ — ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’।
- গ্রন্থটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয়।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস রচনাসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহু জটিল সমস্যার সমাধান করেন।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- দীওয়ানে হাফিজ,
- রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম,
- নবী করিম মুহাম্মাদ,
- ইসলাম প্রসঙ্গ,
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,
- ব্যাকরণ পরিচয়,
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান,
- মহররম শরীফ,
- টেইল ফ্রম দি কুরআন,
- Buddhist Mystic Songs (১৯৬০),
- Hundred Sayings of the Holy Prophet.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৩৭১.
‘দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ’ বইটি কার লেখা?
  1. সুখওয়ান্ত সিং
  2. মেজর রফিকুল ইসলাম
  3. আর্চার কে ব্লাড
  4. মেজর সি আর দত্ত
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের ‍মুক্তিযুদ্ধের উপর ‘দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ’ বইটি মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং রচিত। এটির পুরো নাম হলো ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার সিন্স ইন্ডিপেন্ডেন্স : দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ’ (১৯৯৮)।
- মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং ১৯৭১ সালে ভারতের সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডে কর্মরত ছিলেন।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো এবং আমাজন ডটকম)
৮,৩৭২.
'নীল দংশন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা
  3. কাব্যনাট্য
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'নীল দংশন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস।
- এটি  একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,

• সৈয়দ শামসুল হক:

- সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
-'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত কাব্যনাট্য।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৭৩.
বিখ্যাত 'ফেলুদা' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. ক) সত্যজিৎ রায়
  2. খ) শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) সমরেশ মজুমদার
  4. ঘ) সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র 'ফেলুদা' এর স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়। 

- ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসের সন্দেশ পত্রিকায় ফেলুদা সিরিজের প্রথম গল্প ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির প্রথমভাগ প্রকাশিত হয় যা পরের আরো দুইটি সংখ্যার মাধ্যমে শেষ হয়।
- ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত এই সিরিজের মোট ৩৫টি সম্পূর্ণ ও চারটি অসম্পূর্ণ গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।
- ফেলুদার প্রধান সহকারী তার খুড়তুতো ভাই তপেশরঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে ও লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি (ছদ্মনাম জটায়ু)।
- ফেলুদার চরিত্র নির্মাণে সত্যজিৎ রায় তার ছোটবেলায় পড়া শার্লক হোমস এর গোয়েন্দা গল্পের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
- তাই ফেলুদার চরিত্রের সাথে অনেক জায়গায় আমরা হোমসের আর ফেলুদার ভাই ও সহকারী তোপসের সাথে হোমসের সহকারী ওয়াটসনের মিল পাওয়া যায়। - নিজের লেখা অধিকাংশ গল্পের বইয়ের মতই ফেলুদার বইতেও সত্যজিৎ রায় নিজেই প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করতেন।

- শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসিদ্ধতম সৃষ্টি হল সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী।

উৎস: দৈনিক পত্রিকা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক। 
৮,৩৭৪.
'ইয়ংবেঙ্গল' কী ধরনের গোষ্ঠি?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) অর্থনৈতিক
  3. গ) মুক্তচিন্তক
  4. ঘ) সামাজিক
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও যে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার নাম একাডেমিক এসোসিয়েশন৷
ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠিকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৩৭৫.
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর,
পাঠশালা-পলায়ন
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন! - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সেঁজুতি
  2. কাহিনী
  3. সোনার তরী
  4. মানসী
ব্যাখ্যা
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর,
পাঠশালা-পলায়ন
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন! - পঙ্‌ক্তিদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া। কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং 'দুই বিঘা জমি' কবিতা।
৮,৩৭৬.
বাংলা সাহিত্যে বিষয়ক পত্রিকা 'সম্বাদ কৌমুদী' কত সালে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮২১
  2. ১৮৩১
  3. ১৮৩৫
  4. ১৮৪১
ব্যাখ্যা
ভারতীয় জাতীয় জাগরণের লক্ষ্যে রাজা রামমোহন রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় কলকাতা থেকে ১৮২১ খ্রিষ্টাব্দের ৪ঠা ডিসেম্বরে 'সম্বাদ কৌমুদী' প্রকাশিত হয়। 
- এর সম্পাদক ছিলেন ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রকাশক তারাচাঁদ দত্ত।
- সামাজিক ও হিন্দু ধর্মীয় রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে উদার মনোভাব নিয়ে এ পত্রিকা লেখনী ধারণ করে।
- ১৮৩৪ সাল পর্যন্ত এ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৭৭.
'চিরায়ত সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহিম
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
- 'চিরায়ত সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা- জাহানারা ইমাম
- এটি ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত হয়। 

জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম হলো:
- অন্য জীবন 
- বীরশ্রেষ্ঠ 
- জীবন মৃত্যু 
- বুকের ভিতরে আগুন
- নাটকের অবসান 
- দুই মেরু 
- নিঃসঙ্গ পাইন
- নয় এ মধুর খেলা
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস ও
- প্রবাসের দিনলিপি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৭৮.
'নিরাশ্রয়ী গৃহী' প্রবন্ধ গবেষণাটি রচনা করেছেন-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ - গবেষণাঃ
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয়ী গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- ভয় পেয়ো না বেঁচে আছি।

গল্পঃ
- ভালো মানুষের জগৎ।

ছোটদের উপন্যাস:
- বাবুলের বেড়ে উঠা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৩৭৯.
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত 'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি কত প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৭৮ সাল
  2. ১৭২০ সাল
  3. ১৭৬৯ সাল
  4. ১৭৮০ সাল
ব্যাখ্যা

'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ':
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত 'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়
- গ্রন্থটি হুগলি থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।

ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
- ১৭৫১ সালের ২৫ মে লন্ডনের এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে হ্যালহেডের জন্ম।
- তিনি প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক ছিলেন।
-  তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৮০.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অস্তিত্ববাদী নাটক-
  1. তরঙ্গভঙ্গ
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. নয়নচারা
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা

 • ‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটক (১৯৬৬):
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক ‘তরঙ্গভঙ্গ’।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে - বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।
- মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে  সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।
- এ নাটকের একটি সংলাপ ‘ভেবেছিলেন জজ  সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।’

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৩৮১.
“আগুন পাখি” উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

• 'আগুন পাখি' উপন্যাসটির রচয়িতা হলেন- হাসান আজিজুল হক।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নামহীন গোত্রহীন
- সমুদ্রের স্বপ্ন
- আত্নজা ও একটি করবী গাছ।
- শীতের অরণ্য
- জীবন ঘষে আগুন
- রোদে যাবো
- আমরা অপেক্ষা করছি
- পাতালে হাসপাতালে।
- “আগুন পাখি” কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।
- তাঁর একমাত্র কিশোর উপন্যাস- লাল ঘোড়া আমি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- বৃত্তায়ন।
- শিউলি।
- আগুন পাখি।
- সাবিত্রী উপাখ্যান।
এছাড়া-
• “আগুন পাখি” কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।
• তাঁর একমাত্র কিশোর উপন্যাস- লাল ঘোড়া আমি।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৮,৩৮২.
নিচের কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয়?
  1. আরণ্যক
  2. দেবযান
  3. ইছামতী
  4. মেঘমল্লার
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- আরণ্যক,
- দেবযান,
- ইছামতী।

অন্যদিকে,
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প - মেঘমল্লার

• 'মেঘমল্লার':
- গ্রন্থটি রচনা করেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- এটি তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৮৩.
'সব্যসাচী' কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. পথের দাবী
  2. শেষ প্রশ্ন
  3. দেনা-পাওনা
  4. দেবদাস
ব্যাখ্যা
'পথের দাবী' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - পথের দাবী।
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ।
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং শরৎ রচনাবলী।
৮,৩৮৪.
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. গ) পদ্মিনী উপাখ্যান
  4. ঘ) পদ্মা নদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮২৭-১৮৮৭): 
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়ায়।
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরগুপ্তের  সংবাদ প্রভাকর-এ তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়।

- রঙ্গলালের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি পদ্মিনী উপাখ্যান ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের Annals and Antiquities of Rajasthan-এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য।
- ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়/ দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য হচ্ছে:
- কর্মদেবী (১৮৬২),
- শূরসুন্দরী (১৮৬৮) ও
- কাঞ্চী কাবেরী (১৮৭৯)।

