বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৬৪ / ১৭৪ · ৬,৩০১৬,৪০০ / ১৭,৪৩৭

৬,৩০১.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কোন উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ অর্জন করেন?
  1. খোয়াবনামা
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. দোজখের ওম
  4. খোয়ারি
ব্যাখ্যা
⇒ 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন , ১৯৪৩ সালের- এর মন্বন্তর, পাকিস্তান  আন্দোলন , সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। 
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’  ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন। 

⇒ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৬,৩০২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি কে?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায়
  2. খ) নরহরি চক্রবর্তী
  3. গ) বিজয়গুপ্ত
  4. ঘ) মুকুন্দরাম
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- আধুনিক যুগের নাগরিক কবি শামসুর রাহমান। 

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
-  ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে  মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩০৩.
‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী' সনেটে সংকলনটি কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬১ সালে
  2. ১৮৬৪ সালে
  3. ১৮৬৫ সালে
  4. ১৮৬৬ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন।
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয় নি।
- সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা, অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত ।
- সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।
- মিত্রাক্ষর ও অমিত্রাক্ষর উভয়বিদ ছন্দের চতুর্দশ পঙক্তিতে রচিত কবিতাসংকলন এটি।

----------------
⇒ মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩০৪.
কোন লেখক 'বীরবল' ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. ক) জগৎ মোহনী
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) প্রমথনাথ বসু
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে লিখতেন।  

• প্রমথ চোধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
- তেল নুন লকড়ি - প্রমথ চৌধুরীর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩০৫.
"লাশ" কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সিরাজাম মুনীরা
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. মুহূর্তের কবিতা
  4. হাতেমতায়ী
ব্যাখ্যা

‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- 'সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
 উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরী, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসার।

৬,৩০৬.
’আমার বুকের ভেতর ধর্মের কল বাতাসে নড়ে ওঠে’- পঙ্‌ক্তিটির লেখক কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. আল মাহমুদ
  3. আবুল হোসেন
  4. আরজ আলী মাতুব্বর
ব্যাখ্যা

- ’আমার বুকের ভেতর ধর্মের কল বাতাসে নড়ে ওঠে’- পঙ্‌ক্তিটির লেখক : আল মাহমুদ।
- এটি 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- আল মাহমুদের কবি-প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছিল 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থটি।
- সোনালী কাবিন কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সোনালী কাবিনে'র কবিতাগুলো রচিত হয় ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে 'সোনালী কাবিন' নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে চতুর্দশপদী ধারার একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে। বলা যেতে পারে বীজ কাব্যগ্রন্থ।
- পুরো কাব্যগ্রন্থটিতে বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম গ্রামীণ আবহে উঠে এসেছে।

• 
আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম- মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• 
তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৩০৭.
“আমি কবি, আমি অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য, অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তিদানের জন্য ভববান কর্তৃক প্রেরিত।”- উক্তিটি কার রচনা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

⇒ রাজবন্দীর জবানবন্দী:
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ।
- এটি চার পৃষ্ঠার বক্তব্য যা তিনি আদালতে লিখিতভাবে উপস্থাপন করে।
- তিনি ১৯২৩ সালে প্রেসিডেন্সি জেলে বসে এই চার পৃষ্ঠার জবানবন্দি রচনা করেন।

• ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ প্রবন্ধটি লেখার কারণবিশেষ:
- কাজী নজরুল ইসলাম ধূমকেতু পত্রিকার ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হলে, এই পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
- একই বছরের ২৩ নভেম্বর তার যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং একই দিনে তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে কুমিল্লা থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। 
- তাকে আটক করে তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি লিখিতভাবে আদলতে উপস্থাপন করেন মাত্র চার পৃষ্ঠার বক্তব্য।
- যা 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে পরবর্তিতে প্রকাশিত হয়। 
- নজরুল আদালতে লিখিত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' দিয়ে এবং প্রায় চল্লিশ দিন একটানা অনশন করে ইংরেজ সরকারের জেল-জুলুমের প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

- ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’র শুরুতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম উচ্চকণ্ঠে বলেছেন:
 'আমার উপর অভিযোগ, আমি রাজবিদ্রোহী। তাই আমি আজ কারাগারে বন্দী এবং রাজদ্বারে অভিযুক্ত। একাধারে-রাজার মুকুট; আর ধারে ধূমকেতুর শিখা। একজন রাজা হাতে রাজদণ্ড; অন্যজন সত্য, হাতে ন্যায়দণ্ড। রাজার পক্ষে রাজার নিযুক্ত রাজ বেতনভোগী রাজ-কর্মচারী। আমার পক্ষে সব রাজার রাজা, সব বিচারকের বিচারক, আদি অনন্তকাল ধরে সত্য-জাগ্রত ভগবান।'

তিনি আরো বলেছেন-
'আমি কবি, আমি অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য, অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তিদানের জন্য ভগবান কর্তৃক প্রেরিত। কবির কণ্ঠে ভগবান সাড়া দেন। আমার বাণী সত্যের প্রকাশিকা, ভগবানের বাণী। সে বাণী রাজ-বিচারে রাজদ্রোহী হতে পারে, কিন্তু ন্যায়বিচারে সে বাণী ন্যায়-দ্রোহী নয়, সত্যদ্রোহী নয়। সে বাণী রাজদ্বারে দণ্ডিত হতে পারে, কিন্তু ধর্মের আলোকে, ন্যায়ের দুয়ারে তা নিরপরাধ, নিষ্কলুষ, অম্লান, অনির্বাণ, সত্যস্বরূপ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৩০৮.
'ললিতা তথা মানস' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
 বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬)। এবং রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। এটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস। তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩০৯.
'ওরা আছে বলেই' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মামুনুর রশীদ
  2. খ) জোবায়দা খানম
  3. গ) ওবায়েদুল হক
  4. ঘ) নারায়ন গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার ছিলেন।
তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটকঃ
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস, ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগি,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৩১০.
আবু জাফর শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকায় নাম কী?
  1. ক) ইত্তেফাক
  2. খ) সমকাল
  3. গ) ইত্তেহাদ
  4. ঘ) ইনসাফ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকায় নাম = 'ইত্তেহাদ'। 
- ১৯৪৬ সালে তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির 'ইত্তেহাদ' পত্রিকার সম্পাদক হন। 
- ১৯৪৮ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। 

আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩১১.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কোন গ্রন্থটি ইউনেস্কো’র বিশ্বস্মৃতি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
  1. পদ্মরাগ 
  2. সুলতানার স্বপ্ন 
  3. মতিচূর
  4. অবরোধবাসিনী 
ব্যাখ্যা

• সুলতানার স্বপ্ন:  
- Sultana’s Dream গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।
-  ইউনেসকো রোকেয়া সাখাওয়া হোসেনের উপন্যাস সুলতানা’স ড্রিমকে ‘বিশ্বস্মৃতি’ বা ‘ওয়ার্ল্ড মেমোরি’র তালিকায় স্থান দিয়েছে।

• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: 

- নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা 'মুসলিম মহিলা সমিতি'। 
- তিনি ৯ই ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 
 
• তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খণ্ড: ১ম খণ্ড ১৯০৪, ২য় খণ্ড ১৯২২),  
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী উপন্যাস রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো। 

৬,৩১২.
‘এই গৃহ এই সন্ন্যাস’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) রফিক আজাদ
  2. খ) মহাদেব সাহা
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• কবি মহাদেব সাহা রচিত প্রথম কাব্য এই গৃহ এই সন্ন্যাস।
- এটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৪২টি কবিতা রয়েছে। 

• তাঁর অন্যান্য কাব্য হলো :
- মানব এসেছি কাছে
- কী সুন্দর অন্ধ
- তোমার পায়ের শব্দ
- ফুল কই শুধুই অস্ত্রের উল্লাস
- আমি ছিন্নভিন্ন
- তোমার জন্য অন্ত্যর্মিল
- ভুলি নাই তোমাকে রুমাল
- অন্তহীন নৃত্যের মহড়া

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৩১৩.
'শব্দ মঞ্জুরী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল হাই
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থ- আখ্যান মঞ্জুরী, বোধোদয়, ব্যাকরণ কৌমুদী, বর্ণপরিচয়, কথামালা, শব্দ মঞ্জুরী ইত্যাদি। উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৩১৪.
'শিখা' পত্রিকা বছরে কয়বার প্রকাশিত হয়?
  1. দুইবার
  2. একবার
  3. তিনবার
  4. চারবার
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত। শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩১৫.
‘অভয়া ও রোহিণী’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দেবদাস
  2. চরিত্রহীন
  3. শ্রীকান্ত
  4. পল্লীসমাজ
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- শ্রীকান্ত,
- ইন্দ্রনাথ,
- রাজলক্ষ্মী,
- অভয়া,
- রোহিণী,
-অন্নদিদি।

অন্যদিকে,
- ‘দেবদাস’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: দেবদাস, পার্বতী (পারু), চন্দ্ৰমুখী, চুনিলাল, ধর্মদাস।
- ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর, কিরণময়ী।
- ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬,৩১৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেছিলেন?
  1. ভিক্টোরিয়া ওক্যাম্পো
  2. ইন্দ্রা দেবী
  3. প্রতিমা দেবী
  4. আন্না
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর পূরবী কাব্যগ্রন্থটি তাঁর বান্ধবী ভিক্টোরিয়া ওক্যাম্পোকে উৎসর্গ করেছিলেন।
-----------------------------------------
• 
পূরবী:
যারা আমার সাঁঝ-সকালের গানের দীপে জ্বালিয়ে দিলে আলো, 
আপন হিয়ার পরশ দিয়ে; 
এই জীবনের সকল সাদা কালো, 
যাদের আলো-ছায়ার লীলা; 
সেই যে আমার আপন মানুষগুলি, 
নিজের প্রাণের স্রোতের পরে আমার প্রাণের ঝর্না নিল তুলি; 
তাদের সাথে একটি ধারায় মিলিয়ে চলে, 
সেই তো আমার আয়ু, নাই সে কেবল দিন-গণনার পাঁজির পাতায়, 
নয় সে নিশ্বাস-বায়ু।’ 

- পূরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা সংকলিত রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থের মূল বিষয় মানবিক প্রেম, বিরহ, মৃত্যুচেতনা ও আধ্যাত্মিকতা।
- রবীন্দ্রনাথ জীবনকে এক দীর্ঘ পথচলা হিসেবে দেখিয়েছেন, যেখানে প্রেম ও বৈরাগ্যের মিশ্র অনুভূতি ফুটে ওঠে।
- কবিতাগুলিতে মানবিক দুর্বলতার বাইরে গিয়ে মানুষকে ভালোবাসার অভিপ্রায় ও গভীর অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। 
------------------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১) ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তাকে "গুরুদেব", "কবিগুরু" ও "বিশ্বকবি" বলা হয়।  
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম: ভানুসিংহ ঠাকুর।
- দক্ষিণ আমেরিকা সফরে গিয়ে তিনি আর্জেন্টিনার কবি ভিক্টোরিয়া ওক্যাম্পো-র আতিথ্য গ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রতি অনুরাগ থেকে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে “বিজয়া” নামে সম্বোধন করতেন এবং পরবর্তীতে নিজের পূরবী কাব্যগ্রন্থটি তাঁকেই উৎসর্গ করেন।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্য বনফুল (১৮৭৬)।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থ কবিকাহিনী (১৮৭৮)।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
• 'গীতাঞ্জলি',
• 'সোনার তরী',
• 'চিত্রা',
• 'চৈতালি',
• 'কণিকা',
• 'কল্পনা', 'বলাকা',
• 'মহুয়া', 
• 'পুনশ্চ',
• 'পুনশ্চ',
• 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী', ইত্যাদি। 

অন্যদিকে:
- ১৬ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ আন্নার প্রেমে পড়েছিলেন।
- ইন্দ্রা দেবী ছিলেন তাঁর ভাইয়ের মেয়ে, যাকে উদ্দেশ্য করে তিনি ‘ছিন্নপত্র’ নামে ১৪৫টি পত্র লিখেছিলেন।
- প্রতিমা দেবী ছিলেন রবীন্দ্রনাথের পুত্রবধূ ও সংগীতশিল্পী। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৬,৩১৭.
‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে।
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন
- সম্পাদনা করেন 'বিকাশ' (১৯১৫) নামে হাতে-লেখা একটি সাহিত্যপত্রিকা।
- তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় নিসর্গ চেতনা, প্রেম ও আত্ম-উপলব্ধি।
- ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প, 
- বিন্দু বিসর্গ, 
- অদৃশ্যলোকে,
- তন্বী,  
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী, 
- বহুবর্ণ,
- বনফুলের নতুন গল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৩১৮.
এস. ওয়াজেদ আলি রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ভবিষ্যতের বাঙালি
  2. সভ্যতার সংঘর্ষ 
  3. উন্নত জীবন
  4. সমাজ ও সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা

• ভবিষ্যতের বাঙালি: 
- 'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- ভবিষ্যতের বাঙালী তার বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- এই গ্রন্থে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু- মুসলমানের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা আছে। 

• এস ওয়াজেদ আলি: 
- তিনি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম- গল্পগ্রন্থ 'গুলদাস্তা' 
- তাঁর প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- জীবনের শিল্প, 
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, 
- ভবিষ্যতের বাঙালী, 
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা, 
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

তাঁর রচিত গল্প: 
- গুলদাস্তা, 
- মাশুকের দরবার, 
- বাদশাহী গল্প, 
- গল্পের মজলিশ। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- গ্রানাডার শেষ বীর। 

ভ্রমণকাহিনী: 
- পশ্চিম ভারত, 
- মোটর যোগে রাঁচী সফর। 


তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৩১৯.
‘আয়না’ হাস্যরসাত্মক গল্পগ্রন্থের লেখক-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) আবুল মনসুর আহমেদ
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক। তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতা (১৯৫৩-৫৮ সাল পর্যন্ত সহ-সভাপতি) এবং যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারের ২১ দফার অন্যতম প্রণেতা।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা-
গল্পগ্রন্থ : আয়না (কাজী নজরুল ইসলাম এই হাস্যরসাত্মক গল্পের ভূমিকা লিখেছিলেন, ১৯৩৫), ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪), আসমানী পর্দা (১৯৬৪)।
উপন্যাস: সত্যমিথ্যা (১৯৫৩), জীবন ক্ষুধা (দেশভাগের পটভূমিতে রচিত, ১৯৫৫), আবে হায়াত (১৯৬৪)।
স্মৃতিকথা: আত্মকথা (আত্মজীবনী, ১৯৭৮)।
রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ: আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯), শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৬,৩২০.
'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা -
  1. বুদ্বদেব বসু
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?' - পঙক্তিটির রচয়িতা হলেন - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। 

- 'উটপাখী' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'
 'উটপাখী' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।

কবিতাটির অংশবিশেষ, 

আমি জানি এই ধ্বংসের দায়ভাগে
আমরা দু জনে সমান অংশীদার;
অপরে পাওনা আদায় করেছে আগে,
আমাদের ‘পরে দেনা শোধবার ভার।
তাই অসহ্য লাগে ও-আত্মরতি।
অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?
আমাকে এড়িয়ে বাড়াও নিজেরই ক্ষতি।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩২১.
কাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৩২২.
দীনেশচন্দ্রকে কেন্দ্র করে 'স্মরণের সরণী বাহি' স্মৃতিকথা গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'স্মরণের সরণী বাহি' স্মৃতিকথা:
- 'স্মরণের সরণী বাহি' গ্রন্থটি দীনেশচন্দ্রকে কেন্দ্র করে জসীম উদ্‌দীন রচিত স্মৃতিকথা। এই গ্রন্থে তাঁর স্মৃতির টুকরো কথাগুলি কোথাও অশ্রুসজল, কোথাও বিস্ময়মুগ্ধ প্রসন্নতা সৃষ্টি করতে পেরেছে।

- সরল সাধু ভাষায় লেখা এই স্মৃতিকথায় তিনি যে মমতা ও বেদনার সঙ্গে দীনেশচন্দ্রের চিত্রগুলি ফুটিয়ে তুলেছেন তা স্মৃতিচারণামূলক বাংলাসাহিত্যে অভিনব। রচনাটি ছোট, কিন্তু আবেগে বেদনায় বড়ো।

- দীনেশচন্দ্রের এত অন্তরঙ্গ পরিচয় আমরা ইতিপূর্বে পাইনি। 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য', 'বৃহৎবঙ্গ', আরও নানা গ্রন্থের লেখককে আমরা তাঁর রচনার মধ্যেই দেখেছি, তার বাইরে যে তাঁর আর একটি আনন্দবেদনাময় হৃদয়বান পুরুষচরিত্র রয়েছে, তা জসীম উদ্‌দীনের এই স্মৃতিকথায় প্রকাশ পেয়েছে।

------------------------
• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

• জসীম উদ্‌দীন রচিত কয়েকটি ভ্রমণকাহিনি:
- যে দেশে মানুষ বড়,
- হলদে পরীর দেশ ও
- চলে মুসাফির।

• আত্মজীবনী:
- জীবন কথা।

• স্মৃতিকথা:
- যাঁদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: 'স্মরণের সরণী বাহি' জসীম উদ্‌দীন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩২৩.
'আর কতদিন' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
'আর কতদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি, ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে, জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে নবুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখপক মনে উদয় হয়েছিল।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩২৪.
‘ল্য অরবরে সামস মায়েমে’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত কোন গ্রন্থের ফরাসি অনুবাদ?
  1. বহিপীর
  2. কাঁদো নদী কাঁদো
  3. লালসালু
  4. চাঁদের অমবস্যা
ব্যাখ্যা
⇒ ‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। 
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।
 
================
⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লা‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩২৫.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. গৃহদাহ
  2. মামলার ফল 
  3. চন্দ্রনাথ
  4. পরিণীতা
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প - মামলার ফল

অন্যদিকে,
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - গৃহদাহ, চন্দ্রনাথ এবং পরিণীতা।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৩২৬.
'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে' - বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্বদেব বসু
  3. শেখ ফজলুল হক
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

'উটপাখী' কবিতা:
- 'উটপাখী' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'উটপাখী' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৩২৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বিসর্জন’ নটকটি কোন উপন্যাস অবলম্বনে রচনা করেছেন?
  1. ক) রাজর্ষি
  2. খ) চতুরঙ্গ
  3. গ) চোখের বালি
  4. ঘ) নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘রাজর্ষি’ উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে ‘বিসর্জন’ (১৮৯১) নটকটি রচনা করেছেন।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৬,৩২৮.
কোন নাটকটি সেলিম আল দীনের?
  1. মুনতাসীর ফ্যান্টাসী
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. কবর
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটি।
- হাস্যরসের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে৷

অন্যদিকে,
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধবিষয়ক কাব্যনাট্য।
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা- অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।

------------------------
• সেলিম আল দীন:
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার হলেন সেলিম আল দীন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩২৯.
উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের গঠনে কোন পত্রিকার অবদান অবিস্মরণীয়?
  1. পূর্বাশা 
  2. পরিচয় 
  3. কল্লোল 
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা

• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার অবদান অবিস্মরণীয়। ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়। বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।

- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষান্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৩০.
বাংলা সাহিত্যে সর্বপ্রথম প্রচুর পরিমাণ আরবি ও ফারসি শব্দের ব্যবহার করেন -
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ
  3. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
মোহিতলাল মজুমদার:
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা তৃতীয় পর্যায়ে মোহিতলালের সম্পাদনায়ই প্রকাশিত হয়। 
- মোহিতলাল মজুমদারের সাহিত্যচর্চার শুরু মানসী পত্রিকার মাধ্যমে।
- বাংলা কাব্যে বিদেশী শব্দ, বিশেষ করে আরবি-ফারসি শব্দ প্রয়োগে মোহিতলালের বিশেষ কৃতিত্ব ছিল।
- তিনি ইংরেজি সাহিত্যেও সুপন্ডিত ছিলেন।

 উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ ও সমালোচনা গ্রন্থ হলো:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- কবি শ্রীমধুসূদন,
- বিচিত্র কথা,
- সাহিত্য কথা।

কাব্যগ্রন্থ হলো:
- স্বপন পসারী,
- স্মরগরল,
- বিস্মরনী,
- হেমন্ত গোধূলি (গ্রন্থটি বাংলা ১৩৪৮ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৩১.
'যার যথা দেশ' অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ছোটগল্প
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ভ্রমণকাহিনি
ব্যাখ্যা
•  'যার যথা দেশ' অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত একটি উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়। 

------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:

- অন্নদাশঙ্কর রায় ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৩২.
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার/ভয় কি বন্ধু-" কোন কাব্যের অন্তর্ভূক্ত?
  1. ক) স্মৃতিস্তম্ভ
  2. খ) স্মৃতিসৌধ
  3. গ) মানচিত্র
  4. ঘ) স্মৃতির মিনার
ব্যাখ্যা
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার/ভয় কি বন্ধু-" পঙক্তিটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতার অন্তর্ভূক্ত। 
- কবিতাটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

স্মৃতিস্তম্ভ
-আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য ।
ইটের মিনার
ভেঙেছে ভাঙুক ! ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী
চারকোটি পরিবার ।


লেখকের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র (১৯৬১)
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ (১৯৬২)

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৩৩.
'স্বাধীনতার স্বাদ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. ছোটগল্প 
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. উপন্যাস 
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

• 'স্বাধীনতার স্বাদ' উপন্যাস:
- 'স্বাধীনতার স্বাদ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। 
- 'স্বাধীনতার স্বাদ' এ দেশবিভাগের প্রাক্কালে মহানগর কলকাতায় হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার ঐতিহাসিক পটভূমি অবলম্বনে রচিত।

- এই পটভূমিকে আবর্তন করে-করে মানিক তাঁর ডিসকোর্স অন্তর্বয়ন করে গেছেন এমন এক সুনিশ্চিতবোধ নিয়ে যেন কাহিনী বা ঘটনাগুলি তাঁর জানা ও অভিজ্ঞতালব্ধ এবং এই জানা ও অভিজ্ঞতায় কী জীবনদর্শন বেরিয়ে আসবে তাও তিনি আগেই জানেন।
 
- যে দাঙ্গার পটভূমিতে স্বাধীনতার স্বাদ রচিত হয়েছে তা কাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে লেখকের স্পষ্ট বিবরণকে নানা মাত্রায় ব্যবহার করা হয়েছে। উপন্যাসটিতে নানা চরিত্রের সমবায়ে কাহিনী ও সময়গ্রন্থির যে বুনন লেখক গাঁথেন তাতে প্রত্যেকটি চরিত্রই স্ব-স্ব চিন্তা ও স্বভাব নিয়ে তাৎপর্য পায়। বিপদের সময় কী করে এক বাড়িতে বসবাসরত বিচিত্র মানুষগুলির মধ্যে সহমর্মিতা গড়ে ওঠে, একে অন্যের সুবিধার জন্যে আত্মত্যাগ করে, সমঝোতা করে চলে তারই টুকরো-টুকরো বিবরণ গাঁথা হতে থাকে এই উপন্যাসে।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত),
- চিহ্ন,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য।

উৎস: স্বাধীনতার স্বাদ' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৩৩৪.
'মুহূর্তের কবিতা' কার লেখা কাব্যগ্রন্থ?
  1. আহসান হাবীব
  2. ফররুখ আহমদ
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

• ইসলামী স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি/ মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা।

• মুহূর্তের কবিতা:
- গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপীরিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ১৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি। 

• ফররুখ আহমদ:  
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
 
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি'
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৩৫.
ফররুখ আহমদ রচিত সনেট সংকলন-
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. মুহূর্তের কবিতা
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. নতুন লেখা
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁর (পুনর্জাগরণবাদী) কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৩৬.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় কোন বাঙ্গালি কবি উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. কাজেম আল কোরেশী
  4. কেউই নন
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা
- কবি গোলাম মোস্তফা ১৮৯৭ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।

- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- রক্তরাগ,
- কাব্য-কাহিনী,
-তারানা-ই-পাকিস্তান,
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি।

তাঁর গদ্যরচনার -
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি।

উৎস: ১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৩৭.
সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ "সুর সাকী" রচনা করেন কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো। 
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং কবি নজরুল জীবনী।
৬,৩৩৮.
'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. জামিল চৌধুরী
  4. আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৩৯.
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. বেলা অবেলা কালবেলা
  2. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. সেইদিন এই মাঠ
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা

• 'বেলা অবেলা কালবেলা' জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- রূপসী বাংলা ও বেলা অবেলা কালবেলা এই কাব্য দুটি কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছিলো।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৩৪০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস কোনটি? 
  1. পোনুর চিঠি
  2. বাঁধনহারা
  3. প্রিয়তমাসু
  4. সন্ধ্যাদীপের শিখা
ব্যাখ্যা

'বাঁধনহারা’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রভিত্তিক উপন্যাস।
---------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম: 
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- বার বছর বয়সে তিনি লেটোর দলে যোগ দেন। 
- তিনি বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা। 

- ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলাম তার পরিবারসহ স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
- বাংলা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টরেট (ডি.লিট) প্রদান করে।
- পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করে।
- এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদক’ প্রদান করার মধ্য দিয়ে কবিকে সম্মান জানানো হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- মৃত্যুর পর জাতীয় কবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পাশে সমাহিত করা হয়।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।
--------------------------------- 
‘বাঁধনহারা’ নিয়ে কিছু কথা: 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস ‘বাঁধনহারা’।
- উপন্যাসের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- ‘বাঁধনহারা’ নজরুলের প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস। 
- এটি মোসলেম ভারৎ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ১৯২১ সালে।
- এবং পরে ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল পত্রভিত্তিক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।
- এতে মোট ১৮টি চিঠি অন্তর্ভুক্ত।
-লেখক গল্পের প্রগতি ও চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণকে চিঠির আকারে উপস্থাপন করেছেন।
- নজরুল করাচিতে বাঙালি পল্টনে সৈনিক থাকাকালীন সময়ে ‘বাঁধনহারা’ লেখা শুরু করেন।
---------------------- 
অন্যদিকে,
- বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য পত্রোপন্যাস:
• পোনুর চিঠি – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচিত অত্যন্ত জনপ্রিয় পত্রোপন্যাস।

• প্রিয়তমাসু – প্রেমেন্দ্র মিত্র লিখিত পত্ররূপে লেখা চমৎকার আখ্যান।

• সন্ধ্যাদীপের শিখা – তরুণকুমার ভাদুড়ী লিখিত পত্র রীতির একটি উপন্যাস।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৪১.
সেলিম আল দীনের নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় রচিত নাটক কোনটি?
  1. কেরামতমঙ্গল
  2. চাকা
  3. বাসন
  4. হাতহদাই
ব্যাখ্যা
হাতহদাই:
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার মধ্যে যে বিরাট সম্ভাবনা আছে ‘হাতহদাই' এর উদাহরণ।
- নাটকটি নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় রচিত
- ‘হাতহদাই' মানে বাংলায় অর্থ দাঁড়ায় ‘সাত সদাই' বা সাত রকমের সওদা বা বহু কিছু ।
- এই নাটকে নোয়াখালী অঞ্চলের এক গ্রামের মৌলবির মুখের আঞ্চলিক ভাষাও যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে সে কথা প্রতিষ্ঠিত।

সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনী জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপঙ্‌ক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৪২.
কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের নায়কের নাম কি?
  1. জগৎ সিংহ
  2. নবকুমার
  3. চন্দ্রশেখর
  4. প্রতাপ সিংহ
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম- 'ললিতা তথা মানস'।
- তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।

• কপালকুণ্ডলা উপন্যাস:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক ও দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ'। উপন্যাসের নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমারকে উদ্দেশ্য করে এ উক্তিটি করেছেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৪৩.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি কে?
  1. আলাওল
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. নবীনচন্দ্র সেন 
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৩৪৪.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত কৌতুক নাটক কোনটি?
  1. মুকুলমুঞ্জরা
  2. পাণ্ডব গৌরব
  3. সীতার বিদ্রোহ
  4. হীরার ফুল
ব্যাখ্যা

• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা। ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী' প্রহসনে তিনি 'নিমচাঁদ' চরিত্রে অভিনয় করেন।

- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্তু। মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন। তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় 'গৈরিশ ছন্দ'।
- ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

• পৌরাণিক নাটক:
- রাবণবধ, 
- সীতার বিদ্রোহ, 
- লক্ষ্মণ বর্জন, 
- রামের বনবাস, 
- সীতাহরণ, 
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস, 
- পাণ্ডব গৌরব। 

• রোমান্টিক নাটক:
- মুকুলমুঞ্জরা, 
- আবু হোসেন। 

• ঐতিহাসিক নাটক:
- সিরাজদ্দৌলা, 
- মীরকাশিম, 
- ছত্রপতি শিবাজী, 
- অশোক। 

• কৌতুক নাটক:
- হীরার ফুল
- সপ্তমীতে বিসর্জন, 
- বড়দিনের বখশিশ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৪৫.
‘ঝরাপালক’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) জীবনানন্দ দাস
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরাপালক।
দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ- ধূসর পাণ্ডুলিপি।
অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা।
এই কাব্যগ্রন্থগুলাের মধ্যে- রূপসী বাংলা ও বেলা অবেলা কালবেলা তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছিলাে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৬,৩৪৬.
বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় কাকে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বাংলা ছোটগল্পের জনক বলা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- প্রমথ চৌধুরী বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক।
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি ও রণসংগীতের রচিয়তা। তিনি বাংলা সাহিত্যের পত্রোপন্যাসেরও জনক।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

৬,৩৪৭.
“পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত
ঘোষণার ধ্বনি- প্রতিধ্বনি তুলে,
নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাংলায় 
তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা।’’
- পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত পঙক্তিগুলো কবি শামসুর রাহমানের 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' নামক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 
 
• শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

• শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধের কবিতার মধ্যে বহুল প্রচারিত দুটো কবিতা হচ্ছে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ এবং ‘স্বাধীনতা তুমি’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতা- শামসুর রাহমান।
৬,৩৪৮.
'নীলদর্পণ' নাটকটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৮৫৮ সালে
  2. খ) ১৮৫৯ সালে
  3. গ) ১৮৬০ সালে
  4. ঘ) ১৮৬১ সালে
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ বাংলা সাহিত্যে একটি বিশেষ পরিচিত নাটক। ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৩৪৯.
‘মেঘ বলে চৈত্রে যাবো'- কি জাতীয় রচনা?
  1. ক) উপন্য্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) সম্পাদনা
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
‘মেঘ বলে চৈত্রে যাবো'- আহসান হাবীব রচিত একটি 'কাব্যগ্রন্থ'  

আহসান হাবিব 
আহসান হাবিব মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- 'মেঘ বলে চৈত্রে যাব' তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- দুই হাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।

- অরণ্যে নীলিমা, রানী খালের সাঁকো তাঁর রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৫০.
বিখ্যাত 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ক) ধনঞ্জয়
  2. খ) নবকুমার
  3. গ) শীতলবাবু
  4. ঘ) হোসেন মিয়া
ব্যাখ্যা
নবকুমার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসের চরিত্র। 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পদ্মা নদীর মাঝি' ১৯৩৪ সাল থেকে ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ ১৯৩৬ সালে।
- কুবের ‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।  
উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
 - কপিলা
- মালা,
- হোসেন মিয়া,
- ধনঞ্জয়,
- শীতলবাবু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৫১.
বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত ছিলেন-
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত ছিলেন।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবি নজরুল জীবনী।
৬,৩৫২.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ -
  1. সাম্যবাদী
  2. বিষের বাঁশি
  3. সর্বহারা
  4. অগ্নি-বীণা
ব্যাখ্যা
অগ্নি-বীণা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ।
- এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কবিতার পালাবদলকারী কাব্য 'অগ্নি-বীণা' প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায়।
- 'অগ্নি-বীণা' কাব্যে ১২টি কবিতা আছে।
- বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যেমন:
১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব: প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
২. সময় ও যুদ্ধ: কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল-আরব।
৩. মুসলিম ঐতিহ্য: মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তর।
৪. হিন্দু ঐতিহ্য: রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।
- অগ্নি-বীণা কাব্যের প্রথম কবিতা 'প্রলয়োল্লাস', দ্বিতীয় কবিতা 'বিদ্রোহী', শেষ কবিতা 'মোহররম'।
- 'রক্তাম্বরধারিণী মা' কবিতাটি নিষিদ্ধ হয়েছিল, অগ্নি-বীণা কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি।
- গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় ব্রিটিশ বিরোধী বাঙালি বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- সাম্যবাদী,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৩৫৩.
‘নীললোহিত’ গল্পগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) অনন্ত বড়ু
  3. গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
চার ইয়ারী কথা, নীললোহিত ও আহুতি প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ। নানা কথা, আমাদের শিক্ষা, রায়তের কথা, প্রবন্ধ সংগ্রহ, বীরবলের হালখাতা, তেল নুন লাকড়ি ইত্যাদি তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৩৫৪.
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ কে রচনা করেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  3. নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড
  4. হেনরি ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

- বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ - গৌড়ীয় ব্যাকরণ।
- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায়।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থঃ
• বেদান্তগ্রন্থ,
• বেদান্তসার,
• ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
• গোস্বামীর সহিত বিচার। 

অপরদিকে,
- বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড৷ তার রচিত গ্রন্থটির নাম 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' (১৭৭৮)। গ্রন্থটি মূলত ইংরেজী ভাষায় রচিত। তবে দৃষ্টান্ত দেবার সময় এর কিছু অংশ বাংলা লিপিতে মুদ্রিত হয়।

- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন নি। 'ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ' গ্রন্থে তিনি একটি অধ্যায়ে অতি সংক্ষেপে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন। 

মনে রাখতে হবে, 
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন (পর্তুগিজ ভাষায়) - মনোএল দা আসুসাম্পসাঁউ (ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ) ।
প্রথম বাংলা ব্যাকরণগ্রন্থ রচনা করেন (মূলত ইংরেজী ভাষায়) - নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড (এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ)।
বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ (বাংলায়) - গৌড়ীয় ব্যাকরণ (রামমোহন রায়)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৩৫৫.
গোলাম মোস্তফাকে 'কাব্য সুধাকর' উপাধি দেন -
  1. পাকিস্তান সরকার
  2. ফরিদপুর যুব সংঘ
  3. যশোর সংঘ
  4. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৫৬.
ইংরেজি উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. চন্দ্রশেখর
  2. রাজসিংহ
  3. আনন্দমঠ
  4. রজনী
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্রের 'রজনী' উপন্যাসটি ইংরেজি ঔপন্যাসিক লিটন রচিত 'The Last Days of Pompeii' অবলম্বনে রচিত। 

• 'রজনী' উপন্যাস:
- 'রজনী' (১৮৭৭) উপন্যাসের নায়িকা রজনীর সঙ্গে লর্ড লিটন প্রণীত 'দি লাস্ট ডেজ অফ পম্পেই' নামক উপন্যাসের নিডিয়া চরিত্রের কিছুটা ঐক্য আছে। - বিভিন্ন পাত্র-পাত্রীর জবানবন্দিতে এই উপন্যাস রচিত। এই রীতিটিও যে বঙ্কিম ইংরেজ ঔপন্যাসিক কার্লিনস অনুসরণে করেছেন তা তিনি ভূমিকায় জানিয়েছেন।
- বাংলা উপন্যাস গড়ে তুলবার জন্য এভাবেই পাশ্চাত্যের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। বঙ্কিমের অধিকাংশ উপন্যাসের মতোই এখানেও প্রেম ও আদর্শের সংঘাতই কাহিনির মূল উপজীব্য। 'রজনী'কে প্রকৃত উপন্যাস না বলে রোমান্স বলা হয়ে থাকে। কারণ এখানে বেশ কল্পদৃশ্যে ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
 
অন্যদিকে,
-----------------------------
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাস:
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ।
• প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
• এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে ‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
• উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
• ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

-------------------
• ‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
• ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
• 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।

------------------
• 'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'আনন্দমঠ'(১৮৮২)। 
- উপন্যাসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদ্বশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এ গ্রন্থে রচিত গান "বন্দে মাতরম্‌" পরবর্তিতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৫৭.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প -
  1. শীত বিকেল
  2. সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য
  3. সমুদ্রের স্বাদ
  4. স্বাধীনতার স্বাদ
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প - সমুদ্রের স্বাদ

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
-  ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- সোনার চেয়ে দামী,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি৷

অন্যদিকে,
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্প - শীত বিকেল।
• হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ - সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৫৮.
‘জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় আভিযান
মাতা ভগ্নি ও বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।’ - কোন কবিতার অংশ?
  1. বারাঙ্গনা
  2. মানুষ
  3. নারী
  4. পাপ
ব্যাখ্যা

‘জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় আভিযান
মাতা ভগ্নি ও বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।’ - কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'নারী' কবিতার অংশ।
'নারী' কবিতাটি কবির 'সাম্যবাদী কাব্য গ্রন্থের অন্তর্গত।

কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়।
‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে । সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- সৌমিত্র শেখর।



৬,৩৫৯.
"মোর যাদুদের সমাধি পরে" স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. শামসুর রাহমান 
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

"মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ:
- "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কবি সুফিয়া কামালের সপ্তম কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোর প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশপ্রেমের কবিতা স্থান পেয়েছে।

উল্লেখ্য, 
• 'বন্দী শিবির থেকে' ও 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থে শামসুর রাহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত কবিতাগুলি স্থান পেয়েছে।
• মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ- যখন উদ্যত সঙ্গীন।
• মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৈয়দ আলী আহসান রচিত কবিতা- আমার প্রতিদিনের শব্দ।  

-------------------
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: কেয়ার কাঁটা। 
• দিনলিপি: একাত্তরের ডায়েরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৬০.
কোনটি ফররুখ আহমেদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ ?
  1. মুহূর্তের কবিতা
  2. নৌফেল ও হাতেম
  3. পাখির বাসা
  4. হাতেম তায়ী
ব্যাখ্যা

পাখির বাসা (১৯৬৫) ফররুখ আহমেদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- নৌফেল ও হাতেম তাঁর রচিত কাব্য নাটক ।
- হাতেম তায়ী একটি কাহিনী কাব্য ।
- মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩) ফররুখ আহমেদের সনেট সংকলনের নাম ।
- তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর)

৬,৩৬১.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর কোন কাব্যগ্রন্থের জন্য তাঁকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করা হয়?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সঙ্গীত শতক
  3. সারদামঙ্গল
  4. বন্ধু-বিয়োগ
ব্যাখ্যা

• 'সারদামঙ্গল' কাব্য:
- 'সারদামঙ্গল' কাব্য বিহারীলাল চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন।
- রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন 'ভোরের পাখি' বলে।

----------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা বিহারীলাল চক্রবর্তী ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'। তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৬২.
'বনি আদম' কোন সাহিত্যিকের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) বেগম রোকেয়া
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
১৮৯৭ সালে ঝিনাইদহে গোলাম মোস্তফা জন্মগ্রহন করেন।
'বনি আদম' ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ। তাঁর রচিত আরও কাব্যগ্রন্থ,
- রক্তরাগ,
-খোশরোজ,
-কাব্যকাহিনী,
-সাহারা,
- হাসনাহেনা,
-বুলবুলিস্তান,
-তারানা ই পাকিস্তান,
- গীত সঞ্চয়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৬৩.
মেঘনাদবধ কাব্য কয়টি সর্গে সম্পূর্ণ হয়েছে?
  1. ক) ৭ টি
  2. খ) ৮ টি
  3. গ) ৯ টি
  4. ঘ) ১১ টি
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণের ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত মেঘনাদবধ কাব্য রচনা করেন।
মেঘনাদবধ কাব্যের সর্গ নয়টি।
স্বর্গগুলাে- অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশােক, বন, উদ্যোগ, শক্তি নির্ভেদ, প্রেতপুরী ও সংস্ক্রিয়া।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৩৬৪.
’সমাচার চন্দ্রিকা’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়  
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়
  4. রাজা রামমোহন
ব্যাখ্যা

• 'সমাচার চন্দ্রিকা' পত্রিকা:
- রাজা রামমোহনের সঙ্গে মত-পার্থক্যের কারণে সম্বাদ কৌমুদী-র সম্পাদক ভবানীচরণ বন্দোপাধ্যায় পত্রিকা ত্যাগ করেন।
- এবং ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮২২ সালের ৫ মার্চ সমাচার চন্দ্রিকা নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- পত্রিকাটি রক্ষণশীল হিন্দুদের মুখপত্রে পরিণত হয়।
- ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পত্রিকা টিকে ছিলো।

• ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি একজন লেখক, সাংবাদিক, কলকাতার রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের অন্যতম নেতা ছিলেন।
- রামমোহন রায়-সম্পাদিত সম্বাদ-কৌমুদী পত্রিকায় ১৮২১ সালের ডিসেম্বর মাস সাংবাদিকতার কাজ আরম্ভ করেন। 
- ভবনীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস রচনা না করলেও, তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম সৃজনশীল গদ্য লেখেন।
- তার রচনার তীব্র বিদ্রূপ এবং রঙ্গব্যঙ্গ পাঠকদের আকৃষ্ট করে।

তাঁর গ্রন্থ:  
- দূতীবিলাস,
- শ্রীশ্রী গয়াতীর্থ,
- আশ্চর্য্য উপাখ্যান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৬৫.
'বেশি দামে কেনা, কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
পাক-বাংলার কালচার, বেশি দামে কেনা, কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা প্রবন্ধ গ্রন্থের রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬,৩৬৬.
মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি বলা হয় কাকে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
⇒ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের ‘শেষ বড় কবি’ বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৩৬৭.
নিচের কোন গ্রন্থটি ভিন্ন?
  1. চোখের বালি
  2. বিসর্জন
  3. শেষের কবিতা
  4. যোগাযোগ
  5. খ ও ঘ
ব্যাখ্যা
• 'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত বিসর্জন নাটকে গোমতী নদীর কথা উল্লেখ আছে।

- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম। এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়।

- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- জয়সিংহ,
- রঘুপতি,
- অপর্ণা, 
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য।

----------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ: মানসী, সোনারতরী, চিত্রা, গীতাঞ্জলি, বলাকা, শেষলেখা। 
• উপন্যাস: চোখের বালি, গোরা, ঘরে বাইরে, যোগাযোগ, শেষের কবিতা। 
• ছোটগল্প: গল্পগুচ্ছ, তিনসঙ্গী, গল্পসল্প। 
• নাটক: বিসর্জন, রাজা, অচলায়তন, ডাকঘর, রক্তকরবী। 
• প্রবন্ধ: আধুনিক সাহিত্য, মানুষের ধর্ম, কালান্তর, সাহিত্যের স্বরূপ। 
• আত্মজীবনী: জীবনস্মৃতি, ছেলেবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৬৮.
'প্রার্থী' কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঘুম নেই
  2. ছাড়পত্র
  3. পূর্বাভাস
  4. মিঠে কড়া
ব্যাখ্যা
'প্রার্থী' কবিতা:
- 'প্রার্থী' কবিতা সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' (১৯৪৭) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- 'প্রার্থী' কবিতায় সূর্যের জন্য প্রতীক্ষার সঙ্গে ধানকাটার অপেক্ষায় থাকা কৃষকের চঞ্চল চোখের তুলনা করা হয়েছে।
- এই তুলনা করার মধ্যে সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার সঙ্গে শ্রমজীবী কৃষক-শ্রমিকের সম্পৃক্ত করা মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৬৯.
"প্রেম ও ফুল" কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা

গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৭০.
'জীবিত ও মৃত' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'জীবিত ও মৃত' ছোটগল্প:
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা - ছোটগল্প
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা । তবে এটি কোনো নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী। কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৬,৩৭১.
কোনটি পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত আত্মকাহিনী নয়?
  1. ক) স্মৃতিকথা
  2. খ) ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়
  3. গ) স্মরণের সরণী বাহি
  4. ঘ) যাদের দেখেছি
ব্যাখ্যা
পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত আত্মকথা
- যাদের দেখেছি (১৯৫১)
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায় (১৯৬১)
- জীবন কথা ( ১৯৬৪)
- স্মৃতিপট (১৯৬৪)
- স্মরণের সরণী বাহি (১৯৭৮)

 নাটক
- পদ্মাপার (১৯৫০)
- বেদের মেয়ে (১৯৫১)
- মধুমালা (১৯৫১)
- পল্লীবধূ (১৯৫৬)
- গ্রামের মায়া (১৯৫৯)

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- রাখালী (১৯২৭)
- নকশী কাঁথার মাঠ (১৯২৯)
- বালুচর (১৯৩০)
- ধানখেত (১৯৩৩)
- সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৪)
- হাসু (১৯৩৮)
- রুপবতী (১৯৪৬)
- মাটির কান্না (১৯৫১)
- এক পয়সার বাঁশী (১৯৫৬)
- সখিনা (১৯৫৯)
- সুচয়নী (১৯৬১)
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে (১৯৬২)
- মা যে জননী কান্দে (১৯৬৩)
- হলুদ বরণী (১৯৬৬)
- জলে লেখন (১৯৬৯)
- পদ্মা নদীর দেশে (১৯৬৯)
- কাফনের মিছিল (১৯৭৮)
- মহরম
- দুমুখো চাঁদ পাহাড়ি (১৯৮৭)

উপন্যাস
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া
৬,৩৭২.
বুদ্ধদেব বসুর অনুবাদ কাব্য নয় কোনটি?
  1. ক) কালিদাসের মেঘদূত
  2. খ) হেন্ডালিনের কবিতা
  3. গ) বন্দীর বন্দনা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসুর অনুবাদ কাব্য হলো কালিদাসের মেঘদূত, হেন্ডালিনের কবিতা ইত্যাদি৷ বন্দীর বন্দনা তার রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৩৭৩.
'আনোয়ার পাশা' গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. আহমদ ছফা
  2. আহমদ শরীফ
  3. ইবরাহীম খাঁ
  4. কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
ইব্রাহীম খাঁ: 
- তিনি ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। 
- নাটক, গল্প,  উপন্যাস,  শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৭৪.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটকের উপজীব্য কী?
  1. মানবিকতা ও স্বদেশ প্রেম
  2. সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।
  3. রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক
  4. ধর্মীয় কুসংস্কার
ব্যাখ্যা
বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- তিনি ছিলেন নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৎ।
 - তিনিই প্রথম বাংলা রঙ্গমঞ্চকে  পুরাণ ও ইতিহাসের রোম্যান্টিক প্রভাব থেকে মুক্ত করেন।
- তাঁর প্রথম নাটক আগুন (১৯৪৩) নাট্যভারতীতে অভিনীত হয়।
- তাঁর রচিত নাটকের উপজীব্য: সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।
- তিনি নাট্য রচনায় মার্কসবাদকে প্রাধান্য দেন।

তাঁর রচিত অন্য নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৭৫.
বাংলা গদ্য সাহিত্য বিকাশে কোন প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অগ্রগণ্য?
  1. শ্রীরামপুর মিশন
  2. সংস্কৃত কলেজ
  3. হিন্দু কলেজ
  4. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ- বাংলা গদ্যের বিকাশের পথিকৃৎ:

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ১৮০০ সালে কলকাতার লালবাজারে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠা ইংরেজ সিভিলিয়ানদের ভারতীয় ভাষা ও বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে হয়েছিল। তবে, এটি শুধুমাত্র ইংরেজদের স্বার্থে প্রতিষ্ঠিত না হয়ে, বাংলা গদ্য বিকাশেও বিশেষ অবদান রাখে।

প্রতিষ্ঠা ও উদ্দেশ্য:
• গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে এটি গড়ে তোলেন, যেখানে নবাগত অফিসারদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও নৈতিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা হয়। ওয়েলেসলীর পরিকল্পনা ছিল সুশিক্ষিত ও কুসংস্কারমুক্ত আমলাতন্ত্র তৈরি করা, যাতে ব্রিটিশ ভারত শাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়।

বাংলা গদ্যের বিকাশে অবদান:
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের কার্যক্রম বাংলা গদ্যের বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা পরবর্তী প্রজন্মের সাহিত্যিকদের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।

অধ্যক্ষ:
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন উইলিয়াম কেরী, যিনি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৭৬.
‘সুদীপ্ত শাহীন’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা

• রাইফেল রােটি আওরাত:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩), আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে - ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

আনোয়ার পাশা: 
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৩৭৭.
‘আনোয়ারা’ চরিত্রটি কার সৃষ্ট?
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) নজিবুর রহমান
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
নজিবুর রহমান সাহিত্যরত্ন (১৮৬০-১৯২৩)রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘আনোয়ারা’( ১৯১৪)। গ্রামীণ জীবনের পটভূমিকায় রচিত এই উপন্যাসে বাঙালি মুসলমান সম্প্রদায়ের পারিবারিক ও সামাজিক চিত্র উজ্জ্বলভাবে প্রকাশিত। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র আনোয়ারা। জেনে রাখা ভালো, এই উপন্যাস অবলম্বনে জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্রের নাম আনোয়ারা। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ১৯৮৭ সালে এ উপন্যাসের ধারাবাহিক নাট্যরূপ সম্প্রচার করে।
- ড. মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান রচিত বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত এবং পত্রিকার সংবাদ অনুসারে।
৬,৩৭৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বছর বয়সে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন?
  1. ৫১ বছর
  2. ৫২ বছর
  3. ৫৩ বছর
  4. ৫৪ বছর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে (৫২ বছর বয়সে) নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা,
- চৈতালী, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপুট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষ লেখা।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্রপ্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর,
- সভ্যতার সংকট।

তাঁর রচিত সামাজিক জীবন সম্পর্কিত গল্প:
- ব্যবধান,
- মেঘ ও রৌদ্র,
- পণরক্ষা,
- দিদি,
- কর্মফল,
- দান প্রতিদান, 
- হৈমন্তী,
- ছুটি,
- পুত্রযজ্ঞ,
- পোস্টমাস্টার,
- কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের নিবিড় সম্পর্ক বিষয়ক গল্প:
- সুভা,
- অতিথি,
- আপদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,৩৭৯.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থ রবীঠাকুরকে উৎসর্গ করা হয়েছিল?
  1. অগ্নিবীণা
  2. সঞ্চিতা
  3. বিষের বাঁশী
  4. সাম্যবাদী 
ব্যাখ্যা

• ‘সঞ্চিতা’ গ্রন্থটি নজরুল ইসলাম রবীঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন।
------------------------
'সঞ্চিতা' কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গের কারণ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সঞ্চিতা' সেপ্টেম্বর, ১৯২৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- নজরুলের তীর্থ-পথিক কবিতাটিও রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেছিলেন; 
- যা তাদের পারস্পরিক সম্মান ও সাহিত্যিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছিল।

- কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কাব্যগ্রন্থ সঞ্চিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন মূলত চারটি কারণে—  
• প্রথমত, তিনি রবীন্দ্রনাথের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ব্যক্তিগত মুগ্ধতা অনুভব করতেন। 
• দ্বিতীয়ত, এটি একজন অনুজ কবির পক্ষ থেকে অগ্রজ প্রতিম কবিকে সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক ছিল।
• তৃতীয়ত, রবীন্দ্রনাথের অসাধারণ প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে নজরুল তাঁর কাব্য উৎসর্গ করেছিলেন। 
• এবং শেষত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাজী নজরুলকে তাঁর গীতিনাট্য বসন্ত উৎসর্গ করেছিলেন। 
- নজরুলকে এই গ্রন্থে রবীঠাকুর কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেন। 
- এই স্বীকৃতির প্রতি সম্মানসূচক হিসেবে নজরুল তাঁর সঞ্চিতা কাব্য উৎসর্গ করে। 
---------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো-
- সঞ্চিতা, 
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- সাম্যবাদী, 
- সর্বহারা, 
- সন্ধ্যা, 
- জিঞ্জির, 
- চক্রবাক,
- প্রলয় শিখা,
- দোলনচাঁপা,
- ও ভাঙার গান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
বাংলাপিডিয়া। 

৬,৩৮০.
'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শহীদুল জহির
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাস:
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা উপন্যাসের রচয়িতা শহীদুল জহির।
- এটি তারঁ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
- সোনায় মোড়ানো হাতের কথাশিল্পী শহীদুল জহিরের এই উপন্যাস বাংলা কথাসাহিত্যে এক অভিনব সংযোজন। বাংলা আখ্যানগদ্যের এমন অপূর্ব রূপ ও ভঙ্গি এর আগে তো ছিলই না, এখনও বিরল।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
১৯৮৫ সালে একদিন লক্ষ্মীবাজারের শ্যামাপ্রসাদ চৌধুরী লেনের বাসিন্দা যুবক আব্দুল মজিদ রায়সাহেব বাজারে যাওয়ার পথে কারকুন বাড়ি লেন থেকে বের হয়ে নবাবপুর রোডে উঠলে তার ডান পায়ের স্পঞ্জের স্যান্ডেলের ফিতে ফট্ করে ছিঁড়ে যায়। এভাবে এই কাহিনির শুরু। ৬২ পৃষ্ঠা পরে কাহিনির শেষে দেখা যায়, আব্দুল মজিদ দৈনিক ইত্তেফাকে একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে তার বাড়িটি বিক্রি করে লক্ষ্মীবাজার থেকে বসত উঠিয়ে চলে যায়, ফলে তার অস্তিত্বই যেন মুছে যায়।

কিন্তু শহীদুল জহির এইটুকু পরিসরে ফুটিয়ে তুলেছেন একাত্তরের নয় মাসে ঢাকা শহরের একটি মহল্লার সমগ্র জীবন। তখন কী ঘটেছিল, তারপর দেশ স্বাধীন হওয়ার দেড় দশক না পেরোতেই আব্দুল মজিদকে কেন তার বসতবাড়ি বিক্রি করে দিয়ে চলে যেতে হলো, এই নিদারুণ প্রশ্নের মধ্যে নিহিত রয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতির এক নিষ্করুণ বাস্তবতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাস।
৬,৩৮১.
'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' আত্মজৈবনিক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. আহমদ ছফা 
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' আত্মজৈবনিক উপন্যাস:
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। গাজী মিয়াঁর বস্তানীতে উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

• এটি উপন্যাস জাতীয় রস-রচনা। কর্মজীবননির্ভর আত্মজীবনীমূলক এই রচনায় ব্যঙ্গরসের উপস্থাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

• এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়। গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম ‘উদাসীন পথিক’ মুদ্রিত হয়েছে।

• এ গ্রন্থে অনেক চরিত্রের সমাবেশ-ঘটেছে, তবে কোনো একটি মূল ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনি ও চরিত্র আবর্তিত বা বিবর্তিত হয়নি। মূলত লেখক ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সমাজের অন্যায়-অবিচার, অনাচার-দুর্নীতি, সমাজের মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ও বর্বরোচিত আচরণ চিত্রিত করেছেন।

• সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা। উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন- অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি। ভেড়াকান্ত চরিত্রে লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়। 

• গাজী মিয়াঁর বস্তানীর বিষয় ও অঙ্গসজ্জা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় লিখেছেন- "গাজী মিয়ার বস্তানী একখানি বিচিত্র সমাজচিত্র, সুশোভিত, সুলিখিত উপন্যাস।"

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'গাজী মিয়ার বস্তানী' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৮২.
"সত্যেন্দ্রনাথ দত্তে'র" ছদ্মনাম কী?
  1. শ্রীকান্ত শর্মা
  2. নীল লোহিত
  3. নীল উপাধ্যায়
  4. ত্রিবিক্রম বর্মণ
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

অন্যদিকে,
- ‘শ্রীকান্ত শর্মা’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - নীল উপাধ্যায়, নীল লোহিত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিক,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদ কাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা,
- অন্যদিকে,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৫।
৬,৩৮৩.
'ধ্রুব' চলচ্চিত্রে নজরুল কোন চরিত্রের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন?   
  1. নারদ
  2. রাবণ
  3. ধ্রুব
  4. রামায়ণ 
ব্যাখ্যা

'ধ্রুব' চলচ্চিত্রে নজরুল নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।
-----------------------
• 'ধ্রুব' চলচ্চিত্র:
-
কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৩৪ সালে নির্মিত  ধ্রুব চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
- এটি ছিল তাঁর একমাত্র অভিনীত সিনেমা।
- তিনি এ ছায়াছবিতে নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন।
- নজরুল ‘ধ্রুব’ ছায়াছবির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও গান রচনা, সুরারোপ, সঙ্গীত পরিচালনা করেন।
- তাছাড়া তিনি এ ছায়াছবিতে চারটি গানে অংশ নেন।
- এ ছায়াছবির কাহিনি রচনা করেন নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
- পাইওনিয়র ফিল্মের ব্যানারে ছবিটি ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারি কলকাতার ক্রাউন টকি হাউজে মুক্তি পায়।
--------------------------------- 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অগ্রগামী ও প্রগতিশীল ভাবনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। 
- নজরুল ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কৈশোরে থিয়েটার ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন।
- ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে বেছে নেন। 
- পরবর্তীতে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কবিতা ও সাময়িকী প্রকাশ করা শুরু করেন।
- তাঁর কবিতায় মানুষের প্রতি অন্যায়, সামাজিক শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মূলভাব হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।

- নজরুল বাংলা কাব্যে নতুন ধারার জন্ম দেন, ইসলামী সঙ্গীত (গজল), শ্যামা সংগীত ও হিন্দু ভক্তিগীতির মাধ্যমে।
- তিনি প্রায় ৩০০০ গান রচনা করেছেন, যেগুলো নজরুল গীতি নামে পরিচিত।
- তিনি মধ্যবয়সে পিক্স ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে সাহিত্যচর্চা ও মানসিক ভারসাম্য হারান।
- ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে সপরিবারে ঢাকা আসেন নজরুল  এবং এখানেই তিনি ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো —
- অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, চক্রবাক, প্রলয় শিখা, দোলনচাঁপা ও ভাঙার গান।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ — শিউলিমালা, বেদনার দান ও পদ্মগোখরা।

• তাঁর নাটক — আলেয়া, ঝিলিমিলি, মধুমালা ও পুতুলের বিয়ে।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস — বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা।

• তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ — যুগবাণী (যা নিষিদ্ধ হয়েছিল) ও রাজবন্দীর জবানবন্দী।
------------------------ 
উল্লেখ্য, 
- কাজী নজরুল ইসলাম- গোরা, পাতালপুরী, চৌরঙ্গী চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর; 
জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৬,৩৮৪.
প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ - কার রচনা?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) সত্যেন সেন
  4. ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
ইতিহাস সংবলিত সত্যেন সেনের রচনা - মহাবিদ্রোহের কাহিনী, প্রতিরোধ সংগ্রামের কাহিনী, বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি। তার বিখ্যাত উপন্যাস - ভোরের বিহঙ্গী, অভিশপ্ত নগরী, পাপের সন্তান, পদচিহ্ন, আল বেরুনী ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৮৫.
নিচের কোনটি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. আর কতদিন
  2. সোনালি কাবিন
  3. কালের কলস
  4. দ্বিতীয় ভাঙ্গন
ব্যাখ্যা
• 'আর কতদিন' আল মাহমুদ রচিত  কাব্যগ্রন্থ  নয়।

• আল মাহমুদ:
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:

- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না,
- দিনযাপন,
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন,
- একটি পাখি লেজ ঝোলা,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৮৬.
বাংলা টাইপরাইটারের জন্য মুনীর চৌধুরী উদ্ভাবিত কী-বোর্ডের নাম কী?
  1. মুনীর টাইপো
  2. মুনীর অপ্‌টিমা
  3. মুনীর কি-বোর্ড
  4. মুনীর লেখনী
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরীর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম: 
মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, এবং সাহিত্যসমালোচক। তিনি ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলায়। তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছে।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:

জন্ম ও পৈতৃক নিবাস: মুনীর চৌধুরীর জন্ম মানিকগঞ্জে হলেও, তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালীতে।
১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি কারাবন্দী অবস্থায় ১৯৫৩ সালে "কবর" নাটকটি রচনা করেন, যা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।

বাংলা টাইপরাইটার উদ্ভাবন:
১৯৬৫ সালে মুনীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য একটি উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম ছিল "মুনীর অপ্‌টিমা"।
----------------------- 
রচিত নাটকসমূহ:
মুনীর চৌধুরী অনেক মৌলিক ও অনুবাদ নাটক রচনা করেছেন, যা বাংলা নাট্যসাহিত্যে অমূল্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।

মৌলিক নাটক:

"কবর" (১৯৫৩): এটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা একটি বিশেষ নাটক, যা বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
"রক্তাক্ত প্রান্তর": পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে লেখা।
"মানুষ": ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা উপজীব্য।
"নষ্ট ছেলে": একটি রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
"পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য": রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক।
"দণ্ডকারণ্য": তিনটি নাটকের সমন্বয়ে রচিত।
"রাজার জন্মদিন": একটি চমৎকার নাট্যকর্ম যা রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা।
--------------------- 
অনুবাদ নাটক:

"কেউ কিছু বলতে পারে না" (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর-এর "You never can tell" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
"রূপার কৌটা" (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির "The Silver Box" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
"মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের "Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৬,৩৮৭.
"ব্যথার সাঁতার-পানি-ঘেরা
চোরাবালির চর,
ওরে পাগল! ‌ কে বেঁধেছিস্
সেই চরে তোর ঘর?" - চরণগুলোর রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

"ব্যথার সাঁতার-পানি-ঘেরা
চোরাবালির চর,
ওরে পাগল! ‌ কে বেঁধেছিস্
সেই চরে তোর ঘর?" - চরণগুলোর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম। চরণগুলো "সর্বহারা" কবিতার অন্তর্গত। এবং "সর্বহারা" কবিতাটি "সর্বহারা" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

সর্বহারা
-কাজী নজরুল ইসলাম

ব্যথার সাঁতার-পানি-ঘেরা
চোরাবালির চর,
ওরে পাগল! ‌ কে বেঁধেছিস্
সেই চরে তোর ঘর?
শূন্যে তড়িৎ দেয় ইশারা
হাট তুলে দে সর্বহারা
মেঘ জননীর অশ্রুধারা
ঝরছে মাথার’ পর,
দাঁড়িয়ে দূরে ডাকছে মাটি
দুলিয়ে তরু-কর।।

"সর্বহারা" কাব্যগ্রন্থ:
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি
কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।

উৎস: সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।

৬,৩৮৮.
'চোখের বালি’ উপন্যাসে আশালতা কার স্ত্রী?
  1. রাজা
  2. সুধীর
  3. মহেন্দ্র
  4. বিহারী
ব্যাখ্যা
'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৮৯.
কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. রূপসী বাংলা
  2. বনলতা সেন
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. সোনালী কাবিন
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয় - সোনালী কাবিন
- এটি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।

জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির
- রূপসী বাংলা
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৯০.
'মেঘ বলে চৈত্রে যাব' হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস হলেও আহসান হাবীবের- 
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. গদ্যগ্রন্থ
  4. কল্পকাহিনি
ব্যাখ্যা

- 'মেঘ বলে চৈত্রে যাব' হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস হলেও আহসান হাবীবের কাব্যগ্রন্থ।

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব (১৯১৭–১৯৮৫) ছিলেন আধুনিক বাংলা কাব্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক।
- ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় আসেন এবং আজাদ, মোহাম্মদী, কৃষক ও ইত্তেহাদসহ নানা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ফ্রাঙ্কলিন পাবলিকেশনসে প্রডাকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন।
- পরে দৈনিক পাকিস্তানে যোগ দেন এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি অরণ্য নীলিমা  ও রাণীখালের সাঁকো নামে দুটি উপন্যাস রচনা করেছেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ছায়াহরিণ;
- সারা দুপুর;
- আশায় বসতি;
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো;
- দুহাতে দু আদিম পাথর;
- প্রেমের কবিতা; ও
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

∗ শিশুদের জন্য তাঁর জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে আছে:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প;
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর ও
- ছুটির দিন দুপুরে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৯১.
'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ' কিসের সংকলন?
  1. ক) ছোটগল্পের সংকলন
  2. খ) কাব্যগ্রন্থের সংকলন
  3. গ) গল্পগ্রন্থের সংকলন
  4. ঘ) গানের সংকলন
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায়  জন্মগ্রহণ করেন ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ফরিদপুরের দক্ষিণ বিক্রমপুরের মগর গ্রামে।
- অতুল প্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
 -তাঁর লেখা গানের সংকলন - 'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৯২.
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের ‘পদ্মরাগ’ কোন ধরনের রচনা?
  1. গল্প
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস 'পদ্মরাগ'। এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ তবে একে উপন্যাস না বলে উপন্যাসপম গদ্য-আখ্যায়িকা বলাই ভালো। কেননা উপন্যাসের গাঁথুনি এখানে নেই, শিল্প হিসেবেও অসফল। তবে ‘পদ্মরাগে’র মূল্য অন্যত্র। প্রথমত কোনো মুসলিম নারীর রচনা; দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না ; তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।
এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
• ‘পদ্মরাগ’ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

-------------------------
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
 রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৯৩.
বিষ্ণু দে প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সাহিত্যপত্র
  2. সুধাকর
  3. প্রবাসী
  4. প্রগতি
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

অন্যদিকে:
- বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিত পত্রিকার নাম 'প্রগতি'।
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকা ‘সুধাকর’।
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা ‘প্রবাসী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৯৪.
"আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন।" - কে লিখেছেন?
  1. রফিক আজাদ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. আল মাহমুদ
  4. হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা
• "আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন।" - চরণটির রচয়িতা — আল মাহমুদ।

• সোনালী কাবিন- কাব্য;
- আল মাহমুদ।

শ্রমিক সাম্যের মন্ত্রে কিরাতের উঠিয়াছে হাত
হিয়েনসাঙের দেশে শান্তি নামে দেখো প্রিয়তমা,
এশিয়ায় যারা আনে কর্মজীবী সাম্যের দাওয়াত
তাদের পোশাকে এসো এঁটে দিই বীরের তকোমা।
আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন,
পরম স্বস্তির মন্ত্রে গেয়ে ওঠো শ্রেণীর উচ্ছেদ,
এমন প্রেমের বাক্য সাহসিনী করো উচ্চারণ
যেন না ঢুকতে পারে লোকধর্মে আর ভেদাভেদ।

উৎস: সোনালী কাবিন- আল মাহমুদ।
৬,৩৯৫.
আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি বলা হয় কাকে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. মাইকেল মধুসূধন দত্ত
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. বালাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

⇒ ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)। এ কাব্যে কবি বলেছেন:
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

-  রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত,
- শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ
- সন্দর্শন, 
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৯৬.
'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৫ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪৬ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা

'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ:
- আঠারো বছর বয়স কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- ছাড়পত্র,
- আঠারো বছর বয়স,
- রানার,
- হে মহাজীবন।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৯৭.
বুদ্ধদেব বসু কবি জীবনানন্দ দাশকে কী বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. চিত্ররূপময় কবি
  2. তিমির হননের কবি
  3. রূপসী বাংলার কবি
  4. নির্জনতার কবি
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন।

- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে 'চিত্ররূপময়' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

জীবনানন্দ দাশের অন্যান্য উপাধিগুলো হলো-
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- শুদ্ধতম কবি হিসেবে অভিহিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৯৮.
'কবিকণ্ঠ হার' উপাধি কোন সাহিত্যিকের?
  1. জয়দেব
  2. বিদ্যাপতি
  3. বৃন্দাবন দাস
  4. কৃষ্ণদাস
ব্যাখ্যা
- বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলা রাজসভার মহাকবি।
- ব্রজবুলি ভাষায় রচিত বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম পদকর্তা বিদ্যাপতি।
- রাজা শিবসিংহ রায় তাঁর কাব্য প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে, 'কবিকণ্ঠ হার' উপাধি দেন।



উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৯৯.
"জন্মিলে মরিতে হবে
অমর কে কোথা কবে।"
- কার লেখা?
  1. ক) ঈশ্বরগুপ্ত
  2. খ) মাইকেল
  3. গ) বিহারীলাল
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা
এটি 'বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার অংশ। এটি মাইকেল মধুসূদের লেখা। 

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৬,৪০০.
"এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন; অনন্তকাল ধরে এমনি চলতে পারতাম আমরা।"- উক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জহির রায়হান
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

• 'একুশের গল্প':
- "একুশের গল্প" জহির রায়হানের একটি বিখ্যাত ছোটগল্প, যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত। এটি তাঁর গল্পগ্রন্থ "সূর্যগ্রহণ" (১৯৫৫) এবং গল্প সংকলন "জহির রায়হান রচনাবলী" (২য় খণ্ড, ১৯৮১) এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

- গল্পটি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ, বন্ধুত্ব এবং স্মৃতির মাধ্যমে বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনা ফুটিয়ে তোলে।

- গল্পের প্রধান চরিত্র- তপু, রেণু ও রাহাত। এক উদ্দাম, প্রাণবন্ত তরুণ ভাষা শহিদ হয়; কিন্তু পুলিশ তাঁর লাশ গুম করে ফেলে। পরবর্তীতে তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে। এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি (২য় খণ্ড) থেকে নেওয়া হয়েছে।

এ গল্পের উল্লেখযোগ্য কিছু সংলাপ:
- "এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন; অনন্তকাল ধরে এমনি চলতে পারতাম আমরা।"
- "ওই যে লোকটা বলছিল সে বার্নাডশ হবে, পরশু রাতে মারা গেছে।"
- "পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।"
- "তপুকে আবার ফিরে পাবো, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনো দিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে।"

------------------
জহির রায়হান রচিত অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- সোনার হরিণ;
- সময়ের প্রয়োজনে;
- একটি জিজ্ঞাসা;
- হারানো বলয়;
- বাঁধ;
- সূর্যগ্রহণ;
- নয়া পত্তন;
- মহামৃত্যু;
- ভাঙাচোরা;
- অপরাধ;
- স্বীকৃতি;
- অতি পরিচিত;
- ইচ্ছা অনিচ্ছা;
- জনন্মান্তর।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ ও 'একুশের গল্প' জহির রায়হান।