বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৫৬ / ১৭৪ · ৫,৫০১৫,৬০০ / ১৭,৪৩৭

৫,৫০১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র নিচের কোনটি?
  1. সুরবালা
  2. মৃন্ময়ী
  3. চন্দরা
  4. নিরূপমা
ব্যাখ্যা

'সমাপ্তি' ছোটগল্প:
- ''সমাপ্তি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি ছোটগল্প।
- 'মৃন্ময়ী' এই ছোটগল্পের চরিত্র।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'দেনাপাওনা' ছোটগল্পের চরিত্র 'নিরূপমা'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫০২.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. পরিণীতা
  2. বিলাসী
  3. চন্দ্রনাথ
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

 বিলাসী:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫,৫০৩.
’রেইনকোট’ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস 
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, (১৯৪৩-১৯৯৭)  কথাসাহিত্যিক।
• পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
• ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
• বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমী পুরস্কার’ (১৯৮২), খোয়াবনামা  উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) 
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• উপন্যাস 
- চিলেকোঠার সেপাই 
- খোয়াবনামা 

• ছোটগল্প সংকলন
- অন্য ঘরে অন্য স্বর 
- খোঁয়ারি 
- দুধভাতে উৎপাত 
- দোজখের ওম 
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল 
- ফেরারী
- তারাবিবির মরদ পোলা
- মিলির হাতে স্টেনগান
- অপঘাত
- রেইনকোট
- নিরুদ্দেশ যাত্রা

• প্রবন্ধ সংকলন
- সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫০৪.
‘পিঙ্গল আকাশ' শওকত আলীর কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

 • ‘পিঙ্গল আকাশ’ উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ কথা সাহিত্যিক শওকত আলী লিখিত প্রথম উপন্যাস।
- ১৯৬৩ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
- পিঙ্গল আকাশ গ্রন্থাকারে প্রকাশের পূর্বে ১৯৬১ সালে মাসিক পূবালী'র ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। পরে কলকাতার হরফ প্রকাশনী থেকেও ১৯৬৬ সালে উপন্যাসটির একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। 
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন স্ত্রী শওকত আরা বেগমকে।
- উপন্যাসের নায়ক মঞ্জু। মঞ্জুর নিজস্ব বয়ানে কাহিনি বেড়ে উঠেছে। তার জীবন সংগ্রামই এই কাহিনির মূল বিষয়বস্তু। এক দ্বান্দ্বিক কাহিনি রয়েছে উপন্যাসটিতে।

• শওকত আলী:
- শওকত আলীর জন্ম ১৯৩৬ সালে দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে।
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ’ (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই। এর পর প্রকাশিত হয়েছে। দুটি ছােটগল্প সংকলন ও একটি উপন্যাস।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন। বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

• শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন ,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উওরের খেপ,
- বসত,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং "পিঙ্গল আকাশ" শওকত আলী।

৫,৫০৫.
বার্ট্রান্ড রাসেলের 'Conquest of Happiness গ্রন্থের অনুবাদক-
  1. ক) নবীনচন্দ্র সেন
  2. খ) মোতাহের হোসেন
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ সমূহ- সুখ (বার্ট্রান্ড রাসেলের 'Conquest of Happiness গ্রন্থের অনুবাদ)। সংস্কৃতি কথা, সভ্যতা (ক্লাইভ বেলের 'Civilization' গ্রন্থের অনুবাদ)। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৫০৬.
'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল:
- 'জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ।

- এই সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এই গল্পগ্রন্থে ৫টি গল্প সংকলিত হয়েছে।
• এগুলো হলো:
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।

• তাঁর রচিত গল্প:
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলে কোঠার সেপাই (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত),
- খোয়াবনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।
৫,৫০৭.
নিচের কোনটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ?
  1. ক) নরসুন্দর
  2. খ) শতকরা আশি
  3. গ) রূপজালাল
  4. ঘ) ভলগার তীরে
ব্যাখ্যা
'রূপজালাল' নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী রচিত গদ্য ও পদ্য ছন্দে রচিত আত্মজীবনী ও কল্পকাহিনীমূলক একটি গ্রন্থ। শতকরা আশি ও নরসুন্দর যথাক্রমে নুরুল মোমেনের নাটক ও রম্য রচনা। ভলগার তীরে নির্মলেন্দু গুণের একটি ভ্রমণকাহিনী।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৫০৮.
মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম -
  1. দৃষ্টিহীন
  2. যুবনাশ্ব
  3. হাবু শর্মা
  4. বনফুল
ব্যাখ্যা
• মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন

অন্যদিকে,
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - বনফুল।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।
- মণীশ ঘটক এর ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫০৯.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার কোন সাহিত্য শাখায় বিশেষ পরিচিত?
  1. শিশু সাহিত্য
  2. মহাকাব্য
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার:
১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক ‘সুধা’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ ‘উত্থান’ কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

উল্লেখ্য, 
বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। প্রধানত ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি। 

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১০.
কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' কোন জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থ:
- কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' একটি গীতিকাব্য। কাব্যটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম। তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়।

কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১১.
'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থে কয়টি কবিতা আছে?
  1. ২০টি
  2. ২১টি
  3. ১৯ টি
  4. ২২টি
ব্যাখ্যা
'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর, ১৯২৩) 'দোলনচাঁপা' প্রকাশিত হয়।
- কবি তখন রাজবন্দি হিসেবে জেলে।
- প্রথম কবিতা 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে'।
- কাব্যে এই ২১টি কবিতার সংকলন।
-যেমন:
- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে,
- পূজারিণী,
- বেলাশেষে,
- পূবের হাওয়া,
- চোখের চাতক,
- অবেলার ডাক,
- অভিশাপ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৪।
৫,৫১২.
মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) নীলদর্পণ
  3. গ) বসন্তকুমারী
  4. ঘ) শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• মধুসূদন ছিলেন বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক কবি।  উনিশ শতকের বাঙালি নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ মধুসূদন তাঁর অনন্যসাধারণ প্রতিভার দ্বারা বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত শক্তি আবিষ্কার করে এই ভাষা ও সাহিত্যের যে উৎকর্ষ সাধন করেন, এরফলেই তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘মধুকবি’ নামে পরিচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সার্থক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

• পরের বছর মধুসূদন রচনা করেন দুটি প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
নাটক
- পদ্মাবতী
- কৃষ্ণকুমারী

কাব্য
-মেঘনাদবধ
- বীরঙ্গনা
- তিলোত্তমাসম্ভব

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা।
৫,৫১৩.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন-
  1. সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।

- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।

- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫১৪.
কাজী নজরুল ইসলাম 'অগ্নি-বীণা' কাব্যটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বারীন্দ্রকুমার ঘোষ
  3. গ) চিত্তরঞ্জন দাস
  4. ঘ) নলিনীকান্ত সরকার
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা। কাব্যটিতে ১২টি কবিতা রয়েছে। গ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৫১৫.
'অবদূত' কার ছদ্মনাম?
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) বিমল মিত্র
  3. গ) কালিকানন্দ
  4. ঘ) মহাশ্বেতা দেবী
ব্যাখ্যা
• কালিকানন্দ এর ছদ্মনাম- 'অবদূত'। 

তাছাড়া, 
• 'বিমল মিত্র' এর ছদ্মনাম- 'জাবালি'। 
• কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম- 'হুতোম পেঁচা'। 
• মহাশ্বেতা দেবী এর ছদ্মনাম- 'সুমিত্রা দেবী'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১৬.
'চারণকবি' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. রামনারায়ণ
  3. মুকুন্দদাস
  4. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা

• মুকুন্দদাস:
-  ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বাংলাকে ভাগ করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়কালে মুকুন্দদাস স্বদেশী যাত্রার মাধ্যমে ব্রিটিশ বিরোধী ভাবনাকে প্রচার করেন এবং চারণকবি মুকুন্দাস নামে খ্যাত হন।
-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও  কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সেই  কারণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের চক্ষ্মুশূল হয়ে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে কারাবরণ করেন।
- তার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে - গান গেয়েই তিনি ব্রিটিশ সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।
 
• মুকুন্দদাসের কয়েকটি বিখ্যাত গান:
- ‘হাসি হাসি পরব ফাঁসি/দেখবে জগৎ বাসী/একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।’ (বিপ্লবী ক্ষুদিরামের ফাঁসির পর রচিত)
- 'ছেড়ে দেও কাঁচের চুড়ি বঙ্গনারী' (স্বদেশী আন্দোলন বিশেষ করে বিদেশী পন্য বর্জনের সময়)
- ‘ভয় কি মরণে থাকিতে সন্তানে
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে।'
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা-কবিতা ব্লগ।

৫,৫১৭.
জহির রায়হান পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. বরফ গলা নদী
  2. হাজার বছর ধরে
  3. কখনো আসেনি
  4. কাঁচের দেয়াল
  5. বাহানা
ব্যাখ্যা
• 'কখনো আসেনি' চলচ্চিত্র:
- জহির রায়হান পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসেনি'।
- এটি ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি সামাজিক বাংলা চলচ্চিত্র।
- চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছেন আজিজুল হক ও মঞ্জুরুল হক।
- চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন- সুমিতা দেবী, খান আতাউর রহমান, সঞ্জীব দত্ত, শবনম, কণা প্রমুখ।

--------------
• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনো আসেনি (প্রথম পরিচালিত ছবি)।
- সোনার কাজল।
- কাঁচের দেয়াল।
- বেহুলা।
- জীবন থেকে নেয়া।
- আনোয়ারা।
- সঙ্গম।
- বাহানা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১৮.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যে ‘মিরাত-উল-আখবার’ পত্রিকার প্রকাশক কে?
  1. ক) রাজা রামমোহন রায়
  2. খ) শেখ আব্দুর রহিম
  3. গ) মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. ঘ) গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা
- ব্রাহ্মন সেবধি (১৮২১) 
- সম্বাদ কৌমুদী (১৮২১) 
- মিরাৎ-উল-আখবার (১৮২২) 

অন্যান্য প্রকাশক/সম্পাদক কর্তৃক প্রকাশিত
পত্রিকা:
• শেখ আব্দুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকা:
- সুধাকর                               
- মিহির                                 
- হাফেজ

• মোহাম্মদ আকরম খাঁ সম্পাদিত পত্রিকা:
- মাসিক মোহাম্মদী               
- দৈনিক সেবক

• গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা: বাঙ্গাল গেজেট।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১৯.
'নুরু এবং রবিউল' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. প্রলয়শিখা
  2. বাঁধন-হারা
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- ১৯২১ সালে 'মোস্‌লেম ভারত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: নুরু, রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫২০.
‘এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ এই স্মরণীয় পঙ্‌ক্তি রচনা করেছেন-
  1. আল মাহমুদ
  2. শামসুর রহমান
  3. হেলাল হাফিজ
  4. রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
- ‘এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’-  এই পঙ্‌ক্তি তার বিখ্যাত কবিতা “নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়” থেকে নেওয়া হয়েছে।
- ১৯৬৯ সালের গণঅভূথ্যানের সময় লেখা।

হেলাল হাফিজ:

- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।

কাব্যগ্রন্থ:
- যে জলে আগুন জ্বলে,
- কবিতা ৭১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫২১.
শওকত ওসমানের নাটক কোনটি?
  1. ক) পিঁজরাপোল
  2. খ) ক্রীতদাসের হাসি
  3. গ) তস্কর লস্কর
  4. ঘ) ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী
ব্যাখ্যা
তস্কর নস্কর, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, আমলার মামলা শওকত ওসমান রচিত নাটক।
চৌরসন্ধি, ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, রাজা উপাখ্যান, জাহান্নাম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, পতঙ্গ পিঞ্জর, রাজসাক্ষী, জলাঙ্গী, পুরাতন খঞ্জর, বনি আদম, জননী ইত্যাদি শওকত ওসমানের উপন্যাস।
ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী, পিঁজরাপোল, জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫২২.
"একটি স্নেহের কথা
প্রশমিতে পারে ব্যথা"
- পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. পাছে লোকে কিছু বলে
  2. হরতাল
  3. কবিতা মুকুল
  4. অমিয়ধারা
ব্যাখ্যা
 'একটি স্নেহের কথা
প্রশমিতে পারে ব্যথা' - পঙক্তিদ্বয়  কামিনী রায় রচিত 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার অন্তর্গত। 

কামিনী রায় (১৮৬৪-১৯৩৩)
- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য (১৮৯১),
- পৌরাণিকী (১৮৯৭),
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য, ১৯০৫),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ, ১৯০৭),
- মাল্য ও নির্মাল্য (১৯১৩),
- অশোকসঙ্গীত (সনেট, ১৯১৪),
- অম্বা (নাটক, ১৯১৫),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ (১৯১৮),
- ঠাকুরমার চিঠি (১৯২৪),
- দীপ ও ধূপ (১৯২৯),
- জীবনপথে (সনেট, ১৯৩০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫২৩.
"ভক্তপ্রসাদ বাবু" চরিত্রটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. একেই কি বলে সভ্যতা
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন-শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।

এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ভক্তপ্রসাদ বাবু,
- পঞ্চানন বাচস্পতি,
- গদাধর,
- পুঁটি,
- ফতেমা প্রমুখ।

তাঁর রচিত অন্যান্য প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৫২৪.
‘কামাল পাশা’ ও ‘কাফেলা’ নাটকদ্বয় কার লেখা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কবি জসীম উদ্দীন
  3. প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ ইব্রাহীম খাঁ
  4. সুফী মোতাহের হোসেন
ব্যাখ্যা
• আনোয়ার পাশা, কামাল পাশা ও কাফেলা নাটকগুলো ইব্রাহিম খাঁ রচিত।

-----------------
• ইব্রাহীম খাঁ: 
- ইব্রাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। নাটক, গল্প,  উপন্যাস,  শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫২৫.
'দাদাভাই' ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন কোন সাংবাদিক? 
  1. মনিরুজ্জামান
  2. রোকনুজ্জামান খান
  3. বলাইচাঁদ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রাজশেখর বসু
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

রোকনুজ্জামান খান:
- রোকনুজ্জামান খান ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও শিশুসংগঠক।
- ১৯২৫ সালে তিনি ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলায় সাহিত্য ও সংস্কৃতিসমৃদ্ধ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর জ্ঞাতি ছিলেন এয়াকুব আলী চৌধুরী ও রওশন আলী চৌধুরী।
- তিনি মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের কন্যা নূরজাহান বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
- নূরজাহান নিজেও সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

- তিনি ইত্তেহাদ-এর ‘মিতালী মজলিস’ এবং মিল্লাত-এর ‘কিশোর দুনিয়া’ শিশুপাতার সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৫৫ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক-এ যোগদান করে ‘দাদাভাই’ ছদ্মনামে শিশুদের পাতা কচি-কাঁচার আসর সম্পাদনা শুরু করেন। 
- পরবর্তীতে 'দাদাভাই' ছদ্মনামেই দেশব্যাপী পরিচিত হন।
-
তিনি সম্পাদনা করেছেন শিশুসংকলন ঝিকিমিকি। 
- ১৯৫৬ সালে তিনি কচি-কাঁচার মেলা নামে একটি শিশুসংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেন, যা শিশুদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

- তাঁর প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- 
 • হাট্টিমাটিম,
• খোকন খোকন ডাক পাড়ি,
• আজব হলেও গুজব নয়।
-------------------- 
অন্যদিকে, 
- 'হায়াৎ মামুদ'- মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ছদ্মনাম।
- বলাইচাঁদ বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম- 'বনফুল'।
- রাজশেখর বসু'র ছদ্মনাম- 'পরশুরাম'। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

৫,৫২৬.
জীবনানন্দ দাশকে নির্জনতম কবি বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. ক্লিনটন বি সীলি
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
'বুদ্ধদেব বসু'- কবি জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতম' কবি বলে আখ্যায়িত করেছেন। 

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় “রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা” নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
 ------------------------
অন্যদিকে, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় বলেছেন। 
- জীবনানন্দ দাশকে তিমির হননের কবি, রূপসী বাংলার কবি, শুদ্ধতম কবি হিসেবে অভিহিত করা হয়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫২৭.
‘বাঙালির ইতিহাস’ বইটির লেখক কে?
  1. ক) অধ্যাপক আব্দুল করিম
  2. খ) আর সি মজুমদার
  3. গ) নীহার রঞ্জন রায়
  4. ঘ) অধ্যাপক সুনীতিকুমার
ব্যাখ্যা
⇒ নীহাররঞ্জন রায়:
• নীহাররঞ্জন রায় ১৯০৩ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন স্থানীয় ন্যাশনাল স্কুলে, যেখানে তাঁর পিতা শিক্ষকতা করতেন।
•  নীহাররঞ্জন রায় (১৯০৩-১৯৮১) ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন। জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন- শিল্পকলা, প্রাচীন ও আধুনিক সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্ম, রাজনীতি এবং জীবনকাহিনীসহ নানা বিষয়ে তিনি বিচরণ করেন এবং বহু গ্রন্থ রচনা করেন।
• শিল্প-ইতিহাস চর্চায় তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন এবং এ বিষয়টিই ইতিহাসের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণার ভিত্তি হয়ে উঠেছিল। মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে তাঁর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে।

 • তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ। এই ক্লাসিক সৃষ্টি রাজনৈতিক পরিভাষায় ইতিহাস বিশ্লেষণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিবর্তনের সূচনা ঘটায় এবং তা সাধারণ মানুষকে ইতিহাসবিদদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তোলে। গ্রন্থটির সাহিত্যমূল্যের ক্ষেত্রেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

 • ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনকালে ১৯৪২ সালে তিনি কারাবন্দি হন এবং জেলখানায়ই ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ রচনার কাজ শুরু করেন।

 • বার্মাতেই তাঁর মনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবিচ্ছিন্নতার ধারণা দৃঢ়বদ্ধ হয়, যা পূর্ণ পরিণতি লাভ করে ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

উল্লেখ্য, বইটির সঠিক নাম বাঙ্গালীর ইতিহাস। সে অনুসারে সম্ভাব্য সঠিক উত্তর হিসেবে অপশন ‘গ’ গ্রহণ করা হয়েছে।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫২৮.
’কখনো মেঘ’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. ফররুখ আহমদ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
- ’কখনো মেঘ’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- প্রেমেন্দ্র মিত্র।

• প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- ১৯২৩ সালে প্রবাসীতে ‘শুধু কেরাণী’ ও ‘গোপন চারিণী’ নামে দুটি গল্প প্রকাশিত হয় এবং গল্প দুটি নিয়ে কল্লোল পত্রিকা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করে।
- ফলে সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর খ্যাতি বেড়ে যায়।
- সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা মাসিক 'কালিকলম' সম্পাদক ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথমা,
- সম্রাট,
- ফেরারী ফৌজ,
- সাগর থেকে ফেরা,
- কখনো মেঘ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পাঁক,
- কুয়াশা,
- মিছিল,
- উপনয়ন,
- আগামীকাল,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে,
- অন্য এক নাম, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫২৯.
মীর মশাররফ হোসেনের জন্মস্থান-
  1. কুষ্টিয়ায়
  2. যশোরে
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৩০.
‘দেনা পাওনা’ গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রথম চৌধুরী
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- বাংলা ছোট গল্পের জনক বলা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কে। 
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগুলো হল:
- ভিখারিণী ,
- দেনা পাওনা ,
- মনিহারা ,
- পোস্টমাস্টার,
- এক রাত্রি ,
- ক্ষুধিত পাষাণ ,
- স্ত্রীর পত্র ,
- নষ্টনীড়,
- কাবুলিওয়ালা ,
- হৈমন্তী ,
- মুসলমানীর গল্প । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩১.
বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' উদ্ধার করেন-
  1. বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩২.
'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. আহসান হাবীব
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে।  এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

আল মাহমুদ: 
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩৩.
নিচের কোনটি অদ্বৈত মল্লবর্মণের লেখা নাগরিক উপন্যাস?
  1. তিতাস একটি নদীর নাম
  2. শাদা হাওয়া
  3. অনুবর্তন
  4. অশনি সংকেত
ব্যাখ্যা

• 'শাদা হাওয়া' উপন্যাস:
- 'শাদা হাওয়া' অদ্বৈত মল্লবর্মণের লেখা নাগরিক উপন্যাস। এ উপন্যাস লেখা সম্পন্ন হয় ১৯৪২ সালে। প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে, সোনার তরী পত্রিকায়।
- কলকাতায় বিলিতি সেনা, যাদের টমি নামে অভিহিত করা হত, তাদের আগমনকে উপজীব্য করে উপন্যাসটি লিখিত।
- উপন্যাসের চরিত্র গোয়েন্দা গোবিন্দ শর্মার চিন্তাবাক্যের সূত্রে বহু রাজনৈতিক সন্দর্ভ লিখেছেন অদ্বৈত মল্লবর্মণ। তাতে পুরনো ভারতচিন্তা যেমন এসেছে, তেমনই এসেছে যুদ্ধবিরোধী ভাবনাও।

অন্যদিক,
• অদ্বৈত মল্লবর্মণের 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রভৃতি আঞ্চলিক উপন্যাস হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
• 'অনুবর্তন' ও 'অশনি সংকেত' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।

উৎস: 'শাদা হাওয়া' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৩৪.
‘সুড়ঙ্গ’ নাটকটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
⇒ 'সুড়ঙ্গ' নাটক:
• 'সুড়ঙ্গ' (১৯৬৪) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি নাটক।
• এই নাটকে মানুষের চেতনার গভীরস্থ লোভ, লালসা, ঘৃণা, ঈর্ষাকে নাট্যকার রূপকাশ্রয়ে তুলে ধরতে গিয়ে এবসার্ড নাট্যধারাকে অনুসরণ করেছেন। তাই অনেক সময়ই সংলাপে সামঞ্জস্যহীনতা, অস্পষ্টতা ও নাটকে রহস্যময়তা পরিদৃষ্ট হয়।
• ষোড়শী রাবেয়া নিজের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আহার ত্যাগ করে। সবাই ভাবে বিয়েতে অমত তার। কিন্তু রাবেয়া জানায় বরে তার আপত্তি নেই। তাহলে কেন রাবেয়ার এ অবস্থা? শুরু হয় রহস্যময়তা! রাবেয়ার ঘরের আলমারির নিচে থাকা গুপ্তধনের সংবাদে তার চাচাতো ভাই কলিমসহ তিনজন যুবক রাতদিন সুড়ঙ্গ কাটতে ব্যস্ত। মাটির সুড়ঙ্গ নাকি মনের সুড়ঙ্গ- রূপকটি এখানেই ।

⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লা‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩৫.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা "কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি" এর রচয়িতা কে?
  1. এম. আর. আখতার মুকুল
  2. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  3. শামসুর রাহমান
  4. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• মাহবুব উল আলম চৌধুরী:
- মাহবুব উল আলম চৌধুরী কবি, সাংবাদিক, লেখক, ভাষা সৈনিক এবং ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার রচয়িতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে (২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২) আন্দোলনকারী ভাষা সৈনিকদের ওপর পুলিশের গুলি এবং ছাত্র নিহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ স্বরূপ কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী ’একুশে’ শিরোনামে রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ’কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ যা ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।
- আহমাদুর রহমান চৌধুরী এবং রওশন আরা চৌধুরীর সন্তান মাহবুব উল আলম চৌধুরীর জন্ম ৭ নভেম্বর ১৯২৭, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের আসাদ চৌধুরীর বাড়িতে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩৬.
'ধর্ম ও সত্যের জয়' প্রকাশ পায় মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত কোন সামাজিক উপন্যাসে?
  1. ক) লালসালু
  2. খ) আনোয়ারা
  3. গ) সংশপ্তক
  4. ঘ) একটি তুলসি গাছের
ব্যাখ্যা
'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- উপন্যাসের চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লাহ, গোলাপজান ইত্যাদি। 

লেখকের অন্যান্য রচনা: 
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি (১৯১৭) 
- পরিণাম (১৯১৮)
- গরীবের মেয়ে (১৯২৩)
- দুনিয়া আর চাই না (১৯২৪) ইত্যাদি।

অপরদিকে, '
 - দেশভাগের প্রেক্ষাপটে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কালজয়ী সৃষ্টি 'একটি তুলসী গাছের কাহিনী।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস  লালসালু। 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পটভূমিতে শহীদুল্লা কায়সারের এক কালজয়ী উপন্যাস ‘সংশপ্তক' (১৯৬৫)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩৭.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) কীর্তনখোলা
  2. খ) পুঁই ডালিমের কাব্য
  3. গ) মায়া কাজল
  4. ঘ) কাঁটাতারের প্রজাপতি
ব্যাখ্যা
হাঙর নদী গ্রেনেড, কাঁটাতারের প্রজাপতি, জলোচ্ছ্বাস, নীল ময়ূরের যৌবন, পোকা মাকড়ের ঘরবসতি, নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, আগষ্টের একরাত, খুন ও ভালোবাসা, গায়ত্রী সন্ধ্যা, অপেক্ষা, গেরিলা ও বীরাঙ্গনা, ঘুমকাতুরে ঈশ্বর, পূর্ণছবির মগ্নতা, ভালোবাসা প্রীতিলতা, কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৫৩৮.
The Zamindar and Royats প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. টেকচাঁদ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মীর মোশাররফ হোসেন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
The Zamindar and Royats প্রবন্ধের রচয়িতা টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে খ্যাত প্যারীচাঁদ মিত্র। 
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে তিনি এই প্রবন্ধটি রচনা করেন। 

প্যারীচাঁদ মিত্র (১৮১৪-১৮৮৩)  
লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী প্যারীচাঁদ মিত্রের জন্ম ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায়।
- বাঙালি সমাজের হিতার্থে তিনি বহু সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন।
- জ্ঞানোপার্জিকা সভা (১৮৩০),  বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি (১৮৪৩), ডেভিড হেয়ার মেমোরিয়াল সোসাইটি (১৮৪৪), রেস ক্লাব (১৮৪৭), এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড হর্টিকালচারাল সোসাইটি (১৮৪৭),  বেথুন সোসাইটি (১৮৫১) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি দি ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড,  হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া এবং  বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে  
- আলালের ঘরের দুলাল (১৮৫৭),
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০), কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- A Biographical Sketch of David Hare (১৮৭৭),
- The Spiritual Stray Leaves (১৮৭৯),
- Stray Thought of Spiritualism (১৮৭৯),
- Life of Dewan Ramkamal Sen (১৮৮০) এবং
- Life of Coles Worthy Grant (১৮৮১)।

- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩৯.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. প্রদোষে প্রাকৃতজন
  3. জলাঙ্গী
  4. ওঙ্কার
ব্যাখ্যা
'জলাঙ্গী' উপন্যাস:
- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'।
- স্বাধীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠার দ্যোতক হিসেবে 'জলাঙ্গী' (১৯৭৪) উপন্যাসের মূল্য অপরিসীম।
- শওকত ওসমান রচিত এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার প্রেমিকার ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা। এদের হাত-পা বেঁধে গলায় পাথর ঝুলিয়ে মেঘনা নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়।
- এরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েও মৃত্যুর আগ মুহূর্তে 'জয় বাংলা' তাদের অবিচলিত দেশপ্রেমকে মহিমান্বিত করেছে।

অন্যদিকে,
- আহমদ ছফার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘ওঙ্কার' (১৯৭৫)। এ উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ বর্ণিত হয়েছে একজন কথকের উক্তিতে। ৩৮ পৃষ্ঠার এই ছোট্ট উপন্যাসটি উঠে এসেছে '৬৯ এর পাকিস্তান আমলের সমাজচিত্রের ক্যানভাস ও সামাজিক অসংগতি এবং মনস্তাত্ত্বিক খেলা।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' (১৯৮৪) শওকত আলী রচিত একটি উপন্যাস।সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনি রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৪০.
’সাম্প্রদায়িকতা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. ড. আহমদ শরীফ
  4. বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

- ’সাম্প্রদায়িকতা’ - গ্রন্থের রচয়িতা বদরুদ্দীন উমর।
-  এটি একটি দর্শন ও দার্শনিক বিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।

• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৪১.
”অলীক কুনাট্যরঙ্গে মজে লোক রাঢ়েবঙ্গে/নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।” এই উক্তিটি কোন বিখ্যাত লেখকের?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

⇒ ”অলীক কুনাট্যরঙ্গে মজে লোক রাঢ়েবঙ্গে/নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।” উক্তিটি  মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত শর্মিষ্ঠা নাটকের  প্রথম সংস্করণের পুস্তকের প্রারম্ভে এই অংশ প্রস্তাবনা ছিল।

’শর্মিষ্ঠা’

- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তিলোত্তমাসম্ভ ‘ কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত নাটক :
- পদ্মবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা,

উৎস:
i) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
ii) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
iii) শর্মিষ্ঠা নাটক।

৫,৫৪২.
'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  2. আহমদ ছফা
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি লিখেছেন- 'আবদুল মান্নান সৈয়দ'।  

 আবদুল মান্নান সৈয়দ: 
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস: 
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধাপ্রেম আগুন, 

• তাঁর রচিত ছোটগল্প: 
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

• 'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৪৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিজ্ঞান সংক্রান্ত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বিজ্ঞানতত্ত্ব
  2. শিক্ষা
  3. বিজ্ঞানপরিচয়
  4. বিশ্বপরিচয়
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়' (১৯৩৭)।
- মূলত কিশোর-কিশোরীদের জন্য রচিত হলেও বয়স্কদের উপভোগ্য। 
- এখানে রবীন্দ্রনাথ বহু পরিভাষা প্রস্তুত করেন এবং বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের উপযোগী ভাষারীতি প্রয়োগ করেন। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ: শব্দতত্ত্ব (১৯০৯)

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ও চিঠিপত্র:
জীবনস্মৃতি: ২৫ বছর পর্যন্ত ঘটনা আছে।
চরিত্রপূজা।
ছেলেবেলা ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে চিঠিপত্র:
- ছিন্নপত্র (১৯১২): ১৫৩টি পত্র আছে। প্রথম ৮টি শ্রীশচন্দ্র মজুমদারকে লেখা। পরবর্তী ১৪৫টি ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা।
- ভানুসিংহের পত্রাবলী : রানু অধিকারীকে লেখা।
- পথে ও পথের প্রান্তে: নির্মলকুমারী মহলানবিশকে লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৪৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত কোন কাব্যগ্রন্থটি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে উৎসর্গ করেন?
  1. আকাশ-প্রদীপ
  2. বলাকা
  3. পূরবী
  4. স্মরণ
ব্যাখ্যা

• 'পূরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯২৫ খ্রীস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ রচিত 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থাটি উৎসর্গ করেন।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'আকাশ-প্রদীপ' কাব্যগ্রন্থ সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'বলাকা' কাব্যটি  উইলিয়াম পিয়ারসন কে উৎসর্গ করেন।
• 'স্মরণ' কাব্যটি কবি তার স্ত্রীর মৃত্যু উপলক্ষ করে রচনা করেন।

------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।

- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৪৫.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. জীবনানন্দ দাশকে
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
  3. বুদ্ধদেব বসুকে
  4. কাজী নজরুল ইসলামকে
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৪৬.
বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে ছেলে বেলার গান- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান। পঙক্তির রচিয়তা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কবি সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দিনের আলো নিবে এল,
        সুয্যি ডোবে - ডোবে।
আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে
        চাঁদের লোভে লোভে।
মেঘের উপর মেঘ করেছে—
        রঙের উপর রঙ,
মন্দিরেতে কাঁসর ঘন্টা।
        বাজল ঠঙ ঠঙ।
ও পারেতে বিষ্টি এল,
        ঝাপসা গাছপালা।
এ পারেতে মেঘের মাথায়
        একশো মানিক জ্বালা।
বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে
        ছেলেবেলার গান—
‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
        নদেয় এল বান।’
৫,৫৪৭.
'জার্মানীর শহরে বন্দরে' ভ্রমণকাহিনিটি কার রচনা?
  1. সানাউল হক
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'জার্মানীর শহরে বন্দরে':
- 'জার্মানীর শহরে বন্দরে' জসীমউদ্‌দীন রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
- গ্রন্থটিতে জার্মানের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের স্মৃতি বর্ণানা করা হয়েছে।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

গ্রন্থের মুখবন্ধে কবি লিখেছেন-
অবশেষে 'জার্মানীর শহরে বন্দরে' পুস্তকাকারে প্রকাশিত হইল। এই পুস্তক প্রকাশে পলাশ মুদ্রণের মালিক সোদরপ্রতিম মো: রুহুল আমীন যেভাবে আমাকে সাহায্য করিয়াছে কৃতজ্ঞতা জানাইয়া আমার প্রতি তাহার সম্পর্ককে ম্লান করিতে চাহি না। প্রকৃতপক্ষে সে না হইলে এত শীঘ্র এই পুস্তক প্রকাশিত হইতে পারিত না।

------------------------
• জসীমউদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• কবি জসীমউদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৪৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত রচনা সংকলন কোনটি?
  1. চয়নিকা
  2. গল্পগুচ্ছ
  3. সঞ্চিতা
  4. সঞ্চয়িতা
ব্যাখ্যা
'চয়নিকা':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম রচনা সংকলন চয়নিকা। প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এলাহবাদের ইন্ডিয়ান প্রেস থেকে পাঁচকড়ি মিত্র কর্তৃক মুদ্রিত এবং শ্রীচারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত।
- প্রথম সংস্করণে ১৩০টি কবিতা ছিল।
- ১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথের ২০০টি কবিতা বেছে দেবার জন্য বিশ্বভারতী গ্রন্থালয় থেকে একটি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় ৩২০ জন পাঠক যোগ দেন। তাঁদের ভোট সংখ্যা কবিতাগুলির জনপ্রিয়তার সূচক। ১৯২৫ সালের সংস্করণ এই লোকপ্রিয়তা অনুসারে সংকলিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৪৯.
পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সুচয়নী
  2. মাটির কান্না
  3. ধানক্ষেত
  4. মায়াকাজল
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মায়া কাজল’ সুফিয়া কামাল রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

 • জসীমউদ্দীন: 

- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

 • তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

 • শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

 • 'সুচয়নী' কবি জসিমউদ্দিনের কবিতা সংকলন।

 • জসিমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড়, 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি, 
- জারিগান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৫০.
'প্রবাস বন্ধু' কার রচনা?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'প্রবাস বন্ধু':
- সৈয়দ মুজতবা আলীর 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের পঞ্চদশ অংশ।
- প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের ভূমি, পরিবেশ; সেখানকার মানুষ ও তাদের সহজ-সরল জীবনাচরণ, বিচিত্র খাদ্য ইত্যাদি হাস্যরসাত্মকভাবে এই রচনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
লেখকের আফগানিস্তান ভ্রমণের আংশিক অভিজ্ঞতার পরিচয় আছে এখানে। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের সন্নিকটে খাজামমাল্লা নামক গ্রামে বাসের সময় আবদুর রহমান নামের একজন তার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। আফগান আবদুর রহমান চরিত্রের মধ্যে সরলতা, স্বদেশপ্রেম, অতিথিপরায়ণতা ফুটে উঠেছে। আবদুর রহমানের রান্না ও পরিবেশন করা খাবারের মধ্যে আফগানিস্তানের বিচিত্র ও সুস্বাদু খাদ্যবস্তুর পরিচয় পাওয়া যায়।

আফগানিস্তানের প্রস্তরভূমি এবং একই সঙ্গে নিকট-প্রতিবেশী এই জনপদের বরফ শীতল জলবায়ু আকর্ষণীয়। আবদুর রহমানের সরল আতিথেয়তায় কখনো লেখকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটলেও শেষ অবধি সৈয়দ মুজতবা আলী একে গ্রহণ করেছেন শ্রদ্ধার সঙ্গে।

-----------------
সৈয়দ মুজতবা আলী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য  সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- শত্রু-ইয়ার।

• ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫৫১.
‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'- গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. আবদুল্লাহ্‌ আল- মুতী
  3. এস ওয়াজেদ আলি
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' গ্রন্থ: 
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'।
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। 

• আবদুল্লাহ আল-মুতী:  
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- ১৯৯৮ সালের ৩০ নভেম্বর আবদুল্লাহ আল-মুতী মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য বইসমূহ: 
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- তারার দেশের হাতছানি, 
- বিজ্ঞানে বিস্ময়,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- মহাকাশে কী ঘটছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৫২.
'আগুন' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) বিজন ভট্টাচার্য
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) মামুনুর রশিদ
ব্যাখ্যা
নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য। তিনিই প্রথম বাংলা রঙ্গমঞ্চকে পুরাণ ও ইতিহাসের রোম্যান্টিক প্রভাব থেকে মুক্ত করেন। তাঁর প্রথম নাটক আগুন। পরে তিনি রচনা করেন জবানবন্দী, এটি কৃষকজীবনের আলেখ্য। তাঁর প্রতিভার সার্থকতম নিদর্শন হলো নবান্ন নাটক। বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর পটভূমিকায় রচিত এই নাটকে দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর রচিত নাটক হলো- মরাচাঁদ, কলঙ্ক, জীয়নকন্যা, গোত্রান্তর, অবরোধ। এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য দুটি গল্প হচ্ছে ‘জনপদ’ এবং ‘রাণী পালঙ্ক’। উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৫৩.
সুকুমার রায় রচিত ছড়ার সংকলন কোনটি?
  1. পাগলা দাশু
  2.  হ-য-ব-র-ল
  3. চলচ্চিত্তচঞ্চরী
  4. আবোল তাবোল
ব্যাখ্যা

• 'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলন:
- 'আবোল তাবোল' সুকুমার রায়ের বিখ্যাত ননসেন্স ছড়ার সংকলন।
- এটি ১৯২৩ সালে ইউ রায় এন্ড সন্স থেকে প্রকাশিত হয়। এই সংকলনে মোট ছড়ার সংখ্যা ৫০টি, যার মধ্যে ৭টি বেনামে লেখা হয়েছে। এবং তিনি এটি বাবু সমাজ কে সমালোচনা করার জন্য লিখেছিলেন।
- এটির দ্বারা তিনি গান্ধীজির অহিংসা সত্যাগ্রহ নীতির বিরোধিতা করেন। ছোটদের উদ্দেশ্যে লেখা সুকুমার রায় কবিতাগুলির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে তৎকালীন সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক আবহের প্রচ্ছন্ন রূপ। 

'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছড়া হলো-
- অবাক কাণ্ড
- আবোল তাবোল
- আহ্লাদী
- একুশে আইন
- কাঠবুড়ো
- কাতুকুতু বুড়ো
- কাঁদুনে
- কিম্ভূত
- কৈফিয়ত
- খিচুড়ি
- খুড়োর কল ইত্যাদি। 

----------------------
সুকুমার রায় রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলন।

৫,৫৫৪.
‘পঞ্চভূত’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. ছোটগল্প
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'পঞ্চভূত' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'পঞ্চভূত' (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়ারি' নামে ছাপা হয়।
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনী, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ করেন।
- পত্রিকায় প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছাপা হতো: 'লেখক ভূতনাথ বাবু'।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় পত্রিকার কিছু অংশ বর্জিত হওয়ায় এর অন্তরঙ্গতা কমেছে। এই গ্রন্থের 'গদ্য ও পদ্য' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ পদ্যচ্ছন্দের উৎপত্তি বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন, আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান এখন সে কথাই বলছে।
- আসলে পঞ্চভূতের 'ডায়েরি'র মধ্যে সহজ সরল ভাষায় মনোহর ভঙ্গিতে অনেক গভীর কথা আছে।

------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৫৫৫.
'এখনো ক্রীতদাস' কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. কাব্যনাট্য
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'এখনো ক্রীতদাস' নাটক:
• 'এখনো ক্রীতদাস' আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক। 
• সব সময় আলোয় ঝলমল করে নগর। চারদিকে যেন শুধু সুখ আর সুখ। কিন্তু আলোর নিচে তো অন্ধকার! নগরের সেই অন্ধকার বস্তি। এখানে মানবেতর জীবনযাপন করে অসংখ্য মানুষ। কীভাবে কাটে মানুষগুলোর দিন? তাঁদের কাহিনি নিয়েই নাটক 'এখনো ক্রীতদাস'।

• প্রথম মঞ্চায়ন-বর্ষ: ১৯৮৩। এবং কলকাতার ‘প্রতিক্ষণ’ পত্রিকায় ১৯৮৬ সালে এটি ছাপা হয়।

• নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
গ্রাম থেকে শহরে চলে আসা ট্রাকচালক বাক্কা মিয়ার একসময় ঘর-বাড়ি, জমি, কোদাল সবই ছিল। অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশের জন্য যুদ্ধও করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে সব হারিয়ে তিনি আজ পঙ্গু। এ পঙ্গু ট্রাকচালক বাক্কা মিয়াকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনি। স্ত্রী কান্দুনীর রোজগারের ওপর নির্ভর করে জীবন চলে তাঁর। বাক্কা মিয়া এখন বস্তি ঘরে দিন-রাত শুয়ে শুয়ে দেখেন চারপাশের ঘটনাবলি। এর মাধ্যমেই উন্মোচিত হয় সমাজের অবক্ষয়ের চিত্র। চোখের সামনে নিজের মেয়েকে দেহব্যবসায় নেমে পড়তে দেখেও কিছুই করার থাকে না বাক্কার। এই পচে যাওয়া সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের ইচ্ছা জাগে মনে।

-----------------
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)। এবং তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা ইত্যাদি।

উৎস: 'এখনো ক্রীতদাস' নাটক; প্রথম আলো রিপোর্ট এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৫৬.
'আয়না' গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
⇒ 'আয়না' গল্পগ্রন্থ:
- বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' একটি কালজয়ী গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণী ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন-

'এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্পী আবুল মনসুর যে আয়না তৈরী করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে। যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমে মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।’..... 

এর অন্তর্ভুক্ত গল্পগ্রন্থসমূহ:
- হুযুর কেবলা,
- গো - দেওতা - কা দেশ,
- নায়েবে নবী,
- লীডরে কওম,
- মুজাহেদীন,
- বিদ্রোহী সংঘ,
- ধর্মরাজ্য।
-------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স,
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৫৭.
রচনাশৈলী অনুসারে কোন গ্রন্থটি ভিন্ন?
  1. করুণা 
  2. শেষলেখা
  3. যোগাযোগ
  4. রাজর্ষি
ব্যাখ্যা

• রচনাশৈলী অনুসারে 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থটি  ভিন্ন। 

• 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থের নাম 'শেষলেখা'।
- 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করে যেতে পারেন নি। এই কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতায় জীবনের শেষ কয়েক দিনের রচনা।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাববাদী দর্শনের মধ্যেও চরমভাবে ইহজগৎ প্রীতি প্রকাশিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত মোট কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৫৬টি।

'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থে তিনি লিখেছেন-
"রূপ-নারানের কূলে,
জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"

অন্যদিকে,
-------------------
• 'করুণা' উপন্যাস:
'করুণা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয়।
মাসিক 'ভারতী' পত্রিকায় এক বছর ধরে (আশ্বিন-ভাদ্র ১২৮৪-৮৫) 'করণা' উপন্যাসটি ছাপা হয়।
তবে 'করুণা' উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় নি। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবরণের (১৯৪১) পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত 'রবীন্দ্র রচনাবলি'তে (১৯৬১) 'করুণা' প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

সাতাশ পরিচ্ছেদ বিশিষ্ট এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মহেন্দ্র,
- মোহিনী,
- রজনী।

• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
'যোগাযোগ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। এটি ১৯২৯ সালে (আষাঢ়, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়। এটি প্রথমে ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাস থেকে ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাস পর্যন্ত বিচিত্রা মাসিকপত্রে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। প্রথম দুই সংখ্যায় এই উপন্যাসের শিরোনাম ছিল তিনপুরুষ। ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসের শিরোনাম পরিবর্তন করে নতুন শিরোনাম দেন যোগাযোগ।

• 'রাজর্ষি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রাজর্ষি' একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস নিয়ে রচিত।
- ১৮৯১ সালে এই উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে "বিসর্জন" নাটকটি রচিত হয়।
-রাজর্ষি উপন্যাসটি ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে (১২৯৩ বঙ্গাব্দ) বালক পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
'রাজর্ষি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোবিন্দমাণিক্য, পুরোহিত রঘুপতি, হাসি ও তাতা, জয়সিংহ, নক্ষত্ররায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫,৫৫৮.
'আফতাব সংগীত' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) লালন শাহ
  2. খ) হাসন রাজা
  3. গ) সুরেন্দ্রনাথ রায়
  4. ঘ) শাহ আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
'আফতাব সংগীত' গ্রন্থের লেখক শাহ আবদুল করিম। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে। 

লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার, সুরকার শাহ আবদুল করিমের জন্ম ১৯১৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে। 
শাহ আবদুল করিম রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- 
- কালনীর ঢেউ,
- ভাটির চিঠি,
- ধলমেলা,
- কালনীর কূল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৫৯.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাখী
  2. কঙ্কাবতী
  3. কামনা পঞ্চবিংশতি
  4. কামিনী কাঞ্চন
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস - কঙ্কাবতী

অন্নদাশঙ্কর রায়:

- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতা - রাখী, কামনা পঞ্চবিংশতি।
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ছোটগল্প - কামিনী কাঞ্চন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৬০.
পথের পাঁচালী উপন্যাসের পরিপূরক উপন্যাস-
  1. ইছামতী
  2. অপরাজিত
  3. আরণ্যক
  4. অনুবর্তন
ব্যাখ্যা
• পথের পাঁচালী উপন্যাসের পরিপূরক উপন্যাস - অপরাজিত।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
-  ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
-  শরৎচন্দ্র পরবর্তী বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিকদের তিনি জনপ্রিয়।
- তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস - পথের পাঁচালী।
- পথের পাঁচালী  উপন্যাসের চরিত্র সমূহ - অপু, সর্বজয়া, হরহরি, অপর্ণা।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস - অপরাজিত।
- উপন্যাসটির প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল - অলোক সারথী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় পথের পাঁচালী উপন্যাসের পরিপূরক হিসেবে অপরাজিত উপন্যাসটি রচনা করেন।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে মাসিক প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:  
- পথের পাঁচালী (১৯২৯)
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- অনুবর্তন,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সমিত্র শেখর ।
৫,৫৬১.
'খোঁয়ারি' গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. আনিসুজ্জামান
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
খোঁয়ারি:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ 'খোঁয়ারি' ।
- এটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থভুক্ত চারটি গল্পে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সময়ের ভেতরে থেকেও সময়কে অতিক্রম করা চিরকালের কিছু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন - নৈঃসঙ্গ, যৌনতা, বার্ধক্য, মৃত্যু।
- তাঁর নিজস্ব সময় এই গল্পগুলোতে যথার্থ রুক্ষ শুকনো ভাষায় জীবন্ত-স্থির হয়ে পরিণত হয়েছে বাংলা ভাষার চিরায়ত সম্পদে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- তিনি বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ (১৯৮২), 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) ও কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর, 
- খোঁয়ারি
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; খোঁয়ারি, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
৫,৫৬২.
সৈয়দ আলী আহসানের আত্মজীবনী গ্রন্থের নাম কী?
  1. অনেক আকাশ
  2. আমার সাক্ষ্য
  3. কবিতার কথা
  4. আমার প্রতিদিনের শব্দ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আলী আহসান এর আত্মজীবনী - 'আমার সাক্ষ্য'।

• সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। 
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

• প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

• আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৬৩.
'দেনাপাওনা' উপন্যাস ও 'দেনাপাওনা' ছোটগল্পের লেখক যথাক্রমে -
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'দেনাপাওনা' উপন্যাসের রচয়িতা - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
• 'দেনাপাওনা' ছোটগল্পের রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-----------------------------
• 'দেনাপাওনা' উপন্যাস:
-  রচয়িতা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এখানে নারীত্ব ও সতীত্বের ধারনার বিচার এই আখ্যানের মূলসূত্র।  
- কাহিনির নায়ক জীবনানন্দ।
- এই উপন্যাস 'ষোড়শী' নামে নাট্যায়িত হয়। 
---------------------- 

• 'দেনাপাওনা' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ থেকে ‘দেনাপাওনা’ গল্পটি সংকলিত হয়েছে।
- ‘দেনাপাওনা’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অত্যন্ত সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাজের প্রচলিত যৌতুক প্রথার মর্মান্তিক রূপ উপস্থাপন করেছেন। যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভিন্ন মত গড়ে তুলতে গল্পটি সহায়ক।
 
• কাহিনি সংক্ষেপ:
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের রামসুন্দর পাঁচ পুত্র ও এক কন্যার জনক। আদরের কন্যার প্রতাপশালী রায়বাহাদুরের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় পাত্রের পিতা দশ হাজার নগদ টাকাসহ অন্যান্য সামগ্রী যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। কন্যার বাপ রাজি হন এবং বিয়ের সময় নগদ অর্থ বাকি পড়ে। শুরু হয় পিতা কন্যার ওপর মানসিক নির্যাতন। গল্পের নায়কা নিরূপমার আত্মবিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আমাদের সমাজের এই ভয়াবহ ব্যাধির কাহিনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৬৪.
'আদিগন্ত' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. সরদার জয়েনউদ্দীন
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
• 'আদিগন্ত' উপন্যাস:
- 'আদিগন্ত' সরদার জয়েনউদ্দিন রচিত একটি উপন্যাস। প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খিষ্টাব্দে।
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণানার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে এতে প্রকাশিত হয়েছে।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী।
- পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্দীন বিশ্বাস।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ,
- আদিগন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৬৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোন গ্রন্থটি 'ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে' উৎসর্গ করা হয়েছিল?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব
  2. ব্রজাঙ্গনা
  3. হেক্টরবধ
  4. মেঘনাদবধ
ব্যাখ্যা
• 'হেক্টরবধ' গ্রন্থ:
- হেক্টরবধ (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা। গ্রন্থটি 'ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে' উৎসর্গ করা হয়েছিল।

--------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

•  'হেক্টরবধ' গদ্যে রচিত অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৬৬.
‘ঠাকুরমার ঝুলি' কী জাতীয় রচনার সংকলন ?
  1. ক) গ্রাম্য গীতিকা
  2. খ) রূপকথা
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) উপকথা
ব্যাখ্যা
- ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ হলো বাংলা সাহিত্যে রূপকথার অন্যতম সংকলন । 

ঠাকুরমার ঝুলি

- রূপকথার সঙ্গে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্যও আছে।
- এই গল্পগুলি বলার ক্ষেত্রে গ্রামীণ রীতি ও ভাষা যথাসম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখে লেখক গ্রন্থটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থটি সংকলন করেন- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার।
- এটি প্রকাশিত হয়েছিলো- ১৯০৭ সালে।
- এর পরবর্তী খন্ড- ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’ যা ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার - দৃষ্টিহীন ছদ্মনামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৬৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মহুয়া
  2. বেনু ও বীনা
  3. শেষের কবিতা
  4. সবিতা
ব্যাখ্যা
• মহুয়া: 
মহুয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
এ কাব্যের সবকটি কবিতা প্রেমবিষয়ক।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনের প্রেমের কবিতার মধ্যে একদিকে যেমন তত্ত্ব, অন্যদিকে তেমন সংরাগ প্রকাশিত।
-------------------------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।'
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রভাতসঙ্গীত্
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- গীতাঞ্জলি;
- বলাকা;
- পুনশ্চ;

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- ঘরে বাইরে,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা।

অন্যদিকে,
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ- ’বেনু ও বীনা’ , ‘সবিতা’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৬৮.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. কামিনী রায়
  3. সুফিয়া কামাল
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি কামিনী রায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৬৯.
'মহেন্দ্র' ও 'বিনোদিনী' কোন উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. ঘরে বাইরে
  2. যোগাযোগ
  3. চোখের বালি
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা
• 'চোখের বালি':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চোখের বালি' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনীর ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৭০.
‘রূপসী বাংলা’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথর ঠাকুর
  3. এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৭১.
'সনেট পঞ্চাশৎ' কার রচনা?
  1. মহাকবি আলাউল
  2. আব্দুল কাদির 
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মাইকেল মুধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• "সনেট পঞ্চাশৎ' কাব্যগ্রন্থ লিখেছেন প্রমথ চৌধুরী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৩ সালে।

প্রমথ চৌধুরী:
 প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট, তের্জারিমা ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন। সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে বীরবল' ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
পদচারণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৭২.
'চাষাভুষার কাব্য' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. জসীম উদ্‌দীন  
  3. সুফিয়া কামাল 
  4. জীবনানন্দ দাশ 
ব্যাখ্যা

• 'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থ:
- 'চাষাভুষার কাব্য' বাংলা সাহিত্যের ষাট দশকের কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইয়ের কবিতাগুলোয় রাষ্ট্র, সমাজ, ধর্ম ও অর্থনীতির নানা বিভক্তি, সংঘাত এবং মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব ও বিপন্নতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এই কাব্যগ্রন্থে কবি গ্রামীণ, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও মাটির সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ককে ফুটিয়ে তুলেছেন।

-----------------------
নির্মলেন্দু গুণ রচিত আরো কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো-
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: 'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৭৩.
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. দোলো আমার কনকচাঁপা
  2. গো হাকিম
  3. গাভী বিত্তান্ত
  4. বাঙালি মুসলমানের মন
ব্যাখ্যা

• 'গাভী বিত্তান্ত':
- আহমদ ছফা রচিত 'গাভী বিত্তান্ত' বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাসগুলোর একটি।
- এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি ও তার প্রভাবের প্রেক্ষাপটে।
- আশির দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল মান্নানের গর্ভবতী গাভী ছাত্রদের গোলাগুলির মাঝে নিহত হওয়ার সত্য ঘটনাকে উপজীব্য করেই আহমদ ছফা রচনা করেন 'গাভী বিত্তান্ত'।
- আহমদ ছফার 'গাভী বিত্তান্ত' (১৯৯৫) উপন্যাসের মূল কেন্দ্র একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মূল চরিত্র সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিসি মিঞা মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ।

-------------------
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৭৪.
‘পূর্ণিমা মিলন’ নামক সাহিত্য সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
⇒ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:   
• কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
• ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
• দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। 
• তাঁর রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।  

⇒ দ্বিজেন্দ্রলালের উলে­খযোগ্য সাহিত্যগুলো:   
⇒ ঐতিহাসিক নাটক:
• তারাবাই,
• প্রতাপসিংহ,
• দুর্গাদাস, 
• মেবার পতন, 
• নূরজাহান,
• সাজাহান,
• চন্দ্রগুপ্ত।
- ঐতিহাসিক নাটক রচনার জন্য তিনি যশস্বী হয়ে আছেন।   

⇒ সামাজিক নাটক: 
• পরপারে,  
• বঙ্গনারী, 
• সমাজ-বিভ্রাট,  
• কল্কি অবতার,  
• ত্র্যহস্পর্শ,  
• প্রায়শ্চিত্ত, 
• পুনর্জন্ম।  
⇒ ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৫,৫৭৫.
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ 'রায়বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত হোন কোন ঔপন্যাসিক?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- চব্বিশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) ও 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬) রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৭৬.
'সবুজপত্র' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৪০ সালে
  2. ১৯২৪ সালে
  3. ১৯২০ সালে
  4. ১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে।

• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়।
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৭৭.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ কোনটি?
  1. মিঠে কড়া
  2. হরতাল
  3. গীতিগুচ্ছ
  4. আকাল
ব্যাখ্যা
আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৭৮.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে কতটি কবিতা সংকলিত হয়েছে?
  1. সতেরো 
  2. আঠারো 
  3. উনিশ 
  4. বিশ  
ব্যাখ্যা

• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

------------------
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভকরেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৭৯.
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রামাণ্য চিত্র - Stop Genocide নির্মাণ করেন -
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) চাষী নজরুল ইসলাম
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্রসমূহ-
- কখনো আসে নি (১৯৬১, প্রথম ছবি),
- সঙ্গম (১৯৬৪, তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানের প্রথম টেকনিকালার ছবি),
- বাহানা (১৯৬৫, প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি),
- কাঁচের দেয়াল (১৯৬৩, নিগার পুরস্কার পাওয়া),
- জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০),
- বেহুলা (১৯৬৬),
- আনোয়ারা (১৯৬৭)।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রামাণ্য চিত্র - Stop Genocide নির্মাণ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৫,৫৮০.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. কথামালা
  2. হিতোপদেশ
  3. কথোপকথন
  4. লিপিমালা
ব্যাখ্যা
• 'হিতোপদেশ'  মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ।

অন্যদিকে,
- 'কথোপকথন' ও 'লিপিমালা' উইলিয়াম কেরির মৌলিক গ্রন্থ।
- 'কথামালা' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থ।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৮১.
ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন কোন কবি?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীম উদ্‌দীন নামেই পরিচিত।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে। 

- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 

- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। তাঁর নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যটি দি ফিল্ড অব এমব্রয়ডার্ড কুইল্ট এবং বাঙালীর হাসির গল্প গ্রন্থটি ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

- জসীমউদ্দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। 

অন্যদিকে, 
• নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৮২.
মমতাজউদদীন আহমদের ‘বিবাহ’ নাটকটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  2. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যা
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• মমতাজউদদীন আহমদ:
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর নাটকে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় শিল্পিতা পেয়েছে। এ ধারায় তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো মধ্যে ‘বিবাহ’ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত। এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে ১৯৬০ সালে মমতাজউদদীন আহমেদ এর লেখা প্রথম নাটক ‘বিবাহ’।

• মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত বিখ্যাত নাটকগুলো হলো:
- বর্ণচোরা,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল।
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম,
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং যুগান্তর পত্রিকা,রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১০ জানুয়ারি, ২০২৪।
৫,৫৮৩.
'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  3. আহমদ শরীফ
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' গ্রন্থের রচয়িতা - মুহম্মদ এনামুল হক।

ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক:
- মুহম্মদ এনামুল হক ছিলেন গবেষক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় তিনি অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি।
- ১৯০২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার বখৎপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে এনামুল হক জন্মগ্রহণ করেন।
- এনামুল হকের সাহিত্যকর্মের বৈশিষ্ট্য হলো সত্যানুসন্ধান ও গবেষণা।
- তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের লুপ্তপ্রায় পাণ্ডুলিপির সন্ধান দেন।
- অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চেতনা জাগরণই তাঁর সাহিত্যসাধনার মূল প্রেরণা। সাহিত্যের ইতিহাস সন্ধানের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য (গবেষণামূলক, আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদের সঙ্গে যৌথভাবে রচিত),
- বঙ্গে সূফীপ্রভাব (গবেষণামূলক),
- বাঙলা ভাষার সংস্কার (ভাষাতত্ত্বমূলক),
- মুসলিম বাঙলা সাহিত্য (গবেষণামূলক) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৮৪.
কার সম্পাদনায় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত। অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৮৫.
" মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।"- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. মাইকেল মধুসূদন
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• "ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী":
- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।

- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।

- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ ও প্রশ্ন।

- 'মরণ' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: " মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।"

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ।
৫,৫৮৬.
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ময়নামতির চর
  2. মৃগপরী
  3. রূপকথা
  4. কুঁচবরণ কন্যা
ব্যাখ্যা

• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
-কুঁচবরণ কন্যা, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৮৭.
'কবিতার কথা'- কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
-‘কবিতার কথা’ হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ
-  এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি,তিমির হননের কবি ,নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল-
- ঝরাপালক।
- ধূসর পাণ্ডলিপি।
- বনলতা সেন।
- মহাপৃথিবী।
- সাতটি তারার তিমির।
- রূপসী বাংলা।
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হল-
- মাল্যবান।
- সতীর্থ।

সোর্স: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৫,৫৮৮.
'আনোয়ারা' ছবিটি পরিচালনা করেন কে?
  1. ক) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. খ) আলমগীর কবির
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) তারেক মাসুদ
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হান: 
- তিনি ১৯শে আগস্ট ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান কলকাতায় মিত্র ইনিস্টিউটে এবং পরে আলীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।
- জহির রায়হান ১৯৬১ সালে প্রথম ছবি হিসেবে ‘কখনো আসে নি’ পরিচালনা করেন।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। 
- তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ করেন।
- জহির রায়হানের উর্দু ছবি সঙ্গম ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন ছবি।
- তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর পরিচালিত অন্য ছবিগুলো হলো: 
» সঙ্গম, 
» কাঁচের দেয়াল, 
» আনোয়ারা, 
» বেহুলা, 

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো:
» তৃষ্ণা, 
» শেষ বিকেলের মেয়ে, 
» হাজার বছর ধরে, 
» আরেক ফাল্গুন, 
» বরফ গলা নদী, 
» আর কতদিন, 
» কয়েকটি মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৮৯.
“তােমারেই যেন ভালােবাসিয়াছি শত রূপে শত বার/জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।” - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার অংশ?
  1. অনন্ত প্রেম
  2. উপহার
  3. ব্যক্ত প্রেম
  4. শেষ উপহার
ব্যাখ্যা
“তােমারেই যেন ভালােবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার

জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।”

- উল্লেখ্য পঙ্‌ক্তিগুলো কবিতাটি বরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতার।

-------------------------
• "মানসী" কাব্যগ্রন্থ:

- রবীন্দ্রনাথ রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু ‘মানসী’ কাব্যকে “রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন”।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল।”

মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ উদ্দীপনার খরদীপ্তি। 

উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার,
- ক্ষণিক মিলন,
- নিস্ফল কামনা,
- অহল্যার প্রতি,
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসার,
- পুরুষের উক্তি,
- নারীর উক্তি,
- ব্যক্ত প্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্ত প্রেম,
- শেষ উপহার ইত্যাদি।
----------------------------

অনন্ত প্রেম
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

"তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার—
কত রূপ ধ’রে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।"

উৎস: ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থ; ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৯০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  2. আরোগ্য নিকেতন
  3. চৈতালি ঘূর্ণি
  4. একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- উপন্যাসটি ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে প্রকাশিত হয়। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
• উপন্যাসে পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে ‘স্পাই’ হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।

জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে:
‘এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভোলো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।’

• সংগীত শিল্পী ও ট্রানজিস্টার-মেকানিক ডেভিড ভিক্ষাজীবী পিতার কন্যা নাজমার সঙ্গে সঙ্গীত-প্রতিভায় বিমুগ্ধ ছিল। এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে। তবে, উপন্যাসটিতে ব্যক্তিগত কথকতা ছাপিয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে পূর্ব বাংলার সমাজ-রাজনীতি, গণহত্যা ও বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধ।

------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা,
- জলসাঘর,
- অগ্রদানী।

উৎস: 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৯১.
‘সব কিছু ভেঙে পড়ে’ ও ‘বুকপকেটে জোনাকি পোকা’ উপন্যাসদ্বয় কার রচনা?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক ও ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না,
- বুকপকেটে জোনাকি পোকা,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৯২.
বাংলা একাডেমি ’আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’- এর সম্পাদক কে?
  1. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  2. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে।
- এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
- তিনি বাংলা একডেমি ’আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- দীওয়ানে হাফিজ'
- মহানবী’ (১৯৪০),
- ‘অমিয়শতক' (১৯৪০),
- ‘বাণী শিকওয়াহ’,
- ‘জওয়াব-ই-শিকওয়াহ'
- ‘রুবাইয়াত-ই-ওমর খ্যায়াম;

তাঁর সংকলিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ:
- পদ্মবতী;
- প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী।
- গল্প সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৯৩.
সিস্টার সারা চরিত্রটি বেগম রোকেয়া রচিত কোন রচনার অন্তর্গত? 
  1. পদ্মরাগ
  2. অবরোধবাসিনী
  3. সুলতানার স্বপ্ন
  4. মতিচূর
ব্যাখ্যা

সিস্টার সারা চরিত্রটি বেগম রোকেয়ার কল্পকাহিনী - 'সুলতানার স্বপ্ন' এর অন্তর্ভুক্ত। 

• ‘সুলতানার স্বপ্ন’: 
- গল্পটি নারীবাদী কল্পকাহিনি।
- গল্পের মাধ্যমে লেখক নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতার বার্তা দিতে চেয়েছেন।
- বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ গল্পের মূল চরিত্র হলো সুলতানা।
- সুলতানা হচ্ছে এই গল্পের কথক।
- গল্পে সুলতানার পথপ্রদর্শক হিসেবে সিস্টার সারার চরিত্রটি চিত্রায়ন করা হয়েছিলো।
- গল্পে সুলতানা স্বপ্ন একটি কল্পনাপূর্ণ নারী বিশ্ব বা লেডিল্যান্ডের স্বপ্ন দেখে।
- যেখানে সব নেতৃত্বের কাজ নারীদের অধীনে থাকবে।
- যেখানে পুরুষদের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করে রাখা হবে।
- এই স্বপ্নের জগৎ সম্পূর্ণভাবে নারীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। 
-----------------------------------------------
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন একজন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে তিনি মারা যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলি হল:
- ‘পদ্মরাগ’ (উপন্যাস),
- ‘অবরোধবাসিনী’ (গল্প),
- ‘মতিচূর’ (প্রবন্ধ সংকলন) ও
- ‘সুলতানার স্বপ্ন’ (কল্পকাহিনি)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৯৪.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. নরকের লাল গোলাপ
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. যে অরণ্যে আলো নেই
  4. কি চাহ শঙ্খচিল
ব্যাখ্যা
• লেখক সৈয়দ শামসুল হক এর একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'।

• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য|
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি। 


অন্যদিকে,
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটক-
• নরকের লাল গোলাপ- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত নাটক। 
• যে অরণ্যে আলো নেই- নীলিমা ইব্রাহীম রচিত নাটক। 
• বর্ণচোর- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত নাটক। 
• কি চাহ শঙ্খচিল- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৯৫.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) খোয়াবনামা
  2. খ) চিলেকোঠার সেপাই
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) : কথাসাহিত্যিক। পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস। ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭),
- খােয়াবনামা (১৯৯৬)
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস৷)
ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর (১৯৭৬),
- খোয়ারি (১৯৮২),
- দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫),
- দোজখের ওম (১৯৮৯)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৫৯৬.
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. তপস্বী ও তরঙ্গিণী
  2. নীলাঞ্জনার খাতা
  3. কালো হাওয়া
  4. পরিক্রমা
ব্যাখ্যা
• ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটক:
• ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ চার অঙ্কে বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি নাটক।
• “তপস্বী ও তরঙ্গিণী” 'দেশ' পত্রিকার এপ্রিল, ১৯৬৬-র পাঁচটি সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো।
• 'দেশ'-এ প্রকাশের পরে একাধিক পাঠক একটি আপত্তি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। তাঁদের মতে ঋষ্যশৃঙ্গের উপাখ্যান ত্রেতা যুগের, আর সত্যবতী, কুন্তী ও দ্রৌপদীর কাল পরবর্তী দ্বাপর যুগ; অতএব অংশুমান ও রাজপুরোহিতের মুখে সত্যবতী ইত্যাদির উল্লেখ বসিয়ে আমি বুদ্ধদেব বসু ভুল করেছেন।

এ বিষয়ে বুদ্ধদেব বসু বলেন-
'ত্রেতা' ও 'দ্বাপর' যুগের ঐতিহাসিক যাথার্থ্য কতখানি, সে-বিষয়ে আলোচনা বাহুল্য; তবে পণ্ডিতমহলে এ-কথা স্বীকৃত যে ঋষ্যশৃঙ্গ-উপাখ্যান ইন্দো-য়োরোপীয় জাতিসমূহের একটি প্রাচীনতম পুরাণ; তাই আমার মানতে বাধে না যে তথ্যের দিক থেকে পূর্বোক্ত পত্রলেখকেরা ভ্রান্ত নন।

-------------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটক।
৫,৫৯৭.
মীর মশাররফ হোসেনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় যে ধরনের সাহিত্যকর্ম -
  1. ক) প্রহসন
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) ট্রাজেডি
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন : ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক ও গদ্যরচয়িতা৷
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী' (গল্পগ্রন্থ)৷
- তার রচিত প্রহসন : 'এর উপায় কি?'
নাটক:
- বসন্তকুমারী নাটক
- জমীদার দর্পণ
- বেহুলা গীতাভিনয়

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু
তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে। তবে অনেক ঘটনা ও চরিত্র সৃষ্টিতে উপন্যাসসুলভ কল্পনার আশ্রয়ও নেওয়া হয়েছে।

প্রবন্ধঃ
- গো-জীবন
- গোকুল নির্মূল আশঙ্কা

গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া

৫,৫৯৮.
'তিমির হননের কবি' কার উপাধি?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
- জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ: ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, রূপসী বাংলার কবি, নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৯৯.
নিচের কোনটি প্রবন্ধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসের সুযোগ রয়েছে। 
  2. তথ্য ও যুক্তির প্রয়োগ আছে।
  3. বক্তব্য সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট।
  4. গঠনভঙ্গির ঐক্য রয়েছে।
ব্যাখ্যা

প্রবন্ধ: সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য
সংজ্ঞা:
• কল্পনা ও বুদ্ধিবৃত্তির ওপর ভিত্তি করে লেখক কোনো বিষয় সম্বন্ধে সচেতনভাবে যে নাতিদীর্ঘ সাহিত্য সৃষ্টি করেন তাকেই প্রবন্ধ বলে।
• ‘প্রবন্ধ’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ভাষা থেকে। এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো প্রকৃষ্ট বন্ধন।

বৈশিষ্ট্য:
ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসহীনতা: প্রবন্ধে লেখকের ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাস ও লাগামহীন চিন্তার সুযোগ নেই।
• উচ্চারণ, ভাব ও ভাষা—এই তিনটি প্রবন্ধের প্রাণ।
• প্রতিটি প্রবন্ধে একটি প্রতিপাদ্য বিষয় থাকে।
তথ্য ও যুক্তি: যথার্থ তথ্য-প্রমাণ, যুক্তি, নিরাবেগ ভাষা ও সংযত চিন্তার প্রয়োগে সেই বিষয়কে উপস্থাপন করা হয়।
ভাবের সমতা: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রবন্ধে ভাবের সমতা বজায় রাখতে হয়।
 
সংক্ষিপ্ত বক্তব্য: প্রবন্ধের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত, যাতে অপ্রয়োজনীয় বিস্তার পরিহার করা যায়।
গঠনভঙ্গির ঐক্য: প্রবন্ধের কাঠামো সুসংগঠিত ও সুবিন্যস্ত হওয়া প্রয়োজন, যেখানে ভূমিকা, মূল আলোচনা ও উপসংহারের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট সম্পর্ক থাকে।
• চিন্তার স্বচ্ছতা: লেখকের চিন্তাধারা প্রবন্ধে সুস্পষ্ট ও সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপিত হওয়া উচিত, যাতে পাঠক সহজেই বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে।
• বক্তব্যের যথাযথ বিন্যাস: প্রবন্ধের বিষয়বস্তু ও যুক্তিগুলি একটি সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক ধারায় বিন্যস্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে রচনার ধারাবাহিকতা ও আকর্ষণ বজায় থাকে।

অর্থ্যাৎ, 
"ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসের সুযোগ রয়েছে।" - প্রবন্ধের বৈশিষ্ট্য নয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬০০.
হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন কত সালে?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১১ সালে
  3. ২০০৯ সালে
  4. ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদ:
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন। 

উৎস: 
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।