বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৮২ / ১৭৪ · ৮,১০১৮,২০০ / ১৭,৪৩৭

৮,১০১.
আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. পৃথক পালঙ্ক
  2. ওরা কয়েকজন
  3. যে তুমি হরণ করো
  4. রাজা যায় রাজা আসে
ব্যাখ্যা
• আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য - ওরা কয়েকজন।

• আবুল হাসান: 

- ১৯৪৭ সালের ৪ঠা আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নাজিরপুর, পিরোজপুর।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। 
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ২৬শে নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

• গল্প সংকলন:
- আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,১০২.
‘জননী’ উপন্যাস কার লেখা?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত জননী উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো দরিয়া-বিবি, আজহার, মোনাদি প্রমুখ। অন্যদিকে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়) জননী নামে একটি উপন্যাস লিখেছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৮,১০৩.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটির প্রেক্ষাপট কী?
  1. দেশভাগ
  2. গণঅভ্যুত্থান
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. স্বাধীনতা সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশ' কবিতা:
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘বাংলাদেশ’ অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- কবিতাটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,১০৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কথামালা
  2. খ) ইতিহাসমালা
  3. গ) কথোপকথন
  4. ঘ) লিপিমালা
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'লিপিমালা'।

• ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তর ভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
- কলেজের বাঙালি শিক্ষকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত ছিলেন রামরাম বসু, তারিণীচরণ মিত্র ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার। 
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- তিনি উলিয়াম কেরীকে (১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত) বাংলা ভাষা সেখান। 
- রামরাম বসু রচিত বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত মৌলিক গ্রন্থ - প্রতাপাদিত্যচরিত্র (১৮০১)।
- রামরাম বসুর দ্বিতীয় গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা (১৮০২)।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের চলিত ভাষা ও দেশিয় লোকের বৈষয়িক ব্যবহারের পরিচয় দানের জন্য পত্রাকারে লিখিত প্রবন্ধ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৮,১০৫.
‘ধূসরতার কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) জীবনানন্দ দাস
  3. গ) মাইকেল মদুসূদন দত্ত
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাস ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
• জীবনানন্দ দাশকে “ধূসরতার কবি” বলা হয়। ‘
• ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের। কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে। তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ, 
- নিরুপম যাত্রা, 
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

• জীবনানন্দের বনলতা সেন  কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়। এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,১০৬.
‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) গীতিনাট্য
  2. খ) কাব্যনাট্য
  3. গ) কাহিনী কাব্য
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
• পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য।
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে |
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্য
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- গণনায়ক,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,১০৭.
ইংরেজি ঔপন্যাসিক লিটনের 'The Last Days of Pompeii' অবলম্বনে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. দেবী চৌধুরাণী
  2. রজনী
  3. যুগলাঙ্গুরীয়
  4. আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্রের 'রজনী' উপন্যাসটি ইংরেজি ঔপন্যাসিক লিটন রচিত 'The Last Days of Pompeii' অবলম্বনে রচিত। 

• 'রজনী' উপন্যাস:
- 'রজনী' (১৮৭৭) উপন্যাসের নায়িকা রজনীর সঙ্গে লর্ড লিটন প্রণীত 'দি লাস্ট ডেজ অফ পম্পেই' নামক উপন্যাসের নিডিয়া চরিত্রের কিছুটা ঐক্য আছে। - বিভিন্ন পাত্র-পাত্রীর জবানবন্দিতে এই উপন্যাস রচিত। এই রীতিটিও যে বঙ্কিম ইংরেজ ঔপন্যাসিক কার্লিনস অনুসরণে করেছেন তা তিনি ভূমিকায় জানিয়েছেন।
- বাংলা উপন্যাস গড়ে তুলবার জন্য এভাবেই পাশ্চাত্যের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। বঙ্কিমের অধিকাংশ উপন্যাসের মতোই এখানেও প্রেম ও আদর্শের সংঘাতই কাহিনির মূল উপজীব্য। 'রজনী'কে প্রকৃত উপন্যাস না বলে রোমান্স বলা হয়ে থাকে। কারণ এখানে বেশ কল্পদৃশ্যে ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
 
অন্যদিকে,
-----------------------------
• ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাস:
- ‘দেবী চৌধুরাণী’ হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস।
- এটি ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সুবোধ চন্দ্র মিত্র এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ‘প্রফুল্ল’ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ভিতর থেকে শক্তির সাথে লড়াই করে। এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র এক নারীকে নেতৃত্ব দিয়ে সংগ্রাম করার কাহিনি উপস্থাপন করেছেন।
- এটি বাংলা ও ভারতীয় সাহিত্যের ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। যেহেতু এটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ভারতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামকে উস্কে দিয়েছিল তাই উপন্যাসটি ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল।
- স্বাধীনতার পর ভারত সরকার পরবর্তীতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। 

-------------------
• ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ উপন্যাস:
- ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট আখ্যান। এটি প্রাচীন পটভূমিকায় একটি প্রেম কাহিনি।

------------------
• 'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'আনন্দমঠ'(১৮৮২)। 
- উপন্যাসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদ্বশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এ গ্রন্থে রচিত গান "বন্দে মাতরম্‌" পরবর্তিতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১০৮.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত নাটক কোনটি?
  1. বিশ শতকের মেয়ে
  2. যে অরণ্যে আলো নেই
  3. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  4. বহ্নিবলয়
ব্যাখ্যা

• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি নাটক। 

নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- 'রমনা পার্কে' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত ছোট গল্প
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,১০৯.
"কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ" গ্রন্থটির মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. বাংলা ব্যাকরণ প্রণয়ন
  2. সুফিবাদের প্রচার
  3. খ্রিষ্টধর্মের মহিমা বর্ণনা
  4. বাংলা উপমহাদেশের ইতিহাস
ব্যাখ্যা

• কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ:
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ হলো মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দ্বারা রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এটি ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়। এই গ্রন্থের মূল লক্ষ্য হলো - গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন করা।

• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ: 
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ খ্রিস্টান ধর্মযাজক। তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচনার আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি। ১৭৪৩ সালে, তিনি দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
এগুলো হলো - 
- কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ,
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,
- বাংলাপিডিয়া।

৮,১১০.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. শেষের কবিতা 
  2. গোরা
  3. নৌকাডুবি
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা

'গোরা' উপন্যাসের বিষয়বস্তু:
- 'গোরা' উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো 'ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়'।
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটি চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

অন্যদিকে,
'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত "চোখের বালি" বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।

'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' একটি সামাজিক উপন্যাস

'শেষের কবিতা'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি রোমান্টিক উপন্যাস।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত 'নাইট' উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে 'নাইট' উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'গোরা' উপন্যাস।

৮,১১১.
'সুশিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি কার? 
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

'সুশিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর লেখা।
এই উক্তিটি তার বিখ্যাত 'বই পড়া' প্রবন্ধের অংশ, যেখানে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে প্রকৃত শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক স্ব-শিক্ষা প্রক্রিয়া।   

প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল'।
- গদ্য / প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক 'সবুজপত্র' (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা,
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ,
- আহুতি।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- নানা চর্চা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ (১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,১১২.
নিচের কোনটি বিষ্ণু দের রচনা?
  1. ক) ময়নামতির চর
  2. খ) মধুমতীর চর
  3. গ) পদ্মা নদীর চর
  4. ঘ) সন্দ্বীপের চর
ব্যাখ্যা
সন্দ্বীপের চর বিষ্ণু দের একটি কাব্যগ্রন্থ। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- উর্বশী ও আর্টেমিস, চোরাবালি, সাত ভাই চম্পা, নাম রেখেছি কোমল গান্ধার, তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ, দিবানিশি চিত্ররূপমত্ত পৃথিবী, উত্তরে থাকে মৌন, আমার হৃদয়ের বাঁচো ইত্যাদি। ময়নামতির চর, মধুমতীর চর, পদ্মা নদীর চর কাব্যের রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৮,১১৩.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে নীলাম্বর ও পীতাম্বর এই চরিত্র দুটি আছে?
  1. পন্ডিতমশাই
  2. বিরাজ বৌ
  3. চরিত্রহীন
  4. পল্লী সমাজ
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস বিরাজবৌ। এই উপন্যাসের চরিত্র নীলাম্বর ও পীতাম্বর দুই ভাই।
- নীলাম্বর বুদ্ধিহীন অথচ পরোপকারী। উপার্জন করেন না শুধু প্রচুর গাঁজা খান।
- পীতাম্বর সংসারী মানুষ। তিনি নিজের উপার্জন নষ্ট না করে পৈতৃক সম্পত্তি দুভাগ করে বাড়ির মাঝে পাঁচিল তুলে দিলেন।
- এই দুই ভাইয়ের কাহিনী নিয়ে উপন্যাসটি রচনা করেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,১১৪.
'মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর' কোন কবি রচিত কবিতার অংশ?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শামসুর রহমান
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শেখ ফজলল করিম
ব্যাখ্যা
‘কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ-নরক— মানুষেতে সুরাসুর।’
- কবিতাংশটি শেখ ফজলল করিমের রচনা।
 
তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে,
- তৃষ্ণা;
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি;
- গাঁথা;
- ভগ্নবীণা;
- প্রেমের স্মৃতি;
- পথ পাথেয় ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস-মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৮,১১৫.
'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- পানকৌড়ির রক্ত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,১১৬.
'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধ গ্রন্থের রচিয়তা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আহমদ শরীফ
  3. গ) ইবরাহীম খাঁ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
তিনি ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
- 'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা আহমদ ছফা।

 তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধঃ
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৮,১১৭.
"গান গাই আমার মন রে বুঝাই, মন থাকে পাগলপারা" গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সঞ্জীব চৌধুরী
  2. খ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  3. গ) শাহ্‌ আবদুল করিম
  4. ঘ) লালন শাহ্‌
ব্যাখ্যা
"গান গাই আমার মন রে বুঝাই, মন থাকে পাগলপারা" গানটির রচয়িতা শাহ্‌ আবদুল করিম।

• তাঁর আরও কয়েকটি বিখ্যাত গান- 
- আগে কী সুন্দর দীন কাটাইতাম।
- গাড়ি চলে না, চলে না, চলে না রে।
- কেমনে ভুলিব আমি বাঁচি না তারে ছাড়া,
- বন্ধে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে, 
- গান গাই আমার মন রে বুঝাই, মন থাকে পাগলপারা। 
- আসি বলে গেল বন্ধু আইল না।
- আমি কুল হারা কলঙ্কিনী
- বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে। ইত্যাদি। 

• লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার, সুরকার শাহ্‌ আবদুল করিম ১৯১৬ সালে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। 
তাঁর প্রকাশিত গানের সংকলন হলো
- আফতাব সঙ্গীত,
- কালনীর ঢেউ,
- ভাটির চিঠি,
- ধলমেলা,
- কালনীর কূলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,১১৮.
‘মেঘনাদবধ কাব্য’ কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• ‘মেঘনাদবধ কাব্যে':
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে ‘মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়।
- এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' (১৮৬০) তাঁর প্রথম এবং বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- কবি কাব্যের প্রথম দিকে বীররসের কথা বললেও এই কাব্যে করুণরসই প্রধান।
- ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।
- নয় সর্গে সম্পূর্ণ 'মেঘনাদবধ কাব্যে’ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ- হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।
- এ কাব্যের ট্রাজেডি সৃজন হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন কবি মিল্টনের 'প্যারাডাইস লস্ট' মহাকাব্যে শয়তান যেমন দুর্জয় বাসনা ও ঋজুতা প্রদর্শন করে, মধুসূদনও রাবণকে দিয়ে সে কাজ করিয়েছেন।

• কাব্যের প্রধান চরিত্র:
→ রাবণ,
→ মেঘনাদ,
→ লক্ষ্মণ,
→ রাম,
→ প্রমীলা,
→ বিভীষণ,
→ সীতা,
→ সরমা ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৮,১১৯.
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' এটি শওকত ওসমান রচিত কোন প্রকার সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,১২০.
"না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ।" - কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) প্রাণ
  2. খ) শেষলেখা
  3. গ) নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  4. ঘ) প্রভাতসঙ্গীত
ব্যাখ্যা
আলোচ্য অংশটুকু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থের 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতার অংশ। 
- কাব্যগ্রন্থটি ১৮৮৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- কাব্যগ্রন্থে মোট ২১টি কবিতা আছে। 
------------------------------
'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতাটি নিম্নরূপ- 

আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের ‘পর,
কেমনে  পশিল গুহার আঁধারে প্রভাতপাখির গান!
না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ।
জাগিয়া উঠেছে প্রাণ,
ওরে       উথলি উঠেছে বারি,
ওরে       প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি।
থর থর করি কাঁপিছে ভূধর,
শিলা রাশি রাশি পড়িছে খসে,
ফুলিয়া ফুলিয়া ফেনিল সলিল
গরজি উঠিছে দারুণ রোষে।
হেথায় হোথায় পাগলের প্রায়
ঘুরিয়া ঘুরিয়া মাতিয়া বেড়ায় –
বাহিরেতে চায়, দেখিতে না পায় কোথায় কারার দ্বার।
কেন রে বিধাতা পাষাণ হেন,
চারি দিকে তার বাঁধন কেন!
ভাঙ্ রে হৃদয়, ভাঙ্ রে বাঁধন,
সাধ্ রে আজিকে প্রাণের সাধন,
লহরীর পরে লহরী তুলিয়া
আঘাতের পরে আঘাত কর্।
মাতিয়া যখন উঠেছে পরান
কিসের আঁধার, কিসের পাষাণ!
উথলি যখন উঠেছে বাসনা
জগতে তখন কিসের ডর!

আমি    ঢালিব করুণাধারা,
আমি    ভাঙিব পাষাণকারা,
আমি    জগৎ প্লাবিয়া বেড়াব গাহিয়া
আকুল পাগল-পারা।
কেশ এলাইয়া, ফুল কুড়াইয়া,
রামধনু-আঁকা পাখা উড়াইয়া,
রবির কিরণে হাসি ছড়াইয়া দিব রে পরান ঢালি।
শিখর হইতে শিখরে ছুটিব,
ভূধর হইতে ভূধরে লুটিব,
হেসে খলখল গেয়ে কলকল তালে তালে দিব তালি।
এত কথা আছে, এত গান আছে, এত প্রাণ আছে মোর,
এত সুখ আছে, এত সাধ আছে – প্রাণ হয়ে আছে ভোর।।
কী জানি কী হল আজি, জাগিয়া উঠিল প্রাণ –
দূর হতে শুনি যেন মহাসাগরের গান।
ওরে, চারি দিকে মোর
এ কী কারাগার ঘোর –
ভাঙ্ ভাঙ্ ভাঙ্ কারা, আঘাতে আঘাত কর্।
ওরে আজ     কী গান গেয়েছে পাখি,
এসেছে রবির কর।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও সঞ্চয়িতা।
৮,১২১.
জীবনানন্দ দাশ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. হুগলী
  2. মুন্সিগঞ্জ
  3. নাটোর
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবিও বলা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ ইত্যাদি।

• ‘কবিতার কথা’ হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,১২২.
'মা যে জননী কান্দে' কে রচনা করেন?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. কায়কোবাদ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কবি জসীমউদ্‌দীন 'মা যে জননী কান্দে' কাব্যটি রচনা করেছেন।  
-------------------
• ‘মা যে জননী কান্দে’ কাব্য : 
- ‘মা যে জননী কান্দে’ এক ধরনের গাঁথা কাব্য বা কাব্যগ্রন্থ। 
- অনেকে এটিকে কাহিনী কাব্য হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে।

• জসীমউদ্‌দীন :  
- কবি জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,১২৩.
‘উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) রশীদ করিম
  2. খ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা- 'রশীদ করীম'। 

• 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাস: 
- উত্তম পুরুষ উপন্যাসটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটি আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়। 

• উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য কিছু চরিত্র :
- শাকের,
- সেলিনা,
- অণিমা,
- শেখর।

রশীদ করীমের  অন্যান্য উপন্যাস :
- আমার যত গ্লানি,
- প্রসন্ন পাষাণ,
- মায়ের কাছে যাচ্ছি,
- লান্সবক্স,
- সোনার পাথর বাটি ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,১২৪.
‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সমরেশ মজুমদার
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

