বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৬৩ / ১৭৪ · ৬,২০১৬,৩০০ / ১৭,৪৩৭

৬,২০১.
'তন্বী' গল্পগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
তন্বী:
- এটি বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, 'তন্বী' নামে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে।
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন।
- সম্পাদনা করেন 'বিকাশ' (১৯১৫) নামে হাতে-লেখা একটি সাহিত্যপত্রিকা।
- তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় নিসর্গ চেতনা, প্রেম ও আত্ম-উপলব্ধি।
- ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প, 
- বিন্দু বিসর্গ, 
- অদৃশ্যলোকে,
- তন্বী,  
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী, 
- বহুবর্ণ,
- বনফুলের নতুন গল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২০২.
বাংলা গদ্য কোন যুগের ভাষার নিদর্শন?
  1. প্রাচীন যুগের
  2. মধ্য যুগের
  3. আদি যুগের
  4. আধুনিক যুগের
ব্যাখ্যা
- উনিশ শতকের (১৮০০ - ১৮৯৯) শুরুর দিকে বাংলা ভাষার গদ্য সাহিত্য রচনা শুরু হয়।
- এ সময়কে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- বাংলা গদ্যকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই তিনি বাংলা গদ্যের জনক।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন। ১৮৪৭ সালে বিরাম চিহ্নের ব্যবহার শুরু হয়।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৬,২০৩.
চন্ডীচরণ মুনশী কে?
  1. শ্রীরামপুর মিশনের লিপিকর
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত
  3. কেরী সাহেবের মুন্সী গ্রন্থের রচয়িতা
  4. সমাচার চন্দ্রিকা পত্রিকার সম্পাদক
ব্যাখ্যা

 • চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম বাঙালি লেখক ছিলেন।
- এছাড়া, তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা ভাষার অধ্যাপক ও ছিলেন।
- তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গদ্যকর্ম ‘তোতা ইতিহাস’।
- ফার্সি গ্রন্থ ‘তুতিনামা’-এর বাংলা অনুবাদ থেকেই এই গ্রন্থটি তৈরি।
- তিনি ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে অনুবাদটি সম্পন্ন করেন।
- এই গ্রন্থটি বাংলা গদ্য সাহিত্যের প্রাচীনতম উদাহরণগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।

 অন্যদিকে,
• ‘কেরী সাহেবের মুনশী' উপন্যাসটি লিখেছেন প্রমথনাথ বিশী।
• এটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস, যার জন্য তিনি ১৯৬০ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন।
• উইলিয়াম কেরি যখন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান হলেন, সে সময় রামরাম বসু খ্রিস্টান মিশনারি পাদ্রিদের বাংলা শেখাতেন।
•পরে কেরি তাঁর কাজের দক্ষতা দেখে রামরাম বসুকে বাংলা বিভাগের মুনশী  হিসেবে নিয়োগ দেন।
• রামরাম বসুকে ‘কেরী সাহেবের মুনশী' বলা হয়, কারণ তিনি উইলিয়াম কেরীকে বাংলা ভাষা শিক্ষা দিয়েছিলেন।
• ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। 

উৎস: 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২০৪.
’ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে/ কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে’ পঙ্‌ক্তিটির লেখক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

- ’ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে/ কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে’ পঙ্‌ক্তিটির লেখক: বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- পঙ্‌ক্তিটি  “সাধের আসন” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• “সাধের আসন” কাব্যগ্রন্থ:

- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”।এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।
- কাব্যটি শুরু করেছিন এভাবে- ’ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে/ কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে’ 

⇒ বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়  জন্মগ্রহণ করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম।এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক 
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,২০৫.
কোনটি রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত কাব্যনাট্য?
  1. ক) আনন্দমঠ
  2. খ) ঘরে-বাইরে
  3. গ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ঘ) নুরুলদীনের সারা জীবন
ব্যাখ্যা
• 'নুরুলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু ছিলো রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ। 

'নুরুলদীনের সারা জীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।  
- নুরুলউদ্দীন ছিলেন রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের একজন বিদ্রোহী নেতা। 
- তিনি কৃষকদের সংঘবদ্ধ করেছিলেন এবং তাদের নিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহে ঝামিয়ে পড়েছিলেন। 
- ইতিহাসের প্রায় বিস্মৃত এই কৃষকনেতাকে বইয়ের পাতা থেকে কল্পনা মিশিয়ে তুলে ধরা হয় এই নাটকে। 
- তিনি নুরুলউদ্দীন কে আখ্যায়িত করেন নুরুলদীন নামে।

তার অন্যান্য কাব্যনাট্য -
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- এখানে এখন।

অন্যদিকে, 
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি রচিত হয়।
- স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস 'ঘরে-বাইরে'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২০৬.
'সঞ্চয়ন' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

কাজী মোতাহার হোসেন:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তার জীবনের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতিষ্ঠা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন। মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র - শিখা পত্রিকা।
- শিখা পত্রিকার মুখবাণী ছিল "জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব"।
- কাজী মোতাহার হোসেন বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ ও পুস্তক রচনা করেছেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য গ্রন্থ:
- সঞ্চয়ন
- নজরুল কাব্য পরিচিতি ;
- সে পথ লক্ষ্য করে;
- সিম্পোজিয়াম, 
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস; 
- আলোক বিজ্ঞান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২০৭.
শওকত ওসমান রচিত গল্পের সংকলন কোনটি?
  1. বণী আদম
  2. ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী
  3. আমলার মামলা
  4. রাজা উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• 'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' গল্পগ্রন্থ:
- নয়টি ছোট গল্পের সংকলন 'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' গ্রন্থটি।
- এই গ্রন্থের প্রথম গল্প ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী গল্পের নামে বইয়ের নামকারণ করা হয়েছে।
- প্রতিটা গল্পই বিষয়গত দিক থেকে অনন্য। শওকত ওসমানের শৈল্পিক লিখনের প্রতিচ্ছবি প্রতিটি গল্প।
- শওকত ওসমান এই গল্পগ্রন্থের জন্য ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন। 

অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- কুটিলা ভবেৎ,
- শিবগঞ্জের মেলা,
- অনন্ত বাসর,
- ভূবন পাগলার সমস্যা,
- জনপদে,
- নিদয়-নিদয়া,
- কোন মৌন এবং
- স্বৈরণী। 

অন্যদিকে, 
• শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস- রাজা উপাখ্যান ও বণী আদম। 
• শওকত ওসমান রচিত নাটক - আমলার মামলা।

উৎস: 'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' গল্পগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৬,২০৮.
নিম্নের কোনটি রবীন্দ্রনাথের অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্প?
  1. দেনাপাওনা
  2. মণিহার
  3. যজ্ঞস্বরের যজ্ঞ
  4. অনধিকার প্রবেশ
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৪ টি অতিপ্রাকৃত রসের গল্প রয়েছে। 
সেগুলো হচ্ছে - 
- ক্ষুধিতে পাষাণ
- নিশীতে
- মণিহার
- কঙ্কাল 

অন্যদিকে,
দেনাপাওনা, যজ্ঞস্বরের যজ্ঞ ও অনধিকার প্রবেশ - তাঁর সমাজ সমস্যামূলক ছোটগল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২০৯.
কার সম্পাদনায় 'সংবাদ প্রভাকর' প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- এটি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
-  প্রথম প্রকাশের তারিখ ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি, শুক্রবার (১৬ মাঘ, ১২৩৭ বঙ্গাব্দ)।
- ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন সংবাদ প্রভাকর বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।
- ১৮৫৩ সাল থেকে পত্রিকাটির মাসিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- ১৮৪০ ও ১৮৫০-এর দশকে পত্রিকাটি নারীশিক্ষা ও বিধবা-বিবাহের প্রতি সমর্থন প্রদান করা ছাড়াও কৌলীন্য প্রথার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাযুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন,
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ,
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ,
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,২১০.
'পদ্মাবতী' (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) নাটকে মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম কোন ছন্দের প্রয়োগ করেন?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. মুক্তক ছন্দ
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  4. সনেট
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
- 'অমিত্রাক্ষর' ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস নেই।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank verse।
- উনিশ শতকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্তের হাতে এ ছন্দের সুরমুক্তি ঘটে।
- অর্থাৎ, 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ প্রকৃত পক্ষে বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ।
- তিনি 'পদ্মাবতী' নাটকে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট এর প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা, 
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী। 

