বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৫৯ / ১৭৪ · ৫,৮০১৫,৯০০ / ১৭,৪৩৭

৫,৮০১.
'কবিতা' পত্রিকা'র সাথে যুক্ত ছিলেন -
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সমর সেন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
'কবিতা' পত্রিকা:
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে - কবিতা।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লিখেন নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,৮০২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস 'রাইফেল রোটি আওরাত' এর রচয়িতা কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আহমদ ছফা
  3. আল মাহমুদ
  4. আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস - রাইফেল রোটি আওরাত
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮০৩.
কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'মহেশ' গল্পের চরিত্র?
  1. ন্যাড়া
  2. গফুর
  3. শিবু
  4. ইন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা
• ‘মহেশ’ ছোটগল্প:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্থক ছােটগল্প ‘মহেশ'।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- এ গল্পে 'মহেশ' একটি ষাঁড়ের নাম।

• গল্পের চরিত্রগুলো হলো:
- গফুর,
- আমেনা,
- মহেশ,
- তর্করত্ন,
- জমিদার শিববাবু প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘বিলাসী’ গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচরণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে। গল্পের ন্যাড়া চরিত্র আসলে লেখক নিজেই।

• 'মামলার ফল' গল্পে দুই ভাইয়ের (শিবু ও শম্ভু) মামলায় নিঃসন্তান সঙ্গামণির অপত্য স্নেহ শিশু গয়ারামকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয়েছে।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ'।

------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে।
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'মহেশ' গল্প।
৫,৮০৪.
'ছড়ার আসর' গ্রন্থটি কোন কবির রচনা?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য 
  3. আহসান হাবীব 
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

• 'ছড়ার আসর'  কবি ফররুখ আহমদের লেখা শিশুতোষ ছড়ার বই। 

----------------
• ফররুখ আহমদ:

- ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভকরেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৮০৫.
"সংবাদ প্রভাকর" পত্রিকাটি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮৩৬ সালে
  2. ১৮৩৯ সালে
  3. ১৮৩১ সালে
  4. ১৮৩৭ সালে
ব্যাখ্যা
সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮০৬.
বাংলা ভাষায় ভ্রমণ সাহিত্যের প্রথম রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. অন্নদাশংকর রায়
ব্যাখ্যা
• 'পালামৌ' ভ্রমণ কাহিনি:
- বাংলা ভাষায় ভ্রমণ সাহিত্যের প্রথম রচয়িতা হলো সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তাঁর রচিত স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণ কাহিনি হচ্ছে 'পালামৌ'। 
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।

• 'পালামৌ'-এর কয়েকটি বাক্য মনোহর ও প্রবাদপ্রমিত হয়ে উঠেছে এগুলো হলো:
- ‘বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।’
- ‘মানুষ্য বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।’
- ‘যে হারে, সেই রাগে।’
- ‘যাহার ভাগ্য কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।’ - তিনি এই বাক্যগুলো সৃষ্টি করে স্মরণীয় হয়ে আছেন। 
------------------------- 
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত। 
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকাটি।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি। 
 
• গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮০৭.
'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।' - এটি কোন উপন্যাসের উক্তি?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

 কপালকুণ্ডলা:
- বঙ্কিম রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ'। উপন্যাসের নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমারকে উদ্দেশ্য করে এ উক্তিটি করেছেন।
- এই কথাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
- উপন্যাসটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংলাপ হলো: তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন।

​তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫,৮০৮.
নিচের কোনটি 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বিমলা
  2. ভ্রমর
  3. কুন্দনন্দিনী
  4. কাপালিক
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়। প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।
- 'কুন্দনন্দিনী' বিষবৃক্ষ উপন্যাসের চরিত্র।
- ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - কাপালিক।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
-কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৮০৯.
বেগম রোকেয়ার পিতৃপ্রদত্ত নাম কী?
  1. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. রোকেয়া খাতুন
  3. রোকেয়া বেগম
  4. রোকেয়া আখতার
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম রোকেয়া খাতুন।
- বিবাহের পর তাঁর স্বামীর নাম সাখাওয়াত হোসেন যুক্ত হয়।
- তিনি প্রথম জীবনে মিসেস আর এস হোসেন নামে লিখতেন।   
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উল্লে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- চাষার দুক্ষু (প্রবন্ধ),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮১০.
হাসান হাফিজুর রহমানের প্রথম রচনা ছোটগল্প ‘অশ্রুভেজা পথ চলতে’ কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) সবুজপত্র
  2. খ) সওগাত
  3. গ) কল্লোল
  4. ঘ) ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৬ সালে স্কুলে পড়া অবস্থায় তাঁর প্রথম রচনা একটি  ছোটগল্প ‘অশ্রুভেজা পথ চলতে’ সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ একুশে ফেব্রুয়ারী।
- ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা।
- তিনি যৌথভাবে সম্পাদনা করেন উত্তর বঙ্গের মেয়েলী গীত এবং এককভাবে বাংলায় অনুবাদ করেন হোমারের ওডিসি।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৫ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র প্রকাশিত হয় (১৯৮২-১৯৮৩)। 

হাসান হাফিজুর রহমান:
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে।
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক  বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। পরে  সওগাত, ইত্তেহাদ, পাকিস্তান এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বিমুখ প্রান্তর 
- আধুনিক কবি ও কবিতা 
- সীমান্ত শিবিরে
- আরো দুটি মৃত্যু 
- মূল্যবোধের জন্যে 
- যখন উদ্যত সঙ্গীন 
- সাহিত্য প্রসঙ্গ 
- দক্ষিণের জানালা 
- প্রতিবিম্ব 
- বজ্রে চেরা আঁধার আমার 
- শোকার্ত তরবারী 
- আমার ভেতরের বাঘ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৫,৮১১.
'সরলা' ও 'মেহের বয়াতি' সরদার জয়েনউদ্‌দীন - এর কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) অনেক সূর্যের আশা
  2. খ) আদিগন্ত
  3. গ) রোদের ঢেউ
  4. ঘ) বেগম শেফালী
ব্যাখ্যা
সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণনার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে প্রকাশিত হয়েছে সরদার জয়েনউদ্দীন রচিত ‘আদিগন্ত’ উপন্যাসে।

- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে। গ্রামের পির খোরশেদ আলি, বৈষ্ণব কন্যা সরলার সঙ্গে মুসলমান মেহেরের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। খোরশেদ উভয়ের ধর্মের দোহাই দেয়। কিন্তু সরলার প্রতি কাম অনুভব করে খোরশেদ। সরলার দেহ ভোগ করার জন্য কৌশলে কুণ্ডুল বোরেগির সঙ্গে সরলার বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। বিয়ের রাতেই কুণ্ডুলকে কৌশলে হত্যা করায় পির। কিন্তু হত্যার দায়ে মেহেরকে জেলে পাঠান হয়। এই উপন্যাসে গ্রামে বসবাসরত হিন্দুদের দুরবস্থা, বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার দিকটি ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে পির খোরশেদ আলির মতো কামপীড়িত দুর্জনদের স্বরূপ উদ্‌ঘাটিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৮১২.
'মোটর যোগে রাঁচী সফর' ভ্রমণকাহিনি কে রচনা করেছেন?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. আবুল ফজল
  3. এস ওয়াজেদ আলি
  4. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• 'মোটর যোগে রাঁচী সফর' এস ওয়াজেদ আলি রচিত  ভ্রমণকাহিনি। 

• ওয়াজেদ আলী:

- প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও ভ্রমণকাহিনী রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

• তাঁর প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

• তাঁর গল্প:
- গুলদাস্তা ,
- মাশুকের দরবার,
- বাদশাহী গল্প ,
- গল্পের মজলিশ;

• তাঁর উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর;

• ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮১৩.
'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের বুড়ো মকবুলের প্রথম স্ত্রীর নাম কী?
  1. রহিমা
  2. জমিলা
  3. ফাতেমা
  4. আমেনা
ব্যাখ্যা

• হাজার বছর ধরে:
- জহির রায়হানের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস - 'হাজার বছর ধরে'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে।
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ ছিল উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য।
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।

চরিত্র:
- নায়ক - মন্ত
- বুড়ো মকবুল।
- আমেনা হলো বুড়ো মকবুলের প্রথম স্ত্রী।
- বুড়ো মকবুলের অন্য স্ত্রীরা হলেন ফাতেমা (দ্বিতীয়) এবং টুনি (তৃতীয়)। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন,
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- জীবন থেকে নেয়া,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮১৪.
শওকত ওসমান রচিত নাটক কোনটি?
  1. তরঙ্গভঙ্গ
  2. পতঙ্গ পিঞ্জর
  3. তস্কর ও লস্কর
  4. ওরা কদম আলী
ব্যাখ্যা
⇒ শওকত ওসমান রচিত নাটক- 'তস্কর ও লস্কর'।

• শওকত ওসমান:

- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান ।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

• গল্প:
- পিঁজরাপোল, 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক, 
- উভশৃঙ্গ, 
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

• প্রবন্ধ:
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর।

• নাটক:
- তস্কর ও লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

অন্যদিকে,
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক - তরঙ্গভঙ্গ;
মামুনুর রশীদ রচিত নাটক রচিত নাটক - ওরা কদম আলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮১৫.
'লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) হুমায়ুন আহমেদ
  3. গ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম
  4. ঘ) সেলিনা বেগম
ব্যাখ্যা
'লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে' গ্রন্থটির রচয়িতা মেজর রফিকুল ইসলাম।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৮১৬.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম -
  1. লেখরাজ সমান্ত
  2. প্রিয়দর্শী
  3. অল্পদর্শী
  4. দৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

অন্যদিকে,
• আবু জাফর শামসুদ্দীন ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখতেন।
• প্রেমেন্দ্র মিত্র ব্যবহৃত ছদ্মনাম হলো: কৃত্তিবাস ভদ্র, লেখরাজ সমান্ত।
• মধুসূদন মজুমদার ‘দৃষ্টিহীন’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮১৭.
কাজী নজরুল ইসলামের বাল্য স্মৃতি বিজরিত ময়মনসিংহের স্থানটির নাম কি?
  1. ক) জগদীশপুর
  2. খ) কামারপুর
  3. গ) গোপালপুর
  4. ঘ) দরিরামপুর
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের বাল্য স্মৃতি বিজরিত ময়মনসিংহের স্থানটির নাম- 'দরিরামপুর' 

- চা-রুটির দোকানে চাকরি করার সময় আসানসোলের দারোগা রফিজউল্লার সঙ্গে নজরুলের পরিচয় হয়
এবং তাঁর সুবাদেই নজরুল ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। 
- এক বছর পর তিনি পুনরায় নিজের গ্রামে ফিরে যান এবং ১৯১৫ সালে আবার রানীগঞ্জ সিয়ারসোল রাজস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন।
- এ স্কুলে নজরুল ১৯১৫-১৭ সালে একটানা অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন।
- প্রিটেস্ট পরীক্ষার সময় ১৯১৭ সালের শেষদিকে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৫,৮১৮.
‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম কী?
  1. The Lost Cousin
  2. The Spoiled Child
  3. The Royal Nephew
  4. The Child Spoiled
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা উপন্যাস রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে যে কথ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিত।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।
- 'ঠকচাচা' চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি, ও প্রাণময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- উপন্যাসটি ‘The Spoiled Child’ নামে ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি দি ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড, হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া এবং বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- তিনি ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,৮১৯.
বিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) লুৎফর রহমান
  3. গ) আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- মূলত বিজ্ঞান লেখক হিসেবে তিনি পরিচিত। 
- তিনি ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষা বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।’ 

তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে -
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে।
- তারার দেশের হাতছানি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮২০.
শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়েছিল?
  1. পথের দাবী
  2. নিস্কৃতি
  3. চরিত্রহীন
  4. দত্তা
ব্যাখ্যা

 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবানী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮২১.
নিচের কোনটি অন্যটি থেকে আলাদা?
  1. মানসী
  2. সোনার তরী
  3. শেষের কবিতা
  4. শেষলেখা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

অন্যদিকে,
• শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক- মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে: 
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮২২.
চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গদ্যকর্ম- 
  1. রাজাবলি
  2. তোতা ইতিহাস
  3. আয়না
  4. মহাফিলনামা
ব্যাখ্যা

চণ্ডীচরণ মুনশীর রচিত গদ্যকর্ম হচ্ছে তোতা ইতিহাস।

• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের অষ্টাদশ শতাব্দীর উল্লেখযোগ্য বাঙালি লেখক।
- বাংলা গদ্যের একেবারে শুরুর দিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা ভাষার অধ্যাপক  ছিলেন।
- তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গদ্যকর্ম ‘তোতা ইতিহাস’।
- তোতা ইতিহাস বাংলা গদ্যের অন্যতম প্রাচীন উপাখ্যানগ্রন্থ।
- যা চণ্ডীচরণ মুনশী ১৮০৪ খ্রিষ্টাব্দে ফার্সি তুতিনামা থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন।
- পরের বছর, অর্থাৎ ১৮০৫ সালে গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়ে প্রকাশ পায়।
- পরে এই বইটি, ভাগবদ্গীতার সঙ্গে, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা শিক্ষার পাঠ্যপুস্তক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
- প্রকৃত অর্থে এটি কাদির বখশ রচিত ফার্সি গল্পগ্রন্থের সফল বঙ্গানুবাদ;
- এবং বাংলা গদ্য সাহিত্যের সূচনালগ্নের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
- ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৫,৮২৩.
‘বাচ্চু’ কোন লেখকের ডাকনাম?
  1. রফিক আজাদ
  2. শামসুর রাহমান
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল বাচ্চু।
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত। 
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি মজলুম আদিব ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন। 
- শামসুর রাহমান আধুনিক কবি হিসাবেও পরিচিত, যিনি রোমান্টিকতার সাথে সমাজমনস্কতার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে নতুন কাব্যধারার পরিচয় দিয়েছেন।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। 

শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়।

অন্যদিকে,
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- নির্মলেন্দু গুণের ডাকনাম ছিলো রতন। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮২৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রজনী’ উপন্যাসের নায়িকা 'রজনীর' সঙ্গে কোন ইংরেজি উপন্যাসের চরিত্রের ঐক্য লক্ষ করা যায়?
  1. প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস
  2. দি লাস্ট ডেজ অফ পম্পেই
  3. অলিভার টুইস্ট
  4. দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি
ব্যাখ্যা

'রজনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ মূলক উপন্যাস-রজনী।
- উপন্যাসের নায়িকা রজনীর সঙ্গে লর্ড লিটন প্রণীত 'দি লাস্ট ডেজ অফ পম্পেই' নামক উপন্যাসের নিডিয়া চরিত্রের কিছুটা ঐক্য আছে
- বিভিন্ন পাত্র-পাত্রীর জবানবন্দিতে এই উপন্যাস রচিত।
- এই রীতিটিও যে বঙ্কিম ইংরেজ ঔপন্যাসিক কার্লিনস অনুসরণে করেছেন তা তিনি ভূমিকায় জানিয়েছেন।
- বাংলা উপন্যাস গড়ে তুলবার জন্য এভাবেই পাশ্চাত্যের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। বঙ্কিমের অধিকাংশ উপন্যাসের মতোই এখানেও
প্রেম ও আদর্শের সংঘাতই কাহিনির মূল উপজীব্য।
- 'রজনী'কে প্রকৃত উপন্যাস না বলে রোমান্স বলা হয়ে থাকে। কারণ এখানে বেশ কল্পদৃশ্যে ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,৮২৫.
নুরুল মোমেন রচিত নাটক কোনটি?
  1. কীর্তিবিলাস
  2. মায়াকানন 
  3. রূপার কৌটা 
  4. আলোছায়া
ব্যাখ্যা

• নুরুল মোমেন:
- তাঁর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- তিনি মূলত নাট্যকার ছিলেন।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক নেমসিস।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- ১৯৪৮ সালে তাঁর ’বহুরূপা‘ নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।

• নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রুপান্তর;
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

অন্যদিকে,
• যোগেন্দ্র চন্দ্র গুপ্ত রচিত নাটক- কীর্তিবিলাস।
• মাইকেল মধুসূদন রচিত নাটক- মায়াকানন।
• মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক- রূপার কৌটা ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮২৬.
'নবী কাহিনী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সাঈদ আহমদ
  2. খ) সমরেশ বসু
  3. গ) সানাউল হক
  4. ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
'নবী কাহিনী' উপন্যাসের রচয়িতা - সিকান্দার আবু জাফর।

• তিনি ১৯১৯ সালে তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক।

তাঁর রচিত  গ্রন্থাবলি:
কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর
- বৈরীবৃষ্টিতে
- তিমিরান্তক
- কবিতা
- বৃশ্চিকলগ্ন

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু
- জয়ের পথে
- পূরবী
- নবী কাহিনী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৮২৭.
‘দৈনিক নবযুগ’ পত্রিকার সম্পাদক -
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকা:
- পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। 
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮২৮.
শামসুর রাহমানকে বলা হয়- 
  1. নাগরিক কবি
  2. মার্ক্সবাদী কবি 
  3. স্বভাব কবি 
  4. সাহিত্যরত্ন
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমানের জন্ম তার নানাবাড়িতে।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তার পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা বেগম।
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।
- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়।
- কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
-  তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।
- এই অনন্য কবি-কীর্তি ও সত্যনিষ্ঠ কাব্যচর্চার জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
- তিনি ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

- শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
• উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
- রৌদ্র করোটিতে;
- বিধ্বস্ত নীলিমা;
- বন্দী শিবির থেকে;
- নিজ বাসভূমে;
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
- এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 
--------------------- 
- মার্ক্সবাদী কবি- বলা হয় বিষ্ণু দে'কে। 
- স্বভাব কবি বলা হয়- গোবিন্দ্রচন্দ্র দাসকে।
- সাহিত্যরত্ন বলা হয়- নজিবর রহমানকে।   

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫,৮২৯.
'আমলার মামলা' নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. ক) হুমায়ুন আহমেদ
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'আমলার মামলা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান। 

শওকত ওসমান
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত নাটক: 
- তস্কর লস্কর
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
- আমলার মামলা
- কাঁকর মণি 
- বাগদাদের কবি

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায় 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৩০.
'কবি' - উপন্যাসের লেখক কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'কবি' উপন্যাস সম্পর্কে কিছু তথ্য:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।

• এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে — 'নিতাইচরণ'।

• উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ:
- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।

তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- তাঁর সাহিত্যকর্ম:

উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

 ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৩১.
‘পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়।’- উক্তিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
  2. বিশ্বপরিচয়
  3. লাইব্রেরি
  4. বইপড়া
ব্যাখ্যা
'বইপড়া' প্রবন্ধ:
• 'বইপড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
• এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

• এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো-
- ‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।’ 
- ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানে বড় নয়।’
- ‘পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়।’
- ‘যে জাতির জ্ঞানভাণ্ডারে শূন্য সে জাতি ভাঁড়েও ভবানী।’


অন্যদিকে,
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ‘লাইব্রেরি’। এই প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ লাইব্রেরী গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। 
- ‘বিশ্বপরিচয়’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ। ভাষারীতি এবং রবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞানচিন্তার নিদর্শন হিসাবে গ্রন্থটি মূল্যবান।

-------------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি  'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৩২.
‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’ - কার রচনা?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) আখতার মুকুল
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’ শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয়। [সূত্র: LiveMCQ লেকচার]
৫,৮৩৩.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ ঘটে-
  1. পদ্মাবতী নাটকে
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যে
  3. মেঘনাদবধ কাব্যে
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
• প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ:
- ১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন 'পদ্মাবতী' নাটক।
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য কাব্য:
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৩৪.
'নয়নচারা' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. গল্প
  2. কবিতা
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৩৫.
"প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি" কোন উপন্যাসের প্রধান কাহিনি?
  1. চন্দ্রশেখর
  2. বিষবৃক্ষ
  3. রাজসিংহ
  4. আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা

• 'চন্দ্রশেখর' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

- প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।

- এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে 'তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।

- উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম। ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

----------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- রাজসিংহ, 
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- আনন্দমঠ, 
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮৩৬.
Who was the Director of the film 'Let there be Light'?
  1. ক) Humayon Ahmed
  2. খ) Amjad Hossain
  3. গ) Khan Ataur Rahman
  4. ঘ) Zahir Raihan
ব্যাখ্যা
Let There Be Light ছবিটি পরিচালনা করেন জহির রায়হান।

জহির রায়হান পরিচালিত অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে:
- Stop Genocide
- জীবন থেকে নেওয়া
- কখনও আসেনি
- কাজল
- কাঁচের দেয়াল
- বেহুলা
- আনোয়ারা
- সঙ্গম
- বাহানা প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৫,৮৩৭.
মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. ক) আগুণের পরশমণি
  2. খ) চিলেকোঠর সেপাই
  3. গ) রেইনকোট
  4. ঘ) জীবনক্ষুধা
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছোটগল্প
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে
• এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। 
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে: 
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই ।
৫,৮৩৮.
হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. নিষিদ্ধ লোবান
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস আগুনের পরশমণি। 

আগুনের পরশমণি:

- ‘আগুনের পরশমণি’ উপন্যাসের উপজীব্য হলো মুক্তিযুদ্ধ।
- উপন্যাসে ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা অপারেশনের সাহসিকতা, গেরিলাদের গোপন তৎপরতা এবং স্বাধীনতা সমর্থক ও বিরোধীদের চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- গল্পের শুরু হয় অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয়া থেকে, যাকে মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক আশ্রয় দেন।
- উপন্যাসে বদিউলের সঙ্গে ওই ভদ্রলোকের কন্যার মানবিক দুর্বলতাও যুদ্ধকালীন পরিবেশে ফুটে উঠেছে।

হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- শৈশবে তাঁর নাম ছিল শামসুর রহমান।
- ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন।
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার এবং শিক্ষক ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসসমূহ:
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচির একদিন,
- সূর্যের দিন,
- শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প।

অন্যদিকে,
খ) নেকড়ে অরণ্য: এটি শওকত ওসমান রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।  
গ) নিষিদ্ধ লোবান: বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি উপন্যাস, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে
ঘ) রাইফেল রোটি আওরাত: এটি আনোয়ার পাশা রচিত একটি বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

৫,৮৩৯.
'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী ছিলো?
  1. লীলাময় রায়
  2. দৃষ্টিহীন
  3. নীহারিকা দেবী
  4. পরশুরাম
ব্যাখ্যা

• 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।

'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত'
- তিনি  কবি, ঔপন্যাসিক, সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল  নোয়াখালী শহরে তাঁর জন্ম।
- আদি নিবাস বর্তমান  মাদারীপুর জেলায়। 
- ১৯২১ সালে  প্রবাসী পত্রিকায় ‘নীহারিকা দেবী’ ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমারের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়।
-  রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের পরে কল্লোল যুগের যেসব লেখক সাহিত্যজগতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম।

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- উপন্যাস:
- কাকজ্যোৎস্না ,
- বিবাহের চেয়ে বড় ,
- প্রাচীর ও প্রান্তর ,
- প্রথম কদমফুল ;

 তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অমাবস্যা ,
- আমরা ,
- প্রিয়া ও পৃথিবী ,
- নীল আকাশ,
- পূর্ব-পশ্চিম ,
- উত্তরায়ণ;

অন্যদিকে,
• 'অন্নদাশংকর রায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - লীলাময় রায়।
• দক্ষিনারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম- দৃষ্টিহীন।
• 'রাজ শেখর বসু' এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮৪০.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস 'আর্তনাদ' রচনা করেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. সেলিনা হোসেন
  3. শওকত ওসমান
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস 'আর্তনাদ' রচনা করেন শওকত ওসমান
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮৪১.
১৯ শতকের প্রথম মুসলিম লেখকের নাম-
  1. গোলাম হোসেন
  2. খোন্দকার শামসুদ্দিন সিদ্দিকী
  3. মীর মশাররফ হোসেন 
  4. মাওলানা আকরাম খাঁ
ব্যাখ্যা

• খোন্দকার শামসুদ্দীন মোহাম্মদ সিদ্দিকী:
- খোন্দকার শামসুদ্দীন মোহাম্মদ সিদ্দিকী  (১৮০৮-১৮৭০)  উনিশ শতকের প্রথম মুসলমান গদ্যলেখক।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার সর্বমঙ্গল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা খোন্দকার গোলাম ফরিদ ছিলেন একজন  পীর।
- সুফি সাধক ও তত্ত্বজ্ঞানী হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল।
- তিনি ফকিরিমতে বহু লোককে দীক্ষিত করেন।
- শামসুদ্দীন নিজেও এ ধারার অনুসারী ছিলেন।
- তাঁর রচিত দুখানি গ্রন্থ হলো ভাবলাভ (১৮৫৩) ও উচিৎ শ্রবণ অর্থাৎ পারমার্থিক ভাব (১৮৬০)।
 - প্রথমটি পদ্যে এবং দ্বিতীয়টি গদ্য-পদ্যের মিশ্রণে রচিত সুফিতত্ত্বের গ্রন্থ।

- শামসুদ্দীনের গদ্যের ভাষা আধুনিক, কিন্তু আড়ষ্ট। তবে তাঁর কবিতার ভাষা শুদ্ধ, প্রাঞ্জল ও অর্থবহ।
- বিশেষত গানের আঙ্গিকে রচিত কবিতায় তাঁর সৃজনশীল শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়।
- ‘আমার প্রাণ-প্রেয়সী সরদ শশী হাস্যবদনী/ দীর্ঘনাসি কুটিলকেশী মৃগনয়নী/ জিজ্ঞাসিলে কেহে তুমি, কৈলাস অনুগত আমি/ যাবে কোথা জিজ্ঞাসিল আবার কামিনী।’ তাঁর উচিৎ শ্রবণ গ্রন্থের এই গানে গজলের প্রভাব আছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৪২.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. শওকত আলী
  3. রশীদ হায়দার
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা
জীবন আমার বোন:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- বরাবরই মধ্যবিত্তের জীবনসংগ্রাম, তাদের দ্বিধাগ্রস্ততা, অপূর্ণতা আর সুবিধাবাদী চরিত্র অসাধারণভাবে এঁকেছেন এই শিল্পী তাঁর প্রতিটি উপন্যাসে। 
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল করিমের মধ্যবিত্তীয় সুবিধাবাদী মানসিকতার পাশাপাশি যুদ্ধের নানা বাস্তবতায় নিজের বোঝাপড়াও লেখক তুলে ধরেন পাঠকের সামনে।
- লেখকের অসামান্য উপস্থাপনা, ভাষার কাব্যিক ব্যঞ্জনায় ছোট্ট, হৃদয়গ্রাহী উপন্যাসটি যতই পড়া যায় ততই বিষমবেদনায় ভারাক্রান্ত করে।

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- কালো বরফ
- জীবন আমার বোন
- অনুর পাঠশালা
- নিরাপদ তন্দ্রা
- অশরীরী
- চিক্কোর কাবুল 
- খেলাঘর
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৭।
৫,৮৪৩.
"কুমুদিনী ও মধুসূদন" কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. যোগাযোগ
  2. মালঞ্চ
  3. নৌকাডুবি
  4. ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা
• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।
- "কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো"- বিখ্যাত বাক্যদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "যোগাযোগ” উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত।

অন্য অপশন,
 • 'মালঞ্চ' উপন্যাস:
- 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথের পরকীয়া নির্ভর ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা।
- চরিত্রগুলোর মাঝে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বই এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

• 'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' একটি সামাজিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- উপন্যাসটির মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।

• 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে। স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনি সকরুণ, সিরিয়াস।
- এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র- নিখিলেশ, বিমলা ও সন্দীপ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৪৪.
'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. অচলায়তন
  2. নটীর পূজা
  3. প্রায়শ্চিত্ত
  4. শারদোৎসব
ব্যাখ্যা

• "প্রায়শ্চিত্ত" নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'। এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব। নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানবভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

• নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- সুরমা
- ধনঞ্জয় বাউল,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮৪৫.
'চাচা কাহিনী'র লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:

ভ্রমণ কাহিনীঃ
- দেশে বিদেশে
- জলে ডাঙ্গায়

রম্যরচনাঃ
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী

ছোটগল্পঃ
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৮৪৬.
‘রাম’ ও ‘বিভীষণ’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কোন কাব্যের অন্তর্গত চরিত্র?
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. মেঘনাদবধ
  3. বীরাঙ্গনা
  4. তিলোত্তমাসম্ভব
ব্যাখ্যা
⇒ মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- ১৮৫৭ সালের সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

================
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব'। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ ঘটান তার রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে৷
- তাছাড়া বাংলা ভাষায় প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন তিনি।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ, 
- ব্রজাঙ্গনা, 
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৮৪৭.
নিচের কোনটি আলাওলের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) হপ্তপয়কর
  2. খ) লালমতী সয়ফুলমুলুক
  3. গ) সিকান্দারনামা
  4. ঘ) সতীময়না লোরচন্দ্রাণী
  5. ঙ) পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
সতীময়না লোরচন্দ্রাণী মূলত দৌলত কাজী রচিত অনুবাদ গ্রন্থ। এটি সাধনের “মৈনাসত” কাব্য থেকে অনুদিত। এই কাব্যগ্রন্থটির তৃতীয় খন্ড আলাওলের রচনা। অন্যদিকে “লালমতী সয়ফুলমুলুক” আবদুল হাকিম রচিত কাব্যগ্রন্থ। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৫,৮৪৮.
'প্রসন্ন পাষাণ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রশীদ হায়দার
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. রশীদ করীম
ব্যাখ্যা
• ‘প্রসন্ন পাষাণ’ (১৯৬৩) রশীদ করীম রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকৃতপক্ষে নাগরিক মধ্যবিত্তের জীবন জটিলতার এক বিশ্বস্ত দলিল।

⇒ রশীদ করীম:
• রশীদ করীম (১৯২৫-২০১১) বাংলাদেশের প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক। তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস ‘উত্তম পুরুষ’।
• রশীদ করীমের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘আমার যত গ্লানি’ (১৯৭৩)।

রশীদ করীম রচিত সাহিত্যকর্ম:
- উত্তমপুরুষ,
- প্রষন্ন পাষাণ,
- আমার যত গ্লানি,
- সোনার পাথর বাটি,
- বড়ই নিঃসঙ্গ ইত্যাদি।

• প্ৰবন্ধ
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহীনে তোমার মুরতিখানি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৪৯.
শামসুর রাহমান রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. অন্ধকার থেকে আলোয়
  2. অবিরল জলাভূমি
  3. অপ্রকাশের ভার
  4. এলো সে অবেলায়
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান রচিত গ্রন্থ নয় - অপ্রকাশের ভার
- এটি হাসান আজিজুল হক রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
• শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ - অন্ধকার থেকে আলোয়, অবিরল জলাভূমি।
• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস - এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- সাহিত্য রসযোদ্ধা ও সমালোচক শামসুর রাহমানের পরিচয় বিধৃত আছে তাঁর 'আমৃত্যু তার জীবনানন্দ' (১৯৮৬) ও 'কবিতা এক ধরনের আশ্রয়' (২০০২) গ্রন্থ দুটিতে।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস, 
- অদ্ভুত আঁধার এক, 
- নিয়ত মন্তাজ, 
- এলো সে অবেলায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৫০.
রবীন্দ্রনাথের সব কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতা নিয়ে তৈরি হয়েছে কোন কাব্য সংকলনটি?
  1. গীতবিতান
  2. সঞ্চয়িতা
  3. চয়নিকা
  4. মানসী
ব্যাখ্যা
সঞ্চয়িতা: রবীন্দ্রনাথের সব কাব্য থেকে কবিতা নিয়ে তৈরি হয়েছে এই বইটি।  এটি আজ আমাদের সকল সময়ের সাথী। 
- গীতবিতান: এটি রবীন্দ্রনাথের গানের সংকলন। 
- চয়নিকা: এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য সংকলন। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৫,৮৫১.
"বেণু ও বীণা" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্য:
- বেণু ও বীণা
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৫২.
নিচের কোনটি ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাসের পর্ব নয়?
  1. উদ্ধার পর্ব্ব
  2. মহরম পর্ব্ব
  3. এজিদ-বধ পর্ব্ব
  4. কারবালা পর্ব্ব
ব্যাখ্যা

 • ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
- তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।
- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৫৩.
কালীপ্রসন্ন সিংহ বাংলা সাহিত্যে কোন রীতির প্রবর্তক?
  1. কালী বাংলা
  2. টেকচাঁদী বাংলা
  3. ভারতী বাংলা
  4. হুতোমী বাংলা
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক।

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ১৮৪০ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোয় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক।
- তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে পরিচিত।
- তিনি ১৮৭০ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ: 
- হুতোম প্যাঁচার নকশা।
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৫৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাজী নজরুল ইসলামকে তার রচিত যে গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছিলেন সেটি কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. কাব্য
  3. কাব্যনাট্য
  4. গীতিনাট্য
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলাম যখন জেলে বসে অনশন করেন তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গীতিনাট্য ‘বসন্ত’ (১৯২৩) উৎসর্গ করে অনশন ভঙ্গ করার আহ্বান জানান।
- অন্যদিকে কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতার সংকলন ‘সঞ্চিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫,৮৫৫.
'সংশপ্তক' কার রচনা?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
সংশপ্তক শহীদুল্লাহ কায়সারের একটি উপন্যাস। ১৯৬৪ সালে রচিত এই উপন্যাসটি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীতে আবদুল্লাহ আল মামুন নাট্যরূপ প্রদান করেন এবং যা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়।
সংশপ্তক নাটকটি বাংলাদেশে টিভি নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় নাটক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

‘সংশপ্তক’ শব্দটি মূলত মহাভারত থেকে নেয়া। ‘সংশপ্তক’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে, যে সৈনিকেরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে এবং পালিয়ে আসে না।
উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ রমযান, হুরমতি।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,৮৫৬.
মুক্তিযুদ্ধের উপর রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. একাত্তরের দিনগুলি
  3. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  4. বকুলপুরের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর লিখিত প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

অন্যদিকে,
• জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' প্রবন্ধটি নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক রচনা।
• 'বকুলপুরের স্বাধীনতা' মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮৫৭.
‘সাগর থেকে ফেরা’ প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘সাগর থেকে ফেরা’ প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে অকাদেমী পুরস্কার ও ১৯৫৮ সালে রবীন্দ্রপুরস্কার লাভ করে।

---------------------
• প্রেমেন্দ্র মিত্র:

- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- অফুরন্ত,
- ধূলিধূসর,
- জলপায়রা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পাঁক,
- কুয়াশা,
- মিছিল,
- উপনয়ন ,
- আগামীকাল,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে,
- অন্য এক নাম,
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথমা,
- সম্রাট,
- ফেরারী ফৌজ,
- সাগর থেকে ফেরা,
- হরিণ চিতা চিল,
- এখনো মেঘ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৫৮.
জসীমউদ্দীনের 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থে কয়টি কবিতা আছে?
  1. ১৪টি
  2. ১৭টি
  3. ২১টি
  4. ১৯টি
ব্যাখ্যা
রাখালী:
- জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ এটি।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা আছে।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

জসীমউদ্দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৫৯.
'সবিনয় নিবেদন' কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. ক) শঙ্খ ঘােষ
  2. খ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
শঙ্খ ঘোষ বাংলা সাহিত্যের আধুনিক সময়ের একজন প্রতিথযশা কবি।
- শঙ্খ ঘোষের আসল নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। তার বাবা মণীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং মা অমলা ঘোষ। ১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বর্তমান চাঁদপুর জেলায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ২০২১ সালের ২০ এপ্রিল মৃত্যবরণ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কবিতার বই:
- মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
- চুপ করো, শব্দহীন হও
- সবিনয় নিবেদন
- বুক পেতে শুয়ে আছি ঘাসের উপরে চক্রবালে
- হওয়া

উৎস: প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।
৫,৮৬০.
'নেমেসিস' নাটকটি কোন পটভূমিতে রচিত হয়?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. ঊনপঞ্চাশের মন্বন্তর
  3. দেশভাগ
  4. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
নুরুল মোমেন:
- তাঁর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- তিনি মূলত নাট্যকার ছিলেন।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক নেমসিস।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- 'নেমেসিস' নাটকটি ঊনপঞ্চাশের মন্বন্তর পটভূমিতে রচিত।
- ১৯৪৮ সালে তাঁর ’বহুরূপা‘ নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রুপান্তর;
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া, সংশ্লিষ্ট বই।
৫,৮৬১.
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  2. খ) রাত্রিশেষ
  3. গ) ছায়া হরিণ
  4. ঘ) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব
- একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষে (১৯৪৭)।
- প্রকাশ: এপ্রিল, ১৯৪৭; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- এই কাব্যগ্রন্থে প্রহর, প্রান্তিক, প্রতিভাস ও পদক্ষেপ এই চারটি ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- মোট কবিতার সংখ্যা - ২৮।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৬২.
বাংলা ভাষায় প্রথম অভিধান সংকলন করেন কে?
  1. ক) রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
  2. খ) রাজশেখর বসু
  3. গ) হরিচরণ দে
  4. ঘ) অশোক মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ (জন্ম: ১৭৮৬ - মৃত্যু: ২ মার্চ ১৮৪৫) একজন আভিধানিক এবং পণ্ডিত। তিনি ব্রাহ্মসমাজের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের আদি নিবাস নদীয়ার পালপাড়ায়।
- ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান সঙ্কলন করেন।
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রামমোহনের বিপক্ষে যোগ দিলেও পরবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগে হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রস্তাব সমর্থন এবং বহুবিবাহের বিরুদ্ধে নিজমত নীতিদর্শন বক্তৃতামালায় দৃঢ়তার সাথে প্রকাশ করেন।
- ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে রামমোহন রায় বিলেত গেলে দীর্ঘ ১০ বছর তার অসাধারণ পাণ্ডিত্য এবং বিষ্ণু চক্রবর্তীর সঙ্গীতের জন্যই ব্রাহ্মসমাজের অস্তিত্ব বজায় ছিল।

উৎসঃ শিক্ষক বাতায়ন (বাংলাদেশের সরকারি ওয়েবসাইট)।

৫,৮৬৩.
"কবিতা তােমায় দিলাম আজকে ছুটি,"- পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) হে মহাজীবন
  2. খ) প্রার্থী
  3. গ) রানার
  4. ঘ) আঠারো বছর বয়স
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার একটি লাইন।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

           হে মহাজীবন
 হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝংকার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো।
প্রয়ােজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—
কবিতা তােমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল‍্সানাে রুটি।।

- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো -
- ছাড়পত্র,
- আঠারো বছর বয়স,
- রানার,
- হে মহাজীবন।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হল:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৬৪.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসগুলোতে কোন অঞ্চলের চিত্র পাওয়া যায়?
  1. ক) বঙ্গ
  2. খ) গৌড়
  3. গ) পুণ্ড্র
  4. ঘ) রাঢ়
ব্যাখ্যা
• কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্মগ্রহণ করেন। 
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
- তার উপন্যাসগুলোতে রাঢ় অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিপুনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- একটি কালো মেয়ের কথা,
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- আরোগ্য নিকেতন,
- সপ্তপদী,
- কবি,
- পঞ্চগ্রাম,
- গণদেবতা,
- ধাত্রীদেবতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৬৫.
বিধবার প্রেম নিয়ে কোন সাহিত্যিক উপন্যাস রচনা করেছে? 
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শেষ প্রশ্ন’
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি'
  3. ’কাজী নজরুল ইসলামের ‘কুহেলিকা’
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’
ব্যাখ্যা

- বিধবার প্রেম নিয়ে রচিত উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি'।

চোখের বালি:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চোখের বালি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশ পায়। 
- গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিনোদিনী—শিক্ষিতা, সৌন্দর্যবতী, কিন্তু বাল্যবিধবা হওয়ায় সমাজ ও পরিবারের চোখে সে এক ‘চোখের বালি’, অর্থাৎ চক্ষুশূল।
- প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষ্মী।
- এই উপন্যাসের বিশেষত্ব হলো চরিত্রগুলোর মনোজগতের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ।
- বিনোদিনীর আকাঙ্ক্ষা, মহেন্দ্রর চঞ্চলতা এবং আশালতার সরলতা - প্রত্যেকটি মানসিক স্তরকে রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- উপন্যাসে বিনোদিনী, মহেন্দ্র এবং বিহারীর সম্পর্কই মূল দ্বন্দ্ব তৈরি করে।
- আকর্ষণ, ঈর্ষা, মান–অভিমান ও প্রেমের টানাপোড়েন তাদের জীবনে অশান্তির ঝড় তোলে।
- রবীন্দ্রনাথ এখানে তৎকালীন সমাজের কঠোরতা, বিশেষত বিধবা নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
- নারী–পুরুষের সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, বৈবাহিক মূল্যবোধ - সবকিছুই সমাজের নিয়মে কীভাবে বাঁধা পড়ে, তাই গল্পজুড়ে ফুটে উঠেছে।

অন্যদিকে, 
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শেষ প্রশ্ন’ উপন্যাসটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নারীর স্বাধীনতা, সামাজিক রীতিনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রেমের জটিলতা এবং মানুষের অন্তর্গত সত্তার অনুসন্ধান।
- গল্পের নায়িকা কমলিকা একজন আধুনিক, মুক্তচিন্তার অধিকারী নারী, যার জীবন সংগ্রাম সমাজের প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংঘাতে ভরা।
- কমলের ভাবনা, ব্যক্তিত্ব ও সিদ্ধান্ত গল্পের প্রাণ।
- যেখানে সমাজের বাঁধাধরা ধারণা, নারীর অবস্থান এবং প্রেমের প্রকৃত অর্থকে প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয়েছে।
- তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজে কমলিকা ও তার চিন্তাধারা ছিল যেন এক ঝড়, যা পুরনো মানসিকতাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘কুহেলিকা’ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে নওরোজ পত্রিকায়।
- এটি নজরুলের অন্যতম রাজনৈতিক উপন্যাস।
- ‘কুহেলিকা’ উপন্যাসে নজরুল তৎকালীন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বৈষম্য এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেছেন।
- গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহাঙ্গীর এক তরুণ বিপ্লবী;
- যার চোখ দিয়ে লেখক সমাজ, রাজনীতি ও ধর্মের নানা জটিলতা ও অন্যায়কে দেখিয়েছেন।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি :
 “ইহারা মায়াবিনীর জাত; সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে, ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।”

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল রোমান্টিক ও কাব্যধর্মী উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত।
- ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় রচনা হলেও তাঁর শ্রেষ্ঠ কৃতির তালিকায় অন্যতম।
- বনবালিকা কপালকুণ্ডলা ও নবকুমারের নিষিদ্ধ প্রেম, সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলের আগ্রার নগরী ও অরণ্যের রহস্যময় পরিবেশ;
- এবং লোকবিশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবতার দ্বন্দ্ব - এই উপন্যাসে বিশেষভাবে উন্মোচিত হয়েছে। 
- অরণ্যে এক কাপালিকের পালিতা কপালকুণ্ডলাকে ঘিরে গল্পের প্রবাহ তৈরি হয়;
- পরে সমাজপরিচয়হীন এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিবাহ এবং তাদের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নানা দ্বন্দ্ব ও শেষ পর্যন্ত ট্র্যাজিক পরিণতি উপন্যাসটিকে আরও গভীরতা দেয়।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ— “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?”—এই উপন্যাসেই উচ্চারিত হয়।
- প্রধান চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা — ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৬৬.
সুকান্ত ভট্টাচার্য কতসালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯২৪ সালে
  4. ১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) 'কিশোর সভা' বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৬৭.
'কপিলা' কোন ঔপন্যাসিকের সৃষ্ট চরিত্র?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জহির রায়হান 
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৫,৮৬৮.
বাংলা সাহিত্যধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হলেন -
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বঙ্গিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম  উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয়ে থাকে।
- তাই তাকে, বাংলা সাহিত্যধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বলা হয়।

তাঁর উপন্যাস সমূহ:
আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

তাঁর একমাত্র প্রহসন:
-  মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৬৯.
'আগুন পাখি' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. সরদার জয়েন উদ্দিন
  4. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'আগুন পাখি' উপন্যাস:
- 'আগুন পাখি' হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।
- 'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
- মেঝ বউ চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

হাসান আজিজুল হক রচিত রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নামহীন গোত্রহীন,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন,
- রোদে যাবো,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৭০.
‘অশনি সংকেত’ উপন্যাসটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত?
  1. ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ
  2. তেভাগা আন্দোলন
  3. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  4. নীল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
'অশনি সংকেত' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৭১.
'শপথ' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) ইব্রাহিম খাঁ
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মুতী
  3. গ) আবুল হুসেন
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, চলচ্চিত্র পরিচালক। আবদুল্লাহ আল মামুন যুদ্ধবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘শপথ’ নামে নাটক রচনা করেন ১৯৬৪ সালে। তিনি এ নাটকটি রচনা করেন মূলত বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদের জন্য। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা দরকার যে, মামুন ‘শপথ’ রচনার আগে ‘নিয়তির পরিহাস’, ‘বিন্দু বিন্দু রং’ শীর্ষক দুটো মৌলিক নাটক ছাড়া ক্রিস্টোফার মার্লোর ‘ডক্টর ফস্টাস’ বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। এছাড়াও তিনি নাট্যনিরীক্ষা করতে গিয়ে ‘ঋতুরাজ’ শীর্ষক এক কাব্যনাটক রচনা করেছিলেন। তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- সুবচন নির্বাসনে, এখনও দুঃসময়, এবার ধরা দাও, সেনাপতি, অরক্ষিত মতিঝিল, ক্রসরোড ক্রস ফায়ার, আয়নায় বন্ধুর মুখ, এখনও ক্রীতদাস, শাহজাদীর কালো নেকাব, চারদিকে যুদ্ধ, এখনও ক্রীতদাস, আমাদের সন্তানেরা, কোকিলারা, মাইক মাস্টার, মেরাজ ফকিরের মা, মেহেরজান আরেকবার।
৫,৮৭২.
পৃথিবীর প্রথম সংবাদপত্র কোন দেশ থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ইংল্যান্ড
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) স্কটল্যান্ড
  4. ঘ) জার্মান
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রথম সংবাদপত্র ১৫৬০ সালে জার্মান থেকে প্রকাশিত হয়। ১৭০২ সালে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হয় বিশ্বের প্রথম দৈনিক পত্রিকা। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৭৩.
কোনটি আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত প্রথম উপন্যাস?
  1. আমি অনাহারী
  2. নিজ বাসভূমে
  3. রৌদ্র করোটিতে
  4. পরিত্যক্ত স্বামী
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ পূর্বতন ঢাকা জেলা, বর্তমান গাজীপুর জেলার দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'পরিত্যক্ত স্বামী' (১৯৪৭)। এটি তাঁর প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থও।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ২৪শে আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী
- নির্বাচিত গল্প।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৭৪.
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো/চারকোটি পরিবার" পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) স্মৃতির মিনার
  2. খ) শহীদ মিনার
  3. গ) স্মৃতিস্তম্ভ
  4. ঘ) স্মৃতিসৌধ
ব্যাখ্যা
উপরোক্ত পঙক্তিদ্বয় আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতার অংশ। 
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

স্মৃতিস্তম্ভ
-আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য ।
ইটের মিনার
ভেঙেছে ভাঙুক ! ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী
চারকোটি পরিবার ।


লেখকের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র (১৯৬১)
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ (১৯৬২)

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৭৫.
'অমল' - চরিত্রটির স্রষ্টা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'ডাকঘর' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক।
- এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।

নাটকের চরিত্র গুলো হলো:
- অমল,
- মাধব দত্ত (অমলের পিতা),
- সুধা (মালির মেয়ে),
- ঠাকুরদাদা,
- দইওয়ালা,
- প্রহরী,
- কবিরাজ,
- রাজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৭৬.
সাধনা পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৭৭.
‘একাত্তরের হৃদয়ভস্ম’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. আবু বকর সিদ্দিক
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

- ‘একাত্তরের হৃদয়ভস্ম’ গ্রন্থটির রচয়িতা- আবু বকর সিদ্দিক। 
--------------------------- 
• আবু বকর সিদ্দিক:
- আবু বকর সিদ্দিক ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বহুমাত্রিক ও শক্তিমান লেখক।
- তিনি কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও শিক্ষাবিদ—চারটি ক্ষেত্রেই সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন।
- ১৯৩৪ সালের ১৯ আগস্ট বাগেরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর লেখায় সমকালীন সমাজ, মানুষের জীবনসংগ্রাম, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতার গভীর প্রতিফলন দেখা যায়।
- কবিতায়ও তিনি ছিলেন সমান শক্তিশালী—মানুষ, সভ্যতা, সময় ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর কবিতা প্রতিবাদী ও গভীর চিন্তামুখর।

- শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন।
- কর্মজীবনের শেষ দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর নেন।
- সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা লাভ করেন।
- ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

• আবু বকর সিদ্দিক রচিত বিখ্যাত উপন্যাস- 
- ‘একাত্তরের হৃদভস্ম’ (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস), 
- ‘জলরাক্ষস’,
- ‘খরাদাহ’,
- ‘বারুদপোড়া প্রহর’। 

• আবু বকর সিদ্দিক–এর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- ধবল দুধের স্বরগ্রাম,
- বিনিদ্র কালের ভেলা,
- হে লোকসভ্যতা,
- শ্যামল যাযাবর,
- মানব হাড়ের হিম। 

• আবু বকর সিদ্দিক–এর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-
- ভূমিহীন দেশ,
- চরবিনাশকাল।
-------------------------------- 
একাত্তরের হৃদয়ভস্ম উপন্যাস:
- একাত্তরের হৃদয়ভস্ম উপন্যাসটি লিখেছেন প্রখ্যাত কবি ও কথাসাহিত্যিক আবু বকর সিদ্দিক। এই উপন্যাসে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা, সাধারণ মানুষের অসহনীয় কষ্ট এবং যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। স্বাধীনতার পর দেশ পেলেও মানুষের মনে যে গভীর ক্ষত, শোক আর ভাঙনের অনুভূতি রয়ে যায়—সেই যন্ত্রণাই এখানে মূল বিষয়। উপন্যাসটি যুদ্ধের শুধু লড়াইয়ের গল্প নয়; বরং যুদ্ধ মানুষের জীবন, সম্পর্ক ও অনুভূতিকে কীভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেয়, তার হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুরতা, নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ এবং স্বাধীনতার মূল্য—সব মিলিয়ে একাত্তরের হৃদয়ভস্ম আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এক বেদনাময়, বাস্তব ও মানবিক দলিল।

উৎস:
কালি ও কলম; 
প্রথম আলো পত্রিকা। 

৫,৮৭৮.
'মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।’ চরণটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মাইকেল মধূসুদন দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

- 'মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।’ চরণটির রচয়িতা - কাজী নজরুল ইসলাম।
- চরণটি বিদ্রোহী কবিতার অন্তর্গত।

'বিদ্রোহী' কবিতা

- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
-  ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ,১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৭৯.
নিচের কোনটি জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস?
  1. কবিতার কথা
  2. বনলতা সেন
  3. মহাপৃথিবী
  4. সুতীর্থ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• "সুতীর্থ" একটি বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস, যা জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন।

অন্যদিকে,
বনলতা সেন; মহাপৃথিবী - জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
• জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'কবিতার কথা'

• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'জীবনানন্দ দাশ' জীবনী।
৫,৮৮০.
‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কবি নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অগ্নিবীণা
  2. বিষের বাঁশি
  3. দোলন চাঁপা
  4. বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতাটি ২২ পৌষ, ১৩২৮ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- কবিতার মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), 
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৮১.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থের পটভূমি কী?
  1. ক) দেশভাগ
  2. খ) মনন্ত্বর
  3. গ) গণ অভ্যুত্থান
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ'(১৯৬৭) হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- দেশ বিভাগের ফলে সৃষ্ট ব্যক্তিচরিত্রের নৈতিক স্খলন সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্টঙ্কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা ও দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত হয় 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ'।
- বাংলাদেশের ছোটগল্পের ধারায় এই গল্পগ্রন্থটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

এতে আছে ৮ টি গল্প -
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পরবাসী,
- সারাদুপুর,
- অন্তর্গত নিষাদ,
- মারী,
- উটপাখি,
- সুখের সন্ধানে,
- আমৃত্যু আজীবন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৮২.
‘সাজাহান’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়  
ব্যাখ্যা

‘সাজাহান’ নাটকটি রচনা করেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।

• সাজাহান নাটক সম্পর্কিত কিছু তথ্য: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সাজাহান এক ঐতিহাসিক পারিবারিক ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে রচিত।
- সাজাহান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯০৯ সালে।
- মোগল সাম্রাজ্যের পটভূমিতে রচিত এই নাটকটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হিসেবে পরিচিত।

- নাটকটিতে দেখা যায়- জীবনের শেষ দিকে সম্রাট সাজাহান একদিকে স্ত্রী মমতাজের মৃত্যুশোকে ভেঙে পড়েছেন। অন্যদিকে নিজের ছেলেদের ক্ষমতার লড়াইয়ে তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। আওরঙ্গজেব ক্ষমতা দখল করে পিতাকে কারাবন্দি করে। আর দারা–সুজাদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়। এসব ঘটনার মধ্যে সাজাহানের পুত্রস্নেহ, অহং, আত্মমর্যাদা ও মানসিক যন্ত্রণা নাটকে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে মানুষের স্বভাব, দুর্বলতা ও সম্পর্কের জটিল দিকগুলোকে তুলে ধরায় নাটকটি আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান “ধনধান্যে পুষ্পে ভরা” প্রথম ব্যবহৃত হয় তাঁর ঐতিহাসিক নাটক ‘সাজাহান’-এ।
---------------------------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
-  দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই, নদিয়ার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর বাবা কার্তিকেয়চন্দ্র রায় ছিলেন গায়ক ও সাহিত্যিক, তাই ছোটবেলা থেকেই শিল্প-সাহিত্যের পরিবেশে মানুষ হন দ্বিজেন্দ্রলাল।
- কবি, নাট্যকার ও গীতিকার—এই তিন পরিচয়েই তিনি সমানভাবে খ্যাত।
- বাংলা সংগীতে তিনি সৃষ্টি করেন ‘দ্বিজেন্দ্রগীতি’ নামে এক স্বতন্ত্র ধারা, যার মধ্যে দেশপ্রেম, প্রকৃতির সৌন্দর্য আর মধুর সুরেলা অনুভূতি মিলেমিশে আছে।
- তিনি প্রায় ৫০০ গান লিখেছেন; “ধনধান্য পুষ্পভরা” তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা।
- তাঁর হাসির গানও বিশেষ জনপ্রিয়, যার জন্য তিনি ‘হাসির গানের রাজা’ নামে পরিচিত। 
- হাসির গানের রাজা’ 'D.L. Ray' নামেও পরিচিত ছিলেন।
- তিনিই প্রথম বাংলা ভাষায় প্যারোডি গান রচনা করেন।
- নাট্যসাহিত্যেও তাঁর অবদান অনবদ্য।
- ‘তাঁর রচিত ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক নাটক:
সাজাহান’,
• ‘চন্দ্রগুপ্ত’,
• ‘নুরজাহান’,
• ‘তারাবাঈ’,
• ‘একঘরে’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

৫,৮৮৩.
"নাম রেখেছি কোমল গান্ধার" কাব্যের লেখক কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বিষ্ণু দে
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৮৪.
কোনটি শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস নয়?
  1. ক) হিসাবনিকাশ
  2. খ) ক্রীতদাসের হাসি
  3. গ) জননী
  4. ঘ) দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
'হিসাবনিকাশ' - উপন্যাসটি শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস নয়।

- এর রচয়িতা - শওকত আলী।

• শওকত ওসমান ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস :
- জননী
- ক্রীতদাসের হাসি
- সমাগম
- চৌরসন্ধি
- জাহান্নাম হইতে বিদায়
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- পতঙ্গ পিঞ্জর
- আর্তনাদ
- রাজপুরুষ

উৎস: বাংলা পিডিয়া
৫,৮৮৫.
কোনটি বিশ শতকের পত্রিকা?
  1. পরিচয়
  2. সাধনা
  3. বঙ্গদর্শন
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা
• 'পরিচয়' বিশ শতকের পত্রিকা।

• 'পরিচয়' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল', 'কালিকলম', 'পরিচয়'-এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৯৩০ সালে 'কল্লোল' বন্ধ হয়ে গেলে বিষ্ণু দে-ও এ পত্রিকায় যোগ দেন এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে একযুগ এখানে সংযুক্ত ছিলেন।
- সুধীন্দ্রনাথও টানা বার বছর সম্পাদক ছিলেন এ পত্রিকার।
- পরে পত্রিকার মালিকানা-বদল ঘটে এবং গোপাল হালদার এর সম্পাদক হন।
- কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) পশ্চিমবঙ্গ শাখার তত্ত্বাবধানে এখনো 'পরিচয়' প্রকাশ পায়।
- বলা হয়, 'সবুজপত্রে'র পর এরকম উচ্চমানের পত্রিকা বাংলায় আর প্রকাশিত হয় নি।

------------------
• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

------------------
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- 'বঙ্গদর্শন' একটি মাসিক সাহিত্যপত্রিকা।
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

------------------
• ‘ভারতী’ পত্রিকা:
- ‘ভারতী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, রবীন্দ্র-ভাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়।
- পরে স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এ পত্রিকার সম্পাদক হন।
- ‘ভারতী, একটি লেখক গোষ্ঠি গোড়ে তোলে। এই লেখক গোষ্ঠিই মূলত রবীন্দ্রানুসারী।
- রবীন্দ্রনাথসহ, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী প্রমুখ নিয়মিত এই পত্রিকায় লিখতেন। পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৮৬.
'প্রভাত চিন্তা', 'নিভূত চিন্তা', 'নিশীত চিন্তা' প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন ঘোষ:
- তিনি ১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই  ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ভরাকর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বাগ্মী, সাংবাদিক, লেখক, পন্ডিত। 
- তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয় ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকা শুভসাধিনী সভার’ মুখপত্র 'শুভসাধিনী' সম্পাদনার মাধ্যমে।
- কালীপ্রসন্ন ঘোষ দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা।
- নিভৃত-চিন্তা।
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব।
- নিশীথ-চিন্তা। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভ্রান্তিবিনোদ।
- প্রমোদলহরী।
- ভক্তির জয়।
- মা না মহাশক্তি।
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা।
- ছায়াদর্শন প্রভৃতি।

• এছাড়াও 'সঙ্গীতমঞ্জরী' নামে আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ এবং 'কোমল কবিতা' নামে শিশুপাঠ্য গ্রন্থও তিনি রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৮৭.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত মোট কাব্যগ্রন্থ-
  1. ৪৫ টি
  2. ৫৪ টি
  3. ৫৫টি
  4. ৫৬ টি
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ৫৬টি।

• উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- কবি-কাহিনী (প্রথম কাব্যগ্রন্থ), 
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা (শেষ কাব্যগ্রন্থ),
- প্রভাতসঙ্গীত,
- বনফুল, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৮৮.
ফররুখ আহমদ তাঁর কোন বিখ্যাত গ্রন্থের জন্য আদমজি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. সিরাজাম মুনীরা
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. হাতেমতায়ী
ব্যাখ্যা
ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৮৯.
'অপু' রবীন্দ্রনাথের কোন ছোটগল্পের চরিত্র?
  1. শাস্তি
  2. হৈমন্তী 
  3. সমাপ্তি
  4. জীবিত ও মৃত 
ব্যাখ্যা

'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' এর স্বামীর নাম ছিলো - অপু।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
 - এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজ সমস্যামূলক ছোট গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম।
 - উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো: হৈমন্তী (শিশির),গৌরীশংকর,অপু,বনমালী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শাস্তি' ছোটগল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র চন্দরা,রাধা ।
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র উল্লেখযোগ্য চরিত্র মৃন্ময়ী ও অপূর্ব।
- 'জীবিত ও মৃত' গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী,শ্রীপতি ও যোগমায়া।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৯০.
কোনটি যৌনাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে উদর পূর্তির সমস্যা ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. সহরবাসের ইতিকথা
  2. পদ্মানদীর মাঝি
  3. অহিংসা
  4. সার্বজনীন
ব্যাখ্যা
⇒ ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- যৌনাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে উদর পূর্তির সমস্যাভিত্তিক একটি উপন্যাস। পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

⇒ এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

===================
⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গন্থ:   
⇒ উপন্যাস: 
• জননী,
• দিবারাত্রির কাব্য, 
• পদ্মানদীর মাঝি, 
• পুতুলনাচের ইতিকথা, 
• সহরবাসের ইতিকথা,
• সহরতলী,    
• সার্বজনীন,
• অহিংসা, 
• আরোগ্য ইত্যাদি।

⇒ গল্প: 
• অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
• প্রাগৈতিহাসিক,   
• সরীসৃপ,  
• আত্মহত্যার অধিকার, 
• মিহি ও মোটা কাহিনী, 
• সমুদ্রের স্বাদ, 
• বৌ,  
• হলুদ পোড়া, 
• আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৯১.
'অভীক’ রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের নায়ক?
  1. ল্যাবরেটরি
  2. নষ্টনীড়
  3. রবিবার
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
'অভীক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘রবিবার’ গল্পের প্রধান চরিত্র। 

• 'অভীক' চরিত্র বিষয়ক আলোচনা:
গল্পে অভয়াচরণ (অভীক) নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পণ্ডিত ঘরের সন্তান। সে হয়ে উঠেছে ঘোর নাস্তিক। যত রকম নিয়মভঙ্গে সিদ্ধ। বেয়াদবি আচরণে তার যত উৎসাহ। সে যেমন কলকব্জা সারাতে পারে আবার ছবি আঁকতেও দক্ষ। নিষিদ্ধ মাংস খায়, অগাধ পয়সা থাকা সত্ত্বেও কারখানায় শৌখিন মজদুরি করে। গ্যাঁটের পয়সা খরচা করে নিজের আঁকা ছবির প্রদর্শনী করে প্রশংসা পাবে বলে।

রবিবার গল্পের অন্যান্য চরিত্র:
- অভীক কুমার বা অভয়চরণ, বিভা।

অন্যদিকে,
- ল্যাবেরেটরি গল্পের প্রধান চরিত্র - সোহিনী।
- নষ্টনীড় ছোটগল্পের চরিত্র - চারুলতা, ভূপতি, উমাপতি, মন্দাকিনী, অমল প্রমুখ।
- ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'। 

উৎস: রবিবার’ গল্প; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৯২.
মুসলিম জাগরণমূলক কোন কাব্যটি তৎকালীন সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়?
  1. সাত সাগরের মাঝি
  2. জিঞ্জীর
  3. অনল প্রবাহ
  4. বুলবুলিস্তান
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্যের পরিচয়:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।

- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'- এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাবাটিতে।

- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ভারত ভিক্ষা', 'ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।

- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি। এগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পুজা, অভিভাষণ: ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।

- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

অন্যদিকে, 
• কবি ফররুখ আহমদ-এর "সাত সাগরের মাঝি" কাব্যগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত হয়নি, বরং এটি একটি অত্যন্ত আলোচিত এবং জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এর চারটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি মুসলিম জাগরণ ও আত্মপ্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে মুসলিম সমাজে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। 

• কাজী নজরুল ইসলামের 'জিঞ্জীর' কাব্যগ্রন্থটি বাজেয়াপ্ত হয়নি, তবে ব্রিটিশ সরকার তার পাঁচটি গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করেছিল: যুগবাণী, বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয় শিখা এবং চন্দ্রবিন্দু।  

• "বুলবুলিস্তান" হলো কবি গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৬) কর্তৃক রচিত একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। গোলাম মোস্তফার 'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত হয়নি। বরং, এটি তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য এবং পরিচিত কাব্যগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।
 
------------------------
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য,
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী,
- প্রেমাঞ্জলি। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস,
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• ভ্রমণ কাহিনি: তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮৯৩.
"সর্বদাই হু হু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন।
চারি দিকে ঝালাফালা।
উঃ কী জ্বলন্ত জ্বালা,
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গপতন।" পঙক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
"সর্বদাই হু হু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন।
চারি দিকে ঝালাফালা।
উঃ কী জ্বলন্ত জ্বালা,
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গপতন।" বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কবিতার বিখ্যাত চরন। 
-------------------
বিহারীলাল চক্রবর্তী (১৮৩৫-১৮৯৪):
বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে তিনি সুপরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী এর জন্ম ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়। 
- তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- তার সব কাব্যই বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। রবীন্দ্রনাথ তাকে বাঙলা গীতি কাব্য-ধারার 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন। 
- তাঁর কবিতায় রূপ অপেক্ষা ভাবের প্রাধান্য বেশি। প্রকৃতি ও রোম্যান্টিকতা, সঙ্গীতের উপস্থিতি, সহজ-সরল ভাষা এবং তৎসম ও তদ্ভব শব্দের যুগপৎ ব্যবহার বিহারীলালের কাব্যকে করেছে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

বিহারীলালেরউল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
- স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮),
- সঙ্গীতশতক (১৮৬২)
- বন্ধুবিয়োগ (১৮৭০),
- প্রেমপ্রবাহিণী (১৮৭০),
- নিসর্গসন্দর্শন (১৮৭০),
- বঙ্গসুন্দরী (১৮৭০),
- সারদামঙ্গল (১৮৭৯),
- নিসর্গসঙ্গীত (১৮৮১),
- মায়াদেবী (১৮৮২),
- দেবরাণী (১৮৮২),
- বাউলবিংশতি (১৮৮৭),
- সাধের আসন (১৮৮৮-৮৯) এবং
- ধূমকেতু (১৮৯৯) ।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- পূর্ণিমা,
- সাহিত্য-সংক্রান্তি,
- অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৯৪.
'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর। প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর।।' - উক্তিটি কার?
  1. ক) জ্ঞানদাস
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) গোবিন্দদাস
  4. ঘ) লোচনদাস
ব্যাখ্যা
• 'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর।।' - উক্তিটির রচয়িতা হলেন জ্ঞানদাস
 
• জ্ঞানদাস:
- তিনি বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেছেন।
- তাঁর লেখার ভাষা সহজ, সরল, অলঙ্কারবর্জিত, কিন্তু প্রবল আবেগে পরিপূর্ণ।
- তাঁর রচিত দুটি বৈষ্ণব গীতিকাব্য 'মাথুর' ও মুরলীশিক্ষা।
• জ্ঞানদাস চন্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উক্তি-
- "সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল। অমিয়-সাগরে সিনান করিতে, সকলি গরল ভেল।"
- 'রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল, যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।'
- 'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর, প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর।'

উৎস: 
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৮৯৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ - 
  1. তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?
  2. বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।
  3. এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ। 
  4. পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।
ব্যাখ্যা

• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- "পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।" কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের এই সংলাপ, বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ
- তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য বাক্য।
- গরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের নাট্যরূপ দেন।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে, 
• 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। পঙ্‌ক্তিটি তিনি 'শ্রীকান্ত' নামক আত্মজৈবনিক উপন্যাসে উদ্ধৃত করেছেন।
•  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট কেন? এই ভুবনে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৯৬.
'দরজাটা খোলো' গল্পটি কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- অনতিক্রান্তবৃত্ত,
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ,
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ।

তাঁর রচিত ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো।

তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস:
- বাবুলের বেড়ে ওঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৯৭.
শওকত ওসমানের “পিঁজরাপোল” কী ধরণের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) গল্প গ্রন্থ
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান: কথাসাহিত্যিক।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী ,
- জাহান্নাম হইতে বিদায়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,৮৯৮.
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস-
  1. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  2. কবি
  3. অরণ্যবহ্নি
  4. আরোগ্য নিকেতন
ব্যাখ্যা
• 'অরণ্যবহ্নি’ উপন্যাস:
- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।

অন্যদিকে,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। বাশবাদি গ্রামে কাহার জাতির লোকেরা বাস করত। কাহারদের পুরানো বিশ্বাস ও কুসংস্কারের পরিবর্তন নিয়ে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস ‘কবি’।
- ‘আরোগ্য নিকেতন’ উপন্যাসে এক কবিরাজের জীবনদর্শনের সঙ্গে নব্যশিক্ষিত ডাক্তারের সংঘাত উল্লেখখ করা হয়েছে।

--------------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
• তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি, প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তারাশঙ্কর প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেন সেগুলির মধ্যে:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৯৯.
'জয়ধ্বনি' নাটকটি কোন পটভূমিকায় রচিত?
  1. স্বাধীনতাযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. দুর্ভিক্ষ
  4. ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
'জয়ধ্বনি' নাটক:
- এটি আবু ইসহাক রচিত নাটক।
- নাটকটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত। 
- সঙ্গত কারণে বেশ কয়েকটি দৃশ্যে রূপকের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তাই নাটকটির বেশ কিছু দৃশ্য মঞ্চে প্রদর্শন করা সম্ভব হলেও সম্পূর্ণটা মঞ্চস্থ করা অত্যন্ত দুরূহ বা প্রায় অসম্ভব। 
- তবে আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে নাটকটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা সম্ভব। তবে তার জন্য অশেষ ধৈর্য, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের প্রয়োজন।

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৯০০.
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিযুক্ত হয়েছিলেন?
  1. ক) হিন্দু কলেজ
  2. খ) আলীগড় কলেজ
  3. গ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  4. ঘ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও (১৮০৯-১৯৩১) ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক। 

তিনি মাত্র সতের বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন। 
- পড়াতেন ইংরেজি সাহিত্য ও ইতিহাস। 
- প্রচলিত সংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিকে প্রশ্রয় না দেয়া ছিল তাঁর শিক্ষার মূলকথা। 
- সংস্কারপন্থীদের অভিযোগ ও চাপের ফলে এই ছাত্রপ্রিয় তরুন শিক্ষককে হিন্দু কলেজ থেকে ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে বরখাস্ত করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।