পুতুল নাচের ইতিকথা বাঙালি সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৮,১২৫.
প্রমথ চৌধুরীর মতে, আমাদের দেশে লাইব্রেরির সার্থকতা কীসের চাইতে কম নয়?
  1. বিশ্ববিদ্যালয়ের
  2. হাসপাতালের
  3. কলেজের
  4. স্কুলের
ব্যাখ্যা
প্রমথ চোধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- প্রমথ চোধুরী বই পড়ার গুরুত্ব বোঝাতে তাঁর বইপড়া প্রবন্ধে বলেছেন "আমাদের মনে হয়, এ দেশে লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয় এবং স্কুল কলেজের চাইতে একটু বেশি।"

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
প্রবন্ধ:
- তেল-নুন-লকড়ী,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- ভাষার কথ,
- আমাদের শিক্ষা,
- নানাচর্চা,

গল্পগন্থ:
- চার-ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত,
- ঘোষালে ত্রিকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮,১২৬.
আহসান হাবীবের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) লতিকা
  2. খ) নবীকাহিনী
  3. গ) ছায়াহরিণ
  4. ঘ) বসন্ত
ব্যাখ্যা
কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে'
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে। 
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি। 

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১২৭.
ফররুখ আহমদ রচিত বিখ্যাত কাহিনি কাব্য -
  1. মুহূর্তের কবিতা
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. হাতেমতায়ী
  4. সিরাজাম মুনীরা
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ রচিত বিখ্যাত কাহিনি কাব্য- 'হাতেমতায়ী'। 

• বিশেষ তথ্য:
- পাখির বাসা (১৯৬৫) ফররুখ আহমেদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- নৌফেল ও হাতেম তাঁর রচিত কাব্য নাটক ।
- হাতেম তায়ী একটি কাহিনী কাব্য ।
- মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩) ফররুখ আহমেদের সনেট সংকলনের নাম ।
- তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি।
-------------------- 
• ফররুখ আহমদ: 
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনি কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
 
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি'
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,১২৮.
'একুশের গল্প' এর প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. মুনিম
  2. তপু
  3. অপু
  4. আসাদ
ব্যাখ্যা
• একুশের গল্প:
- জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে 'একুশের গল্প' অন্যতম।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু ও রাহাত।
- এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি ২য় খণ্ড থেকে চয়িত হয়েছে।

• জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র 'সঙ্গম'।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি 'বাহানা'।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

• জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১২৯.
'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়' উক্তিটি কোন কাব্য গ্রন্থের?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) কালিকামঙ্গল
  4. ঘ) সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য। এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,১৩০.
'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. আব্দুল কাদির
  2. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. আহমদ ছফা
  4. বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- জন্ম - ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা 'স্বদেশ' প্রকাশিত হয়েছিল। 

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৩১.
আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ হয়—
  1. আরবি সাহিত্যের প্রভাবে
  2. সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাবে
  3. ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে
  4. ফারসি সাহিত্যের প্রভাবে
ব্যাখ্যা

আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮০০ সালে শুরু হয় আধুনিক যুগ।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ' কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন হয়।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,১৩২.
'অভিজ্ঞান বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
ব্যাখ্যা

'অভিজ্ঞান বসন্ত' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন অমিয় চক্রবর্তী।
- ১৯৪৩ সালে অমিয় চক্রবর্তীর নিজস্বতার স্বাক্ষরে ভাস্বরিত হয়ে প্রকাশিত হলো 'অভিজ্ঞান বসন্ত'।
- এই কাব্যগ্রন্থ সাত পর্যায়ে বিন্যস্ত।

-------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:

- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
-তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
-পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
-কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে 'দেশিকোত্তম' (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার 'পদ্মভূষণ' (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,১৩৩.
মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি বলা হয় কাকে? 
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যসাগর 
  4. আলাওল 
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত উনিশ শতকের প্রথমার্ধে একমাত্র কবি যার কবিতা ছিল হালকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের ভরা। তাঁর কবিতায় কল্পনার স্থানও ছিল না।

- ​ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

এছাড়াও তিনি আরও কিছু পত্রিকা সম্পাদনা করেন- 
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,১৩৪.
'আগুনপাখি' উপন্যাসের পটভূমি কোন অঞ্চল?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. বর্ধমান
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বর্ধমান।

ব্যাখ্যা:
'আগুনপাখি' উপন্যাসের পটভূমি হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল।

উপন্যাসের বিষয়বস্তু:
- ওই এলাকার মানুষের জীবনসংগ্রাম;
- বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতা;
- স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও সমস্যা।

বিশেষত্ব:
- লেখক তাঁর পৈতৃক ভূমির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে এই উপন্যাস রচনা করেছেন।
- বর্ধমানের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র উপস্থাপিত

--------------------
• হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন।
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।

৮,১৩৫.
বাংলাদেশের কবিদের কবি নির্মলেন্দু গুণ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. পঞ্চগড় 
  2. নেত্রকোনা
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ মূলত একজন কবি ছিলেন। তাঁকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিলো রতন। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবন, সমাজ-বাস্তবতা ও রাজনৈতিক চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।
- নির্মলেন্দু গুণকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। সেই বছরই তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কারও পান।
- ২০০১ সালে তাঁকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- চাষাভূষার কাব্য,
- মুজিব লেলিন ইন্দিরা,
- হুলিয়া।

অনুবাদ কবিতা:
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,১৩৬.
কবি নজরুল রচিত গানের সংকলন কোনটি?
  1. গাঙের পার
  2. মুর্শীদা গান
  3. মহুয়ার গান
  4. গীতবিতান
ব্যাখ্যা
• মহুয়ার গান:
- মহুয়ার গান মন্মথ রায়ের মহুয়া নাটকের জন্য কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গানের সংকলন। 
- ১৫ টি গানে সমৃদ্ধ এই মহুয়ার গান নামীয় নজরুলগীতি গ্রন্থটি ডি এম লাইব্রেরি থেকে ১ জানুয়ারি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়।
- মোট পৃষ্ঠা ছিল ১৩টি। মূল্য ছিল দুই আনা।

এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গানগুলো হলো:
- কে দিল খোঁপাতে ধুতুরা ফুল লো,
- একডালি ফুলে ওরে সাজাব কেমন করে,
- বউ কথা কও,
- কত খুঁজিলাম নীল কুমুদ তোরে,
- কোথা চাঁদ আমার,
- ফণীর ফণায় জ্বলে মণি,
- মহুল গাছে ফুল ফুটেছে, আজি ঘুম নহে, নিশি জাগরণ,
- খোলো খোলো গো দুয়ার,
- ভরিয়া পরান শুনিতেছি গান,
- (ওগো) নতুন নেশার আমার এ মদ,
- মোরা ছিনু একেলা, হইনু দুজন,
- ও ভাই আমার এ নাও যাত্রী না লয়,
- আমার গহীন জলে নদী,
- তোমায় কুলে তুলে বন্ধু আমি নামলাম জলে।

অন্যদিকে, 
• জসীম উদ্‌দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। এছাড়াও উনার অন্যান্য গানের সংকলন গুলো হলো- রঙিলা নায়ের মাঝি, গাঙের পার।
• 'গীতবিতান' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমুদয় গানের সংকলন গ্রন্থ।

উৎস: 'মহুয়ার গান' কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,১৩৭.
'আবার আসিব ফিরে' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. মাত্রাবৃত্ত 
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. স্বরবৃত্ত
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'আবার আসিব ফিরে' কবিতাটির রচয়িতা: 'জীবনানন্দ দাশ'।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- জীবনানন্দ দাশের বেশিরভাগ কবিতা অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।

'আবার আসিব ফিরে' কবিতা
- জীবনানন্দ দাশ

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙখচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।
হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়।

উৎস: 'আবার আসিব ফিরে' কবিতা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ছন্দের সহজপাঠ, সুদীপ্ত বিশ্বাস। 

৮,১৩৮.
‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা গ্রন্থটির সম্পাদক কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. ইব্রাহীম খাঁ
  4. বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কথা কয়:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।
- সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।
- এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন।
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী।

আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা।
৮,১৩৯.
শামসুর রাহমান কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. পাড়াতলীতে 
  2. মোগলটুলিতে 
  3. মাহুতটুলীতে
  4. পাহাড়তলীতে 
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,১৪০.
'আবোল তাবোল' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা? 
  1. নাটক 
  2. গল্প সংকলন  
  3. কবিতার বই
  4. ছোটগল্প 
ব্যাখ্যা

• 'আবোল তাবোল':
- 'আবোল তাবোল' সুকুমার রায় রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ/কবিতার বই। 
- যা আজগুবি, যা উদ্ভট, যা অসম্ভব, তা নিয়েই এই বইয়ের কারবার।