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম 
- একেই কি বলে সভ্যতা,  
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রো, 

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
৬,২১১.
বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ কোনটি?
  1. সারদা মঙ্গল
  2. বঙ্গসুন্দরী
  3. সাধের আসন
  4. নিসর্গ সন্দর্শন
ব্যাখ্যা
• ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)। 
- রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটি ১০টি সর্গে বিভক্ত। প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

• এ কাব্যে কবি বলেছেন-

''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

---------------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২১২.
কাজী মোতাহার হোসেন কোন সংগঠন প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছিলেন?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  2. সাহিত্যিক সমিতি
  3. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
  4. নজরুল ইনস্টিটিউট
ব্যাখ্যা
কাজী মোতাহার হোসেন:
- ‘শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৭৫ সালে।
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিতি,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২১৩.
কলকাতায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭)
- রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২১৪.
মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক কবি কে?
  1. মালাধর বসু
  2. কৃত্তিবাস ওঝা
  3. শ্রীকর নন্দী
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
⇒ কবীন্দ্র পরমেশ্বর ও পরাগলী মহাভারত: 
- বাংলা ভাষায় মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি ছিলেন ‘পরাগলী মহাভারতের' লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- গৌড়েশ্বর সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সেনাপতি লস্কর পরাগল খানের উৎসাহে কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন বলে কাব্যটি পরাগলী মহাভারত নামে খ্যাত।
- পরাগল খাঁ মহাভারতের  যুদ্ধকাহিনি শুনে মুগ্ধ হন এবং তা সংক্ষিপ্ত আকারে একদিনে শোনার উপযোগী করে রচনা করার জন্য সভাকবি কবীন্দ্র পরমেশ্বরকে নির্দেশ দেন।
- মহাভারত মুখ্যত রাজবংশের ইতিহাস বলে শাসকদের কাছে তা উপভোগ্য হওয়ার অধিকারী ছিল।
- পরাগল খাঁর এই নির্দেশে কবি খুব সংক্ষেপে মহাভারত অনুবাদ করেন।

• তাছাড়া:  
- কৃত্তিবাস ওঝা অনুবাদকৃত গ্রন্থ - রামায়ণ। 
- মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- শ্রীকর নন্দী রচিত গ্রন্থ 'ছুটিখানি' মহাভারত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
৬,২১৫.
নিচের কোন চলচ্চিত্রের সাথে হুমায়ুন আহমেদের নামটি জড়িত নয়?
  1. শ্রাবণ মেঘের দিন
  2. দুই দুয়ারী
  3. আগুনের পরশমণি
  4. গেরিলা
ব্যাখ্যা

- হুমায়ূন আহমেদ,  (১৯৪৮-২০১২) কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণে সার্থক
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)। 
- অন্যান্য চলচ্চিত্র :
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০),
- দুই দুয়ারী (২০০১), 
- চন্দ্রকথা (২০০৩), 
- নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭)
- আমার আছে জল (২০০৮)।

- গেরিলা চলচ্চিত্রটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস 'নিষিদ্ধ লোবান' অবলম্বনে নাসিরুদ্দিন ইউসুফ নির্মাণ করেন।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

৬,২১৬.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. খসড়া
  2. মাটির দেয়াল
  3. অভিজ্ঞান বসন্ত
  4. অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী কাব্যগ্রন্থ - অনল প্রবাহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২১৭.
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থে মোট কয়টি কবিতা আছে?
  1. ১৪টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ারা, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,২১৮.
কোন লেখকের পিতৃদত্ত নাম "গন্ধর্বনারায়ণ"?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

দীনবন্ধু মিত্র:
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

• দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

• দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

• নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,২১৯.
কোনটি আলী আহসানের কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) ইডিপাস
  2. খ) সতত স্বাগত
  3. গ) আমার সাক্ষ্য
  4. ঘ) সহসা সচকিত
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ আলী আহাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

অনুবাদগ্রন্থঃ
- হুইটম্যানের কবিতা,
- ইডিপাস।

প্রবন্ধ:
- সতত স্বাগত।

আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

 
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২২০.
কার সম্পাদনায় মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) বনফুল
  2. খ) বীরবল
  3. গ) টেকচাঁদ ঠাকুর
  4. ঘ) ডি. এল. রায়
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা। 

- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- তিনি ‘বীরবল’ ছদ্মনামে ওনেক রচনা প্রকাশ করেন।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২২১.
'বৈকুণ্ঠের খাতা' প্রহসনের রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. মাইকেল মধুসূধন দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'বৈকুণ্ঠের খাতা' প্রহসন:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় প্রহসন।
- এক আত্মভোলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনির কেন্দ্র।
- তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা।
- সংলাপের দ্যুতি এবং আচরণের নাটকীয়তা নাটকটির জনপ্রিয়তার মূলে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য প্রহসন:
- চিরকুমার সভা,
- হাস্যকৌতুক,
- শেষ রক্ষা,
- গোড়ায় গলদ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনিই ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২২২.
পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত বিখ্যাত 'কবর' নাটকে কতটি পঙ্‌ক্তি রয়েছে?
  1. ক) ১১১টি
  2. খ) ১১৫টি
  3. গ) ১১৮টি
  4. ঘ) ১২১টি
ব্যাখ্যা
• 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর। 
৬,২২৩.
নজরুলের কোন সাহিত্যকর্মে ‘জাহাঙ্গীর’ চরিত্রটি দেখা যায়?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. মরুভাস্কর
  3. কুহেলিকা
  4. বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা

• ‘জাহাঙ্গীর’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসের নায়ক

• 'কুহেলিকা':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

• এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাসসমূহ:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

তথ্যসূত্র:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।

৬,২২৪.
'অশনি সংকেত' উপন্যাস কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. পঞ্চাশের মন্বন্তর
  3. নীল বিদ্রোহ
  4. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা

 'অশনি সংকেত' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি। এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২২৫.
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. সামাজিক রীতিনীতি
ব্যাখ্যা
আরেক ফাল্গুন:
- আরেক ফাল্গুন জহির রায়হানের লেখা ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা একটি উপন্যাস।
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক রচিত সাহিত্যকর্ম গুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা সাহিত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই বইটিকে।
- সিপাহী বিদ্রোহের নির্মম স্মৃতি বিজরিত ভিক্টোরিয়া পার্কের বর্ননা দিয়ে ঔপন্যাসিক উপন্যাসের সূচনা করেন।
- এই উপন্যাসের কাহিনীর স্থিতিকাল মাত্র তিনদিন দুই রাত। 
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৮ সালে।

উল্লেখ্য,
- জহির রায়হান চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
- তাঁর লিখিত অন্যান্য বইগুলি হচ্ছে শেষ বিকেলের মেয়ে, হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী এবং আর কত দিন।
- তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র হলো: কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, আনোয়ারা, সঙ্গম এবং বাহানা। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ৮ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো।
        iii) শিক্ষক বাতায়ন।
৬,২২৬.
‘কে কথা কয়’ - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান আজিজুল হক
  2. খ) হুমায়ুন আহমেদ
  3. গ) দিলারা হাসেম
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
'কে কথা কয়' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদের 'কে কথা কয়' উপন্যাসে মতিন ও কমল নামের চরিত্রকে কেন্দ্র করে একটি শিশুর আত্মানুসন্ধান ও সত্যান্বেষণের প্রয়াস লক্ষ করা যায়।
- উপন্যাসে শিশু কমলের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে চাকরি পাওয়া মতিন কমলের সঙ্গে কাহিনিসূত্রে একটি বৃহৎবৃত্তে অধিভুক্ত হয়।
- উপন্যাসের শেষে কমল সত্যোন্বেষণে ব্যস্ত আর মতিন সত্যের জন্য প্রাণ দান করে।

হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- শ্যামল ছায়া।
- আগুনের পরশমণি।
- অনিল বাগচীর একদিন।
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২২৭.
'ধনধান্যে পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' - গানটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কোন নাটকে আছে?
  1. তারাবাঈ
  2. আনন্দ বিদায়
  3. সাজাহান
  4. মেবার পতন
ব্যাখ্যা
'ধনধান্যে পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' - গানটি্র রচয়িতা  দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
- তার 'সাজাহান' নাটকে গানটি আছে।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- ১৯ জুলাই, ১৮৬৩ সালে নদীয়ার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সমবেত কণ্ঠসঙ্গীতের প্রবর্তক।
- তিনি বাংলা নাটকে প্রথম দ্বন্দ্বমূলক চরিত্র সৃষ্টি করেছেন।

• নাটক:
• ঐতিহাসিক নাটক:
- সাজাহান: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক,
- মেবার পতন , 
- নূরজাহান, 
- প্রতাপসিংহ, 
- তারাবাঈ, 
- সিংহল বিজয়, 
- তাপসী।

রোমান্টিক নাটক:
সীতা, ভীষ্ম, সোহরাব- রুস্তম।

সামাজিক নাটক:
পরপারে, বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৬,২২৮.
“শেষের কবিতা” উপন্যাসের চরিত্র না কোনটি?
  1. ক) অমিত
  2. খ) লাবণ্য
  3. গ) রতন
  4. ঘ) কেতকী রায়
ব্যাখ্যা
‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। এ উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো- অমিত, লাবণ্য, কেতকী রায় এবং শোভনলাল ইত্যাদি।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২২৯.
"রাজলক্ষী" কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ঘরে-বাইরে
  2. শেষের কবিতা
  3. যোগাযোগ
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা

'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চোখের বালি' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনীর ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,২৩০.
বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যে কোন শাখার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত?
  1. প্রবন্ধ
  2. গীতিকবিতা
  3. নাটক
  4. কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২৩১.
রবন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বৈকুণ্ঠের খাতা’ কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. ছোটগল্প
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'বৈকুণ্ঠের খাতা':
- 'বৈকুণ্ঠের খাতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় একটি কৌতুক নাটক।
- এটি ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এক আত্মভােলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনির কেন্দ্র। তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা।
- সংলাপের দ্যুতি এবং আচরণের নাটকীয়তা নাটকটির জনপ্রিয়তার মূলে।
- নাটকটির কোনাে কোনাে চরিত্রে লেখকের আত্মীয়-বন্ধুর চরিত্রের ছায়াপাত ঘটেছে।

----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কিছু নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৩২.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন?
  1. ভ্রমণকারী বন্ধু
  2. নীললোহিত
  3. দৃষ্টিহীন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - নীল লোহিত।
- 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,২৩৩.
বাংলাদেশের প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন-
  1. ক) খোকা বাবুর খেলা
  2. খ) কিশোরদের মন
  3. গ) ঠাকুরমার ঝুলি
  4. ঘ) দাদা মশায়ের থলে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন- ঠাকুরমার ঝুলি

• ঠাকুরমার ঝুলি:
- 'ঠাকুরমার ঝুলি' বাংলাদেশের প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন।
- রূপকথার সাথে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্যও আছে।
- কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনী বর্ণিত হয়েছে এই গ্রন্থে।
- এ গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- গ্রন্থটি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- তিনি ঢাকা জেলার উলাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিশু সাহিত্যিক ও লোক সংগ্রাহক হিসেবে খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
- তিনি 'সুধা' নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত সংগৃহিত কাহিনী গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি।
- ঠাকুরদাদার ঝুলি।
- দাদা মশায়ের থলে।
- ঠানদিদির থলে।
- খোকা বাবুর খেলা।
- আমাল বই।
- কিশোরদের মন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৩৪.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক কোনটি?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. প্রসন্ন পাষাণ
  3. তরঙ্গভঙ্গ
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা

‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক ‘তরঙ্গভঙ্গ’।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
-  এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে - বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।
- এ নাটকের একটি সংলাপ ‘ভেবেছিলেন জজ  সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।’

উল্লেখ্য,
- প্রসন্ন পাষাণ - রশীদ করীম রচিত উপন্যাস।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,২৩৫.
'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরনে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।"- উৎসর্গ পত্রটি কার রচনা?
  1. সত্যেন্দ্রনাত দত্ত
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সত্যেন সেন
  4. সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন। 
- এ কাব্যগ্রন্থের উৎসর্গ পত্রে লিখা ছিলো- 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরনে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।" 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আকাশ-প্রদীপ’ কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন। 

---------------------
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
- সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্যগ্রন্থ:  
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

প্রবন্ধগদ্য:
• স্বগত ,
• কুলায় ও কালপুরুষ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
৬,২৩৬.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২৯ সালে
  3. ১৯৩১ সালে
  4. ১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

• 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নক্সী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford. ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,২৩৭.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রমধর্মী রচনা?
  1. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  2. খোয়াবনামা
  3. দুধভাতে উৎপাত
  4. দোজখের ওম
ব্যাখ্যা
• আলোচিত অপশনগুলোর মধ্যে - 'খোয়াবনামা' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস।
- অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য রচনাগুলো আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্পগ্রন্থ।

• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:

- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন , ১৯৪৩ সালের- এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন , সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। 
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন। 
------------------------------------ 
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৬,২৩৮.
আহসান হাবীব কত সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) ১৯৬১
  2. খ) ১৯৭৮
  3. গ) ১৯৪৭
  4. ঘ) ১৯৬২
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব মূলত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক।
• আহসান হাবীব রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ (১৯৪৭)।
১৯৬২ সালে তাঁর রচিত ‘ছায়াহরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর, 
- আশায় বসতি, 
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুই হাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা, 
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য নীলিমা ও 
- রানী খালের সাঁকো। 

উৎস: বাংরা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৬,২৩৯.
“কাব্যের মুক্তি” - কার রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
পঞ্চপান্ডবের অন্যতম কবি - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রবন্ধঃ কাব্যের মুক্তি। এটিকে আধুনিক বাংলা কবিতার ইশতেহার হিসাবে গণ্য করা হয়। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৬,২৪০.
‘বনস্পতি’ গল্পটি রচনা করেন কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. সোমেন চন্দ
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক। তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ইঁদুর’ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- তিনি ঢাকার  প্রগতি লেখক সংঘ-এর সঙ্গে যুক্ত হন এবং মার্কসবাদী রাজনীতি ও সাহিত্যচর্চা শুরু করেন।
- তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিভিন্ন গল্পে গণচেতনা ও অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বলেছেন।
- সংঘের ক্রান্তি (১৯৪০) নামক সংকলনে তাঁর ‘বনস্পতি’ গল্পটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৪১.
'পদ্মিনী শঙ্খিনী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) শহীদ কাদরী
  4. ঘ) সানাউল হক
ব্যাখ্যা
'পদ্মিনী শঙ্খিনী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা সানাউল হক

সানাউল হক:
- হক, সানাউল (১৯২৪-১৯৯৩)  কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ। জন্ম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে, ১৯২৪ সালের ২৩ মে।
- সানাউল হক ছিলেন একজন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।
- চলি­শের দশকের একজন খ্যাতিমান কবি হিসেবে সানাউল হক পরিচিতি লাভ করেন। কবিতার কতকগুলি বৈশিষ্ট্য—শব্দ-ব্যবহার, ছন্দ-বিন্যাস এবং উপমা-অলঙ্কার নির্মাণ ছাড়াও তাঁর কবিতায় প্রেমানুভূতি ও মানবতাবোধ ধ্বণিত হয়েছে।
• নদী ও মানুষের কবিতা,
• সম্ভবা অনন্য,
• সূর্য অন্যতর,
• বিচূর্ণ আর্শিতে,
• একটি ইচ্ছা সহস্র পালে,
• কাল সমকাল প্রভৃতি।
এসব কাব্যগ্রন্থে সানাউল হক মানবজীবন ও জগতের ছবি আকার চেষ্টা করেছেন, সমকালের কবিমহলে এবং পাঠকদের কাছে তা সমাদৃত হয়। বিশেষভাবে তাঁর স্বদেশপ্রেমের কবিতাগুলি পাঠককে আকৃষ্ট করে।

তাঁর কবিতায় তাঁর ব্যক্তিত্বকে প্রত্যক্ষ করা যায়- যেখানে তিনি সমস্যা ও সম্ভাবনায় কখনও আশাহত, কখনও আনন্দিত। তাঁর অন্যান্য
কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো:
পদ্মিনী শঙ্খিনী,
• প্রবাসে যখন, 
• বিরাশির কবিতা,
• উত্তীর্ণ পঞ্চাশ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- তাঁর বন্দর থেকে বন্দরে (১৯৬৪) নামক অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ-কাহিনী বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২৪২.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' কোন লেখক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র 
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুণ একজন কবি, সাংবাদিক ৷ 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা “সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র ব্যবহৃত ছদ্মনাম হলো - লেখরাজ সমান্ত।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

৬,২৪৩.
'হযবরল' কার লেখা?
  1. সুকুমার রায়
  2. সত্যেন সেন
  3. সুফিয়া কামাল
  4. রণেশ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা

- "হযবরল" হল সুকুমার রায় রচিত একটি রম্য গল্প। যা প্রকাশ হয়েছিল ১৯২১ সালে।

সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগলো হলো:
- কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'হ-য-ব-র-ল' গ্রন্থ।

৬,২৪৪.
সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ‘সমকাল' কী ধরণের সাহিত্য পত্রিকা?
  1. বার্ষিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. মাসিক
  4. দৈনিক
ব্যাখ্যা
• ‘সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।
- 'সমকাল' ছাড়াও তিনি দৈনিক ইত্তেফাক (সহযোগী সম্পাদক) ও দৈনিক মিল্লাত (সহযোগী সম্পাদক) পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

---------------------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:
- তিনি ১৯১৯ সালে তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক।
- 'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদক করে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- সমকাল ছাড়াও নবযুগ, সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত গান- আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই।

• তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি:
কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- তিমিরান্তক।

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- পূরবী,
- নবী কাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৪৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য নয় কোনটি?
  1. চিত্রা
  2. অগ্নিবীণা
  3. সোনার তরী
  4. সেজুঁতি
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখ্‌
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

অন্যদিকে: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তার সাহিত্যকর্ম:

উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

নাটক: 

- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- ডাকঘর, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকবরী, 
- তাসের দেশ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,২৪৬.
'পঞ্চতন্ত্র'- গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সত্যেন সেন
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
- 'পঞ্চতন্ত্র' সৈয়দ মুজতবা আলী'র একটি- রম্যরচনা।
- এটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি তাঁর দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত সংকলন। 
- এটি প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন। 

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 

ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়। 

উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী। 

ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৬,২৪৭.
"মহাশ্মশান" মহাকাব্যের রচনার পটভূমি কী?
  1. পলাশীর যুদ্ধ
  2. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  3. বক্সারের যুদ্ধ
  4. ফকির বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
• "মহাশ্মশান "
-  কায়কোবাদ রচিত "মহাশ্মশান " - একটি মহাকাব্য। 
- কাব্যটির ঐতিহাসিক পটভূমি হলো তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ (১৭৬১)।
- তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধে মহারাষ্ট্রীয়দের পরাজয় এবং আহমদ শাহ আবদালীর বিজয় বর্ণনা কাব্যটির বিষয়বস্তু।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- এর মধ্যে প্রথম খণ্ডে ২৯ সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪ সর্গ এবং তৃতীয় খণ্ডে ৭ সর্গ রয়েছে।

• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি,।
- তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা ।
- আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৬,২৪৮.
'ইছামতী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ভূদেব মুখোপাধ্যায়
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ইছামতী:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:

- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিতা,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ।

উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২৪৯.
নিচের কোনটি সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ?
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
  3. ভাষাপ্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  4. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়: 
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৯৩৬ সালে কলকাতার রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)। 
- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'ভাষা-প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' রচনা করেন ১৯৩৯ সালে।

অন্যদিকে: 

- ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত ব্যাকরণগ্রন্থ 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' (১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দ)।
- ড.মুহম্মদ এনামুল হক রচিত ব্যাকরণগ্রন্থ 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' (১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে)।
- রাজা রামমোহন রায় ১৮৩৩ সালে বাংলা প্রথম ব্যাকরণ (গৌড়ীয় ব্যাকরণ) গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,২৫০.
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা
• ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব:
-  মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব'।
- বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও বিশে­ষণ রয়েছে এই গ্রন্থে।
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে। ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন। ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়।

--------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৫১.
'বাঙালীর একমাত্র ভরসা তৈল' - কে বলেছিলেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) উপরের কেউই নয়
ব্যাখ্যা
বাঙালীর বল নাই, বিক্রম নাই, বিদ্যাও নাই, বুদ্ধিও নাই। সুতরাং বাঙালীর একমাত্র ভরসা তৈল — বাঙালীর যে কেহ কিছু করিয়াছেন, সকলই তৈলের জোরে, বাঙালীদিগের তৈলের মূল্য অধিক নয়; এবং কি কৌশলে সেই তৈল বিধাতৃপুরুষদিগের সুখসেব্য হয়, তাহাও অতি অল্পলোক জানেন। যাঁহারা জানেন, তাঁহাদিগকে আমরা ধন্যবাদ দিই। তাঁহারাই আমাদের দেশের বড় লোক, তাঁহারাই আমাদের দেশের মুখ উজ্জ্বল করিয়া আছেন।
- তৈল প্রবন্ধ, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ এর আবিষ্কারক।
- 'কাঞ্চনমালা' ও 'বেণের মেয়ে' তাঁর রচিত উপন্যাস।
- তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা, প্রাচীন বাংলার গৌরব, মেঘদূত ব্যাখ্যা, ভারত মহিলা, বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,২৫২.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পধর্মী উপন্যাস?
  1. দুইবোন
  2. চার অধ্যায়
  3. যোগাযোগ
  4. চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• চতুরঙ্গ:
- 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- চতুরঙ্গ ছোটগল্পধর্মী উপন্যাস।
- এটি একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
- এটিকে রবীন্দ্রনাথের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে বিবেচিত হয়।
- চতুরঙ্গ উপন্যাসের চারটি অঙ্গ, যথা: জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
- এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২৫৩.
শরৎচন্দ্রের ‘দেবদাস’ রচনাটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ভারতবর্ষ
  2. খ) তত্ত্ববোধিনী
  3. গ) সমাচার চন্দ্রিকা
  4. ঘ) নবযুগ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ‘দেবদাস’ উপন্যাস ১৯১৭ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,২৫৪.
কোনটি শামসুর রাহমানের রচনা?
  1. নির্জন স্বাক্ষর
  2. যে আঁধার আলোর অধিক
  3. মাটি আর অশ্রু
  4. ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।

- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'রৌদ্র করোটিতে'। কবি তাঁর দ্বিতীয় কাব্যের জন্য আদমজী পুরস্কারে ভূষিত হন। পুরস্কারটি প্রদান করেছিলেন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান। 'হাতির শুঁড়' কবিতায় যাঁর ক্ষমতাগ্রহণকে তিনি ব্যঙ্গ করেছিলেন।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

-------------------
অন্যদিকে, 
• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস: নির্জন স্বাক্ষর। 
• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ: যে আঁধার আলোর অধিক।
• সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস: মাটি আর অশ্রু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৫৫.
‘আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হব’- উক্তিটি কোন লেখকের সাহিত্যকর্ম থেকে নেয়া?
  1. মুনির চৌধুরী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. জহির রায়হান
  4. শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা

"আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।"- বিখ্যাত উক্তিটি জহির রায়হান রচিত 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত।

​'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
​- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন 'উপন্যাসটি রচনা করেন।
​- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
​- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
​- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের বিখ্যাত একটি সংলাপ।

এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
​- মুমিন,
​- আসাদ,
​- রসুল,
​- সালমা।
​---------------------------
​জহির রায়হান:
​- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
​- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
​- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
​- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

​• তাঁর রচিত উপন্যাস​:
​- শেষ বিকেলের মেয়ে।
​- হাজার বছর ধরে।
​- আরেক ফাল্গুন।
​- বরফ গলা নদী।
​- আর কত দিন।
​- কয়েকটি মৃত্যু।

​​• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সিনেমা:
​- সোনার কাজল।
​- কাঁচের দেয়াল।
​- বেহুলা।
​- জীবন থেকে নেয়া।
​- আনোয়ারা।
​- সঙ্গম।
​- বাহানা।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,২৫৬.
কোনটি জহির রায়হানের উপন্যাস নয়?
  1. ক) বরফ গলা নদী
  2. খ) হাজার বছর ধরে
  3. গ) কয়েকটি মৃত্যু
  4. ঘ) শবনম
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'শবনম' জহির রায়হানের রচিত উপন্যাস নয়।
- সৈয়দ মুজতবা রচিত উপন্যাস হচ্ছে 'শবনম'

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সিনেমা:
- সোনার কাজল।
- কাঁচের দেয়াল।
- বেহুলা।
- জীবন থেকে নেয়া।
- আনোয়ারা।
- সঙ্গম।
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৫৭.
‘পথের শেষ কোথায়' গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
  3. আবু সায়ীদ আইয়ুব
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• আবু সয়ীদ আইয়ুব:
- আবু সয়ীদ আইয়ুব (১৯০৬-১৯৮২)  বুদ্ধিজীবী ও দার্শনিক।
- কলকাতায় ওয়েলেসলি স্ট্রিটে পিতামহের বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- বাংলা সাহিত্যে আবু সায়ীদ আইয়ুবের অবদানের প্রধান ক্ষেত্র হল প্রবন্ধ।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রবন্ধকে একটি গভীর ও পরিপূর্ণ রচনা রূপ দেন।
- তাঁর প্রবন্ধগুলিতে দার্শনিক চিন্তা, সমাজ-রাজনীতির বিশ্লেষণ এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির গভীর পর্যবেক্ষণ পাওয়া যায়।
- রবীন্দ্রনাথ, গালিব প্রভৃতি কবিদের কাজ সম্পর্কে তাঁর গভীর বিশ্লেষণাত্মক প্রবন্ধগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সাহিত্য চর্চাকে তিনি উন্নীত করে তুলেছেন তাঁর সূক্ষ্ম প্রবন্ধরচনার মাধ্যমে।

তাঁর প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবিভ্রাট ও অপরোক্ষানুভূতি,
- সুন্দর ও বাস্তব,
- পথের শেষ কোথায়।

তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ।

- আবু সয়ীদ আইয়ুব ১৯৬৯ সালে ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’, ১৯৭০ সালে দিল্লির ‘সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার’ এবং ১৯৭১ সালে বিশ্বভারতীর ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি লাভ করেন।
-  ১৯৮০ সালে টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাঁকে ‘রবীন্দ্র তত্ত্বনিধি’ উপাধি প্রদান করে। - ১৯৮২ সালের ২১ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, [মূল প্রশ্নে লেখকের নাম আবু সায়ীদ আইয়ুব বলা আছে আর বাংলাপিডিয়া তে আবু সয়ীদ আইয়ুব দেওয়া আছে ]

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,২৫৮.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. চক্রবাক
  2. পদ্ম-গোখরো
  3. সঞ্চয়িতা
  4. ঝিঙে ফুল
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সঞ্চয়িতা:
- 'সঞ্চয়িতা' (১৯৩১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নিজ কবিতার সংকলন।
- 'সঞ্চয়িতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সংকলিত গ্রন্থ।
- কবিতাগুলি কালানুক্রমিকভাবে সজ্জিত। 'সান্ধ্যসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতাগুলি এতে সংকলিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত শিশু বিষয়ক কবিতার বই - ঝিঙে ফুল।
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ছোটগল্প: পদ্ম-গোখরো।
• 'চক্রবাক' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৫৯.
রবীন্দ্রনাথের ‘পুনশ্চ’ কোন ধরণের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. ভ্রমণ কাহিনী
  3. নাটক
  4. প্রহসন
ব্যাখ্যা
'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্যছন্দে রচিত প্রথম ও সার্থক কাব্যগ্রন্থ।
- রবীন্দ্রনাথের কাব্যের ইতিহাসে তথা আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে এই কাব্যের ভূমিকা বৈপ্লবিক।
- গদ্য কবিতার অসংকোচ প্রতিষ্ঠা হলো এই কাব্যে।
- এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ছেলেটা,
- শেষ চিঠি,
- ক্যামেলিয়া,
- সাধারণ মেয়ে,
- বাঁশি,
- খ্যাতি ইত্যাদি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
-  তিনি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত।
-  ১৮৭৬ সালে পনের বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ বনফুল।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো:
- মানসী, 
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা, 
- জন্মদিন্‌
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস:
১)  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২)  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,২৬০.
কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্ত নয় কোনটি?
  1. লোক লোকান্তর
  2. কালের কলস
  3. কাবিলের বোন
  4. বখতিয়ারের ঘোড়া
ব্যাখ্যা
• ‘কাবিলের বোন’ উপন্যাস:
- কবি আল মাহমুদ রচিত ‘কাবিলের বোন’ একটি উপন্যাস।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।
- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব- মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া- পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ।
- শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

• আল মাহমুদ:

- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল  ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘কাবিলের বোন’ উপন্যাস।
৬,২৬১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ 
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. দিজেন্দ্রলাল রায় 
ব্যাখ্যা

• 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' বিহারীলাল চক্রবর্তীকে গীতি কাব্য-ধারার 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেছেন।

'ভোরের পাখি' বলার কারণ:
বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করেন। এক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম। তাই তাকে 'ভোরের পাখি' বলা হয়েছে।

--------------------
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী। তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা 'বঙ্গসুন্দরী'।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদামঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল।

উল্লেখ্য, 
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়। রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে 'কবিকঙ্কণ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,২৬২.
‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আতাউর রহমান
  4. ঘ) মোঃ আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' (১৯৬৮) গ্রন্থটির রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ।
- এটি একটি রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ।
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ হলো: ‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ (১৯৭৩)।
-------------- 
আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না  ও
- ফুড কনফারেন্স।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- সত্যমিথ্যা 
- জীবন ক্ষুধা ও
- আবে-হায়াৎ।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৬৩.
'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি নাম কোনটি?
  1. Field of the  Embroidery Flowers
  2. The Woven Carpet 
  3. The Field of Embroidered Quilt
  4. Field of the  Embroidery Threads
ব্যাখ্যা

নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি নাম: Field of the Embroidery Quilt.
------------------------------------------
• নকশী কাঁথার মাঠ:
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নকশী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford.  
- ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী।
----------------------------------------------------
জসীম উদ্দীন :
- জসীম উদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটির জন্য তাকে পল্লীকবি উপাধি দেয়া হয়।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কাব্য:
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- রাখালী,
- ভোর হইলো দোর খোলো, প্রভৃতি।

• জসীম উদ্দীনের উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনীগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশে, এবং
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৬,২৬৪.
মধ্যযুগের কবি নন কে?
  1. ক) এন্টনি ফিরিঙ্গি
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) বনফুল
  4. ঘ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের কবি নন বনফুল বা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়। 
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় আধুনিক যুগের কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার। তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে পরিচিত।
- জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী গ্রামে।

• এন্টনি ফিরিঙ্গি ছিলেন মধ্যযুগের একজন কবিয়াল। প্রকৃত নাম হেনসম্যান এন্টনি (Hensman Anthony)। তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিস্টান। পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরের ফরাসডাঙায় তিনি বসবাস করতেন।
• বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) ছিলেন মধ্যযুগের একজন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। 
• কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী  (আনু. ১৫৪০-১৬০০)  মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কবি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৬৫.
জ্ঞানবুদ্ধির চর্চা হয় নিচের কোনটির মধ্য দিয়ে?
  1. ক) উপকথা
  2. খ) প্রবাদ
  3. গ) ধাঁধাঁ
  4. ঘ) রূপকথা
ব্যাখ্যা
- ধাঁধাঁ এর মধ্য দিয়ে জ্ঞানবুদ্ধির চর্চা হয়। 

• ধাঁধাঁ:
- লোকসাহিত্যে ‘ধাঁধাঁ’ অন্যতম প্রাচীন শাখা হিসেবে বিবেচিত।
- রূপকের সাহায্যে এবং জিজ্ঞাসার আকারে কোনো একটি ভাব সূক্ষ্ম বুদ্ধি ও চিন্তার অনুশীলনের মাধ্যমে ধাঁধাঁয় রূপায়িত হয়ে থাকে।
- মানুষ সুপ্রাচীনকাল থেকে ধাঁধাঁর ব্যবহার করে আসছে।  ধাঁধাঁর মধ্য দিয়ে জ্ঞানবুদ্ধির চর্চা হয়।

• প্রবাদ:
- প্রবাদ লোকসাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট শাখা।
- প্রবাদ বলতে বোঝায় মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি।
- ব্যক্তি ও সমাজজীবনের অভিজ্ঞতার ফলে প্রবাদের সৃষ্টি।

• উপকথা:
- পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনি গড়ে উঠেছে সেগুলোর নাম উপকথা।
- কৌতুকসৃষ্টি ও নীতিপ্রচারের জন্যে উপকথা'র সৃষ্টি।

রূপকথা:
- অন্যান্য লোককথার চেয়ে রূপকথার কাহিনি দীর্ঘতর হয়ে থাকে।
- রূপকথার মাধ্যমে এক অজানা রহস্যময় জগতের বিচিত্র কাহিনি শ্রোতার কাছে পরিবেশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল হক।
৬,২৬৬.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক কোনটি?
  1. চাকা
  2. বহিপীর
  3. কেরামতমঙ্গল
  4. হরগজ
ব্যাখ্যা
• 'বহিপীর' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত নাটক 'বহিপীর' ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর।
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বহিপীর,
- তাহেরা,
- হাতেম,
- আমেনা,
- হাশেম।
-----------------------
অন্যদিকে,
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- কেরামতমঙ্গল,
- চাকা,
- হরগজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৬৭.
‘অরণ্যের ডাক’ - আবুল হোসেনের কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
আবুল হোসেন রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ ‘নববসন্ত’(তাঁর প্রথম কাব্য গ্রন্থ, প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে), বিরস সংলাপ (১৯৬৯), হাওয়া তোমার কি দুঃসাহস (১৯৮২), দুঃস্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে (১৯৮৫), এখনও সময় আছে (১৯৯৬), রাজ রাজড়া (১৯৯৭), আর কিসের অপেক্ষা, রাজাকাহিনী।
‘আমার এই ছোট ভুবন’ হলো আবুল হোসেনের স্মৃতিকথা।
‘অরণ্যের ডাক’ (১৯৫৪) তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা]
৬,২৬৮.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. অনুরূপা দেবী
  2. শ্রী চট্টোপাধ্যায়
  3. শ্রীকান্ত শর্মা
  4. অন্নপূর্ণা দেবী
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,২৬৯.
'আয়না' আবুল মনসুর আহমদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'আয়না' গল্পগ্রন্থ:
- বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের ‘আয়না’ একটি কালজয়ী গ্রন্থ।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণীয় ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন,‘এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখায়।
- 'আয়না' বইয়ের প্রায় সব গল্পই ১৯২২ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে রচিত হলেও প্রায় একশ বছর পরও আয়না দেখে মনে হয় এতো বর্তমান সময়েরই আয়না।

গল্পগ্রন্থের অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- মনসুর-জীবনী,
- মনসুর-রচনা,
- মনসুর-সাহিত্য,
- ব্যঙ্গরচনা ও আয়না,
- আয়নার ফ্রেম : নজরুল ইসলাম,
- আবুল কালাম সামসুদ্দীন করকমলেষু,
- হুযুর কেবলা,
- গো-দেওতা-কো দেশ,
- নায়েকে নবী,
- লীডরে-কওম,
- মুজাদেহীন,
- বিদ্রোহী সংঘ,
- ধর্ম-রাজ্য। 

উৎস: 'আয়না' গল্পগ্রন্থ আবুল মনসুর আহমদে।
৬,২৭০.
"যেখানে ফ্রি-থিংকিং নেই, সেখানে কালচার নেই।" - উক্তি কার?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. আবুল হোসেন
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা

মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ 'সংস্কৃতিকথা' থেকে উদ্ধৃত কয়েকটি উক্তি:

- যেখানে ফ্রি-থিংকিং নেই, সেখানে কালচার নেই।
- ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার, আর কালচার শিক্ষিত, মার্জিত লোকের ধর্ম।
- কালচার মানে উন্নততর জীবন সম্বন্ধে চেতন-সৌন্দর্য, আনন্দ ও প্রেম সম্বন্ধে অবহিতি।
- জীবনের শ্রেষ্ঠ ও বহুভঙ্গিম প্রকাশ নিজের দিকে তাকিয়েই হয়, সমাজের দিকে তাকিয়ে নয়।
- সত্যকে ভালোবাসা, সৌন্দর্যকে ভালোবাসা, ভালোবাসাকে ভালোবাসা, বিনা লাভের আশায় ভালোবাসা, নিজের ক্ষতি স্বীকার করে ভালোবাসা-এরই নাম সংস্কৃতি।
- নিষিদ্ধ বস্তু সাধারণত ভীতি ও অতিরিক্ত আকর্ষণ-এই দুই মনোবৃত্তির সংঘর্ষ বাধিয়ে জীবনে বিকৃতি ঘটায়।
- অসংখ্য সূক্ষ্মচিন্তার বাঁধনে যে বাধা সে-ই তো ফ্রি-থিংকার আর ফ্রি-থিংকিং কালচারের দান।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) সংস্কৃতির কথা।

৬,২৭১.
'শেখ আজিজুর রহমান' এর সাহিত্যিক নাম কোনটি?
  1. শওকত আলী
  2. শামসুর রাহমান
  3. শওকত ওসমান
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
⇒ শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- পতঙ্গ পিঞ্জর, 
- রাজসাক্ষী, 
- জলাংগী, 
- পুরাতন খঞ্জর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৭২.
জীবনানন্দ দাশের উপাধি নয় কোনটি?
  1. ধুসরতার কবি
  2. তিমির হননের কবি
  3. নির্জনতার কবি
  4. ছান্দসিক কবি
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি।
- তাঁর পিতৃনিবাস বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক ছিলেন।
- তার মাতা কুসুমকুমারী দাশ একজন কবি ছিলেন।
- তিনি কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন ১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• উপাধি:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি। 

• সাহিত্যকর্ম:
- কাব্যগ্রন্থ: ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডু লিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা।
- উপন্যাস: মাল্যবান, সুতীর্থ।
- প্রবন্ধগ্রন্থ: কবিতার কথা।

উল্লেখ্য,
- 'ছান্দসিক কবি' উপাধিটি আব্দুল কাদিরের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২৭৩.
'প্রবাসের দিনগুলি' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
- 'প্রবাসের দিনগুলি' গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন জাহানারা ইমাম

• জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো একাত্তরের দিনগুলি।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
- পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি।
- অন্যজীবন
- বুকের ভিতর আগুন।
- নাটকের অবসান।
- নিঃসঙ্গ পাইন।
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস।
- প্রবাসের দিনগুলি।

• একাত্তরের দিনগুলি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৭৪.
‘জিনের বাদশা’ গল্পটি কাজী নজরুলের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রিক্তের বেদন
  2. ঝিলিমিলি
  3. ব্যথার দান
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা
'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

অন্যদিকে,
- ঝিলিমিলি হচ্ছে নজরুল রচিত তিনটি ছোট নাটকের একটি গ্রন্থ।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৭৫.
'বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. মােনায়েম সরকার
  2. এম. আর আখতার মুকুল
  3. শওকত ওসমান
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