- তিনি কালিদাসের ঋতুসংহার ও কুমারসম্ভব-এর পদ্যানুবাদ (১৮৭২) করেন।
- তাঁর নীতিকুসুমাঞ্জলি (১৮৭২) সংস্কৃত নীতি ও তত্ত্বমূলক কবিতার অপর পদ্যানুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৮৫.
বাংলাসাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনি কে লেখেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পালামৌ’ (১৮৮০) বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- এখানে ছোটনাগপুরের বিশেষ অ লের বর্ণনা আছে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৩৮৬.
কাকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা বলা হয়?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. কবি কঙ্ক
  4. দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
⇒ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা।
- চণ্ডীমঙ্গলের প্রধান কবি হলেন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। তিনি ষোল শতকের কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য লেখেন।
- গণজীবনের করুণ চিত্র তাঁর কাব্যে তুলে ধরেন।
- কবির প্রতিভার স্বকৃতিস্বরূপ রাজা রঘুনাথ তাকে ‘কবিকঙ্কন’ উপাধি প্রদান করেন।
- তাঁকে দুঃখ বর্ণনার কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৮৭.
‘মন্দির ও মসজিদ’ প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘মন্দির ও মসজিদ’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৮৮.
সর্বপ্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকবি’ উপাধি দিয়েছিলেন কে? 
  1. ক্ষিতিমোহন সেন
  2. মহাত্মা গান্ধী
  3. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
  4. চীনা কবি চি-সি-লিজন
ব্যাখ্যা
- ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়ই সর্বপ্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকবি’ উপাধি দিয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর]] এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম মুদ্রিত কবিতা ‘অভিলাষ’ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১২৮১ সনের (১৮৭৪) অগ্রহায়ণ মাসে (কারও কারও মতে প্রথম কবিতা ‘ভারতভূমি’ বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়)। 
- ভারতী পত্রিকা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত হতো। 

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
কাব্যগ্রন্থ: 
- কবিকাহিনী, 
- বনফুল, 
- মানসী, 
- প্রভাত সঙ্গীত, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা ইত্যাদি। 

উপন্যাস: 
- বউ ঠাকুরাণীর হাট, 
- রাজর্ষি, 
- চোখের বালি, 
- নৌকাডুবি, 
- ঘরে-বাইরে, 
- যোগাযোগ ইত্যাদি। 

প্রবন্ধ: 
- সমাজ, 
- লোকসাহিত্য, 
- বিশ্বপরিচয়, 
- সভ্যতার সংকট, 
- জীবনস্মৃতি ইত্যাদি। 

ছোটগল্প: 
- ভিখারিনী, 
- ছুটি, 
- কাবুলিওয়ালা, 
- পোস্টমাস্টার, 
- সুভা, 
- সমাপ্তি, 
- অপরিচিতা, 
- হৈমন্তী ইত্যাদি। 

নাটক: 
- ডাকঘর, 
- ফাল্গুনী, 
- অচলায়তন, 
- রাজা, 
- প্রায়শ্চিত্ত, 
- চিত্রাঙ্গদা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৮৯.
নিচের কোনজন মহাকাব্য রচনা করেননি?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) রজনীকান্ত সেন
  4. ঘ) যোগীন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে প্রথম ও সার্থক মহাকব্যের রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ১৮৬১ সালে তিনি মেঘনাদবধ মহাকাব্য রচনা করেন। কায়কোবাদ ১৯০৪ সালে মহাশ্মশান নামে মহাকাব্য লেখেন। যোগীন্দ্রনাথ বসু ১৯১৪ সালে পৃথ্বীরাজ নামে মহাকাব্য রচনা করেন। এছাড়া, ইসমাঈল হোসেন সিরাজী স্পেন বিজয় কাব্য, নবীনচন্দ্র সেনের রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস, হেমচন্দ্র সেনের বৃত্রসংহার, মুহাম্মদ হামিদ আলীর কাসেম বধ মহাকাব্য হিসেবে স্বীকৃত৷ রজনীকান্ত সেন গীতিকবি হিসেবে পরিচিত। তিনি মহাকাব্য রচনা করেননি। তার গীতিকাব্যের মধ্যে বাণী, কল্যাণী, অমৃত, আনন্দময়ী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৮,৩৯০.

কুকুরের কাজ কুকুর করেছে
কামড় দিয়েছে পায়,
তা বলে কুকুরে কামড়ানো কিরে
মানুষের শোভা পায়?- উল্লেখিত পঙক্তিগুলো কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) উত্তম ও অধম
  2. খ) মানুষ জাতি
  3. গ) মেথর
  4. ঘ) কোন দেশ
ব্যাখ্যা
উত্তম ও অধম  
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

কুকুর আসিয়া এমন কামড়
দিল পথিকের পায়
কামড়ের চোটে বিষদাঁত ফুটে
বিষ লেগে গেল তাই।
ঘরে ফিরে এসে রাত্রে বেচারা
বিষম ব্যথায় জাগে,
মেয়েটি তাহার তারি সাথে হায়
জাগে শিয়রের আগে।
বাপেরে সে বলে র্ভৎসনা ছলে
কপালে রাখিয়া হাত,
তুমি কেন বাবা, ছেড়ে দিলে তারে
তোমার কি নাই দাতঁ?
কষ্টে হাসিয়া আর্ত কহিল
“তুই রে হাসালি মোরে,
দাঁত আছে বলে কুকুরের পায়ে
দংশি কেমন করে?”
কুকুরের কাজ কুকুর করেছে
কামড় দিয়েছে পায়,
তা বলে কুকুরে কামড়ানো কিরে
মানুষের শোভা পায়?

-------------------
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত কাব্য: 
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত কবিতাগুলো হলো:
- মেথর, মানুষ জাতি, কোন দেশ, ঝর্ণার গান, দূরের পাল্লা, খাঁটি সোনা, ফুলের ফসল।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৩৯১.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল?
  1. বিদ্রোহী
  2. সাম্যবাদী
  3. প্রলয়শিখা
  4. সর্বহারা
ব্যাখ্যা
• ‘কাজী নজরুলের পাঁচখানি বাজেয়াপ্ত করা গ্রন্থের অন্যতম প্রলয়শিখা প্রকাশিত হয় ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের আগস্টে।

গ্রন্থটিতে, 
মুদ্রাকর ও প্রকাশক হিসেবে নজরুলের নামে মুদ্রিত হয়। গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তা রাজরোষে পতিত হয় এবং ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের ১৭ সেপ্টেম্বর বাজেয়াপ্ত হয়। ‘রাজদ্রোহ’ অভিযোগে নজরুলকে ছয় মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর সরকার প্রলয় শিখার প্রচার বন্ধে তৎপর হলেন’

• ১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়। গ্রন্থগুলো হচ্ছে-
- যুগবাণী,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙ্গার গান,
- প্রলয় শিখা ও
- চন্দ্রবিন্দু।

উৎস: শিশির কর—নিষিদ্ধ নজরুল, পৃষ্ঠা: ৪২; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৯২.
বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক রচনার নাম - 
  1. ভ্রান্তিবিলাস
  2. সীতার বনবাস
  3. শকুন্তলা
  4. প্রভাবতী সম্ভাষণ
ব্যাখ্যা
প্রভাবতী সম্ভাষণ:
- বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক রচনার নাম প্রভাবতী সম্ভাষণ।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রভাবতী সম্ভাষণ একটি শোকগাঁথা।
- বন্ধুর বালিকা কন্যা প্রভাবতীর অকাল মৃত্যুর শোকে বিদ্যাসাগর এটি রচনা করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭)। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন। 
- প্রভাবতী সম্ভাষণ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৯৩.
'আঞজুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. বেগম রোকেয়া
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. ফররুখ আহমেদ
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞজুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।

• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন:

- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- 'Sultana's Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

• তাঁর উলেখযোগ্য রচনা:
- মতিচুর (প্রবন্ধ, ২ খণ্ড: ১ম খণ্ড ১৯০৪, ২য় খণ্ড ১৯২২),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।

- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদগ্রন্থ রচনা করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৯৪.
'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়-এর কোন নাটকে ছিল?
  1. ক) নূরজাহান
  2. খ) সাহাজান
  3. গ) চন্দ্রগুপ্ত
  4. ঘ) মেবার পতন
ব্যাখ্যা
'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটি 'সাজাহান' নাটকে ছিল।
নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
তাছাড়া তিনি- প্রতাপসিংহ, দুর্গাদাস, মেবার পতন, নূরজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, সিংহল বিজয় ঐতিহাসিক নাটক রচনা করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড.  সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৯৫.
'প্রেমের সমাধি' কার উপন্যাস?
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
•  'প্রেমের সমাধি' উপন্যাস মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচনা করেছেন।

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি লাভ করেন।
- তাঁর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা। 

• নজিবর রহমান রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস;
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৩৯৬.
জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৬৪ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৬৬ সালে
ব্যাখ্যা
'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- এটি জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম ও একমাত্র উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- মহাজনের শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভুমিহীন হওয়ার কথা বর্ণিত রয়েছে।
- শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছিরের নিগৃহের কথা বর্ণিত রয়েছে।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

জসীম উদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৯৭.
'আপনাকে বড়াে বলে – বড়াে সেই নয়;লােকে যাকে বড়াে বলে – বড়াে সেই হয়।’ -এই অমর বাক্যাংশের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

'আপনাকে বড়াে বলে – বড়াে সেই নয়;লােকে যাকে বড়াে বলে – বড়াে সেই হয়।’ -এই অমর বাক্যাংশের রচয়িতা- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 
---------------------
• বড়াে কে?
    —ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 

"আপনাকে বড়াে বলে – বড়াে সেই নয়;
লােকে যাকে বড়াে বলে – বড়াে সেই হয়।
সংসারে বড়াে হওয়া কঠিন ব্যাপার,
সংসারে সে বড়াে হয়, বড়াে গুন যার।

হিতাহিত না বুঝিয়া মরে অহংকারে
নিজে বড়াে হতে চায়, ছােটো বলি তারে ।
গুণেতে হইলে বড়াে, বড়াে বলে সবে,
বড়াে যদি হতে চাও, ছােটো হও তবে।।" 
-----------------
'বড়াে কে?' কবিতার মূলভাব: 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত কবিতার মূলভাব হলো- 
- যে আত্মম্ভরিতা বা নিজের ওপর অহংকার প্রকৃত বড়ত্বের মানদণ্ড নয়। প্রকৃত বড় মানুষ হলেন সেইজন যারা তাদের সদগুণ, কর্ম ও পরোপকারের মাধ্যমে সমাজ বা জনগণের মধ্যে সম্মান অর্জন করেন। সংসারে বা সমাজে সৎ ও পরোপকারী গুণাবলী অর্জন করেই একজন মানুষ সত্যিকারের মর্যাদা ও সম্মান পেতে পারে।
-----------------  
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত: 
- কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা হরিনারায়ণ দাশগুপ্ত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ছিলেন এবং মায়ের নাম শ্রীমতি দেবী।
- ছোটবেলায় মায়ের মৃত্যু ও পিতার দ্বিতীয় বিয়োর পর তিনি কোলকাতার জোড়াসাঁকোতে মামার বাড়িতে থাকতেন। 
- তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অগ্রগতি সীমিত ছিল। 
- তবু নিজ চেষ্টায় তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন এবং বেদান্তদর্শনে পারদর্শী হন।
- তাকে যুগ সন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সমাজের অনাচার ও চারিত্রিক ত্রুটির প্রতি তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ করেছিলেন। 

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত গ্রামাঞ্চলে ঘুরে প্রাচীন কবিয়ালদের তথ্য সংগ্রহ করে জীবনী রচনা করেন।
- বেঁচে থাকাকালীন তিনি অজস্র কবিতা রচনা করেন। 
- তাঁর স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর ছিল, কঠিন সংস্কৃত শ্লোক একবার শুনে তা কবিতায় রূপ দিতে পারতেন।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত লুপ্তপ্রায় কবিয়ালদের জীবনী উদ্ধার ও প্রকাশের জন্য পরিচিত ছিলেন।
- তিনি রামপ্রসাদ সেনের কবিতা কালীকীর্তন ও প্রবোধ প্রভাকর সম্পাদনা করেন। 
- মৃত্যুর পর তাঁর রচিত হিত প্রভাকর ও বোধেন্দু বিকাশ প্রকাশিত হয়।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ২৩ জানুয়ারি ১৮৫৯ মৃত্যুবরণ করেন।

- তাঁর বিখ্যাত কবিতার নাম:
• বড়ো কে; 
• মাতৃভাষা; 
• কুলের গৌরব; 
• বাবু; 
• কবিওয়ালা

উৎস:
'বড়াে কে?' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

৮,৩৯৮.
কায়কোবাদ এর জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. ঢাকা
  2. খুলনা
  3. চট্টগ্রাম
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৩৯৯.
কোন কাব্যগ্রন্থের জন্য বুদ্ধদেব বসু মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ লাভ করেন?
  1. মর্মবাণী
  2. স্বাগত বিদায়
  3. বন্দীর বন্দনা
  4. একদিন চির দিন
ব্যাখ্যা
- ‘স্বাগত বিদায়’ কাব্যগ্রন্থের জন্য বুদ্ধদেব বসু মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ লাভ করেন।
-  ১৯৭৪ সালে তিনি পুরস্কারটি লাভ করেন।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৮,৪০০.
'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মুহম্মদ আবদুল হাই ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ও মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ আবদুল হাই 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' গ্রন্থটি সৈয়দ আলী আহসানের সহযোগে রচনা করেন ১৯৬৮ সালে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।