বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা / ১৭৪ · ৫০১৬০০ / ১৭,৪৩৭

৫০১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক কোনটি?
  1. সাজাহান
  2. নূরজাহান
  3. মেবার পতন
  4. প্রতাপ-সিংহ
ব্যাখ্যা

• 'সাজাহান' নাটক:
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয়। নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক। নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
- তারাবাঈ,
- প্রতাপ-সিংহ,
- দুর্গাদাস,
- নূরজাহান,
- মেবার পতন,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫০২.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে- 
  1. ১৯৭৫ সালে 
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে কবি কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালী পল্টনে যোগদান করে করাচি যান।
- ১৯৪২ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাকশক্তিরহিত দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন।
- বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধি প্রদান করে।
- কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কলকাতা থেকে সরকারি উদ্যোগে সপরিবার ঢাকায় আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়।
- ১৯৭৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য,
২০২৪ সালে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ মে থেকে তাঁকে বাংলাদেশের 'জাতীয় কবি' ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
- ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো।

৫০৩.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কোন বিখ্যাত পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন?
  1. ক) কল্লোল
  2. খ) কালিকলম
  3. গ) কবিতা
  4. ঘ) পরিচয়
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কোন 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যঅচর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।  
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’-এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০৪.
সৈয়দ শামসুল হকের ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ নাটকে কোন অঞ্চলের বিদ্রোহের কথা বলা হয়েছে?
  1. পঞ্চগড়
  2. রংপুর
  3. নোয়াখালী
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হকের ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ নাটকে রংপুর অঞ্চলের বিদ্রোহের কথা বলা হয়েছে।
-------------- 
• 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য: 

- 'নূরলদীনের সারাজীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
- ১৭৮৩ এর কৃষক আন্দোলনের বিষয়বস্তু তুলে ধরেছেন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত। 

• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নূরলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০৫.
‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'- অবিস্মরণীয় আহ্বানটির স্রষ্টা কে?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সেলিম আল দীন
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• নূরলদীনের সারাজীবন:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নুরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহ্বান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।


• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫০৬.
'মায়া মালঞ্চ' বুদ্ধদেব বসু রচিত- 
  1. উপন্যাস 
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক‌
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• মায়া মালঞ্চ বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক।
• বুদ্ধদেব বসু:

- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫০৭.
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম -
  1. কমলাকান্ত
  2. পরশুরাম
  3. বনফুল
  4. বীরবল
ব্যাখ্যা
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - বনফুল

অন্যদিকে,
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - কমলাকান্ত।
• রাজশেখর বসুর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - পরশুরাম।
• প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - বীরবল।

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে।
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন।
- সম্পাদনা করেন 'বিকাশ' (১৯১৫) নামে হাতে-লেখা একটি সাহিত্যপত্রিকা।
- তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় নিসর্গ চেতনা, প্রেম ও আত্ম-উপলব্ধি।
- ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বনফুলের কবিতা,
- অঙ্গারপর্ণী,
- চতুর্দশী, 
- আহবনীয়,
- করকমলেষু,
- বনফুলের ব্যঙ্গ কবিতা,
- নতুন বাঁকে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তৃণখণ্ড,
- জঙ্গম (তিন খণ্ড),
- অগ্নি, 
- ডানা (তিন খণ্ড),
- স্থাবর,
- অগ্নীশ্বর,
- হাটেবাজারে,
- ত্রিবর্ণ,
- ভুবনসোম,
- প্রচ্ছন্ন মহিমা, 
- উদয় অস্ত ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প, 
- বিন্দু বিসর্গ, 
- অদৃশ্যলোকে,
- তন্বী,  
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী, 
- বহুবর্ণ,
- বনফুলের নতুন গল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫০৮.
বাংলা ভাষার প্রথম নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদপত্র কোনটি?
  1. দিগ্‌দর্শন
  2. সমাচার দর্পণ
  3. বেঙ্গল গেজেট
  4. মিরাৎ-উল-আখবার। 
ব্যাখ্যা

সমাচার দর্পণ:
- ১৮১৮ সালের ২৩ মে শ্রীরামপুর মিশন থেকে সমাচার দর্পণ প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা ভাষার প্রথম নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদপত্র হিসেবে পরিচিত।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত।

- এর আগে ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে ‘দিগ্দর্শন’ নামে একটি সাময়িকী প্রকাশিত হয়েছিল।
- সমাচার দর্পণের মাধ্যমে নানা ধরনের সংবাদ ছাপা হতো।
- যেমন—
- রাজকর্মচারীদের নিয়োগ, বিদেশি সংবাদ, বাণিজ্যিক খবর, জন্ম-বিবাহ-মৃত্যু, প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও বইয়ের বিবরণ, আইন ও হুকুম সম্পর্কিত তথ্য, এবং ইউরোপীয় বই ও কলকারখানার খবর।

- সমাচার দর্পণের সম্পাদনার দায়িত্ব মূলত দেশীয় পন্ডিতদের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
- পন্ডিতরা অনুপস্থিত থাকলে নতুন সংবাদ প্রকাশ বন্ধ হয়ে যেত।
- বাংলা ভাষা না জানেন এমনদের জন্য ৬ মে ১৮২৬-এ শ্রীরামপুর থেকে পত্রিকার ফার্সি সংস্করণ ‘আত্থবারে শ্রীরামপুর’ প্রকাশিত হয়, যা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
- ১৮১৭ সালে কলকাতায় হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার পর ইংরেজি শিক্ষার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।
- এই কারণে ১৮২৯ সাল থেকে পত্রিকাটি দ্বিভাষিক (বাংলা ও ইংরেজি) করা হয়।
- ১৮৩২ সাল থেকে সপ্তাহে দু’বার প্রকাশ শুরু হয়।
-------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- দিগ্দর্শন: প্রথম বাংলা মাসিক সাময়িকী (এপ্রিল ১৮১৮)।
- বেঙ্গল গেজেট: প্রথম ভারতীয় সংবাদপত্র, কিন্তু বাংলা ভাষার নয়।
- মিরাৎ-উল-আখবার: রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৫০৯.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) অনিঃশেষ
  2. খ) খসড়া
  3. গ) মাটির দেয়াল
  4. ঘ) অভিজ্ঞান বসন্ত
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশ' কবিতাটি 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে এই কবিতা।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫১০.
‘কোকিলারা’ এক চরিত্রনির্ভর নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) নুরুল মোমেন
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা

আবদুল্লাহ আল মামুন (১৯৪২-২০০৮): -- একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক।
তাঁর প্রকাশিত বিখ্যাত নাটকগুলোঃ
শপথ (১৯৬৪), সুবচন নির্বাসনে (১৯৭৪), এখনও দুঃসময় (১৯৭৫), এবার ধরা দাও (১৯৭৭), শাহজাদীর কালো নেকাব (১৯৮৪), এখনও ক্রীতদাস (১৯৮৪), কোকিলারা (১৯৯০) ইত্যাদি।
আবদুল্লাহ আল মামুন ৭টি উপন্যাস রচনা ও প্রকাশ করেন, সেগুলো -
মানব তোমার সারাজীবন (১৯৮৮), আহ্ দেবদাস (১৯৮৯), তাহাদের যৌবনকাল (১৯৯১), হায় পার্বতী (১৯৯১), এই চুনীলাল (১৯৯৩), গুন্ডাপান্ডার বাবা (১৯৯৩), খলনায়ক (১৯৯৭)।
আবদুল্লাহ আল মামুন - রচিত "কোকিলারা" একটি এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। প্রথম কোকিলা, দ্বিতীয় কোকিলা, তৃতীয় কোকিলা - ইত্যাদি নামে নাটকের চরিত্রগুলো চিত্রিত করা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাঃ ড. সৌমিত্র শেখর।

৫১১.
'হাসনাহেনা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. কায়কোবাদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• 'হাসনাহেনা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - গোলাম মোস্তফা।

গোলাম মোস্তফা:

- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১২.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
  1. একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
  2. দুই সৈনিক
  3. অনিল বাগচীর একদিন
  4. নীল দংশন
ব্যাখ্যা

• 'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।
- পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে।
- পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে।অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসগুলো হলো:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
-সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

অন্যদিকে, 
----------------
- হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা।
- শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো- জাহান্নম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, জলাংগী ইত্যাদি।
- 'নীল দংশন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫১৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী' কোন ছন্দে রচিত?
  1. অমিত্রাক্ষর
  2. স্বরবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
'কবি-কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী'।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র ১২৮৪ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় এর কবিতাগুলো ছাপা হয়।
- ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দেই কবিতাগুলো নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা নলিনী। নলিনীর মৃত্যুর পর নায়ক কবির বিশ্বপ্রেমের উপলব্ধিতে কাব্যের পরিসমাপ্তি।
- মনে করা হয়, এ কাব্যের নায়ক রবীন্দ্রনাথ নিজেই। কবিতার কাহিনিতে নাটকীয়তা নেই। অমিত্রাক্ষর ছন্দের রচনা। তবে বিন্যাস পয়ার ও ত্রিপদী উভয় ধরনের।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১৪.
'গোপন চুম্বন' প্রহসনের রচয়িতা কে?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. হুমায়ুন কবির
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'গোপন চুম্বন' প্রহসনের রচয়িতা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ

গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্ত্ত।
- মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন।
- তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় ‘গৈরিশ ছন্দ’।

তাঁর রচিত নাটক:
- আগমনী,
- অভিমন্যুবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- প্রফুল্ল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- যামিনী চন্দ্রমাহীনা,
- গোপন চুম্বন,
- ভোটমঙ্গল,
- বেল্লিক বাজার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫১৫.
‘মোকাজান মিঞা’ চরিত্রটির স্রষ্টা কে
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা উপন্যাস রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে যে কথ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিত।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।
- 'ঠকচাচা' চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি, ও প্রাণময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- উপন্যাসটি ‘The Spoiled Child’ নামে ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে।

--------------------
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি দি ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড, হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া এবং বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- তিনি ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- কৃষিপাঠ,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত এবং
- বামাতোষিণী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক মহাকাব্য লিখেছেন কে?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) কাশীরাম দাস
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' (১৮৬১)।
'মহাভারত' সংস্কৃত মহাকাব্য৷ তবে মহাভারত বাংলায় অনেকে অনুবাদ করেছেন। তবে শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস।
'মহাশ্মশান' ও 'অশ্রুমালা' কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য ও কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, ড. সৌমিত্র শেখর
৫১৭.
বাংলা সাহিত্যের কোন সময়কালকে যুগসন্ধিকাল বলা হয়?
  1. ১৭৫৭-১৮০০ সাল
  2. ১৭৬০-১৮৬০ সাল
  3. ১৮০০-১৮৫০ সাল
  4. ১৮৫৭-১৮৭৫ সাল
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধিকাল:
১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়। উনিশ শতকের প্রথম থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত।
- এই যুগের প্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি যুগসন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্য ও আধুনিক যুগের সন্ধিস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি সব্যসাচীর মত দু হাতে দু দিকের নির্দেশ দিয়েছেন।
- মধ্যযুগের অবসানের পর এবং আধুনিক যুগের যথার্থ সূত্রপাতের পূর্বে কবি ঈশ্বর গুপ্ত কাব্য সাধনায় খ্যাতিলাভ করেন।
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের মৃত্যু ঘটে ১৭৬০ সালে, আবার আধুনিক যুগ স্বকীয় বৈশিষ্ট্য সহকারে প্রকাশ পায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যসৃষ্টির মাধ্যমে মোটামুটি ১৮৬০ সাল থেকে।
- এই দুই যুগের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলা কাব্যের ক্ষেত্রে তেমন কোন উৎকর্ষপূর্ণ সৃষ্টি বা সৃষ্টিসম্ভারের বৈচিত্র্য ও প্রাচুর্য পরিলক্ষিত হয় না।
- তখন বাংলা গদ্যরীতির উদ্ভবের কাল; সাহিত্যের যথার্থ বাহনের উপযোগিতা বাংলা গদ্য তখনও অর্জন করতে পারে নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১৮.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পর্কে কোন তথ্যটি যথার্থ নয়?
  1. তিন খণ্ডে 'বিষাদ-সিন্ধু' রচনা করেন
  2. নিজের জীবনী রচনা করেন
  3. জমিদারি দেখাশোনার কাজ করেছেন
  4. বিবি কুলসুম তাঁর প্রথম স্ত্রী
ব্যাখ্যা

অপশন বিশ্লেষণ:

অপশন — ক) তিন খণ্ডে 'বিষাদ-সিন্ধু' রচনা করেন: এটি সঠিক। 

• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি — 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই — তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
--------------------
অপশন — খ) নিজের জীবনী রচনা করেন: এটি সঠিক। 

• মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা: 
— উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
— কুলসুম জীবনী,
— গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
----------------------------- 
• উদাসীন পথিকের মনের কথা:
- ‘উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- “উদাসীন পথিকের মনের কথা” — (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
- এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

• কুলসুম জীবনী:
- কুলসুম জীবনী গ্রন্থটি — ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়।
- লেখক 'আমার জীবনীর জীবনী কুলসুম জীবনী' নামে অভিহিত করেছেন।
- এটি মীর মশাররফ হোসেনের — দ্বিতীয় স্ত্রী বিবি কুলসুমকে কেন্দ্র করে লিখিত যা বিবি কুলসুম সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

• গাজী মিয়াঁর বস্তানী:
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেনের কর্মজীবন নির্ভর — আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে — ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।
-------------------
অপশন — গ) জমিদারি দেখাশোনার কাজ করেছেন: এটি সঠিক। 
মীর মশাররফ হোসেন নিজের — পারিবারিক জমিদারি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলো।

অপশন — ঘ) বিবি কুলসুম তাঁর প্রথম স্ত্রী।- তথ্যটি সঠিক নয়।
কুলসুম প্রথম স্ত্রী নন, বরং দ্বিতীয় স্ত্রী। উল্লেখ্য, তাঁর প্রথম স্ত্রীর নাম- আজিজননেহার।


• মীর মশাররফ হোসেন ও বিবি কুলসুম : দাম্পত্য জীবনের সংক্ষিপ্তসার
মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম দাম্পত্যজীবন অশান্ত ও অসুখী ছিল। এ সময়ে বারখাদা গ্রামের দরিদ্র কৃষককন্যা বিবি কুলসুমের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেম গড়ে ওঠে এবং ১২৮১ সালের পৌষ মাসে তাঁদের বিয়ে হয়। দ্বিতীয় বিয়েকে আত্মীয়স্বজন ও প্রথমা স্ত্রী মেনে নেননি; ফলে নিন্দা, বিদ্রূপ ও গৃহত্যাগের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবু কুলসুমের আগমন মশাররফের জীবনে নতুন সুখ, অনুপ্রেরণা ও সৃজনশীলতার উন্মেষ ঘটায়।

তাই বলা চলে, কুলসুম প্রথম স্ত্রী নন, বরং দ্বিতীয় স্ত্রী। উল্লেখ্য, তাঁর প্রথম স্ত্রীর নাম- আজিজননেহার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫১৯.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. মজিদ
  2. আরেফ আলী 
  3. খালেক ব্যাপারী
  4.  আওয়াল
ব্যাখ্যা

• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'চাঁদের অমাবস্যা'। প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে।
- উপন্যাসে কেন্দ্রীয় চরিত্র  আরেফ আলী নামের এক স্কুল মাস্টার। স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর্জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত সমাজ প্রাভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তলে ধরেছেন।

'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসের কাহিন  সংক্ষেপ:
 উপন্যাসে কোপন নদীর তীরবর্তী চাঁদপাড়া গ্রামের জনৈক যুবক শিক্ষিত আরেফ আলী শীতের এক উজ্জ্বল জ্যোৎস্না রাতে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিল প্রকৃতির প্রয়োজনে। প্রয়োজন মিটিয়ে ঘরে ফিরে না গিয়ে সে। চন্দ্রলোকিত রজনীর রূপরাশিতে মোহাবিষ্ট হয়। হঠাৎ ছায়া শরীরের আকর্ষণে সে গ্রামের পথে বেরিয়ে পড়ে। বাঁশঝাড়ে নিহত এক রমণীর লাশ দেখে সে ঘটনাটি আরেফ আলীর মনোলোকে আলোড়ন তোলে।

প্রকৃত ব্যাপরটি ছিল আরেফ আলী গ্রামের যে বড়বাড়িতে আশ্রিত গৃহশিক্ষক সেই বড়বাড়িরই অন্যতম কর্তাপুরুষ কাদের আলী নিম্ন শ্রেণির এক রমণীকে সম্ভোগের উদ্দেশ্যে বাঁশঝাড়ে যায়; আরেফ সেই কাদেরকেই অনুসরণ করেছিল। আরফের পদশব্দে ভয় পেয়ে কাদের রমণীটিকে গলাটিপে হত্যা করে।
উপন্যাসের সিংহভাগ ব্যয়িত হয়েছে আরেফ আলীর মনে উক্ত ঘটনার প্রতিক্রিয়া বর্ণনায়। শেষ পর্যন্তই ঘটনাটি সে প্রথমে দাদাসাহেবকে
এবং পরে পুলিশকে জানায়। পুলিশ জেনে-শুনেই কাদেরের বদলে তাকে খুনী সাব্যস্ত করে।

-----------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- লালসালু,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস।

৫২০.
'অভীক' রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের নায়ক?
  1. নষ্টনীড়
  2. নামঞ্জুর গল্প
  3. রবিবার
  4. ল্যাবরেটরি
ব্যাখ্যা
• 'অভীক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘রবিবার’ গল্পের প্রধান চরিত্র। 

• 'অভীক' চরিত্র বিষয়ক আলোচনা:
গল্পে অভয়াচরণ (অভীক) নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পণ্ডিত ঘরের সন্তান। সে হয়ে উঠেছে ঘোর নাস্তিক। যত রকম নিয়মভঙ্গে সিদ্ধ। বেয়াদবি আচরণে তার যত উৎসাহ। সে যেমন কলকব্জা সারাতে পারে আবার ছবি আঁকতেও দক্ষ। নিষিদ্ধ মাংস খায়, অগাধ পয়সা থাকা সত্ত্বেও কারখানায় শৌখিন মজদুরি করে। গ্যাঁটের পয়সা খরচা করে নিজের আঁকা ছবির প্রদর্শনী করে প্রশংসা পাবে বলে।

----------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর ছোটগল্পসমূহ:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: রবিবার’ গল্প; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২১.
রবীন্দ্রনাথ রচিত নিচের কোন নাটকটি পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে রচিত?
  1. চিত্রাঙ্গদা
  2. শারদোৎসব
  3. ডাকঘর
  4. বিসর্জন
ব্যাখ্যা
• চিত্রাঙ্গদা নাটক:
- চিত্রাঙ্গদা (১৮৯২) একটি কাব্যনাট্য এবং ১৯৩৬ সালে একই নামে একই কাহিনী অবলম্বনে প্রকাশিত গ্রন্থটি একটি নৃত্যনাট্য।
- এই নাটকে মনিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রণয় কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই নাটকে নারীর আত্মসম্মান ও বীরত্ব উভয়ই প্রাধান্য হয়ে উঠেছে। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য নৃত্যনাট্য:
- শ্যামা
- নটীর পূজা
- চণ্ডালিকা

• রবীন্দ্রনাথের কিছু সাংকেতিক নাটক: 
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত, 
- রাজা, 
- অচলায়তন,
- ফাল্গুনী,
- মুক্তধারা, 
- রক্তকরবী,
- কালের যাত্রা, 
- তাসের ঘর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫২২.
সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-  
  1. ফেরারী সূর্য
  2. যাত্রা
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. ওঙ্কার
ব্যাখ্যা

সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’।

• ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’:
- সেলিনা হোসেনের ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ জীবনের চিত্র তুলে ধরে।
- উপন্যাসে একটি মায়ের দেশপ্রেম এবং সন্তানের জন্য ত্যাগের গল্প বলা হয়েছে;
- যেখানে মা তার সন্তানকে বাঁচাতে নিজের একমাত্র সন্তানকে উৎসর্গ করেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত। 
-----------------------------------
সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও গবেষক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ জুন, ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে। 
- তার রচনায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নারী ও সমাজের জীবনচিত্র উঠে এসেছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

• সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি, 
- ‘যাপিত জীবন’,
- ‘নীল ময়ূরের যৌবন’,
- ‘জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা’,
- ‘পদশব্দ’,
- ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ (তিন খণ্ড),
- ‘ক্ষরণ’,
- ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’,
- ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’।

অন্যদিকে, 
- ফেরারী সূর্য রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- যাত্রা শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ওঙ্কার আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫২৩.
'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি কয় খণ্ডে প্রকাশিত হয়?
  1. ৪ খণ্ডে
  2. ২ খণ্ডে
  3. ৩ খণ্ডে
  4. ৫ খণ্ডে
ব্যাখ্যা
'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ'। শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি, অভয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫২৪.
নিচের কোনটি মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবননির্ভর উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা?
  1. এর উপায় কি
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. গো-জীবন
  4. টালা অভিনয়
ব্যাখ্যা
⇒ উদাসীন পথিকের মনের কথা:
• ‘উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
• “উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
•  এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

⇒ মীর মশাররফ হোসেন: 
- মীর মশাররফ হোসেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও গদ্যরচয়িতা ৷
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার 'মীর মশাররফ হোসেন'।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- তাঁর রচিত একমাত্র প্রহসন : 'এর উপায় কি?' 

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী , 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫২৫.
'ফুলমণি ও করুনার বিবরণ' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) হ্যানা ক্যাথেরিন
  2. খ) উইলিয়াম কেরি
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবতী
ব্যাখ্যা

হ্যানা ক্যাথারিন ম্যালেন্স একজন খ্রিস্টান বিদেশিনী। জন্মগ্রহণ করেছেন কলকাতায়। ভবানীপুর মিশন স্কুলের ছেলেমেয়েদের বাংলা শেখাতেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের উপন্যাস রচনায় প্রাথমিক চেষ্টা করেছিলেন।

'ফুলমণি ও করুণার বিবরণ' (১৮৫২) তাঁর উপন্যাস রচনার প্রাথমিক চেষ্টা। এটি The Last day of the week অবলম্বনে রচিত। খ্রিস্ট ধর্মের মাহাত্ম প্রচারের জন্য এ গ্রন্থ রচনা করেছেন। খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করায় ফুলমণির সুখ এবং যথার্থ খ্রিস্ট ধর্মাচরণ না করায় করুণার দুঃখ ভোগ, পরে মেম সাহেবের ঈশ্বর প্রেরিত সুপরামর্শে করুণার সুমতি ও সুখের সুদর্শন এ গ্রন্থের মূল কাহিনী।

এতে কিছু আঞ্চলিক ভাষার প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। এজন্য এ গ্রন্থকে বাংলা কথ্য ভাষার আদি গ্রন্থ বলা হয়।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।

৫২৬.
শামসুর রাহমানের জন্ম ও মৃত্যু সাল কোনটি?
  1. ১৯২৬-২০০৬
  2. ১৯৩৬-২০০২
  3. ১৯২৯-২০০৬
  4. ১৯২৬- ২০০৭
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমানের জন্ম ও মৃত্যু সাল: ১৯২৯-২০০৬। 
------------------------ 
• শামসুর রাহমান: 

- ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর মৃত্যু ঢাকায়, ১৮ আগস্ট ২০০৬।

 শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

 শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর & বাংলাপিডিয়া।
৫২৭.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) নজিবর রহমান
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটির রচয়িতা- কাজী ইমদাদুল হক।

'আবদুল্লাহ' উপন্যাস
- এ উপন্যাসে সমাজের বাস্তব চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। 
- এটি তৎকালীন মুসলমান সমাজের প্রতিচ্ছবি হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। 
- ধর্মীয় গোঁড়ামি আর সামাজিক কুসংস্কার যে মুসলমান সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে তারই করুণ চিত্র এতে ফুটে উঠেছে।
- প্রধান চরিত্র: আবদুল্লাহ, আবদুল কাদের। 

কাজী ইমদাদুল হক
 - ১৮৮২ সালে  খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
-  আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি  বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা 
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ,
- নবীকাহিনী ( প্রবন্ধমালা)
- কামারের কান্ড 
- আবদুল্লাহ 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫২৮.
বেগম রোকেয়ার জন্ম কোন বৃহত্তর জেলায়?
  1. কলকাতায়
  2. ঢাকায়
  3. বরিশালে
  4. রংপুরে
ব্যাখ্যা

• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রাগে জন্মগ্রহণ করেন।

- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
 রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৫২৯.
‘সাহিত্যপত্র’ পত্রিকা প্রথম কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. মোজাম্মেল হক
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
⇒ বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৫৩০.
‘ধিক ধিক ওরে, শত ধিক তোরে, নিলাজ কুলটা ভূমি!’- পঙক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. জুতা আবিষ্কার
  2. ঐকতান
  3. দুই বিঘা জমি
  4. অক্ষমা
ব্যাখ্যা
⇒ দুই বিঘা জমি:
- উপরের পঙক্তিজোড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।
- কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের “কাহিনী” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। পরে রবীন্দ্রনাথের ‘কথা’ কাব্যগ্রন্থের সহযোগে ‘কাহিনী’ ও ‘কথা’ কাব্য দুটি একসাথে ‘কথা ও কাহিনী’ নামে প্রকাশিত হয়।
- 'দুই বিঘা জমি' কবিতায় উপেন এই মন্তব্যটি করেছেন।
- এই উক্তি দ্বারা উপের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। তাই সে জন্মভূমিকে নির্লজ্জ ও বংশের কাঁটা বলে অভিহিত করেছে।

⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৩১.
নিচের কোনটি হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস নয়?
  1. ক) ছায়াসঙ্গী 
  2. খ) এলেবেলে
  3. গ) মহাপুরুষ 
  4. ঘ) এপিটাফ
ব্যাখ্যা
- 'এলেবেলে' হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস নয়, এটি তাঁর রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। 

হুমায়ূন আহমেদ
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। 
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান। 
- ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) এবং ১৯৭২ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। 
- ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ময়মনসিংহ) প্রভাষক হিসেবে শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন।
- ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। 
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন। 
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

তাঁর রচিত গ্রন্থ
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া
- আগুনের পরশমণি
- অনিল বাগচীর একদিন
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। 
উপন্যাস:
- নন্দিত নরকে 
- শঙ্খনীল কারাগার 
- আনন্দ বেদনার কাব্য 
- যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ 
- আমার আছে জল
- ফেরা 
- সম্রাট 
- আজ রবিবার 
- নক্ষত্রের রাত 
- প্রিয়তমেষু 
- বাসর 
- সাজঘর 
- ছায়াসঙ্গী 
- এই সব দিনরাত্রি 
- বহুব্রীহি 
- অয়োময় 
- গৌরীপুর জংশন 
- শ্রাবণ মেঘের দিন 
- আশাবরী 
- অমানুষ 
- চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক 
- দুই দুয়ারী 
- নৃপতি 
- নী 
- কোথাও কেউ নেই 
- মন্দ্রসপ্তক 
- কবি 
- মহাপুরুষ 
- আমাদের সাদা বাড়ি 
- মেঘ বলেছে যাব 
- দূরে কোথায় 
- বৃষ্টিবিলাস
- মৃন্ময়ী
- হুমায়ূন আহমেদের হাতে ৫টি নীল পদ্ম 
- বৃষ্টি ও মেঘমালা
- আজ চিত্রার বিয়ে
- এপিটাফ 
- লীলাবতী
- তিন পুরুষ
- মধ্যাহ্ন
- বৃক্ষকথা
- বাদশাহ নামদার 
- মেঘের ওপর বাড়ি প্রভৃতি।
আত্মজৈবনিক গ্রন্থ:
- হোটেল গ্রেভারইন 
- আমার ছেলেবেলা 
- কিছু শৈশব 
- বলপয়েন্ট 
- কাঠপেন্সিল 
- ফাউন্টেন পেন 
- রঙ পেন্সিল 
- নিউইয়র্কের নিলাকাশে ঝকঝকে রোদ। 
গল্পগ্রন্থ
- এলেবেলে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৩২.
'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ
  2. আবু ইসহাক
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা

• 'আনোয়ারা':
• 'আনোয়ারা'- (১৯১৪) মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত প্রথম ও জনপ্রিয় উপন্যাস। 
- ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য বিষয়। 
- এ উপন্যাসের চরিত্র আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজীমুল্লা, গোলাপজান ইত্যাদি। 
 
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- প্রেমের সমাধি,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাইনা ও
- মেহেরুন্নিসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৩৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার-
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র 
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও নাটক:
- বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্ত  (১৮২৪-৭৩) সগৌরব আবির্ভাব ঘটেছিল নাট্যরচনার সূত্র ধরে। নাটকের দীনহীন অবস্থা প্রত্যক্ষ করে তিনি নাটক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে তাঁর বিশ্বয়কর প্রতিভা বৈচিত্র্যমুখী হয়ে ওঠে।

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্থান সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রথম নাটক 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯) বাংলা নাটকে প্রাণসঞ্চার করতে সক্ষম হয়। এই নাটকের পূর্বেকার বাংলা নাটকে কৌতুকরসের বাহুল্য, রচনার গুরুভার ইত্যাদি ত্রুটি বিদ্যমান ছিল। মধুসূদন পূর্ববর্তী প্রভাব কাটিয়ে বাংলা নাটককে উদ্দেশ্যহীন গতি থেকে মুক্তি দিয়ে কাহিনিবিন্যাস, ঘটনার সংস্থাপনা এবং কৌতুক-রসের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে এক নতুন জীবনদান করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

- সংস্কৃত আলঙ্কারিকদের বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি, কাহিনিতে নিরবচ্ছিন্ন গতি, নাট্যরীতিতে পাশ্চাত্য আদর্শ গ্রহণ ইত্যাদির ফলে বাংলা নাটক তাঁর হাতেই ভাবীকালের পথের সন্ধান পেয়ে সার্থকতর সৃষ্টির পর্যায়ে উন্নীত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৫৩৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত 'প্রবোধচন্দ্রিকা' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
তিনি তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নাটোর-রাজের দরবারে লেখাপড়া শিখে তিনি সংস্কৃত পন্ডিতে পরিণত হন।
তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে  ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পন্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলি:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- রাজাবলী (১৮০৮)এবং
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৫৩৫.
‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট কতটি কবিতা রয়েছে?
  1. ১৭টি
  2. ১৯টি
  3. ২০টি
  4. ২১টি
ব্যাখ্যা

 ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৩৬.
আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয়কেতন।'- উক্তিগুলো কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. জীবনানন্দ দাশ  
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরোধী রচনা এখানে ছাপা হতো।
- নজরুলের কবিতা 'আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয়কেতন।'

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা:
• 'লাঙ্গল' (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৩৭.
কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু - কার কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) শহীদ কাদরী
  2. খ) শামসুর রহমান
  3. গ) হুমায়ূন আজাদ
  4. ঘ) রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

কফিনে মোড়া অশ্রুবিন্দু হুমায়ূন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয়।
হুমায়ূন আজাদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে -
অলৌকিক ইস্টিমার,
জ্বলো চিতাবাঘ,
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
যতোই গভীরে যায় ততই মধু,
যতোই উপরে যায় ততই নীল,
পেরোনোর কিছু নেই,
আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়।
(সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)

৫৩৮.
নিচের কোনটি সুকুমার রায়ের শিশুতোষ গ্রন্থ নয়?
  1. ক) বহুরূপী
  2. খ) অতীতের কথা
  3. গ) খাইখাই
  4. ঘ) আবোলতাবোল
ব্যাখ্যা
অতীতের কথা সুকুমার রায়ের কাব্য। আবোলতাবোল, হ-য-ব-র-ল, পাগলা দাশু, বহুরূপী, খাইখাই, ব্যাঙের সমুদ্র দেখা ইত্যাদি তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য। এবং হেসোরামের ডাইরী তাঁর রম্যরচনা।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫৩৯.
'জননী ১৯৭১' কবিতাটি রচনা করেন কে?
  1. মাশুক চৌধুরী
  2. মারুফ চৌধুরী
  3. শওকত ওসমান
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• 'জননী ১৯৭১' কবিতাটি রচনা করেন - মাশুক চৌধুরী

মাশুক চৌধুরী:
- তিনি ১৬ নভেম্বর, ১৯৪৯ চান্দপুর, মাছিহাতা, সদর থানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ষাট দশকের শেষ ভাগের কবি ও সাংবাদিক।
- পৈত্রিক নিবাস একই জেলার আখাউড়া থানার মনিঅন্ধ গ্রামে।
- পিতা-আলতাফুর রহমান চৌধুরী এবং মা-মীর আয়েশা বেগম।
- প্রকাশিত কবিতার বই আটটি।
- মাশুক চৌধুরীর 'জননী ১৯৭১' কবিতার কয়েকটি পঙ্কতি নিম্নরূপ -

জাগ্রত চেতনার পৌরুষে বিদ্ধ আমার জননী
জন্মভূমি এই বাংলাদেশ
আসন্ন প্রসবা নীল
বালিকার মতো জন্ম দিক বোধ ও বোধির
সচেতন সন্তান। আমার জননীর অন্ধকার
ছিন্ন করে উজ্জ্বল পাখীরা, দিবসের দিকে থাক:
যেমন একটি মাছরাঙা নদীর নিরাওয়াজ
তরল তলপেট ফুঁড়ে রৌদ্রের মতো উড়ে যায়,
ঈপ্সিত মৎস্য নিয়ে উড়ে যায় সঙ্গিনীর ঘরে।

- প্রচারবিমুখ এই কবি তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন - তিতাস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭), ইউনিসেফ স্বীকৃতি (২০০৬), লাল মোহন ফাউন্ডেশন পুরস্কার (২০০৮), জাতীয় প্রেস ক্লাব সম্মাননা (২০০৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিশু-নাট্যম সম্বর্ধনা (২০১৩), স্বাধীনতা সংসদ পুরস্কার (২০১৪), কবি ফজল শাহাবুদ্দীন স্মৃতিপদক (২০১৫) এবং ঘাসফুল সম্বর্ধনা (২০১৫)।
- তিনি ২৩ জুন, ২০২০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
১. 'নির্বাচিত কবিতা', মাশুক চৌধুরী।
২. ভোরের কাগজ
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ৬ ডিসেম্বর, ২০২৩।
৩. প্রথম আলো
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ২৪ জুন, ২০২০।
৫৪০.
'পলাশী থেকে পাকিস্তান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
'পলাশী থেকে পাকিস্তান' গ্রন্থের রচয়িতা আবুল কালাম শামসুদ্দীন। এটি তাঁর ইতিহাস ভিত্তিক রচনা। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- কচিপাতা, অনাবাদি জমি, ত্রিস্রোতা, দৃষ্টিকোণ, খরতরঙ্গ, অতীত দিনের স্মৃতি (আত্মজীবনী) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫৪১.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়? 
  1. ১৯৩২ সালে
  2. ১৯৩৬ সালে
  3. ১৯৩৭ সালে
  4. ১৯৪৪ সালে
ব্যাখ্যা

- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা ফররুখ আহমদ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।

• সাত সাগরের মাঝি:
- ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট উনিশটি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলি ১৯৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪২.
'গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।'- উদ্ধৃতাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. ক) গোরা
  2. খ) ঘরে- বাইরে
  3. গ) শেষের কবিতা
  4. ঘ) যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
'গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।'- উদ্ধৃতাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের অন্তর্গত। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ''শেষের কবিতা'' শেষ হয় কাব্যসুরে বিদায়ের ধ্বনি কানে নিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে- 
''হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান-
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়''

'শেষের কবিতা' উপন্যাস 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।

• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র -
অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ।
যেমন:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৪৩.
কোনটি মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
⇒ 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্য:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'। 'রাধা' সম্পর্কে মধুসূ্ধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা )।

⇒ মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪৪.
বাংলা সাহিত্যে 'তিমির হননের কবি' নামে পরিচিত কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫), বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৪৫.
যে রচনাটির সঙ্গে রোকেয়ার সাহিত্যকর্মের সম্পর্ক নেই -
  1. ক) পিপাসা
  2. খ) সওগাত
  3. গ) সৌরজগৎ
  4. ঘ) লুৎফউন্নেসা
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়ার সাহিত্যকর্ম:
- তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে নবনূর পত্রিকায়।
- মতান্তরে, তাঁর প্রথম লেখা ‘পিপাসা’ (মহরম) প্রকাশিত হয় ইংরেজি ১৯০২ সালে, চৈত্র ও বৈশাখ ১৩০৮-১৩০৯ (যুগ্মসংখ্যা) নবপ্রভা পত্রিকায়।
- সওগাত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন তাঁকে উৎসাহিত করেন স্বাধীন মতামত প্রকাশের জন্য।
- সওগাতের সঙ্গে বেগম রোকেয়ার সম্পৃক্ততা ছিল নিবিড়।
- এ পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার (অগ্রহায়ণ ১৩২৫) প্রথম পৃষ্ঠায় রোকেয়ার ‘সওগাত’ কবিতাটি ছাপা হয়।
- মতিচূর ২য় খন্ডে আছে ‘সৌরজগৎ’

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৪৬.
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় যৌবনের কোন গুণটি সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে?
  1. শান্তি ও স্থিরতা
  2. বিষাদ ও নৈরাশ্য
  3. প্রেম ও রোমান্টিকতা
  4. দুর্বার গতি ও সাহসিকতা 
ব্যাখ্যা

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলামের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

ব্যাখ্যা:
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় সুকান্ত ভট্টাচার্য যৌবনের দুর্বার গতি, সাহসিকতা এবং উদ্দীপনাকে তুলে ধরেছেন।

কবিতাটির মূল বৈশিষ্ট্যই হলো:
- যৌবনের উদ্দীপনা;
- সাহসিকতা;
- দুর্বার গতি।

• আঠারো বছর বয়সকে কবি সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করার শক্তি, দুঃসাহস ও প্রাণশক্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এই বয়সে থাকে অসীম সম্ভাবনা, বিদ্রোহ ও পরিবর্তনের স্পৃহা — যা কবিতার শেষ পঙক্তিতেও প্রকাশিত: 'এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।'

সুতরাং, সঠিক উত্তর: ঘ) দুর্বার গতি ও সাহসিকতা।

অন্য অপশনগুলো (শান্তি-স্থিরতা, বিষাদ-নৈরাশ্য, প্রেম-রোমান্টিকতা) এই কবিতার মূল সুর নয়।

‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতা সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি তাঁর “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- কবিতাটির স্তবক সংখ্যা আট। এবং কবিতাটি ৬ মাত্রায় মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য- যৌবনের উদ্দীপনা, সাসিকতা এবং দুর্বার গতি।
- ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার শেষ পঙক্তি- ‘এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।’

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪৭.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. চন্দ্রবিন্দু
  2. ভাঙার গান
  3. প্রলয় শিখা
  4. বিষের বাঁশী
ব্যাখ্যা
বিষের বাঁশী:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ বিষের বাঁশী।
- ১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই।
- সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে।
- এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ।
- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫৪৮.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের মৃত্যুর পর প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বত্রিশ সিংহাসন
  2. রাজাবলি
  3. হিতোপদেশ
  4. প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা

• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' গ্রন্থ:
- 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর ১৮৩৩ সালে।
- গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত।
- এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের গদ্যে সংস্কৃতরীতির প্রয়োগ দোষত্রুটি থাকলেও বিষয়বস্তু ও রচনাপদ্ধতিতে একটা সুষম রূপ ফুটে উঠেছিল।

----------------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।
- মৃত্যুঞ্জয়ের কৃতিত্ব সম্পর্কে প্রমথ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন- ‘তিনি একদিকে যেমন সাধু ভাষার আদি লেখক, অপরদিকে তিনি তেমনি চলিত ভাষারও আদর্শ লেখক।’

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- রাজাবলি (১৮০৮),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৫৪৯.
মুক্ত আকাশে মুক্ত মনের
সেই গান চলে ভেসে
জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে
মরি যেন এই দেশে।- কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
জন্মেছি এই দেশে
- সুফিয়া কামাল---সংকলিত (সুফিয়া কামাল)   

অনেক কথার গুঞ্জন শুনি
অনেক গানের সুর
সবচেয়ে ভাল লাগে যে আমার
‘মাগো’ ডাক সুমধুর।

আমার দেশের মাঠের মাটিতে
কৃষাণ দুপুরবেলা
ক্লান্তি নাশিতে কন্ঠে যে তার
সুর লয়ে করে খেলা।

মুক্ত আকাশে মুক্ত মনের
সেই গান চলে ভেসে
জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে
মরি যেন এই দেশে।

এই বাংলার আকাশ-বাতাস
এই বাংলার ভাসা
এই বাংলার নদী, গিরি-বনে
বাঁচিয়া মরিতে আশা।

শত সন্তান সাধ করে এর
ধূলি মাখি সারা গায়
বড় গৌরবে মাথা উচু করি
মানুষ হইতে চায়।

--------------------
• জননী সাহসিকা হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা৷
- একাত্তরের ডায়েরী৷

উৎস: বাংলা সাহিত্য অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫০.
আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. বসু
  2. রাসু
  3. সাজু
  4. হাসু
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের চরিত্র - হাসু

সূর্য-দীঘল বাড়ী:
- আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত।
- বাংলাদেশের গ্রামজীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশেষত গ্রামীণ মুসলমান জীবনের বিশ্বস্ত এবং আন্তরিক পরিচয় সমকালীন বাংলা সাহিত্যে বিরল।
- প্রকাশের অব্যবহিত পর থেকে বাস্তব চিত্রণ, চরিত্রায়ণের স্বাভাবিকতা ও প্রকাশভঙ্গির ঋজুতার জন্য উপন্যাসটি সমালোচক ও পাঠকসমাজে নন্দিত হয়েছে।
- জয়গুনদের বাড়িটিতে রাতে কথিত ভূতের ঢিল পড়ে, সে বাড়িতে নির্ভয়ে থাকা যায় না। তাই সূর্য-দীঘল বাড়ি অমঙ্গলের প্রতীকে পরিণত হয়।
- উপন্যাসে গ্রামের মানুষের দারিদ্র্য, কুসংস্কার, মোড়ল ও মোল্লাদের দৌরাত্ম্য, হৃদয়হীনা শাশুড়ির বৌয়ের প্রতি অত্যাচার ইত্যাদি এমন বিশ্বস্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যে কারণে এটি হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জীবনের যথার্থ উপস্থাপনা।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: জয়গুন, তার ছেলে হাসু, মেয়ে মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু প্রধান।

আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৫১.
‘হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা’ গ্রন্থটি কে সম্পাদনা করেন?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. সুকুমার সেন
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
  4. রমেশচন্দ্র দত্ত
ব্যাখ্যা

‘হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা’ গ্রন্থটি কে সম্পাদনা করেন- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৫২.
'গীতাঙ্কুর' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. পঞ্চানন কর্মকার
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'গীতাঙ্কুর' গ্রন্থটির রচয়িতা - প্যারীচাঁদ মিত্র
- এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছদ্মনাম 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে প্যারীচাঁদ মিত্রের কর্মজীবন শুরু হয়।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ২৩ নভেম্বর, ১৮৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
- মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায়,
- অভেদী,
- আধ্যাত্মিকা,
- The Zamindar and Royats,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- রামারঞ্জিকা,
- বামাতোষিণী,
- গীতাঙ্কুর,
- কৃষিপাঠ,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৫৩.
'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'পল্লীসমাজ' উপন্যাস:
- 'পল্লীসমাজ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর সমাজের মানুষের জীবনধারণের পটভূমি নিয়ে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে।
- যেখানে ওঠে এসেছে উচ্চশ্রেণীর সমাজপতিদের আধিপত্য, নিম্নশ্রেণীর মানুষের দরিদ্রতা, বঞ্চনা, উৎপীড়ন, বিবাদ, কলহ, কুসংস্কার ইত্যাদি।
- বাংলার পল্লীসমাজের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় এক আদর্শবাদী যুবক - যুবতীর সম্পর্ক ও বিশেষ করে তাদের অভিশপ্ত প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- ১৯১৫ সালে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

• তাঁর রচিত অন্যান্য বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- নিষ্কৃতি,
- দত্তা,
- বিপ্রদাস,
- অরক্ষণীয়া,
- বামুনের মেয়ে,
- নববিধান,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও পল্লীসমাজ গ্রন্থ।
৫৫৪.
কোনটি বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. কুঁচবরণ কন্যা
  2. কাশবনের কন্যা
  3. জামাই বারিক
  4. ফাঁস কাগজ 
ব্যাখ্যা

• শিশুতোষ গ্রন্থ 'কুঁচবরণ কন্যা' এর রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া।
- গ্রন্থটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• 'কাশবনের কন্যা' হলো শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস। 
• 'জামাই বারিক' দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
• 'ফাঁস কাগজ' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।  

--------------------
• বন্দে আলী মিয়া:

- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী,
- ডাইনী বউ,
- রূপকথা,
- কুঁচবরণ কন্যা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট।

তাঁর রচিত নাটক: মসনদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৫৫.
'আর্ত শব্দাবলী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
বিমুখ প্রান্তর হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- প্রতিবিম্ব, আর্ত শব্দাবলী, অন্তিম শহরের মতো, যখন উদ্যত সঙ্গীন ও শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫৫৬.
পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  2. রঙ্গপুর বার্তাবহ
  3. পূর্বাশা
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
রঙ্গপুর বার্তাবহ পত্রিকার ইতিহাস বাংলাদেশ তথা পূর্ববঙ্গের সংবাদপত্রের সূচনালগ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রঙ্গপুর থেকে প্রকাশিত এই পত্রিকাটি বাংলা ভাষার অন্যতম প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল, এবং এটি মূলত অনুন্নত পূর্ববঙ্গের একটি অঞ্চলে সংবাদ প্রচার করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

মূল তথ্যসমূহ:
প্রথম প্রকাশ: ১৮৪৭ সালের আগস্ট মাসে (বাংলা ১২৫৪ সালের ভাদ্র মাসে)।
প্রকাশের স্থান: রংপুর, যা বর্তমান বাংলাদেশের একটি জেলা শহর।
পৃষ্ঠপোষক: কুন্ডির জমিদার কালীচরণ রায় চৌধুরী।
সম্পাদক: গুরুচরণ শর্মা রায়।
প্রকাশকাল: ১৮৪৭ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত।

পত্রিকার বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা: রঙ্গপুর বার্তাবহ ছিল পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা। এটি মূলত সাধারণ মানুষের জন্য সংবাদ পরিবেশন করতো, এবং তখনকার সময়ে কলকাতার বাইরে থেকে প্রকাশিত প্রথম উল্লেখযোগ্য পত্রিকা।

বিদেশী শাসনের সমালোচনা: পত্রিকাটি পরবর্তীতে বিদেশী শাসন এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সমালোচনামুখর হয়ে ওঠে, যা ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে,
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' প্রথম প্রকাশিত হয়।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- বুদ্ধদেব বসু প্রকাশিত পত্রিকা কবিতা। পত্রিকাটি  ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৫৭.
'বত্রিশ সিংহাসন' এর লেখক কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
• বত্রিশ সিংহাসন:
- এটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ‘বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।
- বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫৫৮.
'বাঙালীর যে কেহ কিছু করিয়াছেন, সকলই তৈলের জোরে, বাঙালীদিগের তৈলের মূল্য অধিক নয়।'- বিখ্যাতি উক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. আহমদ শরীফ
  3. নীহাররঞ্জন রায়
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

'তৈল' প্রবন্ধ:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত প্রবন্ধ 'তৈল'। 
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'তৈল' রচনাটি লিখেছিলেন ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায়। এটি প্রকাশিত হয়েছিল ১২৮৫ বাংলায়।

প্রবন্ধের কিছু অংশ:
বাঙালীর বল নাই, বিক্রম নাই, বিদ্যাও নাই, বুদ্ধিও নাই। সুতরাং বাঙালীর একমাত্র ভরসা তৈল- বাঙালীর যে কেহ কিছু করিয়াছেন, সকলই তৈলের জোরে, বাঙালীদিগের তৈলের মূল্য অধিক নয়; এবং কি কৌশলে সেই তৈল বিধাতৃপুরুষদিগের সুখসেব্য হয়, তাহাও অতি অল্পলোক জানেন। যাঁহারা জানেন, তাঁহাদিগকে আমরা ধন্যবাদ দিই। তাঁহারাই আমাদের দেশের বড় লোক, তাঁহারাই আমাদের দেশের মুখ উজ্জ্বল করিয়া আছেন।

অন্যদিকে। 
• নীহাররঞ্জন রায়ের "বাঙালির ইতিহাস (আদিপর্ব)" বাংলা ভাষার একটি প্রামাণিক ও অমূল্য গ্রন্থ, যা ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এই বইটিতে বাঙালি জাতি, তাদের মাতৃভূমি 'বঙ্গ', এবং প্রাচীন বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

• 'বিশ শতকে বাঙালী' আহমদ শরীফ রচিত একটি প্রবন্ধ। ১৯৯৮ সালে প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

--------------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কারক।
- তিনি 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঞ্চনমালা ও
- বেণের মেয়ে।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- ভারত মহিলা,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৫৯.
'পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি' আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত-
  1. ক) স্মৃতিকথা
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি' আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৩ সালে। 

কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০), ১৯৬০ সাল থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন এবং পাঁচ দশক ধরে লেখা অব্যহত রাখেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- কবিতা জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ
- জ্যোৎস্না রৌদ্রের চিকিৎসা
- ও সংবেদ ও জলতরঙ্গ
- কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড,
- পরাবাস্তব কবিতা,
- মাছ সিরিজ,
- সকল প্রশংসা তাঁর, 
- নীরবতা গভীরতা দুই বোন বলে কথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬০.
'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' কে রচনা করেছেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় এবং এটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে।

• রাজা রামমোহন রায়: 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম = গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।
 
তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬১.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কোন কাব্যটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন?
  1. তন্বী
  2. অর্কেষ্ট্রা
  3. ক্রন্দসী
  4. কুলায় ও কালপুরুষ
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন। 
• এ কাব্যগ্রন্থের উৎসর্গ পত্রে লিখা ছিলো - 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরনে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।" 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  ‘আকাশ-প্রদীপ’ কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন। 
 
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
-  ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।
 
» তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।
 
তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।
 
তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।
 
তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৫৬২.
বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপের প্রবর্তক কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৬৩.
'দিগদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান 
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'দিগদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্গভূমিতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
- দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।
-  বিখ্যাত খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক জোশুয়া মার্শম্যান এর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত মাসিক সাময়িকী ছিল।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ গ্রন্থাগারে দিগ্দর্শনের কপিসমূহ সংরক্ষিত আছে।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬৪.
’চিলেকোঠার সেপাই’ উপন্যাসের উপজীব্য কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. গণঅভ্যুত্থান
  3. দেশভাগ
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

• চিলেকোঠার সেপাই:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ‘চিলেকোঠার সেপাই’ উপন্যাসের পটভূমি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, যেখানে তিনি সেই সময়ের গণ-আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সংগ্রামকে জীবন্তভাবে তুলে ধরেছেন
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসমান গণি রনজু দেশভাগের ফলে উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় এসে বসবাস শুরু করেন এবং পরবর্তীতে বৃহত্তর স্বাধীনতার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- এই উপন্যাসের আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল হাড্ডি খিজির।
- এটি ইলিয়াসের প্রথম উপন্যাস, যা ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।

 আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৬৫.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কর্ণফুলী উপন্যাসে কোন ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর জীবন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে?
  1. মারমা
  2. খাসিয়া
  3. চাকমা
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা

• 'কর্ণফুলী' উপন্যাসের রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ।
• কর্ণফুলী উপন্যাসে তিনি চাকমা ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর জীবন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষে রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- শ্যামল ছায়া সংবাদ,
- অন্তরীক্ষে বৃক্ষরাজি,
- স্বপ্নশীলা,
- কালো জ্যোৎস্নাময় চন্দ্রমল্লিকা,
- বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি।
• 'নরকে লাল গোলাপ‌' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটকঃ
- মরোক্কোর জাদুঘর,
- ধন্যবাদ,
- মায়াবী প্রহর,
- সংবাদ শেষাংশ ইত্যাদি।
• নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৬৬.
'হিতকরী' পত্রিকাটি কোথায় থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. কুষ্টিয়া
  2. বরিশাল
  3. রংপুর
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

"হিতকরী" পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকাটি ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। পরে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দিন খান।
- পত্রিকার প্রথম বর্ষে 'হিতকরী' একটি পাক্ষিক পত্রিকা হিসেবে কুমারখালীর মথুরানাথ যন্ত্রলায়ে মুদ্রিত হয়ে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে প্রকাশিত হতো। তখন পত্রিকার প্রকাশক ও মুদ্রাকার ছিলেন যথাক্রমে দেবনাথ বিশ্বাস ও রজনীকান্ত ঘোষ। তখন প্রতি সংখ্যার মূল্য ছিল দুই পাই।
- হিতকরী পাক্ষিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে কিন্তু পাঠকদের চাহিদার কারণে দ্বিতীয় বর্ষে দাশাহিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় বর্ষে পত্রিকার শুধু এই রদবদল হয়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬৭.
‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখতেন-
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস: ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০), প্রপঞ্চ (১৯৮০), দেয়াল (১৯৮৫) ;
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০)। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।
গল্পগ্রন্থ: জীবন (১৯৪৮), শেষ রাত্রির তারা (১৯৬৬), রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮), ল্যাংড়ী (১৯৮৪);
প্রবন্ধ: চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য (১৯৬৪), Sociology of Bengal Politics (১৯৭৩), সোচ্চার উচ্চারণ (১৯৭৭), লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি (১৯৮৮) ইত্যাদি।
এ ছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি জীবনী, আত্মজীবনী, নাটক, ভ্রমণকাহিনী এবং স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ রচনা করেন। শিল্পীর সাধনা (১৯৬৭) ও পার্ল বাকের সেরা গল্প (১৯৬৮) তাঁর দুটি অনুবাদগ্রন্থ।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া]
৫৬৮.
‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৯.
‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’ - কোন উপন্যাসের সংলাপ?
  1. গৃহদাহ
  2. কবি
  3. গোরা
  4. পুতুলনাচের ইতিকথা
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস পুতুলনাচের ইতিকথা’র শশী ডাক্তার কুসুমকে এই কথা বলে।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- জননী
- দিবারাত্রির কাব্য
- পদ্মা নদীর মাঝি
- সহরতলী
- অহিংসা
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৭০.
চলিত ভাষার সৃষ্টি হয়েছে-
  1. ক) ১৮১৪ খ্রি.
  2. খ) ১৮৫৪ খ্রি.
  3. গ) ১৯১৪ খ্রি.
  4. ঘ) ১৯৫৪ খ্রি.
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে 'সবুজপত্র' পত্রিকা। 
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সে হিসেবে বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার সৃষ্টি বা প্রচলন ১৯১৪ সালে। 

- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭১.
'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'- সংলাপটি কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. তরঙ্গভঙ্গ
  2. বহিপীর
  3. সুড়ঙ্গ
  4. চাঁদের অমাবস্যা 
ব্যাখ্যা

• 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহর পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক 'তরঙ্গভঙ্গ'।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার ও সাক্ষী মতলুব আলী।
- এ নাটকের একটি সংলাপ 'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আনে। আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে, সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ রচিত নাটকগুলো হলো-
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক।

৫৭২.
'সওগাত' পত্রিকায় প্রকাশিত কবি নজরুলের প্রথম লেখা কোনটি?
  1. মুক্তি
  2. বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী
  3. বাঁধন-হারা
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
• 'সওগাত' পত্রিকা:
সওগাত একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা। ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। ১৩২৭ বঙ্গাব্দের চৈত্রমাসে (১৯২১ সালের মার্চ-এপ্রিল) অনিবার্য কারণবশত এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ছয় বছর পর ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের (১৯২৬ সাল) আষাঢ় মাসে সওগাত-নবপর্যায় নামে পুনরায় এর প্রকাশনা শুরু হয় এবং ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ (১৯৩০ সাল) পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হওয়ার পর অনিয়মিত হয়ে পড়ে। ১৯৫০ থেকে প্রায় তিন বছর সওগাতের কোনো সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি। ১৯৫২ সালের নভেম্বর/ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ ১৩৫৯) থেকে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতে থাকে।

সম্পাদক হিসেবে নাসিরউদ্দীনের উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার প্রতি দায়বদ্ধ একটি উন্নতমানের প্রগতিশীল পত্রিকা প্রকাশ করা। এর প্রমাণস্বরূপ তিনি সওগাতের প্রথম সংখ্যায় সাতটি নীতি ঘোষণা করেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে পত্রিকার প্রথম সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় বেগম রোকেয়ার এবং পরবর্তী পৃষ্ঠায় মানকুমারী বসুর একটি করে কবিতা মুদ্রিত হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম। তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ নামে একটি ছোট গল্প পাঠান। গল্পটি ১৩২৬ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তাঁর সওগাতে প্রকাশিত প্রথম লেখা। ছোটগল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, গান ও গজল ব্যতীত নজরুলের মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসটিও সওগাত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে।

সওগাতের অন্যান্য প্রধান লেখক ছিলেন- বেগম রোকেয়া, কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ এবং আবুল ফজল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরও এতে লিখেছেন।

অন্যদিকে, 
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়। 
• কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে 'বাঁধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন। এটি 'মোসলেম ভারত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
• 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৭৩.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম কী?
  1. রত্ন পরীক্ষা
  2. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. ব্রজবিলাস
  4. শকুন্তলা
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে। তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৭৪.
বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন বিধৃত হয়েছে কোন গ্রন্থে?
  1. প্রবোধচন্দ্রিকা
  2. রাজাবলি
  3. তোতা ইতিহাস
  4. কথোপকথন
ব্যাখ্যা
• 'কথোপকথন':
- উইলিয়াম কেরি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে 'কথোপকথন' গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থে গৃহীত কথোপকথনগুলো সে আমলের কলকাতা-শ্রীরামপুর অঞ্চলের সকল স্তরের স্ত্রীপুরুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম ও আচারব্যবহার নিয়ে রচিত।

- এই গ্রন্থে চাকর ভাড়াকরণ, সাহেবের হুকুম, সাহেব ও মুনশীর পরামর্শ, ভোজনের কথা, যাত্রা, পরিচয়, ভূমির কথা, মহাজন, আসামি, বাগান করার হুকুম, ভদ্রলোকে ভদ্রলোকে কথাবার্তা, প্রাচীনে প্রাচীনে কথাবার্তা, সুপারিশ, মজুরের কথাবার্তা, খাতক মহাজনি, ঘটকালি, হাটের বিষয়, স্ত্রীলোকের হাট করা, জেলেদের কথাবার্তা, ভিক্ষুকের কথা, কাজের চেষ্টার কথা, কোন্দল বা ঝগড়া, স্ত্রীলোকে স্ত্রীলোকে কথাবার্তা, 'মাইয়া কন্দল', জমিদার রায়তের কথা ইত্যাদি বিষয়াবলম্বনে কথোপকথন রচিত হয়েছে।

- উইলিয়াম কেরি সহজ ও বাস্তব ভঙ্গিতে বক্তব্য পরিবেশন করেছেন। গ্রন্থের কোথাও অবিমিশ্র সাধু আবার কোথাও কথ্য ভাষাশ্রিত রচনারীতি স্থান পেয়েছে।

- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত। সে যুগের সামাজিক ও ব্যবহারিক রীতিনীতির বিশেষ পরিচয় হিসেবেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

- কথোপকথন গ্রন্থটি ছিল দ্বিভাষিক এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৫৭৫.
স্বর্ণকুমারী দেবী কোন পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন?
  1. ভারতী
  2. হিতকরী
  3. সাধনা
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। 
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক ।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে ’সখী সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন। 
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।
- তিনি ৩রা জুলাই, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ, 
- মেবার রাজ, 
- মালতী, 
- বিদ্রোহ, 
- বিচিত্রা, 
- স্বপ্নবাণী, 
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব, 
- দেব কৌতুক।

তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা, 
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৭৬.
'অমৃত উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সেলিম আল দীন
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'অমৃত উপাখ্যান' সেলিম আল দীন রচিত একটি উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে লেখক ব্যক্তিগত জীবনের এক ঘটনাচিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে হাসান এবং এলিজা।

----------------------------------
সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ই আগস্ট বর্তমান ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিলে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম মঈনুদ্দীন আহমেদ। 
- তিনি বিশিষ্ট নাট্যকার ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
- তিনি ২০০৮ সালের ১৪ই জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।  

তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থ:
- কবি ও তিমি। 

উপন্যাস:
- অমৃত উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫৭৭.
আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. রেইনকোট
ব্যাখ্যা

রাইফেল রােটি আওরাত:
- আনোয়ার পাশার 'রাইফেল-রোটি-আওরাত' উপন্যাসটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বিভীষিকাময় রাত থেকে শুরু হয়ে ২৮ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত উপন্যাসের কাহিনি বিস্তৃত।

আনোয়ার পাশা:

- আনোয়ার পাশা একজন কবি, কথাসাহিত্যিক, সমালােচক ও শিক্ষাবিদ।
- তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার ছিলেন।
- তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন এবং মুক্তিযুদ্ধের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন।

অন্যদিকে,
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' - শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'নিষিদ্ধ লোবান' মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যতম একটি উপন্যাস।
- রেইনকোট - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৭৮.
'গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা' ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা
'গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা' ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ এনামুল হক। 
- এই ভ্রমণকাহিনিতে তিনি বুলগেরিয়ার 'গ্যাব্রোভো' অঞ্চলের অধিবাসীদের হাস্যপরিহাস বর্ণনা করেছেন। 
- তার ভ্রমণ কাহিনি- বুলগেরিয়া ভ্রমণ।

মুহম্মদ এনামুল হক(১৯০২-১৯৮২) ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি। 
- মুহম্মদ এনামুল হক মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাস এবং বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ বিষয়ে দুরূহ গবেষণা কর্মে বিশেষ অবদান রেখেছেন। 
- তাঁর যুক্তি, তথ্য, মননশীলতা ও অনুসন্ধিৎসা বাংলা ভাষার অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
মুহম্মদ এনামুল হক রচিত গ্রন্থ:
- 'মনীষা মঞ্জুষা',
- ঝর্ণাধারা (১৯২৮, কবিতা সংকলন),
- বঙ্গে সূফী প্রভাব (১৯৩৫),
- ব্যাকরণ মঞ্জুরি (১৯৫২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৭৯.
'দোজখের ওম' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দোপাধ্যায়
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
'দোজখের ওম' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তার ডাক নাম 'মঞ্জু'।
- তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই:
-ঊনসত্তরের গণআন্দলনের প্রেক্ষাপটে লেখা ।
-প্রধান চরিত্র: উসমান ও খিজির।

- খােয়াবনামা।

(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫৮০.
'বাংলাদেশ' অমিয় চক্রবর্তী রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) নাটক
  3. গ) গদ্য রচনা
  4. ঘ) কবিতা
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশ' অমিয় চক্রবর্তী রচিত একটি কবিতা। এটি তাঁর 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতা। এ কবিতাটি রচিত অক্ষরবৃত্ত ছন্দে। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- খসড়া, এক মুঠো, মাটির দেয়াল, অভিজ্ঞান বসন্ত, অনিঃশেষ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮১.
হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”- পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) তাহারেই পড়ে মনে
  2. খ) ইতল বিতল
  3. গ) জন্মেছি এই দেশে
  4. ঘ) বাসন্তী
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,   
- মায়া কাজল,   
- মন ও জীবন,   
- প্রশস্তি ও প্রার্থনা,   
- উদাত্ত পৃথিবী,   
- দিওয়ান,  
- অভিযাত্রিক।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

 তাহারেই পড়ে মনে
- সুফিয়া কামাল

হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
“দখিন দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?

এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম “কেন কবি আজ
এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ?”
কহিল সে সুদূরে চাহিয়া-
“অলখের পাথার বাহিয়া
তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান?
ডেকেছে কি সে আমারে? -শুনি নাই,রাখিনি সন্ধান (সংক্ষিপ্ত)

- তাহারেই পড়ে মনে কবিতাটি ‘সাঁঝের মায়া’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতা সুফিয়া কামাল।
৫৮২.
'এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান'। - এই পঙ্‌ক্তির রচয়িতা কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শামসুর রাহমান
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
'এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান।
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব - তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।'
- ছাড়পত্র; সুকান্ত ভট্টাচার্য।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ।
৫৮৩.
“বিনুর বই” আত্মজীবনমূলক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. জীবনানন্দ দাস
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
বিনুর বই:
• অন্নদাশঙ্করের বয়স যখন চল্লিশ বছর তখন তিনি বিনুর বই-এর প্রথম পর্ব রচনা করেন।
• পরস্পরসংলগ্ন অধ্যায় পরম্পরায় মাত্র তিন মাসেই সে লেখা সম্পন্ন হয়।
• দ্বিতীয় পর্বের লেখা শুরু হয় ছিয়াশি বছর বয়সে। যখন শেষ হয় তখন তাঁর বয়স উননব্বই। পরিচ্ছেদগুলি দীর্ঘায়িত।
• জীবনসায়াহ্নের সে রচনা অনেকটাই যেন তাঁর বর্ণময় জীবন ও যাপনের 'Summing up'।
• ‘বিনুর বই’ জীবনশিল্পী অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবনমূলক তথা আত্মশিল্পমূলক রচনা।
উভয় পর্বেই অন্নদাশঙ্কর রচনা করে চলেন তাঁর মনের, মননের এক আত্মস্বীকারোক্তিমূলক জীবনকাহিনি। অসামান্য এই কাহিনি একদিকে যেমন আমাদের পরিচিত করিয়ে দেয় তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্ব ও বাঁকবদলের সঙ্গে, তেমনই আমরা জানতে পারি মনস্বী এই লেখকের জীবনদর্শন সম্পর্কেও।
• তাই বিনুর উপলব্ধি আসলে অন্নদাশঙ্করেরই উপলব্ধি। তিনি বলেছেন: 'মানুষকে লেবেল দিয়ে শনাক্ত করা যায় না। মানুষকে ভালোবাসলে তার স্বরূপ জানতে পারা যায়।'

----------------------
অন্নদাশঙ্কর রায়:  
• উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।  
• কর্ম: নদীয়া জেলার ম্যাজিস্ট্রেট, কুমিল্লার জজ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিচার বিভাগের সচিব পদে অবসরগ্রহণ করেন।  
• বাংলার পাশাপাশি উড়িয়া ভাষায় সাহিত্য রচনা করতেন। 
• তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য বীরবলী চমক ও গভীর মননশীলতা। 

তাঁর বিখ্যাত ভ্রমনকাহিনি:  
• পথে প্রবাসে ও  
• ইউরোপের চিঠি।
 
তাঁর উলে­খযোগ্যে উপন্যাস:
• অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস),
• কঙ্কাবতী,
• যার যেথা দেশ,
• দুঃখমোচন,
• মর্তের স্বর্গ।

তাঁর উলে­খযোগ্য প্রবন্ধ:  
• তারুণ্য, 
• জীবনশিল্পী,
• ইশারা,
• আধুনিকতা ইত্যাদি।  

উৎস: ‘বিনুর বই’ অন্নদাশঙ্কর রায় ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৮৪.
নাট্যকার মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক কোনটি?
  1. ক) মানুষ
  2. খ) কবর
  3. গ) রক্তান্ত প্রান্তর
  4. ঘ) দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা

শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ,  কমিউনিস্ট পার্টি,  ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির হত্যাকান্ড এবং পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যে সভা হয় তাতে তীব্র ভাষায় বক্তৃতা দেওয়ার অভিযোগে নিরাপত্তা আইনে সরকার তাঁকে বন্দি করে। জেলে বন্দী অবস্থায়ই তিনি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিকায় রচনা করেন তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক কবর (১৯৫৩)। শুধু রচনাই নয়, জেলের বন্দিদের দ্বারা এ নাটকের প্রথম মঞ্চায়নও হয় জেলের মধ্যেই।
- কবর নাটকটি Irwin Shaw রচিত Bury the Dead(1936) নাটকের অনুসারে এদেশিয় ঘটনা কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। 

- রক্তান্ত প্রান্তর নাটকটি তাঁর প্রথম পূর্নাঙ্গ মৌলিক নাটক । পানিপথের ৩য় যুদ্ধ অবলম্বনে এই নাটকটি রচিত। তিনি এর কাহিনী গ্রহণ করেছেন কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' (১৯০৫) গ্রন্থ থেকে। তাই এটি ঐতিহাসিক নয় ইতিহাস আশ্রিত নাটক।

- ১৯৭১ সালের মার্চে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি পাকিস্তান সরকারের দেওয়া সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৬) খেতাব বর্জন করেন।
- তাঁর একটি বিশেষ কীর্তি বাংলা টাইপ রাইটারের কি-বোর্ড (১৯৬৫) উদ্ভাবন, যা ‘মুনীর অপটিমা’ নামে পরিচিত। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি
নাটক
- রক্তাক্ত প্রান্তর (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য।)
- চিঠি (১৯৬৬)
- কবর  (পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।)
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য 
- মানুষ (১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।)
- নষ্ট ছেলে (রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।)
- দণ্ডকারণ্য  (তিনটি নাটকের সমন্বয়। এতে দণ্ড, দণ্ডধর, দণ্ডকারণ্য)
- রাজার জন্মদিন

অনুবাদ নাটক
- কেউ কিছু বলতে পারে না (জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।)
- রূপার কৌটা (জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।)
- মুখরা রমণী বশীকরণ  (উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।)

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর বাংলাপিডিয়া

৫৮৫.
মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. একাত্তরের নিশান
  2. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  3. রাইফেল রোটি আওরাত
  4. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা

'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

অন্যদিকে,
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী'।
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'প্রবন্ধটি নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক রচনা।
- 'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের রচয়িতা -রাবেয়া খাতুন। 
 
আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৮৬.
'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করা হয় কোন কবিকে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. সুকুমার রায়
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা 'বঙ্গসুন্দরী'।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
৫৮৭.
কোন কবি ‘ছন্দোরাজ’ নামে পরিচিত?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্য:
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৮৮.
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯১৮ সালে
  2. ১৯৪৭ সালে
  3. ১৯১১ সালে
  4. ১৮৮০ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি: 
- এটি বাঙালি মুসলমানদের একটি সাহিত্য সংগঠন।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের (১৮৯৩) অনুপ্রেরণায় কয়েকজন উদীয়মান মুসলিম লেখক ১৯১১ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- তাঁরা হলেন মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সমিতির সম্পাদক মনোনীত হন।
- একটি পরিচালক পরিষদ দ্বারা সমিতি পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৮৯.
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত একটি-
  1. গল্পগন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস তেইশ নম্বর তৈলচিত্র।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪)।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্তু অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগন্থ: 
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- জীবন জমিন প্রভৃতি।

তাঁর উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ।

নাটক:
- ধন্যবাদ,
- নিঃশব্দ যাত্রা,
- নরকে লাল গোলাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯০.
'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দেনাপাওনা
  2. সমাপ্তি
  3. নষ্টনীড়
  4. পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা
• 'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'- উক্তিটি সমাপ্তি ছোটগল্পে 'মৃন্ময়ী' চরিত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে।

• ‘সমাপ্তি’ ছোটগল্প:

- 'সমাপ্তি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি ছোটগল্প।
- তাঁর সৃষ্ট 'মৃন্ময়ী' এই ছোটগল্পের চরিত্র।
- এই ছোটগল্পের বিখ্যাত উক্তি- 'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'

অন্যদিকে,
• দেনাপাওনা গল্পের নায়কা নিরূপমার। 
• 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
• পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।

--------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো:
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহার,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও সমাপ্তি ছোটগল্প।
৫৯১.
'নিশুতি রাতের গাথা' গ্রন্থটি- কে লিখেছেন?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  4. আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস - নিশুতি রাতের গাথা।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী, 
- অন্যান্য কবিতা।

অন্যদিকে,
- 'নরকে লাল গোলাপ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫৯২.
নিচের কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত একটি নাটক?
  1. ক) আর্যগাথা
  2. খ) মেবার পতন
  3. গ) আলেখ্য
  4. ঘ) হাসির গান
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, নাট্যকার ও গীতিকার। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- আর্যগাথা, আষাঢ়ে, হাসির গান, আলেখ্য, ত্রিবেণী, মন্দ্র ইত্যাদি। তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক- তারাবাঈ, রানা প্রতাপসিংহ, দুর্গাদাস, সোরাব রুস্তম, নূরজাহান, মেবার পতন, সাজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, সিংহল বিজয় ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫৯৩.
‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটি কার রচনা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্প: 
- তৈলচিত্রের ভূত মানিক বেন্দ্যাপাধ্যায় রচিত একটি গল্প।
- গল্পটি মাসিক ‘মৌচাক’ পত্রিকায় ১৯৪১ খ্রিাষ্টাব্দে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়।
- ডক্তার পরাশর এই গল্পের একটি চরিত্র।

⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• উপন্যাস:
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
 - চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া, 
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প, 
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
- "তেইশ নম্বর তৈলচিত্র" আলাউদ্দিন আল আজাদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯৪.
‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি'- উক্তিটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অভিযান
  2. ছাড়পত্র
  3. পূর্বাভাস
  4. হরতাল
ব্যাখ্যা
• ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা 'ছাড়পত্র' এর উক্তি।

ছাড়পত্র,
--- সুকান্ত ভট্টাচার্য

যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুম:
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক, নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে।
খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।
সে ভাষা বোঝে না কেউ,
কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।
আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা।
পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের—
পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ঠ শিশুর
অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে।
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব—তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
অবশেষে সব কাজ সেরে
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাব আশীর্বাদ,
তারপর হব ইতিহাস ॥

------------------------
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৯৫.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা কোনটি?
  1. দি পীস
  2. বঙ্গভূমি
  3. তকবীর
  4. আঙুর
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত পত্রিকা:
➝ শিশুপত্রিকা ⎯ 'আঙুর'; প্রকাশকাল ⎯ ১৯২০ সাল, 
➝ ইংরেজি মাসিক পত্রিকা ⎯ 'দি পীস'; প্রকাশকাল ⎯ ১৯২৩ সাল,
➝ বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ⎯ 'বঙ্গভূমি'; প্রকাশকাল ⎯ ১৯৩৭ সাল এবং
➝ পাক্ষিক পত্রিকা ⎯ 'তকবীর'; প্রকাশকাল ⎯ ১৯৪৭ সাল।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস রচনাসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহু জটিল সমস্যার সমাধান করেন। 

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- দীওয়ানে হাফিজ,
- রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম,
- নবী করিম মুহাম্মাদ,
- ইসলাম প্রসঙ্গ, 
- বিদ্যাপতি শতক, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড), 
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,
- ব্যাকরণ পরিচয়, 
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান,
- মহররম শরীফ,
- টেইল ফ্রম দি কুরআন, 
- Buddhist Mystic Songs (১৯৬০),
- Hundred Sayings of the Holy Prophet. 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫৯৬.
জসীমউদ্‌দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. গ্রামের মায়া
  2. পদ্মগোখরো
  3. পল্লীবধূ
  4. পদ্মাপাড়
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্‌দীন রচিত নাটক নয় - পদ্মগোখরো
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প।

জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্র্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৯৭.
"দ্য ক্যাপটিভ লেডি" - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - দ্য ক্যাপটিভ লেডি। Captive অর্থ বন্দি।
- এটি ইংরেজিতে রচিত। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৪৯ খ্রষ্টাব্দে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:

- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৯৮.
বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ইতল বিতল
  2. ডাইনী বউ
  3. হলদে পরীর দেশে
  4. দোলা আমার কনক চাঁপা
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হলো:
- কিশোর পরাগ,
- শিশুবার্ষিকী,
- জ্ঞানের আলো।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা,
- ডাইনী বউ,

- মৃগপুরি,
- কূচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- শিশুতোষ গ্রন্থ 'ইতল বিতল' এর রচয়িতা সুফিয়া কামাল। 
- 'হলদে পরীর দেশে' পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি। 
- আহমদ ছফা রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- দোলা আমার কনক চাঁপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯৯.
'নবান্ন' বিজন ভট্টাচার্য রচিত-
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• নবান্ন:
- 'নবান্ন' বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- 'নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- 'নবান্ন' নতুন বাংলা নাটকের অগ্রদূত রূপে গণ্য হয়।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর, সমকালীন জাতীয় আন্দোলন, মেহনতি মানুষের চাহিদা প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ কৃষক সমাজের দুঃখ-দুদর্শা, তাদের সংগ্রাম, সফলতা-ব্যর্থতা ইত্যাদি এই নাটকের মূল সুর।

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ১৯০৬ সালে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৎ।
- এছাড়া তিনি ভারত ছাড় আন্দোলন, জনযুদ্ধ-নীতি প্রচার, ফ্যাসিবাদ বিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘ স্থাপন এবং প্রগতি লেখক সঙ্ঘ এবং ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৭৮ সালের ১৯ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬০০.
‘ইঁদুর’ গল্পটি কার লেখা?
  1. সোমেন চন্দ্র
  2. সুবোধ ঘোষ
  3. সোমেন চন্দ
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

ঢাকার প্রগতি সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সোমেন চন্দের বিখ্যাত গল্প ইঁদুর।
তিনি ফ্যাসিবাদী সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন।
তাঁর গল্পগ্রন্থগুলো হলো :
সংকেত ও অন্যান্য গল্প
বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর