বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৭৪ / ১৭৪ · ৭,৩০১৭,৪০০ / ১৭,৪৩৭

৭,৩০১.
"এক নূরলদীন যদি চলি যায়, হাজার নূরলদীন আসিবে বাংলায়।" বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. শওকত ওসমান
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা

• 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- “নূরলদীনের সারা জীবন” সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীন যার আসল নাম নূরুলউদ্দিন, তাঁর সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে নাটকটি রচনা করা হয়েছে।
- নূরলদীনের বিখ্যাত আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- কাব্যনাট্যটির বিখ্যাত লাইন - "এক নূরলদীন যদি চলি যায়, হাজার নূরলদীন আসিবে বাংলায়।"
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত কাব্যনাট্য।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩০২.
'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটকটি অনুবাদ করেন কে?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি। ।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্থুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।

মুনীর চৌধুরীর'র অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৭,৩০৩.
ডিরোজিওর পূর্ণ নাম-
  1. ক) হেনরি লুই ভিক্টোরিয়ান ডিরোজিও
  2. খ) লুই আই খান ডিরোজিও
  3. গ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  4. ঘ) হেনরি লুই আই খান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
• ডিরোজিওর পূর্ণ নাম- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও

• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩০৪.
'এলাটিং বেলাটিং', 'ধান ভানলে কুঁড়ো দেব' ইত্যাদি শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি।

তাঁর রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্যঃ
- এলাটিং বেলাটিং,
- ধান ভানলে কুঁড়ো দেব,
- গোলাপ ফুটে খুকীর হাতে,
- আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩০৫.
'সহসা সচকিত' কাব্যগ্রন্থটির কবি হলেন-
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহাসান
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ আলী আহাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

অনুবাদগ্রন্থঃ
- হুইটম্যানের কবিতা,
- ইডিপাস।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,৩০৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. চতুরঙ্গ
  2. চোখের বালি
  3. নৌকাডুবি
  4. যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস নয় - নৌকাডুবি

নৌকাডুবি:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক উপন্যাস
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- মূল চরিত্র: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, নলিনাক্ষ, অন্নদাবাবু।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৩০৭.
'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে' - পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. বুদ্বদেব বসু
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'উটপাখী' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'উটপাখী' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩০৮.
'রমেশ ও হেমনলিনী' চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. রাজর্ষি
  2. নৌকাডুবি
  3. গোরা
  4. দুই বোন
ব্যাখ্যা
'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- মূল চরিত্র: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, নলিনাক্ষ, অন্নদাবাবু।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৩০৯.
'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. শেখ আবদুর রহিম
  2. আল মাহমুদ
  3. রওশন আলী চৌধুরী
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম।
- ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়।
- 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক - আহমদ ছফা। 
- সৃষ্টিধর্মী লেখক হিসেবে তিনি গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ, শিশুসাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখান।

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩১০.
"মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"- উক্তিটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।" সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উক্তি।  

------------------------
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি:
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ভ্রমণকাহিনি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পালামৌ'।
- বর্তমানে পালামৌ ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি জেলা। 
- 'পালামৌ' বিহারের একটি স্থানের নাম লেখক চাকরিসূত্রে যখন বিহারে ছিলেন, সেই সময়ের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তিনি তাঁর এই রচনায় লিখেন।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

'পালামৌ' রচনার ব্যবহৃত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য-
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।"
- "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"
- "যে হারে, সেই রাগে।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩১১.
গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. গোলক নাথ শর্মা
  2. মানোএল দা আসসুম্পসাঁও
  3. তারিণীচরণ মিত্র
  4. চণ্ডীচরণ মুন্শী
ব্যাখ্যা
• ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

• গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী নামক স্থানে লিখিত। এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিষ্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

• মূল পর্তুগিজ অংশ মানোএল দা আসসুম্পসাঁও-এর লেখা; তিনি সম্ভবত কোন দেশীয় খ্রিষ্টান দ্বারা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করিয়েছিলেন। গ্রন্থাকার ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের পাদ্রি হিসেবে ধর্মপ্রচারে রত ছিলেন এবং সে অঞ্চলে থাকাকালীন গ্রন্থটি রচিত বলে তাতে স্থানীয় উপভাষার প্রভাব আছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৩১২.
রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) সম্বাদ কোমুদী
  2. খ) ব্যাকরণ কৌমুদী
  3. গ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  4. ঘ) বেদান্তসার
ব্যাখ্যা

কয়েকটি বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম ও লেখকঃ
Manuel da Assumpção--- 'Vocabulario idioma em Bengalla e portuguez dividido em duas Partes' (১৭৪৩)
ব্রাসি হ্যালহেড --- ' A Grammar of the Bengal Language' (১৭৭৮)।
উইলিয়াম কেরি --- 'A Grammar of the Bengalla Language' (১৮০১) [১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে জন রবিনসন এই গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেন]।
রাজা রামমোহন রায় --- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' (১৮৩৩)
সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় --- 'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' (১৯৩৯)।
ড. সুকুমার সেন --- 'ভাষার ইতিবৃত্ত' (১৯৩৯)।
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ - 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' ( ১৯৫৯)

৭,৩১৩.
বিমল মিত্র ব্যবহৃত ছদ্মনাম-
  1. চিত্রগুপ্ত
  2. যুবনাশ্ব
  3. জাবালি
  4. যাযাবর
ব্যাখ্যা
বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।

অনদিকে, 
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম- যুবনাশ্ব।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩১৪.
'আনোয়ার পাশা' গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. আহমদ ছফা
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
  4. ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ার পাশা' নাটকটির রচয়িতা - ইব্রাহীম খাঁ। 

ইব্রাহীম খাঁ:

- তিনি ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩১৫.
'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি-
  1. রূপক নাটক
  2. ঐতিহাসিক নাটক
  3. সামাজিক নাটক
  4. মনস্তাত্ত্বিক নাটক
ব্যাখ্যা

• 'বহিপীর' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত সামাজিক নাটক।
- ১৯৫৫ সালে 'বহিপীর' রচিত এবং নাটকটি ১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর। এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বহিপীর,
- তাহেরা,
- হাতেম,
- আমেনা,
- হাশেম।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৭,৩১৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ নিম্নের কোন গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. ক) অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ
  2. খ) সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. গ) বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  4. ঘ) বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

• তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ,
- ভাষা ও সাহিত্য
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- বাংলা সাহিত্যের কথা ইত্যাদি।

এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।
 
অপরদিকে, 
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩১৭.
'নেমেসিস' নাটকের পটভূমি-
  1. ক) মন্বন্তর
  2. খ) দেশভাগ
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) গণ- অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
- এক চরিত্র বিশিষ্ট নাকট নেমেসিস।
- নাটকটির রচয়িতা - নুরুল মোমেন।
- এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পঞ্চাশের মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত একটি বিখ্যাত নাটক।
- এ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী।
- এ নাটকে নুরুল মোমেন দেখিয়েছেন যে, অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে সুরজিত নন্দী সাধারণ মানুষের জীবনে যে দুঃখ-দুর্দশার বয়ে এনেছে তার প্রতিশোধ হিসেবে দেবী নেমেসিস (প্রতিহিংসার দেবী) তাঁর জীবন কেড়ে নিয়েছে।

নুরুল মোমেনের অন্যান্য নাটক হলো :
- রূপান্তর
- যদি এমন হতো
- নয়া খান্দান
- আলোছায়া
- শতকরা আশি
- আইনের অন্তরালে
- যেমন ইচ্ছা তেমন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩১৮.
বাংলা সঙ্গীতে প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন কে?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• বাংলা সঙ্গীতে ঠুংরি:
- বাংলা সঙ্গীতে অতুলপ্রসাদই প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন এ ছাড়া রাগপ্রধান ঢঙে বাংলা গান রচনা তাঁর থেকেই শুরু হয়।
- উল্লেখ্য যে, বাংলায় ঠুংরি গীতধারার প্রথম প্রচলন করেন লক্ষ্ণৌর বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ্। অতুলপ্রসাদের বিশেষত্ব এ যে, তিনি বাংলা গানের সুর-তালের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখেই হিন্দুস্থানি রীতির প্রয়োগ করতে পেরেছিলেন।
- জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় তিনি উত্তর ভারতে কাটান। সেজন্য ওখানকার সাঙ্গীতিক পরিমন্ডলের সঙ্গে মিশে গিয়ে তিনি হিন্দুস্থানি গীতিপদ্ধতিকে রপ্ত করতে সমর্থ হন। তাই বাংলা গানে হিন্দুস্থানি ঢঙের মিশ্রণ ঘটানো তাঁর পক্ষে সহজ হয়েছিল। অতুলপ্রসাদের এ প্রয়াস বাংলা গানে একদিকে যেমন নতুনত্ব এনেছে, অন্যদিকে তেমনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথ উন্মুক্ত করে বাংলা গানের জগতে এক বন্ধনমুক্ত শৈল্পিক আবহ নির্মাণে সক্ষম হয়েছে।।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩১৯.
“একের ‘সহিত’ অন্যের মিলনের মাধ্যমই হলো সাহিত্য” - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) ড. নীহাররঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা

“একের ‘সহিত’ অন্যের মিলনের মাধ্যমই হলো সাহিত্য” - উক্তিটি করেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৩২০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা কোনটি?
  1. আদুরে
  2. আমাদের ছোট নদী
  3. জননী
  4. কবর
ব্যাখ্যা
আমাদের ছোট নদী
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

আমাদের ছোটো নদী চলে আঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি,
দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি

উল্লেখ্য,
- 'আদুরে পুতুল' কবিতার রচয়িতা - সুকুমার রায়।
- 'জননী তোমার করুণ চরণখানি' কবিতার রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
- 'পল্লী জননী' এবং 'কবর' কবিতার রচয়িতা - জসীমউদ্দীন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩২১.
জীবনভিত্তিক কাব্য 'মরুভাস্কর' রচনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আল মাহমুদ
  3. ফররুখ আহমদ
  4. গোলাম মোস্তাফা
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের দুটি জীবনভিত্তিক কাব্য:
- মরুভাস্কর - হযরত মুহম্মদ (সঃ)।
- চিত্তনামা - দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৭,৩২২.
‘কোকিলারা’ নাটকটির রচয়িতা -
  1. আবুল ফজল
  2. মামুনুর রশীদ
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
‘কোকিলারা’ নাটক:
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে ঢাকা গাইড হাউজ মিলনায়তনে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জানুয়ারি প্রথম অভিনীত হয়।
- বাংলাদেশের নারীদের তিনটি রূপ তিন কোকিলা।

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশি নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক।
- আবদুল্লাহ আল মামুন - রচিত ''কোকিলারা'' একটি এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।

তাঁর প্রকাশিত বিখ্যাত নাটকগুলো:
- শপথ,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখনও দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩২৩.
নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা -
  1. ধূমকেতু
  2. লাঙ্গল
  3. দৈনিক আজাদ
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা:
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় বাংলা ও আসামের মুসলমানদের মুখপত্র হিসেবে দৈনিক আজাদ প্রকাশিত হয়।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩২৪.
‘চোখের বালি’ উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের কোন ধরনের উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত?
  1. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  2. সামাজিক উপন্যাস
  3. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  4. রহস্য উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন। উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩২৫.
কোনটি মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক নয়?
  1. দণ্ডকারণ্য
  2. পলাশী ব্যারাক
  3. চিরকুমার সভা
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

'চিরকুমার সভা' হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি নাটক। 

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক এবং বাগ্মী।
- শিক্ষা ও পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি এবং ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে, ১৪ ডিসেম্বর, তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

নাটকসমূহ:
- রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি, কবর, দণ্ডকারণ্য, পলাশী ব্যারাক, ইত্যাদি।

অনুবাদ নাটকসমূহ:
- কেউ কিছু বলতে পারে না, রূপার কৌটা, মুখরা রমণী বশীকরণ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস, তুলনামূলক সমালোচনা, বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৭,৩২৬.
কোন লেখকের ছদ্মনাম 'লীলাময় রায়'?
  1. অন্নদাশংকর রায়
  2. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  4. সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা

অন্নদাশংকর রায়ের ছদ্মনাম - লীলাময় রায়।

অন্যদিকে,
চারুচন্দ্র চক্রবর্তী'র ছদ্মনাম -  জরাসন্ধ।
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
সমরেশ বসু'র ছদ্মনাম - কালকূট।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,৩২৭.
'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই' - এই বাক্যটি কোন গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. পোস্টমাস্টার
  2. মেঘ ও রৌদ্র
  3. জীবিত ও মৃত
  4. প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

'জীবিত ও মৃত' ছোটগল্প:
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা ছোটগল্প।
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। এটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা ।
- তবে এটি কোনও নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই' - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৭,৩২৮.
‘চাচা - কাহিনী’র লেখক কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সৈয়দ আলী আশরাফ
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ মুজতবা আলী,(১৯০৪-১৯৭৪) শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।
- বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
ভ্রমণকাহিনী
দেশে-বিদেশে (১৯৪৯),
জলে-ডাঙায় (১৯৬০);

উপন্যাস
অবিশ্বাস্য (১৯৫৪),
শবনম (১৯৬০),
শহ্র-ইয়ার (১৯৬৯);

রম্যরচনা
পঞ্চতন্ত্র (১৯৫২),
ময়ূরকণ্ঠী (১৯৫২) 

ছোটগল্প
চাচা-কাহিনী (১৯৫২),
টুনি মেম (১৯৬৪)।
- মুজতবা আলীর ডি.ফিল অভিসন্দর্ভ The Origin of Khojahs and Their Religious Life Today (১৯৩৬) বন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর আরেকটি অনবদ্য গ্রন্থ পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। 

- সৈয়দ মুজতবা আলী দেশে-বিদেশে গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। গ্রন্থখানি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পাঠকচিত্ত জয় করতে সক্ষম হন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি। সামগ্রিকভাবে তিনি উভয় বঙ্গে সমান জনপ্রিয় ও সমাদৃত লেখক ছিলেন। আন্তর্জাতিক চেতনায় সমৃদ্ধ এই লেখকের বিশ্বমানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং অননুকরণীয় রচনাশৈলী তাঁকে এই সম্মানের অধিকারী করেছে। তদুপরি তিনি যে নৈপুণ্যের সঙ্গে বিদেশি চরিত্র ও আবহ বাংলা সাহিত্যে এনেছেন তাও তুলনাহীন। হালকা মেজাজে আড্ডার ঢঙে বলে গেলেও তাঁর অধিকাংশ রচনা জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, শাস্ত্রচর্চা ও বিচার-সমালোচনায় পরিপূর্ণ।
উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।

৭,৩২৯.
নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম- 
  1. কালকূট
  2. ভ্রমর
  3. জাবালি
  4. বানভট্ট
ব্যাখ্যা

• 'বানভট্ট' নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম 'জাবালি' 
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩৩০.
'সুরবালা' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে মুসলমান চরিত্র রয়েছে।
• এ গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- রহমত ও খুকী।
• 'সমাপ্তি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'মৃণ্ময়ী'।
• 'হৈমন্তী' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'হৈমন্তী'।
• 'একরাত্রি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'সুরবালা'।
উৎসঃ রবীন্দ্রনাথ রচনাবলী।
৭,৩৩১.
'হুতোমী বাংলা' ভাষার প্রবক্তা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহ অনুসৃত রীতির ভাষাকে বলা হয় 'হুতোমী বাংলা' ভাষা। 

কালীপ্রসন্ন সিংহ (১৮৪০-১৮৭০)  
সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী কালীপ্রসন্ন সিংহ কলকাতার এক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
-  মাত্র তেরো বছর বয়সে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিদ্যোৎসাহিনী সভা’। 
- দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ (১৮৬০) নাটক অনুবাদের অভিযোগে জেমস লঙের এক মাসের কারাদন্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা হলে (২৪ জুলাই ১৮৬১) কালীপ্রসন্ন তা পরিশোধ করেন।
- সমসাময়িকদের মধ্যে কালীপ্রসন্ন শিল্পসংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক, বিধবাবিবাহের একনিষ্ঠ প্রবক্তা, অনন্যসাধারণ সমাজনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- নাটক,  প্রহসন,  উপন্যাস, নকশা, প্রবন্ধ ও অনুবাদ মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা নয়।
- ইংরেজিতে দি ক্যালকাটা পুলিশ অ্যাক্ট-ও (১৮৬৬) তাঁর রচনা।
- প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম  হুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬২) এবং পুরাণসংগ্রহ (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা। এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৩২.
সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত 'পূর্বাশা' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৩০ সালে
  2. ১৯৩১ সালে
  3. ১৯৩২ সালে
  4. ১৯৩৩ সালে
ব্যাখ্যা
'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা।
- এটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৩৩.
হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. জ্বলো চিতাবাঘ
  2. অলৌকিক ইস্টিমার
  3. সবকিছু ভেঙে পড়ে
  4. সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
ব্যাখ্যা
• ‘সব কিছু ভেঙে পড়ে’ উপন্যাস:
- ‘সব কিছু ভেঙে পড়ে’ হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক সেতু-প্রকৌশলী ‘মাহবুব’।
- 'ব্রিজ একটি কাঠামো; সব কিছুই আমার কাছে কাঠামো'- উক্তিটি বলেছে সব কিছু ভেঙে পড়ের নায়ক, সেতু-প্রকৌশলী, মাহবুব।

-------------------
• হুমায়ুন আজাদ:

- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত লেখক ও অধ্যাপক।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অলৌকিক ইস্টিমার'।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৬) লাভ করেন।
- তিনি ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য উপন্যাস গুলো হলো:
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- রাজনীতিবিদগণ,
- কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ, 
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি

কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি

উৎস: ‘সব কিছু ভেঙে পড়ে’ উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৩৪.
'নীল দর্পণ' নাটকটির বিষবস্তু কি?
  1. ক) নীলকরদের অত্যাচার
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) অসহযোগ আন্দোলন
  4. ঘ) তে-ভাগা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
নীল দর্পণ(১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্রের নীলকর সাহেবদের নীল চাষিদের উপর বীভৎস অত্যচার অবলম্বনে রচিত নাটক।
উৎসঃবাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৩৩৫.
'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' অবলম্বনে কোন নাটকটি রচিত হয়?
  1. ক) রাজা
  2. খ) ডাকঘর
  3. গ) প্রায়শ্চিত্ত
  4. ঘ) রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

বৌ-ঠাকুরাণীর হাট (১৮৮৩): রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস।
যশােরের রাজা প্রতাপাদিত্য ও বাকলার জমিদার রামচন্দ্রের বিবাদকে উপজীব্য করে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস।
'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ
‘প্রায়শ্চিত্ত' (১৯০৯) নাটকটি রচনা করেন। ১৯২৯ সালে প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের সংক্ষিপ্ত রূপ 'পরিত্রাণ' নামে মুদ্রিত হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

৭,৩৩৬.
জর্জ বার্নার্ড শ-এর "You never can tell" নাটক 'কেউ কিছু বলতে পারে না' নামে বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক:
- "কেউ কিছু বলতে পারে না" (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর-এর "You never can tell" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
- "রূপার কৌটা" (১৯৬৯): জন গলওয়র্দির "The Silver Box" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
- "মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্পিয়ারের "Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।

• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, এবং সাহিত্যসমালোচক।
- তিনি ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলায়।
- তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছে।
- ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি কারাবন্দী অবস্থায় ১৯৫৩ সালে "কবর" নাটকটি রচনা করেন, যা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।
- ১৯৬৫ সালে মুনীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য একটি উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম ছিল "মুনীর অপ্টিমা"।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৩৭.
রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা বড়' - এ বিতর্ক নিয়ে রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বসন্তকুমারী
  2. রত্নবতী
  3. জমিদার দর্পণ
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা
• রত্নবতী: 
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থের নাম হচ্ছে 'রত্নবতী'।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে মূল্যবান।
- লেখক নাম-পৃষ্ঠায় গ্রন্থটিকে ‘কৌতুকাবহ উপন্যাস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প।
- রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা বড়' - এ বিতর্ক ও বিতর্কের সমাধানই 'রত্নবতী'র মূল বিষয়।

----------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
 
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।
 
• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।
 
• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৩৮.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন?
  1. ভ্রমণকারী বন্ধু
  2. পরশুরাম
  3. সত্যপীর
  4. দৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
- ‘সত্যপীর’ - সৈয়দ মুজতবা আলী এর ছদ্মনাম।
- 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৩৯.
‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটক:
- ‘চন্দ্রগুপ্ত’ (১৯১১) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত জনপ্রিয় নাটক।
- গ্রিক-ভারতীয় সম্পর্কের ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্তকে এই নাটকের পটভূমি করা হয়েছে।
- এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চাণক্যের মধ্যে কাঠিন্য এবং কোমলতার বিপরীত সমাবেশ, দেশপ্রেমের উদ্দীপ্তি এবং ভাষার আড়ম্বর এই তিনদিক থেকে বাংলা নাটকের ইতিহাসে ‘চন্দ্রগুপ্ত’ বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর 'আর্য্যগাথা' (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে 'Lyrics of Ind' কাব্য প্রকাশিত হয়।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৪০.
‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহের কোন জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাস: 
- উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু হচ্ছে, ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা। 
- উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী প্রতিবাদের প্রতীক।
- লালসালু একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো: মজিদ, খালেক, ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরে বাপ, হাসুনির মা।
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) সালে খ্যাতি অর্জন করে।
================================
 সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ:
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
-  আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ডিস্টিংকশনসহ বি.এ (১৯৪৩) পাস করেন।
-  তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো  সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর।

নাটক: 
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ, 
- সুড়ঙ্গ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া। 
৭,৩৪১.
আমি কবি যত কামারের, কাঁসারির আর ছুতারের মুটে মজুরের, আমি কবি যত ইতরের চরণগুলোর রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) মহাদেব সাহা
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
আলোচ্য চরণগুলো কবি প্রেমেন্দ্র মিত্রের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ''প্রথমা'' (১৯৩২) এর ‘আমি কবি যত কামারের’ শীর্ষক কবিতার অংশবিশেষ। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৭,৩৪২.
জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান মারা যান-
  1. ক) ১৪ মে ২০২০
  2. খ) ১৪ আগস্ট ২০২০
  3. গ) ১৪ আগস্ট ২০২১
  4. ঘ) ১৪ মে ২০২১
ব্যাখ্যা
জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- তিনি ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।
- গত ১৪ মে ২০২০ জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ৮৩ বছর বয়সে মারা যান।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস প্রফেসর ছিলেন (বাংলা বিভাগ)। 
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। 
- তাঁর এই গবেষণা পত্রকে তিনি 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন। 
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালের ১৯ জুন তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিযোগ দেন।
- মৃত্যুর পূর্বে তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

উৎস: প্রথম আলো এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৪৩.
'চাঁদনী রাতে' - কবিতা টি কোন কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) অগ্নী-বীণা
  2. খ) সন্ধ্যা
  3. গ) সিন্ধু-হিন্দোল
  4. ঘ) জিঞ্জির
ব্যাখ্যা
'চাঁদনী রাতে' - কবিতা টি কাজি নজরুল ইসলাম এর 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়।

নজরুল নির্বাচনের প্রচারের কাজে ঢাকা থেকে জয়দেবপুর যাবার সময় জ্যোৎস্না রাতে 'জয়দেবপুরের পথে' নামে একটি কবিতা লেখেন। পরে তিনি এ কবিতাটি পরিনার্জনা করে নাম দেন 'চাঁদনী রাতে'। এটি 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়।

- কবিতাটি আবদুল কাদির তাঁর 'জয়তী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৪৪.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. নিসর্গ সঙ্গীত
  2. সাধের আসন
  3. বঙ্গসুন্দরী
  4. প্রেম প্রবাহিণী
ব্যাখ্যা
• 'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন' (১৮৮৯)।
- 'সাধের আসন'কে 'সারদামঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির 'সারদামঙ্গল' কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন, "তুমি কাকে ধ্যান কর?"। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল 'বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ' লিখেছিলেন।

------------
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৪৫.
"আহুতি" প্রমথ চৌধুরী রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

• ‘আহুতি’ প্রমথ চৌধুরী রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়।

প্রমথ চৌধুরী:
- তিনি সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- নানাকথা,
- নানাচর্চা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত ও গল্পসংগ্রহ।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৪৬.
কার ‍উদ্যোগে “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ” বিষয়ক দলিল সংগ্রহের প্রকল্প গৃহীত হয়েছিল?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমদ
  2. খ) আতাউল গণি ওসমানী
  3. গ) জিয়াউর রহমান
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ': 'দলিলপত্র  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর পনেরো খন্ডে রচিত একটি দালিলিক প্রকাশনা। এ দলিলপত্রাদি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মফিজুল্লাহ কবীর ও সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমানের যৌথ নেতৃত্বে একটি প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক প্রণীত। প্রায় সাড়ে তিন লাখ পৃষ্ঠা ব্যাপী বিপুলায়তন ও সংগৃহীত উপাত্ত থেকে নির্বাচন করে প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক অনুমোদনের পর কালপঞ্জি অনুসারে বিভিন্ন খন্ডে প্রকাশ করা হয়।

“বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বিষয়ক দলিল" সংগ্রহের প্রকল্পটি গৃহীত হয়েছিলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি আতাউল গণি ওসমানীর উদ্যোগে।
তবে সরকারিভাবে,
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের উদ্যোগে ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমীর মাধ্যমে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের তথ্য সংগ্রহের প্রকল্প শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাধীনতার ইতিহাস সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি থেকে। তবে প্রকল্পটি সরকারি অনুমোদন লাভ করে ১৮ জুলাই ১৯৭৮-এ বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী (নং ৫১/২/৭৮/ডেব/২৬১)। এই প্রকল্পের সদস্য সচিব হাসান হাফিজুর রহমান বাংলা একাডেমী কর্তৃক ইতোপূর্বে সংগৃহীত দলিলপত্রসমূহ স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি এরশাদ সরকারের শাসনামলে ১৯৮২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে খন্ডগুলির প্রকাশ শুরু হয়।

উল্লেখ্য, ওসমানী ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের মন্ত্রীসভায়  ডাক, তার ও টেলিফোন, যোগাযোগ, জাহাজ চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ ও বিমান চলাচল মন্ত্রী ছিলেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৪৭.
"মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।" - এই পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. ফররুখ আহমেদ
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।'-  কবিতাংশটুকুর রচয়িতা সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। এটি 'খাঁটি সোনা' কবিতার অংশবিশেষ।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৪৮.
"আঠারো শতকের বাংলা চিঠি" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. আবুল ফজল
  4. আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
আনিসুজ্জামান:
- তিনি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও জাতীয় অধ্যাপক, বাংলাদেশের বাতিঘর হিসেবে খ্যাত, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প-িত অধ্যাপক।
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৪৯.
‘গড্ডলিকা’ গল্পের বইটি কে রচনা করেছেন?
  1. অচিত্যকুমার সেন
  2. রাজশেখর বসু
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• ‘গড্ডলিকা’:
- ‘গড্ডলিকা’ রাজশেখর বসুর (পরশুরাম) প্রথম গল্পের বই। প্রকাশকাল ১৯২৪ সাল।
- প্রকাশক ছিলেন ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। বইয়ে ছবি এঁকেছিলেন যতীন্দ্রমোহন সেন।
- এ বইয়ের মোট পাঁচটি গল্প রয়েছে। এই গ্রন্থের প্রথম গল্প ‘শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড’।

এ ছাড়াও এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- চিকিৎসা-সঙ্কট,
- মহাবিদ্যা,
- লম্বকর্ণ ও
- ভূষণ্ডীর মাঠে।

------------------------
• রাজশেখর বসু: 
- রাজশেখর বসু ছিলেন একাধারে একজন লেখক ও বিজ্ঞানী অভিধান প্রণেতা।
- ১৮৮০ সালের ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার বামুনপাড়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম
- রাজশেখর চাকরি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি বাংলা  অভিধান ও  পরিভাষা রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- ১৯০৬ সালে গঠিত জাতীয় শিক্ষা পরিষদে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
- তিনি ১৯৩৫ সালে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত বাংলা বানান সংস্কার সমিতি এবং ১৯৪৮ সালে সরকার গঠিত পরিভাষা সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- লেখক হিসেবে তিনি ‘পরশুরাম’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট একুশ।
- তাঁর চলন্তিকা (১৯৩৭) বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত একখানি জনপ্রিয় অভিধান।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গড্ডলিকা,
- কজ্জলী,
- হনুমানের স্বপ্ন,
- গল্পকল্প;
- আনন্দীবাঈ;
- ভারতের খনিজ,
- কুটিরশিল্প,
- বিচিন্তা;
- বাল্মীকি রামায়ণ,
- মহাভারত,
- হিতোপদেশের গল্প ইত্যাদি।

উৎস: ‘গড্ডলিকা’ গল্পগ্রন্থ;  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৫০.
'কুঁচবরণ কন্যা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) বিজন ভট্টাচার্য
  4. ঘ) বদর উদ্দিন ওমর
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর ছিলেন। তিনি কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো- কাব্য: ময়নামতীর চর, অনুরাগ, পদ্মানদীর চর, মধুমতীর চর, ধরিত্রী, উপন্যাস: বসন্ত জাগ্রত দ্বারে, শেষ লগ্ন, অরণ্য গোধূলি, নীড়ভ্রষ্ট। তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ তাসের ঘর, নাটক মসনদ এবং শিশুসাহিত্য- চোর জামাই, মেঘকুমারী, বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, সোনার হরিণ, শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা, কুঁচবরণ কন্যা, সাত রাজ্যের গল্প। তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে। উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৫১.
'ভিখু' ও 'পাচি' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
• তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম ‘অতসী মামী’ বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ ‘প্রাগৈতিহাসিক’। এই গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র ভিখু ও পাচি।,

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থঃ
- অতসী মামা ও অন্যান্য গল্প, 
- মিহি ও মোটা কাহিনী, ]
- বৌ,
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ,
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী, 
- আত্মহত্যার অধিকার ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৫২.
প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রতিশোধ
  2. পুতুল ও প্রতিমা
  3. উপনয়ন
  4. কুয়াশা
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কুয়াশা,
- উপনয়ন,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে,
- অন্য এক নাম,
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৫৩.
নিচের কোনটি দীনবন্ধু মিত্রের ছদ্মনাম?
  1. তর্করত্ন
  2. মল্লিক
  3. কস্যচিৎ পথিকস্য
  4. সত্যসুন্দর দাস
ব্যাখ্যা
• নীলদর্পণ:
- নীল দর্পণ হলো দীনবন্ধু মিত্র কর্তৃক ১৮৬০ খ্রি. রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন। 
  বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নীলদর্পণ নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় ।

অন্যদিকে,
• রামনারায়ণের ছদ্মনাম - তর্করত্ন।
• পঞ্চানন কর্মকারের ছদ্মনাম -মল্লিক।
• মোহিতলাল মজুমদারের ছদ্মনাম -সত্যসুন্দর দাস।
------------------------------------
• দীনবন্ধু মিত্র  রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

• তাঁর রচিত নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৫৪.
'দিবারাত্রির কাব্য' কার লেখা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস:
- 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাসটির লেখক- 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়'। 
- উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত।
- এর প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ প্রমুখ।
⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- বন্ধুদের সঙে বাজি ধরে তিনি রচনা করেন 'অতসীমামী' এবং পরবর্তীতে তা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন।
- তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন।
- পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৫৫.
'ওরা কদম আলী' নাটকের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) গ্রামীণ জীবন ব্যাবস্থা
  3. গ) বঞ্চিত, শোষিত মানুষের সংগ্রাম
  4. ঘ) জেলে সম্প্রদায়ের জীবন ব্যাবস্থা
ব্যাখ্যা
১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' নাটকের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে। 
- বঞ্চিত, শোষিত  মানুষের শ্রেণি সংগ্রাম এর রূপকার হিসেবে বঞ্চিত, শোষিত মানুষের সংগ্রাম 'ওরা কদম আলী' নাটক সমকালীন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের ধারায় যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। 
- গরীব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সমশটিক রূপ কিভাবে পরীগ্রহণ করে কদম আলী নামের এক বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাট্যকর্ম:
- ওরা কদম আলী (১৯৭৮)
- ওরা আছে বলেই(১৯৮০)
- ইবলিশ(১৯৮২)
- এখানে নোঙর(১৯৮৬)
- গিনিপিগ(১৯৮৫)
- পাথর(১৯৯৩)
- লেবেদেফ(১৯৯৭) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৫৬.
বাংলা গদ্যের প্রথম কথ্যরীতিতে রচিত গ্রন্থ ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর রচয়িতা কে?
  1. ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. খ) অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- বাংলা গদ্যে প্রথমবারের মত ‘আলালের ঘরের দুলাল’ গ্রন্থের মাধ্যমে প্যারীচাঁদ মিত্র কথ্য বা চলিত ভাষারীতির প্রয়োগ ঘটান।
- তিনি উপলব্ধি করেছিলেন , বাংলা গদ্যের সাধুরীতি কেবল লিখিত রূপেই প্রচলিত এবং বিদ্যালয়ে অধ্যায়নের সুযোগ বঞ্চিত লোকেরা , বিশেষত অন্তঃপুরচারিণীরা এই ভাষারীতি হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না।
- এই অসুবিধা দূরীকরণে প্রথমত ‘মাসিক পত্রিকার” মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালায় এবং তারই ফলস্বরুপ ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এই গ্রন্থটি রচিত।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা গদ্যরীতিতে এক অভিনব লঘুভঙ্গি প্রবর্তিত হয় এবং তা  কথ্যরীতির বহুল ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করে।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৩৫৭.
'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. প্রহসন
  3. কাব্য
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসন:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন। এটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ, গদাগর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী প্রমুখ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তএকজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৫৮.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী কবিতার কত বছর উদযাপিত হয়েছে?
  1. সার্ধ শতবর্ষ
  2. একশত বিশ বছর
  3. দুইশত বছর
  4. শতবর্ষ
ব্যাখ্যা
⇒ ২০২১ সালে কবি নজরুলের বাংলা কাঁপানো কবিতা ‘বিদ্রোহী’ রচনার শতবর্ষ উদযাপিত হয়েছে। 
⇒ ১৯২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের কোনো এক রাতে এক বৈঠকে রচিত হয়েছিল বাংলা সাহিত্যের বিপুল প্রভাববিস্তারী এই কবিতা। নজরুল তখন মাত্র ২২ বছরের যুবক।


⇒ কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং প্রথম আলো রিপোর্ট (২১ মে ২০২১)।
৭,৩৫৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ল্যাবরেটরি' গল্পের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. দামিনী
  2. রমা
  3. রোহিণী
  4. সোহিনী
ব্যাখ্যা
• 'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তিনসঙ্গী' গ্রন্থের শেষ গল্প হলো 'ল্যাবরেটরি'। 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা।
- এটি আনন্দবাজার পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় ১৩৪৭ সালে ১৫ আশ্বিন প্রকাশিত হয়।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি এখানে বিষয়গত, চরিত্রগত এবং আঙ্গিকগত সমস্ত দিক থেকেই আধুনিকতার উপস্থাপন ঘটিয়েছেন। 
- গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে- সোহিনী। 'ল্যাবরেটরি' গল্পে সোহিনী চরিত্রের মধ্যে আমরা বিশেষভাবে আধুনিকতার ছাপ দেখি।
- বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন। গল্পে সোহিনীর মনস্তাত্ত্বিকতারই উদ্ঘাটন রয়েছে সমগ্র কাহিনি জুড়ে।

--------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো:
- গল্পগুচ্ছ,
- লিপিকা,
- সে,
- তিন সঙ্গী,
- গল্পসল্প।

উৎস: 'ল্যাবরেটরি' গল্প; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'তিনসঙ্গী' গল্পগ্রন্থ।
৭,৩৬০.
কোনটি শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. জননী
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. বনি আদম
ব্যাখ্যা
• 'নেকড়ে অরণ্য' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উপন্যাস :
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৬১.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প নিচের কোনটি?
  1. ক) রেইনকোট
  2. খ) আগুণের পরশমণি
  3. গ) চিলেকোঠার সেপাই
  4. ঘ) মাটির দেয়াল
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোর্ট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে: 
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই ।
৭,৩৬২.
জসীমউদ্দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) মধুমালা
  2. খ) পল্লীবধূ
  3. গ) বেদের মেয়ে
  4. ঘ) বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা
'বোবা কাহিনী' পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রথম এবং একমাত্র উপন্যাস
- ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়।
চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন। 

জসীমউদ্দীন রচিত নাটক- 
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা, 
- পল্লীবধূ, 
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৬৩.
'বোবা কাহিনী' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. কিশোর
  2. রুপাই
  3. আজহার
  4. সাজু
ব্যাখ্যা
• 'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৬৪.
‘ওমর খৈয়াম' কার ছদ্মনাম?
  1. মােহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. মধুসূদন মজুমদার
  4. রোকনুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

অন্যদিকে,
- দাদাভাই - রোকনুজ্জামান খান।
- মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭,৩৬৫.
এম. আর. আখতার মুকুল রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তরের বর্ণমালা
  2. একাত্তরের নিশান
  3. একাত্তরের কথামালা
  4. একাত্তরের রণাঙ্গন
ব্যাখ্যা

• 'একাত্তরের বর্ণমালা':
- 'একাত্তরের বর্ণমালা' মূলত এম. আর. আখতার মুকুল রচিত ও মাহমুদা খানম রেবা সহযোগিতায় প্রকাশিত একটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি গ্রন্থ । 
- গ্রন্থটি 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের চরমপত্র'-এর অংশবিশেষ নিয়ে লেখা, যেখানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের নানা ঘটনা, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা বর্ণমালার অক্ষরের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।  যা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের দলিল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। 

----------------------
• এম আর আখতার মুকুল:
- এম আর আখতার মুকুল ছিলেন একজন সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।

- জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে। পুরো নাম মুস্তাফা রওশন আখতার মুকুল। পিতা বিশিষ্ট সাহিত্যিক সা’দত আলি আখন্দ, মাতা রাবেয়া খাতুন। 

- মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গন পরিদর্শন শেষে তাঁর রচিত এবং স্বকণ্ঠে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমে তাঁকে বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নিয়োগ করা হয়। 

- ১৯৭২ সালে তিনি লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এ চাকরি হারিয়ে অনেক বছর তিনি লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন। ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনার দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছুদিন কাজ করেছেন।পরে তিনি ঢাকায় সাগর পাবলিশার্স নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- একাত্তরের বর্ণমালা,
- মুজিবের রক্তলাল,
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি,
- পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন ইত্যাদি।

অন্যান্য অনশনগুলোর বিশ্লেষণ, 
• 'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের লেখন- রাবেয়া খাতুন।
• 'একাত্তরের কথামালা' গ্রন্থের লেখন- বেগম নূরজাহান। 
• 'একাত্তরের রণাঙ্গন' গ্রন্থের লেখন- শামসুল হুদা চৌধুরী। 

উৎস: একাত্তরের বর্ণমালা' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া 

৭,৩৬৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক শোকগাঁথামূলক গদ্য গ্রন্থ- 
  1. বেতাল পঞ্চবিংশতি 
  2. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. ব্রজবিলাস
  4. রত্নপরীক্ষা
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক শোকগাঁথামূলক গদ্য গ্রন্থ- প্রভাবতী সম্ভাষণ। 
----------------------
• 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' নিয়ে আলোচনা:
- প্রভাবতী সম্ভাষণ হলো ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক শোকগাঁথা বা শোকমূলক গদ্য গ্রন্থ। 
- এটি রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত কন্যা প্রভাবতীর স্মৃতিতে রচিত। 
- বিদ্যাসাগর প্রভাবতীকে নিজের কন্যার মতো স্নেহ করতেন। 
- তার অকাল মৃত্যুর পর ব্যক্তিগত শোক ও করুণার অনুভূতি তিনি গ্রন্থের গদ্যে প্রকাশ করেছেন।
--------------------- 
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন সংস্কৃত পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, লেখক, সমাজসংস্কারক ও জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তাঁর প্রকৃত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- তাঁর প্রধান ছদ্মনাম ছিল ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য’।
- ১৮৩৯ সালে ১৯ বছর বয়সে কলকাতার সংস্কৃত কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় অসাধারণ জ্ঞানের কারণে তিনি ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

- তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
- বেতাল পঞ্চবিংশতি (এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন ব্যবহার করেন)।
- প্রভাবতী সম্ভাষণ (বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা)।
- ব্রজবিলাস।
- রত্নপরীক্ষা।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৭,৩৬৭.
'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি' পঙ্‌ক্তিটি কে রচনা করেছেন?
  1. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  2. কালিপ্রসন্ন সিংহ
  3. মোহিতালাল মজুমদার
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

• 'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি' পঙ্‌ক্তিটি কবি, সমাজসেবক মদনমোহন তর্কালঙ্কার এর।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
আমার পণ
মদনমোহন তর্কালঙ্কার

সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,
আমি যেন সেই কাজ করি ভাল মনে।
ভাইবোন সকলেরে যেন ভালবাসি,
এক সাথে থাকি যেন সবে মিলেমিশি।
ভাল ছেলেদের সাথে মিশে করি খেলা,
পাঠের সময় যেন নাহি করি হেলা।
সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে,
মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে।
সাবধানে যেন লোভ সামলিয়ে থাকি,
কিছুতে কাহারে যেন নাহি দেই ফাঁকি।
ঝগড়া না করি যেন কভু কারো সনে
সকালে উঠিয়া এই বলি মনে মনে।

মদনমোহনের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ
- রসতরঙ্গিণী (১৮৩৪) ও
- বাসবদত্তা (১৮৩৬)

-  তিন খন্ডে প্রকাশিত তাঁর শিশু শিক্ষা (১৮৪৯ ও ১৮৫৩) শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ;
- ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ শিশুপাঠ্য এই বিখ্যাত কবিতাটি তাঁরই রচনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও আমার পণ কবিতা।

৭,৩৬৮.
বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিক্ষণের সময়কাল কোনটি?
  1. ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৫৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৭৬০ থেকে ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৬৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
যুগসন্ধিকাল:
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়। উনিশ শতকের প্রথম থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত।
- এই যুগের প্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি যুগসন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিত।
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের মৃত্যু ঘটে ১৭৬০ সালে, আবার আধুনিক যুগ স্বকীয় বৈশিষ্ট্য সহকারে প্রকাশ পায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যসৃষ্টির মাধ্যমে মোটামুটি ১৮৬০ সাল থেকে।
- তখন বাংলা গদ্যরীতির উদ্ভবের কাল; সাহিত্যের যথার্থ বাহনের উপযোগিতা বাংলা গদ্য তখনও অর্জন করতে পারে নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৬৯.
'লালসালু' চলচ্চিত্রের পরিচালক-
  1. ক) আলমগীর কবির
  2. খ) সত্যজিৎ রায়
  3. গ) তানভীর মোকাম্মেল
  4. ঘ) খান আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা
২০০১ সালে তানভীর মোকাম্মেলের পরিচালনায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্ররূপ লাভ করে। ২০০১ সালে চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ আটটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। পাশাপাশি দর্শকদের বিচারে এটি শ্রেষ্ঠ দশটি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের তালিকায় স্থান পেয়েছে। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৩৭০.
‘দোজখের ওম’ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘দোজখের ওম’ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- গল্পটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে।

⇒ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৭১.
বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম গদ্য গ্রন্থের নাম-
  1. ক) প্রতাপাদিত্যচরিত্র
  2. খ) কথোপকথন
  3. গ) লিপিমালা
  4. ঘ) ইতিহাসমালা
ব্যাখ্যা

বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত ও ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ - প্রতাপাদিত্যচরিত্র
লেখক ছিলেন - রামরাম বসু। এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
এটি বাঙ্গালির লেখা প্রথম গদ্যগ্রন্থও।
রামরাম বসুর আরো একটি গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৭,৩৭২.
'পূরবী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) সিকান্দার আবু জাফর
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
পূরবী, মাটি আর অশ্রু, জয়ের পথে, নবী কাহিনী, নতুন সকাল ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা সিকান্দার আবু জাফর।
সিরাজউদ্দৌলা, শকুন্ত উপাখ্যান, মহাকবি আলাওল, মাকড়সা - তাঁর রচিত নাটক।
প্রসন্ন প্রহর, বৈরীবৃষ্টিতে, তিমিরান্তক, বৃশ্চিকলগ্ন ইত্যাদি তাঁর রচিত কবিতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৭৩.
নিচের কোনটি 'মন্দির' গল্পের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. অচলা 
  2. অপর্ণা
  3. বিনোদিনী 
  4. সাবিত্রী
ব্যাখ্যা

• 'মন্দির' গল্প:
- শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম মন্দির।
- তিনি মন্দির গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমরনাথ,
- অপর্ণা প্রমুখ।

---------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- কাশীনাথ,
- মন্দির, 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল,
- মেজদিদি ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনাপাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'মহেশ' গল্প এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৭৪.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থ অনুসারে, ব্যাকরণের বিষয়সমূহকে প্রধানত কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থ অনুসারে, বাঙ্গালা ব্যাকরণের বিষয়সমূহকে প্রধানত পাঁচ ভাগে বা প্রকরণে বিভক্ত করা যেতে পারে। 
যথা-
১. ধ্বনি প্রকরণ (Phonology),
২. শব্দ প্রকরণ (Accidence),
৩. বাক্য প্রকরণ (Syntax),
৪. ছন্দ প্রকরণ (Prosody),
৫. অলঙ্কার প্রকরণ (Rhetoric)।

উৎস: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ'- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
৭,৩৭৫.
‘পরশুরাম’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কে?
  1. সোমেন চন্দ
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত ছোটগল্পগুলো হলো:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি ছোটগল্প।

- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি তারঁ সুখপাঠ্য বড়গল্প।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- অরক্ষণীয়া,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- নিষ্কৃতি,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

অন্যদিকে,
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
• সোমেন চন্দ ব্যবহৃত ছদ্মনাম- ইন্দ্রকুমার সোম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৭৬.
'সারেং বউ' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বউ। এ উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তার স্ত্রী নবিতুন। এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে। এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৭৭.
ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা কোনটি? 
  1. কোন এক মাকে
  2. অমর একুশে
  3. কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
  4. মাগো ওরা বলে
ব্যাখ্যা

• কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি: 
- 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' একুশের প্রথম কবিতা।
- কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতে একটি ১৭ পৃষ্ঠার পুস্তিকায় কবিতাটি ছাপা হয়।
- বইটির দাম রাখা হয় দুই আনা।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান। 

অন্যদিকে,
- মাগো ওরা বলে কবিতাটি এটি একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে উপজীব্য করে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত।
- এ কবিতায় কবি দেখিয়েছেন, মায়ের ছেলেরা কী করে মাতৃভাষার মানরক্ষা করতে গিয়ে বুক পেতে দেয়। আর ফিরে আসে লাশ হয়ে।
- অমর একুশে কবিতাটি এটি একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে উপজীব্য করে হাসান হাফিজুর রহমান রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩৭৮.
চলিতভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. বউ ঠাকুরানীর হাট
  2. ঘরে-বাইরে
  3. গোরা 
  4. দুইবোন 
ব্যাখ্যা

• 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- 'ঘরে-বাইরে' (১৯১৬) চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস।
- উপন্যাসটি 'সবুজপত্রে' প্রকাশিত হয় ১৯১৫ সালে।
- স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত এই উপন্যাসে একদিকে আছে জাতিপ্রেম ও সংকীর্ণ স্বাদেশিকতার সমালোচনা অন্যদিকে আছে সমাজ ও প্রথা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নারী-পুরুষের সম্পর্ক, বিশেষত পরস্পরের আকর্ষণ-বিকর্ষণের বিশ্লেষণ।
- স্বামী নিখিলেশের প্রতি অনুরাগ সত্ত্বেও এই কাহিনির নায়িকা বিমলা অন্যপুরুষ বিপ্লবী সন্দীপের দ্বারা তীব্রভাবে আকর্ষিত।
- একদিকে বাইরে জাতীয় আন্দোলনের উত্তেজনা অন্যদিকে তিনটি মানুষের জীবনে টানাপোড়েন-রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জীবনের দ্বন্দ্ব এই দুই মিলে উপন্যাস।
- 'ঘরে-বাইরে'র সঙ্গে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমার্ক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক; আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাহিনি সকরুণ, সিরিয়াস।
- এর উপসংহার ট্র্যাজিক ও অধিকতর শিল্পসম্মত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭,৩৭৯.
‘A search for identity’- বইটি কার লেখা?
  1. ক) কবির চৌধুরী
  2. খ) মেজর আব্দুল জলিল
  3. গ) মেজর রফিকুল ইসলাম
  4. ঘ) সিরাজুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

'A Search for identity' বইটির লেখক মেজর আব্দুল জলিল।
'প্রতিরোধের প্রথম প্রহর', 'লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে', ‘শেখ মুজিব ও স্বাধীনতা সংগ্রাম’ মেজর রফিকুল ইসলাম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
উৎসঃ পত্রিকা, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৩৮০.
কৃষেকদের দুঃখ দুর্দশা ও মুক্তির পথ নির্দেশ করে আবুল হুসেন রচিত গ্রন্থ-
  1. ক) অনুমান
  2. খ) মুসলীম কালচার
  3. গ) বাংলার বলশী
  4. ঘ) নব বসন্ত
ব্যাখ্যা
⇒ আবুল হুসেন:
• আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
• আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।

• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

বাংলার বলশী গ্রন্থে তিনি কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা চিহ্নিত করে তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন। মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
• রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা' নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
• ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন ।
• তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৮১.
'জায়জঙ্গল' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুদ্দিন আবুল কালাম
  2. খ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. গ) সিকান্দার আবু জাফর
  4. ঘ) শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
'জায়জঙ্গল' উপন্যাসের রচয়িতা- শামসুদ্দিন আবুল কালাম। তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- দুই মহল, আলমনগরের উপকথা, কাঞ্চনমালা, কাশবনের কন্যা, জায়জঙ্গল, সমুদ্রবাসর, নবান্ন ও কাঞ্চনগ্রাম ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৩৮২.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় কে?
  1. ক) রামরাম বসু
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) তারিণীচরণ মিত্র
  4. ঘ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

- ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নবনিযুক্ত ইউরোপীয় আমলাদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি সাধনই ছিল এ কেন্দ্রের উদ্দেশ্য।
- কলেজের বাঙালি শিক্ষকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত ছিলেন রামরাম বসু, তারিণীচরণ মিত্র ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার। এ সকল পন্ডিতের সাহায্যে কলেজের অধ্যাপকগণ বাংলা ভাষার মান উন্নয়ন ও বাংলা গদ্য রীতির প্রবর্তনের কাজে সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করেন।

অর্থাৎ, সঠিক উত্তর হবে রামরাম বসু।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৮৩.
‘ওরা কয়েকজন’ আবুল হাসানের রচিত -
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) কাব্যনাট্য
  3. গ) ছোট গল্প
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - ‘রাজা যায় রাজা আসে’, ‘যে তুমি হরণ করো’, ‘পৃথক পালঙ্ক’।
তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য - ‘ওরা কয়েকজন’।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৮৪.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য হিসেবে অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা?
  1. ক) আগুনের পরশমণি
  2. খ) ১৯৭১
  3. গ) স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
  4. ঘ) অনিল বাগচীর একদিন
ব্যাখ্যা

দুইভাবে আলাদা করা যেতে পারে।
১)  'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' মমতাজ উদ্দিন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক এবং বাকিগুলো উপন্যাস।
২) গ অপশনটি ছাড়া বাকী তিনটির (উপন্যাস) রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস -
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩৮৫.
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি হওয়ার প্রধান কারণ কী?
  1. তাঁর কবিতা বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করেছে
  2. তাঁর মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাব
  3. তাঁর দেশপ্রেম ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ মনোভাব
  4. তিনিই প্রথম বাঙালি যিনি ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন
ব্যাখ্যা

অপশনে উল্লিখিত সবগুলো তথ্যই ঠিক এবং কাজী নজরুল ইসলামের জন্য প্রযোজ্য।
- কিন্তু কাজী নজরুল ইসলাম অপরাপর কবি থেকে একটা জায়গায় আলাদা হয়ে যান, আর সেটি হলো অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী চেতনায়
- তাঁর মতো আর কেউ এত বেশি অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী ছিলেন না।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সত্যটা বুঝতে পেরেছিলেন এবং তিনি দেখেছেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনার সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা সবচেয়ে বেশি মিলে যায়। তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত বা জসীম উদ্দীনকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি করা হয়নি, করা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামকে।
- "এক হাজার বছরের বাংলা সাহিত্যে তাঁর মত অসাম্প্রদায়িক কবি আর দেখা যায়নি। তাঁর পরিচয় ছিল মানুষ হিসাবে" - অধ্যাপক শিবনারায়ণ রায়।
- "সাম্প্রদায়িকতার দিনে, যুদ্ধের দিনে, দ্বিজাতি তত্ত্বের দিনে তিনি যেভাবে বাংলার জয়গান করে গেছেন এর কোন তুলনা বাংলা সাহিত্যে বিরল।" - অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
উৎস : বিবিসি বাংলা রিপোর্ট, নজরুল গবেষণা কেন্দ্রিক বই।

৭,৩৮৬.
মহাকবি কায়কোবাদ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কুসুমকানন
  2. খ) অশ্রুমালা
  3. গ) বিরহ-বিলাপ
  4. ঘ) মহাশশ্মান
ব্যাখ্যা
• মহাকবি কায়কোবাদ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - বিরহ-বিলাপ।
- মাত্র তের বছর বয়সে,১৮৭০ সালে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- এই কাব্য রচনার মাধ্যমেই কায়কোবাদের কবিত্ব শক্তির বিকাশ ঘটে।
- এই কাব্যগ্রন্থটি আজ দুষ্প্রাপ্য। 

কবির রচিত আর কিছু কাব্যগ্রন্থ - 
- অশ্রুমালা (বিখ্যাত খন্ড কবিতা গ্রন্থ)
- মহাশশ্মান (শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ) 
- কুসুমকানন
- অমিয়ধারা
- শিবমন্দির 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৮৭.
'আনন্দমঠ' উপন্যাসের বিষয়বস্তু কী?
  1. ধর্মীয় পুরোহিতদের সুখ দুঃখ
  2. ধর্মীয় সংস্কার
  3. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
  4. তৎকালীন ভারতীয় হিন্দু সমাজের চিত্র
ব্যাখ্যা

'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'আনন্দমঠ' উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ভূমিকা।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে। উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩৮৮.
'রক্তরাগ' কাব্যটি রচনা করেন কে?
  1. ফররুখ আহমেদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কায়কোবাদ
  4. আসকার ইবনে শাইখ
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা কবি ও লেখক।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

• তাঁর কাব্য:  
- রক্তরাগ,  
- খোশরোজ, 
- কাব্য-কাহিনী, 
- সাহারা,  
- হাসনেহেনা, 
- বুলবুলিস্তান,  
- তারানা-ই-পাকিস্তান, 
- বনিআদম,  
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি ।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে  রয়েছে:
- বিশ্বনবী (১৯৪২),
- ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬),
- ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭),
- আমার চিন্তাধারা (১৯৫২),
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি।

- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
- গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৭,৩৮৯.
কত শতকে নেপালে প্রথম বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়?
  1. ক) সতের শতকে
  2. খ) বিশ শতকে
  3. গ) আঠারো শতকে
  4. ঘ) ষোল শতকে
ব্যাখ্যা
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরিসন লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় বেঙ্গল থিয়েটার নামে একটি রঙ্গলালয় স্থাপন করেন।
- তিনি The Disguise এবং Love is the best Doctor নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৩৯০.
'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' নামে সাহিত্য রচনা করেছেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।
• অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল, ব্রজবিলাস, বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা, রত্ন পরীক্ষা। এই পাঁচটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেনামি রচনা।

• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' নামে প্রথম রচনা 'অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)।
• উক্ত বেনামিতে দ্বিতীয় রচনা 'আবার অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)। এই বই দুটি বহুবিবাহ বিষয়ে তারানাথ তর্কবাচস্পতির লিখিত বক্তব্যের প্রতিবাদে লেখা, বিতর্কমূলক উত্তর-প্রত্যুত্তর।

• তৃতীয় রচনা ‘ব্রজবিলাস’ (নভেম্বর, ১৮৮৪) - ''কবিকুলতিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য'' ছদ্মনামে রচিত। বিধবাবিবাহের বিরুদ্ধে ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের রচনার প্রত্যুত্তরে লিখেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
 
• চতুর্থ রচনা ‘কস্যচিৎ তত্ত্বণ্বেষিণ’ ছদ্মনামে রচিত ‘বিধবা বিবাহ ও যশোহর হিন্দুধর্ম রক্ষণী সভা’।

• পঞ্চম রচনা ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য’ ছদ্মনামে রচিত- রত্নপরীক্ষা।
-------------------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতালপঞ্চবিংশতি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৯১.
আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. মানচিত্র
  2. শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন
  3. কর্ণফুলী
  4. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
ব্যাখ্যা
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৯২.
'মানচিত্র' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
মানচিত্র, লেলিহান পান্ডুলিপি, ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, সূর্য জ্বালার স্বপন, নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ, সাজঘর ইত্যাদি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৭,৩৯৩.
সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা ও জমিদারের দ্বন্দ্ব কোন উপন্যাসের মূল ঘটনা?
  1. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  2. জমিদার দর্পণ 
  3. নীল দংশন 
  4. নীলদর্পণ 
ব্যাখ্যা

'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' আত্মজৈবনিক উপন্যাস:
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। গাজী মিয়াঁর বস্তানীতে উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

• এটি উপন্যাস জাতীয় রস-রচনা। কর্মজীবননির্ভর আত্মজীবনীমূলক এই রচনায় ব্যঙ্গরসের উপস্থাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

• এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়। গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম ‘উদাসীন পথিক’ মুদ্রিত হয়েছে।

• এ গ্রন্থে অনেক চরিত্রের সমাবেশ-ঘটেছে, তবে কোনো একটি মূল ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনি ও চরিত্র আবর্তিত বা বিবর্তিত হয়নি। মূলত লেখক ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সমাজের অন্যায়-অবিচার, অনাচার-দুর্নীতি, সমাজের মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ও বর্বরোচিত আচরণ চিত্রিত করেছেন।

সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা ও জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা। উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন- অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি। ভেড়াকান্ত চরিত্রে লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়। 

• গাজী মিয়াঁর বস্তানীর বিষয় ও অঙ্গসজ্জা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় লিখেছেন- "গাজী মিয়ার বস্তানী একখানি বিচিত্র সমাজচিত্র, সুশোভিত, সুলিখিত উপন্যাস।"

---------------------
• 'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- লেখক মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক 'জমিদার দর্পণ'।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা।
- 'জমিদার দর্পণ' উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত এঁ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম। 

“নীল দংশন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে ।

'নীলদর্পণ':
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়। তাই এটিকে বাংলাদেশের নাটক বলা হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'গাজী মিয়ার বস্তানী' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৯৪.

'সুখের লাগিয়া এঘর বাঁধিনু
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল'
—পদটি কে রচনা করেছেন?

  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. বিদ্যাপতি
  3. জ্ঞানদাস
  4. চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি৷
জ্ঞানদাসের পদরচনার মূল বিষয় প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা।
প্রণয়ের পূর্বরাগ তার রচনায় চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
জ্ঞানদাসের একটি বিখ্যাত পদের কিছু
অংশ:
'সুখের লাগিয়া এঘর বাঁধিনু
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল'।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭,৩৯৫.
"ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা"- গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) সমরেশ বসু
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• "ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা"- গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
- তাঁর রচিত ঐতিহাসিক 'সাজাহান' নাটকে এই গানটি পাওয়া যায়।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- বাংলা সাহিত্যে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার ও গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।  
- তিনি কিশোর কাল থেকে কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৯০৫ সালে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অসামান্য অবদান ছিল। 

• দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান:
- ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’।
- ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি।

 • তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে।
- বঙ্গনারী।

নকশা-প্রহসন:
- একঘরে।
- পুনর্জন্ম।
- ত্র্যহস্পর্শ।
- প্রায়শ্চিত্ত।
- আনন্দ বিদায়।

• তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ:
- আর্য্যগাথা।
- মন্দ্র।
- আলেখ্য।
- ত্রিবেণী ইত্যাদি। 

• ঐতিহাসিক নাটক:
- রানা প্রতাপসিংহ।
- মেবার-পতন।
- নূরজাহান।
- সাজাহান।
- চন্দ্রগুপ্ত।
- সিংহল বিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৯৬.
"পুতুলের বিয়ে" - নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সুকুমার রায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

• "পুতুলের বিয়ে" নাটকটি রচনা করেন - কাজী নজরুল ইসলাম
- নাটকটি 'ঝিলিমিলি' নাট্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কমলি, টুলি, পঞ্চি, গেদি, বেগম, ঠাকুরমা, কমলির দাদামণি ও পুরুত ঠাকুর—এই কয়েকটি চরিত্রের মধ্য দিয়ে ঘুরেফিরে নাটকের সংলাপ।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৯৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. ভানুমতি ঠাকুর
  2. দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
  3. শ্রীমতি কনিষ্ঠা
  4. নবীনকিশোর শর্মণঃ
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয়- ভানুমতি ঠাকুর। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- যষ্ষ্ঠীচরণ দেবশর্মা,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা,
- শ্রীমতি মধ্যমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৭,৩৯৮.
ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, আধ-মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা। - পক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'বলাকা' কাব্যগ্রন্থের 'ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা' কবিতার অন্তর্গত।  
- বলাকা কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ।
- এটি রবীন্দ্রনাথের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর---বলাকা

ওরে  নবীন, ওরে আমার কাঁচা,
     ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,
     আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।
রক্ত আলোর মদে মাতাল ভোরে
আজকে যে যা বলে বলুক তোরে,
সকল তর্ক হেলায় তুচ্ছ ক'রে
     পুচ্ছটি তোর উচ্চে তুলে নাচা।
     আয় দুরন্ত, আয় রে আমার কাঁচা। (সংক্ষিপ্ত) 

উৎস: বলাকা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৭,৩৯৯.
'মহাকবি আলাওল' নাটকটি রচনা করেছেন কে?
  1. ক) সিকান্‌দার আবু জাফর
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
- 'মহাকবি আলাওল' নাটকটি রচনা করেছেন- সিকান্‌দার আবু জাফর।  


সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ১৯১৯ সালের ১৯শে মার্চ তৎকালীন তেঁতুলিয়া গ্রাম, খুলনায় বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন। 
- তিনি দৈনিক 'ইত্তেফাক' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক, দৈনিক 'মিল্লাত' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 
- 'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই' এই বিখ্যাত গানটি তিনি রচনা করেন। 
- তিনি ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কবিতা
- প্রসন্ন প্রহর
- বৈরীবৃষ্টিতে
- তিমিরান্তক 
- কবিতা 
- বৃশ্চিকলগ্ন ইত্যাদি।
নাটক:
- শকুন্ত উপাখ্যান 
- সিরাজ-উ-দ্দৌলা
- মহাকবি আলাওল ইত্যাদি। 
উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু
- জয়ের পথে 
- পূরবী 
- নবী কাহিনী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪০০.
‘যাত্রা’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. রশীদ হায়দার
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• ‘যাত্রা’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা শওকত আলী।

• যাত্রা:
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই 'যাত্রা'।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা 'যাত্রা' উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কালের ঘটনার শিল্পরূপ।
- 'যাত্রা' উপন্যাস মূলত যুদ্ধে আক্রান্ত নগরবাসীর আত্মরক্ষার্থে পলায়ন এবং আশ্রয়ের শেষ গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তারা প্রতিরোধের চেতনায় উজ্জীবিত।

• শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'নিষিদ্ধ লোবান’ সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'অন্ধ কথামালা' রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'ফেরারী সূর্য' রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. 'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাস, শওকত আলী।