- বইয়ের অধিকাংশ ছবি ও কবিতা নানা সময়ের “সন্দেশ” পত্রিকা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। এখানে আবশ্যক সংশোধন ও পরিবর্তন করে এবং নানা স্থানে নতুন মালমশলা যোগ করে সেগুলোকে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কিছু কবিতা হলো- 
 খিচুড়ি,  কাঠ-বুড়ো, গোঁফ চুরি, সৎ পাত্র, প্যাঁচা আর প্যাঁচানি, কাতুকুতু বুড়ো, গানের গুঁতো, খুড়োর কল, লড়াই-ক্ষ্যাপা, ছায়াবাজি ইত্যাদি। 

------------------
• সুকুমার রায়:

- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

এছাড়া তার অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
- অবাক জলপান,
- লক্ষণের শক্তিশেল',
- হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরী,
- ঝালাপালা ও অন্যান্য নাটক এবং
- বহুরূপী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'আবোল তাবোল' কবিতা গ্রন্থের ভূমিকা।

৮,১৪১.
কোন উপন্যাস প্রকাশের মধ্যে দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব ঘটে?
  1. শঙ্খনীল কারাগার
  2. কোথাও কেউ নেই
  3. নন্দিত নরকে
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

• 'নন্দিত নরকে' উপন্যাস:
- ছাত্রজীবনে লেখা 'নন্দিত নরকে' শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।

-------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- অনিল বাগচীর একদিন ইত্যাদি।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত অন্যান্য উপন্যাসসুমূহ:
- নন্দিত নরকে,
- শঙ্খনীল কারাগার,
- আনন্দ বেদনার কাব্য,
- যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ,
- আমার আছে জল,
- আজ রবিবার,
- এই সব দিনরাত্রি, 
- বহুব্রীহি,
- অয়োময়,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- দুই দুয়ারী,
- কোথাও কেউ নেই,
- মহাপুরুষ,
- বৃষ্টিবিলাস,
- মৃন্ময়,
- এপিটাফ,
- লীলাবতী,
- তিন পুরুষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,১৪২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেডি ধাচের নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. রত্নবতী
  3. মায়া-কানন
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেডি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। 
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী,
- ইন্দ্রনীল,
- শচী,
- মুরজা,
- রতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'শর্মিষ্ঠা' মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত ও সার্থক বাংলা নাটক।
• 'রত্নবতী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত উপন্যাস/গদ্যরচনা।
• মায়া-কানন (১৮৭৪  নাটকটি তিনি শেষ করতে পারেন নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,১৪৩.
লাহিনীপাড়া থেকে কোন পত্রিকাটি সম্পাদনা হতো?
  1. হিতকরী
  2. পরিচয়
  3. ক্রান্তি
  4. পূর্বমেঘ
ব্যাখ্যা
'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর।
৮,১৪৪.
মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস কোনটি?
  1. কালঘোড়া
  2. জীবন আমার বোন
  3. নূরলদীনের সারাজীবন
  4. কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা
• ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত তৃতীয় উপন্যাস ‘জীবন আমার বোন’।  প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে, সাহিত্য প্রকাশ থেকে।

- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ যুগসন্ধিক্ষণের ঘটনাপ্রবাহ আবর্তিত হয়েছে এই উপন্যাসে। পটভূমি ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৭ মার্চের ঢাকা শহর।

- উপন্যাস এগিয়েছে কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল কবির খোকার বয়ানে। ‘জীবন আমার বোন’ মুক্তিযুদ্ধকালীন উপন্যাস হয়েও শুধুমাত্র একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়। বরং দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে এটি হয়ে যায় মানবজাতির চিরন্তন স্বাধীনতার এক আখ্যান।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
১ মার্চ প্রেসিডেন্টের ভাষণে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা। যতদিন যেতে থাকে, বাড়তে থাকে উত্তেজনা। সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত হয়ে ওঠে খোকার বয়সী তরুণেরা। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের জল্পনা-কল্পনা, কাঠের ডামি রাইফেল হাতে কুচকাওয়াজ। সমান্তরালে চলতে থাকে রঞ্জু-খোকার পারিবারিক জীবন। এর মধ্যেই ঘটে যায় আসন্ন যুদ্ধ পূর্ববর্তী ঐতিহাসিক সব ঘটনাবলী- অসহযোগ আন্দোলন, জাহাজে করে চট্টগ্রামে পাকিস্তানী সৈন্যের আগমন, নতুন গভর্নর টিক্কা খান, ৭ই মার্চের ভাষণ, জয়দেবপুরে সেনাবাহিনীর গোলাগুলি, ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় চলতে থাকা মিছিল-মিটিং-জনসভা। সমগ্র দেশ যেন ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দিকে।

খোকার দৃষ্টি দিয়ে আমরা দেখি বারুদের স্তুপে পরিণত হওয়া ঢাকা শহরকে, যার সলতেয় স্ফুলিঙ্গ লাগে ২৫ মার্চ কালরাতে। গণহত্যা শেষে ২৭ মার্চ ঠিক মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মুহূর্তেই শেষ হয় উপন্যাস। যদিও শেষ দু’পাতায় বর্ণিত হয়েছে যুদ্ধ শেষে চরিত্রগুলোর পরিণতি।
 
উল্লেখযোগ্য অন্যান্য চরিত্র:
- খোকার ছোট বোন রঞ্জু,
- বন্ধু মুরাদ-ইয়াসিন-রহমান,
- মুরাদের বড় বোন লুলু চৌধুরী,
- খোকার পরিচিত রাজীব ভাই এবং তার দুই স্ত্রী।

অন্যদিকে, 
• 'কালঘোড়া' ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি উপন্যাস। 
• 'কাবিলের বোন' কবি আল মাহমুদ রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি উপন্যাস।
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাটক 'নূরলদীনের সারাজীবন'। 

উৎস: ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৪৫.
কোনটি আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ?
  1. বাংলাদেশ কথা কয়
  2. নাম না জানা ভোর
  3. চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  4. শেষ রাত্রির চাঁদ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ কথা কয়:
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।
• সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।
• এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন। 
-----------------------------------
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা ।
৮,১৪৬.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন কে?
  1. সুকুমার সেন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. আহমদ শরীফ
  4. মুহাম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- পশ্চিমবঙ্গের হাওরায় ১৮৯০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ভাষাচার্য উপাধি দেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- Original and Development of Bengali language.(এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়)।
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স।
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৪৭.
'স্বদেশ' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
মানুষ কে, বাঙালি মেয়ে, আনারস, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি, স্বদেশ, তপসে মাছ - ইত্যাদি কবিতার রচয়িতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
'ভ্রমণকারী বন্ধু' তাঁর ছদ্মনাম।
তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা- সংবাদ প্রভাকর, সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,১৪৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃত গল্প কোনটি?
  1. দান প্রতিদান
  2. জীবিত ও মৃত
  3. পুত্রযজ্ঞ
  4. মেঘ ও রৌদ্র
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃত গল্প 'জীবিত ও মৃত'।

• 'জীবিত ও মৃত' ছোটগল্প:
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা ছোটগল্প।
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা । তবে এটি কোনো নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী। কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত অতিপ্রাকৃত রসের গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীথে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল,
- গুপ্তধন,
- জীবিত ও মৃত।

• তাঁর রচিত সামাজিক জীবন সম্পর্কিত গল্প:
- ব্যবধান,
- মেঘ ও রৌদ্র,
- পণরক্ষা,
- দিদি,
- কর্মফল,
- দান প্রতিদান,
- হৈমন্তী,
- ছুটি,
- পুত্রযজ্ঞ,
- পোস্টমাস্টার,
- কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৮,১৪৯.
"আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি" কাব্যগ্রন্থটির কবি কে?
  1. আবুল ফজল
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
• "আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি" কাব্যগ্রন্থ:
- "আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি" আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে। এই কাব্যগ্রন্থে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' নামে একটি নাম কবিতাও আছে। 
- বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।

- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতায় আছে:
‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি / আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি / তার বুকে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল-'।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- কখনো রং কখনো সুর, 
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৮,১৫০.
মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দী
  3. গ) দীনেশরঞ্জন দাশ
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন(১৮৯৭-১৯৭৮)  সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
• শামসুদ্দীন আবুল কালাম এর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
• ১৯২২ সালে মাসিক  মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। পরে তিনি সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ, দি মুসলমান, দৈনিক  সোলতান, মাসিক মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
• ১৯৩৬ সালে দৈনিক আজাদে যোগদান করে তিনি ১৯৪০-৬২ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। 
• ১৯৬৪ সালে প্রেস ট্রাস্ট অব পাকিস্তান পরিচালিত দৈনিক পাকিস্তানের সম্পাদক নিযুক্ত হয়ে তিনি ১৯৭২ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

তার রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- আলমগড়ের উপকথা
- দুই মহল
- জীবন-কাব্য
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- আশিয়ানা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,১৫১.
“অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে সেখানে ছিলাম আমি, আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে।” - কোন কবির রচনা?
  1. ক) জসীমউদ্‌দীন
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
উপরিউক্ত কবিতাংশটি জীবনানন্দ দাশ রচিত বনলতা সেন কবিতার অংশ।
- কবিতাটি কবির তৃতীয় প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ বনলতা সেন কাব্যের অন্তর্গত।
- ১৯৩৫ সালে কবিতা পত্রিকায় সর্বপ্রথম প্রকশিত হয়।
- ১৯৪২ সালে বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়।
কবিতাটি কবির অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং জনপ্রিয় কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা -ড.সৌমিত্র শেখর।
৮,১৫২.
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. বিবিধার্থ সংগ্রহ
  2. সম্বাদ কৌমুদী
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা

'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায়। 
- এটি একটি সাময়িক পত্রিকা। যা ১৮২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

-------------------
• বাংলার প্রথম সচিত্র মাসিক পত্রিকা 'বিবিধার্থ সংগ্রহ'।
- ১৮৫১ সালে রাজেন্দ্রলাল মিত্রের সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। এতে বিবিধ গবেষণামূলক আলোচনা স্থান পেয়েছে।

• 'তত্ত্বোবধিনী' পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৪৩ সালে।
- মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠিতা এবং অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন এর সম্পাদক।

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,১৫৩.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. নূরলদীনের সারা জীবন
  3. নীল দংশন
  4. হৃৎকলমের টানে
ব্যাখ্যা
'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- "নূরলদীনের সারা জীবন" সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীন যার আসল নাম নূরুলউদ্দিন, তাঁর সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে নাটকটি রচনা করা হয়েছে।
- ১৪টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।
- নূরলদীনের বিখ্যাত আহবান- 'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই'।
- কাব্যনাট্যটির বিখ্যাত লাইন- "এক নূরলদীন যদি চলি যায়, হাজার নূরলদীন আসিবে বাংলায়।"

-----------------
সৈয়দ শামসুল হকের সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- নিষিদ্ধ লোবান (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

• প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৫৪.
'টেনিদা' যে সাহিত্যিকের কিশোরপাঠ্য লেখার কেন্দ্রীয় চরিত্র-
  1. ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. খ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  3. গ) শরবিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা
• 'টেনিদা' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অমর সৃষ্টি।
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের গ্রন্থসংখ্যা ৯৪ টি। 
- টেনিদা মূলত উত্তর কলকাতার পটলডাঙায় বসবাসরত একটি স্থানীয় চরিত্র।

• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, (১৯১৮-১৯৭০) একজন প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক।
- প্রকৃত নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, ‘নারায়ণ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যচর্চা শুরু হয় ছাত্রজীবনে কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে।
- কালক্রমে তিনি গল্প,  উপন্যাস, নাটক প্রভৃতি রচনা করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। 

• তাঁর রচিত কিশোরগ্রন্থ
- সপ্তকান্ড,
- অন্ধকারের আগন্তুক,
- ছোটদের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫২),
- ছুটির আকাশ,
- খুশির হাওয়া,
- ঝাউ বাংলোর রহস্য,
- পঞ্চাননের হাতি,
- পটলডাঙ্গার টেনিদা,
- গল্প বলি গল্প শোন,
- অব্যর্থ লক্ষ্যভেদ,
- টেনিদার অভিযান (১৯৪১) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,১৫৫.
কাজী ইমদাদুল হক রচিত 'নবীকাহিনী' কী ধরণের গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) শিশুতোষ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক (১৮৮২-১৯২৬):
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক'।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
কাব্য:
- আঁখিজল ,
- লতিকা।
প্রবন্ধ:
প্রবন্ধমালা।

শিশুতোষ গ্রন্থ-

- নবীকাহিনী।

উপন্যাস-
‘আবদুল্লাহ' (১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন এবং উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,১৫৬.
‘রক্তে ভেজা একুশ’ গদ্যটি কার রচনা?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. সেলিনা হোসেন
  3. জহির রায়হান
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
⇒ ‘রক্তে ভেজা একুশ' গদ্য:
• বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' (১৯৬৪) উপন্যাসের অংশবিশেষ ‘রক্তে ভেজা একুশ' গদ্যটি।
• আমাদের মহান ভাষা-আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এ কাহিনি রচিত।
• ভাষা-আন্দোলনে ছাত্র-জনতার মিছিলে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী ছাত্র ও পথশিশুর অভিব্যক্তি প্রকাশিত হয়েছে এ গল্পে।
• আন্দোলনে শামিল হয়ে পথশিশু অহি শহিদ হয়েছে এবং সকল মায়ের সন্তান হিসেবে নন্দিত হয়েছে।

⇒ সেলিনা হোসেন:
• বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
• তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
• তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৫৭.
'ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্র পল্লীতে'- উক্তিটি কোন উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. পদ্মানদীর মাঝি
  2. হাজার বছর ধরে
  3. বহিপীর
  4. আর কত দিন
ব্যাখ্যা
• 'ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্র পল্লীতে'- উক্তিটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের অন্তর্গত।

• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

-----------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৫৮.
"যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।" - কার উক্তি?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মীর মশররাফ হোসেন
ব্যাখ্যা

• ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।’ এ উক্তিটি করেছেন : প্রমথ চৌধুরী। 
--------------------- 
 • 'বইপড়া' প্রবন্ধ:
- 'বইপড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
- এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

• এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো :
- ‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।’ 
- ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।’
- ‘যে জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী।’

 • প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।
----------------------
• প্রমথ চৌধুরীর বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
- বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে।
- সাহিত্য জাতির দর্পণ স্বরূপ।
- হীরক ও কাঁচ যমজ হলেও সহোদর নয়।
- সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া-কারও মনোরঞ্জন করা নয়।
- কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।
- সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে। 
- যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।
- জ্ঞানের প্রদীপ যেখানেই জ্বালো না কেন, তাহার আলোক চারিদিক ছড়াইয়া পড়িবে।
- যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।
- মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্য সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন।
- ইহা সত্যকে সুন্দর করে নাই, মিথ্যাকে সত্যের মুখোশ পরাইয়াছে।
- মন উঁচুতে উঠতে চায় নীচুতেও নামতে চায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'বইপড়া' প্রবন্ধ ও বাংলাপিডিয়া।

৮,১৫৯.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৩ খণ্ডে রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- অপরাজিত, দৃষ্টিপ্রদীপ, আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, বিপিনের সংসার, দেবযান, ইছামতি, অশনি সংকেত ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৮,১৬০.
“আমি কিংবদন্তির কথা বলছি” গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 
  3. আল মাহমুদ
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

“আমি কিংবদন্তির কথা বলছি” গ্রন্থটির রচয়িতা হচ্ছে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। 

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ২০০১ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সাত নরীর হার,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- প্রেমের কবিতা,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ, প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,১৬১.
‘একাত্তরের ডায়েরী’ প্রধানত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম? 
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা
  3. স্মৃতিকথা
  4. প্রবন্ধ 
ব্যাখ্যা

‘একাত্তরের ডায়েরী’- সুফিয়া কামালের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির ভিত্তিতে লেখা স্মৃতিকথা।
--------------------------------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
- তাঁর সাহস ও প্রতিরোধর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করা।
- তিনি সমগ্র বাঙালি জাতি, বিশেষ করে সবসময় নারীদের রক্ষা করতে চেয়েছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’ ও
তাঁর বিখ্যাত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।
-------------------------------------------
• ‘একাত্তরের ডায়েরী’ সম্পর্কিত তথ্য: 
- এটি মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
- সুফিয়া কামাল ‘একাত্তরের ডায়েরী’ স্মৃতিকথায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন তার অভিজ্ঞতা, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ ও বাঙালির সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেছেন। 
- সুফিয়া কামালের ‘একাত্তরের ডায়েরী’ ১৯৮৯ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়।
- এই ডায়েরী ছিল কবির ব্যক্তিগত দিনলিপি।   