- 'বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু' গ্রন্থটির লেখক মােনায়েম সরকার।
- এছাড়াও তার রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থগুলাের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযােগ্য গ্রন্থ হলােঃ
• বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্র বিকাশে ঐক্য অপরিহার্য,
• ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু,
• মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব,
• সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি,
• বাঙালি ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ,
• বঙ্গবন্ধু রাজনীতি ও শেখ হাসিনা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৬,২৭৬.
’’বিধাতা দেছেন প্রাণ, থাকি সদা ম্রিয়মাণ;- পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা-
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) তসলিমা নাসরিন
  3. গ) কুসুমকুমারী দাস
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
’’বিধাতা দেছেন প্রাণ
থাকি সদা ম্রিয়মাণ;
শক্তি মরে ভীতির কবলে,
পাছে লোকে কিছু বলে’’ এই লাইনদ্বয় নেওয়া হয়েছে কামিনী রায়ের ‘পাছে লোকে কিছু বলে ’ কবিতা থেকে।

• কামিনী রায়, (১৮৬৪-১৯৩৩) কবি ও সমাজকর্মী।
• ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
• ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য 
- পৌরাণিকী 
- গুঞ্জন ,
- মাল্য ও নির্মাল্য 
- অশোকসঙ্গীত 
- অম্বা 
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ 
- ঠাকুরমার চিঠি 
- দীপ ও ধূপ 
- জীবনপথে 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২৭৭.
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থটির লেখক কে? 
  1. আহমদ শরীফ
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. সুকুমার রায়
  4. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থটির লেখক -  মুহম্মদ আবদুল হাই।

মুহম্মদ আবদুল হাই:

- জন্ম: ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনিই ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রথম মুসলমান ছাত্র।
- মুহম্মদ আবদুল হাই ১৯৫৪ সালে বাংলা বিভাগের রিডার ও অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- A Phonetic and Phonological Study of Nasal and Nasalization in Bengali,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত।

ভ্রমণকাহিনী:
- বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৭৮.
'বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক কে?
  1. মনজুরুর রহমান
  2. জামিল চৌধুরী
  3. মুহম্মদ এনামুল হক
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

• 'বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক: 'জামিল চৌধুরী'। 

বাংলা একাডেমি প্রকাশিত কিছু অভিধান: 
• 'বাংলা একাডেমি ঐতিহাসিক অভিধান' এর সম্পাদক- মনজুরুর রহমান। 
• 'বাংলা একাডেমি আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌।
• 'বাংলা একাডেমি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক- আবু ইসহাক।
• 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক- আহমদ শরীফ।
• 'মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক- মোহাম্মদ আবদুল কাইউম।
• বাংলা একাডেমি বাংলা সাহিত্যকোষ' এর সম্পাদক- সেলিনা হোসেন ও নূরুল ইসলাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।

৬,২৭৯.
'কবর' নাটকের বিষয়বস্তু কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. বঙ্গভঙ্গ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,২৮০.
'ঠাকুরমার ঝুলি' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৮৭৭
  2. খ) ১৯০৭
  3. গ) ১৯০৯
  4. ঘ) ১৯৫৭
ব্যাখ্যা
'ঠাকুরমার ঝুলি' দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার রচিত রূপকথা আশ্রিত শিশুসাহিত্য। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯০৭ সালে।
রূপকথার সঙ্গে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্য ও আছে। কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। এই গল্পগুলি বলার গ্রামীণ রীতি ও ভাষা যথাসম্ভব অক্ষুণ্ন রেখে দক্ষিণারঞ্জন সম্পাদনা ও প্রকাশ করে চিরস্মরণীয় হয়েছেন।
১৮৭৭ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
১৯০৯ সালে 'ঠাকুরদাদার ঝুলি' প্রকাশিত হয়।
১৯৫৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৮১.
শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. হৃৎকলমের টানে
  3. রৌদ্র করোটিতে
  4. একক সন্ধ্যায় বসন্ত
ব্যাখ্যা
• ‘রৌদ্র করোটিতে’ (১৯৬৩) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা শামসুর রাহমান। এর জন্য তিনি আদমজী পুরস্কারে ভূষিত হন।

-------------------
শামসুর রাহমান:

• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ- হৃৎকলমের টানে। এবং ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
• ‘একক সন্ধ্যায় বসন্ত’ সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৮২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্রাজেডি নাটক কোনটি?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. কীর্তিবিলাস
  3. কুলীনকুলসর্বস্ব
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম - কীর্তিবিলাস
কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।

১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি
এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৬,২৮৩.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যুর পর 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কে রচনা করেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২৮৪.
নিচের কোনটি শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস?
  1. ক) উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ
  2. খ) অদ্ভুত আঁধার এক
  3. গ) রোদ্র করোটিতে
  4. ঘ) হরিণের হাড়
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান মোট ৪ টি উপন্যাস লিখেছেন। অক্টোপাস, অদ্ভুত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায়। তার কিছু কাব্যগ্রন্থঃ প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে; রোদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, বন্দী শিবির থেকে, আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি, শূন্যতায় তুমি শোকসভা, বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৮৫.
নিচের কোনটি বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. মাটির দেওয়াল
  2. চোরাবালি
  3. হারানো অর্কিড
  4.  অর্কেষ্ট্রা
ব্যাখ্যা

• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

অন্যদিকে,
• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- মাটির দেওয়াল,
- হারানো অর্কিড,
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ- অর্কেষ্ট্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,২৮৬.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধ?
  1. ক) পুতুলের বিয়ে
  2. খ) আমি সৈনিক
  3. গ) রিক্তের বেদন
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
রিক্তের বেদন কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ। পুতুলের বিয়ে- নাট্যগ্রন্থ, আমি সৈনিক- প্রবন্ধ। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ- যুগবাণী, দুর্দিনের যাত্রী, রাজবন্দীর জবানবন্দী, রুদ্রমঙ্গল, মন্দির ও মসজিদ ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,২৮৭.
"প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।"- বিখ্যাত উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দেবদাস
  2. চোখের বালি 
  3. চার অধ্যায়
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

• 'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো, 'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে।
- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত। উপন্যাসের চরিত্রে ইন্দ্রনাথ সন্ত্রাসবাদীদের নেতা। তিনি একদিকে অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য। ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মূখ্য কাহিনি।
- সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূলসুর। গ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বন্দীদের প্রতি উৎসর্গ করেন।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি "প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।"

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ।

উৎস: 'চার অধ্যায়' উপন্যাস; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস; মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২৮৮.
কোনটি প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. উপনয়ন
  2. প্রতিশোধ
  3. পুতুল ও প্রতিমা
  4. কুয়াশা
ব্যাখ্যা
• প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ - পুতুল ও প্রতিমা।

প্রেমেন্দ্র মিত্র:

- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত রচিত উপন্যাস:
- পাঁক,
- কুয়াশা,
- মিছিল,
- উপনয়ন ,
- আগামীকাল,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া,বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৬,২৮৯.
‘কালিকলম’ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. মুরলীধর বসু
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
  4. শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘কালিকলম’ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন না - সঞ্জয় ভট্টাচার্য
- ‘পূর্বাশা’ পত্রিকার সম্পাদক সঞ্জয় ভট্টাচার্য।

‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২৯০.
জর্জ কুম্ব এর "The Constitution of man considered in relation to external object" গ্রন্থের অবলম্বনে ‘বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধবিচার’ গ্রন্থটি রচনা করেন -
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার’:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ।
- ১৮৪৮ জানুয়ারি মাস থেকে এ পত্রিকায় অক্ষয়কুমার দত্তের দার্শনিক রচনা ‘বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার’ প্রকাশ শুরু হয়।
- ব্রিটিশ Phrenologist জর্জ কুম্ব (George Combe, ১৭৮৮-১৮৫৮)- এর "The Constitution of man considered in relation to external object (1828)" গ্রন্থের ভাব অবলম্বনে ভারতবর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে অক্ষয়কুমার দত্ত এটা লিখেছেন।
- রচনাটি পরে ১৮৫১ ও ১৮৫৩ সালে দুই খণ্ডে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২৯১.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা কোনটি?
  1. ক) শকুন্তলা
  2. খ) প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. গ) বেতাল পঞ্চবিংশতি
  4. ঘ) পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগ রচিত 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা
- প্রকাশিত হয় ১৮৯২ খ্রিষ্টাব্দে। 

- বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। এই গ্রন্থেই তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
-  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ- শকুন্তলা (১৮৫৪)। এটি সংস্কৃত কবি কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলা নাটকের 'আভজ্ঞান শকুন্তলম' নাটকের উপখ্যান ভাগের অনুবাদ।
- মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ। হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী- এর পদুমাবত অবলম্বনে পদ্মাবতী কাব্যটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৯২.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. দ্য ক্যাপটিভ লেডি
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম সাহিত্য চর্চা:
মধুসূদন ভাগ্যান্বেষণে ১৮৪৮ সালে মাদ্রাজ গমন করেন। মাদ্রাজে অবস্থানকালেই Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie (১৮৪৮) এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, 
হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।

তার রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।
৬,২৯৩.
'রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা' গল্পগ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা

আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩),
- পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪),
- সংকর সংকীর্তন (১৯৮০),
- দেয়াল (১৯৮৫)।
প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য (১৯৬৪),
- Sociology of Bengal Politics (১৯৭৩),
- সোচ্চার উচ্চারণ (১৯৭৭),
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি (১৯৮৮) ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থ:
- জীবন (১৯৪৮),
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮),
- ল্যাংড়ী (১৯৮৪)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৬,২৯৪.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ -
  1. উচ্চারণ
  2. উপদ্রুত উপকূল
  3. উত্তর ফাল্গুনী
  4. উত্তীর্ণ পঞ্চাশে
ব্যাখ্যা
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ - উপদ্রুত উপকূল
- গ্রন্থটি ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: অভিমানের খেয়া, আজীবন জন্মের ঘ্রানে, বাতাসে লাশের গন্ধ, অবরোধ চারিদিকে, প্রত্যাশার প্রতিশ্রুতি, জানালায় জেগে আছি, আমি সেই অভিমান, বিষবৃক্ষ ভালোবাসা, কৃষ্ণপক্ষে ফেরা ইত্যাদি। 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ 'উপদ্রুত উপকূল' (১৯৭৯) ও 'ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম' (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ - উচ্চারণ।
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ - উত্তর ফাল্গুনী।
• সানাউল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ - উত্তীর্ণ পঞ্চাশে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২৯৫.
‘আজহার’ চরিত্রটি জসীমউদ্‌দীনের কোন গ্রন্থে পাওয়া যায়?
  1. বোবা কাহিনী
  2. নক্সী কাঁথার মাঠ
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. পদ্মাপাড়
ব্যাখ্যা
• ‘বোবা কাহিনী’ উপন্যাস:
- ‘বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) জসীমউদ্‌দীন প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই । নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র :
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

-----------------
• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২৯৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষ কথা' ছোটগল্পটি কোন গল্পসংকলনের অন্তর্ভুক্ত?
  1. তিনসঙ্গী
  2. সে 
  3. লিপিকা
  4. গল্পগুচ্ছ 
ব্যাখ্যা

• 'শেষ কথা' ছোটোগল্প:
"শেষ কথা" হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বিখ্যাত ছোটগল্প, যা তাঁর 'তিনসঙ্গী' নামক গল্পসংকলনের অন্তর্ভুক্ত। যেখানে জীবন ও সম্পর্কের জটিলতাকে তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষত সম্পর্কের গভীরে থাকা সত্যের অনুসন্ধান এবং একটি অসমাপ্ত প্রেমের আখ্যান নিয়ে এই গল্পটি রচিত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কিছু গল্প হলো-
• অতিপ্রাকৃতিক গল্প:  ক্ষুধিত পাষাণ, নিশীতে, মণিহার, কঙ্কাল।
• আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি।
• সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: দেনাপাওনা, রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা, যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ, অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'শেষ কথা' ছোটগল্প।

৬,২৯৭.
'সরীসৃপ’ গল্পটি কার রচনা?
  1. এস ওয়াজেদ আলি
  2. মামুনুর রশীদ
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘সরীসৃপ’ গল্প:
 - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সরীসৃপ’ গল্পটি ১৯৪৩-এর আগেই লেখা। নির্মম এই গল্পে দুই নারী আর এক পুরুষের কাহিনি বিধৃত হয়েছে সম্পূর্ণ বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে।
- শেষ পর্যন্ত এটি নিছক ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনি নয়, বরং মানব চরিত্র উন্মোচক হয়েই পাঠকের মনে রয়ে যায়।

- গল্পটিতে লেখক মানুষ নামক প্রাণীটির ঠিক কোন দিকটাতে ইঙ্গিত করেছেন, তা শেষ বাক্যে মোটামুটি পরিষ্কার হচ্ছে: ‘ঠিক সেই সময় মাথার উপর দিয়া একটি এরোপ্লেন উড়িয়া যাইতেছিল। দেখিতে দেখিতে সেটা সুন্দরবনের উপর পৌঁছে গেল। মানুষের সঙ্গ ছাড়িয়া বনের পশুরা যেখানে আশ্রয় লইয়াছে।’ অর্থাৎ মানুষ এমন এক প্রাণী, বনের পশুরাও যার মুখ দেখতে চাইবে না।

- এই গল্পে যৌনতা একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তবে সেই বিশেষও আলাদা বিশেষত্ব পেয়েছে লেখকের কলমে। লেখকে দেখিয়েছেন যে যৌনতাও স্রেফ শরীরের তাড়না নয়, বরং হতে পারে কুৎসিতভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গল্পের চরিত্রগুলো হলো-
- বনমালী,
- চারু এবং 
- পরী। 

-----------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখযোগ্য কিছু গল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- মিহি ও মোটা কাহিনী,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: ‘সরীসৃপ’ গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৬,২৯৮.
কোন বইটি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নয়?
  1. শেষের কবিতা
  2. দোলন-চাঁপা
  3. সোনার তরী
  4. মানসী
ব্যাখ্যা
• কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সাহিত্যকর্ম নয়- দোলনচাঁপা।

-----------------------------
• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন-চাঁপা'। কবি তখন রাজবন্দী ছিলেন।
- এতে ২১টি কবিতা আছে। প্রথম কবিতা- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।   
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম- প্রধান কবিতার বই।  

এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো :
- বেলা শেষে,
- পুবের চাতক, 
- পূজারিণী, 
- কবি-রানী, 
- অবেলার ডাক। 

অন্যদিকে,
- মানসী ও সোনার তরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ।
৬,২৯৯.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. সুকুমার সেন
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'দীনেশচন্দ্র সেন'। 

• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য': 
- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (১৮৯৬)- বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
- বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয় এর বর্ণনা রয়েছে।
- বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (১৯১৪), বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, বৃহৎবঙ্গ (প্রাচীনকাল থেকে পলাশী যুদ্ধ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস)– গ্রন্থগুলো ড. দীনেশচন্দ্র সেন রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত- মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান কর্তৃক রচিত।
- দীনেশচন্দ্র সেন রচিত আরো উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো: History of bengali Language and Literature, বাংলার পুরনারী, প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান, হিন্দু সমাজ ও বৈষ্ণব ধর্ম, ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য, রামায়ণী কথা, কৃত্তিবাসী রামায়ণ।
- দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদনা করেন– মৈমনসিংহ গীতিকা এবং পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
৬,৩০০.
মুনীর চৌধুরীর ইতিহাস আশ্রিত নাটক কোনটি?
  1. ক) কবর
  2. খ) মুখরা রমণী বশীকরণ
  3. গ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. ঘ) দন্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা
'রক্তাক্ত প্রান্তর' (১৯৬২) মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট এই নাটকটি রচিত৷ এটি একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক৷
'মুখরা রমণী বশীকরণ' উইলিয়াম শেকসপিয়ারের The Taming of the Shrew গ্রন্থের অনুবাদ৷ এটি সর্বাংশে কমেডি৷
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য নাট্যকলার সংমিশ্রণে 'দন্ডকারণ্য' রচিত হয়৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর