বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৫৮ / ১৭৪ · ৫,৭০১৫,৮০০ / ১৭,৪৩৭

৫,৭০১.
‘হিতোপদেশ’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) উইলিয়াম কেরী
  4. ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (আনু. ১৭৬২-১৮১৯): তিনি ছিলেন একজন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নাটোর-রাজের দরবারে লেখাপড়া শিখে তিনি সংস্কৃত পন্ডিতে পরিণত হন।
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলো হচ্ছে:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।
- এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন বেদান্তচন্দ্রিকা। এসব গদ্য প্রায় সবই অনুবাদমূলক; তা সত্ত্বেও তাঁর রচনা-রীতির কারণে অনেকটা মৌলিক রূপ লাভ করেছে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং আনন্দবাজার পত্রিকা আর্কাইভ।

৫,৭০২.
'নুরুলদীনের সারা জীবন' নাটকের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) কৃষক বিদ্রোহ
  2. খ) পানিপথের যুদ্ধ
  3. গ) চাকমা বিদ্রোহ
  4. ঘ) সাঁওতাল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
নুরুলদীনের সারা জীবন:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নুরুলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নুরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত। 

• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭০৩.
হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) প্রতিবিম্ব
  2. খ) মূল্যবোধের জন্যে
  3. গ) আরো দুটি মৃত্যু
  4. ঘ) আধুনিক কবি ও কবিতা
ব্যাখ্যা
- হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে- প্রতিবিম্ব। 

হাসান হাফিজুর রহমান:
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। তাঁর পৈতৃক নিবাস জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে। 
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক  বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। পরে  সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান  (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন।
- ১৯৭৮ সালে তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকল্প’-এর পরিচালক নিযুক্ত হন।
- ১৯৪৬ সালে স্কুলে পড়া অবস্থায় তাঁর প্রথম রচনা একটি  ছোটগল্প ‘অশ্রুভেজা পথ চলতে’ সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা। 
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারী'।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ
- বিমুখ প্রান্তর
- সীমান্ত শিবিরে 
- আর্ত শব্দাবলী
- যখন উদ্যত সঙ্গীন
- দক্ষিণের জানালা 
- প্রতিবিম্ব 
- শোকার্ত তরবারী 
- আমার ভেতরের বাঘ ইত্যাদি।
প্রবন্ধগ্রন্থ
- আধুনিক কবি ও কবিতা
- মূল্যবোধের জন্যে
- সাহিত্য প্রসঙ্গ 
গল্পগ্রন্থ:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  
৫,৭০৪.
'চন্দ্রভানের কন্যা' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. শওকত ওসমান
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. শামসুদ্দিন আবুল কালাম
  4. জসীম উদ্‌দীন 
ব্যাখ্যা

• "চন্দ্রভানের কন্যা" হল প্রখ্যাত সাহিত্যিক শহীদুল্লা কায়সার-এর একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।

--------------------
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭০৫.
'লালসালু' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯৪৫
  2. খ) ১৯৪৮
  3. গ) ১৯৫৮
  4. ঘ) ১৯৬৫
ব্যাখ্যা
- 'লালসালু' উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়। 

• লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- মজিদ
- জমিলা
- আমেনা
- খালেক ব্যাপারী
- রহিমা
- আক্কাস
- তাহেরের বাপ
- হাসুনির মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭০৬.
'লাঙ্গল' - পত্রিকার প্রধান সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) দীনেশরঞ্জন দাশ
  3. গ) মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  4. ঘ) আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
• লাঙ্গল পত্রিকা
- নজরুলের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল সাপ্তাহিক লাঙ্গল পত্রিকা প্রকাশ (১৬ ডিসেম্বর ১৯২৫)।
- তিনি এ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন। এর প্রথম সংখ্যাতেই নজরুলের ‘সাম্যবাদী’ কবিতা সমষ্টি মুদ্রিত হয়।
- লাঙ্গল ছিল বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম শ্রেণিসচেতন সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- এতে প্রকাশিত ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ দলে’র ম্যানিফেস্টোতে প্রথম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপিত হয়।
- এ সময় নজরুল পেশাজীবী শ্রমিক-কৃষক সংগঠনের উপযোগী সাম্যবাদী ও সর্বহারা  কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
-  কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- 'সওগাত' (১৯২৮) পত্রিকার সম্পাদক - মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক - দীনেশরঞ্জন দাশ।
-  'শিখা' পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক আবুল হুসেন ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭০৭.
বিষয়বস্তুর দিক থেকে বাংলা নাটক কয় প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তুর দিক থেকে বাংলা নাটক তিন প্রকার:
- পৌরাণিক নাটক 
- ঐতিহাসিক নাটক 
- সামাজিক নাটক 

এছাড়া আছে রূপক বা সাঙ্কেতিক নাটক, গীতিনাট্য, , নৃত্যনাট্য, চরিত নাটক বা জীবনী নাটক ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক। 
৫,৭০৮.
’একাত্তরের চিঠি’ কী ধরনের রচনা?
  1. নাটক
  2. পত্র সংকলন
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

‘একাত্তরের চিঠি’ পত্র সংকলন: 
- একাত্তরের চিঠি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লেখা ৮২ টি চিঠির একটি সংকলন।
- দৈনিক প্রথম আলো ও গ্রামীনফোনের উদ্যোগে চিঠিগুলো সংগ্রহ করা হয়। সংকলনটি প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় (চৈত্র, ১৪১৫ বঙ্গাব্দ) মার্চ ২০০৯ এ।
- এই সংকলনের সম্পাদনা পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন আমীন আহম্মেদ চৌধুরী, রশীদ হায়দার, সেলিনা হোসেন, নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

উৎস: ‘একাত্তরের চিঠি’।

৫,৭০৯.
"আরেফ আলী" সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. লালসালু
  2. কাঁদো নদী কাঁদো
  3. বহিপীর
  4. চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত "চাঁদের অমাবস্যা" একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরেফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭১০.
'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থে কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের মনোভাব ফুটে উঠেছে?
  1. রাজনৈতিক বিদ্রোহ
  2. গভীর আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা
  3. আধ্যাত্মিক চেতনা
  4. হাস্যরসাত্মক বিদ্রূপ
ব্যাখ্যা

চিত্তনামা:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ রা আষাঢ় চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুবরণ করলে ,তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নজরুল অর্ঘ্য, অকাল - সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, ইন্দ্রপ্তন, রাজভিখারি নামে কয়েকটি কবিতা সমকালীন পত্রিকায় লিখেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির - গভীর আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়।
- এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

 উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,৭১১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটোগল্পটি কে লিখেছেন?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়  
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ছোটগল্পকার’:
• প্রকৃত অর্থে বাংলা সাহিত্যে সার্থক ছোটগল্পকার হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• তাঁর প্রথম গল্প ‘ভিখারিণী’ ১৮৭৪ সালে  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও ‘দেনা-পাওনা’ (১৮৯০) গল্পটিই প্রথম সার্থক ছোটগল্প।
• ১৮৮৪-৮৫ সময়ের মধ্যে প্রকাশিত হয় তাঁর ‘ঘাটের কথা’, ‘রাজপথের কথা’ ও ‘মুকুট’।
• গল্পগুচ্ছ, সে, তিনসঙ্গী প্রভৃতি গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংখ্যা ১১৯টি।
• রবীন্দ্রনাথই যথার্থ অর্থে বাংলা ছোটগল্পে জীবন দান করেন।
• বিষয়বস্ত্ত হিসেবে রবীন্দ্রনাথের গল্পে প্রেম, প্রকৃতি, মানুষ, অতিপ্রাকৃত ঘটনা, সামাজিক জীবন, নারী-পুরুষের মনস্তাত্ত্বিক দিক ইত্যাদি স্থান পেয়েছে।

⇒ প্রেমের গল্প হিসেবে- একরাত্রি, মহামায়া, সমাপ্তি, মাল্যদান, মধ্যবর্তিনী, শাস্তি, প্রায়শ্চিত্ত, দুরাশা, অধ্যাপক, নষ্টনীড়, স্ত্রীর পত্র, পাত্র ও পাত্রী, মানভঞ্জন, রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি প্রভৃতি গল্পের নাম উল্লেখ করা যায়।

⇒ প্রকৃতিবিষয়ক গল্পের মধ্যে- শুভা, অতিথি, আপদ, বলাই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব গল্পে প্রকৃতিপ্রেমিক নারী ও বালক চরিত্রগুলি হয়েছে যেন প্রকৃতির সন্তান।

⇒ সমাজজীবনের সম্পর্কবৈচিত্র্য নিয়ে রচিত গল্পের মধ্যে- উল্লেখযোগ্য হলো: ব্যবধান, মেঘ ও রৌদ্র, পণরক্ষা, পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, দিদি, হৈমন্তী, কর্মফল, দান-প্রতিদান, দেনা-পাওনা, ছুটি, পুত্রযজ্ঞ, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।

⇒ অতিপ্রাকৃত রসের স্পর্শ লেগেছে গুপ্তধন, জীবিত ও মৃত, নিশীথে, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, মাস্টারমশাই ইত্যাদি গল্পে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম সার্থকভাবে বাংলা ছোটগল্পকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫,৭১২.
‘যে জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী।’- উক্তিটি কার রচনা?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
⇒ 'বইপড়া' প্রবন্ধ:
• 'বইপড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
• এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

• এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো-
- ‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।’ 
- ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।’
- ‘যে জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী।’

⇒ প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭১৩.
'কঙ্কাবতী' কাব্যগ্রন্থের প্রধান বিষয়বস্তু কী?
  1. যুদ্ধ-বিগ্রহ 
  2. প্রেম
  3. সামাজিক কুসংস্কার
  4. দেশভাগ
ব্যাখ্যা
‘কঙ্কাবতী’ কাব্যগ্রন্থ:
- এটি বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়ামালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭১৪.
‘আসাদের শার্ট’ কবিতার রচয়িতা —
  1. শামসুর রাহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. হেলাল হাফিজ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান রচিত বিখ্যাত কিছু কবিতা: 
- ''হাতির শুড়'' - - স্বৈরশাসক আয়ুব খানকে বিদ্রুপ করে লেখা,
- ''টেলেমেকাস'' - - ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কারাবন্দী হলে তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা,
- ''বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা'' - - ১৯৬৮ সালে অভিন্ন রোমান হরফে পাকিস্তানের সব ভাষার বর্ণমালা লেখার প্রস্তাব করার প্রেক্ষিতে লেখা,
- ''আসাদের শার্ট'' - - গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে গুলিতে আসাদ নিহত হলে তার রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল নিয়ে লেখা,
- ''স্বাধীনতা তুমি'', ''তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা'' ইত্যাদি।

আসাদের শার্ট- কবিতা, 
-------- শামসুর রাহমান। 

গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায় নীলিমায় ।

বোন তার ভায়ের অম্লান শার্টে দিয়েছে লাগিয়ে
নক্ষত্রের মতো কিছু বোতাম কখনো
হৃদয়ের সোনালী তন্তুর সূক্ষতায়
বর্ষীয়সী জননী সে-শার্ট
উঠোনের রৌদ্রে দিয়েছেন মেলে কতদিন স্নেহের বিন্যাসে।

উৎস: শামসুর রাহমানের কবিতা সংকলন ও বাংলাপিডিয়া। 

৫,৭১৫.
'দ্বীপান্তর' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. ছোটগল্প
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'দ্বীপান্তর' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি নাটক।

-----------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরোগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭১৬.
জসীমউদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি- 
  1. ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র
  2. জীবন কথা
  3. চলে মুসাফির
  4. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
ব্যাখ্যা

• 'চলে মুসাফির' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - জসীমউদ্‌দীন।

• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• 'চলে মুসাফির' ভ্রমণকাহিনি:
- ‘চলে মুসাফির’ বইটি মূলত সরলমতি ছাত্রদের জন্য লেখা হয়েছিল, তাই পাঠ্যপুস্তক হিসেবে এর অনেক বিষয় সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণে এই ভ্রমণকাহিনী বিস্তারিতভাবে লিখিত হয়েছে, যাতে পাঠ্যপুস্তক পড়া পাঠকদের কাছেও এটি নতুন মনে হয়। এই সংস্করণে করাচি ও মুলতান ভ্রমণের বিবরণও যোগ করা হয়েছে। এই কাহিনীর মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষদের সঙ্গে পাঠক-পাঠিকাদের মনের বন্ধন গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ সরকারের আর্থিক সহায়তায় লেখক আমেরিকা ভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি যে সকল আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত মানুষের সান্নিধ্যে আসেন, তাঁদের কথা এই বইয়ে ভালোবাসার সঙ্গে লিপিবদ্ধ করেছেন।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র’ ইবরাহীম খাঁ রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
• ‘জীবন কথা’ হলো তার আত্মজীবনী।
• 'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন' ভ্রমণ কাহিনির রচয়িতা- মুহম্মদ আবদুল হাই।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭১৭.
কায়কোবাদ তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অবলম্বনে রচনা করেন -
  1. অশ্রুমালা
  2. শিবমন্দির
  3. মহাশ্মশান
  4. অমিয়ধারা
ব্যাখ্যা
• মহাশ্মশান:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্য মহাশ্মশান (১৯০৫) (মহাকাব্য)।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যের খণ্ড তিনটি।

• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭১৮.
হুমায়ুন আজাদের রচিত জীবনী সাহিত্য কোনটি?
  1. জ্বলো চিতাবাঘ
  2. কতো নদী সরোবর
  3. অলৌকিক ইস্টিমার
  4. সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন আজাদ
- হুমায়ুন আজাদের জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের কামারগাঁয়ে নানা বাড়িতে। 
-  ২০০৪ সালের ১১ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গবেষণা গ্রন্থ ‘রবীন্দ্র প্রবন্ধ: রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তা’।
- একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হলো তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অলৌকিক ইস্টিমার’। 
- তার প্রথম উপন্যাস ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, যা ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।
- ছোটদের জন্য তিনি লিখেছেন  'লাল নীল দীপাবলি' (বাঙলা সাহিত্যের জীবনী) এবং 'কতো নদী সরোবর' (বাঙলা ভাষার জীবনী)। 

- হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' (১৯৯৪)।
- এটি তার প্রথম উপন্যাস।

হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

উপন্যাস
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- কবি অথবা দণ্ডিত অপুরুষ,
- শুভব্রত, তার সম্পর্কিত সুসমাচার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭১৯.
'Tree without Roots' কোন গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ?
  1. নীলদর্পণ
  2. বিষাদসিন্ধু
  3. লালসালু
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু'। এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, জমিল, আমেন, খালেক ব্যাপার, রহিম, আক্কাচ, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭২০.
‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ - নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. মুনির চৌধুরী
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি। ।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্থুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।

মুনীর চৌধুরী:

- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,৭২১.
"এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে,
প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে। "- পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. শামসুর রাহমান
  3. সত্যেন সেন
  4. সুকান্ত
ব্যাখ্যা

• আঠারো বছর বয়স। 
       — সুকান্ত ভট্টাচার্য।

"আঠারাে বছর বয়স কী দুঃসহ
স্পর্ধায় নেয় মাথা তােলবার ঝুঁকি,
আঠারাে বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।" 

"আঠারাে বছর বয়সের নেই ভয়
পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নােয়াবার নয়
আঠারাে বছয় বয়স জানে না কাঁদা।"

"এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে ষ্টীমারের মতাে চলে,
প্রাণ, দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।" 
---------------------------------------------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন তার মামার বাড়িতে, যা কলকাতার কালীঘাট এলাকায় অবস্থিত।
- তাঁর আদি নিবাস বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায়।
- তাঁর পিতার নাম নিবারণ ভট্টাচার্য এবং মাতার নাম সুনীতি দেবী।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- ‘কলম’।
----------------------------------------------------
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূলভাব:
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি মানবজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণকে চিত্রিত করেছেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত কবিতা ‘আঠারো বছর বয়স’ ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- কবিতাটি তাঁর ‘ছাড়পত্র’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় তারুণ্যের শক্তি, বিদ্রোহ ও সম্ভাবনার চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এই বয়স শৈশব–কৈশোর পেরিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সময়;
- যখন ভয় কমে গিয়ে দুঃসাহস ও ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা জাগে।
- তরুণরা অন্যায়ের প্রতিবাদে প্রস্তুত থাকে এবং সমাজের বাধা ভেঙে এগোতে চায়।
- তবে এই বয়সে শুভ–অশুভের দ্বন্দ্ব ও পথভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
- তবুও কবির বিশ্বাস, ব্যর্থতা অতিক্রম করে এই তারুণ্যই দেশ ও জাতির উন্নয়নের প্রধান শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৫,৭২২.
আবদুল মান্নান সৈয়দের "পোড়ামাটির কাজ" কী ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ 
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. ছোটগল্প 
  4. উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

• আবদুল মান্নান সৈয়দের একটি বিখ্যাত উপন্যাস "পোড়ামাটির কাজ"। এই উপন্যাসটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

-----------------------
• আবদুল মান্নান সৈয়দ:

- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), নজরুল পুরস্কার (১৯৯৮), নজরুল পদক (২০০১) ইত্যাদি পদক ও পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০১০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন.

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা আর তিন পরী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- স্মৃতির নোটবুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭২৩.
মুস্তাফা মনোয়ার হলেন একজন-
  1. চিত্রশিল্পী
  2. কারুশিল্পী
  3. স্থাপত্যশিল্পী
  4. ভাস্কর্যশিল্পী
ব্যাখ্যা
মুস্তাফা মনোয়ার:
- মুস্তাফা মনোয়ার বাংলাদেশের একজন গুণী - চিত্রশিল্পী।
- চিত্রশিল্পে স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণ ও বাংলাদেশে নতুন শিল্প আঙ্গিক পাপেটের বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
- গুণী এই শিল্পী জন্মেছিলেন ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলা মহকুমার শ্রীপুর থানার অন্তর্গত নাকোল গ্রামে মাতুলালয়ে।
- মুস্তাফা মনোয়ার টেলিভিশন নাটকে অতুলনীয় কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।
- দ্বিতীয় সাফ গেমসের মিশুক নির্মাণ এবং ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনের লাল রঙের সূর্যের প্রতিরূপ স্থাপনাসহ শিল্পের নানা পরিকল্পনায় তাঁর সৃজনী ও উদ্ভাবনী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
- শিশু প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে বিটিভি থেকে প্রচারিত জনপ্রিয় ‘নতুন কুঁড়ির’ রূপকার তিনি।
- ১৯৭৩ সালে মুস্তাফা মনোয়ার ‘রক্তকরবী’ নাটক তৈরি করেছিলেন।
- তিনি ২০০৪ সালে শিল্পকলায় অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন।
- ১৯৯০ সালে টিভি নাটকের জন্য পান টেনাশিনাস পদক।
- চারুশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

উৎস: ১৬ জুন, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৫,৭২৪.
'বাঙ্গালির বাংলা' গদ্যটির লেখক কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূধন দত্ত
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের 'বাঙালির বাংলা' প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে নবযুগ পত্রিকায়।
'যুগবানী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত, ১৯২২ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধ গ্রন্থ।
২৩ নভেম্বর ১৯২২ বৃটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। ১৯৪৭ সালে গ্রন্থটি থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহর করা হয়।
'বিবিধপ্রসঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ।
'বীরবলের হালখাতা' প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭২৫.
‘ভবিষ্যতের বাঙালি’ প্রবন্ধগ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. ইব্রাহীম খাঁ 
  3. এস ওয়াজেদ আলি
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

• ‘ভবিষ্যতের বাঙালি’ প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলি।
- এই গ্রন্থে তিনি সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

------------------------
• এস ওয়াজেদ আলি:
- এস ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭২৬.
'কোন দেশেতে তরুলতা/ সকল দেশের চাইতে শ্যামল?' চরণদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. আহসান হাবীব
  4. মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা

• 'কোন দেশেতে তরুলতা/ সকল দেশের চাইতে শ্যামল?' চরণদ্বয় সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত 'কোন দেশে' কবিতার অন্তর্গত।

কোন্ দেশে
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

কোন্ দেশেতে তরুলতা
সকল দেশের চাইতে শ্যামল?
কোন্ দেশেতে চলতে গেলেই
দলতে হয় রে দুর্বা কোমল?
কোথায় ফলে সোনার ফসল,
সোনার কমল ফোটে রে?
সে আমাদের বাংলাদেশ,
আমাদেরই বাংলা রে!
(সংক্ষিপ্ত)

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- বাংলা সাহিত্যের ছন্দের জাদুকর (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপাধি দেন), ছন্দের রাজা, বাস্তববাদী কবি নামে সমধিক পরিচিত।
- ছদ্মনাম: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• বিখ্যাত কবিতাগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা, 
- অভ্র ও আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কবিতার লাইনসমূহ:
- মুধুর চেয়ে আছে মধুর\ সে আমার এই দেশের মাটি\ আমার দেশের পথের ধুলা খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি। (খাঁটি সোনা)
- জোটে যদি মোটে একটি পয়সা,/ খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি' /দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার/ ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী। (ফুলের ফসল)
- কালো আর ধলো বাহিরে কেবল/ ভিতরে সবারই সমান রাঙা। (মানুষ জাতি)।
- পালকি চলে/ পালকি চলে... /দুলকি চালে/ নৃত্য তালে! (পালকির গান)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭২৭.
সমরেশ বসু কোন ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. জরাসন্ধ
  2. কালকূট
  3. অবধূত
  4. পরশুরাম
ব্যাখ্যা

সমরেশ বসু:
- তিনি ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন। 
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর গ্রন্থ সমূহের নাম:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'রাজ শেখর বসু' এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
- 'চারুচন্দ্র চক্রবর্তী' এর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
- 'কালিকানন্দ' এর ছদ্মনাম - অবধূত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৭২৮.
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ছায়া হরিণ
  2. সারাদুপুর
  3. পূর্বাভাস
  4. আশায় বসতি 
ব্যাখ্যা

• "পূর্বাভাস" একটি বিখ্যাত বাংলা কাব্যগ্রন্থ, যা সুকান্ত ভট্টাচার্য লিখেছেন। এটি মূলত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যেখানে সমাজের প্রতিচ্ছবি এবং নিপীড়িত মানুষের কষ্টের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।  

-------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- 'কিশোর কবি' সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

অন্যদিকে, 
• ছায়া হরিণ, সারাদুপুর, আশায় বসতি আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭২৯.
‘জননী’ উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শওকত আলি
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান- কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,৭৩০.
‘এ কী অপরুপ রুপে মা তোমায়/ হেরিনু পল্লী জননী’ - চরণটি কোন কবির?
  1. ক) আব্দুল হাকিম
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) ডি. এল রায়
ব্যাখ্যা
• 'এ কী অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লি-জননী'- গানটির গীতিকার 'কাজী নজরুল ইসলাম'

• গানটির কয়েকটি লাইন: 
এ কী অপরূপ রূপে মা তোমায়
হেরিনু পল্লি-জননী।
ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে
ঝলমল করে লাবণি॥
রৌদ্রতপ্ত বৈশাখে তুমি চাতকের সাথে চাহ জল,
আম-কাঁঠালের মধুর গন্ধে জ্যৈষ্ঠে মাতাও তরুতল।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যাথার দান (প্রথম প্রকাশিত),
- শিউলিমালা ও
- রিক্তের বেদন।

 • তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৩১.
নিচের কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা সামাজিক নাটক?
  1. প্রায়শ্চিত্ত
  2. পরপারে
  3. বঙ্গনারী
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:    
• কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
• দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। 
• তাঁর রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।  

⇒ দ্বিজেন্দ্রলালের উলে­খযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো: 
⇒ সামাজিক নাটক: 
• পরপারে, 
• বঙ্গনারী;
• সমাজ-বিভ্রাট, 
• কল্কি অবতার, 
• ত্র্যহস্পর্শ, 
• প্রায়শ্চিত্ত, 
• পুনর্জন্ম। 

⇒ ঐতিহাসিক নাটক:
• তারাবাই,
• প্রতাপসিংহ,
• দুর্গাদাস, 
• মেবার পতন, 
• নূরজাহান,
• সাজাহান,
• চন্দ্রগুপ্ত। 
- ঐতিহাসিক নাটক রচনার জন্য তিনি যশস্বী হয়ে আছেন।  

⇒ রোমান্টিক পৌরাণিক নাটক: 
• চন্দ্রগুপ্ত ও
• সিংহল বিজয়। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৩২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ কোনটি?
  1. বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।
  2. পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?
  3. আমারে নিবা মাঝি লগে?
  4. সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
ব্যাখ্যা
• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।

- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।

- উপন্যাসে নবকুমারকে উদ্দেশ্য করে নায়িকা কপালকুণ্ডলা বলেছেন, "পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?" আর এই কথাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।

উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• শ্রীকান্ত উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'
• 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি- "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।
• হৈমন্তী গল্পের বিখ্যাত সংলাপ- "সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৩৩.
"একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।" বিখ্যাত উক্তিটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পালামৌ' রচনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য-
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।"
- "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"
- "যে হারে, সেই রাগে।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,৭৩৪.
'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?' বিখ্যাত উক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• 'কপালকুণ্ডলা':
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নবকুমার।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র - কপালকুণ্ডলা, কাপালিক ইত্যাদি।

এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ’ কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে বলে।
- 'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?'
- 'প্রদীপ নিবিয়া গেল।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭৩৫.
“দুশো ছেষট্টি দিনে স্বাধীনতা” - কার লেখা গ্রন্থ?
  1. মেজর রফিকুল ইসলাম
  2. মুহাম্মদ নূরুল কাদির
  3. গাজী সাইফুল হাসান
  4. এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা

বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট নূরুল কাদির রচিত বই - ''দুশো ছেষট্টি দিনে স্বাধীনতা''।
এছাড়া -
মেজর রফিকুল ইসলাম -- প্রতিরোধের প্রথম প্রহর
গাজী সাইফুল হাসান -- দ্যা ট্যাংক ব্যাটল অব শিরোমণি
কাজী ফজলুর রহমান -- দিনলিপি একাত্তর
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৫,৭৩৬.
'জাগো বাহে কুণ্ঠে সবায়'- এই আহ্বানটি কোন বিখ্যাত চরিত্রের?
  1. ক) আলাউদ্দিন
  2. খ) ক্ষুদিরাম
  3. গ) সূর্যসেন
  4. ঘ) নুরুলদীন
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত অংশটুকু সৈয়দ শামসুল হক রচিত “নুরুলদীনের সারাজীবন” কাব্যনাট্য থেকে।
- নুরুলদীনের মুখ দিয়ে উদ্ধৃত সংলাপটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পায়।
- ১৭৮৩ সালে রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।

তার অন্যান্য কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- এখানে এখন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৩৭.
"কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ" গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. আল মাহমুদ
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন:
- অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সঙ্গীতে তিনি সর্বপ্রথম ঠুমরি ধারার আমদানি করেন।
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসেবে বাংলা সঙ্গীত জগতে অনন্য স্থান দখল করেন।
- তাঁর রচিত জনপ্রিয় গান ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা’ ষাটের দশকে পূর্ব বাংলার বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল। তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।

তাঁর গানের সংকলন:
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৩৮.
'চিত্রাঙ্গদা' রবীন্দ্রনাথের কি ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যনাট্য
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
চিত্রাঙ্গদা (১৮৯২) রবীন্দ্রনাথের রচিত কাব্যনাট্য। মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রণয়কাহিনী অবলম্বনে রচিত৷ এই নাটকে নারীর মর্যাদা ও আত্মসম্মান প্রধান হয়ে উঠেছে৷ পরবর্তীকালে একই কাহিনী নিয়ে রবীন্দ্রনাথ 'চিত্রঙ্গদা' (১৯৩৬) নৃত্যনাট্য রচনা করেন৷
Source: LiveMCQ Lecture
৫,৭৩৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণকাহিনি নয় কোনটি?
  1. রাশিয়ার চিঠি
  2. জাপান যাত্রী
  3. য়ুরোপ প্রবাসীর চিঠি
  4. জাভা যাত্রীর পত্র
ব্যাখ্যা
• 'য়ুরোপ প্রবাসীর চিঠি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণকাহিনি নয়।
- 'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণকাহিনি।

• য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র (১৮৮১):

- প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি:
- জাভা যাত্রীর পত্র, 
- জাপান যাত্রী,  
- রাশিয়ার চিঠি, 
- পারস্যে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৪০.
"চল্ চল্ চল্" রণসঙ্গীতটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্রলয় শিখা
  2. কুহেলিকা
  3. জিঞ্জির
  4. সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের রণসংগীত 'চল্‌ চল্‌ চল্‌' কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

রণসংগীত 'চল্‌ চল্‌ চল্‌':
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতাটির ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'।

• সঙ্গীতটির কিছু চরণ -


‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-’

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা

• অপশন আলোচনা:
- 'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২. বাংলাপিডিয়া ।
৩. 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
৫,৭৪১.
প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায়
  2. আধ্যাত্মিকা
  3. অভেদী
  4. আলালের ঘরে দুলাল
ব্যাখ্যা
আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম  উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয়ে থাকে।
- তাই তাকে, বাংলা সাহিত্যধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বলা হয়।

তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৪২.
''লোকে কয়, কাঁঠাল সে পাকে নাকি কিলিয়ে?
বুদ্ধি পাকিয়ে তোলে লেখাপড়া গিলিয়ে।'' - উক্তিটি কার?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. শেখ ফজলুল করিম
  3. সুকুমার রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

"আম পাকে বৈশাখে, কুল পাকে ফাগুনে,
কাঁচা ইঁট পাকা হয় পোড়ালে তা আগুনে।
রোদে জলে টিকে রঙ পাকা কই তাহারে।
ফলারটি পাকা হয় লুচি দই আহারে।
হাত পাকে লিখে লিখে চুল পাকে বয়সে,
জ্যাঠামিতে পাকা ছেলে বেশি কথা কয় সে।
লোকে বলে কাঁঠাল সে পাকে নাকি কিলিয়ে?
বুদ্ধি পাকিয়ে তোলে লেখাপড়া গিলিয়ে!
কান পাকে ফোড়া পাকে, পেকে করে টন্‌টন্‌-
কথা যার পাকা নয় কাজে তার ঠন্‌ঠন্‌ ।
রাঁধুনী বসিয়ে পাকে পাক দেয় হাঁড়িতে,
সজোরে পাকালে চোখ ছেলে কাঁদে বাড়িতে।
পাকায়ে পাকায়ে দড়ি টান হয়ে থাকে সে।
দুহাতে পাকালে গোঁফ তবু নাহি পাকে সে।।"

কবিতার নাম - পাকাপাকি
কবি - সুকুমার রায়

৫,৭৪৩.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন কোন পত্রিকা দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন?
  1. সমকাল
  2. দৈনিক আজাদ
  3. নবযুগ
  4. সাপ্তাহিক মুসলিম
ব্যাখ্যা
দৈনিক আজাদ:
- একটি জাতীয় বাংলা দৈনিক পত্রিকা। ১৯৩৬ সালের ৩১ অক্টোবর পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে। মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় বাংলা ও আসামের মুসলমানদের মুখপত্র হিসেবে দৈনিক আজাদ প্রকাশিত হয়। 
- পত্রিকা প্রকাশের সার্বিক দায়িত্ব পালন করতেন মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ ও তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র মোহাম্মদ খায়রুল আনাম খাঁ।
- এ সময় পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন ও নজীর আহমদ চৌধুরী। খায়রুল কবির তখন ছিলেন ঢাকার আঞ্চলিক রিপোর্টার।
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৪৪.
'কেয়াবন সঞ্চারিণী' - উপন্যাসটি লিখেছেন কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
• ‘কেয়াবন সঞ্চারিণী’ উপন্যাস:
- নীলিমা ইব্রাহিম লিখিত উপন্যাস ‘কেয়াবন সঞ্চারিণী’ প্রকাশিত হয় ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে।  
- প্রকাশক ছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা, প্রকাশিত হয় (পুথিঘর লিঃ) ঢাকা থেকে। প্রকাশ কালে গ্রন্থটির মূল্য ছিল দুই টাকা পঁচিশ পয়সা মাত্র।
- কেয়াবন সঞ্চারিণী, উপন্যাসে মূল চরিত্র আইরিন, রিনা নামেই সে পরিচিত। তাকে ঘিরে উপন্যাসের প্রতিটি পর্ববিন্যাস।
- নিরা একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে, ঢাকার মগবাজারে তাদের বাসা। বাবা প্রয়াত স্কুল শিক্ষক, পিতার মৃত্যুর পর রিনা সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়, তখন তার বয়স মাত্র উনিশ। এভাবেই সংসারের দায়িত্ব ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি নিয়ে উপন্যাসের প্রতিটি পর্ববিন্যাস হয়েছে। 

------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনের শুরুতে নীলিমা ইব্রাহিম কলকাতার লরেটো হাউজে লেকচারার (১৯৪৩-৪৪) হিসেবে চাকরি করেন। নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

তাঁর গ্রন্থবদ্ধ রচনাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• গবেষণা:
- শরৎ-প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক।

• উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

আত্মজীবনী:
- বিন্দু-বিসর্গ।

উৎস: ‘কেয়াবন সঞ্চারিণী’ উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৪৫.
বাংলা সাহিত্যে 'পরাবাস্তব কবি' হিসেবে পরিচিত-
  1. ক) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনামে লিখতেন আবদুল মান্নান সৈয়দ। তিনি 'পরাবাস্তব কবি' হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। পোড়ামাটির কাজ, পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, ক্ষুধা প্রেম আগুন ইত্যাদি তার উপন্যাস। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৭৪৬.
'লালসালু' উপন্যাসের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ধীবর সমাজ চিত্র
  3. গ) গ্রামীণ জীবন
  4. ঘ) ধর্মান্ধতা
ব্যাখ্যা
'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- 'লালসালু' উপন্যাসটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়  ১৯৪৮ সালে।
- এ উপন্যাসে গ্রামবাংলার এক চতুর ধর্মব্যবসায়ী ধর্মপ্রবণ মুসলিম সমাজে এক কল্পিত মাযারকে পুঁজি করে কীভাবে প্রতিষ্ঠা পায় এবং শেষে তাঁরই কিশোরী স্ত্রী জমিলা কীভাবে তাকে আশঙ্কাগ্রস্ত করে তোলে, তারই আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে। স্বল্প পরিসরে গ্রামীণ পটভূমিকায় লেখক ধর্মান্ধতার স্বরূপ উন্মোচন করতে সক্ষম হন।
- ১৯৬০ সালে পাকিস্তান লেখক সংঘ কর্তৃক করাচি থেকে উপন্যাসটির উর্দু অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
- একই বছর প্যারিস থেকে ফরাসি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৬৭ সালে লন্ডন থেকে ইংরেজি অনুবাদ (Tree Without Roots) প্রকাশিত হয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সহপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৫,৭৪৭.
'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. আবুল ফজল
  3. আবুল হুসেন
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
- 'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা গোলাম মোস্তফা।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.) কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। 

• গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম। 
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী, 
- সাহারা, 
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান, 
- বনিআদম, 
- গীতিসঞ্চালন। 

• অনুবাদ কাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া। 

• গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম, 
- ইসলাম ও জেহাদ, 
- আমার চিন্তাধারা, 
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৪৮.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’ গ্রন্থটি কোন দেশের ভ্রমণকাহিনি অবলম্বনে রচিত?
  1. অস্ট্রেলিয়া 
  2. পাকিস্তান
  3. রাশিয়া 
  4. আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

 • 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি: 
- দেশে বিদেশে হচ্ছে কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি, যা ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালের আফগানিস্তান ভ্রমণের উপর রচিত।
- এটি ১৯৪৮ সালের মার্চ মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রকাশিত প্রথম বই।
- ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা। একটি ভ্রমণলিপি হওয়া সত্ত্বেও এটি আফগানিস্তানের লিখিত ইতিহাসের একটি অনবদ্য দলিল।

---------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭৪৯.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দত্তা' উপন্যাস কী নামে নাট্যায়িত হয়েছিলো?
  1. ক) বিজয়া
  2. খ) যমুনা
  3. গ) ষোড়শী
  4. ঘ) রমা
ব্যাখ্যা
‘দত্তা’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সুখপাঠ্য প্রেমের উপন্যাস।
- এটি ১৯১৮ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই উপন্যাসটি ‘বিজয়া’ নামে ১৯৪৩ সালে নাট্যায়িত হয়। 
  এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বনমালী,
- রাসবিহারী,
- বিজয়া,
- নরেন্দ্র ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর।
 
৫,৭৫০.
তেল-নুন-লাকড়ি— গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬) বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। সাহিত্য ক্ষেত্রে প্রমথ চৌধুরীর প্রধান খ্যাতি মননশীল প্রবন্ধলেখক হিসেবে।
তবে তিনি উচ্চমানের গল্প ও কবিতাও রচনা করেছেন।
বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধ রচনা করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: তেল-নুন-লাকড়ি (১৯০৬), সনেট পঞ্চাশৎ (১৯১৩), চার-ইয়ারি কথা (১৯১৬), বীরবলের হালখাতা (১৯১৬), The Story of Bengali Literature (১৯১৭), পদচারণ (১৯১৯), রায়তের কথা (১৯২৬), নীললোহিত (১৯৩২) ও আত্মকথা (১৯৪৬)।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৫,৭৫১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) কালান্তর
  2. খ) বিবিধ প্রসঙ্গ
  3. গ) পঞ্চভূত
  4. ঘ) জীবনস্মৃতি
ব্যাখ্যা
'বিবিধ প্রসঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ।
এছাড়াও সভ্যতার সংকট, পঞ্চভূত, কালান্তর, বিচিত্রপ্রবন্ধ, মানুষের ধর্ম ইত্যাদি তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গ্রন্থ।
'জীবনস্মৃতি' তার রচিত আত্মজীবনী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৭৫২.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত 'মতিচূর' প্রবন্ধ গ্রন্থটি কয়টি খণ্ডে বিভক্ত?
  1. পাঁচ খণ্ডে
  2. চার খণ্ডে
  3. তিন খণ্ডে
  4. দুই খণ্ডে
ব্যাখ্যা
⇒ 'মতিচূর' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই। 
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'। 
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০টি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

⇒ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ)
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৫৩.
“অপেক্ষাই জীবন। তার পরে সত্যি একদিন হয়ত কুসুম বনে এসে তরী ঠেকবে।”- উক্তিটির রচয়িতা কে? 
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৌকাডুবি উপন্যাস থেকে নেওয়া।
----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক তথা দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হচ্ছেন ভারতবর্ষের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ।
- তিনি একাধারে একজন সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, গায়ক, অভিনেতা, শিক্ষাবীদ, চিত্রশিল্পী।
- কবির পরিবার ছিল- পিরালি ব্রাহ্মণ বংশের।
- মাত্র আট বছর বয়স থেকেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশ্বকবি উপাধিতে অবিহিত করা হয়। 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হলো ‘বউঠাকুরানির হাট’। 
- তাঁর অগ্রন্থিত উপন্যাস হলো ‘করুণা’।
- রবীন্দ্রনাথের মোট ১৩টি উপন্যাস রয়েছে:
• চোখের বালি,
• গোরা,
• ঘরে বাইরে,
• শেষের কবিতা,
• নৌকাডুবি, 
• যোগাযোগ,
• দুই বোন,
• মালঞ্চ,
• চার অধ্যায়,
রাজর্ষি,
• প্রজাপতির নির্বন্ধ। 
---------------------------------------
• নৌকাডুবি: 
"অপেক্ষাই জীবন। তার পরে সত্যি একদিন হয়ত কুসুম বনে এসে তরী ঠেকাবে।
                   — নৌকাডুবি।  

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৌকাডুবি’ (১৯০৬) একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো রমেশ, কমলা, হেমনলিনী ও নলিনাক্ষ।
- ঝড়ের কারণে নৌকাডুবির পর দুটি দম্পতির জীবনের পরিবর্তন ও জটিল পরিণতি নিয়ে উপন্যাসটি আবর্তিত হয়েছে।
- রমেশ ভুলবশত কমলাকে নিজের স্ত্রী মনে করে গ্রহণ করেন।
- পরে এই ভুল প্রকাশ পেলে সম্পর্কের টানাপড়েন, প্রেম ও ত্যাগের নতুন বাস্তবতা প্রকাশ পায়। 

উৎস:
'নৌকাডুবি' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

৫,৭৫৪.
কোন সাহিত্যিক ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মেছেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ 
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. আল মাহমুদ 
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি — ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস — 'বোবা কাহিনী'। তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৫৫.
কোন উপন্যাসের মধ্য দিয়ে 'কালকূট' ছদ্মনামে সমরেশ বসুর উপন্যাস রচনার সূত্রপাত?
  1. বিবর
  2. গঙ্গা
  3. প্রজাপতি
  4. অমৃত কুম্ভের সন্ধানে
ব্যাখ্যা

'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাস:
- ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত 'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে 'কালকূট' ছদ্মনামে সমরেশ বসুর উপন্যাস রচনার সূত্রপাত।
- একই সঙ্গে তিনি মার্কসবাদ থেকে ঝুঁকলেন অধ্যাত্মবাদের দিকে।
- প্রতি বছর প্রয়াগের ত্রিবেণী সঙ্গমে যে কুম্ভমেলা হয় এবং সেখানে ভারতবর্ষের সকল স্তরের মানুষের যে সমাবেশ ঘটে, সেই মিলনমেলাই উপন্যাসটির বিষয়বস্তু।
- আর তাতে অভিব্যক্ত হয়েছে মানুষের বিশ্বাসের সংকট থেকে উত্তরণের আকুতি।

সমরেশ বসু:
- সমরেশ বসু ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর গ্রন্থ সমূহের নাম:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৭৫৬.
'চাচা-কাহিনী' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শওকত ওসমান
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'চাচা-কাহিনী' গ্রন্থটির লেখক - সৈয়দ মুজতবা আলী

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:

- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৫৭.
'জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই' - এই অবিস্মরণীয় আহ্বান উচ্চারণ করে কোন চরিত্রটি?
  1. মামুনুর রশীদের “ওরা কদম আলী” নাটকের কদম আলী
  2. সৈয়দ শামসুল হকের “নূরুল দীনের সারাজীবন” নাটকের নূরুল দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “অচলায়তন” নাটকের দাদা ঠাকুর
  4. দীনবন্ধু মিত্রের “নীল দর্পণ” নাটকের তোরাব
ব্যাখ্যা
• 'জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই' বলে অবিস্মরণীয় আহ্বানটি দিয়েছিলো: নূরলদীন।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যে এই উক্তিটি রয়েছে।

'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৫৮.
'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।' - উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. কবি
  2. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  3. ধাত্রীদেবতা
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
-  উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে। '

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া; 'কবি' উপন্যাস।

৫,৭৫৯.
কোন উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র 'নাজমা'?
  1. ক) আরেক ফাল্গুন
  2. খ) একটি কালো মেয়ের কথা
  3. গ) আরোগ্য নিকেতন
  4. ঘ) হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
• এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নাজমা নামের একটি কালো মেয়ে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।
• 'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' তাঁর একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- আরোগ্য নিকেতন,
- সপ্তপদী,
- কবি,
- পঞ্চগ্রাম,
- গণদেবতা,
- ধাত্রীদেবতা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,৭৬০.
'বিমুখ প্রান্তর' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) জসীমউদদীন
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- বিমুখ প্রান্তর (প্রথম প্রকাশিত),
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন ও
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,৭৬১.
‘ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র’ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. ইব্রাহীম খাঁ
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• ‘ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র’ ইবরাহীম খাঁ রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।

----------------------------
• ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র:

- 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ইবরাহীম খাঁর কেবল ভ্রমণকাহিনিই নয়, এটি তাঁর অন্যতম সাহিত্যকীর্তিও।
- তিনি ১৯৫১ সালের ২২ আগস্ট করাচী থেকে ইস্তাম্বুল যাত্রা করেন।
- সহযাত্রী ছিলেন মৌলভী তমিজুদ্দীন খাঁ ও মৌলভী খোন্দকার আলী আফজাল-এঁরা তিনজনই বাঙালি।
- তাঁরা আন্তঃপার্লামেন্টারি মতবিনিময় কার্যক্রমের অংশ হিসাবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেন।
- তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের পথে প্রথমেই গেলেন বছরা; তারপর বৈরুত, আলোপ্পো, খালেদার মাজার দেখলেন, আরবী গান শুনলেন এবং আঙ্কারার পথে যাত্রা করলেন।
- এরপর এলেন ইস্তাম্বুলে, নিকোশিয়া, কায়রো, জেদ্দা, মক্কা, মদীনা, দামেশক, তেহরান ইত্যাদি ভ্রমণশেষে তাঁরা ১৯৫১ সালের ৪ অক্টোবর করাচী এসে তাঁদের সফর শেষ করেন।
- এই 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটি আলোচনা করতে গিয়ে দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ইবরাহীম খাঁকে 'অভিনব ভ্রমণকাহিনির প্রবর্তক' হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

---------------------
• ইব্রাহীম খাঁ:
- ইব্রাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র', ইবরাহীম খাঁ।
৫,৭৬২.
‘রক্তে ভেজা একুশ’ গদ্যটির রচয়িতা -
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. সেলিনা হোসেন
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
‘রক্তে ভেজা একুশ' গদ্য:
• বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' (১৯৬৪) উপন্যাসের অংশবিশেষ ‘রক্তে ভেজা একুশ' গদ্যটি।
• আমাদের মহান ভাষা-আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এ কাহিনি রচিত।
• ভাষা-আন্দোলনে ছাত্র-জনতার মিছিলে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী ছাত্র ও পথশিশুর অভিব্যক্তি প্রকাশিত হয়েছে এ গল্পে।
• আন্দোলনে শামিল হয়ে পথশিশু অহি শহিদ হয়েছে এবং সকল মায়ের সন্তান হিসেবে নন্দিত হয়েছে।
 
সেলিনা হোসেন:
• বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
• তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
• তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 
 
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৬৩.
"জয়ধ্বনি" আবু ইসহাক রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
'জয়ধ্বনি' নাটক:
- এটি আবু ইসহাক রচিত একমাত্র নাটক।
- 'জয়ধ্বনি' নাটকটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত। সঙ্গত কারণে বেশ কয়েকটি দৃশ্যে রূপকের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। - তাই নাটকটির বেশ কিছু দৃশ্য মঞ্চে প্রদর্শন করা সম্ভব হলেও সম্পূর্ণটা মঞ্চস্থ করা অত্যন্ত দুরূহ বা প্রায় অসম্ভব।

আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৬৪.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. রতন 
  2. কানাই 
  3. মধুসূদন 
  4. নিতাই
ব্যাখ্যা

• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।'

------------------------
•  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭৬৫.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' - এটি কোন প্রকার রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি:
- 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত - কাব্যগ্রন্থ
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে। গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতায় আছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' লাইনটি।

​আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ:

- কখনো রং কখনো সুর,
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি,
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৬৬.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত 'আয়না' গল্পগ্রন্থের মুখবন্ধ লিখেছেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
আয়না:
- হাস্যরসাত্মক গল্পের সমাহারে আবুল মনসুর আহমদ রচিত গল্পগ্রন্থ 'আয়না' ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- হুযুর কেবলা, গো-দেওতা-কা দেশ, নায়েবে নবী, লীডরে কওম, মুজাহেদীন, বিদ্রোহী সংঘ, ধর্মরাজ্য-এই সাতটি গল্প রয়েছে বইটির মধ্যে।
- যার মধ্যে 'বিদ্রোহী সংঘ' ছাড়া বাকি সবগুলো গল্পেই ধর্মান্ধ ও ধর্মব্যবসায়ী কয়েকটি চরিত্রকে তীব্র ব্যঙ্গবাণে জর্জরিত করা হয়েছে।
- 'বিদ্রোহী সংঘ' গল্পে ঢাকার 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' কে ব্যঙ্গ করে বলা হয়েছে যে, তারা আত্মিক স্বাধীনতা বা আনন্দের জন্য উচ্চকণ্ঠ, কিন্তু দেশের পরাধীনতা নিয়ে মৌনব্রত পালন করে।
- 'আয়না' গ্রন্থের মুখবন্ধ লিখেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি লিখেছেন: 'যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমের মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।'

আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- খেলাফত, অসহযোগ ও স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা‌।

তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৬৭.
বিখ্যাত ‘নেমেসিস’ নাটকটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. শনিবারের চিঠি
  2. পরিচয়
  3. নবযুগ
  4. মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা
‘নেমেসিস’ নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৬৮.
কোনটি নির্মলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণকাহিনি?
  1. চলে মুসাফির
  2. আমেরিকায় জুয়াখেলার স্মৃতি
  3. ইউরোপ যাত্রীর ডায়ারি
  4. পশ্চিমের যাত্রী
ব্যাখ্যা
• 'আমেরিকায় জুয়াখেলার স্মৃতি' নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি ভ্রমণকাহিনির।

অন্যদিকে,
• জসীমউদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি ‘চলে মুসাফির’।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি হলো: জাভা যাত্রার পত্র, জাপান যাত্রী, ইউরোপ-যাত্রীর ডায়ারি, রাশিয়ার চিঠি, পারস্যে।
• 'পশ্চিমের যাত্রী' (১৯৩৮) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি।

------------------
• নির্মলেন্দু গুণ:

- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো-
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়াখেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৬৯.
"বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।" - কবিতাংশটু কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সর্বহারা
  2. অগ্নিবীণা
  3. ভাঙার গান
  4. দোলনচাঁপা
ব্যাখ্যা

• "বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।" - কবিতাংশটু কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'খেয়া পারের তরণী' কবিতার অন্তর্গত।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭৭০.
বাংলা সাধুভাষার জনক কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী 
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সাধু ভাষার জনক বলা হয়।

• সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত। বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- এর আগে তা ছিলো প্রস্তরবৎ।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিন্যাস ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন এবং বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করে সেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন।
- বিদ্যাসাগরের পরিকল্পিত সাধুভাষা তাই পরবর্তীকালে আদর্শ সাধুভাষা রূপে গৃহীত হয়।
- তাই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সাধু ভাষার জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭৭১.
বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. চোরাবালি
  2. সাত ভাই চম্পা
  3. রুচি ও প্রগতি
  4. উর্বশী ও আর্টেমিস
ব্যাখ্যা
• ‘রুচি ও প্রগতি’ বিষ্ণু দে রচিত একটি প্রবন্ধ।
- এটি আর্ট, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রবন্ধ।

-----------------------
• বিষ্ণু দে:

- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৭২.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. মৃণালিনী
  2. বিষবৃক্ষ
  3. চন্দ্রশেখর
  4. তিথিডোর
ব্যাখ্যা
‘তিথিডোর’ উপন্যাস: 
‘তিথিডোর’ হল বুদ্ধদেব বসুর একটি উজ্জ্বল ঔপন্যাসিক সৃষ্টি, যা ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।

উপন্যাসটির বৈশিষ্ট্য: 
• বিষয় ও মৌলিকতা: তিথিডোর বাংলা উপন্যাসের ধারায় স্মরণীয় নির্মাণ, যেখানে বাস্তব-জীবনপ্রীতি এবং পরিবার-সংলগ্নতার পরিচয় পাওয়া যায়।
• কাল ও প্রেক্ষাপট: এই উপন্যাসটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন পরিবর্তনমুখী সমাজের প্রেক্ষাপটে রচিত।
• প্রেম-আখ্যান: সত্যেন ও স্বাতীর প্রেম-আখ্যানের মাধ্যমে চল্লিশের দশকের মধ্যবিত্ত সমাজজীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
• চরিত্র নির্মাণ: বুদ্ধদেব বসু এখানে চরিত্রের অন্তঃবাস্তবতার রূপকার; তবে এখানে জীবনের বহিরঙ্গ রূপকেও শিল্পিত করেছেন।
====================

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক এবং বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাংলা উপন্যাসের জনক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

কর্ম ও রচনা:
• প্রথম উপন্যাস: তাঁর প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ', যা ইংরেজিতে রচিত।
• প্রথম সার্থক বাংলা উপন্যাস: 'দুর্গেশনন্দিনী', প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ সালে।
• কাব্যগ্রন্থ: 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) হল তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
• দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস: 'কপালকুণ্ডলা', প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
• ত্রয়ী উপন্যাস: 'আনন্দমঠ', 'দেবী চৌধুরানী' এবং 'সীতারাম'।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
• কপালকুণ্ডলা,
• মৃণালিনী,
• বিষবৃক্ষ,
• ইন্দিরা,
• যুগলাঙ্গুরীয়,
• চন্দ্রশেখর,
• রাধারানী,
• রজনী,
• কৃষ্ণকান্তের উইল,
• রাজসিংহ।

উৎস:
• বাংলাপিডিয়া,
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৭৩.
'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা -
  1. আবুল মনসুর আহমেদ
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. আবুল ফজল
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
•'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা — মুহম্মদ আবদুল হাই।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে। 

• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' (১৯৬৪)। 

 • মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ: 
 - সাহিত্য ও সংস্কৃতি, 
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা, 
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব ,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৭৪.
প্রবন্ধ-গবেষণা 'অন্বেষা' রচনা করেন কে?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. শামসুর রাহমান
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- অনতিক্রান্তবৃত্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৭৫.
কোন গ্রন্থটি রাজা রামমোহন রায়ের রচনা নয়?
  1. বেদান্ত চন্দ্রিকা
  2. বেদান্ত গ্রন্থ
  3. বেদান্ত সার
  4. পথ্য প্রদান
ব্যাখ্যা
• বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। 
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্ত সার,
- পথ্য প্রদান, 

- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

- বিঃদ্রঃ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ বেদান্ত চন্দ্রিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৭৬.
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) ধরণী দ্বিধা হও
  2. খ) বসুন্ধরা
  3. গ) অবাক পৃথিবী
  4. ঘ) শঙ্খনীল কারাগার
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ:
বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।
ষাটের দশকে রচিত তাঁর উপন্যাস, তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০) ও কর্ণফুলী (১৯৬২) ব্যাপক সাড়া জাগায়। 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটির বিষয়বস্তু অবলম্বনে 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত। এ চলচ্চিত্রটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন (১৯৬২), ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪), শ্যামল ছায়ার সংবাদ (১৯৮৬) উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৭৭.
প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. পদচারণ
  2. সনেট পঞ্চাশৎ
  3. চার ইয়ারী কথা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'চার ইয়ারী কথা'গল্পগ্রন্থ:
- এটি প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এখানে বর্ণিত হয়েছে চার বন্ধুর প্রেমের কাহিনী। গল্পগ্রন্থের নায়িকা চারজনই ইউরোপীয়।
- গল্পগ্রন্থে প্রথম নায়িকা উন্মাদ, দ্বিতীয় চোর, তৃতীয় প্রতারক ও চতুর্থ নায়িকা মৃত্যুর পর ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে।
- এটিতে ভাষার চাতুর্য, পরিহাসপ্রিয়তা এবং সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ উদ্ভাসিত হয়েছে ভাবালু প্রেমকাহিনী প্রতিবাদী রূপে।
 
প্রমথ চৌধুরীর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৭৮.
১৮৪৩ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়?
  1. কল্লোল
  2. তত্ত্ববোধিনী
  3. সমাচার সভারাজেন্দ্র
  4. সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

অন্যদিকে,
• কল্লোল পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে। পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ। 
• 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ।
• প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা - সমাচার দর্পণ। এর সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৭৯.
'আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ র্স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,-- কোন কবির রচনা?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
- উপরিউক্ত কবিতাংশটি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার অংশ।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- এই কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- ঘুম নেই, পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা -ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৮০.
'সুরেশ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দেবদাস
  2. দেনা-পাওনা
  3. গৃহদাহ
  4. বড়দিদি
ব্যাখ্যা
'গৃহদাহ' উপন্যাস:
- গৃহদাহ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত একটি শ্রেষ্ঠি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়। মাসিক ‘ভারতবর্ষে’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৮১.
’প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

⇒ নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৮২.
'ডাকহরকরা' ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
তার সাহিত্যকর্ম নিম্নরূপঃ
উপন্যাসঃ
- চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩২),
- ধাত্রীদেবতা (১৯৩৯),
- কালিন্দী (১৯৪০),
- গণদেবতা (১৯৪৩),
- পঞ্চগ্রাম (১৯৪৪),
- কবি (১৯৪৪),
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা (১৯৪৭),
- আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য

ছোটগল্পঃ
- ‘রসকলি’,
- ‘বেদেনী’,
- ডাকহরকরা তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প।

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছোট গল্পগুচ্ছ - অতসী মামী, প্রাগৈতিহাসিক, সরীসৃপ, আজ কাল পরশুর গল্প, ছোটবকুল্পুরের যাত্রী ইত্যাদি।
৫,৭৮৩.
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. তিথিডোর
  2. মর্মবাণী
  3. দময়ন্তী
  4. কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- তিনি ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৮৪.
'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4.  সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা

• 'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুর পর সিকান্দার আবু জাফরের সমকাল প্রকাশনী কতৃক প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'সংস্কৃতি কথা'
- ত্রিশটি প্রবন্ধ একত্রিত করে 'সংস্কৃতি কথা' শিরোনামে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ বের করে বাংলা একাডেমি ১৯৭০ সালে। 

• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
-  আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৮৫.
নিচের কোনটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ?
  1. বাংলা ভাষার ইতিকথা
  2. মুসলিম বাঙলা সাহিত্য
  3. ভাষা ও সাহিত্য
  4. বাংলা ভাষার পুরাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ - ভাষা ও সাহিত্য।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
- ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে শহীদুল্লাহ্ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনিই প্রথম উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি জানান।
- আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫) ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১) হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।
- এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩), বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন।-
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস রচনাসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহু জটিল সমস্যার সমাধান করেন। বাংলা লোকসাহিত্যের প্রতিও তিনি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। গবেষণাগ্রন্থের পাশাপাশি তিনি সাহিত্য এবং শিশুসাহিত্যের অনেক মৌলিক গ্রন্থও রচনা করেন।
- তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ অনুবাদ ও সম্পাদনাও করেন।
- তিনি ১৩ জুলাই ১৯৬৯ সালে মৃতুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প (১৯২২),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৩১),
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৩৬),
- দীওয়ান-ই-হাফিজ (১৯৩৮),
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ (১৯৪২),
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম (১৯৪২),
- আমাদের সমস্যা (১৯৪৯),
- পদ্মাবতী (১৯৫০),
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খন্ড ১৯৫৩, ১৯৬৫),
- বিদ্যাপতি শতক (১৯৫৪), বাংলা আদব কী তারিখ (১৯৫৭),
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৫৯), কুরআন শরীফ (১৯৬৩),
- তাঁর Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

অন্যদিকে,
• ‘মুসলিম বাঙলা সাহিত্য' এর রচয়িতা মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'বাংলা সাহিত্যের ইতিকথা'- ভূদেব চৌধুরী।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর 
২. বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৮৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম কী?
  1. ক) তিলোত্তমা সম্ভব
  2. খ) বীরাঙ্গনা
  3. গ) ব্রজাঙ্গনা
  4. ঘ) মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা

ব্রজাঙ্গনা রাধা কৃষ্ণের প্রেম বিষয়ক গীতিকাব্য

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বীরাঙ্গনা বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য
- তিলোত্তমা সম্ভব অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্য গ্রন্থ।
- মেঘনাদবধ কাব্য কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কর্তৃক অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা একটি মহাকাব্য।
- বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক,অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক হলে মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]

৫,৭৮৭.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. গভর্নমেন্ট গেজেট
  2. ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  3. সমাচার দর্পণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক। তিনি জশুয়া মার্শম্যান ও হান্নাহ্ শেফার্ড দম্পতির প্রথম পুত্র।
- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।

- ১৮১২ সাল থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যান শ্রীরামপুর মিশনে তাঁর কর্মতৎপরতা শুরু করেন। মিশনারি কাজে বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য তিনি ইতালি, রোম ও গ্রিস ভ্রমণ করেন। ১৮১৮ সালে তিনি শ্রীরামপুর মিশনারি প্রেসে যোগ দেন এবং একই বছর 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। ১৮৪১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।

- ১৮১৮ সাল থেকে ১৮২৭ সাল পর্যন্ত মার্শম্যান প্রভাবশালী পত্রিকা 'Friend of India' (মাসিক ও ত্রৈমাসিক) সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে 'Government Gazette' এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৮৮.
শামসুদ্দীন আবুল কালামের সাহিত্যের মুখ্য উপজীব্য হলো -
  1. ক) মানব চৈতন্য ও দর্শন
  2. খ) নিম্নবর্গের মানুষ ও তাদের জীবন
  3. গ) দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
  4. ঘ) নাগরিক জীবনের রূপ রূপান্তর
ব্যাখ্যা

কথাসাহিত্যিক শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম গ্রামীণ মানুষের ভাষাভঙ্গি, মনোভঙ্গি ও রুচিকে যথাযথভাবে সাহিত্যরুপে দানে সচেষ্ঠ হয়েছেন।
তিনি গ্রামীণ মানুষের জীবনদর্শনের সারসত্যকে রূপায়ন করেছেন তার কথাসাহিত্যে।
কাশবনের কন্যা - উপন্যাসে গ্রাম ও গ্রামীন মানুষের চিত্র তুলে ধরেছেন।
বিশেষ করে নিম্ন বর্গের শ্রমজীবী মানুষ (উপন্যাসঃ আলমগড়ের উপকথা) ও তাদের জীবন ছিল তার সাহিত্যের মূল উপজীব্য।
তার রচিত কয়েকটি গল্পগ্রন্থঃ
শাহেরবানু, পথ জানা নেই, অনেক দিনের আশা।
তার কয়েকটি উপন্যাসঃ কাশবনের কন্যা, কাঞ্চনমালা, সমুদ্রবাসর।
সুত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)

৫,৭৮৯.
‘জাপান যাত্রী' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) জসীমউদ্দীন
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) ইব্রাহীম খাঁ
  4. ঘ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
‘জাপান যাত্রী' এর রচয়িতা- 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি: 
- ইউরোপপ্রবাসীর পত্র, 
- ইউরোপযাত্রীর ডায়রি, 
- জাপান যাত্রী,  
- যাত্রী, 
- রাশিয়ার চিঠি, 
- জাপানে পারস্যে, 
- পথে ও পথের প্রান্তে, 
- পথের সঞ্চার। 

তবে, 'জাভাযাত্রীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত- পত্র সংকলন ও ভ্রমণকাহিনি। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৯০.
‘তাজকেরাতুল আওলিয়া’ অবলম্বনে ‘তাপসমালা’ কে রচনা করেন?
  1. ক) মুন্সী আবদুল লতিফ
  2. খ) কাজী আকরাম হোসেন
  3. গ) গিরিশচন্দ্র সেন
  4. ঘ) শেখ আব্দুল জব্বার
ব্যাখ্যা
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা (১৮৮০-৯৫) ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত। শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত। 
-পুর্নাঙ্গভাবে বাংলা ভাষায় কোরআন শরীফ প্রথম অনুবাদ করেন গিরিশচন্দ্র সেন।
- বাঙালি মুসলিমদের জন্য মুসলিম ধর্মগ্রন্থ, বাংলা অনুবাদ,ও মহা পুরুষদের জীবনী রচনার জন্য তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা, বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৯১.
কায়কোবাদ রচিত ‘অশ্রুমালা’ কী ধরনের রচনা?
  1. মহাকাব্য
  2. গীতিকাব্য
  3. পত্রকাব্য
  4. কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা
⇒ 'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থ:
- কায়কোবাদ রচিত ‘অশ্রুমালা’ একটি গীতিকাব্য, যা ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম। 
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়।

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা শাহামতউল্লাহ আল কোরেশী ছিলেন ঢাকার জেলা-জজ আদালতের উকিল।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য ‘বিরহবিলাপ’ প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম কানন,
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত),
- শিব মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

• কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় কাব্য:
- প্রেমের ফুল,
- প্রেমের বাণী,
- প্রেম পারিজাত,
- মন্দাকিনী ধারা,
- গওছপাকের প্রেমের কুঞ্জ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৯২.
’জমিদার দর্পণ’ নাটকটি কে রচনা করেন?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. যোগচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
- জমিদার দর্পণ নাটকটি রচনা করেন- মীর মশাররফ হোসেন।

• মীর মশাররফ হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস :
- রত্মাবতী,
- বিষাদসিন্ধু,
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
 -গাজী মিয়ার বস্তানী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী;
-জমিদার দর্পণ।

• আত্নজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুমের জীবনী।

• এছাড়াও,
- দীনবন্ধু মিত্র রচনা করেন- নীল দর্পন।
- মাইকেল মদুসূদন দত্ত রচনা করেন- কৃষ্ণকুমারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,৭৯৩.
’সন্ধ্যা’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শামসুর রাহমান
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
- ’সন্ধ্যা’ কাব্যগ্রন্থের রচিতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- এই কাব্যগ্রন্থে তাঁর রচিত বিখ্যাত রণসংগীত অন্তর্ভুক্ত।
- জাগরণ, জীবন, যৌবন, তরুণের গান, চল্ চল্ চল্, ভােরের সানাই ইত্যাদি কবিতা এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
-----------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
• কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

• তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণীমনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৯৪.
'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' - কে লিখেছেন?
  1. বদরুদ্দীন উমর 
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. আহমদ শরীফ 
  4. নীহাররঞ্জন রায় 
ব্যাখ্যা

• "সংস্কৃতির ভাঙা সেতু" প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মৃত্যুর পরে প্রকাশিত তাঁর একমাত্র প্রবন্ধগ্রন্থ "সংস্কৃতির ভাঙা সেতু"-তে পাঠক তাঁর প্রতিভার সেই অন্যদিকটির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। গল্প-উপন্যাসের মতো এক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন এক স্বল্পপ্রজ লেখক।

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' প্রবন্ধগ্রন্থে 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' নামে যে প্রবন্ধটি লিখেছেন তা বাংলাদেশের ভঙ্গুর ও ক্ষয়ে পড়া সমাজ-সময়ের ডকুমেন্টেশন এবং তা যেকোনো রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে। 
-------------- 
⇒ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৯৫.
বুদ্ধদেব বসু সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সত্য নয়?
  1. ১৯০৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
  2. বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবদের একজন।
  3. তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক।
  4. বিক্রমপুরের মালখানগরে জন্মগ্রহণ করেন।
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৯৬.
'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটির প্রেক্ষাপট কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. দেশভাগ
ব্যাখ্যা
'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কবিতাটি।

স্মৃতিস্তম্ভ কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নরূপ:

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৯৭.
শহীদুল্লাহ কায়সারের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রাজবন্দীর রোজনামচা
  2. খ) রাজবন্দীর জবানবন্দী
  3. গ) কারাগারের রোজনামচা
  4. ঘ) শয়তানের জবানবন্দি
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লাহ কায়সারের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ 'রাজবন্দীর রোজনামচা' 
- গ্রন্থটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

শহীদুল্লা কায়সার (১৯২৭-১৯৭১)  
- কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ধারার সকল আন্দোলনের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
- বামপন্থী রাজনীতির সমর্থক হিসেবে তিনি শ্রমিক-জনতার দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য সক্রিয় সংগ্রামের ওপর গুরুত্ব দিতেন। 
-  ১৯৫২-র  ভাষা আন্দোলন-এ তিনি অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন এবং ৩জুন গ্রেফতার হয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর কারাভোগ করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি পুনরায় গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ হন। ১৯৫৮ সালের ১৪ অক্টোবর সামরিক শাসক কর্তৃক তিনি পুনরায় গ্রেফতার হন এবং প্রায় চার বছর কারাভোগের পর ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি লাভ করেন।

- শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান  উপন্যাস সারেং বউ (১৯৬২)-এ মানুষ ও তার অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে।
 তাঁর অন্যান্য উপন্যাস-
- সংশপ্তক (১৯৬৫),
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)

- তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ (১৯৬৬) 

'রাজবন্দীর জবানবন্দী' - কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধ।
'কারাগারের রোজনামচা' - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্মৃতিকথামূলক রচনা 
'শয়তানের জবানবন্দি' - হলো আরজ আলী মাতুব্বরের রচনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৯৮.
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকার নাম-
  1. কিছুধ্বনি
  2. উত্তরাধিকার
  3. লোকায়ত
  4. সুন্দরম
ব্যাখ্যা
অপশনে প্রদত্ত পত্রিকাগুলোর মধ্যে শুধু ‘উত্তরাধিকার’ পত্রিকাটি বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত।

[বর্তমানে পত্রিকাটি মাসিক হলেও এই বি.সি.এস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় এটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা ছিলো। তাই প্রশ্নে 'ত্রৈমাসিক' আকারে উল্লেখ আছে।] 

-------------------------
• উত্তরাধিকার পত্রিকা:
- মাসিক উত্তরাধিকার ১৯৭৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- দশ বছর পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে চালু থাকলেও ১৯৮৩ সাল থেকে ত্রৈমাসিকে রূপান্তরিত হয় এবং পত্রিকাটি ধীরে ধীরে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। ২০০৯ সালের আগে পর্যন্ত এটি ত্রৈমাসিক আকারেই প্রকাশিত হতো।

- বাংলা একাডেমির প্রথম অঙ্গিকারের কথা মনে রেখেই সম্প্রতি উত্তরাধিকার পত্রিকাকে আবার নবপর্যায়ে এবং নতুন আঙ্গিক ও বিন্যাসে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং জুলাই ২০০৯ থেকে মাসিক হিসেবে এটি প্রতিমাসে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।
- এতে সৃজনশীল রচনা, যথা: গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ-সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৫,৭৯৯.
‘রক্তাক্ত প্রান্তরে’ কবিতাটি কার রচনা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
⇒ ‘রক্তাক্ত প্রান্তরে’ শামসুর রাহমান রচিত ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।

⇒ ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থ:

- শামসুর রাহমানের খ্যাতি ও পরিচিতি আগেও কিছুটা ছিল তবে প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করে তাঁর ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থটি।
- শামসুর রাহমানের ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে এপ্রিল- ডিসেম্বর, ১৯৭১ সময়ে রচিত।
- ১৯৭২ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পূর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।
- ৩৮টি কবিতা এ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’, ‘স্বাধীনতা তুমি’, ‘মধুস্মৃতি’, ‘রক্তাক্ত প্রান্তরে’ ইত্যাদি।
- এ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের শহিদদের উদ্দেশ্যে।

⇒ শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮০০.
"পালাবদল ও অভিজ্ঞান বসন্ত" - পঞ্চকবিদের মধ্যে কার রচিত?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• "পালাবদল ও অভিজ্ঞান বসন্ত" অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
- অভিজ্ঞান বসন্ত কাব্যগ্রন্থ ১৯৪৩ সালে এবং পালাবদল কাব্যগ্রন্থ ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

-------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬) ছিলেন একজন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। অন্য চারজন হলেন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে।
- আধুনিক কবিতায় ভাব, দর্শন ও রসের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ সংযোজন ঘটিয়েছেন।অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই কবিতাবলী (১৯২৪-২৫)।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার,
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা,
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক।

• কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী পুরস্কার। বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।