বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৭৯ / ১৭৪ · ৭,৮০১৭,৯০০ / ১৭,৪৩৭

৭,৮০১.
'শপথ' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) কল্যাণ মিত্র
  4. ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
- আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত বিখ্যাত নাটক- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- আবদুল্লাহ আল মামুন - রচিত "কোকিলারা" একটি এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।

উল্লেখযোগ্য নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উপন্যাস-
- মানব তোমার সারাজীবন,
- তাহাদের যৌবনকাল,
- হায় পার্বতী,
- এই চুনীলাল,
- গুন্ডাপান্ডা বাবা,
- খলনায়ক ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৮০২.
'মতিচূর' কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
'মতিচূর' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮০৩.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) দেশকাল পাত্র
  2. খ) ইউরোপের চিঠি
  3. গ) তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ঘ) এক মুঠো
ব্যাখ্যা
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ, (১৯১৪-১৯৫১) সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক। ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে এক দরিদ্র জেলে পরিবারে তাঁর জন্ম।
•  জীবিকার সন্ধানে অদ্বৈত মল্লবর্মণ ১৯৩৪ সালে কলকাতা যান, সেখানে মাসিক পত্রিকা ত্রিপুরা সম্পাদনার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরে তিনি প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত নবশক্তি পত্রিকায় যোগ দেন।
• তিনি  মোহাম্মদী,  আজাদ,  নবযুগ, কৃষক,  যুগান্তর প্রভৃতি পত্রিকায়ও সাংবাদিকতা করেন। ১৯৪৫ সালে বিখ্যাত দেশ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করে তিনি আমৃত্যু এ দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর একমাত্র উপন্যাস “তিতাস একটি নদীর নাম” মাসিক মোহাম্মদীতে প্রথম ধারাবাহিকভাবে (১৯৪৫-৪৭) প্রকাশিত হয়। এ উপন্যাসের জন্যই তিনি সাহিত্যজগতে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন।
• এতে তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে তিতাস নদীর তীরবর্তী জেলেদের সংগ্রামী জীবনের কথা বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরেন।
• ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়।

এছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৮০৪.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত প্রবন্ধ কোনটি?
  1. তৈল
  2. সাম্য
  3. পদ্মাবতী
  4. সাম্প্রদায়িকতা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত প্রবন্ধ- তৈল।

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর "তৈল" প্রবন্ধটি বাংলা সাহিত্যের একটি প্রভাবশালী রচনা, যা তৎকালীন সমাজ ও সংস্কৃতির ব্যঙ্গাত্মক বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানব চরিত্রের গভীর উপলব্ধি প্রকাশ করে।  প্রবন্ধটিতে লেখক সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে তৈলের প্রতীকী ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যময়। এটি কেবল একটি শৈল্পিক ব্যঙ্গ নয়; বরং সমাজের রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রতিফলন।
-----------------------------------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

অন্যদিকে, 
- আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ রচিত প্রবন্ধ- পদ্মাবতী।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ- সাম্য।
- বদরুদ্দীন উমর রচিত প্রবন্ধ- সাম্প্রদায়িকতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮০৫.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারী' প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫২
  2. খ) ১৯৫৩
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫৫
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের উপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ এর সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।
- সংলনটির প্রথম প্রকাশ মার্চ ১৯৫৩।
- বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতীক 'ভাষা আন্দোলন' পরবর্তী সময়ে ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামের এই ঐতিহাসিক সংকলনটি; যা বাংলাদেশ তথা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এক অসামান্য দলিল।
- এতে ৬টি বিভাগে ২২ জন লেখকের লেখা আছে। বিভাগগুলো হলো - কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস।
- সংকলনটি প্রকাশিত হয়েছিলো পুথিপত্র প্রকাশনী থেকে।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৭,৮০৬.
শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1.  বিরাজবৌ
  2. পরিণীতা
  3. শেষের পরিচয়
  4. সারেং বৌ
ব্যাখ্যা

'সারেং বৌ' উপন্যাস:
- "সারেং বৌ" শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি কালজয়ী বাংলা উপন্যাস। এই উপন্যাসটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও প্রেম- ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
-  কদম আলী (সারেং) ও নবিতুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে। এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনি।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
“কদম” সারেং জাহাজে কাজ করে অনেক দিন পর ফিরে আসে নিজ বাড়িতে, তারপর ভালবেসে বিয়ে করে “নবিতন”কে। বিয়ের কিছু দিন পরে আবার চলে যায় জাহাজের কাজে, কদম চলে যাওয়ার পর মাঝে মাঝেই নবিতনের কাছে চিঠি ও টাকা পাঠায়। কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালী “মোড়ল” ডাক পিয়নকে হাত করে সেইসব চিঠি ও টাকা নিয়ে নেয়, যাতে করে নবিতনের সংসারে অভাব চলে আসে। আর এই অভাবের সুযোগে নবিতনকে তার লালসার শিকার বানাতে চায়, কিন্তু নবিতন নিজে গায়ে খেঁটে ঢেঁকিতে ধান বেঁনে কোন মতে সংসার চালায়।

-----------------
অন্যদিকে, 
শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই, 
- পরিণীতা,
- চন্দ্ৰনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৭,৮০৭.
বাংলা গদ্য সাহিত্যের উৎপত্তিকাল কখন?
  1. ষোড়শ শতাব্দী
  2. অষ্টাদশ শতাব্দী
  3. সপ্তদশ শতাব্দী
  4. উনবিংশ শতাব্দী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটেনি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় বাংলা গদ্যরীতির সূচনা হয় ষোল শতকে তবে উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির ব্যবহার শুরু হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৮০৮.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন নামে স্বাক্ষর করতেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র কান্ত
  4. বিদ্যাসাগর শর্মা
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পৈত্রিক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। পারিবারিক পদবি অনুসারে, তাঁর প্রকৃত নাম 'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়'। কিন্তু তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।

-----------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

বিদ্যাসাগরের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি প্রকাশক গ্রন্থগুলো হলো তাঁর অনুবাদমূলক রচনা। গ্রন্থগুলো হলো: 
• সুপ্রসিদ্ধ হিন্দি গ্রন্থ 'বৈতাল পচ্চিসী' থেকে অনুবাদ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি',
•কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নামক সংস্কৃত নাটক থেকে অনুবাদ 'শকুন্তলা',
• মহাভারতের কিছু অংশের অনুবাদ 'মহাভারত' (উপক্রমণিকা ভাগ),
• ভবভূতির 'উত্তর রামচরিত' নাটকের অংশবিশেষ এবং বাল্মীকির 'রামায়ণ' অবলম্বনে রচিত 'সীতার বনবাস',
• সেক্সপিয়রের Comedy of Errors অবলম্বনে 'ভ্রান্তিবিলাস' এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য রচনা।

•  তাঁর সাহিত্যসৃষ্টির মধ্যে মৌলিক রচনা হিসেবে 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' ক্ষুদ্র নিবন্ধ এবং স্বরচিত 'বিদ্যাসাগর চরিত' গ্রন্থও উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮০৯.
‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতাটি কে রচনা করেছেন?
  1. শামসুর রাহমান
  2. রজনীকান্ত সেন
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'স্বাধীনতার সুখ' কবিতাটির রচয়িতা-রজনীকান্ত সেন।

রজনীকান্ত সেন: 
- রজনীকান্ত সেন (১৮৬৫-১৯১০) কবি, গীতিকার, সঙ্গীতশিল্পী।
- তিনি কবিতাও রচনা করতেন এবং ‘কান্তকবি’ নামে খ্যাত ছিলেন।
- তাঁর কবিতা ও গানের বিষয়বস্তু ছিল প্রধানত ভক্তি ও দেশপ্রেম।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলি: 
- বাণী,
- কল্যাণী, 
- অমৃত, 
- অভয়া, 
- আনন্দময়ী, 
- বিশ্রাম, 
- সদ্ভাবকুসুম, 
- শেষদান, 
- পথচিন্তামণি এবং
- অভয় বিহার। 

এগুলির মধ্যে, 
- 'বাণী ও কল্যাণী' গানের সঞ্চয়ন,
- 'পথচিন্তামণি' একটি কীর্তনগ্রন্থ,
- আর 'অভয় বিহার' একটি গীতিকাব্য।

স্বাধীনতার সুখ- কবিতা, 
------------রজনীকান্ত সেন। 
বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই-
“কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই;
আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা ‘পরে,
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।”
বাবুই হাসিয়া কহে- “সন্দেহ কি তায়?
কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়;
পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা।”

উৎস: স্বাধীনতার সুখ, রজনীকান্ত সেন এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮১০.
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসে কোন অঞ্চলের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রাজশাহী
  3. বরিশাল
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস:
- উপন্যাসটির রচয়িতা- অদ্বৈত মল্লবর্মণ।  
- উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদী তীরের ধীবর (জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের জীবন নিয়ে লেখা হয়েছে উপন্যাসটি।
- ঋত্বিক ঘোটক উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ণ করেন ১৯৭৩ সালে। 
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'।
- উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮১১.
'বহুরূপী' কার রচনা?
  1. সমরেশ বসু
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. সুকুমার রায়
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
বহুরূপী:
- 'বহুরূপী' সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য।
- গ্রন্থটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- গিরগিটির খুড়তুত ভাই, ব্যা, মোট্‌কা ও শুট্‌কো, অসি-লক্ষণ পণ্ডিত, হিংসুটি, পুতুলের ভোজ, দুই বন্ধু, বুদ্ধিমান শিষ্য,  এক বছরের রাজা, ডাকাত নাকি?, গরুর বুদ্ধি, দ্রিঘাংচু, ব্যাঙের রাজা এই গ্রন্থভুক্ত রচনা।

সুকুমার রায়:
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়ায়।
- তিনি ছিলেন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী  তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়  তাঁর পুত্র।
- তিনি সুগায়ক ও সুঅভিনেতা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
- তিনি ১৯২৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাই খাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮১২.
কোন নারী সাহিত্যিকের ছদ্মনাম 'জনৈক বঙ্গমহিলা'?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. কামিনী রায়
  3. সুফিয়া কামাল
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

কামিনী রায়ের ছদ্মনাম - জনৈক বঙ্গমহিলা

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,৮১৩.
'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলি’ নামে বৈষ্ণব ভাবসম্পন্ন কবিতা রচনা করেছেন কোন সাহিত্যিক?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলি’ নামে বৈষ্ণব ভাবসম্পন্ন কবিতা রচনা করেছেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
----------------------- 
• বৈষ্ণব ভাবসম্পন্ন কবিতা:
-বৈষ্ণব ও বৌদ্ধ ধর্মের গুরুভাব ও প্রেম–আদর্শ থেকেই বৈষ্ণব পদাবলির সৃষ্টি।
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ অর্জন।
- বৈষ্ণব পদাবলির বিকাশ ঘটে শ্রীচৈতন্যদেবের বৈষ্ণব আন্দোলনের প্রভাবে।  
-বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। 
- বৈষ্ণব পদাবলির মূল প্রেরণা এসেছিল আদি কবি বিদ্যাপতির মৈথিলি পদাবলি থেকে।
- বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশ পদ মূলত মৈথিলি ও বাংলা ভাষার মিশ্রণে গঠিত এক কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা 'ব্রজবুলি'তে রচিত।
- এই পদাবলির শ্রেষ্ঠ কবি হচ্ছে— বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস। 
- এই কবিদের মহাজন কবি বলা হয় ।
- তাদের হাতে এই ধারার শৈল্পিক বিকাশ ঘটে।

- রাধা–কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে গঠিত বৈষ্ণব পদাবলি শ্রীচৈতন্যদেবের বৈষ্ণব ভাবধারার প্রভাবে গভীরতর হয়।
- আধুনিক যুগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ভানুসিংহ ঠাকুর’ ছদ্মনামে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব ভাবপ্রবণ কবিতা রচনা করে মধ্যযুগীয় ঐতিহ্যকে আধুনিক রূপ দেন।
----------------------
অন্যদিকে:
• বিদ্যাপতি মধ্যযুগে বাংলা ভাষায় একটি পদ রচনা করেও পদকর্তাগণের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ছিলেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে উপাধি দিয়েছিলেন “রাজকণ্ঠের মণিমালা” হিসেবে।

• চণ্ডীদাস - বৈষ্ণব পদাবলির প্রাচীন কবি।

• গোবিন্দদাস - বৈষ্ণব প্রেমপদ রচয়িতা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ। 

৭,৮১৪.
পরজনমে দেখা হবে প্রিয়!
ভুলিও মোরে হেথা ভুলিও।- চরণগুলো কোন কবির রচনা?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• চরণগুলো কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘চোখের চাতকে’ কবিতার। 
• কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহভাবমূলক কবিতা লিখে খ্যাতিলাভ করলেও, বিশেষত প্রেমের কবিতা রচনায় তিনি আলাদাভাবে দক্ষতা অর্জন করেছেন। তাঁর প্রেমের কবিতায় প্রেমিক হৃদয়ের বেদনার্ত হাহাকার রূপায়িত হয়েছে। বিদ্রোহ ভাবের কবিতায় বলিষ্ঠতা আছে, প্রেমের কবিতায় তা নেই। বরং এখানে অশ্রুর মাধ্যমে তাঁর প্রেমের আবেদন প্রকাশমান।
• তাঁর রচিত বিদ্রোহমূলক কাব্যের পাশাপাশি ‘দোলন চাঁপা’ ‘ছায়ানাট’ ‘সিন্ধুহিন্দোল’ ‘চক্রবাক’ প্রভৃতি প্রেমানুভূতিমূলক কাব্য গ্রন্থের নাম উল্লোখযোগ্য।

চোখের চাতকে
কাজী নজরুল ইসলাম

পরজনমে দেখা হবে প্রিয়!
ভুলিও মোরে হেথা ভুলিও।।
এ জনমে যাহা বলা হল না,
আমি বলিব না, তুমিও বলো না।
জানাইলে প্রেম করিও ছলনা,
যদি আসি ফিরে, বেদনা দিও।।
হেথায় নিমেষে স্বপন ফুরায়,
রাতের কুসুম প্রাতে ঝরে যায়,
ভালো না বাসিতে হৃদয় শুকায়,
বিষ জ্বালা-ভরা হেথা অমিয়।।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহাবুবুল আলম এবং ‘চোখের চাতক’ কবিতা।
৭,৮১৫.
’বাঙালীর হাসির গল্প’ গ্রন্থটি কী নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে?
  1. ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান
  2. বাঙলা ফানি স্টোরি
  3. ফানি স্টোরি অব পাকিস্তান
  4. ফোক টেল্স স্টোরি
ব্যাখ্যা
• বাঙালীর হাসির গল্প  গ্রন্থটি ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।
- এটি জসীম উদ্‌দীরে জনপ্রিয় হাস্যরসাত্মক গ্রন্থ।
--------------------------------------------
• জসীম উদ্‌দীন:

- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- কবি জসীম উদ্‌দীনরচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮১৬.
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' - গ্রন্থটি কোন দেশ থেকে মুদ্রিত হয়?
  1. ইংল্যান্ড
  2. ফ্রান্স
  3. পর্তুগাল
  4. স্পেন
ব্যাখ্যা

কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ: 
- এটি মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক রচনা করেন।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে 'পর্তুগালের' লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়।
- গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- তিনি একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,৮১৭.
“দেশে বিদেশে” সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত কোন দেশের ভ্রমণ-কাহিনিভিত্তিক রচনা?
  1. জাপানের
  2. অস্ট্রেলিয়ার
  3. আফগানিস্তানের
  4. মস্কোর
ব্যাখ্যা
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি:
- ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
- নিজে বিভিন্ন দেশে বিশেষত কাবুলে অবস্থান ও ভ্রমণ করে যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন, তার পরিচয় আছে এই গ্রন্থে।
- এর ভাষা সহজ, উপস্থাপনায় লেখকের সাবলীলতা ও আড্ডার মেজাজ প্রকাশ পেয়েছে।
- রাজনৈতিক ঝোড়ো হাওয়া, সাধারণ মানুষের জীবন, সাংস্কৃতিক জীবনের নানা পরিচয়, অপরিচিত দেশের নানা বৈশিষ্ট্য সব ফুটে  উঠেছে এক অপূর্ব আন্তরিক ভঙ্গিতে।
- গ্রন্থটির রচনাশৈলী অসাধারণ বলে প্রথম গ্রন্থেই মুজতবা আলী পাঠকহৃদয় জয় করেন।

--------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮১৮.
কখনো উপন্যাস লেখেননি?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ত্রিশের দশকের পঞ্চপাণ্ডবদের একজন। তিনি কখনো উপন্যাস লেখেননি। তার কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে সংবর্ত, ক্রন্দসী, প্রতিদিন ইত্যাদি। তিথিডোর, সানন্দা, লালমেঘ, কালের হাওয়া ইত্যাদি বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস। মৃত্যুক্ষুধা, বাধনহারা ও কুহেলিকা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস। মাল্যবান, সুতীর্থ, নিরুপম যাত্রা ইত্যাদি জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৭,৮১৯.
‘হাজারি ঠাকুর' চরিত্রটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. অপরাজিত
  2. পথের পাঁচালী
  3. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  4. অশনি সংকেত
ব্যাখ্যা
• আদর্শ হিন্দু হোটেল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'।
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।

---------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮২০.
'কাবিলের বোন' উপন্যাসে বড় ক্যানভাসে উপস্থাপন করা হয়েছে-
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. গণঅভ্যুত্থান
  3. ৭২এর নির্বাচন
  4. শেখ মুজিবের ৬দফা
ব্যাখ্যা
•  'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।
- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব-মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া-পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

----------------
• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'কাবিলের বোন' উপন্যাস।
৭,৮২১.
কবি আল মাহমুদের রচনা নয় কোনটি?
  1. কালের কলস
  2. মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো
  3. আরব্য রজনীর রাজহাঁস
  4. কাশবনের কন্যা
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল  ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

অন্যদিকে, 
• 'কাশবনের কন্যা' বা 'The Girl in the Reeds' শামসুদ্দীন আবুল কালামের উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৭,৮২২.
আবদুল্লাহ আল-মুতী সম্পাদিত ছোটদের ম্যাগজিনের নাম-
  1. ক) মুকুল
  2. খ) আনন্দমেলা
  3. গ) ইচ্ছামতী
  4. ঘ) কানামাছি
ব্যাখ্যা
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম “এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।'

• তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে -
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে
- তারার দেশের হাতছানি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮২৩.
কোনটি জসীম উদ্‌দীন রচিত কবিতা?
  1. ক) আমার কৈফিয়ত
  2. খ) মেথর
  3. গ) হায় চিল
  4. ঘ) নিমন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
কবি জসীম উদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে। 
- কবিতাটি নিম্নরূপ- 

নিমন্ত্রণ
– জসীম উদ্‌দীন
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,

ছোট গাঁওখানি- ছোট নদী চলে, তারি একপাশ দিয়া,
কালো জল তার মাজিয়াছে কেবা কাকের চক্ষু নিয়া;
ঘাটের কিনারে আছে বাঁধা তরী
পারের খবর টানাটানি করি;
বিনাসুতি মালা গাথিছে নিতুই এপার ওপার দিয়া;
বাঁকা ফাঁদ পেতে টানিয়া আনিছে দুইটি তটের হিয়া। (সংক্ষিপ্ত)

উল্লেখ্য,
‘ আমার কৈফিয়ত’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কবিতা।
‘মেথর’ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কবিতা।
‘হায় চিল’ জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা।

উৎস: ধানখেত, জসীম উদ্‌দীন এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮২৪.
মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কী?
  1. পদ্মাবতী
  2. পদ্মপুরাণ
  3. বিজয়মঙ্গল
  4. মনসাবিজয়
ব্যাখ্যা
• মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম: 'পদ্মপুরাণ'।

• পদ্মপুরাণ: 
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি বিজয়গুপ্ত।
- পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি মনসামঙ্গলকাব্যের যে পুঁথি পাওয়া গেছে, প্রাপ্ত এই পুঁথিভিত্তিক প্রাচীনতম কবি।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম - পদ্মাপুরাণ।

এছাড়া, মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি নারায়ণ দেব। তাঁর রচিত কাব্যের নামও পদ্মাপুরাণ।
কবি  বিপ্রদাস পিপিলাই রচনা করেছেন- মনসাবিজয়। 
-----------------
⇒ মনসামঙ্গল:
• মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
• ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
• সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’। 
• চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
• দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি ।

• এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।
- মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র হলো বেহুলা।


উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭,৮২৫.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. রাজাবলী
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. হিতোপদেশ
  4. বেদান্ত সার 
ব্যাখ্যা
• 'বেদান্ত সার' রাজা রামমোহন রায় রচিত গ্রন্থ। 

----------------------
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (আনু. ১৭৬২-১৮১৯) সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নাটোর-রাজের দরবারে লেখাপড়া শিখে তিনি সংস্কৃত পণ্ডিতে পরিণত হোন। তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

• উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন। পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পণ্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৮১৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি এ কলেজে কাজ করেন। পরে কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিতে হিসেবে।

• অনেকের মতে, তিনি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগেকার সবচেয়ে ভালো বাংলা গদ্য লেখক। তাঁর রচনা-রীতি খুব সংস্কৃত-ঘেঁষা হলেও, তিনি বাংলা ভাষার স্বাভাবিক পদক্রম, শব্দাবলীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অন্বয় স্থাপনের মধ্য দিয়ে সঠিক এবং সাবলীল বাক্য-কাঠামোর দিক নির্দেশ করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলি হলো:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।

• এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন 'বেদান্তচন্দ্রিকা'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৮২৬.
পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই। কলেজজীবনে 'কবর' কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- জসীম উদ্‌দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।
- 'পল্লীকবি' হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস: বোবা কাহিনী।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে),
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির, 
- হলদে পরীর দেশ, 
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা গ্রন্থ। 

৭,৮২৭.
দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কে? 
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।
------------------- 
দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৮২৮.
"The Power of a lie" গ্রন্থের 'সত্যমিথ্যা' নামে বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কাজী আব্দুল ওদুদ 
  4. এস ওয়াজেদ আলি 
ব্যাখ্যা

• আবুল মনসুর আহমদের 'সত্যমিথ্যা' উপন্যাসটি Johan Bojer-এর "The Power of a lie" গ্রন্থের বাংলা রূপান্তর।

আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ছিলেন। 
- তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত।
- আবুল মনসুর ১৯৩৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক কৃষক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:

গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স।

উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭,৮২৯.
কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কুসুম কানন
  2. খ) শিব মন্দির
  3. গ) বিরহ বিলাপ
  4. ঘ) অশ্রুমালা
ব্যাখ্যা
অতি অল্প বয়স থেকেই কায়কোবাদের সাহিত্য প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহ বিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৮৩০.
বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্ণিমা
  2. সাহিত্য-সংক্রান্তি
  3. অবোধবন্ধু
  4. সবকয়টি 
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধি দিয়েছেন। 
- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে।
- এছাড়াও তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য।

- বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন।
- তিনি পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৭,৮৩১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কাব্যের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পান?
  1. সোনার তরী
  2. গীতাঞ্জলি
  3. পূরবী
  4. মানসী
ব্যাখ্যা

'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০। গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা।
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)
- Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats।
- 'গীতাঞ্জলি'/Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৮৩২.
'স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়' - চরণটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) কাঞ্চীকাবেরী
  2. খ) কর্মদেবী
  3. গ) শূরসুন্দরী
  4. ঘ) পদ্মিনী উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’ থেকে উল্লিখিত উক্তিটি নেওয়া হয়েছে।

• রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় একজন কবি, সাংবাদিক।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।
-  গ্রন্থটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যের কাহিনি আহরণ করা হয় টডের রাজস্থান-কাহিনি নামক গ্রন্থ থেকে

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- শূরসুন্দরী,
- কর্মদেবী,
- কাঞ্চীকাবেরী ।

[উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলাপিডিয়া]
৭,৮৩৩.
'সন্দেশ’ পত্রিকার সম্পাদনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন কে?
  1. সত্যেন সেন
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকুমার রায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
⇒ সুকুমার রায়:
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়। 
- তিনি ছিলেন মূলত শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- পিতার মৃত্যুর পর তিনি পিতৃপ্রতিষ্ঠিত 'সন্দেশ’ পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
- বিলেতে থাকা অবস্থায় তিনি এ পত্রিকার জন্য নিয়মিত গল্প, কবিতা ও নিজের আঁকা ছবি পাঠাতেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- আবোল-তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাইখাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৩৪.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা সাহিত্যকর্মের সঠিক যুগল কোনটি?
  1. একাত্তরের যিশু — অজয় দাশগুপ্ত
  2. একাত্তরের দিনগুলি — জাহানারা ইমাম
  3. একাত্তরের বর্ণমালা — শামসুল হুদা 
  4. একাত্তরের বিজয়গাথ — সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা সাহিত্যকর্মের সঠিক যুগল: একাত্তরের দিনগুলি — জাহানারা ইমাম।

• ‘একাত্তরের দিনগুলি’:
- ‘একাত্তরের দিনগুলি’ জাহানারা ইমামের লেখা একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দিনপঞ্জি। 
- বইটিতে তিনি ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, বেদনা এবং ছেলের (শহীদ রুমী) স্মৃতি তুলে ধরেছেন।
- এটি মূলত একটি দিনলিপি, যেখানে প্রতিদিনের ঘটনা, অনুভূতি ও পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ আছে।
- বইতে মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব চিত্র, হানাদার বাহিনীর অত্যাচার, সাধারণ মানুষের জীবন, এবং গেরিলাদের কার্যক্রমের বর্ণনা রয়েছে
- জাহানারা ইমাম তার শহীদ পুত্র রুমীর আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলো উল্লেখ করেছেন, যা একজন মায়ের গভীর শোক ও সংগ্রামের সাক্ষ্য দেয়।
- গ্রন্থে দেশের প্রতি ভালোবাসা, স্বাধীনতার প্রতি ন্যায়বিচার এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চিত্রও ফুটে উঠেছে।
- এটি কেবল একটি বই নয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল, যা যুদ্ধের ভয়াবহতা, একজন মায়ের ত্যাগ এবং দেশপ্রেমের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
----------------------------------------
জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম (১৯৩৫-২০০৩) বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন অগ্রগামী নারী।
- যিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধকালীন শহীদ রুমীর মা হিসেবে নয়;
- বরং পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধবিরোধী আন্দোলনে তাঁর সাহসী ভূমিকার জন্যও সুপরিচিত।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর ছেলে, রুমী, স্বাধীনতার লড়াইয়ে অংশ নেয়।
- রুমীর আত্মত্যাগের কারণে তিনি ‘শহীদ জননী’ হিসেবে জনসাধারণের কাছে পরিচিত।

অন্যদিকে, 
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উল্লেখযোগ্য বাংলা সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে :
- একাত্তরের যাত্রী — আজয় দাশগুপ্ত;
- একাত্তরের যিশু — শহরয়ার কবির;
- একাত্তরের যাত্রী — শাহরিয়ার কবির;
- একাত্তরের বিজয়গাথা — মেজর রফিকুল ইসলাম;
- একাত্তরের ডায়েরি — বেগম সুফিয়া কামাল;
- একাত্তরের বর্ণমালা — আখতার মুকুল;
- একাত্তরের রণাঙ্গন — শামসুল হুদা;

উৎস:  
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৭,৮৩৫.
আধুনিক যুগের কোন কবি মর্সিয়া সাহিত্য রচনা করেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কায়কোবাদ
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
আধুনিক যুগের কবি মীর মশাররফ হোসেন ও কায়কোবাদ মর্সিয়া সাহিত্য রচনা করেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৮৩৬.
’বিরিশিরি পর্ব’ কবিতা গ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রফিক আজাদ
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল- জীবন।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর বিখ্যাত কিছু কবিতাগ্রন্থ:
- বিরিশিরি পর্ব।
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৩৭.
হালিমা কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) সূর্যদীঘল বাড়ী
  2. খ) আবদুল্লাহ
  3. গ) সারেং বৌ
  4. ঘ) লালসালু
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক রচিত আবদুল্লাহ উপন্যাসের চরিত্র হলো আবদুল্লাহ ও হালিমা। জয়গুন, হাসু ও মায়মুনা আবু ইসহাক রচিত সূর্যদীঘল বাড়ী উপন্যাসের চরিত্র। শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত সারেং বৌ উপন্যাসের চরিত্র হলো নবীতুন এবং কদম সারেং। মজিদ, আমেনা এবং জমিলা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত লালসালু উপন্যাসের চরিত্র। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৭,৮৩৮.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) সৌরভের কাছে পরাজিত
  2. খ) চেহারার চতুরঙ্গ
  3. গ) পাখির কাছে ফুলের কাছে
  4. ঘ) পানকৌড়ির রক্ত
ব্যাখ্যা
'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবি আল মাহমুদের একটি কাব্যগ্রন্থ।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ - লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, বখতিয়ারের ঘোড়া, দোয়েল ও দয়িতা, প্রেমের কবিতা, দ্বিতীয় ভাঙ্গন ইত্যাদি।
চেহারার চতুরঙ্গ - তার রচিত উপন্যাস।
সৌরভের কাছে পরাজিত ও পানকৌড়ির রক্ত - তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৩৯.
’উদীচী’ সাংস্কৃতিক সংগঠন কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৮ সালে উদীচী সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে তাঁর জন্ম।

সত্যেন সেন
• ১৯৫৪ সালে দৈনিক  সংবাদ-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
• তিনি ছিলেন  রবীন্দ্রসঙ্গীত ও গণসঙ্গীতের সুকণ্ঠ গায়ক এবং গণসঙ্গীত রচয়িতা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ
» উপন্যাস ভোরের বিহঙ্গী
» অভিশপ্ত নগরী
» পদচিহ্ন
» পাপের সন্তান
» কুমারজীব
» বিদ্রোহী কৈবর্ত 
» পুরুষমেধ
» আলবেরুনী
» মানবসভ্যতার ঊষালগ্নে
» অভিযাত্রী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৪০.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ কোন পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন?
  1. ক) ত্রিপুরা
  2. খ) নবশক্তি
  3. গ) মোহাম্মদী
  4. ঘ) নবযুগ
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবর্মণ একজন  সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
তিনি  ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি  ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে এক দরিদ্র জেলে পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
অদ্বৈত মল্লবর্মণ 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তিনি ‘নবশক্তি’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রথম ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা
নয়া বসত,
রামধনু,
দু রঙা প্রজাপতি,
সাদা হাওয়া,
দলবেঁধে,
সাগরতীর্থে,
রাঙামাটি ইত্যাদি ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া]
৭,৮৪১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত কিশোর মাসিক পত্রিকা কোনটি?
  1. কিশোর মেলা
  2. কচি কাঁচার মেলা
  3. আঙুর
  4. রাঙা প্রভাত
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত কিশোর মাসিক পত্রিকাটির নাম - "আঙুর"। 

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত পত্রিকা -
- প্রথম শিশুপত্রিকা 'আঙুর' (১৯২০);
- ইংরেজি মাসিক পত্রিকা 'দি পীস' (১৯২৩);
- বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'বঙ্গভূমি' (১৯৩৭) এবং
- পাক্ষিক 'তকবীর' (১৯৪৭)।

----------------- 
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯)  
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্'র বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
তিনি ছিলেন:
- আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫)।
- বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১)।
- তাঁর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৪২.
'সাতটি তারার তিমির' কার রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) ফররুখ আহমদ
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা

সাতটি তারার তিমির রূপসী বাংলার কবিখ্যাত জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্য।
এটি হুমায়ূন কবিরকে উৎসর্গ করা হয়।
তার অন্যান্য কাব্যের মধ্যে রয়েছে -
ঝরাপালক,
মহাপৃথিবী,
বনলতা সেন,
ধূসর পাণ্ডুলিপি,
রূপসী বাংলা এবং
বেলা অবেলা কালবেলা।
(সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)

৭,৮৪৩.
‘সোনালী কাবিন’ কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• আল মাহমুদের জন্ম - ১১ জুলাই, ১৯৩৬।
• জন্মস্থান - মোড়াইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
• তার প্রকৃত নাম - আবদুস শুকুর।
- শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ - 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)
- 'সোনালী কাবিন' কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে - বঞ্চিত ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ও গ্রামীণ আবহ।
- প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - ' লোক লোকান্তর ‘।
• উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থ
- লোক লোকান্তর 
- কালের কলস 
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো 
- বখতিয়ারের ঘোড়া
- পাখির কাছে ফুলের কাছে
• গল্পসমগ্র
- পানকৌড়ির রক্ত
- সৌরভের কাছে পরাজিত
- গন্ধ বণিক
- ময়ূরীর মুখ

- উপমহাদেশ (উপন্যাস)

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর)।
৭,৮৪৪.
দুধেভাতে উৎপাত’ কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা
  3. প্রবন্ধ
  4. ছোটগল্প 
ব্যাখ্যা

"দুধেভাতে উৎপাত" একটি ছোটগল্প। 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) একজন কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি দেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের পরোক্ষ সমর্থক ছিলেন।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

রচিত গ্রন্থসমূহ:
উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা। 

ছোটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৭,৮৪৫.
"হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান,
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান!" - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

• "হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান,
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান!" - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- কবিতাংশটুকু গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থে সংকলিত আছে।

কবিতার অংশবিশেষ:
হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান,
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান!
মানুষের অধিকারে
বঞ্চিত করেছ যারে,
সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান,
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।
মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে
ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: গীতাঞ্জলি' কাব্য সংকলন; রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৭,৮৪৬.
নিচের কোনটি বাংলা গদ্যে রচিত প্রথম আত্মচরিত গ্রন্থ?
  1. ক) আত্মকাহিনী
  2. খ) বিদ্যাসাগর চরিত
  3. গ) আমার জীবন
  4. ঘ) আমার সাহিত্য জীবন
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে আত্মচরিত রচনার শুরু গদ্যের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের স্বরচিত 'বিদ্যাসাগর চরিত' (১৮৯১) এ ধরনের প্রথম গ্রন্থ।

এছাড়া আরও কিছু আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো: 

 • নবীনচন্দ্র সেনের ‘আমার জীবন' (পাঁচ খণ্ড),
 • শিবনাথ শাস্ত্রীর ‘আত্মচরিত',
 • তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আমার সাহিত্য জীবন',
 • সজনীকান্ত দাসের 'আত্মচরিত',
• আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ‘আত্মচরিত’,
• রাজনারায়ণ বসুর 'আত্মচরিত',
• কার্তিকেয়চন্দ্র রায়ের ‘আত্মজীবন চরিত’ ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য আত্মচরিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৭,৮৪৭.
'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র', 'প্রভাস' এই ত্রয়ী মহাকাব্যের রচয়িতা -
  1. কায়কোবাদ
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র', 'প্রভাস' এই ত্রয়ী মহাকাব্যের রচয়িতা - নবীনচন্দ্র সেন। 

⇒ নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

• রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের ত্রয়ী কাব্য এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনির বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

• নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

- তিনি ভগবদগীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।
- তাঁর আত্মজীবনী আমার জীবন  গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৪৮.
“চাষার দুক্ষু” বেগম রোকেয়া রচিত-
  1. ক) কাব্য
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• “চাষার দুক্ষু” বেগম রোকেয়া রচিত - প্রবন্ধ 

• বাংলায় নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তার স্বামীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্য চর্চা শুরু করেন।
- তিনি সমাজের প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখনি ধারণ করেন ।
- নারীর অধিকার আদায়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম মহিলা সমিতি |

• তার অন্যান্য বিখ্যাত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- মতিচুর( তার প্রথম রচিত গ্রন্থ)
- অবরোধবাসিনী

• উপন্যাস:
- পদ্মরাগ
- সুলতানার স্বপ্ন

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭,৮৪৯.
নিচের কোনটি বুদ্ধদেব বসুর অনুবাদ কাব্য
  1. ক) কালিদাসের মেঘদূত
  2. খ) দ্রোপদীর শাড়ি
  3. গ) সংক্রান্তি
  4. ঘ) সানন্দা
ব্যাখ্যা

- সংক্রান্তি একটি বুদ্ধদেব বসুর নাটক
- দ্রোপদীর শাড়ি বুদ্ধদেব বসুর একটি কাব্যগ্রন্থ
- সানন্দা বুদ্ধদেব বসুর একটি উপন্যাস

বুদ্ধদেব বসু রচিত অনুবাদ কাব্যগুলো হলো :-
- কালিদাসের মেঘদূত (১৯৫৭),
- বোদলেয়ার: তাঁর কবিতা (১৯৬০),
- রাইনের মারিয়া রিলকের কবিতা (১৯৭০) ইত্যাদি।
- হেন্ডালিনের কবিতা

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]

৭,৮৫০.
রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত নাটক কোনটি?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. কীর্তিবিলাস
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা
 ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা,
- মালতীমাধব,
- রত্নাবলী।

অন্যদিকে,
• ১৮৫২ সালে যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের ‘কীর্তিবিলাস’ এবং তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নামক দুটি মৌলিক নাটক প্রকাশিত হয়। ‘কীর্তিবিলাস’ হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা। আর ‘ভদ্রার্জুন’ ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক কৃষ্ণকুমারী। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৮৫১.
“বর্ণচোর” - নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মমতাজ উদ্দিন আহমদ
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. সেলিম আল দীন
  4. সাঈদ আহমদ
ব্যাখ্যা
বর্ণচোর - মমতাজ উদ্দিন আহমদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
তার রচিত অন্যান্য নাটকঃ
- বকুলপুরের স্বাধীনতা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- আমাদের শহর
- রাক্ষুসী
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
- কী চাহ শঙ্খচিল
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়া
৭,৮৫২.
একটি বোবা মেয়ের করুণ কাহিনির ছবি অঙ্কিত হয়েছে কোন ছোটগল্পে?
  1. ভিখারিনী
  2. সুভা
  3. সমাপ্তি
  4. বিলাসী
ব্যাখ্যা
• ‘সুভা’ ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোটগল্প 'সুভা'।
- গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম 'সুভা'।
- ‘সুভা’ গল্পটিতে একটি বোবা মেয়ের করুণ কাহিনির ছবি অঙ্কিত হয়েছে।
- সুভার বাবা তাঁর বড়ো দুই বোনের নামের সাথে মিল রেখে ছোট বোনের নাম রেখেছিলেন 'সুভাষিণী'।
- তাঁর বড় দুই বোনের নাম- 'সুকেশিনী' ও 'সুহাসিনী'।

--------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- বৌঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- ঘরে বাইরে,
- যোগাযোগ ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- ভিখারিনী,
- ছুটি,
- কাবুলিওয়ালা,
- পোস্টমাস্টার,
- সুভা,
- সমাপ্তি,
- অপরিচিতা,
- হৈমন্তী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৮৫৩.
'ছান্দসিক কবি' কোন লেখকের উপাধি?
  1. আবদুল হক
  2. আবদুল কাদির
  3. নজিবর রহমান
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি। 

অন্যদিকে,
• আবদুল হকের উপাধি- কলমসৈনিক। 
• 'নজিবর রহমান' এর উপাধি- সাহিত্যরত্ন।
• 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৮৫৪.
সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা জমিদারের দ্বন্দ্ব কোন উপন্যাসের মূল ঘটনা?
  1. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  2. জমিদার দর্পণ
  3. বসন্তকুমারী
  4. রত্নবতী
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস - গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' গ্রন্থ সম্পর্কিত আলোচনা: 
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'  মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। 
- এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়।
- গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম ‘উদাসীন পথিক’ মুদ্রিত হয়েছে।

উপন্যাসের মূল ঘটনা: 
- সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা।
- উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি। - ভেড়াকান্ত চরিত্রে লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়।
- এটি সেকালের একটি সামাজিক দর্পণস্বরূপ।
- মুসলমান জমিদারদের জীবনধারা, সমাজে নারীর স্থান, হিন্দু-মুসলিম পারস্পরিক সম্পর্ক, দেশের শাসনব্যবস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুর্নীতির কথা ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় এতে বর্ণনা করা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্রের নামকরণে  সংস্কৃত রূপকধর্মী নাটক বা প্রহসনের প্রভাব রয়েছে।

অন্যদিকে,
• জমিদার দর্পণ:
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা। 

বসন্তকুমারী:
-  ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত।

• রত্নবতী: 
- রাজকুমার সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা বড়'- এ বিতর্ক এবং বিতর্কের সমাধানই 'রত্নবতী'র মূল বিষয়।
----------------------------- 
মীর মশাররফ হোসেন:
- তিনি একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

প্রহসন:
- টালা অভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী। (আত্মজৈবনিক উপন্যাস)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৫৫.
বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. চিত্রকর
  2. সাধনা
  3. চিত্রদর্শন
  4. পূর্ণিমা
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা। তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'। তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হলো- পূর্ণিমা, সাহিত্য সংক্রান্তি, অবোধ বন্ধু।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
-নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

অন্যদিকে,
• 'চিত্রকর' প্রতাপচন্দ্র রায়চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকা। 
• 'সাধনা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• 'চিত্রদর্শন' বিহারীলাল রায় সম্পাদিত পত্রিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৫৬.
শেক্সপিয়রের 'The Taming of The Shrew' গ্রন্থটি "মুখরা রমণী বশীকরণ" নামে অনুবাদ করেছেন কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি। ।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা।
- ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্থুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।
------------------------------------------------ 
• মুনীর চৌধুরীর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম: 

মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, এবং সাহিত্যসমালোচক। তিনি ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলায়। তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছে।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:

জন্ম ও পৈতৃক নিবাস: মুনীর চৌধুরীর জন্ম মানিকগঞ্জে হলেও, তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালীতে।
১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি কারাবন্দী অবস্থায় ১৯৫৩ সালে "কবর" নাটকটি রচনা করেন, যা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।

বাংলা টাইপরাইটার উদ্ভাবন:
১৯৬৫ সালে মুনীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য একটি উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম ছিল "মুনীর অপ্‌টিমা"।
----------------------- 
রচিত নাটকসমূহ:
মুনীর চৌধুরী অনেক মৌলিক ও অনুবাদ নাটক রচনা করেছেন, যা বাংলা নাট্যসাহিত্যে অমূল্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।

মৌলিক নাটক:

"কবর" (১৯৫৩): এটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা একটি বিশেষ নাটক, যা বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
"রক্তাক্ত প্রান্তর": পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে লেখা।
"মানুষ": ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা উপজীব্য।
"নষ্ট ছেলে": একটি রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
"পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য": রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক।
"দণ্ডকারণ্য": তিনটি নাটকের সমন্বয়ে রচিত।
"রাজার জন্মদিন": একটি চমৎকার নাট্যকর্ম যা রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা।
--------------------- 
অনুবাদ নাটক:

"কেউ কিছু বলতে পারে না" (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর-এর "You never can tell" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
"রূপার কৌটা" (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির "The Silver Box" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
"মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের "Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৭,৮৫৭.
‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' কোন ধরনের রচনা?
  1. ভ্রমণকাহিনি
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি - ভ্রমণকাহিনি

শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৫৮.
"গোধূলিতে নামল আঁধার ,
ফুরিয়ে গেল বেলা ,
ঘরের মাঝে সাঙ্গ হল
চেনা মুখের মেলা ।"
- কবিতাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) সেঁজুতি
  2. খ) আকাশপ্রদীপ
  3. গ) সঞ্চয়িতা
  4. ঘ) পুনশ্চ
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  ‘আকাশ-প্রদীপ’ কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন। 
- এ কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতায় শৈশবস্মৃতি  এবং জীবন সায়াহ্নের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। 
- 'গোধূলিতে নামল আঁধার' এ কাব্যগ্রন্থের মূল সুর।
- কবিতাটি নিম্নরূপ- 

আকাশপ্রদীপ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গোধূলিতে নামল আঁধার,
ফুরিয়ে গেল বেলা,
ঘরের মাঝে সাঙ্গ হল
চেনা মুখের মেলা ।
দূরে তাকায় লক্ষ্যহারা
নয়ন ছলোছলো,
এবার তবে ঘরের প্রদীপ
বাইরে নিয়ে চলো
মিলনরাতে সাক্ষী ছিল যারা
আজো জ্বলে আকাশে সেই তারা ।

পাণ্ডু-আঁধার বিদায় রাতের শেষে
যে তাকাত শিশির সজল শূন্যতা-উদ্দেশে সেই তারকাই তেমনি চেয়েই আছে
অস্তলোকের প্রান্তদ্বারের কাছে ।
অকারণে তাই এ প্রদীপ জ্বালাই আকাশ-পানে - যেখান হতে স্বপ্ন নামে প্রাণে ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং আকাশপ্রদীপ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৭,৮৫৯.
নিচের কোনটি মামুনুর রশীদ এর প্রকাশিত নাটক?
  1. চিঠি
  2. লেবেদেফ
  3. চাকা
  4. রূপার কৌটা
ব্যাখ্যা
• মামুনুর রশীদ এর প্রকাশিত নাটক- লেবেদেফ।

• মামুনুর রহমান একজন নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।

• তাঁর প্রকাশিত নাটাকের নাম: 

- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিস,
- এখানে এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ,

অন্যদিকে,
• মুনির চৌধুরীর রচিত নাটক: 
- চিঠি,
- রূপার কৌটা,
• সেলিম আল দীনের রচিত নাটক - চাকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৬০.
'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের রহস্যাবৃত চরিত্র কোনটি?
  1. ধনঞ্জয়
  2. গণেশ
  3. শীতলবাবু
  4. হোসেন মিয়া
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।

- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

- এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৮৬১.
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• আলালের ঘরের দুলাল:
- 'আলালের ঘরের দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ। 
- প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল',
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- এ উপন্যাসে প্যারীচাঁদ মিত্র প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।
- সাধারণ মানুষের মুখে ব্যবহৃত কথ্য ভাষা 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- তিনি ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম " টেকচাঁদ ঠাকুর"।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।

• তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

• তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৬২.
নিচের কোনটি হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. ক) আত্মজা ও একটি করবী গাছ
  2. খ) নামহীন গোত্রহীন
  3. গ) জীবন ঘষে আগুন
  4. ঘ) শিউলি
ব্যাখ্যা

হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক।
তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে
উপন্যাসঃ
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন।

গল্পগ্রন্থঃ
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭,৮৬৩.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্রের নাম কী?
  1. ক) দৈনিক ঢাকা
  2. খ) দৈনিক সমকাল
  3. গ) ঢাকা প্রকাশ
  4. ঘ) আমাদের ঢাকা
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকা প্রকাশ' হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।
- এটির সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- পত্রিকাটি ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ বাবুবাজারের ‘বাঙালা যন্ত্র’ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। ঢাকা প্রকাশ প্রায় ১০০ বছর টিকে ছিলো।
• ঢাকা প্রকাশের প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি  কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। পরিচালকগণের মধ্যে প্রধান ছিলেন ব্রজসুন্দর মিত্র, দীনবন্ধু মৌলিক, ঈশ্বরচন্দ্র বসু, চন্দ্রকান্ত বসু প্রমুখ। ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৬৪.
"মানুষ্য বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"- উক্তিটি কার রচনা?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• পালামৌ:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনি হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। 

'পালামৌ' রচনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য-
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।"
- "মানুষ্য বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"
- "যে হারে, সেই রাগে। "

---------------------------
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৬৫.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) বহিপীর
  2. খ) প্রাচ্য
  3. গ) কেরামতমঙ্গল
  4. ঘ) দন্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন  কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে  জন্মগ্রহণ করেন। 
বাংলা একাডেমি পুরস্কার(১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন। 


সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।
অন্যদিকে, 
 মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক- দন্ডকারণ্য
সেলিম আল দীন রচিত নাটক - কেরামতমঙ্গল , প্রাচ্য


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৬৬.
'জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই' এই অবিস্মরণীয় আহ্বানটি পাওয়া যায় কোন রচনায়?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. বায়ান্ন গলির এক গলি
  3. নূরলদীনের সারা জীবন
  4. বখতিয়ারের ঘোড়া
ব্যাখ্যা
• 'জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই' বলে অবিস্মরণীয় আহ্বানটি দিয়েছিলো : নূরলদীন।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যে এই উক্তিটি রয়েছে।

• 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৬৭.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক উপন্যাস রচয়িতা হিসেবে গদ্যচর্চার নতুন পথসন্ধান দিয়েছিলেন কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ 
  2. মীর মশাররফ হোসেন 
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• গদ্য রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- পাঠ্যপুস্তক ও তর্ক-বিতর্কের বাহন হিসেবে প্রচলিত যে গদ্য বিদ্যাসাগরের চর্চায় শিল্প মাধ্যমের স্তরে উন্নীত হয়েছিল, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর (১৮৩৮-৯৪) সাধনায় সে গদ্য শিল্পিত উপন্যাসের ধারক হয়ে উঠল। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বঙ্কিমচন্দ্র রচিত গদ্যে, যুগপৎভাবে উপন্যাস ও অন্যান্য গদ্যরচনায় বাংলা গদ্যের গভীরতা, ব্যাপ্তি ও ঐশ্বর্য সুপ্রমাণিত হল।

- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'র রচয়িতা হিসেবে বঙ্কিম গদ্যচর্চার নতুন যে পথসন্ধান দিলেন, তাকে অনুসরণ করেই সৃষ্টিশীল গদ্যসাহিত্য উত্তরকালে বিকশিত হয়েছে। 

বঙ্কিমচন্দ্র রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হচ্ছে (উপন্যাস):
- দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫),
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬),
- বিষবৃক্ষ (১৮৭৩),
- কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮),
- রাজসিংহ (১৮৮২),
- আনন্দমঠ ((১৮৮৪)। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৮৬৮.
'আসাদের শার্ট' কবিতাটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ভাষা আন্দোলন 
  2. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ 
  3. ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'আসাদের শার্ট' কবিতা:
- শহীদ আসাদ স্মরণে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন কালজয়ী কবিতা 'আসাদের শার্ট'।
- 'আসাদের শার্ট' কবিতাটি ১৯৬৯ সালের ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান-এর প্রেক্ষাপটে রচিত, যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এক পুলিশি গুলিতে শহীদ হন। কবি শামসুর রাহমান আসাদের শহীদ হওয়ার পর তাঁর রক্তমাখা শার্ট দেখে মানসিকভাবে আলোড়িত হয়ে এই কবিতাটি লেখেন, যা পরবর্তীতে তাঁর 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়।

'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কিছু কবিতা হলো-
- বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা,
- ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯,
- পুলিশ রিপোর্ট,
- হরতাল,
- এ লাশ আমরা রাখব কোথায়?,
- আসাদের শার্ট ইত্যাদি।

তাতে কবি লিখেছিলেন-

আসাদের শার্ট
- শামসুর রাহমান
গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায় নীলিমায়।

বোন তার ভায়ের অম্লান শার্টে দিয়েছে লাগিয়ে
নক্ষত্রের মতো কিছু বোতাম কখনো
হৃদয়ের সোনালী তন্তুর সূক্ষতায়
বর্ষীয়সী জননী সে-শার্ট
উঠোনের রৌদ্রে দিয়েছেন মেলে কতদিন স্নেহের বিন্যাসে।

উৎস: 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থ; 'আসাদের শার্ট' কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৭,৮৬৯.
নিচের কোনটি আলাদা?
  1. ক) শিউলিমালা
  2. খ) রিক্তের বেদন
  3. গ) ব্যথার দান
  4. ঘ) বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
শিউলিমালা, রিক্তের বেদন ও ব্যথার দান গল্পগ্রন্থ হলেও বাঁধন-হারা নজরুলের প্রথম উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৮৭০.
'কাল নিরবধি' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আহমদ ছফা
  2. ড. আনিসুজ্জামান
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন 
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• 'কাল নিরবধি':
- 'কাল নিরবধি'  ড.আনিসুজ্জামান রচিত আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ একটি গ্রন্থ।

- সারল্য, মাধুর্য ও কৌতুকের সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের অন্তরঙ্গ ঘরোয়া গল্পকথার মধ্য দিয়ে তিনি মেলে ধরেন স্বদেশ ও স্ব-সমাজের বিশাল পরিধি, ব্যক্তিকে অবলম্বন করে ব্যক্তি সত্তার বাইরে এমন এক মহাব্যাপ্তি যেখানে আমরা অনুভব করি কালের নিরবধি প্রবাহ, পরিবর্তমান যুগ ও সময়ের পরম্পরা। ফলে তাঁর রচনা নিছক স্মৃতিগ্রন্থ হয়ে থাকে নি, হয়েছে এক মহাগ্রন্থ নিজেদের জানা ও চেনার। এমন স্মৃতিভাষ্য যে-কোনো সাহিত্যেরই চিরায়ত সম্পদ।

----------------------
• ড. আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন।
- এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন।
- এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'কাল নিরবধি' গ্রন্থ ।

৭,৮৭১.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম কী?
  1. শকুন্তলা
  2. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  4. ব্রজবিলাস
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৭২.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. আব্দুল হাই
  3. ফররুখ আহমদ
  4. গােলাম মােস্তফা
ব্যাখ্যা
• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটির লেখক: 'কাজী ইমদাদুল হক'।
--------------------------------- 
⇒ 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাসটির।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্‌' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। 
----------------------------
⇒ কাজী ইমদাদুল হক: 
 - কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল, 
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,  
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ),
- নবীকাহিনী ( প্রবন্ধমালা), 
- কামারের কান্ড,  
- আবদুল্লাহ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৭,৮৭৩.
'আরোগ্য' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'আরোগ্য' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথের এই কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৩৪৭ বঙ্গাব্দে (১৯৪১)।
- এই কাব্যে কোনো কবিতার নাম নেই, সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে কবি এই কবিতাগুলো মুখে মুখে রচনা করেছেন এবং তা কোনো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি।
- এটি তেত্রিশটি কবিতার সংকলন। কবিতাগুলি ১৯৪০-এর ডিসেম্বর থেকে ১৯৪১-এর ফেব্রুয়ারির মধ্যে রচিত।
- কবিতার ভাষা অলঙ্কারহীন, ছন্দ ধীরগতি এবং চিত্রগুলি পরিচিত জীবনের।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৭৪.
"আমি কোথায় পাবো তারে, আমার মনের মানুষ যে রে।" - কার রচিত গান?
  1. লালন সাঁই
  2. সিরাজ সাঁই
  3. গগন হরকরা
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
"আমি কোথায় পাব তারে,
আমার মনের মানুষ যে রে।
হারায়ে সেই মানুষে, তার উদ্দেশে দেশ-বিদেশে-
আমি দেশ-বিদেশে বেড়াই ঘুরে;
কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে।।"

- কালজয়ী বাউল গানটির রচয়িতা ও সুর করেছন - গগন হরকরা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি" এর সুর করেছিলেন এই গানটির থেকে প্রভাবিত হয়ে।
--------------
গগন হরকরা- পরিবারের দেওয়া নাম গগণচন্দ্র দাস হলেও ইতিহাসে যিনি গগন হরকরা নামেই প্রসিদ্ধ।
- কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামে আনুমানিক ১৮৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন গগন।
- শিলাইদহ পোস্ট অফিসে কাজ করতেন ডাকহরকরা বা ডাকপিয়ন হিসেবে। তবে এই পরিচয় ছাপিয়ে গগন ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন তার রচিত ও সুরারোপিত কালজয়ী গানের জন্য।

তাঁর রচিত ও সুর করা আরো একটি গান: ও মন অসাড় মায়ায় ভুলে রবে। (এই গানের সুর থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক" - এই গানটির সুর করেন।

---------------
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের গগন হরকরার প্রভাব পড়ে যেভাবে:
- তৎকালীন ভারত উপমহাদেশের নদীয়ার (বর্তমান কুষ্টিয়া) একটি ছোট গ্রামে গগনের বাস।
- ভূ-খন্ডের এই অংশে তখন প্রতিনিধিত্ব লালন সাঁই, গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃত কাঙাল হরিনাথ, সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের মতো কালজয়ী প্রতিভাদের। শিলাহদহ এস্টেটে ঠাকুরবাড়ির জমিদারি দেখাশোনার জন্য আসতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- শিলাইদহ পোস্ট অফিসে ডাকহরকরার কাজের ফাঁকে গান রচনা ও গাইতেন গগন। তিনি বাউল সম্রাট ফকির লালনের অনুসারী ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে এলে চিঠিপত্রাদি দিতে জমিদার কাচারিতে যাওয়া হতো গগনের।
- তার রচিত ও সুরারোপিত ‘আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে’ গানটি শুনে মুগ্ধ হন রবীন্দ্রনাথ।

রবীন্দ্রনাথ গগণের নাম ও তার গানের বিষয়ে তার প্রবন্ধ “An Indian Folk Religion” এ উল্লেখ করেন।
- সেখানে ‘আমি কোথায় পাবো তারে’—গানটির উল্লেখ করে রবীন্দ্রনাথ বলেন, “The first Baul song, which I chanced to hear with any attention, profoundly stirred my mind.”

এই গান রবীন্দ্রনাথকে এতোটাই প্রভাবিত করে যে, তিনি এর সুরে রচনা করেন ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’
---------------
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ডাকঘর নাটকটি গগন হরকরার জীবন থেকে প্রভাবিত হয়ে লিখেছিলেন।
- নাটকের গগেন্দ্রনাথ ঠাকুর চরিত্রটি তা প্রমাণ করে।

উৎস: ডেইলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট ও বিডি নিউজ২৪.কম আর্কাইভ।
৭,৮৭৫.
নির্মলেন্দু গুণের ডাকনাম কী ছিলো?
  1. প্রকাশ
  2. রতন
  3. মিলু
  4. গুণ
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- নির্মলেন্দু গুণের ডাকনাম ছিলো রতন। প্রিয়জনেরা ‘রতু’ বলে ডাকতেন।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো-
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৭৬.
'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থটিকে কোন কাব্যের 'পরিশিষ্ট' বলা হয়?
  1. নিসর্গ সন্দর্শন
  2. সঙ্গীত শতক
  3. সারদামঙ্গল
  4. প্রেম প্রবাহিণী
ব্যাখ্যা

'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন' (১৮৮৯)।
- 'সাধের আসন'কে 'সারদামঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির 'সারদামঙ্গল' কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন, "তুমি কাকে ধ্যান কর?"। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল 'বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ' লিখেছিলেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৮৭৭.
জীবননান্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু।

• জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ধূসরতার কবি বলেছেন। 
১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৭৮.
'নদী ও নারী' হুমায়ুন কবির রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) গল্প
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির রাজনীতিবিদ, লেখক ও দার্শনিক ছিলেন।
১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়। এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- স্বপ্নসাধ, সাথী ও অষ্টাদশী।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৭৯.
"মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।" - উদ্ধৃতাংশটুকু কোন সাহিত্যিকের রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• "মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।"—এই বিখ্যাত উক্তিটি মুনীর চৌধুরী- এর ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক এর অন্তর্ভুক্ত।

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।
 
মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৮০.
'সুদীপ্ত শাহীন’ চরিত্রটিকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন উপন্যাসে পাওয়া যায় ?
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড 
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা

• রাইফেল রােটি আওরাত:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩) আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে - ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

• আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী ও
- অন্যান্য কবিতা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,৮৮১.
'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'- বিখ্যাত সংলাপটি কোন নাট্যকার রচিত?
  1. সেলিম আল দীন 
  2. মুনির চৌধুরী 
  3. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  4. সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ
ব্যাখ্যা

• 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহর পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক 'তরঙ্গভঙ্গ'।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার ও সাক্ষী মতলুব আলী।
- এ নাটকের একটি সংলাপ 'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আনে। আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে, সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ রচিত নাটকগুলো হলো-
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক।

৭,৮৮২.
'অতীন, ইন্দ্রনাথ' চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথের কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. ক) গোরা
  2. খ) চার অধ্যায়
  3. গ) মালঞ্চ
  4. ঘ) যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
- 'অতীন, ইন্দ্রনাথ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চার অধ্যায়' নামক উপন্যাসের  দুটি চরিত্র। 

'চার অধ্যায়' উপন্যাস 

- 'চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ৷ 
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো,
'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে৷
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে। 
- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত।
- উপন্যাসের চরিত্রে ইন্দ্রনাথ সন্ত্রাসবাদীদের নেতা। তিনি একদিকে অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনী।
- সমকালীন বিপ্লবীপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূলসুর। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
 - কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের জনক।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ: বিবিধপ্রসঙ্গ। 

• তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য উপন্যাস:
- বৌ-ঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- গোরা,
- ঘরে বাইরে,
- চতুরঙ্গ,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৮৩.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) বিষের বাঁশি
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) সঞ্চয়িতা
  4. ঘ) ভাঙার গান
ব্যাখ্যা
'সঞ্চয়িতা'- কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ নয়। 
- 'সঞ্চয়িতা' রবীন্দ্রনাথের নিজ কবিতার সংকলন। 
তবে, 
কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সংকলন- ‘সঞ্চিতা'।
সংকলনটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন।

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ- 
- অগ্নিবীণা
- বিষের বাঁশি 
- ভাঙার গান 
- সাম্যবাদী
- সর্বহারা
- ঝিঙে ফুল
- ফণি-মনসা 
- জিঞ্জির
- সন্ধ্যা
- নতুন চাঁদ 
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৮৪.
"দুধভাতে উৎপাত" গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  2. আনিসুজ্জামান
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• "দুধভাতে উৎপাত" গল্পগ্রন্থের রচয়িতা - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৮৫.
'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' গ্রন্থটি কার?
  1. ক) মোস্তফা জব্বার
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
ব্যাখ্যা

• আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন বিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত।
• তাঁর রচিত প্রথম বইয়ের নাম এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।
• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থের নামঃ
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- তারার দেশের হাতছানি,
- বিজ্ঞানের বিস্ময়,
- শিক্ষা ও বিজ্ঞান: নতুন দিগন্ত,
- মহাকাশে কী ঘটছে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৮৮৬.
কোনটি বাঙ্গালির মুক্তি চেতনায় উজ্জীবনমূলক নাটক?
  1. ক) নূরুলদীনের সারা জীবন
  2. খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. গ) শর্মিষ্ঠা
  4. ঘ) একেই কি বলে সভ্যতা?
ব্যাখ্যা
বাঙ্গালির মুক্তি চেতনায় উজ্জীবনমূলক নাটক ‘নূরুলদীনের সারা জীবন’ এর রচয়িতা সৈয়দ শামসুল হক। বইটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক বিপ্লবী কৃষকনেতাকে নিয়ে লেখা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৮৮৭.
মুকুন্দদাসকে চারণকবির মর্যাদা দেন-
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দদাস:
- মুকুন্দদাস ছিলেন চারণকবি। ১৮৭৮সালে ঢাকার বিক্রমপুরে মুকুন্দদাসের জন্ম।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর। রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- বরিশালের কংগ্রেসনেতা অশ্বিনীকুমার দত্তের নিকট স্বদেশী মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে মুকুন্দদাস দেশাত্মবোধক গান ও যাত্রা রচনা করে মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। বরিশাল হিতৈষী পত্রিকায় তাঁর গান প্রকাশিত হয়; মাতৃপূজা (১৯০৮) নামে গানের একটি সংকলনও প্রকাশিত হয়।

- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু 'চারণকবি' উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৮৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেন?
  1. ক) ১৯১৮
  2. খ) ১৯২৬
  3. গ) ১৯৩২
  4. ঘ) ১৯৩৬
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
এই পরিবারের পূর্বপুরুষ পূর্ববঙ্গ থেকে ব্যবসায়ের সূত্রে কলকাতায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন।

 - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ২ বার ঢাকায় আসেন। 
- ১৮৮৯ সালে প্রথমবার এবং ১৯২৬ সালে দ্বিতীয়বার 
- ১৯২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়রের  কার্জন হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর  প্রথম বক্তৃতা দেন।  
- ১৯২৬ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি তিনি দ্বিতীয় বক্তৃতা প্রদান করেন।  

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নাইটহুড উপাধি লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৯১৯ সালে তা ফিরিয়ে দেন।
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
- ১৯১৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি. লিট. উপাধি প্রদান করেন।
- ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি. লিট. উপাধি প্রদান করেন।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৭,৮৮৯.
'সোহিনী' - চরিত্রটি কার সৃষ্ট?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে সোহিনী।
- বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

​​উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,৮৯০.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি-
  1. আলাওল
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. আব্দুল হাকিম
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রণয়োপাখ্যান শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত ইউসুফ-জোলেখা।
- এ কাব্যের মূল উপজীব্য কোরআন ও ফার্সি কাব্য থেকে সংগৃহীত। তার কাব্যে ধর্মীয় পটভূমি থাকলেও তাতে প্রকাশ পেয়েছে এক অনুপম মানবিক প্রেমের উপাখ্যান।

শাহ মুহম্মদ সগীর ছাড়াও মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ-জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেন।
- তার মধ্যে আবদুল হাকিম, শাহ গরিবুল্লাহ, গোলাম সফাতুল্লাহ, সাদেক আলী এবং ফকির মোহাম্মদ উল্লেখযোগ্য

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৮৯১.
কোনটি আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ নয়?
  1. স্বদেশ চিন্তা
  2. স্বদেশ অন্বেষা
  3. বিশ শতকের বাঙালী
  4. প্রবন্ধ সংগ্রহ
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ নয় - প্রবন্ধ সংগ্রহ।
- প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ গ্রন্থ- প্রবন্ধ সংগ্রহ।

• আহমদ শরীফ: 
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- গবেষণা, প্রবন্ধ ও চিন্তামূলক রচনার জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, দাউদ সাহিত্য পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় একুশে পদক এবং কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি লাভ করেন।
-  ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জীবনাবসান ঘটে, কিন্তু তার আগেই তিনি তাঁর মরদেহ উৎসর্গ করে গিয়েছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালী,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা, 
- স্বদেশ চিন্তা,
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে,
- যুগ যন্ত্রণা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, 
- বাঙালীর চিন্তা-চেতনার বিবর্তন ধারা,
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা,
- বিশ্বাসবাদ বিজ্ঞানবাদ যুক্তিবাদ মৌলবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৯২.
'কীর্তিবিলাস' কোন ধরনের নাটক?
  1. মধুরান্তিক
  2. পৌরাণিক
  3. হাস্যরসাত্মক
  4. বিয়োগান্তক
ব্যাখ্যা

• 'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত। বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে। কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৮৯৩.
বেগম রোকেয়া রচিত উপন্যাসপম গদ্য কোনটি?
  1. ক) অবরোধবাসিনী
  2. খ) মতিচুর
  3. গ) পদ্মরাগ
  4. ঘ) সুলতানার স্বপ্ন
ব্যাখ্যা
'পদ্মরাগ' বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত  একটি উপন্যাস।
- তবে একে উপন্যাস না বলে উপন্যাসপম গদ্য-আখ্যায়িকা বলাই ভালো।
- এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।

বেগম রোকেয়া রচিত অন্যান্য গ্রন্থ -
- মতিচুর,(প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- অবরোধবাসিনী, (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১)
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮), ইত্যাদি।

উৎস: ড. সৌমিত্র শেখর রচিত বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭,৮৯৪.
‘শুন হে লখিন্দর’ গল্পগ্রন্থটির লেখক-
  1. ক) শওকত উসমান
  2. খ) সরদার জয়েন উদ্দিন
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) সমর সেন
ব্যাখ্যা
শুন হে লখিন্দর তার প্রথমদিকের গল্পের সংকলন। গল্পগুলো সামাজিক বাস্তববাদী এবং সময়ের জন্য প্রাসঙ্গিক। যদিও গল্পগুলো ১৯৭৪-১৯৮৫ সালের দিকে লেখা তবু তার আবেদন কোনোভাবেই কমেনি। গল্পগুলো সামাজিক বাস্তববাদী এবং সময়ের জন্য প্রাসঙ্গিক।
৭,৮৯৫.
'ধনঞ্জয়' বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব ঘটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন নাটকে?
  1. রক্তকরবী
  2. বিসর্জন
  3. ডাকঘর
  4. প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা
• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'।
- এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব। নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানবভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের। টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- ধনঞ্জয় বাউল,
- সুরমা,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

উৎস: 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর। 
৭,৮৯৬.
বসন্ত মুখর আজি
দক্ষিণ সমীরণে মর্মর গুঞ্জনে
বনে বনে বিহ্বল বাণী ওঠে বাজি॥ লাইনটির রচয়তা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বসন্ত মুখর আজি – কাজী নজরুল ইসলাম
- লাইনটি গীতিগ্রন্থ 'বুলবুল' এর দ্বিতীয় খন্ড থেকে নেওয়া হয়েছে। 

বসন্ত মুখর আজি
দক্ষিণ সমীরণে মর্মর গুঞ্জনে
বনে বনে বিহ্বল বাণী ওঠে বাজি॥
অকারণ ভাষা তার ঝরঝর ঝরে
মুহু মুহু কুহু কুহু পিয়া পিয়া স্বরে।
পলাশ বকুলে অশোক শিমূলে
সাজানো তাহার কল-কথার সাজি॥
দোয়েল মধুপ বন-কপোত কূজনে
ঘুম ভেঙে দেয় ভোরে বাসর-শয়নে।

উৎস: বুলবুল- দ্বিতীয় খন্ড, কাজী নজরুল ইসলাম।
৭,৮৯৭.
গোলাম মোস্তফার কাব্যগ্রন্থ নয়-
  1. ক) খোশরোজ
  2. খ) বুলবুলিস্তান
  3. গ) হাসনাহেনা
  4. ঘ) রূপের নেশা
ব্যাখ্যা

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রূপের নেশা,
- ভাঙাবুক ও
- এক মন এক প্রাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৮৯৮.
‘তিথিডোর’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) কালিদাস রায়
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু: 
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক। 
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন। 
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু। 

তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস: 
- তিথিডোর
- সাড়া, 
- সানন্দা, 
- লালমেঘ, 
- পরিক্রমা, 
- কালো হাওয়া, 
- নির্জন স্বাক্ষর, 
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত কিছু গল্পগ্রন্থ: 
- অভিনয়, অভিনয় নয়, 
- রেখাচিত্র, 
- হাওয়া বদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৭,৮৯৯.
'সমুদ্রের স্বাদ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. উপন্যাসগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
- 'সমুদ্রের স্বাদ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত - গল্পগ্রন্থ।
- এই গল্পগ্রন্থের প্রথম গল্পের নাম - 'সমুদ্রের স্বাদ'।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'সমুদ্রের স্বাদ', মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
৭,৯০০.
'মজিদ এবং খালেক ব্যাপারি' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. লালসালু
  3. হাজার বছর ধরে
  4. সূর্য দীঘল বাড়ি
ব্যাখ্যা
‘লালসালু’ উপন্যাস:
- ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
- 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।