বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৬৮ / ১৭৪ · ৬,৭০১৬,৮০০ / ১৭,৪৩৭

৬,৭০১.
বাংলা ভাষায় প্রথম মৌলিক নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
- নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম - কীর্তিবিলাস
- কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।

১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি
- এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৬,৭০২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন কাকে?
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা সাহিত্যে গীতি কবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন।
- এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম।
- এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭০৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'উর্বশী' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত? 
  1. বলাকা
  2. সোনার তরী
  3. মানসী
  4. চিত্রা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'উর্বশী' কবিতাটি 'চিত্রা' কাব্যের অন্তর্গত।

'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত বিখ্যাত কবিতাসমূহ:
- উর্বশী, 
- বিজয়িনী, 
- জীবনদেবতা, 
- স্বর্গ হইতে বিদায়, 
- ১৪০০ সাল, 
- দুই বিঘা জমি, 
- এবার ফিরাও মোরে ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭০৪.
মহাকাব্যের কবি নন কে?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. কায়কোবাদ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• মহাকাব্যের কবি নন- বিহারীলাল চক্রবর্তী। 

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।

অন্যদিকে, 
• 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্য: 'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
• 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য (১৯০৪)। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
• মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ'র ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। ১৮৫৭ সালের সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭০৫.
প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী ছিলো? 
  1. লেখরাজ সামন্ত
  2. মৈনাক
  3. বীরবল
  4. নবকুমার
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - বীরবল।

অন্যদিকে,
​প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত, কৃত্তিবাস ভদ্র।
​শামসুর রাহমান ব্যবহৃত ছদ্মনাম- মৈনাক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭০৬.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বড়দিদি
  2. দেবদাস
  3. শ্রীকান্ত
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা
• 'বড়দিদি' উপন্যাস:
- 'বড়দিদি' (১৯১৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি ‘ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র : সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, মাধবী, প্রমীলা। বড়দিদি ‘মাধবী'র নাম।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩) লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- শ্রীকান্ত,
- বড়দিদি,
- পল্লীসমাজ,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬,৭০৭.
'চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  2. বিষ্ণু দে
  3. রফিক আজাদ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া:
- 'চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া' কবিতাটি কবি রফিক আজাদের 'চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া' কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।
- এটি একটি প্রতীকী গদ্য কবিতা।
- 'চুনিয়া' নামের একটি গ্রামের প্রতীকের মধ্য দিয়ে কবি মানুষকে সুন্দরভাবে বাঁচার আহ্বান জানাচ্ছেন।
- কবির কথায়, চুনিয়া একটি ছোট্ট আদিবাসী গ্রাম।
- শহর থেকে অনেক দূরে এর অবস্থান। মনোরম সবুজ প্রকৃতির পটভূমিতে স্থাপিত বলে চুনিয়া কখনো হিংস্রতা দেখেনি।
- রক্তপাত দেখেনি। চুনিয়া শুধু জানে মানুষকে ভালোবাসতে। মা
- নবসমাজে আজ যে হিংসা হানাহানি রক্তপাত দেখা যায়, চুনিয়াতে এসব নেই। সবাই এখানে তাই সুখে থাকে।
- কবি মনে করেন, প্রতিটি মানুষই আসলে এরকম।
- সভ্যসমাজের অনেকেই এই ধরনের স্নিগ্ধ সুন্দর গ্রামকে অথবা গ্রামের মতো পরিবেশকে বুকের মধ্যে লালন করে থাকেন।
- চুনিয়া বিশ্বাস করে, মানুষ মারণাস্ত্র ফেলে, হিংসা-দ্বেষ ভুলে পরস্পর সৎ প্রতিবেশী হবে।
- কেননা মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোই হচ্ছে মানবসভ্যতার মূল কথা।

• রফিক আজাদ:
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।

• তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৬,৭০৮.
মীর মোশাররফ হোসেন লিখিত নিচের রচনাগুলোর মধ্যে কোনটি নাটক?
  1. রত্নাবতী
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. জমিদার দর্পণ
  4. বিষাদ সিন্ধু
ব্যাখ্যা

• 'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- লেখক মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক 'জমিদার দর্পণ'।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা।
- 'জমিদার দর্পণ' উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

-----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেন মুসলিমদের মধ্যে প্রথম গদ্যগ্রন্থ রচয়িতার মর্যাদা লাভ করেন। তাঁর রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ/উপন্যাস 'রত্নাবতী'।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

- আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭০৯.
নিচের কোনটি প্রেমেন্দ্র মিত্রের কাব্য?
  1. সম্রাট
  2. কুয়াশা
  3. মিছিল
  4. গোপনচারিণী
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি একাধারে  কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য গুলো:
- প্রথমা, 
- সম্রাট, 
- সাগর থেকে ফেরা,
- ফেরারী ফৌজ,
- হরিণ চিতা চিল,
- কখনো মেঘ,
- অথবা কিন্নর, 
- নদীর নিকটে ইত্যাদি। 

গল্পগ্রন্থ:

- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭১০.
'রাজলক্ষ্মী' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পল্লী সমাজ
  2. শ্রীকান্ত
  3. শেষের পরিচয়
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস শ্রীকান্ত 
- এর চরিত্রঃ
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- ইন্দ্রনাথ, 
- অভয়া

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
• চরিত্রহীন,
• গৃহদাহ
• পরিণীতা,
• বিরাজবৌ,
• পণ্ডিতমশাই,
• পল্লীসমাজ,
• দেবদাস,
• দত্তা,
• বড়দিদি,
• চরিত্রহীন,
• গৃহদাহ,
• বামুনের মেয়ে,
• শেষ প্রশ্ন,
• দেনাপাওনা,
• পথের দাবী,
• বিপ্রদাস ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,৭১১.
‘প্রগতি’ মাসিকপত্রটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ঢাকা থেকে
  2. খ) কুষ্টিয়া থেকে
  3. গ) কলকাতা থেকে
  4. ঘ) রংপুর থেকে
ব্যাখ্যা
- 'প্রগতি' ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- মাসিকপত্র ‘প্রগতি’ র  সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, ‘প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ।

তথ্যসূত্র:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭১২.
বিষ্ণু দে রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. উর্বশী ও আর্টেমিস
  2. তন্বী
  3. অর্কেস্ট্রা
  4. বালুচর
ব্যাখ্যা
• উর্বশী ও আর্টেমিস:
- এটি বিষ্ণু দে রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোমান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে।
• গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- তন্বী  ও অর্কেস্ট্রা সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বালুচর' জসীমউদ্দীন রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

• বিষ্ণু দে:

- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৭১৩.
"কাব্যচর্চা না করলে মানুষে জীবনের একটা বড়ো আনন্দ থেকে স্বেচ্ছায় বঞ্চিত হয়।" - উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• "কাব্যচর্চা না করলে মানুষে জীবনের একটা বড়ো আনন্দ থেকে স্বেচ্ছায় বঞ্চিত হয়।" - বিখ্যাত উক্তিটি বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরীর। 
- তিনি তাঁর 'বই পড়া' প্রবন্ধে আলোচ্য উক্তিটি করেন।
------------
প্রমথ চোধুরী:
• বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
• বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলো প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭১৪.
'হে অরণ্য কথা কও' - কার রচিত গ্রন্থ?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, (১৮৯৪-১৯৫০):
- কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ওই জেলারই ব্যারাকপুর গ্রামে। 
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- ভাগলপুরে চাকরি করার সময় ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি  পথের পাঁচালী রচনা শুরু করেন এবং শেষ করেন ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে।

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- অপরাজিত (১৯৩১),
- মেঘমল্লার  (১৯৩১),
- মৌরীফুল (১৯৩২),
- যাত্রাবদল (১৯৩৪),
- চাঁদের পাহাড় (১৯৩৭),
- কিন্নরদল (১৯৩৮),
- আরণ্যক (১৯৩৯),
- আদর্শ হিন্দু হোটেল (১৯৪০),
- মরণের ডঙ্কা বাজে (১৯৪০),
- স্মৃতির রেখা (১৯৪১),
- দেবযান (১৯৪৪),
- হীরামানিক জ্বলে (১৯৪৬),
- উৎকর্ণ (১৯৪৬),
- হে অরণ্য কথা কও (১৯৪৮),
- ইছামতী (১৯৫০),
- অশনি সংকেত (১৯৫৯) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

----------------
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের পরিপূরক কথাশিল্প হিসেবে রচনা করেন তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'অপরাজিত'।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক 'প্রবাসী'তে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- পুস্তকাকারে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)। 
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হইয়েছিল 'আলোক সারথী'
৬,৭১৫.
সরদার জয়েনউদ্দীন রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. অনেক সূর্যের আশা
  2. আদিগন্ত
  3. নয়ন ঢুলি
  4. বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ
ব্যাখ্যা
• সরদার জয়েনউদ্দীন:
- সরদার জয়েনউদ্দীন মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন। ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম।
- প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্দীন বিশ্বাস।
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ 'নয়ন ঢুলি' প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে এবং এর মাধ্যমেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- সরদার জয়েনউদ্দীনের রচনায় গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তিচিন্তার পাশাপাশি সমকালীন সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক ঘটনাবলিও প্রাধান্য পেয়েছে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) এবং কথাসাহিত্যে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- নীল রং রক্ত,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'অনেক সূর্যের আশা' উপন্যাস ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭১৬.
“বাংলাদেশের ইতিহাস” গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) রমেশচন্দ্র মজুমদার
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) মুহম্মদ আব্দুল হাই
  4. ঘ) ড. নিলীমা ইব্রাহিম
৬,৭১৭.
কত সালে 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮২১ সালে
  2. ১৮৪৩ সালে
  3. ১৮৭২ সালে
  4. ১৯৩২ সালে
ব্যাখ্যা

'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৭১৮.
'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. গোবিন্দলাল
  2. রোহিণী
  3. ভ্রমর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে -বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়। প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭১৯.
'বিসর্জন' নাটকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে কোন চরিত্রে অভিনয় করেছেন?
  1. রঘুসিংহ
  2. রঘুপতি
  3. গোবিন্দমাণিক্য
  4. প্রতাপাদিত্য
ব্যাখ্যা

'বিসর্জন' নাটক:
- ১৮৯০ সালে বিসর্জন নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম।
- এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন।
- ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র গুলো হলো:
- রঘুপতি,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য,
- অপর্ণা,
- জয়সিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭২০.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন কোন কাব্যগ্রন্থটি?
  1. ক) দোলনচাঁপা
  2. খ) অগ্নিবীণা
  3. গ) সঞ্চিতা
  4. ঘ) বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সংকলন- ‘সঞ্চিতা'।
এতে ৭৮টি কবিতা ও গান সংকলিত হয়েছে।
সংকলনটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন।

উল্লেখ্য
‘সঞ্চয়িতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা সংকলন।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭২১.
'কালকেতু ও ফুল্লরা' কার রচিত উপন্যাস?
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের জন্ম রাজশাহী শহরে এবং তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।

তাঁর রচিত উপন্যাস-
- জলোচ্ছ্বাস (প্রথম উপন্যাস),
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,৭২২.
বাংলা মুদ্রাক্ষরের জনক বলা হয় কাকে?
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. রজনীকান্ত
  3. ফোর্ট উইলিয়াম
  4. চালর্স উইলকিন্স
ব্যাখ্যা
- ১৪৯৮ সালে গোয়ায় উপমহাদেশের প্রথম ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয় ।
- ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে চার্লস উইলকিন্স হুগলিতে প্রথম বাংলা ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন ।
- তিনি নিজেই বাংলা অক্ষরের নকশা তৈরি করেন ।
- এজন্য চার্লস উইলকিন্সকে বাংলা মুদ্রাক্ষরের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৬,৭২৩.
'পদ্মরাগ' উপন্যাস কে  রচনা করেছেন? 
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  2. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
  3. শওকত ওসমান 
  4. বুদ্ধদেব বসু 
ব্যাখ্যা
পদ্মরাগ (উপন্যাস)
- বেগম রোকেয়া সাখওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস।
- প্রথমত কোনো মুসলিম রচিত উপন্যাস। 
-  দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না;
- তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।

• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

• রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

 এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৬,৭২৪.
'দণ্ডকারণ্য' গ্রন্থের নাটক নয় কোনটি?
  1. দণ্ড
  2. দণ্ডবিধি
  3. দণ্ডধর
  4. দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা
• দণ্ডকারণ্য:
- দণ্ডকারণ্য মুনীর চৌধুরী রচিত বিখ্যাত নাট্যগ্রন্থ।
- 'দণ্ডকারণ্য' গ্রন্থের নাটক মোট তিনটি।
- দণ্ড,
- দণ্ডধর,
- দণ্ডকারণ্য।

• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।দ
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর দোসর দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭২৫.
'সনেট পঞ্চাশৎ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বিষ্ণু দে
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'সনেট পঞ্চাশৎ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

⇒ প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি  'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭২৬.
কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ছায়ানট
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
 
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি, 
- ভাঙার গান, 
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- সর্বহারা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা, 
- জিঞ্জিরা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- গীতাঞ্জলি হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ।
- 'মেঘনাদবধ কাব্য' মধুসূদনের কাব্যগ্রন্থ।
- 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' কবি জসীম উদদীনের কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৭২৭.
‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধ:
- 'সংস্কৃতি কথা' (১৯৫৮) মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি তাঁর ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের উক্তি- ‘লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।’
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক শিক্ষার ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক সুফল প্রত্যাশা করেছেন।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭২৮.
'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।'- বিখ্যাত উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শ্রীকান্ত
  2. পথের দাবী
  3. গৃহদাহ
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: শ্রীকান্ত, রাজলক্ষ্মী, অন্নদাদিদি, অভয়া, রোহিণী, কমললতা প্রমুখ।

এ উপন্যাসের বিখ্যাত কিছু উক্তি-
- 'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।'
- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না- ইহা দূরেও ঠেলিয়া ফেলে।',
- 'মড়ার আবার জাত কি?'

------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া ও শ্রীকান্ত (লিংক)।

৬,৭২৯.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত ‘হিতোপদেশ’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. রামরাম বসু
  3. রামকিশোর তর্কালঙ্কার
  4. তারিণীচরণ মিত্র
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক -
- তারিণীচরণ মিত্র লিখেছিলেন এশপের কাহিনী (১৮০৩),
- চণ্ডীচরণ মুনশী লিখেছিলেন তোতা ইতিহাস (১৮০৫),
- রাজীবলোচণ লিখেছিলেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫),
- রামকিশোর তর্কালঙ্কার লিখেছিলেন হিতোপদেশ (১৮০৮)

- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রথম প্রকাশিত গদ্য - প্রতাপাদিত্যচরিত্র; লেখক - রামরাম বসু।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে যার লেখা সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয় তিনি - মৃত্যঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
তার রচিত গ্রন্থগুলো হলো -
- বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধচন্দ্রিকা, বেদান্তচন্দ্রিকা।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৬,৭৩০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্ব
  3. গ) শব্দতত্ত্ব
  4. ঘ) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
•  শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথ রচিত গ্রন্থ হলো- 'শব্দতত্ত্ব' 
- গ্রন্থটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়
- এছাড়া তিনি বাংলা ব্যাকরণ থেকে সম্প্রদান কারক কে বাদ দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি-হুমায়ুন আজাদ, এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৩১.
‘লালসালু’ উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৩
  2. ১৯৫৫
  3. ১৯৪৮
  4. ১৯৫২
ব্যাখ্যা

'লালসালু' উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
----------------------------------------
লালসালু':
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি  শ্রেষ্ঠ সামাজিক উপন্যাস যা ১৯৪৮ সালে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটি সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও অন্ধআচারের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- যেখানে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এই উপন্যাসের মূল ভাবনা হলো - ধর্মীয় ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে কিভাবে ঠকানো হয়;
- এবং সেই সুযোগে কিভাবে ছদ্মধর্ম প্রচারের মাধ্যমে মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত লাভ অর্জন করা যায়।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদ একজন ছদ্মধর্মপ্রচারক, যে এসব কুসংস্কারকে হাতিয়ার করে নিজের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি কিভাবে গড়ে  তোলে তাই এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে।
-------------------------------------------
সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ:
 - সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত ছোট গল্প:
• নয়নচারা;
• একটি তুলসি গাছের কাহিনী।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
• চাঁদের অমাবস্যা;
• কাঁদো নদী কাঁদো;
• লালসালু।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত নাটক:
• বহিপীর;
• তরঙ্গভঙ্গ;
• সুরঙ্গ;
• উজানে মৃত্যু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৩২.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুমিল্লা
  2. বরিশাল
  3. রংপুর
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana's Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে। এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

রোকেয়ার উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
• মতিচুর (প্রবন্ধ),
• Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
• পদ্মরাগ (উপন্যাস),
• চাষার দুক্ষু (প্রবন্ধ),
• অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।

এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৩৩.
"জগৎসিংহ" কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. পদ্মাবতী
  4. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা

"কৃষ্ণকুমারী" নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো : কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম- সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৩৪.
তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে। ----অর্থ কী?
  1. ক) ঠোঁটের পরশে পান লাল হল
  2. খ) পানের পরশে ঠোঁট লাল হল
  3. গ) অস্তাচলগামী সূর্যের আভায় মুখ রক্তিম দেখা গেল
  4. ঘ) অস্তাচলগামী সূর্য ও মুখ একই রকম লাল হয়ে গেল
ব্যাখ্যা

তাম্বুল মানে পান, রাতুল মানে লাল, অধর মানে ঠোঁট।
সুতরাং, তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে অর্থ দাঁড়ায় ঠোঁটের পরশে পান লাল হল।
পংক্তিটি আলাওল রচিত “পদ্মাবতী” কাব্য থেকে নেওয়া। পদ্মাবতীর রূপের বর্ণনা দেওয়ার সময় উল্লেখিত পক্তি ব্যক্ত হয়েছিলো।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা একাডেমি অভিধান।

৬,৭৩৫.
‘ঐকতান’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ক) জন্মদিনে
  2. খ) সোনার তরী
  3. গ) ক্ষণিকা
  4. ঘ) চিত্রা
ব্যাখ্যা
‘ঐকতান’ কবিতাটি রবি ঠাকুরের ‘জন্মদিনে’ কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে। ঐকতান কবিতাটি লেখকের আত্মস্বীকারোক্তি ও আত্মপক্ষসমর্থন মূলক কবিতা। লেখকের মৃত্যুর ৪ মাস আগে কবিতাটি রচনা করেন। রেফারেন্সঃ বাংলা প্রথম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই।
৬,৭৩৬.
কোনটি মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ?
  1. শব্দতত্ত্ব
  2. আধুনিক ভাষা তত্ত্ব
  3. বাংলা ধ্বনির পরিচয়
  4. ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই বাংলা ভাষার প্রধানতম ধ্বনিবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশেষণ দিয়ে রচিত তাঁর 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
- ১৯৬৯ সালের ৩ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন (ভ্রমণ কাহিনি),
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)।

অন্যদিকে, 
---------------
• শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথ রচিত গ্রন্থ হলো 'শব্দতত্ত্ব'।
• আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ রচিত গ্রন্থ "আধুনিক ভাষা তত্ত্ব"।
• ভাষাবিজ্ঞানী ও কবি পবিত্র সরকারের লেখা "বাংলা ধ্বনির পরিচয়"। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন' এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৩৭.
শওকত ওসমানের রচনা কোনটি?
  1. উত্তর পুরুষ
  2. শেষ রজনীর চাঁদ
  3. জননী
  4. চৌচির
ব্যাখ্যা
• 'জননী' শওকত ওসমান  রচিত উপন্যাস।

শওকত ওসমান:

- তিনি কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
- তাঁর সাহিত্য কর্ম:

উপন্যাস:
- জননী,
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:  
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- মনিব ও তাহার কুকুর,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী।

অন্যদিকে, 
- 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসটি রচনা করেন - রশীদ করিম।
- আবদুল গাফফার চৌধুরীর রচিত উপন্যাস- শেষ রজনীর চাঁদ।
- আবুল ফজল রচিত উপন্যাস- চৌচির।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৩৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'আর কতদিন' রচনা করেন কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. জহির রায়হান
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা
'আর কতদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি, ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে, জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে নবুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখপক মনে উদয় হয়েছিল।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৩৯.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন উপন্যাস অনিলা দেবী ছদ্মনামে লিখেছেন?
  1. পরিণীতা
  2. নারীর মূল্য
  3. বামুনের মেয়ে
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
 ‘নারীর মূল্য’:
- অনিলা দেবী মূলত  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বড় বোনের নাম।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'নারীর মূল্য' উপন্যাস অনিলা দেবী ছদ্মনামে লিখেছেন।
- 'নারীর মূল্য'  ১৯২৩ সালে 'যমুনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসটি নারীর সামাজিক অধিকার ও সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান নিবন্ধ গ্রন্থ।
- 'যমুনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি 'অপরাজেয় কথাসাহিত্যিক' হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৬ ই জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- পল্লীসমাজ,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- নিষ্কৃতি,
- দত্তা,
- বিপ্রদাস,
- অরক্ষণীয়া,
- বামুনের মেয়ে,
- নববিধান,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও নারীর মূল্য- নিবন্ধ গ্রন্থ।
৬,৭৪০.
নিচের কোন কবিতাটি ‘দোলনচাঁপা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা নয়?
  1. ক) বেলাশেষে
  2. খ) অবেলার ডাক
  3. গ) মানুষ
  4. ঘ) আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
ব্যাখ্যা

- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থের প্রথম কবিতা আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি ২১টি কবিতার সংকলন।
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম - প্রধান কবিতার বই। 
-এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো ;
-বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক 
- পূজারিণী 
- কবি-রানী 
- অবেলার ডাক 

অন্যদিকে, ‘মানুষ’ কবিতাটি কবির ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তরররগত।[উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]

৬,৭৪১.
কোনটি আবুল ফজলের উপন্যাস?
  1. ক) মাটির পৃথিবী
  2. খ) রেখাচিত্র
  3. গ) রাঙ্গা প্রভাত
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• আবুল ফজল রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ এবং
- রাঙ্গা প্রভাত প্রভৃতি।

• তিনি শিখা পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার সম্পাদনা করেন।
• রেখাচিত্র তাঁর রচিত দিনলিপি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৭৪২.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান - সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. বাঙ্গাল গেজেট
  2. গভর্নমেন্ট গেজেট
  3. ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
  4. সমাচার চন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।
- তিনি ১৮৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৪৩.
ধূসরতার কবি জীবনানন্দ দাশ জন্মগ্রহণ করেন -
  1. বগুড়া জেলায়
  2. বরগুনা জেলায়
  3. বরিশাল জেলায়
  4. বাগেরহাট জেলায়
ব্যাখ্যা
• ধূসরতার কবি জীবনানন্দ দাশ জন্মগ্রহণ করেন - বরিশাল জেলায়

জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৪৪.
সাহিত্যিক- উপাধি নয়-
  1. ক) কাব্য-সুধাকর
  2. খ) দৌলত-উজির
  3. গ) পরশুরাম
  4. ঘ) রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

- রাজেন্দ্রশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।

অপরদিকে,
- কাব্য-সুধাকর, দৌলত উজির বাহারাম খাঁ এবং রায়গুণাকর যথাক্রমে গোলাম মোস্তফা, আসাউদ্দীন (দৌলত উজির বাহারাম খাঁ-র প্রকৃত নাম) এবং ভারতচন্দ্র’র সাহিত্যিক উপাধি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৭৪৫.
বাংলা গদ্যে প্রথম জীবনীগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. হরপ্রসাদ রায়
  4. তারিণীচরণ মিত্র
ব্যাখ্যা

রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়, (১৮শ-১৯শ শতক) ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা বিভাগের পন্ডিত ও গদ্য লেখক।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার খড়দহ গ্রামে তাঁর জন্ম। সরল ও স্বচ্ছন্দ গদ্যভঙ্গির লেখক রাজীবলোচন একমাত্র গ্রন্থ - কৃষ্ণচন্দ্ররায়স্য চরিত্রম (১৮০৫) মৌলিক গদ্যরচনা এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম জীবনীসাহিত্য হিসেবে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
- এই গ্রন্থে বর্ধমানের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের জীবনকথা ও চরিত্র-মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে, সেই সঙ্গে ইংরেজ তোষণনীতিও প্রকাশিত হয়েছে।
- উইলিয়াম কেরী তাঁকে এ গ্রন্থ রচনায় অনুপ্রাণিত করেন এবং তাঁরই সুপারিশক্রমে তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ-কাউন্সিল কর্তৃক ১০০ টাকা পারিতোষিক লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৪৬.
'কোথায় এমন হরিৎক্ষেত্র আকাশতলে মেশে'। কবি ডি এল রায় যে প্রসঙ্গে উক্তিটি করেছেন-
  1. ক) বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য
  2. খ) বাংলার সবুজ মাঠ
  3. গ) বাংলার সামাজিক জীব
  4. ঘ) বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
ব্যাখ্যা
• "এত স্নিগ্ধ নদী কাহার, কোথায় এমন ধুম্র পাহাড়
কোথায় এমন হরিৎ ক্ষেত্র আকাশ তলে মেশে
এমন ধানের উপর ঢেউ খেলে যায় বাতাস কাহার দেশে।"

• কবিতাংশটি কবি ডি,এল.রায় এর ধন ধান্য পুষ্প ভরা কবিতার অংশবিশেষ।
কবি এখানে হরিৎ ক্ষেত্র বলতে সবুজ ধানক্ষেত বুঝিয়েছেন।
হরিৎ শব্দের অর্থ সবুজ বর্ণ।
৬,৭৪৭.
জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বেদের মেয়ে
  2. মধুমালা
  3. মা যে জননী কান্দে
  4. পদ্মাপার
ব্যাখ্যা

'মা যে জননী কান্দে' কাব্য:
- কবি জসীম উদ্‌দীন 'মা যে জননী কান্দে' কাব্যটি রচনা করেছেন।
- 'মা যে জননী কান্দে' এক ধরনের গাঁথা কাব্য বা কাব্যগ্রন্থ
- অনেকে এটিকে কাহিনী কাব্য হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৪৮.
‘বাংলার জাগরণ’ গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ক) কাজী ইমদাদুল হক
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) ইব্রাহীম খাঁ
  4. ঘ) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
• কাজী আবদুল ওদুদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ধারায় কাজী আবদুল ওদুদের প্রধান পরিচয় চিন্তাশীল লেখক হিসেবে।
- তবে তাঁর লেখালেখি শুরু হয় কথাসাহিত্যের মাধ্যমে। তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ মীর পরিবার পাঁচটি গল্পের সংকলন।
- এরপর তিনি তিনটি গল্প রচনা করেন যা পরবর্তী সময়ে তরুণ (১৯৪৮) গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।
নদীবক্ষে ও আজাদ (১৯৪৮) তাঁর দু’টি উপন্যাস। নাটকও রচনা করেন দু’টি, পথ ও বিপথ (১৯৩৯) এবং মানব-বন্ধু (১৯৪১)। মানব-বন্ধু পরবর্তীকালে তরুণ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।

• কাজী আবদুল ওদুদের কয়েকটি গ্রন্থ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান। তাঁর মননশীলতা এবং বৈদগ্ধের প্রকাশ লক্ষ করা যায়
- শাশ্বত বঙ্গ (১৯৫১),
- বাংলার জাগরণ (১৩৬৩),
- কবিগুরু গ্যেটে (১ম ও ২য় খন্ড ১৩৫৩),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ (১ম খন্ড ১৩৬৯, ২য় খন্ড ১৩৭৬),
- হযরত মোহাম্মদ ও ইসলাম (১৩৭৩) গ্রন্থে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৪৯.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. ঘ) সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়'

'পথের পাঁচালী' উপন্যাস
- ‘পথের পাঁচালী ‘ উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের বর্ণনাগুণে উপন্যাসটিতে পল্লীবাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খন্ড।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হলো- অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, হরিহর, সর্বজয়া প্রমুখ। 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অপরাজিত, 
- দৃষ্টি প্রদীপ
- আরণ্যক 
- আদর্শ হিন্দু হােটেল 
- দেবযান 
- ইছামতী 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৫০.
বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. অবাক জলপান
  2. বহুরূপী
  3. আবোল তাবোল
  4. মেঘকুমারী
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক। ১৯০৬ সালে পাবনা জেলার রাধানগরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম 'ইসলাম দর্শন' পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।

শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য যে সকল পুরস্কার লাভ করেন :
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২),
- প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং
- উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী,
- মেঘকুমারী,
- ডাইনী বউ,
- কামাল আতাতুর্ক,
- রূপকথা,
- ছোটদের নজরুল,
- কুচবরণ কন্যা।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম:
- কিশোর পরাগ,
- জ্ঞানের আলো,
- শিশুবার্ষিকী।

অন্যদিকে, 
• সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য: অবাক জলপান, বহুরূপী, আবোল তাবোল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৫১.
'শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আবু হেনা মোস্তফা কামাল
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
'শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু' গ্রন্থের রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ। 

আবুল মনসুর আহমদ(১৮৯৮-১৯৭৯) ছিলেন একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।  
- রাজনীতিতেও আবুল মনসুর আহমদ এর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- ১৯৪৯ সালে আবুল মনসুর আহমদ আওয়ামী মুসলিম লীগ দল প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি যুক্তফ্রন্ট এর নির্বাচনী কর্মসূচি ২১-দফার অন্যতম প্রণেতা ছিলেন। তিনি ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মনোনয়নে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৫৪ সালে তিনি ফজলুল হক মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী নিযুক্ত হন।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে:
- আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭) ও
- ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)।
তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে
- সত্যমিথ্যা (১৯৫৩),
- জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫) ও
- আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)।
তাঁর স্মৃতিকথামূলক রচনা:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯),
- শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২) এবং

তাঁর 'আত্মচরিত' হল আত্মকথা (১৯৭৮)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৫২.
শ্রীরামপুর মিশন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. জেমস অ্যান্ড্রু ব্রাউন
ব্যাখ্যা
শ্রীরামপুর মিশন:
- শ্রীরামপুর মিশন (১৮০০-১৮৪৫) ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- ১৮০০ সালের ১০ জানুয়ারী উইলিয়াম কেরি ও ভ্রাতৃবৃন্দ এ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। 
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে।
- উইলিয়াম কেরী ‘ব্যাপটিস্ট মিশনারি সোসাইটি’র প্রতিনিধি হিসেবে ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে।

উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ,
- কথোপকথন,
- ইতিহাসমালা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৫৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্যটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. সনেট
  2. অমিত্রাক্ষর
  3. পয়ার
  4. ত্রিপদী
ব্যাখ্যা
• 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য:
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৫৪.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'চাঁদের অমাবস্যা'  উপন্যাসটির রচয়িতা- 'সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ'।

• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস: 
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

-----------------------------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৫৫.
'অলীক কুনাট্য রঙ্গে/মজে লোকে রাঢ়ে বঙ্গে/নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।' _______ উক্তিটি কার?
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. দুর্গাদাস কর
  3. হরচন্দ্র ঘোষ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক (আধুনিক) নাটক - শর্মিষ্ঠা। এটি প্রকাশিত হয় - ১৮৫৯ সালে।
- এর রচয়িতা ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- তিনি শর্মিষ্ঠা নাটকের শুরুতে সেকালের নাটকের গ্রাম্যতায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেছেন -
''অলীক কূনাট্য রঙ্গে
মজে লোকে রাঢ়ে ও বঙ্গে
নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।''
----------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্‌বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করে তিনি যোগ করেছেন নতুন মাত্রা।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কবি পরলোকগমন করেন।
 
• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
 
• তাঁর নাটক:
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী; 
 
তাঁর প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা? ও 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।
------------------
অন্যদিকে,
• রামনারায়ণ তর্করত্ন:
- বাংলা মৌলিক নাটক রচয়িতা হিসেবেই রামনারায়ণের মুখ্য পরিচয়।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বিধিবদ্ধ নাটক রচনার জন্য তিনি ‘নাটুকে রামনারায়ণ’ নামে পরিচিত ছিলেন।

দুর্গাদাস কর:
- ১৮৫৫ সালে দুর্গাদাস স্বর্ণশৃঙ্খল নাটক রচনা করেন। পরের বছর এটি বরিশালের আধুনিক মঞ্চে প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- ১৮৬৩ সালে নাটকটি ঢাকা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় এবং ওই বছর বরিশালে পুনরায় মঞ্চস্থ হয়।

হরচন্দ্র ঘোষ:
তিনিই সর্বপ্রথম প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য রীতির সংমিশ্রণে আধুনিক নাট্যরীতি প্রবর্তনের চেষ্টা করেন।
- তাঁর ভানুমতী-চিত্তবিলাস (১৮৫৩), চারুমুখ-চিত্তহরা (১৮৬৪) ও রজতগিরিনন্দিনী (১৮৭৪) নাটকত্রয় যথাক্রমে শেক্সপীয়রের মার্চেন্ট অফ ভেনিস, রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট এবং দি সিলভার হিল নাটক অবলম্বনে রচিত।

সূত্র: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৬,৭৫৬.
জসীম উদ্‌দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মা যে জননী কান্দে
  2. প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
  3. স্বাধীনতা তুমি
  4. ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
ব্যাখ্যা

• 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ:
- 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' জসীম উদ্‌দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'তুজম্বর আলি' ছদ্মনামে এই কবিতাগুলি রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে পাঠানো হয়েছিল।
- কবি  জসীম উদ্‌দীনের মেয়ে হাস্না এর মধ্যে কিছু কবিতা ইংরাজিতে অনুবাদ করে নিউইয়র্কে বিদ্বান-সমাজে বেনামিতে পাঠ করেছিলেন। রাশিয়াতেও কবিতাগুলো সমাদৃত হয়েছিল। সেখানেও কিছু কিছু লেখা রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ভারতে এই লেখাগুলো প্রকাশিত হইলে মুল্করাজ আনন্দ প্রমুখ বহু সাহিত্যিক ও কাব্যরসিকের সশ্রদ্ধ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
- বঙ্গ-বন্ধু,
- কি কহিব আর,
- মুক্তি-যোদ্ধা,
- হবে হবে জয়,
- স্বাধীনতার দিনে,
- জাগায়ে তুলিব আশা,
- Dedication,
- The last poem for you,
- Freedom Fighter,
- A Poet's Appeal,
- দিলরাশ বানুর কাহিনী,
- মুক্তিযোদ্ধা মোফাখখর হোসেন,
- শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী।

অন্যদিকে,
- শামসুর রহমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কবিতা 'স্বাধীনতা তুমি'।
- 'প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে' শামসুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ কবি জসীম উদ্‌দীন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৫৭.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসে কোন জেলার নদীর নাম উল্লেখ আছে?
  1. ঢাকা
  2. কুমিল্লা
  3. চাঁদপুর
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাস:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম'।
- তিতাস একটি নদীর নাম' (১৯৫৬) উপন্যাসে কুমিল্লার জেলার 'তিতাস' নামক নদীতীরের ধীবর (জেলে ও মৎস্যজীবী) সমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম- সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- এ উপন্যাসে তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর ( জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি- নীতি, ধর্ম- সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের কাহিনি বর্ণিত।
- ঋত্বিক ঘোটক উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ণ করেন ১৯৭৩ সালে।
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'।
- উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৫৮.
আল মাহমুদ রচিত 'সোনালী কাবিন' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যনাট্য
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- আল মাহমুদের কবি-প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছিল 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩) কাব্যগ্রন্থটি।
- পুরো কাব্যগ্রন্থটিতে বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম গ্রামীণ আবহে উঠে এসেছে।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে 'সোনালী কাবিন' নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে। বলা যেতে পারে, বীজ কাব্যগ্রন্থ।

অন্য কবিতাগুলো হলো:
- জাতিস্মর,
- পালক ভাঙার প্রতিবাদে,
- ক্যামোফ্লাজ,
- শোণিতে সৌরভ,
- তোমার আড়ালে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৫৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. নবাব ফয়জুন্নেছা
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক
- তিনি কলকাতার জোড়াসাঁকো জন্মগ্রহণ করেন। সম্পর্কে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন।
- তিনি ১৮৭২ সালে প্রকাশিত ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৬০.
"শৈশবে সদুপদেশ যাহার না রোচে,
জীবনে তাহার কভু মূর্খতা না ঘোচে।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. রজনীকান্ত সেন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. যতীন্দ্রনাথ বাগচী
ব্যাখ্যা
"শৈশবে সদুপদেশ যাহার না রোচে,
জীবনে তাহার কভু মূর্খতা না ঘোচে।
- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা রজনীকান্ত সেন। 

• কবিতাংশটুকুর মূলভাব:
- জীবনে সফলতা অর্জনের জন্যে ছোটবেলা থেকেই নৈতিক সততার শিক্ষাগ্রহণ করা উচিত।
- শৈশবে সৎকাজ করতে না শিখলে পরে আর সে অভ্যাস গড়ে ওঠে না।
------------------------
• রজনীকান্ত সেন: 
- রজনীকান্ত সেন (১৮৬৫-১৯১০) কবি, গীতিকার, সঙ্গীতশিল্পী।
- তিনি কবিতাও রচনা করতেন এবং ‘কান্তকবি’ নামে খ্যাত ছিলেন।
- তাঁর কবিতা ও গানের বিষয়বস্তু ছিল প্রধানত ভক্তি ও দেশপ্রেম।

• তাঁর রচিত গ্রন্থগুলি: 
- বাণী,
- কল্যাণী, 
- অমৃত, 
- অভয়া, 
- আনন্দময়ী, 
- বিশ্রাম, 
- সদ্ভাবকুসুম, 
- শেষদান, 
- পথচিন্তামণি এবং
- অভয় বিহার। 

এগুলির মধ্যে
- 'বাণী ও কল্যাণী' গানের সঞ্চয়ন,
- 'পথচিন্তামণি' একটি কীর্তনগ্রন্থ,
- আর 'অভয় বিহার' একটি গীতিকাব্য।

উপযুক্ত কাল - কবিতা,
- রজনীকান্ত সেন। 

শৈশবে সদুপদেশ যাহার না রোচে,
জীবনে তাহার কভু মূর্খতা না ঘোচে।
চৈত্র মাসে চাষ দিয়া না বোনে বৈশাখে,
কবে সেই হৈমন্তিক ধান্য পেয়ে থাকে?

সময় ছাড়িয়া দিয়া করে পণ্ডশ্রম,
ফল চাহে,- সে ও অতি নির্ব্বোধ, অধম।
খেয়া-তরী চ’লে গেলে বসে এসে তীরে,
কিসে পার হবে, তরী না আসিলে ফিরে?

উৎস: উপযুক্ত কাল - কবিতা, রজনীকান্ত সেন এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৬১.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক নিবাস কোন জেলায়?
  1. গোপালগঞ্জ
  2. মুন্সীগঞ্জ
  3. জামালপুর
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৬২.
'খোয়াবনামা' উপন্যাসের উপজীব্য কী?
  1. রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ
  2. সিপাহী বিদ্রোহ
  3. তেভাগা আন্দোলন
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• খোয়াবনামা:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬)।
- উপন্যাসটির বিষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্যসহ
- ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ,
- আসামের ভূমিকম্প,
- তেভাগা আন্দোলন,
- ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর,
- পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- তিনি বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ (১৯৮২), 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) ও কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

» তাঁর সাহিত্যকর্ম:

• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামার।

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

তথ্যসূত্র: ১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৬৩.
'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. জহির রায়হান
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি। ।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্থুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।

মুনীর চৌধুরী রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৬৪.
'নিষ্ফল কামনা’ ও ‘সিন্ধুতরঙ্গ’—এই কবিতাগুলো রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মানসী
  2. পূরবী
  3. বলাকা
  4. সোনার তরী
ব্যাখ্যা

মানসী:
- 'মানসী' (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু 'মানসী' কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন।
- এখানে বৃহৎ প্রকৃতির প্রভাব কবির আবেগ ও অনুভুতির উপর ক্রিয়াশীল। 
- মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ কর্ম-উদ্দীপনার খরদীপ্তি।
- 'নিষ্ফল কামনা' এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা।
- এছাড়াও আছে দুরন্ত আশা, ভুলভাঙ্গা, কুহুধ্বনি, সুরদাসের প্রার্থনা, মেঘদূত, অহল্যার প্রতি, আত্মসমর্পণ ইত্যাদি কবিতা।

মানসী সম্পর্কে সমালোচকদের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য : 
• ‘কবির সঙ্গে একজন শিল্পী এসে যোগ দিলো।’
• ‘মানসী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অণুবিশ্ব।’

গুরুত্বপূর্ণ কবিতা :
- সিন্ধুতরঙ্গ,
- নিষ্ফল কামনা,
- নারীর উক্তি,
- পুরুষের উক্তি,
- বধূ,
- ব্যক্তপ্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্তপ্রেম,
- বর্ষার দিনে,
- সুরদাসের প্রার্থনা,
- মেঘদূত,
- অহল্যার প্রতি।

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।

৬,৭৬৫.
মহাকবি আলাওলের মৌলিক রচনা নিম্নের কোনটি ?
  1. পদ্মাবতী
  2. সপ্তপয়কর
  3. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  4. রাগতালনামা
ব্যাখ্যা
আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০)  
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর কবিপ্রতিভার স্ফুরণ ঘটলে প্রধান অমাত্য কোরেশী মাগন ঠাকুরের (১৬৪৫-৫৮) আনুকূল্যে তিনি আরাকানের অমাত্যসভায় স্থান পান।
- আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা।

- তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাত।
সেগুলির মধ্যে আখ্যানকাব্য হচ্ছে  - 
- পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী (১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩); নীতিকাব্য তোহফা (১৬৬৪) এবং
- সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য রাগতালনামা।
- এ ছাড়াও বৈষ্ণবপদের অনুরূপ তাঁর কিছু গীতিকবিতা আছে।

- রাগতালনামা ও গীতিকবিতাগুলি তাঁর মৌলিক রচনা, অন্যগুলি অনুবাদমূলক।

- পদ্মাবতী মালিক মুহম্মদ জায়সীকৃত হিন্দি পদুমাবত, সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী সাধনকৃত মৈনাসত, সপ্তপয়কর নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি হফত্ পয়কর, তোহফা ইউসুফ গদাকৃত ফারসি তুহুফ-ই-নসাঈহ, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল গাওয়াসীকৃত ফারসি সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল এবং সিকান্দরনামা নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি সিকান্দরনামা অনুসরণে রচিত।
- রাগতালনামা ও গীতিপদসমূহ তাঁর প্রথম দিকের রচনা।
- কাব্যগুলির মধ্যে পদ্মাবতী তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৬৬.
'চতুরঙ্গ' পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন-
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. হুমায়ুন কবির
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

• 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা:
- 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে হুমায়ুন কবির স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে ত্রৈমাসিক 'চতুরঙ্গ' অবিস্মরণীয় নাম। 'চতুরঙ্গ'-এর প্রথম সংখ্যা (আশ্বিন ১৩৪৫) বের হয় ১৯৩৮ খ্রীষ্টাব্দের শেষ দিকে, অক্টোবর মাসে। তবে উদ্যোগ শুরু হয়েছিল বছরের প্রথম দিকেই।
- ঐ ঐতিহাসিক উদ্যোগের প্রধান তিন কলাকুশলী হুমায়ুন কবির (১৯০৬-১৯৬৯), বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪), আতাউর রহমান। তবে প্রথম থেকেই হুমায়ুন কবিরই ছিলেন প্রধান উদ্যোক্তা।

------------------
• হুমায়ুন কবির:
- হুমায়ুন কবির ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, লেখক, দার্শনিক। তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবিরুদ্দিন আহমদ।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসটির রচয়িতা হুমায়ুন কবির।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ধারাবাহিক।
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব।
- বাংলার কাব্য।
- মার্কসবাদ।
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ।
- সাথী।
- অষ্টাদশী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা।

৬,৭৬৭.
‘হৃৎকলমের টানে’ - কার রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘হৃৎকলমের টানে’ - সৈয়দ শামসুল হক রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।

সৈয়দ শামসুল হক:

- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি। 

সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৬৮.
'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জিঞ্জির
  2. ভাঙার গান
  3. সাম্যবাদী
  4. দোলন-চাঁপা
ব্যাখ্যা

• 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।

• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন-চাঁপা'। কবি তখন রাজবন্দী ছিলেন।
- এতে ২১টি কবিতা আছে। প্রথম কবিতা- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।   
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম- প্রধান কবিতার বই।  

এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো :
- বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক, 
- পূজারিণী, 
- কবি-রানী, 
- অবেলার ডাক। 

'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটির কিছু অংশ-

আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
-কাজী নজরুল ইসলাম
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার-ভাঙা কল্লোলে!

--------------------------
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ।

৬,৭৬৯.
'লালসালু' উপন্যাসটি কী নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়?
  1. Roots of Faith
  2. Roots and Shadows
  3. Tree Without Roots
  4. Tree With Roots
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু'। এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিল, আমেন, খালেক ব্যাপার, রহিম, আক্কা, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৭০.
'অভিজ্ঞান বসন্ত' কাব্যগ্রন্থ কার রচনা?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

 • 'অভিজ্ঞান বসন্ত' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯৪৩ সালে অমিয় চক্রবর্তীর নিজস্বতার স্বাক্ষরে ভাস্বরিত হয়ে প্রকাশিত হলো 'অভিজ্ঞান বসন্ত'।
- এই কাব্যগ্রন্থ সাত পর্যায়ে বিন্যস্ত।
- এই কাব্যের 'সূর্যখন্ডিত ছায়া' পর্যায়ের 'সংগতি' কবিতার সুরই কবি'র জীবনের প্রধান সুর।
- 'সংগতি' কবিতা অনুধাবন করে বুদ্ধদেব বসু অমিয় চক্রবর্তীকে বলেছিলেন বাংলা দেশের সমকালীন পর্যায়ে 'সবচেয়ে আধ্যাত্মিক কবি।' এই কবিতার মূল বক্তব্যকে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন: তাঁর যে কবিতাটি প্রথম সাড়া তুলেছিল সেটি মনে করা যাক; "সংগতি” ঝোড়ো হাওয়া আর পোড়া বাড়ীটার মিলন সংগীত; এই সংগতি তাঁর সকল কাব্যের মূলমন্ত্র।"

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সাথে বহুদেশ ভ্রমণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৭১.
কবি, প্রাবন্ধিক ও চিত্র সমালোচক বিষ্ণু দে কোন পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন?
  1. ক) বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা
  2. খ) কালিকলম
  3. গ) সাহিত্যপত্র
  4. ঘ) পূর্বাশা
ব্যাখ্যা

কবি, প্রাবন্ধিক ও চিত্র সমালোচক বিষ্ণু দে ১৯৪৮ সালে 'সাহিত্যপত্র' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। এছাড়াও তিনি 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর একজন ছিলেন।

বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা- কালিপ্রসন্ন সিংহ

কালিকলম- প্রেমেন্দ্র মিত্র

পূর্বাশা- সঞ্জয় ভট্টাচার্য

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৬,৭৭২.
'চিত্রলেখা' নামে সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - 
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সত্যজিৎ রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ওই জেলারই ব্যারাকপুর গ্রামে।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- তিনি 'চিত্রলেখা' (১৯৩০) নামে একটি সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- বিপিনের সংসার,
- চাঁদের পাহাড়,
- দম্পতি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:

- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৭৩.
নিচের কোনটি জাত মহাকাব্য নয়?
  1. ইলিয়াড
  2. ওডেসি
  3. মহাভারত
  4. মেঘনাদ বধ
ব্যাখ্যা
• মেঘবাদবধ জাত মহাকাব্য নয়।

• মেঘনাদবধ কাব্য:

- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

---------------
- পৃথিবীতে জাত মহাকাব্য আছে চার ৪টি।

• রামায়ণ:
- শ্রীরাম চন্দ্রের জীবনী বিষয়ক
- রচয়িতা - বাল্মিকী।

• মহাভারত:
- কুরু ও পান্ডবদের নিয়ে রচিত।
-রচয়িতা- বেদব্যাস

• ইলিয়াড ও ওডিসি:
- ট্রয় যুদ্ধ নিয়ে রচিত।
- রচয়িতা - গ্রিক কবি হোমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৭৪.
’সঞ্চিতা’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

  'সঞ্চিতা' কাব্য সংকলন: 
- 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বুঝবার জন্য এ সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ।

কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল,
- সঞ্চিতা,
- সর্বহারা।
- জিঞ্জির।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৭৫.
মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদের প্রথম কাব্য কত বছর বয়সে প্রকাশিত হয়?
  1. সতেরো বছর
  2. ষোল বছর
  3. পনেরো বছর
  4. তেরো বছর
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 

• অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

• কায়কোবাদ বাংলার অপর দুই মহাকবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীনচন্দ্র সেনের ধারায় মহাকাব্য রচনা করেন। তবে নবীনচন্দ্রই ছিলেন তাঁর প্রধান আদর্শ।

• কায়কোবাদের মহাশ্মশান হচ্ছে মহাকাব্য। তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে জয়-পরাজয় অপেক্ষা ধ্বংসের ভয়াবহতা প্রকট হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘মহাশ্মশান’। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা এবং এর দ্বারাই তিনি মহাকবিরূপে খ্যাতি অর্জন করেন। 

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ (১৯৩২)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৭৬.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত ইংরেজি উপন্যাস কোনটি?
  1. দি ফিউচার এশিয়া
  2. দি মুন নাইট
  3. দি নেকেড ট্রুথ
  4. দি আগলি এশিয়ান 
ব্যাখ্যা

• ‘The Ugly Asian’ (দি আগলি এশিয়ান ) বা 'কদর্য এশীয়’ — সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর মৌলিক ইংরেজি উপন্যাস।

উল্লেখ্য,
The Ugly Asian’  বা ‘কদর্য এশীয়’ আদ্যোপান্ত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। তিনি বলেছেন যে, এ গল্প — কল্পিত যেকোনো এশীয় দেশের। কিন্তু আমরা দেখতে পাই, সে দেশের নাম বাংলাদেশ- যার জন্মই হয়েছে ঔপন্যাসিকের মৃত্যুর পরে। আরো লক্ষণীয়, দেশের রাজনীতিই কাহিনীর মুখ্য প্রতিপাদ্য নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তৃতীয় বিশ্বের সম্পর্কের বিন্যাস ও অভ্যন্তরীণ উৎকণ্ঠা উন্মোচন এর মূল লক্ষ্য। স্রষ্টা হিসাবে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ মহিমা এভাবে অন্য মাত্রা পেয়ে যায়। এ এক অচেনা শিল্পী, এতদিন যাঁকে আমরা জানার সুযোগ পাইনি

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৭৭.
'আবোল-তাবোল' - কার লেখা?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

• শিশুতোষ সাহিত্যে 'আবোল তাবোল' গ্রন্থটি রচনা করেন - সুকুমার রায়।

সুকুমার রায়:
- তিনি ১৮৮৭ সালের ৩০শে অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মাসুয়া গ্রামে।
- তিনি মূলত শিশুসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তিনি অনুপম ভাষায় গল্প, নাটক, কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে শিশুদের মন জয় করতেন।
- তাঁর পিতার নাম উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এবং তাঁর ছেলের নাম সত্যজিৎ রায়।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- আবোল তাবোল
- হ-য-ব-র-ল
- পাগলা দাশু
- বহুরূপী
- খাই খাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৭৮.
কবর নাটকটি সর্বপ্রথম কোথায় অভিনীত হয়?
  1. বাংলা টেলিভিশনে
  2. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে
  3. ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
  4. রমনা বটমূলে
ব্যাখ্যা

•'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন এবং এবং তখনই রাজবন্দীদের দ্বারা সেটি অভিনীত হয়েছিল।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দন্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৭৯.
বিষ্ণু দের কবিতায় কোন বিদেশি কবির প্রভাব রয়েছে?
  1. রবার্ট ফ্রস্ট
  2. জন কিটস
  3. টি.এস. এলিয়ট
  4. উইলিয়াম ওয়ার্ডসওর্থ
ব্যাখ্যা

বিষ্ণু দে:
- জন্ম: ১৮ জুলাই ১৯০৯, কলকাতা, পটলডাঙ্গা।
- পিতা: অবিনাশচন্দ্র দে (অ্যাটর্নি)।
- পেশা: কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক, শিল্পানুরাগী।
- ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার পাঁচ প্রধান কবির তিনি একজন।
- রাজনৈতিক ও দার্শনিক প্রভাব: মার্কসবাদী চেতনা।
- টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে তার কবিতায়।
- তিনি ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা: সাহিত্যপত্র।

• কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৮০.
বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা নিয়ে রচিত বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস-
  1. ক) আনন্দমঠ
  2. খ) ইন্দিরা
  3. গ) মৃণালিনী
  4. ঘ) বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক বলা হয়।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁকে 'বাংলার স্কট' বলা হয়।
- 'কমলাকান্ত' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সামাজিক উপন্যাস বিষবৃক্ষ।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্রের চতুর্থ বাংলা উপন্যাস।
- বিষবৃক্ষ উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল সমসাময়িক বাঙালি হিন্দু সমাজের দুটি প্রধান সমস্যা বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা নিয়ে।
- এই উপন্যাসের নায়িকা বিধবা কুন্দনন্দিনীর চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের কনিষ্ঠা কন্যার ছায়া অবলম্বনে রচিত হয় বলে জানা যায়।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,৭৮১.
'রূপনারানের কূলে' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. বলাকা
  2. শেষলেখা
  3. মানসী
  4. পূরবী
ব্যাখ্যা
• 'রূপনারানের কূলে' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের ‘শেষলেখা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা।

• ‘শেষলেখা’ কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থের নাম 'শেষলেখা'।
- 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করে যেতে পারেননি।
- এই কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতায় জীবনের শেষ কয়েক দিনের রচনা ।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাববাদী দর্শনের মধ্যেও চরমভাবে ইহজগৎ প্রীতি প্রকাশিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ৫৬টি।

তিনি লিখেছেন:
"রূপ-নারানের কূলে, জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"
রক্তের অক্ষরে দেখিলাম
আপনার রূপ,
চিনিলাম আপনারে
আঘাতে আঘাতে
বেদনায় বেদনায়;
সত্য যে কঠিন,
কঠিনেরে ভালোবাসিলাম,
সে কখনো করে না বঞ্চনা।
আমৃত্যুর দুঃখের তপস্যা এ জীবন,
সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে,
মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ করে দিতে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘শেষলেখা’ কাব্যগ্রন্থ।
৬,৭৮২.
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য কোনটি?
  1. রৈবতক
  2. বৃত্রসংহার
  3. কুরুক্ষেত্র
  4. প্রভাস
ব্যাখ্যা

• 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্য:
- 'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এতে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্যের প্রথম খণ্ড ১৮৭৫ ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
বীনচন্দ্র সেন রচিত ত্রয়ীকাব্য:
- রৈবতক,
- কুরুক্ষেত্র ও
- প্রভাস।

------------------------
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, আইনজীবী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে জন্ম ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে।
হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর 'ভারতসঙ্গীত' কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর প্রতি রুষ্ট হন, এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও এজন্য জবাবদিহি করতে হয়।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'চিন্তাতরঙ্গিণী' ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে 'বৃত্রসংহার' (২ খণ্ড, ১৮৭৫-৭৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- বীরবাহু কাব্য (আখ্যান কাব্য),
- আশাকানন (রূপক কাব্য),
- কবিতাবলী (খণ্ড কবিতার সংকলন),
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৮৩.
'মহাপতঙ্গ' - গল্পগ্রন্থটির লেখক কে?
  1. জহির রায়হান
  2. আবু ইসহাক
  3. শওকত আলী 
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

• 'মহাপতঙ্গ' গল্পগ্রন্থ:
- 'মহাপতঙ্গ' আবু ইসহাক রচিত ছোট গল্পগ্রন্থ। 
- ছোট গল্পগ্রন্থ 'মহাপতঙ্গ' গ্রন্থের 'The Dragonfly' (মহাপতঙ্গ) গল্প অবলম্বনে রচিত চিত্রনাট্য সুইজ্যারল্যান্ডে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার লাভ করে।

গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো-
- বিস্ফোরণ,
- খুতি,
- আবর্ত,
- বংশধর,
- কনট্রাস্ট,
- জোঁক,
- বর্ণচোর,
- প্রতিবিম্ব,
- সাবীল,
- উত্তরণ,
- মহাপতঙ্গ। 

------------------
• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা। তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের 'অভিশাপ' নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৬৩), 'সুন্দরবন সাহিত্য পদক' (১৯৮১), 'বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক' (১৯৯০), 'একুশে পদক' (১৯৯৭), 'স্বাধীনতা পদক' (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং 'শিশু একাডেমি পদক' (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভকরেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'মহাপতঙ্গ' গল্পগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৮৪.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত দীর্ঘ বারো বছর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. ক) পরিচয়
  2. খ) চিত্রদর্শন
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) ভারতী
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৫-৪৯ সময়কালে তিনি স্টেটসম্যান পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
• সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
• কাব্য:
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী;

• গদ্যগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।
এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৮৫.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. জোহরা
  2. কুসুমাঞ্জলি
  3. ফেরদৌসি চরিত
  4. অপূর্ব দর্শন
ব্যাখ্যা

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি, পশ্চাৎপদতা ও আত্মবিস্মৃতির বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ ও সংগঠনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৮৬.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নাটক নয়?
  1. ক) রাজা
  2. খ) চিরকুমার সভা
  3. গ) দুই বোন
  4. ঘ) তাসের দেশ
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটকগুলো হলো - রাজা, অচলায়তন, চিরকুমার সভা, তাসের দেশ, রক্তকরবী, ডাকঘর ইত্যাদি।
দুই বোন তার একটি উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৭৮৭.
কে 'একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা' গ্রন্থ রচনা করেন?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) আব্দুল কাদির
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) আবু রুশদ
ব্যাখ্যা
'একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা' গ্রন্থের রচয়িতা- হাসান আজিজুল হক। এটি তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৭৮৮.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কোন গ্রন্থ তৎকালীন সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়েছিল?
  1. একুশের গল্প(গল্প)
  2. আর্তনাদ(উপন্যাস)
  3. রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ইতিহাস ও অনুষঙ্গ(ইতিহাসগ্রন্থ)
  4. একুশে ফেব্রুয়ারি(সংকলন গ্রন্থ)
ব্যাখ্যা

• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন।
- এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।
- সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নক্শা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি।
- প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

• হাসান হাফিজুর রহমান:

- হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারি”। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র - এর সম্পাদকও তিনি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৮৯.
নিচের কোনটি মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক নয়?
  1. বসন্তকুমারী
  2. রত্নাবলী
  3. জমিদার দর্পণ
  4. টালা অভিনয়
ব্যাখ্যা
• 'রত্নাবলী' নাটকের রচয়িতা রামনারায়ণ তর্করত্ন।

• মীর মশাররফ হোসেন:

- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক 'কাঙাল হরিনাথ' ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়, 
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৯০.
‘সেই রাতের কল্পকাহিনী’ কবিতাটি কার লেখা?
  1. ক) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) রফিক আজাদ
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ডের রাতের ঘটনা নিয়ে লেখা নির্মলেন্দু গুণের বিখ্যাত কবিতা ‘সেই রাতের কল্পকাহিনী’।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৭৯১.
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) অরণ্যবহ্নি
  2. খ) একটি কালো মেয়ের কথা
  3. গ) কালিন্দা
  4. ঘ) রসকলি
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি'। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।

'একটি কালো মেয়ের কথা' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস। 
'কালিন্দা' - নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে রচিত উপন্যাস। 
'রসকলি' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৯২.
‘দ্বিতীয় দিনের কাহিনী’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট -
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. গণঅভ্যুত্থান
  3. দেশ বিভাগ
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় দিনের কাহিনী:
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
- বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।
- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা।
- বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

সৈয়দ শামসুল হক:
- ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- উপন্যাসটি পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও এদেশে অবস্থানরত তাদের বংশধর বিহারী দের কতৃক নির্যাতিত ও হত্যাকৃত হাজারো মুক্তিকামী জনতার প্রতিচ্ছবি।
- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (১২ আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ) ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- এক মহিলার ছবি,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- ত্রাহী,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৯৩.
'চোরাবালি'র কবি -
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বিষ্ণু দে
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. মন্মথ রায়
ব্যাখ্যা
• 'চোরাবালি'র কবি - বিষ্ণু দে
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।

বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৯৪.
কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বাঁধন-হারা
  2. ব্যথার দান
  3. ভাঙার গান
  4. মৃত্যক্ষুধা
ব্যাখ্যা
নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ - ভাঙার গান

অন্যদিকে,
-  নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস = বাঁধন-হারা।
- নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ = ব্যথার দান।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৯৫.
আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে রচিত উপন্যাস-
  1. তস্কর লস্কর
  2. জলাঙ্গী
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. আর্তনাদ 
ব্যাখ্যা

• আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে রচিত উপন্যাস - 'ক্রীতদাসের হাসি'।
- এটি একটি রূপকভিত্তিক উপন্যাস, যেখানে শওকত ওসমান প্রতীকী ভঙ্গিতে ১৯৫৮ সালের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।

∗ 'ক্রীতদাসের হাসি':
- 'ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে শওকত ওসমান স্বৈরাচারী শাসকের অধীনে মানুষের দুঃখ-কষ্ট, অধিকারহীনতা ও সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন।
- আইয়ুব খানের দমনমূলক শাসনব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করেই উপন্যাসটি নির্মিত।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র- হাবসি ক্রীতদাস তাতারী, মেহেরজান, এবং আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদ। 
- এ উপন্যাসে লেখক তাতারীর হাসি এবং মেহেরজানের সঙ্গে তার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সমাজের শোষণ ও বঞ্চনার প্রতীকী উপস্থাপন করেছেন। 
--------------------------------------------
∗ শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। 
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো -
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।
- শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে।
- আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস: আর্তনাদ।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৯৬.
দীনেশচন্দ্র সেন কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডি.লিট ডিগ্রী লাভ করেন?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডি.লিট ডিগ্রী লাভ করেন।

দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ - 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়'।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডি.লিট ডিগ্রী (১৯২১), জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯৩১), ও ভারত সরকার কর্তৃক রায় বাহাদুর (১৯২১) লাভ করেন।
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৯৭.
'সীতার বনবাস' নাটকটি রচনা করেছেন -
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- 'সীতার বনবাস' নাটকটি রচনা করেছেন - গিরিশচন্দ্র ঘোষ। 
- নাটকটি ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়। 

গিরিশচন্দ্র ঘোষ:

- তিনি নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা ছিলেন।
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- তিনি প্রথমে হেয়ার স্কুল এবং পরে ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে অধ্যয়ন করেন।
- কিন্তু বাল্যকালে পিতামাতার মৃত্যু হলে গিরিশচন্দ্র লেখাপড়ার প্রতি অনেকটা অমনোযোগী হয়ে ওঠেন।
- ১৮৬২ সালে পাইকপাড়া স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে এখানেই তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে।
- অবশ্য পরবর্তী জীবনে তিনি বন্ধু ব্রজবিহারী সোমের প্রভাবে প্রচুর পড়াশোনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- আগমনী
- অভিমন্যুবধ
- সীতার বনবাস 
- সীতাহরণ
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস 
- প্রফুল্ল 
- জনা 
- বলিদান 
- সিরাজদ্দৌলা
- মীরকাশিম 
- ছত্রপতি শিবাজী
- শঙ্করাচার্য

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৯৮.
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত উপন্যাস?
  1. অমৃত উপাখ্যান
  2. জুলান
  3. যৈবতী কন্যার মন
  4. বাসন
ব্যাখ্যা

• ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাস: 
- সেলিম আল দীন তাঁর ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাসে ব্যক্তিগত জীবনের এক ঘটনাচিত্র উপস্থাপন করেছেন।

- তিনি বলেন, ‘কখনও আত্মজীবনীতে আমার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গের লুপ্ত অংশগুলো যদি প্রকাশিত হয় তবে এ গল্পের উৎসাভাস পাঠকরা পাবেন নিশ্চয়ই’। আবার লেখক এই উপন্যাসকে ‘উপাখ্যানের লক্ষণযুক্ত’ বলে মনে করেছেন। এজন্যই তিনি তাঁর এই উপন্যাসের শুরুতেই বলেছেন, ‘উপাখ্যান হচ্ছে বিকেলের আলোয় মর্ত-পৃথিবীর উল্টা ছায়া। আঁধারের পাঁচ আঙ্গুল’। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, ‘উপাখ্যান হলো-বলতে বলতে মধ্যরাতে-কালীগঙ্গার ঢালুতীর-নেশাকর ধোঁয়া বাস্তবে মিশে গুপীযন্ত্রের সাথে হাত ধরাধরি করে নাচে’।

- মনজুরুল হাসান হাসু এবং এলিজার প্রেম কাহিনি ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাসটির মূল উপজীব্য।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র হাসান একজন টেলিভিশন প্রডিউসার বা প্রযোজক। নবীন প্রযোজক হিসেবে বিতর্ক অনুষ্ঠান, আলোচনা অনুষ্ঠান প্রযোজনা করাই তার কাজ। একদিন টেলিভিশন স্টুডিওতে এক বিতর্ক অনুষ্ঠান ক্যামেরায় ধারণ করার সময় এলিজা চুপচাপ বসেছিল দর্শকসারিতে। ক্যামেরাম্যান কৌতূহলবশত এলিজাকে একাধিকবার ক্লোজশটে ধারণ করে। প্যানেলে বসে এলিজার সেই দৃশ্য হাসান অবলোকন করে আনন্দ মনে। শুধু তাই নয়, ক্যামেরার ক্লোজশটে মেয়েটির ছবি দেখার পর হাসানের মনে ‘এক অনামা নীলবর্ণ নদী রেখা’ তৈরি হয়।

অতঃপর শহরের একটি গানের দোকানে ক্যাসেটে গান রেকর্ডিং করতে গিয়ে হাসান ও এলিজার মধ্যে পরিচয় হয়। এই পরিচয় থেকেই ক্রমে তাদের মধ্যে রোমান্টিক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। শেষ পর্যন্ত এলিজার আত্মহত্যার মধ্যদিয়ে এর কাহিনি সমাপ্ত হয়।

প্রেমের এই দৃশ্যপটের সঙ্গে হাসানের কল্পনা ও জীবন বাস্তবতার বিচিত্র ঘটনা এবং নানা চরিত্রের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং সুখ ও দুঃখ চিত্রিত হয়েছে অমৃত উপাখ্যান উপন্যাসটিতে। 

------------------------
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- জুলান,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৯৯.
‘ইতল বিতল’ শিশুতোষ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. সুফিয়া কামাল
  4. ফররুখ আহমেদ
ব্যাখ্যা
‘ইতল বিতল’ শিশুতোষ গ্রন্থ: 
- সুফিয়া কামালের একগুচ্ছ ছড়া নিয়ে 'ইতল বিতল' প্রথমবার প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে।
- চট্টগ্রাম থেকে বইটি প্রকাশ করেন সৈয়দ মোঃ শফি, তাঁর শিশু সাহিত্য বিতানের মাধ্যমে।
- ছড়াগুলোর সাথে ছবি ও প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন তখন তরুণ, আজ প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান।

⇒ সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ইতল বিতল’ গ্রন্থ।
৬,৮০০.
'কপিল দাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস একজন-
  1. ক) চাকমা
  2. খ) মারমা
  3. গ) সাওতাল
  4. ঘ) খাসিয়া
ব্যাখ্যা
'কপিল দাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পটি শওকত আলীর ‘লেলিহান সাধ' (১৯৭৭) গ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- কপিলদাস মুর্মু এক বৃদ্ধ সাঁওতাল।
- ভূমির অধিকার নিয়ে সাঁওতালদের রয়েছে রক্তে রঞ্জিত গৌরবােজ্জ্বল ঐতিহ্য।
- মাটির কাছাকাছি থাকা এই প্রবীণের এই অনিঃশেষ সংগ্রামশীলতার নান্দনিক রূপায়ণ ঘটেছে এই গল্পে। 

কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর বিখ্যাত উপন্যাস: 
- ওয়ারিশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের ক্ষেপ,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।