বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৪৭ / ১৭৪ · ৪,৬০১৪,৭০০ / ১৭,৪৩৭

৪,৬০১.
নিচের কোন সাহিত্যিক কখনো উপন্যাস রচনা করেননি?
  1. বিষ্ণু দে
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
কখনো উপন্যাস রচনা করেননি বিষ্ণু দে।

• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।
 
• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

অন্যদিকে,
• নির্মলেন্দু গুণ রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস-
- তৃণখণ্ড,
- জঙ্গম,
- অগ্নি,
- স্থাবর,
- পঞ্চপর্ব,
- নবদিগন্ত।

•  সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা, 
- মাধবীলতা, 
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৬০২.
'কাব্যকণ্ঠ' কার উপাধি?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।
- তিনি মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯), মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্বদর্শন,
- হযরত মুহাম্মদ,
- জাতীয় ফোয়ারা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলোর হলো:
- ফেরদৌসী-চরিত, 
- মহর্ষি-মনসুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬০৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘পদ্মাবতী’ নাটকটি কোন ছন্দে রচিত ?
  1. ক) অমিত্রাক্ষর ছন্দে
  2. খ) মাত্রবৃত্ত ছন্দে
  3. গ) স্বরবৃত্ত ছন্দে
  4. ঘ) অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
ব্যাখ্যা
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত, (১৮২৪-১৮৭৩) মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- মধুসূদনের কৃতিত্ব এখানেই যে, তিনি যাকিছু রচনা করেছেন তাতেই নতুনত্ব এনেছেন। তিনিই প্রথম পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ বাংলা সাহিত্যে সার্থকভাবে প্রয়োগ করেন।
- ১৮৬০ সালে তিনি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক। এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
প্রহসন
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

নাটক
- পদ্মাবতী
- কৃষ্ণকুমারী

কাব্য
-মেঘনাদবধ
- বীরঙ্গনা
- তিলোত্তমাসম্ভব

উৎস: বংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা।
৪,৬০৪.
‘আর্তনাদ’ উপন্যাসটি কার লেখা এবং কোন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. সেলিনা হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ
  2. শওকত ওসমান, ভাষা আন্দোলন
  3. নীলিমা ইব্রাহীম, ভাষা আন্দোলন
  4. সৈয়দ শামসুল হক, মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• 'আর্তনাদ' উপন্যাস:
দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম 'আর্তনাদ'।
- 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বেড়ে ওঠা জনগোষ্ঠী ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাচীন চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ও ধর্মাশ্রয়ী শাসকগোষ্ঠীর আচরণ- এই দুই মেরুদণ্ডে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাসের কাঠামো।

- অপেক্ষাকৃত দুর্বল মেরুদণ্ডটির ভাঙন শুরু হলো একুশের চেতনার মধ্য দিয়ে। যার ফলপ্রসূ সমাপ্তি ঘটল একাত্তরের বিজয়ের মধ্য দিয়ে।
- এ ভূখণ্ডে শহুরে সভ্যতার সূচনালগ্নের তরুণ আলী জাফর এই উপন্যাসের ব্যক্তি চরিত্র। আলী জাফরের মতো তখন গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে শত শত মানুষ, যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।

• কয়েকটি ভাষা আন্দলন ভিত্তিক উপন্যাস:
- আরেক ফাল্গুন -জহির রায়হান,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি - সেলিনা হোসেন,
- যাপিত জীবন - সেলিনা হোসেন।
-------------

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- নেকড়ে অরণ্য,
- দুই সৈনিক,
- জাহান্নম হইতে বিদায় এবং
- জলাঙ্গী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও 'আর্তনাদ' উপন্যাস শওকত ওসমান।

৪,৬০৫.
'ফ্যাশনটা হল মুখোশ, স্টাইলটা মুখশ্রী' বাক্যটি কোন উপন্যাস থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. গোরা
  2. শেষের কবিতা
  3. নৌকাডুবি
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা

'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- এটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্‌রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

• এই উপন্যাসের চরিত্র-
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী,
- শোভনলাল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪,৬০৬.
ভারত সরকার কর্তৃক দীনেশচন্দ্র সেন কোন উপাধি লাভ করেন?
  1. বাংলার মিল্টন
  2. দেশবন্ধু
  3. রায়বাহাদুর
  4. ইতিহাসকার
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির ইতিহাস প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি রচনা করেন কবিতা, উপন্যাস ও গল্প। সব মিলে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৬০।

- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খন্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খন্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

উৎস: বাংলাপিডিইয়া।
৪,৬০৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখিত পত্রসংকলনের নাম কী?
  1. ক) রাশিয়ার চিঠি
  2. খ) বাঁধন হারা
  3. গ) জাভাযাত্রীর পত্র
  4. ঘ) পঞ্চভূতের ডায়রি
ব্যাখ্যা
'জাভাযাত্রীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখিত পত্রসংকলন। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে। 
- দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ভ্রমণকালে রবীন্দ্রনাথ এই পত্রগুলো লিখেছেন। 
- তবে ব্যক্তিগত পত্র বলতে যা বোঝায় এগুলি তা না। 
- নতুন দেশের মানুষ ও সমাজ সম্পর্কে, পথচলাকালীন কবির নানা চিন্তার প্রকাশঘটেছে এখানে। 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণ কাহিনি - রাশিয়ার চিঠি
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)
- 'পঞ্চভূত' (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়রি' নামে ছাপা হয়। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬০৮.
'রেখাচিত্র' বুদ্ধদেব বসু রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. কবিতা
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'রেখাচিত্র' বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থ।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
'রেখাচিত্র' আত্মজীবনী লিখেছেন আবুল ফজল।

• বুদ্ধদেব বসু:

- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:

- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬০৯.
সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ-  
  1. সাঁঝের মায়া 
  2. কেয়ার কাঁটা 
  3. আলো ও ছায়া 
  4. অশোকসঙ্গীত 
ব্যাখ্যা

• সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ- সাঁঝের মায়া। 

• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
- তাঁর সাহস ও প্রতিরোধর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করা।
- তিনি সমগ্র বাঙালি জাতি, বিশেষ করে সবসময় নারীদের রক্ষা করতে চেয়েছেন।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’।
• তাঁর স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

অন্যদিকে, 
- আলো ও ছায়া এবং অশোকসঙ্গীত কাব্যগ্রন্থ দুইটির রচয়িতা হচ্ছে- কামিনী রায়। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য।

৪,৬১০.
'আধ্যাত্মিকা' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) দামোদর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- আধ্যাত্মিকা উপন্যাসের লেখক প্যারীচাঁদ মিত্র। 
- প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয়৷
- তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর রচিত কথিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ‘মাসিক পত্রিকা'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৬১১.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধ-শত জন্মবার্ষিকী পালিত হয় কত সালে?
  1. ২০০১ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
• বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধ-শত জন্মবার্ষিকী ২০১১ সালের মে মাসে। 

-----------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।' এ বিদ্যালয়ই পরবর্তীকালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ রূপলাভ করে।

- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয়। 
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা কবিতাকে তিনিই প্রথম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রসারিত করেন। বাংলা ছোটগল্পকে তিনিই বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত করেন। গীতিকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও রবীন্দ্রনাথের অবদান অনন্যসাধারণ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কবিতা: মানসী, সোনারতরী, চিত্রা, গীতাঞ্জলি, বলাকা, শেষলেখা।

• উপন্যাস: চোখের বালি, গোরা, ঘরে বাইরে, যোগাযোগ, শেষের কবিতা।

• নাটক: বিসর্জন, রাজা, অচলায়তন, ডাকঘর, রক্তকরবী।

• প্রবন্ধ: আধুনিক সাহিত্য, মানুষের ধর্ম, কালান্তর, সাহিত্যের স্বরূপ।

• আত্মজীবনী: জীবনস্মৃতি, ছেলেবেলা।

উৎস: মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাপিডিয়া এবং BBC NEWS বাংলা (৪ মে ২০১১ রিপোর্টস)।
৪,৬১২.
"স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়"- চরণটি কার?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা
কবি রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়

“স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে,
কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব-শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে,
কে পরিবে পায়।
কোটিকল্প দাস থাকা নরকের প্রায় হে,
নরকের প্রায়!
দিনেকের স্বাধীনতা, স্বর্গসুখ-তায় হে,
স্বর্গসুখ তায়!

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়া গ্রামে।
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়।
- তিনি নিজে কলকাতা থেকে মাসিক রস সাগর (১৮৫২) (পরিবর্তিত নাম সংবাদ সাগর) ও সাপ্তাহিক বার্তাবহ (১৮৫৬) সম্পাদনা করেন।
- এডুকেশন গেজেট পত্রিকা (১৮৫৫) প্রকাশিত হলে তিনি তার সহসম্পাদক নিযুক্ত হন।

তাঁর রচিত কাব্য:
- কর্মদেবী,
- শূরসুন্দরী ও
- কাঞ্চী কাবেরী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬১৩.
'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন কে?
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• রামনারায়ণ তর্করত্ন:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্ব' (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভকরেছিল।

সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা, 
- মালতীমাধব, 
- রত্নাবলী। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৪,৬১৪.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন দীর্ঘ বাইশ বছর কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেন?
  1. দৈনিক আজাদ
  2. মাসিক মোহাম্মদী
  3. দৈনিক সোলতান
  4. সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ
ব্যাখ্যা

'দৈনিক আজাদ' আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা।
- দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।

------------------------
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন (১৮৯৭-১৯৭৮) সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- ১৯২২ সালে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- পরে তিনি সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ, দি মুসলমান, দৈনিক সোলতান, মাসিক মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ১৯৩৬ সালে দৈনিক আজাদে যোগদান করে তিনি ১৯৪০-৬২ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৪ সালে প্রেস ট্রাস্ট অব পাকিস্তান পরিচালিত দৈনিক পাকিস্তানের সম্পাদক নিযুক্ত হয়ে তিনি ১৯৭২ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

আবুল কালাম রচিত ও অনূদিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি,
- ত্রিস্রোতা,
- খরতরঙ্গ,
- দৃষ্টিকোণ,
- নতুন চীন নতুন দেশ,
- দিগ্বিজয়ী তাইমুর,
- ইলিয়ড,
- পলাশী থেকে পাকিস্তান,
- অতীত দিনের স্মৃতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৬১৫.
বৃত্রসংহার কাব্য কে রচনা করেছেন?
  1. ক) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) সত্যেন সেন
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ চিন্তাতরঙ্গিণী ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে বৃত্রসংহার (২ খন্ড, ১৮৭৫-৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে। একসময় বাংলাদেশে কাব্যটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল এবং কবি হিসেবে হেমচন্দ্রের যা খ্যাতি তা মূলত এ কাব্যের জন্যই। উল্লেখ্য, বৃত্রসংহার নামে সঞ্জীবচন্দ্রের একটা প্রবন্ধও আছে। সুত্রঃ বাংলাপিডিয়া
৪,৬১৬.
'কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?' - কে লিখেছেন?
  1. কামিনী রায়
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
• "কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?" পঙ্‌ক্তি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ-

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন ?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনােরথ ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?

-----------------------
• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের জন্ম ১৮৩৪ সালের ১০ জুন খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবার।
- ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত।
- তাঁর কবিতার অনেক পঙ্‌ক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।
যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬১৭.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সমাজিক উপন্যাস- 
  1. ললিতা তথা মানস
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. চৈতালী ঘূর্ণি
  4. পঞ্চগ্রাম
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।

• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সমাজিক উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রোহিনী,
- গোবিন্দলাল,
- ভ্রমর।

অন্যদিকে,
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'চৈতালী ঘূর্ণি'; 'পঞ্চগ্রাম' উপন্যাসের রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

------------------------------
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৬১৮.
শওকত আলী রচিত বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'যাত্রা' কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭২
  2. ১৯৭৬
  3. ১৯৮৬
  4. ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
• শওকত আলী:
- শওকত আলী ১৯৩৬ সালের ১২ জানুয়ারি উত্তর দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস ⎯ ‘যাত্রা’।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার পান ১৯৮৬ সালে এবং একুশে পদক লাভ করেন ১৯৯০ সালে।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• 'যাত্রা' উপন্যাস: 
- শওকত আলী রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’। প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
- ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান।
---------------------------------- 
• শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন ,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উওরের খেপ, 
- বসত, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: 'যাত্রা' উপন্যাস- শওকত আলী; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,৬১৯.
সেলিম আল দীন কোন উপজাতিদের নিয়ে নাটক লিখেছিল?
  1. গারো
  2. চাকমা
  3. সাঁওতাল  
  4. মারমা
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন মারমাদের নিয়ে নাটক লিখেছিল।
-----------------------------------------
• "একটি মারমা রূপকথা":
- একটি মারমা রূপকথা নাট্যকার সেলিম আল দীনের লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক।
- এটি মারমা জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে রচিত।
- এটি বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয়েছিলো
- নাটকটিতে রূপকথার চরিত্র ও ঘটনা বাস্তবতার সাথে মিশে এক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক আখ্যান তৈরি করে।
- এটি সেলিম আল দীনের নৃগোষ্ঠী নাট্য ধারার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
----------------------------------------
সেলিম আল দীন:
-  সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনি জেলার সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা আধুনিক নাট্যকারদের মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- সেলিম আল দীনের সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস এবং অসংখ্য নাটক।

তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো:
- একটি মারমা রূপকথা,
 গঙ্গাবতী,
- জন্ডিস, বিবিধ বেলুন,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- শকুন্তলা,
- কিত্তনখোলা,
- কেরামতমঙ্গল,
- প্রাচ্য,
- হরগজ,
- বনপাংশুল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- পুত্র, ইত্যাদি।  

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৪,৬২০.
'মেঘ বলে চৈত্রে যাবো' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
কবি আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি। অরণ্য নীলিমা, জাফরানী রং পায়রা ও রানী খালের সাঁকো তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪,৬২১.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিচের কোন লেখক সংঘের সাথে যুক্ত ছিলেন?   
  1. প্রগতি লেখক সংঘ
  2. ক্রান্তি লেখক সংঘ
  3. সাধনা লেখক সংঘ
  4. শিখা লেখক সংঘ
ব্যাখ্যা
⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- কথাসাহিত্যিক।  
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- জন্মপঞ্জিকায় তাঁর নাম 'অধরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়'।  

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।
- 'বঙ্গশ্রী' পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। 
- 'প্রগতি লেখক সংঘের' নির্বাচিত যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন। 
- তিনি কল্লোল পত্রিকারও নিয়মিত লেখক ছিলেন।   
⇒ ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬২২.
‘লালসালু’ উপন্যাসের বিদ্রোহিণী ও প্রতিবাদের প্রতীক নারী চরিত্র কোনটি?
  1. জমিলা
  2. রহিমা
  3. মালা
  4. আমেনা
ব্যাখ্যা
• ‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে।
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

-----------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬২৩.
বাংলার গ্রামীণ জীবনের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. নিষ্কৃতি
  2. পথের দাবী
  3. পল্লীসমাজ
  4. বিরাজ বৌ
ব্যাখ্যা
পল্লীসমাজ (১৯১৬) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
- বাংলার পল্লী জীবনের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় এক আদর্শবাদী যুবক যুবতীর সম্পর্ক ও বিশেষ করে তাদের অভিশপ্ত প্রেমকাহিনী এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- উপন্যাসটির নাট্যরূপ - 'রমা' বাংলা রঙ্গমঞ্চে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলো।
- প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম প্রমুখ।

- নিষ্কৃতি উপন্যাসের উপজীব্য: একান্নবর্তী পরিবারের বিরোধ ও শেষ পর্যন্ত সম্প্রীতির জয়।
- পথের দাবী উপন্যাসের উপজীব্য: ব্রহ্মদেশে ব্রিটিশ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলন।
- বিরাজ বৌ উপন্যাসের উপজীব্য: বাঙ্গালি গৃহস্থ জীবনের বাস্তব ছবি, বাঙ্গালি নারীর মমত্ব ও কারুণ্যের রূপায়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং পল্লী সমাজ উপন্যাস।
৪,৬২৪.
‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের কোন চরিত্রকে সমগ্র বাংলা সাহিত্যের অভিনব চরিত্র হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. কুবের
  2. কপিলা
  3. গণেশ
  4. হোসেন মিয়া
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের হোসেন মিয়া চরিত্রকে সমগ্র বাংলা সাহিত্যের অভিনব চরিত্র হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 

• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উপন্যাসে বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।
- 'আচ্ছা সমুদ্র কত বড়-পদ্মার চেয়ে বড় বুঝি?' উপন্যাসে উক্তিটি যুগীর।
- 'আমি একা ফির‍্যা আইলাম গো মামা, সব কটারে গাঙের জলে ভাসাইয়া দিয়া আমি একা ফির‍্যা আইলাম।'- উপন্যাসে উক্তিটি রাসুর।

উৎস: ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬২৫.
“গাহি তাহাদের গান/ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান”- পঙক্তিটি কোন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. জীবন-বন্দনা
  2. কৃষাণের গান
  3. কুলি মজুর
  4. শ্রমিকের গান
ব্যাখ্যা

- “গাহি তাহাদের গান/ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান”- পঙক্তিটি জীবন-বন্দনা কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

• 'জীবন-বন্দনা' কবিতা:

- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- বাংলাদেশের রণসংগীত “চল চল চল, উর্ধ গগণে বাঝে মাদল” এই কাব্য থেকে নেয়া হয়েছে।

• জীবন-বন্দনা- কবিতা,
           - কাজী নজরুল ইসলাম।

গাহি তাহাদের গান –
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে
ত্রস্তা ধরণি নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফলে।
বন্য-শ্বাপদ-সংকুল জরা-মৃত্যু-ভীষণা ধরা
যাদের শাসনে হল সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা।
যারা বর্বর হেথা বাঁধে ঘর পরম অকুতোভয়ে
বনের ব্যাঘ্র মরুর সিংহ বিবরের ফণী লয়ে।
এল দুর্জয় গতিবেগ সম যারা যাযাবর-শিশু
– তারাই গাহিল নব প্রেমগান ধরণি-মেরির জিশু –
যাহাদের চলা লেগে
উল্কার মতো ঘুরিছে ধরণি শূন্যে অমিত বেগে !

তবুও থামে না যৌবন বেগ জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র মঙ্গল গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে।
(সংক্ষেপিত)।

তথ্যসূত্র:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. জীবন-বন্দনা- কবিতা।

৪,৬২৬.
কোন গ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্য কর্তৃক রচিত?
  1. হরতাল
  2. পালা বদল
  3. উত্তীর্ণ পঞ্চাশ
  4. অবশিষ্ট স্বদেশ
ব্যাখ্যা
‘হরতাল’ কবি সুকান্তের একটি গদ্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। কবি সুকান্ত ব্যক্তি জীবনে যেমন সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন তেমন চিন্তার ছাপ রয়েছে তার রচনায়। তার প্রায় সব লেখাতেই সাধারণ মানুষের কথা, দুঃখ-কষ্টের চিত্র উঠে এসেছে।

অন্যদিকে,
- ‘উত্তীর্ণ পঞ্চাশ’ সানাউল হক রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'পালা-বদল' অমিয় চক্রবর্তী রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘হরতাল’ সুকান্ত ভট্টাচার্য।
৪,৬২৭.
'খোঁয়ারি' ছোট গল্পের রচয়িতা কে?
  1. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ছোটগল্প- খোঁয়ারি, অন্য ঘরে অন্য স্বর, দুধেভাতে উৎপাত, দোজখের ওম
এবং তাঁর রচিত উপন্যাস- চিলেকোঠার সেপাই ও খোয়াবনামা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬২৮.
মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন-
  1. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- র্ণকুমারী দেবী আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬২৯.
পাল রাজাদের রাজত্ব ও বাংলায় তুর্কি আক্রমনের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে রচিত শওকত আলী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) পিঙ্গল আকাশ
  2. খ) ওয়ারিশ
  3. গ) কালস্রোত
  4. ঘ) প্রাদোষে প্রাকৃতজন
ব্যাখ্যা
শওকত আলীর অন্যান্য উপন্যাসঃ যাত্রা, পিঙ্গল আকাশ, দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি ও পূর্বদিন, উত্তরের খেপ ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৩০.
জেলে জীবনের কাহিনী কোন উপন্যাসের উপজীব্য?
  1. ক) হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  2. খ) তিতাস একটি নদীর নাম
  3. গ) হাজার বছর ধরে
  4. ঘ) খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিতাসপাড়ের জেলেদের জীবনের সুখ-দুঃখের বিচিত্র কাহিনী নিয়ে রচিত। এর প্রধান চরিত্র বাসন্তী ও কিশোর। অন্যদিকে হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, হাজার বছর ধরে এবং খোয়াবনামা যথাক্রমে ধর্মীয় কুসংস্কার, আবহমান গ্রামীণ জীবন এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে রচিত। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৪,৬৩১.
মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা নিয়ে নির্মিত কাব্যনাটক কোনটি?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. রাইফেল রোটি আওরাত
  4. বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে মেধাবী কবি, নাট্যকার ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক (১৯৩৫- ২০১৬)।
- স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা নাটকের ধারায় তাঁর স্বতন্ত্র সংযোজন কাব্যনাট্য।
- মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা নিয়ে নির্মিত মঞ্চনাটকগুলোর মধ্যে তাঁর রচিত পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (১৯৭৬) কাব্যনাটকটি শিল্পসিদ্ধিতে অনন্য।
- নাট্যকার পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় নাটকে গ্রাম্য মোড়লের স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান ও তার বহুরূপী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
- পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের শোষণ বঞ্চনার নাগপাশ ছিন্ন করে এদেশের মানুষ একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তির সংগ্রামে।
- বাংলার মানুষের একটাই স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা হানাদার মুক্ত করা।
- বাঙালিরা তখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেমেছিল শত্রুর বিরুদ্ধে।
- তবে এক শ্রেণির মানুষ বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচরণ করেছিল।
- নাটকে সেই শ্রেণিচরিত্রকে মুখ্য করে নাট্যকার নির্মাণ করেন রাজাকার চরিত্র।
- এ ছাড়া নাট্যকার সুকৌশলে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ধর্মের ব্যবহার, নারী- নির্যাতন, সাধারণ মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন, মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতন এবং সর্বোপরি স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক-দালাল মাতবরের নির্মম পরিণতি উপস্থাপন করেছেন।

উৎস: জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব আর্টস।
৪,৬৩২.
'লাঙল' পত্রিকার প্রচ্ছদে সম্পাদক হিসেবে কার নাম ছাপা হতো?
  1. সুভাষচন্দ্র বসুর
  2. মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের
  3. কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমেদের
  4. সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের
ব্যাখ্যা
• 'লাঙল' সাপ্তাহিক পত্রিকা:
• 'লাঙল' সাপ্তাহিক পত্রিকা। কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় ১৯২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। 'লাঙল পত্রিকা' ছিল ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়’ নামে শ্রমিক শ্রেণীর একটি সংগঠনের মুখপত্র।

• নজরুল এর সম্পাদক হলেও পত্রিকার প্রচ্ছদে তাঁর নাম ছাপা হতো মুখ্য পরিচালক হিসেবে, আর সম্পাদক হিসেবে ছাপা হতো মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের নাম। এছাড়া পত্রিকার প্রচ্ছদে কাঁধে লাঙলবাহী একজন কৃষকের ছবিও থাকত।

• পত্রিকার প্রথম পাতায় মানুষের মহত্ত্ব প্রচারের উদ্দেশ্যে চণ্ডীদাসের একটি উক্তি মুদ্রিত হতো।

• লাঙলের প্রথম সংখ্যার প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘সাম্যবাদী’ শিরোনামে এগারোটি কবিতার সমাহার। কৃষক, নারী, দিনমজুর, কুলি প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর পীড়িত ও নির্যাতিত জীবন বর্ণনাত্মক এ কবিতাগুলি পরবর্তীকালে পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয়। পত্রিকার এই বিশেষ সংখ্যার প্রায় পাঁচ হাজার কপি ছাপানো হয়েছিল, কিন্তু এর চাহিদা এতই ব্যাপক ছিল যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সব কপিই বিক্রি হয়ে যায়। নজরুল ‘কৃষক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়ে’র আহবায়ক হিসেবে এ সংখ্যায়ই সংগঠনের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেন।

• নজরুল লাঙলের অন্যান্য সংখ্যায়ও নিজের কিছু বিখ্যাত কবিতা প্রকাশ করেন, যেমন ‘কৃষাণের গান’, ‘সব্যসাচী’ এবং ‘সর্বহারা’। লাঙ্গলে অন্যান্য লেখকের রচনাসমূহের বিষয়বস্ত্ত ছিল তৎকালীন সমাজতন্ত্রী নেতা কার্ল মার্কস, লেনিন বা সোভিয়েত রাশিয়ার রাজনৈতিক গতিধারা, চীনের পুনর্জাগরণ ইত্যাদি।

• ১৯২৬ সালের ২১ জানুয়ারি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে লাঙলের একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। তাতে তাঁর জীবনী এবং অপ্রকাশিত কয়েকটি চিঠি স্থান পায়। পত্রিকার লেখকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কমরেড মুজাফ্ফর আহমেদ ও সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৩৩.
’বিন্দু বিসর্গ’ কার রচিত আত্মজীবনী?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বিনোদিনী
  3. জাহানারা ইমাম
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
’বিন্দু বিসর্গ’ নীলিমা রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী। 
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন। 
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনীমূলক রচনার 'আত্মচরিত'।
• জাহানারা ইমাম রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ- একাত্তরের দিনগুলি।
• বিনোদিনী রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ’আমার কথা’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৩৪.
‘কমলেকামিনী’ নাটকটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) হুমায়ুন আহমদ
ব্যাখ্যা

‘কমলেকামিনী' (১৮৭৩) দীনবন্ধু মিত্রের সর্বশেষ নাটক।
এই নাটকের পটভূমি কাছাড় অঞ্চল। চরিত্রগুলি সবই অভিজাত বংশীয় তবে দুর্বল। ২০ শে ডিসেম্বর ১৮৭৩ তারিখে নাটকটি ন্যাশনাল থিয়েটারে সর্বপ্রথম অভিনীত হয়।
উল্লেখযােগ্য চরিত্র : রাজা, সমরকেতু, শশাঙ্কশেখর, গান্ধারী, সুশীলা, সুরবালা।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৬৩৫.
ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) হেনরি লুই ডিরোজিও
  3. গ) জোশুয়া মার্শম্যান
  4. ঘ) উইলিয়াম কেরী
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর- হেনরি লুই ডিরোজিও।

- হেনরি লুই ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও।
- এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। 
- তাঁর উপদেশ ছিল ‘সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা’।

ইয়ংবেঙ্গল নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মদুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’
- হেনরি ডিরোজিওর অনুসারীরা ছিলেন: মুক্তচিন্তক গোষ্ঠী
- হেনরি ডিরোজিও ১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৩৬.
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটি আহসান হাবীব রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  2. সারা দুপুর
  3. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  4. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
ব্যাখ্যা
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতা:
- 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা এটি।
- কবিতাতে শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার কথা আছে।
- গ্রামীণ অনুষঙ্গসমূহ এই শহুরে মানুষকে সন্দেহ না করলেও সেই মানুষ সাক্ষী মানছে গ্রামীণ নানা কিছু।
- 'আমি কোন অভ্যাগত নই' একথা বোঝাতে শহুরে মানুষ তাই বলছে: 'আসমানের তারা সাক্ষী, সাক্ষী এই জমিনের ফুল .....' ইত্যাদি।

• উল্লেখ্য, কবির এ কাব্যগ্রন্থের নাম বাংলা একাডেমির 'চরিতাভিধান'সহ অনেক বইয়ে 'দুই হাতে দুই আদিম পাথর' আছে। এটি ঠিক নয়। হবে 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর'।

আহসান হাবীব:
- তিনি ১৯১৭ সালে পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'রাত্রিশেষ' (১৯৪৭)।
- তিনি ১৯৮৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৩৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ডি.লিট উপাধি প্রদান করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর কৈশোর ও যৌবনের অধিকাংশ সময় ভাগলপুরের মাতুলালয়ে অতিবাহিত হয়। তিনি কলেজশিক্ষা শেষ করতে পারেননি।

- ১৯০৩ সালে জীবিকার সন্ধানে রেঙ্গুন যাত্রা করেন। ১৯১৬ সাল পর্যন্ত তিনি রেঙ্গুনে ছিলেন এবং সেখানে অবস্থানকালে সাহিত্য সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন।
- ১৯০৭ সালে 'ভারতী' পত্রিকায় 'বড়দিদি' প্রকাশিত হলে তাঁর সাহিত্যিক খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর একে একে গল্প-উপন্যাস লিখে তিনি বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকে পরিণত হন।

- শরৎচন্দ্র চিত্রাঙ্কনেও দক্ষ ছিলেন। বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।

- সাহিত্য প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।

- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'পল্লীসমাজ', 'দেবদাস', 'শ্রীকান্ত' (চার পর্ব), 'গৃহদাহ', 'দেনাপাওনা', 'পথের দাবী', 'শেষ প্রশ্ন' প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৩৮.
'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ' গানের সংকলনটি কার রচনা?
  1. রজনীকান্ত সেন
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

• অতুলপ্রসাদ সেন:
-​ বাংলা ঠুমরি গানের প্রবর্তক অতুলপ্রসাদ সেন।
- ঠুমরি একপ্রকার রাগসঙ্গিত, যার সুর অতি মিষ্টি। সুরের মিষ্টতার কারনেই এর এই নামকরন।
- অতুপ্রসাদ বাংলায় ঠুমরি গানের প্রবর্তক এবং সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীতভুবনে তিনি প্রসিদ্ধতা লাভ করেন।
- মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা - তাঁর অতি বিখ্যাত সৃষ্টি।
- স্বদেশি, ভক্তিগীতি এবং প্রেমে গানে বিভক্ত প্রায় ২০০টি গান তিনি রচনা করেছেন।
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ, ১৯৩১ সালে প্রকাশিত তাঁর গানের সংকলন।

​অন্যদিকে, 
• বাংলা টপ্পা সংগীতের প্রবর্তক রামনিধি গুপ্ত। তাঁর ডাকনাম নিধু বাবু। রামনিধি গুপ্তের টপ্পা সংগীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৪,৬৩৯.
হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত “আগুনের পরশমনি” - চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. ক) মোর্শেদুল ইসলাম
  2. খ) হাফিজ মোহম্মদ বরকতুল্লাহ
  3. গ) নাসিরুদ্দিন ইউসুফ
  4. ঘ) হুমায়ুন আহমেদ
  5. ঙ) চাষী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন আহমেদ রচিত উপন্যাস - “আগুনের পরশমনি” প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। পরে ১৯৯৪ সালে হুমায়ুন আহমেদের পরিচালনাতেই একই নামে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৪,৬৪০.
'কলমগীর' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. আবদুল হক
  3. মোজাম্মেল হক 
  4. আবদুল করিম
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন।  যেমন- নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

অন্যদিকে, 
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।
• আবদুল করিমের উপাধি সাহিত্যবিশারদ।
• 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৬৪১.
‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ -এর অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন-
  1. ক) আবদুল কাদির
  2. খ) আবদুল হাই
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ (১৯২৬) এর নেতৃত্বে ঢাকায় যে ‘বুদ্ধির মুক্তির আন্দোলন’ সূচিত হয়েছিল আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম প্রবক্তা। এ আন্দোলনের মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকার লেখক ও প্রকাশক। তিনি ‘মাহে নও’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৪,৬৪২.
‘Give up hunger strike. Our literature claims you.' - কে কাকে বলেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল
  2. কাজী নজরুলকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুলকে সুভাষ বসু
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্যকে কাজী নজরুল
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলাম হুগলি জেলে থাকা অবস্থায় জেলে কর্মকর্তাদের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে অনশন করলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর টেলিগ্রাফ করে উল্লিখিত কথা বলেন।
- নজরুল ১৯২৩ সালের ১৫ অক্টোবর জেল থেকে মুক্তি পান।
- এই উপলক্ষ্যে নজরুলকে বসন্ত নাটক উৎসর্গ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৪,৬৪৩.
কোনটি ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. মনোরমা
  2. পশুপতি
  3. হেমচন্দ্র
  4. কুন্দনন্দিনী
ব্যাখ্যা

কুন্দনন্দিনী ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্র নয় এটি বিষবৃক্ষ উপন্যাসের চরিত্র।

‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৪৪.
'পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে আধিপত্য শুরু করবে, দুর্বলের আধিপত্য অতি ভয়ংকর।'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে আধিপত্য শুরু করবে, দুর্বলের আধিপত্য অতি ভয়ংকর।'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত।  

• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস:

- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে। নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।

- এই গ্রন্থ সম্পর্কে সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'

উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন:
• ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে আধিপত্য শুরু করবে। দুর্বলের আধিপত্য অতি ভয়ংকর।
• মেনে নেওয়া আর মনে নেওয়া, এই দুইয়ের তফাৎ আছে।
• 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
অমিত,
লাবণ্য,
কেতকী,
শোভনলাল প্রমুখ।

উৎস: "শেষের কবিতা" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৪৫.
'মধুস্মৃতি' শামসুর রাহমানের কোন কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা?
  1. বন্দী শিবির থেকে
  2. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  3. বিধ্বস্ত নীলিমা
  4. বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়
ব্যাখ্যা
বন্দী শিবির থেকে:
- এর অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে এপ্রিল-ডিসেম্বর, ১৯৭১ সময়ে রচিত।
- ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটির শুরুতে 'পূর্বলেখ' শিরোনামে একটি ভূমিকা সংযোজন করে কবি তাঁর কাব্যরচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেছেন।
- ৩৮টি কবিতা এগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা, স্বাধীনতা তুমি, মধুস্মৃতি, রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।
- প্রতিটি কবিতায় স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন আবেগ ও প্রত্যাশা ব্যক্ত।
- গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের শহিদদের উদ্দেশ্যে।

শামসুর রাহমান:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়। 
- 'স্বাধীনতা তুমি' ও 'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা' তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৪৬.
কাজী ইমদাদুল হক - এর 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের মূল উপজীব্য কী?
  1. কৃষক সমাজের সংগ্রামশীল জীবন
  2. তৎকালীন মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজের চিত্র
  3. জমিদার শ্রেণীর শোষণ
  4. মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্কের টানাপোড়েন
ব্যাখ্যা

• কাজী ইমদাদুল হক-এর 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের উপজীব্য হলো- 'তৎকালীন মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজের চিত্র'।

• কাজী ইমদাদুল হক:
 - কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:

- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাস।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।

- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷

- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্‌' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল, 
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,  
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ),
- নবীকাহিনী (প্রবন্ধমালা), 
- কামারের কান্ড,  
- আবদুল্লাহ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৪৭.
'পানকৌড়ির রক্ত' আল মাহমুদের কোন ধরনের রচনা?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কবিতা
  3. আত্মজীবনি
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• 'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থটির রচয়িতা - আল মাহমুদ।
- এটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

তাঁর রচিত আত্মজীবনি:
- যেভাবে বেড়ে উঠি,
- বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৪৮.
'পলাশী থেকে পাকিস্তান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা
কচিপাতা, ত্রিস্রোতা, দৃষ্টিকোণ, ইলিয়ড, পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস), অতীত দিনের স্মৃতি (আত্মজীবনী ও স্মৃতিচারণ) ইত্যাদি গ্রন্থগুলোর রচয়িতা আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৪৯.
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা
শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের জন্ম ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণকে সর্বোচ্চ সহজ সরলভাবে উদ্ভাসিত করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখেন। 
-১৯৬২ সালে যখন তিনি অধ্যাপক পদে নিয়োগ লাভ করেন, তখন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অঙ্গনে ছিল এক দুঃসময়। গবেষণার ক্ষেত্র প্রস্ত্তত ও প্রসারের লক্ষ্যে তিনি সাহিত্য পত্রিকা (১৯৫৭) প্রকাশ করেন। উচ্চমানের জন্য খুব দ্রুত পত্রিকাটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করে। আবদুল হাই এ পত্রিকাটি সম্পাদনার পাশাপাশি নিরলসভাবে নিজের গবেষণাও চালিয়ে যান।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: 
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪),
- বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন (১৯৫৮),
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০),
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪) প্রভৃতি ।

পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৫০.
'মাইকেল-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল ইসলাম আমার মাতৃভাষা।' উক্তিটি কার?
  1. ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী বাংলা ভাষার অর্জন সম্পর্কে বলতে গিয়ে লিখেছেন, ''আমার মাতৃভাষা তিব্বতের গুহাচারী, মনসার দর্পচূর্ণকারী, আরাকানের রাজসভার মণিময় অলঙ্কার, বরেন্দ্রভূমির উদাস আহ্বান, মাইকেল-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল ইসলাম আমার মাতৃভাষা। আমার মাতৃভাষা বাংলা ভাষা।'' উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৪,৬৫১.
শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথের তার কোন কাব্য গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন?
  1. ক্ষণিকা
  2. মানসী
  3. আকাশ প্রদীপ
  4. কড়ি ও কোমল
ব্যাখ্যা

শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রবীন্দ্রস্মৃতি-বিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান। 
- ১৮০৭ সালে রামলোচন ঠাকুরের উইলসূত্রে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর এ জমিদারির মালিক হন। রবীন্দ্রনাথ জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম শিলাইদহে আসেন ১৮৮৯ সালের। 
- এই কুঠিবাড়ি ও পদ্মা বোটে বসে রচিত হয় রবীন্দ্রসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফসল সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী, কথা ও কাহিনী, ক্ষণিকা, নৈবেদ্য ও খেয়ার অধিকাংশ কবিতা, পদ্মাপর্বের গল্প, নাটক, উপন্যাস, পত্রাবলী এবং গীতাঞ্জলি ও গীতিমাল্যের গান।
- এখানে বসেই কবি ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ শুরু করেন,

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৬৫২.
‘১৪০০ সাল’ কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা?
  1. ক) মানসী
  2. খ) সোনার তরী
  3. গ) বলাকা
  4. ঘ) চিত্রা
ব্যাখ্যা
চিত্রা ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। সাধারণ জীবনের প্রাত্যহিকতায় ফিরে এসেছেন। 
গুরুত্বপূর্ণ কবিতা :
- এবার ফিরাও মোরে,
- পুরাতন ভৃত্য,
- দুই বিঘা জমি,
- উর্বশী,
- স্বর্গ হইতে বিদায়,
- বিজয়িনী,
- জীবনদেবতা,
- ১৪০০ সাল,
- সিন্ধুপারে। 

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা ও চিত্রা কাব্যগ্রন্থ।
৪,৬৫৩.
রবীন্দ্রযুগ হলো -
  1. ক) ১৯০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত
  2. খ) ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত
  3. গ) ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত
  4. ঘ) ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বটবৃক্ষের মতো সাহিত্যের সমস্ত স্তরে এক আধিপত্য নিয়ে বিরাজ করছিলেন। অন্যান্য কবি সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথের ভাব, ভাষা ও দর্শন দ্বারা ব্যাপক প্রভাবিত হয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটা বলয় বা বৃত্ত তৈরি করেছিলেন, এই বলয় বা বৃত্তের বাইরে গিয়ে কেউ নতুন কিছু লিখতে পারছিলেন না, কিন্তু সেই বৃত্ত কেউ কেউ ভেঙেছেন। নতুন কিছু করেছেন। রবীন্দ্রনাথে একক প্রভাব ছিল বলে তার নামে একটি যুগের নামকরণ করা হয়।
--------------
আধুনিক যুগও কয়েকটি ভাগে বিভক্ত:
প্রস্ত্ততিপর্ব (১৮০০-১৮৬০),
বিকাশের যুগ (১৮৬০-১৯০০),
রবীন্দ্রপর্ব (১৯০০-১৯৩০),
রবীন্দ্রোত্তর পর্ব (১৯৩০-১৯৪৭)
এবং বাংলাদেশ পর্ব (১৯৪৭- বর্তমান)।
রবীন্দ্রযুগ বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব ও সৃজনশীলতার সময়কালকে নির্দেশ করে। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যসাধনার বৃহৎ কাল হিসেবে , ১৯০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর।

উৎস: চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৪,৬৫৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রকৃত নাম কী ছিল?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: 
- সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি 'বন্দ্যোপাধ্যায়'।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তাঁর প্রকৃত নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা, 
- সীতার বনবাস, 
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর পারিবারিক পদবি অনুসারে, তাঁর প্রকৃত নাম- 'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়', কিন্তু তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৫৫.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রলয় শিখা
  2. বিষের বাঁশি
  3. চন্দ্রবিন্দু
  4. যুগবাণী
ব্যাখ্যা

• 'বিষের বাঁশি' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ বিষের বাঁশী। ১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই।
- সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে। এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ।
- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল। এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।

উল্লেখ্য,
কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ নভেম্বর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

-------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৫৬.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. অশীতিপর শর্মা
  2. ত্রিবিক্রম বর্মণ
  3. নবকুমার
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৫৭.
'রাজমোহনস ওয়াইফ' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

​তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪,৬৫৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্পগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. তিন সঙ্গী
  2. লিপিকা
  3. সে
  4. কণিকা
ব্যাখ্যা
• কণিকা:
- ‘কণিকা’ (১৮৯৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ১১০টি ছোট ছোট পদ্যের সংকলন।
- অধিকাংশ কবিতাই নীতিমূলক, সংস্কৃত কাব্যের সুভাষিতাবলির আদর্শে রচিত।
- এই কবিতাকণাগুলোতে কবির তাত্ত্বিক দৃষ্টির প্রকাশ ঘটেছে।

--------------------
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৫৯.
আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. সংকর সংকীর্তন
  4. পরিত্যক্ত স্বামী
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• উপন্যাস:
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

- আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৬০.
নিচের কোনটি শিশুতোষ রচনা?
  1. হাতেমতায়ী
  2. হাবেদা মরুর কাহিনী
  3. পাখির বাসা
  4. সিরাজাম মুনীরা
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ 'পাখির বাসা'।
- ১৯৬৬ সালে 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থ হিসেবে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
------------------

• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

• ফররুখ আহমেদের শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৬১.
'জন্মেছি এই দেশে' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) জসীমউদ্দীন
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
'জন্মেছি এই দেশে' কবিতাটির রচয়িতা- কবি সুফিয়া কামাল। 

জন্মেছি এই দেশে
- সুফিয়া কামাল

অনেক কথার গুঞ্জন শুনি
অনেক গানের সুর
সবচেয়ে ভাল লাগে যে আমার
‘মাগো’ ডাক সুমধুর।

আমার দেশের মাঠের মাটিতে
কৃষাণ দুপুরবেলা
ক্লান্তি নাশিতে কন্ঠে যে তার
সুর লয়ে করে খেলা।

মুক্ত আকাশে মুক্ত মনের
সেই গান চলে ভেসে
জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে
মরি যেন এই দেশে।

এই বাংলার আকাশ-বাতাস
এই বাংলার ভাসা
এই বাংলার নদী, গিরি-বনে
বাঁচিয়া মরিতে আশা।

শত সন্তান সাধ করে এর
ধূলি মাখি সারা গায়
বড় গৌরবে মাথা উচু করি
মানুষ হইতে চায়।

উৎস: জন্মেছি এই দেশে কবিতা- সুফিয়া কামাল। 
৪,৬৬২.
'রঙিলা নায়ের মাঝি' রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

'রঙিলা নায়ের মাঝি':
- 'রঙিলা নায়ের মাঝি' সংকলনটির রচয়িতা জসীম উদ্‌দীন
- এটি তাঁর রচিত একটি গানের সংকলন। সংকলনটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।

'রঙিলা নায়ের মাঝি' গানের সংকলনের অন্তর্ভুক্ত সংগীতগুলো হলো:
- আজ আমার মনে ত না মানেরে,
- আমার বন্ধু বিনোদিয়ারে,
- আরে ও রঙিলা নায়ের মাঝি,
- উজান গাঙের নাইয়া,
- ও আমার গহিন গাঙের নায়া,
- ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে,
- ও মোহন বাঁশী,
- নদীর নাই-কিনার নাইরে,
- নিশিতে যাইও ফুলবনে,
- বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে,
- সিন্দুরের বেসাতি।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

জসীম উদ্‌দীনের প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৬৩.
‘রূপজালাল’ গ্রন্থটি কী ধরনের রচনা?
  1. গবেষণামূলক প্রবন্ধ
  2. নাট্য রচনা
  3. আত্মজীবনীমূলক
  4. ঐতিহাসিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নওয়াব ফয়জুন্নেসা ১৮৩৪ সালে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন।
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
- 'বান্ধব', 'ঢাকা প্রকাশ', 'মুসলমান বন্ধু', 'সুধাকর', 'ইসলাম প্রচারক' প্রভৃতি বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও নওয়াব ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া 'সঙ্গীতসার' ও 'সঙ্গীতলহরী' নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।
- ১৯০৩ সালে স্বগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয় এবং পারিবারিক গোরস্থানে তিনি সমাহিত হন।
- ২০০৪ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসাকে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৬৪.
'যারা কাজ করে তাদেরই ভুল হতে পারে, যারা কাজ করে না তাদের ভুলও হয় না'- উক্তিটি কে করেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'যারা কাজ করে তাদেরই ভুল হতে পারে, যারা কাজ করে না তাদের ভুলও হয় না।" - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

• অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও।
- আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।
-------------------
• অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে উদ্ধার করা বঙ্গবন্ধুর কিছু অমর বাণী:
- 'অন্ধ কুসংস্কার ও অলৌকিক বিশ্বাসও বাঙালির দুঃখের আর একটি কারণ' (পৃ: ৪৮)।
- 'নেতারা যদি নেতৃত্ব দিতে ভুল করে, জনগণকে তার খেসারত দিতে হয়' (পৃ: ৭৯)।
- 'আমার যদি কোনো ভুল হয় বা অন্যায় করে ফেলি, তা স্বীকার করতে আমার কোনোদিন কষ্ট হয় নাই' (পৃ: ৮০)।
- 'যে দেশের বিচার ও ইনসাফ মিথ্যার উপর নির্ভরশীল সেদেশের মানুষ সত্যিকারের ইনসাফ পেতে পারে কি না সন্দেহ!' (পৃ: ১৯০)।
- 'আমি মানুষকে মানুষ হিসাবেই দেখি। রাজনীতিতে আমার কাছে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিষ্টান বলে কিছু নাই। সকলেই মানুষ' (পৃ: ১৯১)।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৪,৬৬৫.
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ কোনটি?
  1. ভালো মানুষের জগৎ
  2. অন্বেষা
  3. দরজাটা খোলো
  4. বাবুলের বেড়ে ওঠা
ব্যাখ্যা
• প্রাবন্ধিক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত প্রথম প্রবন্ধ 'অন্বেষা'।
- প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে।

--------------------------------
• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:

- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক হিসেবে সর্বসকলের কাছে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- অনতিক্রান্তবৃত্ত,
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ,
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ,
- বাঙালি কাকে বলি,
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে,
- বৃত্তের ভাঙা-গড়া,
- নেতা জনতা ও রাজনীতি,
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি,
- বাঙালীর জাতীয়তাবাদ,
- গণতন্ত্রের সন্ধানে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ।

• তাঁর রচিত ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো।

• তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস:
- বাবুলের বেড়ে ওঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৪,৬৬৬.
'September on Jessore Road' - কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. Craig Sanders
  2. Allen Ginsberg
  3. Mark Godfrey
  4. Syed Shamsul Haque
ব্যাখ্যা
'September on Jessore Road' was written by Allen Ginsberg.

September on Jessore Road
- সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড - বিখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের কবি এলেন গিন্সবার্গ রচিত একটি কবিতা যা থেকে পরে গান করা হয়েছিল।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে যশোর রোডে সীমান্তের ওপারে শরণার্থী শিবির ঘুরে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তা নিয়ে তিনি লিখেন বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’।

- এই কবিতার লাইন সংখ্যা ১৫২ টি। এই দীর্ঘ কবিতার সাথে সুর দিয়ে এটিকে গানে রূপ দিয়েছিলেন তিনি।
- আমেরিকায় ফিরে গিয়ে তার বন্ধু বব ডিলান ও অন্যান্য বিখ্যাত গায়কদের সহায়তায় এই গান গেয়ে কনসার্ট করেছিলেন। এভাবেই বাংলাদেশী শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন গিন্সবার্গ।
- এই কবিতার বাংলা ভাষান্তর করেন খান মোহাম্মদ ফারাবি।     

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো।
৪,৬৬৭.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় — 'নীল-দর্পণ'কে কোন বইয়ের সাথে তুলনা করেন?
  1. Uncle Tom's Cabin
  2. Gulliver's Travels
  3. Oliver Twist
  4. Apple of Discord
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ক) Uncle Tom's Cabin.

Uncle Tom's Cabin — এর সাথে তুলনার কারণ: 
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দীনবন্ধু মিত্রের নাটক ‘নীল-দর্পণ’-কে আমেরিকান লেখিকা — হ্যারিয়েট বিচার স্টো-র উপন্যাস — ‘Uncle Tom's Cabin’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। এই তুলনার কারণ হলো উভয় রচনাই — শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিবাদের শক্তিশালী দলিল। ‘নীল-দর্পণ’ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে নীলচাষীদের উপর নীলকর সাহেবদের অত্যাচার এবং কৃষকদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে, যা নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়। একইভাবে, ‘Uncle Tom's Cabin’ — আমেরিকায় দাসপ্রথার অমানবিকতা এবং ক্রীতদাসদের দুর্দশার বিরুদ্ধে লেখা একটি প্রভাবশালী রচনা, যা আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
----------------
• 'নীল-দর্পণ' — নাটক সম্পর্কিত তথ্য:

বাংলা নাট্যসাহিত্যে দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নাটকটি প্রথম প্রকাশিত হয় — ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে — কস্যচিৎ পথিকস্য ছদ্মনামে।

নাটকটি রচনার প্রেক্ষাপট:
এ নাটকের মূল বিষয়বস্তু ছিলো — সমকালের নীলচাষ, নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ। নাটকটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সমাজে আলোড়ন তোলে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে অনুপ্রাণিত করে।

নাটকটি সম্পর্কে কিছু বিশেষ তথ্য:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নাটকটিকে — Uncle Tom’s Cabin-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- এটি প্রথম বিদেশি ভাষায় অনূদিত বাংলা নাটক।
- ইংরেজি নাম: Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror (১৮৬১)
- অনুবাদক: মাইকেল মধুসূদন দত্ত (A Native)
- প্রকাশক: পাদ্রি জেমস লং (নাটকটি প্রকাশের অভিযোগে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন)।
- ৭ ডিসেম্বর ১৮৭২ সালে সাধারণ রঙ্গালয়-এ নাটকটির অভিনয় শুরু হয়।
----------------

সাহিত্যিক পরিচিত:
দীনবন্ধু মিত্র ছিলেন একজন প্রখ্যাত — নাট্যকার। তিনি জন্মগ্রহণ করেন — ১৮৩০ সালে — পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল — গন্ধর্বনারায়ণ। দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি সাহিত্যচর্চায় মন দেন। কলেজজীবনে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁর অনুপ্রেরণায় কবিতা লেখা শুরু করেন। প্রথম দিকে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয় — সংবাদ প্রভাকর, সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকায়। তবে তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন নাটক ও প্রহসন রচনার মাধ্যমে।

দীনবন্ধু মিত্র সম্পর্কিত কিছু গুরুতপূর্ণ তথ্য:
তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
• শ্রেষ্ঠ নাটক: নীল-দর্পণ।
• তাঁর কাব্যগ্রন্থ- দ্বাদশ কবিতা ও সুরধুনী কাব্য।
• বিয়ে পাগলা বুড়ো ও জামাই বারিক দুটি প্রহসন।

উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ:
- নবীন তপস্বিনী;
- লীলাবতী;
- কমলে কামিনী।

অন্যদিকে,
খ) Gulliver's Travels: জোনাথন সুইফটের এই রচনা একটি ব্যঙ্গাত্মক কাল্পনিক ভ্রমণকাহিনী, যা ‘নীল-দর্পণ’-এর সামাজিক প্রতিবাদের সঙ্গে মেলে না।
গ) Oliver Twist: চার্লস ডিকেন্সের এই উপন্যাস দরিদ্র শিশুদের দুর্দশা ও সামাজিক অবিচার নিয়ে লেখা, কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্র এটির সঙ্গে ‘নীল-দর্পণ’-এর তুলনা করেননি।
ঘ) Apple of Discord: মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'পদ্মাবতী' নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া; ব্রিটানিকা।

৪,৬৬৮.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন নিচের কোন পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. মোসলেম ভারত
  2. দৈনিক আজাদ
  3. সমকাল
  4. উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন
- দৈনিক আজাদের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ।

• আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা সমূহ-
- ১৯২৩-এ সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দৈনিক মোহাম্মদী পত্রিকায়।
- সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।

• আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯১৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পাস করার পর কলকাতার রিপন কলেজে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন।
- কিন্তু ওই সময় (১৯২০-২১) খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে তিনি তাতে যোগ দেন এবং বিএ পরীক্ষা না দিয়ে কলকাতার গৌড়ীয় সুবর্ণ বিদ্যায়তন থেকে উপাধি পরীক্ষা (১৯২১) পাস করেন।

• আবুল কালাম রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশুসাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (অনুবাদ),
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি,
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৬৯.
'আরণ্যক' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. বিষ্ণু দে
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’। 
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৭০.
'রূপাই' কবিতায় পল্লীকবি চাষির ছেলের বাহুকে কিসের সাথে তুলনা করেছেন?
  1. কাঁচা ধানের পাতা
  2. জালি লাউয়ের ডগা
  3. নবীন তৃণের লতা
  4. কচি ধানের চারা
ব্যাখ্যা
• 'রূপাই' কবিতা:
কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' নামক কাহিনিকাব্যের কিছু  অংশ 'রূপাই' কবিতা নামে সংকলিত হয়েছে। এ কবিতায় কবি গ্রামবাংলার প্রকৃতি, কৃষকের রূপ ও কর্মোদ্যোগ অসাধারণ ভাষায় প্রকাশ করেছেন।

গ্রামবাংলার প্রকৃতির মধ্যে কালো ভ্রমর, রঙিন ফুল, কাঁচা ধানের পাতা এবং কচি মুখের মায়াবী কৃষককে প্রায়শই দেখতে পাওয়া যায়। কৃষকের বাহু লাউয়ের কচি ডগার মতো বলে মনে হয়

রোদে পুড়ে কৃষকের শরীরের রং কালো হয়ে যায়। কালো কালি দিয়েই পৃথিবীর সমস্ত কেতাব বা গ্রন্থ লেখা হয়ে থাকে। অর্থাৎ কবির মতে, রাখাল ছেলের কালো রং মোটেই খারাপ কিছু নয়। কালো কৃষকটি আখড়াতে বা জারির গানে যেমন দক্ষ তেমনি সকল কাজে পারদর্শী। তাই কবির দৃষ্টিতে এ কৃষক সবার কাছে দামি বলে গণ্য হয়েছে।

-----------------------
জসীমউদ্‌দীন রচিত উল্লেখযোগ্য:
• কাহিনিকাব্য:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট। 

• কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
-  বালুচর,
- মাটির কান্না।

• নাটক: 
- বেদের মেয়ে। 

• উপন্যাস: বোবা কাহিনী। 

• গানের সংকলন: রঙিলা নায়ের মাঝি।

• তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-

- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা সাহিত্য কণিকা, অষ্টম শ্রেণি। 
৪,৬৭১.
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ কাকে উৎসর্গ করা হয়েছে?
  1. বারীন্দ্রকুমার ঘোষ
  2. চিত্তরঞ্জন দাশ
  3. সুভাষচন্দ্র বসু
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• অগ্নিবীণা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (সেপ্টেম্বর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- প্রথম কবিতা: প্রলয়োল্লাস।
- মোট বারোটি কবিতা আছে।
- উৎসর্গ: বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ।

কবিতার তালিকা:
- প্রলয়োল্লাস;
- বিদ্রোহী;
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা;
- আগমণী;
- ধূমকেতু;
- কামাল পাশা;
- আনোয়ার;
- রণভেরী;
- শাত-ইল-আরব;
- খেয়াপারের তরণী;
- কোরবানী;
- মহররম;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৭২.
'পদ্মার পলিদ্বীপ' কী ধরনের উপন্যাস?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) রোমান্টিক
  3. গ) ঐতিহাসিক
  4. ঘ) আঞ্চলিক
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'। 
- ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। 
- তখন এটির নাম ছিলো 'মুখর মাটি'। 
- 'পদ্মার পলিদ্বীপ' একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- পদ্মা নদীকে বলা হয় কীর্তিনাশা। কারণ চাঁদরায়-কেদাররায়-রাজবল্লভ প্রমুখ বার ভুঁইয়াদের কীর্তি এ নদী ধ্বংশ করেছে। 
- এ উপন্যাসে পদ্মাতীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবনসংগ্রাম মুখ্য। 
- চরিত্র: ফজল, এরফান মাতব্বর, আরশেদ মোল্লা, জরিবা, রূপজান ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৭৩.
'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে একাধারে ১২ বছর দায়িত্ব পালন করেন কোন কবি?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল', 'কালিকলম', 'পরিচয়'- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
• 'কবিতা' বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৭৪.
নিচের কোনটি সানাউল হকের রম্য-রচনা?
  1. ঢাকাই রঙ্গরসিকতা
  2. ময়ূরকণ্ঠী
  3. বন্দর থেকে বন্দরে
  4. গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প
ব্যাখ্যা
• সানাউল হকের রম্য-রচনা - বন্দর থেকে বন্দরে
- এটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- শামসুজ্জামান খানের রম্য-রচনা - ঢাকাই রঙ্গরসিকতা, গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর রম্য-রচনা - ময়ূরকণ্ঠী।

সানাউল হক:
- তিনি ছিলেন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯২৪ সালের ২৩ মে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক ।
- সানাউল হকের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় পারিবারিক আবহে।
- তাঁর মামা মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬) ছিলেন কবি ও লেখক। তাঁর সান্নিধ্য ও উৎসাহে সানাউল হক সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত হন।
- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর চিন্তাভাবনা সানাউল হকের সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত করে। এর প্রতিফলন লক্ষ করা যায় সানাউল হকের কবিতায়, ভ্রমণবৃত্তান্তে, অনুবাদে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে।
- তাঁর কবিতায় প্রেমানুভূতি ও মানবতাবোধ ধ্বণিত হয়েছে। 
- সাহিত্যে অবদানের জন্য সানাউল হক বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, লেখক সঙ্ঘ পুরস্কার, একুশে পদক, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্যা,
- সূর্য অন্যতর, 
- বিচূর্ণ আর্শিতে, 
- পদ্মিনী শঙ্খিনী, 
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশে। 

তাঁর রচিত রম্য-রচনা: 
- বন্দর থেকে বন্দরে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৭৫.
‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  2. বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়
  3. বন্দী শিবির থেকে
  4. নিজ বাসভূমে
ব্যাখ্যা

⇒ ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রহমানের খ্যাটি ও পরিচিতি আগেও কিছুটা ছিল তবে প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করে তাঁর ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থটি।
- শামসুর রহমানের ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে এপ্রিল- ডিসেম্বর, ১৯৭১ সময়ে রঠিত।
- ১৯৭২ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পূর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।
- ৩৮টি কবিতা এগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা, স্বাধীনতা তুমি, মধুস্মৃতি, রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।
- এ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের শহিদদের উদ্দেশে।

⇒ শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়। 
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।

- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৭৬.
বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. কথোপকথন
  2. বত্রিশ সিংহাসন
  3. রাজাবলি
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা

'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থ:
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'। এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাঙালি রচিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম একটানা দীর্ঘ মৌলিক রচনা 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- এই গ্রন্থে রাজা প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে জ্ঞাত কাহিনিগুলেঅ স্থান পেয়েছে।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরিকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত)।
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন।

রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ:
- রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র,
- লিপিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৬৭৭.
'বাবরের প্রার্থনা' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. শঙ্খ ঘােষ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. রফিক আজাদ
  4. দাউদ হায়দার
ব্যাখ্যা
• শঙ্খ ঘোষ
- শঙ্খ ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান কবি।
- সাহিত্য সমালোচক হিসেবেও তিনি বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী।
- একজন রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর কৃতিত্ব রয়েছে।
- তাঁর প্রকৃত নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ, কিন্তু শঙ্খ ঘোষ নামেই তিনি পরিচিত। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
→ দিনগুলি রাতগুলি (১৯৫৬),
→ নিহিত পাতাল ছায়া (১৯৬৭),
→ এখন সময় নয় (১৯৬৭),
→ আদিম লতা গুন্যময় (১৯৭২),
→ মূর্খ বড়ো, সামাজিক নয় (১৯৭৫), 
→ মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে (১৯৮৪),
→ বন্ধুরা মাতি তরজায় (১৯৮৪),
→ বহুল দেবতা বহুল স্বর (১৯৮৬), 
→ বাবরের প্রার্থনা (১৯৭৬)
→ ধুম লেগেছে হৃদ কমলে (১৯৮৭) ইত্যাদি।

- তিনি 'বাবরের প্রার্থনা' নামক কাব্যগ্রন্থের জন্য ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম। 
৪,৬৭৮.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত - কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে। গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতায় আছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' লাইনটি।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কখনো রং কখনো সুর,
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি,
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৭৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের শেষ রচনা কোনটি?
  1. হেক্টরবধ
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. মায়াকানন
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের সর্বশেষ রচনা - 'মায়াকানন'।
- এটি ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা, 
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী, 
- মায়া-কানন। 

তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ ।

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৬৮০.
“ঐ ক্ষেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে”—উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. কুসুমকুমারী দাশ  
ব্যাখ্যা

• “ঐ ক্ষেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে”—উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের।
----------------------------- 
কামাল পাশা 
   - কাজী নজরুল ইসলাম। 
 
“ঐ খেপেছে পাল্লি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোক্সে সামাল সামাল তাই।
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!”
-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন।
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
--------------------------------------------- 
• 'কামাল পাশা' কবিতা নিয়ে কিছু কথা:
- কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতা ‘কামাল পাশা’ তাঁর অন্যতম বীররসাত্মক ও উদ্দীপনামূলক রচনা। এই কবিতাটি তাঁর কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা-এর অন্তর্গত। কবিতাটিতে তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক-এর বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ও বিজয়গাথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মূলভাব হলো পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলা, আত্মত্যাগের মহিমা এবং মহান নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিজয়োল্লাস। এই কবিতার মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম মুক্তি, বিদ্রোহ ও মানবিক মর্যাদার চেতনাকে শক্তিশালী ভাষায় প্রকাশ করেছেন।

উৎস:
'কামাল পাশা' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৪,৬৮১.
"সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
অনলে পুড়িয়া গেল |
অমিয়া-সাগরে সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল ||"
- পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. দ্বিজ চণ্ডীদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
"সুখের লাগিয়া                    এ ঘর বাঁধিনু
              অনলে পুড়িয়া গেল |
অমিয়া-সাগরে                    সিনান করিতে
                সকলি গরল ভেল ||"
-
পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা জ্ঞানদাস।

- চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জ্ঞানদাস।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন। 
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দু'শ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন। তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ। 
- জ্ঞানদাস বাংলা ভাষাকে ভাব প্রকাশের উপযুক্ত বাহন করতে পেরেছিলেন। রচনার মধ্য দিয়ে তিনি শব্দচিত্র ও ধ্বনিচিত্র এ দুয়ের রূপায়ণে কৃতিত্বের পরিচয় দেন। বৈষ্ণবদের মধ্যে তিনিই প্রথম সার্থকভাবে দেহ ও মন, রূপ ও স্বরূপের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করেন। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৮২.
বাংলা ভাষায় চলিতরীতি প্রতিষ্ঠায় কোন পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে?
  1. ধূমকেতু
  2. কল্লোল
  3. সবুজপত্র
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় চলিতরীতি প্রতিষ্ঠায় 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। 
 
• সবুজপত্র পত্রিকা:
- ১৯১৪ সালে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। 
- বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং তের বছর চলে। 
- এই পত্রিকার সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গভীর ভাবে জড়িত ছিলেন।
- এই পত্রিকা রবীন্দ্রনাথের চিন্তা এবং ভাষারীতির আধুনিকতা বিকাশে বিশেষ সহায়ক হয়েছিল।
- সবুজপত্র মাসিক পত্রিকা ছিল এবং এই পত্রিকার সম্পাদনার মাধ্যমে প্রমথ চৌধুরী প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়। 
- এ সাময়িকীতে শুধু সবুজ রং-ই ব্যবহার করা হতো। নন্দলাল বসু অঙ্কিত একটি সবুজ তালপাতা এর প্রচ্ছদে ব্যবহূত হতো। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৮৩.
'নবান্ন' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. নুরুল মোমেন
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

'নবান্ন' নাটক: 
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য:
-তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।  
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৬৮৪.
অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম কী?
  1. ক) কয়েকটি গান
  2. খ) গীতিগুঞ্জ
  3. গ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
  4. ঘ) কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম 'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে। 

অতুলপ্রসাদ সেন (১৮৭১-১৯৩৪) ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন৷
- তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশটি৷ 

- ‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ বিখ্যাত গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
এ গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। গানটির আবেদন আজও অম্লান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৮৫.
'লোক-লোকান্তর' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মাহমুদুল ইসলাম
  2. ফররুখ আহমদ
  3. আল মাহমুদ
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

'লোক-লোকান্তর':
- 'লোক-লোকান্তর' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- আল মাহমুদ
- এটি কবির আত্মপরিচয়মূলক কবিতা।
- কবির উল্লেখযোগ্য সনেটের মধ্যে এটি একটি।

আল মাহমুদ:
- আল মাহমুদ একজন প্রথিতযশা কবি। বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা।
- আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহ তাঁর কবিতার বিশেষ উপাদান।
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া

৪,৬৮৬.
'অভিশপ্ত নগরী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. সত্যেন সেন
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
'অভিশপ্ত নগরী' উপন্যাস:
- বাইবেলের 'বুক অব দ্য প্রফেট: যেরেমিয়া খণ্ড' অবলম্বনে অভিশপ্ত নগরী (১৯৬৭) রচিত।
- বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্যে সত্যেন সেনই প্রথম ব্যক্তিত্ব যিনি বাইবেলের কোনো কাহিনিকে আশ্রয় করে উপন্যাস রচনা করেন।
- বাইবেলের কাহিনিকে আশ্রয় করে রাজতন্ত্র ও পুরোহিততন্ত্রের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং সেই দ্বন্দ্বে মেহনতি মানুষের প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ রূপায়ণে সত্যেন সেন সফল।
- উপন্যাসে যেরেমিয়া, রাজা যিহোয়াকিম, নেবুকাডনাজার প্রমুখ ঐতিহাসিক চরিত্রের উল্লেখ আছে।

সত্যেন সেন রচিত উপন্যাস:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পদচিহ্ন,
- পাপের সন্তান,
- আলবেরুনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৬৮৭.
'ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়' এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসে চিত্রিত হয়েছে?
  1. রাজর্ষি
  2. চার অধ্যায়
  3. বউ ঠাকুরানীর হাট
  4. গোরা
ব্যাখ্যা
'গোরা' উপন্যাস:
- 'গোরা' (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সাল থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই আখ্যান গড়ে উঠেছে। 'গোরা'য় ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয় চিত্রিত হয়েছে।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোরা, পরেশবাবু, সুচরিতা, পানুবাবু, ললিতা, বিনয়, বরদাসুন্দরী, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৬৮৮.
বিদ্যাপতির উপাধি ছিলো কোনটি?
  1. কবিকণ্ঠহার
  2. কবিরঞ্জন
  3. নব কবিশেখর
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন। মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।

- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

•  তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল:
- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৬৮৯.
'তৃণাঙ্কুর' বিভূতিভূষণ রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) ভ্রমণ কাহিনী
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
'তৃণাঙ্কুর' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী- অভিযাত্রিক, বনে-পাহাড়ে, হে অরণ্য কথা কও। ছোটগল্প- মেঘমল্লার, মৌরিফুল, যাত্রাবদল, কিন্নরদল, পুঁইমাচা ইত্যাদি। পথের পাঁচালী, অপরাজিত, দৃষ্টিপ্রদীপ, চাঁদের পাহাড়, আরণ্যক, বিপিনের সংসার, অশনিসংকেত, অনুবর্তন ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,৬৯০.
'সুবচনী' ছদ্মনামে সাহিত্য চর্চা করতেন কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. রাজশেখর বসু
  3. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সুভাষ মুখোপাধ্যায়:
- ১৯১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন।
- সুভাষ মুখোপাধ্যায় একটি বিখ্যাত কবিতা, 'ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত'।
- তিনি 'সুবচনী' ছদ্মনামে সাহিত্য চর্চা করতেন

অন্যদিকে,
- প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত।
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৬৯১.
'কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি' পঙক্তিটি কার?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থঃ
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতাঃ
- আঠারো বছর বয়স (ছাড়পত্র),
- রানার,
- এক যে ছিল,
- হে মহাজীবন (ছাড়পত্র) ইত্যাদি।
''হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥'
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪,৬৯২.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. খােয়াবনামা
  2. কর্ণফুলী
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
‘কর্ণফুলী’ উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- উপন্যাসটির প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।

অন্যদিকে,
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৯৩.
চন্ডীচরণ মুনশী রচিত 'তোতা ইতিহাস'-এর প্রকাশকাল কত?
  1. ক) ১৮০২
  2. খ) ১৮০৩
  3. গ) ১৮০৫
  4. ঘ) ১৮৩৩
ব্যাখ্যা
চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক।
তিনি ১৮০৫ সালে কাদির বখস রচিত ফারসি গ্রন্থ 'তুতিনামা'র বাংলা অনুবাদ করেন 'তোতা ইতিহাস' নামে।

উৎস: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪,৬৯৪.
'বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. সরদার জয়েন উদ্দিন
  3. মাহমুদুল হক
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা

• 'বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ' উপন্যাসের রচয়িতা সরদার জয়েন উদ্দিন।

• সরদার জয়েনউদ্‌দীন:

- সরদার জয়েনউদ্‌দীন মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম।
- প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্‌দীন বিশ্বাস ।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী।
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়ন ঢুলি’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে এবং এর মাধ্যমেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীনের রচনায় গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তিচিন্তার পাশাপাশি সমকালীন সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক ঘটনাবলিও প্রাধান্য পেয়েছে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) এবং কথাসাহিত্যে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৬৯৫.
উইলিয়াম কেরী রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কথোপকথন
  2. খ) হিতোপদেশ
  3. গ) বত্রিশ সিংহাসন
  4. ঘ) লিপিমালা
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: 
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। 
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়াম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

 • উইলিয়াম কেরী: 
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

• অন্যদিকে: 
- হিতোপদেশ, বত্রিশ সিংহাসন - মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচনা। 
- লিপিমালা- রাম রাম বসু রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ) এবং বাংলাপিডিয়া। 
৪,৬৯৬.
'পথের প্যাঁচালী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. মাইকেল মধূসূদন দত্ত
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা

• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের রচয়িতা- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রুর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

এছাড়াও,
'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস।

৪,৬৯৭.
ভারত সরকার কোন লেখককে 'পদ্মভূষণ' উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ভারত সরকার কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৬০ সালে 'পদ্মভূষণ' উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- এছাড়াও তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাগত্তরণী স্বর্ণপদক পান ১৯৪৫ সালে। 
- তাকে 'রবীন্দ্রভারতী' ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি লিট পদক প্রদান করা হয় যথাক্রমে ১৯৬৯ ও ১৯৭৪ সালে। 
- ১৯৭৬ সালে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৬৯৮.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) ঝিলিমিলি
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) ব্যথার দান
  4. ঘ) কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ- অগ্নি-বীণা, ভাঙার গান, সাম্যবাদী, সর্বহারা, ফণি-মনসা, জিঞ্জির, সন্ধ্যা ইত্যাদি। কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস সংখ্যা টি।
যথা- বাঁধন হারা, মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা তাঁর রচিত উপন্যাস। তাঁর রচিত প্রথম নাট্যগ্রন্থ- ঝিলিমিলি। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- পুতুলের বিয়ে, মধুমালা ও আলেয়া। ব্যথার দান কবির রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৪,৬৯৯.
‘বিশ শতকের বাঙালি’ আহমদ শরীফ রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ গবেষণা
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• ‘বিশ শতকের বাঙালি’ আহমদ শরীফ রচিত - প্রবন্ধ গবেষণা।

আহমদ শরীফ:

- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- গবেষণা, প্রবন্ধ ও চিন্তামূলক রচনার জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, দাউদ সাহিত্য পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় একুশে পদক এবং কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি লাভ করেন।
-  ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জীবনাবসান ঘটে, কিন্তু তার আগেই তিনি তাঁর মরদেহ উৎসর্গ করে গিয়েছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালী,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা, 
- স্বদেশ চিন্তা,
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে,
- যুগ যন্ত্রণা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, 
- বাঙালীর চিন্তা-চেতনার বিবর্তন ধারা,
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা
- বিশ্বাসবাদ বিজ্ঞানবাদ যুক্তিবাদ মৌলবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৭০০.
'চার অধ্যায়' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. সামাজিক সমস্যামূলক উপন্যাস
  2. রাজনৈতিক উপন্যাস
  3. রোমান্টিক উপন্যাস
  4. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' (১৯৩৪) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো, 'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে৷
- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত।
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ একদিকে যেমন অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনী।
- সমকালীন বিপ্লবীপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ৷
- 'চার অধ্যায়' এর কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক আছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।