বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৩৭ / ১৭৪ · ৩,৬০১৩,৭০০ / ১৭,৪৩৭

৩,৬০১.
"তোমার মুখের দিকে আজ আর যায় না তাকানো,
বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা।" - পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. শামসুর রাহমান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা' কবিতাটি কবি শামসুর রাহমানের ' নিজ বাসভূমে(১৯৭০)' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা। 
- কবি শামসুর রাহমানের ‘নিজ বাসভূমে’ কাব্যগ্রন্থেটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭০ সালে। 

কবির ভাষায় - 
"তোমাকে উপড়ে নিলে, বলো তবে, কী থাকে আমার?
উনিশশো’ বাহান্নোর দারুণ রক্তিম পুষ্পাঞ্জলি
বুকে নিয়ে আছ সগৌরবে মহীয়সী।
সে-ফুলের একটি পাপড়িও ছিন্ন হলে আমার সত্তার দিকে
কত নোংরা হাতের হিংস্রতা ধেয়ে আসে।
এখন তোমাকে নিয়ে খেঙরার নোংরামি,
এখন তোমাকে ঘিরে খিস্তি-খেউরের পৌষমাস!
তোমার মুখের দিকে আজ আর যায় না তাকানো,
বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা।"

-------------------------
শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬):
কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
- রৌদ্র করোটিতে 
- বিধ্বস্ত নিলীমা
- নিরালোকে দিব্যরথ
- নিজ বাসভূমে 
- বন্দী শিবির থেকে 
- দুঃসময়ে মুখোমুখি
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাটা
- আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে 
- অস্ত্রে আমার বিশ্বাস নেই 
- হোমারের স্বপ্নময় হাত
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় 
- হৃদয়ে আমার পৃথিবীর আলো 
- অন্ধকার থেকে আলোয় 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন ইত্যাদি। 

শিশু কিশোর সাহিত্য
- এলাটিং বেলাটিং 
- ধান ভানলে কুঁরো দেব 
- গোলাপ ফোটে খুকীর হাতে 
- স্মৃতির শহর
- রংধনুর সাঁকো 
- লাল ফুলকির ছড়া
- নয়নার জন্য 
- আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি
- নয়নার জন্য গোলাপ 

উৎস: কবিতার ব্লগ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬০২.
’দেশে বিদেশে’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. ইব্রাহীম খাঁ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা-  সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৬০৩.
‘নদীবক্ষে’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন কবির
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. কাজী কাদের নেওয়াজ 
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা

• 'নদীবক্ষে' উপন্যাস:
- কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস 'নদীবক্ষে'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৮ সালে। এটি যতটুকু উপন্যাস তার চেয়ে বেশি সমাজচিত্র। 
- গ্রামীণ সমাজের কলহ, বিবাদ, দ্বন্দ্ব আবার মিলনের কথা চারটি কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। 
- উপন্যাসের চরিত্র: জমির শেখ, ইরফান মণ্ডল, লালু, মতি প্রমুখ। 

• কাজী আবদুল ওদুদ:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ছিলেন। 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধের সংকলন ‘শাশ্বতবঙ্গ’।
- এটি একটি সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- এটি ১৯৫১ সালে সংকলন করা হয়।
- 'শাশ্বতবঙ্গ’ এর প্রবন্ধগুলো ৬টি ভাগে বিভক্ত করা যায়।

• সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ (১৯৫১),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৩,৬০৪.
বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. মায়া মালঞ্চ
  2. নির্জন স্বাক্ষর
  3. যে আঁধার আলোর অধিক
  4. রেখাচিত্র
ব্যাখ্যা
• 'যে আঁধার আলোর অধিক' বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 

---------------
•  বুদ্ধদেব বসু:

- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬০৫.
আবদুল্লাহ আল-মুতীর প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম?
  1. আবিষ্কারের নেশায়
  2. এ যুগের বিজ্ঞান
  3. এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে
  4. বিজ্ঞান ও মানুষ
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- তিনি ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- তিনি বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত 'বিজ্ঞান বিশ্বকোষ' এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম 'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' (১৯৫৫)।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

 • তার রচিত গ্রন্থ:
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ,
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে,
- তারার দেশের হাতছানি,
- বিজ্ঞানের বিস্ময়,
- শিক্ষা ও বিজ্ঞান,
- নতুন দিগন্ত,
- মহাকাশে কী ঘটছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬০৬.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. চিত্রগুপ্ত
  2. সুনন্দ
  3. সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. নীহারিকা দেবী
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
• 'সুনন্দ' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম।
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬০৭.
‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) নাসির উদ্দিন ইউসুফ
  3. গ) মোরশেদুল ইসলাম
  4. ঘ) তানভীর মোকাম্মেল
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র কখনো আসে নি (১৯৬১)। তাঁর পরিচালিত অন্য চলচ্চিত্রগুলো: সোনার কাজল (১৯৬২), কাঁচের দেয়াল (১৯৬৩), বাহানা (১৯৬৫), বেহুলা (১৯৬৬), আনোয়ারা (১৯৬৭), সঙ্গম (১৯৬৪), জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০) ইত্যাদি।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬০৮.
‘সেই রাতে কল্পকাহিনী’ কবিতাটি কার রচনা?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. শহীদ কাদরী
  3. মহাদেব সাহা
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের রাতকে কল্পনা করে নির্মলেন্দু গুণ রচনা করেছেন বিখ্যাত কবিতা ‘সেই রাতের কল্পকাহিনী’
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার আরো দুটি কবিতা রয়েছে।
যথা -
- স্বাধীনতা- এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো
- আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি
------------------------------

নির্মলেন্দু গুণের কাব্যগুলো হলো :
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই
- না প্রেমিক না বিপ্লবী
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী
- ও বন্ধু আমার
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র
- চাষাভূষার কাব্য
- পৃথিবীজোড়া গান
- দূর হ দুঃশাসন
- ইসক্রা

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা কবিতা।

৩,৬০৯.
নিচের কোন সাহিত্যিক শহীদ বুদ্ধিজীবী?
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. শামসুর রাহমান
  3. সিকান্‌দার আবু জাফর
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লা কায়সার:
-  ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। 
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ। 
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার সাহিত্যকর্মের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬১০.
"যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি"-
 অংশটুকু কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. রামের ইতিবৃত্ত
  2. সদ্ভাব শতক
  3. মোহভোগ
  4. কৈবল্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

- "যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি,-  
অংশটুকু কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার রচিত ‘সদ্ভাব শতক’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

‘সদ্ভাব শতক’:
- "যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি, 
আশু গৃহে তার দেখিবে না আর নিশীথে প্রদীপ ভাতি"। 

- এই বিখ্যাত নীতিমূলক পঙক্তিগুলোর লেখক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- এটি তাঁর ‘সদ্ভাব শতক’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- উক্তিটি মানুষের সঞ্চয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্ব বোঝায়।
- এখানে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ভালো সময়ে (দিনের আলোতে) অতিরিক্ত খরচ করে বা অপচয় করে মোমের বাতি জ্বালায়, সেই ব্যক্তি যখন সত্যিই প্রয়োজন হবে বা রাতের অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালাতে চাইবে, তখন সে করতে পারবে না।
- অর্থাৎ, অতিরিক্ত আনন্দ বা অপচয় ভবিষ্যতে অভাবের কারণ হতে পারে।
- পঙক্তিগুলো মানুষের কৃপণতা, অসাবধানতা এবং সঠিক সময়ে সঞ্চয় করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ছিলেন একজন সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৮৩৪ সালের ১০ জুন খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে একটি বৈদ্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর নীতিমূলক কবিতা ও ‘সদ্ভাব শতক’ গ্রন্থের জন্য পরিচিত।  
- তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনা ‘রামের ইতিবৃত্ত’ ১৮৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এছাড়া, মহাভারতের ‘বাসব-নহুষ-সংবাদ’ অবলম্বনে তিনি ‘মোহভোগ’ গ্রন্থটি রচনা করেন।
- ১৮৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দর্শনবিষয়ক গ্রন্থ ‘কৈবল্যতত্ত্ব'। 
- তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত নাটক ‘রাবণবধ’ তাঁর সাহিত্যকর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- এছাড়া, তাঁর অপ্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় পনেরো।
- ১৯৬১ সালে সালে তিনি ‘ঢাকা প্রকাশ’-পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ১৯০৭ সালের ১৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৩,৬১১.
কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প?
  1. ছুটি
  2. বিলাসী
  3. বিলাসিনী
  4. পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা
বিলাসী:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। 
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে। 
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন। 
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প - ছুটি, পোস্টমাস্টার।
• প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প - বিলাসিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬১২.
কবি আল মাহমুদের 'সোনালী কাবিন' কবিতাটি কোন ধরনের?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. চতুর্দশপদী
ব্যাখ্যা
• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- আল মাহমুদের কবি-প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছিল 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩) কাব্যগ্রন্থটি।
- সোনালী কাবিন কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়। 'সোনালী কাবিনে'র কবিতাগুলো রচিত হয় ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে 'সোনালী কাবিন' নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে চতুর্দশপদী ধারার একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।
- পুরো কাব্যগ্রন্থটিতে বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম গ্রামীণ আবহে উঠে এসেছে।

সোনালী কাবিন
– আল মাহমুদ
সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিনী
যদি নাও, দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দু’টি,
আত্মবিক্রয়ের স্বর্ণ কোনকালে সঞ্চয় করিনি
আহত বিক্ষত করে চারদিকে চতুর ভ্রুকুটি;
ভালোবাসা দাও যদি আমি দেব আমার চুম্ব্ন,
ছলনা জানিনা বলে আর কোন ব্যবসা শিখিনি;
দেহ দিলে দেহ পাবে, দেহের অধিক মূলধন
আমার তো নেই সখি, যেই পণ্যে অলঙ্কার কিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'সোনালী কাবিন' কবিতা।
৩,৬১৩.
"আজি হতে শতবর্ষ পরে কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে আজি হতে শতবর্ষ পরে।"কবিতাংশটুকু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মানসী
  2. চিত্রা
  3. ক্ষণিকা
  4. সোনার তরী
ব্যাখ্যা
• "আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।" - কবিতাংশটুকু 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' রচিত ১৪০০ সাল কবিতার অন্তর্গত।
- কবিতাটি 'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• 'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৩০২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৩৫টি কবিতা রয়েছে।

• গুরুত্বপূর্ণ কবিতা:
- এবার ফিরাও মোরে,
- পুরাতন ভৃত্য,
- দুই বিঘা জমি,
- উর্বশী,
- স্বর্গ হইতে বিদায়,
- বিজয়িনী,
- জীবনদেবতা,
- ১৪০০ সাল,
- সিন্ধুপারে।

১৪০০ সাল
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।
আজি নববসন্তের প্রভাতের আনন্দের
লেশমাত্র ভাগ--
আজিকার কোনো ফুল, বিহঙ্গের কোনো গান,
আজিকার কোনো রক্তরাগ
অনুরাগে সিক্ত করি পারিব না পাঠাইতে
তোমাদের করে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া ও চিত্রা কাব্যগ্রন্থ।
৩,৬১৪.
''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।'' - উক্তিটি কে করেছিলেন?
  1. ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. খ) মুস্তফা মনোয়ার
  3. গ) মুহম্মদ আব্দুল হাই
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।'' - উক্তিটি করেছিলেন মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্৷
তিনি মূলত ভাষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬১৫.
কাজী নজরুল ইসলাম নিচের কোন সাহিত্য কর্মটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছেন?
  1. ক) সঞ্চিতা
  2. খ) বিশের বাঁশি
  3. গ) ব্যথার দান
  4. ঘ) রাজবন্দীর জবানবন্দী
ব্যাখ্যা

- 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বুঝবার জন্য এ সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তাঁর জীবিতাবস্থায় এগুলোকেই তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য সৃষ্টি বলে অনুমোদন করে গেছেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৬১৬.
কোনটি উপন্যাস নয়?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. লালসালু
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- তিনি একজন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালে, ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬১৭.
'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. বিষ্ণু দে
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬১৮.
'ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়
যুদ্ধ আসে ভালোবেসে' —পঙক্তি টি কোন কবিতা থেকে নেয়া?
  1. ক) কোন এক মা'কে
  2. খ) আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  3. গ) সাত নরী হার
  4. ঘ) কমলের চোখ
ব্যাখ্যা

'ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়
যুদ্ধ আসে ভালোবেসে' —পঙক্তি টি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কবিতা থেকে নেয়া৷

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ : পঞ্চাশ দশকের অন্যতম খ্যাতমান কবি।
তার রচিত কাব্যগ্রন্থ :
- সাত নরী হার (১৯৫৫)
- কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০)
- কমলের চোখ (১৯৭৪)
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২),
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩),
- আমার সময় (১৯৮৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১),
- আমার সকল কথা (১৯৯৩),
- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৩,৬১৯.
'কালপেঁচা' কোন লেখক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. বিমল ঘোষ
  2. রাজশেখর বসু
  3. বিনয় ঘোষ
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বিনয় ঘোষ:
- বিনয় ঘোষ ছিলেন সাংবাদিক, সমাজতাত্ত্বিক, লেখক, সাহিত্যসমালোচক, বাংলা ভাষা ও লোকসংস্কৃতির গবেষক।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল 'কালপেঁচা'। ১৯১৭ সালের ১৪ জুন কলকাতায় তাঁর জন্ম, পৈতৃক নিবাস ছিল যশোরে।
- বিনয় ঘোষ ইতিহাস ও রাজনীতিবিষয়ক পর্যালোচনায় বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদে বিশ্বাসী ছিলেন; তাই তাঁর রচনায় মার্কসীয় জীবনদর্শনের অনুশীলন লক্ষ করা যায়।

তাঁর রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ:
- আন্তর্জাতিক রাজনীতি,
- সোভিয়েট সভ্যতা (২ খণ্ড),
- ফ্যাসিজম ও জনযুদ্ধ,
- সোভিয়েট সমাজ ও সংস্কৃতি প্রভৃতি।

তাঁর রচিত গবেষণাগ্রন্থ:
- শিল্প সংস্কৃতি ও সমাজ,
- মেট্রোপলিটন মন,
- বাংলার নবজাগৃতি,
- বিদ্যাসাগর ও বাঙালীসমাজ,
- বিদ্রোহী ডিরোজিও,
- সুতানুটি সমাচার,
- বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা,
- মধ্যবিত্ত বিদ্রোহ,
- বাংলার বিদ্বৎ সমাজ,
- কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত,
- বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সমাজতত্ত্ব প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
------------------
• রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম 'পরশুরাম'।
• বিমল ঘোষের ছদ্মনাম 'মৌমাছি'।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৬২০.
স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফফার চৌধুরী একজন সুপরিচিত বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক। তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' এর রচয়িতা। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন। গাফফার বরিশাল জেলার এক জলবেষ্টিত গ্রাম উলানিয়ার চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
৩,৬২১.
বাংলা সাহিত্যের ‘আধুনিক যুগ’ শুরু হয় কবে?
  1. ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

• আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮০০ সালে শুরু হয় আধুনিক যুগ।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ' কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন হয়। 

• ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৬২২.
অশ্লীলতার অভিযোগে কোন ছোটগল্পটি পাকিস্তান সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিলো?
  1. ল্যাবরেটরি
  2. বিচারক
  3. সত্যের মত বদমাশ
  4. চন্দ্রবিন্দু
ব্যাখ্যা

অশ্লীলতার অভিযোগে আব্দুল মান্নান সৈয়দ এর সত্যের মত বদমাশ ছোটগল্পটি পাকিস্তান সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিলো।

সৈয়দ আবদুল মান্নান:
- সৈয়দ আবদুল মান্নান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সাহিত্যসমালোচক। তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল অশোক সৈয়দ, এবং তাঁর উপাধি ছিল সব্যসাচী লেখক।
- তিনি জীবনানন্দ দাশ ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যের অন্যতম গবেষক ছিলেন। এ ছাড়াও ফররুখ আহমদ, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিষ্ণু দে, সমর সেন, বেগম রোকেয়া, আবদুল গনি হাজারী, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, প্রবোধচন্দ্র সেনসহ আরও বহু সাহিত্যিককে নিয়ে তিনি গভীর গবেষণা করেছেন।

∗ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড;
- পরাবাস্তব কবিতা;
- সংবেদন ও জলতরঙ্গ।

তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প: সত্যের মত বদমাশ- যা প্রকাশের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার সেটিকে অশ্লীলতার অভিযোগে জব্দ করে। 
- ১৯৬৮ সালে বইটি বেরোনোর কিছুদিনের মধ্যেই সরকার এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত ১১৯টি গল্প তার গল্পগুচ্ছে গচ্ছিত আছে।
- রবীন্দ্রনাথের 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি যৌনতা, নারীর ক্ষমতা এবং ঐতিহ্যবাহী ধারণার প্রতি তার ব্যতিক্রমী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য সমালোচিত হয়েছিল। 
- গল্পটিতে নারীচরিত্র বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আগ্রহী এবং নিজের মেধা ও দক্ষতা ব্যবহার করে পুরুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। নারীর এই ভিন্নধর্মী ক্ষমতাবোধ সেই সময়ের প্রচলিত ধারণার বাইরে হওয়ায় সমালোচনার সৃষ্টি করে।

• তাছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “বিচারক” গল্প থেকে তৈরি করা চলচ্চিত্রটি অশ্লীলতার অভিযোগ তোলার পর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

• কাজী নজরুল ইসলামের ‘চন্দ্রবিন্দু’ কাব্যগ্রন্থে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ব্যঙ্গ, শ্লেষ এবং জাতীয়তাবোধ উসকে দেওয়া কবিতা থাকায় ব্রিটিশ সরকার এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- ১৯৩১ সালের ১৪ অক্টোবর গ্রন্থটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- শাসকগোষ্ঠীর মতে, বইটিতে বিদ্রোহী মনোভাব ও জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রচার করা হচ্ছিল বলেই এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৬২৩.
"ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য” কোন কাব্যের উপজীব্য?
  1. দিলরুবা - আব্দুল কাদির 
  2. সাত সাগরের মাঝি - ফররুখ আহমেদ
  3.  নূরনামা - আব্দুল হাকিম
  4. জীবন কথা - জসীম উদদীন
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যের মূল উপজীব্য হলো- ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

---------------------------------
• ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- মূলত মুসুমানদের জাগরণের লক্ষ্যে তিনি এ গ্রন্থের কবিতাগুলো লিখেছেন।
- সেজন্য কবি ত্যাগ করেছেন বঙ্গীয় শব্দ ও অনুষঙ্গ, গ্রহণ করেছেন আরব্য উপন্যাস, ইরান- আরবের সংস্কৃতি ও পুরাণকথা।

- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

------------------------------
• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি'
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৬২৪.
 'তোতা ইতিহাস' এর রচয়িতা কে? 
  1. গোলকনাথ শর্মা
  2. রামরাম বসু
  3. তারিণীচরণ মিত্র
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী 
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালি লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাঙ্গলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক।
- তাঁর রচিত একটি উপাখ্যান 'তোতা ইতিহাস'।
- এটি ফরাসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।
- যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।

​উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬২৫.
'কাব্যকাহিনী' কার লেখা কাব্যগ্রন্থ?
  1. দাউদ হায়দার
  2. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. হুমায়ুন কবির
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

• গোলাম মোস্তফা কবি ও লেখক ছিলেন।
• যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৬২৬.
নাটকে ‘গৈরিশ ছন্দের’ প্রবর্তন করেন কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুন্শী
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. গিরিশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
• বাংলা নাটকের সমৃদ্ধসাধনে গিরিশচন্দ্র ঘোষের (১৮৪৪-১৯১২) অবদান অপরিসীম। যশস্বী অভিনেতা এবং প্রতিভাশালী নাট্যকারের যুগ্নবৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে তিনি পচাঁত্তরখানি সমাপ্ত ও চারখানি অসমাপ্ত নাটক প্রহসন রচনা করেন। এতে বাংলা নাটকের ইতিহাস যথেষ্ট সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে এবং তিনি সে সময়কার সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী ও খ্যাতিসম্পন্ন নাট্যকার হিসেবে গৌরবময় আসন অলঙ্কৃত করতে সক্ষম হন।

• গিরিশচন্দ্রের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল ‘নটগুরু’ হিসেবে।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষের কোন কোন নাটকে তাঁর নিজের প্রবর্তিত ‘গৈরিশ ছন্দের’ ব্যবহার হয়েছে। এতে তিনি যথেষ্ট সার্থকতা অর্জন করেন। অভিনয়ে উপযোগী ভাষাসৃষ্টির উদ্দেশ্য এর পশ্চাতে কার্যকরী ছিল।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষের অনুবর্তী নাট্যকারগণের ওপর এই ছন্দের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তীকালের ভক্তিমূলক পৌরাণিক নাটকের ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য।

তাঁর গৈরিশ ছন্দের নমুনা:
যবে ধনু ধরি করে,
ঘোর সিংহনাদে প্রবেশ করেছি রণে-
যক্ষ রক্ষ গন্ধর্ব কিন্নর আদি চরাচর
কে কবে হয়েছে স্থির?
যদি যায় প্রাণ মাতঃ করগো কল্যাণ
সেই দর্পে সেই শরাসন করে
সেই রণক্ষেত্রে আনন্দ যথায় মম
হইব ধরণীশায়ী অনন্ত শয্যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৬২৭.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'খোয়াবনামা’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু কী?
  1. রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. সিপাহী বিদ্রোহ
  4. তেভাগা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
⇒ 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন , ১৯৪৩ সালের- এর মন্বন্তর, পাকিস্তান  আন্দোলন , সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। 
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’  ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন। 

⇒ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৬২৮.
'মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা' প্রবন্ধের লেখক কে?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা

• 'মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা' প্রবন্ধের লেখক - মোতাহের হোসেন চৌধুরী।
 
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।
 
তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৬২৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর লিখিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. জাহান্নম হতে বিদায়
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 
ব্যাখ্যা

'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।
- এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।
-  উপন্যাসটির প্রকাশকাল ১৯৭৩ সাল

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জাহান্নম হইতে বিদায়'(১৯৭১)-এর রচয়িতা হলেন- শওকত ওসমান।
- সেলিনা হোসেন এর মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে রচিত উপন্যাস - হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৭৬)।
- ' 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'(১৯৭৫) সৈয়দ শামসুল রচিত মুক্তযুদ্ধের কাব্যনাটক।
- এটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৩,৬৩০.
বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. পঞ্চানন কর্মকার
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
•  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৩১.
শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস-
  1. অনেক দিনের আশা
  2. পথ জানা নাই
  3. কাশবনের কন্যা
  4. দুই হৃদয়ের তীর
ব্যাখ্যা
⇒ কাশবনের কন্যা:
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দঃখ দারিদ্র্য থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান ইত্যাদি।

⇒ শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুদ্দীন বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪১), ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ (১৯৪৩) এবং  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (১৯৪৬) পাস করেন।

তাঁর রচনাসমূহ হলো:
গল্পগ্রন্থ: 
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

উপন্যাস: 
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৩২.
'সোনালি কাবিন' একটি -
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ 
  2. খ) নাটক 
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
- 'সোনালি কাবিন' আল মাহমুদের লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা বাংলা সাহিত্যে তাঁর কবি প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছিল । 
- ১৯৭৩ সালে এটি প্রকাশিত হয় 
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সাথে সোনালি কাবিন নামে ১৪ সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতা ও অন্তর্ভুক্ত ।
- কাব্যগ্রন্থটিতে  বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম গ্রামীন আবহে উঠে এসেছে। 

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ - 
- লোক লোকান্তর
- কালের কলস
- বখতিয়ারের ঘোড়া
- পাখির কাছে , ফুলের কাছ 
- প্রেমের কবিতা , ইত্যাদি।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৩৩.
মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ-রাশি
থাপড়েতে নিবিয়ে গেছে দারুণ অভাব আসি। - এই কবিতাংশের কবি কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. ফররুখ আহমদ
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ-রাশি
থাপড়েতে নিবিয়ে গেছে দারুণ অভাব আসি। - এই কবিতাংশের কবি জসীম উদ্‌দীন। কবিতাংশটি 'আসমানী' কবিতার অন্তর্গত। কবিতাটি 'এক পয়সার বাঁশী' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, আসমানী কবিতা।
৩,৬৩৪.
শওকত আলীর ত্রয়ী উপন্যাস 'দক্ষিণায়নের দিনে'র শেষখণ্ড কোনটি?
  1. ক) দক্ষিণায়ণের দিন
  2. খ) কুলায় কালস্রোত
  3. গ) পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  4. ঘ) পিঙ্গল আকাশ
ব্যাখ্যা
'দক্ষিণায়নের দিন' প্রখ্যাত বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক শওকত আলী রচিত একটি সমকালীন উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকশিত হয়।
- একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের উত্থান, পতন, সংগ্রাম, ভালোবাসার সমন্বয়ে বহুস্তর জীবনের পূর্ণ রূপ তুলে ধরা হয়েছে। 
উপন্যাসের তিনিটি খণ্ড: 
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত এবং
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন 

- তিনটি উপন্যাসেই পাত্র পাত্রী একই হওয়ায় প্রকাশক এই ত্রয়ী উপন্যাসকে একত্রে দক্ষিণায়নের দিন নামে প্রকাশ করেন।

উৎস: দক্ষিণায়নের দিন, শওকত আলী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৩৫.
বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের ভাবানুবাদ করেন -
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. ঘ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
মোতাহের হোসেন চৌধুরী

মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩ - ১৯৫৬) একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখক ছিলেন। নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মোতাহের হোসেন চৌধুরী বাঙালী মুসলমান সমাজের অগ্রগতির আন্দোলন হিসেবে পরিচিত "বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন" এর সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। এর নানা সভা ও সম্মেলনে তিনি অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন প্রবন্ধ পাঠ করেন। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮) 
- সভ্যতা (১৯৬৫): ক্লাইভ বেলের Civilization গ্রন্থের ভাবানুবাদ।
- সুখ (১৯৬৫): বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের ভাবানুবাদ

প্রবন্ধ:
- জীবন ও বৃক্ষ (সংস্কৃতি কথা)
- শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব (সংস্কৃতি কথা)
- আমাদের দৈন্য (১৯৩১)
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী (১৯৩২)
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা (১৯৩৪)
- রবীন্দ্রনাথ ও বৈরাগ্যবিলাস (১৯৩১): মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র শিখার পঞ্চম বর্ষে ১৯৩১ সালে এটি প্রকাশিত হয়।


তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,৬৩৬.
কোনটি রাধাকৃষ্ণ প্রেম বিষয়ক রচনা?
  1. বীরঙ্গনা
  2. ব্রজঙ্গনা
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
'ব্রজঙ্গনা'  মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম বিষয়ক  গীতিকাব্য।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 

- মহাকবি, নাট্যকার, মধুসূদন বাংলা সাহিত্যের তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার জনক ও পথ নির্মাতা।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকবি।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রহসন রচয়িতা।
- ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন বাংলার এই মহা কবি কপর্দকহীন অবস্থায় জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (রাধা-কৃষ্ণ প্রেম বিষয়ক),
- মেঘনাদবধ কাব্য (মহাকাব্য),
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (সনেট)।

•তাঁর রচিত মহাকাব্য:
মেঘনাদবধ কাব্য।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী,
 - মায়াকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৬৩৭.
'সূর্যগ্রহণ' গল্পটি কে রচনা করেছেন?
  1. আবু ইসহাক
  2. জহির রায়হান
  3. শওকত ওসমান
  4. হুমায়ুন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হানের প্রথম গল্পগ্রন্থ- 'সূর্যগ্রহণ'।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়।

• জহির রায়হান: 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়। 

জহির রায়হানের উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৩৮.
’রূপজালাল’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. সুফিয়া কামাল
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- তিনি একজন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরি ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দু খানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৩৯.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) সংকর সংকীর্তন
  2. খ) পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. গ) দেয়াল
  4. ঘ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয়- 'দেয়াল'।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৪০.
রঙ্গপুর বার্তাবহ প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮৪৭ সালে
  2. খ) ১৯৪৭ সালে
  3. গ) ১৯৫২ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৪ সালে
ব্যাখ্যা
রঙ্গপুর বার্তাবহ  পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত সর্বপ্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- রংপুরের কুনডি পরগণার জমিদার কালীচন্দ্র রায়ের আর্থিক আনুকূল্যে ১৮৪৭ সালের আগস্ট মাসে (বাংলা ভাদ্র, ১২৫৪) পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ১৮৫৪ সাল পর্যন্ত তেমন কোন উল্লেখযোগ্য বিরতি ছাড়াই এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন গুরুচরণ শর্মা রায়।
- প্রাথমিক পর্যায়ে পত্রিকাটি ছিল সরকারঘেঁষা এবং ভূস্বামীদের প্রশংসা করা ছিল এর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
- পরবর্তীকালে পত্রিকাটি বিদেশী শাসন এবং জনগণের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সমালোচনামুখর হয়ে ওঠে।
- ১৮৫৭ সালে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৪১.
ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ অনুকরণে কাব্য রচনা করেন কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সোমেন চন্দ
  3. সত্যেন সেন
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৪২.
"সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালি ক’রে, মানুষ কর নি।"
চরণদুটি কোন কবিতা থেকে সংকলিত?
  1. সভ্যতার প্রতি
  2. তপোবন
  3. বঙ্গমাতা  
  4. অজ্ঞাত বিশ্ব
ব্যাখ্যা
সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালি ক’রে, মানুষ কর নি। - চরণদুটি বঙ্গমাতা কবিতা থেকে সংকলিত।

- বঙ্গমাতা হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা কবিতা।
- এটি তার চৈতালি কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এতে সর্বমোট ৭৮টি কবিতা রয়েছে।

বঙ্গমাতা- কবিতাংশ,

পুণ্যে পাপে দুঃখে সুখে পতনে উত্থানে
মানুষ হইতে দাও তোমার সন্তানে
হে স্নেহার্ত বঙ্গভূমি, তব গৃহক্রোড়ে
চিরশিশু করে আর রাখিয়ো না ধরে।
দেশদেশান্তর-মাঝে যার যেথা স্থান
খুঁজিয়া লইতে দাও করিয়া সন্ধান।
পদে পদে ছোটো ছোটো নিষেধের ডোরে
বেঁধে বেঁধে রাখিয়ো না ভালোছেলে করে।
প্রাণ দিয়ে, দুঃখ স'য়ে, আপনার হাতে
সংগ্রাম করিতে দাও ভালোমন্দ-সাথে।
শীর্ণ শান্ত সাধু তব পুত্রদের ধরে
দাও সবে গৃহছাড়া লক্ষ্মীছাড়া ক'রে।
সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালী করে, মানুষ কর নি।

তথ্যসূত্র:

১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) চৈতালি কাব্য।
৩,৬৪৩.
মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনি অবলম্বনে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. হেক্টরবধ কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- কাব্যটি মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বনে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৮৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

--------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• 'হেক্টরবধ' হোমারের 'ইলিয়াড' এর বঙ্গানুবাদ মূলক কাব্য (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৪৪.
বুদ্ধদেব বসু জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় কোন পত্রিকা প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
  1. চতুরঙ্গ
  2. কবিতা
  3. প্রগতি
  4. বাসন্তিকা
ব্যাখ্যা
⇒ বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তার সম্পাদনায় ‘বাসন্তিকা’ পত্রিকা প্রকাশিত হতো যা এখনো প্রকাশিত হয়। 
- তিনি প্রগতি (১৯২৭-২৯) ও কবিতা (১৩৪২-৪৭) নামে আরো দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- এছাড়া তিনি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বিখ্যাত ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘চতুরঙ্গ’ ও সম্পাদনা করতেন।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৪৫.
বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সেক শুভোদয়া
  2. খ) মঙ্গল সমাচার
  3. গ) মিলন (মিশন) সমাচার
  4. ঘ) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলা গদ্যের অনুশীলনের ক্ষেত্রে প্রথম সার্থকতা লক্ষ করা যায় খ্রিষ্টান মিশনারিদের প্রচেষ্টার মধ্যে। শ্রীরামপুরের মিশনারিদের প্রচেষ্টার সার্থকতার নিদর্শনস্বরূপ ১৮০০ সালে বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টের Gospel of St. Mathews অংশের অনুবাদ ‘মঙ্গল সমাচার’ মথীয়ের রচিত গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। কলকাতায় চার্লস উইকিন্সের নির্দেশানুযায়ী পঞ্চানন কর্মকার মুদ্রণোপযোগী বাংলা অক্ষর তৈরি করেছিলেন বাইবেলের অনুবাদ ‘মঙ্গল সমাচার’ মুদ্রণে তা ব্যবহৃত হয়। এই ভাষার মধ্যেই বাংলা গদ্যের ভবিষ্যৎ মুক্তির সম্ভাবনা নিহিত ছিল।
 
অন্যদিকে,
⇒ ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এর লিপি ছিল রোমান।

• আর কথোপকথন বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ।

[ ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি  বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য হলেও এর ভাষা/লিপি ছিল রোমান। এতএব প্রশ্নে চাওয়া বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ হিসেবে অপশন খ ‘মঙ্গল সমাচার’ অধিক গ্রহণযোগ্য।
----------------
১৭৭৮ সালে চুঁচুড়ায় বাংলা মুদ্রণের সূচনা হয়। এর ২২ বছর পরে শ্রীরামপুরে শুরু হয় মুদ্রণ।
১৮০০ সালের ১৩ জানুয়ারি কেরী তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলে শ্রীরামপুর মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। মার্চ মাসে ওয়ার্ডের নেতৃত্বে ছাপাখানার কাজ শুরু হয়।
প্রথমদিকে ওয়ার্ড নিজের হাতেই কম্পোজ করতেন। এভাবে আগস্ট মাসের মধ্যেই নিউটেস্টামেন্টের সেন্টম্যাথুজ ছাপা হয়। মথীয়ের রচনায় মঙ্গল সমাচার নামে এটি প্রকাশ করা হয়। এটি বাংলা হরফে মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৬৪৬.
রামনারায়ণ তর্করত্ন ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করে কোন নাটকটি রচনা করে?
  1. ক) শকুন্তলা
  2. খ) মালতীমাধব
  3. গ) কুলীনকুলসর্বস্ব
  4. ঘ) রত্নাবলী
ব্যাখ্যা
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা
- মালতীমাধব
- রত্নাবলী

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৬৪৭.
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন রচিত ‘মতিচুর’ গ্রন্থটি কত খণ্ডে রচিত?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

'মতিচুর' রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
গ্রন্থটি দুইখণ্ডে রচিত।
প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯০৪ সালে। দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে। 
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে,
-আবরোধবাসীনি
-পদ্মরাগ-
-Sultana's Dream ইত্যাদি। 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৪৮.
"ঠকচাচা" কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পুতুল নাচের ইতিকথা
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
  4. হাজার বছর ধরে
ব্যাখ্যা

ঠকচাচা আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসের একটি চরিত্র। 

আলালের ঘরের দুলাল:
- 'আলালের ঘরের দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- প্রকাশ: ১৮৫৮ সালে।
- উপন্যাসে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখকের অভিমত প্রকাশ পেয়েছে।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গের কারণে শিক্ষার অবহেলায় অধঃপতনে পড়ে।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সম্পত্তি নষ্ট করে।
- সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- অন্যান্য চরিত্র: বাবুরাম, মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- জন্ম: ২২ জুলাই ১৮১৪, কলকাতা।
- পেশা: লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- সাহিত্যিক ছদ্মনাম: টেকচাঁদ ঠাকুর
- শিক্ষা: ১৮২৭ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি, হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে শিক্ষা।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ।
- মৃত্যু: ২৩ নভেম্বর ১৮৮৩।

অন্যদিকে, 
ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস হচ্ছে পুতুল নাচের ইতিকথা। 
- এর চরিত্রগুলো হলো: শশী, কুমুদ। 

গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প হচ্ছে খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন। 
- এর প্রধান চরিত্র হলো: রাইচরণ। 

ঘ) জহির রায়হান  রচিত উপন্যাস হচ্ছে হাজার বছর ধরে। 
- এর চরিত্রগুলো হলো: টুনি, মন্ত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৪৯.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- 
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. দুই সৈনিক
  3. জলাঙ্গী 
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 
- কর্মজীবনের প্রাথমিক সময়ে স্বল্পকাল তিনি কৃষক পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ মে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:  
- জাহান্নম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- জলাঙ্গী; 
- নেকড়ে অরণ্য।
--------------------------------------------- 
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসসমূহ নিয়ে কিছু তথ্য: 

- ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’: 
- ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা।
- এবং ১৯৭১ সালেই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি, নৈতিক দিক এবং সেই সময়ের সামাজিক ও মানবিক সংকটকে তুলে ধরে।

- ‘দুই সৈনিক’:
- শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘দুই সৈনিক’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- ধানশীষ প্রকাশনী থেকে, স্বাধীনতা দিবসে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- শওকত ওসমান ‘দুই সৈনিক’ উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতা ও সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব, বিশেষ করে নারী নির্যাতনের মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরেছেন। 

- ‘জলাঙ্গী’:
- শওকত ওসমানের ‘জলাঙ্গী’ উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাঁকাজল গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবন, মানসিক টানাপোড়েন, ও হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ চিত্রিত হয়েছে।

উৎস:
সংশ্লিষ্ট উপন্যাসসমূহ; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৫০.
'আসাদের শার্ট' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. রণেশ দাশ গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• আসাদের শার্ট:
- শহীদ আসাদ স্মরণে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন কালজয়ী কবিতা ‘আসাদের শার্ট’।
- ১৯৬৯ সালের ২০জানুয়ারি শামসুর রাহমান রচনা করেন ‘আসাদের শাট’র্ কবিতাটি।
- তাঁর লেখা ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটির পিছনে রয়েছে পুলিশের গুলিতে নিহত আসাদের শার্ট উঁচুতে তুলে ধরে প্রতিবাদী এক বিশাল মিছিলের মুখোমুখি হওয়া কবির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।

তাতে কবি লিখেছিলেন -
''আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।’'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া ও শামসুর রাহমানের কবিতা সংকলন।
৩,৬৫১.
"মনোরমা" রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. ক) মহামায়া
  2. খ) নিশীথে
  3. গ) সমাপ্তি
  4. ঘ) ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
"মনোরমা" চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "নিশীথে" ছোটগল্পের একটি চরিত্র।
জমিদার দক্ষিণাচরণবাবুর সংক্ষিপ্ত জীবন কাহিনির একটা চমৎকার রূপ নির্মাণ দেখা যায় 'নিশীথে' গল্পের কাহিনি বিন্যাসে।
'মনোরমা' ছিলেন দক্ষিণাচরণবাবুর দ্বিতীয় স্ত্রী ও হারান ডাক্তারের কন্যা।

দক্ষিণাচরণবাবুর প্রথম স্ত্রী যখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তখন হারান ডাক্তার তার চিকিৎসা করছিলেন।
এক পর্যায়ে যখন সবাই বুঝেছিল যে তার ব্যামো আর সেরে উঠবে না তখন তিনি স্বামীকে বলেছিলেন -
“যখন ব্যামোও সারিবে না এবং শীঘ্র আমার মরিবার আশাও নাই, তখন আর-কতদিন এই জীবন্মৃতকে লইয়া কাটাইবে। তুমি আর-একটা বিবাহ করো।”

এই কথার প্রতিউত্তরে দক্ষিণাচরণবাবু বলেছিলেন, "যতদিন এই দেহে জীবন আছে, এ জীবনে আর কাহাকেও ভালোবাসিতে পারিব না।" 

কিন্তু স্ত্রীর মৃত্যুর কিছু দিনের মধ্যে দক্ষিণাচরণবাবু হারান ডাক্তারের কন্যা মনোরমাকে বিবাহ করেন।
মনোরমার সাথে প্রেমালাপকালে যখন তিনি বলেছিলেন “মনোরমা, তুমি আমাকে বিশ্বাস কর না, কিন্তু তোমাকে আমি ভালোবাসি। তোমাকে আমি কোনোকালে ভুলিতে পারিব না।”
কথাটা বলামাত্র তার মনে পড়ে, ঠিক এই কথাটা আর-একদিন আর-কাউকেও তিনি বলেছিলেন। প্রথমা স্ত্রীর সংলাপ আর অতীত স্মৃতিচারণ মনোরমার সাথে তার দাম্পত্য জীবনকে বিষিয়ে তোলে। তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ ও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

উৎস: নিশীথে ছোটগল্প, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
------------

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংলা ছোট গল্পের জনক বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্পগুলি ‘গল্পগুচ্ছ’ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
- বীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প - ভিখারিনী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প - দেনাপাওনা। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক উল্লেখযোগ্য চারটি ছোটগল্প হলো:
- দেনাপাওনা 
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা 
- যজ্ঞেশ্বর যজ্ঞ
- অনধিকার প্রবেশ 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিপ্রাকৃত গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- কঙ্কাল,
- নিশীথে ও
- মণিহারা।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৩,৬৫২.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস কোনটি?
  1. একাত্তরের দিনগুলি
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. অনীল বাগচীর একদিন
  4. যে অরণ্যে আলো নেই
ব্যাখ্যা
• 'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে, তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
গল্পের মূল চরিত্র হচ্ছে অনিল বাগচী। পিতা সুরেশ বাগচী ও বোন অতশীকে ছেড়ে সে চাকরিজীবী হিসেবে ঢাকার এক মেচে থাকে। ২৪ বছরের একজন যুবক হওয়া সত্ত্বেও সে অসম্ভব ভীতু ধরনের একটি ছেলে। ভয় পাওয়ার বেশিরভাগ ঘটনাই অহেতুক। যেমন, ঘরে একা থাকা অবস্থায় দরজায় সাধারণ টোকা পড়লেও তার ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। মেচের এক প্রতিবেশী গফুর সাহেবের নিকট হঠাৎ একদিন রুপেশ্বর থেকে একটি খোলা চিঠি আসে। সেই চিঠিতে অনিল বাগচীর জন্যে অপেক্ষা করছিল ভয়াবহ একটি দুঃসংবাদ। গফুর সাহেব পরদিন অনিল বাগচীকে সেই দুঃসংবাদ জানালে হঠাৎ করেই অনিল সাহসী হয়ে উঠে। পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে। পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে। অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন।

অন্যদিকে, 
• জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
• “যে অরণ্যে আলো নেই” ড. নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি নাটক (১৯৭৪)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৫৩.
বাংলা সাধু ভাষার জনক কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. হরলাল রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষা  বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
- বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন বিদ্যাসাগর। 
- এর আগে তা ছিলো প্রস্তরবৎ। 
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিন্যাস ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। 
- বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন এবং বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করে সেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন। 
- বিদ্যাসাগরের পরিকল্পিত সাধুভাষা তাই পরবর্তীকালে আদর্শ সাধুভাষা রূপে গৃহীত হয়। 
- তাই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সাধু ভাষার জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৫৪.
নিচের কোন চরিত্রে শরৎচন্দ্রের ছায়াপাত ঘটেছে?
  1. দত্তা
  2. রমেশ
  3. মহেশ
  4. ন্যাড়া
ব্যাখ্যা
• ‘বিলাসী’ ছোটগল্প:
- ‘বিলাসী’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি ছোটগল্প।
- ‘বিলাসী’ গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচরণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে। গল্পের ন্যাড়া চরিত্র আসলে লেখক নিজেই।
- এই গল্পে ন্যাড়া চরিত্রের শধ্যে শরৎচন্দ্রের নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।

--------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে।
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৫৫.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত বাংলা ভাষায় প্রথম মৌলিক গদ্য কোনটি?
  1. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  2. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. অতি অল্প হইল
  4. বর্ণপরিচয়
ব্যাখ্যা

‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য। এটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়।
বিদ্যাসাগরের মৌলিক গদ্যগুলো হলো :
- অতি অল্প হইল
- আবার অতি অল্প হইল
- ব্রজবিলাস
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা
- রত্ন পরীক্ষা
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৬৫৬.
‘আনোয়ারা’ - চরিত্রটি কোন লেখকের সৃষ্টি?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. মোজাম্মেল হক
  3. বেগম রোকেয়া
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
'আনোয়ারা':
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়য়।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- উপন্যাসের চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লাহ, গোলাপজান ইত্যাদি। 

মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।

লেখকের অন্যান্য রচনা: 
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৫৭.
'কাটাকুঞ্জে বসি তুই গাঁথিবি মালিকা
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টীকা'
-এই উদ্ধৃতাংশটি কোন কবির রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. বেনজীর আহমেদ
ব্যাখ্যা
'কাটা-কুঞ্জে বসি' তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তাের বেদনার টীকা।'- পঙ্‌ক্তিটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

• ‘সিন্ধু হিন্দোল’ কাব্যগ্রন্থ:

- 'দারিদ্র' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘সিন্ধু হিন্দোল’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘সিন্ধু হিন্দোল’ কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে এই কাব্যগ্রন্থে।

------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘মুক্তি’।
- 'মুক্তি' কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ‘অগ্নি-বীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- কাজী নজরুলের রচিত প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা’।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম তুর্কিমহিলার ঘোমটা খোলা।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক - ঝিলিমিলি।

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশী,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- নতুন চাঁদ,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৫৮.
'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহীম
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন 
  3. মমতাজউদ্দীন আহমদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির রচয়িতা মমতাজউদ্দীন আহমদ।
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, হারানোর বেদনার মূর্তি নির্মাণ করেছেন। আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।
-মুক্তিযুদ্ধকালীন নারী নির্যাতনের গল্প নিয়ে রচিত এই নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র "রৌশনারা"।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ-
মতাজউদ্দীন আহমেদের 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একাত্তরে পাকসেনা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার রৌশনারাকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের সাথে সাথে পাকিস্তানিদের বাংকার থেকে মুক্ত হয়ে রৌশনারা ঘরে ফিরে আসেন। রৌশনারার এই প্রত্যাবর্তনে পরিবারের সবাই আপাত খুশি হলেও তার পিছনে ছিল তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার লোভ।
রৌশনারার জীবনের বিষাদময় আখ্যানকে পুঁজি করে তার স্বামী-শ্বশুর সবাই সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপত্তি লাভ করেছে। স্বার্থসিদ্ধির পর রৌশনারার স্বামী-শ্বশুর অচিরেই শুরু করে তার গর্ভের সন্তান 'লালন' কে নিয়ে সন্দেহ। ৬ বছরের শিশু সন্তান লালনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রৌশনারার স্বামী। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য রৌশনারাকে মানসিক হাসপাতালে পাগল চিহ্নিত করে ভর্তি করিয়ে দেন তার শ্বশুর জনাব আলী সাহেব (৬০)।

উৎস: 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক মমতাজউদ্দীন আহমেদ এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৫৯.
"আমারে নিবা মাঝি লগে?"- উক্তিটি কোন উপন্যাসের?
  1. ক) কপালকুণ্ডলা
  2. খ) লাল সালু
  3. গ) পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. ঘ) পদ্মা নদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর- জীবন এর মূল কাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিঞা ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক' তাঁর ডাকনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং পদ্মানদীর মাঝি ।
৩,৬৬০.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস কোনটি?
  1. আরণ্যক
  2. ইছামতী
  3. পথের পাঁচালী
  4. অশনি সংকেত
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস: পথের পাঁচালী। 
---------------------- 
• পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো- 
- অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, সর্বজয়া।
---------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
 
৩,৬৬১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. বিজ্ঞান রহস্য
  2. বিশ্বপরিচয়
  3. বিজ্ঞান পরিচয়
  4. বিশ্বকোষ
ব্যাখ্যা
• বিশ্বপরিচয়:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়' (১৯৩৭)।
- মূলত কিশোর-কিশোরীদের জন্য রচিত হলেও বয়স্কদের উপভোগ্য।
- এখানে রবীন্দ্রনাথ বহু পরিভাষা প্রস্তুত করেন এবং বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের উপযোগী ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।

উল্লেখ্য,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ - শব্দতত্ত্ব (১৯০৯)।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ও চিঠিপত্র:
- জীবনস্মৃতি, 
- চরিত্রপূজা , 
- ছেলেবেলা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৬২.
"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।" গানটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯৫২
  2. খ) ১৯৫৩
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫৫
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরনে রচিত গান:
"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।"
- গানটির রচয়িতা - আবদুল গাফ্ফা‌র চৌধুরী  
- গানটির প্রথম সুরকার - আবদুল লতিফ 
- গানটির পরিবর্তিত সুরকার - আলতাফ মাহমুদ।

- গানটি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' (১৯৫৩) সংকলনে প্রথম প্রকাশিত হয়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৬৩.
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।' উক্তিটি কার?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) দৌলত কাজী
  3. গ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা

• মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য।
• এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।<b
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত কিছু পঙক্তি হলো:
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৬৬৪.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত "মরুভাস্কর" কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. গল্প
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

মরুভাস্কর:
- কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি - কাব্যগ্রন্থ
- এটি হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনী - কাব্য।
- এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে।
- হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনী নিয়ে চারটি সর্গ। এবং ১৮ টি খণ্ড-কবিতা স্থান পেয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৬৫.
‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. সুবোধ ঘোষ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

অন্যদিকে
- ‘সুবোধ ঘোষ’ এর ছদ্মনাম - কালপুরুষ।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৬৬.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  2. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. জোশুয়া মার্শম্যান
ব্যাখ্যা

হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা  ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৬৬৭.
'মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।'- উক্তিটি কোন রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. সাজাহান
  2. কবর 
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. নুরলদীনের সারাজীবন
ব্যাখ্যা

• 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত। রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।

- 'মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়-এর লেখা ১৯০৯ সালে প্রকাশিত একটি ঐতিহাসিক নাটক হলো 'সাজাহান'।

• ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'। নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়। নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• 'নুরলদীনের সারাজীবন' একটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক নাটক, যা লিখেছেন প্রখ্যাত বাঙালি নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৩,৬৬৮.
প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. কালিকলম
  2. স্বদেশ
  3. ভারতী
  4. মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

অন্যদিকে,
- ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকার নাম - 'স্বদেশ'।
- মাসিক পত্রিকা প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,৬৬৯.
'ফুড কনফারেন্স' গ্রন্থে কোন পটভূমির চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. ১৯৪৬ এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা 
  2. রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ 
  3. পঞ্চাশের মন্বন্তর
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'ফুড কনফারেন্স' গল্পগ্রন্থ:
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪) একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে ১৩৫০ সালের (পঞ্চাশের মন্বন্তর) দুর্ভিক্ষের বাস্তব করুণ চিত্র বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আকার চেষ্টা করেছেন।
- এই গ্রন্থে মোট ৯টি গল্প রয়েছে।

-----------------------
• আবুল মনসুর আহমেদ:
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

• গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা।

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ
- অন্যান্য রচনা
- বাংলাদেশের কালচার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৭০.
'সেই ধন্য নরকুলে, লোকে যারে নাহি ভুলে' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
'সেই ধন্য নরকুলে, লোকে যারে নাহি ভুলে' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা = মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- এটি তাঁর 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

বঙ্গভূমির প্রতি

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

রেখো মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে
সাধিতে মনের সাধ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
প্রবাসে দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে, - খেদ নাহি তাহে।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?
কিন্তু যদি রাখ মনে,
নাহি, মা, ডরি শমনে;
মক্ষিকাও গলে না গো, পড়িলে অমৃত-হ্রদে!
সেই ধন্য নরকুলে,
লোকে যারে নাহি ভুলে,
মনের মন্দিরে সদা সেবে সর্ব্বজন; -
কিন্তু কোন্ গুণ আছে,
যাচিব যে তব কাছে,
হেন অমরতা আমি, কহ, গো, শ্যামা জন্মদে!

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
৩,৬৭১.
মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র ছিল কোন পত্রিকা?
  1. সাপ্তাহিক জয় বাংলা
  2. বাংলার সৈনিক
  3. বাংলাদেশের হৃদয় হতে
  4. সাপ্তাহিক সৈনিক
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র ছিল 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'।
- এর সম্পাদক ছিলেন আব্দুল মান্নান।
- তমদ্দুন মজলিসের মুখপত্র ছিল 'সাপ্তাহিক সৈনিক'।
- ছায়ানটের মুখপত্র ছিল 'বাংলাদেশের হৃদয় হতে'।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৭২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত নাটক- 
  1. ডাকঘর 
  2. বাল্মীকি প্রতিভা
  3. অচলায়তন 
  4. রক্তকরবী 
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি অবলম্বনে গ্রন্থ Song offerings এর জন্য নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪০ সালে তাকে অক্সফোর্ড থেকে ডি. লিট উপাধি দেয়া হয়।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'হিন্দুমেলার উপহার'।
- প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী।
- প্রথম প্রকাশিত নাটক 'বাল্মীকি প্রতিভা'।
- প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'বৌ ঠাকুরাণীর হাট'।
- প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'।
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'বিবিধ প্রসঙ্গ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৭৩.
“বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি” - কাজী নজরুল ইসলামের এ কবিতায় 'গুবাক' শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) খেজুর
  2. খ) সুপারি
  3. গ) নারিকেল
  4. ঘ) ঝাউ
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত চক্রবাক কাব্যগ্রন্থের অন্যতম কবিতা “বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি” ।
- এখানে গুবাক অর্থ সুপারি।
- এটি একটি প্রেমের কাব্য ।
নজরুল রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে - অগ্নিবীণা (কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ), সঞ্চিতা, মরুভাস্কর, চিত্তনামা, ছায়ানট, বিষের বাশী, সন্ধ্যা, দোলন চাপা, জিন্জির, চক্রবাক, প্রলয়শিখা, ফণিমনসা, সর্বহারা, সিন্ধু হিন্দোল, ভাঙ্গার গান, ঝিঙে ফুল, সাম্যবাদী।

গুবাক, গূবাক (বিশেষ্য):
১. সুপারি (বিশ্বাসে গুবাক পান খান তার হাতে-ঘনরাম চক্রবর্তী)।
২. সুপারি গাছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর) ও বাংলা একাডেমি অভিধান।

৩,৬৭৪.
নিম্নোক্ত কোন উপন্যাসে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধোত্তর সময়ের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. দেবেশ রায়ের 'তিস্তাপাড়ের বৃত্তান্ত'
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'পূর্ব-পশ্চিম'
  3. শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'যাও পাখি'
  4. অভিজিৎ সেনের 'রহুচণ্ডালের হাড়'
ব্যাখ্যা
'পূর্ব-পশ্চিম' উপন্যাস:
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বিশিষ্ট, ব্যতিক্রমী ও বড়ো মাপের এই উপন্যাস, 'পূর্ব-পশ্চিম'।
• ধারাবাহিকভাবে 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত সেই সুদীর্ঘ উপন্যাসের প্রথম দুটি পর্ব-সূচনাপর্ব ও যৌবন-নিয়েই 'পূর্ব-পশ্চিম'-এর এই প্রথম খণ্ড।
• বিশাল ক্যানভাসে চিত্রিত এই উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ একইসঙ্গে ছুঁয়ে আছে এপার এবং ওপার বাংলা। শুরু সেই পঞ্চাশের মধ্যভাগে। দু-বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রের পালাবদলের স্রোত কীভাবে এসে মিশেছে এই আশির দশকের মোহনায়, এ-উপন্যাস তার এক জীবন্ত দলিল।

• একদিকে নেহরুর মৃত্যু, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, লালবাহাদুরের অকালপ্রয়াণ, ইন্দিরার অভ্যুত্থান, অর্থনৈতিক ক্রমাবনতি, তরুন সমাজের মধ্যে জেগে-ওঠা বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা-উম্মাদনা, উগ্রপন্থী রাজনীতি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-যুদ্ধ; অন্যদিকে ভাষা-আন্দোলনের অব্যবহিত পরবর্তী সময়, গনতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন, বাংলাদেশ মুক্তি-আন্দোলন, স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে যুবসমাজের হতাশা, মুজিব-হত্যা-এ-সমস্ত কিছুকে ছুঁয়ে প্রবাহিত 'পূর্ব-পশ্চিম'-এর ঘটনাস্রোত।

• দুই বাংলার দুই পরিবারকে কেন্দ্র করে রচিত এই উপন্যাস বিশেষ কোন চরিত্রকে মূল চরিত্র বলা যাবে না। একই সঙ্গে অনেকগুলি
প্রধান চরিত্র। এইসব চরিত্রের কেউ-কেউ আবার পূর্ব বা পশ্চিম বাংলার গণ্ডিতেই আবর্তিত নয়, ইউরোপ-আমেরিকাতেও গেছে।

উৎস: 'পূর্ব-পশ্চিম' উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
৩,৬৭৫.
'আমার পূর্ব বাংলা' কবিতাটির রচয়িতা কে? 
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সিকান্‌দার আবু জাফর
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• ‘আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের একটি বিখ্যাত কবিতা।

• সৈয়দ আলী আহাসান:
- সৈয়দ আলী আহাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

• অনুবাদগ্রন্থ:
- হুইটম্যানের কবিতা,
- ইডিপাস।

• প্রবন্ধ:
- সতত স্বাগত।

• আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা;
সৈয়দ আলী আহসান

আমার পূর্ব-বাংলা এক গুচ্ছ স্নিগ্ধ/ অন্ধকারের তমাল
অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায়/ একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ
নিকুঞ্জের তমাল কনক-লতায় ঘেরা
রাশি রাশি ধান মাটি আর পানির/ কেমন নিশ্চেতন করা গন্ধ
কত দশা বিরহিণীর- এক দুই তিন/ দশটি (বৈষ্ণব কবিতায় বর্ণিত রাধার বিরহের দশটি অবস্থার প্রতি কবি ইঙ্গিত করেছেন।)
ঘর আর বিদেশ আঙিনা
তিনটি ফুল আর একটি পাতা নিয়ে/ কদম্ব তরুর একটি শাখা মাটি/ ছুঁয়েছে
আরও অনেক গাছ পাতা লতা/ নীল হলুদ বেগুনি অথবা সাদা
কাকের চোখের মতো কালোচুল/ এলিয়ে
হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া স্নিগ্ধ নীলাম্বরীতে দেহ ঘিরে (বৃষ্টিভেজা পূর্ব বাংলা যেনো নীল শাড়ি পরা কোনো নারী)
তুমি আমার পূর্ব-বাংলা-/ পুলকিত সচ্ছলতায়, প্রগাঢ় নিকুঞ্জ।।

উল্লেখ্য,
কবিতাটি লেখকের ''একক সন্ধ্যায় বসন্ত'' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা, বাংলাপিডিয়া। 
৩,৬৭৬.
'ভোরের বিহঙ্গী' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. সমর সেন
  2. সত্যেন সেন
  3. মহাদেব সাহা
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'ভোরের বিহঙ্গী' উপন্যাসটির রচয়িতা — সত্যেন সেন। 
--------------------- 
• সত্যেন সেন: 
- ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৪ সালে দৈনিক  সংবাদ-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- এ দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে সত্যেন সেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের সংগঠক এবং উদীচী (১৯৬৯) সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি ছিলেন  রবীন্দ্রসঙ্গীত ও গণসঙ্গীতের সুকণ্ঠ গায়ক এবং গণসঙ্গীত রচয়িতা।
-  তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় চল্লিশ।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- অভিশপ্ত নগরী,
- ভোরের বিহঙ্গী,
- পাপের সন্তান,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড,
- পদচিহ্ন,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- আলবেরুনী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশু সাহিত্য: 
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৭৭.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. নৌকাডুবি 
  2. কালান্তর 
  3. গোরা
  4. চতুরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

• 'গোরা' উপন্যাস:
- 'গোরা' উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো 'ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়'।
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির অন্তর্ভুক্ত চরিত্রগুলো হলো: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

অন্যদিকে,
• 'কালান্তর' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে রচিত একটি রাজনৈতিক প্রবন্ধ সংকলন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' একটি সামাজিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যতম উপন্যাস 'চতুরঙ্গ'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে। এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৬৭৮.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন কে?
  1. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4.  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
ব্যাখ্যা
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

- তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৭৯.
‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দাশ
  3. গ) কালিদাস রায়
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
• জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- রূপসী বাংলা,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
 
• ‘রূপসী বাংলা’ ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলির গঠন সনেটের। এদরে বিষয় বাংলার গ্রাম-প্রিকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান। এ কাব্যের একটি বিখ্যাত পঙক্তি হলো-

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৮০.
ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক শরৎচন্দ্রের নিষিদ্ধ গ্রন্থ কোনটি?
  1. গৃহদাহ
  2. পথের দাবী
  3. পল্লীসমাজ
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
'পথের দাবী' উপন্যাস:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। গ্রন্থাকারে এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।

• 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী' ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।

• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কারো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়।নান্দনিক মানদণ্ডে 'পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

• 'আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।'- এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

-------------
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো- 
- পরিণীতা,
- বৈকুণ্ঠের উইল,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- নিষ্কৃতি,
- শ্রীকান্ত,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- দেনা-পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৮১.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন-
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. মহাদেব সাহ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম। এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৮২.
কাজী মোতাহার হোসেন রচিত ‘সঞ্চয়ন’ একটি -
  1. গল্পসংকলন
  2. প্রবন্ধসংকলন
  3. কবিতাসংকলন
  4. নাট্যসংকলন
ব্যাখ্যা

কাজী মোতাহার হোসেন রচিত ‘সঞ্চয়ন’ একটি প্রবন্ধসংকলন। 

কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭–১৯৮১) একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন এবং ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
- এছাড়া তিনি ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ এর সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯২৬ সালে কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন ও আবুল ফজলের সহযোগিতায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সংস্থার মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকা অল্প সময় সম্পাদনা করেন। 
- শিক্ষা ও গবেষণায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকার তাঁকে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে ভূষিত করে।

উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৬৮৩.
‘বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন’ কার লেখা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. অন্নদাশংকর রায়
ব্যাখ্যা
'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন': 
- এই ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ আবদুল হাই। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।

মুহম্মদ আবদুল হাই:
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের জন্ম ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)।
- তিনি ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রকাশিত 'সাহিত্য পত্রিকা'র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

তাঁর অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৮৪.
বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয় কাকে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরিকে বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয়।
- তিনি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথকিৃৎরূপে বিদেশী ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে ‘ কথোপকথন’ গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- ‘কথোপকথন’ গ্রন্থটি ছিল ‍দ্বিভাষিক - এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।
- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত।

================
উল্লেখ্য,
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। 
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৬৮৫.
‘প্রাগৈতিহাসিক‘ ছোটগল্পের রচিয়তা কে?
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়,  (১৯০৮-১৯৫৬)  কথাসাহিত্যিক।
• ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
• ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু। 

• তার কিছু উপন্যাসের চরিত্র হলো--
- জননী :- মার্ক্সসীয় দৃষ্টির উপর লেখা। প্রধান চরিত্র :- শ্যামা
- দিবারাত্রির কাব্য :- তিন জোড়া নারী পুরুষের কথা। চরিত্র:- সুপ্রিয়া,মালতি,আনন্দ,অশোক, হেরম্ব
- পুতুল নাচের ইতিকথা :- সামন্ততন্ত্রের প্রতি জেহাদ। চরিত্র :- কুসুম,শশী।
- পদ্মানদীর মাঝি :- ধীবর পল্লীর জীবন যাত্রা এর প্রধান বিষয়। খেটে খাওয়া মানুষের কথা এখানে দেখনো হয়েছে। চরিত্র:- কুবের, হোসেন মিঞা।
- শহরতলী :- চরিত্র :- সত্যপ্রিয় চক্রবর্তী, যশোদা
- সহরবাসের ইতিকথা :- চরিত্র:- শ্রীপতি, সন্ধ্যা
- চিহ্ন :- চরিত্র:- অক্ষয়,সুধা
- চতুস্কোণ :- চরিত্র:- গিরি,মনোরমা।

• ছোটগল্প
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫)
- প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭)
- সরীসৃপ (১৯৩৯)
- সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩)
- ভেজাল (১৯৪৪)
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী (১৯৪৯)
- আত্নহত্যার অধিকার

• নাটক
- ভিটেমাটি (১৯৪৬)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৮৬.
"চিন্তার স্বাধীনতা, বুদ্ধির স্বাধীনতা, আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা, যেখানে নেই"— "শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব" প্রবন্ধে অনুসারে - সেখানে কী নেই?
  1. মনুষ্যত্ব
  2. শান্তি
  3. মুক্তি
  4. সমৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• "শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব" প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
চিন্তার স্বাধীনতা, বুদ্ধির স্বাধীনতা, আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা যেখানে নেই সেখানে মুক্তি নেই।
মানুষের অন্নবস্ত্রের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে এই মুক্তির দিকে লক্ষ রেখে। ক্ষুৎপিপাসায় কাতর মানুষটিকে তৃপ্ত রাখতে না পারলে আত্মার অমৃত উপলব্ধি করা যায় না বলেই ক্ষুৎপিপাসার তৃপ্তির প্রয়োজন। একটা বড় লক্ষ্যের দিকে দৃষ্টি রেখেই অন্নবস্ত্রের সমাধান করা ভালো, নইলে আমাদের বেশি দূর নিয়ে যাবে না।
------------
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬):
মোতাহের হোসেন চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ এবং লেখক, যিনি নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরী এবং মননে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব স্পষ্ট। তিনি সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ, এবং মানুষের জীবনাচরণ নিয়ে মৌলিক বিষয়গুলোকে উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মাধ্যমে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

• প্রধান গ্রন্থসমূহ: 
সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮): এটি তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
সুখ (১৯৬৫): বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের ভাবানুবাদ।
সভ্যতা (১৯৬৫): ক্লাইভ বেল-এর Civilisation গ্রন্থের ভাবানুবাদ।

বিশেষ খ্যাতি: 
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী, এবং মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন।

উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ:
• আমাদের দৈন্য, 
• আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী, 
• মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস:
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
• বাংলাপিডিয়া।
• "শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব" প্রবন্ধ - মোতাহের হোসেন চৌধুরী।
৩,৬৮৭.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) জীবন ক্ষুধা
  2. খ) আসমানী পর্দা
  3. গ) শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু
  4. ঘ) সত্যমিথ্যা
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ব্যঙ্গধারার সাহিত্য রচনা করেন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না 
- ফুড কনফারেন্স
- আসমানী পর্দা।

• রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ: 
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯);
- শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)

• তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- সত্যমিথ্যা
- জীবন ক্ষুধা ও
- আবে-হায়াত।
 
• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৮৮.
‘মধুমালা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত - 
  1. নৃত্যনাট্য
  2. উপন্যাস 
  3. গীতিনাট্য
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

 • ‘মধুমালা’ গীতিনাট্য:
- মধুমালা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য।
- রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে রচিত নাটকটি ১৯৬০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- মধুমালা,
- মদনকুমার,
- কাঞ্চনমালা,

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘মধুমালা’ নাটক।

৩,৬৮৯.
'তরঙ্গভঙ্গ' নাটকটি কার রচনা?
  1. সানাউল হক
  2. সরদার জয়েন উদ্দিন
  3. সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক 'তরঙ্গভঙ্গ'।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।
- এ নাটকের একটি সংলাপ 'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ- 
মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৯০.
‘কবিতার কথা’ জীবনানন্দ দাশ রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. কবিতার সংকলন 
ব্যাখ্যা

‘কবিতার কথা’ জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 
-------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তার রচিত বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- কল্লাণী,
- মাল্যবান,
- বিভা,
- সুতীর্থ ,
- চারজন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ- কবিতার কথা।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘সাতটি তারার তিমির’,
- ‘বনলতা সেন’,
- ‘রূপসী বাংলা’,
- ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি',
- ‘ঝরাপালক’,
- বেলা অবেলা কালবেলা,
- রূপসী বাংলা।
------------------------ 
কবিতার কথা’ প্রবন্ধ সম্পর্কিত কিছু কথা:
- জীবনানন্দ দাশের প্রবন্ধ সংকলন ‘কবিতার কথা’ ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ
- প্রবন্ধটি কবিতা, কবির স্বরূপ, ভাষা, উপমা ও চিত্রকল্প এবং জীবনের সঙ্গে কবিতার সম্পর্ক নিয়ে লেখা।
- তিনি তাঁর নিজস্ব কাব্য-দর্শন এখানে তুলে ধরেছেন।
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে যে সকলেই কবি নন, কবিকে অবশ্যই তাঁর 'সারবত্তা'-র প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হয়।
- এই প্রবন্ধের বিখ্যাত উক্তি- 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।' 
 
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৯১.
‘রাখী’ অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম
  1. প্রবন্ধ
  2. কবিতা
  3. ছোটগল্প
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘রাখী’ অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত একটি কবিতা।
- কবিতাটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।
- ‘তিনটি প্রশ্ন’ ১৯২০ সালে প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত অন্নদাশঙ্করের প্রথম লেখা।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- বিনুর বই,
- দেশকাল পাত্র,
- জীয়ন কাটি,
- ইশারা,
- নতুন করে বাঁচা ইত্যাদি।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ছোটগল্প:
- কামিনী কাঞ্চন,
- যৌবন জ্বালা,
- মন পবন,
- প্রকৃতির পরিহাস।

• উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৯২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস - 
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা

'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।  এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে,
- প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা উপন্যাস রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৯৩.
‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ - গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) আবুল মনসুর আহ্‌মদ
  3. গ) আতাউর রহমান
  4. ঘ) মুহম্মদ আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ - গ্রন্থের রচয়িতা আবুল মনসুর আহ্‌মদ।

• আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।
তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে:
- আয়না
- ফুড কনফারেন্স

• তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে-
- সত্যমিথ্যা
- জীবন ক্ষুধা
- আবে-হায়াৎ

• স্মৃতিকথা:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর
- শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)

• তাঁর আত্মচরিত:
- আত্মকথা

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৯৪.
নজরুলের মোট কতটি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়েছিল?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ২টি
  4. ঘ) ৩টি
ব্যাখ্যা

নজরুলের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়৷
- প্রথম নিষিদ্ধ গ্রন্থ - 'যুগবাণী'।
- 'বিষের বাঁশি' নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ৷
তাছাড়া, ভাঙার গান, প্রলয় শিখা, চন্দ্রবিন্দু - গ্রন্থগুলোও নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও প্রথম আলো আর্কাইভ।

৩,৬৯৫.
কোনটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  2. ভাষা ও সাহিত্য
  3. ব্যাকরণ মঞ্জুরি
  4. বাংলা সাহিত্যের কথা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন। এবং ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনা:
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত।

অন্যদিকে,
মুহম্মদ এনামুল হক রচিত গ্রন্থ - ব্যাকরণ মঞ্জুরি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৯৬.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. অনিল বাগচীর একদিন
  2. শ্যামল ছায়া
  3. সূর্যের দিন
  4. জোছনা ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা
• ‘সূর্যের দিন' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস সূর্যের দিন। 
- উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসে ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় অর্জন থেকে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বাঙালির মানসিক অবস্থার ভাষারূপ অংকিত হয়েছে।

---------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনিল বাগচীর একদিন ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৯৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কবিতা কোনটি?
  1. বঙ্গবাণী
  2. পদ্মাবতী
  3. কপোতাক্ষ নদ
  4. কবিতার কথা 
ব্যাখ্যা

• ‘কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটির রচয়িতা- 'মাইকেল মধুসূদন দত্ত'।

অন্যদিকে,
• পদ্মাবতী - মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক। 
• ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি কবি আবদুল হাকিমের নূরনামা কাব্যে সংকলন করা হয়েছে।
• জীবনানন্দ দাশ ‘কবিতার কথা’ নামে প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
-  ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
-  বাংলা ভাষার সনেট এর প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা।
- পদ্মাবতী।
- কৃষ্ণকুমারী।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা।
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।
----------------
কপোতাক্ষ নদ- কবিতা,
-মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে।

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, মাইকেল মুধুসূধন দত্ত এর রচনা।

৩,৬৯৮.
'শেখ আজিজুর রহমান' কোন কথাসাহিত্যিকের প্রকৃত নাম?
  1. শওকত আলী 
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. শওকত ওসমান
  4. আবুল ফজল 
ব্যাখ্যা

• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয় তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী, 
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর, আর্তনাদ,
- রাজপুরুষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• শমসের উল আজাদ ছদ্মনামে লিখতেন আবুল ফজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৯৯.
নিচের কোনটি দিলেরা হাসেম রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. ঘর মন জানালা
  2. আমি ভাল আছি তুমি
  3. একদা এবং অনন্ত
  4. আমলকির মৌ
ব্যাখ্যা
দিলারা হাসেম: 
- দিলারা হাসেম একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯৩৬ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।  

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- ঘর মন জানালা,
- একদা এবং অনন্ত,
- স্তব্ধতার কানে কানে,
- আমলকির মৌ,
- বাদামী বিকেলের গল্প,
- কাকতালীয়,
- শঙ্খকরাত,
- অনুক্ত পদাবলী। 

অন্যদিকে,
- "আমি ভাল আছি তুমি" দাউদ হায়দার রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭০০.
মুস্তাফা মনোয়ার নির্মিত জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র কোনটি?
  1. ক) টুকটুকি
  2. খ) হালুম
  3. গ) মিনা
  4. ঘ) বাটুল
ব্যাখ্যা
শিশুতোষ জনপ্রিয় 'মিনা' কার্টুনের নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার। 
- ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহন করেন। 
- কবি গোলাম মোস্তফা ছিলেন তাঁর পিতা। 
- তিনি কিছুকাল বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। 
- ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।