বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৫৩ / ১৭৪ · ৫,২০১৫,৩০০ / ১৭,৪৩৭

৫,২০১.
বঙ্গদূত পত্রিকাটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৮৩৯ সালে
  2. খ) ১৭৮০ সালে
  3. গ) ১৮৩৩ সালে
  4. ঘ) ১৮২৯ সালে
ব্যাখ্যা

রামমােহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদারের সম্পাদনায় ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই মে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক ‘বঙ্গদূত'।
পত্রিকাটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতাে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫,২০২.
বাংলা গদ্যের বিকাশে কোন বিদেশীর অবদান সর্বাধিক?
  1. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  2. মানোয়েল দ্যা আসুম্পসাঁও
  3. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  4. উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা

উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,২০৩.
নিচের কোন গ্রন্থটি আবদুল্লাহ আল-মুতী লিখেছেন?
  1. পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. জাল
  3. চতুষ্কোণ
  4. মেঘ বৃষ্টি রোদ
ব্যাখ্যা
•’মেঘ বৃষ্টি রোদ’ গ্রন্থটি আবদুল্লাহ আল-মুতী রচনা করেন।

• আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- আবদুল্লাহ আল-মুতীর সম্পূর্ণ নাম: আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন।
- তিনি ছিলেন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক। 
- আবদুলাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি  সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমী প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- 'মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম "এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।'

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ,
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে,
- তারার দেশের হাতছানি,

অন্যদিকে, 
- আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস- পদ্মার পলিদ্বীপ,জাল।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস -চতুষ্কোণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২০৪.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গীতিনাট্য?
  1. রক্তকবরী
  2. বসন্ত
  3. ডাকঘর
  4. তাসের দেশ
ব্যাখ্যা
• ‘বসন্ত' নাটক: 
- ‘বসন্ত’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি গীতিনাট্য।  
- এটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই নাটকের বিষয় যৌবনের প্রতীক ঋতুরাজ বসন্তের জয়গান। 
- কাজী নজরুল ইসলাম যখন জেলে বসে অনশন করেন তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গীতিনাট্য ‘বসন্ত’ (১৯২৩) উৎসর্গ করে অনশন ভঙ্গ করার আহ্বান জানান।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলামকে  উৎসর্গ করেছেন।
- কারণ নজরুলও বাংলার জীবনে বসন্ত তথা যৌবন এনেছিলেন।
- বসন্ত ঋতুনাট্যে রয়েছে গানের প্রাধান্য, গল্প বলতে আছে অতি সামান্য কিছু।
- সমৃদ্ধির সার্থকতা শুধু প্রাচুর্যে নয়, সেই সঙ্গে চাই ত্যাগের নিরাসক্তি- বসন্তের মর্মকথা এটাই।

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) একটি রূপক সাংকেতিক নাটক। 
- 'তাসের দেশ' (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি  রূপক নাট্য।
- ‘রক্তকরবী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সাংকেতিক নাটক।
৫,২০৫.
“পদ্মানদীর মাঝি” উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) শিখা
  2. খ) কল্লোল
  3. গ) পূর্বাশা
  4. ঘ) ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
- 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর- জীবন এর মূল কাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিঞা ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক' তাঁর ডাকনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং পদ্মানদীর মাঝি ।
৫,২০৬.
'অনল প্রবাহ' রচনা করেন-
  1. ক) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. খ) মোজাম্মেল হক
  3. গ) এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. ঘ) মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী
ব্যাখ্যা
ইসমাইল হোসেন সিরাজী একজন লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)। 
- তিনি লেখালেখি করে এবং সভা সমিতিতে বক্তৃতা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর লেখা ও বক্তৃতার প্রধান বিষয়বস্ত্ত ছিল বাংলার অনগ্রসর মুসলিম সমাজকে জাগিয়ে তোলা। বাগ্মী হিসেবে তিনি যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিলেন। মুসলমানদের স্বার্থের পক্ষে কথা বললেও তিনি সাম্প্রদায়িক ছিলেন না। তিনি মনে করতেন, সম্পদের সুষম বন্টনের মধ্যেই হিন্দু-মুসলমানের সৌহার্দ্য নির্ভর করছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য গ্রন্থ
অনল প্রবাহ (১৯০০),
আকাঙ্ক্ষা (১৯০৬),
উচ্ছ্বাস (১৯০৭),
উদ্বোধন (১৯০৭),
নব উদ্দীপনা (১৯০৭),
স্পেন বিজয় কাব্য (১৯১৪),
সঙ্গীত সঞ্জীবনী (১৯১৬),
প্রেমাঞ্জলি (১৯১৬)।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস
রায়নন্দিনী (১৯১৫),
তারাবাঈ (১৯১৬),
ফিরোজা বেগম (১৯১৮) ও
নূরুদ্দীন (১৯১৯)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫,২০৭.
"কপোতাক্ষ নদ" মধুসূদন দত্তের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
• "কপোতাক্ষ নদ" কবিতা:
- বাংলা কাব্য-সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' নামক সনেট কাব্য থেকে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটি সঙ্কলিত হয়েছে। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা।

- ফ্রান্সে বসে দেশের নদী কপোতাক্ষের কথা কবির মনে পড়ে। বহু দেশের বিচিত্র নদী কবি দেখেছেন। কিন্তু ওই নদীর তুলনা আর কোথাও পাননি। 

- এ কবিতায় কবির শৈশবে দেখা কপোতাক্ষ নদের প্রতি ভালোবাসার অন্তরালে স্বদেশপ্রেমের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। সাময়িক মোহে পাশ্চাত্য সাহিত্যে আত্মপ্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে প্রবাস জীবনে স্বদেশের প্রতি অনুরাগের স্বরূপ তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বর্ণনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কবির আকূল আকুতি কপোতাক্ষ নদ যেন তাঁর স্বদেশের প্রতি হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীর নিকট ব্যক্ত করে।

কবিতাটি সংক্ষেপে দেয়া হলো:

কপোতাক্ষ নদ
-মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে!
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে;
সতত (যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্রধ্বনি) তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে!

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২০৮.
কোনটি গল্পগ্রন্থ?
  1. ক) মধুমালা
  2. খ) শেষ প্রশ্ন
  3. গ) শিউলিমালা
  4. ঘ) বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ ''শিউলিমালা''।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।

এর গল্পগুলো হলোঃ
- পদ্ম-গোখরা,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি গিরি,
- শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৫,২০৯.
কবি জসীম উদ্‌দীনের "নিমন্ত্রণ" কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. বালুচর
  2. ধানখেত
  3. নক্সী কাঁথার মাঠ
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা

• কবি জসীম উদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

• ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২১০.
কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. রেখাচিত্র
  2. সানন্দা
  3. পরিক্রমা
  4. তপস্বী ও তরঙ্গিনী
ব্যাখ্যা

• রেখাচিত্র” বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি গল্পএই। 
- এটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- “রেখাচিত্র” নামে আবুল ফজল রচিত একটি দিনলিপি আছে। “রেখাচিত্র” দিনলিপিটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে।

--------------------
• বুদ্ধদেব বসু:

- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২১১.
কোন কবিকে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধিতে ভূষিত করেছিল?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. হাসন রাজা
  3. মুকুন্দদাস
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরণ ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন।
- মোজাম্মেল হক 'লহরী', 'মোসলেম ভারত' ও 'শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা'র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধিতে ভূষিত হন।

অন্যদিকে,
মুকুন্দদাস - চারণকবি।
হাসন রাজা - মরমি কবি।
গোবিন্দচন্দ্র দাস - স্বভাব কবি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২১২.
'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত - নাটক

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২১৩.
বাংলাসাহিত্যে 'কালকূট' নামে পরিচিত কোন লেখক?
  1. সমরেশ মজুমদার
  2. শওকত ওসমান
  3. সমরেশ বসু
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

• 'সমরেশ বসু' বাংলা সাহিত্যে 'কালকূট' নামে পরিচিত। 

তাছাড়া, 
- শেখ আজিজুর রহমানের ছদ্মনাম - 'শওকত ওসমান'  

বাংলা সাহিত্যের কয়েকজন লেখক ও তাদের ছদ্মনাম:
- সোমেন চন্দ এর ছদ্মনাম - ইন্দ্রকুমার সোম। 
- মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন। 
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।   
- বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম - মৌমাছি। 
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - যাযাবর। 
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত। 
- বিমল মিত্র এর ছদ্মনাম - জাবালি। 
-  সৈয়দ মুজতবা আলী এর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী। 
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়  এর ছদ্মনাম - নীল লোহিত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২১৪.
'চৌচির' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল রচিত উপন্যাস - চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ, রাঙ্গা প্রভাত, জীবন পথের যাত্রী ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থ - 'মাটির পৃথিবী', 'মৃতের আত্মহত্যা' ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২১৫.
“পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।” - উক্তিটি কোন সাহিত্যকর্মের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) আর কতদিন
  2. খ) একুশের গল্প
  3. গ) আরেক ফাল্গুন
  4. ঘ) হাজার বছর ধরে
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে 'একুশের গল্প' অন্যতম।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত গল্পের প্রধান চরিত্র তপু ও রেণু।
- “পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।” - 'একুশের গল্পে' রেণুর অশ্রুর কথা বলা হয়েছিল।

'একুশের গল্প' - এর মূল্ভাব:
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে এক উদ্দাম হৃদয়বান, প্রাণবন্ত তরুণ শহিদ হয়। কিন্তু পুলিশ সেই লাশ গুম করে ফেলে। তার কঙ্কাল মেডিক্যাল পড়ুয়া এক বন্ধু আবিস্কার করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২১৬.
‘তরুণের বিদ্রোহ’ প্রবন্ধগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘তরুণের বিদ্রোহ’ — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ।
- গ্রন্থটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
-------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নারীর মূল্য,
- তরুণের বিদ্রোহ,
- স্বদেশ ও সাহিত্য।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,২১৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন?
  1. পাঁচটি
  2. ছয়টি
  3. সাতটি
  4. নয়টি
ব্যাখ্যা
⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,২১৮.
অন্নদাশঙ্কর রায় কোন ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. ক) লীলাময় রায়
  2. খ) নীহারিকা দেবী
  3. গ) অনিলা দেবী
  4. ঘ) অল্পদর্শী
ব্যাখ্যা
- অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২) একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- আমেরিকার টেকসাসের বিদুষী তরুণী অ্যালিস ভার্জিনিয়া ওনডর্ফ ১৯৩০ সালে ভারতে আসেন ভারতীয় সঙ্গীত বিষয়ে গবেষণার জন্য।
- লেখক ভবানী মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে অ্যালিসের সঙ্গে অন্নদাশঙ্করের পরিচয় ঘটে এবং পরে তাঁরা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন।
- সে সময় অন্নদাশঙ্কর ‘লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন ।
- রবীন্দ্রনাথ অ্যালিসের নতুন নামকরণ করেন ‘লীলা রায়'।
- অন্নদাশঙ্করের জীবনে লীলা রায়ের প্রভাব ব্যাপক। বহু ভাষায় পারদর্শী লীলা রায় নিজেও সাহিত্যিক এবং অনুবাদক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন।

অন্যদিকে,
• নীহারিকা দেবী = অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম।
• অনিলা দেবী = শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
• আবু জাফর শামসুদ্দিন 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২১৯.
বুদ্ধদেব বসু কোন দশকের কবি হিসেবে খ্যাত?
  1. চল্লিশ দশকের
  2. পঞ্চাশ দশকের
  3. ষাট দশকের
  4. ত্রিশ দশকের
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। 
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২২০.
বাংলা কত তারিখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ২০ শ্রাবণ
  2. ২২ শ্রাবণ
  3. ২৪ শ্রাবণ
  4. ২৬ শ্রাবণ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান,  ছোটগল্প,  উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য,  নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এই পরিবারের পূর্বপুরুষ পূর্ববঙ্গ থেকে ব্যবসায়ের সূত্রে কলকাতায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন।
- উনিশ শতকের বাঙালির নবজাগরণ এবং ধর্ম ও সমাজ-সংস্কার আন্দোলনে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য।
- এ যুগের অন্যতম সমাজ-সংস্কারক এবং একেশ্বরবাদের প্রবক্তা  রামমোহন রায় ছিলেন দ্বারকানাথের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
- রামমোহন রায়ের আদর্শ দ্বারকানাথ, তাঁর পুত্র দেবেন্দ্রনাথ এবং দৌহিত্র রবীন্দ্রনাথের ওপর এক অভাবনীয় প্রভাব বিস্তার করে।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২২১.
জাদুবাস্তবতার প্রয়োগে সমগ্র বাংলা কথাসাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন কোন ঔপন্যাসিক? 
  1. দিলারা হাশেম 
  2. শহীদুল জহির
  3. রিজিয়া রহমান
  4. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত
ব্যাখ্যা

• শহীদুল জহির: 
- শহীদুল জহির  (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩ – ২৩ মার্চ ২০০৮) ছিলেন বাংলাদেশী গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও সরকারি কর্মকর্তা। 
- তিনি বাংলা সাহিত্যে জাদুবাস্তবতার (Magical Realism) ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র পরিচয় স্থাপন করেছেন
- জন্মেছিলেন পুরান ঢাকার নারিন্দার ৩৬ ভূতের গলিতে।
- তাঁর আসল নাম মোহাম্মদ শহীদুল হক। 
- ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদানের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন।। 
- তাঁর রচনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে কাল্পনিক উপাদানের মিলন ঘটে, যা “শহীদুল জহিরীয়” ধারার জন্ম দেয়। 
- জীবদ্দশায় তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, আজকের কাগজ সাহিত্য পুরস্কার ও প্রথম আলো বর্ষসেরা সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেছেন।

- শহীদুল জহির বাংলা সাহিত্যের ব্যতিক্রমী কথাশিল্পী।
- তিনি ম্যাজিক রিয়েলিজম বা জাদুবাস্তবতার প্রয়োগে সমগ্র বাংলা কথাসাহিত্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
- তাঁর গল্পে বাস্তব ও পরাবাস্তবের মাঝখানে অনিশ্চিত একটি জায়গায় চরিত্রগুলো ঘুরে বেড়ায়, যেখানে বিমূর্ত ভাষা ব্যবহার করেও জীবনের অন্তর্নিহিত সত্য ও মানুষের দৈনন্দিন অনুভূতি ফুটিয়ে তোলা হয়।
- তিনি নিম্নবর্গের মানুষের অকৃত্রিম ভাষাকে সাহিত্যিক পুঁজি হিসেবে নিয়েছেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-

• গল্পগ্রন্থ:
- পারাপার,
- ডুমুরখেকো,
- মানুষ ও অন্যান্য গল্প,
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প। 

• উপন্যাস:
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা,
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল,
- মুখের দিকে চেয়ে দেখি। 

উৎস:
শহীদুল জহির ‘গল্পসমগ্র’;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
কালি কলম।

৫,২২২.
‘মুমিন ও আসাদ’ জহির রায়হান রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. হাজার বছর ধরে
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. বরফ গলা নদী
  4. আর কতদিন
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো:
- মুমিন,
- আসাদ,
- রসুল,
- সালমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২২৩.
সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম কী?
  1. টেকচাঁদ ঠাকুর
  2. ভ্রমর
  3. চিত্রগুপ্ত
  4. কালকূট
ব্যাখ্যা
• সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত

অন্যদিকে,
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২২৪.
কোনটি আনোয়ার পাশা রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. নিশুতি রাতের গাথা
  2. নীড় সন্ধানী
  3. নিরুপায় হরিণী
  4. নদী নিঃশেষিত হলে
ব্যাখ্যা
• 'নিরুপায় হরিণী' গল্পগ্রন্থ:
- 'নিরুপায় হরিণী' আনোয়ার পাশা রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। 
- আনোয়ার পাশা গল্প বলতে ভালোবাসেন; এবং তিনি গল্প বলতে জানেন নিরুপায় হরিণী গল্পগ্রন্থে সেই কথাই বলছে। এ বইতে তাঁর ভাষা স্বচ্ছন্দ, তাঁর লেখার রীতির মধ্যে দেখা যায় একটা বুর্জোয়া পরিছন্নতা। পরিহার করে চলেছেন অলঙ্কার প্রিয়তা ও অতিরিক্ত ভাবাবেগ।

গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো হলো-
- নিরুপায় হরিণী,
- বেনো দিঘির উপকথা,
- বাঘে-ছারপোকায়,
- প্রতিনায়িকা,
- নিমসিতানের পথে,
- দুটি মেয়ে একটি ছেলে,
- শিকার,
- মর্কটবৃত্ত,
- ঝরিয়া যায়,
- বাঘা ভূতের পাঁচালি। 

---------------------
• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• গল্পগ্রন্থ: নিরুপায় হরিণী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২২৫.
'শেষের কবিতা' উপন্যাসের নায়ক- 
  1. আদিত্য
  2. গোবিন্দলাল
  3. মধুসূদন
  4. অমিত
ব্যাখ্যা

• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক- মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- অমিত রায় 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের নায়ক। 

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে: 
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল। 

অন্যদিকে,
• আদিত্য -'মালঞ্চ' উপন্যাসের চরিত্র। 
• যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র - মধুসূদন প্রমুখ।
• ''কৃষ্ণকান্তের উইল'' উপন্যাসের চরিত্র - গোবিন্দলাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও 'শেষের কবিতা' উপন্যাস।

৫,২২৬.
“সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি” - উক্তিটি কোন কবির?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

- জীবনানন্দ দাশ ‘কবিতার কথা’ নামে প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ কবি ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২২৭.
দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন কোনটি?
  1. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. কিঞ্চিত জলযোগ
  4. কল্কি অবতার
ব্যাখ্যা
• বিয়ে পাগলা বুড়ো:
- এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নসিরাম,
- রতা,
- রাজীব,
- রাজমণি,
- কেশব,
- বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
• ‘কিঞ্চিৎ জলযোগ’ প্রহসনটির রচয়িতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• ‘কল্কি অবতার’ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিক একটি প্রহসন।

-------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।

• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারেনি।

• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২২৮.
‘পৃথক পালঙ্ক’ আবুল হাসান রচিত একটি -
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘পৃথক পালঙ্ক’ আবুল হাসান রচিত - কাব্যগ্রন্থ
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

আবুল হাসান:
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম ⎯ আবুল হোসেন মিয়া। তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২২৯.
'ইঁদুর' ছোটগল্পটির রচয়িতা কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. সোমেন চন্দ
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা
• 'ইঁদুর' ছোটগল্প:
⇒ জীবনের পরতে পরতে যে বাস্তবের অনুশীলন প্রতিনিয়ত আমরা চর্চা করে চলেছি, আমাদের শাণিত বোধ যেখানে আটপৌরে সমাজব্যবস্থার কাছে আনত সেখানে একটি ইঁদুরের সংগ্রাম সেই মানুষের বিরুদ্ধে। এরকম পটভূমিকায় সোমেন চন্দের এক অসাধারণ গল্প ইঁদুর।
⇒ বাংলা ছোটগল্পের ধারায় 'ইঁদুর' খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ : জানিয়েছেন, 'ইঁদুর' গল্প পড়েই তিনি কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।

⇒ সোমেন চন্দ:

- তিনি ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।
- তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ইঁদুর’ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিভিন্ন গল্পে গণচেতনা ও অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বলেছেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- কলকাতা থেকে বনস্পতি,
- অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৩০.
'শাশ্বতবঙ্গ' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) রম্যরচনা
ব্যাখ্যা

কাজী আবদুল ওদুদ (১৮৯৪- ১৯৭০) :
শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ।
উপন্যাস :
- নদীবক্ষে (১৯১৮)।
সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ (১৯৫১),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫,২৩১.
‘ইউরোপের চিঠি’ অন্নদাশঙ্কর রায়ের রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) ভ্রমণকাহিনী
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি,
• লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
• তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন
• পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী

• এছাড়াও তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস), আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা, সত্যাসত্য ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২৩২.
'তালাশ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) শাহীন আখতার
  4. ঘ) রশীদ করিম
ব্যাখ্যা
'তালাশ' উপন্যাসের রচয়িতা শাহীন আখতার।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
৫,২৩৩.
২০২২ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কততম জন্মদিন পালন করা হলো?
  1. ক) ১২৬
  2. খ) ১২৩
  3. গ) ১২৪
  4. ঘ) ১২৫
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে।
সুতরাং ২০২২ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩ তম জন্মদিন পালন করা হয়। 
- করাচি সেনানিবাসে বসে নজরুল যে রচনাগুলো সম্পন্ন করেন তার মধ্যে রয়েছে, বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী (প্রথম গদ্য রচনা), মুক্তি (প্রথম প্রকাশিত কবিতা)। 
- পত্রিকার ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হয়। এই রাজনৈতিক কবিতা প্রকাশিত হওয়ায় ৮ নভেম্বর পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
-  ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে তারিখে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ-
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফনীমনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি (নাটক) 
- আলেয়া (গীতিনাট্য) 
- পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক) 
- মধুমালা (গীতিনাট্য) 
- ঝড় (কিশোর কাব্য-নাটক)
- পিলে পটকা পুতুলের বিয়ে (কিশোর কাব্য-নাটক)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৫,২৩৪.
'রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা' কার রচনা?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বিষ্ণু দে
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
বিষ্ণু দে: 
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। 
- ১৯২৩ সালে কল্লোল পত্রিকা প্রকাশের ফলে যে নতুন সাহিত্য উদ্যম ও ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনার সৃষ্টি হয়, বিষ্ণু দে ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সাহিত্যকর্ম: 
- উর্বশী ও আর্টেমিস, 
- চোরাবালি, 
- সাত ভাই চম্পা, 
- রুচি ও প্রগতি, 
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ, 
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার, 
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ, 
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত, 
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা
- মাইকেল রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জিজ্ঞাসা, 
- In the Sun and the Rain, 
- উত্তরে থাকো মৌন, 
- সেকাল থেকে একাল, 
- আমার হূদয়ে বাঁচো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫,২৩৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত কোন গ্রন্থটি অতুলপ্রসাদ সেনকে উৎসর্গ করেন?
  1. পরিশেষ
  2. বিশ্ব পরিচয়
  3. খাপছাড়া
  4. তাসের দেশ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'পরিশেষ' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের কাব্যের সর্বত্র যে বিষাদ গভীর অতীতচারিতা, পারিপার্শ্বিক খুঁটিনাটির প্রতি অনুরাগ, কাব্যদেহে প্রসাধনের প্রতি নির্মোহ ও জীবনের প্রতি আসক্তি নিরাসক্তির দ্বন্দ্ব, 'পরিশেষ' কাব্যেও তা ফুটে উঠেছে।
- রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'পরিশেষ' গ্রন্থটি অতুলপ্রসাদ সেনকে উৎসর্গ করেন। 

অনদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'বিশ্ব পরিচয়' গ্রন্থটি সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে উৎসর্গ করেন।
• 'খাপছাড়া' হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্ত্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত একটি বিখ্যাত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ। কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ রাজশেখর বসুকে উৎসর্গ করন।
• নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন 'তাসের দেশ' নাটক।

উল্লেখ্য, 
• ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থাটি উৎসর্গ করেন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'আকাশ-প্রদীপ' কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন।
• কাজী নজরুল ইসলাম তার সঞ্চিতা কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৩৬.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বনলতা সেন
  2. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. ঝরা পালক
  4. মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ:
-জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ও ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালক।

• তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২৩৭.
'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতাটি কোন উপন্যাসের শেষে উধৃত হয়েছে?
  1. গোরা
  2. শেষের কবিতা
  3. ঘরে-বাইরে
  4. নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা
• "শেষের কবিতা" উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।

- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে। নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।

- এই গ্রন্থ সম্পর্কে সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'

- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী,
- শোভনলাল প্রমুখ।

উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন:
• ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
• পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে আধিপত্য শুরু করবে। দুর্বলের আধিপত্য অতি ভয়ংকর।
• মেনে নেওয়া আর মনে নেওয়া, এই দুইয়ের তফাৎ আছে।

উৎস: "শেষের কবিতা" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৩৮.
'আরণ্যক' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’।
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।

 প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- ভানুমতী,
- বনোয়ারী,
- দোবরু,
- বুদ্ধু সিংহ।

--------------------------
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,২৩৯.
বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ' এর স্রষ্টা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র- 'ইন্দ্রনাথ'।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।

উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৪০.
'মনীষা মঞ্জুষা' প্রবন্ধটি রচনা করেন কে?
  1. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

'মনীষা মঞ্জুষা' প্রবন্ধ:
- 'মনীষা মঞ্জুষা' মুহম্মদ এনামুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ, যেখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি, দর্শন, এবং সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থটিতে মুহম্মদ এনামুল হক বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য, মধ্যযুগীয় সাহিত্য, ভাষার বিবর্তন, এবং সমসাময়িক সাহিত্যিক প্রবণতার উপর আলোকপাত করেছেন। এছাড়াও, বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ রয়েছে।

মুহম্মদ এনামুল হক:
- মুহম্মদ এনামুল হক ১৯০২ সালে বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি।
- ১৯২৯ হতে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেয়ে এনামুল হক অধ্যাপক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অধীনে গবেষণা করেন।
- বাংলা একাডেমি তাঁর নামে 'মুহম্মদ এনামুল হক সাহিত্য পদক' প্রচলন করে।
- ১৯৮২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,২৪১.
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' - কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) বন্দী শিবির থেকে
  2. খ) এক ধরনের অহংকার
  3. গ) নিজ বাসভূমি
  4. ঘ) হরিণের হাড়
ব্যাখ্যা
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' - কবিতাটি শামসুর রাহমান রচিত 'নিজ বাসভূমি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

- এটি একটি সংগ্রামী চেতনার কবিতা, দেশপ্রেমের কবিতা, গণজাগরণের কবিতা।
- কবিতাটি গদ্যছন্দে ও প্রবাহমান ভাষায় রচিত।

• তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে
- বিধ্বস্ত নীলিমা
- বন্দী শিবির থেকে
- অন্ধকার থেকে আলোয়
- হরিণের হাড়
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন
- নিজ বাসভূমি
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
- এক ধরণের অহংকার

উপন্যাস:
- অক্টোপাস
- নিয়ত মন্তাজ
- এলো সে অবেলায়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৫,২৪২.
বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. সমাচার দর্পণ
  3. বঙ্গদর্শন
  4. দিগদর্শন
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উল্লেখ্য,
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র- সমাচার দর্পণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,২৪৩.
'খুন ও ভালোবাসা' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
'খুন ও ভালোবাসা' উপন্যাসের রচয়িতা- সেলিনা হোসেন। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য উপন্যাস- জলোচ্ছ্বাস, হাঙর নদী গ্রেনেড, যাপিত যৌবন, নীল ময়ূরের যৌবন, পোকা মাকড়ের ঘরবসতি, নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, আগষ্টের একরাত, কাঁটাতারের প্রজাপতি, গায়ত্রী সন্ধ্যা, অপেক্ষা, গেরিলা ও বীরাঙ্গনা, ঘুমকাতুরে ঈশ্বর, পূর্ণছবির মগ্নতা, ভালোবাসা প্রীতিলতা, কালকেতু ও ফুল্লরা, খুন ও ভালোবাসা ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,২৪৪.
"আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে" এ গানে কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. দায়িত্ববোধ
  2. রাজা হওয়ার ইচ্ছা
  3. স্বৈরতন্ত্র
  4. রসবোধ
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথের অতি পরিচিত একটি গান ‘আমরা সবাই রাজা’।
১৩১৭ সালে রচিত ‘রাজা’ নাটকে গানটি ব্যবহৃত হয়। পরবর্তী কালে ‘রাজা’র সংক্ষিপ্ত সংস্করণ ‘অরূপরতন’ নাটকেও গানটি রেখে দেন রবীন্দ্রনাথ।
এই গানটিতে যেন রবীন্দ্রনাথ রাজত্ব বা ‘রুল’ নিয়ে তাঁর আদর্শগুলি সূত্রাকারে লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন। 

প্রশ্নের উত্তরটি বুঝার জন্য শুরুতে আমরা গানের ভাষাগুলো লক্ষ্য করি -

"আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে-
নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে?
আমরা যা খুশি তাই করি, তবু তাঁর খুশিতেই চরি,
আমরা নই বাঁধা নই দাসের রাজার ত্রাসের দাসত্বে-
নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে?"

অর্থাৎ, রাজ্যে বৈষম্য নেই, রয়েছে সমানাধিকার ও স্বাধীনতা। এই রাজার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটি ত্রাসেরও নয়, দাসত্বেরও নয়। পশ্চিমি চিন্তায় ‘দাসত্ব’ ও ‘স্বাধীনতা’র আইডিয়া দুটি বৈপরীত্যের সূত্রে পরস্পরের সঙ্গে বাঁধা। তাদের দুই মেরুতে রেখে পশ্চিমি রাজনৈতিক চিন্তা এগিয়েছে। এই গানেও তা-ই। আমরা রাজার দাস নই, তাঁর শাসন ভিত্তি ত্রাস নয়, এই কথাটা বলে স্বাধীনতার একটি পরিচিত তত্ত্বেরই আভাস দিলেন রবীন্দ্রনাথ।

"রাজা সবারে দেন মান, সে মান আপনি ফিরে পান,
মোদের খাটো ক'রে রাখে নি কেউ কোনো অসত্যে-
নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে?
আমরা চলব আপন মতে, শেষে মিলব তাঁরি পথে,
মোরা মরব না কেউ বিফলতার বিষম আবর্তে--
নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে?"

পথের ব্যাপারটাও লক্ষ্য করবার মতো, ‘আমরা যা খুশি তাই করি’, এমনকী চলিও ‘আপন মতে’, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, আমরা তাঁর ‘খুশিতেই চরি’ ও তাঁর পথেই এসে মিলিত হই। আমাদের স্বাধীনতা ও রাজার নিয়মের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। যেন আমাদের স্বাধীনতাতেই তাঁর ইচ্ছের পরিপূরণ এবং নিয়মের সার্থকতা। 
এ রাজ্যে পথচলার কোনো বিশৃঙ্খলা নেই, সবাই চলে আপন মতে। 

সূত্র:
১. রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা’ নাটকের রাজনৈতিক দর্শন, (অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) [সাপ্তাহিক একতা'য় প্রকাশিত]
২. কেন আমরা সবাই রাজা (দীপেশ চক্রবর্তী), [আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত]। 
===============

এই আলোচনা থাকে পরিষ্কার হয় এখানে মূলত "দায়িত্ববোধ" - ভাবটিই প্রকাশ পেয়েছে। 
সবাই ব্যাক্তি স্বাধিনতা ভোগ করলেও যার যার অবস্থান থেকে 'দায়িত্ববোধ' পালনের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমানাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
৫,২৪৫.
'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. জহির রায়হান
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: 
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা 'মুসলিম মহিলা সমিতি'। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত 'Lady Land' বা 'নারীস্থান' মূলত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনেরই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
- তিনি ৯ই ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২৪৬.
"রমেশ, হেমনলিনী" - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. মৃত্যক্ষুধা 
  2. কুহেলিকা 
  3. নৌকাডুবি
  4. চোখের বালি 
ব্যাখ্যা

• 'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' একটি সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।

• উপন্যাসটির মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- রমেশ,
- হেমনলিনী,
- কমলা,
- অন্নদাবাবু।

উৎস: 'নৌকাডুবি' উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,২৪৭.
আল মাহমুদ রচিত কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭৩
  2. খ) ১৯৮৩
  3. গ) ১৯৮৫
  4. ঘ) ১৯৮৮
ব্যাখ্যা
• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে।  এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর
- কালের কলস 
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো 
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস
- বখতিয়ারের ঘোড়া
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না
- দিনযাপন
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন
- একটি পাখি লেজ ঝোলা
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৪৮.
'গেরিলা' চলচ্চিত্রটি সৈয়দ শামসুল হকের কোন উপন্যাস অবলম্বনে রচিত?
  1. সীমানা ছাড়িয়ে
  2. নীল দংশন
  3. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  4. নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা

• 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস:
- 'নিষিদ্ধ লোবান' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
- 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র 'গেরিলা'।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এ উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে বিলকিস নামের এক নারীকে নিয়ে যে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তার পিতামাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, ঘরবাড়ি হারায়। তার স্বামী নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপকুমার তথা সিরাজের। পাকিস্তানি সৈন্যরা যখন তাদের গুলিতে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ দাফনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তখন রাতের অন্ধকারে লাশগুলো দাফন করতে গিয়ে তারা পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে ধরা পড়ে। কিন্তু অভাবনীয়ভাবে বিলকিস প্রতিবাদে অবিচল থাকে।

----------------
সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ।

উৎস: 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২৪৯.
'তপসে মাছ ও নীলকর' বিখ্যাত কবিতা দুটি কোন কবির রচনা?
  1. দীনবন্ধু মিত্র 
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'তপসে মাছ' ও 'নীলকর' কবিতা দুটি কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের রচনা। 

'তপসে মাছ' কবিতা:
- এই কবিতায় তিনি বাঙালির মাছপ্রীতিকে তুলে ধরেছেন, যেখানে তিনি তপসে মাছের মনোমুগ্ধকর বর্ণনা দিয়েছেন। 
কবিতার কিছু অংশ হলো-

তপসে মাছ
-ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
কষিত-কনককান্তি কমনীয় কায়।
গালভরা গোঁফ-দাড়ি তপস্বীর প্রায়।
মানুষের দৃশ্য নও বাস কর নীরে।
মোহন মণির প্রভা ননীর শরীরে।
পাখি নও কিন্তু ধর মনোহর পাখা।
সমধুর মিষ্ট রস সব-অঙ্গে মাখা।
একবার রসনায় যে পেয়েছে তার।

'নীলকর' কবিতা:
এই কবিতাটির মাধ্যমে তিনি সে সময়কার নীলকরদের শোষণ ও অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরেছেন, যা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী একটি প্রকাশ। 
কবিতার কিছু অংশ হলো-

নীলকর
- ঈশ্বর গুপ্ত
তুমি মা কল্পতরু, আমরা সব পোষা গরু
শিখিনি শিং বাকানো ,
কেবল খাব খোল বিচালী ঘাস।
যেন রাঙা আমলা, তুলে মামলা,
গামলা ভাঙ্গে না;
আমরা ভুসি পেলেই খুশি হব,
ঘুসি খেলে বাঁচব না।।

---------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা
প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া;বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'তপসে মাছ' ও  'নীলকর' কবিতা।

৫,২৫০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. বিরাজ বৌ
  2. গৃহদাহ
  3. পণ্ডিত মশাই
  4. রাজর্ষি
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পল্লী সমাজ,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস - রাজর্ষি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৫১.
ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. অনুপম দিন
  2. নৌফেল ও হাতেম
  3. চতুর্দশী 
  4. আলোছায়া 
ব্যাখ্যা
• নৌফেল ও হাতেম:
- ইসলামি স্বাত্যন্দ্রবাদী কবি ফররুখ আহমদ রচিত একটি কাব্যনাট্য হচ্ছে - নৌফেল ও হাতেম
- তাঁর কবিতায় ফুটে উঠেছে মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য।
- তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে - সাত সাগরের মাঝি।
• অপশনে উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে -

- সৈয়দ শামসুল হকের লিখিত একটি উপন্যাস হচ্ছে - অনুপম দিন।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- 'চতুর্দশী' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করেন বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ১৯৪৭ সালে। 
- 'আলোছায়া' হচ্ছে একটি নাটক।
- নাটকটি প্রকাশ করেন প্রখ্যাত নাট্যকার নুরুল মোমেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৫২.
'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম-
  1. দৃষ্টিহীন
  2. লীলাময় রায়
  3. নীহারিকা দেবী
  4. টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত'
- তিনি  কবি, ঔপন্যাসিক, সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল  নোয়াখালী শহরে তাঁর জন্ম।
- আদি নিবাস বর্তমান  মাদারীপুর জেলায়। 
- ১৯২১ সালে  প্রবাসী পত্রিকায় ‘নীহারিকা দেবী’ ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমারের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়।
-  রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের পরে কল্লোল যুগের যেসব লেখক সাহিত্যজগতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- উপন্যাস:
- কাকজ্যোৎস্না ,
- বিবাহের চেয়ে বড় ,
- প্রাচীর ও প্রান্তর ,
- প্রথম কদমফুল ;

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অমাবস্যা ,
- আমরা ,
- প্রিয়া ও পৃথিবী ,
- নীল আকাশ,
- পূর্ব-পশ্চিম ,
- উত্তরায়ণ;

অন্যদিকে,
• দক্ষিনারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম- দৃষ্টিহীন।
• অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম- লীলাময় রায়।
• প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,২৫৩.
'কুঁচবরণ কন্যা' কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) শিশু সাহিত্য
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া (১৯০৬-১৯৭৯)-এর জন্ম পাবনা জেলার রাধানগর গ্রাম। 
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:

শিশুসাহিত্য

- চোর জামাই (১৯২৭),
- মেঘকুমারী (১৯৩২),
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা (১৯৩২),
- সোনার হরিণ (১৯৩৯),
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা (১৯৫৬),
- কুঁচবরণ কন্যা (১৯৬১),
- সাত রাজ্যের গল্প (১৯৭৭)

কাব্য

- ময়নামতীর চর (১৯৩০),
- অনুরাগ (১৯৩২),
- পদ্মানদীর চর (১৯৫৩),
- মধুমতীর চর (১৯৫৩),
- ধরিত্রী (১৯৭৫);

উপন্যাস

- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে (১৯৩১),
- শেষ লগ্ন (১৯৪১),
- অরণ্য গোধূলি (১৯৪৯),
- নীড়ভ্রষ্ট (১৯৫৮);

গল্পগ্রন্থ

- তাসের ঘর (১৯৫৪);

নাটক

- মসনদ (১৯৩১);
 এবং

জীবনী

- কামাল আতাতুর্ক (১৯৩৭),
- শরৎচন্দ্র, ছোটদের নজরুল (১৯৫৮) ইত্যাদি।


উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৫৪.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কে?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. কায়কোবাদ
  3. দৌলত কাজী
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২৫৫.
'হিতকরী' পত্রিকা কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো?
  1. কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য
  2. আহমদ ছফা
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'হিতকরী' পত্রিকা: 
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। 
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান। 
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,২৫৬.
'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' শওকত ওসমান রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস 
  2. গল্পগ্রন্থ 
  3. নাটক 
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান।
- ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------------
• শওকত ওসমান: 
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২৫৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত ‘পদ্মাবতী’ নাটকটি কোন কাহিনী অবলম্বনে রচনা করেন?
  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) মহাভারত
  3. গ) গ্রিক পুরাণ
  4. ঘ) রোমান কাব্য
ব্যাখ্যা

১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ‘পদ্মাবতী’ নাটকটি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন। 
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন । 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]

৫,২৫৮.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'আলেয়া' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. কবিতা 
  2. গল্প 
  3. প্রবন্ধ 
  4. গীতিনাট্য 
ব্যাখ্যা

• 'আলেয়া' গীতিনাট্য:
- 'আলেয়া' হলো কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রতীকী গীতিনাট্য।
- আলেয়া কাজী নজরুল ইসলাম রচিত দ্বিতীয় নাটক। এটি ১৯৩১ সালে মঞ্চস্থ ও প্রকাশিত হয়। 'মরুতৃষা' শিরোনামে লিখলেও পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে 'আলেয়া' করা হয়।
- ত্রিভুজ প্রেম ও তার পরিণয় এই নাটকের প্রধান বিষয়বস্তু। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র জয়ন্তীর প্রেমের ব্যাকুলতা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং আবেগের তীব্রতা নাটকটিকে ট্র্যাজিক পরিণয়ের দিকে নিয়ে গেছে।
- মূল চরিত্র জয়ন্তীর প্রেম ব্যাকুলতা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং আবেগের তীব্রতা শেষ পর্যন্ত ঘটনায় বিষদময় আবহ তৈরি করেছে। জয়ন্তী, মীনকেতু এবং উগ্রাদিত্যের ত্রিভুজ প্রণয়কাহিনি নাটকের মূলস্তম্ভ। 

উৎস: 'আলেয়া' গীতিনাট্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২৫৯.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. একেই কি বলে সভ্যতা?
  2. এর উপায় কি?
  3. মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়
  4. বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা

এর উপায় কি?:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন। গ্রন্থটির প্রকাশ ঘটে, ১৮৭৫ সালে।
- উনিশ শতকে নারীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে যে অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল একশ্রেণির লোক -লেখক এই প্রহসনে তা তুলে ধরেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এ প্রহসনের উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র।

অন্যদিকে,
- "একেই কি বলে সভ্যতা?" নাটকটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা একটি প্রহসন। 
-  প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রহসন - মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' হলো দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। 
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা - ’বিষাদ-সিন্ধু” (উপন্যাস)

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২৬০.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি' প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৮৪৩
  2. ১৮৫০
  3. ১৮৪৯
  4. ১৮৫২
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম কাব্যগ্রন্থ:
প্রথম কাব্যগ্রন্থ — দ্য ক্যাপটিভ লেডি।
- এটি ইংরেজিতে রচিত।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৪৯ খ্রষ্টাব্দে। 
- Captive অর্থ বন্দি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২৬১.
'আমি ভাল আছি তুমি' গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) দাউদ হায়দার
ব্যাখ্যা
দাউদ হায়দার একজন বাংলাদেশী বাঙালী কবি, লেখক ও সাংবাদিক। তাঁর বিখ্যাত একটি কাব্যের নাম 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ'। এছাড়াও তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থ- আমি ভাল আছি তুমি, এই শাওনে এই পরবাসে, বানিশম্যান্ট, পাথরের পুঁথি, আমি পুড়েছি জ্বালা ও আগুনে, অবসিডিয়ান।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৬২.
‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’ বিচিত্র হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. গোরা
  2. যোগাযোগ
  3. মালঞ্চ
  4. চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা
• গোরা উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

----------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবিপ্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৮৭৬ সালে বনফুল কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো ধারাবাহিকভাবে ‘জ্ঞানাঙ্কুর’ ও ‘প্রতিবিম্ব’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ১৫ বছর।
বনফুল ১৮৮০ সালে গ্রন্থাকারে তথা কাব্যগ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়। তখন বয়স ছিল ১৯ বছর।
এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; গোরা উপন্যাস।
৫,২৬৩.
"বেণু ও বীণা" কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. আবুল হোসেন
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২৬৪.
‘বসন্তকুমারী’ নাটকটি কার রচনা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. সেলিম আল দীন
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
• ‘বসন্তকুমারী’ নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম ‘বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা’।
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।

------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৬৫.
জহির রায়হানের রচিত ‘সূর্যগ্রহণ’ কোন ধরনের রচনা?
  1. নাটক
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

জহির রায়হানের রচিত ‘সূর্যগ্রহণ’ একটি গল্পগ্রন্থ। 

জহির রায়হান
- জন্ম: ১৯৩৫, ফেনী জেলায়।
- প্রকৃত নাম: মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক।
- সুপরিচিত গল্পগ্রন্থ: সূর্যগ্রহণ।
- প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র: সঙ্গম।
- পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র: কখনো আসে নি।
- প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি: বাহানা।
- চলচ্চিত্র কাঁচের দেয়াল শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।
- উপন্যাস হাজার বছর ধরে এর জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার লাভ।

রচিত উপন্যাসসমূহ:
- আরেক ফাল্গুন,
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু। 

পরিচালিত চলচ্চিত্রসমূহ:
- জীবন থেকে নেয়া,
- কখনও আসেনি,
- Stop Genocide,
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,২৬৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন' তাঁর রচিত কোন প্রবন্ধে?
  1. শিক্ষাসংস্কার
  2. শিক্ষা ও সংস্কৃতি
  3. শিক্ষার হেরফের
  4. শিক্ষার মিলন
ব্যাখ্যা
• "শিক্ষার হেরফের" প্রবন্ধ:
- রাজশাহীতে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ 'শিক্ষার হেরফের' শীর্ষক প্রবন্ধটি রচনা করেন।
- প্রবন্ধটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'শিক্ষার হেরফের' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন।
- পরবর্তীতে প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথ "শিক্ষা" নামক প্রবন্ধ সংকলনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

গ্রন্থের ভূমিকায় কবি লেখেন-
শিক্ষার হেরফেরনামক প্রবন্ধ যখন লিখিত হয় তখন মনে করি নাই যে, বর্তমান শিক্ষাপ্রণালী অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রুটি প্রদর্শনে কাহারো হৃদয়ে আঘাত লাগিবে। বিশেষত উক্ত প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সম্মুখেই পঠিত হয়। সেখানে রাজশহী কলেজের অধ্যক্ষ ও অধ্যাপক অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁহারা কেহ কোনোরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাই; বরং যতদূর জানা গিয়াছিল অনেকেই অনুকূলভাবে লেখকের মতের অনুমোদন করিয়াছিলেন।

অবশেষে উক্ত প্রবন্ধ সাধনায় প্রকাশিত হইলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধিধারী পাঠক উহা ইংরেজিতে অনুবাদ করিবার জন্য ঔৎসুক্য প্রকাশ করেন এবং কলেজের অনেক পুরাতন ছাত্রের নিকট উহার ঐকমত শুনা যায়। বঙ্কিমবাবু, গুরুদাসবাবু এবং আনন্দমোহন বসু মহাশয় তৎসম্বন্ধে যে-পত্র লিখিয়াছিলেন তাও পাঠকগণ অবগত আছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি যাঁহাদের হৃদয়নিকুঞ্জে প্রিয়স্থান অধিকার করিয়াছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্ভুক্ত লোকের মুখে তাহার কোনোরূপ অমর্যাদার কথা শুনিলে তাঁহাদের মধ্যে কাহারো মনক্ষোভ উপস্থিত হইতে পারে সন্দেহ নাই, তাহাদের অতএব বর্তমান আলোচনায় প্রবৃত্ত হওয়া আমি আমার পক্ষে দুর্ভাগ্য বিবেচনা করি। কেবল, বিশ্ববিদ্যালয়ের যাঁহারা যাঁহারা গৌরবস্থল এমন অনেক মহোদয়ের উৎসাহবাক্যে আমি নিজের লজ্জা নিবারণে সক্ষম হইতেছি।

উৎস: 'শিক্ষার হেরফের' প্রবন্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৫,২৬৭.
বুদ্ধদে বসু রচিত ‘কঙ্কাবতী’ কাব্যগ্রন্থের প্রধান বিষয় কী?
  1. ক) সামাজিক কুসংস্কার
  2. খ) বিরহ
  3. গ) নারী জাগরণ
  4. ঘ) প্রেম
ব্যাখ্যা
‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। 

------------
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৬৮.
'এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. মো. আবদুল হামিদ
  2. শেখ হাসিনা
  3. মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু
  4. সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন
ব্যাখ্যা
• 'এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ' গ্রন্থটির রচয়িতা - মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু

মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু:
- তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মাঠপর্যায়ের রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পাবনা শহরের শিবরামপুরের জুবিলী ট্যাংক পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাক নাম চুপ্পু।
- পিতা শরফুদ্দিন আনছারী, মাতা খায়রুন্নেসা।
- তিনি ১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
- পরে এলএলবি ও বিসিএস (বিচার) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
- এডওয়ার্ড কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, পাবনা জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সভাপতি, জেলা বাকশালের যুগ্ম-সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ছেষট্টির ৬-দফা আন্দোলন, সাতষট্টির ভুট্টা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
- মো. সাহাবুদ্দিন 'দৈনিক বাংলার বাণীর' সাংবাদিক ছিলেন। 
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।

উৎস: যুগান্তর পত্রিকা
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১৬ এপ্রিল, ২০২৩।
৫,২৬৯.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. গোরা
  2. গৃহদাহ
  3. চোখের বালি
  4. চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা
• "গৃহদাহ" উপন্যাস:
- "গৃহদাহ" শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়। মাসিক 'ভারতবর্ষে' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

অন্যদিকে, 
গোরা, চোখের বালি ও চার অধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৭০.
১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ আর ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান দেশভাগের সময়ের প্রেক্ষাপট রয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. হাজার বছর ধরে
  2. সূর্য-দীঘল বাড়ী
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. কখনো আসে নি
ব্যাখ্যা
• "সূর্য-দীঘল বাড়ী" উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত।

- ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হওয়া ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট ছিল বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আর ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তানের দেশভাগের সময় প্রভৃতি চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনা।

- তখনকার দিনে নারীকে ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হতো না। এক কঠোরতার লোকচক্ষুর আড়ালে তাদের যেন লুকিয়ে রাখা হত। কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, পুরুষতন্ত্রের নির্যাতন ও ধনবান শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট গ্রামীণ সমাজকে উপেক্ষা করা এক নারী চরিত্র জয়গুনের জীবন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এ উপন্যাসে।

- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্ত্ত। দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে।

-  বইটি বিভিন্ন বিদেশী ভাষায় অনূদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। সূর্য-দীঘল বাড়ী অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ছয়টি আন্তর্জাতিক এবং বিভিন্ন বিভাগে নটি জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র হলো:
- জয়গুন,
- তার ছেলে হাসু,
- মেয়ে মায়মুন,
- শফি,
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী,
- মোড়ল গদু প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• বাঙালির হাজার বছরের জীবনধারা "হাজার বছর ধরে" উপন‍্যাসে জহির রায়হান তুলে ধরেছেন যুগ-যুগান্তরের বিবর্তনহীন গ্রামীণ জীবনের ছায়াচিত্র।ক্ষুদ্র একটি গ্রামের একান্নবর্তী পরিবারের সংঘাতময় জীবনের কাহিনী তিনি বর্ণনা করেছেন এতে।

• "জীবন থেকে নেয়া" (১৯৭০) একটি বাংলা চলচ্চিত্র। জহির রায়হান নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭০ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায়। সামাজিক এই চলচ্চিত্রে তৎকালীন বাঙালি স্বাধীনতা আন্দোলনকে রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

• "কখনো আসে নি" ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি সামাজিক বাংলা চলচ্চিত্র। পরিচালক হিসেবে এটিই জহির রায়হানের প্রথম চলচ্চিত্র।

উৎস: "সূর্য-দীঘল বাড়ী" উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৭১.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থ রচনার দায়ে কবিকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়?
  1. বুলবুল
  2. প্রলয় শিখা
  3. জিঞ্জীর 
  4. চক্রবাক 
ব্যাখ্যা

• 'প্রলয় শিখা' কাব্যগ্রন্থ:
- প্রলয় শিখা কাজী নজরুল ইসলামের রচিত ষোড়শ কাব্যগ্রন্থ। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট মাসে ৫০/২ মসজিদ বাড়ি স্ট্রিট, কলিকাতা থেকে গ্রন্থাকার কর্তৃক প্রলয়-শিখা প্রকাশিত হয়।
 
- প্রলয়-শিখা-র জন্য নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত আদালতের রায়ে নজরুলের ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ হয়, নজরুল হাইকোর্টে আপিল ও জামিন লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'প্রলয় শিখা' কাব্যগ্রন্থ। 

৫,২৭২.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কোন কবির প্রতীকী কাব্যাদর্শ অনুসরণ করেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. টি. এস. এলিয়ট
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মালার্মে
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। 

----------------
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
- সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভকরেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
• কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- প্রতিদিন,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
৫,২৭৩.
বাংলা নাটকে অ্যাবসার্ড ধারার প্রচলন করেন কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. সাঈদ আহমদ
  3. মামুনুর রশীদ
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা

• বাংলা নাটকে অ্যাবসার্ড ধারার প্রবর্তক : সাঈদ আহমদ। 

• সাঈদ আহমদ: 
- সাঈদ আহমদ (১৯৩১-২০১০) নাট্যকার, চিত্রসমালোচক, শিক্ষাবিদ। তাঁর জন্ম পুরানো ঢাকার ইসলামপুরে ১ জানুয়ারি ১৯৩১ সালে। 
- বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভভাবান নাট্যকার - সাঈদ আহমদ।
- ১৯৫৪ সালে লন্ডনে স্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটক দেখে সাঈদ আহমদ এই ধরনের নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন।

তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- কালবেলা,
- মাইলপোস্ট,
- তৃষ্ণায়,
- প্রতিদিন একদিন,
- শেষ নবাব।

উল্লেখ্য, 
• ১৯৭৫ সালে অ্যাবসার্ডধারার বাইরে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে সাঈদ আহমদ রচনা করেন - 'প্রতিদিন একদিন' নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২৭৪.
'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'- স্লোগানটি কোন পত্রিকার শিরোদেশে ছাপা হতো?
  1. সাধনা
  2. শিখা
  3. পরিচয়
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা
• 'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।

- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।

- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত। শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

- এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব' কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৭৫.
অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে কার নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী:
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
 
• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৭৬.
কোনটি শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. বন্দীর বন্দনা
  2. বন্দী শিবির থেকে
  3. নিজ বাসভূমে
  4. রৌদ্র করোটিতে
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ - রৌদ্র করোটিতে, নিজ বাসভূমে, বন্দী শিবির থেকে।

অন্যদিকে,
বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ - বন্দীর বন্দনা

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৭৭.
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' বইটি কোন হরফে প্রকাশিত হয়?
  1. ইংরেজি
  2. বাংলা
  3. পর্তুগিজ
  4. রোমান
ব্যাখ্যা
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ: 
- এটি মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক রচনা করেন।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়।
- গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- তিনি একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,২৭৮.
সৈয়দ মুজতবা আলী কোন প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেন?
  1. সরকারি আজিজুল হক কলেজ
  2. ঢাকা কলেজ 
  3. রাজেন্দ্র কলেজ 
  4. কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।   
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম: প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
মুজতবা আলীর চাকরিজীবন শুরু হয় কাবুলের কৃষিবিজ্ঞান কলেজে ফরাসি ও ইংরেজি ভাষার প্রভাষকরূপে (১৯২৭-১৯২৯)। বরোদার মহারাজ সয়াজী রাও-এর আমন্ত্রণে ১৯৩৫ সালে তিনি বরোদা কলেজে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক হন। তিনি বগুড়া আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে খন্ডকালীন প্রভাষক হিসেবেও কিছুকাল দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,২৭৯.
”ইন্দ্রনাথ” কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. দেনাপাওনা
  2. দেবদাস
  3. পল্লীসমাজ
  4. শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২৮০.
'বাংলার মিল্টন' উপাধিতে ভূষিত করা হয় কোন কবিকে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, আইনজীবী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে জন্ম ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে।
- হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে। হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর 'ভারতসঙ্গীত' কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর প্রতি রুষ্ট হন, এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও এজন্য জবাবদিহি করতে হয়।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'চিন্তাতরঙ্গিণী' ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে 'বৃত্রসংহার' (২ খণ্ড, ১৮৭৫-৭৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- তাঁকে 'বাংলার মিল্টন' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- ১৯০৩ সালের ২৪ মে খিদিরপুরে নিঃসহায় ও নিঃস্ব অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য:
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- বীরবাহু কাব্য (আখ্যান কাব্য),
- আশাকানন (রূপক কাব্য),
- কবিতাবলী (খণ্ড কবিতার সংকলন),
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২৮১.
১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা উপন্যাস- 
  1. কবর
  2. একুশে ফেব্রুয়ারি 
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. আর্তনাদ
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ভাষা আন্দোলনের উপর প্রথম সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ এর সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান। এতে ৬টি বিভাগে ২২ জন লেখকের লেখা আছে।
- দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম 'আর্তনাদ'। 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৫,২৮২.
বেগম রোকেয়া  রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. পদ্মরাগ
  2. মতিচূর
  3. নারীর মূল্য
  4. পদ্মগোখরা
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ -'মতিচূর'।

'মতিচূর':
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর।
- রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম- পিপাসা, স্ত্রীজাতির অবনতি, নিরীহ বাঙালি, অর্ধাঙ্গী, সুগৃহিণী, বোরকা ও গৃহ।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।
-------------------------------------

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'পদ্মগোখরা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প।
- 'পদ্মরাগ' বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'নারীর মূল্য' নামক প্রবন্ধ গ্রন্থটি রচনা করেছেন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৫,২৮৩.
জসীম উদ্‌দীনের - 'কবর' কবিতাটি কোন ছন্দে লেখা?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর
ব্যাখ্যা

• 'কবর কবিতা':
- জসীমউদ্‌দীনের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'কবর'।
- তাঁর ছাত্রাবস্থায় এ কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।
- এটি কবি জসীম উদ্দীনের বহুল পঠিত ও নন্দিত কবিতা। এটি একটি শোক-প্রকাশক কবিতা।
- এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙক্তি আছে।
- কবিতাটি প্রথমে 'কল্লোল' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়।
- 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে।
--------------
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
যে ছন্দে যুগ্মধ্বনি সর্বদা বিশ্লিষ্ট ভঙ্গিতে উচ্চারিত হয়ে দুমাত্রার মর্যাদা পায় এবং অযুগ্মধ্বনি একমাত্রা বলে গণনা করা হয় তাকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলে। মাত্রাবৃত্ত ছন্দ ধ্বনি-প্রধান। মাত্রাবৃত্ত ছন্দে ছয় মাত্রার পর্বই অধিক। চার, পাঁচ, সাত, আট মাত্রার পর্বও এ ছন্দে পাওয়া যায়। 

মাত্রাবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য: 
• একই শব্দের অন্তর্গত যুক্তব্যঞ্জনের পূর্বস্বর দীর্ঘ বা দ্বিমাত্রিক হলন্ত অক্ষর বা বদ্ধাক্ষরের দীর্ঘ বা দ্বিমাত্রিক।
• অনুস্বর ও বিসর্গের পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ।
• যৌগিক স্বরান্ত অক্ষর (যেমন : ঐ, ঔ) দ্বিমাত্রিক।
• অবশিষ্ট সমস্ত স্বর হ্রস্ব বা একমাত্রিক।

• তিরিশ বছর/ ভিজায়ে রেখেছি/ দুই নয়নের জলে। (৬ + ৬ + ৬ + ২ মাত্রা)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,২৮৪.
‘চাকা’ নাটকটি কোন নাট্যকারের রচনা?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. সেলিম আল দীন
  3. বিজন ভট্টাচার্য 
  4. নুরুল মোমেন 
ব্যাখ্যা

• ‘চাকা’ নাটক:
- নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও গণতন্ত্রের ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক ‘চাকা’।

- গরুর গাড়িতে একটি লাশ যায় গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু ঠিকানা খুঁজে না পেয়ে সেটি ঘুরতেই থাকে। লোকনাট্য ধারায় রচিত কথানাট্যটিকে অবিরাম পথচলার এক অপূর্ব আখ্যান বলা যায়।

- ১৯৯৩ সালে এই নাটকটি নিয়ে পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম সিনেমা নির্মাণ করেন।

--------------------
• সেলিম আল দীন রচিত অন্যান্য নাটকগুলো হলো-
- ঘুম নেই,
- সর্প বিষয়ক গল্প,
- মুনতাসির’ 
- কীত্তনখোলা,
- হরগজ,
- হাতহদাই,
- ধাবমান‘সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- পুত্র,
- জুলান,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- যৈবতী কন্যার মন,
- বনপাংশুল,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- স্বর্ণবোয়াল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং ‘চাকা’ নাটক । 

৫,২৮৫.
"সুচরিতা এবং আনন্দময়ী" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. গোরা
  2. চোখের বালি
  3. যোগাযোগ
  4. চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।
 
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- চতুরঙ্গ,
- ঘরে-বাইরে,
- চার অধ্যায়,
- মালঞ্চ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২৮৬.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) কালো মেঘ
  2. খ) আমার ছেলেবেলা
  3. গ) ভলগার তীরে
  4. ঘ) প্রেমাংশুর রক্ত চাই
ব্যাখ্যা
প্রেমাংশুর রক্ত চাই, না প্রেমিক না বিপ্লবী, কবিতা অমীমাংসিত রমণী, বাংলার মাটি বাংলার জল, চাষাভুষার কাব্য, দূর হ দুঃশাসন, শিয়রে বাংলাদেশ, মুঠোফোনের কাব্য, নিশিকাব্য ইত্যাদি নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থ। কালো মেঘ তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস, আমার ছেলেবেলা তাঁর আত্মজীবনী এবং ভলগার তীরে তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫,২৮৭.
কোনটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয়?
  1. রাজসিংহ
  2. মৃণালিনী
  3. কৃষ্ণচরিত্র
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- দুর্গেশনন্দিনী, 
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী
- বিষবৃক্ষ
- কৃষ্ণকান্তের উইল,  
- আনন্দমঠ, 
- রাজসিংহ

অন্যদিকে,
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ - কৃষ্ণচরিত্র

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,২৮৮.
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে শহিদ হয়েছিলেন কোন সাহিত্যিক?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. জহির রায়হান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে শহিদ সাহিত্যিক — মুনীর চৌধুরী।

অন্যান্য অপশন:
ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: তিনি ১৯৫৬ সালে মারা যান, তাই ১৯৭১ সালের হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সম্পর্ক নেই।
খ) জহির রায়হান: তিনি ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিহত হন, ১৪ ডিসেম্বরের হত্যাকাণ্ডে নয়।
ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী: তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবিত ছিলেন এবং ২০১৯ সালে মারা যান, তাই তিনি বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে শহিদ হননি।
------------------------

মুনীর চৌধুরীর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম: 
মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, এবং সাহিত্যসমালোচক। তিনি ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলায়। তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছে।

তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:

• জন্ম ও পৈতৃক নিবাস: মুনীর চৌধুরীর জন্ম মানিকগঞ্জে হলেও, তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালীতে।
• ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি কারাবন্দী অবস্থায় ১৯৫৩ সালে "কবর" নাটকটি রচনা করেন, যা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।

বাংলা টাইপরাইটার উদ্ভাবন:
১৯৬৫ সালে মুনীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য একটি উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম ছিল "মুনীর অপ্‌টিমা"।
----------------------- 
রচিত নাটকসমূহ:
মুনীর চৌধুরী অনেক মৌলিক ও অনুবাদ নাটক রচনা করেছেন, যা বাংলা নাট্যসাহিত্যে অমূল্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।

মৌলিক নাটক:
• "কবর" (১৯৫৩): এটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা একটি বিশেষ নাটক, যা বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
• "রক্তাক্ত প্রান্তর": পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে লেখা।
• "মানুষ": ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা উপজীব্য।
• "নষ্ট ছেলে": একটি রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
• "পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য": রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক।
• "দণ্ডকারণ্য": তিনটি নাটকের সমন্বয়ে রচিত।
• "রাজার জন্মদিন": একটি চমৎকার নাট্যকর্ম যা রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা।
--------------------- 
অনুবাদ নাটক:
• "কেউ কিছু বলতে পারে না" (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর-এর "You never can tell" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
• "রূপার কৌটা" (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির "The Silver Box" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
• "মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের "Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।

৫,২৮৯.
‘অবাক পৃথিবী’ গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) মোহাম্মদ কায়কোবাদ
  2. খ) মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  3. গ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন (১৯৩০-১৯৯৮): জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক। বাংলাদেশের বিজ্ঞান লেখকদের মধ্যে তিনিই একমাত্র যিনি ইউনেস্কো কলিঙ্গ পুরস্কার লাভ করেন।
তাঁর প্রকাশিত শিশু ও বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদনা-
- এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে,
- অবাক পৃথিবী,
- আবিষ্কারের নেশায়,
- রহস্যের শেষ নেই,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- জানা-অজানার দেশে,
- তারার দেশের হাতছানি,
- বিচিত্র বিজ্ঞান,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ,
- কীটপতঙ্গের বিচিত্র জগৎ,
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে,
- আজকের বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।]

৫,২৯০.
'বর্ণপরিচয়' প্রাথমিক স্তরের শিশুশিক্ষা গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রামরাম বসু
  4. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
'বর্ণপরিচয়' গ্রন্থ:
- 'বর্ণপরিচয়' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রাথমিক স্তরের শিশুশিক্ষা গ্রন্থ।

- শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম। ১৮৫৫ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এটি রচনা করেন। সেই সময় থেকে অদ্যাবধি শিশুপাঠ্য গ্রন্থ হিসেবে এটি উভয় বাংলায় সমান গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

- গ্রন্থটির প্রথম ভাগে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ, তদ্যোগে বিভিন্ন শব্দ ও বাক্যগঠন এবং অনুচ্ছেদ আকারে রচিত মোট একুশটি পাঠ আছে। দ্বিতীয় ভাগে সংযুক্ত বর্ণের ব্যবহার দ্বারা শব্দ ও বাক্য গঠন, ফলাযোগে নানা শব্দসৃষ্টি, অঙ্কে ও কথায় সংখ্যা গণনা এবং উপদেশধর্মী ছোট ছোট রচনা মিলে মোট দশটি পাঠ আছে।

অন্যদিকে,
- 'লিপিমালা' গ্রন্থ রচনা করেছেন রামরাম বসু।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,২৯১.
"গাহি তাহাদের গান–
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।" পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) জীবন-বন্দনা
  2. খ) প্রলয়শিখা
  3. গ) অগ্নিবীণা
  4. ঘ) সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা
"গাহি তাহাদের গান–
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।" পঙক্তিদ্বয় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরূল ইসলাম রচিত 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের 'জীবন-বন্দনা' কবিতার অংশ। 
-  বাংলাদেশের রণসঙ্গীতটিও এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থঃ
- অগ্নিবীণা,
- মরুভাস্কর,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- দোলনচাঁপা,
- সন্ধ্যা,
- চক্রবাক,
- চন্দ্রবিন্দু,
- ছায়ানট,
- বিষের বাঁশি,
- সর্বহারা,
- পুবের হাওয়া,
- সাম্যবাদী,
- ঝিঙ্গে-ফুল,
- ফনিমনসা,
- প্রলয়-শিখা,
- নতুন চাঁদ (শেষ কাব্য)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৯২.
‘অমৃতস্য পুত্রাঃ’ উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) মামুনুর রশীদ
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
⇒ ‘অমৃতস্য পুত্রাঃ’ উপন্যাস:
১৯৩৮ সালে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারিবারিক ও দাম্পত্য সমস্যামূলক এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
• বিত্তবান বীরেশ্বরের দ্বিতীয়বার পাণিগ্রহণ, প্রথম বধূর স্বামীগৃহ ত্যাগ, তাদের সন্তান শ্যামলালের বিবাহ, অতঃপর শ্যামলালের পুত্র অনুপমের সঙ্গে  বীরেশ্বরের সাক্ষাৎ এবং তার টাকাতে অপুপমের বিলেতে যাওয়া ইত্যাদি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে।
• যার তাৎপর্য হলো আদর্শবান পিতার সন্তানের আদর্শচ্যুতি। উল্লেখ্য যে অনুপম চরিত্রটি দিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় আধুনিক জীবনবোধের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

------------
⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
 - চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
 -আরোগ্য ইত্যাদি। 

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া, 
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প, 
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৯৩.
“সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।”- উক্তিটি জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জলপাইহাটি
  2. সতীর্থ
  3. মাল্যবান
  4. কবিতার কথা
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।”
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর এডগার অ্যালান পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- জলপাইহাটি,
- জীবনপ্রণালী,
- বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, শঙ্খমালা- কবিতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৯৪.
'ও কি ক্ষুধাতুর পাঁজরায় বাজে.......... ।' চরণটির শূন্যস্থানে কী হবে?
  1. ক) বেদনা মজলুমের
  2. খ) জীবনের আহাজারি
  3. গ) মৃত্যুর জয়ভেরী
  4. ঘ) মরণের রোনাজারী
ব্যাখ্যা
ও কি দরিয়ার গর্জন,- ও কি বেদনা মজলুমের!
ও কি ধাতুর পাঁজরায় বাজে মৃত্যুর জয়ভেরী।
পাঞ্জেরি!
জাগো বন্দরে কৈফিয়তের তীব্র ভ্রুকুটি হেরি,
জাগো অগণন ক্ষুধিত মুখের নীরব ভ্রুকুটি হেরি!
দেখ চেয়ে দেখ সূর্য ওঠার কত দেরি, কত দেরি!!

চরণটি ফররুখ আহমেদ এর রচিত পাঞ্জেরি কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
- ‘পাঞ্জেরী’ কবিতাটি ফররুখ আহমদ রচিত সাত সাগরের মাঝি কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি কবির প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- পাঞ্জেরী কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- এই কাব্যগ্রন্থের ১৯টি কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-সাত সাগরের মাঝি, পাঞ্জেরী,সিন্দাবাদ, আকাশ-নাবিক প্রভৃতি।

ফররুখ আহমদ
- তিনি ১৯১৮ সাল মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- হাতেমতায়ী একটি ফররুখ আহমদ এর কাহিনিকাব্য।
- নৌফেল ও হাতেম ফররুখ আহমদ এর কাব্যনাট্য। 
- সাত সাগরের মাঝি ফররুখ আহমদ এর প্রথম প্রকাশিত কাব্য। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি 
- সিরাজাম মুনিরা
- নৌফেল ও হাতেম 
- মুহূর্তের কবিতা
- হাতেমতায়ী 
- হাবেদা মরুর কাহিনী  ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা 
- হরফের ছড়া 
- ছড়ার আসর  ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।ত।
৫,২৯৫.
বাংলা চলতি ভাষার প্রয়োগে লিখিত প্রথম উপন্যাস গ্রন্থ 'আলালের ঘরে দুলাল' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বাংলা চলতি ভাষার প্রয়োগে লিখিত প্রথম উপন্যাস গ্রন্থ 'আলালের ঘরে দুলাল' এর রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্র। 
- টেকচাঁদ ঠাকুর প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম এবং এই নামেই তিনি উপন্যাসটি লিখেন। 
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ। 
- উপন্যাসটি 'মাসিক পত্রিকায়'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- এ গ্রন্থের গদ্যে লেখক সচেতনভাবে চলতি ভাষা প্রয়োগ করেছেন। 

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে 
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০),
- কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- A Biographical Sketch of David Hare (১৮৭৭),
- The Spiritual Stray Leaves (১৮৭৯),
- Stray Thought of Spiritualism (১৮৭৯),
- Life of Dewan Ramkamal Sen (১৮৮০) এবং
- Life of Coles Worthy Grant (১৮৮১)।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৯৬.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনীমূলক রচনা-
  1. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  2. বেহুলা গীতাভিনয়
  3. বিষাদ-সিন্ধু
  4. জমীদার দর্পণ
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনীমূলক রচনা- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

'গাজী মিয়ার বস্তানী': 
- এটি মীর মশাররফ হােসেনের কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা। 
- এটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে। 
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন। 

• মীর মশাররফ হোসেন:

- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি ’আজিজননেহার’ ও ’হিতকরী’ নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২৯৭.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা কার সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. হরিনাথ মজুমদার
ব্যাখ্যা

'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২৯৮.
'কি চাহ শঙ্খচিল' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- ‘কি চাহ শঙ্খচিল’ মমতাজ উদ্দীন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক। নাটকে আলোচিত হয়েছে বীরঙ্গনার গল্প।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজ উদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।
- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন।যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি।
- যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়। আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক।
- নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।

-----------------------------
• মমতাজ উদদীন আহমদ: 
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কি চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

মমতাজ উদ্দীন আহমেদ (১৯৩৫-২০১৯) রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কি চাহ শঙ্খচিল,
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘কি চাহ শঙ্খচিল’ মমতাজউদ্দীন আহমেদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৯৯.
"মজিদ" চরিত্রটি সৃষ্টি করেন কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

'লালসালু' উপন্যাস: 
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস 'লালসালু'। এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়। 

লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- মজিদ,
- জমিল,
- আমেন,
- খালেক ব্যাপারি,
- রহিম,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,৩০০.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের দেশপ্রেমের প্রবল প্রকাশ ঘটেছে কোন রচনার মধ্যে?
  1. উপন্যাসে
  2. নাটকে
  3. সনেটে
  4. পত্রকাব্যে
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের দেশপ্রেমের প্রবল প্রকাশ ঘটেছে তার সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতাবলিতে বিশেষ করে 'বঙ্গভাষা', 'কপোতাক্ষ নদ' প্রভৃতি কবিতায় তাঁর দেশপ্রেম প্রবলভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

--------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক। তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।