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য।

৮,১৬২.
আবুল হাসানের প্রকৃত নাম -
  1. আবুল হুসেন
  2. আবুল হুসেন মিয়া
  3. আবুল হোসেন
  4. আবুল হোসেন মিয়া
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান: 
- ১৯৪৭ সালের ৪ঠা আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নাজিরপুর, পিরোজপুর।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। 
- তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান। 
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি একজস সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ২৬শে নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন:
- আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৬৩.
‘সুচয়নী’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) গীতিকা
  4. ঘ) কাব্যসংকলন
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
কবি জসীম উদ্দীনের কবিতার সংকলন সুচয়নী।
প্রশ্নে কাব্যসংকলন না থাকলে কাব্যগ্রন্থ উত্তর করতে হবে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮,১৬৪.
'ভিখু' ও 'পাচি' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ - প্রাগৈতিহাসিক
এই গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র ভিখু ও পাচি।

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- অতসী মামা ও অন্যান্য গল্প,
- মিহি ও মোটা কাহিনী,
- বৌ,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী,
- আত্মহত্যার অধিকার ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৬৫.
'বাসন' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) হাফিজুর রহমান
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'বাসন' সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, কেরামতমঙ্গল, মোনতাসির, শকুন্তলা, কীর্তনখোলা, যৈবতী কন্যার মন, চাকা, হরগজ, হাতহদাই, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,১৬৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮৮৫-১৯৬৯
  2. ১৮৮৮-১৯৬৯
  3. ১৮৮৫-১৯৭০
  4. ১৮৭৫- ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর জীবনকাল (১০ জুলাই ১৮৮৫ - ১৩ জুলাই ১৯৬৯)। 
------------------------- 
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৬৭.
"প্রাণের বান্ধব রে বুড়ি হইলাম তোর কারণে।" - গানটির গীতিকার কে?
  1. শাহ আবদুল করিম
  2. রাধারমন
  3. শেখ ওয়াহিদ
  4. কুদ্দুস বয়াতি
ব্যাখ্যা
•'পরানের বান্ধবরে, বুড়ি হইলাম তোর কারণে'- সুফিয়া কাঙালিনির কণ্ঠে গাওয়া এ গানের গীতিকার শেখ ওয়াহিদুর রহমান।

• শেখ ওয়াহিদুর রহমান:

• লোককবি শেখ ওয়াহিদুর রহমানের জন্ম ১৯৩৯ সালে।

• গানের জগতে জনশ্রুত একটি নাম, এ-কথা বলা যায় না। এর কারণ হলো, তাঁর অনেক গান আমরা শুনি কিন্তু গীতিকারের নাম অনুল্লেখ থাকায়, তা জানার আমাদের কোনো সুযোগ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে না-বুঝেই বলা হয় গীতিকার অজ্ঞাত। কবি শেখ ওয়াহিদ ব্যাপকার্থে পরিচিত না হলেও অজ্ঞাত নন।

• সহজ-সরল কথায় গান রচনা করে ইতোমধ্যে তিনি 'বাউল' খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি রচনা করেছেন বিচিত্র ঘরানার গান; এ-অর্থে বলা যায় তাঁর গানের বৈচিত্র্যক তুলনারহিত।

• বঙ্গবন্ধুর দেওয়া নাম তাঁর ডাক নাম দুষ্ট ছেলে।

• তাঁর জন্ম ও বাল্য-কৈশোর কেটেছে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার নির্জন গ্রামে। ফলে তাঁর রচিত আঞ্চলিক গানে পাওয়া যায় সে-মাটির রূপ-রস-গন্ধ গন্ধ এবং এবং সংস্কৃতির প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের নির্যাস।

• তাছাড়াও তিনি লিখেছেন পল্লিগীতি, ভাটিয়ালি, গণসঙ্গীত, মরমি, আধ্যাত্মিক ও শাক্ত পদাবলি। শেখ ওয়াহিদের গান শুনে ও পাঠ করে সহজেই বোঝা যায়, তিনি এ লোক-বাংলার সাধারণ মানুষেরই প্রতিনিধি।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কিছু গান হলো:
- আমার মাটির গাছে লাউ ধইরাছে,
- অপূর্ব তটিনী ওগো,
- অমৃত কূপের সুধা খেলে,
- অলি দরবেশ কারে বলে,
- আল-আরাবি নাবীজি আমার,
- আদমকে বানাইয়া খোদা।

তাঁর রচিত কিছু বিয়ার গান:
- মেনদি বাটো তোমরা সখি,
- মিতু আসবে নওশা সেজে,
- আজ ঝিলমিল ঝিলমিল,
- পালকি চড়ে যাইগো ভাবি,
- বিয়াই মজলিসে দেখবে,
- সখীরা সব সাজাও কন্যা। 

উৎস: ‘শেখ ওয়াহিদ গীতি সমগ্র’ শেখ ওয়াহিদুর রহমান।
৮,১৬৮.
শিক্ষামূলক গ্রন্থ 'কথামালা' রচনা করেন কে?
  1. রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রামরাম বসু
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি একজন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী ছিলেন।
- তিনি১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি 'বন্দ্যোপাধ্যায়'। তাঁর প্রকৃত নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,১৬৯.
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) ডানপিটে শওকত
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  3. গ) শেষ রাত্রির চাঁদ
  4. ঘ) কৃষ্ণপক্ষ
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত প্রথম উপন্যাস চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান।
-  এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। 

- 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 
- 'শেষ রাত্রির চাঁদ' (১৯৭৬) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস
- 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৭০.
''পাছে লোকে কিছু বলে''- কবিতাটি কার রচনা?
  1. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  2. কামিনী রায়
  3. সুফিয়া কামাল
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
• 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতাটি লিখেছেন: 'কামিনী রায়'। 
 - কবিতাটি কোন কাজ করতে গেলে অন্য মানুষের সমালোচনার ভয়ে নিজেকে ঘুটিয়ে রাখে - সেই দিকটায় আলোকপাত করা হয়েছে।

কামিনী রায়: 
- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালে বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- আলো ও ছায়া, 
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন ,
- মাল্য ও নির্মাল্য, 
- অশোকসঙ্গীত, 
- অম্বা, 
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে।
---------------------------- 
পাছে লোকে কিছু বলে,
- কামিনী রায়। 

করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,-
পাছে লোকে কিছু বলে।

আড়ালে আড়ালে থাকি
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে। (সংক্ষেপিত)

উৎস: সাহিত্য কণিকা, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,১৭১.
'কালের পুতুল' বুদ্ধদেব বসু রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'কালের পুতুল' বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি প্রবন্ধ। প্রবন্ধটি প্রথমে কবিতা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে প্রবন্ধটি বুদ্ধদেব বসুর 'কালের পুতুল' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম। 
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্যগ্রন্থ:
- বন্দীর বন্দনা; কঙ্কাবতী; দ্রৌপদীর শাড়ী, শীতের প্রার্থনা: বসন্তের উত্তর, যে আঁধার আলোর অধিক। 

• উপন্যাস:
- লাল মেঘ; রাতভর বৃষ্টি; পাতাল থেকে আলাপ; গোলাপ কেন কালো।

• গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়; রেখাচিত্র; ভাসো আমার ভেলা। 

• নাটক:
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী; কলকাতার ইলেকট্রা; সত্যসন্ধ। 

• প্রবন্ধ: কালের পুতুল; সাহিত্যচর্চা; রবীন্দ্রনাথ: কথাসাহিত্য;  স্বদেশ ও সংস্কৃতি; 

• ভ্রমণ ও স্মৃতিকথা:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি; সব-পেয়েছির দেশে; জাপানি জার্নাল;  দেশান্তর; আমার ছেলেবেলা; আমার যৌবন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,১৭২.
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার?
ভয় কি বন্ধু,
আমরা এখনো চারকোটি পরিবার" কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আবুল হোসেন
ব্যাখ্যা
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার?
ভয় কি বন্ধু,
আমরা এখনো চারকোটি পরিবার" কবিতাংশটুকু আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। এ সময়ে যাঁরা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে তোলার চেষ্টা করেন, তিনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৭৩.
'বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. আহমদ শরীফ
  3. আবদুল কাদির
  4. বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

আবদুল কাদির:
- আবদুল কাদির কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দ বিশারদ, সম্পাদক।
- ১৯০৬ সালের ১ জুন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

আবদুল কাদির রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা,
- কবি নজরুল,
- কাজী আব্দুল ওদুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,১৭৪.
বাঙালি রচিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম দীর্ঘ মৌলিক রচনা কোনটি?
  1. লিপিমালা
  2. পুরুষ পরীক্ষা 
  3. মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা

রামরাম বসুর গদ্যগ্রন্থ দুটি রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১) ও লিপিমালা (১৮০২)। ফারসি-নবিস মুনশী বলে সেকালের চলতি রীতিতে বাংলা গদ্যপদ্য রচনায় তাঁর অবিসংবাদিত দক্ষতা ছিল।

• বাঙালি রচিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম একটানা দীর্ঘ মৌলিক রচনা 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থে রাজা প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে জ্ঞাত কাহিনিগুলো স্থান পেয়েছে।

• দ্বিতীয় গ্রন্থ 'লিপিমালা' ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের চলিত ভাষা ও দেশীয় লোকের বৈষয়িক ব্যবহারের পরিচয়দানের জন্য পত্রাকারে লিখিত প্রবন্ধ। গ্রন্থের রচনারীতি সহজ সরল ও মৌখিক রীতির কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তার রচনাশৈলী সাধুভাষার অনুগত হলেও তা কথ্যরীতির অনুসারী ছিল। মৌলিক লেখক হিসেবে রামরাম বসুর স্বতন্ত্র পরিচয় বিদ্যমান।

অন্যদিকে, 
- হরপ্রসাদ রায় রচিত- পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)। 
- রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত- মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮,১৭৫.
বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর কোন দুটি উপন্যাস রচনা করেন?
  1. ক) কপালকুন্ডলা ও কৃষ্ণকান্তের উইল 
  2. খ) দূর্গেশনন্দিনী ও কপালকুন্ডলা
  3. গ) বিষবৃক্ষ ও দূর্গেশনন্দিনী
  4. ঘ) সিতারাম ও আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত  উপন্যাস দূর্গেশনন্দিনী ও কপালকুন্ডলা রচনা করেন। 


বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ উপনিবেশিক সরকার তাঁকে ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- তাঁর উপন্যাসের মূল লক্ষ্য ছিল কাব্যচর্চা, প্রকৃতির পূঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা, মানবীয় সৌন্দর্যের অযৌক্তিক উপস্থাপনা, অবিরাম কাল্পনিক ঘটনার বিবরণ এবং বিস্ময়কর ও অতিপ্রাকৃত বিষয়ের বর্ণনা।
- তাঁর সম্পাদিত  বঙ্গদর্শন পত্রিকার মাধ্যমে একটি নতুন লেখকগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে। 

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
উপন্যাস:
- Rajmohan’s Wife
- দূর্গেশনন্দিনী 
- কপালকুন্ডলা 
- মৃণালিনী 
- ইন্দিরা 
- যুগলাঙ্গরীয় 
- চন্দ্রশেখর 
- রজনী 
- রাধারাণী 
সামাজিক উপন্যাস:
- বিষবৃক্ষ
- কৃষ্ণকান্তের উইল 
ঐতিহাসিক উপন্যাস
- রাজসিংহ 
রাজনৈতিক উপন্যাস:
- আনন্দমঠ
- দেবী চৌধুরাণী 
- সীতারাম 
ত্রয়ী উপন্যাস:
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী ও সীতারাম। 
কাব্য:
- ললিতা তথা মানস 
প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য
- বিজ্ঞানরহস্য 
- সাম্য 
- কৃষ্ণচরিত্র ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,১৭৬.
'তিথিডোর’ - উপন্যাসের লেখক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র 
  3. বিষ্ণু দে 
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• 'তিথিডোর' উপন্যাস: 
- বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস- তিথিডোর।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৯। 
- উপন্যাসটি প্রথম শ্রাবণ, করুণ রঙিন পথ, যবনিকা কম্পমান এই তিনখন্ডে বিভক্ত। 
- বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর নারীর জীবন যাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি এ উপন্যাসে বর্ণিত। 
- কাহিনির মূল উপজীব্য প্রেম ও যৌবনের বন্দনা। 

• বুদ্ধদেব বসু:
- তিনি একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালে ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের,
- একদিন চিরদিন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,১৭৭.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত হয়েছে?
  1. ক) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  2. খ) ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রাম
  3. গ) সামাজিক ও ধর্মীয় কুসংস্কার
  4. ঘ) তৎকালীন জমিদারদের অত্যাচার
ব্যাখ্যা

অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
তৎকালীন কুমিল্লা জেলার অধীনে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া মহকুমার গােকর্ণঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিতাস একটি নদীর নামঃ এই একটিমাত্র উপন্যাস লিখে তিনি বাংলা সাহিত্যের চিরস্মরণীয় ও অমর প্রতিভা হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেন।
- এক দরিদ্র ধীবর (জেলে/মৎস্যজীবী) পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলেই হয়তাে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তদৃষ্টির কারণে এই উপন্যাসটিতে প্রতিকূল সংঘাতে ক্রমশ মুছে আসা মৎস্যজীবী মানুষদের কাহিনী বা ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে করেছেন অবিনশ্বর ও অসাধারণ।
- উপন্যাসটি-৪ খন্ডে বিভক্ত।
- পরবর্তীকালে ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮,১৭৮.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মানব তোমার সারাজীবন
  2. খ) সত্যমিথ্যা
  3. গ) পোড়ামাটির কাজ
  4. ঘ) প্রদীপ ও পতঙ্গ
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
তিনি  ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম আবুল মনসুর আহমেদের আয়না হাস্যরসাত্মক গল্পের ভূমিকা লিখেছিলেন। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে,
- সত্যমিথ্যা (১৯৫৩),
- জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫)ও
- আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)।

'মানব তোমার সারাজীবন' উপন্যাসটির রচিয়তা - আব্দুল্লাহ আল মামুন
'পোড়ামাটির কাজ' উপন্যাসটির রচিয়তা -আবদুল মান্নান সৈয়দ
'প্রদীপ ও পতঙ্গ' উপন্যাসটির রচিয়তা -আবুল ফজল 


 [উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
৮,১৭৯.
অমিয় চক্রবর্তীর 'বাংলাদেশ' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দে 
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে 
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দে 
  4. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে 
ব্যাখ্যা

• 'বাংলাদেশ' কবিতা:
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘বাংলাদেশ’ অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- কবিতাটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

--------------------
অমিয় চক্রবর্তী:
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
 
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,১৮০.
'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  5. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• জুতা আবিষ্কার:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কল্পনা' কাব্য থেকে 'জুতা আবিষ্কার' কবিতাটি সংকলন করা হয়েছে।
- ধুলাবালি থেকে রাজার পা দুটিকে মুক্ত রাখার নানা প্রসঙ্গই কবিতাটির মূল উপজীব্য।

জুতা-আবিষ্কার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কহিলা হবু, 'শুন গো গোবুরায়, কালিকে আমি ভেবেছি সারা রাত্র
মলিন ধুলা লাগিবে কেন পায় ধরণী-মাঝে চরণ-ফেলা মাত্র!
তোমরা শুধু বেতন লহ বাঁটি, রাজার কাজে কিছুই নাহি দৃষ্টি।
আমার মাটি লাগায় মোরে মাটি, রাজ্যে মোর একি এ অনাসৃষ্টি!
শীঘ্র এর করিবে প্রতিকার, নহিলে কারো রক্ষা নাহি আর।'
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস:বাংলা সাহিত্য, নবম ও দশম শ্রেণি, (২০২৫ সংস্করণ)।

৮,১৮১.
রূপকথার সংকলন ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র রচয়িতা কে?
  1. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. সুকুমার রায়
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• রূপকথার সংকলন ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র রচয়িতা — দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। 
--------------------
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। 
- প্রধানত ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি। 
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক ‘সুধা’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ ‘উত্থান’ কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,১৮২.
বাংলাদেশে 'গ্রাম থিয়েটারে'র প্রবর্তক কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. সেলিম আল দীন
  3. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  4. মমতাজ উদদীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার। 
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনী জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ ।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, 
- বাসন, 
- তিনটি মঞ্চ নাটক: মুনতাসির, শকুন্তলা ও কিত্তনখোলা, 
- কেরামতমঙ্গল, 
- কিত্তনখোলা, 
- হাতহদাই, 
- যৈবতী কন্যার মন, 
- চাকা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,১৮৩.
'জলাঙ্গী' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. শওকত ওসমান
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'জলাঙ্গী' উপন্যাস:
- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'।
- স্বাধীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠার দ্যোতক হিসেবে 'জলাঙ্গী' (১৯৭৪) উপন্যাসের মূল্য অপরিসীম।
- শওকত ওসমান রচিত এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার প্রেমিকার ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা। এদের হাত-পা বেঁধে গলায় পাথর ঝুলিয়ে মেঘনা নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়।
- এরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েও মৃত্যুর আগ মুহূর্তে 'জয় বাংলা' তাদের অবিচলিত দেশপ্রেমকে মহিমান্বিত করেছে।

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- বনি আদম,
- জননী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,১৮৪.
'নজর আলী’ কোন লেখকের ডাকনাম?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উল্লেখ্য,
• সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম: প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

অন্যদিকে,
•  শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল বাচ্চু।
সৈয়দ আলী আহসান

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবি নজরুল জীবনী।
৮,১৮৫.
সরদার জয়েনউদ্দীন রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) অনেক সূর্যের আশা
  2. খ) গৃহদাহ
  3. গ) খরস্রোত
  4. ঘ) চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

সরদার জয়েনউদ্দীনঃ কথাসাহিত্যিক।

তার রচিত উপন্যাসঃ
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ।

তাঁর রচিত ছোটগল্পঃ
- নয়ন ঢুলি,
- খরস্রোত,
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম,
- অষ্টপ্রহর।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর

 
৮,১৮৬.
‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থটির লেখক কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ ‘কবিতার কথা’ নামে প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
------------------ 
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় “রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা” নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
 
উল্লেখ্য,
‘কবিতার কথা’ সৈয়দ আলী আহসানের প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,১৮৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সৃষ্ট বিখ্যাত কিশোর চরিত্র কোনটি?
  1. ক) ফটিক
  2. খ) জগৎনাথ
  3. গ) রতন
  4. ঘ) ইন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ'।
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,১৮৮.
নিচের কোনটি অমিয় চক্রবর্তীর গদ্য?
  1. ক) অভিজ্ঞান বসন্ত
  2. খ) পথ অন্তহীন
  3. গ) অনিঃশেষ
  4. ঘ) খসড়া
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী একজন শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি ছিলেন।
- তার 'এক মুঠো' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
তার উল্লেখযোগ্য অন্যন্য কাব্যগ্রন্থ -
- খসড়া,
- মাটির দেয়াল,
- অনিঃশেষ,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।
তার উল্লেখযোগ্য গদ্য রচনাঃ
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,১৮৯.
'পদ্মরাগ' বেগম রোকেয়া রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. অনুবাদ গদ্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস 'পদ্মরাগ'। এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'পদ্মরাগ' গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

- তবে একে উপন্যাস না বলে উপন্যাসপম গদ্য-আখ্যায়িকা বলাই ভালো। কেননা উপন্যাসের গাঁথুনি এখানে নেই, শিল্প হিসেবেও অসফল। তবে 'পদ্মরাগে'র মূল্য অন্যত্র। প্রথমত কোনো মুসলিম নারীর রচনা; দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না; তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।

-----------------
বেগম রোকেয়ার উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ গ্রন্থ),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি)।
এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,১৯০.
বাংলাদেশে প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাচল
  2. ক্রান্তি
  3. কালিকলম
  4. শিখা
ব্যাখ্যা
'ক্রান্তি' পত্রিকা:
- বাংলাদেশে প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা ‘ক্রান্তি’। পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ঢাকায় ১৯৩৯ সালে গঠিত হয় প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ। ১৯৪০ সালে এই সংঘের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- সংঘের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন সোমেন চন্দ, রণেশ দাশগুপ্ত, সত্যেন সেন, কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত, সতীশ পাকরাশী প্রমুখ।
- এই সংঘ ছিল মূলত সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িক্তা, যুদ্ধ, আধিপত্যবাদ বিরোধী এবং মেহনতি মানুষের পক্ষে লেখনী ধারণকারী প্রতিষ্ঠান।
- এই সংঘের মুখপত্র হিসেবে ‘ক্রান্তি’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালের শেষ দিকে।
- ‘ক্রান্তি’র প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত, আর প্রকাশক ছিলেন সোমেন চন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৯১.
'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?' - বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কে রচনা করেন?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. বিষ্ণু দে
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

'উটপাখি' কবিতা:
- 'উটপাখি' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'উটপাখি' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি-  'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: 
- তন্বী, 
- অর্কেষ্ট্রা, 
- ক্রন্দসী, 
- উত্তর ফাল্গুনী, 
- সংবর্ত, 
- প্রতিদিন, 
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,১৯২.
'ফেরারী ডায়েরী' কোন পটভূমিকায় রচিত?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধের
  2. খ) দেশ বিভাগের
  3. গ) ভাষা অন্দোলনের
  4. ঘ) গণঅভ্যুত্থানের
ব্যাখ্যা

• আলাউদ্দিন আল আজাদ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর লেখা বই 'ফেরারী ডায়েরী'।
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক নরকে লাল গোলাপ।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- কর্ণফুলী,
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- বিশৃঙ্খলা,
- স্বপ্নশীলা,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন ইত্যাদি।
• তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস। আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবনযাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত। উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য। এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার

৮,১৯৩.
'হৃদয়ে বাংলাদেশ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. পান্না কায়সার
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. সালমা হোসেন
ব্যাখ্যা
• পান্না কায়সার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাসমালা 'হৃদয়ে বাংলাদেশ' ।
- এই কাহিনি কেবল বালক-কিশোরের বীরত্ব ও বেদনার গল্প নয়, মুক্তিযুদ্ধের জীবনসত্যেরই এ-এক প্রতিচ্ছবি।
- একাত্তরের এই কাহিনির হাত ধরে কিশোর পাঠকেরা পৌঁছে যাবে মুক্তিযুদ্ধের ভেতরে।


উৎস: 'হৃদয়ে বাংলাদেশ' উপন্যাস।
৮,১৯৪.
'যাত্রা' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
  4. ত্রিভুজ প্রেম
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস যাত্রা।
- এই উপন্যাসে যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,১৯৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' এর রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
- বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।

সৈয়দ শামসুল হক:
- ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- উপন্যাসটি পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও এদেশে অবস্থানরত তাদের বংশধর বিহারী দের কতৃক নির্যাতিত ও হত্যাকৃত হাজারো মুক্তিকামী জনতার প্রতিচ্ছবি।
- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (১২ আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ) ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- এক মহিলার ছবি,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- ত্রাহী,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,১৯৬.
'কীর্তিবিলাস' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা
- এর রচয়িতা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮,১৯৭.
নিচের কোন কবিতাটি 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. প্রলয়োল্লাস
  2. বিদ্রোহী
  3. দারিদ্র্য
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
'দারিদ্র্য' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের সিন্ধু হিন্দোল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
এতে মোট ১২ টি কবিতা রয়েছে। এগুলো হলো -
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত ইল আরব,
- খেয়াপাড়ের তরণী,
- কোরবানি ও
- মহররম।

[উৎস: অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।]
৮,১৯৮.
নির্মলেন্দু গুণ কত সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) ১৯৮২
  2. খ) ২০০১
  3. গ) ২০১২
  4. ঘ) ২০১৬
ব্যাখ্যা
নির্মলেন্দু গুণ ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমী পদক, ২০০১ সালে একুশে পদক এবং ২০১৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৮,১৯৯.
নুরুল মোমেন রচিত নেমেসিস নাটকের বিষয়বস্তু কি?
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  4. ঘ) ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা

'নেমেসিস' নুরুল মােমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মােমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৮,২০০.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রেমমূলক কাব্যগৃন্থ?
  1. ক) ছায়ানট
  2. খ) সর্বহারা
  3. গ) চক্রবাক
  4. ঘ) মৃত্যুক্ষুরামু
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম একই সঙ্গে ছিলেন দ্রোহ ও প্রেমের কবি। তার কাব্যে, গানে বারবার তাই উপজীব্য হয়েছে প্রেম। 'চক্রবাক' কাব্যে তাঁর এই রোমান্টিক সত্তার প্রকাশ বিশেষভাবে ফুটে ওঠে। উৎসঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন।